সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • কোটচাঁদপুরে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

    কোটচাঁদপুরে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান জিয়াদ বিন রাজি (২০), পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি লিটন (৪৩), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মহিনুর বিশ্বাস ওরফে খোকন (৪২), পৌর যুবলীগের সদস্য সোহাগ (৩৪) এবং দোড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাসিম আহম্মেদ সাকিল (৩০)।

    পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ২১ সেপ্টেম্বর খান জিয়াদ বিন রাজি ও লিটনকে এবং ২২ সেপ্টেম্বর মহিনুর বিশ্বাস, সোহাগ ও নাসিম আহম্মেদ সাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে কোটচাঁদপুর শহরের কলেজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি লাঠি উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর মডেল থানার এসআই মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এ,আর

  • হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের বিপদ!

    হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের বিপদ!

    কমিউনিস্ট নয়, হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের জন্য বড় বিপদ। জওহরলাল নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ হামিদ আনসারি।

    তার বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি পালটা আনসারির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।

    সম্প্রতি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে প্রয়াত আইনজ্ঞ এজি নুরানির স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আনসারি। সেখানে এজি নুরানির লেখা আরএসএস নিয়ে একটি বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। সেই সূত্রেই নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্যের উল্লেখ করেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি।

    আনসারি জানান, তৎকালীন বিদেশ সচিব জগৎ সিং গুন্দেভিয়ার নথিতে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেহরু বলেছিলেন, ভারতের জন্য বিপদ কমিউনিজম নয়, হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা।

    নেহরুর ওই বক্তব্য উদ্ধৃত করেই আনসারি বলেন, দেশের জন্য সাম্প্রদায়িকতার প্রবণতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন আনসারি।

    তার দাবি, নাগরিক জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে নির্বাচনি সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আনসারি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও আইনি স্তরে এই ধরনের প্রবণতার মোকাবিলা করা প্রয়োজন। নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আনসারির বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে পালটা আক্রমণ করা হয়।Advertisement

    বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর নির্দেশেই আনসারি এ ধরনের মন্তব্য করছেন। তার দাবি, ২০০৯ সালে রাহুল গান্ধী হিন্দু সংগঠনগুলোকে লস্কর-ই-তৈবার থেকেও বড় বিপদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হিন্দুবিরোধী রাজনীতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    তবে আনসারির বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নেহরুর পুরনো মন্তব্য এবং বর্তমান সময়ে নাগরিক ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ নিয়ে তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

    এর আগেও ইতিহাস নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আনসারি। কয়েক মাস আগে মহম্মদ গজনিকে ভারতীয় লুটেরা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছিল বিজেপি।

    মুহাম্মদ হামিদ আনসারি ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।

    এ সময় তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    এসময় রাষ্ট্রপতি দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকার সাথে বরফ গলাতে চায় দিল্লি

    ঢাকার সাথে বরফ গলাতে চায় দিল্লি

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। দুদেশের মধ্যে চালু থাকা কাঠামোগত ব্যবস্থার মধ্যেই থেকে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় দিল্লি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অবস্থান জানান।

    রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আগেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারত সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে কাঠামোগত ব্যবস্থা রয়েছে, তার মধ্য থেকেই সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত।

    তিনি বলেন, এটাই ভারতের মনোভাব। দুদেশের সম্পর্কের অভিমুখ ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী হোক, সেটাই ভারত চায়।

    দিল্লির এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুদেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে।

    ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে আসাদ আলম সিয়ামের সম্ভাব্য নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না, জানতে চাওয়া হয়।

    জবাবে জয়সোয়াল সরাসরি কোনো উত্তর না করে ভারতের সামগ্রিক অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর ভারতের আয়োজিত বহুপক্ষীয় যুদ্ধবিমান মহড়া তরঙ্গ শক্তিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। বাংলাদেশের বিমানবাহিনী একটি সি ১৩০ জে পরিবহণ বিমান নিয়ে মহড়ায় অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে। এটিও দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল আবারও সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী করার ভারতের অভিপ্রায়ের কথা জানান।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ সফর নিয়ে বাংলাদেশ আগে যে কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছিল, নতুন আলোচনায় সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে বলার মতো কিছু থাকলে পরে জানানো হবে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। অধিবেশনের ফাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।

    তবে দিল্লির সাম্প্রতিক বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। আগস্টেও জয়সোয়াল বলেছিলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা, প্রত্যর্পণ এবং মানুষের যাতায়াতসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে। ফলে দিল্লির নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতির বার্তা বাস্তবে কতটা অগ্রগতি তৈরি করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

  • রমজান কাদিরভের রাজনৈতিক উত্থান

    রমজান কাদিরভের রাজনৈতিক উত্থান

    রুশ প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ার দীর্ঘমেয়াদী শাসক রমজান কাদিরভ বর্তমানে কেবল ককেশাস অঞ্চলেই নয়, বরং পুরো রুশ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক আলোচিত নাম। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বিশেষ বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করেই মূলত দাঁড়িয়ে আছে এই লৌহমানবের পুরো রাজনৈতিক কাঠামো।

    ক্রেমলিনের প্রধান শর্তই ছিল—চেচনিয়ায় কোনো বড় বিদ্রোহ বা স্বাধীনতা আন্দোলন থাকা যাবে না এবং মস্কোর প্রতি থাকতে হবে শতভাগ আনুগত্য। এর বিনিময়ে পুতিন কাদিরভকে চেচনিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে একচ্ছত্র ও স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনার অবাধ সুযোগ দিয়েছেন।

    পাশাপাশি, তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার সুসজ্জিত ও অনুগত যোদ্ধা এবং তার বাবা আখমাদ কাদিরভের হাত ধরে তৈরি হওয়া ইসলামিক ও পারিবারিক প্রভাব কাদিরভের রাজনৈতিক ভিত্তি ও ক্ষমতার ইমারতকে শতভাগ সুরক্ষিত করেছে।

    যদিও এই ক্ষমতার উত্থানের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও নাটকীয় ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন।

    নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তরুণ বয়সে রমজান ও তার বাবা চেচেন স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ পালটে তারা ক্রেমলিনের সঙ্গে সমঝোতা করে রাশিয়ার পক্ষে যোগ দেন।

    এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে তার বাবা আখমাদ কাদিরভ চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হন এবং রমজান হন প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এক বোমা হামলায় বাবা আখমাদ নিহত হওয়ার পর পুতিনের বিশেষ আশীর্বাদে রমজান দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এবং সাংবিধানিক বয়সসীমা (৩০ বছর) পূর্ণ হওয়ামাত্র ২০০৭ সালে পুতিনের মনোনয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। তখন থেকেই তিনি লৌহমানবিক কায়দায় অঞ্চলটি শাসন করে আসছেন।

    এই ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং তা বজায় রাখাই কাদিরভ ও তার প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত রমজান চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা দায়িত্বে রয়েছেন।

    পুতিনের বিশ্বস্ত ‘পদাতিক সেনা’ হিসেবে চেচনিয়ায় নিজের পরিবার ও অনুগত নিরাপত্তা চক্রের একচ্ছত্র আধিপত্য চিরস্থায়ী করার পাশাপাশি নিজের সন্তানদের ক্ষমতার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার হয়ে বিশেষ কূটনৈতিক ও সামরিক ‘সেবা’ দিয়ে ক্রেমলিনের কাছ থেকে রাজনৈতিক অনাক্রম্যতা ও বিপুল আর্থিক সহযোগিতা আদায় করাও তার অন্যতম বড় কৌশল।

    চেচনিয়ায় যেকোনো ধরনের স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর, ভিন্নমত বা বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তা চিরতরে মুছে ফেলে একটি পুরোপুরি অনুগত সমাজব্যবস্থা বজায় রাখাই এই চেচেন শাসকের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য।

  • ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর সীমান্ত এলাকা থেকে গরুটি জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক দল এই তৎপরতা চালায়। বিজিবির সুবেদার মো: রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে টহলদলটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার হতে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।

    অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদল দেখতে পায়, কয়েকজন ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গরু ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগে পুনরায় ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ভারতীয় গরু আটক করে। জব্দকৃত গরুটির আনুমানিক প্রাতিষ্ঠানিক সিজার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃত গবাদিপশুটির বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কাস্টমসের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তে অবৈধভাবে গবাদিপশু পারাপার, মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে ৫১ বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • রায়পুরে স্কুল-মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ ২ শিক্ষার্থী

    রায়পুরে স্কুল-মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ ২ শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্কুল ও মাদরাসায় যাওয়ার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। রোববার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর চার দিনেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দুই পরিবারের সদস্যরা।

    নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলো-কেরোয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী হাজী বাড়ির ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও গৃহিণী আমেনা বেগমের একমাত্র ছেলে আরাফাত সায়েম (১৪) এবং চরপাতা ইউনিয়নের গাজিনগর এলাকার প্রবাসী এমরান হোসেন ও গৃহিণী ফাহিমা আক্তারের একমাত্র ছেলে মো: ইকরামুল হাসান মিনহাজ (১৪)।

    আরাফাত সায়েম রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর ইকরামুল হাসান মিনহাজ রায়পুর আলিয়া কামিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সায়েম ও মিনহাজ। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি।

    পরে সোমবার রাতে দুই শিক্ষার্থীর পরিবার রায়পুর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পাশাপাশি তাদের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোস্ট দিয়েছেন স্বজনেরা।

    নিখোঁজ সায়েমের বাবা জাকির হোসেন ও মিনহাজের বাবা এমরান হোসেন বলেন, ‘রোববার সকালে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি। কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান পাইনি। আমরা সন্তানদের ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা চাই।’

    রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সায়েম ও মিনহাজ নামে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের বিষয়ে পৃথক জিডি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা করছে।’

  • আজ দিন ও রাত সমান

    আজ দিন ও রাত সমান

    আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে শরৎকালীন বিষুব-এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শরৎকাল।

    রয়্যাল মিউজিয়াম গ্রিনউইচের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১টা ৬ মিনিটে এই বিষুব সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি সকাল ৬টা ৬ মিনিট।

    বিষুব হলো এমন এক ক্ষণ, যখন সূর্য ঠিক পৃথিবীর মাঝবরাবর বা বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। এই সময়ে পৃথিবীর কোনো অংশই সূর্যের দিকে বা বিপরীতে ঝুঁকে থাকে না, যার ফলে বিশ্বজুড়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে যায়। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘শরৎ বিষুব’।

    বিশেষ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জের মতো ঐতিহাসিক স্থানে মানুষ জড়ো হয়ে সূর্যোদয় উপভোগ করেন।

    তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বিষয়টি একটু আলাদা। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নতুন করে শরৎকাল শুরু হচ্ছে না। বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী বাংলাদেশে শরৎকাল এরই মধ্যে চলছে।

    ‘শরৎ বিষুব’ নামটি মূলত উত্তর গোলার্ধের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে এই দিনকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে শরতের শুরু ধরা হয়।

    উল্লেখ্য, লাতিন শব্দ ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব-এর অর্থ সমান রাত। নিয়ম অনুযায়ী এই দিনে দিন ও রাত উভয়ই ১২ ঘণ্টা করে হওয়ার কথা। তবে বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণের কারণে সূর্য ডোবার পরও কিছুক্ষণ আলো থেকে যায়। এর ফলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পুরোপুরি সমান হওয়ার ঘটনাটি বিষুবের ঠিক কিছুদিন পরে ঘটে, যাকে বলা হয় ‘ইক্যুল্যাক্স’ বা ‘সমান আলো’।

  • নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধ

    নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ আটজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকান্দিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইসরাফিল শিকদার, রাসেল শেখ, মতিউর রহমান, মুক্তি শেখ ও হাসান শেখ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে সকালে চরকান্দিপাড়ার মেম্বার মো: সোহেল ও আবেদ গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলি ও হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের আটজন আহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    আহতদের প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নড়াগাতী থানার ওসি মো: হোসেন আলী বলেন, ‘পূর্বের হত্যাকাণ্ডের জেরসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরকান্দিপাড়ার দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন আহত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক গুলিবিদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন। এছাড়া কোনো ধরণের অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার দুপুর পর্যন্ত একজনকে আটক করা হয়েছে।’ এ,আর

  • ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে অপরাধ হবেনা:সুপ্রিম কোর্টের

    ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে অপরাধ হবেনা:সুপ্রিম কোর্টের

    ধর্মীয় বিশ্বাস বা বিবেকের কারণে কেউ যদি ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাইতে অস্বীকার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না বলে জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে ভারতের কেন্দ্র সরকারের কাছে এ বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বন্দে মাতরম নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে মৌখিকভাবে দেওয়া পর্যবেক্ষণে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এই বার্তা দেয়।

    বিচারপতিরা মৌখিকভাবে বলেন, জাতীয় গানের সংজ্ঞা নিরূপণ করা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। তবে কোনো নাগরিক যদি বিবেকজনিত কারণে গানটি গাইতে না চান, তাকে যাতে বাধ্য করা না হয়, সেটা আদালত খতিয়ে দেখতে পারে।

    কর্ণাটকের সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণার রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। ২০২৬ সালের ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী আইন’-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

    এই সংশোধিত আইনে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর মতোই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এটি গাওয়ায় বাধা দিলে বা ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে সরকারি ও আনুষ্ঠানিক মঞ্চে বন্দে মাতরমের আগের দুটি স্তবকের পরিবর্তে পুরো ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

    আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এস মুরলীধর আদালতে যুক্তি দেন, বন্দে মাতরমের শেষের চারটি স্তবকে হিন্দু দেবদেবীদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ফলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব স্তবক গাইতে বাধ্য করা এবং তা না গাইলে শাস্তির ভয় দেখানো নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি।

    শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘বিজয়ে ইমানুয়েল’ মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করেন। সেই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ যদি জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ না মিলিয়ে কেবল শান্ত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

    শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেয় যে দেশের সেই প্রতিষ্ঠিত আইনি নজির এখনো অটুট এবং বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

  • দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ও বর্তমানে অযোগ্য হয়ে পড়া বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন বোর্ডের মাধ্যমে অকেজো ঘোষণা করে ধ্বংস করা হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে কন্ডেমেশন বোর্ড এসব সামগ্রী পর্যালোচনা শেষে অকেজো ঘোষণা করে এবং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    ধ্বংস করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিছানার চাদর, মশারি, কম্বল, বালিশ, মেট্রেস, পর্দা এবং ইপিআই কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার।

    সিভিল সার্জন, পটুয়াখালীর অনুমতি ক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: জি এম এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া সামগ্রী অপসারণের অংশ হিসেবে এ কন্ডেমেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ,আর

  • হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা

    হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, চিঠিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টার’ জন্য আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের উদ্দেশে লেখা খামেনির হাতে লেখা বার্তায় বলা হয়, ‘আপনার নিজের এবং আপনার প্রচারবিমুখ ও বিনয়ী সহকর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সম্পর্কে আপনারা খুব সামান্যই উল্লেখ করেছেন। এটা নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক মানুষেরাই করে থাকেন।’

    এতে আরো বলা হয়, ‘তবুও, ঐশ্বরিক প্রজ্ঞায় এই গুণের ফলাফল হলো সেই ভালোবাসা ও সম্মান, যা সর্বশক্তিমান (তার মহিমা অসীম) নিষ্ঠাবানদের দান করেন। সেই সঙ্গে তিনি তাদের অশেষ দোয়া ও বিজয়ও প্রদান করেন।’

  • ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

    জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীগণ এ নৈশভোজে অংশ নেন।

    এর আগে সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।

  • নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে ইসরাইল, আল-শারা

    নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে ইসরাইল, আল-শারা

    ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তাকাঠামো নিয়ে আলোচনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে পরে ইসরাইল আলোচনা থেকে সরে যায় অথবা নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু ‘বিভিন্ন কারণে’ ইসরাইল সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়।

    আল-শারা বলেন, সাবেক সিরীয় সরকারের পতনের পর থেকেই ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তার দাবি, ইসরাইল নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে এবং দেশটির ভেতরে অভিযান, গ্রেপ্তার ও বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে।

    তবে এসবের মধ্যেও সিরিয়া কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, সিরিয়া এখনো আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোতে চায়। তবে সিরীয়দের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়।

    আল-শারা জানান, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয় প্রায় এক বছর আগে। শুরুতেই দামেস্ক দাবি করেছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা শুরুর আগে ইসরাইলকে ১৯৭৪ সালের চুক্তির পর নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সফল হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

    গোলান মালভূমি নিয়েও সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেন আল-শারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড। তাই এ ভূখণ্ড কার—এ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

    ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ যাচাই করতে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার মতে, ওই কমিটি ইসরাইলের উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর কোনটি কেবল ধারণা এবং কোনটি প্রকৃত নিরাপত্তা-উদ্বেগ, তা যাচাই করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি রসিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময় তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—‘নিউ জার্সি ইসরাইলিদের দিয়ে দেন না কেন? গোলান মালভূমির মালিক আপনি নন যে সেটি তাদের দেবেন, কিন্তু নিউ জার্সি আপনার।’

    গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন আল-শারা। ১৯৪৬ সালে সিরিয়া স্বাধীন হওয়ার পর কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই ছিল প্রথম হোয়াইট হাউস সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল।

    সিরিয়ায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আল-শারা। তিনি বলেন, দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা প্রায় ১৭০ থেকে কমে বর্তমানে দুটিতে নেমে এসেছে। তার দাবি, এসব ঘাঁটি এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থানও ‘আইনি কাঠামোর’ দিকে এগোচ্ছে।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্কের প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

    তিনি ৯/১১ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন মার্কিন নীতির কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কথাও উল্লেখ করেন। আল-শারা বলেন, ওই সময়ের ঘটনাবলির সঙ্গে তার সম্পূর্ণ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

  • কুমিল্লায় মোবাইল চার্জে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    কুমিল্লায় মোবাইল চার্জে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার হোমনায় মোবাইল ফোন চার্জে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: নাজমুল ইসলাম (২৩) নামে এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নাজমুল মনিপুর আদর্শ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি মনিপুর গ্রামের মরহুম নজরুল ইসলামের ছেলে।

    মৃতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে নিজ ঘরে মোবাইল ফোন চার্জে দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাজমুল। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১১

    দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১১

    দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের এক বাড়িতে গভীর রাতে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে ১১ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডারবানের দক্ষিণে কোয়ামাখুথা টাউনশিপে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার আগে টাউনশিপের একটি আবাসিক বাড়িতে লোকজন সমবেত হয়েছিল। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

    ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে হামলাকারীরা বাড়ির মালিকের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    এই প্রাণঘাতী হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। এছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজনদের শনাক্তও করা হয়নি।

  • সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সদরপুরে বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের দিকে, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন। এখনো তীব্র স্রোতে নদীর তীর ভেঙে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে, রাত কাটছে নির্ঘুম। কখন যে স্রোতের টানে নিজের ঘরবাড়িটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে পদ্মা পাড়ের জনগণ।

    প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তীব্র হলেও এবার বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে, নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষের দাবি, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসন।

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী ঢেউখালী, আকোটেরচর ও দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, চরমানাইর এবং চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবারো নদীভাঙন হয়েছে এবং ভাঙন অব্যহত রয়েছে। ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী ও মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, কালিখোলা, মোল্যাকান্দি ও খালাসীকান্দি এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভাঙছে। একই সাথে দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দির বাসিন্দারাও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, পদ্মার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের অংশ। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি তাদের। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

    পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের মধ্যে বেপারীডাঙ্গী গ্রামের ১০০ বছর বয়সি হাসমত বেপারীর গল্পটি যেন নদীভাঙনের নির্মমতার প্রতিচ্ছবি। নিজের ভিটেমাটিতে জীবনের শেষ সময়টা কাটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু কয়েক দশকে একের পর এক নদীভাঙনে বারবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। জীবনে আটবার ঘর তুলেও কোনোবারই স্থায়ী হতে পারেননি। সর্বশেষ ভাঙনে আবারো স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠতে হয়েছে তাকে। তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ শিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘জীবনে সাতবার ঘর তুলেছি। সবই গিলে খেয়েছে পদ্মা। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না, শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারব কি না।’

    পদ্মাপাড়ের অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছে। কারো ঘর গেছে, কারো ফসলি জমি, আবার কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বর্ষা শেষ হওয়ার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব পরিবারের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে চরম উদ্বেগ। সরকারি উদ্যোগে পাওয়া ঘরই তাদের শেষ আশ্রয়। সেই ঘরও নদীগর্ভে চলে গেলে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এছাড়া চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হয়। বর্ষা চলে গেলেও ভাঙন এখনো থামেনি। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।’

    দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আ: আজিজ চোকদার বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। আমরা চরের মানুষ এমন বিপদে আর কতবার পড়ব?

    ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে এবং নতুন করে মানুষ ভিটেমাটি হারায়। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

    আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, ‘নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

    সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, ‘পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব হোসেন বলেন, ‘ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

    এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, ‘নদীর সাথে আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। পাশের চরভদ্রাসনে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সদরপুরেও আমরা স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবো। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় শিগগিরই স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

    পদ্মার ভাঙনে বছরের পর বছর ধরে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার অবলম্বন হারানো মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। তাদের ভাষ্য, ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিরাপদ বসতি ও জমি রক্ষায় কার্যকর নদীশাসন। তাই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের একটাই প্রত্যাশা-আর কখনো যেন চোখের সামনে নিজের ভিটেমাটি পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে যেতে দেখতে না হয়। এ,আর

  • জাতিসংঘের সংস্কার চাইলো এরদোয়ান

    জাতিসংঘের সংস্কার চাইলো এরদোয়ান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন,

    বিশ্বশান্তি রক্ষার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ অক্ষম হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান । সেইসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    দীর্ঘদিন ধরেই এরদোয়ান নিরাপত্তা পরিষদকে আরো প্রতিনিধিত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    তিনি বলেন, ‘আসুন স্বীকার করে নেই যে, এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ১৯০টিরও বেশি দেশের মতামত পাঁচটি দেশের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, তা ন্যায্য নয় এবং এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আস্থা প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়।’

    এরদোয়ান আরো বলেন, ‘৮১ বছর আগে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ এখন সেই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে—অথবা বলা যায়, তাকে অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে।’

    গাজা পরিস্থিতিরও তীব্র নিন্দা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘যে মানুষের হৃদয়ে মানবতা, সহমর্মিতা ও দয়া রয়েছে এবং যার মধ্যে ন্যায়বোধ ও বিবেক কাজ করে, তিনি সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারেন না।’

    এরদোয়ান বলেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর এই অধিবেশনকক্ষে নিজের আসনে বসতে পারেননি। আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের প্রতি এই অবিচার বিবেককে আহত করে।’

    যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

    গাজার পরিস্থিতিকে তিনি ‘বর্তমান সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও সবচেয়ে লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ বলে অভিহিত করেন।

  • যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

    যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

    রাশিয়া রাজি হলে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে ইউক্রেনও জ্বালানি-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা বন্ধের যেকোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এ ধরনের ‘এনার্জি সিজফায়ার’ বা জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত রয়েছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন জেলেনস্কি। যুদ্ধ চার বছর ধরে চললেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হামলা বন্ধের একটি পৃথক সমঝোতা যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

    এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পাশাপাশি রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুদ্ধের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়মিত হামলা চালানোর অভিযোগের মুখে রয়েছে। ফলে শীত মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, জ্বালানি ইস্যু এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর আগে ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপেও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের বিষয়ে চাপ দিয়েছিলেন। জেলেনস্কির অবস্থান ছিল, রাশিয়াও একইভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি খাত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে এ ধরনের সমঝোতায় ইউক্রেন সম্মত হতে পারে।

    এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ন্যাটোর মধ্যেও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রমেই বেশি ‘বেপরোয়া’ আচরণ করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সম্মতির কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

  • গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    বুধবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরগামী একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন। গুরুতর আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাকটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় সংগ্রহের কাজ চলছে। নিহত তিনজনই পুরুষ। তারা অটোরিকশার যাত্রী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • ইরানকে নিশ্চিহ্নের হুমকি ট্রাম্পের হতাশার বহিঃপ্রকাশ’

    ইরানকে নিশ্চিহ্নের হুমকি ট্রাম্পের হতাশার বহিঃপ্রকাশ’

    ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘কৌশলগত হতাশার’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেইসঙ্গে তেহরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো বিধ্বংসী ও তীব্র পাল্টা হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত বলে বলে জানায় তারা।

    এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মঞ্চ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার’ অভিযোগ করেছেন ইরানের জেনারেল স্টাফ ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অচলাবস্থারই প্রমাণ এসব বক্তব্য। ট্রাম্পের বারবার হুমকি শক্তির প্রকাশ নয়, বরং তাদের কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ।’

    বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে এমন সব আঘাত হানতে প্রস্তুত, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ‘বিধ্বংসী ও অপ্রত্যাশিত’ হবে।

  • বিকশিত হচ্ছে মালয়েশিয়া: আনোয়ার

    বিকশিত হচ্ছে মালয়েশিয়া: আনোয়ার

    পরিপক্ব শিল্পভিত্তি, দক্ষ জনশক্তি, কৌশলগত অবস্থান ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থার কারণে মালয়েশিয়া উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ ও উৎপাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। সরকার এমন মানসম্পন্ন বিনিয়োগকে সহযোগিতা করবে, যা প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির উন্নয়ন, মালয়েশীয় কোম্পানির অংশগ্রহণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির খাতে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে আয়োজিত বৈঠকে আলোচনায় এসব কথা বলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    সাংহাইয়ে ২১টি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এআই-রোবটিকস, বৈদ্যুতিক যান (ইভি), ব্যাটারি উপকরণ, উন্নত অপটিকস, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষায়িত রাসায়নিক এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পেও সম্ভাব্য বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনা ও আগ্রহ সম্পর্কে সরাসরি জানতে পেরেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহরি আবদুল গনি এবং পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক সিউ ফুকও অংশ নেন। আনোয়ার বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন। সফরে সাংহাই ও হাংচৌ যাওয়ার কথা রয়েছে।

    চীন টানা ১৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১১৩ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

  • আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজারের গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকার আব্দুস সাত্তারের পুকুরে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে। পরে বুধবার সকালে পুকুরে থাকা পুঁটি, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়।

    পুকুরের মালিক আব্দুস সাত্তার জানান, পুকুরে থাকা মাছের আনুমানিক মূল্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। রাতে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সবজেল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • শাহবাজের অনুরোধ রাখলো জামায়াত

    শাহবাজের অনুরোধ রাখলো জামায়াত

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের অনুরোধে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী (জিআই)। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে বৈঠকের আগ পর্যন্ত দলের নেতাকর্মী ও বহর মুলতানেই অবস্থান করবে বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দলটির আমির হাফেজ নাঈমুর রহমান।

    মঙ্গলবার মুলতানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়ে হাফেজ নাঈম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ টেলিফোনে তাকে লংমার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি জামায়াত নেতৃত্বকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। তবে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ফিরে আসার পরই কেবল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে মুলতানে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে এবং দল তাদের প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে পিছু হটবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নেওয়া ত্রাণ ও ভর্তুকি পদক্ষেপগুলোকে ‘অপ্রতুল’ উল্লেখ করে জ্বালানি তেলের দাম কমানো এবং পেট্রোলিয়াম লেভি বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, পেট্রলের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের কাছে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির শর্ত ও চাপের কারণে লেভি কমানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণের আগে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ৫১০টি স্থানে বিক্ষোভ এবং শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।

  • মতলবে আগুনে ৫ বসতঘর ভস্মীভূত, আহত ২

    মতলবে আগুনে ৫ বসতঘর ভস্মীভূত, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে আগুন লেগে পাঁচ পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর ও বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নিভাতে গিয়ে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মাছুয়াখাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মো: জালাল জমদ্দার, মো: সেলিম জমদ্দার, সুফিয়ান জমদ্দার, কামরুল জমদ্দার ও মানিক মিয়া।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে জালালের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের ঘর ও রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

    ক্ষতিগ্রস্ত জালাল বলেন, ‘আগুনে আমাদের ঘরগুলো পুড়ে গেছে। পাঁচটি বসতঘর, পাঁচটি রান্নাঘর, স্বর্ণালঙ্কার, মালামালসহ সব পুড়ে গেছে। আমাদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু পড়নের কাপড়টা ছাড়া আর কিছু নেই। এখন খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আমাদের কোনো জায়গা নেই।’

    মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পাঁচটি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন। একটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা গেছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’ এ,আর

  • আরো শক্তিশালী হচ্ছে ইরান

    আরো শক্তিশালী হচ্ছে ইরান

    রাশিয়া ইরানকে উন্নত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে । নিজ দেশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান দেওয়া অস্ত্র সরবরাহের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সি ৪৩০ এল নামে পরিচিত এই গোপন কর্মসূচি ২০২৩ সালে শুরু হয় এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ও তা অব্যাহত রয়েছে।

    এই কর্মসূচির আওতায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়ার জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা সরাসরি ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের কাজের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন বা র‍্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে উড়ে সুপারসনিক গতি বজায় রাখতে পারে। ইরান এরই মধ্যে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে।

    রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের এই র‍্যামজেটের উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, এয়ার ইনটেক বা বায়ুপ্রবেশপথ এবং ইঞ্জিনের নজেলসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের ইরানি সমকক্ষদের পরামর্শ দিয়েছেন।

    এই সহায়তা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ইরানকে উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন পরিবার নিজস্বভাবে উৎপাদন ও আরো উন্নত করার সক্ষমতা দিতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ২০ বছরের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

  • নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়ের পর দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায় সাত ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরকান্দা উপজেলার প্রধান বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান।

    অভিযানকালে উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী সোহেল রানা চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী শরিফুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর শপিংমল, মার্কেট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরকান্দা বাজারে তদারকি অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সাথে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।’

    তিনি আরো জানান, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে নগরকান্দা উপজেলায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • শেরপুরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান, ১ জনকে কারাদণ্ড

    শেরপুরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান, ১ জনকে কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযানে মো: আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের উদ্যোগে প্রায় ছয় ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজ্জাক নকলার গনপদ্দী ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের মরহুম সুরুজ আলীর ছেলে।

    জানা গেছে, অভিযানে ওই এলাকায় রাজ্জাককে তিনটি বক ও বক শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি।

    অভিযানে পাখি শিকারের আটটি হালা (শিকারের সরঞ্জাম) ও ১২টি বক উদ্ধার করা হয়। পরে বকগুলো অবমুক্ত করা হয়। এ ছাড়াও পাখির সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে এলাকাবাসীর মঝে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।

    অভিযানে শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো: আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো: মুগনিউর রহমান মনিসহ স্বেচ্ছাসেবী ও অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন জানান, পাখি শিকারী রাজ্জাককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। এ,আর

  • মহেশপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কর্মী সমাবেশ।

    মহেশপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কর্মী সমাবেশ।

    মহেশপুর (ঝিানাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু এবং জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ড. নান্নু মিয়া।

    এ ছাড়া বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

    সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সর্বত্র। বেড়েছে বাস ভাড়া, পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক-লরি ভাড়া এবং সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। শিল্পোৎপাদন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়েছে অস্বাভাবিক চাপ। অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে ঝগড়া-বিবাদও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও কাঁচা বাজারগুলোতে বিবাদ বেশি দেখা গেছে।

    উত্তাপ লেগেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের গায়ে

    * বেড়েছে বাস-ট্রাক ভাড়া

    * সবচেয়ে বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক-হেলপার, কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভ ও হতাশা। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না কেউই। কারওয়ান বাজারের টং দোকানি বাবলু শেখ বলেন, ‘তেলের দাম বাইড়া যাওয়ায় গত দুইদিন ধইরা বিক্রি অনেক কোইমা গ্যাছে। মানুষ মনে হয় চা খাওয়াও ছাইড়া দিছে!’

