আইন-আদালত

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    খুলনার কয়রায় মাছের ঘেরের পাড়ে শাক-সবজির আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালি (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ঘেরের পাড়ে রোপণ করা চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি মাছের ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি পাড়ে শাক-সবজির মধ্যে গাঁজার গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়রা থানা-পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার দুপুর একটার দিকে ওই ঘেরে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে ঘেরের পাড়ে কৌশলে রোপণ করা চারটি বড় গাঁজা গাছের সন্ধান মেলে। পরে পুলিশ গাছগুলো উপড়ে জব্দ করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে পিস্তল দেখিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা রাতেই কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত দেলোয়ার একই গ্রামের বাসিন্দা।

    থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষিকা উল্লেখ করেন, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি পিস্তল বের করে ভয় দেখান এবং জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন। এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, সিএনজিটি কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষিকা। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর প্রায় এক মাসের সম্পর্ক ছিল। শিক্ষিকার রাগ কমাতে তাঁকে নিয়ে সিএনজিতে করে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। অপহরণের অভিযোগটি মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে শিক্ষিকা দেলোয়ারের সঙ্গে সম্পর্কের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করে কথা বলতে চান। তিনি রাজি না হওয়ায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে সিএনজিতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

    ওই শিক্ষিকা আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীও রয়েছেন।

    প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আটক চারজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন, বহিরাগত সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান।

    পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

    গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, গেস্ট হাউসে তাদের সন্দেহজনক চলাফেরা নজরে আসার পর স্টাফদের কাছ থেকে খবর পান তিনি। কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের স্টাফ মিথুনের নামে ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা ছিল। সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছিল।

    তিনি বলেন, গেস্ট হাউসে অন্য অতিথিরাও অবস্থান করছিলেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ তারা দ্রুত কক্ষটিতে যান। দরজা খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিংধারী স্টাফের পাশাপাশি একজন এসি মেকানিক ও দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতর তীব্র গন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।

    পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে ৪-৫টি ইয়াবাসহ একটি কিট জব্দ করে।

    গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, লাবিব হাসান মিথুন অসুস্থতাজনিত বিশেষ কারণ দেখিয়ে তিন দিন আগে এক দিনের জন্য ৬ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। পরে তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে গেস্ট হাউসের ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টাফের সঙ্গে বাইরের কয়েকজন লোক অবস্থান করছেন বলে খবর পান। এরপর ক্যাম্প পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে যান। কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, বাইরে থেকে কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে তারা দরজা খোলেন। কক্ষে ঢোকার পর বাজে গন্ধ পাওয়া যায় এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম দেখা যায়। পরে পুলিশ ইয়াবা উদ্ধার করে তাদের আটক করে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব বলেন, চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার

    গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার

    ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। একের পর এক আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এসব কনটেইনারে কী পণ্য এসেছে, কারা আনছে—সে সম্পর্কে ধারণা নেই কারো।

    শুধু রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য, নাকি আড়ালে বড় ধরনের মানিলন্ডারিং বা কোনো ষড়যন্ত্র চলছে—তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কাস্টমসের এসাইকোডা সিস্টেমে ডেলিভারি স্ট্যাটাসে লক করে রাখা ২৫০ কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতে তিন কোটি টাকার কাপড় বোঝাই আরেকটি কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর নতুন করে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

    গত জুলাইয়ের শুরুতে কাস্টমসের এআইআর শাখা থেকে ডেলিভারি নিষিদ্ধ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে ২৫০ কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয় আমার দেশসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে। মূলত খাতা-কলমে বন্দরের অভ্যন্তরে থাকা কনটেইনারগুলোর হদিস চেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় বন্দরকে চিঠি দিলেও তার উত্তর দিচ্ছিল না বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর বন্দরের পক্ষ থেকে কনটেইনারগুলো বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে দাবি করে চিঠি পাঠানো হয় কাস্টমসে। একই চিঠি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশও করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অদ্যাবধি শুধু চিঠি ছাড়া কনটেইনারগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি কাস্টমস।

    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন ইয়ার্ডে কনটেইনারগুলো রক্ষিত আছে—এমন একটি চিঠি বন্দর থেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবগুলো ইয়ার্ডে হাজার হাজার কনটেইনারের মধ্যে ওইসব সুনির্দিষ্ট কনটেইনারগুলো কোনটি, তা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়নি। তাই এখন পর্যন্ত কনটেইনারের অবস্থানসংক্রান্ত একটি কাগজের চিঠি ছাড়া আর কিছুই জানে না কাস্টমস। তবে বন্দরের চিঠিটি কাস্টমস পেয়েছে। সে অনুযায়ী মিলিয়ে দেখা কিংবা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। কনটেইনারগুলো হারিয়ে গেছে; কিংবা সবগুলো পাওয়া গেছে—এমন কোনো বক্তব্য দেওয়ার সময় এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।

    তিন কোটি টাকা মূল্যের শতভাগ রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরির কাপড় ভর্তি ৪০ ফুটের একটি কনটেইনার ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বের করে নিয়ে যায় বন্দরকেন্দ্রিক জালিয়াতচক্র। এ ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও খোয়া যাওয়া কনটেইনারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    সবশেষ খোয়া যাওয়া কনটেইনারটির নম্বর ছিল MRSU-8692827। ফ্রান্সের এক বায়ারের অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে লেডিস পোশাক তৈরির কাপড় আমদানি করে ঢাকার গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান। MV MCC Danang নামের জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি খালাস করা হয় এনসিটি টার্মিনালের দুই নম্বর জেটি থেকে। পরে কনটেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়। কাস্টমসের শুল্কায়ন ও অন্যান্য ডেমারেজসহ কনটেইনারটির বিপরীতে ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে গত ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে যায় আমদানিকারকের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসআরএস সাইন্ড।

    কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি ডেলিভারি দিতে শুরু করে টালবাহানা। তিন দিন ধরে সিসিটি ইয়ার্ডে ধরনা দেওয়ার পর ২ সেপ্টেম্বর বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এক পর্যায়ে বন্দর থেকে জানানো হয়, ১১ আগস্ট N4 সিস্টেমে কনটেইনারটির অন-ডেট, অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, কনটেইনারটি ইতোমধ্যে ডেলিভারি হয়ে গেছে।

    ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে করা হয় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি। পরে থানায় মামলাও দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের দুই জেটি শ্রমিক মোর্শেদ আলম ও সাইদুর রহমানের নাম উল্লেখ করে আরো তিন-চার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

    চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালে ছয় মাসের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাপড় ভর্তি দুটি কনটেইনার বন্দর থেকে গায়েব হয়ে যায়। এক ঘটনায় এক ক্রেতা কাস্টমসের নিলামে ২৭ টন কাপড়ের জন্য ৮৫ লাখ টাকা এবং শুল্ক, ভ্যাট ও বন্দর ফি বাবদ আরো ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পণ্য নিতে গিয়ে দেখেন কনটেইনারটি নেই। অন্য এক ক্রেতা নিলামে কাপড় কিনতে ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেও কনটেইনার খুঁজে না পাওয়ায় পণ্য নিতে পারেননি। চলতি বছরও পণ্যভর্তি আরো দুটি কনটেইনার নিখোঁজের ঘটনায় আলাদা মামলা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের হিসাবে এক বছরে পাঁচটি কনটেইনার উধাও হয়েছে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় থানায় মামলাও করেছে কর্তৃপক্ষ।

    চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কেপিআই জোন। এটা আমাদের এলাকার মধ্যে হলেও ভেতরে পুলিশের অবাধ প্রবেশাধিকার নেই। এখানে কোনো ঘটনা ঘটলে প্রাথমিকভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরা তদন্ত করে। এরপর পুলিশের কাছে আসে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ কিছু সময় পার হয়ে যায়। তখন পুলিশের কাজ করাটা কঠিন হয়ে যায়। কনটেইনার গায়েবের ঘটনাগুলোও উদ্ঘাটনের কাজও এভাবেই দুরূহ হয়ে গেছে; তারপরও কিন্তু পুলিশ কাজ করছে।

    তিনি আরো জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তায় বেশ কয়েকটি ঘাটতি পয়েন্ট তাদের জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাও নিচ্ছে। এ ত্রুটিগুলো থাকার পরও একটি কনটেইনার বের করতে হলে যতগুলো ধাপ পার হতে হয়, সেখানে চোখ বন্ধ করে বলা যায় ভেতরের লোক জড়িত না থাকলে এত বড় কনটেইনার গায়েব করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সন্দেহের মধ্যে রেখে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    বন্দরের মতো সুরক্ষিত এলাকা থেকে একের পর এক কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত দেশের সবচেয়ে বড় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। কারণ, ইতঃপূর্বে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ও দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোকেনের চালান আটক হয়েছে এই বন্দর থেকে। এছাড়া ছোট-বড় অসংখ্যা অস্ত্র ও মাদকের চালান আটক হয় নিয়মিত বিরতিতে। এর বাইরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির ঘটনা তো ঘটছে অহরহ।

    আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। এখানে কোনো অঘটন ঘটলে তা পুরো দেশের জন্য ঝুঁকিপুর্ণ। ইতঃপূর্বে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান এসেছে। বড় বড় মাদকের চালান ধরা পড়েছে। ধরা পড়া চালানগুলোর আমদানিকারকদের ঠিকানা যাচাই করতে গেলে দেখা যায় প্রায় শতভাগই ভুয়া। এটা এলার্মিং। কারণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অবৈধ যে কোনো চালান ধরা পড়ার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশের বেশি বের হয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, হারিয়ে যাওয়া কনটেইনারগুলোর বেশিরভাগ আইজিএম পড়েছে। অর্থাৎ, কনটেইনার এসেছে; কিন্তু ওই কনটেইনার ছাড়িয়ে নিতে কেউ বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। তার অর্থ হলো এই, যারা কনটেইনারগুলো আনছে, তারাই ভিন্ন কৌশলে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। কারণ, এসব কনটেইনারে কী আনা হচ্ছে, তার কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম জানান, বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কনটেইনার বের করার সুযোগ নেই। কোনো ঘটনা সামনে এলে সবাই বলেন স্বাক্ষর জাল করে কনটেইনার গায়েব করা হয়েছে। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর সহজ সমাধান আছে। প্রতিটি ডকুমেন্টে কিউআর কোড ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এটা করা হয় না কেন? যারা এই উদ্যোগ নেয় না, তারা জবাবও দেয় না। আসলে কেউ এই সংকটের গোড়ায় গিয়ে সমাধান করতে চায় না। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

    এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যে ২৫০ কনটেইনারের হদিস চেয়েছিল, সেই কনটেইনারগুলোর সন্ধান দিয়ে চিঠি কাস্টমসকে পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস যে কনটেইনারগুলো এখনো পায়নি, সে ব্যাপারে বন্দরকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো মনে করে কনটেইনারগুলো সব বন্দরেই সংরক্ষিত আছে। এছাড়া গত এক বছরে যে পাঁচটি কনটেইনার হারিয়ে গেছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে কাজ চলছে।

    এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে। ওই কমিটি সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। শিগগির তারা রিপোর্ট দেবে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করবে।

  • সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে একমত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে একমত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান। অংশীজনদের মতামত ও বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক পরামর্শ সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংবাদপত্রসংগঠন ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের লক্ষ্যে তৈরি খসড়া বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা সাইবার পরিসরে কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা এবং পরামর্শের নির্দেশ দিয়েছে।

    খসড়া বিলটি যাতে নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সব স্তরের মতামত নিতে এটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাইবার পরিসরের ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যে মতামত পাঠিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সেসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

    ১০ সেপ্টেম্বর সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত দেওয়া বা ওয়েবসাইটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অনেকে আজকের বৈঠকে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাহফুজ আনাম গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনার প্রস্তাব দেন, যাতে গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আইনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ধারা নিশ্চিত করা যায়।

    সরকার ওই প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। ’

    সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সভায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।

    সরকার প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাওয়ার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    মামলা বা আপিল নিষ্পত্তিতে কাউকে অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকতে না দিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করবে। সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্যানেল এতে অংশ নেবে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আগে আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা তখন আবার মতামত দিতে পারবেন। গ্রহণযোগ্য মতামত খসড়ায় যুক্ত করা হবে।

    আন্তমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে।

    সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে বিলটি পাস করা হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সরকার দেশ, সমাজ ও বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার পরিসরের বিভিন্ন অপরাধ এবং সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা দিতে ভারসাম্যপূর্ণ আইন করতে চায় বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

  • মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    দারুসসালাম জোনের ওসি এমদাদুল হক বিপুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে। এরপর দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেয়া হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।স্থানীয় বিএনপির দু’টি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়।

  • কারাগারের চার দেয়ালে ৬২ শিশুর শৈশব

    কারাগারের চার দেয়ালে ৬২ শিশুর শৈশব

    কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ও প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী কারাগার। সাধারণ বন্দিদের পাশাপাশি বন্দি মায়েরা তাদের ছোট সন্তানদের সঙ্গে রাখতে পারেন।

    বর্তমানে ওই কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বেড়ে উঠছে ৬২ শিশু। এর মধ্যে ২৭ জন ছেলে শিশু ও ৩৫ জন মেয়ে শিশু। এসব শিশুর জন্য রয়েছে পরিচর্যা কেন্দ্র ও শ্রেণিকক্ষ।

    কারাসূত্রে জানা যায়, মোট ৬৩ শিশু ছিল কারাগারে। তবে গত মঙ্গলবার ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মায়ের সঙ্গে সাত বছর কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছে মোবাশ্বেরা খানম রাথী। ফলে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে ৬২ জন শিশু।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২০১৯ সালে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন কামরুন্নাহার মনি। কারাগারেই মোবাশ্বেরা খানম রাথী নামে কন্যাসন্তান জন্ম দেন তিনি। মায়ের পেটে থেকেই কারাবন্দি জীবন শুরু তার। দীর্ঘ সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের।

    মুক্তিপ্রাপ্ত কামরুন্নাহার মনি বলেন, আমার বাচ্চাকে ক্লাস টুয়ের বই পড়াচ্ছি। কুরআন পড়ানো শিখাইছি। আমার মেয়েকে কুরআনের শেষের এক পাড়া মুখস্থ করাইছি। মা হিসেবে আমার দায়িত্ব কারাগারের ভেতর থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। পায়ের মোজা দিয়ে মেয়েকে পুতুল বানিয়ে দিয়েছি। কারণ কোনো কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আমার ছিল না। সেই পুতুল দিয়ে মেয়ে খেলা করত। জামা কেটে স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সেই ব্যাগ নিয়ে সে স্কুলে যেত।

    কাশিমপুর মহিলা কারাসূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ধারণক্ষমতা ২১২ জনের। বর্তমানে সাড়ে ৭শ জনের বেশি বন্দি রয়েছেন। বন্দি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যা মামলার আসামি। মাদক মামলা ও সাধারণ মামলার বন্দিরাও রয়েছেন। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডের কয়েদি রয়েছেন।

    কলমিলতা ভবনে সাধারণ বন্দি ও মাধবীলতা ভবনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা থাকেন। এসব বন্দির মধ্যে অর্ধশতাধিক মায়েদের সঙ্গে চার দেয়ালে শৈশব কাটছে ৬২ জন শিশুর। তবে ধারণক্ষমতার থেকে বেশি বন্দি থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    শিশুদের পরিচর্যা ও সুস্থ বিকাশের জন্য রয়েছে একতলা একটি ডে কেয়ার সেন্টার। এই কেন্দ্রটিতে একটি ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি এবং খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে। এখানে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। ডে কেয়ার সেন্টারের জন্য শিক্ষক রয়েছেন। তিন বছরের বেশি বয়সি শিশুদের অক্ষরজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্য, গান ও চিত্রাঙ্কনও শেখানো হয়।

    কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার মোছা. আলিভা শারমিন বলেন, আমাদের কারাগারে শিশু রয়েছে ৬২ জন। এসব শিশুর জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। সেখানে শিক্ষক, আয়া সবাই রয়েছেন। তাদের খুবই যত্নসহকারে লালন-পালন করা হয়ে থাকে।

    কাশিমপুর কারাগারের অতিরিক্ত জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। শিশুদের থাকা-খাওয়া, লেখাপড়া ও বিনোদনের পাশাপাশি ডে-কেয়ার ও স্কুলের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখে।

  • শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই নারী জানান।

    এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পানের আড়তে নিয়ে যান।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন ওই নারী। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।

    ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহে আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন।

    অভিযুক্ত সোহরাবের বাড়ি নেত্রকোনায়। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি ছোট্ট একটি পানের দোকান চালান। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়কের নিচে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব নামের ওই পানের দোকানদার এসে তাঁর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

    ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু তাঁরা বিচার না করে হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় হতে বলেন। শেষে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু লোকজন দেখে ফেলায় তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়তে নিয়ে আসেন।

    গতকাল দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা-পুলিশের তিন সদস্যকেও দেখা গেল। এ সময় ওই নারী বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা বলে বিচার চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে যাওয়া হয়।

    মো. শফিকুল নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামের এক ব্যক্তির একটি পানের দোকান চালাতেন। বর্তমানে তাঁর দোকান বন্ধ আছে।

    আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

  • মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মানিকগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন বাস্তবায়নে শিগগিরই জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভা’য় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে বা করাতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধ পুনরায় করলে পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে ওই ১০০ মিটারের সীমা আরও বাড়াতে পারবে।

    এ ছাড়া সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আগে এ জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার বা পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ হবে।

    সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারেও ২০২৬ সালের ৯১ নম্বর আইন হিসেবে এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলায় ১১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯ জনকে মোট ৩ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    টাস্কফোর্সের সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের তামাকের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক ও টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হাবীব, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বন্যা, পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা।

  • স্কুল স্থানান্তরে শিক্ষকের এমপিও বাতিল নয়: হাইকোর্ট

    স্কুল স্থানান্তরে শিক্ষকের এমপিও বাতিল নয়: হাইকোর্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক স্থান থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে, বিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও শুধু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে দায়ী করে তার এমপিও বাতিল ও বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    ‘মো. মোজাম্মেল হক বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী।

    প্রকাশিত রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চর নিয়ামত আইডিয়াল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ না থাকায় স্থানীয় ব্যক্তি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টি উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

    ওই বছরের ১১ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক ১৯ জুলাই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিদ্যালয় ভবন স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ বিদ্যালয়টি নতুন স্থানে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়। তবে, পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই অনুমতি একই বছরের ৬ অক্টোবর বাতিল করা হয়। এরই মধ্যে নতুন স্থানে বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়টি আবার মূল স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর বিদ্যালয় ভবন অন্যত্র স্থানান্তরের তথ্য গোপন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হককে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

    নোটিশে তথ্য গোপনের অভিযোগে কেন তার এমপিও বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। প্রধান শিক্ষক ১৭ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দেন।

    এরপর ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়। এতে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হকের এমপিও বাতিল এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পরে এমপিও বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। তবে এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তীতে বিচারাধীন ওই রিটে একটি সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী শিক্ষক। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন।

    এ রায়ে মো. মোজাম্মেল হকের এমপিও বাতিল এবং বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রিটকারী শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত তার প্রাপ্য সব বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

  • সাত কলেজের তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী স্থানান্তর নিয়ে হাইকোর্টের রুল

    সাত কলেজের তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী স্থানান্তর নিয়ে হাইকোর্টের রুল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চার শিক্ষার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

    রিটকারীদের আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন জানান, গত ২৩ আগস্ট এক সভায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এর ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ একটি রোডম্যাপ জারি করে।

    ওই রোডম্যাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের কথা বলা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি মাসে চার কলেজের চার শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করেন।

    রিটকারীদের আইনজীবীর যুক্তি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইনের ৫৯(৪) ধারায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত শিক্ষাকাঠামো ও কারিকুলামের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনদ দেওয়ার বিষয়টি বলা হয়েছে।

    কিন্তু এর আগে ভর্তি হওয়া তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের বিষয়ে আইনে কোনো বিধান নেই।

    আইনজীবীর ভাষ্য, আইন সাধারণত কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রযোজ্য হয়। অতীতের কোনো বিষয়কে আইনের আওতায় আনতে হলে সেটি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হয়। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা রোডম্যাপের মাধ্যমে আগের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর করা হলে তাদের একাডেমিক পরিচয়, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও অর্জিত অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসবির শরীফ ও জাহাঙ্গীর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।

    আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন বলেন, ২৩ আগস্টের সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট জারি করা রোডম্যাপটি রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

    তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান জানিয়েছেন, রোডম্যাপের কার্যক্রম অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চলমান থাকবে। শুধু রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সাতটি সরকারি কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

    অধিভুক্তির পর বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর এসব কলেজকে একীভূত করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি এবং ১০ এপ্রিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন করা হয়।

  • গাজী নজরুলকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় ডিবি

    গাজী নজরুলকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় ডিবি

    সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।

    এরইমধ্যে গাজী নজরুলকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। শুনানিকালে তাকে এজলাসে তোলা হবে বলে বলেছেন হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মোরশেদ আলম।

    গত রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তখন বাসায় থাকা নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। একই সময়ে নিহত মরিয়মের বাবাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি মামলা করার পর গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।

    এ সময় তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    এসময় রাষ্ট্রপতি দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

    যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

    যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম চাকলাদার ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

    দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

    এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হবে।

    অন্যদিকে, তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় স্বামী জহিরুল ইসলাম চাকলাদারকে সহায়তাকারী হিসেবে আসামি করা হবে।

    তাদের বিরুদ্ধে ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় পৃথক মামলা হবে।

  • অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হবে পাচার করা অর্থ বৈধ

    অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হবে পাচার করা অর্থ বৈধ

    বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পাচার করা সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ প্রমাণের প্রচলিত ধারায় বড় পরিবর্তন এনে ‘নিরপরাধ প্রমাণের দায়ভার’ অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপরই অর্পণ করা হচ্ছে। ফলে নতুন আইন পাস হলে অভিযুক্তকেই নিজ দায়িত্বে প্রমাণ করতে হবে তার অর্জিত বা পাচার করা সম্পদ সম্পূর্ণ বৈধ।

