সারাদেশ

  • পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং রুম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট নিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) এবং সিয়াম আহমেদের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।

    অভিযোগ রয়েছে, বুধবার ভোরে এ কেরামত আলী হলের একটি কক্ষে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে এক শিক্ষার্থী আহত হন। একই ঘটনায় কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ ঘটনার জেরে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিয়াম আহমেদের বন্ধু ইফতিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে সিয়াম ও পলক আহমেদ প্যারিস রোডে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    শিব্বিল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রাতে এক সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের কক্ষের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে তার এক সহপাঠী আহত হন। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অন্যদিকে সিয়াম আহমেদ অভিযোগ করেন, তার বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে তাকে ও পলক আহমেদকে প্যারিস রোডে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা করেন।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে ‘আক্রমণ করতে পারেন’, এমন আশঙ্কাও শিক্ষক প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের নেয়া মাস্টার্সের ক্লাস পরিবর্তন করার আশ্বাস দিয়েছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এ কারণে তাকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয়, এমন যুক্তি দেন তিনি। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়। সুমি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন- নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

    ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।

    তিনি আরও বলেন, “ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাদের ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। ” ফলে একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

    সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তার মন্তব্যে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন।

    ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মৌখিকভাবে বসেছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। আমরা তাদের থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিক্ষার্থী তাদের কনসার্ন এবং ক্লাসে ঘটেছিল তা জানিয়েছে। আমরা আগামীকাল মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিসিয়াল ডিসিশনে আসবো। ”

    মাস্টার্সের ক্লাস নেয়া থেকে তাকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তারা ইন্টারেক্ট করতে চাচ্ছে না। আমরা তাদের (শিক্ষার্থীদের) আশ্বস্ত করেছি, ওদেরকে তার (অভিযুক্ত শিক্ষক) মুখাপেক্ষী হতে হবে না। ”

    এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্প ২০২৬’। নগর উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার উদ্যোগে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদপ্রার্থী ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের জন্য এখন এক বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই, এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে তদারকি করা হোক।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। আমরা চাই, বাস্তবে এসব উদ্যোগের সক্ষমতা কতটুকু বেড়েছে, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হোক। মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

    সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের আশপাশেই রয়েছে। সুতরাং শুধু সরকার একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে। এই কাজ শুরু করতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই।’

    বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত। তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও ভবিষ্যতে এমন উন্নত ও জনবান্ধব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্ব এমনভাবে ঠিক করতে হবে, যারা আগামী দিনে আমাদের জন্য সুন্দর একটি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

    থানা আমির আবু সাঈদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি তারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এদিকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে অজ্ঞাত গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

    বুধবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী নিমতলা আন্ডারপাসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্ভিস লেনে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

    ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উক্তো গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সজীব (১৮) নামে এক যুবকের কীটনাশক পানে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সজীব সদর উপজেলার উক্তো গ্রামের হাবলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সজীব দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন।

    এরই মধ্যে বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তিনি কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পাখিভ্যানে করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।

    স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জেরেই সজীব কীটনাশক পান করে থাকতে পারেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সজীব নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

  • দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা সুলতান আহমেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মুক্তারপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদ মুক্তারপুর গ্রামের মৃত দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি দল মুক্তারপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় নিজ এলাকা থেকে সুলতান আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    আরও পড়ুন:হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোরআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে দলিল লেখক, নকল নবিশ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সদর দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বাহাউদ্দীন বলেন, তন্ময় কুমার মণ্ডল প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে লাঞ্চে যান। আজও একই সময়ে লাঞ্চে যাওয়ার পর রেজিস্ট্রি অফিসের গেটের সামনে থেকে কে বা কারা তাকে রিকশায় করে তুলে নিয়ে গেছে বলে তারা শুনতে পান। পরপরই দলিল লেখক ও নকল নবিশরা পেছনে ছুটে যান। পরে জানতে পারেন রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্বপাশের রাস্তা দিয়ে তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নদীর ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

    বাহাউদ্দীন জানান, পথে এক নারী তাদের বলেন, দুইটি রিকশায় করে তন্ময়কে নিয়ে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে উঠানো হয়েছে। তাকে ছাড়াতে গেলে ওই নারীকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও তিনি জানান। তবে কে বা কারা তাকে নিয়ে গেছে এবং পরে কিভাবে তিনি ফিরে এসেছেন, তা তারা জানেন না।

    সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। লাঞ্চের জন্য বাসায় যাওয়ার আগে ওয়াশরুমে গেলে বাইরে চেঁচামেচি শুনতে পান ‘স্যারকে নিয়ে গেছে, স্যার চলে গেছে।’ পরে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে পাওয়া যাচ্ছে না।

    খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: লোকমান হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হয়, সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর কে বা কারা নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলা এবং তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ফিরে আসেন। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি ডকুমেন্ট দেখার জন্য তাকে আশপাশের একটি জায়গায় যেতে হয়েছিল। তিনি লাঞ্চের জন্য রিকশায় করে বের হওয়ার পর কয়েকজন তাকে সাথে করে নিয়ে যায়। পরে কোনো আঘাত না করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।

    ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, তিনি কোনো অস্ত্র দেখেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে কোনো অস্ত্র দেখতে পায়নি। তিনি বলেন, ঘটনাটি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, কিংবা আসলে কী ঘটেছে, তদন্তের পর তা বের করা হবে।

    সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সুস্থ শরীরে আপনাদের সামনে ফিরে এসেছি। কোনো রিকমেন্ডেশন বা নির্দিষ্ট কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। আমাকে বলা হয়েছিল, একটি ডকুমেন্ট দেখে দিতে, কেন বিষয়টি হচ্ছে না। ডকুমেন্টটি অন্য কোনো অফিসেরও হতে পারে। প্রথমে বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তাকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    নাটোরে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে সোহেল রানা (১৫) নামে এক তরুণকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া একই মামলায় অপর দুই আসামি রেজাউল করিম ও মুক্তার আলীকে খালাস দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আসামিদের উপস্থিতে এ রায় ঘোষণা করেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা ৪র্থ আদালতের বিচারক মো: দেলোয়ার হোসেন।

    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মুনসাদ আলীর ছেলে। আর খালাসপ্রাপ্ত দু’জন হলেন— লালপুর উপজেলার পুরাতান ঈশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা মরহুম শামসের প্রামানিকের ছেলে রেজাউল করিম ও মরহুম মোকছেদ আলী প্রামানিকের ছেলে মুক্তার আলী।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী মাঠে নিজের জমিতে বাবা মুকুল হোসেনের সাথে সকালে কলা গাছ রোপণ করতে যায় সোহেল ও তার ভাই সোহাগ। এ সময় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলী লাঠি, লোহার রড় নিয়ে তাদের জমিতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    মোজাফফরের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয় সোহেল। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ ফেব্রুয়ারি সোহেলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহত সোহেল হোসেনের বাবা মুকুল হোসেন একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি লালপুর থানায় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলীর নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেন। সোহেল রানা মারা যাওয়ার পরে এজাহারটি মামলা হিসেবে গণ্য করে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    নাটোর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, আদালতের বিচারক দীর্ঘ দিন মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। জরিমানার অর্থ এক লাখ মামলা পরিচালনা বাবদ খরচ সরকারি কোষাগারে রেখে বাকি চার লাখ টাকা এজাহারকারীকে প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    ফসলি জমি

    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী বাজারের মাছঘাটের পূর্ব পাশে সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে মো. রাজিব শেখের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধেশ্বরী বাজারের সরকারি খাল থেকে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাউৎভোগ ও গনাইসার এলাকার দুই ফসলি জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রাস্তার ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নিয়ে গিয়ে এসব জমি ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে রাউৎভোগ ও গনাইসার সড়কের পাশে সাইজদ্দিন শেখের প্রায় ৬৯ শতাংশ ফসলি জমিসহ একাধিক জমি ভরাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া রাউৎভোগ গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় আমির আলী মিস্ত্রীর ফসলি জমিতেও একইভাবে বালু ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি বাল্কহেডে করে বালু এনে এসব জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনাকারী রাজিব শেখ বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফসলি জমি ভরাটের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে রাজিব শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    ফরিদপুরের হাট-বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কুমড়ো ফুল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ফুল তুলে নিয়ে আসছেন বাজারে। প্রতি পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাশাপাশি কুমড়োও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায়। ফলে একই গাছ থেকে সবজি ও ফুল—দুইভাবেই আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষক পরিবারের জন্য।

    কুমড়ো ফুল সাধারণত উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো হয়। বাংলাদেশে শীতের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুর দিক পর্যন্ত কুমড়োর ফুলের উৎপাদন ভালো দেখা যায়।

