স্বাস্থ্য

  • থাইরয়েড ক্যানসারের সতর্কসংকেত

    থাইরয়েড ক্যানসারের সতর্কসংকেত

    থাইরয়েড ক্যানসার অনেক সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ হয়ত দেখা দেবে না। কিন্তু কিছু সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।

    থাইরয়েড গলার সামনের দিকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পাঁচটি লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ঘাড়ে গাঁট বা ফোলা

    ঘাড়ে নতুন কোনো গাঁট দেখা দেওয়া বা আগে থাকা গাঁট দ্রুত বড় হতে থাকা থাইরয়েড ক্যানসারের অন্যতম সতর্কসংকেত হতে পারে। তবে ঘাড়ের সব গাঁটই ক্যানসার নয়। তাই গাঁট দেখা দিলে পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

    দীর্ঘদিন গলার স্বর ভেঙে থাকা

    কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে গলার স্বর কর্কশ বা ভেঙে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। থাইরয়েডের আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা

    থাইরয়েডের টিউমার বড় হয়ে আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে খাবার গিলতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।

    ঘাড়ে ব্যথা বা ফোলা

    থাইরয়েডের আশপাশে অস্বাভাবিক ফোলা বা ব্যথাও সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে ঘাড়ে গাঁট বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া

    ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থি বা লিম্ফ নোড অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলে সেটিও পরীক্ষা করা দরকার। কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসার আশপাশের লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    থাইরয়েডে কোনো অস্বাভাবিকতা সন্দেহ হলে চিকিৎসক সাধারণত উচ্চ রেজোলিউশনের থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নির্দেশিত ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন (FNA) পরীক্ষাও করা হয়। এতে থাইরয়েডের গাঁট থেকে নমুনা নিয়ে ক্যানসার কোষ আছে কি না তা পরীক্ষা করা যায়।

    তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে থাইরয়েড ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: American Cancer Society, National Cancer Institute

  • প্লেগ কতটা ভয়ংকর, কেন এত আলোচনা?

    প্লেগ কতটা ভয়ংকর, কেন এত আলোচনা?

    স্থানীয় স্বাধীন গণমাধ্যমে ওই এলাকায় কোয়ারেন্টাইনের খবর প্রকাশিত হলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ কী এবং প্লেগ নিয়ে আসলে কতটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যু নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

    সাইবেরিয়া ও দূর প্রাচ্যের প্লেগ-প্রতিরোধী ইনস্টিটিউটে কর্মরত ২৮ বছর বয়সি দারিয়া শিপিলোভাকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর আঞ্চলিক রাজধানী ইরকুটস্কের বাইরে শেলেখভ শহরে তার মৃত্যু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২ অক্টোবর।

    তবে বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

    এরপর ওই হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন জারি করা হয়। স্থানীয় একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরকুটস্কে একটি গণসমাবেশও বাতিল করা হয়েছিল।

    শুক্রবার ইরকুটস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ বলেন, রাশিয়ার প্রধান স্যানিটারি ডাক্তার ‘একটি বিশেষ বিপজ্জনক সংক্রমণের সন্দেহজনক ঘটনা’ তদন্তে ইরকুটস্কে গেছেন। শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    রুশ সংবাদপত্র ইজভেস্তিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯৭ জনকে চিকিৎসাধীন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

    ওইদিনই প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর জানান, ওই ল্যাবকর্মী প্লেগে মারা গেছেন। এরপর অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    একজন স্থানীয় সাংবাদিকের অপ্রমাণিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একটি টেস্ট টিউব ভেঙে ফেলার পরই শিপিলোভা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখন কী বলা হচ্ছে

    রাশিয়ার ভোক্তা সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রস্পোট্রেবনাদজর শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির বিষয়ে পরে অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করে।

    চলতি সপ্তাহে সংস্থাটি জানায়, ওই ল্যাবকর্মী অজ্ঞাত কারণের একটি নতুন ধরনের নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন। পরীক্ষায় তার ‘পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অণুজীব’ পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়।

    এর পর সরকারপন্থী একটি ফেডারেল সংবাদমাধ্যম প্লেগের সম্ভাব্য ঘটনা নিয়ে করা পাঁচটি পোস্ট মুছে দেয়। বৈকালস্ক শহরের কর্তৃপক্ষও সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণের কারণে শেলেখভে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে পাঠানো একটি বার্তা সরিয়ে নেয়।

    তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি খাটো করে দেখানোর জন্য সমন্বিতভাবে বার্তা দিচ্ছে—এমন ধারণার মধ্যে স্থানীয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘পিপল অব বাইকাল’ তাদের সূত্রের বরাতে জানায়, ইরকুটস্কের অন্তত চারটি হাসপাতাল তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    এদিকে বিবিসি নিউজ রাশিয়ান জানতে পেরেছে, ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউট অক্টোবরের শেষ দিকে চীন, মঙ্গোলিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্লেগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনটি আদৌ হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিবিসি ইনস্টিটিউটটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    প্লেগ কী?

    প্লেগ একটি সংক্রামক রোগ। এর জন্য দায়ী জীবাণুর নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই রোগে মারা যায়। ইতিহাসে সেই মহামারি ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত।

    ওশেনিয়া ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশেই প্লেগের অস্তিত্ব রয়েছে। রাশিয়ার বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের মারমটের মতো ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যেও এই রোগের জীবাণু পাওয়া যায়।

    মাছির কামড়, আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের তরল বা দূষিত পদার্থের সংস্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কণার মাধ্যমে মানুষ প্লেগে আক্রান্ত হতে পারে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্লেগের নিউমোনিক ধরনটির সুপ্তিকাল খুবই কম। কখনো কখনো তা মাত্র ২৪ ঘণ্টা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

    নিউমোনিক প্লেগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট ও কাশি। অনেক সময় রক্তমিশ্রিত কফও হতে পারে।

    তবে শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ যা-ই হোক না কেন, প্লেগের কারণে মহামারির ঝুঁকি খুব কম বলে মনে করেন রুশ বিজ্ঞানবিষয়ক সাংবাদিক ইরিনা ইয়াকুতেঙ্কো।

    বিবিসি রাশিয়ান পডকাস্টে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে প্লেগের ব্যাপক বিস্তার ধরে রাখার মতো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নেই।

    তার ভাষ্য, প্লেগের বিরুদ্ধে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর। রোগটি এখন অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি হওয়ার সুযোগ কম।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী

    ডব্লিউএইচওর একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে বলেছেন, পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়নে সংস্থাটি রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউরোপের সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইসিডিসির বিশেষজ্ঞরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

    রাশিয়ায় প্লেগের সম্ভাব্য ঘটনার খবর যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে’ বলে সোমবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে ল্যাবকর্মীর মৃত্যু নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন বলেও জানান ট্রাম্প।

    তবে বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন না এটি কোনো জৈব অস্ত্রের ঘটনা।

    তার ভাষায়, বিষয়টি সম্পর্কে ‘খুব শিগগিরই’ জানা যাবে।

    রুশ কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, সেটিই সত্য।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে ‘গভীর আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ নির্ধারিত ছিল না। অবশ্য ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

    বিবিসি রাশিয়ার সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গকে মঙ্গলবার পেসকভ বলেন, যখন কেউ সাহায্যের প্রস্তাব দেয়, তা সব সময়ই ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, ইরকুটস্কের পরিস্থিতি নিয়ে শুধু সরকারি তথ্যই বিশ্বাসযোগ্য।

    অনলাইনে কী কী দাবি ছড়াচ্ছে

    রাশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী নানা দাবি ছড়াচ্ছে।

    বিবিসি অন্তত পাঁচটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে, যেগুলো কথিত দ্বিতীয় এক ভুক্তভোগী নিয়ে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের সম্মিলিত অনুসারী প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার। রুশ ভাষায় প্রায় একই ধরনের বার্তা পোস্ট করে তারা দাবি করেছে, দারিয়া শিপিলোভার সহকর্মী ভিক্টর নাকলোনেনি নামের এক ব্যক্তিও মারা গেছেন।

    রস্পোট্রেবনাদজরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ দাবি নিশ্চিত করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি সরাসরি সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সাইবেরিয়া ও দূর প্রাচ্যের প্লেগ-প্রতিরোধী ইনস্টিটিউট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    পরে যাচাইবিহীন এসব দাবি যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস হিসেবে রাশিয়ার ‘স্থানীয় গণমাধ্যমের’ কথা বলা হয়েছে।

    অনলাইনে এসব পোস্ট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। আবার কেউ এসব অ্যাকাউন্টকে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

    বিবিসি এক্সেও বেশ কিছু যাচাইবিহীন দাবি শনাক্ত করেছে। কয়েকটি পোস্ট লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে।

    একজন ব্লগার দাবি করেন, তিনি এক বন্ধুর কাছ থেকে এমন একটি বার্তা পেয়েছেন, যাতে বলা হয়েছে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ লকডাউনে যেতে পারে। পোস্টটি ৬০ লাখের বেশি বার দেখা হয়। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গের কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় গণমাধ্যম কেউই সেখানে প্লেগের ঘটনা বা লকডাউনের আশঙ্কার কথা জানায়নি।

    অন্য একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ‘রাশিয়ার একটি পরীক্ষাগার থেকে সদ্য ছড়িয়ে পড়া নিউমোনিক প্লেগ কোভিডের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি মারাত্মক।’ পোস্টটি ১ কোটি ১৩ লাখ বার দেখা হয়েছে।

    চিকিৎসা না করা হলে নিউমোনিক প্লেগ অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে। তবে কোভিডের মতো ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। এর একটি বড় কারণ হলো, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে প্লেগের চিকিৎসা করা যায়।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্প ২০২৬’। নগর উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার উদ্যোগে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদপ্রার্থী ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের জন্য এখন এক বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই, এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে তদারকি করা হোক।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। আমরা চাই, বাস্তবে এসব উদ্যোগের সক্ষমতা কতটুকু বেড়েছে, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হোক। মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

    সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের আশপাশেই রয়েছে। সুতরাং শুধু সরকার একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে। এই কাজ শুরু করতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই।’

    বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত। তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও ভবিষ্যতে এমন উন্নত ও জনবান্ধব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্ব এমনভাবে ঠিক করতে হবে, যারা আগামী দিনে আমাদের জন্য সুন্দর একটি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

    থানা আমির আবু সাঈদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি তারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এদিকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • প্রবীণদের যত্নে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি

    প্রবীণদের যত্নে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি

    আজকের বিশ্ব এক অভূতপূর্ব জনমিতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—‘The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives (দীর্ঘায়ুর যুগ : দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস)’। এই প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রবীণদের দীর্ঘ জীবনকে কেবল সংখ্যায় নয়; বরং মর্যাদাপূর্ণ, সুস্থ ও সক্রিয় রাখাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

    ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা যৌথ পরিবার এবং পারিবারিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করে পরিবার। তবে দ্রুত নগরায়ণ, অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই সনাতন পারিবারিক মডেলটি ভেঙে পড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ বা চার কোটিরও বেশি মানুষ প্রবীণদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। যেখানে আমাদের স্বাস্থ্য খাত এখনো প্রধানত মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশি মনোযোগী, সেখানে এই বিশাল প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা বা ‘জেরিয়াট্রিক কেয়ার (Geriatric Care)’-এর অভাব অত্যন্ত প্রকট। ফলস্বরূপ, বার্ধক্যজনিত বহুবিধ দীর্ঘস্থায়ী রোগ (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম) নিয়ে অনেক প্রবীণই একাকিত্ব ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন।

    হাসপাতালের ভূমিকা

    বাংলাদেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল (BIRDEM General Hospital)। ডায়াবেটিস এবং হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালটি প্রবীণদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষায়িত জেরিয়াট্রিক ডে কেয়ার ইউনিট (Geriatric Day Care Unit Department) পরিচালনা করছে। বারডেমের এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি আদর্শ মডেল—

    • সমন্বিত সেবা : বার্ধক্যের কারণে রোগীরা একই সঙ্গে একাধিক জটিলতায় (Comorbidities) ভোগেন। বারডেমের প্রবীণ বিভাগে একজন রোগীকে এক ছাতার নিচে বহুমুখী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রদানের চেষ্টা করা হয়।

    • ডে কেয়ার ধারণা : পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি না হয়েও দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে প্রয়োজনীয় থেরাপিউটিক সেবা, শারীরিক পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার সুবিধা রয়েছে এখানে।

    • প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা : চিকিৎসকদের জেরিয়াট্রিক মেডিসিনে দক্ষ করতে এবং নার্সদের বিশেষায়িত সেবার প্রশিক্ষণ দিতে বারডেম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

    তবে বারডেমের মতো সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে দেশব্যাপী এই বিশাল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এমন জেরিয়াট্রিক কেয়ার ইউনিট প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    আমাদের করণীয়

    জাতিসংঘের এই বছরের প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি ‘প্রবীণবান্ধব’ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

    চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন : দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রবীণদের জন্য আলাদা জেরিয়াট্রিক ওয়ার্ড এবং দ্রুত টিকিট ও ওষুধ প্রাপ্তির জন্য বিশেষ কাউন্টার চালু করা উচিত।

    অবকাঠামোগত উন্নয়ন : রাস্তাঘাট, গণপরিবহন ও ফুটপাথ এমনভাবে তৈরি করা দরকার, যেন লাঠি বা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী প্রবীণরাও স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারেন।

    সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী : সরকারি ‘বয়স্ক ভাতা’র পরিধি এবং টাকার পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে প্রবীণরা ন্যূনতম আর্থিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন।

    পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা : প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন, বরং তাঁদের অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পদ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীলতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

    দীর্ঘায়ু পাওয়া একটি আশীর্বাদ, কিন্তু সেই দীর্ঘ জীবন যদি রোগাক্রান্ত এবং অবহেলার হয়, তবে তা অভিশাপে পরিণত হয়। বাংলাদেশ আজ যে জনমিতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে এখনই বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যৎ প্রবীণ সমাজ এক গভীর সংকটে পড়বে। আসুন, জাতিসংঘের এই আহ্বানকে সামনে রেখে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করি, যেন আমাদের অগ্রজরা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সম্মানের সঙ্গে, সুস্থ শরীরে এবং হাসিমুখে বেঁচে থাকতে পারেন।

  • ডেঙ্গু রোগীদের করণীয়

    ডেঙ্গু রোগীদের করণীয়

    ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ

    • হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে) অথবা মৃদু জ্বর ১০০-১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে।

    • তীব্র মাথাব্যথা ও চোখের পেছনের অংশে ব্যথা।

    • শরীর, হাড় ও মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা।

    • ত্বকে লালচে র‍্যাশ (Rash) বা দানা ওঠা।

    • বমি বমি ভাব, বমি হওয়া বা রুচি কমে যাওয়া।

    জ্বর কমার পরও যদি তীব্র পেটব্যথা, একটানা বমি, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রচণ্ড দুর্বলতা দেখা দেয়—তবে কালবিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

    আক্রান্ত হলে করণীয়

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম : রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

    তরল খাবার : প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি, ওআরএস (খাবার স্যালাইন), লেবুর শরবত ও স্যুপজাতীয় তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

    জ্বর নিয়ন্ত্রণ : জ্বর কমাতে শুধু প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না।

    বর্জনীয় ওষুধ : কোনোভাবেই ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs), যেমন—আইবুপ্রোফেন, নাপ্রোক্সেন বা ডাইক্লোফেনাক খাওয়া যাবে না। এতে শরীরের ভেতরে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।

    অ্যান্টিবায়োটিক নয় : ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই।

    ঘরোয়া পদক্ষেপ

    • টব, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, এসি বা ফ্রিজের নিচে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেবেন না।

    • দিনে কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।

    • যথাসম্ভব ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরিধান করুন।

    • উন্মুক্ত স্থানে যাওয়ার সময় অ্যারোসল, মসকিউটো রিপেলেন্ট ক্রিম বা কয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

    পরামর্শ : ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের এনএস১ (NS1) বা সিবিসি (CBC) পরীক্ষা করিয়ে নিন এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকুন।

  • কিটো ডায়েট ও ‘ডিটক্স’: ফ্যাশন নাকি বিজ্ঞান?

