সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • পটিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    পটিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের পটিয়ার শ্রীমাই খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার উত্তর ছনহরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমাই খাল থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে শ্রীমাই খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউল হক এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উত্তর ছনহরার খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর হতে পারে। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

    তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ওই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’ এ,আর

  • নড়াইলে নাশকতার মামলায় হবখালী ইউপি মেম্বার লিটু গ্রেফতার

    নড়াইলে নাশকতার মামলায় হবখালী ইউপি মেম্বার লিটু গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাশকতার মামলায় নড়াইল সদরের হবখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) ইব্রাহিম হোসেন লিটুকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে কাগজীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, হবখালী ইউপি মেম্বার ইব্রাহিম হোসেন লিটুকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ,আর

  • সাতক্ষীরায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    সাতক্ষীরায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ – এ স্লোগান ধারণ করে সাতক্ষীরায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায় আল আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ। প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম এবং সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সততা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

    প্রধান আলোচক সাইদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক ফলাফলে সফল হলেই চলবে না, তাদের একজন আদর্শ ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা ও নৈতিকতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সেরা হওয়ার পাশাপাশি আদর্শিক চেতনায় বলীয়ান হতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট, ফুল, বই, কলম ও প্যাডসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি ‘পরামর্শ বোর্ড’ও রাখা হয়। অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য ফটোফ্রেমের ব্যবস্থা করা হয়।

    শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও একজন বক্তব্য দেন।

    আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে ‘কপোতাক্ষ শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরার শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, মিডিয়া ও তথ্য সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সাহিত্য সম্পাদক ইমরান হোসেন আফজাল, সমাজসেবা সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান, এইচআরডি সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, আইন সম্পাদক মো. আকবর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানুল বান্না, সহকারী সমাজসেবা সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, সহকারী এইচআরডি সম্পাদক রাসেল হুসাইন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সভাপতি জিয়াউর রহমান ফাহিম, সিটি কলেজ সভাপতি মোল্ল্যা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ ও আগরদাঁড়ী মাদরাসা থানা সভাপতি মো. মুহিব্বুল্লাহ। এ,আর

  • দেবীগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    দেবীগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে কৃষি জমির পাশ থেকে হাছিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার একটি কৃষি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত হাছিনা বেগম বালাপাড়া এলাকার নূর শেখের স্ত্রী। তিনি বালাপাড়া বাজারে একটি কনফেকশনারি দোকান পরিচালনা করতেন।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন হাছিনা বেগম। বাড়িতে ফিরে তিনি স্বামীকে রাতের খাবার দেন। পরে বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দাওয়াতে যাওয়ার জন্য বের হন। এরপর তার আর বাড়িতে ফেরা হয়নি।

    শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি কৃষি জমিতে স্থানীয় কয়েকজন মাছ ধরার ফাঁদ আনতে গেলে হাছিনা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    দেবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • নড়াইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নড়াইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির নড়াইল জেলা শাখা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের মাল্টিপারপাস হলরুমে ৪০৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তাজ মোহাম্মদের সভাপতিত্বে ও জেলা শাখার সেক্রেটারি রোমান শেখের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক ডা: জায়েদ আহমাদ।

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক তানভীর সিকদার, প্রকাশনা সম্পাদক নুরুজ্জামান, এইচআরডি সম্পাদক নাইমুল ইসলাম, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি ওয়াকিবুজ্জামান অভিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ,আর

  • মাধবদীতে অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

    মাধবদীতে অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদীর মাধবদীর পাঁচদোনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পাঁচদোনা-টঙ্গী সড়কের ভাটপাড়া বাজারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের অন্তরামপুর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২) ও আশুলিয়ার মাতাইল দক্ষিণ পাড়ার হারিস মোল্লার ছেলে নুর উদ্দিন।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে গাজীপুর থেকে যাত্রীবাহি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। পাঁচদোনার ভাটপাড়া সড়কে পৌঁছার পর ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের পিছনে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী নুর উদ্দিন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাইদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ নুর উদ্দিনের লাশ উদ্ধার ও অটোরিকশার চালককে হেফাজতে নেয়।

    থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: জসিম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • বিদ্যুতায়িত ছিল বৈদ্যুতিক খুঁটি, হাত দিতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু

    বিদ্যুতায়িত ছিল বৈদ্যুতিক খুঁটি, হাত দিতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাব্বির হোসেন (১০) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার হাড়িয়াঘোপ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশুশিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন হাড়িয়াঘোপ গ্রামের আজহারুল ইসলামের ছেলে। সে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    এলাকাবাসী ও থানা সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে সাব্বির তার গ্রামে বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে হাত দিয়ে দাঁড়াতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সেখানেই মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে হয়ত কোনোভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। শিশুটি ওই বৈদ্যুতিক খুঁটিতে হাত দিতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।

    কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এ,আর

  • রায়পুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    রায়পুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে চরবংশী এলকেএইচ উপকূল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    মাস্টার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্জিত সাফল্য ধরে রেখে উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হতে হবে। জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

    নিজেদের মেধা ও প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

    প্রধান বক্তা ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন রায়পুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাইয়্যেদ নাজমুল হুদা, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাসেল, ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুল করিম, ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা হোসাইন, এলকেএইচ উপকূল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সামছুদ্দিন সামদানী ও সহকারী সেক্রেটারি গাজী এম এ সিদ্দিক।

    পরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এ,আর

  • আনোয়ারায় স্বাস্থ্য শিবিরে ৫০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

    আনোয়ারায় স্বাস্থ্য শিবিরে ৫০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্বাস্থ্য শিবিরে উপকূলীয় এলাকার ৫০০ হতদরিদ্র রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চশমা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাকাত ফান্ড থেকে ৯০ জন হতদরিদ্র রোগীকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গহিরা মোহাম্মাদীয়া দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে নীডি ফাউন্ডেশন ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আগ্রাবাদ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হয়।

    চিকিৎসা শিবিরে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, চর্ম, চক্ষু ও দন্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। চিকিৎসাসেবা শেষে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চক্ষু রোগীদের বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আগ্রাবাদ শাখার সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবদুল আজিজ রিয়াদ, হিসাব কর্মকর্তা ইকরামুল হক, মার্কেটিং কর্মকর্তা সাম মোহাম্মদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন, মো: রাকিব হোসেন, নীডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো: আলম খান, উপদেষ্টা কামাল হোসাইন, মহাসচিব আজম কুতুবী, প্রকল্প পরিচালক হাফেজ মো: ইসহাক, যাকাত দাতা ইরফানুল করিম ইমন, মোস্তফা কামাল, ইকবাল হোসেন সিফু, মো: নাছির, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো: সাদেক চৌধুরী ও মনির মেম্বার। এ,আর

  • লৌহজংয়ে লুণ্ঠিত ৯৫টি অটোরিকশার ব্যাটারি উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    লৌহজংয়ে লুণ্ঠিত ৯৫টি অটোরিকশার ব্যাটারি উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি অটো গ্যারেজ থেকে লুট হওয়া ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আনিছুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারি উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন পটুয়াখালীর বাউফলের ওলিপুরা গ্রামের মো: মাসুদ (৩৩), মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের দিপুপুরা গ্রামের আছলাম শেখ (৩৮) ও টঙ্গিবাড়ীর পূর্ব আউটশাহী গ্রামের সজিব ফকির (২৯)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, গত শনিবার রাতে উপজেলার মেদিনীমণ্ডলের মাওয়া পুরাতন ঘাট এলাকায় সুরেশ্বর ফারুক নামে একটি অটো গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজন ডাকাতদল গ্যারেজের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে পাহারাদার মাসুমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর গ্যারেজে থাকা ২২টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ৯৫টি পুরাতন ব্যাটারি ও ২২টি চার্জার নিয়ে একটি পিকআপভ্যানে লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

    লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় মামলা করা হয়।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেয়া তথ্যমতে লুট হওয়া ৯৫টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানান তিনি সিরাজদিখানের মালখানগর চৌরাস্তার আছলাম সাইকেল স্টোরের মালিক আছলাম শেখের কাছ থেকে ছয় লাখ ৭৪ হাজার টাকায় ব্যাটারিগুলো কিনেছেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে আছলামকে গ্রেফতার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছলাম পুলিশকে জানান, টঙ্গিবাড়ীর সজিব ফকির ও তার এক বন্ধু ব্যাটারিগুলো বিক্রির জন্য তার কাছে নিয়ে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে আছলাম সাইকেল স্টোরের ক্যাশ মেমো ব্যবহার করে ব্যাটারিগুলো মাসুদের কাছে বিক্রি করা হয়।

    এরপর রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে টঙ্গিবাড়ীর দক্ষিণ বেতকা নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজিবকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজিব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

    ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি সৈয়দ মো: আক্তার হোসেন। এ,আর

  • ধরতে ধরতেই চোখের পলকে পানিতে ভেসে গেল ভাই

    ধরতে ধরতেই চোখের পলকে পানিতে ভেসে গেল ভাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীতে পানির তোড়ে ভেসে গেছে উজির মন্ডল নামে এক কৃষক। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নৌকা করে পদ্মা নদী পাড়ি দেয়ার সময় প্রচন্ড ঢেউয়ে তিনি নৌকা থেকে পড়ে যান। চোখের পলকে তাকে হারিয়ে ফেলে নৌকায় থাকা অন্য সঙ্গীরা।

    নিখোঁজ কৃষক উজির মন্ডল ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া এলাকার মরহুম খেদের আলীর ছেলে।

    নিখোঁজ উজির মন্ডলের ছোট ভাই নাজির মন্ডলও ওই নৌকায় ছিলেন। তিনি বলেন, পদ্মা নদীর চরে আমাদের জমি রয়েছে। প্রতিদিনই আমরা এক সাথে ছয়-সাতজন একটা নৌকা নিয়ে চরে আসি এবং নিত্যদিনের কাজ করি। আজকেও আমার বড় ভাই উজিরসহ চাচাদের সাথে নিয়ে চরে গিয়েছিলাম।

    তিনি আরো বলেন, জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সাড়ে ১২টার দিকে আমরা নৌকা নিয়ে ফিরছিলাম। পদ্মা নদী এখন উত্তাল থাকায় প্রচন্ড ঢেউ ছিল। নৌকা দুলে দুলে চলছিল। হঠাৎ করেই দেখি ভাই পড়ে গেল। তাকে ধরতে ধরতেই চোখের পলকে পানিতে ভেসে গেল ভাই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভাইকে পাইনি।

    স্থানীয়রা জানান, উজির মন্ডলকে উদ্ধার করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও অনেকগুলো নৌকা পদ্মায় নামানো হয়েছে। তবে নদী উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান ধীর গতিতে চলছে। এ,আর

