শিরোনাম

  • মতলবে আগুনে ৫ বসতঘর ভস্মীভূত, আহত ২

    মতলবে আগুনে ৫ বসতঘর ভস্মীভূত, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে আগুন লেগে পাঁচ পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর ও বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নিভাতে গিয়ে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মাছুয়াখাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মো: জালাল জমদ্দার, মো: সেলিম জমদ্দার, সুফিয়ান জমদ্দার, কামরুল জমদ্দার ও মানিক মিয়া।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে জালালের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের ঘর ও রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

    ক্ষতিগ্রস্ত জালাল বলেন, ‘আগুনে আমাদের ঘরগুলো পুড়ে গেছে। পাঁচটি বসতঘর, পাঁচটি রান্নাঘর, স্বর্ণালঙ্কার, মালামালসহ সব পুড়ে গেছে। আমাদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু পড়নের কাপড়টা ছাড়া আর কিছু নেই। এখন খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আমাদের কোনো জায়গা নেই।’

    মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পাঁচটি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন। একটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা গেছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’ এ,আর

  • আরো শক্তিশালী হচ্ছে ইরান

    আরো শক্তিশালী হচ্ছে ইরান

    রাশিয়া ইরানকে উন্নত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে । নিজ দেশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান দেওয়া অস্ত্র সরবরাহের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সি ৪৩০ এল নামে পরিচিত এই গোপন কর্মসূচি ২০২৩ সালে শুরু হয় এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ও তা অব্যাহত রয়েছে।

    এই কর্মসূচির আওতায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়ার জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা সরাসরি ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের কাজের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন বা র‍্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে উড়ে সুপারসনিক গতি বজায় রাখতে পারে। ইরান এরই মধ্যে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে।

    রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের এই র‍্যামজেটের উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, এয়ার ইনটেক বা বায়ুপ্রবেশপথ এবং ইঞ্জিনের নজেলসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের ইরানি সমকক্ষদের পরামর্শ দিয়েছেন।

    এই সহায়তা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ইরানকে উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন পরিবার নিজস্বভাবে উৎপাদন ও আরো উন্নত করার সক্ষমতা দিতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ২০ বছরের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

  • নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়ের পর দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায় সাত ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরকান্দা উপজেলার প্রধান বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান।

    অভিযানকালে উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী সোহেল রানা চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী শরিফুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর শপিংমল, মার্কেট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরকান্দা বাজারে তদারকি অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সাথে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।’

    তিনি আরো জানান, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে নগরকান্দা উপজেলায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • শেরপুরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান, ১ জনকে কারাদণ্ড

    শেরপুরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান, ১ জনকে কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযানে মো: আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের উদ্যোগে প্রায় ছয় ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজ্জাক নকলার গনপদ্দী ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের মরহুম সুরুজ আলীর ছেলে।

    জানা গেছে, অভিযানে ওই এলাকায় রাজ্জাককে তিনটি বক ও বক শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি।

    অভিযানে পাখি শিকারের আটটি হালা (শিকারের সরঞ্জাম) ও ১২টি বক উদ্ধার করা হয়। পরে বকগুলো অবমুক্ত করা হয়। এ ছাড়াও পাখির সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে এলাকাবাসীর মঝে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।

    অভিযানে শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো: আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো: মুগনিউর রহমান মনিসহ স্বেচ্ছাসেবী ও অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন জানান, পাখি শিকারী রাজ্জাককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। এ,আর

  • মহেশপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কর্মী সমাবেশ।

    মহেশপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কর্মী সমাবেশ।

    মহেশপুর (ঝিানাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু এবং জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ড. নান্নু মিয়া।

    এ ছাড়া বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

    সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সর্বত্র। বেড়েছে বাস ভাড়া, পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক-লরি ভাড়া এবং সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। শিল্পোৎপাদন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়েছে অস্বাভাবিক চাপ। অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে ঝগড়া-বিবাদও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও কাঁচা বাজারগুলোতে বিবাদ বেশি দেখা গেছে।

    উত্তাপ লেগেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের গায়ে

    * বেড়েছে বাস-ট্রাক ভাড়া

    * সবচেয়ে বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক-হেলপার, কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভ ও হতাশা। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না কেউই। কারওয়ান বাজারের টং দোকানি বাবলু শেখ বলেন, ‘তেলের দাম বাইড়া যাওয়ায় গত দুইদিন ধইরা বিক্রি অনেক কোইমা গ্যাছে। মানুষ মনে হয় চা খাওয়াও ছাইড়া দিছে!’

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া কিলোমিটার (কিমি) প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ছিল দুই টাকা ৫৩ পয়সা। নতুন ভাড়া হবে দুই টাকা ৭০ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হবে দুই টাকা ৫৯ পয়সা।

    রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ডের দূরত্ব ১৪.৪০ কিমি। নতুন নির্ধারিত কিমিপ্রতি ২.৭০ টাকা পয়সা হিসাবে এ পথের ভাড়া হবে ৩৮.৪৪ টাকা। এই রুটের লাব্বাইক পরিবহনে আগেই নেওয়া হতো ৪০-৪৫ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। ফার্মগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত এতদিন ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা।

    অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিমিপ্রতি ভাড়া এতদিন ছিল দুই টাকা ২৩ পয়সা। বর্ধিত ভাড়া হবে দুই টাকা ৪০ পয়সা। যদিও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রুটেই তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে যাত্রীপ্রতি ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আর ঢাকার বাইরে দূরত্ব ও বাসভেদে ভাড়া বেড়েছে যাত্রীপ্রতি ৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারের তর্ক-বিতর্ক ক্রমেই ঝগড়া-বিবাদে রূপ নিচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে প্রভাব

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কাঁচাবাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫-১৫ টাকা বেড়েছে। ৬০-৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৭০-৮০ টাকা। সবচেয়ে কম দামি সবজি আলু ও পেঁপের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪০ টাকায়। বেগুনসহ কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম আগে থেকেই বেশি। এখন পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থা। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত বিতর্কে লিপ্ত হলেও সমাধানের কোনো সূত্র তারা বের করতে পারছেন না। পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে পারিবহন খরচ দূরত্ব ও ট্রাকভেদে ২০০০-৬০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

    বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পেতে লাখ লাখ শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত যুবক রাইড শেয়ারিং তথা মোটর সাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবনযাপনের পথ বেছে নিয়েছেন। অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। রাইড শেয়ারার আলাউদ্দিন বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, কিন্তু মোটর সাইকেলের ভাড়া বাড়েনি। যাত্রী কম হওয়ায় একটি ট্রিপের (যাত্রা) জন্য কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৮০০-৯০০ টাকা আয় করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

    শিল্পোৎপাদনে গতি কমবে

    বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল, সিরামিকসহ সব রকম কারখানায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেল প্রয়োজন উল্লেখ করে উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসবে।

    বেড়েছে ট্রাক ভাড়াও

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে। দূরত্ব, পরিবহনের আকার ও পণ্যভেদে প্রতি ট্রিপে ভাড়া বেড়েছে ২০০০-৮০০০ টাকা। জ্বালানির পাশাপাশি টায়ার, যন্ত্রাংশের মূল্য এবং ফেরি ভাড়া বৃদ্ধির কারণেও ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাড়তি খরচ সামলাতে না পেরে অনেকে ট্রাক বের করছেন না বলেও জানা গেছে। বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২০-২১ হাজার টাকা। গতকাল সেই ভাড়া নেওয়া হয়েছে ২৫-২৬ হাজার টাকা। ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাক সংকটের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি করায় বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে অনেকে আমদানি করা মালামাল খালাস করতে সমস্যায় পড়েন। তারা জানান, প্রতিদিন যেখানে ৪০০-৬০০ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোডিং হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    সুতা আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, হুমকিতে দেশি উদ্যোক্তারা

    সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি

    কোনো আলোচনা, গণশুনানি, জনপরামর্শ ও অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা কিংবা মূল্যবৃদ্ধির সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রকাশ্য মূল্যায়ন ছাড়াই আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, অপরিণামদর্শী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় মন্তব্য করে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আদিল খান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

    বিদ্যুতের দামও কী বাড়বে?

    বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভর্তুকি কমাতে এমনিতেই বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়াতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ অব্যাহত আছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। কারণ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে। তাদের অনুমান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভর্তুকি কমাতে শিগগিরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সমস্যা, কমালেও সমস্যা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয় কমাতে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর চিন্তা করা হয়, সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান লোডশেডিং আরো বাড়বে।

    যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, কৃষির উৎপাদন, শিল্পোৎপাদন— সবই বাড়বে জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে কারখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। কারখানা থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয়ও বাড়বে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এমনিতেই নিম্নআয়ের মানুষ তীব্র চাপে আছেন। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়ানোয় পরিবারের মাসিক বাজেটে আরো বড় চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বৈষম্য আরো বেড়ে যাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখতে হতে পারে।

    বারবার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালে দেশে দারিদ্র্য বেড়ে যাবে আশঙ্কা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিমধ্যে দারিদ্র্য বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারের ব্যয় কমানোর দিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • মহেশপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর পৌর যুব সমাবেশ।

    মহেশপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর পৌর যুব সমাবেশ।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার উদ্যোগে মহেশপুর বায়তুন নূর ভবনের অডিটোরিয়ামে বিশাল এক যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ২১/৯/২৬ তারিখে মহেশপুরে বাইতুন নূর ভবনে র

    অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার উদ্যোগে বিশাল এক যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত পৌর যুব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় জাতীয় সংসদ, সদস্য ঝিনাইদাহ -৩ এর মাননীয় এমপি মোঃ মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইসমাইল হোসেন পলাশ। প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, মহেশপুর কোটচাঁদপুর এর গণমানুষের নেতা এমপি মতিয়ার রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশে যুবকরাই নেতৃত্ব দিবে। সুতরাং এই যুবকদেরকেই গড়ে তুলতে হবে সৎ ও দক্ষতার সাথে। মাননীয় এমপি মহোদয় বলেন, যুবকরা সমাজে যে ভূমিকা রাখতে পারে তা অকল্পনীয়। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুবকদেরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার কথা বলেন এবং সমাজে যুবকদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ সাংগঠনিকভাবে যুবকদেরকে এগিয়ে আসতে বলেন। তিনি তাকওয়াবান আল্লাহ ভীরুতা এবং সমাজে নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে, অন্যায় জুলুম দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে যুবকদেরকে দৃঢ়ভাবে ভূমিকা রাখতে বলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীতে আসতে হয়। সুতরাং এখানে কোন বৈষয়িক লাভের ব্যাপার থাকতে পারে না। যুবক বয়সের ইবাদতই আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়। যুব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলার সহকারি সেক্রেটারি হাসাদাহ কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ শরিফুল ইসলাম, মহেশপুর উপজেলা জামাতের বাইতুল মাল সেক্রেটারি গোলাম রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহেশপুর উপজেলা শাখার সভাপতি রাকিবুল হাসান বাচ্চুসহ স্থানীয় অনেক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ মজলিসে মুফাসসিরিন আইটি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর সঞ্চালনায় যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পৌর আমির মোঃ নওফেল হোসেন। মহেশপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত শতশত যুবকদের উপস্থিতিতে যুব সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

  • মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ।

    মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ।



    মহেশপুর (ঝিনাইদাহ) প্রতিনিধি

    মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর এবং ২১ সেপ্টেম্বর পরিচালিত এসব অভিযানে কোনো আসামি আটক করা যায়নি।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নিমতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৭২/৪-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সিংনগর গ্রামের হালদার পাড়া পাকা রাস্তা পার্শ্ব হতে হাবিলদার মো: শহর আলীর নেতৃত্বে নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আসামিবিহীন ৪৮ বোতল ভারতীয় সিরাপ (Wincorex Cough Syrup) আটক করা হয়।

    এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে গয়েশপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৬৮/৭-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া করিম মালিথার ধান ক্ষেতের মধ্য হতে সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পরিচালিত চোরাচালান বিরোধী অভিযানে আসামিবিহীন ১০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।

    এছাড়াও, একই দিনে আনুমানিক বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জীবননগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৬৮-এমপি থেকে প্রায় ৪ কিমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তেঁতুলিয়া এলাকার পাকা রাস্তার পার্শ্ব হতে হাবিলদার মো: হাসমত আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আসামিবিহীন ৪৮ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।

  • ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, গ্রেফতার ১

    ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাকিবুল হাসান রাকিব (১৯) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর বদির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার রাকিবুল হাসান রাকিব শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় সরকারপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ সরকারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিন যুবক যাত্রী সেজে ধুনট বাজার থেকে জয় নামে এক ইজিবাইক চালকের গাড়ি ভাড়া করেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারা ধুনট থানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে পাকা সড়কের একটি স্থানে পৌঁছালে চালককে ইজিবাইক থামাতে বলেন।

