শিরোনাম

  • ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের শোচনীয় ৩-০ টেস্ট হার এবং দল নিয়ে নাটকীয় সিদ্ধান্তের পর দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ও সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। ম্যানচেস্টারে এক দাতব্য অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজমের নেতৃত্ব এবং তার ‘অজ্ঞতা’ নিয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?

    বাবার আজমের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরেই মূলত আকরামের এই ক্ষোভের সূত্রপাত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের টসের সময় বাবরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, দল থেকে হঠাৎ সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে দেয়া এবং কোচ বরখাস্তের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে তার কি মতামত। উত্তরে বাবর জানান, এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না এবং বিষয়টি তার কাছেও সম্পূর্ণ নতুন।

    আর এই কথাটিকেই একহাত নিয়েছেন আকরাম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “টসের সময় বাবরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনার সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোচ ও বোলিং কোচকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আপনি কি মনে করেন?’ সে তখন বলেছে, ‘আমার কোনো ধারণা নেই।’ তাহলে তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?”

    আকরাম আরও বলেন, দলের নেতা যদি নিজের জায়গা থেকে শক্ত না থাকেন এবং বোর্ডের এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তে কোণঠাসা হয়ে পড়েন, তবে পুরো দলের পারফরম্যান্সের ওপর তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তার মতে, পরিস্থিতি যখন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছিল, তখন দ্বিতীয় টেস্টের পরেই বাবরের উচিত ছিল টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাওয়া।

    ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করায় সাবেক ক্রিকেটাররা সাধারণত বোর্ডের চেয়ে অধিনায়কের ওপরই দায় বেশি চাপাচ্ছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ডের সঙ্গে অধিনায়কের এই চরম যোগাযোগহীনতা পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাবে?

  • প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনের কারণ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার ভাষ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন মূল্য সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্তটি অজনপ্রিয় হলেও সরকারকে তা নিতে হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম ছিল। এর ফলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, যা আমাদের রিজার্ভের প্রধানতম খাত—সেই মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছিলাম আমরা। এমতাবস্থায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এবং পাচার বন্ধে সরকারকে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’

    জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হতে পারত বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার মতে, এতে বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো কর্মসূচিগুলো মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

    বিপিসির লোকসানের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির গড়ে প্রতি মাসে লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।’

    তিনি জানান, বাংলাদেশকে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। মূল্য সমন্বয়ের আগে ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বিপিসিকে।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা না হলে শুধু ডিজেলের ক্ষেত্রেই বছরে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে বার্ষিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাত।’

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বিমা প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় না করে সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ডিজেলের তৎকালীন বাজারদরের তথ্যও তুলে ধরেন।

    এদিকে, নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি।’

  • ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী। তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।

    সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিড ডে মিলে দেওয়া দুধ খাওয়ার পর তাদের পেটব্যথা শুরু হয়। একে একে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সোমবার মিড ডে মিলে দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা শুরু হয়।

    জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের সাত উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহের পাঁচ দিন বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

    রোববার দেওয়া হয় ডিম ও পাউরুটি, সোমবার দুধ ও পাউরুটি, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার ডিম ও পাউরুটি দেওয়া হয়। ডিম, পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করে স্থানীয় সংস্থা ইএসডিও। দুধ সরবরাহ করে আরডি নামে একটি সংস্থা এবং বিস্কিট সরবরাহ করে প্রাণ কোম্পানি। এ,আর

  • মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০১তম গোল করলেও সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে জয় দেখা পায়নি দলটি। রোববার রাতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

    এই নিয়ে এমএলএসে টানা চতুর্থ ম্যাচে ড্র করল মায়ামি। ক্লাবটির নতুন কোচ কিলি গঞ্জালেসের অধীনে এটি ছিল লিগে প্রথম ম্যাচ। শেষদিকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ১২ মিনিটে জেপ্পে টভার্সকভের পাস থেকে গোল করে সান দিয়েগোকে এগিয়ে দেন আন্দের্স ড্রায়ার। গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট-ক্লেয়ারকে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি।

    ২৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। ডান দিক থেকে তার নেওয়া ফ্রি-কিক বক্সের ভেতর কাউকে স্পর্শ না করে সরাসরি দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এটি চলতি মৌসুমে এমএলএসে মেসির ২০তম গোল।

    চার দিন আগেই মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মায়ামির হয়ে নিজের শততম গোল করেছিলেন মেসি। এমএলএসে ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর ফ্রি-কিক থেকে এটি তার অষ্টম গোল যা কি না এই সময়ে লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

    দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামি আক্রমণে গতি বাড়ায়। ৭৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিউ ইংল্যান্ডকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মায়ামির।

    তবে আট মিনিট পরই আবার সমতায় ফেরে সান দিয়েগো। হেরন্সদের রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে আসা বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ড্রায়ার।

    ম্যাচ শেষে গঞ্জালেস মায়ামির রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের রক্ষণে আরও শক্ত হতে হবে এবং এ ধরনের ভুলের জন্য বড় মূল্য দিতে হয়। মাত্র চার দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ায় দলকে ঠিকমতো অনুশীলন করানোর সুযোগ পাননি বলেও জানান তিনি।

    এই ড্রয়ে ১২ জয়, ৪ হার ও ১০ ড্রয়ে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

    আগামী রোববার এমএলএসে কলম্বাস ক্রুর মাঠে খেলবে মায়ামি। আর শনিবার অস্টিন এফসির বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলবে সান দিয়েগো।

  • জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে বরাদ্দ ১১৯ কোটি টাকা

    জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে বরাদ্দ ১১৯ কোটি টাকা

    জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে এককালীন ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের বিশেষ বরাদ্দ উপখাত থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হয়।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেন।

    আদেশে বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবমুক্তির সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ট্রেজারি রুলস (টিআর) ফরম-৩২ অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করতে হবে। ওই বিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

    বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিলের বিপরীতে অ্যাকাউন্ট পে চেক বা অ্যাডভাইস ইস্যু করা হবে।

    আদেশে বলা হয়েছে, জেলা কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে। আর উপজেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো অ্যাডভাইসের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করবে। এই ব্যয় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের নির্ধারিত মঞ্জুরি ও সংশ্লিষ্ট হিসাব খাতের বরাদ্দ থেকে মেটানো হবে।

    অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০২১ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

    সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন। একই সঙ্গে বরাদ্দ থেকে অব্যয়িত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এ অর্থ অবমুক্তির বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতিও রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে সম্মতি দেয়।

  • দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সার বিক্রেতা ও ট্রাকচালককে জরিমানা করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মুশিদহাট ইউনিয়নের পড়িয়ালপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

    ধানের খড়ের ভেতর লুকিয়ে ট্রাকযোগে সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভনকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    অভিযানে, অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: এমরানকে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং সার পাচারের অপরাধে ট্রাকচালক আব্দুল জলিলকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে মোট ১৩ বস্তা ২৬ কেজি সার জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভন বলেন, জব্দ করা সার সোমবার সকালে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ,আর

  • লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ল প্যাকেটজাত তরল দুধ

    লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ল প্যাকেটজাত তরল দুধ

    দেশের বাজারে প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ানোর কারণ দেখিয়ে দাম সমন্বয় করেছেন দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে মিল্কভিটার এক লিটার প্যাকেটজাত দুধ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। গত মাসে পণ্যটির দাম ১০ টাকা বাড়ানো হয়। একই সময়ে আধা লিটার প্যাকেটের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    এদিকে ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং ও প্রাণ ডেইরির আধা লিটার প্যাকেটজাত তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এসব ব্র্যান্ডের এক লিটারের প্যাকেটের দাম ১১০ থেকে ১১৫ টাকা।

    এদিকে দুধের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, দৈনন্দিন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিক দাম বাড়ানোর কারণে অনেক পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, দাম বাড়ার পর তরল দুধের বিক্রি কমেছে। তাদের অভিযোগ, একসঙ্গে প্রায় সব ব্র্যান্ডের দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। প্যাকেজিং উপকরণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী পৃথক দু’টি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার প্রাগপুর বাজারসংলগ্ন পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধার করা ডিসপ্লের মধ্যে রয়েছে ২০০ পিস ‘ক্রাউন আলট্রা এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’ ও ৪০০ পিস ‘ক্রাউন স্মার্ট এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’। এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৪ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রিফুজি পাড়া মাঠে অভিযান চালায় বিজিবির আরেকটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য নয় লাখ আট হাজার টাকা। তবে এসব মালামালের সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

    ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামেই এক শ্রেণির কথিত ও হাতুড়ে পশু চিকিৎসকের দাপট বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও কাঁধে বড় ব্যাগ ও মোটরসাইকনে ‘চিকিৎসক’ লিখে নিজেদের পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন তারা।

    অভিযোগ রয়েছে, এসব কথিত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে গবাদিপশু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য খামারিদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সকাল-বিকেল এসব কথিত পশু চিকিৎসকের আনাগোনা দেখা যায়। তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ সুযোগে কেউ কেউ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    উপজেলার চান্দলা করিম এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘আগে গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসে যেতে হতো। এখন সকাল-বিকেল বাড়িতে বাড়িতে ভুয়া চিকিৎসকের আগমন ঘটে। তারা ভুলভাল চিকিৎসা দিয়ে খামারিদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ভেটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতা বলেন, এসব কথিত চিকিৎসকের অনেকেরই গবাদিপশুর রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান নেই। বড় বড় ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানো এসব ব্যক্তির কেউ কেউ নিজেদের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছেন। এতে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    অভিযোগের বিষয়ে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কথিত পশু চিকিৎসক বলেন, ‘বেকার বসে থাকার চেয়ে কিছু করে খাওয়া ভালো। কয়েক মাসের একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি। আমাদের সাধ্যের বাইরে কোনো রোগ হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে রেফার করি।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আতিকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলায় ভুয়া ও হাতুড়ে পশু চিকিৎসকের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। তারা ভুল চিকিৎসা দিলে গবাদিপশুর ক্ষতি হতে পারে। এতে অনেক গরু ও বাছুর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘গবাদিপশুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও সঠিক ওষুধ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন।’

    স্থানীয় খামারিরা জানায়, গবাদিপশু তাদের অনেকের প্রধান আয়ের উৎস। তাই ভুল চিকিৎসায় কোনো পশু মারা গেলে বা স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের অভিযোগ, গ্রামে গ্রামে ঘুরে চিকিৎসা দেয়া এসব ব্যক্তির পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা হয় না।

    এ অবস্থায় কথিত ও অনিবন্ধিত পশু চিকিৎসকদের কার্যক্রম যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি খামারিদের সচেতনতা বাড়াতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এ,আর

  • ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ

    ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ

    স্কুলে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ইতালি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে, তার সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

    দেশটির কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এই ঘোষণা দিয়েছেন।

    ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের কাছে ইতালি অন্যতম প্রধান ট্রানজিট দেশ। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের আগে অভিবাসীদের মূলধারার সমাজের সঙ্গে ‘মানিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) যুব শাখার এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে, তা আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে।

    মেলোনি আরও বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে, তাদের মা-বাবাকেও ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে। এর পাশাপাশি স্কুলে বোরকা ও নেকাব পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও এই প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।

    এর আগে গত জুলাই মাসে স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দাবি তুলেছিল ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) পার্টি।

    এফএন দলটি ক্ষমতাসীন জোটে নেই। তবে রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে তারা মেলোনির দলের চেয়েও বেশি কট্টর ডানপন্থী। গত ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই জনমত জরিপে তাদের অবস্থান দ্রুত জোরালো হচ্ছে। ফলে দলটি এখন মেলোনির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

    ইতালির কোনো স্কুলে বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি বোরকা নিষিদ্ধ করে এমন সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে বলা আছে, সংগত কারণ ছাড়া মুখ বা পরিচয় ঢেকে রাখে এমন পোশাক বা হেলমেট পরা যাবে না।

    পরে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত একটি ব্যাখ্যা দেন। আদালত জানান, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরা যাবে। তবে পরিচয় শনাক্তের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করতে হবে।