  • সিংড়ায় ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১৮

    সিংড়ায় ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দু’পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের পাছলাড়ুয়া বাজরে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন পাছলাড়ুয়া গ্রামের মাহফুজ (৪৪), কাউছার (২৬), মোস্তফা (৪৪), আয়নাল হক (৫০), স্বাধীন (১৭), ইয়াছিন আলী (২১), আব্দুর রাজ্জাক (৪০), সবুজ আলী (২২), মোজাহার (৫০), আশরাফুল (৬০), আবুল কাশেম (৬১) ও ইসলাম (৪৫) এবং নতুনবস্তি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা (৫৫), শাহীন (৫০), মনিরুল (২৫), রবিউল (৩৫) ও নাসির (৪৫), বেলাল হোসেন (৪৫)।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার পাছলাড়ুয়া ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে পাছলাড়ুয়া ও পাশবর্তী নতুনবস্তি গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধ মীমাংসায় একাধিক বার উদ্যোগ নেন স্থানীয় নেতারা। পরে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে নতুন করে দুই গ্রামের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    এরই জেরে সকালে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফার নেতৃত্বে পাছলাড়ুয়া বাজারে হামলা চালায় নতুনবস্তি গ্রামের প্রায় শতাধিক লোকজন। এ সময় ওই বাজারে অন্তত ছয়টি দোকান ভাংচুর করা হয় বলে জানা গেছে।

    সংঘর্ষে পাছলাড়ুয়া গ্রামের ১২ জন ও নতুনবস্তি গ্রামের ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    এ বিষয়ে এই হামলায় নেতৃত্বদানকারী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই রেজাউল ইসলাম ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘নতুনবস্তি কবরস্থানটি পাছলাড়ুয়া ঈদগাহ মাঠের সাথে লাগানো। কিন্তু ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণে কবরস্থানের মধ্যে ঢুকে যাওয়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’

    পাছলাড়ুয়া ঈদগাহ মাঠের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, আরএস ১৬৮২ নম্বর দাগে তাদের ঈদগাহ মাঠের ৩৮ শতক রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। সেই জায়গায় ঈদগাহ মাঠের কাজ করতে গেলে সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফার নেতৃত্বে হেলমেট পড়ে শতাধিক লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

    সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’ এ,আর

  • ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অপর বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

    ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অপর বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অপর বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে পালকী পরিবহনের একটি বাস। মাঝপথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় এলে বাসটির চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে এক্সপ্রেসওয়েতে পার্কিং করে রাখা হয় বাসটি। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের আরেকটি বাস পালকী পরিবহনের ওই বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৫ জন।

    খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর সরদার জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। পালকী পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে পার্কিং করে রাখে। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলেই ঘটে এ দুর্ঘটনা। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার কাজের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এ,আর

  • নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার

    নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী, রাজনীতিকসহ প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। তাঁর নিউইয়র্ক সফর ও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ ঘিরে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যার জন্য তাঁকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দেয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসপ্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে।

    পুলিশের তথ্যের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান (৫০) বলেন, ‘গাজায় যা করা হচ্ছে, তাতে একটি পুরো সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের নামে এবং আমাদের করের অর্থে করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। এসব নৃশংসতার সাফাই গাওয়ার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।’

    সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। নেতানিয়াহুর সামনে এমন একটি নির্বাচন রয়েছে, যেখানে তিনি হেরে যেতে পারেন।

    নেতানিয়াহু সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা ‘ওয়াকআউট’ করেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, নেতানিয়াহু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একাংশ তাঁর উদ্দেশে দুয়ো দিতে শুরু করেন। তবে এ সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রতিনিধিদল দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ নামের একটি ইহুদি অধিকারগোষ্ঠী। তারা ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করে।

    প্রায় ২০০ মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হন। তাঁদের পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। এসব টি-শার্টে লেখা ছিল, ‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দাও’, ‘যুদ্ধ নয়’ ও ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’।

    বিক্ষোভকারীরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পুলিশ লাউডস্পিকারে বিক্ষোভকারীদের চলে যেতে বলে। তখন কয়েকজন ফুটপাতে সরে যান। তবে বিক্ষোভকারীদের একটি দল রাস্তায় বসে থাকে। তারা নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। সাইকেলে করে আসা পুলিশের সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলেন।

    পুলিশের সদস্যরা একে একে বিক্ষোভকারীদের দল থেকে টেনে বের করেন। তাঁদের হাত পেছনে নিয়ে ‘জিপ টাই’ (প্লাস্টিকের বন্ধনী) দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের পুলিশের বাসে তোলা হয়। বাসের বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীরা ‘নেতানিয়াহু জাহান্নামে যাও’ স্লোগান দিতে থাকেন।

  • সিও কি তা-ই মনে করেন?

    সিও কি তা-ই মনে করেন?

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নতুন হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে পূর্বসূরিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্রতিকৃতিসহ নানা কিছু চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে দেখিয়েছেন। এতে স্পষ্ট যে তিনি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্ক দেখাতে চাইছেন।

    প্রশ্ন হলো, চীনের প্রেসিডেন্টও কি একইভাবে ভাবছেন?

    যুক্তরাষ্ট্রে সির রাষ্ট্রীয় সফরকালে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ব্যাপক চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বারবার চীনের প্রেসিডেন্টের বাহুতে হাত রেখেছেন। তিনি সির সঙ্গে তাঁর ‘সত্যিই দারুণ বন্ধুত্বের’ কথাও বলেছেন।

    ট্রাম্পের এসব আচরণে কখনো কখনো সিকেও সাড়া দিতে দেখা যায়।

    হোয়াইট হাউসের কলোনেডে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রতিকৃতি দেখানোর সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ট্রাম্প, তারপর ট্রাম্প—আর এটি অটোমেটিক সিগনিং ডিভাইস।’

    ট্রাম্প এ কথা বলার সময় সিকে দেখান, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছবির জায়গায় স্বয়ংক্রিয় স্বাক্ষরযন্ত্রের একটি ছবি বসানো হয়েছে।

    ট্রাম্পের এক সহযোগীর পোস্ট করা ভিডিও অনুযায়ী, সি হাসলে বিষয়টি জোর দিয়ে বোঝাতে তাঁর বাহুতে হাত রাখেন ট্রাম্প।

    আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ের দেয়ালে সির সঙ্গে আগের একটি বৈঠকের ছবি দেখাচ্ছেন ট্রাম্প।

    ‘উনি কে? আমি তাঁকে চিনতে পারছি না!’—মজা করে বলেন ট্রাম্প। এরপর তিনি আবার সির বাহুতে হাত রাখেন। পরে বলেন, ‘আপনার প্রতি আমাদের অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে।’

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্র, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্র, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

    ‘তিনি গ্রানাইট পছন্দ করেন’

    এর এক দিন আগেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে নিজে সিকে স্বাগত জানান।

    কোনো চীনা নেতাকে স্বাগত জানাতে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিমানবন্দরে গেলেন। তবে গত মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় তাঁকে একই ধরনের সৌজন্য দেখাননি সি।

    সির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা দেখানোর প্রচেষ্টা গতকাল বৃহস্পতিবার আরও এক ধাপ এগোয়। হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে তৈরি বিশাল হেলিকপ্টার অবতরণস্থল দেখাতে সিকে নিয়ে যান ট্রাম্প।

    সবশেষে সিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এর ভেতরেও নিয়ে যান ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল আকাশযানগুলোর একটি এটি।

    এরপর ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান দুজন। ট্রাম্প বরং পাথর নিয়ে কথা বলেন।

    সির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি গ্রানাইট পছন্দ করেন।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি পাথর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। আরও অনেক কিছুর মতো ভালো গ্রানাইটও তিনি পছন্দ করেন।’

  • জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপাল

    জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপাল

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে সহায়তার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলাকালে দেওয়া ভাষণে শাহ বলেন, উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ু ‘ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে’। এর ফলে পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলছে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

    গত মাসের শেষ দিকে নেপাল তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহসংক্রান্ত একটি ধসের ফলে সৃষ্ট সুনামির মতো প্রবল ঢল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

    এ ঘটনায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বিপর্যয়ে নেপালের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে একটি ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ন একত্রিত হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলার মতো প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।

    বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’

    জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে যে বিপুল ব্যয় করতে হবে, তার একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহন করার আহ্বান জানান তিনি।

    বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে আরো তীব্র হয়ে ওঠা একটি সংকটের বিরুদ্ধে নেপাল একা নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে পারবে না।’

    তিনি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। এতে নেপালের পাশাপাশি ভারত ও চীনকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। উদ্যোগটির আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদগুলোর ওপর নজরদারি এবং যৌথভাবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    ৩৬ বছর বয়সি সাবেক র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসেন। দুর্নীতিবিরোধী তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেন।

    তবে সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়ের পর শাহের সরকারের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে জলবায়ু কূটনীতি। ফলে তার সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচির তুলনায় বিষয়টি এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। এই তহবিল থেকে একটি দেশের জন্য সর্বোচ্চ যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া যায়, এটিই তার সীমা। তবে নেপালের প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত সামান্য। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের দুর্যোগে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার।

    ২০২২ সালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর এই তহবিল গঠন করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তহবিলটি প্রথমবারের মতো অর্থ ছাড়ও করতে পারেনি। ফলে নেপালের ক্ষেত্রে তহবিলটি বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরো ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

    নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারের এক বৈঠকে জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

  • সন্তানকে প্রহার করে শাসন, ইসলাম কী বলে?

    সন্তানকে প্রহার করে শাসন, ইসলাম কী বলে?

    যুগ পাল্টেছে। পৃথিবীতে এসেছে বিভিন্ন প্রজন্ম। একেক প্রজন্মের মূল্যবোধ, আচার-আচরণ ও জীবনযাপনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর তাই একটি শিশু জন্মের পর বাবা-মাকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তোলে, তার অন্যতম হলো সন্তানের সঠিক লালন-পালন।

    সন্তানকে বড় করতে বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা নানা পন্থা অবলম্বন করেন। কখনো আদর, কখনো শাসন—দুইয়ের সমন্বয়েই সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালনার চেষ্টা করেন তারা। তবে প্রজন্ম বদলালেও সন্তানকে শাসনের একটি পুরোনো পদ্ধতি এখনো সমাজে প্রচলিত—শারীরিক প্রহার। অনেকের ধারণা, সন্তানকে ‘একটু-আধটু মার’ না দিলে সে শাসনে আসবে না।

    কিন্তু সন্তানকে মারধর করে কি সত্যিই সংশোধন করা যায়? ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দিয়েছে? সন্তানকে প্রহার করা কি বৈধ? বৈধ হলেও এর সীমা কতটুকু?

    ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, সন্তানদের সঙ্গে কোমলতা, মমতা ও সুন্দর আচরণ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তাহলে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৯)। আয়াতটি মূলত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি নির্দেশনা হলেও এর মধ্যে কোমল আচরণের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

    সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রেও কোরআনের নির্দেশনায় দায়িত্বশীলতা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরিম, আয়াত ৬)। অর্থাৎ সন্তানকে শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাকে সঠিক শিক্ষা ও নৈতিকতার পথে গড়ে তোলাই অভিভাবকের দায়িত্ব।

    নামাজের ক্ষেত্রে যে হাদিসটি বলা হয়

    সন্তানকে শাসনের প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করা হয় নামাজসংক্রান্ত একটি হাদিস। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং ১০ বছর বয়সে নামাজের ব্যাপারে তাদের শাসন করো; আর তাদের শয্যা পৃথক করে দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৫)। হাদিসটি হাসান-সহিহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এই হাদিসকে সন্তানকে ইচ্ছামতো মারধরের সাধারণ অনুমতি হিসেবে নেওয়া যায় না। হাদিসটির বিষয় নির্দিষ্টভাবে নামাজের শিক্ষা ও অনুশীলন। একই সঙ্গে ইসলাম শাসনের ক্ষেত্রেও সীমালঙ্ঘন, ক্ষতি করা বা নির্যাতনকে সমর্থন করে না।

    শারীরিক শাসনের ইসলামি সীমা

    সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রে ইসলাম সীমালঙ্ঘন ও ক্ষতি করার অনুমতি দেয় না। বিশেষ করে নামাজের শিক্ষা দিতে ১০ বছর বয়সের পর শাসনের কথা হাদিসে এসেছে। তবে এ শাসন কোনোভাবেই নির্যাতন বা রাগের বশে মারধরের লাইসেন্স নয়। ইসলামি দৃষ্টিতে বিষয়টি কয়েকটি সীমার মধ্যে বোঝা যায়—

    ১.১০ বছর বয়সের প্রসঙ্গ: সন্তানকে সাত বছর বয়স থেকে নামাজের শিক্ষা ও অভ্যাস করানোর নির্দেশ রয়েছে। ১০ বছর বয়সে নামাজের ব্যাপারে শাসনের কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং ১০ বছর বয়সে এ ব্যাপারে তাদের শাসন করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫)

    ২. উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন: শাসনের উদ্দেশ্য হতে হবে সন্তানের সংশোধন ও শিক্ষা দেওয়া, নিজের রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করা নয়। রাগের বশে সন্তানকে আঘাত করা শাসনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই অভিভাবকের উচিত আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধৈর্যের সঙ্গে সন্তানকে বোঝানোর চেষ্টা করা।

    ৩. মুখমণ্ডলে আঘাত করা যাবে না: ইসলামে মানুষের মুখমণ্ডলে আঘাত করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের সঙ্গে লড়াই করে, সে যেন চেহারা এড়িয়ে চলে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১২)। ফলে সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রেও মুখে আঘাত করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

    ৪. ক্ষতি করা যাবে না: ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো—কাউকে ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির জবাবেও ক্ষতি করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির মাধ্যমে ক্ষতি করা যাবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪০)। তাই শাসনের নামে এমন কোনো আচরণ করা বৈধ নয়, যাতে সন্তানের শরীরে আঘাত, জখম বা গুরুতর শারীরিক কিংবা মানসিক ক্ষতি হয়।

    ৫. নবীজির আদর্শ ছিল কোমলতা: সন্তান ও শিশুদের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আচরণ ছিল স্নেহশীল ও কোমল। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো নিজ হাতে কোনো নারী বা খাদেমকে আঘাত করেননি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩২৮)। এ থেকে বোঝা যায়, সংশোধনের ক্ষেত্রেও কোমলতা ও উত্তম আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    ৬. সহজ করা ইসলামের শিক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিমুখ করে দিয়ো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৯)। সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রেও এই নীতির গুরুত্ব রয়েছে। তাই শাসনের নামে ভয়, আতঙ্ক ও নির্যাতনের পরিবেশ তৈরি না করে ভালোবাসা, বোঝানো ও ধৈর্যের মাধ্যমে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালনা করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্তানকে শাসন মানেই মারধর নয়

    ইসলামে সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের প্রতি তাঁর মমতা, স্নেহ ও কোমল আচরণের বহু দৃষ্টান্ত হাদিসে পাওয়া যায়। ফলে সন্তানকে সংশোধনের নামে রাগের বশে মারধর করা বা তাকে অপমান করা ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষা ও নবীজির আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    অভিভাবকের দায়িত্ব হলো সন্তানের ভুলের কারণ বোঝা, তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত শাসনের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করা। শারীরিক আঘাত, ভয় দেখানো বা অপমানকে নিয়মিত শাসনের পদ্ধতি বানানো ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।

    সুতরাং সন্তানকে মানুষ করার ক্ষেত্রে শুধু শাসন নয়, ভালোবাসা, ধৈর্য, সুন্দর আচরণ ও নৈতিক শিক্ষা—এসবের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সন্তান যেন ভয় থেকে নয়, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সঠিক পথ বেছে নেয়—ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষার সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  • নেতানিয়াহুকে বয়কট ৭৭ দেশের

    নেতানিয়াহুকে বয়কট ৭৭ দেশের

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নজিরবিহীন গণবর্জন ও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। তার ৪১ মিনিটের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের আসন ফাঁকা ছিল বলে নিজস্ব পর্যালোচনায় তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইল।

    ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহু পোডিয়ামে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। আবার অনেক দেশের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সেই অধিবেশন বর্জন করে নিজ আসনে অনুপস্থিত ছিলেন।

    এই তালিকায় ইসরাইলের প্রতিবেশী চার দেশ মিসর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইরানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো রয়েছে। ইসরাইলের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, সব অনুপস্থিতি সরাসরি ওয়াকআউট ছিল না; সকালের অধিবেশন হওয়ায় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা যথাসময়ে উপস্থিত হননি। যেমন—মিসর ও জর্ডান পূর্বপরিকল্পিত ওয়াকআউটে সরাসরি অংশ না নিলেও তাদের আসন ফাঁকা ছিল। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে লবিতে দাঁড়িয়ে ভাষণ শুনেছে।

    তবে আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা গাজা যুদ্ধের তীব্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও নিজ আসনে বসেই বক্তব্য শুনেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের চেয়ে খালি হওয়া অধিবেশন কক্ষের দৃশ্যই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেল আবিবের গভীর কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

    নেতানিয়াহুর ভাষণে অনুপস্থিত বা ওয়াকআউট করা ৭৭টি দেশ:

    ১. সুরিনাম

    ২. টুভালু

    ৩. তুর্কমেনিস্তান

    ৪. ইয়েমেন

    ৫. মিসর

    ৬. পানামা

    ৭. সেনেগাল

    ৮. ফিলিস্তিন

    ৯. সুদান

    ১০. তিউনিসিয়া

    ১১. তুরস্ক

    ১২. ভেনেজুয়েলা

    ১৩. অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা

    ১৪. বেলিজ

    ১৫. কঙ্গো

    ১৬. ওমান

    ১৭. কাতার

    ১৮. সৌদি আরব

    ১৯. টোঙ্গা

    ২০. উজবেকিস্তান

    ২১. অ্যাঙ্গোলা

    ২২. বার্বাডোস

    ২৩. কলম্বিয়া

    ২৪. কোমোরোস

    ২৫. ডোমিনিকা

    ২৬. জিবুতি

    ২৭. উত্তর মেসিডোনিয়া

    ২৮. সান মারিনো

    ২৯. দক্ষিণ আফ্রিকা

    ৩০. সোমালিয়া

    ৩১. আলজেরিয়া

    ৩২. বাংলাদেশ

    ৩৩. ব্রুনাই দারুসসালাম

    ৩৪. ব্রাজিল

    ৩৫. চিলি

    ৩৬. গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি)

    ৩৭. লেবানন

    ৩৮. লাইবেরিয়া

    ৩৯. ইরিত্রিয়া

    ৪০. চাদ

    ৪১. মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র

    ৪২. লিবিয়া

    ৪৩. মৌরিতানিয়া

    ৪৪. জর্ডান

    ৪৫. নিকারাগুয়া

    ৪৬. মাদাগাস্কার

    ৪৭. নাইজার

    ৪৮. পেরু

    ৪৯. সেন্ট লুসিয়া

    ৫০. স্লোভেনিয়া

    ৫১. আফগানিস্তান

    ৫২. বাহামা

    ৫৩. বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

    ৫৪. বতসোয়ানা

    ৫৫. উত্তর কোরিয়া

    ৫৬. এসওয়াতিনি

    ৫৭. সিরিয়া

    ৫৮. উগান্ডা

    ৫৯. পাকিস্তান

    ৬০. লেসোথো

    ৬১. বলিভিয়া

    ৬২. স্পেন

    ৬৩. কিউবা

    ৬৪. নিরক্ষীয় গিনি

    ৬৫. ইরান

    ৬৬. কিরগিজস্তান

    ৬৭. ইরাক

    ৬৮. মোজাম্বিক

    ৬৯. মিয়ানমার

    ৭০. আয়ারল্যান্ড

    ৭১. মালদ্বীপ

    ৭২. ইন্দোনেশিয়া

    ৭৩. কুয়েত

    ৭৪. নামিবিয়া

    ৭৫. মালয়েশিয়া

    ৭৬. গায়ানা

    ৭৭. কেনিয়া

  • নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে ২ ইসরাইলি সেনা নিহত

    নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে ২ ইসরাইলি সেনা নিহত

    গাজা উপত্যকায় অভিযান পরিচালনার সময় বিস্ফোরকবাহী একটি ছোট ড্রোন বিধ্বস্ত ও বিস্ফোরিত হয়ে ইসরাইলের দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হয়েছেন।

    নিহত সেনারা হলেন—হার হালুতজ এলাকার বাসিন্দা মাস্টার সার্জেন্ট নাদাভ কালি (২৪) এবং জেরুজালেমের বাসিন্দা মাস্টার সার্জেন্ট ওফেক মোয়ালেম (২৩)।

    তারা উভয়েই জেরুজালেম ব্রিগেডের ৭০০৭ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।

    সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই দুই সেনা গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বাফার জোনের একটি সেনাঘাঁটি থেকে পরিচালনা করছিলেন।

    প্রথম ড্রোনটি তার নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করলেও, দ্বিতীয় ড্রোনটি উড্ডয়নের সময় অজানা কোনো কারণে সেনাঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক মিনিট পর সেনারা ড্রোনটির কাছে গিয়ে সেটি তুলে নেন; ঠিক তখনই সেটি বিস্ফোরিত হয় এবং তারা মারাত্মকভাবে আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

  • অক্টোবরে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা ককরোচ পার্টির

    অক্টোবরে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা ককরোচ পার্টির

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার ককরোচ পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে এ ঘোষণা দেন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি।

    সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘কালকের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সিজেপি আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করবে। তারপর দেশের প্রতিটি শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই গান্ধীজয়ন্তীতে গণতন্ত্র রক্ষা করার শপথ নিন।’

    বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা কারচুপি ও ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    এছাড়া, ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। তিনি দাবি করেন, লোকসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচন—সব ক্ষেত্রেই ভোটচুরি হয়েছে।

  • ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল কলম্বিয়া

    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল কলম্বিয়া

    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে কলম্বিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল।

    কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার পর দেশটির বৈদেশিক জোট ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছেন। গত ৭ আগস্ট বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর কাছ থেকে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন পেয়েছেন।

    ক্ষমতা গ্রহণের আগেই দে লা এসপ্রিয়েলা কিউবা ও নিকারাগুয়ার মতো বামপন্থী কর্তৃত্ববাদী সরকারের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখনো তিনি ওই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি।

    কলম্বিয়ার সরকার বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তটি ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এই অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা’ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কলম্বিয়ার সরকার ইরান সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে তেহরানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে বোগোতা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে কলম্বিয়ার সরকার।

    তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও ইরানের সঙ্গে কনস্যুলার বা নাগরিকসেবা-সংক্রান্ত যোগাযোগ বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়া।

  • সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করছে ভারত

    সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করছে ভারত

    ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আটক করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার কারণে বন্দি ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এসব বন্দির মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ওমর খালিদ ও শারজিল ইমাম।

    ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্র মামলায় খালিদ ও ইমাম প্রায় ছয় বছর ধরে বন্দি রয়েছেন; এখনো তাদের বিচার শুরু হয়নি।

    সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট ব্রিটিশ নাগরিক জগতার সিং জোহালকে ইউএপিএ-সংক্রান্ত মামলায় জামিন দেওয়ার পর কমিশন এ আহ্বান জানায়। জোহালকে ২০১৭ সালে পাঞ্জাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৬-১৭ সালের কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    সংস্থাটির দাবি, জোহালের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তার মামলা ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দমন-পীড়নের বৃহত্তর প্রবণতার উদাহরণ। কমিশন ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশও করেছে।

    তবে ভারত অতীতে ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমান বক্তব্যের বিষয়ে নয়াদিল্লির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

  • শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই নারী জানান।

    এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পানের আড়তে নিয়ে যান।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন ওই নারী। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।

    ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহে আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন।

    অভিযুক্ত সোহরাবের বাড়ি নেত্রকোনায়। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি ছোট্ট একটি পানের দোকান চালান। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়কের নিচে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব নামের ওই পানের দোকানদার এসে তাঁর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

    ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু তাঁরা বিচার না করে হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় হতে বলেন। শেষে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু লোকজন দেখে ফেলায় তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়তে নিয়ে আসেন।

    গতকাল দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা-পুলিশের তিন সদস্যকেও দেখা গেল। এ সময় ওই নারী বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা বলে বিচার চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে যাওয়া হয়।

    মো. শফিকুল নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামের এক ব্যক্তির একটি পানের দোকান চালাতেন। বর্তমানে তাঁর দোকান বন্ধ আছে।

    আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

  • ফিলিস্তিনে গণহত্যা লুকাচ্ছেন নেতানিয়াহু: মামদানি

    ফিলিস্তিনে গণহত্যা লুকাচ্ছেন নেতানিয়াহু: মামদানি

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ পুনরাবৃত্তি করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘গণহত্যাকে আড়াল করার’ চেষ্টা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

    বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে মামদানি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এর আগেও বারবার একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

    মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু জাতিসংঘের ভাষণে এমন কিছু ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ পুনরাবৃত্তি করেছেন, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করা। তার দাবি, কোনো বক্তব্যই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি পরিবর্তন করতে পারে না।

    জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু মামদানিরও সমালোচনা করেন। তিনি নিউইয়র্কের মেয়রকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

    নেতানিয়াহু গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, ইসরাইল গণহত্যা করেনি; বরং গণহত্যা ঠেকিয়েছে। তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ইসরাইল সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ ছড়ানোরও অভিযোগ করেন।

    এর পরই মামদানি নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো অভিযোগ বা বাস্তবতা বদলে দেওয়া সম্ভব নয় এবং নেতানিয়াহু এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।

    এদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের শুরুতেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হল থেকে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়। একই সময়ে জাতিসংঘের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও সাবেক ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগে গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা বলা হয়। ইসরাইল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

  • স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অঞ্চলটিতে স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)।

    সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি। তিনি বলেন, সংগঠনের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

    ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। একসময় অঞ্চলটি পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন সিয়াম রাজ্যের সঙ্গে এর রাজনৈতিক সংযুক্তি ঘটে।

    স্থানীয় মালয় মুসলিমদের একটি অংশ ১৯৬০-এর দশক থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০০৪ সালে সেখানে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাই সরকার ও বিআরএনের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে বিভিন্ন সময়ে এ আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত জুলাইয়ে একটি হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর ব্যাংকক শান্তি আলোচনা স্থগিত করে।

    সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিআরএনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি নিকমাতুল্লাহ। তবে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠাই সংগঠনটির লক্ষ্য। এ জন্য ব্যাংককের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি কাঠামোর প্রস্তাবও দিয়েছে বিআরএন।

    সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঁচ থেকে ১০ বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময়ে দক্ষিণাঞ্চল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায় তারা। ওই সময়ে মুসলিমদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক পুলিশ ও আদালত ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এরপর জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণ করবে বলে জানান নিকমাতুল্লাহ।

    থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের সংঘাতে মালয়েশিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় থাইল্যান্ডের এ অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলেও পড়ে। তবে থাই সরকারের অবস্থান হলো, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান সম্ভব। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে কোনো সমাধান গ্রহণযোগ্য নয়।

  • চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের নবীণ বরণ

    চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের নবীণ বরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের ২০২৬-২৭( শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীণ বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কলেজের হল রুমে আনন্দ ঘন উৎসব মুখর পরিবেশে এ নবীন বরণ করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাসুদুল হাসান । প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম।

    এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন ঘোষনা করেন কলেজের অধ্যক্ষ (ভার প্রাপ্ত) আলমগীর সিদ্দিকী।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের নির্বাহী কমিটির সদস্য সেলিম রেজা।

    সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুস শুকুর, মোঃ আক্তারুজ্জামান, আনিসুজ্জা মান, নাসির উদ্দীন, আতিকুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ,তিতুমীর রহমান,আসাদুজ্জামান আসাদ,

    মোঃ ইয়াকুব আলী, রীনা নাজমাসহ কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

    এ অনুষ্ঠান শেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠান টি পরিচালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহানুর হোসেন। এ,আর

  • চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা সিদ্ধ ডিমে অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী ডিম খাওয়ার পর বমি করেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়।

    ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিম মুখে দেয়ার পর তীব্র তিতা স্বাদের কথা জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই শিক্ষার্থী বমি করে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করেন। তাদেরও অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ মনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর ডিম বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসাথে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী বমি করার পর আমরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তীব্র তিতা পাই। তাই শিক্ষার্থীদের ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাফুজা জানায়, ‘দুইজন সহপাঠী ডিম খাওয়ার পর বমি করে। এরপর শিক্ষকরা আমাদের ডিম খেতে নিষেধ করেন।’

    পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুপারভাইজার বশির উদ্দিন। তিনি ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তিতা পেয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, সরবরাহকারীদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুরগিকে কৃমিনাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর সাথে কিছু ডিমের স্বাদের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ডিমে তিতা স্বাদের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

    চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আজিজুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পাঁচটি বিদ্যালয়ে ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো—ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরশালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ মো: আলী বেপারীর ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    তিনি জানান, পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৬৩৯টি সাদা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই ডিম সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডিমগুলো কেন তিতা ছিল, তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের দায় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    শিশুদের জন্য পরিচালিত পুষ্টিকর খাদ্য কর্মসূচির ডিম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিমের নমুনা পরীক্ষা এবং সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি উঠেছে। এ,আর

  • মাছ ধরার ট্রলারে ৭ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবি, আটক ৫

    মাছ ধরার ট্রলারে ৭ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবি, আটক ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার পাথরঘাটায় মাছ ধরার ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে আনা অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি মাছ ধরার ট্রলার ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ ৫ জনকে আটক করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    আটকরা হলেন, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইশদিয়া এলাকার সোহাগ সরদার (৩২), একই উপজেলার মৌডুবি এলাকার সাগর হাওলাদার (৩৮), কুয়াকাটার মহিপুর এলাকার মঞ্জু মোল্লা (৩২), কলাপাড়া উপজেলার খলিলপুর এলাকার রেজাউল গাজী (৩৭) এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নবানখালী এলাকার বিল্লাল হাওলাদার (৪৫)।

    কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা বুধবার রাত ২টার দিকে পাথারঘাটার কাকচিরা ইউনিয়নের বিষখালী নদী সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের সদস্যরা একটি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন একটি মাছ ধরার ট্রলার ও কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১৩ হাজার ৫০৭টি শাড়ি ও ১ হাজার ৪৬৬টি পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। উদ্ধার করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

    পরবর্তীতে উদ্ধার করা শাড়ি ও পাঞ্জাবিসহ চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত ট্রলার এবং কাভার্ড ভ্যানটিকে জব্দসহ জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়।

    এ বিষয়ে লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দ করা সকল আলামত ও আটক করা চোরাকারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও কোস্টগার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • দামুড়হুদায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    দামুড়হুদায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দামুড়হুদা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. মো. মশিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

    বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক-অভিভাবক, স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের কালিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হাসান শেখ (৪৫) নামে এক ভ্যানচালকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    মৃত হাসান উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের তারা মিয়া শেখের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ সোহেল রানা ও আবেদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। দুপক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত আটজন আহত হন।

    রাতে সোহেল পক্ষের গুলিবিদ্ধ হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া ইসরাফিল শিকদার, রাসেল শেখ, মতিউর রহমান ও মুক্তি শেখসহ অন্যরা চিকিৎসাধীন আছেন।

    নড়াগাতী থানার ওসি মো: হোসেন আলী বলেন, ‘পূর্বের হত্যাকাণ্ডের জেরসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরকান্দিপাড়ার দুপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তারা কোনো ধরণের অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি।’ এ,আর

  • মক্কায় সতর্কতা জারি সৌদির

    মক্কায় সতর্কতা জারি সৌদির

    সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স অর্গানাইজেশন মক্কা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক, জেদ্দা, ইয়ানবুসহ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় তায়েফ অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

