ইসলামী বিশ্ব

  • শয়তান পরকালে কোনো দায়মুক্তি কাধে রাখবে না

    শয়তান পরকালে কোনো দায়মুক্তি কাধে রাখবে না

    মানুষ ভুল করে অনেক সময় নিজের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়। ‘ও আমাকে প্ররোচিত করেছে’, ‘বন্ধুরা না বললে আমি করতাম না’, ‘পরিস্থিতিই আমাকে বাধ্য করেছে’—এমন অনেক অজুহাত আমাদের পরিচিত। কিন্তু আল্লাহর আদালতে এসব অজুহাত কতটা কাজে আসবে?

    অপরাধীদের দাবি

    কেয়ামতের দিন মানুষকে যখন হিসাবের মুখোমুখি করা হবে, তখন অপরাধীরা শয়তানকে দায়ী করতে থাকবে। বলবে, শয়তানই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছে। কিন্তু সেদিন শয়তানও চুপ থাকবে না।

    সে নিজের দায় অস্বীকার করে বলবে, সে কাউকে জোর করেনি; শুধু ডেকেছে, আর মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। কোরআন সেই ভয়াবহ দৃশ্যের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

    শয়তানের ভাষ্য

    পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন সবকিছুর ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, আল্লাহ তোমাদের সত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর আমিও তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের ওপর আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না; আমি শুধু তোমাদের আল্লাহর অবাধ্যতা করার জন্য ডেকেছি, আর তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছ।

    সুতরাং এখন আমাকে দোষারোপ করো না, বরং নিজেদেরই দোষারোপ কর। না তোমাদের বিপদ মুক্তিতে আমি তোমাদের কোনো সাহায্য করতে পারব আর না আমার বিপদ মুক্তিতে তোমরা আমার কোনো সাহায্য করতে পারবে। এর আগে তোমরা যে আমাকে আল্লাহর শরিক সাব্যস্ত করেছ (আজ) আমি তা প্রত্যাখ্যান করলাম। যারা এ সীমালংঘন করেছ আজ তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২২)কেয়ামতের সেই দৃশ্যটি কতটা ভয়াবহ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। মানুষ তখন বুঝতে পারবে, যাকে অনুসরণ করে সে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল, সেই শয়তানও আজ তার পাশে নেই। তাই সময় থাকতেই শত্রুকে চিনতে হবে।

    আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ৬)

    সে শুধু প্ররোচনা দেয়

    শয়তান মানুষের বড় শত্রু। সে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেয় এবং গুনাহের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। তবে তার ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সে কুমন্ত্রণা দিতে পারে, কিন্তু জোর করে পাপ করাতে পারে না। সে একটি পথ দেখায়; সেই পথে হাঁটবে কি না, তা মানুষকেই ঠিক করতে হয়।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং তাদের প্রতিপালক ওপর ভরসা করে, তাদের ওপর তার কোনো কর্তৃত্ব নেই।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৯)

    পাপকে সুশোভিত করে দেখায়

    শয়তানের একটি বড় কৌশল হলো—পাপকে মানুষের কাছে অকর্ষণীয় সুন্দর করে তোলা।গিবতকে সে ‘সত্য কথা’ হিসেবে হাজির করে, অহংকারকে ‘আত্মসম্মান’ হিসাবে দেখায়।

    কখনো বলে, ‘একবার করলে কী হবে?’ কখনো বলে, ‘সবাই তো করছে।’ কখনো আবার বোঝায়, ‘সময় হলে তওবা করে নিও।’

    এভাবেই পাপ ধীরে ধীরে মানুষের কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, শয়তান মানুষের কাছে তাদের কাজকে শোভন করে তোলে। (সুরা আনফাল, আয়াত: ৪৮)পরে তওবা করব, এটাও ধোঁকা

    শয়তান মানুষকে শুধু পাপের দিকে টানে না, তওবা থেকেও দূরে রাখে। সে বলে, ‘এখন তো বয়স আছে।’ ‘আরেকটু জীবন উপভোগ করো।’ ‘পরে নামাজ শুরু করবে।’ ‘পরে ভালো হয়ে যাবে।’ কিন্তু মানুষের জীবনে সেই ‘পরে’ আসবে কি না, কেউ জানে না।

    আবার কেউ গুনাহ করে ফেললে শয়তান তাকে হতাশ করে। মনে করায়, ‘তুমি তো অনেক পাপ করেছ, তোমার আর ক্ষমা নেই।’

    এটিও তার বড় প্রতারণা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)

    প্রতারণাই তার প্রতিশ্রুতি

    দুনিয়ায় শয়তান মানুষকে অনেক কিছুর স্বপ্ন দেখায়। দুনিয়াটাকে সহজ থেকে সহজতর করে হাজির করে। সবই তার প্রতিশ্রুতির নামে প্রতারণা।

    আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের মনে আশা জাগায়; কিন্তু শয়তানের প্রতিশ্রুতি তো প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১২০)

    দায় তাকেই নিতে হবে

    কেয়ামতের দিন শয়তান নিজের দায়মুক্তি ঘোষণা করবে। কিন্তু মানুষ নিজের আমল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, শয়তান যতই ডাকুক, আমি তার ডাকে সাড়া দেব না।

    মনে রাখতে হবে, আমার হিসাব আমাকেই দিতে হবে। নিজের কাজের দায় অন্যেরর ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮)

  • মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    মুয়াজ্জিনকে আজান দেওয়ার সময় ছুরিকাঘাত

    নাটোরের নলডাঙ্গায় মসজিদে ফজরের আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিন সৈয়দকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। সোমবার ভোরে উপজেলার ৪ নম্বর পিপরুল ইউনিয়নের চরবাঙ্গাল পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজান চলাকালীন সময়ে মসজিদে আজান দিচ্ছিলেন মুয়াজ্জিন সৈয়দ। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ এলাকায় একজন ভালো, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। মসজিদে আজান দেওয়ার সময় তার ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে আহত মুয়াজ্জিন সৈয়দের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • ট্যাটু থাকলে কি নামাজ ও অজু শুদ্ধ হবে, ইসলাম কি বলে

    ট্যাটু থাকলে কি নামাজ ও অজু শুদ্ধ হবে, ইসলাম কি বলে

    শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা নিয়ে ইসলামে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হাদিসে উল্কি অঙ্কন ও গ্রহণের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে তার অজু ও নামাজ হবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। ট্যাটু থাকলে অজু-গোসল ও নামাজের বিধান কী, এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যা জানা জরুরি।

    ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা জায়েয নয়। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) উল্কি অঙ্কন করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪০৮)

    আরেক হাদিসে আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) উল্কি অঙ্কনকারিনী, উল্কি গ্রহণকারিনী, সুদগ্রহীতা ও সুদদাতার ওপর অভিসম্পাত করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৪৭)

    হাদিসের আলোকে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা হারাম ও কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে অজু-গোসলের ক্ষেত্রে বিষয়টি নির্ভর করে ট্যাটুর ধরন ও পানি শরীরে পৌঁছানোর ওপর।

    সাধারণত ট্যাটু ত্বকের ভেতরে রং প্রবেশ করিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে ট্যাটুর কারণে যদি শরীরের ওপর এমন কোনো আবরণ সৃষ্টি না হয়, যা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু ও গোসল শুদ্ধ হবে। অর্থাৎ শুধু ত্বকের ভেতরে ট্যাটুর রং থাকার কারণে অজু-গোসল নষ্ট হবে না। তবে ট্যাটুর ওপর যদি এমন কোনো আবরণ থাকে, যা পানিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে সেই আবরণ অপসারণ করে অজু বা গোসল করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে ট্যাটু করানো হারাম হওয়ার বিষয়টি আলাদা এবং অজু-গোসল শুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আলাদা। কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে তা অপসারণের ক্ষেত্রে নিজের শরীরের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে আলেমদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করাও জরুরি।

    চিত্র অঙ্কন ও শরীরে আকৃতি পরিবর্তনের বিষয়ে হাদিসেও সতর্ক করা হয়েছে। হজরত সাঈদ বিন আবুল হাসান বলেন, এক ব্যক্তি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমি চিত্রকর এবং চিত্র অঙ্কন করি। এ সম্পর্কে আমাকে শরিয়তের বিধান বলে দিন।’ ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে কাছে ডাকেন এবং বলেন, ‘আমি তোমাকে এ সম্পর্কে এমন একটি হাদিস শোনাচ্ছি, যা আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে শুনেছি।’

    তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘সকল চিত্রকরই জাহান্নামে যাবে। আর প্রত্যেক চিত্রের পরিবর্তে জীবিত এক ব্যক্তিকে বানানো হবে, যা জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেবে।’ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যদি তোমাকে এমন করতেই হয়, তাহলে গাছপালা বা এমন বস্তুর ছবি আঁকো, যা প্রাণী নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬২)

    পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তায়ালা মানুষের সৃষ্টিগত সৌন্দর্য ও কাঠামোর কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে।’ (সুরা তিন, আয়াত: ৪)।

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি করবেই।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১১৯)।

    এ প্রসঙ্গে সুরা নিসার ১১৭ থেকে ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বলল, আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে অবলম্বন করব। তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদের আশ্বাস দেব; তাদের পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদের আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।’

    অতএব, ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে শুধু ট্যাটু থাকার কারণে অজু ও গোসল বাতিল হবে—এমন নয়। মূল বিষয় হলো, ত্বকের ওপর এমন কোনো আবরণ আছে কি না, যা শরীরে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়। পানি ত্বকে পৌঁছালে অজু-গোসল শুদ্ধ হবে এবং সে অনুযায়ী নামাজও আদায় করতে হবে।

  • মানুষের মনে আঘাত দেওয়া নিয়ে ইসলামের সতর্কবার্তা

    মানুষের মনে আঘাত দেওয়া নিয়ে ইসলামের সতর্কবার্তা

    কথাবার্তায় ভদ্রতা, সংযম ও সুন্দর আচরণ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কাউকে অপমান করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কিংবা এমন কথা বলা, যাতে তার মনে কষ্ট তৈরি হয়—এসব থেকে মুসলমানদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

    এই হাদিসে কথার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কথা বলার আগে সেটি অন্যের জন্য কল্যাণকর কি না, তা বিবেচনা করা উচিত। ভালো কথা বলার সুযোগ না থাকলে নীরব থাকাও ইসলামের শিক্ষা।

    অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

    এখানে জিহ্বাকে হাতের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের ক্ষতি শুধু কাজের মাধ্যমে নয়, কথার মাধ্যমেও হতে পারে। কটু কথা, অপমান, গালি কিংবা কাউকে হেয় করার মাধ্যমে অন্যের মনে যে আঘাত দেওয়া হয়, ইসলাম তা থেকে সতর্ক করেছে।

    কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাও ইসলামে নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।” (সহিহ মুসলিম)

    তাই কারও চেহারা, সামর্থ্য, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষা, পেশা কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে বিদ্রূপ করা একজন মুমিনের আচরণ হতে পারে না। বরং মানুষের সম্মান রক্ষা করা এবং তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করাই ইসলামের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    কথার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাগ নিয়ন্ত্রণ। রাগের মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে ফেলে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় হয়তো কখনোই বলত না। পরে অনুতপ্ত হলেও বলা কথাটি আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। তাই রাগের সময় নীরব থাকা, নিজেকে সংযত করা এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর কথা বলা ইসলামী আদবের অংশ।

    ইসলামের সৌন্দর্য শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটিও একজন মানুষের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। কারও মনে কষ্ট না দেওয়া, অন্যকে সম্মান করা এবং মুখের কথায় সংযমী থাকা তাই একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    একটি সুন্দর কথা যেমন মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে, তেমনি একটি কঠিন বাক্যও কাউকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে। তাই কথা বলার আগে একটু থামা, ভাবা এবং প্রয়োজন হলে নীরব থাকা—এটাই হতে পারে ইসলামের সেই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ।

  • ২০৩০ সালে দুবার রমজান, যে কারণে ঘটবে বিরল ঘটনা

    ২০৩০ সালে দুবার রমজান, যে কারণে ঘটবে বিরল ঘটনা

    ২০৩০ সালে এক বিরল মহাজাগতিক বিন্যাসের কারণে একই বছরে দুবার রমজান মাস পড়বে। অর্থাৎ একই বছরে দুবার রোজা পালনের সুযোগ পাবেন মুসল্লিরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসলামি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসাবের পার্থক্যের কারণেই এমন বিরল ঘটনা ঘটবে। যেহেতু ইসলামি বর্ষপঞ্জি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির চেয়ে প্রায় ১১ দিন ছোট, তাই প্রতি বছর রমজান শুরুর সময়টি এগিয়ে আসে।
    ২০৩০ সালে এই পরিবর্তনের ফলে প্রথম রমজান শুরু হবে ৫ জানুয়ারি (ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৪৫১ হিজরি সনে) এবং দ্বিতীয় রমজান শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর (১৪৫২ হিজরি সনের শুরুতে)। এর ফলে মুসলমানরা এক বছরে দুবার রোজা রাখবেন। অর্থাৎ ওই বছর মোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে হবে; যার মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষে আরও ৬ দিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে চলে, কিন্তু ইসলামি বর্ষপঞ্জি মূলত চান্দ্র চক্রের ওপর নির্ভরশীল।
    একটি চান্দ্র বছর ৩৫৪ দিনের হয়, যা সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পার্থক্যের কারণে ইসলামি মাসগুলো চারটি ঋতুর মধ্য দিয়ে আবর্তিত হয়; এই চক্রটি মোটামুটি প্রতি ৩৩ বছরে একবার পুনরাবৃত্তি হয়। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে এবং ২০৩০ সালের পর এটি আবার ঘটবে ২০৬৩ সালে। মুসলমানদের জন্য ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা একইসাথে একটি ধর্মীয় আবশ্যিকতা এবং আত্মিক শুদ্ধির একটি মাধ্যম।তবে রমজান কোন সময়ে পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে রোজার অভিজ্ঞতায় ব্যাপক তারতম্য হয়। শীতকালে রোজা পড়লে দিনের দৈর্ঘ্য বা রোজার সময়কাল তুলনামূলকভাবে কম হয়; অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে তা ১৭ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে। যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময় জানা সম্ভব। তবু চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই এর আনুষ্ঠানিক শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সৌদি আরবসহ অনেক ইসলামী দেশ চাঁদ দেখার প্রথাগত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে, আবার অন্য অনেক দেশ তারিখ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

  • শেষ বয়সে এসেও কোরআন শেখার নেশায় কর্মজীবীরা

    শেষ বয়সে এসেও কোরআন শেখার নেশায় কর্মজীবীরা

    সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে পবিত্র কোরআন শেখার এমন অনন্য নজির স্থাপন করেছেন অর্ধশতাধিক প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষ। ছোটবেলায় দারিদ্র্য, জীবনসংগ্রাম কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে যাদের আর কোরআন স্পর্শ করা হয়ে ওঠেনি, জীবনের পাঁচ দশক পার করে এসে তারাই এখন পরম যত্নে প্রতিদিন বানান করে পড়ছেন আল্লাহর বাণী। একই সঙ্গে নিয়মিত শুদ্ধভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নিয়মকানুনও রপ্ত করছেন তারা।

    শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় এই অনুপ্রেরণাদায়ী দৃশ্য। সেখানে ‘শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনা মূল্যে মাদানি পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করা ৪২ জন প্রবীণ শিক্ষার্থীর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় কোরআন শরিফ। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সবজি বিক্রেতাকে পরম যত্নে পাঠদান করিয়েছেন উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মোমেন।

    কোরআন উপহারের পাশাপাশি এই শিক্ষার্থীদের একজনের জন্য ছিল বিশেষ এক চমক। লটারির মাধ্যমে ৭০ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম তারা নামের এক বৃদ্ধকে বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেয় ‘স্যাম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ নামের একটি ভ্রমণ সংস্থা। এমন অপ্রত্যাশিত উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

    বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক মাওলানা ক্বারী মুয়াজ নোমানী জানান, এটি তাদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ব্যাচ। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই ব্যাচের পাঠদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। প্রতিদিন মাগরিবের পর থেকে শুরু করে এশার আজান পর্যন্ত একটানা চলে এই পাঠদান। সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে ক্লান্তি ভুলে প্রতিদিন নিয়মিত মসজিদে এসে হাজির হতেন এই প্রবীণ শিক্ষার্থীরা।

    তিনি আরও জানান, চলমান দ্বিতীয় ব্যাচের মেয়াদ এখনও তিন মাস বাকি রয়েছে। এই পর্ব শেষ হলেই শুরু হবে নতুন তৃতীয় ব্যাচ। স্থানীয় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই বিনা মূল্যের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    কোরআন বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিভিন্ন দিক ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন, শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশনের বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের পরিচালক মাওলানা ক্বারী মো. মুয়াজ মোহা, বেলকুচি ওলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি হাফেজ মো. রফিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

  • ১২৩ বছরেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস

    ১২৩ বছরেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস

    নাটোরের গুরুদাসপুরের আব্বাস প্রামাণিকের বয়স ১২৩ বছর। ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ের সাক্ষী। দীর্ঘ জীবনে শিক্ষকতা করেছেন, পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।

    গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে আব্বাস প্রামাণিক।কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলের বাবা আব্বাসের স্ত্রীও অনেক বছর আগে মারা গেছেন।

    বয়সের ভারে এখন শরীর অনেকটাই দুর্বল। হাঁটতে লাঠির প্রয়োজন হয়, কমে গেছে শ্রবণশক্তিও। তবে ১২৩ বছর বয়সেও তার দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই স্বাভাবিক। চশমা ছাড়াই নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন শরিফ পড়েন তিনি। হাতে পরেন ক্যাসিও ঘড়িও।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্বাসের সমবয়সিদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় অনেকটা একাই কাটিয়েছেন তিনি। একসময় অর্থ-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে ভাঙাচোরা একটি ঘরেই বসবাস করছেন। বয়সের সঙ্গে তার বহু পুরোনো স্মৃতিও মলিন হয়ে গেছে। তবু ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন।

    আব্বাসের পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল। নাতি-বউয়েরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার দেখাশোনা করেন।

    নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, তার দাদা খুবই ধার্মিক ও সৎ মানুষ। সাদাসিধে জীবনযাপন করাই ছিল তার পছন্দ। গাড়িতে চড়াকেও তিনি একসময় বিলাসিতা মনে করতেন। তাই বেশির ভাগ সময় হেঁটেই চলাফেরা করতেন। এখন শরীর আগের মতো সায় না দিলেও লাঠিতে ভর করে বাড়ির উঠানে হাঁটার চেষ্টা করেন।

    আরেক নাতি বেলাল হোসেন বলেন, আব্বাসের ছেলেমেয়েরা সবাই নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ফলে তাকে দেখাশোনার জন্য নির্দিষ্ট কেউ নেই। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার পাশে থাকার চেষ্টা করেন। ভাঙাচোরা ঘরে থাকা আব্বাসের জন্য এই বয়সে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার সবসময় জোগাড় করাও সম্ভব হয় না।

    আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম জানান, মাত্র ৫ বছর বয়সে তার মাকে হারান আব্বাস। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সৎ ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতে দেখেছেন তিনি।

    আলিমা বলেন, তার বাবা এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তে পারেন। অথচ তার সন্তানদের অনেকেই এখন চোখে ঝাপসা দেখেন। তিনি সুযোগ পেলেই বাবাকে দেখতে যান এবং পছন্দের খাবার নিয়ে যান।

    গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তার চলাফেরায় সমস্যা হয়। সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে খুবজীপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

  • রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই

    রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই

    রিজিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দেওয়া সবচেয়ে বড় একটি নিয়ামত। সাধারণত রিজিক সম্পর্কে আমরা ধারণা করি, তা শুধু খাদ্যসামগ্রী আর সম্পদ; তবে সেটি সমীচীন নয়। বরং রিজিক হচ্ছে আমাদের জীবনোপকরণের যাবতীয় সবকিছু।রিজিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত। এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ মাজিদে ইরশাদ হচ্ছে, ‘পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই (উল্লেখ) এক সুবিন্যস্ত কিতাবে (লওহে মাহফুজে) রয়েছে।’ (সুরা হুদ : ৬) অপর আয়াতে কারিমায় আল্লাহতায়ালা রিজিক নিয়ে আশ্বস্ত করে বলছেন, ‘আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু।’ (সুরা জারিয়াত : ২২)

    এখন কথা হচ্ছে, আমরা সাধারণত ধারণা করি যে আমি যদি অমুক কাজটি না করতাম, অমুক ব্যক্তির কাছে ভরসা না করতাম বা অমুক লোকটি আমার জীবনে যদি না থাকত, তাহলে হয়তো আমি চলতে পারতাম না, আমার ভালো থাকায় বাধা-বিঘ্নতা সৃষ্টি হতো অথবা ভালো থাকতে পারতাম না, ভালো-মন্দ খেতে কিংবা পড়তে পারতাম না; এটি নিছক ভুল ধারণা ছাড়া কিছু নয়।

    আমরা সামান্য বিষয় নিয়ে হতাশায় ডুবে যাই, ভেঙে পড়ি—এটি নিছকই শয়তানের প্ররোচনা ছাড়া আর কিছু নয়। মানুষ চেষ্টা করার পরও অনেক সময় রিজিক কমবেশি হয়। এটি আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে স্রেফ পরীক্ষা। মহান রব আমাদের জানান দিচ্ছেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, কখনো ভয়ভীতি, কখনো অনাহার, কখনো তোমাদের জানমাল ও ফসলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। (তবে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করতে হবে) তুমি ধৈর্যশীলদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : ১৫৫)

    পার্থিব জীবনে পরিস্থিতি ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে মানুষ রিজিক নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা রিজিক নিয়ে চিন্তা-টেনশন না করতে অভয়বাণী শুনিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘এবং তিনি তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যার উৎস সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-ত্বালাক : ৩)

    আমার-আপনার রিজিক আমাদের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায়, সঠিক উৎস থেকে পৌঁছে যাবে আল্লাহতায়ালার নির্দেশ মোতাবেক। আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় নিয়ামত কী হতে পারে, যেখানে আমাদের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই নিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা সমস্ত সৃষ্টির ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে, তখন আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর।’ (মুসলিম : ২৬৫৩)

    এবার ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা যাক। তিনি বলেছেন, ‘যা কিছু তোমার জন্য লিখিত সেটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকলেও তোমারই হবে, আর যা কিছু তোমার জন্য লেখা হয়নি সেটি দুই ঠোঁটের মধ্যখানে থাকলেও তোমার হবে না।’ তাই রিজিক নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

    সুতরাং আসুন, রিজিক নিয়ে চিন্তিত না হই এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ভরসা করি রবের ওপর; যিনি আমাদের রাজ্জাক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন, আমিন।

  • কার সঙ্গে বিয়ে হবে এটা নির্ধারিত নাকি কর্মের ফল

    কার সঙ্গে বিয়ে হবে এটা নির্ধারিত নাকি কর্মের ফল

    বিয়ে মানবসৃষ্ট কোনো চুক্তি নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র বিধান। পরিবার গঠনের ভিত্তি। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণে বৈধ মিলনের জন্য বিয়ের বিধান দিয়েছেন আল্লাহ। বিয়েবদ্ধ জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা, রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

    বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত।হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

    যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ তার দৃষ্টিকে সংযত করে। বিয়ে করে মানুষ যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে সক্ষম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

    সামর্থ্যবান হলেই বিয়ে করা উত্তম। বিয়ে নিয়ে অনেকের কৌতুহল বা জানার আগ্রহ আছে। কেউ কেউ জানতে চান, কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে এটা কি আল্লাহ তাআলা আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন নাকি কর্মের মাধ্যমে এর পরিবর্তন হয়?

    সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের তাকদির লিপিবদ্ধ করেছেন আসমান-জমিন সৃষ্টির ৫০ বছর আগে এবং তিনি যার ভাগ্যে যা লিখেছেন, তাই ঘটবে। ’ (সহিহ মুসলিমের সূত্রে মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৭৯)

    আরেক হাদিসে আছে, ‘একদিন সাহাবিরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে শুধু তাকদির বা ভাগ্যের ওপর ভরসা করে সব আমল ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানালে তিনি বললেন, তোমরা সৎ কাজ করে যাও। কেননা যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজবোধ্য হবে। যারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য তেমন আমল এবং যারা দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত তাদের জন্য তেমন আমল সহজ করে দেওয়া হয়েছে। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৯৪৯)

    ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, জন্ম-মৃত্যুর মতো বিয়ে-শাদি ইত্যাদি সবকিছু নির্ধারিত রয়েছে। তাকদিরে (ভাগ্য) লেখা রয়েছে। তাকদিরে যার সঙ্গে বিয়ের কথা লিখিত রয়েছে, তার সঙ্গেই বিয়ে হবে। তাকদিরে যা লেখা আছে, তা দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনও হয়ে যেতে পারে।

    শত চেষ্টা করলেও কাউকে বিয়ে করা যাবে না, যদি না তাকদিরে লেখা থাকে বা আল্লাহর হুকুম হয়। সবকিছু আল্লাহর কাছে, তিনি যা চান, তাই হবে।

    বিয়ের ক্ষেত্রে কাউকে পছন্দনীয় হলে বৈধ চেষ্টার পাশাপাশি তাকে পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই ভাগ্য (তাকদির) পরিবর্তন করতে পারে না। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)

    আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে, এটা আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। ’

  • মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

    মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল বা দাড়ি পেকে যাওয়া এক স্বাভাবিক ও অবধারিত প্রাকৃতিক নিয়ম। এই শুভ্রতা ঢাকতে অনেকেই নানা উপায় বেছে নেন। বাজারে আজকাল অর্গানিক বা ন্যাচারাল হেয়ার কালারের বেশ প্রচলন রয়েছে। যেমন— মেহেদির সঙ্গে ইন্ডিগো পাউডার মিশিয়ে চুল কালো করা। তবে প্রশ্ন হলো— বার্ধক্যের কারণে পেকে যাওয়া চুল বা দাড়ি এসব প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে কুচকুচে কালো করা ইসলামে কতটা বৈধ? এই বিষয়ে শরিয়তের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও ফিকহি বিধান তুলে ধরা হলো

    বার্ধক্যের চুলে কালো রঙের নিষেধাজ্ঞা

    বয়সের ভারে চুল কিংবা দাড়ি পেকে গেলে কৃত্রিম উপায়ে সম্পূর্ণ কালো খেজাব বা রং ব্যবহার করা ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ ও নাজায়েজ। রং তৈরির উপাদানটি ভেষজ কিংবা অর্গানিক— যেকোনো কিছুই হোক না কেন, চূড়ান্ত ফলাফল যদি খাঁটি কালো রূপ ধারণ করে, তবে তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। সুন্নাহর নির্দেশনা হলো, পাকা চুল বা দাড়ির শুভ্রতা পরিবর্তন করতে হবে মেহেদি বা অন্য কোনো রঙে (যেমন— লালচে, হলুদ বা বাদামি), কিন্তু কুচকুচে কালো রং বর্জন করতে হবে।

    এই বিষয়ে হাদিস শরিফে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে, হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

    أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَرَأْسُهُ وَلِحْيَتُهُ كَالثَّغَامَةِ بَيَاضاً، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «غَيِّرُوا هَذَا بِشَيْءٍ، وَاجْتَنِبُوا السَّوَادَ

    ‘মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফাকে (আবু বকর রা.-এর পিতা) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে আনা হলো। তখন তার মাথার চুল ও দাড়ি ‘সাগামা’ (এক প্রকার ধবধবে সাদা ফুল ও ফলযুক্ত উদ্ভিদ) উদ্ভিদের মতো একেবারে সাদা হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করলেন, ‘এটি (সাদা চুল-দাড়ি) কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন কর, তবে কালো রং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাক।’ (মুসলিম ২১০২)

    আরেকটি হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন—

    يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِرُونَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ، لَا يَريحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ

    ‘শেষ জামানায় কিছু লোক কবুতরের বুকের মতো কালো খেজাব ব্যবহার করবে। তারা কেয়ামতের দিন জান্নাতের সুবাসও পাবে না।’ (আবু দাউদ ৪২১২)

    নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যের কারণ: প্রতারণা বর্জন

    ইসলামের এই নিষেধাজ্ঞার হেকমত বা মূল কারণ হলো, নিজের প্রকৃত বয়স গোপন করে অন্যের সামনে নিজেকে যুবক হিসেবে প্রকাশ করা বা প্রতারণা করা। প্রসিদ্ধ ইসলামি স্কলার ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন—

    ‘নিষিদ্ধ কালো খেজাব হচ্ছে এমন খেজাব, যা দ্বারা ধোঁকা দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে। যেমন বৃদ্ধা মহিলা চুলে কালো খেজাব ব্যবহার করে স্বামীকে ধোঁকা দিল, একইভাবে বৃদ্ধ লোক কালো খেজাব ব্যবহার করে স্ত্রীকে ধোঁকা দিল। কারণ এটি সুস্পষ্ট প্রতারণা।’ (যাদুল মাআদ ৪/৩৬৮)

    কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধান

    তবে কোনো ব্যক্তির যদি বার্ধক্যের আগেই অসুস্থতা কিংবা শারীরবৃত্তীয় অন্য কোনো ব্যতিক্রমী কারণে কম বয়সে চুল পেকে যায়, সে ক্ষেত্রে কোনো কোনো ফকিহ ও তাবেঈর মতে কালো খেজাব ব্যবহারে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে।

    প্রসিদ্ধ তাবেয়ি ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন— ‘যখন আমাদের চেহারা সতেজ ও তারুণ্যদীপ্ত ছিল, তখন আমরা কালো খেজাব ব্যবহার করতাম। কিন্তু যখন চেহারায় বলিরেখা পড়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হলো, তখন আমরা কালো খেজাব ছেড়ে দিয়েছি।’ (ফাতহুল বারি ১০/৩৬৭)

    মেহেদির মিশ্রণ ব্যবহারের শরয়ি মাপকাঠি

    ইন্ডিগো পাউডার ও মেহেদির মিশ্রণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো এর চূড়ান্ত রং।

    • নিষিদ্ধ রূপ: এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে চুলে দেওয়ার পর চুল যদি একেবারে খাঁটি ও প্রগাঢ় কালো হয়ে যায়, তবে বয়স্কদের জন্য তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।
    • অনুমোদিত রূপ: মিশ্রণটির ফলে যদি চুলে কালোর পাশাপাশি লালচে, কালচে-বাদামি বা তামাটে রঙের সুন্দর আভা তৈরি হয় এবং তা দেখতে খাঁটি কালো না দেখায়, তবে তা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ।

    পরিশেষে বলা যায়, ইসলামে বার্ধক্যের নিদর্শনকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে বয়স্কদের কুচকুচে কালো চুল বা দাড়ি রাখার যে প্রবণতা, তা শরিয়তে নিষেধ করা হয়েছে যাতে ধোঁকা ও প্রতারণার পথ বন্ধ থাকে। তাই প্রাকৃতিকভাবে চুল রাঙানোর ক্ষেত্রে রঙের চূড়ান্ত রূপের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি।

  • সন্তানকে প্রহার করে শাসন, ইসলাম কী বলে?

    সন্তানকে প্রহার করে শাসন, ইসলাম কী বলে?

    যুগ পাল্টেছে। পৃথিবীতে এসেছে বিভিন্ন প্রজন্ম। একেক প্রজন্মের মূল্যবোধ, আচার-আচরণ ও জীবনযাপনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর তাই একটি শিশু জন্মের পর বাবা-মাকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তোলে, তার অন্যতম হলো সন্তানের সঠিক লালন-পালন।

    সন্তানকে বড় করতে বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা নানা পন্থা অবলম্বন করেন। কখনো আদর, কখনো শাসন—দুইয়ের সমন্বয়েই সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালনার চেষ্টা করেন তারা। তবে প্রজন্ম বদলালেও সন্তানকে শাসনের একটি পুরোনো পদ্ধতি এখনো সমাজে প্রচলিত—শারীরিক প্রহার। অনেকের ধারণা, সন্তানকে ‘একটু-আধটু মার’ না দিলে সে শাসনে আসবে না।

    কিন্তু সন্তানকে মারধর করে কি সত্যিই সংশোধন করা যায়? ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দিয়েছে? সন্তানকে প্রহার করা কি বৈধ? বৈধ হলেও এর সীমা কতটুকু?

    ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, সন্তানদের সঙ্গে কোমলতা, মমতা ও সুন্দর আচরণ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তাহলে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৯)। আয়াতটি মূলত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি নির্দেশনা হলেও এর মধ্যে কোমল আচরণের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

    সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রেও কোরআনের নির্দেশনায় দায়িত্বশীলতা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরিম, আয়াত ৬)। অর্থাৎ সন্তানকে শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাকে সঠিক শিক্ষা ও নৈতিকতার পথে গড়ে তোলাই অভিভাবকের দায়িত্ব।

    নামাজের ক্ষেত্রে যে হাদিসটি বলা হয়

    সন্তানকে শাসনের প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করা হয় নামাজসংক্রান্ত একটি হাদিস। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং ১০ বছর বয়সে নামাজের ব্যাপারে তাদের শাসন করো; আর তাদের শয্যা পৃথক করে দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৫)। হাদিসটি হাসান-সহিহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এই হাদিসকে সন্তানকে ইচ্ছামতো মারধরের সাধারণ অনুমতি হিসেবে নেওয়া যায় না। হাদিসটির বিষয় নির্দিষ্টভাবে নামাজের শিক্ষা ও অনুশীলন। একই সঙ্গে ইসলাম শাসনের ক্ষেত্রেও সীমালঙ্ঘন, ক্ষতি করা বা নির্যাতনকে সমর্থন করে না।

    শারীরিক শাসনের ইসলামি সীমা

    সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রে ইসলাম সীমালঙ্ঘন ও ক্ষতি করার অনুমতি দেয় না। বিশেষ করে নামাজের শিক্ষা দিতে ১০ বছর বয়সের পর শাসনের কথা হাদিসে এসেছে। তবে এ শাসন কোনোভাবেই নির্যাতন বা রাগের বশে মারধরের লাইসেন্স নয়। ইসলামি দৃষ্টিতে বিষয়টি কয়েকটি সীমার মধ্যে বোঝা যায়—

    ১.১০ বছর বয়সের প্রসঙ্গ: সন্তানকে সাত বছর বয়স থেকে নামাজের শিক্ষা ও অভ্যাস করানোর নির্দেশ রয়েছে। ১০ বছর বয়সে নামাজের ব্যাপারে শাসনের কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং ১০ বছর বয়সে এ ব্যাপারে তাদের শাসন করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫)

    ২. উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন: শাসনের উদ্দেশ্য হতে হবে সন্তানের সংশোধন ও শিক্ষা দেওয়া, নিজের রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করা নয়। রাগের বশে সন্তানকে আঘাত করা শাসনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই অভিভাবকের উচিত আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধৈর্যের সঙ্গে সন্তানকে বোঝানোর চেষ্টা করা।

    ৩. মুখমণ্ডলে আঘাত করা যাবে না: ইসলামে মানুষের মুখমণ্ডলে আঘাত করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের সঙ্গে লড়াই করে, সে যেন চেহারা এড়িয়ে চলে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১২)। ফলে সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রেও মুখে আঘাত করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

    ৪. ক্ষতি করা যাবে না: ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো—কাউকে ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির জবাবেও ক্ষতি করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির মাধ্যমে ক্ষতি করা যাবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪০)। তাই শাসনের নামে এমন কোনো আচরণ করা বৈধ নয়, যাতে সন্তানের শরীরে আঘাত, জখম বা গুরুতর শারীরিক কিংবা মানসিক ক্ষতি হয়।

    ৫. নবীজির আদর্শ ছিল কোমলতা: সন্তান ও শিশুদের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আচরণ ছিল স্নেহশীল ও কোমল। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো নিজ হাতে কোনো নারী বা খাদেমকে আঘাত করেননি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩২৮)। এ থেকে বোঝা যায়, সংশোধনের ক্ষেত্রেও কোমলতা ও উত্তম আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    ৬. সহজ করা ইসলামের শিক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিমুখ করে দিয়ো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৯)। সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রেও এই নীতির গুরুত্ব রয়েছে। তাই শাসনের নামে ভয়, আতঙ্ক ও নির্যাতনের পরিবেশ তৈরি না করে ভালোবাসা, বোঝানো ও ধৈর্যের মাধ্যমে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালনা করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্তানকে শাসন মানেই মারধর নয়

    ইসলামে সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের প্রতি তাঁর মমতা, স্নেহ ও কোমল আচরণের বহু দৃষ্টান্ত হাদিসে পাওয়া যায়। ফলে সন্তানকে সংশোধনের নামে রাগের বশে মারধর করা বা তাকে অপমান করা ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষা ও নবীজির আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    অভিভাবকের দায়িত্ব হলো সন্তানের ভুলের কারণ বোঝা, তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত শাসনের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করা। শারীরিক আঘাত, ভয় দেখানো বা অপমানকে নিয়মিত শাসনের পদ্ধতি বানানো ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।

    সুতরাং সন্তানকে মানুষ করার ক্ষেত্রে শুধু শাসন নয়, ভালোবাসা, ধৈর্য, সুন্দর আচরণ ও নৈতিক শিক্ষা—এসবের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সন্তান যেন ভয় থেকে নয়, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সঠিক পথ বেছে নেয়—ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষার সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  • ইসতিগফার কেন এত জরুরি, কুরআন-হাদিসে যা বলা হয়েছে

    ইসতিগফার কেন এত জরুরি, কুরআন-হাদিসে যা বলা হয়েছে

    জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ভুল করে। কখনো ইচ্ছায়, কখনো অনিচ্ছায়—কথায়, কাজে কিংবা চিন্তায় ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। কিন্তু ভুলের পর ফিরে আসার দরজাও খোলা রেখেছেন আল্লাহ। সেই ফিরে আসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ইসতিগফার—আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা।

    ‘ইসতিগফার’ শব্দের অর্থ ক্ষমা চাওয়া। একজন বান্দা যখন আন্তরিকভাবে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলেন, তখন তিনি মূলত নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও দয়া প্রার্থনা করেন। ইসলামে এটি শুধু গুনাহ মাফের আমল নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    কুরআনে ইসতিগফারের গুরুত্ব

    পবিত্র কুরআনে ইসতিগফারের গুরুত্ব বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হজরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান করেছিলেন। সূরা নূহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে এসেছে—আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং বাগান ও নদী দান করবেন।

    অন্যদিকে সূরা হুদের ৫২ নম্বর আয়াতেও ইসতিগফার ও তওবার সঙ্গে আল্লাহর রহমত এবং শক্তি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, ইসতিগফার শুধু পরকালের ক্ষমার আবেদন নয়; বরং আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ লাভের আশায় একজন মুমিনের নিয়মিত আমলও হতে পারে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিয়মিত ইসতিগফার করতেন

    ইসতিগফারের গুরুত্ব বোঝার জন্য সবচেয়ে বড় উদাহরণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন। সহিহ বুখারির হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিনি দিনে ৭০ বারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করতেন।

    সহিহ মুসলিমের আরেক হাদিসে এসেছে, তিনি মানুষকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে বলেছেন এবং নিজে দিনে ১০০ বার তওবা করতেন বলে জানিয়েছেন।

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন নিষ্পাপ নবী; তারপরও তিনি নিয়মিত ইসতিগফার করতেন। তাই ইসতিগফারকে শুধু বড় কোনো গুনাহ করার পরের আমল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি একজন মুমিনের প্রতিদিনের আত্মশুদ্ধির অংশ হতে পারে।

    শুধু মুখে উচ্চারণ নয়, থাকতে হবে অনুতাপ

    অনেকে মনে করেন, শুধু ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বললেই ইসতিগফার সম্পন্ন হয়ে যায়। মুখে ইসতিগফার বলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ জিকির। তবে আন্তরিক তওবার সঙ্গে নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং পুনরায় সেই কাজে না ফেরার চেষ্টা থাকা জরুরি।

    অর্থাৎ কেউ অন্যের হক নষ্ট করে শুধু মুখে ইসতিগফার করলেন, কিন্তু সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন না—তাহলে তওবার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মানুষের অধিকার থাকলে তা আদায়ের চেষ্টাও করতে হবে।

    ইসতিগফার অন্তরকে আল্লাহমুখী করে

    মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, ব্যর্থতা, অপরাধবোধ ও নানা ধরনের সংকট আসতে পারে। এসব সময়ে ইসতিগফার একজন মানুষকে নিজের ভুলের দিকে তাকানোর এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

    ইসতিগফার মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—ভুল হয়ে গেলেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। বরং নিজের ভুল স্বীকার করে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। এ কারণেই ইসতিগফার আত্মশুদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

    নামাজের পরও ইসতিগফার

    রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ শেষ করার পর তিনবার ইসতিগফার করতেন—এমন বর্ণনাও সহিহ মুসলিমে রয়েছে। সেখানে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ থেকে বোঝা যায়, ইসতিগফারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ সময়ের অপেক্ষা করতে হয় না। নামাজের পর, ঘুমানোর আগে, কোনো ভুলের পর কিংবা অবসর সময়ে—যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়।

    সহজ আমল, গভীর তাৎপর্য

    ইসতিগফারের সবচেয়ে সহজ বাক্য— ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। অর্থ, ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ অল্প কয়েক সেকেন্ডেই এই জিকির করা যায়। কিন্তু এর তাৎপর্য অনেক গভীর।

    দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও কেউ যদি নিজের ভুলের কথা স্মরণ করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, তাহলে সেটি তার আত্মশুদ্ধির একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ইসতিগফারের সঙ্গে ভালো কাজ, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং তওবার চেষ্টাও থাকা প্রয়োজন।

    সবশেষে বলা যায়, ইসতিগফার শুধু একটি বাক্য নয়; এটি আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি পথ। মানুষ যতবার নিজের ভুল বুঝতে পারে, ততবারই তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর একজন মুমিনের জীবনে এই ফিরে আসার অভ্যাসই তাকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নিতে পারে।

