মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) -১০ এর সদস্যরা। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কনকসার বাজার ব্রিজ এলাকার সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১০। আজ সোমবার দুপুরে এসআরবি-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতাররা হলেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার মহজমপুর গ্রামের শংকর রাজবংসী (৪০), অন্তিপ চন্দ্র দাস (২০) ও দিপ্ত দাস (১৯) এবং বাজুরবাগ গ্রামের মো: গোলাম হোসেন (৩৮)।
উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১০, সিপিসি-২, শ্রীনগর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লৌহজং থানাধীন কনকসার বাজার ব্রিজ এলাকায় রাস্তার ওপর একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ তল্লাশিকালে ওই পিকআপের ভেতর থেকে ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
একপর্যায়ে মাদক বহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য সাত লাখ বিশ হাজার টাকা বলে জানা যায়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এসআরবি-১০ মাদক নির্মূল অভিযানে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এসআরবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কারাগারে থাকা ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। এর আগে ইমরানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। একই সময়ে ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সড়ক অবরোধ এবং পিটিআই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন। তার দল ও পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দাবি করে আসছে। সরকার অবশ্য ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, একাকী বন্দিত্ব বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আগস্টে জানিয়েছিল, ইমরান একজন দণ্ডিত বন্দি হিসেবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিরোধের সর্বশেষ বড় ঘটনা ঘটে আগস্টে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ জানানো হলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ১৮ আগস্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া, ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসায় যুক্ত করা, নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত একটি বহুবিষয়ক চিকিৎসক বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করার কথাও বলে।
তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। পাকিস্তান সরকার ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে ইসলামাবাদের সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) রাতে চিকিৎসা পরীক্ষা করিয়ে পরদিন ভোরে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠায়। সরকারের বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসকেরা তাকে পরীক্ষা করে কারাগারে ফেরত পাঠানোর উপযোগী বলে মত দিয়েছেন।
এরই মধ্যে ইমরানের পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে আসছিল, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দেয়। আদালত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইমরানের ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করতে বলে।
আগস্টে অবশ্য দীর্ঘ বিরতির পর ইমরান তার বোন নোরিন এবং স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার তার বোনদের সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া হয় বলে পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইমরানের বোনেরা আবারও তাকে দেখতে পারেননি।
ইমরানকে ঘিরে সর্বশেষ বড় উত্তেজনা তৈরি হয় পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে। দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। মূল দাবি ছিল ইমরান খানের মুক্তি। এর আগে সরকার রাজধানীর প্রবেশপথে কনটেইনার বসানো, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। ইসলামাবাদে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শত শত পিটিআই কর্মীকে আটক করা হয়।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টও পিটিআইয়ের প্রস্তাবিত দীর্ঘমার্চ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দল, নেতা বা প্রাদেশিক সরকার এমনভাবে রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক বা প্রবেশপথ দখল করতে পারে না, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল, চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইমরানের তিন বোনকে আটক করা হয়। প্রথমে আলিমা খানকে লাহোরে আটক করা হয়। এরপর উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও আটক করে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার’ আইনের অধীনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়। পিটিআই ও তাদের আইনজীবীরা আটককে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেন। লাহোর হাইকোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে আটকাদেশ স্থগিত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।
ইমরানের বোনদের গ্রেপ্তারকে পিটিআই তাদের নেতার ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। পিটিআই ২৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে, ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহাইল আফ্রিদি জানান, নতুন নির্ধারিত তারিখে পেশোয়ার থেকে দীর্ঘমার্চ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীমুখী দীর্ঘমার্চের বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে।
মার্চ পিছিয়ে দেওয়ার আগে পিটিআই ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে একাধিক যোগাযোগের খবরও এসেছে। গত চার-পাঁচ সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি ব্যাকচ্যানেল বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয় হিসেবে পিটিআইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এসব তথ্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে আলোচনায় ইমরানের চিকিৎসা ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির অবস্থান নিয়েও সম্ভাব্য ছাড়ের কথা উঠেছিল। তবে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে।
ইমরানের ছেলে কাসিম খানও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে তিনি সমর্থকদের আদিয়ালা কারাগারের কাছে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা ছিল, কারাগারের কাছে বড় জমায়েত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং তার বাবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খান নিজে কারাগারে থাকলেও তাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত থামেনি। বরং তার স্বাস্থ্য, কারাগারে সুযোগ-সুবিধা, পরিবারের সাক্ষাৎ, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি—সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে।
এখন পিটিআইয়ের সামনে নতুন তারিখ ৪ অক্টোবর। ওই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকার রাজধানীতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে এবং ইমরানের পরিবার ও দলের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি হয় কি না—এসবই আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই আছেন এবং তার মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।
বাবার দুই হাত-পা বাঁধা। চারপাশে মানুষের ভিড়। কেউ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে আছেন, কেউ মোবাইলফোনে ভিডিও করছেন। এর মধ্যেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে এগিয়ে যায় নয় বছরের তুবা আক্তার তারিন। হাতে রুটি ও চা। বাবার সামনে বসে চায়ে রুটি ভিজিয়ে এক লোকমা করে তার মুখে তুলে দেয়। কখনো খাবারে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে, কখনোবা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। চারপাশে যতো মানুষই থাকুক, সেই মুহূর্তে তুবার কাছে মানুষটি শুধু বাবা।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার এ দৃশ্যের ভিডিও গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামনে আসে অনিক সরদারের পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কট, তার নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত, চুরির অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা। কয়েক দিন আগেও যাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ছিল, এখন তার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা। কেউ খাবার নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, আবার কেউ কাজের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
গত শনিবার রাতে বামরাইল এলাকার একটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে অনিককে স্থানীয় লোকজন আটক করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। সে সময়ের ভিডিওতেই তুবাকে বাবার মুখে খাবার তুলে দিতে দেখা যায়।
তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। অনিকের পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগের সাথে তাদের পুরোনো জমি বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সে বিরোধের জেরেই অনিককে আটক ও মারধর করা হয়েছে।
অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, আয়াত খন্দকার, খাইরুল ইসলাম, আরিফ, হানিফ, সাকিব ও সাহিদসহ কয়েকজনের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, ওই বিরোধের কারণেই চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে আয়াত খন্দকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, অনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ উঠেছিল ও এবার তাকে ধরে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, মেয়ের সামনে অনিককে মারধর করা হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অনিকের বিরুদ্ধে আগে চুরির অভিযোগ ওঠার কথা বলেছেন। কেউ কেউ তাকে নেশাগ্রস্ত বলেও দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনিকের পরিবারও তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অনিকের স্ত্রী জানান, তাদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে নিয়মিত কোনো আয় নেই। অভাবের মধ্যেই সন্তানদের বড় করছেন তারা। এইচএসসি পাস করা জান্নাতুল ফিরদাউস প্রয়োজনে নিজেও কাজ করতে চান।
পরিবারের ভাষ্য, অনিকের বাবা একসময় সচ্ছল ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের অনেক সম্পদ চলে যায়। একপর্যায়ে অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, তার এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে স্থানীয় একটি মাদকচক্র। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান অনিক। তিনি বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আয়-রোজগারের একটা পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।’
দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও কাজ করে বাঁচতে চান তিনি। সন্তানদের মানুষ করতে চান।
ভাইরাল ভিডিওটি শুধু মানুষের আবেগ নাড়া দেয়নি, পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তৈরি করেছে। ভিডিওটি দেখে বিষয়টি যাচাই করতে ওয়েব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরিশাল টিমকে জানানো হয়। পরে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা তুবার সাথে দেখা করেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুবা বাবার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করেছে। গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় অনিক একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চেয়েছেন। তাকে একটি অটোভ্যান কিনে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তুবার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে উজিরপুর থানার সাথেও কথা বলা হয়েছে। এসআই (তদন্ত) ফারুক বিষয়টি দেখার ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
উজিরপুর থানার ওসি মো: রাকিবুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অনিকের স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
রোববার সকালে অনিকের পরিবারের খোঁজ নিতে বাড়িতে যান উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা। তিনি বলেন, ‘বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে প্রশাসন।’
পরে ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তুবার পরিবারের সাথে দেখা করেন বরিশাল জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এসআই মো: জসীম উদ্দীন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, অনিকের নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত ও পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তুবার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অনিক যদি নেশা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে নিয়মিত কাজের সাথে যুক্ত হতে পারেন, তাহলে সন্তানদের নিয়ে তাদের সংসারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এ,আর
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোপুরি সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রামিন কাশেফ-আজার।
ইরানি সংবাদমাধ্যমকে কাশেফ-আজার বলেন, বিমানবন্দরটি এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দিন ২৩ সেপ্টেম্বরও বিমানবন্দরটি থেকে ৬০টি ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর গত ৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ওই দিন ইরানের আরো ২৭টি বিমান সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। এর মাধ্যমে আগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় না থাকা ইরানের বাকি বিমান সংস্থাগুলোও এর আওতায় আসে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তখন সতর্ক করে বলেন, ইরানি বিমান সংস্থার পরিচালিত উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির মতো কাজে যুক্ত বিমানবন্দর ও কোম্পানিগুলোও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এরপর ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। ইরাকের চারটি বিমানবন্দরও ইরানি ফ্লাইট বন্ধ করেছে।
তবে ইরানের বিমান সংস্থাগুলো এখনো চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে শামীমা আক্তার (২৬) নামে এক পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সুমন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার বেপারী বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, নিহত শামীমা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তর পঞ্চনন্দপুর গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় দুই বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সুমন মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
নিহতের বাবা কাজল মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। তবে সম্প্রতি সুমন মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
তিনি আরো বলেন, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সুমন তার মেয়েকে মারধর করেন। এতে শামীমার নাকের হাড় ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
কাজল মিয়ার ভাষ্য, রাত ১টার দিকে সুমন তার ছেলে মোজাম্মেলকে ফোন করে জানায়, শামীমা ঘরের দরজা খুলছে না। মোজাম্মেল পাশের মুন্সিবাড়িতে ভাড়া থাকত। সে এসে ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় বিষয়টি পরিবারের অন্যদের জানায়। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে আবার দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে শামীমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ,আর
