লাইফস্টাইল

  • যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না

    যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না

    লাইফস্টাইল;

    অনেকেই রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেন না। সারাদিন পরিশ্রমের পরও সারারাত বিছানার এপাশ থেকে ওপাশে ফেরেন, কিন্তু চোখে ঘুম থাকে না। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইনসোমনিয়া বলা হয়। মূলত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে মানুষ এ সমস্যায় ভোগে বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে।

    ভারতের পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র জানান, শরীরে দুটি ভিটামিন ও একটি খনিজের অভাবে রাতে ঘুম আসে না। এগুলো হলো ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়াম।

    কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন ও খনিজের অভাব মিটবে

    ভিটামিন বি ১২
    স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি ১২ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি ১২ গ্রহণ করা জরুরি। ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি হলে শুধু ভুলে যাওয়াই নয়, রক্তে আরবিসি-ও কমে যায়। পাশাপাশি ইনসোমনিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, পালং শাক, বিট, দই, ছানার পানি, পনির রাখুন।

    ম্যাগনেশিয়াম
    সুস্থ থাকতে মিনারেল প্রয়োজন। আর ম্যাগনেশিয়াম হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা রকম রাসায়নিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম কমে গেলে রাতে ঘুমও আসে না।

    ভিটামিন ডি
    ভিটামিন-ডি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন। অনেকসময়-ই একে বলে ‘সাইশাইন ভিটামিন’। ভিটামিন ডি কমলে ঘুম কমে যায়। আজকাল বহু মানুষ এই ভিটামিনের অভাবে ভোগেন। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় সূর্যের আলোতে থাকলে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে

    লিভারে পৌঁছনো ও সেখান থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সেক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢোকে। ঘাটতি মেটাতে তৈলাক্ত মাছ খান। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, কিনোয়া, ডালিয়া, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই ইত্যাদিতে ভরপুর ভিটামিন-ডি থাকে।

    এছাড়া মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুম থেকে প্রায় ৪৫০ আইইউ ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। যারা মাশরুম পছন্দ করেন না, তারা পালং শাক খেতে পারেন। এতেও ভিটামিন ডি থাকে। বিভিন্ন রকম বাদাম ও বীজে ভিটামিন ডি থাকে। কুমড়ো বীজ, সূর্যমুখীর বীজ থেকে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। কাঠবাদাম, আখরোটে ভিটামিন ডি থাকে। তবে আখরোট দিনে দু’টির বেশি নয়, কাঠবাদাম ৪-৫টিই যথেষ্ট।

  • বাঁশশিল্পে ৪০ হাজার নারীর জীবন-জীবিকা

    বাঁশশিল্পে ৪০ হাজার নারীর জীবন-জীবিকা

    ফিচার:

    সুপ্রাচীনকাল থেকেই এ দেশে নারীদের তৈজসপত্র বা হস্তশিল্প তৈরিতে সুনাম রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নারীদের নিজস্ব সংস্কৃতির একটি শিল্প হলো বাঁশশিল্প। গ্রামীণ নারীদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ছাড়াও ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীর জীবনাচরণ এবং অনুভূতির প্রতীক এই শিল্প। নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত নারী কারিগররা বাঁশশিল্পের শৌখিন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের জীবনে আজও শৌখিনতার ছোঁয়া লাগেনি।

    ব্যাসকাঠির বাঁশশিল্প : সুকলা মজুমদারের কাছে তাদের বৈচিত্র্যময় জীবনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কম দামের এক টুকরো কাপড় আর দুমুঠো খাবারেই গুজরান নিত্যদিনের সম্বল।’ প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রীই ওদের সুখের জায়গা দখল করে নিয়েছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে অশ্রুসিক্ত জল আর দীর্ঘশ্বাস যেন বলে দেয়, ‘ওদের কাছে বেঁচে থাকা মানেই ভালো থাকা।’ আধুনিকায়নে এই হস্তশিল্প অনেকটা ম্লান হয়ে যাওয়ায় বাঁশশিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্বও কমে গেছে। স্বরূপকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর সুবিধাবঞ্চিত দুটি বাঁশশিল্প বন্ধ হয়ে গেছে আরো ৯ বছর আগে। বিংশ শতাব্দীর শেষদিকেও নেছারাবাদ উপজেলায় (স্বরূপকাঠি) ১৩৭টি গ্রামে ৪৬টি বাঁশশিল্প ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে ২৬টি বিলুপ্তি হয়ে গেলেও ২০টি শিল্প এখনো টিকে আছে।সারেংকাঠির বাঁশশিল্প : মালিক শিলা হালাদার বলেন, ‘বাপ-দাদার এ পেশায় এখনো আছি আর কয়দিন টিকে থাকতে পারব, তা জানি না।’ বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্রের বাজার দখল, বাঁশের অপ্রতুলতা, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও পরিকল্পিত উদ্যোগ না থাকায় বিলুপ্ত হতে চলছে নেছারাবাদের গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প। প্রায় পাঁচ যুগ আগেও গৃহস্থালি ব্যবহারে বাঁশের তৈরি বহুমাত্রিক পণ্যের ব্যবহার ছিল পল্লির ঘরে ঘরে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্ধশত বছর আগেও নেছারাবাদ উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার বাঁশশিল্পী নারী উদ্যোক্তা বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে পৈতৃক পেশায় জড়িত থেকে ৩০-৪০ প্রকারের শৌখিন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে বাঁশ হস্তশিল্প বিলুপ্ত হতে চলছে। গ্রামীণ নারীদের উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান ও সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি (গ্রামউকসক) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের যে কয়টি প্রাকৃতিক উপাদান লোকজীবনের সঙ্গে মিশে আছে, তার মধ্যে গ্রামীণ নারীদের বাঁশশিল্প একটি বড় সংস্কৃতি।

    নেছারাবাদ উপজেলায় পৈতৃক সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে করফা, সারেংকাঠি, গয়েসকাঠি, ভরতকাঠি, কাটাপিটানিয়া, জিরবাড়ি, খেজুরবাড়ি, লেবুবাড়ি, চিলতলা, রাজাবাড়ি, দেবদাসকাঠি, ব্যসকাঠিসহ ২০টি গ্রামে পাঁচ শতাধিক নারীপ্রধান পরিবারের প্রায় ৭ হাজার নারীশ্রমিক বাঁশশিল্পকে উপার্জনের প্রধান উৎস হিসেবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। এসব গ্রামের প্রত্যেকটি বসতবাড়ি এখনো যেন একেকটি বাঁশশিল্প প্রতিষ্ঠান। বিকাল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে বসে বুনছেন বাঁশের পণ্য এবং হাজারো নারী স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। নারীপ্রধান পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েরাও পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে মাকে সহযোগিতা করছে এ কাজে।

    চিলতলা গ্রামের বৈরাগী সেতু শিকদার বলেন, ‘১৩ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। চারটি ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার। বাঁশের চটি, বেতি বানিয়ে ওদের তিনজনের লেখাপড়া ও সংসার চালাতে হয়।’ জিরবাড়ির বাঁশশিল্পের কারিগর তালাকপ্রাপ্ত সবিতা ডালী বলেন, ‘স্বামীর সংসার অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। দুই সন্তান নিয়ে এ মাছ ধরা খলই তৈরি করে যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি।’

    ভরতকাঠির কবিতা হালদার বলেন, ‘বিকাল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বাঁশ দিয়ে আউড়া তৈরি করি। স্বামী বিভিন্ন এলাকার বাঁশশিল্পের পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি করে যে আয় করতেন, তা দিয়ে তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালোই চলত। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্য মোগো ভাত কেড়ে নিয়েছে। তার পরও পৈতৃক পেশা টিকিয়ে আছি।’বাঁশ দিয়ে কীভাবে গৃহস্থালি ব্যবহারের পণ্য তৈরি করা হয়, তা জানতে চাইলে গয়েসকাঠির বাঁশশিল্পের মালিক পুষ্প রানি বলেন, ‘প্রথমে পণ্য অনুযায়ী বাঁশ তিন দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর বাঁশ চিরে ফানা, কণসি, বাঁশের চটি, বেতি, আউড়া, মাড়াই ও পণ্য তৈরির মাপে চারপাশ বাঁধাই করার জন্য বাঁশের সুতি প্রস্তুত করে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়।’ এসব কাঁচা উপাদান দিয়ে পল্লির নারীদের নিপুণ হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় ঝুড়ি, চাটাই, ডালি, হাতপাখা, কুলা, চালুন, ঝাড়ু, খুঁচি, ভাত-তরকারি রাখার ঝাঁপা, মাছের খাঁচা, মাছ ধরার খলই, পশুর হাত থেকে গাছ রক্ষার খাঁচা, মুরগির বাচ্চা রাখার খলই, পুরা, খাড়াই, ঝাড়ঝড়ি, ঢাকনা, বইপত্র রাখার র‌্যাক, ধান-চাল রাখার মোড়াসহ প্রায় ২০-২২ ধরনের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতীক তৈরি করা হয়।

    কয়েকটি এলাকা সরেজমিন ঘুরে বাঁশের অনেক শৌখিন পণ্য তৈরির দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় কথা হয় দেবদাসকাঠির ৭০ বছর বয়সি বর্ষীয়ান বাঁশশিল্পের কারিগর হরিমন বিবির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২২ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। ছেলেমেয়েরাও খোঁজখবর নেয় না। বৃদ্ধ বয়সে বাঁশের আশ বানিয়ে যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকমে আছি। রোগবালাইয়ের শেষ নেই। ওষুধ কিনতে জান ফুরিয়ে যায়। আগের মতো এখন আর কাজ করতে পারি না। কাজ বন্ধ হয়ে গেলে কী খাইয়া যে বাচুম, হেয়া মুই জানি না রে বাজান!’

    সচেতন মহল মনে করে, এ শিল্পটি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সংস্থাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার ভূমিকায় এগিয়ে আসছে না। এ শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরিভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।এ ব্যাপারে স্বরূপকাঠির ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প (বিসিক) ম্যানেজার মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশশিল্পকে ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তকরণের বাস্তবায়নে মাঝারি শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ ও উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারিশিল্পে নারী উদ্যোক্তারা যাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, সেজন্য বিভিন্ন প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।

  • টাইলস পরিষ্কার ও ঝকঝকে রাখার উপায়

    টাইলস পরিষ্কার ও ঝকঝকে রাখার উপায়

    ফিচার:

    প্রত্যেকেই তার ঘরটি সুন্দর ও ঝকঝকে রাখতে চান। এজন্য অবশ্যই ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঘরের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ঝকঝকে সাদা টাইলস ঘরটি করে তোলে আরো বেশি উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়।টাইলস ও ব্যবহার : বর্তমানে ভবনের অন্দরে-বাইরে থিমভিত্তিক নকশার প্রচলন চলছে। তাই হরেক রকম টাইলসও পাওয়া যাচ্ছে। তবে মার্বেল, কংক্রিট, পোরসেলিন ও সিরামিক টাইলসের ব্যবহার চোখে পড়ছে বেশি। কোনো টাইলস মেঝের তাপ ও চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। আবার কিছু টাইলস দেখতে সুন্দর হলেও ভঙ্গুর প্রকৃতির। কিছু টাইলস আর্দ্রতা সয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তপোক্ত হয়, কিছু আবার আর্দ্রতা পেলে ক্ষয় হতে শুরু করে। তাই মেঝে বা দেয়াল যেখানেই টাইলস ব্যবহার করা হোক, সুবিধা-অসুবিধা আর পরিষ্কার করার উপায় জেনেই দীর্ঘস্থায়ী টাইলস লাগানো উচিত।যা দিয়ে পরিষ্কার করবেন : টাইলসের কঠিন ও জেদি দাগ দূর করতে সাদা ভিনেগার, বেকিং সোডা কিংবা বিশেষ বাণিজ্যিক টাইলস ক্লিনার ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত টাইলস পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজন মাইক্রোফাইবার কাপড়, সাধারণ ডিটারজেন্ট বা সোপ, হালকা গরম পানি, নরম ঝাড়ু বা ব্রাশ। টাইলস সহজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে নানারকম নিয়ম। টাইলস ঝকঝকে পরিষ্কার রাখার কিছু টিপস ও পরামর্শ দেওয়া হলো।

    সিরামিক : বাজারে বিভিন্ন আকারের চকচকে রঙবেরঙের সিরামিক টাইলস পাওয়া যায়। আজকাল আনগ্লেজড সিরামিক পাওয়া যায়। এই টাইলসগুলোর চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কম, তাই পরিষ্কার করার সময় শক্ত ব্রাশ ব্যবহার না করাই ভালো। ডিশ সোপ বা সাদা ভিনেগার আর হালকা গরম পানি ব্যবহার করে সহজেই এ টাইলসের দাগ পরিষ্কার করা যায়; এতে টাইলসের চকচকে ভাবটাও অটুট থাকে। আর স্পঞ্জের কাপড় ব্যবহার করে টাইলস পরিষ্কার করলে অবশ্যই বারবার ময়লা পানি পরিবর্তন করতে হবে। সেইসঙ্গে পরিষ্কার করে পানি শুকিয়ে যাওয়ার আগে শুকনা সুতি কাপড় দিয়ে মেঝে মুছে ফেলতে হবে। তাহলে টাইলসে পানির ছোপ ছোপ দাগ লেগে থাকবে না।

    পোরসেলিন : কম ভঙ্গুর ও সহজে দাগ পড়ে না বলে মেঝের টাইলস হিসেবে পোরসেলিন বেশ জনপ্রিয়। এতে নানা রকমের নকশা কপি করা যায়। মার্বেল বা কাঠের টেক্সচার—সবই হুবহু কপি করা যায়। পোরসেলিনের টাইলসও তরল সাবান অথবা ভিনেগারের সঙ্গে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে পরিষ্কার করা যায়। তবে রান্নাঘর বা বাথরুমের টাইলসের হলদে ভাব কাটানোর জন্য সপ্তাহে একবার অ্যাসিডিক বা ব্লিচ ক্লিনার সল্যুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি স্প্রে বোতলের সাহায্যে নোংরা জায়গায় ক্লিনার সল্যুশন স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। তারপর হাতে গ্লাভস পরে বাথরুমের ব্রাশ দিয়ে

    হালকা করে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। সরাসরি ক্লিনার সল্যুশন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই টাইলসে অল্প করে ফেলে পরীক্ষা করে নেবেন, টাইলসের রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায় কি না। অ্যাসিডিক ক্লিনার ব্যবহারে অনেক সময় টাইলস ক্ষয় হয়ে যায় বা বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই এ ধরনের ক্লিনার ব্যবহার করার আগে এর পিএইচ লেভেল দেখে কেনা উচিত।

    টেরাকোটা টাইলস : ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা টাইলস পরিষ্কার করার আগে প্রথমেই ভ্যাকুয়াম করা বা শুকনা কাপড় দিয়ে ধুলা মুছে নেওয়া উচিত। শক্ত ময়লার জন্য প্রয়োজনে ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। হালকা গরম পানি আর ডিশ ওয়াশার দিয়ে মুছে নিলেই এসব টাইলসের ময়লা ভাব কেটে যায়। অতিরিক্ত ময়লার জন্য অক্সালিক অ্যাসিড আর পানির মিশ্রণ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। হালকা গরম পানি আর ডিশ ওয়াশার দিয়ে মুছে নিলেই ময়লা ভাব কেটে যায়।

    কুয়েরি টাইলস : অনেকটা টেরাকোটা ধরনের টাইলস, তাই পিএইচ নিরপেক্ষতা বুঝে তেমন ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলাই ভালো। এই টাইলসে অ্যাসিডিক ক্লিনার ব্যবহারে টাইলস ক্ষয়ে যেতে পারে।

    জেল্লিজ টাইলস : এটি মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষত মরক্কোর তৈরি একধরনের পোড়ামাটি টাইলস। মেটে মেটে রঙের জ্যামিতিক নকশায় সাজানো এই টাইলসে ‘হাতে তৈরি’ ভাব থাকায় মিনিমালিস্ট ভক্তদের খুব পছন্দ। এই টাইলস বারান্দায় বা রান্নাঘরের দেয়ালে ব্যবহার করলে দু-চার দিন পরপর শুকনা কাপড় দিয়ে ধুলা পরিষ্কার করে নিতে হবে। অম্লধর্মী ক্লিনারের সাহায্যে এই টাইলস পরিষ্কার না করা ভালো।

    স্লেট টাইলস : সাদা-কালো রঙের বাড়ির জন্য স্লেট টাইলস। তামাটে কয়লা বা রুপালি রঙের মিশ্রণে এই টাইলসগুলা হয়ে থাকে। সাধারণত বাসার বাইরের রান্নাঘর, বারান্দা ও কটেজে ব্যবহারের উপযোগী। এমন টাইলস দু-এক দিন পরপর ভ্যাকুয়াম করে বা শুকনা কাপড়ে মুছে রাখলে দেখতে সুন্দর লাগবে।

    মার্বেল : মার্বেলের টাইলস সহজেই ঘর আলোকিত করে তোলে। গ্রানাইটের চেয়ে কম সহনীয় ও ভঙ্গুর হওয়ায় অন্দরে বেশি ব্যবহার করা হয়। মার্বেলের টাইলস যত্ন নিয়ে ব্যবহার করলে অনেক বছর পর্যন্ত নতুনত্বের ভাব রয়ে যায়। তবে অম্লধর্মী ক্লিনার মার্বেলে ব্যবহার করা যাবে না। মার্বেলের টাইলসে দাগ পড়লে এক চামচ বেকিং সোডা আর পানি মিশিয়ে পেস্ট করে দাগ বা ময়লা জায়গায় লাগাতে হবে। এরপর প্লাস্টিকের র‌্যাপিং দিয়ে মুড়িয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। শেষে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিলে দাগও পরিষ্কার হবে, সেইসঙ্গে মার্বেলের ঝকঝকে ভাব ফিরে আসবে।

    টাইলস যে ধরনেরই হোক না কেন, সাধারণ কিছু জিনিস মনে রাখা জরুরি।অনেক সময় দাগ বা ময়লা দুই কাটিং টাইলসের মাঝে বেশি লেগে থাকে। অনেকে এসবের জন্য স্টিমিং ক্লিনিংয়ের পরামর্শ দিলেও এটি টাইলসের জন্য ক্ষতিকর। তাই এতে বেকিং সোডা আর পানির পেস্ট তৈরি করে কয়েক ঘণ্টা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখাই ভালো। অথবা রাতভর এভাবে রেখে সকালে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় সিলিকন বেজ সিলিং করিয়ে নিলে। এতে ময়লা, আর্দ্রতা বা পানি—কোনোটাই টাইলসের ক্ষয় করতে পারে না।

  • অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    স্মার্টফোনের অবাধ বিস্তারের এই যুগে প্রতিদিনের ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামী জীবনযাপন সহজ করতে ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ’-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। সালাতের সময়সূচি, কিবলার দিকনির্ণয় কিংবা ডিজিটাল কোরআন তেলাওয়াতের সুবিধা দিয়ে এগুলো আধুনিক মুসলিমদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আত্মিক গভীরতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ধর্মীয় অনুশীলনে কতটা কার্যকর—তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর গবেষণার তথ্য সামনে এসেছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন (আইজেএইচসিআই)-এ প্রকাশিত ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ্লিকেশনস: মিটিং দ্য স্পিরিচুয়াল নিডস অব মডার্ন মুসলিমস’ শীর্ষক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, জনপ্রিয় অধিকাংশ ইসলামিক অ্যাপই কেবল প্রাথমিক কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে। তবে ব্যবহারকারীদের অন্তর্নিহিত প্রেরণা, ধর্মীয় আত্মশাসন, দক্ষতা এবং সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধিতে এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। কারণ এসব ব্যবহারকারীদের মানসিক ও আত্মিক বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাধীন ভাবনায় ঘাটতি তৈরি করছে।গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক মহসিনুল কবির, মোহাম্মদ রিজওয়ান কবির ও রিয়াসাত ইসলাম। গবেষণায় বহুল পরিচিত ১১টি ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপের কারিগরি ও মনস্তাত্ত্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি তরুণ মুসলিম ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    গবেষণায় মনস্তাত্ত্বিক ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন থিওরি’ (এসডিটি) এবং ‘টেকনোলজি-অ্যাজ-এক্সপেরিয়েন্স’ (টিএই) ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে অ্যাপগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশিরভাগ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অনুশীলনে স্বল্পমেয়াদি তাগিদ দিলেও আত্মিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে সঠিক মানসিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব বিবেচনা করে নির্মিত অ্যাপগুলো প্রযুক্তি ও ইসলামের মেলবন্ধনে আধুনিক মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার ‘আধ্যাত্মিক সঙ্গী’ হয়ে উঠতে পারে।

    গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণসমূহ হচ্ছে স্বাধীন অনুশীলনের অভাব (অটোনমি) রয়েছে। অধিকাংশ অ্যাপেই নামাজের তাগিদ বা অ্যালার্ম থাকলেও ইবাদতের সঠিক নিয়ম, অন্তর্নিহিত শিক্ষা বা ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক বিকাশের গাইডলাইন অনুপস্থিত। দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুর্বলতা (কম্পিটেন্স) রয়েছে। প্রোগ্রেস ট্র্যাকার বা লক্ষ্য নির্ধারণের যেসব ফিচার রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহারকারীর অগ্রগতি সম্পর্কে সঠিক ও বিশ্লেষণাত্মক প্রতিক্রিয়া (ফিডব্যাক) দেওয়া হয় না। ফলে কিছুদিন পর ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (রিলেটেডনেস) তৈরি করে। অ্যাপগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য শেয়ারের সুবিধা থাকলেও, বিশ্বস্ত ধর্মীয় গ্রুপ বা আলেমদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়ার কোনো সুরক্ষিত মাধ্যম নেই।

    বিজ্ঞাপন ও প্রাইভেসির বিতর্ক হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ইবাদতের পরিবেশ। গবেষণায় অ্যাপগুলোর নীতিগত ও কারিগরি নানা ত্রুটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে অনুচিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন। অনেক অ্যাপের বিনামূল্যে সংস্করণে এমন সব বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে, যা একজন মুসলিমের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মনোযোগ নষ্ট করে। কোরআন পাঠ বা ইবাদতের সময়ে আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ব্যবহারকারীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

