তথ্য-প্রযুক্তি

  • এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনে নেওয়ার ৬টি লক্ষণ

    এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনে নেওয়ার ৬টি লক্ষণ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি এখন অনলাইনের প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুগল ইমেজ সার্চ, পিন্টারেস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে এ ধরনের ছবি। এআই-নির্ভর নিম্নমানের বা অতিরিক্ত কনটেন্টের বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে, এর জন্য ‘এআই স্লপ’ নামে নতুন একটি শব্দও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব ছবি ও এআই-তৈরি ছবির পার্থক্য করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক ইমেজ জেনারেটর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে সক্ষম। তাই অনলাইনে কোনো ছবি দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার আগে কিছু বিষয় যাচাই করা জরুরি।

    ১. লেখায় অস্বাভাবিকতা খুঁজুন

    এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো ছবির ভেতরের লেখা পরীক্ষা করা। পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, সাইনবোর্ড, টি-শার্ট কিংবা বিজ্ঞাপনের লেখাগুলো যদি বিকৃত, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা অর্থহীন মনে হয়, তাহলে সেটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    যদিও আধুনিক এআই আগের চেয়ে ভালোভাবে লেখা তৈরি করতে পারে, তবুও ছোটখাটো ভুল অনেক সময় থেকে যায়। তাই সন্দেহজনক কোনো ছবির লেখা জুম করে দেখা কার্যকর হতে পারে।

    ২. হাত ও শরীরের গঠনে নজর দিন

    মানুষের হাত ও আঙুল তৈরি করতে এআই দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় পড়ে। ফলে কোনো ছবিতে অতিরিক্ত আঙুল, জোড়া লেগে থাকা আঙুল, বিকৃত নখ বা অস্বাভাবিক গাঁট দেখা গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।

    শুধু হাত নয়, কবজি, কনুই, ঘাড়, পা কিংবা শরীরের অনুপাতও খেয়াল করুন। চোখ, নাক ও দাঁতের গঠন অস্বাভাবিক হলে সেটিও এআই-তৈরি ছবির ইঙ্গিত হতে পারে।

    ৩. অতিরিক্ত নিখুঁত চেহারা

    অনেক সময় ছবির মানুষটিকে এতটাই নিখুঁত দেখায় যে সেটি বাস্তব মনে হলেও ভেতরে অস্বাভাবিকতা লুকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত মসৃণ ত্বক, অস্বাভাবিক উজ্জ্বল চোখ, অত্যন্ত নিখুঁত চুল কিংবা অস্বাভাবিকভাবে সাজানো দাঁত এ ধরনের ছবির সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

    ছবির মানুষটিকে যদি বাস্তবের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত মনে হয়, তাহলে সেটি এআই-তৈরি হতে পারে।

    ৪. সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখালে

    খাবার, পণ্য বা বিজ্ঞাপনের ছবিতে অনেক সময় এআই ব্যবহার করা হয়। কোনো খাবার যদি অবিশ্বাস্য রকম নিখুঁত দেখায়, কোথাও দাগ, ছোপ বা স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা না থাকে, তাহলে ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাস্তব ছবিতে সাধারণত আলো, ছায়া, তেল বা অন্যান্য ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা থাকে। এআই-তৈরি ছবিতে এসব অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখা যায়।

    ৫. অতিরিক্ত বিশৃঙ্খলা বা অস্বাভাবিক বিস্তারিত

    এআই-তৈরি ছবিতে কখনো কখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উপাদান যুক্ত করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে অস্বাভাবিক নকশা, অসম্ভব কোণে ছায়া, বাস্তবতার সঙ্গে না মেলা প্রতিফলন কিংবা অস্বাভাবিক আলোর ব্যবহার এমন ছবির বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

    অনেক সময় পুরো ছবিটিই এমন মনে হয়, যেন একসঙ্গে অনেক কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের অতিরিক্ত নাটকীয়তা এআই ব্যবহারের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ৬. সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যাওয়া

    এআই দিয়ে পুরোনো ছবি রঙিন করা বা উন্নত করার সময় অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যায়। ভবনের ইটের গাঁথুনি, গাছের পাতার আলাদা বৈশিষ্ট্য বা পোশাকের সূক্ষ্ম নকশা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    ফলে ছবিটি বাস্তব আলোকচিত্রের পরিবর্তে আঁকা ছবির মতো দেখাতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে।

    প্রযুক্তির সাহায্যেও যাচাই করা যায়

    শুধু চোখের পর্যবেক্ষণ নয়, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত টুল ব্যবহার করেও ছবি যাচাই করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ‘সার্কেল টু সার্চ’ কিংবা গুগল লেন্সের ‘অ্যাবাউট দিস ইমেজ’ ফিচার ব্যবহার করে ছবির উৎস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।

    এ ছাড়া গুগলের জেমিনি অ্যাপেও ছবি আপলোড করে সেটি এআই-তৈরি কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গুগলের ‘SynthID’ ওয়াটারমার্কযুক্ত ছবির ক্ষেত্রেও কিছু টুল সহায়তা করতে পারে।

    ডিটেক্টর কি শতভাগ নির্ভরযোগ্য?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো এআই ইমেজ ডিটেক্টরই শতভাগ নির্ভুল নয়। অনেক সময় এআই-তৈরি ছবিকে বাস্তব ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়, আবার বাস্তব ছবিকেও ভুলভাবে এআই-তৈরি বলে দেখানো হতে পারে।

    তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু ডিটেক্টরের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ছবির উৎস, প্রেক্ষাপট এবং ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্যও পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে সংবাদ, ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছবির ক্ষেত্রে মূল উৎস যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

  • কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি কতটা নিরাপদ?

    কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি কতটা নিরাপদ?

    কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটিতে নানা নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। তবে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। গবেষণাটিতে কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকে ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করে ১৮ বছরের কম বয়সিদের এই সেবা ব্যবহার বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    বুধবার ওপেনএআই জানায়, কিশোরদের মধ্যে চ্যাটজিপিটির গড় ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাদের ব্যবহারের বড় অংশই পড়াশোনাকেন্দ্রিক।

    তবে একই দিনে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কমন সেন্স মিডিয়ার প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, আত্মহানির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কিশোরদের কথোপকথন শনাক্ত করে অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থাসহ চ্যাটজিপিটির বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রায়ই ব্যর্থ হচ্ছে।

    চলতি বছরের আগস্টে ওপেনএআই কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটিতে বেশ কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।

    এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে এমন রোমান্টিক বা অন্য ধরনের ভাষা ব্যবহারে বাধা, যা চ্যাটজিপিটির ওপর কিশোরদের আবেগগত নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। চ্যাটজিপিটি নিজেকে সচেতন বা কোনোভাবে চেতনাসম্পন্ন বলে বোঝাতে পারবে না—এমন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কিশোর সংবেদনশীল ছবি শেয়ার করলে তাকে সতর্ক করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    কোনো কিশোরের চ্যাটজিপিটি হিসাবের সঙ্গে অভিভাবকের হিসাব যুক্ত থাকলে আত্মহানি বা অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথোপকথনের বিষয়ে অভিভাবককে জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    ওপেনএআই বলছে, এসব ব্যবস্থা চালুর পর কিশোরদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে পড়াশোনাকেন্দ্রিক প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে পড়াশোনায় সহায়তা নেওয়া ও বিদ্যালয়ের কাজের বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া রয়েছে।

    ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে একজন কিশোরের গড় ব্যবহার দিনে ১৫ মিনিটেরও কম। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে বিরতি নেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, সেটিও কার্যকর হচ্ছে। এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রায় অর্ধেক কিশোর দ্রুত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার বন্ধ করে দেয়।

    কোম্পানিটি আরো বলেছে, যেসব কিশোরকে টানা তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে, তাদের ৮০ শতাংশের বেশি কথোপকথনে পড়াশোনা-সংক্রান্ত কিছু ছিল।

    তবে কমন সেন্স মিডিয়ার গবেষণায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে—এমন প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ১৮ বছরের কম বয়সিদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

    কমন সেন্স মিডিয়ার গবেষণার পদ্ধতি পর্যালোচনা করে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, গবেষণার বড় একটি অংশের পরীক্ষা শুরু ও শেষ হতে পারে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই।

    ওই মুখপাত্র বলেন, কঠোর ও স্বাধীন মূল্যায়নকে তারা স্বাগত জানান। তবে তাদের মতে, কমন সেন্স মিডিয়ার পরীক্ষা বাস্তবে চ্যাটজিপিটির কিশোরদের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তা সঠিকভাবে তুলে ধরে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কিশোরদের সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতও এতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

    কমন সেন্স মিডিয়া একাধিক হিসাব ব্যবহার করে গবেষণাটি চালায়। এসব হিসাব কিশোর ব্যবহারকারীর নামে নিবন্ধিত ছিল। নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর আগে ও পরে এসব হিসাবের কথোপকথনও পরীক্ষা করা হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোরদের সঙ্গে যৌন ভূমিকাভিত্তিক কথোপকথন এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ভালো করেছে। তবে আত্মহত্যা বা আত্মহানির মতো বিষয় নিয়ে কথোপকথনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা দেখা গেছে।

    গবেষণায় বলা হয়, নতুন তৈরি করা এবং অভিভাবকের সঙ্গে যুক্ত হিসাব থেকে আত্মহত্যার চিন্তা, আত্মহানি বা অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এক ঘণ্টা পর্যন্ত কথোপকথন চালালেও কোনো অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা যায়নি। কেবল পুরোনো হিসাব, যেখানে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কয়েক সপ্তাহের কথোপকথনের ইতিহাস ছিল, সেসব ক্ষেত্রে অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।

    গবেষকেরা আরো বলেন, সংকটের মধ্যে থাকা কিশোরদের সহায়তার জন্য জরুরি সহায়তা নম্বর বা পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতেও চ্যাটজিপিটি সব সময় নির্ভরযোগ্যভাবে সক্ষম হয়নি।

    পরীক্ষায় আরো দেখা গেছে, কিশোরদের পড়াশোনার কাজে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে চ্যাটজিপিটি এখনো নিজেকে মানুষের মতো উপস্থাপন করে বা বন্ধুর মতো কথা বলে। কিশোরদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওপেনএআই।

    কমন সেন্সের যুব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের প্রধান টম সিগেল বলেন, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সতর্কবার্তা ঠিকমতো কাজ করছে—এমন ভুল ধারণা অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হতে পারে। অথচ এসব ব্যবস্থা প্রায়ই কাজ করছে না।

    অনলাইনে তরুণদের আচরণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শিশুদের মধ্যে আত্মহানি ও আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

    চলতি বছর শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য মেটা, টিকটকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে করা কয়েকটি মামলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষতিও হয়েছে।

    তরুণদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার নিয়েও ওপেনএআই বাড়তি নজরদারি ও আইনি চাপের মুখে পড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার প্রত্যন্ত টাম্বলার রিজ এলাকায় একটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১৮ বছর বয়সি এক তরুণ জড়িত ছিল। হামলার আগে কয়েক মাস ধরে সে চ্যাটজিপিটিতে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করেছিল।

    ওপেনএআই পরে ওই ব্যবহারকারীর হিসাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। ওই ঘটনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলছে।

  • জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার অরৈখিক প্রভাব আবিষ্কারে রসায়নে নোবেল

    জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার অরৈখিক প্রভাব আবিষ্কারে রসায়নে নোবেল

    জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটনের ভূমিকা আবিষ্কারের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আর এ বছরে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান এবং জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোআই।

    বুধবার নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়।

    শত বছরেরও বেশি পুরোনো এই পুরস্কার প্রদান করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। পুরস্কার হিসেবে কাগান ও সোয়াই যৌথভাবে পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।

    বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত নোবেল পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বীকৃতি পাবেন দুই বিজ্ঞানী।

  • এআই, সোশ্যাল মিডিয়া ও মন নিয়ন্ত্রণের যুদ্ধ

    এআই, সোশ্যাল মিডিয়া ও মন নিয়ন্ত্রণের যুদ্ধ

    মানবসভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব মানুষের জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। চাকা থেকে ইন্টারনেট আর এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই, প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি আমাদের যেমন উন্নতির নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, তদ্রূপ অপব্যবহারের নতুন ঝুঁকিও তৈরি করেছে। একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তি শুধু আমাদের কাজের ধরন পাল্টাচ্ছে না, বরং আমাদের চিন্তা, বিশ্বাস, আবেগ ও আচরণকেও প্রভাবিত করছে।

    একসময় মানুষের বিবেক ও আচরণ গড়ে উঠত মূলত পরিবার, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও চারপাশের পরিবেশের প্রভাবে। এখন সেই প্রভাবের একটি বড় অংশ চলে এসেছে অ্যালগরিদমের হাতে। একজন মানুষ যে খবরটি পড়ছেন, যে ভিডিওটি দেখছেন কিংবা যে রাজনৈতিক বক্তব্যটি তার মনে গেঁথে যাচ্ছে, সেগুলো সবসময় তার নিজের আগ্রহের ফল নয়। এর পেছনে থাকতে পারে দূরের কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, কোনো অ্যালগরিদম কিংবা পরিকল্পিত ও সংগঠিত প্রচারণার অংশ।

    বর্তমান পৃথিবীতে তথ্য একটি বিশাল কৌশলগত সম্পদ। খনিজ সম্পদের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, অভ্যাস, ভয়, বিশ্বাস ও রাজনৈতিক আদর্শও এখন মহামূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। যারা মানুষের কাছে কোন তথ্য পৌঁছাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তারাই মানুষের বিবেক, চিন্তা ও সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করার সুযোগ পাচ্ছে।

    আমরা প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট, ছবি, ভিডিও, সংবাদ ও মন্তব্য দেখি। এর কিছু সত্য, কিছু সম্পূর্ণ মিথ্যা, আবার কিছু সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশিয়ে তৈরি করা। অনেক সময় পুরোনো কোনো ছবি নতুন ঘটনার নামে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সম্পাদিত ভিডিওকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয় কিংবা কোনো ব্যক্তির নামে ভুয়া বক্তব্য তৈরি করা হয়।

    আমরা হয়তো মনে করি, একটি পোস্ট বা ভিডিও দেখে আমাদের কীইবা হবে? কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ইলিউশন অব ট্রুথ ইফেক্ট (Illusion of Truth Effect) অনুসারে কোনো তথ্য বারবার চোখের সামনে এলে মানুষ তার সত্যতা যাচাই না করেও একসময় সেটিকে সত্য বলে মনে করতে শুরু করে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তিন হাজারের বেশি পুলিশ নিহত হওয়ার মিথ্যা দাবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, যা একদল মানুষ বিশ্বাসও করেছে। সমস্যা হলো, আমরা অনেক সময় বিশ্বাস করার আগে যাচাই করি না; বরং নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে গেলে তথ্যটি দ্রুত শেয়ার করি।

    এখানেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কয়েক সেকেন্ডেই এআই এমন লেখা, ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বর তৈরি করতে পারে, যা আসল না নকল বোঝা কঠিন। উদ্বেগের বিষয়, এআইয়ের সক্ষমতা এত দ্রুত বাড়ছে যে প্রভাবশালী এআই কোম্পানিগুলো নিজেরাই এখন নিয়ন্ত্রণের জন্য আবেদন করছে।

    অনেকে এআইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মনে করেন। কিন্তু কোনো এআইই শূন্য থেকে তৈরি হয়নি। এর প্রশিক্ষণ-তথ্য, অ্যালগরিদম, নিরাপত্তা নীতি, আইনগত সীমাবদ্ধতা এবং নির্মাতাদের সিদ্ধান্ত এর উত্তরের ওপর প্রভাব ফেলে। যেমন ডিপসিককে ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ারের ঘটনা কিংবা আমেরিকার এআইগুলোকে গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বা গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে অনেক ক্ষেত্রে এআইগুলো উত্তর সীমিত করে বা এড়িয়ে যায়। তাই এআইকে চূড়ান্ত সত্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার না করে তাকে শুধু তথ্যের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, নইলে মানবসভ্যতার বিপর্যয় ঘটবে।

    অন্যদিকে, এআই নিজেই এখন অপতথ্য তৈরির শক্তিশালী হাতিয়ার। এর সাম্প্রতিক বাংলাদেশি উদাহরণ দিয়েছে আমেরিকান এআই প্রতিষ্ঠান এন্থ্রোপিকের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট। গাইবান্ধার এক ব্যক্তি ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শত শত গুজবের শিরোনাম, বয়ান ও ছবি তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, সহজলভ্য এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এখন একজন ব্যক্তিও বড় আকারের রাজনৈতিক অপতথ্য প্রচার চালাতে পারেন।

    এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, উন্নত বিশ্ব থেকে অনুন্নত দেশ সর্বত্রই প্রকট। ২০১৮ সালের ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হতে পারে। মানুষের পছন্দ, আচরণ ও রাজনৈতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য আলাদা বার্তা তৈরি করা হয়েছিল, ফলে রাজনৈতিক প্রচারণা হয়ে উঠেছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা।

    আবার মিয়ানমারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘৃণামূলক বক্তব্য, গুজব ও অপতথ্য রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জনমত উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছিল। ভারতেও মুসলিমদের নিয়ে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশকে নিয়েও নিয়মিত অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তাছাড়া এখন প্রায় প্রতিটি দেশের নির্বাচনেই ভুয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন বিজ্ঞাপন ও সংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক বিভাজন আরো তীব্র হচ্ছে।

    যুদ্ধ এখন শুধু ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মন ও বিবেকও যুদ্ধের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসরাইল ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তাই ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার বা কগনিটিভ ওয়ারফেয়ারে তথ্য, অ্যালগরিদম, এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।এখানে

    লক্ষ্য সবসময় মানুষকে একটি নির্দিষ্ট মত গ্রহণ করানো নয়। কখনো লক্ষ্য হতে পারে মানুষকে এতটাই বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করা, যাতে সে কোনো প্রতিষ্ঠান বা অন্য মানুষকেই বিশ্বাস না করে। এ ক্ষেত্রে ধর্ম, বিশেষ করে ইসলামকে টার্গেট করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগর ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তির অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও বাংলাদেশ ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে।

    একই সঙ্গে রাজনৈতিক মেরূকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর তথ্যগ্রহণ এবং দুর্বল তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি আমাদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কোনো রাষ্ট্র, রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনো স্বার্থান্বেষী পক্ষ বাংলাদেশের জনমতকে যে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন। এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি গুজবের পেছনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ও তথ্য যাচাইয়ে দুর্বল সমাজ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আর প্রযুক্তি তাদের এসব প্রচেষ্টাকে আরো দ্রুত ও সস্তা করে দিচ্ছে।

    গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার আজ একধরনের সামাজিক মহামারিতে পরিণত হয়েছে। অন্য দেশের পুরোনো ছবি বা ভিডিও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা বলে ছড়ানো হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে ভুয়া ফটোকার্ড, আবার সম্পাদিত ভিডিও ও প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন বক্তব্যও সত্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, ইদানীং প্রথম সারির অনেক গণমাধ্যমও মিসলিডিং ফটোকার্ড, ব্যক্তিটার্গেট করে অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব তথ্য যাচাই ছাড়াই মুহূর্তেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এর শিকার শুধু সাধারণ মানুষ নন; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও টকশোতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও কখনো তথ্য যাচাই না করে ভুল তথ্য শেয়ার বা প্রচার করেন, যা বিভ্রান্তি আরো বাড়ায়।

    উদাহরণ হিসেবে, দ্য ডিসেন্টের একটি ফ্যাক্টচেকে বলা হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত এক তরুণীর ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া দাবি ছড়ানো হয়েছিল। পরে ঢাকার দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক সেই ফটোকার্ড শেয়ার করেন, যা ফ্যাক্টচেকে ভুল প্রমাণিত হয়। এটি খুবই উদ্বেগজনক। কারণ যারা শিক্ষার্থী ও সমাজকে চিন্তার দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা, তারাই যদি তথ্য যাচাইয়ের ন্যূনতম দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা কঠিন।

    রাজনৈতিক মতের কারণে যখন মানুষ সত্য যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস করতে শুরু করে, তখন একজন শিক্ষিত মানুষও অজান্তেই অপতথ্য ছড়িয়ে দিতে পারেন। মত বা আদর্শ যা-ই হোক, সত্য যাচাই ও সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা সবারই থাকা উচিত।

    এখন বাংলাদেশের প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে, বরং এর অপব্যবহার মোকাবিলায় শক্তিশালী ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষায় ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি তথ্য যাচাই, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা বোঝা, এআইয়ের উত্তর যাচাই ও ডিপফেক শনাক্ত করার দক্ষতা শেখাতে হবে। রাষ্ট্রকে সময়োপযোগী নীতিমালা করতে হবে, তবে তা যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি না হয়। গণমাধ্যমকেও দ্রুততার চেয়ে তথ্যের নির্ভুলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব আছে। অপতথ্য, চরিত্রহনন, কৃত্রিম ভিডিও বা মানুষের ভয় ও ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে জনমত প্রভাবিত করা সাময়িক লাভ আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি করবে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার। তবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের। কোনো তথ্য দেখেই বিশ্বাস বা শেয়ার না করে উৎস যাচাই করা, প্রশ্ন করা এবং সত্যতা নিশ্চিত করা এখন শুধু সচেতনতার বিষয় নয়, একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের দায়িত্বও বটে।

    ভবিষ্যতের লড়াই তাই শুধু সীমান্তে নয়, মানুষের মনেও। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি নয়, আমাদের সচেতনতা, যাচাই করার অভ্যাস ও বিবেকই ঠিক করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে।

    লেখক : ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), সিসমার্ক লিমিটেড

  • গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ, গণমাধ্যমের মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


    প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুঁইফোঁড় পেজ ও অনলাইন পোর্টাল খুলে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    মূলধারার গণমাধ্যমের বাইরে অনেকেই একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এটি একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক কারা—তার একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা ও মাপকাঠি নির্ধারণ জরুরি।

    তিনি জানান, এ বিষয়ে বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউসহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠন ও সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা প্রদান এবং অন্যান্য নীতিমালার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মাপকাঠির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সাংবাদিকদের কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ডিআরইউর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমরা ডিআরইউর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব।

    সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি অর্জনে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হবে।

    সভায় ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো দেখভালের দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের।

    সাংবাদিকদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে ডিআরইউ এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

    ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, সংগঠনটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পেশাদার সাংবাদিকদের কল্যাণ ও মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    মতবিনিময় সভায় ডিআরইউ সহ-সভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • এআই কি চিকিৎসকের বিকল্প

    এআই কি চিকিৎসকের বিকল্প

    একজন রোগী হাসপাতালে গেলেন। চিকিৎসক তার রিপোর্ট দেখছেন। আর একই সময়ে কম্পিউটার একটি এক্স-রে বা স্ক্যান বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রোগের কয়েকটি সংকেত দেখিয়ে দিল। কোথাও অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটি চিকিৎসকের নজরে এনে বলল—‘এই অংশটি আরো ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার।’ শুনতে অনেকটা ভবিষ্যতের গল্পের মতো হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence) এরই মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, চোখের ছবি, ত্বকের ক্ষত কিংবা বিভিন্ন মেডিকেল ডেটা বিশ্লেষণে এআই চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারছে। তাই প্রশ্ন উঠছে—একদিন কি এআইই চিকিৎসকের জায়গা নেবে?