  • বগুড়ার বড় মসজিদ

    বগুড়ার বড় মসজিদ

    উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন—বগুড়ার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘বড় মসজিদ’ নামে অধিক পরিচিত। প্রায় ২৩৮ বছরের পুরোনো এই মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে আজও সগৌরবে টিকে আছে ইবাদতের এই প্রশান্তিময় স্থান।ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মোগল শাসক শাহ আলমের শাসনামলে ১৭৮৭ সালে বগুড়ার বড় মসজিদ নির্মিত হয়। এটি বগুড়া শহরের অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন এবং শহরের সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ হিসেবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির বেশ কয়েকবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে প্রতিবারই এর মূল কাঠামো ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

    মসজিদটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি চমৎকার ঐতিহাসিক কাহিনি। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রামের জমিদার সৈয়দ আকবর হোসেন চৌধুরী স্বপ্নে নির্দেশিত হয়ে করতোয়া নদীর তীরে সুফি সাধক হজরত শাহ সুফি ফতেহ আলী (রহ.)-এর মাজারের কাছে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তিনি নির্মাণকাজ শুরু করলেও কাজ সম্পন্ন করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার মেয়ে লতিফাতুন নেছা বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন।

    মসজিদের অদূরেই শায়িত আছেন আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শাহ সুফি ফতেহ আলী (রহ.)। ফলে এই স্থানটি ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে একদিকে যেমন ইবাদতের জায়গা, অন্যদিকে তেমনি আধ্যাত্মিক প্রশান্তিরও এক বিশেষ কেন্দ্র।

    স্থাপত্য ও সৌন্দর্য

    মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য ধারণ করে নির্মিত বগুড়ার বড় মসজিদটি মূলত তিন গম্বুজের। চুন ও সুরকি দিয়ে নির্মিত মূল মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৫ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৪০ ইঞ্চি। মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে পাঁচটি দরজা—তিনটি পূর্বদিকে এবং একটি করে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে।

    মূল মসজিদের তিন কাতারে প্রায় ৭৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। পুরোনো অংশের সঙ্গে সম্প্রসারিত অংশ মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের চারপাশে বর্তমানে মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় দূর থেকে এর পুরোনো গম্বুজগুলো সহজে দেখা যায় না। তবে মসজিদের সুবিশাল ও দৃষ্টিনন্দন আধুনিক মিনারটি দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষের নজর কাড়ে।

    ইবাদত ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র

    শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় ফজরের নামাজ ছাড়া দিনের অন্যান্য চার ওয়াক্তেই মসজিদটি মুসল্লিদের পদচারণে মুখর থাকে। নুরানি পরিবেশে এখানে নামাজ আদায়ের তৃপ্তি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি মুসল্লিদের মনে বিশেষ অনুভূতি সৃষ্টি করে।

    মসজিদের সাবেক খাদেম আনছার আলী বলেন, ‘আমি বিশ বছরের অধিক সময় এই মসজিদে খেদমত করেছি। বহু মুসল্লির কাছ থেকে শুনেছি এবং নিজেও উপলব্ধি করেছি—এই মসজিদে নামাজ আদায়ের যে তৃপ্তি ও আধ্যাত্মিক পরশ পাওয়া যায়, তা সচরাচর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।’

    সব মিলিয়ে বগুড়ার বড় মসজিদ শুধু ইট-পাথরের একটি প্রাচীন স্থাপনা নয়; এটি বগুড়ার ইতিহাস, ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী। ২৩৮ বছরের পথচলায় অসংখ্য মানুষের ইবাদত, প্রার্থনা ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মসজিদ আজও মানুষের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধার স্থান দখল করে আছে। এর আধ্যাত্মিকতা শুধু উপাসনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এমন এক জীবন্ত কেন্দ্র, যেখানে ঈমান জাগ্রত হয়, হৃদয় পরিশুদ্ধ হয় এবং মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন।

  • কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা আমীর প্রকৌশলী মোঃ সায়েদ আলী বলেছেন, আধুনিক যুগে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমাদের জীবন যদি ঢেলে সাজাতে পারি আজকের এই যুগে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি সুনালি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলা সম্ভব। এই চেষ্টাই জামায়াতে ইসলামী বিগত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশে করছে। আমরা যদি কুরআন সুন্নাহ আলোকে জীবন সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি তাহলে সমাজের যে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে তা থাকবে না ।

    তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং কাগাবলা ইউনিয়নের দাওয়াতি সভায় প্রধান অতিথির রক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

    মঙ্গলবার রাতে কাগাবলা বাজারে ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী সুমন আহমদের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আমীর মো: ফখরুল ইসলাম, উপজেলা কর্ম ও শুরা সদস্য দেওয়ান আশিক আল রশিদ চৌধুরী।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি অলিউর রহমান তালুকদার, আমতৈল ইউনিয়ন সেক্রেটারী আশরাফুল ইসলাম, যুব বিভাগের ইউনিয়ন সভাপতি শরফ উদ্দীন।

    তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে একটি গণঅভ্যত্থান হয়েছিল। সেখানে যুবক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল। সকলের চাওয়া পাওয়া কিছুই ছিলনা। তারা টাকা পয়সা চায়নি। তারা চেয়েছিল একটি পরিবর্তনশীল ও বৈষ্যমহীন নতুন বাংলাদেশ।

    দুভাগ্যভাবে আমরা লক্ষ্য করছি ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এদেশের জনগণ এ পরিবর্তনের জন্য ২টি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল। সবাই নিজ দায়িত্বে উৎসবমুখর পরিবেশ ভোট প্রয়োগ করেছিল কিন্তু রাত ১২টার পর থেকে রিজাল্ট পরিবর্তন করতে শুরু করে। দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ রাখার জন্য আমাদের আমীরে জামায়াত তা মেনে নিয়েছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকার গঠন হয়ে জুলাইয়ের আক্ষাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করে জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করবে।

  • সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করলে সমর্থন করবে না জমিয়ত

    সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করলে সমর্থন করবে না জমিয়ত

    বিএনপির শাসনামলে কিংবা অন্য যেকোনো সরকারের আমলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করা হলে দল বা জোটগতভাবে তা কোনোভাবেই সমর্থন করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (মুফতি ওয়াক্কাস গ্রুপ)। একই সঙ্গে দেশের আলেম-ওলামাদের মতামতের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে দলটি।আমার দেশ-এর প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম এ কথা জানান।তিনি আশা প্রকাশ করেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ইসলামবিরোধী কোনো আইন হয়নি, এই ধারাবাহিকতা বিএনপির বর্তমান শাসনামলেও বজায় থাকবে।আলেম-ওলামাদের প্রতি নিজেদের পূর্ণ শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের কথা তুলে ধরে ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম বলেন, দেশের আলেম-ওলামাদের মতামতের বিরুদ্ধে তার দলের যাওয়ার কোনো সুযোগ বা প্রশ্নই আসে না। ওলামায়ে কেরাম যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তার সঙ্গে তারা পূর্ণ ও সম্পূর্ণ একমত পোষণ করবেন।

    তিনি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপি বা অন্য যেকোনো আমলে যদি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে জমিয়ত কোনো অবস্থাতেই সেই আইনের সমর্থন করবে না।

  • সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা

    সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা

    সুসম্পর্ক বজায় রাখা, পরস্পরের অধিকার আদায় করা এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানবদেহের ন্যায় যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয় তখন তার সমস্ত দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্রা। ’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৪৮০)।যত দিন যাচ্ছে, মানুষ ততই অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরেছে, তারা প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে নিজেকে সঠিক মনে করে।

    প্রত্যেকের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে চেষ্টা করছে।কিন্তু বাস্তবে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। তাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও আল্লাহভীতি। ইসলাম এই সমস্যার ভারসাম্যপূর্ণ কিছু সমাধান দিয়েছে।নিজের কষ্ট বড় করে দেখে, কিন্তু অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করে না। যার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে অহংকার, নিজের ভুল অস্বীকার করার প্রবণতা, দ্রুত রাগ করা ও অন্যের অবদানকে ছোট করে দেখা। এসব মানবীয় দুর্বলতা মানুষকে হক বুঝতে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় ন্যায় ও হক বুঝেও এগুলোর কারণে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা সম্ভব হয় না। অথচ কোরআনের নির্দেশ হলো নিজের বা নিজের আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে গেলেও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকতে হবে।

    পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ন্যায়ের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর জন্য সাক্ষীরূপে। যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা মা-বাবার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)।

    উত্তম আচরণ করা:

    মানুষ সাধারণত তার সঙ্গে হয়ে যাওয়া অবিচার, অপমান কিংবা অবহেলা ভুলতে পারে না। তাই সময় সময় তার সেই চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে গেলে তা সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই সমস্যার কোরআনি সমাধান হলো, মন্দ আচরণের মোকাবেলা ভালো আচরণ দিয়ে করা।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত করো তা দ্বারা, যা উত্কৃষ্টতর; ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে যেন হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। ’ (সুরা: ফসসিলাত, আয়াত: ৩৪)। এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়, সুযোগ পেলেই মন্দ আচরণ করে প্রতিশোধ নয়, উত্তম আচরণই সম্পর্ক পুনর্গঠনের চাবিকাঠি।

    সন্দেহ ও গিবত থেকে বিরত থাকা:

    বেশির ভাগ সম্পর্কে ফাটল ধরে সন্দেহ ও গিবতের কারণে। শয়তান মানুষের মস্তিষ্কে তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অলীক চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। তার চলমান সংকট ও সমস্যাগুলোর পেছনে তার প্রতিপক্ষের হস্তক্ষেপ থাকার সন্দেহ তৈরি করে। ফলে সেও প্রতিশোধ না নিলেও প্রতিপক্ষের গিবত করে মনের কষ্ট নিবারণের চেষ্টা করে। অথচ অলীক চিন্তা ও অহেতুক সন্দেহ করা নিষিদ্ধ।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ। ’ (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ১২)।

    রাগ নিয়ন্ত্রণ করা:

    অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায় অতিরিক্ত রাগের কারণে। অথচ রাগের মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই; বরং বীরত্ব হলো, আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে। (বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)

    কথা বন্ধ না করা:

    বেশির ভাগ সম্পর্ক শেষ হয় ভুল-বোঝাবুঝি ও পরস্পর কথা বন্ধ করার কারণে। অথচ বাস্তবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তারা যদি খোলামেলা আলোচনা করত, একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করত, তাহলে তাদের শত্রুতা বন্ধুত্বে রূপ নিত। তারা কেউই কারো খারাপ চায়নি, শুধু দূরত্ব তাদের আলাদা করে রেখেছে।

    ইসলাম এভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখাকে সমর্থন করে না। মানুষ যদি অভিযোগ কমিয়ে সহমর্মিতা বাড়ায়, দোষারোপ না করে দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলেই ভাঙা সম্পর্ক আবার বন্ধুত্বে রূপ নেওয়া সহজ হয়ে যায়।

  • হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল অঞ্চলে হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানার পর মসজিদটির পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুজন আহত হন। সিভিল ডিফেন্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ ধরনের ঘটনার জন্য নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

    সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র বলেন, মসজিদসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকায় একটি সৌদি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

  • হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের ক্ষেত্রে যে ভুল থেকে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস

    হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের ক্ষেত্রে যে ভুল থেকে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস

    পবিত্র কাবা শরীফে নামাজ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর চুম্বনের জন্য তাড়াহুড়ো করে ছুটে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের প্রধান ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইমামের চূড়ান্ত সালাম ফেরানো শেষ হওয়ার আগেই যারা স্থান ত্যাগ করেন, তাদের নামাজ বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

    সম্প্রতি পবিত্র মসজিদুল হারামে এক বিশেষ ধর্মীয় আলোচনায় ইমাম শায়খ সুদাইস উপস্থিত ইবাদতকারী ও মুসল্লিদের উদ্দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

    তিনি বলেন, মসজিদুল হারামে আসা অনেক মুসল্লির মধ্যেই একটি মারাত্মক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইমাম নামাজ শেষ করার জন্য প্রথম সালাম ফেরানো শুরু করতেই অনেকে হাজরে আসওয়াদ এবং মুলতাজামের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এমনকি অনেক সময় ইমামের পুরো সালাম শেষ হওয়ার আগেই মুসল্লিরা কাতার ছেড়ে নড়াচড়া শুরু করে দেন। এটা ঠিক নয়। এ কারণে নামাজ নষ্ট হয়।

    কেন নামাজ বাতিল হবে, তার ব্যাখ্যায় শায়খ সুদাইস বলেন, নামাজের নিয়ম অনুযায়ী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইমামকে পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে। ইমামের আগেই কোনো রোকন বা নিয়ম সম্পন্ন করা কিংবা তার আগেই নামাজ শেষ করে দেওয়া শরিয়তের পরিপন্থী। ফলে ইমামের পুরোপুরি সালাম শেষ হওয়ার আগেই যারা স্থান ত্যাগ করার জন্য তাড়াহুড়ো করেন, তাদের নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।

    এদিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মসজিদের অন্য ইমামদের প্রতিও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন শায়খ সুদাইস। তিনি ইমামদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, নামাজের একদম শেষভাগে অর্থাৎ সালাম ফেরানোর সময় যেন খুব বেশি দীর্ঘায়িত বা দীর্ঘ বিরতি দেওয়া না হয়। অনেক সময় সালাম ফেরানোর মাঝে লম্বা বিরতির কারণে মুসল্লিরা বিভ্রান্ত হন এবং ভুলবশত ভাবেন নামাজ শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা অবচেতনভাবেই ইমামের আগে নড়েচড়ে বসেন, যা তাদের নামাজকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

  • মুসলিম তালাক আইনকে বৈধ বলল ভারতের আদালত

    মুসলিম তালাক আইনকে বৈধ বলল ভারতের আদালত

    ভারতে তালাক-ই-হাসান নিষিদ্ধ নয় এবং এটি বৈধ বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। আসামের এক মুসলিম ব্যক্তি পুরোনো আইনের অধীনে তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের আবেদন করলে আদালত এ মন্তব্য করেন। তবে পুরোনো আইনে নয়, ২০২৪ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নিবন্ধন আইনের আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের জন্য তাকে বারপেটার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে যেতে বলা হয়েছে।

    গত মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরী এ আদেশ দেন।

    তালাক-ই-হাসান মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত একটি বিবাহবিচ্ছেদ পদ্ধতি। এতে স্বামী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন। প্রতিটি উচ্চারণের মধ্যবর্তী সময় স্বামী-স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও পুনর্মিলনের সুযোগ দেয়। এটি তালাক-ই-বিদআত বা তাৎক্ষণিক তিন তালাক থেকে ভিন্ন। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    আদালতে করা আবেদনে ওই ব্যক্তি জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে একাধিকবার তাদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এরপর তিনি ২২ মার্চ, ২৬ এপ্রিল ও ২৭ মে ২০২৬—এই তিন তারিখে পৃথকভাবে তালাক উচ্চারণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।

    কী যুক্তি দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি?

    আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, ভারতে তালাক-ই-হাসানের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়াও তিনি সম্পন্ন করেছেন। তাই তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের নির্দেশ দেওয়া উচিত।

    তবে আসাম সরকার আদালতকে জানায়, যে আইনের অধীনে আগে এ ধরনের বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন করা হতো, সেটি বাতিল হয়ে গেছে।

    তবে, ওই বিচারপতি সব দিক বিবেচনা করে তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী যে পদ্ধতিতে ‘তালাক-এ-হাসান’ উচ্চারণ করেছেন, তা বৈধ তালাকের একটি রূপ এবং বর্তমানে দেশে তা নিষিদ্ধ নয়। তবে, ১৯৩৫ সালের আইন বাতিল হয়ে যাওয়া এবং ওই আইনের অধীনে তৈরি পদ বিলুপ্ত হওয়ায়, এর পরিবর্তে আবেদনকারীকে অসম বাধ্যতামূলক মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নথিভুক্তকরণ আইন, ২০২৪-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নিবন্ধকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এদিকে ওই ব্যক্তির স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। নথি অনুযায়ী, তাকে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি শুনানিতে অংশ নেননি। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আদালতে তার অনুপস্থিতির অর্থ এই নয় যে তার আইনগত অধিকার শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী চাইলে তালাক-ই-হাসানের বৈধতা বা কার্যকারিতা উপযুক্ত আদালত কিংবা আইনগত ফোরামে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

  • ‘বদনজর সত্য’ হাদিসের বৈজ্ঞানিক সত্যতা

    ‘বদনজর সত্য’ হাদিসের বৈজ্ঞানিক সত্যতা

    ‘নজর বলে কিছু নেই, এসব কুসংস্কার!’Ñকথাটা আমরা খুব সহজেই বলে ফেলি। কারো নতুন চাকরি হয়েছে, নতুন গাড়ি কিনেছে, বিয়ে হয়েছে, সন্তান হয়েছে কিংবা জীবনে হঠাৎ ভালো কিছু ঘটেছেÑকেউ যদি বলে, ‘নজর থেকে সাবধান’, আমরা অনেক সময় কথাটাকে কুসংস্কার বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু নজর নিয়ে যে বিশ্বাসকে আমরা এত সহজে ‘গ্রাম্যকথা’ বলে উড়িয়ে দিই, ইসলাম কি সত্যিই সেটিকে সেভাবে দেখেছে?প্রায় ১৪০০ বছর আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল-আয়নু হাক্ক’ নজর সত্য। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে একই মর্মের হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ৫৫৯৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, ‘নজর সত্য; যদি কোনো কিছু তাকদির অতিক্রম করতে পারে, তবে তা হলো নজর।’ পবিত্র কোরআনের সুরা ফালাকেও আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেনÑ‘হিংসুক যখন হিংসা করে, তার অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাই।’ (সুরা আল-ফালাক : ৫)

    এবার দেখা যাকÑদৃষ্টির পেছনে বিজ্ঞান কী যুক্তি দেয়। মানুষ যখন কারো দিকে তাকায়, তখন শুধু চোখই কাজ করে না। সেই দৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার অনুভূতি, মূল্যায়ন, আকর্ষণ, ঈর্ষা, ভয় কিংবা বিদ্বেষও। ভালোবাসার চোখে কাউকে দেখা আর হিংসার চোখে দেখা একই বিষয় নয়।

    আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের এই সামাজিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে। বিশেষ করে, Social-Evaluative Threat বা অন্যের নেতিবাচক মূল্যায়নের আশঙ্কা মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা রয়েছে।

    মনোবিজ্ঞানী Sally S. Dickerson ও Margaret E. Kemeny-এর ২০০৪ সালের একটি গবেষণা-পর্যালোচনায় দেখা যায়, সামাজিকভাবে মূল্যায়িত বা বিচারিত হওয়ার আশঙ্কা মানুষের শরীরে cortisol-নির্ভর stress response বাড়াতে পারে। (Dickerson, S. S., & Kemeny, M. E. 2004)

    অর্থাৎ অন্যের দৃষ্টি বা মূল্যায়ন সবসময় আমাদের শরীরের কাছে অর্থহীন কোনো বিষয় নয়। কেউ আপনার দিকে এমনভাবে তাকাল যে, আপনি বুঝতে পারলেনÑআপনাকে বিচার করা হচ্ছে। হয়তো কিছুক্ষণ পর বুক ধড়ফড় করছে, অস্বস্তি লাগছে, হাত ঘামছে, মাথা ভার লাগছে। আমাদের মস্তিষ্ক সামাজিক হুমকিকেও কখনো কখনো বাস্তব চাপ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। ফলে শরীরে stress response তৈরি হতে পারে। মন ও শরীর যে আলাদা কোনো জগৎ নয়, বিজ্ঞান এখন সে বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই জানে।

    এখানে আসে Nocebo Effect-এর কথাও। কোনো নেতিবাচক প্রত্যাশা, ভয় কিংবা আশঙ্কা কখনো কখনো মানুষের বাস্তব শারীরিক অস্বস্তিকে বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ কোনো কিছু আমাদের ক্ষতি করবেÑএই প্রত্যাশাটিও শরীরের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়Ñমানুষের নেতিবাচক অনুভূতি, দৃষ্টি ও সামাজিক আচরণ যে অন্য মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, সেটা কি একেবারেই অস্বীকার করা যায়?