    মেলোনির জোটসঙ্গী অভিবাসনবিরোধী লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুর দিকে সিনেটে একটি বিল তোলে। বিলটিতে ক্রীড়া অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মুখ ঢেকে রাখার পোশাক ও হেলমেট পুরোপুরি নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়।

    ইতালির আইনে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। তবে এই নিয়মে ঠিক কী পরিবর্তন আনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি মেলোনি।

    দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (আইএসটিএটি) তথ্য অনুযায়ী, ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি। ২০১০ সাল থেকেই প্রতিটি ক্লাসে ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে রাখার নিয়ম চালু আছে।

    তবে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কোটার হার বাড়ানো যায়। যেমন ইতালিতে জন্ম নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পায়। অন্যদিকে ভাষায় দক্ষতা দুর্বল হলে এই সীমা আরও কমানো হতে পারে।

  • নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে মিম (৭) নামে মাদরাসাপড়ুয়া এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রাম থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শিশু মিম বিদ্যাকুট গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্রী মিম শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সোমবার বিকেলে বিদ্যাকুট বড় বাড়ির পুকুরপাড়ের ঝোপে শিশু মিমের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠায়।

    নিহত শিশুর বাবা মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার শিশু মেয়েটা এভাবে চলে যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারছি না।

    নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ‘ভূমিকম্পের মতো’

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ‘ভূমিকম্পের মতো’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’ প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।

    একই সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ‘উত্তেজনা বাড়ানোর চক্র’ থেকে দূরে থাকার বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ। সেখানে গতকাল রোববার কাতার ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে এমন একটি ‘কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং কোনো রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না’।

    শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি, কাতারের প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন শেখ মোহাম্মদ। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতকে ‘ভূমিকম্পের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে

    কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংকটের সময় প্রায় প্রতিটি আলোচনা শুরু হয়েছে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে। এরপর আলোচনা গড়িয়েছে জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং আমাদের বিনিয়োগের দিকে। আমাদের পরিকল্পনাগুলোও এগিয়ে চলবে। আসলে এগুলো একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। যখন এত কিছুই ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়গুলোর ওপর এখনো নির্ভর করা যায়?’

    সংকটময় এ সময়ে কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত’ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, দেশটি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি এ–ও স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।

    শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্রকে যদি চিরস্থায়ীভাবে অনিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়, তাহলে কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমেই সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আমাদের উত্তেজনার উৎসগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর সমাধান করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।’

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

    এদিকে গতকাল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় ইরানে বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা আবার শুরুর লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

  • ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে আতলেতিকো। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে এটি রিয়ালের দ্বিতীয় হার।

    রোববারের ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শুরু থেকেই আক্রমণভাগে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম। তবে প্রথমার্ধে তারকাখচিত দুই দলের লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।

    প্রথমার্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বেলিংহাম ও আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মধ্যকার সংঘর্ষ। বেলিংহামকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে রোমেরোকে কার্ড দেখানো হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। গোলমুখে এগিয়ে যাওয়া জুলিয়ানো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং আতলেতিকো পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

    গোল হজমের পর দ্রুত দুটি পরিবর্তন করেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। ভিনিসিয়ুস ও আরদা গুলেরকে তুলে ইয়ান দিয়োমান্দে ও আন্তোনিও রুডিগারকে মাঠে নামান তিনি। তবে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আতলেতিকো।

    ৫৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। এটি ছিল আতলেতিকোর হয়ে টানা তিন ম্যাচে তার তৃতীয় গোল।

    এরপর আতলেতিকো তৃতীয় গোলের কাছাকাছি গেলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জুলিয়ান আলভারেজের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গ্রিমালদোর শটও গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ইব্রাহিমা কোনাতে।

    শেষদিকে রিয়াল একটি গোল শোধ করে। বের্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন রুডিগার। তবে শেষ মুহূর্তের সেই গোল দলকে সমতায় ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    জয়ে আতলেতিকো উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাদের পয়েন্ট বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ কম এবং রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক বেশি। রিয়াল এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।

  • ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দুরন্ত শৈশবে শিশুরা যখন মাঠে ঘাঠে ছুটে বেড়ায়, তখন আশরাফ দূর থেকে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলে। দু’টি হাত নেই, তাই বন্ধুদের খেলায় শরিক হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মনের গহিনে জমে উঠে তীব্র এক শূন্যতা। নিয়তির এই বঞ্চনা তার জীবনের গল্পটাকে সেখানে থামিয়ে দেয়নি। হতাশার অন্ধকার পেরিয়ে দুই পা-ই হয়ে উঠেছে তার বেঁচে থাকার, স্বপ্ন দেখার এবং তা বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার। দুই পায়ের আঙুলে সে বুঝতে শিখেছে জীবনকে।

    ইচ্ছেশক্তির জোর থাকলে কোনো কিছুই জীবন যুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তা দেখিয়ে দিলেন আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন। জন্মের পর সবকিছু ঠিক থাকলেও ছয় বছর বয়সে জীবনটা বদলে যায়। কাঁধের দু’পাশ থেকে দুটো হাত নেই। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হার মানেয়নি আশরাফ। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে কাটা হাতে পা দিয়ে লিখে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আশরাফ চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এবার পা দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কারো গলগ্রহ হয়ে নয়, আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বাঁচতে-সমাজকে আলোকিত করতে চান তিনি।

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পানিছড়া গ্রামে আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেনের জন্ম। বাবা খলিল আহমদ ও মা মোছাম্মৎ আমিনা বেগম দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে বড় সে। মা আমিনা বেগম ছেলেকে সমাজের বোঝা না বানাতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

    মায়ের প্রচেষ্টা, বিশ্বাস আর অনুপ্রেরণায় মোহাম্মদ আলী হোসেন তার পা দু’টিকে হাতের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রাম শুরু করেন। শুরুর দিকে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হতো, তবু হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ তিন বছরের নিরলস চেষ্টায় তিনি আয়ত্ত করেন পায়ে লেখার কৌশল। প্রতিদিনের ক্লাস থেকে শুরু করে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা সবই তিনি করতে শুরু করেন দুই পায়ের নিপুণ দক্ষতায়।

    পড়াশোনার প্রতি মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছিল খুবই চেষ্টা, তাই তিনি ভর্তিহন চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায়। তার লেখা পড়া দেখে মুগ্ধ হন সবাই।

    ২০১৪ সালে দাদির সাথে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ খালেরপাড় এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান আশরাফ। সেখানে দুইতলা ভবনের ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যাওয়ার সময় বাঁচার জন্য তিনি ১১হাজার কেভির বৈদ্যুতিক লাইনে হাত লেগে ঝলসে যায়। দুই হাত কেটে তাকে বাঁচিয়ে রাখেন চিকিৎসকরা। দু’হাত হারিয়েও তার পড়ালেখা থেমে থাকেনি।

    ২০২৬ সালে চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এখন হযরত শাহজালাল (র:) ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। সে সব সময় হাসিখুশি থাকে।

    আশরাফের মা আমিনা বেগম জানান, দুই ছেলে মধ্যে আশরাফ সবার বড়। ছোট থেকে কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের। দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর বসে বসে কত কেঁদেছি রাতের পর রাত। আশরাফের হাত না থাকায় কোনো কোনো প্রতিবেশী তাকে পছন্দ করত না। সমবয়সীরা তার সাথে খেলত না। একপর্যায়ে আশরাফের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বাড়িতে পায়ের আঙ্গুলে কলম চেপে ধরে খাতায় লেখার চেষ্টা করে সে। আস্তে আস্তে লিখতে শেখে সে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তি দেখে তাকে আমরা মাদরাসায় ভর্তি করি। এখন নিজের ইচ্ছা ও যোগ্যতায় সে এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়। তবে সে এখনো তার নিজের কাজ নিজে করতে পারে না। জামা-প্যান্ট নিজেই পরতে পারে না। খাবার মাখতে পারে না। খাবার মেখে দিয়ে মুখে খাইয়ে দিতে হয়। তার বাবার অল্প আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আশরাফ লেখাপড়া করে একটি চাকরি পেলে সমাজের আর দশটা প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েও তাকে অনুসরণ করতে পারবে।

    আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গর্ভধারিণী মা-ই এখন প্রধান ভরসা। তিনি হাঁটাচলা করতে পারলেও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। লেখাপড়ার জন্য মাদরাসায় যাতায়াতের সময়ও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

    আক্ষেপ করে আশরাফ বলেন, ‘আমি হাঁটাহাঁটি ও চলাফেরা করতে পারি। কিন্তু লেখাপড়া করতে মাদরাসায় যাওয়ার সময় অনেকেই আমাকে অবহেলা করে গাড়িতে তুলতেন না। সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে আমি জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি চাই অন্য সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে।’

    নিজের পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কথা তুলে ধরে আশরাফ আরো বলেন, ‘আমার বাবা একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। আমার চিকিৎসার পেছনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। কিছুদিন আগে আমার বড় ভাইও রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দুই ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাবা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন আমি পরিবারের হাল ধরতে চাই।’

    তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার যদি তাকে একটি চাকরি দেয়, তাহলে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

    প্রতিবেশী মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরও আশরাফ থেমে থাকেনি। জীবনযুদ্ধে লড়াই করে সে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সে একজন মেধাবী ও ভালো ছাত্র।’

    তিনি বলেন, ‘আশরাফ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে আরো এগিয়ে যেতে পারবে। তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্টে দিনযাপন করছেন। বাবা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। পরিবারের আহার, চিকিৎসা ও লেখাপড়ার ব্যয় বহন করে ঋণ পরিশোধ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। আশরাফের বাড়ির কাছেই সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। সেখানে তাঁ জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে বাড়ির কাছ থেকে যাতায়াত করে কাজ করা সম্ভব হবে।’

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

    চিকনাগুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পরিবারটি আজ অসহায় জীবনযাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও সবাইকে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আশরাফের প্রত্যাশা—সহানুভূতি নয়, সুযোগ। একটি কর্মসংস্থানই হতে পারে তার নতুন জীবনের পথচলার শক্তি।

    শৈশবে যে আলী মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের খেলতে দেখতেন, আজ তিনি জীবনের বৃহত্তর এক ময়দানে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। দুই হাত না থাকার সীমাবদ্ধতাকে তিনি তার আত্মপরিচয় হতে দেননি। এখন তার প্রয়োজন কেবল একটি সুযোগের। একটি চাকরি শুধু তার জীবিকা নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজকে এ বার্তা দেবে যে–ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে কোনো বাধা মানুষকে আটকে রাখতে পারে না। এ,আর

  • মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় জরিমানা

    মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় জরিমানা

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে প্রদীপ জ্বালানোর নির্দেশ ছিল। সরকারি পর্যায়ে তো বটেই, বেসরকারিভাবেও এই নির্দেশ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল দেশের সর্বত্র। সেই অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর, সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭৬তম জন্মদিনটি পালিত হয় প্রজ্বলিত প্রদীপের দীপ্তিতে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিতর্কের চরিত্রও বহুমুখী।

    বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে জম্মুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) কর্তৃপক্ষকে নিয়ে। তাদের হুকুম ছিল, সব পড়ুয়াকে প্রদীপ জ্বালানোর সময় হাজির থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গল কামনায় প্রদীপ জ্বালাতে হবে। নইলে ৫০০ রুপি জরিমানা।

    এ বিষয়ে আইআইএম স্টুডেন্টস কাউন্সিলের তরফে একটি নির্দেশনামা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর সবাইকে প্রদীপ জ্বালানো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। যদি কেউ অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে কারণ দেখাতে হবে। নির্দেশ অনুযায়ী, একমাত্র অসুস্থতার কারণে কেউ হাজির না থাকতে পারে। তবে সে জন্য আইআইএম কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত উপযুক্ত ডাক্তারের (সঞ্জীবনী) সার্টিফিকেট থাকা দরকার। তাতে ডাক্তারকে জানাতে হবে, সংশ্লিষ্ট ছাত্র এতটাই অসুস্থ যে তার বিছানা ছাড়ার উপায় নেই। এ ছাড়া অন্য কোনো ওজর আপত্তি গ্রাহ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার ৫০০ রুপি জরিমানা হবে।

    নির্দিষ্ট দিনে আইআইএম জম্মুর প্রশাসনিক ভবনের সামনে সেই অনুষ্ঠান হয়। তাতে অংশ নেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক যুধবীর শেঠি ও আইআইএম জম্মুর পরিচালক অধ্যাপক বি এস সহায়।

    জরিমানার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ওই অনুষ্ঠানে হাজির হননি বেশ কিছু পড়ুয়া। তাঁদের শৃঙ্খলাভঙ্গের নোটিস পাঠানো হয়েছে। বলা হয়, নোটিস প্রাপ্তির এক দিনের মধ্যেই জবাব দিতে হবে। জবাব যুক্তিযুক্ত মনে না হলে ৫০০ রুপি জরিমানা। জম্মু–কাশ্মীর কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত নেতা সৈয়দ নাসির হুসেন প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে? কেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রচারের দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো হবে? এটা তো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ হতে পারে না?

