শিরোনাম

  • ফিলিস্তিনে গণহত্যা লুকাচ্ছেন নেতানিয়াহু: মামদানি

    ফিলিস্তিনে গণহত্যা লুকাচ্ছেন নেতানিয়াহু: মামদানি

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ পুনরাবৃত্তি করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘গণহত্যাকে আড়াল করার’ চেষ্টা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

    বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে মামদানি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এর আগেও বারবার একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

    মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু জাতিসংঘের ভাষণে এমন কিছু ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ পুনরাবৃত্তি করেছেন, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করা। তার দাবি, কোনো বক্তব্যই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি পরিবর্তন করতে পারে না।

    জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু মামদানিরও সমালোচনা করেন। তিনি নিউইয়র্কের মেয়রকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

    নেতানিয়াহু গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, ইসরাইল গণহত্যা করেনি; বরং গণহত্যা ঠেকিয়েছে। তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ইসরাইল সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ ছড়ানোরও অভিযোগ করেন।

    এর পরই মামদানি নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো অভিযোগ বা বাস্তবতা বদলে দেওয়া সম্ভব নয় এবং নেতানিয়াহু এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।

    এদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের শুরুতেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হল থেকে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়। একই সময়ে জাতিসংঘের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও সাবেক ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগে গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা বলা হয়। ইসরাইল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

  • স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অঞ্চলটিতে স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)।

    সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি। তিনি বলেন, সংগঠনের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

    ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। একসময় অঞ্চলটি পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন সিয়াম রাজ্যের সঙ্গে এর রাজনৈতিক সংযুক্তি ঘটে।

    স্থানীয় মালয় মুসলিমদের একটি অংশ ১৯৬০-এর দশক থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০০৪ সালে সেখানে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাই সরকার ও বিআরএনের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে বিভিন্ন সময়ে এ আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত জুলাইয়ে একটি হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর ব্যাংকক শান্তি আলোচনা স্থগিত করে।

    সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিআরএনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি নিকমাতুল্লাহ। তবে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠাই সংগঠনটির লক্ষ্য। এ জন্য ব্যাংককের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি কাঠামোর প্রস্তাবও দিয়েছে বিআরএন।

    সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঁচ থেকে ১০ বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময়ে দক্ষিণাঞ্চল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায় তারা। ওই সময়ে মুসলিমদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক পুলিশ ও আদালত ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এরপর জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণ করবে বলে জানান নিকমাতুল্লাহ।

    থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের সংঘাতে মালয়েশিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় থাইল্যান্ডের এ অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলেও পড়ে। তবে থাই সরকারের অবস্থান হলো, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান সম্ভব। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে কোনো সমাধান গ্রহণযোগ্য নয়।

  • চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের নবীণ বরণ

    চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের নবীণ বরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের ২০২৬-২৭( শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীণ বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কলেজের হল রুমে আনন্দ ঘন উৎসব মুখর পরিবেশে এ নবীন বরণ করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাসুদুল হাসান । প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম।

    এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন ঘোষনা করেন কলেজের অধ্যক্ষ (ভার প্রাপ্ত) আলমগীর সিদ্দিকী।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের নির্বাহী কমিটির সদস্য সেলিম রেজা।

    সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুস শুকুর, মোঃ আক্তারুজ্জামান, আনিসুজ্জা মান, নাসির উদ্দীন, আতিকুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ,তিতুমীর রহমান,আসাদুজ্জামান আসাদ,

    মোঃ ইয়াকুব আলী, রীনা নাজমাসহ কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

    এ অনুষ্ঠান শেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠান টি পরিচালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহানুর হোসেন। এ,আর

  • চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা সিদ্ধ ডিমে অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী ডিম খাওয়ার পর বমি করেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়।

    ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিম মুখে দেয়ার পর তীব্র তিতা স্বাদের কথা জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই শিক্ষার্থী বমি করে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করেন। তাদেরও অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ মনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর ডিম বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসাথে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী বমি করার পর আমরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তীব্র তিতা পাই। তাই শিক্ষার্থীদের ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাফুজা জানায়, ‘দুইজন সহপাঠী ডিম খাওয়ার পর বমি করে। এরপর শিক্ষকরা আমাদের ডিম খেতে নিষেধ করেন।’

    পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুপারভাইজার বশির উদ্দিন। তিনি ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তিতা পেয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, সরবরাহকারীদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুরগিকে কৃমিনাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর সাথে কিছু ডিমের স্বাদের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ডিমে তিতা স্বাদের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

    চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আজিজুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পাঁচটি বিদ্যালয়ে ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো—ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরশালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ মো: আলী বেপারীর ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    তিনি জানান, পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৬৩৯টি সাদা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই ডিম সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডিমগুলো কেন তিতা ছিল, তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের দায় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    শিশুদের জন্য পরিচালিত পুষ্টিকর খাদ্য কর্মসূচির ডিম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিমের নমুনা পরীক্ষা এবং সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি উঠেছে। এ,আর

  • মাছ ধরার ট্রলারে ৭ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবি, আটক ৫

    মাছ ধরার ট্রলারে ৭ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবি, আটক ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার পাথরঘাটায় মাছ ধরার ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে আনা অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি মাছ ধরার ট্রলার ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ ৫ জনকে আটক করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    আটকরা হলেন, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইশদিয়া এলাকার সোহাগ সরদার (৩২), একই উপজেলার মৌডুবি এলাকার সাগর হাওলাদার (৩৮), কুয়াকাটার মহিপুর এলাকার মঞ্জু মোল্লা (৩২), কলাপাড়া উপজেলার খলিলপুর এলাকার রেজাউল গাজী (৩৭) এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নবানখালী এলাকার বিল্লাল হাওলাদার (৪৫)।

    কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা বুধবার রাত ২টার দিকে পাথারঘাটার কাকচিরা ইউনিয়নের বিষখালী নদী সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের সদস্যরা একটি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন একটি মাছ ধরার ট্রলার ও কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১৩ হাজার ৫০৭টি শাড়ি ও ১ হাজার ৪৬৬টি পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। উদ্ধার করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

    পরবর্তীতে উদ্ধার করা শাড়ি ও পাঞ্জাবিসহ চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত ট্রলার এবং কাভার্ড ভ্যানটিকে জব্দসহ জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়।

    এ বিষয়ে লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দ করা সকল আলামত ও আটক করা চোরাকারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও কোস্টগার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • দামুড়হুদায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    দামুড়হুদায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দামুড়হুদা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. মো. মশিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

    বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক-অভিভাবক, স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের কালিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হাসান শেখ (৪৫) নামে এক ভ্যানচালকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    মৃত হাসান উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের তারা মিয়া শেখের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ সোহেল রানা ও আবেদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। দুপক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত আটজন আহত হন।

    রাতে সোহেল পক্ষের গুলিবিদ্ধ হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া ইসরাফিল শিকদার, রাসেল শেখ, মতিউর রহমান ও মুক্তি শেখসহ অন্যরা চিকিৎসাধীন আছেন।

    নড়াগাতী থানার ওসি মো: হোসেন আলী বলেন, ‘পূর্বের হত্যাকাণ্ডের জেরসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরকান্দিপাড়ার দুপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তারা কোনো ধরণের অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি।’ এ,আর

  • মক্কায় সতর্কতা জারি সৌদির

    মক্কায় সতর্কতা জারি সৌদির

    সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স অর্গানাইজেশন মক্কা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক, জেদ্দা, ইয়ানবুসহ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় তায়েফ অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

    তবে এর কিছুক্ষণ পরেই সংস্থাটি ঘোষণা করে, ওই এলাকার বিপদ কেটে গেছে এবং সতর্কতা বাতিল করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থিত বাহিনীগুলোর সাথে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

    একইসাথে সৌদি আরবের বিভিন্ন অংশ হাউছিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

  • রায়পুরে ইয়াবাসহ যুবককে আটক করে পুলিশে দিল জনতা

    রায়পুরে ইয়াবাসহ যুবককে আটক করে পুলিশে দিল জনতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইয়াবাসহ সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জবেদুল্লা চৌকিদার বাড়ির পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক সাইফুল ওই ওয়ার্ডের জবেদুল্লা চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে সাইফুলকে উপজেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক শান্ত ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা।

    এ সময় স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জামাল পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছেন বলে জানান দাবি স্থানীয়দের।

    খবর পেয়ে বামনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাহারুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুলকে আটক করে।

    রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার সাথে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • শি’র জন্য লালগালিচা পরিষ্কারে মার্কিন সেনারা

    শি’র জন্য লালগালিচা পরিষ্কারে মার্কিন সেনারা

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতেই মার্কিন সামরিক সদস্যদের লালগালিচা ঠিক করার একটি ১২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টম্বর) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান শি।

    তার সঙ্গে ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান হং লেইসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই সফরের মূল লক্ষ্য।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি’র বিমান যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণের পরের দৃশ্য ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মার্কিন সামরিক সদস্য হাত ও হাঁটুর ওপর ভর করে প্রায় ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) দীর্ঘ লালগালিচা দ্রুত ঠিক করছেন। শি বিমান থেকে নামার আগে তারা কার্পেটের ভাঁজ সমান ও ময়লা পরিষ্কার করছিলেন।

    সে সময় বিমানের দরজায় দাঁড়িয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও প্রটোকল প্রধান হং লেইসহ কয়েকজন চীনা কর্মকর্তাকে পুরো দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।

    ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মার্কিন সামরিক সদস্যদের এ কাজে ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে ‘ভীষণ লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিল ম্যাডেন নামে এক ব্যক্তি লিখেন, ‘ট্রাম্প যে আমেরিকা ও নিজেকে আরও অপমান করতে পারবেন না- এমনটা ভাবার পরই তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হাত-পায়ে ভর দিয়ে লালগালিচা পরিষ্কার করতে পাঠালেন, যাতে শির জুতায় ধুলা না লাগে।’

