বিনোদন

  • অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    প্রেমের সম্পর্কে যতটা ভালোবাসা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হয়, গায়ত্রী সুরেশের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তার বিপরীত। সম্পর্ক শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেমিকের কাছ থেকে এমন একটি প্রশ্ন শুনেছিলেন, যা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও স্বস্তি পাননি তিনি।

    ‘বিগ বস মালয়ালম ৮’-এর এই প্রতিযোগী সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

    প্রতিযোগিতা থেকে গায়ত্রীর আকস্মিক বিদায়ে দর্শকেরা অবাক হয়েছেন। তবে শো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠানের একটি টাস্কে নিজের জীবনের কষ্টের অধ্যায়টি সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি।

    সেই টাস্কে বিগ বস প্রশ্ন করেন, ‘জীবনে যে মানুষটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনি কী বলবেন?’ উত্তরে ২০২১ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন গায়ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক মানুষ আছেন, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছেন। কিন্তু যে ঘটনাটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত ও মনকে ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়েছিল ২০২১ সালের একটি ঘটনা। তখন আমি সিচুয়েশনশিপে ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম প্রেমের সম্পর্ক, কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় সেটা আসলে শুধুই একটি সিচুয়েশনশিপ ছিল।’

    গায়ত্রী জানান, সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর আচরণে সতর্ক হওয়ার মতো কিছু বিষয় তার চোখে পড়েছিল। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ মনে হয়েছিল। তবে কাছের একজন মানুষকে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত—এমনটা ভেবেই সম্পর্কটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    এরপর নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে গায়ত্রী বলেন, ‘সম্পর্ক শুরুর প্রথম সপ্তাহে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার এইডস নেই তো? সেই মুহূর্তে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। কিন্তু পরে মনে হয়েছিল, এই কথার মধ্যে এত নেতিবাচকতা খুঁজে ভুল করছি। তাই সম্পর্কটাকে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলেছিলাম।’

    তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তার জন্য সুখকর হয়নি। গায়ত্রীর ভাষ্য, ‘বিশেষ লাভ হয়নি। আমার সঙ্গে থেকেও অন্য নারীর প্রতি সে আসক্ত ছিল।’

    নিজের সেই অভিজ্ঞতাকে এখন টক্সিক সিচুয়েশনশিপ হিসেবে দেখছেন গায়ত্রী। তার এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • আমাকে কাদালে ঈশ্বর তাকে দেখে নেবেন: গোবিন্দর স্ত্রী

    আমাকে কাদালে ঈশ্বর তাকে দেখে নেবেন: গোবিন্দর স্ত্রী

    চার দশকের দাম্পত্য, শৈশবের প্রেম, সংসারের নানা টানাপোড়েন—সবকিছু পেরিয়ে এখন নিজের পরিচয়েই বাঁচতে চান সুনীতা আহুজা। গোবিন্দর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও ভেঙে পড়তে চান না তিনি। বরং ঈশ্বরের ওপর সব ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজ ও জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেতার স্ত্রী।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাম্পত্য জীবন, সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সুনীতা।

    অভিনয়ে আসার সুযোগ থাকলেও সংসারের জন্য সেই পথ বেছে নেননি সুনীতা। তিনি জানান, গোবিন্দর সঙ্গে ‘তন বদন’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তার বয়স কম। ১৫ বছর বয়সে গোবিন্দর সঙ্গে আংটি বদল হয়েছিল। দশম শ্রেণির পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয়। মায়ের পরামর্শে সংসারে মন দিয়েছিলেন তিনি।

    নারীদের উদ্দেশে সুনীতার পরামর্শ, জীবনে ইতিবাচক থাকতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘নিজেকে ভালোবাসুন আর ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখুন। পুরুষের ওপর একেবারে পুরোপুরি নির্ভরশীল হবেন না। আমি কাঁদিও ভগবানের কাছে, একা। আমি এত বছর পর গোবিন্দর স্ত্রী থেকে সুনীতা হয়েছি।’

    নিজের ভালো থাকার মন্ত্রও জানিয়েছেন তিনি। সুনীতার ভাষায়, ‘আমার কাছে ভালো থাকার মন্ত্র হল নিজেকে ভালোবাসা। নিজের জন্য ভাবো, নিজের জন্য বাঁচো আর আনন্দ করো, ভালোবেসে থাকো। আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। অনেকে আমাকে ট্রোল করেন। যারা ট্রোল করেন তারা অবশ্য মিথ্যা কথা বলেন। আমার বয়স এখন ৫৬। আমার মতো বয়সের মানুষ অনেকে ভাবেন, কাজ করে আর কী হবে। কিন্তু আমি কাজ করতে চাই।’

    গোবিন্দ ও তার বান্ধবী কোমল রানিকে ঘিরে নানা আলোচনা প্রসঙ্গে অবশ্য স্বামীর জীবন নিয়ে কথা বলতে চাননি সুনীতা। তিনি বলেন, ‘গোবিন্দর জীবন নিয়ে কিছু বলার নেই আমার। শুধু নিজের বিষয়ে কথা বলব। তবে হ্যাঁ, আমিও মানুষ, আমার খারাপ লাগলে ভগবানের কাছে গিয়ে বসি। আর আমি কর্মে বিশ্বাসী। ভালো মানুষকে যে দুঃখ দিচ্ছেন, যিনি আমাকে কাদাচ্ছেন, যিনি আমার সংসার ভাঙছেন, ভগবান তাকে দেখে নেবেন। তার ওপর সব ছেড়ে দিয়েছি।’

    গোবিন্দর সঙ্গে তার সম্পর্কের দীর্ঘ পথচলার কথাও স্মরণ করেন সুনীতা। ১৫ বছর বয়সে আংটি বদল, ১৮ বছরে বিয়ে এবং ১৯ বছর বয়সে মা হওয়া—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো তারা একসঙ্গেই পার করেছেন।

    তার কথায়, ‘জীবনের সব লড়াই আমরা একসঙ্গে লড়েছি। এটা গোবিন্দরও ভাবা উচিত। সব কিছু নারীই কেন ভাববে? তাঁরাই কেন মন খারাপ করে থাকবে সবসময়?’

    এরপর সুনীতা বলেন, “এক হাতে তো তালি বাজে না, এটা তার সমস্যা। যেখানে তার খুশি তিনি থাকুন। আমি চাই তিনি ভালো থাকুন। নিশ্চয় চল্লিশ বছরে আমার কাছে তিনি কিছু পাননি, যা এখন তিনি পাচ্ছেন। ভগবান ওদের আশীর্বাদ দিক। গোবিন্দ আমার তো ছোটবেলার প্রেম, আমি তো তাও শক্ত হয়ে আছি, কাজ করে যাচ্ছি। যার সেখানে সুখ, খুশি সেখানে থাকুন, সকলের মুখের হাসি অটুট থাক।”

    গোবিন্দ ও সুনীতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সিনেমায় কাজ করেছেন সুনীতা। ছেলের প্রসঙ্গ উঠতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, “আমি বাচ্চাদের কখনও বলি না, বাবাকে ছেড়ে দাও। এটা বলার কোনো মানে হয় না। ওদের বাবা গোবিন্দ। আমি শুধু বলি, আমার মতো শক্ত হও। আমার ছেলে সিনেমায় আসছে, ও খুব পরিশ্রম করেছে। আমি চাই ওর ছবি সুপারহিট হয়ে যাক। আমি চাই ওর উন্নতি হোক।’

    সম্প্রতি সুনীতাকে আদালতের বাইরে দেখা যাওয়ার পর গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি নাকি গোবিন্দকে বিচ্ছেদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোর্টে যাওয়া মানে বিচ্ছেদ চাইতে যাওয়া নয়। সম্পত্তি বাচ্চাদের নামে করার জন্যও যেতে পারি।’

    এত আলোচনা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের মধ্যেও ইতিবাচক থাকার বিষয়ে সুনীতার বক্তব্য, ‘কত সুন্দর অভিনয় করছি দেখুন। জীবনে এত চিন্তা, আমি এত হাসছি। একটা তো জীবন দিয়েছেন ভগবান, সকলকে বলি খুব আনন্দ করুন। নিজের কথা ভাবুন। ভালোবাসা, সম্পর্ক সব মিথ্যা হতে পারে। আর জীবনে টাকা সবচেয়ে বড়, আর নিজের নাম। এখন শুধু সুনীতা সুনীতা।’

  • ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    দীর্ঘ বিরতির পর মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে থাকছেন না সুমাইয়া শিমু। তার পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার।

    ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র। তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তার।

    তিনি জানান, চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারটি টের পান। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরদিন শুটিং করি। সেদিন তার চোখ ফুলে যায় ও ব্যথা বাড়ে। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে শুটিং থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে।

    আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা খন্দকার। তার অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী।

    ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে।

    সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ।

    আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।

  • ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার কথা উঠলে যে কয়েকটি মুখ দর্শকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাদের মধ্যে অন্যতম মিঠু মুখোপাধ্যায়। সৌন্দর্য, নাচ, অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু।

    দীর্ঘদিন ছিলেন প্রচারের আড়ালে। রোববার তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই অভিনেত্রীর বর্ণিল অধ্যায়।

    বাংলা সিনেমা যখন সাদা-কালো থেকে রঙিন যুগে প্রবেশ করছে, ঠিক সেই সময়েই মিঠুর আবির্ভাব। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। তবে প্রথম সিনেমা তাকে তারকা করে তুলতে পারেনি। দর্শকের কাছে বড় পরিচিতি আসে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ দিয়ে।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’য় মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন মিঠু। সিনেমাটির গান ও নাচেও তার উপস্থিতি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এরপর থেকেই বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন তিনি।

    ১৯৭৩ সালে ‘নিশিকন্যা’ এবং পরের বছর অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। ‘মৌচাক’-এ রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি মিঠুর উপস্থিতিও সিনেমাটিতে আলাদা করে নজর কাড়ে।

    পরে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন মিঠু। ‘কবি’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গেও কাজের সুযোগ হয় তার। ‘হোটেল স্নো ফক্স’ ও ‘চাঁদের কাছাকাছি’ সিনেমায় উত্তমকুমারের সঙ্গে তার অভিনয় সে সময় দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল।

    বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখান মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সিনেমাজগৎ তাকে দীর্ঘদিন টানেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে আসেন মিঠু। এদিকে বাংলা সিনেমায় তখন নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের উত্থান শুরু হয়েছে। মহুয়া রায়চৌধুরী ও দেবশ্রী রায়ের মতো অভিনেত্রীরা দর্শকের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন। ফলে মিঠুর আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ততা আর দেখা যায়নি।

    দীর্ঘ বিরতির পর চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরেন মিঠু। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন কনওয়ালজিৎ সিং। সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও এরপর আর নিয়মিত অভিনয়ে ফেরেননি তিনি। কার্যত সেখানেই ইতি ঘটে তার অভিনয়জীবনের।

    এরপর জীবনের বাকি সময়টা অনেকটা আড়ালে কাটিয়েছেন মিঠু। মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও সংবাদমাধ্যম কিংবা প্রকাশ্য উপস্থিতি থেকে দূরে থাকতেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। তবে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যাননি মিঠু মুখোপাধ্যায়।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা, ‘মৌচাক’-এর প্রাণবন্ত চরিত্র কিংবা রঞ্জিত মল্লিক ও উত্তমকুমারের সঙ্গে তার পর্দার মুহূর্ত—সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মিঠুর জন্য তৈরি করেছে আলাদা একটি অধ্যায়। সূত্র: দ্য ওয়াল

  • চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা নকশিকাঁথার জামালপুরে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও লেক পরিবেষ্টিত লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে। ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো জামালপুর জেলাতেই ছিল উৎসবের আবহ।

    এবারের পর্বে থাকছে দুটি ভিন্ন ধরনের গান। এর একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতৃপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম- টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

    বরাবরের মতো এবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা, যাদের বাড়িও এই জামালপুরে। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা।

    ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন দর্শক পর্বের প্রথা অনুযায়ী, ধারণস্থান জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজন দর্শককে। ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পর্বগুলোর মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল প্রতিবেদন। জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’ বা ‘পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জামালপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জামালপুরের ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’-এর ওপর রয়েছে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। জামালপুরে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অভাবের তাড়নায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার- এসব নিয়ে রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়া জামালপুরে জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। ‘ইত্যাদি’র এই পর্ব ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

  • সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করে ৫৬ বছরে পা দিতেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নায়ক। হয়তো জন্মদিন ঘিরে থাকত বর্ণাঢ্য আয়োজন। তবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান তিনি।

    সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা জন্মদিন এলেই শুধু তাকে নিয়ে আলোচনা হয়, এমন নয়। মৃত্যুর তিন দশক পরও বিভিন্ন সময় নানা কারণে দর্শক ও ভক্তদের আলোচনায় থাকেন নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

    সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘সালমান শাহ ফ্যান ক্লাব’-এর সদস্যরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। সিলেট শহরের শেখঘাটে ছিল সালমানের দাদার বাড়ি। আর নানার বাড়ি ছিল দারিয়াপাড়ায়, যে বাড়িটি বর্তমানে ‘সালমান শাহ হাউজ’ নামে পরিচিত।


    সালমান শাহর নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। নানার অনুপ্রেরণাতেই অভিনয়ে আসেন সালমান। স্কুলজীবন থেকেই বন্ধুমহলে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে কোর্স সম্পন্ন করেন সালমান শাহ।

    চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে এর আগেই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবন শুরু হয়। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন সালমান। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমানের চরিত্রটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি।

    তবে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর রাতারাতি দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন সালমান শাহ। মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে মৌসুমীর সঙ্গে আরও দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর জুটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এই জুটিকে এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবনূরের পাশাপাশি শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চির সঙ্গেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ।

    জীবদ্দশায় নিজের অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার সাফল্য দেখে যেতে পেরেছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।

    সালমান শাহ জীবদ্দশায় সর্বশেষ ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ সিনেমার সাফল্য উপভোগ করে যেতে পেরেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই। তার মৃত্যুর দিনই রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘আখেরী মোকাবেলা’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’।

  • পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করতেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই নায়ক। বিশেষ এই দিনে তাকে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার অন্যতম জনপ্রিয় সহশিল্পী চিত্রনায়িকা শাবনূর।

    ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ওই পোস্টে সালমান শাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ!’

