আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ যৌথভাবে বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের এই তালিকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে জায়গা করে নিয়েছেন ১৬ জন গবেষক। গত বছর এই তালিকায় বাকৃবির ১২ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছিলেন

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

    গতবছরের ন্যায় এবারও বাকৃবি দেশের শীর্ষ তিনে রয়েছে। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

    তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হলেন- ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শাহজাহান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আব্দুল হান্নান, একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো ফজলে রোহানী, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আক্তারুজ্জামান খান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. টুম্পা রানী সরকার, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

    প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঢাবির ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাকৃবি। বাকৃবির ১৬ জন গবেষক এ বছরের তালিকায় রয়েছেন।

  • ৭ অক্টোবরের উদযাপন করল ইসরাইল

    ৭ অক্টোবরের উদযাপন করল ইসরাইল

    ইসরাইল আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উদযাপন করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলা দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। দিবসটির তিন সপ্তাহ পরই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এবারই প্রথম হামলার বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। হামলায় নিহতদের স্মরণে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

    ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সীমান্ত ভেঙে দক্ষিণ ইসরাইলে ঢুকে গুলি, রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়। সরকারি ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাসংস্থা এএফপির হিসাবে, এতে এক হাজার ২২১ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে পণবন্দী করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের ৪৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

    তিন বছর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে হামলা শুরু হয়েছিল। ঠিক ওই সময় গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজ কাফার আজায় স্মরণ অনুষ্ঠান হবে। হামলায় সেখানে ৬৪ জন বাসিন্দা নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হন।

    দক্ষিণ ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ পণবন্দী হন। নিহতদের স্বজনেরা বুধবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের একটি পার্কে সমবেত হবেন।

    কড়া নিরাপত্তা
    সাধারণ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে এবং তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ার এক সপ্তাহ পর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে গাজায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার জন্য হামাসের সম্ভাব্য পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

    সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত এবং পণবন্দী করার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

    হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বেশিভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    গত তিন বছরে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত থেকে ইরান পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করেছে দেশটি।

    গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এখনো তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় বসবাস করছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন নিয়েও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

    ইসরাইলের দাবি, তারা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। হামাসের হুমকি নির্মূল এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছে তারা।

    ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক হাজার ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

  • বাংলাদেশের পারমাণু বিদ্যুৎ, আশা ও উদ্বেগ

    বাংলাদেশের পারমাণু বিদ্যুৎ, আশা ও উদ্বেগ

    দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকে ন্দ্রটি উৎপাদনে আনার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয়ে নির্মিত ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট ক্ষমতার এই রূপপুর প্রকল্প দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে বড় স্বস্তি এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যদিও কেন্দ্রটির ঠিক পাশেই বসবাসরত মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত বিশালাকার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি চুল্লি পুরোদমে চালু হলে তা হলে দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকটে পড়া বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানান, ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু করার সূচি রয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি এর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে।

    বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বাকি চাহিদা পূরণ হয় কয়লা, তেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে।

    রুপপুর যেন আরেক রাশিয়া: রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় রূপপুরে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে একখণ্ড ‘রুশ বসতি’। বছরের পর বছর হাজার হাজার রুশ প্রকৌশলী ও কর্মী সেখানে অবস্থান করায় গ্রামীণ জনপদ রূপপুরের চিত্র পুরো পাল্টে গেছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি দোকানপাটের সাইনবোর্ডে জায়গা করে নিয়েছে রুশ ভাষা, এমনকি রেস্তোরাঁগুলোতে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি পরিবেশন করা হচ্ছে রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বোরশ স্যুপ। স্থানীয় তরুণরা সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং রুশ কর্মীদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ও করছেন।

    প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী পারমাণবিক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কঠোরতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের শঙ্কা: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্পর্শকাতর প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মাঝে ভয় এখনো কাটেনি। কেন্দ্রটির থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্বের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মিলকর্মী মো. ইউনুস আলী জানান, কিছুদিন আগে বিকট শব্দে যখন একটি কম্প্রেসার পরীক্ষা চালানো হয়, তখন ঘুমন্ত শিশুরা পর্যন্ত ভয়ে জেগে ওঠে। তিনি বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের জন্য আর ভয় না থাকলেও সন্তান ও নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

    স্বপ্ন থেকে বাস্তবের পথে: রুপপুরে পারমানবিক কেন্দ্রের স্বপ্ন অনেক পুরোনো, এমনকি তা দেশের স্বাধীনতারও পূর্বের। রূপপুরে পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৬০-এর দশকে। স্বাধীনতার পর ফ্রান্স, সৌদি আরব, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে ২০১৫ সালে মস্কোর সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করে বাংলাদেশ, যার মূল ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া।

    ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্পটি বেশ কয়েক দফায় বিলম্বের মুখে পড়ে। এর মধ্যে করোনা মহামারির ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্মাণ সরঞ্জাম সরবরাহ ও অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া দারুণভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে, যদিও তারা সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

    তবে নানামুখী শঙ্কা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সেচ দিতে হিমশিম খাওয়া ৫৫ বছর বয়সী কৃষক বেলী বেগম জানান, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র যেন দ্রুত চালু হয় এবং মানুষ এর সুফল পায়। বাড়ির পাশেই কেন্দ্রটি হওয়ায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত কোনো বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবেন তারা।

  • যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি সামরিক বিমান হারিয়েছে

    যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি সামরিক বিমান হারিয়েছে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১টি সামরিক যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এতে দেশটির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩০ কোটি (৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ডলার। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে। এ খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন এনডিটিভি।

    ‘ইউএস এয়ারক্রাফট কমব্যাট ড্যামেজ ইন অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশনস ফর কংগ্রেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওয়াশিংটনের ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সামরিক যানের তালিকায় দেশটির অত্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও রয়েছে।

    প্রতিটি এফ-১৫ বিমানের বাজারমূল্য ৩ কোটি ডলারেরও বেশি, অন্যদিকে ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের প্রতিটির আনুমানিক দাম ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এছাড়া ধ্বংস হওয়া একেকটি এফ-৩৫এ স্টিলথ বিমানের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

    প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী ১২টি এফ-১৫ই বিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হারিয়েছে। এর মধ্যে গত ২রা মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজস্ব বাহিনীর ভুল নিশানায় (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত হয় এবং পরবর্তী মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়।

    এছাড়া গত ৯ ও ১০ই সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়


    এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নজরদারি বিমান (যার প্রতিটির মূল্য ২৭ কোটি ডলার), দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশন বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ বহুমুখী ড্রোন এবং ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। সামরিক হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক মেরিটাইম হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

    প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান চলমান থাকা এবং বেশ কিছু সামরিক তথ্য এখনো অত্যন্ত গোপনীয় থাকায় ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান পরবর্তীতে পরিবর্তন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু যান মেরামতের পর পুনরায় বহরে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এছাড়া কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ইরানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যয় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

  • ট্রাম্পকে ছাড়ছেন রিপাবলিকানরা

    ট্রাম্পকে ছাড়ছেন রিপাবলিকানরা

    আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন পন্থা বেছে নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৬২টি কংগ্রেসনাল আসনের মধ্যে ৪১টিতে থাকা রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত একটি বিষয়ে প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছেন কিংবা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আড়াল করছেন। রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।


    তবে ট্রাম্পের সামগ্রিক এজেন্ডার বিরোধিতা করছেন না তারা। বরং ইরান যুদ্ধ, গরুর মাংস আমদানি ও ডাটা সেন্টারের মতো নির্দিষ্ট ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি করছেন। লক্ষ্য, ট্রাম্পবিরোধী স্বতন্ত্র ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানা, আবার ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদেরও না হারানো।

    ইরান যুদ্ধেই বড় ফাটল
    ৬২টি নির্বাচনী লড়াইয়ের ২৩টিতে নীতিগত মতপার্থক্য দেখা গেছে। এর মধ্যে ১২টি আসনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। কেউ তার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, কেউ যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
    জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় ইরান যুদ্ধ এখন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।


    রয়টার্স ১২ জন রিপাবলিকান প্রার্থীকে শনাক্ত করেছে, যারা নিজেদের প্রচার ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের নাম, ছবি বা সমর্থনের উল্লেখ সরিয়ে দিয়েছেন। কেউ তার সমাবেশ এড়িয়ে চলছেন, কেউ আবার ট্রাম্প তাদের হয়ে প্রচারে আসবেন কিনা -সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা অবশ্য বিরল। কারণ, রিপাবলিকান পার্টিতে এখনও তার প্রভাব ব্যাপক।

    রয়টার্স/ইপসোসের নতুন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে, যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সর্বনিম্ন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যবধান আরও বড়, ডেমোক্র্যাট ৩৭ শতাংশ, রিপাবলিকান ২১ শতাংশ।


    রিপাবলিকান কৌশলবিদ রন বনজাঁ বলেন, ভোটাররা যদি ট্রাম্পের সঙ্গে না থাকেন, তাহলে প্রার্থীদেরও কিছুটা দূরত্ব দেখাতে হবে। রিপাবলিকান পরামর্শক জিনেট হফম্যানের ভাষায়, এটা ভারসাম্য রক্ষার খেলা।


    ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্যকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তার কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন প্রার্থীরা, কারণ এই মুহূর্তে “ট্রাম্প ব্র্যান্ডটি অত্যন্ত বিষাক্ত”।

    তবে দূরত্ব যতই বাড়ুক, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার সাহস দেখাচ্ছেন না অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রার্থী। কারণ, দলের ওপর তার প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।

  • যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক বিশপের কারাদণ্ড

    যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক বিশপের কারাদণ্ড

    অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশপ ক্রিস্টোফার সন্ডার্সকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ক্যাথলিক চার্চের দায়িত্বে থাকাকালীন দুই আদিবাসী তরুণকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের দায়ে এ দণ্ড দেয়া হয় তাকে। ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বিশ্বের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। বুধবার ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    গত আগস্টে আদালতের শুনানিতে সন্ডার্স একটি ধর্ষণ এবং ১২টি যৌন হয়রানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গির্জার তহবিল ও নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহার করে তিনি তরুণদের নিয়মিত মদ্যপান করাতেন এবং বিভিন্ন আয়োজনে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক যৌনাচার চালাতেন।
    ক্ষতিগ্রস্ত এক তরুণ আদালতে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘তিনি আমাকে একটি খেলনার মতো ব্যবহার করেছিলেন। আজও সেই দুঃসহ যন্ত্রণায় আমার মাথা ফেটে যায়।’ ১৯৭৬ সালে যাজক হিসেবে দায়িত্ব শুরু করা সন্ডার্স ১৯৯৬ সালে ব্রুম অঞ্চলের বিশপ নিযুক্ত হন।

    ২০২০ সালে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর সন্ডার্স বিশপের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সে সময় পুলিশ প্রমাণাভাবে মামলাটি বন্ধ করে দিলেও পরবর্তী সময়ে স্বয়ং পোপের নির্দেশে ভ্যাটিকানের ‘ভোস এস্তিস লাক্স মুন্ডি’ (তোমরাই বিশ্বের আলো) বিধির অধীনে বিশেষ তদন্ত শুরু হলে পুলিশ নতুন করে অনুসন্ধান চালায়। রায় ঘোষণার পর পার্থের আর্চবিশপ টিমোথি কস্টেলো ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

    তিনি জানান, চার্চ সন্ডার্সের অবশিষ্ট ধর্মীয় খেতাব ও ক্ষমতা পুরোপুরি বাতিল করার বিষয়ে ভ্যাটিকানের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। প্রয়াত কার্ডিনাল জর্জ পেলের পর সন্ডার্সই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্যাথলিক নেতা, যিনি এমন কলঙ্কজনক যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হলেন।

  • গুজরাটে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    গুজরাটে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরেন্দ্রনগর জেলায় পুলিশের তদন্তে ভয়াবহ এক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ধর্মীয়ভাবে পবিত্র করার অজুহাতে এক নারীর ওপর সংঘটিত চরম নির্যাতন, অবৈধ বন্দিদশা ও গণধর্ষণের ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে। এ ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

    অনলাইনে একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক নারীকে আটকে রেখে হয়রানি ও মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। আর তাঁর চারপাশে ভিড় করা জনতা তাঁকে নিয়ে উপহাস করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামীকে ছেড়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন। জবাবে তাঁর স্বামী এবং কয়েকজন আত্মীয় তাঁকে ঘরের ভেতরে তালা মেরে ও শিকল দিয়ে বেঁধে অবৈধভাবে আটকে রাখে। ওই নারী ঘর থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা তাঁর পিছু ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলেন এবং দড়ি দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

    অভিযোগ, ওই নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ‘পবিত্রকরণ আচার’–এর অজুহাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালান। এর মধ্যে ওই নারী এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাসের কারণে তাঁর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে অন্যদের সতর্কবার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    সুরেন্দ্রনগর জেলার পুলিশ সুপার প্রেমসুখ দেলু নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাটি তদন্তের পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ, ভুক্তভোগী নারী শুরুতে থানায় আসেননি।

    প্রেমসুখ দেলু বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত তল্লাশি অভিযানে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে খুঁজে বের করেছে। তাঁর আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের কয়েকটি ধারায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে।

    ভয়াবহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, অপরাধে সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে।

  • শান্তিতে নোবেল:আলোচনায় যেসব নাম

    শান্তিতে নোবেল:আলোচনায় যেসব নাম

    বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সংকটের মধ্যে শুক্রবার ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলোর অনেকটাই মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।

    শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালত, সাংবাদিক অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং এমনকি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নামও।

    রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কিছু বিশ্লেষক।

    অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

    ট্রাম্পের নামও আলোচনায়

    এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তবে নোবেল কমিটি এসব মনোনয়ন নিশ্চিত করে না।

    রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করেছেন। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ক এ বছরের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো পরে তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এবার কমিটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না, যা পুরস্কারকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে যাবে- এ নিয়েও আলোচনা চলছে।

    আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ রয়েছে।

    ইউক্রেনের মাইকোলা কুলেবা

    ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করেছে।

    পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও রাখা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।

    পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে।

    এবারের আলোচনায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নামগুলোর একটি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস)। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের যৌথভাবে পরিচালিত এই মহাকাশ স্টেশনকে পৃথিবীর বাইরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    পিআরআইও-এর পরিচালক গ্যেরলভের ২০২৬ সালের তালিকাতেও আইএসএস রয়েছে। তার যুক্তি, পৃথিবীতে ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়লেও মহাকাশে এই প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার নজির তৈরি করেছে।

    কেন এবার পুরস্কারটি গুরুত্বপূর্ণ?

    এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সময় বিশ্বজুড়ে একাধিক বড় সংঘাত চলছে। ইউক্রেন, সুদান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে।

    নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্তিয়ান বের্গ হারপভিকেন সম্প্রতি রয়টার্সকে বলেছেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে কমিটি গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে এমন কিছু প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যা নোবেল শান্তি পুরস্কার যে মূল্যবোধকে ধারণ করে, সেগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান সময়ে যারা নতুন ধরনের সহযোগিতা ও শান্তির কাঠামো গড়ে তুলছেন, তাদের কাজও কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম বা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।

    শেষ মুহূর্তে কে, নাকি বড় চমক?

    নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুমান করা কঠিন। অতীতেও এমন অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে, যাদের নাম ঘোষণার আগে আলোচনায় খুব বেশি ছিল না। এবারও তাই ট্রাম্প, পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত, ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস, মাইকোলা কুলেবা ও সেভ দ্যা চিলড্রেন, সিপিজে কিংবা আইএসএস- এসব নামের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    নোবেল কমিটি নিজেই বলছে, প্রকাশ্যে আসা সম্ভাব্য নামগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২৮৭টি মনোনয়নের মধ্যে কমিটি কোন নামকে শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছে, তা জানা যাবে শুধু শুক্রবারের ঘোষণায়।

  • ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার লড়াই

    ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার লড়াই

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হওয়ার জেরে শুরু হওয়া ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ফলে বিধ্বস্ত হয়েছে গাজা। সেখানকার ২০ লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এদিকে ইসরাইলিরা দিনটিতে শোক পালন করছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন সড়ক ও আশ্রয়কেন্দ্রে শোক পালন করেছেন ইসরাইলিরা। এ ছাড়া তিন বছর আগে হামাস যেখানে হামলা চালিয়েছিল, সেই সংগীত উৎসবের স্থানে শোক পালন করেছেন তারা।

    অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য বার্ষিকীটি নিয়ে এসেছে চরম দুর্দশা ও কষ্টের আরেকটি দিন। গাজায় ইসরাইলের পাল্টা অভিযানে সেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উপত্যকাটির ২০ লাখ মানুষের অধিকাংশই এখন অস্বাস্থ্যকর তাঁবুর নিচে বাস করছেন এবং উপত্যকার শহরগুলোর বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অঞ্চলটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে এবং প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

    এই অঞ্চলের জন্য দিনটি গত তিন বছরে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে। হামাসের সমর্থনে ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামলা শুরু করেছিল হিজবুল্লাহ।

    এ ছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এমন এক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাতের পেছনে ইসরাইলের ভূমিকা ছিল এবং গাজা যুদ্ধ সম্ভবত এর পথ প্রশস্ত করেছিল।

    ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এই সরু ভূখণ্ডটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন; যাদের অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার শিকার। পণ্য ও ত্রাণ প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় তাদের পরিসংখ্যানে বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করলেও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিলেন নারী ও শিশু। হামাস-পরিচালিত সরকারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলেই মনে করেন।

    ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে তীব্র লড়াই থেমে গেলেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল দাবি করছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় ১ হাজার ১৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাতজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

    হামাস ৭ অক্টোবরের হামলাকে ইসরাইলের কয়েক দশকের সামরিক দখলদারত্ব, ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন এখন আরও সুদূরপরাহত বলে মনে হচ্ছে।

    চলতি মাসের শেষের দিকে ইসরাইলে অনুষ্ঠেয় একটি বিতর্কিত নির্বাচন এবারের বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ প্রভাব ফেলছে। গত ৫ অক্টোবর দিবসটি উপলক্ষে ইসরাইলি সরকারের আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা হয়। এই পৃথক স্মরণসভাগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি এবং সেই দিনের ব্যর্থতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে তার অনীহা নিয়ে বিদ্যমান গভীর বিভাজনকেই নির্দেশ করে।

    এই হামলার ফলে ধারাবাহিক ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে। সিরিয়া ও লেবাননের বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরাইল, যার ফলে ৩ লাখেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিয়ে দুই দফায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর হামলা চালায়। এতে ইরান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহু দূরে অবস্থিত বিশ্ববাজারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

    ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। সেখানে ইসরাইলের কট্টর-ডানপন্থি সরকার বসতি স্থাপনকারীদের আরও বেপরোয়া ও সাহসী করে তুলেছে, যারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের সম্পত্তি ধ্বংস করছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

  • রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মামলা

    রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মামলা

    ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। মামলায় অন্য সংসদ সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ চলাকালে অনুমতি ছাড়া আকাশবাণী ভবন চত্বরে প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

    ঘটনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের দিকে বিরোধী দলগুলোর মিছিল পুলিশ আটকে দেওয়ার পর ওই নেতারা অনুমতি ছাড়াই কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন।

    এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।’

    নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলীয় অন্তত ৩০০ এমপি সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে মিছিল করার এক দিন পরেই এই ঘটনা ঘটল। পুলিশ নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের বাইরে মিছিলটি আটকে দেয় এবং ২৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

    এই অচলাবস্থার পর রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ প্রায় ২০ জন বিরোধী নেতা নির্বাচন ভবনের পাশের আকাশবাণী ভবন চত্বরে যান এবং সেখানে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন।

    এরপর ওই নেতাদের আটক করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য রাহুল গান্ধীকে সেখান থেকে একটি বাসে তোলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী, দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং অন্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা হয় এবং জোরপূর্বক বাসে তোলা হয়।

    আটক নেতাদের কিংসওয়ে ক্যাম্পে নেওয়া হয় এবং রাত সোয়া ১০টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    আকাশবাণী ভবন চত্বরে অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলায় কোন কোন ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং অভিযোগে কাদের নাম রয়েছে—সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনা সম্পর্কে অবগত এক পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, পরে কিছু কংগ্রেস কর্মী ‘নিউ পুলিশ লাইনস’ এলাকায় পৌঁছান। তাদের বিরুদ্ধে ওই চত্বরের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে।

    নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর যে প্রচার কর্মসূচি চলছিল, মঙ্গলবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ ছিল তারই অংশ।

    বিজেপি এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিক্ষোভের সমালোচনা করেছে।

  • বদলে যাচ্ছে মোনালের কণ্ঠস্বর

    বদলে যাচ্ছে মোনালের কণ্ঠস্বর

    হিমালয়ের নীল-সবুজ পাহাড়, বরফঢাকা চূড়া আর নিস্তব্ধ অরণ্য- এই পরিবেশেই দেখা মেলে অপূর্ব সুন্দর এক পাখির। নাম হিমালয়ান মোনাল। পুরুষ মোনালের শরীরে সবুজ, নীল, তামাটে, বেগুনি ও কমলা রঙের ধাতব আভা। কিন্তু হিমালয়ের এই সৌন্দর্যের প্রতীক পাখিটিই এখন মানুষের তৈরি শব্দ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উত্তরাখণ্ডের গবেষকদের পাঁচ বছরের দুটি পৃথক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটন, অবকাঠামো নির্মাণ ও মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোনালের আবাসস্থল সংকুচিত করছে। শুধু তাই নয়, মানুষের যানবাহন ও পর্যটকদের কোলাহল এড়াতে পাখিটি তার ডাকের স্বরও সামান্য বদলে ফেলছে।

    মোনাল সাধারণত হিমালয়ের বনভূমির ওপরে অবস্থিত আলপাইন তৃণভূমিতে বিচরণ করে। ঋতুভেদে নিচের পাহাড়ি এলাকা থেকে উঁচু অঞ্চলে যাতায়াত করে পাখিটি। কিন্তু গবেষকদের মতে, এসব প্রাকৃতিক আবাসস্থলে মানুষের দখল বাড়ায় মোনালকে ক্রমেই পাহাড়ের আরও উঁচুতে উঠে যেতে হচ্ছে।

    ভারতের উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের হিমালয় অঞ্চলে মোনালের সম্ভাব্য আবাসস্থলের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন নিয়ে মডেল তৈরি করেন গবেষকেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা দেখেছেন, আগামী কয়েক দশকে পাখিটির উপযোগী আবাসস্থল আরও সংকুচিত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

    গবেষক রাজীব লোচনের জানান, তুষার গলার কারণে পাহাড়ের আরও ওপরের দিকে উদ্ভিদ জন্মাচ্ছে এবং সেসব এলাকা মোনালের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। একই সময়ে মানুষের দখলের কারণে নিচের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারাচ্ছে পাখিটি। ফলে দুই দিক থেকেই মোনালকে ওপরের দিকে সরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পাখির দলগুলো ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে পড়তে পারে। এতে এক দলের সঙ্গে অন্য দলের প্রজননের সুযোগ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয়ভাবে মোনালের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

    শুধু ঠিকানা নয়, বদলাচ্ছে কণ্ঠও

    মোনালের ওপর মানুষের প্রভাবের আরেকটি চমকপ্রদ দিক উঠে এসেছে দ্বিতীয় গবেষণায়। গবেষকেরা উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার স্যাংচুয়ারির দুটি উপত্যকা- পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত চোপতা এবং তুলনামূলক নিরিবিলি মাদমহেশ্বর- থেকে মোনালের ডাক রেকর্ড করেন।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে দুই এলাকায় ৭০০টির বেশি ডাক রেকর্ড করা হয়। পরে ডাকের কম্পাঙ্ক, দৈর্ঘ্য এবং আশপাশের শব্দের মাত্রা বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।

    ফলাফলে দেখা যায়, কোলাহলপূর্ণ এলাকায় থাকা মোনাল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে থাকা মোনালের চেয়ে বেশি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ব্যস্ত চোপতা এলাকায় পাখিটির ডাকের স্থায়িত্বও কম ছিল।

    গবেষকদের ধারণা, যানবাহন ও পর্যটকদের পদচারণা থেকে তৈরি অপেক্ষাকৃত নিচু কম্পাঙ্কের শব্দের ওপর দিয়ে নিজের ডাক পৌঁছে দিতেই মোনাল এভাবে কণ্ঠের ব্যবহার সামান্য পরিবর্তন করছে।

    তবে গবেষক লোচন সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে মোনালের কণ্ঠে স্থায়ী বা বিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। বরং বিভিন্ন শব্দ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে পাখিটির আচরণগত নমনীয়তাই এতে ফুটে উঠেছে।

    পাখির ডাক শুধু শব্দ নয়; প্রজনন, সঙ্গী নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বীকে সতর্ক করা এবং নিজেদের অবস্থান জানানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে শব্দের পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব পাখিটির জীবনচক্রেও পড়তে পারে।

    ফ্লেম ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসি অধ্যাপক ও আইপিসিসির প্রতিবেদনে অবদান রাখা অঞ্জল প্রকাশ বলেন, কোনো পাখিকে পর্যটকদের যানবাহনের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডাকের স্বর বাড়াতে হলে কিংবা মানুষের দখলে তৃণভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ের আরও ওপরে উঠতে হলে তা হিমালয়ের জীবনের ওপর মানুষের চাপের গভীর প্রভাবই প্রকাশ করে।

    পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক বিশাল সিংয়ের প্রশ্ন, মোনালের মতো তুলনামূলকভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম একটি পাখিকে যদি তার ‘কণ্ঠ’ এবং ‘ঠিকানা’- দুটিই বদলাতে হয়, তাহলে আরও সংবেদনশীল প্রজাতিগুলোর কী অবস্থা?

