রাজনীতি

  • স্থানীয় নির্বাচনে লড়তে পারবেন বেসরকারি শিক্ষকরা

    স্থানীয় নির্বাচনে লড়তে পারবেন বেসরকারি শিক্ষকরা

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    তিনি বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

    বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে, তা হয়েছে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের বড় পরিসরে কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয়করণের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। শিক্ষকরা একটি সুশৃঙ্খল ও বড় পরিসরের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরলে বর্তমান সরকার অবশ্যই বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের নতুন উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল স্থাপন করা যায়।এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ছুটির দিনে ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে বলে জানান তিনি।

    মীর শাহে আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবে।

    শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকই একমাত্র পেশা, যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। আপনারাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি এবং গণতন্ত্রের বার্তাবাহক।

    সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

  • সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কাজ করছে একটি গোষ্ঠ: রিজভী

    সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কাজ করছে একটি গোষ্ঠ: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে ঝামেলায় ফেলার ও দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে, নাশকতামূলক কাজে জড়িত হচ্ছে। এ থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ পূর্ব বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হলে সবার প্রচেষ্টা প্রয়োজন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আগে থেকে সচেতন হওয়া গেলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে বাসার আশেপাশে পচা ও জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে করে ডেঙ্গু বাসা না বাঁধতে পারে। আগে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়া হতো, এখন তা বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার, কোনো ধরনের নৈরাজ্য অপরাধকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার।

    পুলিশের ভ্যান থেকে কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে পারে এ সময় বক্তব্যে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

  • ফেসবুকে লিখে কি লিখেছিল:আবরার ফাহাদ

    ফেসবুকে লিখে কি লিখেছিল:আবরার ফাহাদ

    বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে বুয়েটের হলে ফিরেছিলেন। রাত ৮টায় তাকে শেরেবাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠায় তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুসারে, তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস ও মতাদর্শের প্রমাণ পাওয়ার পর ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করে তারা। পরে চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে আরেক দফা নির্যাতন চালায় তার ওপর।

    রাতভর পৈশাচিক নির্যাতনে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন আবরার।

    কী ছিল আবরার ফাহাদের সেই ভারতবিরোধী স্ট্যাটাসে, যা তিনি শাহাদাতবরণের মাত্র দুইদিন আগে লিখেছিলেন?

    তিনি লিখেছিলেন, ’৪৭-এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিয়েছিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সেই মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

    আবরার ফাহাদ লিখেছিলেন, ‘কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দেব।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে, অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে, সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।’

    স্ট্যাটাসের শেষের দিকে তিনি লেখেন, ‘হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন—

    পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

    এ জীবন মন সকলি দাও,

    তার মত সুখ কোথাও কি আছে

    আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’

  • যেসব কারণে ইমেজ সংকটে জামায়াত

    যেসব কারণে ইমেজ সংকটে জামায়াত

    শহিদুল ইসলাম : কয়েকজন সংসদ-সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠছে। ধর্মভিত্তিক কঠোর সাংগঠনিক কাঠামো ও শক্ত চেইন অব কমান্ডের কারণে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ্যে খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও বিভিন্ন ঘটনায় দলটি চাপে পড়ছে। ভোটার-সমর্থক না হলেও আদর্শিক কারণে যারা এতদিন দূর থেকে জামায়াতকে পছন্দ করতেন, তাদের একটি অংশের মধ্যেও দলটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। ফলে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সরব থাকার পাশাপাশি ঘরে-বাইরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে জামায়াতকে।

    তবে দলটির নীতিনির্ধারকরা এসব অভিযোগ ও সমালোচনার সঙ্গে একমত নন। তাদের দাবি, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো দলের অবস্থান মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কয়েকজনও বলছেন, ব্যক্তির ভুল বা বিতর্কের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো সমীচীন হবে না। বরং অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। একইভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের অবস্থানকে অনেকে সমর্থন করলেও তার প্রতিবাদের ভাষা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ৯টি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার পর সংসদে বিরোধী দল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যেই দলটির কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে দলটিকে। বিশেষ করে এক সংসদ-সদস্যের নারীঘটিত ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর বাইরে সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণ, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অভিযোগও উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ দলটির ঘোষিত আদর্শ ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    আমির হামজার বিতর্কিত যত ঘটনা : বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা ও সংসদ-সদস্য মুফতি আমির হামজার কিছু বিতর্কিত ও সমালোচিত মন্তব্য এবং ঘটনা রয়েছে, যা জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চের শেষদিকে কুষ্টিয়া সদরের একটি মসজিদে জুমার আগে দেওয়া বক্তব্যে নারী সংসদ-সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও বডি শেমিং মন্তব্য করায় আমির হামজার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এই মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা হয়। প্রায় একই সময়ে কুষ্টিয়ায় দেওয়া এক বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই মন্তব্যের জন্য সিরাজগঞ্জে তার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা ও সমন জারি করা হয়।

    এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সম্পর্কে একটি ওয়াজে অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করার অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি জাবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং সেখানে হলে শিক্ষার্থীরা মদ্যপান ও শিক্ষকদের মারধর করত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তাকে লিগ্যাল বা উকিল নোটিশ পাঠায়।

    সংসদ-সদস্য নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী-কাণ্ড : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের অবতারণা হয়। ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে অল্পবয়সি এক মেয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয় ২১ জুলাই। পরে তিনি ওই তরুণীর নাম মরিয়ম উল্লেখ করে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তার প্রথম স্ত্রীও মিডিয়ার সামনে দাবি করেন যে, উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে। মরিয়মও নিজেকে সংসদ-সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিকস্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জামায়াত তার সদস্যপদ বাতিল করার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেয়। যদিও তার সদস্যপদ এখনো বাতিল হয়নি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে মরিয়ম বেগমের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় তারই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে। এ মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

    সংসদ-সদস্যের মেয়ের নামে অনুদান বরাদ্দ : নড়াইল-২ আসনের সংসদ-সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের মেয়ের নামে দুই দফা ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার মানুষের আধিক্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে সংসদ-সদস্য দাবি করেন, তার প্যাডে দেওয়া অগ্রিম স্বাক্ষর ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সহকারী তালিকা তৈরি করেছিলেন। এ কারণে তিনি ব্যক্তিগত সহকারীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

    টিআর, কাবিখা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজন সভাপতি : রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ-সদস্য মো. নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজনকে সভাপতি করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া খুলনা-৬ আসনের সংসদ-সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।

    এদিকে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরপরই বিষয়গুলো সিরিয়াসলি নেয় জামায়াতের হাইকমান্ড। পরে সংসদ-সদস্যের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠায় জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরে পাঠানো ওই নির্দেশনায় সরকারি অনুদান, ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, ব্যক্তিগত সহকারী ও ব্যক্তিগত সচিব কিংবা তাদের স্বজনদের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ বা বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলা সেই বক্তব্য : সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুল মুনতাকিমও। বাজেট বক্তৃতায় বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ উল্লেখ করার পর তার নির্বাচনি হলফনামায় মা-বাবা দুজনই জীবিত থাকার তথ্য সামনে আসে। পরে তিনি বক্তব্যটি ভুল বা অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে দুঃখপ্রকাশ করেন।

    কথিত ‘আরমান এমপি’ : চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. আরমান উদ্দিনকে ঘিরেও এলাকায় ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘আরমান এমপি’ ডাকার বিষয়টিও আলোচিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ-সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ-সদস্যদের সরকারি বাসভবনের জন্য ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দার দাবি তুলে সমালোচনার মুখে পড়েন।

    উপকারভোগীর বদলে নাতনিকে বাইসাইকেল : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের একটি বাইসাইকেল প্রকৃত উপকারভোগীর বদলে নিজের নাতনিকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বাইসাইকেলটি ফেরত দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীকে দেওয়া হয় এবং তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। মুন্সীগঞ্জে নৈতিকস্খলন ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুই রুকনের সদস্যপদ বাতিল এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কারও করে দলটি।

    সার কেলেঙ্কারি : সার মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার পর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ জামায়াতের নায়েবে আমির (২) মো. মনিরুল ইসলামের রুকুনিয়াত (সদস্যপদ) বাতিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জানা যায়, গত সপ্তাহে রাতে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি এলাকায় মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতের আমির ইউসুফ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, দলীয় আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মনিরুল ইসলামের রুকুনিয়াত বাতিল করা হয়েছে।

    উত্তাপ ছড়ানো আক্তারুজ্জামান : সর্বশেষ ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেজর আক্তারুজ্জামানের যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদের নামে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ নিয়ে হয়েছে তুলকালাম। তার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার, রিমান্ড এবং শেষ পর্যন্ত কারাগারে প্রেরণ এমনকি আদালত চত্বরেও তার অশোভন আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, তার মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে নেওয়া কি জামায়াতের খুব প্রয়োজন ছিল। জামায়াত অবশ্য শক্তভাবে তার পাশে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি চলছে এই ইস্যুতে। এটা রাজনীতিতে সর্বশেষ উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।

    এসব নানা ঘটনা জামায়াত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে জামায়াতের কাছ থেকে মানুষ এসব আশা করে না।

    জামায়াতের সাংগঠনিক অ্যাকশন : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। গাজী নজরুল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের ভিডিওতে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে দাবি করেন। তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই গত ১৭ জুন মরিয়মকে বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে জামায়াত।