    এছাড়া বিশ্বজুড়ে ‘মুসলিম প্র’-এর মতো শীর্ষ অ্যাপগুলোর ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ঘাটতির বিষয়টি গ্রাহকদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। ফলে প্রাইভেসির ভয়ে অনেকেই এসব অ্যাপের ব্যবহার সীমিত করছেন বা মুছে ফেলছেন।

    গবেষণার অংশ হিসেবে তরুণ ব্যবহারকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলে তারা জানান, মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন তাদের নিয়মিত সালাত আদায়ে কিছুটা সহায়তা করে ঠিকই, তবে অ্যাপগুলোর যান্ত্রিক নোটিফিকেশন একঘেয়ে হয়ে উঠলে তা কার্যকর থাকে না। এছাড়া কেবল অ্যাপভিত্তিক একাগ্রতা যে মসজিদ বা প্রকৃত আলেমদের সাহচর্যের বিকল্প হতে পারে না, তা-ও ব্যবহারকারীরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

    গবেষকরা প্রযুক্তি ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছেন: ১. আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন: অ্যাপগুলোতে কোরআনের ব্যাখ্যা, হাদিস শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতির উপযোগী দোয়ার জন্য কাঠামোবদ্ধ শিক্ষামূলক মডিউল যুক্ত করা। ২. নৈতিক বিজ্ঞাপন মডেল: ইবাদতের সুপবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে বিজ্ঞাপনভিত্তিক উপার্জনের বদলে ‘ওয়াকফ’ বা দানভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৩. আলেমদের অন্তর্ভুক্তি: অ্যাপের বিষয়বস্তু যেন ইসলামের সহিহ শিক্ষার পরিপন্থী না হয়, সে জন্য কেবল প্রযুক্তিবিদ নয়, বরং বিজ্ঞ ইসলামী আলেমদের তত্ত্বাবধানে ফিচারগুলো ডিজাইন করা। ৪. নিরাপদ সামাজিক স্পেস: প্রাইভেসির ঝুঁকি ছাড়াই ছোট ছোট ভার্চুয়াল তালিম বা চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

  • পিরিয়ডের সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হয় কেন? জেনে নিন এর কারণ

    পিরিয়ডের সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হয় কেন? জেনে নিন এর কারণ

    এমনটা প্রায় অনেকের হয়; পিরিয়ডের সময় বা তার কয়েক দিন আগে থেকে মিষ্টি, চকলেট বা আইসক্রিম খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। যতবারই নিজেকে ভোলাতে চান, ঠিক ততবারই মনে হয় একটু মিষ্টিজাতীয় খাবার চেখে দেখলে মন্দ হতো না! প্রায় সব নারীই প্রতি মাসে বা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। এটি নিছক মিষ্টিপ্রীতির ফল নয়, এর বৈজ্ঞানিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। পিরিয়ডের দিনগুলোতে কেন মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে, তার কয়েকটি কারণ সম্পর্কে জেনে নিন ঝটপট।

    হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও সেরোটোনিনের ঘাটতি

    পিরিয়ড শুরু হওয়ার ঠিক আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক রাসায়নিকের উৎপাদন কমে যায়। সেরোটোনিন হলো আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী বা ফিল গুড হরমোন। যখন শরীরে সেরোটোনিন কমে যায়, তখন মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করার উপায় খোঁজে। মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দ্রুত সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, তাই শরীরে তখন মিষ্টিজাতীয় খাবারের চাহিদা বাড়ে।

    শক্তির ঘাটতি ও অতিরিক্ত ক্লান্তি

    পিরিয়ড চলাকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শক্তির অভাব দেখা দেয়। চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে থাকে উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে প্রবেশ করেই দ্রুত শক্তি জোগায়। শরীর যখন ক্লান্ত থাকে, তখন সে সহজে ও দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য মিষ্টি খাবারের সংকেত পাঠায়।

    রক্তে শর্করার তারতম্য

    পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে হরমোনের কারণে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার ওঠানামা করে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শরীর তা দ্রুত পূরণ করার জন্য মিষ্টি বা ক্যালরি-বহুল খাবারের তীব্র চাহিদা তৈরি করে।

    মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বৃদ্ধি

    পিরিয়ড চলাকালে শারীরিক অস্বস্তি এবং মুড সুইংয়ের কারণে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বাড়ে। স্ট্রেসের সময় শরীর থেকে অতিমাত্রায় কর্টিসল নামের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই কর্টিসল হরমোন আমাদের চর্বিযুক্ত এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, যা সাময়িকভাবে মন শান্ত করে বা আরাম দেয়।

    স্বাস্থ্যকর উপায়ে ক্রেভিং দূর করবে যেভাবে

    অতিরিক্ত মিষ্টি বা রিফাইন্ড সুগার খেলে পিরিয়ডের ক্র্যাম্প বা পেটে ব্যথা ও ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে বেছে নিতে হবে এর স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো।

    ডার্ক চকলেট

    সাধারণ মিল্ক চকলেটের বদলে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট খান। এটি ম্যাগনেশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা মেজাজ ভালো করে এবং পেশির টান কমায়।

    মিষ্টি ফল

    মিষ্টির তীব্র ইচ্ছা কমাতে খেজুর, কিশমিশ, পাকা কলা, আপেল বা আঙুর খেতে পারেন। চাইলে নারকেল ও নারকেলের পানিও পান করতে পারেন। এগুলো মিষ্টির চাহিদা মেটাবে আবার শরীরে পুষ্টিও জোগাবে।

    বাদাম ও নানা ধরনের বীজ

    কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হুটহাট মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমে।

    জটিল শর্করাজাতীয় খাবার

    কিছু শর্করাজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। সেগুলো খেলেও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমে। ওটস, লাল চালের ভাত ইত্যাদি পিরিয়ডের কয়েক দিন খেয়ে দেখতে পারেন। এগুলো শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

    সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য

  • বিশ্বের পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট’ শুরু

    বিশ্বের পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট’ শুরু

    বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নেটওয়ার্কিং এবং বিশ্ববাজারে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (বিটিএম) ২০২৬’।

    দেশী-বিদেশী পর্যটন ব্যবসায়ীদের মেলবন্ধনে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে তিন দিনব্যাপী চলবে এ মেলা।

    রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া) আয়োজিত প্রথমবারের মতো এই মেলায় দেশ-বিদেশের ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল অ্যাজেন্সি, এয়ারলাইনস, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), পর্যটন সংস্থাসহ বিভিন্ন ভ্রমণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটসহ সরকারি কর্মকর্তা, পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আয়োজক সংগঠন বোটোয়া জানায়, এবারের মেলায় প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান এবং ৬০ জন বাণিজ্যিক ক্রেতা অংশ নিচ্ছেন। তিন দিনের এই আয়োজনে প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থী আসবেন বলে আশা করছেন তারা।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ট্রাভেল মার্টের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে আরো কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা এবং দেশী ও বিদেশী পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা।

    উদ্বোধনের দিন সরেজমিনে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তারা বিভিন্ন দেশের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ট্যুর প্যাকেজ, বিমানের ভাড়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা ও ভিসা সংক্রান্ত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করছেন।

    মেলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বোটোয়া’র সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টকে কেবল একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখছি না। এটি বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবসার সাথে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।’

    তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশী-বিদেশী ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পর্যটন সেবা প্রদানকারীদের এক ছাদের নিচে এনে ব্যবসার প্রকৃত সুযোগ তৈরি করা।

    সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, এই মেলাকে আমরা আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি বাণিজ্যক প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে চাই, যেখানে প্রদর্শনীর পাশাপাশি গঠনমূলক ব্যবসায়িক আলোচনা ও বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) বৈঠকের সুযোগ থাকবে। এছাড়া সাধারণ ভ্রমণকারীরাও মেলায় এসে সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানির সাথে কথা বলে অফার যাচাই-বাছাই করার সুযোগ পাবেন।

    এবারের মেলায় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আলাদাভাবে বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) এবং বিটুসি (বিজনেস-টু-কনজিউমার) কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিটুবি পর্বে পেশাদার পর্যটন ব্যবসায়ীরা দেশী-বিদেশী ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে বৈঠক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে পারবেন। অন্যদিকে, বিটুসি পর্বে সাধারণ দর্শনার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ, বিমানের টিকিট এবং ভিসা সেবা সম্পর্কে সরাসরি তথ্য নিতে ও যাচাই করতে পারবেন।

    মেলায় দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ, বিমানের টিকিট, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সেবাসহ ভ্রমণের আকর্ষণীয় সব অফার দেয়া হচ্ছে। পর্যটনপ্রেমী ও ব্যবসায়ীদের জন্য আকর্ষণীয় এ মেলা চলবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

  • ম্যাক্রোঁর ৪২ বছরের মেয়ের প্রেম ২২ বছরের তরুণের সঙ্গে

    ম্যাক্রোঁর ৪২ বছরের মেয়ের প্রেম ২২ বছরের তরুণের সঙ্গে

    ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর মেয়ে টিফেন অজিয়েরের নতুন প্রেমের খবর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী টিফেনের সঙ্গে ২২ বছর বয়সী অঁতোয়ান লেকোম্তের সম্পর্ক প্রকাশ্যে এসেছে। দুজনের বয়সের ব্যবধান ২০ বছর।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে টিফেন ও অঁতোয়ানকে একসঙ্গে দেখা গেছে। সম্প্রতি তারা নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম ভ্রমণ করেন। অঁতোয়ান তাদের ভ্রমণের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এবং টিফেনও সেটি শেয়ার করেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি কার্যত প্রকাশ্যে আসে।

    টিফেন ও অঁতোয়ানের পরিচয় হয় ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী শহর ল্য তুকেতে। সেখানে অঁতোয়ান কাইটসার্ফিং প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন এবং পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে ভ্রমণ, উদ্যোক্তা কর্মকাণ্ড ও অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি আগ্রহের মিল রয়েছে বলে টিফেনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।

    টিফেন অজিয়ের পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি লেখালেখিও করেন এবং ২০২৪ সালে ‘Assises’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন। এর আগে ফরাসি টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সিরিল হানুনার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সম্পর্কের ইতি ঘটে ২০২৬ সালের মে মাসে।

    টিফেনের নতুন সম্পর্কটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তার মা ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে এর বয়সের ব্যবধানের মিল থাকায়। ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বয়সের ব্যবধান ২৪ বছর। ব্রিজিত যখন শিক্ষক ছিলেন, তখন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ছিলেন তার ছাত্র। পরে দুজন ২০০৭ সালে বিয়ে করেন।

    ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ তার মেয়ের নতুন সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক এবং মেয়ের সুখকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। টিফেনের দুই সন্তানও অঁতোয়ানের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন।

    ম্যাক্রোঁ পরিবারের দুই প্রজন্মের সম্পর্কের বয়সের বড় ব্যবধানের কারণে ঘটনাটি ফ্রান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

  • বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিদেশে পাড়ি জমানোকে সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং জীবন পরিচালনার ধরনেও বড় পরিবর্তন আনে। পরিচিত পরিবেশ, দৈনন্দিন রুটিন ও কাছের মানুষের সহায়তা থেকে দূরে গিয়ে নতুন দেশে প্রতিদিনের নানা সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়। ফলে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি শুধু শিক্ষা, চাকরি কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতাও।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দিনের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রে শুধু এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট হবে না। নতুন পরিবেশের অনিশ্চয়তা সামলানো, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং পরিচিত সহায়তা কাঠামো ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    বিদেশে একা যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যে পাঁচটি জীবনদক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন-

    ১. অর্থ ব্যবস্থাপনা শিখুন

    বিদেশে গিয়ে অর্থ পরিচালনা মানে শুধু খরচ কমানো নয়। ভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি বা অন্যান্য বিল, ব্যাংকিং, কর এবং হঠাৎ আসা অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

    এর সঙ্গে নতুন দেশের মুদ্রার মূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বুঝে বাজেট তৈরি করতে হবে। দেশে থাকাকালীন নিজের আয়-ব্যয় হিসাব করার অভ্যাস গড়ে তুললে বিদেশে গিয়ে আর্থিক চাপ সামলানো সহজ হবে।

    ২. নিজের সহায়তার নেটওয়ার্ক তৈরি করুন

    বিদেশে যাওয়ার অর্থ পরিচিত মানুষ ও পরিবেশ থেকে দূরে চলে যাওয়া। ফলে শুরু থেকেই নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দেশে কমিউনিটি, সহকর্মী, বন্ধু, পরামর্শদাতা বা পরিচিতদের মাধ্যমে দ্রুত একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা মানসিকভাবে স্থির থাকতে সহায়তা করতে পারে।

    ৩. অপরিচিত ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিন

    বিদেশে স্বাস্থ্যসেবা, বিমা, ব্যাংকিং, বাসস্থান, অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম এবং সরকারি কাগজপত্রের প্রক্রিয়া নিজের দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথায় পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো কীভাবে নিজে সম্পন্ন করতে হয়, তা শেখা জরুরি। এতে ছোটখাটো ভুল থেকে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে।

    ৪. নিজেকে হারিয়ে না ফেলে মানিয়ে চলুন

    ভিন্ন দেশে গেলে যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং সামাজিক মেলামেশার নিয়মেও পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোজনের অর্থ হলো নতুন সংস্কৃতির নিয়ম-কানুন শেখা, কিন্তু নিজের পরিচয় ও মূল্যবোধকে হারিয়ে না ফেলা। নতুন পরিবেশকে সম্মান করার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫. প্রয়োজন হলে দ্রুত সাহায্য চান

    স্বনির্ভর হওয়ার অর্থ প্রতিটি সমস্যার সমাধান একাই করতে হবে—এমন নয়। বরং কখন সাহায্যের প্রয়োজন তা বুঝতে পারা এবং ছোট সমস্যা বড় সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই সঠিক ব্যক্তির কাছে সহযোগিতা চাওয়া স্বনির্ভরতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বিদেশে একা থাকার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। কারণ সময়মতো পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক জটিল পরিস্থিতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব।

  • ইনডোর প্ল্যান্টের সুবিধা

    ইনডোর প্ল্যান্টের সুবিধা

    ইনডোর প্ল্যান্টের রয়েছে অনেক উপকারিতা। ইনডোর প্ল্যান্ট শুধু বাড়ির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এতে রয়েছে অসংখ্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুবিধা। মানসিক চাপ কমানো এবং মনোযোগ বাড়ানো থেকে শুরু করে উৎপাদনশীলতা ও বাতাসের গুণমান বৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই এর ভূমিকা রয়েছে। বাড়িতে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখার আগে এর গুণগুলো জেনে নেওয়া যাক—

    আমাদের জীবন দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। শহুরে ইট, কাঠ ও কংক্রিটে বন্দি হয়ে পড়ছে জীবন। এক বুক বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়া যেন কঠিন। তাই ঘরকে প্রাণ দিতে ইনডোর প্ল্যান্ট আস্তে-ধীরে হলেও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেসব গাছ ঘরে রাখলে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে বাধাপ্রাপ্ত হয় না, মূলত সেগুলো ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গাছগুলো যেমন ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তেমনি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

    ইনডোর প্ল্যান্ট বাতাসকে বিশুদ্ধ করে

    নাসার গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট ক্ষতিকারক পদার্থ যেমন কার্বন মনোক্সাইড, ফর্মালডিহাইড, অ্যামোনিয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ আরো অনেক কিছু দূর করে। এগুলো মূলত মাথাব্যথা, ক্লান্তি, অসুস্থতা ও অ্যালার্জির কারণ হিসেবে পরিচিত। ঘরে কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট যুক্ত করা হলে বাতাসের গুণমান বাড়বে এবং বাতাস আরো পরিষ্কার হবে।

    মানসিক চাপ কমায়

    সবুজ রঙ দেহ ও মনে প্রশান্তি আনে। চারপাশে গাছপালা একধরনের মানসিক শান্তি আনে। তাছাড়া মনের চাপ কমাতে ও রক্তচাপ কমাতে ইনডোর প্ল্যান্ট সাহায্য করে। ‘জার্নাল অব ফিজিওলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, উদ্ভিদের আশপাশে থাকলে তা শরীর ও মন উভয়ের ওপরই শান্ত প্রভাব ফেলে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা, যারা ঘরের ইনডোর প্ল্যান্টের কাছাকাছি ছিলেন, তাদের হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, যারা কম্পিউটারে চাপপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছেন, তাদের এসব চাপের সূচকে অনেকটা বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    মনোযোগ বৃদ্ধিমনোযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আসল গাছপালা কৃত্রিম গাছপালাকে ছাড়িয়ে যায়। MDPI-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২৩ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন উদ্ভিদের সেটআপসহ শ্রেণিকক্ষে অধ্যয়ন করেছিল। এতে আসল গাছপালা, নকল গাছপালা এবং উদ্ভিদের ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। মস্তিষ্কের স্ক্যান থেকে জানা গেছে, আসল গাছপালা নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম গাছপালা বা ছবি দ্বারা বেষ্টিত শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি মনোযোগী ছিল। আপনি যদি আপনার মনোযোগ বাড়াতে চান, তাহলে আসল গাছপালাই মূল বিষয় হতে পারে।

    গৃহসজ্জা

    যদি গৃহের একঘেয়ে সাজসজ্জা দূর করতে চান, সে ক্ষেত্রে ইনডোর প্ল্যান্টের জুড়ি মেলা ভার। কারণ ইনডোর প্ল্যান্টের রঙ ও আকারে রয়েছে বৈচিত্র্য। বইয়ের শেলফের এক কোনায় ছোট ক্যাকটাস কিংবা ঘরের কোনো ছোট অংশ ফাঁকা লাগলে বড় আকারের একটি পামগাছ ঘরের সৌন্দর্যই বদলে দেবে।

    অর্থ সাশ্রয়

    গাছপালা আপনার অর্থের একটি ছোট অংশ বাঁচাতে পারে। সাজসজ্জার বাইরেও ব্যবহারিকতা আছে—এমন প্রচুর উদ্ভিদ রয়েছে। যেমন : রোদে পোড়া ত্বক ও চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী, রান্নার জন্য অরিগ্যানো, মশা তাড়ানোর জন্য সিট্রোনেলা, খাওয়ার জন্য টমেটো ইত্যাদি। এয়ার ফ্রেশনারের বদলে ল্যাভেন্ডার, রোজমেরি বা পুদিনা লাগাতে পারেন।

    অসুস্থতা থেকে দ্রুত সেরে তোলে

    গাছপালা শুধু সাজসজ্জার জন্য নয়, এগুলো আপনাকে অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হতেও সহায়তা করতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন গাছপালা আছে—এমন পরিবেশে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের ব্যথার ওষুধের প্রয়োজন কম এবং গাছপালা ছাড়া ঘরে থাকা রোগীদের তুলনায় হাসপাতালে কম সময় থাকার প্রয়োজন হয়।

    থেরাপিউটিক সুবিধা

    ইনডোর প্ল্যান্ট শুধু অবসরের জন্য নয়—এটি থেরাপিউটিকও হতে পারে। উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা উদ্যানতত্ত্ব থেরাপির মাধ্যমে স্বস্তি পেয়েছেন। এ ধরনের থেরাপিতে গাছপালা রোপণ ও যত্ন নেওয়া জড়িত, যা মেজাজ উন্নত করে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ায় বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি

    শুধু চাপ কমানোর নয়—গাছপালা প্রোডাক্টিভিটিও বাড়াতে পারে। গাছপালা আছে—এমন জায়গায় কাজ করা ব্যক্তিরা বেশি সৃজনশীল ও প্রোডাক্টিভ হন। আপনার কর্মক্ষেত্রে গাছপালা রাখুন। এগুলো আপনাকে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি চাপ এবং অমনোযোগও কমাবে।

  • তালের পিঠা

    তালের পিঠা

    ফিচার

    তালের মৌসুম চলছে। এ সময় তালের রস দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু নানারকম খাবার। এর মধ্যে তালের পিঠা অন্যতম। তাল দিয়ে তৈরি করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের পিঠা। এবারের রান্নার আয়োজন সাজানো হয়েছে কয়েক রকম তালের পিঠা দিয়ে। ছবি ও রেসিপি

    কলাপাতায় তালের পিঠা

    উপকরণ : তালের রস ২ কাপ, চালের গুঁড়া ৫ কাপ, চিনি দেড় কাপ, লবণ স্বাদমতো, নারিকেল কোরা ১ কাপ, দুধ ১ কাপ, ইস্ট ১ চা চামচ, পাকা কলা ২টি এবং কলাপাতা ৩২ টুকরো (ধুয়ে মুছে নেওয়া)।

    প্রস্তুত প্রণালি : তালের রসের সঙ্গে চালের গুঁড়া, চিনি, লবণ ও কোরানো নারিকেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার একটি কাপে দুধের সঙ্গে ইস্ট মিশিয়ে এর মধ্যে দিয়ে দিন। উপকরণগুলো খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার কলা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এতে পিঠা নরম হবে। মিশ্রণটি দুই ঘণ্টার জন্য রেখে দিন।

    এবার এক টুকরো কলাপাতা নিয়ে তার উপর দুই টেবিল চামচ মিশ্রণ দিন। উপর থেকে আরেকটি কলাপাতা দিয়ে হালকা হাতে চেপে দিন। এবার একটি তাওয়া বা কড়াইতে কলাপাতার পিঠাটি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। চুলার আঁচ মিডিয়ামে থাকবে। এভাবে পাঁচ-ছয় মিনিট রাখুন। এরপর নিচের পাতাটিতে পোড়া পোড়া দাগ দেখা গেলে উল্টে দিন। আবার ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে তিন-চার মিনিটের মতো। এবার পিঠাটি তুলে নিন। এভাবে একে একে সব পিঠা তৈরি করে নিন।

    তালের বড়া পিঠা

    উপকরণ : চালের গুঁড়া ৩ কাপ, তালের রস ৫ কাপ, সামান্য লবণ, চিনি ৩ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, পানি পরিমাণমতো ও সয়াবিন তেল প্রয়োজনমতো।