    কিটো ডায়েট ও ‘ডিটক্স’: ফ্যাশন নাকি বিজ্ঞান?

    না। কিটো ডায়েটের চিকিৎসাগত ব্যবহার রয়েছে—বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে, যেমন : Drug-resistant Epilepsy। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ‘সবাই কিটো ডায়েট করুন, দ্রুত রোগ ও চর্বি উধাও হয়ে যাবে’—এ ধরনের প্রচারণা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে, Diabetes, Kidney disease, Liver disease, Cardiovascular disease, Pregnancy বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসক বা Dietitian-এর পরামর্শ ছাড়া চরম Carbohydrate restriction শুরু করা উচিত নয়। আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—ওজন কমা মানেই স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমা নয়।

    ‘ডিটক্স’ ও কফি এনেমা

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শরীরে টক্সিন জমে আছে’, ‘কোলন পরিষ্কার করতে হবে’, ‘লিভার ডিটক্স করতে হবে’-এ ধরনের কথা অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন টক্সিন? কীভাবে সেটি মাপা হয়েছে? চিকিৎসার আগে কত ছিল এবং পরে কত কমেছে? বৈজ্ঞানিক চিকিৎসায় কোনো চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হলে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

    কফি এনেমায় কফি পায়ুপথ দিয়ে Rectum ও Colon-এ প্রবেশ করানো হয়। এটি মূলত কিছু ‘detox’ বা Alternative medicine পদ্ধতির অংশ হিসেবে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু এর কথিত Detoxification বা রোগ নিরাময়ের উপকারিতা সমর্থন করার মতো শক্তিশালী Clinical Evidence নেই। বরং এর ক্ষতিকর প্রভাবের Documented Evidence রয়েছে।

    কফি পায়ুপথ দিয়ে সরাসরি লিভারে যায়

    শরীরের Anatomy ও Physiology-কে এমন সরলীকরণ করে বলা যায় না যে পায়ুপথে কফি প্রবেশ করালেই তা কোনো ‘সুপারহাইওয়ে’ দিয়ে সরাসরি লিভারে পৌঁছে যাবে এবং সেখানে বিশেষ Detoxification শুরু হবে। লিভার ও কিডনি নিজেরাই প্রতিনিয়ত শরীরের বিপাকীয় বর্জ্য ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ‘কোলনে জমে থাকা টক্সিন’ বের করার জন্য নিয়মিত Coffee enema প্রয়োজন—এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    কফি এনেমার পর ভালো বোধ করেন কেন

    কেউ কোনো পদ্ধতি নেওয়ার পর ভালো অনুভব করতেই পারেন। কিন্তু ভালো লাগা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অর্থে কার্যকারিতা এক জিনিস নয়। এর পেছনে থাকতে পারে—

    • মলত্যাগের পর স্বাভাবিকভাবেই হালকা লাগা;

    • Caffeine-এর সাময়িক Stimulant effect;

    • Placebo effect;

    • একই সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের পরিবর্তন;

    • রোগের উপসর্গের স্বাভাবিক ওঠানামা।

    তাই কোনো ব্যক্তি বললেন, ‘আমি ব্যবহার করে ভালো হয়েছি’—এটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হতে পারে; কিন্তু সেটি Clinical Evidence-এর বিকল্প নয়।

    ওজন কমাব কীভাবে

    ওজন কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ পথ কোনো ‘ম্যাজিক ডায়েট’ নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত—ধীরে, নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে অতিরিক্ত শরীরের চর্বি কমানো। সহজ কিছু নিয়ম—

    ১. ভাত বা রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমাণ কমিয়ে খাবারের ভারসাম্য ঠিক করুন।

    ২. প্রায় অর্ধেক সবজি, এক-চতুর্থাংশ protein—মাছ, ডিম, মুরগি, ডাল—এবং এক-চতুর্থাংশ ভাত বা রুটি রাখা যেতে পারে।

    ৩. শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, ছোলা, বাদাম ও পরিমিত দই পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

    ৪. কোমলপানীয়, মিষ্টি, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, Fast food ও প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করুন।

    ৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট Moderate-intensity physical activity এবং সপ্তাহে অন্তত দুদিন Muscle-strengthening exercise করার চেষ্টা করুন।

    ৬. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

    ৭. Crash diet এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অত্যন্ত দ্রুত ওজন কমানোর পদ্ধতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়।

  • হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৯০

    হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৯০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১০২ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১ হাজার ৩৯৩ শিশু ।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজন ও নিশ্চিত হামে দুইজন, চট্টগ্রামে একজন, সিলেটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৯৩ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০ জনে।

    এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ১ হাজার ১৪০ শিশু। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩১৩ শিশু।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৮৬০

    ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৮৬০

    দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬০ জন রোগী। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

  • চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী

    চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বিজয়ীরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

    অন্যদিকে, গবেষণাগারে ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচটি কাজ করে।

    আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিটি বর্তমানে ‘অপটোজেনেটিকস’ নামে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল অ্যাসেম্বলি বলে, অপটোজেনেটিকস এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে তা দেখা সম্ভব।

    এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান কানাডার ফ্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস।

    ২০২৫ সালে যারা পেয়েছিলেন

    ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের শিমন সাকাগুচি।

    তখন নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।

    মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। ফ্রেড রামসডেল সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক।

    কবে কোন পুরস্কার

    মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী শুক্রবার। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১২ অক্টোবর।

    পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

    মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও চারজন নারী। তাঁদের তিনজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন করে চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের।

    রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০১ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, খুলনায় ৩০৬ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন, রাজশাহীতে ১০৫ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং সিলেটে ৯ জন রয়েছেন। এই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬০ জন এবং মারা গেছেন ২৭১ জন। এর মধ্যে চলতি অক্টোবরের পাঁচ দিনে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৭৪০ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের।

  • গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয় জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয় জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,০৮৯ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ৪ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮৩৮ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২০৩ জন, চট্টগ্রামে ৩২৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫১৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৬ জন, খুলনায় ৩৩০ জন, ময়মনসিংহে ৯৯ জন, রাজশাহীতে ২২৮ জন, রংপুরে ৮৩ জন এবং সিলেটে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৮৬৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৪৫৮ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৬২ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী ।

  • সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, দিনে গড়ে ১৪ মৃত্যু

    সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, দিনে গড়ে ১৪ মৃত্যু

    দেশে গত সেপ্টেম্বর মাসে সড়কে ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে । এসব দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত এবং ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে নারী ৭৩, শিশু ৬১। রোববার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫৪ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন, যা মোট নিহতের ৩২.৮৬ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪.৮৪ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১২.৫২ শতাংশ।

    এই সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের হিসাবে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৯ জন, বাসের যাত্রী ২৬ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রলি আরোহী ১৯ জন এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও জীপের আরোহী ২১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া থ্রি-হুইলার—অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনার যাত্রী নিহত হয়েছেন ৮৮ জন। স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র ও টমটমের যাত্রী ১৮ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৬ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৭৮টি দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়কে, ১৪৫টি জাতীয় মহাসড়কে, ৬৩টি শহরের সড়কে এবং ৫৬টি গ্রামীণ সড়কে সংঘটিত হয়েছে। শতাংশের হিসাবে আঞ্চলিক সড়কে ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ, জাতীয় মহাসড়কে ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ, শহরের সড়কে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশ। এছাড়া ৯৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৯টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা, ৬১টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৬৯১টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল, ১২৯টি থ্রি-হুইলার, ১১৩টি বাস, ৯৩টি ট্রাক, ২৯টি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি পিকআপ, ১২টি মাইক্রোবাস, ১৫টি প্রাইভেটকার, ৮টি অ্যাম্বুলেন্স, ৫টি জীপ এবং ৪৬টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।

    সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে সকালে। এ সময়ে ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ, বিকালে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাতে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ভোরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রাণহানি, খুলনা বিভাগে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রাণহানি এবং রাজশাহী বিভাগে ১২ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে।

    অন্যদিকে বরিশালে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রাণহানি, সিলেটে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ প্রাণহানি, রংপুরে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রাণহানি এবং ময়মনসিংহে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন।

    রাজধানীতেও দুর্ঘটনার চিত্র উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

    নিহতদের পেশাগত পরিচয়েও উঠে এসেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণহানির চিত্র। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের ২৪ জন নেতাকর্মী, স্থানীয় পর্যায়ের ২৫ জন ব্যবসায়ী, ১৮ জন এনজিও কর্মী, ১৪ জন দিনমজুর এবং ১৩ জন শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা কর্মচারী ১১ জন, পোশাক শ্রমিক ৬ জন, প্রকৌশলী ৪ জন, মোটর মেকানিক ৪ জন, সাংবাদিক ৩ জন, মসজিদের ইমাম/খাদেম ৩ জন, পুলিশ সদস্য ২ জন ও চিকিৎসক ২ জন নিহত হয়েছেন। সেনা সদস্য, কাস্টমস কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী একজন করে এবং একজন বিদেশি নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

    শুধু সড়কেই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে নৌ ও রেলপথেও প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। তাই গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো। পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • ইসরায়েলি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল নার্সিং সংগঠনের

    ইসরায়েলি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল নার্সিং সংগঠনের

    ইসরায়েলি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তেভার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বিশ্বের বৃহত্তম নার্সিং সংগঠন রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (আরসিএন)। প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং অতীতের দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেভা ইউকে-কে একটি আসন্ন অনুষ্ঠানের স্পনসর ও অংশীদার হিসেবে সরিয়ে দিয়েছে আরসিএন। ৩০ অক্টোবর লন্ডনে আরসিএনের সদর দপ্তরে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রায় ৬ লাখ নার্সের প্রতিনিধিত্বকারী আরসিএন। নার্সেস ফর প্যালেস্টাইন এবং ইউকে হেলথকেয়ার পিটিশনস টু রয়্যাল কলেজেসের প্রচারণার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।

    নার্স, মিডওয়াইফ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি খোলা চিঠিতে তেভার সঙ্গে আরসিএনের অংশীদারত্বের সমালোচনা করা হয়। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়।

    আরসিএনের কাউন্সিল চেয়ার কারমেল ও’বয়েল নার্সেস ফর প্যালেস্টাইনকে দেওয়া এক চিঠিতে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, এখন থেকে তেভা ইউকের সঙ্গে আরসিএনের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব থাকবে না। তবে ৩০ অক্টোবরের অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

    আরসিএন জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর তেভা ফার্মাসিউটিক্যালসের কয়েকটি কার্যক্রম সম্পর্কে আইনি নিষেধাজ্ঞা ও জনসমালোচনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় আরসিএন ও তাদের শিক্ষা ও প্রকাশনা শাখা আরসিএনআইয়ের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সংগঠনটি মনে করেছে।

    এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে প্যালেস্টাইনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন। তারা এটিকে বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    তবে তেভা আরসিএনের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, আরসিএন স্বাস্থ্যসেবাকে রাজনীতিকরণের সুযোগ দিয়েছে।

    তেভা বিশ্বের অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। গত এক দশকে দাম নির্ধারণে কারসাজি, ঘুষ এবং বাজারে প্রভাবের অপব্যবহারের অভিযোগে ইউরোপীয় কমিশন ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড বা ১৩০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে বলে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে।

    এছাড়া দাম নির্ধারণে কারসাজির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তেভার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলাও চলছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৬০৮

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৬০৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৬০৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের তিন দিনে মোট ১১ জনের মৃত্যু এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৭৪৯ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২১৫ জন, চট্টগ্রামে ৩১৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন, খুলনায় ২৭৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহীতে ১৩২ জন এবং রংপুরে ৬২ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৬২১জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৬৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫৬ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৬ শতাংশ নারী ।

  • হাম আক্রান্তের মধ্যে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    হাম আক্রান্তের মধ্যে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১২২।

    এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আটজন মারা গেছে।

    একই সময়ে ৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৬৬৬ জন।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১০৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে।

  • হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১১১৪, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২৪২

    হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১১১৪, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২৪২

    হাম উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪২ জন।

    শুক্রবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু মারা গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে ঢাকা বিভাগেই নিশ্চিত হামে আরও এক শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

  • চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৫০, আক্রান্ত ৮২ হাজার ৭৬১

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৫০, আক্রান্ত ৮২ হাজার ৭৬১

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন। এনিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৭৬১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৫১ জন, চট্টগ্রামে ৩৩৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৯৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৫ জন, খুলনায় ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন এবং রংপুরে ৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,১৬৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৬ শতাংশ নারী ।