    সুনান ইবনে মাজাহ ৩৫০৬-তে সাহাবি সাহল ইবন হুনাইফ (রা.)-এর একটি ঘটনা এসেছে। আমির ইবন রাবিয়াহ (রা.) তাকে দেখে তার সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠনের প্রশংসা করেছিলেন। এরপর সাহল (রা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ কেন তার ভাইয়ের জন্য বরকতের দোয়া করে না?’ এরপর তিনি আমির (রা.)-কে গোসল করতে বলেন।

    এখানে ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করার কথা নেই। বরং একজন মানুষ অন্যজনকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, প্রশংসা করেছেন। তারপরও রাসুলুল্লাহ (সা.) বরকতের দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন। অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রশংসার ক্ষেত্রেও সতর্কতা আছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই আমরা অন্যের জীবনের দিকে তাকাই। কারো নতুন বাড়ি, নতুন গাড়ি, বিয়ে, সন্তান, বিদেশযাত্রা, পুরস্কার কিংবা সাফল্যÑসবকিছুই এখন আমাদের চোখের সামনে। আমরা কেউ আনন্দ নিয়ে দেখি। কেউ মুগ্ধ হয়ে দেখি। কেউ আবার অজান্তেই ঈর্ষা নিয়ে দেখি।

    আমরা প্রায়ই নজরকে শুধু ‘অন্যের চোখের সমস্যা’ হিসেবে দেখি। অথচ নিজের চোখের ভেতর কী আছে, সেটিও তো ভেবে দেখা দরকার। ইসলাম তাই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে শেখায়। আর কারো ভালো কিছু দেখলে তার জন্য বরকতের দোয়া করতে শেখায়। অন্যদিকে বিজ্ঞান আমাদের দেখাচ্ছে, মানুষের সামাজিক অভিজ্ঞতা, নেতিবাচক মূল্যায়ন ও প্রত্যাশা শরীর ও মনের ওপর বাস্তব প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

    কারো ভালো কিছু দেখলে হিংসা নয়, তার জন্য বরকত চাইতে পারি। কারো সাফল্য দেখে নিজের অপূর্ণতার হিসাব না কষে তার আনন্দে আনন্দিত হতে পারি। কারো জীবনে ভালো কিছু দেখে শুধু তাকিয়ে না থেকে বলতে পারিÑ‘আল্লাহ তাকে বরকত দিন’। কারণ শেষ পর্যন্ত নজর নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো এটা নয় যে, নজর আছে কি নেই। প্রশ্ন হলোÑআপনি যখন অন্যের দিকে তাকান, আপনার চোখে আসলে কী থাকে।

  • সিজদায় দোয়া, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ

    সিজদায় দোয়া, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ

    নামাজে সিজদা বান্দার জন্য আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভের সময়গুলোর একটি। এ কারণে সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন সিজদায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। সুতরাং তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।’ (সহিহ মুসলিম)

    সিজদায় গিয়ে প্রথমে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা’ পড়ার পর আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা, হেদায়েত, রিজিক, সুস্থতা, বিপদ থেকে মুক্তি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করা যায়।

    সিজদায় পড়ার জন্য হাদিসে বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—

    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি যাম্বি কুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আমার সব গুনাহ ক্ষমা করুন—ছোট-বড়, প্রথম ও শেষের সব গুনাহ।

    এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সংক্ষিপ্ত দোয়াও সিজদায় পড়া যায়—

    رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي

    উচ্চারণ: রব্বিগফির লি ওয়ারহামনি।

    অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন।

    তবে দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। বান্দা আন্তরিকভাবে দোয়া করবে এবং কবুলের ব্যাপারে আশাবাদী থাকবে। কোনো দোয়ার ফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যেতে পারে, আবার কোনো দোয়ার বিনিময়ে আল্লাহ বিপদ দূর করতে পারেন কিংবা তা আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখতে পারেন।

    তাই নামাজের সিজদাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

  • অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    স্মার্টফোনের অবাধ বিস্তারের এই যুগে প্রতিদিনের ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামী জীবনযাপন সহজ করতে ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ’-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। সালাতের সময়সূচি, কিবলার দিকনির্ণয় কিংবা ডিজিটাল কোরআন তেলাওয়াতের সুবিধা দিয়ে এগুলো আধুনিক মুসলিমদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আত্মিক গভীরতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ধর্মীয় অনুশীলনে কতটা কার্যকর—তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর গবেষণার তথ্য সামনে এসেছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন (আইজেএইচসিআই)-এ প্রকাশিত ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ্লিকেশনস: মিটিং দ্য স্পিরিচুয়াল নিডস অব মডার্ন মুসলিমস’ শীর্ষক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, জনপ্রিয় অধিকাংশ ইসলামিক অ্যাপই কেবল প্রাথমিক কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে। তবে ব্যবহারকারীদের অন্তর্নিহিত প্রেরণা, ধর্মীয় আত্মশাসন, দক্ষতা এবং সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধিতে এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। কারণ এসব ব্যবহারকারীদের মানসিক ও আত্মিক বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাধীন ভাবনায় ঘাটতি তৈরি করছে।গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক মহসিনুল কবির, মোহাম্মদ রিজওয়ান কবির ও রিয়াসাত ইসলাম। গবেষণায় বহুল পরিচিত ১১টি ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপের কারিগরি ও মনস্তাত্ত্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি তরুণ মুসলিম ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    গবেষণায় মনস্তাত্ত্বিক ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন থিওরি’ (এসডিটি) এবং ‘টেকনোলজি-অ্যাজ-এক্সপেরিয়েন্স’ (টিএই) ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে অ্যাপগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশিরভাগ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অনুশীলনে স্বল্পমেয়াদি তাগিদ দিলেও আত্মিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে সঠিক মানসিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব বিবেচনা করে নির্মিত অ্যাপগুলো প্রযুক্তি ও ইসলামের মেলবন্ধনে আধুনিক মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার ‘আধ্যাত্মিক সঙ্গী’ হয়ে উঠতে পারে।

    গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণসমূহ হচ্ছে স্বাধীন অনুশীলনের অভাব (অটোনমি) রয়েছে। অধিকাংশ অ্যাপেই নামাজের তাগিদ বা অ্যালার্ম থাকলেও ইবাদতের সঠিক নিয়ম, অন্তর্নিহিত শিক্ষা বা ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক বিকাশের গাইডলাইন অনুপস্থিত। দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুর্বলতা (কম্পিটেন্স) রয়েছে। প্রোগ্রেস ট্র্যাকার বা লক্ষ্য নির্ধারণের যেসব ফিচার রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহারকারীর অগ্রগতি সম্পর্কে সঠিক ও বিশ্লেষণাত্মক প্রতিক্রিয়া (ফিডব্যাক) দেওয়া হয় না। ফলে কিছুদিন পর ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (রিলেটেডনেস) তৈরি করে। অ্যাপগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য শেয়ারের সুবিধা থাকলেও, বিশ্বস্ত ধর্মীয় গ্রুপ বা আলেমদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়ার কোনো সুরক্ষিত মাধ্যম নেই।

    বিজ্ঞাপন ও প্রাইভেসির বিতর্ক হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ইবাদতের পরিবেশ। গবেষণায় অ্যাপগুলোর নীতিগত ও কারিগরি নানা ত্রুটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে অনুচিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন। অনেক অ্যাপের বিনামূল্যে সংস্করণে এমন সব বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে, যা একজন মুসলিমের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মনোযোগ নষ্ট করে। কোরআন পাঠ বা ইবাদতের সময়ে আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ব্যবহারকারীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

    এছাড়া বিশ্বজুড়ে ‘মুসলিম প্র’-এর মতো শীর্ষ অ্যাপগুলোর ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ঘাটতির বিষয়টি গ্রাহকদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। ফলে প্রাইভেসির ভয়ে অনেকেই এসব অ্যাপের ব্যবহার সীমিত করছেন বা মুছে ফেলছেন।

    গবেষণার অংশ হিসেবে তরুণ ব্যবহারকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলে তারা জানান, মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন তাদের নিয়মিত সালাত আদায়ে কিছুটা সহায়তা করে ঠিকই, তবে অ্যাপগুলোর যান্ত্রিক নোটিফিকেশন একঘেয়ে হয়ে উঠলে তা কার্যকর থাকে না। এছাড়া কেবল অ্যাপভিত্তিক একাগ্রতা যে মসজিদ বা প্রকৃত আলেমদের সাহচর্যের বিকল্প হতে পারে না, তা-ও ব্যবহারকারীরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

    গবেষকরা প্রযুক্তি ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছেন: ১. আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন: অ্যাপগুলোতে কোরআনের ব্যাখ্যা, হাদিস শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতির উপযোগী দোয়ার জন্য কাঠামোবদ্ধ শিক্ষামূলক মডিউল যুক্ত করা। ২. নৈতিক বিজ্ঞাপন মডেল: ইবাদতের সুপবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে বিজ্ঞাপনভিত্তিক উপার্জনের বদলে ‘ওয়াকফ’ বা দানভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৩. আলেমদের অন্তর্ভুক্তি: অ্যাপের বিষয়বস্তু যেন ইসলামের সহিহ শিক্ষার পরিপন্থী না হয়, সে জন্য কেবল প্রযুক্তিবিদ নয়, বরং বিজ্ঞ ইসলামী আলেমদের তত্ত্বাবধানে ফিচারগুলো ডিজাইন করা। ৪. নিরাপদ সামাজিক স্পেস: প্রাইভেসির ঝুঁকি ছাড়াই ছোট ছোট ভার্চুয়াল তালিম বা চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

  • পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    তুরস্কের শিক্ষাবিদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মাহমুদ ওজেরে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক নগরসমাজ’ধারণাগুলোকে ‘জাস্টিস ইন ইসলামিক থট’ বইয়ের আলোকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ওমর তুর্কার ও ইউনুস কাপলান সম্পাদিত বইটি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের ধারণা কীভাবে ব্যক্তি, পরিবার, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে- তা বিশ্লেষণ করে। লেখাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো—ন্যায়বিচার কেবল আদালত, আইন বা রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; এটি মানুষের অস্তিত্ব ও চরিত্র থেকে শুরু হয়ে পুরো সামাজিক ব্যবস্থাকে ধারণ করে।

    এখানে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ দুটি আলাদা আদর্শ নয়। বরং একটি আরেকটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যে মানুষ নিজের আত্মার ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। আবার যে সমাজ ন্যায়, নৈতিকতা ও সুবিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেই সমাজ ব্যক্তিকে নৈতিকভাবে বিকশিত হওয়ার পরিবেশ দেয়। অর্থাৎ ব্যক্তি সমাজকে তৈরি করে, আবার সমাজও ব্যক্তিকে তৈরি করে।

    এই ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের আত্মার শৃঙ্খলা। প্লেটোনীয় ঐতিহ্যে মানুষের আত্মার তিনটি প্রধান শক্তির কথা বলা হয়—বুদ্ধি, উদ্দীপনা বা সাহসের শক্তি এবং আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের প্রবৃত্তি। প্রত্যেকটির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হলে জ্ঞান, সাহস ও সংযমের মতো গুণের বিকাশ ঘটে। আর এই গুণগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সমন্বয় ঘটায় ন্যায়বিচার। ফলে ন্যায় হয়ে ওঠে অন্যান্য নৈতিক গুণের সমন্বিত ভিত্তি।

    এই দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ মানুষ সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের বুদ্ধি, সাহস ও আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথ ভারসাম্যের মধ্যে আনতে পেরেছেন। তার চরিত্রে জ্ঞান আছে, কিন্তু জ্ঞান অহংকারে পরিণত হয়নি; সাহস আছে, কিন্তু তা উগ্রতায় রূপ নেয়নি; আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু তা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। ন্যায়বোধ এই প্রবৃত্তিগুলোকে যথাস্থানে রাখে।

    ইসলামি নৈতিক দর্শনে এই ধারণা ব্যক্তি থেকে পরিবারের দিকে বিস্তৃত হয়। নাসিরুদ্দিন তুসির ‘আখলাক-ই নাসিরি’তে নৈতিক দর্শনকে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—এই তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত স্তরে দেখা হয়েছে। এখানে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার আলাদা বিষয় নয়। ব্যক্তি যেমন নিজের চরিত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে, তেমনি পরিবার পরিচালনা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক জীবনের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হবে।

    আধুনিক যুগে ন্যায়বিচারকে আমরা সাধারণত আইন, আদালত, অধিকার কিংবা রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের পরিধি আরো বিস্তৃত। সেখানে ন্যায় মানে শুধু কারও অধিকার রক্ষা করা নয়; বরং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ অবস্থানে রাখা এবং প্রতিটি সম্পর্ককে তার উপযুক্ত ভারসাম্যের মধ্যে পরিচালনা করা। অন্যায় হলো কোনো কিছুকে তার যথার্থ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    এই ধারণাটি আল-গাজ্জালির চিন্তাতেও গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে ন্যায় এমন একটি বাস্তব নৈতিক গুণ, যা মানুষের আচরণে প্রকাশ পেতে হবে। শুধু ন্যায় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা যথেষ্ট নয়; ন্যায়কে চরিত্রে পরিণত করতে হবে এবং জীবনের কাজে তার প্রকাশ ঘটাতে হবে। ফলে নৈতিকতা কোনো বক্তৃতা বা তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়—এটি জীবনযাপনের বিষয়।

    এই জায়গায় ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পর্কটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমাজের ন্যায়বিচার শুধু ভালো আইন দিয়ে নিশ্চিত হয় না। আইন প্রয়োগকারী মানুষ, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পরিবার এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে ন্যায়বোধের চর্চা করতে হয়। ন্যায়বান মানুষ ছাড়া ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান টেকসই হয় না। আবার ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া ব্যক্তির নৈতিক বিকাশও কঠিন হয়ে পড়ে।

    আল-ফারাবির ‘গুণী নগর’ ধারণার মূল শক্তি এখানেই। গুণী নগর এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ বা সুখ অর্জনের পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষা, আইন, পরিবার, বাণিজ্য, প্রশাসন—সব সামাজিক প্রতিষ্ঠান মানুষের নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। ফলে রাষ্ট্র কেবল নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার যন্ত্র নয়; এটি মানুষের চরিত্র গঠনের পরিবেশও তৈরি করে।

    এই ধারণার সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব সাধারণত নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি রাজনৈতিক দর্শনে রাষ্ট্রের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত—মানুষের নৈতিক ও সামগ্রিক উৎকর্ষের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে উন্নত করতে পারে।

    এ কারণে ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি শুধু জনগণের জন্য নয়, শাসকের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রের ন্যায় অনেকাংশে নির্ভর করে তার নেতৃত্বের নৈতিক চরিত্রের ওপর। ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় শাসককে নিজেকেই ন্যায় ও আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ শাসকের চরিত্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। লেখক আল-গাজ্জালির আলোচনার সূত্র ধরে দেখিয়েছেন, শাসকের ন্যায়বিচার শুধু তার ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়; তার চারপাশের ক্ষমতাকাঠামো ও সমাজেও এর প্রতিফলন ঘটে।

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়। শুধু আইন তৈরি করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। যদি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হন, বিচারব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, ক্ষমতাবানরা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন এবং নাগরিকের মধ্যে ন্যায়বোধ দুর্বল থাকে, তাহলে সংবিধান ও আইন থাকা সত্ত্বেও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে না।

    ন্যায় তাই একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি। এটি পরিবারে যেমন প্রয়োজন, রাষ্ট্রেও তেমন প্রয়োজন। ব্যবসায় যেমন প্রয়োজন, রাজনীতিতেও তেমন প্রয়োজন। আদালতে যেমন প্রয়োজন, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও তেমন প্রয়োজন। একজন নাগরিকের ন্যায়বোধ এবং একজন শাসকের ন্যায়বোধ একই নৈতিক মূলনীতির অংশ।

    ইসলামি চিন্তায় ন্যায়কে আরও বৃহত্তর এক মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ইবনে আরাবির চিন্তায় আল্লাহর ‘আল-আদল’—ন্যায়বিচারক—নামের সঙ্গে সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলার সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জগতে অন্যায় সেই শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করে। ফলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা কেবল রাজনৈতিক প্রয়োজন নয়; এটি অস্তিত্বের একটি বৃহত্তর নৈতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কেরও অংশ।

    এই জায়গায় আধুনিক বিশ্বের সংকটগুলোর সঙ্গে ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি হয়। আজকের পৃথিবীতে আমরা দুর্নীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক সংকট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আস্থার সংকট নিয়ে আলোচনা করি। এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে আমরা প্রায়ই নতুন আইন, নতুন প্রতিষ্ঠান কিংবা নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর কথা বলি। কিন্তু মানুষের চরিত্রের পরিবর্তন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

    ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর ধারণা সেই জায়গাটিই সামনে আনে। একটি ভালো সমাজের জন্য শুধু ভালো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন নয়; ভালো মানুষও প্রয়োজন। আবার ভালো মানুষ তৈরির জন্য প্রয়োজন এমন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যা নৈতিকতাকে উৎসাহিত করবে।

    অর্থাৎ পরিবর্তনের পথ একমুখী নয়। শুধু মানুষ বদলালে সমাজ বদলাবে—এটিও পুরো সত্য নয়। আবার শুধু প্রতিষ্ঠান বদলালেই মানুষ বদলে যাবে—এটিও যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে পরিবর্তিত হতে হয়। ন্যায়বান নাগরিক ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, আর ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান নতুন প্রজন্মের ন্যায়বান নাগরিক তৈরিতে সহায়তা করে।

    এখানেই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ থেকে ‘গুণী নগর’-এর যাত্রা। ব্যক্তি তার আত্মার মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে; পরিবার সেই ন্যায়কে সম্পর্কের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে; সমাজ সেটিকে সামাজিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেবে; রাষ্ট্র সেটিকে আইন ও শাসনের কাঠামোর মাধ্যমে সংরক্ষণ করবে। আবার রাষ্ট্র ও সমাজের সেই ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ব্যক্তির নৈতিক বিকাশকে আরও শক্তিশালী করবে।

    এই দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ন্যায় কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি একটি জীবনদর্শন। ব্যক্তি যদি ন্যায়বান না হন, পরিবারে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় না; পরিবারে ন্যায় না থাকলে সমাজে ন্যায় দুর্বল হয়; সমাজে ন্যায় দুর্বল হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

    তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের আত্মার প্রশ্নেও ফিরে আসে। রাষ্ট্রের ন্যায় শুরু হয় মানুষের ভেতর থেকে, আবার মানুষের নৈতিক বিকাশের জন্য ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রয়োজন। ব্যক্তি ও সমাজের এই পারস্পরিক নির্মাণই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর সবচেয়ে গভীর শিক্ষা।

    সমকালীন পৃথিবীতে যখন ন্যায়বিচারকে অনেক সময় শুধু আদালত, অধিকার ও আইনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন ইসলামি চিন্তার এই বিস্তৃত ধারণা নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। ন্যায় মানে শুধু অপরাধীর বিচার নয়; ন্যায় মানে প্রত্যেক মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্পর্ককে তার যথাযথ মর্যাদা ও অবস্থান দেওয়া। ন্যায় মানে ক্ষমতার ব্যবহারেও সংযম, সম্পদের বণ্টনে ভারসাম্য, পরিবারে দায়িত্বশীলতা এবং ব্যক্তিজীবনে আত্মশুদ্ধি।

    এই অর্থে একটি ন্যায়ভিত্তিক শহর বা রাষ্ট্র কেবল উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি কিংবা কার্যকর প্রশাসনের নাম নয়। এটি এমন একটি নৈতিক পরিবেশ, যেখানে মানুষ নিজেকে উন্নত করতে পারে এবং অন্যের উন্নতির পথও তৈরি করে। আর সেই সমাজের সূচনা হয় একজন মানুষের নিজের ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ ও গুণী নগর তাই দুটি আলাদা স্বপ্ন নয়। একটি অন্যটির কারণও, ফলও। ন্যায় তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন। ব্যক্তি ন্যায়বান হলে সমাজের ভিত্তি শক্ত হয়; সমাজ ন্যায়বান হলে ব্যক্তির উৎকর্ষের পথ প্রশস্ত হয়। এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার সম্ভাবনা নিহিত।

    মানুষ একা বসবাসের জন্য সৃষ্টি হয়নি। পারস্পরিক প্রয়োজন ও সম্পর্কের কারণে মানুষ পরিবার গড়ে, সমাজ তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও নগরসভ্যতার জন্ম দেয়। কিন্তু মানুষের সম্মিলিত জীবন কীভাবে এমনভাবে সংগঠিত হবে, যাতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত হয়—এই প্রশ্নটি প্রাচীনকাল থেকেই দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম প্রধান বিষয়।

    প্লেটো ও অ্যারিস্টটল থেকে আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, আল-গাজ্জালি, নাসিরুদ্দিন তুসি, ইবনে বাজ্জাহ ও ইবনে খালদুন পর্যন্ত মুসলিম ও অমুসলিম বহু চিন্তক এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যে এ আলোচনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘আল-ইনসান আল-কামিল’—পূর্ণাঙ্গ বা পরিপূর্ণ মানুষ এবং ‘আল-মাদিনাহ আল-ফাদিলাহ’—গুণী বা ন্যায়ভিত্তিক নগররাষ্ট্র। আল-ফারাবি এই চিন্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি নির্মাণ করেন।

  • ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

    ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

    নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে হিজাবসহ মুসলিম ধর্মীয় মাথা ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ করে নতুন আইন কার্যকর করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের স্কুলেই এ আইন প্রযোজ্য।

    সরকারের দাবি, মেয়েদের অধিকার ও লিঙ্গসমতা রক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, আইনটি মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দেশে ইসলামবিদ্বেষ বাড়াতে পারে এবং এটি সাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    অস্ট্রিয়ার ইসলামিক কমিউনিটি আইনটির তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চাইলে সাংবিধানিক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জে তারা সহায়তা করবে।

    এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন বাতিল করেছিল। আদালতের মতে, ওই নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

