শিরোনাম

  • চীনে পারিবারিক শিল্পের দায়িত্ব নিচ্ছেনা উত্তরসূরিরা

    চীনে পারিবারিক শিল্পের দায়িত্ব নিচ্ছেনা উত্তরসূরিরা

    চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠা পারিবারিক মালিকানাধীন ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নতুন ধরনের সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্ম অবসরে যাওয়ার বয়সে পৌঁছালেও তাদের সন্তানদের একটি বড় অংশ পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নয় বা আগ্রহী নয়। ফলে দেশটির বেসরকারি শিল্প খাতে প্রজন্মান্তরের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে।

    চীনের অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে ছোট পারিবারিক কারখানা ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ওয়েনঝৌ মডেল’ একসময় পারিবারিক যোগাযোগ, নিজস্ব অর্থায়ন ও ছোট কারখানার মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধির পথ তৈরি করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠান পরে বড় কারখানায় রূপ নেয় এবং চীনকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করতে ভূমিকা রাখে।

    ওয়েনঝৌর একটি জুতা কারখানার উদ্যোক্তা আয়ু। তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে তিনি তিনতলা বাড়ির নিচতলায় বাবা-মাকে হাতে তৈরি চামড়ার জুতা বানাতে দেখেছেন। কয়েক দশকের মধ্যে সেই ছোট পারিবারিক কর্মশালা প্রায় ৭০০ কর্মীর কারখানায় পরিণত হয়। কিন্তু এখন তার প্রজন্মের সামনে সেই ব্যবসা ধরে রাখার প্রশ্নটি অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।

    মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক হানছিং ফাং বলেন, প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এক রাতেই ছেলে বা মেয়ের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে তারা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেন, যা কাগজে একটি কোম্পানি হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। সেই নেটওয়ার্ক উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কঠিন।

    এই সংকটের পরিসর বোঝাতে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য সহায়ক। এইচএসবিসি লাইফের এক গবেষণা অনুযায়ী, চীনের দুই-তৃতীয়াংশ ধনী ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নেই। আবার নিংবো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় ১১৪টি বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় প্রজন্মের সদস্যরা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন।

    চীনের তরুণ ব্যবসায়ী উত্তরসূরিদের অনেকেই পারিবারিক ব্যবসা গ্রহণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এক তরুণ বিপণনকর্মী জানান, তার পরিবারের শানওয়ে শহরে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা এবং শেনঝেন ও হংকংয়ে কয়েক ডজন দোকান রয়েছে। তারপরও তিনি এখনই পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিতে চান না। তার মতে, ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক বিষয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর মতো প্রস্তুতি তার এখনো হয়নি।

    তবে তরুণ প্রজন্মের সবাই পারিবারিক ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাইছে—বিষয়টি এমন নয়। অনেকেই ভবিষ্যতে পরিবারের ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন না। কিন্তু তাদের বক্তব্য, উত্তরাধিকার মানে শুধু সম্পদ পাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিপুল দায়িত্ব, জটিল সম্পর্ক এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা।

    চীনের পারিবারিক শিল্পের সামনে তাই এখন মূল প্রশ্ন হলো—প্রথম প্রজন্ম যে শ্রম, সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল, দ্বিতীয় প্রজন্ম কি সেই অদৃশ্য সম্পদও উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে? দেশটির অর্থনীতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় এ প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি বদলাতে হবে-ডব্লিউ ডব্লিউ এফ

    খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি বদলাতে হবে-ডব্লিউ ডব্লিউ এফ

    বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্যের পতন ঠেকাতে খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ)। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যপ্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা শুধু পরিবেশ নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

    ডব্লিউডব্লিউএফের ২০২৬ সালের ‘লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ১৯৭০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করা বন্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর গড় আকার ৭৩ শতাংশ কমেছে। ৫ হাজার ৭৯০টি মেরুদণ্ডী প্রজাতির ৩৫ হাজার ৮০৩টি জনগোষ্ঠীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

    সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে। সেখানে ১৯৭০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্থল ও মিঠাপানির বন্যপ্রাণীর জনগোষ্ঠীর গড় আকার ৯৫ শতাংশ কমেছে। আফ্রিকায় এই পতন ৮০ শতাংশ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৪৯ শতাংশ। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় কমেছে ২৩ শতাংশ। উত্তর আমেরিকায় পতনের হার ২৮ শতাংশ।

    বাস্তুতন্ত্রের দিক থেকেও মিঠাপানির প্রাণীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। নদী ও হ্রদের প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করা জনগোষ্ঠীর গড় আকার ৮৫ শতাংশ কমেছে। স্থলভাগের প্রাণীর ক্ষেত্রে এই পতন ৬৯ শতাংশ এবং সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষেত্রে ৫৯ শতাংশ।

    ডব্লিউডব্লিউএফ বলছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি সম্প্রসারণের কারণে আবাসস্থল ধ্বংস ও অবক্ষয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত শিকার ও আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, আগ্রাসী প্রজাতি এবং বিভিন্ন রোগও প্রকৃতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্ব যেভাবে খাদ্য উৎপাদন ও ভোগ করছে, সেটিই জীববৈচিত্র্য হ্রাসের একক সবচেয়ে বড় কারণ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃতির ক্ষতি এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকট নয়। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক বা প্রায় ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারের কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে প্রকৃতি ও এর সেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক পতন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং মানুষের কল্যাণের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    ডব্লিউডব্লিউএফের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান নির্বাহী তানিয়া স্টিল বলেন, প্রকৃতির ক্ষতি শুধু বন্যপ্রাণীর জন্য সংকট নয়; এর প্রভাব ইতোমধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা, পানির সরবরাহ, অর্থনীতি এবং জলবায়ুজনিত ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর পড়ছে। তার মতে, বিশ্ব এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে প্রকৃতির ক্ষতির ক্রমবর্ধমান মূল্য দিতে থাকবে, অথবা প্রকৃতির পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ করে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে।

    সংস্থাটি বলছে, খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রকৃতিবান্ধব কৃষি, খাদ্য অপচয় কমানো এবং বন ও আবাসস্থল ধ্বংস বন্ধ করার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বড় কোম্পানিগুলোকে জলবায়ু ও প্রকৃতি রক্ষার বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা নিতে হবে এবং বিনিয়োগকে এমন কর্মকাণ্ডে পরিচালিত করতে হবে, যা প্রকৃতি ধ্বংসের পরিবর্তে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

  • ফ্রান্সজুড়ে ফের শিক্ষার্থীদের স্কুল অবরোধ

    ফ্রান্সজুড়ে ফের শিক্ষার্থীদের স্কুল অবরোধ

    শিক্ষাখাতে আরও সম্পদ ও সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার ফের ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবরোধ করেছে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। খবর রয়টার্স।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ল্য পারিসিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় তিনটি শিক্ষার্থী সংগঠন—ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েন, রেনুভো লিসেয়েন ও লিসেয়েনস!—এর প্রতিনিধিদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নো অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষাখাতে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা।

    প্যারিসের কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে। অবরোধের কারণে প্যানথেয়ন-আসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে সকালের ক্লাস বাতিল করা হয়। আর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় লুমিয়ের লিওঁ-২ বিশ্ববিদ্যালয় এই দিনের জন্য তাদের তিনটি ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে।

    অ্যাঞ্জার্স শহরের কয়েকটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলেও অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আগুন দেওয়া আবর্জনার পাত্র নেভাতে দমকল বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও ১৫১টি আংশিকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা ছিল। বুধবার একই সময়ে যে সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় বৃহস্পতিবারের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের বিভিন্ন প্রিফেকচারের সামনে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। পরে বিকেল ৩টায় প্যারিসের প্লাস দ্য লা বাস্তিয়েতে বড় জমায়েতের কর্মসূচি রয়েছে। স্নেস-এফএসইউ, সিজিটি, এফও ও সুদের মতো কয়েকটি শিক্ষা ইউনিয়নও ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার আসন তৈরি এবং ‘পারকুরসুপ’ ভর্তি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

    ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নোর সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ব্যয়ের হিসাবসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

    এদিকে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    সরকারের মুখপাত্র মদ ব্রেজোঁ সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, আগামী বছর জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ৬৪ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারবরাদ্দ রাখা হয়েছে।

  • নরেন্দ্র মোদি ‘ভোট চোর’, ককরোচ প্রধান

    নরেন্দ্র মোদি ‘ভোট চোর’, ককরোচ প্রধান

    নরেন্দ্র মোদি ‘ভোট চুরি’ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। ব্যাঙ্গালুরুতে সুশীল সমাজের সংগঠন ও ককরোচ জনতা পার্টির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘জনতার আদালত’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠি এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ।

    বিক্ষোভ সমাবেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র হত্যা ও ভোট চুরির’ অভিযোগ আনেন দীপকে। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

    দীপকে অভিযোগ করেন, এসআইআরের আওতায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই হলো বিজেপি বিরোধীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নামব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব এবং সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

  • প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

    প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি, আবার কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই জমা দেননি। অন্যদিকে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন।

    ফলে শিক্ষক সংকট কাটাতে শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন।

    প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।

    নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।

    কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও তাদের সবাই কাজে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন পদে যোগ দিলেও ৯১৮ জন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।

    তবে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় এবার বিষয়টি অধিদপ্তরের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। আবদুর রহিম বলেন, বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে অজ্ঞাত গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

    বুধবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী নিমতলা আন্ডারপাসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্ভিস লেনে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

    ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উক্তো গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সজীব (১৮) নামে এক যুবকের কীটনাশক পানে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সজীব সদর উপজেলার উক্তো গ্রামের হাবলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সজীব দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন।

    এরই মধ্যে বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তিনি কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পাখিভ্যানে করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।

    স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জেরেই সজীব কীটনাশক পান করে থাকতে পারেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সজীব নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

  • ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

    ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

    প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

    বুধবার (৭অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

    অতীতে বিএনপি সরকারের সময় এই সাধারণ ছুটি থাকলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই ছুটি বাতিল করেছিল।

  • দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা সুলতান আহমেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মুক্তারপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদ মুক্তারপুর গ্রামের মৃত দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি দল মুক্তারপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় নিজ এলাকা থেকে সুলতান আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    আরও পড়ুন:হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোরআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    আজ বুধবার (৭অক্টোবর) একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রকল্পগুলোর আওতায় এসব সিটি করপোরেশনে মূলত সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করা হবে।

    একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

    রংপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।

  • মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ। মাঠে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়। কিন্তু ম্যাচ শেষে আনন্দের চেয়ে আবেগই বেশি ছিল এদিন। মেসির বিদায়ী বক্তব্যের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে তখন মেসির কথা শুনছিলেন হাজারো দর্শক। সতীর্থরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় অধিনায়কের পাশে। মেসি কথা বলার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এনজো।

    কান্নার সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ম্যাচ শেষে এনজোকে সেই অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, দিনটি ছিল খুব আবেগের। অনেক রকম অনুভূতি কাজ করছিল। আশা করি, লিও দিনটি উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।’

    মেসির প্রতি এনজোর ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেসিকে নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। তখন মেসি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এনজো হিসাব কষতেন, মেসি ও তার বয়সের ব্যবধান কত। একদিন মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারবেন কি না, সেটিও ভাবতেন।

    শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। শুধু মেসির সঙ্গে খেলাই নয়, তার সঙ্গে বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো।মেসিকে নিয়ে লেখা চিঠিতে এনজো বলেছিলেন, ‘আমি ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়স মিলিয়ে হিসাব করতাম। ভাবতাম, তোমার সঙ্গে একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারব কি না।’

    মেসির সঙ্গে খেলতে এসে এনজোর অভিজ্ঞতা আরও বড় হয়েছে। সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মেসিকে। ভাগ করে নিয়েছেন অনুশীলন, ড্রেসিংরুম, কঠিন সময় ও আনন্দের মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত দুজন হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    এনজো লিখেছেন, ‘আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, যেভাবে তুমি আমাকে শুরু থেকেই আপন করে নিয়েছ। আমি আমার আদর্শের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই তুমি আমাকে দলের একজন মনে করেছ।’

    মেসির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও পরামর্শও ভোলেননি এনজো। তার ভাষায়, ‘তোমার একটি ভালো কথা, একটি পরামর্শ, একটি আলিঙ্গন অথবা শুধু এমনভাবে পাশে থাকা, যাতে প্রয়োজনের সময় স্বস্তি পাই- কখনো ভুলব না।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরের ক্যাম্পের কথাও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এনজোর। এত বছর ১০ নম্বর জার্সিতে সামনে মেসিকে দেখে অভ্যস্ত তিনি। চিঠির শেষ দিকে এনজো লিখেছেন, ‘কী ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই ছোট্ট ছেলেটি কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত- সে কখনো সময়মতো তোমার সঙ্গে খেলতে পারবে কি না।’

    এরপর মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এনজোর শেষ কথা, ‘আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছ, যা কিছু শিখিয়েছ এবং তোমার গল্পের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

  • ‘হাসিনার এ মাসেই আসা উচিত ছিল’—অডিও ক্লিপটি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুলেরই

    ‘হাসিনার এ মাসেই আসা উচিত ছিল’—অডিও ক্লিপটি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুলেরই

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের বলে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তার কণ্ঠ শনাক্ত করা হয়েছে।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ সম্পর্কে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ার গত ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুলকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

    রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসছেন। কিছুই হবে না। রাস্তায় পুলিশের অবস্থা কতটা দুর্বল, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। তার এ মাসেই আসা উচিত ছিল … তিনি এলে এই পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।’

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান শফিকুল বলেন, ‘অডিওটির বিষয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে সাবেক ওসি রাকিবুলের ভয়েস টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। অডিওর কণ্ঠটি তারই।’

    তবে, রাকিবুল কার সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং কেন এমন মন্তব্য করেছিলেন, তার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

    ডিবিপ্রধান বলেন, ‘সবকিছুই আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

    অডিও ছড়িয়ে যাওয়ার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুল এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে পুলিশ। সেদিনই রাকিবুলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তার আরও ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

  • খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে দলিল লেখক, নকল নবিশ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সদর দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বাহাউদ্দীন বলেন, তন্ময় কুমার মণ্ডল প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে লাঞ্চে যান। আজও একই সময়ে লাঞ্চে যাওয়ার পর রেজিস্ট্রি অফিসের গেটের সামনে থেকে কে বা কারা তাকে রিকশায় করে তুলে নিয়ে গেছে বলে তারা শুনতে পান। পরপরই দলিল লেখক ও নকল নবিশরা পেছনে ছুটে যান। পরে জানতে পারেন রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্বপাশের রাস্তা দিয়ে তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নদীর ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

    বাহাউদ্দীন জানান, পথে এক নারী তাদের বলেন, দুইটি রিকশায় করে তন্ময়কে নিয়ে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে উঠানো হয়েছে। তাকে ছাড়াতে গেলে ওই নারীকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও তিনি জানান। তবে কে বা কারা তাকে নিয়ে গেছে এবং পরে কিভাবে তিনি ফিরে এসেছেন, তা তারা জানেন না।

    সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। লাঞ্চের জন্য বাসায় যাওয়ার আগে ওয়াশরুমে গেলে বাইরে চেঁচামেচি শুনতে পান ‘স্যারকে নিয়ে গেছে, স্যার চলে গেছে।’ পরে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে পাওয়া যাচ্ছে না।

    খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: লোকমান হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হয়, সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর কে বা কারা নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলা এবং তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ফিরে আসেন। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি ডকুমেন্ট দেখার জন্য তাকে আশপাশের একটি জায়গায় যেতে হয়েছিল। তিনি লাঞ্চের জন্য রিকশায় করে বের হওয়ার পর কয়েকজন তাকে সাথে করে নিয়ে যায়। পরে কোনো আঘাত না করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।

    ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, তিনি কোনো অস্ত্র দেখেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে কোনো অস্ত্র দেখতে পায়নি। তিনি বলেন, ঘটনাটি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, কিংবা আসলে কী ঘটেছে, তদন্তের পর তা বের করা হবে।

    সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সুস্থ শরীরে আপনাদের সামনে ফিরে এসেছি। কোনো রিকমেন্ডেশন বা নির্দিষ্ট কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। আমাকে বলা হয়েছিল, একটি ডকুমেন্ট দেখে দিতে, কেন বিষয়টি হচ্ছে না। ডকুমেন্টটি অন্য কোনো অফিসেরও হতে পারে। প্রথমে বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তাকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে সোহেল রানা (১৫) নামে এক তরুণকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া একই মামলায় অপর দুই আসামি রেজাউল করিম ও মুক্তার আলীকে খালাস দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আসামিদের উপস্থিতে এ রায় ঘোষণা করেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা ৪র্থ আদালতের বিচারক মো: দেলোয়ার হোসেন।

    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মুনসাদ আলীর ছেলে। আর খালাসপ্রাপ্ত দু’জন হলেন— লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মরহুম শামসের প্রামানিকের ছেলে রেজাউল করিম ও মরহুম মোকছেদ আলী প্রামানিকের ছেলে মুক্তার আলী।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী মাঠে নিজের জমিতে বাবা মুকুল হোসেনের সাথে সকালে কলা গাছ রোপণ করতে যায় সোহেল ও তার ভাই সোহাগ। এ সময় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলী লাঠি, লোহার রড় নিয়ে তাদের জমিতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    মোজাফফরের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয় সোহেল। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ ফেব্রুয়ারি সোহেলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহত সোহেল হোসেনের বাবা মুকুল হোসেন একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি লালপুর থানায় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলীর নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেন। সোহেল রানা মারা যাওয়ার পরে এজাহারটি মামলা হিসেবে গণ্য করে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    নাটোর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, আদালতের বিচারক দীর্ঘ দিন মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। জরিমানার অর্থ এক লাখ মামলা পরিচালনা বাবদ খরচ সরকারি কোষাগারে রেখে বাকি চার লাখ টাকা এজাহারকারীকে প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • ৭ অক্টোবরের উদযাপন করল ইসরাইল

    ৭ অক্টোবরের উদযাপন করল ইসরাইল

    ইসরাইল আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উদযাপন করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলা দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। দিবসটির তিন সপ্তাহ পরই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এবারই প্রথম হামলার বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। হামলায় নিহতদের স্মরণে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

    ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সীমান্ত ভেঙে দক্ষিণ ইসরাইলে ঢুকে গুলি, রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়। সরকারি ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাসংস্থা এএফপির হিসাবে, এতে এক হাজার ২২১ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে পণবন্দী করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের ৪৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

    তিন বছর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে হামলা শুরু হয়েছিল। ঠিক ওই সময় গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজ কাফার আজায় স্মরণ অনুষ্ঠান হবে। হামলায় সেখানে ৬৪ জন বাসিন্দা নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হন।

    দক্ষিণ ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ পণবন্দী হন। নিহতদের স্বজনেরা বুধবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের একটি পার্কে সমবেত হবেন।

    কড়া নিরাপত্তা
    সাধারণ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে এবং তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ার এক সপ্তাহ পর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে গাজায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার জন্য হামাসের সম্ভাব্য পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

    সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত এবং পণবন্দী করার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

    হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বেশিভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    গত তিন বছরে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত থেকে ইরান পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করেছে দেশটি।

    গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এখনো তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় বসবাস করছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন নিয়েও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

    ইসরাইলের দাবি, তারা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। হামাসের হুমকি নির্মূল এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছে তারা।

    ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক হাজার ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

  • বাংলাদেশের পারমাণু বিদ্যুৎ, আশা ও উদ্বেগ

    বাংলাদেশের পারমাণু বিদ্যুৎ, আশা ও উদ্বেগ

    দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকে ন্দ্রটি উৎপাদনে আনার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয়ে নির্মিত ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট ক্ষমতার এই রূপপুর প্রকল্প দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে বড় স্বস্তি এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যদিও কেন্দ্রটির ঠিক পাশেই বসবাসরত মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত বিশালাকার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি চুল্লি পুরোদমে চালু হলে তা হলে দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকটে পড়া বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানান, ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু করার সূচি রয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি এর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে।

    বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বাকি চাহিদা পূরণ হয় কয়লা, তেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে।