    যা বললেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড অবশ্য বিষয়গুলো এড়িয়ে না গিয়ে ভিন্নভাবে মূল্যায়নের চেষ্টা করেছেন। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যুগান্তরকে বলেন, জামায়াতের প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি হয়েছে নৈতিকতা, আদর্শ আর দলীয় শৃঙ্খলা দিয়ে। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ঘটনা তাদের আহত করলেও শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা দলকে আরও মজবুত করেছে। এ প্রশ্নে জামায়াত আপসহীন। মানুষের সংগঠনে মানুষ হিসাবে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। তবে এর বিরুদ্ধে জামায়াতের শক্ত পদক্ষেপ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

    অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম যুগান্তরকে বলেন, দলের কেউ কোনো অন্যায় বা অনৈতিক কাজে জড়িত হলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। কয়েকজন সংসদ-সদস্যের স্বজনপ্রীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। কেন্দ্র থেকে সার্কুলার দিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত সংসদ-সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সদস্যপদ বাতিলেরও ব্যবস্থা নিতে স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এত কুইক অ্যাকশন কোনো দলে আছে আমার জানা নেই। যারা এসব নিয়ে জামায়াতের মধ্যে অস্বস্তি আছে বলতে চান তারা জামায়াতকে বেশি ভালোবাসেন।

    দিলারা চৌধুরীর সাফ কথা : বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি এবং নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে জামায়াত সম্পর্কে মানুষের এখনো উচ্চ ধারণা আছে। দলের একজন সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর বাইরেও কিছু ঘটনা জামায়াতকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে ঠিক। তবে সমালোচকরা যেভাবেই দেখুক জামায়াতের অ্যাকশন প্রশংসনীয়।

    এক প্রশ্নের জবাবে মেজর আক্তারুজ্জামানের ঘটনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে দিলারা চৌধুরী বলেন, বিমানে আসা যাত্রীদের হয়রানি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির বিষয়টি সবার জানা। আক্তারুজ্জামান তো এটারই প্রতিবাদ করেছেন। আবার তাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা অন্যায়। বরং গ্রেফতার করা উচিত ছিল ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের। আক্তারুজ্জামানের এই প্রতিবাদের সঙ্গে প্রবাসীরাসহ গোটা জাতি একাত্ম। জামায়াত তার পক্ষ নিয়ে কোনো অন্যায় করেছে বলে তিনি মনে করেন না।

    বদিউল আলম মজুমদারের মন্তব্য : সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, জামায়াত যে ধরনের নীতি-নৈতিকতার কথা বলে তার সঙ্গে সংঘটিত কিছু ঘটনা মানায় না। এজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সামান্য হলেও তাদের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে। ইভেন তাদের তৃণমূলের কর্মীরাও অসন্তুষ্ট হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে তারা দ্রুত অ্যাকশন নিয়েছে। এটিও ঠিক। ফলে দলটি তাদের অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চের মতো বড় কর্মসূচিতে এত তাড়াতাড়ি যাওয়ার কারণে অনেকেই বিরোধী দলের সমালোচনা করছে। তবে বিএনপি যে সংবিধান লঙ্ঘন করছে তার প্রতিকার কি? গণভোট হয়েছে। এটাই ফাইনাল। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হবে না, এটা তো একটা অবাস্তব ঘটনা এবং ক্ষমতার এক অলীক অপব্যবহার। আমাদের সঙ্গে তারা দিনের পর দিন বৈঠক করে গণভোটের বিষয়বস্তু তারাই ঠিক করলেন। জনগণ রায় দিল, সে রায় বাস্তবায়ন হবে না। এটার বিষয়ে তো সুরাহা হতেই হবে। এখন তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নিজেদের মতো সংবিধান সংশোধন করবে। এই দৃষ্টিতে লংমার্চ ঠিকই আছে।

    মানুষ এসব আশা করে না

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম যুগান্তরকে বলেন, অনৈতিক কাজ একজন মানুষ ভুলবশত করতেই পারে। যদিও জামায়াতের কাছ থেকে মানুষ সেটা মোটেই আশা করে না। তবে তাদের কুইক অ্যাকশন বিবেচনায় নিতে হবে। আক্তারুজ্জামানের জামায়াতে যোগদান নেতিবাচক কিছু নয়। এয়ারপোর্টে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ সঠিকভাবেই সে করেছে। তবে তার ভাষা ও এটিচিউড নিয়ে কথা থাকতে পারে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি জামায়াত আগে ভাগেই নিয়ে ফেলেছে; এটা অনেকেই ভালোভাবে নেয়নি। তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপিও ঠিক কাজ করেনি। এটা জুলাই শহীদদের প্রতি অবিচার। এই অর্থে জামায়াতের প্রতিবাদ, সঙ্গে জনভোগান্তি নিয়ে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে দলটির কর্মসূচি নিয়ে জনমত এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষেই আছে।

    সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

  • সংবিধান সংশোধন কমিটির পঞ্চম বৈঠক শেষে যে তথ্য দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধান সংশোধন কমিটির পঞ্চম বৈঠক শেষে যে তথ্য দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ জানাবে।

    কমিটি সংবিধান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, নারী নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও সংগঠন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আইনজীবী, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে পরবর্তী বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং এ বিষয়ে তাদের মতামত নেবে।

    রোববার (৪ অক্টোবর) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কমিটির পঞ্চম বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদানকারী শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিগণ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। তারা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রস্তাব কমিটিতে উত্থাপন করেন। কমিটি বৈঠকে আলোচনার বাইরে কারো লিখিত প্রস্তাব থাকলে সেটি কমিটিতে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

    বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, কমিটির সদস্য সাকিলা ফারজানা এমপি এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল এমপি উপস্থিত ছিলেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, আন্না মিনজ এবং মাধবী মারমা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

    বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো এবং লিখিত আকারে কমিটিতে পাঠানো প্রস্তাবগুলো কমিটির প্রস্তুতকৃত রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে।

    বৈঠকে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নতুন দায়িত্বে আসিফ, সারজিস ও মিতু

    নতুন দায়িত্বে আসিফ, সারজিস ও মিতু

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় ৫ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়েছে। আগামী এক বছরের ঘোষিত এ কমিটিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন ‘জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্স’র কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হয়েছেন মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী।

    এনসিপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাকে রেখে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এমপি এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলা, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

    ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলা, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হল প্রশাসন। সোমবার (৫ অক্টোবর) মতিহার থানায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

    তবে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা মামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকেরা। এছাড়া বিকেল ৪টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। আমরা মামলাটি নিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, ‘মতিহার থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে উল্লেখ করে তিনি মামলাটি করেছেন। এর সঙ্গে যারা জড়িত, যদি প্রাথমিকভাবে এগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম ধ্রুব বলেন, ‘এখানে প্রত্যেকেই চিন্তিত। হামলার সব ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে, সারা দেশের মানুষও তা দেখেছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা আয়নার মতো পরিষ্কার। ইতোমধ্যে তাদের নাম, পদবি ও পরিচয়সহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই অজ্ঞাতনামা মামলা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমাদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, সেটা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে জড়িতদের নাম-পদবি-পরিচয়ও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরও অজ্ঞাতনামা মামলা করা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

    উল্লেখ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

  • শরণার্থীদের ঘাড়েই কেন দোষ: রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ | সাক্ষাৎকারে নাজমুস সাকিব

    শরণার্থীদের ঘাড়েই কেন দোষ: রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ | সাক্ষাৎকারে নাজমুস সাকিব

    ইউনিভার্সিটি অব কেন্টাকির লুইস অনার্স কলেজের প্রভাষক এবং বেঙ্গল কাউন্সিলের সদস্য ড. নাজমুস সাকিব অ্যাডাম বেনসাইদের সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী কীভাবে শরণার্থীদের ‘অপর’ করে দেখে এবং শরণার্থীর আগমন কীভাবে জনতুষ্টিবাদী বক্তব্যকে উসকে দেয়। কথা হয়েছে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, রোহিঙ্গাদের জন্য কমে আসা সহায়তা এবং বাংলাদেশের এখন কী করা উচিত, তা নিয়েও।

    অধ্যায়

    • 0:00 ট্রেলার
    • 0:50 পরিচিতি
    • 2:07 শরণার্থী কেন তাঁর গবেষণার বিষয়
    • 4:30 রোহিঙ্গাদের নিয়ে কর্মকর্তারা যেভাবে কথা বলেন
    • 7:07 আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী শরণার্থীদের কীভাবে দেখে
    • 14:26 জরিপে যা উঠে এসেছে
    • 17:48 শরণার্থী ও জনতুষ্টিবাদী বক্তব্য
    • 24:33 ভারত, বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গ
    • 26:34 অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি
    • 31:59 বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতি
    • 37:40 রোহিঙ্গাদের জন্য কমে আসা সহায়তা
    • 43:31 বাংলাদেশের এখন কী করা উচিত
    • 49:17 বিশ্বের প্রতি বার্তা
  • ‘আওয়ামী লীগে একটা মমতাজ ছিল, এখন জামায়াতে…….

    ‘আওয়ামী লীগে একটা মমতাজ ছিল, এখন জামায়াতে…….

    মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। শুক্রবার (২ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান কার্যক্রম ও পশ্চিমের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্ট্যাটাসে মাদানী লিখেন, পার্থক্য—আওয়ামী লীগেরটা খোলামেলা, সে বাউল শিল্পী, তার কাজও সরাসরি, সে ওপেন ফাইট্টা যায় ছিঁইড়া যায় বলত! আর এটা হিজাব পরে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে সবকিছু ফাটাইলতাছে, ছিঁড়ালতাছে, ইসলামের ক্ষতি করতাছে!
    ঐ মমতাজও সংসদে সবজান্তা মাতব্বরের মতো সিয়াসিত্তার হাদিস কউত, এটাও সবজান্তা হাদিস বলে! ভাবসাবও সেইম!