    নতুন আইনে কোনো শিক্ষার্থী হিজাব পরলে শিক্ষকরা প্রথমে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বারবার আইন ভঙ্গ হলে শিশু সেবা বিভাগকে জানানো হবে এবং সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবককে সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো জরিমানা করা হতে পারে।

    এদিকে শিক্ষক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর একাংশ আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গ্রিন পার্টির সিগি মাউরার অভিযোগ, সরকারের সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নতুন সংঘাত তৈরি করবে।

    অন্যদিকে উগ্র ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি আরো কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাব ও মুখঢাকা পোশাক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

    অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকারও সম্প্রতি ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক বা নেকাব নিষিদ্ধ থাকলেও, অস্ট্রিয়ার নতুন আইনটি বিশেষভাবে মুসলিম মেয়েদের হিজাবকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

  • একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য গত ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ ৩,৯২৫ কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের জন্য গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের আজ সোমবার থেকে টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় জামানত ছাড়াই ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

    ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

    গত ২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেন গভর্নর। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত গ্রাহকদের আবেদন নেন।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমানত ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাইয়ের করেই তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাওয়া গেছে।

    মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয়

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না।

    কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে ওই গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরতের আগে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।

    যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা পাওয়া যাবে না। আংশিক টাকা তুললে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য নিয়মে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যেন অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমানতকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে যাদের তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সবাই যদি একই সময়ে টাকা তুলতে ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হন, তাহলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে টাকা উত্তোলনের জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জের খরচ কম হওয়ায় তাঁদের এই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ফেরত পাবেন।

    আজ রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এই অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। অন্য হাজিদের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কমে ভাড়া নেওয়া এবং সার্ভিস চার্জ কমানোয় এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমের ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাবেন। ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তাঁরা এই অর্থ ফেরত পাবেন না।

    ২০২৭ সালে হজের বিমানভাড়া আরও কমছে

    ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমানভাড়া আগের বছরের থেকে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রিফান্ড পাঠাতে হাজিদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন ও ওটিপির প্রয়োজন নেই। এসব চেয়ে কেউ ফোন করলে কেউ যাতে প্রতারিত না হন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    গ্রাহকের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরো সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে (ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একইসাথে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অধিকতর সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে।

    এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা রয়েছে। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরো দু’টি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরো বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয়

    পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয়

    পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবন সময়ের স্রোতে প্রবাহিত হলেও একজন মুমিনের জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার নামাজের মাধ্যমে। সম্পদ, সম্মান কিংবা ক্ষমতা মানুষের প্রকৃত সফলতার মানদণ্ড নয়; বরং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সময়মতো আন্তরিকতার সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। নামাজ এমন এক ইবাদত, যা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে, গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সালাত বা নামাজকে।

    কোরআনে প্রায় ৮০টিরও বেশি স্থানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এসেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা : ১০৩) আরো বলেন, ‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৪৩) আল্লাহ আরো বলেন, ‘আমার স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা ত্ব-হা : ১৪)এছাড়া সুরা আল-বাকারা (২:১১০), সুরা হুদ (১১:১১৪), সুরা আল-ইসরা (১৭:৭৮), সুরা আল-মুমিনুন (২৩:১-২), সুরা আল-আনকাবুত (২৯:৪৫), সুরা আল-মাউনসহ (১০৭:৪-৫) বহু আয়াতে নামাজের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

    নামাজ ফরজ হওয়ার মূল দলিল

    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা : ১০৩) রাসুল (সা.) বলেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ; যে তা প্রতিষ্ঠা করল, সে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করল, আর যে তা ধ্বংস করল, সে দ্বীনকে ধ্বংস করল।’ (বায়হাকি : ১৫৩৯)

    মুসলিম ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য

    একজন প্রকৃত মুসলিম নামাজকে জীবনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, আর মুনাফিক নামাজকে অবহেলা করে। আল্লাহ বলেন, ‘মুনাফিকরা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়; তারা লোকদেখানোর জন্য নামাজ পড়ে এবং আল্লাহকে খুব সামান্যই স্মরণ করে।’ (সুরা আন-নিসা : ১৪২)

    রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন নামাজ হলো এশা ও ফজরের নামাজ। তারা যদি এর ফজিলত জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাতে উপস্থিত হতো।’ (বুখারি : ৬৫৭; মুসলিম : ৬৫১) আরো বলেছেন, ‘মানুষ ও কুফর বা শিরকের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।’ (মুসলিম : ৮২)

    পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়

    ফজর : সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসলিম : ৬১৩)

    জোহর : সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার পর থেকে আসরের পূর্ব পর্যন্ত। (তিরমিজি : ১৪৯)

    আসর : বিকালে নির্ধারিত সময় থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছেড়ে দিল, তার আমল বিনষ্ট হয়ে গেল।’ (বুখারি : ৫৫৩)

    মাগরিব : সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে পশ্চিমের লাল আভা মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম : ৬১২)

    এশা : লাল আভা মিলিয়ে যাওয়ার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত; প্রয়োজনে ফজরের আগেও আদায় করা যায়। (মুসলিম : ৬১২)

    মসজিদে জামাতে নামাজের বিধান

    ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য সামর্থ্য থাকলে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জামাতের নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’ (বুখারি : ৬৪৫; মুসলিম : ৬৫০)

    তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি ইচ্ছা করেছিলাম যারা জামাতে উপস্থিত হয় না, তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই।’ (বুখারি : ৬৪৪; মুসলিম : ৬৫১)

    কোন কোন ওজরে ঘরে নামাজ পড়া যাবে

    শরিয়ত মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য কিছু বৈধ ওজরে ঘরে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ঘরে নামাজ আদায় করলে গুনাহ হবে না। যেমনÑ

    ১। অসুস্থতা বা শারীরিক দুর্বলতা।

    ২। প্রবল বৃষ্টি, ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

    ৩। জীবন বা সম্পদের নিরাপত্তার আশঙ্কা।

    ৪। সফররত অবস্থায়।

    ৫। এমন কাদা বা দুর্ভোগ, যাতে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।

    নামাজ মানুষকে কী শিক্ষা দেয়

    নামাজ শুধু কিছু শারীরিক আন্দোলনের নাম নয়; এটি মানুষের চরিত্র গঠন করে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আল-আনকাবুত : ৪৫) আরো বলেন, ‘সফলকাম হয়েছে সেই মুমিনরা, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী।’ (সুরা আল-মুমিনুন : ১-২)

    নারী ও পুরুষের নামাজ

    নামাজের মূল বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একই। তবে পোশাক, পর্দা এবং কিছু শারীরিক ভঙ্গি সম্পর্কে ফিকহের বিভিন্ন মাজহাবে কিছু পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে। এসব পার্থক্যের উদ্দেশ্য হলো শালীনতা ও পর্দা রক্ষা; তবে নামাজের মৌলিক রুকন ও শর্ত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য অভিন্ন।

    পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একজন মুসলমানের পরিচয়, ঈমানের প্রমাণ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। যে ব্যক্তি সময়মতো নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তার জীবনকে বরকতময় করেন এবং আখিরাতে সফলতা দান করেন। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ অবহেলা করে, সে নিজেকেই চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। তাই আসুন, কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী সময়মতো, একাগ্রচিত্তে এবং সম্ভব হলে মসজিদে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

  • ‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’

    ‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’

    মুসলিম বিশ্বকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন নতুন করে পাঠ করার পাশাপাশি তার শিক্ষা ও আদর্শকে বাস্তব জীবনযাপনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ড. সৈয়দ রুহুল্লাহ হোসেইনি। তিনি বলেছেন, মহানবী (সা.) শুধু একটি নির্দিষ্ট জাতি, ভূখণ্ড বা সময়ের জন্য প্রেরিত নন; তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত, নৈতিকতা, মানবিক মর্যাদা ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে এসেছেন।

    মাজার-ই-শরিফ শহরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও হজরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণ নয়; এটি এমন এক আলোর উদয়ের স্মরণ, যা মানবজাতিকে অজ্ঞতা, নিপীড়ন ও অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সঠিক পথ দেখানোর জন্য প্রেরিত হয়েছিল। পবিত্র কোরআনের ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি’ আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবীজির (সা.) বার্তা রহমত, তাওহিদ ও মানবিক মর্যাদার বার্তা।

    নৈতিকতাই নবীজির শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি

    মহানবী (সা.)-এর চরিত্রকে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করে হোসেইনি বলেন, কোরআন তাকে ‘মহান চরিত্রের অধিকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, নবীজির (সা.) শিক্ষায় নৈতিকতা কোনো গৌণ বিষয় নয়; বরং তার দাওয়াত ও জীবনাদর্শের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

    সততা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, দয়া, ন্যায়বিচার, মানুষের প্রতি সম্মান এবং অসহায়দের প্রতি দায়িত্বশীলতা—এসব নবীজির (সা.) নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের মুসলিম সমাজের এসব গুণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, মানুষের অন্তরে যদি মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে সেই ভালোবাসার প্রতিফলন সামাজিক আচরণেও দেখা যেতে হবে। নবীজির (সা.) সম্পর্কে জ্ঞান শুধু আলোচনা, মাহফিল বা জন্মবার্ষিকী পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা মানুষের নৈতিকতা, আচরণ ও জীবনযাপনে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

    বিভেদ নয়, ঐক্য

    মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কথা তুলে ধরেন হোসেইনি। তার ভাষায়, মহানবী (সা.) এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার ভিত্তি ছিল তাওহিদ ও ঈমান। পবিত্র কোরআনও মুসলমানদের আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে এবং বিভক্ত না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    তিনি বলেন, শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাওহিদ, পবিত্র কোরআন, মহানবী (সা.)-এর নবুয়ত ও কিবলার মতো মৌলিক বিষয়ে তাদের অভিন্নতা রয়েছে। এসব অভিন্ন বিষয় মুসলিম ঐক্য ও সংহতির শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

    মতপার্থক্য যেন শত্রুতা ও বিভাজনে পরিণত না হয়—এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতভেদকে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সুযোগে পরিণত করা উচিত।

    জ্ঞান ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন সভ্যতা

    মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শে জ্ঞান ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে হোসেইনি বলেন, নবীজির (সা.) দাওয়াতের সঙ্গে শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক প্রশিক্ষণও যুক্ত ছিল। কোরআনে নবীজির দায়িত্বের মধ্যে আয়াত পাঠ, মানুষের পরিশুদ্ধি এবং কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    তার মতে, মহানবী (সা.) যে সমাজ নির্মাণ করেছিলেন, তা ছিল জ্ঞান, শিক্ষা ও মানবিক প্রশিক্ষণের সমাজ। তাই মুসলিম বিশ্বের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাকেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব হলো অজ্ঞতা, পশ্চাৎপদতা ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে কাজ করা।

    বিশেষ করে মুসলিম তরুণদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও নিজস্ব পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সমন্বয় করে তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন ও মানবিক সভ্যতা নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা

    হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষায় মানুষের মর্যাদা সম্পদ, ক্ষমতা, বংশ, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। ঈমান, তাকওয়া ও মানবিকতাই ছিল মানুষের মর্যাদার মূল ভিত্তি।

    নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে মুসলমানদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন এবং মুসলিম বিশ্বের বিবেক ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান।

    আধুনিক সংকটেও নবীজির আদর্শ প্রাসঙ্গিক

    বর্তমান বিশ্বের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে হোসেইনি বলেন, এত উন্নতির পরও মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা, বৈষম্য, অবিচার, উগ্রবাদ, নৈতিক অবক্ষয় ও আধ্যাত্মিক সংকট থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ফলে বর্তমান বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর রহমত, নৈতিকতা, মানবিক মর্যাদা ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    কোরআনের ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ’ আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন শুধু ইতিহাস পাঠের বিষয় নয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর জীবন আজও পথনির্দেশ দিতে পারে।

    ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ অনুসরণে

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার অর্থ তার পথ ও নৈতিকতাকে অনুসরণ করা। তার মতে, মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্তার সারকথা এক বাক্যে বলতে হলে বলা যায়—মুহাম্মদ (সা.) রহমত, নৈতিকতা, ঐক্য, জ্ঞান ও ন্যায়বিচারের নবী। তাই এসব মূল্যবোধকে শুধু অনুষ্ঠান ও বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের বাস্তব পরিসরে নিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত মুসলমানদের দায়িত্ব।

  • কোণঠাসা বিজেপি আবার কট্টর হিন্দুত্বে ঝুঁকছে

    কোণঠাসা বিজেপি আবার কট্টর হিন্দুত্বে ঝুঁকছে

    টানা আড়াই দশক ক্ষমতায় থেকে নানা কারণে কোণঠাসা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আবার কট্টর হিন্দুত্বের দিকে ঝুঁকছে। নানা রাজ্যে নানাভাবে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    অযোধ্যার পর উত্তর প্রদেশের কাশী, মথুরা, সম্ভল কিংবা মধ্যপ্রদেশের ভোজশালাসহ বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণে মন্দিরের নিদর্শন খোঁজা শুরু হয়। সেই প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত। কিন্তু উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে সম্প্রতি যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। হরিয়ানা, উত্তরাখন্ড ও হিমাচল প্রদেশের লাগোয়া উত্তর প্রদেশের এই জেলার জেলা শাসকের অফিস লাগোয়া দেড় শ বছরের প্রাচীন এক মসজিদ গত শনিবার বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমিতে মসজিদ থাকার কারণে নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনে জেলা প্রশাসন ওই সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি জমি দখলের অভিযোগে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।

    ওই মসজিদ সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের এক নেতা ২০২৫ সালে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে মামলা ঠুকেন। গত ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেট নির্মাণটি বেআইনি ঘোষণা করে। সরকারি জমি দখলের জন্য কর্তৃপক্ষকে জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়।

    মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জেলা জজ কোর্টে। সেখানেও আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। ২ সেপ্টেম্বর সেই সিদ্ধান্তের পরেই মসজিদ কর্তৃপক্ষকে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে প্রশাসন গত শুক্রবার রাতে বুলডোজার নিয়ে তৈরি হয়। পরদিন শনিবার ভোর থেকেই শুরু হয় মসজিদ ভাঙা। গোলমাল রুখতে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ। প্রশাসনকে রুখতে তৎপর হয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হোসেন। কিন্তু তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

    এমন তৎপরতার সঙ্গে এত দ্রুত কোনো মসজিদ আগে ভাঙা হয়নি। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল দীর্ঘকাল আইনি লড়াই শেষে। কাশী, মথুরা, সম্ভল, ভোজশালাসহ বিভিন্ন মসজিদ নিয়েও আইনি লড়াই অব্যাহত। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদটির স্থানান্তকরণ নিয়েও বহু বছর ধরে আলোচনা চলছে। হুট করে কোথাও কিছু করা হচ্ছে না। কিন্তু সাহারানপুর ব্যতিক্রম। সেখানে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। বিতর্ক ও প্রশ্ন এ নিয়েই। উত্তেজনাও এই কারণে। হায়দরাবাদের এআইএমআইএম নেতা ও সংসদ সদস্য আসাউদ্দিন ওয়েইসি বলেছেন, এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    উত্তর প্রদেশ বিধানসভার ভোট আগামী বছরের গোড়ায়। ওই রাজ্যে টানা তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার হতে চলেছেন বিজেপির সন্ন্যাসী নেতা যোগী আদিত্যনাথ। ঠাকুর বা ক্ষত্রিয় আদিত্যনাথের শাসনামলে রাজ্যের ব্রাহ্মণসমাজ কোণঠাসা। তারা ক্ষুব্ধ। অযোধ্যায় রামকোষে চুরি নিয়েও হিন্দু মন বিব্রত। বিড়ম্বিত। নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষা, এমনকি চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যের মতো এই রাজ্যেও মাথাচাড়া দিচ্ছে জেন–জি ও জেন আলফা।

    ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি বিপুল সাড়া ফেলেছে। উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন শহরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন রাহুল। বিরোধী দুই দল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসও ক্রমেই কাছাকাছি আসছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব নতুন করে উগ্র হিন্দুত্ববাদে উসকানি দিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠে গেছে সাহারানপুরের মসজিদ ধ্বংসের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।

    তবে শুধু সাহারানপুরের ঘটনা নয়, বিভিন্ন রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি ও সংগঠন বেপরোয়াভাবে যা যা করে চলেছে, তাতে এমন মনে করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। বিশেষ করে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে একধরনের প্রতিবাদী চরিত্র মাথাচাড়া দেওয়ায়।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে অংশগ্রহণকারী এক নাবালিকা ছাত্রীর বাবাকে খুনের চেষ্টায় ব্যাপক মারধরের এক ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার দায় স্বীকারই শুধু করেননি, রীতিমতো বড়াই করে বলেছেন যে তিনি ওই ব্যক্তিকে খুন করতেই চেয়েছিলেন। বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, লোকজন শক্তি পার্টির নেতা চিরাগ পাসোয়ান এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ‘বড় ভাই’ সম্বোধন করে তিনি বলেছিলেন, এরা সবাই তাঁর রক্ষক। কেউ তাঁকে ছুঁতে পারবে না। প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে এমন অপরাধের কথা স্বীকার করা সত্ত্বেও পুলিশ ওই যুবককে ধরেনি। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত করেনি। এরপর সিজেপি, কংগ্রেস ও অন্য দলের নেতারা দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা ঘেরাও করেন। দিল্লি পুলিশকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার। শেষ পর্যন্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করছে, শাসক দলের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে পুলিশ ও প্রশাসনকে ১০ বার ভাবতে হয়। চাপে না পড়লে পুলিশ প্রশাসন কিছু করতেও চায় না। আরও বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির বিরুদ্ধে জন–অসন্তোষ যত বাড়ছে, বিজেপি তত উগ্র হিন্দুত্ববাদকে আঁকড়ে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছে।

    সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’, এই স্লোগান অর্থহীন। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে পরিষদের নেতারা এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা এক অর্থহীন স্লোগান। ধর্ম যার উৎসবও তার। এটা সব ধর্মের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যারা ধর্মের ধারক তারাই তার বাহক। সেই কারণে আগামী দিনের স্লোগান হওয়া উচিত, ধর্ম যার যার, উৎসবও তার তার।’

    এই নতুন স্লোগানের পাশাপাশিই কট্টর হিন্দুত্বাদীরা দাবি করেছেন, দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপে মণ্ডপে আমিষ খাবারের স্টল দেওয়া যাবে না। এই ফরমান পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের ক্ষুব্ধ করেছে। প্রতিবাদের ঢেউ বইতে শুরু করেছে। একইভাবে মহারাষ্ট্রে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতারা জানিয়েছেন, প্রতি নবরাত্রিতে রাজ্যে যে গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠান হয়, তাতে মুসলমানদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাঁরা বলেছেন, গরবা ও ডান্ডিয়া নাচ একান্তভাবেই হিন্দুদের নাচের অনুষ্ঠান। সেখানে অহিন্দু সম্প্রদায় থাকলে পবিত্রতা নষ্ট হবে। পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র বলেছেন, ‘নবরাত্রি হিন্দুদের সংস্কৃতি। তার গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।’ অহিন্দু, বিশেষ করে মুসলমানদের ঠেকাতে বলা হয়েছে, যাঁদের কপালে তিলক থাকবে না তাঁদের ওই অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে নিরাপত্তারক্ষীরা আধার কার্ডও দেখতে পারে।

    একইভাবে রামনবমীর আসরও মুসলমানমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। দুর্গাপূজার সময় গোটা উত্তর ভারতে বসে রামনবমীর আসর। টানা ৯ দিন ধরে রামায়ণের বিভিন্ন অধ্যায়ের নাট্যরূপ শেষে বিজয়া দশমী বা দশেরার দিন হয় রাবণবধ। এই উৎসবে বহু অহিন্দু অভিনেতা–অভিনেত্রী অংশ নিয়ে থাকেন। বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ক্ষেত্রবিশেষে মুসলমান অভিনেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশিষ্ট হিন্দি অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালে উত্তর প্রদেশে তাঁর জেলায় রামনবমীর আসরে তাঁকে মারীচের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেওয়া হয়নি। ২০২২ সালের পর রাজ্যে এই প্রবণতা বেড়ে যায়। এবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বিভিন্ন রাজ্যে এই বিষয়ে নতুন করে ফরমান জারি করতে চলেছে। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব তার তার’ স্লোগান অনুযায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রামনবমীর সময় রামলীলায় অহিন্দু অভিনেতা–অভিনেত্রীদের যেন বাছা না হয়। অনুষ্ঠানেও যেন অহিন্দুদের প্রবেশ না ঘটে।

    বিজেপি এই প্রবণতার বিরুদ্ধে এখনো কোথাও দলীয়ভাবে কিছুই বলেনি। সম্ভবত তারা মনে করছে, নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কট্টর হিন্দুত্ববাদই সেরা অস্ত্র।

  • ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি প্রচেষ্টার নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

    ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি প্রচেষ্টার নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

    গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়ে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশ।

    পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনি জনগণকে যেকোনো অজুহাতে বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে নেওয়া সব ধরনের প্রচেষ্টা বা পরিকল্পনা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানান। বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর।

    এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইসরাইলি মন্ত্রীদের এসব উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।