    এআই রোগ শনাক্তকরণকে সহজভাবে বোঝা যায় ‘ডেটা থেকে অস্বাভাবিকতা খুঁজে বের করার’ প্রযুক্তি হিসেবে। একটি এআই মডেলকে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসা-সংক্রান্ত ছবি বা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেখানে কোন ছবিতে রোগের লক্ষণ ছিল এবং কোনটিতে ছিল না। এমন উদাহরণ থেকে মডেল নির্দিষ্ট ধরনের প্যাটার্ন চিনতে শেখে। পরে নতুন কোনো মেডিকেল ছবি বা ডেটা দিলে এআই সেটির সঙ্গে আগে শেখা বৈশিষ্ট্যগুলোর মিল খুঁজে সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারে।

    ধরা যাক, হাজার হাজার ফুসফুসের এক্স-রে বিশ্লেষণ করে একটি এআই মডেল প্রশিক্ষিত হয়েছে। নতুন একটি এক্স-রে দিলে সেটি ফুসফুসের কোনো অংশে অস্বাভাবিক ছাপ, গঠন বা নির্দিষ্ট ধরনের পরিবর্তন খুঁজে দেখতে পারে। একইভাবে চোখের রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত চোখের ক্ষতির সংকেত শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ এআই অনেক ক্ষেত্রে ‘রোগের নাম বলে দেওয়া যন্ত্র’ নয়। বরং চিকিৎসকের জন্য সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা দ্রুত শনাক্ত করার একটি সহায়ক প্রযুক্তি।

    এর বড় সুবিধা হলো দ্রুত বিশ্লেষণ। একজন চিকিৎসককে একই ধরনের অসংখ্য ছবি বা রিপোর্ট দেখতে হলে সময় লাগতে পারে। এআই বড় পরিমাণ ডেটা দ্রুত বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক বিষয়গুলো আলাদা করে দেখাতে পারে। বিশেষ করে এমন হাসপাতালে যেখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেখানে এআই কোনো রিপোর্ট বা ছবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসকের নজরে আনতে সাহায্য করতে পারে। এতে চিকিৎসক গুরুত্বপূর্ণ কেসগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করার সুযোগ পেতে পারেন।

    এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো প্রাথমিক শনাক্তকরণ। কোনো রোগের শুরুতেই যদি তার সূক্ষ্ম লক্ষণ পাওয়া যায়, তাহলে চিকিৎসককে দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এআই এমন ছোট পরিবর্তনও শনাক্ত করতে পারে, যা মানুষের চোখে সহজে ধরা নাও পড়তে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করলেই যে রোগটি নিশ্চিতভাবে আছে, তা নয়। সেটি হতে পারে আরো পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার একটি সংকেত।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি হলো মেডিকেল ইমেজিং। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও আলট্রাসাউন্ডের মতো বিভিন্ন ছবিতে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করার কাজে মেশিন লার্নিং ও গভীর শিক্ষণ (Deep Learning) প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। আবার হৃদরোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, চোখের রোগ শনাক্তকরণ, ক্যানসারের কিছু বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং রোগীর বিভিন্ন তথ্য থেকে ঝুঁকি অনুমানের মতো ক্ষেত্রেও কাজ হচ্ছে।

    তবে এআই যতই উন্নত হোক, এর ভুল করার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি এআই মডেল যে ধরনের রোগী, যন্ত্র বা ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকে ভিন্ন হলে ফলাফলের নির্ভুলতা কমে যেতে পারে। কোনো দেশের হাসপাতালের ডেটা দিয়ে তৈরি মডেল অন্য দেশের ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। ছবির মান খারাপ হলে, তথ্য অসম্পূর্ণ হলে কিংবা রোগটি খুব অস্বাভাবিক হলে এআই ভুল সংকেত দিতে পারে। আরেকটি বড় বিষয় হলো এআই কীভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাল। অনেক উন্নত এআই মডেলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া মানুষের কাছে পুরোপুরি সহজবোধ্য নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শুধু ‘এআই বলেছে’ যথেষ্ট নয়। কেন এমন ফল এসেছে, রোগীর অন্যান্য লক্ষণ ও পরীক্ষার ফলের সঙ্গে তা মিলছে কি না। এসবও বিবেচনা করতে হয়। এ কারণেই এআইয়ের ফলকে চিকিৎসকের মূল্যায়নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    চিকিৎসকের কাজ শুধু একটি রিপোর্ট বা ছবি দেখে রোগের সম্ভাবনা বলা নয়। রোগীর বয়স, আগের রোগ, ওষুধ, শারীরিক লক্ষণ, পারিবারিক ইতিহাস, জীবনযাপন এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল—সবকিছু মিলিয়ে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন। একজন রোগী একই রিপোর্ট নিয়ে এলেও তার শারীরিক অবস্থা অন্য রোগীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। এই মানবিক ও সামগ্রিক বিচার করার জায়গাটি এআইয়ের জন্য অত্যন্ত জটিল।

    তাই এআইকে চিকিৎসকের বিকল্পের চেয়ে সহকারী হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। এআই দ্রুত ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে। সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করতে পারে। বড় পরিমাণ তথ্য সাজিয়ে দিতে পারে এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে এআইয়ের কোনো ফলের ওপর ভিত্তি করে নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা নিরাপদ নয়।

    এআই ব্যবহারের সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মেডিকেল রেকর্ড অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য। রোগীর রিপোর্ট বা ছবি কোনো এআই ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হলে সেই তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে। কে দেখতে পারছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা ও নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে পক্ষপাত বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায় কার—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন।

  • দেশে ইলেকট্রিক ট্রেন!

    দেশে ইলেকট্রিক ট্রেন!

    দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রেল পরিবহন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বাষ্পচালিত ইঞ্জিন থেকে ডিজেল, আর ডিজেল থেকে বিদ্যুৎ—রেল যোগাযোগের এই বিবর্তনে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশও। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও জয়দেবপুর রুটে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশে কেন ইলেকট্রিক ট্রেন

    বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিকাংশ ট্রেন বর্তমানে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে পরিচালিত হয়। ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমানো, পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশদূষণ কমানোর লক্ষ্যেই বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও জয়দেবপুর করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমতে পারে। একই সঙ্গে ট্রেনের গড় গতিবেগ ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই করিডোরটি রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকাকে যুক্ত করেছে। এ পথে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু হলে রেলের পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং সড়ক পরিবহনের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    কীভাবে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন

    বৈদ্যুতিক ট্রেনের জন্য রেললাইনের ওপর বিশেষ বৈদ্যুতিক তারের ব্যবস্থা করা হবে। ট্রেনের ছাদে থাকা প্যান্টোগ্রাফ নামের যন্ত্রের মাধ্যমে ওপরের তার থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করা হবে। এরপর সেই বিদ্যুৎ ট্রেনের বৈদ্যুতিক মোটর ও অন্যান্য ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। অন্যদিকে ইএমইউ ট্রেনে আলাদা ভারী ইঞ্জিনের পরিবর্তে একাধিক কোচেই মোটর ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থাকতে পারে। ফলে দ্রুত গতি অর্জন এবং বারবার স্টেশনে থামা ও চলার মতো শহর ও শহরতলির রুটে এ ধরনের ট্রেন কার্যকর।

    কোথায় কোথায় চলছে ইলেকট্রিক ট্রেন

    ইউরোপে সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে বৈদ্যুতিক ট্রেন নিয়মিত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করছে। এশিয়ায় চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও ব্যাপকভাবে বৈদ্যুতিক রেল চালু রয়েছে। জাপানের শিনকানসেন থেকে চীনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক, আধুনিক রেল পরিবহনের বড় একটি অংশই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।

    বাংলাদেশে প্রথম ধাপ কোথায়

    বাংলাদেশে প্রথম ধাপে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও জয়দেবপুরের ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথকে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ রুটে বৈদ্যুতিক তার, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, ইএমইউ ট্রেন এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা হবে। তবে এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃহত্তর পরিকল্পনায় নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী, জয়দেবপুরসহ আরো রেলপথে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ হয়েছে।

    গতি ও সময় কতটা কমবে

    বৈদ্যুতিক মোটরের বড় সুবিধা হলো দ্রুত গতি অর্জন। ফলে শহর ও শহরতলির রুটে ঘনঘন স্টেশনে থামতে হলেও ইএমইউ ট্রেন কার্যকরভাবে চলতে পারে। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে ট্রেনের গড় গতিবেগ ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    পরিবেশের ওপর প্রভাব

    বৈদ্যুতিক ট্রেন চলার সময় ডিজেল ইঞ্জিনের মতো সরাসরি ধোঁয়া ও নিষ্কাশন গ্যাস নির্গত করে না। তবে এর পরিবেশগত সুবিধা কতটা হবে, তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসের ওপরও নির্ভর করে। বাংলাদেশের প্রকল্পে ডিজেলের ব্যবহার কমানো, বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং রেলের শক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

    বড় চ্যালেঞ্জ কোথায়

    বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করতে শুধু নতুন ট্রেন কেনাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উপকেন্দ্র, ওপরের বৈদ্যুতিক তার, সংকেত ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয়। পাশাপাশি ইএমইউ ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ কারিগরি জনবল তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ এটি শুধু নতুন ট্রেন কেনার প্রকল্প নয়, বরং বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থায় একটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন।

    রেলে প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়

    ১৮৭৯ সালে বার্লিনের একটি প্রদর্শনীতে শুরু হওয়া বৈদ্যুতিক রেলের যাত্রা আজ চীন, ভারত, জাপান ও ইউরোপের বিস্তীর্ণ রেল নেটওয়ার্কে বাস্তবতার অংশ। বাংলাদেশে সেই প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও জয়দেবপুর করিডোর দিয়ে। রেলপথে বাংলাদেশের এই বিদ্যুতায়নের সাফল্য নির্ভর করবে বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর। তবে একনেকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগে ডিজেল থেকে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক দরজা খুলে গেল।

  • সূর্য থেকে দূরে থেকেও পৃথিবী উত্তপ্ত কেন

    সূর্য থেকে দূরে থেকেও পৃথিবী উত্তপ্ত কেন

    গ্রীষ্মের কড়া রোদ, ভ্যাপসা গরম আর ঘামে ভিজে নুয়ে পড়া জনজীবন—প্রকৃতির এই রুক্ষ রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়,সূর্য পৃথিবীর খুব কাছে অবস্থান করছে। অথচ উত্তর গোলার্ধে যখন চরম গ্রীষ্মের দাপট চলে, ঠিক তখনই আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহটি সূর্য থেকে তার কক্ষপথের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই দূরবর্তী মহাজাগতিক মুহূর্তকে বলা হয় Aphelion(অপসূর)। প্রতিবছর জুলাই মাসের শুরুর দিকে গরমের ক্লান্তিতা আমাদের অনেক দিন ভুগতে হয়। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে অপসূরকালে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লাখ মাইল বা ১৫ কোটি ২০ লাখ কিলোমিটারে। অন্যদিকে, কনকনে শীতের মাস জানুয়ারির শুরুতে পৃথিবী থাকে সূর্যের সবচেয়ে কাছে, যা Perihelion (অনুসূর) নামে পরিচিত। তখন এই দূরত্ব কমে দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৪ লাখ মাইল বা ১৪ কোটি ৭০ লাখ কিলোমিটারে। অর্থাৎ, দূরত্বের এই ব্যবধান প্রায় ৩১ লাখ মাইল বা ৫০ লাখ কিলোমিটারের বিশাল এক ব্যবধান!

    সাধারণ হিসাব অনুযায়ী মনে হয়, আলোর বা মোমবাতির কাছাকাছি থাকলে যেমন গরমের আঁচ বেশি লাগে, সূর্য থেকে দূরে গেলে তেমনই ঠান্ডা পড়ার কথা। কিন্তু প্রকৃতির মহাজাগতিক সিস্টেম ভিন্ন নিয়মে। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়কে সূর্য থেকে দূরত্বের ভূমিকা নগণ্য; আসল রহস্য পৃথিবীর নিজের অক্ষের মধ্যে।

    আমাদের পৃথিবী মহাশূন্যে একদম খাড়া বা সোজা হয়ে ভাসে না। এটি কিছুটা বেকে থাকে, তার ঘূর্ণন অক্ষকে কক্ষপথের সমতলের সঙ্গে প্রায় ২৩ দশমিক ৫ (২৩ দশমিক ৪) ডিগ্রি কোণে হেলে রেখে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই চিরন্তন হেলানো ভঙ্গিমাই মহাবিশ্বে সৃষ্টি করে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার রঙবদল।

    মহাকাশে ভ্রমণের পথে যখন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে, তখন সেখানে নেমে আসে গ্রীষ্মকাল। হেলে থাকার কারণে সূর্যের প্রখর রশ্মি সোজা বা লম্বাভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর এসে পড়ে। একই সঙ্গে বাড়ে দিনের পরিধি। দীর্ঘদিন ধরে একটানা খাড়া আলো পাওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলে তাপ জমা হয় প্রচুর পরিমাণে। তাই সূর্য দূরে থাকলেও তার কিরণের তীব্রতায় পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উল্টো চিত্র দেখা যায়, যখন কোনো গোলার্ধ সূর্য থেকে বাইরের দিকে হেলে থাকে। তখন আলো পড়ে তির্যকভাবে, অর্থাৎ বাঁকা হয়ে। তির্যক আলো বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তার তীব্রতা হারায় এবং দিনের স্থায়িত্ব কমে আসে—তৈরি হয় শীতের আবহ। পৃথিবীর এই উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কারণে দূরত্বের তারতম্যে সূর্য বিকিরণের পরিমাণেও কিছুটা তারতম্য ঘটে। অনুসূর ও অপসূরের দূরত্বের এই ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পার্থক্যের কারণে পৃথিবীতে আসা সৌরশক্তির পরিমাণে পার্থক্য হয় মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশের মতো। যদি দূরত্বের পার্থক্য মুখ্য হতো, তবে সারা পৃথিবীতে একসঙ্গে জুলাই মাসে চরম গ্রীষ্ম থাকত। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না; উত্তর গোলার্ধে যখন প্রচণ্ড দাবদাহ, দক্ষিণ গোলার্ধের অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় তখন শান্ত, শীতল শীতকাল।

  • প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয়

    প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয়

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয়। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য বন্ধে মিডিয়া লিটারেসির প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন এখনও চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি। আইনটিতে পরিবর্তন ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন, যা দেশের মানুষকে সুরক্ষা দেবে। একই সঙ্গে অনলাইনে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া বন্ধেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

  • ক্যামেরাবিহীন এআই চশমা আনছে মেটা

    ক্যামেরাবিহীন এআই চশমা আনছে মেটা

    বিশ্বজুড়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং নারীদের অজান্তে তাদের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একাধিক নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে ক্যামেরাবিহীন, শুধু অডিও সুবিধা সংবলিত এক জোড়া স্মার্ট চশমা।

    মেনলো পার্কে মেটার সদর দপ্তরে আয়োজিত বার্ষিক ‘কানেক্ট’ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ চশমার এই নতুন লাইনআপের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি তাদের নতুন পার্সোনাল এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘মিউজ’-এর সুবিধাও তুলে ধরেন।

    ডেভেলপার ও শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশে জাকারবার্গ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ চশমা ব্যবহার করেন। আমরা মনে করি যে আগামী বছরগুলোতে তাদের বড় একটি অংশ এআই চশমায় উন্নীত হবে।’

    স্মার্ট চশমা ও অন্যান্য ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরার মাধ্যমে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অডিও-ভিত্তিক চশমা বাজারে আনছে মেটা। সমালোচকেরা এই ধরনের গোপন ক্যামেরা সম্বলিত চশমাকে ‘বিকৃত চশমা’ নামে অভিহিত করেছেন।

    সাধারণ স্মার্ট চশমার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা, গান শোনা, ফোন কল করা, ভাষা অনুবাদ বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে মিথস্ক্রিয়া করার সুযোগ পান।

    ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা রয়েছেÑএমন আরো ডজন খানেক নতুন স্মার্ট চশমা মডেলের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে বাজারে থাকবে এই ক্যামেরাবিহীন অডিও সংস্করণটি।

    বুধবার এএফপি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেটার এআই প্রোডাক্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশাল শাহ বলেন, রেকর্ডিং নির্দেশক ইন্ডিকেটর লাইটের মতো প্রাইভেসির ফিচার যুক্ত করা ‘সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেয়েছিলাম মানুষ যেন স্পষ্ট বুঝতে পারে যে ডিভাইসটি দিয়ে কিছু রেকর্ড করা হচ্ছে। তাই সময়ের সাথে সাথে আমরা এই ইন্ডিকেটর লাইটটি আরো দৃশ্যমান করেছি।

    তিনি আরো বলেন, ‘চশমাটি প্রথম উন্মোচনের সময় আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম। তবে সম্প্রতি আমাদের মনে হচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে আরো বেশি প্রচার করা প্রয়োজন। কারণ, প্রাইভেসির এই বিষয়গুলো কিন্তু এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি।

    মেটা ২০২১ সালে তাদের প্রথম স্মার্ট চশমা বাজারে আনে এবং সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিটি আরো উন্নত হয়েছে।

    গত বছর কোম্পানিটি ‘ডিসপ্লে’ চশমা উন্মোচন করে, যা চশমার লেন্সে ছবি ও তথ্য ফুটিয়ে তুলতে পারে।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে চশমা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসিলোর-লাক্সোটিকা’র সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে উৎপাদিত রে-ব্যান ও ওকলি মেটা মডেলগুলোর বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ‘মেটা’ ব্র্যান্ডের এআই চশমা উন্মোচন করে কোম্পানিটি।

    এছাড়া তাদের মূলধারার মেটা রে-ব্যান চশমারও বেশ কিছু নতুন স্টাইল চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এর ডিসপ্লে সংস্করণটির প্রাথমিক মূল্য রাখা হয়েছে ৭৯৯ ডলার এবং যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও কানাডাসহ নতুন নতুন বাজারে এটি শিগগিরই পাওয়া যাবে।

    কোম্পানিটি খুব শিগগিরই তাদের পূর্বের ‘কোয়েস্ট ভিআর’ হেডসেটের চেয়ে অনেকটাই হালকা ও উন্নত ‘মিক্সড রিয়েলিটি’ চশমা বাজারে আনবে।

    ‘মেটা ভিআর গ্লাসেস’ নামের এই ডিভাইসটিতে তারযুক্ত একটি এক্সটার্নাল ব্যাটারি ও মেমোরি প্যাক ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে মূল হেডসেটটি অনেক হালকা রাখা সম্ভব হয়েছে।

    জাকারবার্গ জানান, এই চশমাটির ওজন একটি তাসের প্যাকেটের মতোই হালকা। এটিতে বাইরের কোনো দৃশ্যমান সুইচ বা বোতাম নেই; এটি কেবল হাতের অঙ্গভঙ্গি (হ্যান্ড জেসচার) এবং ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

    ভিআর চশমাটি ২০২৭ সালে ১ হাজার ২৯৯ ডলার মূল্যে বাজারে পাওয়া যাবে।

  • ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেটার নতুন চমক

    ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেটার নতুন চমক

    স্মার্টফোনে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন আনছে মেটা। নতুন সুবিধা চালু হলে অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর শেয়ার করতে হবে না। এর পরিবর্তে অনন্য ‘ইউজার নেম’ ব্যবহার করে যোগাযোগ করা যাবে।

    বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। এতদিন অ্যাপটিতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান করতে হতো। বিশেষ করে গ্রুপ চ্যাট বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এতে ব্যক্তিগত নম্বর প্রকাশের ঝুঁকি থাকত।

    এই সমস্যা কমাতে চলতি বছর থেকেই ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে ইউজার নেম সুবিধা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। ইতোমধ্যে কিছু ব্যবহারকারীর জন্য ইউজার নেম বুকিং বা সংরক্ষণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নতুন সুবিধা পুরোপুরি চালু হলে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হলেও সেটি অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে দৃশ্যমান থাকবে না। নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শুধু ইউজার নেম শেয়ার করলেই হবে।

    হোয়াটসঅ্যাপের প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এই ফিচার তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হওয়ার সময় ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি কাজে আসবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে পরে নিজেদের ইউজার নেম পরিবর্তন বা মুছেও ফেলতে পারবেন।

    ইউজার নেম তৈরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। নামটি কমপক্ষে তিন এবং সর্বোচ্চ ৩৫ অক্ষরের হতে হবে। এতে ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, ফুলস্টপ ও আন্ডারস্কোর ব্যবহার করা যাবে। তবে ‘www.’ দিয়ে ইউজার নেম শুরু করা যাবে না এবং নামের শেষে কোনো ডোমেইন যুক্ত করা যাবে না। শুধু সংখ্যা বা প্রতীক দিয়ে ইউজার নেম তৈরি করা যাবে না; অন্তত একটি ইংরেজি অক্ষর থাকতে হবে।

    পরিচিত ব্যক্তি, তারকা বা সরকারি কর্মকর্তাদের নামে বিভ্রান্তি ও প্রতারণা ঠেকাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউজার নেম আগেই সংরক্ষণ করে রাখছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফলে অন্য ব্যবহারকারীরা এসব নামে ইউজার নেম নিতে পারবেন না। নতুন ফিচারটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কনটেন্ট নির্মাতা ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ব্যবহৃত একই ইউজার নেম হোয়াটসঅ্যাপেও নিতে চাইলে অ্যাকাউন্টস সেন্টারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। তবে ইউজার নেমটি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে অন্য কেউ আগে ব্যবহার করলে সেটি হোয়াটসঅ্যাপে খালি থাকলেও দাবি করা যাবে না।

    ফিচারটি বর্তমানে পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে। নিজের অ্যাকাউন্টে সুবিধাটি এসেছে কি না, তা হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল সেটিংসে গিয়ে দেখা যাবে। চালু হলে সেখানে ইউজার নেম বেছে নেওয়ার অপশন পাওয়া যাবে। ইউজার নেম বুকিংয়ের প্রক্রিয়াটি শুধু মোবাইল অ্যাপ থেকেই করা যাবে। তবে নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রাইভেসি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকলেও সাইবার বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মেটাডেটা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, ইউজার নেম ব্যক্তিগত নম্বর আড়াল করলেও গোপনীয়তার সব ঝুঁকি দূর করবে না।

    এ ছাড়া নতুন ব্যবস্থায় প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। অপব্যবহার ঠেকাতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে ‘ইউজার নেম কি’ নামে একটি বিশেষ সংক্ষিপ্ত কোড ব্যবস্থাও রয়েছে। এটি সক্রিয় থাকলে নির্দিষ্ট ইউজার নেম ও ওই কোড না জানা পর্যন্ত অপরিচিত কেউ প্রথমবার মেসেজ পাঠাতে পারবে না। পাশাপাশি আগের মতোই অবাঞ্ছিত ব্যবহারকারীকে ব্লক ও রিপোর্ট করার সুবিধা থাকবে।

  • ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা, এআই বটের কর্মকাণ্ড স্বীকার করল ওপেনএআই

    ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা, এআই বটের কর্মকাণ্ড স্বীকার করল ওপেনএআই

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বটের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে তথ্য অনুসন্ধান বা প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা বিশ্বের ‘দশকসংখ্যক’ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছে।

    ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এআই এজেন্টগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), সেন্সাস ব্যুরো ও শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানানোর কয়েক দিন পরই ওপেনএআইয়ের এই স্বীকারোক্তি এল। আলবানিজ বলেছিলেন, ওপেনএআইয়ের এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের ওয়েবসাইটে থাকা অপ্রকাশ্য কিছু ফাইলে প্রবেশ করেছিল।

    গত আগস্ট থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য গুরুতর, এমনকি প্রাণঘাতী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    ওপেনএআই বলেছে, তাদের কিছু এআই এজেন্ট—যেগুলো তুলনামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি ও প্রশিক্ষিত—‘জনসাধারণের তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস’ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিল। তবে কিছু এজেন্ট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উদাহরণ হিসেবে ওপেনএআই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য সংগ্রহের সময় তাদের এআই এজেন্ট এমন কিছু টুল ব্যবহার করেছিল, যেগুলো সাধারণত সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।

    ওপেনএআইয়ের দাবি, বটগুলো যেসব সরকারি তথ্য সংগ্রহ করেছে, সেগুলো সবই প্রকাশ্য ছিল।

    তবে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এসইসির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা কিছু তথ্য পরে এআই এজেন্ট অন্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ধরনের কাজ করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। শুক্রবার প্রকাশ করা অন্যান্য ঘটনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কিছু ক্ষেত্রে এআই এজেন্ট এমন তথ্যও স্থানান্তর করেছে, যা তাদের করা উচিত ছিল না।

    এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অন্তত ৫৩টি ঘটনায় ওপেনএআইয়ের কোনো এজেন্ট চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর কার্যক্রম থেকে একটি ছবি নিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে।

    ওপেনএআই বলেছে, এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীরা তাদের তথ্য ব্যবহার করে মডেল প্রশিক্ষণের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, “এটি ওই তথ্য ব্যবহারের উপযুক্ত পদ্ধতি নয়। ”প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এআই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর আগে এসব ব্যবহারকারীর ছবি স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছিল। তৃতীয় পক্ষের কাছে স্থানান্তরিত সব ব্যবহারকারীর ছবি মুছে ফেলার জন্য তারা কাজ করছে।

    রয়টার্স প্রথমে এ বিষয়ে বিস্তৃত তদন্তের খবর প্রকাশ করে। পরে ওপেনএআইও তাদের প্রকাশ্য ব্লগে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

    কিছু ঘটনায় এআই এজেন্ট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ‘এড়িয়ে গেছে’ বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্য কিছু ঘটনায় ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টায় এআই এজেন্টের আচরণে ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’ দেখা যায়। এআই গবেষক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এই শব্দটি ব্যবহার করে এমন আচরণ বোঝাতে, যখন কোনো এআই সিস্টেমকে যেভাবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করে।

    কোন কোন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ সীমিত রেখেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

    ওপেনএআই বলেছে, “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ঘটনার তথ্য দেওয়া এবং কখন ও কীভাবে ঘটনাটি প্রকাশ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ”তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব ঘটনার সবগুলোকে বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পর্যালোচনা করে দেখতে পারে যে তথ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রকাশ্য ছিল অথবা এআই মডেলের কার্যক্রম উদ্বেগজনক ছিল না। আবার কেউ কেউ তাদের সিস্টেমে নকশাগত সমস্যা বা নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে।

    ওপেনএআই এসব ঘটনার অনেকগুলোকে ‘এজেন্ট স্প্যাম’ হিসেবে উল্লেখ করছে। তাদের ভাষায়, ইন্টারনেটে তথ্য পোস্ট করার মতো এআই এজেন্টের ‘অপ্রত্যাশিত বা উদ্বেগজনক’ কর্মকাণ্ডকে এভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

  • ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    বাংলাদেশে ফেসবুকের বিপুল ব্যবহারকারী ও অনলাইন ব্যবসার সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে রাজধানী ঢাকায় কার্যালয় স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সময়সূচির কারণে তিনি এতে অংশ নিতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

    ঢাকায় মেটার কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অফিস খোলার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত আগ্রহী। ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

    বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারীভিত্তিও মেটার এ আগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন ডিজিটাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ফেসবুকের আনুমানিক ব্যবহারকারী ছিল ৭ কোটি ৫১ লাখের বেশি। তবে এসব তথ্য মেটার বিজ্ঞাপনভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া; এগুলোকে প্রকৃত সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ ডিজিটাল খাতের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ই-কমার্স, অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে মেটার সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।

    বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য পেমেন্ট সুবিধাও চালু করেছে মেটা। এর ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিকাশের মতো স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়ছে। এ ছাড়া মেটা ও লাইটক্যাসল পার্টনার্স সম্প্রতি ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি আয়োজন করে। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে ডিজিটাল বিপণন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

    মেটার ‘স্মল বিজনেস গ্রোথ একাডেমি’র আওতায় বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।

    শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং দ্রুত সম্প্রসারিত অনলাইন ব্যবসার বাজারকে কাজে লাগিয়ে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাণিজ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অনলাইন নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • সৌরবিদ্যুতের পালে জোর হাওয়া

    সৌরবিদ্যুতের পালে জোর হাওয়া

    গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির চাপ আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে সৌরবিদ্যুৎ। দেশের কারখানা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও হাটবাজারের ছাদে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সৌর প্যানেল। ইতোমধ্যে ২৩৯টি বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এবার অব্যবহৃত সরকারি ছাদ কাজে লাগিয়ে আরও প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সরকারি হাসপাতাল থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান-বাদ যাচ্ছে না গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনাই। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট এবং অফ-গ্রিড ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর গুলশানের বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করবেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি, সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, ওয়াসা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থাপনা এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একাংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে, আর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।

    শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, শিল্পকারখানায়ও সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটছে দ্রুত। আইইইএফএ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩৯টি বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৬৬৭ মেগাওয়াট। ছোটবড় স্থাপনা মিলিয়ে দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট। আকিজ, প্রাণ-আরএফএল, আবুল খায়ের, ডিবিএল, বিএসআরএম, কাজী ফার্মসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রুফটপ সোলারে গেছে। গ্যাসসংকটে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সৌরবিদ্যুৎ তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ জোগাচ্ছে। গ্রাহকের বাড়ির ছাদও এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে সরকার। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী গ্রাহক এ সুবিধা পাবেন। সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি গত ৫-৭ বছরে ১৫০টি কারখানায় ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার রুফটপ স্থাপন করেছে। এ চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডিজেল জেনারেটরে শিল্পকারখানায় প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় বিদ্যুতে যে উৎপাদন খরচ হয় তার থেকে রুফটপ সোলারে খরচ অনেক কম।

    এদিকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য মানসম্মত সরঞ্জাম আমদানিতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নমানের প্যানেল ঠেকানোর পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি সেবা নিশ্চিত করা না গেলে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে। তবে জ্বালানি আমদানির চাপ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

  • ফোন ভিজে গেলে প্রথমে কোন কাজ করা জরুরি, জানুন

    ফোন ভিজে গেলে প্রথমে কোন কাজ করা জরুরি, জানুন

    ফিচার:

    পানিতে পড়ে গেলে বা ভিজে গেলে স্মার্টফোন বাঁচাতে সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত সেটি বন্ধ করে বিদ্যুৎসংযোগ থেকে দূরে রাখা। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে ফোন চালু রাখা, চার্জে দেওয়া কিংবা পানি বের করতে ঝাঁকানোর মতো ভুল পদক্ষেপে ভেতরের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।পাকিস্তা

    নি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের একটি প্রযুক্তি প্রতিবেদনে পানিতে ভেজা ফোন সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক করণীয় এবং যেসব কাজ এড়িয়ে চলতে হবে, সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোন পানিতে পড়ে যাওয়ার পর বা এতে পানি ঢুকে গেলে সেটি চালু থাকলেও অন্য কোনো বোতাম না চেপে অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে। স্ক্রিন বা অন্য কোনো বোতাম চাপলে ভেতরে থাকা পানি আরও গভীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই ফোন বন্ধ করার পর প্রয়োজন ছাড়া কোনো বোতাম চাপা উচিত নয়। এরপর ভেজা ফোনটি যে কোনো বৈদ্যুতিক উৎস বা চার্জার থেকে দূরে রাখতে হবে। ভেজা অবস্থায় বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে ভেতরের স্পর্শকাতর সার্কিট ও পার্টস পুড়ে যেতে পারে। এমনকি ব্যবহারকারীও বৈদ্যুতিক শকের শিকার হতে পারেন।

    সম্ভব হলে ফোনের ব্যাটারি আলাদা করে ফেলতে হবে। যদিও আধুনিক বেশিরভাগ ফোনে ব্যাটারি খোলার সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি ফোনে থাকা সিম কার্ড এবং মেমোরি বা এসডি কার্ড দ্রুত খুলে বের করে আনতে হবে।

    এরপর যেভাবে শুকাতে হবে

    ফোন বন্ধ করে বিদ্যুৎ থেকে দূরে রাখার পর সেটি শুকানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। প্রথমে একটি পরিষ্কার ও নরম কাপড় দিয়ে ফোনের ডিসপ্লে, পেছনের অংশ এবং চারপাশ ভালোভাবে মুছে নিতে হবে।

    এরপর চার্জিং পোর্ট ও হেডফোন পোর্টের ভেতরে জমে থাকা পানির ফোঁটাগুলো সাবধানে মুছে বা বের করে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

    পানি যতটা সম্ভব মুছে নেওয়ার পর ফোনটি একটি শুকনো ও পরিষ্কার স্থানে রেখে দিতে হবে। পুরোপুরি শুকাতে ফোনটি কয়েক দিন বাতাসে রেখে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ সামান্যতম আর্দ্রতাও ভেতরের যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে।

    ফোন শুকানোর জন্য সিলিকা জেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি এয়ারটাইট ব্যাগে ফোনটির সঙ্গে কয়েকটি সিলিকা জেল প্যাকেট দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা যায়। ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ওষুধ বা জুতোর বাক্সে আর্দ্রতা শোষণের জন্য যে সিলিকা জেল থাকে, তা ফোনের অতিরিক্ত পানি শোষণে সাহায্য করতে পারে।

    সিলিকা জেল হাতের কাছে না থাকলে শুকনো সাদা চালের মধ্যে ফোন রেখে দেওয়া যেতে পারে। তবে এ পদ্ধতিতে ফোন ঠিক হওয়ার নিশ্চয়তা বা সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম।

    যে ভুলগুলো করা যাবে না

    ফোন থেকে পানি বের করার জন্য সেটিকে জোরে জোরে ঝাঁকানো উচিত নয়। এতে পানি বাইরে বের হওয়ার পরিবর্তে ভেতরের জটিল পার্টসে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    একইভাবে ফোন শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার বা কোনো ধরনের তাপ ব্যবহার করা যাবে না। অতিরিক্ত তাপে ফোনের ভেতরের সংবেদনশীল সার্কিট ও ভেজা যন্ত্রাংশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    শুকানোর পর কী করবেন?

    কয়েক দিন শুকিয়ে নেওয়ার পর ফোনটি সম্পূর্ণ শুকনো মনে হলে সেটি চালু করে দেখা যেতে পারে। প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো দ্রুত ও সঠিকভাবে করা হয়ে থাকলে ফোনটি আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    ফোন চালু হলে পরবর্তী কয়েক দিন এর স্পিকার, মাইক্রোফোন এবং চার্জিং ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবে ফোন একেবারেই চালু না হলে নিজে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে একজন বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ানের কাছে নেওয়াই শ্রেয়।

  • বাড়তি চার্জ ক্ষতির কারণ

    বাড়তি চার্জ ক্ষতির কারণ

    কদিন থেকে বেশ গরম আবহ চলছে। অনেকে ফোন চার্জ করার সময় নিজের অজান্তে কিছু বিষয়ে বিভ্রান্ত হন। ফলে অতিরিক্ত গরমে পুরোনো ফোনের চার্জার ফুলে যেতে পারে। আর তাতে ভেতরের সার্কিট গলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ঘটতে পারে যে কোনো ধরনের বিপত্তি। স্মার্টফোনের জন্য সব সময় গুণগত মান বা ভালো ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার করতে হবে।

    সাশ্রয়ী বা অপরিচিত মানের চার্জারে চার্জ যেমন ধীরে হয়, ঠিক তেমনি বাড়তি গরম হওয়ার শঙ্কা প্রবল। তাই যে ফোনটি ব্যবহার করছেন, চেষ্টা করবেন ওই ব্র্যান্ডের নিজস্ব চার্জার ব্যবহার করতে। এতে ফোনে কোনো রকম বাড়তি উত্তাপ ছড়াবে না। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ফোন শাটডাউন হতে যেতে পারে। ফলে ফোন নিজে থেকেই স্বয়ংক্রিয় রিস্টার্ট হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকবার এমনটি ঘটতে পারে।

    চার্জারে যদি কোনো রকম সমস্যা দৃশ্যমান হয়, যেমন– আলগা কানেকশন, প্লাগে ফাটল বা তার ফেটে যাওয়া, তাহলে দ্রুত ও প্রথমে তা ঠিক করতে হবে। শেষমেশ চার্জার অতিরিক্ত গরম হয়ে ডিভাইসের ভেতরের সার্কিট পুড়ে যেতে পারে। এমনটি ঘটছে হরদম। তাপমাত্রা বেশি থাকলে আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বাইরে থাকলে নিশ্চিতভাবে চার্জের সময় হ্যান্ডসেটে বাড়তি গরম অনুভূত হবে। শতভাগ চার্জ হওয়ার আগেই চার্জার থেকে ডিভাইসকে আলাদা করতে হবে।

    অনেক সময় ফোন চার্জ হওয়ার পরও বেখেয়ালে চার্জারটি প্লাগ-ইন রয়ে যায়। যদি এমন অভ্যাস থাকে, তবে এখনই নজরদারি বাড়াতে হবে। পুরোনো ফোনে শতভাগ চার্জ হওয়ার আগেই চার্জার আনপ্লাগ করতে হবে। ফলে ফোনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াবে না।

  • নিরাপত্তায় দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ এআই

    নিরাপত্তায় দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ এআই

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে তার নিরাপত্তা নিয়ে বৈরী সব প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে এবার খোদ শঙ্কা প্রকাশ করল গুগল।
    জানা গেছে, কিছুদিন আগে বিশেষ সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক পরীক্ষার সময়ে জেমিনি এআই মডেল স্বয়ংক্রিয় পন্থায় তিনটি রিয়েল সিস্টেমে প্রবেশ করে।

    সংস্থাটি বলছে, পরীক্ষার সময়ে জেমিনি অনলাইনে থাকা কয়েকটি চমকে দেওয়া ডেটা খুঁজে বের করে। শুধু তাই নয়, রিয়েল সিস্টেমের ক্রেডেন্সিয়াল ব্যবহার করে এমন সাইটে প্রবেশের পথ তৈরি করে। যেসব সে পরীক্ষার অংশ ছিল বলে জানা যায়। তিনটি ক্ষেত্রেই শেষ অবধি জেমিনি নিজে থেকে অ্যাক্টিভিটি বন্ধ করে দেয়।
    আলোচিত এ ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের মধ্যভাগে। স্বাধীন সাইবার সিকিউরিটি চেকিং সংস্থা পরিচালিত পরীক্ষায় জেমিনিকে বিশেষ সিমুলেটেড এনভায়রনমেন্টের মধ্যে কয়েকটি নিরাপত্তার কাজ ও তথ্যের খোঁজ করতে বলা হয়েছে।

    কিন্তু আচমকা দৃশ্যমান হয়, পরীক্ষার মধ্যে অজ্ঞাতে ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার থাকায় মডেলটি প্রকৃত সিস্টেমের মধ্যে প্রবেশ করে।
    শুধু তাই নয়, পরীক্ষায় জেমিনি পাসওয়ার্ড অনুমান করে ওই সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করে।
    অন্য দুটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পাওয়া ক্রেডেন্সিয়াল ব্যবহার করে সিস্টেমে ভেতরে প্রবেশ করে। সংস্থাটি বলছে, যখন জেমিনি বুঝতে পেরেছে সংশ্লিষ্ট সিস্টেম রিয়েল সংস্থার, তখন সেটি তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তিনটি সংস্থাকে এই সিকিউরিটি ভেদ করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
    গুগল সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহসভাপতি হিথার অ্যাডকিন্স বলেছেন, ঘটনাটি সাধারণ নয়; বরং চিন্তার। শক্তিশালী এআই মডেলকে কাজে লাগিয়ে এমন সব কাজ
    করা যেতে পারে, যা ঠিকমতো না করলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
    ঘটনার পেছনে নেপথ্যেঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন এআই এজেন্ট নিয়ে সারাবিশ্বে দুচিন্তা বেড়েছে।

    এর আগে অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই মডেল নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অপ্রত্যাশিত আচরণ প্রকাশ্যে হয়েছে।
    ফলে এআইর ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দ্রুত এগোচ্ছে, তা নিয়ে সারাবিশ্বের টেক মহলে বইছে সমালোচনা ঝড়।

    সক্ষমতা কমানোর ভাবনা
    এরই মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই জানান, এআই মডেলের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে কিছুটা কমানো উচিত। এর উন্নয়ন এমন গতিতে এগোচ্ছে যে পাল্লা দিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান ও এক্সএআইর ইলন মাস্ক এই উদ্বেগে সহমত হয়েছেন।হঠাৎ জেমিনির এমন আচরণ আগামীর সম্ভাব্য বিপদকে ইঙ্গিত করেছে।

  • অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ভয়ানক ফাঁদ

    অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ভয়ানক ফাঁদ

    অনলাইনে একটি কম্পিউটার গেম খেলার সময় এক অপরিচিত ব্যক্তির ফাঁদে পড়েছিল পাকিস্তানি কিশোরী জারা শাহ (ছদ্মনাম)। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সাধারণ কথাবার্তা দিয়ে শুরু হওয়া আলাপ যে তাকে ভয়াবহ অনলাইন যৌন নিপীড়নের দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি সে।

    চলতি মাসে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে গত এক বছরে আনুমানিক ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। জারাও তাদের একজন।

    ১৭ বছর বয়সি জারা জানিয়েছে, ‘অনলাইনে গেম খেলার সময় আমাদের কথাবার্তা শুরু। প্রথম দিকে সে আমার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করে। কিছুদিন পর সে দেখা করার কথা বলে এবং একপর্যায়ে আমার নগ্ন ছবি চাইতে শুরু করে।’

    জারা আরও বলেছে, ‘আমি রাজি না হওয়ায় সে হুমকি দেয়, অনলাইনে আমার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের জানিয়ে দেবে যে আমাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে।’

    ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি ভুক্তভোগী শিশুদের ৮৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই নিপীড়ক ছিলেন তাদের পরিচিত কেউ।

    ইউনিসেফের এ বৈশ্বিক প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড্যানিয়েল কারডেফেল্ট এএফপিকে বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন, গেম খেলার সময় আলাপ, উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, অর্থ কিংবা প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে নিপীড়ন শুরু হতে পারে।’

    অপরাধীরা সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে তাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। আর এ জন্য অনেক সময় মাসের পর মাস লেগে যায়।ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকলজ্জা, সমাজ ও পরিবারের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে পাকিস্তানে এক বছরে ভুক্তভোগী ৭১ শতাংশ শিশু নিপীড়নের বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এমনকি জরিপে অংশ নেওয়া কোনো শিশুই পুলিশ, হেল্পলাইন বা সমাজকর্মীদের মতো আনুষ্ঠানিক কোনো মাধ্যমে অভিযোগ দেয়নি।

    অনলাইনে গেম খেলার সময় আমাদের কথাবার্তা শুরু। প্রথম দিকে সে আমার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করে। কিছুদিন পর সে দেখা করার কথা বলে এবং একপর্যায়ে আমার নগ্ন ছবি চাইতে শুরু করে।

    লাহোরভিত্তিক শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা পহচানের পরিচালক মেহেক নাঈম বলেন, এক বছরের মধ্যে নথিভুক্ত হওয়া যৌন নিপীড়নের প্রায় ৪৪ শতাংশই ঘটেছে অনলাইনে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাট।

    অপরাধীরা কৌশলে ভুক্তভোগীর গোপন ছবি, ভিডিও বা কোনো সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয়। এরপর সেগুলো পরিবার কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণত ভুক্তভোগীকে আরও নতুন কোনো সংবেদনশীল ছবি দিতে কিংবা শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে কিংবা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বসে। রক্ষণশীল

    সমাজব্যবস্থার কারণে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। অনেক সময় ঘটনা জানাজানি হলে মেয়েদের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আসে কিংবা তাদের স্কুল ছাড়তেও বাধ্য করা হয়।

    জারার ক্ষেত্রে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার হুমকিই তার মুখ বন্ধ রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। সে বলেছে, পরিবার জানতে পারলে হয়তো তার স্কুলে যাওয়া কিংবা ঘর থেকে বের হওয়া চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত। তাই প্রতিদিন তীব্র মানসিক দুশ্চিন্তায় মরতে হলেও সে মুখ খোলেনি।

    ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুদের প্রায় ৭৪ শতাংশই নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    অপরাধীরা কৌশলে ভুক্তভোগীর গোপন ছবি, ভিডিও বা কোনো সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয়। এরপর সেগুলো পরিবার কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণত ভুক্তভোগীকে আরও নতুন কোনো সংবেদনশীল ছবি দিতে কিংবা শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে কিংবা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বসে।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার চলতি মাসে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। তবে এ প্রস্তাব তীব্র আপত্তির মুখে পড়েছে।

    ডিজিটাল অধিকারকর্মী ওসামা খিলজি বলেন, ‘আমি এ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে একমত নই। এটি কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন এবং শিশুরা ভিপিএন ব্যবহার করে খুব সহজেই এ বাধা এড়িয়ে যাবে। তা ছাড়া শিশুদের মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা রয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা তা কেড়ে নেবে।’

    প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধ দমনে পাকিস্তানে আইনি কাঠামো আছে। তবে অলাভজনক সংগঠন মুসলিম হ্যান্ডসের মুখপাত্র তাহিরা আফ্রাসিয়াব বলেন, ‘এটির কোনো বাস্তবায়ন নেই।’

    আইনজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান আইনেও অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী সালমান আফ্রিদি বলেন, শিশুদের অর্থনৈতিক দুর্বলতা পুঁজি করে মাত্র ১০ হাজার রুপির বিনিময়ে তাদের দিয়ে যৌন কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

    সালমান আফ্রিদি বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তির এমন এক অপব্যবহার দেখছি, যেখানে শিশুদের প্রলুব্ধ করা, ব্ল্যাকমেইল, কনটেন্ট তৈরি ও তা বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পুরো একটি চক্র কাজ করছে। একে স্পষ্টভাবেই শোষণের একটি বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেম বলা যায়।’

    জারা এবং তার মতো অনেক শিশুর জন্য অনলাইন গেম দিয়ে শুরু হওয়া সেই দুঃস্বপ্ন থেকে আর বেরিয়ে আসা সম্ভব হয় না। জারা আক্ষেপ করে বলে, ‘আমি তখনো যেমন ভয় পেয়েছি, এখনো পাচ্ছি। আমি আসলে এক চরম আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে আছি।’

  • পাসকি বনাম পাসওয়ার্ড

    পাসকি বনাম পাসওয়ার্ড

    ই-মেইল, ফেসবুক, অনলাইন ব্যাংকিং, শপিং, কিংবা কোনো অ্যাপ—ইন্টারনেটের প্রায় প্রতিটি জায়গায় প্রবেশ করতে আমাদের একটি পরিচয় দরকার। এতদিন সেই পরিচয়ের সবচেয়ে পরিচিত চাবি ছিল পাসওয়ার্ড। কখনো বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হয়েছে। আবার নিরাপত্তার জন্য একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার না করার পরামর্শও শুনেছি। কিন্তু প্রযুক্তির জগতে এখন সেই পরিচিত ব্যবস্থার পাশে উঠে এসেছে নতুন একটি শব্দ পাসকি (Passkey)। পাসওয়ার্ড ছাড়াই লগইন করার এই প্রযুক্তি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে কি পাসওয়ার্ডের জায়গা পুরোপুরি দখল করে নেবে পাসকি?

    পাসওয়ার্ডের সমস্যা মূলত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মানুষের অভ্যাস থেকেই তৈরি হয়। অনেকেই সহজে মনে রাখার জন্য একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করেন। কেউ আবার জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, নাম কিংবা সহজ কোনো শব্দ ব্যবহার করেন। ফলে পাসওয়ার্ড অনুমান করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে যেতে পারে। আবার কোনো ওয়েবসাইটের তথ্যভান্ডার থেকে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে একই পাসওয়ার্ড অন্য সেবায় ব্যবহার করা থাকলে একাধিক অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফিশিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে নকল ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে তার পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়াও একটি পরিচিত সমস্যা।

    পাসকি এই সমস্যার একটি ভিন্ন পদ্ধতিতে সমাধান করতে চায়। এখানে ব্যবহারকারীকে মনে রাখার মতো কোনো পাসওয়ার্ড লিখতে হয় না। এর পরিবর্তে ডিভাইস ও ওয়েবসাইটের মধ্যে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফিক কি’ বা চাবি ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে পাসকি তৈরির সময় একটি ‘পাবলিক কি’ এবং একটি ‘প্রাইভেট কি’ তৈরি হয়। পাবলিক কি সংশ্লিষ্ট অনলাইন সেবার কাছে সংরক্ষিত থাকতে পারে, আর প্রাইভেট কি ব্যবহারকারীর ডিভাইস বা সংশ্লিষ্ট নিরাপদ ব্যবস্থায় থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রাইভেট কি সাধারণত ওয়েবসাইটের সার্ভারে পাসওয়ার্ডের মতো করে পাঠানো হয় না।

    তাহলে লগ ইন করবেন কীভাবে? ধরা যাক, আপনি কোনো ওয়েবসাইটে পাসকি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। পরে আবার সেখানে প্রবেশ করতে গেলে ওয়েবসাইট আপনার ডিভাইসকে একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক চ্যালেঞ্জ দিতে পারে। আপনার ডিভাইসের নিরাপদ ব্যবস্থা সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দেয় প্রাইভেট কি ব্যবহার করে। এরপর ওয়েবসাইটের কাছে থাকা পাবলিক কি দিয়ে সেই জবাব যাচাই করা হয়। ব্যবহারকারীর দিক থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ মনে হতে পারে—ফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মুখ শনাক্তকরণ, পিন বা ডিভাইসের স্ক্রিন লক ব্যবহার করেই লগইন সম্পন্ন হয়ে যায়।

    এখানেই পাসকির বড় পার্থক্য। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা মুখের তথ্যকে সরাসরি ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড হিসেবে পাঠানো হয় না। বরং ডিভাইসের স্থানীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহারকারীকে প্রমাণীকরণ করে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোগ্রাফিক কি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। ফলে একটি ওয়েবসাইটে লগ ইন করতে গিয়ে প্রতিবার নিজের বায়োমেট্রিক তথ্য সেই ওয়েবসাইটের কাছে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না।

    পাসকির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ফিশিং প্রতিরোধের ক্ষমতা। সাধারণ পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারী ভুল করে আসল ওয়েবসাইটের মতো দেখতে নকল সাইটে গিয়ে পাসওয়ার্ড লিখে ফেলতে পারেন। পাসকি ব্যবস্থায় ক্রিপ্টোগ্রাফিক পরিচয় নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে নকল ওয়েবসাইটে গিয়ে পাসকি দিয়ে লগইন করানো অনেক বেশি কঠিন। এ কারণেই পাসকি শুধু ‘পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা কমানোর’ প্রযুক্তি নয়। এটি অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আনছে।

    তবে পাসওয়ার্ড একেবারে অচল হয়ে যায়নি। পৃথিবীর অসংখ্য ওয়েবসাইট ও অ্যাকাউন্ট এখনো পাসওয়ার্ডনির্ভর। অনেক ব্যবহারকারী পুরোনো ডিভাইস বা এমন সেবা ব্যবহার করেন, যেখানে পাসকি সমর্থন নেই। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাসকি ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার, ব্যাকআপ বা অন্য প্রমাণীকরণ পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে পাসকি ও পাসওয়ার্ড পাশাপাশি চলাই বেশি স্বাভাবিক।

    পাসকির সঙ্গে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে। আধুনিক ডিভাইস ও বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার পাসকি সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে গেলে কীভাবে পাসকি পাওয়া যাবে, কীভাবে ব্যাকআপ থাকবে এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা যাবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ পাসকি পাসওয়ার্ডের মতো শুধু একটি শব্দ মনে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যবহারকারীর ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট এবং নিরাপদ পরিচয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবস্থা।

    এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—পাসকি মানেই নিরাপত্তার সব সমস্যা শেষ নয়। ব্যবহারকারীর ফোন বা কম্পিউটার অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণে নিলে, ডিভাইসের স্ক্রিন লক দুর্বল হলে বা ব্যবহারকারী প্রতারণার শিকার হলে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে । তাই শক্তিশালী ডিভাইস পিন ব্যবহার করা, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা, নিরাপদ অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও পাসওয়ার্ডহীন ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। FIDO Alliance-এর তৈরি FIDO2 ও WebAuthn-এর মতো মানদণ্ড পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রমাণীকরণকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। Apple, Google ও Microsoft-এর মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে passkey সুবিধা যোগ করেছে। এর ফলে ব্যবহারকারীর জন্য পাসকি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহারের সুযোগ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

    ভাবুন, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুললেন। সাইটটি আপনাকে ‘একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন’ বলল না; বরং বলল, ‘পাসকি তৈরি করুন।’ আপনি ফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলেন বা স্ক্রিন লক দিয়ে অনুমোদন করলেন—ব্যস, অ্যাকাউন্ট তৈরি। পরেরবার লগ ইন করার সময়ও একইভাবে পরিচয় নিশ্চিত হলো। কোনো পাসওয়ার্ড মনে রাখা বা বারবার টাইপ করার প্রয়োজন হলো না। এই অভিজ্ঞতাই পাসকির মূল লক্ষ্য।

    তাহলে ভবিষ্যতের লগইন ব্যবস্থা কোনটি—পাসকি নাকি পাসওয়ার্ড? বাস্তবে উত্তরটি একেবারে ‘একটি বাদ দিয়ে অন্যটি’ নয়। বর্তমানে পাসওয়ার্ড এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও পাসকি এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে এগোচ্ছে, যা পাসওয়ার্ডনির্ভর লগ ইনের প্রয়োজন কমাতে পারে। বিশেষ করে ফিশিং প্রতিরোধ, ব্যবহারকারীর সুবিধা এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক নিরাপত্তার কারণে এর গুরুত্ব বাড়ছে। ভবিষ্যতে হয়তো আমরা আর ভাবব না—‘আমার পাসওয়ার্ডটা কী?’ বরং ফোন বা কম্পিউটারকে বলব, ‘আমিই আমি’, আর প্রযুক্তি তা প্রমাণ করে দেবে।

  • ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য মেশিন

    ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য মেশিন

    পর্ব ৩: ওয়েবসাইট আর বিজ্ঞাপনের গল্প

    সকাল ১০টা ২০ মিনিট। রাফিদ তখন আগের দিনের একটি ক্যাম্পেইনের রিপোর্ট দেখছিলেন। হঠাৎ পাশের ডেস্কের তানভীর বললেন,

    – ভাই, একটা জিনিস অনেক দিন ধরে ভাবছি। আমি বাসায় যে বিজ্ঞাপন দেখি, আপনি কি অফিসে বসে একই বিজ্ঞাপন দেখেন?

