শিরোনাম

  • এল নিনোর ঝুঁকিতে লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ শিশু

    এল নিনোর ঝুঁকিতে লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ শিশু

    ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট তীব্র খরা ও বন্যায় লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

    এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত পরিবর্তন। এ সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে।

    এ বছর এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইউনিসেফ জানিয়েছে, লাতিন আমেরিকার প্রায় দুই কোটি ৫৮ লাখ শিশু, অর্থাৎ প্রতি সাত শিশুর একজন খরা ও বন্যার কারণে ‘ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির’ মুখে রয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে।

    ইউনিসেফের লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক রবার্তো বেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, এসব পরিস্থিতি আরো বেশি শিশুকে গভীর সঙ্কটের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে এবং বিদ্যমান বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

    অঞ্চলভেদে এর প্রভাব ভিন্ন
    এল নিনোর প্রভাব লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে পড়ছে। মধ্য আমেরিকার গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় খরার কারণে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দেশের অনেক শিশুই এরই মধ্যে পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ পানির সঙ্কটে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

    বলিভিয়া, কলম্বিয়া, চিলি ও ভেনিজুয়েলার কিছু এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। অন্যদিকে, অ্যামাজন অববাহিকায় নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী অনেক জনপদ বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

    আরো দক্ষিণে, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এতে স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইউনিসেফ জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে কিউবা ও হাইতিতেও মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে। এ বছরের অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুমেও এল নিনোর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    ইউনিসেফের কর্মকর্তা বেনেস সতর্ক করে বলেন, একটি বড় ঘূর্ণিঝড়ই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে এবং লাখ লাখ শিশুর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করতে পারে।

    লাতিন আমেরিকায় এল নিনো-সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাঁচ কোটি ৩৮ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। তবে ৩০ জুন পর্যন্ত সংস্থাটি এর মাত্র অর্ধেক অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর আবারো ক্ষমতায় ফেরার পর জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থার মতো ইউনিসেফও বড় ধরনের অর্থসঙ্কটের মুখে পড়েছে।

  • ইরানে সরকারবিরোধী ২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    ইরানে সরকারবিরোধী ২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    জানুয়ারিতে উত্তাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়।

    অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এক মাস আগে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

    বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানায়, আলী হেম্মাতি ও মাজিদ নিক-আন্দিশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ‘জানুয়ারির দাঙ্গায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় চার নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

    ওয়েবসাইটটি আরো জানায়, তারা দোকান, ব্যাংক, বাস ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এমনকি গাছেও আগুন ধরিয়ে দেন।

    সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা বহাল করার পর বুধবার ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তারা এ সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছে।

    তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

    তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা শুরু করে ইরানে । এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

    এরপর থেকে দেশটিতে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে। এসবের সাথে যুদ্ধ এবং বছরের শুরুর দিকের বিক্ষোভ—উভয়েরই যোগসূত্র রয়েছে।

    ইরান হিউম্যান রাইটস ও টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি নামের দু’টি বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে কমপক্ষে এক হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর কোনো এক বছরে এটিই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ ইরান।

  • গাংনীতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

    গাংনীতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক আরেক অভিযানে ৮ গ্রাম গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এসব তথ্য জানান।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শেওড়াতলা পুকুরপাড়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কাজিপুর বিওপির একটি বিজিবি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৯৫ বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৮ হাজার টাকা।

    একইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ উপজেলার রংমহল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রংমহলে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় দুই হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট ও ৫৯ প্যাকেট পাতার বিড়ি জব্দ করা হয়। এসব মাদক ও চোরাচালান পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য আট লাখ ৪৩ হাজার ২৪৫ টাকা।

    এরপর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ডাক্তার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ গ্রাম গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেলসহ দৌলতপুর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. সনি (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে বিজিবি। আটক সনিকে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালসহ দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

    বিজিবি জানায়, পৃথক এসব অভিযানে সর্বমোট নয় লাখ ৫১ হাজার ২৭১ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • পাইলটদের মধ্যে মারামারি সৌদিতে নামলো ইসরাইলী বিমান

    পাইলটদের মধ্যে মারামারি সৌদিতে নামলো ইসরাইলী বিমান

    দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটির দুই পাইলটের মধ্যে ‘সংঘর্ষ’ বা ‘হাতাহাতি’ হয়েছিল।

    ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি বুধবার ভোরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ফ্লাইট-পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি একটি জরুরি সংকেত পাঠায়।

    কয়েক মিনিট পর সেটি ছিনতাইয়ের ঘটনা জানানোর জন্য ব্যবহৃত একটি সংকেতে পরিবর্তিত হয়। পরে আবার সাধারণ জরুরি সংকেতে ফিরে যায়।

    ইসরাইলের স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাইলট ও সহ-পাইলটের মধ্যে একটি ‘বাগ্‌বিতণ্ডা’ বা ‘সংঘর্ষের’ জেরেই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রায় ১৫০ জন আরোহী নিয়ে ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। তবে সেটি সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের বেশিরভাগই ইসরাইলি।

    বিমানে থাকা একজন ইসরাইলি যাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের কাছে সহায়তা চান। পরে কয়েকজন যাত্রী একজন পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তাকে বেঁধে রাখতে সহায়তা করেন।

    এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সৌদি আরব থেকে ইসরাইলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।

    দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরো তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী জেরুসালেম পোস্টকে বলেন, একজন পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। তবে ককপিটের কাছাকাছি থাকা কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

    ওই প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বিমানের পেছনের দিকে আরো দু’জন পাইলট অবস্থান করছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘আমি তাদের দিকে চিৎকার করে বলেছিলাম যেন তারা দ্রুত গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

    একই যাত্রী আরো জানান, আহত পাইলটকে বিমানে থাকা একজন দন্তচিকিৎসক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়তা দেন।

  • মাদারগঞ্জে ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

    মাদারগঞ্জে ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ বগুড়ার দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাবেরগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার শংকরপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো: কাওসার (৩০) ও একই গ্রামের বকুল প্রামাণিকের ছেলে জুয়েল (২৭)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাবেরগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

    মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় জানান, গ্রেফতার দু’জন বগুড়ার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • নাগরপুরে চোরের ছুরিকাঘাতে হতাহত ৩

    নাগরপুরে চোরের ছুরিকাঘাতে হতাহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চোর ধরতে গিয়ে চোরের ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়া (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় চোরকে বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন আলতাফ ও নাজমুল নামে আরো দুইজন।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মজনু মিয়া ওই গ্রামের মরহুম বেল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ঢালাই মিস্ত্রীর সহকারী ও তিন সন্তানের জনক ছিলেন। পরে জনতা চোর ছামিনুর মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে ছামিনুর মিয়া বারাপুষা মজনু মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে যায়। এসময় গৃহকর্তার ছোট মেয়ে জুলেখা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর হতে বের হয়ে চোরকে দেখতে পায়। পরে চোর চোর বলে ডাক চিৎকার করলে চোর ছামিনুর খড়ের গাদার পিছনে লুকায়।

    এসময় গৃহস্থ মজনু মিয়া তাকে ঝাপটে ধরলে চোরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তার ঘাড়ে ও গলায় আঘাত করে। প্রতিবেশী আলতাফ ও নাজমুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছামিনুর তাদেরকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ভার:) ডাক্তার মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ছুরির আঘাতে মজনু মিয়ার ক্যারোটিড আর্ট্যরি কেটে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। অপর আহত দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতর লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জড়িত ছামিনুরকে গ্রেফতার করে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা চলছে।’

    আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান। এ,আর

  • বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

    বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভালুকা সদর ইউনিয়নের খারুয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- ধনু আকন্দ (৬৫) ও শাহাব উদ্দিন আকন্দ (৬৩)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির উত্তর পাশে কৃষিজমিতে কাজ করতে যান খারুয়ালী গ্রামের মৃত মজিদ আকন্দের ছেলে ধনু আকন্দ।

    এ সময় জমিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে একই বাড়ির চাচাতো ভাই মৃত আজিজ আকন্দের ছেলে শাহাব উদ্দিন আকন্দ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় শিক্ষক মো. জান্নাতুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সকাল ৯টার দিকে তিনি পল্লী বিদ্যুতের একটি তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।

    বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে জানানো হলেও তারটি সরানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. নাসির উদ্দিন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অফিসের কারও অবহেলা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

    চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় মিলন হোসেন (৪৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাঠি গ্রামে নিজ বাড়ির বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে।

    মিলন হোসেন (৪৫) ওই গ্রামের সামছুল আলমের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে বাথরুম থেকে তার গোঙানির শব্দ শুনতে পান তারা।

    পরে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

    পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, মিলন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তারা।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ,আর

  • বিনা মূল্যের পাঠ্যবই: বইয়ের মানে এবারও শঙ্কা

    বিনা মূল্যের পাঠ্যবই: বইয়ের মানে এবারও শঙ্কা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী বছরের বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে শঙ্কা এবারও পুরোপুরি কাটছে না। দরপত্রের শর্তের চেয়ে পাঠ্যবইয়ে কম মানের জিএসএমের কাগজ ও নিম্নমানের কালি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও বাঁধাইয়েও ত্রুটি ধরা পড়েছে। পাঠ্যপুস্তক ছাপানো ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রেই এসব তথ্য জানা গেছে।

    এনসিটিবি সূত্র বলেছে, নিম্নমানের জন্য ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিম্নমানের কাগজ ও ছাপার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ফর্মা বাতিল করা হয়েছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে অন্তত ১৪টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    বই ছাপার মান ও সার্বিক অবস্থা জানতে গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বইয়ের গুণগত মান ও ছাপার কাজের অগ্রগতি যাচাই করেন।

    সূত্র বলেছে, প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৮০ জিএসএম এবং মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৭০ জিএসএম কাগজ ব্যবহারের শর্ত রয়েছে দরপত্রে। কিন্তু কিছু ছাপাখানায় এর চেয়ে কম জিএসএমের কাগজে বই ছাপার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহৃত কালি ও বাঁধাই নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে প্রতিবছরই বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

    এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পাঠ্যবইয়ের মান বজায় রাখার বিষয়ে এবার সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কাগজের ফর্মা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছাপাখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হচ্ছে।

    জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘রোডম্যাপ অনুযায়ী বই ছাপার কাজ এগিয়ে চলছে। এতে কোনো রকম ব্যত্যয় পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। ফর্মার মান খারাপ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই কেটে দেওয়া হচ্ছে।’

    আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপা হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ বই। বিনা মূল্যের এসব পাঠ্যবই ছাপায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই ছাপা চলছে ১৩৩টি ছাপাখানায়। এসব ছাপাখানার সিংহভাগ রাজধানী ঢাকার মাতুয়াইলে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়াতেও পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে।

    এনসিটিবির হিসাবে, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাক্-প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ বই ছাপা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) হয়েছে ৬২ শতাংশের। প্রাথমিকের বই ছাপা শেষ হয়েছে ৫২ শতাংশ, পিডিআই হয়েছে ২৪ শতাংশের। মাধ্যমিকের বই ছাপা শেষ হয়েছে ১৪ শতাংশ এবং পিডিআই হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশের।

    এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অননুমোদিত ও নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার কারণেই বেশি শোকজ করা হচ্ছে। এর বাইরে ছাপা ও বাঁধাইয়ে ত্রুটি এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করার অভিযোগও রয়েছে।

    কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এবার অনিয়মের বড় জায়গা কাগজ ও কালির মান। পাঠ্যবইয়ের জন্য দরপত্রে নির্দিষ্ট জিএসএমের কাগজের কথা বলা হলেও তা মানছে না অধিকাংশ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। অনেক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার করা কাগজের উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বেও ঘাটতি রয়েছে। দরপত্রে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের কালি ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কালির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তা নকল বলে শনাক্ত হয়েছে। বইয়ের বাঁধাইয়েও ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে।

    এনসিটিবি সূত্র বলছে, পিডিআইয়ের ছাড়পত্র পাওয়া কিছু মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কাগজ পরে পরীক্ষা করে নির্ধারিত মান পাওয়া যায়নি। যদিও তা সংশ্লিষ্ট মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র পেয়েছিল।

    এনসিটিবির তথ্যমতে, পাঠ্যবই ছাপায় অনিয়মের জন্য আনন্দ প্রেস, রেদওয়ানী প্রেস, মেঘদূত প্রেসকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া লিখন আর্ট প্রেস, সাগরিকা, ন্যাশনাল প্রেস, সরকার, আনোয়ারা প্রেসকেও শোকজ করা হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ডিজিটাল, আনোয়ার, আমিন, মুত্তাহিদা, দশদিশা প্রেসকেও অনিয়মের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে।

    এবার পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের জন্য আলাদা পিডিআই প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে এনসিটিবি। প্রাথমিকের বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছে ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডি। মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির বইয়ের দায়িত্ব পেয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি।

    সূত্র বলেছে, ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকেও শোকজ করেছে এনসিটিবি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কয়েকটি ছাপাখানার সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাগজে ছাপা বইকে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে আমরা কী করব। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।’

    অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির স্বত্বাধিকারী শেখ বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ আসছে, তা সঠিক নয়।

    বিদ্যুৎ-সংকটে বাড়ছে ব্যয়

    বিদ্যুৎ-সংকটে পাঠ্যবই ছাপার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কার্যাদেশ পাওয়া একাধিক মুদ্রণ ব্যবসায়ী। তাঁরা বলেছেন, দিনে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে মেশিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে কাগজ। ছাপা চালু রাখতে বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।

    এনসিটিবি গত ২৩ আগস্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে পাঠ্যবই ছাপার সঙ্গে যুক্ত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। চিঠিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    মাতুয়াইলের অন্তত পাঁচজন ছাপাখানা মালিক জানান, এনসিটিবির চিঠির পরও প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকলেও মেশিন বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। মেশিন বন্ধ রাখলে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয় এবং বই ছাপা ব্যাহত হয়।

    অন্য কয়েকটি ছাপাখানার মালিকেরা বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এতে নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালানোর বাড়তি ব্যয় পোষাতে গিয়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বইয়ে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের সুযোগ খুঁজতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

    জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, ‘বই ছাপার কাজ আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই চলছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’

  • চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু-যুবাদের অন্তর্ভুক্তি দেখতে লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দল

    চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু-যুবাদের অন্তর্ভুক্তি দেখতে লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দল


    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
    যশোরের চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা লিলিয়ান ফন্ডসের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী তারা চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অংশীজন, প্রতিবন্ধী যুবা ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সেবা নিশ্চিতকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    মতবিনিময় শেষে লিলিয়ান ফন্ডসের প্রতিনিধি আলোদিয়া ক্যাটরিনা সান্তোস ও অ্যাঞ্জেলা ফ্রিংস, আশরাফ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত একটি কক্ষের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের জন্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    এরপর বিকেল ৩টায় প্রতিনিধি দলটি সিএমআইটি কলেজে প্রতিবন্ধী যুবাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে প্রতিবন্ধী যুবাদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা, কর্মসংস্থান এবং সমাজে অর্থবহ অংশগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যুবারা তাদের অভিজ্ঞতা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন।

    বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিনিধি দলটি খড়িঞ্চা গ্রামের কেয়ারগিভার রিসোর্স সেন্টার (সিআরসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের মায়েদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা পরিবারের অভিজ্ঞতা, সন্তানদের যত্ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে কথা বলেন।