    বিহারের আরজিডে নেতা ও সাংসদ সুহাকর সিংও এই ঘটনার নিন্দা করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে বলেছেন, কেন জরিমানা? কেন জন্মদিনের প্রদীপ জ্বালানো বাধ্যতামূলক করা? এর চেয়ে ভালো হবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটা ঘোষণা জারি করুক, যারা ‘মোদি মোদি’ করবে না, মোদি বন্দনায় অংশ নেবে না, তাদের আইআইএম বা আইআইটিতে ভর্তিই করানো হবে না।

    জম্মু আইআইএম কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, কোনো ছাত্রের কাছ থেকে জরিমানার টাকা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    গত শনিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরের দিন ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন। তির্যক ভঙ্গিতে রাহুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সরকার কোটি কোটি রুপি খরচ করে রাজ্যে রাজ্যে প্রদীপ জ্বালাচ্ছে। অথচ ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য হোস্টেল তৈরি করতে পারে না। সে জন্য টাকা বরাদ্দ হয় না। সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বহু ছাত্রী থাকার অসুবিধার জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে ওই ‘এক্স’ বার্তায় ছাত্রীদের অসুবিধার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘এই বাচ্চা মেয়েটির প্রশ্নের উত্তর কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে?’

    প্রদীপ জ্বালানো নিয়ে নানা মহলে নানা রকম কথাও হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, ভাঙাচোরা আসবাবহীন দরজা–জানালাহীন জরাজীর্ণ এক আদিবাসী স্কুল–বাড়িতে একটি জ্বলন্ত প্রদীপ রেখে তিনি বলছেন, প্রিয় মোদিজি, আপনি প্রদীপ জ্বালাতে বলেছেন। এই প্রদীপ আপনার জন্য। এই ভাঙাচোরা স্কুল–বাড়ি আপনার অবদান। আপনার বারো বছরের শাসনের নিদর্শন।

    দিল্লি, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটসহ বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মোদির জন্মদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে পালিত হয়। সে জন্য সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়। স্কুল, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ জন্য নির্দেশ জারি করা হয়। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’। সবাই নির্দেশ পালন করছে কি না, তা জানতে প্রত্যেককে ভিডিও করে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠাতে বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এক মাসের এক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ওই অভিযান চলবে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সরকারি প্রচেষ্টার কড়া সমালোচনা করেছে। পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (পিইউসিএল) এই ‘স্তাবকতার’ সমালোচনা করে বলেছে, এভাবেই স্বাধীন চিন্তা ও ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতার গলা টিপে ধরা হচ্ছে। জন্ম দেওয়া হচ্ছে স্তাবক শ্রেণির।

  • রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারকে জামায়াতের সহায়তা প্রদান

    রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারকে জামায়াতের সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা। পুনর্বাসনে প্রতিটি পরিবারকে এক বান করে ঢেউটিন ও নগদ দুই হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন আশহক ব্যাপারি বাড়িতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাছেল, সহকারী সেক্রেটারি ও ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাসেম, সোনাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার ইদ্রিস মিয়া, ঢাকাস্থ রায়পুর ফোরামের সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস মাদানীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    সহায়তা দেয়ার সময় জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে যায়। এতে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এ,আর

  • বার্সার সাতে সাত

    বার্সার সাতে সাত

    লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একুশ শতকে লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে গোল করার দিক থেকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

    সেভিয়ার মাঠে গত শনিবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চার মিনিট পরই রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তারকা ফুটবলার। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।

    এই জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ও তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বেটিসের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। তবে বার্সা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।

    ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যায় সেভিয়াই। ১৯ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে জাল খুঁজে নেন ইউসুফ ফোফানা। হেড থেকে গোল করেন তিনি।

    তবে মিনিট তিনেকের মধ্যেই বার্সাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা। ভেতরের দিকে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে সেভিয়ার গোলরক্ষক ওদিসেয়াস ভ্লাখোদিমোসকে পরাস্ত করেন তিনি।

    পরের দুই গোলেই রাফিনহাকে সহায়তা করেন লামিনে ইয়ামাল। ৫২ মিনিটে গোলমুখ থেকে দূরে সরে গিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইয়ামাল ক্রস বাড়ান রাফিনিয়ার উদ্দেশে। সাবেক লিডস ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান।

    এরপর ৬৯ মিনিটে আবারও রাফিনিয়ার গোলের কারিগর ইয়ামাল। অসাধারণ এক পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এরপর চমৎকার কৌশলে বলটি ভ্লাখোদিমোসের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান। লামিনে ইয়ামালের সহায়তায় দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা।

    রাফিনিয়ার এই হ্যাটট্রিকেই নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার টানা সপ্তম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। এই হারের পরও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পঞ্চম স্থানে রয়েছে সেভিয়া।

  • চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা নকশিকাঁথার জামালপুরে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও লেক পরিবেষ্টিত লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে। ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো জামালপুর জেলাতেই ছিল উৎসবের আবহ।

    এবারের পর্বে থাকছে দুটি ভিন্ন ধরনের গান। এর একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতৃপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম- টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

    বরাবরের মতো এবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা, যাদের বাড়িও এই জামালপুরে। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা।

    ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন দর্শক পর্বের প্রথা অনুযায়ী, ধারণস্থান জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজন দর্শককে। ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পর্বগুলোর মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল প্রতিবেদন। জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’ বা ‘পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জামালপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জামালপুরের ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’-এর ওপর রয়েছে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। জামালপুরে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অভাবের তাড়নায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার- এসব নিয়ে রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়া জামালপুরে জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। ‘ইত্যাদি’র এই পর্ব ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

  • আমেরিকানদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

    আমেরিকানদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

    ইরানকে ঘিরে ফের উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা ও পালটা হামলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইরানে ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস। একই সঙ্গে কোনো কারণেই ইরান ভ্রমণ না করার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা ও সংঘাতে জড়িয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দরও নিশানা করা হয়েছে। চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এমন সতর্কবার্তা এসেছে। এর আগে ইরানকে ‘পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন তিনি।

    এছাড়া, গত শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিড থেকে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন ট্রাম্প। পরে, তিনি বলেন, ইরান নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। এসময় সামনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যেই সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ড বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তারা গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে।

    হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, স্বার্থ ও মিত্রদের নিশানা করে পালটা হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছে ইরান।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ইরান।

  • তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

    অপহরণের শিকার ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার্থী।

    তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ (৩৬) মেয়েকে উদ্ধারে এবং শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ২ আগস্ট (রোববার)। যার মামলা নম্বর -১/২৬। এর পূর্বে গত ২৬ জুলাই নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেখ মহসীন এলিন পাশা স্কুলপড়ুয়া তাবাসসুম ইয়াছমিন সিম্মিকে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে কুপ্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। এই বিষয়টি তাবাসসুম তার পরিবারকে জানায়। পরে তার বাবা বিষয়টি মহসীন এলিন পাশার পরিবারকে জানালে উল্টো ছেলের পক্ষ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অশালীন আচরণ করে।

    এরপরই গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে চিকসা গ্রামের বাসিন্দা শেখ কবির আহমেদ পাশার ছেলে শেখ মহসীন এলিন পাশা (২৬), মরহুম আব্দুল আজিজের ছেলে শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২) তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ ঘটনায় শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা দায়ের করেন।

    ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ জানান, ‘ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। এ ছাড়া মামলার আসামিদের আটকও করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।’

    তিনি তার মেয়েকে উদ্ধারে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণসহ র‍্যাব ও ডিবি’র সহযোগিতা কামনা করছেন।

    তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জুবায়ের জানান, ‘আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী অপহরণ হয়েছে—এই বিষয়ে আমাকে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই জানায়নি, আপনার মুখেই প্রথম শুনলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানালে আমি আমার প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ সবার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

    এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমাদের পক্ষ থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ এ,আর

  • রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরে পরিমাপে কারচুপি করায় মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা এবং পণ্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মামা-ভাগ্নে আরতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চারতলা মোড় এলাকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশন ও সিটি বাজারের মামা-ভাগ্নে আরতকে এই জরিমানা করা হয়।

    এর আগে, দুই জায়গাতেই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই-এর পরিদর্শক ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান (এসআরবি-১৩) টিম অভিযানে সহায়তা করে।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিমাপে কারচুপি করায় স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং ক্রেতাকে ভাউচার না দেয়ায় সিটি বাজার এলাকার মামা-ভাগ্নে আড়তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ,আর

  • একসাথে কাজ করবেন ট্রাম্প-মামদানি

    একসাথে কাজ করবেন ট্রাম্প-মামদানি

    রাজনীতিতে মতের অমিল থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু শহরের মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে সেই দূরত্ব কাটিয়ে এক টেবিলে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ‘গ্র্যাসি ম্যানশন’ নামে পরিচিত মেয়রের সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    হোয়াইট হাউস এবং নিউ ইয়র্ক মেয়র কার্যালয়—উভয় পক্ষ থেকেই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মেয়র কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্ক শহর এবং শহরের বাসিন্দাদের নানা সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    রাজনৈতিক আদর্শের দিকে তাকালে ট্রাম্প ও মামদানি পুরোপুরি দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতা, অন্যদিকে মামদানি ডেমোক্রেটিক দলের এক পরিচিত মুখ ও স্পষ্টভাষী সমাজতন্ত্রী। তবে রাজনীতি আলাদা হলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কটা বেশ অমায়িক ও আন্তরিক।

    এর আগেও তাদের মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে দুই নেতা মুখোমুখি বসেছিলেন। বৈঠক শেষে মামদানি জানিয়েছিলেন, তাদের দুজনেরই জন্মস্থান এই নিউ ইয়র্ক সিটি, আর তাই এখানে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আবাসন গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সাথে তার খুব ইতিবাচক কথা হয়েছে।

    অথচ একসময় পরিস্থিতি এমন ছিল না। নির্বাচনের আগে মামদানিকে ‘কম্যুনিস্ট’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু নির্বাচনে চমক দেখিয়ে মামদানি জয়ী হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসে মামদানিকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প মন খুলে তার প্রশংসা করেন।

    সেদিন ট্রাম্প বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের কোনো ভেদাভেদ এখানে থাকবে না। মামদানি ভালো কাজ করলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন এবং একটি নিরাপদ নিউ ইয়র্ক গড়ার স্বপ্নপূরণে তিনি মেয়রকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন

    মামদানির এই রাজনৈতিক উত্থান পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেই এক নতুন হাওয়ায় রূপ নিয়েছে। তিনি দ্রুতই দেশের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক বিরোধীদের চোখ রাঙানি থাকলেও, নিউ ইয়র্কের মানুষের ভালোর জন্য সব মতপার্থক্য ভুলে ট্রাম্প ও মামদানির এই এক টেবিলে বসা মার্কিন রাজনীতিতে এক দারুণ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

  • ইমরানের তিন বোনই আটক!

    ইমরানের তিন বোনই আটক!