    সালমান শাহর সঙ্গে কাটানো নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, ‘কত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ ৯০-এর দশকের সেই সোনালি দিনগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে। শুটিং সেটে তুমি শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলে না, ছিলে একজন অসাধারণ হৃদয়ের মানুষ।’

    সালমানের মানবিক গুণের কথা উল্লেখ করে শাবনূর বলেছেন, ‘তোমার আশপাশের প্রতিটি মানুষকে তুমি সম্মান করতে। শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে। তোমার এই সুন্দর মন আর মানবিকতাই তোমাকে মানুষের হৃদয়ে এতটা আপন করে রেখেছে।’

    সালমান শাহর স্মৃতিচারণ করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালি দিনগুলোয়।’

    সপ্রয়াত এ অভিনেতার জন্য দোয়া করে শাবনূর লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।’

    একই পোস্টে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্য না করার অনুরোধও জানিয়েছেন শাবনূর। তিনি লিখেছেন, ‘সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ, প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সবসময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সালমান-শাবনূর জুটির উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’।

  • ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    বলিউডে রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের পুরনো প্রেমের গল্প নিয়ে চর্চা এখনো যেন থামার নয়। ‘আজব প্রেম কী গজব কাহানি’র শুটিং সেট থেকে শুরু হওয়া সেই চর্চিত প্রেম একসময় ছিল বি-টাউনের সবচেয়ে বড় ‘ওপেন সিক্রেট’। তবে সম্পর্কের শুরুর দিকে নিজেদের প্রেমকে মিডিয়ার চোখ থেকে বাঁচাতে সব ধরণের চেষ্টাই করেছিলেন এ তারকা জুটি।

    সেই সময় ক্যাটরিনার সঙ্গে কাটানো গোপনীয় মুহূর্তের ভিডিও করায় এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মাইক কেড়ে নিয়েছিলেন রণবীর। অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তৎকালীন সাংবাদিক নিকিতা দলভি।

    বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিকিতা জানিয়েছেন, সেই সময়ে রণবীর-ক্যাটরিনার প্রেমের খবর তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি। এক গভীর রাতে খবর আসে যে ক্যাটরিনার বাড়িতে গেছেন রণবীর এবং রাত দেড়টার দিকে বের হবেন।

    খবর পেয়েই রাত একটার মধ্যে ক্যাটরিনার বাড়ির নিচে লুকিয়ে পড়ে পাপারাজ্জির দল। রণবীর গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের টের পেয়ে টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত কেটে পড়েন। আর এভাবেই প্রথমবারের মতো ফাঁস হয় তাদের গোপন প্রেমের খবর।

    তবে আসল নাটক ঘটেছিল অন্য একদিন। নিকিতা স্মরণ করেন, এক পরিচিতের শেষকৃত্যানুষ্ঠান শেষে বান্দ্রায় ক্যাটরিনার ম্যানেজারের এক ফাঁকা ফ্ল্যাটে গোপনে দেখা করতে গিয়েছিলেন এই জুটি। খবর পেয়ে আগেই সেখানে হাজির ছিল মিডিয়া টিম। ক্যাটরিনা গাড়ি থেকে নামতেই ক্যামেরা অন করা হয়। রণবীর গাড়ির কাচ নামিয়ে সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি শুধু ক্যাটরিনাকে ড্রপ করতে এসেছেন।

    কিন্তু আসল ঘটনা ঘটেছিল ১০ মিনিট পর। রণবীর চলে যাওয়ার ভান করে একটু দূরে গিয়ে আবার হঠাৎ ফিরে আসেন এবং সাংবাদিকদের তাড়া করেন। শুধু তা-ই নয়, রেগে গিয়ে তিনি প্রেসের গাড়ির দরজা খুলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ব্যাগ এবং বুম মাইক্রোফোন নিজের কাছে নিয়ে নেন।

    নিকিতা জানান, রণবীর শর্ত দিয়েছিলেন যে তাদের আর পিছু নেওয়া যাবে না—তবেই জিনিসপত্র ফেরত দেবেন। কিন্তু সাংবাদিক নিকিতাও দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারকাদের পিছু নেওয়া তাদের পেশার অংশ, তাই কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। শেষমেশ সাংবাদিকের একগুঁয়েমি দেখে এবং কৌশল খাটবে না বুঝে নিজের রাগ সামলে জিনিসপত্র ফেরত দিতে বাধ্য হন রণবীর।

    উল্লেখ্য, বহু বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ভেঙে যায় রণবীর-ক্যাটরিনার সেই বহুল চর্চিত সম্পর্ক। পরবর্তীতে দুজনেই যার যার জীবনে এগিয়ে গেছেন। ২০২২ সালে আলিয়া ভাটকে বিয়ে করে সংসারী হন রণবীর, তাদের ঘরে আসে কন্যা সন্তান রাহা।

    অন্যদিকে ২০২১ সালে ভিকি কৌশলকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ক্যাটরিনা কাইফ এবং ২০২৫ সালের শেষভাগে পুত্র সন্তান বিহানের মা হন তিনি।

  • সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    নতুন ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ওয়েব ফিল্মের নাম ‘সেপারেশন’। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর শুটিং।

    এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে।রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বর্তমানে ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে।

    রোববার নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানান পরীমণি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।

    গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এবার এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন তিনি।

    তবে ‘সেপারেশন’-এ পরীমণির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও মুখ খোলেননি নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা।

    জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে। পরীমণি, ইমতিয়াজ বর্ষণ ও নিরবের পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করছেন শার্লিন ফারজানা।

    ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। তবে কবে নাগাদ ‘সেপারেশন’ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

  • ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হেনস্তা ও হামলার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি এখনো ভেনিসে অবস্থান করছেন।

    সেখান থেকে সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন- জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে। অভিনেত্রী বলেন, কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা; যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত, ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি, কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।

    কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, যখন বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী।

    পাশাপাশি যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন- তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। প্রসঙ্গত, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।

  • বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র কে?

    বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র কে?

    এতদিন বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর উত্তর ছিল, ‘কী জন্য করব?’ কখনো আবার বলেছেন, কাজ, বই আর পোষ্যদের নিয়েই ব্যস্ত আছেন। ব্যক্তিজীবনকে বরাবরই আড়াল রেখেছেন নায়িকা। সেই মিমি কি এ বার সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন? টলিপাড়ায় অন্তত তেমনই গুঞ্জন।

    শোনা যাচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরেই চারহাত এক হবে। বিয়ের আসর বসতে পারে পাহাড়ের শহর কালিম্পঙে। ঘনিষ্ঠ মহলে ইতিমধ্যেই নিমন্ত্রণের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও খবর। যদিও মিমির তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তবে গুঞ্জনের কেন্দ্রে শুধু বিয়ের দিনক্ষণ নয়, পাত্রও। টলিপাড়ার সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই বলেই খবর। শোনা যাচ্ছে, নায়িকার হবু স্বামী পেশায় নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা।

    মিমির প্রেমজীবন নিয়ে অবশ্য এর আগে কম আলোচনা হয়নি। সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও মিমি নিজে সেগুলিকে কখনো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বরং বারবার জানিয়েছেন, কাজের বাইরে তার সময় কাটে পরিবার, বই এবং পোষ্যদের সঙ্গে।

    কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মিমি জানিয়েছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে তো পাত্র খুঁজতে হবে, তার জন্য দেখা-সাক্ষাৎও করতে হবে— সেটুকু করার সময়ও নাকি তার নেই। সেই ‘ব্যস্ত’ মিমির জীবনেই তবে এ বার চুপিসারে এসেছেন কেউ!

  • মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।

    কায়রোর একটি আদালতে হওয়া এই মামলায় ৩৯ বছর বয়সী সারা খলিফার পাশাপাশি আরও ১১ আসামির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    মামলার তদন্ত অনুযায়ী, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করা, সেগুলো দিয়ে কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরে পাচারের জন্য মজুত রাখা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চক্রটির সদস্যদের কাছে অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ ৭৫০ কেজিরও বেশি।

    তদন্তে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, এসব জায়গাকে মাদক তৈরির গোপন স্থাপনা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    সেখান থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আনা উপকরণগুলো ব্যবহার করে সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরবর্তী সময়ে তা পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হতো।

    মিসরের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ সারা খলিফা। দেশটির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা, অপরাধ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হতো।

    টেলিভিশন ক্যারিয়ারের বাইরেও ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন সারা। তার মালিকানায় একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। পাশাপাশি পার্টি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করেন তিনি।

    মাদক মামলার বাইরে সারা খলিফার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছিল। এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় তার সঙ্গে কয়েকজন আসামিকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    ওই মামলায় সারা খলিফাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক মামলাতেও কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন এই টেলিভিশন উপস্থাপিকা। তবে কায়রোর আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। মিসরের আইন অনুযায়ী, আসামিদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

  • ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়কের নাম সালমান শাহ। অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি দিয়ে মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন মানুষের মন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর একে একে উপহার দিয়েছেন ২৭টি চলচ্চিত্র। মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সালমান শাহ যেন আরও বেশি করে আলোচনার বিষয় হয়েছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন এই নায়ক। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। কিন্তু প্রিয় সহশিল্পী ও জনপ্রিয় জুটি শাবনূরের কাছে এখনো যেন বিশ্বাস হয় না সালমান নেই। সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন শাবনূর।

    শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’ সালমানের কথা মনে করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘এত বছর পেরিয়ে গেলেও তোমার স্মৃতি আজও হৃদয়ে অমলিন। পর্দার সেই প্রিয় রাজপুত্র, মানুষের ভালোবাসার সেই স্বপ্নের নায়ক তুমি আজও বেঁচে আছো আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের ভালোবাসায়। তোমার অকালপ্রয়াণে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।’
    শাবনূরের মতে, সময় চলে গেছে, প্রজন্ম বদলেছে; কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের মায়া এখনো মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জীবন্ত। প্রিয় সহশিল্পীর উদ্দেশে তাঁর শেষ কথা, ‘যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ।’

    একটি সিনেমার দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ছবি: সংগৃহীত

    সালমান-শাবনূর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। পর্দায় তাঁরা এতটাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন যে একসময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাবনূর বরাবরই সেই গুঞ্জন নাকচ করে এসেছেন। তাঁর দাবি, সালমানকে তিনি সব সময় ভাইয়ের মতোই দেখেছেন। সম্প্রতি সালমানের মা নীলা চৌধুরীও বলেছেন, শাবনূরকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান শাহ।
    সালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিও এখনো মনে আছে শাবনূরের। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তা বলেছেনও। শাবনূরের মতে, ‘সালমানকে প্রথম যেদিন দেখি, সেদিন মৌসুমী আপুর সঙ্গে শুটিং করছিল। আসা-যাওয়ার মধ্যেও দেখা হতো। তবে খুব একটা কথা হতো না। তখন শুনেছি, ফিল্মে সালমান শাহ নামে নতুন একজন হিরো এসেছে। আনুষ্ঠানিক পরিচয় “তুমি আমার” ছবিতে অভিনয় করার সময়। তখন কাজের কারণে বন্ধুত্ব হয়। আমাদের প্রথম ছবি “তুমি আমার” মুক্তি পাওয়ার পর সুপারহিট হয়।’
    সালমানের মৃত্যুর পরও শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গল্প ডালপালা মেলে। এ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে শাবনূরের।

    তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’

    একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ভিডিও থেকে

    সালমানের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার মুহূর্তটিও আজও ভুলতে পারেননি শাবনূর। সেদিন তিনি ছিলেন বাসায়। হঠাৎ একজন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছেন। প্রথমে কথাটি বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। শাবনূর বলেন, ‘হঠাৎ করে কে যেন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছে। আমি উল্টো ধমক দিয়ে বলি, কী বলে এসব! আমার ছোট বোন বাইরে গিয়ে সালমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়ে আসে। আমি তখন পুরোপুরি হতবাক হয়ে যাই। এরপর এফডিসিতে সালমানকে দেখতে যাই।’

  • ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    এবারের মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের প্রতিযোগী জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ১১১টি দেশের মধ্যে সেরা হিসেবে মুকুট জিতলেন তিনি। বিশ্বসুসন্দরীর খেতাব জেতা জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডমিনিকার রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েই এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।

    জোহাইরি মোলা একাধারে শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও মডেল। ‘ভয়েস অব টুমোরো’ নামে তার একটি উদ্যোগ আছে, যার মূল লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শেখানো এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করা। প্রথম রানার আপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।সেরা ৬ প্রতিযোগীকে নিয়ে চলে একাধিক পর্ব।

    শেষে বিচারকেরা তাদের নানা রকম প্রশ্ন করেন। আর এরপর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এর প্রতিষ্ঠা করেন এরিক মর্লে।

    প্রতিযোগিতায় কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে থাকে প্রাথমিক পর্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার এবং মঞ্চে সরাসরি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্ব। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিয়েতনামে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। অন্য দিকে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।

    এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়—আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া। বাংলাদেশের প্রতিযোগী সামানজার সাঈদ বিউটি উইথ আ পারপাসে প্রাথমিকভাবে নিজ মহাদেশে সেরা ৬–এ থাকলেও ফাইনালে সেরা চল্লিশে জায়গা করে নিতে পারেননি।

  • সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    আলোচিত র‍্যাপার বাদশাহর সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনে এবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তাঁর নিজের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে।

    ইশার এই বক্তব্য এসেছে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রচার ঝলক প্রকাশের পর। সেখানে পরিচয় গোপন রাখা এক নারীকে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ওঠে, ওই নারী হয়তো ইশা রিখি।

    গতকাল শনিবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইশা লেখেন, তাঁর বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খবর ছড়াচ্ছে, যা দেখে তিনি ‘অবাক’। তিনি সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করা তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এসব খবর বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

    বাদশাহ ও ইশা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ইশার বক্তব্যের সারকথা, তাঁর বিয়ে বা বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো তথ্য সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়, যদি না সেটি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে বা তাঁর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আসে।

    ‘বিগ বস ২০’–এর প্রচারণায় রহস্য
    ইশার বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রোমো প্রকাশিত হয়। সেখানে এক নারীকে মুখ ঝাপসা করে দেখানো হয়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস ভেঙে যায়।
    এই বক্তব্যের পরই দর্শকদের একাংশ ধারণা করেন, রহস্যময় ওই নারী ইশা রিখি। কারণ, সম্প্রতি ইশা ও বাদশাহর সম্পর্কের সমাপ্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইশা কিংবা ‘বিগ বস ২০’–এর নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি যে প্রোমোর ওই নারী ইশাই কি না।

    ইশা রিখি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মাত্র কয়েক মাসের দাম্পত্য
    বাদশাহ ও ইশা রিখির সম্পর্কের খবর অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ আয়োজনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে ইশার মা বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
    তবে বিয়ের মাত্র কয়েক মাস পরই বাদশাহ ও ইশার আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুজনই নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিচ্ছেদের কথা জানান।
    বাদশাহ তাঁর বিবৃতিতে জানান, তিনি ও ইশা পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার অনুরোধ করেন তিনি। তাঁদের পক্ষ থেকে সেটিই এ বিষয়ে একমাত্র বক্তব্য হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

    এরপরই ‘বিগ বস ২০’–এর রহস্যময় নারীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইশার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সেই জল্পনাই আরও তীব্র হয়েছে।

    এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল বাদশাহর
    ইশা রিখির সঙ্গে সম্পর্কের আগে বাদশাহ বিয়ে করেছিলেন জেসমিন মাসিহকে। ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, নাম জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং।
    ২০২০ সালে বাদশাহ ও জেসমিন আলাদা হয়ে যান। এরপর মেয়েকে নিয়ে জেসমিন লন্ডনে চলে যান।

    এদিকে ‘বিগ বস ২০’–এর নতুন মৌসুম ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। সালমান খান উপস্থাপিত এই রিয়েলিটি শোতে ইশা রিখির নাম নিয়েও এরই মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। ক্বাজি তৌকির, গুল্লু, র‍্যাপার ইয়ুং ডিএসএ, মাহি ভিজ, খুশি দুবে, আমান গান্ধীসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রতিযোগী হিসেবে সামনে এসেছে।

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    গানের টানে তরুণ বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন নগরবাউল জেমস। কালের পরিক্রমায় সেই তরুণটিই হয়ে ওঠেন দেশের রক আইকন, ভক্তদের প্রিয় ‘গুরু’। আজ এত বছর পরও সমানতালে মঞ্চ মাতিয়ে যাচ্ছেন জেমস। প্রায় দুই মাস ধরে ইউরোপে সংগীত সফরে রয়েছেন তিনি। পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস ও ইতালি ঘুরে জেমস এখন অবস্থান করছেন সুইডেনে।

    ৬ সেপ্টেম্বর সুইডেনের প্রবাসীদের গান শোনাবেন জেমস। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গানটাই গেয়ে যেতে চান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা।

    আশির দশকের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে ফিলিংস ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে সংগীতে পথচলা শুরু জেমসের। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। সেই থেকে সুরের জাদুতে মাত করে রেখেছেন কয়েকটি প্রজন্মকে। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ উঠতেই জেমসের স্বভাবসুলভ উত্তর, ‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা। এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, জেনারেশন চেঞ্জ হচ্ছে—এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয় অনেকগুলো জেনারেশনকে হয়তো গান শোনাতে পারছি।’

    জেমস জানান, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তিনি গান করেননি। গেয়েছেন কেবল ভালোবেসে, নিজের আবেগ ও প্যাশন থেকে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিও তাঁর একই পরামর্শ—কোনো কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে সংগীতে না আসার।

    জেমস বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সংগীত করার কোনো মানে হয় না। গান করতে হবে একদম প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। কোনো প্রাপ্তির আশায় যদি কেউ মিউজিক করে, তবে আমি বলব—এখনই বন্ধ করে দাও। আমি মনে করি, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মিউজিক করা ঠিক না। মিউজিক করতে হবে নিজের প্রশান্তির জন্য। এর মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন হয়, সেটা ভিন্ন কথা। আজ যদি আমি কোনো কিছু নাও পেতাম, তাহলেও গানই করে যেতাম।’