    কুমড়ো ফুলের স্থায়িত্ব কম হলেও এর চাহিদা বেশি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে, আর এই সময়েই বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। শুধু আয়ের উৎস নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ এই ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ। গ্রামীণ রান্নায় ভাজি, বড়া কিংবা চচ্চড়ি—সবখানেই কুমড়ো ফুলের ব্যবহার জনপ্রিয়।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার গ্রামগুলোতে দেখা গেছে—বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ হচ্ছে। কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, আবার কেউ ফুল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুলছেন।

    স্থানীয় কৃষক হালিম মোল্লা বলেন, “সকালে ফুল তুলে বাজারে নিয়ে আসি। এখন প্রতি ফুল ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের শ্রমে কিছু বাড়তি টাকা পাওয়া যায়, যা সংসারের কাজে বেশ উপকার করে।” আরেক বিক্রেতা বিল্লাহ সেক জানান, “একই গাছ থেকে কুমড়ো বিক্রি হয়, আবার ফুলও বিক্রি করা যায়। তাই একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে।”

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, আগে কুমড়ো শুধু সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হলেও এখন ফুল বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। তার মতে, এটি ছোট হলেও কার্যকর একটি আয়ের উৎস, যা দিন দিন গ্রামীণ পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

    কুমড়ো ফুলের বাজারজাতকরণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কম খরচে চাষ, দ্রুত বিক্রি এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে কুমড়ো ফুল এখন কৃষকের কাছে শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

  • রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দু’জন হলেন—উপজেলা সদরের জালিয়াবাড়ি এলাকার মরহুম বাবুল হাওলাদারের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেল এবং দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকার মরহুম আব্দুল শুক্কুর হাওলাদারের ছেলে মো: কামাল হোসেন নয়ন (৩৩)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাসেল ও নয়নকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।

    রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রেফতার দু’জনকে বুধবার সকালে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেয়। বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, আইন শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ,আর

  • টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফ (২৩) ও একই গ্রামের আয়নালের ছেলে রুবেল (২৩)।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার মো: রোকুনুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলার বাদি পরিবারের অমতে তার প্রেমিককে বিয়ে করেন। তিনি বিগত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তার স্বামীর সাথে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। আসামিরা তখন তার স্বামীকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

    এ ঘটনার ছয় দিন পর ভিকটিম নিজেই বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। একই বছর ১৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

    বিচার শেষে আজ আসামিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হারাধন চন্দ্র সিংহ। এ,আর

  • সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মতিনবাজার নামক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন সাহাবাজ (মতিনবাজার) গ্রামের মরহুম আব্দুল করিম খানের ছেলে আব্দুল জলিল (৭০) ও তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৬০)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে আমিনা বেগমের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ত্রীর চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী আব্দুল জলিল। মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে আব্দুল জলিল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে আসার পর গত সোমবার গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় আব্দুল জলিল খানের।

    বিকেল ৩টার দিকে মরহুম আব্দুল জলিলের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে বাড়ি ফেরার দুই ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে মৃত্যু হয় স্ত্রী আমিনা বেগমের। পরে রাতে জানাজা শেষে স্বামীর পাশেই মরহুমা আমিনা বেগমকে দাফন করা হয়েছে।

    মৃত দম্পতির ছেলে আলম মিয়া বলেন, ‘বাবা-মায়ের মধ্যে খুবই ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। বাবাকে দাফন করে আসার পরপরই মাও চলে গেলেন। এক দিনেই আমরা এতিম হয়ে গেলাম।’

    সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘একই দিনে স্বামীর জানাযার মাত্র দুই ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু খুবই বিরল।’ এ,আর

  • বগুড়ায় এক জেলের লাশ উদ্ধার

    বগুড়ায় এক জেলের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বগুড়া সদর উপজেলার ছোট বেলাইল ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বিশ্বরোড এলাকার একটি জমি থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মৃত সাজ্জাদ শাজাহানপুর উপজেলার আবেদ আলীর ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, মাছ ধরার জন্য তিনি রাতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সকালে জমির মধ্যে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    ঘটনাস্থল থেকে মাছ ধরার ফালি, একটি ব্যাগে কিছু মাছ ও একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মাছ ধরতে গিয়েই সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে। সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    সিরাজগঞ্জের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা এবং বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রতি পিস ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাল্টার দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। দেশি ফলের মধ্যে কাটিমন আম ২০০ টাকা এবং তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে বেশি দামে কিনে একই অনুপাতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    ফল কিনতে আসা তৌফিকা নাসরিন বলেন, ‘এ বছর বাজারে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। এসব ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। আমাদের আয়ের সঙ্গে পণ্যের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই।’

    সিরাজগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। তবে দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়।’

    তিনি বলেন, ‘এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।’

  • নান্দাইলে কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

    নান্দাইলে কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের নান্দাইলে পূর্বশত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেয়া হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভেলামারী এলাকার হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি স্থানীয় চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

    মামলার তদন্ত শেষে আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

    ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনের উপস্থিতিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

    মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল। এ,আর

  • সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ ১৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় চোরাচালানে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাবাজার, প্রতাপপুর, পান্থুমাই, উৎমা, তামাবিল, সংগ্রাম ও কালাইরাগ বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারতীয় কসমেটিকস, ফুচকা, গরু, কম্বল, চা পাতা, বাসমতি চাল ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাচালানের সাথে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব চোরাইপণ্য জব্দ ও একজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ পণ্য ও আটক ব্যক্তির বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

    মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রিয়ন (২২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নাফিজ (১৮) আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাকিলাদাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিয়ন মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম মন্টু মেম্বারের ছেলে। তিনি যশোর এম এম কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করতেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রিয়ন ও নাফিজ মোটরসাইকেলযোগে কোটচাঁদপুর থেকে বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। তারা মহেশপুর উপজেলার কাকিলাদাড়ী এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রিয়ন ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর আরোহী নাফিজ আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত রিয়নের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের মাতম। এ,আর

  • মহেশপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

    মহেশপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড়, স্বরুপপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় (৬ অক্টোবর) গতরাতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ফসল যেন মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

    ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের শিমের মাচা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে, লাউয়ের মাচা উপড়ে ও ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও পুরো সবজি ক্ষেতই নষ্ট হয়ে গেছে। শিম, বরবটি, লাউসহ মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অনেক কৃষক জমিতে বাঁশ, জাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে যত্ন করে মাচা তৈরি করেছিলেন। সেই মাচায় সবজি ধরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই মাচাগুলো ভেঙে পড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন অসংখ্য কৃষক।

    শুধু সবজি নয়, ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পায়নি ধানের ক্ষেতও। অনেক এলাকার পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ ঝড়ের আঘাতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পুরো ধানক্ষেতই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ধান চাষিরাও বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

    এছাড়া কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক কলাগাছ ভেঙে গেছে ও উপড়ে পড়েছে। শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের পাতা, ফুল ও ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা জমিতে বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছিলেন। কেউ কেউ ধার-দেনা করে বীজ, সার, কীটনাশক, বাঁশ, জাল ও মাচা তৈরির উপকরণ কিনেছেন। ফসল বিক্রি করে সেই বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানিয়েছেন ঘুর্নিঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার শ্যামকুড় ও স্বরুপপুর ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    প্রকৃতির ওপর কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিজের ঘাম, শ্রম ও অর্থ দিয়ে ফসল ফলিয়ে কৃষক যখন ঘরে সোনালি ফসল তোলার অপেক্ষায় থাকেন, তখন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। এ,আর

  • কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৮)। প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করে এরই মধ্যে ১ হাজার ৯৪ কেজি ফলন তুলেছেন তিনি। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভের আশাও করছেন এই কৃষক।

    উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্থানপাড়া এলাকায় চলতি মৌসুমে করলার আবাদ করেছেন ইমরান। তিনি মো. সফর উদ্দিনের ছেলে।

    ইমরান জানান, “এক বিঘা জমিতে এগ্রো ওয়ান লিডার জাতের করলার চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। মালচিংয়ের জন্য জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মাটির আর্দ্রতাও দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “এক বিঘা জমিতে তার প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।”

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই এবং বাড়তি শ্রমিক খরচ কৃষকদের জন্য প্রতিবছরই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় মালচিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানি সাশ্রয় এবং শ্রমিক খরচ কমানো সম্ভব হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন।”

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “ফেরোমন ফাঁদ ও মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার প্রতি বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। মাহমুদ আল-ইমরানের এক বিঘা জমির করলা আবাদ ইতোমধ্যে লাভজনক ফলন দিয়েছে।”

  • রাঙ্গামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় ফাঁসি

    রাঙ্গামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলায় ফাঁসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হালিমা বেগম সুমি হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মো: মহিবুর কামাল ওরফে মহিবুল্লাহকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আহসান তারেক এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে কাপ্তাই এলাকার বিএফডিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত বাথরুমে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে থেঁতলে হালিমা বেগমকে হত্যা করা হয়।

    পরে প্রমাণ গোপনে লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় আসামি। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। এ,আর

  • অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    অস্ত্র হাতে ভাইরাল ‘বুলেট শিবলু’ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা মো: শিবলু ওরফে বুলেট শিবলুকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি ওই এলাকার নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের ষোলশহর এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা মামলায় ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শিবলু ওই মামলার ৬৯ নম্বর আসামি।

    এ ছাড়া আনোয়ারায় এক মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় শিবলুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্সে কর্মরত সদস্য মো: আরিফুল ইসলামকে মারধর, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়া ও হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র হাতে শিবলুর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি এলাকায় ফিরে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

    আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের সময় শিবলুর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য কোনো থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।’ এ,আর

  • শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, চালকের সহকারী নিহত

    শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, চালকের সহকারী নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কায় আরিফ হোসেন (৩০) নামে এক চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আরিফের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাভারন হাইওয়ে থানার এসআই আনিছুর রহমান।

    স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা থেকে মুরগির বাচ্চা নিয়ে যশোরের দিকে যাওয়ার সময় নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা মসজিদের সামনে পৌঁছালে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে কাভার্ডভ্যানটি রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে চালকের সহকারী আরিফ মারাত্মকভাবে আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা: সুখেন্দু কুমার মজুমদার বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত আরিফের হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

    এসআই আনিছুর বলেন, ‘গাড়ির চালক ঘটনার পরই পালিয়ে যান। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। কাভার্ডভ্যানটি হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’ এ,আর

  • মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রধান শাখা খাল ধুরুং। এ খালের বুকজুড়ে জেগে ওঠা একটি চর এখন পরিণত হয়েছে সবজি চাষের উর্বর ভূমিতে। এ চরের তিন দিক দিয়ে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতিতে বয়ে চলেছে খালের পানি। আর মাঝখানে জেগে থাকা চরের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চরের কোথাও শসার লতাপাতা মাটিজুড়ে ছড়িয়ে আছে, কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে বরবটি ও ঝিঙা। কোনো জমিতে দুলছে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা ও বেগুনের গাছ। এমনকি এ চরে চাষ হচ্ছে পটলও। আগাম সবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

    স্থানীয়ভাবে ‘মুজরি চর’ নামে পরিচিত এ চরটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পাইন্দং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেড়াজালীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৬০ হেক্টর আয়তনের এ চরে পুরো বছর কৃষিকাজ করেন ২৪০-২৫০ জন কৃষক। তবে শুষ্ক মৌসুমে ধুরুং খালের পানি কমে গেলে তখনই চরজুড়ে শুরু হয় সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ। উর্বর পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই এ চরে বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। খালের পানিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চর যেনো মৌসুমি কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার এক সবুজ অধ্যায়।

    চরের কৃষকরা জানান, তিন পাশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জমিতে পলি পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আগাম সবজি চাষ করেন। বাজারে যখন এ সব সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন ফসল তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে।

    মুজরি চরের কৃষক মো. আফজল হোসেন আড়াই কানি জমিতে এবার বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে বরবটি, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, শিম ও তিতকরলা।

    কৃষক আফজল হোসেন বলেন, ‘লাভের আশায় আমরা চরের জমিতে আগাম শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ও বেনটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করি। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে না। কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি-সহায়তা নিয়মিত পাই না। তাই চরের কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি সহায়তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কষ্টের ফসলের যথাযথ মূল্যও পাবেন।’

    কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘আমাদের এ চরে প্রায় আড়াই শত কৃষক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু চরে কাজ করতে এসে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে কৃষকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি টংঘর বা ছাউনি থাকলেও দুর্যোগের সময় আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম। তাই কৃষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরে একটি টংঘর বা ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’ শুধু আফজল বা আলী আহমদ নন, মুজরি চরের অধিকাংশ কৃষকই আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া। তবে ভালো ফলন হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান।

    মো. মহিন উদ্দিনসহ অন্য কৃষকের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজির সব সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাঠ থেকে সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আসে না।

    বর্গাচাষী মো. এরশাদ বলেন, ‘সব ধরনের কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি, কিন্তু সে তুলনায় সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ বছর যদি সবজির দাম ভালো না পাই, তাহলে উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলে আনতে পারব না। কৃষকরা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে আমাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

    মুজরি চরের কৃষকদের আরেকটি বড় সমস্যা পানি। খালের পাশে চাষ হলেও সবজি খেতে প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কৃষককে নিজেদের উদ্যোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চরে কৃষকদের বসার বা বিশ্রামের জন্য কোনো ছাউনিও নেই। প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিয়মিত পরামর্শ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘মুজরি চরের সম্ভাবনা অনেক। এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। সেচ, রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। মুজরির চরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    ধুরুং খালের বুকে জেগে ওঠা মুজরি চর তাই শুধু একটি চর নয়। কয়েক শত কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ সবুজ জমিতে এখন তারা আগাম সবজি ফলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ফসল ভালো হবে, বাজারে ভালো দাম মিলবে, আর ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত লাভ।

  • ফেনীতে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র ইমনের সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

    ফেনীতে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র ইমনের সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পরও সন্ধান মেলেনি মাদরাসাছাত্র মাহফুজুর রহমান ইমনের।

    মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ট্রাংক রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তার সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

    ইমন বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সে স্থানীয় পঁচি ফকির বাড়ির শহীদুল ইসলাম সুজনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শহীদুল ইসলাম সুজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছোট ছেলে ইমন পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার অটোরিকশা নিয়ে বের হতো। অন্যদিনের মতো গত ২৮ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি সে। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর দুই দিন পর পুলিশ ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন স্থান থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন, মা মোমেনা বেগম, ভাই মোশাররফ হোসেন জাবেদ, স্থানীয় সমাজকর্মী ছালাউদ্দিন মামুন, মাওলানা হাসান আহমদ, মাহফুজুর রহমান ও কামাল উদ্দিন মিন্টুসহ স্থানীয়রা।

    ইমনের মা মোমেনা বেগম বলেন, ‘আজ নয় দিন হয়ে গেছে। আমি এখনো আমার ছেলের খোঁজ পাইনি। আমার ছেলে মৃত হোক বা জীবিত হোক, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন।’

    ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘গত নয় দিন সবার ধারে ধারে ঘুরতেছি, আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমার ছেলে কোথায় আছে, কিভাবে আছে কিছুই জানি না। আমার ছেলে ফেরত চাই। কিছু চাই না, শুধু আমার ছেলেকে ফেরত দিন।’

    মেঝো ভাই মোশাররফ হোসেন জাবেদ বলেন, ‘নয় দিন হয়ে গেছে, আজ পর্যন্ত আমার ভাইকে পাইনি। মডেল থানায় জিডি করার পরও পুলিশ আমার ভাইয়ের খোঁজ এখনো দিতে পারেনি। প্রশাসন কোনো কাজ করছে না। আমরা অনুরোধ করবো আমার ভাইয়ের সন্ধান যেন দেয়া হয়। আমার ভাইকে আমরা ফেরত চাই।’ এ,আর

  • বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ সংঘর্ষে শিশু নিহত

    বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ সংঘর্ষে শিশু নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মিফতাহুল জান্নাত রাফা (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজারসংলগ্ন বৌদ্ধেরপোল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিফতাহুল জান্নাত রাফার মা ফেরদৌস আরা মুন্নি মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে করে শিশুটি তার বাবা-মায়ের সাথে যাচ্ছিল, এমন সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু রাফার মৃত্যু হয় এবং তার বাবা গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আস্রাফ আলী বলেন, ‘মোটরসাইকেল ও পিকআপের সংঘর্ষে রাফা নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। তার মা-বাবাও আহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।’ এ,আর

  • বরগুনায় স্কুলে গণ-হিস্টিরিয়ায় অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি ৯

    বরগুনায় স্কুলে গণ-হিস্টিরিয়ায় অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার লাকুরতলা সোনারবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার সময় গণ-হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০ শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

    অসুস্থদের মধ্যে ৯ শিক্ষার্থীকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

    স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ক্লাস চলার সময় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির আরো ১৯ শিক্ষার্থীর মাঝে একই ধরনের শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

    বরগুনা লাকুরতলা সোনারবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন জানান, ‘ঘটনার পরপরই দ্রুত অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। স্বজনেরা উপস্থিত হয়ে অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থীকে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নেয়া হয়।’

    অন্যদিকে, বাকি শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন।

    এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহার রঞ্জন বৈদ্য জানান, ‘শ্বাসকষ্টের লক্ষণ নিয়ে আসা ৯ শিক্ষার্থীকেই চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তারা সকলেই মূলত গণ-হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। বর্তমানে ভর্তি থাকা সকল শিক্ষার্থীই পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।’ এ,আর

  • ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরালের পর এএসআই ক্লোজড

    ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরালের পর এএসআই ক্লোজড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াসকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো: তারেক মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সার্কেল এএসপিকে এ ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    ভিডিওটিতে ইলিয়াস বলেন, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না ? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি ? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

