শিক্ষা ও সাহিত্য

  • বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাকৃবির ১৬ জন

    যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ যৌথভাবে বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের এই তালিকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে জায়গা করে নিয়েছেন ১৬ জন গবেষক। গত বছর এই তালিকায় বাকৃবির ১২ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছিলেন

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

    গতবছরের ন্যায় এবারও বাকৃবি দেশের শীর্ষ তিনে রয়েছে। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

    তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হলেন- ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শাহজাহান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আব্দুল হান্নান, একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো ফজলে রোহানী, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আক্তারুজ্জামান খান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. টুম্পা রানী সরকার, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

    প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঢাবির ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাকৃবি। বাকৃবির ১৬ জন গবেষক এ বছরের তালিকায় রয়েছেন।

  • স্থানীয় নির্বাচনে লড়তে পারবেন বেসরকারি শিক্ষকরা

    স্থানীয় নির্বাচনে লড়তে পারবেন বেসরকারি শিক্ষকরা

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    তিনি বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

    বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে, তা হয়েছে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের বড় পরিসরে কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয়করণের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। শিক্ষকরা একটি সুশৃঙ্খল ও বড় পরিসরের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরলে বর্তমান সরকার অবশ্যই বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের নতুন উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল স্থাপন করা যায়।এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ছুটির দিনে ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে বলে জানান তিনি।

    মীর শাহে আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবে।

    শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকই একমাত্র পেশা, যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। আপনারাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি এবং গণতন্ত্রের বার্তাবাহক।

    সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

  • পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং রুম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট নিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) এবং সিয়াম আহমেদের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।

    অভিযোগ রয়েছে, বুধবার ভোরে এ কেরামত আলী হলের একটি কক্ষে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে এক শিক্ষার্থী আহত হন। একই ঘটনায় কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ ঘটনার জেরে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিয়াম আহমেদের বন্ধু ইফতিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে সিয়াম ও পলক আহমেদ প্যারিস রোডে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    শিব্বিল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রাতে এক সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের কক্ষের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে তার এক সহপাঠী আহত হন। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অন্যদিকে সিয়াম আহমেদ অভিযোগ করেন, তার বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে তাকে ও পলক আহমেদকে প্যারিস রোডে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা করেন।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ১৫ অক্টোবর ঢাবিতে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস-কার্যক্রম

    ১৫ অক্টোবর ঢাবিতে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস-কার্যক্রম

    ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আগামী ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ শিক্ষার্থী এবং ১৪ অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করে।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি রয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক র‍্যালি বের হবে। র‍্যালিটি জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হবে। সকাল ৮টায় জগন্নাথ হলের অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ সব হল মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এ ছাড়া, হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র ও দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শন করা হবে।

  • নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে ‘আক্রমণ করতে পারেন’, এমন আশঙ্কাও শিক্ষক প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের নেয়া মাস্টার্সের ক্লাস পরিবর্তন করার আশ্বাস দিয়েছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এ কারণে তাকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয়, এমন যুক্তি দেন তিনি। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়। সুমি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন- নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

    ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।

    তিনি আরও বলেন, “ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাদের ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। ” ফলে একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

    সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তার মন্তব্যে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন।

    ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মৌখিকভাবে বসেছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। আমরা তাদের থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিক্ষার্থী তাদের কনসার্ন এবং ক্লাসে ঘটেছিল তা জানিয়েছে। আমরা আগামীকাল মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিসিয়াল ডিসিশনে আসবো। ”

    মাস্টার্সের ক্লাস নেয়া থেকে তাকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তারা ইন্টারেক্ট করতে চাচ্ছে না। আমরা তাদের (শিক্ষার্থীদের) আশ্বস্ত করেছি, ওদেরকে তার (অভিযুক্ত শিক্ষক) মুখাপেক্ষী হতে হবে না। ”

    এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পথেই হাঁটছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

    ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পথেই হাঁটছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

    শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্যাম্পাসগুলো জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) ঠিক আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

    শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস : নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়। এতে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পরে বিকেল ৩টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান। সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক। এ সময় ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী আমলে শত শত নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারত একই সূত্রে গাঁথা। ক্যাম্পাসগুলোকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) ঠিক আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

    বুয়েটে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের কথাগুলো আমাদের সবার কথা। সেই স্ফুলিঙ্গ পাঁচ বছর পরে বিশাল আকার ধারণ করে। হাসিনার মসনদ কাঁপিয়ে তাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছে। সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়—এটা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বুঝতে হবে।

    ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে ভায়োলেন্সমুক্ত ক্যাম্পাস। এই মধুর ক্যান্টিনেই দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। একই সিলসিলায় কথা বলেছিলেন আমাদের মেজর জিয়া, খালেদা জিয়া, শহীদ ওসমান হাদীসহ জুলাই আন্দোলনকারীরা। এখন এই নতুন বাংলাদেশে আমাদের বুঝতে হবে— আমাদের শত্রু কারা এবং মিত্র কারা।

    ডাকসুর জিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে গত ১৫ বছর যত নির্যাতন হয়েছে, তার প্রাইমারি স্ট্রাকচার ছিল গণরুম ও গেস্টরুম। এই গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার ছাত্রলীগ শুরু করেনি, বরং ছাত্রদল শুরু করেছিল। আবারও আমরা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের সেই প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি।

    সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, যারা নতুন করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের পরিকল্পনা করছে, তাদেরও ছাত্রলীগের মতো ভবিষ্যৎ বরণ করতে হবে। আমরা চাই, সব ছাত্রসংগঠন একত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাক।

    আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে নিপীড়ন, সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের মানবিক মর্যাদাহানি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে মানবিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

  • প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

    প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি, আবার কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই জমা দেননি। অন্যদিকে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন।

    ফলে শিক্ষক সংকট কাটাতে শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন।

    প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।

    নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।

    কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও তাদের সবাই কাজে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন পদে যোগ দিলেও ৯১৮ জন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।

    তবে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় এবার বিষয়টি অধিদপ্তরের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। আবদুর রহিম বলেন, বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    এলোপাথাড়িভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রস্তাব না এনে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ নীতিমালার আওতায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোই পরবর্তীতে জাতীয়করণের আওতায় আসবে।

    গত বুধবার শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে এ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রস্তাব আসছিল। এভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রস্তাব আসার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আসে। পরে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন।

    জাতীয়করণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে, কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে এবং কোন কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে—নীতিমালায় এসব বিষয় স্পষ্ট করা হবে বলে জানা যায়।

    নীতিমালা হলে ভবিষ্যতে ইচ্ছেমতো বা বিচ্ছিন্নভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সুযোগ থাকবে না। বরং নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই জাতীয়করণের জন্য বিবেচিত হবে বলে জানা গেছে।

    এতে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয়করণের প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করাও সহজ হবে।

  • মাধ্যমিকে ৬০ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ আছে

    মাধ্যমিকে ৬০ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ আছে

    দেশে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

    ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪১ শতাংশ শিক্ষকই এখনো শিক্ষকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ পাননি। শুধু মাধ্যমিক নয়, মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও বড়সংখ্যক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। সব মিলিয়ে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬।

    এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো : পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছরের অঙ্গীকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকার সেরা শিক্ষক নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন তিন লাখ চার হাজার ৬৪৬ জন। তাদের মধ্যে প্রশিক্ষিত ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

    অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত। মাদরাসা শিক্ষায় পরিস্থিতি আরো নাজুক। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষিত। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন এক লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশের প্রশিক্ষণ নেই।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে শিক্ষকতার আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে উল্টোভাবে আগে নিয়োগ, পরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন পাঠদান করছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণদক্ষতা প্রয়োগের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগী হবেন। যাদের প্রশিক্ষণ নেই, তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

    এদিকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় তিন লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রশিক্ষণ ফাউন্ডেশন কোর্স নয়।

  • ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলা, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

    ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলা, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হল প্রশাসন। সোমবার (৫ অক্টোবর) মতিহার থানায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

    তবে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা মামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকেরা। এছাড়া বিকেল ৪টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। আমরা মামলাটি নিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, ‘মতিহার থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে উল্লেখ করে তিনি মামলাটি করেছেন। এর সঙ্গে যারা জড়িত, যদি প্রাথমিকভাবে এগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম ধ্রুব বলেন, ‘এখানে প্রত্যেকেই চিন্তিত। হামলার সব ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে, সারা দেশের মানুষও তা দেখেছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা আয়নার মতো পরিষ্কার। ইতোমধ্যে তাদের নাম, পদবি ও পরিচয়সহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই অজ্ঞাতনামা মামলা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমাদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, সেটা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে জড়িতদের নাম-পদবি-পরিচয়ও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরও অজ্ঞাতনামা মামলা করা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

    উল্লেখ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

  • প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিলেন শতাধিক গুণী শিক্ষক

    প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিলেন শতাধিক গুণী শিক্ষক

    বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শতাধিক গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মাননা তুলে দেন তিনি। গুণী শিক্ষক সম্মাননা হিসেবে প্রতিজনকে ২ লাখ টাকা ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

    সারা দেশে শিক্ষকদের মধ্যে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ৯৫ জনকে চূড়ান্ত করেছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছেন আরো ছয়জন। তবে এ তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য বা তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তার নাম বাদ যাবে বলে জানা গেছে।

    সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ ছাড়া ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    এ বছর প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন, কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত ৬ জন শিক্ষক সম্মাননা পান।

    প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জনের মধ্যে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ জন ও মাদ্রাসার ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের ২০ জনের মধ্যে সাধারণ মাধ্যমিকের ১০ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন ও মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার ১৫ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন ও মাদরাসার ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জনের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষায় ৫ জন চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও ৫ জন চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সম্মাননা পান। এ ছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।

  • জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    শিক্ষ ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি জানান তিনি।

    পোস্টে সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস ধারণ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না।

    তিনি লেখেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সুমাইয়া লেখেন, “আমার এই পদত্যাগকে কোনোভাবেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে আমার সরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি, আদর্শ থেকে নয়। ”

    তিনি জানান, এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে তার সাময়িক বিরতি। ভবিষ্যতে সংগঠনটি শহীদ জিয়ার আদর্শ, শৃঙ্খলা, নীতি ও সাংগঠনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে মনে হলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন তিনি।

    পরে নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দেয়া এক রিপ্লেতেও পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সুমাইয়া। সেখানে তিনি লেখেন, প্রতিবাদ করলে বহিষ্কারই খেতে হয়। বহিষ্কার থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়াই ভালো না?