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া কিলোমিটার (কিমি) প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিমিপ্রতি ছিল দুই টাকা ৫৩ পয়সা। নতুন ভাড়া হবে দুই টাকা ৭০ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হবে দুই টাকা ৫৯ পয়সা।

    রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ডের দূরত্ব ১৪.৪০ কিমি। নতুন নির্ধারিত কিমিপ্রতি ২.৭০ টাকা পয়সা হিসাবে এ পথের ভাড়া হবে ৩৮.৪৪ টাকা। এই রুটের লাব্বাইক পরিবহনে আগেই নেওয়া হতো ৪০-৪৫ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। ফার্মগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত এতদিন ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা।

    অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিমিপ্রতি ভাড়া এতদিন ছিল দুই টাকা ২৩ পয়সা। বর্ধিত ভাড়া হবে দুই টাকা ৪০ পয়সা। যদিও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রুটেই তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে যাত্রীপ্রতি ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আর ঢাকার বাইরে দূরত্ব ও বাসভেদে ভাড়া বেড়েছে যাত্রীপ্রতি ৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারের তর্ক-বিতর্ক ক্রমেই ঝগড়া-বিবাদে রূপ নিচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে প্রভাব

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কাঁচাবাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫-১৫ টাকা বেড়েছে। ৬০-৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৭০-৮০ টাকা। সবচেয়ে কম দামি সবজি আলু ও পেঁপের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪০ টাকায়। বেগুনসহ কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম আগে থেকেই বেশি। এখন পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থা। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত বিতর্কে লিপ্ত হলেও সমাধানের কোনো সূত্র তারা বের করতে পারছেন না। পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে পারিবহন খরচ দূরত্ব ও ট্রাকভেদে ২০০০-৬০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

    বেশি চাপে রাইড শেয়ারকারীরা

    ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পেতে লাখ লাখ শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত যুবক রাইড শেয়ারিং তথা মোটর সাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবনযাপনের পথ বেছে নিয়েছেন। অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। রাইড শেয়ারার আলাউদ্দিন বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, কিন্তু মোটর সাইকেলের ভাড়া বাড়েনি। যাত্রী কম হওয়ায় একটি ট্রিপের (যাত্রা) জন্য কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৮০০-৯০০ টাকা আয় করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

    শিল্পোৎপাদনে গতি কমবে

    বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল, সিরামিকসহ সব রকম কারখানায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেল প্রয়োজন উল্লেখ করে উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসবে।

    বেড়েছে ট্রাক ভাড়াও

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে। দূরত্ব, পরিবহনের আকার ও পণ্যভেদে প্রতি ট্রিপে ভাড়া বেড়েছে ২০০০-৮০০০ টাকা। জ্বালানির পাশাপাশি টায়ার, যন্ত্রাংশের মূল্য এবং ফেরি ভাড়া বৃদ্ধির কারণেও ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাড়তি খরচ সামলাতে না পেরে অনেকে ট্রাক বের করছেন না বলেও জানা গেছে। বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২০-২১ হাজার টাকা। গতকাল সেই ভাড়া নেওয়া হয়েছে ২৫-২৬ হাজার টাকা। ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাক সংকটের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি করায় বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে অনেকে আমদানি করা মালামাল খালাস করতে সমস্যায় পড়েন। তারা জানান, প্রতিদিন যেখানে ৪০০-৬০০ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোডিং হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    সুতা আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, হুমকিতে দেশি উদ্যোক্তারা

    সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি

    কোনো আলোচনা, গণশুনানি, জনপরামর্শ ও অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা কিংবা মূল্যবৃদ্ধির সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রকাশ্য মূল্যায়ন ছাড়াই আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, অপরিণামদর্শী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় মন্তব্য করে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আদিল খান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

    বিদ্যুতের দামও কী বাড়বে?

    বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভর্তুকি কমাতে এমনিতেই বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়াতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ অব্যাহত আছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। কারণ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে। তাদের অনুমান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভর্তুকি কমাতে শিগগিরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সমস্যা, কমালেও সমস্যা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয় কমাতে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর চিন্তা করা হয়, সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান লোডশেডিং আরো বাড়বে।

    যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, কৃষির উৎপাদন, শিল্পোৎপাদন— সবই বাড়বে জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে কারখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। কারখানা থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয়ও বাড়বে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এমনিতেই নিম্নআয়ের মানুষ তীব্র চাপে আছেন। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়ানোয় পরিবারের মাসিক বাজেটে আরো বড় চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বৈষম্য আরো বেড়ে যাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখতে হতে পারে।

    বারবার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালে দেশে দারিদ্র্য বেড়ে যাবে আশঙ্কা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিমধ্যে দারিদ্র্য বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারের ব্যয় কমানোর দিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • মহেশপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর পৌর যুব সমাবেশ।

    মহেশপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর পৌর যুব সমাবেশ।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার উদ্যোগে মহেশপুর বায়তুন নূর ভবনের অডিটোরিয়ামে বিশাল এক যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ২১/৯/২৬ তারিখে মহেশপুরে বাইতুন নূর ভবনে র

    অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার উদ্যোগে বিশাল এক যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত পৌর যুব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় জাতীয় সংসদ, সদস্য ঝিনাইদাহ -৩ এর মাননীয় এমপি মোঃ মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইসমাইল হোসেন পলাশ। প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, মহেশপুর কোটচাঁদপুর এর গণমানুষের নেতা এমপি মতিয়ার রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশে যুবকরাই নেতৃত্ব দিবে। সুতরাং এই যুবকদেরকেই গড়ে তুলতে হবে সৎ ও দক্ষতার সাথে। মাননীয় এমপি মহোদয় বলেন, যুবকরা সমাজে যে ভূমিকা রাখতে পারে তা অকল্পনীয়। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুবকদেরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার কথা বলেন এবং সমাজে যুবকদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ সাংগঠনিকভাবে যুবকদেরকে এগিয়ে আসতে বলেন। তিনি তাকওয়াবান আল্লাহ ভীরুতা এবং সমাজে নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে, অন্যায় জুলুম দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে যুবকদেরকে দৃঢ়ভাবে ভূমিকা রাখতে বলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীতে আসতে হয়। সুতরাং এখানে কোন বৈষয়িক লাভের ব্যাপার থাকতে পারে না। যুবক বয়সের ইবাদতই আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়। যুব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলার সহকারি সেক্রেটারি হাসাদাহ কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ শরিফুল ইসলাম, মহেশপুর উপজেলা জামাতের বাইতুল মাল সেক্রেটারি গোলাম রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহেশপুর উপজেলা শাখার সভাপতি রাকিবুল হাসান বাচ্চুসহ স্থানীয় অনেক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ মজলিসে মুফাসসিরিন আইটি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর সঞ্চালনায় যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পৌর আমির মোঃ নওফেল হোসেন। মহেশপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত শতশত যুবকদের উপস্থিতিতে যুব সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

  • মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ।

    মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ।



    মহেশপুর (ঝিনাইদাহ) প্রতিনিধি

    মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর এবং ২১ সেপ্টেম্বর পরিচালিত এসব অভিযানে কোনো আসামি আটক করা যায়নি।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নিমতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৭২/৪-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সিংনগর গ্রামের হালদার পাড়া পাকা রাস্তা পার্শ্ব হতে হাবিলদার মো: শহর আলীর নেতৃত্বে নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আসামিবিহীন ৪৮ বোতল ভারতীয় সিরাপ (Wincorex Cough Syrup) আটক করা হয়।

    এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে গয়েশপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৬৮/৭-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া করিম মালিথার ধান ক্ষেতের মধ্য হতে সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পরিচালিত চোরাচালান বিরোধী অভিযানে আসামিবিহীন ১০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।

    এছাড়াও, একই দিনে আনুমানিক বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জীবননগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৬৮-এমপি থেকে প্রায় ৪ কিমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তেঁতুলিয়া এলাকার পাকা রাস্তার পার্শ্ব হতে হাবিলদার মো: হাসমত আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আসামিবিহীন ৪৮ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।

  • ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, গ্রেফতার ১

    ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাকিবুল হাসান রাকিব (১৯) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর বদির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার রাকিবুল হাসান রাকিব শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় সরকারপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ সরকারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিন যুবক যাত্রী সেজে ধুনট বাজার থেকে জয় নামে এক ইজিবাইক চালকের গাড়ি ভাড়া করেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারা ধুনট থানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে পাকা সড়কের একটি স্থানে পৌঁছালে চালককে ইজিবাইক থামাতে বলেন।

    ইজিবাইক থামানোর পর ওই তিন যুবক চালক জয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় জয়কে সড়কের ওপর ফেলে রেখে তার ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান ওই তিনি যুবক।

    পরে স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা জয়কে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আহত চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাকিবুল হাসান রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হলে, আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ,আর

  • নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালী সদরে অটোরিকশায় চার্জ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের খলিল মিয়ার দরজার হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

    রিপন ওই গ্রামের মো: মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এ,আর

  • ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে নারী আসামির যাবজ্জীবন

    ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে নারী আসামির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের বহুল আলোচিত সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় আসামি শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহা: হেলাল উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার বিবরণে যে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সকালে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা দিনভর আশপাশের বিভিন্ন স্থান ও পুকুরে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পায়নি। সারাদিন নিখোঁজের পরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনের ঘরের ভেতর থেকে শিশু সাবার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শান্তনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ ঘটনার ২৭ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী রাখা হয়।

    মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান ও অতিরিক্ত পিপি কাজী একরামুল হক আলম এবং রাষ্ট্রকর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আশরাফ জোয়ার্দ্দার মামলা পরিচালনা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার নথি অনুযায়ী, শান্তনা খাতুন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শিশু সাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

    জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়েরের সাথে খেলতে গিয়ে সাবার মারামারি হয়। একপর্যায়ে সাবার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি শান্তনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। এ,আর

  • রেডিও শুনে শুনেই হাফেজা সত্তরোর্ধ ২ নারী

    রেডিও শুনে শুনেই হাফেজা সত্তরোর্ধ ২ নারী

    অক্ষরজ্ঞান নেই, পড়তে বা লিখতেও পারেন না। তবে কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে রেডিওতে তেলাওয়াত শুনে শুনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন মিসরের সত্তরোর্ধ নারী সুকরা।