    তবে এর কিছুক্ষণ পরেই সংস্থাটি ঘোষণা করে, ওই এলাকার বিপদ কেটে গেছে এবং সতর্কতা বাতিল করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থিত বাহিনীগুলোর সাথে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

    একইসাথে সৌদি আরবের বিভিন্ন অংশ হাউছিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

  • রায়পুরে ইয়াবাসহ যুবককে আটক করে পুলিশে দিল জনতা

    রায়পুরে ইয়াবাসহ যুবককে আটক করে পুলিশে দিল জনতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইয়াবাসহ সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জবেদুল্লা চৌকিদার বাড়ির পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক সাইফুল ওই ওয়ার্ডের জবেদুল্লা চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে সাইফুলকে উপজেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক শান্ত ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা।

    এ সময় স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জামাল পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছেন বলে জানান দাবি স্থানীয়দের।

    খবর পেয়ে বামনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাহারুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুলকে আটক করে।

    রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার সাথে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • শি’র জন্য লালগালিচা পরিষ্কারে মার্কিন সেনারা

    শি’র জন্য লালগালিচা পরিষ্কারে মার্কিন সেনারা

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতেই মার্কিন সামরিক সদস্যদের লালগালিচা ঠিক করার একটি ১২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টম্বর) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান শি।

    তার সঙ্গে ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান হং লেইসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই সফরের মূল লক্ষ্য।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি’র বিমান যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণের পরের দৃশ্য ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মার্কিন সামরিক সদস্য হাত ও হাঁটুর ওপর ভর করে প্রায় ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) দীর্ঘ লালগালিচা দ্রুত ঠিক করছেন। শি বিমান থেকে নামার আগে তারা কার্পেটের ভাঁজ সমান ও ময়লা পরিষ্কার করছিলেন।

    সে সময় বিমানের দরজায় দাঁড়িয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও প্রটোকল প্রধান হং লেইসহ কয়েকজন চীনা কর্মকর্তাকে পুরো দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।

    ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মার্কিন সামরিক সদস্যদের এ কাজে ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে ‘ভীষণ লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিল ম্যাডেন নামে এক ব্যক্তি লিখেন, ‘ট্রাম্প যে আমেরিকা ও নিজেকে আরও অপমান করতে পারবেন না- এমনটা ভাবার পরই তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হাত-পায়ে ভর দিয়ে লালগালিচা পরিষ্কার করতে পাঠালেন, যাতে শির জুতায় ধুলা না লাগে।’

    এ ছাড়া কেন্টাকির সাবেক মেরিন ফাইটার পাইলট ও ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিক অ্যামি ম্যাকগ্রাথ বলেন, মার্কিন সেনারা ‘কোনো কর্তৃত্ববাদী নেতার অহং তুষ্টির প্রদর্শনীর সাজসরঞ্জাম’ হওয়ার জন্য শপথ নেননি।

  • সিলেট সীমান্তে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক স্বাক্ষারিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলাবাজার, প্রতাপপুর, তামাবিল, সংগ্রাম, ডিবিরহাওর বিওপি কর্তৃক চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভারতীয় গরু, মহিষ, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, লেহেঙ্গা, কম্বল, কসমেটিক্স, চকলেট, জিরা ও জুস আটক করা হয়। আটক চোরাচালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬০ টাকা।

    ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান আটক করা হয়। আটক চোরাচালানের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • আফগানিস্তানের ১০যায়গায় বিমান হামলা

    আফগানিস্তানের ১০যায়গায় বিমান হামলা

    পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান হামলায় চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আজ বৃহস্পতিবার এ খবর জানান। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    ইসলামাবাদের দাবি, এসব জায়গা ড্রোন উড্ডয়ন ও সংরক্ষণে ব্যবহার করা হতো। এ বিষয়ে তারার বলেন, এসব ড্রোনের কয়েকটি আগের দিন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল।

    প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই হামলার খবর জানা গেল। সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে জড়ায় ইসলামাবাদ ও কাবুল।

    ইসলামাবাদের অভিযোগ, সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশটির তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

    তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিরোধিতা করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তারা আশ্রয় দেয় না। সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারার বলেন, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার আফগানিস্তান থেকে উড়ে আসা ড্রোন শনাক্ত করে। এসব ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়।

    এরপর পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ১০টি জায়গায় ‘নির্ভুল’ বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা চালানো হয়েছে ড্রোন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও চিহ্নিত সামরিক স্থাপনায়। তবে কেউ হতাহত হননি বলে জানান তারার।

    পাকিস্তানের মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তালেবান সরকার ভবিষ্যতে এমন কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালে পাকিস্তান দৃঢ় ও কঠোর জবাব দেবে।’

  • তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্ত্রী নিলুফা আক্তার মিলুর (৪০) তালাকের নোটিশ পেয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন স্বামী হযরত আলী। এ সময় নিলুফার মা এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত হযরত উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিলুফা পার্শ্ববর্তী কাকনা গ্রামের ছইনুদ্দিনের মেয়ে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে হযরতের সাথে নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। এরই জেরে নিলুফা এক সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেয়। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রাত ৮টার দিকে ধারালো ছুরি নিয়ে নিলুফার বাড়িতে যান। সেখানে নিলুফাকে দেখামাত্রই ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    এ সময় নিলুফার মা চেনবানু এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হযরত তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    নিহত নিলুফার বাবা ছইনুদ্দিন বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও হযরত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মৌসুমী ভৌমিক বলেন, ‘গুরুতর জখম অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে নিয়ে আসা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রাতেই মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হযরতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও আহত চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।’

    নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হত্যা মামলা করেছেন। ঘাতক স্বামী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’ এ,আর

  • উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    উল্লাপাড়ায় আ’লীগের সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আকমাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাখুয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জানায়, একটি বিস্ফোরক মামলায় আকমালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • যুদ্ধের চাপে মার্কিন নৌ-সেনাদের আত্মহত্যার চেষ্টা

    যুদ্ধের চাপে মার্কিন নৌ-সেনাদের আত্মহত্যার চেষ্টা

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আট সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাওয়ের একটি চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    স্থানীয় সময় বুধবার প্রকাশিত ওই চিঠিটি পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। চিঠিতে সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের প্রশ্নের জবাবে কাও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।

    চিঠিতে কাও লিখেছেন, লিংকনের সামরিক অভিযানের শুরু থেকে পুরো স্ট্রাইক গ্রুপে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। তবে এই সময়ে কোনো নৌসদস্য আত্মহত্যা করেননি।

    তিনি জানান, এই সংখ্যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পাশাপাশি ক্যারিয়ার এয়ার উইং, স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের সদস্য, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং সব বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরা রয়েছেন।

    লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের অধীনে প্রায় ছয়টি জাহাজে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার মার্কিন নৌসদস্য মোতায়েন ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বিমানবাহী রণতরীটি ছয় মাসেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে অবস্থান করে।

    এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা অত্যন্ত বেশি।’

    তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য মোতায়েনে বছরে সাধারণত এক বা দুটি এমন ঘটনা ঘটেছে।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্বাভাবিক সামরিক অভিযানের তুলনায় যুদ্ধকালীন কার্যক্রমের চাপ অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থামা, সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকা এবং টানা সামরিক অভিযান চালানোর কারণে নৌসদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করার পর গত ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে ভেড়ে।

  • কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সীমান্তে মাদকবিরোধী পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    বিজিবি জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে ঠোটারপাড়া বিওপির শুকুনতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় দুই বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ ও দুই হাজার ১০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।

    রাত পৌনে ২টার দিকে বিলগাথুয়া বিওপির পশ্চিম বিলগাথুয়া মাঠে অভিযান চালিয়ে নয় বোতল ভারতীয় মদ, ৯৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ও এক হাজার ৯০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য আট লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা।

    এ ছাড়া সকাল ৬টার দিকে উদয়নগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ডিগ্রিচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ও এক হাজার ১১০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    প্রায় আট মাস ধরে খালি থাকা সাংবিধানিক পদ পূরণের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    মুজাফফরাবাদে বিধানসভার সচিবালয়ে স্থানীয় সময় সকাল থেকে এই ভোটগ্রহণ চলছে। আঞ্চলিক নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার ২৭টি ভোট পেয়ে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

    ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সমর্থিত প্রার্থী নজীব নাকি খান এই নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে জোরালোভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সুধানোতি জেলার একজন সাবেক মন্ত্রী ও একাধিকবার বিজয়ী আইনপ্রণেতা।

    অন্যদিকে, বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিধানসভার সাবেক স্পিকার চৌধুরী লতিফ আকবর।

    আইন অনুযায়ী বিধানসভার কোনো সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে না পারলেও, ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই বিধানসভায় পিএমএল-এন এবং তাদের মিত্রদের হাতে পর্যাপ্ত আসন থাকায় তাদের প্রার্থীর জয় একরকম নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই পদটি ফাঁকা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ ও সরকারের সময়ক্ষেপণের কারণে তা এতদিন করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের অনুকূলে পরিস্থিতি নেওয়ার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্বাচনে এত দীর্ঘ বিলম্ব করেছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে পুনচ ও সুধানোতি জেলার সাতটি আসনে এখনো ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ওই আসনগুলোতে এখনো ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি।

    সমালোচকদের মতে, ওই এলাকার মানুষদের ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা একধরনের অন্যায় হলেও, আইনি জটিলতা না থাকায় এই আংশিক বিধানসভা নিয়েই আজকের নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে।

  • মদনে অসুস্থ গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    মদনে অসুস্থ গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার মদনে রোগাক্রান্ত গরুর গোশত বিক্রির অভিযোগে কসাই পারভেজ মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মদন পৌর শহরের দেওয়ান বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম ভোক্তা অধিকার আইনে এ জরিমানা আদায় করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুব আলম, পুলিশের এএসআই জাকির হোসেন, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    জানা যায়, মদন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান বাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার হাট বসে। প্রতি সপ্তাহেই এই হাটে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে গোশত বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে কসাই পারভেজ মিয়াসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি রোগাক্রান্ত গাভী জবাই করার পায়তারা করে পারভেজ মিয়া। বিষয়টি এলাকার সচেতন মহলের নজরে এলে তারা বাধা দেয়।

    পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাভীর ভিডিও পোস্ট করে এবং সচেতন নাগরিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনকে খবর দেয়। এমন খবরে ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও নাদির হোসেন শামীম উপস্থিত হয়ে কসাই পারভেজ মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    এ ব্যাপারে ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এ সময় একটি রোগাক্রান্ত গরু দেখতে পাই। তাছাড়া তার দোকানে রাখা গোশতও প্রাণিসম্পদ কর্তৃক পরিক্ষিত নয়। তাই ভোক্তা অধিকার আইনে পারভেজ মিয়া নামে এক কসাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ,আর

