শিরোনাম

  • ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও সড়কে উপজেলার কানিহারী তিরখী কালিরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জসিম (৩৮) সদর উপজেলার ২৩নং ওয়ার্ডের সুতিয়াখালী এলাকার মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

    এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অজ্ঞাত এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে গফরগাঁওগামী যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তিরখী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

    বর্তমান গ্যাস-সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

    সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।

    সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

    ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

    হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

    দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

    এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • কেন ২ বিমান নিয়ে সফর করেন পুতিন

    কেন ২ বিমান নিয়ে সফর করেন পুতিন

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার সকালে দিল্লির আকাশে যখন তার বহর প্রবেশ করে, তখন রানওয়েতে অবতরণ করে দেখতে হুবহু একই রকম দুটি বিশেষ বিমান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এক রাষ্ট্রপ্রধানের সফরের জন্য কেন একই সঙ্গে দুটি বিশালাকার বিমান ওড়ানো হয়? আন্তর্জাতিক সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ হলো পুতিনের অতি-উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চিরাচরিত ‘ডিকয়’ পলিসি।

    পুতিন দেশে কিংবা বিদেশে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সফরে গেলে একই নকশার দুটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান প্রায় একই সময়ে আকাশে ওড়ে এবং পাশাপাশি যাত্রা করে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে রুশ প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন বিমানে অবস্থান করছেন। এর একটি বিমানে প্রেসিডেন্ট নিজে থাকেন, আর অন্যটি ওড়ে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিকল্প হিসেবে।

    যদি আকাশে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা বড় অন্তর্ঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে হামলাকারীরা যাতে নির্দিষ্ট টার্গেট শনাক্ত করতে না পারে, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এমন ছদ্মবেশ বজায় রাখা হয়। এছাড়া কোনো একটি বিমানে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে বিকল্প বিমানে কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টিও এর অন্যতম কারণ।

    রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিমান দুটি শুধু সাধারণ বাহন নয়। এগুলোকে বলা হয় ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’। জরুরি যুদ্ধাবস্থায় বিমান দুটিকে সরাসরি ভ্রাম্যমাণ সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আকাশ থেকেই সুরক্ষিত স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে রুশ সামরিক বাহিনী, পরমাণু কমান্ড এবং সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এতে।

    শত্রুপক্ষের রাডারকে বোকা বানাতে এই বিমানে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি ও অ্যান্টি-মিসাইল শিল্ড। চারটি শক্তিশালী অ্যাভিয়াডভিগাটেল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনযুক্ত এই বিমান দুটি মাঝআকাশে তেল না ভরেই একটানা ১১ হাজার কিলোমিটার উড়তে পারে, যার ফলে দীর্ঘ ভ্রমণে কোনো তৃতীয় দেশে অবতরণের ঝুঁকি নিতে হয় না। এই চরম সামরিক সুরক্ষার ভেতরে প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে বিশেষ স্যুইট, আধুনিক শৌচাগার, রান্নাঘর, ডাইনিং এরিয়া এবং কনফারেন্স রুম। দিল্লি সফরে পুতিনের জোড়া বিমানের আগমন আরও একবার বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিল রুশ প্রেসিডেন্টের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ও কৌশলগত সতর্কতার বিষয়টি।
    সূত্র: রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ব্রিকস সম্মেলন: একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা

    ব্রিকস সম্মেলন: একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা

    বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর কয়েকজন এই সপ্তাহান্তে দিল্লিতে একটি বিশাল গোলাকার টেবিল ঘিরে একত্র হয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে ঘোষণা করেন, তাঁর পাশে বসা নেতাদের একজোট হয়ে ভবিষ্যতে ‘নিয়মের অনুসারী’ নয়, বরং ‘নিয়ম নির্ধারণকারী’ হয়ে উঠতে হবে।

    মোদির পাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

    দেশগুলো যে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা কিন্তু নয়; বরং তাদের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—এমনকি একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতেও জড়িয়েছে।

    ২০২০ সালে ভারত ও চীন তাদের বিতর্কিত সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। আর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন ব্যাপক আলোড়ন উঠেছিল, সে সময়ে তেহরান ব্রিকসের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

    এমন সময়ে ভারত যে এই নেতাদের এক জায়গায় সশরীর উপস্থিত করতে পেরেছে, সেটিই কম বড় অর্জন নয়। এটি ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ দিচ্ছে। ইরানের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্মেলন বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগও করে দিয়েছে।

    গত শনি ও রোববার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো সদস্যদের কাছে ব্রিকস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।

    যদিও ব্রিকসকে পশ্চিমাবিরোধী জোট হিসেবে তুলে ধরতে ভারত অনিচ্ছুক। সম্মেলনে মোদি নিজেই বলেছেন, এই জোট ‘কারও বিরুদ্ধে নয়’।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দিল্লির জন্য এই পার্থক্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরস্পরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত।

    এদিকে সদস্যদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকার পরও এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতে দুবার ব্রিকসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবার সম্মেলনের প্রথম দিনই ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে। যদিও যেসব বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো পাশ কাটিয়ে এই ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে—এমনকি ঐকমত্যে সমস্যাগুলোর সমাধান বিষয়েও তেমন কোনো উল্লেখ নেই।

    যৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার’ নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে এসবের জন্য কাউকেই দায়ী করা হয়নি।

    এ ছাড়া এতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করার বিরোধিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন কোনো পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করা হয়েছে, যা ‘দখলদারত্বকে বৈধতা দিতে বা দীর্ঘায়িত করতে পারে’। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে একেবারেই কোনো উল্লেখ নেই। ব্রিকসের আগের ঘোষণাগুলোর তুলনায় এবারেরটিতে এটি একটি ব্যতিক্রম।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। ঘোষণায় ‘বাছবিচারহীনভাবে বাড়তে থাকা শুল্ক’ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং (বাঁয়ে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করমর্দন করছেন।

    ট্রাম্পের বাণিজ্যিক হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় পাল্টে যেতে শুরু করা বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এখন অনেক সদস্যদেশের অর্থনীতির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে এ সম্মেলনে অন্যতম দিক হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মুখোমুখি বৈঠক। মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন বৈঠক কল্পনা করা কঠিন ছিল। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া এই সম্মেলনে তেহরানের বিশ্বের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখেও ইরান যে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি, এই সম্মেলনে তা প্রমাণ হয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইরানের নৌবন্দর অবরোধ করে রেখেছে, তা সত্ত্বেও ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান মালয়েশিয়া, ভারত, ইথিওপিয়াসহ ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

    চীনের ক্ষেত্রে সাত বছর পর দিল্লিতে এটি ছিল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রথম সফর। ২০২০ সালের সীমান্ত বিরোধের পর থেকে চীন ও ভারতের মধ্যে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। যদিও সেই উত্তেজনা এখন কিছুটা কমেছে। দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য–ঘাটতিও রয়েছে, যেখানে ঘাটতির পাল্লা চীনের দিকেই ব্যাপকভাবে ঝুঁকে আছে।

    এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থা কেমন, তা সি চিন পিং ও মোদির মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই নেতার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ করমর্দন হয়েছে, তবে মোদির বহুল পরিচিত আলিঙ্গন দেখা যায়নি। এ ছাড়া সি চিন পিং ২৪ ঘণ্টার কম সময় দিল্লিতে ছিলেন এবং শনিবার রাতে মোদির দেওয়া নৈশভোজেও তিনি যোগ দেননি।

    তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা এই দুই দেশের জন্যও সপ্তাহান্তের এই আয়োজন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্যের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

    সর্বোপরি সম্মেলনটি দেখিয়েছে, পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে থেকেও ব্রিকস প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা ও নিজেদের অবস্থান নিয়ে কৌশল ঠিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

  • দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা ১ হাজার ৩৯১ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ ঘটনায় চার সার ব্যবসায়ীকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি সার গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

    সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানায়, গত দুই দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল ইসলাম।

    এ সময় মেসার্স শাহির ট্রেডার্সের গুদাম থেকে ৭৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৪৪৬ বস্তা টিএসপি, ২৭৬ বস্তা ডিএপি, ৪৬ বস্তা এমওপি ও ১৪ বস্তা ইউরিয়া রয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: নাসিম ইকবাল খোকনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরে একই এলাকায় অনুমোদনহীন খুচরা বিক্রেতা মো: আলিমের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে সাত বস্তা টিএসপি, সাত বস্তা এমওপি ও তিন বস্তা ডিএপি রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ৪ নম্বর শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনোয়ার হোসেন। সেখানে মেসার্স নবাব ট্রেডার্সের মালিক মশিউর রহমানের নিবন্ধনবিহীন দুইটি ঘর থেকে ৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া একই দিন চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে বিসিআইসি ডিলার মেসার্স হাসেম ট্রেডার্সের মালিক মো: হাসেমের ভাই মো: জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ৫১০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উদ্ধার করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে উন্মুক্তভাবে বিক্রির নির্দেশ দেন।

    অভিযান চলাকালে বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আল এমরান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের কৃত্রিম সঙ্কট প্রতিরোধে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ২৫ অভিবাসী  নিয়ে গ্রিসে নৌকাডুবি

    ২৫ অভিবাসী নিয়ে গ্রিসে নৌকাডুবি

    গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ড।

    সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা দুটি নৌকা থেকে ৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে মোট ৭৭ জন আরোহী ছিলেন।

  • মতলবে ২৫ মামলার আসামি সুমন গ্রেফতার

    মতলবে ২৫ মামলার আসামি সুমন গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলবে অভিযান চালিয়ে ২৫ মামলার আসামি মাদককারবারি সুমন প্রধানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাপাতিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে তিনটি জিআর সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করা হয়।

    সুমন ওই গ্রামের মো: এবাদুল্যাহ প্রধানিয়ার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, সুমন প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় পাঁচ বছর চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছর তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদালতের আদেশ রয়েছে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্য ২৫টি মামলা রয়েছে। আমাদের বিশেষ অভিযানে তাকে তার বসতবাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফরাসি ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাবে ইয়ামাল বলেছেন, গত মৌসুমের সাফল্য বিবেচনায় এই পুরস্কার তারই প্রাপ্য।

    মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে আর আমিই এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আমরা দুজনই আছি। তবে এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, সেই বিচারে ব্যালন ডি’অরটা আমারই প্রাপ্য।’

    গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে কাতালান ক্লাবটি। স্পেনের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।

    তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন।

    এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলেতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল অনুষ্ঠানটি।

  • নারীই কি আসছেন জাতিসংঘে ?