    বিকেল ৪টায় প্রতিনিধি দলটি আশরাফ ফাউন্ডেশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চলমান উদ্যোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিডিডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস এম আলী হাসনাইন ফাতিম ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অফিসার বৈশাখী পশারী দ্রুতি, আশরাফ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম. রাসেল আশরাফ, স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কদর, সিএমআইটি কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন মনির, আশরাফ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর ও সিবিআর কর্মসূচির আশিষ চ্যাটার্জি, ফিল্ড ট্রেনার নজরুল ইসলাম,সিবিআর অফিসার মামুনুর রশিদ বকুল, সিবিআর ফ্যাসিলিটেটর সাইদুল ইসলাম, কমিউনিটি সিবিআর কর্মী পিংকি খাতুন, আশরাফ ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি অফিসার রকিবুল ইসলাম রিফাত এবং ইয়ুথ ক্লাবের সদস্য আরজিনা খাতুন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রতিবন্ধী যুবা, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দলের এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের জন্য চলমান কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ

    প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ

    উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ কথা জানান।

    সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন-প্রকল্পের মেয়াদ যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়ানো যাবে না। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে বিলম্বের জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

    তিনি বলেন, অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিদ্যমান সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবার ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো যায়।’

    যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরো চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।

    প্রতিবেদনগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

    আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, রংপুর বিভাগে গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার কাজও করছে সরকার।

    এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।

    তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল সিস্টেমগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি জোরদার করা সম্ভব হবে।

    এ উদ্যোগ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করতেও সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

  • থাইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ২৩ জনের মৃত্যু

    থাইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ২৩ জনের মৃত্যু

    থাইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো দেশটির রাজধানী ব্যাংকক। সেখান থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে ব্যাংককের প্রধান বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    দেশটির সরকার কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে। গত সপ্তাহে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ব্যাংককে প্রায় ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

    শহরের গভর্নর চাডচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন যে আগামী দুই দিনের মধ্যে ব্যাংককের প্রধান সড়কগুলো থেকে বন্যার পানি নেমে যাবে। তবে প্লাবিত অন্যান্য এলাকা থেকে পানি সরতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকায় পানি নেমে গেছে, সেখানে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে।’

    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যাংককেই মারা গেছেন চারজন।

  • সোনারগাঁওয়ে ২ ভুয়া এসআরবি সদস্য আটক

    সোনারগাঁওয়ে ২ ভুয়া এসআরবি সদস্য আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দুজন ভুয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

    গত সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা অভিমুখী সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট থেকে তাদের আটক করা হয়।

    ধারণা করা হচ্ছে, তারা এসআরবি সদস্য পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে থাকেন।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন- ঝালকাঠির নলছিটি এলাকার মো: সোহেল (৩৫) ও গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার মো: সাজ্জাদ হোসেন সোহাগ (৩০)।

    পুলিশ জানায়, সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চন্দন দের নেতৃত্বে সোমবার রাতে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি করা হয়। এ সময় দুই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি কালো রঙের এসআরবির কটি, দুটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, পিস্তলের একটি কভার ও এসআরবির একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।
    পরিচয়পত্রটিতে ‘এমডি সুমন হোসাইন’ নামের এক কনস্টেবলের তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এ ছাড়া দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, ৯০টি প্লাস্টিকের টাই ও এফজেড-১ মডেলের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, জব্দ করা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিরা এসআরবি সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে তারা কেউ এসআরবি সদস্য না। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদ (২৫) ধলাগাছ সর্দারপাড়া এলাকার মরহুম জহুরুল ইসলামের ছেলে। আর সাব্বির হোসেন (২৮) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেল চোর চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত। আর ফরহাদ চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় করে নিজের হেফাজতে রাখতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর শহরের পার্বতীপুর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মতির মোড় এলাকায় শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করার পাশাপাশি ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘গ্রেফতার দুইজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘সৈয়দপুরে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আটকদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মো. রওশন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে, আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এ রায় দেন।
    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রওশন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর এলাকার বাসিন্দা।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কিশোরীটি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তাকে ডেকে রওশন শেখ তার চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে খাবার দেয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি মুরগির খামারের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে ২৩ মে পাটকেলঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামি রওশন শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
    বিচারক মামলার বাদী, চিকিৎসকসহ মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি রওশন শেখকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ আলমগীর আশরাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ,আর

  • নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার এবং তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযানগুলো চালানো হয়।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ মডেল থানা, সেনবাগ, চাটখিল ও চরজব্বর থানায় আটক কিশোরদের মধ্যে যথাক্রমে ৭, ৭, ১৩, ১১, ১১ ও ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ১৫১ ধারায় এবং একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কবিরহাট থানায় তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এ,আর

  • উগান্ডায় রাজা হচ্ছেন সাংবাদিক

    উগান্ডায় রাজা হচ্ছেন সাংবাদিক

    দীর্ঘ পারিবারিক বিরোধ ও নাটকীয়তার অবসান ঘটছে উগান্ডায়। দেশটির ঐতিহাসিক তোরো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী প্রবীণ সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানাঙ্গোমা ন্যাবঙ্গো প্রথম। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ও সংবাদ পাঠক হিসেবে সুপরিচিত এই সাংবাদিকের সিংহাসনে আরোহণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    তোরো রাজ্যের যুবরাজ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও উগান্ডাবাসীর কাছে কিজানাঙ্গোমা দীর্ঘদিন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবেই জনপ্রিয় ছিলেন। মেকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগে ডিগ্রি নেওয়া এই সাংবাদিক দুই দশকেরও বেশি সময় টেলিভিশন উপস্থাপক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    গত মাসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা যান তোরোর দীর্ঘদিনের শাসক রাজা ওয়ো নিয়িম্বা। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

    রাজা ওয়োর মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে রাজপরিবারে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। প্রয়াত রাজার মা রানি বেস্ট কেমিগিসা দাবি করেন, টেক্সাসে অবস্থানরত রাজা ওয়োর নাবালক ছেলেকেই সিংহাসন দেওয়ার অসিয়ত করে গেছেন প্রয়াত রাজা।

    তবে বংশের ২১ সদস্যের ঐতিহ্যবাহী নির্বাচন কমিটি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তারা জানায়, কথিত সেই সন্তানের কোনো আইনগত বা আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে রীতি অনুযায়ী প্রয়াত রাজার চাচাতো ভাই কিজানাঙ্গোমাকে নতুন রাজা হিসেবে মনোনীত করা হয়।

    উগান্ডায় ঐতিহ্যবাহী রাজাদের কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও সমাজে তাদের ব্যাপক সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি এবং সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা প্রকাশ্যে নতুন রাজাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

    কিজানাঙ্গোমা জানান, সাংবাদিকতার দীর্ঘ ২২ বছরের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগকে তিনি এখন সাধারণ জনগণের উন্নয়ন ও রাজ্যের ঐক্যের কাজে ব্যবহার করতে চান। ঐতিহ্যবাহী প্রথা ও মহড়ার মাধ্যমে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক কারুজিকা রাজপ্রাসাদে সম্পন্ন হচ্ছে তার আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেক।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ৩০ দেশে ইরানের ফ্লাইট

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ৩০ দেশে ইরানের ফ্লাইট

    ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশটির বিমান চলাচলের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই কার্যকর হলেও দেশটির আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। খবর আরব নিউজের

    মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই তেহরান বিমানবন্দর থেকে এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ফ্লাইট সংখ্যা কমে গেলেও চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ এখনো চালু রয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ইরান কার্যত ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ’ হয়ে পড়বে। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় ওয়াশিংটন।

    এরপর বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় ইরানের সব বিমান সংস্থার কার্যক্রম ‘বন্ধ করে দেয়া হবে’। তিনি বলেন, ‘ইরানের বিমান যদি অবতরণ করে, তাহলে তাদের জ্বালানি দেওয়া যাবে না, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া যাবে না, তাদের কাছে টিকিট বিক্রিও করা যাবে না। অন্যথায় আপনাকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তেহরান সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ করার কথা জানিয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও শুধু তেহরান থেকেই প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে বলে তেহরানের দাবি করেছে।

    ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন করেছে বা সেখানে অবতরণ করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করেছিল। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার পর তেহরানের ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞায় ইরানের দুটি প্রধান বিমান সংস্থা—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরান এয়ার এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রোববার তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র পাঁচটি পরিচালনা করেছে মাহান এয়ার এবং দুটি ইরান এয়ার। নিষেধাজ্ঞার আগে দুই বিমান সংস্থাই প্রতিদিন প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত।

    অবশ্য এই সংখ্যা বেসেন্টের দেওয়া হিসাবের চেয়ে বেশি। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া বক্তব্যে তেহরান বিমানবন্দরের পরিচালক বলেন, ‘৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে এখনো ফ্লাইট চলাচল করছে।’

    এদিকে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ বলে আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। চীনা বিমানবন্দরগুলোতে মাহান এয়ারের ফ্লাইট চলাচলও অব্যাহত রয়েছে।

    রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গেও ইরানের ফ্লাইট চলাচল করছে। তবে এই দুই দেশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অবশ্য তুরস্কের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করেছে মাহান এয়ার। বিমান সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে। যদিও ইরান এয়ার এখনো প্রতিদিন ইস্তাম্বুলে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

    ইরানের আরও কয়েকটি ছোট বিমান সংস্থাও তুরস্কের অন্যান্য শহরে ফ্লাইট চালাচ্ছে। আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মালয়েশিয়ায় এখনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়নি। এসব দেশে মূলত ইরানের ছোট বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করে।

    এদিকে নিষেধাজ্ঞা না মানা দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পালটা কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। তবে ইরানি যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের সব ফ্লাইট ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্থগিত করেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে জমছে ইরাকের তেলের টাকা!

    যুক্তরাষ্ট্রে জমছে ইরাকের তেলের টাকা!

    দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরাকের তেল বিক্রির হাজার হাজার কোটি টাকা জমা হচ্ছে মার্কিন মুল্লুকের এক ব্যাংকে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া এই অদ্ভুত ব্যবস্থার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ওয়াশিংটনের হাতে। চাইলেও ইরাক রাতারাতি এই চক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না।

    কেন এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল

    ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকের তেল সম্পদ যাতে আন্তর্জাতিক পাওনাদার বা অন্য কারও কবজায় চলে না যায়, সেজন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছিল। জাতিসংঘের নিয়মে ইরাকের তেল বিক্রির সব টাকা চলে যায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন এবং পুরোনো দেনার হাত থেকে সম্পদ রক্ষা করা। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, এই ব্যবস্থাটিই এখন ইরাকের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

    টাকা সহজে সরাতে পারছে না কেন ইরাক

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেহেতু ডলারে পরিশোধ করা হয় এবং ইরাককেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ডলারের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাই তারা চাইলেই অন্য কোথাও টাকা সরাতে পারে না। তাছাড়া, সাদ্দাম আমলের কয়েক বিলিয়ন ডলারের পুরোনো ঋণ এখনো শোধ হয়নি। টাকা অন্য দেশে সরালেই তা বিদেশি পাওনাদারদের মামলার মুখে পড়তে পারে।

    চলতি বছরের এপ্রিলেও ওয়াশিংটন হঠাৎ করেই ইরাকের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালান আটকে দিয়েছিল। তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশল নেয়।

    সমাধান কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    বসরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ আহমেদ সাদ্দামের মতে, হুট করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ এতে পুরোনো ঋণদাতারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। তবে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, পুরোপুরি নির্ভরতা না কমিয়ে ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন কিছুটা ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে।

    সাধারণ মানুষের ভাবনা

    যুক্তরাষ্ট্রের এই খবরদারিতে ইরাকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলেও সাধারণ মানুষের ভাবনা আবার অন্যরকম। বাগদাদ কিংবা বসরার সাধারণ নাগরিকদের আশঙ্কা, মার্কিন ব্যাংকগুলোর কড়া নজরদারি উঠে গেলে এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেশের দুর্নীতিবাজ নেতাদের পকেটে চলে যাবে। তাই নিজেদের দেশের ব্যাংকগুলোর চেয়ে মার্কিন ব্যাংকেই টাকা নিরাপদে থাকুক এমনটাই চান অনেকে। দিনশেষে, এই গোলকধাঁধা শুধু ডলারের হিসাব নয়, এটি হয়ে উঠেছে ইরাকের সার্বিক সার্বভৌমত্বের এক বড় পরীক্ষা।

  • ইতিহাস গড়ল মাস্কের ‘স্টারশিপ’

    ইতিহাস গড়ল মাস্কের ‘স্টারশিপ’

    স্পেসএক্সের বিশাল স্টারশিপ রকেট এর ১৪তম টেস্ট ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছে নতুন স্টারলিংক স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করেছে।

    মহাকাশযানটির নিচের ধাপের সুপার হেভি বুস্টার রকেট থেকে আলাদা হওয়ার পর প্রধান তিনটি ইঞ্জিনের একটি অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১০ ঘণ্টার এই মানববিহীন মিশনটি কমিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেক্সিকো উপসাগরের স্টারবেজ কমপ্লেক্স থেকে ৪০ তলা সমান উঁচু এই রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

    মহাকাশে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের মূল ইঞ্জিনগুলোর একটি বন্ধ হয়ে গেলেও প্রকৌশলীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে অন্য ইঞ্জিনগুলো চালু করে যানটিকে সফলভাবে কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব হয়।

    কক্ষপথে পৌঁছে স্টারশিপ সফলভাবে ২৬টি পরবর্তী প্রজন্মের স্টারলিংক ভিথ্রি স্যাটেলাইট স্থাপন করে, যা এই রকেটের প্রথম কক্ষপথভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। স্টারশিপের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে ইলন মাস্ক ও স্পেসএক্সকে বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

    প্রশান্ত মহাসাগরে স্টারশিপের নিয়ন্ত্রিত অবতরণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক টেস্ট মিশনের সমাপ্তি ঘটে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে নভোচারী পাঠানো এবং স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট কার্যক্রমকে আরও দ্রুততর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা

    নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জোনাথন ম্যাককিনসি নামে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই ব্যক্তির শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাককিনসি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রকৌশল শাখার পরিচালক ছিলেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলে সান ফ্রান্সিসকো থেকে ৫৬ কিলোমিটার পূর্বে ডাবলিনের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জোনাথনের মরদেহ পাওয়া যায়।

    এ ঘটনায় জোনাথনের শ্বশুর-শাশুড়ি শৌইয়ং ঝাং ও শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দুজনেরই বয়স ৭৭ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চরম অবহেলার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া এবং শিশুকে বিপদের মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দম্পতির কোনো আইনজীবী আছেন কি না, তা জানা যায়নি। আগামীকাল বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে।

    জোনাথনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিও-টিভিকে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁরা পরপর বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। এরপর জোনাথনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।

    আসাদ রাজাওয়ি নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কেজিও-টিভিকে বলেন, ‘আমি দেখলাম, লোকটি মাটিতে পড়ে গেল। তার মাথা ও বুক রক্তাক্ত ছিল।’

    আসাদের মেয়ে বলেন, তাঁর বাবা ওই দম্পতিকে ‘একসঙ্গে হাঁটতে এবং গুলি চালানোর পর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে যেতে’ দেখেছেন।

    ঘটনার কয়েক মিনিট পর ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলার পরও তাঁরা ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই জোনাথনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁকে হত্যার কারণ বা সম্ভাব্য কোনো উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি পুলিশ।