ইসলামের নাম ব্যবহার করে ঘৃণা, অপবাদ ও গালাগালিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো যাবে না। কোনো ইসলামি দল বা আন্দোলনের পরিচয় শুধু স্লোগান কিংবা আবেগে নয়, বরং তাদের আচরণ, নৈতিকতা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হতে হবে। রোববার এক ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইসলামি দল বা আন্দোলন যদি নৈতিকতার নীতি বাদ দিয়ে ঘৃণায় পূর্ণ হয় এবং অপবাদ ও গালাগালিকে প্রতিদিনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে সেই আন্দোলনের অর্থ কী? ইসলামি চেতনার নামে পরিচালিত কোনো আন্দোলন রাগ, আবেগ ও উসকানির ওপর নির্ভর করলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর আগে শনিবার রাতে মালয়েশিয়ার বানগিতে ‘থ্রি জেনারেশনস অ্যাপ্রিসিয়েশন ডিনার’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আনোয়ার। ওয়াদাহ পেমবেরদাসান উমাত মালয়েশিয়া, অ্যাংকাতান বেলিয়া ইসলাম মালয়েশিয়া ও মালয়েশিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইসলামিক স্টুডেন্টস যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সেখানে তিনি ইসলামি আন্দোলনের শক্তির ভিত্তি হিসেবে জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের ওপর গুরুত্ব দেন।
আনোয়ার বলেন, কোনো দেশের সংগ্রাম শুধু আবেগ ও উত্তেজনার ওপর নির্ভর করতে পারে না। জ্ঞান মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে। তার ভাষায়, ‘মাদানি’ রাষ্ট্র গড়তেও জ্ঞানকে ভিত্তি হিসেবে শক্তিশালী করতে হবে।
ইসলামি আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি ‘উসরা’ এবং ইসলামী ‘তুরাথ’ বা ঐতিহ্যগত জ্ঞানভাণ্ডারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, আধুনিক সময়ে ইসলামের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়লেও ইসলামি দল ও সংগঠনগুলোর একটি বড় দুর্বলতা হলো তারা অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী জ্ঞান-ঐতিহ্যের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে যুক্ত নয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় তুরাথ আলেম সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যেও আনোয়ার একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামি সচেতনতা ও জ্ঞানচর্চা বাড়লেও অনেক ইসলামি আন্দোলন ও দলের সঙ্গে ঐতিহ্যগত ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে মতের সংঘাত অনেক সময় কঠোর ও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে এবং সেখানে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও গবেষণার ঘাটতি দেখা যায়।
তিনি বলেন, ইসলামী ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ আলেমদের জ্ঞানকে শুধু নিজেদের বক্তব্যের সমর্থন হিসেবে ব্যবহার করলে হবে না; সেই জ্ঞানকে যুক্তি ও চিন্তার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তার মতে, ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্বকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।
আনোয়ার একই সঙ্গে ইসলামি আন্দোলনের কয়েকটি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, ‘তাকফিরি’ চিন্তার বিরোধিতা, চরম দারিদ্র্য দূর করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখা।
তার বক্তব্যে ‘তাকফিরি’ চিন্তার বিরোধিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি রাজনীতি বা আন্দোলনের নামে ভিন্নমতাবলম্বীদের সহজে ধর্মের বাইরে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগের বিপরীতে আনোয়ার জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
আনোয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গও এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের তুরাথ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসলামি দাওয়াহ ও জ্ঞানচর্চায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। তবে নৈতিকতা ও আদর্শের কাঠামো ছাড়া এ প্রযুক্তি ক্ষতির কারণও হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সব মিলিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসলামি আন্দোলন সম্পর্কে তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল সংগ্রাম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামের নামে পরিচালিত কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন শুধু আবেগ, স্লোগান কিংবা ক্ষোভের ওপর দাঁড়ালে তা টেকসই হতে পারে না। ইসলামী জ্ঞান-ঐতিহ্য, যুক্তিবোধ, শিষ্টাচার ও মানুষের কল্যাণকে আন্দোলনের ভিত্তিতে রাখতে হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন দেশটির রাজনীতিতে ইসলাম ও মালয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের মূল বিষয় কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন বা বিরোধিতা নয়; বরং ইসলামি পরিচয় ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণে নৈতিকতা, জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান।
তার বক্তব্যের সারকথা হলো—ইসলামের নামে ঘৃণা, অপবাদ ও গালাগালি কোনো আদর্শিক সংগ্রামের বিকল্প হতে পারে না। ইসলামী আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে তার জ্ঞানচর্চা, নৈতিক আচরণ এবং সমাজের জন্য বাস্তব অবদানের ওপর।
ইরান সমুদ্রপথের পরিবর্তে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোতে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানি কার্যক্রমে এই পরিবর্তন এসেছে।
স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সীমান্তপথে চাপও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে তুরস্কের সঙ্গে প্রধান সীমান্তপথে। সেখানে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।
সীমান্তে আটকে থাকা ট্রাকগুলোকে পণ্য পরিবহনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রবন্দরগুলোতে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধের কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বাণিজ্য সচল রাখতে ইরান স্থলসীমান্তের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঝাটিবুনিয়া বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাহমুদুর রহমান, গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খায়রুল ইসলাম সাগর, মো: শাহজাদা শিকদার, শাহীন সিকদার ও জাকির।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত স্থান থেকে চুরি করা পাঁচটি মহিষ নিয়ে ঝাটিবুনিয়া বাজারের সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রেফতাররা। বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদের পথরোধ করে মহিষের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। এ সময় তারা কোনো কোনো সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে না পারায় তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করেন। উদ্ধার করা পাঁচটি মহিষ বর্তমানে স্থানীয় শাকিল চৌকিদার ওরফে মিন্টু মিয়ার কাছে জিম্মায় রাখা হয়েছে।
কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিষ স্থানীয় চৌকিদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ ঠেকাতে রাতেও মসজিদ ঘিরে অবস্থান নিচ্ছেন শত শত মুসলিম। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদের একাংশ ভাঙার জন্য প্রশাসনের বুলডোজার বাইরে অবস্থান করলেও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি বলে স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মাকতুব।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতেও মসজিদ প্রাঙ্গণে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকার মুসলিমরা সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও আংশিক ভাঙার আশঙ্কায় মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদ রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা ছাড়া আপাতত তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।
ইন্দোরের বিশিষ্ট ইসলামি আলেম মুফতি জুনাইদ মাকতুবকে বলেন, প্রশাসন বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে মুসলিমরা সেখানে জড়ো হন। তার দাবি, একটি মসজিদ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরও বহু পুরোনো মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই মসজিদ ভেঙে ফেলা হলে আরো ২৮টি মসজিদ একই তালিকায় চলে আসবে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। কোনো স্থাপনা কোনো প্রকল্পের পথে পড়েছে—শুধু এ কারণে একের পর এক মসজিদ ভেঙে ফেলা যায় না।’
মুফতি জুনাইদ আরো অভিযোগ করেন, একটি ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন বা সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের অস্তিত্ব মুছে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, উজ্জয়নে বড় হিন্দু তীর্থযাত্রা আয়োজনকে সামনে রেখে শহরের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি পুরোনো মসজিদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলা সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় খাজর ওয়ালি মসজিদ থেকে গণেশ চৌক পর্যন্ত প্রায় ৭৩০ মিটার সড়ক সম্প্রসারণ করে ১৫ মিটার প্রশস্ত পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাকতুবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
শাহী মসজিদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ভাঙার মধ্যে রয়েছে নামাজের হল বা জামাতখানার একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মুসলিম পক্ষের দাবি, এসব স্থাপনা মসজিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কাঠামোর অংশ এবং এগুলোর আংশিক অপসারণও মসজিদের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।
তবে বিষয়টি এখন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি উজ্জয়েন পৌর করপোরেশনের জারি করা ভাঙার নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি আবেদন খারিজ করেছে। বিচারপতি সন্দীপ এন ভাট বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুসারেই নেওয়া হয়েছে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়ে প্রশাসনের প্রস্তাবিত পদক্ষেপকে আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে মুসলিম পক্ষ এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।
অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের আইনজীবী জায়েদ পাঠান বলেন, নুমাইন্দা কমিটি তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তিনি বলেন, আপাতত মুসলিমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো প্রস্তাবিত ভাঙার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং মসজিদটি রক্ষা করা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিমরা মনে করছেন, মসজিদের সামনে অবস্থান করাই বর্তমানে সেটিকে ভাঙার উদ্যোগ ঠেকানোর একটি উপায়।
উজ্জয়নের এই ঘটনাকে ঘিরে মূল বিরোধটি তৈরি হয়েছে নগর উন্নয়ন ও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার প্রশ্নে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে মহাকালেশ্বর মন্দিরের আশপাশে তীর্থযাত্রীদের চলাচল সহজ করতে সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে মুসলিমদের বক্তব্য, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতি এড়ানোর বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।
বর্তমানে মসজিদের বাইরে বুলডোজার অবস্থান এবং ভেতরে মুসল্লিদের অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টে মুসলিম পক্ষের আইনি চ্যালেঞ্জের ওপর। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের বিতর্কিত অংশ শেষ পর্যন্ত অপসারণ করা হবে কি না।
ফরিদপুরের নগরকান্দা দীর্ঘ তিন দশকেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি প্রায় তিন শত ফুট দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তায়। উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের এ সড়কটি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ১০০ পরিবারের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোদালিয়া বোর্ড অফিসের পাকা সড়ক থেকে শুরু হয়ে ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩০০ ফুটের রাস্তাটি এখনো কাঁচা রাস্তা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটিতে কাদা তৈরি হয়। ফলে পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কাদায় পিছলে পড়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও পরে আর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয় সমাজসেবক সাইফুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানায়, রাস্তাটি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্যই নয়, ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদে যাতায়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসানে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ,আর
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পৃথক পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা পর্যন্ত এই পৃথক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
গ্রেফতার আটজন হলেন— উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মরহুম ইসমাইল মন্ডলের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল ইসলাম (৫৪), বালিহুদা গ্রামের ওহাব আলীর ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ বিশ্বাস (৫৬), জীবননগর শহরের মহানগর উত্তরপাড়া এলাকার আসাদুজ্জামানের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুজ্জামান দীপ (২৪), মনোহরপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), করচাডাঙ্গা গ্রামের হামিদ ব্যাপারীর ছেলে নূর হোসেন (৪২), তার সহোদর আমিন হোসেন (৫৫), রোকন মিয়া (৪৫) ও মজিবার (৪২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক পৃথক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার ওমেদুল ইসলাম, সাজ্জাদ বিশ্বাস আওয়ামী লীগ নেতা ও সাজেদুজ্জামান দ্বীপ ছাত্রলীগ নেতা। তাদের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ছয় শতাধিক বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটিয়েছেন শত শত মুসলিম। মসজিদ রক্ষার দাবিতে অবস্থানকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন।
ইন্দোরের আলেম মুফতি জুনাইদ অবশ্য বিষয়টিকে আরো বিস্তৃত আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরো ২৮টি মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে শহরের পুনর্বিন্যাসের নামে পুরোনো মসজিদগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, শাহী মসজিদটি ১৩৯০ সালের স্থাপনা এবং এর বয়স প্রায় ৬৩৬ বছর। মসজিদ পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর ঐতিহাসিক অস্তিত্বের পক্ষে পুরোনো সরকারি নথিও রয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই আন্দোলনকে ‘গান্ধীবাদী’ বা অহিংস প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় স্থাপনা এভাবে ভেঙে ফেলা উচিত নয়।
রোববার রাতেও মসজিদের বাইরে বুলডোজার অবস্থান করছিল। সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও ভাঙার কার্যক্রম ঠেকাতে স্থানীয় মুসলিমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন। রোববার রাতে মসজিদ এলাকায় মানুষের উপস্থিতি আরো বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়। তবে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান নেওয়ায় ওই রাতে মসজিদের অংশবিশেষ ভাঙার কার্যক্রম এগোয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
মসজিদে অবস্থানকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিবাদ নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা পালাক্রমে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি রক্ষার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে।
মসজিদটি উজ্জয়নের মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রায় বিপরীতে এবং ক্ষিপ্রা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে ওই এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়েন পৌর করপোরেশন। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করা হবে। এই প্রকল্পের নির্ধারিত অংশে শাহী মসজিদের কিছু স্থাপনা পড়েছে।