    প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে তাল থেকে তালের আঁটিগুলো আলাদা করে নিতে হবে। একটি হাঁড়িতে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে তাতে তালের আঁটিগুলো চিপে তালের রস বের করে নিন। এবারে একটা সুতি পাতলা কাপড়ে তালের রস নিয়ে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে, যাতে সব অতিরিক্ত পানি ঝরে যায়। এবার শুকনো চালের গুঁড়া, চিনি, বেকিং পাউডার—সব মিশিয়ে তালের রস দিয়ে একটি পিঠার ব্যাটার বানিয়ে নিন। ব্যাটারটা মোটামুটি ঘন‌ হয়ে এলে যদি পানির প্রয়োজন হয়, তবে সামান্য পানি ব্যবহার করুন।

    এবার একটি কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করে তাতে বড়ার আকার করে বাদামি করে ভেজে নিন। সবশেষে গরম গরম পরিবেশন করুন তালের বড়া।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানে বেড়েছে বিদেশি পর্যটক

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানে বেড়েছে বিদেশি পর্যটক

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানির দামের ওঠানামার মধ্যেও পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানে বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বিদেশি অভিযাত্রী অঞ্চলটি ভ্রমণ করেছেন।

    গিলগিট-বালতিস্তান পর্যটন বিভাগের উপপরিচালক সাজিদ হুসেইনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকরা বিশ্বের কয়েকটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় এবং দুর্গম এলাকায় ট্রেকিংয়ের জন্য সেখানে গেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টু, নাঙ্গা পর্বত, ব্রড পিক, গ্যাশারব্রুম-১ ও গ্যাশারব্রুম-২।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ মৌসুম মিলিয়ে গিলগিট-বালতিস্তানের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ও উন্মুক্ত অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে। উন্মুক্ত পর্যটন এলাকায় বিদেশিদের জন্য বিশেষ অনুমতিরও প্রয়োজন হয় না।

    গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি অভিযাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। পর্যটন কর্মকর্তার মতে, গত বছর ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গিলগিট-বালতিস্তানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন কমে গিয়েছিল।

    এবার পর্বতারোহণের মৌসুম শেষ হলেও ট্রেকারদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। কে-টু বেস ক্যাম্পের মতো দুর্গম পথেও পর্যটকরা যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত ট্রেকারদের আগমন অব্যাহত থাকবে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযান ও ট্রেকিংয়ের অনুমতিপত্র থেকে গিলগিট-বালতিস্তান সরকার প্রায় ৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি আয় করেছে।

    আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তানের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইরফান আরশাদ খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা, জ্বালানির দামের ওঠানামা ও অন্যান্য প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় পোর্টার, হোটেল মালিক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা সরাসরি লাভবান হন।

    তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছিল। বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের অনুমতিপত্র দিতেও বিলম্ব হয়েছে। এসব সমস্যা না থাকলে এবার বিদেশি অভিযাত্রীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর চেয়েও বেশি হতে পারত। আগামী বছর ৪ হাজারের বেশি বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকার গিলগিট-বালতিস্তানে আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে বড় পর্বতশৃঙ্গগুলোতে সাফল্যের হার এখনো কম। তুষারধস, পাথরধস, প্রচণ্ড বাতাস এবং উচ্চতার অনিশ্চিত আবহাওয়া পর্বতারোহীদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

  • অনিশ্চিত জীবনযাপনে মার্কিন সেনাদের পরিবার

    অনিশ্চিত জীবনযাপনে মার্কিন সেনাদের পরিবার

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর পর চরম উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যরা। সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, হঠাৎ দায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানো এবং নিয়মিত যোগাযোগের ঘাটতিতে অনেক পরিবারকে এক ধরনের অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সেনাদের পরিবারের জন্য স্কুল থেকে সন্তান আনা-নেওয়া, সংসারের আয়-ব্যয় সামলানো এবং প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। শিকাগোল্যান্ড শাখার ‘ব্লু স্টার ফ্যামিলিজ’-এর প্রধান কোর্টনি স্যান্ডার্স বলেন, পরিস্থিতি যেন সব সময় ‘কাঁটার ওপর বসে থাকার’ মতো। তাঁর দুই মেয়েও মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা রয়েছে। যুদ্ধের প্রয়োজনে আরও হাজার হাজার মেরিন ও নৌসেনাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। ছয় মাসের সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

    স্যান্ডার্স বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি বারবার বদলানোর কারণে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপও ওঠানামা করছে। যখন মনে হয় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে, তখনই নতুন কোনো হামলা, উত্তেজনা বা মোতায়েনের খবর তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

    ‘ব্লু স্টার ফ্যামিলিজ’-এর মার্চের এক জরিপে প্রায় ২০০ সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনা পরিবারের সদস্য অংশ নেন। তাদের ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের মানসিক চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি অনলাইন সহায়তা, ওয়েবিনার, সরাসরি বৈঠক এবং নতুন করে মোতায়েন হওয়া সেনাদের স্বামী-স্ত্রীদের অভিজ্ঞ পরিবারগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    যুদ্ধের কারণে অনেক সেনার দায়িত্বের মেয়াদও অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে দায়িত্ব পালন করেছে, যা আধুনিক সময়ে একটি রেকর্ড বলে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন। এ সময় জাহাজটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনের মধ্যে মানসিক চাপ ও মনোবল কমে যাওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন সামরিক মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনকে পরিস্থিতির ‘সম্পূর্ণ ভুল উপস্থাপন’ বলে দাবি করেছেন।

    শুধু মানসিক চাপ নয়, অনেক পরিবারের ওপর আর্থিক চাপও বেড়েছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা সাধারণ সময়ে বেসামরিক চাকরি করেন। হঠাৎ তাদের মোতায়েন করা হলে পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেও অনেক পরিবারকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    উত্তর ক্যারোলিনার এক সেনা পরিবারের সদস্য শ্যানন জানান, তাঁর স্বামীকে মাত্র পাঁচ দিনের নোটিশে ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। প্রথম কয়েক মাস তিনি স্বামীর সঙ্গে খুব সীমিতভাবে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি।

    এদিকে ইরান যুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতিও এখনো অনিশ্চিত। ছয় মাস পরও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়নি এবং যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, সেনাদের পরিবারের উদ্বেগ তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, সেনাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের ওপরও এর মানসিক ও আর্থিক চাপ তত বাড়ছে।

  • নেপালে আবারও সংকটে পর্যটন

    নেপালে আবারও সংকটে পর্যটন

    নেপালের পর্যটন খাত গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন মূল মৌসুমে প্রবেশ করছিল, তখনই ‘জেন-জি’ প্রজন্মের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন পুরো খাতকে হঠাৎ স্থবির করে দেয়।

    কয়েক বছরের টানা ধাক্কার পর এ রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এর আগে নেপালে আঘাত হেনেছিল বিধ্বংসী বন্যা। দুটি বড় বিমান দুর্ঘটনা আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছিল। আর কোভিড-১৯ মহামারি আন্তর্জাতিক পর্যটনকে পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছিল।

    সবচেয়ে নাজুক এমন এক সময়েই নেপালে আঘাত হানল আরেকটি নতুন বিপর্যয়।

    গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী পাহাড়ি ঢল পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর আশাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। বিশেষ করে লাভজনক কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রার বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। তীর্থযাত্রীদের নেপাল থেকে তিব্বত যাওয়ার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ ‘রাসুয়াগড়ি-তিমুরে’এলাকায় এ দুর্যোগ আঘাত হেনেছে।

    বিজয় কুমার সিং, নেপালের পরিবেশবিশেষজ্ঞ

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এ ঘটনা নেপালের পর্যটননির্ভর অর্থনীতির সামনে এক গভীর প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটির পাহাড়গুলো কি দিন দিন পর্যটকদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    গত বুধবারের দুর্যোগের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ণয়ের কাজ এখনো চলছে। তবে হিমবাহের বিস্ফোরণ (হিমবাহের বরফগলা পানি হঠাৎ নিচে ধেয়ে আসা) এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ যে হিমালয় অঞ্চলের জনবসতি, অবকাঠামো ও পর্যটকদের জন্য কতটা মারাত্মক হতে পারে, এ ধ্বংসযজ্ঞ তা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

    পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, ‘আমাদের পর্যটন খাত মূলত পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল। পাহাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে নিরূপণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দুর্যোগ এড়ানো যায়।’

    ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির পাশ দিয়ে কাদা মাড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি।

    জলবায়ু–সম্পর্কিত দুর্যোগের ঝুঁকি নেপালের পক্ষে উপেক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে কাঠমান্ডু উপত্যকায় হওয়া ভয়াবহ বন্যা ছিল নেপালের ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক নগর-বন্যা। বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, গত চার দশকের মধ্যে নেপালে ওই সময় সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি হয়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় ২৪৯ জন প্রাণ হারান, আহত হন ১৭৭ এবং বাস্তুচ্যুত হয় ১০ হাজারের বেশি পরিবার। দুটি বড় বিমান দুর্ঘটনাও নেপালের পর্যটন খাতকে মারাত্মকভাবে নাড়া দিয়েছে।

    ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পোখারায় অবতরণের সময় ইয়েতি এয়ারলাইনসের একটি এটিআর-৭২ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৬৮ জন যাত্রী ও ৪ ক্রুর সবাই নিহত হন। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই শৌর্য এয়ারলাইনসের একটি বোম্বার্ডিয়ার সিআরজে-২০০ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৮ জন নিহত হন।

    কোভিড-১৯ মহামারির নজিরবিহীন ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এসব দুর্যোগ দেখা দেয়। মহামারি নেপালের পর্যটনকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল।

    এ খাত যখনই একটু ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, তখনই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়।

    এখন রাসুয়ার দুর্যোগ আরেক দফা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ বিপর্যয় সরাসরি নেপালের পাহাড়ি পরিবেশের নাজুক অবস্থার সঙ্গে জড়িত।

    বিশেষজ্ঞরা নেপালের ৪২টি হিমবাহ হ্রদকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হিমালয়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বরফ গলার কারণে এগুলো যেকোনো সময় ফেটে পড়তে পারে। এসব হ্রদের বেশির ভাগই বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা এভারেস্ট অঞ্চলে।

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং হিমালয়ের হ্রদগুলোর আয়তন বাড়ছে। হ্রদগুলো বড় হতে থাকায় এদের দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধগুলো ভেঙে পড়তে পারে। ফলে বিপুল পরিমাণ পানি ও পাথর-কাদা নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক। এতে ভেসে যেতে পারে লোকালয়, রাস্তাঘাট, সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও পর্যটন অবকাঠামো।

    বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে নেপালের অবদান শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম। তা সত্ত্বেও নাজুক পাহাড়ি প্রতিবেশ ব্যবস্থার কারণে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

    বন্যার পর এ যেন পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে এলাকা।

    পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, ‘উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ দুর্যোগ একটি জোরাল প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। এ তহবিল নেপালের পর্যটনকে টেকসই করতে পারে। তা না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে এবং মানুষ মরতেই থাকবে।’

    বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বারবার সতর্ক করে বলেছে, তীব্র জলবায়ু ঝুঁকি নেপালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় বাধা। কারণ, বিশেষ করে পর্যটন ও কৃষিতে এই ঝুঁকির মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ—পাহাড় ও পর্বতের ঝুঁকির ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।

    সাবেক পরিবেশমন্ত্রী গণেশ শাহ বলেন, পাহাড়ি পর্যটনকে রক্ষা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করতে নেপালকে আরও নিখুঁত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    গণেশ শাহ বলেন, ‘সারা বিশ্বের নতুন প্রজন্ম রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ভালোবাসে। ভবিষ্যতে তাদের কাছে নেপাল বড় একটি আকর্ষণ হতে পারে। তাই অন্তত পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা থাকা দরকার, যা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় সাহায্য করবে।’

    পর্যটন খাতকে টেকসই করতে নেপালের আরও উন্নত ও নিখুঁত প্রযুক্তি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন গণেশ শাহ।

    রসুয়ার এ দুর্যোগ পাহাড়ি পর্যটনে নেপালের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকেও সামনে এনেছে।

    গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতগামী ৬৪৪ জন কৈলাস মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটি ভারতীয়দের, ১৭৮ জন। এ ছাড়া ৫৫ জন মার্কিন, ৫৩ ইউক্রেনীয়, ৫১ মালয়েশীয়, ৩৫ অস্ট্রেলীয় ও ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। দীপক রাজ যোশী, নেপালের ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

    এ পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, তিব্বত যাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা কতটা নেপালের রুটের ওপর নির্ভর করেন।

    ট্যুর অপারেটররা জানান, এ বছর কৈলাস মানস সরোবরযাত্রার চাহিদা ছিল অনেক বেশি। ৪০ হাজারের বেশি মানুষের চাহিদা থাকলেও চীন সরকার নেপাল হয়ে যাওয়া ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৪ হাজারে বেঁধে দেয়।

    গত মে মাসের মাঝামাঝি আনুষ্ঠানিকভাবে তীর্থযাত্রা শুরু হয়। এতে হিলসা, সিমিকোট এবং নেপালগঞ্জের মতো প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টগুলো পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে।

    আকস্মিক ভূমিধস-বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন নেপালের সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

    টাচ কৈলাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্রেকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বসু কুমার অধিকারী জানান, তিব্বতি পঞ্জিকা অনুযায়ী ‘ইয়ার অব দ্য হর্স’ শুরু হওয়ায় তীর্থযাত্রার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ বর্ষ শুরু হয়েছে।

    তিব্বতি জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ‘ইয়ার অব দ্য হর্স’ তীর্থযাত্রার জন্য অত্যন্ত শুভ। ভক্তদের বিশ্বাস, এ বছর কৈলাস পর্বতের চারপাশের ৫২ কিলোমিটার এলাকা একবার প্রদক্ষিণ করলে সাধারণ বছরের ১২ বা ১৩ বার প্রদক্ষিণের সমান পুণ্য মেলে।

    তিন দিনব্যাপী এ কৈলাস কোরা বা পরিক্রমায় তীর্থযাত্রীদের পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়।

    কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির সমঝোতায় গত বছর ভারতীয়দের জন্য এ যাত্রা আবার শুরু হয়েছে।

    ভারত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিরোধপূর্ণ লিপুলেখ পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে এ যাত্রার আয়োজন করে। তবে প্রতিটি রুটে তারা বছরে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ৫০০ থেকে ১০০০-এ সীমাবদ্ধ রাখে।

    ফলে বেশির ভাগ ভারতীয় তীর্থযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নেপাল হয়ে ভ্রমণ করাকেই সুবিধাজনক মনে করেন।

    নেপালের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জন্য এ তীর্থযাত্রা অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ১০ দিনের রাসুয়াগড়ি-কেরুং প্যাকেজে পর্যটকপ্রতি খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার।

    ট্যুর অপারেটররা কৈলাস মানস সরোবরকে তাঁদের সবচেয়ে লাভজনক প্যাকেজ হিসেবে বিবেচনা করেন। বার্ষিক এ তীর্থযাত্রার মৌসুম হোটেল, এয়ারলাইন, রেস্তোরাঁ, গাইড ও কুলিদের ভালো উপার্জনের সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ে।

    মৌসুম চলার সময় নেপালগঞ্জের হোটেলগুলোয় বুকিং অনেক বেড়ে যায়। উদ্যোক্তারা জানান, ভারতীয় পর্যটক বেড়ে যাওয়ায় বাঁকে এবং উত্তরের সিমকোটের মতো এলাকায় আবাসন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে।

    কিন্তু বুধবারের এ দুর্যোগ এমন সম্ভাবনাকে আকস্মিকভাবে উল্টে দিতে পারে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক রাজ যোশী বলেন, ‘দুর্যোগের কারণে এই খাত ক্ষতির মুখে পড়বে। এর রেশ অন্তত ছয় থেকে সাত মাস স্থায়ী হতে পারে।’

    উদ্ধারকাজ চলাকালে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন নেপালের সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

    এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নেপালের বাকি অংশ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছে—বিশ্বের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিতে আমাদের একটি বিশেষ পর্যটন পুনরুদ্ধার টিম প্রয়োজন।’

    সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নেপালের পর্যটন খাত অতীতে বারবার প্রমাণ দিয়েছে।

    তিন দশক আগে রাজনৈতিক অস্থিরতাই ছিল পর্যটন খাতে সম্ভবত সবচেয়ে বড় হুমকি। যোশী বলেন, ‘তিন দশক আগের দিকে তাকালে দেখা যায়, নেপালের পর্যটন সব সময়ই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত ছিল।’

    ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চলা মাওবাদী বিদ্রোহে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং সারা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যায়। ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের বিমান ছিনতাই এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বৈশ্বিক ভ্রমণ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে নেপালে। এ ছাড়া ২০০১ সালের রাজপরিবার হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে চরম রূপ দেয়।

    ২০০৬ সালের শান্তিচুক্তির পরও ঘন ঘন ধর্মঘট ও বন্‌ধ্‌ ব্যবসা-বাণিজ্যকে ব্যাহত করে, যা পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছিল।

    এরপর শুরু হয় ভয়াবহ বিদ্যুৎ–সংকট। একটা সময় দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল।

    ২০১৫ সালের ভূমিকম্প আরেকটি বড় আঘাত হয়ে আসে। এতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ মারা যান এবং শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। পর্যটন অবকাঠামো ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কমে যায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা।

    এত কিছুর পরও পর্যটনশিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

    যোশী বলেন, সব বিপদের মধ্যেও আশার দিক হলো, ‘নেপালের সংকট কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে।’

    কোভিড মহামারি সেই সহনশীলতাকে আবারও বড় পরীক্ষার মুখে ফেলে। প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর পর থেকে ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়তে শুরু করে।

    তবে বুধবারের দুর্যোগটি ভিন্ন প্রকৃতির। এটি এমন এক বিপদের দিকে ইঙ্গিত করছে, যা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা বিপণন প্রচারণার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

    নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেন্দ্র লামা বলেন, মহামারি কাটিয়ে পর্যটনশিল্প যখন মাত্রই ছন্দে ফিরছিল, তখন এ দুর্যোগ বড় আঘাত হয়ে এল।

    ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে এক ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধার দলের সদস্যরা।

    ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের জিডিপিতে ভ্রমণ ও পর্যটনের অবদান ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎসও এটি, যেখানে বিকল্প আয়ের সুযোগ নেই বললেই চলে।

    এ অতিনির্ভরশীলতাই পর্যটন খাতকে বিশেষ করে দুর্যোগের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ সড়ক, সেতু, বিমানবন্দর ও হোটেল ধ্বংস করে; পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং বুকিং বাতিলের মাধ্যমে কোনো এলাকার নিরাপত্তার সুনাম নষ্ট করে। তবে রাসুয়ার দুর্যোগ এ বার্তাই দিচ্ছে, পর্যটননীতি থেকে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিকে আর আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

    নেপালের জন্য চ্যালেঞ্জ এখন আর শুধু বেশি পর্যটক টানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একটি চ্যালেঞ্জ হলো, যে পাহাড়গুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করে, সেগুলো ভ্রমণের জন্য নিরাপদ রাখা।

    এ জন্য আধুনিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, মজবুত অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোর চারপাশে হিমবাহ হ্রদসহ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য ঝুঁকিও নিখুঁতভাবে নিরূপণ করা প্রয়োজন।

    কাদাজলে তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় হতাহত ও জীবিত ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারীরা এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করছেন।

    নেপালের পর্যটনশিল্প অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, বিমান দুর্ঘটনা, ভূমিকম্প, মহামারি ও বিক্ষোভ মোকাবিলা করে টিকে থেকেছে।

    কিন্তু হিমালয়ের উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নেপাল এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে খোদ প্রকৃতিই পর্যটনের সামনে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন সবকিছুকে বদলে দিচ্ছে, আর নেপালের পক্ষে একে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।’

  • গরমে স্বস্তি পেতে ঘরে বানান ডাবের পুডিং

    গরমে স্বস্তি পেতে ঘরে বানান ডাবের পুডিং

    প্রচণ্ড গরমে যদি ঠান্ডা কিছু খেতে ইচ্ছে করে তাহলে ঘরেই ডাবের পুডিং বানিয়ে নিন। অল্প সময় ও অল্প পরিশ্রমে এটি তৈরি করা যায়। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফসানা মিমি।

    উপকরণ: ডাবের পানি ২ কাপ, ডাবের শাঁস ১ কাপ (ছোট টুকরো করা), চিনি স্বাদমতো এবং আগার আগার পাউডার ১ টেবিল চামচ।প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে একটি পাত্রে ডাবের পানি, চিনি ও আগার আগার পাউডার একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মাঝারি আঁচে ৩–৫ মিনিট নাড়তে নাড়তে জ্বাল দিন, যেন আগার আগার সম্পূর্ণ গলে যায়। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে সামান্য ঠান্ডা হলে ডাবের শাঁস মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পছন্দের মোল্ড বা বাটিতে ঢেলে রুম টেম্পারেচারে কিছুক্ষণ রাখুন। এরপর ২–৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। পুডিং পুরোপুরি সেট হয়ে গেলে মোল্ড থেকে বের করে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

  • শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে।’বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহিদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।’

    মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো- কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

    একই সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদটি প্রথম কোথা থেকে ছড়ানো হয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে নিসচা। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সবশেষে ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে নিসচার নেতৃবৃন্দ।

  • নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিদেশিসহ ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ, নিহত ১৭

    নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিদেশিসহ ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ, নিহত ১৭

    নেপালে তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ বন্যায় আজ বুধবার ৩৮৪ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসব পর্যটকদের বেশির ভাগই বিদেশি বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন বোর্ড। এদিকে পুলিশ ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।

    পর্যটন বোর্ড বলেছে, ভ্রমণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তারা বন্যাকবলিত এলাকায় ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি আর ৯৩ জন নেপালের নাগরিক।

    নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে।

    এদিকে নেপালের পুলিশ বিবিসিকে বলেছে, ভয়াবহ এ বন্যার পর বুধবার সকালে বিভিন্ন জেলা থেকে ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।

  • ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    বয়স ৪০ পার হওয়ার পর শরীরে ধীরে ধীরে নানা পরিবর্তন শুরু হয়। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও শরীরের ভেতরে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা নীরবে তৈরি হতে পারে। এসব সমস্যার অনেকগুলোরই প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই মধ্যবয়সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘৪০ বছর হলেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একই চারটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক’¬Ñএমন কোনো সর্বজনীন চিকিৎসা-নির্দেশনা নেই। বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান, পূর্ববর্তী রোগ ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

    ১. লিপিড প্রোফাইল (রক্তে কোলেস্টেরল ও চর্বির মাত্রা)

    কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। কোষের গঠন ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ধমনিতে চর্বি জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না; রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করা যায়। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় সাধারণত মোট কোলেস্টেরল, HDL বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল, LDL এবং ট্রাইগ্লিসারাইডসহ রক্তের বিভিন্ন চর্বির মাত্রা মূল্যায়ন করা হয়। HDL তুলনামূলকভাবে হৃদযন্ত্রের জন্য সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে LDL বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারো ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

    ২. কিডনির কার্যক্ষমতা

    কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ, পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও শুরুতে অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই ফলের ভিত্তিতে সাধারণত EGFR (estimated glomerular filtration rate) হিসাব করা হয়, যা কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে তার একটি ধারণা দেয়। কিডনি রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে শুধু রক্তের ক্রিয়েটিনিন নয়, প্রস্রাবে albumin-to-creatinine ratio (ACR)-ও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা বা কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে কিডনি পরীক্ষা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে রোগের অগ্রগতি ধীর করার সুযোগ থাকে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত।

    ৩. দীর্ঘমেয়াদি রক্তে শর্করার হিসাব

    ডায়াবেটিস এখন বিশ্বজুড়েই একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা এবং স্নায়ুর ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। HbA1c একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে গত কয়েক মাসে একজন ব্যক্তির রক্তে গ্লুকোজের গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রক্তের গ্লুকোজ হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে glycated haemoglobin তৈরি করে, HbA1c পরীক্ষায় সেটিই পরিমাপ করা হয়। এটি শুধু পরিচিত ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণেই নয়, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করতেও ব্যবহৃত হয়। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে শুধু HbA1c দিয়েই ডায়াবেটিস নির্ণয় করা যায় না; কিছু বিশেষ শারীরিক অবস্থায় অন্য রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ বা আগে রক্তে শর্করা বেশি থাকার ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

    ৪. রক্তচাপ মাপাচতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আসলে কোনো রক্ত পরীক্ষা নয়Ñরক্তচাপ মাপা। ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণভাবে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে মাপার সময় ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি এবং বাড়িতে মাপার ক্ষেত্রে ১৩৫/৮৫ mmHg বা তার বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। তবে একটি মাত্র উচ্চ রিডিংয়ের ভিত্তিতে সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না; প্রয়োজন হলে বারবার মাপা বা ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেটরি মনিটরিং করা হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান ত্যাগ এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হয়।

  • চুলা জ্বলে না, ডিম-পরোটার দোকানে ভিড়

    চুলা জ্বলে না, ডিম-পরোটার দোকানে ভিড়

    রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে ইলেকট্রিক ও লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। আবার সকালের নাস্তার জন্য অনেকেই হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছেন। এতে বাড়ছে খাবারের খরচ, পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বনশ্রীর এফ ব্লকের একটি হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, সকালের নাস্তার জন্য ভিড়। কেউ খাচ্ছেন, কেউ পার্সেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কথা হয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে।

    হোটেলে নাস্তার অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেলিম বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে সকালের খাওয়া-দাওয়া হোটেলেই হচ্ছে। এরপর ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করে দুপুর ও রাতের খাবার সারছি। এভাবে হোটেলে খাবারের অভ্যাস না থাকলেও এখন বাধ্য হয়ে হোটেলে খেতে হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসের যা অবস্থা, তাতে বিকল্প উপায় ছাড়া কোনো উপায় নেই। গ্যাসে কোনো প্রকার রান্নাই করা যায় না। যে কারণে আমরা সকালে হোটেলের ওপর নির্ভরশীল। এতে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমন পেটেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    হোটেলে খেতে আসা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সকালে বাসায় নাস্তা হতো। কিন্তু এখন আর হয় না। কারণ বাসায় গ্যাস নেই। আমরা ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করছি। কিন্তু সকালে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতেও অনীহা আছে। বাধ্য হয়ে এখন হোটেলে আসছি।’

    আকবর জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন। আগে সকালে উঠে রান্না করে খেয়ে আবার দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু এখন আর সেটি হয় না। গ্যাস সংকটের কারণে চুলা একেবারেই জ্বলে না। এ কারণে সকালে হোটেল থেকে নাস্তা নিয়ে তা খেয়ে অফিসে যান। আর রাতে এসে বাসায় ইলেকট্রিক চুলায় রান্না হয়।

    তিনি বলেন, ‘এতে করে আমাদের এখন খরচও বেড়েছে। চারটি পরোটা, ডিম, সঙ্গে ডাল ভাজি নিলে ১২০ টাকা খরচ। আর সঙ্গে অন্য কিছু নিলে ২০০ টাকার মতো হয়ে যায়। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত কি না, সেটাও দেখার বিষয়। অথচ বাসায় সবকিছু স্বাস্থ্যসম্মত হতো। খরচও কম হতো। মানুষ এখন উভয় সংকটে পড়েছে।

    হোটেলে আসা মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘আমার বাসায় স্বামী, স্ত্রী, সন্তানসহ মোট পাঁচজন। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সকালে আমরা বাসায় রান্না করা নাস্তা খেতে পারি না। হোটেলে নিয়মিত খেতে পেটেরও সমস্যা হচ্ছে। আর বাচ্চারাও খেতে চায় না। কিন্তু কোনো উপায় নেই।’

    তিনি বলেন, ‘গ্যাসের এই সংকট নিয়ে সরকারও কোনো কথা বলে না। আমরা আর কতদিন এই ভোগান্তিতে থাকবো?’

    শুধু বনশ্রী নয়, রাজধানীজুড়েই একই অবস্থা। গ্যাসের তীব্র সংকটে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা জ্বলছে না। বিকল্প উপায়ে রান্না করছেন গৃহিণীরা। সকালের নাস্তার জন্য হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছেন অনেকে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরাসহ সব এলাকায় তিতাস গ্যাস ব্যবহারকারীদের ভয়াবহ সংকট চলছে। যারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন, তারা এ সংকটের বাইরে রয়েছেন। অনেকেই বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। আবার নিম্ন আয়ের মানুষ লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছেন।

    বনশ্রীর গৃহবধূ আসমা খানম বলেন, ‘আমরা এখন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করি। গ্যাস টোটালি বন্ধ রয়েছে। বারবার ফায়ার মারলেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে এই দুর্ভোগ রয়েছে। এখন এমন একটা অবস্থা, গ্যাসই নেই হয়ে গেছে।’

    রামপুরার গৃহবধূ সেলিনা আকতার বলেন, ‘গ্যাসই জ্বলে না, কী আর রান্না করবো। আগে রাতে একটু করে আসতো। কিন্তু এখন রাত-দিন সমান হয়ে গেছে। ইলেকট্রিক চুলা ছাড়া আর রান্না করা যাচ্ছে না।

    বাড্ডার গৃহবধূ আরিফা আক্তার বলেন, ‘লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছি আমরা। গ্যাস না থাকায় এভাবে রান্না করতে হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষ ইলেকট্রিক চুলা কিনতে পারে না। তারা এখন এভাবেই রান্না করছে।’

    বনশ্রী এলাকার ‘মেহরিন হোটেল’-এর ম্যানেজার আবু বকর বলেন, ‘সকালে আগের চেয়ে একটু চাপ বেড়েছে।’

    পাশের ‘পিঠামেলা’ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের চেয়ে সকালে লোকজন বেশি হচ্ছে। বেচাকেনাও ভালো।’

    কেন সকালে ভিড় বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাস সংকট। বাসাবাড়িতে অনেকেই নাস্তা বানাতে পারছেন না। তাই অনেকেই হোটেল-রেস্তোরাঁমুখী।’

    ঘরোয়া রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সুমন বলেন, ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সকালে আমাদের কাস্টমার বেশি। বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণে সকালে অনেকে ঝামেলা করে নাস্তা বানাতে চান না। তারাই হোটেলমুখী হয়েছেন।’

    প্রসঙ্গত, গ্যাস সংকটের অন্যতম বড় কারণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) কারিগরি সমস্যা এবং বৈরী আবহাওয়া। দুটি এফএসআরইউয়ের ওপর দেশের এলএনজি সরবরাহ নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির পর সরবরাহ কমে যায়। পরে গতকাল বিকাল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অন্য টার্মিনালও স্বাভাবিকভাবে এলএনজি সরবরাহ করতে পারছে না। এতে গ্যাস সংকট আরও চরম আকার ধারণ করেছে।

  • সেনাবাহিনীতে ধর্মভীরুতা:কর্নেল মো. শাহজাহান মোল্লা, পিএসসি (অব.)

    সেনাবাহিনীতে ধর্মভীরুতা:কর্নেল মো. শাহজাহান মোল্লা, পিএসসি (অব.)

    একটা কথা দুর্মুখেরা প্রায়ই বলে থাকেন যে সামরিক বাহিনী দিন দিন ধর্মীয় বলয়ে ঢুকছে। কেউ মৌলবাদের গন্ধ ও খোঁজার চেষ্টা করেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে সেনাসদস্যরা বেশির ভাগ মুসলিম পরিবার থেকেই আসে। তাদের স্বাভাবিক ধর্মকর্মের চর্চা স্বাভাবিক। তারপরও ইলেকট্রনিক যুগে যেকোনো তথ্যের কাছে দ্রুত পৌঁছা উৎসাহব্যঞ্জক। জ্ঞান-বিজ্ঞানের আদান-প্রদান তথ্যপ্রবাহকে করেছে আরো গতিময়। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘকাল থেকে উপলব্ধি করেছি সেনাসদস্যরা আগের চেয়ে বর্তমানে ধর্মচর্চার ব্যাপারে আরো আগ্রহী হওয়ার কারণ কী?

    সামরিক বাহিনীতে যোগদানকারী একজন তরুণ প্রথমে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দেশসেবার আদর্শ নিয়ে প্রবেশ করে। কিন্তু কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে যখন সে জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে শপথগ্রহণ করে, তখন তার জীবনের দর্শনই বদলে যায়। সে উপলব্ধি করে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে। এই উপলব্ধি মানুষকে অহংকারী নয়, বরং বিনয়ী করে। আর বিনয় থেকেই জন্ম নেয় সৃষ্টিকর্তার প্রতি নির্ভরতা।

    আমার কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে মাঠপর্যায়ে, দুর্গম এলাকায় এবং অপারেশনাল পরিবেশে। বিশেষ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী একজন সেনাসদস্য প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটান। কখন, কোথায়, কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক প্রিয় সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, অনেককে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করতে এবং অসংখ্য পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা বহন করতে দেখেছি। এমন বাস্তবতার মধ্যে একজন সৈনিকের সৃষ্টিকর্তার স্মরণে শান্তি খোঁজা খুবই স্বাভাবিক।

    অনেকে মনে করেন, সেনাসদস্যদের ধর্মচর্চা বুঝি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চাপের ফল। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পূর্ণ ভিন্ন। দুর্গম পাহাড়ের নির্জন ক্যাম্পে দিনের অপারেশন শেষে বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। সে সময় অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েন, নামাজ আদায় করেন বা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করেন। এটি আদেশের কারণে নয়; বরং মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের একটি ব্যক্তিগত উপায়।

    জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং দায়িত্বপূর্ণ পরিবেশ একজন সৈনিককে আরো আত্মনিয়ন্ত্রিত করে তোলে। সেখানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলাবোধকে আরো দৃঢ় করে।

    একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা দরকার। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী কোনো একটি ধর্মের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সংবিধানের প্রতি অনুগত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন ধর্মের সদস্য একসঙ্গে কাজ করেন, একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন, একসঙ্গে দেশের জন্য জীবন বাজি রাখেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার ভোগ করেন এবং সহকর্মীর ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিও সমান শ্রদ্ধাশীল থাকেন। এই পারস্পরিক সম্মানই বাহিনীর শক্তির অন্যতম ভিত্তি।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাপ্রধানের দাড়ি রাখা বা কোনো সেনাসদস্যের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্রুপ করতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনকে রাজনৈতিক বা বিদ্বেষমূলক বিতর্কে টেনে আনা সমীচীন নয়। একজন সৈনিকের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার সততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে—তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের ভিত্তিতে নয়।

    আমার বিশ্বাস, মৃত্যুর ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে গভীরভাবে উপলব্ধি করে। একজন সৈনিক যখন সীমান্তে, পাহাড়ে বা শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের পতাকা বুকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার কাছে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস—এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক।

    এ কারণেই আমার কাছে সেনাসদস্যদের ধর্মীয় অনুশীলন কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়। এটি তাদের পেশাগত বাস্তবতা, আত্মিক শক্তি, নৈতিক চেতনা এবং দায়িত্ববোধের স্বাভাবিক প্রকাশ।

    লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পদাতিক কর্মকর্তা

  • যেসব ভুলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়

    যেসব ভুলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়

    জীবনে সফল ও সুখী হতে হলে আত্মবিশ্বাসের বিকল্প নেই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে নিজের ওপর নিজেকেই আস্থা রাখতে হয়। তবে জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি সামনে এসে হাজির হয়, যখন বিশ্বাস টলে যায়। বিশেষত জীবনে ঝড়-ঝাপটা, কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে মনের কোণে ভয়, দুর্বলতা বাসা বাঁধে। বিপদে নিজের প্রতি আস্থা হারালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই এমন কোনো কথা বা কাজ করা যাবে না যেগুলো আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

    পারব না ভেবে ফেলা
    ‘আমি কি পারব, আমি তো পারব না’, এমন ভাবনা ব্যর্থতার কারণ। মন যা বিশ্বাস করে, সেটাই কিন্তু বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়। অনেকেই নিরন্তর নেতিবাচক ভাবনায় ডুবে থাকেন। হচ্ছে না, হবে না। কিছু মানুষ বরাবরের আত্মবিশ্বাসী, আর কিছু মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকে। ভাবনাই সেই বিশ্বাস বদলের চাবিকাঠি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে। ‘পারব’, ‘হবেই’, এমন ইতিবাচক মানসিকতা প্রতিকূলতাকে সহজ করতে পারে।

    সমালোচনায় ভেঙে পড়া
    সমালোচনা, তীর্যক মন্তব্যে অনেকে খুব দ্রুত ভেঙে পড়েন। কাজে ব্যর্থতা থাকবে, সমলোচনাও থাকবে। সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলার মানসিকতা নিজেকেই তৈরি করতে হবে। ইতিবাচক ভাবনা এবং প্রচেষ্টা দ্বারাই সমালোচকদের জবাব দেওয়া সম্ভব।

    অন্যের সঙ্গে তুলনা
    কখনো না চাইলেও অন্যের সাফল্য মনকে ঈর্ষান্বিত করে তোলে। বিশেষত সমাজমাধ্যমে বন্ধু, পরিচিতদের সাফল্য দেখে মনের মধ্যে তুলনা আসেই। তাতে আত্মবিশ্বাস ধাক্কা খায়। সততা, পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য আসে না, এ কথা বিশ্বাস করতে পারলে, নিজের মানসিকতাও বদলানো সম্ভব।

    ভুল ধরে বসে থাকা
    জীবনে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। এক বার ভুল হয়েছে মানেই বার বার হবে, তা কিন্তু ঠিক নয়। ভুল বা খারাপ অভিজ্ঞতা অনেক সময়েই আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে। সিদ্ধান্তে বা কাজে ভুল হতে পারে, সেটা সহজ ভাবে নিলেই ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসা সম্ভব।

    নতুন কিছু করার ভয়
    যে কাজে ঝুঁকি আছে, স্বাচ্ছন্দ্য কম-সেই ধরনের কাজ এড়িয়ে চলতে চান অনেকে। জীবনে এগোতে গেলে ঝুঁকি নিতেও হয়। কঠিন কাজও করা সম্ভব, সেখান থেকে নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়-এই ভাবেও মনকে বোঝানো যেতে পারে। এতে ভয় কাটে। নতুন কাজে এক বার সাফল্য এলে, আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়।

  • বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    একটি দেশ পরিচালনার কাজ নিশ্চিতভাবেই ৯-৫টার চাকরি নয়। গভীর রাতের দীর্ঘ আলোচনা, সাতসকালের ব্রিফিং, টাইমজোনের পরোয়া না করে আসা জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বৈঠক, ভাষণ ও সফরের দীর্ঘ তালিকা তো আছেই। এ অবস্থায় কোনো বিশ্বনেতা আসলে ঘুমানোর জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতাদের ঘুমানোর এই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক স্বীকারোক্তির পর। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কিছু রাত গেছে, যখন একেবারেই ঘুম হয়নি।

    গত মাসে এক সরকারি ছুটির দিন তাকাইচি এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেন, ‘অবশেষে টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছি।’ এটিকে বিরল হিসেবে উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি রাতে তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের পরিমাণ শূন্য থেকে বড়জোর তিন ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে।

    তাকাইচি এই তথ্য প্রকাশের পর জাপানের দীর্ঘদিনের এক উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে বাড়তি কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা, কয়েক দশক ধরে জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কি সত্যিই রাজনৈতিক নেতাদের মনোবল ও নিষ্ঠার প্রমাণ? নাগরিকদের জীবনকে প্রভাবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের অপর্যাপ্ত ঘুম কি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?

    কোন দেশের সরকারপ্রধানরা কত ঘণ্টা ঘুমান, সে তথ্য তাদের সাক্ষাৎকার ও প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। এতে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কম ঘুমানো একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন।

    ২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণত রাতে চার বা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানায়, ট্রাম্প মাঝরাত বা রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করতেন। আবার ভোর ৫টার দিকে জাগতেন।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দেশিত সময়ের চেয়ে অনেকটাই কম ঘুমান। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের উপস্থাপনায় এক অনুষ্ঠানে মোদি জানান, তিনি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। তবে এই সময়ে তাঁর গভীর ঘুম হয়।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রাতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। এই তথ্যটি তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার শুরুর দিকে প্রকাশ করেছিল ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ওই সময়কার অন্য প্রতিবেদনগুলোতে মাখোঁর সম্পর্কে বলা হয়, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ এবং সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।

    সাবেক বিশ্বনেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ঘুমের তথ্য জানা গেছে। ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, বারাক ওবামা সাধারণত ৫ ঘণ্টা ঘুমান। রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর তিনি আরও কয়েক ঘণ্টা একাকী কাজ করতেন। এ সময় তিনি ব্রিফিংয়ের কাগজপত্র পড়া, লেখা ও পরবর্তী দিনের প্রস্তুতি নিতেন।

    ঘুমের বিষয়ে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের একটি উক্তি বেশ আলোচিত। স্বল্প ঘুমের কারণে তিনি নিজেকে উটের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কেল বলেছিলেন, ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি টানা কাজ করতেন। এরপর ঘুমাতেন। অর্থাৎ, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে ঘুমের যে ঘাটতি হতো তা তিনি পরে পুষিয়ে নিতেন।

    দুই যুগের বেশি সময় আগে যখন স্মার্টফোনের আধিপত্য, ২৪ ঘণ্টার খবর এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার প্রবণতা ছিল না, তখনও নিজেকে কম ঘুমানো মানুষের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য সান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে আজকাল ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোটা আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়।’

  • হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

    হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

    বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ক্ষেত্রে তিনি আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হালাল অর্থনীতিকে এখন আর শুধু খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। এটি বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

    তিনি বলেন, “রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রথমে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম প্রধান শর্ত। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং নতুন বাজার তৈরিতে সহায়তা করবে।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকনির্ভর হলেও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। হালাল অর্থনীতি হতে পারে সেই নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু খাদ্য নয়, বরং ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, পর্যটন ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্যেও হালাল মানের গুরুত্ব বাড়ছে। এই বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা।

    আলোচনায় উঠে আসে, আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেম বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। দেশটি হালালকে শুধু একটি পণ্য হিসেবে দেখেনি; বরং উৎপাদন থেকে শুরু করে গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, শক্তিশালী কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত, ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প এবং পোশাক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এসব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

    সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়—

    ১. আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি করা।

    ২. আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা।

    ৩. বিদ্যমান উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করা।

    ৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা।

    ৫. অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করা।

    বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমান সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

    প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন (লাইভস্টক) বিভাগের উপপরিচালক আকতার হোসেন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এস এম আবু সাঈদ।

    বক্তারা বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি পণ্যের মান, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা নিশ্চিত করতে পারলে হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের রপ্তানির নতুন ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

    এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং একটি কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিকারক নয়, বরং বৈশ্বিক হালাল বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

  • কীভাবে সেলফি তুললে সুন্দর দেখাবে?

    কীভাবে সেলফি তুললে সুন্দর দেখাবে?