    পরে জানা যায়, সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় মামলা, আটক ১

    চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় মামলা, আটক ১

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সরোয়ার হুসাইন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম (২২) একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন চৌগাছা থানা পুলিশ। শফিকুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলার বাঘারদাঁড়ি গ্রামের ইদ্রীস আলীর ছেলে।

    থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামে গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই সরোয়ার হুসাইন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    জানা যায়, ঘটনার দিন গভীর রাতে তিন চোর উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়াল ঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল। টের পেয়ে ইদ্রিস আলী ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম চিৎকার করলে গ্রামবাসি চোরেদের ধাওয়া করে। জনগণের ধাওয়া খেয়ে দুই জন পালাতে সক্ষম হলেও একজনকে ধরে ফেলে গ্রামবাসি। এ সময় গ্রামবাসির এলোপাতাড়ি মারপিটে গুরুতর আহত হয় মিজানুর রহমান । এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আহত মিজানুরকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির বড় ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ,আর

  • মহেশপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন

    মহেশপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন এ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

    ” ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতন হোন,নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন। “এই আহ্বান কে সামনে রেখে

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় মহেশপুর কলেজ স্ট্যান্ড থেকে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মহেশপুর উপজেলা জামায়াত লিফলেট বিতরণ করেছে।

    উক্ত জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের মাননীয় এমপি মোঃ মতিয়ার রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইসমাইল হোসেন পলাশ।

    ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে এবং ৪-১০ অক্টোবর ২০২৬ দেশব্যাপী জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন করছে। এই কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে মহেশপুরে কলেজ স্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেছে। এমপি মতিয়ার রহমান মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ, পৌর শাখার আমির নওফেল হোসেন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ও থানা জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, থানা কর্মপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই মহৎ কাজে অংশ গ্রহণ করেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দায়িত্বশীল বৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এ সময় সাধারণ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর সচেতনতা মূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছেন। এ,আর

  • চৌগাছায় ছেলে হত্যা মামলার আসামি বাবার আত্মহত্যা

    চৌগাছায় ছেলে হত্যা মামলার আসামি বাবার আত্মহত্যা

    যশোরের চৌগাছায় রবিউল ইসলাম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত হানেফ আলী মন্ডলের ছেলে।

    সোমবার ভোরবেলা তার প্রতিবেশি বাদল মন্ডলের বাড়ির পাশে আম গাছের ডালে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেন। সকালে প্রতিবেশিরা তার লাশ ঝুলতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা লাশ নামান।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে রবিউল ইসলাম তার একমাত্র ছেলে তরিকুল ইসলামকে (২৫) বাড়িতে কাজ না করার কারণে কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তরিকুলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় রবিউল ইসলামের ভাই আশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মামলা করেন। পরে ওই মামলায় রবিউল ইসলাম কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান।

    পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, ছেলে হত্যার ঘটনা এবং মামলা নিয়ে রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অশান্তিতে ছিলেন। এর জেরেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিউল ইসলামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর আড়াইশো শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী

    চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাস্টার কামাল আহমেদ।

    প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাসরীন সুলতানা।

    চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি মাস্টার তবিবর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আইনাল হক, ফজলুর রহমান আসাদ, মো: আয়ুব হোসেন, আব্দুল আলীম,মো: কামরুজ্জামান, গোলাম রব্বানী,মো: রবিউল ইসলাম, আজম আশরাফুল ও মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাও আশরাফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী বৃন্দ, সাংবাদিকগণ ও সুধী মন্ডলী।

  • মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    নাটোরের নলডাঙ্গায় মসজিদে ফজরের আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিন সৈয়দকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। সোমবার ভোরে উপজেলার ৪ নম্বর পিপরুল ইউনিয়নের চরবাঙ্গাল পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজান চলাকালীন সময়ে মসজিদে আজান দিচ্ছিলেন মুয়াজ্জিন সৈয়দ। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ এলাকায় একজন ভালো, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। মসজিদে আজান দেওয়ার সময় তার ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে আহত মুয়াজ্জিন সৈয়দের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি, নিহত ১

    ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ইয়াসিন (৫১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের মধুবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের মিমের সঙ্গে ইয়াসিনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে ইয়াসিন গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ,আর

  • চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

    চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে চৌগাছা উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষকরা উপজেলা সদরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করেন।

    র‍্যালিতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিও জানান।

    র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা গোলাম মোরশেদ,উপস্থিত ছিলেন মাওলানা গিয়াস উদ্দিন সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ। এ,আর

  • কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    খুলনার কয়রায় মাছের ঘেরের পাড়ে শাক-সবজির আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালি (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ঘেরের পাড়ে রোপণ করা চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি মাছের ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি পাড়ে শাক-সবজির মধ্যে গাঁজার গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়রা থানা-পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার দুপুর একটার দিকে ওই ঘেরে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে ঘেরের পাড়ে কৌশলে রোপণ করা চারটি বড় গাঁজা গাছের সন্ধান মেলে। পরে পুলিশ গাছগুলো উপড়ে জব্দ করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বকশীগঞ্জ সীমান্তে সাড়ে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

    বকশীগঞ্জ সীমান্তে সাড়ে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের ৯৭১ পিস ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করেছে জামালপুর ৩৫ বিজিবি।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতানিপাড়া বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব কসমেটিকস পণ্য জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার সাতানিপাড়া সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দিগলকোনা গ্রামের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় কসমেটিকসের একটি চালান উদ্ধার করা হয়।

    জব্দ করা পণ্যের মধ্যে চেইন, কানের রিং, স্কিন শাইন ক্রিমসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় কসমেটিকস রয়েছে। বিজিবির হিসাবে জব্দকৃত কসমেটিক ৯৭১ পিস এবং আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।

    অভিযানকালে পণ্যগুলোর মালিক বা চোরাচালানের সাথে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জব্দ করা কসমেটিকস কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে বিজিবির নিয়মিত মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • চৌগাছায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ

    চৌগাছায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ

    মাচায় মাচায় লতিয়ে উঠেছে সিমগাছ। কোথাও ফুল, কোথাও ঝুলছে কচি সিম। ভোরের আলো ফুটতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন কৃষক। কেউ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা পাকা সিম তুলে বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগাম ফলন ও ভালো দামের প্রত্যাশায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদার মাঠে এবার সিম চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    চুটারহুদার একই মাঠে সিম চাষ করেছেন রফিকুল ইসলাম, মুসা মণ্ডল, নজু, সাজেদুল, শুকুর আলীসহ কয়েকজন কৃষক। একজনের সফলতা দেখে পাশের জমির কৃষকরাও আগাম সিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
    চুটারহুদার মাঠে ১০ কাঠা জমিতে সিম চাষ করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। এরই মধ্যে তাঁর ক্ষেতের সিম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামে সিম বিক্রি করতে পেরে স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।
    রফিকুল ইসলাম জানান, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগাম ফলন হওয়ায় ইতোমধ্যে সিম বিক্রি শুরু করেছেন এবং ভালো দামও পেয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘এবার গাছ খুব ভালো হয়েছে। সিমও আগে ধরেছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছি এবং ভালো দাম পেয়েছি। আগাম সিম হওয়ায় সামনে আরও ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে।’

    রফিকুল ইসলামের পাশের জমিতে সিম চাষ করেছেন মুসা মণ্ডল। একই মাঠের অন্য জমিতে আবাদ করেছেন নজু ও সাজেদুল। শুকুর আলীসহ আরও কয়েকজন কৃষকও সিম চাষ করেছেন।
    কৃষকদের আবাদে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয়েছে সবুজের আবহ। মাচায় ঝুলে থাকা সিম দেখে বোঝা যায়, মৌসুমের শুরুতেই বাজার ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
    স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সিমের বাজারে চাহিদা থাকায় আগাম ফলন তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে আবহাওয়া, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা তাঁদের জন্য বড় ঝুঁকি। ফলে আগাম ফলনের পাশাপাশি বাজারদরের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে।

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সিম চাষের আলাদা কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে ১১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।
    ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে ফুলসারা ইউনিয়নে ২৩ হেক্টর, সিংহঝুলি ইউনিয়নে ১৫, পাতিবিলা ইউনিয়নে ১৭, নারায়ণপুরে ৪২ এবং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১৪ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এ ছাড়া স্বরূপদাহ ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে।

    কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চৌগাছায় সবজি চাষ অনেক কৃষকের জন্য বাজারমুখী উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
    সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম সবজি চাষ করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন চৌগাছার কৃষকরা।
    কৃষকদের ধারণা, অন্যান্য এলাকায় সবজির সরবরাহ কম থাকলে আগাম উৎপাদিত সিমসহ বিভিন্ন সবজি তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
    তবে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা কৃষকের হিসাব বদলে দিতে পারে। এ কারণে সময়মতো কৃষি পরামর্শ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকদের মতে, আগাম সবজি চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি ও শ্রমিকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। অনেক কৃষকের পক্ষে একসঙ্গে এসব ব্যয় বহন করা কঠিন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বা উপকরণ সহায়তা পাওয়া গেলে আরও কৃষক আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।