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।

    উল্লেখ্য, সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। র আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ভরাটে মিলবে বিনামূল্যে ড্রেজিংয়ের মাটি

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ভরাটে মিলবে বিনামূল্যে ড্রেজিংয়ের মাটি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাটি ড্রেজিং (খনন) করতে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা-মনিটরিংয়ের জন্য ‘জেলা ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণের চাহিদা ভিত্তিতে রাস্তাঘাট, শিক্ষা বা ধর্মীয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আবেদন যদি থাকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিনামূল্যে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল বরাদ্দ দেবে।

    বৃহস্পতিবার এক গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুনর্গঠিত কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক-সহকারী পরিচালক এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বিএডব্লিউটিএ’র বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। সভাপতির মনোনীত স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণমান্য ব্যক্তিকে, যার মধ্যে একজন নারী প্রতিনিধি থাকবেন।

    গেজেটে আরো বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক মনোনীত একজন ছাত্র প্রতিনিধি কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

    যে সংস্থার নেতৃত্বে ড্রেজিং পরিচালিত হবে, ওই সংস্থার জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট কারণে উপযুক্ত প্রতিনিধি সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, এ কমিটি মাঠ ভরাট, ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, খেলার মাঠ, সরকারি খাসজমি, পতিত জমি ও অন্যান্য সরকারি-সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নিচু জায়গা ভরাট-উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদন যদি থাকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিনামূল্যে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল বরাদ্দ দেবে।

    আবেদন না থাকলে কমিটি বিধি মোতাবেক উত্তোলিত ড্রেজড ম্যাটেরিয়ালের মূল্য নির্ধারণ, বিক্রি ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করবে, প্রতিযোগিতামূলক দর প্রাপ্তির লক্ষ্যে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল বিক্রয়ের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে, বিজ্ঞাপন খরচ সংশ্লিষ্ট সংস্থার বাজেট থেকে নির্বাহ করা হবে।

    নির্ধারিত স্থান থেকে উত্তোলিত ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা দেবে ও ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন- ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল উত্তোলন কার্যক্রম তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেয়া, ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল সংরক্ষণের স্থান নির্ধারণ করবে।

    উত্তোলিত ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল সরকারি খাসজমি-পতিত জমি-রিকুইজিশনকৃত জমিতে স্তূপ করে রাখার অনুমতি দেবে। ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল স্তূপীকরণের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তা নিরসন করবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি নদ-নদী ড্রেজিংয়ের ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।মা মাছের প্রজনন সময়ে মাছের আবাসস্থল-বিচরণক্ষেত্র-অভয়াশ্রম-প্রজননক্ষেত্রসমূহে নদ-নদী ড্রেজিং বন্ধ রাখবে। নদীর গতিপথের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং এর ফলে নদী ভাঙন হচ্ছে কিনা অথবা নদী তীরবর্তী জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে। নৌ-পথে নৌযান চলাচল সুগম রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং সুপারিশ করবে। আন্তঃনদী সংযোগ স্থানগুলো চিহ্নিতকরণ এবং খননের মাধ্যমে সচল রাখার ব্যবস্থা নিতে পারবে।

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে তালা; অবরুদ্ধ শিক্ষকরা

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে তালা; অবরুদ্ধ শিক্ষকরা

    শিক্ষা ডেস্ক

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিভাগের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়ে দুই দফা দাবি আদায়ে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

    শিক্ষার্থীদের দাবি হলো–বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ করা এবং বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তর করা।

    তারা দাবি আদায়ে ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘মিডিয়া স্টাডিজের সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত করতে হবে’, ‘কারিকুলাম গ্লোবাল, ফ্যাকাল্টি কেন লোকাল,’ এবং ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে বিভাগকে নিয়ে যেতে হবে’—এসব স্লোগান দেন।

    এর আগে, বুধবার একই দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে দাবিগুলো উল্লেখ করে বিভাগীয় প্রধানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইনজামুল হক অভি জানান, তারা প্রায় ১৪ মাস ধরে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছেন। বিভাগের কারিকুলামে কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়ানো হলেও বিভাগের নামে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি না থাকায় চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভাগটি কলা অনুষদের অধীনে থাকায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কিছু চাকরিতে তারা আবেদন করতে পারছেন না।

    তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং একাডেমিক পরিচয় ও চাকরির সুযোগের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার দাবি। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মহসিন হক শাহ বলেন, দাবির যৌক্তিকতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তদন্ত শেষে কমিটিও তাঁদের দাবির পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে। এরপরও দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

    আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাবি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর সিন্ডিকেটের সব সদস্য এ বিষয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। তার আগে কিছু জানানো সম্ভব নয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দাবিগুলোর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় বিভাগের নাম পরিবর্তন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের দাবিতে উপাচার্য, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ডিনের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

    পরে বিভাগের ১২৯তম একাডেমিক কমিটির সভায় নাম ও অনুষদ পরিবর্তনের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সুপারিশ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

    ওই কমিটি বিভাগের নাম ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ করার পাশাপাশি বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের সুপারিশ করে।

    গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভাগের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সভায় বিভাগের নামের সঙ্গে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিষয়টি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা বলা হয়।

    এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান পল বলেন, বিভাগের নাম পরিবর্তন ও অনুষদ পরিবর্তনের দাবিকে ১২৯তম বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে যৌক্তিক বলে সমর্থন করেছে। বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের ১৪ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।

  • নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বাড়বে যেভাবে

    নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বাড়বে যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত জনবলের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না বলে জানা গেছে।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ এবং শিক্ষার উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার মধ্যে মঙ্গলবার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন অর্থ বিভাগের ওই কর্মকর্তা। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত গেজেটই এমপিওভুক্ত জনবলের জন্য প্রযোজ্য হবে।’অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট জারি হয়েছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত জনবল সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় ভাতা পান না। এ বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তাদের বেতন বৃদ্ধি হবে। ভাতাগুলো আগের মতোই থাকবে। বিষয়গুলো নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কাজ করবে।’

    নতুন পে-স্কেলে নিজের বেতন বৃদ্ধির হিসাব করবেন যেভাবে

    নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই হিসাব-নিকাশ চলছে। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত একজন কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত স্কেলের তথ্যগুলো প্রয়োজন হবে।

    নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনে বেতন নির্ধারণের জন্য দুটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। পুরোনো বেতন স্কেলের একেবারে শুরুতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে হিসাব অপেক্ষাকৃত সহজ। আর যারা স্কেলের মাঝামাঝি বা ওপরের কোনো ধাপে বেতন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান বেতনের ব্যবধান হিসাব করে নতুন স্কেলে তা সমন্বয় করতে হবে।

    স্কেলের শুরুতে থাকা কর্মচারীদের বেতন যেভাবে নির্ধারিত হবে

    কোনো কর্মচারী যদি ৩০ জুন পর্যন্ত তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।

    ধরা যাক, ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারী ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের শুরুতে ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের স্কেল যদি ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত হয়, তাহলে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে পুরোনো বেতন ও নতুন বেতন স্কেলের শুরুর ধাপের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় করা হবে।

    স্কেলের মাঝামাঝি ধাপে থাকা কর্মচারীদের হিসাব

    কোনো কর্মচারী যদি তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন এবং তার বর্তমান মূল বেতনের মধ্যে ব্যবধান বের করতে হবে।

  • বিনা মূল্যের পাঠ্যবই: বইয়ের মানে এবারও শঙ্কা

    বিনা মূল্যের পাঠ্যবই: বইয়ের মানে এবারও শঙ্কা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী বছরের বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে শঙ্কা এবারও পুরোপুরি কাটছে না। দরপত্রের শর্তের চেয়ে পাঠ্যবইয়ে কম মানের জিএসএমের কাগজ ও নিম্নমানের কালি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও বাঁধাইয়েও ত্রুটি ধরা পড়েছে। পাঠ্যপুস্তক ছাপানো ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রেই এসব তথ্য জানা গেছে।

    এনসিটিবি সূত্র বলেছে, নিম্নমানের জন্য ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিম্নমানের কাগজ ও ছাপার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ফর্মা বাতিল করা হয়েছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে অন্তত ১৪টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    বই ছাপার মান ও সার্বিক অবস্থা জানতে গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বইয়ের গুণগত মান ও ছাপার কাজের অগ্রগতি যাচাই করেন।

    সূত্র বলেছে, প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৮০ জিএসএম এবং মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৭০ জিএসএম কাগজ ব্যবহারের শর্ত রয়েছে দরপত্রে। কিন্তু কিছু ছাপাখানায় এর চেয়ে কম জিএসএমের কাগজে বই ছাপার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহৃত কালি ও বাঁধাই নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে প্রতিবছরই বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

    এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পাঠ্যবইয়ের মান বজায় রাখার বিষয়ে এবার সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কাগজের ফর্মা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছাপাখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হচ্ছে।

    জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘রোডম্যাপ অনুযায়ী বই ছাপার কাজ এগিয়ে চলছে। এতে কোনো রকম ব্যত্যয় পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। ফর্মার মান খারাপ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই কেটে দেওয়া হচ্ছে।’

    আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপা হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ বই। বিনা মূল্যের এসব পাঠ্যবই ছাপায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই ছাপা চলছে ১৩৩টি ছাপাখানায়। এসব ছাপাখানার সিংহভাগ রাজধানী ঢাকার মাতুয়াইলে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়াতেও পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে।

    এনসিটিবির হিসাবে, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাক্-প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ বই ছাপা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) হয়েছে ৬২ শতাংশের। প্রাথমিকের বই ছাপা শেষ হয়েছে ৫২ শতাংশ, পিডিআই হয়েছে ২৪ শতাংশের। মাধ্যমিকের বই ছাপা শেষ হয়েছে ১৪ শতাংশ এবং পিডিআই হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশের।

    এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অননুমোদিত ও নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার কারণেই বেশি শোকজ করা হচ্ছে। এর বাইরে ছাপা ও বাঁধাইয়ে ত্রুটি এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করার অভিযোগও রয়েছে।

    কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এবার অনিয়মের বড় জায়গা কাগজ ও কালির মান। পাঠ্যবইয়ের জন্য দরপত্রে নির্দিষ্ট জিএসএমের কাগজের কথা বলা হলেও তা মানছে না অধিকাংশ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। অনেক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার করা কাগজের উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বেও ঘাটতি রয়েছে। দরপত্রে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের কালি ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কালির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তা নকল বলে শনাক্ত হয়েছে। বইয়ের বাঁধাইয়েও ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে।

    এনসিটিবি সূত্র বলছে, পিডিআইয়ের ছাড়পত্র পাওয়া কিছু মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কাগজ পরে পরীক্ষা করে নির্ধারিত মান পাওয়া যায়নি। যদিও তা সংশ্লিষ্ট মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র পেয়েছিল।

    এনসিটিবির তথ্যমতে, পাঠ্যবই ছাপায় অনিয়মের জন্য আনন্দ প্রেস, রেদওয়ানী প্রেস, মেঘদূত প্রেসকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া লিখন আর্ট প্রেস, সাগরিকা, ন্যাশনাল প্রেস, সরকার, আনোয়ারা প্রেসকেও শোকজ করা হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ডিজিটাল, আনোয়ার, আমিন, মুত্তাহিদা, দশদিশা প্রেসকেও অনিয়মের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে।

    এবার পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের জন্য আলাদা পিডিআই প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে এনসিটিবি। প্রাথমিকের বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছে ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডি। মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির বইয়ের দায়িত্ব পেয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি।

    সূত্র বলেছে, ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকেও শোকজ করেছে এনসিটিবি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কয়েকটি ছাপাখানার সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাগজে ছাপা বইকে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে আমরা কী করব। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।’

    অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির স্বত্বাধিকারী শেখ বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ আসছে, তা সঠিক নয়।

    বিদ্যুৎ-সংকটে বাড়ছে ব্যয়

    বিদ্যুৎ-সংকটে পাঠ্যবই ছাপার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কার্যাদেশ পাওয়া একাধিক মুদ্রণ ব্যবসায়ী। তাঁরা বলেছেন, দিনে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে মেশিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে কাগজ। ছাপা চালু রাখতে বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।

    এনসিটিবি গত ২৩ আগস্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে পাঠ্যবই ছাপার সঙ্গে যুক্ত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। চিঠিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    মাতুয়াইলের অন্তত পাঁচজন ছাপাখানা মালিক জানান, এনসিটিবির চিঠির পরও প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকলেও মেশিন বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। মেশিন বন্ধ রাখলে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয় এবং বই ছাপা ব্যাহত হয়।

    অন্য কয়েকটি ছাপাখানার মালিকেরা বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এতে নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালানোর বাড়তি ব্যয় পোষাতে গিয়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বইয়ে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের সুযোগ খুঁজতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

    জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, ‘বই ছাপার কাজ আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই চলছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’

  • কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে পিস্তল দেখিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা রাতেই কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত দেলোয়ার একই গ্রামের বাসিন্দা।

    থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষিকা উল্লেখ করেন, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি পিস্তল বের করে ভয় দেখান এবং জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন। এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, সিএনজিটি কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষিকা। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর প্রায় এক মাসের সম্পর্ক ছিল। শিক্ষিকার রাগ কমাতে তাঁকে নিয়ে সিএনজিতে করে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। অপহরণের অভিযোগটি মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে শিক্ষিকা দেলোয়ারের সঙ্গে সম্পর্কের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করে কথা বলতে চান। তিনি রাজি না হওয়ায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে সিএনজিতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

    ওই শিক্ষিকা আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের ৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল

    ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের ৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যায় ঢাকা কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল এবং ৪২ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যার কারণে ৯ জনের ভর্তি বাতিল এবং ৪২ জনকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন উদ্ভূত ঘটনার সঙ্গে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত থাকার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।

  • বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীও রয়েছেন।

    প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আটক চারজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন, বহিরাগত সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান।

    পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

    গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, গেস্ট হাউসে তাদের সন্দেহজনক চলাফেরা নজরে আসার পর স্টাফদের কাছ থেকে খবর পান তিনি। কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের স্টাফ মিথুনের নামে ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা ছিল। সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছিল।

    তিনি বলেন, গেস্ট হাউসে অন্য অতিথিরাও অবস্থান করছিলেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ তারা দ্রুত কক্ষটিতে যান। দরজা খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিংধারী স্টাফের পাশাপাশি একজন এসি মেকানিক ও দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতর তীব্র গন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।

    পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে ৪-৫টি ইয়াবাসহ একটি কিট জব্দ করে।

    গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, লাবিব হাসান মিথুন অসুস্থতাজনিত বিশেষ কারণ দেখিয়ে তিন দিন আগে এক দিনের জন্য ৬ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। পরে তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে গেস্ট হাউসের ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টাফের সঙ্গে বাইরের কয়েকজন লোক অবস্থান করছেন বলে খবর পান। এরপর ক্যাম্প পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে যান। কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, বাইরে থেকে কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে তারা দরজা খোলেন। কক্ষে ঢোকার পর বাজে গন্ধ পাওয়া যায় এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম দেখা যায়। পরে পুলিশ ইয়াবা উদ্ধার করে তাদের আটক করে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব বলেন, চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মাসের শুরুতেই বেতন পাচ্ছেন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

    মাসের শুরুতেই বেতন পাচ্ছেন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

    মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মাসের শুরুতেই বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ছয় মাসের মধ্যেই সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    মাউশি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বুধবার বেতনের ডাটা আইবাসে পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিক্ষক-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পেতে পারেন।

    মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মাসের শুরুতেই বেতন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, এবার ১ অক্টোবরই শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পাবেন।’

    এর আগে আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা ৩ সেপ্টেম্বর পেয়েছিলেন প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী। মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ায় বাড়িভাড়া, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

  • সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা

    সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত মোট তেরোটি ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৭’ এর মনোনয়ন প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। ক্ষেত্রগুলোতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী এবং সংস্থার গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হবে। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে এ মনোনয়ন প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

    মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লি উন্নয়ন, সমাজসেবা বা জনসেবা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো ক্ষেত্রসহ মোট ১৩টি ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী এবং সংস্থার গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৭’ এর মনোনয়ন প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা ছক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইট (www.cabinet.gov.bd) থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

    এমতাবস্থায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত নির্দেশাবলি’ অনুসরণ করে নির্ধারিত ছকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ও আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৭’ এর মনোনয়ন প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ প্রস্তাবের ৩০ সেট আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে সমন্বয় শাখায় পাঠাতে হবে।মনোনয়ন প্রস্তাবের হার্ডকপি ও সফটকপি Nikosh ফন্টে (ই-মেইল: sas_s4@moedu.gov.bd অথবা ডি-নথিতে) পাঠাতে বলা হয়েছে।

  • জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন দায়িত্বে

    জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, যারা আছেন দায়িত্বে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী দুই বছরের জন্য জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

    কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আহসান লাবিব ও রাফিয়া রেহনুমা হৃদিকে।

    সহসভাপতি পদে রয়েছেন লিমন মাহমুদ হাসান, নিরব হাসান সুজন, এস এম আমিনুল ইসলাম, জাহেদ হাসান ফরহাদ, আহনাফ জামান, সাব্বির আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, ফারহান হাসান বর্ন, আল শাহরিয়ার মেহেরাজ মিথুন, মঞ্জুরুল ইসলাম পাভেল, তানভীর আহমদ চৌধুরী, রাইয়ান রহমান ইরাত ও মো. সামির সাদিক।

    এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খান তালাত মাহমুদ রাফি ও মো. সাইফুল্লাহ।

    নতুন কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আরও বেশ কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়েছে।

  • বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশ কোন পথে

    বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশ কোন পথে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্বজুড়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাড়ছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমে যাওয়া, সাইবার বুলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ এ ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে।

    ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৪টি দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্বের মোট দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুনে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা দেশের হার ছিল ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের শুরুতে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছরের মার্চে এ হার আরও বেড়ে ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

    তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর এ ধরনের নীতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ, শিক্ষা ব্যবস্থা, পারিবারিক কাঠামো এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধায় রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য।

    শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্য দেশের সিদ্ধান্ত সরাসরি অনুসরণ না করে বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নিষেধাজ্ঞা

    ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বলিভিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, জর্জিয়া, মালদ্বীপ ও মাল্টাসহ কয়েকটি দেশ স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে দেশভেদে এ নিষেধাজ্ঞার ধরন ও পরিধিতে পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো দেশে পুরো স্কুলের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার কিছু দেশে শুধু শ্রেণিকক্ষে ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কোথাও শিক্ষার প্রয়োজনে এবং প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ফ্রান্সে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও দেশটির ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।

    এর মধ্যে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সরাসরি মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর ২৪টি অঙ্গরাজ্যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডেও স্কুলের পুরো দিনে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ স্কুলগুলোর ওপর রাখা হয়েছে।

    বাংলাদেশের বাস্তবতা আলাদা

    স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন না দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও নির্দেশক অধ্যাপক মলয় ভৌমিক। তবে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি অস্বীকার না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    মলয় ভৌমিক বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে নিউ মিডিয়াকে অস্বীকার করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। ”স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, “অন্তত মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন না দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে ‘বন্ধ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্কুলে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ব্যবস্থা স্কুল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। ”

    শুধু স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, পারিবারিক পর্যায়েও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবা নিজেরাই মোবাইল ফোন বা টেলিভিশনে আসক্ত থাকেন। সন্তানকে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন কিংবা মোবাইল গেম খেলতে দেন।

    অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের হাতে স্মার্টফোন না দেয়া এবং তাদের মোবাইল গেম ও অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে দূরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন মলয় ভৌমিক। তিনি বলেন, “শিশুদের শুধু পরীক্ষা ও ফলাফলকেন্দ্রিক শিক্ষার মধ্যে রাখলে হবে না। তাদের গল্প, কবিতা ও অন্যান্য বই পড়া, ছবি আঁকা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা এবং প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এসব সুযোগ কমে যাওয়ার কারণেই শিশুরা ধীরে ধীরে মোবাইলনির্ভর হয়ে পড়ছে। ”