    সুন্দরভাবে সাজলে, দর্শনীয় কোনো স্থানে গেলে কিংবা এমনিতেই অনেক সময় সেলফি তুলতে মন চায়। সেলফি তোলার মুহূর্তে সবাই চান ছবিতে যাতে নিজের চেহারাটা আকর্ষণীয় দেখায়। কিন্তু কখনও খেয়াল করেছেন, হাত একটু বেশি কাছে টেনে আনলে মুখের নাকটা হঠাৎ কেমন অদ্ভুত বড় লাগে, আর পাশের চিবুক দুটো মনে হয় পিছিয়ে গেছে? সাধারণত মোবাইল ক্যামেরার লেন্স ও আমাদের মুখের মধ্যকার দূরত্বের কমবেশির কারণে এমনটায় হয়।

    সুন্দর ও স্বাভাবিক সেলফি তুলতে গেলে ফোনটি মুখ থেকে অন্তত দুই থেকে আড়াই ফুট (প্রায় ৩০ থেকে ৩৬ ইঞ্চি) দূরে রাখা উচিত। টিভি নাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের হাতটা যতটা সম্ভব সামনের দিকে ছড়িয়ে দিয়ে ফোন ধরে হাসলেই ছবি উঠবে সুন্দর। আসলে প্রায় সব স্মার্টফোনের সামনের ক্যামেরায় ওয়াইড-এঙ্গেল লেন্স থাকে। খুব কাছে থেকে ছবি তুললে এই লেন্স মুখের মাঝখানের অংশকে বাড়িয়ে দিয়ে ছবিটা এলোমেলো করে দেয়। প্রযুক্তির ভাষায় একে বলে ‘লেন্স ডিস্টোরশন’। একটু দূর থেকে ফ্রেম বাঁধলে মুখের নিখুঁত গড়ন একদম ঠিকঠাক ফুটে ওঠে।

    সেলফি তোলার জন্য সবচেয়ে ভালো হয় সূর্যের আলো থাকলে। এ কারণে চেষ্টা করুন আলোর দিকে মুখ করে দাঁড়াতে, আলোর উল্টো দিকে নয়। সরাসরি কড়া রোদে না দাঁড়িয়ে সকালে বা বিকেলে মিষ্টি রোদে কিংবা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলুন। তাহলে মুখে আলো খুব সুন্দরভাবে ছড়িয়ে পড়বে। ফোনের ফ্রন্ট ফ্ল্যাশ ব্যবহার করলে মুখ অতিরিক্ত সাদা বা ফ্ল্যাট দেখাতে পারে। এ কারণে সেটা ব্যবহার না করাই ভালো।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • আজ বন্ধু দিবস

    আজ বন্ধু দিবস

    জন্মের পর থেকেই মানুষ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও রক্তের সম্পর্কের এক চিরচেনা ভূগোলে বেড়ে ওঠে। কিন্তু জীবনযাত্রার কোনো এক মোড়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই এমন একজন মানুষের আগমন ঘটে, যার সঙ্গে রক্তের কোনো টান নেই। অথচ জীবনের সবচেয়ে গোপন কথা, আনন্দ আর বেদনার মুহূর্তগুলো তার কাছেই অবলীলায় প্রকাশ করা যায়।

    সামাজিক কোনো বাধ্যবাধকতা বা জন্মসনদ ছাড়াই গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের নামই বন্ধুত্ব। মানুষের তৈরি যাবতীয় সম্পর্কের মধ্যে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে স্বাধীন এবং গভীর।

    আজ আগস্ট মাসের প্রথম রোববার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে ‘বন্ধু দিবস’ হিসেবে। যদিও এমন একটি সম্পর্ককে নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখে বেঁধে রাখা যায় না। তারপরও এই দিনটি পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া, স্মৃতি রোমন্থন কিংবা সম্পর্ককে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

    ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বন্ধুত্বের এই গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।

    কীভাবে এলো বন্ধু দিবস?

    বন্ধু দিবসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩০ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বন্ধু দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা হাওয়ার্ড হল ২ আগস্টকে বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বন্ধুদের শুভেচ্ছা কার্ড, ফুল ও উপহার বিনিময়ের প্রচার চালান। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকায় সেই উদ্যোগ খুব বেশি সফল হয়নি।

    পরবর্তীকালে ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস আগস্ট মাসের প্রথম রবিবারকে ‘জাতীয় বন্ধু দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ধীরে ধীরে দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

    আরেকটি প্রচলিত মত অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি ঘটনার প্রতিবাদে এক ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পরদিন আত্মহত্যা করেন। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে আগস্টের প্রথম রবিবারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।

    দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েও বন্ধু দিবস জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৫৮ সালে সেখানে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাবও আসে প্যারাগুয়ে থেকেই।

    ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রতি বছরের ৩০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এখনও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে আগস্টের প্রথম রবিবারই বন্ধু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

    বন্ধুত্বের এই গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।

    বদলে গেছে উদযাপনের ধরন

    একসময় বন্ধু দিবসে শুভেচ্ছা কার্ড, চকলেট কিংবা ছোট উপহার বিনিময়ের প্রচলন ছিল। এখন সেই জায়গা অনেকটাই দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পুরোনো ছবির কোলাজ, স্মৃতিচারণ, বন্ধুদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা কিংবা আড্ডার ছবি শেয়ার করেই দিনটি উদযাপন করেন অনেকেই।

    কেন প্রয়োজন বন্ধুত্ব?

    মনোবিশ্লেষকদের মতে, বন্ধুত্ব শুধু বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জীবনের প্রায় সব সম্পর্কেই বন্ধুত্বের প্রয়োজন রয়েছে। বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কেও বন্ধুত্ব থাকলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বলেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে ধীরে ধীরে একাকী করে তুলছে। এই বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে আন্তরিক বন্ধুত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    তিনি বলেন, বন্ধুহীন মানুষ নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে। মানুষের জীবনে এমন একজন প্রয়োজন, যার কাছে নিজের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, যে অন্যের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখবে। এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মানুষকে একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

    জীবনে মানুষের আনাগোনা চলতেই থাকে। সময়ের নিয়মে অনেক সম্পর্ক ফিকে হয়ে যায়, অনেকে হারিয়ে যায় স্মৃতির অতলে। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুরা রয়ে যায় জীবনের শেষ অবধি- কখনো পাশাপাশি থেকে, কখনো দূরে অবস্থান করে আবার কখনো নিছক একবুক মিষ্টি স্মৃতি হয়ে। জীবনে নিজের সত্তাকে উন্মুক্ত করার এবং পৃথিবীকে নতুন আলোয় দেখার অনুপ্রেরণা যোগায় এই বন্ধন। আগস্টের প্রথম রবিবার বা জাতিসংঘের ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস যাই হোক না কেন, বন্ধুত্ব প্রতিদিনের, বন্ধুত্ব চিরকালের।

    বিশ্ব বন্ধু দিবস শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি দিন নয়, বরং প্রিয় বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি উপলক্ষ। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক, ছোট ছোট কোন উদ্যোগে দীর্ঘদিনের এই সুন্দর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় রাখা যায়।

    মন খুলে কথা বলুন, যোগাযোগ রাখুন

    বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত যোগাযোগ। ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন কথা বলা সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝে খোঁজ নেয়া, বন্ধুর কথা মন দিয়ে শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। অনেক সময় একটি ছোট্ট বার্তা বা হঠাৎ করা একটি ফোনকলও বন্ধুকে বুঝিয়ে দেয় যে আপনি তাকে এখনও আগের মতোই গুরুত্ব দেন।

    বিশেষ দিন ও মুহূর্ত মনে রাখুন

    বন্ধুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো মনে রাখা সম্পর্ককে আরও গভীর করে। জন্মদিন, নতুন কোনো অর্জন কিংবা জীবনের বিশেষ কোনো দিনে শুভেচ্ছা জানানো বন্ধুত্বে বাড়তি উষ্ণতা যোগ করে। পুরোনো ছবি, স্মৃতি কিংবা একসঙ্গে কাটানো সময়ের গল্প ভাগ করে নেওয়াও বন্ধুত্বকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

    সুখ-দুঃখে পাশে থাকুন

    সত্যিকারের বন্ধুত্ব শুধু আনন্দের সময় একসঙ্গে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের কঠিন সময়ে একজন বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোই বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। বন্ধুর সমস্যা সমাধান করতে না পারলেও তার কথা মন দিয়ে শোনা, সাহস দেয়া এবং মানসিকভাবে পাশে থাকাই অনেক বড় সমর্থন হয়ে ওঠে।

    ছোট ছোট যত্নে প্রকাশ করুন ভালোবাসা

    বন্ধুত্ব ধরে রাখতে সব সময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। হঠাৎ বন্ধুর খোঁজ নেয়া, তার পছন্দের কোনো জিনিস মনে রাখা, ছোট কোনো উপহার দেয়া কিংবা একসঙ্গে কিছু সময় কাটানো এসব ছোট ছোট উদ্যোগই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সতেজ রাখে।

    একে অপরের পার্থক্যকে সম্মান করুন

    প্রত্যেক মানুষের চিন্তা, পছন্দ, মতামত ও জীবনযাপনের ধরন আলাদা। বন্ধুত্বের সৌন্দর্য হলো এই ভিন্নতাকে গ্রহণ করা। মতের অমিল হলেও বন্ধুর প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং তার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করাই একটি পরিণত বন্ধুত্বের পরিচয়।

    শুধু অনলাইনে নয়, বাস্তবেও সময় দিন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দূরে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এখন সহজ হয়েছে। তবে শুধু লাইক, কমেন্ট বা মেসেজের মধ্যেই বন্ধুত্ব সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সুযোগ পেলেই একসঙ্গে সময় কাটানো, সরাসরি কথা বলা এবং বাস্তব মুহূর্ত ভাগ করে নেয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

    বিশ্বাস ও গোপনীয়তা বজায় রাখুন

    একজন ভালো বন্ধুর সবচেয়ে বড় গুণ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। বন্ধুর ব্যক্তিগত কথা গোপন রাখা, তার দুর্বলতাকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা বন্ধুত্বের ভিত্তিকে আরও মজবুত করে।

    বন্ধুত্ব কোনো একদিনের উদ্‌যাপন নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নে তৈরি হওয়া এক সুন্দর সম্পর্ক। বিশ্বাস, সম্মান ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এই বন্ধন আজীবন ধরে রাখা সম্ভব।

  • চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহারন খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার আসাননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহারন খাতুন ওই গ্রামের মাসুদ হোসেনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের জন্য রাইস কুকারে ভাত রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহারন খাতুন। রাইস কুকারের সুইচ বোর্ডে প্লাগ যুক্ত করার সময় হঠাৎ বোর্ডটি ভেঙে তার হাতের ওপর খুলে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তার হাতে বিদ্যুতের তার জড়ানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিসা চালু করছে ওমান

    পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিসা চালু করছে ওমান

    পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য করতে নতুন নিয়মের আওতায় বিনামূল্যে ১৪ দিনের পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান।

    গালফ নিউজ জানায়, দেশটির পুলিশ ও কাস্টমসের ইন্সপেক্টর জেনারেল লেফট্যান্যান্ট জেনারেল হাসান বিন মোহসিন আল শ্রাইকি স্বাক্ষরিত এবং রয়্যাল ওমান পুলিশের ১০৯/২০২৬ নম্বর আদেশের মাধ্যমে এই নতুন বিধিমালা কার্যকর করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের আবাসন আইনের কার্যনির্বাহী বিধিমালার সংশোধনী হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নতুন এই নিয়মের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু দেশের যোগ্য নাগরিকেরা কোনো ফি ছাড়াই ১৪ দিন মেয়াদী পর্যটন ভিসা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে এই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।

    আকর্ষনীয় বিষয় হলো, এই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দর্শনার্থীরা চাইলে প্রযোজ্য নিয়ম ও ফি পরিশোধ সাপেক্ষে এটিকে অন্য যেকোনো পর্যটন ভিসা ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করতে পারবেন।

    কার্যনির্বাহী বিধিমালার ধারা ১০ এবং এন্ট্রি ভিসার অফিসিয়াল শিডিউলের ধারা ২৯-এ এই নতুন ভিসা ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এর ফি শূন্য ওমানি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকেরা এই ফ্রি ভিসার সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তালিকা এখনো প্রকাশ করেনি ওমান কর্র্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটিতে প্রবেশ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সাবলীল করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো ‘জুলাই সনদের’ আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইন সংস্কার কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার প্রায় সবগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি।’

    একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন।

    রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা এনসিপিকে পরামর্শ দেব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে তারা দেশের যেখানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাক না কেন, বিএনপি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

  • আজ জাতীয় লিপস্টিক দিবস

    আজ জাতীয় লিপস্টিক দিবস

    বিশ্বজুড়ে আজ ২৯ জুলাই পালিত হচ্ছে জাতীয় লিপস্টিক দিবস। এটি সরকারি ছুটির দিন না হলেও সৌন্দর্যচর্চা, ফ্যাশন ও প্রসাধনী শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান নতুন পণ্য উন্মোচন, মূল্যছাড় এবং প্রচারমূলক নানা আয়োজন করে থাকে।

    লিপস্টিক দীর্ঘদিন ধরেই শুধু একটি প্রসাধনী নয় বরং আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও আত্মপ্রকাশের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের দৈনন্দিন সাজের অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করেন।

    লিপস্টিকের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় নারীরা গুঁড়ো করা মূল্যবান পাথর দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। প্রাচীন মিসরে লাল ঠোঁট ছিল সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক
    । সে সময় নারী-পুরুষ উভয়েই ঠোঁটে রং ব্যবহার করতেন। ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, মিশরের বিখ্যাত রানি ক্লিওপেট্রাও প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি লাল রঙের ঠোঁটের প্রসাধনী ব্যবহার করতেন।প্রাচীন গ্রিস ও রোমেও ঠোঁট রাঙানোর প্রচলন ছিল। সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন সমাজে এর জনপ্রিয়তায় ওঠানামা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

    আধুনিক লিপস্টিকের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয় ১৮৮৪ সালে। তখন এটি কাগজে মোড়ানো অবস্থায় বিক্রি হতো। পরে ধাতব আবরণে লিপস্টিক তৈরি হলে ব্যবহার আরও সহজ হয়ে যায়।

    চলচ্চিত্র, ফ্যাশন ও বিজ্ঞাপনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিক বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

    সব রঙের মধ্যে লাল লিপস্টিক এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়। সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞদের মতে, লাল রং আত্মবিশ্বাস, শক্তি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। তবে বর্তমানে গোলাপি, বাদামি, প্রবাল, বেগুনি এবং ত্বকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন শেডের লিপস্টিকও সমানভাবে জনপ্রিয়।

    বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, লিপস্টিক কেনার সময় শুধু রং নয়, পণ্যের মান ও উপাদানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বকের সঙ্গে মানানসই রং নির্বাচন, ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন লিপস্টিক ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী এড়িয়ে চলা এবং অন্যের ব্যবহৃত লিপস্টিক ব্যবহার না করাই নিরাপদ। পাশাপাশি দিনের শেষে লিপস্টিক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলারও পরামর্শ দেওয়া হয়।হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় লিপস্টিক আজ কেবল সাজসজ্জার উপকরণ নয়; এটি ফ্যাশন, সংস্কৃতি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাই জাতীয় লিপস্টিক দিবস শুধু একটি প্রসাধনীকে ঘিরে উদযাপন নয়, বরং সৌন্দর্যচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তনেরও স্বীকৃতি।

  • গ্যাস সংকট, রান্নায় ভরসা এখন বৈদ্যুতিক চুলা

    গ্যাস সংকট, রান্নায় ভরসা এখন বৈদ্যুতিক চুলা

    রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে রান্নাঘরে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। দিনের পর দিন চুলায় আগুন না জ্বলায় বিকল্প হিসাবে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছে হাজারো পরিবার। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ইলেকট্রিক ও ইনডাকশন চুলার বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ।

    বিক্রেতারা বলছেন, গ্যাসের অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে অনেকেই স্থায়ী বিকল্প হিসেবে আগেভাগেই বৈদ্যুতিক চুলা কিনে রাখছেন।

    একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে বৈদ্যুতিক ও ইনডাকশন চুলার বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকে বা একেবারেই গ্যাস পাওয়া যায় না, সেসব এলাকার ক্রেতাদের উপস্থিতিই বেশি। অনেকেই গ্যাসের চুলার পাশাপাশি একটি বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন, যাতে গ্যাস না থাকলেও রান্নার কাজ ব্যাহত না হয়।

    বনশ্রীর সোহেল নামের বিক্রেতা জানান, আগে দিনে যেখানে চার থেকে পাঁচটি বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হতো, এখন সেখানে ১৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকার ইলেকট্রিক ও ইনডাকশন চুলার। তবে উন্নত মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের চুলাও বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে তুলনামূলক ভালো মানের পণ্যই বেছে নিচ্ছেন।

    কথা হয় চুলা কিনতে আসা রাজধানীর বাড্ডার গৃহবধূ আঁখি আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দনগর এলাকায় থাকি। কয়েক বছর ধরেই আমাদের এলাকায় গ্যাসের তীব্র সমস্যা। রান্না করতে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই পরিবারের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইনডাকশন চুলা কিনতে এসেছি। একটি পছন্দও হয়েছে, কিনে বাড়ি ফিরব।’

    রামপুরার আরেকটি শোরুমে ইলেকট্রিক চুলা কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার চেয়ে প্রয়োজনের সময় বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করা অনেক বেশি সুবিধাজনক। বিদ্যুতের বিল কিছুটা বাড়লেও পরিবারের স্বাভাবিক রান্নাবান্না চালিয়ে নিতে এটি কার্যকর সমাধান।’

    বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সংকট যতদিন থাকবে ততদিন বৈদ্যুতিক ও ইনডাকশন চুলার চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রান্নার কাজে বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহারও ধীরে ধীরে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক কোম্পানি বাজারে ইলেকট্রিক চুলা আনছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলমান গ্যাস সঙ্কটের কারণে রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা-ই এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন। সকাল দুপুর সন্ধ্যা কোন সময়েই রান্নার উপযোগী গ্যাস মিলছে না।

    উত্তরার বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার জানান, গ্যাগের অভাবে চুলাই জ্বলে না। এখন উপায় না পেয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি। এই চুলায় এখন আমরা রান্না করছি।

    তিনি বলেন, ‘ছোট পরিবারের জন্য ইলেকট্রিক চুলা ঠিক আছে। কিন্তু যাদের বড় পরিবার, বেশি রান্না করতে হয়; তারা কী করবেন? চরম গ্যাস সঙ্কটে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানান তিনি।

    এদিকে সারা দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস। শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহেশখালীস্থ এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে কারিগরি ত্রুটির কারণে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।

    এর আগে একই দিনে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলাও। সংস্থাটি জানায়, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউর (এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল) কারিগরি ত্রুটি মেরামতে দেশি-বিদেশি কারিগরি দল নিরলসভাবে কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব মেরামতকাজ শেষ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

    পেট্রোবাংলা আরও জানায়, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ শেষ হলেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

  • যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে 

    যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে 

    লাইফস্টাইল

    এখন বড়দের মতো অনেক তরুণও কিডনির পাথরের সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকে ভোগেন মূত্রথলির পাথরের সমস্যায়। এ ধরনের সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিডনিতে পাথরের লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে অনেকটা ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা হলো অনেকেই লক্ষণগুলো অবহেলা করেন। পরে তা জীবনকে নিয়ে যায় হুমকির মুখে।

    কিডনি পাথরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে। পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট অনিল কুমার বার্ষ্ণেয়।

    প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা
    যখন কিডনি ও মূত্রাশয়ের সংযোগকারী নালীর মাঝে পাথর আটকে যায়, তখন প্রস্রাবের সময় আপনি ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই অস্বস্তি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা একে ডিসইউরিয়া বলে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য এই লক্ষণগুলো আগেই শনাক্ত করা জরুরি।

    প্রস্রাবে রক্ত


    কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ, যা হেমাটুরিয়া নামে পরিচিত। এই রক্ত লাল, গোলাপি বা বাদামী রঙের হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তকণিকাগুলো এতটাই ছোট হয় যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না।


    কিডনিতে পাথর হলে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া সাধারণ লক্ষণ। এই উপসর্গগুলো কিডনি এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থাকা আন্তঃসংযুক্ত স্নায়ু থেকে উদ্ভূত হয়। কিডনিতে পাথর থাকলে তা পরিপাকতন্ত্রের এই স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, যার ফলে পেটে অস্বস্তি হয়। এছাড়াও, তীব্র ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতে পারে।


    জ্বর ও কাঁপুনি কিডনি বা মূত্রনালীর সংক্রমণের আরো একটি লক্ষণ। কিডনিতে পাথর হলেও এমনটা হতে পারে। এ লক্ষণগুলো অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

  • সৌদি ওমরাহ ভিসার মেয়াদ করলো একবছর

    সৌদি ওমরাহ ভিসার মেয়াদ করলো একবছর

    পর্যটন খাতকে আরো গতিশীল করতে ওমরাহ ভিসার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসার মেয়াদ হবে এক বছর (৩৬৫ দিন)। এর ফলে ভিসাধারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন এবং প্রতিবার সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন।

    সোমবার সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নতুন এই ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পকে আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবার সৌদি আরবে প্রবেশের আগে ভিসাধারীদের সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’ থেকে একটি নির্ধারিত প্যাকেজ কিনতে হবে। তবে ওই প্যাকেজের মেয়াদ ভিসার অবশিষ্ট সময়ের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া সফরের আগে একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরাহ পালনের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করাও বাধ্যতামূলক।

    তবে হজ মৌসুমে এই ভিসা কার্যকর থাকবে না। আরবি মাস জিলকদের ১ তারিখ থেকে জিলহজের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ওমরাহ ভিসার ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এ সময় ভিসাধারীরা সৌদি আরবে প্রবেশের জন্য এই ভিসা ব্যবহার করতে পারবেন না।

  • লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    প্রতিদিন রান্নার কাজে অনেকে লোহার কড়াই ব্যবহার করেন। সব ধরনের রান্না এ কড়াইতে করা ঠিক নয়। কারণ লোহা দিয়ে তৈরি পাত্রে বিশেষ কিছু খাবার রান্না করলে প্রকৃত খাবারের স্বাদ নষ্ট হতে পারে। এমনকি এ ধরনের পাত্রে রান্না খাবার খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে।

    যেসব খাবার লোহার কড়াইয়ে রান্না করবেন না

    টমেটো
    প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো রান্নায় টমেটো দেওয়া হয়। শুধু টমেটো দিয়ে নানা পদও রান্না করা হয়। টমেটো প্রকৃতিগতভাবে অম্লীয় স্বাদের। তাই লোহার কড়াইয়ে এটি রান্না না করা ভালো। রান্না করলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে এবং এর থেকে ধাতব পদার্থ খাবারে মিশে যেতে পারে। খাবারে ধাতব মিশলে আসল স্বাদ নষ্ট হবে। লেবু ও ভিনেগারের মতো অন্যান্য অম্লীয় খাবারও লোহার কড়াইয়ে রান্না ঠিক নয়।

