কৃষি

  • বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    ফসলি জমি

    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী বাজারের মাছঘাটের পূর্ব পাশে সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে মো. রাজিব শেখের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধেশ্বরী বাজারের সরকারি খাল থেকে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাউৎভোগ ও গনাইসার এলাকার দুই ফসলি জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রাস্তার ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নিয়ে গিয়ে এসব জমি ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে রাউৎভোগ ও গনাইসার সড়কের পাশে সাইজদ্দিন শেখের প্রায় ৬৯ শতাংশ ফসলি জমিসহ একাধিক জমি ভরাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া রাউৎভোগ গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় আমির আলী মিস্ত্রীর ফসলি জমিতেও একইভাবে বালু ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি বাল্কহেডে করে বালু এনে এসব জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনাকারী রাজিব শেখ বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফসলি জমি ভরাটের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে রাজিব শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    ফরিদপুরের হাট-বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কুমড়ো ফুল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ফুল তুলে নিয়ে আসছেন বাজারে। প্রতি পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাশাপাশি কুমড়োও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায়। ফলে একই গাছ থেকে সবজি ও ফুল—দুইভাবেই আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষক পরিবারের জন্য।

    কুমড়ো ফুল সাধারণত উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো হয়। বাংলাদেশে শীতের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুর দিক পর্যন্ত কুমড়োর ফুলের উৎপাদন ভালো দেখা যায়।

    কুমড়ো ফুলের স্থায়িত্ব কম হলেও এর চাহিদা বেশি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে, আর এই সময়েই বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। শুধু আয়ের উৎস নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ এই ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ। গ্রামীণ রান্নায় ভাজি, বড়া কিংবা চচ্চড়ি—সবখানেই কুমড়ো ফুলের ব্যবহার জনপ্রিয়।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার গ্রামগুলোতে দেখা গেছে—বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ হচ্ছে। কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, আবার কেউ ফুল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুলছেন।

    স্থানীয় কৃষক হালিম মোল্লা বলেন, “সকালে ফুল তুলে বাজারে নিয়ে আসি। এখন প্রতি ফুল ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের শ্রমে কিছু বাড়তি টাকা পাওয়া যায়, যা সংসারের কাজে বেশ উপকার করে।” আরেক বিক্রেতা বিল্লাহ সেক জানান, “একই গাছ থেকে কুমড়ো বিক্রি হয়, আবার ফুলও বিক্রি করা যায়। তাই একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে।”

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, আগে কুমড়ো শুধু সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হলেও এখন ফুল বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। তার মতে, এটি ছোট হলেও কার্যকর একটি আয়ের উৎস, যা দিন দিন গ্রামীণ পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

    কুমড়ো ফুলের বাজারজাতকরণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কম খরচে চাষ, দ্রুত বিক্রি এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে কুমড়ো ফুল এখন কৃষকের কাছে শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

  • ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    সিরাজগঞ্জের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা এবং বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রতি পিস ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাল্টার দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। দেশি ফলের মধ্যে কাটিমন আম ২০০ টাকা এবং তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে বেশি দামে কিনে একই অনুপাতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    ফল কিনতে আসা তৌফিকা নাসরিন বলেন, ‘এ বছর বাজারে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। এসব ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। আমাদের আয়ের সঙ্গে পণ্যের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই।’

    সিরাজগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। তবে দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়।’

    তিনি বলেন, ‘এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।’

  • কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৮)। প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করে এরই মধ্যে ১ হাজার ৯৪ কেজি ফলন তুলেছেন তিনি। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভের আশাও করছেন এই কৃষক।

    উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্থানপাড়া এলাকায় চলতি মৌসুমে করলার আবাদ করেছেন ইমরান। তিনি মো. সফর উদ্দিনের ছেলে।

    ইমরান জানান, “এক বিঘা জমিতে এগ্রো ওয়ান লিডার জাতের করলার চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। মালচিংয়ের জন্য জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মাটির আর্দ্রতাও দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “এক বিঘা জমিতে তার প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।”

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই এবং বাড়তি শ্রমিক খরচ কৃষকদের জন্য প্রতিবছরই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় মালচিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানি সাশ্রয় এবং শ্রমিক খরচ কমানো সম্ভব হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন।”

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “ফেরোমন ফাঁদ ও মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার প্রতি বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। মাহমুদ আল-ইমরানের এক বিঘা জমির করলা আবাদ ইতোমধ্যে লাভজনক ফলন দিয়েছে।”

  • মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রধান শাখা খাল ধুরুং। এ খালের বুকজুড়ে জেগে ওঠা একটি চর এখন পরিণত হয়েছে সবজি চাষের উর্বর ভূমিতে। এ চরের তিন দিক দিয়ে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতিতে বয়ে চলেছে খালের পানি। আর মাঝখানে জেগে থাকা চরের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চরের কোথাও শসার লতাপাতা মাটিজুড়ে ছড়িয়ে আছে, কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে বরবটি ও ঝিঙা। কোনো জমিতে দুলছে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা ও বেগুনের গাছ। এমনকি এ চরে চাষ হচ্ছে পটলও। আগাম সবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

    স্থানীয়ভাবে ‘মুজরি চর’ নামে পরিচিত এ চরটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পাইন্দং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেড়াজালীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৬০ হেক্টর আয়তনের এ চরে পুরো বছর কৃষিকাজ করেন ২৪০-২৫০ জন কৃষক। তবে শুষ্ক মৌসুমে ধুরুং খালের পানি কমে গেলে তখনই চরজুড়ে শুরু হয় সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ। উর্বর পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই এ চরে বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। খালের পানিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চর যেনো মৌসুমি কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার এক সবুজ অধ্যায়।

    চরের কৃষকরা জানান, তিন পাশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জমিতে পলি পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আগাম সবজি চাষ করেন। বাজারে যখন এ সব সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন ফসল তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে।

    মুজরি চরের কৃষক মো. আফজল হোসেন আড়াই কানি জমিতে এবার বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে বরবটি, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, শিম ও তিতকরলা।

    কৃষক আফজল হোসেন বলেন, ‘লাভের আশায় আমরা চরের জমিতে আগাম শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ও বেনটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করি। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে না। কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি-সহায়তা নিয়মিত পাই না। তাই চরের কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি সহায়তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কষ্টের ফসলের যথাযথ মূল্যও পাবেন।’

    কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘আমাদের এ চরে প্রায় আড়াই শত কৃষক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু চরে কাজ করতে এসে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে কৃষকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি টংঘর বা ছাউনি থাকলেও দুর্যোগের সময় আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম। তাই কৃষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরে একটি টংঘর বা ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’ শুধু আফজল বা আলী আহমদ নন, মুজরি চরের অধিকাংশ কৃষকই আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া। তবে ভালো ফলন হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান।

    মো. মহিন উদ্দিনসহ অন্য কৃষকের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজির সব সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাঠ থেকে সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আসে না।

    বর্গাচাষী মো. এরশাদ বলেন, ‘সব ধরনের কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি, কিন্তু সে তুলনায় সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ বছর যদি সবজির দাম ভালো না পাই, তাহলে উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলে আনতে পারব না। কৃষকরা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে আমাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

    মুজরি চরের কৃষকদের আরেকটি বড় সমস্যা পানি। খালের পাশে চাষ হলেও সবজি খেতে প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কৃষককে নিজেদের উদ্যোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চরে কৃষকদের বসার বা বিশ্রামের জন্য কোনো ছাউনিও নেই। প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিয়মিত পরামর্শ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘মুজরি চরের সম্ভাবনা অনেক। এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। সেচ, রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। মুজরির চরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    ধুরুং খালের বুকে জেগে ওঠা মুজরি চর তাই শুধু একটি চর নয়। কয়েক শত কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ সবুজ জমিতে এখন তারা আগাম সবজি ফলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ফসল ভালো হবে, বাজারে ভালো দাম মিলবে, আর ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত লাভ।

  • ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগন ফল ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। দেশে এর চাষ ও বাজারচাহিদা বাড়ছে। ছাদ কৃষি থেকে মাঠপর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষের সুযোগও রয়েছে। সঠিক জাত নির্বাচন, চারা তৈরি, রোপণ, খুঁটি স্থাপন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ-পোকা দমন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে এ চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘রানার কৃষি’তে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    ড্রাগন ফল এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ। পুষ্টিগুণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে ফলটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    উপযুক্ত জলবায়ু ও মাটি
    ড্রাগন ফল উষ্ণ জলবায়ুর ফসল। সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তুষারপাত গাছের জন্য ক্ষতিকর। বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন ফল ভালো জন্মে। মাটির পিএইচ ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ হলে তা চাষের জন্য উপযোগী।
    আমাদের দেশে বর্তমানে বাউ ড্রাগন ফল-১ ও বাউ ড্রাগন ফল-২ জাত চাষ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক বাগান স্থাপনের ক্ষেত্রে এলাকার আবহাওয়া, মাটির ধরন ও বাজারচাহিদা বিবেচনা করে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।

    চারা তৈরি ও রোপণ
    সাধারণত কাণ্ডের ডাল বা কাটিংয়ের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চারা তৈরি করা হয়। সুস্থ ও রোগমুক্ত গাছ থেকে ৮–১০ ইঞ্চি লম্বা কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। কাটিং সংগ্রহের পর প্রায় সাতদিন ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে কাটিংয়ের কাটা অংশ শুকিয়ে যায় এবং রোপণের পর পচনের ঝুঁকি কমে।
    মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা যায়। জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর প্রায় ২ ফুট চওড়া ও ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে।
    চারা রোপণের আগে প্রতিটি গর্তে ১০–১৫ কেজি গোবর সার, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করা যেতে পারে। জমিতে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকলে গর্তের নিচে বালু ব্যবহার করা যেতে পারে।

    খুঁটি স্থাপন ও চারা লাগানো
    ড্রাগন ফল গাছ লতানো প্রকৃতির হওয়ায় গাছকে ভর দেওয়ার জন্য শক্ত খুঁটি প্রয়োজন। এজন্য ৪ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি বেড়ের ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা আরসিসি খুঁটি ব্যবহার করা যায়। খুঁটির প্রায় দেড় ফুট মাটির নিচে রেখে ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।
    খুঁটির মাথায় টায়ার অথবা ১ থেকে ১ দশমিক ৫ ফুট ব্যাসের বৃত্তাকার রডের কাঠামো তৈরি করতে হয়। প্রতিটি খুঁটির চারপাশে চারটি করে কাটিং রোপণ করা যায়। তবে কাটিংয়ের গোড়া ৩ থেকে ৪ ইঞ্চির বেশি মাটির নিচে দেওয়া যাবে না। রোপণের পর চারাগুলোকে আলতোভাবে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে।
    সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে রোপণের প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে পারে। তবে ফলন ও উৎপাদনকাল জাত, পরিবেশ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে।

    রোগবালাই ও পোকামাকড়
    ড্রাগন ফলের বাগানে অ্যানথ্রাকনোজ, গোড়াপচা, কাণ্ডপচা ও কাণ্ডের ক্যানকার জাতীয় রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে প্রয়োগ করতে হবে।
    বাগানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে গোড়া ও কাণ্ড পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং গাছের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ড্রাগন ফলে থ্রিপস, মিলিবাগ ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত গাছ ও ফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে নিমতেল ব্যবহার করা যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

    পরিচর্যায় গুরুত্ব
    ড্রাগন ফলের ভালো ফলনের জন্য শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না; নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও পানি নিষ্কাশন, রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণ এবং গাছের বাড়তি শাখা-প্রশাখা ব্যবস্থাপনা করতে হবে। গাছ যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাড়ির ছাদ, বসতভিটা কিংবা উপযুক্ত কৃষিজমিতে পরিকল্পিতভাবে ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষকের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    একসময় যে পাট ছিল বাংলার অর্থনীতির অন্যতম প্রাণ। সেই ‘সোনালি আঁশ’ এবার যেন নতুন করে হাসি ফুটিয়েছে ফরিদপুরের কৃষকের মুখে। সবুজ মাঠ পেরিয়ে পাট এখন উঠেছে হাটে। পচানো, ধোয়া ও শুকানোর পর পরিপক্ব আঁশের গন্ধে মুখর জেলার হাট-বাজার। আর ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে চড়া দাম—দুইয়ের সমন্বয়ে এ বছর পাটচাষিদের ঘরে ফিরছে স্বস্তি।

    চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে ফরিদপুরে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানি এবং কৃষকদের যথাযথ পরিচর্যায় শুধু ফলনই নয়, পাটের আঁশের রং ও গুণগত মানও হয়েছে বেশ ভালো।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর থেকেই কৃষকদের পাট বিক্রির সম্ভাব্য আয় ২২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে প্রায় ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের পরিচর্যায় বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার সময় খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় আঁশের মানও হয়েছে চমৎকার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কানাইপুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন প্রধান পাটের হাট ঘুরে দেখা যায়, নতুন পাটের বেচাকেনায় বেশ প্রাণচাঞ্চল্য। হাটে কৃষকের ভিড়, পাটের স্তূপ আর দরদামে ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ।

    গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পাটের দরও বেড়েছে। কানাইপুর, তালমা, কাদিরদী, সাতৈর ও বড়গাসহ জেলার বিভিন্ন হাটে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট প্রায় ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর মাটি, পানি, রোদ আর শ্রমের সঙ্গে লড়াই করে যে ফসল ঘরে তুলেছেন, এবার তার ন্যায্য মূল্য মিলছে—এটাই যেন তাদের মুখের হাসির সবচেয়ে বড় কারণ।ফরিদপুর সদর উপজেলার পাটচাষি লাভলু মিয়া বলেন, ‘এবার পাট ও আঁশ দুটোই চমৎকার হয়েছে। সার, কীটনাশক আর সেচ খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও এবার ভালো লাভ থাকছে।’

    আরেক কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পাওয়ায় সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং আগের দেনা মেটানো সহজ হয়ে গেছে। এমন দাম পুরো মৌসুমজুড়ে থাকলে আমাদের মতো পাটচাষিদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’

    তবে বাজারে পাটের চড়া দাম স্বস্তি যেমন এনেছে কৃষকের জীবনে, তেমনি কিছুটা চাপ তৈরি করেছে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের ওপর। হাটে নতুন পাটের আমদানি কিছুটা কমে যাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পেলেও মিল বা ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করার পর আগের মতো মুনাফা থাকছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    কানাইপুর হাটের ব্যবসায়ী লিয়াকত মুন্সি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেও আমরা ৪০০০-৪২০০ টাকা মণ দরে পাট কিনেছি। এখন হাটে পাটের সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি ও মিলে বিক্রি করে তেমন লাভ থাকছে না।’

    ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার জেলাজুড়ে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি আঁশের গুণগত মানও ভালো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো গুণগত মান অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাজারে বর্তমান চড়া দাম বজায় থাকলে ফরিদপুর থেকে ২২০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।’

    কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা মনে করেন, পাট বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ কৃষকের হাতে গেলে তা শুধু কৃষকের পরিবারেই স্বস্তি আনবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কৃষকের আয় বাড়লে বাড়বে ক্রয়ক্ষমতা, সচল হবে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।

    ফরিদপুরের মাঠে তাই এখন শুধু পাটের আঁশ নয়, কৃষকের স্বপ্নও শুকাচ্ছে রোদে। হাটে হাটে সোনালি আঁশের স্তূপ যেন বলে দিচ্ছে—মাটির সঙ্গে যে মানুষের বন্ধন, তার গল্প কখনো পুরোনো হয় না। ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম মিললে সেই মাটিই কৃষকের ঘরে এনে দিতে পারে স্বচ্ছলতার আলো।

    এবার ফরিদপুরের পাটের মাঠে সেই আলোরই যেন দেখা মিলছে। সোনালি আঁশের রঙে রাঙা হচ্ছে কৃষকের মুখ, আর তার সঙ্গে আশার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

  • সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    মরুভূমির প্রাণী দুম্বা বাংলাদেশের মাটিতে পালন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যুবক রবিউল ইসলাম। দুটি দুম্বা দিয়ে শুরুর সফলতায় সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ ৬৫ দুম্বা। এ সব দুম্বার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

    নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউল ইসলাম। এসএসসি পাশের পর কাজের সন্ধানে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন দেশের বাইরে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় ভাটা পড়ে সে

    সিদ্ধান্তের। এরপর ভাবতে শুরু করেন এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। এমন ভাবনা থেকে শুরু করেন দুম্বা পালন।

    দুম্বা পালন শিখেছেন ফেসবুক-ইউটিউব দেখে। ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ প্রাণীর পালনে

    আগ্রহ তৈরি হয় রবিউলের। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পরীক্ষামূলভাবে দুটি দুম্বার পালনের সফলতায় আরও সংগ্রহ করেন ছয়টি। মোট আটটি দুম্বা সংগ্রহে তার খরচ হয় ১২ লাখ টাকা।

    রবিউল জানান, ছয়মাসের মধ্যেই এ সব দুম্বা বাচ্চা দিতে শুরু করে। এরপর প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দুম্বার সংখ্যা। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ করছে ৬৫ দুম্বা। সবুজ ঘাস আর খৈল ভুসি এ সব দুম্বার প্রধানখাবার। ওই ৬৫ দুম্বা পরিচর্যায় তার খামারে কাজ করছেন পাঁচজন কর্মচারী।