প্রস্তাবিত অপসারণের মধ্যে রয়েছে মসজিদের নামাজের হলের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজহার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মসজিদ পরিচালনাকারীরা এর বৈধতা নিয়ে আদালতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব এবং ধর্মীয় স্থাপনা বাদ দিয়েও রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান হলো, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর আগমনকে সামনে রেখে যান চলাচল ও জনসুবিধার জন্য সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও মামলার রায়ে সড়ক সম্প্রসারণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।
মসজিদ ভাঙার বিষয়ে এর আগে করা দুটি আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি সন্দীপ এন ভাটের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, পৌর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুসরণ করে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েই পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালত সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ৩০০এ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগও গ্রহণ করেনি।
তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ নতুন করে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করেছে। ওই আবেদনের শুনানি সোমবার হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মসজিদ ভাঙার কার্যক্রমের পরবর্তী গতি আদালতের নতুন শুনানির ওপরও নির্ভর করছে।
মুসলিম পক্ষের আরো দাবি, এর আগে উজ্জয়নের তাখিয়া মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই শাহী মসজিদের ক্ষেত্রে তারা এবার সরাসরি মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৬০০-এর বেশি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও বিশেষ বাহিনীর সদস্য এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত আছে এবং একই সঙ্গে আইনি লড়াইও চলছে। ফলে উজ্জয়নের এই বিরোধ এখন শুধু একটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একটি পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহাসিক মর্যাদা, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন।
সোমবারের আদালতের শুনানি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন নির্ধারণ করবে শাহী মসজিদের বিতর্কিত অংশ শেষ পর্যন্ত অপসারণ করা হবে কি না। এর মধ্যে মসজিদের ভেতরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত থাকায় উজ্জয়নে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।
ইসরাইলের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ড এর ফুটবলাররা ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি। রোববার রাতে হাঙ্গেরির দেব্রেসেনের প্রায় দর্শকশূন্য নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে ইসরাইলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো ইসরাইলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দন না করার এই ঘটনা ঘটান আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। ম্যাচে তারা ৩-০ গোলে জয় পায়।
ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরেন। ইসরাইলের জাতীয় সংগীত চলার সময় তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। অধিনায়ক দারা ও’শিয়াও টসের সময় রেফারি ও সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলালেও ইসরাইলের অধিনায়ক মানোর সলোমনের সঙ্গে করমর্দন করেননি। দুই দলের মধ্যে প্রচলিত পেন্যান্ট বিনিময়ও হয়নি।
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) আগেই উয়েফাকে জানিয়েছিল যে তাদের খেলোয়াড়রা ইসরাইলি দলের সঙ্গে করমর্দন করবেন না। উয়েফা এ ব্যবস্থায় সম্মতি দেয়। এফএআই জানিয়েছিল, সংঘাতে নিহত সব মানুষের স্মরণে খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন এবং ম্যাচ থেকে পাওয়া অর্থ দাতব্য কাজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাঠের বাইরে অবশ্য ম্যাচটি নিয়ে আরো বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচটি বয়কট করা হবে কি না, তা নিয়ে শনিবার আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোট হয়। এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল জানান, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে কতজন পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বাসের কারণে ইসরাইলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সঠিক হবে না। তিনি দুই ম্যাচের জন্যই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
বাজুনুর সিদ্ধান্তের পর দলের অন্য খেলোয়াড়রাও ম্যাচ খেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। এ কারণে দলের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর অবশ্য আয়ারল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধেই ট্রয় প্যারট, অ্যাডাম আইডাহ ও জ্যাক ময়লানের গোলে তারা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ইসরাইল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক কাওইমহিন কেলেহার তা প্রতিহত করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলেই জয় পায় আয়ারল্যান্ড।
ম্যাচটি হয়েছে প্রায় দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ইসরাইলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সীমিতসংখ্যক টিকিট দেওয়া হয়েছিল। মাঠে অল্পসংখ্যক ইসরাইলি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের সমর্থকদের জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ করা হয়নি।
ইসরাইলের বিপক্ষে খেলাকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ চলছে। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য উয়েফার কাছে আবেদন করেছিল। তবে উয়েফা সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও ম্যাচটি নিয়ে অস্বস্তির কথা প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ফলে জাতীয় দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দেশটির বৃহত্তর জনপরিসরেও তা ছড়িয়ে পরেছে।
দুই দলের আরেকটি ম্যাচ আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচ হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে ওই ম্যাচকে ঘিরেও প্রতিবাদ ও বয়কটের দাবি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড একদিকে মাঠে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, অন্যদিকে ম্যাচের আগে হাত না মেলানো, কালো আর্মব্যান্ড পরা এবং ইসরাইলের জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে এফএআই আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতে নিহত সব মানুষের প্রতি সম্মান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন দাবি করেছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনের আপত্তির জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্প এক পর্যায়ে শিকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না।
রোববার ফক্স নিউজের ‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে পারডিউ এ কথা বলেন। তবে ট্রাম্প ঠিক কখন শিকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময় উল্লেখ করেননি। তার বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাইওয়ানকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের পুরোনো বিরোধ আবার আলোচনায় এসেছে।
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি চীনের জন্য দীর্ঘদিনের আপত্তির বিষয়। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ও অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। মার্কিন আইনের অধীনেও তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপকরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পারডিউ বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনের আপত্তির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুক্তি ছিল—যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছেই অস্ত্র বিক্রি করে। এ প্রসঙ্গেই তিনি শিকে অস্ত্র কেনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বলে রাষ্ট্রদূত জানান। তবে চীন ওই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, সে বিষয়ে পারডিউ কোনো তথ্য দেননি।
ট্রাম্প-শি বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন পর এমন বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে শির রাষ্ট্রীয় সফরের সময় দুই নেতা বাণিজ্য, সামরিক যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে বৈঠকের পর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক বিবৃতিতে তাইওয়ানসহ কয়েকটি মৌলিক বিরোধের কোনো বড় সমাধানের কথা উঠে আসেনি।
তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থানও বৈঠকের সময় স্পষ্ট ছিল। ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত আলোচনায় শি ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের জন্য তাইওয়ান শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়; দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনেও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের জন্য অস্ত্রের অর্ডার ও সহায়তা বিলম্বিত হওয়া নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পারডিউ এসব উদ্বেগ নাকচ করে বলেন, ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রতি যথেষ্ট দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে মে মাসে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজের বিক্রি স্থগিত করেছিল বলে এপি জানিয়েছে। ট্রাম্প তখন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘আলোচনার হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে তাইওয়ানের অস্ত্র সরবরাহ শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয় নয়, যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক দরকষাকষিরও অংশ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ট্রাম্প-শি বৈঠকে সামরিক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংকট মোকাবিলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মৌলিক অবস্থান এখনো আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। চীন চায় ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুক এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করুক। ফলে ট্রাম্প শিকে মার্কিন অস্ত্র কেনার কথা বলে থাকলে সেটি বাস্তবে কোনো অস্ত্র বিক্রির চুক্তিতে রূপ নিয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরে স্পষ্ট করেছেন, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ফলে পারডিউর মন্তব্যকে বর্তমানে একটি আলোচনার বক্তব্য হিসেবেই দেখা যাচ্ছে; চীনকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির আনুষ্ঠানিক নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা হিসেবে নয়।
ট্রাম্পের মন্তব্যের তাৎপর্য মূলত তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জটিলতা এবং অস্ত্র বাণিজ্যকে কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনা। একই সময়ে দুই দেশ বাণিজ্য ও সামরিক যোগাযোগে সহযোগিতার পথ খুঁজলেও তাইওয়ানসহ নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রশ্নগুলোতে তাদের মতপার্থক্য বহাল রয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুস্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না তারা। রোববার অনেকেই জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।
খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তালিকার ৯ জন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না।
খুলনার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে ২৭৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। গত বৃহস্পতিবার ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।
বাকি ৬৯ জনকে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নিÑএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে যাচাই শেষ করে জানানো হলে তাদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
ছেলে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন তিনি। মুকুল বলেন, তেরখাদায় মেধাতালিকায় ষষ্ঠ হয়েছি। এরপরও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, সেটা জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসেছি। কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।
আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী সুদীপ মণ্ডল বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশ পেয়েছি। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।
কুমিল্লায় ৫০৮ সুপারিশ, বাদ ৭৭কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৫০৮ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাননি ৭৭ জন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে তারা বাদ পড়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের শর্তগুলো পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চান্দিনার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কেন বাদ দিয়েছে, তা বলতে পারছি না।
নাঙ্গলকোটের তরিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কিছু জানেন না বলে জানান।
মাসুম বিল্লাহর বাবা দিদার হোসেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইমামতি করছেন। ছেলে নিয়োগবঞ্চিত হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, মাসুম চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। চাকরিটা না হলে আমাদের পথে বসতে হবে।
অনিশ্চয়তায় হবিগঞ্জের ৩০ জন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হবিগঞ্জের ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি।
প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে এনএসআই ও ডিএসবির প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য থাকার কথা তারা জানতে পেরেছেন।
নিয়োগপত্র না পাওয়া সাজনিন আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে চাকরি নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাস্তবে রূপ নিচ্ছিল। এখন অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও আমি না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।
কুড়িগ্রামে নিয়োগবঞ্চিতদের ক্ষোভ
কুড়িগ্রামে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়াদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চাকরি পেয়েও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। যাদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে কিংবা শেষ হওয়ার পথে, তাদের করুণ পরিণতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। বঞ্চিত প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া রৌমারীর প্রার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি। এই সরকার শুরু থেকেই আমাদের প্রতি আন্তরিক ছিল না। এজন্যই আমাদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই বাদ পড়েছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। জুলাই আন্দোলন করেছিলাম, এটাই সমস্যা হতে পারে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় বলেন, তারা অপেক্ষা করুক, তাদের জন্য ভালো সংবাদ রয়েছে।
গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিতের স্মারকলিপিসহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। আমাদের কী কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী এবং এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কী, তা আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই। আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছি।
ফুলছড়িতে বাদ ছয়জন