    রাফিদ বললেন,

    – সবসময় না।

    – কেন? আমরা তো একই ওয়েবসাইটে ঢুকি!

    রাফিদ চেয়ার ঘুরিয়ে বললেন,

    – ওয়েবসাইট একই হতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞাপন দেখানোর সময় দুইজন ব্যবহারকারীর জন্য পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে।

    তানভীরের কৌতূহল আরও বাড়ল।

    রাফিদ একটি ক্যাম্পেইনের সেটিংস খুললেন।

    – ধরুন, একটি কোম্পানি নতুন একটি মোটরসাইকেল বাজারে এনেছে। তারা ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে বিজ্ঞাপনটি বেশি দেখাতে চায়। এখন প্রশ্ন হলো, ওয়েবসাইটে ঢোকা প্রত্যেক মানুষকেই কি একই বিজ্ঞাপন দেখানো হবে?

    – মনে হয় না।

    – ঠিক। এখানেই আসে টার্গেটিং (Targeting)

    টার্গেটিং এর নেপথ্যে কী?

    ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে একজন ব্যবহারকারীকে বোঝার জন্য বিভিন্ন ধরনের অনুমোদিত সিগন্যাল ব্যবহার করা হতে পারে। যেমন ডিভাইসের ধরন, ভৌগোলিক তথ্য, ওয়েবপেজের কনটেক্সট, ভাষা, সময় বা ক্যাম্পেইনের নির্ধারিত অডিয়েন্স সিগন্যাল।

    তানভীর বললেন,

    – তাহলে কি বিজ্ঞাপনদাতা প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য জানেন?

    রাফিদ মাথা নাড়লেন।

    – বিষয়টা এত সরল নয়। ব্যক্তিগত তথ্য, কনসেন্ট, প্রাইভেসি এবং কোন ডেটা কীভাবে ব্যবহার করা যাবে – এসবের ওপর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সব ধরনের ডেটা ইচ্ছেমতো সংগ্রহ বা ব্যবহার করা যায় না।

    রাফিদ এবার আরেকটি উদাহরণ দিলেন।

    – ধরুন, আপনি একটি রান্নার রেসিপি পড়ছেন। আর আমি পড়ছি ফুটবল নিয়ে খবর। একই ওয়েবসাইট হলেও আমাদের পেজের কনটেক্সট আলাদা। বিজ্ঞাপনদাতা যদি কনটেক্সট বিবেচনা করে, তাহলে আমাদের সামনে ভিন্ন বিজ্ঞাপন আসতে পারে।

    – মানে আমার পড়া বিষয়টাও বিজ্ঞাপন নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে?

    – কিছু ক্ষেত্রে, হ্যাঁ। এটাকে কন্টেক্সচুয়াল টার্গেটিং – এর একটি উদাহরণ হিসেবে ভাবতে পারেন।

    কথা বলতে বলতে রাফিদ একটি ক্যাম্পেইনের সেটিংসে ঢুকলেন।

    সেখানে দেখা গেল, বিজ্ঞাপনদাতার চাহিদা অনুযায়ী অডিয়েন্সকে খুব নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে।

    তানভীর বললেন,

    – “এটা তো ভালো! যত নির্দিষ্ট, তত ভালো, তাই না?”

    রাফিদ হেসে বললেন,

    – “সবসময় নয়।”

    টার্গেটিং অতিরিক্ত সংকীর্ণ হলে কাঙ্ক্ষিত অডিয়েন্সের পরিমাণ এত কমে যেতে পারে যে ক্যাম্পেইনই ঠিকমতো ডেলিভারি করতে পারবে না। আবার টার্গেটিং খুব বিস্তৃত হলে বিজ্ঞাপন এমন মানুষের কাছেও যেতে পারে, যাদের কাছে সেটি তেমন প্রাসঙ্গিক নয়।

    অর্থাৎ এখানে একটি ভারসাম্য দরকার

    বিজ্ঞাপনের ফ্রিকোয়েন্সি

    রাফিদ বললেন,

    – “বিজ্ঞাপনদাতার আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত – আমি কাকে পৌঁছাতে চাই? আর AdOps – এর প্রশ্ন – এই অডিয়েন্সকে বাস্তবে কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া সম্ভব?”

    কিন্তু এখানে আরেকটি বিষয় আছে – ফ্রিকোয়েন্সি (Frequency)।

    একই মানুষকে বিজ্ঞাপনটি একবার দেখানো হলো। তারপর আবার। তারপর আবার।

    রাফিদ বললেন,

    – “একজন ব্যবহারকারীকে বারবার বিজ্ঞাপন দেখালে সবসময় ফল ভালো হবে না। বরং অতিরিক্ত exposure বিরক্তি তৈরি করতে পারে।”

    তাই অনেক ক্যাম্পেইনে ফ্রিকোয়েন্সি ক্যাপ – এর মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা হয়। একজন ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট সময়ে কতবার বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন, তার সীমা নির্ধারণ করার জন্য।

    তানভীর বললেন,

    – “তাহলে বিজ্ঞাপন দেখানোও একটা হিসাব?”

    – “একদম। কাকে দেখাব, কতবার দেখাব, কোন পরিবেশে দেখাব – সবই হিসাব।”

    ঠিক তখন রাফিদের মেইলে নতুন একটি ব্রিফ এল।

    ক্যাম্পেইনটি আগামীকাল থেকে শুরু হবে।

    তিনি বললেন,

    – “এখন আমাদের দেখতে হবে, বিজ্ঞাপনদাতা যাদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন, বাস্তবে সেই অডিয়েন্সের জন্য পর্যাপ্ত ইনভেন্টরি আছে কি না।”

    তানভীর বললেন,

    – “মানে টার্গেটিং ঠিক করলেই কাজ শেষ নয়?”

    রাফিদ মুচকি হাসলেন।

    ব্যবহারকারী যেন সোনার হরিণ

    – “টার্গেটিং হলো দরজা ঠিক করা। কিন্তু দরজার ওপারে সত্যিই কাঙ্ক্ষিত মানুষ আছে কি না, সেটাও দেখতে হয়।”

    কম্পিউটারের স্ক্রিনে নতুন ক্যাম্পেইনের সেটিংস খুলে গেল।

    একই ওয়েবসাইটে হাজার মানুষ ঢুকবে।

    কেউ খেলাধুলার খবর পড়বে। কেউ অর্থনীতি। কেউ বিনোদন।

    আর প্রত্যেক বিজ্ঞাপনদাতার লক্ষ্য হবে – তার জন্য প্রাসঙ্গিক সেই মানুষটিকে খুঁজে পাওয়া।

    ব্যবহারকারী হয়তো শুধু একটি ব্যানার দেখবেন।

    কিন্তু সেই ব্যানারের পেছনে কাজ করবে অডিয়েন্স, কনটেক্সট, ডেটা, নিয়ম এবং সিদ্ধান্তের একটি অদৃশ্য জাল।

    রাফিদ বললেন,

    – এবার আসল প্রশ্ন হলো – বিজ্ঞাপনটা যার কাছে গেল, সে দেখল কি না, ক্লিক করল কি না, আর শেষ পর্যন্ত কিছু করল কি না। সেটা জানতে হলে আমাদের আরেকটি মেশিন চালু করতে হবে।

    তানভীর জিজ্ঞেস করলেন,

    – “কোন মেশিন?”

    রাফিদ বললেন,

    – “ট্র্যাকিং আর মেজারমেন্ট।”

    (চলবে)

  • এআইয়ের ধাক্কায় ৮০% আয় কমেছে ফ্রিল্যান্সারদের

    এআইয়ের ধাক্কায় ৮০% আয় কমেছে ফ্রিল্যান্সারদের

    বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সার বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছেন। গত কয়েক বছরের অনানুষ্ঠানিক হিসাব এটি। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থানের ফলে ছোটখাটো ডিজিটাল কাজের ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    দেশের ফ্রিল্যান্সারদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ, ট্রান্সক্রিপশন এবং ছবি এডিটিংয়ের মতো সহজ ও ছোটখাটো কাজ করে থাকে।

    কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মুহূর্তের মধ্যে ডিজাইন তৈরি, কোডিং, ছবি এডিটিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল কাজগুলো করে ফেলতে পারছে। আর এতে ফ্রিল্যান্সারদের আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

    ফ্রিল্যান্সাররা জানিয়েছেন, বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আগের মতো নিয়মিত কাজের প্রস্তাব আসছে না। আর যেসব কাজ পাওয়া যাচ্ছে, এআইয়ের কল্যাণে সেগুলো শেষ করতে আগের চেয়ে অনেক কম সময় লাগছে।

    ডিজিটাল সেবাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরো ফ্রিল্যান্সিং বাজারের চিত্রই বদলে দিচ্ছে।

    এখন আমেরিকার মতো দেশের কোনো কোম্পানি থেকে ১০ ডলারের একটি লোগো ডিজাইনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। কারণ এআই টুল ব্যবহার করে ক্লায়েন্টরা নিজেরাই এখন লোগোর প্রথম সংস্করণটি তৈরি করে ফেলছেন।

    তার বদলে, তারা এখন এআই দিয়ে তৈরি পুরো মাল্টিমিডিয়া ক্যাম্পেইনটিকে নিখুঁত ও কাস্টমাইজ করার জন্য কোনো দক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে ১০০ ডলার দিতেও দ্বিধা করছেন না।

    ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কাজ থেকে জটিল কাজের দিকে সরে আসার এই প্রক্রিয়াটি হয়তো অনেক স্বল্প বেতনের চাকরি বিলুপ্ত করে দেবে, কিন্তু যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, তাদের জন্য অনেক বেশি লাভজনক সুযোগের দুয়ার খুলে যাবে।

    আয়ের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে

    দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার জানিয়েছেন, তাদের কাজের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রাফিক ডিজাইন, ছবি এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট প্রোডাকশন ও ফটোগ্রাফির মতো প্রচলিত কাজগুলোর চাহিদা অনেক কমে গেছে।

    ২০১১ সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করছেন এমরাজিনা ইসলাম। তিনি জানান, একটি বড় ক্লায়েন্ট হারানোর পর তার আয় ৮০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা ২০১২ সাল থেকে একটি কোম্পানির কাজ করতাম। একপর্যায়ে আমাদের টিমে ১৫ জন কর্মী ছিল।’

    ওই কোম্পানি তাদের অফিস এবং ল্যাপটপের সুবিধাও দিত। এমনকি কোভিড মহামারির সময়ে ওই কোম্পানির ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের টিমের সদস্য সংখ্যাও বেড়েছিল।

    কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সার আক্ষেপ করে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আসার পর আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বন্ধ হয়ে গেছে।’

    এমরাজিনার টিম আগে যে ধরনের কাজ করতো—যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ইমেজ এডিটিং এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট—এখন তার সবই এআই দিয়ে করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, এই প্রভাব কেবল ডিজাইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজও বদলে গেছে। আগে যেসব কাজে বিশাল বড় টিমের প্রয়োজন হতো, এখন এআই টুল ব্যবহার করে খুব অল্প মানুষই সেই কাজগুলো সেরে ফেলছে।

    তিনি আরও বলেন, যারা সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং, ফটো এডিটিং এবং ডেটা এন্ট্রির মতো মৌলিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন।

    প্রায় ২০ বছর ধরে ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ইউসুফ তুষার জানান, এআই দিয়ে তৈরি ছবি বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফির চাহিদাকে অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। আগে পণ্য বা মডেলের ছবি কিংবা স্টক ফটোগ্রাফির জন্য ক্লায়েন্টরা ফটোগ্রাফারদের ওপর নির্ভর করতেন।

    কিন্তু এখন অনেক কোম্পানি কোনো প্রকার শুটিং বা ঝক্কি ছাড়াই এআই ব্যবহার করে প্রয়োজনমতো ছবি তৈরি করে নিচ্ছে।

    ইউসুফ তুষার বলেন, ‘আমার আয়ের বড় একটা অংশ এখন নেই। কারণ ক্লায়েন্টরা মনে করেন, বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি প্রয়োজন হলে তারা সেটা এআই দিয়েই বানিয়ে নিতে পারবেন।’

    ইউসুফ তুষার জানান, এআইয়ের প্রভাবে তার আয় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

    তুষারের মতে, স্টক ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এই ধস সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। ক্যালেন্ডার বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজের জন্য ক্লায়েন্টরা এখন আর ছবি কেনার প্রয়োজন বোধ করছেন না।

    তিনি বলেন, এই পরিবর্তনটি অনেকটা আগেরকার প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো।

    ‘আমরা যখন ফিল্ম ক্যামেরা থেকে ডিজিটাল ক্যামেরায় অভ্যস্ত হচ্ছিলাম, তখনও একটা ধাক্কা এসেছিল। তবে এআইয়ের প্রভাব তার চেয়ে অনেক বেশি বড়।’

    প্রায় ১৪ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করছেন ঢাকার ফ্রিল্যান্সার কাজী মামুন। তিনি জানান, বাজারে কাজের সুযোগ কমে গেছে, অথচ অল্প যেটুকু কাজ বাকি আছে, তা পাওয়ার প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।

    মামুন জানান, তার নিজের কাজের পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে দীর্ঘদিনের সরাসরি ক্লায়েন্ট থাকার কারণে তিনি পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারছেন। তার পাঁচ সদস্যের টিম এখন আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সরাসরি নতুন ক্লায়েন্ট খোঁজার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

    মামুন বলেন, ‘অনেকের কাজের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে, কারও আবার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এমনকি অনেকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ক্লায়েন্টরা এখন অনেক কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করছেন। ছোটখাটো প্রজেক্টের জন্য তারা আগের মতো এখন আর ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগ দিচ্ছেন না।’

    এআইয়ের সুবাদে বাড়ছে উচ্চ আয়ের কাজের সুযোগ

    সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের বদলে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে এখন এআই-নির্ভর কাজের চাহিদা এবং পারিশ্রমিক দুটোই বাড়ছে।

    আপওয়ার্কের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের প্ল্যাটফর্মে এআই-সংক্রান্ত কাজের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ বেড়েছে ৫২ শতাংশ।

    যারা এআই নিয়ে কাজ করছেন, তারা সাধারণ কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের তুলনায় গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

    তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব কিছুটা ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে, কারণ দেশের যে ফ্রিল্যান্সাররা মূলত এন্ট্রি-লেভেল বা সাধারণ মানের কাজ করেন, তাদের সেই কাজগুলো এখন এআই খুব সহজেই করতে পারছে।

    এমরাজিনা ইসলাম বলেন, ‘কেউ যদি এআই-তে খুব দক্ষ হয়ে ওঠে, তবে তার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। আর যে এআই শিখবে না, সে পিছিয়ে পড়বে।’

    প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, বৈশ্বিক সেবা খাতের বাজার দ্রুত এআই-নির্ভর হয়ে উঠছে। এই বাজারে টিকে থাকার মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে এখনই জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগ দিতে হবে।

    প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা জরুরি

    ফ্রিল্যান্সার এমরাজিনা বলেন, আগে যেসব সাধারণ কাজের চাহিদা ছিল, সেগুলোর ভবিষ্যৎ খুব একটা উজ্জ্বল নয়। তাই স্থানীয় ফ্রিল্যান্সারদের মূল দক্ষতার পাশাপাশি এখন যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ওপর জোর দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (বিএফডিএস) চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান বলেন, এআই ফ্রিল্যান্সিং বাজারকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, আমাদের দেশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না।

    তানজিবা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে যে ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, তা মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের (এন্ট্রি লেভেল)। আর এ কারণেই আমরা এখন আর আগের মতো কাজ পাচ্ছি না।’

    তার মতে, ভয়ের কারণ এটা নয় যে এআই সব ফ্রিল্যান্সিং কাজ শেষ করে দেবে। বরং আসল ঝুঁকি হলো, আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা যদি এমন সব কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেন যা এআই এখন সহজেই করতে পারে, তাহলেই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

    তিনি গণিত, পরিসংখ্যান, গবেষণাসহ এমন কিছু বিশেষায়িত ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এখনো অনেক সুযোগ রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা সেখানে খুব একটা কাজ করেননি।

    তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যেসব কাজে সৃজনশীলতা ও মানবিক বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন হয়, ক্লায়েন্টরা এখনো সেগুলোকে গুরুত্ব দেন।

    তানজিবা আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করা; এবং দ্বিতীয়ত, দেশে এমন মেন্টর বা প্রশিক্ষক তৈরি করা, যারা ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।’

  • হোয়াটসঅ্যাপের অটো ডাউনলোড বন্ধ করবেন যেভাবে

    হোয়াটসঅ্যাপের অটো ডাউনলোড বন্ধ করবেন যেভাবে

    বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাজারে বেশি স্টোরেজের ফোন এলেও কিছুদিন পরই অনেকের ডিভাইসের স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হোয়াটসঅ্যাপে আসা অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হয়ে যাওয়া। এতে ফোনের স্টোরেজ দ্রুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডাটা খরচও বাড়তে পারে। তবে চাইলে খুব সহজেই হোয়াটসঅ্যাপের অটো ডাউনলোড ও মিডিয়া সেভ সংক্রান্ত সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    অটো ডাউনলোড কী?

    হোয়াটসঅ্যাপে অটো ডাউনলোড চালু থাকলে চ্যাট বা গ্রুপে আসা ছবি, ভিডিও, অডিও ও বিভিন্ন ফাইল নির্দিষ্ট সেটিংস অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হতে পারে। ফলে প্রয়োজন না থাকলেও ফোনের স্টোরেজে এসব ফাইল জমতে থাকে। অপ্রয়োজনীয় মিডিয়া জমা হওয়া ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপের অটো ডাউনলোড সেটিংস পরিবর্তন করা যেতে পারে।

    অটো ডাউনলোড বন্ধ করবেন যেভাবে

    হোয়াটসঅ্যাপে অটো ডাউনলোড বন্ধ করতে প্রথমে অ্যাপের সেটিংসে যান। এরপর স্টোরেজ অ্যান্ড ডাটা অপশনে প্রবেশ করুন। সেখানে মিডিয়া অটো ডাউনলোড অংশে গিয়ে মোবাইল ডাটা, ওয়াই-ফাই ও রোমিংয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরনের মিডিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন।

    প্রয়োজনে সব ধরনের মিডিয়ার অটো ডাউনলোড বন্ধ করে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছবি বা ভিডিও পরে চাইলে ম্যানুয়ালি ডাউনলোড করা যাবে।

    এ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো চ্যাট বা গ্রুপের ছবি গ্যালারিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো বন্ধ করতে মিডিয়া ভিজিবিলিটি সেটিংসও ব্যবহার করা যায়। অপ্রয়োজনীয় গ্রুপের ক্ষেত্রে এই সেটিংস বন্ধ রাখলে ফোনের গ্যালারিতে সেসব মিডিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে না।

    কেন বন্ধ রাখবেন?অটো ডাউনলোড বন্ধ রাখলে অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও ও ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনে জমা হবে না। এতে মোবাইল ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ কমানো এবং স্টোরেজের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে যেসব গ্রুপে নিয়মিত প্রচুর ছবি ও ভিডিও আসে, সেসব ক্ষেত্রে এই সেটিংস বেশ কার্যকর হতে পারে।

  • বিকল্প স্টোরেজ পাবেন যেভাবে

    বিকল্প স্টোরেজ পাবেন যেভাবে

    তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

    ফুরিয়ে গেছে গুগল ড্রাইভের ১৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ। ভাবছেন বিকল্প কিছু। স্মার্টফোনে ছবি, ভিডিও, পিডিএফ বা জরুরি ডকুমেন্ট সংরক্ষণে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে টেলিগ্রাম। মেসেজ পাঠানো ছাড়া এই অ্যাপের ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করে অনেক ধরনের ফাইল একাধিক ডিভাইসে সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
    জানা জরুরি, টেলিগ্রামের নির্দিষ্ট ২ জিবি কোনো আলাদা ফ্রি স্টোরেজ প্যাকেজ নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ২ জিবি পর্যন্ত একটি ফাইল আপলোড করতে পারেন। একাধিক ফাইল রাখতে ব্যবহার করা যায় এর ক্লাউড চ্যাট।

    ফাইল রাখবেন যেভাবে
    প্রথমে টেলিগ্রাম অ্যাপে যেতে হবে। এরপর প্রবেশ করতে হবে সেভড মেসেজেস অপশনে। সেখানে টেলিগ্রামের সার্চ অপশনে গিয়ে সেভড মেসেজেস লিখে সার্চ করতে হবে। এটি যে কারও ব্যক্তিগত জায়গা, যেখানে নিজের জন্য মেসেজ, ছবি, ভিডিও ও ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়।
    সেভড মেসেজেস অপশনে প্রবেশ করে অ্যাটাচমেন্ট আইকনে ক্লিক করতে হবে। এ অংশে গ্যালারি থেকে ছবি বা ভিডিও যেসব সেভ করে রাখতে চাইছেন, সেসব নির্বাচন করতে হবে। ওয়াড ফাইল, পিডিএফ বা অন্য কোনো ডকুমেন্ট রাখতে চাইলে ফাইল অপশনে যেতে হবে। এই অংশে ফাইল নির্বাচন করে সেন্ড করতে হবে।

    বড় ফাইলের ধারণক্ষমতা
    টেলিগ্রামের বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে ফাইলের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ২ জিবি। এই প্ল্যাটফর্মের প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা ৪ জিবি স্টোরেজ পেয়ে থাকেন। এর অর্থ বড় ভিডিও বা ডকুমেন্ট পাঠানো সম্ভব।

    কম্পিউটারে ব্যবহার
    কম্পিউটারে টেলিগ্রাম ডেস্কটপ বা ওয়েব সংস্করণের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এ অংশে সেভড মেসেজেস অপশনে গিয়ে সংরক্ষিত ফাইল ডাউনলোড করা যাবে। ফলে যে কোনো ডিভাইস থেকে আপলোড করা ফাইল কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়। তবে টেলিগ্রামকে গুগল ড্রাইভের পুরোপুরি বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই। এ ছাড়া টেলিগ্রাম ব্যবহারের আগে জরুরি ব্যক্তিগত নথি সেভ করে রাখতে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত
    করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • নতুন সাবস্ক্রিপশন সক্রিয় করল মেটা