    কেন জানি মনে হচ্ছে, জামায়াত পশ্চিমাদের থেকে ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এদেশের ইসলামপন্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসছে জানিয়ে ইসলামিক বক্তা বলেন, আমরা ইসলামের নামে যা তা করব, পারলে কী করবা কর? এরা ভাবতেছে, আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ, বিএনপি এখন পাওয়ারে আছে, আর বাঙালি টানা ২ টার্মে কাউকে ভোট দিয়ে পাশ করাবে না। অতএব, আগামী টার্মে আমরা কনফার্ম—সমস্যা ভোটের মাঠে নাই! সমস্যা পশ্চিম। তারা যদি মনে করে আমরা ইসলামপন্থী, তাহলে আমাদের আসতে দিবে না।

    যেটা উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের কথায় বুঝা যায় এবারই হইছে উল্লেখ করে মাদানী লিখেন, অতএব, পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে—আওয়ামী লীগ-বিএনপির চেয়েও আমরা আল্ট্রা ফ্রো-মেক্স স্টাইলে আরও আপডেট পুরোপুরি সেকুলার আমরাও!
    পূর্বে যা কেউ করে নাই, সেগুলোও আমরা করব। এগুলো করে পশ্চিমকে বুঝাচ্ছে এই দেখুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা প্রথম হাফ প্যান্ট পরে বাস্কেটবল আয়োজন করছি মেয়েদের! সারাদেশে এত এত সমালোচনা, তারপরও আমরা আমাদের মহিলা এমপিকে দিয়ে খেলার পুরস্কার দিয়েছি। এটাই আমাদের কাছে ইসলাম!

    তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরকে বলি, ভাইরে—আমার কষ্টের জীবনে আপনারা সহযোগিতা করছেন, খোঁজখবর নিছেন। তাই আপনাদের প্রতি একটা ইমোশন-সিমপ্যাথি কাজ করে। আপনাদের দলীয় অবস্থান নিয়ে অন্যদের মতো আমি বিরোধিতা করি না, সমালোচনার জন্য সমালোচনাও করি না।কিন্তু আপনারা যদি এভাবে পশ্চিমাদের খুশি করার জন্য ওপেন আমাদের চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে শুধুমাত্র ইস্যুভিত্তিক বিরোধিতা করব না!

    সবশেষ পোস্টে মাদানী লিখেন, আমাকে মেরে ফেলা না হলে, আমি একা বিরোধিতায় লাগলে লোড নিতে পারবেন না, পাগল হয়ে যাবেন! প্লিজ, আল্লাহর ওয়াস্তে, আল্লামা সাঈদী রহ.-এর শাহাদাতে রঞ্জিত দলটাকে আর নিচে নামায়েন না! আপাতত এতটুকু চাওয়া।

    এদিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টে সাড়ে ১৩ হাজারের মত রিয়্যাকশন পড়েছে।

  • আপনারা আখতারুজ্জামানকে নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হাতকড়া পরিয়েছেন: মাসুদ

    আপনারা আখতারুজ্জামানকে নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হাতকড়া পরিয়েছেন: মাসুদ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে তার হাতে হাতকড়া পরানো হয়নি, বরং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেই হাতকড়া পরানো ও অপমানিত করা হয়েছে।

    শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তরগেটে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আপনারা আখতারুজ্জামানের হাতে হাতকড়া পরাননি, আপনারা হাতকড়া পরিয়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে। আপনারা বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরাননি, অপমান-লাঞ্ছনা করেননি; আপনারা আমাদের ইতিহাসের, একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে অপমান এবং লাঞ্ছিত করেছেন।’

    তিনি সরকারের সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি প্রস্তুতি গ্রহণ করেন, দেশবাসী আপনাদেরকে রিমান্ডের মুখোমুখি করবে। আপনারা একদিনের রিমান্ড দিয়েছেন মেজর আখতারুজ্জামানকে ফরমায়েশি আদালতে। আর জনগণ আপনাদের চাঁদাবাজি আর লুটপাটের কারণে দিনের পর দিন রাজপথে রিমান্ডের মুখোমুখি করবে।’

    মেজর আখতারুজ্জামানের সততা ও সাহসিকতার প্রশংসা করে ড. মাসুদ বলেন, একজন স্পষ্টভাষী, সৎ, নিষ্ঠাবান ও রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চরিত্রই প্রকাশ করেছে।

    তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের ট্রলি ও লাগেজ না পাওয়া এবং জমজমের পবিত্র পানি নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করার কারণেই আখতারুজ্জামানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আসল অপরাধীদের আড়াল করতে এবং মানুষের ন্যায্য দাবিকে ধামাচাপা দিতেই একজন মুক্তিযোদ্ধার ওপর এমন অবিচার চালানো হয়েছে। অবিলম্বে এসব অন্যায় আচরণ বন্ধ না করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

  • জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    শিক্ষ ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি জানান তিনি।

    পোস্টে সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস ধারণ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না।

    তিনি লেখেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সুমাইয়া লেখেন, “আমার এই পদত্যাগকে কোনোভাবেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে আমার সরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি, আদর্শ থেকে নয়। ”

    তিনি জানান, এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে তার সাময়িক বিরতি। ভবিষ্যতে সংগঠনটি শহীদ জিয়ার আদর্শ, শৃঙ্খলা, নীতি ও সাংগঠনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে মনে হলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন তিনি।

    পরে নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দেয়া এক রিপ্লেতেও পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সুমাইয়া। সেখানে তিনি লেখেন, প্রতিবাদ করলে বহিষ্কারই খেতে হয়। বহিষ্কার থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়াই ভালো না?

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।

    উল্লেখ্য, সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। র আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • বিমানবন্দরের ঘটনায় জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

    বিমানবন্দরের ঘটনায় জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

    এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৪-১০ অক্টোবর জামায়াতের জনসচেতনতা কর্মসূচি

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৪-১০ অক্টোবর জামায়াতের জনসচেতনতা কর্মসূচি

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত জনসচেতনতা কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামী। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনগণকে এগিয়ে আসার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানিয়ে বলেন, সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতায় কেবল জীবনবিনাশী মশাবাহিত রোগটি থেকে সর্বস্তরের মানুষকে রক্ষা সম্ভব হবে। এজন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসী, সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জনগণের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নেতাকর্মীদের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা এ কর্মসূচি সফল করে ডেঙ্গুর ভয়াবহ গ্রাস থেকে নাগরিকদের নিরাপদ করতে পারবো। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি সফল করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, কোনো নাগরিক কিংবা যে কোনো বয়সী শিশুর মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অবহেলা নয়, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ডেঙ্গু মশার লার্ভা সৃষ্টি কিংবা লার্ভার উৎসসমূহ ধ্বংসে নাগরিকদের সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করতে উদ্যোগী হওয়া সময়ের দাবি। এজন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করা, বাসা বাড়িতে বিদ্যমান ফুলের টব ও টবের নিচে জমে থাকা পানি অপসারণ করা, পুরনো টায়ার, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত বালতিসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে তা পরিষ্কার ও অপসারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, চলতি বছর দেশে ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গেল সেপ্টেম্বরে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের। কিন্তু বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরিবর্তে শুধু বাগাড়ম্বর করায় নাগরিকদের প্রাণহানি বেড়েছে। আমরা সরকারকে বড় বড় কথা বলার পরিবর্তে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন করে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।

    তিনি আরো বলেন, জনগণের সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ ও সমাজ নিশ্চিত করতে পারে। এজন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সাথে নিয়ে এ কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশবাসীর পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।

  • রমজানের আগে দুই হাজার ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির

    রমজানের আগে দুই হাজার ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির

    আগামী বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

    জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের নির্বাচন শুরু হলে, সেক্ষেত্রে রমজান মাসের আগে তিনটি স্লটে দুই হাজার ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

    বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যদি প্রথম স্লটের নির্বাচন হয়, তাহলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

    তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে যেহেতু পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীরা যেনো নির্বিঘ্নে, সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য আগামী বছরের শুরু থেকে, অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে।

    তবে, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কোনো ব্যাপারে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছুই হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ইউপি নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি আছে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। আরো যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন সেটা করব।

    তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি একটা চলমান প্রক্রিয়া।

    আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রমজানের আগে একাধিক স্লটে ইউপি নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে। রমজানের পরে আবার শুরু করে জুন মাসের মধ্যে সকল ইউপি নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রমজানের পরে আবার কখন থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রমজানের পরেই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। কাজেই তখনকার অবস্থা বিবেচনা করে ঠিক করা হবে।

    সেক্ষেত্রে ইউপি নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ বলেন, নির্বাচনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। যদি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের নির্বাচন হয়, তাহলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

    স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই আমাদের পৌরসভা নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারলে তারপর পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সবারই সহযোগিতা লাগবে। স্কুল, কলেজের শিক্ষকসহ সকলের সহযোগিতা লাগবে। কাজেই সরকারের সাথে সমন্বয় করেই ভালো নির্বাচন করার জন্য আমরা চেষ্টা করব।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে ইসি মাছউদ জানান, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভায় আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