এদিকে, ফুলছড়িতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ৬৫ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ছয়জন। নিয়োগবঞ্চিত বেলাল হোসেন বলেন, মেধা আর পরিশ্রমে চাকরির শেষ বয়সে এসে এহেন পরিস্থিতিতে নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না। সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন করছি।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিএনপি সমর্থকের ছেলেও বাদ
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায়ও ছিল নাম। কিন্তু নিয়োগের আগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েন তিনি। জাহিদুল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স করেন।
তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়নের কাফুলায়। তার বাবা আব্দুল আজিজ সিকদার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সদস্য ফরমও কেনেন।
জাহিদুল বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাইনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও নিয়োগ না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারিনি।
তিনি বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই। মেডিকেল পরীক্ষায়ও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। আমার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।
মাধবখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জব্বর খান বলেন, জাহিদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা আজিজ সিকদার বিএনপি করেন।
রিকশাচালকের সন্তানের স্বপ্নভঙ্গবাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক ধাপও পেরিয়েছেন।
কিন্তু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জের তাপস সরকার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করা তাপসের দাবি, দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরি পাওয়ার আশা যখন পূরণের পথে, তখন পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তবে কী কারণে তাকে ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
স্বপ্নভঙ্গ মেধাবী সোহানের
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি মেধাবী সোহান। ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়ায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলায় একমাত্র তার নিয়োগপত্র আসেনি।
জানা গেছে, সোহান রাঙ্গাবালীর মৌডুবী ইউনিয়নের ১১ নম্বর আশাবাড়িয়া এলাকার ভোটার। তার বাবা বশির গাজী নারায়ণগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরিতে দিনমজুরের কাজ করেন। ২০০৬ সাল থেকে সোহান পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। ছেলের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা।
সোহান বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই, স্থায়ী ঠিকানা ও সার্টিফিকেটেও কোনো সমস্যা নেই। পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এরপরও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেগেটিভ দেখিয়ে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক ইচ্ছা ছিল বাবাকে আর কাজে যেতে দেব না। ছোট বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারব। সব স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে গেল।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম জানান, বাদ পড়ার সুস্পষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই।
সাত বছরের মিনহাজ স্কুল থেকে ফেরার পথে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে তার দেহে গভীর ক্ষত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে জলাতঙ্কের (র্যাবিস) টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তৃতীয় ডোজের সময় এসে হাসপাতাল কিংবা বাজারে টিকা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান তার বাবা মঞ্জুর হোসেন। পরে বাধ্য হয়ে গাজীপুর থেকে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে আসেন তিনি। গতকাল রোববার শিশুটিকে তৃতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজধানীতে কোথাও কোথাও টিকা পাওয়া গেলেও ঢাকার বাইরে জলাতঙ্কের টিকার সংকট তীব্র। ফার্মেসি থেকে কিনতে গেলে টিকার দামও কয়েকগুণ বেশি দিতে হচ্ছে। প্রাণীর কামড়ের পর চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে গিয়ে অনেক জায়গায় তা পাওয়া যাচ্ছেনা। স্থানীয়ভাবে না পেয়ে কেউ কেউ টিকার সন্ধানে ঢাকায় আসছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহতরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনের সময় টিকা না পেয়ে অনেকে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সরবরাহ সংকটে অনেকের টিকার ডোজও সম্পন্ন হচ্ছে না নির্ধারিত সময়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস ধরেই চাহিদার তুলনায় টিকার সরবরাহ কম। বরাদ্দ পাওয়া টিকার মজুত অনেক হাসপাতালে বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) শাখার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যায় ৫০ জনের মতো। আর দেশে গড়ে আক্রান্ত হয় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে ৯৫ শতাংশ জলাতঙ্ক রোগই হয়। দেশে জলাতঙ্কে ২০২৩ সালে ৪২ জন, ২০২৪ সালে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৫ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর জলাতঙ্ক বা র্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এমন একটি প্রেক্ষাপটে আজ জলাতঙ্ক দিবস। প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস’ বা ‘অ্যান্টি র্যাবিস ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো—জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে গভীর ক্ষত হয়ে রক্তপাত হলে এআরভি (অ্যান্টির্যাবিস ভ্যাকসিন) ও আরআইজি (র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন) দিতে হয়। তবে প্রাণীর লেহন, আঁচড় বা ঘর্ষণের ক্ষেত্রে শুধু এআরভি টিকাই যথেষ্ট। এর মধ্যে আরআইজি টিকার সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের অনেক সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
৯ মাসেই এক লাখের বেশি রোগী
সরেজমিনে গতকাল মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তাদের বেশির ভাগই দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ঢাকায় টিকা নিতে এসেছেন। বাইরে থেকে কিনতে গেলে দাম কয়েকগুণ বেশি। অনেকেই জানান, কুকুর ও বিড়ালে কামড়ানোর পর চিকিৎসক ভ্যাকসিন নিতে বললেও ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে না।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকাদানে নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী আসছেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও রোগীর চাপ বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৩ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫৫৮।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাসার বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বাদুড়, বেজি ও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী জলাতঙ্কের ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এসব প্রাণী আক্রান্ত হলে এবং কামড় দিলে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও জলাতঙ্কে সংক্রমিত হতে পারে। প্রাণীর কামড়ের পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে হাসপাতালে আসতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন এবং
প্রয়োজন হলে আরআইজি নিতে হবে। বিশেষ করে মাথা, মুখ ও ঘাড়ের কাছাকাছি কামড়, গভীর ক্ষত বা রক্তপাতের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে কোনোভাবেই দেরি করা উচিত নয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান বলেন, আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ের শিকার। এর মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালের পাশাপাশি পোষা বিড়ালের কামড়ের ঘটনাও রয়েছে। নারী ও শিশুরা তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজিসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের পর রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ক্ষতের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আরআইজি) এবং টিটেনাসের টিকাও প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিয়মিত সেবা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ জলাতঙ্কের টিকার চাহিদা রয়েছে। সিডিসি শাখার অধীনে কৌশলগত পরিকল্পনা বা অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) আওতায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অপারেশন প্ল্যান না থাকায় জেলা পর্যায়ে টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাসে সমস্যা বেশি ছিল। বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। যদিও সরকারি হাসপাতালে কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে টিকার জোগান না থাকায় ঢাকার বাইরে সংকট রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ র্যাবিস ভ্যাকসিন এবং ৩ লাখ ডোজ র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী চাহিদা জানায়। সেই অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। তবে এখন কোনো টিকার সংকট নেই।
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।
মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়।
পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হলে রাত ২টার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় আসেন। তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন ও পুলিশকে চাপ দিতে থাকেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। এ,আর
যশোরের কৃষ্ণবাটি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রূপসী বাংলা ট্রেনের ধাক্কায় ইজিবাইক দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা গেছেন।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার তফসীডাঙ্গা গ্রামের আজিজুর রহমান (৪০) ও এরশাদ আলী (৪৫)। তারা দুইজনই ইজিবাইকে ছিলেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণবাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে যশোরের দিকে আসছিল রূপসী বাংলা ট্রেন। এ সময় কৃষ্ণবাটি এলাকায় ট্রেনের সাথে একটি ইজিবাইকের ধাক্কা লাগে। এতে ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এতে থাকা আজিজুর রহমান ও এরশাদ আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
যশোর রেলস্টেশনের জিআরপি পুলিশের এসআই মামুন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর
দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহরে শুক্রবার গোলাবর্ষণের সময় ইসরাইলি বাহিনী ফসফরাস গোলা ব্যবহার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানায়, নাবাতিয়েহ জেলায় জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় ফসফরাস গোলা ব্যবহার করা হয়। পরে একই ধরনের গোলা দিয়ে জাওতার আল-শারকিয়াহতে আবারো হামলা চালায় ইসরাইল।
টাইর জেলায়ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদাথার উপকণ্ঠ।
এদিকে মারজায়ুন ও বিনত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম ও আল-গান্দুরিয়াহতে ইসরাইলি বাহিনীর ফেলা দুটি বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে লেবাননের সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা। পরে বোমা দুটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।
জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তির পরও হামলা চলছে। ওই চুক্তিতে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো ‘দুর্লভ’
জাতিসঙ্ঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিল সম্প্রতি বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো ‘দুর্লভ’। সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে তারা।
২১ সেপ্টেম্বর পালিত আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে এ কথা বলা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননের নাকুরায় ইউনিফিলের সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিফিল বলেছে, ‘আজ দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো দুর্লভ। তবে শান্তির আশা টিকে আছে।’
সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকে সৌদিকে রক্ষায় এ অঙ্গীকার করেন তারা। খবর আল আরাবিয়ার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ওপর বারবার হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে এই তিন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সামরিক কর্মকর্তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে কীভাবে অবিলম্বে কার্যকর সামরিক সহযোগিতায় রূপ দেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। এই জোটের শর্তানুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা মানেই হলো জোটভুক্ত সব পক্ষের ওপর হামলা।
পাশাপাশি, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌদির সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা।
ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ কথা জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করতে এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসানে হরমুজ প্রণালি এখন গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান চাইছে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হোক।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে তেহরান।
পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো মেনে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইরানের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারসহ নিজেদের পারমাণবিক অধিকার থেকে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান।
ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মার্কিন দাবিও তারা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। এর অন্যতম কারণ, ইরান ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি চত্বরে চিত্রাঙ্কন ও সন্ধ্যায় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের চতুর্থ দিনে এসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
শিশু-কিশোররা তাদের রঙ-তুলিতে বাংলাদেশের পতাকা, গ্রামীণ দৃশ্যপট, নদ-নদী, প্রাণ-প্রকৃতি, শরৎকাল ও নড়াইল জেলার ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চিত্রশিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নড়াইল সরকারি উচচ বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিত্রশিল্পী সমীর বৈরাগী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির নড়াইল ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সরকার, ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইনচার্জ এনাম হোসেন মোড়ল, সংগঠক সোহেল সরকারসহ অনেকে।
এদিকে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি চত্বরে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির নড়াইল ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সরকার জানান, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় ২৫০ শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। শিশু থেকে উন্মুক্ত পর্যায়ে চারটি গ্রুপে চিত্রাঙ্কন ও তিনটি গ্রুপে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, মেলায় সাহিত্য, জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যাচ্ছে। এখানে বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রায় ১৫ হাজার বই স্থান পেয়েছে। ২৫-৩০ শতাংশ ছাড়ে বিভিন্ন প্রকাশনীর বই বিক্রি হচ্ছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বইমেলা শেষ হবে। এ,আর
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আজ শনিবারের (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হবে— এমনটাই ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় কথিত পরিবর্তন নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো।
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে বিক্ষোভ শুরু হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
কেন ২ অক্টোবর?
গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। দলটির দাবি, ওই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে।
দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সিজেপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকায় করা পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)–কে সুবিধা দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশন আরও বলেছে, তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো আইনসম্মত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দল—উভয়েই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
একই অভিযানে বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আরো দুই আসামি এবং মাদক সেবনের অভিযোগে সামারি ট্রায়ালের জন্য আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক এসব অভিযানে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের শশীদল ও আশাবাড়ীর মধ্যবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় রেজাউল মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে একটি ব্রিজের ওপর থেকে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী এলাকার শফিউল আলম (২০), শশীদল পশ্চিমপাড়ার সালাউদ্দিন হোসেন সাগর (২২) এবং আনন্দপুরের উত্তর তেতাভূমি এলাকার আক্তার হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পৃথক অভিযানে সিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো: শহিদ সরকার এবং জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ছাড়া একই দিনে পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের সামারি ট্রায়ালের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, পৃথক এসব অভিযানে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও অটোরিকশা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এ,আর
নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের দলজিৎপুর গ্রামের একটি পুকুরপাড় থেকে উসমান গনির (৪৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নারকেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উসমানের লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয় গ্রামবাসী।
উসমান গনি ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে দলজিৎপুর গ্রামের মামুনের বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে একটি নারকেল গাছের নিচে উসমানের লাশটি দেখতে পায় তারা। লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন তিনি। লাশের পাশে একটি ব্যাগে সাতটি নারকেলও ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, নারকেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
উসমানের বোন আছিয়া জানান, ওসমান ঘরে একা থাকতেন। তার স্ত্রী সৌদি আরব এবং দুই সন্তান নানা বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উসমানকে ঘরে রান্না করতে দেখেছেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয় গারুচিরা বাজারে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উসমানকে চা পান করতেও দেখেছেন স্থানীয়রা।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে উসমানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ,আর
পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার ঠিক কবে নাগাদ পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন দেওয়া বন্ধ করবে?
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এনডিটিভি।
এদিকে, প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পালটা প্রশ্ন করেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ কি আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’ এরপর তিনি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিয়ে নিজ নিজ আসন ছেড়ে কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে তারা বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও ওই সাংবাদিক তার বক্তব্য ও মন্তব্য অব্যাহত রাখেন।
এর মধ্যে বাহাওয়ালপুরকে দীর্ঘদিন ধরে জৈশ-ই-মোহাম্মদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে আসছে ভারত। পাশাপাশি মুজাফফরাবাদ ও ভিম্বারকে জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেন ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী।
তিনি বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা কিংবা সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দেওয়া।
ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, ‘অন্যের ভূখণ্ড দখল বা সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি না করে নিজেদের দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দিলেই পাকিস্তানের জনগণের বেশি উপকার হবে। কারণ এসব কর্মকাণ্ড কিংবা এই পরিষদে কোনো নাটকিয়তা চালিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ঋণ পরিশোধ করা যাবে না, যার ওপর ভিত্তি করে তাদের অর্থনীতি টিকে আছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ ও সুনির্দিষ্ট বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। উক্ত বিক্ষোভের সময় সেখানে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন যে ইসলামাবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে জরুরি ত্রাণ সরবরাহ আটকে রেখেছে।’
ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘এই পরিষদকে জানানো হয়েছিল যে পাকিস্তান-দখলকৃত ভূখণ্ডে জুনের পর থেকে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখা হয়েছে। যখন এসব তথ্য সামনে আনা হয়, তখন পাকিস্তানের একমাত্র উত্তর ছিল একটি ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলা। এই কক্ষে যদি এমন কোনো প্রতিনিধিদল থাকে যা কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট পর্যালোচনার সব মানদণ্ড পূরণ করে, তবে সেটি হলো পাকিস্তান।’
কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের দাবি। এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সাউতা গ্রামের বাসিন্দা হৃদরোগী আতিয়ার শেখ (৬৫) কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
স্বজনদের দাবি, কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের পরামর্শে আতিয়ার শেখকে ইসিজি করার জন্য বলা হয়। এর মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
মৃত রোগীর ছেলে রিপন শেখ জানান, তারা চিকিৎসক বা নার্সদের সাথে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করেননি।
বরং হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা একতরফাভাবে তাদের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলে ওবায়দুর ইসলাম এবং তার দুই স্বজন রুহুল আমিন ও হযরত আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আটক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। আমাদেরকে বেদম পিটিয়েছে চিকিৎসকেরা।’
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: আকুল উদ্দিন বলেন, ‘রোগীর স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।’
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা জানিয়েছেন, শনিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
দিবাগত রাত ৩টার দিকে মডেল থানা পুলিশ আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। আতিয়ার শেখের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এ,আর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) মতো বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ এড়িয়ে যাওয়ার কথা সচরাচর কোনো বিশ্বনেতা ভাবতেই পারেন না।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতো শীর্ষ নেতারা যোগ দিলেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানের অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন বিশ্বনেতা এই মহাসমাবেশ থেকে দূরে থেকেছেন এবং কী তার কারণ।
জার্মানি: ফ্রিডরিখ মার্ৎস
জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দ্বিতীয় বছর দায়িত্ব পালন করা ফ্রিডরিখ মার্ৎস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি বাড়াতে চাইলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তাকে ব্যস্ত রেখেছে।
সেপ্টেম্বরে জার্মানির তিনটি রাজ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস-এর নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে মার্ৎস বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। বিরোধীদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ ঠেকানোর জন্য তিনি নিজেই দেশে অবস্থান করছেন। তার বদলে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এই অধিবেশনে অংশ নেন।
ইতালি: জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে থাকলেও তিনিও অভ্যন্তরীণ জরুরি কাজ সামলাতে নিউইয়র্কে যাননি। জুলাইয়ের শুরুর দিকে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটেশন অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলন শেষে তিনি দেশে ফেরেন এবং জানান যে ইতালির কিছু পেন্ডিং কাজ ও অভ্যন্তরীণ বিষয় তাকে সামলাতে হবে। তার পরিবর্তে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন এবং ভাষণও দিয়েছেন। Advertisement
দক্ষিণ আফ্রিকা: সিরিল রামাফোসা
ভারতের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শে পুরোপুরি বিশ্রামে রয়েছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নেননি। তার পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা যোগদান করেন।
মিশর: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর অন্যতম মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এবার নিউইয়র্কে যাননি। তার পরিবর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি মিশরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
অবশ্য আল-সিসির কার্যালয় থেকে তার অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ২০২০ সালের পর থেকে তিনি সশরীরে জাতিসংঘের এই অধিবেশনে কখনো যোগ দেননি।
নাইজেরিয়া: বোলা টিনুভু
আফ্রিকার আরেক প্রভাবশালী দেশ নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুভুর অনুপস্থিতির কারণ হলো তার অবকাশ যাপন। আগস্টের শেষ দিক থেকে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ছুটি কাটাচ্ছেন। তার দেশ থেকে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেটিমা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ভারত: নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে খুব একটা নিয়মিত নন। এর আগে তিনি শেষবার ২০২১ সালে এই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলেন। এরপর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকে পাঠাচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারও মোদির নাম বক্তার তালিকায় থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা বদলানো হয়।
চীন: শি জিনপিং
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকলেও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না। এর পরিবর্তে তিনি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওয়াশিংটনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন, যেখানে হোয়াইট হাউসের গালা ডিনার ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন তিনি।
এর মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতির চেয়ে পরাশক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরই জাতিসংঘের এই আইকনিক মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থাকা এড়িয়ে চলেন। তাই এবারও তার পরিবর্তে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পুতিন নিজেই ডিক্রি জারি করে তাকে পাঠিয়েছেন এবং নিজের অনুপস্থিতির কোনো কারণ জানাননি।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের অধিবেশনে নিয়মিত মুখ ছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত বছরের মতো এবারও তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি।
১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ সহজ করার কথা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্যদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।
বাধ্য হয়ে মাহমুদ আব্বাস গতবারের মতো এবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন।
নেত্রকোনায় নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তার (৩৪) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের নদীর তীরের শ্মশান ঘাটের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাজু আক্তার নেত্রকোনা পৌর এলাকার কাটলী গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তার সাবেক স্বামী নগুয়া গ্রামের নুরুল আমিনের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তিনি।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় বছরখানেক আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার দিন গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাবেক স্বামী নুরুল খোরপোশের টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাজুকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিনদিন পর ২২ সেপ্টেম্বর তার ভাই শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এরপর মডেল থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নুরুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তার সাবেক স্ত্রীকে টাকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে নগুয়া গ্রামের নদীর তীরে শ্মশান ঘাটের পাশে লাশ পুঁতে রাখেন তিনি।
এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ নুরুলের উপস্থিতিতে তার দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তারের লাশ উদ্ধার করে।
শনিবার নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কী কী কারণ থাকতে পারে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর
বাজারের একটি খুঁটির সাথে বাঁধা বাবা। চারপাশে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে ছুটে গেল ছোট্ট মেয়ে। এরপর দোকান থেকে রুটি ও চা কিনে এনে নিজের হাতে বাবাকে খাইয়ে দিলো সে।
বাবার প্রতি মেয়ের এই মমতার দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের নজর কাড়ে। পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে অনিক সরদার নামে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে বাজারের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাবাকে দেখতে বাজারে আসে তার ছোট্ট মেয়ে। বাবাকে খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে সে একটি দোকান থেকে রুটি ও চা কিনে আনে। এরপর বাবার মুখে নিজের হাতে খাবার তুলে দেয়।