    নতুন সাবস্ক্রিপশন সক্রিয় করল মেটা

    প্রযুক্তি ডেস্ক:

    নতুন সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা মেটা ওয়ান ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই পরিষেবায় ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ
    ও মেটা এআইর বেশ কয়েকটি বাড়তি ফিচার পাওয়া যাবে। সংস্থাটি বলছে, মূল অ্যাপ ও মেটা এআইর সাধারণ পরিষেবা আগের মতোই বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে মিলবে বিশেষ ফিচার, বেশি এআই ব্যবহার করার সুবিধা ও মানোন্নত ক্রিয়েটিভ টুল।

    তিন সংস্করণে নতুনত্ব
    মেটা ওয়ানের আওতায় এখন ৫০টির বেশি ফিচার সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতে এডিটস অ্যাপ ও এআই স্মার্টগ্লাসে এই পরিষেবা সক্রিয় করা হবে। সাধারণ গ্রাহকের জন্য রয়েছে ইনস্টাগ্রাম প্লাস, ফেসবুক প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস।সাবস্ক্রিপশনে ব্যয় কেমন
    অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এতে কেমন খরচ হবে? জানা গেছে, ইনস্টাগ্রাম প্লাসে মাসে ব্যয় হবে ৩.৯৯ ডলার, ফেসবুক প্লাস সংস্করণে ব্যয় হবে ৩.৯৯ ডলার। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস নিতে ব্যয় হবে ২.৯৯ ডলার। এসব প্ল্যানে কাস্টম ফন্ট, বিশেষ থিম, অতিরিক্ত চ্যাট পিন, কাস্টম অ্যাপ আইকন ও নানা কাস্টমাইজ পরিষেবা পাওয়া যাবে।
    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে কোর ও প্রিমিয়াম সংস্করণের ফিচার।
    প্রিমিয়াম প্ল্যান
    এতে মেটা এআই দিয়ে অনেক বেশি ছবি ও ভিডিও তৈরি, ইনস্টাগ্রামে বেশি রিস্টাইল
    ও ভয়েস ইফেক্টস ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। প্রিমিয়াম প্ল্যানের জন্য মাসে গুনতে হবে ১৯.৯৯ ডলার। এতে মিলবে এআইর বাড়তি সুবিধা।
    ক্রিয়েটর ও ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে এসেনসিয়াল, অ্যাডভান্সড, এক্সপার্ট ও ম্যাক্স প্ল্যান। এসেনসিয়াল সংস্করণ পেতে গুনতে হবে ১৪.৯৯ ডলার। এই সংস্করণে ভেরিফায়েড ব্যাজ, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস সংস্করণে ভেরিফায়েড চ্যানেল ও মেটা বিজনেস এজেন্ট ব্যবহারের
    সুবিধা থাকবে। অ্যাডভান্সড প্ল্যানের শুরুটা ৪৯.৯৯ ডলার থেকে। এতে আগাম পোস্ট শিডিউলিং, অর্গানিক পোস্টে লিঙ্ক ও টিম অ্যাকসেসের মতো বহুমাত্রিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব প্ল্যান বড় টিম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানি অপরাধ, অপমান ও বুলিংয়েও বেশি শাস্তি

    সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানি অপরাধ, অপমান ও বুলিংয়েও বেশি শাস্তি

    প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের (২০২৬) সংশোধনীতে মানহানিকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ‘অপমান’ ও ‘বুলিং’-এর জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে অনলাইনে কী বলা বা প্রকাশ করা যাবে, আর কী করলে শাস্তি হবে, সেই পরিধি আরও বিস্তৃত হতে যাচ্ছে।

    প্রস্তাবিত এসব সংশোধন কার্যকর হলে অনলাইনে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিতর্কিত ও কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) বিধিনিষেধের দিকে আবারও ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। ওই আইনটি মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন ধারার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি সংশোধনীর খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    বর্তমান আইনটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ভিত্তিতে প্রণীত। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হয়। পরে ৩০ জুন সংসদে এর একটি সংশোধনী পাস হয়।

    আইনটি কার্যকর হওয়ার পরপরই আবারও এসব নতুন সংশোধনের প্রস্তাব আনা হলো। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, মানহানির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী কোনো নারী বা শিশু হলে এ শাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে।

    ‘অপমান’ ও ‘বুলিং’-এর ক্ষেত্রেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

    যৌন হয়রানি, যৌন হয়রানির মাধ্যমে অর্থ বা সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, শিশু যৌন নির্যাতন, প্রতিশোধমূলক পর্নোগ্রাফি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং অশ্লীল হিসেবে বিবেচিত কোনো কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রেও একই শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত মানহানির ধারা ডিএসএতেও ছিল। তবে নতুন আইনে এর সর্বোচ্চ শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। ডিএসএতে মানহানির জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

    প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ‘ডিজিটাল মানহানি’ বলতে এমন তথ্য, উপাত্ত, বক্তব্য, অডিও, ভিডিও, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র বা গ্রাফিকস বোঝানো হয়েছে, যা কোনো ব্যক্তির সুনাম, মর্যাদা বা চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো বা প্রকাশ করা হয়।

    এসব উপাদান মিথ্যা, বিকৃত, বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক বা ক্ষতিকর হতে পারে। এগুলো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ বা সম্পাদনা করা হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি, সম্পাদনা বা পরিবর্তন করা কনটেন্টও এর আওতায় পড়বে।

    ‘অপমান’ বলতে এমন কথা, আচরণ, প্রকাশনা, অঙ্গভঙ্গি বা কাজকে বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, সম্মান, সুনাম বা সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করা হয়। এর ফলে অন্যদের কাছে ওই ব্যক্তিকে অপমানিত, তুচ্ছ, নিন্দনীয় বা অসম্মানজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়, অথবা তার সামাজিক অবস্থান ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ‘বুলিং’ বলতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও বারবার করা এমন আচরণ বা কাজকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে নিজের ক্ষমতা, প্রভাব বা আধিপত্য ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা হয়। এ ধরনের আচরণ শারীরিক, মৌখিক, সামাজিক, ডিজিটাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে হতে পারে। এর ফলে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি, কষ্ট, ভয় দেখানো, সামাজিকভাবে বাদ দেওয়া, বিচ্ছিন্নতা বা একাকিত্ব তৈরি হতে পারে।

    এদিকে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজব বা ভুয়া খবর ছড়ানোও অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এর জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ডিএসএতে আলাদাভাবে ভুয়া খবর ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

    সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ‘গুজব’ বলতে এমন কোনো ভিত্তিহীন বা যাচাই না করা তথ্য, খবর বা দাবিকে বোঝাবে, যা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে বা করার আশঙ্কা রাখে।

    একইভাবে ‘ভুয়া খবর’ বলতে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা কোনো ব্যক্তি, সাধারণ মানুষ, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত করা, প্রতারণা করা বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি, প্রকাশ বা ছড়ানো হয়।

    প্রস্তাবিত সংশোধনীতে আইনের আওতাভুক্ত বেশ কিছু অপরাধ ভ্রাম্যমাণ আদালতে (মোবাইল কোর্ট) বিচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশ, অপমান ও বুলিংয়ের মতো অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি দিতে পারবে। তবে ভুক্তভোগী নারী বা শিশু হলে ওই অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে করতে হবে।

    গুজব ও ভুয়া খবর ছড়ানোর পাশাপাশি হ্যাকিং, সাইবার সন্ত্রাস, ডিজিটাল চুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোয় অবৈধ প্রবেশের মতো অপরাধের বিচারও সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে।

    অন্যদিকে সাইবার প্রতারণা, ম্যালওয়্যার ছড়ানো, তথ্য চুরি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর শারীরিক ক্ষতি করার মতো অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের।

    আরেকটি প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক করার জন্য অনুরোধ জানানোর ক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

    বর্তমান আইনে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহাপরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) কোনো কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ করতে পারে।

    বর্তমানে কোনো কনটেন্ট দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করলে তা ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কিংবা জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে সহিংসতায় উসকানি দেয় এমন কনটেন্ট এবং বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেওয়া কনটেন্টও ব্লক করা যায়।

    প্রস্তাবিত সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার অনুমোদিত অন্য কোনো সংস্থা বা বাহিনীকেও কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ জানানোর ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।

    কোনো কনটেন্ট ব্লক করার কারণ ও সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো অপরাধ বা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পর শুধু তখনই নয়, এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ থাকলেও কনটেন্ট ব্লক করা যাবে।

    বর্তমান কারণগুলোর পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানিকর এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কনটেন্টও ব্লক করা যাবে।

    বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা আইনে কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    আরেকটি প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি এই আইনের অধীনে অপরাধ করলে তার নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। প্রয়োজনে ওই কোম্পানির কার্যক্রমও স্থগিত করা যাবে। বর্তমান আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।

    এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট বলেছে, এসব সংশোধনী অনলাইনে মুক্ত মতপ্রকাশের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বাড়াবে।

    এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে শুরু করে পরপর বিভিন্ন সরকারের আমলে যে উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে, এসব সংশোধনী তারই ধারাবাহিকতা।

    বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ ও ‘গুজব’-এর মতো অস্পষ্ট এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এমন ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা, ব্যঙ্গ, জনস্বার্থে সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো বৈধ মতপ্রকাশও অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, এসব অপরাধের জন্য বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের বড় অংশ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। এতে আইনটি অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রয়োগ করার বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল বলেছেন, প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন ২০২৬ ডিজিটাল পরিসরে শালীন পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে। এটি সাইবার বুলিং থেকে নারী ও তরুণদের সুরক্ষা দিতে এবং আইনের অপব্যবহার ঠেকানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিতে সহায়তা করবে।বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারও চরিত্রহনন বা আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এক বিষয় নয়।

  • মানুষ ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠছে এআই

    মানুষ ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠছে এআই

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর সক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় এআই প্রতিষ্ঠান একদিকে গণিতে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে এআই মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    বর্তমানে ‘এআই এজেন্ট’ ফাইল সম্পাদনা, ই-মেইল পাঠানো, টিকিট বুক করা এবং কম্পিউটার কোড লেখার মতো কাজ করতে পারে। তবে এগুলো এখনো মানুষের নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে এআইকে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ গ্রিড, শেয়ারবাজার বা সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হলে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই অনুমাননির্ভর।

    ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেল’ দিয়েছে। ক্ষতিকর নির্দেশনা পেলে চ্যাটবট সাধারণত তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিখুঁত নয়। গবেষকেরা কবিতার মতো কাব্যিক ভাষা ব্যবহার করেও ৩১টি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ পাশ কাটাতে সক্ষম হয়েছেন।

    এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রস্তাবও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি বাজারে ছাড়ার আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সরকারি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। জুনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারি পর্যালোচনার একটি স্বেচ্ছামূলক কাঠামো তৈরির নির্বাহী আদেশ দেন। এআই ব্যবস্থাকে জরুরি প্রয়োজনে বন্ধ করার জন্য ‘কিল সুইচ’ তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এ ধরনের ব্যবস্থা দিয়ে সব ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব নয়।

    এআইকে ‘সুপারইনটেলিজেন্স’-এ পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর কিছু সক্ষমতা ইতোমধ্যে মানুষের চেয়ে বেশি। গণিত ও কম্পিউটার কোড লেখার মতো কাজে এটি দ্রুত এগোচ্ছে। তবে সাধারণ বোধ ও বাস্তব জগত বোঝার ক্ষেত্রে এআই এখনো সীমাবদ্ধ।

    এআই দিয়ে ক্যানসার নিরাময়, বিশ্ব ক্ষুধা দূর করা বা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও এসব এখনো মূলত সম্ভাবনার কথা। এআই ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ায় এটি কেবল একটি অংশ।

    চাকরির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। একসময় মনে করা হয়েছিল, এআই প্রথমে শারীরিক শ্রমের কাজ কেড়ে নেবে। কিন্তু বর্তমান এআই বরং লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার, হিসাবরক্ষক, ব্যক্তিগত সহকারী ও সফটওয়্যার প্রোগ্রামারদের কাজকে বেশি প্রভাবিত করছে। সিলিকন ভ্যালির কিছু স্টার্টআপ ইতোমধ্যে কম কর্মী নিয়ে এআই দিয়ে এসব কাজ করছে।

    এআই চালাতে বিপুল অর্থ ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত কোটি ডলার ব্যয় করছে এবং ডেটা সেন্টার তৈরিতে বড় অঙ্কের ঋণও নেওয়া হচ্ছে। এসব ডেটা সেন্টারে সার্ভার ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর পানি লাগে। আইওয়ার কাউন্সিল ব্লাফসের একটি ডেটা সেন্টার ২০২৪ সালে নিজস্ব স্থাপনায় ১০০ কোটি গ্যালনের বেশি পানি ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

    চ্যাটজিপিটি সাধারণভাবে ফোন বা আইপ্যাডের ফোল্ডার থেকে নিজে থেকে ব্যাংক হিসাব বা পাসওয়ার্ড নিতে পারে না। তবে ‘এআই এজেন্ট’কে ব্যবহারকারীরা ফোল্ডার, ই-মেইল এমনকি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন। এমনটি করা নিরাপদ নয়। এসব এজেন্টের হঠাৎ ফাইল মুছে ফেলা বা অপ্রত্যাশিতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার ঘটনাও ঘটেছে।

    এআই দ্রুত উত্তর দিতে পারে কারণ নিউরাল নেটওয়ার্ক বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও শব্দের সম্পর্ক শেখে। তবে এআই ভুল তথ্যও তৈরি করতে পারে, যাকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। ফলে এআই যতই দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে উত্তর দিক, এর তথ্য সব সময় নির্ভুল—এমন নিশ্চয়তা নেই।

  • অদৃশ্য গুপ্তচর মোবাইলফোন

    অদৃশ্য গুপ্তচর মোবাইলফোন

    আমাদের ব্যক্তিগত এই তথ্যগুলো ঠিক কীভাবে ফোন থেকে পাচার হয়ে যায়, তার পেছনের যান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুকৌশলী ও সূক্ষ্ম। ধরুন, আপনি ফোনে আবহাওয়া দেখার একটি সাধারণ অ্যাপ, টর্চলাইট কিংবা কোনো গেম ব্যবহার করছেন। আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও এই অ্যাপগুলোর ভেতরে লুকিয়ে থাকে ‘সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট’ নামের বিশেষ একধরনের কোড। এই কোডগুলোর মূল কাজই হলো ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার প্রতি মুহূর্তের ভৌগোলিক অবস্থান বা জিপিএস স্থানাঙ্ক সংগ্রহ করা। এরপর আপনি যখনই কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে আপনাকে কোন বিজ্ঞাপনটি দেখানো হবে, তা নির্ধারণ করতে একটি ডিজিটাল নিলাম বসে; যাকে বলা হয় ‘রিয়েল-টাইম বিডিং’। আপনি স্ক্রিনে চোখ রাখার আগেই এই নিলামের আড়ালে আপনার ফোনের আইডেন্টিটি ও লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য শত শত বিজ্ঞাপন কোম্পানির কাছে পৌঁছে যায় এবং চোখের পলকে সম্পন্ন হয় তথ্যের কেনাবেচা।

    এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসেÑকোটি কোটি মানুষের এই বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য আসলে কারা কিনছে এবং কেনইবা কিনছে? ডিজিটাল দুনিয়ায় এদের বলা হয় ‘ডেটা ব্রোকার’, যাদের মূল ব্যবসাই হলো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করা। তারা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ডিভাইসের লোকেশন ডেটা কিনে বিশাল এক ডেটাবেস তৈরি করে এবং তা বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির কাছে বিক্রি করে। বর্তমানে এই ডেটা ব্রোকার শিল্পের আকার শতকোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে; যে কারণে এই তথ্য বা ডেটাকে এখন বলা হচ্ছে ‘নতুন যুগের তেল’। অনেক সময় কোম্পানিগুলো দাবি করে যে ডেটাবেস থেকে ব্যবহারকারীর নাম মুছে ফেলা হয়, কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা গাণিতিক যুক্তিতে প্রমাণ করেছেন যে, মাত্র তিন-চারটি লোকেশন পয়েন্টই একজন মানুষকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট। কারণ, অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন প্রায় একই রুট ও একই কর্মস্থল ব্যবহার করেন। ফলে নাম গোপন থাকলেও দৈনন্দিন চলাচলের পথ ট্র্যাক করে যেকোনো ব্যক্তিকে অতি সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।

    ব্যক্তিগত তথ্যের এই অবাধ বাণিজ্য শুধু সাধারণ গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যের এই অপব্যবহার ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন এরই মধ্যে একাধিক ডেটা ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং তাদের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পাশাপাশি এই ডিজিটাল ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের নিজেদেরও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ঢালাওভাবে সব অ্যাপকে লোকেশন অ্যাক্সেস না দিয়ে শুধু ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ অপশনটি বেছে নেওয়া একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত। এছাড়া ফোন থেকে অপ্রয়োজনীয় ফ্রি অ্যাপগুলো মুছে ফেলা এবং ফোনের প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে ‘বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং সীমিত করুন’ অপশনটি চালু করার মাধ্যমে আমরা তথ্য পাচারের পথ অনেকটাই সংকুচিত করে আনতে পারি।

    প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধাগুলো আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না; তবে এর বিনিময়ে নিজের সত্তাকে পণ্যে পরিণত হতে দেওয়াও কোনো যুক্তিসংগত কাজ নয়। ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন সবচেয়ে দামি পণ্য আপনার হাতের স্মার্টফোনটি নয়, বরং আপনি নিজে এবং আপনার রেখে যাওয়া প্রতিটি ডিজিটাল পদচিহ্ন। অনলাইনে আপনার রেখে যাওয়া তথ্যই মূলত বিশাল করপোরেট কোম্পানিগুলোর ব্যবসার সবচেয়ে বড় পুঁজি। তাই পরেরবার যখন কোনো সাধারণ অ্যাপ আপনার লোকেশন পারমিশন চাইবে, তখন নিজেকে অন্তত একবার প্রশ্ন করুন—সত্যিই কি অ্যাপটির আপনার অবস্থান জানার কোনো যৌক্তিক প্রয়োজন আছে? আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে ব্যক্তিগত জীবনের মহামূল্যবান গোপনীয়তা রক্ষা করতে। কারণ, এই অদৃশ্য ডিজিটাল নজরদারির পৃথিবীতে আপনার তথ্যের সবচেয়ে বড় সুরক্ষক দিনশেষে আপনি নিজেই।

  • এআই’র অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ নেবে সরকার

    এআই’র অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ নেবে সরকার

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এআই ব্যবহার করে ডিপফেক তৈরি করে মানুষকে হয়রানিসহ নানা ধরনের অপব্যবহার, এমনকি শিশুদের লক্ষ্য করেও অপতৎপরতা চালানোর ঘটনায় সামাজে উদ্বেগ বাড়ছে। একইসঙ্গে এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।

    দেশে-বিদেশে স্বার্থান্বেষী মহল কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত তৈরির লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ, মতামত ও ছবি প্রচার করছে।

    এআইয়ের অপব্যবহার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌম নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’

    গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ‘সাইবার স্কোয়াড’ নামে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীকে শনাক্ত করেছেন, যারা সমালোচকদের কাছে ‘বট বাহিনী’ নামে পরিচিত। কার্যক্রম-নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

    নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও শিল্পীদের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চরিত্রহনন এবং সুনাম ক্ষুণ্ন করার হীন তৎপরতায় লিপৃত রয়েছে।’

    এআই হলো এমন এক ধরনের বিশেষ সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন, যা বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লেখা তৈরি, ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং তথ্য বিশ্লেষণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা খাতে দৈনন্দিন উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে।

    তবে এআইয়ের অপব্যবহারের কারণে অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ভরযোগ্য, বোধগম্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এআই ব্যবস্থা তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    অ্যানথ্রপিক আশঙ্কা করছে, এআই এমনকি সমগ্র মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

    গুগল ডিপমাইন্ডও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবিসিও এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।

    চলতি মাসের শুরুতে ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোস্কি এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও প্রসার নিয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ যাতে মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আরো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

    সম্প্রতি এক খোলা চিঠিতে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরির রাশ টানতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্টের কারণে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে তারা তা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছন।

    এআইয়ের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির কথা স্বীকার করে তারা প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর কঠোর প্রয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    বুধবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশ বর্তমানে ডিজিটাল ও সাইবার ক্ষেত্রে ‘অপরাধের দ্রুত বিবর্তন’ প্রত্যক্ষ করছে।

    তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি সরকারকে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশের রেঞ্জ সদর দপ্তরগুলোতে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

    এর আগে ১৭ মার্চ ভিয়েনায় ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্টের ব্যাপক বিস্তার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মানবপাচার, দুর্নীতি ও আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় বাংলাদেশ এআই-ভিত্তিক অপরাধ শনাক্তকরণ ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতা জোরদার করছে।

    সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেক দেশে বর্তমানে ৪৪ শতাংশ অপরাধ সাইবার পরিসরে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এ বিপদ থেকে নিরাপদ নয়। অনলাইন জালিয়াতি, যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে ব্ল্যাকমেইল, নারীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা বিনষ্টের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সময়োপযোগী আইনের কোনো বিকল্প নেই।

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী সম্প্রতি এক মুক্ত আলোচনায় বলেন, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানো এবং নারী, শিশু ও সমাজে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনলাইনে হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

    তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা হলে সামাজিক অশ্লীলতা বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত ও কলুষিত হবে।’একই সঙ্গে কাদের গনি চৌধুরী প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনটি সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, কোনো সরকারি সংস্থা নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করলে তার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকারের যত পদক্ষেপ

    শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকারের যত পদক্ষেপ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গত এক মাসে সরকারের নেয়া বিভিন্ন জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগকে সাতটি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এসব উদ্যোগের মধ্যে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, কারিগরি শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, কর্মদক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কার্যক্রমের মতো বিষয় রয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি এসব তথ্য জানান। উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় ৫০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থাযন কর্মসূচি উদ্যোগ’ চালু, যার অধীনে প্রতি বছর ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণকে প্রারম্ভিক মূলধন সহায়তা দেয়া হবে।

    জামানত ছাড়াই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল চ্যানেলে সুদমুক্ত ‘ই লোন’ সুবিধা চালু। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত তরুণদের জন্য দেশব্যাপী অনলাইন স্টার্ট আপ তহবিলের উন্মুক্ত সুযোগ। তরুণ উদ্ভাবকদের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সাথে সরাসরি যুক্ত করতে জাতীয় ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার’ আয়োজন।

    সাইবার সুরক্ষায় দেশে ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম’ এবং ‘জাতীয় আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম’ কার্যক্রম শুরু। স্থানীয় কারখানায় সাশ্রয়ী আধুনিক স্মার্টফোন উৎপাদনে উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ নীতিগত প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ। ৫ কোটি মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষিশ্রমিক, কৃষক ও রিকশাচালকসহ একদম প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্টফোনের কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার প্রাথমিক লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বমঞ্চে তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী করতে ষষ্ঠ শ্রেীণ থেকে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযের সব শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে নতুন দুটি করে মোট চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন। প্রায় ৪৫ লাখ মানুষকে বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা দিতে দেশব্যাপী আধুনিক ‘আলফা’ প্রকল্প গ্রহণ। কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে চীনের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন ও ৩টি প্ল্যাটফর্ম চালু।

    কক্সবাজারে সমুদ্রসম্পদ ও ব্লু ইকোনমি গবেষণায় বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। উচ্চশিক্ষার সুযোগে প্রতি বছর ৫০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শতভাগ সৌদি সরকারি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান দ্বার উন্মোচন।

    মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার শীর্ষ মেধাবীদের স্বীকৃতি ও উপহার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতী ছাত্রীদের মেধার ভিত্তিতে সাইকেল দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত।

    কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতে ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে বিনামূল্যে সুষম দুপুরের খাবারের রূপরেখা প্রণয়ন।

    মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে ঘোষিত ‘১৫ অনুশাসন’ বাস্তবায়ন এবং বছরব্যাপী খেলাধুলা ও সহশিক্ষা পরিচালনায় নির্দেশনা জারি।

    প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা আরো বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। দেশের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত সরকারি জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বরাদ্দের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ।অচল ৮ হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি পার্ক কার্যকর করতে শিল্প ও বাণিজ্যের সমন্বয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রণযনের কাজ শুরু।

  • বিজ্ঞানীদের হিসাবে কবে শেষ হবে পৃথিবী

    বিজ্ঞানীদের হিসাবে কবে শেষ হবে পৃথিবী

    আকাশ ভরা নক্ষত্র, সূর্য আর অসংখ্য গ্রহ-উপগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মহাবিশ্ব। তারই একটি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের পৃথিবী। সূর্যের মতো অগণিত নক্ষত্র, পৃথিবীর মতো অসংখ্য গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু ও নানা অজানা বস্তু ছড়িয়ে আছে মহাশূন্যের বিস্তীর্ণ পরিসরে।

    কিন্তু এসব মহাজাগতিক বস্তুর ভবিষ্যৎ কী? তারা কি চিরকাল এভাবেই টিকে থাকবে, নাকি সময়ের প্রবাহে এক দিন তাদেরও পতন ঘটবে? একে অপরকে প্রদক্ষিণ করতে থাকা গ্রহ-নক্ষত্র কি কোনো একসময় হারিয়ে যাবে, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে জন্ম নেবে নতুন মহাজাগতিক অস্তিত্ব?