    শিক্ষার্থীরা এখন মূল পাঠ্যবই বা গল্প-কবিতা না পড়ে মোবাইলে সেসবের সারাংশ খুঁজে নিচ্ছে উল্লেখ করে মলয় ভৌমিক বলেন, “গুগল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কোনো গল্প, কবিতা কিংবা চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ও মূল বক্তব্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মূল লেখা না পড়েই শিক্ষার্থীরা খণ্ডিত জ্ঞান নিয়ে বড় হচ্ছে। ”

    শুধু খাতায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা ঠিক নয় বলেও মনে করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে উত্তর নিয়ে আসছে কি না, শিক্ষকদের সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। যেসব দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা এবং শিক্ষা পদ্ধতি বাংলাদেশের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও জানান মলয় ভৌমিক।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম এবং বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই অন্য দেশের অভিজ্ঞতা সরাসরি প্রয়োগ না করে বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। ”

    শিশুদের বিকল্প সুযোগ দিতে হবেশিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেছেন, “শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও এর ব্যবহার ও ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য স্কুলের পাশাপাশি পরিবারকেও দায়িত্ব নিতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “অনেক দেশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মোবাইল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অভিভাবকেরাও চাইলে বিভিন্ন ক্ষতিকর কনটেন্ট ব্লক করে রাখতে পারেন। ”

    রাশেদা কে চৌধূরীর মতে, শুধু স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বাসাতেও শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বাসায় শিশুদের জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট ব্লক করে রাখার ব্যবস্থা তিনি দেখেছেন বলে জানান। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হলে অভিভাবকসহ শিক্ষা ও সমাজের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অনেক সময় কোনো সমস্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাই মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। শুধু শিশুদের দায়ী করলেই হবে না, তাদের মানসিক বিকাশের জন্য বিকল্প সুযোগও তৈরি করতে হবে। ”

    করোনার সময় থেকে শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস বেড়েছে উল্লেখ করে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “একই সময়ে খেলাধুলার মাঠ, সাঁতার কিংবা বাইরে দৌড়ানোর মতো সুযোগ কমে যাওয়ায় শিশুরা অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। ”

    শিশুদের জন্য গল্প বলা, ছবি আঁকা, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসব বিকল্প ব্যবস্থা না করে শুধু মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ—সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

    শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, সমন্বিত উদ্যোগ

    বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যৌক্তিক বলে মনে করেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন। তার মতে, করোনা মহামারি ও পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে গেমিংয়ের আসক্তিও বেড়েছে।

    আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে বের করে আনতে পরিবার, বিদ্যালয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য শিশুদের স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ, বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং সন্তানের সামনে বাবা-মায়ের মোবাইল ব্যবহারে সচেতন থাকা জরুরি। ”

    তিনি বলেন, “শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের বিকল্প সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ জন্য স্কুলে নিয়মিত বিতর্ক, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান ক্লাব ও আইটি মেলার মতো কার্যক্রম আয়োজন করা যেতে পারে। ”

    এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের বাইরে বিভিন্ন ইতিবাচক কাজে প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে মনে করেন তিনি।

    নিষেধাজ্ঞার বদলে ব্যবহারবিধি

    স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা-নীতি বিষয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক। তবে বিষয়টিকে শুধু ‘মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ’ হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা বোঝা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    কে এম এনামুল হক বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, আইপ্যাডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসও শিক্ষার অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। ”

    বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ না করে স্থানীয় বাস্তবতা, প্রতিষ্ঠানের ধরন এবং শিক্ষার্থীদের বয়স ও প্রয়োজন বিবেচনায় ব্যবহারবিধি তৈরি করা বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

    তার মতে, কোথায়, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

    কে এম এনামুল হক বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশ শুধু নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ডিজিটাল ডিভাইসের বিভিন্ন ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির দিকে এগোচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে না দিয়ে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও শিক্ষাবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। ”

    মোবাইল বন্ধের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশ্নও

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু একটি ডিভাইস নিষিদ্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে পরিবারে শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের ধরন, শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং দেশের বহুধারার শিক্ষা ব্যবস্থা সরাসরি যুক্ত।

    উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে এসব নীতি সরাসরি অনুসরণ করার আগে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, পরিবারের সক্ষমতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য কতটা, তা বিবেচনা করা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করা হবে কি না—শুধু এই প্রশ্নের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের কীভাবে প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা কীভাবে শেখানো যায়, সেই বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • সরকারি স্কুলে ভর্তিতে ১৩ শতাংশ কোটা

    সরকারি স্কুলে ভর্তিতে ১৩ শতাংশ কোটা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে কোটাধারীদের জন্য ১৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে খসড়া ভর্তি নীতিমালা তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর এর ভিত্তিতেই ২০২৭ সালে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

    নীতিমালা চূড়ান্ত করতে মাউশিতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। খসড়া যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

    খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত কোটা পূরণ না হলে অবশিষ্ট আসনে মেধা তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করলেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন।

    যমজ ভাইবোনের জন্য ২ শতাংশ এবং সহোদরদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো আবেদনকারীর যমজ ভাইবোন বা সহোদর আগে থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। নতুন করে আবেদন করা যমজ বা সহোদরদের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা থাকবে।

    এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।

    ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সুযোগ

    সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুধু ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোটার ১৩ শতাংশের বাইরে আরও ১ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য এ কোটা রাখা হবে।

    ঢাকার স্কুলে ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় ৪০ শতাংশ

    ঢাকা মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলসংলগ্ন এলাকার বা ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই ক্যাচমেন্ট এরিয়ার আওতায় থাকলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।

    প্রথম থেকে পঞ্চমে লটারি, ষষ্ঠ থেকে নবমে পরীক্ষাপ্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লটারির মাধ্যমে। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নেওয়া হবে লিখিত পরীক্ষা।

    পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে।মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো যাবে।

    মাধ্যমিক শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরই স্কুল ভর্তিতে কিছু কোটা রাখা হয়। গত কয়েক বছরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। এরপরও বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে খসড়া নীতিমালায় এ কোটা রাখা হয়েছে।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেটে ৩ অধ্যাপক

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেটে ৩ অধ্যাপক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তিন অধ্যাপককে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো.সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খান ও জাবির ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও ট্রেজারার মো. সোহেল রানাকে ‘বিশিষ্ট অধ্যাপক’ হিসেবে এবং জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে ‘প্রথিতযশা ব্যক্তি’ ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর ২৪(১)(ঘ) ও (ঙ) এবং ২৪(৩) ধারা অনুযায়ী তাদের দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের এ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে আচার্য কর্তৃক মনোনীত দুজন বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং একজন প্রথিতযশা ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন।

    আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলি, আর্থিক বিষয়াবলি ও সম্পত্তির সাধারণ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের রয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের অনুলিপি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, দেশের ৫তম স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজকে সংযুক্ত করে গঠিত হয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। নবগঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো সিন্ডিকেট সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

  • ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’, মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট

    ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’, মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন মহলের চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে সোমবার মধ্য রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানান।

    সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এর আগে রাত ১১টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে স্লোগান দিতে দিতে স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

    পরে স্বাধীনতা চত্বর থেকে মিছিলটি যানবাহন শাখা-সংলগ্ন সড়ক দিয়ে চুয়েটের আবাসিক এলাকার গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে। এরপর মিছিলটি পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়।

    বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    বিক্ষোভ মিছিল শেষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, “অনেকেই মনে করতে পারেন আমাদের আন্দোলনে জনবল কমে যাচ্ছে। আজকের মিছিলের উপস্থিতিই তাদের এই মিথ্যা কথার জবাব। ”

    একই বর্ষের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, “আমাদের এই চলমান আন্দোলনে কতিপয় মহল হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। আমরা তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, হুমকি দিয়ে আমাদের এই আন্দোলন দমানো যাবে না। আমাদের গণতান্ত্রিক দাবি একটাই—কুয়েটের অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল চাই। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল চাই। ”

    এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ করা হয়। এরপর থেকে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামে। একদিন পরেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পুরো চুয়েটের আন্দোলনের রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে পূর্ণকর্মবিরতি পালন করছেন সমিতি ও কর্মকর্তা কর্মচারী সমিতিও। উপাচার্য পদে রদবদলকে ঘিরে গত সাত দিন ধরে চুয়েটে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

  • পাঠ্যবই ছাপার অবস্থা করুণ !

    পাঠ্যবই ছাপার অবস্থা করুণ !

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মধ্যরাতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শনে গিয়ে নতুন বই ছাপার মারাত্মক গলদ হাতেনাতে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার পর হঠাৎ তিনি মাতুয়াইল এলাকার ছয়টি প্রেস পরিদর্শন করেন। প্রেসগুলো হলো—মৌসুমী অফসেট প্রেস, ফায়িজা প্রিন্টিং প্রেস, শৈলী প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা অফসেট প্রিন্টার্স, সোনালী ওয়েব প্রিন্টার্স এবং ন্যাশনাল প্রিন্টার্স।

    গভীর রাতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে হঠাৎ পাঠ্যবই ছাপার মারাত্মক খারাপ অবস্থা দেখলাম। ছাপার মান খারাপ।”

    প্রেস পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী পাঠ্যবই ছাপার কাজের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এ সময় মন্ত্রী বইয়ের গুণগত মান এবং ছাপার কাজের সার্বিক অগ্রগতি যাচাই করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে ছাপার কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ছাড়া বই ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন শিক্ষামন্ত্রী।

    এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই ছাপানো হবে। ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপানো হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    মাধ্যমিক পর্যায়ে নবম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বই ছাপানো হবে।

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের বই ছাপানো হবে। নতুন বিষয়গুলোর বইসহ সংশোধিত ও পরিমার্জিত অন্যান্য বইও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।

  • এমপিও শিক্ষকদের বদলি: সভায় এডিট-ডিলিট নিয়ে আলোচনা

    এমপিও শিক্ষকদের বদলি: সভায় এডিট-ডিলিট নিয়ে আলোচনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সভায় বদলির ফল প্রকাশের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষকদের থাকা বিভিন্ন সমস্যা ও এডিট-ডিলিট অপশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আরো কয়েকটি সভা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. কে এম এ এম সোহেল এবং টেলিটকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় এডিট ও ডিলিট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বদলি কার্যক্রমের উদ্বোধন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদলি কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন কিনা তা এখন নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