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের আরও দুই বোন উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে।আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআইয়ের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার কর্মসূচির আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদের আটক করা হয়।

    এর এক দিন আগে ইমরানের আরেক বোন আলিমা খানকেও ৩০ দিনের জন্য আটক বা গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন লাহোরের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)।

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশ-১৯৬০-এর আওতায় উজমা ও নোরিনকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, তারা ‘জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর’।

    আদেশ অনুযায়ী, তাদের লাহোরের কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারের অধীনে রাখা হবে।

    লাহোরের ডিসি কার্যালয়ের আদেশে অভিযোগ করা হয়েছে, উজমা ও নোরিন ২০২৩ সালের ৯ মে’র বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন এবং কর্মীদের সরকারি ও জনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় আবারও কর্মীদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

    এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রেসকোর্স থানার ৯৬/২৩ নম্বর মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রোববার লাহোর ডিসি মুহাম্মদ আলী ইজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উজমা ও নোরিনকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে পুলিশ উপস্থাপিত প্রমাণ সদস্যরা অনুমোদন করেন বলে আদেশে বলা হয়েছে।

    এদিকে পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আক্রম সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, ইমরানের দুই বোনকে তাদের সন্তান এবং আলিমা খানের ছেলেদের সঙ্গে আটক করে একটি সাঁজোয়া গাড়িতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

  • মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল

    মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল

    মক্কার মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেন তিনি। সোমবার ফজরের আজানটিই ছিল মসজিদুল হারামে তার দেওয়া সবশেষ আজান।

    মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার ভোররাতে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির আজান দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ প্রকাশ করেছে।

    সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

    ১৯৭৬ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণকারী শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। শেখ ইব্রাহিমের ওপর তার দাদার প্রভাব খুব গভীর। তার দাদা ছিলেন একজন হাফেজ। পরবর্তীতে তিনি কুরআ বিষয়ক অধ্যয়নে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জন করেন।

    মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুয়াজ্জিন হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়।

    কলেজজীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি স্থানীয় আরো তিনজন প্রতিবেশীর সঙ্গে পালাক্রমে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মদিনার বাইরে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি কিছু সময়ের জন্য এ কাজ থেকে বিরত ছিলেন।

    ১৪২৮ হিজরি সালে তাকে ‘মসজিদ আল-মাদদাহ’তে পুনরায় আজান দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তিনি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আজান দিয়েছেন। ১৪৩৯ হিজরি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে শেখ ইব্রাহিম আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মদিনার ঐতিহ্য ও শৈলী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

    পাশাপাশি বাবার সঙ্গে মক্কা সফরের সময় তিনি মক্কার স্বতন্ত্র আজানশৈলীর সঙ্গেও পরিচিত হন।

  • আবার আক্রান্ত হলে ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবো: আইআরজিসি

    আবার আক্রান্ত হলে ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবো: আইআরজিসি

    যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর ফের হামলা চালায়, তাহলে তেহরান নতুন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আক্রমণ চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবিাব বলেন, নতুন করে হামলা চালালে তেহরান তাদের সমরাস্ত্র এবং ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে ফেলবে।

    মোহিবি বলেন, যদি নতুন কোনো হামলা হয়, তাহলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে। অস্ত্র ও যুদ্ধের ভূগোল বদলে ফেলা হবে এবং নতুন সক্ষমতা ও সামর্থ্য নিয়ে ময়দানে নামবে। বিশ্ববাসী এতে অবাক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যবস্তুগুলো আর আগের মতো নেই। আমরা নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেছি, যেগুলোতে আগে কখনো হামলা চালানো হয়নি।’

    মোহিবি আরো বলেন, ‘ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমাদের দৃষ্টিতে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় থাকে; যুদ্ধ কেবল শেষই হয় না, বরং চলতেই থাকে। আইআরজিসি যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং এখন তারা আরো বেশি প্রস্তুত।’

    তিনি বলেন, আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনো কূটনৈতিক তৎপরতায়ও জড়ায়নি। দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাই সামরিক বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    তার দাবি, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসান ঘটেছে এবং ওয়াশিংটনের পরিবর্তে ইরানই এখন এই অঞ্চলের নতুন বিন্যাস বা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় ৮ লক্ষাধিক মৌমাছি চুরি!

    অস্ট্রেলিয়ায় ৮ লক্ষাধিক মৌমাছি চুরি!

    অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন খামার থেকে ৮ লাখের বেশি মৌমাছি চুরি হয়েছে। এসব মৌমাছির মূল্য কয়েক হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত চুরি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অ্যাথারটন টেবিলল্যান্ডস এলাকার মৌচাষি টম বিডনার জানান, তিনজন মৌচাষির কাছ থেকে মোট ৪৪টি মৌমাছির কলোনি চুরি হয়েছে। প্রতিটি মৌচাকে অন্তত ২০ হাজার মৌমাছি থাকায় মোট চুরি হওয়া মৌমাছির সংখ্যা ৮ লাখের বেশি বলে তিনি হিসাব করেছেন।

    চোরেরা পুরো মৌচাক নিয়ে যায়নি। তারা মৌচাকের ‘ব্রুড বক্স’ বা যে অংশে মৌমাছির বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় লার্ভা ও ডিম থাকে, সেটি খুলে নিয়ে গেছে। এরপর নিজেদের বাক্সে মৌমাছিগুলো স্থানান্তর করে আবার আগের মতো মৌচাক সাজিয়ে রেখে গেছে। ফলে দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে চুরি হয়েছে।

    বিডনারের মতে, এ ধরনের কাজ করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও মৌচাষ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান প্রয়োজন। চোরেরা মধুও নেয়নি। ফলে মৌচাক বাইরে থেকে প্রায় অক্ষতই দেখা গেছে। তার সন্দেহ, চুরির সঙ্গে মৌচাষ শিল্পের পরিচিত ব্যক্তিরাই জড়িত থাকতে পারেন।

    মারিবা গ্রামীণ ও স্টক ক্রাইম স্কোয়াডের গোয়েন্দা সার্জেন্ট বেন ক্রসও মনে করেন, চুরির সঙ্গে কোনো শখের মৌচাষি নয়, বরং বাণিজ্যিকভাবে কাজ করা কেউ জড়িত থাকতে পারে।

    এই চুরির কারণে মৌচাষিরা শুধু মৌমাছিই হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন পরাগায়ন চুক্তি থেকে পাওয়া আয়ও। বর্তমানে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে অ্যাভোকাডোর মৌসুম চলছে। এ সময় ফলনের জন্য বিভিন্ন খামারে মৌমাছির বাক্স রাখা হয়। এসব বাক্সের মাধ্যমে মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সহায়তা করে। ফলে মৌমাছি চুরি হলে মৌচাষির পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

    বিডনার জানান, মৌমাছির বাক্সগুলো বিভিন্ন খামারে চুক্তির ভিত্তিতে রাখা হয়। কিছু বাক্স আবার মহাসড়কের পাশেও রাখা থাকে। অতীতে মৌচাক নিয়ে নড়াচড়ার ঘটনা ঘটলেও এত বড় চুরি তিনি মনে করতে পারছেন না।

    এদিকে উত্তর কুইন্সল্যান্ডের মৌচাষ শিল্প আরো একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি কেয়ার্নসের দক্ষিণে প্রথমবারের মতো ‘ভারোয়া মাইট’ পরজীবী শনাক্ত হয়েছে। এই পরজীবী মৌমাছির কলোনির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।

    কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেগান ও’মারা জানান, ২০২২ সালে নিউক্যাসলে পরজীবীটি শনাক্ত হওয়ার পর এর বিস্তার ঠেকাতে ১০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসাগুলোর কার্যকারিতা সীমিত। পরজীবীটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে আগামী ৩০ বছরে শিল্পটির ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    পরজীবীটির বিরুদ্ধে আরো কার্যকর চিকিৎসা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা চলছে। সম্ভাব্য চিকিৎসাগুলোর একটি এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তবে সেটি ব্যবহার উপযোগী হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে অধ্যাপক ও’মারা জানিয়েছেন।

    মৌচাষি টম বিডনারের ভাষায়, মৌমাছি চুরি এবং ভারোয়া মাইট—দুটিই তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। উত্তর কুইন্সল্যান্ডের উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সেখানে মৌমাছির প্রজনন সারা বছর চলতে পারে। ফলে পরজীবীটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে মৌমাছির নিরাপত্তা নিয়ে আরো সতর্ক থাকতে হচ্ছে মৌচাষিদের।

    চুরি যাওয়া মৌমাছির সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এত বড় সংখ্যক মৌমাছি পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • মিশেলের জাতিসংঘ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

    মিশেলের জাতিসংঘ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়ার পর তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তার সরে দাঁড়ানোর ফলে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার প্রতিযোগিতায় এখন সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।

    ৭৪ বছর বয়সি বাশেলে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি আগের মতোই দৃঢ়তার সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক কাজ চালিয়ে যাবেন।

    চিলির দুবারের প্রেসিডেন্ট বাশেলে এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব পদে তার প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করা। তিনি বলেছিলেন, উভয় ব্যবস্থাই বর্তমানে চাপে রয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সমর্থন না পাওয়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত বাশেলেকে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক ‘স্ট্র পোল’ বা মতামত যাচাইয়ে তার প্রতি সমর্থন প্রায় পুরোপুরি কমে যায়। একই ভোটে কোস্টারিকার কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে ছিলেন।

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেবেন। তবে প্রতিযোগিতায় থাকা প্রার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করবে। এরপর জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। নিরাপত্তা পরিষদে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাধারণত আনুষ্ঠানিকতার পর্যায়েই থাকে।

    বাশেলে চিলির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতা আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার পক্ষে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে না পারায় তিনি প্রতিযোগিতা থেকে সরে গেলেন।

    এখন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বাকি প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিষদ একজন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করার পর সাধারণ পরিষদে তার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

    পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, সামনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে।

    রোববার ফক্স নিউজের সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্টের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘সীমার মধ্যে’ থাকতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।

    ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশটিকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া’, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দেওয়া অথবা একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘সম্ভবত এতে আগ্রহী’।

  • সবুজ হয়ে উঠছে রেলস্টেশন!

    সবুজ হয়ে উঠছে রেলস্টেশন!

    ব্রিটেনের বিভিন্ন রেলস্টেশন এখন স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ফুল, গাছ ও সবুজ বাগানে নতুন রূপ পেয়েছে। পরিত্যক্ত ও অবহেলিত জায়গাকে বাগানে পরিণত করে শুধু স্টেশনের সৌন্দর্যই বাড়ানো হয়নি, একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন পরিবেশ। এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে প্রথমবারের মতো ‘রেলওয়ে স্টেশনস ইন ব্লুম’ পুরস্কার চালু করেছে রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি (আরএইচএস)।

    ১৯৬৪ সাল থেকে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ফুলের ঝুড়ি ও নানা রঙের ফুলের বাগান তৈরি হয়ে আসছে। প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি কমিউনিটি আরএইচএসের ‘ব্রিটেন ইন ব্লুম’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবার রেলস্টেশনের বাগান পরিচর্যায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মান জানাতে আলাদা পুরস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এবার পাঁচটি রেলস্টেশনের বাগান চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের বিজয়ী হয়েছে স্কটল্যান্ডের কার্ডরস কমিউনিটি অর্গানিক গার্ডেন। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষকে স্টেশনের কার্যক্রমে যুক্ত করার কারণে বিচারকেরা বিশেষভাবে দলটির প্রশংসা করেছেন। স্কুলশিশু, ব্রাউনি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী এবং বাগান পরিচর্যা দলের সদস্যরা সেখানে যুক্ত রয়েছেন।

    ইংল্যান্ডের এসেক্সের আলরেসফোর্ড স্টেশনও তালিকায় রয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে সেখানে তৈরি করা হয়েছে ‘ড্রাই গার্ডেন’। বাগান তৈরির জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা অ্যাসফল্ট কেটে ফুলের বেড তৈরি করেছেন এবং খরা সহনশীল গাছ লাগিয়েছেন। বাগানটির নেতৃত্ব দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী ফ্রাঙ্ক বেলগ্রেভ বলেন, উদ্যোগটি গ্রামের কেন্দ্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। একসময় স্থানীয় সংবাদপত্রে স্টেশনটিকে অবহেলিত হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এখন সেখানকার বাগান চেলসি ফ্লাওয়ার শোর বাগানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বেলগ্রেভ জানান, আগে বাগানের গাছে পানি দিতে স্বেচ্ছাসেবীদের অনেক সময় ব্যয় হতো। পরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তারা খরা সহনশীল গাছ দিয়ে বাগান তৈরি করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এতে সহযোগিতা করছেন। কেউ কেউ গাছ ও কম্পোস্ট নিয়ে এসে বাগানে দিয়ে যান।