ঘটনাটি দেখে স্থানীয় এক যুবক মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, খুঁটির সাথে বাঁধা বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়েটি তাকে রুটি ও চা খাওয়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চুরির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তবে বাবাকে খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে মেয়েটি যেভাবে ছুটে এসে খাবার এনে খাইয়েছে, দৃশ্যটি উপস্থিত অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টার দিকে অনিক সরদারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক বলেন, চুরির অভিযোগে একজনকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোবাইল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এ,আর
আসন্ন দুর্গাপূজায় ভারতে আর ইলিশ পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ। উল্টো চিত্র হিসেবে, এ বছর বাংলাদেশ নিজেই ভারত থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি করেছে।
সাধারণত প্রতি বছর পূজার ঠিক আগে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেয়। তবে এবার নির্দিষ্ট সেই সময় পার হয়ে যাওয়ায় এবং সব অনুমতি বাতিল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের হাতে আর কোনো সময় নেই। এছাড়া বাংলাদেশের জেলেদের ইলিশ ধরা বন্ধের সময় চলে আসায় এবার ভারতে ইলিশ আসার সেই সুযোগটুকুও আর থাকছে না।
বাণিজ্যের এই অদ্ভুত উল্টো গতির কারণ হলো, এবার বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। দেশের ভেতরের চাহিদা মেটাতে উল্টো ভারত থেকে মাছ কেনা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের গুজরাট থেকে এই মাছগুলো আনা হয়েছিল, যেগুলোতে প্রচুর ডিম থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেটের ক্রেতাদের কাছে এর দারুণ চাহিদা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকেই বাংলাদেশ সাধারণত ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর পূজার সময় কিছুদিন এই নিয়ম শিথিল করা হতো। এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সেই ধারা বজায় ছিল। কিন্তু এবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর দুর্গাপূজায় ভারতীয়দের পাতে সুস্বাদু পদ্মার ইলিশ পাওয়ার আশা নিরাশায় রূপ নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বেনামি মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ট্রাম্প এই প্রস্তাবটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার নতুন এই রোডম্যাপটি পেশ করেছিল।
ইরানের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক সামুদ্রিক চলাচলের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১২ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ শেষ করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল।
শর্তগুলো পূরণ হলে সপ্তম দিন থেকে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না এবং তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যদিও কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখনো চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির মোড় এবার নতুন কোনো সংঘাতের দিকেও গড়াতে পারে। ওয়াল স্ট্রিটের জানায়, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে তিনি আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বোমা হামলা বা সামরিক অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প অনুকূল নয় এমন শর্তে এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না এবং নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল ও মার্কিন কংগ্রেসের সমীকরণের ওপরই এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’ এ,আর
ময়মনসিংহের ভালুকায় অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার কাঠালী পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন ফুলপুর উপজেলার কালনাজানি গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, আনোয়ার ভালুকার একটি কারখানার সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শ্রমিক ছিলেন। সকালে নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে কারখানার উদ্দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ভালুকার দিকে আসছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজির মধ্যে সংঘর্ষ হলে আনোয়ার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে সেখানে নেয়ার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর
ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের আগামীকালের লংমার্চ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর।
এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘ইসলামাবাদ অভিমুখে আমাদের লংমার্চ ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে যাত্রা শুরু করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই সংগ্রাম শুধু সংবিধানের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব বা প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ইমরান খান যে “হাকিকি আজাদি”র (প্রাপ্য স্বাধীনতা) কথা বলেছেন, তা অর্জনের জন্য।’
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন পিটিআই নেতা-কর্মীরা। এর অংশ হিসেবে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বর এটি হওয়ার কথা ছিল। ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।
এদিকে পিটিআইয়ের লংমার্চ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে, মহাসড়কগুলোয় ব্যারিকেড দিয়েছে ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটিআইয়ের লংমার্চ সামনে রেখে ইসলামাবাদ অভিমুখী প্রধান মহাসড়ক ও মোটরওয়েগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা চলাচল সীমিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ইসলামাবাদসহ পাঞ্জাবের একাধিক জেলায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি।
লংমার্চ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে খাইবার পাখতুনখওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, ‘পিটিআইয়ের লোকজন এখন নিজেরাই গ্রেপ্তার হতে চাইছেন।’ তাঁর দাবি, দলের সদস্যরা এখন ‘(দল থেকে) বের হওয়ার পথ খুঁজছেন’।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে পড়ে শিহাব উদ্দিন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ডাকাতিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিহাব উদ্দিন দক্ষিণপাড়া এলাকার শরীফুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরিবারের সবার অজান্তে শিহাব বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি পর পরিবারের লোকজন ওই ডোবা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পাশের সখিপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মাসুদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মো: নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটি সম্পর্কে তার নাতি হয়।
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এ,আর
গোপালগঞ্জে কলেজছাত্র জোবায়ের ভুইয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা আসামি স্বপন মোল্যাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পুলিশ ও এসআরবি যৌথ অভিযান চালিয়ে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ডিক্রিরচর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই নয়ন সাহা।
তিনি আরো জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
এর আগে, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার ঘোড়াদাই গ্রামের জুবায়ের ও তার বাবাকে বেধড়ক মারপিট ও কুপিয়ে আহত করে পার্শ্ববর্তী পুকুরিয়া গ্রামের ১০-১২ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একইদিন দুপুরে জুবায়েরের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় জুবায়েরের বাবা রমজান ভুইয়া সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিনজনকে আসামি করে শুক্রবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত জুবায়ের গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ,আর
বিজেপিবিরোধীরা বুঝতে পারছেন, নির্বাচন কমিশনে কলহ ও জ্ঞানেশ কুমারের ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ তাঁদের হাতে এক মোক্ষম অস্ত্র তুলে দিয়েছে। কিন্তু কীভাবে তা ব্যবহার করা উচিত হবে, সে বিষয়ে সবাই একমত নন। এ পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সবাই। তাঁরা মনে করছেন, সবাই মিলে আলোচনায় বসলে মোকাবিলার পন্থা বেরিয়ে আসবে। আগামী সপ্তাহে, খুব সম্ভবত বুধবারে সেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা।
বৈঠকের জন্য সবাই তাকিয়ে আছেন কংগ্রেস নেতৃত্বের দিকে। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক দ্রুত ডাকার দাবি জানিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সিপিএম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সব বিরোধী নেতাকে চিঠি লিখেছিলেন। আশ্চর্য কাণ্ড, পত্রপাঠ প্রত্যুত্তর দেওয়া ছাড়াও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীত ভুলে ফোন করেন কেরলমের সিপিএম নেতাকে।
যে দলের সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তালাপ এতকাল বন্ধ ছিল, বিজেপিকে ঠেকাতে এই সেদিন পর্যন্তও যাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার প্রয়োজন বোধ করেননি, পশ্চিমবঙ্গে চিরকাল যাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, সেই দলকেই তৃণমূল নেত্রী এখন কাছে টানতে ব্যগ্র। মমতা কথা বলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও। প্রধানত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকার জন্য। বেবিকে সে কথা চিঠিতে জানাতেও তিনি ভোলেননি।
তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমসহ পুরো বামপন্থী জোট—দুই পক্ষই আজ পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলম হাতছাড়া করে সর্বহারা। সর্বগ্রাসী বিজেপির আগ্রাসন রুখতে তাদের কাছাকাছি আসা যতটা সময়ের দাবি, তার চেয়ে বেশি তাদের পারস্পরিক তাগিদ। সংকটকালে হাত ধরাধরি করেই বাঁচতে হয়।
এ পরিস্থিতিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বিরোধীদের কাছে নতুন এক প্রস্তাব রেখেছে। জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তীব্র বিরোধিতা করা, তাদের ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়েও তাদেরই তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। কেননা, এর মধ্য দিয়ে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের তদারকিতে হওয়া নির্বাচনকেই বৈধতা দিচ্ছে।
সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে তাই প্রস্তাব করেছেন, এসআইআর, ভোট চুরি, গণতন্ত্র হত্যা ও বিজেপি–ইসির যুগলবন্দীর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে হলে বিরোধীদের ভোট বয়কট করা দরকার। দিপকে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে। দিনদুপুরে ডাকাতি করার মতো নির্লজ্জভাবে বিরোধী দল ও ভোটারদের সঙ্গে তারা প্রতারণা করছে। এ সত্ত্বেও বিরোধীরা যদি সেই ভোটে অংশ নেয়, তা হলে প্রতারণামূলক নির্বাচন একধরনের বৈধতা পেয়ে যায়। ক্রিকেটের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জেনেশুনেও ফিক্সড ম্যাচে অংশগ্রহণের অর্থ তাকে মান্যতা দেওয়া। এ দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া দরকার।
ককরোচ জনতা পার্টির এ প্রস্তাবকে যুক্তিযুক্ত মনে করলেও বিরোধীদের অনেকেই তা মেনে নিতে পারছে না। ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে এ বিষয়ে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলো মনে করছে, এখনই এ সিদ্ধান্ত নিলে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিজেপি ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে তাদের ইচ্ছা ও আদর্শমতো সংবিধান সংশোধন করে ফেলবে। বিরোধীরাও সংসদকে হাতিয়ার করে লড়ার অধিকার হারাবে। তা ছাড়া মাঠপর্যায়ে যেসব কর্মী বিজেপির মোকাবিলা করে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করে চলেছেন, তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।
তামিলনাড়ুর ডিএমকে কিছুকাল আগেও ইন্ডিয়া জোটের সদস্য ছিল। গত বিধানসভা ভোটের পর কংগ্রেস ও বামপন্থীরা তাদের ছেড়ে টিভিকে–কে সরকার গড়তে সমর্থন দেওয়ায় ডিএমকে ইন্ডিয়া জোট থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। যদিও এখনো তারা বিজেপিবিরোধিতার লাইন ছাড়েনি। এ দলের নেতারা মনে করছেন, সিজেপির নিদান মেনে ভোট বয়কট করলে জনগণের কাছে এমন বার্তা যেতে পারে যে বিরোধীরা বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে। তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে চাইছে না। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে তেলাপোকারা অনড়। সিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই তাঁদের আন্দোলন কর্মসূচি জানিয়ে দিয়েছেন। জ্ঞানেশ ইস্তফা না দিলে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন থেকে তাঁরা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ শুরু করবেন জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস দুই দলই চাইছে বিজেপিবিরোধিতা তীব্র করতে সিজেপি, টিভিকে, আম আদমি পার্টি ও ডিএমকের মতো দলকে কাছে টানতে। মমতা ও এম এ বেবি চাইছেন, সবাই মিলে জোটবদ্ধ হয়ে এই ইস্যুতে বিজেপিবিরোধী আন্দোলন জোরদার করে তুলুক। আগামী সপ্তাহে ইন্ডিয়া জোটের সম্ভাব্য বৈঠকে প্রসঙ্গটি অবশ্যই আলোচিত হবে।
ইন্ডিয়া শরিকেরা, বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থীরা বিজেপির শরিকদের মনোভাব বোঝারও চেষ্টা করছে। বিজেপির শরিকদের কেউ এখনো প্রবলভাবে জ্ঞানেশ কুমার বা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধাচরণ করেনি। চার শরিক, বিহারের লোকজনশক্তি পার্টি (এলজেপি), অন্ধ্র প্রদেশের টিডিপি, উত্তর প্রদেশের রাষ্ট্রীয় লোক মঞ্চ ও মহারাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া মনে করে, মানুষের মনে যখন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় দেখা দিয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তখন নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রকাশ্যে এসে সব প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেওয়া। সব সংশয় দূর করা।
এলজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান, সরকারের সবচেয়ে বড় শরিক টিডিপির লোকসভার দলনেতা শ্রীকৃষ্ণ দেভারায়ালু, রাষ্ট্রীয় লোকমঞ্চের উপেন্দ্র কুশাওয়া ও আরপিআইয়ের রামদাস আটওয়ালের এ ধরনের মন্তব্য বিজেপিকে কিঞ্চিৎ চিন্তিত রেখেছে। কমিশনবিরোধী প্রচার এনডিএ শরিকদের কতটা প্রভাবিত করছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত তা বোঝার চেষ্টা করছে। বিজেপি এ–ও দেখছে, শরিক নয় অথচ নানাভাবে সরকারকে সাহায্য করে আসা ওয়াইএসআর কংগ্রেস নেতা জগনমোহন রেড্ডির কণ্ঠেও ভিন্নসুর। জগনমোহন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকার পাশাপাশি এমন বিশ্বাসও জনমানসে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি যে স্বচ্ছতা বজায় রয়েছে। বিজেপিকে তিনি মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিযুক্তির জন্য যে আইন পাস করতে তাঁরা সাহায্য করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন। সেই আইনেই ইসি সদস্যদের মনোনয়নের দায়িত্ব থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় প্রধানমন্ত্রী মনোনীত আরও এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাখার কথা বলা হয়েছিল। কমিটির তৃতীয় সদস্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এ আইনের ফলে সরকারপক্ষ যাঁকে ঠিক করবে, তিনিই সিইসি ও ইসি সদস্য হিসেবে মনোনীত হবেন। বিরোধী নেতা কিছুই করতে পারবেন না।
জ্ঞানেশ প্রশ্নে শরিক ও সমমনা দলগুলোর মনোভাব শেষ পর্যন্ত কেমন হয়, বিজেপি এখন তা বোঝার চেষ্টা করছে। জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সরকার রাজি নয়। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, জল কতদূর গড়ায়, তা না দেখে কোনো ব্যবস্থা নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, নরেন্দ্র মোদি কখনো হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর সিদ্ধান্তও অনেক ভাবনাচিন্তার পর নেওয়া। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নটি সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানকে নিয়ে। বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা ও জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখেই সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে চান মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত চান মিয়া উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের শ্রীবড়টিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে চান মিয়া তার নিজ বাড়ির তালগাছে ওঠেন গাছ পরিষ্কার করতে থাকেন। এমন সময় গাছে থাকা ভীমরুলের চাক থেকে বেশ কিছু ভীমরুল তাকে আক্রমণ করে এবং শরীরের একাধিক স্থানে হুল ফোটালে তিনি দ্রুত গাছ থেকে নেমে আসেন। পরে তার অবস্থা গুরুতর দেখে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর চান মিয়া সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়নি। সঠিক চিকিৎসা না দেয়ার কারণে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তারা চিকিৎসা দিতে পারবে না একথা বললে আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যেতাম। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: রিফাত মাহবুব বলেন, চান মিয়া বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই শকে চলে যান। বহু চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ,আর
পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষ ও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘জ্ঞান, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও ইসলামী চেতনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তরুণদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থী, কলেজের শিক্ষক, সাবেক সভাপতিবৃন্দ ও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
ক্যারিয়ারভিত্তিক আলোচনায় বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদক মো: সুমন সরকার ও সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান। এ,আর
ইরানি ফ্লাইটের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকার সুযোগ চাইছে ইরাক। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির কার্যালয় জানিয়েছে, বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি নীতির বিষয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের ওই নীতিতে বলা হয়েছে, যেসব বিমানবন্দর ইরানি ফ্লাইট পরিচালনা বা সেগুলোকে সহায়তা করবে, সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ইরাক তার কয়েকটি বিমানবন্দরকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার চেষ্টা করছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় উল্লেখ করেছে যে, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো এমনভাবে ছাড় বা অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে চিকিৎসা, পড়াশোনা, ধর্মীয় ভ্রমণ এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মানবিক কারণে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার সুযোগ পাওয়া যায়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইরাক সরকার যখন এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে, তখন সংকটের ধারাবাহিকতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। তাই তারা সব পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এমন সমাধান খোঁজার আহ্বান জানাচ্ছে, যা বর্তমান সংকট ও সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং এই অঞ্চলের দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে।’
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭২৩ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর শহরের দত্তনগর সড়কে অবস্থিত শান্তনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ লাইসেন্স ছাড়াই দোকানে বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশে সরকারি রাসায়নিক সার মজুদ করেন। খবর পেয়ে জীবননগরের ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের মালিক আজাদ পালিয়ে যান। পরে দোকান থেকে ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসাদাহ বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায়। দোকান মালিক আব্দুল খালেকের উপস্থিতিতে ৩২০ বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়। পরে তার তিনটি দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়।
জীবননগর থানার ওসি জানান, সার ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জীবননগর থানায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি রোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কেউ অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সঙ্কট বা অবৈধ মজুদের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘যশোরের নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে রাসায়নিক সার এনে মজুদ করছিল, যাতে ভুট্টা মৌসুমে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে কৃষি মৌসুম চলায় সারের চাহিদা অনেক বেশি। এ সময় অবৈধ মজুদ সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে প্রকৃত কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ এ,আর
ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসবে না ইরান।দেশটির পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও কাউন্সিলবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালেহ জোকার এ কথা বলেছেন।আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
জোকার বলেন, বিভিন্ন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা ইরানের জনগণের বৈধ ও মৌলিক অধিকার।
তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে শিল্প, চিকিৎসা, কৃষি ও জ্বালানি উৎপাদনে পারমাণবিক বিজ্ঞানের ব্যবহার অব্যাহত রাখতে চায় দেশটি।
জোকার বলেন, ‘আমাদের ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন নেই—এমন দাবি ঠিক শত্রুরা যা চায়, সেটিই।’
ইরানের জনগণের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়াচ্ছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানে হামলা চালাতে মুসলিম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করা হয়েছে।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং দুই পক্ষের সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে ইরান এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এবং নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। তাঁর দাবি, আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়ে ইরানের সরকার দ্রুত পতন ঘটবে—এমন ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বাইরের কোনো ‘পুলিশম্যান’ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশ তিনটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।
নিহতরা হলো— সামিনা (১৭), সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে। লাশ নিহতদের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
এর আগে দুর্ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরো এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে, এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামে আরো একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নিহত তিনজনের লাশ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামে নেয়া হয়। পরে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান।
খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় রায়েশা বেগম নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিখোঁজ হন একই পরিবারের চারজন (হেলাল উদ্দিন, তার মেয়ে সামিনা ও দুই ছেলে সজিব ও সামিন)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি। এ সময় ট্রলারে বেঁধে রাখা দু’টি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ,আর
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয় বরং কূটনৈতিকভাবেই কেবল হরমুজ সংকটের সমাধান সম্ভব। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনই আমাদের পথ রুদ্ধ করেছিল।’
তিনি আরো বলেন, ইরানের জন্য চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াটা এক ধরনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
তার মতে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয় বরং আলোচনার মাধ্যমেই হরমুজ প্রণালি সংকটের সমাধান করা সম্ভব।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যদি বিরোধের নিষ্পত্তি হয়, তাহলে বাণিজ্য চলাচলের জন্য এই জলপথটি উন্মুক্ত থাকবে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলেফা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সোনাহার সাহাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত আলেফা ওই গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েলের পাশে বৈদ্যুতিক মোটরের সুইচ দিয়ে পানি তুলতে যান আলেফা। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের লাইনে হাত লেগে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ‘সুরতহাল শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’এ,আর
যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ১০৬ প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রার্থীরা অংশ নেন।
তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হলেও ১০৬ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি।
প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন কারণে নিয়োগপত্র আটকে দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণে তারা বাদ পড়েছেন। বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে জানানো হলে তিনি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে জানান।
নিয়োগের বিষয়টি সমাধান না হলে রোববার বাদ পড়া প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সমবেত হয়ে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। এ,আর
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলায় দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে নগরীতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে নগরীর সড়ক ও খালগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। খাল ও সড়কের পাশের বহু বাড়িঘর ও দোকানেও পানি ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ব্যাংককের প্রধান সড়কগুলো পানিতে ডুবে থাকতে এবং পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চলাচল করতে না পেরে রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
চাদচার্ট বলেন, নগরীর পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার আরো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে পানি দ্রুত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন গভর্নর। নগর কর্তৃপক্ষ দ্রুত বন্যার পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাদচার্ট বলেন, ‘বৃষ্টি থামছে না এবং আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পানি পাম্প করে বের করার চেষ্টা করছি, কিন্তু খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। যারা খালের আশপাশে বসবাস করেন, তারাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। এখন প্রতিটি খালই পানিতে পূর্ণ।’
নতুন করে বৃষ্টি না হলে পানি পুরোপুরি নেমে যেতে আরো দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চাদচার্ট বাসিন্দাদের গাড়ি নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য থাইল্যান্ডে নিম্নচাপের প্রভাব থাকতে পারে। এর ফলে আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস এবং নদীর পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইরান সর্বাত্মক ও বহুমাত্রিক যুদ্ধে জড়িত বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি বলেন, দেশটি বর্তমানে এমন এক সর্বাত্মক ও সমন্বিত যুদ্ধে জড়িত, যার অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মাত্রা রয়েছে।
তিনি বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষ জনমত প্রভাবিত করতে এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে গণমাধ্যম ও সাইবার জগতকে ব্যবহার করে থাকে।
কারামি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তেহরান নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