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে তালা; অবরুদ্ধ শিক্ষকরা

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে তালা; অবরুদ্ধ শিক্ষকরা

    শিক্ষা ডেস্ক

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিভাগের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়ে দুই দফা দাবি আদায়ে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

    শিক্ষার্থীদের দাবি হলো–বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ করা এবং বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তর করা।

    তারা দাবি আদায়ে ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘মিডিয়া স্টাডিজের সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত করতে হবে’, ‘কারিকুলাম গ্লোবাল, ফ্যাকাল্টি কেন লোকাল,’ এবং ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে বিভাগকে নিয়ে যেতে হবে’—এসব স্লোগান দেন।

    এর আগে, বুধবার একই দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে দাবিগুলো উল্লেখ করে বিভাগীয় প্রধানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইনজামুল হক অভি জানান, তারা প্রায় ১৪ মাস ধরে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছেন। বিভাগের কারিকুলামে কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়ানো হলেও বিভাগের নামে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি না থাকায় চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভাগটি কলা অনুষদের অধীনে থাকায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কিছু চাকরিতে তারা আবেদন করতে পারছেন না।

    তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং একাডেমিক পরিচয় ও চাকরির সুযোগের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার দাবি। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মহসিন হক শাহ বলেন, দাবির যৌক্তিকতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তদন্ত শেষে কমিটিও তাঁদের দাবির পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে। এরপরও দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

    আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাবি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর সিন্ডিকেটের সব সদস্য এ বিষয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। তার আগে কিছু জানানো সম্ভব নয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দাবিগুলোর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় বিভাগের নাম পরিবর্তন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের দাবিতে উপাচার্য, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ডিনের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

    পরে বিভাগের ১২৯তম একাডেমিক কমিটির সভায় নাম ও অনুষদ পরিবর্তনের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সুপারিশ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

    ওই কমিটি বিভাগের নাম ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ করার পাশাপাশি বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের সুপারিশ করে।

    গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভাগের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সভায় বিভাগের নামের সঙ্গে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিষয়টি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা বলা হয়।

    এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান পল বলেন, বিভাগের নাম পরিবর্তন ও অনুষদ পরিবর্তনের দাবিকে ১২৯তম বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে যৌক্তিক বলে সমর্থন করেছে। বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের ১৪ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।

  • ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৫ লাখ কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৫ লাখ কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশে চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা হিসেবে পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ র‍্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব কিট দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে কিটগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।এ সময় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটগুলো দ্রুত সারা দেশে বিতরণের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সব কিট সরাসরি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এসব কিট পৌঁছে দেওয়া হবে।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। ফলে দেশের যেকোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটির ব্যয় বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান, মার্কিন দূতাবাস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে তারা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও রোগনির্ণয় পরীক্ষাগার ঘুরে দেখেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৭৮

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৭৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৯৭৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৫৯৮ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৬০ জন, চট্টগ্রামে ৩৫৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৬ জন, খুলনায় ২৫৬ জন, ময়মনসিংহে ৯৪ জন, রাজশাহীতে ২০৯ জন, রংপুরে ১০১ জন এবং সিলেটে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৮০৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৫ শতাংশ নারী ।

  • দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যাতে শহরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবরবাজার সড়কের পাশে মুহুরী নদীর তীরে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা নয়, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতে কলকারখানা বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করবে। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং নদী-খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার উপকৃত হবে। একইভাবে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না।

    ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় এ এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এমনকি সেতুর ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচনের আগে বিএনপি নদী-খাল খননের কথা বলেছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক।

    প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে পরশুরামে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেও নির্ধারিত প্যান্ডেলের বাইরে মুহুরী নদীর তীর, মডেল স্কুল-সংলগ্ন এলাকা এবং ওমরী ব্রিজের ওপর মানুষের উপস্থিতি ছিল।

    পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলগাজীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তাঁর পরবর্তী কর্মসূচিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতাধীন কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসংক্রান্ত কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার বিষয়েও কর্মসূচি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    পরশুরামের পর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • হাম উপসর্গে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১০৮ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২২১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৮ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫২০ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৮৭৩ জন।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে।

    আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৯ হাজার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৭৯ হাজার ৬২০ জন।

    একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরে এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে দেখা যায়। এ সময় এডিস মশার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ে।

    ফলে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানসহ যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ রয়েছে।

    এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাব্যবস্থা ও মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • আঙুল ফোটালে হাড় ক্ষয় হয়?

    আঙুল ফোটালে হাড় ক্ষয় হয়?

    ‘আঙুল ফুটিও না, হাড় ক্ষয় হয়ে যাবে!’ ছোটবেলা থেকে আমরা প্রায় সবাই এই সতর্কবাণী শুনে বড় হয়েছি। কেউ বলেন, জয়েন্টে ‘পানি’ কমে যাওয়ায় এই শব্দ হয়। কেউ বলেন, হাড় একে অপরের সঙ্গে ঘষা লাগার কারণেই এই আওয়াজ। আবার অনেকে মনে করেন, বারবার আঙুল ফোটালে ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস হবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আসুন, জেনে নেওয়া যাক জয়েন্টের এই রহস্যময় শব্দের আসল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

    জয়েন্টের ভেতরে কী থাকে

    আমাদের শরীরের প্রতিটি সচল জয়েন্ট একটি বিশেষ ক্যাপসুল দ্বারা আবৃত থাকে। এর ভেতরে থাকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড, যা এক ধরনের স্বচ্ছ ও পিচ্ছিল তরল। এই তরল জয়েন্টকে সহজে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ঘর্ষণ কমায়। এই তরলের মধ্যে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

    ‘ফট’ শব্দটি আসে কোথা থেকে

    যখন আমরা আঙুল বা অন্য কোনো জয়েন্ট টেনে হঠাৎ প্রসারিত করি, তখন জয়েন্টের ভেতরের চাপ দ্রুত কমে যায়। চাপ কমে যাওয়ার ফলে সাইনোভিয়াল তরলে দ্রবীভূত গ্যাস মুহূর্তের মধ্যে একটি ছোট গ্যাস বুদবুদ (বাবল) তৈরি করে। এই বুদবুদ তৈরির ঘটনাকেই ট্রাইবোনিউক্লিয়েশন বলা হয়। এই আকস্মিক বুদবুদ সৃষ্টির সময়ই ‘ফট’ বা ‘কট’ ধরনের শব্দ শোনা যায়। আগে মনে করা হতো, শব্দটি গ্যাস বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, শব্দটি বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে নয়, বরং বুদবুদ তৈরি হওয়ার মুহূর্তেই হয়। অর্থাৎ, শব্দটি হাড়ের ঘর্ষণ থেকে নয়, বরং জয়েন্টের ভেতরে গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হওয়ার ফল।

    কেন সঙ্গে সঙ্গে আবার ফোটানো যায় না

    অনেকে লক্ষ করেছেন, একবার আঙুল ফোটানোর পর সঙ্গে সঙ্গে আবার শব্দ হয় না। এর কারণ তৈরি হওয়া গ্যাস বুদবুদটি আবার ধীরে ধীরে সাইনোভিয়াল তরলে মিশে যেতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর আবার একই জয়েন্টে শব্দ করা সম্ভব হয়।

    সব জয়েন্টের শব্দ কি একই কারণে হয়

    না। জয়েন্টের শব্দ মূলত দুধরনের হতে পারে। প্রথমটি স্বাভাবিক শব্দ (ফিজিওলজিকাল)। ব্যথা নেই, ফোলা নেই, নড়াচড়ায় সমস্যা নেই; মাঝে মাঝে ‘ফট’ বা ‘কট’ শব্দ হয়। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়। দ্বিতীয়টি রোগজনিত শব্দ (প্যাথলজিকাল)। যদি শব্দের সঙ্গে থাকে—ব্যথা, ফোলা, জয়েন্ট আটকে যাওয়া, নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা ও আঘাতের ইতিহাস, তাহলে এটি কার্টিলেজ ক্ষয়, লিগামেন্ট ইনজুরি, মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়া, টেনডন স্ন্যাপিং বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।আঙুল

    ফোটালে কি আর্থ্রাইটিস হয়

    বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আঙুল ফোটানোর সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের সরাসরি সম্পর্ক আছে বলে প্রমাণিত হয়নি।

    তবে অতিরিক্ত জোরে বা অভ্যাসবশত বারবার জয়েন্ট টানাটানি করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিগামেন্ট বা নরম টিস্যুতে সামান্য আঘাত লাগতে পারে, হাতের গ্রিপ শক্তি কমে যেতে পারে বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই অকারণে বারবার জয়েন্ট ফোটানোর অভ্যাস না করাই ভালো।

    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শব্দের সঙ্গে ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, হাঁটতে বা কাজ করতে সমস্যা, জয়েন্ট বারবার লক হয়ে যাওয়া, আঘাতের পর নতুন করে শব্দ শুরু হওয়া, কিংবা শব্দের সঙ্গে অস্থিরতা বা দুর্বলতা অনুভব করা।

    শেষকথা, জয়েন্টের ‘ফট’ শব্দ মানেই রোগ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি জয়েন্টের ভেতরে সাইনোভিয়াল তরলে থাকা গ্যাসের বুদবুদ তৈরির একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। তবে যদি এই শব্দের সঙ্গে ব্যথা, ফোলা বা চলাফেরায় অসুবিধা থাকে, তাহলে সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ তখন এটি কোনো অর্থোপেডিক রোগের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। মনে রাখবেন, শব্দ নয়, শব্দের সঙ্গে থাকা উপসর্গই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

    লেখক : সহকারী অধ্যাপক (স্পাইন সার্জারি), জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোর, ঢাকা

  • জীবনভর সুস্থ ফুসফুসের অঙ্গীকার

    জীবনভর সুস্থ ফুসফুসের অঙ্গীকার

    প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমরা বাঁচি, কিন্তু সেই নিঃশ্বাসের উৎস ফুসফুসের কথা আমরা কতটুকু ভাবি? বিশ্ব ফুসফুস দিবস আমাদের সেই ভাবনাটাই মনে করিয়ে দিতে প্রতিবছর ফিরে আসে। প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফুসফুস দিবস। এর উদ্যোক্তা হলো Forum of International Respiratory Societies (FIRS)। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘A Lifetime of Lung Health’—জীবনভর ফুসফুসের সুস্থতা। এই প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। FIRS বলছে, ফুসফুসের স্বাস্থ্য এক দিনের বিষয় নয়, এটি সারা জীবনের যাত্রা।

    দিবসটি উপলক্ষে দেশের বক্ষব্যাধির সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, যেমন সেমিনার, টিভি টকশো ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রোগ্রামের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে। এ ব্যাপারে বিএমআরসি পরিচালক ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সচিব ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর বলেন, ‘সুস্থ ফুসফুস মানেই প্রাণবন্ত জীবন। প্রতি নিঃশ্বাস আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অমূল্য উপহার। একটি সচেতন সিদ্ধান্ত আপনার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যকে বদলে দিতে পারে। যদি ধূমপান করেন, আজই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন।’

    এদিকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. আব্দুস শাকুর খান বলেন, ‘সুস্থ ফুসফুসের জন্য শুধু রোগমুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাসই পারে আমাদের ফুসফুসকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন ও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সক্রিয় থাকুন। ফাঁকা ব্যায়াম বা খেলাধুলার মতো অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন। পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের প্রতিও গুরুত্ব দিন।’

    ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. আসিফ মুজতবা মাহমুদ বলেন, ‘পরিষ্কার বাতাস আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। কিন্তু বায়ুদূষণ আজ আমাদের ফুসফুসের জন্য একটি বড় হুমকি। ধোঁয়া, ধুলা ও ক্ষতিকর বায়ুকণা প্রতিদিন আমাদের শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে শিশু থেকে বড় সবার ওপরই প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ফুসফুস এখনো বিকাশমান। তাই তাদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী সবাই মাস্ক পরিধান করবেন। ধূমপান বর্জন করুন। যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া কমানোসহ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে উৎসাহিত করুন। বেশি বেশি করে গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ তৈরি করাও আমাদের দায়িত্ব।’

    বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে দেশের অন্য একটি বক্ষব্যাধি সংগঠনের সভাপতি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, “বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ফুসফুসের স্বাস্থ্য এবং ফুসফুসকে ভালো রাখার বিভিন্ন উপায় নিয়ে সেমিনার করছে। চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সেই ধারাবাহিকতায় চারটি সেমিনার এবং একটি র‍্যালি করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘A healthy lung of lifetime’—মানে সারাজীবন ফুসফুসকে সুস্থ রাখুন। এ জন্য আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, ধূমপান বর্জন করতে হবে, ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে, বায়ুদূষণ রোধ করতে হবে, পরিবেশদূষণ রোধ করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল হ্যাজার্ড—সেখানে গাড়ির ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া, ইটভাটার ধোঁয়া—সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া আমাদের সমন্বিতভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জনগণকে এ বিষয়গুলো জানাতে হবে। রাজনৈতিক কমিটমেন্টের মধ্যে এগুলোর বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন করেছে, এটার বাস্তবায়ন করতে হবে। বায়ুদূষণের জন্য আমাদের সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা হলো—যানবাহন, ইটভাটার ধোঁয়াসহ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ সরকার পরিবেশ রক্ষা করার জন্য ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আমাদের সবাইকে এই গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। সবাইকে দুটি গাছ লাগাতে হবে এবং সেটিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে আমাদের পরিবেশ রক্ষা পাবে। এছাড়া আমরা ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য ভালো খাবার খেতে হবে। আমাদের ব্যায়াম করতে হবে। পরিবেশ যাতে সুন্দর থাকে, পরিবেশ যাতে নির্মল থাকে, এর জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

    জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারোয়ার বিদ্যুৎ বলেন, ‘সারা বছর হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তাই ফুসফুস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সারা জীবন সুস্থ ফুসফুস নিয়ে বাঁচতে হলে আজই নিজেকে সচেতন করুন। তাহলেই লাইফটাইম হেলদি লাং নিয়ে আমাদের বাঁচা সম্ভব।’