    ইসি মাছউদ বলেন, আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক ধরেই আমরা কাজ শুরু করব এবং সেনাবাহিনীকে আমরা প্রথম ডাকবো না। তবে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন করে যদি মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা আরো শক্ত হওয়া দরকার। সেক্ষেত্রে আমরা বিবেচনা করব। অন্যথায় স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ডাকার প্রয়োজন এই মুহূর্তে অনুভব করছি না।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ইউপি নির্বাচনও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার শতভাগ প্রচেষ্টা থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা দেশব্যাপী একদিন একটা বড় নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি, সেক্ষেত্রে ইউপি নির্বাচন এলাকাভিত্তিক বা সংখ্যাভিত্তিক এবং বিভিন্ন স্লটে হবে। আমরা চেষ্টা করব যতদূর সম্ভব গন্ডগোল বা মারামারি বা হানাহানি বা যে সকল অনিয়ম সেটা যতদূর সম্ভব যেন কম হয়।

    এদিকে দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসির সভা শেষে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ৬ জুনের আগেই স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়।

    অপরদিকে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, আগামী জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে আগামী ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন শেষ করা বিষয়ে একটা টাইমলাইন ধরে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। এর মধ্যে যদি সব মামলা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়ে যায় তখন ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা আরো বাড়বে। প্রায় ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে করতে গেলেও এক একটা ধাপে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, আমরা আশা রাখি, পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারির থেকে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে পারবো।

    এদিকে সম্প্রতি ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা’, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। ইসির সংশোধিত বিধিমালায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা ও সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ লাখ ও সদস্য প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে কমিশন।

    এছাড়া নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গকে হুমকি, ভীতি-প্রদর্শন ও বাধা প্রদানের শাস্তি অনধিক ২ বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে।

    অন্যদিকে কোনো প্রার্থী নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ অপেক্ষা কম পেলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে। একইসাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা সমান হলে কমিশন সর্বোচ্চ সমভোটপ্রাপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও মধ্যে পুনঃভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করবে।

  • আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ সেইফ এক্সিটের প্রচেষ্টা: সাদিক কায়েম

    আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ সেইফ এক্সিটের প্রচেষ্টা: সাদিক কায়েম

    রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়াকে সেইফ এক্সিটের প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতীতে বারবার বিএনপির তথাকথিত বহিষ্কার নাটক দেখেছে জনগণ। কোনো গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দিতে এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল আর মেনে নেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সরকারকে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় পুরো ঘটনাটিকে কেবল জনরোষের মুখে রাজনৈতিক স্যাক্রিফাইস ও পিআর স্টান্ট হিসেবেই বিবেচনা করবে জনগণ।

    সাদিক কায়েম অভিযোগ করে বলেন, হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা নানা ধরনের অসংলগ্ন ও স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা ক্লিনিকটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু করার দাবি জানান তিনি। সারা দেশে সরকারি দলের নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দখলদারি এবং চাঁদাবাজির রাজনীতির লাগাম অবিলম্বে টেনে ধরারও আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি।

  • জানুয়ারি-জুনে ইউপি ভোট, বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

    জানুয়ারি-জুনে ইউপি ভোট, বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

    আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউএনডিপির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

    আখতার আহমেদ বলেন, ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষা, পবিত্র রমজান, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় দিবসসহ স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক বাস্তবতাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। সব দিক পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

    তিনি বলেন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘ব্যালট’ প্রকল্পের অধীনে ইসি সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের একটি প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়; বরং ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উদ্যোগ। প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী আলোচনায় প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

    ইসি সচিব জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নির্বাচনের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।

    তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশার একটি উচ্চ মানদণ্ড তৈরি করেছে। সেই মান বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা আরো উন্নত করার লক্ষ্যেই কমিশন কাজ করছে।

    আখতার আহমেদ আরো বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম প্রস্তুতের পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতি ও পরিবেশও মূল্যায়ন করা হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যাতে শহরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবরবাজার সড়কের পাশে মুহুরী নদীর তীরে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা নয়, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতে কলকারখানা বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করবে। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং নদী-খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার উপকৃত হবে। একইভাবে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না।

    ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় এ এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এমনকি সেতুর ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচনের আগে বিএনপি নদী-খাল খননের কথা বলেছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক।

    প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে পরশুরামে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেও নির্ধারিত প্যান্ডেলের বাইরে মুহুরী নদীর তীর, মডেল স্কুল-সংলগ্ন এলাকা এবং ওমরী ব্রিজের ওপর মানুষের উপস্থিতি ছিল।

    পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলগাজীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তাঁর পরবর্তী কর্মসূচিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতাধীন কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসংক্রান্ত কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার বিষয়েও কর্মসূচি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    পরশুরামের পর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • যোগ্য শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার হরণ করে দলীয়করণের পথে হাঁটছে সরকার: শিবির

    যোগ্য শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার হরণ করে দলীয়করণের পথে হাঁটছে সরকার: শিবির

    কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তাদের চাকরির অধিকার হরণ এবং প্রশাসনকে নির্লজ্জ দলীয়করণের দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি বৈধ নাগরিকের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান প্রশাসন কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দিয়েছে।

    এমনকি মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া প্রার্থীদেরও গেজেট থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, জামায়াত, এনসিপি সঙ্গে পারিবারিক বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পাশাপাশি কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা যোগ্য প্রার্থীদেরও গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত। ’

    নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ করা কিংবা পছন্দের রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করা একজন নাগরিকের অধিকার।

    এসব কারণে কোনো নাগরিককে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা মূলত ফ্যাসিবাদী শাসনের পথকেই উন্মুক্ত করে। জুলাই গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের কোনো দোসর ব্যতিত সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা জুলাইয়ের পক্ষের ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ’

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘ছাত্রজনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যের অবসান ও মেধার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেই রক্তের দাগ শুকানোর আগেই বিএনপি সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করে আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে।

    ভাইভায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর বৃদ্ধির সুপারিশ, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির অনুকূলে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ’

    নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একদিকে শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার কেড়ে নেওয়া, অন্যদিকে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারকে দলীয়করণের অবাধ সুযোগ তৈরি করে রাখা দেশের মেধাবী তরুণদের স্বপ্ন নিয়ে খেলতামাশার শামিল। ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ রাখা এবং মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠন করতে হবে। ’

  • পদত্যাগ করলেন এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি

    পদত্যাগ করলেন এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি

    রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

    স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেবো।’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেরদৌসীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

    গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।

    ওই দিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

    এছাড়া মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে।

    রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আলোচনায় আসা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর কার্যক্রমেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন যুক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে ।

    ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী মিষ্টি।

  • সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত‍্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লিখিতভাবে তাকে এই নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

    পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন।

    বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    এ ঘটনার মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু, কোনো কলঙ্ক ঘাড়ে নেবে না সরকার’

    ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু, কোনো কলঙ্ক ঘাড়ে নেবে না সরকার’

    রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দিতে চায়। নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক বর্তমান সরকার ঘাড়ে নেবে না।

    রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবহেলিত রংপুরের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

    রংপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের সভা থেকে আমরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাব। আগামী মাসের সভায় যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সারাদেশে সুষম উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে সুষম উন্নয়নের ধারায় রংপুরেও উন্নয়ন করা হবে। ইতোমধ্যে রংপুর জেলার ছয়টি আসনে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব একনেকে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রংপুরের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

    তিস্তা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, তিস্তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দিতে চায়। নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক বর্তমান সরকার ঘাড়ে নেবে না।

    সভায় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী বৈঠক

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী বৈঠক

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক হয়।

    এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউয়িন, কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, এটাচে মিস লিয়াং শুয়িং এবং পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যাটাচে ওয়াং ডাউয়েই উপস্থিত ছিলেন।

    জামায়াতের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে দলের আমির ও নেতারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরিতে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, পারস্পরিক সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করা হয়।

    বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

  • ‘মানুষ লাথি মেরে যাদের বের করে দেয়, তাদের ফেরার চান্স খুব কম’

    ‘মানুষ লাথি মেরে যাদের বের করে দেয়, তাদের ফেরার চান্স খুব কম’

    জনগণের তোপের মুখে বিতাড়িত কোনো স্বৈরশাসকের দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া শেখ হাসিনার দেশের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বহু ভালো উদ্যোগ আটকে রাখা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইপিজেডের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু বিএনপির আমলে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেই হাসিনা তা এগিয়ে নেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন হীন মানসিকতার কাউকে দেশের মানুষ কীভাবে আবার রাজনীতিতে দেখতে চাইবে?