  • দিল্লিতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে নির্যাতন

    দিল্লিতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে নির্যাতন

    পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভারতের দিল্লিতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাদের থানায় তুলে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর।

    শুধু তা-ই নয়, তারা মুসলিম জানার পর পুলিশ অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো ভারতে এখন তীব্র ক্ষোভ ও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    ঘটনাটি ঘটে দিল্লির সাকেত এলাকায়। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সেখানকার একটি হাসপাতালের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম ‘৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। এতেই বিপত্তি ঘটে। পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং ধরে সাকেত থানায় নিয়ে যায়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিক শাহীন খান শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখাচ্ছেন। নাফিসা খান ব্যথায় হাঁটতে পারছিলেন না, অন্যরা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।

    ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় তাদের লাঠি দিয়ে পেটানো হয় এবং থাপ্পড় মারা হয়। শাহীন জানান, তার নাম ‘খান’ শুনে পুলিশ ধর্ম জানতে চায়। এরপর ফোনে এক মুসলিম ব্যক্তির কল আসতে দেখে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলে ওঠেন, ও তো মুসলিম, ওকে আরও দুটো লাঠির বাড়ি বেশি মারো।

    তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চলাচলের পথ আটকে দেওয়ার কারণেই তাদের থানায় নেওয়া হয়েছিল। মারধরের তথ্যটি সত্য নয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। একাধিক সাংবাদিক সংগঠন দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ঘটনার বিচার চেয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও তোপ দেগেছে সরকারের দিকে। বিরোধী নেতারা বলছেন, দেশে এখন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করা এবং মুসলিম হওয়া যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • শুক্রবারের দিনটি যেভাবে কাটাবেন

    শুক্রবারের দিনটি যেভাবে কাটাবেন

    মুসলমানদের জীবনে শুক্রবার একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। এটি কেবল কর্মব্যস্ততা বা ছুটির দিন নয়, বরং ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনকে সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই একজন মুমিনের উচিত দিনটিকে সুন্দর আমলে সাজিয়ে নেওয়া।

    ফজরের পর কোরআন তিলাওয়াত করুন
    দিনের শুরুটা কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে করা উত্তম। বিশেষ করে জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, এ দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত থাকে।

    বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন
    শুক্রবারে বিশ্বনবী (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠের গুরুত্ব অনেক। পথচলার সময়, কাজের ফাঁকে বা অবসর মুহূর্তে জিকির ও দরুদ পাঠের মাধ্যমে দিনটি কল্যাণময় করে তোলা যায়।

    পরিচ্ছন্নতা ও প্রস্তুতি
    জুমার নামাজের আগে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে যেমন শরীর পরিচ্ছন্ন থাকে, তেমনই জুমার দিনের প্রতি বিশেষ সম্মানও প্রকাশ পায়।

    আগেভাগে মসজিদে গমন
    সম্ভব হলে জুমার জামাতের বেশ কিছুক্ষণ আগেই মসজিদে পৌঁছানো উচিত। সেখানে মনোযোগের সঙ্গে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটানো উত্তম। খুতবা চলাকালে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং যেকোনো ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

    দোয়ার কবুলিয়াতের সময় খোঁজা
    জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। আলেমদের মতে, আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়টি দোয়া কবুলের অত্যন্ত সম্ভাব্য সময়। তাই এই সময়ে নিজের ও সবার কল্যাণে দোয়া করা উচিত।

    আত্মসমালোচনা ও তওবা
    সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে পেছনের ভুলত্রুটিগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিগত সময়ের গুনাহের জন্য তওবা করে

  • কিয়ামতে সাক্ষী দেবে জিকিরে ব্যবহৃত আঙুল

    কিয়ামতে সাক্ষী দেবে জিকিরে ব্যবহৃত আঙুল

    ইসলামে জিকিরের তাৎপর্য ও ফজিলত অপরিসীম। মহান আল্লাহর প্রশংসা ও জিকির গণনার ক্ষেত্রে অনেকেই তাসবিহর মালা ব্যবহার করেন। তবে ইসলামি শরিয়তে মালা বা দানার চেয়ে নিজের আঙুল ব্যবহার করে তাসবিহ গণনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) ডান হাতের আঙুলে জিকির গণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

    হজরত ইয়াসিরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা আঙুলের সাহায্যে জিকির গণনা করো। কারণ কিয়ামতের দিন এই আঙুলগুলো সম্পর্কে জবাবদিহি চাওয়া হবে এবং এগুলো সেদিন আল্লাহর দরবারে কথা বলবে। (আবু দাউদ)

    কিয়ামতের কঠিন দিনে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার ভালো-মন্দ আমলের সাক্ষ্য দেবে। যে আঙুল দিয়ে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে আল্লাহর জিকির গণনা করা হবে, বিচার দিবসে সেই আঙুলই বান্দার ইবাদতের পক্ষে সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াবে।

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) উল্লেখ করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বদা ডান হাতের সাহায্যে জিকির গণনা করতে দেখা গেছে। তাই বাম হাত বা অন্য কোনো মাধ্যমের চেয়ে ডান হাতের আঙুল ব্যবহার করাই সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী ও উত্তম পদ্ধতি।

    তাসবিহর মালা দিয়ে জিকির গণনার বিষয়ে কিছু বর্ণনা থাকলেও সেগুলোর সনদ তুলনামূলক দুর্বল। ফলে মালা ব্যবহারকে সরাসরি ‘সুন্নতি পদ্ধতি’ বলা সঠিক নয়। তবে জিকিরের সংখ্যা মনে রাখার সুবিধার্থে কেউ যদি মালা বা আধুনিক কোনো কাউন্টার ব্যবহার করেন, সেটিকে শরিয়তে নিষিদ্ধ বলা হয় না। যদিও রাসুল (সা.)-এর শেখানো আঙুলে গণনা করার পদ্ধতিতেই সওয়াব ও ফজিলত বেশি।

    ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। কেবল সংখ্যা পূরণের চেয়ে জিকিরের অর্থ বোঝা ও মনোযোগ ধরে রাখা অধিক জরুরি। লোকদেখানো আমল থেকে বেঁচে থেকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ডান হাতের আঙুলে জিকির করাই ইবাদতের সঠিক রূপ।

  • অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ: ইসলামি শরিয়তে নসব ও মাতৃত্বের বিধান কী?

    অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ: ইসলামি শরিয়তে নসব ও মাতৃত্বের বিধান কী?

    প্রশ্ন— যদি কোনো স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হন, তাই স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিয়ে তা কোনো অপরিচিত নারীর গর্ভে স্থাপন করা হয় এবং ওই নারী সন্তান জন্ম দেন, তাহলে সেই সন্তানের নসব কার সঙ্গে সাব্যস্ত হবে?

    ওই সন্তান কি স্বামী-স্ত্রীর সন্তান হিসেবে গণ্য হবে, নাকি যে নারী তাকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই তার মাতৃত্বের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে?

    উত্তর— এই পদ্ধতিতে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কোনো অপরিচিত নারীর গর্ভে স্থাপন করা জায়েয নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ হারাম। তবে এভাবে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে, যে নারী সন্তানটিকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সন্তানের মাতৃত্বের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে। উক্ত নারী বিবাহিত হলে, «الولد للفراش»-এর ভিত্তিতে তার স্বামীর সঙ্গেই সন্তানের নসব সাব্যস্ত হবে।

    আর যদি ওই নারী অবিবাহিত হন, তাহলে সন্তানের নসব শুধু যে নারী তাকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সাব্যস্ত হবে।পক্ষান্তরে, যে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের সঙ্গে সন্তানের নসব সাব্যস্ত হবে না।

    قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الولد للفراش وللعاهر الحجر (صحيح البخارى-1/276، رقم-2007، سنن الترمذى-1/219)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘সন্তান বিছানার (অর্থাৎ বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের) অধিকারীর, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (অর্থাৎ সে সন্তান থেকে বঞ্চিত ও তার অংশ কেবলই হতাশা বা শাস্তি)। ’

    الولد لصاحب الفراش لا ينتفى عنه أبدا…. ولا بوجه من الوجوه إلا باللعان (أوجز المسالك، كتاب الأقضية، دار القلم دمشق-14/75/ تحت رقم الحديث-1445)

    সন্তান বিছানার মালিকের (অর্থাৎ বৈধ স্বামীর); তার থেকে সন্তানের বংশপরিচয় কখনোই কোনো উপায়ে বিচ্ছিন্ন বা অস্বীকার করা যাবে না, কেবল ‘লিআন’ (ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ অভিশাপের প্রক্রিয়া) ছাড়া।

    فنسب الولد من الرجل لا يثبت إلا بالفراش، وهو أن تصير المرأة فراشا له، لقوله عليه السلام “الولد للفراش وللعاهر الحجر” (بدائع الصنائع، زكريا-5/362)

    পুরুষের পক্ষ থেকে সন্তানের বংশপরিচয় কেবল ‘ফিরাশ’ (বৈধ বিবাহ বা বৈবাহিক সম্পর্ক)-এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়।আর ‘ফিরাশ’ হলো নারী তার জন্য বৈধ স্ত্রী হিসেবে পরিগণিত হওয়া। কারণ রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন— ‘সন্তান বিছানার অধিকারীর, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। ’

    فعلى هذا إذا زنا رجل بامرأة فجاءت بولد فادعاه الزانى لم يثبت نسبه منه لانعدام الفراش، وأما المرأة فيثبت نسبه منها (بدائع الصنائع، زكريا-5/363)

    সুতরাং এই মূলনীতির ভিত্তিতে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় এবং এর ফলে কোনো সন্তান জন্মায়, এরপর সেই ব্যভিচারী পুরুষ সন্তানটিকে নিজের বলে দাবি করে, তবুও তার সাথে সন্তানের বংশপরিচয় সাব্যস্ত হবে না; কারণ সেখানে কোনো বৈধ ‘ফিরাশ’ বা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না। তবে মায়ের সাথে সন্তানের বংশপরিচয় ঠিকই সাব্যস্ত হবে।

  • সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

    কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

    বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য বৈঠক সুপারিশ করে।

    বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, মো: শাহাদাত হোসেন, মো: সাইফুল আলম ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অংশগ্রহণ করেন।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • রিজিক বাড়াতে কী করবেন, কী বলছে কোরআন-হাদিস

    রিজিক বাড়াতে কী করবেন, কী বলছে কোরআন-হাদিস

    রিজিক আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য একটি বড় নেয়ামত। মানুষের জীবনযাত্রা, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা দুশ্চিন্তার মধ্যেও রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    মানবজীবন সবসময় একই গতিতে চলে না। কখনো স্বস্তি আসে, আবার কখনো কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়। জীবনের কোনো পর্যায়ে মনে হতে পারে, সব পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে। তখন মানুষ আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের আশায় তাঁর দিকে ফিরে যায়।

    ইসলাম মানুষকে শুধু দোয়া করার শিক্ষা দেয়নি; বরং হালাল পথে পরিশ্রম করে জীবিকা অন্বেষণের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ দিয়েছে। রিজিকে বরকত ও প্রশস্ততার জন্য নিয়মিত ইবাদত, দোয়া, ইস্তিগফার এবং সৎকাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    হালাল পথে রিজিক অন্বেষণ

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

    فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ ابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَ اذۡکُرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ

    অর্থ: “অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো। আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”

    —সুরা আল-জুমুআহ, আয়াত ১০

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইবাদতের পাশাপাশি বৈধ ও হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

    ইবাদতে মনোযোগ

    হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান, তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করো; আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। আর তুমি যদি তা না করো, তাহলে তোমার হাত ব্যস্ততায় পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।

    এই বর্ণনাটি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং সুনানে তিরমিজিতে এসেছে।হাদিসটির শিক্ষা হলো—দুনিয়াবি ব্যস্ততার পাশাপাশি আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় বের করা জরুরি। জীবনের প্রয়োজন পূরণে চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করাও একজন মুমিনের দায়িত্ব।

    রিজিকে বরকতের জন্য দোয়া

    রিজিক ও জীবনে বরকতের জন্য একটি দোয়া রয়েছে—

    اللهم اغفر لي ذنبي ووسع لي في رزقي وبارك لي فيما رزقتني

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি‘ লি ফি রিযকি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার রিজিক প্রশস্ত করে দিন এবং আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন, তাতে বরকত দান করুন।

    সুনানে তিরমিজিতে এ দোয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, অভাব ও রিজিকের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

    বেশি বেশি ইস্তিগফার

    রিজিক ও কল্যাণের জন্য ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রতিও কোরআনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সুরা নুহে হজরত নুহ (আ.) তাঁর জাতিকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। এরপর বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থাৎ, গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা মুমিনের জন্য কল্যাণের পথ খুলে দিতে পারে।

    সূরা আল-ওয়াকিয়া তিলাওয়াত

    অনেক মুসলমান রিজিকে বরকতের আশায় নিয়মিত সূরা আল-ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করেন। তবে ‘প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াকিয়া পড়লে কখনো দারিদ্র্য আসবে না’—এ মর্মে যে বর্ণনাটি প্রচলিত, তার সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এটিকে নিশ্চিত বা অকাট্য হাদিস হিসেবে প্রচার না করাই সতর্কতার বিষয়।

    তবে কোরআনের প্রতিটি সূরা তিলাওয়াতই সওয়াবের আমল। তাই সূরা আল-ওয়াকিয়াসহ কোরআন নিয়মিত পড়া, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা একজন মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।

    তাওয়াক্কুলের সঙ্গে পরিশ্রম

    শুধু দোয়া করলেই হবে না, রিজিকের জন্য হালাল পথে চেষ্টা করাও জরুরি। একজন মানুষ তার সাধ্য অনুযায়ী কাজ করবে, পরিশ্রম করবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে।

    হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ যত বেশি হোক, তাতে প্রকৃত বরকত থাকে না। তাই রিজিকের ক্ষেত্রে পরিমাণের পাশাপাশি তার উৎস হালাল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    রিজিক শুধু অর্থ-সম্পদের নাম নয়। সুস্থতা, পরিবার, নিরাপত্তা, জ্ঞান, সময়, শান্তি—সবই আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত। তাই জীবনে অভাব বা সংকট এলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা, দোয়া করা এবং বৈধ পথে নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিত।

    মানুষের কাজ হলো চেষ্টা করা; আর ফলাফল আল্লাহর হাতে। তাই রিজিকের জন্য দোয়ার পাশাপাশি হালাল উপায়ে পরিশ্রম, ইবাদত, ইস্তিগফার ও সৎকাজকে জীবনের অংশ করে নেওয়াই হতে পারে একজন মুমিনের সুন্দর পথ।

  • শাহজালালে সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার জব্দ

    শাহজালালে সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার জব্দ

    রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের সিটের নিচ থেকে ৮০টি সোনার বার জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। জব্দ করা সোনার মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ৯ দশমিক ৩৩ কেজি। এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে মালিকহীন অবস্থায় এসব সোনা জব্দ করা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ৯টার দিকে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটে সোনা চোরাচালান হচ্ছে।

    খবর পাওয়ার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালাতে যান। তখন সেটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়ে ১৯-এ নম্বর সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট পাওয়া যায়।

    পরে প্যাকেটগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে খোলা হয়। সেখানে ৮০টি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে সোনার ওজন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম।

    কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সোনার বারগুলো অত্যন্ত কৌশলে সিটের নিচে লুকানো অবস্থায় ছিল। উদ্ধার করা সোনার চালানটি মালিকবিহীন হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জব্দ করা সোনার বারগুলো বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা রাখা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় সন্দেহজনক কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ

  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

    বার্তায় তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে তাকে শুভকামনা জানান এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্টের চেয়ারম্যান শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার শপথ গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশায় রয়েছে বলে জানানো হয়।

  • দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এরই মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশও দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

    বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে মানুষের কষ্টে আমরা সমব্যথী।’ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, নষ্ট হওয়া একটি এফএসআরইউ মেরামতের পরও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশও দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

    বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে নেই।

    বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লাবাহী লাইটারেজ আনা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কয়লা সরবরাহ সহজ হবে। তখন পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে।

    পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি। এতে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুতের ভোগান্তি কমবে।

    অতিবৃষ্টির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছে সরকার।

    সংবাদ সম্মেলনে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এক বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রুড অয়েল পরিশোধন সক্ষমতা তিন গুণ বাড়বে বলে জানান তিনি। বছরে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি মেটানো সম্ভব হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি।

    ডিপিপি অনুযায়ী, ২০৩০ সালে প্রকল্পটি চালুর কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ করার ও বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ আহ্বান জানান। যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন। তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জনান।

    রাষ্ট্রপতি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্য প্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে অসাম্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এই অবদান ও ভূমিকা চিরদিন স্মরণ রাখবে।

    সাক্ষাতকালে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশী প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

    জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিমানবন্দরে হয়রানি, প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবা ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসী কার্ড চালু করেছে।

    রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে দেশে বিনিয়োগের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের তা গ্রহণ করার আহ্বান জনান। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিনিধিদলটি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    আরও পড়ুন: এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, গুম প্রতিরোধ দিবসে রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। আপনারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশে তুলে ধরবেন। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    বুধবার সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চাই না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে।’

    বর্তমান সংকটকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।

    গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

    ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

    এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

    তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির ফলে আগামী গ্রীষ্মে চলতি সময়ের মতো বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।

  • গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতার সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

    পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জনসমস্যা তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা জামায়াতের আমির বৈঠকে তুলে ধরেন। পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের আন্তরিক ভূমিকার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জুলাই চার্টার অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকারি ও বিরোধীদলের মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ভিন্নমত ছাড়াই এই রায় মেনে নেওয়ার জন্য দলগুলোকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার তাগিদ দেন তারা।

    বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস এবং দলীয়করণের নানা চিত্র তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    জামায়াত আমির বৈঠকে বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও খোলামেলাভাবে তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

  • প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারকা চিহ্নিত সবকটি প্রশ্নই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছে, সেখানে আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আগে আপনি (স্পিকার) আমাদের চারটি সুযোগ দিলেও আজকে আটটির সবগুলোই ছিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের।’

    সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করবেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তত বেশি শক্ত হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

    নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগের জবাবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবসময়ই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় এবং সরকার জবাবদিহিমূলক। তবে প্রশ্ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নিয়ম ও অগ্রগণ্যতার বিষয়টি প্রাধান্য পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কথা নয়। নিয়ম অনুযায়ী যিনি প্রশ্ন আগে জমা দেবেন, তিনি আগে সুযোগ পাবেন—এটাই হলো পদ্ধতি এবং এটি সিলেক্ট করেন মাননীয় স্পিকার।’

    বিরোধী দলের সদস্যরা পিছিয়ে পড়লে তা তাদের নিজস্ব অসুবিধা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে সবাই সময়মতো প্রশ্ন জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

    উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্ন জমার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সিরিয়ালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

    পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে স্পিকার বলেন, ‘আমার পরিষ্কার মনে আছে, অতীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিছানাপত্র নিয়ে আগের রাতেই প্রশ্ন জমা দেওয়ার অফিসের সামনে পজিশন নিতেন। আরও দুই-একজন সদস্য আছেন, যারা আগের রাত সেখানে শুয়ে থাকতেন। এ ছাড়া অনেক সদস্য তাদের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে সেখানে পাঠাতেন।’

    সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই এসে নিজেদের প্রায়োরিটি নিশ্চিত করেন জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তাই বিরোধী দলের সদস্যদেরও এই ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুসরণ করে আগে প্রশ্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন স্পিকার।

  • অসুস্থতাও আল্লাহর নেয়ামত

    অসুস্থতাও আল্লাহর নেয়ামত

    যাপিত জীবনের সকল কাজ উৎফুল্লতার সাথে সম্পন্ন করতে সুস্থতা একটি আবশ্যক বিষয়। সু্স্থ মন ও সুস্থ দেহ ব্যতিত দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যহত হয়। সুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অফুরন্ত এক নিয়ামত। এ নিয়ামতের গুরুত্ব ও মূল্য একজন অসুস্থ ব্যক্তিই ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে। মানবদেহে অসুস্থতা জেকে বসলে দুনিয়াবি কার্যাবলির পাশাপাশি দ্বীনি ইবাদতেও ব্যঘাত ঘটে। ফরয ও ওয়াজিব ইবাদতগুলো কষ্টের সাথে আদায় করলেও সুন্নাত ও নফল ইবাদতগুলো অধিকাংশ সময় ছুটে যায়।

    তবে, মুমিন-মুসলিম বান্দাদের জন্য অসুস্থতাও এক নিয়ামত। নবী (সা.) বলেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (মুসলিম : ২৫৭৩)। অর্থাৎ, অসুস্থতা মুমিন বান্দার গুনাহ মাফের অন্যতম মাধ্যম। যে অসুস্থতার কারণে তাঁর ইবাদতে কিছুটা ভাটা পড়ে যাচ্ছে, সেই অসুস্থতাই তাঁর আত্মার নিয়ামকের কাজ করছে।অধিকন্তু, অসুস্থকালীন ধৈর্য ধরার মাধ্যমে মুমিন বান্দার স্তর আল্লাহর নিকট উচ্চতর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে কোন মুসলিমের গায়ে কাটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চাইতে অধিক (কোন আঘাত লাগে), তার পরিবর্তে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম : ৬৩২৭)। অসুস্থতার কঠিন সময়ে ধৈর্যধারণ ও আল্লাহর উপর ভরসা করার প্রতিদানস্বরূপ বান্দা এ পুরষ্কার লাভ করে।