    এছাড়া বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর আলী হোসেন বলেন, ‘আমাদের ফুসফুস জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নীরবে আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে আমাদের শরীরে পৌঁছে দেয় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। তাই ফুসফুসের সুস্থতা মানেই স্বাভাবিক জীবনের ভিত্তি। কিন্তু বায়ুদূষণ, ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ফুসফুসের জন্য বড় ঝুঁকি। ফুসফুসের যত্ন শুরু করতে হবে আজ থেকেই। ধূমপান থেকে বিরত থাকুন এবং অন্য কেউ ধূমপানমুক্ত থাকতে উৎসাহিত করুন। ধুলা, ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন। দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গকে অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’

    আসুন, বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৬-এ অঙ্গীকার করি—প্রতিটি নিঃশ্বাস হবে বিশুদ্ধ, প্রতিটি ফুসফুস পাবে সারাজীবন যত্ন।

    লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • হাততালি দিলে যে ৫ উপকার পাবেন

    হাততালি দিলে যে ৫ উপকার পাবেন

    প্রতিদিন হাততালি দিলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কারণ হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলোকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলোতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।

    যেসব উপকার পাবেন

    রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, যা হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

    মনমেজাজ ভালো থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ভালো করে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতেও হাততালি দিতে পারেন।

    শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।

    শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। দূষিত পদার্থ বের হলে শরীর তো ভালো থাকবেই। সকালের দিকেই হাততালির অভ্যাস করা ভালো। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের যেকোনো তেল হালকা মালিশ করে নিন। শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট হাততালির অভ্যাস করুন।

  • স্বাস্থ্য-শিক্ষা-যোগাযোগে বাংলা কিউআর ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    স্বাস্থ্য-শিক্ষা-যোগাযোগে বাংলা কিউআর ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাসপাতালের টিকিট ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ, স্কুলের বেতন ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সড়ক ও সেতুর টোল পরিশোধ—মানুষের নিয়মিত সম্পৃক্ততার এসব ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেন কমাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব খাতে বাংলা কিউআর চালু হলে লেনদেন সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও ভাংতির সমস্যাও কমবে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলা কিউআর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। জানা গেছে, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরকে আরও সহজ, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আগামী তিন মাসে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত জুনের তুলনায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। বর্তমানে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্টের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছেছে। আরিফ হোসেন খান বলেন, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির প্রতিটি লেনদেনের একটি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি করা। দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতির প্রকৃত আকার আরও বড় হবে। এ কারণে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির লেনদেনগুলোও যদি হিসাবের আওতায় আনা যায়, তাহলে প্রকৃত অর্থনীতির আকার আরও বড় হতে পারে। এ ধরনের বড় অর্থনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও দেশের বাজারকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।

    তিনি বলেন, বিদেশিরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেখানে বাজার আছে কি না এবং বাজারের আকার কত— তা বিবেচনা করে। বাংলাদেশকে যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, দেশের বড় অঙ্কের লেনদেন সাধারণত ক্যাশলেস পদ্ধতিতে হয়। কিন্তু ছোট ছোট দৈনন্দিন লেনদেন এখনো মূলত নগদনির্ভর। মুদি দোকান, বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় অল্প অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ অর্থের ব্যবহার বেশি। এই ছোট লেনদেনগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, নগদ লেনদেনে নানা ধরনের বিড়ম্বনা রয়েছে। বাজারে নিম্ন মূল্যমানের নোটের সংকট রয়েছে। অনেক সময় ক্রেতার কাছে ৫০ টাকার নোট থাকলেও ১০ বা ২০ টাকার ভাংতি পাওয়া যায় না। আবার পুরোনো ও মলিন নোট নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। এসব কারণে লেনদেনে সময় লাগে, কখনো ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, গত ১ জুলাই থেকে সর্বস্তরে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়েছে। এরপর গত তিন মাস ধরে বাস্তবে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এখন সেসব বাধা দূর করতেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর চালুর পর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে মার্চেন্টের সংখ্যাও প্রায় তিন গুণ বেড়ে বর্তমানে ৪০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
    তবে এখনো বাংলা কিউআর ব্যবহারে অন্যতম সমস্যা হিসেবে ফি বা চার্জের বিষয়টি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রি করার পর যদি তার প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ কেটে রাখা হয়, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের লেনদেনে উৎসাহিত হবেন না। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি কীভাবে সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে বিভিন্ন সমাধান বের করা হয়েছে। বাংলা কিউআরের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে কোনো মার্চেন্ট একটি নির্দিষ্ট মোবাইল আর্থিক সেবা বা ব্যাংকের কিউআর ব্যবহার করলে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো মার্চেন্ট বিকাশের কিউআর ব্যবহার করলে নগদের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। একইভাবে কোনো ব্যাংকের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর থাকলে সমস্যায় পড়তেন।

    কিন্তু বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন একটি সার্বজনীন কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবেন। ফলে সবাই একটি অভিন্ন ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার জন্য গভর্নরের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কার্যকরী কমিটি কাজ করছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা দিয়ে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয়। এ কারণে দেশের প্রায় ১৯টি জেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলা কিউআরে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকলে এটি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে এবং কী ধরনের খরচ হলে এটি সবার জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী হবে—এসব বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।

    আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরকে আরও জনপ্রিয় করতে কয়েকটি পদক্ষেপ কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু পদক্ষেপ ১ নভেম্বর থেকে এবং আরও কিছু পদক্ষেপ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বছরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে। এসব পদক্ষেপ চালু হলে আগামী তিন মাসে গত তিন মাসের তুলনায় আরও দ্রুত অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কেনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় ১০ টাকার টিকিট কিনতে ৫০ টাকার নোট দিলে ভাংতি পাওয়া যায় না। এতে লাইনে অপেক্ষার সময় বাড়ে। বাংলা কিউআর থাকলে মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

    শিক্ষা খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের বেতন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিনে খাবার কেনা, স্টেশনারি, পেন্সিল, ইরেজার, শার্পনার বা জ্যামিতি বক্স কেনার মতো ছোট লেনদেনও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা সম্ভব। ইতোমধ্যে বেসরকারি স্কুলের বেতন ক্যাশলেস করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব পেমেন্ট বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
    যোগাযোগ খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন সড়কের টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টোল পরিশোধের ক্ষেত্রেও কিউআর ব্যবহার করা গেলে সময় কমানো সম্ভব। এতে নগদ অর্থের প্রয়োজন হবে না এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত করা যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি, সেসব খাতে দ্রুত ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাংলা কিউআরের উপযোগিতা, এর সুবিধা এবং বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তাদের জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নির্দেশনাও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিলে বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে শুধু একটি পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে নয়, দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী তিন মাসে নতুন পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে এবং দৈনন্দিন ছোট লেনদেনের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীও রয়েছেন।

    প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আটক চারজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন, বহিরাগত সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান।

    পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

    গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, গেস্ট হাউসে তাদের সন্দেহজনক চলাফেরা নজরে আসার পর স্টাফদের কাছ থেকে খবর পান তিনি। কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের স্টাফ মিথুনের নামে ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা ছিল। সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছিল।

    তিনি বলেন, গেস্ট হাউসে অন্য অতিথিরাও অবস্থান করছিলেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ তারা দ্রুত কক্ষটিতে যান। দরজা খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিংধারী স্টাফের পাশাপাশি একজন এসি মেকানিক ও দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতর তীব্র গন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।

    পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে ৪-৫টি ইয়াবাসহ একটি কিট জব্দ করে।

    গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, লাবিব হাসান মিথুন অসুস্থতাজনিত বিশেষ কারণ দেখিয়ে তিন দিন আগে এক দিনের জন্য ৬ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। পরে তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে গেস্ট হাউসের ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টাফের সঙ্গে বাইরের কয়েকজন লোক অবস্থান করছেন বলে খবর পান। এরপর ক্যাম্প পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে যান। কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, বাইরে থেকে কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে তারা দরজা খোলেন। কক্ষে ঢোকার পর বাজে গন্ধ পাওয়া যায় এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম দেখা যায়। পরে পুলিশ ইয়াবা উদ্ধার করে তাদের আটক করে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব বলেন, চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কলেরার টিকা, প্রথম ডোজে বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন

    কলেরার টিকা, প্রথম ডোজে বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন

    বাংলাদেশে কলেরার প্রথম ধাপের মুখে খাওয়ার টিকা (ওসিভি) কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। প্রথম ডোজ থেকে বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন। সবচেয়ে কম টিকাদান হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন।

    বাদ পড়াদের বড় অংশই নারায়ণগঞ্জের। জেলাটিতে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৭ জন।অর্থাৎ ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ প্রথম ডোজ পাননি। প্রথম ধাপে বাদ পড়া মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশই নারায়ণগঞ্জের।

    গত ২২ আগস্ট দেশে প্রথমবারের মতো দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা কর্মসূচি শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরের সাতটি থানা ও চার জেলার সাতটি উপজেলাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

    প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর, যা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

    কর্মসূচির আওতায় রয়েছে কলেরার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৪টি এলাকা। ঢাকার সাতটি থানা হলো লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও।

    ঢাকার বাইরে আওতায় থাকা এলাকাগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও হোসেনপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা।

    এগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে বেশি ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। এরপর কিশোরগঞ্জে ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মুন্সীগঞ্জে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের হার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

    কেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলো না

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় তা অর্জন নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। নিয়মিত বা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুদের লক্ষ্য করা হলেও এবার সব বয়সী মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

    এ ছাড়া লক্ষ্য জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মজীবী হওয়ায় কর্মঘণ্টার সঙ্গে টিকাদানের সময়সূচির মিল না থাকায় তাঁরা টিকা নিতে পারেননি।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। এতে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলেও নারায়ণগঞ্জে তা সম্ভব হয়নি। জনবসতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সেখানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়েছে।

    কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় জনসংখ্যার দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মানুষের এলাকা পরিবর্তনও টিকা থেকে বাদ পড়ার অন্যতম কারণ বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা গাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের একটি প্রতিনিধি দল টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি। গাভি বিনামূল্যে এই টিকা সরবরাহ করেছে।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা ছিল না। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রতিরোধমূলক টিকা। আমরা যতটুকু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি, সেটিই জানিয়েছি। ’

    তিনি বলেন, এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব মানুষকে লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত কর্মসূচির তুলনায় এ ধরনের কর্মসূচিতে সাধারণত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার কিছুটা কম থাকে।

    ‘আমরা যতটা সম্ভব প্রচারণা চালিয়েছি,’ বলেন তিনি।

    নারায়ণগঞ্জে কম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলাটির সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন অধ্যাপক হালিমুর রশিদ।

    নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি এ পদে যোগ দেওয়ায় এর কারণ সম্পর্কে অবগত নন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উম্মে ফারহানা সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

    পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জানান, ২০২২-২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় দেশের ১৪৪টি এলাকাকে—উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের থানা—কলেরার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    এরপর এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর প্রথম ধাপে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৪টি এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক্‌যোগ্যতা অর্জন করেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ধীরে ধীরে বাকি এলাকাগুলোও কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে অর্থায়নের ওপর। ’

  • ডেঙ্গুতে ২৯ দিনে ১৪২ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৯ দিনে ১৪২ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৯৪২ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৯ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৪২ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৮২৬ জন।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, চট্টগ্রামে ৩০১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৯ জন, খুলনায় ২৬৪ জন, ময়মনসিংহে ১২০ জন, রাজশাহীতে ১৯৭ জন, রংপুরে ৫৬ জন এবং সিলেটে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৭৫১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৬৭২ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৩৯ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী ।

  • হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট ১১০৪

    হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট ১১০৪

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১১০৪ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৩৩৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৫৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার ৫১৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৩৯২ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন।

    আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট এক হাজার তিনজন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৪২

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৪২

    ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার নয়শত ৪২ জন রোগী।

    আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় ওষুধে বেশি ভ্যাট বাংলাদেশে

    দক্ষিণ এশিয়ায় ওষুধে বেশি ভ্যাট বাংলাদেশে

    সরকার ঘোষিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। সরকারি হাসপাতালগুলোর ফার্মেসি কিংবা বেসরকারি কোথাও মিলছে না অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধ। তিন দশক আগে তৈরি করা তালিকায় এসব অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে কোম্পানিগুলো। বাজারে না পাওয়ায় বেশি দামে একই ধরনের অতিরিক্ত ফর্মুলেশন কিংবা তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্মের ওষুধগুলো কিনে ঠকছে সাধারণ মানুষ। ফলে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক জটিলতা।

    অত্যাবশ্যকীয় তালিকার অন্যতম বহুল ব্যবহৃত ওষুধ প্যারাসিটামল। সাধারণ জ্বর, সর্দি, ফ্লু ও যেকোনো প্রাথমিক শরীর ব্যথা-বেদনায় এই ওষুধ (৫০০ এমজি) ব্যবহৃত হয়। এটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়েছে শ’খানেক কোম্পানি। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি সারা বছর ওষুধটি তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু বা কোনো বিশেষ রোগের পিক সিজনে এ ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। এ সুযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অতিরিক্ত ফর্মুলেশন যুক্ত করে নাপা (প্যারাসিটামল) এক্সট্রা, নাপা ওয়ান, নাপা র‍্যাপিড, নাপাডল বা নাপা এক্সটেন্ড কিংবা একই গ্রুপের অন্য ব্র্যান্ড এইস প্লাস, টামেন টারবু নাম যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রি করছে বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে যে সাধারণ প্যারাসিটামল খেয়েই রোগীর কাজ হয়ে যেত, এখন প্রচারের প্রভাবে বেশি দামে অতিরিক্ত ফর্মুলেশনযুক্ত প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধের জেনেরিক গ্রুপের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে। এসব অতিরিক্ত ফর্মুলেশনের ওষুধ খেয়ে রোগীদের নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলটি মূলত শ্বাসনালির সংক্রমণ, কান ও গলার প্রদাহ, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের প্রথম সারির জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে অর্ধশতাধিক ফার্মা কোম্পানির ওষুধটি উৎপাদনের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ৮-১০টি কোম্পানি এই অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। সাধারণ রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত ও তুলনামূলক কম দামের এই ওষুধটি সহজলভ্য না থাকায় বেশিরভাগ চিকিৎসক দামি চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করছেন। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হচ্ছে।

