প্রভাতী ট্রেন চান যশোরবাসী

প্রতিবেদন:

·

, , ,

রাজধানী ঢাকায় জরুরি দাপ্তরিক কাজ, চিকিৎসা কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যেতে হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে কাজের সময়ের সমন্বয় না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এক দিনের কাজ সারতে দুই দিন ব্যয় করতে হয়। বাড়তি সময়ের পাশাপাশি গুনতে হয় অতিরিক্ত যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ। এমন পরিস্থিতিতে যশোর, বেনাপোল, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—সকালে ঢাকাগামী ট্রেন চালু হবে, যাতে রাজধানীতে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরে আসা যায়। এ প্রত্যাশা পূরণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসক, যশোরের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেলযাত্রার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে বর্তমানে চলাচলকারী ট্রেনের সময়সূচির কারণে যাত্রীরা রাজধানীতে গিয়ে একই দিনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফেরার সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও তাঁদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।

বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। একইভাবে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কাজ, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে যাতায়াতকারীদের জন্য উপযোগী সময়সূচিতে ট্রেন না থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে। অন্যদিকে, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষ পদ্মা সেতু রেলপথে ঢাকায় যাতায়াতের পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

কমিটির মতে, বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে সকালে ঢাকাগামী প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু করা হলে যাত্রীরা দিনের কাজ শেষ করে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। এতে কর্মঘণ্টা ও অর্থের সাশ্রয় হবে, কমবে অতিরিক্ত অবস্থানের প্রয়োজন। পাশাপাশি বেনাপোল স্থলবন্দর এবং যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে। ঢাকামুখী মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু; ঢাকা ও খুলনায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী সময়সূচি নির্ধারণ; আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ শ্রেণির বগি এবং মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি সংযোজন, ট্রেনের সাধারণ ভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা; অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে টিকিট সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা। এ ছাড়া দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ফুল, ফল, সবজি ও মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি যুক্ত করা হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাঁদের পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারবেন। অন্যদিকে, সাধারণ শ্রেণির বগি ও সাশ্রয়ী ভাড়ার ব্যবস্থা থাকলে স্বল্প আয়ের মানুষও রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। অনলাইন টিকিটের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার বা অনলাইন নিবন্ধনে সমস্যায় পড়া যাত্রীরাও সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।

কমিটি জানায়, এসব দাবির বিষয়ে এর আগে রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুক্তি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংকট নিরসন, যাতায়াত ব্যয় কমানো এবং রাজধানীতে গিয়ে একই দিনে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টিতে ছয় দফা দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