    গ্রেপ্তার ওই দম্পতিকে সান্তা রিটা কারাগারে রাখা হয়েছে।

    সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স্ক ওই দম্পতির মেয়ে ক্যান্ডিস ঝাংয়ের সঙ্গে জোনাথনের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। এক সপ্তাহ পর ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল।

    আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা ২০১২ সাল থেকে বিবাহিত এবং তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।

    জোনাথন হত্যাকাণ্ডের পর ক্যান্ডিসের নামে থাকা ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।

  • ভারতে সিইসি ও মোদির পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

    ভারতে সিইসি ও মোদির পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

    ভোট চুরির অপরাধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস। আজ মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি বলেন, কমিশনকে চাপ দেওয়ার নৈতিক দায় মেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও পদত্যাগ করা উচিত।

    বৈঠকের পর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য কে সি বেনুগোপাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নামে যা চলেছে, তা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। এটা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেননি। তাই তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত।

    নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট কারচুপি’ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সবার আগে সরব হয়েছিলেন। কীভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শাসক দল বিজেপির সুবিধা করিয়ে দিচ্ছেন, রাহুল সেসব তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন। বৈঠকে সদস্যরা বলেন, সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সেই সব অভিযোগই সত্য প্রতিপন্ন করেছে।

    স্পষ্ট করেছে, ১০ মাস ধরে কমিশনে সব সিদ্ধান্ত কার্যত একজনই গ্রহণ করছিলেন। খাড়গে বৈঠকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার কার্যত শাসক দলের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। এই নির্বাচন ব্যবস্থায় ভারতীয় গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়েছে। কংগ্রেস এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়ার্কিং কমিটি যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তাতে বলা হয়েছে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে চলমান এসআইআর ব্যবস্থাও অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। প্রস্তাবে বলা হয়, শুধু এসআইআর বাতিলই নয়, যে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম এখনই তালিকায় তুলতে হবে।

    ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হয়ে এই নির্লজ্জ ভোট চুরির আয়োজন করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে দেশের সংবিধান ও কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে বাঁচানো যাবে না। ভোটাধিকার ফেরত পাওয়া স্বাধীনতাসংগ্রামের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই অধিকার রক্ষায় কংগ্রেস রাস্তায় নেমে যেমন আন্দোলন করবে, তেমনই লড়াই করবে আদালতের আঙিনায় ও সংসদে। দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই লড়াই থামবে না।

    কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের এক দিন পরই বুধবার বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক। যদিও সেই বৈঠকে আম আদমি পার্টি (আপ) ও তামিলনাড়ুর ডিএমকে যোগ দিচ্ছে না। আপ পাঞ্জাবে সরকারে রয়েছে। আগামী বছর সেখানে নির্বাচন। কংগ্রেস তাদের প্রতিপক্ষ। ডিএমকের হাত ছেড়ে কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে সরকার গড়তে টিভিকে–কে সমর্থন দেওয়ায় এম কে স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ। ইন্ডিয়া জোটের শরিক ডিএমকে আর থাকবে কি না, এখনো সেই সিদ্ধান্ত স্ট্যালিন নিয়ে উঠতে পারেননি।

    সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও বুধবারের বৈঠকে থাকবেন না। ওই দিন রাজ্যসভার ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণে দলীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁকে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন। তবে দলের অন্য কোনো নেতা ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির গৃহীত প্রস্তাবের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা সহমত হন কি না।

    মঙ্গলবার অন্য দুটি বিষয় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের চাপ এবং বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম ও জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে যে মামলা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চ তা দ্রুত শুনতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ওই মামলার শুনানি হবে।

    মামলার আবেদনে বলা হয়, কমিশনের সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়, না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের নিজের বিবৃতিই দেখাচ্ছে, ১০ মাস ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনেক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ফলে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    দ্বিতীয় চাপ ও বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছেন বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) এস চোকালিঙ্গম। মঙ্গলবার জানাজানি হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর চোকালিঙ্গম নির্বাচন কমিশনে এক চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ইআরও–দের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হোক। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এই খবর দিয়ে জানিয়েছে, ইআরওদের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চোকালিঙ্গম ‘ইসিআইনেট’ সফটওয়্যারে চারটি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি অন্য আধিকারিকের পাশাপাশি এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন আইটি ডিজি সীমা খান্নাকেও। এই সীমার বিরুদ্ধেই ‘ইসিআইনেট’ মারফত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ইতিমধ্যেই গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ইন্ডিয়া জোটও কমিশনবিরোধী আন্দোলন শুরুর জন্য ওই দিনটিকেই বেছে নেবে।

  • ড. সিতি মালয়েশিয়ার ইতিহাস : আনোয়ার ইব্রাহিম

    ড. সিতি মালয়েশিয়ার ইতিহাস : আনোয়ার ইব্রাহিম

    মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, সিতি হাসমাহর মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব, অকৃত্রিম ব্যক্তিত্ব ও জাতির প্রতি সেবা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সিতি হাসমাহ ছিলেন এক পথপ্রদর্শক রূপকার। মাহাথির মোহাম্মদের সাত দশকের দীর্ঘ দাম্পত্য ও রাজনৈতিক জীবনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে তিনি মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে গেছেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় তাদের পরিচয় এবং দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্যে তারা সাত সন্তানের জনক-জননী হন।

    সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে পুত্রাজায়ার পুসারা নেগারা বা জাতীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন সিতি হাসমাহ।

  • ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ককটেল নিক্ষেপ

    ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ককটেল নিক্ষেপ

    ফিলিস্তিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুগাইর গ্রামে রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলের দখলদারেরা। গতকাল সোমবার রাতে সেটেলার সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের একটি ঘরে মোলোটভ ককটেলে আগুন ধরিয়ে ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে নিক্ষেপ করে। এ সময় ওই ঘরে থাকা ফিলিস্তিনিরা ঘুমিয়ে ছিল।

    মোলোটভ ককটেলটি নিক্ষেপ করার পর তাদের ঘরের ভেতর আগুন ধরে যায়। এরপর ঘরে থাকা ফিলিস্তিনিরা তাদের জীবন বাঁচাতে ওই আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে থাকে। একই সময়ে বাড়ির বাইরে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন দেয় ইসরাইলি সন্ত্রাসীরা।

    ইহাব হাসান এক্স অ্যাকাউন্টে হামলার ব্যাপারে লিখেছেন, ফিলিস্তিনি একটি পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করতে সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতরে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করেছে।

  • রাখাইনে মিয়ানমার বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে নিহত ৪৯

    রাখাইনে মিয়ানমার বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে নিহত ৪৯

    মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কিয়াউকতাওর একটি মার্কেটে বোমাবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৪৯ জন এবং আহত হয়েছে ৫৮ জন।

    সোমবার এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি জানিয়েছে, সোমবার বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান কিয়াউকতাওর সেই মার্কেটের ওপর দুটি বোমা ফেলে, এতে মোট নিহত হয় ৪৯ জন এবং আহত হয় ৫৮ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহতদের মধ্যে সবাই বেসামরিক। তাদের কেউ সেই মার্কেটের অস্থায়ী দোকান ব্যবসায়ী, কেউ স্থায়ী ব্যবসায়ী এবং কেউ সাধারণ পথচারী।

  • যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে আর্জেন্টিনা

    যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে আর্জেন্টিনা

    ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি তেল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির হুমকি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রশাসনের অধীনে থাকলেও এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে বুয়েনস আইরেস।

    ১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ১০ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন নিহত হন।

    ফকল্যান্ডসের উপকূলের কাছে বড় একটি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের কাজ করছে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান নাভিটাস ও ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার। আর্জেন্টিনার হুমকি প্রত্যাখ্যান করে কোম্পানি দুটি বলেছে, যুক্তরাজ্য তাদের বৈধ অনুসন্ধান লাইসেন্স দিয়েছে।

    মিলেই সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘সি লায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর ফকল্যান্ডস অববাহিকায় আমাদের সম্পদ অবৈধভাবে লুট করার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম বা সালিশি পদক্ষেপ শুরু করতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আমাদের আইনজীবী দলকে নির্দেশ দিয়েছি।’

    সি লায়ন তেলক্ষেত্রটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার (১৩৭ মাইল) দূরে অবস্থিত। মিলেই আরো বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্য যদি এই অবৈধভাবে পরিচালিত সম্পদ আহরণ বন্ধ না করে, তাহলে আমরা সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যাব।’

    ব্রিটেন অনুমোদিত এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মিলেইর সরকার ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আর্জেন্টিনার যুক্তি, প্রকল্পটি জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে। ওই প্রস্তাবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপপুঞ্জে একতরফাভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফকল্যান্ডস ইস্যুতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনার কথা বলার পর ফকল্যান্ডসের ওপর নিজেদের দাবির বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বুয়েনস আইরেস।

    অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার ফকল্যান্ডসের কাছে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এসব প্রতিষ্ঠানের ‘নিজেদের ইচ্ছামতো প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ও উন্নয়নের অধিকার রয়েছে।’

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক

    দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক

    দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’। অনিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের ইস্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক নারী হত্যা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও অপরাধের প্রতিবাদে আগামী বুধবার ‘মেনস মার্চ’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

    এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরকে অনিবন্ধিত বিদেশিদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার ‘ডেডলাইন’ ঘোষণা করেছিল মার্চ অ্যান্ড মার্চ। তবে এই ডেডলাইনের কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার বা অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

    অন্যদিকে মার্চ অ্যান্ড মার্চ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে পুরুষদের বিশেষভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নারীদের হত্যা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুরুষদের নীরব না থেকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। গৌতেং ও কোয়াজুলু-নাটালসহ কয়েকটি এলাকায় মিছিলের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা।

  • আগামীকালের মধ্যে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার

    আগামীকালের মধ্যে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার

    ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এই প্রত্যাহারকে ইরান ও তার মিত্ররা বিজয় হিসেবে দেখছে।

    ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।

    ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকের কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি বলেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ‘ঐতিহাসিক বিজয়’। ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়ের’ সমাপ্তি উদযাপন করা হবে। বিদেশি সেনা দিয়ে ইরাকের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা যায় না; বরং প্রতিরোধ ও জনগণের ইচ্ছার মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

  • ইরান না পারলে কেউই পারবেনা-গালিবাফ

    ইরান না পারলে কেউই পারবেনা-গালিবাফ

    ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।

    গালিবাফ বলেন, ‘যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না।’

    ওয়াশিংটনের সাথে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান যখন তার তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তাটি এল।

    এর আগে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শূন্যে নেমে এসেছে।

    চলতি মাসের শুরুতেও গালিবাফ সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ও সম্পদ ইরানের পাল্টা জবাবের মুখে পড়তে পারে।

    এদিকে, ১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সামরিক সহায়তায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। অথচ ওয়াশিংটন যাকে তাদের ‘কঠোর অবরোধ’ বলে অভিহিত করে, তার আওতায় ইরান শূন্য ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন গালিবাফ। শনিবার ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরানের শর্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

    ইরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছে তেহরান।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসা নতুন কিছু ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরবেন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের শর্ত কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়েই এসব আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া মঙ্গলবার পাওয়ার আশা করছে তেহরান।

  • মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু

    মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু

    মিয়ানমারের প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীকে দেশটিতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। মিয়ানমারের সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে করা একটি চুক্তির আওতায় এই প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে।

    মিয়ানমারের নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ আজ মালয়েশিয়া ছাড়ার কথা রয়েছে। এসব জাহাজে প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত নেওয়া হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রত্যাবাসনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা সহিংসতা, নিপীড়ন এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগের ঝুঁকিতে পড়বেন।

    মালয়েশিয়া সরকার বলছে, প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছামূলক। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে এসব ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করা বা তাদের যাচাই-বাছাই করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গারা থাকবে। মিয়ানমারের এই নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক মানুষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

    আনোয়ারের জনপ্রিয়তা এ বছর ব্যাপকভাবে কমেছে। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা উপস্থিতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিরূপ মনোভাব বাড়ছে। তাই মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করা ছাড়া তার হাতে আর কোনো বিকল্প নেই।

    তবে এই পদক্ষেপ আনোয়ারের অবস্থানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাবেক রাজনৈতিক বন্দি আনোয়ার ইব্রাহিম অতীতে নিজেকে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার সরকারের আমলে মালয়েশিয়া মিন অং হ্লাইংয়ের শাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি। একই সঙ্গে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সোচ্চার দেশ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে মালয়েশিয়া।

    কী পরিবর্তন হয়েছে?

    এর পেছনে দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিম্নআয়ের মালয়েশীয়দের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের প্রতি অসন্তোষও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ সালের পর মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে অস্থিরতা বেড়েছে। ওই বছর ঐতিহাসিক এক নির্বাচনের মাধ্যমে ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)—ক্ষমতাচ্যুত হয়। দলটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এরপর দেশটিতে একের পর এক অস্থিতিশীল জোট সরকার গঠিত হয়েছে।

    জনমতের পরিবর্তন

    বহু বছর ধরে মিয়ানমারে নিপীড়িত মুসলিমদের প্রতি মালয়েশীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি ছিল। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একটি নৃশংস অভিযানে রাখাইন রাজ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

    পরবর্তী বছরগুলোতে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরগুলোর ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে যাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল, তাদের কেউ কেউ বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে আশ্রয় ও কাজের সন্ধান করেন।

    মালয়েশিয়ার নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌযান উপকূলে ভিড়তে বাধা দিয়ে আসছে। তারপরও অনেকে বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। দীর্ঘদিন তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছিল।

    বর্তমানে সেখানে ২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের অধিকাংশই দিনমজুরি বা অন্যান্য শারীরিক শ্রমের কাজ করে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে।

    তবে মহামারির সময় থেকেই মালয়েশীয়দের মনোভাব বদলাতে শুরু করে। মহামারি দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানে। নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে যখন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তীব্র ছিল, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বহিষ্কারের দাবিও ওঠে।

    এর প্রতিক্রিয়ায় তৎকালীন সরকারও কঠোর অবস্থান নেয়। তারা ঘোষণা করে, মালয়েশিয়া আর কোনো শরণার্থী গ্রহণ করতে পারবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে—এমন সন্দেহে বিভিন্ন রোহিঙ্গা বসতিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালেও অনেকটা একই ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে একটি অনলাইন অভিযোগে দাবি করা হয়, ঈদুল আজহার পর রোহিঙ্গারা পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে পরিষ্কার করেনি। এর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। সেখানে মিথ্যাভাবে দাবি করা হয়, রোহিঙ্গা নেতারা মালয়েশিয়ায় জমি ও নাগরিকত্ব দাবি করছেন।

    এর কিছুদিন পর Change.org-এ রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কারের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে ৪ লাখেরও বেশি স্বাক্ষর পড়ে। পরে পিটিশনটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

    চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার

    আনোয়ার ইব্রাহিম একসময় উদারনৈতিক মূল্যবোধের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে ধারণা করা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অপতথ্যের এই প্রবাহের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নেবেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সাথে মানবিকভাবে আচরণ করতে হবে।

    সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের গ্রেপ্তার করতে পারি, কিন্তু তাদের মারধর, ভয় দেখানো বা অপমান করা যাবে না।’তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতেই কর্মকর্তারা এমন আচরণ করছেন।

    তারপরও আনোয়ার জোর দিয়ে বলছেন, রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া থেকে বের করে দিতে হবে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা স্পষ্টভাবেই একটি বোঝা হয়ে উঠেছে—নিরাপত্তার বোঝা, অর্থনৈতিক বোঝা এবং জনগণের মধ্যে বৈরিতার একটি উৎস।’

    আনোয়ারের একসময়কার কিছু সমর্থক তার বিরুদ্ধে নিজের নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন। মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক প্রধান লতিফা কোয়া তার সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক, নীতিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

    তবে আনোয়ার বর্তমানে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। একসময় যাকে দীর্ঘদিনের ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো, তিনি শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন। তবে এর জন্য তাকে একসময়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইউএমএনওকে সঙ্গে নিয়ে একটি অস্বস্তিকর জোট গঠন করতে হয়।

    এরপর তার নিজের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তার দলও আসন হারিয়েছে। ২০২৮ সালের শুরুর দিকে তাকে অবশ্যই সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যান্ড এনগেজমেন্টের পরিচালক ত্রিশিয়া ইয়োহ বলেন, ‘তিনি এখন কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন এবং এটি তার সবচেয়ে দুর্বল সময়।’তার ভাষায়, ‘ইউএমএনওর অংশীদারদের কাছে তাকে ছাড় দিতে হয়েছে।… বেশ কয়েকটি দুর্নীতির কেলেঙ্কারি হয়েছে এবং তার নিজের দলও বিভক্ত। চার বছর ধরে তিনি ভোটারদের বলে আসছেন যে তার ভঙ্গুর জোট টিকিয়ে রাখতে এসব প্রয়োজন। এখন তারা আর সেই ব্যাখ্যা মেনে নিতে চাইছে না।’

    ইয়োহের মতে, মালয় জনগোষ্ঠী—যারা মোট ভোটারের অর্ধেকেরও বেশি—ইউএমএনওর দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক বয়ানের প্রতি সাড়া দিচ্ছে, যেখানে বলা হয়, তাদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের জাতিগত রাজনীতি বহিরাগতদের নিয়ে ভয় ও অসন্তোষ তৈরি করে।‘বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও আপনি একই ধরনের বক্তব্য শুনবেন—অভিবাসীরা আমাদের চাকরি নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়।’

    জোর করে ফেরত পাঠানো?

    তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের কীভাবে ফেরত পাঠানো হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবাধে চলাচলের অনুমতি নেই। তাদের কেবল বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়।

    কিন্তু বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরো অংশই আরাকান আর্মি নামের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। একই সঙ্গে সেখানে মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর অব্যাহত বোমাবর্ষণ চলছে। প্রত্যাবাসনের আগের দিন সোমবার আরাকান আর্মি জানিয়েছিল, কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজারে দুটি বোমা বিস্ফোরণে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন।

    রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে একমাত্র রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তের কথা ভাবা যেতে পারে। কিন্তু শহরটি অবরুদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সেখানেও রোহিঙ্গাদের অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত শিবিরে বসবাস করতে হয়, যেখানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরো আশঙ্কা করছে, প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে থাকা পুরুষদের মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ করে গৃহযুদ্ধে পাঠানো হতে পারে।

    মালয়েশিয়া বা মিয়ানমার—কোনো সরকারই ব্যাখ্যা করেনি, কীভাবে এই বিশাল প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে তাদের পরিকল্পিত প্রত্যাবাসন কীভাবে মানবিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

    রোহিঙ্গা শরণার্থী অধিকারকর্মী নুর সাদেক বলেন, ‘আমরা সবাই একদিন নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আমরা ফিরতে চাই নিরাপদ পরিবেশে এবং আমাদের নিজেদের পছন্দে—জোর করে নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ও অন্যান্য শরণার্থীদের কথা যেন শোনা হয় এবং তাদের মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা হয়।’

  • ‘গরু পশু নয়, আমাদের মা’

    ‘গরু পশু নয়, আমাদের মা’

    গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার দাবি প্রসঙ্গে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেছেন, কিছু মানুষ গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার কথা বলছেন; কিন্তু আমাদের কাছে গরু কোনো পশু নয়, বরং মা। আমাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক জন্ম-জন্মান্তরের।

    লক্ষ্ণৌতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) প্রাক্তন নেতা অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    যোগী আদিত্যনাথের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সনাতন ঐতিহ্যে গরু ইতিমধ্যেই মাতৃরূপে পূজিত। তাই এর জন্য কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই। ঠিক যেমন কোনো সন্তানকে তার মাকে চিনতে বা সম্মান করতে আলাদা করে বলতে হয় না, তেমনি গরুর মর্যাদাও স্বতঃসিদ্ধ।

    গঙ্গার সঙ্গে তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গঙ্গাকেও কেউ মা বলে চিনতে শেখায়নি। এগুলো আমাদের সভ্যতার মৌলিক মূল্যবোধ।’ যারা গরুকে শুধু পশু হিসেবে দেখেন, তাদের চিন্তাধারাই পশুসুলভ—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গোমাতা আমাদের জাতীয় মাতা। তার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দরকার নেই।’

    অনুষ্ঠানে গো-রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভক্তদের উচিত গো-সংরক্ষণ ও পালনে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশে গো-হত্যা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা এটিকে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে রাজনীতির মিশ্রণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, যোগী এর মাধ্যমে হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতি তার অটল অবস্থানই তুলে ধরেছেন।

    উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন মহল থেকে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি উঠেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রস্তাব তাদের বিবেচনায় নেই। বর্তমানে ভারতের জাতীয় পশু হিসেবে বাঘ স্বীকৃত।

  • ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির তালিকায় দুই ঈদ

    ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির তালিকায় দুই ঈদ

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম একটি আইনে স্বাক্ষর করার পর মুসলমানদের এই দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসব ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো।

    রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতর এবং ইসলামী বর্ষপঞ্জির শেষ মাস জিলহজে ঈদুল আজহা পালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই দুই উৎসব পালন করেন।

    নতুন আইনের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মীরা বিদ্যমান বেতনসহ ছুটির সুবিধা ব্যবহার করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো ঈদের দিন বন্ধ রাখা যাবে।

    তবে নতুন আইন অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার সব কর্মী অতিরিক্ত দুই দিন বেতনসহ ছুটি পাবেন—বিষয়টি এমন নয়। অঙ্গরাজ্য কর্মীরা আইনটির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার জন্য আট ঘণ্টা পর্যন্ত ছুটি নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভ্যাকেশন, বার্ষিক ছুটি, ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি কিংবা ব্যক্তিগত ছুটির ক্রেডিট ব্যবহার করা যাবে।

    এ ছাড়া ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ক্যালিফোর্নিয়ার বিচার বিভাগীয় ছুটির তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

    আইনটির প্রণেতা অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও উৎসবের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আইনটির সমর্থক আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের ক্যালিফোর্নিয়া শাখা (সিএআইআর-সিএ) সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এর ফলে মুসলিম শিক্ষার্থী ও কর্মীদের স্কুল ও কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঈদ উদযাপন করা সহজ হবে।

    সিএআইআর-সিএর দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১০ লাখের বেশি মুসলিম বাস করেন। সংগঠনটি নতুন আইনকে অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ক্যালিফোর্নিয়া লেজিসলেটিভ ইনফরমেশন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গভর্নর নিউসম গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবি ২০১৭ অনুমোদন করেন। একই দিন আইনটি অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেটের কাছে নথিভুক্ত করা হয়।

  • গুগল ম্যাপে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র

    গুগল ম্যাপে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র

    গুগল ম্যাপে নতুন করে হালনাগাদ করা স্যাটেলাইট ছবিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইসরাইলি যুদ্ধের কারণে উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, একের পর এক আবাসিক এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোথাও শুধু প্রধান সড়কগুলোর ক্ষীণ রেখা দেখা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের কারণে গাজার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকাকে আলাদা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    যেসব এলাকায় আগে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ছিল, সেসব জায়গার বড় অংশ এখন ধূসর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও আগুন ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া গাজার শতাব্দীপ্রাচীন বিভিন্ন উপাসনালয়েরও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্যাটেলাইট ছবিতে ফুটে উঠেছে। কিছু ধর্মীয় স্থাপনা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

    নতুন এসব ছবি গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির একটি দৃশ্যমান চিত্র তুলে ধরছে।

  • বাড়ছে ধর্ষণ মামলা, মিলছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

    বাড়ছে ধর্ষণ মামলা, মিলছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

    দেশজুড়ে ধর্ষণের ঘটনা ও মামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের আট মাসে রেকর্ড হয়েছে ৪,৬৫৪টি ধর্ষণ মামলা, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তদন্তে অধিকাংশ ঘটনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের মামলা ভালোভাবে তদন্ত এবং দ্রুত প্রতিবেদন দিয়ে বিচার ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের সব ইউনিটকে।

    বিশ্লেষকরা বলেছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের বেপরোয়া মনোভাব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছুটা নমনীয়তা, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতার অভাব এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে।

    তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, মামলার বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয় না। ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারছেন। এতে পরিসংখ্যানগতভাবে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে।

    তারা আরো বলেছন, দলীয় পরিচয় বিবেচনা করে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলও তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ৪,৬৫৪টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। জানুয়ারি-জুন ছয় মাসে ৩,২৫২টি মামলা হয়। এর মধ্যে মার্চ-জুন পর্যন্ত হয়েছে ১,৯৪০টি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ১,৩১২টি মামলা। এছাড়া জুলাইয়ে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হয়েছে ৭০৭ এবং আগস্টে ৬৯৫টি।

    গত বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ষণের মামলা হয় ১,৫২৮টি। বছরের প্রথম তিন মাসের চেয়ে পরবর্তী তিন মাসে (মার্চ-জুন) ধর্ষণের মামলা বেশি হয়েছে ৬২৮টি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৪১২টি। মার্চ-জুন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ মামলা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায়।

    এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৪টি, গোপালগঞ্জে ৬২, কক্সবাজারে ৬২, ঢাকা জেলায় ৫৮, টাঙ্গাইলে ৫৭, কুমিল্লায় ৫৩, চট্টগ্রাম জেলায় ৫০ এবং বগুড়ায় ৪৭টি মামলা হয়েছে।

    সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সভায় ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলা বৃদ্ধির হার খুবই উদ্বেগজনক। তিনি পুলিশের সব ইউনিটকে ধর্ষণ মামলাগুলো খুব ভালোভাবে তদন্ত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলার দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেন।

    ধর্ষণের মামলা তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ তুলে ধরে সম্প্রতি বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহ্মদ। তিনি বলেন, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে ভুক্তভোগী মামলা করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না। এখন থানায় গেলেই এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো হস্তক্ষেপ নেই, যে কারণে মামলা বেড়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ধর্ষণ যেখানেই হোক; গ্রেপ্তার, চার্জশিট, সাক্ষী উপস্থাপনসহ বিচারের সব ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। পল্লবীতে শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫-১৭ দিনের মধ্যে, এটা বাংলাদেশের রেকর্ড।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশকিছু ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়। এর মধ্যে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা এবং ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশু ফারিয়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত ৯ সেপ্টেম্বর পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে লাশ টুকরা টুকরা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদরাসাছাত্রী জামিলা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বাধা দিতে গেলে জামিলার নানি সুফিয়া খাতুনকেও হত্যা করে দুবৃত্তরা। ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।এদি

    কে, ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে অভিযুক্তদের সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গত ৪ আগস্ট ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৩ জুন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা হোসাইন আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গত ২৬ আগস্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিএনপি নেতা শক্র মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৪ আগস্ট নওগাঁর বদলগাছীতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে

    জামায়াত নেতা শফিউল হাসানের বিরুদ্ধে। গত ১৭ জুলাই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মাহবুবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিভাগের দুটি জেলার পুলিশ সুপার আমার দেশ-কে বলেন, ধর্ষণের যেসব অভিযোগ পাচ্ছি, তদন্তে অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নাম পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে তারা ধর্ষণের মতো অপরাধ করছে।

    পুলিশের মুখপাত্র এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন আমার দেশ-কে বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধ যারাই করুক, ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। মামলা গ্রহণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপ না থাকা এবং ভুক্তভোগীরা নির্বিঘ্নে থানায় অভিযোগকরতে পারায় প্রকৃত ঘটনার একটি বড় অংশ এখন মামলা হিসেবে রেকর্ড হচ্ছে। এটা ধর্ষণ মামলার পরিসংখ্যান বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের ওপর পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে।

    অপরাধ বিশ্লেষক মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক আমার দেশ-কে বলেন, ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বাড়ছে, এটা আমরা পরিসংখ্যানগতভাবে দেখছি। ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আংশিক সত্য। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটাচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় কিছুটা নমনীয়তা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারে প্রযুক্তিগত অপশিক্ষা। এর ফলে এক শ্রেণির মানুষ ধর্ষণের মতো অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। ধর্ষকদের বয়স ২৫-৪৫ বছরের মধ্যে বেশি। এখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি সম্পত্তিগত শত্রুতা, নানা কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব এবং অস্থিতিশীল সামাজিক পরিবেশও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। ধর্ষণের ঘটনার নির্মোহ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি হলো, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

  • জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারে নৈরাজ্য

    জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারে নৈরাজ্য

    সরকার ঘোষিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। সরকারি হাসপাতালগুলোর ফার্মেসি কিংবা বেসরকারি কোথাও মিলছে না অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধ। তিন দশক আগে তৈরি করা তালিকায় এসব অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে কোম্পানিগুলো। বাজারে না পাওয়ায় বেশি দামে একই ধরনের অতিরিক্ত ফর্মুলেশন কিংবা তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্মের ওষুধগুলো কিনে ঠকছে সাধারণ মানুষ। ফলে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক জটিলতা।

    অত্যাবশ্যকীয় তালিকার অন্যতম বহুল ব্যবহৃত ওষুধ প্যারাসিটামল।

    সাধারণ জ্বর, সর্দি, ফ্লু ও যেকোনো প্রাথমিক শরীর ব্যথা-বেদনায় এই ওষুধ (৫০০ এমজি) ব্যবহৃত হয়। এটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়েছে শ’খানেক কোম্পানি। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি সারা বছর ওষুধটি তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু বা কোনো বিশেষ রোগের পিক সিজনে এ ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। এ সুযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অতিরিক্ত ফর্মুলেশন যুক্ত করে নাপা (প্যারাসিটামল) এক্সট্রা, নাপা ওয়ান, নাপা র‍্যাপিড, নাপাডল বা নাপা এক্সটেন্ড কিংবা একই গ্রুপের অন্য ব্র্যান্ড এইস প্লাস, টামেন টারবু নাম যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রি করছে বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে যে সাধারণ প্যারাসিটামল খেয়েই রোগীর কাজ হয়ে যেত, এখন প্রচারের প্রভাবে বেশি দামে অতিরিক্ত ফর্মুলেশনযুক্ত প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধের জেনেরিক গ্রুপের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে। এসব অতিরিক্ত ফর্মুলেশনের ওষুধ খেয়ে রোগীদের নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলটি মূলত শ্বাসনালির সংক্রমণ, কান ও গলার প্রদাহ, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের প্রথম সারির জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে অর্ধশতাধিক ফার্মা কোম্পানির ওষুধটি উৎপাদনের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ৮-১০টি কোম্পানি এই অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। সাধারণ রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত ও তুলনামূলক কম দামের এই ওষুধটি সহজলভ্য না থাকায় বেশিরভাগ চিকিৎসক দামি চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করছেন। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হচ্ছে।