    একইভাবে সেফুরক্সিম অ্যান্টিবায়োটিকটি যেসব সমস্যায় ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় বেশিরভাগ ইন্ডিকেশনে অ্যামক্সিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন অথবা ফ্লুক্লাক্সসিলিন ব্যবহার করা যায়। অথচ এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় রয়েছে। যেখানে সেফুরক্সিম+ক্লাভুরিক এসিড অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজির দাম কোম্পানিভেদে ৫৫-৮৫ টাকা, সেখানে অ্যামক্সিসিলিন ৫০০ এমজির দাম মাত্র সাড়ে সাত টাকা, ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এমজির দাম আড়াই টাকা, ফ্লুক্লাক্সসিলিন ৫০০ এমজির দাম ১৪ টাকা। স্বল্পমূল্যের এসব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কিছু টাকা করে বাড়িয়ে দিলেই কোম্পানিগুলো এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী হতো, গ্রাহকদের আর উচ্চমূল্যে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে হতো না। এতে সাধারণ রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যাবশ্যকীয় এসব অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য করা গেলে সাধারণ রোগীরা খুব কম খরচেই তাদের চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারতেন। পাশাপাশি হাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে হতো না।

    শ্বাসনালি ও মূত্রনালির সংক্রমণ চিকিৎসায় কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত সিপ্রোফ্লোক্সাসিন। কিন্তু বড় বড় ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, বড়জোর ১৫-২০টি কোম্পানির ওষুধ বাজারে আছে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় এ ওষুধটি থাকলেও কাঁচামাল আমদানির বাড়তি খরচ এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামের বিরাট ফারাক থাকায় অনেক কোম্পানি এ ওষুধ উৎপাদন অনেকটা বন্ধ রেখেছে।

    অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের পাশাপাশি আরেক বিপত্তি হচ্ছে কোম্পানিভেদে বিভিন্ন ব্রান্ডের ওষুধের দামের পার্থক্য। এটি ফার্মা খাতে আরেক অসম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মাঝারি-ছোট ফার্মাসিউটিক্যালগুলো তীব্র বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, এজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজি ট্যাবলেটটির প্রতি পিসের দাম কোম্পানিভেদে ২৭-৫০ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। একই জেনেরিক ওষুধের বিভিন্ন দাম অনুমোদন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সিজিএমপি (কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) ফরমুলা ব্যবহার করে ফার্মা কোম্পানিগুলোকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর উৎপাদনের অনুমতি দিলেও মূল্যের ক্ষেত্রে কম-বেশি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে কমমূল্যে পাওয়া কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণে প্রথম সারির প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো অনেকটা ভালো মূল্য আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মানেই হচ্ছে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এর সহজলভ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা এর বৈপরীত্য দেখছি। আইনত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের একটি অংশ তৈরি করতে বাধ্য। আর এটি সঠিকভাবে মনিটর হচ্ছে না। তবে সার্বিক অবস্থা বিচারে বাস্তবতা হচ্ছে, বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ ও নানা বিষয় বিবেচনা করে উৎপাদকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বসে পুনঃ মূল্য নির্ধারণ জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ওষুধ সহজলভ্য হয়।

    এ প্রসঙ্গে নোভাটেক ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাসহ অনেক ওষুধের মূল্য পুনর্নির্ধারণের এখনই সময়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, কাঁচামালের তীব্র সংকট, ডলারের তারতম্যসহ বিগত তিন দশকে এসব ওষুধের মূল্য কাঠামোর বড় কোনো পরিবর্তন বা যৌক্তিক সমন্বয় হয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদর সরকারের অনেক বছর আগে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য লোকসান ডেকে আনছে। অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধের দাম যদি যৌক্তিকভাবে সামান্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ তৈরিতে আগ্রহী হবে এবং সাধারণ মানুষ দারুণ উপকৃত হবে। তেমনি একই জেনেরিকের ওষুধ কোম্পানিভেদে বিভিন্ন দাম অনুমোদনে ছোট-মাঝারি কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া সবই এক ও অভিন্ন।

    ওষুধ উৎপাদনে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের কিছু নীতিগত বিষয়ও জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ওষুধে ভ্যাট ও কর সবচেয়ে বেশি। এটি অত্যাবশ্যকীয়সহ সব ওষুধের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আর খুচরা বিক্রেতাদের আরো প্রায় আড়াই শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দেওয়া লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ভারতে ওষুধে ভ্যাট দিতে হয় সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ শতাংশ। আর পাকিস্তানে এক থেকে দুই শতাংশের মতো।

    বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এটি বিবেচনা করবেন। একই জেনেরিকের ওষুধে কোম্পানিভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আসলেই বিবেচনার বিষয়। এটির একটি যৌক্তিক সমাধান জরুরি।

    সার্বিক বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলোর সহজপ্রাপ্যতা, তালিকা হালনাগাদ করা এবং অন্যান্য বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কমিটি গঠিত হলে তারা সরকারের কাছে বিভিন্ন বিষয় সুপারিশ আকারে পেশ করবে, যার ভিত্তিতে সরকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কার্যকর পদক্ষেব নেবে।

  • বিশ্ব হার্ট দিবস আজ , দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন প্রায় ৭৭৭ জনের মৃত্যু

    বিশ্ব হার্ট দিবস আজ , দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন প্রায় ৭৭৭ জনের মৃত্যু

    দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন গড়ে ৫৬২ থেকে ৭৭৭ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিদিন নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ২ হাজার ৭২০ জন। বর্তমানে দেশে কোনো না কোনো হৃদরোগে ভুগছেন আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার ১৯০ জন। অথচ বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল কলেজে। কোথাও আবার ক্যাথল্যাব আছে, কিন্তু যন্ত্র অচল; কোথাও যন্ত্র সচল থাকলেও তা পরিচালনার মতো দক্ষ জনবল নেই।

    ফলে হৃদরোগের চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা ও জরুরি সেবার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর। এতে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই জীবন হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’ বা ‘হৃৎস্পন্দনকে গুরুত্ব দিন’।

    ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন ৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩৬ জন। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর হৃদরোগে মারা যায় দুই লাখের বেশি মানুষ। প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসান বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর তিন ভাগের এক ভাগের জন্য দায়ী হৃদরোগ। গত তিন দশকে দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হলে তার ৯০ শতাংশই ঢাকা কেন্দ্রিক, অথচ ৯০ শতাংশ রোগীই থাকেন ঢাকার বাইরে। তাই হৃদরোগের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা ঢাকার বাইরে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি গ্রহণ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে সাধারণত অধ্যাপকরা বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপকরা বিভাগীয় বা ইউনিট প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এতে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ না থাকায় অনেক মেডিকেল কলেজে হৃদরোগের উচ্চশিক্ষার কোর্স পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এফসিপিএস ও ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে একদিকে বর্তমান রোগীদের চিকিৎসা সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তৈরির পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    ক্যাথল্যাব সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ক্যাথল্যাব নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বগুড়া মেডিকেল কলেজের দুটি ক্যাথল্যাবের একটি অচল। চট্টগ্রামের একটি ক্যাথল্যাবও নষ্ট। রংপুরের ক্যাথল্যাবের যন্ত্রপাতি কখনো সচল, কখনো অচল থাকে। একজন অধ্যাপক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকারি পর্যায়ে হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কিছু অধ্যাপককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আবার কাউকে এমন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে, যেখানে তার দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ নেই। ফলে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়েছে। তার মতে, যেসব মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু ছিল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সেগুলোও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে অন্তত ১১ ধরনের হৃদরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হন ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে। রয়েছে কার্ডিওমায়োপ্যাথি ও মায়োকার্ডাইটিস, রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ, ভালভুলার হার্ট ডিজিজ, হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, এন্ডোকার্ডাইটিস, অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম, পালমোনারি আর্টেরিয়াল হাইপারটেনশন, লোয়ার এক্সট্রিমিটি পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ ও জন্মগত হৃদরোগ। আটজন মানুষ হৃদরোগে মারা যান। এসব মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঘটে ৭০ বছর বয়সের আগে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৮৫ শতাংশ মানুষের রোগ নিয়ন্ত্রণে নেই। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে ‘সিহার্টস’ উদ্যোগের আওতায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১০ কোটি মানুষকে প্রটোকলভিত্তিক চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। জুন ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ৯ কোটির বেশি মানুষ এমন চিকিৎসা পাচ্ছিলেন। তামাক নিয়ন্ত্রণ, লবণ গ্রহণ কমানো এবং শিল্পজাত ট্রান্স-ফ্যাট নির্মূলেও আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তবে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে অর্থায়নের ঘাটতি, প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম ও ওষুধের অপ্রতুলতা এবং তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এখনো বড় বাধা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের চিকিৎসা শুধু বড় হাসপাতালনির্ভর হলে এই বিপুল রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিশ্চয়তা, দক্ষ জনবল তৈরি, সচল ক্যাথল্যাব এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • বাড়ছে ধর্ষণ মামলা, মিলছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

    বাড়ছে ধর্ষণ মামলা, মিলছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

    দেশজুড়ে ধর্ষণের ঘটনা ও মামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের আট মাসে রেকর্ড হয়েছে ৪,৬৫৪টি ধর্ষণ মামলা, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তদন্তে অধিকাংশ ঘটনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের মামলা ভালোভাবে তদন্ত এবং দ্রুত প্রতিবেদন দিয়ে বিচার ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের সব ইউনিটকে।

    বিশ্লেষকরা বলেছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের বেপরোয়া মনোভাব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছুটা নমনীয়তা, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতার অভাব এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে।

    তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, মামলার বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয় না। ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারছেন। এতে পরিসংখ্যানগতভাবে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে।

    তারা আরো বলেছন, দলীয় পরিচয় বিবেচনা করে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলও তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ৪,৬৫৪টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। জানুয়ারি-জুন ছয় মাসে ৩,২৫২টি মামলা হয়। এর মধ্যে মার্চ-জুন পর্যন্ত হয়েছে ১,৯৪০টি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ১,৩১২টি মামলা। এছাড়া জুলাইয়ে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হয়েছে ৭০৭ এবং আগস্টে ৬৯৫টি।

    গত বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ষণের মামলা হয় ১,৫২৮টি। বছরের প্রথম তিন মাসের চেয়ে পরবর্তী তিন মাসে (মার্চ-জুন) ধর্ষণের মামলা বেশি হয়েছে ৬২৮টি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৪১২টি। মার্চ-জুন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ মামলা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায়।

    এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৪টি, গোপালগঞ্জে ৬২, কক্সবাজারে ৬২, ঢাকা জেলায় ৫৮, টাঙ্গাইলে ৫৭, কুমিল্লায় ৫৩, চট্টগ্রাম জেলায় ৫০ এবং বগুড়ায় ৪৭টি মামলা হয়েছে।

    সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সভায় ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলা বৃদ্ধির হার খুবই উদ্বেগজনক। তিনি পুলিশের সব ইউনিটকে ধর্ষণ মামলাগুলো খুব ভালোভাবে তদন্ত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলার দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেন।

    ধর্ষণের মামলা তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ তুলে ধরে সম্প্রতি বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহ্মদ। তিনি বলেন, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে ভুক্তভোগী মামলা করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না। এখন থানায় গেলেই এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো হস্তক্ষেপ নেই, যে কারণে মামলা বেড়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ধর্ষণ যেখানেই হোক; গ্রেপ্তার, চার্জশিট, সাক্ষী উপস্থাপনসহ বিচারের সব ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। পল্লবীতে শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫-১৭ দিনের মধ্যে, এটা বাংলাদেশের রেকর্ড।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশকিছু ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়। এর মধ্যে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা এবং ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশু ফারিয়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত ৯ সেপ্টেম্বর পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে লাশ টুকরা টুকরা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদরাসাছাত্রী জামিলা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বাধা দিতে গেলে জামিলার নানি সুফিয়া খাতুনকেও হত্যা করে দুবৃত্তরা। ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।এদি

    কে, ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে অভিযুক্তদের সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গত ৪ আগস্ট ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৩ জুন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা হোসাইন আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গত ২৬ আগস্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিএনপি নেতা শক্র মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৪ আগস্ট নওগাঁর বদলগাছীতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে

    জামায়াত নেতা শফিউল হাসানের বিরুদ্ধে। গত ১৭ জুলাই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মাহবুবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিভাগের দুটি জেলার পুলিশ সুপার আমার দেশ-কে বলেন, ধর্ষণের যেসব অভিযোগ পাচ্ছি, তদন্তে অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নাম পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে তারা ধর্ষণের মতো অপরাধ করছে।

    পুলিশের মুখপাত্র এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন আমার দেশ-কে বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধ যারাই করুক, ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। মামলা গ্রহণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপ না থাকা এবং ভুক্তভোগীরা নির্বিঘ্নে থানায় অভিযোগকরতে পারায় প্রকৃত ঘটনার একটি বড় অংশ এখন মামলা হিসেবে রেকর্ড হচ্ছে। এটা ধর্ষণ মামলার পরিসংখ্যান বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের ওপর পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে।

    অপরাধ বিশ্লেষক মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক আমার দেশ-কে বলেন, ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বাড়ছে, এটা আমরা পরিসংখ্যানগতভাবে দেখছি। ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আংশিক সত্য। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটাচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় কিছুটা নমনীয়তা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারে প্রযুক্তিগত অপশিক্ষা। এর ফলে এক শ্রেণির মানুষ ধর্ষণের মতো অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। ধর্ষকদের বয়স ২৫-৪৫ বছরের মধ্যে বেশি। এখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি সম্পত্তিগত শত্রুতা, নানা কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব এবং অস্থিতিশীল সামাজিক পরিবেশও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। ধর্ষণের ঘটনার নির্মোহ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি হলো, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

  • জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারে নৈরাজ্য

    জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারে নৈরাজ্য

    সরকার ঘোষিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। সরকারি হাসপাতালগুলোর ফার্মেসি কিংবা বেসরকারি কোথাও মিলছে না অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধ। তিন দশক আগে তৈরি করা তালিকায় এসব অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে কোম্পানিগুলো। বাজারে না পাওয়ায় বেশি দামে একই ধরনের অতিরিক্ত ফর্মুলেশন কিংবা তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্মের ওষুধগুলো কিনে ঠকছে সাধারণ মানুষ। ফলে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক জটিলতা।