    তিনি আরো বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনগণের ওপর চরম অত্যাচার ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এর ফলে জনগণ শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে স্বৈরাচারী শাসককে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।

    ভারতে বসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের এসব বক্তব্য একেবারেই মূল্যহীন ও অর্থহীন। বাস্তবে তাদের রাজনীতি শেষ। পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মানুষ লাথি মেরে যাদের একবার বের করে দেয়, তাদের ফিরে আসার চান্স খুব কম—বলতে গেলে একেবারেই নেই’।

    পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, যেসব অপরাধী পালিয়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে আইন অনুযায়ী অবহিত করা হবে। বর্তমানে দেশপ্রেমিকদের দ্বারা দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে এবং সরকার জনস্বার্থেই কাজ করে যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

  • জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন দায়িত্বে

    জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন দায়িত্বে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী দুই বছরের জন্য জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

    কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আহসান লাবিব ও রাফিয়া রেহনুমা হৃদিকে।

    সহসভাপতি পদে রয়েছেন লিমন মাহমুদ হাসান, নিরব হাসান সুজন, এস এম আমিনুল ইসলাম, জাহেদ হাসান ফরহাদ, আহনাফ জামান, সাব্বির আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, ফারহান হাসান বর্ন, আল শাহরিয়ার মেহেরাজ মিথুন, মঞ্জুরুল ইসলাম পাভেল, তানভীর আহমদ চৌধুরী, রাইয়ান রহমান ইরাত ও মো. সামির সাদিক।

    এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খান তালাত মাহমুদ রাফি ও মো. সাইফুল্লাহ।

    নতুন কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আরও বেশ কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়েছে।

  • দখল-চাঁদাবাজিতে ভীত মানুষ, উদ্বিগ্ন জামায়াত

    দখল-চাঁদাবাজিতে ভীত মানুষ, উদ্বিগ্ন জামায়াত

    রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অভিযোগ করেছে, প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা, দখলবাজি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

    সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে জামায়াত জানায়, মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে হামলা চালিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া ও মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। একইভাবে ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জমি দখলের মহড়া, রাজশাহীতে ব্যবসায়ীকে হত্যা, নয়াপল্টনের একটি হাসপাতালে মধ্যরাতে হামলা এবং কুষ্টিয়ায় ২১টি বাড়িতে ধারাবাহিক লুটপাটের মতো একের পর এক সহিংসতায় সারা দেশের মানুষ এখন গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

    দলটির পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে হাটবাজার, চাঁদাবাজি, সারের ডিলারশিপ কিংবা বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ভূমিকা না রেখে অনেক ক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে সব ধরনের দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সব হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

  • সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের দীঘি বাজারে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি শৌচাগার ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাজারে আগত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীঘি বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এলজিএসপি প্রকল্পের আনুমানিক ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেটি ভেঙে দুটি কক্ষ তৈরি করে নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবি সংবলিত বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। বর্তমানে ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    এ ঘটনার জন্য স্থানীয়রা ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. কামাল ও বিএনপি নেতা মো. রাজিবকে অভিযুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শৌচাগারটি কামাল ভেঙেছে, পরে আমি সেখানে ঘর তৈরি করি। তবে সাইনবোর্ড কে টাঙিয়েছে তা আমার জানা নেই এবং সেখানে এখনো দলীয় কোনো কার্যক্রম চালানো হয়নি।”

    সরকারি খাস জায়গা ও জনগণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় বানানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীরা। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিষয়টিকে দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

  • ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী অপকর্ম পরিত্যাগ করুন।

    ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী অপকর্ম পরিত্যাগ করুন।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার বিকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেসবুকে পোস্টে তিনি লিখেছেন-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ভুল রাজনীতির খেলা থেকে সরে আসুন। মেধাকে সম্মান দিন।

    সরকারি চাকরিতে প্রবেশ রাজনৈতিক আনুগত্যের বিষয় নয়। একজন নাগরিক হিসেবে চাকরিপ্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।

    তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী আমলের এই অপকর্ম পরিত্যাগ করুন। ফ্যাসিবাদ আমলের অনুরূপ যেকোনো কুটতৎপরতা জনগণ সহ্য করবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, মেধাবী যুবসমাজসহ তরুণদের নিজেদের অধিকার আদায়ে আবারও সোচ্চার হতে হবে। ছাড় দিলে বাংলাদেশ মেধাহীন ফ্যাসিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার বিকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেসবুকে পোস্টে তিনি লিখেছেন-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ভুল রাজনীতির খেলা থেকে সরে আসুন। মেধাকে সম্মান দিন।

    সরকারি চাকরিতে প্রবেশ রাজনৈতিক আনুগত্যের বিষয় নয়। একজন নাগরিক হিসেবে চাকরিপ্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।

    তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী আমলের এই অপকর্ম পরিত্যাগ করুন। ফ্যাসিবাদ আমলের অনুরূপ যেকোনো কুটতৎপরতা জনগণ সহ্য করবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, মেধাবী যুবসমাজসহ তরুণদের নিজেদের অধিকার আদায়ে আবারও সোচ্চার হতে হবে। ছাড় দিলে বাংলাদেশ মেধাহীন ফ্যাসিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

  • জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

    জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

    রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে অবস্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের আটক করা হয়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাই যে, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে গোপন বৈঠক করছেন। সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এখান থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারেন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    অভিযান সম্পূর্ণ শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা -বৈষম্যের’ প্রতিবাদ জামায়াতের

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা -বৈষম্যের’ প্রতিবাদ জামায়াতের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের হঠাৎ করে কোন আইনে, কোন মানদণ্ডে এবং কার সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেওয়া হলো? অনেকের গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেশবাসী মনে করে, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।

    তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

    জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানান এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করুন।

    তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে অবিলম্বে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে তার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

  • এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর

    এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর

    রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট চালানোর পর সেটি গুঁড়িয়ে দেয়।

    এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর। রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে রহস্যজনক একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, কোথায় প্রশাসন, কোথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? এর পেছনে কারা রয়েছে, তা আর মোটেই অস্পষ্ট নয়। তাদের পেটের ক্ষুধা কোনোভাবেই নিবারণ হচ্ছে না। তারাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এই সুযোগটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।

    জামায়াত আমির বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। অন্যদিকে চলছে এই খেলা।আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে? দুষ্কৃতিকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে একসময় জনগণের হাতেই তাদের শাস্তি পেতে হবে।

  • নির্বাচনের পর: ধর্ম, বিরোধী দল ও জাতীয় ঐক্য | সাক্ষাৎকারে মইদুল ইসলাম

    নির্বাচনের পর: ধর্ম, বিরোধী দল ও জাতীয় ঐক্য | সাক্ষাৎকারে মইদুল ইসলাম

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মইদুল ইসলামের সঙ্গে আলাপ: ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জনজীবনে ধর্ম, সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিরোধ এবং জাতীয় ঐক্য।

    অতিথি: ড. মইদুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক, সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতা।

    অধ্যায়

    • 0:00 শুরু
    • 0:15 পরিচিতি
    • 1:57 বাংলার জনতুষ্টিবাদ নিয়ে তাঁর আসন্ন বই
    • 6:42 জামায়াত কীভাবে ৪% থেকে ৩১%-এ
    • 20:59 জনজীবনে ধর্ম ও বিশ্বাস
    • 25:26 জামায়াত কি বদলাচ্ছে?
    • 29:43 জবাবদিহি, বিচার ও পুনর্মিলন
    • 33:56 দলগুলোর যা এখনো শেখার আছে
    • 36:34 ভোটারদের কী চাওয়া উচিত
    • 40:42 সরকার, বিরোধী দল ও সংস্কার পরিষদ
    • 43:00 জাতীয় ঐক্য ও প্রবাসী
  • ইউপি নির্বাচন নিয়ে দোটানায় ইসি

    ইউপি নির্বাচন নিয়ে দোটানায় ইসি

    স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ভোট শুরুর চিন্তা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ৪০-৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। নভেম্বরে হতে পারে তফসিল। গতকাল নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশন-ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরীক্ষার ফাঁকে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপির ভোটের জন্য সম্ভাব্য সময় ছিল- প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে। কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সরকারের তরফে পরীক্ষার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না করার পরামর্শ আসে। এমন পরিস্থিতিতে ইসির নির্বাচনি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে।

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই দাবি করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বাস্তবতার নিরিখে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে ভোটের সম্ভাব্য সময় পেছাচ্ছে।

    তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা ও অন্যান্য বিষয়গুলো রয়েছে, এখানে আর ভোটের সুযোগ দেখছি না আমরা। সাধারণত বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর-ডিসেম্বরে হয়। আশা করি, পাবলিক পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারির দিকে ইনশা আল্লাহ ভোট করতে পারব। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর ৬ জুনের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করার বিষয়ে সবাই সম্মত হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারিতে ভোট শুরু করে সাড়ে চার হাজার ইউপির ভোট শেষ করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, রোজা, এসএসসি, পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা সব দিক বিবেচনা করে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য সময়ের কথা বলেছি, কোনো কিছু চূড়ান্ত নয়। এটা একটা টাইমলাইন, আমরা চিন্তা ভাবনা করেছি; স্পেসিফিক ডেট হবে তফসিল ঘোষণার পর।’ সরকারের চাপে ইউপি ভোট নিয়ে ইসি পরিকল্পনা থেকে পিছিয়েছে কি না জানতে চাইলে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, অনেকে অনেক কথা বলবে। মোটেই না। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া যাতে বিঘ্ন না হয় সেটা বিবেচনা করে আমাদের পরিকল্পনা একটু পরিবর্তন হয়েছে। তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত থাকেন, তাই এই সময়টাতে নির্বাচন করা কঠিন। বাস্তবতার নিরিখে ইসির ঘোষিত সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে।

  • ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি: গোলাম পরওয়ার

    ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি: গোলাম পরওয়ার

    দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ গত জাতীয় নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনের ফল ম্যানিপুলেট করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে খুলনা বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করে তারা গত জাতীয় নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্য থেকে তারা জানতে পেরেছেন, নির্বাচনের ফল ম্যানিপুলেট করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ থেকে সরে গেছে। জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সহযোগিতা করে এলেও তাদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও আচরণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু সরকার এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিচ্ছে।’

    অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার জামায়াতের সংসদ সদস্যসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরোধী দল ৫ আগস্টের বিজয়কে কলঙ্কিত করছে: রিজভী