    ইজিবাইক থামানোর পর ওই তিন যুবক চালক জয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় জয়কে সড়কের ওপর ফেলে রেখে তার ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান ওই তিনি যুবক।

    পরে স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা জয়কে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আহত চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাকিবুল হাসান রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হলে, আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ,আর

  • নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালী সদরে অটোরিকশায় চার্জ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের খলিল মিয়ার দরজার হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

    রিপন ওই গ্রামের মো: মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এ,আর

  • ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে নারী আসামির যাবজ্জীবন

    ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে নারী আসামির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের বহুল আলোচিত সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় আসামি শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহা: হেলাল উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার বিবরণে যে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সকালে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা দিনভর আশপাশের বিভিন্ন স্থান ও পুকুরে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পায়নি। সারাদিন নিখোঁজের পরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনের ঘরের ভেতর থেকে শিশু সাবার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শান্তনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ ঘটনার ২৭ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী রাখা হয়।

    মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান ও অতিরিক্ত পিপি কাজী একরামুল হক আলম এবং রাষ্ট্রকর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আশরাফ জোয়ার্দ্দার মামলা পরিচালনা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার নথি অনুযায়ী, শান্তনা খাতুন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শিশু সাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

    জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়েরের সাথে খেলতে গিয়ে সাবার মারামারি হয়। একপর্যায়ে সাবার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি শান্তনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। এ,আর

  • রেডিও শুনে শুনেই হাফেজা সত্তরোর্ধ ২ নারী

    রেডিও শুনে শুনেই হাফেজা সত্তরোর্ধ ২ নারী

    অক্ষরজ্ঞান নেই, পড়তে বা লিখতেও পারেন না। তবে কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে রেডিওতে তেলাওয়াত শুনে শুনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন মিসরের সত্তরোর্ধ নারী সুকরা।

    একই বয়সে প্রায় এক দশকের সাধনা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পুরো কোরআন হিফজ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সানা। কোরআন হিফজের তাদের এ ব্যতিক্রমী ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    আরবি সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ মিসর জানায়, মিসরের মেনুফিয়া প্রদেশের বাসিন্দা সুকরা ৫০ বছর বয়সে কোরআন হিফজ শুরু করেন। গ্রামের এক নারী তাকে কোরআন মুখস্থ করতে উৎসাহিত করেন। শুরুতে তিনি প্রতিদিন মাত্র দুই আয়াত মুখস্থ করতেন এবং সারা দিন সেগুলো বারবার পড়তেন। পড়তে ও লিখতে না পারায় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শোনা এবং হিফজের আসরে অংশ নেয়াই ছিল তার প্রধান অবলম্বন।

    তার মরহুম স্বামীও তাকে নিয়মিত উৎসাহ দিতেন এবং তার অর্জন নিয়ে গর্ব করতেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় সুকরার ১৬ পারা মুখস্থ ছিল। এরপরও একপর্যায়ে হিফজ অব্যাহত রেখে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন।

    অন্যদিকে, সানা ছোটবেলা থেকেই কোরআন হিফজের স্বপ্ন দেখতেন। পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের বড় করার পর তিনি এতে আরো বেশি মনোযোগী হন। প্রায় ১০ বছর ধরে নিয়মিত প্রচেষ্টায় অবশেষে তিনি পুরো কোরআন হিফজ করতে সক্ষম হন।

    হিফজের সময় সানার স্বামীও তাকে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি স্বামীর কাছে মুখস্থ অংশটুকু শোনাতেন। এভাবে প্রায় এক দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তার কোরআন হিফজ সম্পন্ন হয়।

    সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে পুরো কোরআন তেলাওয়াত করেছেন সানা। একইসাথে সুকরা ও সানা বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ পারা করে পরস্পর কোরআন দাওর (পুনরাবৃত্তি) করেন। কোরআনের প্রতি তাদের এই গভীর ভালোবাসা সকলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

  • মতলবে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোচালকের নিহত

    মতলবে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোচালকের নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় রিকশাটির চালক ছিদ্দিক মিয়াজী (৪৮) নিহত হয়েছেন।

    আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নওগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ছিদ্দিক মিয়াজী উপজেলার মধ্য নওগাঁও গ্রামের মরহুম আব্বাস মিয়াজী ও মানিকজান বেগম দম্পতির ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর ১টার দিকে নিজের অটোরিকশা চালিয়ে ছিদ্দিক মিয়াজী তার বাড়ির পাশে নওগাঁও আড়ংবাজার থেকে উপজেলার নওগাঁও এলাকার হাজী মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার অটোরিকশায় কোনো যাত্রী ছিল না। নওগাঁও সেতু এলাকায় পৌঁছালে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি উল্টে যায় এবং সড়কের পাশে জলাবদ্ধ জমিতে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন চালক ছিদ্দিক মিয়াজী। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত অটোরিকশাচালকের বড় ভাই মো: হায়দার মিয়াজী বলেন, ‘ভাই আগে থেকেই কিছুডা অসুস্থ ছিল। তার আয়েই সংসারের খরচ চলত। ভাইডা মইরা গেল, এখন তার তিন ছেলেমেয়ে ও বউর অবস্থা কী হবে।’

    মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক অটোচালক ছিদ্দিক মিয়াজীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর

  • জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : রুবিও

    জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : রুবিও

    জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এ ধরনের কোনো বৈঠকের সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।

    আল জাজিরা মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জানায়, এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    ‘আমরা এ বিষয়ে উন্মুক্ত। এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে আমরা অবশ্যই এ ধরনের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত,’ টুডে শোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যদি এর মাধ্যমে ইতিবাচক কিছু অর্জনের সম্ভাবনা থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, তা অর্জন করা যায়।’

    রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

    ‘আর সেটাই এই পুরো বিষয়টির মূল কথা। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না। তারা কোনোভাবেই তা করতে পারে না,’ বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ায়

    বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ায়

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের চূড়ান্ত নথি থেকে নিজের নাম কাটার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল ও ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম।

    অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

    ঘটনার সূত্রপাত

    ঘটনাটির শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে জানায়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।

    রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় খোঁজ শুরু হয়। তবে ঠিক তার পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’।

    অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে অবস্থানকালে হত্যা, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর বিচারে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটির নিজস্ব আলাদা একটি তদন্তকাজ শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

    এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার মূল তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া।

    তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়।

    দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল।

    অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

    এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনে বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার দায়ে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে।

    এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে।

    ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’

    কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি।

  • মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলমের গর্ভধারিণী মা সাহারা বেগম (৬৫)। এক সময় মাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি ও তার পরিবার। অবশেষে অবসান হলো সেই দীর্ঘ অপেক্ষার। এতো বছর পর মাকে ফিরে পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা সন্তানসহ পরিবারের সবাই।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালার নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, ২০০৯ সালের শুরুতে বাড়ি থেকে হারিয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন সাহেরা। পরিবারের লোকজন আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তু থেমে যাননি ছেলে শাহ আলম। প্রিয় মাকে খুঁজে বের করতে ধারদেনা করে কেনেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সংসার চালানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি মাকে খোঁজে বেড়িয়েছেন। মায়ের মায়াবী মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রায় কেটে যায় ১৮ বছর।

    শুক্রবার সাহেরা এসে উপস্থিত হন বাড়ির পাশের একটি বাজারে। মা ফিরে আসার সংবাদ পেয়ে শাহ আলম ছুটে যান মায়ের কাছে। মাকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি। মা-ছেলের আকস্মিক এই আবেগঘন সাক্ষাতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    শাহ আলম বলেন, ‘১৮ বছর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মাকে পাইনি। মাকে ফিরে পাব, এমন আশাও ছিল না। মাকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। পাগল হলেও তিনি আমার মা। এতো বছর পর মায়ের সেবা করতে পারছি এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের।’

    স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছোট থাকতে সাহারা বেগম বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। দীর্ঘদিন পর তাকে খুঁজে পেয়ে পরিবারের সবাই অনেক খুশি।’

    মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক লোকজন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। সাহারা বেগম ফিরে আসার ঘটনায় আমরা সবাই আনন্দিত। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এতোদিন তিনি কোথায় ছিলেন ও কেমন ছিলেন তা জানা যায়নি।’ এ,আর

  • নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে

    নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে

    নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে যত মানুষ মারা গিয়েছিল, এবারের বন্যাতেও মৃতের সংখ্যা সেই পর্যায়ে যেতে পারে।

    ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ওয়াগলে বলেন, বন্যার প্রভাব ভৌগোলিকভাবে সীমিত এলাকায় হলেও এতে প্রাণহানির মাত্রা ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের মতোই ভয়াবহ হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এই তথ্য জানিয়েছে।

    ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নেপাল, চীন, ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ২১ হাজার আহত হয়েছিলেন।

    নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ।

    নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২০৬টি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের ১ হাজার ৮৮৯ স্বজনের কাছ থেকেও নমুনা নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০৫টি মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।

    নিখোঁজদের উদ্ধারে থার্মাল ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞদেরও নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি সুড়ঙ্গ থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, সীমিত আকাশসীমা এবং বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ।

    এদিকে বিদেশি নাগরিকদের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধার অভিযান নিয়ে নিয়মিত দেওয়া তথ্য-হালনাগাদ সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে।

  • কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব!

    কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব!

    কে হবেন জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব! এ নিয়ে কৌতুহল সারাবিশ্বে। তবে এর মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ পদে প্রার্থীর সংখ্যা সাত। এর মধ্য থেকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি বেছে নিতে বিশ্বশক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ পর্যন্ত তিন দফা গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। সম্ভবত মাত্র তিনজন প্রার্থী এখনো প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

    আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন মহাসচিব এমন একটি সংস্থার দায়িত্ব নেবেন, যেখানে ব্যয় কমানোর বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে এবং বিশ্বের বড় বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে এখন অনেকটাই প্রান্তিক অবস্থানে দেখা হচ্ছে। তবে জরিপগুলোতে এখনো জাতিসংঘের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী জনসমর্থনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য মানুষ শুধু জাতিসংঘকে নয়, বিশ্বের নেতাদেরও সমানভাবে দায়ী করছে।

    গত সপ্তাহে জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের জন্য জিওপোলের করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে ৮৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না অথবা খুব সামান্য জানেন।

    সফল প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয়জন বর্তমান সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স, বৃটেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি দেশও যেন ভেটো না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজনের ব্যাপকতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ৩১শে ডিসেম্বর।

    শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যেসব নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের মধ্যে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী ও জাতিসংঘে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত লানা নুসেইবেহ এবং জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যপন্থী রাজনীতিক সিগরিড কাগ। গাজায় জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি অল্প সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর উপদেষ্টা কমিটিতে যোগ দেন।

    আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন কাজাখস্তানের বহুভাষী প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেখানোর ক্ষেত্রে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ট্রাম্প এখনো অরবানকে যথেষ্ট পছন্দ করেন। তবে ইউরোপের অনেক নেতা তাকে বিভেদ সৃষ্টিকারী জনতুষ্টিবাদী হিসেবে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ভুক জেরেমিচের নামও আলোচনায় এসেছে। ২০১৬ সালের মহাসচিব নির্বাচনে তিনি গুতেরেসের পর দ্বিতীয় হয়েছিলেন। তবে আলোচনায় আসা এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর কেউই প্রকাশ্যে জানাননি যে তারা প্রার্থী হতে চান।

    এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ২১টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টি পূর্ণ সদস্য। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করছি, এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মাত্র একজন এবং আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে মাত্র দু’জন করে নাগরিক এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দেরিতে কোনো প্রার্থীকে প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হলে তার দেশ বা অঞ্চল যা-ই হোক, অনেকে এতে অসন্তুষ্ট হতে পারেন।

    কারণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক করার জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক এই নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্যের কাউকেই অসন্তুষ্ট না করার প্রয়োজনীয়তা প্রার্থীদের এমন কিছু বক্তব্য দিতে বাধ্য করছে, যা কিছুটা নিরস এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। অথচ জাতিসংঘের এই মুহূর্তে প্রয়োজন দৃঢ় নেতৃত্বের। সব প্রার্থীই বলেছেন, তারা জাতিসংঘকে আবার শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকায় ফিরিয়ে আনতে চান।

    ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু অনভিজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিকও প্রায়ই জাতিসংঘের কাছে এই ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে থাকেন। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের তৃতীয় ও শেষ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে আবারও এগিয়ে গেছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের নয় সদস্য তাকে ‘উৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন। পাঁচজন তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন এবং একজন কোনো মতামত দেননি। গ্রিনস্প্যানের আশঙ্কা, ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও চীন থাকতে পারে। এই বিরোধিতা তাকে অতিক্রম করতে হবে।

    ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি গায়ানার রাজনীতিক ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটের পেছনে পড়ে যান। ওই ভোটে রড্রিগেজ-বিরকেট প্রথম হন। তিনি আটটি ‘উৎসাহিত’ ভোট, তিনটি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট এবং চারটি ‘কোনো মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। গত শুক্রবার রড্রিগেজ-বিরকেটের ‘উৎসাহিত’ ভোটের সংখ্যা আটটিই ছিল।

    তবে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোট তিনটি থেকে বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় প্রার্থী ইকুয়েডরের সাবেক অর্থমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসাও এখনো কোনোভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন। তবে গত সপ্তাহে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোটের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল তিনটি।

    এসপিনোসা জাতিসংঘের ভেতরে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন মহাসচিব চান, যিনি মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে আরও বেশি প্রস্তুত থাকবেন।

    প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না কোনো প্রার্থী অতিক্রম করা অসম্ভব কোনো বাধার মুখে পড়েছেন কি না। কারণ তখন রঙভিত্তিক ব্যালটের মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো ভোট নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে এসেছে কি না। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দরকষাকষির ওপর।

    চীন জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়- এ বিষয়টি মেনে নেন কি না তিনি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হতে পারে, চীন যে প্রার্থীকে চায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন একজন প্রার্থীকে মেনে নেবে যাকে তারা অন্তত সহ্য করতে পারে।

    জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিয়ে তাদের আগের সংশয় কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র শুধু অতিরিক্ত ১৮০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দেয়নি, সম্প্রতি জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদা বাবদ আরও ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারও দিয়েছে।

    তবে এই অর্থও আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বকেয়া অর্থের এক-চতুর্থাংশেরও কম। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মানবাধিকারকর্মী মিশেল বাচেলেট সপ্তাহান্তে এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানো প্রথম প্রার্থী হন। গত সপ্তাহের ভোটে তিনি মাত্র একটি ‘উৎসাহিত’ ভোট পাওয়ার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

  • কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার শহরতলির ত্রিমোহনী বাজারে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দোকান থেকে পাওয়া ২৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিমোহনী বাজারের রোহান ট্রেডার্সে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানে থাকা সার পরীক্ষা করে মানহীনতা ও প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দোকান মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইসাথে জব্দ করা ২৫ বস্তা ভেজাল সার ধ্বংস করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত ইয়াসমিন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারি, ত্রিমোহনীর এক ডিলার ভেজাল সার বিক্রি করছেন। ওই ডিলার অন্য একটি স্থান থেকে সার এনে বিক্রি করতেন। অভিযান চালিয়ে সেখানে ২৫ বস্তা ভেজাল সার মিশ্রিত বস্তা পাওয়া যায়। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সারের সঙ্কটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল ও নকল সার বিক্রি করছেন। এসব সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নকল ও ভেজাল সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন

    সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাগরিক সমাজের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন নুরু রহমান, তাওফিকুল ইসলাম ও আবুল হোসেন। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর তাদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়।

    দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাছাই কমিটিতে আবেদনকারী সার ডিলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা, অযোগ্য আবেদনকারীদের বাতিলের কারণ প্রকাশ করা এবং যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত সংখ্যার বেশি হলে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করা।

    এছাড়া স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুবিধা না দেয়ার দাবি জানানো হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যারা সার ডিলারশিপ পেতে আবেদন করেছিল, সেই আবেদনে সরকারি দলের কতিপয় নেতার যোগসাজসে যোগ্যদের বাদ দিয়ে দলীয় লোক নিয়োগ দেয়ার পায়তারা চলছে। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগ দেয়ার দাবি জানান।

    তারা আরো বলেন, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হলে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে জেলার কৃষকদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনকারীরা।

    তারা বলেন, মেহেরপুরের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষক। কৃষকদের যাতে বঞ্চিত হতে না হয়, ফসলের উৎপাদন যাতে ব্যহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ,আর

  • চারভাগ হচ্ছে উত্তর প্রদেশ

    চারভাগ হচ্ছে উত্তর প্রদেশ

    খুব শিগগিরই ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যকে ভেঙে চারটি নতুন রাজ্য তৈরি করা হবে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং সোহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর।

    তার দাবি, নতুন ‘পূর্বাঞ্চল’ রাজ্য গঠিত হলে সেখানকার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হবেন রাজভর সম্প্রদায়েরই কেউ।

    আম্বেদকরনগরে এক জনসভায় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার এই বিষয়ে কথা হয়েছে। জাতি শুমারি শেষ হওয়ার পরেই রাজ্য ভাগের এই কাজ শুরু হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

    প্রস্তাবিত চারটি নতুন রাজ্য হলো—পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড এবং হারীত প্রদেশ। রাজভরের মতে, পূর্বাঞ্চলে রাজভর জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তাই সেখানকার ক্ষমতার শীর্ষে এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিই থাকবেন।

    ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজভরের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতির পুরোনো রাজ্য ভাগের আলোচনাকে আবার গরম করে তুলেছে। বিশাল এই রাজ্যটিকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ভাগ করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০১১ সালেও মায়াবতীর সরকার বিধানসভায় চার ভাগে ভাগের প্রস্তাব পাস করলেও কেন্দ্র সরকার তখন অনুমোদন দেয়নি।

    সমাবেশে অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) ২৭ শতাংশ কোটার সুবিধা সবাই যেন সমানভাবে পায়, সে বিষয়েও জোর দেন রাজভর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতি শুমারির পর অনগ্রসর শ্রেণীর সবার জন্য ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচদিন পর মামুন হোসেন অন্তর (৩১) নামে এক ট্রাক ড্রাইভারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উথলী গ্রামের আখসেন্টারের পেছনের একটি আমগাছ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মামুন ওই গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

    জানা গেছে, দুপুরে মামুনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।

    পেশায় ট্রাকচালক মামুন বেশ কিছুদিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবার ফেলে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। তবে কয়েকদিন তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ পচে যাওয়ায় সঠিকভাবে তাকে চেনা যায়নি। তবে পরনের পোশাক দেখে লাশটি মামুনের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘লাশ ঝুলে থাকার খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার হাসাড়া-সিংপাড়া কেসি সড়ক-সংলগ্ন একটি আবাদি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, কেসি সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় তারা ওই এলাকা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পায়। পরে আশপাশে খোঁজ নিয়ে জমির মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ওই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, গত তিন-চার দিন আগে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এই পুরুষের লাশটি ফেলে রাখা হয়। পিবিআই টিমকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা এল লাশের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

  • নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট

    নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী তেহরান ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক দরবারে ইরান নিজের অধিকার ও অবস্থান বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে শক্তভাবে তুলে ধরবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক কঠিন বার্তা দেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, চাপ সৃষ্টি বা গায়ের জোর খাঁটিয়ে কোনো স্বাধীন জাতিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।

    এই সফরের সার্বিক বিষয় তদারকি করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যেই নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি সোমবার সেখানে পৌঁছান এবং জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে মূল প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

  • ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি মাছ আবাদি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রেললাইনের পূর্ব পাশে খালটিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখা যায়। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধা করে পুলিশ।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, লাশটি শনাক্তকরণ ও পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও অন্যান্য তথ্য জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভেড়ামারা থানা পুলিশ উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ,আর

  • ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ১১

    ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ১১

    তুরস্কের মানিসা প্রদেশের একটি কারিগরি স্কুলের সামনে হঠাৎ এক কিশোরের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লাস শুরুর মুখে ‘ইন্সি উজমেজ’ হাই স্কুলের বাইরে এই ভীতিজনক ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    হামলা চালিয়েই চম্পট দেয় অভিযুক্ত কিশোর। পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিদ্যালয়টিরই ১৫ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে আটক করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি বড় শটগান হাতে নিয়ে বেশ খোশমেজাজেই সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার এক পর্যায়ে গুলি চালিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল।

    দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছেলেটির দাদার। তাই ঘটনার মূল রহস্য বের করতে ছেলেটির পাশাপাশি তার বাবা, মা ও দাদাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নিয়ম মেনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হবে। তবে ঠিক কী কারণে সে এই কাণ্ড ঘটাল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত দল পাঠিয়েছে।

    চলতি বছরে এ নিয়ে তুরস্কে তিনবার স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটল। এর আগে গত এপ্রিলে কাহরামানমারাস শহরের এক স্কুলে ১৪ বছরের এক কিশোরের গুলিতে ৯ শিশু শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক মারা যান। একের পর এক এমন সহিংস ঘটনায় গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও স্কুলে নিরাপত্তা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিলেও এই ধরনের রক্তপাত থামানো যাচ্ছে না।

  • নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরছে শুভেন্দু

    নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরছে শুভেন্দু

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ফিরে যাচ্ছে পূর্বতন মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চলে আসছিল এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। এটি মহাকরণ নামেও পরিচিত।

    ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ২০১৩ সালে তিনি রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরিয়ে নিয়ে যান হাওড়ায় কলকাতার হুগলি নদীর অন্য পাড়ে। সেখানেই তিনি রাজ্য সচিবালয় গড়েছিলেন নবান্ন নাম দিয়ে।

    ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে পরাস্ত হন মমতা। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরকারে এসে ঘোষণা দেন, রাজ্য সচিবালয় ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী এই বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়। শুভেন্দু ক্ষমতা গ্রহণের পর অস্থায়ীভাবে তাঁর দপ্তরের কাজ নবান্নেই সম্পন্ন করছিলেন।

    রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার এবার পূজার আগেই নবান্ন থেকে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। জানা গেছে, পূজার আগে আগামী ১০ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীসহ আরও ৫ মন্ত্রীর দপ্তর শুরু হবে এই মহাকরণে। এসব দপ্তরের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখান থেকে দুর্গাপূজার আগেই মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ের কাজ শুরু করবেন। যদিও পূজা শুরু হবে ১৫ অক্টোবর থেকে। ওই দিন দুর্গাপঞ্চমী।

    আরও জানা গেছে, আগে এই মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর ছিল দোতলায়, এবার তা হচ্ছে তিনতলায়। সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরও প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের দপ্তর সংস্কার করে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজির দপ্তরও তৈরি করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দপ্তরের কাজ এখনো অনেকটা বাকি।

    ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল কলকাতার ঐতিহাসিক ডালহৌসি বা বিবাদী বাগের লালদিঘীর উত্তরপাড়ে। সেই ১৭৮০ সালে। এই ভবনের নকশা তৈরি করেছিলেন টমাস লায়ন। মূলত ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের কেরানিদের বসবাসের জন্য এখানে তৈরি করেছিলেন ১৯টি পৃথক ঘর। আগে এই স্থানে ছিল কলকাতার প্রথম চার্চ ‘সেন্ট অ্যান চার্চ।’ ষোড়শ শতকে নির্মিত হয়েছিল এই চার্চ।

    এটিই ছিল ব্রিটিশদের তৈরি প্রথম চার্চ। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ভেঙে গেলে সেখানে তৈরি হয় করণিক বা কেরানিদের থাকার আবাসস্থল। করণিকদের জন্য গড়া এসব আবাসস্থল পরবর্তী সময়ে হয়ে যায় মহাকরণ। আর সেদিন করণিকদের বলা হতো রাইটার্স। সেই হিসেবে এসব ভবনের পরবর্তী সময়ে নাম হয়ে যায় রাইটার্স বিল্ডিং।

  • অনুমতি ছাড়া পাহাড়ে :গুনতে হচ্ছে জরিমানা

    অনুমতি ছাড়া পাহাড়ে :গুনতে হচ্ছে জরিমানা

    মালয়েশিয়ার মাউন্ট কিনাবালুতে অনুমতি ছাড়া ওঠার পর দুর্ঘটনায় পড়ে কয়েক দিন আটকে থাকা এক ক্রোয়েশীয় পর্বতারোহীকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ৪৬ বছর বয়সি ওই পর্বতারোহীর নাম মাউরো পারসিক। তিনি লন্ডনে বসবাস করেন।

    পারসিক ৬ সেপ্টেম্বর মাউন্ট কিনাবালুতে ওঠার সময় একটি অননুমোদিত পথ ব্যবহার করেন। এ সময় তিনি প্রায় ১০ মিটার নিচে পড়ে যান। পরে দুর্বল মোবাইল ফোনের সংকেতের মধ্যেই জরুরি সহায়তার জন্য এসওএস পাঠান। দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও পাঁজরে আঘাত লাগে। পরে প্রায় পাঁচ দিন ধরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারীরা তাকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনেন।

    উদ্ধার অভিযানটি সহজ ছিল না। পারসিক যে পথে পাহাড়ে উঠেছিলেন, সেটি নির্ধারিত বা চিহ্নিত পথ ছিল না। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বৃষ্টিপাত ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকারীদের বড় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। দড়ি ও মই ব্যবহার করে তাকে স্ট্রেচারে করে নিচে নামানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন সংস্থার অন্তত ৪৩ জন সদস্য অংশ নেন।

    পাহাড়ে আটকে থাকার সময় পারসিককে কয়েক দিন খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। কাছের একটি ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করে তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে ভারি বৃষ্টির কারণে সেখানে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। একপর্যায়ে ঘুমের ব্যাগ পানির স্রোতে ভেসে যায় এবং তিনি একটি পাথরের সঙ্গে যুক্ত দড়ি ধরে নিজেকে নিরাপদ রাখেন।

    মাউন্ট কিনাবালু মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত। এর উচ্চতা ৪ হাজার ৯৫ মিটার। এটি বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে অবস্থিত এবং কিনাবালু পার্কের অংশ। পাহাড়টি স্থানীয় কাদাজানদুসুন জনগোষ্ঠীর কাছে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাহাড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    উদ্ধারের পর পারসিককে কিনাবালু পার্কে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। সাবাহ পার্কস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জরিমানার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং তিনি অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর তাঁকে পাহাড়ে ওঠার নিয়ম, নিরাপত্তাবিধি ও অনুমোদিত পথ ব্যবহারের বিষয়ে জানানো হয়।

    পারসিক পরে সাবাহর স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ, সংস্কৃতি বা পাহাড়কে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তার দাবি, প্রবেশ ফি এড়ানো বা ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভাঙা তার উদ্দেশ্য ছিল না। পাহাড়টির সৌন্দর্য দেখে আকস্মিকভাবে সেখানে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের পরিবেশের ক্ষতি না করার চেষ্টা করেছিলেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পাহাড়টির পবিত্রতার বিষয়টিও সম্মান করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, পাহাড়ে ওঠার আগে নিজের সিদ্ধান্তের ঝুঁকি ও পরিণতি যথেষ্ট বিবেচনা করেননি।

    ঘটনাটি শুধু একজন পর্যটকের দুর্ঘটনার বিষয় নয়। অনুমোদিত পথের বাইরে পাহাড়ে ওঠা পর্যটকের নিজের জীবন যেমন ঝুঁকিতে ফেলে, তেমনি তাকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। মাউন্ট কিনাবালুর মতো দুর্গম ও আবহাওয়াপ্রবণ এলাকায় তাই অনুমতি, প্রশিক্ষিত গাইড এবং নির্ধারিত পথ অনুসরণ করার বিষয়টি পর্যটন নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও ঘটনার পর পর্যটকদের অনুমোদিত পথ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। পারসিকের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত প্রাণহানিতে পরিণত না হলেও তার উদ্ধারে বহু মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালাতে হয়েছে। জরিমানা ও পরবর্তী সতর্কতা তাই পাহাড়ি পর্যটনে ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও নিরাপত্তাবিধি মানার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।

  • ফিজিতে ৬০ জনে একজন এইচআইভি আক্রান্ত

    ফিজিতে ৬০ জনে একজন এইচআইভি আক্রান্ত

    এইচআইভি সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। দেশটিতে গত কয়েক বছরে নতুন সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের হিসাবে, ২০২৫ সালে ফিজিতে প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের কথা জানতেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

    ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর দেশে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৩। অর্থাৎ এক বছরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশজুড়ে পরীক্ষার সুযোগ বাড়ায় আগে শনাক্ত না হওয়া অনেক রোগীও চিহ্নিত হয়েছেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে আনুমানিক একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন বলে ইউএনএইডসের হিসাব। পাঁচ বছর আগে এই অনুপাত ছিল প্রায় প্রতি ১৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্কে একজন। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে বলেও জানিয়েছে ইউএনএইডস।

    ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংক্রমণের প্রকৃতি বোঝার জন্য পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে শুধু সংক্রমণ বৃদ্ধি নয়, উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৬ জনে পৌঁছানোকে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ইউএনএইডস জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাধ্যম শনাক্ত করা গেছে, সেখানে অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার ঝুঁকি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

    তবে সংক্রমণ শুধু মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিজির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ। ২০২৫ সালে ৫৯টি শিশু এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেয় এবং তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রথম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বেড়েছে।

    ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু বলেছেন, পরিস্থিতিকে আর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকার এখন বিনা মূল্যে স্বেচ্ছামূলক ও গোপনীয় এইচআইভি পরীক্ষা সম্প্রসারণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি জোরদার করছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস বা প্রিইপি (সংক্রমণের আগে প্রতিরোধমূলক ওষুধ) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের জন্য সুচ ও সিরিঞ্জ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও করেছে সরকার। এর মাধ্যমে ব্যবহৃত সুচ ভাগাভাগির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ওষুধের ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিজি সরকার পাঁচজন মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি মন্ত্রিসভা উপকমিটি গঠন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য বিভাগকে যুক্ত করে নীতি ও বাস্তবায়নের বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএইডস ফিজির এই উদ্যোগে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের কাছে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয় করা বা বৈষম্যের শিকার হওয়া। ইউএনএইডস ও ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এইচআইভি দৈনন্দিন সাধারণ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না। কার্যকর চিকিৎসা গ্রহণ করে ভাইরাসের মাত্রা অনির্ণেয় পর্যায়ে রাখা গেলে যৌন সংক্রমণও প্রতিরোধ করা যায়। তাই ভয় বা ভুল তথ্যের পরিবর্তে পরীক্ষা, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

    ফিজির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম। এমন একটি ছোট জনসংখ্যার দেশে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। ইউএনএইডসের মতে, ফিজির বর্তমান পরিস্থিতি শুধু দেশটির জন্য নয়, পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্যও সতর্কবার্তা। ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হওয়ায় নতুন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    ফিজির সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও পরিস্থিতিকে আতঙ্কের বিষয় হিসেবে না দেখে দ্রুত সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো, মাদক ব্যবহারজনিত সংক্রমণ কমানো, মা ও শিশুর সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ফিজির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার—সবগুলো ব্যবস্থাই একসঙ্গে প্রয়োজন।

  • বাস ভাড়া বাড়ল, প্রতি কিলোমিটারে কত?

    বাস ভাড়া বাড়ল, প্রতি কিলোমিটারে কত?

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এই সিদ্ধান্তের পর এখন দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হলো। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২ টাকা ৭০ পয়সা।

    বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য ও শ্রমিকনেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যারা বেশি ভাড়া নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি জানান, বৈঠকে পরিবহন মালিকদের প্রস্তাব ছিল প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর। সেখান থেকে ৩ পয়সা কমিয়ে ১৭ পয়সা করা হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে জনসাধারণকে সেটা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এর আগে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন এই দাম গতকাল সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    নতুন দামবৃদ্ধির আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল। তবে নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ডিজেলের দাম বেড়ে লিটারপ্রতি ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা হয়েছে।

    এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের পর গতকাল বাস ভাড়াও বাড়ানোর প্রস্তাব দেন পরিবহন মালিকরা। কিলোমিটার প্রতি বাস ভাড়া ১৮ থেকে ২০ পয়সা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে প্রস্তাব দেন তারা। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

  • ট্রাম্প টিভি চালু ট্রাম্পের

    ট্রাম্প টিভি চালু ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’-এ ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, অনুষ্ঠান, ভিডিও ও বিভিন্ন কার্যক্রমের ফুটেজ সরাসরি এবং ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হবে।

    সোমবার চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের ‘বড় মুহূর্ত’, গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও নির্বাচিত ভিডিও ২৪ ঘণ্টা এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ থাকবে। প্ল্যাটফর্মটি বাস্তব সময়ে হালনাগাদ করার কথাও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এবং কয়েকটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। গত সপ্তাহে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই তিন সংবাদমাধ্যম সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। তারা অভিযোগ করেছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে।

    ট্রাম্প অবশ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান সমর্থন করেছেন। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি সুবিধা, অধিকার নয়।

    এরই মধ্যে মার্কিন টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচলিত প্রেস পুলেও সংকট তৈরি হয়েছে। সিএনএন, এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ ও এনবিসি সাধারণত প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করে এবং পরস্পরের মধ্যে সেই ফুটেজ ভাগ করে নেয়। সিএনএনকে প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের কর্মসূচির পুল কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    ফলে সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও প্রচলিত টেলিভিশন প্রেস পুলের সরাসরি ভিডিও কভারেজ ছিল না। অনুষ্ঠানটি হোয়াইট হাউসের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে সম্প্রচার করা হয়।

    ‘ট্রাম্প টিভি’র প্রথম সম্প্রচারে ট্রাম্পের পুরোনো বক্তব্য ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ফুটেজ দেখানো হয়। সম্প্রচারের শুরুতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়সংক্রান্ত একটি ট্রেলার এবং পরে মাউন্ট রাশমোরে ৩ জুলাইয়ের বক্তব্য প্রচার করা হয়।

    হোয়াইট হাউসের নিজস্ব সম্প্রচারব্যবস্থা চালুর ফলে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও সরকারি কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের সরাসরি একটি মাধ্যম তৈরি হলো। একই সঙ্গে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি যোগাযোগ, প্রেসিডেন্টের সংবাদমাধ্যম-সম্পর্ক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরো সামনে এনেছে। এ বিষয়ে আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৩১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে অতিরিক্ত ডিআইজি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও উপপুলিশ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার জারি করা এসব প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে দেশের বিভিন্ন রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, সিআইডি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদে বদলি-পদায়ন করা হয়।
    একটি প্রজ্ঞাপনে এসএমপি সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়িতে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি), টিটিএম, ঢাকায় এবং এসএমপির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, খুলনায় পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া বিশেষ দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদকে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, রংপুরে এবং বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে থাকা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহীতে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
    অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে র‌্যাবের উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামানকে পুলিশ সুপার হিসেবে নীলফামারীতে, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. নাজিরুল ইসলামকে বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি হিসেবে ময়মনসিংহে এবং র‌্যাবের উপপরিচালক মীর মনির হোসেনকে পুলিশ সুপার হিসেবে রাজবাড়ীতে পদায়ন করা হয়েছে। এ আদেশে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে রাজশাহী, মেহেরপুর, রাঙামাটি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন ও পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. নুরুল আমিন হাওলাদারকে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ স্টাফ কলেজে পদায়ন করা হয়েছে।
    তৃতীয় প্রজ্ঞাপনে ১৬ জন কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিউল ইসলামকে বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিআইডি, পিটিসি রংপুর, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, পুলিশ টেলিকম, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, খুলনা ও বরিশাল রেঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
    এছাড়া, আগের এক প্রজ্ঞাপনে শাহরিয়ার আল মামুনকে উপপুলিশ কমিশনার, এসএমপি, সিলেট হিসেবে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • ডিজেলে দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

    ডিজেলে দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

    বর্তমানে শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৮৯ টাকা করে লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় জানাতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

    ব্রিফিংয়ে জাহেদ উর রহমান আরও জানান, প্রতিদিন কেবল ডিজেল খাতেই প্রায় ১০৯ কোটি টাকা সরকার লোকসান দিচ্ছে। অর্থাৎ শুধু ডিজেলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকারের লোকসান হবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান মেনে নিয়ে দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ ধারাবাহিক লোকসান হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের বড় ঝুঁকি এড়াতে সরকারকে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করতে হয়েছে।

    লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের মূল্য ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    পার্শ্ববর্তী ও এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ভারতের কলকাতায় বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলংকায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা এবং পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা।

    বাংলাদেশে দর সবচেয়ে কম থাকায় প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা তেল সীমান্তে পাচারের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিটারে ২০ টাকা সমন্বয় করায় বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।

    জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে করে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিজিএফসিএলের অধীন এলাকাগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

    সম্পাদকের নোট: দাম সমন্বয়ের পর প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের লোকসান প্রায় ৭০ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসানের হিসাবটি ২১ সেপ্টেম্বর দাম সমন্বয়ের আগের অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

  • সংকটে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

    সংকটে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

    সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাইকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চের শেষ পর্যন্ত সরকারি অফিসে কর্মীদের সরাসরি উপস্থিতির সময় হবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা। বাকি নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করে পূরণ করবেন।

    সরকারি সংস্থাগুলোকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণপরিবহন ব্যবহার করে অফিসে যাতায়াত করেন। এরই মধ্যে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে মেট্রোতে করে অফিসে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রচারণার অংশ হিসেবেই এসব ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

    গাড়ির ব্যবহার কমাতে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেট্রো ও বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো ও জরাজীর্ণ সরকারি গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক, গ্যাসচালিত বা হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ধাপে ধাপে ও আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিছু ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে কর্তৃপক্ষ। সরকারসংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে কর্মঘণ্টা শেষে হিটিং ব্যবস্থা বন্ধ এবং বাতি নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে পরে আলাদা ব্যবস্থা ঘোষণা করা হবে।

    এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি নির্দেশনায় সরকারি সংস্থাগুলোকে উপযুক্ত কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ দিতে বলেন। এতে সরকারের পেট্রল, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়।

    চলতি মাসের শুরুতে পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ‘সরকারের মাধ্যমেই আমরা জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার কমানোর কাজ শুরু করেছি।’ সরকারের কর্মীদের জন্য নেওয়া এসব ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাওয়া জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • ডিজেলে এখনও লিটারে ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী

    ডিজেলে এখনও লিটারে ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী

    জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

    রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।

    সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা হলেও লোকসান পুরোপুরি কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    বিভিন্ন দেশের দামের তুলনা
    আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরে রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে প্রায় ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রিজভীর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময়ও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। পরে দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলেও সরকারের লোকসান এখনো রয়েছে।

    নাশকতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির আহ্বান
    দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

    এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

    রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে তারা কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

    সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান ও মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।

  • পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিত: ক্ষুব্ধ ভারত

    পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিত: ক্ষুব্ধ ভারত

    হিমালয়ের বিতর্কিত একটি অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীন নিজেদের সীমান্ত নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশ পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।

    বহু দশক ধরে ভারত ওই অঞ্চলে পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দিল্লির দাবি, এই ভূখণ্ড ভারতের অংশ। তাই পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্তকেই ভারত স্বীকৃতি দেয় না।

    পাকিস্তান চুক্তিটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও চীনের সহযোগিতা আরো গভীর হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

    বিশেষ সংবেদনশীল এক সময়ে এই ঘোষণা এসেছে। হিমালয় সীমান্তের বড় অংশজুড়ে ভারত ও চীনের সেনাদের পৃথক করা বিতর্কিত রেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে কয়েক বছর ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই বেইজিং ও ইসলামাবাদ এমন একটি সীমান্ত এলাকায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যার ওপর ভারতেরও দাবি রয়েছে।

    এই যৌথ কমিশনের আওতায় রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত এটিকে লাদাখে অবস্থিত নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

    দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। পাকিস্তান ওই অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত সরকার ১৯৬৩ সালের ওই চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির মতে, চুক্তিটি অবৈধ ও অকার্যকর।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভারতের ভূখণ্ড, যা অবৈধ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দখলে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার পাকিস্তানের নেই।’

    পাকিস্তানের অবস্থান ভিন্ন। দেশটি বলে, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-সংক্রান্ত সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবস্থানে ভারত নেই। পাকিস্তান ওই চুক্তিকে বৈধ বলে মনে করে।

    দিল্লির শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জেকব বলেন, সর্বশেষ ঘটনাটি দুই পক্ষের বহু পুরোনো বৈরিতার আরেকটি প্রকাশ। একেবারে নতুন কিছু নয়।

    তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই ব্যবস্থা এই সময়ে কার্যকর করা হলো।

    জেকবের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বৃহত্তর সীমান্ত নির্ধারণের প্রচেষ্টা। পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেও এই সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগ্রহ থাকতে পারে।

    জেকব বলেন, এই উন্নয়নে ভারতের ‘উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত।

    তার মতে, আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পদক্ষেপটি ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারাকে উপেক্ষা করছে বলে মনে হয়।

    চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তির পর যে দেশ শেষ পর্যন্ত ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার কথা ছিল বলে জানান তিনি।

    জেকবের মতে, ভারতের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক তথ্য পরিবেশনের দিক থেকেও জটিল।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তথ্য পরিবেশনে চীনের তুলনামূলক প্রাধান্য রয়েছে। সিজিটিএন, সিআরআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের উপস্থিতি তাদের বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের বয়ান ও মানচিত্র তুলে ধরার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারত প্রায়ই এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা বিশ্বের অন্যান্য রাজধানী উপেক্ষা করতে পারে।

    তবে সীমান্তে বাস্তবে যে কার্যক্রম চলছে, তার তুলনায় এই উদ্বেগের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) ও কারাকোরাম মহাসড়ক।

    যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমি ও হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক।

    হাক্কানি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা সহযোগিতা জোরদার করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষার জন্য এটি একটি প্রক্রিয়া।

    তার মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতি একটি বার্তাও দেয়। তা হলো, বেইজিং এখনো কাশ্মীর প্রশ্নকে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেখে।

    হাক্কানি বলেন, চীন কখনো কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের অবস্থান মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও তারা পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, ভারতের নয়। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের এই অঞ্চলটি চীনের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে। ভারত এটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

    হাক্কানির মতে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের অবস্থানও বদলেছে।

    তিনি বলেন, পাকিস্তান এখনো মনে করে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ বাকি। কিন্তু ভারত যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করেছে, তখন ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে যে বিষয়টি অঘোষিত অবস্থায় রয়েছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তান কোনো সমস্যা দেখছে না।

    বেইজিংয়ের জন্যও এই ব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি।

    তার মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূকৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একই সঙ্গে ভারতকে চীন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী হুমকির ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ।

    হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত তাদের সিদ্ধান্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। তাই যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও অনেক আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    তার মতে, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলন সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে মনে করিয়ে দেওয়া যে বহুপক্ষীয় সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

    তবে জাবিন টি জেকব সতর্ক করে বলেন, এই বিষয়টির প্রতিটি দিককে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, এই মুহূর্তে এলএসি-তে এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

    এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার গুরুত্ব হয়তো বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের মধ্যে নয়। বরং ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই এর গুরুত্ব থাকতে পারে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের অবস্থান ‘স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক’।

    দিল্লির মতে, পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। এতে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

    হাক্কানি মনে করেন, বিরোধটি শুধু সীমান্তের আইনি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়।

    তার মতে, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতভেদ ভূকৌশলগত, শুধু মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী অর্জন করা সম্ভব, তারও কিছু সীমা রয়েছে।

    হাক্কানি আরো বলেন, পাকিস্তান এখনো ভারতের বিরুদ্ধে চীনের ‘দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধক’। ইসলামাবাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততা দিল্লির প্রতি সেই বার্তাই প্রকাশ করতে থাকবে।

  • ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পীকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে তার সফরের কথা উল্লেখ করে সেখানে পাওয়া উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিদ্যমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

    ডেপুটি স্পীকার বলেন, বাংলাদেশ এবং চীন উভয় দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ, দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের চীন সফরের সময়েই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি লাভ করে। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ-চীনের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরো প্রসারিত করবে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    উভয়পক্ষ সংসদীয় পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় বৃদ্ধিসহ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এছাড়াও বৈঠকে মংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ডেপুটি স্পীকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পীকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • মামদানির হুমকি:সফরসূচি কাটছাঁট নেতানিয়াহুর

    মামদানির হুমকি:সফরসূচি কাটছাঁট নেতানিয়াহুর

    যুক্তরাষ্ট্র সফরের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং সেদিনই ইসরাইলে ফিরে যাবেন। নিউইয়র্কে সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কাও নেতানিয়াহুর সফর সংক্ষিপ্ত করার অন্যতম কারণ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    নেতানিয়াহু বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টায়, অর্থাৎ ইসরাইল সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরান প্রসঙ্গ প্রধান গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এবার তিনি নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না। ভাষণ শেষ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ই ইসরাইলের উদ্দেশে রওনা হবেন। তার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকও সফর করবেন না।

    নেতানিয়াহুর বিমান ‘উইং অব জিওন’ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির একটি সামরিক বিমানঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জটিলতা এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে তার সফরসূচিতে টেক্সাসে থামার এবং ইলন মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল। সেটিও বাতিল করা হয়েছে। একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজন এবং শেষ মুহূর্তের আয়োজন নিয়ে মার্কিন পক্ষের অনাগ্রহ—দুই কারণে ওই বৈঠক বাতিল হয়েছে।

    নেতানিয়াহুর এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের চেষ্টা চলছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে এসব বৈঠক আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নিউইয়র্কের মেয়র মঙ্গলবার সি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ফিরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কর্মসূচি রয়েছে।

    নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানের হুমকি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাতিসংঘে ইসরাইলি প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য প্রতিবাদের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে ভাষণের সময় হট্টগোল বা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। গত বছরও এ ধরনের প্রতিবাদ হয়েছিল।

    এর আগে জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি সংক্ষিপ্ত সফর করবেন।

    নেতানিয়াহুর সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির একটি প্রতিনিধিদলকেও সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা:উত্তাল ভারত

    শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা:উত্তাল ভারত

    আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের বিশ্বমঞ্চে ভারত নিজেদের যত বড় পরাশক্তি হিসেবেই দাবি করুক না কেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা এখনও প্রাচীন বর্ণপ্রথা ও সামাজিক বৈষম্যের খাঁচায় বন্দি। জাতপাত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ যেন দেশটিকে ক্রমশ প্রাচীন ও অন্ধকার যুগের দিকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (আইআইটি) বম্বের দলিত শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির ছাত্রসমাজ।

    মেধার সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও প্রান্তিক শ্রেণির এই মেধাবী তরুণকে শেষ পর্যন্ত জাতপাত এবং প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাহিলের পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় নকল করার মিথ্যে অজুহাত তুলে এক অধ্যাপক তার প্রতি জাতপাতভিত্তিক চরম অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে পদ্ধতিগত মানসিক নিপীড়নের মুখে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সাধারণ নিয়মভঙ্গ ও পড়াশোনার চাপের আড়ালে ঢাকার চেষ্টা করলেও এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

    এই ট্র্যাজেডি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভারতের অভিজাত ক্যাম্পাসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। এর আগে ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলার তথাকথিত ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা’ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সে সময় প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বাধীন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিক কাগুজে কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

    শিক্ষার্থী মহলের অভিযোগ, আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলিত, আদিবাসী এবং ওবিসি শিক্ষার্থীদের কথা শোনার বা তাদের অভিযোগ সমাধানের কার্যকর ও সংবেদনশীল কোনো মঞ্চ নেই। উল্টো প্রশাসনের তৈরি করা তদন্ত কমিটিগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ধামাচাপা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার পক্ষেই সাফাই গায়। যেকোনো প্রতিবাদ দমন করতে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারি ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করে রাখা হচ্ছে।

    মৃত্যুর পরিসংখ্যান ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার এক শিউরে ওঠা অন্ধকার চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গত দুই দশকে ভারতের বিভিন্ন আইআইটি ক্যাম্পাসে মানসিক ও সামাজিক চাপে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭১ জন শিক্ষার্থী। উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রথম দশকে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৫১, যা পরবর্তী দশকে এক লাফে ১২০-এ গিয়ে পৌঁছেছে।

    পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে সাম্প্রতিক তথ্যে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কেবল গত ৫ বছরেই আইআইটিগুলোতে ৬৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান হার অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসগুলোর বাণিজ্যিকীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সংকোচনের সাথে সাথে দলিত, আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা আগের চেয়ে বহুগুণ কঠিন ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। শিক্ষাঙ্গনে ‘মেধা’র ধারণাকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ব্রাহ্মণ্যবাদী সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস টিকিয়ে রাখা হচ্ছে, যার ফলে প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে আসা প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শহরের বড় বড় শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে চূড়ান্ত মানসিক একাকীত্ব ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।

    ক্যাম্পাসগুলোতে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রভাব কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে, তার নজির মিলছে সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপে। কয়েক বছর আগেই আইআইটি বম্বের হোস্টেল ডাইনিংয়ে নিরামিষ ও আমিষভোজীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা নির্দিষ্ট করে কার্যত খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি আইআইটি মান্ডির ক্যাম্পাসে এমন পোস্টারও প্রকাশ্যে আসে যেখানে চার বর্ণের কাঠামো তুলে ধরে শূদ্রদের কাজ অন্য তিন বর্ণের সেবা করা বলে উল্লেখ করা হয়।

    তীব্র প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও ওই ক্যাম্পাসের শীর্ষ প্রশাসনের সাথে ধর্মীয় গোষ্ঠীর (ইসকন) সংশ্লিষ্টতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তিন ক্রেডিটের ‘গীতা কোর্স’ বাধ্যতামূলক করার মতো বিষয়গুলো এই বৈষম্যমূলক মানসিকতারই প্রমাণ দেয়। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার চেয়ে গোমূত্র, আয়ুর্বেদ বা প্রাচীন বেদান্ত শাস্ত্রকে ‘বিজ্ঞান’ প্রমাণ করার একমুখী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রবণতা বিজ্ঞান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উদ্দেশ্যকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের করপোরেট ও অভিজাত কাঠামো সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পরিবর্তে নির্দিষ্ট উচ্চবর্ণীয় আধিপত্য ধরে রাখতে মেধার বুলি আওড়াচ্ছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি নিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে সুবিধাভোগী শ্রেণি উন্নত বিশ্বের করপোরেট দুনিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে, অন্যদিকে সংবিধানের মূল কারিগর বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতাদর্শ প্রচার বা প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা ক্যাম্পাসগুলোতে কার্যত অপরাধে পরিণত হয়েছে।