    নারীই কি আসছেন জাতিসংঘে ?

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে এবার আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনা ও চাপের মধ্যে জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের পদকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক দায়িত্বগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়। মহাসচিবের হাতে সরাসরি কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা সামরিক শক্তি নেই। তবু বিশ্বের সংঘাত, যুদ্ধ, মানবিক সংকট, শান্তিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এবারের নির্বাচনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ- বার্কেট প্রতিযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। এছাড়া আরো নারী প্রার্থীগণ হলেন: কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, চিলির মিশেল ব্যাশেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, ইকুয়েডরের ইভোন বাকী। পুরুষ প্রার্থী তিনজন হচ্ছেনÑআর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের মাকি সাল এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।

    তবে এই নির্বাচন সরাসরি ভোটে হয় না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর সাধারণ পরিষদ মহাসচিবকে নিয়োগ দেয়। ফলে প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের রাজনৈতিক সমর্থনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা পরিষদের এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশের বিরোধিতা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে প্রার্থীদের জন্য কূটনৈতিক সমঝোতা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিও এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা ও ফিলিস্তিন সংকট, ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে নতুন মহাসচিবকে অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক পরিবেশ মোকাবিলা করতে হবে।

    বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিবকে একদিকে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে, অন্যদিকে জাতিসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে হবে।

    প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যের বিষয়টি বিবেচনা করে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তাই প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি তিনি কোন অঞ্চল থেকে এসেছেন এবং বিভিন্ন শক্তির কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা—সেটিও নির্বাচনি হিসাবের অংশ।

    পরবর্তী মহাসচিব শুধু জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধান হবেন না; তাকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে হবে, যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গভীর বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত কমানো, পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপের পথ খোলা রাখা এবং জাতিসংঘের প্রতি বিশ্বের আস্থা পুনর্গঠন হবে নতুন মহাসচিবের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামার (উপশাখা) নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সুরমা ইউনিয়নর শিমুলতলা গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থান। ফলে আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিমুলতলা পঞ্চায়েতী কবরস্থানের কিছু অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাশিয়ামারা নদীতে মিশে গেছে। বেশ কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কবরের হাড়গোড় তুলে নিয়ে অন্যত্র কবর দিয়েছেন স্বজনরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শত বছরে এই কবরস্থানে কয়েকটি প্রজন্মের স্বজনরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এই এলাকার মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে কবরস্থানকে ঘিরে। সুযোগ পেলেই গ্রামের মানুষ কবরস্থানে গিয়ে তাদের বাপ-দাদাসহ স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দোয়া করেন। কিন্তু নদী ভাঙনের এই কবল থেকে মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের শেষ স্মৃতি রক্ষায় আতষ্কে পড়েছে স্থানীয়রা।

    এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কবরস্থান নয় পুরো গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

    শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন জানান, বহুবছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই গোরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদী ভাঙনের তীব্রতা দিনদিন বাড়ায় গ্ৰামের অনেক পরিবার তার স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে, হাড়গোড় ও কঙ্কাল খুঁড়ে নিয়ে অন্যত্র কবরস্থ করছেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি কবর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরিভাবে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা না হলে, আমাদের পূর্ব-পুরুষের স্মৃতি সম্বলিত কবরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    শিমুলতলা গ্রামের মইনূল হক বলেন, ‘চোখের সামনে শতশত কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’

    সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন আর-রশীদ বলেন, ‘কবরস্থান হলো মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা এবং অনন্তকালের যাত্রার প্রথম ধাপ। এ কবরস্থান নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শুনে অনেক ব্যতিত হয়েছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই। একবার পরিদর্শন করে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতান জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রিকেটার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’

    আরেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি নিজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’

    অভিযোগ রয়েছে, জ্যোতির কঠোর আচরণে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা স্রষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মোনাজাত করে অভিশাপও চেয়েছেন।

    জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দায়িত্ব পাওয়ার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নিজের প্রভাববলয় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে একের পর এক নতুন মুখকে দলে আনা এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

    এরপর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমন দাবি করেছেন দলসংশ্লিষ্টরা। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিচার-সালিশ পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।

    গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। দল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র তখন দাবি করেছিলেন, অফ-স্পিনার সুমনাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল।

    পারফরম্যান্স ও স্মার্টনেস দিয়ে সুমনা দীর্ঘদিন ধরেই নজর কাড়ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, তাকে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি মনে করেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক সময়েও দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে অধিনায়কের সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

    এর আগে জ্যোতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও মানসিক চাপের মুখে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় পেসার জাহানারা আলম একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। এমন দাবিও রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেছেন, ‘মাঠের অধিনায়কত্ব আর বাইরের অধিনায়কত্ব আবার ভিন্ন। এখানে ওর কিছু জিনিস আছে, যেগুলো না করলেও পারতো। সেই জিনিসটা হচ্ছে, অধিনায়ক হয়েই তখনকার নির্বাচক কাম ম্যানেজার মঞ্জু (বর্তমানে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করা। এই জিনিসটা আসলে আমার মতে ও ঠিক করেনি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একটানা সিনিয়রদের সবাইকে বসিয়ে দিয়ে জুনিয়র যারা ওর কথা শুনছে বা ওর কথা মান্য করছে, সেই ধরনের জুনিয়রদের নিয়েছে। এমনও আছে, যারা অভিষেক পর্যন্ত করেনি, সেই নতুনদেরও ওর কথা অনুযায়ী দলে ঢুকিয়েছে। দল তো এভাবে করে কোনোদিন ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। একটা সময় এর প্রতিফলন ঘটবেই। এখন যেটা ঘটছে, সেটাই তার প্রতিফলন। সে যেভাবে চেয়েছিল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে; কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের ক্রিকেটটা আর নেই।’

  • গাজা গণহত্যা নিয়ে চলচ্চিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরাইলের

    গাজা গণহত্যা নিয়ে চলচ্চিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরাইলের

    গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যা’ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর এর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোহার তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির পুরস্কার জয়কে তিনি ‘ভয়াবহ’ ও ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, নির্মাতারা ‘বিশ্বের ইহুদিবিদ্বেষীদের কাছ থেকে হাততালি পাওয়ার জন্য’ নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন।

    জোহার বলেন, আব্রাহাম ও সোরের কর্মকাণ্ড ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার’ শামিল।

    পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে আমি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে এসব নিন্দনীয় নির্মাতার ইসরাইলি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেব।’

    ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ চালাতে ইসরাইলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    ভেনিসে ছবিটির প্রিমিয়ারে দর্শকেরা ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।

    তথ্যচিত্রটিতে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের সাক্ষাৎকার রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সাক্ষাৎকারদাতারা ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি এআই-চালিত ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় ফিলিস্তিনিদের টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং হত্যার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

    নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বলেন, তার আশা, এই তথ্যচিত্র পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

  • এআই না জানলে পিছিয়ে পড়বে মুসলিমরা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    এআই না জানলে পিছিয়ে পড়বে মুসলিমরা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মুসলিম সমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে মুসলিমরা বাইরের প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    রোববার ভারতের কেরালার কোঝিকোড়ে এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আনোয়ার বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।

    আনোয়ার বলেন, ধর্মীয় আলেমদের বর্তমান সময়ের ‘নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ বুঝতে হবে। এর মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন বিজ্ঞান, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও রয়েছে।

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রোববার কেরালা সফরে যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট সুন্নি আলেম কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন।

  • নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।

    আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।

    তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’

    তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।

    তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।

  • উত্তর কোরিয়ায় সমন্বিত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

    উত্তর কোরিয়ায় সমন্বিত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

    উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনের সমন্বয়ে একটি যৌথ গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে। দেশটির দাবি, এই মহড়ায় তাদের অস্ত্রব্যবস্থার ‘বিপুল ধ্বংসাত্মক শক্তি’ প্রদর্শিত হয়েছে। সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।

    এই মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র একই সময়ে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক ও কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের রকেট লঞ্চার, কামান এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন। উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট এতে অংশ নেয়।

    উত্তর কোরিয়ার দাবি, মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল সমন্বিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা এবং একসঙ্গে ব্যাপক গোলাবর্ষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর করার সক্ষমতা বাড়ানো। একই সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়টিও মহড়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানিয়েছে, মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমুদ্রের দিকে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর হিসাবে, এ বছর এটি উত্তর কোরিয়ার ১৩তম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

    উত্তর কোরিয়ার এই মহড়া এমন সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া শেষ করেছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে আসছে।

    অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশটি ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণ করেছে এবং সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনকে একটি সমন্বিত আক্রমণব্যবস্থার অধীনে পরিচালনার অনুশীলন উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেও করা হয়ে থাকতে পারে।

  • ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক চাই। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলেছিলেন। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না।’

    সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ব্রিকসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত এখন পর্যন্ত খোলাখুলিভাবে কোনো নীতি জানায়নি। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। এটিকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ মনে করে না বাংলাদেশ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আশা করব ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক চাই।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে।

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।’

    স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে এবং জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।

    এ সময় জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, গুম-খুন-হত্যা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

    পরে ‘আমরা ভোলাবাসী’র নেতৃবৃন্দ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন মহাসড়কেরও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে যেটি ভালো হবে, সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

    সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

    সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি হচ্ছে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড।

    ব্যাংকক উপসাগরে যৌথভাবে সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে করা একটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর জাতিসংঘ সমর্থিত সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করতে স্থায়ী সালিশি আদালতের (পিসিএ) দ্বারস্থ হয় নমপেন ।

    ২০০১ সালের সমঝোতা স্মারকে প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিশাল একটি এলাকার কথা বলা হয়েছে। ওই এলাকার ওপর আধিপত্য কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয়েই দাবি করে আসছে।