    স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের কার্ডরস স্টেশনেও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সালের মার্চ থেকে স্টেশনের পরিবর্তনযোগ্য প্রায় প্রতিটি জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে। কঠিন শীতের কারণে সেখানে মৌসুমি ফুলের বদলে শক্ত ধরনের ঝোপজাতীয় গাছ বেছে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের বাড়ির বাগান থেকেও গাছ এনে স্টেশনে লাগিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

    চূড়ান্ত তালিকায় থাকা অন্য স্টেশনগুলোর মধ্যে মার্সিসাইডের ম্যাগহাল স্টেশনে টিকিট অফিসের জানালার বাক্সগুলো ফুলে সাজানো হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একটি ছোট বনও তৈরি করেছেন। বার্মিংহামের ওয়াইল্ড গ্রিন স্টেশনে অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা পরিষ্কার করে পরাগায়নকারী পতঙ্গবান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে একটি ‘বি করিডর’ তৈরি হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবছর প্রজাপতি গণনাও করেন এবং তাদের হিসাবে প্রজাপতির সংখ্যা বেড়েছে।

    সামারসেটের কেইনশ্যাম স্টেশনে গরম সহ্য করতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের সাকুলেন্ট গাছ লাগানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, এই বাগান পরিচর্যার কাজ তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগও বাড়িয়েছে। অনেকেই এ কাজ করতে গিয়ে নতুন বন্ধু পেয়েছেন। যাত্রীরাও বাগান দেখতে এসে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    আলরেসফোর্ডের বেলগ্রেভ জানান, স্টেশনের বাগানের কারণে সেখানে মৌমাছি, প্রজাপতি, হেজহগ ও স্লোওয়ার্মসহ বিভিন্ন প্রাণীর উপস্থিতি বেড়েছে। তার মতে, এখনো অনেক স্টেশন এই উদ্যোগের বাইরে রয়েছে। আরও মানুষ এগিয়ে এলে সেসব স্টেশনও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।

  • আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

    আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

    এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে খরা, অতিরিক্ত তাপ, দাবানল, টাইফুন, বন্যা ও খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে এবারের এল নিনো খুব শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয় নয়, কেবল একটি সামুদ্রিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে কৃষি, পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, বন্যা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে তৈরি হতে পারে। এটি বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, অত্যন্ত তীব্র এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি মাসে বলেছেন, এল নিনো যেন মানুষের চোখের সামনেই আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

    চীনে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় ১০০ দিনের একটি অভিযান শুরু হয়েছে। খরা ও অতিবৃষ্টির মতো বিপরীত পরিস্থিতিতে ফসল রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেইজিং আগাম সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। জুলাইয়ে চীনের সরকার শহরগুলোকে বন্যা ও অতিরিক্ত তাপের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ‘ক্লাইমেট রিস্ক ম্যাপ’ তৈরির জাতীয় পরিকল্পনা নেয়।

    হংকংয়েও চরম তাপ মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্রের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে ৯ আগস্ট রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা দেখা যায়। অতিরিক্ত গরমের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজের সময় পরিবর্তন, শীতলীকরণ সরঞ্জাম ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব সহায়তা না দিলে নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

    তাইওয়ান সম্ভাব্য চরম আবহাওয়াকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেখানে টানা তিন দিন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পরিস্থিতি ধরে একটি মহড়া হয়। এতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেল যোগাযোগে সমস্যা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হওয়া এবং ব্যাপক হিটস্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি অনুশীলন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শীতল স্থানে পৌঁছে দিতে ‘কুল ম্যাপ’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মও পরীক্ষা করছে সরকার।

    দক্ষিণ এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ভারতের কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে ধান, ডাল, তুলা ও ভুট্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ঘাটতির কারণে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ভারত সরকার ৩৫০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় পানি সংরক্ষণ ও পানি সংগ্রহের অবকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকদের কম পানি প্রয়োজন এমন স্বল্পমেয়াদি ফসল, যেমন ডাল ও মিলেট চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরো কঠিন। দেশটি এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন। ইয়ালা জাতীয় উদ্যানের পর্যটন এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চিতাবাঘ, হাতি, কুমির ও হরিণসহ বন্যপ্রাণীর জন্য পানির ব্যবস্থা করতে ট্যাংকারে পানি নেওয়া হচ্ছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুল্লাইথিভু লেগুনেও মিঠা পানির অভাবে হাজার হাজার মাছ মারা গেছে।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও খাদ্য উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মৌসুমি দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ বাড়ছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ধান উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশগুলোতে কৃষকদের পানি ব্যবস্থাপনা, ফসলের সময়সূচি পরিবর্তন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ কোরিয়াতেও আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে জুলাই ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে শুষ্ক। পরে সেখানে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কৃষকদের আলু মাটির নিচে ‘সেদ্ধ’ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহের সতর্কতা ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছে। অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে জরুরি নয় এমন বাইরের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার জন্য নতুন সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর যুক্ত করা হয়েছে।

    জাপানও সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এল নিনো ও মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মিলিত প্রভাবে দেশটিতে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা বাড়ছে। জুলাইয়ে জাপান প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার জন্য ‘কোকুশোবি’ বা ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ শব্দটি সরকারি পর্যায়ে ব্যবহার করেছে। এখন গ্রীষ্মের তাপ কমার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

    জাপানের কর্তৃপক্ষ মানুষকে ঘূর্ণিঝড়ের সময় সরিয়ে নেওয়ার সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং আগে থেকেই খাবার ও পানি মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি আন্ডারপাস আগাম বন্ধ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

  • আসামে ১৪০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ

    আসামে ১৪০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ

    প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতির এক করুণ চিত্র ফের উন্মোচিত হলো আসামের ধুবড়ি জেলায়। সম্প্রতি সেখানে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের একটি ৩২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অথচ এই তথাকথিত উন্নয়নের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের কান্না।

    যে জমিতে এই প্রকল্পের সূচনা হলো, ঠিক সেখান থেকেই গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ১ হাজার ৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ করে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল আসাম সরকার। চাঁপার রেভিনিউ সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত চারুয়াবখরা, চিরাকুটা ১ ও ২ এবং সন্তোষপুর গ্রামে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ১১৫৭ একর সরকারি জমি থেকে মুসলমানদের উৎখাত করে প্রথমে তা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ‘আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’কে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তা তুলে দেওয়া হয় আদানি পাওয়ার লিমিটেডের হাতে।

    এই নিষ্ঠুর উচ্ছেদ অভিযানের ফলে অন্তত তিন থেকে চার দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১০ হাজার বাঙালি মুসলিম মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের অনেকেই আগে থেকেই ছিলেন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের শিকার, যারা নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁচার তাগিদে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে এটি আসামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা রাজ্যের সম্পূর্ণ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য সম্মেলনে আদানি গ্রুপ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তারই বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে তিনি জানান। আদানি গ্রুপের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজে প্রায় ২০ হাজার এবং চালু হলে আরো প্রায় ৫ হাজার জনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

    সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এই উচ্ছেদের আইনি বৈধতা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া। গত ১৪ জুলাই কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের একটি বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ণ কমিটি (ইএসি) প্রস্তাবিত এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে আদানিদের তরফে মন্ত্রককে জানানো হয়েছিল যে, প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থানটিতে কোনো লোকালয় বা জনবসতি নেই এবং সেই কারণে পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোনো দাবি বা দায়বদ্ধতাও নেই। বাস্তুচ্যুত স্থানীয় বাসিন্দারা আদানিদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেলা স্তরের এক ভূমি উপদেষ্টা বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসন গবাদি পশুর চারণভূমির জন্য সংরক্ষিত একটি সরকারি জমিকে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করার প্রস্তাব জমা দেয়, যার পরেই উচ্ছেদের নোটিস জারি করে বসতবাড়িগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আব্দুর রশিদ শেখ জানিয়েছেন যে, আসাম সরকার বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি খালি করার ফলে ১৪০০টি পরিবার কোনো রকম পুনর্বাসন ছাড়াই চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। তিনি জানান, যে ৩৫০০ বিঘা খাসজমি বলপূর্বক দখল করা হয়েছে, তা ছাড়াও প্রায় ১৭০০ বিঘা এমন জমিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে যার বৈধ মালিকানা নথি বা পট্টা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল। সমস্ত কাগজপত্র জমা নেওয়া সত্ত্বেও পট্টাধারী জমির মালিকদের অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। দুর্গতদের পুনর্বাসনের নামে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাইজার আলগা গ্রামে মাত্র ৩০০ বিঘা জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং জিনিসপত্র স্থানান্তরের জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা সেখানে যেতে রাজি হননি, কারণ ওই জমিটি ব্রহ্মপুত্র নদীর বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক নিচু ও মারাত্মক প্লাবনপ্রবণ এলাকা।

    আসামে মুসলমানদের ওপর এই ধরনের রাষ্ট্রীয় বঞ্চনা ও আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০১৬ সালে আসামে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, তার সিংহভাগই ঘটেছে বাংলাভাষী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সব ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন পুলিশের গুলিতে অন্তত আটজন মুসলিম অধিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। একদিকে করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, আর অন্যদিকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কয়েক হাজার বাঙালি মুসলিমকে অমানবিকভাবে নিজ দেশেই উদ্বাস্তু করে দেওয়া—এই চিত্রই ভারতে বর্তমান সময়ে মুসলমানদের প্রকৃত হাল ও নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

  • বই পড়লেই টাকা!

    বই পড়লেই টাকা!

    মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। সরকারি একটি ওয়েবসাইটে বই পড়ার সময় নথিভুক্ত করলে অংশগ্রহণকারীদের অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো কমতে থাকা বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা এবং মানুষকে মোবাইল ফোনে অকারণে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার বদলে বই পড়ায় উৎসাহিত করা।

    চলতি মাসে চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে একজন অংশগ্রহণকারীকে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ একটি পড়ার সেশন নথিভুক্ত করা যাবে। এভাবে ৫০টি সেশন সম্পন্ন করলে পাওয়া যাবে ১ সিঙ্গাপুর ডলার। অর্থাৎ টাকার পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে আচরণবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থের পরিমাণ কম হলেও এটি মানুষের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    মনোবিজ্ঞানী ও ‘দ্য অ্যাংজাস জেনারেশন’ বইয়ের লেখক জনাথন হেইডট মনে করেন, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে পুরস্কার একটি আচরণ শুরু করার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। তবে বই পড়ার আনন্দ যদি নিজের মধ্যেই তৈরি হয়, তাহলে অর্থ না থাকলেও সেই অভ্যাস টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে শুধু অর্থের জন্য কেউ বই পড়লে পুরস্কার বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অভ্যাসও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

    ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লরি বারিলও মনে করেন, নিয়মিত কোনো আচরণ পুনরাবৃত্তি করলে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। তার মতে, সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো মানুষ পুরস্কার পাওয়ার সময় বেশি পড়ছে কি না, তা নয়; বরং পুরস্কার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তারা বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে পারছে কি না।

    সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আচরণগত মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আইভো ভ্লায়েভ বলেন, মানুষের আচরণে প্রণোদনার কার্যকারিতা সবসময় অর্থের পরিমাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তার মতে, সিঙ্গাপুরের কর্মসূচির অর্থকে প্রচলিত অর্থে বই পড়ার মজুরি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি মানুষকে কাজটি শুরু করার জন্য একটি ছোট ‘ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। পড়ার সময় নথিভুক্ত করা, অগ্রগতি দেখা এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বিষয়গুলো মানুষকে লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।