    শেষ পর্যন্ত গানকেই সঙ্গী করে বেঁচে থাকতে চান এই রক তারকা। জেমস বলেন, ‘সংগীত নিয়ে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। গান গেয়ে যাব, শেষ পর্যন্ত গাইতেই চাই। এমনকি শেষে গিয়ে যদি দেখি মাত্র একজন দর্শকও আছে, আমি তাঁর জন্যও গান গেয়ে যাব।’

    সুইডেনের কনসার্ট দিয়েই শেষ হবে জেমসের দীর্ঘ ইউরোপ সফর। এরপর তিনি উড়াল দেবেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর নিউ সাউথ ওয়েলসে আয়োজিত একটি বিশেষ কনসার্টে জেমসের পাশাপাশি এক মঞ্চে গাইবেন পশ্চিমবঙ্গের ফসিলস ব্যান্ডের রূপম ইসলাম।

  • সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    বাংলা গানের ইতিহাসে কিছু কণ্ঠ শুধু গান গায় না, হয়ে ওঠে এক ইতিহাস। সেই কণ্ঠগুলোর অন্যতম সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগীতজীবনে অসংখ্য গান দিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন মানুষের হৃদয়। দেশাত্মবোধক গান, চলচ্চিত্রের গান, আধুনিক কিংবা লোকগান–গানের নানা ধারায় তাঁর স্বতন্ত্র উপস্থিতি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।

    আজ এই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন সংগীতপ্রেমীরা।

    শৈশব থেকে গানের সঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিনের সখ্য। সংগীতনির্ভর পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকে তিনি পেয়েছেন গানের পরিবেশ। অল্প বয়সে তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য নজর কাড়ে। এরপর ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতজগতে শুরু হয় তাঁর পথচলা। সময়ের সঙ্গে সে কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মানুষের অতিপরিচিত ও প্রিয় এক কণ্ঠ।

    চলচ্চিত্রের গানে সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ষাটের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রোমান্টিক গান থেকে বিরহ, জীবনবোধ থেকে দেশপ্রেম–প্রতিটি আবেগকে তিনি নিজের কণ্ঠে এমনভাবে ধারণ করেছেন, যা শ্রোতার মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। তাঁর গাওয়া দেশাত্মবোধক গানগুলোও বাংলা গানের ভান্ডারের অমূল্য সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা কিংবা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা–এসব অনুভূতি তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে গভীর আবেগ ও শক্তি। ফলে তাঁর গান শুধু বিনোদনের বিষয় হয়ে থাকেনি; বরং অনেক গান হয়ে উঠেছে বাঙালির আবেগ ও ইতিহাসের অংশ।

    সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর আবেগ ও স্বচ্ছতা। উচ্চকিত না হয়েও কীভাবে একটি গানকে গভীরভাবে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাঁর গায়কিতে তার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। শব্দের সঠিক উচ্চারণ, সুরের প্রতি বিশ্বস্ততা এবং গানের ভাবকে ধারণ করার ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

    সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন একাধিকবার। তবে পুরস্কার-সম্মাননার সংখ্যার চেয়েও বড় তাঁর অর্জন-প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার ভালোবাসা। সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া বহু গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান আবেদন তৈরি করে। সময় বদলেছে, সংগীতের ধরন বদলেছে, শ্রোতার রুচিতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। তাঁর গান হারিয়ে যায়নি; বরং নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে বারবার। পুরোনো দিনের শ্রোতার স্মৃতিতে যেমন তাঁর গান অমলিন, তেমনি তরুণ প্রজন্মও তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো এখানে–সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টি মানুষের মনে বেঁচে থাকে।

    সাবিনা ইয়াসমিন সেই বিরল শিল্পীদের একজন। তাঁর কণ্ঠে যে গান একসময় রেডিও, টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রের পর্দা পেরিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছিল, সেই গান আজও শোনা হয় একই মুগ্ধতায়। জন্মদিনে তাই সাবিনা ইয়াসমিনকে শুধু একজন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, বাংলা গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে স্মরণ করা যায়। তাঁর গান প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা, দেশ ও মানুষের গল্প বলে। সেই গল্পের আবেদন সময়ের সঙ্গে ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। সুরের ভুবনে তাঁর পথচলা দীর্ঘ হোক। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিক বাংলা গানের সৌন্দর্য।

    জন্মদিনে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি রইল গভীর ভালোবাসা।

  • কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কান্ট্রি সংগীতের বিশ্বখ্যাত তারকা ডলি পার্টন আর নেই। গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী এই কিংবদন্তি।

    জীবনের শেষ সময়ে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন ডলি। তবে নিজের অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। তার ভাগনি জাডা স্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবার ও কাছের মানুষদের অযথা উদ্বিগ্ন করতে চাননি বলেই শেষ পর্যন্ত রোগের কথা গোপন রেখেছিলেন এই শিল্পী।

    সম্প্রতি ‘এক্সট্রা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডলিকে নিয়ে কথা বলেন জাডা। সেখানে তিনি প্রয়াত তারকার সঙ্গে কাটানো সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। জাডার কথায়, ডলি নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়ে কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন।

    জাডা বলেন, ডলি কখনোই চাইতেন না তার অসুস্থতার কারণে পরিবারের সদস্য কিংবা পরিচিতরা দুশ্চিন্তায় থাকুন। ফলে তার মৃত্যুর খবর স্বজনদের জন্য ছিল বড় ধরনের ধাক্কা। এমনকি কঠিন সময়েও ডলি তাদের কান্নায় ভেঙে না পড়ে নিজেদের কাজে ফিরে যেতে এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখার কথা বলতেন।

    জাডার ভাষায়, ডলি ছিলেন সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা আড়ালে রেখেও অন্যদের ভালো থাকার কথা ভাবতেন তিনি।

    ডলি পার্টনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন সংগীত ও বিনোদন জগতের বহু তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেলর সুইফট, ডলির ধর্মকন্যা মাইলি সাইরাস ও তার বাবা বিলি রে সাইরাস, অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন, গায়িকা বিয়ন্সে, র‍্যাপার এমিনেম এবং কেলি ক্লার্কসনসহ আরও অনেকে।

    ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি টান

    ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি পার্টন। তার মা লোকগান গাইতেন। শৈশবেই মায়ের কাছ থেকে সংগীতের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তার। মাত্র ছয় বছর বয়সেই গান লেখার হাতেখড়ি হয় ডলির। নিজের প্রিয় পুতুলকে কেন্দ্র করে প্রথম গান লেখেন তিনি। আট বছর বয়সে হাতে তুলে নেন গিটার। এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে সংগীতচর্চা শুরু করেন।

    মাত্র ১১ বছর বয়সেই স্থানীয় বেতারে গান পরিবেশনের সুযোগ পান ডলি। আর ১৩ বছর বয়সে পৌঁছে যান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্মানজনক কান্ট্রি সংগীতের মঞ্চে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতযাত্রা।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান, অভিনয়, ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে তাই শুধু কান্ট্রি সংগীত নয়, পুরো বিনোদনজগতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

  • ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়েছিল পাহাড়ি সৌন্দর্যের রানী বান্দরবানে। আজ রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে সেই বিশেষ পর্বটির কিছু অংশসহ ইত্যাদি’র কয়েকটি পর্ব থেকে নেয়া চমৎকার সব দৃশ্য দিয়ে সাজানো একটি সংকলিত পর্ব। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ইত্যাদি’র বান্দরবান পর্বের একটি নাট্যাংশের মাধ্যমে প্রথম টিভি ক্যামেরার সামনে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খান।

    এই নাট্যাংশটিই ছিল তাদের জীবনের শেষ অভিনয়। এই পর্বে রয়েছে— বান্দরবানের ইতিহাস, ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত, দর্শনীয় ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ওপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। রয়েছে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চঞ্চল কান্তি চাকমার ব্যক্তি উদ্যোগে বয়স্ক ভাতা চালুর ওপর প্রতিবেদন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষক পরিবারের ওপর শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসৈকতের পরিবেশের ওপর রয়েছে সচেতনতামূলক প্রতিবেদন। বাংলা ও মারমা গানের দু’জন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী আঁখি আলমগীর এবং মান মান সিংয়ের কণ্ঠে রয়েছে অনুরাগের গান।

    এ ছাড়াও বান্দরবানের সবুজ-শ্যামল রূপ বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বান্দরবানের ১১টি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি শিল্পীদের সমন্বয়ে শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নানা সামাজিক অসঙ্গতি ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে ইত্যাদি’র বিভিন্ন পর্ব থেকে সংকলন করা বেশ কিছু বিদ্রƒপাত্মক নাট্যাংশসহ এবারো যথারীতি রয়েছে— নানি-নাতি, মামা-ভাগ্নে, দর্শকপর্ব ও চিঠিপত্র বিভাগ। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। পর্বটি প্রচারিত হবে কেয়া কসমেটিকসের সৌজন্যে।

  • বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    এবার সিনেমায় নাম লেখাতে চলেছেন বলিউড অভিনেতা আরবাজ খান ও অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা দম্পতির ছেলে আরহান খান। একটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে সাবেক এ তারকা দম্পতির সন্তানকে। আরহান সম্পর্কে বলিউড ভাইজান সালমান খানের ভাতিজা হন।

    আরহান খানকে হরহামেশাই বিভিন্ন বলিউড পার্টিতে দেখা যায়। এবার জানা গেছে, তিনি অভিনয়ের জগতে পা রাখতে চলেছেন। প্রথম সিনেমায় আরহান একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি পরিচালনা করবেন নির্মাতা অনিরুদ্ধ আইয়ার, যিনি এর আগে ‘অ্যান অ্যাকশন হিরো’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন। এদিকে, আসন্ন এ সিনেমাটির চিত্রনাট্য বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছেলেকে বলিউডে লঞ্চ করা প্রসঙ্গে আরবাজ খান বলেছিলেন, ‘চিত্রনাট্য আমার বা অন্য কারো হতে পারে। এ মুহূর্তে সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।’

    তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা আছেন এবং সবাই নতুন প্রতিভা ও মুখের সন্ধানে আছেন। তার আগে যদি আরহানের জন্য কারো কাছে কোনো প্রস্তাব থাকে, তবে সে তা বিবেচনা করতে পারে।

    তিনি বলেন, এমন নয় যে, আমি আরহানকে কিছুই দেব না। আমার কাছে কিছু থাকলে, আজ হোক কিংবা কাল হোক— আমি অবশ্যই তাকে প্রস্তাব দেব এবং সে কী করতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দেব।

    উল্লেখ্য, আরহান খান কিছু দিন আগে ‘দম বিরিয়ানি’ নামে একটি পডকাস্ট শুরু করেছেন। তিনি তার বন্ধু দেব এবং আরুশের সঙ্গে সেই পডকাস্টটি সঞ্চালনা করতেন। যাতে তাদের পরিবারও অংশ নিত।

    ১৯৯৬ সালে আরহানের বাবা ও সালমান খানের ভাই অভিনেতা আরবাজ খান ‘দারার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ‘ফির প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‘মা তুঝে সালাম’, ‘ইয়ে মোহাব্বত হ্যায়’, ‘সোচ’ এবং ‘কুছ না কহো’ সিনেমার মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। এমনকি নির্মাতা হিসেবে তিনি সালমান খানের ‘দাবাং ২’ সিনেমাটি পরিচালনাও করেছেন।

  • ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    প্রয়াত বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও ‘মহানায়ক’ বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্মদিন উপলক্ষে এসব পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে হস্তান্তর করেছে তার পরিবার।

    আজ বুধবার বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা তার শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন। আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বুলবুল আহমেদের জন্মদিন।

    দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে বুলবুল আহমেদের অসামান্য অবদানের স্মারক হিসেবে তার অর্জিত এসব পুরস্কার ও সম্মাননা জাতীয় সম্পদ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতেই পরিবারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা

    প্রতি বছর ৪ সেপ্টেম্বর বুলবুল আহমেদের জন্মদিন ঘিরে পরিবার ও তার অনুরাগীদের নানা আয়োজন থাকে। তবে এ বছর বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব না হলেও তার দীর্ঘ শিল্পীজীবনের অর্জন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে ভবিষ্যৎ সংরক্ষণের জন্য দান করেছে পরিবার। চলচ্চিত্র অনুরাগী দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং তার স্মৃতি ধরে রাখার মধ্য দিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।

    বুলবুল আহমেদ শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে তার অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে তার কর্ম ও কীর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বেঁচে থাকবে।

  • অতিবৃষ্টির ভোগান্তি, আমন আবাদে ব্যস্ত কৃষকরা

    অতিবৃষ্টির ভোগান্তি, আমন আবাদে ব্যস্ত কৃষকরা

    ভোলার লালমোহন উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানি, কোথাও বীজতলার চারা নষ্ট হওয়া, আবার কোথাও অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমন আবাদে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। যার ফলে এবারের আমান আবাদ কিছুটা দেরিতে হচ্ছে। তবে এ সব বিপত্তি পেরিয়ে বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে অনেকগুলো কালভার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। যার জন্য আমনের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফসলের মাঠের পানি অপসারণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় জমিতে পানি থাকায় আবাদে দেরি হয়েছে। তবে শুরুতেই আমাদের অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন বীজধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বৃষ্টিতে কিছু কিছু বীজতলা নষ্ট হলেও কৃষকদের চারার জন্য তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ শেষ হয়েছে। এছাড়া আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বাকি জমিগুলোতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন।’

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, লালমোহন উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ২৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ও স্বর্ণা জাতসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধান ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে, স্থানীয় জাতের রোপা আমন ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে এবং নতুন হাইব্রিড-৪ জাতের ধান ২০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে আমন আবাদে শুরুতে কিছুটা বিপাকে পড়লেও এখন মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।

    চরভূতা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ এলাকার কৃষক মো. বেলাল বলেন, ‘এ বছর প্রায় ১৮৮ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এরই মধ্যে কিছু জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছি। অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় কিছুটা দেরি হয়েছে। বৃষ্টিতে প্রথম দফায় বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আবার নতুন করে চারা তৈরি করতে হয়েছে। ধানের চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমিতে রোপণ শেষ করা পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হবে।’

    ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালিরটেক এলাকার কৃষক মো. আবু তাহের এবার ৩৬০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করবেন।

    তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিতে বীজতলার কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করছি তা কাটিয়ে উঠতে পারবো। জমিতে চাষ দেওয়া শেষ করে চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছি। বীজতলায় চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমি প্রস্তুত করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’

  • পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৫ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৫ সন্ত্রাসী নিহত

    অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৫ সন্ত্রাসীকে হত্যা করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়।

    আইএসপিআর জানায়, ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে ফিতনা আল-খারিজিদের একটি দল পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রায় ৩৬ ঘণ্টার অভিযানে ১৫ জন নিহত হয়। পরে তল্লাশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার বিপরীতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে এ অভিযান চালানো হয়।

    পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস ঠেকাতে আফগান তালেবান সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালনের ক্ষেত্রেও তাদের ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে আইএসপিআর।

  • আফগানিস্তানে ফিরেছেন রেকর্ড ৬০ লাখ শরণার্থী: জাতিসংঘ

    আফগানিস্তানে ফিরেছেন রেকর্ড ৬০ লাখ শরণার্থী: জাতিসংঘ

    গত তিন বছরেরও কম সময়ে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

    বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, ‘সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় পরিসরে শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায়নি।’ তবে একই সঙ্গে সব ধরনের প্রত্যাবর্তন যেন স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

    ইউএনএইচসিআর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না দিলেও, ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগানিস্তানে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত জুনে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামাবাদ একটি পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করার পর থেকে ২৪ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক তাদের দেশে ফিরে এসেছেন।

    ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকে প্রায় ২১ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরেছেন।

    ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এবং পরবর্তী কয়েক দশকের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময়ে লাখ লাখ আফগান পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    সর্বশেষ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখনো ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নথিভুক্ত আফগান শরণার্থী অবস্থান করছেন। এর বাইরে ১০ লাখের বেশি অনিবন্ধিত আফগান নাগরিক দেশটিতে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। তামিল পরিবারে জন্ম হলেও মালয়ালম সিনেমাতেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। অভিনয়জীবনে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দুটি বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী চার্মিলার কথা।