    ‘এমওইউ ৪৪’ নামে পরিচিত কাঠামোগত চুক্তিটি বাস্তবায়নে ‘কোনো অগ্রগতি হয়নি’ উল্লেখ করে ব্যাংকক গত মে মাসে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে যায়।

    প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশটির চলমান সীমান্ত সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই। গত বছর দুই দফা সংঘর্ষে অনেক মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

    কম্বোডিয়া গত সপ্তাহে বলেছে, ‘থাইল্যান্ড একতরফাভাবে সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বাতিল করার পর’ তারা সমঝোতা প্রক্রিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

    কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জুনে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার অধিকার রক্ষার’ জন্যও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    দুই দেশের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে বিশ্বের প্রাচীনতম সালিশি আদালতের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইনের পাঁচ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত সমঝোতা প্যানেলের সামনে বক্তব্য দেবেন।

    কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন প্রথম বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর বক্তব্য দেবেন তার থাই প্রতিপক্ষ সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও।

    ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পিসিএ বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তঃসরকারি বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা। চুক্তি, বিশেষ সমঝোতা এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের (ইউএনক্লস) মতো বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে এটি দেশ ও বেসরকারি পক্ষের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

    কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।

  • পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে: আইনমন্ত্রী

    পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে: আইনমন্ত্রী

    পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ডারের ওপারে বসে ইয়াবা চোরাকারবারিরা পরিকল্পনা করছে। ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাদক এখন আর শুধু খুলনার সমস্যা নয়। সে কারণে সারা দেশে ডোপ টেস্টের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সন্ত্রাস দমন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারে যাবে না সরকার। মানবাধিকার রক্ষা করে প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করে সন্ত্রাস দমন করা হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের বয়স ছয় মাস। এ সরকারকে আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য সময় দিতে হবে। তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে পচন ধরেছে, সে পচনকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছয় মাসে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯টি দোকানকে মোট ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার পৌরসভার সদরের বিভিন্ন মার্কেটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

    পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মিত্রপ্লাজায় ২৬টি, আবদুল কাদির সুপার মার্কেটে ২৩টি এবং হাবিব সুপার মার্কেটে ৪০টি দোকানে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এসব দোকানের প্রতিটিকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুর রহমান।

    এ সময় আড়াইহাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, লাইসেন্স পরিদর্শক মো: সুমন মিয়া, কর আদায়কারী মো: হানিফ শিকদার, সহকারী কর নির্ধারক মো: ওমর ফারুকসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোবাইল কোর্ট চলাকালে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য দুই দিনের সময় দেয়া হয়।

  • ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ

    ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ

    অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে— হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়।

    ড. ইউনূসের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। চেম্বার আদালতে সোমবারই এর শুনানি হতে পারে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। ওইদিন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়।

    পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭— এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে ড. ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পৃথক দু’টি রিট করে। এরপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেন। তবে গত বৃহস্পতিবার রুল খারিজ করেন হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ। পাশাপাশি রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর।

  • যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ফিলিস্তিনি পুরুষদের

    যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ফিলিস্তিনি পুরুষদের

    গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ ফিলিস্তিনি পুরুষদের শুধু ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতার মধ্যেই আটকে রাখেনি; তাদের আত্মপরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মানসিক অবস্থাকেও গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। চার ফিলিস্তিনি পুরুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যুদ্ধের এই কম আলোচিত প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

    ৩৯ বছর বয়সী আহমেদ যুদ্ধের আগে পিএইচডি করছিলেন এবং একই সঙ্গে রেডিও উপস্থাপক, স্থানীয় ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইটের সম্পাদক ও গবেষক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ তার জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দিয়েছে। আগে যেখানে গবেষণা ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, এখন তাকে পানি সংগ্রহ বা শৌচাগার ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। নিজের কাজ ও অর্জনের মধ্য দিয়ে যে আত্মমর্যাদা তিনি অনুভব করতেন, যুদ্ধের পর তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

    ২০২৪ সালের মে মাসে আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর থেকে তারা তাঁবুতে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা শুনতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী নিজেদের আবেগ ও সমস্যাগুলো নিয়ে আগের মতো কথা বলতে পারেন না। সন্তানদের সামনে সব ঠিক আছে এমন আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করলেও নিজের ভেতরের উদ্বেগ তিনি প্রকাশ করতে পারেন না।

    ৪০ বছর বয়সী নিদাল যুদ্ধের আগে গাজা সিটিতে মোবাইল ফোন ও গৃহস্থালি সামগ্রীর ছোট ব্যবসা করতেন। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা বাস্তুচ্যুত হন এবং তার এক আত্মীয় নিহত হন। পরে তারা যে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানে বিমান হামলায় তার মেয়ে মালেক নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত নিদাল ধ্বংসস্তূপের পাশে তাঁবু গড়ে বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ তার সন্তান, বাড়ি ও অর্থ—সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।

    নিদাল এখন নিজেকে বেকার বলতেও চান না। তার ভাষায়, তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম নন, কিন্তু পরিবারের জন্য আগের মতো উপার্জন করতে না পারায় নিজেকে অসহায় মনে করেন। অধিকাংশ সময় তিনি তাঁবুর পাশে একা থাকেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও কমে গেছে।

    ২৪ বছর বয়সী হুসেইন যুদ্ধের আগে প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করতেন। যুদ্ধের শুরুতে তার বাড়িতে বোমা হামলা হয়। পরিবারের বাড়ি হারানোর পর তাকে শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হয়েছে। প্রথমে মোবাইল চার্জ ও মেরামতের কাজ, পরে ফোন কেনাবেচা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে জীবিকা চালানোর চেষ্টা করেন তিনি। যুদ্ধ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বদলে দিয়েছে।

    হুসেইন বলেন, তাঁবুতে বসবাসের বর্তমান অবস্থায় ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। তবু তিনি বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আশা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তরুণ প্রজন্মই একদিন গাজাকে পুনর্গঠন করবে।

    ২২ বছর বয়সী হামজা যুদ্ধ শুরুর সময় মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তর গাজায় জরুরি চিকিৎসাসেবায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সীমিত চিকিৎসক ও বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে যুদ্ধ তার কাছে পরিবার ও সম্পর্কের গুরুত্ব নতুনভাবে তুলে ধরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই জায়গায় ঘুমানো, ক্ষুধা ও মৃত্যুর আশঙ্কা একসঙ্গে মোকাবিলা করা তাদের পারিবারিক বন্ধন আরও শক্ত করেছে বলে তিনি জানান।

    যুদ্ধের আগে হামজা বিদেশে গিয়ে নিউরোসার্জারি পড়ার এবং ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে ভালো জীবন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে দ্রুত পরিবার গঠনের দিকে ভাবতে বাধ্য করেছে। তার মতে, যখন মানুষ নিজের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা অনুভব করে, তখন পরিবার ও সন্তান ধারণের আকাঙ্ক্ষা আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

    এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, গাজার যুদ্ধের প্রভাব কেবল নিহত, আহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝা যায় না। যুদ্ধ পুরুষদের উপার্জনকারী ও পরিবারের আশ্রয়দাতা হিসেবে প্রচলিত ভূমিকা দুর্বল করেছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও দাম্পত্য সম্পর্ক সংকুচিত করেছে এবং বহু মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও পরিবার, পারস্পরিক নির্ভরতা ও পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • গাজায় মার্কিন মদত বন্ধ করতে হবে-রাশিদা তালিব

    গাজায় মার্কিন মদত বন্ধ করতে হবে-রাশিদা তালিব

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য রাশিদা তালিব। গাজার একটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার খবর প্রকাশের পর তিনি এই আহ্বান জানান।

    মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাশিদা তালিব রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘গাজায় গণহত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কোনো যুদ্ধবিরতিই কখনো কার্যকর হয়নি।’

    ইসরাইলি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শিশুরা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বোমায় নিহত হচ্ছে। আর যারা বেঁচে যাচ্ছে, তাদের অনেককেই আজীবন মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে।’

    মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তালিব বলেন, এই ভয়ংকর জাতিগত নিধনমূলক কর্মকাণ্ডে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তার এই বার্তার সঙ্গে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে গাজার একটি কিন্ডারগার্টেনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই হামলার সময় তীব্র গুলিবিনিময়ের মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু ভবনটির ভেতরে আটকা পড়েছিল।

  • চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী এলাকার দুর্গম এলাকায় চকরিয়া থানার পুলিশের অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে। এ সময় দুই নারীসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৪ আগস্ট) চকরিয়া থানার পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিং-এ তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রাজিব উরপে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দীন( ৪০), জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসু ডাকাত (২৬), সাগার রানা ওরফে শুটার সাগার (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর রানু (৫৫)।

    থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, রোববার গভীর রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়াডের দুর্গম পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকার এক বসত বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এসময়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালাতে গেলে পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে। তাদের শিকার উক্তি মোতাবেক পুকুর জলাশয় ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।

    গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল, একটি দেশীয় শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ এবং ২য় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ডসহ সর্বমোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

  • সৌদিতে ক্যামেল ফেস্টিভাল

    সৌদিতে ক্যামেল ফেস্টিভাল

    সৌদি আরবের তায়েফে অনুষ্ঠিত ক্রাউন প্রিন্স ক্যামেল ফেস্টিভালের চূড়ান্ত পর্বে আনুমানিক ২৭ কোটি থেকে ৪৯ কোটি ২০ লাখ সৌদি রিয়াল বা ৭২ মিলিয়ন থেকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১১৪টি উট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

    উৎসবের চূড়ান্ত পর্বে চারটি চ্যাম্পিয়নশিপ রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম রাউন্ডে ৩৫টি, দ্বিতীয় রাউন্ডে ১৩টি, তৃতীয় রাউন্ডে ৪৬টি এবং চতুর্থ রাউন্ডে ২০টি উট অংশ নেয়। সৌদি ক্যামেল ফেডারেশনের আয়োজনে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এবারের উৎসবে পুরস্কার হিসেবে মোট ৫ কোটি সৌদি রিয়াল বা প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে।