  • ফিলিস্তিনিদের আরও ১৩ মিলিয়ন ডলার দেবে নরওয়ে

    ফিলিস্তিনিদের আরও ১৩ মিলিয়ন ডলার দেবে নরওয়ে

    ফিলিস্তিনিদের জন্য অতিরিক্ত ১৩ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই অর্থ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি সরকারি খাতের বাজেট সহায়তাও রয়েছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্ত এইডে এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

    তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনেরও সমালোচনা করেন। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এসব বসতি অবৈধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ২০২৪ সালে নরওয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। দেশটি বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলোর সমন্বয়কারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছে।

  • মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বাবা মুজিব সরদারকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন আমিনুল।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহত জান্নাতুন বেগমের (৫৫) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর আহত মুজিব সরদারকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন ও এর অর্থ জোগাড় করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। তাকে নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও সফল হননি বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বুধবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আমিনুল হাসুয়া নিয়ে তার মা জান্নাতুন বেগমের ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমিনুল তার বাবা মুজিব সরদারকেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।

    জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে মোহনপুর থানা পুলিশ।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যা মামলা দায়েরের পর আমিনুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে জান্নাতুন বেগমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • উজিরপুরে নামাজের পাশাপাশি মসজিদ দেখতে ছুটছেন নানা ধর্মের মানুষ

    উজিরপুরে নামাজের পাশাপাশি মসজিদ দেখতে ছুটছেন নানা ধর্মের মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কেউ এসেছেন বরগুনা থেকে, কেউ দিনাজপুর থেকে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে। তাদের মধ্যে মুসলিম যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষও। কেউ এসেছেন নামাজ আদায় করতে, আবার কেউ এসেছেন শুধু মসজিদের নান্দনিক স্থাপত্য ও মনোরম পরিবেশ দেখতে। বরিশালের উজিরপুরের গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রতিদিনই দেখা মেলে এমন বৈচিত্র্যময় দর্শনার্থীর।

    ১৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত মসজিদটি প্রায় দুই দশক ধরে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও রয়েছে।

    গুঠিয়ার চেংগুটিয়া এলাকায় অবস্থিত বায়তুল আমান জামে মসজিদে একসাথে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের স্থান। তবে নামাজের পাশাপাশি মসজিদের স্থাপত্যশৈলীও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।

    মসজিদটিতে রয়েছে ২০টি গম্বুজ। মার্বেল পাথর, গ্রানাইট, সিরামিক ও রঙিন কাচের নকশায় সাজানো হয়েছে এর বিভিন্ন অংশ। দেয়ালে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে আয়াতুল কুরসি, সুরা আর-রহমানসহ কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সুরা। সন্ধ্যার পর রঙিন আলোকসজ্জায় মসজিদটির সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়।

    বরগুনা থেকে পরিবার নিয়ে মসজিদ দেখতে আসা সাবিত মাহমুদ জানান, বায়তুল আমান মসজিদের স্থাপত্য, নকশা ও চারপাশের পরিবেশ তাকে আকৃষ্ট করেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে মসজিদটির বিভিন্ন অংশ দেখেছেন তারা। এতো সুন্দর একটি স্থাপনা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ভালো লেগেছে।

    দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা ধীরেন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও সাজসজ্জা তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও স্থাপত্য ও সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

    মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি এতিমখানাও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সেখানে মক্কা-মদিনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মাটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কাবা শরিফ, আরাফাতের ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নুর, নবীজির জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান ও খলিফাদের কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানের মাটি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

    মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নিজ অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলে নির্মাণকাজ। ২০০৬ সালে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

    মসজিদটির তদারকির সাথে যুক্ত হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি মসজিদটির দেখভালের সাথে যুক্ত আছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বায়তুল আমান মসজিদ দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষও রয়েছেন। মসজিদের স্থাপত্য ও পরিবেশ দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

    মসজিদকে ঘিরে গুঠিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও বায়তুল আমানের পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

    উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা বলেন, ‘গুঠিয়ার বায়তুল আমান মসজিদ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে। এর নান্দনিক স্থাপত্য দেখতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আসছেন।’

    নামাজের পাশাপাশি স্থাপত্যের টানেও এখানে আসছেন মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা এসব দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদ এখন ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি মানুষের আগ্রহের একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এ,আর

  • নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, সব প্রধান সড়ক বন্ধ

    নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, সব প্রধান সড়ক বন্ধ

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত পদযাত্রা সামনে রেখে রাজধানী ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং বিভিন্ন স্থানে কনটেইনার বসানো হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সাধারণ মানুষকে ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব সড়ক কত দিন বন্ধ থাকবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মার্চের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির দাবি, কারাগারে থাকা ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে। ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দল তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক সাজা পরবর্তী সময়ে স্থগিত বা আপিলে বাতিল হয়েছে; একটি সাজা এখনো বহাল রয়েছে।

    পদযাত্রা ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে প্রায় ২ হাজার শিপিং কনটেইনার রাখা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেতুতেও কনটেইনার ও বালুর বস্তা রাখা হয়েছে। শুধু অ্যাটক জেলাতেই প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকার পিটিআইকে কর্মসূচি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি পিটিআইকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন কর্মসূচির মাধ্যমে কোনো ফল পাওয়া যাবে না এবং দলটির এখনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সময় আছে। অন্যদিকে পিটিআই বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

    পদযাত্রার আগে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করেছে। আল জাজিরার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে আটক করার পর তার আরও দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকেও আটক করা হয়। তাদের আটকাদেশে জননিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের সমস্যার কথা উল্লেখ করে পিটিআই তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। তবে পরে তাকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সরকার বলেছে, চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করেছিলেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতাল পরিবর্তন করা হয়েছিল। পিটিআই এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে শুধু সড়ক ও নিরাপত্তাব্যবস্থাই নয়, ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকেও সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। অতিরিক্ত বেড, রক্ত ও জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানি ঘটবে—এমন নিশ্চয়তা দেয় না।

    ইসলামাবাদে প্রবেশের প্রধান সড়ক বন্ধ, হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কনটেইনার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ আটকে দেওয়া এবং পিটিআইয়ের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা—সব মিলিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরের মার্চকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কর্মসূচির দিন সরকার ও পিটিআই উভয় পক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ১০ বসতঘর ভস্মীভূত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ১০ বসতঘর ভস্মীভূত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে আগুনে পুড়ে ১০টি বসতঘর ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এতে ১৪টি পরিবারের আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানায়, সকালে গ্রামের আলফাজ মিয়ার ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ১০টি ঘরই পুড়ে যায়। এসব ঘরে বসবাস করা ১৪টি পরিবারের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো: ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।‘ এ,আর

  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলেছে ঢাকা।

    বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকের পর একই দিন নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী ও পেশাজীবীর নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক ও পেশাজীবী রয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়তে পারে।

    হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে আটকে থাকা বাংলাদেশি কনটেইনার ও জাহাজের বিষয়টিও বৈঠকে তোলা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব জাহাজ ও কনটেইনার যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিকভাবে দ্রুত এই সংঘাতের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।’

    ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো নোট করেছেন বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশ সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘সফট-মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা সম্পন্ন দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অংশীদারের কেউ কেউ সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগানোর উৎসাহ দিয়েছে।

    তবে বাংলাদেশ সরাসরি দৃশ্যমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে, এমনটি অপরিহার্য নয় বলে জানান তিনি। তার মতে, এ অঞ্চলের বন্ধু হিসেবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারে বাংলাদেশ।

    জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে বাংলাদেশের জন্য একটি নিরপেক্ষ কূটনৈতিক পরিসর হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘দ্য ইউএন ইজ আ নিউট্রাল ভেন্যু’—জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ স্থান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও ছিল।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • লোহাগড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    লোহাগড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে তেলকাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম মিলন মোল্যা (৫০)। তিনি উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের তেলকাড়া গ্রামের সুলতান মোল্ল্যার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হযরত আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ তেলকাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

    পুলিশ জানায়, ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর মিলন মোল্ল্যা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের সাজা পরোয়ানা জারি ছিল।

    এছাড়া লোহাগড়া থানায় তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিলনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • নিউ জার্সি ইসরাইলকে দিন, ট্রাম্পকে শারা

    নিউ জার্সি ইসরাইলকে দিন, ট্রাম্পকে শারা

    সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরাইলকে যদি জমি দিতেই চান, তাহলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। কারণ নিউ জার্সির মালিক তিনি, কিন্তু গোলান মালভূমির মালিক সিরিয়ার জনগণ।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে এক আলোচনায় আল-শারা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন, দেশটিকে সমর্থন করেছেন এবং সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং তার সঙ্গে আমার বিশেষ একটি সম্পর্ক রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসে এক সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার ওই রসিকতার কথা উল্লেখ করে আল-শারা বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি ইসরাইলকে কিছু জমি দিতে এতটাই আগ্রহী হন, তাহলে নিউ জার্সি কেন দিয়ে দিচ্ছেন না কেন?’

    তিনি আরো বলেন, নিউ জার্সি ডেমোক্র্যাটদের, কারণ তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেয় না। তাই ইসরাইলকে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া ভালো হবে।

    আল-শারা বলেন, ট্রাম্প নিউ জার্সির মালিক, কিন্তু তিনি গোলান মালভূমির মালিক নন। এই রসিকতা বাদ দিলেও বিষয়টি হলো, গোলান মালভূমি সেখানকার জনগণের। কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই তা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই।

    ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ এলাকা ইসরাইলের দখলে রয়েছে। ১৯৮১ সালে ইসরাইল ওই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে এ পদক্ষেপকে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ ঘোষণা করা হয়।

    বেশির ভাগ দেশ গোলান মালভূমিকে ইসরাইলি সামরিক দখলাধীন সিরীয় ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • চৌগাছায় ছয় দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি

    চৌগাছায় ছয় দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে যশোরের চৌগাছায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের গ্রাহকরা।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ইসলামী ব্যাংকের চৌগাছা শাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম, চৌগাছা, যশোর-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মসূচিতে গ্রাহকদের পক্ষে বক্তব্য দেন মাওলানা আজাদ হোসাইন, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহমান, মাস্টার আব্দুস সালাম, রবিউল ইসলাম, আবুল খায়ের, সহকারী প্রভাষক দিরাজুল ইসলাম ও শাহিনুর রহমান প্রমুখ। এতে ব্যাংকের নারী গ্রাহকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অংশ নেন।

    কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চেয়ারম্যানের অপসারণ, স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, এস আলমের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চাকরির চুক্তি নবায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, দালালচক্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ব্যাংকসংক্রান্ত অনিয়মের বিচার ও আইনি ব্যবস্থা নিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

    গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। চলমান সংকটে গ্রাহকদের মধ্যে যেন আমানত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয় এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাদের দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনার আহ্বান জানান তারা। এ,আর

  • পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়

    পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিল করবে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। মিছিলকে সামনে রেখে দেশটির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মহাসড়কসহ খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এসব সড়ক। রাজধানীতে দুই হাজারের বেশি কনটেইনার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সড়ক অবরোধ । পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, মিছিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। এরই মধ্যে ইমরান খানের তিন বোনসহ পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতা-কর্মী ও আইনপ্রণেতাকে আটক করা হয়েছে। সরকার বলছে, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে এসব পদক্ষেপ । পিটিআইয়ের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাদের দমন করতেই ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।

    সরকারের আশঙ্কার পেছনে পিটিআইয়ের অতীত আন্দোলনের ঘটনাও রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও ইসলামাবাদমুখী পিটিআইয়ের আন্দোলন নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়; হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকার ও পিটিআইয়ের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

    ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৩টি আসন পেলেও সরকার গঠন করতে পারেনি। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষ প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন ।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং এখনো পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা। পিটিআইয়ের জনপ্রিয়তা, ইমরানের কারাবন্দিত্ব এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

    এদিকে পাকিস্তানে জ্বালানির দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোলের দাম সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রতি লিটারে প্রায় ৫১ রুপি বেড়ে ৩৯৩ দশমিক ৭৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীও ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি দিয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

    পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের কঠোর অবস্থান তাই শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ মোকাবিলার প্রস্তুতি নয়; রাজনৈতিক বিরোধ, ইমরান খানের কারাবাস, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে পাকিস্তানে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • সবাই মারা গেলেও বাস থামবে না!

    সবাই মারা গেলেও বাস থামবে না!

    ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। দোতলা পর্যটকবাহী বাসের যাত্রীরা আগুন লাগার কয়েক মিনিট আগেই বাসে পোড়া গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাসটির চালক ও কন্ডাক্টর তখনো সিগারেট খাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় এ কথা উল্লেখ করা হয়।

    এফআইআর অনুযায়ী, বাসের ভেতরে চালক ও কন্ডাক্টরের ধূমপান নিয়ে এর আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন যাত্রীরা। এ নিয়ে দুজন হাসাহাসি করে যাত্রীদের চুপ থাকতে বলেন এবং হুমকিও দেন।

    এর কিছুক্ষণ পর বাসের ভেতরে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা বিষয়টি চালককে জানালেও তিনি ও কন্ডাক্টর তা আমলে নেননি। তাদের দাবি ছিল, বাসের ভেতরে প্রায়ই এ ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। যাত্রীরা বারবার অনুরোধ করলেও চালক কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দ্রুতগতিতে বাস চালিয়ে যান এবং সিগারেট খেতে থাকেন।

    কয়েক মিনিট পর বাসের সামনের অংশ থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়।

    যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করলে চালক তাদের বলেন, ‘আপনারা মারা গেলেও আমার কিছু যায় আসে না, আমি বাস থামাব না।’

    বিহারের নিবন্ধিত বাসটি দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। বাসটিতে ৩৫ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন ধোঁয়ার কারণে যাত্রীদের বের হয়ে আসতেও ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।

    নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। জেওয়ারের কাছে দয়ানটপুর গ্রামের কাছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে বাসটিতে আগুন লাগে। সে সময় বেশির ভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। কাচের জানালা ভেঙে অনেক যাত্রী বাইরে ঝাঁপ দেন। এক যাত্রী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ঘুমোচ্ছিলাম। একজন বললেন, বাসে আগুন লেগেছে। আমরা ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করি। বাস থেকে বেরোনোর কাজটা সহজ ছিল না। কারণ চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। কোনো রকমে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি।’

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থায় বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং অয়েলে আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।

    আগুন থেকে চালক ও কন্ডাক্টর দুজনই প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশ তাদের আটক করে।

  • হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম

    হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের মধ্যে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার সময়সীমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই ইরান এ অবস্থান জানিয়েছে।

    ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাতিসংঘের বৈঠকের সময় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত।

    এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করারও আহ্বান জানানো হয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য ইরান যে শর্তগুলো তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরান যেসব ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করে, সেসব এলাকায় যুদ্ধের অবসান।

    ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হয়। এতে জ্যারেড কুশনারও যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে নতুন কোনো শর্ত উপস্থাপনের পরিবর্তে তেহরানের বিদ্যমান শর্তগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ। ফলে এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধাবস্থা বা সীমিত চলাচল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথের বাণিজ্য এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের চলাচল এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলে ইরানের সহযোগিতাও চেয়েছে।

    বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রশ্নটি এখন শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থও সরাসরি যুক্ত।

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

    হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করা তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

    বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া এক আদেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে আদালত। একই সঙ্গে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এটি ট্রাম্প ও তার পছন্দ নয় এমন সংবাদ প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধের সর্বশেষ ঘটনা। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন। তিনি তাদের সংবাদকে ‘ভুয়া খবর’ বলে সমালোচনা করেন। পরে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ দেশের জন্য বিপজ্জনক।

    নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো। সংবাদমাধ্যম তিনটি বলেছে, তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর কারণে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    তাদের ভাষ্য, এটি দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বৈষম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর প্রকাশিত আদেশে মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি বলেন, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করতে পেরেছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে মামলার মূল বিষয়ে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এবং আদালতের আদেশ না পেলে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি রয়েছে।

    কেলি লিখেছেন, ‘এটি কঠিন একটি আইনি মানদণ্ড। তবে বাদীরা তা পূরণ করেছে।’

    বুধবার মামলাটির শুনানি করেন বিচারক কেলি। শুনানি শেষে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বৃহস্পতিবার তিনি ১৪ দিনের জন্য সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। এ ধরনের আদেশ সাধারণত মামলার বিষয়ে আদালতের বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে দেওয়া হয়।

    শুনানির সময় কেলি প্রশ্ন তোলেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দিয়েছিল কি না।

    এর আগে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে দুটি মামলায় আদালতের দেওয়া রায় রয়েছে। এর একটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এসব রায়ে বলা হয়েছিল, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করার আগে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে।

    তবে বিচার বিভাগের আইনজীবী মাইকেল ভেলচিক যুক্তি দেন, আগের মামলাগুলোতে দেওয়া রায় সঠিক ছিল না।

    বিচারক কেলি বলেন, এ ধরনের প্রথম সংশোধনীসংক্রান্ত মামলায় আগের আদালতের রায় রয়েছে। সরকার সেসব রায়ের সঙ্গে একমত না হলেও তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনীয় মামলার আগের রায়গুলো বিবেচনায় থাকবে।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের রোডম্যাপ

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের রোডম্যাপ

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি রোডম্যাপ দিয়েছে ইরান। কর্মপরিকল্পনাটিতে পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাত অবসানে বড় পরিসরে আলোচনার সময়সূচির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ইরানের প্রস্তাবে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।

    নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে যেকোনো চুক্তিতে ইরানের দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এর আগেও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথের জন্য এখনো উন্মুক্ত। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তারা ধরে রেখেছে।

    দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বেশ কঠোর। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ কতটা তৈরি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

  • সুপার এল নিনোর প্রভাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

    সুপার এল নিনোর প্রভাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

    আগামী ছয় মাসে সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

    ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমায় আনুমানিক চার লাখ ৫১ হাজার মানুষ অতিরিক্ত তাপজনিত কারণে প্রাণ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর উচ্চহার ২০২৭ সালের জুন বা জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। আবহাওয়াবিদদের কেউ কেউ একে চিহ্নিত করেছেন ‘গডজিলা এফেক্ট’ নামে।

    সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হতে পারে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায়। সেখানে সুপার এল নিনোর আঘাতে ৩১ হাজার ৩২০ জন মারা যেতে পারেন। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ২৫১ এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার সুদানে ১৭ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে ১৫ হাজার ৬৭০, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে ১৩ হাজার ২৭১, পশ্চিম আফ্রিকার নাইজারে ৯ হাজার ৯০০ এবং মধ্য আফ্রিকার চাদে ৭ হাজার ৯৫৩ জন সুপার এল নিনোর কারণে মারা যেতে পারেন।

    যদিও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের আবহাওয়াবিষয়ক বিজ্ঞানী ফ্রিডরিক অটো এবং তার সহগবেষকদের মতে, এটি কোনো নিশ্চিত পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি আগাম সতর্কবার্তা। বিশ্বজুড়ে সুপার এল নিনোর মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি সচেতনতা বৃদ্ধি, শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) স্থাপন, শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা গেলে এই সাড়ে ৪ লাখ ‘সংকটাপন্ন’ মানুষের একটি বড় অংশকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর গবেষক দলের অন্যতম নেতা, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন জানিয়েছেন, সুপার এল নিনোর আঘাতে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। তার মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রাকৃতিক ঘটনা এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে চলেছে।

  • পরমাণু বোমা ইসরাইলে আর পরিদর্শক ইরানে,পেজেশকিয়ান

    পরমাণু বোমা ইসরাইলে আর পরিদর্শক ইরানে,পেজেশকিয়ান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বাইরে রয়েছে দেশটি । বিপরীতে ইরানকে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, কেবল কথার মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা সম্ভব নয়; এজন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘দ্বৈত নীতি’ পরিত্যাগ করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, এই অঞ্চলে পারমাণবিক বোমা ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে ইসরাইলের হাতে; অথচ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের দাবি জানানো হচ্ছে।

    পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইসরাইল গাজায় ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। আর আলোচনার টেবিলে থাকা অবস্থাতেই ইরানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি এবং ইতিহাসে কখনোই আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

    তিনি বলেন, তার পরও ইসরাইলকে বিনা মূল্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো রাজধানীতে বোমা হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছে।

    বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক বৈপরীত্য’ হিসেবে তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি আবারো বলছি—পরমাণু বোমা ইসরাইলে, কিন্তু পরিদর্শকরা ইরানে। ইসরাইল হত্যা করে, আর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’

  • ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পদ ৫০০০

    ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পদ ৫০০০

    ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে চার হাজার ৭০০ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের ৩০০টিসহ মোট ৫ হাজার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষার আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

    বুধবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রার্থীদের বয়সসীমা ১ সেপ্টেম্বর তারিখে ২১ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। ১ অক্টোর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আর ফি জমা দেওয়া যাবে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সার্ভিস সার্চসহ পরীক্ষার ফি ২০৫ টাকা।

    এমসিকিউ পদ্ধতিতে ২ ঘণ্টাব্যাপী ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরে। পরে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে।