    রুপপুর যেন আরেক রাশিয়া: রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় রূপপুরে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে একখণ্ড ‘রুশ বসতি’। বছরের পর বছর হাজার হাজার রুশ প্রকৌশলী ও কর্মী সেখানে অবস্থান করায় গ্রামীণ জনপদ রূপপুরের চিত্র পুরো পাল্টে গেছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি দোকানপাটের সাইনবোর্ডে জায়গা করে নিয়েছে রুশ ভাষা, এমনকি রেস্তোরাঁগুলোতে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি পরিবেশন করা হচ্ছে রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বোরশ স্যুপ। স্থানীয় তরুণরা সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং রুশ কর্মীদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ও করছেন।

    প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী পারমাণবিক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কঠোরতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের শঙ্কা: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্পর্শকাতর প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মাঝে ভয় এখনো কাটেনি। কেন্দ্রটির থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্বের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মিলকর্মী মো. ইউনুস আলী জানান, কিছুদিন আগে বিকট শব্দে যখন একটি কম্প্রেসার পরীক্ষা চালানো হয়, তখন ঘুমন্ত শিশুরা পর্যন্ত ভয়ে জেগে ওঠে। তিনি বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের জন্য আর ভয় না থাকলেও সন্তান ও নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

    স্বপ্ন থেকে বাস্তবের পথে: রুপপুরে পারমানবিক কেন্দ্রের স্বপ্ন অনেক পুরোনো, এমনকি তা দেশের স্বাধীনতারও পূর্বের। রূপপুরে পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৬০-এর দশকে। স্বাধীনতার পর ফ্রান্স, সৌদি আরব, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে ২০১৫ সালে মস্কোর সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করে বাংলাদেশ, যার মূল ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া।

    ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্পটি বেশ কয়েক দফায় বিলম্বের মুখে পড়ে। এর মধ্যে করোনা মহামারির ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্মাণ সরঞ্জাম সরবরাহ ও অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া দারুণভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে, যদিও তারা সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

    তবে নানামুখী শঙ্কা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সেচ দিতে হিমশিম খাওয়া ৫৫ বছর বয়সী কৃষক বেলী বেগম জানান, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র যেন দ্রুত চালু হয় এবং মানুষ এর সুফল পায়। বাড়ির পাশেই কেন্দ্রটি হওয়ায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত কোনো বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবেন তারা।

  • যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি সামরিক বিমান হারিয়েছে

    যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি সামরিক বিমান হারিয়েছে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১টি সামরিক যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এতে দেশটির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩০ কোটি (৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ডলার। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে। এ খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন এনডিটিভি।

    ‘ইউএস এয়ারক্রাফট কমব্যাট ড্যামেজ ইন অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশনস ফর কংগ্রেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওয়াশিংটনের ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সামরিক যানের তালিকায় দেশটির অত্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও রয়েছে।

    প্রতিটি এফ-১৫ বিমানের বাজারমূল্য ৩ কোটি ডলারেরও বেশি, অন্যদিকে ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের প্রতিটির আনুমানিক দাম ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এছাড়া ধ্বংস হওয়া একেকটি এফ-৩৫এ স্টিলথ বিমানের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

    প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী ১২টি এফ-১৫ই বিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হারিয়েছে। এর মধ্যে গত ২রা মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজস্ব বাহিনীর ভুল নিশানায় (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত হয় এবং পরবর্তী মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়।

    এছাড়া গত ৯ ও ১০ই সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়


    এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নজরদারি বিমান (যার প্রতিটির মূল্য ২৭ কোটি ডলার), দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশন বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ বহুমুখী ড্রোন এবং ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। সামরিক হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক মেরিটাইম হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

    প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান চলমান থাকা এবং বেশ কিছু সামরিক তথ্য এখনো অত্যন্ত গোপনীয় থাকায় ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান পরবর্তীতে পরিবর্তন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু যান মেরামতের পর পুনরায় বহরে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এছাড়া কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ইরানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যয় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

  • ট্রাম্পকে ছাড়ছেন রিপাবলিকানরা

    ট্রাম্পকে ছাড়ছেন রিপাবলিকানরা

    আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন পন্থা বেছে নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৬২টি কংগ্রেসনাল আসনের মধ্যে ৪১টিতে থাকা রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত একটি বিষয়ে প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছেন কিংবা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আড়াল করছেন। রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।


    তবে ট্রাম্পের সামগ্রিক এজেন্ডার বিরোধিতা করছেন না তারা। বরং ইরান যুদ্ধ, গরুর মাংস আমদানি ও ডাটা সেন্টারের মতো নির্দিষ্ট ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি করছেন। লক্ষ্য, ট্রাম্পবিরোধী স্বতন্ত্র ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানা, আবার ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদেরও না হারানো।

    ইরান যুদ্ধেই বড় ফাটল
    ৬২টি নির্বাচনী লড়াইয়ের ২৩টিতে নীতিগত মতপার্থক্য দেখা গেছে। এর মধ্যে ১২টি আসনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। কেউ তার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, কেউ যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
    জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় ইরান যুদ্ধ এখন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।


    রয়টার্স ১২ জন রিপাবলিকান প্রার্থীকে শনাক্ত করেছে, যারা নিজেদের প্রচার ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের নাম, ছবি বা সমর্থনের উল্লেখ সরিয়ে দিয়েছেন। কেউ তার সমাবেশ এড়িয়ে চলছেন, কেউ আবার ট্রাম্প তাদের হয়ে প্রচারে আসবেন কিনা -সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা অবশ্য বিরল। কারণ, রিপাবলিকান পার্টিতে এখনও তার প্রভাব ব্যাপক।

    রয়টার্স/ইপসোসের নতুন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে, যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সর্বনিম্ন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যবধান আরও বড়, ডেমোক্র্যাট ৩৭ শতাংশ, রিপাবলিকান ২১ শতাংশ।


    রিপাবলিকান কৌশলবিদ রন বনজাঁ বলেন, ভোটাররা যদি ট্রাম্পের সঙ্গে না থাকেন, তাহলে প্রার্থীদেরও কিছুটা দূরত্ব দেখাতে হবে। রিপাবলিকান পরামর্শক জিনেট হফম্যানের ভাষায়, এটা ভারসাম্য রক্ষার খেলা।


    ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্যকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তার কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন প্রার্থীরা, কারণ এই মুহূর্তে “ট্রাম্প ব্র্যান্ডটি অত্যন্ত বিষাক্ত”।

    তবে দূরত্ব যতই বাড়ুক, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার সাহস দেখাচ্ছেন না অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রার্থী। কারণ, দলের ওপর তার প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।

  • পরামর্শক ব্যয় কমিয়ে নিজস্ব জনবল কাজে লাগানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    পরামর্শক ব্যয় কমিয়ে নিজস্ব জনবল কাজে লাগানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    • বন্ড ছেড়ে টাকা তুলতে হবে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে
    • গাড়ি কেনার প্রস্তাব বাতিল

    উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক্ষেত্রে নিজস্ব দক্ষ কর্মীদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকদের এমনটিই জানালেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। বললেন, রামপালে তৈরি হতে যাওয়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি যুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হলেও দ্রুত এটি সংশোধন করে ৮ ঘণ্টা যাতে বিদ্যুৎ স্টোরেজ করা যায়, সেজন্য ব্যাটারির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বন্ড ছেড়ে এ প্রকল্পে খরচ তুলতে হবে। এতে কিছুটা খরচ বাড়লেও সেটি করা হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৭ টাকার কম।

    আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি।

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. কামরুন্নাহার, ড. মঞ্জুর হোসেন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম মোছাদ্দেক।

    ‘সিটি করপোরেশনের চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই চলছিল। কাজেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই’— যোগ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানান, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জায়গায় সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর সুয়্যারেজ লাইন করতে গেলে দুই বছরের মধ্যে এসটিপি স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া রাস্তাঘাটসহ যেকোনো অবকাঠামো তৈরিতে মানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে যেকোনো সরকারি অবকাঠামো করতে হলে অন্তত তিন বছরের মধ্যে যদি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় ঠিকাদারকে নিতে হবে। প্রকল্পে সেরকম ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সময় সিটি করপোরেশনের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘একটি প্রকল্পে গাড়ি কেনার প্রস্তাব থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে’—উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। এর অংশ হিসেবেই ৩০ ইলেকট্রিক ইঞ্জিন কেনা হবে।

  • যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক বিশপের কারাদণ্ড

    যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক বিশপের কারাদণ্ড

    অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশপ ক্রিস্টোফার সন্ডার্সকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ক্যাথলিক চার্চের দায়িত্বে থাকাকালীন দুই আদিবাসী তরুণকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের দায়ে এ দণ্ড দেয়া হয় তাকে। ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বিশ্বের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। বুধবার ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    গত আগস্টে আদালতের শুনানিতে সন্ডার্স একটি ধর্ষণ এবং ১২টি যৌন হয়রানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গির্জার তহবিল ও নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহার করে তিনি তরুণদের নিয়মিত মদ্যপান করাতেন এবং বিভিন্ন আয়োজনে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক যৌনাচার চালাতেন।
    ক্ষতিগ্রস্ত এক তরুণ আদালতে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘তিনি আমাকে একটি খেলনার মতো ব্যবহার করেছিলেন। আজও সেই দুঃসহ যন্ত্রণায় আমার মাথা ফেটে যায়।’ ১৯৭৬ সালে যাজক হিসেবে দায়িত্ব শুরু করা সন্ডার্স ১৯৯৬ সালে ব্রুম অঞ্চলের বিশপ নিযুক্ত হন।

    ২০২০ সালে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর সন্ডার্স বিশপের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সে সময় পুলিশ প্রমাণাভাবে মামলাটি বন্ধ করে দিলেও পরবর্তী সময়ে স্বয়ং পোপের নির্দেশে ভ্যাটিকানের ‘ভোস এস্তিস লাক্স মুন্ডি’ (তোমরাই বিশ্বের আলো) বিধির অধীনে বিশেষ তদন্ত শুরু হলে পুলিশ নতুন করে অনুসন্ধান চালায়। রায় ঘোষণার পর পার্থের আর্চবিশপ টিমোথি কস্টেলো ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

    তিনি জানান, চার্চ সন্ডার্সের অবশিষ্ট ধর্মীয় খেতাব ও ক্ষমতা পুরোপুরি বাতিল করার বিষয়ে ভ্যাটিকানের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। প্রয়াত কার্ডিনাল জর্জ পেলের পর সন্ডার্সই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্যাথলিক নেতা, যিনি এমন কলঙ্কজনক যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হলেন।