    উৎসবের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল-সাইফ’ বা তলোয়ার এবং ‘আল-বুনদুক’ বা রাইফেল। এগুলো নারী উটের হিয়িল এবং পুরুষ উটের জুমুল বিভাগের চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হয়। এসব শিরোপা অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট উটের মর্যাদা, প্রজননমূল্য এবং বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    উটের মালিক ও রেসিং বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শরিফের মতে, হিয়িল বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একটি উটের সাধারণ বাজারমূল্য ৩০ লাখ থেকে ৬০ লাখ সৌদি রিয়ালের মধ্যে। জুমুল বিভাগের উটের মূল্য সাধারণত ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ রিয়াল। তবে সেরা বংশধারা ও প্রতিযোগিতার রেকর্ড থাকা কিছু উটের দাম ৭০ লাখ থেকে ৮০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত উঠতে পারে।

    তিনি বলেন, চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা করে নেওয়াই একটি উটের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। উটের আগের সাফল্য, বংশধারা, প্রজনন সম্ভাবনা, অর্জিত পুরস্কার এবং প্রতিযোগিতার মান—সবকিছুই এর বাজারমূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

    সৌদি ক্যামেল স্পোর্টসের মুখপাত্র মুরধি আল-খামাইলি বলেন, এই উৎসব সৌদি আরব, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর আরব বিশ্বের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, এটি এখন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তায়েফের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনেও উৎসবটি ভূমিকা রাখছে।

    ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ক্রাউন প্রিন্স ক্যামেল ফেস্টিভালে এক লাখের বেশি উট অংশ নিয়েছে। এ আয়োজন ইতোমধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একাধিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উটের দৌড় আয়োজনের রেকর্ড গড়ে উৎসবটি, যেখানে ২১ হাজার ৬৩৭টি উট অংশ নেয়।

    এবারের অষ্টম আসরের বিভিন্ন পর্বে সৌদি মালিকানাধীন উটগুলো সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে। তাদের উটগুলো মোট ১৩১টি হিটে জয় পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন উট ৩৫টি এবং কাতারের উট ২৭টি জয় পেয়েছে। কুয়েত ও ওমান তিনটি করে এবং বাহরাইনের উট একটি জয় পেয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় বেদভিটা গ্রামে নিখোঁজের তিনদিন পর পরি রানী হাজরা নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার সকালে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে পাটখেত থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, পরি রানী হাজরা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ইউনেস্কোয় দিতে চাইনা: জাতিসংঘ

    গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ইউনেস্কোয় দিতে চাইনা: জাতিসংঘ

    গাজা উপত্যকার শিক্ষাব্যবস্থা জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) থেকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ বিষয়ে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    সাবেক ইউএনআরডব্লিউএর কর্মকর্তা খলিল আল-হালাবি গাজায় সংস্থাটির শিক্ষা কার্যক্রম ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের খবর নিয়ে গুতেরেসের কাছে জানতে চাইলে জাতিসংঘ মহাসচিব সংক্ষিপ্তভাবে বিষয়টি নাকচ করে দেন। গুতেরেসের জবাব ছিল, ‘অবশ্যই নয়।’

    ৭২ বছর বয়সি আল-হালাবি ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কর্মসূচির উপপ্রধান, স্কুল শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং উত্তর গাজার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পরও তিনি গাজার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।

    আল-হালাবির মতে, গাজার শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউএনআরডব্লিউএর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থাটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার কারণে ইউএনআরডব্লিউএর বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া সহজ হবে না।

    গাজার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ইউনেস্কোর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যেই জাতিসংঘের এই অবস্থান সামনে এলো। মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কার্যক্রম ইউনেস্কোর কাছে সরিয়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

  • মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে সুমি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    সুমি ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে।

    মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, আড়াই বছর আগে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটির ইরান হাওলাদারের ছেলে আকবর হাওলাদারের সাথে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কলহ শুরু হয়। সম্প্রতি দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সুমিকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমিকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। এরই সূত্র ধরে রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

    পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত স্বামী আকবর হাওলাদারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মৃতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে নেয়া হবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা।

  • দুই কারণে ভ্যাপসা গরম

    দুই কারণে ভ্যাপসা গরম

    দিনের শুরুতেই ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ দেশবাসী। সকাল থেকেই রোদের তেজও অনেক বেশি থাকে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, রাজধানীর আকাশের প্রায় ৭০ শতাংশ মেঘে ঢাকা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি নেই।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ।

    আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, বর্ষা প্রায় শেষের দিকে। ফলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে এসেছে।

    আবহাওয়া অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টি হলেও দক্ষিণাঞ্চল একেবারেই নেই।

    আজ সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৪৮ মিলিমিটার। এছাড়া, রংপুরে ৪৩ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ১৮, ঢাকায় ১৪, বাঘাবাড়ীতে ১৩ ও শ্রীমঙ্গলে ১২ শতাংশ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই সময়ে কেবল মোংলায় ২ ও যশোরে ১ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে।

    গতকাল সন্ধ্যায় ফেনী ও রামগতিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি।

    অধিদপ্তর আজ সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি।

  • আরো কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিলেন হুথি বিদ্রোহীরা

    আরো কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিলেন হুথি বিদ্রোহীরা

    লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে আরো কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা । এর ফলে বাব আল-মান্দেব নৌ-চলাচল রুটের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরো সুদৃঢ় হলো।

    ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে যখন পুনরায় সংগঠিত হয়ে যখন পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনা ঘটল।

    সংঘাতের এই তীব্রতা—বিশেষ করে লোহিত সাগরে সৌদি তেলের অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের হামলা বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে ইরানকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন সরকারি কর্মকর্তা ও একজন হুথি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, সরকারি জোটের শত শত সেনা ওই দ্বীপপুঞ্জ থেকে সরে গেছেন। এরপরই বাব আল-মান্দেব থেকে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) উত্তরে অবস্থিত হানিশ দ্বীপগুলোতে নিজেদের যোদ্ধাদের মোতায়েন করেছে হুথি বিদ্রোহীরা ।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৭২ আটক

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৭২ আটক

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিদেশিকে যাচাই করা হয়। তারা বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, চীন, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের নাগরিক।

    আটকদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। অভিযানে একটি সন্দেহভাজন পতিতালয় ও ভুয়া চিকিৎসকের আস্তানারও সন্ধান পাওয়া যায়।

    অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। আটক সবাইকে বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষণের দায়ে একটি ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার হিজলগাড়ী ও ডিঙেদহ এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হিজলগাড়ী বাজারের মেসার্স সুমি ফার্মেসির ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষিত ছিল। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আশরাফুল আলমকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানহীন পণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানটি পরিচালনা করেন। এ সময় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কলকাতায় মুসলিম পুলিশের দাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

    কলকাতায় মুসলিম পুলিশের দাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

    পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। আজানের সময় মাইক বন্ধ, রেড রোডে ঈদের নামাজ বন্ধ এবং গরু কোরবানি বন্ধের পর এবার দাড়ি রাখাতেও বিধিনিষেধ জারি করল বিজেপি সরকার। শিখরা দাড়ি রেখে পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে কাজ করতে পারলেও মুসলমানদের ওপর কড়া ফরমান এলো শুভেন্দু অধিকারীর সরকার থেকে।

    কলকাতা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন মুসলিম কর্মী এবং হোমগার্ড। লালবাজারের পক্ষ থেকে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দপ্তর থেকে জারি করা একটি মেমোতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ প্রত্যেক পুলিশকর্মীকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

    কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স)-এর স্বাক্ষরিত ওই মেমোতে বলা হয়েছে, মোট ৪৭ জন পুলিশকর্মী ও হোমগার্ডের আবেদন জমা পড়েছিল। কলকাতা পুলিশের নানা ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং ট্রাফিক পুলিশসহ একাধিক ইউনিটে কর্মরত পুলিশকর্মীরা এই আবেদন করেছিলেন। মেমোর সাথে তাদের নাম, পদমর্যাদা এবং বর্তমান পোস্টিংয়ের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে, যার প্রথম পর্যায়ে ৩০ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৭ জনের নাম রয়েছে।

    আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই দাড়ি রাখার কারণ হিসেবে ধর্মীয় অনুশাসনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে লালবাজারের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত পছন্দ বা কারণ যাই হোক না কেন, বিভাগীয় শৃঙ্খলার নীতিতে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আবেদনকারীদের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এবং লালবাজারের এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করেন। যদিও বিজেপি আসার আগে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূলের জমানায় দাড়ি নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি।

    এই প্রসঙ্গে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি ঘটনার কথাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি রাখার অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। তিনি ১৯৯৬ সালে হজ করার পর থেকে ইসলামিক নিয়ম মেনে দাড়ি রেখে আসছিলেন।

    তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর সিং তাকে দাড়ি কাটতে বা ছেঁটে ফেলতে বললে তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন এবং জানান যে এটি তার ধর্মীয় অধিকার ও বাধ্যবাধকতা। এরপর তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরে সাসপেন্ড করা হয়। এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ১৯৪৩ সালের ‘পুলিশ রেগুলেশন অফ বেঙ্গল’-এর নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মাইনরিটি কমিশনের চেয়ারম্যান কে. এম. ইউসুফ সেই সময় এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপে সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

  • গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামে পানিতে ডুবে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আরিশা খাতুন তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী মাঠপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত আরিশা শফিকুল ইসলামের পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

  • মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের মুলাদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে মুলাদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার সিনেমা হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের সুলতান খানের ছেলে মো. আমিনুল খান (৩৫), একই এলাকার মৃত ইসমাইল খানের ছেলে আব্দুস সালাম খান (৪৮) এবং মুলাদী পৌরসভার পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের দেলোয়ার দর্জির ছেলে সজল দর্জিকে (২৮) আটক করা হয়।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের তিনজনের কাছ থেকে মোট ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    অপরদিকে পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফ পাঠানকে (২০) আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সালাম পাঠানের ছেলে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, ইয়াবাসহ আটক চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    মাদকসেবী ও কারবারিদের নির্মূল করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যুবলীগ নেতার গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ শত ৫৫ কেজি সার জব্দ করেছে পুলিশ।

    রোববার দুপুড়ে উপজেলার পালুহাটি বাজারের ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন (৪৫) এর গোডাউন থেকে এসব সার জব্দ করা হয়। সুজন অচিন্তপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক। তিনি পালুহাটি গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