    অত্যাবশ্যকীয় তালিকার অন্যতম বহুল ব্যবহৃত ওষুধ প্যারাসিটামল।

    সাধারণ জ্বর, সর্দি, ফ্লু ও যেকোনো প্রাথমিক শরীর ব্যথা-বেদনায় এই ওষুধ (৫০০ এমজি) ব্যবহৃত হয়। এটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়েছে শ’খানেক কোম্পানি। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি সারা বছর ওষুধটি তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু বা কোনো বিশেষ রোগের পিক সিজনে এ ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। এ সুযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অতিরিক্ত ফর্মুলেশন যুক্ত করে নাপা (প্যারাসিটামল) এক্সট্রা, নাপা ওয়ান, নাপা র‍্যাপিড, নাপাডল বা নাপা এক্সটেন্ড কিংবা একই গ্রুপের অন্য ব্র্যান্ড এইস প্লাস, টামেন টারবু নাম যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রি করছে বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে যে সাধারণ প্যারাসিটামল খেয়েই রোগীর কাজ হয়ে যেত, এখন প্রচারের প্রভাবে বেশি দামে অতিরিক্ত ফর্মুলেশনযুক্ত প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধের জেনেরিক গ্রুপের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে। এসব অতিরিক্ত ফর্মুলেশনের ওষুধ খেয়ে রোগীদের নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলটি মূলত শ্বাসনালির সংক্রমণ, কান ও গলার প্রদাহ, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের প্রথম সারির জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে অর্ধশতাধিক ফার্মা কোম্পানির ওষুধটি উৎপাদনের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ৮-১০টি কোম্পানি এই অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। সাধারণ রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত ও তুলনামূলক কম দামের এই ওষুধটি সহজলভ্য না থাকায় বেশিরভাগ চিকিৎসক দামি চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করছেন। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হচ্ছে।

    একইভাবে সেফুরক্সিম অ্যান্টিবায়োটিকটি যেসব সমস্যায় ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় বেশিরভাগ ইন্ডিকেশনে অ্যামক্সিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন অথবা ফ্লুক্লাক্সসিলিন ব্যবহার করা যায়। অথচ এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় রয়েছে। যেখানে সেফুরক্সিম+ক্লাভুরিক এসিড অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজির দাম কোম্পানিভেদে ৫৫-৮৫ টাকা, সেখানে অ্যামক্সিসিলিন ৫০০ এমজির দাম মাত্র সাড়ে সাত টাকা, ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এমজির দাম আড়াই টাকা, ফ্লুক্লাক্সসিলিন ৫০০ এমজির দাম ১৪ টাকা। স্বল্পমূল্যের এসব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কিছু টাকা করে বাড়িয়ে দিলেই কোম্পানিগুলো এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী হতো, গ্রাহকদের আর উচ্চমূল্যে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে হতো না। এতে সাধারণ রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যাবশ্যকীয় এসব অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য করা গেলে সাধারণ রোগীরা খুব কম খরচেই তাদের চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারতেন। পাশাপাশি হাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে হতো না।

    শ্বাসনালি ও মূত্রনালির সংক্রমণ চিকিৎসায় কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত সিপ্রোফ্লোক্সাসিন। কিন্তু বড় বড় ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, বড়জোর ১৫-২০টি কোম্পানির ওষুধ বাজারে আছে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় এ ওষুধটি থাকলেও কাঁচামাল আমদানির বাড়তি খরচ এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামের বিরাট ফারাক থাকায় অনেক কোম্পানি এ ওষুধ উৎপাদন অনেকটা বন্ধ রেখেছে।

    অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের পাশাপাশি আরেক বিপত্তি হচ্ছে কোম্পানিভেদে বিভিন্ন ব্রান্ডের ওষুধের দামের পার্থক্য। এটি ফার্মা খাতে আরেক অসম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মাঝারি-ছোট ফার্মাসিউটিক্যালগুলো তীব্র বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, এজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজি ট্যাবলেটটির প্রতি পিসের দাম কোম্পানিভেদে ২৭-৫০ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। একই জেনেরিক ওষুধের বিভিন্ন দাম অনুমোদন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সিজিএমপি (কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) ফরমুলা ব্যবহার করে ফার্মা কোম্পানিগুলোকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর উৎপাদনের অনুমতি দিলেও মূল্যের ক্ষেত্রে কম-বেশি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে কমমূল্যে পাওয়া কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণে প্রথম সারির প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো অনেকটা ভালো মূল্য আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মানেই হচ্ছে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এর সহজলভ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা এর বৈপরীত্য দেখছি। আইনত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের একটি অংশ তৈরি করতে বাধ্য। আর এটি সঠিকভাবে মনিটর হচ্ছে না। তবে সার্বিক অবস্থা বিচারে বাস্তবতা হচ্ছে, বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ ও নানা বিষয় বিবেচনা করে উৎপাদকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বসে পুনঃ মূল্য নির্ধারণ জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ওষুধ সহজলভ্য হয়।

    এ প্রসঙ্গে নোভাটেক ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাসহ অনেক ওষুধের মূল্য পুনর্নির্ধারণের এখনই সময়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, কাঁচামালের তীব্র সংকট, ডলারের তারতম্যসহ বিগত তিন দশকে এসব ওষুধের মূল্য কাঠামোর বড় কোনো পরিবর্তন বা যৌক্তিক সমন্বয় হয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদর সরকারের অনেক বছর আগে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য লোকসান ডেকে আনছে। অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধের দাম যদি যৌক্তিকভাবে সামান্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ তৈরিতে আগ্রহী হবে এবং সাধারণ মানুষ দারুণ উপকৃত হবে। তেমনি একই জেনেরিকের ওষুধ কোম্পানিভেদে বিভিন্ন দাম অনুমোদনে ছোট-মাঝারি কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া সবই এক ও অভিন্ন।

    ওষুধ উৎপাদনে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের কিছু নীতিগত বিষয়ও জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ওষুধে ভ্যাট ও কর সবচেয়ে বেশি। এটি অত্যাবশ্যকীয়সহ সব ওষুধের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আর খুচরা বিক্রেতাদের আরো প্রায় আড়াই শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দেওয়া লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ভারতে ওষুধে ভ্যাট দিতে হয় সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ শতাংশ। আর পাকিস্তানে এক থেকে দুই শতাংশের মতো।

    বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এটি বিবেচনা করবেন। একই জেনেরিকের ওষুধে কোম্পানিভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আসলেই বিবেচনার বিষয়। এটির একটি যৌক্তিক সমাধান জরুরি।

    সার্বিক বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলোর সহজপ্রাপ্যতা, তালিকা হালনাগাদ করা এবং অন্যান্য বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কমিটি গঠিত হলে তারা সরকারের কাছে বিভিন্ন বিষয় সুপারিশ আকারে পেশ করবে, যার ভিত্তিতে সরকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কার্যকর পদক্ষেব নেবে।

  • মিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

    মিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

    রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকারের পাঠানো এক বার্তায় এসব জানানো হয়।

    ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়।’ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাহলে আমরা করব ইনশাআল্লাহ।’

    স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারী দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের কোথাও কোনো অসামাজিক, অপকর্ম করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস চলছে।’

    পাশাপাশি রাড্ডার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, শাহ আলম তুহিন, ডা. মঈনুদ্দিন, জি এম হাফিজুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম মৃধাসহ অনেকে।

  • আরামদায়ক ঘুমের জন্য খুঁজে নিন সঠিক বালিশ

    আরামদায়ক ঘুমের জন্য খুঁজে নিন সঠিক বালিশ

    ঘুমের সময় ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হলে অনেকেই বিছানা বা গদির দিকে নজর দেন। কিন্তু সমস্যার কারণ হতে পারে বালিশও। ঘুমের ধরন, কাঁধের প্রস্থ, গদির নরম-শক্তভাব—এসব বিবেচনা করেই নিজের জন্য উপযুক্ত বালিশ বেছে নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির সহযোগী অধ্যাপক ও ফিজিওথেরাপিস্ট ড. ক্রিস ম্যাকার্থি।

    বিবিসির ‘Sliced Bread’ পডকাস্টে তিনি বলেন, সাধারণত মানুষ তিন ধরনের ভঙ্গিতে ঘুমান—কাত হয়ে, চিৎ হয়ে এবং উপুড় হয়ে। তবে উপুড় হয়ে ঘুমানোকে তিনি নিরুৎসাহিত করেন। কারণ এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ঘাড় একদিকে ঘোরানো থাকে, ফলে ঘাড়ের কোনো পেশি বা লিগামেন্টে টান পড়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

    চিৎ হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক বিবেচনা করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডের ওপরের অংশের বাঁক অনেকেরই কিছুটা বাড়ে। যাদের এই বাঁক বেশি, তাদের তুলনামূলক মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে।

    অন্যদিকে, কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাঁধের প্রস্থ। কাঁধ যত চওড়া, সাধারণত বালিশও তত মোটা হওয়া দরকার। তবে এখানে গদির নরম-শক্তভাবও বড় ভূমিকা রাখে। শক্ত গদিতে কাঁধ কম ডোবে, তাই মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে। নরম গদিতে কাঁধ বেশি ডুবে যাওয়ায় তুলনামূলক পাতলা বালিশই যথেষ্ট।

    বালিশ খুব পাতলা মনে হলে ম্যাকার্থির সহজ একটি কৌশল রয়েছে—বালিশের নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে রাখা। কতটা উঁচু বালিশ প্রয়োজন, তা বুঝতে তোয়ালের ভাঁজের সংখ্যা বাড়ানো-কমানো যায়। একইভাবে তোয়ালে গুটিয়ে বালিশের নিচে রাখলে কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচের অংশে বাড়তি সমর্থন প্রয়োজন কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যায়।

    ‘কনট্যুরড’, ‘এরগোনমিক’ বা ‘অর্থোপেডিক’ বালিশের কার্যকারিতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত প্রমাণ নেই বলেও জানান ম্যাকার্থি। তবে কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে বালিশের সামনের অংশ সামান্য উঁচু হলে কিছু মানুষের উপকার হতে পারে।

    বালিশের উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ। পালক ও ডাউন ভরা বালিশ ঘাড় ও মাথাকে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা রাখতে পারে, তবে রাতে নড়াচড়া করলে বালিশগুলোর আকার বদলে গিয়ে একদিকে জমাট বাঁধতে পারে। এতে বালিশটি ঢালু হয়ে ঘাড় বেঁকে যেতে পারে। হোলো ফাইবার ও মাইক্রোফাইবার সাধারণত আকৃতি ভালোভাবে ধরে রাখে, যদিও এগুলো তাপ সরাতে পারে কম।

    ম্যাকার্থির নিজের পছন্দ ফোমের বালিশ। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি প্রায় ৫০ পাউন্ড দিয়ে এমন একটি বালিশ কিনেছেন, যাতে বাতাস চলাচলের জন্য বিশেষ ফাঁকা জায়গা রয়েছে। কাত হয়ে ঘুমানোর কারণে তিনিও নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে ব্যবহার করে উচ্চতা সামঞ্জস্য করেন। তাঁর মতে, সবার জন্য একই ধরনের বালিশ উপযুক্ত নয়। তাই বালিশ কেনার সময় সুযোগ থাকলে ট্রায়াল পিরিয়ড ব্যবহার করে নিজের ঘুমের ভঙ্গি ও আরামের সঙ্গে মানানসই বালিশ বেছে নেওয়াই ভালো।

  • শিশুদের রোদে রাখা কতটা বিজ্ঞানসম্মত

    শিশুদের রোদে রাখা কতটা বিজ্ঞানসম্মত

    শিশুদের রোদে রাখা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। নবজাতককে কি প্রতিদিন রোদে দিতে হবে? রোদে না দিলে কি জন্ডিস হয়? জন্ডিস হলে কি রোদে দেওয়া জরুরি? বড় শিশুরা দিনের কোন সময় এবং কতক্ষণ রোদে থাকবে?-এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রায়ই দ্বিধা দেখা যায়। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরে শিশুদের রোদে রাখাকে ঘিরে নানা পরামর্শও দেওয়া হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণার চেয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দেশনাই হওয়া উচিত আমাদের পথনির্দেশক।

    নবজাতককে কি রোদে দেওয়া উচিত

    নবজাতকসহ ৬ মাসের কম বয়সি শিশুকে সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখা উচিত নয়। নবজাতকের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তুলনায় তাদের ত্বক অনেক বেশি পাতলা এবং অপরিণত। ফলে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে।

    সূর্যের আলোতে অতিবেগুনি বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থাকে। খালি গায়ে বা সরাসরি সূর্যের আলোতে নবজাতককে রাখলে এ রশ্মির কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত গরমে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে এবং সানবার্নও হতে পারে।

    তাহলে ভিটামিন ডি-এর কি হবে ভিটামিন ডি তৈরিতে সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এ জন্য নবজাতককে সরাসরি রোদে রাখার প্রয়োজন নেই। জীবনের প্রথম বছর শিশুকে নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে।

    বড় শিশুরা কতক্ষণ রোদে থাকবে

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর ত্বকের সহনশীলতাও বাড়ে। ভিটামিন ডি তৈরির জন্য শিশুদের কিছু সময় সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকা প্রয়োজন হতে পারে। বয়স, ত্বকের রং, ভৌগোলিক অবস্থান, ঋতু, দিনের সময় এবং শরীরের কতটুকু অংশ সূর্যের আলো পাচ্ছে-এসব বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় সময় নির্ভর করে।

    সাধারণভাবে বলা হয়, ১ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন প্রায় ১৭ থেকে ৩০ মিনিট এবং ১ বছরের বেশি বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সূর্যালোকের সংস্পর্শ উপকারী হতে পারে।

    ভিটামিন ডি তৈরির জন্য দিনের কোন সময় সূর্যালোক বেশি কার্যকর, তা ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে রোদে দেওয়াটা বেশি ফলদায়ক।

    শিশুকে রোদে নেওয়ার জন্য তাকে সম্পূর্ণ কাপড় খুলে দেওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই। শরীরের কিছু অংশ-যেমন মুখমণ্ডল, হাত বা পায়ের অংশ-সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলেই ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    শরীরের কতটুকু অংশ সূর্যের আলো পাবে? আনুমানিক ১৫-৪০% Body Surface Area (BSA)।