    হিমালয়ের জন্য সতর্কবার্তা

    মোনাল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; গবেষকদের কাছে এটি উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কারণ পাখিটির আবাসস্থল তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ঋতুভেদে তাকে বিভিন্ন উচ্চতার অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, নগরায়ণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণকে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত এক দশকে নতুন সড়ক ও অবকাঠামোর কারণে হিমালয়ের অনেক প্রত্যন্ত এলাকা পর্যটকদের কাছে সহজলভ্য হয়েছে। বেড়েছে মানুষের আনাগোনা, যানবাহন ও বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ।

    তবে গবেষকেরা এটিও বলেছেন, মোনালের কণ্ঠ পরিবর্তনের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

  • জ্ঞানেশ পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টি

    জ্ঞানেশ পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টি

    ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। কর্মসূচির বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

    দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর প্রতিবাদেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

    দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সৌরভ দাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। শুধু একজনের পদত্যাগকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখছে না দলটি। বরং নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।

    সৌরভ দাসের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি। ওই প্রক্রিয়ায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

    ককরোচ জনতা পার্টির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা দায়িত্ব নিতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার মতে, একজন ব্যক্তির পদত্যাগে নির্বাচন ব্যবস্থার সংকটের সমাধান হবে না; প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার।

    ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে দেশের তরুণদের উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করে সৌরভ বলেন, ভোট চুরি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো অভিযোগ নিয়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি ১০ অক্টোবরের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

    কর্মসূচির আগে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটির দাবি, যন্তর মন্তরের সমাবেশের বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

  • ১৫০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

    ১৫০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

    জম্মু-কাশ্মীরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গত সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে ওই ১৫০ জনকে বাগডোগরায় আনা হয়। বিমানবন্দরে নামার পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    তবে ৭ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫০ বাংলাদেশিকে বাগডোগরায় আনা হয়েছে কি-না, কিংবা তাদের কেউ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত গেছেন কি না- এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

    জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ও পুলিশ কয়েক মাস ধরে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে।

    তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন দৈনিক মজুরির পেশায় যুক্ত ছিলেন অনেকে।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, পরিচয় যাচাইয়ের সময় শ্রমিকদের আধার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে বলা হয়। কয়েকজনের নথিতে অসঙ্গতি পাওয়ার পর তাদের জাতীয়তা নিয়ে বিস্তারিত যাচাই শুরু হয়। পরে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

    কাশ্মীরে শনাক্ত বাংলাদেশির সংখ্যা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে জানিয়েছিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে জম্মু অঞ্চলে ৪৬ জন এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ৪৫৮ জন।

    অন্যদিকে সাম্প্রতিক পুলিশি সমীক্ষায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে। গত ২৬ মে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নভলেকরের নেতৃত্বে জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার পরিবর্তন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটিটি। এক বছরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    এদিকে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রীনগরের পান্থা চক এলাকায় থাকা ১২টি অস্থায়ী ঘরকে বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী আটক শিবির হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিচয় ও জাতীয়তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ব্যক্তিদের সেখানে অবস্থান করা আইনসঙ্গত নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কাশ্মীরে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেননি।

    এদিকে বাগডোগরায় নেওয়া ১৫০ বাংলাদেশির পরবর্তী গতিবিধি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা বিএসএফের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের ঠিক কবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

  • ইরানই যুদ্ধে জয়ী: আইআরজিসি কমান্ডার

    ইরানই যুদ্ধে জয়ী: আইআরজিসি কমান্ডার

    যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান তাৎপর্যপূর্ণ কৌশলগত জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বন্দর আব্বাসে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এ দাবি করেন আইআরজিসির রাজনৈতিক উপকমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি। খবর বার্তা সংস্থা মেহেরের।

    ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেন, শত্রুপক্ষ এই ধারণা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল যে, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধসিয়ে দিতে ও খণ্ড-বিখণ্ড করতে পারবে; কিন্তু তাদের সেই অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে।

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাভানি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে শত্রুপক্ষ ভেবেছিল যে, বিদ্যুৎগতিতে আক্রমণ ও তীব্র যুদ্ধের মাধ্যমে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে পারবে। এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাঠামো অচল করে দিতে পারবে। ইরানকে টুকরো টুকরো করতে পারবে এবং দেশটির ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে পারবে; কিন্তু হিসাব-নিকাশে তারা বড় ধরনের ভুল করেছিল।

    তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু করেছিল; কিন্তু আজ বিশ্বের অনেকের স্বীকারোক্তি ও মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগের তুলনায় ইরান এখন আরও শক্তিশালী।’

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে জাভানি সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পর শত্রুপক্ষের কৌশল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ এখন ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ পথ বেছে নিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, সমুদ্র ও আকাশপথে বিধিনিষেধ আরোপ এবং জনগণের মনোবল ও সহনশীলতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা।

    তিনি আরও যোগ করেন, গত চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানি জাতির ওপর এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছে, কিন্তু দেশটির মহান জাতি প্রমাণ করেছে যে তারা এ ধরনের চাপের মুখেও অবিচল ও দৃঢ়।

  • ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা কমালেই যুদ্ধ বন্ধ: ভ্যান্স

    ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা কমালেই যুদ্ধ বন্ধ: ভ্যান্স

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ এবং সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহ’ মাত্রায় কমাতে হবে। যদিও আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরান কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। খবর আল আরাবিয়্যার।

    অন্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সংশয়ে ভোগা ভ্যান্স এই সংঘাত নিষ্পত্তিতে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন, যা দ্রুতই ভেস্তে যায়। এই যুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান সহকর্মীদের জন্য একটি রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সোমবার আলাস্কায় নির্বাচনি প্রচার শেষে ভ্যান্স বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কমাতে হবে; কেবল ভবিষ্যতে পারমাণবিক কার্যক্রম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না।

    তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র না চান, তবে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানির প্রয়োজন কেন? আর যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেখাতে চান, তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ জ্বালানি তৈরি করবেন না। এটি একটি অত্যন্ত মৌলিক ও প্রাথমিক বিষয়।’

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, ‘আমার মনে হয়, তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেখাতে চায়, তবে তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতার ক্ষেত্রে অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

  • ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠন করতে হবে

    ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠন করতে হবে

    তুরস্কের প্রখ্যাত সুন্নি মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি রহ: স্মরণে ইস্তাম্বুলে ১৩তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিয়ে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স’র প্রধান শায়খ আলি মহিউদ্দিন আল-কারাদাগি।

    রোববার (৪ অক্টোবর) তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রভাবশালী আলেমদের সামনে তিনি এই প্রস্তাব পেশ করেন। শায়খ কারাদাগি মনে করেন- এটি বাস্তবায়িত হলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবেলায় বিশ্ব মানবতার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হবে।

    এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব মানবিক, ধর্মীয়, নৈতিক এবং সহজাত সঙ্কটে ভুগছে, আর এই সমস্যাগুলো শুধুমাত্র মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সকল মানুষের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

    শায়খ কারাদাগি বলেন, ‘গোটা বিশ্ব একটি গ্রামের মতো হয়ে উঠেছে। মুসলিম জাতিকে পুরো মানব জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। আমাদের সমস্যা সাধারণভাবে এক ও অভিন্ন এবং তার সমাধানও একই হতে হবে।’

    এ সময় তিনি শুধু মুসলিম জাতির সমস্যা নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির সমস্যার সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। এই বিবেচনায় যে, ইসলাম সঙ্কট মোকাবেলায় মানবিক সমাধান দিতে সক্ষম।

    শায়খ কারাদাগি বলেন, পবিত্র কোরআন ও নবীর সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে বুদ্ধিবৃত্তিক ঐক্য অর্জনের জন্য মুসলমানদের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এই ঐক্য সভ্যতা, বিজ্ঞান, উৎপাদন, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও প্রসারিত হতে হবে।

    তিনি জানান, মানবজাতির জন্য তার প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো- বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একটি ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠন করা।

    শায়খ কারাদাগি জাতিসঙ্ঘের বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, জাতিসঙ্ঘ মূলত বর্ণবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কারণ, সেখানে মাত্র পাঁচটি দেশের ভেটো দেয়ার অধিকার রয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সে অধিকার নেই।

    সম্মেলনে দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি ‘ইসলামী জাতিসঙ্ঘ’ গঠনের পথ ও পদ্ধতিও বলে দেন যে, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন হতে পারে। পাশাপাশি এ সময় তিনি গাজার ওপর ইসরাইল ও তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলার প্রতিও নিন্দা জানান এবং সব সঙ্কট সমাধানে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি (মৃত্যু : ২৩ মার্চ ১৯৬০) ছিলেন একজন সুন্নি মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক। তিনি ‘রিসালায়ে নূর’ নামক পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা রচনা করেন। এটির আকার ছয় হাজার পৃষ্ঠার অধিক। আধুনিক বিজ্ঞান ও যুক্তিকে ভবিষ্যতের পথ বিবেচনা করে তিনি সাধারণ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় জ্ঞান ও ধর্মীয় বিদ্যালয়ে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষাদানের পক্ষপাতী ছিলেন।

    তার স্মরণে ইস্তাম্বুলের এই সম্মেলনের শিরোনাম ‘বৈশ্বিক সঙ্কটে কোরআনী সমাধান’। এই সম্মেলনে অন্তত ৬০টি দেশের আলেম, গবেষক ও চিন্তাবিদগণ অংশগ্রহণ করছেন। মঙ্গলবার এটি সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • হরমুজ ছেড়ে পালাল তেলবাহী ট্যাংকার

    হরমুজ ছেড়ে পালাল তেলবাহী ট্যাংকার

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হুমকির মুখে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরানি বাহিনী জাহাজটিকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ না মানলে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

    যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার বা ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে। ওই সময় ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করছিল।

    ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির পক্ষ থেকে ট্যাংকারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন ইরানি বাহিনীর নির্দেশ মেনে নেন এবং জাহাজটি ফিরে যায়।

    এ ঘটনার মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

    তেহরান এরই মধ্যে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে এখন থেকে পারাপারের জন্য অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রণালিটির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

  • এবার মহাকাশ দখলের লড়াই চলছে

    এবার মহাকাশ দখলের লড়াই চলছে

    চাঁদে স্থায়ী মানববসতি স্থাপন ও মহাকাশ গবেষণার জ্বালানি নিশ্চিত করতে চায় বিশ্ব মোড়লরা। এর জন্য চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া।

    ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। অন্যদিকে ২০৩৬ সালের মধ্যে যৌথভাবে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মস্কো ও বেইজিং। এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদে সৌরশক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ সেখানে রাত টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। এই দীর্ঘ অন্ধকার ও চরম ঠান্ডার সময়ে স্থায়ী ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা বজায় রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে।

    বিপরীতে চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘সেলেনা’ চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এমন তাড়াহুড়ো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    রকেট উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এদিকে পরমাণু স্থাপনা ঘিরে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে পারমাণবিক সুরক্ষার অজুহাতে কোনো দেশ যদি নিজস্ব চুল্লির চারপাশে ‘নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করে, তবে অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প আরও দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। এতে মহাকাশেও তৈরি হচ্ছে বিভাজন।

  • রাশিয়ায় প্লেগ, কোয়ারেন্টিনে শতশত মানুষ

    রাশিয়ায় প্লেগ, কোয়ারেন্টিনে শতশত মানুষ

    রাশিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। দেশটির একটি গবেষণাগারের এক টেকনিশিয়ান মারা যাওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ মানুষকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রাদুর্ভাবটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

    এতে আরও বলা হয়, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা সাইবেরিয়ার ইরকুৎস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কাজ করছিলেন। সেখানেই তিনি নিউমোনিক প্লেগের জীবাণুর সংস্পর্শে আসেন। সংবাদমাধ্যম লিউদি বাইকালার-এর তথ্য অনুযায়ী, জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাক্রমে ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন শিপিলোভা। এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে বুরিয়াতিয়ায় একটি মাঠপর্যায়ের অভিযানে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুরিয়াতিয়া রাশিয়ার মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

    ২৯শে সেপ্টেম্বর শিপিলোভাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। কিন্তু এর দুই দিন পরই তার মৃত্যু হয়। শিপিলোভা প্রায় ২০০ মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন। প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় এখন তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    এদিকে ওই অঞ্চলের তিনটি হাসপাতালে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরকুৎস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিদের কারও মধ্যে এ পর্যন্ত অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তাদের পরীক্ষায়ও প্লেগের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে মস্কো টাইমস জানিয়েছে। শিপিলোভা যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেটিও কোয়ারেন্টিনের আওতায় রাখা হয়েছে।

    অন্য হাসপাতালগুলোতে নেয়া হয়েছে শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং রক্ত ওঠাসহ কাশি। সাধারণত সংস্পর্শে আসার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। সংক্রমণের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে নিউমোনিক প্লেগে মৃত্যুর হার প্রায় ১৭ শতাংশে নেমে আসে। তবে চিকিৎসা না করা হলে এই রোগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী।

    এদিকে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ঠিক কী ঘটেছে, তা গোপন করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ওই অঞ্চলে রোগটির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মজুত ফুরিয়ে আসছে। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ওষুধের সরবরাহের দাবিতে ফার্মেসি ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। তবে রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ মহামারি বিশেষজ্ঞ মিখাইল ফাভোরভ টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার ব্যাখ্যাটি নাকচ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কো টাইমস। ফাভোরভ বলেন, এটি হাস্যকর।

  • শিগগিরই বিলীন হয়ে যাবে ইরান: নেতানিয়াহু

    শিগগিরই বিলীন হয়ে যাবে ইরান: নেতানিয়াহু

    ইরানের নেতৃত্ব অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত তা টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ৭ই অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু এমন দাবি করেছেন। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।

    নেতানিয়াহু বলেছেন, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র তেহরানকে আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে দিবো না।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বৈরাচার রাষ্ট্রটি এখন সবচেয়ে দুর্বল। ইরান এখন টিকে থাকার জন্য লড়ছে, এবং এর শেষ পরিণতি হলো বিলীন হয়ে যাওয়া। এটিকে বলা যায়, এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া।

    এদিন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরান ত্রিমুখী কৌশলের মাধ্যমে ইসরাইলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। এসব কৌশলের মধ্যে রয়েছে তেলআবিবকে ঘিরে সশস্ত্র গোষ্ঠী রাখা, ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পুরোপুরি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি।

    তবে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় ধাপে ধাপে ইরানের এসব পরিকল্পনা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। আমরা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছি, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি, বলেন নেতানিয়াহু।

    ইসরাইল পুরোপুরি তার কাজ সম্পন্ন করবে- এমন হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে এবং গাজায় হামাস তার কার্যকলাপ চালাতে পারবে না।

  • স্টিভ জবসের মৃত্যুর ১৫ বছর: যেভাবে বদলে দিলেন প্রযুক্তির ব্যবহার

    স্টিভ জবসের মৃত্যুর ১৫ বছর: যেভাবে বদলে দিলেন প্রযুক্তির ব্যবহার

    অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মৃত্যুর ১৫ বছর পূর্ণ হলো সোমবার (৫ অক্টোবর)। ২০১১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে ৫৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান। ব্যক্তিগত কম্পিউটার, গান শোনার যন্ত্র ও মুঠোফোন, এই তিন ক্ষেত্রেই মানুষের অভ্যাস বদলে দেওয়া পণ্যের পেছনে ছিল তার নেতৃত্ব।

    জবসের জন্ম ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, সান ফ্রান্সিসকোতে। জন্মের পরই তাকে দত্তক নেন পল ও ক্লারা জবস দম্পতি। পল জবস ছিলেন যন্ত্রকারিগর। ছেলেবেলায় বাবার কাছেই যন্ত্রপাতির কাজে হাতেখড়ি হয় স্টিভের।