    জানা যায়, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিস আফিয়া আমীন পাপ্পার নেতৃত্বে পালুহাটি বাজারে অভিযান চালায় গৌরীপুর থানা পুলিশ।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান- অবৈধ সার মজুদের খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদসহ গৌরীপুর থানা পুলিশ নিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

    জানা যায়, অভিযানের পূর্বেই খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা সুজন গোডাউনে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

    উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদ জানান- সুজন একজন খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ী, কিন্তৃ তিনি খোলা বাজারে সার বিক্রয় বা মজুত করার বৈধতা রাখেন না।

  • নিরাপত্তা পরিষদ অচল, তবে জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

    নিরাপত্তা পরিষদ অচল, তবে জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে পারেনি। বৈশ্বিক নেতৃত্বে বিরাজমান ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ ও বিভাজন নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার সবচেয়ে কড়া মন্তব্যে এ কথা বলেছেন। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দ্য হিন্দু’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

    প্রশ্ন: গত বছর এক বক্তৃতায় আপনি বলেছেন, গণহত্যার ক্ষেত্রে ‘আর কখনো নয়’- এই অঙ্গীকার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পর আপনার কি মনে হয়, যে ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা পালনে সংস্থাটি আর সক্ষম নয়?
    উত্তর
    : প্রথমেই বিষয়টি খুব পরিষ্কার করা যাক। জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে যে আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হইনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের অনেক সংঘাত রয়েছে। কিন্তু দুই পরাশক্তি সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়নি। আর গত ১৮ বছরে জাতিসংঘের কাজের কারণেই মূলত এটি সম্ভব হয়েছে। সমস্যা হলো, এখন আমরা একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছি। একদিকে এমন কিছু পরাশক্তি রয়েছে, যারা এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেনি এবং এমন সব অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে, যার ভয়াবহ পরিণতি হচ্ছে। এই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজনের ফলে মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্য যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন: এখন ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী বাব আল-মান্দাব প্রণালি দখল করেছে- এমন খবর এসেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ কি কোনো সহায়তা করতে পারে?
    উত্তর
    : নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো একটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আমরা যতটা সম্ভব সহায়তা করার চেষ্টা করছি। কৃষ্ণসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব সব জায়গাতেই নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো টোল নেয়া যাবে না, কাউকে অনুমতি দিয়ে অন্য কাউকে সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। নৌ চলাচলের স্বাধীনতা একটি মৌলিক নীতি, যা আমরা রক্ষা করছি। এর পাশাপাশি, খাদ্য ও সার পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্তত কিছু ব্যতিক্রম রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরিতে যুক্ত হয়েছে এবং এ ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছে।

    প্রশ্ন: ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরির জন্য এই সুযোগটি কি আপনি কাজে লাগাবেন?
    উত্তর:
    আমি তাদের সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, পরাশক্তিগুলো যখন বিভক্ত থাকে, তখন কোনো কিছুরই প্রতি সম্মান থাকে না। সবাই মনে করে, তারা যা খুশি করতে পারে। আর আমরা দেখছি, মাঝারি শক্তির দেশগুলোও বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। সুদানের দিকে তাকান। সুদানের সংঘাতে কতগুলো দেশ জড়িত? সংঘাতটি শুধু সুদানের জনগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এরপর আরও অনেক দেশ এতে জড়িয়ে পড়েছে, কারণ সেখানে এক ধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন: ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখন কি একটি সংস্কার করা জাতিসংঘের সময় এসেছে, নাকি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে?
    উত্তর:
    আমরা মৌলিক সংস্কারের জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছি। আর এখানে মূল বিষয়টি হলো ক্ষমতার প্রশ্ন। আমাদের এখনো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো ১৯৪৫ সালের বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটা স্পষ্ট যে জাতিসংঘে গভীর সংস্কার প্রয়োজন, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে। জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা অনেক সংস্কার করছি। কিন্তু মূল প্রশ্নটি হচ্ছে ক্ষমতার প্রশ্ন।

    প্রশ্ন: প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘ যদি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে সেটিকে কি সংস্কার করা প্রয়োজন, নাকি এর পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত?
    উত্তর
    : কিন্তু জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিসংঘ যে বিপুল মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, সেদিকে তাকান। সম্পদ কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের কাটছাঁটের পরও জাতিসংঘের কোনো প্রতিষ্ঠানই ভেঙে পড়েনি। তারা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে এবং সেখানকার মানুষকে সহায়তা করছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের দিকে তাকান। বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে এখনো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা সক্রিয় রয়েছে।

    প্রশ্ন: বিশ্বের বিভিন্ন ভূখণ্ডের প্রকৃত আকারের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে মানচিত্রটি সংস্কারের জন্য জাতিসংঘ সম্প্রতি একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে থাকা সেই মানচিত্র নিয়ে ভারত কি উদ্বেগ জানিয়েছে? সেখানে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ভারতের ভূখণ্ডের কিছু অংশ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
    উত্তর
    : ‘সীমান্তসহ জাতিসংঘের মানচিত্র’ বলে আসলে কোনো বিষয় নেই। সাধারণ পরিষদে যে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে, সেটি কোনো মানচিত্র নয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভূখণ্ডগুলোর প্রকৃত আকার এবং অতীতের ক্ষমতার সম্পর্কের ভিত্তিতে যে ধরনের বিকৃতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো রয়েছে। আমার মনে হয়, সেগুলো সংশোধন করা যথার্থই হবে। তবে জাতিসংঘ সীমান্ত নির্ধারণ করে কোনো মানচিত্র প্রকাশ করেনি। আর কোনো দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করাও জাতিসংঘের কাজ নয়। সুতরাং, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বা বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

    প্রশ্ন: জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে একটি মানচিত্র রয়েছে, যেটিকে নতুন মানচিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
    উত্তর:
    সেটি জাতিসংঘের কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয়। এটি একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দেয়া অবদান। মানচিত্রটি কেবল একটি নির্দেশক হিসেবে রয়েছে। তবে কোন দেশের সীমান্ত কোথায় হবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো সংজ্ঞা বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

    প্রশ্ন: অবশ্যই এটি জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আপনার মোকাবিলা করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ- ভারত ও পাকিস্তান সংঘাতের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। ২০১৮ সালে ভারতে আপনার প্রথম সফরের সময় আপনি ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতিতে সহায়তার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন এবং প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতায় আপনার ‘শুভ উদ্যোগ’ ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এমন কোনো সময় কি এসেছিল, যখন আপনি সত্যিই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছিলেন? যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা তা করেছে।
    উত্তর
    : যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করেছে কি না, তা আমি জানি না। আমি মধ্যস্থতাকারী নই, এটি পরিষ্কার করে বলা যাক। আমি দুই দেশকেই সম্মান করি। দেশ দুটির নেতাদের সঙ্গে আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। আমি আশা করি, একদিন দুই দেশ একসঙ্গে বসতে পারবে। তবে জাতিসংঘ সরাসরি কোনো মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। যেকোনো মধ্যস্থতার জন্য উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। এখানে সেটি নেই।

    প্রশ্ন: শুধু পরাশক্তিগুলো যুদ্ধ করছে- বিষয়টি এখন আর এমন নয়। পরাশক্তিগুলো এখন জাতিসংঘের বিকল্পও সামনে আনছে- যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অব পিস’ এবং চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’।
    উত্তর
    : আপনি কি মনে করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ একটি বিকল্প ব্যবস্থা?

    প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র এটিকেই সেভাবে উপস্থাপন করছে।
    উত্তর:
    যুক্তরাষ্ট্রও সব সময় বলেছে, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের জন্য নয়। আর চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে জাতিসংঘকেই থাকতে হবে।

    প্রশ্ন: কিন্তু এগুলো তো একতরফা উদ্যোগ, যা জাতিসংঘের ব্যবস্থাই যে কাজ করছে, তার জায়গা নিচ্ছে।
    উত্তর:
    এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডের কোনো ত্রুটি সংশোধন করছে না। আর ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক- এটি মূলত গাজা পরিস্থিতির সমাধানের একটি প্রস্তাব। স্পষ্ট করে বলি, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নয়। জাতিসংঘ সারা বিশ্বে কাজ করছে।

    প্রশ্ন: জাতিসংঘের জন্য আরেকটি হুমকি আসছে ইসরাইলের কাছ থেকে। দেশটি শুধু জাতিসংঘের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যায়নি, আপনাকেও ব্যক্তিগতভাবে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করেছে এবং ভিসা দেয়নি। এ ছাড়া জাতিসংঘের বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
    উত্তর
    : আমি কোনো ভিসা চাইনি। একটি বিষয় যদি স্পষ্ট হয়ে থাকে, তা হলো- জাতিসংঘ এবং এর জন্য মূলত আমিই দায়ী, সব সময় অত্যন্ত সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়ার সংঘাত হোক কিংবা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত জাতিসংঘ সব সময় সনদের পক্ষে, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বা মানদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, কখনো কখনো সবচেয়ে দায়িত্বশীল দেশগুলোর কয়েকটিও, যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক আইনকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে না এবং আইনের শক্তির পরিবর্তে শক্তির আইনই প্রাধান্য পাবে- এর জন্য আমরা দায়ী নই।

    প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ আপনার সেই বক্তব্যে উল্লেখ করা ‘আর কখনো নয়’- অর্থাৎ যে গণহত্যার কথা আপনি বলেছিলেন- তার পর্যায়ে পড়ে?
    উত্তর
    : ‘গণহত্যা’ একটি আইনি সংজ্ঞা, যার সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার আদালতের এবং নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের। আমরা যা বলছি, তা হলো- গাজায় যা ঘটছে, তা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতিরই এটি ভয়াবহ লঙ্ঘন। তবে আমরা এর কোনো আইনি সংজ্ঞা দিচ্ছি না। এটি এতটাই ভয়াবহ যে, একে ওই নামে অভিহিত করারও প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্ন: আপনি কি চান, এটিকে (গণহত্যা) হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হোক?
    উত্তর
    : এটি আমাদের বিষয় নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যা ঘটে, তার আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা আমাদের কাজ নয়।