  • গুজরাটে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    গুজরাটে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরেন্দ্রনগর জেলায় পুলিশের তদন্তে ভয়াবহ এক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ধর্মীয়ভাবে পবিত্র করার অজুহাতে এক নারীর ওপর সংঘটিত চরম নির্যাতন, অবৈধ বন্দিদশা ও গণধর্ষণের ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে। এ ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

    অনলাইনে একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক নারীকে আটকে রেখে হয়রানি ও মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। আর তাঁর চারপাশে ভিড় করা জনতা তাঁকে নিয়ে উপহাস করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামীকে ছেড়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন। জবাবে তাঁর স্বামী এবং কয়েকজন আত্মীয় তাঁকে ঘরের ভেতরে তালা মেরে ও শিকল দিয়ে বেঁধে অবৈধভাবে আটকে রাখে। ওই নারী ঘর থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা তাঁর পিছু ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলেন এবং দড়ি দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

    অভিযোগ, ওই নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালান। এর মধ্যে ওই নারী এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাসের কারণে তাঁর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে অন্যদের সতর্কবার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    সুরেন্দ্রনগর জেলার পুলিশ সুপার প্রেমসুখ দেলু নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাটি তদন্তের পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ, ভুক্তভোগী নারী শুরুতে থানায় আসেননি।

    প্রেমসুখ দেলু বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত তল্লাশি অভিযানে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে খুঁজে বের করেছে। তাঁর আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের কয়েকটি ধারায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে।

    ভয়াবহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, অপরাধে সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে।

  • শান্তিতে নোবেল:আলোচনায় যেসব নাম

    শান্তিতে নোবেল:আলোচনায় যেসব নাম

    বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সংকটের মধ্যে শুক্রবার ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলোর অনেকটাই মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।

    শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালত, সাংবাদিক অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং এমনকি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নামও।

    রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কিছু বিশ্লেষক।

    অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

    ট্রাম্পের নামও আলোচনায়

    এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তবে নোবেল কমিটি এসব মনোনয়ন নিশ্চিত করে না।

    রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করেছেন। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ক এ বছরের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো পরে তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এবার কমিটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না, যা পুরস্কারকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে যাবে- এ নিয়েও আলোচনা চলছে।

    আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ রয়েছে।

    ইউক্রেনের মাইকোলা কুলেবা

    ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করেছে।

    পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও রাখা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।

    পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে।

    এবারের আলোচনায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নামগুলোর একটি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস)। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের যৌথভাবে পরিচালিত এই মহাকাশ স্টেশনকে পৃথিবীর বাইরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    পিআরআইও-এর পরিচালক গ্যেরলভের ২০২৬ সালের তালিকাতেও আইএসএস রয়েছে। তার যুক্তি, পৃথিবীতে ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়লেও মহাকাশে এই প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার নজির তৈরি করেছে।

    কেন এবার পুরস্কারটি গুরুত্বপূর্ণ?

    এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সময় বিশ্বজুড়ে একাধিক বড় সংঘাত চলছে। ইউক্রেন, সুদান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে।

    নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্তিয়ান বের্গ হারপভিকেন সম্প্রতি রয়টার্সকে বলেছেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে কমিটি গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে এমন কিছু প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যা নোবেল শান্তি পুরস্কার যে মূল্যবোধকে ধারণ করে, সেগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান সময়ে যারা নতুন ধরনের সহযোগিতা ও শান্তির কাঠামো গড়ে তুলছেন, তাদের কাজও কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম বা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।

    শেষ মুহূর্তে কে, নাকি বড় চমক?

    নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুমান করা কঠিন। অতীতেও এমন অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে, যাদের নাম ঘোষণার আগে আলোচনায় খুব বেশি ছিল না। এবারও তাই ট্রাম্প, পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত, ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস, মাইকোলা কুলেবা ও সেভ দ্যা চিলড্রেন, সিপিজে কিংবা আইএসএস- এসব নামের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    নোবেল কমিটি নিজেই বলছে, প্রকাশ্যে আসা সম্ভাব্য নামগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২৮৭টি মনোনয়নের মধ্যে কমিটি কোন নামকে শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছে, তা জানা যাবে শুধু শুক্রবারের ঘোষণায়।

  • ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার লড়াই

    ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার লড়াই

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হওয়ার জেরে শুরু হওয়া ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ফলে বিধ্বস্ত হয়েছে গাজা। সেখানকার ২০ লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এদিকে ইসরাইলিরা দিনটিতে শোক পালন করছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন সড়ক ও আশ্রয়কেন্দ্রে শোক পালন করেছেন ইসরাইলিরা। এ ছাড়া তিন বছর আগে হামাস যেখানে হামলা চালিয়েছিল, সেই সংগীত উৎসবের স্থানে শোক পালন করেছেন তারা।

    অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য বার্ষিকীটি নিয়ে এসেছে চরম দুর্দশা ও কষ্টের আরেকটি দিন। গাজায় ইসরাইলের পাল্টা অভিযানে সেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উপত্যকাটির ২০ লাখ মানুষের অধিকাংশই এখন অস্বাস্থ্যকর তাঁবুর নিচে বাস করছেন এবং উপত্যকার শহরগুলোর বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অঞ্চলটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে এবং প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

    এই অঞ্চলের জন্য দিনটি গত তিন বছরে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে। হামাসের সমর্থনে ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামলা শুরু করেছিল হিজবুল্লাহ।

    এ ছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এমন এক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাতের পেছনে ইসরাইলের ভূমিকা ছিল এবং গাজা যুদ্ধ সম্ভবত এর পথ প্রশস্ত করেছিল।

    ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এই সরু ভূখণ্ডটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন; যাদের অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার শিকার। পণ্য ও ত্রাণ প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় তাদের পরিসংখ্যানে বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করলেও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিলেন নারী ও শিশু। হামাস-পরিচালিত সরকারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলেই মনে করেন।

    ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে তীব্র লড়াই থেমে গেলেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল দাবি করছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় ১ হাজার ১৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাতজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

    হামাস ৭ অক্টোবরের হামলাকে ইসরাইলের কয়েক দশকের সামরিক দখলদারত্ব, ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন এখন আরও সুদূরপরাহত বলে মনে হচ্ছে।

    চলতি মাসের শেষের দিকে ইসরাইলে অনুষ্ঠেয় একটি বিতর্কিত নির্বাচন এবারের বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ প্রভাব ফেলছে। গত ৫ অক্টোবর দিবসটি উপলক্ষে ইসরাইলি সরকারের আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা হয়। এই পৃথক স্মরণসভাগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি এবং সেই দিনের ব্যর্থতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে তার অনীহা নিয়ে বিদ্যমান গভীর বিভাজনকেই নির্দেশ করে।

    এই হামলার ফলে ধারাবাহিক ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে। সিরিয়া ও লেবাননের বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরাইল, যার ফলে ৩ লাখেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিয়ে দুই দফায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর হামলা চালায়। এতে ইরান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহু দূরে অবস্থিত বিশ্ববাজারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

    ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। সেখানে ইসরাইলের কট্টর-ডানপন্থি সরকার বসতি স্থাপনকারীদের আরও বেপরোয়া ও সাহসী করে তুলেছে, যারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের সম্পত্তি ধ্বংস করছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

  • রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মামলা

    রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মামলা

    ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। মামলায় অন্য সংসদ সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ চলাকালে অনুমতি ছাড়া আকাশবাণী ভবন চত্বরে প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

    ঘটনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের দিকে বিরোধী দলগুলোর মিছিল পুলিশ আটকে দেওয়ার পর ওই নেতারা অনুমতি ছাড়াই কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন।

    এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।’

    নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলীয় অন্তত ৩০০ এমপি সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে মিছিল করার এক দিন পরেই এই ঘটনা ঘটল। পুলিশ নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের বাইরে মিছিলটি আটকে দেয় এবং ২৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

    এই অচলাবস্থার পর রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ প্রায় ২০ জন বিরোধী নেতা নির্বাচন ভবনের পাশের আকাশবাণী ভবন চত্বরে যান এবং সেখানে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন।

    এরপর ওই নেতাদের আটক করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য রাহুল গান্ধীকে সেখান থেকে একটি বাসে তোলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী, দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং অন্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা হয় এবং জোরপূর্বক বাসে তোলা হয়।

    আটক নেতাদের কিংসওয়ে ক্যাম্পে নেওয়া হয় এবং রাত সোয়া ১০টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    আকাশবাণী ভবন চত্বরে অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলায় কোন কোন ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং অভিযোগে কাদের নাম রয়েছে—সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনা সম্পর্কে অবগত এক পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, পরে কিছু কংগ্রেস কর্মী ‘নিউ পুলিশ লাইনস’ এলাকায় পৌঁছান। তাদের বিরুদ্ধে ওই চত্বরের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে।

    নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর যে প্রচার কর্মসূচি চলছিল, মঙ্গলবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ ছিল তারই অংশ।

    বিজেপি এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিক্ষোভের সমালোচনা করেছে।

  • বদলে যাচ্ছে মোনালের কণ্ঠস্বর

    বদলে যাচ্ছে মোনালের কণ্ঠস্বর

    হিমালয়ের নীল-সবুজ পাহাড়, বরফঢাকা চূড়া আর নিস্তব্ধ অরণ্য- এই পরিবেশেই দেখা মেলে অপূর্ব সুন্দর এক পাখির। নাম হিমালয়ান মোনাল। পুরুষ মোনালের শরীরে সবুজ, নীল, তামাটে, বেগুনি ও কমলা রঙের ধাতব আভা। কিন্তু হিমালয়ের এই সৌন্দর্যের প্রতীক পাখিটিই এখন মানুষের তৈরি শব্দ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উত্তরাখণ্ডের গবেষকদের পাঁচ বছরের দুটি পৃথক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটন, অবকাঠামো নির্মাণ ও মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোনালের আবাসস্থল সংকুচিত করছে। শুধু তাই নয়, মানুষের যানবাহন ও পর্যটকদের কোলাহল এড়াতে পাখিটি তার ডাকের স্বরও সামান্য বদলে ফেলছে।