    সভা সূত্র আরো জানায়, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকমে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এর আগে গতকাল রোববারও এ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকালকের সভা সূত্র জানায়, শিক্ষকদের বদলির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে টেলিটক ব্রিফ করছে। নানা সমস্যা আলোচনা হয়েছে। ফল প্রকাশে কী কী জটিলতা রয়েছে তা-ও আলোচনা হয়েছে।এদিকে স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল চলতি মাসের প্রকাশের কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে সব শেষে সামগ্রিক বিষয়ে জানা যাবে।

  • ডাকসুর মেয়াদ শেষ, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

    ডাকসুর মেয়াদ শেষ, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ গত ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হলেও এখনো পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি নির্বাচন কবে হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমাও জানানো হয়নি। এরই মধ্যে দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ফলে বর্তমান কমিটির জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত ৯০ দিনের রুটিন দায়িত্বের সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দীর্ঘ ২৮ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন। কিন্তু ওই কমিটির মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হওয়ার পর আর নির্বাচন হয়নি। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ীরা ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছরের মেয়াদ হিসাব হওয়ায় চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান কমিটির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়।

    তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো সময়সূচি না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি তুললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি।

    ডাকসুর গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নেতারা সর্বোচ্চ ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে এ সময় তাদের দায়িত্ব রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সেই হিসাবে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা না গেলে ডাকসুর পরবর্তী সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

    প্রশাসনের বৈঠক, সিদ্ধান্ত হয়নি

    নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে গত ২০ আগস্ট প্রথম বৈঠক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো তফসিল বা নির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, ডাকসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একটি বিষয়। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় এর ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছিল। এবার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রেও এক-দুই মাস এদিক-সেদিক হতে পারে।

    তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    নিয়মিত নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচন কখনোই নিয়মিত ধারায় অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ বার নির্বাচন হয়েছে। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে নির্বাচন হয়েছে মাত্র আটবার।

    ১৯৯১ সালে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সহিংসতার কারণে শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৪, ১৯৯৫, ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ২০০৫ সালেও নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেসব উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।

    দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ছয় বছর পর ২০২৫ সালে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ডাকসুর দীর্ঘদিনের অনিয়মিত নির্বাচনের ইতিহাসের সঙ্গেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    দ্রুত তফসিল চায় ছাত্রসংগঠনগুলো

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সব সময় শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ ও লালন করে। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার প্রধান প্ল্যাটফরম ডাকসু নির্বাচন নিয়েও সংগঠনটির অবস্থান ইতিবাচক।

    তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন কখন হবে, তা প্রশাসন নির্ধারণ করবে। বর্তমান প্রশাসন ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হলভিত্তিক শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

    অন্যদিকে ডাকসুর এজিএস ও ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির বরাবরই ডাকসুর পক্ষে ছিল এবং অবিলম্বে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

    মহিউদ্দিন খান জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রশিবিরের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা হলে সংগঠনটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

    এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রসভার সংগঠক শিমু আক্তার এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সামি আব্দুল্লাহও দ্রুত ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।

    ৯০ দিনের সময়সীমাই এখন আলোচনায়

    এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্রদল-সমর্থিত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ নিয়েও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন। ওই বৈঠকে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের সমর্থন বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তারা জানান।

    সব মিলিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক উদ্যোগ শুরু হলেও এখনো তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় অপেক্ষা বাড়ছে। একদিকে মেয়াদ শেষ হওয়া বর্তমান কমিটি, অন্যদিকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের রুটিন দায়িত্বের বিধান—দুটিই এখন ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে।

    প্রশ্ন হচ্ছে, নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেই কি নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নাকি ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন পেতে শিক্ষার্থীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে? আপাতত সেই উত্তরই খুঁজছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

  • উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

    শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলনে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারাও। এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিও যোগাদানের বিষয়ে অটল। এরইমধ্যে অনলাইনে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। এতে বিষয়টি সুরাহা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    সপ্তম দিনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে চুয়েট গেটে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সাদা কাপড়ে গণসাক্ষ্য কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবেন আন্দোলনরতরা। ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের দরজাও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। টানা আন্দোলনে সেশনজটের শঙ্কা বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এমতাবস্থায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নিয়ে সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

    মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর আগের ভিসি আবু সাদাত মো সায়েমকে বদলি করে ড শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। আগের ভিসিকে দক্ষ ও চুয়েট বান্ধব দাবি করে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

  • ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগপত্র পাবেন প্রার্থীরা; শিক্ষামন্ত্রী

    ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগপত্র পাবেন প্রার্থীরা; শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। এরপরই কতজন বাদ পড়ছেন তা জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র প্রদান বাকি আছে। এটা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ২০ জন ৫০ জন বাদ পড়ছে তা জানা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো ভিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

    সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে এ বিষয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে এই সংবাদ সম্মেলনে করা হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কিছু মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, কেউ কেউ বাবার কাছে, মায়ের কাছে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু এটা চূড়ান্ত ছিল না। অনেক প্রার্থীর ঠিকানা পাল্টে গেছে। পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন ও নিয়োগপত্র পাঠানো হচ্ছে।

    মিডিয়ায় দুই প্রার্থীর বক্তব্য দিয়ে হৃদয়বিদারক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তারা চিঠি পেয়েছেন। আরেকজনের রেজাল্ট পাওয়ার আগেই মিডিয়া প্রচার চালিয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে রাজনৈতিক কারণে ভেরিফিকেশনে কাউকে বাদ দেওয়া হবে কি নাÑসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান মন্ত্রী।এদিকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদিল বন্ধের বিষয়ে কোনো সার্কুলার দেওয়া হয়নি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বদলি করতেই হবে। এ নিয়ে দুর্নীতি হলে আমরা অনলাইনে করব।

  • বাবাকে আর রিকশা চালাতে না দেওয়ার স্বপ্ন চুরমার!

    বাবাকে আর রিকশা চালাতে না দেওয়ার স্বপ্ন চুরমার!

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুস্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না তারা। রোববার অনেকেই জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।

    খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তালিকার ৯ জন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না।

    খুলনার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে ২৭৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। গত বৃহস্পতিবার ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।

    বাকি ৬৯ জনকে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নিÑএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে যাচাই শেষ করে জানানো হলে তাদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

    ছেলে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন তিনি। মুকুল বলেন, তেরখাদায় মেধাতালিকায় ষষ্ঠ হয়েছি। এরপরও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, সেটা জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসেছি। কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।

    আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী সুদীপ মণ্ডল বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশ পেয়েছি। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।

    কুমিল্লায় ৫০৮ সুপারিশ, বাদ ৭৭কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৫০৮ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাননি ৭৭ জন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে তারা বাদ পড়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

    বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের শর্তগুলো পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চান্দিনার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কেন বাদ দিয়েছে, তা বলতে পারছি না।

    নাঙ্গলকোটের তরিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কিছু জানেন না বলে জানান।

    মাসুম বিল্লাহর বাবা দিদার হোসেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইমামতি করছেন। ছেলে নিয়োগবঞ্চিত হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, মাসুম চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। চাকরিটা না হলে আমাদের পথে বসতে হবে।

    অনিশ্চয়তায় হবিগঞ্জের ৩০ জন

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হবিগঞ্জের ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি।

    প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে এনএসআই ও ডিএসবির প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য থাকার কথা তারা জানতে পেরেছেন।

    নিয়োগপত্র না পাওয়া সাজনিন আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে চাকরি নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাস্তবে রূপ নিচ্ছিল। এখন অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও আমি না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।

    কুড়িগ্রামে নিয়োগবঞ্চিতদের ক্ষোভ

    কুড়িগ্রামে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়াদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চাকরি পেয়েও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। যাদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে কিংবা শেষ হওয়ার পথে, তাদের করুণ পরিণতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। বঞ্চিত প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া রৌমারীর প্রার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি। এই সরকার শুরু থেকেই আমাদের প্রতি আন্তরিক ছিল না। এজন্যই আমাদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই বাদ পড়েছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। জুলাই আন্দোলন করেছিলাম, এটাই সমস্যা হতে পারে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় বলেন, তারা অপেক্ষা করুক, তাদের জন্য ভালো সংবাদ রয়েছে।

    গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিতের স্মারকলিপিসহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

    জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

    এদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। আমাদের কী কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ‍সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী এবং এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কী, তা আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই। আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছি।

    ফুলছড়িতে বাদ ছয়জন

    এদিকে, ফুলছড়িতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ৬৫ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ছয়জন। নিয়োগবঞ্চিত বেলাল হোসেন বলেন, মেধা আর পরিশ্রমে চাকরির শেষ বয়সে এসে এহেন পরিস্থিতিতে নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না। সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন করছি।

    গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    বিএনপি সমর্থকের ছেলেও বাদ

    প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায়ও ছিল নাম। কিন্তু নিয়োগের আগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েন তিনি। জাহিদুল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স করেন।

    তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়নের কাফুলায়। তার বাবা আব্দুল আজিজ সিকদার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সদস্য ফরমও কেনেন।

    জাহিদুল বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাইনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও নিয়োগ না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারিনি।

    তিনি বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই। মেডিকেল পরীক্ষায়ও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। আমার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।

    মাধবখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জব্বর খান বলেন, জাহিদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা আজিজ সিকদার বিএনপি করেন।

    রিকশাচালকের সন্তানের স্বপ্নভঙ্গবাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক ধাপও পেরিয়েছেন।

    কিন্তু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জের তাপস সরকার।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করা তাপসের দাবি, দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরি পাওয়ার আশা যখন পূরণের পথে, তখন পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তবে কী কারণে তাকে ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

    স্বপ্নভঙ্গ মেধাবী সোহানের

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি মেধাবী সোহান। ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়ায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলায় একমাত্র তার নিয়োগপত্র আসেনি।

    জানা গেছে, সোহান রাঙ্গাবালীর মৌডুবী ইউনিয়নের ১১ নম্বর আশাবাড়িয়া এলাকার ভোটার। তার বাবা বশির গাজী নারায়ণগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরিতে দিনমজুরের কাজ করেন। ২০০৬ সাল থেকে সোহান পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। ছেলের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা।