    প্রশ্ন: তাহলে পরবর্তী কোনো দেশ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারাও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের নিজেদের দেশে ঢুকতে দেবে না, মহাসচিবকেও প্রবেশ করতে দেবে না এবং এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাবে, তখন কী হবে?
    উত্তর:
    জাতিসংঘের তা থামানোর ক্ষমতা নেই। আর এটাই সেই সমস্যা, যার কথা আমি শুরুতেই বলেছি।

    প্রশ্ন: এ বছর জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই কি আপনার আরও একটি মেয়াদ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
    উত্তর
    : না, আমার একেবারেই আরেকটি মেয়াদ প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্ন: আপনার পদে প্রার্থী হওয়া অনেকেই নারী। আপনি কি আশা করেন, আপনার উত্তরসূরি হিসেবে জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব নির্বাচিত হবেন?
    উত্তর:
    আমি এই নির্বাচনী প্রচারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তবে আমি মনে করি, জাতিসংঘে, অন্য যেকোনো দেশের মতোই, নারীদের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ থাকা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এটি লিঙ্গসমতা ও লিঙ্গসমতার ভারসাম্যের বিষয়। গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের ১৭০টি নেতৃত্বস্থানীয় পদে নারী ও পুরুষের পূর্ণ সমতা অর্জন করেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটরদের ৫৫ শতাংশই এখন নারী।

    প্রশ্ন: ‘গ্লাস সিলিং’-এর প্রকৃত অর্থই হলো- নারীরা প্রতিষ্ঠানের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন, কিন্তু সর্বোচ্চ পদে থাকবেন না। আপনি কি একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান?
    উত্তর
    : আমি তাতে খুবই আনন্দিত হব।

    প্রশ্ন: আপনার মতে, আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী এবং সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কী?
    উত্তর:
    আমার অর্জন বা ব্যর্থতা কী, তা অন্যদেরই বিচার করতে হবে। আমি যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট, তা হলো- গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের মূলনীতিগুলোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে নানা সংকট মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমরা কখনো দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করিনি। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো- বিশেষ করে যেসব দেশের হাতে ক্ষমতার প্রধান উপকরণ রয়েছে, তাদের বোঝাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি যে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোকে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদকে, আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে সংস্কার করতে হবে।

    প্রশ্ন: আমি ভেবেছিলাম আপনি বলবেন- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের জন্য দেশগুলোর পর্যাপ্ত অঙ্গীকার না করা…
    উত্তর
    : এটি জাতিসংঘের ব্যর্থতা নয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লড়াইয়ে জাতিসংঘ সামনের সারিতে রয়েছে। এটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতা, যারা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে নিজেদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থকে বারবার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    প্রশ্ন: এরপর কী করবেন, তা কি ভেবেছেন? জাতিসংঘের মহাসচিবের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কী করবেন?
    উত্তর
    : আমার একেবারেই কোনো ধারণা নেই। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার যে দায়িত্ব, তা যেন ঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। এরপর কী হবে, তখন দেখা যাবে।

  • মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে পুকুরের পানিতে পড়ে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিশা খাতুন ওই গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আরিশা বাড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল।

    খাওয়া শেষে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতেই বাড়ির পাশে খেলতে যায় সে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

    পরে দ্রুত তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শিশুর ফুফু চুমকি খাতুন বলেন, আরিশা মোবাইল দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষ হলে মোবাইল নিয়েই খেলতে যায়। পরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

  • খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে…

    খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে…

    পায়ের তলা ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। কাঁটা ও কাচের টুকরাও বিঁধেছে। এমনকি কাঁটাঝোপের আঘাতে সংক্রমণ হয়ে এক সপ্তাহ হাঁটাও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু থামেননি। আয়ারল্যান্ডের ইমন কেভেনি এমন কষ্ট সয়েই খালি পায়ে ৩৬৯ দিনে পাড়ি দিয়েছেন ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ।

    এভাবে সবচেয়ে বেশি পথ হাঁটার নিজের আগে রেকর্ডটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কেভেনি।

    নিজের রেকর্ড পুনরুদ্ধারে কেভেনি এবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। ৩৬৯ দিন পর গত ৭ মার্চ আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির নিজ শহর ক্ল্যারিমরিসে পৌঁছান তিনি।

    দীর্ঘ এ পথে কেভেনিকে নানা চড়াই-উতরাই ভূখণ্ড পাড়ি দিতে হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে।

    ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডজুড়ে ২ হাজার ৮০ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে প্রথমবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন কেভেনি। ২০২৪ সালে তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙেন পোল্যান্ডের পাওয়েল দুরাকিয়েভিচ। তিনি ৩ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটেছিলেন।

    কেভেনি এবার দুরাকিয়েভিচের রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ পথ হেঁটেছেন। অবশ্য এটাই কেভেনির একমাত্র দুঃসাহসিক যাত্রার রেকর্ড নয়। ২০২৩ সালে মাত্র ৫ দিন ৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে ইউনিসাইকেলে (এক চাকার সাইকেল) আয়ারল্যান্ড পাড়ি দিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়েন তিনি।

    ৩৪ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা ইমন কেভেনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে বলেন, ‘খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হাঁটার রেকর্ডটি প্রথমবার গড়ার পর থেকেই আমি আবার বড় কোনো যাত্রায় বের হওয়ার কথা ভাবছিলাম। একটি দেশ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার পর একটি মহাদেশ অতিক্রম করাই পরবর্তী পদক্ষেপ বলে আমার মনে হয়েছিল। তাই ইস্তাম্বুল থেকে হেঁটে নিজ দেশ আয়ারল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

  • দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

    দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের তিন নেতা। তাঁরা হলেন হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে।

    বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁরা সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

    মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তিনি অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।

    বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। আর সেই কারণেই আমাদের দেখা উচিত কে সঠিক পথে আছে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

    ইরানি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা

    মীরওয়াইজ উমর ফারুক ও ইমরান রেজা আনসারি দিল্লিতে ইরান দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।

    মীরওয়াইজ উমর ফারুকের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে কাশ্মীরের নেতারা প্রদর্শনীতে যোগ দেন।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারত-ইরানের সংবেদনশীলতা

    ২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বড় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দেয়।

    ভারত বরাবরই বলে আসছে, পুরো কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান-সংক্রান্ত কাশ্মীরের বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধানযোগ্য বলে দিল্লির অবস্থান।

    অন্যদিকে, ২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত তখন এর প্রতিবাদ জানায়।

    খামেনি ২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালে গাজার পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মুসলিম বলতে পারি না যদি আমরা মিয়ানমার, গাজা, ভারত বা অন্য যেকোনো স্থানে একজন মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন থাকি।’

    তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

    চলতি বছরের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর কাশ্মীর ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নিয়ে ভারতে প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের দূতাবাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট মুছে ফেলতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীরি নেতাদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

    ভারত ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে জাহাজডুবি: একজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০

    ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে জাহাজডুবি: একজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০

    ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে একটি যাত্রীবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আজ রোববার উদ্ধারকারীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ ভোরের দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে জাহাজটি প্রথমে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার সময় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল।

    সংস্থাটি জানায়, জাহাজটি গতকাল শনিবার পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া শহর থেকে সাউথ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে এটি ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করলেও দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

    উদ্ধারকারী সংস্থার বানজারমাসিন কার্যালয়ের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা এক ভিডিও বার্তায় জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন জাহাজের সাহায্যে এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই যাত্রীদের কয়েকজনকে পূর্ব জাভার একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। আই পুতু সুদায়ানা বলেন, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানের দিকে একটি বিশেষ দল, বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।

    ভৌগোলিক কারণে প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি ও জাহাজ। বিমানভাড়ার চেয়ে নৌপথ অনেক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর ওপরই বেশি নির্ভর করে।

    তবে ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রায়ই নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা হয় না। ফলে সেখানে নৌ দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক অনেক বেশি।

  • নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আল-আকসায় আড়াই শ ইসরাইলির প্রার্থনা

    নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আল-আকসায় আড়াই শ ইসরাইলির প্রার্থনা

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে হানা দিয়েছেন প্রায় আড়াই শ ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী।

    ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, ইসরাইলি সেনাসদস্যদের কঠোর সুরক্ষায় এই সেটেলাররা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা সম্পন্ন করেন।

    ১৯৬৭ সালের একটি ঐতিহাসিক স্ট্যাটাস কো বা স্থিতাবস্থা চুক্তি অনুযায়ী, অমুসলিমদের আল-আকসা চত্বরে দর্শনার্থী হিসেবে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের প্রার্থনা বা ধর্মীয় আচার পালনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    ইসলাম ধর্মের তৃতীয় সর্বাধিক পবিত্র এই স্থানটিতে এর আগেও বহুবার এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিকবার নিজেই অনুসারীদের নিয়ে এই চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছেন।

  • সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    নতুন ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ওয়েব ফিল্মের নাম ‘সেপারেশন’। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর শুটিং।

    এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে।রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বর্তমানে ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে।

    রোববার নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানান পরীমণি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।

    গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এবার এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন তিনি।

    তবে ‘সেপারেশন’-এ পরীমণির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও মুখ খোলেননি নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা।

    জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে। পরীমণি, ইমতিয়াজ বর্ষণ ও নিরবের পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করছেন শার্লিন ফারজানা।

    ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। তবে কবে নাগাদ ‘সেপারেশন’ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

  • মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

    মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

    ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে তল্লাশি শেষে আটক করা হয়েছে ৪৭২ জনকে। আর তাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় মেগা অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এই চিত্র। অভিযানে আটক বিদেশিদের প্রায় ৭৭ শতাংশই বাংলাদেশি।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সি ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী।

    আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশিদের আধিক্য স্পষ্ট। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।

    অভিবাসন বিভাগের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক পরিচালক দাতুক হামশা ইঞ্জাউ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযান ঘিরে লেবুহ পুডুতে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। আইন প্রয়োগকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলোর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়।

    তল্লাশিতে ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো পতিতাবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। বিদেশিদের কাছে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করা হয় এমন একটি দোকানও শনাক্ত করা হয়েছে।

    অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লেবুহ পুডু ও কোতারায়ার কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আড়াল করতে মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহক সেজে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।

  • আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না- হাইকোর্টের রায়

    আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না- হাইকোর্টের রায়

    আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট কর্মসূচি ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আগের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জৈষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসদ। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. রাফিউল ইসলাম।

    ২০১১ সালের আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির আরোহী তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ড্রাইভারকে সাজা দেন।

    ওই সাজার প্রেক্ষিতে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকলে এবং তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে। ওই রিট শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ রুল জারি করে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান।

    আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে শুনানি শেষে আজ রুল মঞ্জুর করে রায় দেন। আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসিকে।

    আদালত রায়ে বলেছেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসায় তালা, আরো ১০০ কে শোকজ

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসায় তালা, আরো ১০০ কে শোকজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ের যাচাই শেষে রাজ্যের ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পাশাপাশি আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ২২ জুলাই রাজ্যের সব জেলায় মাদ্রাসাগুলো নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি অনুমোদন, পরিকাঠামো, পাঠদানের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়।

    সমীক্ষার পর দপ্তরের হাতে আসা তথ্যে দেখা গেছে, রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কিছু মাদ্রাসা খারিজি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান চলছে এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।Advertisement

    অন্যদিকে ১০০টি মাদ্রাসার পরিকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি এবং অনুমোদনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে কতগুলো অনুমোদিত এবং কতগুলো অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়েছে।

    সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের ২২টি জেলা থেকে মাদ্রাসাগুলোর প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন রয়েছে এবং নিয়ম মেনে চলছে, সেগুলো চালু থাকবে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তবে সরকারের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, পরিকাঠামো এবং নিয়ম মেনে পরিচালনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সমীক্ষার পরবর্তী পর্যায়ে আরও কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • দল থেকে বাদ পড়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি সালমান আগার

    দল থেকে বাদ পড়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি সালমান আগার

    জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ক্ষোভ আর হতাশাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সালমান আলী আগা। টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন সালমান।

    সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের সঙ্গেই ছিলেন সালমান আলী আগা। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েন সালমান।

    প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানের উদ্বোধনী রাউন্ডে মার্কোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে কিংসমেন একাডেমির হয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন তিনি। দলের বিপর্যয়ের মুখে (৭২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর) উইকেটে নেমে প্রথম দিনে সেঞ্চুরি তুলে নেন সালমান।

    তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শতকটিকে ডাবল সেঞ্চুরি পরবর্তীতে দুর্দান্ত এক ট্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই ব্যাটার। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ১৬৯ রান। ফলে এই একটিমাত্র ইনিংসেই ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি—উভয় মাইলফলক একসঙ্গে স্পর্শ করলেন তিনি।

    জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর সালমানের এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পর তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অর্থবহ বার্তায় লিখেছেন, ‘বেসিক বা মৌলিক জায়গায় ফিরে যাওয়ার মধ্যে কোনো ভুল নেই। মাঝে মাঝে এটি জরুরি; কখনো অহংকার করতে নেই। শুরুটা বিনয়ী ছিল, শেষটাও সেভাবেই হবে।’

    সালমান আগা পাকিস্তানের ২৩তম ব্যাটসম্যান যিনি ফার্স্ট ক্লাসে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন।

  • গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে- রাষ্ট্রপতি

    গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে- রাষ্ট্রপতি

    গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে এ কথা বলেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।

    এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়াও জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকসেবা নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।

  • বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র

    ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য পৌঁছেছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে। যেখানে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধানে ভারতকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ঠিক দুই নম্বরে অবস্থান করছে, আর বরাবরের মতো তালিকার শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে চীন।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন শুল্ক নীতির চাপ সামলাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির কৌশল নেয়। ফলে দেশটিতে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি হু হু করে বেড়ে যায়। এছাড়া মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তও এই বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গত বছর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলা নানা নিয়মকানুন ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং এর বিপরীতে ভারতও কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর বিশেষ সুবিধা তুলে নেয়।

    সব মিলিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • পুতুলের ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্যতা ছিল না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    পুতুলের ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্যতা ছিল না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পুতুলের ছিল না। নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং সেখান থেকে দুর্নীতির দুর্গন্ধ বের হয়ে এসেছে।

    একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর পরবর্তী নিয়োগে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    এই সফরের বিভিন্ন তথ্য ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

    ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে চায় ঢাকা। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতার সুরাহা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বড় গুরুত্ব পাবে।

    এ ছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা টাকা ফেরত আনতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি !

    সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি !

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ভিত্তি তৈরিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে সমঝোতা হলেও এখনই এই কৌশলগত সমুদ্রপথ খুলে দেওয়া হবে না।

    ইরানের আলোচনাকারী দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রটি বলেছে, এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। তবে প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্তগুলো মেনে নেয় কি না, তার ওপর।

    সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হবে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্র যে দক্ষিণের পথটি খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছিল, সেটি বন্ধ থাকবে। এই পথ খোলা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতবিরোধ ছিল।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সোমবার ওমানে ইরাক ও উপসাগরীয় উপকূলের দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। তবে ওই সূত্র বলেছে, ইরান ও ওমানের সমঝোতাটি দ্বিপক্ষীয়। অন্য দেশগুলোকে মূলত জাহাজ চলাচলের নিয়ম ও সমঝোতার বিস্তারিত জানানো হবে।

  • যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ক্যাথরিন কনলি

    যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ক্যাথরিন কনলি

    কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী গণহত্যাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতার ভয়াবহতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এসব অপরাধকে বৈধতা দেওয়া যায় না।’

    রাজধানী ডাবলিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই কড়া বার্তা তুলে ধরেন আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলি সাফ।

    বৈঠক শেষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে আইরিশ প্রেসিডেন্ট জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, জাতিসংঘের মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ১৯৫৮ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের গৌরবময় অবদানের কথা তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেছেন।

    আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্বজুড়ে যেকোনো সংঘাত নিরসনে আইরিশ জনগণ এক অনন্য ও কার্যকর দৃষ্টিকোণ তুলে ধরতে সক্ষম। বর্তমানে যেখানেই অমানবিক সংঘাত চলছে, সেখানে একটি অংশীদারত্বমূলক টেকসই শান্তি গড়ে তোলার জন্য যারা সাহসের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, আয়ারল্যান্ড সর্বদা তাদের পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সমর্থন জানিয়ে যাবে।

  • হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান

    হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান

    হরমুজ প্রণালির ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এলে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলে যে দাবি করেছেন, ইরানের এই বক্তব্যে তা সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপকমান্ডার বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে এগিয়ে আসুন—আপনাদের একটি যুদ্ধজাহাজ ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসুন।’

    তিনি বলেন, ওই এলাকায় মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে এলে ইরানি বাহিনী কী জবাব দেবে, তা মার্কিন বাহিনী জানে। গত কয়েক দিনেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

  • পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইরান

    পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইরান

    পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং দেশের পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনা করার পথ ইরানের জন্য ‘পুরোপুরি সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়ামের মুখপাত্র আব্বাস গৌদারজি।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের পরমাণুনীতি পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব।

    তার ভাষায়, এমন পদক্ষেপ নিলে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুসারীদের তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হবে’।

    ইরানের পার্লামেন্টের নেতৃত্বের মুখপাত্রের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। এনপিটি থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তার মন্তব্যে সেই উত্তেজনা আরো বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ইসরাইলি কোম্পানির তৎপরতা বৃদ্ধি

    ইন্দোনেশিয়ায় ইসরাইলি কোম্পানির তৎপরতা বৃদ্ধি

    ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে ইন্দোনেশিয়ায়। এসব কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও প্রচারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থান, স্থানীয় সৃজনশীল প্রতিভা এবং বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। অথচ দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে।

    ইসরাইলি চশমা কোম্পানি সুইফট অপটিকস ইন্দোনেশিয়ায় প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করেছে। অথচ ইন্দোনেশিয়া ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। তবে দেশটিতে ইসরাইলি কোম্পানির বাণিজ্যিক উপস্থিতি সেই অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

    ইসরাইলি কোম্পানির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করছে। ইসরাইলি কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করে, স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করে, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাদের পণ্য ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত দেখা যেতে থাকে। এভাবে সময়ের সঙ্গে ইসরাইলি ব্যবসা ইন্দোনেশিয়ার মানুষের কাছে পরিচিত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।

    নিয়াস, বালি বা লম্বকের মতো ইন্দোনেশিয়ার স্থানগুলো কোনো ইসরাইলি কোম্পানি বাণিজ্যিক প্রচারে ব্যবহার করলে কোম্পানিটি শুধু ইন্দোনেশিয়ার বাজারে অংশ নিচ্ছে না, দেশটির প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করছে। ইসরাইলি কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি, বিদ্যমান বিধিনিষেধ এবং ফিলিস্তিন বিষয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

  • হুথিদের চাপ, সৌদির সামনে যুদ্ধের ফাঁদ

    হুথিদের চাপ, সৌদির সামনে যুদ্ধের ফাঁদ

    ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে সৌদি আরব। বিষয়টি এখন আর শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত যেন সীমান্ত পেরিয়ে আরো ছড়িয়ে না পড়ে—এখন এ সবই রিয়াদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সাম্প্রতিক হুথি হামলাগুলোতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে আগুনও লেগেছে। জ্বালানি স্থাপনায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। ইয়েমেনের লড়াই এবং পশ্চিম উপকূলে সংঘাত তীব্র হওয়ার সময় এসব হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবে জাহাজ চলাচল নিয়েও হুথিরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

    ফলে সৌদি আরব এখন দুটি পরস্পর-সম্পর্কিত হুমকির মুখে। একদিকে তার ভূখণ্ডে হামলা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাধা তৈরির চেষ্টা।

    এ পরিস্থিতি রিয়াদের জন্য কঠিন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করেছে। গত কয়েক বছর সৌদি আরব ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক ভূমিকা কমিয়ে কূটনীতি, উত্তেজনা প্রশমন এবং রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়েছে। আবার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ফিরে গেলে সেই কৌশল ভেস্তে যাবে। বাড়বে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচও।

    তবে সংযমের অর্থ বারবার সৌদি ভূখণ্ডে হামলা মেনে নেওয়া নয়।

    বদলে গেছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি

    ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ভিন্ন। দেশটি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে। ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায়ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে এক দশক আগের তুলনায় নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সৌদি আরব এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।