    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের সৃষ্টি, বিবর্তন ও সম্ভাব্য শেষ পরিণতি নিয়ে চলছে নানা অনুসন্ধান। নতুন নতুন গবেষণায় উঠে আসছে ব্রহ্মাণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা তত্ত্ব ও সম্ভাবনা।

    তবে সম্প্রতি মহাবিশ্বের শেষ পরিণতির সম্ভাব্য সময় নিয়ে নতুন ধারণা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩৩.৩ বিলিয়ন বছর পর মহাবিশ্ব ধ্বংসের পথে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি, চীনের সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা গবেষণাটি করেছেন।

    গবেষণা অনুযায়ী, একসময় মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে যেতে পারে। এরপর শুরু হবে সংকোচন প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত সবকিছু একটি একক বিন্দুর দিকে ধাবিত হবে। এ ঘটনাকে বলা হয় ‘বিগ ক্রাঞ্চ’। এটি অনেকটা ‘বিগ ব্যাং’-এ

    বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

    বর্তমানে মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে আরো প্রায় ২০ বিলিয়ন বা ২০০০ কোটি বছর সময় রয়েছে।

    গবেষণাটি এমন একটি তত্ত্বের ওপর তৈরি, যেখানে মহাবিশ্বকে একটি প্রসারিত রাবার ব্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ ধারণা অনুযায়ী মহাবিশ্ব যত বেশি প্রসারিত হবে, একপর্যায়ে সেই প্রসারণের শক্তিকে হারিয়ে সবকিছু আবার ভেতরের দিকে সংকুচিত হতে শুরু করবে।

    এই তত্ত্বের কেন্দ্রে রয়েছে ডার্ক এনার্জি। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ অংশজুড়ে থাকা এই রহস্যময় শক্তিই এই সম্প্রসারণের প্রধান চালিকাশক্তি।

    তবে নতুন গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, ডার্ক এনার্জি হয়তো স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে এর পরিবর্তন হতে পারে। ফলে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ চিরকাল অব্যাহত থাকবে না। নতুন মডেল অনুযায়ী এটি আরো কিছু সময় প্রসারিত হবে। তবে ধীরে ধীরে এর গতি কমে আসবে।

    গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান আকারের চেয়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ বড় হওয়ার পর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে গিয়ে ধীরে ধীরে সংকোচন শুরু হতে পারে।

    তবে ওই সময় পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্য এক গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী প্রায় ২০ বিলিয়ন বছরের মধ্যে সূর্য বিলীন হবে এবং আমাদের ছায়াপথ ‘মিল্কিওয়ে’ কাছের ‘অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির’ সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে। আর এভাবেই এক দিন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।

  • এআইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় রোবটদের বিক্ষোভ

    এআইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় রোবটদের বিক্ষোভ

    ‘ডেমোক্রেটিজম’ নামক একটি উদ্যোগের আয়োজনে এআই নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান রক্ষার দাবিতে সরাসরি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে রোবটের দল। সম্প্রতি পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে দেশটির ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের বাইরে প্রায় ৩০টি রোবটের অংশগ্রহণে বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিক্ষোভে অংশ নেয় এআই-চালিত হিউম্যানয়েড রোবট এজিবট এ৩ এবং বিভিন্ন ধরনের রোবট কুকুর বা কোয়াড্রুপেড। বিক্ষোভের সময় রোবটগুলোকে গোল হয়ে হাঁটতে এবং ‘কাজের জায়গা রক্ষা করুন’, ‘নিয়ম প্রণয়নের সময় এসেছে’ ও ‘অপেক্ষা করবেন না, নিয়ন্ত্রণ করুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড ও পতাকা বহন করতে দেখা যায়।

    রোবট ও এআই সিস্টেমের কারণে চাকরি হারানোর শঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই সময়ে হিউম্যানয়েড রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে মানুষের সম্ভাব্য প্রতিস্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরেছে এই বিক্ষোভ। এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে খুব শীঘ্রই এমন পরিস্থিতি আসবে, যখন অনেক দেরি হয়ে যাবে।

    সূত্র: আল-জাজিরা, ফার্স্টপোস্ট ও এএফপি

  • অনলাইনে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    অনলাইনে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে।বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

    এদিন আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস : বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, এই পদ্ধতিটি অন্যান্য সার্ভারের সঙ্গে সমন্বিত হলে এক ক্লিকের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির বিয়ে সংক্রান্ত তথ্যাবলি জানা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াতেও এই তথ্যগুলো বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অনেক অনিয়ম বন্ধ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধের পাশাপাশি বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতিও ঠেকানো সম্ভব হবে।

    বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, প্লাস জালিয়াতি রোধ হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ভিসা নিতে গেলে সেখান থেকেও এক ক্লিকে সব ইনফরমেশন পাওয়া যাবে।’

    প্রকল্পটির আওতায় প্রথমে ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

    ব্র্যাকের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের দুর্বলতার কারণে ব্র্যাককে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বরং বিবাহসংক্রান্ত বিষয়ে মাঠপর্যায়ে ব্র্যাকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।

    মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ব্র্যাক ইজ ওয়ার্কিং সিন্স ইটস ইনসেপশন। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট লেভেল পর্যন্ত নারীদের এই বৈবাহিক অবস্থানে ব্র্যাক কাজ করছে।

    তাদের একটা এক্সপেরিয়েন্স আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব আমাদের কাজিদের জন্য। এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় না। আমরা শুধু তাদের এক্সপার্টাইজ কাজে লাগাচ্ছি।’

  • এআই যেভাবে তৈরি করছে লাখ লাখ নতুন কাজের সুযোগ

    এআই যেভাবে তৈরি করছে লাখ লাখ নতুন কাজের সুযোগ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আসার পর লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে—এমন বড় আশঙ্কার গল্প আপাতত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী এআই-এর কারণে ঢালাওভাবে চাকরি যাওয়ার ভয় তো দূরে থাক, উল্টো বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন নতুন চাকরির এক বিরাট জোয়ার বা ‘জবস বুম’ তৈরি হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক তথ্যে দেখা গেছে, সে দেশের বেকারত্বের হার এখন মাত্র ৪.১ শতাংশ, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে অন্যতম কম। ধারণার চেয়েও অনেক বেশি মানুষ এখন নতুন কাজ পাচ্ছেন। যদিও কাস্টমার সার্ভিস বা অফিসের কিছু গতানুগতিক কাজ এআই দিয়ে করার কারণে প্রায় ২ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন, কিন্তু বিপরীতে নতুন তৈরি হওয়া চাকরির সংখ্যা তারচেয়ে অনেক বেশি।

    ইকোনমিস্ট জানায়, এআই-এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরির সৃষ্টি হয়েছে। ডাটা সেন্টার তৈরি ও বিদ্যুতের যোগান বাড়াতে গিয়ে যেমন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিশিয়ান ও মিস্ত্রিদের চাহিদা প্রচুর বেড়েছে, তেমনি সফটওয়্যার ডেভেলপার, ডাটা সায়েন্টিস্ট ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের চাহিদাও আকাশে গিয়ে ঠেকেছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এআই কিছু সাধারণ ও পুরোনো কাজ কেড়ে নিলেও, প্রযুক্তিটি চালু রাখতে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে আরও বেশি মানুষের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে এআই প্রযুক্তি ধ্বংসের বদলে বর্তমানে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

  • গুগলের এআই সার্চের মুখে ওয়েবসাইটগুলোর ভবিষ্যৎ কী

    গুগলের এআই সার্চের মুখে ওয়েবসাইটগুলোর ভবিষ্যৎ কী

    ইন্টারনেটের সবচেয়ে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলোর একটি ছিল খুব সরল। প্রকাশকেরা তাদের কনটেন্ট গুগলকে ক্রল ও ইনডেক্স করার সুযোগ দেবে, আর গুগল সেই কনটেন্টের পাঠক তাদের ওয়েবসাইটে পাঠাবে। বিজ্ঞাপন, সাবস্ক্রিপশন ও সরাসরি পাঠক-সম্পর্কের মাধ্যমে সেই ট্রাফিক টিকিয়ে রাখবে সংবাদমাধ্যম, তথ্যভান্ডার, ছোট ব্যবসা ও নানা ধরনের অনলাইন সেবা। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সার্চের বিস্তারে সেই পুরোনো ব্যবস্থা এখন বড় পরিবর্তনের মুখে। ডেইলি সাবাহতে প্রকাশিত সালিহ কায়ার একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে এমনই আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

    গুগলের এআই ওভারভিউ এখন ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর ওয়েবসাইটে পাঠানোর আগেই সারাংশ আকারে হাজির করছে। ফলে কোনো তথ্য জানতে ব্যবহারকারীকে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে ঢুকতে হচ্ছে না। গুগলের নতুন এআই মোড আরো এক ধাপ এগিয়ে কথোপকথনধর্মী অনুসন্ধান, তথ্যের সমন্বয় এবং বিভিন্ন কাজ একই প্ল্যাটফর্মে করার সুযোগ তৈরি করছে। অর্থাৎ গুগল কেবল ওয়েবের পথপ্রদর্শক না থেকে নিজেই তথ্য পাওয়ার প্রধান গন্তব্যে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে।

    এর প্রভাবের কিছু পরিসংখ্যান ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চার্টবিটের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আগের বছরের তুলনায় বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে গুগল সার্চ থেকে আসা ট্রাফিক প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশকদের ক্ষেত্রে এই পতন ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। একই নিবন্ধে স্পার্কটোরোর হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে গুগলের প্রায় ৬৮ শতাংশ সার্চ এমন পর্যায়ে শেষ হচ্ছে যেখানে ব্যবহারকারী কোনো বাইরের ওয়েবসাইটে ক্লিক করছেন না। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ।

    এ ধরনের সার্চকে বলা হয় ‘জিরো-ক্লিক সার্চ’। অর্থাৎ ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেন, কিন্তু উত্তর পেয়ে যান সার্চ পেজেই। আলাদা ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ইউসিএলএর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে গুগল সার্চের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এখন কোনো পাবলিক ওয়েবসাইটে ক্লিক ছাড়াই শেষ হচ্ছে। এর অর্থ হলো, ইন্টারনেটে তথ্যের প্রবাহ যত বাড়ছে, তথ্যের মূল উৎস ওয়েবসাইটে পাঠকের সরাসরি প্রবেশ তত কমতে পারে।

    ক্লিক কমার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে যেসব প্রতিষ্ঠান সার্চ-নির্ভর ট্রাফিকের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর। ডেইলি সাবাহর নিবন্ধে সিয়ার ইন্টার‌্যাক্টিভের গবেষণার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এআই ওভারভিউ ব্যাপকভাবে চালুর পর অর্গানিক ও পেইড—দুই ধরনের ক্লিক-থ্রু রেটই বড় মাত্রায় কমেছে। এমনকি এআই উত্তরে কোনো ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া থাকলেও সেই লিংকে ক্লিক করার হার খুব কমে গেছে।

    এর ফলে ছোট ও মাঝারি সংবাদমাধ্যম সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বড় সংবাদ ব্র্যান্ডগুলোর সরাসরি পাঠক, সাবস্ক্রাইবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অনুসারী রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ভাষার সংবাদমাধ্যম, বিশেষায়িত ওয়েবসাইট ও নতুন প্রকাশনাগুলোর বড় অংশই নতুন পাঠক পাওয়ার জন্য সার্চ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করে। সার্চে দৃশ্যমানতা কমে গেলে তাদের বিজ্ঞাপন আয়, সাবস্ক্রিপশন এবং পাঠক তৈরির সুযোগও সংকুচিত হতে পারে। এর ফলে গণমাধ্যমের বহুত্ববাদও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এখানেই তৈরি হচ্ছে মূল দ্বন্দ্ব। গুগলের এআই মডেলগুলো উত্তর তৈরি করতে ওয়েবে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ তথ্যের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই উত্তর সরাসরি গুগলের প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হলে মূল কনটেন্ট তৈরি করা প্রকাশক পাঠক হারান। অর্থাৎ যে ওয়েবসাইটগুলো তথ্য তৈরি করে, এআই সার্চ তাদের কনটেন্ট ব্যবহার করে আরও কার্যকর উত্তর তৈরি করতে পারে; অথচ সেই উত্তরই আবার ব্যবহারকারীকে মূল ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজন থেকে মুক্ত করে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিকে অনেক প্রকাশক ‘ট্রাফিকের কাঠামোগত সংকট’ হিসেবে দেখছেন।

    গুগল অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি মেনে নেয়নি। কোম্পানিটির দাবি, এআই ওভারভিউ ও এআই মোড ওয়েবসাইটের লিংককে আরও দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালে গুগল ইনলাইন লিংক, ওয়েবসাইট প্রিভিউ এবং ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’ সুবিধা যুক্ত করেছে। ব্যবহারকারীরা পছন্দের সংবাদমাধ্যমকে প্রেফার্ড সোর্স হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবেন। গুগলের হিসাবে এআই ওভারভিউয়ের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী এখন ২৫০ কোটির বেশি এবং এআই মোডের মাসিক ব্যবহারকারী ১০০ কোটির বেশি।

    তবে গুগলের এই পদক্ষেপই আরেকটি প্রশ্ন তৈরি করছে—যদি এআই সার্চে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এমনভাবে বদলে যায় যে অধিকাংশ তথ্য গুগলের মধ্যেই পাওয়া যায়, তাহলে ওয়েবের মূল প্রকাশকের অর্থনৈতিক মডেল টিকবে কীভাবে? শুধু লিংক দেখানো এবং বাস্তবে পাঠক পাঠানোর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। একটি ওয়েবসাইটের জন্য হাজারো ইমপ্রেশনের চেয়ে প্রকৃত পাঠক, পেজভিউ, বিজ্ঞাপনদর্শন ও সাবস্ক্রিপশন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    এ কারণে বিষয়টি এখন কেবল প্রযুক্তি কোম্পানি ও সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নয়; এটি প্রতিযোগিতা নীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন গুগলের এআই সার্চে প্রকাশকদের কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। ইউরোপের নিয়ন্ত্রকেরা প্রকাশকদের কাছ থেকে জানতে চাইছে, গুগলের নতুন এআই সার্চ ব্যবস্থায় নিজেদের কনটেন্ট ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করার সুযোগ তাদের জন্য যথেষ্ট কি না।

    গুগল ৩১ আগস্ট থেকে বিশ্বজুড়ে প্রকাশকদের জন্য এমন একটি নিয়ন্ত্রণও চালু করেছে, যার মাধ্যমে তারা চাইলে এআই ওভারভিউ ও এআই মোডে নিজেদের কনটেন্ট ব্যবহার বন্ধ করতে পারবেন। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—এআই সার্চ থেকে সরে গেলে সেই সাইট এআই ফিচার থেকে ট্রাফিক বা ইমপ্রেশনও পাবে না। সাধারণ গুগল সার্চের র‌্যাংকিংয়ে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে না বলে গুগল জানিয়েছে।

    এই পরিবর্তন গুগলের ব্যবসায়িক মডেলের বৃহত্তর রূপান্তরের অংশ। গুগল ধীরে ধীরে এমন একটি ‘এজেন্ট ম্যানেজার’ ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে, যেখানে সার্চ ইঞ্জিন শুধু ব্যবহারকারীকে তথ্যের উৎসের কাছে পাঠাবে না; বরং নিজেই তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, উত্তর তৈরি এবং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করবে। এতে ব্যবহারকারী গুগলের ভেতরেই বেশি সময় থাকবেন এবং বাইরের ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।

    এই পরিবর্তনকে তাই শুধু ‘গুগল বনাম প্রকাশক’ হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি। আগামী দিনে যদি ওয়েবসাইটগুলো তথ্য তৈরি করতে থাকে কিন্তু সেই তথ্যের অর্থনৈতিক সুবিধা প্রধানত এআই প্ল্যাটফর্মগুলো পায়, তাহলে নতুন ও স্বাধীন কনটেন্ট তৈরির প্রণোদনা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, স্থানীয় সংবাদ, বিশেষায়িত গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি তথ্যভিত্তিক কনটেন্টের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    তবে এআই সার্চের বিপরীতে একমাত্র পথ নিষেধাজ্ঞা নয়। প্রকাশক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে কনটেন্ট ব্যবহারের ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা, কপিরাইট, লাইসেন্সিং এবং ট্রাফিক ভাগাভাগির নতুন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমকেও শুধু সার্চ-নির্ভরতার ওপর না থেকে সরাসরি পাঠক, সাবস্ক্রিপশন, সদস্যপদ, নিউজলেটার ও নিজস্ব ডিজিটাল কমিউনিটি গড়ে তুলতে হবে।

    কারণ গুগলের এআই সার্চের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সম্ভবত প্রযুক্তিগত নয়—এটি ইন্টারনেটের ক্ষমতার কাঠামো বদলে দিচ্ছে। একসময় সার্চ ইঞ্জিন ছিল ওয়েবের দরজা; এখন সেই দরজার ভেতরেই যদি পুরো উত্তর পাওয়া যায়, তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—দরজার ওপারে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

    এ কারণেই গুগলের এআই ওভারভিউকে শুধু দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। এটি একই সঙ্গে তথ্যের প্রবাহ, সাংবাদিকতার অর্থনীতি, কনটেন্ট সৃষ্টির প্রণোদনা এবং ওপেন ওয়েবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। এআই যদি ওয়েবকে আরো সমৃদ্ধ করে, তাহলে তা হবে প্রযুক্তির সাফল্য; কিন্তু যদি ওয়েবের কনটেন্টকে ব্যবহার করেই ওয়েবসাইটগুলোর পাঠক ও আয় কেড়ে নেয়, তাহলে যে উন্মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবস্থা এআইকে বড় করেছে, সেটিই একদিন তার সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

  • ইসরাইলের কৌশলগত বলয়ে ঢুকেছে গ্রিস, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

    ইসরাইলের কৌশলগত বলয়ে ঢুকেছে গ্রিস, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

    গ্রিস ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩১ আগস্ট দুই দেশ প্রায় ৩ বিলিয়ন ইউরোর একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় গ্রিসের জন্য ইসরাইল একটি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পে ডেভিডস স্লিং, বারাক এমএক্স, স্পাইডার এবং বহুমুখী রাডারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তিটিকে দুই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    লেখক মুরাত আসলান এই চুক্তিকে শুধু অস্ত্র কেনাবেচা হিসেবে দেখেননি। তার মতে, এর মধ্য দিয়ে গ্রিসের নিরাপত্তা কাঠামো ক্রমেই ইসরাইলি প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। এমনকি ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামটিকেও তিনি প্রতীকীভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। গ্রিক পুরাণের বীর অ্যাকিলিসের বিপরীতে তিনি হিব্রু ‘আয়িল’ শব্দের উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ আব্রাহামের কাহিনিতে বিকল্প হিসেবে উৎসর্গ করা ভেড়া। তার যুক্তি, গ্রিসের কৌশলগত স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত ‘অ্যাকিলিস’ শেষ পর্যন্ত অন্যের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত ‘আয়িল’-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

    চুক্তিটির সামরিক গুরুত্ব অবশ্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গ্রিসকে ডেভিডস স্লিং, বারাক এমএক্স, স্পাইডার এবং এমএমআর রাডারসহ একটি বহুস্তরীয় আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে ইসরাইল। গ্রিসের বৃহত্তর ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী বছরগুলোতে দেশটি আরো বিপুল অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনাও এর সঙ্গে যুক্ত।

    এথেন্সের দৃষ্টিতে এর প্রধান কারণ তুরস্ক। এজিয়ান সাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা, দ্বীপগুলোর সামরিকীকরণ, মহীসোপান, জ্বালানি সম্পদ এবং সাইপ্রাসকে ঘিরে গ্রিস ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস সম্প্রতি এজিয়ান সাগরে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক জলসীমা সম্প্রসারণের অধিকার নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, গ্রিস কীভাবে নিজেদের সশস্ত্র করবে সে বিষয়ে কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

    অন্যদিকে তুরস্কের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। আঙ্কারা পূর্ব এজিয়ান দ্বীপগুলোর সামরিকীকরণের বিরোধিতা করে এবং গ্রিসকে ১৯২৩ সালের লওজান চুক্তি ও ১৯৪৭ সালের প্যারিস শান্তি চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, তুরস্ক অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না, কিন্তু নিজেদের অধিকার লঙ্ঘনও মেনে নেবে না।

    এই অবস্থায় গ্রিস-ইসরাইল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। ইসরাইলের দৃষ্টিতে তুরস্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব কমে যাওয়া, রাশিয়ার আঞ্চলিক ভূমিকার পরিবর্তন এবং তুরস্কের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির ফলে ইসরাইল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

    গ্রিস, ইসরাইল ও গ্রিক সাইপ্রিয়ট প্রশাসনের মধ্যে সামরিক, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও গত এক দশকে বেড়েছে। ফলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রতিরোধ, বিমান প্রতিরক্ষা এবং সামরিক প্রযুক্তির সহযোগিতা। অন্যদিকে তুরস্কও সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’সহ নতুন নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। ফলে পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

    তবে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি মানেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া নয়। গ্রিস যদি তার আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার ও সামরিক কমান্ড কাঠামোর বড় অংশ বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে, তাহলে সংকটের সময়ে সেই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কৌশলগত নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে গ্রিস যদি এমন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের কাঠামোর অংশ হয়ে যায়, যার সিদ্ধান্ত এথেন্সের হাতে পুরোপুরি নেই, তাহলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়লেও কৌশলগত স্বাধীনতা কমতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

    তবে গ্রিসের অবস্থানও একেবারে ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিস বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়াতে চান। অর্থাৎ এথেন্সের লক্ষ্য শুধু ইসরাইল কেন্দ্রিক জোট তৈরি করা নয়; বরং পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা—এমনটাই গ্রিক সরকারের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

    আর এখানেই সামনে আসে ‘অ্যাকিলিস’ নামটির আরেকটি অর্থ। গ্রিসের জন্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যদি ক্রমাগত অন্য রাষ্ট্রের অস্ত্র, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেই নিরাপত্তার মূল্যও বিবেচনা করতে হয়। সামরিক জোট একদিকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে তৈরি হতে পারে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও পাল্টা জোটের একটি চক্র।

    গ্রিস ও তুরস্ক উভয়ই ন্যাটোর সদস্য। ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত হলে সেটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সংকট থাকবে না; ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ তৈরি করবে। ১৯৯৬ সালের কার্দাক সংকটের সময়ও যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল। তাই বর্তমান উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তার প্রভাব পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রিস ও তুরস্কের বিরোধের রাজনৈতিক সমাধান এখনো সামরিক সক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে। এজিয়ান ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরের সমুদ্রসীমা, সাইপ্রাস এবং দ্বীপগুলোর সামরিকীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য কেবল নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা রাডার দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং সামরিক ভারসাম্যের পাশাপাশি সরাসরি সংলাপ, আস্থা তৈরির ব্যবস্থা এবং বাধ্যতামূলক বিরোধ-নিষ্পত্তির কাঠামো প্রয়োজন।

    অতএব ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ গ্রিসের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিঃসন্দেহে বাড়াতে পারে। কিন্তু এই ব্যবস্থা একই সঙ্গে গ্রিস-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা প্রতিযোগিতাকেও তীব্র করতে পারে। শেষ পর্যন্ত গ্রিসের সামনে আসল প্রশ্ন হতে পারে—আরও শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার গড়া, নাকি এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যেখানে তুরস্ক ও গ্রিস পরস্পরকে স্থায়ী শত্রু হিসেবে না দেখে বিরোধগুলো রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ অস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান করতে পারে না।

  • ট্রেনে স্টারলিংকের ৬০ রাউটারের ৪৫টিই উধাও, অ্যানটেনাও চুরি

    ট্রেনে স্টারলিংকের ৬০ রাউটারের ৪৫টিই উধাও, অ্যানটেনাও চুরি

    দেশে প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ১৩ মার্চ চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয় স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এই উদ্যোগে যুক্ত ট্রেনগুলো হলো—পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস।

    এই ট্রেনগুলোতে প্রায় ৬০টি রাউটার বসানো হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস না পেরোতেই এর মধ্যে ৪৫টি রাউটার চুরি হয়ে গেছে। শুধু রাউটারই নয়, ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে একটি স্টারলিংক অ্যানটেনাও।

    বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) নিয়মিত এসব যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে। সম্প্রতি তদারকির সময় বড় ধরনের এই চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। উপবন এক্সপ্রেসের একটি অ্যানটেনা থেকে সিগন্যাল বন্ধ পাওয়ার পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অ্যানটেনা নেই—শুধু রয়ে গেছে সেটি বসানোর হোল্ডার।