    একইভাবে সেফুরক্সিম অ্যান্টিবায়োটিকটি যেসব সমস্যায় ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় বেশিরভাগ ইন্ডিকেশনে অ্যামক্সিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন অথবা ফ্লুক্লাক্সসিলিন ব্যবহার করা যায়। অথচ এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় রয়েছে। যেখানে সেফুরক্সিম+ক্লাভুরিক এসিড অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজির দাম কোম্পানিভেদে ৫৫-৮৫ টাকা, সেখানে অ্যামক্সিসিলিন ৫০০ এমজির দাম মাত্র সাড়ে সাত টাকা, ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এমজির দাম আড়াই টাকা, ফ্লুক্লাক্সসিলিন ৫০০ এমজির দাম ১৪ টাকা। স্বল্পমূল্যের এসব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কিছু টাকা করে বাড়িয়ে দিলেই কোম্পানিগুলো এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী হতো, গ্রাহকদের আর উচ্চমূল্যে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে হতো না। এতে সাধারণ রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যাবশ্যকীয় এসব অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য করা গেলে সাধারণ রোগীরা খুব কম খরচেই তাদের চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারতেন। পাশাপাশি হাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে হতো না।

    শ্বাসনালি ও মূত্রনালির সংক্রমণ চিকিৎসায় কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত সিপ্রোফ্লোক্সাসিন। কিন্তু বড় বড় ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, বড়জোর ১৫-২০টি কোম্পানির ওষুধ বাজারে আছে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় এ ওষুধটি থাকলেও কাঁচামাল আমদানির বাড়তি খরচ এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামের বিরাট ফারাক থাকায় অনেক কোম্পানি এ ওষুধ উৎপাদন অনেকটা বন্ধ রেখেছে।

    অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের পাশাপাশি আরেক বিপত্তি হচ্ছে কোম্পানিভেদে বিভিন্ন ব্রান্ডের ওষুধের দামের পার্থক্য। এটি ফার্মা খাতে আরেক অসম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মাঝারি-ছোট ফার্মাসিউটিক্যালগুলো তীব্র বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, এজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজি ট্যাবলেটটির প্রতি পিসের দাম কোম্পানিভেদে ২৭-৫০ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। একই জেনেরিক ওষুধের বিভিন্ন দাম অনুমোদন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সিজিএমপি (কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) ফরমুলা ব্যবহার করে ফার্মা কোম্পানিগুলোকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর উৎপাদনের অনুমতি দিলেও মূল্যের ক্ষেত্রে কম-বেশি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে কমমূল্যে পাওয়া কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণে প্রথম সারির প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো অনেকটা ভালো মূল্য আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মানেই হচ্ছে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এর সহজলভ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা এর বৈপরীত্য দেখছি। আইনত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের একটি অংশ তৈরি করতে বাধ্য। আর এটি সঠিকভাবে মনিটর হচ্ছে না। তবে সার্বিক অবস্থা বিচারে বাস্তবতা হচ্ছে, বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ ও নানা বিষয় বিবেচনা করে উৎপাদকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বসে পুনঃ মূল্য নির্ধারণ জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ওষুধ সহজলভ্য হয়।

    এ প্রসঙ্গে নোভাটেক ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাসহ অনেক ওষুধের মূল্য পুনর্নির্ধারণের এখনই সময়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, কাঁচামালের তীব্র সংকট, ডলারের তারতম্যসহ বিগত তিন দশকে এসব ওষুধের মূল্য কাঠামোর বড় কোনো পরিবর্তন বা যৌক্তিক সমন্বয় হয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদর সরকারের অনেক বছর আগে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য লোকসান ডেকে আনছে। অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধের দাম যদি যৌক্তিকভাবে সামান্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ তৈরিতে আগ্রহী হবে এবং সাধারণ মানুষ দারুণ উপকৃত হবে। তেমনি একই জেনেরিকের ওষুধ কোম্পানিভেদে বিভিন্ন দাম অনুমোদনে ছোট-মাঝারি কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া সবই এক ও অভিন্ন।

    ওষুধ উৎপাদনে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের কিছু নীতিগত বিষয়ও জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ওষুধে ভ্যাট ও কর সবচেয়ে বেশি। এটি অত্যাবশ্যকীয়সহ সব ওষুধের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আর খুচরা বিক্রেতাদের আরো প্রায় আড়াই শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দেওয়া লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ভারতে ওষুধে ভ্যাট দিতে হয় সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ শতাংশ। আর পাকিস্তানে এক থেকে দুই শতাংশের মতো।

    বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এটি বিবেচনা করবেন। একই জেনেরিকের ওষুধে কোম্পানিভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আসলেই বিবেচনার বিষয়। এটির একটি যৌক্তিক সমাধান জরুরি।

    সার্বিক বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলোর সহজপ্রাপ্যতা, তালিকা হালনাগাদ করা এবং অন্যান্য বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কমিটি গঠিত হলে তারা সরকারের কাছে বিভিন্ন বিষয় সুপারিশ আকারে পেশ করবে, যার ভিত্তিতে সরকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কার্যকর পদক্ষেব নেবে।

  • আকাশসীমায় পাকিস্তানের ‘না’, আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম

    আকাশসীমায় পাকিস্তানের ‘না’, আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম

    পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ বিলম্বিত হয়েছে। রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো বিমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।

    এনিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম টেলিফোনে এএনআইকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।’
    পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলেও জানান তিনি।

    মাহবুব আনাম আরও বলেছেন, ইউরেনিয়াম আনার জন্য নতুন তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

    এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জানান, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে।

    তবে কোন দেশ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। বিষয়টি জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধিকে ই-মেইল করেছিল এএনআই। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর নির্মিত হচ্ছে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে।
    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
    প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে।

    ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছায়। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে রাশিয়ার একটি ভারী কার্গো বিমান সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় আনা ওই ইউরেনিয়াম পরে বিশেষ বিকিরণ-সুরক্ষিত কনটেইনারে করে রাজধানী থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা হয়।

  • বন্যা ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

    বন্যা ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

    ভারত ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশে মারা গেছেন ৫৬ জন আর নেপালে প্রাণ গেছে ১৪ জনের। দেশটিতে আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আবারও আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) দেখা দিতে পারে।

    ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অথচ এ সময়ে সাধারণত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ থাকে মাত্র ৭.৬ মিলিমিটার।

    রাজ্যটির ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজারের বেশি বাড়ি। নেপালের ৪৯ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টি জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জেলা বড় ধরনের বন্যা বা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি ক্রমেই বাড়ছে।

    ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ওই বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ।

    তবে বর্তমানে ওই দুই এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

    বন্যার কারণে নেপালের মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের কয়েকটি এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা।

    অন্যদিকে, নেপালে পৃথক এক ঘটনায় তুষারধসে ১০ স্থানীয় কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্প তুষারধসে চাপা পড়ে। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন ওই কর্মীরা।

    তবে তুষারধসের সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

    ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন হয়ত মনে করছে, এখনই তেহরানের শর্ত মেনে নেওয়ার চেয়ে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে ইরানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ চুক্তিতে আরও সুবিধাজনক শর্ত আদায় করা যাবে।

    শনিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তার দাবি, তেহরান বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকায় চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনিও একটি চুক্তি চান, যদিও ইরানের দেওয়া বর্তমান শর্ত তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

    পরদিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া তেহরানের নজরে এসেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

    ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত যুদ্ধবিরতির কথাও বলা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব শর্ত বাস্তবায়ন হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে তেহরান। ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের সঙ্গে গত জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের বেশ কিছু মিল রয়েছে। তবে শর্ত নিয়ে মতবিরোধের জেরে সেই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

    কেন সময় নিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র?

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়ালে তেহরান ভবিষ্যতে বেশি ছাড় দিতে পারে। এরই মধ্যে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জোরদার, তেল আয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা অন্য দেশগুলোর ওপরও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি ইরানের বিমান চলাচলের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের বৈশ্বিক আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন।

    ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক সহযোগী ফেলো রিচার্ড ওয়েইটজের মতে, ওয়াশিংটন হয়ত মনে করছে, আরও কিছু সময় গেলে অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে চুক্তির ক্ষেত্রে বাড়তি ছাড় দিতে বাধ্য করবে।

    তবে সময়ক্ষেপণের বিপরীত দিকও রয়েছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঝুঁকি দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

    নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক ঝুঁকি

    ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে দেরি করা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন, বিপরীতে সমর্থন জানিয়েছিলেন ৩১ শতাংশ।

    এর সঙ্গে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে পারে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি মনে করেন, ইরানের প্রস্তাবকে ট্রাম্পের সামনে একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তার মতে, চুক্তি হলে নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর পথ তৈরি হতে পারে।

    চাপ বাড়ালে উলটো ফলের আশঙ্কা

    বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে—এটি সত্য। কিন্তু চাপের কারণে তেহরান অবশ্যই আরও বেশি ছাড় দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার আশঙ্কা, ট্রাম্প হয়ত ইরানের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপকে দেশটির আত্মসমর্পণের ইচ্ছা হিসেবে দেখছেন।

    সংঘাত দীর্ঘ হলে ইরান হরমুজ প্রণালি ছাড়াও আঞ্চলিক অবকাঠামো এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের তৎপরতার কারণে লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ নিয়েও এরই মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

    ক্রিগের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও বড় হয়ে উঠতে পারে।

    তেহরানের হিসাবও সময়কে ঘিরে

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক হ্যারিসনের মতে, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেহরান সম্ভবত বিস্মিত হয়নি। তার মতে, প্রস্তাব দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরান এখনো আলোচনায় আগ্রহী—এমন বার্তা নিজেদের জনগণ এবং মার্কিন জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানও বুঝতে পারছে যে ট্রাম্প এমন একটি চুক্তির পথ খুঁজছেন, যেটিকে তিনি রাজনৈতিকভাবে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। ফলে তেহরানও সময়কে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছে।

    ক্রিগের ভাষায়, ইরানের কৌশল হলো চাপ অব্যাহত রেখে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে হয়। একই সঙ্গে সময় যত গড়াবে, সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ও বাড়তে পারে।

    সব মিলিয়ে দুই পক্ষই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেও এখন পর্যন্ত কেউই মনে করছে না যে দ্রুত সমঝোতায় যাওয়া তাদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। বরং উভয় পক্ষের হিসাবই যেন—আরও কিছুটা অপেক্ষা করলে ভবিষ্যতের চুক্তিতে নিজেদের জন্য ভালো শর্ত আদায় করা সম্ভব হতে পারে।

  • আবার আন্দোলন ককরোচদের

    আবার আন্দোলন ককরোচদের

    মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে এবার ‘জেল ভরো আন্দোলন’ বা গণ-গ্রেফতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে এই আন্দোলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

    মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, শিবাজী পার্ক শুধু খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত এবং সেখানে সমাবেশ করলে শব্দদূষণ হতে পারে ও আশপাশের বড় হাসপাতালের রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। তাই সেখানে রাজনৈতিক জমায়েতের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

    পুলিশের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করার এমন কৌশল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।

    সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি। তারই ধারাবাহিকতায় এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে দলটি।

  • বোমা হামলা থেকে বেঁচে ফিরেন মোজতবা

    বোমা হামলা থেকে বেঁচে ফিরেন মোজতবা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের সময় দুবার বিমান হামলার মুখে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন ইরানের বিশেষজ্ঞ সভার সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি আলে কাসির।

    গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ওই হামলায় তার বাবা নিহত হন এবং মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পরবর্তীতে মার্কিন বাহিনী ওই চিকিৎসাকেন্দ্রটিতেও বোমা হামলা চালালে তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কোনোমতে বেঁচে ফেরেন। হামলার পরপরই তাকে এক অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এরপর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি।

    এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার আগে মোজতবা নিজেও এ বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন ওই ধর্মীয় বক্তা। ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি ভোট পেয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন বলে ধারণা করা হলেও, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

  • মক্কা চুক্তি ইরান বা ইসরাইলের বিরোধী নয়: এরদোয়ান

    মক্কা চুক্তি ইরান বা ইসরাইলের বিরোধী নয়: এরদোয়ান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলেছেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কোনো নির্দিষ্ট দেশ—ইরান, ইসরাইল কিংবা অন্য কারও বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরোধ সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    এরদোয়ান বলেন, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে করা হয়েছে। চুক্তির মূল বিধান অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে আক্রান্ত দেশের প্রয়োজন ও অনুরোধের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়ার ধরন নির্ধারণ করা হবে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা কিংবা গোলাবারুদ সরবরাহ থাকতে পারে। হুমকির মাত্রা অনুযায়ী আরো ব্যাপক সামরিক সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। তবে কোনো হামলা ঘটলেই তুরস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে—এমন কোনো পূর্বনির্ধারিত ব্যবস্থা চুক্তিতে নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

    এরদোয়ান আরো বলেন, ইরাক, ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো স্থানে সম্ভাব্য প্রতিটি ঘটনার জন্য আগেই স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার ছক তৈরি করা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ইসরাইল–তুরস্ক সম্পর্ক

    সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তার অভিযোগ, ইসরাইলে সম্প্রতি তুরস্ককে একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রচারণা তৈরি হয়েছে। তিনি এর সঙ্গে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    একই সঙ্গে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পর্যন্ত বিভিন্ন সংকটে শান্তির উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতা তুরস্কের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সিরিয়া ও ইরান প্রসঙ্গ

    সিরিয়ার স্থিতিশীলতাকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এরদোয়ান। তার মতে, সিরিয়ার সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একটি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে আনা দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সামাজিক ঐক্য শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন। কুর্দিরাও যেন সমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারেন, তুরস্ক এমন একটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে বলে তিনি জানান।

    ইরানের পরিস্থিতি নিয়েও তুরস্ক সতর্কভাবে নজর রাখছে বলে জানান এরদোয়ান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ইরানের জনগণের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত এবং কোনো ধরনের বাইরের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি ইরানে পিকেকে/পিজেএকে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন।

    সব মিলিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কোনো নতুন ইরান বা ইসরাইলবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে উপস্থাপন না করে তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক আঞ্চলিক সংঘাতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নীতি বজায় রাখবে—এমন বার্তাও তিনি দিয়েছেন।

  • গাজার মতো পশ্চিম তীরেও করা উচিত

    গাজার মতো পশ্চিম তীরেও করা উচিত

    গাজায় ইসরাইল যা করেছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও একই কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ।

    তিনি পশ্চিম তীরে যুদ্ধ শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    গতকাল রোববার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়।

    সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীরকে ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন স্মোতরিচ। তিনি বলেন, জুদিয়া ও সামারিয়ায় ইসরাইলি সেনাদের যুদ্ধ করতে হবে। গাজায় যা করা হয়েছে, সেখানেও তা-ই করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তার ভাষ্য, পিএ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

    পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সাক্ষাৎকারে স্মোতরিচের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, জুদিয়া ও সামারিয়ায় কোনো ‘সন্ত্রাসী’ অবকাঠামো রাখা যাবে না। সেখানে ‘কোনো সন্ত্রাসী থাকবে না, কোনো অস্ত্র থাকবে না, কোনো সুড়ঙ্গ থাকবে না’।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। চলতি বছরে এই সহিংসতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ দিক পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলা হয়েছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষা পাওয়া এসব অবৈধ বসতি স্থাপনকারী বিভিন্নভাবে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে গুলি চালানো, বাড়িঘর অবরোধসহ বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা রয়েছে।