    আধুনিকতা ও ডিজিটাল ভারতের স্লোগান দেওয়া হলেও, গভীরে প্রোথিত জাতপাতের শিকল ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্ব ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোকে ক্রমশ শ্বাসরুদ্ধকর বধ্যভূমিতে পরিণত করছে। সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর পর সুবিচারের দাবিতে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ এবং জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের বাস্তব পদক্ষেপ ছাড়া ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার এই পতন ঠেকানো অসম্ভব।

  • জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ চাই ভারত

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ চাই ভারত

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টা আরো জোরদার করেছে ভারত। এবার দেশটির দাবির প্রতি সম্মিলিত সমর্থন জানিয়েছে মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায় ভারতের পক্ষে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন যুক্ত হলো।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো ভিসেগ্রাদ গ্রুপ বা ভি৪-এর সঙ্গে ভারতের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানায় জোটটির চার সদস্য রাষ্ট্র।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার বলেন, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে ভি৪-এর দেশগুলো একমত।

    ভারতের যুক্তি, ১৯৪৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার সময়কার বিশ্বের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। সে সময় এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। বর্তমানে জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশ তখন স্বাধীন রাষ্ট্রও ছিল না। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকে বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।

    ভারত এখন পর্যন্ত আটবার নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশটি পরিষদের সদস্য ছিল। দেশটির স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিভিন্ন ইস্যুতেও ভারত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদকে সামনে রেখে প্রকাশিত অগ্রাধিকারসংক্রান্ত নথিতে ভারত বলেছে, বিভিন্ন সংঘাতে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে জাতিসংঘের ব্যর্থতা সংস্থাটির কার্যকারিতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই নয়াদিল্লির কাছে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়টি শুধু ভারতকে স্থায়ী সদস্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে পুরো কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত।

    ভারতের দাবির প্রতি ইতোমধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চীন এখনো ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। বেইজিং বলে আসছে, তারা ভারতের আকাঙ্ক্ষাকে বোঝে ও সম্মান করে; একই সঙ্গে এ বিষয়ে আরো ব্যাপক ঐকমত্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে।

    ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি৪ জোটের সদস্য। জোটের চার দেশ পরস্পরের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করে এবং নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায় নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে। জি৪-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান ১৫ সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫ বা ২৬ করা যেতে পারে।

    এই প্রস্তাবে ছয়টি নতুন স্থায়ী আসন তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আফ্রিকা, দুটি এশিয়া-প্যাসিফিক, একটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং একটি পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের জন্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি চার বা পাঁচটি অতিরিক্ত অস্থায়ী সদস্যের আসন যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

    তবে নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণের বিষয়ে বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য—এখনো কোনো অভিন্ন কাঠামোয় একমত হতে পারেনি। নতুন সদস্যের সংখ্যা, কোন অঞ্চল কতটি আসন পাবে, নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না এবং সংস্কারের পর পরিষদ কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়েই মতপার্থক্য রয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কগুলোর একটি ভেটো ক্ষমতা নিয়ে। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু নির্বাচিত সদস্যদের এমন ক্ষমতা নেই। আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে ভেটো ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে। তবে ভেটো ব্যবস্থা বহাল থাকলে নতুন স্থায়ী সদস্যদেরও বর্তমান পাঁচ সদস্যের সমান অধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

    ভারতের অবস্থানও প্রায় একই। ২০২৬ সালের এপ্রিলের এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি বলেছিল, এমন কোনো পৃথক শ্রেণির স্থায়ী সদস্য থাকা উচিত নয়, যেখানে কিছু দেশের ভেটো ক্ষমতা থাকবে অথচ অন্য স্থায়ী সদস্যরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। ভারত ‘সবাই অথবা কেউই নয়’ নীতির কথা বলেছে। অর্থাৎ বর্তমান ও নতুন সব স্থায়ী সদস্যের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব থাকা উচিত বলে নয়াদিল্লির অবস্থান।

    এদিকে ভি৪-এর সঙ্গে বৈঠককে ভারত ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকটি আয়োজনের জন্য স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লানারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এটিকে ‘নতুন ঐতিহাসিক উপলক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন।

    তবে বৈঠকের আলোচনায় শুধু নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ই ছিল না। ভারত ও ভি৪ দেশগুলো দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি বার্ষিক ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজন এবং দুই পক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভি৪-এর সঙ্গে কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে বার্ষিক ব্যবসায়িক ফোরাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক থাকবে।

    ভি৪-এর সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ নিশ্চিত করার মতো নয়। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়টি এখনো বহু দেশের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে। তবে মধ্য ইউরোপের চার দেশের এই সম্মিলিত সমর্থন ভারতের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনের পরিধি আরো বাড়াল।

    জয়শঙ্করের ভাষায়, ভি৪-এর দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো এবং শিল্প, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। ভি৪ ভবিষ্যতে কীভাবে এগোবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলেও ভারত তাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগকে স্বাগত জানাচ্ছে।

  • জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

    জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

    পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুপার ট্রেন’ মার্চ মুলতানে পৌঁছানোর পর দলটির আমির হাফেজ নাঈম উর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার জামায়াতের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

    করাচিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ অভিমুখী চলমান ট্রেন মার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য জামায়াতের আমিরকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানে ফিরে না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পরই প্রধানমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। দলটির মুখপাত্র বলেন, শাহবাজ শরিফ দেশে ফেরার পর পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার আগ্রহও জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে হাফেজ নাঈম উর রহমান বলেন, জামায়াত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে কিংবা সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও দাবিগুলো তুলে ধরতেই দলটি রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। তাই সরকারের উচিত তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করা।

    প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ পাওয়ার পর বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ ‘শূরার’ সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান জামায়াত আমির। শূরার পরামর্শের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তবে সরকারের অনুরোধে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদের অধিকার থেকে জামায়াত সরে আসবে না বলে স্পষ্ট করেছেন হাফেজ নাঈম উর রহমান।

  • বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহনমালিকদের

    বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহনমালিকদের

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মালিকপক্ষ। তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাব আমলে নিয়ে বিআরটিএ বাসভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগও নিয়েছে।

    নতুন প্রস্তাবে সিটি সার্ভিসের বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা ও দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    আজ সোমবার বিকেলে বিআরটিএর বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় বিকেল ৫টার দিকে।

    বৈঠকে থাকা কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, সিটি সার্ভিসে কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা ও দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতোই রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিবহনমালিকেরা ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৪০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর দাবি ছিল তাঁদের। তবে কমিটির আলোচনায় এরচেয়ে কম হারে ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এখন বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    এর আগে গতকাল রোববার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা ও পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। নতুন দর গতকাল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।

    এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। ২৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসে দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে দুই টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসে দুই টাকা ৩২ পয়সা থেকে দুই টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

    এরও আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা ও মহানগরের বাসে ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়। পরে ডিজেলের দাম পাঁচ টাকা কমানো হলে ওই বছরের ৩১ আগস্ট দূরপাল্লার বাসের ভাড়া দুই টাকা ২০ পয়সা থেকে কমিয়ে দুই টাকা ১৫ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া দুই টাকা ৫০ পয়সা থেকে দুই টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল।

    ২০২৪ সালের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন টাকা কমার পরও ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন দূরপাল্লা ও মহানগরের ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি তিন পয়সা কমানোর সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ।

  • ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ছয়টা ম্যাচ, সাতটা শট, সাতটা গোল!
    একজন নাম্বার নাইনের কাছে দল আর কী চাইতে পারে। তার ওপর সেই নাম্বার নাইন যদি দলের মূল স্ট্রাইকার না হন, যদি তিনি খেলেন স্রেফ বদলি নেমে, তাহলে এই পরিসংখ্যানটা কীভাবে দেখবেন? দুর্দান্ত নয় কি? পিএসজির সেই নাম্বার নাইনের নাম ফেরান তোরেস।

    বিশ্ব ফুটবলে ঠিক ওই অর্থে তিনি বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। অথচ স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া গোলটা তাঁর। দুই মাস আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের একমাত্র গোল তাঁকে এনে দিয়েছিল ম্যাচসেরার পুরস্কারও। কী কাকতাল, ওই ম্যাচেও তিনি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। বদলি নেমেছিলেন ৬২ মিনিটে।

    প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ইনস্টাগ্রাম

    বিশ্বকাপে ওই রকম একটা কীর্তির পরও কিন্তু স্পেন দলে রদ্রি বা ইয়ামালদের যে তারকাখ্যাতি, ফেরান তোরেস তার ধারেকাছে যেতে পারেননি। কিছুটা অলক্ষ্যেই তাই নতুন মৌসুমে দলবদল করে বার্সেলোনা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্যারিসে। পিএসজিও তাঁকে নিয়ে কোনো ঢাকঢোল পেটায়নি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। আসলে লুইস এনরিকে তাঁকে নিজের দলে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে নেননি, নিয়েছিলেন বিকল্প হিসেবে। কিন্তু তোরেস শুধু বিকল্প হয়ে থাকতে চাননি যে!

    প্যারিসে পা রাখার পর তাই তিনি খুব বেশি সময় নিলেন না। লিগ আঁ-তে রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বদলি নেমে জোড়া গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির জার্সিতে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক, কী অবিশ্বাস্য শুরু! বার্সেলোনায় তিনি যে তোরেস ছিলেন, প্যারিসে গিয়ে যেন হয়ে উঠেছেন সেটারই এক আপগ্রেড ভার্সন। আরও ধারালো, আরও নির্দয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লুইস এনরিকের দলে তাই তিনি হয়ে উঠেছেন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তোরেস।ইনস্টাগ্রাম

    গত রাতে মার্শেইয়ের বিপক্ষে ক্লাসিকো ম্যাচটাই দেখুন না। গোল পাচ্ছিল না পিএসজি। কোচ এনরিকের তখন এমন কাউকে দরকার, যে গোল করতে পারবে, ম্যাচ বদলে দিতে পারবে। ৫৯ মিনিটে বদলি নামানো হলো তোরেসকে। ৬৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দিলেন পিএসজিকে। ছয় মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে মার্শেই, গোল করেন অ্যাঞ্জেল গোমেস। কিন্তু সেই সমতা টিকল মাত্র তিন মিনিট। ৭৫ মিনিটে মার্কিনিওস গোল করে আবার এগিয়ে দেন পিএসজিকে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানেই জয়।

    জয়টা শুধু পিএসজিকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, দিয়েছে মৌসুমের শুরুর দিকের জড়তা কাটিয়ে জেগে ওঠার আত্মবিশ্বাসও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন জয় বলছে, পিএসজি আবার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। আর সেই ছন্দের কেন্দ্রে তোরেস।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তিনটায় শুরুর একাদশে, কোনোটিতেই পুরো সময় খেলেননি। বাকি তিনটায় বদলি হিসেবে। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, গোলমুখে সাতটা শট নিয়েছেন, সাতটাই গোল! প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’ জানাচ্ছে, পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। পিএসজিতে প্রথম ছয় ম্যাচে তাঁর গোল ছিল আটটি। তোরেস কি আরও একজন ইব্রা হতে যাচ্ছেন?

    পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ইনস্টাগ্রাম

    তুলনাটা এখন আর শুধু কথার কথা নয়, সংখ্যাই বলছে। তবে তোরেস নিজে সংখ্যার মোহে ভাসতে চান না। তাঁর সহজ-সরল কথা, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হয়। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বারবার।’

    কিন্তু এই পরিসংখ্যান শুধু ভাগ্যের ছোঁয়া পাওয়ার গল্প নয়। বক্সে অবস্থান নেওয়া, সতীর্থদের মুভমেন্ট পড়া, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া আর শেষ ছোঁয়ার যথার্থতা—সব মিলিয়ে নিখুঁত এক স্ট্রাইকার, যেমনটা একজন কোচ চান।

    তোরেসের এমন পারফরম্যান্স তাই দোটানায় ফেলে দিয়েছে এনরিকেকেও। আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, খিচা কাভারাস্কেইয়া, দেজিরে দুয়ের মতো তারকার ছড়াছড়ি পিএসজিতে। সেখানে বেঞ্চের বিকল্প হিসেবে প্যারিসে পা রাখা তোরেস এখন শুরুর একাদশের জন্য তীব্র দর-কষাকষি শুরু করেছেন। ৪ গোল নিয়ে এখন তিনি লিগ আঁ-তে দলটির শীর্ষ গোলদাতাও। তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে।

    ৪ গোল নিয়ে এখন তোরেস লিগ আঁ-তে পিএসজির শীর্ষ গোলদাতা। ইনস্টাগ্রাম

    লুইস এনরিকেও তা বুঝছেন। নতুন এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সন্তুষ্টির কথা লুকাননি তিনি। বলেছেন, ‘নতুন যারা এসেছে, সবাই দলকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ফেরান অসাধারণ খেলছে। ডিফেন্সের পেছনে ফাঁকা জায়গা বের করা এবং তা কাজে লাগানোর চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তার। মাঝমাঠে যখন ওর মতো খেলোয়াড় থাকে, খেলা সহজ হয়ে যায়। ও এখন নিজের সেরা ছন্দে আছে।’

    আর তোরেস? শুরুর একাদশে নিয়মিত না থাকা নিয়ে কথা বলতে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন। বলার দরকারও নেই অবশ্য। সংখ্যাই তো তাঁর হয়ে কথা বলছে, এনরিকেকে চাপ দিচ্ছে। সেই চাপ খুব বেশি দিন উপেক্ষা করা মনে হয় সম্ভব হবে না পিএসজি কোচের জন্য।

  • ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    দীর্ঘ বিরতির পর মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে থাকছেন না সুমাইয়া শিমু। তার পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার।

    ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র। তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তার।

    তিনি জানান, চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারটি টের পান। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরদিন শুটিং করি। সেদিন তার চোখ ফুলে যায় ও ব্যথা বাড়ে। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে শুটিং থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে।

    আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা খন্দকার। তার অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী।

    ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে।

    সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ।

    আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।

  • পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশের পদক দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে চার ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব নাসরীন সুলতানা এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, সেবা ও প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজনকে মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশটি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুসারে বিপিএম পদকের জন্য ১২ জন, বিপিএম-সেবার জন্য ১৮, পিপিএমের জন্য ১৮, পিপিএম-সেবার জন্য ৪৪ জনসহ মোট ৯২ জনকে পুলিশ পদকের জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর), পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ১২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম); পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিমসহ ১৮ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা); সিলেটের র‍্যাব-৯-এর মেজর আসিফ আল-রাজেক, মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ ১৮ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদসহ ৪৪ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) পদক দেওয়ার জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    বিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম পাওয়া ১২ জন হলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর); পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম; ডিএমপির ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মাহমুদ আলম; মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল কালাম আজাদ; কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অর্ণব বড়ুয়া; ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) কৃষ্ণ কুমার দাস; ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, টেকনাফের এসআই (নিরস্ত্র) আজিজুল হাকিম; ডিএমপির গুলশান মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. সুমন ইসলাম; ডিএমপির ট্রান্সপোর্ট বিভাগের কনস্টেবল/১৭৫৩১ মো. শাহ আলম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল/১৪২৮ দিলোয়ার মিঞা।

    বিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম-সেবা পাওয়া ১৮ জন হলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল; নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিম; রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ; ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন; পুলিশ অধিদপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান; র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের লে. কর্নেল মোহা. জয়নুল আবেদীন; টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার; নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক; গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ্; ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ; দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন; ডিএমপির গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মেজবাহ উদ্দিন; ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) গোলাম ফারুক; পিবিআইয়ের ফরেনসিক, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন শাখার সার্জেন্ট মো. নাভিদ ইমতিয়াজ; পিবিআই যশোর জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রতন মিয়া এবং পিবিআই খুলনা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রেজোয়ান।

    পিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম পাওয়া ১৮ জন হলেন র‍্যাব-৯, সিলেটের মেজর আসিফ আল-রাজেক; মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার; চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ; চাঁদপুরের মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসাইন সানীব; হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মদ চৌধুরী; কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া; চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রোবেল আফ্রাদ; রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মফিজুল ইসলাম; খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচরা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল আলম; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহাঙ্গীর আলম; চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসের এসআই (নিরস্ত্র) নূপন নাথ; র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইব্রাহিম মিয়া; চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অসিত কুমার বসাক; ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. তোয়াজ্জুল ইসলাম খান; রাজশাহীর বাঘা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহা. সিফাত রেজা; ডিএমপির গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ তানভীর তুষার; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের কনস্টেবল/৩৪১৯ আরিফুল আহাম্মদ এবং একই ইউনিটের কনস্টেবল/৮৭ মো. মেরাজুল ইসলাম।

    পিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম-সেবা পাওয়া ৪৪ জন হলেন স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী; রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদ; রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির; রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. খালিদুল হক হাওলাদার; মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ; হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন; পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার; শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান; পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শটীন চাকমা; কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান; বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার; ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ; পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিআইও) আবদুল করিম; চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম; কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার; ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (উত্তর-বিভাগ) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী; ডিএমপির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জিসানুল হক; ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উত্তরা, ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার চৌধুরী মো. তানভীর; ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদ্দাম হোসেন; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজার রহমান; ডিএমপির ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসলাম সাগর; সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব; পুলিশ অধিদপ্তরের পিআইও শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম; ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার; পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সাইদুল ইসলাম; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির; ডিএমপির মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাবুল আজাদ; সিআইডি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নাছির উদ্দিন রাসেল; পিবিআই ঢাকা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান; পুলিশ টেলিকম সংস্থা, রাজারবাগ, ঢাকার টেলিকম টেকনিশিয়ান (এসআই) মো. মাজহারুল হক; লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মাজহারুল হক; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম মেহেদী হাসান; পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. রিয়াজ উদ্দিন রনি; ডিএমপির ট্রাফিক-গুলশান বিভাগের ট্রাফিক-গুলশান জোনের সার্জেন্ট মো. কামাল উদ্দিন; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) সুদীপ চন্দ্র বিশ্বাস; স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের সিটিএসবি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) তুহিনা নাসরিন; ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইখলাছুর রহমান; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার কনস্টেবল/৫৩৬৪ বাদশা ফাহাদ এবং ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ বিভাগ) কনস্টেবল/১১৯৮২ মো. শিহাব উদ্দিন।

  • মরিনহোকে সতর্ক করলেন সিমিওনে

    মরিনহোকে সতর্ক করলেন সিমিওনে

    মাদ্রিদ ডার্বির উত্তাপ ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও কমেনি। আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলের হারের পর রেফারিং নিয়ে হোসে মরিনহোর সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দিয়েগো সিমিওনে।

    ম্যাচে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মরিনহো। প্রথমার্ধে আতলেতিকোর কয়েকজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেন রিয়াল কোচ। পরে রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন লাল কার্ড দেখলে রিয়ালের ডাগআউটে হতাশা আরও বাড়ে।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু ছবি নিয়েও হাজির হন মরিনহো। সেসব ছবি দেখিয়ে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ভুল বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে ম্যাচ শেষে কোচদের রেফারি ও একে অপরের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সিমিওনে। এরপর শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করা কোচদের নিজেদের বক্তব্যের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকার কথাও বলেন আর্জেন্টাইন কোচ, ‘আমরা সবাই এমন একটি জায়গায় আছি যেখানে আমাদের বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তাই আমরা কী বলছি সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদের, রেফারিদের এবং আমাদের সহকর্মীদের সম্মান করতে হবে।’

    ডার্বিতে আতলেতিকো কিছু সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়েছে বলেও স্বীকার করেন সিমিওনে। তবে তার মতে এতে রেফারিদের প্রতি সম্মান কমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই, ‘আমাদের অবস্থান থেকে আমি যেটা বুঝি তা হলো—আজ আমরা কিছু সিদ্ধান্তের সুবিধা পেলেও রেফারিদের প্রতি সম্মান অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।’

    এরপর মরিনহোকে উদ্দেশ করে আরও কড়া মন্তব্য করেন সিমিওনে, ‘সবকিছু বলা যায় না, আপনার নাম মরিনহো হলেও নয়।’

    ম্যাচের রেফারিং নিয়েই বেশি আলোচনা করেন মরিনহো। বিশেষ করে আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুড বেলিংহামের সংঘর্ষের ঘটনায় লাল কার্ড না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরে হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাটিরও সমালোচনা করেন রিয়াল কোচ।

    শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আতলেতিকো। আর মাঠের উত্তাপের সঙ্গে মরিনহো-সিমিওনের কথার লড়াই মাদ্রিদ ডার্বির উত্তেজনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

  • কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার সামাদ প্লাজার সামাদ আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলায় এসি বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৫) ও হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সাব্বির (৩০)।

    জেলা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ ও সদর মডেল থানার এসআই দুলাল জানান, দুই রাজমিস্ত্রি সামাদ আবাসিক হোটেলে এসি বসানোর কাজ করছিলেন। আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি লোহার রড বিদ্যুতের খোলা তারের সংস্পর্শে এলে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    আফাজুলের ফুপু জাহেরা খাতুন বলেন, আফাজুলের স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তিনি সংসার চালাতেন।

    অন্যদিকে সাব্বিরের চাচাশ্বশুর জাকির হোসেন জানান, সাব্বিরের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তার সংসার চলত।

    জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করার সময় প্রায়ই ভবনের মালিকরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। ফলে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সর্বত্র নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাদের সন্তানদের দায়িত্ব মালিকপক্ষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    ভবনের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, রিপন মিয়াসহ সামাদ আবাসিক হোটেলের চারজন মালিক রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

    সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখর রঞ্জন পাল জানান, এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষের কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ,আর

  • সারে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা কমিশন চান ডিলাররা, নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিতের দাবি বিএফএর

    সারে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা কমিশন চান ডিলাররা, নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিতের দাবি বিএফএর

    বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা এবং নতুন সার ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।

    আজ সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৮ বছর ধরে বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। এ সময়ে জ্বালানি তেলের দামসহ পরিবহন ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্য কয়েক দফা বেড়েছে। ফলে সার ডিলারদের ব্যবসায়িক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিএফএর চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালে বস্তাপ্রতি পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন মিলিয়ে ১০০ টাকা থাকায় পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ডিলাররা বস্তাপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমিশন পেতেন। বর্তমানে একই ব্যবস্থায় বস্তাপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, সরকার বস্তাপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ডিলারদের কমিশন ‘না লাভ, না ক্ষতি’ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাই ডিলারদের টিকে থাকার স্বার্থে বস্তাপ্রতি কমিশন আরও ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

    মোশারফ হোসেন বলেন, কমিশন না বাড়ালে ডিলাররা ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিনের ডিলারদের ব্যবসায় টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। বিএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়, নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় অসংলগ্নতা, অসাংবিধানিকতা ও স্ববিরোধিতা রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

    বিএফএর দাবি, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আইনগতভাবে নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের রুল জারি করেছেন। তবে আদালতের রুল জারির পরও দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলমান বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নীতিমালার বিতর্কিত ধারাগুলো স্পষ্ট করার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো বিএফএর সঙ্গে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ অবস্থায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলেও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করা হয়।

  • আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ

    আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পায়ের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ছয় মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার ভাবিও গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম (৬২) এবং ইমনের ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত। আহত ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইমন প্রায় দুই বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান। এতে তার পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরও পায়ের ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় ইমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রোববার রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মোছা. ফিরোজা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।

    পুলিশ জানায়, এর জেরে সোমবার সকালে ইমন তার মা ও ভাবির সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে মোছা. ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মায়ের কাছে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে তুলে নিয়ে আছাড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে ভাবি রাবেয়া বেগমকেও মারধর করা হয়।

    চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, পায়ের যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার মানসিক অবস্থার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ওসি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ,আর

  • মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    একসঙ্গে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন অনেক শিরোপা। মাঠে লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা যেন ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। সেই মেসির বিদায়ী ম্যাচে কি তিনি না এসে পারেন? দি মারিয়া জানিয়েছেন, মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবরের বিদায়ী ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকবেন তিনিও।

    রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে জয়ের পর মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে নিজের এই পরিকল্পনার কথা জানান দি মারিয়া।

    ৫ অক্টোবর বানফিল্ডের বিপক্ষে রেসিং ক্লাবের ম্যাচ রয়েছে। এরপর আর বুয়েন্স আয়ার্স ছাড়ছেন না দি মারিয়া। পরদিন সরাসরি চলে যাবেন মনুমেন্টালে।

    দি মারিয়া বলছেন, ‘আমাকে তো স্টেডিয়ামে যেতে হবে, তাই না? আমাকে যেতে হবে, মেসির শেষ ম্যাচটা দেখতে হবে। আমরা ৫ তারিখে বানফিল্ডের বিপক্ষে খেলবো। মনুমেন্টাল আমার পথেই পড়বে, আমি সেখানে থাকবো।’

    মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন দি মারিয়া, ‘ব্যাপারটা খুব কঠিন হবে। এত বছর পর লিওকে ছাড়া একটি দল, কল্পনাই করা যায় না। আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টাইনদের এবং পুরো বিশ্বের জন্য সে যা করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমরা শেষ দিনটা উপভোগ করবো।’

  • ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকের প্রস্তুতি মানেই প্রতিপক্ষের শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি হওয়া। দূরত্ব যতই হোক না কেন, ফ্রি-কিক থেকে জাদুকরি গোল উপহার দেওয়া যেন তার বাঁ পায়ের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে সান ডিয়েগোর বিপক্ষে রবিবারের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ক্যারিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

    এমএলএসের রোমাঞ্চকর সেই ২-২ ড্রয়ের ম্যাচের ২৪ মিনিটে ইন্টার মায়ামি পিছিয়ে ছিল। সেই মুহূর্তে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের এক চোখ ধাঁধানো শট নেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বলটি দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এই গোলের সুবাদেই তিনি ক্যারিয়ারের ৯৩০তম গোলটি পূর্ণ করেন। এর মধ্যে শুধু ফ্রি-কিক থেকেই এসেছে তার ৭৫টি গোল।

    এই গোলের মাধ্যমে ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ব্রাজিলিয়ান তারকা জাইর রোসা পিন্টোকে টপকে এককভাবে সর্বকালের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন মেসি। সর্বকালের সেরা ফ্রি-কিক গোলের মালিক হতে তার সামনে এখন কেবল আরেক ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড মার্সেলিনিয়ো কারিওকা, যিনি ৭৮টি ফ্রি-কিক গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ রেকর্ডটি নিজের করে নিতে মার্সেলিনিয়ো থেকে মাত্র চার গোল দূরে রয়েছেন তিনি।

    ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোল:

    ক্রমিকখেলোয়াড়ের নামগোলসংখ্যাদেশ
    ১মার্সেলিনিয়ো কারিওকা৭৮ব্রাজিল
    ২লিওনেল মেসি৭৫আর্জেন্টিনা
    ৩জাইর রোসা পিন্টো৭৪ব্রাজিল
    ৪রবার্তো দিনামিতে৭৩ব্রাজিল
    ৫জুনিনহো পের্নাম্বুকানো৭২ব্রাজিল
    ৬মার্কোস আসুন্সাও৬৮ব্রাজিল
    ৭সিনিসা মিহাইলোভিচ৬৭সার্বিয়া
    ৮হোর্হে আরাভেনা৬৫চিলি
    ৯ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো৬৪পর্তুগাল
    ১০জিকো৬২ব্রাজিল
    ১১দিয়েগো মারাদোনা৬১আর্জেন্টিনা
  • সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নাটক বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে, বেলা ১১টার পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। এ সময় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

    সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা কামনা করলেও প্রথমে তাতে সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ সময় পুলিশের সাথে বাগ্বিতণ্ডার পর কোর্ট ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে আদালতের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান।

    পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তবে তিনিও ফটক খুলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মধ্যেই আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

    সমাবেশে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর, সাবেক সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, সময়ের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিপু খন্দকার, সাংবাদিক হাসান আলী, কে এম আর শাহিনসহ অন্যরা।

    বক্তারা বলেন, কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। অন্যদিকে, হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার পর জামিনে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাকে তারা ‘পাতানো নাটক’ বলে অভিহিত করেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

    সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় জেলার সাংবাদিক সমাজ শুধু প্রতিবাদ নয়; এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    সমাবেশ থেকে সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নামে চলা কথিত নাটক বন্ধের দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমারখালী পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক উল্লাস। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ,আর

  • লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    একটা সময় লা লিগায় নিয়মিতই দেখা যেত অবিশ্বাস্য সব গোল আর রেকর্ডের পর রেকর্ড। লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগে এক মৌসুমে ৪৮ বা ৫০ গোল করা ছিল যেন জলভাত। সময়ের পরিক্রমায় অনেকেই ধরে নিয়েছিল, ওই রূপকথার দিনগুলোর বুঝি চিরতরে অবসান ঘটেছে। তবে সব হিসাব পাল্টে দিয়ে সেই অসম্ভব রেকর্ডের দরজায় কড়া নাড়ছেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।

    চলতি লা লিগা মৌসুমে নিজের প্রথম ৭ ম্যাচেই অভাবনীয় ১২টি গোল করে ফেলেছেন এই সেলেসাও তারকা। এই পরিসংখ্যান তাকে সরাসরি বসিয়ে দিয়েছে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই মেসি-রোনালদোর স্বর্ণালী শুরুর দিনগুলোকে। কিন্তু রাফিনিয়ার পায়ে চলতি মৌসুমের এই অবিশ্বাস্য গোল উৎসবের পেছনে রয়েছে এক অন্য গল্প।

    এবারের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে কোনো কথার লড়াইয়ে না জড়িয়ে তিনি মাঠেই এর সবচেয়ে কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছেন গোলের পর গোল করে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে নতুন ট্যাকটিক্যাল পজিশনে খেলে রাফিনিয়া এখন লা লিগায় যে কোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ত্রাস হয়ে উঠেছেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম সাত ম্যাচের গোলের হিসেবে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন রাফিনিয়া। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে প্রথম ৭ ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে মেসি করেছিলেন প্রথম ৭ ম্যাচে ১১ গোল। আর চলতি মৌসুমে ১২ গোল করে মেসিকেও ছাড়িয়ে গেছেন রাফিনিয়া।

    এছাড়া লা লিগার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড ৫০ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। পরের স্থানটিই রোনালদোর। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তিনি ৪৮ গোল করেন। দুই মহাতারকা লা লিগা ছাড়ার পর থেকে ৪০ বা ৫০ গোলের ঘটনা হারিয়ে গিয়েছিল। লুইস সুয়ারেস (৪০ গোল) কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পে বা রবার্ট লেভানদোভস্কিরা চেষ্টা করলেও সেই যুগের পাগলাটে পরিসংখ্যান ছুঁতে পারেননি।

    কিন্তু রাফিনিয়ার বর্তমান ফর্ম নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রতি ম্যাচে ১.৭১ গড়ে গোল করে চলা এই ব্রাজিলিয়ান যদি এই ধারা অব্যাহত রাখেন, তবে গাণিতিক হিসাবে মৌসুম শেষে তার গোলের সংখ্যা গিয়ে ঠেকতে পারে ৬৫টিতে! যদিও পুরো মৌসুমে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন, তবুও তার বর্তমান ফর্ম ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরোনো সেই সোনালী দিনগুলোর কথা।

    -গোল ডটকম অবলম্বনে

  • টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডিত আসামি হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মরহুম হাজী আজমত আলীর ছেলে মুস্তাক। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে জানান, আসামি মুস্তাক দুই শিশুছেলে ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে নিয়ে ভূঞাপুরের ঘাটান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি বিগত ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার পর যেকোনো সময় মুনিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

    অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে নিজ ঘরের বক্সখাটের নিচ থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার ভাই আমিনুল ইসলাম খান ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন।

    বিচার শেষে আদালত আসামি মুস্তাককে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে স্ত্রীর লাশ গুম করার চেষ্টার দায়ে তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    নিহত মুনিয়া গোপালপুরের নলিন বাজার গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে।

    মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: রফিকুল ইসলাম রফিক। এ,আর

  • মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করা হবে। একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।

    এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

    এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।

    তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাসস’কে বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

  • ফের আলোচনা চায় যুক্তরাষ্ট্র : কাতার

    ফের আলোচনা চায় যুক্তরাষ্ট্র : কাতার

    ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে জানিয়েছে কাতার। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দোহা।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি নিউইয়র্কে কাতার অর্থনৈতিক ফোরমের এক অনুষ্ঠানের ফাকে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের মধ্যস্থতাকারী দল আলোচনা পুনরায় শুরুর উপায় খুঁজছে। গত কয়েক সপ্তাহে দুই পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    আল-আনসারি বলেন, ‘আমরা তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের মধ্যস্থতাকারী দলের মাধ্যমে আবার আলোচনা শুরু করা যায় কি না, সে বিষয়ে কাজ করছি। অনেক প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।’

    তিনি বলেন, কাতারের লক্ষ্য হলো দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আলোচনায় ফেরার উপযুক্ত সময় ও পথ খুঁজে বের করা।

    কাতারের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, এমন বার্তা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে একটি সমাধান খুঁজে বের করতেও ওয়াশিংটন আগ্রহী বলে জানান তিনি।

  • নিউইয়র্কে আরাঘচি !

    নিউইয়র্কে আরাঘচি !

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বিকেলে তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

    নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে তিনি কাতারের রাজধানী দোহায় যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে তিনি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করেন। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবেলা : সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ প্রতিপাদ্য নিয়ে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

    এবারের অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও রয়েছে।

  • ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার কথা উঠলে যে কয়েকটি মুখ দর্শকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাদের মধ্যে অন্যতম মিঠু মুখোপাধ্যায়। সৌন্দর্য, নাচ, অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু।

    দীর্ঘদিন ছিলেন প্রচারের আড়ালে। রোববার তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই অভিনেত্রীর বর্ণিল অধ্যায়।

    বাংলা সিনেমা যখন সাদা-কালো থেকে রঙিন যুগে প্রবেশ করছে, ঠিক সেই সময়েই মিঠুর আবির্ভাব। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। তবে প্রথম সিনেমা তাকে তারকা করে তুলতে পারেনি। দর্শকের কাছে বড় পরিচিতি আসে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ দিয়ে।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’য় মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন মিঠু। সিনেমাটির গান ও নাচেও তার উপস্থিতি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এরপর থেকেই বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন তিনি।

    ১৯৭৩ সালে ‘নিশিকন্যা’ এবং পরের বছর অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। ‘মৌচাক’-এ রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি মিঠুর উপস্থিতিও সিনেমাটিতে আলাদা করে নজর কাড়ে।

    পরে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন মিঠু। ‘কবি’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গেও কাজের সুযোগ হয় তার। ‘হোটেল স্নো ফক্স’ ও ‘চাঁদের কাছাকাছি’ সিনেমায় উত্তমকুমারের সঙ্গে তার অভিনয় সে সময় দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল।

    বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখান মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সিনেমাজগৎ তাকে দীর্ঘদিন টানেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে আসেন মিঠু। এদিকে বাংলা সিনেমায় তখন নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের উত্থান শুরু হয়েছে। মহুয়া রায়চৌধুরী ও দেবশ্রী রায়ের মতো অভিনেত্রীরা দর্শকের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন। ফলে মিঠুর আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ততা আর দেখা যায়নি।

    দীর্ঘ বিরতির পর চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরেন মিঠু। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন কনওয়ালজিৎ সিং। সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও এরপর আর নিয়মিত অভিনয়ে ফেরেননি তিনি। কার্যত সেখানেই ইতি ঘটে তার অভিনয়জীবনের।

    এরপর জীবনের বাকি সময়টা অনেকটা আড়ালে কাটিয়েছেন মিঠু। মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও সংবাদমাধ্যম কিংবা প্রকাশ্য উপস্থিতি থেকে দূরে থাকতেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। তবে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যাননি মিঠু মুখোপাধ্যায়।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা, ‘মৌচাক’-এর প্রাণবন্ত চরিত্র কিংবা রঞ্জিত মল্লিক ও উত্তমকুমারের সঙ্গে তার পর্দার মুহূর্ত—সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মিঠুর জন্য তৈরি করেছে আলাদা একটি অধ্যায়। সূত্র: দ্য ওয়াল

  • ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মামলা

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মামলা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে দেশটির তিন বড় সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউ।

    ট্রাম্পের তৈরি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে তারা যৌথভাবে মামলা করার কথা জানিয়েছে।

    এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করেন। তার দাবি ছিল, এই মাধ্যমগুলো নাকি সরকারের বিরুদ্ধে বানানো গল্প আর মিথ্যা খবর প্রচার করছে। ট্রাম্পের ওই নির্দেশের পর দিনই সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের প্রবেশপত্র কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

    এই ঘটনার পর একটি যৌথ বার্তায় সংবাদমাধ্যম তিনটি জানিয়েছে, কোনো নিয়মকানুন না মেনে কেবল নিজেদের অপছন্দের খবর ছাপানোর কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সাংবাদিকদের কার্ড বাতিল করেছে। এটি আমেরিকার সংবিধানের দেওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। কারণ, সরকার কখনোই ঠিক করে দিতে পারে না সাংবাদিকরা কী খবর ছাপাবে আর কোনটা ছাপাবে না।

    অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সংবাদমাধ্যমের এমন বিরোধ নতুন নয়। এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো বিখ্যাত পত্রিকাগুলোকেও ‘ভুয়া খবরের মাধ্যম’ বলে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। এমনকি কয়েক মাস আগে ‘মেক্সিকো উপসাগর’ নাম ব্যবহারের কারণে বার্তা সংস্থা এপির সাংবাদিকদের ওপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে মামলা এখনো চলছে। তবে এবার সরকারের এই বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আইনি লড়াইয়ে নামছে এই তিন সংবাদমাধ্যম।

  • পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

    আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন–সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, তদন্ত এবং দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।