    বিএসসিএল কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি রাউটারের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যানটেনার দাম দুই লাখ টাকার বেশি। ফলে চুরির ঘটনায় বড় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সেবা ব্যাহত হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ইমাদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যন্ত্রপাতি চুরি ঠেকানো না গেলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

    রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত নয়, কারা এসব রাউটার চুরি করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, চলন্ত ট্রেনে চুরি একটি নিয়মিত সমস্যা। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

    তার মতে, অনেক সময় মাদকাসক্তরা যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্য না বুঝে ধাতব অংশ ভেবে চুরি করে কম দামে বিক্রি করে দেয়।

    এদিকে, বারবার চুরি ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত কয়েক মাসে চুরি হওয়া রাউটারগুলো প্রতিস্থাপন করা হলেও চুরি বন্ধ হয়নি। তাই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ৫০টি বগিতে রাউটারগুলো বগির ভেতরের কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করা হবে। আর অ্যানটেনা সাধারণ বগির ছাদে নয়, বরং ইঞ্জিন বগির ছাদে বসানো হবে, যাতে চুরি ঠেকানো যায়।

  • লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খুঁটিকাটা গ্রাম। একসময় যেখানে লবণাক্ততার প্রভাবে শীত বা গ্রীষ্মে সবজি চাষ করা ছিল এক দুর্ভেদ্য চ্যালেঞ্জ, সেই গ্রামেই এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ আর কৃষকদের ব্যস্ততা নিয়ে খুঁটিকাটা এখন হয়ে উঠেছে এক স্বাবলম্বী জনপদ।

    উপকূলীয় এই এলাকার প্রায় ৪০০ কৃষক এখন নিয়মিত বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক নীলকান্ত ও সুব্রত জানান, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে প্রতিনিয়ত ক্ষতি হওয়ায় অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বসেছিলেন। তবে সিনজেনটা কোম্পানির ‘গো-গ্রো’ প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও উন্নত মানের উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহারে নতুন আশার আলো দেখতে পান তারা।
    সবজি চাষে সেচের প্রধান বাধা মিষ্টি পানির সংকট মেটাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। বর্ষার পানি ধরে রেখে সে কাজে লাগানোর ফলে বছরজুড়েই এখন বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। কেবল কৃষি উন্নয়নই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে রোপণ করা হয়েছে লবণসহিষ্ণু কয়েক শ গাছের চারা।

    তবে কৃষকদের নতুন অর্জনের পথে একমাত্র অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগের দুর্বল অবকাঠামো।
    চাষিরা জানান, গ্রামে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

    এতে উৎপাদিত ফসল সময়মতো মূল বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না এবং পচনশীল সবজি নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।
    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে খুঁটিকাটা গ্রামের কৃষকদের এই ঘুরে দাঁড়ানো উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিসম্ভাবনার এক ইতিবাচক মডেল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠোপোষকতা পেলে এই গ্রাম সারা দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

  • আন্দোলনে দণ্ডপ্রাপ্ত এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    আন্দোলনে দণ্ডপ্রাপ্ত এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজন ইস্যুতে আন্দোলনের কারণে সাময়িক বরখাস্তের পর লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার।

    গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এসব প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

    শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপকমিশনার মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার নো. জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

    প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ছাড়া অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। এর মাধ্যমে তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন।

    প্রজ্ঞাপনগুলোতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ চাকরির শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল। এটি ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০৩ বিধির লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    বিভাগীয় মামলায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও বেতন কয়েক ধাপ এবং কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল।

    এতে আরও বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের মূল বেতনে অবনমিতকরণ সূচক লঘুদণ্ড বাতিল করে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি তুলে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

    ২০২৫ সালে এনবিআরকে দুই ভাগ করে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করার বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ওই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলমবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই এনবিআরের সব কার্যক্রম চলবে।

    এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

    দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

    এরপর নতুন সরকার গঠনের আগেই একের পর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। এর মধ্যে অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

  • গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার  সহায়তা করছে মাইক্রোসফট

    গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করছে মাইক্রোসফট

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম বছরেই ইসরাইলের সঙ্গে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তি করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    মাইক্রোসফটের ‘অ্যাজুর’ ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এর আগে একাধিক অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং দ্রুত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো গভীর হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ক্লাউড ও এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নেয়।

    মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি কীভাবে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোম্পানির কিছু কর্মী ইসরাইলকে প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ করেছেন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, যুদ্ধের সময় ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তি শুধু তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে না; বরং সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, নজরদারি এবং লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এ কারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক ফোনকল ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করেছে। এসব তথ্য সামরিক অভিযানে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।

    মাইক্রোসফট অবশ্য তাদের প্রযুক্তি ইসরাইলকে সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেনি। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, তারা তাদের প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। কোনো নির্দিষ্ট সেবা আন্তর্জাতিক আইন বা কোম্পানির নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    এদিকে ইসরাইলের সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরো জোরালো হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অস্ত্র তৈরি না করলেও তার ক্লাউড, এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো যদি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা—এ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

    গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত এবং ব্যাপক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে। ফলে মাইক্রোসফটের ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তির তথ্য শুধু একটি ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয় নয়; বরং যুদ্ধ, প্রযুক্তি ও করপোরেট দায়বদ্ধতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • কক্ষপথ জয় জার্মান রকেটের, ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    কক্ষপথ জয় জার্মান রকেটের, ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    জার্মান স্টার্টআপ ইসার অ্যারোস্পেস শনিবার আর্কটিক নরওয়ের একটি কেন্দ্র থেকে মহাকাশে তাদের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। এর মাধ্যমে নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইউরোপ।

    মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি ছিল মহাদেশীয় ইউরোপ থেকে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। এই মহাদেশীয় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মহাকাশ অভিযানের ক্রমবর্ধমান বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব চেয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসার বলেছে, ‘আমরা কক্ষপথে! ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছি।’

    নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মাইরসেথ এক বিবৃতিতে এই উৎক্ষেপণকে ইউরোপের মহাকাশ উৎক্ষেপণ শিল্পের জন্য ‘একটি বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এর ফলে ইউরোপের মহাকাশে প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে।

    মাইরসেথ বলেন, আন্দোয়া থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন বর্তমান অস্থির সময়ে নরওয়ে ও ইউরোপের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।

    মহাকাশে স্বনির্ভরতা চায় ইউরোপ

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মার্চ মাসে ইসার-এর উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, যা ইউরোপের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত বৈশ্বিক ব্যবস্থাটি এখন পরিবর্তিত হচ্ছে।

    ইসার-এর তথ্য অনুযায়ী, নরওয়ের আর্কটিক আন্দোইয়া স্পেসপোর্ট থেকে উৎক্ষেপিত মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি, যা ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোডের জন্য ডিজাইন করা, পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা বহন করছিল।

    নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চলের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে উৎক্ষেপণ করা স্পেকট্রাম রকেটটি ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোড বহনের জন্য তৈরি। ইসার জানিয়েছে, এবারের মিশনে রকেটটি পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সরঞ্জাম বহন করে।

    এটি ছিল ইসারের দ্বিতীয় রকেট উৎক্ষেপণ। প্রথম উৎক্ষেপণের ১৮ মাস পর এবার দ্বিতীয়বার রকেট পাঠানো হলো। ২০২৫ সালের মার্চে একই উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে প্রথম রকেটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সমুদ্রে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

    ইসার তখন জানিয়েছিল, রকেটটি বিধ্বস্ত হলেও মিশন থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় সেটিকে সফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, শনিবারের উৎক্ষেপণ ছিল রকেটটির সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পেলোড বহন করে পরিচালিত প্রথম মিশন।

    স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং ফ্রান্সের এয়ারিয়ানগ্রুপ অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এয়ারিয়ানগ্রুপ হলো এয়ারবাস ও সাফরানের যৌথ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ আমেরিকার ফরাসি গায়ানায় অবস্থিত মহাকাশকেন্দ্র ব্যবহার করে।

    ইউরোপের মহাকাশ উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় সুইডেনের এসরেঞ্জ উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের স্যাক্সাভর্ড স্পেসপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মহাকাশে ইউরোপের নিজস্ব ও স্বাধীন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা তৈরি করা।

    ইসার গত সপ্তাহে জানিয়েছে, নতুন রকেট তৈরি এবং পরীক্ষামূলক ও উৎক্ষেপণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসা) থেকে প্রায় ২০ কোটি ইউরো (২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার) অর্থায়ন পেয়েছে। এ ছাড়া জার্মান প্রতিষ্ঠানটি কানাডায় দ্বিতীয় একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্রও নির্মাণ করছে।

  • এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’

    এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’

    দেশের সব নাগরিককে জন্মের পরই একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামের এই পরিচয়পত্রটি নাগরিকের সারা জীবনের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।

    বর্তমানে দেশে জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। ১৮ বছর বয়স হলে দেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি। তবে নতুন ব্যবস্থায় বয়সের কোনো সীমা থাকবে না। জন্মের পরই নাগরিককে একক পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিচয়পত্র চালু হলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নাগরিককে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একক পরিচয়পত্র চালু হলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের কার্যকারিতা এই কার্ডের মধ্যে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া সেবাও ভবিষ্যতে এক-আইডির মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    জানা গেছে, একক পরিচয়পত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ নতুন এই ব্যবস্থার ধারণাকে ‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি পরিচয়পত্র থাকবে, যা হবে তার ডিজিটাল পরিচয় এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাও পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন পরিচয়পত্রে কী কী তথ্য থাকবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

    প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি।

    জানা গেছে, প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই মার্কিন ডলার, যা বর্তমান হিসাবে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর বাইরে প্রতিটি কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে ব্যয় ধরা হয়েছে এক মার্কিন ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহ মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৬৯ টাকা।

    প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

    প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় হবে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে। এ খাতে মোট ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বর্তমানে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র ও নম্বর চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবাদানের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর হতে পারে।

  • রাশিয়ার সহায়তায় শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

    রাশিয়ার সহায়তায় শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

    ইরানকে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ‘সুপারসনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করছে রাশিয়া। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইনান্সিয়াল টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, উচ্চগতির এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় র‍্যামজেট ইঞ্জিন বানাতে রুশ প্রকৌশলীরা একাধিকবার ইরানে গিয়েছেন। প্রযুক্তিটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে তেহরান খুব সহজেই মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীতে হামলা চালাতে পারবে।

    রাশিয়ার গোপন নথিপত্র ও সামরিক চুক্তি বিশ্লেষণ করে তৈরি এই রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বড় ঘটনা।

    ‘C430L’ নামের এই প্রজেক্টটি ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্তও চালু ছিল। এমনকি ইরান যুদ্ধের মুখে পড়ার পরও এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকেনি।

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মারাত্মক সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি ইরানের হাতে তুলে দিতে ক্রেমলিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র সংস্থা বা তাদের সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

    তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ও ইরানের বন্ধুত্ব অনেক গাঢ় হয়েছে। আগে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন দিত, আর এখন রাশিয়া ইরানকে প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

  • বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নতুন ধরনের আইনি ও বিচারিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআই ব্যবহার করে ভুয়া জবানবন্দি ও প্রমাণ তৈরি, বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং রায় নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি কিংবা ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো রায় কারও পছন্দ না হলে এআই ব্যবহার করে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারকদেরই সর্বপ্রথম এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    আইনগত সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অতীতেও আইনের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় আরোপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর নজিরও তিনি তুলে ধরেন।
    এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একইভাবে প্রজ্ঞা, সতর্কতা ও অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খসড়া বিল সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন।

    পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর যৌথ আয়োজন করে সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড (এলইবিএল)। অংশীদার হিসেবে এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজনে সহায়তা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। সমাপনী সেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআই গভর্নেন্স সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

  • কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কসাইখানায় প্রথম দফায় মেশিনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতেও গবাদিপশুর মাংস প্রস্তুত করা হচ্ছে। শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

    প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “এই কসাইখানায় প্রথমে ইসলাম ধর্মের রীতিতে সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। পরে মাংস প্রস্তুত পর্যন্ত বাকি কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।”

    কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কসাইখানায় প্রথম পর্যায়ে মেশিন এবং সনাতন উভয় পদ্ধতিতেই মাংস প্রস্তুত করা হবে। আধুনিক মানের এই কসাইখানা চালুর মাধ্যমে একদিকে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময়ও সাশ্রয় হবে।

    অন্যদিকে ভোক্তারা পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত মাংস এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এ কসাইখানা চালু হলে শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

    প্রাণী সম্পদবিভিাগের কর্মকর্তাদের দাবী, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আধুনিক এই কসাইখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেখানে–সেখানে পশু জবাই বন্ধ হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রোগবালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াকৃত মাংস খেতে পারবে জেলাবাসী। এছাড়া এখানে জবাই করা পশুর চামড়াও থাকবে নিখুঁত।

    অপরদিকে মেশিনে পশু জবাই করা ও হালাল মাংস প্রসঙ্গে হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, একটি হালাল পশুর খাবার অনেক সময় হারাম হয়ে যায়। আল্লাহর নামে জবাই করা ব্যতিত হালাল পশুর গোস্ত মুসলমানদের জন্য খাওয়া হারাম। তাই আল্লাহর নামে পশু জবাই হতে হবে।

    এছাড়াও হালাল প্রাণীর অনেক কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী হালাল প্রাণীর ৮টি অংশ খাওয়া নিষেধ। এর মধ্যে

    ১. পুরুষ লিঙ্গ, ২. স্ত্রী লিঙ্গ, ৩. মুত্রথলি, ৪. মেরুদন্ডের ভেতরের মগজ বা সাদা রগ, ৫. পিত্ত, ৬. অন্ডকোষ, ৭. চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, ৮. প্রবাহিত রক্ত। তবে এগুলোর মধ্যে প্রবাহিত রক্ত অকাট্য হারাম, বাকিগুলো মাকরুহে তাহরিমি।

    আধুনিক কসাইখানায় পশুর মাংস প্রস্তুত হোক এতে কোন সমস্যা নেই। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করবেন এ দাবী জেলার হক্কানী উলামায়েকেরাম ও সচেতন মুসলিম সমাজের। এগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এ প্রত্যাশা জেলার সুশীল সমাজের।

  • অ্যাপল ম্যাপে লেক অন্টারিওর নাম লেক আমেরিকা

    অ্যাপল ম্যাপে লেক অন্টারিওর নাম লেক আমেরিকা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ম্যাপ অ্যাপে লেক অন্টারিওর নাম বদলে লেক আমেরিকা করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অ্যাপলের ম্যাপ অ্যাপে এই পরিবর্তন আনা হয়। একই দিনে অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেন জন টার্নাস।

    ট্রাম্পের বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ মেনে নাম পরিবর্তন করা দ্বিতীয় মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট হলো অ্যাপল। এর আগে শনিবার গুগলও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য জনপ্রিয় গুগল ম্যাপসে লেক অন্টারিওর নাম লেক আমেরিকা হিসেবে দেখানোর ঘোষণা দেয়।

  • ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ঘুষ দাবির মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। নিজের পাসপোর্ট করতেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদ। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের এই অপসংস্কৃতির প্রতিবাদ জানাতে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি ওয়েবসাইট।

    শাহেদের তৈরি ওয়েবসাইটের নেপথ্যের কারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন- হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান (সবুজ) এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তাদের নোটিশ দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন।

    তিনি বলেন, কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    ‘মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে কিশোর শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাহেদের বাবা ও প্রয়াত শিক্ষিকা আমিনা খাতুনের স্বামী শরীফুল ইসলামকে (শামীম) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ডাকা হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখানে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

    শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর খুব দ্রুত কাজ হতে শুরু করেছে। আগের তৈরি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন নথি প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। এটি করতে আরও কিছু সময় লাগবে। আশা করছি, দ্রুত আমাদের পাওনা পেয়ে যাব।’

    শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। শাহেদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।

    তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।

    পরিবারের অভিযোগ, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ভবিষ্য তহবিল) প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। এরমধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৮ হাজার টাকা- সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

    এছাড়া কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য ৮ লাখ টাকা পেতে শিক্ষা কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সরকারি পাওনা পেতে ঘুষের দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়েই শাহেদ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুষের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের ওয়েব সাইটটি।

  • জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক
    এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অ্যাওয়ার্ড দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ পেয়েছেন তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড দেবেন। এই ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেয়ার জন্য তাদেরকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলাচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগী হয় সেজন্যই তাদের উপহার দেয়া হবে।

  • এআই ক্যামেরা; নিরাপদ সড়কের নতুন যাত্রা

    এআই ক্যামেরা; নিরাপদ সড়কের নতুন যাত্রা

    রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট কমাতে দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তা কার্যকর শুরুও হয়েছে।

    আগে ঢাকার সড়কের লাল বাতি আর সবুজ বাতি জ্বলার তেমন গুরুত্ব বা তফাৎ ছিল না। এখন ক্যামেরার নজরদারির কারণে অনেক চালক থামছেন নির্ধারিত স্থানে। এআই ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও আগের তুলনায় বেশি নিয়ম মানার অভ্যস্তত লক্ষনীয়। প্রতিটি মোড়ে সারাক্ষণ ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থেকে চালককে থামিয়ে আইন মানাতে হচ্ছে না।

    এখন মূলত ক্যামেরা, সফটওয়্যার ও কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ে আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিগন্যালগুলোকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের সিগনাল মানার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ। চালকরা সিগন্যাল না মানলে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই কার্যকর হবে না। সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন ভায়োলেশন, বিপরীত দিক থেকে গাড়ি চালানোর অপরাধে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে সমস্যা দেখা হয়। এতে সড়কে যানজট হয়, একটি গাড়ি থামালে পেছনের গাড়িগুলোও আটকে পড়ে।

    যানজট কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরা ব্যবহারে সুফল মিলতে থাকায় ড্রোনে নজরদারির চিন্তাটিও গতিময়তা পাচ্ছে। ড্রোনের সঙ্গে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন-এএনপিআর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। প্রযুক্তিটি চালু হলে সহজ হবে ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে মামলা বা পদক্ষেপ নেওয়া।

    রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হঠাৎ যানজট দেখা দিলে অনেক সময় এর কারণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ড্রোন ব্যবহার করা গেলে ঘটনাস্থলের রিয়েল টাইম তথ্য মিলবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

    ড্রোনে শব্দ বা ভয়েস বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে। কোনো যানবাহন রাস্তা আটকে যানজট সৃষ্টি করলে আকাশ থেকে চালককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত মামলা বাড়ানো নয়, চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করাই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য।

    এরইমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ডিএমপিকে একটি ড্রোন দিয়েছে। সেটি নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ড্রোন পরিচালনার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এরইমধ্যে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপি। শাহবাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে চালকদের সিগন্যাল মেনে চলার একটি চর্চা বা অভ্যস্ততা লক্ষনীয়।

    এআই ক্যামেরা চালুর পর সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে ট্রাফিক সিগন্যালে। ব্যাপক না হলেও বেশ পালটে গেছে রাজধানী ঢাকার চিরচেনা সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার চিত্র। যানবাহনের সিগন্যাল অমান্য করার যে চিরচেনা দৃশ্য দেখা যেত বিভিন্ন স্পটে এআই ক্যামেরা বসানোয় সিগন্যাল অমান্য করার সেই প্রবণতা কমে গেছে। চালকরা মামলার ভয়ে সিগন্যাল মানতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিএমপি জানিয়েছে, ড্রোন ব্যবস্থাটিও পরীক্ষার পর এর কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য সমস্যাগুলো মূল্যায়ন করা হবে। প্রযুক্তিটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমে আসবে বলে আশাবাদী অনেকে।

    মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটা মালিকপক্ষ থেকে হোক, শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে হোক অথবা পুলিশের পক্ষ থেকে হোক—সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ডেড থাকবে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের কণ্ঠেও শোনা গেছে এ আশাবাদ। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ এ পদক্ষেপকে যুগান্তকারী বলেছেন তিনি।

    জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, উলটো পথে চলাচল, ওভারটেকিং ও সাইন-সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধ ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করে সেই তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হবে। গাড়ির মালিকের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য জানানো হবে। নির্ধারিত মুঠোফোন আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

    তিনবার জরিমানা হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিল হবে কি না, তা বিআরটিএর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। আর বর্তমানের হালখাতায় দেখা যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ১৮ আগস্ট হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থা চালুর প্রথম দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা হয় ৪৪৬টি। পরদিনই নেমে আসে ৪২-এ। দশম দিনে মামলা হয়েছে মাত্র ৩৪টি। সেই হিসাবে ১০ দিনের ব্যবধানে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ মামলা কমেছে।

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে চালকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের আওতায়। ঢাকার সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জের অংশ গাজীপুর অঞ্চল এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়ক কুমিল্লা অঞ্চল। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য হচ্ছে, ১৮ আগস্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা সংখ্যা ৬৯৫টি। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৬৫৮টি এবং ৩৭টি উলটোপথে চালানোর কারণে।

    প্রথম দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় ৪৪৬টি মামলার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৪১৭টি এবং উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২৯টি মামলা হয়েছে। পরদিন ৪৪৬ থেকে মামলার সংখ্যা ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমার দিনে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা হয়েছে ৪২টি। ২০ আগস্ট অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২০টি মামলা হয় এবং উলটোপথের ঘটনা একটি। এর পরদিন অতিরিক্ত গাড়ি চালানোর অভিযোগে ১৯ এবং উলটোপথে যাওয়ার কারণে দুটি। ২২ আগস্ট ৪২টি এবং এর পরদিন মামলা সংখ্যা ৩৫। ২৪ আগস্ট উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে একটি এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে ২০টি মামলা হয়। ২৫ আগস্ট মামলার সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ১৪টি। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার উলটোপথে গাড়ি চলাচলের মামলা শূন্যে নেমে আসে। বুধবার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা ১৯টি এবং বৃহস্পতিবার ৩৪টি।

    তথ্যগুলো ভাবনার বেশ খোরাক দিয়েছে। মহাসড়কের প্রতি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হয় না। কোনো কোনো জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখলে চালক আইন মেনে চলার চেষ্টা করতেন। আবার পুলিশ না থাকলে আইন ভাঙতেন। এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে সড়কে চালকের মধ্যে আইন মানার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যে কারণে মামলা কমে আসছে।

    অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিতে গেলে গাড়ির প্রভাবশালী মালিকরা নানাভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতেন। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্তের পর মামলা হওয়ায় মানুষের সেই সুযোগ থাকছে না। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালালে মামলা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট এআই ক্যামেরা উদ্বোধনের আগে পরীক্ষামূলক চালানো হয়েছে। তখন মামলা সংখ্যা প্রতিদিন চার শতাধিক ছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও ৪শর বেশি মামলা হতো। বলা বাহুল্য ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প। এআই ক্যামেরা চালু হওয়ার পর তাদের পরিবহনের সব চালককে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালাতে হবে। নইলে ভিডিও মামলা হলে জরিমানা চালককেই বহন করতে হবে। ভিডিও মামলা চালুর পর রাস্তায় আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছে চালকরা। এ সতর্কতা ভয়ের বদলে নৈতিকতা অংশ হয়ে উঠলে মুখে মুখে উচ্চারিত ‘নিরাপদ সড়ক’ কার্যকরভাবে বাস্তব হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারন ভয়ে বা আরোপে প্রকৃত অভ্যস্ততা আসে না কখনো।

  • শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ। কাজেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে অচিরেই ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আর এই নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষায় প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে উৎসাহ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য গোলাপি সাইকেল উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

    কুয়েট প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আজকের খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই প্রকাশ্যে বা গুপ্ত অবস্থায় রাজনীতি করা যাবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার ও ৫-১০টি বৈদ্যুতিক বাস দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

    এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী ও অধ্যাপক ড. হাসান আলী।

    বেলা সাড়ে ১২টায় অডিটরিয়ামের সামনে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন, আনন্দ র‍্যালি, স্টল পরিদর্শন, ‘কুয়েটের অর্জন (ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ)’ বিষয়ক উপস্থাপনা, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিকেলে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিচতলায় পোস্টার বা প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন, একই সময়ে দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবসমূহ উন্মুক্ত রাখা হয়। বিকেল ৪টায় শিক্ষক বনাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া, সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

  • দুই সেকেন্ডেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ধরবে এআই

    দুই সেকেন্ডেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ধরবে এআই

    মাত্র দুই সেকেন্ডেরও কম সময়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চিকিৎসকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা সাধারণ ইসিজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে মানুষের চোখে ধরা না পড়া তথ্য বের করতে পারে।

    এই প্রযুক্তি হার্ট ফেইলিউর ও হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগের লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে। ফলে ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