    এই কর্মসূচির ‘গ্যামিফিকেশন’ বা খেলাধুলার মতো পুরস্কারভিত্তিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিদিন ১৫ মিনিটের একটি সহজ লক্ষ্য, পড়ার ধারাবাহিকতা দেখা এবং নিজের অগ্রগতি অনুসরণ করার সুযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তাৎক্ষণিক আকর্ষণের একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    বিশেষ করে যারা আগে বই পড়তেন কিন্তু এখন পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আবার যারা বই পড়তে চান কিন্তু শুরু করতে পারছেন না, তাদেরও ছোট একটি তাৎক্ষণিক পুরস্কার সেই ইচ্ছাকে কাজে পরিণত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ব্রিটেনে বই পড়ায় উৎসাহ দিতে অর্থের পরিবর্তে অন্য ধরনের পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফিকেট এবং ‘রিডিং এজেন্সি’র সামার রিডিং চ্যালেঞ্জে ব্যাজ ও সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব উদ্যোগে মূল পুরস্কার হলো স্বীকৃতি ও অর্জনের অনুভূতি।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিঙ্গাপুরের উদ্যোগটি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। কোথাও অর্থ, কোথাও বই, কোথাও সার্টিফিকেট বা ব্যাজ এবং কোথাও শুধু পয়েন্ট ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রেখে তুলনা করা যেতে পারে। এতে কোন ধরনের প্রণোদনা মানুষের দীর্ঘস্থায়ী পড়ার অভ্যাস তৈরিতে বেশি কার্যকর, তা বোঝা সম্ভব হতে পারে।

    তবে সরকারের পক্ষ থেকে বই পড়ার জন্য অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্নও উঠছে—আনন্দ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য যে কাজ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে করে, সেটির জন্য কি সরকারকে আর্থিক পুরস্কার দিতে হবে? অধ্যাপক ক্যাটি মিলকম্যানের বলেছেন, সরকার যেহেতু শিক্ষার অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই ভর্তুকি দেয় এবং অর্থ ব্যয় করে, তাই বই পড়াকে উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়াকেও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে।

  • অমুসলিমদের ভয় কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদ উন্মুক্ত

    অমুসলিমদের ভয় কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদ উন্মুক্ত

    ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও মসজিদে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় মানুষকে ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দিতে একশর বেশি মসজিদ সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচির আওতায় লন্ডন, বার্মিংহাম, শেফিল্ড, ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, সাউথেন্ড ও কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে এই আয়োজন করা হয়।

    মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন আয়োজিত ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিটি এবার ১১ বছরে পড়েছে। মসজিদগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য চা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, আলোচনা, আন্তধর্মীয় কার্যক্রম, শিল্প প্রদর্শনী এবং মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবার এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

    উত্তর লন্ডনের লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গত তিন বছরে মসজিদটি একাধিক হামলা ও হয়রানির মুখে পড়েছে। এক ঘটনায় এক নারী মুসল্লিদের উদ্দেশে তাদের সন্তানদের হত্যার কথা বলেন। অন্য একটি ঘটনায় ভবনের গ্যাসের পাইপ খুলে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে গ্যাস জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব ঘটনার পরও মসজিদটি নিজেদের আরো বেশি মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ মুসলিম ও তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্কে অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন। এতে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম বলেন, বন্ধুত্ব ও সংহতি যে ঘৃণার চেয়ে শক্তিশালী—এটি দেখাতেই তাদের মসজিদ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তার মতে, মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, তখন অনেক প্রচলিত ধারণা ও ভয় দূর হতে শুরু করে।

    মসজিদের নিরাপত্তা নিয়েও মুসলিমদের উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ হামলার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভয় দেখানো, সহিংসতা, সম্পত্তির ক্ষতি, হয়রানি, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য, অনলাইনে নির্যাতন ও ভাঙচুর রয়েছে।

    গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চেডল মসজিদের ফারুক রফিক ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিকে এমন একটি জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মানুষ ভুল বোঝাবুঝির শিকার একটি ধর্ম ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান। ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবারও মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় উন্মুক্ততা, সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির মসজিদটি পরিচালনা করেন বিবি খান। তিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের সভাপতি হওয়া প্রথম নারী। তার মতে, গণমাধ্যমে অনেক সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তব চিত্র উঠে আসে না। তাই নিজেদের বিশ্বাস, কাজ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ওই মসজিদের আয়োজনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ নেন। সেখানে প্রায় দুই ডজন মানুষ গোলটেবিল আলোচনায় বসেন। যারা ইসলাম পালন করেন না, তাদের কেউ কেউ মসজিদ ও ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ থেকে সেখানে উপস্থিত হন। আয়োজনের সময় মসজিদে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল।

    অনুষ্ঠানে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। হ্যারিঙ্গে মুসলিম ও ইহুদি—দুই সম্প্রদায়ের বড় উপস্থিতি রয়েছে। বিবি খান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একসঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইহুদি প্রতিনিধি জুডিথ প্রিন্সলিও তার উপাসনালয়ের কাছে ইহুদিবিদ্বেষী গ্রাফিতি এবং উপাসকদের ভয় পাওয়ার কথা জানান।

    বিবি খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এ ধরনের গুজব ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মানুষের মধ্যে আরো ভয় ও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। এ কারণে মুসলিম ও অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

  • ভারতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতবর্ষী কবরস্থান

    ভারতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতবর্ষী কবরস্থান

    ভারতের কানপুরে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি কবরস্থান উচ্ছেদবিরোধী অভিযানের নামে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেছে কানপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেডিএ)। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কবরস্থান কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    কবরস্থান কমিটির দাবি, প্রায় এক শতাব্দী ধরে ওই স্থানে কবরস্থানটি রয়েছে। এর অস্তিত্ব ও মর্যাদার পক্ষে কয়েক দশক পুরোনো ঐতিহাসিক নথিও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। কমিটির পক্ষ থেকে কবরস্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি কেডিএর কাছে জমা দেওয়া হলেও সেগুলো উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। এতে কবরস্থানের বড় একটি অংশ ও সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    তবে কেডিএ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল এবং দখল উচ্ছেদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।

    কেডিএর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কবরস্থান কমিটি। তাদের বক্তব্য, কবরস্থানের মালিকানা ও অবস্থানসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি তাদের কাছে রয়েছে। এসব নথি ও আপত্তি জানানোর পরও কেন কবরস্থান ভেঙে ফেলা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।

    ঘটনাটি ঘিরে পুরোনো কবরস্থান ও ধর্মীয়-সামাজিক সম্পত্তি সুরক্ষা এবং কোনো স্থাপনা ভাঙার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কবরস্থান কমিটি জানিয়েছে, অবশিষ্ট জমি রক্ষায় তারা সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কবরস্থানটির সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে।

  • মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ক্লাবের প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সভায় কথা বলার সময় মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি আয়োজনের ইচ্ছার কথা এরই মধ্যে তাকে জানিয়েছে বার্সেলোনা। নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই সেই সংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কাতালান ক্লাবটি।

    লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা মেসিকে জানিয়েছি এ বিষয়ে। স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে তার জন্য একটি সংবর্ধনা আয়োজন করতে চাই।’

    তবে সংবর্ধনার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মেসির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বার্সা সভাপতি, ‘স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা তার জন্য এই সংবর্ধনা আয়োজন করব, যদি তিনি সেটি চান।’

    মেসির আবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন লাপোর্তা। তার দাবি এক মৌসুমের জন্য হলেও মেসিকে আবার দলে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ‘আমাদের সঙ্গে আরও একটি মৌসুম খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি কারণ সে অন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ তবে কোন সময়ের কথা তিনি বলছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বার্সা সভাপতি।

    লাপোর্তার এই মন্তব্যে ফের সামনে এসেছে বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে পুরোনো সেই আক্ষেপ। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়েন মেসি। তবে ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ গৌরবময় অধ্যায়ের পরও মাঠে তাকে যথাযথ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা।

    তবে সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্লাবের ইতিবাচক মনোভাবের কথাই তুলে ধরেছেন লাপোর্তা, ‘তাকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা খুবই খুশি হব। আশা করি খুব শিগগিরই তাকে দেখতে পাব।’

    এদিকে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসির মৃত্যুতেও শোক জানিয়েছেন লাপোর্তা। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাপোর্তা বলেন, ‘তার বাবার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ।’

  • বিশ্বজয়ী হাফেজদের উপহার দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্বজয়ী হাফেজদের উপহার দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার নিজ দপ্তরে বিশ্বজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিজয়ী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেন। ওই অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের বিভিন্ন উপহারের সঙ্গে ‘নেক্সাস’ বইও দেওয়া হয়েছিল।

    বই ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিজয়ী হাফেজদের দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও সহায়তাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পুনর্ব্যক্ত করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। আন্তর্জাতিক এসব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এ সময় বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া, হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী, হাফেজা রাবিতা বিনতে রমাদান ও হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদসহ তাদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

    মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    সভায় সরকারের নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে। সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।’

    রোববার সংসদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের বাইরেও ইশতেহারে কিছু বিষয় ছিল, সেগুলোও ধারণ করা হবে। একপাক্ষিকভাবে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। আজকের আলোচনায় ১৭টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে।’

    বাজেট বরাদ্দের সময় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক বছরের সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত আর্থিক বছর করার প্রস্তাব দেয়া হবে।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। অর্থাৎ সংবিধানে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করা হবে।’

    কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সংখ্যাধিক্যের কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। যারা এখনো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি, তারাও আলোচনায় থাকতে চাইলে অংশ নিতে পারবে। ডিসেম্বরর মধ্যে আলোচনাসমূহ শেষ করা পরিকল্পনা আছে। এরপরই রিপোর্ট তৈরি করা হবে।’

  • কর্ণফুলী নদীতে পড়ে চবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

    কর্ণফুলী নদীতে পড়ে চবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর সীতার ঘাটের পাথর ঘাট অংশের নদীতে নেমে তলিয়ে যায় সাজিদ শাহারিয়ার সানম (২৪) নামের এক পর্যটক। আজ রোববার দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজ সানম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আসা ৯ জনের একটি পর্যটক দল আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে কাপ্তাইয়ে পৌঁছায়। স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিয়ে তারা কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে যায়। পাহাড় থেকে নেমে দুপুর দেড়টার দিকে সীতার ঘাটের পাথরঘাট অংশের কর্ণফুলী নদীতে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য নামে। এসময় হঠাৎ সানম পা পিছলে পড়ে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায় সে।

    নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা ঢাকা থেকে ৯ জন এসে সকালে সীতার পাহাড়ে উঠি। পাহাড় ভ্রমণ শেষ করে নেমে নদী থেকে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে নেমেছিলাম। ঠিক তখনই পা পিছলে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে আমাদের বন্ধু সানম পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা নিজেরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারিনি।

    ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাপ্তাই থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বর্তমানে নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. সরোয়ার হোসেন জানান, খবরটি পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল সানমকে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ,আর

  • জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি মর্টার শেল উদ্ধার করে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নের নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় সিলেট সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় শিশুরা খেলতে গিয়ে মর্টার শেলটি দেখতে পায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক মর্টার শেলটি আছড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তারা গোয়াইনঘাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর্টার শেল থেকে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

    এরপর মর্টার শেলটি পাহারায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি তা উদ্ধার এবং নিষ্ক্রিয়করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের এটিও ক্যাপ্টেন মনিরার নেতৃত্বে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    এ সময় গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর ফয়েজসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো: ওমর ফারুক মোড়ল জানান, মর্টার শেলটি উদ্ধারের পর থানা পুলিশের সংরক্ষণে রাখা হয়। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।’ এ,আর

  • ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

    আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    তিনি জানান, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।’

    অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।

    নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

  • চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশ এলাকায় কক্সবাজারমুখী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কালিয়াইশ পূর্বকাঠগড় রেলগেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— অটোরিকশাচালক ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর মুহুরীপাড়ার মরহুম সাহেব মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুল সক্কুর (৩৫) ও যাত্রী কালিয়াইশ ইউনিয়নের মাইঙ্গাপাড়া গ্রামের মরহুম হাজী আহমদ হোসেনের ছেলে আবু তাহের (৫৫)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু তাহের তার ছোট ছেলেসহ চন্দনাইশ-দোহাজারী সদরে বাজার করেন। পরে বিওসির মোড়ে তার ছেলেকে চুল কাটার জন্য নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশাযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে রেলগেইট পার হওয়ার সময় ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলেই আবু তাহের ও দোহাজারী হাসপাতলে নেয়ার পথে সুক্কুর মারা যান।

    নিহত আবু তাহেরের প্রতিবেশী আবুল বশর জানান, ওই রেলগেইটের পাশে জঙ্গল থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় ভাল করে দেখা যায় না।

    যোগাযোগ করা হলে জিআরপি থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন কান্তি দে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ,আর

  • এআই নিয়ে চীন কেন এত চিন্তিত?