    ‘এটা ইসরাইলের নীতি’

    স্মোতরিচের বক্তব্যের পর গতকাল ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলি মন্ত্রীর এই মন্তব্য দেশটির সরকারি নীতিরই অংশ। এই নীতির মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা, তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা, জমি দখল করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করা। এসবের মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়।

    ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকলে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরো উৎসাহিত হবে ইসরাইলি সরকার। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা আরো বাড়তে পারে।

    এদিকে স্মোতরিচের এমন বক্তব্যের সময়ই ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কত’ উপলক্ষে পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল সরকার। এর ফলে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর বাড়তি বিধিনিষেধ থাকবে।

  • ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় আনোয়ার

    ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় আনোয়ার

    ইসরাইলকে আর ‘সভ্য রাষ্ট্রসমাজের’ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়েও একই অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা বন্ধ, ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকানো, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী।

    ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব ও ইসলামি দেশগুলোর বিশেষ সম্মেলনে আনোয়ার বলেছিলেন, ইসরাইল ‘সভ্য রাষ্ট্রসমাজের’ অংশ হিসেবে থাকার সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং জাতিসংঘে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত বা প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা বিবেচনার আহ্বান জানান। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বক্তব্যেও এসব কথা রয়েছে।

    তবে ওই বক্তব্যের দুই বছর পরও ফিলিস্তিন ইস্যুতে আনোয়ারের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপকে আরো কার্যকর ও বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দিয়েছেন।

    গত ২১ আগস্ট পশ্চিম তীরের ই১ এলাকায় ইসরাইলের নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করেন আনোয়ার। তিনি বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের কাছের এই এলাকায় বসতি নির্মাণ হলে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত বিভক্ত হয়ে যাবে এবং একটি সংলগ্ন ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    আনোয়ার বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ হলেও ইসরাইল তা অব্যাহত রেখেছে। গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মধ্যেই নতুন বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ই১ প্রকল্পে কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি অংশ নিলে মালয়েশিয়া বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    এরপর ১১ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি বসতির বিরুদ্ধে ১২টি পশ্চিমা দেশের ঘোষণাকে স্বাগত জানান মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বিবৃতি দিলেই হবে না; এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

    ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ বা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় আনোয়ার তা স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি তাদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তার মতে, বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের জন্য জবাবদিহি এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

    আনোয়ার একই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু নিন্দা ও বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ‘বাস্তব ও বাধ্যতামূলক’ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখন কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপ সফরের সময়ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা জানান আনোয়ার। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজায় নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ পরিত্যাগ ঘটেছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলা দেশগুলো গাজায় প্রতিদিনের হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ সহ্য করছে। মালয়েশিয়া ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

    একই দিন ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে এমন কোনো পণ্য পরিবহনের জন্য মালয়েশিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করেন আনোয়ার। তিনি বলেন, ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে বা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে—এমন কোনো চালানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে মালয়েশিয়াকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    সন্দেহজনক কোনো চালান পাওয়া গেলে তা পরীক্ষা ও তদন্ত করা হবে এবং মালয়েশিয়ার আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    ফিলিস্তিন ইস্যুতে আনোয়ারের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে দেখা যায়, তার নীতিতে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইসরাইলি বসতির পণ্য বর্জন, বসতি নির্মাণে আন্তর্জাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতায় সহায়তা করতে পারে এমন চালান ঠেকানোর কথা তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন।

    ২০২৪ সালের রিয়াদ সম্মেলনে আনোয়ার যে আরও কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিলেন, তার মধ্যে ছিল ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের বিষয় বিবেচনা করা। সেই বক্তব্যের সঙ্গে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো মিলিয়ে দেখলে তার অবস্থানের মূল বিষয়গুলোতে ধারাবাহিকতা স্পষ্ট।

    অর্থাৎ, আনোয়ারের বর্তমান বার্তা হলো—ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শুধু নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়; ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং গাজায় মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতায় সহায়তা করতে পারে এমন সরবরাহ ও পরিবহন বন্ধ করতেও দেশগুলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে ভিত্তি করে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

    ফলে ২০২৪ সালে ইসরাইলকে ‘সভ্য রাষ্ট্রসমাজের’ অংশ না বলার যে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম, ২০২৬ সালের বক্তব্যগুলোতে তারই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে—তবে এবার তিনি কথার পাশাপাশি বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা, বসতি নির্মাণে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ইসরাইলমুখী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন বন্ধের মতো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন।

  • আবার মন্ত্রী হলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবো-গভির

    আবার মন্ত্রী হলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবো-গভির

    ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে এমন বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলেছেন তিনি।

    সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি হাসান সালামেহর সঙ্গে কথা বলছেন বেন-গভির। একপর্যায়ে সালামেহকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাই।’

    ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে দেওয়া বিবৃতিতে বেন-গভির তার অবস্থান আরো স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে সালামেহর মতো বন্দিদের ‘মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করবেন’।

    শুধু বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের কথাই নয়, একই বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার নীতি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন বেন-গভির।

    হাসান সালামেহ ১৯৯৬ সাল থেকে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি। ১৯৯০-এর দশকে প্রাণঘাতী কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব মামলায় তাকে একাধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বেন-গভিরের প্রকাশ করা ভিডিওটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তারা বলেছে, ভিডিওটি সালামেহর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মৃত্যুর হুমকি’। এ ঘটনার নিন্দাও জানিয়েছে তারা।

    নির্বাচনের আগে বেন-গভিরের এই বক্তব্য ইসরাইলের বন্দিনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে।

  • কোন পথে ইমরানের মুক্তি?

    কোন পথে ইমরানের মুক্তি?

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কারাগারে থাকা ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। এর আগে ইমরানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। একই সময়ে ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সড়ক অবরোধ এবং পিটিআই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।

    ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন। তার দল ও পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দাবি করে আসছে। সরকার অবশ্য ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, একাকী বন্দিত্ব বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আগস্টে জানিয়েছিল, ইমরান একজন দণ্ডিত বন্দি হিসেবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে।

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিরোধের সর্বশেষ বড় ঘটনা ঘটে আগস্টে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ জানানো হলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ১৮ আগস্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া, ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসায় যুক্ত করা, নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত একটি বহুবিষয়ক চিকিৎসক বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করার কথাও বলে।

    তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। পাকিস্তান সরকার ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে ইসলামাবাদের সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) রাতে চিকিৎসা পরীক্ষা করিয়ে পরদিন ভোরে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠায়। সরকারের বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসকেরা তাকে পরীক্ষা করে কারাগারে ফেরত পাঠানোর উপযোগী বলে মত দিয়েছেন।

    এরই মধ্যে ইমরানের পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে আসছিল, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দেয়। আদালত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইমরানের ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করতে বলে।

    আগস্টে অবশ্য দীর্ঘ বিরতির পর ইমরান তার বোন নোরিন এবং স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার তার বোনদের সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া হয় বলে পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইমরানের বোনেরা আবারও তাকে দেখতে পারেননি।

    ইমরানকে ঘিরে সর্বশেষ বড় উত্তেজনা তৈরি হয় পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে। দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। মূল দাবি ছিল ইমরান খানের মুক্তি। এর আগে সরকার রাজধানীর প্রবেশপথে কনটেইনার বসানো, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। ইসলামাবাদে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শত শত পিটিআই কর্মীকে আটক করা হয়।

    ইসলামাবাদ হাইকোর্টও পিটিআইয়ের প্রস্তাবিত দীর্ঘমার্চ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দল, নেতা বা প্রাদেশিক সরকার এমনভাবে রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক বা প্রবেশপথ দখল করতে পারে না, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল, চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই ইমরানের তিন বোনকে আটক করা হয়। প্রথমে আলিমা খানকে লাহোরে আটক করা হয়। এরপর উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও আটক করে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার’ আইনের অধীনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়। পিটিআই ও তাদের আইনজীবীরা আটককে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেন। লাহোর হাইকোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে আটকাদেশ স্থগিত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।

    ইমরানের বোনদের গ্রেপ্তারকে পিটিআই তাদের নেতার ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

    ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। পিটিআই ২৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে, ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহাইল আফ্রিদি জানান, নতুন নির্ধারিত তারিখে পেশোয়ার থেকে দীর্ঘমার্চ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীমুখী দীর্ঘমার্চের বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে।

    মার্চ পিছিয়ে দেওয়ার আগে পিটিআই ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে একাধিক যোগাযোগের খবরও এসেছে। গত চার-পাঁচ সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি ব্যাকচ্যানেল বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয় হিসেবে পিটিআইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এসব তথ্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।

    এর আগে আলোচনায় ইমরানের চিকিৎসা ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির অবস্থান নিয়েও সম্ভাব্য ছাড়ের কথা উঠেছিল। তবে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে।

    ইমরানের ছেলে কাসিম খানও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে তিনি সমর্থকদের আদিয়ালা কারাগারের কাছে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা ছিল, কারাগারের কাছে বড় জমায়েত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং তার বাবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খান নিজে কারাগারে থাকলেও তাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত থামেনি। বরং তার স্বাস্থ্য, কারাগারে সুযোগ-সুবিধা, পরিবারের সাক্ষাৎ, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি—সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে।

    এখন পিটিআইয়ের সামনে নতুন তারিখ ৪ অক্টোবর। ওই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকার রাজধানীতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে এবং ইমরানের পরিবার ও দলের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি হয় কি না—এসবই আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই আছেন এবং তার মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।

  • বেঁধে রাখা বাবাকে শিশু মেয়ের খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

    বেঁধে রাখা বাবাকে শিশু মেয়ের খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবার দুই হাত-পা বাঁধা। চারপাশে মানুষের ভিড়। কেউ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে আছেন, কেউ মোবাইলফোনে ভিডিও করছেন। এর মধ্যেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে এগিয়ে যায় নয় বছরের তুবা আক্তার তারিন। হাতে রুটি ও চা। বাবার সামনে বসে চায়ে রুটি ভিজিয়ে এক লোকমা করে তার মুখে তুলে দেয়। কখনো খাবারে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে, কখনোবা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। চারপাশে যতো মানুষই থাকুক, সেই মুহূর্তে তুবার কাছে মানুষটি শুধু বাবা।

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার এ দৃশ্যের ভিডিও গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামনে আসে অনিক সরদারের পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কট, তার নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত, চুরির অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা। কয়েক দিন আগেও যাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ছিল, এখন তার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা। কেউ খাবার নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, আবার কেউ কাজের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    গত শনিবার রাতে বামরাইল এলাকার একটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে অনিককে স্থানীয় লোকজন আটক করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। সে সময়ের ভিডিওতেই তুবাকে বাবার মুখে খাবার তুলে দিতে দেখা যায়।

    তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। অনিকের পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগের সাথে তাদের পুরোনো জমি বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সে বিরোধের জেরেই অনিককে আটক ও মারধর করা হয়েছে।

    অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, আয়াত খন্দকার, খাইরুল ইসলাম, আরিফ, হানিফ, সাকিব ও সাহিদসহ কয়েকজনের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, ওই বিরোধের কারণেই চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    তবে আয়াত খন্দকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, অনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ উঠেছিল ও এবার তাকে ধরে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, মেয়ের সামনে অনিককে মারধর করা হয়নি।

    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অনিকের বিরুদ্ধে আগে চুরির অভিযোগ ওঠার কথা বলেছেন। কেউ কেউ তাকে নেশাগ্রস্ত বলেও দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনিকের পরিবারও তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    অনিকের স্ত্রী জানান, তাদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে নিয়মিত কোনো আয় নেই। অভাবের মধ্যেই সন্তানদের বড় করছেন তারা। এইচএসসি পাস করা জান্নাতুল ফিরদাউস প্রয়োজনে নিজেও কাজ করতে চান।

    পরিবারের ভাষ্য, অনিকের বাবা একসময় সচ্ছল ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের অনেক সম্পদ চলে যায়। একপর্যায়ে অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, তার এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে স্থানীয় একটি মাদকচক্র। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান অনিক। তিনি বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আয়-রোজগারের একটা পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।’

    দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও কাজ করে বাঁচতে চান তিনি। সন্তানদের মানুষ করতে চান।

    ভাইরাল ভিডিওটি শুধু মানুষের আবেগ নাড়া দেয়নি, পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তৈরি করেছে। ভিডিওটি দেখে বিষয়টি যাচাই করতে ওয়েব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরিশাল টিমকে জানানো হয়। পরে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা তুবার সাথে দেখা করেন।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুবা বাবার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করেছে। গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় অনিক একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চেয়েছেন। তাকে একটি অটোভ্যান কিনে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তুবার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।

    এ বিষয়ে উজিরপুর থানার সাথেও কথা বলা হয়েছে। এসআই (তদন্ত) ফারুক বিষয়টি দেখার ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

    উজিরপুর থানার ওসি মো: রাকিবুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অনিকের স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    রোববার সকালে অনিকের পরিবারের খোঁজ নিতে বাড়িতে যান উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা। তিনি বলেন, ‘বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে প্রশাসন।’

    পরে ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তুবার পরিবারের সাথে দেখা করেন বরিশাল জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এসআই মো: জসীম উদ্দীন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।

    সংশ্লিষ্টরা জানায়, অনিকের নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত ও পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

    তুবার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অনিক যদি নেশা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে নিয়মিত কাজের সাথে যুক্ত হতে পারেন, তাহলে সন্তানদের নিয়ে তাদের সংসারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এ,আর

  • পুরোদমে চলছে ইরানের বিমানবন্দর

    পুরোদমে চলছে ইরানের বিমানবন্দর

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোপুরি সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রামিন কাশেফ-আজার।

    ইরানি সংবাদমাধ্যমকে কাশেফ-আজার বলেন, বিমানবন্দরটি এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দিন ২৩ সেপ্টেম্বরও বিমানবন্দরটি থেকে ৬০টি ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।

    ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর গত ৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ওই দিন ইরানের আরো ২৭টি বিমান সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। এর মাধ্যমে আগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় না থাকা ইরানের বাকি বিমান সংস্থাগুলোও এর আওতায় আসে।

    মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তখন সতর্ক করে বলেন, ইরানি বিমান সংস্থার পরিচালিত উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির মতো কাজে যুক্ত বিমানবন্দর ও কোম্পানিগুলোও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

    এরপর ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। ইরাকের চারটি বিমানবন্দরও ইরানি ফ্লাইট বন্ধ করেছে।

    তবে ইরানের বিমান সংস্থাগুলো এখনো চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

  • ইসলামের নামে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো যাবে না: আনোয়ার ইব্রাহিম

    ইসলামের নামে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো যাবে না: আনোয়ার ইব্রাহিম