    লিখিত পরীক্ষায় সাতটি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন ও নম্বর বণ্টন থাকবে। ২০০ টি প্রশ্নের প্রতিটি শূদ্ধ উত্তরের জন্য এক নম্বর পাবেন পরীক্ষার্থীরা। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটির জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূন্য দশমিক ৫ শূন্য নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমিশন থেকে নির্ধারিত হবে। উত্তরপত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিকভাবে না লিখলে এবং ঠিকভাবে বৃত্ত পূরণ না করলে বা কোনরূপ কাটাকাটি করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, লিখিত পরীক্ষা মূলত ঢাকা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রার্থী সংখ্যা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ঢাকার বাইরে অন্যান্য কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

  • জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিথ্যা বললেন ট্রাম্প

    জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিথ্যা বললেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তর। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বসেছে। প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৭ মিনিটের ভাষণে ইরান যুদ্ধ, গ্রিনল্যান্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, ওয়াশিংটনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেন।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণটি গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম বিস্ফোরক ছিল। তবে এবারও তিনি নানা বিষয়ে ‘মিথ্যা’ বলেছেন। আসুন, সেসব বিষয়ে জেনে নিই—

    যুদ্ধ বন্ধের দাবি

    ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করে আসছেন। দাবিটি পুনর্ব্যক্ত করে ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য বড় সম্মানের।’

    এ আটটি যুদ্ধ ও সংঘাত হলো কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, ফিলিস্তিনের গাজা, ইসরায়েল ও ইরান এবং মিসর ও ইথিওপিয়া।

    তবে ট্রাম্পের বলা এ ‘আটটি যুদ্ধের’ সংখ্যা স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত। কেননা, ট্রাম্পের তালিকায় এমন দুটি ঘটনা আছে, যেগুলো তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সময় আদৌ ‘যুদ্ধ’ ছিল না। মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে বিরোধটি ছিল একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ।

    সার্বিয়া ও কসোভোর পরিস্থিতিও যুদ্ধ ছিল না। সেখানে কী ধরনের যুদ্ধ ট্রাম্প বন্ধ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সেখানে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে। সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

    গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রশ্ন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেখানে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েল এখনো উপত্যকাটিতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।

    গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের সঙ্গে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়েছে।

    বৈশ্বিক উষ্ণায়ন

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এক সময় মানুষকে আক্রমণ করতে পারে বা হত্যা করতে পারে—এ সতর্কবার্তা নিয়ে ভাষণে ঠাট্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, এসব সতর্কতা দিচ্ছেন ‘সেই একই লোকেরা’, যাঁরা বলেছিলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে সবাই মারা যাবে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, পরে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন শব্দটি বদলে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বা জলবায়ু পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ, পৃথিবী নাকি উষ্ণ হওয়ার বদলে ঠান্ডা হচ্ছিল। আর এ কারণে কেউ মারাও যায়নি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে অন্তত চারটি ‘ভুল’ আছে। প্রথমত, ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ শব্দটি এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটিও প্রচলিত। দুটি শব্দের অর্থ এক নয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা দুটি শব্দই ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বোঝাতে তাঁরা ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বলেন। আর এর ফলে পৃথিবীতে যে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো বোঝাতে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

    দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প কোন সময়ের কথা বলেছেন, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে পৃথিবী ঠান্ডা হচ্ছে, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই; বরং পৃথিবী আরও উষ্ণ হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত জানুয়ারিতে জানায়, রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর হলো সর্বশেষ ১১ বছর। এর মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ ছিল সবচেয়ে উষ্ণ তিনটি বছর।

    তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘কেউ মারা যায়নি’—এমন দাবির সঙ্গেও বিশেষজ্ঞরা একমত নন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঠিক কত মানুষ মারা গেছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন হিসাবে এ সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

    চতুর্থত, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে আমরা সবাই মারা যাব’-জলবায়ু বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়নি। ২০১৮ সালে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পৃথিবীর উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে হলে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে। এ সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন।

    বিনিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি

    ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ‘পুরো বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আমরা নিশ্চিত করেছি।’ এ দাবির স্পষ্ট কোনো ভিত্তি নেই। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব দিতে পারেনি হোয়াইট হাউস।

    ট্রাম্পের ভাষণের সময় হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে ১১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। ট্রাম্পের বলা ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির তুলনায় এ অঙ্ক বেশ কম।

    ২০২৫ সালে সিএনএনের এক বিশদ পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউসের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকায় কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের অস্পষ্ট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ধরা হয়েছে।

    মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি

    ইরানের সঙ্গে টানা যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে টান পড়েছে, এমন দাবির কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতকেরা বলতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে গেছে, তা সত্য নয়। আমাদের কাছে এত বেশি অস্ত্র আছে, তা কখনো ব্যবহার করার কথাও ভাবতে পারি না। আমরা এমন মাত্রায় অস্ত্র তৈরি করছি, যা আগে কখনো করিনি।’

    মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঠিক কত অস্ত্র আছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, হয়ও না। তাই ট্রাম্পের দাবি পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব নয়। ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতক’ বলতে ট্রাম্প কাদের বোঝাচ্ছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    তবে শুধু সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) ওপর নজরদারি করা সরকারি পরিদর্শক সংস্থা এবং নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অস্ত্রের মজুত কমে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তবে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের ‘উল্লেখযোগ্য সময়’ লাগবে।

    পেন্টাগন বরাবর বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই। গত সপ্তাহেও একই দাবি করা হয়েছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধ কমার হার নিয়েও বাড়িয়ে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, গত বছরের ২০ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাজধানী ওয়াশিংটন অপরাধে জর্জরিত ছিল। এখন সেখানে অপরাধ ৮৭ শতাংশ কমেছে। তাঁরা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

  • বাড়ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি

    বাড়ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি

    সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করতে এসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাংবিধানিক পদধারীর সম্মানি ও ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের পরপরই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারও সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ, সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নিজেদের সম্মানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী নন। কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি মনে করছেন, জনগণের অর্থনৈতিক চাপের সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

    অন্যদিকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং মন্ত্রী-এমপিদের সম্মানি বৃদ্ধির বিষয়টি এক নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরির বিনিময়ে নির্ধারিত বেতন পান এবং তাদের বেতন কাঠামো পরিবর্তন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। বিপরীতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন আমার দেশকে বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা যে বেতন-ভাতা পান, সেটা খুব অপ্রতুল। কিন্তু বর্তমানে দেশের ক্রাইসিস মুহূর্তে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কোনো আপত্তি বা চাহিদা কোনোটাই নেই। সরকারপ্রধান এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা তা মেনে নেব।

    এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগ) শামীম সোহেল আমার দেশকে বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এলে আমরা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করব। রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে তাদের বেতন বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে শর্তে বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বেতনও বাড়বে। কারণ স্বাভাবিকভাবেই সচিবদের বেতনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বেতনের একটি ফারাক আছে। তাই নিয়মানুযায়ী এটাও বাড়বে। এটা নিয়ে কাজ শুরু হবে।

    রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি ছাড়িয়ে গেছে সচিবের বেতন

    নবম জাতীয় পে স্কেলের নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ফলে একজন সচিবের মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী একজন সচিবের মূল বেতন রাষ্ট্রপতির বেতনের চেয়ে ৩৬ হাজার টাকা বেশি। একই ভাবে প্রধানমন্ত্রীর মাসিক সম্মানির (এক লাখ ১৫ হাজার টাকা) চেয়ে সচিবের মূল বেতন ৪১ হাজার টাকা বেশি। একই ভাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মাসিক সম্মানিও এখন সচিবদের চেয়ে কমে গেছে। অবশ্য শুধু মূল বেতন দিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের আর্থিক সুবিধার হিসাব করা যায় না। এসব পদে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, স্টাফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত রয়েছে।

    আইন সংশোধন ছাড়া এমপি-মন্ত্রীদের সম্মানি বৃদ্ধির সুযোগ নেই

    এদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সরকারি আদেশ জারি করে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের সম্মানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাদের সম্মানি প্রতিবছর স্বয়ংক্রিয় ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বাড়ে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট আইন বা আদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হয়।

    সংসদ সদস্যদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত হয় ‘সংসদ সদস্য (পারিতোষিক ও ভাতাদি) আদেশ, ১৯৭৩’-এর আওতায়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সম্মানি ও বিশেষাধিকার নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী।

    ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর পরের বছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মানি-ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তখন রাষ্ট্রপতির মাসিক সম্মানি এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ ১৫ হাজার টাকা করা হয়। একই সময়ে মন্ত্রীদের সম্মানি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রীদের ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীদের ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এছাড়া সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    মূল বেতনের বাইরে রয়েছে বিভিন্ন ভাতা

    বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা হলেও বিভিন্ন মাসিক ভাতা মিলিয়ে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা দাঁড়ায় দুই লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য দৈনিক ৮০০ টাকা ও যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে বিমান, রেল বা স্টিমারে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ট্রাভেল ভাউচার রয়েছে। এছাড়া এলাকার কল্যাণে বছরে পাঁচ লাখ টাকা ঐচ্ছিক তহবিল এবং আকস্মিক মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে।

    মন্ত্রীদের জন্য আবাসন, গাড়িসহ নানা সুবিধা

    মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিনামূল্যে সম্পূর্ণ সুসজ্জিত সরকারি বাসভবন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সুবিধা পান তারা। সরকারি বাসভবনে না থাকলে মন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৭০ হাজার টাকা আবাসন ভাতা পান।

    ৫৩ বছরে এমপিদের বেতন বেড়েছে ১৩৭ গুণের বেশি

    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। একই সময়ে একজন মন্ত্রীর বেতন ছিল ১,০০০ টাকা। পরে কয়েক দফা আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বেতন বাড়ানো হয়। ১৯৮৮ সালে তা ১,৫০০ টাকা, ১৯৯২ সালে ৩,০০০ টাকা, ১৯৯৮ সালে ৭,৫০০ টাকা, ২০০৫ সালে ১১ হাজার টাকা, ২০১০ সালে ১৫ হাজার টাকা এবং সবশেষ ২০১৬ সালে ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এর সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় একজন সংসদ সদস্যের মোট আর্থিক সুবিধার পরিমাণ শুধু মূল বেতন দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

    এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন পদাধিকারীদের সম্মানি এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতনের তুলনা করা ঠিক নয়। কারণ জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি মূলত জনসেবা, যা টাকা বা অর্থ দিয়ে বিচার বা মূল্যায়ন করা যায় না। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের পদটি হলো নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরি।

    আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে এ ধরনের পদগুলোয় আলাদা সম্মানি ছিল না। পরে সময়ের সঙ্গে জীবন-জীবিকার তাগিদে সম্মানি ও ভাতার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। যেহেতু সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই রাষ্ট্রপতি বা অন্য জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণ বা বৃদ্ধির একটি যৌক্তিক ভিত্তি ও যুক্তি তৈরি হয়েছে।