    এদিকে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ থেকে শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আইনে সুনির্দিষ্ট প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার আবেদনের সময়সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এই আইন প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের সভাপতিত্বে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর কিছু ধারার সংশোধন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজন সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএফআইইউয়ের (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে মতামত দিয়েছেন।

    বিদেশে পাচার হওয়া অবৈধ অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিভিন্ন ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে প্রথমে বিশেষ অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা পরিবর্তন করে বিদ্যমান আইন সংশোধনের পথ বেছে নেয় সরকার। নতুন প্রস্তাবিত খসড়ায় মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের লেয়ারিং বা বারবার হাতবদল রোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মানি লন্ডারিংয়ের জটিল অপরাধে অপরাধীরা নানা উপায়ে অর্থের উৎস ও আসল মালিকানা লুকিয়ে ফেলে। এতে প্রচলিত আইনে প্রসিকিউশনের পক্ষে অপরাধ প্রমাণ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে। এই আইনি মারপ্যাঁচ ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতেই আন্তর্জাতিক আইন বা ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অভিযুক্তের ওপর অপরাধ প্রমাণের দায়ভারের বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

    হয়রানি রোধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা

    আইন সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় কঠোরতার পাশাপাশি মানুষের আইনি সুরক্ষা ও হয়রানি রোধের বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য ‘দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’-এর আলোকে সামগ্রিক বিধানগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৮-এর বিধান অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বা সম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য আবেদন করার নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হচ্ছে। এই সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বা সংশ্লিষ্ট দাবিদার পক্ষ তাদের আইনি অধিকার সাব্যস্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন।

    এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আমার দেশকে বলেন, সময়ের প্রয়োজনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী আনা অত্যন্ত জরুরি। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

    শুল্ক-কর আদায়ে কমিটি

    বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের উপায় নির্ধারণে সাত সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুদকের মানিলন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা, এনবিআরের সিআইসির মহাপরিচালক এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি। আর এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এই কমিটির মূল কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে—বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে অবরুদ্ধ হিসাব থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায়, প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের চলমান প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • শিশু জুলিয়া হত্যা: আমীর হোসেন খালাস

    শিশু জুলিয়া হত্যা: আমীর হোসেন খালাস

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২১ বছর পর শিশু জুলিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে আমীর হোসেন ওরফে জামালকে খালাস দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

    বুধবার সকালে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। আদালত বলেছে, মূল আসামিকে না ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আমীর হোসেনকে।

    এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিশু জুলিয়া আক্তার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমীর হোসেনকে ২১ বছর পর খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত কনডেমড সেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিশু জুলিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।

    মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু জুলিয়া আক্তার। ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আসামি আমীর হোসেন।

  • ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ এইচআইভি রোগীর মধ্যে ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

    ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সেদিন একজন সংসদ সদস্য লাইভ টক শোতে জানিয়েছেন, তাঁর জেলা (নওগাঁ) সিভিল সার্জন কর্তৃক দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এইচআইভি রোগীদের প্রায় সবাই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী।

    শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ হাজার ৪০০টি রিঅ্যাকশন, ৩ হাজারটি কমেন্ট ও ২ হাজার বার ৫০০ শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু (১, ২, ৩, ৪) অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়।

    পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে মনে করেছেন। পোস্টের কমেন্টে একজন বলেন, ‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’ আরও একজন বলেন, ‘এহন কিছু বললেই বলবে হাজী সাহেবের মুখ ভালো না।’ একজন আবার বলেন, ‘সর্ষের মধ্যে ভূত।’

    আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

    প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ‘Chittagong Mirror’, ‘www.chittagongmirror.com’ এবং ১১ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এসব সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে ‘Chittagong Mirror’ নামে কোনো অ্যাকাউন্ট বা পেজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ফটোকার্ডে উল্লেখ করা ওয়েবসাইটটিও অ্যাক্সেস করা যায়নি।

    এ ছাড়া, ফটোকার্ডটি অধিকতর যাচাই করে দেখা যায়, এতে ব্যবহৃত ছবিটি ‘ওপেনএআই’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

    প্রচারিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী’ শিরোনামে ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় অংশ তরুণ, সমকামী ও বিদেশফেরত। পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও।

    ২০১৭ সালে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য চালু হওয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সেন্টারটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯৫৯ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৩ জন। যার মধ্যে যৌনকর্মী নারী তিনজন, যৌনকর্মী পুরুষ ৩২ জন, তৃতীয় লিঙ্গের তিনজন, মাদকসেবী পাঁচজন, স্থানীয় দম্পতি ৯০ জন, প্রবাসী ও দম্পতি ১২৭ জন এবং সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৩২০ জন রয়েছেন।

    এ ছাড়া, প্রতিবেদনে গত বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, প্রতিবছর পরীক্ষার পরিসর বৃদ্ধির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন রোগী। ২০২০ সালে ৫৫৮ জনকে পরীক্ষা করে ৪৪ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আড়াই হাজার টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন ৫৯ জন।

    বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘সীমান্ত জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ বেশি, পার্বত্য চট্টগ্রামে কম কেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশে যতজন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সীমান্ত জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। বিভাগের হিসাবে ঢাকা বিভাগে শুধু গত বছর নয়, কয়েক বছর ধরেই শনাক্তের সংখ্যা বেশি। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ।

    গত বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন ছিল ঢাকা বিভাগে। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭৬ জন। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ মূলধারার জনগোষ্ঠী, ১২ শতাংশ প্রবাসী, ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা ও অন্য অংশ সাধারণ জনগোষ্ঠীর। লিঙ্গ অনুযায়ী—পুরুষ ৮১ শতাংশ, নারী ১৮ শতাংশ ও হিজড়া এক শতাংশ। এ ছাড়া, প্রতিবেদনে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক নেওয়া ব্যক্তি, সমকামী ও প্রবাসী কর্মীদের সংখ্যা বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত একটি বাস্তবতা বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, এই যাতায়াতের ফলে কেউ এটি বহন করে এলে সীমান্তে তাঁদের স্ক্রিনিংয়েরও কোনো সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে যায়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় এক-দশমাংশ এলাকাজুড়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এর তিনটি জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। তিনটি জেলারই সীমান্ত আছে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে। কিন্তু তিনটি জেলাতেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। ২০২৫ সালে এই তিন জেলার মধ্যে বান্দরবানে কোনো সংক্রমণ হয়নি। আর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে দুজন করে এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন।

    ২০১৬ সালে বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে কোনো সংক্রমণ ছিল না। তবে রাঙামাটিতে একজনের সংক্রমণ ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য তিন জেলায় অনেক আগে থেকেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। এটা তাঁরা দেখে আসছেন। ওই তিন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ও প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা কম হওয়াও একটি কারণ বলে মনে হয়।

    সীমান্ত থাকার পরও ওই তিন জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ কম। এর কারণ হিসেবে রাঙামাটির চিকিৎসক ও টংগ্যা নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরশ খীসা বলেন, বাংলাদেশের অন্য সীমান্তগুলোতে যত লোকজনের যাতায়াত, পাহাড়ের সীমান্তে তা নেই। আবার এখানে সিরিঞ্জে মাদক নেওয়া বা অযাচিত যৌনাচারের সুযোগও কম।

    তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৪৬৮ জন এবং তাঁদের মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ৩৭৪ জন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, গত বছর এ বিভাগে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৩৭৬ জন।

    নওগাঁর সংসদ সদস্যের দাবির পেছনের সত্যতা

    চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের এক টক শোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন, তাঁর জেলায় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সবাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং তারা হোস্টেলে থাকে বলেও ওই অনুষ্ঠানে জানান।

    তবে এই তথ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে বিষয়টি নিয়ে সে সময়ের একাধিক (১, ২, ৩ ) প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

    প্রচারিত এসব প্রতিবেদনে নওগাঁর সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলামের বরাতে দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলা হয়। প্রতিবেদনে সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম জানান, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবি ভিত্তিহীন। জেলায় এইচআইভি রোগীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। তাঁরা এখন সিভিল সার্জন অফিসের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং ভালো আছেন। ২০২৫ সালে তিনজন রোগী জেলায় এইচআইভি পজিটিভ হন। সেই তিনজনই রোগী। ২০২৬ সালে কেউ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হননি।

    আমিনুল ইসলাম জানান, গত জুলাই মাসে নওগাঁয় ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষা করতে এসে এইচআইভি টেস্ট করেন। তবে তাঁদের কারও মধ্যে এইচআইভি পাওয়া যায়নি। একই তথ্য দেন বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিস ফারহানাও।

    প্রতিবেদনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার বরাতে বলা হয়, তিনি মোবাইল ফোনে জানান, ১২ জনের মধ্যে তিনজন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। এরপর তিনি কল কেটে দেন।

    সিদ্ধান্ত

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ জন এইডস রোগীর ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্তের বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও এর মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের এমন কোনো সংখ্যা উল্লেখ নেই। একইভাবে, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবিকেও সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।

  • এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা কারাগারে

    এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা কারাগারে

    আইন-আদালত:

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।

    আজ দুপুরের পর মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গতকাল সোমবার মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়।

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।

    আজ দুপুরের পর মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গতকাল সোমবার মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়।এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মাসুম বিল্লাহর শ‍্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়।মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভুক্তভোগী মরিয়ম, এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমসহ শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে মরিয়মের বাবা জানতে পারেন, বাসার ভেতরের কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শেরেবাংলা নগর পুলিশ পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় বিছানা থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

  • ভারতে পাচার করে বিক্রি, এক যুগ পর দেশে ফিরল কিশোরী

    ভারতে পাচার করে বিক্রি, এক যুগ পর দেশে ফিরল কিশোরী

    ভারতে পাচারের এক যুগ পর বাংলাদেশি এক কিশোরীকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত থেকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কিশোরীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে ৫১ বিজিবির রংপুর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    উদ্ধার কিশোরীর বাড়ি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায়। সে জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে একটি নারী পাচারকারী দল তাঁকে ভারতে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে বিক্রি করে দেয়।

    বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ী গ্রামের পাইকারপাড়া সীমান্ত এলাকায় দিগ্‌বিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল ওই কিশোরী। স্থানীয়রা বিষয়টি পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে জানালে বিজিবির সদস্যরা কিশোরীকে উদ্ধার করেন। পরে কিশোরীর দেওয়া পরিচয় ও ঠিকানায় যোগাযোগ করে তার বাবাকে ডাকা হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকালে কিশোরীর বাবা ও তার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে এসে কিশোরীকে শনাক্ত করেন। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে বিজিবি ওই কিশোরীকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়।

    মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন বলেন, বিজিবির হেফাজতে থাকা কিশোরীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও ভ্রমণ বিল উত্তোলন এবং ওবিই (OBE) কারিকুলাম সভায় অনুপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফাইনাল ট্যুরে সেন্ট মার্টিন যাওয়া ও ফেরার জন্য গত বছরের ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনের কর্তব্যরত ছুটি নেন মামুন মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেন। ওই সময় তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

    শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও বিল উত্তোলনের বিষয়টি মামুন মিয়া একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত হিসেবে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই উত্তোলন করা টাকা ফেরত দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