    মোনাল সাধারণত হিমালয়ের বনভূমির ওপরে অবস্থিত আলপাইন তৃণভূমিতে বিচরণ করে। ঋতুভেদে নিচের পাহাড়ি এলাকা থেকে উঁচু অঞ্চলে যাতায়াত করে পাখিটি। কিন্তু গবেষকদের মতে, এসব প্রাকৃতিক আবাসস্থলে মানুষের দখল বাড়ায় মোনালকে ক্রমেই পাহাড়ের আরও উঁচুতে উঠে যেতে হচ্ছে।

    ভারতের উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের হিমালয় অঞ্চলে মোনালের সম্ভাব্য আবাসস্থলের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন নিয়ে মডেল তৈরি করেন গবেষকেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা দেখেছেন, আগামী কয়েক দশকে পাখিটির উপযোগী আবাসস্থল আরও সংকুচিত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

    গবেষক রাজীব লোচনের জানান, তুষার গলার কারণে পাহাড়ের আরও ওপরের দিকে উদ্ভিদ জন্মাচ্ছে এবং সেসব এলাকা মোনালের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। একই সময়ে মানুষের দখলের কারণে নিচের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারাচ্ছে পাখিটি। ফলে দুই দিক থেকেই মোনালকে ওপরের দিকে সরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পাখির দলগুলো ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে পড়তে পারে। এতে এক দলের সঙ্গে অন্য দলের প্রজননের সুযোগ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয়ভাবে মোনালের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

    শুধু ঠিকানা নয়, বদলাচ্ছে কণ্ঠও

    মোনালের ওপর মানুষের প্রভাবের আরেকটি চমকপ্রদ দিক উঠে এসেছে দ্বিতীয় গবেষণায়। গবেষকেরা উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার স্যাংচুয়ারির দুটি উপত্যকা- পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত চোপতা এবং তুলনামূলক নিরিবিলি মাদমহেশ্বর- থেকে মোনালের ডাক রেকর্ড করেন।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে দুই এলাকায় ৭০০টির বেশি ডাক রেকর্ড করা হয়। পরে ডাকের কম্পাঙ্ক, দৈর্ঘ্য এবং আশপাশের শব্দের মাত্রা বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।

    ফলাফলে দেখা যায়, কোলাহলপূর্ণ এলাকায় থাকা মোনাল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে থাকা মোনালের চেয়ে বেশি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ব্যস্ত চোপতা এলাকায় পাখিটির ডাকের স্থায়িত্বও কম ছিল।

    গবেষকদের ধারণা, যানবাহন ও পর্যটকদের পদচারণা থেকে তৈরি অপেক্ষাকৃত নিচু কম্পাঙ্কের শব্দের ওপর দিয়ে নিজের ডাক পৌঁছে দিতেই মোনাল এভাবে কণ্ঠের ব্যবহার সামান্য পরিবর্তন করছে।

    তবে গবেষক লোচন সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে মোনালের কণ্ঠে স্থায়ী বা বিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। বরং বিভিন্ন শব্দ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে পাখিটির আচরণগত নমনীয়তাই এতে ফুটে উঠেছে।

    পাখির ডাক শুধু শব্দ নয়; প্রজনন, সঙ্গী নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বীকে সতর্ক করা এবং নিজেদের অবস্থান জানানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে শব্দের পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব পাখিটির জীবনচক্রেও পড়তে পারে।

    ফ্লেম ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসি অধ্যাপক ও আইপিসিসির প্রতিবেদনে অবদান রাখা অঞ্জল প্রকাশ বলেন, কোনো পাখিকে পর্যটকদের যানবাহনের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডাকের স্বর বাড়াতে হলে কিংবা মানুষের দখলে তৃণভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ের আরও ওপরে উঠতে হলে তা হিমালয়ের জীবনের ওপর মানুষের চাপের গভীর প্রভাবই প্রকাশ করে।

    পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক বিশাল সিংয়ের প্রশ্ন, মোনালের মতো তুলনামূলকভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম একটি পাখিকে যদি তার ‘কণ্ঠ’ এবং ‘ঠিকানা’- দুটিই বদলাতে হয়, তাহলে আরও সংবেদনশীল প্রজাতিগুলোর কী অবস্থা?

    হিমালয়ের জন্য সতর্কবার্তা

    মোনাল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; গবেষকদের কাছে এটি উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কারণ পাখিটির আবাসস্থল তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ঋতুভেদে তাকে বিভিন্ন উচ্চতার অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, নগরায়ণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণকে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত এক দশকে নতুন সড়ক ও অবকাঠামোর কারণে হিমালয়ের অনেক প্রত্যন্ত এলাকা পর্যটকদের কাছে সহজলভ্য হয়েছে। বেড়েছে মানুষের আনাগোনা, যানবাহন ও বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ।

    তবে গবেষকেরা এটিও বলেছেন, মোনালের কণ্ঠ পরিবর্তনের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

  • জ্ঞানেশ পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টি

    জ্ঞানেশ পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টি

    ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। কর্মসূচির বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

    দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর প্রতিবাদেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

    দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সৌরভ দাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। শুধু একজনের পদত্যাগকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখছে না দলটি। বরং নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।

    সৌরভ দাসের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি। ওই প্রক্রিয়ায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

    ককরোচ জনতা পার্টির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা দায়িত্ব নিতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার মতে, একজন ব্যক্তির পদত্যাগে নির্বাচন ব্যবস্থার সংকটের সমাধান হবে না; প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার।

    ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে দেশের তরুণদের উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করে সৌরভ বলেন, ভোট চুরি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো অভিযোগ নিয়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি ১০ অক্টোবরের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

    কর্মসূচির আগে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটির দাবি, যন্তর মন্তরের সমাবেশের বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

  • রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দু’জন হলেন—উপজেলা সদরের জালিয়াবাড়ি এলাকার মরহুম বাবুল হাওলাদারের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেল এবং দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকার মরহুম আব্দুল শুক্কুর হাওলাদারের ছেলে মো: কামাল হোসেন নয়ন (৩৩)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাসেল ও নয়নকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।

    রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রেফতার দু’জনকে বুধবার সকালে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেয়। বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, আইন শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ,আর

  • ১৫০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

    ১৫০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

    জম্মু-কাশ্মীরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গত সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে ওই ১৫০ জনকে বাগডোগরায় আনা হয়। বিমানবন্দরে নামার পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    তবে ৭ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫০ বাংলাদেশিকে বাগডোগরায় আনা হয়েছে কি-না, কিংবা তাদের কেউ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত গেছেন কি না- এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

    জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ও পুলিশ কয়েক মাস ধরে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে।

    তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন দৈনিক মজুরির পেশায় যুক্ত ছিলেন অনেকে।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, পরিচয় যাচাইয়ের সময় শ্রমিকদের আধার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে বলা হয়। কয়েকজনের নথিতে অসঙ্গতি পাওয়ার পর তাদের জাতীয়তা নিয়ে বিস্তারিত যাচাই শুরু হয়। পরে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

    কাশ্মীরে শনাক্ত বাংলাদেশির সংখ্যা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে জানিয়েছিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে জম্মু অঞ্চলে ৪৬ জন এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ৪৫৮ জন।

    অন্যদিকে সাম্প্রতিক পুলিশি সমীক্ষায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে। গত ২৬ মে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নভলেকরের নেতৃত্বে জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার পরিবর্তন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটিটি। এক বছরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    এদিকে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রীনগরের পান্থা চক এলাকায় থাকা ১২টি অস্থায়ী ঘরকে বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী আটক শিবির হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিচয় ও জাতীয়তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ব্যক্তিদের সেখানে অবস্থান করা আইনসঙ্গত নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কাশ্মীরে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেননি।

    এদিকে বাগডোগরায় নেওয়া ১৫০ বাংলাদেশির পরবর্তী গতিবিধি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা বিএসএফের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের ঠিক কবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

  • টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফ (২৩) ও একই গ্রামের আয়নালের ছেলে রুবেল (২৩)।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার মো: রোকুনুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলার বাদি পরিবারের অমতে তার প্রেমিককে বিয়ে করেন। তিনি বিগত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তার স্বামীর সাথে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। আসামিরা তখন তার স্বামীকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

    এ ঘটনার ছয় দিন পর ভিকটিম নিজেই বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। একই বছর ১৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

    বিচার শেষে আজ আসামিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হারাধন চন্দ্র সিংহ। এ,আর

  • ইরানই যুদ্ধে জয়ী: আইআরজিসি কমান্ডার

    ইরানই যুদ্ধে জয়ী: আইআরজিসি কমান্ডার

    যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান তাৎপর্যপূর্ণ কৌশলগত জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বন্দর আব্বাসে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এ দাবি করেন আইআরজিসির রাজনৈতিক উপকমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি। খবর বার্তা সংস্থা মেহেরের।

    ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেন, শত্রুপক্ষ এই ধারণা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল যে, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধসিয়ে দিতে ও খণ্ড-বিখণ্ড করতে পারবে; কিন্তু তাদের সেই অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে।

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাভানি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে শত্রুপক্ষ ভেবেছিল যে, বিদ্যুৎগতিতে আক্রমণ ও তীব্র যুদ্ধের মাধ্যমে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে পারবে। এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাঠামো অচল করে দিতে পারবে। ইরানকে টুকরো টুকরো করতে পারবে এবং দেশটির ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে পারবে; কিন্তু হিসাব-নিকাশে তারা বড় ধরনের ভুল করেছিল।

    তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু করেছিল; কিন্তু আজ বিশ্বের অনেকের স্বীকারোক্তি ও মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগের তুলনায় ইরান এখন আরও শক্তিশালী।’

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে জাভানি সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পর শত্রুপক্ষের কৌশল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ এখন ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ পথ বেছে নিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, সমুদ্র ও আকাশপথে বিধিনিষেধ আরোপ এবং জনগণের মনোবল ও সহনশীলতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা।

    তিনি আরও যোগ করেন, গত চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানি জাতির ওপর এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছে, কিন্তু দেশটির মহান জাতি প্রমাণ করেছে যে তারা এ ধরনের চাপের মুখেও অবিচল ও দৃঢ়।

  • সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মতিনবাজার নামক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন সাহাবাজ (মতিনবাজার) গ্রামের মরহুম আব্দুল করিম খানের ছেলে আব্দুল জলিল (৭০) ও তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৬০)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে আমিনা বেগমের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ত্রীর চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী আব্দুল জলিল। মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে আব্দুল জলিল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে আসার পর গত সোমবার গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় আব্দুল জলিল খানের।

    বিকেল ৩টার দিকে মরহুম আব্দুল জলিলের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে বাড়ি ফেরার দুই ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে মৃত্যু হয় স্ত্রী আমিনা বেগমের। পরে রাতে জানাজা শেষে স্বামীর পাশেই মরহুমা আমিনা বেগমকে দাফন করা হয়েছে।

    মৃত দম্পতির ছেলে আলম মিয়া বলেন, ‘বাবা-মায়ের মধ্যে খুবই ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। বাবাকে দাফন করে আসার পরপরই মাও চলে গেলেন। এক দিনেই আমরা এতিম হয়ে গেলাম।’

    সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘একই দিনে স্বামীর জানাযার মাত্র দুই ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু খুবই বিরল।’ এ,আর

  • ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা কমালেই যুদ্ধ বন্ধ: ভ্যান্স

    ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা কমালেই যুদ্ধ বন্ধ: ভ্যান্স

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ এবং সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহ’ মাত্রায় কমাতে হবে। যদিও আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরান কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। খবর আল আরাবিয়্যার।

    অন্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সংশয়ে ভোগা ভ্যান্স এই সংঘাত নিষ্পত্তিতে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন, যা দ্রুতই ভেস্তে যায়। এই যুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান সহকর্মীদের জন্য একটি রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সোমবার আলাস্কায় নির্বাচনি প্রচার শেষে ভ্যান্স বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কমাতে হবে; কেবল ভবিষ্যতে পারমাণবিক কার্যক্রম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না।

    তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র না চান, তবে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানির প্রয়োজন কেন? আর যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেখাতে চান, তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ জ্বালানি তৈরি করবেন না। এটি একটি অত্যন্ত মৌলিক ও প্রাথমিক বিষয়।’

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, ‘আমার মনে হয়, তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেখাতে চায়, তবে তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতার ক্ষেত্রে অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

  • বগুড়ায় এক জেলের লাশ উদ্ধার

    বগুড়ায় এক জেলের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বগুড়া সদর উপজেলার ছোট বেলাইল ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বিশ্বরোড এলাকার একটি জমি থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মৃত সাজ্জাদ শাজাহানপুর উপজেলার আবেদ আলীর ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, মাছ ধরার জন্য তিনি রাতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সকালে জমির মধ্যে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    ঘটনাস্থল থেকে মাছ ধরার ফালি, একটি ব্যাগে কিছু মাছ ও একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মাছ ধরতে গিয়েই সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে। সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    সিরাজগঞ্জের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা এবং বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রতি পিস ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাল্টার দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। দেশি ফলের মধ্যে কাটিমন আম ২০০ টাকা এবং তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে বেশি দামে কিনে একই অনুপাতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    ফল কিনতে আসা তৌফিকা নাসরিন বলেন, ‘এ বছর বাজারে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। এসব ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। আমাদের আয়ের সঙ্গে পণ্যের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই।’

    সিরাজগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। তবে দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়।’

    তিনি বলেন, ‘এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।’

  • নান্দাইলে কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

    নান্দাইলে কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের নান্দাইলে পূর্বশত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেয়া হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভেলামারী এলাকার হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি স্থানীয় চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

    মামলার তদন্ত শেষে আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

    ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনের উপস্থিতিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

    মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল। এ,আর

  • সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ ১৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় চোরাচালানে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাবাজার, প্রতাপপুর, পান্থুমাই, উৎমা, তামাবিল, সংগ্রাম ও কালাইরাগ বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারতীয় কসমেটিকস, ফুচকা, গরু, কম্বল, চা পাতা, বাসমতি চাল ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাচালানের সাথে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব চোরাইপণ্য জব্দ ও একজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ পণ্য ও আটক ব্যক্তির বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

    মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রিয়ন (২২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নাফিজ (১৮) আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাকিলাদাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিয়ন মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম মন্টু মেম্বারের ছেলে। তিনি যশোর এম এম কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করতেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রিয়ন ও নাফিজ মোটরসাইকেলযোগে কোটচাঁদপুর থেকে বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। তারা মহেশপুর উপজেলার কাকিলাদাড়ী এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রিয়ন ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর আরোহী নাফিজ আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত রিয়নের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের মাতম। এ,আর

  • মহেশপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

    মহেশপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড়, স্বরুপপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় (৬ অক্টোবর) গতরাতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ফসল যেন মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

    ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের শিমের মাচা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে, লাউয়ের মাচা উপড়ে ও ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও পুরো সবজি ক্ষেতই নষ্ট হয়ে গেছে। শিম, বরবটি, লাউসহ মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অনেক কৃষক জমিতে বাঁশ, জাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে যত্ন করে মাচা তৈরি করেছিলেন। সেই মাচায় সবজি ধরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই মাচাগুলো ভেঙে পড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন অসংখ্য কৃষক।

    শুধু সবজি নয়, ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পায়নি ধানের ক্ষেতও। অনেক এলাকার পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ ঝড়ের আঘাতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পুরো ধানক্ষেতই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ধান চাষিরাও বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

    এছাড়া কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক কলাগাছ ভেঙে গেছে ও উপড়ে পড়েছে। শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের পাতা, ফুল ও ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা জমিতে বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছিলেন। কেউ কেউ ধার-দেনা করে বীজ, সার, কীটনাশক, বাঁশ, জাল ও মাচা তৈরির উপকরণ কিনেছেন। ফসল বিক্রি করে সেই বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানিয়েছেন ঘুর্নিঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার শ্যামকুড় ও স্বরুপপুর ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    প্রকৃতির ওপর কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিজের ঘাম, শ্রম ও অর্থ দিয়ে ফসল ফলিয়ে কৃষক যখন ঘরে সোনালি ফসল তোলার অপেক্ষায় থাকেন, তখন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। এ,আর

  • রাঙ্গামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় ফাঁসি

    রাঙ্গামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় ফাঁসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হালিমা বেগম সুমি হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মো: মহিবুর কামাল ওরফে মহিবুল্লাহকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আহসান তারেক এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে কাপ্তাই এলাকার বিএফডিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত বাথরুমে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে থেঁতলে হালিমা বেগমকে হত্যা করা হয়।

    পরে প্রমাণ গোপনে লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় আসামি। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। এ,আর

  • অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা মো: শিবলু ওরফে বুলেট শিবলুকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি ওই এলাকার নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের ষোলশহর এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা মামলায় ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শিবলু ওই মামলার ৬৯ নম্বর আসামি।

    এ ছাড়া আনোয়ারায় এক মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় শিবলুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্সে কর্মরত সদস্য মো: আরিফুল ইসলামকে মারধর, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়া ও হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র হাতে শিবলুর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি এলাকায় ফিরে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

    আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের সময় শিবলুর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য কোনো থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।’ এ,আর

  • শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, চালকের সহকারী নিহত

    শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, চালকের সহকারী নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কায় আরিফ হোসেন (৩০) নামে এক চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আরিফের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাভারন হাইওয়ে থানার এসআই আনিছুর রহমান।

    স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা থেকে মুরগির বাচ্চা নিয়ে যশোরের দিকে যাওয়ার সময় নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা মসজিদের সামনে পৌঁছালে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে কাভার্ডভ্যানটি রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে চালকের সহকারী আরিফ মারাত্মকভাবে আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা: সুখেন্দু কুমার মজুমদার বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত আরিফের হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

    এসআই আনিছুর বলেন, ‘গাড়ির চালক ঘটনার পরই পালিয়ে যান। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। কাভার্ডভ্যানটি হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’ এ,আর

  • মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রধান শাখা খাল ধুরুং। এ খালের বুকজুড়ে জেগে ওঠা একটি চর এখন পরিণত হয়েছে সবজি চাষের উর্বর ভূমিতে। এ চরের তিন দিক দিয়ে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতিতে বয়ে চলেছে খালের পানি। আর মাঝখানে জেগে থাকা চরের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চরের কোথাও শসার লতাপাতা মাটিজুড়ে ছড়িয়ে আছে, কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে বরবটি ও ঝিঙা। কোনো জমিতে দুলছে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা ও বেগুনের গাছ। এমনকি এ চরে চাষ হচ্ছে পটলও। আগাম সবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

    স্থানীয়ভাবে ‘মুজরি চর’ নামে পরিচিত এ চরটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পাইন্দং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেড়াজালীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৬০ হেক্টর আয়তনের এ চরে পুরো বছর কৃষিকাজ করেন ২৪০-২৫০ জন কৃষক। তবে শুষ্ক মৌসুমে ধুরুং খালের পানি কমে গেলে তখনই চরজুড়ে শুরু হয় সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ। উর্বর পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই এ চরে বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। খালের পানিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চর যেনো মৌসুমি কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার এক সবুজ অধ্যায়।

    চরের কৃষকরা জানান, তিন পাশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জমিতে পলি পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আগাম সবজি চাষ করেন। বাজারে যখন এ সব সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন ফসল তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে।

    মুজরি চরের কৃষক মো. আফজল হোসেন আড়াই কানি জমিতে এবার বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে বরবটি, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, শিম ও তিতকরলা।

    কৃষক আফজল হোসেন বলেন, ‘লাভের আশায় আমরা চরের জমিতে আগাম শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ও বেনটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করি। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে না। কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি-সহায়তা নিয়মিত পাই না। তাই চরের কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি সহায়তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কষ্টের ফসলের যথাযথ মূল্যও পাবেন।’

    কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘আমাদের এ চরে প্রায় আড়াই শত কৃষক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু চরে কাজ করতে এসে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে কৃষকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি টংঘর বা ছাউনি থাকলেও দুর্যোগের সময় আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম। তাই কৃষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরে একটি টংঘর বা ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’ শুধু আফজল বা আলী আহমদ নন, মুজরি চরের অধিকাংশ কৃষকই আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া। তবে ভালো ফলন হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান।