    ১৯৭২ সালে ওরেগনের রিড কলেজে ভর্তি হলেও এক সেমিস্টার পরই পড়া ছেড়ে দেন তিনি। তবে ক্যাম্পাস ছাড়েননি। পছন্দের কয়েকটি ক্লাসে বসতেন, যার একটি ছিল হস্তলিপিবিদ্যা বা ক্যালিগ্রাফি। ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় জবস বলেছিলেন, ওই ক্লাসের শিক্ষাই পরে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের হরফের নকশায় কাজে লেগেছিল।

    ১৯৭৪ সালে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আটারিতে কাজ নেন জবস। সে বছরই আধ্যাত্মিকতার খোঁজে ভারতে যান। দেশে ফিরে বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াকের সঙ্গে কম্পিউটার বানানোর কাজে হাত দেন। ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল ওজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েনকে নিয়ে তিনি অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করেন।

    পরের বছর বাজারে আসা অ্যাপল টু প্রতিষ্ঠানটিকে বড় সাফল্য এনে দেয়। ১৯৮০ সালে অ্যাপল শেয়ারবাজারে আসে। ১৯৮৪ সালের ২৪ জানুয়ারি বাজারে আসে ম্যাকিনটোশ। মাউস আর ছবিনির্ভর পর্দার কারণে এই কম্পিউটার সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহার সহজ করে তোলে।

    সাফল্যের মধ্যেই আসে ধাক্কা। তখনকার প্রধান নির্বাহী জন স্কালির সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে ১৯৮৫ সালে নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হয় জবসকে। সে বছরই তিনি নেক্সট নামে নতুন কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান গড়েন। ১৯৮৬ সালে লুকাসফিল্মের কম্পিউটার গ্রাফিকস বিভাগ কিনে নেন, যা পরে পিক্সার নামে পরিচিত হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় পিক্সারের ‘টয় স্টোরি’। এটি পুরোপুরি কম্পিউটারে তৈরি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র।

    ১৯৯৭ সালে অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নিলে জবস পুরোনো প্রতিষ্ঠানে ফেরেন এবং সে বছরই অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন। লোকসানে থাকা অ্যাপল এরপর ঘুরে দাঁড়ায় একের পর এক নতুন পণ্যে। ১৯৯৮ সালে আসে আইম্যাক, ২০০১ সালে আইপড, ২০০৩ সালে আইটিউনস স্টোর। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জবস আইফোনের ঘোষণা দেন, যা ফোন, গান শোনার যন্ত্র ও ইন্টারনেটকে এক যন্ত্রে নিয়ে আসে। ২০১০ সালে আসে আইপ্যাড।

    ২০০৩ সালে জবসের অগ্ন্যাশয়ে বিরল ধরনের টিউমার ধরা পড়ে। ২০০৯ সালে তার যকৃৎ প্রতিস্থাপন করা হয়। অসুস্থতার কারণে ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট তিনি প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়েন। দায়িত্ব নেন টিম কুক। এর ছয় সপ্তাহ পর জবসের মৃত্যু হয়।

    জবস নিজে প্রকৌশলী বা প্রোগ্রামার ছিলেন না। তার দক্ষতা ছিল প্রযুক্তিকে সহজ, সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলায়। সহকর্মীদের প্রতি কঠোর আচরণের জন্য তিনি সমালোচিতও হয়েছেন। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাকে মরণোত্তর দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেয়।

    স্ট্যানফোর্ডের সেই বক্তৃতায় তরুণদের প্রতি জবসের পরামর্শ ছিল, অন্যের মতো করে বাঁচতে গিয়ে নিজের সীমিত সময় নষ্ট না করা। বক্তৃতার শেষ কথাটি পরে তার নামের সঙ্গেই জুড়ে যায়: ‘ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো।’

  • ৫০০ স্কুল বন্ধ ফ্রান্সে

    ৫০০ স্কুল বন্ধ ফ্রান্সে

    শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে একদিনের জন্য ৪০০-৫০০টি স্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করছে ফ্রান্স। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব স্কুলে পাঠদান ‘পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত’ থাকবে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

    গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। শিক্ষার মান ও স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মনপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

    শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ এবং বেশ কিছু স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

    ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে তিনি ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে পাঠদান স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন।

    জেফ্রে অভিযোগ করেন, ‘উগ্র বামপন্থি কিছু কর্মী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চরম সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে।’

  • জ্ঞানেশকে সরতেই হবে-ককরোচ প্রধান

    জ্ঞানেশকে সরতেই হবে-ককরোচ প্রধান

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে থাকাকালে নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

    এমনকি নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মহারাষ্ট্রের পুণেতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন দীপকে। মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে।

    দীপকের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অর্থহীন। তার অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে ভোটের ফলাফল নিয়ে আগে থেকেই একটি ধারণা তৈরি হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, তার মতে যতক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কারণ বিজয়ী কে হবেন, তা আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

    দীপকে আরও অভিযোগ করেন, ভারতের এমন কিছু রাজ্যে বিজেপি জয়ী হচ্ছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ সময়েও দলটি জয় পায়নি। এই বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

    ‌মহারাষ্ট্রের পুণেতে বর্তমানে মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এতে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

    এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের নেতা রোহিত পাওয়ারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

    দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের সব পরীক্ষার্থী এবং তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের প্রতি তিনি সমর্থন জানাচ্ছেন। তার দাবি, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীরা মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের একাংশ আগে থেকেই নানা অভিযোগ তুলে আসছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। এরই মধ্যে দীপকের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

    তবে নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে দীপকের এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি।

  • ইমরানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

    ইমরানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

    ইসলামাবাদে জুডিসিয়াল কমপ্লেক্সে হামলার মামলায় কারাগারে থাকা পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে এই আদেশ দেন বিচারক তাহির আব্বাস সিপ্রা।

    ২০২৩ সালে একটি মামলায় জামিন নিতে ইমরান খান যখন আদালতের জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে তার সমর্থকরা বেশ হাঙ্গামা করেছিল। তারা নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর চালায়।

    ওই ঘটনার পরই পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিল। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন পিটিআইয়ের এই শীর্ষ নেতা।

    সোমবারের শুনানিতে বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী শুনানিতে ইমরান খানকে হয় সরাসরি আদালতে আনতে হবে, না হয় ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত করতে হবে। এছাড়া এই মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় ফারুক হাবিব, হাম্মাদ আজহার, মুরাদ সাঈদ এবং শিবলি ফারাজকে পলাতক ঘোষণা করে তাদের সম্পত্তির বিবরণ চেয়েছে আদালত। একইসঙ্গে পাঞ্জাব বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ওয়াসিক কাইয়ুম আব্বাসী এবং নেতা হাসান নিয়াজির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

  • নতুন কৌশলে ইরান

    নতুন কৌশলে ইরান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশের বিশেষ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে প্রশাসন । রোববার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে ‘শত্রুর’ পরিকল্পনা ছিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ও জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য সংযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেশটির জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

    প্রেসিডেন্ট অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করলেও উল্লেখ করেন যে, জনগণের সমর্থন এবং কর্মকর্তাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে অর্থনৈতিক যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে।

  • সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ইরানি নারীরা

    সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ইরানি নারীরা

    ওপরের ছবির মতো ইরানের সাধারণ নাগরিকদের জন্য আয়োজিত সামরিক প্রশিক্ষণে ইরানি নারীদের অংশগ্রহণের এমন আরো কিছু ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত করা।

    ছবিগুলোতে দেখা যায়, তেহরানের কেন্দ্রস্থলের ইমাম হোসেন স্কোয়ারে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ইরানি নারী স্বেচ্ছাসেবকেরা। একটি ছবিতে এক নারীকে বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে, আরেকটিতে আরেকজনকে দড়িতে ঝুলে পার হতে দেখা যায়।

    তেহরানের ‘জানফাদা’ সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নারী স্বেচ্ছাসেবীরা কাঁটাতারের নিচ দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

    ‘ডিভোটেড টু ইরান’ ক্যাম্পেইনের আওতায় সাধারণ নারী স্বেচ্ছাসেবীদের আত্মরক্ষা ও প্রাথমিক সামরিক অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

  • রোহিঙ্গাদের জমিতে আরাকান আর্মি সামরিক ঘাঁটি গড়ছে

    রোহিঙ্গাদের জমিতে আরাকান আর্মি সামরিক ঘাঁটি গড়ছে

    ২০২৪ সালে মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় আরাকান আর্মি (এএ)। এরপর রোহিঙ্গাদের গ্রাম ধ্বংস করে তাদের জমিতে বন্দিশিবির, সামরিক ব্যারাক ও বসতি নির্মাণ করছে তারা। স্যাটেলাইট চিত্র, জাতিসংঘের গবেষণা এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    অনুসন্ধানে বুথিডং টাউনশিপের হ্নগেট থে এলাকায় একটি ধানখেতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গা গ্রামবাসীরা চাষাবাদ করতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে সেখানে ১২০টি ধূসর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে আরাকান আর্মি পরিচালিত একটি বন্দিশিবির।

    আশপাশের এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সেখানে রাখা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া তারা শিবিরে প্রবেশ বা বের হতে পারেন না। আরাকান আর্মি উত্তর রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এ ধরনের অন্তত ১০টি শিবির নির্মাণ করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

    বাংলাদেশে বর্তমানে বসবাসরত ১৮ বছর বয়সি মুহাম্মদ আরেস বলেন, ‘আরাকান আর্মি প্রথম আমাদের এলাকায় আসার পর তীব্র লড়াই শুরু হয়। এসব সংঘর্ষে অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত হন। শেষ পর্যন্ত তারা আমাদের পুরো গ্রাম পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়… তারা সব বাস্তুচ্যুত মানুষকে একত্র করে জোর করে শিবিরে নিয়ে যায়।’

    তিনি বলেন, ‘তারা মূলত আমাদের মাতৃভূমিকে জোরপূর্বক শ্রমের শিবির ও সামরিক চৌকির একটি নেটওয়ার্কে পরিণত করেছে।’

    ‘আমাদের জমিতে তারা বাড়ি বানিয়েছে’

    শিবিরটি থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে মায়ু নদীর তীরে ‘ইয়োয়েট নিয়ো তাউং’ গ্রামের সারি । ২০২৪ সালের এপ্রিলে এলাকাটি পুড়িয়ে দেওয়ার পর রোহিঙ্গা কৃষক ও নৌকার মাঝিরা তাদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও ফলের বাগান হারান।

    ২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘তারা বড় বড় গাছ ও ফলের বাগান কেটে পুরো এলাকা পরিষ্কার করে ফেলে। গ্রামের আগের কোনো চিহ্নই তারা রাখেনি। আমাদের জমির ওপর তারা বাড়ি বানিয়েছে।’

    বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে সেই নির্মাণসামগ্রী দিয়ে বিদ্রোহীদের জন্য নতুন স্থাপনা তৈরি করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এসব স্থাপনার মধ্যে ইয়োয়েট নিয়ো তাউংয়ে ‘এপি ব্যাটালিয়ন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক ব্যারাকও রয়েছে। তরুণ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, সেখানে তাদের জোরপূর্বক নিয়োগ করা হয়েছিল।

    সাদিক বলেন, ‘তারা আমাদের রাস্তা পরিষ্কার করতে, পরিখা খুঁড়তে এবং তাদের শিবিরের ভেতরে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করত। কেউ ক্লান্তিতে পড়ে গেলে তাকে রোদে ফেলে রাখা হতো।’

    জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০০ হেক্টর জমি দখল করে সেখানে শিবির, অন্য জনগোষ্ঠীর বসতি অথবা সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। একই সময়ে রোহিঙ্গাদের জমি দখল বা তাদের বাস্তুচ্যুত করার অন্তত ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

    ২০২৪ সাল থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর মিয়ানমারে থেকে যাওয়া আনুমানিক ৬ লাখ রোহিঙ্গার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই সময়ে দেশ ছেড়েছে। বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

    ‘উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্বের সমাপ্তি’

    মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্বের এটাই শেষ—এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। রোহিঙ্গারা যত দিন সহ্য করতে পারে, তত দিন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে কারাগারের মতো শিবিরগুলোতে থাকতে পারে। কিন্তু তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।’

    দ্য গার্ডিয়ানের সংগ্রহ করা সাক্ষ্য এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, জোরপূর্বক শ্রম, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং ‘কর’ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অতীতে যে কৌশলগুলো ব্যবহার করেছে, আরাকান আর্মিও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছে।

    ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, তাকে জোর করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং এক মাস আটক রেখে বারবার মারধর করা হয়। আরেক ব্যক্তি জানান, তার ২২ বছর বয়সী মেয়েকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়, সেখানে তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয় এবং সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হয়।

    হ্নগেট থে শিবিরে আটক অনেকেই ২০২৪ সালের ২ মে হোইয়ার সিরি এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে, ওই ঘটনায় ১৭০ জনের বেশি গ্রামবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ছিল শিশু।

    আরাকান আর্মি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, তারা কেবল সামরিক সদস্য এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

    মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান বলেন, যারা রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল ‘বাস্তব পরিস্থিতি এমনভাবে বদলে ফেলা যাতে তা অপরিবর্তনীয় হয়ে পড়ে’।

    তবে রোহিঙ্গাদের জমি ধ্বংসের জন্য আরাকান আর্মিই দায়ী—এমন তথ্য তার সংস্থা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, মিয়ানমারে এখনো অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের চলমান সংঘাতের সব পক্ষই লক্ষ্যবস্তু করছে বলে মনে হচ্ছে।

    স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক টম ড্যানেনবম বলেন, জবরদস্তি এবং রোহিঙ্গাদের নিজ এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই সমন্বিত কর্মকাণ্ড জনসংখ্যা স্থানান্তর বা ‘পপুলেশন ট্রান্সফার’-এর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    মিয়ানমারের নির্বাসিত ‘জাতীয় ঐক্য সরকারের’ সম্প্রতি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া একমাত্র রোহিঙ্গা সদস্য অং কিয়াও মো বলেন, ‘এখন মূল প্রশ্ন আর এটা নয় যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা টিকে থাকতে পারবে কি না। প্রশ্ন হলো—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে কি না, যা তাদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের ভৌত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার প্রক্রিয়াকে অপরিবর্তনীয় করে তুলবে।’

    রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জানুয়ারিতে শুনানি শুরু করেছে। আদালত এর আগে বলেছে, ‘বাড়িঘর থেকে পরিকল্পিতভাবে বিতাড়ন এবং বাড়িঘর ধ্বংস’ গণহত্যার একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে আদালতের রায় চলতি মাসে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি: আটক ১২

    ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি: আটক ১২

    ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে আবাসিক এলাকায় রাতের আঁধারে হানা দিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরি করে জবাইয়ের জন্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার পুলিশ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

    কথিত বিড়াল চোর চক্রটির বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ লোম ছাড়ানোর যন্ত্র, বিড়াল ধরার ফাঁদ, ওজন মাপার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে। হ্যানয় থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়। দেশটির বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যেই এসব মাংসের প্রচার ও বিক্রি করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের পশুগুলোর উৎসের সনদ রাখার নিয়ম রয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি করা বিড়ালগুলো রেস্তোরাঁয় প্রতি কেজি অন্তত ৭০ হাজার ডং বা প্রায় ২ দশমিক ৭০ ডলারে বিক্রি করা হতো।

    পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জন বিড়াল চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন জাতের প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরি করে পাচার করা হয়েছে।

    রোববার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতেও হো চি মিন সিটিতে বিড়াল চুরির অভিযোগে পৃথক দুটি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

  • চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী

    চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বিজয়ীরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

    অন্যদিকে, গবেষণাগারে ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচটি কাজ করে।

    আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিটি বর্তমানে ‘অপটোজেনেটিকস’ নামে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল অ্যাসেম্বলি বলে, অপটোজেনেটিকস এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে তা দেখা সম্ভব।

    এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান কানাডার ফ্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস।

    ২০২৫ সালে যারা পেয়েছিলেন

    ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের শিমন সাকাগুচি।

    তখন নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।

    মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। ফ্রেড রামসডেল সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক।

    কবে কোন পুরস্কার

    মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী শুক্রবার। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১২ অক্টোবর।

    পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

    মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

  • ১০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান

    ১০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান

    ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানো মিত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে বাব আল-মান্দেবের কাছে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। খবর আলজাজিরার।

    জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ইয়েমেনে এখন পর্যন্ত ৩০০টির বেশি ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘স্থলভাগে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে আমরা দিনরাত বিমান সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। চলমান লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    আল-মালিকি জানান, সোমবার সকালে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এ ১০০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে স্থল বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি আকাশপথে হামলাও জোরদার করা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিচ্ছে কানাডা

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিচ্ছে কানাডা

    একসময় যা ছিল কল্পনাতীত, এখন সেই সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে কানাডাকে। আর সেটি হলো, দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণ। গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসনের মতো অকল্পনীয় পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


    তিনি স্পষ্ট করেছেন, এমন হামলার ঝুঁকি খুবই কম এবং সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ। কিন্তু ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক যখন নতুন করে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে, তখন সব সম্ভাবনা বিবেচনায় নেয়াই কার্নির দায়িত্


    ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বারবার দেয়া হুমকির কারণেই সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনা করছে কানাডা।

    ২০২৫ সালে ট্রাম্প অবশ্য বলেছিলেন, কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে -এমন সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত কম’। তার বদলে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।


    বিবিসির সঙ্গে কথা বলা সামরিক বিশেষজ্ঞদেরও মত, কানাডায় মার্কিন আগ্রাসনের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা। তারপরও বিষয়টি কানাডীয়দের উদ্বিগ্ন করছে।


    গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর লেজারের এক জরিপে দেখা যায়, ৩০ শতাংশের বেশি কানাডীয় মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।
    রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ারফোর্সের ৩৪ বছরের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটস বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের কথা ভাবাই কঠিন।
    বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘পুরো কর্মজীবন সামরিক অভিযানে ছিলাম। কিন্তু কখনোই ভাবিনি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে কানাডার বিরুদ্ধে হামলা আসতে পারে।’


    ন্যাটো মিশনে দায়িত্ব পালন করা কোটস বলেন, সামরিক প্রতিরক্ষার বহু ক্ষেত্রে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। দুই দেশই ন্যাটোর সদস্য। কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    এ ছাড়া দুই দেশ আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ প্রতিরক্ষা অভিযান চালায় এবং নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে।
    তাই কোটসের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় হামলা চালালেও তা সরাসরি সামরিক আক্রমণ দিয়ে শুরু নাও হতে পারে। সাইবার হামলার মতো গোপন ও পরোক্ষ পদ্ধতিই আগে ব্যবহার করা হতে পারে।
    যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়। অর্থনীতি, সামরিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতেও তারা গভীরভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ইতিহাস বলছে, সম্পর্ক সবসময় এমন ছিল না।


    কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক টিম ফোরানের মতে, ১৮ ও ১৯ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কানাডার জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
    ১৮১২ সালের যুদ্ধেও আমেরিকান বাহিনী তৎকালীন আপার কানাডা, লোয়ার কানাডা ও সামুদ্রিক উপনিবেশগুলোতে একাধিকবার হামলা চালায়।

    এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান শক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল কানাডা। সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে তারা একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কী হতে পারে?
    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা খুবই কম হলেও কানাডার প্রস্তুতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ শ্মিট। তার মতে, কানাডা যে এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটিই বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থার বড় ইঙ্গিত ।

    যদি সত্যিই যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে প্রথম পর্যায় খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে গ্লোব অ্যান্ড মেইলের প্রকাশিত কানাডার সামরিক মডেল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এক সপ্তাহের মধ্যেই কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো বিপর্যস্ত হতে পারে। সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা কানাডীয় বাহিনী তখন গেরিলা কৌশলে যেতে পারে।


    গত জানুয়ারিতে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, কানাডার সহায়তায় ফ্রান্স ও বৃটেনের মতো মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তা চাওয়া হতে পারে।
    ধারণা করা হচ্ছে, এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি সামনে রেখে সামরিক পরিকল্পনা করেছে।

  • হানিট্র্যাপে আটক ভারতীয় নৌ-সেনা

    হানিট্র্যাপে আটক ভারতীয় নৌ-সেনা

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের ফাঁদে (হানিট্র্যাপ) পা দিয়ে পাকিস্তানের এক নারী এজেন্টের কাছে দেশের গোপন তথ্য পাচার করার অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনীর এক নাবিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) কোয়েম্বাটুরের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রদীপ মুখার্জি নামের ওই ৩১ বছর বয়সি নাবিককে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ।

    পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রদীপ ২০১৪ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশাখাপত্তনমের ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। একটি ট্রেনিং কোর্সের জন্য তিনি কোয়েম্বাটুরে অবস্থান করছিলেন।

    তদন্তে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দা প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। এই অনলাইন সম্পর্কের জালে জড়িয়ে তিনি বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির যুদ্ধজাহাজের চলাচল ও নানা কৌশলগত গোপন তথ্য ওই এজেন্টের কাছে পাচার করেন। দীর্ঘদিন সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করার পর পুলিশ তাকে নজরদারিতে রেখে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

  • ২ কোটি প্রবীণ মার্কিনিকে এককালীন ৯০ ডলার করে দেবেন ট্রাম্প

    ২ কোটি প্রবীণ মার্কিনিকে এককালীন ৯০ ডলার করে দেবেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মাসিক চিকিৎসা বিমার প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতেই এই অর্থ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে এই অর্থ দেওয়া হবে। কংগ্রেস মেডিকেয়ারের ‘ফি-ফর-সার্ভিস’ কর্মসূচির উন্নয়নের জন্য ওই তহবিলে ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি।

    হোয়াইট হাউসও ট্রাম্পের পরিকল্পনার কিছু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, যোগ্য অধিকাংশ প্রবীণ নাগরিক অক্টোবরের শুরুতেই সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ৯০ ডলার করে পাবেন।

    যাদের সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য চেক পাঠানো হবে। এসব চেকও অক্টোবরের শুরুতে মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই ঘোষণা এসেছে। ওই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে রিপাবলিকান পার্টি। বর্তমানে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা খুবই সীমিত।

    জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের উচ্চ দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ভোটারদের জন্য বেশ কিছু আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    গত মাসে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে সব প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে ওই প্রস্তাব নিয়ে অর্থনীতিবিদ, বিশ্লেষক এবং রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ মার্কিন নাগরিককে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার আরেকটি উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কেনা ব্যক্তিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছিল। ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার অংশ হিসেবেই ৫০০ ডলারের অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

  • ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর পদ ছাড়ছেন টেনেসির কারাপ্রধান

    ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর পদ ছাড়ছেন টেনেসির কারাপ্রধান

    যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারী বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার তিন দিন পর রাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গভর্নর বিল লি শনিবার (৩ অক্টোবর) জানান, স্ট্রাডা চলতি মাসের শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন। তার জায়গায় কে আসছেন, তা জানানো হয়নি।

    গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে ক্রিস্টা পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। বার্তা সংস্থা এপি ও এবিসি নিউজ জানায়, পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    পাইকের আইনজীবীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনি ন্যাশভিল এলাকার একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন ও অচেতন অবস্থায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তায় আছেন। আইনজীবীদের দাবি, শিরায় সুচ ঠিকমতো বসানো হয়নি, ফলে ওষুধ রক্তে না গিয়ে আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে দেওয়া জরুরি আবেদনে তারা বলেছেন, অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পাইকের দুই হাত ফুলে ও পুড়ে গেছে।

    গভর্নর বিল লি বলেন, স্ট্রাডা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে টেনেসির মানুষের স্বার্থকে আগে রেখেছেন। স্ট্রাডা নিজে বলেছেন, স্বাধীন পর্যালোচনা চলার সময় সরে দাঁড়ানোই রাজ্যবাসীর জন্য ভালো। কী ঘটেছিল তা বের করতে তিনি সব রকম সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।

    ঘটনা খতিয়ে দেখতে সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি এড স্ট্যানটনের নেতৃত্বে স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। কারা বিভাগ নির্ধারিত নিয়ম মেনেছিল কি না, তা দেখার পাশাপাশি এতে সুপারিশও দেওয়া হবে। এপি জানায়, গভর্নর চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রেখেছেন।

    পাইকের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্ট্রাডার পদত্যাগ যৌক্তিক, তবে এতে পাইকের কোনো উপকার হবে না। তাদের মতে, বুধবারের ঘটনা কোনো একজন ব্যক্তির নয়, গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ চেয়ে তারা শুক্রবার আদালতে জরুরি আবেদন করেন।

    ১৯৯৫ সালে এক তরুণীকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে পাইকের মৃত্যুদণ্ড হয়। দণ্ড কার্যকর হলে তিনি হতেন দুই শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম নারী।

    স্ট্রাডা তিন বছর ধরে টেনেসির কারা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি অ্যারিজোনার কারা বিভাগে শীর্ষ পর্যায়ের পদে ছিলেন।

    সূত্র: এপি, এবিসি নিউজ

  • ভারতে  সিইসির বিরুদ্ধে মিছিল

    ভারতে সিইসির বিরুদ্ধে মিছিল

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো মামলার বন্ধ ফাইলও নতুন করে খোলা হচ্ছে।

    গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে জ্ঞানেশকে অপসারণের যে অভিযান শুরু হয়েছে, আজ রোববারও তা অব্যাহত। গত শুক্রবার শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো’ অভিযান করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ঠাকরে ভাইয়েরা, শিবসেনার উদ্ধব ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) নেতা রাজ ঠাকরে।

    আজ সেই ‘ঠাকরে ব্রাদার্স’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করেন মুম্বাইয়ে। লক্ষাধিক মানুষের সেই মিছিলে মুম্বাইয়ের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। থমকে যায় যান চলাচল।

    মিছিলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মেট্রো সিনেমা জংশন থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শেষ হয় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সামনে। মুম্বাইয়ের কংগ্রেস নেতা বালাসাহেব থোরাট, বিজয় ওয়ারেত্তিওয়ার, এনসিপি (শরদ) নেতা জয়ন্ত পাটিল, শশীকান্ত শিন্ডেসহ বহু রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মানুষ ওই মিছিলে হাঁটেন।

    তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির বিপর্যয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর এই কমিশন মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের আগে ৬০ লাখ ভোটারের নাম তুলে বিজেপিকে ক্ষমতা দখলে সাহায্য করেছিল। তারাই এবার এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে দুই কোটি ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে।

    দেশজুড়ে জ্ঞানেশ হটাও আন্দোলন যেমন ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনই আইনের জালেও তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। কংগ্রেস–শাসিত কেরলম সরকার তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো এক মামলার তদন্ত নতুনভাবে শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে।

    মামলাটি অন্তত কুড়ি বছরের পুরোনো। কেরলমে তখন বামপন্থীরা ক্ষমতায় এসেছে। সেটা ২০০৬ সালের মধ্যভাগ। রাজ্যের একটি দীর্ঘ রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছিল ‘পাতি–বেল’ নামের এক নির্মাণ সংস্থা।

    প্রকল্পটি ছিল ভারত–মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যোগ। মালয়েশিয় সংস্থা ‘পাতি’ এবং কেরলমের ভগীরথ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (বেল) ওই নির্মাণে অংশ নেয়। অভিযোগ, ২৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেই রাস্তার কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটির পাওনা টাকার এক অংশ আটকে রাখা হয়েছিল।

    সে সময় সেই সংস্থার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক লি সি বিন। তিনি ছিলেন প্রজেক্ট ম্যানেজার। টাকা পাওয়ার চেষ্টায় বিস্তর ঘোরাঘুরির সময় তিনি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, সুইসাইড নোটে তিনি কেরলম সরকারের তৎকালীন পূর্তসচিব জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন। তৎকালীন কেরলম সরকার ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল ভিজিল্যান্স বিভাগের হাতে। কিন্তু তদন্ত শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। সেই পুরোনো মামলার তদন্ত নতুনভাবে শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন কেরলমের কংগ্রেস সরকারের পূর্তমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।

    কেরলম সরকার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, পূর্ত দপ্তরের সচিব থাকাকালে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরকারি ঠিকাদারির কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধমূলক আচরণের অভিযোগ ছিল। কিন্তু তিনি প্রভাবশালী ছিলেন বলে তদন্ত মাঝপথে থেমে যায়। মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যার ঘটনার পর জ্ঞানেশ ডেপুটেশনে চলে যান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি আইনে জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির রক্ষাকবচ রয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করা যাবে না। ২০২৩ সালে মোদি সরকারের তৈরি এই আইন অবশ্য কার্যকর হবে না ২০০৬ সালের ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের নিখোঁজ মেডিকেল বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

    যুক্তরাষ্ট্রের নিখোঁজ মেডিকেল বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

    বারমুডা থেকে বোস্টনের উদ্দেশে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া একটি মেডিকেল পরিবহন বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে বিমানে থাকা ছয় আরোহীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের জানায় যে, সি-জিআরজেপি টেইল নম্বরযুক্ত একটি গালফস্ট্রিম জি১০০ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    পরে কোস্ট গার্ডের অনুসন্ধানকারী দল নিখোঁজ বিমানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধ্বংসাবশেষের এলাকা শনাক্ত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিমানে থাকা ছয়জনের অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বিমানে চারজন কানাডীয় ও দুজন বারমুডার নাগরিক ছিলেন।

    কানাডা-ভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিচালিত বিমানটি রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে নিখোঁজ হয় বলে কোম্পানির মুখপাত্র ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ এএফপিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানে ছিলেন দুজন পাইলট, দুজন চিকিৎসাকর্মী, একজন রোগী ও রোগীর পরিবারের এক সদস্য।

    কোম্পানিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের বহরে ১০টি বিমান রয়েছে। এসব বিমানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে রোগী বা অন্য ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিবহন সেবা দেওয়া হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানাতে রোববার সকালে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

  • গাজার শিশুদের জন্য মিসরে স্কুল

    গাজার শিশুদের জন্য মিসরে স্কুল

    মিসরের উত্তর সিনাইয়ের উপকূলীয় শহর এল-আরিশে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য একটি স্কুল গড়ে তুলেছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক হাদিল জুরোব। গাজা থেকে পালিয়ে মিসরে আশ্রয় নেওয়া শত শত শিশুর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন বর্তমানে এই স্কুলে পড়াশোনা করছে।

    গাজা সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরের এল-আরিশে থাকা এসব শিশুকে যুদ্ধের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। শহরটির বেশির ভাগ ভবন নিচু এবং রাস্তাগুলো ধুলোময়। সেখানে বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ না থাকায় উদ্যোগটি নেন জুরোব।

    এএফপিকে জুরোব বলেন, মিসরে পালিয়ে আসা এসব শিশুর জন্য কোনো স্কুল বা শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণে তাদের জন্য একটি শিক্ষাকেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    ত্রিশের কোঠায় থাকা জুরোবও যুদ্ধের শিকার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরাইলে হামলার পর ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রায় ছয় মাস পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাজা ছাড়েন তিনি। পরে তারা এল-আরিশে আশ্রয় নেন। শহরটি গাজায় ত্রাণ পাঠানো এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।

    জুরোবের মতো সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারেরই গাজা ও মিসর—দুই পাশেই স্বজন রয়েছে। এল-আরিশে পৌঁছানোর পর আত্মীয়দের সহায়তায় নতুন জীবন শুরু করেন তারা।

    শুরুতে আরও কয়েকজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া করা একটি ভবনে অল্পসংখ্যক শিশুকে পড়ানো শুরু করেন জুরোব। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই রূপ নেয় একটি বিনা মূল্যের পূর্ণাঙ্গ স্কুলে। বর্তমানে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এখানে পড়ছে। প্রথম বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০।

    শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। জুরোব জানান, ভবন ভাড়া ও শিক্ষা উপকরণের খরচ মেটাতে এখন সহায়তা করছে মিসরের অন্যতম বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠান মিসর এল খেইর ফাউন্ডেশন।

    উত্তর সিনাইয়ে বর্তমানে এটিই একমাত্র ফিলিস্তিনি স্কুল। অঞ্চলটি মিসরের প্রত্যন্ত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর একটি। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সেখানে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা অভিযানও চলেছে।

  • পিটিআইয়ের লংমার্চ

    পিটিআইয়ের লংমার্চ

    কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে লংমার্চ শুরু করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীরা । রোববার খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে সোয়াবি পর্যন্ত লং মার্চের প্রথম ধাপ শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ অভিমুখে কোনো পদযাত্রার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, কোনোভাবেই মিছিলকে ইসলামাবাদের সীমানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

    এরআগে, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির দেওয়া এক বিবৃতি জানানো হয়, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১ টায় লাক্কি মারওয়াতের গান্ধী চক থেকে লং মার্চের প্রথম ধাপ শুরু হয়। এরপর ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তান, বান্নু ও লাক্কি মারওয়াতের নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেবেন। রাতে কাফেলা কারাক এলাকায় অবস্থান করবে। এরপর কোহাট, পেশোয়ার ও চরসাদ্দার দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

    আগামী ৮ অক্টোবর খাইরাবাদে কেপির বিভিন্ন এলাকা থেকে পিটিআই নেতাকর্মীদের সমবেত করার পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    দলীয় প্রতিষ্ঠাতার কারাবাসের প্রতিবাদে পিটিআই গত আগস্ট মাসে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘লং মার্চ’ ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের দু-একদিন আগে দলটি এই কর্মসূচি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছিল।

    পিটিআইয়ের ‘লং মার্চ’ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে শনিবার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

  • এআই নিরাপত্তা প্রধানের পদত্যাগ

    এআই নিরাপত্তা প্রধানের পদত্যাগ

    ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান ডেভিড রবিনসন পদত্যাগ করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। রবিনসনের অভিযোগ, দ্রুতগতিতে নতুন এআই পণ্য উন্মোচনের প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না।

    দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রবিনসন বলেন, শুধু নতুন আইন বা নিরাপত্তা নীতি নয়, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংগঠনিক সংস্কৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। তার মতে, সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যর্থতাগুলো আরো গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

    সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের এজেন্টগুলো মানুষের সরাসরি তদারকি ছাড়াই কাজ করে হাগিং ফেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম চালানোর ঘটনায়ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ালেও রবিনসনের দাবি, এআই উন্নয়নের বর্তমান গতি ঝুঁকির তুলনায় অত্যন্ত বেশি।

    এদিকে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন গবেষকও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে এ ধরনের নির্দিষ্ট পূর্বাভাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সীমিত।

    রবিনসনের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআই এমনভাবে কাজ করতে পারে, যা মানুষের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে। যেমন—হাসপাতালের কম্পিউটার ব্যবস্থা জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা।

  • নিষেধাজ্ঞায়ও থামানো যাবে না যুদ্ধ: আরাগচি

    নিষেধাজ্ঞায়ও থামানো যাবে না যুদ্ধ: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। খবর আনাদোলুর।

    রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘এর কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ওপর ভিত্তি করেও কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না।

    আরাগচি বলেন, কেবল আলোচনা, ন্যায়বিচার এবং কূটনৈতিক মর্যাদাবোধের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া পদক্ষেপই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে। এবং এর পাশাপাশি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ও বেআইনি আগ্রাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি চূড়ান্ত সমাধান নিশ্চিত করতে পারে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নেয়, তবে আরো জোরালোভাবে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।

    গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তির পর থেকেই যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো কৌশলগত জলপথে নৌ-চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পথ সুগম করা।

  • মহাকাশ যুদ্ধের হুমকি দিলো রাশিয়া

    মহাকাশ যুদ্ধের হুমকি দিলো রাশিয়া

    ইউক্রেনের অনুরোধে রাশিয়ার নতুন ‘রাশভেট’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক অচল বা বন্ধ করা হলে তা ধ্বংসের শামিল হবে এবং এর পরিণতিতে ‘পূর্ণাঙ্গ মহাকাশযুদ্ধ’ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। খবর আনাদোলুর।

    রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মহাকাশ অত্যন্ত জনাকীর্ণ একটি জায়গা; তাই আমাদের একে অপরের প্রতি সৌজন্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

    মেদভেদেভ বলেন, আমি আশা করি আমেরিকানরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে। কারণ, তা না হলে তাদের লো-অরবিট বা নিম্ন-কক্ষপথের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো শুকিয়ে যাওয়া ক্রিসমাস ট্রি থেকে ঝুলে থাকা অলঙ্কারের মতোই নিচে খসে পড়বে।

    এর আগে শনিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ও চীনের যেসব প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজ করছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন।

    জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়াকে এই প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করছে চীন। তার ধারণা, রাশিয়ার রাশভেট নেটওয়ার্ক চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে কার্যকর হতে পারে।

    তিনি বলেন, রাশিয়ার এ ধরনের স্যাটেলাইট সক্ষমতা ইউক্রেনে রুশ বিমান হামলার নির্ভুলতা বাড়াতে পারে। মস্কো বর্তমানে ইউক্রেনে তাদের আকাশপথের অভিযান আরও জোরদার করছে।

    মেদভেদেভের সর্বশেষ মন্তব্যে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • শরণার্থীদের ঘাড়েই কেন দোষ: রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ | সাক্ষাৎকারে নাজমুস সাকিব

    শরণার্থীদের ঘাড়েই কেন দোষ: রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ | সাক্ষাৎকারে নাজমুস সাকিব

    ইউনিভার্সিটি অব কেন্টাকির লুইস অনার্স কলেজের প্রভাষক এবং বেঙ্গল কাউন্সিলের সদস্য ড. নাজমুস সাকিব অ্যাডাম বেনসাইদের সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী কীভাবে শরণার্থীদের ‘অপর’ করে দেখে এবং শরণার্থীর আগমন কীভাবে জনতুষ্টিবাদী বক্তব্যকে উসকে দেয়। কথা হয়েছে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, রোহিঙ্গাদের জন্য কমে আসা সহায়তা এবং বাংলাদেশের এখন কী করা উচিত, তা নিয়েও।

    অধ্যায়

    • 0:00 ট্রেলার
    • 0:50 পরিচিতি
    • 2:07 শরণার্থী কেন তাঁর গবেষণার বিষয়
    • 4:30 রোহিঙ্গাদের নিয়ে কর্মকর্তারা যেভাবে কথা বলেন
    • 7:07 আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী শরণার্থীদের কীভাবে দেখে
    • 14:26 জরিপে যা উঠে এসেছে
    • 17:48 শরণার্থী ও জনতুষ্টিবাদী বক্তব্য
    • 24:33 ভারত, বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গ
    • 26:34 অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি
    • 31:59 বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতি
    • 37:40 রোহিঙ্গাদের জন্য কমে আসা সহায়তা
    • 43:31 বাংলাদেশের এখন কী করা উচিত
    • 49:17 বিশ্বের প্রতি বার্তা
  • বেশকটি দেশ মক্কা জোটে যোগ দিতে চায়

    বেশকটি দেশ মক্কা জোটে যোগ দিতে চায়

    ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দিতে ছয়টিরও বেশি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে কোন কোন দেশ এই জোটে যোগ দিতে আগ্রহী, তা প্রকাশ করেননি তিনি।

    শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসহাক দার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইসহাক দার বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত আত্মরক্ষামূলক। এর কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে।

    গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

    চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী সপ্তাহে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান ইসহাক দার। তার দাবি, সৌদি আরব এরই মধ্যে ১৭ থেকে ১৮টি হামলার শিকার হয়েছে।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ জাতিসংঘ সনদ এ ধরনের জোটকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ন্যাটোর উদাহরণ টানেন ইসহাক দার।

    এদিকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নুমান মাহমুদকে মনোনীত করা হয়েছে। ইসহাক দার তাকে ‘অত্যন্ত ভালো ও ধর্মপ্রাণ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমের জন্য কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ থাকা উচিত নয়।

    আফগানিস্তান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে ইসহাক দার বলেন, আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শুভকামনা রয়েছে। তবে কাবুলকে নিশ্চিত করতে হবে, দেশটির ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়।

    তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আফগানিস্তানকে প্রমাণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • গো-পাচারের গুজবে ভারতে পুড়িয়ে মুসলিম যুবক হত্যা

    গো-পাচারের গুজবে ভারতে পুড়িয়ে মুসলিম যুবক হত্যা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে চরম উগ্রবাদ ও সংখ্যালঘু নিধনের ভয়াবহ চিত্র। নিছক গরু পাচারের সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় যে পৈশাচিক বর্বরতা চালানো হলো, তা আরও একবার ভারতের মাটিতে মুসলমানদের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও করুণ পরিস্থিতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

    শুক্রবার গভীর রাতে তারাবাড়ি এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি চারচাকা গাড়ি প্রবেশ করতেই সন্দেহবশত উন্মত্ত জনতা সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। কোনো রকম আইনি পদক্ষেপ বা যাচাইয়ের তোয়াক্কা না করে শুরু হয় নির্মম গণপিটুনি। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা, ভ্যানচালক শহিদ আখতারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বড় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয় এবং পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    প্রাণভয়ে চারচাকা গাড়িটি ফেলে আরও চার যুবক পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাদের ধাওয়া করে বাগডোগরার ধিমাল বস্তি এলাকায় ধরে ফেলে। সেখানেও চলে অমানবিক নির্যাতন, যার জেরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হরিয়ানার বাসিন্দা শাদ মহম্মদের। বাকিদের মধ্যে কোনোক্রমে এক যুবক দৌড়ে পালিয়ে পানিঘাটা থানায় আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। আমির, আরিফ খান ও আক্রম নামের আরও কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এক সুপরিকল্পিত সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘৃণ্য রূপ। গো-রক্ষার নামে এক শ্রেণির উগ্রবাদী মানুষ আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে মুসলিমদের ওপর নিয়মিত প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। বর্তমান ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা এমন এক ভয়াবহ ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতির শিকার, যেখানে স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে যেকোনো সময় তাদের পিটিয়ে মারা হতে পারে।

    পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে সম্প্রীতির কথা বলা হয়, সেখানেও এমন প্রকাশ্য গণপিটুনি ও পুড়িয়ে মারার ঘটনা প্রমাণ করে যে মুসলমানদের জীবনের নিরাপত্তা তলানিতে এসে ঠেকেছে।

    শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি ইস্ট অনির্বাণ মজুমদার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের গণপিটুনির ঘটনায় দোষীরা প্রায়শই পার পেয়ে যায়, যা এই উন্মত্ত জনতাকে আরও বেপরোয়া করে তোলে।

    পুরো রাজ্য জুড়েই যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনিই যে এখন বিচারব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ মিলেছে কলকাতার উপকণ্ঠে সোনারপুরেও। সেখানে পুরোনো খুনের আক্রোশের জেরে গোপাল হালদার নামের এক যুবককে গ্যারেজ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একইভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

    রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এভাবেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জনতা স্বঘোষিত বিচারকের ভূমিকা পালন করছে। এই সার্বিক নৈরাজ্য ও বিচারহীনতার বাতাবরণে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলমানরা আজ এক চরম অস্তিত্বসংকট ও ভীতির মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    তাদের রুটিরুজির পথ যেমন ক্রমশ সংকুচিত করা হচ্ছে, তেমনই রাস্তায় বেরোলে স্রেফ সন্দেহের বশে যখন-তখন প্রাণ হারানোর আতঙ্কে প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে হচ্ছে। মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এই নগ্ন চিত্র গোটা উপমহাদেশের সভ্য সমাজের কাছেই আজ এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।

  • ভারতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা

    ভারতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা

    বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা’ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

    শনিবার ‘বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান’ এবং রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-এর যৌথ উদ্যোগে এ বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়।

    জানা গেছে, শনিবার দুপুরে শিয়ালদহ রেল স্টেশন থেকে দুটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলে বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনী এবং এনসিপিআই-এর অর্ধশতাধিক সমর্থক অংশ নেন। মিছিলটি বাংলাদেশ মিশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মিশন থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে শক্ত ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়।

    বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে জোরপূর্বক মিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এর ফলে মিশন সংলগ্ন ব্যস্ত সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    পুলিশি বাধায় বিক্ষোভকারীরা মিশনের সামনে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ডেপুটি হাইকমিশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পাঁচজনের একটি প্রতিনিধি দলকে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রতিনিধি দলটি ডেপুটি হাইকমিশনে প্রবেশ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান এবং চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তির দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করে। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে আন্দোলনকারীরা মিশন চত্বর ত্যাগ করেন।

  • আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এখন ‘পূর্ণতা পেয়েছে’ : আইআরজিসি

    আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এখন ‘পূর্ণতা পেয়েছে’ : আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং মহাকাশ বাহিনীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি বলেছেন, ইরানের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সামরিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

    আল জাজিরা শনিবার (৩ অক্টোবর) জানায়, ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বালালি বলেন, দেশটির ‘ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এখন আর অন্য কারো সহায়তার প্রয়োজন নেই।’

    ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়টিকে ছবি আঁকা শেখার সাথে তুলনা করেন বালালি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কৌশল আয়ত্তে চলে এলে একজন শিল্পী নিজের ইচ্ছামতো ‘যেকোনো ছবি আঁকতে পারেন’।

  • ইউক্রেনের নর্দার্ন সেতুতে রাশিয়ার হামলা

    ইউক্রেনের নর্দার্ন সেতুতে রাশিয়ার হামলা

    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ডিনিপ্রো নদীর ওপর অবস্থিত নর্দার্ন সেতুতে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ এ ঘটনায় রাজধানীতে যান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) ড্রোন হামলার সতর্কতার পর নর্দার্ন সেতুতে এ হামলা হয়। এর এক দিন আগে সাউদার্ন সেতুতে হামলা হয়েছে। নগর কর্মকর্তারা জানান, এসব হামলা কিয়েভকে ‘তছনছ করে দিচ্ছে’।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সঙ্ঘাত মূলত পূর্বাঞ্চলের স্থলযুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলছে। ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি এলাকাগুলোর তুলনায় কিয়েভ এতদিন অপেক্ষাকৃত কম ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।

    কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে বলেন, ‘নর্দার্ন সেতুতে হামলা হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন।

    পরবর্তী এক আপডেটে ক্লিৎসকো জানান, হামলায় সেতুর সড়কের অংশ ও ট্রলিবাসের বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে সেতুটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

    এর আগে, দনিপ্রো নদীর ওপর থাকা একাধিক সেতুতে হামলা হয়েছে। এসব সেতু কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করে নির্মিত।

  • পশ্চিম তীরে বাড়িতে বাড়িতে ইসরাইলিদের হামলা

    পশ্চিম তীরে বাড়িতে বাড়িতে ইসরাইলিদের হামলা

    দখলকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরাইলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীরা গ্রেপ্তার, সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, স্থাপনা ধ্বংসের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।

    পশ্চিম তীরের রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আল-মুগাইয়ির গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরের কাছে একটি এলাকায় ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা হামলা চালিয়েছে।

    ঘটনাস্থলে থাকা আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, এ সময় তাদের সুরক্ষা দিচ্ছিল ইসরাইলি সেনারা। অন্যদিকে, নাবলুস গভর্নরেটের বেইতা শহরের আজ-জাহরা এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা।

  • শীঘ্রই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ-ট্রাম্প

    শীঘ্রই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ-ট্রাম্প

    আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধের অবসান হতে পারে। অ্যালাবামায় এক র‌্যালিতে ট্রাম্প এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের ।

    এদিন র‌্যালিতে ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন যে তেহরানে কার সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো, সেখানে চুক্তি করার জন্য কেউ নেই। তিনি কৌতুকের সুরে বলেন, নক নক, বাড়িতে কেউ নেই।

    এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ৩১০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এদিন আরও বলেন, যুদ্ধ একবার শেষ হলে অবিলম্বে তেলের দামে পতন হবে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প এখন বারবার বলছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। এর আগে গত ১ অক্টোবর বলেন, ইরান ভালো কিছু করছে না এবং এই যুদ্ধ আর বেশিদিন স্থায়ী হবে না।

  • সৌদি ও কাতারে বাড়তি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    সৌদি ও কাতারে বাড়তি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় গত মাসে দুটি বাড়তি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্রের বরাতে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) এ খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ব্যাটারি বসানো হয়েছে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার সুরক্ষায়, অন্যটি কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায়। স্থাপনা দুটির নাম জানানো হয়নি।

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার তীব্র হলে তেহরানের পাল্টা হামলা থেকে এসব স্থাপনা বাঁচানোই এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার বড় পরিসরে অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলে মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষিত থাকবে, রিয়াদ ও দোহাকে সেই নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছে ওয়াশিংটন।

    অ্যাক্সিওস জানায়, আগস্টের শুরুতে সৌদি আরব ও কাতারের নেতারা ট্রাম্পকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাতসহ বড় ধরনের হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এর জবাবে ইরান তাদের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হানবে।

    ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় অভিযান চালাতে হলে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে রিয়াদের অনুমতি লাগবে যুক্তরাষ্ট্রের। তেল স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে সৌদি আরব সেই অনুমতি দেবে, এমন সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) একজন মুখপাত্র।

    সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। জ্বালানিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনা আক্রান্ত হলে কাতারএনার্জি সেখানে কার্যক্রম বন্ধ রাখে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল। এখন তা আংশিক চালু হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তাকে এখন একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার ভাষ্য, ইরান হয় একটি ন্যায্য চুক্তিতে সই করবে, নয়তো দেশটির আর অস্তিত্ব থাকবে না।

    সূত্র: অ্যাক্সিওস, টাইমস অব ইসরায়েল, অয়েলপ্রাইস ডটকম

  • মাস্কের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা জানালেন শিভন জিলিস

    মাস্কের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা জানালেন শিভন জিলিস

    মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও ব্যবসায়িক সহযোগী শিভন জিলিস। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

    জিলিস লিখেছেন, কোনো আগাম ইঙ্গিত ছাড়াই মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদে পৌঁছানো কঠিন, তবে কখনো কখনো এমনই ঘটে। তিনি জানান, মাস্কের অভাব তিনি অনুভব করবেন। তাদের চার সন্তানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং আশা করেন, দুজন বন্ধু হিসেবে ও সন্তানদের সহ-অভিভাবক হিসেবে থাকবেন।

    মাস্ক এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, জিলিসের পোস্টের কোনো জবাব না দিয়ে তিনি এক্সে নিজের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, স্টারলিংক ও টেসলা নিয়ে পোস্ট করে গেছেন।

    শিভন জিলিস মাস্কের মস্তিষ্ক-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের একজন নির্বাহী। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানটির অপারেশনস ও বিশেষ প্রকল্পের পরিচালক এবং মাস্কের একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।

    দুজনের চার সন্তান। ২০২১ সালে আইভিএফ পদ্ধতিতে তাদের যমজ সন্তানের জন্ম হয়। তৃতীয় সন্তানের জন্ম ২০২৪ সালে, চতুর্থটির ২০২৫ সালে।

    দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল। চলতি বছর ওপেনএআই-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে জিলিস সাক্ষ্য দিলে তা প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে।

    দ্য ইনডিপেনডেন্টের হিসাবে, চারজন নারীর সঙ্গে মাস্কের মোট ১৪ সন্তানের কথা জানা যায়। মাস্ক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী।

    সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য ইনডিপেনডেন্ট

  • আন্দোলনের ডাক দিল ‘ককরোচ’রা

    আন্দোলনের ডাক দিল ‘ককরোচ’রা

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এ ডাক দেয় তারা। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

    গতকাল শুক্রবার মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে দলের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও সেখানে সমর্থকরা জমায়েত হয়। বিক্ষোভ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।

    বিক্ষোভ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দীপকে। তিনি বলেন, এর মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরে যন্তর মন্তরে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

    হুঁশিয়ারি দিয়ে দীপকে বলেন , দিল্লি যাওয়ার পথে পুলিশ তাদের বাধা দিলে যেখানেই আটকানো হবে, সেখানেই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে এবং মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের নীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হবে।

    এর আগে গত ২ অক্টোবর দিল্লিতেও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছিল। যন্তর মন্তরের কাছে অনুমতি ছাড়া জমায়েতের অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতীশী, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আইসা নেত্রী নেহা বোরা এবং আম আদমি পার্টির কয়েকজন নেতাও ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই কর্মসূচি থেকে ৭০০-র বেশি মানুষ আটকের কথা বলা হয়েছে।

    মুম্বাইয়ের কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও গায়ক বিশাল দাদলানিসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি। শিবাজি পার্কের সমাবেশে দীপকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন।

    ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

  • জেন জির বিক্ষোভে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে

    জেন জির বিক্ষোভে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে

    আরও সহিংস রূপ নিয়েছে ফ্রান্সজুড়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ । শুক্রবার বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক ও স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে। এদিন প্রায় ৪০০ স্কুল বন্ধ ছিল। দেশটির মোট ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৬৪টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

    মোট কথা শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোথাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

    গত সেপ্টেম্বর প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ক্লাস, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, অতিরিক্ত গরম শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছে।

    প্যারিসের কেন্দ্রীয় একটি স্কুলের ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থী সাইমন বলেন, তাদের এক বছর ধরে বিজ্ঞান শিক্ষক ছিল না। পাঠ্যবইও পর্যাপ্ত নেই। তার দাবি, শহরতলির স্কুলগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ।

    পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রেস্টে কেরিশেন উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পূর্বাঞ্চলীয় বেলফোর শহরে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ঘটনাটিকে অসহনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। নিয়মিত কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারে অনেক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। পুলিশের বিরুদ্ধে তিন বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগের পর বাহিনীটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।

    দক্ষিণাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে কাঁদানে গ্যাসের প্রভাবে চোখে জ্বালাপোড়া হলে বিক্ষোভকারীরা একে অপরকে চোখের ড্রপ দিতে দেখা যায়। প্যারিসের উত্তরে অবারভিলিয়েতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে।

    এদিকে আন্দোলনটি দেশটির রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সরকার অভিযোগ করেছে, বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডের নেতৃত্ব আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। দলটির নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে দলটির নেতা ম্যানুয়েল বমপার সরকারের অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলো শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার দাবি, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ৬৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০ জন প্রধান শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭০ এবং ১০০টির বেশি স্কুলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভে সন্তানদের কারণে কোনো সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দারমানিনের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

  • ফাতিমা আল-ফিহরিই প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়

    ফাতিমা আল-ফিহরিই প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়

    শহরের কেন্দ্রের দিকে তাকালে চোখে পড়ে সবুজ সিরামিক টালির ছাদ। এসব ছাদের নিচেই শত শত বছর ধরে জ্ঞানের চর্চা হয়ে আসছে আল কারাউইয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ মরক্কোর প্রাচীন শহর ফেজ। পাহাড়ঘেরা এ শহরের সরু ও আঁকাবাঁকা গলিতে এখনো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচল করে না।

    ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আল কারাউইয়্যিনকে ইউনেস্কো ও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বর্তমানে চালু থাকা বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ইতালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় এর দুই শতাব্দীরও বেশি পরে, ১০৮৮ সালে। অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয় আরও পরে।

    তবে আল কারাউইয়্যিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একজন মুসলিম নারী—ফাতিমা আল-ফিহরি।