    রবিউলের ভাষ্য, একটি দুম্বার ওজন ৫০-১০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বয়স, ওজন ও আকৃতি অনুযায়ী প্রতিটি দুম্বা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    রবিউল বলেন, ‘দুম্বার পছন্দের খাবার কাঁচা ঘাস। ঘাস, খৈল-ভুসিসহ প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারের পেছনে খরচ ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। রোগবালাই খুব কম হয়। সময়মতো খাবার এবং রোগ প্রতিরোধের টিকা দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে।’

    প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইবার করে বাচ্চা দেয়। প্রতিবার একটি থেকে দুটি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যায়। তিনমাস বয়সে একটি বাচ্চার ওজন ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। এ বয়সের একটি বাচ্চার বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। দুম্বার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচজনের।

    এক সময় নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন রবিউল ইসলাম। দুম্বার খামার বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন নিজে পার করছেন কর্মব্যস্ত জীবন। তেমনি তার ওই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার পাঁচ শ্রমিকের।

    খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, ‘রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের আহার জুটছে। এর পরিধি বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

    তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ খামার দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাই দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকায় ব্যাপকতা বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    রবিউল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুম্বা ক্রেতারা ফোন করছেন। অনলাইনে অনেকে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। আবার অনেকে এর পালন পদ্ধতি শিখতে চাচ্ছেন। তবে কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    তিনি বলেন, ‘কোরবানির জন্য গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে ফোন কল আসছে। বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। তাই বিক্রি নিয়েও কোনো চিন্তা নেই।’

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু কায়েস বিন আজিজ বলেন, ‘দুম্বা পালনে রবিউলের সাফল্য অনেক। তাকে অনুরণ করে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন দুম্বা পালনে। সৈয়দপুরের কাঠারিপাড়ার সবুজ মাঠে এখন তাই মরুর প্রাণী দুম্বার বিচরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন সেই দৃশ্য দেখতে। কেউ কৌতূহলি হয়ে, কেউ ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজতে, আবার কেউ কোরবানির পশু হিসেবে দুম্বা কিনতে।’

    রবিউলের খামারের গল্প তাই শুধু দুটি দুম্বা থেকে ৬৫টি দুম্বায় পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি নতুন ধরনের পশুপালনে একজন তরুণের আগ্রহ, পরিশ্রম ও উদ্যোগেরও গল্প।

  • চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কৃষক রমজান আলী। উন্নত জাতের বীজ, মালচিং পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাছের ঘেরের চারপাশে মাচা তৈরি করে চাষ করছেন অমৌসুমি তরমুজ।

    উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবদী গ্রামের কৃষক ইউনুস আলীর ছেলে রমজান আলী। বিএসএস পাস করেও চাকরির পেছনে সময় না দিয়ে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে কৃষিতে হাতেখড়ি তার। এরপর ধীরে ধীরে গতানুগতিক চাষাবাদ বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন।

    ২০১৪ সালে ঢাকা বিভাগের প্রথম দিকের চাষিদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন রমজান আলী। টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফলে যুক্ত হন তিনি। বর্তমান আবহাওয়া ও বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

    রমজান আলী প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির চারপাশে মাচা তৈরি করে ‘কালাচান’ ও ‘তৃপ্তি’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মাচার নিচে রয়েছে মাছের ঘের। মাচা থেকে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের ছোট-বড় তরমুজ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারে আসার কথা রয়েছে।

    তরমুজের পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে করলা, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিও চাষ করছেন তিনি। তার আধুনিক চাষাবাদ ও পরামর্শ নিতে স্থানীয় কৃষকরাও তার জমিতে আসছেন।

    রমজান আলী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার আগ থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। গতানুগতিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছি। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়েছি। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর চেষ্টা করি। আমার উৎপাদিত ফসল যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া কাঁচাবাজার এবং ফলের আড়তে বিক্রি হয়। কৃষিকাজ স্বাধীন পেশা। বর্তমানে আধুনিক কৃষি থেকে মাসে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করি।’

    মালচিং পদ্ধতি সম্পর্কে রমজান আলী বলেন, ‘অল্প বিনিয়োগে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কম সময়ে কৃষক লাভবান হতে পারেন। আমি চাই, এলাকার অন্য কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হোন।’গৌরবদী গ্রামের কৃষক জহির আলম বলেন, ‘রমজান আলী এ এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর পরামর্শে অনেকেই চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করে লাভবান হয়েছেন। তিনি পোকামাকড় দমনে জৈব পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তাঁর চাষাবাদ দেখে অন্য কৃষকরাও আধুনিক কৃষির দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হলেও একসময় চাষাবাদ করে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পেতেন না। রমজান আলী আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি সবজি ও ফল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। তাঁকে দেখে এবং তাঁর পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেক কৃষক লাভজনক কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনুকূল পরিবেশ ও বাজারদর থাকলে লাখ টাকার বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে। রমজান আলীর তরমুজ চাষ এই এলাকার কৃষকদের জন্য একটি ভালো উদাহরণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাচায় তরমুজ চাষ একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এতে জলাবদ্ধতা বা অনাবাদি জমিও কাজে লাগানো সম্ভব। মাচায় চাষ করায় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে এবং ফল মাটির সংস্পর্শে না থাকায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কম থাকে।’

    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তরমুজ সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন বর্ষাকালেও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এ সময় বাজারে তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় কৃষক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। রমজান আলীর মতো কৃষকেরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যদেরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

  • নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    স্বল্প খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দিন দিন বাড়ছে কলার আবাদ। উৎপাদিত নেপালি সাগর জাতের কলার চাহিদা ও খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচ্ছলতা ফিরেছে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের কাজীহাটা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. আসিফ আওয়াল উৎসের।

    গত বছর প্রথমবার চাষ করেই ভালো ফলন পান তিনি। বড় আকারের কাঁদি ও আকর্ষণীয় গড়নের কলা ব্যাপারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে উৎসাহিত হয়ে এবার কলাবাগানের পরিধি আরও বাড়িয়েছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তার অধিকাংশ কলাগাছে ফল ধরেছে। বাগানজুড়ে কলার কাঁদি ঝুলছে। এ সাফল্যে আসিফ আওয়াল উৎসের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিনিয়ত আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ তার কলাবাগান দেখতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে কলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও নিচ্ছেন। নিয়মিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করে আসছেন তিনি।

    তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও নেপালি সাগর জাতের কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় একবার চারা রোপণ করে বছরে তিনবার কলা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। নেপালি সাগর ছাড়াও তিনি সবরি, চাঁপা, চিনি চাম্পা ও জি নাইনসহ বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ করে থাকেন।

    আসিফ আওয়াল উৎস জানান, একবার চারা রোপণ করে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম অথচ লাভ বেশি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করেছি। এ জাতের কলা বড়, সুস্বাদু ও রং সুন্দর হওয়ায় দেশের সব জেলাতেই এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রথমবারেই খরচের টাকা বাদ দিয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। ওই জমি থেকে এখনো দুইবার কলা পাওয়া যাবে।’

    স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান চাষে লাভ খুব কম। কিন্তু কলা চাষে খরচের প্রায় দ্বিগুণ আয় হয়। তাই এখন অনেকেই এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি কলাবাগানে অনেকের জীবিকার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    কলাবাগান পরিচর্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি আসিফ ভাইয়ের কলাবাগান নিয়মিত পরিচর্যা করি। কলার কাঁদি বা থোড় যখন বড় হতে শুরু করে, তখন বাতাসের কারণে কিংবা ওজনের চাপে গাছ যেন হেলে বা ভেঙে না পড়ে, সেজন্য বাঁশ বা লাঠি দিয়ে শক্ত খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়ার কাজের দিকে আমাকে বেশি নজর রাখতে হয়।’

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা স্বজল ইসলাম জানান, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো কলার আবাদ করেননি। তাই আসিফ আওয়াল উৎসের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এবং তাঁর ২৫ বিঘা জমির নেপালি সাগর জাতের কলাবাগান দেখতে এসেছেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সদরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় কলার চাষ বেড়েছে। কলা চাষে লাভ হওয়ায় চাষিরা এ ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কাজীহাটা ব্লকে আসিফ আওয়াল উৎস ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কলা সরবরাহ করে থাকেন।

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, কলাচাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। আসিফ আওয়াল উৎস এবার ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কলায় কার্বাইড ও বিষাক্ত স্প্রে ব্যবহার না করার জন্যও চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • বিষ দিয়ে বেগুনখেতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    বিষ দিয়ে বেগুনখেতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ছয়ঘটি মৌজায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে প্রায় ১ একরের ফলন্ত বেগুন ক্ষেতে ঘাস মারা তরল বিষ প্রয়োগ করায় ফলসহ বেগুন গাছগুলি মরে যায়।

    প্রতিহিংসা কিংবা পূর্বশত্রুতার কারণে এমনটি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার লোকজন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মৃত মোফাজ উদ্দিনের ছেলে দুলাল হোসেন জানান, তার বন্ধকি জমিতে বেগুন ক্ষেতে দুষ্কৃতকারীরা বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে।

    এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ সরজমিন তদন্ত করেছে।

    কৃষক দুলাল হোসেন জানান, এই জমি একই এলাকার হাজি গোলাম মোস্তফার নিকট বন্ধক নিয়েছে, ইতোপূর্বে হাজি সাহেবের এক আপন ভাগিনার কাছে জমিটি বন্ধক ছিল এবং সে চাষাবাদ করত।

    বর্তমানে তাদের (হাজি ও তার ভাগিনার) মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছে বলেও কৃষক দুলাল উল্লেখ করেন। তবে কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা তিনি নিশ্চিত নন।

    শনিবার সরজমিনে গেলে দেখা যায়, জমির প্রায় প্রতিটি বেগুন গাছে থোকা থোকা বেগুন ঝুলছে কিন্তু বিষ প্রয়োগের ফলে বেগুনসহ অধিকাংশ গাছ মরে যাচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট পাল্টাপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দ্রুত ঐ ক্ষেতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য বলেছেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দুলাল জানান, তাই সেচ দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এবং শরিফ মেম্বারসহ অনেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানা সাইফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেছে, দুষ্কৃতকারীদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল। ভাল দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ ।

    কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমী ফল হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি আর পরিবর্তিত ভাবনায় পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক বছর আগে দু-এক জন চাষি অসময়ে তরমুজ চাষ করলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে এই তরমুজ চাষ করা হলেও এবার চাষ হয়েছে প্রায় দেড়শ একর জমিতে। ফলন ও দাম উভয় ভাল পেয়েছেন চাষিরা। লভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।আব্দুল কাদের নামে এক তরমুজ চাষি জানান, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার দানাজপুর গনেশ ফার্মে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের জমি লিজ নিয়ে প্রতি বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করেন। বেশ লাভ পান। এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকার ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

    তরমুজ চাষি রজব আলী, কালি চরণ ও জহিরুল ইসলাম জানান, গনেশ ফার্মে এবার দেড়শ বিঘা জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল প্রায় একশ বিঘা জমিতে। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তরমুজ বিক্রি হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তরমুজ বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় না। মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। দুই মাসেই তরমুজ তোলা যায়। অল্প সময়ে লাভ ভাল হওয়ায় আবাদ বাড়ছে। আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হাসান জানান, তরমুজ চাষের প্রধান সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে অসময়ে ব্লাক বেরি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভাল হয়। স্বাদও ভাল হয়। তারা অসময়ে তরমুজ চাষ করার জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তবে এ তরমুজ চাষে ঝুকিও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, খুশি চাষিরা

    ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, খুশি চাষিরা

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে চলিত মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং জমিতে পর্যাপ্ত আদ্রতা থাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এবার পাটের দামে খুশি চাষিরা। ভালো দাম পেয়ে, খুশি পাট চাষিরা। এতে তাদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায় একটি পৌরসভা চারটি ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর জমিতে দেশীয় তোষা জাতের পাটের চাষ করেছে কৃষকরা। হেক্টর প্রতি গড় ফলন নির্ধারণ করা হয়েছে ও ১১.৯ বেল। ১৫০ হেক্টর জমি থেকে পাটের উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২৬ বেল। যা গত বছরের তুলনায় পাটের গড় ফলন ছিল ১০.৬ বেল। ও ১২৫ হেক্টর জমিতে পাটের পাটের উৎপাদন ছিল ১৫. ১৩ বেল।

    কৃষকরা পাট কাটা, পানিতে জাগ দেয়া, আশ ছাড়ানো শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে অনেকেই বাজারে বিক্রি করছেন। উপজেলার কালু পাড়া গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন,, গত বছর প্রতি মন পাট বিক্রি করেছি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এই বছর পাট বিক্রি করেছি ৩৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত।


    উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে পাট কেটে আঁটি বেঁধে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা পাটের আঁটি পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর প্রস্তুতি চলছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও এবার ফলন ভালো হওয়ায় সেই খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।

    ঘোড়াঘাট উপজেলার এক পাটচাষি বলেন, “এবার জমিতে পাট বেশ ভালো হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও আঁশের মানও ভালো। ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। এখন বাজারে যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে পাট চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।”আরেক কৃষক বলেন, “পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে শ্রমিক খরচ অনেক। তারপরও এবার ফলন ভালো হওয়ায় আশা করছি খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভ থাকবে।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা [মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। ফলে অনেক এলাকায় ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের পাট কাটার সঠিক সময়, জাগ দেওয়ার পদ্ধতি এবং আঁশের মান ভালো রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    কৃষকরা বলছেন, পাটের বাম্পার ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, উৎপাদন খরচ কমানো এবং বাজারে স্থিতিশীল ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা করা গেলে ঘোড়াঘাটে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

  • যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির অন্যতম প্রধান উৎপাদন এলাকা যশোরে এবার আগাম মেটে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বাজারে আসা এ কন্দজাতীয় ফসলের দামও রয়েছে চড়া। কম খরচ ও তুলনামূলক কম পরিচর্যায় ভালো লাভ হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মেটে আলুর চাষ বেড়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ খরিফ-২ মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮০ হেক্টর জমিতে মেটে আলুর চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২০ হেক্টর। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সদর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে এ আলুর চাষ বেশি হচ্ছে।
    যশোর বড় বাজার, চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও শার্শার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আগাম মেটে আলু ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। বড় আকারের আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত।

    যশোর বড় বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, ‘আগাম মেটে আলু বাজারে এলেই মানুষ কিনছে। চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে মেটে আলুর তরকারি এ অঞ্চলের মানুষের খুব পছন্দ। এখন প্রতিদিন ১ থেকে ২ মণ মেটে আলু বিক্রি করছি। সামনে শীত বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।’

    কম খরচে বেশি লাভ
    যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ তিন বছর ধরে মেটে আলু চাষ করছেন। এবার তিনি ৪০ শতক জমিতে এ আলু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে মেটে আলু চাষ করতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বীজ, বাঁশের মাচা আর জৈব সার দিলেই হয়। কোনো কীটনাশক লাগে না। এক বিঘা জমি থেকে ৪০ থেকে ৫০ মণ আলু পাওয়া যায়। আগাম বাজারে বিক্রি করলে ১ লাখ টাকার বেশি থাকে।’
    তিনি আরও বলেন, ‘মেটে আলুর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি গরু-ছাগলে খায় না। মাচায় ঝুলে থাকে বলে পচে যাওয়ার ভয় কম। মাটির নিচেও ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের আলু হয়। উপরে একটা, নিচে আরেকটা—ডাবল লাভ।’
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের নারী কৃষক আমির হোসেন বাড়ির আঙিনার পতিত জমিতে মেটে আলু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির পাশে ১০ শতক জমিতে ২০টি মেটে আলুর গাছ লাগিয়েছি। তেমন সার-পানি দিতে হয় না। বর্ষার সময় লাগালে এমনিতেই হয়ে যায়। গত বছর ১৫ হাজার টাকার আলু বিক্রি করেছি। এবার আরও বেশি হবে আশা করছি।’

    পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘মেটে আলুতে শর্করা, ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরে শক্তি যোগাতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।’
    তবে মেটে আলুর পুষ্টিগুণ ও রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা নিয়ে যে নির্দিষ্ট দাবিগুলো করা হচ্ছে, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিকতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    চাষ বাড়াতে উদ্যোগ
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরের মাটি মেটে আলু চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে উঁচু ও বেলে দোআঁশ মাটিতে ফলন ভালো হয়। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করছি এবং মাচা পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত করছি।’
    তিনি বলেন, ‘মেটে আলু লাভজনক ফসল। একবার বীজ লাগালে পরবর্তী বছরগুলোতেও তা দিয়ে চাষ করা যায়। আমরা চাই, প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় অন্তত দুই-তিনটি মেটে আলুর গাছ থাকুক। এতে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় দুটোই বাড়বে।’

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে মেটে আলুর বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বাজারে যশোরের মেটে আলুর চাহিদা তৈরি হয়েছে।

  • সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচে সেচ ব্যয় যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় আশা দেখছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের ফলে কৃষকের সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজেদের জমির চাহিদা মেটানোর পর অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় এসব পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কমছে সেচ ব্যয়
    সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে সেচ ব্যয় কম। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের মধ্যে সৌরশক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে।
    আরআরএফের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগে সেচ দিতে যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, এখন সোলার পাম্প ব্যবহারে একই পরিমাণ জমিতে সেচ ব্যয় কমে প্রায় ২০০ টাকায় নেমে এসেছে।
    কৃষকদের ভাষ্য, সোলার পাম্পে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কৃষকের বিনিয়োগে প্রকল্পের সহায়তা

    ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর সোলার পাম্প স্থাপনে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে তিনি ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
    তিনি বলেন, ‘সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারের ফলে সেচের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুতের ওপর আগের মতো নির্ভর করতে হচ্ছে না। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করতে পারছি। এতে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে।’

    ফুলচাষেও বাড়ছে ব্যবহার
    মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ফুলচাষীদের জন্যও সৌরচালিত সেচ পাম্প নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফুলচাষে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হওয়ায় সেচ ব্যয় কমলে উৎপাদন খরচও কমে।
    মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষীদের নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের সহায়তায় সোলার পাম্প স্থাপন করেছি। এখন নিজের জমির পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছি।’
    তিনি বলেন, ‘নিজের জমির সেচের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে পানি দিয়ে বাড়তি আয় করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতাও কমেছে।’
    মহেশপুরের ফুলচাষী গফুর মিয়া বলেন, ‘সোলার পাম্প স্থাপনের পর সেচের জন্য তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্যদের জমিতেও সেচ দিয়ে বাড়তি আয় করতে পারছি।’

    বাড়ছে পরিবেশবান্ধব সেচের সম্ভাবনা
    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারে কৃষকের আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমানো সম্ভব। ডিজেলচালিত পাম্পের ব্যবহার কমলে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি ধোঁয়া ও কার্বন নিঃসরণও কমবে। ফলে কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে সোলার পাম্প ভূমিকা রাখতে পারে।
    আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, ‘পিকেএসএফের সহায়তায় স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে।’

    তিনি জানান, সামনে আরও ১০০টির বেশি সোলার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
    তিনি আরও বলেন, ‘আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, সেখানে সোলার পাম্পের মাধ্যমে খরচ প্রায় ২০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষিতে লাভের সুযোগ বাড়বে।’

    কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদানের সুযোগ বাড়ানো হলে জেলার আরও বেশি কৃষক সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।

  • এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    প্রচলিত ধান-পাট-গম চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে বিকল্প ফসলের সন্ধানে নেমেছিলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারোমাসি সজনে চাষের সম্ভাবনা দেখে এক বিঘা জমিতে ওডিসি-৩ জাতের ৩০০টি চারা রোপণ করেন তিনি। মাত্র ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগে শুরু করা সেই উদ্যোগে কয়েক মাসের মধ্যেই ফলন ও বিক্রি শুরু হয়। এখন বছরে একাধিকবার ফলন পাওয়া এই সজনে থেকেই ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন আক্তার। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই নতুন ফসলে।

    সরেজমিনে তার ক্ষেতে দেখা যায়, গাছজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লম্বা, সবুজ ও সতেজ সজনে। আক্তারের দাবি, দেশি সজনে সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে ফল দিলেও বারোমাসি ওডিসি-৩ জাতের গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল আসে। রোপণের ৫ থেকে ৭ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয় এবং একটি গাছ থেকে ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে তার প্রতিটি সুস্থ গাছে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সজনে ধরছে বলে জানান তিনি।
    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যশোর জেলা হর্টিকালচার সেন্টারে যোগাযোগ করে ভারতের তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ওডিসি-৩ জাতের চারা সংগ্রহ করেন আক্তার। প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ করে এক বিঘা জমিতে ৩০০টি চারা রোপণ করেন। সেই ছোট উদ্যোগ এখন তার কাছে সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
    কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, ‘চারা কেনা, জমি তৈরি আর জন-লেবার খরচ-টরছ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার খরচ ইতোমধ্যে উঠে গেছে। সামনে আশা করি লাভের মুখ দেখা যাবে।’

    বিক্রির হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৯-১০ মাসে ৪০ হাজারের মতো বেচাকেনা হয়ে গেছে। নতুন করে আবার ধরা শুরু করেছে। এই মৌসুমে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পাব বলে আশাবাদী। সজনের দামও ভালো। বর্তমান বাজারে ১০০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একবার লাগালে বছরে ৩-৪ বার সজনে তোলা যায়। ফলন আরও বাড়লে, গাছ-গাছালি প্রাকৃতিক দুর্যোগে না ভাঙলে ৩-৪ লাখ, ৫ লাখ টাকাও হতে পারে।’
    আক্তারের সাফল্য দেখে স্থানীয় বেকার যুবক ও প্রান্তিক কৃষকদের অনেকে সজনে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার দাবি, অসময়ে বাজারে পাওয়া যায় এবং আকারে লম্বা ও দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ওডিসি-৩ সজনের চাহিদা বেশি।
    তিনি বলেন, ‘বাজারে নিয়ে গেলেই মানে দাঁড়ানোর টাইম দেয় না। এগুলো খাতি খুব ভালো। বিক্রি হয়ে যায় সাথে সাথে। খেতে খুবই সুস্বাদু। এর শাক, ডাটা সবই খাওয়া যাবে। এমনকি পাতাও বিক্রি করা যাবে আশা করা যায়।’
    চৌগাছা বাজারের সবজি বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান বাজারদরে পাইকারিতে প্রতি কেজি সজনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এই সজনে বেশি পছন্দ করছেন, কারণ এটি লম্বা ও তরতাজা।’

    সজনে চাষে আগ্রহী কৃষক হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘আক্তার ভাইয়ের ক্ষেত দেখে আমি সত্যিই অবাক ও অনুপ্রাণিত। এক বিঘা জমিতে এত আয়, আগে কখনো ভাবিনি। ধানে যেখানে খরচই ওঠে না, সেখানে সজনে চাষে লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। আমিও আগামী মৌসুমে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা নিয়ে চাষ শুরু করব।’

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘ওডিসি-৩ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও উচ্চ ফলনশীল জাত। এটি রোগ প্রতিরোধী ও খরা সহনশীল হওয়ায় যশোরের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। আমরা উপজেলার কৃষকদের এই জাত চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আক্তার হোসেন আমাদের সফলতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা তাকে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজির চাষ আগামীতে আরও বাড়াতে হবে। দেশে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।’
    যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ দীপংকর দাশ বলেন, ‘টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত বারোমাসি সজনে ওডিসি-৩ জাতের মানসম্মত চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে। রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয়ে সারা বছর ধারাবাহিক উৎপাদন বজায় থাকে। বাণিজ্যিকভাবে কিংবা বসতবাড়িতে চাষ করে কৃষকরা কম খরচে লাভবান হতে পারেন।’

    তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৭ হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার চারা কৃষকরা নিয়েছেন। এবার ১০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘সজনে ও সজনে পাতা একটি সুপারফুড হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।’

    সজনে পাতাকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সজনের পাতাও এখন বিশ্ববাজারে মূল্যবান। পাতাগুলো শুকিয়ে গ্রাইন্ডিং করে পাউডার করা হলে অনলাইন বা বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। বাজারে সজনের পাতা অন্যান্য শাকের মতো আঁটি করে সরবরাহ করলেও ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে কৃষকরা ফলের পাশাপাশি পাতা বিক্রি করেও বাড়তি আয় করতে পারবেন।’
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক প্রতাপ মন্ডল বলেন, ‘ওডিসি-৩ জাতটি সারা বছর ফুল ও ফল দেয় বলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে যশোরের এই বারোমাসি সজনে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও বাজার তৈরি করতে পারে।’

  • ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির  মুখে কৃষক

    ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির মুখে কৃষক

    যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুর মাঠে আগাম জাতের বাঁধাকপিতে ভাইরাসের আক্রমণ ও সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের কথা জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সার-কীটনাশকের বাড়তি দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং মাটি পরীক্ষা ও রোগবালাই শনাক্তকরণে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

    নোঙরপুর এলাকার কৃষক সায়েদ আলী চার বিঘা জমিতে ‘প্রফিট প্লাস’ জাতের আগাম বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। শুধু বীজ কিনতেই তার খরচ হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। কিন্তু ভাইরাসের আক্রমণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তার পুরো ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সায়েদ আলী বলেন, ‘ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ করার মতো অর্থও হাতে নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সরকারি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আবার চাষে ফিরতে পারব।’
    কৃষক রঞ্জন আহমেদ বলেন, ‘বাঁধাকপির গাছ কুঁকড়ে যাচ্ছে, বড় হচ্ছে না। শিকড়ও ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে না। ভাইরাস ও মাটির সমস্যার কারণে কী করণীয়, তা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় আছি।’

    একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ গোলাপ নবী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়েছে। সার, মাটি পরীক্ষা ও অন্যান্য উপকরণে ব্যয় করার পরও ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
    কৃষক মজাহার বিশ্বাস, কামরুজ্জামান ও মোহাম্মদ জামির সরদারও আবহাওয়া, ভাইরাসের আক্রমণ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের খরচ বাড়লেও সবজির ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক জহুরুল জানান, তার তিন বিঘা জমির বাঁধাকপিও ভাইরাসের আক্রমণে নষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য, বাজারে সবজির দাম কম থাকায় এবং সার-কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। মাটি পরীক্ষায় সমস্যার কথা জানা গেলেও তা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শ প্রয়োজন।
    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার নির্ধারিত দামে পাওয়া গেলেও বাকিতে কিনতে গেলে অনেক সময় বেশি দাম দিতে হয়। পাশাপাশি মাটি পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিকারের বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

    কৃষি বিভাগের বক্তব্য
    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো ফসল চাষের আগে মাটি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে নোঙরপুর মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে করোলা চাষের সময়ও মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। বর্তমানে বাঁধাকপি চাষিদের জমি থেকেও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, যশোর সদরের ইছালী, চূড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নে বাঁধাকপির চাষ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইছালী ইউনিয়নেই ইতোমধ্যে ১৪ হেক্টর জমিতে আবাদ শুরু হয়েছে।
    তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে ইছালী ইউনিয়নের নোঙরপুর মাঠে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে প্রায় চার বিঘা জমির বাঁধাকপির চারা নষ্ট হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে আবার চারা রোপণ করলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

    রাজিয়া সুলতানা আরও বলেন, নোঙরপুরের মাঠ বাঁধাকপি চাষের জন্য উপযোগী। গত বছরও ওই মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছিল। কৃষকরা এক মৌসুমে টানা তিনবার পর্যন্ত বাঁধাকপি তুলে থাকেন। বাজারে চাহিদা থাকায় জমি থেকেই পাইকারি দরে ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হন।’

    ফসলের ফলন বাড়ানো ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

  • আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে আমন ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। ধানের জমির মাঝে মাঝে গিয়ে ধান কেটে সাবাড় করছে, বিষ টোব, আগুনের কুন্ড , ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বেঁধে, কলার গাছ, জমিতে পুতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করতে পারছেনা।

    রামেশরপুর গ্রামের কৃষক মেহেদুল বলেন ইঁদুরের হাত থেকে আর বুঝি শেষ রক্ষা হল না।

    উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে মাঠের জমিতে ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে গেছে। কৃষক তাদের ধান ক্ষেতের আলোক ফাঁদ বসিয়েছে। কখন যে ধানের গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে তা বুঝতে পারছেনা কৃষকরা। মাঠ থেকে বাড়ি আসলে ফিড়ে যাওয়ার পর ধানের জমিতে পাওয়া যাচ্ছে বোঝায় বোঝায় কাটা ধান গাছ।

    কৃষকরা জানান, পোকার বা অন্য কোন রোগ বালাইয়ের আক্রমন হলে ওষুধ দিয়ে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্ত ইঁদুরের আক্রমনে রক্ষা পাওয়া যায় না।

    ভাতছালা গ্রামের আব্দুস সালাম ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাজারের ঔষধের দোকানের পরামশে ঔষধ ব্যবহার করেছেন।

    উপজেলা রামপুরা গ্রামের কৃষক সৈয়কত জানান, আগের দিনে ইদুর ধরতো তার ব্যাপকতা এত বেশি ছিলনা। দিনের বেলা গর্থে বা বোন জঙ্গেলে থাকে রাতের বেলা ধানের জমিতে ধান গাছ কেটে সাবার করছে।

    কৃষকেরা বলছেন, চলিত আমন আবাদে এক দিকে খরা, অন্য দিকে পোকার আক্রমন আবার ইঁদুরের আক্রমনে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পরেছে।

    জমির ফসল রক্ষায় কৃষকরা বিষ টোব, আগুনের কুন্ড জালিয়ে, ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বাধিয়ে কলার গাছ, জমিতে পুতিয়ে দিয়েও কৃষকেরা তাদের ফসল ইদুর হাত থেকে রক্ষা করতে কৃষকরা অপ্রন চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট, উপজেলা কৃষি অফিসার, মোঃ রফিকুজ্জামান বলেন, কৃষক‌দের গরম পা‌নি , বিষ টোব, ফটক‌া ফুটিয়ে সম্ম‌লিত ভা‌বে কাজ কর‌লে ইঁদুর তাড়া‌নো সম্ভব।

  • ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    শীতের আমেজ পুরোপুরি শুরু না হলেও মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাঠজুড়ে শুরু হয়ে গেছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের তুমুল ব্যস্ততা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবজি তুলে চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    উপজেলার বড়টিয়া, পয়লা, সিংজুরী, বানিয়াজুরী ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কৃষি মাঠগুলো ঘুরে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে উঠেছে জমি প্রস্তুতকরণ, চারা রোপণ ও নিবিড় পরিচর্যার কাজ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, উচ্ছে, করলা ও শিমের মতো চড়া চাহিদার সবজিতে ভরে উঠছে একের পর এক ক্ষেত। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেতেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এসব আগাম সবজি স্থানীয় ও রাজধানীর বাজারে সরবরাহ শুরু হবে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলায় ৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উপজেলার বৈলট গ্রামের কৃষক করিম বলেন, “এ বছর জমিতে বন্যার পানি না ওঠায় নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই বেগুনের আবাদ করতে পেরেছি। সঠিক সময়ে ফসল বাজারে তুলতে পারলে ভালো লাভের মুখ দেখতে পাবো।”

    তবে আশার পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না চাষিদের। বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক বারেক, ময়নাল ও মজনু জানান, আগাম সবজি চাষে লাভের বড় সুযোগ থাকলেও ঝুঁকি অনেক বেশি। আকস্মিক অতিবৃষ্টি কিংবা রোগবালাইয়ের হানা নিমেষেই স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। তা ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। আবার একই সময়ে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে গেলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে সঠিক সময়ে কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

    ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন বলেন, “পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চাষিদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”

  • মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমির তানোর ও মোহনপুরে ধান, আলু ও আমের পাশাপাশি মাচায় তরমুজ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। সেচ সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে গতানুগতিক ফসলের বাইরে নতুন এ চাষে ভালো ফলন ও বাজারদাম পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

    মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের কৃষক শাফিউল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।

    শাফিউল জানান, তরমুজ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি তরমুজে নেট বেঁধেছেন। প্রতিটির ওজন গড়ে দুই কেজি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

    অন্যদিকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের পাড়িশো গ্রামের কৃষক খাইরুল ও জাকির ২৫ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো মাচায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের বীজ বপন করেন তারা। বর্তমানে মাচায় ঝুলছে রঙ্গীলা, আম্বার সুইট, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা জাতের তরমুজ।

    কৃষক জাকির বলেন, ‘মৌসুমের বাইরে তরমুজের চাহিদা ভালো থাকায় বাজারেও দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তরমুজ কিনেছেন। ফলে পরীক্ষামূলক এ চাষে লাভবান হচ্ছি।’

    মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্রভূমিতে মাচায় তরমুজের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’

  • মরুর ফল সাম্মাম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন কামরুজ্জামানের

    মরুর ফল সাম্মাম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন কামরুজ্জামানের

    একসময় যে জমি পড়ে থাকত, সেই জমিতেই এখন ঝুলছে সারি সারি বিদেশি ফল। সবুজ-হলুদ রঙের ফলগুলো দেখতে অনেকটা তরমুজের মতো। তবে নাম সাম্মাম পরিচিত ‘রক মেলন’ নামেও। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বর্গা নেওয়া জমিতে এ ফলের চাষ করে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মো. কামরুজ্জামান খান।

    উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর খামার এলাকায় জমি নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে সাম্মাম চাষ করেছেন। মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করে গাছের পরিচর্যা করছেন তিনি। এরই মধ্যে বাগান থেকে প্রথম দফায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। তার প্রত্যাশা, সব ফল বিক্রি হলে মোট বিক্রি ৬-৭ লাখ টাকা ছাড়াতে পারে।

    তবে এ প্রত্যাশার বিপরীতে এখন পর্যন্ত তার বিনিয়োগও কম নয়। কৃষকের হিসাবে, জমি, চারা, শ্রমিক, সার, সেচ, মালচিং ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

    সম্প্রতি তরগাঁওয়ের উত্তর খামার এলাকায় কামরুজ্জামানের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, জমির ওপর মালচিং ফিল্ম বিছানো। তার ওপর নির্দিষ্ট দূরত্বে লাগানো হয়েছে সাম্মামের চারা। লতাগুলো মাচায় উঠছে। কোনো গাছে ছোট ফল, আবার কোনো গাছে পরিপক্ব হওয়ার পথে বড় আকারের ফল ঝুলছে।

    বাগানে শ্রমিকদের ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ গাছে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ ফল ও লতার পরিচর্যা করছেন।

    কৃষক কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকার মতো সাম্মাম বিক্রি করেছি। ফল পুরোপুরি বিক্রি হলে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা বিক্রির আশা করছি।’

    তিনি জানান, বাগানের উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকার আড়তে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে পাইকারের কাছে প্রতি কেজি প্রায় ৮০-১০০ টাকা দরে সাম্মাম বিক্রি করছেন।