    ডিম
    আপনি যদি প্রায়ই ডিম রান্নার জন্য লোহার কড়াই ব্যবহার করে থাকেন, তবে এখন থেকে বন্ধ করুন। ডিমে থাকা সালফার লোহার সাথে বিক্রিয়া করে ডিমকে ধূসর করে দিতে পারে এবং এর স্বাদ নষ্ট করে দেয়। শুধু তাই নয়, লোহা ও সালফারের এই বিক্রিয়ার ফলে আপনার কড়াইতে মরিচা পড়তে পারে। কড়াইয়ের রঙও পাল্টে যেতে পারে, যা এর স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়। তাই, ডিম রান্নায় নন-স্টিক পাত্র ব্যবহার করা উচিত।

    মাছ
    লোহার কড়াইতে মাছ রান্না করা এড়িয়ে চলা উচিত। মাছে থাকা অ্যাসিড লোহার সাথে বিক্রিয়া করে। যার ফলে মাছ কড়াইয়ের তলায় লেগে যায় এবং এর স্বাদ ও গঠন বদলে যায়। নন-স্টিক প্যান বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে মাছ রান্না করা সবচেয়ে ভালো।

    ভাত
    লোহার পাত্রে ভাত রান্না করাও ঠিক নয়। চালের উচ্চ অম্লতা লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করে চালের রঙ পাল্টে দিতে পারে। এছাড়া ভাতে ধাতব স্বাদ যুক্ত হতে পারে। আবার লোহা চালে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে চাল কড়াইয়ের তলায় লেগে যেতে পারে। তাই, ভাত রান্নার সময় লোহার পাত্র ব্যবহার না করে স্টেইনলেস স্টিল বা অন্য কোনো নন-স্টিক ভারী তলার পাত্র ব্যবহার করাই শ্রেয়।

  • চমক দিতে তার খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না

    চমক দিতে তার খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না

    বিয়ন্সে, পুরো নাম বিয়ন্সে গিসেল নোলস-কার্টার। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, চমক দিতে তাঁর খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন সিঙ্গেল ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’। তাতেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। তবে এটি কেবল একটি নতুন গান নয়; এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল অ্যালবাম ‘বি-ডে’র ২০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন।

    ২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবাম দিয়ে সংগীতাঙ্গনে আলোড়ন তৈরির পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার শ্রোতার সামনে হাজির হলেন এই গান নিয়ে। মুক্তির পর থেকেই ‘মর্নিং ডিউ’ স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ভক্তদের কাছে এটি যেন একই সঙ্গে নতুন গান ও পুরোনো স্মৃতির এক আবেগঘন ফিরে দেখা।

    ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল ‘বি-ডে’ শিরোনামে বিয়ন্সের অ্যালবাম। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় একক স্টুডিও অ্যালবাম। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। ‘ডেজা ভু’, ‘ইররিপ্লেসেবল’, ‘বিউটিফুল লায়ার’ কিংবা ‘গেট মি বডিড’-এর মতো একের পর এক জনপ্রিয় গান এই অ্যালবামকে পপসংগীতের ইতিহাসে একটি বিশেষ জায়গা করে দেয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অ্যালবামটির ২০ বছর পূর্ণ হবে। পাশাপাশি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, বিয়ন্সের ৪৬তম জন্মদিনে প্রকাশ করা হবে ‘বি-ডে’র বিশেষ সংস্করণ। সেই বিশেষ সংস্করণেই যুক্ত হয়েছে ‘মর্নিং ডিউ’।

    নতুন এই গানের গল্পও বেশ ব্যতিক্রমী। গানটি নতুন হলেও এর জন্ম হয়েছিল ২০১৩ সালে প্রকাশিত স্বনামের ‘বিয়ন্সে’ অ্যালবামের জন্য। শেষ পর্যন্ত গানটি অ্যালবামে স্থান পায়নি। এরপর দীর্ঘ নীরবতা। ২০২৩ সালে গানটির একটি ডেমো সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি টিকটকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার ব্যবহারকারী সেই ডেমো ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন। ভক্তদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও অনুরোধের পর অবশেষে বিয়ন্সের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’ গানটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

    গানটির গীতরচনায় বিয়ন্সের সঙ্গে কাজ করেছেন ফারেল উইলিয়ামস, অ্যাঞ্জেলা শেরি উডস, ড্যারিয়াস ডিকসন এবং দ্য ড্রিম। সংগীত প্রযোজনার দায়িত্বও ভাগাভাগি করেছেন বিয়ন্সে ও ফারেল উইলিয়ামস। ফারেলের সঙ্গে বিয়ন্সের রসায়ন নতুন নয়। অতীতেও তাঁদের একাধিক সফল সহযোগিতা শ্রোতার প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘মর্নিং ডিউ’-এ সেই পরিচিত ঘরানার সঙ্গে আধুনিক আরঅ্যান্ডবি ও পপের মিশেল তৈরি হয়েছে, যা গানটিকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। গানের পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে একটি সাদাকালো ভিজ্যুয়াল ভিডিও, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন বিয়ন্সের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার ক্লিফ ওয়াটস।

    ভিডিওটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০০৭ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ ইস্যুর ফটোশুট চলাকালীন ধারণ করা বিয়ন্সের অপ্রকাশিত আর্কাইভ ফুটেজ। নতুন গানের সঙ্গে পুরোনো সেই মুহূর্তগুলোর সংমিশ্রণ দর্শককে যেন এক লহমায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় দুই দশক আগের বিয়ন্সের সোনালি সময়ে। ভিডিওটি শুধুই একটি মিউজিক ভিডিও নয়, বরং তাঁর ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ।
    পপসংগীতের ইতিহাসে বিয়ন্সে এমন একজন শিল্পী, যিনি প্রতিটি অ্যালবামের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ’ থেকে ‘লেমনেড’, ‘রেনেসাঁ’ কিংবা ‘কাউবয় কার্টার’ প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি ভেঙেছেন প্রচলিত ধারা। ‘মর্নিং ডিউ’ সেই ধারাবাহিকতায় এক ভিন্ন সংযোজন। এটি যেমন অতীতের অপ্রকাশিত একটি গানকে নতুন জীবন দিয়েছে, তেমনি ‘বি-ডে’র বিশ বছর পূর্তিকে ঘিরে ভক্তদের আবেগও নতুন করে দিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় আছেন সেপ্টেম্বরের বিশেষ সংস্করণের জন্য। কারণ, ‘মর্নিং ডিউ’ শুধু একটি নতুন সিঙ্গেল নয়; এটি বিয়ন্সের দীর্ঘ সংগীতযাত্রার এক নস্টালজিক অধ্যায়ের দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের সাফল্য এক হয়ে তৈরি করেছে নতুন এক উদযাপনের গল্প।

  • ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

    ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

    দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড মার্কেটপ্লেস বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের (বিটিএম) আয়োজন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) উদ্যোগে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই ট্রাভেল মার্ট অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রদর্শক, শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।

    শনিবার (১১ জুলাই) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বর্তমানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

    সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ জানান, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও আন্তরিক আতিথেয়তা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে ক্রমেই আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরো সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে বোটোয়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট আয়োজন করছে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের এ আয়োজন দেশের পর্যটন, ভ্রমণ ও এভিয়েশন শিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

    বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি মূলত দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও একই সঙ্গে ইনবাউন্ড পর্যটনের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

    ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসিন ইকবাল জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট-২০২৬ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে, যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টে প্রথমবারের মতো বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) এবং বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বিটুসি) কার্যক্রম পৃথক দুটি প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের ট্রাভেল ফেয়ারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রদর্শকদের মধ্যে নির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠকের ব্যবস্থা থাকবে।

    আয়োজকদের মতে, বিটুবি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বায়ার-সেলার মিটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ, সীমান্ত-অতিক্রমী পর্যটন সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    অন্যদিকে, বিটুসি প্ল্যাটফর্মে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সেবা, বিভিন্ন গন্তব্য-সংক্রান্ত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভ্রমণ অফার সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও সেবা নিতে পারবেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সিনিয়র সহসভাপতি মো. মহসিন ইকবাল, সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানসহ সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • খাবারে অরুচি, কারাগারের দ্বারস্থ কয়েদি!

    খাবারে অরুচি, কারাগারের দ্বারস্থ কয়েদি!

    কথিত এক সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক মার্কিন নাগরিক ভারতের দিল্লির একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিহার জেলের ভেতরে নিজের খাবার নিজে রান্না করার অনুমতি চেয়েছেন। তার দাবি, কারাগারের অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার তিনি সহ্য করতে পারছেন না।

    ম্যাথিউ ভ্যানডাইক নামের ওই মার্কিন নাগরিক গত এপ্রিল মাস থেকে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। বিশেষ এনআইএ (জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা) আদালতকে তিনি জানান, জেলের খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকার কারণে গত তিন মাসে তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে।

    পাতিয়ালা হাউস কোর্টে দায়ের করা আবেদনে ভ্যানডাইক তার পরিবারের মাধ্যমে জেলের ভেতরে ইন্ডাকশন কুকার ও পোর্টেবল স্টোভসহ রান্নার সরঞ্জাম এবং অলিভ অয়েল ও পাস্তার মতো খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের অনুমতি চেয়েছেন, যাতে তিনি নিজেই নিজের খাবার তৈরি করে নিতে পারেন।

    ভ্যানডাইক গত ৬ মে থেকে অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, কারাগারের নিয়মিত খাদ্যতালিকা তার শরীরে প্রচণ্ড অস্বস্তি তৈরি করছে এবং স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভারতীয় কারাগারের এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া তার পক্ষে যেমন অভ্যস্ততা বহির্ভূত, তেমনি শারীরিকভাবেও অসম্ভব।

    নিজের শারীরিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে ভ্যানডাইক আরও জানিয়েছেন, জেলের মশার কামড়ে তার ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুরক্ষার জন্য মশা তাড়ানোর ওষুধ ও মশারি সরবরাহের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের সাথে এই মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করে এনআইএ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই দলটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মিয়ানমার সীমান্তে চলে যায়। সেখানে তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত এবং ভারতে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহায়তাকারী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্যানডাইককে প্রথমে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গত ৬ এপ্রিল তিহার জেলে স্থানান্তর করা হয়।

    আদালত এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে তাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, আগামী ২১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

  • ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিল সৌদি আরব

    ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিল সৌদি আরব

    বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ করতে ‘প্যাকেজ ভিসা’ নামে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় ভ্রমণকারীরা ফ্লাইট, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণসেবাসহ একটি সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের মাধ্যমে পর্যটন ভিসা পেতে পারবেন।

    সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খবর গালফ নিউজের।

    নতুন ‘প্যাকেজ ভিসার’ আওতায় যোগ্য ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এসব প্যাকেজে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, অনুমোদিত হোটেল বা আবাসন এবং ইলেকট্রনিক ভিসা আবেদন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া পর্যটকেরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ভ্রমণ কার্যক্রম ও দর্শনীয় স্থানও তাদের ভ্রমণ করতে পারবেন।

    এর ফলে আলাদাভাবে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও ভিসা প্রক্রিয়া পরিচালনার প্রয়োজন কমে যাবে। তবে কেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা থাকা অনুমোদিত ট্রাভেল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই এই সেবা দিতে পারবে।

    সৌদি সরকারের ‘ভিশন ২০৩০’ এর আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে।

    সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল খাতিব বলেন, ‘সৌদি আরবের পর্যটন অগ্রযাত্রা সবসময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রতিফলন। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা পর্যটকদের যাত্রা সহজ করছি এবং ভ্রমণকে আরও আধুনিক করে তুলছি।’

    ।

  • কবরের আযাব থেকে বাঁচার আমল

    কবরের আযাব থেকে বাঁচার আমল

    ইসলামে কবরই আখিরাতের প্রথম ধাপ। সেখানে মানুষের আমল অনুযায়ী শান্তি বা আযাব নির্ধারিত হবে।

    পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,

    “তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই, যদিও তোমরা সুউচ্চ ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো।”

    — সূরা নিসা, আয়াত: ৭৮

    হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি উম্মতকেও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

    তবে কবরের আযাব থেকে মুক্তির একটি বিশেষ আমলের কথাও হাদিসে এসেছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক সাহাবি অজান্তে একটি কবরের ওপর তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। পরে তিনি শুনতে পান, কবরের ভেতর থেকে একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ সূরা মুলক তিলাওয়াত করছেন।

    ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, “এটি প্রতিরোধক, এটি মুক্তিদায়ক। এটি কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়।”

    — সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯০

    অন্য এক হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, কুরআনের ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করিয়ে দেবে। সেই সূরাটি হলো সূরা মুলক।

    “তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক”

    — সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪০০

    আলেমদের মতে, প্রতিদিন রাতে সূরা মুলক তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এটি শুধু কবরের আযাব থেকে মুক্তির আশাই জাগায় না, বরং আখিরাতের সফলতার পথও সুগম করে।

  • না ধুয়ে জিন্স সতেজ রাখার উপায়

    না ধুয়ে জিন্স সতেজ রাখার উপায়

    ফিচার:

    পুরুষেরা প্রতিদিনই জিন্সের প্যান্ট ব্যবহার করেন। অনেক নারীও জিন্সের প্যান্ট-টপস পরেন। জিন্স মূলত তৈরি হয় অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই সুতার বুনন বা ডেনিম ফ্যাব্রিক দিয়ে। সাধারণ সুতি কাপড়ের মতো এটি দ্রুত নষ্ট হয় না। কিন্তু এই প্যান্ট বারবার ধুলে তার আয়ু কমে যায় এবং ফ্যাব্রিক আলগা হয়ে ফিটিংস নষ্ট হয়ে যায়। টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেনিম বা জিন্স কত দিন পর পর কাচবেন, তা নির্ভর করে ব্যবহারের ধরণ এবং আবহাওয়ার ওপর। তবে ব্যবহারের পর কিছু টিপস মানলে কাচা ছাড়াই জিন্স সতেজ রাখা যায়, এমনটাই বলা হয়েছে ‘হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে।

    রোদে দেওয়া: প্রতিবার পরার পর জিন্সটি ধুয়ে না ফেলে বারান্দায় বা ঘরের কড়া বাতাসে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখুন। সূর্যের আলো ও বাতাস এর ভেতরের আর্দ্রতা ও হালকা গন্ধ দূর করবে।

    ফ্রিজিং পদ্ধতি: অদ্ভুত শোনালেও জিন্স ভালো রাখার একটি চমৎকার উপায় হলো ফ্রিজে রাখা। জিন্সটি একটি জিপলক ব্যাগে ভরে সারারাত ফ্রিজের ফ্রিজারে রেখে দিন। চরম ঠান্ডায় এর ভেতরের সমস্ত গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে এবং কাপড়ের রঙও নষ্ট হবে না।

    স্পট ক্লিনিং: জিন্সের কোনো নির্দিষ্ট অংশে কাদা বা তরল খাবারের দাগ লাগলে পুরো প্যান্টটি না কেচে শুধু সেই অংশটি টুথব্রাশ এবং মৃদু ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

    ধোওয়ার সঠিক পদ্ধতি
    যখন জিন্স কাচবেন, তখন সবসময় প্যান্টটি উল্টো করে নিন। ওয়াশিং মেশিনে কাচলে ‘জেন্টল মোড’ ব্যবহার করুন এবং কখনো গরম পানি ব্যবহার করবেন না। ঠাণ্ডা পানিতে মৃদু তরল ডিটারজেন্ট দিয়ে কাচলে জিন্সের আয়ু বেশি থাকে।

    জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার ভয় কতটা?
    অনেকের ধারণা, দীর্ঘদিন জিন্স না কাচলে তাতে ক্ষতিকর জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। তবে কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একটি জিন্স ২ দিন না কাচলে তাতে যত ব্যাকটেরিয়া থাকে, ১৫ মাস না কাচলেও ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা প্রায় একই থাকে। মানুষের শরীরের মৃত চামড়া থেকেই এই ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে জিন্স থেকে যদি কোনো ধরণের দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে, তবে বুঝতে হবে এটি কাচার সময় হয়েছে।

    ১০ থেকে ১২ বার পরার পর ধোওয়া শ্রেয়আন্তর্জাতিক ফ্যাব্রিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জিন্স প্যান্ট অন্তত ১০ থেকে ১২ বার পরার পর কাচা উচিত। যদি আপনি প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য জিন্স পরেন এবং তাতে কোনো দৃশ্যমান কাদা বা দাগ না লাগে, তবে তা দ্রুত ধুয়ে ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই। বারবার ধুলে জিন্সের আসল নীল রঙ ম্লান হতে শুরু করে এবং ডেনিমের শক্ত বাঁধন দুর্বল হয়ে পড়ে।

  • ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    প্রতিদিন রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হয়। এটি কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের নানাবিধ উপকারও করে। রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়। আবার ভাইরাস গঠিত সংক্রমণের হাত থেকেও সুরক্ষিত রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ইনসুলিন ব্যবহার করার ক্ষমতা এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারে। প্রশ্ন হলো কার্যকর ফলাফল পেতে রসুন কি কাঁচা খাওয়া ভালো, নাকি রান্নায় রসুন ব্যবহার করাই ভালো?

    ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসুন খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন উপাদানটি হলো এমন একটি সালফার যৌগ যা ইনসুলিনের নিঃসরণ এবং কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর কারণে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু রসুন ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে কাঁচা রসুন থেঁতো করে খেলে উপকার মিলবে। অনেকেই রসুন কাঁচা খেতে পারেন না। এর তীব্র গন্ধ অসহ্যকর।

    তাহলে রসুন কীভাবে খাবেন?
    রসুন কাটার পরে বা থেঁতো করার পরে মিনিটে পাঁচেক রেখে দিন। এতে অ্যালিসিন যৌগটি তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া রসুন কুচি করেও নিতে পারেন। যদি কাঁচা রসুন খেতে না পারেন, তাহলে থেঁতো করা বা কুচি কুচি করে কাটা রসুন রান্না মিশিয়ে খাওয়া যায়। রান্নার আগেও কাটা রসুন কিছুক্ষণ খোলা হাওয়ায় রেখে দিন। উচ্চ তাপমাত্রায় বেশি সময় নিয়ে রসুন রান্না করা ঠিক নয়। এতে রসুনের উপকারী যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    প্রতিদিন কতটা রসুন খাওয়া উচিত?
    সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কোয়া রসুন খাওয়াই যথেষ্ট। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে বাড়তি উপকার তো মিলবেই না, বরং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশি পরিমাণে রসুন খেলে অনেকের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন বা যাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে, তাদের ডায়েটে রসুনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

  • দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

    দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

    শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ফ্লিট অ্যাডমিরাল ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে দুর্নীতির অভিযোগে শুক্রবার (৩ জুলাই) গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলেকে যোগ্যতা ছাড়াই নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে অবৈধভাবে সহায়তা করেছিলেন।

    ৭৩ বছর বয়সী ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন হেফাজতে নিয়েছে। ২০০৬ সালে যোগ্যতা ছাড়াই যোশিথা রাজাপাকসকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় কয়েক দশক ধরে চলা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের অবসানের সময় কারান্নাগোদা নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০১৯ সালে তাকে ফ্লিট অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে নৌবাহিনীতে তার কোনো সক্রিয় দায়িত্ব নেই।

    ৩৮ বছর বয়সী যোশিথা রাজাপাকসে গত মাসে সংশ্লিষ্ট আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ ডার্টমাউথ নৌ কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (ব্রাইবেরি কমিশন) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যোশিথা রাজাপাকসকে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ফ্লিট অ্যাডমিরাল দুর্নীতির অপরাধ করেছেন।’

    কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ব্রিটেন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ তরুণকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।

    ২০২১ সালের অক্টোবরে মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি ও আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ দমনের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের প্রশাসন পরে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে।

    দিসানায়েকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজাপাকসে পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো নতুন গতি পেয়েছে।

    বিগত বছরগুলোতে রাজাপাকসে পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলার সবগুলোই এখনো আদালতে বিচারাধীন।

    ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার বাবা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একটি বাড়ি কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হওয়ায় যোশিথা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও চলছে।

    তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন, তার বড় ফুফুর দেয়া মূল্যবান রত্ন বিক্রি করে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে তার সেই বড় ফুফু জানাতে পারেননি, তিনি কিভাবে ওই মূল্যবান রত্নগুলো পেয়েছিলেন।

    ২০১৯ সালের ইস্টার সানডের বোমা হামলায় ২৭৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় কথিত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত মাসে তার চাচা গোটাবায়া রাজাপাকসের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

  • বর্ষার দূত

    বর্ষার দূত

    ফিচার:

    বর্ষা নামলেই বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। আকাশভরা মেঘ, কাদামাটির গন্ধ, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ আর সবুজে ঘেরা মাঠ—সব মিলিয়ে এ ঋতু শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এক গভীর অনুভূতির নাম। আর এই বর্ষাকে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান করে তোলে কিছু চিরচেনা ফুল ও গাছ। কদম, শাপলা, হিজল ও করচ—বাংলার বর্ষার চার নীরব দূত।

    কদম : বৃষ্টিভেজা প্রেমের প্রতীক

    বর্ষার প্রথম দিকেই ফুটতে শুরু করে কদম। গোলাকার হলুদাভ এই ফুল যেন মেঘলা আকাশের নিচে ছোট্ট সূর্য। গ্রামীণ পথ, নদীর ধারের কাঁচা রাস্তা কিংবা কোনো পুরোনো বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কদমগাছ সহজেই মানুষের মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া জাগায়।

    বাংলা সাহিত্য ও গানে কদমের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। প্রেম, অপেক্ষা ও বর্ষার আবেগ—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ফুল। বৃষ্টিভেজা বিকালে কদম ফুল হাতে কারো জন্য অপেক্ষা করার দৃশ্য যেন বাংলার চিরন্তন রোমান্টিক প্রতীক।

    শাপলা : জলজ বাংলার মুখ

    শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। বর্ষায় বিল, হাওর ও পুকুরজুড়ে ভেসে থাকা শাপলা যেন বাংলার প্রকৃতির এক কোমল হাসি। সাদা, গোলাপি কিংবা লাল শাপলা শুধু সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনেরও অংশ।

    একসময় গ্রামের শিশুরা শাপলা তুলতে পানিতে নামত, ঘরের রান্নায়ও ব্যবহার করা হতো শাপলার ডাঁটা। কিন্তু জলাভূমি ভরাট হওয়ায় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক এলাকায় এখন শাপলার দেখা আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে শাপলা আজ শুধু ফুল নয়, হারিয়ে যেতে বসা এক জলজ ঐতিহ্যের প্রতীকও।

    হিজল : জলাভূমির নীরব প্রহরী

    হাওর-বিল অঞ্চলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে গাছটির সম্পর্ক, তা হলো হিজল। বর্ষাকালে পানির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা হিজলগাছ যেন এক নীরব কবিতা। এর ডালে আশ্রয় নেয় পাখি, আর পানির নিচে জন্ম নেয় নানা জলজ প্রাণের জীবনচক্র।

    বাংলার জলাভূমির পরিবেশ রক্ষায় হিজল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বাঁধ ও জলাভূমি ধ্বংসের কারণে এই গাছও কমে যাচ্ছে। প্রকৃতি হারালে শুধু গাছ হারায় না, হারিয়ে যায় একটি ভূখণ্ডের আত্মাও।

    করচ : নদীপাড়ের সবুজ সঙ্গী

    করচ গাছ সাধারণত নদীপাড়, বিল ও জলাভূমি এলাকায় বেশি দেখা যায়। বর্ষায় এর সাদা ফুল ও সবুজ পাতা চারপাশকে অন্যরকম সৌন্দর্যে ভরিয়ে তোলে। মাটিক্ষয় রোধেও করচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    বাংলার নদীনির্ভর জীবনের সঙ্গে করচের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। কিন্তু নদীভাঙন, বন উজাড় ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এই গাছও আজ হুমকির মুখে।

    প্রকৃতিকে রক্ষা মানেই শেকড়কে রক্ষা

    বর্ষার এই চার দূত শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, তারা বাংলার সংস্কৃতি, স্মৃতি ও জীবনের অংশ। কদমের গন্ধ, শাপলার জল, হিজলের ছায়া আর করচের নীরবতা—এসব মিলিয়েই তৈরি হয় বাংলার বর্ষা।

    প্রকৃতি ধ্বংসের এই সময়ে তাই শুধু ফুল বা গাছকে নয়, আমাদের নিজস্ব পরিচয়কেও রক্ষা করা জরুরি। কারণ বর্ষা টিকে থাকে শুধু বৃষ্টিতে নয়, টিকে থাকে তার আপন সবুজ সঙ্গীদের মধ্যেই।

  • লিওনেল মেসি কী খেতে ভালোবাসেন?