    বিরোধী দল ৫ আগস্টের বিজয়কে কলঙ্কিত করছে: রিজভী

    বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আজকে আপনারা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, আপনাদের পেটুয়া বাহিনী দিয়ে, গুপ্ত-সুপ্ত দিয়ে যে ধরনের কথা বলছেন, সেই কথার মধ্যে দিয়ে আজকে পরাজিত শক্তি সাহস পাচ্ছে, তারা উৎসাহিত হচ্ছে। কোন সাহসের উপর ছাত্রদলের ছেলেদেরকে বলছে, কুকুরের মত তাদেরকে আপনারা মারবেন? ৫ আগস্টের বিজয়, আপনারা সেই বিজয়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।’

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ‘সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে’র বিরুদ্ধে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে গণতন্ত্রের পরিবেশ তৈরি করছে, এইখানে আপনারা লং মার্চ করছেন, আপনারা বিক্ষোভ সভা করছেন, আপনারা মঞ্চে উঠে হুংকার দিচ্ছেন—কাউকে কুকুরের মত মারবেন বলছেন, কাউকে আপনারা ধাওয়া করছেন এবং সরকারি সম্পত্তি আপনারা ধ্বংস করছেন। যেমন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ধ্বংস করেছে এই গুপ্ত এবং সুপ্তের লোকজনরা।’

    বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের যে ঘটনা ঘটছে, মিছিল করছে পরাজিত ফ্যাসিস্টরা। এইটার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বিএনপি বলে আপনারা প্রচার করছেন, আরে ভাই তাহলে আপনারা কোন সুযোগে রেলওয়ে স্টেশন ভাঙছেন? আপনারা কোন সাহসের উপর ছাত্রদলের ছেলেদেরকে বলছে কুকুরের মত তাদেরকে আপনারা মারবেন? এটা কোন সুযোগের উপরে বলছে? আপনারা কাদের কথা বলছেন? আজকে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশে গাড়িতে আগুন লাগাচ্ছে কে? সিএনজিতে আগুন লাগাচ্ছে কে? ট্রেনে আগুন লাগাচ্ছে কে? আজকে আপনারাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। আজকে আপনারা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, আপনাদের পেটুয়া বাহিনী দিয়ে, গুপ্ত-সুপ্ত দিয়ে যে ধরনের কথা বলছেন, সেই কথার মধ্যে দিয়ে আজকে পরাজিত শক্তি সাহস পাচ্ছে, তারা উৎসাহিত হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতির জন্য ৫ আগস্ট এবং এই পরিস্থিতির জন্য ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, আহনাফ, ফাইয়াজ, মুগ্ধ—অসংখ্য তরুণ যারা নিজের জীবন দিয়েছে, যারা গুলি খেয়ে তার বন্ধুকে পানি আগিয়ে দিয়েছে, এই যে এক মহান আত্মদানের দৃষ্টান্ত, জুলাই বিপ্লব যে মহান আত্মদানের দৃষ্টান্ত, ৫ই আগস্টের বিজয়—আপনারা সেই বিজয়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন। গণতন্ত্রকে পদদলিত করে।’

  • আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে: মারদিয়া মমতাজ

    আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে: মারদিয়া মমতাজ

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও নারী অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।

    মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘গত নির্বাচনেও আমাদের দলের নারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা সরাসরি নির্বাচন করতে চান কি না। ৭০ শতাংশ নারী না উত্তর দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, আমি যে নির্বাচন করব, আমি আমার নিরাপত্তা পাব কি না।’

    তিনি বলেন, ‘নারীদের আজ রাস্তায় নামার অবস্থা নেই। আমি দলের বিরুদ্ধে বললে পদ পাব না, বরাদ্দ পাব না।’

    ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘আমি যখন ঢাকা-৮ আসনে দাঁড়াব, তখন আমার অবস্থা ওসমান হাদীর মতো হবে? তখন মনে হয় দাঁড়াব না।’

  • নাশকতার নির্দেশনা ভারতীয় নম্বর থেকে, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিডিও পাঠালে ১০ হাজার

    নাশকতার নির্দেশনা ভারতীয় নম্বর থেকে, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিডিও পাঠালে ১০ হাজার

    রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিটি মলোটভ ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিডিও পাঠালে চক্রের সদস্যদের দেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। এসব অপকর্মের নির্দেশনা আসছে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সম্প্রতি গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এই নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন। মাঠপর্যায়ে ককটেল নিক্ষেপের জন্য মাদকাসক্ত ও ভাসমান মানুষদের যেমন ব্যবহার করা হচ্ছে, তেমনি দলীয় পদ-পদবির লোভেও তরুণদের এই অপরাধে যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে ডিবি একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল হামলার ঘটনায় জড়িত বংশাল থানা ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক রায়হান উদ্দিনসহ ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দুনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে মোটরসাইকেল ও ককটেলসহ গ্রেফতার করা হয়।

    ডিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার রায়হান জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশে তারা যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা পরিচিত দোকানদারের মোটরসাইকেল চেয়ে নিয়ে তা ব্যবহার করেছিলেন। বিস্ফোরণের পর ভিডিও করে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালেই মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যেত।Advertisement

    ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন এবং ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধীরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির সতর্ক করে বলেছেন, কেবল ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ হলেই ব্যবহারকারী ভারতে অবস্থান করছেন এমনটি নিশ্চিত বলা যায় না; রোমিং সুবিধা বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকেই এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব।

    এদিকে, নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত সোমবার রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। তার পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে তথ্যের গরমিল থাকায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে বাস পোড়ানো ও বোমাবাজির সমন্বয়ক ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেফতার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকার কারণেই অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে। নাশকতার মূল নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে: ইসি আনোয়ারুল

    জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে: ইসি আনোয়ারুল

    আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচনসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তীতে সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে কমিশন চিন্তা করছে। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিলাম। পরে দেখলাম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু। আবার বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ পিছিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও রয়েছে। কাজেই রমজান, ঈদ, পূজা, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব দিক বিবেচনা করে নির্বাচন আয়োজনের কথা চিন্তা করছে ইসি।’

    আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের কোনো চাপে নির্বাচন কমিশন তারিখ পেছায়নি, বরং বাস্তবতা, আইন ও সংবিধান সবকিছু বিবেচনা করেই কমিশন তারিখ ঘোষণা করে।’

  • তারেক-এরদোগান বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

    তারেক-এরদোগান বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

    বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

    এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন তিনি।

    এরই অংশ হিসেবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

    এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের বৈঠকেও বাংলাদেশ ও হাইতির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

  • জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবি শিবিরের

    জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবি শিবিরের

    জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাসে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা এবং জুনে পেট্রোল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়।

    সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

    শিবির নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয় আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়বে।

    বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কথা বলে বারবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।

    আরও পড়ুন: হারানো অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

    শিবির নেতারা বলেন, নিজেদের নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তারা অবিলম্বে বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, সরকার দ্রুত বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার না করলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

  • লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী

    লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চ করতে গিয়ে বিরোধী দলের কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব তুলে না ধরে তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে।

    তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন করবে, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ কারণে তাদের কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি সরকার। অথচ বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব তুলে না ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বিরোধী দল।

    রাজশাহী রেলস্টেশনে হামলার বিষয়ে রিজভী বলেন, গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করায় জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে গ্রহণ করেনি। এখনও তারা প্রতিনিয়ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রিজার্ভ বেড়েছে। ফলে সংকট কিছুটা হলেও মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে। বৈশ্বিক সংকট কাটলে জনভোগান্তিও কমে আসবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে জনগণের ওপর বোঝা চাপানো হয়েছে: এবি পার্টি

    জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে জনগণের ওপর বোঝা চাপানো হয়েছে: এবি পার্টি

    ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটি অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জ্বালানি খাতে টেকসই ও জনবান্ধব নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এর ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ এর আগে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। গত মার্চেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছিলেন।

    এবি পার্টির দুই নেতা বলেন, জনগণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপবে। শেষ পর্যন্ত এই বোঝা জনগণকেই বহন করতে হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।

    তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারের উচিত ছিল এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অভিঘাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পুরো দায় জনগণের ওপর না চাপিয়ে জ্বালানি খাতে অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত কমাতে সরকারকে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    তারা বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জনগণের ওপর একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে কোনো টেকসই অর্থনৈতিক সমাধান তৈরি করা সম্ভব নয়।

  • এক দফার হুঁশিয়ারিতে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না

    এক দফার হুঁশিয়ারিতে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে। এক দফা কর্মসূচি দিলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগের মতো করে প্রতিহত করবে না বিএনপি। গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সন্ত্রাস প্রতিহত করা কঠিন কিছু নয়।

    সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশবাসী ও বিএনপির সমর্থকেরা ওয়াকিবহাল। সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প প্রস্তাব না দিয়ে লংমার্চ করছে বিরোধী দল। যে ভাষায় তারা কথা বলছে, তা সমীচীন নয়। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সরকার জোর চেষ্টা করছে। বিরোধীরা জনগণের কান ভারী করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে জ্বালানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছে। জনগণের স্বার্থে নেওয়া উদ্যোগকে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

  • জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

    জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

    জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আহবান জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করবে এবং তাদের দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। এর ধারাবাহিকতায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।”

    জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।

    তিনি আরো বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা, ব্যয় সংকোচন, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থার আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকারকে জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। হঠাৎ করে কোন ঘোষণা ছাড়াই সরকার কর্তৃক জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।

    সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। এছাড়া বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয়-মহানগরী নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে গণবিরোধী কাজ করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে গণবিরোধী কাজ করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে। এজন্য সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

    জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্বক বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসের মধ্যে ৩ বার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হয়ে জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু সাহেবের ব্যর্থতায় সরকার বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখনও আবার সেই টুকু সাহেবকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে; জনগণ বলে টুকু যায় আর আসে। এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুবা জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরবর্তীতে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন কিন্তু গতি রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকার রাতের অন্ধকারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে। ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি চলছে। পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ উদ্বিগ্ন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা সংসদের টু-থার্ড আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রতি সেক্টর জড়িত হওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধি হলে এর প্রভাব সব সেক্টরে পড়ে থাকে। কিন্তু সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে দুর্নীতিবাজদের স্বার্থে দফায় দফায় তেলের দাম বৃদ্ধি করছে।

    ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ করে; রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না। ক্ষমতা হতে হবে জনতার জন্য। নতুবা জনতা যথাসময়ে যথাযথ জবাব দেবে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানে জনগণের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ভোগান্তি দলীয় প্রশাসক দিয়ে নিরসন সম্ভব নয়। এসব ভোগান্তি নিরসনের জন্য অবিলম্বে স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য আরও ঊর্ধ্বগতির দিকে যাবে। জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা। সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে।

    পে-স্কেলে ২৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে সামান্য সুবিধা দেওয়ার নামে সরকার ১৮ কোটি জনগণের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলসহ সর্বক্ষেত্রে লুটপাট চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি নয়, বরং এই সিদ্ধান্ত সরকারকেও বিপাকে ফেলবে। গণবিরোধী এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের একটি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

    তবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, এই সভার আয়োজন করেছিল মসজিদ ও মাদ্রাসা কতৃপক্ষ।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    মসজিদে কর্মসূচি পালন বিষয়ে কথা বলতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, ভিপি আয়নুল হক এমপির নিজ ইউনিয়ন চান্দাইকোনার কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কতৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিপুল অর্থ বকেয়া রয়েছে। এটি পরিশোধ করতে এমপি সাহেবের সহযোগিতা নিতে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে তাকেসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানায়। আমরা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখতে পাই তারা মাদ্রাসা মসজিদের অভ্যন্তরে সোফা, চেয়ার সেট করে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ফলে আমরা আপত্তি না করে তাদের ব্যবস্থাপনায় মসজিদে মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। এখানে মূলত মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় আলোচনা হয়েছে।

    জানা যায়, ভিপি আয়নুল হক বর্তমানে জেলা বিএনপি, সিরাজগঞ্জের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, রায়গঞ্জ এবং রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ থেকে তিনি তিনবার ভিপি নির্বাচিত হন।

  • জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে,  নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে, নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণ যেমন আন্দোলন করে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনই আবার টেনেহিঁচড়ে নামাতেও পারে। প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। মনে রাখবেন, এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে (কুমিল্লায় নিহত) অপ্রতিমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আহাজারি করছেন। তারা জানেন না এই সন্তানকে ছাড়া কীভাবে বেঁচে থাকবেন! দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। আমরা প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করা সত্ত্বেও কেন সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে?

    তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে ঘুরতে এসেছি। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। আবার সরকারের সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু প্রতিদিন নিখোঁজ হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছেন না, সংবিধানের সংস্কার করছেন না, জনগণের যুক্তিসঙ্গত দাবি মানছেন না, এমনকি গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তনগুলো আনছেন না। কেন মানছেন না—তার কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না। কেবল মুখে বলছেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, আর কালক্ষেপণ করে সব দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এসব বোঝে না—তা মনে করার কোনো কারণ নেই। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ পিতা-মাতা ও এই সমাজ তোমার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠন ও মেধার বিকাশ ঘটাতে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ বা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের চবি ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা। এতে মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • আগামী জানুয়ারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি মাছউদ

    আগামী জানুয়ারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি মাছউদ

    আগামী বছর জানুয়ারিতে হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

    রোববার নির্বাচন কমিশনের নিজ ভবনে তিনি এসব কথা জানান।

    তিনি বলেন, নভেম্বরের ১২ তারিখে প্রাথমিক নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে, সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে ভোট করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, তফসিল ঘোষণা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসি। এছাড়া, ২৩, ২৪, ২৫ সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দল সহ স্টেকহোল্ডারদের যে সংলাপ হওয়ার কথা ছিলো সেটিও বাতিল করেছে ইসি।

  • বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্মদিন আজ

    বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্মদিন আজ

    বাংলার ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যেগুলো সময় পেরিয়ে গেলেও মুছে যায় না। নবাব সিরাজউদ্দৌলা তেমনই এক নাম। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব হিসেবে পরিচিত এই শাসকের জীবন ছিল ক্ষমতা, ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ ও বিয়োগান্ত পরিণতির এক নাটকীয় অধ্যায়। ১৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৭ সালে সিরাজউদ্দৌলার জন্ম বলে উল্লেখ করা হয়।

    তিনি ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের নাতি। শৈশব থেকেই দাদার স্নেহে বেড়ে ওঠেন এবং অল্প বয়সেই রাজদরবার ও শাসনব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হন। ১৭৫৬ সালে আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাংলার মসনদে বসেন সিরাজউদ্দৌলা। তখন বাংলা ছিল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল।

    ইউরোপীয় বণিকদের পাশাপাশি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও বাংলায় তাদের বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াচ্ছিল। নবাব হিসেবে সিরাজ কোম্পানির বাড়তে থাকা সামরিক শক্তি ও দুর্গ নির্মাণের বিরোধিতা করেন। এতে নবাবের সঙ্গে ইংরেজদের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

    ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করেন।

    পরে ইংরেজরা রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে পাল্টা অভিযান চালিয়ে কলকাতা পুনর্দখল করে। এরপর পরিস্থিতি ক্রমেই বড় সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ। নবাবের বাহিনী সংখ্যায় বড় হলেও সেনাপতি মীর জাফরসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন সিরাজউদ্দৌলা।

    পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধরা পড়ার পর ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়। মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় নবাবের দায়িত্বে থাকা সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি ছিল অত্যন্ত করুণ। পলাশীর যুদ্ধ শুধু একজন নবাবের পতন নয়; এর মধ্য দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে যায় এবং বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

    ইতিহাসে সিরাজউদ্দৌলা তাই শুধু একজন পরাজিত শাসক নন তিনি বাংলার স্বাধীনতার অবসান ও ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনাপর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্র।

  • বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল পায়।

    নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি পরিবারকে যেমন এগিয়ে নেওয়া যায়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    তিনি বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

    আরও পড়ুন: এক গুদামে আগুন লেগে পুড়ল আরও ১২ গোডাউন

    শিক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে কোনো জাতিই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।

    রিজভী বলেন, একটা সময় শিক্ষার গুরুত্বকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুন: পাংশায় দেয়াল ধসে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

    এর প্রভাব পড়েছে পুরো জাতির ওপরও।

    রিজভী অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কোনো জাতি শিক্ষার যথাযথ সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য বিনিয়োগ ও প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

    অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চের যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে আয়োজিত পথসভায় আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    সরকারকে সতর্ক করে আমিরে মজলিস বলেন, জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ১১ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে এক দফার দিকে ধাবিত হবে। অতীতে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি; ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।

    তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কারচুপি গ্রহণযোগ্য নয়।ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক জারি হওয়া পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে দেখতে চায় না জনগণ।

  • ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। এই আন্দোলন দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। সরকার যদি আমাদের ঘোষিত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সরকার যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে এই ৮ দফার আন্দোলন অনতিবিলম্বে ১ দফার আন্দোলনে রূপ নেবে।

    শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে লংমার্চ উপলক্ষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন গাড়িতে করে আসছিলাম, তখন রাজপথে জনগণের মধ্যে বিপ্লবের গর্জন শুনতে পেয়েছি। সাধারণ মানুষ হাতের এক আঙুল তুলে ‘এক দফা এক দফা’ স্লোগান দিচ্ছে। আপনারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, ইনশাআল্লাহ্ আন্দোলন সফল করেই আমরা ঘরে ফিরব। আমরা এখন ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাচ্ছি; কিন্তু প্রয়োজনে আপনাদের সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় লংমার্চ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

    জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরো বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রমুখ।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্টে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত রয়েছে। তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে জবি শাখা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দারের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন-গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ মিথিল, কেমিস্ট্রি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাওন ও মনির। আহত তিনজনই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন বলেন, ‘তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল। একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ’

    এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতি হয়েছে। এটা আমরা মিটমাট করে ফেলেছি। ’

    তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রথম শুনলাম। বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেব। ’

  • ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে সীমান্তে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে সীমান্তে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. খালেক।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাকে মেহেরপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিকেল ৫টার দিকে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এম. এ. খালেক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। এ সময় তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মেহেরপুরে তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়।

    খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি নাশকতার মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে মেহেরপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এম. এ. খালেকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা ছাড়াও আরও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের নাশকতার মামলাটির মামলা নম্বর ১১ বলে জানা গেছে।

    পরে পুলিশ তাকে মেহেরপুরে নিয়ে যায়। বিকেলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • ‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজার মানুষ হত্যা করেছে আ.লীগ’

    ‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজার মানুষ হত্যা করেছে আ.লীগ’

    আওয়ামী লীগ সরকার ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত জন্মাষ্টমী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ৬০ লক্ষের বেশি বিএনপির নেতার নামে গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে ২০ দিনে ১৪শ’ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের কোন অনুতাপ নেই।