  • ফেনীতে ‘মিথ্যা’ গণধর্ষণ মামলা: জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

    ফেনীতে ‘মিথ্যা’ গণধর্ষণ মামলা: জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে গণধর্ষণসহ অর্ধশতাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পলাতক জাল কবিরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

    সোমবার দুপুরে জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর, কিল্লাদিঘী ও তালপাড়িয়ার বাসিন্দারা।

    মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জাল কবির ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি ঘটনাকে গণধর্ষণ হিসেবে সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এছাড়া অর্ধশতাধিক মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

    ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ছাগলনাইয়া সুবেদারি রাস্তার মাথায় মাস্টার ম্যানশনে আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় এক গৃহকর্মীর সাথে জাল কবিরের লোকজন আপসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পরে সেটিকে গণধর্ষণ হিসেবে সাজিয়ে মামলা করা হয়।

    তারা আরো জানান, গত বছরের জুলাইয়ে একটি গণধর্ষণ মামলায় জাল কবিরকে গ্রেফতার করা হলে তিনি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান।

    ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাল কবির চক্রের মামলায় জর্জরিত। এখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বয়স্ক মানুষগুলো সবাই এ চক্রের মামলার শিকার। সর্বশেষ এ মামলার যখন কোনো কুল কিনারা পাচ্ছিল না আমাদের বিরুদ্ধে। তখন জাল কবিরের ভাই তাদের কাজের বুয়ার সাথে আপসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো গণধর্ষণ মামলা দেন। আমরা গত ১ অক্টোবর খালাস পেয়েছি।’

    মোহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, ‘জাল কবির ও তার পুরো চক্র আমাদের সাথে প্রতারণা করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। আমরা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। আমরা চাই, জাল কবিরকে গ্রেফতার করা হোক। সে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে গ্রেফতার করা হলে কেউ আর এমন করার সাহস পাবে না।’

    আরেক ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জাল কবির আমাদের হয়রানি করেছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হয়েছি। সে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিল। আমরা চাই, জাল কবির ও তার ভাইকে গ্রেফতার করা হোক।’ এ,আর

  • চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

    চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে মোকছেদুল ইসলাম (৫২) নামে এক রিকশাভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের মানিকবাটি গ্রামের ফুলটঙ্গী ঈদগাহ মাঠের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মোকছেদুল ইসলাম উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের ফকিরপাড়ার মরহুম আব্দুল মান্নানের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোকছেদুল রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে তার চার্জার রিকশাভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং রাতে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন সাতনালা ইউনিয়নের মানিকবাটি গ্রামের ফুলটঙ্গী ঈদগাহ মাঠের পাশে ধানক্ষেতে গলায় গামছা প্যাঁচানো একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহমুদুন-নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘লাশের ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা মোকছেদুলকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে হত্যা করে তার চার্জার রিকশাভ্যানটি নিয়ে গেছে।’ এ,আর

  • জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি সার ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে খুচরা সার বিক্রেতাদের মাধ্যমে সরকারি সার বিতরণ এবং এ ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।

    স্থানীয় সূত্রের দাবি, কেডিকে ইউনিয়নের প্রায় ২০টি খুচরা সার দোকানের নামে-বেনামে ভুয়া সার কার্ড তৈরি করে এসব কার্ড ও কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা বিশেষ স্লিপের মাধ্যমে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সার বিতরণের সময় প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি কৃষি প্রণোদনা বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার ও কৃষি পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন।

    কেডিকে ইউনিয়নের কৃষক ইনামুল, ইসরাইল, ইব্রাহিম ও খলিলসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমরা মাঠের সার ও পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁকে প্রায়ই পাওয়া যায় না। অথচ তিনি আমাদের সরাসরি সার না দিয়ে দোকানদারদের ভুয়া কার্ড ও স্লিপের মাধ্যমে একবারে ৫ থেকে ১০ বস্তা করে সার দিয়ে দেন। বিনিময়ে দোকানদারদের কাছ থেকে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা।’

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান। তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে সত্য নয় বলে দাবি করেন।
    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ট্রাক্টরের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: শাহজাহান আলী (৪০) নামে এক কলেজ প্রভাষক নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার হাটকালুগঞ্জ মেইন রোডসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহজাহান আলী দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় হোগলডাঙ্গা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শাহজাহান আলী মোটরসাইকেলযোগে নিজ কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন। পথে হাটকালুগঞ্জ মেইন রোড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাটিবোঝাই ট্রাক্টরের সাথে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা শাহজাহান আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাক্টরটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, নিহত মোটরসাইকেল আরোহী শাহজাহান আলী একাই পড়ে গেছেন না ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে নিশ্চিত না। তবে তার আত্মীয়-স্বজন এলে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগন ফল ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। দেশে এর চাষ ও বাজারচাহিদা বাড়ছে। ছাদ কৃষি থেকে মাঠপর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষের সুযোগও রয়েছে। সঠিক জাত নির্বাচন, চারা তৈরি, রোপণ, খুঁটি স্থাপন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ-পোকা দমন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে এ চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘রানার কৃষি’তে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    ড্রাগন ফল এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ। পুষ্টিগুণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে ফলটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    উপযুক্ত জলবায়ু ও মাটি
    ড্রাগন ফল উষ্ণ জলবায়ুর ফসল। সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তুষারপাত গাছের জন্য ক্ষতিকর। বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন ফল ভালো জন্মে। মাটির পিএইচ ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ হলে তা চাষের জন্য উপযোগী।
    আমাদের দেশে বর্তমানে বাউ ড্রাগন ফল-১ ও বাউ ড্রাগন ফল-২ জাত চাষ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক বাগান স্থাপনের ক্ষেত্রে এলাকার আবহাওয়া, মাটির ধরন ও বাজারচাহিদা বিবেচনা করে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।

    চারা তৈরি ও রোপণ
    সাধারণত কাণ্ডের ডাল বা কাটিংয়ের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চারা তৈরি করা হয়। সুস্থ ও রোগমুক্ত গাছ থেকে ৮–১০ ইঞ্চি লম্বা কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। কাটিং সংগ্রহের পর প্রায় সাতদিন ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে কাটিংয়ের কাটা অংশ শুকিয়ে যায় এবং রোপণের পর পচনের ঝুঁকি কমে।
    মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা যায়। জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর প্রায় ২ ফুট চওড়া ও ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে।
    চারা রোপণের আগে প্রতিটি গর্তে ১০–১৫ কেজি গোবর সার, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করা যেতে পারে। জমিতে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকলে গর্তের নিচে বালু ব্যবহার করা যেতে পারে।

    খুঁটি স্থাপন ও চারা লাগানো
    ড্রাগন ফল গাছ লতানো প্রকৃতির হওয়ায় গাছকে ভর দেওয়ার জন্য শক্ত খুঁটি প্রয়োজন। এজন্য ৪ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি বেড়ের ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা আরসিসি খুঁটি ব্যবহার করা যায়। খুঁটির প্রায় দেড় ফুট মাটির নিচে রেখে ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।
    খুঁটির মাথায় টায়ার অথবা ১ থেকে ১ দশমিক ৫ ফুট ব্যাসের বৃত্তাকার রডের কাঠামো তৈরি করতে হয়। প্রতিটি খুঁটির চারপাশে চারটি করে কাটিং রোপণ করা যায়। তবে কাটিংয়ের গোড়া ৩ থেকে ৪ ইঞ্চির বেশি মাটির নিচে দেওয়া যাবে না। রোপণের পর চারাগুলোকে আলতোভাবে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে।
    সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে রোপণের প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে পারে। তবে ফলন ও উৎপাদনকাল জাত, পরিবেশ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে।

    রোগবালাই ও পোকামাকড়
    ড্রাগন ফলের বাগানে অ্যানথ্রাকনোজ, গোড়াপচা, কাণ্ডপচা ও কাণ্ডের ক্যানকার জাতীয় রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে প্রয়োগ করতে হবে।
    বাগানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে গোড়া ও কাণ্ড পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং গাছের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ড্রাগন ফলে থ্রিপস, মিলিবাগ ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত গাছ ও ফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে নিমতেল ব্যবহার করা যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

    পরিচর্যায় গুরুত্ব
    ড্রাগন ফলের ভালো ফলনের জন্য শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না; নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও পানি নিষ্কাশন, রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণ এবং গাছের বাড়তি শাখা-প্রশাখা ব্যবস্থাপনা করতে হবে। গাছ যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাড়ির ছাদ, বসতভিটা কিংবা উপযুক্ত কৃষিজমিতে পরিকল্পিতভাবে ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষকের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

    চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে মিজানুর রহমান (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার লালন শাহ মাজার এলাকার বাটিকামারি গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাতে উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল তিনজন চোর। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইদ্রিস আলী ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম ডাক-চিৎকার করলে গ্রামবাসী চোরদের ধাওয়া করে। জনগণের ধাওয়া খেয়ে দু’জন পালাতে সক্ষম হলেও মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলে গ্রামবাসী।

    এ সময় গ্রামবাসীর এলোপাতাড়ি মারপিটে গুরুতর আহত হন মিজানুর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মিজানুর রহমানকে হেফাজতে নেয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে চৌগাছা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এ,আর

  • মহেশপুর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের  মূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র সার সংকটের প্রতিবাদে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ

    মহেশপুর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র সার সংকটের প্রতিবাদে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ)

    তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, তীব্র সারসংকট, সারের ডিলার ও ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগ এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের প্রতিবাদে ঝিনাইদহের মহেশপুরে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় মহেশপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল হাই।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার আমির ফারুক আহম্মদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা আব্দুল হাই সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, সারসংকট এবং বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    একসময় যে পাট ছিল বাংলার অর্থনীতির অন্যতম প্রাণ। সেই ‘সোনালি আঁশ’ এবার যেন নতুন করে হাসি ফুটিয়েছে ফরিদপুরের কৃষকের মুখে। সবুজ মাঠ পেরিয়ে পাট এখন উঠেছে হাটে। পচানো, ধোয়া ও শুকানোর পর পরিপক্ব আঁশের গন্ধে মুখর জেলার হাট-বাজার। আর ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে চড়া দাম—দুইয়ের সমন্বয়ে এ বছর পাটচাষিদের ঘরে ফিরছে স্বস্তি।

    চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে ফরিদপুরে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানি এবং কৃষকদের যথাযথ পরিচর্যায় শুধু ফলনই নয়, পাটের আঁশের রং ও গুণগত মানও হয়েছে বেশ ভালো।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর থেকেই কৃষকদের পাট বিক্রির সম্ভাব্য আয় ২২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে প্রায় ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের পরিচর্যায় বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার সময় খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় আঁশের মানও হয়েছে চমৎকার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কানাইপুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন প্রধান পাটের হাট ঘুরে দেখা যায়, নতুন পাটের বেচাকেনায় বেশ প্রাণচাঞ্চল্য। হাটে কৃষকের ভিড়, পাটের স্তূপ আর দরদামে ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ।

    গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পাটের দরও বেড়েছে। কানাইপুর, তালমা, কাদিরদী, সাতৈর ও বড়গাসহ জেলার বিভিন্ন হাটে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট প্রায় ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর মাটি, পানি, রোদ আর শ্রমের সঙ্গে লড়াই করে যে ফসল ঘরে তুলেছেন, এবার তার ন্যায্য মূল্য মিলছে—এটাই যেন তাদের মুখের হাসির সবচেয়ে বড় কারণ।ফরিদপুর সদর উপজেলার পাটচাষি লাভলু মিয়া বলেন, ‘এবার পাট ও আঁশ দুটোই চমৎকার হয়েছে। সার, কীটনাশক আর সেচ খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও এবার ভালো লাভ থাকছে।’

    আরেক কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পাওয়ায় সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং আগের দেনা মেটানো সহজ হয়ে গেছে। এমন দাম পুরো মৌসুমজুড়ে থাকলে আমাদের মতো পাটচাষিদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’

    তবে বাজারে পাটের চড়া দাম স্বস্তি যেমন এনেছে কৃষকের জীবনে, তেমনি কিছুটা চাপ তৈরি করেছে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের ওপর। হাটে নতুন পাটের আমদানি কিছুটা কমে যাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পেলেও মিল বা ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করার পর আগের মতো মুনাফা থাকছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    কানাইপুর হাটের ব্যবসায়ী লিয়াকত মুন্সি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেও আমরা ৪০০০-৪২০০ টাকা মণ দরে পাট কিনেছি। এখন হাটে পাটের সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি ও মিলে বিক্রি করে তেমন লাভ থাকছে না।’

    ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার জেলাজুড়ে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি আঁশের গুণগত মানও ভালো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো গুণগত মান অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাজারে বর্তমান চড়া দাম বজায় থাকলে ফরিদপুর থেকে ২২০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।’

    কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা মনে করেন, পাট বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ কৃষকের হাতে গেলে তা শুধু কৃষকের পরিবারেই স্বস্তি আনবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কৃষকের আয় বাড়লে বাড়বে ক্রয়ক্ষমতা, সচল হবে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।

    ফরিদপুরের মাঠে তাই এখন শুধু পাটের আঁশ নয়, কৃষকের স্বপ্নও শুকাচ্ছে রোদে। হাটে হাটে সোনালি আঁশের স্তূপ যেন বলে দিচ্ছে—মাটির সঙ্গে যে মানুষের বন্ধন, তার গল্প কখনো পুরোনো হয় না। ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম মিললে সেই মাটিই কৃষকের ঘরে এনে দিতে পারে স্বচ্ছলতার আলো।

    এবার ফরিদপুরের পাটের মাঠে সেই আলোরই যেন দেখা মিলছে। সোনালি আঁশের রঙে রাঙা হচ্ছে কৃষকের মুখ, আর তার সঙ্গে আশার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

  • সিরাজদিখান  নদীতে নেমে নিখোঁজ নারী,  উদ্ধার অভিযান চলছে

    সিরাজদিখান নদীতে নেমে নিখোঁজ নারী, উদ্ধার অভিযান চলছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ইছামতী নদীতে গোসল করতে নেমে হাবিবার রহমান বাবলী (৪৮) নামে এক নারী নিখোঁজ হয়েছেন।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের ফেগুনাসার গ্রামে ইছামতী নদীর গুদারা ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে নদীতে ডুবুরি অভিযান শুরু করে।

    জানা যায়, নিখোঁজ নারীসহ তিন বান্ধবী ঢাকার বাসিন্দা। তারা সিরাজদিখান উপজেলার ভুঁইয়াবাড়িতে বান্ধবী চামেলির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। রোববার দুপুরে ইছামতী নদীতে গোসল করতে নামেন তারা। গোসলের একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের মধ্যে দুই বান্ধবী সাঁতরে নদী থেকে উঠে আসতে সক্ষম হলেও অপর বান্ধবী হাবিবার রহমান বাবলী নিখোঁজ হন।

    মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারপরও নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    মরুভূমির প্রাণী দুম্বা বাংলাদেশের মাটিতে পালন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যুবক রবিউল ইসলাম। দুটি দুম্বা দিয়ে শুরুর সফলতায় সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ ৬৫ দুম্বা। এ সব দুম্বার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

    নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউল ইসলাম। এসএসসি পাশের পর কাজের সন্ধানে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন দেশের বাইরে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় ভাটা পড়ে সে

    সিদ্ধান্তের। এরপর ভাবতে শুরু করেন এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। এমন ভাবনা থেকে শুরু করেন দুম্বা পালন।

    দুম্বা পালন শিখেছেন ফেসবুক-ইউটিউব দেখে। ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ প্রাণীর পালনে

    আগ্রহ তৈরি হয় রবিউলের। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পরীক্ষামূলভাবে দুটি দুম্বার পালনের সফলতায় আরও সংগ্রহ করেন ছয়টি। মোট আটটি দুম্বা সংগ্রহে তার খরচ হয় ১২ লাখ টাকা।

    রবিউল জানান, ছয়মাসের মধ্যেই এ সব দুম্বা বাচ্চা দিতে শুরু করে। এরপর প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দুম্বার সংখ্যা। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ করছে ৬৫ দুম্বা। সবুজ ঘাস আর খৈল ভুসি এ সব দুম্বার প্রধানখাবার। ওই ৬৫ দুম্বা পরিচর্যায় তার খামারে কাজ করছেন পাঁচজন কর্মচারী।

    রবিউলের ভাষ্য, একটি দুম্বার ওজন ৫০-১০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বয়স, ওজন ও আকৃতি অনুযায়ী প্রতিটি দুম্বা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    রবিউল বলেন, ‘দুম্বার পছন্দের খাবার কাঁচা ঘাস। ঘাস, খৈল-ভুসিসহ প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারের পেছনে খরচ ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। রোগবালাই খুব কম হয়। সময়মতো খাবার এবং রোগ প্রতিরোধের টিকা দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে।’

    প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইবার করে বাচ্চা দেয়। প্রতিবার একটি থেকে দুটি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যায়। তিনমাস বয়সে একটি বাচ্চার ওজন ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। এ বয়সের একটি বাচ্চার বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। দুম্বার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচজনের।

    এক সময় নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন রবিউল ইসলাম। দুম্বার খামার বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন নিজে পার করছেন কর্মব্যস্ত জীবন। তেমনি তার ওই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার পাঁচ শ্রমিকের।

    খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, ‘রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের আহার জুটছে। এর পরিধি বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

    তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ খামার দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাই দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকায় ব্যাপকতা বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    রবিউল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুম্বা ক্রেতারা ফোন করছেন। অনলাইনে অনেকে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। আবার অনেকে এর পালন পদ্ধতি শিখতে চাচ্ছেন। তবে কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    তিনি বলেন, ‘কোরবানির জন্য গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে ফোন কল আসছে। বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। তাই বিক্রি নিয়েও কোনো চিন্তা নেই।’

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু কায়েস বিন আজিজ বলেন, ‘দুম্বা পালনে রবিউলের সাফল্য অনেক। তাকে অনুরণ করে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন দুম্বা পালনে। সৈয়দপুরের কাঠারিপাড়ার সবুজ মাঠে এখন তাই মরুর প্রাণী দুম্বার বিচরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন সেই দৃশ্য দেখতে। কেউ কৌতূহলি হয়ে, কেউ ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজতে, আবার কেউ কোরবানির পশু হিসেবে দুম্বা কিনতে।’

    রবিউলের খামারের গল্প তাই শুধু দুটি দুম্বা থেকে ৬৫টি দুম্বায় পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি নতুন ধরনের পশুপালনে একজন তরুণের আগ্রহ, পরিশ্রম ও উদ্যোগেরও গল্প।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন এক দাতা সদস্য। একই সাথে শিক্ষকদের অফিসে নতুন করে তালা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসব করেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়’ নাম নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে ওই সময়ের দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নামটির প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

    বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে কলাগাছ লাগানো হয়েছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষের দরজায় নতুন করে তালা ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, এ কারণে বিদ্যালয়ের নলকূপ ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন তারা।

    স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ বলেন, ‘আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি ছিল। মামলা-মোকদ্দমার কারণে শিক্ষার্থী কমেছে। এরপরও নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। হঠাৎ করে আজাদ আলী এসে বিদ্যালয়ের ফটক ঘিরে দেয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা সমস্যায় পড়েছেন।’

    আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য ছিলেন। তার জমিতে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ হয়নি এবং ছেলের বউকেও চাকরি দেয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও কলাগাছ লাগিয়েছেন।’

    তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, ‘আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে জমি রেজিস্ট্রির সময় তার ছেলে ও ছেলের বউকে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার দাবি ওঠে। কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি নেয়।

    তিনি বলেন, কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে চাকরিরত অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মাধ্যমিক শাখায় অফিস সহকারী পদে নিয়োগের দাবি করেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয় এবং এ বিষয়ে রেজুলেশন রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। এর মধ্যেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।

    বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ‘কটি প্রতিষ্ঠান একদিনে দাঁড়ায় না। দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলছে।’

    তিনি জানান, গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।

    এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। রোববার পুঠিয়ায় ফিরে বিদ্যালয়টি চালু করার ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি বলেন, পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কেউ বন্ধ করতে পারবেন না। এ,আর

  • সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নানিয়ারচরে সেলাই প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাহাড়ি-বাঙ্গালি তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানিয়ারচর জোন।

    রোববার (৪ অক্টোবর) নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মশিউর রহমানের দিক নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম।

    এ প্রশিক্ষণের আওতায় পাহাড়ী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মোট ১৬ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষণটি আজ রোববার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    আয়োজকেরা জানায়, প্রশিক্ষণার্থীদের দর্জি প্রশিক্ষণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেলাই ও কাটিং বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ারা জানায়, দর্জি প্রশিক্ষণ একটি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক দক্ষতা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটিকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ নিজস্ব দর্জি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন বলেও জানায় তারা।

    সকল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রশিক্ষনার্থীদের অংশ নেয়ার সুযোগ পাওয়ায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহাদ্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ নানিয়ারচর গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান প্রশিক্ষনার্থীরা।

    এবিষয়ে নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নানিয়ারচর জোন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি পানীয় সেবনের পর মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরো চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান। এর আগে, ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামে।

    নিহত সাকিব উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনির মরহুম এফরান মিয়ার ছেল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে খালপাড় এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধু বিদেশ থেকে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা মিলনের বাড়িতে কয়েকজন যুবক শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। পার্টিতে তারা মদের সাথে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামে একটি পানীয় তৈরি করে সেবন করেন। পরে রাতের খাবার ও আড্ডা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।

    পরদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে সাকিবসহ পাঁচজন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাকিব ও মো: টিপুর (২৫) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তাদের নোয়াখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, অসুস্থ হয়ে পড়া সাইফুল ইসলাম পাখিকে (২২) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর যুবক মো: টিপু, মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মোহাম্মদ রাসেলকে (২৩) নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ,আর

  • নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নির্মাণাধীন সড়কে কংক্রিট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকের ধাক্কায়
    মনিজা খাতুন (৮০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
    রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের
    ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম উদ্দিন জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনিজা খাতুন ওই এলাকার মৃত সায়েদুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে মনিজা খাতুন হাবিবপুর বাজার থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গ্রাম্য সড়কে সংস্কারকাজের জন্য কংক্রিট পরিবহনে নিয়োজিত একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করে।
    কোম্পনীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কৃষক রমজান আলী। উন্নত জাতের বীজ, মালচিং পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাছের ঘেরের চারপাশে মাচা তৈরি করে চাষ করছেন অমৌসুমি তরমুজ।

    উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবদী গ্রামের কৃষক ইউনুস আলীর ছেলে রমজান আলী। বিএসএস পাস করেও চাকরির পেছনে সময় না দিয়ে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে কৃষিতে হাতেখড়ি তার। এরপর ধীরে ধীরে গতানুগতিক চাষাবাদ বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন।

    ২০১৪ সালে ঢাকা বিভাগের প্রথম দিকের চাষিদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন রমজান আলী। টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফলে যুক্ত হন তিনি। বর্তমান আবহাওয়া ও বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

    রমজান আলী প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির চারপাশে মাচা তৈরি করে ‘কালাচান’ ও ‘তৃপ্তি’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মাচার নিচে রয়েছে মাছের ঘের। মাচা থেকে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের ছোট-বড় তরমুজ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারে আসার কথা রয়েছে।

    তরমুজের পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে করলা, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিও চাষ করছেন তিনি। তার আধুনিক চাষাবাদ ও পরামর্শ নিতে স্থানীয় কৃষকরাও তার জমিতে আসছেন।

    রমজান আলী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার আগ থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। গতানুগতিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছি। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়েছি। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর চেষ্টা করি। আমার উৎপাদিত ফসল যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া কাঁচাবাজার এবং ফলের আড়তে বিক্রি হয়। কৃষিকাজ স্বাধীন পেশা। বর্তমানে আধুনিক কৃষি থেকে মাসে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করি।’

    মালচিং পদ্ধতি সম্পর্কে রমজান আলী বলেন, ‘অল্প বিনিয়োগে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কম সময়ে কৃষক লাভবান হতে পারেন। আমি চাই, এলাকার অন্য কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হোন।’গৌরবদী গ্রামের কৃষক জহির আলম বলেন, ‘রমজান আলী এ এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর পরামর্শে অনেকেই চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করে লাভবান হয়েছেন। তিনি পোকামাকড় দমনে জৈব পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তাঁর চাষাবাদ দেখে অন্য কৃষকরাও আধুনিক কৃষির দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হলেও একসময় চাষাবাদ করে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পেতেন না। রমজান আলী আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি সবজি ও ফল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। তাঁকে দেখে এবং তাঁর পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেক কৃষক লাভজনক কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনুকূল পরিবেশ ও বাজারদর থাকলে লাখ টাকার বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে। রমজান আলীর তরমুজ চাষ এই এলাকার কৃষকদের জন্য একটি ভালো উদাহরণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাচায় তরমুজ চাষ একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এতে জলাবদ্ধতা বা অনাবাদি জমিও কাজে লাগানো সম্ভব। মাচায় চাষ করায় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে এবং ফল মাটির সংস্পর্শে না থাকায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কম থাকে।’

    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তরমুজ সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন বর্ষাকালেও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এ সময় বাজারে তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় কৃষক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। রমজান আলীর মতো কৃষকেরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যদেরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

  • নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    স্বল্প খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দিন দিন বাড়ছে কলার আবাদ। উৎপাদিত নেপালি সাগর জাতের কলার চাহিদা ও খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচ্ছলতা ফিরেছে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের কাজীহাটা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. আসিফ আওয়াল উৎসের।

    গত বছর প্রথমবার চাষ করেই ভালো ফলন পান তিনি। বড় আকারের কাঁদি ও আকর্ষণীয় গড়নের কলা ব্যাপারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে উৎসাহিত হয়ে এবার কলাবাগানের পরিধি আরও বাড়িয়েছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তার অধিকাংশ কলাগাছে ফল ধরেছে। বাগানজুড়ে কলার কাঁদি ঝুলছে। এ সাফল্যে আসিফ আওয়াল উৎসের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিনিয়ত আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ তার কলাবাগান দেখতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে কলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও নিচ্ছেন। নিয়মিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করে আসছেন তিনি।

    তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও নেপালি সাগর জাতের কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় একবার চারা রোপণ করে বছরে তিনবার কলা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। নেপালি সাগর ছাড়াও তিনি সবরি, চাঁপা, চিনি চাম্পা ও জি নাইনসহ বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ করে থাকেন।

    আসিফ আওয়াল উৎস জানান, একবার চারা রোপণ করে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম অথচ লাভ বেশি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করেছি। এ জাতের কলা বড়, সুস্বাদু ও রং সুন্দর হওয়ায় দেশের সব জেলাতেই এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রথমবারেই খরচের টাকা বাদ দিয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। ওই জমি থেকে এখনো দুইবার কলা পাওয়া যাবে।’

    স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান চাষে লাভ খুব কম। কিন্তু কলা চাষে খরচের প্রায় দ্বিগুণ আয় হয়। তাই এখন অনেকেই এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি কলাবাগানে অনেকের জীবিকার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    কলাবাগান পরিচর্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি আসিফ ভাইয়ের কলাবাগান নিয়মিত পরিচর্যা করি। কলার কাঁদি বা থোড় যখন বড় হতে শুরু করে, তখন বাতাসের কারণে কিংবা ওজনের চাপে গাছ যেন হেলে বা ভেঙে না পড়ে, সেজন্য বাঁশ বা লাঠি দিয়ে শক্ত খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়ার কাজের দিকে আমাকে বেশি নজর রাখতে হয়।’

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা স্বজল ইসলাম জানান, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো কলার আবাদ করেননি। তাই আসিফ আওয়াল উৎসের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এবং তাঁর ২৫ বিঘা জমির নেপালি সাগর জাতের কলাবাগান দেখতে এসেছেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সদরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় কলার চাষ বেড়েছে। কলা চাষে লাভ হওয়ায় চাষিরা এ ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কাজীহাটা ব্লকে আসিফ আওয়াল উৎস ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কলা সরবরাহ করে থাকেন।

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, কলাচাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। আসিফ আওয়াল উৎস এবার ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কলায় কার্বাইড ও বিষাক্ত স্প্রে ব্যবহার না করার জন্যও চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • শখের মোটরসাইকেলেই শেষ হলো জুবায়েরের জীবন

    শখের মোটরসাইকেলেই শেষ হলো জুবায়েরের জীবন

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ‘মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার পর থেকেই ভয় হতো। বাইরে থাকলে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলেই বুক কেঁপে উঠত ,এই বুঝি কোনো দুঃসংবাদ এলো।’ ছেলের মরদেহের পাশে বসে কথাগুলো বলছিলেন জুবায়ের হোসেনের বাবা আলীম দফাদার। কিছুক্ষণ পরপর কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।

    রোববার সকালে যশোরের চৌগাছায় পিকআপের ধাক্কায় নিহত হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন (১৫)। তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই সহপাঠী আহত হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ফাসতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জুবায়ের উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আলীম দফাদারের ছেলে। আহত দুই শিক্ষার্থী হলো একই গ্রামের লিখন (১৫) ও ফাহিম (১৫)। তারা তিনজনই চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্বজনেরা জানান, সকালে জুবায়েরের পালসার মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। ফাসতলা এলাকায় পৌঁছালে মহেশপুরের দিক থেকে আসা একটি পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে পিকআপটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জুবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লিখন ও ফাহিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তারা আশঙ্কামুক্ত।

    হাসপাতালে ছেলের মরদেহের পাশে বসে আলীম দফাদার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে। জুবায়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত। অনেক দিন ধরেই মোটরসাইকেলের জন্য বায়না করছিল। আমি কিনে দিতে চাইনি। পরে ওর ভাইও বলল, যেহেতু বায়না করছে, কিনে দিতে। সাত-আট মাস আগে পালসার মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলাম।’

    তিনি বলেন, ‘যেদিন মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছি, সেদিন থেকেই ও বাইরে থাকলে ভয় হতো। অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই মনে হতো, এই বুঝি কোনো দুঃসংবাদ এলো। আজ সেই ভয়টাই সত্যি হলো।’

    এ কথা বলতে বলতে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি।

    ছেলের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন জুবায়েরের মা। আহাজারি করে তিনি বলছিলেন, ‘ও বাবা, তুই কেন কথা শুনলি না? মোটরসাইকেল নিতে তোকে নিষেধ করেছিলাম। তোর বাবাও নিষেধ করেছিল। তুই কেন শুনলি না?’

    জুবায়েরের কয়েকজন বন্ধু জানান, মোটরসাইকেল চালানোর প্রতি তার বেশ আগ্রহ ছিল। তাদের দাবি, জুবায়ের প্রায়ই ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে মোটরসাইকেল চালাত। তবে রোববারের দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটির গতি কত ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জুবায়েরের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীনের অনুমোদনের পর দলীয় প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে নেছারাবাদ ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনও ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    এদিকে স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য রাখা ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পরে বুধবার সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয়ে গিয়ে নেওয়া দুধের ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ এর আগে বলেছিলেন, তারা ৩ প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে জমা দেন।

    ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    তাছাড়া ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • মহেশপুর ড্রাগন ক্ষেতে বিদ্যুৎ ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    মহেশপুর ড্রাগন ক্ষেতে বিদ্যুৎ ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে ড্রাগন ফলের বাগানে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদ হোসেন (১৩) নামে এক কিশোর কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভৈরবা গ্রামের মাঠে একটি ড্রাগন বাগানের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত জিহাদ হোসেন চুন্নিরাইট গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর জিহাদ আর বাড়িতে ফেরেনি।

    পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ভৈরবা গ্রামের একটি ড্রাগন বাগানের পাশে জিহাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন।

    নিহতের স্বজনদের দাবি, ড্রাগন বাগানে যাওয়ার সময় সেখানে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় । বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • বিষ দিয়ে বেগুনখেতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    বিষ দিয়ে বেগুনখেতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ছয়ঘটি মৌজায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে প্রায় ১ একরের ফলন্ত বেগুন ক্ষেতে ঘাস মারা তরল বিষ প্রয়োগ করায় ফলসহ বেগুন গাছগুলি মরে যায়।

    প্রতিহিংসা কিংবা পূর্বশত্রুতার কারণে এমনটি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার লোকজন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মৃত মোফাজ উদ্দিনের ছেলে দুলাল হোসেন জানান, তার বন্ধকি জমিতে বেগুন ক্ষেতে দুষ্কৃতকারীরা বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে।

    এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ সরজমিন তদন্ত করেছে।

    কৃষক দুলাল হোসেন জানান, এই জমি একই এলাকার হাজি গোলাম মোস্তফার নিকট বন্ধক নিয়েছে, ইতোপূর্বে হাজি সাহেবের এক আপন ভাগিনার কাছে জমিটি বন্ধক ছিল এবং সে চাষাবাদ করত।

    বর্তমানে তাদের (হাজি ও তার ভাগিনার) মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছে বলেও কৃষক দুলাল উল্লেখ করেন। তবে কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা তিনি নিশ্চিত নন।

    শনিবার সরজমিনে গেলে দেখা যায়, জমির প্রায় প্রতিটি বেগুন গাছে থোকা থোকা বেগুন ঝুলছে কিন্তু বিষ প্রয়োগের ফলে বেগুনসহ অধিকাংশ গাছ মরে যাচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট পাল্টাপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দ্রুত ঐ ক্ষেতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য বলেছেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দুলাল জানান, তাই সেচ দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এবং শরিফ মেম্বারসহ অনেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানা সাইফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেছে, দুষ্কৃতকারীদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল। ভাল দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ ।

    কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমী ফল হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি আর পরিবর্তিত ভাবনায় পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক বছর আগে দু-এক জন চাষি অসময়ে তরমুজ চাষ করলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে এই তরমুজ চাষ করা হলেও এবার চাষ হয়েছে প্রায় দেড়শ একর জমিতে। ফলন ও দাম উভয় ভাল পেয়েছেন চাষিরা। লভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।আব্দুল কাদের নামে এক তরমুজ চাষি জানান, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার দানাজপুর গনেশ ফার্মে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের জমি লিজ নিয়ে প্রতি বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করেন। বেশ লাভ পান। এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকার ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

    তরমুজ চাষি রজব আলী, কালি চরণ ও জহিরুল ইসলাম জানান, গনেশ ফার্মে এবার দেড়শ বিঘা জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল প্রায় একশ বিঘা জমিতে। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তরমুজ বিক্রি হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তরমুজ বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় না। মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। দুই মাসেই তরমুজ তোলা যায়। অল্প সময়ে লাভ ভাল হওয়ায় আবাদ বাড়ছে। আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হাসান জানান, তরমুজ চাষের প্রধান সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে অসময়ে ব্লাক বেরি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভাল হয়। স্বাদও ভাল হয়। তারা অসময়ে তরমুজ চাষ করার জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তবে এ তরমুজ চাষে ঝুকিও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।