    লিওনেল মেসি কী খেতে ভালোবাসেন?

    লাইফস্টাইল

    বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর জাদুকরী খেলার ভক্ত কোটি মানুষ। ভক্তদের কৌতূহল তাঁর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়েও। ফুটবলের এ জাদুকরের প্রিয় খাবার কী, তাঁর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন ধরনের খাবার থাকে তা নিয়ে মেসিভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই।

    মেসি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কম কথা বলেন, কিন্তু তাঁর পুষ্টিবিদদের মাধ্যমে জানা যায়, কীভাবে তিনি নিজের ফিটনেস ধরে রাখেন। মূলত কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, বিজ্ঞানভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণেই তিনি ফিট থাকেন।

    কোটি কোটি ডলারের মালিক, বিশ্বের নানা দেশের বিলাসবহুল খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মেসির সবচেয়ে প্রিয় খাবার কিন্তু কোনো দামি ইউরোপীয় পদ নয়। বরং শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা মায়ের হাতে তৈরি একটি আর্জেন্টাইন খাবারই তাঁর প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে।

    প্রিয় খাবার মায়ের হাতের মিলানেসা নাপোলিতানা
    বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার মিলানেসা নাপোলিতানা। এটি মূলত ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো মাংস বা চিকেন কাটলেট, যার ওপর টমেটো সস, হ্যাম ও গলানো চিজ দেওয়া হয়। তবে মেসির কাছে সবচেয়ে বিশেষ হলো তাঁর মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনির হাতে তৈরি মিলানেসা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক ভালো মিলানেসা খেলেও মায়ের রান্নার স্বাদকে তিনি কখনো ছাড়িয়ে যেতে দেখেননি।

    আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ‘আসাদো’
    মেসির আরেকটি প্রিয় খাবার আসাদো। এটি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ, যেখানে গরু, ভেড়া বা সসেজসহ নানা ধরনের মাংস ধীরে ধীরে আগুনে গ্রিল করা হয়। আর্জেন্টিনায় আসাদো শুধু খাবার নয়, পরিবার ও বন্ধুদের মিলনমেলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেসির মায়ামির বাড়িতেও বড় গ্রিল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে পরিবার নিয়ে আসাদো উপভোগ করেন তিনি।

    পাস্তা, চকোলেট আর আইসক্রিমের প্রতি দুর্বলতা
    কঠোর ডায়েট মেনে চললেও মেসি মিষ্টিজাতীয় খাবার খুব পছন্দ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, পাস্তা, চকোলেট, ডুলসে দে লেচে (দুধের তৈরি আর্জেন্টাইন মিষ্টি), আইসক্রিম-সবই তাঁর প্রিয়। বিশেষ করে মিষ্টির প্রতি তাঁর দুর্বলতা দীর্ঘদিনের। তবে ফিটনেস ধরে রাখতে তিনি এসব খাবার পরিমিত পরিমাণে খান।

    ইয়ারবা ম্যাটে

    মেসির সবচেয়ে পরিচিত অভ্যাসগুলোর একটি হলো ইয়ারবা ম্যাটে পান করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে প্রায়ই বিশেষ ধরনের পাত্রে মাতে পান করতে দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকায় জনপ্রিয় এই পানীয়টি কফির বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক ক্যাফেইন। এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, আগে তিনি মিষ্টি ম্যাটে পছন্দ করলেও এখন তিতা স্বাদের ম্যাটে পান করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ইয়ারবা ম্যাটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ পানীয়। এটি ক্লান্তি কমাতে, শক্তি বাড়াতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

    বদলে গেছে খাদ্যাভ্যাস
    তরুণ বয়সে পিৎজা, সফট ড্রিংকস ও বিভিন্ন ভারী খাবার খেতে ভালোবাসলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন মেসি। পুষ্টিবিদদের পরামর্শে তিনি চিনি, অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দেন। বর্তমানে তাঁর খাদ্যতালিকায় বেশি থাকে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, বিভিন্ন ধরনের শস্য, মাছ, অলিভ অয়েল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার।

    তাঁর পুষ্টিবিদদের মাধ্যমে জানা যায়, আগে সালাদ বা সবজি, তারপর মাছ বা মাংস, শেষে ভাত বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি থাকে। মেসি ঠিক সেভাবেই ক্রম মেনে খাবার খান। খেলোয়াড়দের জন্য শস্য, ডাল ও আলুর মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি কিংবা সয়া প্রোটিন যুক্ত হলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় বলে মনে করেন মেসির পুষ্টিবিদরা।

  • হজমে সহায়তা করে কাঁঠালের বীজ

    হজমে সহায়তা করে কাঁঠালের বীজ

    কাঁঠাল অনেকের প্রিয় ফল হলেও এর বীজ ফেলে দেন৷ কিন্তু কাঁঠালের মতো এর বীজও পুষ্টিগুণে ভরপুর । এতে আছে প্রোটিন, ফাইবার, বি-ভিটামিন, ভিটামিন এ, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক রয়েছে। এই বীজ খেলে শরীরে নানা ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রায় ১০০ গ্রামের একটি বীজে চার গ্রাম প্রোটিন এবং জিরো ফ্যাট রয়েছে।

    পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁঠালের বীজের মধ্যে থাকা প্রোটিন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই প্রোটিনের কারণে মাংসপেশিও মজবুত হয়। মাংসপেশি শক্তিশালী করতে চাইলে সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে কাঁঠালের বীজ খেতে পারেন।

    বদ হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কাঁঠালের বীজ খেতে পারেন। এতে থাকা উচ্চ পরিমাণের ফাইবার কোলেস্টোরলের মাত্রা কমাতে এবং হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দুর করতেও উপকারী কাঁঠালের বীজ। সেক্ষেত্রে কাঁঠালের বীজ শুকনো করে গুঁড়িয়ে প্রতিদিন খেতে পারেন।

    কাঁঠালের বীজে থাকা এই ফাইবার রক্ত ধমণী থেকে কার্বোহাইড্রেট শুষে নেয়, যার ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা বজায় থাকে। যারা ডায়াবেটিসের রোগীরা খাদ্যতালিকায় এইড বীজটি রাখতে পারেন। কাঁঠালের বীজে থাকা আয়রন রক্তাল্পতা এবং যে কোনও ধরণের রক্ত জনিত সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করে।

    কাঁঠালের বীজে থাকা ভিটামিন এ চোখের জ্যোতি বাড়াতে সাহায্য করে। এই বীজ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যকেও উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। এই বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কুঁচকানো ভাব, দাগ ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে। এর পাশপাশি এতে থাকা প্রোটিন ও আয়রন চুলের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।

    কীভাবে খাবেন

    কাঁঠালের বীজ কীভাবে সেটাও জানা খুব জরুরি। চাইলে এই বীজ সিদ্ধ করে সালাদ হিসাবে খেতে পারেন। কাঁঠালের বীজ দিয়ে স্মুদি বা মিল্কশেক বানিয়েও খাওয়া যায়। চাইলে কাঁঠালের বীজকে গুঁড়ো করে যে কোনও খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। প্রোটিন ও ফাইবারের বাড়তি জোগান পেতে তরকারি ও অল্প তেল দিয়ে হালকা করেও ভেজে খেতে পারেন কাঁঠালের বীজ ৷

  • প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার উপায়

    প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার উপায়

    লাইফস্টাইল

    শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। এটি খাদ্য হজমে সহায়তা এবং শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করে। লিভার শক্তিশালী হলে খাবার হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। লিভারের সাহায্যে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। অনেক সময় লিভার আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে পারে না, যার ফলে আমরা মাঝে মাঝে অলস এবং অসুস্থ বোধ করি। শরীরের ইন্দ্রিয় এবং শক্তির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে লিভার ডিটক্স করা প্রয়োজন।

    প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

    রসুন খান
    রান্নাঘরে থাকা রসুন লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। এটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এমন এক উপাদান যা এনজাইম সক্রিয় করতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা সহজ হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা রান্নায় ব্যবহার করুন।

    বিষাক্ত খাবার বাদ দিন
    আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস না করলে লিভারের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

    লেবু যোগ করুন
    শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় লেবুর মতো সাইট্রাস ফল যোগ করুন। এসব ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। আপনার লিভারকে সক্রিয় করতে লেবু মেশানো পানি পান করুন। শরীর শোধনে প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হয়, কারণ লেবুর পানি আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলোকে সংশ্লেষণ করতে পারে, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

    পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান

    আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আমরা যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করি, তাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণটুকু ঠিকমতো পূরণ হয় না। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি লিভারের ঠিকমতো কাজ করতে না পারারও একটি কারণ। এ কারণে আপনার খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার কলা, মিষ্টি আলু, শিম এবং পালং শাক যোগ করুন। ক্রুসিফেরাস সবজি গুরুত্বপূর্ণ
    লিভার পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ হলো খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ক্রুসিফেরাস সবজি যোগ করা, কারণ এগুলো লিভারের এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে খাবার ভাঙতে এবং এর সাথে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে। ব্রকলি এবং ফুলকপি হলো দুটি সেরা ক্রুসিফেরাস সবজি যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: হেলদি বিল্ডার্স

  • ফ্রিজ ছাড়াই আম সংরক্ষণের উপায়

    ফ্রিজ ছাড়াই আম সংরক্ষণের উপায়

    লাইফস্টাইল

    বাজারে এখন নানা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা হাতের নাগালে হওয়ায় অনেকেই একসঙ্গে অনেকটা আম কিনে রাখছেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে সংরক্ষণে। ফ্রিজে অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি সব আম রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আবার প্রচণ্ড গরমে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আম বাইরে ফেলে রাখলেও দ্রুত মজে যাওয়া বা পচে যাওয়ার ভয় থাকে। এ সমস্যা সমাধানে আম সংরক্ষণের উপায় জানানো হয়েছে ‘আনন্দবাজারের’এক প্রতিদেনে। এতে বলা হয়েছে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই আম কিছু দিন ভালো রাখা সম্ভব। যেমন-

    ১. বাজার থেকে আনার পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা একটি বালতি বা গামলায় ঠান্ডা পানি দিয়ে তাতে আমগুলো ডুবিয়ে রাখুন। এতে আমের ভিতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে যায়। এর ফলে দ্রুত পাকতে শুরু করে না। এরপর পানি থেকে তুলে প্রতিটি আম শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে।

    ২. আমের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বাইরের অতিরিক্ত গরম হাওয়া থেকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি আম যে কোনও সাধারণ কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। এর পর পিচবোর্ডের বাক্সে বা ঝুড়িতে সেগুলো পাশাপাশি সাজিয়ে রাখুন। এতে আম সহজে মজে যাবে না বা কালো দাগও ধরবে না।

    ৩. প্লাস্টিকের ব্যাগে কখনই আম রাখা ঠিক নয়। বাক্স না থাকলে মেঝেতে চট বা খবরের কাগজ বিছিয়ে তার উপর আমগুলো ছড়িয়ে রাখতে পারেন।

    ৪. আম সংরক্ষণের জন্য ঘরের এমন একটি কোণ বেছে নিন যেখানে সরাসরি রোদ বা তাপ আসে না, কিন্তু বাতাস চলাচল করে।

    ৫. আম সাজিয়ে রাখার সময় গাদাগাদি করে রাখা যাবে না। একটু দুরত্ব রেখে আরেকটি আম রাখুন।

    ৬. প্রতিদিন এক বার করে আমগুলি পরীক্ষা করুন। কোনও আমে কালো দাগ দেখলে বা নরম হতে শুরু করেছে বলে বুঝতে পারলে, সেগুলি বাকি আম থেকে সরিয়ে ফেলুন।

  • ডাবে পানিভর্তি কিনা, বুঝবেন কীভাবে?

    ডাবে পানিভর্তি কিনা, বুঝবেন কীভাবে?

    লাইফ স্টাইল:

    গরমে পানিশূন্যতা দূর করতে কিংবা শরীর ঠান্ডা রাখতে ডাবের জুড়ি নেই। এতে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য দারুন উপকারী। কিন্তু অনেকেই ডাব কিনতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক সময় বড় আকৃতির ডাব কেনার পরও দেখা যায় তাতে পর্যাপ্ত পানি নেই। কেনা ডাবে পর্যাপ্ত পানি পাবেন কিনা তা বুঝতে কিছু কৌশল জেনে রাখতে পারেন। যেমন-

    আকার না দেখে ডাবের ওজন দেখুন। যদি একই আকৃতির দুটি ডাবের মধ্যে কোনটি বেশি ভারী লাগে তাহলে বুঝতে হবে তাতে পানির পরিমাণ বেশি আছে। ডাব ডালকা মানে হলো ভেতরের পানি শুকিয়ে শাঁস বেড়ে গেছে।

    উজ্জ্বল সবুজ রঙের ডাব দেখলেই বুঝবেন এটি সদ্য গাছ থেকে পেড়ে আনা হয়েছে। ধূসর, বাদামি দাগ বা ফ্যাকাসে রং দেখলে বুঝতে হবে ডাবটি পুরোনো। পুরনো ডাবে পানি কমে যায়। এতে শাঁসও বেশি হয়।

    ডাবের মাথার তিনটি দাগ ভালোভাবে খেয়াল করুন। টাটকা ডাবের এই প্রাকৃতিক রেখাগুলো স্পষ্ট ও কিছুটা উঁচু থাকে। যদি দাগগুলো ভেতরে বসে যায় বা ভোঁতা লাগে, তাহলে বুঝতে হবে এটি পুরনো। এ ধরনের ডাবে পানি কম, শাঁস বেশি থাকে।

    ডাব কেনার আরেকটি ভালো উপায় হলো কানের কাছে নিয়ে হালকা ঝাঁকিয়ে শব্দ শোনা। ভালো ডাবে কোনও শব্দ হয় না। এর কারণ এর পুরোটাই প্রায় পানি দিয়ে ভর্তি থাকে। জোরে শোঁ শোঁ বা পানি নড়ার শব্দ মানেই ভেতরে ফাঁকা জায়গা আছে। এর মানে হচ্ছে ভিতরে পানি কম রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম্বাকৃতি বা সামান্য লম্বাটে ধরনের ডাবে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। পুরোপুরি গোলাকার ডাবে অনেক সময় শাঁসের পরিমাণ বেশি হয়। এমন ডাবে পানি কম পাওয়া যায়।

    ভেজা বা ছিদ্রযুক্ত ডাব না কেনাই ভালো। উপরের অংশ স্যাঁতসেঁতে লাগলে সেটি নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। মাথার কাছে ছোট ছিদ্র থাকলেও ডাবটি নষ্ট হতে পারে। তাই কেনার সময় সতর্ক হোন।

  • বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা ১১ জনের মানবতার জীবনযাপন

    বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা ১১ জনের মানবতার জীবনযাপন

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশইন’-এর শিকার ১১ জনের প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
    শনিবার ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ওই ১১ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই তারা সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন।

    আটকে পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে একজন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

    ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার জানান, তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খোলা মাঠে পড়ে থাকা নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে গ্রামবাসীরা খাবার ও পানি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নিয়ম অনুযায়ী যাচাই–বাছাই শেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রহণ করা হবে, তবে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

    এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

    ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

    ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে এমন একটি “স্মার্ট ড্রাগ”, যা ক্যানসার কোষের লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা নষ্ট করে ইমিউনোথেরাপিকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ টিউমারের আকার অন্তত ৩০% পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    গবেষকদের মতে, ক্যানসার কোষ সাধারণত শরীরের ইমিউন সিস্টেমের চোখ এড়িয়ে নিজেকে “অদৃশ্য” করে রাখে। নতুন এই ওষুধ সেই অদৃশ্যতা বা “ইনভিজিবিলিটি ক্লোক” ভেঙে দেয়, ফলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    ৬ ধরনের ক্যানসারে ইতিবাচক ফল

    যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৮৩ জন রোগী অংশ নেন। তারা ছিলেন জরায়ু, মূত্রথলি, লিভার, অন্ত্র, ফুসফুস এবং মাথা-ঘাড় ক্যানসারে আক্রান্ত।

    রোগীদের দেওয়া হয় পরীক্ষামূলক ওষুধ জিআরডব্লিউডি ৫৭৬৯, যা ইমিউনোথেরাপি ওষুধ সেমিপ্লিম্যাবের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, ২৬ জন রোগীর টিউমার সঙ্কুচিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে টিউমারের আকার কমেছে অন্তত ৩০%।

    গবেষণায় অংশ নেওয়া সব রোগীই আগে প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া পাননি এবং অনেকের জন্য অন্য কোনো চিকিৎসার পথও ছিল না। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—যাদের ওপর ইমিউনোথেরাপি আগে কাজ করেনি বা পরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ওষুধ কার্যকর হয়েছে।

    কীভাবে কাজ করে এই ওষুধ

    ক্যানসার কোষ সাধারণত একটি এনজাইম ইআরএপি১ (এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম অ্যামিনোপেপটিডেজ-১) পরিবর্তন করে নিজেকে ইমিউন সিস্টেমের চোখ থেকে আড়াল করে। নতুন ওষুধটি এই এনজাইমকে বাধা দেয়, ফলে ক্যানসার কোষের “অদৃশ্যতা ঢাল” ভেঙে যায় এবং টি-সেলগুলো সহজেই কোষগুলোকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

    গবেষণার প্রধান গবেষক প্রফেসর ফিওনা থিস্টলথওয়েট বলেন, এটি মুখে খাওয়ার ওষুধ হওয়ায় রোগীদের জন্য সহজ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে খুবই আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।

    আরেক গবেষক প্রফেসর স্টেফান সিমেওনাইডস এটিকে “উত্তেজনাপূর্ণ অগ্রগতি” বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা হলেও বিভিন্ন ধরনের কঠিন ক্যানসারে একসঙ্গে ইতিবাচক ফল পাওয়া অত্যন্ত বিরল।

    গবেষকরা বলছেন, ওষুধটি এখনো বৃহত্তর পর্যায়ের পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি সফল হলে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বহু রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

    তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাদা মহিষ দেখতে জনতার ভীড়

    জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাদা মহিষ দেখতে জনতার ভীড়

    রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় সম্প্রতি আনা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাদা মহিষ (অ্যালবিনো বাফেলো) দেখতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের পরদিন বিকেল থেকে চিড়িয়াখানার এল-০৭ নম্বর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় পরিলক্ষিত হয়।

    চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে সাদা মহিষটি দেখতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যান্য প্রাণীর খাঁচার তুলনায় মহিষটির খাঁচার সামনে অধিক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    দর্শনার্থীদের অবগতির জন্য মহিষটির খাঁচার সামনে একটি পরিচিতিমূলক ট্যাগ সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বাংলা ভাষায় ‘সাদা মহিষ’ এবং ইংরেজিতে ‘Albino Buffalo’ উল্লেখ রয়েছে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

    চিড়িয়াখানা কতৃপক্ষ বলেছেন, মহিষটি গত বুধবার রাতে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়। পরদিন সকাল থেকেই প্রাণীটি ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। নতুন ও বিরল বৈশিষ্ট্যের প্রাণী হওয়ায় এটি দেখতে মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আলোচিত এই অ্যালবিনো মহিষটি বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চিড়িয়াখানার পরিবেশ আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।

  • লোহাগড়ায় কাশিপুর চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুলের ঈদ উপহার

    লোহাগড়ায় কাশিপুর চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুলের ঈদ উপহার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত ও স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের এড়েন্দা বাসস্ট্যান্ড খেলার মাঠে এ ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে-সেমাই, চিনি, ১০ কেজি চাল, তেল, আলু, পেয়াজ ও রসুন।

    উপহার সামগ্রী পেয়ে খুশি স্বল্প আয়ের মানুষেরা। ঈদের আগে এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করেন উপকারভোগীরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-ভয়েস অফ ইনসাফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কালিয়া আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ নওশের আলী, হোমিওচিকিৎসক ইব্রাহিম শিকদার, সরদার শামীম আহমেদ, আব্দুর রহিম, কায়েস আহমেদ ইসহাক, মোহাম্মদ তাফহিমসহ অনেকে।

  • তরমুজ কখন খাবেন?