    এ ছাড়া কেন্টাকির সাবেক মেরিন ফাইটার পাইলট ও ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিক অ্যামি ম্যাকগ্রাথ বলেন, মার্কিন সেনারা ‘কোনো কর্তৃত্ববাদী নেতার অহং তুষ্টির প্রদর্শনীর সাজসরঞ্জাম’ হওয়ার জন্য শপথ নেননি।

  • সিলেট সীমান্তে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক স্বাক্ষারিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলাবাজার, প্রতাপপুর, তামাবিল, সংগ্রাম, ডিবিরহাওর বিওপি কর্তৃক চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভারতীয় গরু, মহিষ, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, লেহেঙ্গা, কম্বল, কসমেটিক্স, চকলেট, জিরা ও জুস আটক করা হয়। আটক চোরাচালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬০ টাকা।

    ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান আটক করা হয়। আটক চোরাচালানের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • আফগানিস্তানের ১০যায়গায় বিমান হামলা

    আফগানিস্তানের ১০যায়গায় বিমান হামলা

    পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান হামলায় চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আজ বৃহস্পতিবার এ খবর জানান। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    ইসলামাবাদের দাবি, এসব জায়গা ড্রোন উড্ডয়ন ও সংরক্ষণে ব্যবহার করা হতো। এ বিষয়ে তারার বলেন, এসব ড্রোনের কয়েকটি আগের দিন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল।

    প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই হামলার খবর জানা গেল। সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে জড়ায় ইসলামাবাদ ও কাবুল।

    ইসলামাবাদের অভিযোগ, সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশটির তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

    তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিরোধিতা করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তারা আশ্রয় দেয় না। সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারার বলেন, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার আফগানিস্তান থেকে উড়ে আসা ড্রোন শনাক্ত করে। এসব ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়।

    এরপর পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ১০টি জায়গায় ‘নির্ভুল’ বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা চালানো হয়েছে ড্রোন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও চিহ্নিত সামরিক স্থাপনায়। তবে কেউ হতাহত হননি বলে জানান তারার।

    পাকিস্তানের মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তালেবান সরকার ভবিষ্যতে এমন কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালে পাকিস্তান দৃঢ় ও কঠোর জবাব দেবে।’

  • তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্ত্রী নিলুফা আক্তার মিলুর (৪০) তালাকের নোটিশ পেয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন স্বামী হযরত আলী। এ সময় নিলুফার মা এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত হযরত উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিলুফা পার্শ্ববর্তী কাকনা গ্রামের ছইনুদ্দিনের মেয়ে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে হযরতের সাথে নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। এরই জেরে নিলুফা এক সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেয়। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রাত ৮টার দিকে ধারালো ছুরি নিয়ে নিলুফার বাড়িতে যান। সেখানে নিলুফাকে দেখামাত্রই ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    এ সময় নিলুফার মা চেনবানু এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হযরত তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    নিহত নিলুফার বাবা ছইনুদ্দিন বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও হযরত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মৌসুমী ভৌমিক বলেন, ‘গুরুতর জখম অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে নিয়ে আসা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রাতেই মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হযরতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও আহত চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।’

    নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হত্যা মামলা করেছেন। ঘাতক স্বামী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’ এ,আর

  • উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আকমাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাখুয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জানায়, একটি বিস্ফোরক মামলায় আকমালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • যুদ্ধের চাপে মার্কিন নৌ-সেনাদের আত্মহত্যার চেষ্টা

    যুদ্ধের চাপে মার্কিন নৌ-সেনাদের আত্মহত্যার চেষ্টা

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আট সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাওয়ের একটি চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    স্থানীয় সময় বুধবার প্রকাশিত ওই চিঠিটি পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। চিঠিতে সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের প্রশ্নের জবাবে কাও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।

    চিঠিতে কাও লিখেছেন, লিংকনের সামরিক অভিযানের শুরু থেকে পুরো স্ট্রাইক গ্রুপে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। তবে এই সময়ে কোনো নৌসদস্য আত্মহত্যা করেননি।

    তিনি জানান, এই সংখ্যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পাশাপাশি ক্যারিয়ার এয়ার উইং, স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের সদস্য, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং সব বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরা রয়েছেন।

    লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের অধীনে প্রায় ছয়টি জাহাজে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার মার্কিন নৌসদস্য মোতায়েন ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বিমানবাহী রণতরীটি ছয় মাসেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে অবস্থান করে।

    এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা অত্যন্ত বেশি।’

    তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য মোতায়েনে বছরে সাধারণত এক বা দুটি এমন ঘটনা ঘটেছে।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্বাভাবিক সামরিক অভিযানের তুলনায় যুদ্ধকালীন কার্যক্রমের চাপ অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থামা, সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকা এবং টানা সামরিক অভিযান চালানোর কারণে নৌসদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করার পর গত ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে ভেড়ে।

  • কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সীমান্তে মাদকবিরোধী পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    বিজিবি জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে ঠোটারপাড়া বিওপির শুকুনতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় দুই বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ ও দুই হাজার ১০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।

    রাত পৌনে ২টার দিকে বিলগাথুয়া বিওপির পশ্চিম বিলগাথুয়া মাঠে অভিযান চালিয়ে নয় বোতল ভারতীয় মদ, ৯৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ও এক হাজার ৯০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য আট লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা।

    এ ছাড়া সকাল ৬টার দিকে উদয়নগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ডিগ্রিচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ও এক হাজার ১১০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    প্রায় আট মাস ধরে খালি থাকা সাংবিধানিক পদ পূরণের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    মুজাফফরাবাদে বিধানসভার সচিবালয়ে স্থানীয় সময় সকাল থেকে এই ভোটগ্রহণ চলছে। আঞ্চলিক নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার ২৭টি ভোট পেয়ে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

    ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সমর্থিত প্রার্থী নজীব নাকি খান এই নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে জোরালোভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সুধানোতি জেলার একজন সাবেক মন্ত্রী ও একাধিকবার বিজয়ী আইনপ্রণেতা।

    অন্যদিকে, বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিধানসভার সাবেক স্পিকার চৌধুরী লতিফ আকবর।

    আইন অনুযায়ী বিধানসভার কোনো সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে না পারলেও, ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই বিধানসভায় পিএমএল-এন এবং তাদের মিত্রদের হাতে পর্যাপ্ত আসন থাকায় তাদের প্রার্থীর জয় একরকম নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই পদটি ফাঁকা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ ও সরকারের সময়ক্ষেপণের কারণে তা এতদিন করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের অনুকূলে পরিস্থিতি নেওয়ার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্বাচনে এত দীর্ঘ বিলম্ব করেছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে পুনচ ও সুধানোতি জেলার সাতটি আসনে এখনো ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ওই আসনগুলোতে এখনো ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি।

    সমালোচকদের মতে, ওই এলাকার মানুষদের ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা একধরনের অন্যায় হলেও, আইনি জটিলতা না থাকায় এই আংশিক বিধানসভা নিয়েই আজকের নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে।

  • মদনে অসুস্থ গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    মদনে অসুস্থ গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার মদনে রোগাক্রান্ত গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে কসাই পারভেজ মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মদন পৌর শহরের দেওয়ান বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম ভোক্তা অধিকার আইনে এ জরিমানা আদায় করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুব আলম, পুলিশের এএসআই জাকির হোসেন, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    জানা যায়, মদন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান বাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার হাট বসে। প্রতি সপ্তাহেই এই হাটে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে গোশত বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে কসাই পারভেজ মিয়াসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি রোগাক্রান্ত গাভী জবাই করার পায়তারা করে পারভেজ মিয়া। বিষয়টি এলাকার সচেতন মহলের নজরে এলে তারা বাধা দেয়।

    পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাভীর ভিডিও পোস্ট করে এবং সচেতন নাগরিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনকে খবর দেয়। এমন খবরে ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও নাদির হোসেন শামীম উপস্থিত হয়ে কসাই পারভেজ মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    এ ব্যাপারে ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এ সময় একটি রোগাক্রান্ত গরু দেখতে পাই। তাছাড়া তার দোকানে রাখা গোশতও প্রাণিসম্পদ কর্তৃক পরিক্ষিত নয়। তাই ভোক্তা অধিকার আইনে পারভেজ মিয়া নামে এক কসাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ,আর

  • ফিলিস্তিনিদের আরও ১৩ মিলিয়ন ডলার দেবে নরওয়ে

    ফিলিস্তিনিদের আরও ১৩ মিলিয়ন ডলার দেবে নরওয়ে

    ফিলিস্তিনিদের জন্য অতিরিক্ত ১৩ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই অর্থ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি সরকারি খাতের বাজেট সহায়তাও রয়েছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্ত এইডে এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

    তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনেরও সমালোচনা করেন। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এসব বসতি অবৈধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ২০২৪ সালে নরওয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। দেশটি বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলোর সমন্বয়কারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছে।

  • মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বাবা মুজিব সরদারকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন আমিনুল।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহত জান্নাতুন বেগমের (৫৫) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর আহত মুজিব সরদারকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন ও এর অর্থ জোগাড় করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। তাকে নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও সফল হননি বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বুধবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আমিনুল হাসুয়া নিয়ে তার মা জান্নাতুন বেগমের ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমিনুল তার বাবা মুজিব সরদারকেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।

    জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে মোহনপুর থানা পুলিশ।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যা মামলা দায়েরের পর আমিনুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে জান্নাতুন বেগমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • উজিরপুরে নামাজের পাশাপাশি মসজিদ দেখতে ছুটছেন নানা ধর্মের মানুষ

    উজিরপুরে নামাজের পাশাপাশি মসজিদ দেখতে ছুটছেন নানা ধর্মের মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কেউ এসেছেন বরগুনা থেকে, কেউ দিনাজপুর থেকে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে। তাদের মধ্যে মুসলিম যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষও। কেউ এসেছেন নামাজ আদায় করতে, আবার কেউ এসেছেন শুধু মসজিদের নান্দনিক স্থাপত্য ও মনোরম পরিবেশ দেখতে। বরিশালের উজিরপুরের গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রতিদিনই দেখা মেলে এমন বৈচিত্র্যময় দর্শনার্থীর।