    সুস্থতাকালীন মুমিনের আমল অসুস্থতায় তাঁর জন্য পুণ্য বয়ে আনে। অপারগতাবশত আমল করতে না পারলে আদায়কৃত আমলের সমপরিমাণ সওয়াব তাঁর জন্য বহাল থাকে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফরে যায়, তখন তার জন্য সেই আমলের সওয়াবই লেখা হয়, যে আমল সে স্বগৃহে অবস্থানকালে সুস্থ থাকা অবস্থায় করত।’ (বুখারি : ২৯৯৬)। এতবড় প্রতিদান শুধুমাত্র সুস্থাবস্থায় আল্লাহর ইবাদত আদায়ের কারণে।

    মানুষ মাত্রই বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। কেউ বিপদে পড়ে জীবন নিয়ে, কারো বা আফসোস হয় অপ্রতুল সম্পদ নিয়ে। পৃথিবীর বুকে কোনো মানুষই বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত নয়। অসুস্থতা তেমনই এক আপদ। তবে, মুমিন বান্দাগণ এর ব্যতিক্রম। কেননা, অসুস্থতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও ধৈর্য ধারণ করলে অগণিত সওয়াব অর্জিত হয়। তবে, এজন্য পূর্বশর্ত আল্লাহর উপর পূর্ণ ঈমান ও নিয়তের একনিষ্ঠতা। অন্যথায়, অসুস্থতা শুধু এক শারীরিক ব্যধি ব্যতিত অন্য ফলপ্রসূ হবে না। হাদিসে আছে, মানুষকে তার দ্বীনের বা ঈমানের শক্তি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যদি কারও দ্বীন মজবুত হয়, তবে তার বিপদও কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীনে দুর্বলতা বা নম্রতা থাকে, তবে তাকে সেই দ্বীনের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। (তিরমিজি : ২৩৯৮)

  • মিলাদুন্নবী যেভাবে বিশ্বসংস্কৃতি হলো

    মিলাদুন্নবী যেভাবে বিশ্বসংস্কৃতি হলো

    মিলাদুন্নবী ঘিরে আজ আমরা মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জায়গায় যে উৎসব দেখি, তার কোনো একক শুরু নেই; আছে বহু শুরু, বহু ভূগোল, বহু শতাব্দী জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি দীর্ঘ যাত্রা। আর সেই যাত্রাটা বুঝতে হলে আমাদের ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে। হাঁটতে হয় শতাব্দীর পর শতাব্দী, রাজদরবার থেকে খানকা, কবির কলম থেকে পথের মিছিল, একের পর এক ভূখণ্ড পেরিয়ে।

    নবীজির নিজের জীবদ্দশায় তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ‘আলাদা’ কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবের প্রচলন ছিল না। কারণ, সাহাবায়ে কেরামের কাছে প্রতিটি সময়ই ছিল উৎসবের! প্রতি মুহূর্তে তাঁর দেখা পাওয়া, প্রতিটি মুহূর্তে জগতের সবচেয়ে সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া—সে কত মনোহর দৃশ্য!প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদের কাছে নবীপ্রেম প্রকাশের মাধ্যম ছিল তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা, তাঁর প্রতিটি হাদিস মুখস্থ রাখা, তাঁর জীবনের ঘটনা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে মুখে মুখে বলে যাওয়া, রণাঙ্গনে তাঁর নাম নিয়ে অগ্রসর হওয়া, নামাজের প্রতিটি রাকাতে ভালোবেসে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা। কোনো নির্দিষ্ট দিনে সমবেত হয়ে আলাদা উৎসব করার রীতি তখনো জন্ম নেয়নি। কারণ, ভালোবাসা তখন বিচ্ছুরিত ছিল জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে; কোনো একটি দিনে ঘনীভূত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এই দীর্ঘ নীরবতা, প্রায় ৩৫০ বছরের নীরবতা, ভাঙে হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, মিসরের মাটিতে।

    দশম শতাব্দীর কায়রো তখন এক জমজমাট রাজধানী, ফাতেমীয় খিলাফতের কেন্দ্র। এই রাজবংশ তখন শাসন করছে উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফাতেমীয় দরবারে বছরজুড়ে চলত একের পর এক আনুষ্ঠানিক উদযাপন—নওরোজ, রজবের প্রথম রাত, শাবানের মাঝামাঝি রাত। আর এই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হয় নবীজির জন্মদিন।

    নবীজির জন্মদিন পালিত হতো রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, দরবারের জাঁকজমকে, মিষ্টান্ন বিতরণ ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে। এই রীতি প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কায়রোর সমাজে টিকে ছিল, এখনো আছে। আজও কায়রোর অলিগলিতে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিক্রি হয় রঙিন চিনির পুতুল, যাকে বলা হয় আরুসাতুল মাওলিদ। ছেলেদের জন্য ঘোড়সওয়ার আকৃতির আর মেয়েদের জন্য কনে সাজে সজ্জিত পুতুল—দোকানে দোকানে সাজানো থাকে বাহারি রঙের এই মিষ্টান্ন। আজও মিসরীয় পরিবারে সন্ধ্যার পর বিশেষ খাবার তৈরির আয়োজন হয়। রুজ বি লাবান নামের দুধ ও চাল দিয়ে তৈরি একটি মিষ্টি পায়েস ছোট ছোট পাত্রে করে প্রতিবেশী ও পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই লোকজ ঐতিহ্যের শিকড় হাজার বছর আগের সেই ফাতেমীয় দরবারি সংস্কৃতিতেই প্রোথিত।ফাতেমীয়দের এই উদ্যোগের পর প্রায় ২০০ বছর কেটে যায়। সুন্নি মুসলিম বিশ্বে তখনো এই ধরনের আনুষ্ঠানিক স্মরণের প্রচলন হয়নি। এই নীরবতা ভাঙে সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট রাজ্য ইরবিলে, যেখানে সিংহাসনে বসে আছেন আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দিন কুকুবুরি—একজন সুন্নি শাসক, বিদ্যানুরাগী ও কাব্যরসিক বলে ইতিহাসে পরিচিত। ৬০৪ হিজরি সাল থেকে তিনি একেবারে নতুন করে, বিপুল আড়ম্বরে এই স্মরণকে পুনরুজ্জীবিত করেন। আর এবার তা হয়ে ওঠে সুন্নি মুসলিম বিশ্বের প্রথম বড় আকারের মিলাদ উদযাপন।

    ইতিহাসবিদ ইবনে খাল্লিকান তাঁর বিখ্যাত জীবনীগ্রন্থে এই আয়োজনের বিবরণ রেখে গেছেন। অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী, কুকুবুরি প্রতিবছর এই উৎসবের পেছনে ব্যয় করতেন প্রায় ৩ লাখ মুদ্রা, যা সেই সময়ের হিসাবে একটি বিশাল অঙ্ক। দিনের বেলায় অনুষ্ঠিত এই উৎসবে শাসক নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিতেন। বিশাল তাঁবু খাটানো হতো শহরের বাইরে। সেখানে সমবেত হতেন দূরদূরান্তের আলেম, কবি, সুফি-সাধক ও সাধারণ মানুষ। কোরআন তিলাওয়াত হতো নিরবচ্ছিন্নভাবে, খুতবায় আলোচনা হতো সিরাত, নবী পরিবার তথা আহলে বাইতকে নিয়ে। পশু কোরবানি করে বিপুল ভোজের আয়োজন করা হতো, হাজারো মানুষকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানো হতো। রাতে জ্বলে উঠত অসংখ্য মোমবাতি ও মশাল। শহরের অলিগলি আলোকিত হয়ে উঠত সেই আলোয়। আর সুফি দরবেশরা সমবেত হয়ে সামা ও জিকিরের মাহফিল বসাতেন, নাচ ও সুরের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন।

    এই উৎসবে আকৃষ্ট হয়ে সেই সময়ের একজন পণ্ডিত, স্পেন থেকে আসা আবুল খাত্তাব ইবনে দিহয়া, মিলাদ উদযাপনের সমর্থনে একটি গোটা গ্রন্থ রচনা করে বাদশাহকে উপহার দেন। নাম দেন ‘কিতাবুত তানবীর’। বাদশাহ এই গ্রন্থ পড়ে এতটাই সন্তুষ্ট হন যে লেখককে পুরস্কার দেন এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা। কুকুবুরির এই উদ্যোগের পরই মূলত সুন্নি মুসলিম বিশ্বে মিলাদ উদযাপনের রীতি একের পর এক শহরে, একের পর এক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে তা হয়ে ওঠে সুন্নি মুসলিম সংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশ।

    কুকুবুরির ইরবিল থেকে সময় আরো দুই শতাব্দী এগিয়ে আমরা পৌঁছাই উসমানীয় সাম্রাজ্যে, চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগে, বুরসা শহরে, যেখানে বসবাস করতেন কবি সুলাইমান চেলেবি। তিনি রচনা করেন একটি দীর্ঘ কবিতা, তুর্কি ভাষায়, নাম ‘মেভলিদ ই শরিফ’। নবীজির জন্ম থেকে শুরু করে তার জীবনের বিভিন্ন পর্ব এই কবিতায় বর্ণিত হয় গভীর ভক্তি ও কাব্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে। বিশেষত নবীজির জন্মমুহূর্তের বর্ণনায় যে আবেগময় ছন্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শ্রোতাদের চোখে পানি এনে দিয়েছে।

    উসমানীয় সমাজে এই কবিতা এমনভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তা আর শুধু জন্মদিনের উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিয়ের অনুষ্ঠান, নবজাতকের নামকরণ, এমনকি মৃত্যুর পর শোকপালনের অনুষ্ঠানেও এই কবিতা আবৃত্তি করার রীতি চালু হয়ে যায়। ঘরে ঘরে সন্ধ্যাবেলায় পরিবার সমবেত হয়ে এই কবিতা শোনার একটি নিয়মিত অভ্যাস গড়ে ওঠে। মায়েরা সন্তানদের কোলে নিয়ে এই কবিতার সুরে ঘুম পাড়াতেন, বৃদ্ধরা এই কবিতা মুখস্থ বলে যেতেন।

    উসমানীয় যুগে সুলাইমান চেলেবির এই কবিতার পাশাপাশি আরো অনেক কবি নিজস্ব মেভলিদ রচনা করেছেন। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সুর ও পরিবেশনার রীতি তৈরি হয়েছে। আজও তুরস্কে রবিউল আউয়াল মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয় মেভলিদ কান্দিলি। মসজিদে মসজিদে এই ঐতিহ্যবাহী কবিতা আবৃত্তি করা হয়, মিনার থেকে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়, সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ঘরেও একই রীতি অনুসরণ করা হয়। উসমানীয়দের হাতে মিলাদ উদযাপন তাই মূলত হয়ে ওঠে একটি সাহিত্যিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান—রাজপথের জাঁকজমকের চেয়ে অনেক বেশি ঘরোয়া, অনেক বেশি কাব্যকেন্দ্রিক, অনেক বেশি নিভৃত।

    একই সময়ের কাছাকাছি ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল দরবারে এই স্মরণ মিশে যায় আরেক ধরনের কাব্যসংস্কৃতির সঙ্গে। দরবারি কবিরা নবীপ্রশস্তিতে কবিতা রচনা করতেন সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায়। দিল্লি ও আগ্রার দরবারে নাত রচনা একটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্যিক চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই একই উপমহাদেশে, দাক্ষিণাত্যে, পরে গড়ে ওঠে মাওলিদ উদযাপনের এক জমকালো ধারা, বিশেষত হায়দরাবাদে, যা আজও ধর্মীয় সভা, রাতব্যাপী প্রার্থনা, বিশাল সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও বর্ণিল সাজসজ্জার জন্য বিখ্যাত। অমুসলিম-প্রধান দেশ হয়েও ভারত এই ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় আয়োজক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় সবুজ রঙের আলোকসজ্জা, মসজিদে মসজিদে সমবেত নাত পাঠ এবং রাত জেগে ধর্মীয় আলোচনার এক গভীর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

    বাংলায় এই আয়োজন রূপ নিয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মাধ্যমে—পুঁথিসাহিত্যে। ষোড়শ শতাব্দীতে সৈয়দ সুলতানের মতো কবিরা রচনা করেন ‘নবীবংশ’ কাব্য। নবীজির জীবনকাহিনি বাংলার নিজস্ব পয়ার ছন্দে বিবৃত হয়। আরবের মরুভূমির কাহিনি বাংলার নদীবিধৌত জনপদের ভাষায় ধরা দেয়। এই কাব্যে রাজকীয় জাঁকজমক নেই; আছে গ্রামবাংলার সহজ শ্রোতার কাছে পৌঁছানোর একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা। কোনো কথক গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে বসে যেভাবে পুরাণকথা বলতেন, ঠিক সেই একই ঢঙে নবীজির জীবনকাহিনি বলা হয়েছে এই পুঁথিতে। শেখ পরানের মতো কবিরাও এই ধারাকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। আর এভাবেই গড়ে উঠেছে বাংলার নিজস্ব একটি নাত ঐতিহ্য, যা আরবি-ফারসি মূল উৎস থেকে প্রেরণা নিলেও পুরোপুরি বাংলার রঙে রঙিন হয়েছে।সাগর পেরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, জাভা দ্বীপে ইসলাম প্রবেশের পর সেখানকার সুলতানি দরবারগুলো এই স্মরণকে মিশিয়ে নেয় নিজস্ব সাংস্কৃতিক রীতির সঙ্গে। জাভার দরবারে গামেলান বাদ্যযন্ত্রের সুরে, স্থানীয় মেলা ও বাজারের আবহে নবীজির জন্মদিন পালিত হতে থাকে। ইসলামি ভক্তি ও জাভানীয় দরবারি সংস্কৃতির এক অনন্য মিশ্রণ ঘটে সেখানে, যা আজও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে আছে।

    উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চলও এই উৎসব নিজস্ব রূপ পেয়েছে। তিউনিসিয়ার কাইরাওয়ান শহরে মানুষ নবীজির প্রশংসায় নাশিদ আবৃত্তি করেন সমবেতভাবে, আর ঘরে ঘরে তৈরি হয় আসিদা জগগুউ নামের একটি বিশেষ মিষ্টান্ন। গমের আটা, বাদাম ও মধু দিয়ে তৈরি এই খাবার পরিবারের সবাই মিলে ভাগ করে খান। মরক্কোয় ফেজ শহরকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে মিলাদ উদযাপনের নিজস্ব একটি ধারা আছে।

    প্রতিটি অঞ্চল তার নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও ভাষায় এই একই আনন্দকে ধরে রেখেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী—কোথাও মিষ্টান্নে, কোথাও কবিতায়, কোথাও সমবেত গানে।

    বিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের আরেক প্রান্তে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুরে, সিরিকোট শরিফ নামের একটি খানকা। সেখানকার কাদেরিয়া তরিকার পীর সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে প্রবর্তন করেন এক নতুন ধরনের মিলাদ উদযাপন—রাজপথে শোভাযাত্রার আকারে, যাকে বলা হয় ‘জশনে জুলুস’। তিনি এই শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর ইন্তেকালের পর এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁরই পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ, যিনি ১৯৮৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অন্তত ৫১ বারের বেশি এই জুলুসের নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিবছর পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে এসে।

    চট্টগ্রামের এই শোভাযাত্রা স্থানীয়ভাবে জন্ম নেওয়া বাঙালি সুফি ঐতিহ্য না হলেও বর্তমানে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া একটি রীতি, যা ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • সবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জনের জামায়াতে যোগদান

    সবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জনের জামায়াতে যোগদান

    সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

    দলটির মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে দাওয়াতি সমাবেশে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

    জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।

    এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও ডা. হুমায়ন কবিরও এদিন জামায়াতে যোগ দেন।

    বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন।

    এ ছাড়া গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কোল্লল এবং বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।

    কওমি আলেমদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন (রসুলপুরী) ও মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখ।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান এবং বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার।

    এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

  • দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি রেকর্ডিয় রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদার বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝ বরাবর সরকারি রাস্তা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো: সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রামিম প্যাদা এবং শাহজাহান প্যাদার স্ত্রী ডেইজি বেগম সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি রাস্তার ওপর দেয়া বাঁশের বেড়া অপসারণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বিবাদী শাহজাহান প্যাদাকে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

    অভিযুক্ত শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। আমি অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের হাঁটার রাস্তার ব্যবস্থা করব, কিন্তু ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেবো না।’

    উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণ না করা হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • ইসলামকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, পদত্যাগ দাবি বিজেপির

    ইসলামকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, পদত্যাগ দাবি বিজেপির

    দুর্নীতির অভিযোগে কর্ণাটকের এক মন্ত্রী পদত্যাগ করার মাত্র দুই দিন পরই বিরোধী দল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা থেকে আরও একজনের পদত্যাগ দাবি করেছে। দলটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ইসলাম ধর্মকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলে মন্তব্যের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চান, অথবা পদত্যাগ করুন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলার কুকনুর শহরে বক্তব্য দেওয়ার সময় রায়ারেড্ডি ইসলামকে মহান ও অত্যন্ত মানবিক ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শেখায়।

    তবে এরপর তিনি যে মন্তব্য করেন, তা নিয়ে বিজেপির তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারা এটি নিয়ে ভুল ধারণা করেন এবং ভুল মতামত তৈরি করেন। আমি বলতে চাই, ইসলাম অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি মানবতা দিয়ে শুরু হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, কোরআনের বিষয়ে বলছি, আব্রাহামিক (ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম) ধর্মগুলো নিয়ে আমি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করিনি। আর আমি নিয়মিত মন্দির বা মঠে যাই না। তবে আমি ধর্ম এবং বিভিন্ন ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করি। এ কারণেই আমি আব্রাহামিক ধর্মগুলোর দিকে তাকাই।’

    রায়ারেড্ডির এই মন্তব্যের পর কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি আর অশোক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীর মন্তব্য হিন্দুধর্মকে হেয় করেছে। ডি কে শিবকুমারের নিয়মিত মন্দিরে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন আর অশোক।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অশোক লেখেন, ‘ডি কে শিবকুমার, আপনাদের কংগ্রেস সরকারের এই হিন্দুবিরোধী মানসিকতার কি কোনো শেষ নেই? আপনি ভোরবেলা মন্দিরে যাওয়ার নাটক করেন, ক্যামেরার সামনে ভক্তি প্রদর্শন করেন। কিন্তু আপনার নিজের মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী যখন সনাতন হিন্দু ধর্ম ও মন্দির সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, তখন আপনি কেন নীরব থাকেন?’