    কামরুজ্জামান খান কাপাসিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন। চাকরি বা প্রচলিত পেশার বাইরে কৃষিকে আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।কামরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করছি। এখন পর্যন্ত লোকসান হয় নি। সামনে আরও বড় পরিসরে বিদেশি ফলের বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি থেকে বিদেশি ফলের আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ বলেন, ‘রক মেলন বা সাম্মাম চাষে সাধারণত ৭৫-৯০ দিন সময় লাগে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারদর পাওয়া গেলে প্রতি বিঘায় ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন খরচ হতে পারে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, তবে বাস্তবে জমির ধরণ, শ্রম, উপকরণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর খরচ কমবেশি হতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘সাম্মামে বেটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। তবে এ ফসলের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিচর্যা, পানি ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ জরুরি।’

    কৃষি কর্মকর্তা জানান, কাপাসিয়ার তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার দোআশ মাটি সাম্মাম চাষের জন্য উপযোগী হতে পারে।

    সাম্মাম চাষে ফলন পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে বাজার। বর্তমানে কামরুজ্জামান তার উৎপাদিত ফল ঢাকার আড়তে পাঠাচ্ছেন। সেখানে প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা পাওয়া গেলেও মৌসুমের শেষ পর্যন্ত একই দাম থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কোনো ফলের বাণিজ্যিক চাষে উৎপাদন সফল হওয়ার পর বাজারজাত করণই বড় চ্যালেঞ্জ। ফল দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় সংগ্রহের পর দ্রুত পরিবহন ও বিক্রির ব্যবস্থা করতে হয়। একই সময়ে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমার সম্ভাবনাও থাকে।

    ফলে কামরুজ্জামানের বাগানে উৎপাদিত সাম্মামের প্রকৃত আর্থিক সাফল্য নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কত কেজি ফল উৎপাদন হলো, কত দামে বিক্রি হলো এবং মোট ব্যয়ের পর হাতে কত টাকা থাকল তার ওপর।

    নতুন এ ফলের বাগান দেখতে আশপাশের কৃষকেরাও আসছেন। কেউ জানতে চাইছেন চারা কোথা থেকে পাওয়া যায়, কেউ জানতে চাইছেন এক বিঘায় কত খরচ হয়। আবার অনেকে জানতে চাইছেন, কত দিনে ফল আসে এবং বাজারে কী দামে বিক্রি করা যায়।

    কামরুজ্জামানের উদ্যোগ তাই শুধু একটি বাগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ও উচ্চমূল্যের ফল চাষের বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

    কৃষি বিভাগের পরামর্শ, বাজার বিশ্লেষণ এবং উৎপাদন খরচের হিসাব করে সাম্মাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কাপাসিয়ায় এ ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এক মৌসুমের ফলন ও বিক্রির হিসাব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ধারণের সুযোগ নেই।

    বাগানে এখনো পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে অনেক ফল। সেগুলো বাজারে যাওয়ার পরই পরিষ্কার হবে। কাপাসিয়ার মাটিতে নতুন এ বিদেশি ফল কৃষকের জন্য শুধু নতুনত্ব, নাকি সত্যিই নতুন আয়ের পথ।

  • হলদে তরমুজ চাষে খোর্শেদের বাজিমাত

    হলদে তরমুজ চাষে খোর্শেদের বাজিমাত

    এক সময় যে জমিতে বছরে একবার ধান চাষ হতো, বছরের বাকি সময় থাকত পতিত। সেই জমিতেই এখন সারি সারি হলুদ তরমুজ। মাটির ওপর বিছিয়ে থাকা সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ রঙের বাহারি ফল। ব্যতিক্রমী এ তরমুজবাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কিনে নিচ্ছেন পরিবারের জন্য। এ পরিবর্তনের নেপথ্যে জুড়ী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা খোর্শেদ আলম।

    প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষের ভিডিও দেখেই তার মনে হয়–একবার চেষ্টা করে দেখা যাক। সেই চেষ্টা শুরু হয়েছিল মাত্র ছয় শতাংশ জমিতে। পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এখন প্রায় তিন বিঘা জমিতে চাষ করছেন বিভিন্ন জাতের হলুদ তরমুজ। চলতি মৌসুমে তার প্রত্যাশা ৮-৯ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে। খরচ বাদে সম্ভাব্য মুনাফা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ি গ্রামের খোর্শেদ আলম পেশায় পরিবেশ ও সংবাদকর্মী। কৃষিতে তার আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ছিল না বললেই চলে। ইউটিউবের ভিডিও দেখেই শুরু হয়েছিল আগ্রহ। ২০২২ সালে পরিবারের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে ছয় শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ তরমুজ চাষ করেন। ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে চাহিদা থাকায় শখের সেই চাষই পরে পরিণত হয় বাণিজ্যিক উদ্যোগে।

    খোর্শেদ আলম বলেন, ‘ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষ দেখে শখ জাগে। ভাবলাম একবার পরীক্ষা করে দেখি। ছয় শতাংশ জমিতে বীজ বপন করলাম। ফলন ভালো হওয়ার পর দেখলাম এর চাহিদাও বেশ। তখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষের চিন্তা করি।’

    তার সেই ছোট্ট পরীক্ষাই এখন রূপ নিয়েছে বড় উদ্যোগে। চলতি মৌসুমে নিজের প্রায় তিন বিঘা জমিতে ল্যানফাই, সূর্যডিম, সানগোল্ড, লিয়োনা, রবি, সাম্মাম মার্লিন ও হ্যানিডিউ মেলন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন খোর্শেদ। এর মধ্যে ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজই বেশি নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের।

    গত বছরের ১৮ নভেম্বর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জুড়ীর সহযোগিতায় ডোমাবাড়ি কচুরগুল ব্লকের ৩৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ শুরু করেন তিনি।

    খোর্শেদের তরমুজ বাগান এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, স্থানীয়দের কাছেও এক ধরনের আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।

    বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তরুণ বয়সে খোর্শেদের এমন উদ্যোগ সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।’

    বাগানে আসা অনেকের কাছেই হলুদ তরমুজ দেখা কিংবা খাওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। কেউ শুধু বাগান ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ পছন্দের তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকজন ক্রেতা একসঙ্গে ৪-১৫টি পর্যন্ত তরমুজও কিনছেন।

    উদ্যোক্তা খোর্শেদ জানান, হলুদ তরমুজ শীত মৌসুমের ফসল। চাষের প্রায় তিন মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে আট থেকে নয় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি। গত মৌসুমের অভিজ্ঞতা আরও আশাবাদী করেছে তাকে। প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করে প্রায় আট লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছিলেন। অর্থাৎ তিন মাসের ফসল থেকে খরচ বাদে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। খোর্শেদ বলেন, ‘জুড়ীর আবহাওয়া হলুদ তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাত্র তিন মাসে ফলন পাওয়া যায়। আমি মনে করি, এ এলাকায় আরও বড় পরিসরে চাষের সুযোগ রয়েছে।’

    নিজের সাফল্যের পাশাপাশি এলাকার পতিত জমিকে কৃষির আওতায় আনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন খোর্শেদ। তার ভাষ্য, জুড়ীতে এখনো বিভিন্ন কারণে হাজার হাজার বিঘা জমি বছরের বড় একটি সময় পতিত পড়ে থাকে। এসব জমিতে স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল আবাদ করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘জুড়ীতে অনেক জমি পতিত পড়ে আছে। শিক্ষিত বেকার যুবকেরা চাইলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। একটু সাহস করে শুরু করলে কৃষি থেকেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।’

    স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে খোর্শেদ বলেন, ‘আগামী বছর আরও জমিতে চাষ বাড়াব। পাশাপাশি অন্য নতুন ফসলও যুক্ত করতে চাই। আমার লক্ষ্য জুড়ীকে কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা।’

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ‘ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ চাষ জুড়ী উপজেলায় ইতেমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। খোর্শেদের উদ্যোগ ইতেমধ্যে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। তার বাগান দেখে অনেকেই হলুদ তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিচিতিও বাড়ছে দ্রুত। প্রতিদিন শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন।’

    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ একটি উচ্চমূল্যের হাইব্রিড জাত। উৎপাদন পদ্ধতি অনেকটা দেশি তরমুজের মতো। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি রয়েছে এবং ফলটি বেশ মিষ্টি। জুড়ীর মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী।’

    কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের অন্যতম সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে মাহমুদুল আলম বলেন, ‘কেউ আগ্রহী হলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

  • গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    বিকেল হলেই জমি থেকে সদ্য তোলা করলা নিয়ে আসেন কৃষকেরা। কেউ ব্যাগে, কেউ প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে গ্রামের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসেন এসব সবজি। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে দরদাম ও বেচাকেনা। পরদিন সকালে পিকআপে করে সেই করলা চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে।

    অবাক করার মতো বিষয় হলো, এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। গ্রামের ভেতরের একটি সাধারণ জায়গায় প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়ে উঠেছে করলার এই পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র।

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গাটি এখন আশপাশের গ্রামের করলা চাষিদের কাছে পরিচিত পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র হিসেবে।

    স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এখানে করলার বেচাকেনা শুরু হয়েছে মৌসুম শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন মহাজন নিয়মিত করলা কিনছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা আসে এই কেন্দ্রে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে পিকআপে করে এসব করলা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন বাজারে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মসজিদের সামনে অস্থায়ী ত্রিপলশেডের নিচে ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ক্যারেটে করলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্যারেট। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি পিকআপ। আগের সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক মহাজনের কাছ থেকে তাঁদের পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন।কৃষকেরা জানান, এখানে করলা বিক্রি করায় তাঁদের বাড়তি ঝামেলা কম। জমি থেকে করলা তুলে সরাসরি বিক্রিকেন্দ্রে নিয়ে এলেই হয়। অন্য কোনো হাটে নিতে হয় না। ফলে পরিবহন খরচ, টোল কিংবা ধলতার মতো বাড়তি খরচও দিতে হয় না। আবার স্থানীয় হাটের তুলনায় অনেক সময় ভালো দাম পাওয়া যায়। এসব কারণে আশপাশের গ্রামের অনেক কৃষক এখন এখানেই করলা বিক্রি করছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কয়েক দিন আগে দাম কম ছিল। হাটের চেয়ে এখানে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এলাকার কৃষকেরা এখানে করলা বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’

    করলা বিক্রির পর তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে এই গ্রামকে ঘিরে। মহাজনেরা কৃষকদের কাছ থেকে করলা সংগ্রহ করে বাছাই ও প্যাকেটজাত করেন। পরে পিকআপে করে সেগুলো বিভিন্ন বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    মহাজন বাবু মণ্ডল বলেন, ‘প্রতিদিন আড়াই শ থেকে ৩০০ মণ করলা এখানে আসে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।’

    স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, আশপাশের মাঠগুলোতে করলার আবাদ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে কয়েকজন মহাজন এখানে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষকের সংখ্যা ও করলার পরিমাণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

    কৃষকেরা বলেন, মাঠের কাছাকাছি এই বিক্রিকেন্দ্র হওয়ায় তাঁদের সময় ও পরিবহন খরচ—দুটিই কমছে। বিশেষ করে বিকেলে জমি থেকে করলা তুলে এনে রাতের মধ্যেই বিক্রি করে দিতে পারছেন তাঁরা। এতে পরদিন আবার জমিতে কাজ করার সুযোগ থাকছে।ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর করলার দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তাঁদের পরামর্শ দিচ্ছে।

    ধান ও আলুর জন্য পরিচিত ক্ষেতলালের কৃষিতে এখন বিভিন্ন সবজির আবাদও বাড়ছে। উঁচু জমিতে করলা, পটল, বেগুন, চিচিঙ্গা, লাউ ও শসার মতো সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে করলাকে ঘিরে বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই পাইকারি কেন্দ্রটি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার একটি স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

    কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই ইজারার আওতায় থাকা আনুষ্ঠানিক হাটের অবকাঠামোও। তবু প্রতিদিন শত শত মণ করলার বেচাকেনায় জমে ওঠে গ্রামের এই জায়গাটি। বিকেলে কৃষকেরা নিয়ে আসেন মাঠের ফসল, রাতে চলে দরদাম, আর সকালে সেই করলাই পিকআপে চড়ে পাড়ি দেয় দূরের বাজারের পথে। এভাবেই প্রায় দেড় দশক ধরে গ্রামের একটি সাধারণ জায়গা করলা চাষিদের কাছে হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র।

  • আগ্রহ বাড়ছে হলুদ চাষে

    আগ্রহ বাড়ছে হলুদ চাষে

    যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছর মশলা জাতীয় ফসল হলুদের ব্যাপক চাষ হয়েছে। বাজার মূল্য বেশি থাকায় চাষিদের মধ্যে এ মশলা জাতীয় হলুদ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তারা হলুদ চাষ করে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

    উপজেলার বন্যামুক্ত উঁচু এলাকা মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা, মির্জাপুর, শ্রীফলা, প্রতাপপুর, বায়সা, পাঁজিয় ইউনিয়নের কমলাপুর, গড়ভাঙ্গা, বেলকাটি, সাগরদত্তকাটি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মঙ্গলকোট, বসুন্তিয়া ও কেদারপুর, হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর, কাবিলপুর, হাসানপুর, ত্রিমোহিনি ইউনিয়নের চাদড়া, মির্জানগর, বরনডালি, গোপালপুর এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাহানপুর, ভালুকঘর, বেগমপুর এলাকায় জমিতে এ মশলাজাতীয় কৃষিজাত পণ্য হলুদের চাষ হয়েছে ব্যাপক।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, হলুদ রোপণে খরচ একেবারে সীমিত। বীজভেদে কাঠাপ্রতি খরচ হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বীজ হলুদ ৭-৮ কেজি মূল্য ৫০০ টাকা। উৎপাদন হয়ে থাকে কাঠাপ্রতি ৫-৭ মন। কাঁচা হলুদ প্রকারভেদে বিক্রয় হয়ে থাকে ১৫০০-১৬০০ টাকা মন দরে। বর্তমান বাজারে প্রতি কাঠায় সর্বনিম্ন লাভ হয় ২৪০০-৪০০০ টাকা। হলুদ চাষের সময় কাল ৯ মাস। হলুদ ক্যান্সার রোধক, হজম ভালো করে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, ত্বক মসৃন হয়, ব্যাড কোলেস্টেরল নষ্ট করে, ফ্যাটিলিভার ভালো হয়। রূপচর্চায় কার্যকরি ভূমিকা রাখে।

    গড়ভাঙ্গা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘হলুদ চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। হলুদ বিভিন্ন রোগ নিরাময় করে। কৃষকের হলুদ বাগান সবুজ গাছে মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

    এলাকার কৃষকরা জানান, হলুদ চাষে পোকা থেকে মুক্ত থাকতে পারলে অনেক লাভ হয়, যার কারণে এ উপজেলায় হলুদ চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে এ সময় হলুদে বিভিন্ন রোগ আক্রমণ করে থেকে। বিশেষ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী হলুদ পচা রোগ, শ্বাসনালী বা কচিডগা পোকার আক্রমণের জন্য নিয়মিত ওষুধ দিতে হবে। পানি যাতে জমে না থাকে, তার জন্য পানি সরানো নালা করতে হবে। রোগের ওষুধ হিসেবে দানা কোস্টার ও তরল টিল্ট ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

    কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত বছর কেশবপুর উপজেলায় হলুদ চাষ হয়েছিল মাত্র ৬৭০ বিঘা জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১২০ বিঘা, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। উপজেলার কৃষকের মশলাজাতীয় ফসলের চাষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

  • রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে।

    মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।

    ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাঁর ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না।আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ায় অন্য কৃষক তাঁর প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ইউএনও বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষককে নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তাঁরা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন।শুধু ডিলারদের তাঁদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

    পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

    সারের বিতরণব্যবস্থা তদারকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাঁদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাঁদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।

    ইউএনও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তাঁরা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন- এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

    বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমন মৌসুমে কোন ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের তালিকা ও তাঁদের সারের চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটি আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম ও বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ‘সোনালি আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবছরই চাষ হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের পাট। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও এখন বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা।

    একসময় অবহেলিত ও মূলত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটকাঠি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পাট চাষ হয়। পাট কাটার পর আঁশ সংগ্রহের পাশাপাশি পাটকাঠিও সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের বাড়ি ও মাঠ থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মান ও শুকনো অবস্থাভেদে বর্তমানে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকরা জানান, আগে পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। জমির পাশে, পুকুরপাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা হতো। অনেকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া ঘরের মাচা, সবজির মাচা ও বেড়াসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন তারা।

    পার্শ্ববর্তী জেলাতেও যাচ্ছে পাটকাঠি

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পাটকাঠি শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যবসায়ীরা এগুলো মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাটকাঠি সংগ্রহের পর শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগের তুলনায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও তা সংরক্ষণে আগ্রহী হচ্ছেন।

    এক পাটকাঠি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে পাটকাঠি অনেকটা অবহেলিত ছিল। এখন এর চাহিদা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে পাটকাঠি কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় কৃষকরাও এটি বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।’

    কৃষকের মুখে বাড়তি আয়ের কথা

    পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটের আঁশ বিক্রির পর পাটকাঠি থেকেও আয় হওয়ায় উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসছে। এতে পাটচাষে তাদের আগ্রহও বাড়ছে।