    ইসলামের নাম ব্যবহার করে ঘৃণা, অপবাদ ও গালাগালিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো যাবে না। কোনো ইসলামি দল বা আন্দোলনের পরিচয় শুধু স্লোগান কিংবা আবেগে নয়, বরং তাদের আচরণ, নৈতিকতা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হতে হবে। রোববার এক ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইসলামি দল বা আন্দোলন যদি নৈতিকতার নীতি বাদ দিয়ে ঘৃণায় পূর্ণ হয় এবং অপবাদ ও গালাগালিকে প্রতিদিনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে সেই আন্দোলনের অর্থ কী? ইসলামি চেতনার নামে পরিচালিত কোনো আন্দোলন রাগ, আবেগ ও উসকানির ওপর নির্ভর করলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এর আগে শনিবার রাতে মালয়েশিয়ার বানগিতে ‘থ্রি জেনারেশনস অ্যাপ্রিসিয়েশন ডিনার’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আনোয়ার। ওয়াদাহ পেমবেরদাসান উমাত মালয়েশিয়া, অ্যাংকাতান বেলিয়া ইসলাম মালয়েশিয়া ও মালয়েশিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইসলামিক স্টুডেন্টস যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সেখানে তিনি ইসলামি আন্দোলনের শক্তির ভিত্তি হিসেবে জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের ওপর গুরুত্ব দেন।

    আনোয়ার বলেন, কোনো দেশের সংগ্রাম শুধু আবেগ ও উত্তেজনার ওপর নির্ভর করতে পারে না। জ্ঞান মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে। তার ভাষায়, ‘মাদানি’ রাষ্ট্র গড়তেও জ্ঞানকে ভিত্তি হিসেবে শক্তিশালী করতে হবে।

    ইসলামি আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি ‘উসরা’ এবং ইসলামী ‘তুরাথ’ বা ঐতিহ্যগত জ্ঞানভাণ্ডারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, আধুনিক সময়ে ইসলামের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়লেও ইসলামি দল ও সংগঠনগুলোর একটি বড় দুর্বলতা হলো তারা অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী জ্ঞান-ঐতিহ্যের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে যুক্ত নয়।

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় তুরাথ আলেম সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যেও আনোয়ার একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামি সচেতনতা ও জ্ঞানচর্চা বাড়লেও অনেক ইসলামি আন্দোলন ও দলের সঙ্গে ঐতিহ্যগত ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে মতের সংঘাত অনেক সময় কঠোর ও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে এবং সেখানে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও গবেষণার ঘাটতি দেখা যায়।

    তিনি বলেন, ইসলামী ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ আলেমদের জ্ঞানকে শুধু নিজেদের বক্তব্যের সমর্থন হিসেবে ব্যবহার করলে হবে না; সেই জ্ঞানকে যুক্তি ও চিন্তার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তার মতে, ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্বকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।

    আনোয়ার একই সঙ্গে ইসলামি আন্দোলনের কয়েকটি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, ‘তাকফিরি’ চিন্তার বিরোধিতা, চরম দারিদ্র্য দূর করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখা।

    তার বক্তব্যে ‘তাকফিরি’ চিন্তার বিরোধিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি রাজনীতি বা আন্দোলনের নামে ভিন্নমতাবলম্বীদের সহজে ধর্মের বাইরে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগের বিপরীতে আনোয়ার জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আনোয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গও এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের তুরাথ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসলামি দাওয়াহ ও জ্ঞানচর্চায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। তবে নৈতিকতা ও আদর্শের কাঠামো ছাড়া এ প্রযুক্তি ক্ষতির কারণও হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    সব মিলিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসলামি আন্দোলন সম্পর্কে তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল সংগ্রাম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামের নামে পরিচালিত কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন শুধু আবেগ, স্লোগান কিংবা ক্ষোভের ওপর দাঁড়ালে তা টেকসই হতে পারে না। ইসলামী জ্ঞান-ঐতিহ্য, যুক্তিবোধ, শিষ্টাচার ও মানুষের কল্যাণকে আন্দোলনের ভিত্তিতে রাখতে হবে।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন দেশটির রাজনীতিতে ইসলাম ও মালয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের মূল বিষয় কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন বা বিরোধিতা নয়; বরং ইসলামি পরিচয় ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণে নৈতিকতা, জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান।

    তার বক্তব্যের সারকথা হলো—ইসলামের নামে ঘৃণা, অপবাদ ও গালাগালি কোনো আদর্শিক সংগ্রামের বিকল্প হতে পারে না। ইসলামী আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে তার জ্ঞানচর্চা, নৈতিক আচরণ এবং সমাজের জন্য বাস্তব অবদানের ওপর।

  • সমুদ্রপথ বন্ধ, স্থলবাণিজ্যে ঝুঁকছে ইরান

    সমুদ্রপথ বন্ধ, স্থলবাণিজ্যে ঝুঁকছে ইরান

    ইরান সমুদ্রপথের পরিবর্তে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোতে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানি কার্যক্রমে এই পরিবর্তন এসেছে।

    স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সীমান্তপথে চাপও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে তুরস্কের সঙ্গে প্রধান সীমান্তপথে। সেখানে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।

    সীমান্তে আটকে থাকা ট্রাকগুলোকে পণ্য পরিবহনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রবন্দরগুলোতে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধের কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বাণিজ্য সচল রাখতে ইরান স্থলসীমান্তের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে।

  • ভারতে মসজিদ ভাঙা ঠেকাতে রাতেও পাহারা দিচ্ছেন মুসল্লিরা

    ভারতে মসজিদ ভাঙা ঠেকাতে রাতেও পাহারা দিচ্ছেন মুসল্লিরা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ ঠেকাতে রাতেও মসজিদ ঘিরে অবস্থান নিচ্ছেন শত শত মুসলিম। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদের একাংশ ভাঙার জন্য প্রশাসনের বুলডোজার বাইরে অবস্থান করলেও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি বলে স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মাকতুব।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতেও মসজিদ প্রাঙ্গণে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকার মুসলিমরা সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও আংশিক ভাঙার আশঙ্কায় মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদ রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা ছাড়া আপাতত তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

    ইন্দোরের বিশিষ্ট ইসলামি আলেম মুফতি জুনাইদ মাকতুবকে বলেন, প্রশাসন বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে মুসলিমরা সেখানে জড়ো হন। তার দাবি, একটি মসজিদ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরও বহু পুরোনো মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    তিনি বলেন, ‘এই মসজিদ ভেঙে ফেলা হলে আরো ২৮টি মসজিদ একই তালিকায় চলে আসবে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। কোনো স্থাপনা কোনো প্রকল্পের পথে পড়েছে—শুধু এ কারণে একের পর এক মসজিদ ভেঙে ফেলা যায় না।’

    মুফতি জুনাইদ আরো অভিযোগ করেন, একটি ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন বা সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের অস্তিত্ব মুছে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, উজ্জয়নে বড় হিন্দু তীর্থযাত্রা আয়োজনকে সামনে রেখে শহরের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি পুরোনো মসজিদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

    উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলা সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় খাজর ওয়ালি মসজিদ থেকে গণেশ চৌক পর্যন্ত প্রায় ৭৩০ মিটার সড়ক সম্প্রসারণ করে ১৫ মিটার প্রশস্ত পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাকতুবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    শাহী মসজিদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ভাঙার মধ্যে রয়েছে নামাজের হল বা জামাতখানার একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মুসলিম পক্ষের দাবি, এসব স্থাপনা মসজিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কাঠামোর অংশ এবং এগুলোর আংশিক অপসারণও মসজিদের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।

    তবে বিষয়টি এখন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি উজ্জয়েন পৌর করপোরেশনের জারি করা ভাঙার নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি আবেদন খারিজ করেছে। বিচারপতি সন্দীপ এন ভাট বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুসারেই নেওয়া হয়েছে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।

    অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়ে প্রশাসনের প্রস্তাবিত পদক্ষেপকে আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে মুসলিম পক্ষ এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

    অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের আইনজীবী জায়েদ পাঠান বলেন, নুমাইন্দা কমিটি তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, আপাতত মুসলিমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো প্রস্তাবিত ভাঙার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং মসজিদটি রক্ষা করা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিমরা মনে করছেন, মসজিদের সামনে অবস্থান করাই বর্তমানে সেটিকে ভাঙার উদ্যোগ ঠেকানোর একটি উপায়।

    উজ্জয়নের এই ঘটনাকে ঘিরে মূল বিরোধটি তৈরি হয়েছে নগর উন্নয়ন ও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার প্রশ্নে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে মহাকালেশ্বর মন্দিরের আশপাশে তীর্থযাত্রীদের চলাচল সহজ করতে সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে মুসলিমদের বক্তব্য, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতি এড়ানোর বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।

    বর্তমানে মসজিদের বাইরে বুলডোজার অবস্থান এবং ভেতরে মুসল্লিদের অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টে মুসলিম পক্ষের আইনি চ্যালেঞ্জের ওপর। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের বিতর্কিত অংশ শেষ পর্যন্ত অপসারণ করা হবে কি না।

  • ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের সাড়ে ছয়শ বছরের শাহী মসজিদ

    ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের সাড়ে ছয়শ বছরের শাহী মসজিদ

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ছয় শতাধিক বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটিয়েছেন শত শত মুসলিম। মসজিদ রক্ষার দাবিতে অবস্থানকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন।

    ইন্দোরের আলেম মুফতি জুনাইদ অবশ্য বিষয়টিকে আরো বিস্তৃত আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরো ২৮টি মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে শহরের পুনর্বিন্যাসের নামে পুরোনো মসজিদগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, শাহী মসজিদটি ১৩৯০ সালের স্থাপনা এবং এর বয়স প্রায় ৬৩৬ বছর। মসজিদ পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর ঐতিহাসিক অস্তিত্বের পক্ষে পুরোনো সরকারি নথিও রয়েছে।

    অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই আন্দোলনকে ‘গান্ধীবাদী’ বা অহিংস প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় স্থাপনা এভাবে ভেঙে ফেলা উচিত নয়।

    রোববার রাতেও মসজিদের বাইরে বুলডোজার অবস্থান করছিল। সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও ভাঙার কার্যক্রম ঠেকাতে স্থানীয় মুসলিমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন। রোববার রাতে মসজিদ এলাকায় মানুষের উপস্থিতি আরো বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়। তবে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান নেওয়ায় ওই রাতে মসজিদের অংশবিশেষ ভাঙার কার্যক্রম এগোয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

    মসজিদে অবস্থানকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিবাদ নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা পালাক্রমে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি রক্ষার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে।

    মসজিদটি উজ্জয়নের মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রায় বিপরীতে এবং ক্ষিপ্রা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে ওই এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়েন পৌর করপোরেশন। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করা হবে। এই প্রকল্পের নির্ধারিত অংশে শাহী মসজিদের কিছু স্থাপনা পড়েছে।

    প্রস্তাবিত অপসারণের মধ্যে রয়েছে মসজিদের নামাজের হলের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজহার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মসজিদ পরিচালনাকারীরা এর বৈধতা নিয়ে আদালতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব এবং ধর্মীয় স্থাপনা বাদ দিয়েও রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে।

    অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান হলো, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর আগমনকে সামনে রেখে যান চলাচল ও জনসুবিধার জন্য সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও মামলার রায়ে সড়ক সম্প্রসারণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

    মসজিদ ভাঙার বিষয়ে এর আগে করা দুটি আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি সন্দীপ এন ভাটের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, পৌর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুসরণ করে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েই পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালত সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ৩০০এ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগও গ্রহণ করেনি।

    তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ নতুন করে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করেছে। ওই আবেদনের শুনানি সোমবার হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মসজিদ ভাঙার কার্যক্রমের পরবর্তী গতি আদালতের নতুন শুনানির ওপরও নির্ভর করছে।

    মুসলিম পক্ষের আরো দাবি, এর আগে উজ্জয়নের তাখিয়া মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই শাহী মসজিদের ক্ষেত্রে তারা এবার সরাসরি মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৬০০-এর বেশি পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও বিশেষ বাহিনীর সদস্য এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।

    সর্বশেষ পরিস্থিতিতে শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত আছে এবং একই সঙ্গে আইনি লড়াইও চলছে। ফলে উজ্জয়নের এই বিরোধ এখন শুধু একটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একটি পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহাসিক মর্যাদা, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন।

    সোমবারের আদালতের শুনানি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন নির্ধারণ করবে শাহী মসজিদের বিতর্কিত অংশ শেষ পর্যন্ত অপসারণ করা হবে কি না। এর মধ্যে মসজিদের ভেতরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত থাকায় উজ্জয়নে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

  • ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা

    ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা

    ইসরাইলের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ড এর ফুটবলাররা ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি। রোববার রাতে হাঙ্গেরির দেব্রেসেনের প্রায় দর্শকশূন্য নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে ইসরাইলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো ইসরাইলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দন না করার এই ঘটনা ঘটান আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। ম্যাচে তারা ৩-০ গোলে জয় পায়।

    ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরেন। ইসরাইলের জাতীয় সংগীত চলার সময় তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। অধিনায়ক দারা ও’শিয়াও টসের সময় রেফারি ও সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলালেও ইসরাইলের অধিনায়ক মানোর সলোমনের সঙ্গে করমর্দন করেননি। দুই দলের মধ্যে প্রচলিত পেন্যান্ট বিনিময়ও হয়নি।

    আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) আগেই উয়েফাকে জানিয়েছিল যে তাদের খেলোয়াড়রা ইসরাইলি দলের সঙ্গে করমর্দন করবেন না। উয়েফা এ ব্যবস্থায় সম্মতি দেয়। এফএআই জানিয়েছিল, সংঘাতে নিহত সব মানুষের স্মরণে খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন এবং ম্যাচ থেকে পাওয়া অর্থ দাতব্য কাজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মাঠের বাইরে অবশ্য ম্যাচটি নিয়ে আরো বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচটি বয়কট করা হবে কি না, তা নিয়ে শনিবার আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোট হয়। এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল জানান, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে কতজন পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।

    এর আগে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বাসের কারণে ইসরাইলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সঠিক হবে না। তিনি দুই ম্যাচের জন্যই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    বাজুনুর সিদ্ধান্তের পর দলের অন্য খেলোয়াড়রাও ম্যাচ খেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। এ কারণে দলের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর অবশ্য আয়ারল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধেই ট্রয় প্যারট, অ্যাডাম আইডাহ ও জ্যাক ময়লানের গোলে তারা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ইসরাইল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক কাওইমহিন কেলেহার তা প্রতিহত করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলেই জয় পায় আয়ারল্যান্ড।

    ম্যাচটি হয়েছে প্রায় দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ইসরাইলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সীমিতসংখ্যক টিকিট দেওয়া হয়েছিল। মাঠে অল্পসংখ্যক ইসরাইলি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের সমর্থকদের জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ করা হয়নি।

    ইসরাইলের বিপক্ষে খেলাকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ চলছে। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য উয়েফার কাছে আবেদন করেছিল। তবে উয়েফা সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।

    আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও ম্যাচটি নিয়ে অস্বস্তির কথা প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ফলে জাতীয় দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দেশটির বৃহত্তর জনপরিসরেও তা ছড়িয়ে পরেছে।

    দুই দলের আরেকটি ম্যাচ আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচ হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে ওই ম্যাচকে ঘিরেও প্রতিবাদ ও বয়কটের দাবি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড একদিকে মাঠে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, অন্যদিকে ম্যাচের আগে হাত না মেলানো, কালো আর্মব্যান্ড পরা এবং ইসরাইলের জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে এফএআই আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতে নিহত সব মানুষের প্রতি সম্মান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

  • চীন কি আমেরিকার অস্ত্র কিনবে?

    চীন কি আমেরিকার অস্ত্র কিনবে?