    সোহান বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই, স্থায়ী ঠিকানা ও সার্টিফিকেটেও কোনো সমস্যা নেই। পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এরপরও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেগেটিভ দেখিয়ে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক ইচ্ছা ছিল বাবাকে আর কাজে যেতে দেব না। ছোট বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারব। সব স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে গেল।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম জানান, বাদ পড়ার সুস্পষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই।

  • শিক্ষার্থীদের আ/ন্দো/ল/নের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

    শিক্ষার্থীদের আ/ন্দো/ল/নের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

    সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ আর ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।

    রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মি. ভুচিচ বলেছেন, তার নয় বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন।

    গত জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এখন আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মি. ভুচিচ।

    কারণ সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

    ক্ষমতায় থাকাকালে রুশপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছিল, যা ঘিরে সার্বিয়ার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

    ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে নোভী সাদ রেল স্টেশনের ছাদ ধ্বসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা তার প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে জন্ম নেওয়া ওই ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছিল।

    এরপর ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কৃষক পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে শুরু হয় বিক্ষোভ।

    সংস্কারের পর নোভী সাদ রেল স্টেশন সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল।

    কিন্তু সেখানে ছাদ ধ্বসে হতাহতের যে ঘটনাটি ঘটে, সেটিকেই মি. ভুচিচের রাজনৈতিক দল প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলের প্রকৃতচিত্র বলে মনে করেন বিরোধীরা।

    দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর জনরোষ কমিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে মি. ভুচিচ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একের পর এক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।

    কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো গ্রীষ্মকালজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

    আন্দোলন দমনে একপর্যায়ে সরকার পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে।

    ওই সময় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা-নির্যাতনসহ নিপীড়নের নানান অভিযোগ উঠতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। সেইসঙ্গে, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট আয়োজনেরও আহ্বান জানান।

    প্রেসিডেন্ট পদে মি. ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই তিনি পদত্যাগ করায় সার্বিয়ায় এখন নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।

    দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার তিন মাসের মধ্যেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

    এদিকে, আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সার্বিয়ার জনগণ চলতি বছরে দু’বার ভোট দিতে যাবেন।

    মি. ভুচিচ তার ভাষণে বলেন, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে প্রগ্রেসিভ পার্টির শীর্ষপদে তার অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    দেশটির সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ, যিনিও প্রগ্রেসিভ পার্টির একজন নেতা, তিনি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সার্বিয়ার সরকারি গণমাধ্যম আরটিএসের তথ্যমতে, পদত্যাগের আগে মি. ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তার দলের অনুগত নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

    ক্ষমা পাওয়া এসব ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।

    আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির সঙ্গে যেসব দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘স্টুডেন্টস উইন’।

    এটি সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত দল।

    এছাড়া ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ নামে পরিচিত আরেকটি জোট রয়েছে, যারা মূলত পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর একটি মোর্চা।

    গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মি. ভুচিচ সার্বিয়ার রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

    মি. ভুচিচ প্রকাশ্যেই বলে থাকেন যে, তিনি সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে (ইইউ) যুক্ত করতে চান।

    একই সাথে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও সার্বিয়াকে উন্মুক্ত রাখতে চান তিনি।

  • বরিশাল বোর্ডের ৮ কলেজের একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

    বরিশাল বোর্ডের ৮ কলেজের একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশের অন্তত ১০টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী মেলেনি। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের।

    শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কলেজগুলোর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় এগুলো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। এমপিওর আশায় বিনা বেতনে যোগ দেওয়া শিক্ষকরাও একপর্যায়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। ফলে চরম শিক্ষকসংকটে থমকে যায় শিক্ষা কার্যক্রম। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ওই আটটি কলেজের পরিণতিও শেষ পর্যন্ত একই দাঁড়িয়েছে।বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীতে বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ইজিএস শিক্ষা নিকেতন। এর মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, বাকি তিনটি কলেজ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা হয়।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা কয়েক বছর চালু থাকার পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের দাবি—শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং স্থানীয় দলীয় কোন্দলের কারণেই মূলত কলেজগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাঠদানের অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদনও করা হয়। তবে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তালিকায় হালনাগাদ তথ্য না থাকায়, এ বছরও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘শিক্ষার্থীশূন্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এমনই একটি প্রতিষ্ঠান বেতাগীর চান্দুখালী বাজারের বরিশাল-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন ‘কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। তবে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে এসে একাদশে ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিন জানান, প্রতিবছর বিদ্যালয়টি থেকে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করায় তাদের ওপর ভরসা করেই কলেজ শাখা চালু করা হয়েছিল। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত কলেজ শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।তবে স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ নামে ডিগ্রি কলেজ

    স্থাপন করেছেন। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোয় বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে। বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় সর্বশেষ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

    কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। আশপাশের কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক পদে বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কলেজ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু করেছিলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীরাই বলতে শুরু করেন, স্কুলের শিক্ষকরা কেন কলেজে পড়াবেন। এ কারণে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই এলাকার সন্তান ঢাকার ব্যবসায়ী একেএম শামসুদোহা ফারুক ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্দেশে দাতা সেজে বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা শুরু করেন। তবে শিক্ষা বোর্ড থেকে কেবল পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি মিললেও অন্য কোনো স্বীকৃতি বা সহায়তা পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পরিচালনা ব্যয় বহন করতে না পেরে দাতা কেটে পড়লে চার বছর আগে এর কলেজ শাখা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেখান থেকে মাত্র দুইজন অংশ নিয়ে একজন উত্তীর্ণ হন।একই উপজেলায় ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কবে কলেজে উন্নীত হয়েছে, কেন বন্ধ হলো- এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও মাঝে কয়েকবার বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জনের মধ্যে ১৫৫ জন পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ছয়জন পরীক্ষা দেন।স্বরূপকাঠির পাশে কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ তার কলেজ শাখা বন্ধের জন্য গ্রামের স্থানীয় দলাদলিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, একপক্ষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বলে। পাঠদান অনুমতি বাতিলে তারাই বোর্ডে আবেদন করে। এসব কারণে তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না।

    পটুয়াখালী পাজাখালী কলেজটির অচলাবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, তিনি কয়েকবার তাবলিগ জামাতে গেলে কৌশলে শিক্ষকরা কলেজটিকে শিক্ষার্থীশূন্য করেন। ফলে তিন বছর ধরে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। স্থানীয় এমপির সুপারিশ নিয়ে আবারও কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি তিন মাস আগে যোগদান করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীশূন্য উচ্চ মাধ্যমিক কলেজগুলোর বিষয়ে সব তথ্য এখনও তার জানা নেই। সবেমাত্র ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।

  • প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পেলে কেস টু কেস দেখা হবে

    প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পেলে কেস টু কেস দেখা হবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে না পাওয়াদের ৬৯৪ জন আজকে রোববার নিয়োগপত্র পেয়েছেন। গতকাল মিটিংয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনার পর এই অগ্রগতি হয়েছে। বাকিদেরও ভেরিফাইয়ের পর পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। এগুলো ১ তারিখের পর যদি ক্লিয়ার না হয় তখন ইনডিভিজুয়াল কেস টু কেস দেখা হবে।

    রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রটি আরো জানায়, টোটাল নিয়োগপত্র পাননি ১ হাজার ৩৮৩ জন। এরমধ্যে ৬৯৪ জনকে ভেরিফাই করে ক্লিয়ার করা হয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হয়। ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন অন্যত্র চলে গেছেন তারা এই চাকরির জন্য বসে নেই। সব মিলিয়ে রিপোর্ট আসছিলো সারা দেশে ১ হাজার ৩৮৩ জন নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন না। গতকাল মিটিং করে আবার রিভিউ করা হলো। এরপর আজকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬৯৪ জন অলরেডি ক্লিয়ার হয়ে গেছে। তার মানে হাফ হয়ে গেছে। আর ৭‘শর মতো আছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পাওয়াদের তালিকা জমা হচ্ছে আজ

    প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পাওয়াদের তালিকা জমা হচ্ছে আজ

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না পাওয়াদের তালিকা আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরে জমা হচ্ছে। কী কারণে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি-এর মতামতসহ এই তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠাতে হবে।

    রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আগের সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা যে চিঠি দিয়েছি ওইটাই বহাল থাকবে। নতুন কোনো নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি। আমরাও মাঠ পর্যায়ে কিছু জানাইনি।

    এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র জারি করার নির্দেশনা ছিলো। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা না হলে কারণ ও মতামতসহ তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। এরপর আগের ঘোষণা অনুযায়ী ১ অক্টোবর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ জারি করা হবে।

    সূত্র জানায়, অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ জারির পর প্রশিক্ষণের তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

    এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন। সব জেলায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

    তারা বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বাকি ৬১ জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সব জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগে অবস্থান করবেন।

    এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    সভায় নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও সভায় জানানো হয়।এ বিষয়ে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন-ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

  • নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এ দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী।

    শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

    প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

    গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

  • চুয়েটে নতুন ভিসিবিরোধী আন্দোলন তীব্র

    চুয়েটে নতুন ভিসিবিরোধী আন্দোলন তীব্র

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকানো এবং সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আরো তীব্র রূপ নিয়েছে।

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • চুয়েটে বিক্ষোভ চলছে, ভিসির উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড

    চুয়েটে বিক্ষোভ চলছে, ভিসির উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য (ভিসি) আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকেও দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে।

    সকালে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তাঁর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিও চলছে।

    গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিক্ষোভে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাঁকে সাদরে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।নতুন উপাচার্যের এ বক্তব্য প্রকাশের পর আজ সকালে এর প্রতিবাদে ‘প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে করে একই জায়গায় শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি, মানব না, মানব না’ স্লোগান দেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে চলমান আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে।মিছিলে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হিসেবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের কথা জানানো হয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা -বৈষম্যের’ প্রতিবাদ জামায়াতের

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা -বৈষম্যের’ প্রতিবাদ জামায়াতের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের হঠাৎ করে কোন আইনে, কোন মানদণ্ডে এবং কার সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেওয়া হলো? অনেকের গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেশবাসী মনে করে, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।

    তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

    জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানান এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করুন।

    তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে অবিলম্বে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে তার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

  • শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের আপিলের সুযোগ চান ডাকসু ভিপি

    শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের আপিলের সুযোগ চান ডাকসু ভিপি