    বোয়ালমারী উপজেলার ফেলান নগর গ্রামের কৃষক হালিম বলেন, ‘পাট থেকে আঁশ বিক্রি করার পর পাটকাঠিগুলো আগে তেমন দাম পেতাম না। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাওয়ায় পাটকাঠি থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে।’আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষক হাবিব মোল্লা বলেন, ‘আগে পাটকাঠি দিয়ে রান্নার জ্বালানি, ঘরের মাচা কিংবা বেড়ার কাজে ব্যবহার করতাম। এখন বিক্রি করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাই পাট কাটার পর পাটকাঠি যত্ন করে শুকিয়ে রাখি।’

    বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাটকাঠি বর্তমানে শুধু জ্বালানি বা ঘরোয়া কাজে সীমাবদ্ধ নেই। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাটকাঠি থেকে তৈরি কার্বনজাত উপাদান বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কালি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া পানবরজ, সবজির মাচা, ঘরের বেড়া ও বিভিন্ন কৃষিকাজেও পাটকাঠি ব্যবহার করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য একটি মূল্যবান উপজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে।’

    বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, পাটকাঠির বাড়তি ব্যবহার ও বাজার তৈরি হওয়া কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। তবে পাটকাঠি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।

    তিনি আরও বলেন, ‘পাট আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে। কৃষকরা পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছেন। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পাটচাষিদের আয় আরও বাড়তে পারে।’

    এতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

  • দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে কাশফুলের দোলা। আর কদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতির সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারে বেড়েছে ঝুনা নারকেলের চাহিদা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর দামও।

    পূজার বিভিন্ন উপকরণ থেকে শুরু করে প্রসাদ তৈরিতে নারকেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ সময় ঝুনা নারকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

    ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় নারকেলগাছের সংখ্যা কমেছে। অনেকেই গাছ থেকে কাঁচা ডাব পেড়ে খাওয়ার পর সঠিকভাবে পরিচর্যা করেন না। নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর প্রবণতাও কমেছে। পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছে ফলন হচ্ছে না। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে নারকেলগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরবরাহেও টান পড়েছে।

    অন্যদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ঝুনা নারকেল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারকেল কিনতে আসা দীপ্ত সাহা ও অরুণ মণ্ডল বলেন, “পূজার সময় নারকেল না হলে চলে না। কিন্তু এবার দাম আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।”

    ঝুনা নারকেলের বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, “চাহিদার তুলনায় নারকেলের সরবরাহ কম। এছাড়া গাছ থেকে নারকেল পেড়ে এনে বিক্রি করতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিন ১০-১২টি গাছে উঠে গৃহস্থদের নারকেল পেড়ে দিতে হয়। সেখান থেকে ১০-১২টি নারকেল এনে বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এ কারণে নারকেল বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

    তেল কোম্পানিগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল কিনে নেওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

    ফরিদপুরের ময়না গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালীপদ চক্রবর্তী বলেন, “দুর্গাপূজায় আমাদের ঝুনা নারকেল লাগে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পূজার প্রসাদ হিসেবে নারকেলের নাড়ু দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর নাড়ু, পিঠা ও বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও নারকেল লাগে। তাই এর চাহিদা সব সময়ই আছে।”

    নারকেলগাছের সংখ্যা কমার সঙ্গে কমছে ফলনও। অথচ পূজার থালা থেকে শুরু করে বাঙালির ঘরের পিঠা-পায়েস—সবখানেই নারকেলের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। তাই উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • দেশে ইউরিয়া পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: বিসিআইসি চেয়ারম্যান

    দেশে ইউরিয়া পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: বিসিআইসি চেয়ারম্যান

    বিসিআইসির চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, দেশের সার কারখানা ও বাফার গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার রয়েছে। সোমবার নীলফামারী, মহেন্দ্রনগর (লালমনিরহাট) ও কুড়িগ্রামে বিসিআইসির সারের গুদাম পরিদর্শন করে তিনি এ কথা বলেন। বিসিআইসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে আতঙ্কিত হবেন না। নভেম্বর পর্যন্ত দেশের চাহিদাকৃত ইউরিয়া সার গুদামে মজুত রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ৩টি সার কারখানায় প্রতিদিন ৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে এবং বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি চলমান রয়েছে, যা দিয়ে আগামী পিক সিজনে সারের চাহিদা পূরণ করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

  • আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    ‘বৃক্ষরোপনে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যে নওগাঁর আত্রাইয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিএমডিএর সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁড়িয়াগাঁথি ব্রিজ থেকে পারব্রজপুর সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী (বিএমডিএ) মো. আলী হোসেন, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মৃধা, যুবদলের সিনিয়র আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম প্রমুখ।

    উপজেলা প্রশাসন ও বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় পাঁচ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য

  • কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    সার বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলারদের প্রণোদনা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের জন্য ডিলার পর্যায়ে কমিশন কেজিপ্রতি ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে, কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন এ হার আগামী ১ জুলাই ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

    সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কৃষি উৎপাদনে সারের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রেখে ডিলার পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রমে উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে। তবে কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতোই ২৭ টাকা থাকবে। ডিএপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ টাকা করা হলেও কৃষক পর্যায়ের দাম ২১ টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। একইভাবে টিএসপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে।

    এ সারের কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য ২৭ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এমওপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১৭ টাকা করা হয়েছে এবং কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতো ২০ টাকা রাখা হয়েছে।

    চার ধরনের সারের ক্ষেত্রেই ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজিতে সরকারের নির্ধারিত মূল্য ১ টাকা করে কমেছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি সারে কমিশনের পরিমাণ ৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

    সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্তে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বিদ্যমান মূল্যেই তারা ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার কিনতে পারবেন।

  • দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুরের কয়েকটি জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা মাছ অবমুক্ত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

    মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার নয়টি জলাশয়ে মোট ২৮৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিলের বিলশা বিলে ৫৫ কেজি, খামারপাথুরিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ৫০ কেজি, উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৩০ কেজি, দিকদারিয়া বিলে ৩০ কেজি, মির্জা মাহমুদ খালে ৩০ কেজি, খোলাগাড়ি বিলে ৩০ কেজি, পাটপাড়া মরা তুলশী নদীতে ২০ কেজি, থানা পুকুরে ২০ কেজি এবং বিল কাঠোর মরা নদীতে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়।

    উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বাড়বে জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের মাছের জোগানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুর রশীদ, উপজেলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবমুক্ত পোনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এসব জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৯০ হাজার ৮৫৪ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ের সমীক্ষা চালিয়ে যোগ্য কৃষক বাছাই করা হয়েছে। তিন ধাপের সমীক্ষার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপের সমীক্ষা চলছে। সেই হিসেবে প্রথম দফায় কৃষকের সংখ্যা এক লাখ চাড়িয়ে যাবে।

    খুলনা কৃষি অঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে গঠিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে কৃষক কার্ডের জন্য যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলায় ২৮ হাজার ৪০৩, সাতক্ষীরায় ২৯ হাজার ৬৮৫, বাগেরহাটে ২৬ হাজার ৩৩৮ এবং নড়াইলে ৬ হাজার ৪২৮ কৃষককে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলার অবশিষ্ট যোগ্য কৃষকদের নামও পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হবে।

    কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী কৃষকরা জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাঁচ বছরে খুলনা কৃষি অঞ্চলের মোট ১১ লাখ ৯১ হাজার ১০৪ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সেচসেবা, প্রশিক্ষণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা, বালাই দমনসংক্রান্ত পরামর্শ, কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি বীমা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ঋণ এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    খুলনা অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড পাবেন। কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।’

  • পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    যশোরের শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। সবুজ মাঠ জুড়ে কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ, আবার কোথাও কৃষকেরা ব্যস্ত জাগ দেওয়ার প্রস্তুতিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি প্রণোদনায় চলতি মৌসুমে শার্শায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষকের ঘরে সোনালি আঁশ উঠলেও মুখে হাসি নেই; বাড়ন্ত উৎপাদন খরচের কারণে বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০৩ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে ভালো ফলনের আনন্দের চেয়ে কৃষকদের বেশি ভাবাচ্ছ শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি, জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ।

    বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম ও রফিকুল ইসলাম জানান, বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট ধোয়া পর্যন্ত প্রতি ধাপে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। দাম না পেলে চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।
    স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন, যার সুযোগ নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। তবে কিছু কৃষক পাটখড়ি বিক্রি করে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, প্রণোদনা ও পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে সহায় দেওয়া হচ্ছে। আঁশের গুণগত মান ভালো থাকলে বাজারে সঠিক মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    একসময় আগাছায় ঢাকা পড়ে ছিল জমিটি। চা চাষের উপযোগিতা হারানোয় বছরের পর বছর পড়ে ছিল অনাবাদি। সেই পতিত জমিতেই এখন সারি সারি ড্রাগনগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর চা বাগানের এ দৃশ্য এখন কেবল চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও। প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ১৪ হাজার গাছের এ বাগানে ফলছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন।

    ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে চায়ের চিরচেনা সবুজ। তবে সেই সবুজের মাঝেই যেন আলাদা গল্প লিখেছে ড্রাগন বাগান। সারি সারি খুঁটির ওপর বেড়ে উঠেছে ড্রাগনগাছ। কোনো গাছে ফুল, কোনো গাছে কাঁচা ফল, আবার কোনো গাছে পেকে ঝুলছে রক্তিম লাল ড্রাগন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফলের সমারোহে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক দৃশ্য।

    ভোরের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে বাগানটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। আর সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই চলছে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন।বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হয় প্রকল্পটি। প্রথম বছর গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার পর দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে উৎপাদন।

    চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।

    এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়—এটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

    শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

    চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে।’

    চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।’বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো. আল মিকাত বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করতেই আমরা এ ড্রাগন প্রজেক্টটি শুরু করি। এক বছর পর থেকেই ফল আসতে শুরু করে। এখন ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নান্দনিক এ বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগানের এই সাফল্য দেখে কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চা-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি পতিত জমিতে বিকল্প ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’

    সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, ‘চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

    তিনি জানান, বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।

    কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না, এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।’

  • শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’

    স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

    দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

  • ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। নতুন চারায় সয়লাব হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার। এ মৌসুমে ২০-২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

    চার জেলার চাষি-উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও বারোমাসি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ও আনন্দে আছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিচর ইউনিয়নের দুর্গম পদ্মাচরের চাষি-কৃষক ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, চরের আটটি পয়েন্টে এবার বাম্পার সবজি ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগে ও পরে কমপক্ষে ১৭-১৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি কৃষক ও সবজি চাষিরা আশা করছেন, উন্নত জাতের বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন তাদের ভাগ্য বদলাবে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের চার জেলার ২০টি উপজেলার ২০-২৫টি চরে আগাম নতুন শীতকালীন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, আনাচি কপি, শিমের চারা, লাউগাছ ও পুঁইশাকের চারাসহ কমপক্ষে ১০-১২ জাতের শীতকালীন চারার। বিক্রিতেও ধুম পড়ে গেছে।

    প্রতি বছরই শীত আসার আগে পূজার মধ্যে বাজারে উঠে যায় শীতকালীন আগাম শাকসবজি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

    বিশেষ করে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল, শরীয়তপুরের চরাঞ্চল, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিশাল বিশাল চরের মধ্যে মাথা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছে বহু জাতের শীতকালীন সবজির চারা ও গাছ।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, কাঁঠালবাড়ী ঘাট, ডাইয়ারচর, সন্যাসীরচর, মুন্সীরচর ও গাবতলা বাজার চর এলাকায় শীতকালীন নতুন চারার বিক্রিতে বড় বড় হাট বসছে। বিক্রিও হচ্ছে জমজমাটভাবে।শীত আসার আগেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় উল্লেখিত বীজতলাগুলোতে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর, চরমাদবদিয়া, মাইজামিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গীসহ দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চারার কেনাবেচা।

    এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চার-পাঁচটি চর ও পদ্মাপাড়েও বসছে সবজি ও সবজির চারা বিক্রির হাট।

    ওই ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে। কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

    ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জেলার উপজেলাগুলোর ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।

    উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়। এর মধ্যে চরের বিশেষ সুবিধা হলো, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চর থেকেই সুলভমূল্যে চারা কেনা যায়। এ কারণে ক্রেতারা শহরের বাজারের চেয়ে চরের বীজতলা থেকেই বেশি চারা কিনে নেন।বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চারার। এসব এলাকার চারা পাশের জেলার সবজি চাষিরা কিনে নেন।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাবনা, দাশুড়িয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন।

    চারা ব্যবসায়ী আরমান, কাইয়ুম, সোবাহান, মনো ও সুজিতের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ভাল চারা পাওয়া যায় এবং মানে ভাল এমন চারা নিতে দূর হলেও আমাদের কষ্ট হয় না। চারা কিনে যদি ভাল ফলন না পাওয়া যায়, তখন অনেক কষ্ট লাগে।’

    ফরিদপুরের সবজির রাজধানী কানাইপুর, চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সদরপুরের কৃষ্ণপুর, গজারিয়া, যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রাম, সদর উপজেলার ডিক্রিচর ও নর্থচ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই চাটাইয়ের নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরির কাজে।

    কানাইপুর এলাকার চাষি হাসান ১০০টি মাচা করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে দুই-তিন দফায় চারা করেন। সব মিলিয়ে তাদের বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।চরভদ্রাসন এমপিডাঙ্গীর নওশের বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’

    চারার ব্যবসায় বেড়ে ওঠে যেভাবে :

    চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২৫ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটে। কৃষকেরা খৈল, জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুর অঞ্চলের চারার সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলার বাইরে আরও ১২-১৩ জেলায় এসব চারার চাহিদা তৈরি হয়।

    কৃষকদের দাবি, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

    ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল এলাকার চারা ব্যবসায়ী আ. হক বলেন, ‘চরের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।’

  • ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হয়ে গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের কষ্ট তুলে ধরে কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক কৃষক জহুরুল ইসলাম। তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শাইলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

    শাইলবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী ভীমপুর ও ডাংগাপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সরমংলা নদী। এ নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে ৩৫ বছরের পুরোনো একটি জরাজীর্ণ সেতু। নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের একমাত্র ভরসা ৩৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুই এখন আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩৫ বছর আগে নির্মিত পুরোনো সেতুটির রেলিং ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পুরোপুরি উধাও। সাড়ে তিন ফুট চওড়া এ সেতুর দুই পাশের নিরাপত্তা রেলিংয়ের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। পিলারের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে রড। সেতুর বুক-পিটে ছোট ছোট গর্তের ক্ষতচিহ্ন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন নড়বড়ে দেহে দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি। মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেল ছাড়া যেতে পারে না কোনো যানবাহন।

    স্থানীয়রা জানান, এই সেতু দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছাড়াও কৃষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। তবে সরু সেতু হওয়ায় গ্রামের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস যেতে পারে না। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুর ওপর দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

    শাইলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক এশরামুল হক বলেন, ‘ব্রিজটা দিয়ে চলাচল করা যায় না। রিকসা-ভ্যান, মাইক্রো, অটো চলে না। ব্রিজ কেন বানাইছে? একদম চিকন।’

    ডাংগাপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন বলেন, ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে। ব্রিজের রেলিংগুলা ভাঙ্গি গেইছে। খুঁটিগুলাতো ফাটি গেইছে।’

    স্থানীয় সংবাদকর্মী দিপক রায় বলেন, সেতুটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও মাদরাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। আশপাশের ১০ গ্রামের কৃষকরা ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে হাট-বাজারে নিতে পারছেন না। ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, ঝুঁকির কারণে ভ্যান ও অটোরিকশাও সেতুটি পার হতে চায় না। ফলে কৃষকদের বিকল্প দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন খরচ।

    প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। ওই সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৩ ফুট। সেতু সংস্কার বা কীভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে বলেও জানা গেছে।

    এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ এটি হতে পারে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

  • উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্সের (পিএমআই) আগস্ট মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের পিএমআই জুলাই মাসের তুলনায় ৭.৯ পয়েন্ট কমে ৪৯.৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামান্য সংকোচনকে নির্দেশ করে। এই পতনের প্রধান কারণ ছিল—উৎপাদন ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ডে মন্থরতা। উভয় খাতেই সামান্য সংকোচন দেখা গেছে। তবে এই সময়ে উৎপাদন খাতে তীব্র পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে, কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় সম্প্রসারণের ধারায় ফিরে এসেছে।

    মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পিএমআই প্রকাশের লক্ষ্য হলো—দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া, যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতি-নির্ধারকেরা অবহিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে কৃষি খাত টানা দ্বাদশ মাসে সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং খাতটির পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬.৫-এ উন্নীত হয়েছে। এর কারণ, নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ধারায় ছিল। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। উপকরণ ব্যয় শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও বৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে। অন্যদিকে, অর্ডার ব্যাকলগস বা অসম্পন্ন অর্ডারের সূচক সংকোচনের ধারায় রয়ে গেছে।

    উৎপাদন খাত ১৮.০ পয়েন্টের তীব্র পতনের মাধ্যমে ৪৭.৪-এ নেমে সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়ের মজুত, আমদানি এবং কর্মসংস্থান—সবগুলো সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, উপকরণের দাম দ্রুততর হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। অর্ডার ব্যাকলগস সংকোচনের ধারায় থাকলেও এর সংকোচনের হার কমেছে এবং সরবরাহকারীদের সরবরাহের সময় অপরিবর্তিত ছিল।

    নির্মাণ খাত আগস্ট মাসে ৫২.৪-এ উন্নীত হয়ে পুনরায় সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, অন্যদিকে নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে সংকোচনের হার কমেছে। একই সময়ে উপকরণ ব্যয় দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের পর্যায়ে চলে গেছে।

    সেবা খাত ২২ মাস পর প্রথমবারের মতো সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করে আগস্টে ৪৯.২-এ নেমে এসেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৬.৮ পয়েন্ট কম। নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের হার কমেছে। কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এর হার কিছুটা কমেছে এবং অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের হারও কমেছে।

    প্রতিবেদনকালীন উত্তরদাতাদের মতামতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক হলেও ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। অনেক উত্তরদাতা বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে, ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

    উৎপাদন খাতের উত্তরদাতারা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থপ্রাপ্তিতে জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসার গতি মন্থর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা জ্বালানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেবা খাতের উত্তরদাতারা আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আয়কর ও অন্যান্য করের চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। কৃষি খাতের উত্তরদাতারাও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

    সামগ্রিকভাবে, উত্তরদাতাদের মতামত ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি, সহজতর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাবান্ধব কর ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়বে।

    ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স বা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী, সব খাতেই ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের মাত্রায় সামান্য পতন ঘটেছে।

    পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আগস্টের পিএমআই ৪৯.৯-এ অবস্থান করায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ সীমার কাছাকাছি ছিল, যদিও উৎপাদন ও সেবা খাতে সাময়িক চাপ বিদ্যমান ছিল। কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে, যা অর্থনীতির অন্তর্নিহিত স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দেয়।’

    মাশরুরু রিয়াজ বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতা আংশিকভাবে মাসিক রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এলএনজি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সাময়িক জ্বালানি বিঘ্নের প্রতিফলন। সামনে, জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে এবং আরও দৃঢ় প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

  • উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    একসময় উপকূলীয় জনপদের বাড়ির উঠান, বাগান, সড়কের পাশ ও মাছের ঘেরের পাড়জুড়ে ছিল সারি সারি নারকেলগাছ। বাগেরহাটের ফকিরহাট ছিল নারকেল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা। কিন্তু রোগ-পোকা, ছত্রাক, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের অভিঘাতে কমছে গাছের ফলন। একই সঙ্গে কাঁচা ডাব হিসেবে অধিকাংশ নারকেল বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পরিপক্ব নারকেলের সংকটও তীব্র হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ফকিরহাটে নারকেল উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে ৪ হাজার ৫০ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার টনে নেমেছে। এক দশকে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই দশকে অনেক গাছে ফলন কমেছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
    সম্প্রতি ফকিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির বাগান, মাছের ঘের ও সড়কের পাশে এখনও অসংখ্য নারকেলগাছ রয়েছে। তবে অনেক গাছেই পাতায় কালো দাগ ও সাদা আবরণ দেখা যাচ্ছে। কমে গেছে পাতার সংখ্যাও। ফলে গাছ থাকলেও আগের মতো ফলন হচ্ছে না।

    কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বাগেরহাটে রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইটফ্লাইয়ের ব্যাপক সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১-২২ সালের এক গবেষণায় জেলার প্রায় ৯৭ শতাংশ নারকেলগাছ এ পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। পোকাটি পাতায় সাদা আবরণ তৈরি করে এবং পরে কালো ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হতে সহায়তা করে। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
    ফকিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল হোসেন বলেন, একটি সুস্থ নারকেলগাছে সাধারণত প্রায় ৩৬টি পাতা থাকে। অথচ অনেক গাছে এখন মাত্র ১৫-২০টি পাতা রয়েছে।
    কৃষক জিন্নাত শেখ বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকেই নারকেলের উৎপাদন কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আইলা, আম্পান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং রোগ-পোকার আক্রমণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    প্রায় ২০০টি নারকেলগাছ রয়েছে জিন্নাত শেখের। তাঁর ভাষ্য, সাত-আট বছর আগে এসব গাছ থেকে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হতো। এখন আয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকায়।
    ফলন কমার প্রভাব পড়েছে ফকিরহাটের ঐতিহ্যবাহী নারকেল বাজারে। স্থানীয় পাইকারদের মতে, একসময় প্রতি রবি ও বুধবার বাজারে লাখ লাখ নারকেল কেনাবেচা হতো। এখন বেচাকেনা সীমিত হয়ে এসেছে মাত্র দুই গলিতে।
    পাইকার নিত্যানন্দ দাস, আলী শেখ ও শেখ হাফিজুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগেও একজন ব্যবসায়ী দিনে ৮-১০ হাজার নারকেল কিনতেন। এখন তাঁরা কিনছেন মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার।
    দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। পাঁচ-ছয় বছর আগে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি নারকেলের দাম এখন আকারভেদে ১৩০-১৬০ টাকা।

    নারকেলের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্পেও। গ্র্যান্ড অটো নারকেল তেল মিলের মালিক স্বপন কুমার বসু বলেন, ২০০৩ সালের দিকে বাগেরহাটে প্রায় ১০৯টি নারকেল তেল মিল ছিল। কাঁচামালের সংকটে এর মধ্যে শতাধিক বন্ধ হয়ে গেছে।

    তাঁর দাবি, উৎপাদিত নারকেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন কাঁচা ডাব হিসেবে বিক্রি হয়। কোভিড-১৯ মহামারি ও ডেঙ্গুর সময় ডাবের চাহিদা বাড়ায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই নারকেল বিক্রির প্রবণতা আরও বেড়েছে।
    নারকেলের সংকট শুধু কৃষি ও বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতেও।
    গৃহিণী বিশাখা দাস বলেন, আগে নারকেলের দুধ দিয়ে ডিমের কোরমা ও মাছ রান্না করা হতো। কোরানো নারকেল দিয়ে তৈরি হতো চিংড়ির বড়া, পাটুরি, নাড়ু, পুলি ও ভাপা পিঠা। এখন নারকেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎসব ছাড়া এসব খাবার তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারকেলগাছে রোগ-পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তবে কৃষি অফিসের লজিস্টিক সহায়তা সীমিত। গত বছর ৩০ জন গাছি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ বছর ৮০০ কৃষককে নারকেলের চারা দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতাহার হোসেন বলেন, গাছের বয়স, সুষম সার ব্যবহারের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাদামাছির আক্রমণ নারকেল উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ।
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাইনুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগ নারকেল উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

  • চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ভ্যানিলা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছর পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর ১৮ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামে সমন্বিত কৃষি খামার। ফল চাষ ও পশুপালনের পাশাপাশি খামারের বিশেষ আকর্ষণ ১০ কাঠা জমিতে তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হুমায়ুন ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউসে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে বেড়ে উঠেছে ভ্যানিলার লতা। সেখানে ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটির মতো ফল ধরেছে।

    হুমায়ুন কবীর বলেন, এ পর্যন্ত ভ্যানিলা বাগানে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম ৩০-৪০ হাজার টাকা। প্রক্রিয়াজাতের পর এ বছর ৭-৮ লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।

    তাঁর দাবি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খোলা জমিতে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও গ্রিন হাউসে তাপমাত্রা ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেখে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এ ফসল উৎপাদন সম্ভব।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, হুমায়ুন কবীরের সাফল্য প্রমাণ করে, উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্ভব। এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খুঁটিকাটা গ্রাম। একসময় যেখানে লবণাক্ততার প্রভাবে শীত বা গ্রীষ্মে সবজি চাষ করা ছিল এক দুর্ভেদ্য চ্যালেঞ্জ, সেই গ্রামেই এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ আর কৃষকদের ব্যস্ততা নিয়ে খুঁটিকাটা এখন হয়ে উঠেছে এক স্বাবলম্বী জনপদ।

    উপকূলীয় এই এলাকার প্রায় ৪০০ কৃষক এখন নিয়মিত বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক নীলকান্ত ও সুব্রত জানান, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে প্রতিনিয়ত ক্ষতি হওয়ায় অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বসেছিলেন। তবে সিনজেনটা কোম্পানির ‘গো-গ্রো’ প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও উন্নত মানের উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহারে নতুন আশার আলো দেখতে পান তারা।
    সবজি চাষে সেচের প্রধান বাধা মিষ্টি পানির সংকট মেটাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। বর্ষার পানি ধরে রেখে সে কাজে লাগানোর ফলে বছরজুড়েই এখন বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। কেবল কৃষি উন্নয়নই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে রোপণ করা হয়েছে লবণসহিষ্ণু কয়েক শ গাছের চারা।

    তবে কৃষকদের নতুন অর্জনের পথে একমাত্র অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগের দুর্বল অবকাঠামো।
    চাষিরা জানান, গ্রামে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

    এতে উৎপাদিত ফসল সময়মতো মূল বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না এবং পচনশীল সবজি নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।
    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে খুঁটিকাটা গ্রামের কৃষকদের এই ঘুরে দাঁড়ানো উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিসম্ভাবনার এক ইতিবাচক মডেল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠোপোষকতা পেলে এই গ্রাম সারা দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

  • ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সার নিয়ে গেছেন। আজ সোমবার সকালে বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

    ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে এক–দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার নেওয়া হয়েছে। তবে সার নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, সার লুট হয়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভুয়া। বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রৌমারী উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক আছেন এবং তাঁরা সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।একই দিন ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

    স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, আজ বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। কৃষকেরা রাত দুইটা থেকে গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার বের করছেন। কেউ মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যানে করে বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত পাওয়া যায়নি।গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল জানিয়ে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে লাইনে দাঁড়ান। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। এ সুযোগে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে এক থেকে দেড় শ বস্তা সার নিয়ে যান।

    পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। বিতরণের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ভূরুঙ্গামারীতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    আজ সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিন সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধও করছেন তাঁরা। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রতিদিনই যেতে হচ্ছে।

    ওসি বলেন, কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত আছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা কমত। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এতে পুলিশের অন্য কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

  • ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    বর্তমান সরকারের একটি বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এবার কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।ওইদিন একই সঙ্গে ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। সারাদেশের এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    কৃষক কার্ড কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।এর আগে প্রি-পাইলটিংয়ে প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনার হচ্ছে।

    এসব পর্যায়ে ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে জানা গেছে, মূল পর্বে কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের শনাক্ত করতে ও তাদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত হচ্ছে। ফলে কার্ড স্ক্যান করলেই কার্ডধারী কৃষককে সহজে শনাক্ত করা যাবে।

    এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন প্রায় এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয়েছে। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা পান।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত।

    পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য চাষ করেন দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালন করেন প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লবণচাষি রয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

    জমির মালিকানার হিসাবে নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৮ শতাংশ। ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষক রয়েছেন ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষক রয়েছেন শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

    এছাড়া চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

  • সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    চারদিকে যতদূর চোখ যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য টক বরই। বাগানের ভেতর ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন। এরপর এসব বরই চলে যাচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।

    টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি-ঘাটাইল সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এমনই বরইয়ের বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মোসলেম উদ্দিন।

    প্রায় এক যুগ ধরে দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ করছেন তিনি। তার বাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে।

    কৃষিকাজের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের সম্পর্ক প্রায় ৩০ বছরের। লেবু, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে আগাম টক বরই চাষে এসে তিনি পেয়েছেন আলাদা সাফল্য। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে গড়ে তুলেছেন এই বাগান।

    আগস্টের শুরু থেকেই তার বাগানের আগাম টক বরই বাজারজাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বাগানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ভরা মৌসুমে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ জনে। এতে বাগানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা বরই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় থাকে প্রায় ৬০ কেজি বড়ই। বর্তমানে আগাম টক বরই প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।

    মৌসুমের ভরা সময়ে বড়ইয়ের দাম কিছুটা কমে গেলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হয় বলে জানান মোসলেম উদ্দিন।

    তার বাগানের টক বরইয়ের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও। বিশেষ করে প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ টক বরই কিনে থাকে। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও এ ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে।

    নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি মোসলেম উদ্দিন এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম। তার বরইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে উপজেলার অনেক কৃষক বড়ই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নতুন করে বাগানও গড়ে তুলেছেন।

    মোসলেম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অবশ্যই এই পেশায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব।”

    ৩০ বছরের কৃষিজীবনে নানা ফসল চাষ করলেও আগাম টক বড়ই মোসলেম উদ্দিনকে এনে দিয়েছে নতুন পরিচিতি ও সাফল্য। তার প্রায় ৫০ একরের বাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের জায়গা নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, “দেশি জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা সবসময়ই চলমান রয়েছে।”

  • সোনালি আঁশে টিকে থাকার সংগ্রাম

    সোনালি আঁশে টিকে থাকার সংগ্রাম

    বাজারে পাটের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি কৃষকের লাভ। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ফলন কমে যাওয়ায় বাড়তি দামের সুফলও মিলছে না কৃষকের ঘরে। ফলে এক সময়ের ‘সোনালি আঁশ’ পাট এখন অনেক কৃষকের কাছে লাভের চেয়ে টিকে থাকার ফসল হয়ে উঠেছে।

    সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। গুণগতমান অনুযায়ী প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৪৩০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের মৌসুমের শুরুতে যেখানে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ৩৫০০ থেকে ৪২০০ টাকা, এবার সেখানে দাম কিছুটা বেশি। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং অতিবৃষ্টিতে ফলন কমে যাওয়ায় এ বাড়তি দামেও কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকেরা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সদর, কাজীপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, বেলকুচি, তাড়াশ, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, শুকানো ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পাটগাছ স্বাভাবিক উচ্চতা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণত পাটগাছের উচ্চতা ৭ থেকে ১২ ফুট হলেও এবার অনেক এলাকায় তা ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত কম হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি গড়ে ৪০ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত আঁশের উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

    রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দরে কিনছেন। তবে কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ দামও তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল শেখ বলেন, ‘এ বছর তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। দাম কিছুটা ভালো পেলেও মৌসুম জুড়ে এ দাম থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।’

    রেজাউল শেখ আরও বলেন, ‘পাট চাষ করে তেমন লাভ হচ্ছে না। এ কারণে ধীরে ধীরে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছি।’

    একই উপজেলার পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানা, এবার এক বিঘা জমিতে তার ৬ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করলে মোট দাম দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২০০ টাকা। অথচ নিজের শ্রমের মূল্য বাদ দিয়েও তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে তিন মাসে এক বিঘা জমি থেকে নিজের শ্রমের বিনিময়ে লাভ থাকছে মাত্র প্রায় ৭ হাজার টাকা। অতিবৃষ্টির কারণে এবার বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ মণ পর্যন্ত পাট কম উৎপাদন হয়েছে।’

    সোনালি আঁশ এখন কৃষকের দুঃখের আঁশ বলে কাজীপুর উপজেলার কৃষক মকবুল সেখ বলেন, ‘প্রতি মণ পাট উৎপাদনে তার প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। এবার বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও ফলন কমে যাওয়ায় লাভ তেমন হচ্ছে না।

    ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আগে পাটের আঁশকে বলা হতো সোনালি আঁশ। আর এখন পাটের আঁশ হয়েছে কৃষকের দুঃখের আঁশ।’

  • কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখ কৃষক: অর্থমন্ত্রী

    কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখ কৃষক: অর্থমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণকারী ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী এসব কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করে তাদের কাছে ব্যাংকের প্রাপ্য এক হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে।’অর্থমন্ত্রী জানান, এ ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব উপজেলার কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন।

    এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় করদাতার সংখ্যা সম্পর্কিত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলাটিতে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন।

  • কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    সবজি চাষে খ্যাত যশোরে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি কচুর লতির আবাদও ছড়িয়ে পড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে কম খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় এ ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

    উৎপাদিত লতি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাইকারদের মাধ্যমে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় তুলনামূলক ভালো দাম ও দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেক কৃষক লতি চাষকে লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

    চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা, পাশাপোল ও সিংহঝুলি; বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা, জহুরপুর ও রায়পুর; শার্শার ডিহি, কায়বা ও নাভারণ; ঝিকরগাছার বাঁকড়া ও মাগুরা; মনিরামপুরের নেহালপুর, হরিহরনগর ও মনোহরপুর; কেশবপুরের পাঁজিয়া ও সুফলাকাঁটি; যশোর সদরের চুরামনকাটি, কাশিপুর, ইচালি, দেয়াড়া, লেবুতলা ও সাতমাইল এবং অভয়নগরের সিদ্দিরপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে এখন কচুর লতির আবাদ দেখা যাচ্ছে।
    একসময় এসব জমির বড় অংশে ধান চাষ হলেও এখন কিছু জমিতে জায়গা করে নিয়েছে কচুর লতি। কৃষকদের মতে, নিয়মিত পরিচর্যা করলে দীর্ঘ সময় ধরে এ ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়।

    যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরে সবজি চাষ বরাবরই সমৃদ্ধ। চলতি মৌসুমে আগাম সবজি খরিপ-২-এর আওতায় জেলায় মোট ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ হয়েছে। মাটি উর্বর হওয়া এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে লতির ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

    যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুলের হাট বাজারে প্রতিদিন কচুর লতির বেচাকেনা হয়। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটের নির্ধারিত দিন হলেও অন্যান্য দিনও সেখানে লতির কেনাবেচা চলে।
    বাঘারপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকরা ভোরে ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে লতি নিয়ে আসেন। পুলের হাটের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন বাজারেও চলে এর বেচাকেনা।

    পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন পুলের হাট থেকে কয়েক হাজার মণ কচুর লতি বেচাকেনা হয়। ভোর থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচায় শ্রমিকরা লতি বস্তাবন্দী করে ট্রাকে তোলেন। চুরামনকাটি, সাতমাইল, আব্দুলপুর, চৌগাছা কাঁচাবাজার ও বাঁকড়ার হাট থেকেও দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা লতি সংগ্রহ করেন। পরে এসব লতি পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় পাইকারি বাজারে।
    লতি চাষে কৃষকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ লাভজনকতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কৃষক বিকল্প ফসল হিসেবে লতি চাষ বেছে নিচ্ছেন।
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে জমিতে নিয়মিত ধান চাষ করতাম। কিন্তু একবার টানা বর্ষায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। এরপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে কচুর লতি চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো লাভ পাই। এরপর থেকে ধান ছেড়ে পুরোদমে লতি চাষেই মন দিয়েছি। বাজারে অন্য যেকোনো সবজির চেয়ে লতির দাম বেশি ও স্থিতিশীল থাকে, তাই ঝুঁকি অনেক কম।’


    একই এলাকার কৃষক প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ধান চাষের তুলনায় লতি চাষে শারীরিক পরিশ্রম কিছুটা বেশি হলেও আর্থিকভাবে এটি লাভজনক।
    তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমিতে কচুর লতি চাষে সার, চারা ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার লতি বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও নিট লাভ থাকছে ৬০ হাজার টাকা। কম সময়ে এত অল্প খরচে অন্য কোনো ফসল থেকে এত টাকা আয় করা সম্ভব নয়।’

    কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, যশোরের মাটি ও আবহাওয়ায় উৎপাদিত কচুর লতির মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।
    পুলের হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা যশোরের লতির জন্য মুখিয়ে থাকেন। এখানকার লতি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ফলে ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলের বাজারে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি বিক্রি হয়ে যায়। পণ্যের চাহিদা ও গুণগত মান ভালো বলেই আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারি।’

    বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইয়েদা নাসরিন জাহান বলেন, ‘আগে এই অঞ্চলের বন্দবিলায় হাতেগোনা চার-পাঁচজন কৃষক লতি কচু চাষ করতেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা প্রমাণ হওয়ার পর এখন প্রায় শতভাগ উপযুক্ত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লতি কচুর চারা যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো ওষুধ প্রয়োগ এবং আধুনিক পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, যশোরে কচুর লতি চাষ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম ধরে রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ আবাদ আরও বাড়তে পারে।

  • যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রাম। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে গাছে ধরে আছে আপেল কিংবা পাকা গাব। তবে কাছে গেলেই ধারণা বদলে গেলো।
    দেখতে আপেলের মতো, রঙে কমলার আভা। খেতে মিষ্টি, পুষ্টিগুণে ভরপুর। এ যেন একসাথে আপেল-গাব আর খেজুরের স্বাদ। জাপানের এই জাতীয় ফল পার্সিমনের চাষ হচ্ছে উপজেলার হিজলী গ্রামে। আর এর নেপথ্যের কারিগর হিজলী গ্রামের কৃষক জুলফিকার সিদ্দীক। যিনি ইতিমধ্যে লাভবানও হয়েছেন ।

    আলাপচারিতায় জুলফিকার সিদ্দীক জানালেন, ২০২১ সালে নাটোর থেকে পার্সিমনের চারা কিনে ৫ কাঠা জমিতে লাগান ৩০টি গাছ। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। চলতি মৌসুমে এসব গাছে প্রচুর পার্সিমন ধরেছে । গাছের ডালে ডালে ঝুলছে ফল, দেখেই বোঝা যায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

    তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ‘এমন একদিন আসবে, যখন পার্সিমন কাঁচাতেই মিষ্টি পাবেন। এগুলো ফল দু-একটা করে ধরতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করে আমাদের দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।’

    জুলফিকার সিদ্দীক নিজেও চারা উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার মাধ্যমে আরও ১০০ জন কৃষক এই চাষে আসুক। সরকার যদি প্রশিক্ষণ ও চারা সহায়তা দেয়, তাহলে ৩ বছরের মধ্যে যশোরে পার্সিমনের বড় বাগান হবে।’

    জুলফিকারের বাগানে ফল ধরার খবর ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামে। প্রতিদিনই পার্সিমন দেখতে আসছেন অনেকে। আপেলের মতো দেখতে আকর্ষণীয় এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
    দর্শনার্থী মনিরুজ্জামান উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক ফল দেখেছি কিন্তু এই ফল অনেক মজা ও সুস্বাদু। গাছে কুলের মতো ফল ধরে যেটা দেখে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। জাপানের জাতীয় ফল এ দেশে খেতে পেরে আমরা গর্বিত।’

    অনেকেই বাগান থেকে ঘুরে গিয়ে চারা সংগ্রহের কথা ভাবছেন। কৃষকদের মধ্যে নতুন এই ফল নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।
    শুধু হিজলী নয়, যশোরের বিভিন্ন এলাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে পার্সিমনের চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। মানভেদে প্রতি কেজি পার্সিমন বিক্রি হচ্ছে আটশ থেকে ১ হাজার টাকায়।
    দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি এখনো দুর্লভ ফল। চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ কম। তাছাড়া ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ শহরের ক্রেতাদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘একজনই চাষ করেছেন। তিনি মোটামুটি সফল। আমাদের যে গবেষণা এবং লিংকেজ ওয়ার্কশপ, সেখানে আমরা এটা উপস্থাপন করেছি। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি আমাদের অ্যাপ্রুভ করা হয়, তাহলে আমরা এটি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হবো।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এটার নতুন করে বাজার সৃষ্টি করতে পারলে, কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারলে স্ট্রবেরি বা ড্রাগনের মতো বিপ্লব ঘটবে। যশোরের মাটি সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানে ফল চাষেও ভালো সম্ভাবনা আছে।’

    কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পার্সিমন চাষের জন্য আলাদা কোনো কঠিন প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। সাধারণ ফল বাগানের মতোই পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে জাত নির্বাচন ও সঠিক সময়ে ছাঁটাই খুব জরুরি।

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘পার্সিমন জাপানের জাতীয় ফল। এটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, আয়রণ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। নিয়মিত পার্সিমন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। চোখ ও ত্বকের জন্য ভালো। ফাইবার বেশি থাকায় হজমেও সাহায্য করে। জাপান, কোরিয়া ও চীনে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। আমাদের দেশের মানুষও ধীরে ধীরে এটি গ্রহণ করবে।’

    ড. তানভীর আরও জানান, পার্সিমনের দুই ধরনের জাত আছে। একটি পাকলে নরম হয়ে যায়, আরেকটি কচকচে অবস্থায়ও খাওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন যে জাতটি চাষ হচ্ছে সেটি পাকলে নরম ও রসালো হয়।’
    কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্সিমন গাছ খরা সহনশীল। বেশি পানি জমে থাকা পছন্দ করে না। যশোরের উঁচু ও পানি নিষ্কাশন ভালো এমন জমিতে এটি ভালো হবে। তাছাড়া গাছে রোগ-বালাই কম। কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম লাগে।

    কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফ্রুট, অ্যাভোকাডোর মতো পার্সিমনও হতে পারে যশোরের নতুন অর্থকরী ফসল। একবার গাছ লাগালে ২০-২৫ বছর ফল দেয়। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম।

  • মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। সারা বছরই এর চাহিদা থাকায় কৃষকের কাছে মরিচ একটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে হলে শুরুতেই ভালো চারা তৈরি করা জরুরি। রবি মৌসুমের মরিচ চাষের জন্য এখন থেকেই বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হবে। মানসম্মত বীজ, সঠিক বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনায় যত্নবান হলে সুস্থ ও সবল চারা তৈরি করা সম্ভব। এনিয়ে রানার কৃষির নিয়মিত আয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    চারা তৈরির প্রথম ধাপ হলো মানসম্মত বীজ নির্বাচন। কৃষককে ভালো জাতের বিশুদ্ধ, পরিপক্ব ও রোগমুক্ত বীজ সংগ্রহ করতে হবে। সম্ভব হলে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্বস্ত বীজ বিক্রেতার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা উচিত। পুরোনো, ভেজা বা বিবর্ণ বীজ ব্যবহার না করাই ভালো।
    নিজের উৎপাদিত বীজ ব্যবহার করলে আগের মৌসুমের সুস্থ ও সবল গাছ থেকে পাকা মরিচ সংগ্রহ করে বীজ তৈরি করতে হবে। বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ভালো কি না, সেটিও পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার।

    বীজ শোধন করুন
    বীজবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে বপনের আগে বীজ শোধন করা প্রয়োজন। মরিচের বীজ শোধনের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। ওষুধ ব্যবহারের আগে প্যাকেটের লেবেলে দেওয়া ফসল, রোগ এবং মাত্রা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।
    বালাইনাশকের মাত্রা নিজের মতো করে বাড়ানো যাবে না। প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। বীজ শোধনের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বীজ শুকিয়ে নিয়ে বীজতলায় বপন করতে হবে।

    উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা
    মরিচের চারা তৈরির জন্য এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না। বর্ষার পানি বা সেচের পানি জমে থাকলে কচি চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উঁচু ও সুনিষ্কাশিত জায়গায় বীজতলা তৈরি করা ভালো।
    বীজতলার মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পচা জৈবসার বা কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আগের ফসলের রোগাক্রান্ত গাছের অংশ বা আগাছা বীজতলায় রাখা যাবে না।
    বীজ খুব ঘন করে বপন করা উচিত নয়। সারিতে অল্প দূরত্ব রেখে বীজ বপন করলে চারা পরিচর্যা সহজ হয় এবং আলো-বাতাস ভালোভাবে চলাচল করতে পারে।

    সেচে সতর্কতা
    বীজ গজানোর সময় মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। বীজতলায় পানি জমে গেলে বীজ পচে যেতে পারে এবং চারার গোড়া পচা রোগ দেখা দিতে পারে।
    সেচের সময় প্রবলভাবে পানি না দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে। বৃষ্টির সময় বীজতলায় পানি জমছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে। পানি জমলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    প্রয়োজনে অতিবৃষ্টি থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া যেতে পারে। তবে চারা গজানোর পর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ
    মরিচের কচি চারায় গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত চারা প্রথমে দুর্বল হয়ে যায়। পরে মাটির কাছের অংশ পচে গিয়ে চারা ঢলে পড়ে এবং মারা যেতে পারে।
    বীজতলায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পানি জমে থাকা, ঘন করে বীজ বপন এবং অপরিষ্কার বীজতলা এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আক্রান্ত চারা দ্রুত তুলে বীজতলা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে।
    রোগের লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে রোগ শনাক্ত করা উচিত। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

    চারায় পোকামাকড়ের আক্রমণ
    মরিচের কচি চারায় জাবপোকা, থ্রিপসসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হতে পারে। এসব পোকা কচি পাতা ও গাছের রস শোষণ করে চারাকে দুর্বল করে দেয়। আক্রান্ত পাতায় কুঁকড়ে যাওয়া বা বিকৃতির লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
    তাই বীজতলা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা দরকার। আক্রান্ত পাতা বা চারা আলাদা করে নষ্ট করতে হবে। পোকার উপস্থিতি দেখলেই কীটনাশক প্রয়োগ করা ঠিক নয়। প্রথমে পোকার ধরন ও আক্রমণের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
    আক্রমণ বেশি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পোকার জন্য অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। একই ওষুধ বারবার ব্যবহার না করে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

    চারার পরিচর্যা
    চারা গজানোর পর বীজতলায় নিয়মিত নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ঘন চারা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পাতলা করে দিতে হবে। এতে প্রতিটি চারা পর্যাপ্ত আলো, বাতাস, পানি ও পুষ্টি পাবে।
    আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আগাছা চারার সঙ্গে পানি ও পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে। একই সঙ্গে আগাছায় বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা আশ্রয় নিতে পারে।
    অতিরিক্ত সার প্রয়োগও করা যাবে না। চারার প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিতে হবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া প্রয়োগে চারা নরম ও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং রোগ-পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    মূল জমিতে চারা রোপণ
    চারা পর্যাপ্ত সবল হলে মূল জমিতে রোপণের প্রস্তুতি নিতে হবে। চারা তোলার আগে হালকা সেচ দিলে মাটি নরম হয় এবং শিকড়ের ক্ষতি কম হয়। রোগাক্রান্ত, দুর্বল বা অতিরিক্ত ছোট চারা বাদ দিতে হবে।
    মূল জমি অবশ্যই সুনিষ্কাশিত হতে হবে। জমিতে পানি জমে থাকলে মরিচের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় জৈবসার ও অন্যান্য সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
    চারা রোপণের সময় জাতভেদে উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। চারা খুব গভীরে রোপণ করা যাবে না। রোপণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা সেচ দিতে হবে।

    কৃষকের প্রতি পরামর্শ
    মরিচের ফলন ভালো করার প্রস্তুতি শুরু হয় চারা তৈরির সময় থেকেই। তাই মানসম্মত বীজ নির্বাচন, বীজ শোধন, উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং নিয়মিত রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
    রোগ বা পোকা দেখা দেওয়ার পর অজ্ঞতাবশত ওষুধ প্রয়োগ না করে প্রথমে সমস্যাটি শনাক্ত করা জরুরি। কারণ একই লক্ষণ বিভিন্ন রোগ বা পোকার কারণে হতে পারে। ভুল বালাইনাশক ব্যবহার করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসল, মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

    সুস্থ চারা মানেই ভালো ফসলের প্রথম ধাপ। তাই চারা তৈরির শুরু থেকে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ শনাক্ত করতে সমস্যা হলে আক্রান্ত গাছ বা পাতার নমুনা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে নিরাপদ, মানসম্মত ও লাভজনক মরিচ উৎপাদনের পথ সহজ হবে।

  • পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই সিন্ধু নদে বাঁধ দিল ভারত

    পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই সিন্ধু নদে বাঁধ দিল ভারত

    পাকিস্তানের সঙ্গে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত থাকার মধ্যেই লাদাখে সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ তৈরি করেছে ভারত। লাদাখের বৃহত্তম শহর লেহর উপসাই এলাকায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাকৃতিক পাথরের বড় বড় চাঁই দিয়ে বাঁধটি তৈরি করা হয়েছে। এতে কোনো সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বাঁধ নির্মাণের পর ওই এলাকায় সিন্ধু নদের পানির স্তর প্রায় ১০ ফুট বেড়েছে।

    এই বাঁধের সরাসরি সুফল পেয়েছেন লাদাখের কৃষকেরা। পানির স্তর বাড়ায় আগে সেচ দেওয়া সম্ভব হতো না এমন অনেক জমিতেও এখন চাষাবাদ করা যাচ্ছে।

    লাদাখে কৃষিকাজে পানির সংকট দীর্ঘদিনের। অঞ্চলটিতে একের পর এক গিরিখাত থাকায় সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ ও স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় পাম্প দিয়েও নদী থেকে পানি তোলা সম্ভব হতো না।

    পানির এই সংকটের কারণে লাদাখের হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি বছরের পর বছর চাষের অনুপযোগী হয়ে ছিল। এর ওপর সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির কারণে নদীর পানি ব্যবহারে ভারতের সীমাবদ্ধতা ছিল।

    নতুন বাঁধের ফলে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি সঞ্চয় করা সম্ভব হয়েছে। ইগু ফে খালসহ অন্যান্য খালের মাধ্যমে সেই পানি শুকনো কৃষিজমিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত–পাকিস্তান বিরোধ

    লাদাখে বাঁধটি নির্মাণের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে।

    ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জম্মু–কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলা হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর–ই–তৈয়বার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) ওই হামলা চালায়। এতে ২৫ জন পর্যটক নিহত হন।

    এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের সঙ্গে সই করা ‘সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি’ স্থগিত করে। চুক্তিটি এখনো স্থগিত রয়েছে।

    এর পর থেকে গত এক বছর ধরে সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।

    এর মধ্যেই লাদাখের সিন্ধু নদের ভারতীয় অংশে এই বাঁধ নির্মাণ করা হলো। এটি ওই অংশে নির্মিত সিন্ধু নদের প্রথম বাঁধ।

  • প্রতি বছর বিষাক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের অর্ধেক কৃষক, ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ

    প্রতি বছর বিষাক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের অর্ধেক কৃষক, ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ

    মাঠে মাঠে সোনালী ফসল ফলাতে গিয়ে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন যে কৃষকরা, তারাই আজ বিষাক্ত কীটনাশকের সবচেয়ে বড় শিকার। মাঠে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক বিষের যে বেপরোয়া ব্যবহার চলছে, তাতে প্রাণটাই যেন ওষ্ঠাগত কৃষকের। বিশ্বজুড়ে খাদ্য সুরক্ষার যোগান দিতে গিয়ে তারা নিজের অজান্তেই প্রতিদিন গিলে খাচ্ছেন বিষাক্ত রাসায়নিক।

    ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই আঁতকে ওঠার মতো ভয়াবহ তথ্য। গবেষণাধর্মী সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বে আনুমানিক ৪০ কোটি ২০ লাখ থেকে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ কৃষক ও কৃষি শ্রমিক মারাত্মক কীটনাশক বিষক্রিয়ার শিকার হন। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৯৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। সেই হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৪৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক কৃষকই প্রতি বছর জমিতে স্প্রে করা বিষে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন!