    কয়েক মিলিয়ন ইসিজির তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এই এআই প্রযুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বার্ষিক সম্মেলনে। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো চিকিৎসক ও গবেষক অংশ নিয়েছেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় হৃদ্‌রোগবিষয়ক সম্মেলন।

    ইসিজিতে এবার ধরা পড়বে বাড়তি তথ্য

    ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম রেকর্ড করে। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের গতি ও ছন্দ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। হার্ট অ্যাটাক ও অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দন শনাক্ত করতে প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই পরীক্ষা ব্যবহৃত হচ্ছে।

    তবে প্রচলিত ইসিজিতে হার্ট ফেইলিউর বা হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায় না। এসব রোগ নির্ণয়ে সাধারণত ইকোকার্ডিওগ্রাম বা হৃদ্‌যন্ত্রের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা প্রয়োজন হয়।

    এই পরীক্ষার জন্য রোগীদের অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।

    নতুন এআই প্রযুক্তি সেই অপেক্ষা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ইসিজির ফল বিশ্লেষণ করে এটি খুব দ্রুত এসব রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে।

    ৬৭ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা

    যুক্তরাষ্ট্রে ৬৭ হাজার রোগীর ওপর প্রযুক্তিটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ শনাক্ত করতে পেরেছে এআইটি। হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগের ক্ষেত্রে শনাক্তের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ।

    তবে এআইটি একাই কোনো রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করতে পারে না। কারো এসব রোগ নেই—এ কথাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।

    বরং কারো রোগ থাকার সম্ভাবনা বেশি কি না, সে বিষয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ঝুঁকি বেশি মনে হলে ওই রোগীকে দ্রুত ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা এড়িয়ে দ্রুত পরীক্ষা করা যেতে পারে।

    ফলে রোগ নির্ণয় দ্রুত হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও আগে শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

    ‘আগে শনাক্ত হলে জীবন বাঁচে’

    ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের (বিএইচএফ) অর্থায়নে গবেষণাটি হয়েছে। সংস্থাটির পরামর্শক হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্লিনিক্যাল পরিচালক সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, ইসিজি থেকে এআইয়ের এত দ্রুত ফল দিতে পারা ‘উত্তেজনাপূর্ণ’।

    তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত সবাইকে শনাক্ত করতে পারবে না। তবে উচ্চঝুঁকির রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য অগ্রাধিকার দিতে এটি সহায়তা করতে পারে।

    তার মতে, হৃদ্‌রোগ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে জীবন বাঁচানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।

    বছরে প্রায় ১০০ কোটি ইসিজি

    প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহের বড় কারণ ইসিজির ব্যাপক ব্যবহার।

    বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত করা এই পরীক্ষার তথ্য কাজে লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের হৃদ্‌রোগবিষয়ক অধ্যাপক ফু সিয়ং এনজি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য পাঠানোর পর রোগীদের অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।

    নতুন প্রযুক্তিটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের শনাক্ত করতে পারলে তাদের দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্ক্যানের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

    অন্য পরীক্ষার সময়ও ধরা পড়বে হৃদ্‌রোগ

    এই এআইয়ের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক এনজি।

    অনেক সময় হৃদ্‌রোগের কোনো সন্দেহ না থাকলেও অন্য কারণে রোগীর ইসিজি করা হয়। সেই ইসিজির তথ্যও এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    হাসপাতালে করা সব ইসিজি এআই মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা গেলে উচ্চঝুঁকির রোগীদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

    এতে আগে সন্দেহ না থাকা হার্ট ফেইলিউর ও ভালভের রোগও দ্রুত শনাক্ত হতে পারে।

    হাতে বহনযোগ্য এআই ইসিজি

    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক এবং বিএইচএফের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো আহমেদ এল-মেদানি এই বিশ্লেষণের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    তিনি প্রযুক্তিটিকে ‘সুপারহিউম্যান এআই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    এখন গবেষকদের লক্ষ্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের উপযোগী হাতে বহন করা যায়—এমন এআই-নির্ভর ইসিজি যন্ত্র তৈরি করা।

    এ ধরনের যন্ত্র তৈরি হলে হাসপাতালের বাইরে বা প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রেও দ্রুত হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    পাঁচ সেকেন্ডের মুখের ভিডিওতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস

    মিউনিখের সম্মেলনে এআইয়ের আরেকটি সম্ভাব্য চিকিৎসা-ব্যবহার নিয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মুখের মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিও বিশ্লেষণ করে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    গবেষকদের মতে, এআইভিত্তিক এই বিশ্লেষণ রোগ নির্ণয় সহজ করতে পারে।

    বিশ্বে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লাখো মানুষ জানেন না যে তারা এসব রোগে ভুগছেন।

    গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি অজানা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনতে সহায়তা করবে।

  • যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পলাশ কুমার মণ্ডলের মুরগির খামারে তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি আছে। খামারে তিনি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি খামারে না গিয়েও তাপমাত্রা, পানি, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। উৎপাদন খরচ প্রতি মাসে কমেছে ১৪–১৫ হাজার টাকা।

    পলাশ কুমার যশোরের অভয়নগরের বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির পাশে জমি ইজারা নিয়ে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের লক্ষ্যে শেড নির্মাণ করেন। সেখানে তিন বছর ধরে ব্রয়লার মুরগি পালন করছেন। কিন্তু তাঁর জন্য এটা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। নিজের শ্রমঘণ্টা বেশি ব্যয় হচ্ছিল। যে কারণে তিনি তাঁর মৎস্য চাষে বেশি মনোনিবেশ করতে পারতেন না। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন কর্মীকে বেতন দিয়ে খামারে নিয়োজিত রাখতে হতো। ছয় মাস আগে তিনি খামারে আইওটি ডিভাইস সংযোজন করেছেন। এতে তাঁর নিজের কর্মঘণ্টা যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি একজন কর্মীর আর প্রয়োজন হচ্ছে না।

    পলাশ কুমার বলেন, ‘ছয় মাস আগেও আমার খামারে অতিরিক্ত একজন কর্মী রাখা লাগত। তাঁর বেতন দিতে হতো প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা। আইওটি ডিভাইস স্থাপনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল আসছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক খরচ কমেছে।’

    পলাশ কুমারের স্ত্রী বিথী মণ্ডল বেসরকারি সংস্থা নবলোক পরিষদের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির একটি সমিতির সদস্য। সংস্থাটি বিনা মূল্যে পলাশের খামারে ডিভাইসটি স্থাপন করে দিয়েছে। এ ডিভাইসের কারণে এলাকায় প্রান্তিক পোলট্রি খামারিদের কাছে পলাশ কুমার মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    সম্প্রতি বাগুটিয়া গ্রামে পলাশ কুমারের মুরগির খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতরে কিছু দূর পরপর পানির পাত্র ঝোলানো। সেই পাত্রের সঙ্গে পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে ছাদের ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। পাশে আইওটি ডিভাইস স্থাপন করা। সেই ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া আছে। সেই সংযোগের মাধ্যমে মুঠোফোন থেকে অ্যাপসের সাহায্যে পলাশ কুমার খামার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

    বাগুটিয়া গ্রামের খামারি ফয়সাল সরদার এবং বিবাগদী গ্রামের মোহাম্মদ আনারুল মোল্লা আইওটি ডিভাইস সম্পর্কে পলাশ কুমারের কাছ থেকে ধারণা নিতে এসেছেন। ফয়সাল সরদার বলেন, আইওটি খরচ সাশ্রয়ের তেমনই একটি প্রযুক্তি। তবে এর জন্য সরকারকে বিনা মূল্যে বা কম খরচে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে।

    নবলোক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সদস্যদের মধ্য থেকে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের তিনজন উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা হিসেবে আইওটি পোলট্রি প্রযুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পলাশ একজন।

    নবলোক পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রসূন বিশ্বাস বলেন, পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন) আর্থিক সহায়তায় এ প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটির মধ্যে একটি সফটওয়্যার ডিভাইস, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। এই প্রযুক্তি স্থাপনে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

    স্থানীয় মুরগির খামারিদের ভাষ্য, সরকারকে প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে এ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হবে।

    অভয়নগরে ডিমপাড়া মুরগি ও মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির ৩০০টির বেশি খামার আছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র পলাশ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে তিনি ভালোই ফল পাচ্ছেন।

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশ করবেন না

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশ করবেন না

    তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি সাধারণ তথ্যও কখনো কখনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ অনলাইনে দেওয়া বিভিন্ন তথ্য আলাদাভাবে নিরীহ মনে হলেও, সেগুলো একত্র করে একজন ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান, দৈনন্দিন অভ্যাস, এমনকি আর্থিক তথ্য সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী প্রকাশ করছেন, কারা সেটি দেখতে পাচ্ছেন এবং সেই তথ্য অন্য কেউ কীভাবে ব্যবহার করতে পারে, তা বিবেচনা করা জরুরি।

    জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবি

    জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন কিংবা অন্য কোনো সরকারি পরিচয়পত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়। এসব নথিতে নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার আনন্দে কিংবা কোনো প্রয়োজনে পরিচয়পত্রের ছবি পোস্ট করলে সেই তথ্য অন্য কারো হাতে চলে যেতে পারে। তাই সরকারি পরিচয়পত্রের ছবি প্রকাশ না করাই নিরাপদ। প্রয়োজনে কাউকে পাঠাতে হলেও সংবেদনশীল তথ্য আড়াল করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

    ব্যাংক হিসাব ও কার্ডের তথ্য

    ব্যাংক হিসাব নম্বর, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ছবি, কার্ড নম্বর, মেয়াদ কিংবা নিরাপত্তাসংকেত কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়। অনেকে নতুন কার্ড পাওয়ার পর ছবি তুলে পোস্ট করেন। আবার লেনদেনের প্রমাণ দিতে গিয়ে এমন ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ব্যাংক হিসাব বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখা যায়। এ ধরনের ছবি প্রকাশের আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আর্থিক তথ্য যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত রাখাই নিরাপদ।

    পাসওয়ার্ড ও এককালীন গোপন সংকেত

    কোনো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, পিন কিংবা এককালীন গোপন সংকেত কারো সঙ্গে ভাগ করা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো নয়ই। প্রতারকরা অনেক সময় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে এসব তথ্য চাইতে পারে। কোনো বার্তা বা মন্তব্যের মাধ্যমে এমন তথ্য চাওয়া হলেও দেওয়া উচিত নয়। এককালীন গোপন সংকেত অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হলেও সেটি অন্যের হাতে গেলে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা

    প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত ফোন নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ্যে দেওয়া উচিত নয়। কারণ এসব তথ্য ব্যবহার করে অবাঞ্ছিত ফোন, বার্তা কিংবা প্রতারণামূলক যোগাযোগের চেষ্টা হতে পারে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করতে হলে ব্যক্তিগত নম্বর বা ইমেইলের পরিবর্তে আলাদা যোগাযোগব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে, উন্মুক্ত মন্তব্যের ঘরে ফোন নম্বর লেখার আগে মনে রাখা দরকার, সেটি শুধু যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হচ্ছে তিনিই নন, আরো অনেকেই দেখতে পারেন।

  • হট ৭০ প্রো ফাইভ-জি দেশের বাজারে

    হট ৭০ প্রো ফাইভ-জি দেশের বাজারে

    তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

    দেশের বাজারে ইনফিনিক্স তাদের নতুন মাস্টার ফোন ‘Hot 70 Pro 5G’ নিয়ে এসেছে। ফোনটিতে শক্তিশালী ফাইভ-জি কানেক্টিভিটি, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭১০০ চিপসেট, সনির উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি, নতুন ডিজাইন আর টেকসই গঠনের সঙ্গে রয়েছে এআই-ভিত্তিক বেশ কিছু ফিচার। ‘মাল্টি-ডাইমেনশনাল স্যাটিসফ্যাকশন, মাস্টার্স চয়েস’ থিমকে সামনে রেখে আসা এই ফোনটিতে পারফরম্যান্স, ফটোগ্রাফি, ডিজাইন ও ব্যাটারির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

    এতে রয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭১০০ ফাইভ-জি চিপসেট, যা এই বাজেটের মধ্যে বেশ শক্তিশালী। দীর্ঘদিন ফোনের পারফরম্যান্স ফাস্ট ও স্মুথ রাখতে এতে রয়েছে ইনফিনিক্সের ৭২-মান্থ ফ্লুয়েন্সি টেকনোলজি। সঙ্গে রয়েছে ৬.৭৬ ইঞ্চির এফএইচডি প্লাস ডিসপ্লে, যার ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশরেট নিশ্চিত করবে গেমিং বা ভিজ্যুয়াল ব্যবহারের দারুণ এক অভিজ্ঞতা। ডিভাইসটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি আইএমএক্স৮৮২ সেন্সরের অটো-ফোকাস ক্যামেরা। সেলফি তোলার জন্য রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। পর্যাপ্ত আলো নিয়ে নিখুঁত ছবি তোলার পাশাপাশি এতে AI RAW ও লাইভ ফটো ফিচার রয়েছে। ৪৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সুবিধাসহ ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি দেবে সারা দিনের নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ সুবিধা। ৮ জিবি র‍্যাম, ৮ জিবি ভার্চুয়াল র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে ফোনটি। বাংলাদেশে ফোনটির অফিশিয়াল দাম রাখা হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৯৯ টাকা।

  • মস্তিষ্কের ইশারায় চলবে কম্পিউটার

    মস্তিষ্কের ইশারায় চলবে কম্পিউটার

    তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

    এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করুন—আপনি কম্পিউটারের সামনে বসে আছেন; কিন্তু কিবোর্ডে হাত দিচ্ছেন না, মাউসও ব্যবহার করছেন না। শুধু মনে মনে একটি বাক্য ভাবলেন। আর সেটি পর্দায় লেখা হয়ে গেল। কিংবা হুইলচেয়ারে বসে থাকা একজন ব্যক্তি শুধু চিন্তার মাধ্যমে হুইলচেয়ার চালাচ্ছেন। রোবোটিক হাত দিয়ে একটি গ্লাস তুলে পানি পান করছেন। কয়েক বছর আগেও এসব বিষয় ছিল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ। কিন্তু আজ তা বাস্তব গবেষণাগারে পরীক্ষিত প্রযুক্তি। ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (Brain-Computer Interface বা BCI) এমন একটি প্রযুক্তি, যা মানুষের মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে এটি হতে পারে কম্পিউটিং জগতের সবচেয়ে বড় বিপ্লবগুলোর একটি।

    মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত অসংখ্য বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে। আমরা যখন কোনো কিছু ভাবি, দেখি বা কোনো অঙ্গ নাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই, তখন মস্তিষ্কের নিউরনগুলো একে অপরের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংকেত আদান-প্রদান করে। বিসিআই প্রযুক্তির মূল কাজ হলো এই সংকেতগুলো শনাক্ত করা, বিশ্লেষণ করা এবং কম্পিউটার বুঝতে পারে এমন ডিজিটাল নির্দেশনায় রূপান্তর করা। অর্থাৎ, কিবোর্ডে টাইপ করার পরিবর্তে মস্তিষ্কের সংকেতই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের ইনপুট ডিভাইস।

    এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা নতুন নয়। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত বিশ্লেষণ করে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উন্নত সেন্সর এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক্সের অগ্রগতির ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গবেষণা অনেক এগিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানি এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি শুধু চিন্তার সাহায্যে কম্পিউটারে লিখতে বা রোবোটিক বাহু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।

    স্বাস্থ্যসেবায় বিসিআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যারা দুর্ঘটনা বা রোগের কারণে কথা বলতে বা চলাফেরা করতে পারেন না, তাদের জন্য এটি নতুন আশার আলো। একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী শুধু মস্তিষ্কের সংকেতের মাধ্যমে কম্পিউটারে বার্তা লিখতে পারেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, কিংবা হুইলচেয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    শুধু চিকিৎসাই নয়, ভবিষ্যতের কম্পিউটার ব্যবহারের ধরনও বদলে যেতে পারে। বর্তমানে আমরা কিবোর্ড, মাউস, টাচস্ক্রিন কিংবা ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করি; কিন্তু বিসিআই সফলভাবে বিকশিত হলে শুধু চিন্তার মাধ্যমেই কম্পিউটার পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে। ই-মেইল লেখা, গেম খেলা, স্মার্ট হোম নিয়ন্ত্রণ, কিংবা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অভিজ্ঞতা—সবকিছুই আরো স্বাভাবিক ও দ্রুত হয়ে উঠতে পারে।

    তবে এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ভুলতা। মানুষের মস্তিষ্ক অত্যন্ত জটিল। প্রতিটি চিন্তা বা অনুভূতি আলাদা বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে, যা সঠিকভাবে শনাক্ত করা সহজ নয়। এ ছাড়া মস্তিষ্কের তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত। যদি এই তথ্য অননুমোদিতভাবে সংগ্রহ বা অপব্যবহার করা হয়, তাহলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিসিআই প্রযুক্তির সঙ্গে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ও নৈতিক নীতিমালাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এই প্রযুক্তি কি একদিন মানুষের চিন্তা পড়তে পারবে? বর্তমান বাস্তবতায় উত্তর হলো—‘না।’ আধুনিক বিসিআই নির্দিষ্ট ধরনের মস্তিষ্কের সংকেত বিশ্লেষণ করে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে; কিন্তু মানুষের সব চিন্তা, স্মৃতি বা অনুভূতি পড়তে পারে না। তবে গবেষণা যত এগোচ্ছে, প্রযুক্তির সক্ষমতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

    বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংস্থা বিসিআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। লক্ষ্য একটাই—মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগকে আরো স্বাভাবিক, দ্রুত ও কার্যকর করা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, শিল্প, গেমিং এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    আর তাই বলা চলে, ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস শুধু একটি নতুন প্রযুক্তি নয়, এটি মানুষ ও যন্ত্রের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। একসময় যেভাবে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি আমাদের জীবন বদলে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে বিসিআই হয়তো সেই পরিবর্তনকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। তখন হয়তো কম্পিউটার পরিচালনার জন্য হাত নয়, কণ্ঠ নয়—শুধু একটু চিন্তাই যথেষ্ট হবে।

  • ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।

    বিশ্লেষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।

    তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।

    জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

    পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি যুগান্তরকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেফতার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে-এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

  • মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা স্পিচ বা কথা বলা। আর কথা বলার ক্ষমতা না থাকলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ ও অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের রোগীদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আধুনিক ও সমন্বিত বা সামগ্রিক পদ্ধতিতে রোগীর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শিখে তা কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহারের দক্ষতা আরো বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ এ চিকিৎসা সেবার ফলে অটিজম, অপ্রাক্সিয়া, অস্পষ্ট কথা বলা, তোতলামি এবং বিভিন্ন ধরনের বাক ও যোগাযোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে সিআরসি সম্মেলন কক্ষে সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে আসা দুই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন। এতে দেশের ৫৮ জন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের (বিআরসি) রেজিস্ট্রার ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি পুনর্বাসনসেবার মান উন্নয়নে বিশ্বমানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে দেশের পেশাজীবীদের যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কাউন্সিলে নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন স্পিচ থেরাপি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

    হারুন অর রশিদ বলেন, পুনর্বাসন পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে লাইসেন্সের আগে সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষা ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন ও

    স্পিচ থেরাপি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস কিংবা বাংলাদেশ সব দেশের মানুষ একই বিশ্বের অংশ। তাই জ্ঞান, প্রযুক্তি, মতামত ও প্রশিক্ষণ বিনিময় চলমান রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদেরও বাংলাদেশে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বলেন, ২০১৭ সালে এসএসএলটি প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় নয় বছরে সংগঠনটির পেশাজীবীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। সংসদে প্রণীত আইনের অধীনে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের আওতায় ১২টি পেশাগত শ্রেণি ও ২০ ধরনের পুনর্বাসন পেশাজীবী রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা ও সেবার মান বিশ্বমানের পর্যায়ে নেওয়া কাউন্সিলের অন্যতম লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তা আরও কার্যকর হবে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি রোগীরা থাকবেন এবং প্রশিক্ষণার্থীরা সরাসরি রোগীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

    অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ভাষা ও কথা বলার থেরাপি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক অ্যান-ক্যাথরিন ডেমেরেভিচ বলেন, মোটর স্পিচ ডিজঅর্ডারের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন। কর্মশালায় অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের ক্লিনিক্যাল যুক্তিবোধ ও শেখার আগ্রহ প্রশংসনীয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে এসএসএলটির পেশাদারিত্ব ও পেশাটির উন্নয়নে সংগঠনটির প্রতিশ্রুতি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নৈতিক ও প্রমাণভিত্তিক চর্চা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ও স্পষ্ট পেশাগত মানদণ্ড প্রয়োজন। বিআরসির পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এসএসএলটি পেশাটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    নেদারল্যান্ডস থেকে আসা প্রশিক্ষক ক্যারেন বারবারা ব্রিঙ্কম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের একাডেমিক ভিত্তি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক প্রম্পট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের বিদ্যমান জ্ঞানের সঙ্গে নতুন ধারণা ও কৌশলের সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ও কার্যকর জ্ঞান। বিআরসি ও এসএসএলটি একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশে নৈতিক পেশাগত চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার ফলাফলও উন্নত করা সম্ভব।

    এসএসএলটির সভাপতি ফিদা আল শামস বলেন, প্রত্যেক পেশার একটি মানদণ্ড থাকা উচিত। কিন্তু রোগীদেরদের অনেকের অভিযোগ, তারা প্রকৃত থেরাপিস্টদের কাছ থেকে মানসম্মত সেবা পাননা এবং এবিষয়ে অনেকের প্রশিক্ষণ নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, অথচ নিবন্ধন পাইনি। তিনি দ্রুত সরকারের কাছে নিবন্ধনের দেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মশালায় অংশ নেওয়া কনসালট্যান্ট স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান বলেন, মোটর-সেন্সরি ও ট্যাকটাইল ইনপুটের মাধ্যমে স্পিচকে বোঝা ও সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রম্পট একটি কার্যকর পদ্ধতি। দেশে এমন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • ডিসেম্বর ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    ডিসেম্বর ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।

    বিশ্লেষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।

    তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।

    জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

    পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেফতার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে-এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

  • হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় যা করবেন

    হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় যা করবেন

    ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট আরও সুরক্ষিত রাখতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন ফিচারের মাধ্যমে আগের ছয় সংখ্যার টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পিনের পাশাপাশি আরও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে তুলনামূলক জটিল পাসওয়ার্ড সেট করা যাবে।

    নতুন ব্যবস্থায় সহজে অনুমান করা যায়—এমন নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের পরিবর্তে শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

    এক অ্যাকাউন্টে একাধিক পাস-কি

    হোয়াটসঅ্যাপে একটি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তায় একাধিক পাস-কি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা স্ক্রিন লক ব্যবস্থার মতো বায়োমেট্রিক ও ডিভাইস-ভিত্তিক অথেনটিকেশন অন্তর্ভুক্ত।

    পাস-কি ব্যবহারের অপশন খুঁজে পেতে হোয়াটসঅ্যাপের Settings > Account > Passkeys-এ যেতে হবে।

    অপরিচিত নম্বর শনাক্তে বাড়তি তথ্য

    অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল সম্পর্কে আরও তথ্য জানার সুযোগও তৈরি হয়েছে। কোনো নম্বর কনট্যাক্ট তালিকায় না থাকলেও সেটি হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে পাওয়া তথ্য দেখে কলটি গ্রহণ করা নিরাপদ হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও সতর্কতা জরুরি

    নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করলেই অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যাবে—এমন নয়। প্রতারক বা হ্যাকাররা বিভিন্ন কৌশলে ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে সন্দেহজনক বা আকর্ষণীয় কোনো লিংকে ক্লিক করলে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

    এ কারণে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপের Linked Devices তালিকা পরীক্ষা করা জরুরি। অপরিচিত কোনো ডিভাইস যুক্ত থাকলে দ্রুত সেটি সরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন ডিভাইসে লগইনের ক্ষেত্রে কিউআর কোড স্ক্যান বা অনুমোদন দেওয়ার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে যা করবেন

    টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখুন।

    পাস-কি সেট করুন।

    বড় ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

    নিয়মিত Linked Devices পরীক্ষা করুন।

    অপরিচিত ডিভাইস যুক্ত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে রিমুভ করুন।

    অচেনা ডিভাইসের লগইন রিকোয়েস্ট অনুমোদন করবেন না।

    সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।

    নিরাপত্তা ফিচার ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতন থাকাই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

    সরকার সারা দেশে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং একটি কার্যকর সোলার সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এ উদ্যোগের আওতায় জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দেবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা উন্নয়ন করতে পারবে।

    এতে আরো বলা হয়, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। একক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেও আবেদন ও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, যা স্থানীয় ও নতুন উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

    উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রুফটপ সোলার খাতকে শুধু কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ ও সেবা প্যাকেজ তৈরির পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।

    এছাড়া সরকার রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও কাজ করছে। বিশেষভাবে গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানিব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে সারা দেশে দক্ষ জনবল, স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত হবে। পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান এই বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।