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া পরীক্ষার্থীদের কারণ জানানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে উত্তীর্ণ তরুণদের বাদ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায় সিদ্ধান্ত।

    সাদিক কায়েম বলেন, যে তরুণকে বাদ দেওয়া হয়েছে তিনি নিজেই জানেন না কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো। বাদ পড়াদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা, কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার রেকর্ড বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ কোনো সুস্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই শত শত মেধাবী তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

    সাদিক কায়েমের অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ এবং ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ বাতিলের এই প্যাটার্ন বর্তমান সরকার ‘ফ্যাসিবাদী আমল’ থেকে ধার করেছে। তার মতে, এটি সেই কাঠামোরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে পরিচয়, আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, আজ একজন তরুণকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, ভেরিফিকেশনের মতো অস্পষ্ট প্রক্রিয়ায় চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কাল একই ভয় দেখিয়ে একটি পুরো প্রজন্মকে নতজানু করে রাখার চেষ্টা করা হতে পারে। বাদ পড়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

    দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে উল্লেখ করে সাদিক বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করে একটি চাকরি পাওয়া তাদের কাছে শুধু ক্যারিয়ার গড়ার বিষয় নয়; পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও একটু ভালোভাবে বাঁচার একমাত্র উপায়। ভেরিফিকেশনের নামে সেই স্বপ্নকে জিম্মি করে সরকার দেশের শিক্ষিত প্রজন্মকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রজন্মে পরিণত করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিবৃতিতে সরকারের কাছে ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন ডাকসুর ভিপি। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও অনিশ্চয়তা বন্ধ করে অন্যায্যভাবে বাদ পড়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে তা ওই পরীক্ষার্থীকে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের সুযোগ রাখার দাবি জানান সাদিক কায়েম।

    তিনি বলেন, সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগ হতে হবে সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন। মেধা ও যোগ্যতাই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হতে হবে।

    সাদিক কায়েম আরও বলেন, সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে হয়রানি বন্ধের দাবি ডাকসুর

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে হয়রানি বন্ধের দাবি ডাকসুর

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। পুলিশ, এনএসআই ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে বহু প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে ‘ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’ বন্ধ এবং বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়োগের শেষ ধাপে একজন প্রার্থীকে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মধ্যে রাখা অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। এতে প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার, মেধা ও যোগ্যতার প্রতি অবহেলা করা হয়।

    কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তার সুনির্দিষ্ট, প্রমাণযোগ্য ও আইনসম্মত ভিত্তি থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ব্যাখ্যা ও প্রতিকারের সুযোগ দিতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীকে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে বৈষম্যের কাঠামো দূর করা। প্রায় ১৪শ মানুষের আত্মত্যাগের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পুরোনো বৈষম্যমূলক চর্চার নতুন কোনো রূপ মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ কোটা-ভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল। এখন ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি কিংবা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলে তা নব্য কোটা ব্যবস্থারই নামান্তর হবে। বৈষম্যের পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন নামে বৈষম্যের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নিয়োগের প্রতিটি ধাপের মানদণ্ড, নম্বর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান তিনি।

    বিবৃতিতে ডাকসু প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয় দ্রুত যাচাই করে প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করা, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং অন্যায্যভাবে বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু।

  • নিউইয়র্কে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে হেনস্তা

    নিউইয়র্কে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে হেনস্তা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে ঘিরে একদল প্রবাসী বাংলাদেশির কটূক্তি ও রাজনৈতিক স্লোগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি সড়কে হেঁটে যাচ্ছেন ববি হাজ্জাজ। এ সময় কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী তাঁর পেছনে হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের কয়েকজনকে প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ‘বাংলাদেশি টেরোরিস্ট’ ও ‘বাটপার’সহ বিভিন্ন কটূক্তিমূলক শব্দ ব্যবহার করতে শোনা যায়।

    একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা ববি হাজ্জাজের পিছু নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রতিমন্ত্রীকে কোনো বাদানুবাদে জড়াতে দেখা যায়নি। তিনি শান্তভাবে সেখান থেকে চলে যান।

    তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির স্থান ও সময় এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে তাঁদের কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

    জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ববি হাজ্জাজ। অধিবেশনের কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন আয়োজিত ‘মাল্টিপ্লাই পসিবিলিটি: এ নিউ এরা ফর এডুকেশন ফাইনান্সিং’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাড়তি অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

    এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ববি হাজ্জাজ।

    সভায় তিনি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেন। শিক্ষাকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

    নিউইয়র্ক সফরে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিষয়েও কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।

    এদিকে, ববি হাজ্জাজকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন সরকারি প্রতিনিধিকে অনুসরণ ও কটূক্তি করার ঘটনাকে অনেকে সমালোচনা করছেন। পাশাপাশি ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

    তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ

    আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ৮ বিভাগে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    তারা জানান, ‘শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি সভায় বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। তা এখনো প্রাথমিক অবস্থাতেই রয়েছে, তবে আলোচনায় এ বিষয়টিকে সরকারের সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।’

    এ বিষয়ে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জেলায় জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে, কিন্তু সরকারি মাদ্রাসা মাত্র ৩টি। এ সংখ্যাটি খুবই নগন্য। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক সভায় মাদ্রাসা সরকারি করণের বিষয়টি উঠে এসেছে। আশা করছি এ সরকারের আমলে ভালো কিছু হবে।’

    জানা গেছে, দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাত্র ৩টি। এরমধ্যে ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, যা ১৭৮০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পরে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে বর্তমান ঢাকার বকশীবাজারে স্থায়ী ক্যাম্পাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

    সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ১৯১৩ সালে আসাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদের উদ্যোগে এবং কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধীনে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় এটি সিনিয়র মাদ্রাসা হিসেবে পুনঃস্থাপিত হয়। ১৯৩৩ সালে এটি নিউ স্কিমে উচ্চ মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৩৫ সালে কামিল হাদিসের স্বীকৃতি লাভ করে। এটি বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা ধারার প্রথম কামিল মাদ্রাসা। সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

    এদিকে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি কলেজ ৭০৮টিসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি স্কুল-কলেজ থাকলেও সরকারি মাদ্রাসা রয়েছে মাত্র ৩টি। এ ছাড়াও ব্যানবেইসের সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯৪টি। এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।

    এ ছাড়াও দেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৬৭, ১ হাজার ২৮৫টি ও ফাজিল ৯৯৩টি ও ১৮৪টি। আর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ১ হাজার ২৫৮টি।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাদেশে সরকারি স্কুল-কলেজ থাকলেও বিভাগ-জেলা পর্যায়ে মাদ্রাসা না থাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থী। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে অন্তত মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা প্রয়োজন। কারণ সীমিত সুযোগের মধ্যেই উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাবলিক-মেডিকেল ও বুয়েটে ভর্তি হচ্ছেন তারা। তাই সময়ের চাহিদানুযায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ জরুরি বলে জানান তারা।

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি স্কুল ও কলেজের বিস্তৃত উপস্থিতি থাকলেও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা তিনটিতে সীমাবদ্ধ থাকায় মাদ্রাসা শিক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষ করে বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সাধারণের তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বরে পড়াশুনা করছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। তাই মাদ্রাসা জাতীয়করণ হলে, শিক্ষার্থীরা যেমন কম খরচে পড়তেও পারবে, পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়বে।

  • মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মানিকগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন বাস্তবায়নে শিগগিরই জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভা’য় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে বা করাতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধ পুনরায় করলে পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে ওই ১০০ মিটারের সীমা আরও বাড়াতে পারবে।

    এ ছাড়া সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আগে এ জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার বা পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ হবে।

    সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারেও ২০২৬ সালের ৯১ নম্বর আইন হিসেবে এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলায় ১১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯ জনকে মোট ৩ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    টাস্কফোর্সের সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের তামাকের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক ও টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হাবীব, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বন্যা, পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা।

  • পে স্কেল: এমপিও শিক্ষকদের জন্য এটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন

    পে স্কেল: এমপিও শিক্ষকদের জন্য এটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন

    নবম জাতীয় পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করার ভুয়া প্রজ্ঞাপন ছড়িয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া ওই প্রজ্ঞাপনটি ভুয়া।

    বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক শিক্ষক-কর্মচারী এটিকে প্রজ্ঞাপন মনে করে ফেসবুকে প্রচারও করেছেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি হয়। এই পে-স্কেলের আওতায় সরকারি শিক্ষকরা এই কাঠামোর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন। অপরদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে জানা গিয়েছিলো। তবে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত প্রহসন করেছে সরকার: নাহিদ

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত প্রহসন করেছে সরকার: নাহিদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তালিকায় নাম না থাকা অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষিত বেকারদের সবশেষ আশ্রয়স্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগেও চূড়ান্ত প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে তারেক রহমানের সরকার।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। লিখিত ও অন্যান্য ধাপের পরীক্ষায় মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও তাদের নিয়ে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলেছে ভেরিফিকেশনের নামে এক অনিশ্চয়তা ও হয়রানির প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত এসব তরুণদের নিয়োগপত্র না দিয়ে গভীর হতাশার মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বাদ পড়াদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ফৌজদারি মামলা বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য নেই। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়নি। এরপরও কোনো স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।’এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি চেয়ে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন,‘এমন মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও যদি কোনো নাগরিককে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রতি অবিচার নয়, বরং রাষ্ট্রের নিয়োগ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি জানাচ্ছি, যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ নেই, এমন প্রত্যেক নিরপরাধ প্রার্থীর নিয়োগ অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ও ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে।’

  • শিক্ষায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপি বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, সরকার চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ এবং পোশাক অর্থাৎ স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। সরকার আশা করে, এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীর হার এবং স্কুলে শিক্ষার মান বাড়বে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো ‘স্পোর্টস’কেও একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুন মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে ২ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’ এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আশা করে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে এবং একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত মেইলে পাঠাতে হবে।

    গতকাল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে জানা যায়, ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমানক এ দপ্তরের ই-মেইল: ad2dte@techedu.gov.bd এ অবগতি ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যার্থে সাপ্তাহিকভাবে পাঠানো জন্য নির্দেশ করা হলো।

    কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ‘ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চিঠিতে জানা যায়, সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাজার কমিটি, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনসমূহ প্রতি শনিবার ডেঙ্গু মশক নিধনের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে; স্কাউটস, বিএনসিসি, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান, জনসমাগমস্থল ও সংলগ্ন এলাকায় সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে; দপ্তর প্রধানরা প্রতি শনিবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তার দপ্তর ও দপ্তরসংলগ্ন স্থানে ডেঙ্গুমশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে; ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি, মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা, সভা, সেমিনার, আলোচনা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভাসহ স্থানীয়ভাবে উপযোগী কার্যক্রম নিতে হবে; প্রতি শনিবার পরিচালিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে।

  • ডাকসু নির্বাচনসহ ১৪ দাবি এইচআরডিএস এর

    ডাকসু নির্বাচনসহ ১৪ দাবি এইচআরডিএস এর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়মিত আয়োজনসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির (এইচআরডিএস) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এসব দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের নেতারা। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে এইচআরডিএসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট। সংগঠনটির ১৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ, বিবেক, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, হয়রানি, বৈষম্য, নিপীড়ন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্বাধীন ও কার্যকর ‘হিউম্যান রাইটস ডেস্ক/সেল’ প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা পরিচয় গোপন রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারবেন-এমন অনলাইন ও অফলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। লিঙ্গ, বিশেষ সক্ষমতা, আর্থিক অবস্থা, অঞ্চল, ভাষা, সামাজিক পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাসসহ কোনো পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা যাতে বৈষম্যের শিকার না হন, সে জন্য নীতিমালা ও নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিকে আরও কার্যকর করা এবং অভিযোগ তদন্তে গোপনীয়তা, নিরপেক্ষতা, দ্রুততা ও ভুক্তভোগীবান্ধব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাস, আবাসিক হল, পরিবহণ, লাইব্রেরি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং হয়রানি বা সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা চেয়েছে এইচআরডিএস।

    আইনি জটিলতা, বেআইনি হয়রানি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক আইনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক রেফারেল ব্যবস্থা চালুর দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আবাসিক হল সংশ্লিষ্টদের জন্য মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা, অ্যান্টি-হ্যারাসমেন্ট, ডিজিটাল রাইটস ও সংঘাত নিরসন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।হলগুলোর আসন, খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সেবা প্রদানে বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন, পরিবহণ, লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে বিশেষ সক্ষমতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশগম্য অবকাঠামো নিশ্চিত করার দাবিও করা হয়েছে।

  • ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টানা তিনদিনের সর্বাত্মক শাটডাউনে নিয়োগের পরও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ফলে বাধ্য হয়ে অনলাইনে যোগ দেন চুয়েটের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এ ভিসি। তবে তার যোগদানের দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। একই দিন তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠান।

    অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি আজ অনলাইনে যোগদান করেছি। আমার যোগদানপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাসচিব যোগদানপত্র পেয়েছেন বলে আমাকে নিশ্চিত করেছেন। ’

    চুয়েটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি চুয়েটের ছাত্র ছিলাম। চুয়েটের প্রতি আমার আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে চুয়েটের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

    এদিকে নতুন উপাচার্যের যোগদানের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা ‘ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’ ও ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি থেকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খোলা চিঠি উপস্থাপন করেন তারা।নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান নেই জানিয়ে শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নেই। আমরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল চাই। ’

  • জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী হওয়া নেত্রীকে বহিষ্কার

    জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী হওয়া নেত্রীকে বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। তবে আঞ্জুমান ইকরার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে বা কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, ‘আমিও বিষয়টি দেখেছি। তবে কেন তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তা এখনো জানতে পারিনি।’

    আঞ্জুমান ইকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী ছিলেন।

  • ইবির প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালিমা লেখা স্থাপন

    ইবির প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালিমা লেখা স্থাপন

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদ ভবনের সামনে কালিমা লেখা সংবলিত স্টিলের ফ্রেম স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এসব ফ্রেম স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কিছু বিশেষায়িত বৈশিষ্ট্য থাকায়, এসব বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কালিমা লেখা স্থাপন করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী ত্বকী ওয়াসিফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালেমা সম্বলিত স্থাপনা নির্মাণের ব্যাপারটি অবশ্যই ইতিবাচক- যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সাথে সমান্তরাল। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে- পবিত্র এই বাক্যের পবিত্রতা রক্ষা করা। পবিত্র বাক্যের স্থাপনা নির্মাণ করে তার পবিত্রতা যেন রক্ষা পায়, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুনজর কামনা করছি।’

    ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদুল মোস্তফা বলেন, ‘ইবির মেইন গেট ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালিমা খচিত মনোগ্রাম স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও সাধুবাদযোগ্য উদ্যোগ। তবে মেইন গেটের মনোগ্রামটির নকশা গেটের সামগ্রিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি। গেট অথবা প্রবেশপথ, যেকোনো একটি স্থানে মনোগ্রামটি আরও নান্দনিক, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হলে তা সবার কাছে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআন-হাদিসসহ ইসলামী শিক্ষার বিশেষায়িত কিছু বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই।’

    তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই; তবে, এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকায় এটিকে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা যায়। ইসলামী ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে কালিমা লেখা স্থাপন করা হয়েছে।’

  • সাত কলেজের তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী স্থানান্তর নিয়ে হাইকোর্টের রুল

    সাত কলেজের তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী স্থানান্তর নিয়ে হাইকোর্টের রুল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চার শিক্ষার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

    রিটকারীদের আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন জানান, গত ২৩ আগস্ট এক সভায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এর ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ একটি রোডম্যাপ জারি করে।

    ওই রোডম্যাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের কথা বলা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি মাসে চার কলেজের চার শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করেন।

    রিটকারীদের আইনজীবীর যুক্তি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইনের ৫৯(৪) ধারায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত শিক্ষাকাঠামো ও কারিকুলামের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনদ দেওয়ার বিষয়টি বলা হয়েছে।

    কিন্তু এর আগে ভর্তি হওয়া তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের বিষয়ে আইনে কোনো বিধান নেই।

    আইনজীবীর ভাষ্য, আইন সাধারণত কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রযোজ্য হয়। অতীতের কোনো বিষয়কে আইনের আওতায় আনতে হলে সেটি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হয়। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা রোডম্যাপের মাধ্যমে আগের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর করা হলে তাদের একাডেমিক পরিচয়, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও অর্জিত অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসবির শরীফ ও জাহাঙ্গীর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।

    আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন বলেন, ২৩ আগস্টের সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট জারি করা রোডম্যাপটি রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

    তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান জানিয়েছেন, রোডম্যাপের কার্যক্রম অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চলমান থাকবে। শুধু রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সাতটি সরকারি কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

    অধিভুক্তির পর বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর এসব কলেজকে একীভূত করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি এবং ১০ এপ্রিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন করা হয়।

  • ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম: শিক্ষামন্ত্রী

    ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছি, কারিকুলাম পরিবর্তন করছি। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় অনেক বেশি কঠোর হচ্ছে। আমাদের এখন ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য একটি শক্তিশালী ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ গঠন করেছি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে তৃতীয় ঢাকা-চায়না ডে-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশন এজেন্সির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। শিক্ষা খাতে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায় তা আমরা দেখছি। মোনাশ ইউনিভার্সিটি আমাদের দেশে একটি ক্যাম্পাস তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং আমরা তা বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করব। এভাবেই আমরা আমাদের শিক্ষার উন্নয়ন করব এবং শিক্ষাই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটিই আমাদের জাতির সাফল্যের চাবিকাঠি এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের অনেক অবদান রাখছে। ’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে এটি আমাদের জিডিপির মাত্র ১.৩৯ শতাংশ ছিল, এখন আমরা অনেক বেশি পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি এই বাজেট ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করবেন। তাই বাজেট আমাদের কোনো সমস্যা নয়। আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে চীন বা পশ্চিমা দেশগুলোর মতো উন্নত করতে পারি এবং আমরা তা করে দেখাব—এটিই আমাদের মিশন। ’

    সমাজে তরুণদের পথভ্রষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা রাজনীতি নয়, সমাজ পরিবর্তনের একটি কর্মসূচি চাই। এই সমাজ কে পরিবর্তন করবে? প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কেবল শিক্ষা খাতই তা করতে পারে। আমাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং নেতিবাচকতার ধারা বন্ধ করতে জাতিকে সাহায্য করতে হবে। ’

  • মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন

    মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি ও জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে কমিটির গঠনপ্রক্রিয়া, সদস্যসংখ্যা, দায়িত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    এর আগে গত ৩০ জুন মাদকের অপব্যবহার রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত এ সংক্রান্ত কমিটির কার্যক্রম গতিশীল ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া ৭ম সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী মাদকের কুফল সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, জনমানুষকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত কমিটির কার্যক্রম গতিশীল ও দৃশ্যমান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত গতিশীল ও দৃশ্যমান করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯৯ শিক্ষার্থীর শাস্তি

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯৯ শিক্ষার্থীর শাস্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তির মধ্যে রয়েছে এক শিক্ষাবর্ষ (দুই সেমিস্টার) ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল, ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা এবং কঠোরভাবে সতর্ক করা। একই সঙ্গে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্ভরশীল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় মঙ্গলবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন এবং জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনায় একজনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।অন্যদিকে, র‍্যাগিংয়ের দায়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি জানানো হবে।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের ৭ জন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের ৪ জন, অর্থনীতি বিভাগের ২ জন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের একজন রয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় শত শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা থাকবে র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বর্তমান প্রশাসন।

  • সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের মাউশির জরুরি নির্দেশনা

    সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের মাউশির জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব সরকারি কলেজের পাঠদানের রুটিন চেয়ে অধ্যক্ষদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ফরম্যাটে রুটিন তৈরি করে ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাউশির কলেজ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, সরকারি কলেজগুলোর পাঠদানের রুটিন পিডিএফ ও ওয়ার্ড দুই ফাইলেই তৈরি করতে হবে।

    এরপর নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় ফাইল দুটি পাঠাতে হবে।

    রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে ফন্ট ব্যবহারের বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি। এতে বাংলা লেখার জন্য ইউনিকোড ফন্ট Nikosh, Kalpurush ইত্যাদি এবং ইংরেজি লেখার জন্য Times New Roman ফন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

    মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রস্তুত করা রুটিনের পিডিএফ ও ওয়ার্ড ফাইল আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘dshegovtcollege1@gmail.com’ ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে।