অর্থ ও বাণিজ্য

  • ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অর্থায়নের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

    বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রকল্প।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আজকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (৭টি):

    ১. ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প।

    ২. রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

    ৩. রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প।

    ৪. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প।

    ৫. সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প।

    ৬. সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

    ৭. গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়) (২য় সংশোধন) প্রকল্প।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প।

    রেলপথ মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ (রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ) প্রকল্প।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় (২টি):

    ১. ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে ২য় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

    ২. থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।

    এছাড়া সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক কমিটিকে অবহিত করা হয়, যা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। এটি হলো—জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প।

  • বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবেঃবাংলাদেশ ব্যাংক

    বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবেঃবাংলাদেশ ব্যাংক

    মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি (আইবিএ)-এর ফরেন লোন/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।

    অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের হিসাবে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবা মূল্য পরিশোধেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

    অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এফসি হিসাবের বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় ভাঙানো যাবে। এ ছাড়া ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী এসব হিসাবের স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকবে।

    এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ঋণচুক্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে, ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি স্থিতি রাখা যাবে না।

  • বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

    বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

    দেশে বিমান চলাচলের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম ফের বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম শুল্ক ও মূসকসহ ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বুধবার জারি করা বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে এ মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হবে ৭ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টা থেকে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বহাল থাকবে।

    এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানিটির দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের জন্যও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের মূল্য শুল্ক ও মূসক ছাড়া ১ দশমিক ০৭৭০ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ জ্বালানির প্ল্যাটস রেটের গড় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি স্টেটমেন্টে উল্লেখিত মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবরের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিইআরসির এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে বিমান পরিচালনার জ্বালানি ব্যয় বাড়ল। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে এক লিটার জেট ফুয়েলের দাম এক মাসের ব্যবধানে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

  • ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ চায় আইসিবি

    ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ চায় আইসিবি

    দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটানো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা চায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। ১০ বছর মেয়াদে (দুবছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) এই ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে আইসিবি। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রসার এবং শেয়ারবাজারে মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধিতে ‘মার্কেট মেকার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং উচ্চ সুদহারের কারণে বাজারে পতন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ এবং বিদেশি মুদ্রার ঋণ পরিশোধের কারণে আইসিবির ওপর আর্থিক চাপ বেড়ে গেছে। বর্তমানে নিয়মিত শেয়ার কেনাবেচা বা ক্যাপিটাল গেইন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব আয়ও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    আইসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ ১০ হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেলে তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলগত খাতে ব্যবহার করা হবে। এই তহবিলের একটি বড় অংশ সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে, যা বাজারে তারল্য সংকট দূর করতে এবং শেয়ারের গতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করবে। উচ্চ সুদের আগের ঋণগুলো পরিশোধের মাধ্যমে আইসিবির আর্থিক ব্যয় বা সুদজনিত চাপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে এই তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে আইসিবিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও লাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যাবে, যা নিয়মিতভাবে সরকারকে লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর বাজার পুনর্গঠন, তারল্য সংকট দূরীকরণ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইসিবি ‘মার্কেট মেকার’ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের ধসের পর বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী উচ্চ সুদে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়াদি আমানত সংগ্রহ করে আইসিবি ধারাবাহিকভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে।

    চিঠিতে আরো জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি সরকার আইসিবিকে মোট ২৯৮.২৬ কোটি টাকা মূলধন প্রদান করেছে। এর বিপরীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত আইসিবি সরকারি কোষাগারে লভ্যাংশ ও করপোরেট ট্যাক্স বাবদ মোট ১,৭৮৫.০৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে লভ্যাংশ বাবদ ৫৯২.৯৪ কোটি টাকা এবং করপোরেট ট্যাক্স বাবদ প্রায় ১,১৯২.১২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে একটি রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবি ধারাবাহিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ অবদান রেখে আসছে।

    চিঠিতে তুলে ধরা হয়, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে একসময়ের আর্থিকভাবে শক্তিশালী আইসিবি বর্তমানে বেশ দুর্বল ও উচ্চ দায়গ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে বাজারকে সার্বিক সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

    এ সংকট উত্তরণে এবং পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার কর্তৃক স্বল্পব্যয়ী তহবিল বা ঋণ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা পেলে আইসিবি তার আর্থিক ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। এই তহবিলের সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাত হাজার কোটি টাকা উচ্চ সুদবাহী দায় পরিশোধের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। আর বাকি তিন হাজার কোটি টাকা পুনরায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনী ও লভ্যাংশ আয় অর্জন করে মাত্র দুবছরের মধ্যে আইসিবিকে পুনরায় একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যাবে।

    আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারকে বাঁচাতে গিয়ে এক সময় বেশি দামে শেয়ার কিনে এখন বড় লোকসানে আছে আইসিবি। এ ছাড়া অতীতে অনেকে আইসিবিকে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাতে প্রতিষ্ঠানটি এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় এটিকে টিকিয়ে রাখতে ১০ হাজার কোটি টাকার স্বল্প সুদের ঋণ দরকার।

  • দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে হবে: বিশ্বব্যাংক

    দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে হবে: বিশ্বব্যাংক

    একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরো কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরো সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদনে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার জরুরি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিও থমকে গেছে। বিশেষ করে নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

    সংস্থাটি বলেছে, বর্তমানে সবচেয়ে দরিদ্র প্রায় অর্ধেক পরিবারই কোনো না কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তার একটি বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরো উন্নত করা গেলে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

    বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন আরো কার্যকর করা এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা হলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে। এতে একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।

    এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিকভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকিও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে এসব সুবিধা কারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে, তা সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে সীমিত সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন। তাই আরো সংবেদনশীল ও লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

    এদিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে থাকতে পারে। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত রয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে।

    বিশ্বব্যাংক বলেছে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণও অত্যন্ত দুর্বল। ২০২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে প্রয়োজনীয় খাতে সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

    ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার চিত্রও উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে রাজস্ব ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি থাকলেও ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    তবে অর্থনীতির বহির্বিশ্বমুখী খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচির গতি বাড়ানো গেলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং আরো বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন হবে না: অর্থমন্ত্রী

    শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন হবে না: অর্থমন্ত্রী

    এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চার শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই চার শর্ত পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর সম্মেলনকক্ষে ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের সমাধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। ‘আমরা শুধু শুনতে চাই না, তার কার্যকর সাড়াও দিতে চাই।’

    মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে কাজ করছেন। এই অংশীদারিত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দেওয়া প্রয়োজন।

    এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের সমন্বিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সার্বিক সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এনজিওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এনজিওদের টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম করার আহ্বান জানান।

    শীতলপাটিসহ স্থানীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধুনিক ডিজাইন, মূল্য সংযোজন এবং বিপণন জোরদার করতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি শর্ত নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। শর্তগুলো হলো— অর্থের সঠিক ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এই চার শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।

    সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ অন্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ক্যাশবিহীন লেনদেন গড়ে তুলতে জোর তৎপরতা শুরু: গভর্নর

    ক্যাশবিহীন লেনদেন গড়ে তুলতে জোর তৎপরতা শুরু: গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে।

    নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে দেশে ক্যাশবিহীন লেনদেন বা ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম বাংলা কিউআর সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাংলা কিউআর ব্যবহারে তাদের উৎসাহিত করেন।

    গভর্নর বলেছেন, এরই মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু হয়েছে। গত তিন মাসে এ মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে।

    মতিঝিলে প্রচারণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে শুধু প্রযুক্তি সুবিধা চালু করাই নয়, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

    এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এতে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি দ্রুত বাড়বে।

    আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বলেন, দিন দিন বাংলা কিউআরের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা যায়। গত ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    তিনি বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য-রেকর্ড ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। বাংলা কিউআর নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কেনাকাটায় ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে।

  • ঢাকা সফরে আসছে আইএমএফ

    ঢাকা সফরে আসছে আইএমএফ

    অর্থনীতির চাপ সামাল দিতে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের বড় প্যাকেজের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, দুর্বল রাজস্ব আদায়, ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং বাজেটের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নতুন অর্থায়ন নিশ্চিতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সরকার।

    এর অংশ হিসেবে আইএমএফ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ পেতে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত। এর আগে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসছে।

    অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ১৫ দিনের সফরে ঢাকায় আসছে আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ সময় অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন আইএমএফ প্রতিনিধিরা। সিরিজ বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে আইএমএফ। এনবিআরের পাঠানো রাজস্ব পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল ও কর্মপরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে কোন কোন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হবে, করজাল কীভাবে সম্প্রসারণ করা হবে এবং রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এনবিআরের প্রতিবেদনে নেই। এ কারণে প্রতিবেদনটিকে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করেনি আইএমএফ। তাই মিশন ঢাকায় আসার আগেই রাজস্ব পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে। এজন্য এনবিআরের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কীভাবে রাজস্ব আদায় বাড়াবে, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছিল আইএমএফ।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর পর্যালোচনা প্রতিবেদন সংস্থাটির কাছে পাঠায়। তবে এতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত থাকলেও আগামী অর্থবছরের রাজস্ব কৌশল যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

    এনবিআরের প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু আগামী অর্থবছরে বাড়তি রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি নেই। নতুন রাজস্বের সম্ভাব্য খাত চিহ্নিত করা, নতুন করদাতা শনাক্ত করা, করজাল সম্প্রসারণে আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং ডিজিটাল অটোমেশনের সময়সীমা—এসব বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় আইএমএফ প্রতিবেদনটি নিয়ে অসন্তোষ জানায়। এ বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তাদের মতামত জানানো হয়েছে।

    ফলে মিশন আসার আগে রাজস্ব পরিকল্পনার ঘাটতি পূরণ করাই অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থ বিভাগের আসন্ন বৈঠকে নতুন করদাতা শনাক্তকরণ, কর ফাঁকি কমানো, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশনের মতো বিষয়কে পরিকল্পনায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো পরিকল্পনা নিয়ে আইএমএফের কোনো অসন্তোষ আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ব্যাংক খাতেও সংস্কারের চাপ

    এবারের আলোচনায় ব্যাংক খাতও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফের আগের অবস্থানই বহাল রয়েছে। গত জুলাইয়ে ঢাকায় সফর শেষে আইএমএফ বলেছিল, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে চাপ এখনো বেশি। ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছিল সংস্থাটি।

    জ্বালানি ভর্তুকি নিয়েও আলোচনা

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতায় বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তা নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। আইএমএফের জুলাইয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উচ্চ পণ্যদাম ও সরবরাহ বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও বৃদ্ধি করেছে। তাই আর্থিক জায়গা তৈরি করতে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

    বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় নজর

    আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে সামনে রেখে আইএমএফের কাছে ৪৫০-৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছে চাওয়া হবে বাজেট সহায়তাসহ জ্বালানি, খাদ্য, ব্যাংকিং ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে অর্থায়ন। ঋণের দরজা খুলতে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। সামনে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও ভর্তুকি কমানোর মতো সিদ্ধান্তও আলোচনায় আসতে পারে।

    সরকারের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে আইএমএফের সঙ্গে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করা। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আগামী বছরের শুরুতে প্রথম কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতিতে অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগ কাজ করছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ওই বৈঠকের জন্য বাংলাদেশের এজেন্ডা চূড়ান্ত করবে অর্থ বিভাগ। এতে রাজস্ব আদায়, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ভর্তুকি ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যউপাত্ত দেওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেও নতুন অর্থায়নের প্রস্তুতি রয়েছে। বাজেট সহায়তার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য ও সার আমদানি, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু মোকাবিলায় অর্থ চাওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় অঙ্কের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।

    জানা গেছে, নতুন কর্মসূচিতে সরকার শুধু বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার দিকেই নজর দিচ্ছে না; বরং ঋণের পাশাপাশি অর্থনীতির সংস্কার কাঠামো নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ব্যাংককের বৈঠকে মূলত ঋণের আকার, সংস্কারের রূপরেখা ও অর্থছাড়ের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমার দেশকে বলেন, নতুন করে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সংস্কার কার্যক্রম দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আইএমএফ। কিন্তু সরকারের সংস্কারে তেমন গতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনবিআরের পৃথকীকরণে অগ্রগতি নেই। শুধু ঋণ পেলেই বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটবে না, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো জরুরি।

    তিনি বলেন, নতুন ঋণের অর্থ কোন খাতে ব্যবহার হবে এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কীভাবে বাড়ানো হবে—এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

  • ভরিতে ১৬৯১ টাকা কমল স্বর্ণের দাম: বাজুস

    ভরিতে ১৬৯১ টাকা কমল স্বর্ণের দাম: বাজুস

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। স্বর্ণের এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।

    স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

  • সম্পদমূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের পরামর্শ: বিএসইসি

    সম্পদমূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের পরামর্শ: বিএসইসি

    সম্পদমূল্যসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোনো ধরনের গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বিএসইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিনিয়োগকারীদের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।

    বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট সংশ্লিষ্ট ফান্ডের প্রতি ইউনিটের নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে। মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের বাজারমূল্য ও তার অন্তর্নিহিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অস্বাভাবিক ব্যবধান থাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার বিষয়। কারণ, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডকে নগদায়ন করা হলে ইউনিটহোল্ডার কর্তৃক উক্ত ফান্ডের নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় অধিক অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই।

    ডিএসইর তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে ৫টি মিউচুয়ালফান্ডের লেনদেন সম্পদমূল্যের চেয়ে বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে সম্পদমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৫০ শতাংশ বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড। ৯ টাকা সম্পদমূল্যের বিপরীতে এই ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হচ্ছে ৩১ টাকারও বেশি দরে। এরপর সম্পদমূল্যের তুলনায় ১০০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ও সিএপিএমআইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড। রিলায়েন্স-১ ২০ শতাংশের বেশি দরে ও আইসিবি এমপ্লয়িজ সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড ৫ শতাংশের বেশি দরে। বাকি ফান্ডগুলো অবশ্য সম্পদমূল্যের তুলনায় কম দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

    বিএসইসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য তথা ফান্ডের আর্থিক অবস্থা, ফান্ডের মেয়াদ, বিনিয়োগের ধরন বা পোর্টফোলিও এবং প্রকাশিত অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করে জেনে-বুঝে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

    মিউচুয়াল ফান্ডের গঠন ও বিনিয়োগের বিষয়ে বিএসইসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড একটি সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ মাধ্যম, যেখানে বিনিয়োগকারীদের অর্থ একত্রিত করে তা বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণত ট্রাস্ট কাঠামোর মাধ্যমে গঠিত হয় এবং ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ইউনিট ইস্যুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ফান্ড গঠন করা হয়। সংগৃহীত অর্থ নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়।

    মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ মূলত বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট ও অন্যান্য বিনিয়োগযোগ্য সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে, যা তাৎক্ষণিকভাবে নগদায়ন সম্ভব। এসব সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফান্ডের মোট সম্পদের মূল্য নির্ধারিত হয় এবং দায়দেনা বাদ দেওয়ার পর যে নিট সম্পদমূল্য পাওয়া যায়, সেটিই ফান্ডের নিট সম্পদমূল্য। ফান্ডের মোট নিট সম্পদমূল্যকে মোট ইউনিট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি ইউনিটের বিপরীতে নিট সম্পদমূল্য নির্ধারণ করা হয়। অ্যাসেট ম্যানেজার নির্ধারিত বিধিবিধান অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ডের সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে থাকে।

  • পুঁজিবাজারে  বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ

    পুঁজিবাজারে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ

    সংস্কার উদ্যোগ ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে বাজার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

    ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে ডিএসইর একক কোনো উদ্যোগ কাজ করছে না। বরং বাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা গেছে।

    তিনি বলেন, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতা সম্প্রতি সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় এনআইটিএ হিসাবের মাধ্যমে অর্থের হিসাব করতে হতো। ডিএসইর পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মটি সহজ করে।

    নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে হিসাব না করে বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এর পাশাপাশি টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পুঁজিবাজারে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করেন নুজহাত আনোয়ার।

    ডিএসই’র তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকা।

    মার্চে লেনদেন কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬০ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয় ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭১ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    এরপর জুনে বিদেশি লেনদেন হয়েছে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ টাকা। আগস্টে তা কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৯১ টাকায় দাঁড়ায়।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ওই বছরের জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২৬৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ টাকা হলেও মার্চে কমে দাঁড়ায় ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ টাকা।

    এপ্রিল ও মে মাসে লেনদেন আবার বাড়ে। এপ্রিলে ৪২৬ কোটি ৯৪ লাখ ১ হাজার ২৯৮ টাকা এবং মে মাসে ৫০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৪২ টাকা লেনদেন হয়, যা ওই বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে তা কমে ২৮৫ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৯ টাকা হলেও জুলাইয়ে বেড়ে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার ২১৭ টাকা হয়। আগস্টে লেনদেন দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৫৪৮ টাকা।

    ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। এর বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা, যা গত বছরের পুরো বছরের প্রায় ৯৪ শতাংশ।

  • ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৮৩৭টাকা

    ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৮৩৭টাকা

    তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা, যা এতদিন ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সে হিসাবে দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা।

    রোববার (৪ অক্টোবর) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি, যা সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

    আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়া, জাহাজ ভাড়া এবং এলপিজি পরিবহনের যানবাহনের ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় এই বাড়তি দাম বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

    যদিও গত দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা চলছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার সংকট দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৮৫ টাকা দাম নির্ধারিত থাকলেও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার উর্ধমূখী (টনপ্রতি ৬৪ ডলার) দেখে ৫টি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন দামে বিক্রি করার জন্য হাজার হাজার টন এলপিজি ধরে রেখেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছে ১লাখ ৫৮ হাজার টন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১ লাখ ৫৬হাজার টন। সে কারণে বাজারে ঘাটতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

  • অটোগ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছেঃবিইআরসি

    অটোগ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছেঃবিইআরসি

    এলপিজির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। অক্টোবর মাসের জন্য নতুন দাম ঘোষণা করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

    অটোগ্যাসের দাম বাড়িয়ে লিটারপ্রতি করা হয়েছে ৮৪ টাকা। যা আগে ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

    রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

    এদিকে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সিলিন্ডার কিনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।

  • পোলারের নতুন ‘পিস্তা গ্লেজ’ আইসক্রিম

    পোলারের নতুন ‘পিস্তা গ্লেজ’ আইসক্রিম

    ভোক্তাদের জন্য নতুন স্বাদের আইসক্রিম বাজারে এনেছে পোলার আইসক্রিম। ‘পিস্তা গ্লেজ’ নামের এই আইসক্রিমে ক্রিমি পিস্তাচিও, রোস্টেড পিস্তা ডাইস ও চকোলেট চিপসের সমন্বয় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পিস্তা গ্লেজ আইসক্রিমের উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে পোলার আইসক্রিমের চিফ অপারেটিং অফিসার শাহ্ মাসুদ ইমাম বলেন, ‘বর্তমান বাজারে আসল পিস্তাচিওর স্বাদের আইসক্রিমের অভাব পূরণের লক্ষ্যে আমরা অথেনটিক পিস্তাচিওর স্বাদে পিস্তা গ্লেজ আইসক্রিম বাজারে আনছি।’

    অনুষ্ঠানে পোলার আইসক্রিমের হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন রাশেদ সরোয়ার, হেড অব মার্কেটিং মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেজুতি সালেক সেতু, হেড অব এইচআর অ্যান্ড আইটি কাজী সাইফুল ইসলাম, জিএম-ফ্যাক্টরি অ্যান্ড প্রজেক্ট মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, হেড অব সাপ্লাই চেইন সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন, হেড অব প্ল্যান্ট অপারেশন মোহাম্মদ ইফতেখার আহসান এবং হেড অব ইন্টারনাল অডিট নিজামুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক শরৎ মেলা শুরু ৭ অক্টোবর

    পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক শরৎ মেলা শুরু ৭ অক্টোবর

    শরতের শুভ্রতা, বাংলার ঐতিহ্য এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে একসূত্রে গাঁথতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আয়োজন করেছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা আগামী ৭ অক্টোবর শুরু হবে। চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত।

    তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বিসিক ভবনের নিচতলায় প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে।

    বিসিক সূত্র জানায়, এবারের আসরে মোট ৬০টি স্টল বসবে। দেশীয় ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তাদের কর্মপ্রয়াসকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা তাদের নান্দনিক ও মানসম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন।

    মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ৭ অক্টোবর বেলা ৩টা অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।

  • স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে

    স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে

    ডলারের তেজ আর বন্ডের সুদের হার বাড়ায় বিশ্ববাজারে ফের কমেছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে টানা এক সপ্তাহের ব্যবধানে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে লাভহীন এই মূল্যবান ধাতু।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ ডলারে নেমে এসেছে। সবমিলিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। এছাড়া মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দামও ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৬২ ডলারে ঠেকেছে।

    বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বলেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড এখনো কঠোর নীতিতে অটল থাকায় বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত আশা করতে ভয় পাচ্ছেন। সামনে মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারের দুর্বলতা ফেড কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা ও চড়া সুদের হারের কারণে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।

    বিশ্ববাজারের মতো অন্য ধাতুর অবস্থাও ভালো নয়। রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে, যা সার্বিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারকে সাপ্তাহিক লোকসানের মুখে ফেলেছে।

    এদিকে এর প্রভাব দেশের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার

    অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার

    চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ডিসেম্বর প্রান্তিকের ট্রেজারি বিল-বন্ডের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কারণে সরকারের অর্থের চাহিদা বাড়ছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় আদায় কমেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

    এর মধ্যে চলতি বছরই অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। জুলাই, ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জুলাইয়ে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে। এছাড়া ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনের ভাতা পাবেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ কোন খাতে ব্যয় হবে, তা নির্ধারণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    তবে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়বে। এতে ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

  • ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

    ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

    দেশের কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার ক্রয় ও আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিসিজিপির ৪৭তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট ১৯টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সার ক্রয়-সংক্রান্ত সাতটি প্রস্তাব ছিল।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয়ের তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

    এর মধ্যে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩৮ দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ব্যাগিং চার্জ হিসেবে রয়েছে পাঁচ মার্কিন ডলার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এটি তৃতীয় লটের সার ক্রয়।

    এছাড়া সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ১০ শতাংশ কম-বেশির সুযোগসহ ৪০ হাজার টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৩ দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার।

    অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ১০ শতাংশ কম-বেশির সুযোগসহ আরো ৪০ হাজার টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪৫ মার্কিন ডলার।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

    এর মধ্যে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির দু’টি প্রস্তাব রয়েছে। ষষ্ঠ লটে ৪০ হাজার টন এবং সপ্তম লটে ৪০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। প্রতিটি লটের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৮৭৭ মার্কিন ডলার।

    একই প্রতিষ্ঠান থেকে অষ্টম লটে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

    এছাড়া নবম লটে ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ৪০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

    কৃষি মৌসুমে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা এবং সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এসব সার ক্রয় ও আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

  • মেট্রোরেলের ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

    মেট্রোরেলের ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

    ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ–সংক্রান্ত আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে লাইন-১–এর চারটি এবং লাইন-৫ এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। পাশাপাশি লাইন-১-এর আরও দুটি এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের একটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

    ১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ভূগর্ভস্থ পথ
    লাইন-১–এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। স্টেশন তিনটি হলো বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত স্টেশন। এ ছাড়া টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট নির্মাণ করা হবে।

    এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি দরপ্রস্তাব দেয়। দুটিই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। পরে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়।

    তবে সুপারিশকৃত দর ভ্যাট ও কর বাদে সরকারি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৩২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি।

    বিদ্যুৎ ও সংকেতেও প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি
    লাইন-১–এর সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন করা হবে। রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ের পাশাপাশি ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং উপকেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎব্যবস্থা থাকবে।
    এ কাজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দরপ্রস্তাব দেয়। পরে ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

    সিপি-১০ প্যাকেজে থাকবে সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। এতে যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক ও এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগব্যবস্থা থাকবে। এ কাজের ব্যয় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

    ডিপো ও উড়ালপথেও হাজার কোটি টাকা
    লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন উপকেন্দ্র ও ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ভ্যাট ও করসহ ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটারসহ মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশনও হবে।

    এ কাজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

    আরও তিন প্যাকেজ
    লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ হবে। এর মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

    সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক শূন্য শূন্য ৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। কাজটি পেতে পারে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ।

    লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ করা হবে। মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

    প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লাইন-১ ও লাইন-৫—দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক অনুমোদন করেছে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে প্রকল্প দুটিতে অর্থায়ন করছে।

    মেট্রোরেলের লাইন–৫ রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাবে। অন্যদিকে মেট্রোরেলের লাইন–১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুটি রুটে নির্মিত হচ্ছে।

  • সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ডলার

    সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ডলার

    গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে আগস্টের তুলনায় রেমিট্যান্স ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। তবে বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। বিশেষ করে নতুন কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার হার কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে এর প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে ভিসা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ির কারণে নতুন কর্মী যাওয়ার গতি কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়াও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলছে।

    বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। গত বছরের একই ছয় মাসে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। চলতি বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বিদেশে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১১ জন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।

    ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বৈধ চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার ও সরকারের নগদ প্রণোদনা রেমিট্যান্সকে এখনো উৎসাহিত করছে। ফলে মাসভিত্তিক প্রবাহ কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    টানা চার মাস ধরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। জুলাই ও জুন মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল যথাক্রমে ২৮৬ কোটি ও ২৮২ কোটি ডলার। তবে এর আগে টানা ছয় মাস দেশের প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার বা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টানা চার মাস প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও এটিকে এখনই বড় ধরনের পতন বলা ঠিক হবে না। কারণ, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—চার মাসেই প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি এসেছে। বরং কয়েক মাসের অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবাহের পর প্রবাসী আয় এখন কিছুটা স্বাভাবিক বা মৌসুমি পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

    গতকাল বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, স্বস্তির বিষয় হলো রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈদেশিক খাতে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে। তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হারও আমদানি করা পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

  • দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, ডুবছে দুই প্রাইভেট ব্যাংক

    দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, ডুবছে দুই প্রাইভেট ব্যাংক

    পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেঘনা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের হাতে। আর মিডল্যান্ড ব্যাংক ছিল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর মেঘনা ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী। মিডল্যান্ড ব্যাংকের শীর্ষ পদে আসীন হন একই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর থেকে ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ আরো বেড়েছে।

    জানা যায়, ২০১৩ সালে চালুর সময় উজমা চৌধুরী ছিলেন মেঘনা ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা। ব্যাংকটি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই ব্যাংকটি উজমা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে।

    অন্যদিকে আহসান খান চৌধুরীও ২০১৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় উদ্যোক্তা ছিলেন । মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বশেষ তার স্ত্রী নিলুফার জাফরুল্লাহ ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত হতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন উজমা চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬০ শতাংশ।

    এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান উজমা চৌধুরীকে কল করা হলে তিনি আমার দেশ-এর প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন। পরে কল দিলেও আর রিসিভ করেননি। ব্যাংকটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

    এদিকে আহসান খান চৌধুরী মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬৭ শতাংশ।

    ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী ও এমডি ইমতিয়াজ ইউ আহমেদকে ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

    ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, একই পরিবারের দুই ভাই-বোন দেশের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো সব সময়ই খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। এর আগেও এসব চিত্র দেখা গেছে।

  • জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

    জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

    জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিলের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    আদেশে বলা হয়, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ ভ্যাট রিটার্ন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি।

    এ অবস্থায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে যেসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন এখনো ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি, তাদের জন্য সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন অবশ্যই ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

    জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

  • ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন ৭২৩ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন ৭২৩ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩১ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

    বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭২টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭২৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

    অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ দশমিক ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ২৪২টির দাম কমেছে এবং ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল, সায়হাম কটন, ইভিন্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইলস ও আরগন ডেনিমস।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- তুং হাই নিটিং, ডমিনেজ স্টিল, সমতা লেদার, পিপলস লিজিং, বাংলাদেশ অটোকারস, আরগন ডেনিমস, প্রিমিয়ার লিজিং, সায়হাম টেক্সটাইল, ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও অ্যাপেক্স ট্যানারি।

    অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ন্যাশনাল পলিমার, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ১৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং ১৫ বছর মেয়াদি বিজিটিবি (ইএমই)।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটররা

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটররা

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক একটি টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)’ শীর্ষক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তির প্রস্তাবটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করে।

    চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।

    এর গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধাগুলোর মধ্যে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল অন্যতম। নতুন চুক্তির আওতায় টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • রাশিয়া থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

    রাশিয়া থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

    রাশিয়া থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    শিল্প মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বৈঠকে উপস্থাপন করে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

    সারটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার জেএসসি শচেকিনোআজোট।

    সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সার আমদানির মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে ইউরিয়া সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ডিএসইতে লেনদেন ৬৯৯ কোটি টাকা

    সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ডিএসইতে লেনদেন ৬৯৯ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২০ কোটি ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০৮টি ইউনিট ও শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর বিপরীতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৮ টাকা।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৫৫০ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ১৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ১০৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) চার দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১০২ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৯০টির শেয়ার দর বেড়েছে, ১৩০টির কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, সায়হাম টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, নিটল ইন্স্যুরেন্স, ইভিন্স টেক্সটাইল এবং এনভয় টেক্সটাইলস।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো সমতা লেদার, এসকে ট্রিমস, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইবিবিএল মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড, ডেল্টা স্পিনার্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হামিদ ফেব্রিক্স, পিপলস লিজিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং আল-হাজ্ব টেক্সটাইল।

    অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, ২০ বছর মেয়াদি বিজিটিবি, ফ্যামিলিটেক্স (বিডি), মাইডাস ফাইন্যান্স, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স, আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং, নুরানী ডাইং এবং ১৫ বছর মেয়াদি বিজিটিবি।

    আজ ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৭৬ কোটি ৫৯ লাখ দুই হাজার ২২৯ টাকা।

  • সেপ্টেম্বরে ২৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার

    সেপ্টেম্বরে ২৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার

    চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

    গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর একদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে মোট ৮৪৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৪৬ কোটি ২০ লাখ ডলার।

    এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

  • ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশ রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশ রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক

    মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর সাথে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বর্তমান অবস্থা, ব্যাংক খাতের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য নীতি সুদহার নয় দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এবারই ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে আগের ছয় মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণার ব্যবস্থা থেকে সরে এসে অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে দ্রুত সমন্বয় করার সুযোগ তৈরি হলো।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতি (এমপিএস) উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো: হাবিবুর রহমান। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং দেশী-বিদেশী ঝুঁকি এখনো রয়েছে। এ কারণে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে নীতি সুদহার নয় দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমলেও তা স্থায়ীভাবে মূল্য স্থিতিশীলতার পর্যায়ে ফিরে আসার যথেষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই সতর্ক মুদ্রানীতি অবস্থান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

    ডেপুটি গভর্নর জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় নীতি সুদহার নয় দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। একইসাথে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) সুদহার ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) সুদহার সাত দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।

    এর আগে, গত ২ আগস্ট থেকে নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে নয় দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কয়েকটি ঝুঁকি বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমুদ্রপথে বাণিজ্যে সম্ভাব্য বিঘ্ন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব এবং জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা।

    তিনি জানান, জুনে নয় দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আট দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। এটি ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূলত খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার কারণেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে।

    আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে সাত দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি নয় দশমিক ৩২ শতাংশে রয়ে গেছে।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশের জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি চার দশমিক ১৪ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরো কমে দুই দশমিক দুই শতাংশে নেমেছে।

    এই সময়ে শিল্প উৎপাদন দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তাৎক্ষণিক সূচকেও শ্লথগতির চিত্র পাওয়া গেছে।

    ডেপুটি গভর্নর বলেন, ঋণের উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি সঙ্কট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দেশী-বিদেশী চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে এখনো বাধাগ্রস্ত করছে।

    তিনি বলেন, মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বা নীতিগত সুদহারের পরিবর্তন বাজারে ঋণের সুদ ও ঋণপ্রবাহে কতটা প্রভাব ফেলছে, সেই সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

    জুনে দেশের খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র চার দশমিক ৭৫ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, এর আগে নীতি সুদহার কমানো হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব এখনো পড়েনি।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি ও অর্থবাজারের সুদহারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ঋণঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

    উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু মুদ্রানীতির পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, মূলধন পুনর্গঠন, সুশাসন জোরদার এবং ঋণ প্রদানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মুদ্রানীতির কার্যকর সঞ্চালন নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

    উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর।

    তিনি জানান, অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য নির্দিষ্টভাবে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    এছাড়া কৃষি, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার জন্য পুনঃঅর্থায়ন সুবিধাও জোরদার করা হয়েছে।

    বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) ছয় দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আর্থিক হিসাবে নিট অর্থপ্রবাহের কারণে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্য ঘাটতিতে পড়েছে।

    তিনি বলেন, বৈদেশিক খাতে এখনো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

    রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করতে এবং আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।

    ডেপুটি গভর্নর বলেন, অর্থনীতির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি পরিচালনা করবে। একইসাথে মূল্যস্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে।

    তিনি বলেন, দেশী ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এদিকে বিশ্বব্যাংক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চার দশমিক ছয় শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের পূর্বাভাস চার দশমিক তিন শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ করেছে।

  • বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১৬৬০১ কোটি টাকা

    বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১৬৬০১ কোটি টাকা

    সরকার প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। তাই পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে । চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩,২৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই মাসে সরকারের ঋণ নেওয়া বেড়েছে ৪১০ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আগে থেকেই দেশের বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু রয়েছে, সেগুলোও ধুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায় ২০ শতাংশ কমেছে। ফলে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকেই ঋণ নিতে হচ্ছে। কারণ, এ মুহূর্তে সরকারের সামনে বিকল্প অর্থায়নের পথও সীমিত।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিলেও এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৩,৭২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে এ দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় নিট ঋণ ৭,৪৮৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে মোট এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ১১.৪৯ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

    বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য প্রায় সাত লাখ কোটি টাকার যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের কোনো সময়ই এনবিআর এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারেনি। বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট বা বিশৃঙ্খলা না থাকলেও অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি। মূলত সরকারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই এ বাস্তবতাহীন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জাহিদ হোসেন আরো বলেন, আগামীতে সরকারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপ আরো বাড়বে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে আগামী দুবছরের মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ে ন্যূনতম এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে। এর পরোক্ষ প্রভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যয়ও বাড়বে। এ ছাড়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহায়তা থাকলেও এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থেরও বড় অংশগ্রহণ রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে ভর্তুকির ব্যয়ও বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানো গেলেও তা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হবে না।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে আয় না বাড়িয়ে ব্যয়ের চাপ বাড়তে থাকলে বাজেট ঘাটতি আরো বাড়বে। আর বাজেট ঘাটতি বাড়লে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাহিদাও ধীরে ধীরে আরো বাড়বে।

    তথ্য অনুযায়ী ৩০ আগস্ট শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮,০২৫ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। গত জুনে এর পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

  • যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

    যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    বুধবার সকালে সুরমা নদীর ডানতীরের কানিশাইলে নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির দাবি জানালেও সরকার বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।’

    এ ছাড়া দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগে কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে সেদিকে সরকারের নজর রয়েছে।’

  • ইথানলের ক্রেতা সংকট, বিপাকে ভারত

    ইথানলের ক্রেতা সংকট, বিপাকে ভারত

    ভারতে ইথানলের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও সে অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি হয়নি। ফলে দেশটির প্রায় ৭ বিলিয়ন লিটার ইথানলের কোনো নির্দিষ্ট বাজার না থাকায় উৎপাদকরা নতুন ক্রেতা এবং বিকল্প ব্যবহারের পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বর্তমানে বার্ষিক ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন লিটারে। চলতি বছর এর সঙ্গে আরো ৪ বিলিয়ন লিটার যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ই–২০ জ্বালানি মিশ্রণ কর্মসূচির জন্য বছরে প্রায় ১১ বিলিয়ন লিটার ইথানল প্রয়োজন। পাশাপাশি মদ, ওষুধ ও রাসায়নিকের মতো জ্বালানি বহির্ভূত শিল্প খাতগুলোয় আরো ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন লিটার ইথানল ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রায় ৭ বিলিয়ন লিটার ইথানলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাজার নেই।

    শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে ভারতীয় ইথানল কারখানাগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। আগামী তিন বছর এ সক্ষমতা ব্যবহার ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। শুধু মহারাষ্ট্র রাজ্যেই উদ্বৃত্ত ইথানলের পরিমাণ প্রায় ২.৭৭ বিলিয়ন লিটার।

    ২০২৫-২৬ সরবরাহ বর্ষে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ১০ বিলিয়ন লিটারের চুক্তি থাকলেও গত আগস্ট পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে ৮.৯৫ বিলিয়ন লিটার।

    এদিকে, উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে উৎপাদকরা নতুন উপায় খুঁজলেও সরকার আপাতত পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণ ই-২০-এর চেয়ে বাড়ানো (যেমন ই-২৫ বা ই-৩০) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে। গাড়ির ইঞ্জিনে ই-২০ ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের উদ্বেগের কারণে বর্তমান রোডম্যাপটি ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ই-২০-তেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে ইথানল রপ্তানির সুযোগও ভারতে এখনো বেশ সীমিত। প্রথম প্রজন্মের ইথানল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ থাকলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের ইথানল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে দেশটি। বর্তমানে তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং কেনিয়ার মতো বাজারে সামান্য পরিমাণ অ-জ্বালানি ইথানল রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া গ্রেইন ইথানল প্রস্তুতকারক সংস্থা (জিইএমএ) নেপালে ইথানল সরবরাহের আলোচনা চালাচ্ছে। কারণ দেশটি পেট্রোলে ১০ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করলেও তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা নেই।

    অবশ্য পেট্রোল ছাড়াও ডিজেলের সঙ্গে ইথানল থেকে তৈরি উপাদান মেশানোর নতুন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করছে দেশটির সরকার ও উৎপাদকরা।

    বর্তমানে ভারতে মদ ও ওষুধ শিল্পসহ অ-জ্বালানি খাতে মোট চাহিদার ১৮.৭ শতাংশ ইথানল ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহলের (ইএনএ) বাজার ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৮০ বিলিয়ন লিটারে, যা বছরে ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। কারণ পানকারীরা দেশি মদ থেকে ভারতে তৈরি বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের দিকে ঝুঁকছেন।

  • ১২ শতাংশের বেশি বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম, কার্যকর মধ্যরাত থেকে

    ১২ শতাংশের বেশি বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম, কার্যকর মধ্যরাত থেকে

    বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ফার্নেস অয়েলের লিটারপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। এতে ফার্নেস অয়েলের দাম ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।

    বুধবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম বুধবার রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হবে।

    এর আগে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারিত ছিল।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করে। জানুয়ারিতে গণশুনানির পর ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তারপর থেকে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দাম নির্ধারণ অব্যাহত রেখেছে বিইআরসি।

  • ১০টি এয়ারবাস কিনবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

    ১০টি এয়ারবাস কিনবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ১০টি এয়ারবাস কিনবে বাংলাদেশ, অক্টোবর মাসে চুক্তি হবে।
    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ পর্যন্ত ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। প্রথম বোয়িং আসবে ২০৩১ সালে।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র বলছে, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। গত এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। নতুন করে বোয়িংয়ের ১১টি ও এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনলে কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহরে উড়োজাহাজ হবে ৫৪টি।

    গত এপ্রিল মাসে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

    চুক্তি অনুযায়ী, আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ রয়েছে।

  • বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু

    বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।

    আইএসপিআর জানায়, বিদায়ী সাক্ষাতকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতের গঠনমূলক ভূমিকা ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

    একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত যৌথ উদ্যোগের পরিধি আরও বেগবান ও সুদৃঢ় হবে।

    বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার। তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • একনেকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    আর্থিক খাত সংস্কারসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ২১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া’, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উন্নয়ন, মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর-ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প রয়েছে।

    আরও রয়েছে রংপুর বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ, মাদারীপুর-শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, এসআরবির কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।

    এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • টানা তৃতীয় দফা কমল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

    টানা তৃতীয় দফা কমল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফা স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানায় বাজুস।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন বেড়ে ৭৪৬ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন বেড়ে ৭৪৬ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ছয় দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৫২৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে নেমেছে।

    একইসাথে ডিএস৩০ সূচক এক দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৯৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক তিন দশমিক ১২ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১০০ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    ডিএসইতে আজ এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৯টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মোট ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৯টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টির দর বেড়েছে, ২২৪টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৯ টাকা। বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা।

    ক্যাটাগরিভিত্তিক লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০২টি কোম্পানির মধ্যে ৭৯টির দর বেড়েছে, ১০৯টির কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর বেড়েছে, ৫০টির কমেছে এবং চারটির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১১৮টি কোম্পানির মধ্যে ২৬টির দর বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৩৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে, ২৮টির কমেছে এবং দু’টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইতে আজ চারটি করপোরেট বন্ডের মধ্যে দু’টির দর বেড়েছে ও দু’টির কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজের সাতটির দরই কমেছে।

  • ব্যবসায়ীদের ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে

    ব্যবসায়ীদের ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে

    ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল, তা বাতিল করেছে সরকার। ফলে আগের নিয়মানুযায়ী ব্যবসায়ীদের আবারো প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।

    গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ-সংক্রান্ত খসড়া সংশোধনীর অনুমোদন দেয়া হয়।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের লক্ষ্যে খসড়াটি উপস্থাপন করা হয়।

    খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেয়ার পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

    তবে দাখিলপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা জমা দেয়া যাবে।

    এ ছাড়া সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেয়ার সুযোগ পাবে।

  • বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর

    বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর

    স্বল্পোন্নত (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে রপ্তানি বাজার ধরে রাখা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে বর্তমান রপ্তানি বাজারগুলো সম্প্রসারণে বিভিন্ন চুক্তি, পণ্য প্রদর্শনীসহ দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় সভা-সেমিনারেও অংশ নিচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারা। দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয়ে জানা গেছে।

    এই সময়ের মধ্যে বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে হংকংয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো, বাটেক্সপো ২০২৬, জাপান ডেস্ক চালু, মালয়েশিয়ায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের (ডিসিসিআই) ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানো। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিসহ (সেপা) বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন করে সাজানো হয়েছে সরকারি উদ্যোগও। এসব উদ্যোগের পেছনে এলডিসি উত্তরণও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৪৮.৩০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ০.১৭ শতাংশ বেশি। সে হিসাবে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এখনো খুব সীমিত। একই সময়ে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে সেই নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে চান সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের ৩৭টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। তবে ভ্যালু অ্যাডিশন ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে দেশ। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে সক্রিয় উদ্যোগগুলো আসছে পোশাক খাত থেকে।

    এর মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করতে আগামী ২৮ অক্টোবর বিজিএমইএ হংকংয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো আয়োজন করছে। পাশাপাশি এক যুগ পরে আবারও আগামী ১৮-১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাটেক্সপো ২০২৬ আয়োজন করছে সংগঠনটি। এতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের এক ছাতার নিচে আনতে চায় বিজিএমইএ।

    জাপানের বাজারেও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের পোশাকশিল্প। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক চালু করেছে। এর লক্ষ্য জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর যোগাযোগ, বাজার গবেষণা, ক্রেতা শনাক্তকরণ ও ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা।

    এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সেপা) বিষয়ে আগস্টে দুই দেশ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই চুক্তি বাংলাদেশকে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    মালয়েশিয়ার বাজারেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সরাসরি তৎপরতা বাড়ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ৩৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর করেছে। দলটি সেখানে বিটুবি বৈঠক এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করেছে বলে জানা গেছে।

    সরকারও এই বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাণিজ্য চুক্তির পরিধি বাড়াচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি দেশ ও বাণিজ্য জোটের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য চুক্তি বা বাজার-সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বা আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগও চলছে।

    বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর পেছানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি ২০২৯ সালের নভেম্বরে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আছে। বাংলাদেশের এসব উদ্যোগের পেছনে এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর ও একটি পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। কারণ, এলডিসিভুক্ত হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থারও কিছু বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে। এলডিসি উত্তরণের পর এসব সুবিধা কমে যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক বাজারে রুলস অব অরিজিন, শ্রম ও পরিবেশগত মান এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়বে।

    জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বিজিএমইএর সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো মূলত বাজার সম্প্রসারণেরই অংশ। প্রথমত, জাপানের সঙ্গে আমাদের ইপিএ সম্পাদিত হয়েছে, যা এখন সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি সম্পাদিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের বায়ারদের আস্থা অর্জিত হয় এবং তারা ব্যবসা বাড়াতে উৎসাহিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যেই জাপান থেকে তিন-চারটি বড় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে, যারা আমাদের দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়।

    শিহাব উদ্দৌজা চৌধুরী আরো বলেন, বিজিএমইএর সাম্প্রতিক উদ্যোগের একটি মূল উদ্দেশ্য হলো—আমাদের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাজার সম্প্রসারণ। ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের একটি শক্তিশালী বিকল্প বা তৃতীয় বাজার গড়ে তুলতে হবে।

    তবে উদ্যোগগুলোকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতির পরিবর্তে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ বলে মন্তব্য করে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, এক অর্থে সে রকম নয়। তবে আবার কিছুটা এলডিসির প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পৃক্তও বটে। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে আমাদের উত্তরণ করতেই হবে। এই বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এ জন্য তিন বছরের একটি কৌশলগত সময় নেওয়া হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একাধিক কমিটি গঠন করেছে এবং এসব কমিটির একাধিক বৈঠকও হয়েছে।

  • গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার

    গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার

    ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। একের পর এক আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এসব কনটেইনারে কী পণ্য এসেছে, কারা আনছে—সে সম্পর্কে ধারণা নেই কারো।

    শুধু রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য, নাকি আড়ালে বড় ধরনের মানিলন্ডারিং বা কোনো ষড়যন্ত্র চলছে—তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কাস্টমসের এসাইকোডা সিস্টেমে ডেলিভারি স্ট্যাটাসে লক করে রাখা ২৫০ কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতে তিন কোটি টাকার কাপড় বোঝাই আরেকটি কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর নতুন করে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

    গত জুলাইয়ের শুরুতে কাস্টমসের এআইআর শাখা থেকে ডেলিভারি নিষিদ্ধ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে ২৫০ কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয় আমার দেশসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে। মূলত খাতা-কলমে বন্দরের অভ্যন্তরে থাকা কনটেইনারগুলোর হদিস চেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় বন্দরকে চিঠি দিলেও তার উত্তর দিচ্ছিল না বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর বন্দরের পক্ষ থেকে কনটেইনারগুলো বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে দাবি করে চিঠি পাঠানো হয় কাস্টমসে। একই চিঠি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশও করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অদ্যাবধি শুধু চিঠি ছাড়া কনটেইনারগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি কাস্টমস।

    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন ইয়ার্ডে কনটেইনারগুলো রক্ষিত আছে—এমন একটি চিঠি বন্দর থেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবগুলো ইয়ার্ডে হাজার হাজার কনটেইনারের মধ্যে ওইসব সুনির্দিষ্ট কনটেইনারগুলো কোনটি, তা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়নি। তাই এখন পর্যন্ত কনটেইনারের অবস্থানসংক্রান্ত একটি কাগজের চিঠি ছাড়া আর কিছুই জানে না কাস্টমস। তবে বন্দরের চিঠিটি কাস্টমস পেয়েছে। সে অনুযায়ী মিলিয়ে দেখা কিংবা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। কনটেইনারগুলো হারিয়ে গেছে; কিংবা সবগুলো পাওয়া গেছে—এমন কোনো বক্তব্য দেওয়ার সময় এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।

    তিন কোটি টাকা মূল্যের শতভাগ রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরির কাপড় ভর্তি ৪০ ফুটের একটি কনটেইনার ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বের করে নিয়ে যায় বন্দরকেন্দ্রিক জালিয়াতচক্র। এ ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও খোয়া যাওয়া কনটেইনারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    সবশেষ খোয়া যাওয়া কনটেইনারটির নম্বর ছিল MRSU-8692827। ফ্রান্সের এক বায়ারের অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে লেডিস পোশাক তৈরির কাপড় আমদানি করে ঢাকার গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান। MV MCC Danang নামের জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি খালাস করা হয় এনসিটি টার্মিনালের দুই নম্বর জেটি থেকে। পরে কনটেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়। কাস্টমসের শুল্কায়ন ও অন্যান্য ডেমারেজসহ কনটেইনারটির বিপরীতে ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে গত ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে যায় আমদানিকারকের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসআরএস সাইন্ড।

    কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি ডেলিভারি দিতে শুরু করে টালবাহানা। তিন দিন ধরে সিসিটি ইয়ার্ডে ধরনা দেওয়ার পর ২ সেপ্টেম্বর বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এক পর্যায়ে বন্দর থেকে জানানো হয়, ১১ আগস্ট N4 সিস্টেমে কনটেইনারটির অন-ডেট, অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, কনটেইনারটি ইতোমধ্যে ডেলিভারি হয়ে গেছে।

    ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে করা হয় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি। পরে থানায় মামলাও দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের দুই জেটি শ্রমিক মোর্শেদ আলম ও সাইদুর রহমানের নাম উল্লেখ করে আরো তিন-চার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

    চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালে ছয় মাসের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাপড় ভর্তি দুটি কনটেইনার বন্দর থেকে গায়েব হয়ে যায়। এক ঘটনায় এক ক্রেতা কাস্টমসের নিলামে ২৭ টন কাপড়ের জন্য ৮৫ লাখ টাকা এবং শুল্ক, ভ্যাট ও বন্দর ফি বাবদ আরো ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পণ্য নিতে গিয়ে দেখেন কনটেইনারটি নেই। অন্য এক ক্রেতা নিলামে কাপড় কিনতে ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেও কনটেইনার খুঁজে না পাওয়ায় পণ্য নিতে পারেননি। চলতি বছরও পণ্যভর্তি আরো দুটি কনটেইনার নিখোঁজের ঘটনায় আলাদা মামলা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের হিসাবে এক বছরে পাঁচটি কনটেইনার উধাও হয়েছে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় থানায় মামলাও করেছে কর্তৃপক্ষ।

    চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কেপিআই জোন। এটা আমাদের এলাকার মধ্যে হলেও ভেতরে পুলিশের অবাধ প্রবেশাধিকার নেই। এখানে কোনো ঘটনা ঘটলে প্রাথমিকভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরা তদন্ত করে। এরপর পুলিশের কাছে আসে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ কিছু সময় পার হয়ে যায়। তখন পুলিশের কাজ করাটা কঠিন হয়ে যায়। কনটেইনার গায়েবের ঘটনাগুলোও উদ্ঘাটনের কাজও এভাবেই দুরূহ হয়ে গেছে; তারপরও কিন্তু পুলিশ কাজ করছে।

    তিনি আরো জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তায় বেশ কয়েকটি ঘাটতি পয়েন্ট তাদের জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাও নিচ্ছে। এ ত্রুটিগুলো থাকার পরও একটি কনটেইনার বের করতে হলে যতগুলো ধাপ পার হতে হয়, সেখানে চোখ বন্ধ করে বলা যায় ভেতরের লোক জড়িত না থাকলে এত বড় কনটেইনার গায়েব করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সন্দেহের মধ্যে রেখে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    বন্দরের মতো সুরক্ষিত এলাকা থেকে একের পর এক কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত দেশের সবচেয়ে বড় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। কারণ, ইতঃপূর্বে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ও দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোকেনের চালান আটক হয়েছে এই বন্দর থেকে। এছাড়া ছোট-বড় অসংখ্যা অস্ত্র ও মাদকের চালান আটক হয় নিয়মিত বিরতিতে। এর বাইরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির ঘটনা তো ঘটছে অহরহ।

    আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। এখানে কোনো অঘটন ঘটলে তা পুরো দেশের জন্য ঝুঁকিপুর্ণ। ইতঃপূর্বে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান এসেছে। বড় বড় মাদকের চালান ধরা পড়েছে। ধরা পড়া চালানগুলোর আমদানিকারকদের ঠিকানা যাচাই করতে গেলে দেখা যায় প্রায় শতভাগই ভুয়া। এটা এলার্মিং। কারণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অবৈধ যে কোনো চালান ধরা পড়ার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশের বেশি বের হয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, হারিয়ে যাওয়া কনটেইনারগুলোর বেশিরভাগ আইজিএম পড়েছে। অর্থাৎ, কনটেইনার এসেছে; কিন্তু ওই কনটেইনার ছাড়িয়ে নিতে কেউ বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। তার অর্থ হলো এই, যারা কনটেইনারগুলো আনছে, তারাই ভিন্ন কৌশলে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। কারণ, এসব কনটেইনারে কী আনা হচ্ছে, তার কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম জানান, বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কনটেইনার বের করার সুযোগ নেই। কোনো ঘটনা সামনে এলে সবাই বলেন স্বাক্ষর জাল করে কনটেইনার গায়েব করা হয়েছে। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর সহজ সমাধান আছে। প্রতিটি ডকুমেন্টে কিউআর কোড ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এটা করা হয় না কেন? যারা এই উদ্যোগ নেয় না, তারা জবাবও দেয় না। আসলে কেউ এই সংকটের গোড়ায় গিয়ে সমাধান করতে চায় না। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

    এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যে ২৫০ কনটেইনারের হদিস চেয়েছিল, সেই কনটেইনারগুলোর সন্ধান দিয়ে চিঠি কাস্টমসকে পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস যে কনটেইনারগুলো এখনো পায়নি, সে ব্যাপারে বন্দরকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো মনে করে কনটেইনারগুলো সব বন্দরেই সংরক্ষিত আছে। এছাড়া গত এক বছরে যে পাঁচটি কনটেইনার হারিয়ে গেছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে কাজ চলছে।

    এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে। ওই কমিটি সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। শিগগির তারা রিপোর্ট দেবে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করবে।

  • ১৮ দেশের বাজার ঘিরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার

    ১৮ দেশের বাজার ঘিরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার

    দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিতে তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজার উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করে পৃথক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘Bangladesh Export Diversification Strategy: Product and Market Diversification Across 18 Key Trading Destinations’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বাণিজ্য সচিব বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণ—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

    এ উদ্দেশ্যে নির্বাচিত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ”

    তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। ”

    মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাজার বিশ্লেষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় এবং বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ—এসব বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, “১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ”

    কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, সেবা রপ্তানিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি এবং সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

    তিনি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ”

    একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

    কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস এসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা রপ্তানি সম্প্রসারণে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

    অংশগ্রহণকারীরা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রণীত এ কৌশল বাংলাদেশের রপ্তানির ভিত্তি বিস্তৃত করা, নতুন পণ্য ও বাজার সৃষ্টি, বিদ্যমান বাজারে অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুমুখী ও টেকসই রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ডিম ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    ডিম ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের চাপে ফেলা যাবে না বলে সতর্ক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উৎপাদক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করে ভোক্তাদের সহনীয় দামে ডিম সরবরাহে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে ডিম ও পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য।

    দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করবেন—এটি স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক মুনাফা, কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহে বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ নেই।

    সারা বছর ডিমের দাম স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান পর্যালোচনা করতে হবে।

    সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, ভুট্টা, সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বর্তমানে প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকায় পৌঁছেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, বছরের বড় একটি সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হলেও দাম বাড়ার সময়টিই বেশি আলোচনায় আসে। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হয়।

    দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় ডিম এক থেকে দেড় মাস সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে টার্নওভার কর ও আয়করের চাপ যৌক্তিক করা, পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং প্রতিদিনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরের তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেন তারা।

    আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

    ব্যবসায়ীদের এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাতটির যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করবে। তবে কোনও পক্ষ যাতে সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো উৎপাদক যেন ন্যায্য মূল্য পান, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করতে পারেন এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে ডিম কিনতে পারেন।

    বাজারে কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে অস্বাভাবিক বাধা কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

    সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ড. আহমেদ উল্লাহ, কাজী ফার্মস লিমিটেডের পরিচালক কাজী জিসান হাসান, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মশিউর রহমান, অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ইসি মেম্বার আফতাব আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, বিপিআইসিসি ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মো. নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাফির রহমান উপস্থিত ছিলেন।

  • বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আইসিএসবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আইসিএসবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

    আজ সোমবার আইসিএসবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মন্ত্রীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করা হয়।

    মন্ত্রী প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং আইসিএসবি’র কার্যক্রমে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।

    গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে আইসিএসবি প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইসিএসবি’র বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

    সাক্ষাৎকালে আইসিএসবি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: রফিকুল ইসলাম, কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, কাউন্সিল সদস্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং সেক্রেটারি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাব্বিরুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিনিধিদলকে মূল্যবান সময় দেয়ায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইসিএসবি’র নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তার অব্যাহত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম জানানোর কথা জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নতুন মূল্যতালিকায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। অর্থাৎ, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।

    এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৯১ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৩২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা।

  • বিদেশযাত্রায় বিমানের টিকিট কাটার সুবিধা বাড়ল

    বিদেশযাত্রায় বিমানের টিকিট কাটার সুবিধা বাড়ল

    বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে কেনার সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারবেন। আগে টিকিট বিক্রির অর্থ দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকলেই এ সুবিধা পাওয়া যেত। এখন ভিসা থাকলেই এ সুবিধা মিলবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো তাদের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তি করলেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে পরিচালিত ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন শনাক্ত করবে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, এ সুবিধার আওতায় কেনা টিকিটের মূল্য ভ্রমণ কোটার সীমার বাইরে থাকবে। যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন যাচাইয়ের পর গ্রাহকের আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট কেনায় ব্যয় করা অর্থ পুনরায় জমা বা রিফিল করতে পারবে ব্যাংক। তবে এটি গ্রাহকের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আওতাধীন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। এ ধরনের লেনদেন নির্ধারিত রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এর ফলে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশে স্থানীয় অ্যাকোয়ারিং ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা ব্যবস্থা করার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে অনলাইনে টিকিট বিক্রিও সহজ হবে।

  • আর্থিক ও ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    আর্থিক ও ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    ব্যাংকিং খাতের তদারকি জোরদার, দুর্বল প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার কক্ষে একনেক সভায় এটিসহ বিভিন্ন খাতের ১৫টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নামে এ প্রকল্পের অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, সফটওয়্যার, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শক সেবায়। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে বৈদেশিক অর্থায়ন হিসেবে আসবে। অবশিষ্ট ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের সরাসরি অর্থায়ন বা জিওবি বরাদ্দ এতে রাখা হয়নি।

    পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নে প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, তদারকি কাঠামো আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনের কার্যক্রম কার্যকর করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট অর্থের বড় অংশই প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে যাচ্ছে। শুধু আইসিটি সরঞ্জাম কেনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭১১ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কম্পিউটার সফটওয়্যারের জন্য ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ পাঁচ হাজার এবং ডেটাবেজ তৈরিতে সাত কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীতে আরো এক কোটি পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলধন খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭ কোটি ২৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

    প্রশিক্ষণেও উল্লেখযোগ্য অর্থ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩,৫৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বরাদ্দ ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে আইডিএর অর্থায়ন ৬৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অংশ তিন কোটি টাকা।

    এছাড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরামর্শক নিয়োগে মোট ৯৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ব্যক্তিগত পরামর্শকের জন্য ২৯ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সেবায় ৬৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে।

    প্রকল্প নথিতে দেশের আর্থিক খাতের কয়েকটি বড় দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং পুরোনো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা। কয়েকটি ব্যাংক, বিশেষ করে সরকারি ও ইসলামি ধারার কিছু প্রতিষ্ঠান, তারল্য ও মূলধন সংকটের মুখে পড়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।

    এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানো, আমানত বীমা ট্রাস্ট ফান্ডের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনে আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

    নথিতে বলা হয়, পুরোনো আইসিটি অবকাঠামো ও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে সাইবার হামলা, আন্তঃসীমান্ত আর্থিক ঝুঁকি এবং অন্যান্য উদীয়মান সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব আমানতকারীদের আস্থা ও সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে।

  • বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম কমলেও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বরং সরবরাহ সংকটের কথা বলে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে দুই ধরনের ভোজ্যতেল।

    বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা অনুযায়ী, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এপ্রিল-জুন সময়ে এ গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার।

    অর্থাৎ তিন মাসের গড় হিসাবে দাম কমেছে ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

    সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে টনপ্রতি গড় দাম ছিল ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। জুন-আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলারে।

    অর্থাৎ গড় দাম কমেছে ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    তবে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ৬ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, পাম তেলের দামও একই সময়ে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে।

    খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।

    পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদর ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচ স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে।

    খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে শুধু টনপ্রতি মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন।

    চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজান। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণও নজরদারিতে রাখা উচিত।

  • আড়াই মাসে এলএনজিতে ভর্তুকি ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

    আড়াই মাসে এলএনজিতে ভর্তুকি ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সরকারকে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। অথচ পুরো অর্থবছরের জন্য এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা।

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহে বিঘ্নের কারণে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হওয়ায় এ চাপ তৈরি হয়েছে।

    এলএনজির পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ খাতেও বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ।

    গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হলেও ডিজেলে এখনো প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও এলএনজির দাম বাড়ায় চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    পেট্রোবাংলার হিসাবে, গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে এলএনজি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে আরো ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বর্তমান মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা কয়েক গুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাবে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া গত আড়াই মাসে এলএনজির জন্য প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশের এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেটের ওপরও নির্ভরতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা হলেও সেপ্টেম্বরে তা প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানিসংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহকারীরা ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হলেও মানুষের দুর্ভোগ ও শিল্প-কারখানার ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ঝুঁকি নিচ্ছে। ’

    এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েও বিপিসির লোকসান পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গত ২০ সেপ্টেম্বর দাম সমন্বয়ের সময় বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছিল, প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে গড়ে প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নতুন মূল্য সমন্বয়ের পর দেশে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সাড়ে ছয় মাসে সংস্থাটির মাসিক গড় লোকসান প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজভাড়া, প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বিপিসির লোকসানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাভার হতে পারে।

    প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। মূল্য সমন্বয় না করলে এক বছরে শুধু ডিজেলেই সরকারের লোকসান প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে তা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াত।

    বিদ্যুৎ খাতেও বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। গ্যাসের সংকট থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয়। ফলে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের যে হিসাব ধরা হয়েছিল, তা বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরকারকে ভর্তুকি ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর লোকসানের বাড়তি চাপ সামলাতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে পরিবহন ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

  • বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

    রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।’

    জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদরদফতর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সাথে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশী এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।’

    তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।’

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।’

    জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।’

    এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরো সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে চায় তার সরকার।’ একইসাথে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে নতুন অংশীদারিত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সাথে বাংলাদেশের আরো ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সাথে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেয়া যায়- এসব তাদের যৌক্তিক প্রশ্ন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।’

    ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করবেন।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরো বিনিয়োগ, আরো বাণিজ্য, আরো কর্মসংস্থান, আরো প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

    বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সাথে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সাথে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।’

    বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ও লেনদেন ভারসাম্যের উন্নতিতে শক্তিশালী বৈদেশিক খাত

    রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ও লেনদেন ভারসাম্যের উন্নতিতে শক্তিশালী বৈদেশিক খাত

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।

    গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) উদ্বৃত্ত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বেড়েছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬৬১ কোটি ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

    চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ২৪২ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাই মাসের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

    এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয়ের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থা বাড়ারও প্রতিফলন এটি।

    তিনি বলেন, প্রবাসী আয় পাঠানোর আনুষ্ঠানিক মাধ্যমকে আরো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। একই সাথে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন নিরুৎসাহিত করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট এই ছয় মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক খাতের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে এ রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। আর ২০২৫ সালের আগস্টের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ আগস্টের শেষে ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার।

    সে হিসাবে এক বছরে মোট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬১৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    এদিকে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।

    বিনিময় হারের এ স্থিতিশীলতা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিনিময় হারের ব্যবধান কম থাকলে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হন।

    বৈদেশিক খাতের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো সার্বিক লেনদেন ভারসাম্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৩৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

    দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবের কিছু ঘাটতি বাড়লেও সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, যা সার্বিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

    বৈদেশিক খাতের এ উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

    এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে সামান্য।

    এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘আমদানি বৃদ্ধির ধরন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল অন্যান্য উপকরণ আমদানির কারণে এ প্রবৃদ্ধি হলে তা অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক খাতের শক্তিশালী অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।

    বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরো শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়।

    এরপর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বিশেষায়িত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধাসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে সহায়তা করছে। একইসাথে আমদানি ব্যয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপও কমছে।’

    তিনি বলেন, ‘এ প্রবণতা ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক ও তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় রাখা, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর সেবা উন্নত করা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।’

  • স্বস্তি নেই ক্রেতার, দাম বেড়েছে আটা ময়দা ডিম মাছের

    স্বস্তি নেই ক্রেতার, দাম বেড়েছে আটা ময়দা ডিম মাছের

    নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবার নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জের বউবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র লক্ষ করা গেছে।

    গতকাল দুপুরে নয়াবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে খোলা আটার দাম ছিল ৪৫ টাকা এবং ময়দা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকা হয়েছে।

    ময়দার দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বনরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যে। গত শনিবার থেকে রুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তা আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে আগের দামে সব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

    সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১১০ থেকে ১৪০, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৮০ থেকে ২০০ এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে বর্তমানে সবজি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকলেও নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম দ্রুত কমে যেতে পারে।

    ডিমের বাজারে তুলনামূলক বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে ডজনপ্রতি দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ এ সময় ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

    ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। দেড় মাস আগে এর দাম ছিল প্রায় ২০ টাকা কম। সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ এবং খাসির মাংসের দাম ১,২৫০ টাকায় কেজিতে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

    মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বর্তমানে রুই ৪০০ থেকে ৪২০, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০, টেংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    তবে ইলিশের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আকারভেদে রাজধানীর বাজারে ইলিশ ৮৫০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    মাছ বিক্রেতারা জানান, বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।

    এদিকে কর-শুল্ক কমানোর সুফলও খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যে কর কমানো হয়। কিন্তু ভোক্তারা জানান, এতে বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। বরং কিছু পণ্যের দাম আরো বেড়েছে।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

  • আবারও কমল স্বর্ণ-রুপার দাম

    আবারও কমল স্বর্ণ-রুপার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪০ টাকা করা হয়েছে।

    শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাজুস। এদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩০১ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

    এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা করা হয়।

    এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩০১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই দাম নির্ধারণের এক সপ্তাহ পর আবারও স্বর্ণের দাম কমানো হলো।

    স্বর্ণের দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা করা হয়েছে।

    ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫৯ দফা কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি। সেদিন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটিই দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ভারত থেকে দুই লাখ টন গম কিনছে বাংলাদেশ

    ভারত থেকে দুই লাখ টন গম কিনছে বাংলাদেশ

    কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে গম সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার মধ্যে বাংলাদেশ আবারও ভারত থেকে গম আমদানি শুরু করেছে।
    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত আগস্টের শেষ দিকে গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে। এর পর বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা দেশটি থেকে দুই লাখ টনের বেশি গমের বুকিং দিয়েছেন।

    ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম ভারত থেকে বড় পরিসরে গম কিনছে বাংলাদেশ।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য পরিবহনে এখনো নানা ধরনের বাধা রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানি অঞ্চল। ফলে এ অঞ্চলে সরবরাহ সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামেও তার প্রভাব পড়ে।

    বাংলাদেশে বছরে ৭০ লাখ টনের বেশি গম আমদানির প্রয়োজন হয়। চার বছর আগে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। তার আগে দেশটি থেকে ৭০ শতাংশ গম আমদানি করত বাংলাদেশ।

    এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ গম আমদানি করা হয়েছে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

    ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা গমের বেশিরভাগই রেলপথে পরিবহন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর গমের দাম প্রতি টন ৩০৫ থেকে ৩২৬ ডলারের মধ্যে হতে পারে।

    ডলারের দর আনুমানিক ১২৩ টাকায় হিসাব করলে, প্রতি কেজি ভারতীয় গমের দাম পড়বে ৩৭ দশমিক ৫২ টাকা থেকে ৪০ দশমিক ১০ টাকা।

    এদিকে শ্রীলঙ্কার আমদানিকারকেরাও সম্প্রতি ভারত থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন গম কিনেছেন। জাহাজে তোলার আগে প্রতি টনের দাম ছিল প্রায় ৩২৫ ডলার। এক্ষেত্রেও প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ৪০ টাকা।

    অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বেড়ে যাওয়া এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারত ২০২২ সালের মে মাসে গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে গম রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    প্রায় চার বছর পর ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কোটার আওতায় সীমিত পরিসরে আবার গম রপ্তানির অনুমতি দেয় ভারত।

    এদিকে বাংলাদেশে গমের তৈরি পরিশোধিত আটার দামও বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ঢাকায় পরিশোধিত গমের আটার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

    বাংলাদেশে গম দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত খাদ্যশস্য। ফলে গমের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

    সরবরাহ নয়, দামই বড় উদ্বেগ
    এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৃষিপণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির জিনকোভস্কি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগ গমের সরবরাহ নয়, বরং এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা।

    তার মতে, গমের দাম বাড়লে দেশে চালের ব্যবহারও বাড়তে পারে।

  • শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, ডিএসইএক্স কমেছে ১৭.৮৯ পয়েন্ট

    শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, ডিএসইএক্স কমেছে ১৭.৮৯ পয়েন্ট

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭.৮৯ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৫৭৮.৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

    একইসাথে ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৫৫ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১১২.১৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩.৪৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১১৫.৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৯০টির কমেছে এবং ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

    ডিএসইতে আজ মোট ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৮টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ ৬১ হাজার ছয় টাকা।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স, জিকিউ বলপেন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনভয় টেক্সটাইলস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, সেনা ইন্স্যুরেন্স ও ডোমিনেজ স্টিল।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস, সেনা ইন্স্যুরেন্স, এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, তুং হাই নিটিং, প্রাইম ব্যাংক, ১ম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এবং রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ড।

    অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে ১০ কোম্পানি হলো সায়হাম টেক্সটাইল, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড নন-কনভার্টেবল ফুললি রেডিমেবল কুপন বেয়ারিং বন্ড, সাউথইস্ট ব্যাংক ১ম পারপেচুয়াল বন্ড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, ওরিয়ন ইনফিউশন, মীর আক্তার হোসেন, ১০ বছর মেয়াদি বিজিটিবি এবং বিডি থাই ফুড।

  • বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধির কোনো চিন্তা নেই সরকারের। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে জনগণকে স্বস্তি দিতে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করবে সরকার।

    অন্যদিকে, দেশে গ্যাস নিয়ে সাময়িক যে সমস্যা ছিল, তা কেটে গেছে। এখন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক বলে এ সময় উল্লেখ করেন।

  • বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশে বস্ত্র, ওষুধ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এগ্রি-বিজনেস, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং ভোগ্যপণ্য খাতে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ : এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশে বাজার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো।

    বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরে অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো বলেন, দেশটি (বাংলাদেশ) টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫ সালে যার বাণিজ্যের আকার ছিল প্রায় ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো।

    সেমিনারে বাংলাদেশে সবুজ বিনিয়োগের (গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট) সম্ভাবনার কথা তুলে তিনি আরো বলেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার, অবকাঠামো এবং বর্জ্যব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ’গ্রিন ইনভেস্টমেন্টে’র সুযোগ রয়েছে। এ সময়, রফতানি বহুমুখীকরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা হিসেবেও উল্লেখ করেন মাদ্রিদ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট।

    ইউরোপের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে জমি প্রদানের মতো বড় সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে থেকে সরকার নির্দিষ্ট মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারবে।’

    সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন স্পেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: মাসুদুর রহমান। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক পাবলো আরাউজো, মলিন্সের এশিয়া ও আফ্রিকার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক এলবা এবং রিকভারের সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের গ্লোবাল ডিরেক্টর আনা রোডেস।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো: আলমগীরসহ স্পেনে সফররত এফবিসিসিআইর ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরা ও ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

    উল্লেখ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্প-সংযোগ স্থাপন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ১১ দিনের সফরে ইউরোপ গেছে এফবিসিসিআইর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। ২৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো: ফজলুল হক।

  • বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

    বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

    বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য ব্লক রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক একটি বিশেষ (অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং) গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।

    গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেয়া এ সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানান। বাংলাদেশের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ও হংকং (চীন)।

    বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।

    বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এই মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যোগদান দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সাথে নিবিড় সংযোগ এবং দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

    বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানানো হয়।

    এ সময় সদস্যপদ চেয়ে আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি ও নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি এ যৌথ বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করেন।

  • বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর শর্ত বাস্তবায়নের তাগিদ

    বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর শর্ত বাস্তবায়নের তাগিদ

    বাণিজ্য সহজীকরণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পণ্য চালান খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভার কার্যপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত মোট ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-‘এ’-এর ২১টি এবং ক্যাটাগরি-‘বি’-এর ১৮টি বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে ডব্লিউটিওকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যাটাগরি-‘সি’-এর ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে ৮টি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি ৭টি পদক্ষেপ আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দেশের সক্ষমতা অটুট রাখতে অবশিষ্ট কার্যক্রমগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সভায় তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাণিজ্য সুরক্ষার সমীকরণ আরো বদলে যাবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক-সুবিধা সংকুচিত হওয়ার এই ক্রান্তিকালে দেশি শিল্প খাতকে বিদেশি পণ্যের অন্যায্য প্রতিযোগিতা ও তীব্র প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি। এ লক্ষ্যে এলডিসি উত্তরণে নতুন রোডম্যাপ তৈরি করেছে সরকার। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনমুখী, উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট রূপকল্প সামনে রেখে একটি রোডম্যাপ করা হয়েছে। সেখানে ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ যে মূল লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চায়, তার মধ্যে রয়েছে—সামষ্টিক অর্থনীতি এবং বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা, তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যব্যবস্থার গভীর ও টেকসই ইন্টিগ্রেশন নিশ্চিত করা।

    পাশাপাশি শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে টিকিয়ে রাখতে এফটিএ, সিইপিএ বা পিটিএ চুক্তি চূড়ান্ত করা, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের দৃশ্যমান উন্নতি সাধন, দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মী বাহিনী তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।

    সভায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্য-সংক্রান্ত সব সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবা একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ বাস্তবায়ন করেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে এবং আরো ১৮টি নতুন দপ্তরকে এর আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া, এই পুরো কার্যক্রমটি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য একটি পৃথক ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট’ গঠনের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

    এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএসের কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাস দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে। অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতেও এনবিআর উদ্যোগ নিয়েছে।

    জানা গেছে, পচনশীল পণ্য বা পেরিশেবল গুডস দ্রুত খালাস ও সংরক্ষণের জন্য বন্দরগুলোতে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি স্থাপন এবং তা আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরামর্শক সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে এবং পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বেনাপোল স্থলবন্দরে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে যার দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সীমান্ত এজেন্সিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বর্ডার এজেন্সি কোঅপারেশন-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে তা ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।

  • চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের

    চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের

    চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্য সচিব বলেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। ট্যানারির মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা এতে প্রতিফলিত করা হবে।

    দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের কাঁচামাল দেশেই রয়েছে এবং এ খাতে দেশের প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতাও বেড়েছে। দেশের মানুষকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতার কথা জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের একটি কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মো: আতাউর রহমান খান। তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক এবং উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

    অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই চামড়া শিল্পের অবস্থান। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এ শিল্পের। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও বিশেষ উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। চামড়ার তৈরি বিভিন্ন শৌখিন পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। দেশের অনেক হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করে বিশ্ববাজারে পাঠাচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম।

    দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বেশিরভাগ রপ্তানি করা হয়; অবশিষ্ট অংশ দেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রপ্তানি হয়। দেশের বাজারেও পাদুকার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাদুকা তৈরির ক্রয়াদেশ পাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। ফলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীটি ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ। এছাড়াও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ল

    কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ল

    কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এতে বলা হয়েছে, কাঁচা পাট রপ্তানি খাতে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে নেওয়া পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলোর শর্ত পূরণে রপ্তানিকারকদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কাঁচা পাট রপ্তানিজনিত জটিলতার কারণে এ খাতের গ্রাহকেরা এখনো পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য এককালীন টাকা জমা দিয়ে ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বরাবর আবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলো। সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    এর আগেও কয়েক দফায় কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।