    ১৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত মসজিদটি প্রায় দুই দশক ধরে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও রয়েছে।

    গুঠিয়ার চেংগুটিয়া এলাকায় অবস্থিত বায়তুল আমান জামে মসজিদে একসাথে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের স্থান। তবে নামাজের পাশাপাশি মসজিদের স্থাপত্যশৈলীও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।

    মসজিদটিতে রয়েছে ২০টি গম্বুজ। মার্বেল পাথর, গ্রানাইট, সিরামিক ও রঙিন কাচের নকশায় সাজানো হয়েছে এর বিভিন্ন অংশ। দেয়ালে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে আয়াতুল কুরসি, সুরা আর-রহমানসহ কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সুরা। সন্ধ্যার পর রঙিন আলোকসজ্জায় মসজিদটির সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়।

    বরগুনা থেকে পরিবার নিয়ে মসজিদ দেখতে আসা সাবিত মাহমুদ জানান, বায়তুল আমান মসজিদের স্থাপত্য, নকশা ও চারপাশের পরিবেশ তাকে আকৃষ্ট করেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে মসজিদটির বিভিন্ন অংশ দেখেছেন তারা। এতো সুন্দর একটি স্থাপনা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ভালো লেগেছে।

    দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা ধীরেন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও সাজসজ্জা তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও স্থাপত্য ও সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

    মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি এতিমখানাও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সেখানে মক্কা-মদিনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মাটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কাবা শরিফ, আরাফাতের ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নুর, নবীজির জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান ও খলিফাদের কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানের মাটি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

    মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নিজ অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলে নির্মাণকাজ। ২০০৬ সালে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

    মসজিদটির তদারকির সাথে যুক্ত হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি মসজিদটির দেখভালের সাথে যুক্ত আছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বায়তুল আমান মসজিদ দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষও রয়েছেন। মসজিদের স্থাপত্য ও পরিবেশ দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

    মসজিদকে ঘিরে গুঠিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও বায়তুল আমানের পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

    উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা বলেন, ‘গুঠিয়ার বায়তুল আমান মসজিদ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে। এর নান্দনিক স্থাপত্য দেখতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আসছেন।’

    নামাজের পাশাপাশি স্থাপত্যের টানেও এখানে আসছেন মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা এসব দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদ এখন ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি মানুষের আগ্রহের একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এ,আর

  • নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, সব প্রধান সড়ক বন্ধ

    নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, সব প্রধান সড়ক বন্ধ

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত পদযাত্রা সামনে রেখে রাজধানী ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং বিভিন্ন স্থানে কনটেইনার বসানো হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সাধারণ মানুষকে ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব সড়ক কত দিন বন্ধ থাকবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মার্চের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির দাবি, কারাগারে থাকা ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে। ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দল তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক সাজা পরবর্তী সময়ে স্থগিত বা আপিলে বাতিল হয়েছে; একটি সাজা এখনো বহাল রয়েছে।

    পদযাত্রা ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে প্রায় ২ হাজার শিপিং কনটেইনার রাখা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেতুতেও কনটেইনার ও বালুর বস্তা রাখা হয়েছে। শুধু অ্যাটক জেলাতেই প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকার পিটিআইকে কর্মসূচি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি পিটিআইকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন কর্মসূচির মাধ্যমে কোনো ফল পাওয়া যাবে না এবং দলটির এখনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সময় আছে। অন্যদিকে পিটিআই বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

    পদযাত্রার আগে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করেছে। আল জাজিরার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে আটক করার পর তার আরও দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকেও আটক করা হয়। তাদের আটকাদেশে জননিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের সমস্যার কথা উল্লেখ করে পিটিআই তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। তবে পরে তাকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সরকার বলেছে, চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করেছিলেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতাল পরিবর্তন করা হয়েছিল। পিটিআই এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে শুধু সড়ক ও নিরাপত্তাব্যবস্থাই নয়, ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকেও সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। অতিরিক্ত বেড, রক্ত ও জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানি ঘটবে—এমন নিশ্চয়তা দেয় না।

    ইসলামাবাদে প্রবেশের প্রধান সড়ক বন্ধ, হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কনটেইনার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ আটকে দেওয়া এবং পিটিআইয়ের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা—সব মিলিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরের মার্চকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কর্মসূচির দিন সরকার ও পিটিআই উভয় পক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ১০ বসতঘর ভস্মীভূত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ১০ বসতঘর ভস্মীভূত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে আগুনে পুড়ে ১০টি বসতঘর ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এতে ১৪টি পরিবারের আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানায়, সকালে গ্রামের আলফাজ মিয়ার ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ১০টি ঘরই পুড়ে যায়। এসব ঘরে বসবাস করা ১৪টি পরিবারের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো: ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।‘ এ,আর

  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলেছে ঢাকা।

    বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকের পর একই দিন নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী ও পেশাজীবীর নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক ও পেশাজীবী রয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়তে পারে।

    হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে আটকে থাকা বাংলাদেশি কনটেইনার ও জাহাজের বিষয়টিও বৈঠকে তোলা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব জাহাজ ও কনটেইনার যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিকভাবে দ্রুত এই সংঘাতের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।’

    ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো নোট করেছেন বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশ সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘সফট-মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা সম্পন্ন দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অংশীদারের কেউ কেউ সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগানোর উৎসাহ দিয়েছে।

    তবে বাংলাদেশ সরাসরি দৃশ্যমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে, এমনটি অপরিহার্য নয় বলে জানান তিনি। তার মতে, এ অঞ্চলের বন্ধু হিসেবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারে বাংলাদেশ।

    জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে বাংলাদেশের জন্য একটি নিরপেক্ষ কূটনৈতিক পরিসর হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘দ্য ইউএন ইজ আ নিউট্রাল ভেন্যু’—জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ স্থান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও ছিল।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • লোহাগড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    লোহাগড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে তেলকাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম মিলন মোল্যা (৫০)। তিনি উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের তেলকাড়া গ্রামের সুলতান মোল্ল্যার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হযরত আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ তেলকাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

    পুলিশ জানায়, ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর মিলন মোল্ল্যা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের সাজা পরোয়ানা জারি ছিল।

    এছাড়া লোহাগড়া থানায় তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিলনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • নিউ জার্সি ইসরাইলকে দিন, ট্রাম্পকে শারা

    নিউ জার্সি ইসরাইলকে দিন, ট্রাম্পকে শারা

    সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরাইলকে যদি জমি দিতেই চান, তাহলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। কারণ নিউ জার্সির মালিক তিনি, কিন্তু গোলান মালভূমির মালিক সিরিয়ার জনগণ।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে এক আলোচনায় আল-শারা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন, দেশটিকে সমর্থন করেছেন এবং সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং তার সঙ্গে আমার বিশেষ একটি সম্পর্ক রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসে এক সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার ওই রসিকতার কথা উল্লেখ করে আল-শারা বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি ইসরাইলকে কিছু জমি দিতে এতটাই আগ্রহী হন, তাহলে নিউ জার্সি কেন দিয়ে দিচ্ছেন না কেন?’

    তিনি আরো বলেন, নিউ জার্সি ডেমোক্র্যাটদের, কারণ তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেয় না। তাই ইসরাইলকে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া ভালো হবে।

    আল-শারা বলেন, ট্রাম্প নিউ জার্সির মালিক, কিন্তু তিনি গোলান মালভূমির মালিক নন। এই রসিকতা বাদ দিলেও বিষয়টি হলো, গোলান মালভূমি সেখানকার জনগণের। কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই তা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই।

    ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ এলাকা ইসরাইলের দখলে রয়েছে। ১৯৮১ সালে ইসরাইল ওই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে এ পদক্ষেপকে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ ঘোষণা করা হয়।

    বেশির ভাগ দেশ গোলান মালভূমিকে ইসরাইলি সামরিক দখলাধীন সিরীয় ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • চৌগাছায় ছয় দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি

    চৌগাছায় ছয় দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে যশোরের চৌগাছায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের গ্রাহকরা।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ইসলামী ব্যাংকের চৌগাছা শাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম, চৌগাছা, যশোর-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মসূচিতে গ্রাহকদের পক্ষে বক্তব্য দেন মাওলানা আজাদ হোসাইন, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহমান, মাস্টার আব্দুস সালাম, রবিউল ইসলাম, আবুল খায়ের, সহকারী প্রভাষক দিরাজুল ইসলাম ও শাহিনুর রহমান প্রমুখ। এতে ব্যাংকের নারী গ্রাহকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অংশ নেন।

    কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চেয়ারম্যানের অপসারণ, স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, এস আলমের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চাকরির চুক্তি নবায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, দালালচক্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ব্যাংকসংক্রান্ত অনিয়মের বিচার ও আইনি ব্যবস্থা নিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

    গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। চলমান সংকটে গ্রাহকদের মধ্যে যেন আমানত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয় এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাদের দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনার আহ্বান জানান তারা। এ,আর

  • পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়

    পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিল করবে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। মিছিলকে সামনে রেখে দেশটির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মহাসড়কসহ খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এসব সড়ক। রাজধানীতে দুই হাজারের বেশি কনটেইনার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সড়ক অবরোধ । পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, মিছিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। এরই মধ্যে ইমরান খানের তিন বোনসহ পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতা-কর্মী ও আইনপ্রণেতাকে আটক করা হয়েছে। সরকার বলছে, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে এসব পদক্ষেপ । পিটিআইয়ের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাদের দমন করতেই ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।

    সরকারের আশঙ্কার পেছনে পিটিআইয়ের অতীত আন্দোলনের ঘটনাও রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও ইসলামাবাদমুখী পিটিআইয়ের আন্দোলন নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়; হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকার ও পিটিআইয়ের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

    ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৩টি আসন পেলেও সরকার গঠন করতে পারেনি। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষ প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন ।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং এখনো পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা। পিটিআইয়ের জনপ্রিয়তা, ইমরানের কারাবন্দিত্ব এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

    এদিকে পাকিস্তানে জ্বালানির দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোলের দাম সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রতি লিটারে প্রায় ৫১ রুপি বেড়ে ৩৯৩ দশমিক ৭৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীও ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি দিয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

    পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের কঠোর অবস্থান তাই শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ মোকাবিলার প্রস্তুতি নয়; রাজনৈতিক বিরোধ, ইমরান খানের কারাবাস, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে পাকিস্তানে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • সবাই মারা গেলেও বাস থামবে না!