    একই বয়সে প্রায় এক দশকের সাধনা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পুরো কোরআন হিফজ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সানা। কোরআন হিফজের তাদের এ ব্যতিক্রমী ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    আরবি সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ মিসর জানায়, মিসরের মেনুফিয়া প্রদেশের বাসিন্দা সুকরা ৫০ বছর বয়সে কোরআন হিফজ শুরু করেন। গ্রামের এক নারী তাকে কোরআন মুখস্থ করতে উৎসাহিত করেন। শুরুতে তিনি প্রতিদিন মাত্র দুই আয়াত মুখস্থ করতেন এবং সারা দিন সেগুলো বারবার পড়তেন। পড়তে ও লিখতে না পারায় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শোনা এবং হিফজের আসরে অংশ নেয়াই ছিল তার প্রধান অবলম্বন।

    তার মরহুম স্বামীও তাকে নিয়মিত উৎসাহ দিতেন এবং তার অর্জন নিয়ে গর্ব করতেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় সুকরার ১৬ পারা মুখস্থ ছিল। এরপরও একপর্যায়ে হিফজ অব্যাহত রেখে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন।

    অন্যদিকে, সানা ছোটবেলা থেকেই কোরআন হিফজের স্বপ্ন দেখতেন। পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের বড় করার পর তিনি এতে আরো বেশি মনোযোগী হন। প্রায় ১০ বছর ধরে নিয়মিত প্রচেষ্টায় অবশেষে তিনি পুরো কোরআন হিফজ করতে সক্ষম হন।

    হিফজের সময় সানার স্বামীও তাকে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি স্বামীর কাছে মুখস্থ অংশটুকু শোনাতেন। এভাবে প্রায় এক দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তার কোরআন হিফজ সম্পন্ন হয়।

    সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে পুরো কোরআন তেলাওয়াত করেছেন সানা। একইসাথে সুকরা ও সানা বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ পারা করে পরস্পর কোরআন দাওর (পুনরাবৃত্তি) করেন। কোরআনের প্রতি তাদের এই গভীর ভালোবাসা সকলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

  • মতলবে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোচালকের নিহত

    মতলবে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোচালকের নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় রিকশাটির চালক ছিদ্দিক মিয়াজী (৪৮) নিহত হয়েছেন।

    আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নওগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ছিদ্দিক মিয়াজী উপজেলার মধ্য নওগাঁও গ্রামের মরহুম আব্বাস মিয়াজী ও মানিকজান বেগম দম্পতির ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর ১টার দিকে নিজের অটোরিকশা চালিয়ে ছিদ্দিক মিয়াজী তার বাড়ির পাশে নওগাঁও আড়ংবাজার থেকে উপজেলার নওগাঁও এলাকার হাজী মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার অটোরিকশায় কোনো যাত্রী ছিল না। নওগাঁও সেতু এলাকায় পৌঁছালে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি উল্টে যায় এবং সড়কের পাশে জলাবদ্ধ জমিতে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন চালক ছিদ্দিক মিয়াজী। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত অটোরিকশাচালকের বড় ভাই মো: হায়দার মিয়াজী বলেন, ‘ভাই আগে থেকেই কিছুডা অসুস্থ ছিল। তার আয়েই সংসারের খরচ চলত। ভাইডা মইরা গেল, এখন তার তিন ছেলেমেয়ে ও বউর অবস্থা কী হবে।’

    মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক অটোচালক ছিদ্দিক মিয়াজীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর

  • জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : রুবিও

    জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : রুবিও

    জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এ ধরনের কোনো বৈঠকের সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।

    আল জাজিরা মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জানায়, এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    ‘আমরা এ বিষয়ে উন্মুক্ত। এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে আমরা অবশ্যই এ ধরনের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত,’ টুডে শোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যদি এর মাধ্যমে ইতিবাচক কিছু অর্জনের সম্ভাবনা থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, তা অর্জন করা যায়।’

    রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

    ‘আর সেটাই এই পুরো বিষয়টির মূল কথা। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না। তারা কোনোভাবেই তা করতে পারে না,’ বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ায়

    বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ায়

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের চূড়ান্ত নথি থেকে নিজের নাম কাটার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল ও ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম।

    অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

    ঘটনার সূত্রপাত

    ঘটনাটির শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে জানায়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।

    রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় খোঁজ শুরু হয়। তবে ঠিক তার পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’।

    অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে অবস্থানকালে হত্যা, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর বিচারে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটির নিজস্ব আলাদা একটি তদন্তকাজ শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

    এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার মূল তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া।

    তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়।

    দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল।

    অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

    এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনে বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার দায়ে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে।

    এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে।

    ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’

    কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি।

  • মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলমের গর্ভধারিণী মা সাহারা বেগম (৬৫)। এক সময় মাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি ও তার পরিবার। অবশেষে অবসান হলো সেই দীর্ঘ অপেক্ষার। এতো বছর পর মাকে ফিরে পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা সন্তানসহ পরিবারের সবাই।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালার নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, ২০০৯ সালের শুরুতে বাড়ি থেকে হারিয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন সাহেরা। পরিবারের লোকজন আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তু থেমে যাননি ছেলে শাহ আলম। প্রিয় মাকে খুঁজে বের করতে ধারদেনা করে কেনেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সংসার চালানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি মাকে খোঁজে বেড়িয়েছেন। মায়ের মায়াবী মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রায় কেটে যায় ১৮ বছর।

    শুক্রবার সাহেরা এসে উপস্থিত হন বাড়ির পাশের একটি বাজারে। মা ফিরে আসার সংবাদ পেয়ে শাহ আলম ছুটে যান মায়ের কাছে। মাকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি। মা-ছেলের আকস্মিক এই আবেগঘন সাক্ষাতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    শাহ আলম বলেন, ‘১৮ বছর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মাকে পাইনি। মাকে ফিরে পাব, এমন আশাও ছিল না। মাকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। পাগল হলেও তিনি আমার মা। এতো বছর পর মায়ের সেবা করতে পারছি এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের।’

    স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছোট থাকতে সাহারা বেগম বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। দীর্ঘদিন পর তাকে খুঁজে পেয়ে পরিবারের সবাই অনেক খুশি।’

    মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক লোকজন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। সাহারা বেগম ফিরে আসার ঘটনায় আমরা সবাই আনন্দিত। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এতোদিন তিনি কোথায় ছিলেন ও কেমন ছিলেন তা জানা যায়নি।’ এ,আর

  • নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে

    নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে

    নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে যত মানুষ মারা গিয়েছিল, এবারের বন্যাতেও মৃতের সংখ্যা সেই পর্যায়ে যেতে পারে।

    ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ওয়াগলে বলেন, বন্যার প্রভাব ভৌগোলিকভাবে সীমিত এলাকায় হলেও এতে প্রাণহানির মাত্রা ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের মতোই ভয়াবহ হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এই তথ্য জানিয়েছে।

    ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নেপাল, চীন, ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ২১ হাজার আহত হয়েছিলেন।

    নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ।

    নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২০৬টি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের ১ হাজার ৮৮৯ স্বজনের কাছ থেকেও নমুনা নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০৫টি মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।

    নিখোঁজদের উদ্ধারে থার্মাল ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞদেরও নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি সুড়ঙ্গ থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, সীমিত আকাশসীমা এবং বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ।

    এদিকে বিদেশি নাগরিকদের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধার অভিযান নিয়ে নিয়মিত দেওয়া তথ্য-হালনাগাদ সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে।

  • কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব!

    কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব!

    কে হবেন জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব! এ নিয়ে কৌতুহল সারাবিশ্বে। তবে এর মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ পদে প্রার্থীর সংখ্যা সাত। এর মধ্য থেকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি বেছে নিতে বিশ্বশক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ পর্যন্ত তিন দফা গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। সম্ভবত মাত্র তিনজন প্রার্থী এখনো প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

    আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন মহাসচিব এমন একটি সংস্থার দায়িত্ব নেবেন, যেখানে ব্যয় কমানোর বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে এবং বিশ্বের বড় বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে এখন অনেকটাই প্রান্তিক অবস্থানে দেখা হচ্ছে। তবে জরিপগুলোতে এখনো জাতিসংঘের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী জনসমর্থনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য মানুষ শুধু জাতিসংঘকে নয়, বিশ্বের নেতাদেরও সমানভাবে দায়ী করছে।

    গত সপ্তাহে জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের জন্য জিওপোলের করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে ৮৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না অথবা খুব সামান্য জানেন।

    সফল প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয়জন বর্তমান সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স, বৃটেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি দেশও যেন ভেটো না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজনের ব্যাপকতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ৩১শে ডিসেম্বর।

    শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যেসব নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের মধ্যে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী ও জাতিসংঘে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত লানা নুসেইবেহ এবং জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যপন্থী রাজনীতিক সিগরিড কাগ। গাজায় জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি অল্প সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর উপদেষ্টা কমিটিতে যোগ দেন।

    আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন কাজাখস্তানের বহুভাষী প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেখানোর ক্ষেত্রে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ট্রাম্প এখনো অরবানকে যথেষ্ট পছন্দ করেন। তবে ইউরোপের অনেক নেতা তাকে বিভেদ সৃষ্টিকারী জনতুষ্টিবাদী হিসেবে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ভুক জেরেমিচের নামও আলোচনায় এসেছে। ২০১৬ সালের মহাসচিব নির্বাচনে তিনি গুতেরেসের পর দ্বিতীয় হয়েছিলেন। তবে আলোচনায় আসা এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর কেউই প্রকাশ্যে জানাননি যে তারা প্রার্থী হতে চান।

    এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ২১টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টি পূর্ণ সদস্য। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করছি, এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মাত্র একজন এবং আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে মাত্র দু’জন করে নাগরিক এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দেরিতে কোনো প্রার্থীকে প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হলে তার দেশ বা অঞ্চল যা-ই হোক, অনেকে এতে অসন্তুষ্ট হতে পারেন।

    কারণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক করার জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক এই নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্যের কাউকেই অসন্তুষ্ট না করার প্রয়োজনীয়তা প্রার্থীদের এমন কিছু বক্তব্য দিতে বাধ্য করছে, যা কিছুটা নিরস এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। অথচ জাতিসংঘের এই মুহূর্তে প্রয়োজন দৃঢ় নেতৃত্বের। সব প্রার্থীই বলেছেন, তারা জাতিসংঘকে আবার শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকায় ফিরিয়ে আনতে চান।

    ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু অনভিজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিকও প্রায়ই জাতিসংঘের কাছে এই ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে থাকেন। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের তৃতীয় ও শেষ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে আবারও এগিয়ে গেছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের নয় সদস্য তাকে ‘উৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন। পাঁচজন তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন এবং একজন কোনো মতামত দেননি। গ্রিনস্প্যানের আশঙ্কা, ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও চীন থাকতে পারে। এই বিরোধিতা তাকে অতিক্রম করতে হবে।

    ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি গায়ানার রাজনীতিক ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটের পেছনে পড়ে যান। ওই ভোটে রড্রিগেজ-বিরকেট প্রথম হন। তিনি আটটি ‘উৎসাহিত’ ভোট, তিনটি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট এবং চারটি ‘কোনো মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। গত শুক্রবার রড্রিগেজ-বিরকেটের ‘উৎসাহিত’ ভোটের সংখ্যা আটটিই ছিল।

    তবে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোট তিনটি থেকে বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় প্রার্থী ইকুয়েডরের সাবেক অর্থমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসাও এখনো কোনোভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন। তবে গত সপ্তাহে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোটের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল তিনটি।

    এসপিনোসা জাতিসংঘের ভেতরে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন মহাসচিব চান, যিনি মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে আরও বেশি প্রস্তুত থাকবেন।

    প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না কোনো প্রার্থী অতিক্রম করা অসম্ভব কোনো বাধার মুখে পড়েছেন কি না। কারণ তখন রঙভিত্তিক ব্যালটের মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো ভোট নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে এসেছে কি না। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দরকষাকষির ওপর।

    চীন জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়- এ বিষয়টি মেনে নেন কি না তিনি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হতে পারে, চীন যে প্রার্থীকে চায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন একজন প্রার্থীকে মেনে নেবে যাকে তারা অন্তত সহ্য করতে পারে।

    জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিয়ে তাদের আগের সংশয় কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র শুধু অতিরিক্ত ১৮০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দেয়নি, সম্প্রতি জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদা বাবদ আরও ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারও দিয়েছে।

    তবে এই অর্থও আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বকেয়া অর্থের এক-চতুর্থাংশেরও কম। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মানবাধিকারকর্মী মিশেল বাচেলেট সপ্তাহান্তে এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানো প্রথম প্রার্থী হন। গত সপ্তাহের ভোটে তিনি মাত্র একটি ‘উৎসাহিত’ ভোট পাওয়ার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

  • কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার শহরতলির ত্রিমোহনী বাজারে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দোকান থেকে পাওয়া ২৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিমোহনী বাজারের রোহান ট্রেডার্সে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানে থাকা সার পরীক্ষা করে মানহীনতা ও প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দোকান মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইসাথে জব্দ করা ২৫ বস্তা ভেজাল সার ধ্বংস করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত ইয়াসমিন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারি, ত্রিমোহনীর এক ডিলার ভেজাল সার বিক্রি করছেন। ওই ডিলার অন্য একটি স্থান থেকে সার এনে বিক্রি করতেন। অভিযান চালিয়ে সেখানে ২৫ বস্তা ভেজাল সার মিশ্রিত বস্তা পাওয়া যায়। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সারের সঙ্কটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল ও নকল সার বিক্রি করছেন। এসব সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নকল ও ভেজাল সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন

    সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাগরিক সমাজের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন নুরু রহমান, তাওফিকুল ইসলাম ও আবুল হোসেন। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর তাদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়।

    দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাছাই কমিটিতে আবেদনকারী সার ডিলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা, অযোগ্য আবেদনকারীদের বাতিলের কারণ প্রকাশ করা এবং যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত সংখ্যার বেশি হলে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করা।

    এছাড়া স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুবিধা না দেয়ার দাবি জানানো হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যারা সার ডিলারশিপ পেতে আবেদন করেছিল, সেই আবেদনে সরকারি দলের কতিপয় নেতার যোগসাজসে যোগ্যদের বাদ দিয়ে দলীয় লোক নিয়োগ দেয়ার পায়তারা চলছে। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগ দেয়ার দাবি জানান।

    তারা আরো বলেন, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হলে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে জেলার কৃষকদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনকারীরা।

    তারা বলেন, মেহেরপুরের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষক। কৃষকদের যাতে বঞ্চিত হতে না হয়, ফসলের উৎপাদন যাতে ব্যহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ,আর

  • চারভাগ হচ্ছে উত্তর প্রদেশ

    চারভাগ হচ্ছে উত্তর প্রদেশ

    খুব শিগগিরই ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যকে ভেঙে চারটি নতুন রাজ্য তৈরি করা হবে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং সোহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর।

    তার দাবি, নতুন ‘পূর্বাঞ্চল’ রাজ্য গঠিত হলে সেখানকার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হবেন রাজভর সম্প্রদায়েরই কেউ।

    আম্বেদকরনগরে এক জনসভায় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার এই বিষয়ে কথা হয়েছে। জাতি শুমারি শেষ হওয়ার পরেই রাজ্য ভাগের এই কাজ শুরু হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

    প্রস্তাবিত চারটি নতুন রাজ্য হলো—পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড এবং হারীত প্রদেশ। রাজভরের মতে, পূর্বাঞ্চলে রাজভর জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তাই সেখানকার ক্ষমতার শীর্ষে এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিই থাকবেন।

    ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজভরের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতির পুরোনো রাজ্য ভাগের আলোচনাকে আবার গরম করে তুলেছে। বিশাল এই রাজ্যটিকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ভাগ করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০১১ সালেও মায়াবতীর সরকার বিধানসভায় চার ভাগে ভাগের প্রস্তাব পাস করলেও কেন্দ্র সরকার তখন অনুমোদন দেয়নি।

    সমাবেশে অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) ২৭ শতাংশ কোটার সুবিধা সবাই যেন সমানভাবে পায়, সে বিষয়েও জোর দেন রাজভর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতি শুমারির পর অনগ্রসর শ্রেণীর সবার জন্য ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচদিন পর মামুন হোসেন অন্তর (৩১) নামে এক ট্রাক ড্রাইভারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উথলী গ্রামের আখসেন্টারের পেছনের একটি আমগাছ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মামুন ওই গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

    জানা গেছে, দুপুরে মামুনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।

    পেশায় ট্রাকচালক মামুন বেশ কিছুদিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবার ফেলে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। তবে কয়েকদিন তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ পচে যাওয়ায় সঠিকভাবে তাকে চেনা যায়নি। তবে পরনের পোশাক দেখে লাশটি মামুনের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘লাশ ঝুলে থাকার খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার হাসাড়া-সিংপাড়া কেসি সড়ক-সংলগ্ন একটি আবাদি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, কেসি সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় তারা ওই এলাকা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পায়। পরে আশপাশে খোঁজ নিয়ে জমির মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ওই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, গত তিন-চার দিন আগে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এই পুরুষের লাশটি ফেলে রাখা হয়। পিবিআই টিমকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা এল লাশের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

  • নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট

    নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী তেহরান ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক দরবারে ইরান নিজের অধিকার ও অবস্থান বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে শক্তভাবে তুলে ধরবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক কঠিন বার্তা দেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, চাপ সৃষ্টি বা গায়ের জোর খাঁটিয়ে কোনো স্বাধীন জাতিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।

    এই সফরের সার্বিক বিষয় তদারকি করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যেই নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি সোমবার সেখানে পৌঁছান এবং জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে মূল প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

  • ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    ভেড়ামারায় খাল থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি মাছ আবাদি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রেললাইনের পূর্ব পাশে খালটিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখা যায়। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধা করে পুলিশ।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, লাশটি শনাক্তকরণ ও পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও অন্যান্য তথ্য জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভেড়ামারা থানা পুলিশ উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ,আর

  • ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ১১

    ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ১১

    তুরস্কের মানিসা প্রদেশের একটি কারিগরি স্কুলের সামনে হঠাৎ এক কিশোরের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লাস শুরুর মুখে ‘ইন্সি উজমেজ’ হাই স্কুলের বাইরে এই ভীতিজনক ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    হামলা চালিয়েই চম্পট দেয় অভিযুক্ত কিশোর। পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিদ্যালয়টিরই ১৫ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে আটক করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি বড় শটগান হাতে নিয়ে বেশ খোশমেজাজেই সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার এক পর্যায়ে গুলি চালিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল।

    দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছেলেটির দাদার। তাই ঘটনার মূল রহস্য বের করতে ছেলেটির পাশাপাশি তার বাবা, মা ও দাদাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নিয়ম মেনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হবে। তবে ঠিক কী কারণে সে এই কাণ্ড ঘটাল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত দল পাঠিয়েছে।

    চলতি বছরে এ নিয়ে তুরস্কে তিনবার স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটল। এর আগে গত এপ্রিলে কাহরামানমারাস শহরের এক স্কুলে ১৪ বছরের এক কিশোরের গুলিতে ৯ শিশু শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক মারা যান। একের পর এক এমন সহিংস ঘটনায় গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও স্কুলে নিরাপত্তা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিলেও এই ধরনের রক্তপাত থামানো যাচ্ছে না।

  • নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরছে শুভেন্দু

    নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরছে শুভেন্দু

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ফিরে যাচ্ছে পূর্বতন মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চলে আসছিল এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। এটি মহাকরণ নামেও পরিচিত।

    ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ২০১৩ সালে তিনি রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরিয়ে নিয়ে যান হাওড়ায় কলকাতার হুগলি নদীর অন্য পাড়ে। সেখানেই তিনি রাজ্য সচিবালয় গড়েছিলেন নবান্ন নাম দিয়ে।

    ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে পরাস্ত হন মমতা। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরকারে এসে ঘোষণা দেন, রাজ্য সচিবালয় ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী এই বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়। শুভেন্দু ক্ষমতা গ্রহণের পর অস্থায়ীভাবে তাঁর দপ্তরের কাজ নবান্নেই সম্পন্ন করছিলেন।

    রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার এবার পূজার আগেই নবান্ন থেকে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। জানা গেছে, পূজার আগে আগামী ১০ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীসহ আরও ৫ মন্ত্রীর দপ্তর শুরু হবে এই মহাকরণে। এসব দপ্তরের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখান থেকে দুর্গাপূজার আগেই মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ের কাজ শুরু করবেন। যদিও পূজা শুরু হবে ১৫ অক্টোবর থেকে। ওই দিন দুর্গাপঞ্চমী।

    আরও জানা গেছে, আগে এই মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর ছিল দোতলায়, এবার তা হচ্ছে তিনতলায়। সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরও প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের দপ্তর সংস্কার করে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজির দপ্তরও তৈরি করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দপ্তরের কাজ এখনো অনেকটা বাকি।

    ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল কলকাতার ঐতিহাসিক ডালহৌসি বা বিবাদী বাগের লালদিঘীর উত্তরপাড়ে। সেই ১৭৮০ সালে। এই ভবনের নকশা তৈরি করেছিলেন টমাস লায়ন। মূলত ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের কেরানিদের বসবাসের জন্য এখানে তৈরি করেছিলেন ১৯টি পৃথক ঘর। আগে এই স্থানে ছিল কলকাতার প্রথম চার্চ ‘সেন্ট অ্যান চার্চ।’ ষোড়শ শতকে নির্মিত হয়েছিল এই চার্চ।

    এটিই ছিল ব্রিটিশদের তৈরি প্রথম চার্চ। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ভেঙে গেলে সেখানে তৈরি হয় করণিক বা কেরানিদের থাকার আবাসস্থল। করণিকদের জন্য গড়া এসব আবাসস্থল পরবর্তী সময়ে হয়ে যায় মহাকরণ। আর সেদিন করণিকদের বলা হতো রাইটার্স। সেই হিসেবে এসব ভবনের পরবর্তী সময়ে নাম হয়ে যায় রাইটার্স বিল্ডিং।

  • অনুমতি ছাড়া পাহাড়ে :গুনতে হচ্ছে জরিমানা

    অনুমতি ছাড়া পাহাড়ে :গুনতে হচ্ছে জরিমানা

    মালয়েশিয়ার মাউন্ট কিনাবালুতে অনুমতি ছাড়া ওঠার পর দুর্ঘটনায় পড়ে কয়েক দিন আটকে থাকা এক ক্রোয়েশীয় পর্বতারোহীকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ৪৬ বছর বয়সি ওই পর্বতারোহীর নাম মাউরো পারসিক। তিনি লন্ডনে বসবাস করেন।

    পারসিক ৬ সেপ্টেম্বর মাউন্ট কিনাবালুতে ওঠার সময় একটি অননুমোদিত পথ ব্যবহার করেন। এ সময় তিনি প্রায় ১০ মিটার নিচে পড়ে যান। পরে দুর্বল মোবাইল ফোনের সংকেতের মধ্যেই জরুরি সহায়তার জন্য এসওএস পাঠান। দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও পাঁজরে আঘাত লাগে। পরে প্রায় পাঁচ দিন ধরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারীরা তাকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনেন।

    উদ্ধার অভিযানটি সহজ ছিল না। পারসিক যে পথে পাহাড়ে উঠেছিলেন, সেটি নির্ধারিত বা চিহ্নিত পথ ছিল না। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বৃষ্টিপাত ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকারীদের বড় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। দড়ি ও মই ব্যবহার করে তাকে স্ট্রেচারে করে নিচে নামানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন সংস্থার অন্তত ৪৩ জন সদস্য অংশ নেন।

    পাহাড়ে আটকে থাকার সময় পারসিককে কয়েক দিন খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। কাছের একটি ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করে তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে ভারি বৃষ্টির কারণে সেখানে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। একপর্যায়ে ঘুমের ব্যাগ পানির স্রোতে ভেসে যায় এবং তিনি একটি পাথরের সঙ্গে যুক্ত দড়ি ধরে নিজেকে নিরাপদ রাখেন।

    মাউন্ট কিনাবালু মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত। এর উচ্চতা ৪ হাজার ৯৫ মিটার। এটি বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে অবস্থিত এবং কিনাবালু পার্কের অংশ। পাহাড়টি স্থানীয় কাদাজানদুসুন জনগোষ্ঠীর কাছে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাহাড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    উদ্ধারের পর পারসিককে কিনাবালু পার্কে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। সাবাহ পার্কস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জরিমানার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং তিনি অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর তাঁকে পাহাড়ে ওঠার নিয়ম, নিরাপত্তাবিধি ও অনুমোদিত পথ ব্যবহারের বিষয়ে জানানো হয়।

    পারসিক পরে সাবাহর স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ, সংস্কৃতি বা পাহাড়কে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তার দাবি, প্রবেশ ফি এড়ানো বা ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভাঙা তার উদ্দেশ্য ছিল না। পাহাড়টির সৌন্দর্য দেখে আকস্মিকভাবে সেখানে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের পরিবেশের ক্ষতি না করার চেষ্টা করেছিলেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পাহাড়টির পবিত্রতার বিষয়টিও সম্মান করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, পাহাড়ে ওঠার আগে নিজের সিদ্ধান্তের ঝুঁকি ও পরিণতি যথেষ্ট বিবেচনা করেননি।

    ঘটনাটি শুধু একজন পর্যটকের দুর্ঘটনার বিষয় নয়। অনুমোদিত পথের বাইরে পাহাড়ে ওঠা পর্যটকের নিজের জীবন যেমন ঝুঁকিতে ফেলে, তেমনি তাকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। মাউন্ট কিনাবালুর মতো দুর্গম ও আবহাওয়াপ্রবণ এলাকায় তাই অনুমতি, প্রশিক্ষিত গাইড এবং নির্ধারিত পথ অনুসরণ করার বিষয়টি পর্যটন নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও ঘটনার পর পর্যটকদের অনুমোদিত পথ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। পারসিকের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত প্রাণহানিতে পরিণত না হলেও তার উদ্ধারে বহু মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালাতে হয়েছে। জরিমানা ও পরবর্তী সতর্কতা তাই পাহাড়ি পর্যটনে ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও নিরাপত্তাবিধি মানার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।

  • ফিজিতে ৬০ জনে একজন এইচআইভি আক্রান্ত

    ফিজিতে ৬০ জনে একজন এইচআইভি আক্রান্ত

    এইচআইভি সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। দেশটিতে গত কয়েক বছরে নতুন সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের হিসাবে, ২০২৫ সালে ফিজিতে প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের কথা জানতেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

    ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর দেশে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৩। অর্থাৎ এক বছরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশজুড়ে পরীক্ষার সুযোগ বাড়ায় আগে শনাক্ত না হওয়া অনেক রোগীও চিহ্নিত হয়েছেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে আনুমানিক একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন বলে ইউএনএইডসের হিসাব। পাঁচ বছর আগে এই অনুপাত ছিল প্রায় প্রতি ১৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্কে একজন। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে বলেও জানিয়েছে ইউএনএইডস।

    ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংক্রমণের প্রকৃতি বোঝার জন্য পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে শুধু সংক্রমণ বৃদ্ধি নয়, উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৬ জনে পৌঁছানোকে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ইউএনএইডস জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাধ্যম শনাক্ত করা গেছে, সেখানে অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার ঝুঁকি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

    তবে সংক্রমণ শুধু মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিজির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ। ২০২৫ সালে ৫৯টি শিশু এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেয় এবং তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রথম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বেড়েছে।

    ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু বলেছেন, পরিস্থিতিকে আর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকার এখন বিনা মূল্যে স্বেচ্ছামূলক ও গোপনীয় এইচআইভি পরীক্ষা সম্প্রসারণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি জোরদার করছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস বা প্রিইপি (সংক্রমণের আগে প্রতিরোধমূলক ওষুধ) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের জন্য সুচ ও সিরিঞ্জ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও করেছে সরকার। এর মাধ্যমে ব্যবহৃত সুচ ভাগাভাগির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ওষুধের ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিজি সরকার পাঁচজন মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি মন্ত্রিসভা উপকমিটি গঠন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য বিভাগকে যুক্ত করে নীতি ও বাস্তবায়নের বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএইডস ফিজির এই উদ্যোগে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের কাছে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয় করা বা বৈষম্যের শিকার হওয়া। ইউএনএইডস ও ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এইচআইভি দৈনন্দিন সাধারণ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না। কার্যকর চিকিৎসা গ্রহণ করে ভাইরাসের মাত্রা অনির্ণেয় পর্যায়ে রাখা গেলে যৌন সংক্রমণও প্রতিরোধ করা যায়। তাই ভয় বা ভুল তথ্যের পরিবর্তে পরীক্ষা, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

    ফিজির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম। এমন একটি ছোট জনসংখ্যার দেশে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। ইউএনএইডসের মতে, ফিজির বর্তমান পরিস্থিতি শুধু দেশটির জন্য নয়, পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্যও সতর্কবার্তা। ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হওয়ায় নতুন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    ফিজির সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও পরিস্থিতিকে আতঙ্কের বিষয় হিসেবে না দেখে দ্রুত সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো, মাদক ব্যবহারজনিত সংক্রমণ কমানো, মা ও শিশুর সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ফিজির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার—সবগুলো ব্যবস্থাই একসঙ্গে প্রয়োজন।

  • বাস ভাড়া বাড়ল, প্রতি কিলোমিটারে কত?

    বাস ভাড়া বাড়ল, প্রতি কিলোমিটারে কত?

    সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এই সিদ্ধান্তের পর এখন দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হলো। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২ টাকা ৭০ পয়সা।

    বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য ও শ্রমিকনেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যারা বেশি ভাড়া নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি জানান, বৈঠকে পরিবহন মালিকদের প্রস্তাব ছিল প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর। সেখান থেকে ৩ পয়সা কমিয়ে ১৭ পয়সা করা হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে জনসাধারণকে সেটা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এর আগে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন এই দাম গতকাল সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    নতুন দামবৃদ্ধির আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল। তবে নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ডিজেলের দাম বেড়ে লিটারপ্রতি ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা হয়েছে।

    এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের পর গতকাল বাস ভাড়াও বাড়ানোর প্রস্তাব দেন পরিবহন মালিকরা। কিলোমিটার প্রতি বাস ভাড়া ১৮ থেকে ২০ পয়সা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে প্রস্তাব দেন তারা। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

  • ট্রাম্প টিভি চালু ট্রাম্পের

    ট্রাম্প টিভি চালু ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’-এ ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, অনুষ্ঠান, ভিডিও ও বিভিন্ন কার্যক্রমের ফুটেজ সরাসরি এবং ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হবে।

    সোমবার চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের ‘বড় মুহূর্ত’, গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও নির্বাচিত ভিডিও ২৪ ঘণ্টা এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ থাকবে। প্ল্যাটফর্মটি বাস্তব সময়ে হালনাগাদ করার কথাও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এবং কয়েকটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। গত সপ্তাহে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই তিন সংবাদমাধ্যম সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। তারা অভিযোগ করেছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে।

    ট্রাম্প অবশ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান সমর্থন করেছেন। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি সুবিধা, অধিকার নয়।

    এরই মধ্যে মার্কিন টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচলিত প্রেস পুলেও সংকট তৈরি হয়েছে। সিএনএন, এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ ও এনবিসি সাধারণত প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করে এবং পরস্পরের মধ্যে সেই ফুটেজ ভাগ করে নেয়। সিএনএনকে প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের কর্মসূচির পুল কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    ফলে সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও প্রচলিত টেলিভিশন প্রেস পুলের সরাসরি ভিডিও কভারেজ ছিল না। অনুষ্ঠানটি হোয়াইট হাউসের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে সম্প্রচার করা হয়।