    সম্প্রতি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালে শিবাজি গণেশন অভিনীত ‘নাল্লাথোরু কুদুম্বম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন চার্মিলা। ১৯৯১ সালে ‘ওয়ইলাট্টাম’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই বছর মালয়ালম সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। সিবি মালয়িলের ‘ধানম’ ও ভদ্রনের ‘আঙ্কেল বান’-এ মোহনলালের বিপরীতে অভিনয় ও ভরতনের ‘কেলি’ সিনেমায় জয়রামের বিপরীতেও দেখা যায় তাকে।

    সিনেমার সাফল্য তাকে মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—তিন ভাষার সিনেমাতেই কাজ করেছেন চার্মিলা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, তার জীবনে প্রেমের প্রভাব ভালো ছিল না।

    প্রথম প্রেম ও ব্যর্থতা
    ১৯৯৪ সালে ‘কাদাল’ সিনেমায় কাজ করার সময় অভিনেতা বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে চার্মিলার পরিচয় হয়। পরে ‘রাজাধানি’ ও ‘কম্বলম’সহ মোট ছয়টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন তারা। চার্মিলার দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়।

    এক সাক্ষাৎকারে চার্মিলা বলেন, বাবু অ্যান্টনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তার দাবি, বাবুর ভাইয়ের ভূমিকা এতে ছিল। তবে বাবুকে খারাপ মানুষ মনে করেন না বলেও জানান তিনি।

    চার্মিলার ভাষায়, বাবুই ছিলেন তার প্রথম প্রেম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের কবজি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। তবে তার মা তাকে বাঁচান। বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সময়কার কয়েকটি ঘটনাও স্মরণ করেছেন চার্মিলা।
    একবার শুটিংয়ের সময় তার কক্ষের গিজার নষ্ট হয়ে গেলে বাবু নিজের ঘর থেকে গরম পানি এনে দেন। বিষয়টি দেখে চার্মিলার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আরেকবার বৃষ্টির আশঙ্কায় বাবু তাঁকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁর বাবা তা মেনে নেননি।

    চার বছরের মাথায় ভেঙে যায় প্রথম বিয়ে
    বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কিশোর সত্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন চার্মিলা। তখন তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে তাদের বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর কিশোর তাকে সিনেমায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন চার্মিলা। স্বামীর আপত্তি হবে ভেবে বিক্রমের বিপরীতে ‘সেতু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    কিশোর পরে শারজায় চলে যান। চার বছর তারা আলাদা থাকার পর দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। চার্মিলার দাবি, কিশোর মূলত তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ে করেছিলেন।

    এরপর বোনের বন্ধু রাজেশ নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন চার্মিলা। রাজেশ তাঁর চেয়ে আট বছরের ছোট ছিলেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের কারণে রাজেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

    নিজের অতীতের দিকে ফিরে চার্মিলা স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং আগের অভিজ্ঞতা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারেননি।

    মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
    ২০২৪ সালে বিচারপতি হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চার্মিলা। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে ২৮ জনের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে তাকে ও তার বন্ধুদের সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।

    পরিচালক হরিহরণের বিরুদ্ধেও ‘সহযোগিতা’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের মতো বর্তমানে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না চার্মিলাকে। তবে মাঝেমধ্যে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। সূত্র: এনডিটিভি

  • শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    আলোচিত শাড়িকাণ্ডে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নারাজি দিয়েছেন বাদীপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন।

    আইনজীবী জানান, বাদী ও তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। মামলার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

    শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সানায়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে মামলা করা ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

    পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে বলা হয়, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মেসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই বলেছে, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।

    ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।

    পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া ও সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

    তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।

    শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।

  • পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে অভিনয়জীবন নিয়ে তার একটি পুরনো মন্তব্য নতুন করে চর্চায় এসেছে। এই বিতর্কের মাঝে চলচ্চিত্রের সম্মান ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা ওমর সানী।

    ওমর সানী তার পোস্টে ধর্ম ও কর্মকে আলাদা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘পপির কথাটা যেভাবে আসছে এভাবে ঠিক না যদি ও এভাবে বলে থাকে। আসলে ধর্ম কর্ম দুইটা আলাদা জিনিস কর্মটা হালাল ধর্ম তো কোন কথাই নেই।’

    ওমর সানী তার বক্তব্যে পপির বক্তব্য বা মনোভাবের সমালোচনা করলেও চলচ্চিত্রের সম্মান রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চলচ্চিত্র মাধ্যমে কাজ করে সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কিছু নয়। সমাজের অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চেয়ে বিনোদন জগতের মানুষের সততা ও হালাল পরিশ্রম অনেক বেশি সম্মানের।

    পপির ও তার নিজের মক্কা-মদিনা সফরের প্রসঙ্গও আসে ওমর সানীর বক্তব্যে। তিনি লেখেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মক্কা এবং মদিনাতে যেতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ আমাদের ডেকেছেন।বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা।’

    পপিকে উদ্দেশ করে পোস্টের শেষাংশে ওমর সানী আরও লেখেন, ‘ও এখনও আমার কাছে ছোট মানুষ, ভালো থাকিস পপি।’

    পূর্বে এক ভিডিও বার্তায় অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে অঝোর কান্নায় পপি বলেছিলেন, তিনি সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে বাঁচতে চান, ভালো থাকতে চান এবং সৃষ্টিকর্তার নাম জপেই সময় কাটাতে চান।

    সম্প্রতি অভিনয়জীবন ও অতীত পথচলা নিয়ে পপির এই মন্তব্য নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। আর সেই বক্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

    ১৯৯৭ সালে পপির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কুলি’-তেই তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছিলেন ওমর সানী। পরবর্তীতে তারা দুজনে মিলে ‘জগত সংসার’সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।

  • মারধরের ঘটনার পর স্নিগ্ধা বললেন, এই শহর অনেক কিছু শিখিয়েছে

    মারধরের ঘটনার পর স্নিগ্ধা বললেন, এই শহর অনেক কিছু শিখিয়েছে

    নিজের জন্মদিনকে ‘নতুন এক জন্ম’ হিসেবে দেখছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে জীবনের কঠিন সময়, মানসিক যন্ত্রণা, মানুষের বিচার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরেছেন ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার এই অভিনেত্রী।

    স্নিগ্ধার কাছে জন্মদিন মানে শুধু জীবনের আরও একটি বছর পার হওয়া নয়। বরং এই দিনটি তার কাছে ফিরে দেখার সুযোগ—কোথা থেকে শুরু করেছিলেন, আর সময়ের সঙ্গে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নিগ্ধা লিখেছেন, ‘এই শহর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, অনেক কিছু দিয়েছে। তবে কোনোটাই সহজে দেয়নি। অনেক দরজা বন্ধ হয়েছে, অনেকবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে।’

    স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

    গত জুলাইয়ে স্নিগ্ধার জীবনে নেমে আসে কঠিন সময়। তিনি মারধরের শিকার হন। এরপর কেটে যাওয়া প্রায় ৪০ দিনকে জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, এই সময়ে শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক যন্ত্রণা ছিল বেশি।

    চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলেন স্নিগ্ধা। এ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন সময়। নিজেকে সময় দিয়েছেন, কেঁদেছেন, ভেবেছেন এবং অনেকটা নীরব থেকেছেন।

    মানুষের দ্রুত বিচার করার প্রবণতা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্নিগ্ধার মতে, অনেকেই পুরো ঘটনা না জেনেই একজন মানুষকে ভালো কিংবা খারাপ হিসেবে বিচার করে ফেলেন। আবার কারও জীবনের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তকেও তার পুরো পরিচয় হিসেবে দেখেন অনেকে।

    স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

    তবে এই কঠিন সময় তাকে ভেঙে দিতে পারেনি বলেই মনে করেন স্নিগ্ধা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘যারা ভেবেছিলেন আমি ভেঙে গেছি, হয়তো তারা শুধু আমার নীরবতাটা দেখেছিলেন। আমি জানি, আমি ভাঙিনি। আমি শুধু একটু থেমেছিলাম ক্লান্ত হয়ে। এবার আবার চলার পালা।’

    নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্নিগ্ধা আরও জানান, তিনি অনেক নারীর সামনের দিনের পথচলা সহজ করার চেষ্টা করেছেন। অন্যায়ের শিকার নারীদের হয়ে বিভিন্ন সময়ে কণ্ঠও তুলেছেন তিনি।

    জন্মদিনে সব কর্মজীবী নারীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি প্রত্যেক নারীর কর্মস্থল নিরাপদ হোক—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

    সবশেষে কঠিন সময়ে নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্নিগ্ধা। তাদের ভালোবাসা তাকে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে—ভালোবাসার শক্তি অনেক, আর সেই ভালোবাসা অনেক ক্ষতও সারিয়ে তুলতে পারে।

  • বাজে চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু নেতাদের মতো খারাপ নই: বিপ্লব

    বাজে চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু নেতাদের মতো খারাপ নই: বিপ্লব

    পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে তিনি সুস্থ আছেন। মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি পোস্ট করে তাকে প্রয়াত বলে দাবি করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর অনুরাগীরা। পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় সুস্থ আছেন এবং তার মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    এরপর বিষয়টি নিয়ে নিজেই মুখ খোলেন অভিনেতা। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, আমি নাকি মারা গেছি। মারা তো যাবই। তবে ঈশ্বর যতদিন রেখেছেন, ততদিন থাকি। যে বা যিনি এই কাজ করেছেন, তিনি এটা বন্ধ করুন। চট করে সবাইকে মৃত বলে দেবেন না। শুধু আমার নয়, কারও সম্পর্কে এমনটা বলবেন না। বলার আগে একটু ভাববেন।’

    এ ধরনের গুজব ছড়ানোর ঘটনাকে ‘শিক্ষার অভাব’ বলেও মন্তব্য করেন বিপ্লব। তার কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও তথ্য প্রকাশের আগে সেটি যাচাই করা উচিত।

    পরে নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে খানিকটা রসিকতা করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেক বদমায়েশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছেন। অনেকেই আমাকে খারাপ লোক হিসেবে চেনে। তবে আমি রাজনৈতিক নেতাদের থেকে খারাপ নই।’

    ভুয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিনোদন জগতের একাধিক তারকাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়িয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মিথ্যা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে নেতিবাচক ও খলচরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। তবে এবার নিজের মৃত্যুর গুজবের জবাব দিতে গিয়ে সেই খলনায়ক পরিচয়কেই মজার ছলে সামনে আনলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • বিয়ের ৫ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার

    বিয়ের ৫ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার

    বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় র‍্যাপার বাদশা ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা। চলতি বছরের মার্চে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিলেন বাদশা ও ইশা। এরপর কয়েক মাস একসঙ্গে থাকার পর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া বিবৃতিতে বাদশা জানান, দুজনেই নিজেদের জীবনের পথ আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এই র‍্যাপার। একই সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে নতুন কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

    বাদশা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে এটিই একমাত্র বক্তব্য। ভবিষ্যতে বিচ্ছেদ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

    বাদশা ও ইশার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এমন আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। জুলাই থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ইশা রিখি বাদশার সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়ে একটি মন্টাজ প্রকাশ করেন। পোস্টটির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি ঝড়ই এক একটি শিক্ষা। প্রতিটি প্রার্থনাই একটি আশা।’

    ক্যাপশনের সঙ্গে ভাঙা হৃদয় ও হাতজোড় করা ইমোজি থাকায় অনেকেই পোস্টটিকে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন। এরপর ইশার মা পুনম রিখির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টও আলোচনায় আসে। সেখানে তিনি ‘কর্মফল’ নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এসব পোস্টও বাদশা-ইশার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।

    বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের কয়েক মাস আগেই বাদশার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছিলেন ইশা রিখি। জুনে ইনস্টাগ্রামে আয়োজিত ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ পর্বে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। এদিকে ইশার পেশাগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা চলছিল। সালমান খানের পরিচালনায় আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এর প্রতিযোগী হিসেবে তার নাম শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই সামনে এলো বাদশার সঙ্গে তার বিচ্ছেদের খবর।

    ইশা রিখির সঙ্গে বিয়ের আগে বাদশা জেসমিন মসিহের সঙ্গে সংসার করেছিলেন। ২০২০ সালে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। সাবেক এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয় তাদের মেয়ে।

  • বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত

    বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত

    বিয়ে করেছেন চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘গট ম্যারিড’ লাইফ ইভেন্ট যুক্ত করেছেন তিনি। পরে গণমাধ্যমে নিজের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী। মিষ্টি জানিয়েছেন, তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গেও তার কিছুটা সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে আপাতত স্বামীর নাম কিংবা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নন তিনি। বিয়ের সময়, স্থান ও স্বামীর পরিচয় জানতে চাইলে মিষ্টি জানান, এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাবে না। শুধু জানিয়েছেন, তাদের বিয়ে বাংলাদেশেই হয়েছে। মিষ্টির বিয়ে প্রেমের নাকি পারিবারিকভাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি প্রেমের বিয়ে। তবে কবে থেকে তাদের সম্পর্ক, কিংবা ঠিক কবে বিয়ে করেছেন, সেই তথ্যও আপাতত গোপন রাখতে চান অভিনেত্রী। এর কারণ হিসেবে মিষ্টি জানান, সব তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করে দিলে আর কোনো ‘সাসপেন্স’ থাকবে না। তাই আপাতত স্বামীর পরিচয় ও বিয়ের অন্যান্য তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মিষ্টি জানান, তাদের বিয়েটি হুট করে হয়নি। বরং অনেক আগেই বিয়ে করেছেন তারা। তবে ব্যক্তিগত কিছু কারণে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।

  • আনন্দবাজার পত্রিকা অফিস ভবনে লেপে দেয়া হলো গেরুয়া রং

    আনন্দবাজার পত্রিকা অফিস ভবনে লেপে দেয়া হলো গেরুয়া রং

    পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর নাগাদ হঠাৎই গেরুয়া পাগড়ি পরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তুলে কয়েকজন হাজির হন আনন্দবাজার পত্রিকা ভবনের সামনে। সেই ভিড়ের মধ্যে একজন গেরুয়া রং লেপে দিয়েছে অফিস ভবনটির সামনের দেয়ালে। খবর বিবিসির।


    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে স্লোগানও দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই ঘটনার সময় পুলিশকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
    এদিন আনন্দবাজার পত্রিকার অফিস ভবনের সামনে থেকে একজন বিক্ষোভকারী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও বিবেকানন্দের মাটি, এটা গেরুয়ার মাটি। এই মাটিতে গেরুয়া নিয়ে কুমন্তব্য করার প্রচেষ্টা বরদাস্ত হবে না।

    তবে প্রতিবাদীরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কি না সেটি জানা যায়নি। আনন্দবাজার পত্রিকার পক্ষ থেকেও কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
    ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকায় ২১ আগস্ট প্রকাশিত শিরোনামের যোগাযোগ থাকতে পারে। গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপির প্রতিবাদ মিছিল থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। সেই ঘটনার পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনামে লিখে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’।



    ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রতীকে গেরুয়া রঙ রয়েছে। ওই শিরোনামের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    অন্য একটি সংবাদ মাধ্যমের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৮ আগস্ট শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গেরুয়া তাণ্ডব শিরোনাম প্রত্যাহার করতে হবে। গেরুয়া শব্দকে কালিমালিপ্ত করতে দেব না।
    স্পষ্টতই তিনি আনন্দবাজার পত্রিকাকে উদ্দেশ করেই কথাগুলি বলছিলেন। এর পরেই আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আপত্তিজনক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।


    এছাড়াও পত্রিকাটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় এফআইআর দায়ের করেছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন

  • মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    ঢাকাই সিনেমার সফল চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। নব্বইয়ের দশকের শেষে সিনেমায় আসেন। শূন্য দশকে পার করেছেন তুমুল ব্যস্ত সময়। দীর্ঘদিন অভিনয়ে নেই। আর অভিনয় করবেন না বলেও জানিয়েছেন। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু তার একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। ‘যতটুকু পাপ কামিয়েছি সব ধুয়ে-মুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’

    পপির এই মন্তব্যে কারও বুঝতে বাকি নেই, সিনেমায় অভিনয়কে ‘পাপ’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। আর প্রসঙ্গটি নিয়ে পপিকে খোঁচা দিয়েছেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। গতকাল ফেসবুক পোস্টে জয় লেখেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, নায়িকা পপিও তা বললেন। এখন শাবনূর এবং পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো। অভিনয় যে একটা গুনাহর কাজ, এটা তারা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন- আপনারা তো ষোলো আনা বুঝে নিয়ে তারপর ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আমরা যে কিছু না বুঝেই আপনাদের ভক্ত হয়ে ভুল করেছি এবং গুনাহ করেছি, আমাদের কী হবে তাহলে?’