    ফাতিমা আল-ফিহরি কে ছিলেন

    ইতিহাসবিদ ইবনে আবি জারের চতুর্দশ শতাব্দীর গ্রন্থ ‘রাওয আল-কিরতাস’-এ ফাতিমা আল-ফিহরি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন আরবের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের উত্তরসূরি। তার পরিবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের যাতায়াত ছিল।

    আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টাব্দে তিউনিসিয়ার কাইরুয়ান শহরে জন্ম নেন ফাতিমা। তার পুরো নাম ছিল ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ আল-ফিহরি আল-কুরাইশিয়া।

    ব্যবসায়িক কারণে তার বাবা মুহাম্মাদ আল-ফিহরি পরিবার নিয়ে মরক্কোয় চলে যান এবং শেষ পর্যন্ত ফেজে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে ব্যবসায় সাফল্য পেয়ে তিনি ধনী হয়ে ওঠেন। পরিবার থেকেই ফাতিমা ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন-হাদিস ও ফিকাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।

    বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামীকে হারান ফাতিমা। একই সময়ের কাছাকাছি তিনি বাবা ও ভাইকেও হারান। ফলে উত্তরাধিকারসূত্রে বিপুল সম্পদের মালিক হন তিনি ও তার বোন মারিয়াম আল-ফিহরি।

    সম্পদ দিয়ে মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র

    উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ বিলাসিতায় ব্যয় না করে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন দুই বোন। মারিয়াম তার সম্পদের বড় অংশ দিয়ে নির্মাণ করেন আল আন্দালুস মসজিদ।

    আর ফাতিমা নিজের সম্পদ দিয়ে নির্মাণ করেন একটি বড় মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র। ইতিহাসবিদদের মতে, ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের ১ রমজান এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে মসজিদের মূল ভবন তৈরি হলেও পুরো কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হতে আরও বহু বছর লেগেছিল।

    সবুজ টালির ছাদ ও নকশা করা মেঝের আল কারাউইয়্যিন প্রাঙ্গণ
    মরক্কোর ফেজ শহরে আল কারাউইয়্যিন মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। ছবি: মোমেদ সালহি/উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

    ফাতিমা নিজে নির্মাণকাজ তদারক করতেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর নিজের জন্মস্থান তিউনিসিয়ার কাইরুয়ানের নাম অনুসারে এর নাম দেন ‘আল কারাউইয়্যিন’।

    মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়

    প্রতিষ্ঠার শুরুতে আল কারাউইয়্যিন ছিল মূলত মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে সেখানে ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ, আইন, গণিত, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষাদান শুরু হয়।

    মধ্যযুগে মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি ও খ্রিস্টান শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়াশোনা করেছেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়।

    ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন, মালিকি বিচারপতি ইবনে আল-আরাবি ও জ্যোতির্বিদ নূরুদ্দীন আল-বিতরুজির মতো জ্ঞানী ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    মরক্কোর ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আল-মানুনির মতে, আনুমানিক ১০৪০ থেকে ১১৪৭ সালের মধ্যে আল কারাউইয়্যিন উচ্চশিক্ষার একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু ছিল।

    সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার

    আল কারাউইয়্যিন কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর গ্রন্থাগার। ১৩৫৯ সালে মারিনিড রাজবংশের শাসনামলে এটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। সেখানে মধ্যযুগের ২০ হাজারের বেশি হাতে লেখা বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার দুর্লভ গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি।

    সংগ্রহে রয়েছে ইমাম মালিক ইবনে আনাসের ‘আল-মুওয়াত্তা’, ইবনে ইসহাকের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী এবং ইবনে খালদুনের ‘মুকাদ্দিমাহ’ ও ‘আল-ইবার’-এর পাণ্ডুলিপি। কোরআনের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপিও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

    ১৯৬৩ সালে রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আল কারাউইয়্যিনকে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬৫ সালে এর নামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটি যুক্ত হয়।

    এক হাজার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে আজও ফেজ শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা আল কারাউইয়্যিন তাই শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

  • পশ্চিম তীর আমাদের: বেন-গভির

    পশ্চিম তীর আমাদের: বেন-গভির

    ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পুরো পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করেছেন । সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরের এ, বি ও সি এই তিন অঞ্চলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং পুরো জমিটিই ইসরাইলের।

    তিনি ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতে পারলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে দিয়ে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে তাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি আরও বলেন, সেনাদের যত বেশি গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে, তত কম সেনা প্রয়োজন হবে। দায়িত্ব পেলে তিনি সেনাদের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেবেন বলেও জানান।

    বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ইসরাইলি নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টরপন্থী ভোটারদের মন জয় করতেই বেন-গভির এই ধরনের উগ্র ও উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন।

  • বিনিয়োগ করলেই নাগরিক!

    বিনিয়োগ করলেই নাগরিক!

    আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। লাতিন আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আর্জেন্টিনা গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও মেক্সিকোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)।

    অর্থনীতিবিদ মার্সেলো এলিসোন্দো বলেন, তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো অপেক্ষা করছেন আর্জেন্টিনার অস্থির অর্থনীতি সময়ের সঙ্গে এসব সংস্কার টেকসই কি না, তা প্রমাণ করার জন্য।

    শুক্রবার সরকার ঘোষিত ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য দুটি সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা উইক উপলক্ষে কর্মসূচিটি ঘোষণা করা হয়।

    প্রথম পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার সরাসরি অনুদান দিতে হবে। এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে সরকার বিশেষভাবে এই কর্মসূচির জন্য যে ৮ লাখ ডলারের বন্ড তৈরি করবে, তাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর জন্য প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে কোষাগারে ১ লাখ ডলার এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা সরকার বলেছে, এই বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ দেশের রাজস্ব ও আর্থিক অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, বিনিয়োগগুলো একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে অর্থের উৎস ও লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অর্থপাচার ঠেকানো ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা হবে।

    মিলেই চলতি সপ্তাহে প্যারিস সফর করেন এবং ওইসিডিতে আয়োজিত আর্জেন্টিনা উইক অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    সফরে তিনি বেশ কয়েকটি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পান। এর মধ্যে ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস প্যাটাগোনিয়ায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের খনিশিল্প প্রতিষ্ঠান গ্লেনকোর একটি তামা প্রকল্পে ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিলেই সরকারের এই ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি চলতি বছরের শেষ দিকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

    মঙ্গলবার আদালত মিলেই সরকারের ২০২৩ সালের একটি ডিক্রি বহাল রাখে। ওই ডিক্রির মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানায় থাকা ১৫ শতাংশ সীমা বাতিল করা হয়েছিল।

    ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আর্জেন্টিনা ৩.১৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ পেয়েছে।

    এর তুলনায় একই সময়ে ব্রাজিল পেয়েছে ৭৬.৮৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং মেক্সিকো পেয়েছে ৪০.৮৭১ বিলিয়ন ডলার।

  • সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া

    সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া

    আগামী বছর থেকে রাশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপকভাবে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো এবং কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাশিয়ার খসড়া বাজেটের নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। মস্কো প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভে বিমান হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনুমোদনের জন্য খসড়া বাজেটটি জমা দেওয়া হয়েছে।

    খসড়া বাজেট অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়া রেকর্ড ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ২০৪ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।

    ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিরক্ষা ব্যয় কমার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পূর্বাভাস একাধিকবার ছাড়িয়ে গেছে।

    ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র বলেন, প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়তে পারে, কারণ এ খাতের প্রকৃত ব্যয়ের বড় অংশ গোপন রাখা হয়।

    তার মতে, প্রকাশিত অঙ্কগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে বাজেট নিয়ে আলোচনার কেবল প্রাথমিক প্রস্তাব।

    গত সপ্তাহে খসড়া বাজেট প্রকাশের সময় রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সামাজিক কল্যাণ ও প্রতিরক্ষা দুই খাতকেই ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তবে বাজেটের নথিতে সামরিক খাতের বাইরে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ২০২৭ সালের জন্য মূল পরিকল্পনার তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি করে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সামাজিক কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমতে পারে ৬ শতাংশের বেশি।

    বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে সরকার কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক আমানত ও সম্পত্তি বিক্রির ওপর করের হার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বাড়ছে ঋণ

    ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বাজেটে প্রতি বছরই ঘাটতি হয়েছে। ২০২৭ সালে বাজেট ঘাটতি প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুবল বা ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুবল ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, নতুন হিসাব তার তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি।

  • লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রভাব বেশি

    লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রভাব বেশি

    লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত ১৭টি লাতিন আমেরিকান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    চলতি ২০২৬ সালের লাতিনোব্যারোমেট্রো জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।

    জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৫৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন। ২০২০ সালে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক বলে মনে করেছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ।

    লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে শুধু কোস্টারিকা ও ডমিনিকান রিপাবলিকে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরের দুই দশকে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ‘প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি’ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

    লাতিনোব্যারোমেট্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস এএফপিকে বলেন, ওই সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

    তার মতে, কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিয়ে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে।

    লাগোস বলেন, চীন যে শূন্যস্থান পূরণ করেছে, সেটি মূলত মানুষের পকেটের শূন্যস্থান—অর্থাৎ কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ।

    তবে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের তুলনায় বেশি জনপ্রিয়। জরিপে ৬৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।

    তবে ২০২৪ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সে বছর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে থাকাকালে ৭৩ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছিলেন।

    প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নামটি ট্রাম্পের প্রথম নাম ‘ডোনাল্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নাম মিলিয়ে তৈরি। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটন যে অঞ্চলকে ‘আমাদের গোলার্ধ’ বলে উল্লেখ করে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর এই প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

    জরিপে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ছাড়া লাতিন আমেরিকার সব দেশেই বেশিরভাগ মানুষ মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করেছেন।

    তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা ভেনেজুয়েলার জন্য উপকারী হয়েছে। বিপরীতে ২৮ শতাংশ বলেছেন, এতে দেশটির ক্ষতি হয়েছে।

    তবে ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছেন।

    চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোব্যারোমেট্রো গণতন্ত্র, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মতামত নিয়ে জরিপ করে।

    চলতি ২০২৬ সালের এই জরিপে ১৭টি দেশে ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ২০০ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। জরিপটির ভুলের সম্ভাব্য সীমা ১ শতাংশ।

  • বিএসএফের হত্যা ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

    বিএসএফের হত্যা ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)–এর গুলিতে দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার বেদিয়ান সেক্টরে সীমান্তের কাছে গুলিতে আজমত রাসুল শাহ ও মোহসিন জাট্ট নিহত এবং আরও একজন আহত হন। পাকিস্তানের দাবি, নিহত ও আহতরা নিরস্ত্র ছিলেন এবং সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করলেও তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

    ঘটনাটিকে ‘উস্কানিবিহীন প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান এর স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্তসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

    পাকিস্তান আরও জানিয়েছে, নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করছে।

  • গোল্ডেন ভিসায় কেন কঠোর হচ্ছে দেশগুলো?

    গোল্ডেন ভিসায় কেন কঠোর হচ্ছে দেশগুলো?

    অন্য দেশে গিয়ে বসবাসের সুযোগ পেতে অনেক সময় চাকরি বা পড়াশোনার প্রয়োজন হয়। তবে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেও কোনো কোনো দেশে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থাই ‘গোল্ডেন ভিসা’ নামে পরিচিত। আবার কিছু দেশে বিনিয়োগের বিনিময়ে সরাসরি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

    ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ কোনো না কোনোভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি বা নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে। ধনী ও সচ্ছল মানুষের বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ থেকেই মূলত এই বিনিয়োগ-ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার বিস্তার ঘটেছে।

    কেন মানুষ গোল্ডেন ভিসা নেয়

    বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকা, সন্তানদের ভালো শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, ব্যবসার সুযোগ কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে দূরে থাকার জন্য অনেকে এসব কর্মসূচির দিকে ঝোঁকেন। কেউ কেউ করব্যবস্থা বা জীবনযাত্রার সুবিধার কারণেও অন্য দেশে বসবাসের সুযোগ খোঁজেন।

    বিশেষ করে চীনের ধনী নাগরিকদের মধ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ্রহ বেশি। তবে শুধু চীন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাই এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বিতর্ক কেন

    গোল্ডেন ভিসা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, শুধু অর্থের বিনিময়ে একজন বিদেশিকে কোনো দেশে বসবাসের সুযোগ দেওয়া কতটা নিরাপদ ও ন্যায্য? ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছে, এসব কর্মসূচি অর্থ পাচার, কর ফাঁকি বা অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    ২০১৮ সালে গ্রিসে চীনা বিনিয়োগকারীদের ঘিরে একটি প্রতারণার ঘটনা আলোচনায় আসে। অভিযোগ ছিল, দেশটির কিছু আবাসন ব্যবসায়ী বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    ইউরোপে কঠোর হচ্ছে নিয়ম

    এসব উদ্বেগের কারণে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য দেশগুলোর গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি বন্ধ করা এবং গোল্ডেন ভিসায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দিকে এগোয়। এর ফলে ইউরোপে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে।

    গ্রিস অবশ্য গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি চালু রেখেছে। ২০২৩ সালে দেশটির জনপ্রিয় কিছু এলাকায় সম্পত্তিতে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ইউরো করা হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

    স্পেনসহ কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্ত

    স্পেনও গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হতো। এসব কর্মসূচিতে রাশিয়া ও চীনের ধনীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

    বিনিয়োগের বড় অংশ আবাসন খাতে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে বাড়ির দাম ও ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও এ ধরনের কর্মসূচি বাতিল করেছে।

    সব মিলিয়ে বিনিয়োগের বিনিময়ে অভিবাসনের সুযোগ ধীরে ধীরে কমছে। অর্থনৈতিকভাবে এসব কর্মসূচি সরকারের জন্য লাভজনক হলেও অর্থ পাচার, আবাসন সংকট ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অনেক দেশ এখন সুবিধা-অসুবিধা নতুন করে বিবেচনা করছে।