    ‘ট্রাম্প টিভি’র প্রথম সম্প্রচারে ট্রাম্পের পুরোনো বক্তব্য ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ফুটেজ দেখানো হয়। সম্প্রচারের শুরুতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়সংক্রান্ত একটি ট্রেলার এবং পরে মাউন্ট রাশমোরে ৩ জুলাইয়ের বক্তব্য প্রচার করা হয়।

    হোয়াইট হাউসের নিজস্ব সম্প্রচারব্যবস্থা চালুর ফলে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও সরকারি কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের সরাসরি একটি মাধ্যম তৈরি হলো। একই সঙ্গে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি যোগাযোগ, প্রেসিডেন্টের সংবাদমাধ্যম-সম্পর্ক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরো সামনে এনেছে। এ বিষয়ে আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৩১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে অতিরিক্ত ডিআইজি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও উপপুলিশ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার জারি করা এসব প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে দেশের বিভিন্ন রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, সিআইডি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদে বদলি-পদায়ন করা হয়।
    একটি প্রজ্ঞাপনে এসএমপি সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়িতে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি), টিটিএম, ঢাকায় এবং এসএমপির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, খুলনায় পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া বিশেষ দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদকে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, রংপুরে এবং বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে থাকা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহীতে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
    অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে র‌্যাবের উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামানকে পুলিশ সুপার হিসেবে নীলফামারীতে, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. নাজিরুল ইসলামকে বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি হিসেবে ময়মনসিংহে এবং র‌্যাবের উপপরিচালক মীর মনির হোসেনকে পুলিশ সুপার হিসেবে রাজবাড়ীতে পদায়ন করা হয়েছে। এ আদেশে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে রাজশাহী, মেহেরপুর, রাঙামাটি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন ও পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. নুরুল আমিন হাওলাদারকে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ স্টাফ কলেজে পদায়ন করা হয়েছে।
    তৃতীয় প্রজ্ঞাপনে ১৬ জন কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিউল ইসলামকে বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিআইডি, পিটিসি রংপুর, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, পুলিশ টেলিকম, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, খুলনা ও বরিশাল রেঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
    এছাড়া, আগের এক প্রজ্ঞাপনে শাহরিয়ার আল মামুনকে উপপুলিশ কমিশনার, এসএমপি, সিলেট হিসেবে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • ডিজেলে দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

    ডিজেলে দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

    বর্তমানে শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৮৯ টাকা করে লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় জানাতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

    ব্রিফিংয়ে জাহেদ উর রহমান আরও জানান, প্রতিদিন কেবল ডিজেল খাতেই প্রায় ১০৯ কোটি টাকা সরকার লোকসান দিচ্ছে। অর্থাৎ শুধু ডিজেলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকারের লোকসান হবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান মেনে নিয়ে দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ ধারাবাহিক লোকসান হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের বড় ঝুঁকি এড়াতে সরকারকে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করতে হয়েছে।

    লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের মূল্য ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    পার্শ্ববর্তী ও এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ভারতের কলকাতায় বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলংকায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা এবং পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা।

    বাংলাদেশে দর সবচেয়ে কম থাকায় প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা তেল সীমান্তে পাচারের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিটারে ২০ টাকা সমন্বয় করায় বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।

    জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে করে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিজিএফসিএলের অধীন এলাকাগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

    সম্পাদকের নোট: দাম সমন্বয়ের পর প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের লোকসান প্রায় ৭০ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসানের হিসাবটি ২১ সেপ্টেম্বর দাম সমন্বয়ের আগের অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

  • সংকটে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

    সংকটে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

    সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাইকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চের শেষ পর্যন্ত সরকারি অফিসে কর্মীদের সরাসরি উপস্থিতির সময় হবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা। বাকি নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করে পূরণ করবেন।

    সরকারি সংস্থাগুলোকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণপরিবহন ব্যবহার করে অফিসে যাতায়াত করেন। এরই মধ্যে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে মেট্রোতে করে অফিসে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রচারণার অংশ হিসেবেই এসব ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

    গাড়ির ব্যবহার কমাতে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেট্রো ও বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো ও জরাজীর্ণ সরকারি গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক, গ্যাসচালিত বা হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ধাপে ধাপে ও আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিছু ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে কর্তৃপক্ষ। সরকারসংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে কর্মঘণ্টা শেষে হিটিং ব্যবস্থা বন্ধ এবং বাতি নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে পরে আলাদা ব্যবস্থা ঘোষণা করা হবে।

    এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি নির্দেশনায় সরকারি সংস্থাগুলোকে উপযুক্ত কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ দিতে বলেন। এতে সরকারের পেট্রল, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়।

    চলতি মাসের শুরুতে পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ‘সরকারের মাধ্যমেই আমরা জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার কমানোর কাজ শুরু করেছি।’ সরকারের কর্মীদের জন্য নেওয়া এসব ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাওয়া জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • ডিজেলে এখনও লিটারে ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী

    ডিজেলে এখনও লিটারে ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী

    জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

    রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।

    সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা হলেও লোকসান পুরোপুরি কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    বিভিন্ন দেশের দামের তুলনা
    আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরে রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে প্রায় ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রিজভীর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময়ও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। পরে দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলেও সরকারের লোকসান এখনো রয়েছে।

    নাশকতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির আহ্বান
    দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

    এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

    রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে তারা কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

    সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান ও মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।

  • পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিত: ক্ষুব্ধ ভারত

    পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিত: ক্ষুব্ধ ভারত

    হিমালয়ের বিতর্কিত একটি অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীন নিজেদের সীমান্ত নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশ পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।

    বহু দশক ধরে ভারত ওই অঞ্চলে পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দিল্লির দাবি, এই ভূখণ্ড ভারতের অংশ। তাই পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্তকেই ভারত স্বীকৃতি দেয় না।

    পাকিস্তান চুক্তিটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও চীনের সহযোগিতা আরো গভীর হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

    বিশেষ সংবেদনশীল এক সময়ে এই ঘোষণা এসেছে। হিমালয় সীমান্তের বড় অংশজুড়ে ভারত ও চীনের সেনাদের পৃথক করা বিতর্কিত রেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে কয়েক বছর ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই বেইজিং ও ইসলামাবাদ এমন একটি সীমান্ত এলাকায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যার ওপর ভারতেরও দাবি রয়েছে।

    এই যৌথ কমিশনের আওতায় রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত এটিকে লাদাখে অবস্থিত নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

    দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। পাকিস্তান ওই অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত সরকার ১৯৬৩ সালের ওই চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির মতে, চুক্তিটি অবৈধ ও অকার্যকর।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভারতের ভূখণ্ড, যা অবৈধ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দখলে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার পাকিস্তানের নেই।’

    পাকিস্তানের অবস্থান ভিন্ন। দেশটি বলে, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-সংক্রান্ত সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবস্থানে ভারত নেই। পাকিস্তান ওই চুক্তিকে বৈধ বলে মনে করে।

    দিল্লির শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জেকব বলেন, সর্বশেষ ঘটনাটি দুই পক্ষের বহু পুরোনো বৈরিতার আরেকটি প্রকাশ। একেবারে নতুন কিছু নয়।

    তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই ব্যবস্থা এই সময়ে কার্যকর করা হলো।

    জেকবের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বৃহত্তর সীমান্ত নির্ধারণের প্রচেষ্টা। পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেও এই সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগ্রহ থাকতে পারে।

    জেকব বলেন, এই উন্নয়নে ভারতের ‘উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত।

    তার মতে, আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পদক্ষেপটি ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারাকে উপেক্ষা করছে বলে মনে হয়।

    চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তির পর যে দেশ শেষ পর্যন্ত ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার কথা ছিল বলে জানান তিনি।

    জেকবের মতে, ভারতের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক তথ্য পরিবেশনের দিক থেকেও জটিল।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তথ্য পরিবেশনে চীনের তুলনামূলক প্রাধান্য রয়েছে। সিজিটিএন, সিআরআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের উপস্থিতি তাদের বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের বয়ান ও মানচিত্র তুলে ধরার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারত প্রায়ই এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা বিশ্বের অন্যান্য রাজধানী উপেক্ষা করতে পারে।

    তবে সীমান্তে বাস্তবে যে কার্যক্রম চলছে, তার তুলনায় এই উদ্বেগের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) ও কারাকোরাম মহাসড়ক।

    যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমি ও হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক।

    হাক্কানি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা সহযোগিতা জোরদার করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষার জন্য এটি একটি প্রক্রিয়া।

    তার মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতি একটি বার্তাও দেয়। তা হলো, বেইজিং এখনো কাশ্মীর প্রশ্নকে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেখে।

    হাক্কানি বলেন, চীন কখনো কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের অবস্থান মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও তারা পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, ভারতের নয়। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের এই অঞ্চলটি চীনের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে। ভারত এটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

    হাক্কানির মতে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের অবস্থানও বদলেছে।

    তিনি বলেন, পাকিস্তান এখনো মনে করে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ বাকি। কিন্তু ভারত যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করেছে, তখন ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে যে বিষয়টি অঘোষিত অবস্থায় রয়েছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তান কোনো সমস্যা দেখছে না।

    বেইজিংয়ের জন্যও এই ব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি।

    তার মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূকৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একই সঙ্গে ভারতকে চীন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী হুমকির ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ।

    হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত তাদের সিদ্ধান্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। তাই যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও অনেক আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    তার মতে, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলন সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে মনে করিয়ে দেওয়া যে বহুপক্ষীয় সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

    তবে জাবিন টি জেকব সতর্ক করে বলেন, এই বিষয়টির প্রতিটি দিককে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, এই মুহূর্তে এলএসি-তে এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

    এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার গুরুত্ব হয়তো বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের মধ্যে নয়। বরং ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই এর গুরুত্ব থাকতে পারে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের অবস্থান ‘স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক’।

    দিল্লির মতে, পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। এতে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

    হাক্কানি মনে করেন, বিরোধটি শুধু সীমান্তের আইনি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়।

    তার মতে, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতভেদ ভূকৌশলগত, শুধু মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী অর্জন করা সম্ভব, তারও কিছু সীমা রয়েছে।

    হাক্কানি আরো বলেন, পাকিস্তান এখনো ভারতের বিরুদ্ধে চীনের ‘দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধক’। ইসলামাবাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততা দিল্লির প্রতি সেই বার্তাই প্রকাশ করতে থাকবে।