ভারতের নাগাল্যান্ডে বিষাক্ত মদ্যপানে দুদিনে দুই জেলায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ বেশ কয়েক জন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মোকোকচুং জেলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে, ১১ জনের মারা গেছে তুয়েনসাং জেলায়। এই ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১৯৮৯ সালে রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ করার আইন আনা হলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় ১৯৯০ সালের এপ্রিল থেকে। তার পরেও কী ভাবে রাজ্যে মদের চোরাচালান হচ্ছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার অনলাইন জানিয়েছে, অভিযান চালিয়ে প্রায় তিনি হাজার মদের বোতল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮০ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,০৬৪ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ৮৭ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০১ শিশুর। বাকী ৯৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯১২ শিশু।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৮১৩ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২১ হাজার ৯৯ জন।
এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৭৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া ৩ শিশুর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনা বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। আর নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫১ জন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের হঠাৎ করে কোন আইনে, কোন মানদণ্ডে এবং কার সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেওয়া হলো? অনেকের গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেশবাসী মনে করে, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানান এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করুন।
তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে অবিলম্বে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে তার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট চালানোর পর সেটি গুঁড়িয়ে দেয়।
এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর। রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে রহস্যজনক একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোথায় প্রশাসন, কোথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? এর পেছনে কারা রয়েছে, তা আর মোটেই অস্পষ্ট নয়। তাদের পেটের ক্ষুধা কোনোভাবেই নিবারণ হচ্ছে না। তারাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এই সুযোগটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।
জামায়াত আমির বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। অন্যদিকে চলছে এই খেলা।আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে? দুষ্কৃতিকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে একসময় জনগণের হাতেই তাদের শাস্তি পেতে হবে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কঠোর সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট প্রধান বদরুদ্দিন আজমল। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর লাগাতার বিভেদমূলক বক্তব্য এবং নীতিগুলোর কারণে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি চরম ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’ ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে বিন্নাকান্দি বিধানসভা আসনে জয়লাভের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজমল এ অভিযোগ করেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার ক্ষেত্রে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক নম্বরে রয়েছেন। তার রাজনীতি এবং একের পর এক বিতর্কিত বিবৃতির কারণে আসামের মুসলিমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আজমল দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলেও, তারা রাজ্যের শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষেই রয়েছেন। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও মুসলিম সমাজ সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এআইইউডিএফ প্রধান তার সংস্থার সামাজিক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, তাদের চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কোনো ধর্মীয় বৈষম্য না করে সবার শিক্ষার জন্য কাজ করে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আজমল ফাউন্ডেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীরাই নয়, হিন্দু ছেলেমেয়েরাও সমানভাবে পড়াশোনা করে। আমরা সবসময় বৈষম্যহীনভাবে শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে এসেছি।
গভীর রাতে ভারতের দিল্লির শালিমারবাগ মদিনা মসজিদে বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পৌরসভা।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে এই অভিযান চালানো হয়।
ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের দিকে যাওয়ার রাস্তার কাছে ভারী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মসজিদের উপরের অংশ এবং সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িতে ভাঙার কাজ চালানো হয়। রাস্তা চওড়া করার প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘দখল’ সরাতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই রাতের আঁধারে ধর্মীয় স্থাপনায় বুলডোজার চালানো হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোবিন খান জানান, পৌরসভার নোটিশ পাওয়ার পর আইনজীবীর পরামর্শে প্রয়োজনীয় নথির স্পষ্ট কপি চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নোটিশ দেয়া হয়। শেষ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা ভেঙে ফেলার কথা জানানো হয়। পরে কমিটি আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়।
মোবিনের দাবি, শুনানিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যুতের মিটার থাকা মসজিদের একটি তলা স্বীকৃত। বাকি অংশকে নতুন নির্মাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ২০০১ সালে তিন তলা নির্মাণের নকশা জমা দেয়। পাশাপাশি দেয়ালের প্লাস্টারের বয়স পরীক্ষারও আবেদন করা হয়। তবে এসব নথি ও বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মসজিদের ইমাম জারিফুর রহমান প্রশ্ন করেন, শালিমারবাগের বহু বাড়ি যদি সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে একই ব্যবস্থায় থাকা বাড়িগুলোর মধ্যে শুধু মসজিদকেই কেন বেআইনি নির্মাণ বলা হচ্ছে?
অভিযানের খবর পেয়ে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এআইএমআইএমের দিল্লি সভাপতি শোয়েব জামাই। তার দাবি, পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল। মসজিদের ভেতরে কোরআনসহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকায় তিনি দলবল নিয়ে সেগুলো সরিয়ে আনেন।
শোয়েব জামাই অভিযোগ করেন, মধ্যরাতের এ অভিযান সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিনি ঘটনাটিকে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার ঘটনার সাথে তুলনা করে দিল্লিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না করার আহ্বান জানান।
খুলনায় সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত চিংড়ি পলাশের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ তার স্ত্রী টিকলি মাক্কি রানীকে (৩০) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে রিফাত তালুকদার (২২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বলেন, গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, কারাগারে বন্দি নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী চিংড়ি পলাশের গোবরচাকার বাড়িতে যশোর থেকে আসা ২০-২২ বছর বয়সী কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং বাড়ি থেকে রিফাত তালুকদার নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই বাড়ির একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বিদেশী পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও ৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার রিফাত তালুকদার যশোর শহরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মো: ইদ্রিস তালুকদার ও নাসিমা বেগমের ছেলে। রিফাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
এর আগে দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চিংড়ি পলাশের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ তার স্ত্রী টিকলি মাক্কি রানীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্বামী পলাশ গ্রেফতার হওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান। এরপর সেখানে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। স্বামীর সংসারে আর তিনি ফিরতে চাননি। পরে তার ভাশুর স্বামীর জামিনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে খুলনায় নিয়ে আসেন। এর সাথে সে জড়িত নয়। পলাশের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোর থেকে চিংড়ি পলাশকে গ্রেফতার করে র্যাব। এখন সে কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোনাডাঙ্গা থানায় আটটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। এ,আর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন গণবর্জন ও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ মুসলিম ও আরব রাষ্ট্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করলেও নিজ আসনে বসে তার বক্তব্য শুনেছে দুই মুসলিম দেশ বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইসরাইলের নিজস্ব পর্যালোচনার বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর ৪১ মিনিটের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশসহ অন্তত ৭৭টি দেশের আসন পুরোপুরি ফাঁকা ছিল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী পোডিয়ামে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ওয়াকআউট করে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এছাড়া অনেক দেশের প্রতিনিধিরা পূর্বনির্ধারিতভাবেই ওই অধিবেশনে অংশ না নিয়ে শুরু থেকেই অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদকারী দেশগুলোর তালিকায় ইসরাইলের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিসর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইরানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলো ছিল। তবে গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক আগ্রাসন নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন-মধ্যস্থ আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দল নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে নিজেদের আসন ত্যাগ করেনি; তারা সভাকক্ষে বসেই পুরো বক্তব্য শুনেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে বাইরে লবিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করে। মিসর ও জর্ডান সরাসরি পরিকল্পিত ওয়াকআউট না করলেও তাদের আসনগুলো খালি ছিল। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, সকালের অধিবেশন হওয়ায় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফের চাদর ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট এ সংকট নিচু দ্বীপদেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬ মিলিমিটার বেড়েছে। এক বছরে এটাই এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। বড় ধরনের পদক্ষেপ না নিলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বা তারও বেশি বাড়তে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মিলিমিটারে মাপা হয়। কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি মাপা হয় লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়া, জনপদ উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যৎ হারানোর মধ্য দিয়ে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশ ও সংস্কৃতিগুলোকে ঢেউয়ের নিচে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। কোটি কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকেও আমরা পানিতে ডুবে যেতে দিতে পারি না।’
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলায় নতুন গতি সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে তাদের সহনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জোরদারে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি, সমুদ্রের ঢেউয়ের নিচে কোনো দেশ ধীরে ধীরে বিলীন হতে শুরু করলে কী হবে, সে-সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলোরও সমাধান করা হয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, উপকূলরেখা পিছিয়ে গেলেও সামুদ্রিক সীমানা বহাল থাকবে। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর কোনো একটি মৌলিক উপাদান বিলীন হয়ে গেলেই যে রাষ্ট্রের মর্যাদা হারাতে হবে, তা নয়।
ছোট দ্বীপদেশগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটসের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র বলেন, ‘আমাদের চারপাশের সমুদ্রই যেসব রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে, তাদের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জীবন বদলে দেওয়ার মতো প্রভাব ফেলবে।’
তিনি বলেন, ছোট দ্বীপদেশগুলো ১৯৮৯ সালের ‘মালে ঘোষণার’ পর থেকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নেও ভূমিকা রেখেছে। তিনি এই ঘোষণাকে ‘একটি সত্যিকারের অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানান।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বড় জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে ট্রাংক রোড প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রহিম, সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন, শহর আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের শহর সেক্রেটারি এনামুল হক প্রমুখ।
মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ‘তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আজকে সারাদেশে একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আইনশৃঙ্খলার সর্বোচ্চ অবনতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি সাধনে সরকারকে অবিলম্বে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর যদি ব্যর্থ হয় তাহলে দ্রুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি একজন ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’ এ,আর