    ১৫-৪০% BSA কীভাবে বুঝবেন, আনুমানিকভাবে-

    • মুখ : ৭-১০%
    • হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত : ৮%
    • হাতের তালু : ৪%
    • পায়ের হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত : ৮-১২%
    • পায়ের গোড়ালি থেকে বাকি অংশ : ৮%

    সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে কি

    শিশুদের ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম বয়সভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিছু গাইডলাইনে ৬ মাসের কম বয়সি শিশুকে সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার বড় শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    রোদ এবং জন্ডিস : প্রচলিত ধারণা কতটা সঠিক

    নবজাতককে রোদে না দিলে জন্ডিস হয়-এটি একটি ভুল ধারণা। একইভাবে, জন্ডিস হলে অবশ্যই রোদে দিতে হবে-এ কথাটিও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। নবজাতকের জন্ডিসের কারণ এবং চিকিৎসা আলাদা বিষয়। জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ আলোর সাহায্যে ফটোথেরাপির প্রয়োজন হয়। ফটোথেরাপি আর সূর্যের আলো এক জিনিস নয়। তাই জন্ডিসের চিকিৎসা হিসাবে শিশুকে সরাসরি রোদে রাখা উচিত নয়।

    প্রকৃতির সঙ্গেই বেড়ে উঠুক শিশু

    শিশুকে জন্মের পর থেকেই খালি গায়ে রোদে রেখে দেওয়া যেমন সমীচীন নয়, তেমনি বড় শিশুকে সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে আটকে রাখাও ঠিক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর প্রয়োজন হয় খেলাধুলা, খোলা পরিবেশ এবং প্রকৃতির সংস্পর্শ।

    তাই শিশুকে বাইরে যেতে দিন। মাঠে খেলতে দিন। প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে দিন। তবে সবকিছুই হোক বয়স, আবহাওয়া এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে।

    রোদ শিশুদের জন্য শত্রু নয়, আবার অন্ধভাবে ব্যবহার করার মতো কোনো ওষুধও নয়। প্রয়োজন সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ অভ্যাস।

  • হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে সারাদেশে (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১০ জন।

    সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়—চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

  • আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    টাঙ্গাইলে ৪০ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবায় আওয়ামীপন্থি ডাক্তারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালগুলোতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপের) হাতে বন্দি রয়েছে রোগীরা। সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান থাকায় ড্যাব সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

    অপরদিকে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ সময় দৌড়ের ওপর থাকা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ড্যাব) মেধাবী চিকিৎসকরা এখনো কোণঠাসা। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের আশায় দিন কাটছে তাদের। এছাড়া স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। স্বাচিপের আদিপত্য রোধ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের পদায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যই ছিল যোগ্যতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু গত বছরের ৯ মার্চ যোগদান করেন। স্বাচিপের অপর দুই সদস্য ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং মেডিকেল অফিসার আবু জাফর যোগদান করেন আওয়ামী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। এর আগে ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক পদে যোগদান করেন স্বাচিপের আজীবন সদস্য নুরুল আলম মিঞা। এ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা, গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয়। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ৯ জন নিয়োগ পান আওয়ামী সরকারের আমলে। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

    ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন আমার দেশকে জানান, জেলার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।

    এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। এছাড়া ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন কর হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন আর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়া জেলায় ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

    জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু আমার দেশকে জানান, ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার (নিউরোলজি) ডা. আঁচল রায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩০ বছর ৷ চিকিৎসকের এ অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

    রোববার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ডা. আঁচল রায়ের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারাল। মন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    জানা গেছে, ডা. আঁচল রায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মাঝে মাঝে ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন। চিকিৎসক আঁচল তৎকালীন আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ) পড়াশোনা করেছেন। তিনি সম্প্রতি ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর আগে যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট-ওয়ানও পাস করেন তিনি।

    আঁচলের স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, চার দিন ধরে বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয় এবং রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

  • বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়   পরিদর্শন করেছে চীনের  প্রতিনিধিদল

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে চীনের প্রতিনিধিদল

    চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ও কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিদর্শন করেছে। রোববার তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সভা ও কর্মশালার অংশ হিসেবে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনা প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে বক্তব্য দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন। তিনি চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    ঝাও জুনমিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে এবং এর মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ কিয়াং তাঁর বক্তব্যে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। এর আওতায় চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং দেশের সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।

    উপস্থাপনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীরা এখানে আসেন। পাশাপাশি পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বলেন, জটিল ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি ও উন্নত চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছে।

    কিডনি প্রতিস্থাপনের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা ও পরিধি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। উন্নত সার্জিক্যাল পদ্ধতি, মাল্টিডিসিপ্লিনারি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেয়ার, আধুনিক ইমিউনোসাপ্রেশন এবং অপারেশন-পূর্ব ও পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টের পাশাপাশি ইউরোলজিতে মিনিমালি ইনভেসিভ প্রোসিডিউর, এন্ডোইউরোলজি, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ও আধুনিক সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশনের ব্যবহারও দেশে বাড়ছে। দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম। চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, কিডনি প্রতিস্থাপন, আধুনিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তি, চিকিৎসা গবেষণা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম।বৈঠকে উভয় পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

  • বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ

    বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ

    বাংলাদেশে তুলনামূলক কম বয়সে মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই সামনে আসছে। কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, বাড়িতে ফেরার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু—এমন ঘটনা এখন আর বিরল নয়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ।

    কিছুদিন আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কর্তব্যরত অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মুকসেমুল হাকিম। তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে বাসায় ফেরার পর অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই ৪২ বছর বয়সি হাকিমের মৃত্যু হয়।

    চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার পরিবারের সদস্যদের জানান, দুপুরেই একবার তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের হাকিম জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টার দিকে অফিসে তার শরীর খুব খারাপ লাগছিল। ঘাড় ও হাত-পায়ে ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিমঝিম করার মতো উপসর্গও দেখা দিয়েছিল। এর আগে তার বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতার মতো রোগ এতে বড় ভূমিকা রাখে।

    ২০২৫ সালের ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, অসংক্রামক রোগ দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী এবং এর অর্ধেকের বেশি মৃত্যু অকালমৃত্যু।

    অসংক্রামক রোগ কেন ঝুঁকিপূর্ণ

    নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা এনসিডিকে অসংক্রামক রোগ বলা হয়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ হিসেবেও পরিচিত। জিনগত, শারীরিক, পরিবেশগত ও আচরণগত বিভিন্ন বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে এসব রোগ হতে পারে।

    বয়স, অঞ্চল বা দেশভেদে এই রোগের ঝুঁকি আলাদা নয়। সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এর মধ্যে প্রধান হলো হৃদরোগ ও স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতা।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ বছর বয়সের আগেই অসংক্রামক রোগে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব অকালমৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

    বাংলাদেশেও কর্মস্থলে বা অন্য কোথাও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা শোনা যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য কোনো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সি দেড় কোটি মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান।

    হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক

    আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদ্‌রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারির রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরের ঘটনাও বাড়ছে।

    হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসপেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। তখনই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

    হার্ট অ্যাটাকের জন্য আগে থেকেই কোনো রোগ থাকা জরুরি নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষও এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

    হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ বুকের মাঝখানে ব্যথা। চিকিৎসকেরা একে ‘সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন’ বলেন। এ ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। পরে তা বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    চোয়াল ও পিঠে ব্যথাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পেটে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব ও বমিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।

    এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

    স্ট্রোক

    হৃদরোগের পর স্ট্রোকও মৃত্যুর বড় কারণ। অনেকেই স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাককে একই রোগ মনে করেন। কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।

    স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কে আঘাত করে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন স্ট্রোক হতে পারে।

    সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে এখন তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে।

    স্ট্রোকের ধরনও ভিন্ন। এর মধ্যে রয়েছে মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কের কোন অংশে এবং কতটা জায়গাজুড়ে স্ট্রোক হয়েছে, তার ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।

    স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগী যত দ্রুত চিকিৎসা পাবেন, ক্ষতির আশঙ্কা তত কমবে।

    স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

    – আচমকা হাত, পা বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া

    – হাত ওপরে তুলতে না পারা

    – চোখে ঝাপসা দেখা

    – কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া

    – ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া

    – জিহ্বা অসাড় হয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়া

    – শরীরের ভারসাম্য হারানো

    – নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানো

    – বমিভাব, বমি বা খিঁচুনি হওয়া

    ডায়াবেটিস

    বাংলাদেশে সব বয়সি মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি।

    মোট রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে। আইডিএফের অনুমান, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে উঠে আসতে পারে। তখন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাতে পারে।

    আইডিএফ বলছে, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অর্থাৎ তারা এখনো রোগ নির্ণয়ের বাইরে রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২০২২ সালে দেশের আটটি বিভাগে একটি গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি প্রতি ১০০ তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাতজনেরও ডায়াবেটিস রয়েছে। পুরুষের তুলনায় তরুণ নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও গবেষণায় উঠে আসে।

    অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

    দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ

    অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো রোগ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মধ্যে পড়ে।

    বাংলাদেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী জানেন না যে তারা অনিরাময়যোগ্য ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এসব রোগের হার বেশি দেখা যায়।

    গোবর, ঘুঁটে, লাকড়ির মতো জ্বালানি ব্যবহার এবং ধূমপানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নারীদের তুলনায় পুরুষেরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন।

    ক্যান্সার

    বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে মৃত্যুর ষষ্ঠতম কারণ ক্যান্সার।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। চিকিৎসকেরা বলছেন, বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

    ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেই গত বছর প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজার ছিলেন নতুন রোগী।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার। ২০১৮ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।

    পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

    গত বছর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বছরে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ক্যান্সার। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে ৩৮ ধরনের ক্যান্সার থাকলেও ফুসফুস, কণ্ঠনালি ও পাকস্থলীর ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    গবেষণায় বেশি দেখা যাওয়া পাঁচ ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে রয়েছে স্তন, ঠোঁট ও মুখগহ্বর, পাকস্থলী, কণ্ঠনালি এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সার।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার পর্যবেক্ষণ তথ্যেও বাংলাদেশে ২০২২ সালে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬টি নতুন ক্যান্সার শনাক্ত এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮টি মৃত্যুর হিসাব পাওয়া যায়।

    কীভাবে অকালমৃত্যু কমানো সম্ভব

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, তামাকের ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও বায়ুদূষণসহ নানা কারণে তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যে এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা—এই তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এখনো সহজলভ্য নয়। তাই রোগ মোকাবিলায় সুস্থ থাকার জন্য ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    প্রথমত, শৈশব থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে। এ জন্য নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা করা দরকার।

    তৃতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।এখানে মূল প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হলো—অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে শুধু একটি রোগ নয়, একাধিক অসংক্রামক রোগ ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি কাজ করছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান তথ্যেও হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগকে অকালমৃত্যুর প্রধান বোঝা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

  • টিকা সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি

    টিকা সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি

    সাত বছরের মিনহাজ স্কুল থেকে ফেরার পথে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে তার দেহে গভীর ক্ষত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে জলাতঙ্কের (র‌্যাবিস) টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তৃতীয় ডোজের সময় এসে হাসপাতাল কিংবা বাজারে টিকা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান তার বাবা মঞ্জুর হোসেন। পরে বাধ্য হয়ে গাজীপুর থেকে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে আসেন তিনি। গতকাল রোববার শিশুটিকে তৃতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজধানীতে কোথাও কোথাও টিকা পাওয়া গেলেও ঢাকার বাইরে জলাতঙ্কের টিকার সংকট তীব্র। ফার্মেসি থেকে কিনতে গেলে টিকার দামও কয়েকগুণ বেশি দিতে হচ্ছে। প্রাণীর কামড়ের পর চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে গিয়ে অনেক জায়গায় তা পাওয়া যাচ্ছেনা। স্থানীয়ভাবে না পেয়ে কেউ কেউ টিকার সন্ধানে ঢাকায় আসছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহতরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনের সময় টিকা না পেয়ে অনেকে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সরবরাহ সংকটে অনেকের টিকার ডোজও সম্পন্ন হচ্ছে না নির্ধারিত সময়ে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস ধরেই চাহিদার তুলনায় টিকার সরবরাহ কম। বরাদ্দ পাওয়া টিকার মজুত অনেক হাসপাতালে বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) শাখার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যায় ৫০ জনের মতো। আর দেশে গড়ে আক্রান্ত হয় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে ৯৫ শতাংশ জলাতঙ্ক রোগই হয়। দেশে জলাতঙ্কে ২০২৩ সালে ৪২ জন, ২০২৪ সালে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৫ জন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এমন একটি প্রেক্ষাপটে আজ জলাতঙ্ক দিবস। প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস’ বা ‘অ্যান্টি র‌্যাবিস ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো—জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকরা জানান, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে গভীর ক্ষত হয়ে রক্তপাত হলে এআরভি (অ্যান্টির‍্যাবিস ভ্যাকসিন) ও আরআইজি (র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন) দিতে হয়। তবে প্রাণীর লেহন, আঁচড় বা ঘর্ষণের ক্ষেত্রে শুধু এআরভি টিকাই যথেষ্ট। এর মধ্যে আরআইজি টিকার সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের অনেক সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

    ৯ মাসেই এক লাখের বেশি রোগী

    সরেজমিনে গতকাল মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তাদের বেশির ভাগই দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ঢাকায় টিকা নিতে এসেছেন। বাইরে থেকে কিনতে গেলে দাম কয়েকগুণ বেশি। অনেকেই জানান, কুকুর ও বিড়ালে কামড়ানোর পর চিকিৎসক ভ্যাকসিন নিতে বললেও ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে না।

    সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকাদানে নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী আসছেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও রোগীর চাপ বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৩ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫৫৮।

    সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাসার বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বাদুড়, বেজি ও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী জলাতঙ্কের ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এসব প্রাণী আক্রান্ত হলে এবং কামড় দিলে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও জলাতঙ্কে সংক্রমিত হতে পারে। প্রাণীর কামড়ের পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে হাসপাতালে আসতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন এবং