    প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর ভ্রমণ বিলের ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন মামুন মিয়া। আবেদনে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ওই শিক্ষা সফরে অংশ নিতে পারেননি।

    আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা সফর শেষে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ভ্রমণ ভাতা বাবদ ওই বিল উপস্থাপন করেন। তার দাবি, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল—তিনি ট্যুরে অংশ না নিলেও বিল জমা দেবেন এবং শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে অর্থ সমন্বয় করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন। আবেদনটি ফরওয়ার্ড করেন পরিসংখ্যান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম।

    তবে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই সভায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের ভাষ্য, মামুন মিয়া শিক্ষা সফরে অংশ না নেওয়ায় তার নামে শিক্ষাসফরের বিল দেওয়া সমীচীন হবে না, এমন মতামত দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে পরে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।

    এদিকে, ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস বরাবর মামুন মিয়ার রিফান্ডসংক্রান্ত আবেদন ফরওয়ার্ড করার বিষয়ে ড. নাজমা বেগম বলেন, তিনি মামুন মিয়ার টাকা ফেরত দেওয়ার একটি চিঠি ফরওয়ার্ড করেছেন। তবে ট্যুরে না গেলেও বিল উত্তোলন এবং সেই অর্থ অন্য শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে উল্লেখ থাকা কোনো চিঠি তিনি ফরওয়ার্ড করেননি বলে জানান। মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে বলে জানা গেছে।

    এ ছাড়া ১০ জুলাই ২০২৪ অনুষ্ঠিত ওবিই কারিকুলাম সভা নিয়েও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, ওই সভায় দুইজন বহিঃস্থ সদস্য উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং একমাত্র উপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, সেদিন কোনো বহিঃস্থ সদস্য অনলাইনে যুক্ত ছিলেন না।

    এ ছাড়া কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী কর্মকর্তা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানা গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়া বলেন, ‘আমি এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মতামত দেব না। ’ এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

    তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ওবিই কারিকুলাম সভার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রুল

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রুল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

    সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকার্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট দায়ের করেন চার আইনজীবী।

    তাদের দাবি ব্যবস্থা নেওয়ার এ ধরনের কমিটি এখতিয়ার বর্হিভূত।

    গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। রিটকারীদের দাবি, এটার ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘যাচাইহীন’ সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান/তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা এবং পরে নেওয়া সমস্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের একটি আবেদন দেন। সেটি নিষ্পত্তি না করায় তারা রিট করেন।রুলে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত একটি যাচাইহীন সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান/তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা এবং পরে নেওয়া সমস্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে রিট আবেদনকারীদের আবেদনপত্রটি নিষ্পত্তি না করার বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আইনি এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান/ইনকুয়েরি/তদন্ত কমিটি এবং বিবাদীদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকুয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

    অনলাইন পোর্টালটির সংবাদে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করা হয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে খোলা সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে।

    টেলিগ্রাম গ্রুপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। এটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।

    গোপন কার্যক্রম পরিচালনার ওই গ্রুপের ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট একটি অনলাইন পোর্টালের হাতে এসেছে। সেখানে ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে অনেকের সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ২১ জনের শুধু মোবাইল নম্বর রয়েছে।

    গ্রুপের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টেলিগ্রাম ও এর বাইরে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।

  • বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যা ঘটনায় মামলা

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যা ঘটনায় মামলা

    চুরির অভিযোগ তুলে খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন খুলনার হরিণটানা থানায় হত্যা মামলাটি করেন।

    মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    ওসি বলেন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রাতেই ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

    নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের (খাজা হল) পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে থাকতেন। গত শুক্রবার রাতে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পড়ে যান বলে আশপাশের ছাত্রদের ভাষ্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।ওই মেসের পাশের একটি বাড়ির এক নারী বলেন, ছাত্রদের কাছে তিনি শুনেছেন, শুক্রবার রাতে আজমুল এক ছাত্রের মিল (খাবার) খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়া নিয়ে কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন। দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ পান।

    আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন গতকাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাত একটার দিকে কয়েকজন ছেলে কল করে বলে, ‘আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে, এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে।’ এরপর তিনি খুলনা এসে প্রথমে মেসে যান। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে ছেলে লাশ দেখতে পান।

    আজমুলের হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আজমুল যে মেসে থাকতেন, সে ভবনে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকতেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে আজমুলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। তাঁর প্রতি অনেক ক্ষোভ ছিল। বিভিন্ন সময় অনেকের জামা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • অপ্রতীম হত্যার নেপথ্যে কী, উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পাঁচ বাহিনী

    অপ্রতীম হত্যার নেপথ্যে কী, উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পাঁচ বাহিনী

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নানা বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাং জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রীতমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এতে জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

    এদিকে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, এসআরবি।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী এবং একমাত্র সন্তান অপ্রীতমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে একমাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    স্থানীয়রা জানায়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮জন কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন এবং আল আমিনের নাম উঠে আসে।

    ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদক চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া অপ্রীতমের হাতের মূল্যবান আইফোন ছিনতাইসহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য জড়িত রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার প্রথমে ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে তুহিন নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় আনাছ নামের অপর কিশোরসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানা যায়।

    সূত্র জানায়, সেখানে কিশোর গ্যাং এর একটি চক্র আগে থেকেই ওতপেতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে শ্বাসরুদ্ধ এবং মারধর করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তার আইফোন এবং মানিব্যাগ লুটে নেওয়া হয়। পরে ঘাতকরা পাহাড়ের ডালে তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

    শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক’-এর পেছনের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

    এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কুবি ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। নিহতের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

    এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার।

    নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতীমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

    নিহত অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো আমি জানি না। আমি ঘাতকদের বিচার চাই।

    কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত সন্দেহে একাধিক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।

    তিনি বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডটির পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

    সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশের হেফাজতে আছে। তবে তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    অপ্রতীমের লাশের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা বাঁশ কাটার জন্য এখানে এসেছিলাম। হাতে ঘড়ি বা সঙ্গে মোবাইল ছিল না। সময়টা আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা হবে। আমাকে ছেলে বলছিল ওখানে কেউ ঘুমায়। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি ওর মাথায় জখম আছে। ভয় পেয়ে যাই। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর দেই।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে আর জীবিত পেলাম না। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

  • খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় মো. আজমুল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চার তলা ভবনের ছাদে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

    পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত আজমুল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিল।

    তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন আজমল তার বাবাকে জানায় যে, তিনি সেখানে থাকে এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছে। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না। এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়।

    এদিকে মারধর শেষে নিহত আজমলের বাবার কাছে ফোন দিয়ে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

    নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন বলেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের পর ফোন দেই, কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়।

    হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।

    হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার

    মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতরা হলেন সৌদি আরব প্রবাসী একরাম খালাসী (৪০), তার স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে।

    একরাম খালাসীকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • কুবি শিক্ষিকার সন্তান হত্যায় যুবক আটক

    কুবি শিক্ষিকার সন্তান হত্যায় যুবক আটক

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

    মৃত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান এবং কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর থেকেই শিশুটি নিখোঁজ হয়।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় আইফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত করে। পরে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ে অপ্রতিমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল কাদের জিলানী জানান, আমরা ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে টিলায় বাঁশ কাটতে এসেছিলাম। এ সময় ভাতিজা হঠাৎ লক্ষ্য করে একটি শিশু নিস্তেজ অবস্থায় শুয়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

    সদর দক্ষিণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অপ্রতিমকে এক অজ্ঞাত যুবকের সঙ্গে দেখা গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা ইতিমধ্যে জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের কয়েকটি টিম একযোগে কাজ করছে।

  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    অপ্রতীম নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।

    নিখোঁজ ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম সিটি করপোরেশনের কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।এদিকে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বেলা ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে।

  • সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ ও কনসার্ট অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অফিশিয়াল প্যাডে এ শোকজ দেওয়া হয়।

    শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন- জবি শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।

    নোটিশে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে ওই দুই নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জবি শাখা ছাত্রদল আয়োজিত কনসার্ট অনুষ্ঠান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক গ্রুপের কর্মীর সঙ্গে অন্য গ্রুপের এক কর্মীর কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে।

    তবে জবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ও সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

  • রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সড়কে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের পর এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতর খবর পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে দুইটা ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় দোকানপাট বন্ধ ও রাস্তায় কেউ না থাকায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ।

    এ বিষয়ে শাহজানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায় নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

  • রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের তেজগাঁও থানায় নেয়া হয়েছে । সেখানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, তেজগাঁও মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনক জঙ্গি হিসেবে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়।

  • ‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজার মানুষ হত্যা করেছে আ.লীগ’

    ‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজার মানুষ হত্যা করেছে আ.লীগ’

    আওয়ামী লীগ সরকার ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত জন্মাষ্টমী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ৬০ লক্ষের বেশি বিএনপির নেতার নামে গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে ২০ দিনে ১৪শ’ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের কোন অনুতাপ নেই।

    এ সমায় মতাদর্শিক অবস্থান থেকে বিএনপি কোন ধরনের দল, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি বামের ডাইনে, ডাইনের বামে মধ্যম পন্থার রাজনৈতিক দল। জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি ধর্মহীনতা ও ধর্ম ব্যবসা দুটোর বিরুদ্ধেই কথা বলে। বিএনপি ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় না।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম আমার বিশ্বাসের জায়গা, ধর্ম আমার শ্রদ্ধার জায়গা, ধর্ম আমার ইহকাল-পরকালের জায়গা। কিন্তু সেই ধর্ম রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়ে এসে মানুষের রক্তপাত আমরা ঘটাতে চাই না।

    আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা (আইনজীবীরা) এখানে অনেক মুসলিম সমাজের আইনজীবী আছেন, হিন্দু সমাজের আইনজীবী আছেন, কেউ কেউ খ্রিস্টান সমাজের আইনজীবী আছেন। কিন্তু যখন আপনি আদালতের সামনে দাঁড়ান, তখন আপনার পরিচয় কিন্তু মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান কিংবা হিন্দু নয়। তখন আপনি কালো কোট পরা একজন আইনজীবী।

    ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

  • শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির মাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।

    আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তার লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, সে নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

    স্থানীয় কয়েকজন ধারণা করছেন, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমার মধ্যে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকলিমা ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

    শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তান পেয়েছিলেন। সেই সন্তানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছেন। শুধু তার সন্তান নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

    ঘটনার পর আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটির মাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত প্রায় এক টন (১ হাজার কেজি) সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এ সময় বই পাচারের অভিযোগে ইব্রাহিম হোসেন নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

    জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নবম ও দশম শ্রেণির এসব বই উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিনামূল্যে বিতরণের এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছে কীভাবে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে অবৈধভাবে এসব বই কিনে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বইসহ ইব্রাহিমকে আটক করে।

    মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বই পাচারের অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে।

    এদিকে সরকারি অর্থে ছাপানো এই বইগুলো গুদাম থেকে বাইরে যাওয়ার পেছনে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

  • বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৪ জনের পেট কেটে বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলেন জিয়াউল

    বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৪ জনের পেট কেটে বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলেন জিয়াউল

    বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে বলেশ্বর নদে নিয়ে চোখ বেঁধে, গুলি করে, পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলা দেওয়া হয় বলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর সাব্বির।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় এ সাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী মেজর সাব্বির।

    মেজর সাব্বির ট্রাইব্যুনালে জানান, ২০১০ সালের মে মাসে র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় র‍্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা। পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদে ফ্রিশিং ট্রলারে মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে চারজনকে নিয়ে যায়। এরপর তাদের নৃশংসভাবে মেরে ফেলে।

    এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর র‍্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা লোকদের গুলি করতেন জিয়াউল আহসান। কোনো বন্দিকে একবার, কাউকে দুবার গুলি করা হতো। এরপর তার গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

    আব্বাস মল্লিক জানান, বন্দিদের পেট কেটে দেওয়া ও মাথায় গুলি করার কারণে নাড়িভুঁড়ি ও মস্তিষ্ক বেরিয়ে আসত এবং শরীর থেকে রক্ত পড়ত। এ কারণেই বোট ধোয়ার প্রয়োজন হতো। এরপর বোট ধুয়ে তারা চর দুয়ানীর বরফ মিলে ফিরে আসতেন।

  • ঢাবিতে শিক্ষার্থী নিহত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

    ঢাবিতে শিক্ষার্থী নিহত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের পুরোনো দেয়াল অনেক কিছুর সাক্ষী। এই বিশ্ববিদ্যালয় একদিকে যেমন ন্যায়পন্থি বিভিন্ন আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় রয়েছে বিচারহীনতার কালো ইতিহাস। সেই নির্মম বাস্তবতায় আজও বিচারের অপেক্ষায় আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবার ও সহপাঠীরা।

    ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্যার এএফ রহমান হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে নিহত হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলায় অভিযুক্ত দশজনই খালাস পান। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ সেই খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল পর্যন্ত করেনি মর্মে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস এলাকায় নিহত হলেন, মামলা হলো, বিচার হলো; কিন্তু শেষ পর্যন্ত হত্যাকারী কে, সেটিই প্রমাণ করা গেল না!

    একইভাবে, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য টিএসসির নিকটস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় আজও সুষ্ঠু বিচার পাননি তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

    এই যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি—এর নেপথ্যের কারণ কী? একটি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া অপরাধীদের আরেকটা হত্যার পথ সহজ করে দেয়। এরূপ হত্যার শিকার শুধু আবু বকর বা সাম্য নয়, আরো অনেকে হয়েছেন বিভিন্ন সময় এবং তারও অনেক ক্ষেত্রে কোনো বিচার হয়নি। অপরাধীদের কোনো শাস্তি হয়নি। ক্যাম্পাসে ক্ষমতার রাজনীতির অপচর্চা বিচারকে প্রভাবিত করেছে বহুবার। নৈতিক মূল্যবোধ আর সততার শিক্ষা দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব শিক্ষার্থীদেরই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি, এর চেয়ে লজ্জা আর কী হতে পারে?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু বকর ও সাম্য হত্যার মতো প্রতিটি ঝুলে থাকা হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়। এটি তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, জবাবদিহির অভাব এবং সর্বোপরি, সময়ের সঙ্গে বিচারপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের স্মৃতি থেকে ঘটনাগুলো হারিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তাই এর প্রতিকারও হতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক, ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান মাধ্যমে।

    প্রথমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব হত্যাকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ নথি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের নিহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ডেটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘আর্কাইভ’ তৈরি করা যেতে পারে। সেখানে শুধু নিহত শিক্ষার্থীর ছবি কিংবা স্মৃতিচারণই থাকবে না; বরং মামলার নম্বর, তদন্তের অবস্থা, চার্জশিট, বিচারিক অগ্রগতি, আসামিদের বর্তমান অবস্থা এবং মামলাটি কোথায় আটকে আছে—এসবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

    দ্বিতীয়ত, বিচার শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার অগ্রগতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডাকসু, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং প্রয়োজনে আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন সেল গঠন করা যেতে পারে। এই সেল কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না; বরং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে নির্দিষ্ট সময় পরপর তা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সামনে তুলে ধরবে।

    তৃতীয়ত, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো মূল্যে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হতে হবে। অপরাধী কোনো দলের, কোনো সংগঠনের কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ—এই পরিচয় যেন তদন্তের গতিপথ নির্ধারণ না করে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যদি একজন অপরাধীকে আইনের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়, তাহলে সেটি আর রাজনীতি থাকে না; সেটি হয়ে যায় শোষণের হাতিয়ার।

    চতুর্থত, বিচারপ্রত্যাশী সচেতন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিচার দাবির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের লেখালেখি, আলাপ, সভা-সেমিনার, পাঠচক্রে নিহতদের বিচার দাবি জীবন্ত রাখতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত এখানেই। একটি হত্যাকাণ্ডের পর আমরা সোচ্চার হই, মিছিল করি, প্রতিবাদ করি। কিন্তু কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছর পর যখন নতুন কোনো ঘটনা সামনে আসে, তখন পুরোনো মামলাটি আমাদের আলোচনার বাইরে চলে যায়। তাছাড়া ঘটনার সময়কার শিক্ষার্থীরা একসময় লেখাপড়া শেষে ক্যাম্পাস ছেড়ে যান এবং ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থীরা আসেন, যারা এ বিষয়ে জানতেও পারেন না। এভাবে বিচারহীনতা দীর্ঘায়িত হয়। নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করা শিক্ষার্থী, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সবারই দায়িত্ব।পাশাপাশি, নতুন করে যাতে আর কোনো হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। টিএসসি, কার্জন হল এলাকাসহ ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল ও আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে ক্যাম্পাস এলাকা সুরক্ষিত রাখতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী অপরাধ ঘটিয়ে সটকে পড়ার সুযোগ না পায়!

  • ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    আইন-আদালত

    জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

    এছাড়া ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সম্পত্তি বিক্রয় করে পাওয়া টাকা জুলাই/আগস্ট ২০২৪ সময়কালে শহীদ ও আহত সব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্যকোন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মামলার বিচার প্রক্রিয়া: এই মামলা প্রথমে ৫/২০২৫ মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ১৮ জুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ আনা হয়। ওই দিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। যুক্তিতর্ক শুরু ৪ আগস্ট এবং শেষ হয় ১৭ আগস্ট। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

  • সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

    সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়ার মিনা বাজারের সামনে থেকে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

    আটক খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুর বয়স ৬৯ বছর। তিনি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার নাটিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে পাবনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ওসি জানান, আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে আজিজুল হক আরজু সামান্য আহত হন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • ৮ মাসেই আপিল বিভাগে ১১ হাজার ও হাইকোর্টে ৮৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

    ৮ মাসেই আপিল বিভাগে ১১ হাজার ও হাইকোর্টে ৮৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

    আইন-আদালত ডেস্ক:

    মামলাজট নিরসন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণে নজিরবিহীন গতি ফিরেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে।

    ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই (জানুয়ারি–আগস্ট) আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি এবং হাইকোর্ট বিভাগে সাড়ে ৮৭ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

    রবিবার সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির নতুন নজির: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আপিল বিভাগে মোট ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিপরীতে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি। ফলে দায়েরকৃত মামলার তুলনায় প্রায় ২ হাজার (১,৯৯৭টি) মামলা বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে।

    বিগত পাঁচ বছরের (২০২১–২০২৫) গড় বার্ষিক নিষ্পত্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার ৯৬টি। অথচ ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই নিষ্পত্তি ছাড়িয়েছে ১১ হাজার। চলতি বছরের আট মাসের মোট ১৩২ কর্মদিবসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৪টি করে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২,৭০৫টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২,৭২৪টি, মার্চে ১,১০৭টি, এপ্রিলে ১,৩২১টি, মে মাসে ৬৩৮টি, জুনে ১,৩২১টি, জুলাইয়ে ৬৮৭টি এবং আগস্টে ৬৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

    ফলে বছরের শুরুতে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪১ হাজার ৫৫১টি থাকলেও আগস্ট শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫৪টিতে।হাইকোর্ট বিভাগে বড় অগ্রগতি: হাইকোর্ট বিভাগেও মামলা নিষ্পত্তির গতিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বছরের প্রথম আট মাসে মোট ৮৭ হাজার ৫৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৯৫০টি। বিগত পাঁচ বছরের যেকোনো পূর্ণ বছরের নিষ্পত্তির তুলনায় চলতি বছরের এই আট মাসের নিষ্পত্তির সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের পুরো বছরের (৫৫ হাজার ৭৫৬টি) তুলনায় চলতি বছরের আট মাসেই ৩১ হাজার ৮৪০টি বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

    চলতি বছরের প্রথম কোয়ার্টারে (জানুয়ারি–মার্চ) ৭ হাজার ৭৩৯টি, দ্বিতীয় কোয়ার্টারে (এপ্রিল–জুন) ২৭ হাজার ৫৬০টি, জুলাই মাসে ৩২ হাজার ২১১টি এবং আগস্টে ২০ হাজার ৮৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। এতে বছরের শুরুতে হাইকোর্টে থাকা ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৬টি বিচারাধীন মামলা থেকে ১২ হাজার ৯৮০টি কমে বর্তমানে তা ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৬টিতে নেমে এসেছে।ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ: নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।


    চলতি বছরের জুন মাসে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি গঠনের পর এ পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা গুরুতর ফৌজদারি মামলার জট নিরসনে ভূমিকা রাখছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং মামলাজট ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সুপ্রিম কোর্ট এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

  • ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে আনসার সদস্যরা। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব। ’

    বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মোঃ সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।

  • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৫১ মামলায় গ্রেপ্তার ৫৪২

    রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৫১ মামলায় গ্রেপ্তার ৫৪২

    রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫১টি মামলা করেছে পুলিশ।

    গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন আজ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিরপুর বিভাগ এলাকার—১৯৩ জন। এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৯১ জন, ওয়ারীতে ৬০ জন, মতিঝিলে ৫২ জন, উত্তরায় ৪২ জন, গুলশানে ৪১ জন, লালবাগে ২৮ জন এবং রমনা বিভাগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১২ জন ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    অভিযানের সময় আসামিদের কাছ থেকে ৪৫ কেজি ৪৯০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ২৯১টি ইয়াবা বড়ি, ১টি শটগান, ১টি প্রাইভেট কার, ১৫টি মুঠোফোন ও ১ জোড়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত) রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মোট ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিএমপি।

  • আদাবরে হাত-গলাকাটা ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার

    আদাবরে হাত-গলাকাটা ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার

    জধানীর আদাবর থেকে হাত ও গলাকাটা অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি প্রায় ১০ টুকরো করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আদাবর ১০ নম্বরের হাক্কার মোড় এলাকা থেকে লাশটিটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি টি উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

  • ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এসসিবিএ) মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, হু ইজ হি হেয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা জানেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আমিই তো আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলব। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এখানে? তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন!

    তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টে এখনো অনেক বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। প্রধান বিচারপতিকে সেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। এক মাসের মধ্যে দাবি না মানলে আইনজীবীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সবারই একটা উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে দাবিÑআপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশের প্রত্যেকটি কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং তা আগামী এক মাসের মধ্যেই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আপাতত টেম্পরারি পর্যায়ের শেড হলেও করে দিতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে, এই বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চেম্বার করতে হবে, হলরুম করতে হবে।

    গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাদানুবাদে তার আপিল বিভাগের এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা মামলার প্রসিডিংয়ে হয়নি।

  • অনলাইনে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    অনলাইনে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে।বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

    এদিন আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস : বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, এই পদ্ধতিটি অন্যান্য সার্ভারের সঙ্গে সমন্বিত হলে এক ক্লিকের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির বিয়ে সংক্রান্ত তথ্যাবলি জানা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াতেও এই তথ্যগুলো বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অনেক অনিয়ম বন্ধ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধের পাশাপাশি বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতিও ঠেকানো সম্ভব হবে।

    বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, প্লাস জালিয়াতি রোধ হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ভিসা নিতে গেলে সেখান থেকেও এক ক্লিকে সব ইনফরমেশন পাওয়া যাবে।’

    প্রকল্পটির আওতায় প্রথমে ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

    ব্র্যাকের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের দুর্বলতার কারণে ব্র্যাককে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বরং বিবাহসংক্রান্ত বিষয়ে মাঠপর্যায়ে ব্র্যাকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।

    মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ব্র্যাক ইজ ওয়ার্কিং সিন্স ইটস ইনসেপশন। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট লেভেল পর্যন্ত নারীদের এই বৈবাহিক অবস্থানে ব্র্যাক কাজ করছে।

    তাদের একটা এক্সপেরিয়েন্স আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব আমাদের কাজিদের জন্য। এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় না। আমরা শুধু তাদের এক্সপার্টাইজ কাজে লাগাচ্ছি।’

  • ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    পাবনা শহরের ইসকন মন্দিরে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

    গত সোমবার সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সুধিরপুর এলাকায়। তিনি প্রশান্ত চন্দ্র ম-লের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


    মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করে মন্দিরে ভাঙচুর করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের লোকজন তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। আটকের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানো গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পাবনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের মতো তাঁর মেয়েও চলে এসেছেন খবরের শিরোনামে। বাবার মতো বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন উত্তর প্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক (ডিএম) মেধা রুপম। মশা মারতে কামান দাগার অপরাধে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের অর্থ এবার তাঁর বেতন থেকে কাটা হবে।

    শুধু তাই নয়, অন্যায়ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) প্রয়োগ করে কাউকে পাঁচ মাস বন্দী রাখার এই ব্যতিক্রমী ঘটনা নিয়ে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি মেধা রুপমের চাকরিসংক্রান্ত রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও হাইকোর্টের বিচারপতিরা দিয়েছেন। সরকারি আমলাদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ কাটার এই রায় অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন না হলেও নিশ্চিতভাবেই দৃষ্টান্তমূলক। আদালত মনে করেন, এর ফলে আমলাশাহি ও পুলিশ প্রশাসনের বেপরোয়া হয়ে ওঠা রোখা যাবে। তাঁদের আইন ও সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য করা যাবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কিছুদিন ধরেই বিরোধীদের নিশানায় জ্বলজ্বল করছেন। সারা দেশে ভোটের তালিকা সংশোধনের নামে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ চালু করার মধ্য দিয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের ১০ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি। এখনো ২৭ লাখ ভোটারের নাম বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে বিরোধী অনুগত ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। বিশেষ করে বাদ দেওয়া হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাম। এভাবে তিনি শাসকদল বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিকারের কোনো উপায়ও নেই, যেহেতু কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে মেধা রুপম। তিনি দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক। এই জেলা নয়ডা নামেই বেশি পরিচিত। ২০২৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তাঁর এত গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্বভার পাওয়া নিয়ে নানা কথা উঠেছিল। বাবার প্রভাব নিয়ে বেশ চর্চা হয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হয়েছে, যেভাবে তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা যেভাবে তাঁর বেতন থেকে কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই তাঁর কর্মজীবনের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। মাস কয়েক আগে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত নয়ডার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আকৃতি সেই আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সেই শ্রমিক আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনকে হিংসাত্মক করে তোলার প্ররোচনা দিয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি ছাত্রী আকৃতি চৌধুরী। সেই অভিযোগে আকৃতিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওই আইনে তাঁকে ৫ মাস বিনা বিচারে আটকও রাখা হয়। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রুজু করা হয়।

    সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে এলাহাবাদ হাইকোর্ট আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আনা মামলা বাতিল করার নির্দেশ দেন। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করে জানান, আকৃতিকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটাও পুলিশ প্রমাণ করতে পারেনি। এমন কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি যাতে প্রমাণিত হয় তিনি শ্রমিকদের সহিংস আচরণে প্ররোচনা জুগিয়েছেন। তা ছাড়া দেখা যাচ্ছে, শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হওয়ার আগেই আকৃতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দুই বিচারপতি তাঁদের রায়ে জেলা শাসিকা মেধা রুপমের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন, সংবিধানের প্রতি অনুগত না থেকে তিনি রাজনৈতিক প্রশাসনের কাছে অনুগত থাকতে চেয়েছেন। দৃষ্টান্ত স্থাপনের তাগিদে তাই তিনি আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছেন। বিচারপতিরা বলেন, পুলিশ ও আমলাদের মনে রাখা উচিত তাঁরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। অন্য কারও প্রতি নন। তাঁদের এমন আচরণ করা উচিত নয় যাতে মনে হয় যে তাঁরা ব্রিটিশ আমলের মতো দমনপীড়নের বাহকে পরিণত হয়েছেন।

    বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’–এর উল্লেখ করে বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেছেন, এভাবে চললে উত্তর প্রদেশ ক্রমেই ‘অরওয়েলীয় দুঃসহ সমাজব্যবস্থায়’ পরিণত হবে। রাজ্যটা পরিণত হবে ‘সম্পূর্ণভাবে জীবনগ্রাসী রাষ্ট্রে’।

    শুধু এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করেই বিচারপতিরা ক্ষান্ত হননি, আকৃতিকে তাঁরা ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জেলা শাসিকা মেধা রুপম মতপ্রকাশের অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে তাঁর সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছেন। একই অপরাধ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আকৃতিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে ৫ লাখ রুপি দেওয়া হবে, তা মেধা ও অন্য কর্মকর্তাদের বেতন থেকে কাটতে হবে। জরিমানার অর্থ রাষ্ট্র দেবে না। সেই সঙ্গে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ মেধার কর্মজীবনের রিপোর্ট ও রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। জাতীয় স্তরের সাবেক শুটারও ছিলেন তিনি। তিনিই নয়ডার প্রথম নারী জেলা শাসক। বাবার মতো তিনিও বিতর্কে জড়ালেন। আইন অনুযায়ী জ্ঞানেশ কুমার আইন আদালতের ঊর্ধ্বে হলেও কন্যা মেধা আদালতের রোষ থেকে বাঁচতে পারলেন না। বরং এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় তাঁর কর্মজীবনের রেকর্ডভুক্ত হয়ে রইল।

  • পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    তুরস্কের শিক্ষাবিদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মাহমুদ ওজেরে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক নগরসমাজ’ধারণাগুলোকে ‘জাস্টিস ইন ইসলামিক থট’ বইয়ের আলোকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ওমর তুর্কার ও ইউনুস কাপলান সম্পাদিত বইটি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের ধারণা কীভাবে ব্যক্তি, পরিবার, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে- তা বিশ্লেষণ করে। লেখাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো—ন্যায়বিচার কেবল আদালত, আইন বা রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; এটি মানুষের অস্তিত্ব ও চরিত্র থেকে শুরু হয়ে পুরো সামাজিক ব্যবস্থাকে ধারণ করে।

    এখানে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ দুটি আলাদা আদর্শ নয়। বরং একটি আরেকটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যে মানুষ নিজের আত্মার ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। আবার যে সমাজ ন্যায়, নৈতিকতা ও সুবিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেই সমাজ ব্যক্তিকে নৈতিকভাবে বিকশিত হওয়ার পরিবেশ দেয়। অর্থাৎ ব্যক্তি সমাজকে তৈরি করে, আবার সমাজও ব্যক্তিকে তৈরি করে।

    এই ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের আত্মার শৃঙ্খলা। প্লেটোনীয় ঐতিহ্যে মানুষের আত্মার তিনটি প্রধান শক্তির কথা বলা হয়—বুদ্ধি, উদ্দীপনা বা সাহসের শক্তি এবং আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের প্রবৃত্তি। প্রত্যেকটির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হলে জ্ঞান, সাহস ও সংযমের মতো গুণের বিকাশ ঘটে। আর এই গুণগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সমন্বয় ঘটায় ন্যায়বিচার। ফলে ন্যায় হয়ে ওঠে অন্যান্য নৈতিক গুণের সমন্বিত ভিত্তি।

    এই দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ মানুষ সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের বুদ্ধি, সাহস ও আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথ ভারসাম্যের মধ্যে আনতে পেরেছেন। তার চরিত্রে জ্ঞান আছে, কিন্তু জ্ঞান অহংকারে পরিণত হয়নি; সাহস আছে, কিন্তু তা উগ্রতায় রূপ নেয়নি; আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু তা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। ন্যায়বোধ এই প্রবৃত্তিগুলোকে যথাস্থানে রাখে।

    ইসলামি নৈতিক দর্শনে এই ধারণা ব্যক্তি থেকে পরিবারের দিকে বিস্তৃত হয়। নাসিরুদ্দিন তুসির ‘আখলাক-ই নাসিরি’তে নৈতিক দর্শনকে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—এই তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত স্তরে দেখা হয়েছে। এখানে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার আলাদা বিষয় নয়। ব্যক্তি যেমন নিজের চরিত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে, তেমনি পরিবার পরিচালনা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক জীবনের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হবে।

    আধুনিক যুগে ন্যায়বিচারকে আমরা সাধারণত আইন, আদালত, অধিকার কিংবা রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের পরিধি আরো বিস্তৃত। সেখানে ন্যায় মানে শুধু কারও অধিকার রক্ষা করা নয়; বরং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ অবস্থানে রাখা এবং প্রতিটি সম্পর্ককে তার উপযুক্ত ভারসাম্যের মধ্যে পরিচালনা করা। অন্যায় হলো কোনো কিছুকে তার যথার্থ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    এই ধারণাটি আল-গাজ্জালির চিন্তাতেও গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে ন্যায় এমন একটি বাস্তব নৈতিক গুণ, যা মানুষের আচরণে প্রকাশ পেতে হবে। শুধু ন্যায় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা যথেষ্ট নয়; ন্যায়কে চরিত্রে পরিণত করতে হবে এবং জীবনের কাজে তার প্রকাশ ঘটাতে হবে। ফলে নৈতিকতা কোনো বক্তৃতা বা তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়—এটি জীবনযাপনের বিষয়।

    এই জায়গায় ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পর্কটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমাজের ন্যায়বিচার শুধু ভালো আইন দিয়ে নিশ্চিত হয় না। আইন প্রয়োগকারী মানুষ, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পরিবার এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে ন্যায়বোধের চর্চা করতে হয়। ন্যায়বান মানুষ ছাড়া ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান টেকসই হয় না। আবার ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া ব্যক্তির নৈতিক বিকাশও কঠিন হয়ে পড়ে।