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন দাবি করেছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনের আপত্তির জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্প এক পর্যায়ে শিকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না।

    রোববার ফক্স নিউজের ‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে পারডিউ এ কথা বলেন। তবে ট্রাম্প ঠিক কখন শিকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময় উল্লেখ করেননি। তার বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাইওয়ানকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের পুরোনো বিরোধ আবার আলোচনায় এসেছে।

    তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি চীনের জন্য দীর্ঘদিনের আপত্তির বিষয়। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ও অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। মার্কিন আইনের অধীনেও তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপকরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    পারডিউ বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনের আপত্তির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুক্তি ছিল—যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছেই অস্ত্র বিক্রি করে। এ প্রসঙ্গেই তিনি শিকে অস্ত্র কেনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বলে রাষ্ট্রদূত জানান। তবে চীন ওই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, সে বিষয়ে পারডিউ কোনো তথ্য দেননি।

    ট্রাম্প-শি বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন পর এমন বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে শির রাষ্ট্রীয় সফরের সময় দুই নেতা বাণিজ্য, সামরিক যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে বৈঠকের পর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক বিবৃতিতে তাইওয়ানসহ কয়েকটি মৌলিক বিরোধের কোনো বড় সমাধানের কথা উঠে আসেনি।

    তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থানও বৈঠকের সময় স্পষ্ট ছিল। ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত আলোচনায় শি ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের জন্য তাইওয়ান শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়; দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।

    অন্যদিকে, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনেও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের জন্য অস্ত্রের অর্ডার ও সহায়তা বিলম্বিত হওয়া নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পারডিউ এসব উদ্বেগ নাকচ করে বলেন, ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রতি যথেষ্ট দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    এর আগে মে মাসে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজের বিক্রি স্থগিত করেছিল বলে এপি জানিয়েছে। ট্রাম্প তখন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘আলোচনার হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে তাইওয়ানের অস্ত্র সরবরাহ শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয় নয়, যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক দরকষাকষিরও অংশ হয়ে উঠেছে।

    এদিকে ট্রাম্প-শি বৈঠকে সামরিক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংকট মোকাবিলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    তবে অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মৌলিক অবস্থান এখনো আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। চীন চায় ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুক এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করুক। ফলে ট্রাম্প শিকে মার্কিন অস্ত্র কেনার কথা বলে থাকলে সেটি বাস্তবে কোনো অস্ত্র বিক্রির চুক্তিতে রূপ নিয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

    মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরে স্পষ্ট করেছেন, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ফলে পারডিউর মন্তব্যকে বর্তমানে একটি আলোচনার বক্তব্য হিসেবেই দেখা যাচ্ছে; চীনকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির আনুষ্ঠানিক নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা হিসেবে নয়।

    ট্রাম্পের মন্তব্যের তাৎপর্য মূলত তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জটিলতা এবং অস্ত্র বাণিজ্যকে কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনা। একই সময়ে দুই দেশ বাণিজ্য ও সামরিক যোগাযোগে সহযোগিতার পথ খুঁজলেও তাইওয়ানসহ নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রশ্নগুলোতে তাদের মতপার্থক্য বহাল রয়েছে।

  • বাবাকে আর রিকশা চালাতে না দেওয়ার স্বপ্ন চুরমার!

    বাবাকে আর রিকশা চালাতে না দেওয়ার স্বপ্ন চুরমার!

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুস্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না তারা। রোববার অনেকেই জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।

    খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তালিকার ৯ জন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না।

    খুলনার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে ২৭৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। গত বৃহস্পতিবার ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।

    বাকি ৬৯ জনকে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নিÑএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে যাচাই শেষ করে জানানো হলে তাদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

    ছেলে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন তিনি। মুকুল বলেন, তেরখাদায় মেধাতালিকায় ষষ্ঠ হয়েছি। এরপরও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, সেটা জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসেছি। কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।

    আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী সুদীপ মণ্ডল বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশ পেয়েছি। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।

    কুমিল্লায় ৫০৮ সুপারিশ, বাদ ৭৭কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৫০৮ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাননি ৭৭ জন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে তারা বাদ পড়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

    বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের শর্তগুলো পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চান্দিনার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কেন বাদ দিয়েছে, তা বলতে পারছি না।

    নাঙ্গলকোটের তরিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কিছু জানেন না বলে জানান।

    মাসুম বিল্লাহর বাবা দিদার হোসেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইমামতি করছেন। ছেলে নিয়োগবঞ্চিত হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, মাসুম চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। চাকরিটা না হলে আমাদের পথে বসতে হবে।

    অনিশ্চয়তায় হবিগঞ্জের ৩০ জন

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হবিগঞ্জের ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি।

    প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে এনএসআই ও ডিএসবির প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য থাকার কথা তারা জানতে পেরেছেন।

    নিয়োগপত্র না পাওয়া সাজনিন আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে চাকরি নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাস্তবে রূপ নিচ্ছিল। এখন অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও আমি না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।

    কুড়িগ্রামে নিয়োগবঞ্চিতদের ক্ষোভ

    কুড়িগ্রামে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়াদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চাকরি পেয়েও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। যাদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে কিংবা শেষ হওয়ার পথে, তাদের করুণ পরিণতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। বঞ্চিত প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া রৌমারীর প্রার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি। এই সরকার শুরু থেকেই আমাদের প্রতি আন্তরিক ছিল না। এজন্যই আমাদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই বাদ পড়েছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। জুলাই আন্দোলন করেছিলাম, এটাই সমস্যা হতে পারে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় বলেন, তারা অপেক্ষা করুক, তাদের জন্য ভালো সংবাদ রয়েছে।

    গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিতের স্মারকলিপিসহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

    জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

    এদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। আমাদের কী কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ‍সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী এবং এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কী, তা আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই। আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছি।

    ফুলছড়িতে বাদ ছয়জন

    এদিকে, ফুলছড়িতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ৬৫ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ছয়জন। নিয়োগবঞ্চিত বেলাল হোসেন বলেন, মেধা আর পরিশ্রমে চাকরির শেষ বয়সে এসে এহেন পরিস্থিতিতে নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না। সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন করছি।

    গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    বিএনপি সমর্থকের ছেলেও বাদ

    প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায়ও ছিল নাম। কিন্তু নিয়োগের আগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েন তিনি। জাহিদুল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স করেন।

    তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়নের কাফুলায়। তার বাবা আব্দুল আজিজ সিকদার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সদস্য ফরমও কেনেন।

    জাহিদুল বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাইনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও নিয়োগ না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারিনি।

    তিনি বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই। মেডিকেল পরীক্ষায়ও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। আমার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।

    মাধবখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জব্বর খান বলেন, জাহিদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা আজিজ সিকদার বিএনপি করেন।

    রিকশাচালকের সন্তানের স্বপ্নভঙ্গবাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক ধাপও পেরিয়েছেন।

    কিন্তু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জের তাপস সরকার।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করা তাপসের দাবি, দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরি পাওয়ার আশা যখন পূরণের পথে, তখন পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তবে কী কারণে তাকে ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

    স্বপ্নভঙ্গ মেধাবী সোহানের

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি মেধাবী সোহান। ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়ায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলায় একমাত্র তার নিয়োগপত্র আসেনি।

    জানা গেছে, সোহান রাঙ্গাবালীর মৌডুবী ইউনিয়নের ১১ নম্বর আশাবাড়িয়া এলাকার ভোটার। তার বাবা বশির গাজী নারায়ণগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরিতে দিনমজুরের কাজ করেন। ২০০৬ সাল থেকে সোহান পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। ছেলের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা।

    সোহান বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই, স্থায়ী ঠিকানা ও সার্টিফিকেটেও কোনো সমস্যা নেই। পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এরপরও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেগেটিভ দেখিয়ে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক ইচ্ছা ছিল বাবাকে আর কাজে যেতে দেব না। ছোট বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারব। সব স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে গেল।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম জানান, বাদ পড়ার সুস্পষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই।

  • টিকা সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি

    টিকা সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি

    সাত বছরের মিনহাজ স্কুল থেকে ফেরার পথে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে তার দেহে গভীর ক্ষত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে জলাতঙ্কের (র‌্যাবিস) টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তৃতীয় ডোজের সময় এসে হাসপাতাল কিংবা বাজারে টিকা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান তার বাবা মঞ্জুর হোসেন। পরে বাধ্য হয়ে গাজীপুর থেকে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে আসেন তিনি। গতকাল রোববার শিশুটিকে তৃতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজধানীতে কোথাও কোথাও টিকা পাওয়া গেলেও ঢাকার বাইরে জলাতঙ্কের টিকার সংকট তীব্র। ফার্মেসি থেকে কিনতে গেলে টিকার দামও কয়েকগুণ বেশি দিতে হচ্ছে। প্রাণীর কামড়ের পর চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে গিয়ে অনেক জায়গায় তা পাওয়া যাচ্ছেনা। স্থানীয়ভাবে না পেয়ে কেউ কেউ টিকার সন্ধানে ঢাকায় আসছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহতরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনের সময় টিকা না পেয়ে অনেকে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সরবরাহ সংকটে অনেকের টিকার ডোজও সম্পন্ন হচ্ছে না নির্ধারিত সময়ে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস ধরেই চাহিদার তুলনায় টিকার সরবরাহ কম। বরাদ্দ পাওয়া টিকার মজুত অনেক হাসপাতালে বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) শাখার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যায় ৫০ জনের মতো। আর দেশে গড়ে আক্রান্ত হয় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে ৯৫ শতাংশ জলাতঙ্ক রোগই হয়। দেশে জলাতঙ্কে ২০২৩ সালে ৪২ জন, ২০২৪ সালে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৫ জন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এমন একটি প্রেক্ষাপটে আজ জলাতঙ্ক দিবস। প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস’ বা ‘অ্যান্টি র‌্যাবিস ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো—জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকরা জানান, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে গভীর ক্ষত হয়ে রক্তপাত হলে এআরভি (অ্যান্টির‍্যাবিস ভ্যাকসিন) ও আরআইজি (র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন) দিতে হয়। তবে প্রাণীর লেহন, আঁচড় বা ঘর্ষণের ক্ষেত্রে শুধু এআরভি টিকাই যথেষ্ট। এর মধ্যে আরআইজি টিকার সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের অনেক সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

    ৯ মাসেই এক লাখের বেশি রোগী

    সরেজমিনে গতকাল মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তাদের বেশির ভাগই দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ঢাকায় টিকা নিতে এসেছেন। বাইরে থেকে কিনতে গেলে দাম কয়েকগুণ বেশি। অনেকেই জানান, কুকুর ও বিড়ালে কামড়ানোর পর চিকিৎসক ভ্যাকসিন নিতে বললেও ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে না।

    সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকাদানে নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী আসছেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও রোগীর চাপ বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৩ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫৫৮।

    সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাসার বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বাদুড়, বেজি ও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী জলাতঙ্কের ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এসব প্রাণী আক্রান্ত হলে এবং কামড় দিলে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও জলাতঙ্কে সংক্রমিত হতে পারে। প্রাণীর কামড়ের পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে হাসপাতালে আসতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন এবং

    প্রয়োজন হলে আরআইজি নিতে হবে। বিশেষ করে মাথা, মুখ ও ঘাড়ের কাছাকাছি কামড়, গভীর ক্ষত বা রক্তপাতের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে কোনোভাবেই দেরি করা উচিত নয়।

    হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান বলেন, আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ের শিকার। এর মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালের পাশাপাশি পোষা বিড়ালের কামড়ের ঘটনাও রয়েছে। নারী ও শিশুরা তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজিসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের পর রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ক্ষতের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী র‌্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আরআইজি) এবং টিটেনাসের টিকাও প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিয়মিত সেবা দেওয়া হয়।

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ জলাতঙ্কের টিকার চাহিদা রয়েছে। সিডিসি শাখার অধীনে কৌশলগত পরিকল্পনা বা অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) আওতায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অপারেশন প্ল্যান না থাকায় জেলা পর্যায়ে টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাসে সমস্যা বেশি ছিল। বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। যদিও সরকারি হাসপাতালে কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে টিকার জোগান না থাকায় ঢাকার বাইরে সংকট রয়েছে।

    এ ব্যাপারে সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ র‌্যাবিস ভ্যাকসিন এবং ৩ লাখ ডোজ র‌্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী চাহিদা জানায়। সেই অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। তবে এখন কোনো টিকার সংকট নেই।

  • কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন- উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।

    মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়।

    পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হলে রাত ২টার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় আসেন। তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন ও পুলিশকে চাপ দিতে থাকেন।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। এ,আর

  • লেবাননে ইসরাইল ফসফরাস গোলা ফেলছে

    লেবাননে ইসরাইল ফসফরাস গোলা ফেলছে

    দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহরে শুক্রবার গোলাবর্ষণের সময় ইসরাইলি বাহিনী ফসফরাস গোলা ব্যবহার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

    পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানায়, নাবাতিয়েহ জেলায় জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

    নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় ফসফরাস গোলা ব্যবহার করা হয়। পরে একই ধরনের গোলা দিয়ে জাওতার আল-শারকিয়াহতে আবারো হামলা চালায় ইসরাইল।

    টাইর জেলায়ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদাথার উপকণ্ঠ।

    এদিকে মারজায়ুন ও বিনত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম ও আল-গান্দুরিয়াহতে ইসরাইলি বাহিনীর ফেলা দুটি বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে লেবাননের সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা। পরে বোমা দুটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

    জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তির পরও হামলা চলছে। ওই চুক্তিতে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।

    দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো ‘দুর্লভ’

    জাতিসঙ্ঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিল সম্প্রতি বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো ‘দুর্লভ’। সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে তারা।

    ২১ সেপ্টেম্বর পালিত আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে এ কথা বলা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননের নাকুরায় ইউনিফিলের সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিফিল বলেছে, ‘আজ দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো দুর্লভ। তবে শান্তির আশা টিকে আছে।’

  • মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক

    সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকে সৌদিকে রক্ষায় এ অঙ্গীকার করেন তারা। খবর আল আরাবিয়ার।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ওপর বারবার হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে এই তিন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    সামরিক কর্মকর্তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে কীভাবে অবিলম্বে কার্যকর সামরিক সহযোগিতায় রূপ দেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। এই জোটের শর্তানুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা মানেই হলো জোটভুক্ত সব পক্ষের ওপর হামলা।

    পাশাপাশি, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌদির সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা।

  • হরমুজ খুললেও পারমাণবিকে ছাড় নয়

    হরমুজ খুললেও পারমাণবিকে ছাড় নয়

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ কথা জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করতে এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসানে হরমুজ প্রণালি এখন গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান চাইছে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হোক।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে তেহরান।

    পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়

    ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো মেনে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইরানের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারসহ নিজেদের পারমাণবিক অধিকার থেকে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান।

    ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মার্কিন দাবিও তারা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

    ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। এর অন্যতম কারণ, ইরান ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

  • ভারতজুড়ে ককরোচদের কর্মসূচি ঘোষণা

    ভারতজুড়ে ককরোচদের কর্মসূচি ঘোষণা

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আজ শনিবারের (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হবে— এমনটাই ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় কথিত পরিবর্তন নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো।

    সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে বিক্ষোভ শুরু হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    এর আগে শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

    কেন ২ অক্টোবর?

    গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। দলটির দাবি, ওই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে।

    দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    সিজেপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকায় করা পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)–কে সুবিধা দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশন আরও বলেছে, তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো আইনসম্মত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

    কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দল—উভয়েই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।