    বুরকিনা ফাসো থেকে ভারত: বিষের নীল দংশন

    কীটনাশকের এই মারাত্মক ছোবলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। এরপরই রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকা। তবে দেশের ভিত্তিতে সবচেয়ে করুণ দশা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর। সেখানে তুলার মাঠে কিংবা ফসলের জমিতে কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৮৪ শতাংশ কৃষক ও কৃষি শ্রমিক কোনো না কোনোভাবে বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছেন।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় প্রায় ১১ হাজার মানুষের। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই ১১ হাজার মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ঘটছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে! আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও কীটনাশক বিরোধী সংস্থা ‘পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ইন্ডিয়া’-র নির্বাহী পরিচালক জয়কুমার চেল্লাটন বিষয়টিকে একটি চরম সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘কৃষকদের এই মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকটকে আর কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার বা চোখ বন্ধ করে রাখার সুযোগ নেই।’

    বাণিজ্যের জাঁতাকলে কৃষকের জীবন

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা রাসায়নিক ব্যবহার কমানোর নানা প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাস্তবে রাসায়নিক বিষের বাজার ও ব্যবহার কেবল বেড়েই চলেছে। বহুজাতিক রাসায়নিক সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী ইসরাইলি এগ্রোকেমিক্যাল কর্পোরেটগুলোর অতি মুনাফালোভী বাণিজ্যের কারণে ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বিশ্বে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কেবল ২০২৩ সালেই বিশ্বজুড়ে ফসলের মাঠে ঢালা হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন বিষাক্ত কীটনাশক!

    পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ইউকের আন্তর্জাতিক কর্মসূচি প্রধান ড. শীলা উইলিস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যেহেতু কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগের চিত্র এখন স্পষ্ট, তাই অবিলম্বে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবারের সুরক্ষায় ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পথ সহজ করে দেওয়া উচিত।’

    উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই গবেষণায় কৃষি খাতে কাজ করা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ শিশু শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে শরীরে দানা বাঁধা কঠিন ব্যাধিগুলোর হিসাবও এখানে আনা হয়নি। ফলে প্রকৃত ধ্বংসের মাত্রা যে কত গভীরে, তা সহজেই অনুমেয়। জাতিসংঘ অবিলম্বে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সুপারিশ করলেও মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের দাপটে তা থমকে আছে।

  • ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    কৃষকদের মধ্যে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যশোরে সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। সিনজেনটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ক্রিস আর্জেন্ট, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা, ব্রুনো আনানিয়াস, হেড অব সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড রেসপনসিবল বিজনেস, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে ১০ জন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ৪০ জন কৃষক, ১০ জন চ্যানেল পার্টনার ও সিনজেনটা বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
    সিনজেনটা বাংলাদেশের ‘প্রজেক্ট শিল্ড’ কৃষি স্টুয়ার্ডশিপ জোরদার, ফসল সুরক্ষা পণ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ। সেশনটিতে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার, আসল পণ্য শনাক্তকরণ এবং নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এ সময় কৃষকদের কাছে মানসম্মত ও আসল কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া এবং এসব পণ্যের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
    বক্তারা বলেন, নকল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ শুধু কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এর নেতিবাচক প্রভাব ফসলের উৎপাদন, পরিবেশ এবং পুরো কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষক, সরকারি সংস্থা, চ্যানেল পার্টনার ও কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    তারা বলেন, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলভাবে কৃষি উপকরণ ব্যবহার, কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে পারলে কৃষকের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতকেও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
    সেশনে অংশ নেওয়া কৃষক, ডিএই কর্মকর্তারা ও চ্যানেল পার্টনাররা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আলোচনায় নকল পণ্য প্রতিরোধ এবং নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

    সিনজেনটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকারি সংস্থা, কৃষক, চ্যানেল পার্টনার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশে আরও নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

  • সাত ফুট লম্বা কাঁদিতে হাজারের বেশি কলা

    সাত ফুট লম্বা কাঁদিতে হাজারের বেশি কলা

    একটি কলার কাঁদিতে সর্বোচ্চ কতটি কলা থাকতে পারে? সাধারণত ১০০ থেকে ২০০টি কলার কথা ভাবা হলেও মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দেখা মিলেছে বিরল এক প্রজাতির কলাগাছের। একটি গাছের কাঁদিতে ধরেছে হাজারের বেশি কলা। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এ কাঁদি দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা।

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের অফিসবাজার এলাকার শিক্ষক ও শৌখিন চাষি রেজাউল করিম খন্দকারের বাগানে দেখা মিলেছে এ ব্যতিক্রমী কলাগাছের।

    কৃষিবিদদের মতে, বাংলাদেশে বিরল এ জাতটি ‘হাজারি কলা’ নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘থাউজেন্ড ফিঙ্গার ব্যানানা’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া অঞ্চলে এ জাতের কলাগাছ দেখা যায়। এর কাঁদি সাধারণত ৭-১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

    চাষি রেজাউল করিম খন্দকার জানান, কমলগঞ্জের মুনিম সিদ্দীকির কাছ থেকে সংগ্রহ করা এ জাতের একটি চারা থেকে বর্তমানে তার বাগানে আটটি চারা তৈরি হয়েছে। প্রায় একমাস আগে একটি গাছে মোচা আসে। এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে কাঁদিটি। বর্তমানে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট। সময়ের সঙ্গে এটি আরও লম্বা হয়ে প্রায় ১২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

    কাঁদিতে প্রচুর কলা ধরায় গাছটি যাতে ভারে ভেঙে না পড়ে, সে জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। কাঁদির ওপরের অংশের কিছু কলা খাওয়ার উপযোগী হলেও নিচের দিকে থাকা কলাগুলো আকারে খুব ছোট এবং খাওয়ার অনুপযোগী। দেখতে অনেকটা চম্পা কলার মতো।

    রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, ‘মাসখানেক আগে গাছটিতে কলার ছড়ি বের হয়। এরপর ছড়িটি দিন দিন বড় হতে থাকে। বর্তমানে এটি প্রায় ৭ ফুট লম্বা হয়েছে এবং মাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে হাজারের বেশি কলা ধরেছে। ওপরের অংশের কিছু কলা খাওয়ার উপযোগী হলেও নিচের কলাগুলো খুবই ছোট।’

    তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কলার কাঁদি সচরাচর দেখা যায় না। এ কলা দুইভাবে ব্যবহার করা যায়—খাওয়ার জন্য এবং অর্নামেন্টাল প্লান্ট বা সৌন্দর্যবর্ধক গাছ হিসেবে।’

    শুধু হাজারি কলাই নয়, রেজাউল করিমের শৌখিন বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা দুর্লভ ফলের সমাহার। বাগানে রয়েছে প্রায় ৫০ জাতের বিদেশি আম, ২০ জাতের আঙুর, ১০ জাতের কমলা ও মালটা, সাত জাতের ড্রাগন ফল, আফ্রিকান পিচ, তুর্কি মালবেরি, লংগান ও মিরাকেল বেরিসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলজ ও বনজ গাছ।বাগানে আসা দর্শনার্থীরা জানান, কাঁদিটি দিন দিন মাটির দিকে নেমে আসতে দেখে তারা বিস্মিত।

    দর্শনার্থী খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা দেখে অবাক হয়েছি। কলাগাছে ৭-৮ ফুট লম্বা কলার ছড়ি ধরেছে। ছড়ির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত হাজার হাজার কলা ধরেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লেগেছে।’

    আরেক দর্শনার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লম্বা কলার ছড়ির কথা শুনে গাছটি দেখতে বাগানে এসেছিলাম। এত বড় কলার ছড়ি জীবনে দেখিনি।’

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি বাংলাদেশে অত্যন্ত বিরল এক প্রজাতির কলা। সঠিক পরিচর্যা করলে এর কাঁদি আরও বড় হতে পারে। এটি যেমন খাওয়ার উপযোগী, তেমনি বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতেও দারুণ কার্যকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে এ প্রজাতির কলাকে থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা বলা হয়। সঠিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা করলে এ কলার ছড়ি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।’

  • মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে সফল মাঈন উদ্দিন

    মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে সফল মাঈন উদ্দিন

    এক সময় ছিলেন সেলুন ব্যবসায় জড়িত। তবে ছোটবেলা থেকেই বাবাকে কৃষিকাজ করতে দেখে কৃষির প্রতি তার আলাদা ভালো লাগা। প্রায় তিন বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব আসে তার কাঁধে। আগের পেশা বদলে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এরপর থেকে বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করে সংসারের হাল ধরেছেন।

    স্বল্প পরিসরে কখনো লাউ, করলা, শিম, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে প্রথমবারেরই সফল তিনি।

    বলছি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের কৃষক মাঈন উদ্দিনের কথা। এমন সাফল্যে তার মধ্যে নতুন করে কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাকে দেখে গ্রামের আরো অনেকে বেগুন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমার বাবা কৃষি কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে যাওয়া-আসা করতাম। তখন থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয়। শুরুতে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে ‘পার্পল কিং’ জাতের বেগুন চাষ করি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘মালচিং দেওয়ার পর জমিতে আগাছা কম হয়েছে, মাটিতে আর্দ্রতাও ভালো থাকছে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০-৪৫ কেজি বেগুন তুলতে পারছি। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে কোনো কোনো দিন ১০০ টাকা কেজি দরেও বেগুন বিক্রি করা যাচ্ছে।’সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে যে পরিমাণ বেগুন আছে আরো দুই মাস নিয়মিত বিক্রি করতে পারবেন।

    স্থানীয় কৃষক খোকন মিয়া জানান, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বেগুন চাষে সাফল্য পাওয়া সহজ হয়েছে। বেগুনের বাজার ভালো তাই লাভবান হওয়ার সুযোগ অনেক।’

    বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ বলেন, ‘মাঈন উদ্দিন প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তার জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব, আশাকরি সম্পূর্ণ মৌসুম শেষে তিন লক্ষাধিক টাকা আয় করবেন।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঈন উদ্দিন মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। নিজের সাফল্যে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।’

    সেলুন ব্যবসায় ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া মাঈন উদ্দিনের এ সাফল্য এখন এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে নিয়মিত প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে।

  • বিদেশি ফল চাষে জীবননগরের তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্য

    বিদেশি ফল চাষে জীবননগরের তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্য

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে পাল্টে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। এক সময় শুধু ইরি-বোরো ও আমন চাষের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু শাক-সবজি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষিকাজ। কিন্তু এখনআধুনিক পদ্ধতিতে নানা জাতের বিদেশি ফলের আবাদ করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।

    ধানের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এখানকার কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। কৃষকদের কাছে বিদেশি ফল উৎপাদন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

    উপজেলার কৃষকরা এখন চাষ করছেন অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান, মাল্টা, ড্রাগন, আনারকলি ও আঙুরের মতো ভিনদেশি ফল। ১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই আবাদ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ প্রায় অসম্ভব। কারণ আঙুর মানেই ছিল বিদেশি ফল, যা আমাদের দেশে শুধু আমদানি করেই পাওয়া যায়। কিন্তু সময় বদলেছে। উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে এখন জীবননগর উপজেলায় সফলভাবে আঙুরসহ বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে।স্থানীয় কৃষকদের মতে, উর্বর পলিমাটিতে এই ফলগুলোর চাষে খরচ কম, আবার ফলনও ভালো। ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারেও মিলছে ভালো দাম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের ফলের দোকানগুলোতে সরবরাহ হচ্ছে জীবননগরের উৎপাদিত ফল।

    জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনন্তপুর গ্রামের আকশেদ আলী। গাছে গাছে ঝুলছে ফুল আর কাঁচা-পাকা সবুজ ফল। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকরা।

    আকশেদ আলী জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ড্রাগন ও মাল্টার চাষ করেছেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউবে ভিডিও দেখে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের আদি ফল আনারকলির চারা সিরাজগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করেন। জমি প্রস্তুত করে চারাগুলো রোপণ করেন। এরপর জমিতে সেচ, সার, কীটনাশকসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় থোকায় থোকায় ফুল আসতে শুরু করে। ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে এবং পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়।

    বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাঁকা আনারকলি ফল। আগস্টের শুরু থেকে পাঁকা ফল তোলা শুরু হয়েছে। এসব ফল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।

    জীবননগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে মাত্র ৯ বিঘা পেয়ারা বাগান থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে বর্তমানে মরোক্কো, পাকিস্তান, আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম জাতের মাল্টা ৪০ বিঘা, বিভিন্ন প্রজাতির আম ৩৫ বিঘা, এছাড়া ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ ২০০ রকমের দেশি-বিদেশি ফল রয়েছে।

    সজল আহমেদ বলেন, পেয়ারা চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে মাল্টা চাষে মনোনিবেশ করেন। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে তার বাগানের পরিধি ও ফলন বাড়তে থাকে।

    বর্তমানে সাধারণ সবুজ মাল্টার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘ইয়েলো কিংসহ (হলুদ জাতের মাল্টা) প্রায় ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাল্টা চাষ করে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ‘বিসমিল্লাহ নার্সারি ও ফলের বাগান’ নামের একটি কৃষি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সজলের এই বাগান দেখতে এবং চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা ভিড় করেন।

    উপজেলার উথলী গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিলু ২০১০ সাল থেকে ড্রাগন ও মাল্টা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ও ৬ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রাকৃতিকভাবে ফল চাষ করছি। এসব বাগানে ফল বড় করতে কোনো মেসিডিন ব্যবহার করি না। এতে ফলের আকার ছোট হচ্ছে, দামও কম পাচ্ছি।

    একই গ্রামের রাজু আহমেদ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফল চাষ করছেন। ২০১০ সালে আপেল কুল চাষের মাধ্যমে তার ফল চাষে হাতেখড়ি। তারপর তিনি থাই পেয়ারা চাষ করেন। এরপর মাল্টা ও ড্রাগন চাষ শুরু করেন।

    তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    উপজেলার হাসাদাহ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা দুই ভাই আশরাফুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম। তারা সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫০টি পার্পেল ও বাইকুনুর জাতের আঙুর গাছ লাগিয়েছেন। বাগান থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভের মুখ দেখছেন তারা।

    জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জীবননগরে ড্রাগন ৬৮৮ হেক্টর, মাল্টা ৩১২ হেক্টর, কমলা ১২০ হেক্টর, শরিফা ১ হেক্টর, আঙুর ৯ হেক্টর, রকমেলন ৬ হেক্টর, আনারকলী ২ হেক্টর, অ্যাভোকাডো ৪ হেক্টর, রাম্বুটান শূন্য দশমিক ১৩ হেক্টর, পেয়ারা ৭৪৮ হেক্টর, আনার শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর ও বারোমাসি কাঁঠাল শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর চাষ হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জীবননগরের এসব ফল বাগানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে শুরু করে যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর এমনকি ঢাকা থেকেও মানুষ ভিড় করছেন বাগান দেখতে।

    বাগানে ঘুরতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থী হাসান নিলয় বলেন, এমন ফল আগে শুধু টিভি আর ইউটিউবে দেখেছি। এখন গ্রামে কাছ থেকে দেখতে পারছি।

    আরেক দর্শনার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, এসব বিদেশি ফল খেতেও সুস্বাদু আর দেখতে সুন্দর। আমরাও এমন বাগান করার কথা ভাবছি।

    জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদেশি এই ফলের চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছি। এতে কৃষকদের নতুন আয়ের পথ খুলবে। জীবননগর উপজেলায় ধান, পাট আর ভুট্টা চাষের পাশাপাশি বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। এতে বাড়বে লাভ আর বদলাবে গ্রামীণ অর্থনীতি।

    তিনি বলেন, জীবননগরের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিদেশি ফলের চাষ সফল হচ্ছে। কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এই চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এর ফলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, কৃষি হবে টেকসই।

  • যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে : পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা

    যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে : পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা

    পেন্টাগনে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা সাবেক কর্মকর্তা ওয়েস জি ব্রায়ান্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

    বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা ব্রায়ান্ট আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র সমালোচনা করেন।

    তিনি বলেন, এই হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচলিত ‘নৈতিক ও আইনগত মানদণ্ডের’ প্রতিফলন।

    যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রায়ান্ট বলেন, ‘হ্যাঁ।’

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।

    তবে ব্রায়ান্ট এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ‘বেপরোয়া ও অবহেলাভাবে বেসামরিক মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং হত্যা করছে’।

    পেন্টাগনের সাবেক এই কর্মকর্তা তার কর্ম-অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান কমান্ড চেইনের বিভিন্ন স্তরে নথিভুক্ত করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, হরমুজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সাথে মিনাবের ‘শাজারে তাইয়্যেবা স্কুলে’ মার্কিন হামলার তুলনা করা যায়। হরমুজগানে ওই হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

  • দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী

    দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী

    খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে নির্ধারিত নিরাপত্তা মজুদের তুলনায় বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো: মশিউর রহমান খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    খাদ্যমন্ত্রী জানান, ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে মোট ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল।

    তিনি বলেন, গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় স্বাভাবিক সময়ে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুদ ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং সঙ্কট সময়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং দেশে খাদ্য (চাল ও গম/আটা) ঘাটতির কোনো সুযোগ নেই।

    জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘ফুড আউটলুক’-এর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ছিল চার কোটি ২৩ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ ছিল চার কোটি ৩৬ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন।

    তিনি জানান, মোট চাল সরবরাহের মধ্যে চার কোটি ২৪ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে এবং ১২ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন এসেছে আমদানির মাধ্যমে।

    খাদ্যমন্ত্রী বলেন, একই অর্থবছরে দেশে গমের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৮২ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ ছিল ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন।

    তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এফএও’র ‘ফুড আউটলুক’ অনুযায়ী দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ চার কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন এবং গমের চাহিদা ৮৩ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে।

    খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি উভয় খাতই চাল ও গম আমদানি করে থাকে।

  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