    মো. মহিন উদ্দিনসহ অন্য কৃষকের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজির সব সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাঠ থেকে সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আসে না।

    বর্গাচাষী মো. এরশাদ বলেন, ‘সব ধরনের কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি, কিন্তু সে তুলনায় সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ বছর যদি সবজির দাম ভালো না পাই, তাহলে উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলে আনতে পারব না। কৃষকরা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে আমাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

    মুজরি চরের কৃষকদের আরেকটি বড় সমস্যা পানি। খালের পাশে চাষ হলেও সবজি খেতে প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কৃষককে নিজেদের উদ্যোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চরে কৃষকদের বসার বা বিশ্রামের জন্য কোনো ছাউনিও নেই। প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিয়মিত পরামর্শ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘মুজরি চরের সম্ভাবনা অনেক। এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। সেচ, রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। মুজরির চরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    ধুরুং খালের বুকে জেগে ওঠা মুজরি চর তাই শুধু একটি চর নয়। কয়েক শত কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ সবুজ জমিতে এখন তারা আগাম সবজি ফলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ফসল ভালো হবে, বাজারে ভালো দাম মিলবে, আর ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত লাভ।

  • জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: ড. আব্দুল মঈন খান

    জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: ড. আব্দুল মঈন খান

    জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।

    তিনি বলেছেন, জনগণ সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা আমাদের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাদের কাজে ব্যর্থ হলে সেটির দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তায়।

    তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা অফিসে প্রবেশ করলে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর নিশ্চিতভাবে চাকরি করতে পারেন। কিন্তু জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদের সীমা মাত্র ৫ বছর। ৫ বছর পর আবারও জনগণের মুখোমুখি হতে হয় এবং কাজের প্রমাণ দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত হতে হয়। ফলে আমাদের কাজের গুরুত্ব ও জবাবদিহিতা অনেক বেশি।

    গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরেও সনদ পান না। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। আগামীতে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি— সবার মূল উদ্দেশ্য এক, জনগণের সেবা করা। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়ের একই লক্ষ্য থাকা উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে। তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা জনগণের সেবা করার কাজে ব্যবহার করতে হবে। জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।

    তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা যাবে না। প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে কোনো নাগরিককে যেন ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • ফেনীতে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র ইমনের সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

    ফেনীতে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র ইমনের সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পরও সন্ধান মেলেনি মাদরাসাছাত্র মাহফুজুর রহমান ইমনের।

    মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ট্রাংক রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তার সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

    ইমন বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সে স্থানীয় পঁচি ফকির বাড়ির শহীদুল ইসলাম সুজনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শহীদুল ইসলাম সুজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছোট ছেলে ইমন পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার অটোরিকশা নিয়ে বের হতো। অন্যদিনের মতো গত ২৮ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি সে। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর দুই দিন পর পুলিশ ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন স্থান থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন, মা মোমেনা বেগম, ভাই মোশাররফ হোসেন জাবেদ, স্থানীয় সমাজকর্মী ছালাউদ্দিন মামুন, মাওলানা হাসান আহমদ, মাহফুজুর রহমান ও কামাল উদ্দিন মিন্টুসহ স্থানীয়রা।

    ইমনের মা মোমেনা বেগম বলেন, ‘আজ নয় দিন হয়ে গেছে। আমি এখনো আমার ছেলের খোঁজ পাইনি। আমার ছেলে মৃত হোক বা জীবিত হোক, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন।’

    ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘গত নয় দিন সবার ধারে ধারে ঘুরতেছি, আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমার ছেলে কোথায় আছে, কিভাবে আছে কিছুই জানি না। আমার ছেলে ফেরত চাই। কিছু চাই না, শুধু আমার ছেলেকে ফেরত দিন।’

    মেঝো ভাই মোশাররফ হোসেন জাবেদ বলেন, ‘নয় দিন হয়ে গেছে, আজ পর্যন্ত আমার ভাইকে পাইনি। মডেল থানায় জিডি করার পরও পুলিশ আমার ভাইয়ের খোঁজ এখনো দিতে পারেনি। প্রশাসন কোনো কাজ করছে না। আমরা অনুরোধ করবো আমার ভাইয়ের সন্ধান যেন দেয়া হয়। আমার ভাইকে আমরা ফেরত চাই।’ এ,আর

  • বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ সংঘর্ষে শিশু নিহত

    বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ সংঘর্ষে শিশু নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মিফতাহুল জান্নাত রাফা (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজারসংলগ্ন বৌদ্ধেরপোল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিফতাহুল জান্নাত রাফার মা ফেরদৌস আরা মুন্নি মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে করে শিশুটি তার বাবা-মায়ের সাথে যাচ্ছিল, এমন সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু রাফার মৃত্যু হয় এবং তার বাবা গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আস্রাফ আলী বলেন, ‘মোটরসাইকেল ও পিকআপের সংঘর্ষে রাফা নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। তার মা-বাবাও আহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।’ এ,আর

  • বরগুনায় স্কুলে গণ-হিস্টিরিয়ায় অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি ৯

    বরগুনায় স্কুলে গণ-হিস্টিরিয়ায় অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার লাকুরতলা সোনারবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার সময় গণ-হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০ শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

    অসুস্থদের মধ্যে ৯ শিক্ষার্থীকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

    স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ক্লাস চলার সময় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির আরো ১৯ শিক্ষার্থীর মাঝে একই ধরনের শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

    বরগুনা লাকুরতলা সোনারবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন জানান, ‘ঘটনার পরপরই দ্রুত অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। স্বজনেরা উপস্থিত হয়ে অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থীকে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নেয়া হয়।’

    অন্যদিকে, বাকি শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন।

    এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহার রঞ্জন বৈদ্য জানান, ‘শ্বাসকষ্টের লক্ষণ নিয়ে আসা ৯ শিক্ষার্থীকেই চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তারা সকলেই মূলত গণ-হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। বর্তমানে ভর্তি থাকা সকল শিক্ষার্থীই পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।’ এ,আর

  • অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    প্রেমের সম্পর্কে যতটা ভালোবাসা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হয়, গায়ত্রী সুরেশের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তার বিপরীত। সম্পর্ক শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেমিকের কাছ থেকে এমন একটি প্রশ্ন শুনেছিলেন, যা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও স্বস্তি পাননি তিনি।

    ‘বিগ বস মালয়ালম ৮’-এর এই প্রতিযোগী সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

    প্রতিযোগিতা থেকে গায়ত্রীর আকস্মিক বিদায়ে দর্শকেরা অবাক হয়েছেন। তবে শো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠানের একটি টাস্কে নিজের জীবনের কষ্টের অধ্যায়টি সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি।

    সেই টাস্কে বিগ বস প্রশ্ন করেন, ‘জীবনে যে মানুষটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনি কী বলবেন?’ উত্তরে ২০২১ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন গায়ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক মানুষ আছেন, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছেন। কিন্তু যে ঘটনাটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত ও মনকে ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়েছিল ২০২১ সালের একটি ঘটনা। তখন আমি সিচুয়েশনশিপে ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম প্রেমের সম্পর্ক, কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় সেটা আসলে শুধুই একটি সিচুয়েশনশিপ ছিল।’

    গায়ত্রী জানান, সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর আচরণে সতর্ক হওয়ার মতো কিছু বিষয় তার চোখে পড়েছিল। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ মনে হয়েছিল। তবে কাছের একজন মানুষকে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত—এমনটা ভেবেই সম্পর্কটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    এরপর নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে গায়ত্রী বলেন, ‘সম্পর্ক শুরুর প্রথম সপ্তাহে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার এইডস নেই তো? সেই মুহূর্তে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। কিন্তু পরে মনে হয়েছিল, এই কথার মধ্যে এত নেতিবাচকতা খুঁজে ভুল করছি। তাই সম্পর্কটাকে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলেছিলাম।’

    তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তার জন্য সুখকর হয়নি। গায়ত্রীর ভাষ্য, ‘বিশেষ লাভ হয়নি। আমার সঙ্গে থেকেও অন্য নারীর প্রতি সে আসক্ত ছিল।’

    নিজের সেই অভিজ্ঞতাকে এখন টক্সিক সিচুয়েশনশিপ হিসেবে দেখছেন গায়ত্রী। তার এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরালের পর এএসআই ক্লোজড

    ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরালের পর এএসআই ক্লোজড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াসকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো: তারেক মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সার্কেল এএসপিকে এ ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    ভিডিওটিতে ইলিয়াস বলেন, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না ? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি ? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

    পরে জানা যায়, সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • মব করে রামেবি ভিসিকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করালো ঠিকাদার ও বহিরাগতরা

    মব করে রামেবি ভিসিকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করালো ঠিকাদার ও বহিরাগতরা

    রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক এবং সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল লোক প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটায়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হামলাকারীরা মিছিল নিয়ে জোরপূর্বক ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করে। আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে তাদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনার সময় উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। একই সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন জানান, সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য মহোদয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে উপাচার্যকে গালিগালাজ করতে থাকে এবং পূর্বপ্রস্তুতকৃত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়। এরপর আমাকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। আমি এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে।

    এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি ফোনে খবর পেলাম একদল লোক রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেছে। আমি গিয়ে দেখলাম উপাচার্যের রুম তালাবদ্ধ। সংঘবদ্ধ কাউকে পেলাম না। এ ব্যাপারে কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’

  • চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় মামলা, আটক ১

    চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় মামলা, আটক ১

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সরোয়ার হুসাইন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম (২২) একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন চৌগাছা থানা পুলিশ। শফিকুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলার বাঘারদাঁড়ি গ্রামের ইদ্রীস আলীর ছেলে।

    থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামে গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই সরোয়ার হুসাইন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    জানা যায়, ঘটনার দিন গভীর রাতে তিন চোর উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়াল ঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল। টের পেয়ে ইদ্রিস আলী ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম চিৎকার করলে গ্রামবাসি চোরেদের ধাওয়া করে। জনগণের ধাওয়া খেয়ে দুই জন পালাতে সক্ষম হলেও একজনকে ধরে ফেলে গ্রামবাসি। এ সময় গ্রামবাসির এলোপাতাড়ি মারপিটে গুরুতর আহত হয় মিজানুর রহমান । এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আহত মিজানুরকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির বড় ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ,আর

  • মহেশপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন

    মহেশপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন এ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

    ” ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতন হোন,নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন। “এই আহ্বান কে সামনে রেখে

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় মহেশপুর কলেজ স্ট্যান্ড থেকে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মহেশপুর উপজেলা জামায়াত লিফলেট বিতরণ করেছে।

    উক্ত জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের মাননীয় এমপি মোঃ মতিয়ার রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইসমাইল হোসেন পলাশ।

    ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে এবং ৪-১০ অক্টোবর ২০২৬ দেশব্যাপী জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন করছে। এই কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে মহেশপুরে কলেজ স্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেছে। এমপি মতিয়ার রহমান মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ, পৌর শাখার আমির নওফেল হোসেন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ও থানা জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, থানা কর্মপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই মহৎ কাজে অংশ গ্রহণ করেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দায়িত্বশীল বৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এ সময় সাধারণ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর সচেতনতা মূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছেন। এ,আর

  • জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাংবিধানিকভাবে জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে একথা জানান তিনি।

    এ বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি, সুরক্ষা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিতের দাবিসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, আমরা বলেছি, জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য যে আইন সেটা আমরা অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেছি। সেটার বৈধতা আছে তবে সেটা আইন কিন্তু আমরা সাংবিধানিকভাবে এই সুরক্ষাটাকে আনবো তফসিলে সুনির্দিষ্ট জায়গায় যাতে তাদের দায়মুক্তি জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষাটা সাংবিধানিকভাবে ধারণ করা যায়।

    বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং জঘন্য হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যারা দায়ী, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ তার দোসর এবং অন্যান্য যারা সংশ্লিষ্ট দায়ী তাদের বিচার যেন ত্বরান্বিত করা হয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী আদালতে চলমান মামলাগুলোর বিষয়ে তারা ইঙ্গিত করেছেন, আমরা বলেছি সেটা ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার আন্তরিক।

  • চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী

    চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাস্টার কামাল আহমেদ।

    প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাসরীন সুলতানা।

    চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি মাস্টার তবিবর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আইনাল হক, ফজলুর রহমান আসাদ, মো: আয়ুব হোসেন, আব্দুল আলীম,মো: কামরুজ্জামান, গোলাম রব্বানী,মো: রবিউল ইসলাম, আজম আশরাফুল ও মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাও আশরাফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী বৃন্দ, সাংবাদিকগণ ও সুধী মন্ডলী।

  • ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি, নিহত ১

    ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ইয়াসিন (৫১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের মধুবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের মিমের সঙ্গে ইয়াসিনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে ইয়াসিন গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ,আর

  • ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠন করতে হবে

    ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠন করতে হবে

    তুরস্কের প্রখ্যাত সুন্নি মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি রহ: স্মরণে ইস্তাম্বুলে ১৩তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিয়ে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স’র প্রধান শায়খ আলি মহিউদ্দিন আল-কারাদাগি।

    রোববার (৪ অক্টোবর) তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রভাবশালী আলেমদের সামনে তিনি এই প্রস্তাব পেশ করেন। শায়খ কারাদাগি মনে করেন- এটি বাস্তবায়িত হলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবেলায় বিশ্ব মানবতার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হবে।

    এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব মানবিক, ধর্মীয়, নৈতিক এবং সহজাত সঙ্কটে ভুগছে, আর এই সমস্যাগুলো শুধুমাত্র মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সকল মানুষের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

    শায়খ কারাদাগি বলেন, ‘গোটা বিশ্ব একটি গ্রামের মতো হয়ে উঠেছে। মুসলিম জাতিকে পুরো মানব জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। আমাদের সমস্যা সাধারণভাবে এক ও অভিন্ন এবং তার সমাধানও একই হতে হবে।’

    এ সময় তিনি শুধু মুসলিম জাতির সমস্যা নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির সমস্যার সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। এই বিবেচনায় যে, ইসলাম সঙ্কট মোকাবেলায় মানবিক সমাধান দিতে সক্ষম।

    শায়খ কারাদাগি বলেন, পবিত্র কোরআন ও নবীর সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে বুদ্ধিবৃত্তিক ঐক্য অর্জনের জন্য মুসলমানদের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এই ঐক্য সভ্যতা, বিজ্ঞান, উৎপাদন, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও প্রসারিত হতে হবে।

    তিনি জানান, মানবজাতির জন্য তার প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো- বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একটি ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠন করা।

    শায়খ কারাদাগি জাতিসঙ্ঘের বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, জাতিসঙ্ঘ মূলত বর্ণবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কারণ, সেখানে মাত্র পাঁচটি দেশের ভেটো দেয়ার অধিকার রয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সে অধিকার নেই।

    সম্মেলনে দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠনের পথ ও পদ্ধতিও বলে দেন যে, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন হতে পারে। পাশাপাশি এ সময় তিনি গাজার ওপর ইসরাইল ও তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলার প্রতিও নিন্দা জানান এবং সব সঙ্কট সমাধানে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি (মৃত্যু : ২৩ মার্চ ১৯৬০) ছিলেন একজন সুন্নি মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক। তিনি ‘রিসালায়ে নূর’ নামক পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা রচনা করেন। এটির আকার ছয় হাজার পৃষ্ঠার অধিক। আধুনিক বিজ্ঞান ও যুক্তিকে ভবিষ্যতের পথ বিবেচনা করে তিনি সাধারণ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় জ্ঞান ও ধর্মীয় বিদ্যালয়ে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষাদানের পক্ষপাতী ছিলেন।

    তার স্মরণে ইস্তাম্বুলের এই সম্মেলনের শিরোনাম ‘বৈশ্বিক সঙ্কটে কোরআনী সমাধান’। এই সম্মেলনে অন্তত ৬০টি দেশের আলেম, গবেষক ও চিন্তাবিদগণ অংশগ্রহণ করছেন। মঙ্গলবার এটি সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

    চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে চৌগাছা উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষকরা উপজেলা সদরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করেন।

    র‍্যালিতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিও জানান।

    র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা গোলাম মোরশেদ,উপস্থিত ছিলেন মাওলানা গিয়াস উদ্দিন সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ। এ,আর

  • হরমুজ ছেড়ে পালাল তেলবাহী ট্যাংকার

    হরমুজ ছেড়ে পালাল তেলবাহী ট্যাংকার

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হুমকির মুখে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরানি বাহিনী জাহাজটিকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ না মানলে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

    যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার বা ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে। ওই সময় ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করছিল।

    ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির পক্ষ থেকে ট্যাংকারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন ইরানি বাহিনীর নির্দেশ মেনে নেন এবং জাহাজটি ফিরে যায়।

    এ ঘটনার মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

    তেহরান এরই মধ্যে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে এখন থেকে পারাপারের জন্য অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রণালিটির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

  • এবার মহাকাশ দখলের লড়াই চলছে

    এবার মহাকাশ দখলের লড়াই চলছে

    চাঁদে স্থায়ী মানববসতি স্থাপন ও মহাকাশ গবেষণার জ্বালানি নিশ্চিত করতে চায় বিশ্ব মোড়লরা। এর জন্য চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া।

    ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। অন্যদিকে ২০৩৬ সালের মধ্যে যৌথভাবে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মস্কো ও বেইজিং। এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদে সৌরশক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ সেখানে রাত টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। এই দীর্ঘ অন্ধকার ও চরম ঠান্ডার সময়ে স্থায়ী ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা বজায় রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে।

    বিপরীতে চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘সেলেনা’ চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এমন তাড়াহুড়ো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    রকেট উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এদিকে পরমাণু স্থাপনা ঘিরে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে পারমাণবিক সুরক্ষার অজুহাতে কোনো দেশ যদি নিজস্ব চুল্লির চারপাশে ‘নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করে, তবে অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প আরও দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। এতে মহাকাশেও তৈরি হচ্ছে বিভাজন।

  • রাশিয়ায় প্লেগ, কোয়ারেন্টিনে শতশত মানুষ

    রাশিয়ায় প্লেগ, কোয়ারেন্টিনে শতশত মানুষ

    রাশিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। দেশটির একটি গবেষণাগারের এক টেকনিশিয়ান মারা যাওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ মানুষকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রাদুর্ভাবটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

    এতে আরও বলা হয়, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা সাইবেরিয়ার ইরকুৎস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কাজ করছিলেন। সেখানেই তিনি নিউমোনিক প্লেগের জীবাণুর সংস্পর্শে আসেন। সংবাদমাধ্যম লিউদি বাইকালার-এর তথ্য অনুযায়ী, জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাক্রমে ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন শিপিলোভা। এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে বুরিয়াতিয়ায় একটি মাঠপর্যায়ের অভিযানে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুরিয়াতিয়া রাশিয়ার মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

    ২৯শে সেপ্টেম্বর শিপিলোভাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। কিন্তু এর দুই দিন পরই তার মৃত্যু হয়। শিপিলোভা প্রায় ২০০ মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন। প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় এখন তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    এদিকে ওই অঞ্চলের তিনটি হাসপাতালে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরকুৎস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিদের কারও মধ্যে এ পর্যন্ত অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তাদের পরীক্ষায়ও প্লেগের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে মস্কো টাইমস জানিয়েছে। শিপিলোভা যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেটিও কোয়ারেন্টিনের আওতায় রাখা হয়েছে।

    অন্য হাসপাতালগুলোতে নেয়া হয়েছে শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং রক্ত ওঠাসহ কাশি। সাধারণত সংস্পর্শে আসার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। সংক্রমণের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে নিউমোনিক প্লেগে মৃত্যুর হার প্রায় ১৭ শতাংশে নেমে আসে। তবে চিকিৎসা না করা হলে এই রোগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী।

    এদিকে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ঠিক কী ঘটেছে, তা গোপন করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ওই অঞ্চলে রোগটির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মজুত ফুরিয়ে আসছে। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ওষুধের সরবরাহের দাবিতে ফার্মেসি ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। তবে রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ মহামারি বিশেষজ্ঞ মিখাইল ফাভোরভ টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার ব্যাখ্যাটি নাকচ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কো টাইমস। ফাভোরভ বলেন, এটি হাস্যকর।