    এআই নিয়ে চীন কেন এত চিন্তিত?

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নতুন কিছু সক্ষমতা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং।

    যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক গবেষক।

    চীন এত দিন এআইয়ের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ঝুঁকি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল। এর মধ্যে ছিল ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা।

    তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা চীনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলো সাইবার হামলা চালাতে পারে—এমন প্রমাণ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একদল প্রোগ্রামার এআই ব্যবহার করে একটি সাইবার হামলার ‘ওয়ার্ম’ তৈরি করার কথা জানায়। এটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের লাখ লাখ অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে বলে তারা দাবি করে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন শু বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি।

    তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। চীনে সাধারণত এমন আলোচনা জনসমক্ষে ততটা দেখা যায় না।

    এআই দিয়ে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করা সাইবার হামলাকারী এজেন্ট তৈরি হলে সেটি চীনা সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশলবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক সুন চেংহাও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখন এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা তৈরি করছে। এতে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

    তবে এআই নিয়ে দুই দেশের তীব্র প্রতিযোগিতা সহযোগিতার পথে বাধা হতে পারে। বিশেষ করে এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থায় দুই দেশের সমন্বয় কঠিন হতে পারে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে এবং তিনি এই অবস্থান ধরে রাখতে চান।

    চীনের বিশেষজ্ঞ সুন চেংহাও বলেন, চীন আশঙ্কা করছে ‘নিরাপত্তা’র কথা বলে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সীমিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।

    চীন ইতিমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর কিছু নিয়ম করেছে। যেমন, কারও অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    বেইজিংভিত্তিক এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনকর্ডিয়া এআইয়ের প্রধান ব্রায়ান সে বলেন, চীনের এআই নীতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বর্তমান ক্ষতির বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়।

    তার মতে, চীন এআইকে এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখে, যা বিদ্যুৎ বা গাড়ির মতো সমাজ ও শিল্পের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করে বেইজিং।

    সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু ঘটনা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে এনেছে। এ কারণে চীনের নীতিনির্ধারকদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পাশাপাশি সাংহাইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ ও বাস্তববাদী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকবেই। তবে সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করা গেলে প্রযুক্তির নিরাপত্তা আরও বাড়বে।

    সাংহাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, উইচ্যাটে এআই দিয়ে সাইবার হামলার সম্ভাবনা সামনে আসা খারাপ বিষয় নয়। বরং এতে দুর্বলতা শনাক্ত করে তা ঠিক করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এআইয়ের ওপর কঠোর নিয়মের পক্ষেও অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তারা নিজেরাই যথেষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ নাও করতে পারে।

    সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্পায়ার্ড এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া জিজিয়ান বলেন, তার বড় উদ্বেগ হলো শক্তিশালী এআই মডেল দিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কোড ভেঙে ফেলা।

    তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একটি দেশের এআই সক্ষমতা খুব শক্তিশালী হলে অন্য দেশ নিজেকে নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল মনে করতে পারে।

  • ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনটে থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে জয় নামের এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করে নেয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    ইজিবাইক চালক জয় উপজেলার বাঁশহাটা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।

    জহুরুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত তিন যুবক যাত্রী সেজে ধুনট বাজার থেকে জয়ের ইজিবাইক ভাড়া নেয়। রাত ৮টার দিকে ধুনট থানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে পাকা রাস্তার উপর যাত্রীবেশী ওই তিন যুবক ইজিবাইক থামিয়ে জয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ধারালো ছোরা দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয় জনগণ জয়কে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

    এ ঘটনায় তিনি ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এদিকে থানার পাশে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

    এ বিষয়ে ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ এ,আর

  • ইসরায়েলের কাছে ৪০ হাজার বোমা বিক্রি আটকে দিলেন সিনেট

    ইসরায়েলের কাছে ৪০ হাজার বোমা বিক্রি আটকে দিলেন সিনেট

    ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এতে বাধা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল। একই অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের তাঁর সমপদস্থ সদস্যও। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল সরকারের প্রতি গভীর অনাস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় বেসামরিক মানুষের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    প্রস্তাবিত অস্ত্রের চালানের মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার এক টন ওজনের বোমা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় এসব বোমা ইসরায়েলকে দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল। গাজা উপত্যকায় বিপুল প্রাণহানির পেছনে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে আনুমানিক ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এই হিসাবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।

    সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট হিসেবে শ্যাহিনের নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অর্থমূল্যের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত এটি একটি অনানুষ্ঠানিক পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র দপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতার উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করে এবং অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগে তার সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করে।

    সেমাফোর প্রথম জানায়, শ্যাহিন এই অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন এবং তিনি গত জুলাইয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শ্যাহিনের সমপদস্থ সদস্য প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস গত বুধবার বিরল এক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে জানান, তিনিও এই সামরিক অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন। মিকস বলেন, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মার্কিন আইন অনুযায়ী ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শ্যাহিনের কাছে মিকসের এই পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। জবাবে শ্যাহিন বলেন, ‘ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘গাজায় তারা যা করছে, সিরিয়ার মতো জায়গায় তারা যে বোমাবর্ষণ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর অর্থ কী দাঁড়ায়, বিশেষ করে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনার জন্য এর অর্থ কী, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

    শ্যাহিন আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন আমরা তা পছন্দ করি না। পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, সেটিও আমরা পছন্দ করি না। সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং মৌলিক অবকাঠামো ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। আর নেতানিয়াহু প্রশাসন এসব সমস্যা সমাধানে মূলত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।’

  • সাবেক সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    সাবেক সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    গাজীপুর মহানগরের ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল হোসেন আল আমিনকে গুম ও হত্যার ঘটনায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান আসাদুজ্জামানসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ২২ অক্টোবর হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়।

    অপর আসামিরা হলেনÑসিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদ, সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ও এসআই তৌহিদুল ইসলাম সুমন।

    এর মধ্যে এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আব্দুল্লাহ।

    শুনানিতে তিনি বলেন, আসামিরা ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে গাজীপুরের ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার থেকে অধ্যক্ষ আবুল হোসেন আল আমিনকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

    আটকের পর তাকে টানা নির্যাতন করা হলে একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ঘটনা গোপন করতে কেরাণীগঞ্জের তুলসীখালী সেতু থেকে তার লাশ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, একইভাবে ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ৬ জনকে সিসিটিসিতে গুম করে দীর্ঘদিন নির্যাতন করার পর আদালতে হাজির করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

    এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন জানান তারেক আব্দুল্লাহ। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামি ইশতিয়াককে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

  • সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে সম্মান জানিয়ে সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসন করাই গণতান্ত্রিক পথ।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দলের এমপিরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার দাবি, এখানেই বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের প্রধান বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান হলেও সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাই চূড়ান্ত। গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে বিষয়টি সাধারণ সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নেওয়া জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ সংসদকে সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও তা সীমাহীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সাধারণ সংশোধনী দিয়ে পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের নজিরও তুলে ধরেন তিনি।

    ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো—গণভোটের রায় যথাযথভাবে কার্যকর করা, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য করে পরিষদ কার্যকর করা।

    এ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের কোনো একতরফা উদ্যোগ থেকে বিরত থেকে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, বিশেষ সংসদীয় কমিটি গত শুক্রবার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আজ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদকদের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    গত ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় সরকার। জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সদস্যদের নাম না দেওয়ায় পরে ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

  • বিরোধীদের বয়কটের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির মতবিনিময় শুরু

    বিরোধীদের বয়কটের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির মতবিনিময় শুরু

    সংসদে বিরোধী দলের বয়কটের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আজ রোববার জাতীয় সংসদে বেলা আড়াইটা থেকে এ সভা শুরু হয়েছে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, এনডিএম, আমজনতার দল, ইসলামী ঐক্যজোট, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, গণফোরাম ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

    মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে ওয়াকআউট করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।

    সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরু করেছে।

    তবে বিরোধী ১১ দলীয় জোট বলছে, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরুর পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের সরাসরি দেওয়া সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে পাশ কাটানো হচ্ছে।

    জোটটির মতে, জনগণের ম্যান্ডেটের বিকল্প কোনো সংসদীয় বিশেষ কমিটি হতে পারে না।

  • নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিতে এসে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১১

    নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিতে এসে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে মামলার হাজিরা দিতে এসে আদালত চত্বরে আইনজীবীর চেম্বার থেকে ১১ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতাররা হলেন কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের এস্কেন্দার শেখ (৪৫), আমিনুর শিকদার (৫৬), হাফেজ শেখ (২৫), তৈয়েবুর রহমান (৫৫), সেকেন্দার আলী (৫৮), হাসানুর রহমান (৫৫), রিয়াজুল শিকদার (২৭), আরিফুল শেখ (২২), তারেক শেখ (৩২), জুলফিকার রহমান (৪০) ও শরিফুল মোল্যা (৪০)।

    জানা গেছে, গ্রেফতাররা দুপুরে একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে নড়াইল আদালতে আসেন। এ সময় আদালত চত্বরের একজন আইনজীবীর চেম্বারে অবস্থান করছিলেন তারা। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। কী উদ্দেশে তারা এসব ধারালো অস্ত্র নিয়ে আদালত চত্বরে এসেছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

    পুলিশের ধারণা, প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালাতে দেশীয় অস্ত্রগুলো কাছে রেখেছিলেন তারা। তাদের কাছ থেকে ধারালো রামদা, দা, চাপাতিসহ ১২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, ১১ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ,আর

  • নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই বিদায় জানানো হবে লিওনেল মেসিকে। এই সফরে দেশে আসার আগে এশিয়ার গণমাধ্যম মিগুকে সাক্ষাৎকার দেন স্কালোনি।

    বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি যে তিনি থাকবেন কিনা। বরং এই সিদ্ধান্তকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেই মনে করেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি’।

    ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকছেন স্কালোনি, এটা নিশ্চিত। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে চাইছে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দলটির কোচ হিসেবে তাকে না দেখা যেতে পারে তখনই, যখন তিনি নিজে এএফএকে না বলবেন। সেই তিনিই যখন বলছেন অনিশ্চয়তার কথা, তখন তা নিশ্চিতভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি করে। আর তাতেই শুরু হয়ে গেছে নতুন গুঞ্জন।

    সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি নতুন অনেক মুখকে ডেকেছেন ক্যাম্পে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য। আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ, সুন্দর অধ্যায় শুরু হচ্ছে। দরজায় কড়া নাড়া এই ছেলেদের ওপর আস্থা রাখার সময় এখন। আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কিনা তার ওপর। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো, যারা আমাদের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে, তাদের সবাইকে সুযোগ দেওয়া।’

    নতুন প্রজন্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জেতা কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরের সময়ের সঙ্গেও তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরও আমার মনে হয়েছিল সামনের সময়টা কঠিন হবে। কারণ সব শিরোপা জেতার পর, বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে, প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা তা অনুভব করে দেখেছি সত্যিই সেটা সম্ভব ছিল।’

    বিশ্বকাপ পরবর্তী সময় নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল শেষ হওয়ার পর, জিতি বা হারি সেটা বিষয় নয়। এখন থেকে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করবো। শিরোপা পুনরাবৃত্তি করার কথা বলছি না। দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখাই কঠিন কাজ। এমনটা আবার করা সহজ হবে না। মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে। আমার মনে হয় এটা আবার চেষ্টা করা কঠিন হবে। সহজ হবে বলছি না। একজন কোচ হিসেবে, দলের প্রধান হিসেবে জানতেই হবে যে এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’

    স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে দলের অবস্থা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক ছিল। এবার আমরা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমার ভিন্ন একটা দিকে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমাদের খেলোয়াড়েরা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের চেয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাদের।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। এই আট বছরে যারা সবকিছু দিয়েছে তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি ছিল। একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তথ্যসূত্র : গোল.কম

  • দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নিরঙ্কশ জয়

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নিরঙ্কশ জয়

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডিইউসিইউ) নির্বাচনে চারটি প্যানেল পদের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। তবে সহসভাপতি পদে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া-এনএসইউআইয়ের টিকিট না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী দীপাংশু শোকিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। ফলে চারটি পদের একটিতেও জয় পায়নি এনএসইউআই।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়েছে, সহসভাপতি পদে দীপাংশু শোকিন ৩০ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এবিভিপির ইশু মৌরিয়া পান ১৬ হাজার ৯১০ ভোট। শোকিনের পরিবর্তে এনএসইউআইয়ের টিকিট পাওয়া বীর চত্রথ ৪ হাজার ৩১৩ ভোট নিয়ে তৃতীয় হন।

    যুগ্ম সম্পাদক পদেও এনএসইউআইয়ের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সংগঠনটির প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিশেষ যাদব ১৫ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এনএসইউআইয়ের গোপাল চৌধুরী পান ১৫ হাজার ২০৬ ভোট। ১৬ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে পদটি জয় করেন এবিভিপির লক্ষ্য রাজ সিং।

    এর আগে প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া নিয়ে এনএসইউআইয়ের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের ফলাফলে সেই বিতর্ক আরও সামনে আসে। বিশেষ করে সহসভাপতি পদে এনএসইউআইয়ের মনোনীত প্রার্থী বির চত্রথের তুলনায় দলীয় টিকিট না পাওয়া শোকিনের বিপুল ভোটের ব্যবধান সংগঠনটির প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    ডিইউসিইউ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নেতৃত্বাধীন জেন-জি আন্দোলনের কয়েক সপ্তাহ পর। এ কারণে অনেকের কাছে নির্বাচনটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে এবিভিপির জয়ের পর বিজেপির শীর্ষ নেতারা ফলাফলকে ‘নেশন ফার্স্ট’ আদর্শের প্রতি তরুণদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শিক্ষার্থীরা ‘মিথ্যার গুঞ্জন’ ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ডিইউসিইউ নির্বাচন একটি ‘গণভোট’ এবং এতে তরুণদের কণ্ঠস্বর প্রকাশ পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। তাই এই নির্বাচনের রায় গোটা ভারতের তরুণদের মনোভাবের প্রতিফলন।

    তাঁর ভাষ্য, এবিভিপির জয় এমন শক্তিগুলোর প্রতি বার্তা, যারা তরুণদের শক্তিকে ‘দেশবিরোধী এজেন্ডা’র জন্য ব্যবহার করতে চায়। শাহ আরও বলেন, এবিভিপির কর্মীরা এই জয় থেকে নতুন শক্তি নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দেশ গঠনের কাজ এগিয়ে নেবেন।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও এবিভিপির জয়কে ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতির প্রতি তরুণদের অটুট আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, এই ফল ‘নেশন ফার্স্ট’-এর চেতনায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির প্রতি তরুণদের অব্যাহত আস্থা এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অবদান রাখার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।

  • কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও কথিত পিএস মারুফ হোসেন (৩৫)। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও কথিত পিএস মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা চেষ্টা আইনে মামলা করেন সাংবাদিক উল্লাস। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিবরামপুরের শরিফুলের ছেলে রুহুল আমিন (২২), দুর্গাপুরের আলতাফের ছেলে লিটন হোসেন (৪৫), পাথরবাড়িয়ার মো. কাফির ছেলে মো. আল আমিন (২৭), এলংগী এলাকার শফিকুলের ছেলে সোহান (২৬), জিয়ারতের ছেলে আল আমিন (২৬), বাদশার ছেলে সাব্বির (২৮) ও ওবাইদুলের ছেলে সাদিক (২৬)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বলেন, নানা অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যের ছেলে, ভাই ও স্বজনরা জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এসবের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে এমপির স্বজনরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও আহত করেন। সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

    সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ,আর

  • কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে ডুবে সাজিদ শাহারিয়ার সানাম (২৪) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার সীতার পাহাড় এলাকায় নদীতে নেমে নিখোঁজ হন। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহত সাজিদ শাহারিয়ার সানাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

    সানামের বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, তারা ঢাকা থেকে নয়জন মিলে সকালে সীতার পাহাড়ে ঘুরতে যান। পাহাড় ভ্রমণ শেষে নদীর ঘাটে হাত-মুখ ধোয়ার সময় সানাম পানিতে নামেন। একপর্যায়ে মুহূর্তের মধ্যে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। তারা নিজেরা উদ্ধারের চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি।

    কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, নয়জনের দলটি সেখানে ঘুরতে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে সানামই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাকিরা তার স্কুলজীবন ও এলাকার বন্ধু। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে সানাম নদীতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ কাপ্তাই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।এ,আর

  • আল-আকসায় নেতানিয়াহু হামাসের নিন্দা

    আল-আকসায় নেতানিয়াহু হামাসের নিন্দা

    রোববার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, কয়েকজন মন্ত্রী এবং হাজার হাজার ইসরাইলি পশ্চিম দেয়াল চত্বরে প্রবেশ করেন। ফিলিস্তিনের জেরুজালেম গভর্নরেট এ তথ্য জানিয়েছে।


    আল জাজিরা (২০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, হামাস তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, নেতানিয়াহু ‘পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও আল-বুরাক দেয়ালের নিচে থাকা সুড়ঙ্গ এবং খননস্থলে প্রবেশ করেছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এটি পবিত্র স্থানটির পরিচয় ও মর্যাদার ওপর স্পষ্ট ও নির্লজ্জ হামলা।’

    হামাস বলেছে, ‘আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ, নামাজের স্থান, দেয়াল ও ফটকসহ পুরো মসজিদ, একান্তভাবে ইসলামী মসজিদ হিসেবেই থাকবে।’

    সংগঠনটি আরো বলেছে, ‘এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। দখলদারদের খননকাজ, অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় আচার এবং বাইবেলভিত্তিক বয়ান চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা কখনোই এই স্থানের পরিচয় পরিবর্তন করতে পারবে না। একইসাথে এর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো মুছে ফেলতেও সফল হবে না।’

  • আগামীকাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী ৩৫

    আগামীকাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী ৩৫

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এবারের সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জন। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। এছাড়া চারজন মন্ত্রী ও দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার দায়িত্বের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরও রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে, যাতে সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, কার্যকর সফরের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী ততটুকুই অবস্থান করবেন সেখানে। সফরের সময়ের দৈর্ঘ্যের চেয়ে সময়ের যথাযথ ব্যবহারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এছাড়া সফরে থাকছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

  • হঠাৎ ছুটি বাতিল, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

    হঠাৎ ছুটি বাতিল, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

    ক্যাম্প ডেভিডে অবকাশ যাপন করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হঠাৎ তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে অপ্রত্যাশিতভাবে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী রোববার তার ওয়াশিংটনে ফেরার কথা থাকলেও হঠাৎ শনিবারই ফিরে আসার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি।

    মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় তিনি তার সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

    মেরিল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্টের সংরক্ষিত অবকাশ কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিড। শনিবার ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর নিশ্চিত করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

    একই সময়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এর পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। উত্তপ্ত এই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মাঝেই নিজের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে তড়িঘড়ি ওয়াশিংটনে ফিরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ শর্ত

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ শর্ত

    যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিয়েছে ইরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য তেহরান তাদের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। এখন তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। ওদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    মোহসেন রেজাই রোববার ভোরে এক্সে দেয়া এক পোস্টে তাদের শর্তের বিষয়ে জানান। তিনি লিখেছেন, তেহরানের বার্তা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। ওয়াশিংটন যদি নিজের তৈরি করা জটিলতা থেকে বের হতে চায় এবং এতে আরও জড়িয়ে পড়তে না চায়, তাহলে ইরানের অধিকার ও শর্ত মেনে নেয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। রেজাই আরও বলেছেন, ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে জড়িয়ে চলা সংঘাতও বন্ধ করতে হবে। শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রেজাই বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কাছে আমাদের শর্ত পৌঁছে দিতে মধ্যস্থতাকারী কাতারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি।

    তিনি আরও বলেন, এই শর্তগুলো মেনে নিতে হবে ওয়াশিংটনের স্বার্থেই। ট্রাম্পের হুমকি কোনো ফল বয়ে আনবে না। আমরা চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। রেজাই আরও বলেছেন, ইরানের সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার সম্ভাবনা ‘খুবই প্রবল’। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান নতুন একটি কৌশল নিয়ে কাজ করছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮শে ফেব্রুয়ারি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনী যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন। এর জবাবে ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা ও সম্পদে হামলা চালায়।

    যুদ্ধ বন্ধে ১৭ই জুন ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফা একটি চুক্তিতে সই করেন। ওই চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে ৮ই জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওই চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।

    ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চুক্তির অধীনে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার যে প্রতিশ্রুতি তেহরান দিয়েছিল, ইরান তা পালন করেনি। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে না দেয়া।

  • কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খেয়ে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে নির্ধারিত সময়ে পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা নৈশভোজ করেন। পাটিকাবাড়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে ক্যাম্পে রান্না করা মুরগির মাংস ও আলু দিয়ে ভাত খান তারা। রাত ১০টার দিকে খাওয়ার পরপরই রিঅ্যাকশন শুরু হয়।

    খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে কয়েকজনের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঝিমুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

    অসুস্থরা হলেন এসআই কফিল, এসআই আমিনুর, এসআই মুক্তার, এসআই শরিফুল, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই কামরুজ্জামান, রেজাউল, মনিরুল, আমিনুল ও নজরুল।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশের লোকজন ও ক্যাম্পে থাকা অন্য সদস্যরা দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) হতে পারে। তবে খাবারে বিষাক্ত বা চেতনানাশক কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এদিকে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। খাবারে কোনো বিষাক্ত বা চেতনানাশক পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ক্যাম্পের রান্নাঘর থেকে থালা-বাসন ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ,আর

  • আলিমা খান আটক

    আলিমা খান আটক

    পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার, ১৯৬০ (এমপিও)-এর ৩ নম্বর ধারায় আটক করেছে পুলিশ। দলের সূত্র রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, লাহোরের আপার মলে নিজ বাসা থেকে জিমে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার পর আলিমাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কোট লাখপত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা জানায়, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার বোনকে লিটন রোড থানা পুলিশ আটক করে।

    পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার আরেক বোন নূরিন নিয়াজি জিও নিউজকে বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আলিমাকে আটক করা হয়। পরে তিনি খবর পান, তাকে কোট লাখপত কারাগারে নেয়া হয়েছে। সরকারের উদ্দেশে নূরিন বলেন, তারা কেন এত উদ্বিগ্ন যে নারীদেরও গ্রেপ্তার করছে, তা আমি জানি না।

    তিনি জানান, পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলি খান তাকে ফোন করে আলিমার গ্রেপ্তারকে ঘিরে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। নূরিন বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপে আমরা ভয় পাই না। আমরা সবসময় আমাদের ভাইয়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

    এদিকে পিটিআই প্রধান বলেন, আলিমাকে গ্রেপ্তার বা আটকে রাখা সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়ানোর শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলিমা খানের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর দিকে এটি প্রথম পদক্ষেপ বলেও জানানো হয়।

    এর আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে মত দেন ব্যারিস্টার গওহর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ ‘শীতল’ থাকায় আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। পেশোয়ারে জিও নিউজকে পিটিআই প্রধান বলেন, আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ শীতল। কোনো সমাধান বের করা সম্ভব হয়নি।

    ব্যারিস্টার গওহর বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকেই কিছুটা করে ছাড় দিতে হবে। ওদিকে তার সাবেক ক্ষমতাসীন দল দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৭শে সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে পদযাত্রার কর্মসূচি দিয়েছে। দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

  • আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই পূবাইল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক এবং পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের একটি বিশেষ দল। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে তিনি পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন।

    ডিবি সূত্র জানায়, একটি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়। আটকের পর তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ সময় গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন ফোন করে অমূল্য চন্দ্র দাস বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ নির্বাচনে তার পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন বলে জানান। এমপি মিলন তাকে নিজের লোক হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে অমূল্য চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী মূল বিবেচনায় ছিল তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই।

    এদিকে গাজীপুর মহানগর ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাহেব আলী পাঠান বলেন, অমূল্য চন্দ্র দাসকে ডিবি আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নামে ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতাকে আটকের পর দ্রুত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে পুলিশ বলছে, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। অমূল্য চন্দ্র দাসের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক যাচাইয়ে নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ,আর