    আল-ফারাবির ‘গুণী নগর’ ধারণার মূল শক্তি এখানেই। গুণী নগর এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ বা সুখ অর্জনের পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষা, আইন, পরিবার, বাণিজ্য, প্রশাসন—সব সামাজিক প্রতিষ্ঠান মানুষের নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। ফলে রাষ্ট্র কেবল নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার যন্ত্র নয়; এটি মানুষের চরিত্র গঠনের পরিবেশও তৈরি করে।

    এই ধারণার সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব সাধারণত নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি রাজনৈতিক দর্শনে রাষ্ট্রের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত—মানুষের নৈতিক ও সামগ্রিক উৎকর্ষের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে উন্নত করতে পারে।

    এ কারণে ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি শুধু জনগণের জন্য নয়, শাসকের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রের ন্যায় অনেকাংশে নির্ভর করে তার নেতৃত্বের নৈতিক চরিত্রের ওপর। ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় শাসককে নিজেকেই ন্যায় ও আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ শাসকের চরিত্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। লেখক আল-গাজ্জালির আলোচনার সূত্র ধরে দেখিয়েছেন, শাসকের ন্যায়বিচার শুধু তার ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়; তার চারপাশের ক্ষমতাকাঠামো ও সমাজেও এর প্রতিফলন ঘটে।

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়। শুধু আইন তৈরি করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। যদি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হন, বিচারব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, ক্ষমতাবানরা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন এবং নাগরিকের মধ্যে ন্যায়বোধ দুর্বল থাকে, তাহলে সংবিধান ও আইন থাকা সত্ত্বেও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে না।

    ন্যায় তাই একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি। এটি পরিবারে যেমন প্রয়োজন, রাষ্ট্রেও তেমন প্রয়োজন। ব্যবসায় যেমন প্রয়োজন, রাজনীতিতেও তেমন প্রয়োজন। আদালতে যেমন প্রয়োজন, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও তেমন প্রয়োজন। একজন নাগরিকের ন্যায়বোধ এবং একজন শাসকের ন্যায়বোধ একই নৈতিক মূলনীতির অংশ।

    ইসলামি চিন্তায় ন্যায়কে আরও বৃহত্তর এক মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ইবনে আরাবির চিন্তায় আল্লাহর ‘আল-আদল’—ন্যায়বিচারক—নামের সঙ্গে সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলার সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জগতে অন্যায় সেই শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করে। ফলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা কেবল রাজনৈতিক প্রয়োজন নয়; এটি অস্তিত্বের একটি বৃহত্তর নৈতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কেরও অংশ।

    এই জায়গায় আধুনিক বিশ্বের সংকটগুলোর সঙ্গে ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি হয়। আজকের পৃথিবীতে আমরা দুর্নীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক সংকট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আস্থার সংকট নিয়ে আলোচনা করি। এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে আমরা প্রায়ই নতুন আইন, নতুন প্রতিষ্ঠান কিংবা নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর কথা বলি। কিন্তু মানুষের চরিত্রের পরিবর্তন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

    ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর ধারণা সেই জায়গাটিই সামনে আনে। একটি ভালো সমাজের জন্য শুধু ভালো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন নয়; ভালো মানুষও প্রয়োজন। আবার ভালো মানুষ তৈরির জন্য প্রয়োজন এমন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যা নৈতিকতাকে উৎসাহিত করবে।

    অর্থাৎ পরিবর্তনের পথ একমুখী নয়। শুধু মানুষ বদলালে সমাজ বদলাবে—এটিও পুরো সত্য নয়। আবার শুধু প্রতিষ্ঠান বদলালেই মানুষ বদলে যাবে—এটিও যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে পরিবর্তিত হতে হয়। ন্যায়বান নাগরিক ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, আর ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান নতুন প্রজন্মের ন্যায়বান নাগরিক তৈরিতে সহায়তা করে।

    এখানেই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ থেকে ‘গুণী নগর’-এর যাত্রা। ব্যক্তি তার আত্মার মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে; পরিবার সেই ন্যায়কে সম্পর্কের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে; সমাজ সেটিকে সামাজিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেবে; রাষ্ট্র সেটিকে আইন ও শাসনের কাঠামোর মাধ্যমে সংরক্ষণ করবে। আবার রাষ্ট্র ও সমাজের সেই ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ব্যক্তির নৈতিক বিকাশকে আরও শক্তিশালী করবে।

    এই দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ন্যায় কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি একটি জীবনদর্শন। ব্যক্তি যদি ন্যায়বান না হন, পরিবারে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় না; পরিবারে ন্যায় না থাকলে সমাজে ন্যায় দুর্বল হয়; সমাজে ন্যায় দুর্বল হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

    তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের আত্মার প্রশ্নেও ফিরে আসে। রাষ্ট্রের ন্যায় শুরু হয় মানুষের ভেতর থেকে, আবার মানুষের নৈতিক বিকাশের জন্য ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রয়োজন। ব্যক্তি ও সমাজের এই পারস্পরিক নির্মাণই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর সবচেয়ে গভীর শিক্ষা।

    সমকালীন পৃথিবীতে যখন ন্যায়বিচারকে অনেক সময় শুধু আদালত, অধিকার ও আইনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন ইসলামি চিন্তার এই বিস্তৃত ধারণা নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। ন্যায় মানে শুধু অপরাধীর বিচার নয়; ন্যায় মানে প্রত্যেক মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্পর্ককে তার যথাযথ মর্যাদা ও অবস্থান দেওয়া। ন্যায় মানে ক্ষমতার ব্যবহারেও সংযম, সম্পদের বণ্টনে ভারসাম্য, পরিবারে দায়িত্বশীলতা এবং ব্যক্তিজীবনে আত্মশুদ্ধি।

    এই অর্থে একটি ন্যায়ভিত্তিক শহর বা রাষ্ট্র কেবল উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি কিংবা কার্যকর প্রশাসনের নাম নয়। এটি এমন একটি নৈতিক পরিবেশ, যেখানে মানুষ নিজেকে উন্নত করতে পারে এবং অন্যের উন্নতির পথও তৈরি করে। আর সেই সমাজের সূচনা হয় একজন মানুষের নিজের ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ ও গুণী নগর তাই দুটি আলাদা স্বপ্ন নয়। একটি অন্যটির কারণও, ফলও। ন্যায় তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন। ব্যক্তি ন্যায়বান হলে সমাজের ভিত্তি শক্ত হয়; সমাজ ন্যায়বান হলে ব্যক্তির উৎকর্ষের পথ প্রশস্ত হয়। এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার সম্ভাবনা নিহিত।

    মানুষ একা বসবাসের জন্য সৃষ্টি হয়নি। পারস্পরিক প্রয়োজন ও সম্পর্কের কারণে মানুষ পরিবার গড়ে, সমাজ তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও নগরসভ্যতার জন্ম দেয়। কিন্তু মানুষের সম্মিলিত জীবন কীভাবে এমনভাবে সংগঠিত হবে, যাতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত হয়—এই প্রশ্নটি প্রাচীনকাল থেকেই দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম প্রধান বিষয়।

    প্লেটো ও অ্যারিস্টটল থেকে আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, আল-গাজ্জালি, নাসিরুদ্দিন তুসি, ইবনে বাজ্জাহ ও ইবনে খালদুন পর্যন্ত মুসলিম ও অমুসলিম বহু চিন্তক এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যে এ আলোচনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘আল-ইনসান আল-কামিল’—পূর্ণাঙ্গ বা পরিপূর্ণ মানুষ এবং ‘আল-মাদিনাহ আল-ফাদিলাহ’—গুণী বা ন্যায়ভিত্তিক নগররাষ্ট্র। আল-ফারাবি এই চিন্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি নির্মাণ করেন।

  • মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    বাংলাভাষী এক মুসলিম নারীকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনায় ভারতে আসামের রাজ্য সরকারকে দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট।

    ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কোনো রাজ্য সরকারকে আদালতের খরচ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বলার ঘটনা এই প্রথম।

    মুমতাজ বেগমের পরিবার গৌহাটি হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করার পর জানতে পারে যে তাকে জোর করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই মামলায় হাইকোর্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও পক্ষভুক্ত করে।

    আদালত আরো জানিয়েছে, এই নারীকে বাংলাদেশ থেকে খুঁজে বের করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশটির সরকারকে ‘চেষ্টা চালাতে’ নির্দেশ দেওয়া হবে।

    মুমতাজ বেগমকে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসামের নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ভূমিকাতেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

    হেবিয়াস কর্পাস মামলার ভিত্তিতে শুনানি করতে গিয়ে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের বেঞ্চ বলেছে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আদালত মনে করেছে যে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্বেষপ্রসূত পদক্ষেপের বিষয়টি নথি থেকেই স্পষ্ট।

  • সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক বাজেট বরাদ্দ, বিচারক নিয়োগ এবং দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী।

    জনস্বার্থে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ নাগরিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।

    নোটিশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।

    নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে প্রায় ৩১ হাজার ১২০টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন ছিল।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে ৬ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০৩ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    এতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬ হাজার করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আপিল বিভাগে ন্যূনতম ৭ জন বিচারপতি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৪ জন মানুষের বিপরীতে একজন বিচারক রয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ অনুপাতও কম বলে দাবি করা হয়েছে।

    হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বেঞ্চ বাড়ানোর দাবি

    হাইকোর্ট বিভাগে বাণিজ্যিক মামলা নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে মাত্র দুটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

    অন্যদিকে, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে একাধিক বেঞ্চ পরিচালনা ও বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের হওয়া মামলার মাত্র ৩৫ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে ১৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

    নোটিশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার জায়গা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল সুবিধার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় আদালতের করিডোরে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে এজলাস সংকট ও ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে বিচার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

    নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে বিচারিক কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    বাকি দাবিগুলো হচ্ছে

    – আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা;

    – প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যৌক্তিক বাজেট কাঠামো প্রণয়ন;

    – আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ গঠন;

    – মামলার সংখ্যা, নিষ্পত্তির হার ও নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বিচারক ও বেঞ্চের সংখ্যা নির্ধারণ;

    – এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ;

    – বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ বার্ষিক হিসাব প্রকাশ।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে আইনজীবীদের সংবিধান লঙ্ঘন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। দেশের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দ অত্যন্ত কম বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    নোটিশে বিচার বিভাগের সামগ্রিক বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে।

    আইনজীবীদের মতে, বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বিচার বিভাগের জন্য এ ধরনের বরাদ্দ রাষ্ট্রের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রতি অপ্রতুল বরাদ্দের বিষয়টি নতুন নয়। গত দুই দশকে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো কোনো বছর সুপ্রিম কোর্টের উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দ ছিল না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ও অবকাঠামো বাড়ানো হয়নি। এর ফলে বিচারক ও মামলার সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক মামলা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের জন্য শুধু ব্যয়ের খাত নয়। কোর্ট ফি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প শুল্ক, প্রসেস ফি ও জরিমানার মাধ্যমে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য রাজস্বও যোগ করে। তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, এটি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    অন্যথায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • মাদক মামলা