    প্রয়োজন হলে আরআইজি নিতে হবে। বিশেষ করে মাথা, মুখ ও ঘাড়ের কাছাকাছি কামড়, গভীর ক্ষত বা রক্তপাতের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে কোনোভাবেই দেরি করা উচিত নয়।

    হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান বলেন, আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ের শিকার। এর মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালের পাশাপাশি পোষা বিড়ালের কামড়ের ঘটনাও রয়েছে। নারী ও শিশুরা তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজিসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের পর রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ক্ষতের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী র‌্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আরআইজি) এবং টিটেনাসের টিকাও প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিয়মিত সেবা দেওয়া হয়।

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ জলাতঙ্কের টিকার চাহিদা রয়েছে। সিডিসি শাখার অধীনে কৌশলগত পরিকল্পনা বা অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) আওতায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অপারেশন প্ল্যান না থাকায় জেলা পর্যায়ে টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাসে সমস্যা বেশি ছিল। বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। যদিও সরকারি হাসপাতালে কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে টিকার জোগান না থাকায় ঢাকার বাইরে সংকট রয়েছে।

    এ ব্যাপারে সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ র‌্যাবিস ভ্যাকসিন এবং ৩ লাখ ডোজ র‌্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী চাহিদা জানায়। সেই অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। তবে এখন কোনো টিকার সংকট নেই।

  • মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    দারুসসালাম জোনের ওসি এমদাদুল হক বিপুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে। এরপর দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেয়া হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।স্থানীয় বিএনপির দু’টি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়।

  • বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে চট্টগ্রাম নগরী। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর জন্য বেড খালি নেই। শত চেষ্টা করেও হাসপাতালের বারান্দা কিংবা ভেতরে বেড মিলছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অনেকে জ্বরের যন্ত্রণায় আইসিইউতে কাতরাচ্ছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধ শেষে জীবনের কাছে হার মানতে হচ্ছে জ্বরে আক্রান্তদের। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

    বর্তমানে আক্রান্তের দিক থেকে শহর এলাকা গ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের নামও। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিধনে চসিক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ওপর আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। চসিকের দেওয়া ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া উচিত। অথচ চসিক তা করছে না। সংস্থাটির ব্যবহৃত বিটিআই ওষুধ মশা নিধনে আদৌ কাজে আসছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় কোনো বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন করে রোগী ভর্তি করতে নারাজ সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

    চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ মেহেরাজ বলেন, বহু কষ্টে সন্তানের জন্য একটি বেড পেয়েছি। ২০ দিন ধরে আমার চার বছর বয়সি সন্তানের গায়ে জ্বর কমছেই না। অথচ কোনো ভাইরাসই ধরা পড়ছে না। উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর ডেঙ্গুর হটস্পট। অথচ সেখানে তেমন কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের কর্মীদের অবহেলা অথবা ওষুধ প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে মশা মরছে না বলে মনে করেন তিনি।

    আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কোনো বেড পেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। চসিকের কোনো লোকজনকে মশার ওষুধ দিতে দেখিনি। তিন মাস আগে একবার এলেও তাদের মতো করে ফগিং করে চলে যান। এতে মশার আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না।

    দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা রেজাউল রাজু বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ে। কাজ থেকে ফিরে মশা মারতে নানা আয়োজন করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। অথচ সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তার অভিযোগ, ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে লোকদেখানো প্রচার চলছে। ওষুধ কাজ করে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ।

    এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার নগরীর বেসরকারি সাজিনাস হাসপাতাল থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নেন মনি আক্তার নামে এক নারী। ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার আট বছর বয়সি ছেলে আবু জাহেদও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে।

    আবু জাহেদের বাবা আল আমিন জানান, স্ত্রী হারানোর আগেই ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হন। সাজিনাস হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসার বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা বকেয়া রেখে তিনি চলে যান। সেদিনই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোক এখনো কাটেনি। এখন ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) উদ্বেগে রয়েছেন।

    এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলার ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও নাজুক। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। ওই উপজেলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে সিরাজুল মুনিরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর কোরবান আলী রিফাত নামে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রব কমাতে সেই উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্য উপজেলায় আক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় কোনো কাউন্সিলর-মেম্বার ও মেয়র-চেয়ারম্যান নেই। সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ দেওয়ার স্থানও তারা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

    জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ২,৫১৫ জন। বিপরীতে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ১,৭১১ জন। আর চসিক এলাকায় ১,৭৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ১,৪০৭ জন।

    তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৯৩৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে আক্রান্ত ১,৭৮৬ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ৯১.০২ শতাংশ এবং মৃত্যু ২২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহী জানান, ১৫৮টি স্প্রে মেশিন ও ৮৬টি ফগার মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। ৬০ জনের একটি বিশেষায়িত টিমও মাঠে রয়েছে। স্প্রে ও ফগিংÑএই দুভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে। বিটিআই ওষুধটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সরাসরি মশার পাকস্থলীতে আক্রমণ করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হবে।

    এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। পাঁচটি হটস্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে কিছুটা গ্যাপ থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিটিআই আগের চেয়ে ভালো করছে বলেই আমরা এটি ব্যবহার করছি।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চসিকের সঙ্গে আমরা ওষুধ নিয়ে কথা বলব। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সিজন থাকবে। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যৌথভাবে কাজ করছি।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রধান অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, তিন কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, বিদ্যমান তাপমাত্রা ও বাতাসে ৮০ শতাংশের ওপরে আর্দ্রতা। এটি এডিস বৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক। এতে বৃষ্টির সংস্পর্শে এডিস মশার পেড়ে রাখা ডিম তিন দিনের মধ্যে অ্যাডাল্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আর থেমে থেমে বৃষ্টি কমে গেলে আরো আগে কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চার ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে চট্টগ্রামের ডেঙ্গুর ধরন জানতে নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

  • মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

    মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

    উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সামিনা (১৭), সজীব (২৪) ও সামিন (৫)। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই রায়েশা বেগমের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামের আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনজনের লাশ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে আনা হলে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়। দাফনকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখা হয়।

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

  • আগের সরকারের টিকা নীতির খেসারত দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আগের সরকারের টিকা নীতির খেসারত দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বিগত সরকার হামের টিকা না দেয়ায় খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে।
    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় একটি সরকারকে সবসময় সচেতন থাকতে হয়। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপকহারে এসব মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালু করার দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

    তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি এবং এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এর ফলে চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে এবং অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। যার ফলে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়া তার জন্যও অত্যন্ত কষ্টের।

    তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা এবং আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় একটি সরকারকে সবসময় সচেতন থাকতে হয়। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপকহারে এসব মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালু করার দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

    তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি এবং এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এর ফলে চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে এবং অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। যার ফলে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়া তার জন্যও অত্যন্ত কষ্টের।

    তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা এবং আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতিও দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া এবং এর সঙ্গে থাকা অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকায় হাম হলে দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থায় তাদের ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে।

    এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা খরচে একটি বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব শিশু স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে পারছিল না, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। করোনার সময়ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আক্রান্ত শিশুর কাছাকাছি অন্য শিশুরা থাকলে তাদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই বিছানায় একাধিক শিশু থাকা কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাতায়াতের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু টিকা পেয়েছিল। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন এ বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন করে শিশুদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের ক্যাম্পেইন বন্ধ হওয়ার পরের দিন থেকে ঈদুল আজহার পরের দিন পর্যন্ত আরও প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    তবে এরপরও হাম পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি নেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। আগের কিছু মজুতের সঙ্গে নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেয়া শিশু এবং বাকি ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

    তিনি বলেন, আজ থেকে সারাদেশের প্রত্যেক ইউনিয়নে ক্যাম্প এবং প্রত্যেক উপজেলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিভিল সার্জন, ইউএনও এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে আগের চেয়েও জোরদারভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটি সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক মা কর্মজীবী হওয়ায় দিনের বেলায় সন্তানকে নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে আসতে পারেন না। তাদের বিষয়টি বিবেচনা করে বন্ধের দিনেও টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি জানান, এই টিকাদান কর্মসূচির পরও প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে। ইতোমধ্যে ৪৩ লাখ ডোজ টিকা বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ের মপআপ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্যও টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪৩২ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে ২০৯ জন, ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ২৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, খুলনা বিভাগে ২৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৭ জন এবং রংপুর বিভাগে বিভাগে ৫৩ জন রয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৬৬ হাজার ২৫৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে চলছে শিশুদের টিকাদান। সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে অস্থায়ীভাবে টেবিল-চেয়ার পেতে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চালু রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সেন্টারের সামনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া শুরু হয়।

    আজ দুপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সামনে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চলতে দেখা যায়। সেন্টারের গেটে ব্যানার টানিয়ে টিকাদানের সামগ্রী নিয়ে বসেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেখানে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নিয়ে মায়েরা আসছেন এবং টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও।
    দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে নিয়ে আসা এক মা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার কাছে হওয়ায় আগেও এখান থেকে টিকা দিয়েছি। ’

    ইসরাত নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমার মেয়ের আগামী মাসে টিকা দেওয়ার তারিখ আছে। আগের টিকাটিও রাড্ডা থেকে দিয়েছি। তাই জানতে এসেছিলাম, আগামী মাসে এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে কি না। তাঁরা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়া হবে। ’

    তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে আসা আরেক মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায় বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে। গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে। ’

    রাড্ডা সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজ সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বেলা সাড়ে ১টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি। সেন্টারের আশপাশের শিশুদের টিকা নিতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। ’

    নাসরিন আখতার আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ’

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৪

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮০ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,০৬৪ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ৮৭ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০১ শিশুর। বাকী ৯৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯১২ শিশু।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৮১৩ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২১ হাজার ৯৯ জন।

    এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৭৬ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া ৩ শিশুর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনা বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। আর নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫১ জন।

  • এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর

    এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর

    রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট চালানোর পর সেটি গুঁড়িয়ে দেয়।

    এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর। রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে রহস্যজনক একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, কোথায় প্রশাসন, কোথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? এর পেছনে কারা রয়েছে, তা আর মোটেই অস্পষ্ট নয়। তাদের পেটের ক্ষুধা কোনোভাবেই নিবারণ হচ্ছে না। তারাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এই সুযোগটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।

    জামায়াত আমির বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। অন্যদিকে চলছে এই খেলা।আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে? দুষ্কৃতিকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে একসময় জনগণের হাতেই তাদের শাস্তি পেতে হবে।

  • স্বাস্থ্যসেবা উন্নত না হলে প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয়: রিজভী

    স্বাস্থ্যসেবা উন্নত না হলে প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয়: রিজভী

    স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত না হলে একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    ওয়ার্ল্ড ফার্মাসিস্ট ডে-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থ বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও জাতীয় সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

    ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একটি ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একজন রোগীর চিকিৎসার অধিকার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, এ ধরনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে দেশের হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। চিকিৎসকের দায়িত্বের পাশাপাশি রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

    দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের ওষুধশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না। তাদের জন্য ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    রিজভী আরও বলেন, শান্তি ও সমৃদ্ধির যে লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য জাতীয় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। আর সমৃদ্ধি বলতে শুধু মানুষের আয় বা খাদ্য কেনার সক্ষমতা বোঝায় না; একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সক্ষমতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    তিনি আরও বলেন, যে দেশ তার নাগরিকদের উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে না, সেই দেশের সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নও পূর্ণতা পায় না। তাই জাতীয় সমৃদ্ধির সূচকগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবার অবস্থান ও মানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা, চিন্তা, উদ্ভাবন ও নতুন ধারণাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সেক্টরে দলীয়করণ ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে এসব খাতকে উন্নত করতে পেশাজীবীদের চিন্তা, উদ্ভাবন ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করতে স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    সোসাইটি অফ বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টের আহ্বায়ক মো. জাকারিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, ইউজিসির সদস্য ড. আসলাম হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর ড. মামুনুর রশিদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর ড. শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. মো. সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ডিন প্রফেসর সেলিম রেজা, একই বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. শাহ আরমান প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুর রশিদ।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২০১ জন। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৪ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৫ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনের। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ১৫ জনের।

    এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৯৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ১০১ শিশু। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হিসেবে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৭ জন।

  • ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। গত ১৬ দিনে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮ জন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট বিবেচনায় নিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে সমন্বিত মাঠপর্যায়ের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    লামিয়া সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আউলিয়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা মৃত ইমাম হোসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন জ্বরে ভোগার পর স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে লামিয়ার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাকে ফৌজদারহাটের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, লামিয়া চার দিন জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে তাকে চমেকে রেফার করা হলেও পরিবারের সদস্যরা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, ‘সীতাকুণ্ড এখন ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৫০৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন দুই শিশুসহ পাঁচজন।’ জ্বরকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডে মোট ১০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের ঘাটতি নেই। জটিল রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরের উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। সীতাকুণ্ডের শিল্পাঞ্চল, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে। পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি, পুরোনো টায়ার, ক্যান, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিও এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নজরদারি না থাকলে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড পৌর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংসে প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এককালীন অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন। পাঁচজনের মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই নারী জানান।

    এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পানের আড়তে নিয়ে যান।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন ওই নারী। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।

    ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহে আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন।

    অভিযুক্ত সোহরাবের বাড়ি নেত্রকোনায়। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি ছোট্ট একটি পানের দোকান চালান। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়কের নিচে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব নামের ওই পানের দোকানদার এসে তাঁর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

    ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু তাঁরা বিচার না করে হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় হতে বলেন। শেষে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু লোকজন দেখে ফেলায় তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়তে নিয়ে আসেন।

    গতকাল দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা-পুলিশের তিন সদস্যকেও দেখা গেল। এ সময় ওই নারী বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা বলে বিচার চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে যাওয়া হয়।

    মো. শফিকুল নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামের এক ব্যক্তির একটি পানের দোকান চালাতেন। বর্তমানে তাঁর দোকান বন্ধ আছে।

    আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

  • ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৪ জন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ হাজার ২৫৮ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৬ জন, ঢাকা বিভাগে (ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ছাড়া) ২৪১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৪৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা গেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৪ জনের।

    এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ হাজার ১০৪ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ২১১ জন।