    তিনি বলেন, বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ক্ষমা না চাইলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁর এই দাবি এমন সময়ে এলো, যখন দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপির লাগাতার আক্রমণের মুখে মন্ত্রী বি নাগেন্দ্র দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগ করেছেন। রায়ারেড্ডির মন্তব্যের দুই দিন আগেই নাগেন্দ্র পদত্যাগ করেন।

    বিজেপি নেতা আর অশোক বলেন, ‘উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডির এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ভালোভাবে শুনুন। ‘আমি মঠ বা মন্দিরে যাই না’—বলে তিনি রাজ্যের কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলোকে হেয় করেছেন। আবার ‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ ধরনের মন্তব্য করে তিনি সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি পরিষ্কার—প্রথমে বাসবরাজ রায়ারেড্ডিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং রাজ্যের সব হিন্দুর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি যদি তা করতে প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে শিবকুমারকে মন্ত্রিসভা থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তা না হলে কন্নড়ভূমির কোটি কোটি হিন্দুর কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে: আপনার মন্দিরে যাওয়া ভক্তির জন্য নয়; হিন্দু ধর্মের প্রতি সম্মান থেকেও আপনার কথাগুলো বলা হয় না; সবকিছুই শুধু ভোটের জন্য, লোক দেখানোর জন্য।’

    বিজেপির মুখপাত্র অশোক গৌড়া অভিযোগ করেন, মন্ত্রী এবং কংগ্রেস সরকার ‘ভোটারদের তুষ্ট করার’ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘বাসবরাজ রায়ারেড্ডি তাঁর ভোটারদের তুষ্ট করতে গিয়ে মনে হচ্ছে সপ্তম শতাব্দীতেই আটকে আছেন। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পড়ুন, তারপর সিদ্ধান্তে আসুন। আপনি কোনো বিশেষজ্ঞ নন, দয়া করে এটি মনে রাখবেন।’

    বাসবরাজ রায়ারেড্ডি এর আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় তিনি মন্ত্রী হন।

  • পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ট্রানজিশন পিয়ার বা সংযোগস্থলের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির একটি বাস উল্টে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে সেতুর সংযোগস্থলের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিটের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে যে, লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটি বাস উল্টে গেছে। ঢাকামুখী নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেস নামে বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।

    তিনি আরো জানান, সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দু’টি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

    আহতরা হলেন— মাগুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০), মো: লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদা উপজেলার নূর ইসলাম (৪৬), রশিদা (৪০), মাগুরা মোহাম্মদপুরের ফাতেমা (৭), মাগুরা শ্রীপুরের সাইফ (২৩) ও ফরিদপুরের মধুখালি এলাকার মো: আরাফাত (১৩)।

    পদ্মা সেতুর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আক্তার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গ্রিন এক্সপ্রেস বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুতে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা আট-নয়জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

  • চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত


    চৌগাছা, (যশোর ) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের ইউনিট সভাপতি ও সেক্রেটারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ সম্মেলন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক শামসুজ্জামান। বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাস্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক,সেক্রেটারী ডা.জিল্লুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন,দেশের সকল মানুষের নিকট জামায়াতের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। সাথে সাথে জনগণকে এ কথা বলতে হবে যে, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সততা ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।সম্মেলনে উপজেলার প্রায় তিনশো ইউনিটের সভাপতি সেক্রেটারী যোগদান করেন।

  • সমতলে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষে সফলতা

    সমতলে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষে সফলতা


    সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি ফল আনারস চাষে দারুণ সফলতা পেয়েছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম।বর্তমানে তিনি বাগানের পাকা আনারস বাজারে বিক্রি করছেন। মাঝারি আকারের আনারসগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন মিষ্টি। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষি উদ্যোক্তা প্রতিদিন তার আনারস বাগান দেখতে ভিড় করছেন।সোমবার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক রফিকুল ইসলাম মল্লিকপুর বিলে দশ কাঠা জমিতে আনারসের চাষ করেছেন। পুরো জমি জুড়ে সারি সারি গাছে পাকা-আধাপাকা আনারস ঝুলছে।

    এ সময় গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত রফিকুল বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে বাজারে আনারস কিনতে গিয়ে তার এ ফল চাষের আগ্রহ জাগে।’

    বছর দেড়েক আগে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে দেড় হাজার আনারসের চারা নিয়ে আসেন। এর মধ্যে কিছু চারা মরে গেছে। আবার কিছু গাছে এবার ফল ধরেনি। সেগুলো বাদে কমপক্ষে এক হাজার গাছে আনারস ধরেছে এবার।

    ‘ক্যালেন্ডার’ ও ‘জায়েন্ট কিউ’ জাতের আনারস চাষ হচ্ছে তার বাগানে।

    কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, জমিতে আনারসের চারা লাগানোর এক বছর পর ফুল আসতে শুরু করে। এরপর ফল ধরার চার-পাঁচ মাস পর পাকতে শুরু ধরে। এবার তার প্রায় সব গাছে প্রথমবারের মত আনারস ধরেছে। ইতিমধ্যেই আনারস পাকতে শুরু করেছে। বাগানের বেশির ভাগ গাছের আনারস বাজারে বিক্রিও করা করা হয়েছে।

    তিনি জানান, এ ফল চাষে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, পানি সেচ ও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। আনারস চাষে আনুপাতিক হারে খরচ কম।

    দেড় হাজার গাছের চারা কিনে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসতে তার খরচ পড়েছে ছয় হাজার টাকা। চারবার নিড়ানী দিতে হয়েছে, তাতে খরচ পড়েছে ছয় হাজার টাকা। এছাড়া দেড় হাজার টাকার সার-কীটনাশক এবং সেচ বাবদ আরো ৬০০ টাকা খরচ পড়েছে।

    এ পর্যন্ত তিনি মোট ৫০০ পিস আনারস বিক্রি করেছেন। প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে তিনি এ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছেন। বাগানে আরো তিন শতাধিক আনারস রয়েছে। এছাড়া রাতের আঁধারে তার বাগান থেকে কে বা কারা আরো শতাধিক পাকা আনারস চুরি করে নিয়ে গেছে।তিনি আরো জানান, আনারসের এক একটি গাছ থেকে কয়েক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় আগামীতে তার লাভের পরিমাণ আরো বেশি হবে বলেও জানান তিনি।

    তবে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মাঝে মাঝে বেকায়দায়ও পড়তে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গাছগুলো প্রথম দিকে ভালভাবেই বেড়ে উঠছিল। তবে একটা সময় এসে গাছের গোড়া পঁচা রোগ দেখা দেয়। এতে কিছু গাছ মরেও যায়।’

    জেলায় প্রথম আনারস চাষ হওয়ায় সাধারণ মানুষসহ কৃষি উদ্যোক্তারা প্রায়ই তার আনারস বাগান দেখতে আসেন বলে তিনি জানান।

    গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ভরতপুর গ্রামের আকবর আলী বলেন, মল্লিকপুর গ্রামের একজন কৃষক তার জমিতে আনারস চাষ করেছেন। আনারসতো পাহাড়ি এলাকায় চাষ হয়। তাই প্রথমে বিশ্বাস না হলেও পরে নিজের চোখে দেখে এসেছি, কিছু আনারস কিনেও এনেছি। আনারসগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ বলেন, ‘আমাদের উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের উপযোগী বলেই মনে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ উপজেলায় আনারস চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। কৃষকদেরকে আনারস চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

  • অসুস্থতাও আল্লাহর নেয়ামত

    অসুস্থতাও আল্লাহর নেয়ামত

    যাপিত জীবনের সকল কাজ উৎফুল্লতার সাথে সম্পন্ন করতে সুস্থতা একটি আবশ্যক বিষয়। সু্স্থ মন ও সুস্থ দেহ ব্যতিত দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যহত হয়। সুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অফুরন্ত এক নিয়ামত। এ নিয়ামতের গুরুত্ব ও মূল্য একজন অসুস্থ ব্যক্তিই ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে। মানবদেহে অসুস্থতা জেকে বসলে দুনিয়াবি কার্যাবলির পাশাপাশি দ্বীনি ইবাদতেও ব্যঘাত ঘটে। ফরয ও ওয়াজিব ইবাদতগুলো কষ্টের সাথে আদায় করলেও সুন্নাত ও নফল ইবাদতগুলো অধিকাংশ সময় ছুটে যায়।তবে, মুমিন-মুসলিম বান্দাদের জন্য অসুস্থতাও এক নিয়ামত। নবী (সা.) বলেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (মুসলিম : ২৫৭৩)। অর্থাৎ, অসুস্থতা মুমিন বান্দার গুনাহ মাফের অন্যতম মাধ্যম। যে অসুস্থতার কারণে তাঁর ইবাদতে কিছুটা ভাটা পড়ে যাচ্ছে, সেই অসুস্থতাই তাঁর আত্মার নিয়ামকের কাজ করছে।

    অধিকন্তু, অসুস্থকালীন ধৈর্য ধরার মাধ্যমে মুমিন বান্দার স্তর আল্লাহর নিকট উচ্চতর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে কোন মুসলিমের গায়ে কাটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চাইতে অধিক (কোন আঘাত লাগে), তার পরিবর্তে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম : ৬৩২৭)। অসুস্থতার কঠিন সময়ে ধৈর্যধারণ ও আল্লাহর উপর ভরসা করার প্রতিদানস্বরূপ বান্দা এ পুরষ্কার লাভ করে।

    সুস্থতাকালীন মুমিনের আমল অসুস্থতায় তাঁর জন্য পুণ্য বয়ে আনে। অপারগতাবশত আমল করতে না পারলে আদায়কৃত আমলের সমপরিমাণ সওয়াব তাঁর জন্য বহাল থাকে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফরে যায়, তখন তার জন্য সেই আমলের সওয়াবই লেখা হয়, যে আমল সে স্বগৃহে অবস্থানকালে সুস্থ থাকা অবস্থায় করত।’ (বুখারি : ২৯৯৬)। এতবড় প্রতিদান শুধুমাত্র সুস্থাবস্থায় আল্লাহর ইবাদত আদায়ের কারণে।মানুষ মাত্রই বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। কেউ বিপদে পড়ে জীবন নিয়ে, কারো বা আফসোস হয় অপ্রতুল সম্পদ নিয়ে। পৃথিবীর বুকে কোনো মানুষই বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত নয়। অসুস্থতা তেমনই এক আপদ। তবে, মুমিন বান্দাগণ এর ব্যতিক্রম। কেননা, অসুস্থতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও ধৈর্য ধারণ করলে অগণিত সওয়াব অর্জিত হয়। তবে, এজন্য পূর্বশর্ত আল্লাহর উপর পূর্ণ ঈমান ও নিয়তের একনিষ্ঠতা। অন্যথায়, অসুস্থতা শুধু এক শারীরিক ব্যধি ব্যতিত অন্য ফলপ্রসূ হবে না। হাদিসে আছে, মানুষকে তার দ্বীনের বা ঈমানের শক্তি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যদি কারও দ্বীন মজবুত হয়, তবে তার বিপদও কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীনে দুর্বলতা বা নম্রতা থাকে, তবে তাকে সেই দ্বীনের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। (তিরমিজি : ২৩৯৮)

  • একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

    একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

    উসমান (রা.) ছিলেন অতুলনীয় লজ্জাশীল, অত্যন্ত দানশীল এবং কোরআনের খেদমতে অনন্য অবদান রাখা একজন মহান সাহাবি। সংক্ষেপে তাঁকে জেনে নিন।

    * পূর্ণ নাম : উসমান ইবন আফফান ইবন আবিল আস আল-কুরাইশী আল-উমাবী

    * কুনিয়াত : আবু আবদুল্লাহ

    * উপাধি : যুন-নূরাইন (দুই নূরের অধিকারী)

    * গোত্র : বনু উমাইয়্যা (কুরাইশ)

    * জন্ম : আনুমানিক ৫৭৬-৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দ, মক্কা

    * শাহাদাত : ৩৫ হিজরি (৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ), মদিনা (কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় বিদ্রোহীদের হাতে শাহাদত লাভ করেন)

    বিশেষ মর্যাদা

    ১. নবীদের পরে এই উম্মতের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।

    ২. প্রথম দিকের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম।

    ৩. নবী (সা.)-এর দুই কন্যাকে ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করেন; এজন্য ‘যুন-নূরাইন’ উপাধিতে ভূষিত হন।

    ৪. জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন।

    ৫. মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।

    ৬. কোরআনের মুসহাফ একীভূত করে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেন।

    ৭. তাঁর শাসনামলে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়।

    ৮. তাবুক অভিযানে বিপুল দান করেন এবং রুমা কূপ মুসলিমদের জন্য ওয়াক্ফ করেন।

    উসমান (রা.) সম্পর্কে নবী (সা.)

    নবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি সে লোককে (উসমানকে) লজ্জা করব না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা পান।’ (মুসলিম : ২৪০১)

    [প্রধান সূত্র : সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইবন কাসির), হাদিস বিডিÑ উসমান (রা.)-এর ফজিলত অধ্যায়]

  • নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাসে যেসব আমল করবেন

    নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাসে যেসব আমল করবেন

    সফর মাস বিদায় নিয়ে হাজির হয়েছে আরবি বর্ষপঞ্জিকার তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। এই মাসের ১২ তারিখ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিনেই তাঁর ওফাত (ইন্তেকাল) হয়। এজন্য মুসলিমদের কাছে মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    রাসুল (সা.) এর জন্মগ্রহণের কারণে যেমন রবিউল আউয়াল মাসের ফজিলত বেড়েছে, তেমনি সোমবার দিনেরও গুরুত্ব বেড়েছে। হাদিসে এসেছে, সোমবারের সওম (রোজা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবীজি (সা.) বলেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নুবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার ওপর (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে। তিনি রাসুল (সা.) আরও বলেন, প্রতি মাসে তিনদিন এবং গোটা রমজান মাস সওম পালন করা হলো সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৪২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা মানবজাতির জন্য একটি বড় অনুগ্রহ ও বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমি তো আপনাকে (রাসুল সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)

    এজন্য খোদ মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি পরকালে সফল হতে রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী (সা.) আপনি বলুন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ইমরান, আয়াত: ৩১)তবে নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাস রবিউল আউয়ালের আমল বা করণীয় নিয়ে পবিত্র কুরআন বা হাদিসে সরাসরি কোনো আমলের কথা আসেনি। এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মত, রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা কুরআন ও হাদিসে নেই। তবে রাসুল (সা.) এর জন্ম এ মাসে হওয়ায় মাসটি তাৎপর্যপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কিছু আমল রয়েছে, অন্যান্য মাসের মতো যে আমলগুলো এই মাসেও করা যায়। যেমন: প্রতি সোমবারে রোজা রাখা।

    খোদ নবীজিও (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে) আমল পেশ করা হয়। সুতরাং, আমার আমলসমূহ রোজা পালনরত অবস্থায় পেশ করা হোক, এটাই আমার পছন্দনীয়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৭৪৭)

    এ ছাড়াও ফজিলতপূর্ণ মাস হওয়ায় রবিউল আউয়াল মাসের সম্মানে এ মাসে গাফিলতি না করে ফরজ ইবাদতে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নফল ইবাদত করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে অনেকে ১২ রবিউল আউয়ালে নবীজির (সা.) জন্মদিনকে উৎসব হিসেবে পালন করেন, যা মোটেও উচিত নয়।

    ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি সাহাবায়ে কেরামরাও কখনো ১২ রবিউল আউয়ালকে খুশি কিংবা শোক দিবস হিসেবে পালন করেননি। সুতরাং, এই দিবসকে কেন্দ্র করে কোনোরূপ উদ্‌যাপন শরিয়তসম্মত নয়।

    মনে রাখতে হবে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ আমাদের শরিয়তে সংগত নয়- এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে, তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫১৭)

  • পূজার আগেই হামলা করতে পারে পাকিস্তান, শঙ্কায় ভারত

    পূজার আগেই হামলা করতে পারে পাকিস্তান, শঙ্কায় ভারত

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ২৯ আগস্ট ইসলামাবাদের কাছে দেশটির বৃহত্তম অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভারী কামান মোতায়েন করা হয়েছে। একের পর এক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করছে ইসলামাবাদ। চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি হয়েছে ।

    পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভারতে। পূজার আগেই ফের ভারত আক্রমণ করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, এই প্রশ্নেরই জবাব খুঁজছেন দিল্লির গোয়েন্দাদের একাংশ। তবে পাকিস্তান শিগগিরই ভারতের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

    আসিম মুনির ওয়াহ সেনানিবাসে অবস্থিত পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ বা পিওএফ পরিদর্শন করার পরে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতেই তিনি কারখানাটি পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনের সময় মুনির বিভিন্ন অস্ত্রের নকশা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং গোলাবারুদের পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। কারখানার কর্মকর্তারা তাকে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানান। চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য স্থানীয়ভাবে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সেনাপ্রধানের সরাসরি কারখানা পরিদর্শনকে শুধু শিল্প সক্ষমতা পর্যালোচনার ঘটনা হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর কৌশলগত গুরুত্বও বিবেচনা করা দরকার।

    এরই মধ্যে পাকিস্তান সামরিক ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ২৭ আগস্ট কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি’ হয়েছে। এর আগে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে।

    চীন পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থলভিত্তিক অস্ত্রের বড় একটি অংশ চীনা প্রযুক্তি বা সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তুরস্কের সঙ্গেও ইসলামাবাদের সামরিক সহযোগিতা কয়েক বছর ধরে বাড়ছে।

    এদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে চীন ও তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের চলাচল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিমানের মাধ্যমে কী ধরনের সরঞ্জাম পাকিস্তানে এসেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা অনুমান থাকলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

    পাকিস্তান সীমান্তেও সামরিক তৎপরতা নিয়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে। চীনে তৈরি এসএইচ-১৫ ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কামান মোতায়েনের খবর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    তবে পাকিস্তানের এসব সামরিক প্রস্তুতির প্রধান লক্ষ্য ভারত কি না, তা নিশ্চিত নয়। পাকিস্তান একই সময়ে আফগানিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

    অন্যদিকে গত বছরের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হয়। ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। কয়েক দিনের সংঘাতের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

    ওই সংঘাতের পর ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। ফলে নতুন করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও দেশটির সামরিক নীতিতে প্রভাব ফেলছে। অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের চাপ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা সমস্যা সামাল দিতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনাও বেড়েছে।

    এ অবস্থায় আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। তবে এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যাখ্যা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাদের সামরিক তৎপরতার ওপর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভিসা পেতে আগের তুলনায় সমস্যা কমেছে। দেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং চীন থেকে দক্ষ শিক্ষক আনতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি চীন সফরে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ সম্ভাবনার পরিকল্পনা করা হয়েছে জানিয়ে ড. মিলন বলেন, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতেও চীনের সঙ্গে শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালু করবে সরকার।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চীনের সঙ্গে শিক্ষাখাতে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়বে।

    সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অংশ নেন।

  • ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ক্যাম্পাসে রাজনীতি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে তা সংস্কারের পক্ষে মত দিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “দলীয় রাজনীতি বাদ দিলে তো এই প্রোগ্রামটা আপনাদের জন্য কেউ করতে পারত না। এগুলো বাদ দেওয়া ঠিক না। ”

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘ফ্রেশার রিসেপশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাদ্দাম বলেন, “মাথাব্যথা হয়েছে, মাথা কেটে দিলে তো আপনার অস্তিত্বই থাকবে না। তো মাথাটা রেখে কীভাবে এটাকে রিফর্ম করা যায়, সেই চিন্তাটা করা উচিত। ”

    শিবির নেতা এস এম ফরহাদ জুলাই আন্দোলনের সময় ৯ দফার একটিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন বলে এর আগে দাবি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের।

    তার ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ফরহাদ সপ্তম দফায় ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। পরে দাবিটি ‘দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার ভাষায় চূড়ান্ত করা হয়।

    ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তিনি মনে করেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ‘কোড অব কন্ডাক্ট’থাকা উচিত।

    সাদ্দাম বলেন, “আমরা বলেছিলাম, ইউনিভার্সিটিতে একটা কোড অব কন্ডাক্ট থাকা উচিত। ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পলিসির আন্ডারে ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্স চলা উচিত। ”

    এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রশিবির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, “ইউনিভার্সিটিটা হবে কমন প্লেস অব ভ্যালুস। এখানে প্রত্যেকটা পলিটিক্যাল স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন তাদের আইডিওলজিক্যাল পারপাস স্টুডেন্টদের সামনে রিপ্রেজেন্ট করবে। স্টুডেন্ট এটা এক্সেপ্ট করতে পারে অথবা রিজেক্ট করতে পারে। ”কাউকে জোর করে কোনো রাজনৈতিক দলের বা ‘মাদার পার্টির’ স্বার্থ বাস্তবায়নে মিছিল-মিটিংয়ে নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির বিরোধিতা করে সাদ্দাম বলেন, “কখনোই গণরুম এবং গেস্টরুম চালু করা যাবে না। যারা চালু করবে, সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে হবে। ”

    ‘আইডিওলজি বাস্তবায়ন হবে, তবে ক্যাম্পাসের স্বার্থে’

    এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন রাখেন, ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি থাকলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজনীতি করবেন।জবাবে শিবির নেতা নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “হ্যাঁ, তা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, যার যার আইডিওলজি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সেটা ক্যাম্পাসের স্বার্থে হতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার পোস্টার ক্যাম্পাসে সাঁটানো যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা আসলে তাদের নামে স্লোগান এখানে দেওয়া যাবে না। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন শিবির সভাপতি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারা হলে থাকেন জানতে চেয়ে তিনি হাত তুলতে বলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধান না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “ফার্স্ট ইয়ারের একজন স্টুডেন্ট মায়ের পেট ছেড়ে এই ইউনিভার্সিটিতে মেধার ভিত্তিতে চান্স পাওয়ার পরে কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হলে একটা সিট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬০ বছরে দিতে পারবে না—এর জবাব কী আছে? এটা আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জা। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের দুর্বলতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “আপনাদের ইউনিভার্সিটির পরেও এই বাংলাদেশে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টা ইউনিভার্সিটি তৈরি হয়েছে। এতগুলো ইউনিভার্সিটি তৈরি করতে পারে, হাজার হাজার টিচার বরাদ্দ দিতে পারে, অথচ চিটাগাং ইউনিভার্সিটির পূর্ণতা তৈরি করার জন্য সরকারের যে দুর্বলতা—এই দুর্বলতা ইনটেনশনালি তৈরি করা হয়েছে। ”

  • ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং তাদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

    মিছিল চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘ওলি ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘মুকাদ্দাস ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ওলি ভাইয়ের সন্ধান চাই, দিতে হবে দিতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দেন আন্দোলনকারীরা।

    বিক্ষোভ মিছিলে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো ২৫১ জনের সন্ধান না পাওয়ায় তাঁদের পরিবারগুলো উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে।

    তিনি বলেন, “অবিলম্বে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা জীবিত না থাকলে অন্তত তাঁদের কবরের সন্ধান পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের প্রসঙ্গে ইউসুফ আলী বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সন্ধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের নিখোঁজের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, নিখোঁজের ঘটনায় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তৎকালীন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির প্রকাশ্যে চলাফেরার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে ছাত্রশিবির সভাপতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির অগ্রগতি ও স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং তাঁদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নতুন করে তাঁদের সন্ধানের দাবি সামনে এনে বিক্ষোভ মিছিল করল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।