    এদিকে পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেতা বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, ‘যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয় আগে পাপ করেছি। ইবাদত সব সময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য নয়।’

  • চোট কাটিয়ে কাজে ফিরছেন রাশমিকা

    চোট কাটিয়ে কাজে ফিরছেন রাশমিকা

    চোটের কারণে প্রায় এক মাস অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর আবারও কাজে ফিরছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তার আসন্ন সিনেমা ‘মাইসা’র শুটিংয়ের সময় হিপে চোট পাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। এবার সুস্থ হয়ে শিগগিরই সেটে ফেরার খবর জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    বিরতির সময় বেশিরভাগ সময় বাড়িতে কাটিয়েছেন রাশমিকা। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে বিশ্রামে থাকার সময়ের কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ধর্মীয় রীতি পালন, পোষা কুকুরের সঙ্গে খেলা, ধাঁধা মেলানো কিংবা বাগানে সময় কাটানোর মুহূর্ত দেখা গেছে।

    এই অপ্রতাশিত ছুটিটা যে তিনি বেশ উপভোগ করেছেন, সেটিও জানিয়েছেন রাশমিকা। ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি শিগগিরই কাজে ফিরছি। কিন্তু সত্যি বলতে এই দিনগুলো আমি ভীষণ মিস করব’।

    চোট পাওয়ার আগে টানা কয়েকটি সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাশমিকা। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘মাইসা’। গন্ড উপজাতির পটভূমিতে নির্মিত এই ইমোশনাল অ্যাকশন থ্রিলারে রাশমিকাকে দেখা যাবে এক সাহসী উপজাতি নারীর চরিত্রে। সিনেমাটিতে তার চরিত্রটি আগের কাজগুলোর তুলনায় বেশ আলাদা।

  • মোদির সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    মোদির সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর এটি দুই নেতার মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

    তবে দেশ দুইটির নেতার মধ্যে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে- তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    ভারতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে।

  • ছোটবেলায় অভিনয় শুরু, তিন দশক পর কারিশমার উপলব্ধি

    ছোটবেলায় অভিনয় শুরু, তিন দশক পর কারিশমার উপলব্ধি

    বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর। কিশোরী বয়সে অভিনয় শুরু করা এই তারকা মনে করেন, একজন শিল্পীর শেখার প্রক্রিয়া কখনোই শেষ হয় না। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়াই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় গুণ।

    সম্প্রতি বোম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারিশমা বলেন, ‘অভিনয় মানেই প্রতিদিন নিজেকে বদলে নেওয়া। শুধু প্রতিটি সিনেমা নয়, প্রতিটি দিনই আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। বিভিন্ন মানুষ ও শুটিং সেট থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এই ধারাবাহিক শেখার মধ্য দিয়েই একজন শিল্পীর বিকাশ ঘটে।’

    মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু করেন কারিশমা। তাঁর প্রথম ছবি প্রেম কায়েদি মুক্তি পায় ১৭তম জন্মদিনের মাত্র চার দিন আগে। তাই চলচ্চিত্র অঙ্গনেই তাঁর বেড়ে ওঠা বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    কারিশমার ভাষায়, ‘আমি খুব অল্প বয়সে কাজ শুরু করেছি। তাই ইন্ডাস্ট্রিতেই আমার বড় হওয়া। জীবনের উত্থান-পতন ও অভিজ্ঞতা থেকেই শিখেছি। ধাপে ধাপে এগিয়েছি। যখন পেছনে তাকিয়ে মনে হয় কিছু বিষয় ভিন্নভাবে করা যেত, তখন বুঝি একজন অভিনেতা হিসেবে আমি আরও পরিণত হয়েছি।’

    সম্প্রতি মেন্টালহুড ও ব্রাউন-এর মতো ওটিটি কনটেন্টে কাজ করেছেন কারিশমা। তার মতে, সিনেমা, টেলিভিশন ও ওটিটির কাজের ধরন একেবারেই আলাদা।

    তিনি বলেন, ‘ওটিটি চলচ্চিত্রের চেয়ে অনেক ভিন্ন। আমার কাছে এটি বেশ কঠিন মনে হয়েছে। কারণ, একটি সিরিজে একদিনে হয়তো প্রথম পর্বের দৃশ্যের পাশাপাশি সপ্তম পর্বের দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তাই কাজের গতি ও পদ্ধতি আলাদা। সিনেমার অভিনেতাদের জন্য ওটিটি নতুনভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়।’

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রামকারিশমা জানান, তিনি কখনোই খুব পরিকল্পনা করে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেননি। বরং নিজের ইচ্ছা ও অনুভূতিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

    ‘আমি সব সময় এমন মানুষ ছিলাম যে, কোনো কাজ করতে চাইলে করেছি, না চাইলে করিনি। ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করিনি। তবে সৌভাগ্যক্রমে অনেক স্মরণীয় সিনেমা ও অসাধারণ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি,’ বলেন রাজা হিন্দুস্তানি তারকা।

    বর্তমানে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইন্ডিয়াজ বেস্ট ড্যান্সার-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন কারিশমা। তবে পেশাগত জীবনের অনেক আগেই নাচ তাঁর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    শৈশবের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ছোট বোন কারিনা কাপুর খানের সঙ্গে সিনেমার গান শুনে বাড়িতে নাচতেন তারা। বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর বড় ভক্ত ছিলেন কারিশমা। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি শ্রীদেবীর বড় ভক্ত ছিলাম। কারিনা আর আমি বাবা-মায়ের সামনে “তাথাইয়া তাথাইয়া, নয়নো মে সপ্না” গানে নাচতাম। নাচ সবসময়ই আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

    অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমাদের পরিবারে নাচের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। শাম্মি কপূর, ঋষি কপূর ও শশী কপূর—প্রত্যেকেরই নিজস্ব নাচের ধরন ছিল। তাই নাচ সবসময়ই আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।’ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • তারকারা কে কোন পেশা-ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত

    তারকারা কে কোন পেশা-ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত

    শোবিজের অনেক তারকা অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে বেছে নিয়েছেন চাকরি কিংবা ব্যবসা। কেউ অভিনয়ের পরিচয় পেছনে রেখে চাকরিতে মনোনিবেশ করেছেন, কেউ ব্যবসায় মন দিয়েছেন পুরোপুরি। আসুন জেনে নেই তারকারা কে কোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

    আমিন খান
    চিত্রনায়ক আমিন খান ওয়ালটনে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে কর্মরত। করপোরেট চাকরির পাশাপাশি মাঝেমধ্যে অভিনয়েও দেখা যায় তাকে।

    আজিজুল হাকিম
    অভিনেতা আজিজুল হাকিম একই প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরির পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    শাহনাজ সুমি
    ওটিটি ও সিনেমায় পরিচিত অভিনেত্রী শাহনাজ সুমি সম্প্রতি ব্র্যাকের হেলথ প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছেন। চাকরির পাশাপাশি সুযোগ বুঝে অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

    তমা মির্জা
    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তমা মির্জা একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) হিসেবে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বছরে এক বা দুটি সিনেমায় কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

    আইরিন সুলতানা
    চিত্রনায়িকা আইরিন সুলতানা নিয়মিত চাকরির সঙ্গে যুক্ত। চাকরির নির্দিষ্ট সময়সূচির কারণে অভিনয়ে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না তিনি।

    মেহরিন ইসলাম নিশা

    ২০১০ সালের লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রানারআপ মেহরিন ইসলাম নিশা বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকের চাকরিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    শবনম ফারিয়া

    একসময় নিয়মিত অভিনয় করলেও বর্তমানে চাকরি ও সংসারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিনি। সময় পেলে অভিনয়েও ফেরেন।

    সিয়াম আহমেদ

    চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ তিন বন্ধুকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন ফ্যাশন ও গার্মেন্টস ব্যবসা ‘হোলাগো’। ২০২০ সালে অনলাইনে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী সময়ে শোরুমও চালু হয়েছে।

    ফারহানা হামিদ

    বন্ধু ঊর্মিলা শুক্লার সঙ্গে যৌথভাবে ২০১৮ সালে ‘খুঁত’ নামে ফ্যাশন হাউজ চালু করেন অভিনেত্রী ফারহানা হামিদ। বর্তমানে এর তিনটি শোরুম রয়েছে। পোশাকের নকশার কাজও করেন তিনি।

    জিয়াউল হক পলাশ

    ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর কাবিলা চরিত্রে জনপ্রিয় জিয়াউল হক পলাশ যুক্ত হয়েছেন ফ্যাশন ব্যবসায়। তার অনলাইন ব্র্যান্ড ‘হাইওয়ে’। ব্র্যান্ডটির টি-শার্টে তার অভিনীত বিভিন্ন নাটকের নাম ও নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।

    ওমর সানী
    চিত্রনায়ক ওমর সানী রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার রেস্তোরাঁর নাম ‘চাপওয়ালা’। মানিকগঞ্জের বাথুলী ও অরঙ্গাবাদ এলাকায় রয়েছে ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ নামে শাখা।

    অপু বিশ্বাস
    চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস অভিনয়ের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ও যুক্ত হয়েছেন। রাজধানীর আফতাবনগরে ‘এবি ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ চালু করেছেন তিনি। রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি পার্লার ও বুটিক ব্যবসায়ও যুক্ত হয়েছেন অপু বিশ্বাস। আফতাবনগরে ‘সিগনেচার বাই এবি পার্লার অ্যান্ড বুটিক’ চালু করেছেন তিনি।

    কেয়া পায়েল
    অভিনেত্রী কেয়া পায়েল মেকওভার ও স্যালন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। রাজধানীর উত্তরায় ‘পার্ল বাই পায়েল মেকওভার অ্যান্ড স্যালন’ চালু করেছেন তিনি।

    রিচি সোলায়মান
    অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত রিচি সোলায়মান ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিতি তৈরি করেছেন। উত্তরার রবীন্দ্র সরণিতে ‘ইটারনাল বিউটি লাউঞ্জ’ পরিচালনা করছেন তিনি।

    স্বাগতা
    অভিনেত্রী-গায়িকা জিনাত শানু স্বাগতা অর্গানিক খাদ্যপণ্যের ব্যবসা করছেন। ‘ট্রুগানিক বাই স্বাগতা’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চিনিগুঁড়া চাল, ঢেঁকিছাঁটা চাল, চিড়া, মুড়িসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়।

    পরীমণি
    নিজের মাতৃত্বকালীন অভিজ্ঞতা থেকে মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ‘বডি’ নামে একটি ব্র্যান্ড গড়ে তুলেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ব্র্যান্ডটিতে ম্যাটার্নিটি ড্রেস ও শিশুদের পোশাক রয়েছে।

    সামিরা খান মাহি
    অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি একটি গাড়ির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থেকে ব্যবসার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন তিনি।

    তৌকীর আহমেদ
    অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ গাজীপুরে ‘নক্ষত্রবাড়ি’ নামে একটি রিসোর্ট পরিচালনা করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি স্থাপত্য পেশার সঙ্গেও যুক্ত তিনি।

    আলমগীর
    অভিনেতা-নির্মাতা আলমগীর ব্যবসায়ী পরিবার থেকে এসেছেন। পারিবারিকভাবেই পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

    অনন্ত জলিল
    নায়ক ও প্রযোজক হওয়ার আগেই ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি ছিল অনন্ত জলিলের। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা তার দীর্ঘদিনের পেশাগত পরিচয়ের অংশ।

    বাপ্পারাজ
    নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে অভিনেতা বাপ্পারাজ অভিনয়ের পাশাপাশি বায়িং হাউজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

    সম্রাট
    বাপ্পারাজের মতো নায়করাজ রাজ্জাকের আরেক ছেলে সম্রাটও বায়িং হাউজ ব্যবসায় সম্পৃক্ত।

    শাকিব খান
    ঢালিউডের শীর্ষ তারকা শাকিব খান অভিনয়ের বাইরে বড় পরিসরে ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কসমেটিকস ও ভোক্তাপণ্যের বাজারেও তিনি যুক্ত হয়েছেন।

  • সোনিয়ার আত্মজীবনীতে কী আছে,  আটকে দিতে চাই বিজেপি?

    সোনিয়ার আত্মজীবনীতে কী আছে, আটকে দিতে চাই বিজেপি?

    ভারতে মাত্র ১০ দিনেই পাল্টে গেল ছবিটা। ১৮ আগস্ট মার্কিন প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ নফ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশের কথা ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে বিপুল আগ্রহ ও উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছিল, ২৮ আগস্ট তাতে জল ঢালল পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্ত। সেই দিন পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস জানিয়ে দেয়, ভারতে তারা বইটি প্রকাশ করছে না।

    পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউসের অতর্কিত ও বিস্ময়কর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে হাজারটা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। নেওয়ারই কথা। কেননা, পাণ্ডুলিপির কিছু কিছু অংশ তাদের কাছে আপত্তিকর ও ‘অসত্য’ মনে হলেও তাদেরই সংস্থা আলফ্রেড এ নফের কাছে ওই অংশবিশেষ আপত্তিকর মনে হয়নি। বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকেও তারা সরে আসেনি।

    ফলে প্রশ্ন উঠছে, সোনিয়া গান্ধী কোন কোন বিষয়ের অবতারণা কীভাবে করেছেন, যা নিয়ে একেবারে শেষবেলায় পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউসের টনক নড়ল? কিংবা এত দিন কেন তারা আপত্তি জানায়নি? তাহলে কি ধরে নিতে হবে, শাসক দলের রাজনৈতিক চাপে পড়ে তারা পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? ভারতের রাজনীতি এ নিয়েই সরগরম।

    খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার থেকেই কংগ্রেস নেতারা বলতে শুরু করেছেন, শাসক বিজেপির চাপেই ভারতীয় প্রকাশকের এই সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ ও নিউজ পোর্টালে শুক্রবার রাত থেকেই কারণগুলো নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

    সংবাদমাধ্যমে লেখা হতে থাকে, সোনিয়া তাঁর আত্মজীবনীতে (বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ) নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং চীনের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন, পেঙ্গুইন তাতে আপত্তি জানায়। গান্ধী পরিবারের এক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে লেখা হয়, ওই অংশবিশেষ প্রত্যাহারের আরজি জানিয়েছিল পেঙ্গুইন, কিন্তু সোনিয়া রাজি হননি।

    ওই সূত্র অনুসারে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের এক জনসভায় কীভাবে তাঁকে ‘জার্সি গরু’ বলেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা সোনিয়া আত্মজীবনীতে দিয়েছেন।

    ওই সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সোনিয়ার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘদিনের। ফলে স্মৃতিও বিস্তৃত। প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্পর্কে তাঁর ধারণা, তাঁদের মধ্যে যখন দেখা হয়েছে, কথাবার্তা হয়েছে, সেই সম্পর্কে তাঁর অভিমত ও অনুধাবনের কথা নিশ্চিতই তিনি বিস্তারিতভাবে লিখেছেন। রাজনীতিক হিসেবে তিনি কীভাবে সেসব বিষয় সামলেছেন, তা লিখেছেন, কিন্তু প্রকাশকের তাতে সমস্যা হয়েছে।’

    প্রতিবেদনে এ কথাও লেখা হয়েছে, দেশের অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোদির তুলনা করেছেন সোনিয়া। তবে আরএসএস সম্পর্কে সোনিয়া কী লিখেছেন, হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তার উল্লেখ করা হয়নি।

    কংগ্রেস নেতাদের নাম না করে তাঁদের বরাতে এনডিটিভি লিখেছে, পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। প্রথমত, পূর্ব লাদাখের গালওয়ান এলাকায় চীন–ভারত সংঘাত। এ নিয়ে সংসদে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন। সংসদের বাইরেও এ নিয়ে সরব হয়েছেন।

    দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সোনিয়া প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বদানের স্টাইল নিয়ে এবং তৃতীয়ত, ভারতীয় সামাজিক ইতিহাসে আরএসএসের ভূমিকা, সরকারের কাজকর্মের ওপর আরএসএসের প্রভাব কতটা ও কীভাবে বেড়ে চলেছে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    শুক্রবার দুপুরে পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, তারা এই আত্মকথন প্রকাশ করছে না। তারা স্বীকার করে নেয়, কিছু কিছু তথ্য যাচাইয়ের পর তারা তা পরিমার্জনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব।

    ওই বিবৃতির পরই কংগ্রেস নেতারা সমালোচনায় নামেন। তাঁরা বিষয়টিকে ‘বাক্‌স্বাধীনতা হত্যার’ শামিল বলে বর্ণনা করেন। এমন মন্তব্যও করেন, পেঙ্গুইন ‘বিক্রি হয়ে গেছে’।

    লোকসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ বলেন, ওরা আরএসএসের ওপর লেখা একগাদা বই প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথন প্রকাশ থেকে সরে আসছে। বিজেপির অনেকে ভয় পাচ্ছেন বলেই তাঁরা ভারতে এই বই প্রকাশ ঠেকাতে চাইছেন।

    রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত এক্স হ্যান্ডলে বলেন, পেঙ্গুইনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছিল মোদি আমলে চীনা ফৌজের ভারতীয় ভূখণ্ড দখল, মোদির নেতৃত্ব ও আরএসএসের সর্বস্তরীয় প্রভাব–সম্পর্কিত অংশ বাদ দেওয়ার জন্য। মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ লেখেন, সোনিয়া গান্ধীর মতো এক বর্ষীয়ান নেত্রী কী লিখবেন, কী লিখবেন না—তা কি প্রকাশক ঠিক করে দেবে? তাঁর সন্দেহ, এর পেছনে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। যুব কংগ্রেসের অভিযোগ, পেঙ্গুইন বিক্রি হয়ে গেছে।

    আগামী ১৯ নভেম্বর সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশ হওয়ার কথা। প্রাথমিক হিসেবে এক লাখ কপি ছাপার কথা ছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতে এই বইয়ের সুলভ সংস্করণ কে প্রকাশ করবে, কেউ আদৌ সাহস পাবে কি না, সেই সংশয় দেখা দিয়েছে।

    সরকার বা বিজেপি এখনো এই বিতর্ক নিয়ে নীরব। ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’–এর ভাগ্য ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুল নরবনের আত্মজীবনী ‘ফোর স্টার্স অব ডেস্টিনি’র মতো হবে কি না (বইটি ভারতে প্রকাশিত হয়নি), কিংবা বইটি ভারতে নিষিদ্ধ করা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

  • সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও চিত্রনায়ক রুবেল দুই ভাই। বড় ভাইয়ের প্রতি রুবেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা অনেকবারই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার প্রায় ৪০ বছর আগের একটি ইচ্ছের কথা মনে রেখে সোহেল রানাকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন রুবেল। সেই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে গেছেন সোহেল রানা।

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রায় চার দশক আগের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য একসময় তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুল ইসলাম খোকন ও ছোট ভাই রুবেল।

    সোহেল রানা লেখেন, “প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। চিকিৎসার জন্য আমাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কিছু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক বললেন, “তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ।” মনের আনন্দে হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে উঠলাম। বিকেলে বেরিয়ে গেলাম।”

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    অভিনেতা জানান, দামি ঘড়ি কেনার প্রতি তার বরাবরই আগ্রহ ছিল। তখন তার হাতে রাডোর একটি ঘড়ি ছিল। সেটি অত্যন্ত টেকসই হওয়া সত্ত্বেও নতুন একটি দামি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল তার।

    সোহেল রানা বলেন, ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো হাতে ছিল, যার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম। সঙ্গে রুবেল এবং খোকন।’

    দোকানের বিশাল শোরুমে সবচেয়ে দামি একটি ঘড়ি তার সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু দাম শুনে চমকে যান সোহেল রানা। তার কাছে তখন সেই ঘড়ি কেনার মতো অর্থ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঘড়িটি না কিনেই ফিরতে হয় তাঁকে। তবে ঘড়িটির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা রুবেলের চোখ এড়ায়নি।

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    প্রায় ৪০ বছর পর সেই পুরোনো স্মৃতিই আবার ফিরিয়ে আনলেন রুবেল। সেই একই ঘড়ি না হলেও রুবেল যে ঘড়িটি উপহার দিয়েছেন, সেটিও অত্যন্ত দামি।

    সোহেল রানা লেখেছেন, “গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল বলল, ‘যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলবো না।”

    তিনি লেখেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো।’

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    রুবেল ঘড়িটি পরিয়ে দিয়ে তাকে সব সময় সেটি পরে থাকার কথাও বলেন। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত। আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’

    প্রায় চার দশক আগের একটি ছোট্ট ইচ্ছেকে মনে রেখে ছোট ভাইয়ের এমন উপহার যে সোহেল রানার কাছে শুধু দামি ঘড়ি নয়, বরং ভালোবাসার স্মারক—তাঁর আবেগঘন লেখাতেই সেটি স্পষ্ট।

  • কনসার্ট নিয়ে স্পেনে ফিরছেন শাকিরা, হচ্ছে ‘শাকিরা স্টেডিয়াম’!

    কনসার্ট নিয়ে স্পেনে ফিরছেন শাকিরা, হচ্ছে ‘শাকিরা স্টেডিয়াম’!

    দীর্ঘ আট বছর পর কনসার্ট নিয়ে স্পেনে ফিরছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। তবে এবার শুধু একটি-দুটি নয়, কলম্বিয়ান পপ তারকার প্রত্যাবর্তনে থাকছে ১২টি কনসার্ট! আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত মাদ্রিদে এসব কনসার্টে মঞ্চ কাঁপাবেন শাকিরা। এ উপলক্ষে স্পেপেনর রাজধানী মাদ্রিদের ইবেরদ্রোলা মিউজিক এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে ‘শাকিরা স্টেডিয়াম’।

    স্টেডিয়ামের নকশা করেছে বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান বিজর্কে ইঙ্গেলস গ্রুপ। স্টেডিয়াম এবং আয়োজন প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিরা বলেছেন, ‘ওহ আমার ঈশ্বর, এই স্টেডিয়ামটি দেখতে অসাধারণ! মাদ্রিদে ইউরোপিয়ান আবাসিক কনসার্টে আপনাদের দেখতে আমার তর সইছে না!’

    এটি শাকিরার ‘লাস মুজেরেস ইয়া নো ইয়োরান’ বিশ্ব সফরের অংশ। ইউরোপিয়ান আবাসিক কনসার্ট। স্পেনে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের জন্য এ ধরনের কনসার্ট প্রথমবার হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মাদ্রিদের সরকারি পর্যটন বিভাগ। বিশাল এই সঙ্গীতযজ্ঞের আয়োজক ‘লাইভ নেশন এস্পানিয়া’। শাকিরা মঞ্চে উঠবেন ১৮, ১৯, ২০, ২৫, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ২, ৩, ৪, ৯, ১০ ও ১১ অক্টোবর। আয়োজক সংস্থা এই সূচি প্রকাশ করেছে।

    অবশ্য উৎসব কেবল কনসার্টেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। শাকিরাকে ঘিরে ইবেরদ্রোলা মিউজিক এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে একটি সাময়িক বিনোদন ও সাংস্কৃতিক পরিসর। প্রতি রাতে গড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতির আশা করছেন আয়োজকরা। ১২টি শোতে প্রায় ছয় লাখেরও বেশি দর্শকের সমাগম হতে পারে। টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ। কার্যত টিকিট হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে টিকিটের ন্যূনতম মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টাকা। সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

    আয়োজনের বাড়তি আকর্ষণ ‘ম্যাকন্ডো পার্ক’। কলম্বিয়ান লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের বিখ্যাত উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গতার ১০০ বছর’-এর কাল্পনিক শহর ম্যাকন্ডো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে পার্কটি। যেখানে কেবল নাচ-গান নয়, শিল্প-সাহিত্য, খাবার, পোশাক এবং শিশুদের বিনোদনসহ নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেখানে তুলে ধরা হবে ল্যাটিন আমেরিকান সংস্কৃতির নানা দিক। যার কেতাবি নাম ‘এস ল্যাটিনা’। এতে করে দর্শকেরা নিছক শাকিরার কনসার্ট নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছেন।

    অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহের জন্য মাদ্রিদের ইবেরদ্রোলা মিউজিক এলাকা শুধু শাকিরার গানের মঞ্চই নয়, সংগীত, লাতিন সংস্কৃতি, খাবার, শিল্প ও বিনোদনের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে। বিশাল এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন শাকিরা—স্পেনে তার বহল প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে।

    শাকিরার মাদ্রিদ প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্পেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ব্যক্তিগত জীবনের গল্পও। বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের সঙ্গে সম্পর্কের সময় দীর্ঘদিন বার্সেলোনায় বসবাস করেছেন শাকিরা। কলম্বিয়ান পপ তারকার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় কেটেছে এই স্পেনেই। দেশটি তার ঘরের মতোই। কিন্তু ২০২৩ সালে পিকে এবং শাকিরার পথ আলাদা হয়ে যায়। পরে সন্তানদের নিয়ে শাকিরা চলে যান যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে। অবশেষে বহু বছর পর আবারও কনসার্ট নিয়ে স্পেনে ফিরছেন তিনি। তবে এবার বার্সেলোনা নয়, শাকিরার গন্তব্য স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ।

    ইবেরদ্রোলা এলাকায় আগের বড় অনুষ্ঠানগুলোতে শব্দ ও যানজট নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল। এবার সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তা বিবেচনা করছেন আয়োজকরা। কনসার্টে বিশেষ শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অ্যাকোস্টিক স্ক্রিন এবং দর্শকদের ধাপে ধাপে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময়রাত ৮-১১টা পর্যন্ত কনসার্ট করার পরিকল্পনা থাকলেও দর্শকেরা রাত ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে থাকতে পারবেন। বিশাল এই আয়োজনে প্রায় অর্ধ লাখ দর্শকের প্রতিটি রাত নির্বিঘ্নে শেষ করাটা আয়োজকদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ বটে।

    তথ্য সূত্র: লাইভ নেশন এস্পানিয়া, মাদ্রিদ পর্যটন বিভাগ ও ইবেরদ্রোলা মিউজিক

  • ‘পিংক বাস’ নিয়ে যা বললেন পিয়া জান্নাতুল

    ‘পিংক বাস’ নিয়ে যা বললেন পিয়া জান্নাতুল

    আকাশি রঙের শাড়ি আর কালো কোট পরে পিংক বাসে চড়ে বসেন মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। তবে কোনো শুটিংয়ের জন্য নয়, সাধারণ নারী যাত্রীদের মতোই উপভোগ করলেন বিআরটিসির নতুন এই সেবা।

    রাজধানীতে নারীদের যাতায়াত সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সম্প্রতি চালু হয়েছে বিআরটিসির বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ বা ‘পিংক বাস’। নারীদের জন্য তৈরি এই বিশেষ বাসটিতে যাত্রার পর নিজের যে অভিজ্ঞতা পেলেন, তা এবার ভক্তদের মাঝে ভাগ করে নিলেন তিনি।

    নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন পিয়া জান্নাতুল। বাসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পিয়া জান্নাতুল বলেন, ‘একটা বাসযাত্রা, কিন্তু অনুভূতিটা ছিল একটু অন্যরকম। নিরাপত্তা, স্বস্তি আর আত্মবিশ্বাস—পিংক বাসে উঠে একজন নারী হিসেবে ঠিক এটাই অনুভব করেছি।’

    অভিজ্ঞতা জানিয়ে পিয়া আরও জানান, পিংক বাসটি যখন রাস্তায় চলে, তখন সাধারণ মানুষ বেশ কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকে। এতে চড়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘সেলিব্রিটি বাসে’ ঘোরার মতো অনুভূতি বলে মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হবে এবং নারীরা আরও এগিয়ে যাবেন।

    ২৮ আগস্ট ২০২৬ বাসযাত্রার একপর্যায়ে বাসের নারী চালকের সঙ্গে কথা বলেন পিয়া। কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে চালক জানান, তিনি ছয় বছর ধরে গাড়ি চালানো শিখেছেন এবং আড়াই বছর ধরে বিআরটিসিতে চাকরি করছেন। পরিবার থেকেও পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানান এই নারী চালক।

    পিয়া জান্নাতুলের এই ভিডিও বেশ সাড়া পায় সামাজিক মাধ্যমে। আইন পেশার পাশাপাশি ফ্যাশন ও বিনোদন অঙ্গনে দীর্ঘ দিন ধরে পরিচিত মুখ হিসেবে কাজ করছেন পিয়া জান্নাতুল।

    গত ১৮ আগস্ট তেজগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর থেকে ‘পিংক বাস’ সেবাটি ঢাকার ১০টি রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। নারী যাত্রীদের সুবিধার্থে এতে ই-টিকিটিং, জিপিএস ট্র্যাকিং ও সিসি ক্যামেরা সুবিধা রাখা হয়েছে।

  • নিরাপদে আছেন অপু

    নিরাপদে আছেন অপু

    নেপালে আকস্মিক ভূমিধস

    নতুন সিনেমার শুটিং করতে নেপাল গিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বুধবার নেপালে আকস্মিক বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দেড় শতাধিকে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। নেপালে আটকা পড়েছেন অপু বিশ্বাস। তবে তিনি নিরাপদে আছেন।

    সবকিছু ঠিক থাকলে আজ দেশে ফিরবেন।

    অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পোখারাতে আছি, যেখানে আছি নিরাপদে। তবে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার হাইওয়ে রাস্তায় ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানতে পেরেছি, এই রাস্তা ঠিক হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) কাঠমান্ডু যাব। ফ্লাইটে অনেক চাপ চলছে। কাঠমান্ডু থেকে আগামীকাল (আজ) ফ্লাইটে ঢাকা ফিরব।’ নেপালে নিজের পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জন্য চিন্তা করবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারি।’

    এর আগে নেপালে শুটিংয়ের সময় নিজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের নজর কেড়েছিলেন অপু। তার পোস্ট করা ছবিতে নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনেত্রীর শুটিংয়ের নানা মুহূর্তও উঠে এসেছে। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ। এতে আরও অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।

  • ইলিয়াস কাঞ্চনের ভূয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ

    ইলিয়াস কাঞ্চনের ভূয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই তারকাদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। এবার সেই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন কিংবদন্তী চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন।

    তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা মৃত্যুসংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মীরা।

    নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন সুস্থ ও ভালো আছেন। অথচ তার মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর একটি খবর কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সংগঠনের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    নিসচার নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জীবিত মানুষকে কীভাবে যাচাই ছাড়া মৃত ঘোষণা করে সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব? তাদের মতে, এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়; একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী এবং তার প্রতি ভালোবাসা থাকা অসংখ্য মানুষের অনুভূতির প্রতিও নির্মম আঘাত।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে কারও মৃত্যু, দুর্ঘটনা কিংবা গুরুতর অসুস্থতার মতো স্পর্শকাতর বিষয় প্রকাশের আগে পরিবার, নিকটজন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু ইলিয়াস কাঞ্চনের ক্ষেত্রে সেই ন্যূনতম যাচাইয়েরও অনুপস্থিতি দেখা গেছে।

    নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘সবার আগে সংবাদ’ দেওয়ার প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। তার মতে, দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চেয়ে সেটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৃত্যু বা অসুস্থতার মতো বিষয়ে অনুমাননির্ভর কিংবা যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা নন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসা একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার সঙ্গে অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

    নিসচার নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পরে ভুল স্বীকার করলেই এমন সংবাদের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক কষ্ট বা আতঙ্কের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়তে অল্প সময় লাগলেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বহু মানুষের ওপর।ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ঘটনায় নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মী তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুসংবাদ প্রচারকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। একইভাবে যাচাই ছাড়া এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকেও তাঁরা অনৈতিক ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন।নিসচার পক্ষ থেকে দেশবাসী ও ইলিয়াস কাঞ্চনের শুভানুধ্যায়ীদের আহ্বান জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো মৃত্যুসংবাদ দেখেই তা বিশ্বাস বা শেয়ার না করতে। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সত্যতা নিশ্চিত করার পরই কোনো তথ্য প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিংয়ের কাজে বেশ কিছু দিন ধরে নেপালে ছিলেন। কাজের ফাঁকে ঘুরেছেন বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানেও। সেসব স্থানের তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নানা মুহূর্ত শেয়ার করে নেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) মধ্যরাতে অভিনেত্রী লাল রঙের একটি পোশাকে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচটি ছবি প্রকাশ করেছেন অপু বিশ্বাস। রূপের পাশাপাশি তার পোশাকেও নান্দনিকতার ছাপ।