    তবে হুথিদের হুমকিও বদলেছে। গোষ্ঠীটির হাতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ক্রমেই উন্নত ড্রোন রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও তুলনামূলক কম খরচের এসব অস্ত্র সৌদি আরবকে অনেক বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর, শিল্পকারখানা, সীমান্ত এলাকার জনবসতি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

    তাই শুধু আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দীর্ঘদিন শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

    এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের কৌশলগত লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা। অর্থাৎ হুথিদের বোঝানো যে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালালে তারা যে রাজনৈতিক বা সামরিক সুবিধা পাওয়ার আশা করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।

    এর জন্য আগের মতো বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করার প্রয়োজন নেই। রিয়াদের হাতে এখন আরো অনেক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে আছে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে শক্তিশালী করা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের নেটওয়ার্ক ব্যাহত করা এবং প্রয়োজন হলে সৌদি আরবে হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত স্থাপনায় সীমিত অভিযান চালানো।

    অর্থাৎ সৌদি আরবকে নিষ্ক্রিয় থাকা কিংবা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে যাওয়া—এই দুটি পথের একটিকে বেছে নিতে হবে না।

    অর্থনীতিতেও চাপ

    হুথিদের হামলার অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। তাই দেশটির তেল অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব শারীরিক ক্ষতির চেয়েও বড় হতে পারে। সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগে থেকেই অস্থির বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    এখানে একটি আপাত বৈপরীত্য রয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিরতায় তেলের দাম বাড়লে সাময়িকভাবে সৌদি আরবের তেল আয়ে সুবিধা হতে পারে। তবে যুদ্ধের কারণে দাম বাড়াকে অর্থনৈতিক লাভ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

    সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ক্রমেই স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি এবং তেলের বাইরের বড় প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে বিমা ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ধারণাও বদলে যেতে পারে।

    এর চেয়েও বড় কৌশলগত উদ্বেগ সামুদ্রিক নিরাপত্তা।

    সৌদি আরব বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরের মাঝখানে অবস্থিত। পূর্বে হরমুজ প্রণালি, পশ্চিমে বাব আল-মানদাব। দুটি পথের যেকোনোটিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৌদি আরবের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

    এ কারণে ইয়েমেন সংঘাতে লোহিত সাগরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাব আল-মানদাব ভারত মহাসাগরের সঙ্গে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সংযোগ তৈরি করেছে। সেখানে হুথিদের জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী হুমকি তৈরি হলে পণ্য পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে। জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে যেতে হলে পরিবহন সময় ও খরচ আরো বাড়তে পারে।

    তবে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি উপসাগরনির্ভর নয়। পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল লোহিত সাগরের টার্মিনালে পাঠাতে পারে। এতে হরমুজের বিকল্প পথ হিসেবে রিয়াদের কিছুটা কৌশলগত সুবিধা তৈরি হয়।

    তবে এতে লোহিত সাগরের অন্যত্র, বিশেষ করে বাব আল-মানদাব এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে সৌদি আরব পুরোপুরি মুক্ত হয় না। তাই বাব আল-মানদাব সুরক্ষাকে শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    হুথিদের ফাঁদ এড়াতে হবে

    রিয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকও। সৌদি আরবকে আবার বড় আকারের যুদ্ধে টেনে নিতে পারলে হুথিরা সুবিধা পাবে। এতে তারা সংঘাতটিকে ইয়েমেনিদের নিজেদের মধ্যে লড়াই হিসেবে না দেখিয়ে ইয়েমেন ও একটি বাইরের শক্তির সংঘাত হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।

    সৌদি আরবের এই ফাঁদ এড়ানো উচিত।

    হুথিদের মোকাবিলার মূল দায়িত্ব ইয়েমেনিদেরই থাকা উচিত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার ও তাদের বাহিনীকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। সৌদি আরব তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারে।

    পশ্চিম উপকূলে বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবের কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুথিরা তাদের অবস্থান শক্ত করতে পারলে এর প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।

    লক্ষ্য হওয়া উচিত আরেকটি বড় আকারের বিমান অভিযান চালিয়ে সানা পুনর্দখল করা নয়। অনির্দিষ্টকাল ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধও নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত হুথিদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আঞ্চলিক ভারসাম্য বদলানো, প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দেওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে ঝুঁকি তৈরির সুযোগ না দেওয়া।

    কূটনীতির পাশাপাশি প্রতিরোধ

    এ পরিস্থিতিতে সৌদি নীতি একাধিক পথে এগোতে পারে। প্রথমত, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরো শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, সরাসরি স্থলযুদ্ধে না জড়িয়ে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে আরো সহায়তা দেওয়া। তৃতীয়ত, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবের নিরাপত্তায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

    একই সঙ্গে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে হবে।

    ইয়েমেনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে সৌদি আরবের অবস্থান বহুবার স্পষ্ট হয়েছে। তবে দুই পক্ষই যদি মনে করে উত্তেজনা বাড়ানোর মূল্য তাদের জন্য অসহনীয়, তাহলেই কূটনীতি কার্যকর হবে।

    তাই কূটনীতির পেছনে বিশ্বাসযোগ্য সামরিক সক্ষমতাও থাকতে হবে।

    ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতের আরেকটি স্থায়ী রণক্ষেত্রে পরিণত না করার ব্যাপারে সৌদি আরবের বড় স্বার্থ রয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য স্থিতিশীলতা দরকার। একই সঙ্গে নিরাপদ সীমান্ত, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি রপ্তানি এবং নির্বিঘ্ন নৌ চলাচলও রিয়াদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অংশ।

    কিন্তু সংযমেরও সীমা আছে। সৌদি শহর, বেসামরিক মানুষ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদ বিষয়টিকে আর শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখবে না। তখন এটিকে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বাড়বে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সৌদি আরবের আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। ইয়েমেনেরও নেই। তবে তা এড়াতে হলে একদিকে প্রতিরোধক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগও ধরে রাখতে হবে।

    তাই রিয়াদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে সীমিত ও হিসাবি চাপ। নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করা, বৈধ ইয়েমেনি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কূটনীতির পথ খোলা রাখা এবং স্পষ্ট করে দেওয়া—সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পরিণতি হবে।

  • সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের

    সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মধ্যে গতকাল শনিবারের বৈঠকের পর ভারত ও চীন যে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সম্পর্ক কীভাবে দেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

    চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশকে একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধানের দিকে এগোতে হবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই দুই ক্ষেত্রে ‘সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতি’ অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

    চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিরক্তির কারণগুলো দূর করতে হবে। দুই পক্ষের উচিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখা, দুই ক্ষেত্রে সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতির চেষ্টা করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’

    তবে ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তি।’ তিনি সীমান্ত-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দুই দেশেরই মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন।

    ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসংগত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুই দেশের বক্তব্যের পার্থক্য মূলত অগ্রগতির ক্রম নিয়ে।

    চীনের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সীমান্ত সমস্যা একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সীমান্ত সমস্যা এখনো অমীমাংসিত থাকলেও দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

  • ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামীর হাতেই খুন হয়েছেন মিম আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূ। স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্বামী তরিক সিকদার।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাবড়াশুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় শাকপাইলদিয়া গ্রামের হিন্দুধর্মীয় সিদাম মাঝির মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ভাবড়াশুর গ্রামের ছরোয়ার সিকদারের ছেলে তরিক সিকদার। পরে তাকে ধর্মান্তরিত মুসলিম করে মিম আক্তার নাম দিয়ে বিয়ে করেন।

    কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

    রোববার সকালে দাম্পত্য কলহে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তরিক সিকদার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে করে হত্যা করে।

    মুকসুদপুর সার্কেল এসপি নাফিজুর ইসলাম বলেন, ‘মিম আক্তার নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

  • নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি

    নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়িটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৩ কোটি ৮২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ট্রাম্প চার বছর বয়স পর্যন্ত কুইন্সের টিউডর-শৈলীর এই বাড়িতে বসবাস করেছিলেন। ১৯৪০ সালে ‘জ্যামাইকা এস্টেটস’-এ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন তার বাবা আবাসন নির্মাতা ফ্রেড ট্রাম্প।

    দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িটি আর ট্রাম্প পরিবারের মালিকানায় ছিল না, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। বাড়িটির বিক্রেতা টমি লিন গত বছর ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকায় এটি কিনেছিলেন। বাড়িটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নে আট মাস ধরে আরও ৫ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করেন।

    বাড়িটির মালিকানা বেশ কয়েকবার বদল হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক মাস পরেই এটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ২০১৯ সালে বাড়িটি আবার ২৯ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।

  • সৌদি আরবে ১২ হাজার প্রবাসী বহিষ্কার

    সৌদি আরবে ১২ হাজার প্রবাসী বহিষ্কার

    আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৭৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ১২ হাজার ৫৭ জন প্রবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চালানো যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এসব অভিযানে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭ হাজার ৫০৪ জনকে আটক করা হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয় ৩ হাজার ৭৮৩ জনকে। আর শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০৯ জনকে।

    এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ২৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আরো ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানের ওই এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫৭ জনকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ হাজার ৬৭৭ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরো ৩ হাজার ৪৮৭ জনকে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া বা তাদের নিয়োগের অভিযোগে আরো ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে ৩০ হাজার ২৫৭ জন প্রবাসী অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫২৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৭২৮ জন নারী।

    সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।

    আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশের অন্যান্য এলাকায় ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • আল্লাহর ইচ্ছায় সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে: গালিবাফ

    আল্লাহর ইচ্ছায় সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে: গালিবাফ

    সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়েমেনের সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুথিদের জয় নিয়ে এসব কথা বলেন।

    তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২০২৪ সালের একটি পুরোনো বক্তব্য আবারও সামনে এনেছেন। যেখানে খামেনি বলেছিলেন, হুথিদের প্রতিরোধ তাদের বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে।

    অপরদিকে দেশটির ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ রেজা আরেফ বলেছেন, হুথিদের এ জয়ে ইরান সরকার খুশি। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরতা থেকে স্বাধীন হয়ে ইসলামের পতাকাতলে একতাবদ্ধ হওয়া উচিত।