    তরমুজ কখন খাবেন?

    লাইফস্টাইল

    গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রীষ্মকালের মৌসুমি ফল তরমুজ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর। এই ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। গরমে প্রতিদিন তরমুজ খেলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য থাকে এবং মাথা ঘুরে যাওয়ার বা দুর্বলতার সম্ভাবনা কমে যায়। নিয়মিত এই ফল খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা কমে যায়। বিভিন্ন সময়ে তরমুজ খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, খাবারের আগে না পরে তরমুজ কখন খেলে বেশি উপকার পাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। খালি পেটে এটি খেলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। আবার দুপুরের খাবারের এক ঘণ্টা আগে ফলটি খাওয়া যেতে পারে। এটি হজম ব্যবস্থা ভালো করে, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা প্রতিরোধ করে। ব্যায়ামের পরেও তরমুজ খাওয়া ভালো। এতে শরীরের পানির র এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ হয়। গ্রীষ্মে দুপুরে তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।

    খাবারের আগে পরে?
    তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি খেলে পেটও ভর্তি থাকে। খাবারের আগে তরমুজ খেলে পেট শান্ত এবং ঠান্ডা থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ এড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ সবসময় খাবারের আগে খাওয়া উচিত।

    কখন তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়
    রাতে তরমুজ খাওয়া একেবারেই ঠিক নয় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় বারবার মূত্রত্যাগের কারণ হতে পারে। খাবারের পরে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গ্যাস এবং হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর সতেজ থাকে। অনেকেরই ফ্রিজ থেকে বের করে সাথে সাথে তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস আছে, এটা ঠিক নয়। কারণ এটি গলা এবং হজম ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    ওজন কমাতে চাইলে
    যারা ওজন কমাতে চান, তাদের দুপুরে তরমুজ খাওয়া উচিত। এতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকায় পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে এবং হালকা অনুভূতি হয়। এতে কম ক্যালোরি থাকে, যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক। গ্রীষ্মকালে নিয়মিত তরমুজ খেলে ওজন কমানো সহজ হয়ে ওঠে।

    এই ফলগুলোর সাথে তরমুজ খাবেন না
    গরম ফলের সাথে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পেটের সমস্যা হতে পারে এবং সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যান্য ফলের সাথেও তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এর প্রকৃতি শীতল এবং অন্যান্য ফলের প্রকৃতি গরম হতে পারে; অন্য ফলের সাথে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কলা, কমলা এবং আঙুরের সাথে তরমুজ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এগুলোর সাথে তরমুজ খেলে পেটে গ্যাস, বদহজম এবং অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই, অন্যান্য ফলের সাথে তরমুজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি

  • নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এখন উৎসবের আমেজ। তবে এ উৎসব কোরবানির ঈদের কেনাবেচার চেয়েও বেশি কিছু। খামারের শত শত পশুর ভিড়ে সবার চোখ আটকে যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রাণীর দিকে। ধবধবে সাদা নয়, বরং হালকা গোলাপি আভার এক বিশালকার মহিষ। শুধু রঙের কারণেই নয়, তার রাজকীয় চালচলন আর মাথার লম্বা চুলের স্টাইলের কারণে খামারিরা বেশ পছন্দ করেন। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেকে মজা করে মহিষটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাম দিয়েছেন।

    বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এ মহিষটির। এলবিনো জাতের এ মহিষের মাথার সামনের দিকে রয়েছে সোনালি রঙের লম্বা চুল। দেখতে ব্যতিক্রমী এ মহিষটির কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পাইকপাড়া এলাকায় ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। খামারে ঢুকে এ মহিষের সাথে ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা।

    খামারের কর্মচারী জুবায়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের এখানে তুফান, রহমান, ডাকাত বা মাস্তান নামে অনেক গরু আছে। কিন্তু এ মহিষটির জনপ্রিয়তা সবার ওপরে।

    খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর কোরবানির ঈদের পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর বিশেষ যতে লালন-পালনের পর এবার কোরবানির হাটে তোলার আগেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে।

    খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢাকার এক সৌখিন ক্রেতা এরই মধ্যে মহিষটি কিনে আমাদের খামারেই রেখেছেন। যা ঈদের কয়েক দিন আগে খামার থেকে নিয়ে যাওয়া হবে।

    খামারের পরিচর্যাকারী আহাদ বলেন, প্রতিদিন ২ বেলা সময় মেনে তাকে খাবার দেয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুসি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে।

    মহিষটি দেখতে আসা শহরের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, ফেসবুকে গোলাপি মহিষের কথা শুনে দেখতে এসেছি। সত্যি, এমন রঙের মহিষ আগে কখনো দেখিনি।

    মহিষটির গায়ের রং নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল থাকলেও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ আছে বলে শুনেছি। এটি কোনো বিরল জাত নয়। এটি একটি এলবিনো মহিষ। শরীরে রঞ্জক বা মেলানিন পদার্থের অভাব থাকলে প্রাণীর গায়ের রং এমন সাদা বা গোলাপি হয়।

    রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির জন্য ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হলেও, আলোচনার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছে গোলাপি রঙের এই মহিষটি। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

  • ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    বাড়ির আঙিনায় বৃদ্ধ এক মানুষকে দেখে ভিড় জমে যায়। বৃদ্ধ মানুষটি নিজের পরিচয় দিয়ে বলছিলেন, তিনি এ বাড়িরই সন্তান। স্ত্রী-সন্তান সবাইকে ফেলে গেছেন এখানে। হিন্দি আর ভাঙা বাংলা মিশিয়ে বলা তাঁর কথাগুলো সবার কাছে খুব বিস্ময়কর ঠেকছিল। স্ত্রী, মা–বাবাসহ যাঁদের নাম বলেছেন, তাঁদের কেউই আর বেঁচে নেই। সব বিবরণ দেখে একজন তাঁকে চিনতে পারেন। চিনতে পারলেও বিশ্বাস হচ্ছিল না তাঁরও। এমন গল্প যে রূপকথাকেও হার মানায়। বাড়ির লোকজন জানতে পারে, ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছৈয়দ আহম্মদ নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীদিয়া গ্রামে। ৫ মে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ির লোকজন তাঁকে মৃত বলেই জানত। স্ত্রী, মা–বাবা তাঁর অপেক্ষায় থেকেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। জাহাজের চাকরির জন্য যখন বাড়ি ছাড়েন, তখন তরুণ ছিলেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী আর চার মাস বয়সী ছেলেকে ফেলে গিয়েছিলেন। এখন ৮৩ বছর চলছে তাঁর। বয়সবের ভারে ন্যুব্জ। ছেলে নূর হোসেনও ৫৫ বছরে পা দিয়েছে। বাবা দেখতে কেমন, তা তাঁর স্মৃতিতে থাকার কথা নয়। সে হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো বাবাকে দেখলেন।

    চট্টগ্রামের একটি কার্গো জাহাজে শ্রমিকের কাজ করতেন ছৈয়দ আহম্মদ। ৫৪ বছর আগের এক ঝড়ে জাহাজটি কক্সবাজারের উপকূলের কাছাকাছি কোথাও ডুবে যায়। এর পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। স্বজনেরাও ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। তবে সেই ধারণা ভেঙে তিনি ফিরেছেন। ছৈয়দ আহমদকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন। অনেকেই তাঁর কাছে হারিয়ে যাওয়া ও ফিরে আসার গল্প শুনতে চাইছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের এক সৎভাই আবুল খায়ের তাঁকে চিনতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি সেই ভাইয়ের বাসায় রয়েছেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে তিনি শনিবার বিকেলে বলেন, যখন ঝড় শুরু হয়, তখন তাঁদের কার্গো জাহাজটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকায় ছিল। এরপর জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজে অন্যদের কী পরিণতি হয়েছিল, সেসব তাঁর মনে নেই। শুধু মনে আছে, তিনি দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন। এরপর ভারতীয় নৌবাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। ভারতেই তাঁর চিকিৎসা হয়। এরপর সেখান থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রার তাজমহল এলাকায় চলে যান। দেশে ফেরা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেয়েছিলেন। হঠাৎ তিনি স্বপ্নে ছেলেকে দেখতে পান। এরপর তিনি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়েই তিনি দেশের আসার চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর এসব কাগজপত্র চুরি হয়েছে। পরে যশোর সীমান্তে এসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নিজের পরিস্থিতির কথা জানালে তারা বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করে। এরপর ঢাকা হয়ে নোয়াখালী ও পরে সেখান থেকে হাতিয়ায় পৌঁছে মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে নিজের বাড়ি খুঁজে বের করেন।

    ছৈয়দ আহম্মদ জানান, যশোর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি বিজিবির সহায়তা নেন। তিনি বিজিবিকে প্রথমে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেন। তখন বিজিবি তাঁকে যশোর থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে তাঁকে ট্রেনে তুলে দেয়। ট্রেন থেকে তিনি কমলাপুরে নামেন। কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের নোয়াখালীর সোনাপুর যাওয়ার কথা বললে তাঁরা তাঁকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য একটি রিকশায় তুলে দেন। সেখানে গিয়ে তিনি সোনাপুরের বাসে উঠে নোয়াখালী আসেন। সোনাপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় আসেন হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট। চেয়ারম্যানঘাট থেকে নদী পার হয়ে নলচিরা ঘাটে যান।

    নলচিরা ঘাটে যাওয়ার পর ছৈয়দ আহম্মদ নিজের এলাকা লক্ষ্মীদিয়ার কথা বলে একটি রিকশা নেন। রিকশা থেকে নামার পর তিনি স্থানীয় লোকজনকে তাঁর ছেলে ও ভাইয়ের পরিচয় দেন। সেই সঙ্গে নিজের পরিচয়ও দেন। শুরুতে ছেলেসহ স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিনতে পারছিলেন না। পরে তাঁর ভাই আবু বকরের ছেলে আক্তার হোসেন তাঁর বাবার কাছে শোনা কাহিনির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ছৈয়দ আহম্মদকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান।

    দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ভারতে অবস্থানের কারণে ছৈয়দ আহম্মদ নিজের মাতৃভাষাও অনেকখানি ভুলে গেছেন। বেশির ভাগ কথাই বলেন হিন্দিতে। তিনি জানান, দীর্ঘ ৫৪ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই তাঁর কেটেছে আজমির শরিফে।

    ছৈয়দ আহম্মদের সৎভাই আবুল খায়ের বলেন, ‘ভাই নিখোঁজ হওয়ার সময় আমার বয়স ছিল ১০ থেকে ১১ বছর। তখন তাঁর ছেলে নূর হোসেনের বয়স মাত্র কয়েক মাস। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় আমরা ধরে নিয়েছিলাম, তিনি আর বেঁচে নেই। এত বছর পর ভাইকে ফিরে পাব, কখনো ভাবিনি। তাঁর মুখও প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। এখন তাঁর কথা শুনে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে।’

    এদিকে জীবনে প্রথমবার বাবাকে কাছে পেয়ে খুশি ছেলে নূর হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর কখনো বাবাকে দেখিনি। এখন তিনি ফিরে এসেছেন, এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না।’

    তবে বাবাকে নিজের বাড়িতে রাখতে না পারার অভিযোগও করেছেন তিনি। নূর হোসেনের দাবি, তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা ছৈয়দ আহম্মদকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। তাঁর কাছে আসতে দিচ্ছেন না। এ ঘটনায় তিনি হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, ৫৪ বছর পর ফিরে আসা ছৈয়দ আহম্মদকে নিয়ে তাঁর ছেলে একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি পারিবারিক। পরিবার চাইলে পুলিশ আইনগত সহায়তা দেবে।

  • আঙুর রাসায়নিকমুক্ত করুন ঘরোয়া উপায়ে

    আঙুর রাসায়নিকমুক্ত করুন ঘরোয়া উপায়ে

    লাইফষ্টাইল

    আঙুর অনেকেরই পছন্দের ফল। তবে বাজার থেকে কেনা যেসব ফল ও সবজিতে সবচেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্ট থাকার ঝুঁকি থাকে, আঙুর তার মধ্যে অন্যতম। যদি সঠিকভাবে ফলটি পরিষ্কার করা না হয় তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    আঙুর থোকায় থাকে এবং এর খোসা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় রাসায়নিক পদার্থগুলো সহজেই এর গায়ে আটকে যায়। এ কারণে শুধু পানি দিয়ে ধুলেই এই রাসায়নিক দূর হয় না। এর জন্য সঠিক পদ্ধতি জানা প্রয়োজন। চাইলে আপনার ঘরেই থাকা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই আঙুর পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

    আঙুরে কীটনাশক বেশি থাকার কারণ

    আঙুর গাছ প্রায়ই পোকামাকড়, ছত্রাক এবং মোল্ড বা ছাতা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে; এ কারণে কৃষকরা এতে ঘনঘন কীটনাশক স্প্রে করে থাকেন। আঙুরের থোকা আকারে ছোট এবং ঘন সন্নিবিষ্ট হয়,এজন্য ফলে রাসায়নিক পদার্থগুলো সহজেই এর ফাঁকে আটকে যায়। আঙুর যদি ভালোভাবে পরিষ্কার করে না খাওয়া হয় তাহলে সেই রাসায়নিকগুলো সহজেই আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
    আঙুর পরিষ্কার করার পদ্ধতি

    প্রথমে কল ছেড়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে আঙু ধুয়ে নিন। আলতো করে হাত বুলিয়ে নিন যাতে এর গায়ে লেগে থাকা ধুলোবালি ও ময়লা দূর হয়ে যায়।

    এখন আঙুরগুলো বেকিং সোডার দ্রবণে ভিজিয়ে রাখুন। এটি আঙুর পরিষ্কারের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এক লিটার পানির সঙ্গে এক চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে সেই দ্রবণে আঙুরগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে সেগুলো ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডার ক্ষারীয় প্রকৃতি কীটনাশকগুলোকে ভেঙে ফেলতে সহায়তা করে।

    এক ভাগ ভিনেগারের সঙ্গে তিন ভাগ পানি মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণে আঙুর পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। আঙুরের স্বাদে যাতে কোনও পরিবর্তন না আসে, সেজন্য পরিষ্কার পানি দিয়ে সেগুলো ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলুন।

    বেকিং সোডা ও ভিনেগার মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর, আঙুরগুলো আবার ভালো ভাবে ধুয়ে নিন। আঙুল দিয়ে অথবা একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘষে নিন, যাতে আঙুরে লেগে থাকা অবশিষ্ট কীটনাশকটুকুও দূর হয়ে যায়। এরপর আঙুরগুলো শুকিয়ে নিন। এতে দীর্ঘ সময় ধরে ফরগুলি সতেজ ও তাজা থাকবে।

    সবচেয়ে কম ও কার্যকরী উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো, একটি পাত্রে এক চা চামচ লবণ দিয়ে পানিতে আঙুর ভিজিয়ে রাখুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে ফলগুলো ভিজিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ফলে থাকা রাসায়নিক দূর হবে।

    সূত্র : হেলথসাইট, আজকাল

  • সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে মাদারগঞ্জে পোল্যান্ডের তরুণী

    সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে মাদারগঞ্জে পোল্যান্ডের তরুণী

    কাতলামারী এলাকার ইমান আলীর ছেলে ইসমাইল দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। সেখানে পোল্যান্ডের নাগরিক ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্সের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ ছেড়ে স্বামীর হাত ধরে জামালপুরের মাদারগঞ্জে এসেছেন পোল্যান্ডের তরুণী ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্স।

    শুক্রবার (৮ মে) ভোররাতে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে নবদম্পতির আগমনে এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা।

    জানা গেছে, কাতলামারী এলাকার ইমান আলীর ছেলে ইসমাইল দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। সেখানে পোল্যান্ডের নাগরিক ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্সের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্ক গভীর হলে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    সম্প্রতি স্ত্রীকে নিয়ে নিজ জন্মভূমি মাদারগঞ্জে ফেরেন ইসমাইল। বিদেশিনী বধূকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে বাড়িতে। অনেকেই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করেন।

    স্থানীয়রা জানান, ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির দুই মানুষের ভালোবাসার এই গল্প এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পোল্যান্ড প্রবাসী ছেলের বিদেশিনী স্ত্রীকে পরিবারের সদস্যরাও আন্তরিকভাবে বরণ করে নিয়েছেন।

    তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্স কোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। এ কারণে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    এদিকে, বিদেশিনী পুত্রবধূকে ঘিরে কাতলামারী গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অনেকে এটিকে ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

  • শসা খোসাসহ খাবেন? নাকি ছাড়িয়ে

    শসা খোসাসহ খাবেন? নাকি ছাড়িয়ে

    ওজন কমাতে বা গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে শসা অনেকেরই প্রিয় খাবার। তবে শসা খাওয়ার একটি সাধারণ অভ্যাস খোসা ছাড়িয়ে ফেলা। কিন্তু আসলে তা কতটা সঠিক, এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। অনেকেই ভাবেন খোসা বাদ দিলে শসা বেশি নিরাপদ বা সুস্বাদু হয়, কিন্তু এতে কি পুষ্টিগুণ কমে যায়?

    সম্প্রতি এক পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন, শসার প্রকৃত উপকারিতা পেতে হলে এটি খোসাসহ খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। তার মতে, শসার খোসাতেই থাকে এর গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের বড় অংশ যেমন ফাইবার, সিলিকা, ভিটামিন কে এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। খোসা ছাড়িয়ে ফেললে এই পুষ্টিগুলো অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়, ফলে শসা মূলত পানিসমৃদ্ধ একটি খাদ্যে পরিণত হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শসার খোসায় থাকা ইনসলিউবল ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

    তবে খোসাসহ শসা খাওয়ার আগে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে গরম পানি ও ব্রাশ ব্যবহার করে পরিষ্কার করা যেতে পারে। সম্ভব হলে ভালো শসা বেছে নেওয়াই উত্তম।

    পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, শসা খাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খোসাসহ খাওয়া। এর সঙ্গে সামান্য লবণ যোগ করলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা বিশেষ করে গরমে শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে উপকারী।

  • বড়দের আচরণে ক্ষতি হয় শিশুর

    বড়দের আচরণে ক্ষতি হয় শিশুর

    শিশুরা সবসময় নিজের চারপাশ থেকে শেখে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের আচরণই তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তারা বড়দের দেখেই অনেক কিছু রপ্ত করে ফেলে। তাই বাড়িতে ছোট সদস্য থাকলে বড়দের একটু বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। ছোটদের সামনে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা তাদের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।

    এখানে এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো, যেগুলো অভিভাবকদের এড়িয়ে চলা উচিত—বিশেষ করে যখন শিশুরা আশপাশে থাকে।

    অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করা নয়

    প্রতিটি শিশু আলাদা — তাদের ভাবনা, শেখার পদ্ধতি, আর গতি একেকরকম। তাই নিজের সন্তানের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা একেবারেই উচিত নয়। এতে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং মনে চাপ তৈরি হয়। শিশুকে তার নিজের মতো বেড়ে উঠতে দিন, প্রশংসা করুন তার নিজস্বতা।

    আবেগ দমন করতে শেখানো ঠিক নয়

    অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা কষ্ট বা রাগ পেলে সেটা প্রকাশ করতে চায়, কিন্তু বড়রা সেটা আটকান। ‘এগুলো বলো না’ বা ‘এত আবেগ দেখিও না’—এমন কথা শিশুর মনে বাধা তৈরি করে। ফলে তারা ধীরে ধীরে মনের কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলে। বরং, সন্তানের আবেগকে বোঝার চেষ্টা করুন, তাকে ভালোভাবে শুনুন।

    সব সময় ব্যস্ত রাখা শিশুর জন্য ক্ষতিকর

    আজকাল শিশুরা পড়াশোনা ছাড়াও নানা কাজে ব্যস্ত থাকে—কোচিং, হোমওয়ার্ক, ক্লাস, প্রজেক্ট ইত্যাদি। কিন্তু খেলাধুলা, বিশ্রাম, বা একান্ত নিজের সময়ও তাদের দরকার। যদি সারাদিন তাকে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তাই একটা ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন বানানো জরুরি।

    শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় তাদের চারপাশের পরিবেশ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বড়রা যেমন আচরণ করবেন, শিশুরাও তা দেখেই শিখবে। তাই নিজের আচরণে সচেতন হওয়া এবং ছোটদের বুঝে, ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তোলাই একজন অভিভাবকের আসল দায়িত্ব।

  • নড়াইলে দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    নড়াইলে দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ‘হৃদয়ে বাংলার মুখ’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে নড়াইলে নানা আয়োজনে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার ৭ম বর্ষপূতি পালিত হয়েছে।

    এ উপলক্ষে শনিবার (২ মে ) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল-শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কেককাটা ও বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু। সভাপতিত্ব করেন-নড়াইল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন-দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার নড়াইল প্রতিনিধি আবদুস সাত্তার।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন-সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমিন, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি তারিকুজ্জামান লিটু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী, সাংবাদিক ফরহাদ খান, আসাদ রহমান, শরিফুল ইসলাম বাবলু, শুভ সরকারসহ অনেকে।

    অনুষ্ঠানে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকাকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।

    প্রধান অতিথিসহ আলোচকবৃন্দ বলেন, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশেনের মাধ্যমে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখবে। এছাড়া পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমকে আরো গতিশীল করতে হবে।