    মাদক মামলা

    মিসরে টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচারের মামলায় মিসরে জনপ্রিয় এক নারী টেলিভিশন উপস্থাপকসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

    মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ওই উপস্থাপকের নাম সারাহ খলিফা। তার বয়স ৩৯ বছর। ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য তিনি বেশি পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ে আলোচনা করা হতো।

    সরকার-সংশ্লিষ্ট পত্রিকা আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের জন্য একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগে সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা এবং বহনের অভিযোগও রয়েছে।

    কায়রোর একটি আদালত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে ফতোয়া বা ধর্মীয় মতামত জানতে চেয়েছিলেন। দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আখবার এল-ইয়োম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি এবং বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আল-আহরাম জানিয়েছে, অভিযানে ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। তিনি বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক।

    অন্য মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

    অন্য একটি মামলায় সারাহ খলিফা ও অপর আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ ছিল।

    মিসরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণসহ কয়েক ধরনের অপরাধ এবং মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

    মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫৪১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের সার্কিট হাউসে নামাজ আদায়ের অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্ক করা গাড়ির পেছনে উসমান নামাজ আদায় করছেন। পুলিশের দাবি, এতে সার্কিট হাউসে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি।

    উসমান সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। দলীয় নেতাদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন।

    পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এর আগে নামাজের ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি নয়।

    সূত্র: দ্য ওয়্যার

  • খাদেম রহমত আলী হত্যায় ২ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ৫

    খাদেম রহমত আলী হত্যায় ২ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ৫

    রংপুরের সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

    রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় সাত জেএমবি জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার। এছাড়া ছয়জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানারও আদেশ দেওয়া হয়।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২), সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল (৩০), সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান (৩০), উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি (৩০), চান্দু মিয়া (২০)।

    খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন জেএমবির সদস্য আবু সাঈদ (৩০), তৌফিকুল ইসলাম সবুজ (৩৫), সাদাত ওরফে রতন মিয়া (২৩), জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী (২৬), বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার (৩৫) ও রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন (২৫)।

    ১৩ আসামির মধ্যে দুজন পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন চান্দু মিয়া (২০) ও রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন (২৫)।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন ১১ নভেম্বর তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে পুলিশ ওই মামলায় ১৪ জেএমবির সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। যার মধ্যে আসামি পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন ২০১৭ সালের ৫ জানুযারি ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। শুনানি শেষে বিচারক নিহত দুই জঙ্গিকে বাদ দিয়ে ১২ জনের নামে অভিযোগ গঠন করেন।

  • মাদক মামলার বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

    মাদক মামলার বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

    মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে গতি আনতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং মহানগরে ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার।

    আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সেগুলোর জন্য পৃথক স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল ও অধিক্ষেত্র: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এলাকার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের আওতাধীন থানাগুলোর জন্য চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে-ঢাকা মহানগর-১ এর অধীন পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরে বাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।

    ঢাকা মহানগর-২ এর অধীন কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালী, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা।

    ঢাকা মহানগর-৩ এর আওতাধীন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।

    ঢাকা মহানগর-৪ আওতাধীন উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।

    নারায়ণগঞ্জের জন্য ২টি (নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২), চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি (চট্টগ্রাম মহানগর-১, ২ ও ৩) ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার-১ এর অধীন টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২ এর আওতাধীন উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও থানা। কক্সবাজার-৩ এর অধীন রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা।

    এছাড়া কুমিল্লার জন্য দু’টি (কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলার জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন আরও বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীন ন্যূনতম ৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাসমূহ বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালসমূহে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানান্তরিত হবে। কোনো মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, ঠিক সে পর্যায় থেকেই বিচারকার্য পরিচালিত হবে। অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

  • প্রেমিকা কথা না বলায় বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গ্রেফতার যুবক

    প্রেমিকা কথা না বলায় বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গ্রেফতার যুবক

    ভারতের তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলায় প্রেমিকার বাড়ির সামনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

    গ্রেফতার যুবকের নাম নাগার্জুন। তিনি মালামাল বহনের কাজ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় তিনি মাতাল ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রেমিকা তার সঙ্গে কথা না বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ।

    পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর সঙ্গে নাগার্জুনের প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক। সম্প্রতি তরুণী তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার ভোরে প্রেমিকার বাড়ির কাছে গিয়ে পেট্রলবোমা ছোড়েন তিনি।

    এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘নাগার্জুন মদ্যপ ছিলেন। ছয় বছরের সম্পর্কের প্রেমিকা গত এক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে কথা না বলায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাগার্জুন একটি বস্তুতে আগুন ধরিয়ে সেটি ছুড়ে দেন। বস্তুটি আগুন ধরে বিস্ফোরিত হলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার শরীরের ওপর পড়ে যায়। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    ঘটনার সময় কাছের একটি দোকানের বাইরে আরেক ব্যক্তিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে।

    পুলিশ নাগার্জুনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    তামিলনাড়ুতে অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের এক দিন পরই এ ঘটনা ঘটল। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বৃহস্পতিবার তার দপ্তরের জন্য বরাদ্দ চাওয়ার বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিরোধী দলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিন রাজ্যে হত্যা, যৌন অপরাধ, হেফাজতে মৃত্যু ও সম্মানহত্যা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, টিভিকে সরকারের ১১৬ দিনে ২০০টি হত্যা, ১০টি সম্মানহত্যা ও আটটি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

    অন্যদিকে, পিডব্লিউডি মন্ত্রী আধব অর্জুনা আগের ডিএমকে সরকারের আমলে অপরাধের তথ্য নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ করেন।

    বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, সোমবার তিনি বিরোধীদের সব প্রশ্নের জবাব দেবেন।

  • ‘যৌনাঙ্গ চুরির’ গুজবে আফ্রিকায় হত্যার শিকার ৮০

    ‘যৌনাঙ্গ চুরির’ গুজবে আফ্রিকায় হত্যার শিকার ৮০

    ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন গুজবে আফ্রিকার অন্তত ৮টি দেশে ব্যাপক গণপিটুনি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিবিসির গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই কুসংস্কার ও গুজবের জেরে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন।

    দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট।

    হাত দিয়ে পিঠে সামান্য টোকা দিলেই পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট কিংবা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে- এমন গুজবের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডগুলোর যোগসূত্র রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্যের কারণে এসব গুজব আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

    তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালা বিবিসিকে জানান, তাকে ও তার এক বন্ধুকে ঘিরে ধরে একদল মানুষ অভিযোগ করে তারা নাকি কারও যৌনাঙ্গ চুরি করেছেন। পরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

    বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতেও এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রমাণ মিলেছে।

    একটি মিথ্যা গুজব কীভাবে মুহূর্তেই গণহিংসায় রূপ নিয়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে আফ্রিকার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তারই ভয়াবহ উদাহরণ।

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর দাগনভূঞায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো: জাহিদ হোসাইনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত হোসাইন মিনার জানান, জামশেদুর রহমান ফটিকের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তিনি ওই মামলার একমাত্র আসামি।

    তিনি জানান, জামিনে গিয়ে ফটিক অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

    নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

    নেপাল ও তিব্বতে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৩ জনে। আজ বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জনেরও বেশি। অন্যদিকে তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    আল-জাজিরা প্রতিবেদনে জানা যায়, চীন সীমান্তের কাছে কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

    নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া জেলায় একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে জমে থাকা বিশাল কাদার স্তূপ সরাতে দেখা যায় উদ্ধারকারীদের। সেখানে উপস্থিত নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কেসি বলেন, ‘আমরা এখনো আশা করছি, ভেতরে কেউ জীবিত থাকতে পারেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের জায়গাটি বড়। আমাদের ধারণা, পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পানিতে তলিয়ে যায়নি।’

    নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা প্রতিদিন সকালে তাঁদের প্রিয়জনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে জড়ো হচ্ছেন। অনেকের জন্য এই অপেক্ষা হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

    নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে আসি বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায়। কিন্তু প্রতিদিন সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, আমার আশাও ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বাবা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান অংশ।’

    এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের অবস্থা এমন যে সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। উল্কি ও গয়নার মতো কিছু বিষয় পরিচয় শনাক্তে সহায়তা করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা যথেষ্ট নয়।

    গতকাল বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু করা হবে।

    ক্ষতিগ্রস্ত অন্য এলাকাগুলোতে দুর্গম গ্রামে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে জিপলাইন ও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও কাদার স্রোতে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে।

    এনডিআরআরএমএর প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। উপ্রেতি আরও বলেন, একই স্থানে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কোনো অর্থ নেই। কারণ, এতে মানুষ আবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরের জন্য নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নতুন বসতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত নুয়াকোট ও রাসুয়ার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

    এদিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়ী বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি–সংক্রান্ত একটি চিঠি’ পাঠিয়েছে।

  • মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ: আইন কী বলে?

    মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ: আইন কী বলে?

    যুক্তরাষ্ট্রের একটি মুদ্রায় এবার স্থান পেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি—গত এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ দেশটির মুদ্রায় স্থান পেল।

    গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল (ইউএস মিন্ট) ট্রাম্পের প্রতিকৃতি–সংবলিত ১ ডলারের মুদ্রা উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুদ্রাটিতে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি ‘লিবার্টি’ এবং ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ লেখা রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল জানিয়েছে, বিশেষ সংস্করণের এই মুদ্রায় ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে থাকা একটি দেশের চেতনা, গর্ব ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    টাঁকশালের ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য মুদ্রাগুলোর দাম রাখা হয়েছিল, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের জন্য ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের জন্য ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট।

    বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাঁকশালের ওয়েবসাইটে সব মুদ্রা বিক্রি হয়ে যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল, ট্রেজারি বিভাগ এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল বলেছে, ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়ভাবে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক উদ্‌যাপন’ উপলক্ষে মুদ্রাটি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ নকশায় তৈরি করা মুদ্রাটি আধুনিক কালে মুদ্রা সংগ্রহে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে জায়গা করে নেবে।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের দোকানে থাকা ভেন্ডিং মেশিনেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। মুদ্রাটির রং সোনালি, তবে এটি সোনার তৈরি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রাগুলোতে ৮৮ শতাংশের বেশি তামা রয়েছে। বাকি অংশে রয়েছে দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল।

    গত মে মাসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, তাঁর দপ্তর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি–সংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

    তবে মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি–সংবলিত মার্কিন মুদ্রা ছাপা নিষিদ্ধ। ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস সদস্যরা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ব্যতিক্রম রাখার জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বর্তমানে কংগ্রেসে আটকে আছে।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের দোকানে থাকা ভেন্ডিং মেশিনেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল।

    সে সময় বেসেন্ট উল্লেখ করেছিলেন, এর আগেও একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি ৫০ সেন্টের মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ছিল।

    ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেছে।

    এই আইনে মুদ্রার পেছনের দিক বা রিভার্স-এ জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে মুদ্রার সামনের দিক বা অবভার্স এর ক্ষেত্রে আইনে স্পষ্টভাবে এমন নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি। নতুন ১ ডলারের মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সামনের দিকে।

    এ ছাড়া ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাগজের নোটে কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিতভাবে এই বিধান মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।