    সবাই মারা গেলেও বাস থামবে না!

    ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। দোতলা পর্যটকবাহী বাসের যাত্রীরা আগুন লাগার কয়েক মিনিট আগেই বাসে পোড়া গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাসটির চালক ও কন্ডাক্টর তখনো সিগারেট খাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় এ কথা উল্লেখ করা হয়।

    এফআইআর অনুযায়ী, বাসের ভেতরে চালক ও কন্ডাক্টরের ধূমপান নিয়ে এর আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন যাত্রীরা। এ নিয়ে দুজন হাসাহাসি করে যাত্রীদের চুপ থাকতে বলেন এবং হুমকিও দেন।

    এর কিছুক্ষণ পর বাসের ভেতরে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা বিষয়টি চালককে জানালেও তিনি ও কন্ডাক্টর তা আমলে নেননি। তাদের দাবি ছিল, বাসের ভেতরে প্রায়ই এ ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। যাত্রীরা বারবার অনুরোধ করলেও চালক কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দ্রুতগতিতে বাস চালিয়ে যান এবং সিগারেট খেতে থাকেন।

    কয়েক মিনিট পর বাসের সামনের অংশ থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়।

    যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করলে চালক তাদের বলেন, ‘আপনারা মারা গেলেও আমার কিছু যায় আসে না, আমি বাস থামাব না।’

    বিহারের নিবন্ধিত বাসটি দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। বাসটিতে ৩৫ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন ধোঁয়ার কারণে যাত্রীদের বের হয়ে আসতেও ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।

    নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। জেওয়ারের কাছে দয়ানটপুর গ্রামের কাছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে বাসটিতে আগুন লাগে। সে সময় বেশির ভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। কাচের জানালা ভেঙে অনেক যাত্রী বাইরে ঝাঁপ দেন। এক যাত্রী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ঘুমোচ্ছিলাম। একজন বললেন, বাসে আগুন লেগেছে। আমরা ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করি। বাস থেকে বেরোনোর কাজটা সহজ ছিল না। কারণ চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। কোনো রকমে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি।’

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থায় বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং অয়েলে আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।

    আগুন থেকে চালক ও কন্ডাক্টর দুজনই প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশ তাদের আটক করে।

  • হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম

    হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের মধ্যে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার সময়সীমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই ইরান এ অবস্থান জানিয়েছে।

    ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাতিসংঘের বৈঠকের সময় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত।

    এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করারও আহ্বান জানানো হয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য ইরান যে শর্তগুলো তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরান যেসব ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করে, সেসব এলাকায় যুদ্ধের অবসান।

    ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হয়। এতে জ্যারেড কুশনারও যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে নতুন কোনো শর্ত উপস্থাপনের পরিবর্তে তেহরানের বিদ্যমান শর্তগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ। ফলে এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধাবস্থা বা সীমিত চলাচল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথের বাণিজ্য এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের চলাচল এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলে ইরানের সহযোগিতাও চেয়েছে।

    বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রশ্নটি এখন শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থও সরাসরি যুক্ত।

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

    হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করা তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

    বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া এক আদেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে আদালত। একই সঙ্গে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এটি ট্রাম্প ও তার পছন্দ নয় এমন সংবাদ প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধের সর্বশেষ ঘটনা। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন। তিনি তাদের সংবাদকে ‘ভুয়া খবর’ বলে সমালোচনা করেন। পরে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ দেশের জন্য বিপজ্জনক।

    নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো। সংবাদমাধ্যম তিনটি বলেছে, তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর কারণে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    তাদের ভাষ্য, এটি দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বৈষম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর প্রকাশিত আদেশে মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি বলেন, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করতে পেরেছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে মামলার মূল বিষয়ে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এবং আদালতের আদেশ না পেলে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি রয়েছে।

    কেলি লিখেছেন, ‘এটি কঠিন একটি আইনি মানদণ্ড। তবে বাদীরা তা পূরণ করেছে।’

    বুধবার মামলাটির শুনানি করেন বিচারক কেলি। শুনানি শেষে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বৃহস্পতিবার তিনি ১৪ দিনের জন্য সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। এ ধরনের আদেশ সাধারণত মামলার বিষয়ে আদালতের বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে দেওয়া হয়।

    শুনানির সময় কেলি প্রশ্ন তোলেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দিয়েছিল কি না।

    এর আগে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে দুটি মামলায় আদালতের দেওয়া রায় রয়েছে। এর একটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এসব রায়ে বলা হয়েছিল, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করার আগে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে।

    তবে বিচার বিভাগের আইনজীবী মাইকেল ভেলচিক যুক্তি দেন, আগের মামলাগুলোতে দেওয়া রায় সঠিক ছিল না।

    বিচারক কেলি বলেন, এ ধরনের প্রথম সংশোধনীসংক্রান্ত মামলায় আগের আদালতের রায় রয়েছে। সরকার সেসব রায়ের সঙ্গে একমত না হলেও তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনীয় মামলার আগের রায়গুলো বিবেচনায় থাকবে।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের রোডম্যাপ

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের রোডম্যাপ

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি রোডম্যাপ দিয়েছে ইরান। কর্মপরিকল্পনাটিতে পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাত অবসানে বড় পরিসরে আলোচনার সময়সূচির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ইরানের প্রস্তাবে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।

    নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে যেকোনো চুক্তিতে ইরানের দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এর আগেও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথের জন্য এখনো উন্মুক্ত। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তারা ধরে রেখেছে।

    দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বেশ কঠোর। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ কতটা তৈরি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

  • সুপার এল নিনোর প্রভাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

    সুপার এল নিনোর প্রভাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

    আগামী ছয় মাসে সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

    ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমায় আনুমানিক চার লাখ ৫১ হাজার মানুষ অতিরিক্ত তাপজনিত কারণে প্রাণ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর উচ্চহার ২০২৭ সালের জুন বা জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। আবহাওয়াবিদদের কেউ কেউ একে চিহ্নিত করেছেন ‘গডজিলা এফেক্ট’ নামে।

    সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হতে পারে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায়। সেখানে সুপার এল নিনোর আঘাতে ৩১ হাজার ৩২০ জন মারা যেতে পারেন। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ২৫১ এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার সুদানে ১৭ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে ১৫ হাজার ৬৭০, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে ১৩ হাজার ২৭১, পশ্চিম আফ্রিকার নাইজারে ৯ হাজার ৯০০ এবং মধ্য আফ্রিকার চাদে ৭ হাজার ৯৫৩ জন সুপার এল নিনোর কারণে মারা যেতে পারেন।

    যদিও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের আবহাওয়াবিষয়ক বিজ্ঞানী ফ্রিডরিক অটো এবং তার সহগবেষকদের মতে, এটি কোনো নিশ্চিত পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি আগাম সতর্কবার্তা। বিশ্বজুড়ে সুপার এল নিনোর মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি সচেতনতা বৃদ্ধি, শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) স্থাপন, শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা গেলে এই সাড়ে ৪ লাখ ‘সংকটাপন্ন’ মানুষের একটি বড় অংশকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর গবেষক দলের অন্যতম নেতা, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন জানিয়েছেন, সুপার এল নিনোর আঘাতে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। তার মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রাকৃতিক ঘটনা এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে চলেছে।

  • পরমাণু বোমা ইসরাইলে আর পরিদর্শক ইরানে,পেজেশকিয়ান

    পরমাণু বোমা ইসরাইলে আর পরিদর্শক ইরানে,পেজেশকিয়ান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বাইরে রয়েছে দেশটি । বিপরীতে ইরানকে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, কেবল কথার মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা সম্ভব নয়; এজন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘দ্বৈত নীতি’ পরিত্যাগ করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, এই অঞ্চলে পারমাণবিক বোমা ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে ইসরাইলের হাতে; অথচ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের দাবি জানানো হচ্ছে।

    পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইসরাইল গাজায় ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। আর আলোচনার টেবিলে থাকা অবস্থাতেই ইরানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি এবং ইতিহাসে কখনোই আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

    তিনি বলেন, তার পরও ইসরাইলকে বিনা মূল্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো রাজধানীতে বোমা হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছে।

    বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক বৈপরীত্য’ হিসেবে তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি আবারো বলছি—পরমাণু বোমা ইসরাইলে, কিন্তু পরিদর্শকরা ইরানে। ইসরাইল হত্যা করে, আর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’

  • ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পদ ৫০০০

    ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পদ ৫০০০

    ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে চার হাজার ৭০০ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের ৩০০টিসহ মোট ৫ হাজার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষার আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

    বুধবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রার্থীদের বয়সসীমা ১ সেপ্টেম্বর তারিখে ২১ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। ১ অক্টোর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আর ফি জমা দেওয়া যাবে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সার্ভিস সার্চসহ পরীক্ষার ফি ২০৫ টাকা।

    এমসিকিউ পদ্ধতিতে ২ ঘণ্টাব্যাপী ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরে। পরে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে।

    লিখিত পরীক্ষায় সাতটি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন ও নম্বর বণ্টন থাকবে। ২০০ টি প্রশ্নের প্রতিটি শূদ্ধ উত্তরের জন্য এক নম্বর পাবেন পরীক্ষার্থীরা। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটির জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূন্য দশমিক ৫ শূন্য নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমিশন থেকে নির্ধারিত হবে। উত্তরপত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিকভাবে না লিখলে এবং ঠিকভাবে বৃত্ত পূরণ না করলে বা কোনরূপ কাটাকাটি করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, লিখিত পরীক্ষা মূলত ঢাকা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রার্থী সংখ্যা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ঢাকার বাইরে অন্যান্য কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

  • জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিথ্যা বললেন ট্রাম্প

    জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিথ্যা বললেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তর। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বসেছে। প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৭ মিনিটের ভাষণে ইরান যুদ্ধ, গ্রিনল্যান্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, ওয়াশিংটনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেন।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণটি গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম বিস্ফোরক ছিল। তবে এবারও তিনি নানা বিষয়ে ‘মিথ্যা’ বলেছেন। আসুন, সেসব বিষয়ে জেনে নিই—

    যুদ্ধ বন্ধের দাবি

    ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করে আসছেন। দাবিটি পুনর্ব্যক্ত করে ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য বড় সম্মানের।’

    এ আটটি যুদ্ধ ও সংঘাত হলো কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, ফিলিস্তিনের গাজা, ইসরায়েল ও ইরান এবং মিসর ও ইথিওপিয়া।

    তবে ট্রাম্পের বলা এ ‘আটটি যুদ্ধের’ সংখ্যা স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত। কেননা, ট্রাম্পের তালিকায় এমন দুটি ঘটনা আছে, যেগুলো তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সময় আদৌ ‘যুদ্ধ’ ছিল না। মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে বিরোধটি ছিল একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ।

    সার্বিয়া ও কসোভোর পরিস্থিতিও যুদ্ধ ছিল না। সেখানে কী ধরনের যুদ্ধ ট্রাম্প বন্ধ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সেখানে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে। সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

    গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রশ্ন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেখানে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েল এখনো উপত্যকাটিতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।

    গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের সঙ্গে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়েছে।

    বৈশ্বিক উষ্ণায়ন

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এক সময় মানুষকে আক্রমণ করতে পারে বা হত্যা করতে পারে—এ সতর্কবার্তা নিয়ে ভাষণে ঠাট্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, এসব সতর্কতা দিচ্ছেন ‘সেই একই লোকেরা’, যাঁরা বলেছিলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে সবাই মারা যাবে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, পরে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন শব্দটি বদলে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বা জলবায়ু পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ, পৃথিবী নাকি উষ্ণ হওয়ার বদলে ঠান্ডা হচ্ছিল। আর এ কারণে কেউ মারাও যায়নি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে অন্তত চারটি ‘ভুল’ আছে। প্রথমত, ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ শব্দটি এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটিও প্রচলিত। দুটি শব্দের অর্থ এক নয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা দুটি শব্দই ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বোঝাতে তাঁরা ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বলেন। আর এর ফলে পৃথিবীতে যে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো বোঝাতে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

    দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প কোন সময়ের কথা বলেছেন, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে পৃথিবী ঠান্ডা হচ্ছে, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই; বরং পৃথিবী আরও উষ্ণ হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত জানুয়ারিতে জানায়, রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর হলো সর্বশেষ ১১ বছর। এর মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ ছিল সবচেয়ে উষ্ণ তিনটি বছর।

    তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘কেউ মারা যায়নি’—এমন দাবির সঙ্গেও বিশেষজ্ঞরা একমত নন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঠিক কত মানুষ মারা গেছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন হিসাবে এ সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

    চতুর্থত, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে আমরা সবাই মারা যাব’-জলবায়ু বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়নি। ২০১৮ সালে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পৃথিবীর উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে হলে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে। এ সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন।

    বিনিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি

    ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ‘পুরো বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আমরা নিশ্চিত করেছি।’ এ দাবির স্পষ্ট কোনো ভিত্তি নেই। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব দিতে পারেনি হোয়াইট হাউস।

    ট্রাম্পের ভাষণের সময় হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে ১১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। ট্রাম্পের বলা ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির তুলনায় এ অঙ্ক বেশ কম।

    ২০২৫ সালে সিএনএনের এক বিশদ পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউসের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকায় কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের অস্পষ্ট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ধরা হয়েছে।

    মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি

    ইরানের সঙ্গে টানা যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে টান পড়েছে, এমন দাবির কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতকেরা বলতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে গেছে, তা সত্য নয়। আমাদের কাছে এত বেশি অস্ত্র আছে, তা কখনো ব্যবহার করার কথাও ভাবতে পারি না। আমরা এমন মাত্রায় অস্ত্র তৈরি করছি, যা আগে কখনো করিনি।’

    মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঠিক কত অস্ত্র আছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, হয়ও না। তাই ট্রাম্পের দাবি পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব নয়। ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতক’ বলতে ট্রাম্প কাদের বোঝাচ্ছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    তবে শুধু সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) ওপর নজরদারি করা সরকারি পরিদর্শক সংস্থা এবং নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অস্ত্রের মজুত কমে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তবে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের ‘উল্লেখযোগ্য সময়’ লাগবে।

    পেন্টাগন বরাবর বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই। গত সপ্তাহেও একই দাবি করা হয়েছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধ কমার হার নিয়েও বাড়িয়ে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, গত বছরের ২০ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাজধানী ওয়াশিংটন অপরাধে জর্জরিত ছিল। এখন সেখানে অপরাধ ৮৭ শতাংশ কমেছে। তাঁরা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

  • বাড়ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি

    বাড়ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি

    সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করতে এসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাংবিধানিক পদধারীর সম্মানি ও ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের পরপরই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারও সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ, সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নিজেদের সম্মানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী নন। কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি মনে করছেন, জনগণের অর্থনৈতিক চাপের সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

    অন্যদিকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং মন্ত্রী-এমপিদের সম্মানি বৃদ্ধির বিষয়টি এক নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরির বিনিময়ে নির্ধারিত বেতন পান এবং তাদের বেতন কাঠামো পরিবর্তন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। বিপরীতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন আমার দেশকে বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা যে বেতন-ভাতা পান, সেটা খুব অপ্রতুল। কিন্তু বর্তমানে দেশের ক্রাইসিস মুহূর্তে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কোনো আপত্তি বা চাহিদা কোনোটাই নেই। সরকারপ্রধান এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা তা মেনে নেব।

    এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগ) শামীম সোহেল আমার দেশকে বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এলে আমরা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করব। রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে তাদের বেতন বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে শর্তে বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বেতনও বাড়বে। কারণ স্বাভাবিকভাবেই সচিবদের বেতনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বেতনের একটি ফারাক আছে। তাই নিয়মানুযায়ী এটাও বাড়বে। এটা নিয়ে কাজ শুরু হবে।

    রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি ছাড়িয়ে গেছে সচিবের বেতন

    নবম জাতীয় পে স্কেলের নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ফলে একজন সচিবের মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী একজন সচিবের মূল বেতন রাষ্ট্রপতির বেতনের চেয়ে ৩৬ হাজার টাকা বেশি। একই ভাবে প্রধানমন্ত্রীর মাসিক সম্মানির (এক লাখ ১৫ হাজার টাকা) চেয়ে সচিবের মূল বেতন ৪১ হাজার টাকা বেশি। একই ভাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মাসিক সম্মানিও এখন সচিবদের চেয়ে কমে গেছে। অবশ্য শুধু মূল বেতন দিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের আর্থিক সুবিধার হিসাব করা যায় না। এসব পদে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, স্টাফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত রয়েছে।

    আইন সংশোধন ছাড়া এমপি-মন্ত্রীদের সম্মানি বৃদ্ধির সুযোগ নেই

    এদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সরকারি আদেশ জারি করে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের সম্মানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাদের সম্মানি প্রতিবছর স্বয়ংক্রিয় ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বাড়ে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট আইন বা আদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হয়।

    সংসদ সদস্যদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত হয় ‘সংসদ সদস্য (পারিতোষিক ও ভাতাদি) আদেশ, ১৯৭৩’-এর আওতায়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সম্মানি ও বিশেষাধিকার নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী।

    ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর পরের বছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মানি-ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তখন রাষ্ট্রপতির মাসিক সম্মানি এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ ১৫ হাজার টাকা করা হয়। একই সময়ে মন্ত্রীদের সম্মানি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রীদের ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীদের ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এছাড়া সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    মূল বেতনের বাইরে রয়েছে বিভিন্ন ভাতা

    বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা হলেও বিভিন্ন মাসিক ভাতা মিলিয়ে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা দাঁড়ায় দুই লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য দৈনিক ৮০০ টাকা ও যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে বিমান, রেল বা স্টিমারে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ট্রাভেল ভাউচার রয়েছে। এছাড়া এলাকার কল্যাণে বছরে পাঁচ লাখ টাকা ঐচ্ছিক তহবিল এবং আকস্মিক মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে।

    মন্ত্রীদের জন্য আবাসন, গাড়িসহ নানা সুবিধা

    মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিনামূল্যে সম্পূর্ণ সুসজ্জিত সরকারি বাসভবন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সুবিধা পান তারা। সরকারি বাসভবনে না থাকলে মন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৭০ হাজার টাকা আবাসন ভাতা পান।

    ৫৩ বছরে এমপিদের বেতন বেড়েছে ১৩৭ গুণের বেশি

    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। একই সময়ে একজন মন্ত্রীর বেতন ছিল ১,০০০ টাকা। পরে কয়েক দফা আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বেতন বাড়ানো হয়। ১৯৮৮ সালে তা ১,৫০০ টাকা, ১৯৯২ সালে ৩,০০০ টাকা, ১৯৯৮ সালে ৭,৫০০ টাকা, ২০০৫ সালে ১১ হাজার টাকা, ২০১০ সালে ১৫ হাজার টাকা এবং সবশেষ ২০১৬ সালে ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এর সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় একজন সংসদ সদস্যের মোট আর্থিক সুবিধার পরিমাণ শুধু মূল বেতন দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

    এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন পদাধিকারীদের সম্মানি এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতনের তুলনা করা ঠিক নয়। কারণ জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি মূলত জনসেবা, যা টাকা বা অর্থ দিয়ে বিচার বা মূল্যায়ন করা যায় না। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের পদটি হলো নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরি।

    আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে এ ধরনের পদগুলোয় আলাদা সম্মানি ছিল না। পরে সময়ের সঙ্গে জীবন-জীবিকার তাগিদে সম্মানি ও ভাতার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। যেহেতু সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই রাষ্ট্রপতি বা অন্য জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণ বা বৃদ্ধির একটি যৌক্তিক ভিত্তি ও যুক্তি তৈরি হয়েছে।

  • সরকারি সব কমিটি থেকে সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থীদের

    সরকারি সব কমিটি থেকে সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থীদের

    আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত সব কমিটি পুনর্গঠন করছে সরকার। এসব কমিটি থেকে আওয়ামীপন্থীদের সরিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিতে তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে রাখতে বলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন হবেন নারী।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। অধিকাংশ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছে। আবার কিছু কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। অধিকাংশ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছে। আবার কিছু কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর অনেক জায়গায় সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এসব কমিটি পুনর্গঠনে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এমন অনেক কমিটি আছে, দীর্ঘদিন সভা অনুষ্ঠিত হয় না। দ্বিতীয়ত, অনেক কমিটি আছে, যেখানে আওয়ামীপন্থীরা রয়ে গেছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

    কমিটি পুনর্গঠন কেন প্রয়োজন

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সূত্র ধরে একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি কমিটিতে তাদের মনোভাবের ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর অনেকে আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে গেছেন। কমিটির সভায় তাঁরা থাকতে পারছেন না। আবার কোথাও কোথাও কমিটির বৈঠতে তাঁদের ডাকা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব কারণে পুরোনো কমিটি বহাল রেখে সরকারি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কাজেই নতুন বাস্তবতায় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    একজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির’ কথা বললেন। তিনি বলেন, তাঁর জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি পদে যিনি আছেন, তাঁকে সভায় ডাকা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সে জন্য এ কমিটি আশু পুনর্গঠন করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

    এ ছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এসব কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মনোভাবের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মেলে না। তাঁদেরও এখন এসব কমিটি থেকে সরানো হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তাতে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন জেলা প্রশাসক প্রথম আলোকে বলেন, দেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এসব কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটাই হয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন টানা ক্ষমতায় ছিল। তাই বিভিন্ন কমিটি অনেক দিন পুনর্গঠন করা হয়নি। আগের সরকারের প্রতিনিধিও রয়ে গেছে। এখন সেসব কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তি, একজন নারী

    নতুন করে গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এ তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করার কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের আমলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধির বাইরেও পাঁচজন সদস্য রাখা হতো। তাঁদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং বাকি তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রেখে কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।

    ডিসিদের নেতৃত্বে ৯৮ কমিটি পুনর্গঠন

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ৯৮টি কমিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরা। এসব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্‌যাপন কমিটি, আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ–সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন ডিসিরা।

    জেলা প্রশাসকেরা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি, ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি। জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও ডিসিরা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন এসব কমিটি পুনর্গঠনে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এমন অনেক কমিটি আছে, দীর্ঘদিন সভা অনুষ্ঠিত হয় না। দ্বিতীয়ত, অনেক কমিটি আছে, যেখানে আওয়ামীপন্থীরা রয়ে গেছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

  • কোটচাঁদপুরে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

    কোটচাঁদপুরে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান জিয়াদ বিন রাজি (২০), পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি লিটন (৪৩), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মহিনুর বিশ্বাস ওরফে খোকন (৪২), পৌর যুবলীগের সদস্য সোহাগ (৩৪) এবং দোড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাসিম আহম্মেদ সাকিল (৩০)।

    পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ২১ সেপ্টেম্বর খান জিয়াদ বিন রাজি ও লিটনকে এবং ২২ সেপ্টেম্বর মহিনুর বিশ্বাস, সোহাগ ও নাসিম আহম্মেদ সাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে কোটচাঁদপুর শহরের কলেজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি লাঠি উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর মডেল থানার এসআই মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এ,আর

  • হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের বিপদ!

    হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের বিপদ!

    কমিউনিস্ট নয়, হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের জন্য বড় বিপদ। জওহরলাল নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ হামিদ আনসারি।

    তার বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি পালটা আনসারির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।

    সম্প্রতি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে প্রয়াত আইনজ্ঞ এজি নুরানির স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আনসারি। সেখানে এজি নুরানির লেখা আরএসএস নিয়ে একটি বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। সেই সূত্রেই নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্যের উল্লেখ করেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি।

    আনসারি জানান, তৎকালীন বিদেশ সচিব জগৎ সিং গুন্দেভিয়ার নথিতে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেহরু বলেছিলেন, ভারতের জন্য বিপদ কমিউনিজম নয়, হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা।

    নেহরুর ওই বক্তব্য উদ্ধৃত করেই আনসারি বলেন, দেশের জন্য সাম্প্রদায়িকতার প্রবণতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন আনসারি।

    তার দাবি, নাগরিক জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে নির্বাচনি সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আনসারি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও আইনি স্তরে এই ধরনের প্রবণতার মোকাবিলা করা প্রয়োজন। নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আনসারির বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে পালটা আক্রমণ করা হয়।Advertisement

    বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর নির্দেশেই আনসারি এ ধরনের মন্তব্য করছেন। তার দাবি, ২০০৯ সালে রাহুল গান্ধী হিন্দু সংগঠনগুলোকে লস্কর-ই-তৈবার থেকেও বড় বিপদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হিন্দুবিরোধী রাজনীতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    তবে আনসারির বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নেহরুর পুরনো মন্তব্য এবং বর্তমান সময়ে নাগরিক ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ নিয়ে তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

    এর আগেও ইতিহাস নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আনসারি। কয়েক মাস আগে মহম্মদ গজনিকে ভারতীয় লুটেরা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছিল বিজেপি।

    মুহাম্মদ হামিদ আনসারি ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন।

  • ঢাকার সাথে বরফ গলাতে চায় দিল্লি

    ঢাকার সাথে বরফ গলাতে চায় দিল্লি

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। দুদেশের মধ্যে চালু থাকা কাঠামোগত ব্যবস্থার মধ্যেই থেকে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় দিল্লি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অবস্থান জানান।

    রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আগেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারত সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে কাঠামোগত ব্যবস্থা রয়েছে, তার মধ্য থেকেই সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত।

    তিনি বলেন, এটাই ভারতের মনোভাব। দুদেশের সম্পর্কের অভিমুখ ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী হোক, সেটাই ভারত চায়।

    দিল্লির এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুদেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে।

    ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে আসাদ আলম সিয়ামের সম্ভাব্য নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না, জানতে চাওয়া হয়।

    জবাবে জয়সোয়াল সরাসরি কোনো উত্তর না করে ভারতের সামগ্রিক অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর ভারতের আয়োজিত বহুপক্ষীয় যুদ্ধবিমান মহড়া তরঙ্গ শক্তিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। বাংলাদেশের বিমানবাহিনী একটি সি ১৩০ জে পরিবহণ বিমান নিয়ে মহড়ায় অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে। এটিও দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল আবারও সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী করার ভারতের অভিপ্রায়ের কথা জানান।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ সফর নিয়ে বাংলাদেশ আগে যে কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছিল, নতুন আলোচনায় সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে বলার মতো কিছু থাকলে পরে জানানো হবে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। অধিবেশনের ফাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।

    তবে দিল্লির সাম্প্রতিক বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। আগস্টেও জয়সোয়াল বলেছিলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা, প্রত্যর্পণ এবং মানুষের যাতায়াতসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে। ফলে দিল্লির নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতির বার্তা বাস্তবে কতটা অগ্রগতি তৈরি করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

  • রমজান কাদিরভের রাজনৈতিক উত্থান

    রমজান কাদিরভের রাজনৈতিক উত্থান

    রুশ প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ার দীর্ঘমেয়াদী শাসক রমজান কাদিরভ বর্তমানে কেবল ককেশাস অঞ্চলেই নয়, বরং পুরো রুশ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক আলোচিত নাম। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বিশেষ বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করেই মূলত দাঁড়িয়ে আছে এই লৌহমানবের পুরো রাজনৈতিক কাঠামো।

    ক্রেমলিনের প্রধান শর্তই ছিল—চেচনিয়ায় কোনো বড় বিদ্রোহ বা স্বাধীনতা আন্দোলন থাকা যাবে না এবং মস্কোর প্রতি থাকতে হবে শতভাগ আনুগত্য। এর বিনিময়ে পুতিন কাদিরভকে চেচনিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে একচ্ছত্র ও স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনার অবাধ সুযোগ দিয়েছেন।

    পাশাপাশি, তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার সুসজ্জিত ও অনুগত যোদ্ধা এবং তার বাবা আখমাদ কাদিরভের হাত ধরে তৈরি হওয়া ইসলামিক ও পারিবারিক প্রভাব কাদিরভের রাজনৈতিক ভিত্তি ও ক্ষমতার ইমারতকে শতভাগ সুরক্ষিত করেছে।

    যদিও এই ক্ষমতার উত্থানের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও নাটকীয় ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন।

    নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তরুণ বয়সে রমজান ও তার বাবা চেচেন স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ পালটে তারা ক্রেমলিনের সঙ্গে সমঝোতা করে রাশিয়ার পক্ষে যোগ দেন।

    এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে তার বাবা আখমাদ কাদিরভ চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হন এবং রমজান হন প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এক বোমা হামলায় বাবা আখমাদ নিহত হওয়ার পর পুতিনের বিশেষ আশীর্বাদে রমজান দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এবং সাংবিধানিক বয়সসীমা (৩০ বছর) পূর্ণ হওয়ামাত্র ২০০৭ সালে পুতিনের মনোনয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। তখন থেকেই তিনি লৌহমানবিক কায়দায় অঞ্চলটি শাসন করে আসছেন।

    এই ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং তা বজায় রাখাই কাদিরভ ও তার প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত রমজান চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা দায়িত্বে রয়েছেন।