    এ সমায় মতাদর্শিক অবস্থান থেকে বিএনপি কোন ধরনের দল, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি বামের ডাইনে, ডাইনের বামে মধ্যম পন্থার রাজনৈতিক দল। জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি ধর্মহীনতা ও ধর্ম ব্যবসা দুটোর বিরুদ্ধেই কথা বলে। বিএনপি ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় না।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম আমার বিশ্বাসের জায়গা, ধর্ম আমার শ্রদ্ধার জায়গা, ধর্ম আমার ইহকাল-পরকালের জায়গা। কিন্তু সেই ধর্ম রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়ে এসে মানুষের রক্তপাত আমরা ঘটাতে চাই না।

    আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা (আইনজীবীরা) এখানে অনেক মুসলিম সমাজের আইনজীবী আছেন, হিন্দু সমাজের আইনজীবী আছেন, কেউ কেউ খ্রিস্টান সমাজের আইনজীবী আছেন। কিন্তু যখন আপনি আদালতের সামনে দাঁড়ান, তখন আপনার পরিচয় কিন্তু মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান কিংবা হিন্দু নয়। তখন আপনি কালো কোট পরা একজন আইনজীবী।

    ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

  • এই লংমার্চ সরকার পতনের আন্দোলন নয়, জনগণের সমস্যা সমাধানের আন্দোলন

    এই লংমার্চ সরকার পতনের আন্দোলন নয়, জনগণের সমস্যা সমাধানের আন্দোলন

    আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে হাতিরঝিল অঞ্চল কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ বাস্তবায়নে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, অংশগ্রহণ এবং কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “ডাক্তার শফিকুর রহমান ও ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে এই লংমার্চ রংপুর পর্যন্ত যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

    তিনি বলেন, “এই সরকার আজ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে গোটা দেশকে আবার বিগত দিনের সেই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে আমাদের এই আন্দোলন। আমাদের এই আন্দোলন সরকার পতনের কোনো আন্দোলন নয়। জনগণের সমস্যা সরকার যেন সমাধান করে, সেই জন্যই আমাদের এই লংমার্চ।”

    ড. রেজাউল করিম আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই সরকার জনগণের গণরায়কে শুধু প্রত্যাখ্যানই করছে না, বরং একের পর এক জনবিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করছে।”

    সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, সরকার যখন দ্রব্যমূল্যসহ নিত্যদিনের জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে না গিয়ে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “যারা বলেছিল মদিনা সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তারা ছয় মাসের মধ্যেই কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করে ফেলেছে।”

    আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. রেজাউল করিম বলেন, “আসুন, আগামী ১৯ তারিখ মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রংপুরের শান্তিপূর্ণ এই লংমার্চে সবাই অংশগ্রহণ করি। আমরা আশা করি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে।”

    প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিন, আতাউর রহমান সরকারসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সভায় নেতারা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চলছে: জামায়াত আমির

    প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চলছে: জামায়াত আমির

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় প্রধান ডা. শফিকুর রহমান। সরকার দেশবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে উল্টো পথে হাঁটছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাদের অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বন্ধ বা খর্ব করার কোনো উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা প্রবাসীদের প্রতি জুলুম হবে।

    তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে চতুর্থবারের মতো অচলাবস্থা তৈরি না হয়, সে জন্য শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। বিরোধী দল ক্ষমতার নয়, জনগণের বিজয় চায়। সংসদ ও সংসদের বাইরে অন্যায় ও জনস্বার্থবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলব আমরা।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মুখ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

  • ‘পুলিশ কিছু করতে পারবে না’ অডিও ভাইরাল, ওসি প্রত্যাহার

    ‘পুলিশ কিছু করতে পারবে না’ অডিও ভাইরাল, ওসি প্রত্যাহার

    শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না—এমন বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    পুলিশের একাধিক সূত্র অডিওর কণ্ঠটি তাঁর বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার জারি করা ডিএমপির আদেশে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

    ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা ওই আদেশে রাকিবুল হাসানকে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি আজ থেকেই কার্যকর হবে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

    গতকাল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে টাকা লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি।

    অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’

    অডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবা-দাবা, … নিয়ে থাকবা, আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’

    মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিও তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পেস্টিং পাইতেছে তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকাল বেলা পেস্টিং হইতেছে।’

    ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অডিওর বক্তা বলেন, তাঁর লজ্জা থাকা উচিত। তাঁর চাকরি ছিল না। এখন যে পদে আছেন, সেখানে এক বছর থাকতে পারলে ১০০ কোটি টাকা এমনিতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ওসি পদায়ন নিয়ে অডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কমিশনার যারা ছিল, তারা ওসি পেস্টিংয়ে টাকা নেয় নাই। যত ওসি বেনজীরের আমলে ছিল, টাকায় কোনো সময় বদলি হয় নাই।’ এখানে তিনি সাবেক আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। অডিওতে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ডিএমপি, ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী, ক্যাপিটাল সিটি। এখানকার ওসিরা টাকা দিতে যাবে কেন? এখানে ওসিরা এমনিই যাবে। তোমাদের কাজ করে নিয়ে তোমরা টাকা উঠিয়ে নিবা।’ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কীভাবে কাজ করে দিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতার বিষয়ে ওসি রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভাটারায় একটা কাজ করে দিছি এক স্যারকে। স্যার এক কোটি টাকা নিছে। আমি তো জানতাম না।… (অস্পষ্ট কথা) আমার সাথে শুধু সম্পর্কটা আছে। এই হলো অবস্থা! এইভাবে চাকরি করা যাবে নাকি? অযোগ্য লোকগুলোরে কোন জায়গা ঢুকায় (পদায়ন দেয়) আর যোগ্য লোকগুলোকে চিপা-চাপায় রাখছে।’

  • সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি ১১ দলের আহবান

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি ১১ দলের আহবান

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতারা বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই অতীতে অনেকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে সেই পথ থেকে ফিরে আসতে হবে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

    ১৯ সেপ্টেম্বর সাত দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি ছিল বৈঠকের প্রধান আলোচ্য। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে গণভোটের রায় বাতিলের ঘটনা নেই। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাখ্যান করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিস্যাৎ করেছে।

    তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোরআন-সুন্নাহর আইন পরিবর্তন করে হেবা আইনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ও পদদলিত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘদিনের আইন পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’

    তিনি জানান, বেলা ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। লংমার্চের প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত দফা দাবি সামনে রেখে আন্দোলন আরো গতিশীল করা এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে গণভোটকে উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের যে প্রক্রিয়া নিয়েছে, ১১ দলীয় ঐক্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ প্রক্রিয়ার বিশেষ কমিটির একতরফা কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগেরও বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    ১৯ সেপ্টেম্বর লংমার্চ

    গোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী জনসভা হবে। এরপর গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে প্রথম, টাঙ্গাইলের জালফৈ বাইপাস মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে।

    এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করা হবে। পরে বগুড়ার মাটিডালি ও সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সবশেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে। প্রকাশিত কর্মসূচির তথ্যেও গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশের কথা বলা হয়েছে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে যুক্ত হতে চাইলে গাড়িবহরের পেছনে নিজ নিজ জেলার গাড়িবহর যুক্ত হবে। সাংস্কৃতিক বিভাগের গাড়িসহ স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল, অ্যাম্বুলেন্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া বিভাগের ৮ থেকে ৯টি গাড়ি থাকবে। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের গাড়িতে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিতে বলা হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আশ্বাস

    লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন গোলাম পরওয়ার। কর্মসূচির কারণে কোনো সমস্যা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পথে থাকা প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেন।

    তিনি বলেন, ১১ দলের কর্মসূচি হবে সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ। কোনো অনিয়মতান্ত্রিক অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের চিন্তা তাদের নেই।

    তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে সেই চিন্তা থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না। তাহলে অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’

    প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

  • উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

    উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত ও অধিকতর প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সানাউল্লাহ।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এই কমিশনার। অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হয়েছেন যে, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। এবারের বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন কোনোভাবেই পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

    নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কমিশনার জানান, প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কমিশন এসব উদ্বেগকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে বিবেচনা করছে এবং তা যথাযথভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

    নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ জানান, কমিশন বাজেট পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আরও কিছু পার্শ্ববর্তী সমন্বয় বা সাইডলাইন ওয়ার্ক দ্রুত সম্পন্ন করবে। স্টাফ লেভেল এবং সাচিবিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করে কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।

    ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই ঘোষণা না করলেও সমাপ্তির সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশন আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করছে, তবে আইন অনুযায়ী অন্যান্য নির্বাচনের সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে।

    নির্বাচনের উপযুক্ত সময় খুঁজে পাওয়া প্রসঙ্গে কমিশনার বিস্তৃত সময়সূচির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়েই বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলায় সময় পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় মিললেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রোজা। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা।

    অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া এবং ৬ জুনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আবার কিছুটা সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের অত্যন্ত আঁটসাঁট বা টাইট শিডিউলের কারণে সব প্রক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    আগের প্রারম্ভিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

    সংবাদমাধ্যমের খবরের প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যা বলা হয়েছিল তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। আগামী ১৭ তারিখের সমন্বয় সভার পর সকল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফলে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কমিশন বিন্দুমাত্র সরে আসেনি বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাপ্ত উপাত্তসমূহ পর্যালোচনা করে কমিশন বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

  • আগামী বছর ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি সানাউল্লাহ

    আগামী বছর ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি সানাউল্লাহ

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছর ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা শেষে এমনটা জানিয়েছেন তিনি।