    এদিন নিজেকে ধরা দেন অভিনেত্রী। সেই রাতে হাস্যোজ্জ্বল ও ভিন্ন পোজে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা যায় অপু বিশ্বাসকে। রাতের আবহের সেই ছবিগুলো পোস্টের পর ক্যাপশনে অপু বিশ্বাস লিখেছেন— ‘শান্ত রাত, সুন্দর স্বপ্ন। শুভরাত্রি!’। অর্থাৎ তার এ নৈশবার্তায় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নির্মল প্রশান্তি ও সুন্দর স্বপ্নের শুভকামনা জানান এই ঢালিউড কুইন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পোস্টটি শেয়ার করার পরপরই তা নেটিজেনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের নজর কাড়ে। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের বন্যায় ভেসে যান অপু। তবে অপুর এ রহস্যময় পোস্টে মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের ভালোবাসা ও প্রশংসার পাশাপাশি দেখা যায় নানা রসাত্মক ও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্যও, যা অপ্রত্যাশিত বলেও মনে করেন অভিনেত্রী।

  • দুই সন্তানসহ ৮ বছর লিভ-ইন, এবার বিয়ে করলেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা

    দুই সন্তানসহ ৮ বছর লিভ-ইন, এবার বিয়ে করলেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা

    দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক, দুই সন্তান ও লিভ-ইন জীবনের পর অবশেষে বিয়ে করলেন বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল ও মডেল-ডিজাইনার গ্যাব্রিয়েলা ডেমেট্রিয়াডেস। শুক্রবার (২১ আগস্ট) গোয়ায় ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এই তারকা জুটি।

    ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছাড়াই অত্যন্ত সাদামাটাভাবেই রেজিস্ট্রির আনুষ্ঠানিকতা সারেন তারা। গোয়ার ইউনিফর্ম সিভিল কোডের অধীনে তাদের এই আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

    জানা যায়, সাবেক স্ত্রী মেহের জেসিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সাল থেকে গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন অর্জুন। ২০১৯ সালে তাদের প্রথম সন্তান অ্যারিকের জন্ম হয়। এর চার বছর পর ২০২৩ সালে আসে দ্বিতীয় সন্তান আরিভ।

    দীর্ঘদিনের সম্পর্ক হলেও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে তাড়াহুড়া ছিল না এই জুটির। এক পডকাস্টে অর্জুন বলেছিলেন, বিয়ে তার কাছে মূলত একটি কাগজের বিষয়; তারা মানসিকভাবে নিজেদের বিবাহিত মনে করেন। তার ভাষায়, ভালোবাসাকে কোনো কাগজ দিয়ে মাপা যায় না।

    ২০২৫ সালে গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে বাগদানের ঘোষণা দেন অর্জুন। অবশেষে তার এক বছর পর সেই সম্পর্ক পেল আইনি স্বীকৃতি। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার সম্পর্ককে এবার কাগজে-কলমেও স্থায়ী রূপ দেওয়ায় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা।

    সূত্র: পিটিআই

  • নিজের স্বপ্নের পথে পূজা চেরি: ‘অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি’

    নিজের স্বপ্নের পথে পূজা চেরি: ‘অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি’

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। অভিনয়ের দক্ষতা এবং সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং চিন্তাধারা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করে পূজা চেরি এক গভীর অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

    নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, নিজের অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি, যার কল্পনা আমি একসময় করতাম।

    ছবিটিতে পূজা চেরিকে বেশ চমৎকার একটি লুকে দেখা গেছে। তিনি একটি সাদা রঙের শার্ট এবং নীল রঙের জিন্স পরে আছেন। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং আঙুলে রিং রয়েছে। তার চোখে রয়েছে স্টাইলিশ রোদচশমা (সানগ্লাস)। তিনি হাত দিয়ে একটি মিষ্টি ‘ফিঙ্গার হার্ট’ পোজ তৈরি করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।

    তার এই ছবি দেখে ভক্তরা ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই তার এই পরিণত চিন্তাধারা এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা থাকলেও, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা পূজার ভক্তদের জন্য সবসময়ই এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

    শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা শুরু করা পূজা চেরি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘পোড়ামন ২’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর থেকে ‘দহন’ সহ বিভিন্ন ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড়পর্দা কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পূজার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

  • আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    ছোটপর্দার ব্যস্ততা, ওটিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত— সব মিলিয়ে অভিনয় জীবনে নানা ব্যস্ততার মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তবে এবার বড় পর্দাকে ঘিরেও নতুন করে ভাবছেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ বিরতির পর সিনেমায় নিয়মিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ৪টি সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে।

    অপূর্বর চলচ্চিত্রযাত্রা অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০১৫ সালে ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ দিয়ে সিনেমায় অভিষেকের পর বড় পর্দা থেকে প্রায় এক দশক দূরে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে টালিউডের ‘চালচিত্র’ দিয়ে আবারও সিনেমায় ফেরেন। এবার সেই বিরতি আর দীর্ঘ করতে চান না। যদিও আলোচনায় থাকা চার সিনেমার কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    এ বিষয়ে অপূর্বের অবস্থানও বেশ সতর্ক। তিনি বলেন, ‘এখনো আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। শুধু এতটুকু বলতে পারি, একসঙ্গে ৪টি সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, শুটিং শুরু হওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আর হয় না। এ কারণে আগে থেকে বলতে চাই না। কোনো কারণে পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি না হলে দর্শকের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। যখন বুঝতে পারব আসলেই হচ্ছে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানাব।’

    এদিকে দেশে ফিরেই নাটকের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অপূর্ব। বর্তমানে মাসরিকুল আলমের পরিচালনায় একটি নাটকের শুটিং করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী শার্লিন ফারজানা। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই জুটিকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে ছোট পর্দায়।

    একটি নাটকের কাজ শেষ করেই থামছেন না অপূর্ব। পরপর আরও ৭টি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। এসব নাটকের নির্মাতা হিসেবে থাকছেন জাকারিয়া সৌখিন, সৈয়দ শাকিল, মুরসালিন শুভ, মাহমুদুর রহমান হিমি ও রুবেল হাসান। এই ব্যস্ততা শেষ করে ফের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। বছরের শেষ দিকে দেশে ফিরে ঈদের ওটিটি কনটেন্ট ও টেলিভিশন নাটকের কাজে যুক্ত হবেন তিনি।

    অভিনয়ের বাইরে গান নিয়েও সম্প্রতি দর্শকদের সামনে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন অপূর্ব। ৮ আগস্ট নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘অপূর্ব মিউজিক্যাল নাইট’-এ প্রায় দুই ঘণ্টা দর্শকদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। গান পরিবেশনের পাশাপাশি গল্পের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি জমিয়ে তোলেন এই অভিনেতা।

    নিউইয়র্কের ওই আয়োজনের সাফল্য এবার নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি শহর থেকে কনসার্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন অপূর্ব। তবে একসঙ্গে সব প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা নেই তার। সময় নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই পরবর্তী কনসার্টগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।

    ফলে সামনে অপূর্বর ব্যস্ততা শুধু নাটককেন্দ্রিক থাকছে না। সিনেমায় নতুন কাজ, ওটিটি, টেলিভিশন এবং কনসার্ট—সব মাধ্যমেই নিজের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছেন এই অভিনেতা।

  • হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অপেক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘জলপবন’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা রাজন তালুকদার। আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ থেকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় শুরু হয়েছে দৃশ্যধারণ।

    এতে ‘নিরালা’ নামে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে রুনা খানকে।

    চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে রুনা খান সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‌‘জলপবন’ মূলত অপেক্ষার গল্প। এতে তিনি অভিনয় করছেন ‌নিরালা চরিত্রে। হাওর এলাকার মানুষের জীবনের গল্প উঠে আসবে এ চলচ্চিত্রে। দর্শকরা একটি ভালো মানের ছবি উপহার পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

    চলচ্চিত্রটিতে রুনা খানের পাশাপাশি প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রাচ্যনাটের সদস্য সুশান্ত পৃথ্বীরাজ ও জাবির নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষার্থী সামিউল হক। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও যুক্ত হয়েছেন সিনেমাটিতে, তাদের অনেকেই থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত।

    জানা যায়, রুনা খান অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘লীলা মন্থন’ ও মাসুদ পথিকের ‘বক’ অন্যতম।

    উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে জনপ্রিয় শিশুতোষ ধারাবাহিক সিসিমপুর-এ ‘সুমনা’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রুনা খান অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন। বর্তমানে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোটপর্দায়ও সফলভাবে কাজ করে চলেছেন। ২০১৭ সালে ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি।

  • আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন তার সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগেছেন। এমনকি আতঙ্কের সময় শরীর কাঁপা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খাওয়ার পর বমি, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাকে। একপর্যায়ে চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।

    সম্প্রতি ‘আই অ্যাম উইথ ধন্যা ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনুপমা এসব কথা বলেন। তার ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কে মানসিক চাপ ধীরে ধীরে তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

    অনুপমা বলেন, আগে কখনো এমন সমস্যার মুখোমুখি হননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি সুখী শিশু ছিলাম। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতাম। এর আগে এমন কিছুই ঘটেনি।’

    আতঙ্কে কাঁপত শরীর
    অনুপমার দাবি, ওই সময়ে নিয়মিত প্যানিক অ্যাটাক ও তীব্র উদ্বেগে আক্রান্ত হতেন তিনি। তখন নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণও থাকত না।

    তিনি বলেন, ‘হঠাৎ আমাদের পা কাঁপতে শুরু করত, হাত কাঁপত, এমনকি আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারতাম না।’ এ সময় কয়েকবার জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

    মানসিক চাপের প্রভাব পড়েছিল তার খাওয়ার অভ্যাসেও। সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অনেক কিছু তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। অনুপমা বলেন, কিছু খাওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কথা বা ঘটনা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুললে তিনি বমি করে ফেলতেন।

    ওজন কমে যাচ্ছিল, শুটিংয়েও সমস্যা
    অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে তার ওজনও দ্রুত কমে যাচ্ছিল। আশপাশের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারলেও তখন নিজের ভেতরের পরিস্থিতি কাউকে বোঝাতে পারছিলেন না বলে জানান অনুপমা।

    শুটিংয়ের সময়ও এর প্রভাব পড়েছিল। তার ডান চোখ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপত। এতে কখনো কখনো শুটিং বন্ধ করে দিতে হতো।

    অনুপমা বলেন, ‘আমার ডান চোখে সমস্যা শুরু হতো। চোখ এমনভাবে কাঁপত যে শুটিং বন্ধ করতে হতো। এটা থামানোর কোনো উপায় ছিল না।’

    দীর্ঘক্ষণ কান্না, শেষে অস্ত্রোপচার
    অনুপমার ভাষ্য, ওই সময় তিনি প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন। এর প্রভাব পড়ে তার চোখের অশ্রুগ্রন্থিতে। একপর্যায়ে অশ্রুগ্রন্থিটি স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ফুলে যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এরপর সকালে উঠে শুটিংয়ে যেতে হতো। হঠাৎ আমার অশ্রুগ্রন্থি নিচের দিকে নেমে আসে। সেটি ফুলে গিয়েছিল। আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।’

    ‘পর্দা’ সিনেমার প্রচারের সময় তার চোখের এক পাশ ফুলে থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনুপমা। তিনি জানান, অশ্রুগ্রন্থিটি পুরোপুরি নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচার করে সেটিকে আবার সেলাই করে ঠিক জায়গায় বসাতে হয়।

    অনুপমা আরও বলেন, ওই সম্পর্কের প্রভাব শুধু চোখের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার শরীর ও মনে এমন কিছু ক্ষত তৈরি হয়েছে, যেগুলো হয়তো কখনো পুরোপুরি সেরে উঠবে না।

    ‘নার্সিসিস্টিক নির্যাতন’ বলছেন অনুপমা
    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টেও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা নার্সিসিস্টিক নির্যাতন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন অনুপমা।

    তার দাবি, সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে তাকে এমনভাবে আবেগগতভাবে জড়িয়ে ফেলা হতো যে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে হতো। পরে আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসত এবং সম্পর্কটি হয়ে উঠত অত্যন্ত কঠিন।

    অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আবার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, কান্নাকাটি ও আর এমন হবে না-এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এরপর আবার আগের মতোই ভালোবাসা ও নির্যাতনের চক্র চলত।

    সাবেক সঙ্গী কে, জানাননি
    অনুপমা তার বক্তব্যে সাবেক সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তার সঙ্গে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সম্পর্ক নিয়ে আগে গুঞ্জন ছিল। ২০২৫ সালে মারি সেলভারাজের বাইসন কালামাদান ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়ে।

    তবে অনুপমা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধ্রুব বিক্রমের নাম উল্লেখ করেননি। ধ্রুবও এমন কোনো সম্পর্ক বা অনুপমার অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত বা মন্তব্য করেননি। সূত্র: এনডিটিভি

  • সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    অমর নায়ক সালমান শাহর জীবনী নয়, তাঁর মৃত্যুরহস্যও নয়। বরং নব্বইয়ের দশকে এই নায়ককে ঘিরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনা, আবেগ আর ভক্তদের পাগলামির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘লাভ ৯৬’। তরুণ নির্মাতা ইভান মল্লিক পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    নির্মাতা জানান, সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দুদিন আগে মুক্তি দেওয়া হবে সিনেমাটি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান জনপ্রিয় এই নায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর ভক্তদের মধ্যে যে গভীর শোক ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, সেই সময়কেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ‘লাভ ৯৬’-এ।

    গত ১০ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি। নির্মাতা ইভান মল্লিক বলেন, ‘সিনেমাটি যেহেতু সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।’

    সিনেমটির গল্পে উঠে এসেছে নব্বইয়ের দশকের সেই চেনা সময়। ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা দেখা, ভিউকার্ড সংগ্রহ, ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনা কিংবা রেডিওতে পছন্দের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা—সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া এসব স্মৃতির আবহেই এগিয়েছে গল্প।

    সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে সালমান শাহর। অভিনয়, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও রোমান্টিক উপস্থিতিতে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় নায়ক। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। প্রিয় নায়ককে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন।

    সেই সময়ের আবেগ, সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা এবং এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’।

    রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।

    ইভান মল্লিক বলেন, ‘অডিশনের মাধ্যমে একেবারে নতুন দুজনকে নির্বাচন করেছি। অডিশনের ক্ষেত্রে পরিচালক সমিতিও সহযোগিতা করেছে। “লাভ ৯৬” পুরোপুরি রোমান্টিক ও অ্যাকশনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা। দর্শকরা টানটান উত্তেজনা পাবেন। আমি মনে করি, এই চলচ্চিত্রটি দেখলে প্রত্যেক সালমান শাহ ভক্তই নিজের কোনো না কোনো অনুভূতিকে খুঁজে পাবেন।’

  • ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    নিজের গান রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করায় আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দে। এবার তাঁর ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইয়োর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি গ্রান্দে।

    বৃহস্পতিবার ‘টিম ট্রাম্প’–এর টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি মঞ্চের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা বিতর্কিত হওয়ার কথা নয়!’ সঙ্গে ব্যবহার করা হয় ট্রাম্প, আরিয়ানা গ্রান্দে ও ‘মাগা’–সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগ।

    পোস্টটিতে গ্রান্দের গান ব্যবহার করা হয়েছে দেখে তিনি সরাসরি মন্তব্যের ঘরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনাদের সত্য মিথ্যা।’

    দুই মাসে দ্বিতীয়বার
    ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্রান্দের এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাঁর গান রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত হলো, আর প্রতিবারই তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    জুনে হোয়াইট হাউস গ্রান্দের আরেকটি গান ‘বাই’–এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিল টিকটক ভিডিওতে। সেই ভিডিওতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়।

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

    সেবারও গ্রান্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার গান কখনোই ব্যবহার করবেন না।’ এরপর তাঁর দলের উদ্যোগে ওই পোস্ট থেকে গানটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
    তবে এবার ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’কে ঘিরে তৈরি পোস্ট থেকে এখনো গানটি সরানো হয়নি।

    শিল্পীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন
    গ্রান্দে একা নন। ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শিল্পীদের গান ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    টেইলর সুইফট ও ব্যাড বানির গানও ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নোয়া কাহান জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় আপত্তি জানান। হোয়াইট হাউস তাঁর ‘আমেরিকান কারস’ গানটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যবহার করার পর কাহান লিখেছিলেন, তাঁর গান ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সমর্থনে ব্যবহারের কোনো অনুমতি তিনি কখনোই দেবেন না।

    এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শিল্পীর গান রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। গ্রান্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    গ্রান্দের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট
    আরিয়ানা গ্রান্দে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এবারও তিনি দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে মাত্র কয়েকটি বাক্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন—তাঁর গান যেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত না করা হয়।

    বিশেষ করে ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’ গানটি মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আবেগের জটিলতা নিয়ে লেখা। সেই গানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে ব্যবহার করায় গ্রান্দের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যারাইটি, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

  • চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী রূপা দত্ত। এবার মুম্বাইয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের সামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিন পেয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিনেত্রীকে জামিন দিয়েছেন।

    মুম্বাই পুলিশের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই ডিম্পল সিঙ্ঘভি নামে এক নারী কোলাবা থানায় চুরির অভিযোগ করেন। তার দাবি, বাবুলনাথ মন্দির থেকে কোলাবার ব্যস্ত এলাকায় যাওয়ার সময় তার পার্স চুরি হয়ে যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সে ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের হিরা বসানো স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১০ হাজার টাকা নগদ, ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপল এয়ারপডস এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি।

    অভিযোগ পাওয়ার পর কোলাবা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দাবি করে, রূপা দত্তকে অভিযোগকারীর পিছু নিতে দেখা যায়। পরে ৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আর এস ভোঁসলের আদালত ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে রূপা দত্তকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে মামলার প্রমাণ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না।

    তবে রূপা দত্তের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতির শিকার।

    এর আগে ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে রূপা দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

    বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রূপা দত্ত। জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘সাথী’তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

  • ভালোবাসার গল্পে ইয়াশ-নীহা

    ভালোবাসার গল্পে ইয়াশ-নীহা

    ‘নিয়তি’, ‘উইশ কার্ড’, ‘জনম জনম’ ও ‘অবুঝ পাখি’ নাটকে জুটি বেঁধে দর্শকের নজর কেড়েছেন ইয়াশ রোহান ও নাজনীন নীহা। এরই ধারাবাহিকতায় ভালোবাসার গল্প ‘মনের মতো মন’ নাটকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে জনপ্রিয় এই জুটিকে। নাটকটি নির্মাণ করছেন ইমরাউল রাফাত। কাহিনির পাশাপাশি চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি।

    নাটক প্রসঙ্গে নাজনীন নীহা বলেন, ‘কিছু গল্প দর্শকের মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। এমন গল্পের শুরু থেকেই দর্শকের মনে শেষ পরিণতি জানার আগ্রহ তৈরি হয়। “মনের মতো মন” তেমনই একটি ভালোবাসার গল্প, যা দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আশাবাদী।’

    ইয়াশ-নীহা জুটির পাশাপাশি নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা হিমু, আজিজুল হাকিম, চিত্রলেখা গুহ, সাবেরী আলম, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, কচি খন্দকার, নওশীন দিশা, গোলাম দস্তগীর সান, জয় শাহরিয়ার বাপ্পি প্রমুখ।

    খুব শিগগির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।

  • সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    ঢালিউডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সিনেমায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তার মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের মান ধরে রাখতে হলে কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন চলচ্চিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে দেশীয় সিনেমার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও কারিগরি টিমের কাজের প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।

    অপু বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা টেকনিশিয়ান বা কারিগরি পারসন আছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। নাহলে আমরা বা আমাদের আগের-পরের শিল্পীরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। তাই সময়ের চাহিদা মেনে নিজেদের গড়ে তোলা ও আপডেট হওয়াটাও খুব জরুরি।’

    কাজের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত পরিকল্পনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যেসব টিম কাজ করছে, তারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রফেশনাল। প্রফেশনালিজম বলতে আমি এটাই বোঝাতে চাই যে কাজটাই করা হোক না কেন, সেখানে ডেডিকেশন থাকবে ১০০ পারসেন্ট, কোনো ছাড় থাকবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আগে অনেক সময় দেখা যেত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে লোকেশন বা অন্যান্য বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হতো। কিন্তু এখনকার নতুন টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনে কোনো আপস করে না। তাদের এই অদম্য মনোযোগই প্রমাণ করে তারা কতটা পেশাদার। সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে এই মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি দরকার।’

    তার কথায়, ‘স্বদেশি টিমের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সবসময়ই স্পেশাল। এখানে কাজের পাশাপাশি একটা আন্তরিকতা থাকে। আর একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে কাজের ভালো-মন্দ কিছুটা মূল্যায়ন করার জাজমেন্ট করার ক্ষমতা আমার তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই বলছি, আমাদের চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের এই নতুন ধারাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

  • আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    একাধিকবার নির্দেশ দেওয়ার পরও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি আদালত। আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস এই পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কৃষ্ণনগরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মহুয়া মৈত্র আদালতে যাবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মহিলা ডিম হাতে আদালত চত্বরে জড়ো হন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই মহুয়া মৈত্র একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই মহিলাদের বোরখা পরার পরামর্শ দেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।

    এই ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী দাবি করেন, ‘সাংসদ তার ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে একটি ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যা উভয় ধর্মের জন্যই অবমাননাকর।’

    মৈত্রের আইনজীবী বিচারকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে আদালত চত্বরের বাইরে তিনি হেনস্তার শিকার হতে পারেন।

    পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৈত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৯ ধারা (নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা), ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া), ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা), ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য)-এর অধীনে করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের আগস্টে নদীয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলার সময় মৈত্রের করা এক মন্তব্যের জেরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

  • ৮ বছর আগেই ভেঙেছে মীমের সংসার

    ৮ বছর আগেই ভেঙেছে মীমের সংসার

    নব্বই দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে পা রাখেন সাবরিন সাকা মীম। পরবর্তীতে প্রতিভা দিয়ে জায়গা করেন নাট্যাঙ্গনেও। ব্যক্তিজীবনে প্রায় ১৪ বছর আগে ডা. শাহরিয়ার আহমেদ সজিবের সঙ্গে ঘর বাঁধেন মীম। কিন্তু সেই সংসার ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সংসার ভাঙার ৮ বছর পর বিবাহবিচ্ছেদের আদ্যোপান্ত জানালেন তিনি।

    সংগীতশিল্পী পুতুলের পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মীম বলেন, ‘একটা বয়সের পর মেয়েদের মনে হয়, বিয়ে যেহেতু করতেই হবে, তাহলে এভাবে বিয়ে করব, এরকম অনুষ্ঠান করব, এভাবে সাজব। আমার মনে হয়, যারা বিয়ে নিয়ে একবার হলেও ভেবেছেন, তাদের মনেই এমন ছোট ছোট স্বপ্ন বাসা বেঁধেছে। আমিও আমার বোনকে বিয়ে নিয়ে স্বপ্নের কথা বলতাম। পরে বিয়ের সময়ে আমার আম্মুকে দিয়ে আমার বোন সব আয়োজন করিয়েছিলেন।’

    বলা দরকার, ২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে বেশ ধুমধাম করে বিয়ে করেন মীম। বিয়ের পর অভিনয় থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেন। কারণ মীমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাইতো না তিনি শোবিজের সঙ্গে যুক্ত থাকুক।

    সংসার ভাঙার পেছনে কী এটাই কারণ? এ প্রশ্নের জবাবে মীম বলেন, ‘আপনি হয়তো গান পছন্দ করেন, আরেকজনের গান নাই পছন্দ হতে পারে। আমি অভিনয় পছন্দ করি, একটা মানুষের অভিনয় নাও ভালো লাগতে পারে। এসব কোনো বিষয় না। এছাড়াও আরও অনেক ইস্যু ছিল, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আরো খারাপের দিকে যাচ্ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দেব না। হয়তো আমিও দোষী, হয়তো সেও (বর) দোষী, যার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমিও যখন বুঝতে পারলাম- না, এটা আসলে হচ্ছে না। আমি সাড়ে ৫ বছর অপেক্ষা করেছি। কারণ, কখনো যেন মনে না হয় সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করিনি। ২০১৮ সালের ৭ জুন, বিচ্ছেদের পেপারে সাইন করি।’

    মীম বলেন, ‘আসলে মানুষের জীবন তো মানুষের হাতে লেখা না, এটা আমি বিশ্বাস করি। আমি বিয়ে করেছি, অন্যান্য মেয়ে যেমন চিন্তা করে বিয়ে করেন, আমিও তাই করেছি। সবকিছু সুন্দর মতো চলবে, সেই চেষ্টাও ছিল। নিশ্চয়ই আমার পার্টনারেরও সেই চেষ্টা ছিল। কিন্তু যেকোনোভাবেই সংসারটা টিকল না।’

    সম্পর্কে আস্থা হারিয়েছেন এই অভিনেত্রী। গত ৯ বছরে নতুন করে ঘর বাঁধার সাহস করেননি মীম।

    উল্লেখ্য, শৈশবে গানের অনুষ্ঠান দিয়ে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখলেও ১৯৯২ সালে বিটিভির নাটকে অভিনয় শুরু করেন। পরিণত বয়সে নাটকের প্রধান নারী চরিত্রে দেখা যায় তাকে। প্রায় ১৮ বছর মিডিয়ায় কাজ করার পর নিজেকে গুটিয়ে নেন মীম। ২০১২ সালে সর্বশেষ তাকে নাটকে দেখা যায়। পরে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ করলেও অভিনয়ে আর ফেরেননি এই অভিনেত্রী।

  • নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক শিল্পী ব্যবসায় যুক্ত। রেস্তোরাঁ, বিউটি পারলার এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্তর অনেকে। এবার ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখালেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

    ‘স্পিডটাচ অটোস’ নামে একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    নতুন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সামিরা খান মাহি বলেন, ‘আমার ভিশন, এনার্জি ও আইডিয়া দিয়ে এই কোম্পানির জার্নিতে অবদান রাখতে চাই। স্পিডটাচ অটোসের মাধ্যমে ব্র্যান্ড নিউ, রিকন্ডিশন্ড ও প্রি-ওউনড গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আরও ভালো মান, সঠিক মূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল মাহির। অভিনয়ের পাশাপাশি আরও দুটি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন এই অভিনেত্রী।

    মাহি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলাম। মূলত দুটি ভিন্ন ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি ব্যবসার কথা সবাইকে জানালাম। আশা করছি, শিগগির অন্যটির খবরও জানাতে পারব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তখন মনে হয়েছিল অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু করা উচিত। অভিনয় তো আমার আর্নিং সোর্সের জায়গা। সেখানে আমাকে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ, আমি সব কাজ করব না, গল্প ভালো লাগলেই করব। তাই রোজগারের জন্য আমাকে ভিন্ন কিছু ভাবতেই হবে। ভিন্ন আয়ের পথ থাকতে হবে। সে কারণেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।’

  • চাকরিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা

    চাকরিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা

    অভিনয়ের পাশাপাশি এবার ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী তমা মির্জা। প্রায় তিন মাস ধরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি-ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে নতুন পেশায় যুক্ত হলেও অভিনয় ছাড়ছেন না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

    তমা মির্জা জানান, অভিনয়ই তার প্রথম ভালো লাগা ও ভালোবাসার জায়গা। তাই অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    তমা মির্জা বলেন, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালো লাগা এবং ভালোবাসার জায়গা। এখানে সব সময় কাজ করে যাব। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমার অভিনয়ের ব্যাপারে আন্তরিক। তাই অভিনয় চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নেই।’

    তমা মির্জা। ছবি: ফেসবুক

    আফরান নিশোর বিপরীতে ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগি’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তমা। তবে বর্তমানে চলচ্চিত্রে তাকে খুব বেশি ব্যস্ত দেখা যায় না। অভিনেত্রী জানান, তিনি বেছে বেছে বছরে এক-দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন।

    অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগকে জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তমা। তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেছে বেছে বছরে দুই-একটি সিনেমা করি। জীবনের বাকিটা অন্য কিছুতে এক্সপ্লোর করতে পারার এই সুযোগটা দারুণ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।’

    শুধু বড় পর্দায় নয়, ওটিটিতেও অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তমা মির্জা। তার অভিনীত ‘জানোয়ার’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ ও ‘ফ্রাইডে’ দর্শকের মধ্যে আলোচিত হয়েছে।

    তমা মির্জা। ছবি: ফেসবুক

    এদিকে অভিনয়ে নতুন কাজও আসছে তার হাতে। শিগগিরই ভিকি জাহেদের পরিচালনায় ‘খলনায়ক’ সিনেমার কাজ শুরু করবেন তমা। এতে তার বিপরীতে থাকবেন আফরান নিশো।

    প্রসঙ্গত, এম বি মানিকের ‘বলো না তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে ২০১০ সালে তমা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এরপর অনন্ত হীরা পরিচালিত ‘ও আমার দেশের মাটি’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নদীজন’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তমা।

  • বিয়ে নিয়ে যা বললেন পূজা চেরী

    বিয়ে নিয়ে যা বললেন পূজা চেরী

    বিনোদন অঙ্গনে বহুদিনের গুঞ্জন বিয়ে করছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরী! দেশের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিয়ে হতে যাচ্ছে- এমন খবরের পাশাপাশি কোথাও কোথাও এরই মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও অবশেষে কথা বলেছেন এই চিত্রনায়িকা।

    গতকাল সোমবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে পূজা জানিয়েছেন, তার এখনো বিয়ে হয়নি। একইসঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাকে নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

    ফেসবুক পোস্টে পূজা লিখেছেন, আমি দেখতে পাচ্ছি, গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনও অমুক পেশার কারও সঙ্গে, কখনও অন্য কারও সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ তৈরি করা হচ্ছে- যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।

    তিনি আরও লিখেছেন, আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম- আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। আমি এটাও নিশ্চিত করেছিলাম যে, যখনই আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, আমি নিজেই তা প্রকাশ্যে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সবাইকে জানাবো। লুকানোর কিছু নেই।

    এদিকে পূজা তার বিয়ে নিয়ে বারবার খবর প্রকাশের বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। কোনও তথ্য যাচাই না করে তাকে জড়িয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আইনি অধিকারের প্রসঙ্গ তুলেছেন।

    পূজা তার পোস্টে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারার উল্লেখ করে দাবি করেছেন, ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং কাউকে নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার আইনত দণ্ডনীয়।

    তিনি লিখেছেন, আমার নীরবতাকে কেউ যদি ভিত্তিহীন সংবাদের সুযোগ বানিয়ে নেয়, তবে আমি নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় বাধ্য হব।’

    সবশেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন পূজা। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও মানুষের ভালোবাসার প্রতি তার সম্মান রয়েছে।

    বিনোদন অঙ্গনে পূজা চেরীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে তার বাগ্দান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পরে এক সাক্ষাৎকারে পূজা নিজেই ‘এনগেজড’ থাকার কথা জানান। তবে বাগ্দত্তার পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। এবার বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন এই অভিনেত্রী।

    পূজা চেরী নায়িকা হিসেবে আলোচনায় আসেন ‘পোড়ামন ২’ সিনেমা দিয়ে। এরপর ‘দহন’, ‘নূর জাহান’, ‘শান’, ‘গলুই’, ‘হৃদিতা’, ‘জ্বীন’, ‘লিপস্টিক’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

  • মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    বিয়ে করলেন সংগীতবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘চ্যানেল আই বাংলার গান ২০১৬’র চ্যাম্পিয়ন শারমিন আক্তার ও সংগীতশিল্পী সাব্বির কোরাইশী। গতকাল সোমবার রাজধানীর গাউসুল আজম মসজিদে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের সুখবরটি দিলেন শারমিন আক্তার নিজেই।

    জানান, দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

    গায়িকা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করলাম। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আমাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি।’

    শারমিন আরও বলেন, ‘বিয়ে জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। নতুন দায়িত্ব, নতুন সম্পর্ক- সব মিলিয়ে অনুভূতিটা অন্যরকম। পরিবার ও কাছের মানুষদের ভালোবাসা এবং দোয়া নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করেছি। সবার কাছে আমাদের জন্য দোয়া চাই।’