    পুতিনের বিশ্বস্ত ‘পদাতিক সেনা’ হিসেবে চেচনিয়ায় নিজের পরিবার ও অনুগত নিরাপত্তা চক্রের একচ্ছত্র আধিপত্য চিরস্থায়ী করার পাশাপাশি নিজের সন্তানদের ক্ষমতার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার হয়ে বিশেষ কূটনৈতিক ও সামরিক ‘সেবা’ দিয়ে ক্রেমলিনের কাছ থেকে রাজনৈতিক অনাক্রম্যতা ও বিপুল আর্থিক সহযোগিতা আদায় করাও তার অন্যতম বড় কৌশল।

    চেচনিয়ায় যেকোনো ধরনের স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর, ভিন্নমত বা বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তা চিরতরে মুছে ফেলে একটি পুরোপুরি অনুগত সমাজব্যবস্থা বজায় রাখাই এই চেচেন শাসকের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য।

  • ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর সীমান্ত এলাকা থেকে গরুটি জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক দল এই তৎপরতা চালায়। বিজিবির সুবেদার মো: রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে টহলদলটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার হতে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।

    অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদল দেখতে পায়, কয়েকজন ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গরু ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগে পুনরায় ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ভারতীয় গরু আটক করে। জব্দকৃত গরুটির আনুমানিক প্রাতিষ্ঠানিক সিজার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃত গবাদিপশুটির বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কাস্টমসের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তে অবৈধভাবে গবাদিপশু পারাপার, মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে ৫১ বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • রায়পুরে স্কুল-মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ ২ শিক্ষার্থী

    রায়পুরে স্কুল-মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ ২ শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্কুল ও মাদরাসায় যাওয়ার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। রোববার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর চার দিনেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দুই পরিবারের সদস্যরা।

    নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলো-কেরোয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী হাজী বাড়ির ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও গৃহিণী আমেনা বেগমের একমাত্র ছেলে আরাফাত সায়েম (১৪) এবং চরপাতা ইউনিয়নের গাজিনগর এলাকার প্রবাসী এমরান হোসেন ও গৃহিণী ফাহিমা আক্তারের একমাত্র ছেলে মো: ইকরামুল হাসান মিনহাজ (১৪)।

    আরাফাত সায়েম রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর ইকরামুল হাসান মিনহাজ রায়পুর আলিয়া কামিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সায়েম ও মিনহাজ। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি।

    পরে সোমবার রাতে দুই শিক্ষার্থীর পরিবার রায়পুর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পাশাপাশি তাদের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোস্ট দিয়েছেন স্বজনেরা।

    নিখোঁজ সায়েমের বাবা জাকির হোসেন ও মিনহাজের বাবা এমরান হোসেন বলেন, ‘রোববার সকালে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি। কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান পাইনি। আমরা সন্তানদের ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা চাই।’

    রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সায়েম ও মিনহাজ নামে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের বিষয়ে পৃথক জিডি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা করছে।’

  • আজ দিন ও রাত সমান

    আজ দিন ও রাত সমান

    আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে শরৎকালীন বিষুব-এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শরৎকাল।

    রয়্যাল মিউজিয়াম গ্রিনউইচের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১টা ৬ মিনিটে এই বিষুব সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি সকাল ৬টা ৬ মিনিট।

    বিষুব হলো এমন এক ক্ষণ, যখন সূর্য ঠিক পৃথিবীর মাঝবরাবর বা বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। এই সময়ে পৃথিবীর কোনো অংশই সূর্যের দিকে বা বিপরীতে ঝুঁকে থাকে না, যার ফলে বিশ্বজুড়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে যায়। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘শরৎ বিষুব’।

    বিশেষ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জের মতো ঐতিহাসিক স্থানে মানুষ জড়ো হয়ে সূর্যোদয় উপভোগ করেন।

    তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বিষয়টি একটু আলাদা। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নতুন করে শরৎকাল শুরু হচ্ছে না। বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী বাংলাদেশে শরৎকাল এরই মধ্যে চলছে।

    ‘শরৎ বিষুব’ নামটি মূলত উত্তর গোলার্ধের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে এই দিনকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে শরতের শুরু ধরা হয়।

    উল্লেখ্য, লাতিন শব্দ ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব-এর অর্থ সমান রাত। নিয়ম অনুযায়ী এই দিনে দিন ও রাত উভয়ই ১২ ঘণ্টা করে হওয়ার কথা। তবে বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণের কারণে সূর্য ডোবার পরও কিছুক্ষণ আলো থেকে যায়। এর ফলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পুরোপুরি সমান হওয়ার ঘটনাটি বিষুবের ঠিক কিছুদিন পরে ঘটে, যাকে বলা হয় ‘ইক্যুল্যাক্স’ বা ‘সমান আলো’।

  • নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধ

    নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ আটজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকান্দিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইসরাফিল শিকদার, রাসেল শেখ, মতিউর রহমান, মুক্তি শেখ ও হাসান শেখ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে সকালে চরকান্দিপাড়ার মেম্বার মো: সোহেল ও আবেদ গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলি ও হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের আটজন আহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    আহতদের প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নড়াগাতী থানার ওসি মো: হোসেন আলী বলেন, ‘পূর্বের হত্যাকাণ্ডের জেরসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরকান্দিপাড়ার দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন আহত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক গুলিবিদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন। এছাড়া কোনো ধরণের অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার দুপুর পর্যন্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।’ এ,আর

  • ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে অপরাধ হবেনা:সুপ্রিম কোর্টের

    ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে অপরাধ হবেনা:সুপ্রিম কোর্টের

    ধর্মীয় বিশ্বাস বা বিবেকের কারণে কেউ যদি ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাইতে অস্বীকার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না বলে জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে ভারতের কেন্দ্র সরকারের কাছে এ বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বন্দে মাতরম নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে মৌখিকভাবে দেওয়া পর্যবেক্ষণে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এই বার্তা দেয়।

    বিচারপতিরা মৌখিকভাবে বলেন, জাতীয় গানের সংজ্ঞা নিরূপণ করা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। তবে কোনো নাগরিক যদি বিবেকজনিত কারণে গানটি গাইতে না চান, তাকে যাতে বাধ্য করা না হয়, সেটা আদালত খতিয়ে দেখতে পারে।

    কর্ণাটকের সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণার রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। ২০২৬ সালের ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী আইন’-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

    এই সংশোধিত আইনে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর মতোই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এটি গাওয়ায় বাধা দিলে বা ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে সরকারি ও আনুষ্ঠানিক মঞ্চে বন্দে মাতরমের আগের দুটি স্তবকের পরিবর্তে পুরো ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

    আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এস মুরলীধর আদালতে যুক্তি দেন, বন্দে মাতরমের শেষের চারটি স্তবকে হিন্দু দেবদেবীদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ফলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব স্তবক গাইতে বাধ্য করা এবং তা না গাইলে শাস্তির ভয় দেখানো নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি।

    শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘বিজয়ে ইমানুয়েল’ মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করেন। সেই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ যদি জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ না মিলিয়ে কেবল শান্ত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

    শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেয় যে দেশের সেই প্রতিষ্ঠিত আইনি নজির এখনো অটুট এবং বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

  • দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ও বর্তমানে অযোগ্য হয়ে পড়া বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন বোর্ডের মাধ্যমে অকেজো ঘোষণা করে ধ্বংস করা হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে কন্ডেমেশন বোর্ড এসব সামগ্রী পর্যালোচনা শেষে অকেজো ঘোষণা করে এবং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    ধ্বংস করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিছানার চাদর, মশারি, কম্বল, বালিশ, মেট্রেস, পর্দা এবং ইপিআই কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার।

    সিভিল সার্জন, পটুয়াখালীর অনুমতি ক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: জি এম এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া সামগ্রী অপসারণের অংশ হিসেবে এ কন্ডেমেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ,আর

  • হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা

    হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, চিঠিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টার’ জন্য আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের উদ্দেশে লেখা খামেনির হাতে লেখা বার্তায় বলা হয়, ‘আপনার নিজের এবং আপনার প্রচারবিমুখ ও বিনয়ী সহকর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সম্পর্কে আপনারা খুব সামান্যই উল্লেখ করেছেন। এটা নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক মানুষেরাই করে থাকেন।’

    এতে আরো বলা হয়, ‘তবুও, ঐশ্বরিক প্রজ্ঞায় এই গুণের ফলাফল হলো সেই ভালোবাসা ও সম্মান, যা সর্বশক্তিমান (তার মহিমা অসীম) নিষ্ঠাবানদের দান করেন। সেই সঙ্গে তিনি তাদের অশেষ দোয়া ও বিজয়ও প্রদান করেন।’

  • ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

    জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীগণ এ নৈশভোজে অংশ নেন।

    এর আগে সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।

  • নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে ইসরাইল, আল-শারা

    নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে ইসরাইল, আল-শারা

    ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তাকাঠামো নিয়ে আলোচনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে পরে ইসরাইল আলোচনা থেকে সরে যায় অথবা নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু ‘বিভিন্ন কারণে’ ইসরাইল সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়।

    আল-শারা বলেন, সাবেক সিরীয় সরকারের পতনের পর থেকেই ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তার দাবি, ইসরাইল নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে এবং দেশটির ভেতরে অভিযান, গ্রেপ্তার ও বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে।

    তবে এসবের মধ্যেও সিরিয়া কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, সিরিয়া এখনো আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোতে চায়। তবে সিরীয়দের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়।

    আল-শারা জানান, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয় প্রায় এক বছর আগে। শুরুতেই দামেস্ক দাবি করেছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা শুরুর আগে ইসরাইলকে ১৯৭৪ সালের চুক্তির পর নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সফল হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

    গোলান মালভূমি নিয়েও সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেন আল-শারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড। তাই এ ভূখণ্ড কার—এ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

    ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ যাচাই করতে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার মতে, ওই কমিটি ইসরাইলের উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর কোনটি কেবল ধারণা এবং কোনটি প্রকৃত নিরাপত্তা-উদ্বেগ, তা যাচাই করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি রসিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময় তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—‘নিউ জার্সি ইসরাইলিদের দিয়ে দেন না কেন? গোলান মালভূমির মালিক আপনি নন যে সেটি তাদের দেবেন, কিন্তু নিউ জার্সি আপনার।’

    গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন আল-শারা। ১৯৪৬ সালে সিরিয়া স্বাধীন হওয়ার পর কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই ছিল প্রথম হোয়াইট হাউস সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল।

    সিরিয়ায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আল-শারা। তিনি বলেন, দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা প্রায় ১৭০ থেকে কমে বর্তমানে দুটিতে নেমে এসেছে। তার দাবি, এসব ঘাঁটি এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থানও ‘আইনি কাঠামোর’ দিকে এগোচ্ছে।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্কের প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

    তিনি ৯/১১ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন মার্কিন নীতির কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কথাও উল্লেখ করেন। আল-শারা বলেন, ওই সময়ের ঘটনাবলির সঙ্গে তার সম্পূর্ণ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

  • কুমিল্লায় মোবাইল চার্জে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    কুমিল্লায় মোবাইল চার্জে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার হোমনায় মোবাইল ফোন চার্জে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: নাজমুল ইসলাম (২৩) নামে এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নাজমুল মনিপুর আদর্শ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি মনিপুর গ্রামের মরহুম নজরুল ইসলামের ছেলে।

    মৃতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে নিজ ঘরে মোবাইল ফোন চার্জে দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাজমুল। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১১

    দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১১

    দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের এক বাড়িতে গভীর রাতে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে ১১ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডারবানের দক্ষিণে কোয়ামাখুথা টাউনশিপে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার আগে টাউনশিপের একটি আবাসিক বাড়িতে লোকজন সমবেত হয়েছিল। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

    ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে হামলাকারীরা বাড়ির মালিকের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    এই প্রাণঘাতী হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। এছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজনদের শনাক্তও করা হয়নি।

  • সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সদরপুরে বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের দিকে, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন। এখনো তীব্র স্রোতে নদীর তীর ভেঙে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে, রাত কাটছে নির্ঘুম। কখন যে স্রোতের টানে নিজের ঘরবাড়িটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে পদ্মা পাড়ের জনগণ।

    প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তীব্র হলেও এবার বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে, নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষের দাবি, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসন।

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী ঢেউখালী, আকোটেরচর ও দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, চরমানাইর এবং চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবারো নদীভাঙন হয়েছে এবং ভাঙন অব্যহত রয়েছে। ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী ও মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, কালিখোলা, মোল্যাকান্দি ও খালাসীকান্দি এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভাঙছে। একই সাথে দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দির বাসিন্দারাও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, পদ্মার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের অংশ। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি তাদের। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

    পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের মধ্যে বেপারীডাঙ্গী গ্রামের ১০০ বছর বয়সি হাসমত বেপারীর গল্পটি যেন নদীভাঙনের নির্মমতার প্রতিচ্ছবি। নিজের ভিটেমাটিতে জীবনের শেষ সময়টা কাটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু কয়েক দশকে একের পর এক নদীভাঙনে বারবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। জীবনে আটবার ঘর তুলেও কোনোবারই স্থায়ী হতে পারেননি। সর্বশেষ ভাঙনে আবারো স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠতে হয়েছে তাকে। তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ শিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘জীবনে সাতবার ঘর তুলেছি। সবই গিলে খেয়েছে পদ্মা। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না, শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারব কি না।’

    পদ্মাপাড়ের অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছে। কারো ঘর গেছে, কারো ফসলি জমি, আবার কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বর্ষা শেষ হওয়ার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব পরিবারের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে চরম উদ্বেগ। সরকারি উদ্যোগে পাওয়া ঘরই তাদের শেষ আশ্রয়। সেই ঘরও নদীগর্ভে চলে গেলে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এছাড়া চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হয়। বর্ষা চলে গেলেও ভাঙন এখনো থামেনি। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।’

    দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আ: আজিজ চোকদার বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। আমরা চরের মানুষ এমন বিপদে আর কতবার পড়ব?

    ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে এবং নতুন করে মানুষ ভিটেমাটি হারায়। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

    আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, ‘নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

    সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, ‘পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব হোসেন বলেন, ‘ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

    এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, ‘নদীর সাথে আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। পাশের চরভদ্রাসনে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সদরপুরেও আমরা স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবো। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় শিগগিরই স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

    পদ্মার ভাঙনে বছরের পর বছর ধরে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার অবলম্বন হারানো মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। তাদের ভাষ্য, ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিরাপদ বসতি ও জমি রক্ষায় কার্যকর নদীশাসন। তাই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের একটাই প্রত্যাশা-আর কখনো যেন চোখের সামনে নিজের ভিটেমাটি পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে যেতে দেখতে না হয়। এ,আর

  • জাতিসংঘের সংস্কার চাইলো এরদোয়ান

    জাতিসংঘের সংস্কার চাইলো এরদোয়ান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন,

    বিশ্বশান্তি রক্ষার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ অক্ষম হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান । সেইসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    দীর্ঘদিন ধরেই এরদোয়ান নিরাপত্তা পরিষদকে আরো প্রতিনিধিত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    তিনি বলেন, ‘আসুন স্বীকার করে নেই যে, এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ১৯০টিরও বেশি দেশের মতামত পাঁচটি দেশের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, তা ন্যায্য নয় এবং এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আস্থা প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়।’

    এরদোয়ান আরো বলেন, ‘৮১ বছর আগে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ এখন সেই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে—অথবা বলা যায়, তাকে অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে।’

    গাজা পরিস্থিতিরও তীব্র নিন্দা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘যে মানুষের হৃদয়ে মানবতা, সহমর্মিতা ও দয়া রয়েছে এবং যার মধ্যে ন্যায়বোধ ও বিবেক কাজ করে, তিনি সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারেন না।’

    এরদোয়ান বলেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর এই অধিবেশনকক্ষে নিজের আসনে বসতে পারেননি। আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের প্রতি এই অবিচার বিবেককে আহত করে।’

    যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

    গাজার পরিস্থিতিকে তিনি ‘বর্তমান সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও সবচেয়ে লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ বলে অভিহিত করেন।

  • যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

    যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

    রাশিয়া রাজি হলে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে ইউক্রেনও জ্বালানি-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা বন্ধের যেকোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এ ধরনের ‘এনার্জি সিজফায়ার’ বা জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত রয়েছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন জেলেনস্কি। যুদ্ধ চার বছর ধরে চললেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হামলা বন্ধের একটি পৃথক সমঝোতা যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

    এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পাশাপাশি রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুদ্ধের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়মিত হামলা চালানোর অভিযোগের মুখে রয়েছে। ফলে শীত মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, জ্বালানি ইস্যু এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর আগে ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপেও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের বিষয়ে চাপ দিয়েছিলেন। জেলেনস্কির অবস্থান ছিল, রাশিয়াও একইভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি খাত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে এ ধরনের সমঝোতায় ইউক্রেন সম্মত হতে পারে।

    এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ন্যাটোর মধ্যেও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রমেই বেশি ‘বেপরোয়া’ আচরণ করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সম্মতির কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

  • গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    বুধবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরগামী একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন। গুরুতর আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাকটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় সংগ্রহের কাজ চলছে। নিহত তিনজনই পুরুষ। তারা অটোরিকশার যাত্রী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • ইরানকে নিশ্চিহ্নের হুমকি ট্রাম্পের হতাশার বহিঃপ্রকাশ’

    ইরানকে নিশ্চিহ্নের হুমকি ট্রাম্পের হতাশার বহিঃপ্রকাশ’

    ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘কৌশলগত হতাশার’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেইসঙ্গে তেহরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো বিধ্বংসী ও তীব্র পাল্টা হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত বলে বলে জানায় তারা।

    এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মঞ্চ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার’ অভিযোগ করেছেন ইরানের জেনারেল স্টাফ ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অচলাবস্থারই প্রমাণ এসব বক্তব্য। ট্রাম্পের বারবার হুমকি শক্তির প্রকাশ নয়, বরং তাদের কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ।’

    বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে এমন সব আঘাত হানতে প্রস্তুত, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ‘বিধ্বংসী ও অপ্রত্যাশিত’ হবে।

  • বিকশিত হচ্ছে মালয়েশিয়া: আনোয়ার

    বিকশিত হচ্ছে মালয়েশিয়া: আনোয়ার

    পরিপক্ব শিল্পভিত্তি, দক্ষ জনশক্তি, কৌশলগত অবস্থান ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থার কারণে মালয়েশিয়া উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ ও উৎপাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। সরকার এমন মানসম্পন্ন বিনিয়োগকে সহযোগিতা করবে, যা প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির উন্নয়ন, মালয়েশীয় কোম্পানির অংশগ্রহণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির খাতে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে আয়োজিত বৈঠকে আলোচনায় এসব কথা বলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    সাংহাইয়ে ২১টি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এআই-রোবটিকস, বৈদ্যুতিক যান (ইভি), ব্যাটারি উপকরণ, উন্নত অপটিকস, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষায়িত রাসায়নিক এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পেও সম্ভাব্য বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনা ও আগ্রহ সম্পর্কে সরাসরি জানতে পেরেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহরি আবদুল গনি এবং পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক সিউ ফুকও অংশ নেন। আনোয়ার বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন। সফরে সাংহাই ও হাংচৌ যাওয়ার কথা রয়েছে।

    চীন টানা ১৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১১৩ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

  • আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজারের গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকার আব্দুস সাত্তারের পুকুরে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে। পরে বুধবার সকালে পুকুরে থাকা পুঁটি, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়।

    পুকুরের মালিক আব্দুস সাত্তার জানান, পুকুরে থাকা মাছের আনুমানিক মূল্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। রাতে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সবজেল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর