শিরোনাম

  • ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

    ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বারের মতো ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। প্রস্তাবের পক্ষে সব ভোটদানকারী ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্য ভোট দেন। এর মধ্যে তিনজন রিপাবলিকান প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২২০-২০৪ ভোটে একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেন, আলোচনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। আমি আরেকটি অনির্দিষ্ট যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

    তবে এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত এমন কোনো প্রস্তাবই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও প্রস্তাবটি ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি এতে ভেটো দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তোলেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চলটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান। ট্রাম্প ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

    আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে এটিই শেষ ভোট হতে পারে। নির্বাচনের প্রচারে বিদেশের এই যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। এ সময়ে পালটাপালটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে এবং এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন আইনপ্রণেতারা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণকারী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

    এদিকে নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং দেশটির অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতেও চাপ তৈরি করছে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরান যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেস এর আগেও কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ জুন ও জুলাইয়ে দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও দশম প্রচেষ্টায় একই ধরনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান পরিবর্তন করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্টও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনা প্রত্যাহারের জন্য আরও ৩০ দিনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

  • উত্তর কোরিয়াকে ৩২৫ কোটি ডলার দিন

    উত্তর কোরিয়াকে ৩২৫ কোটি ডলার দিন

    ২০২০ সালে উত্তর কোরিয়ায় একটি আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়। উত্তর কোরিয়াকে এ ঘটনায় প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালতের এক মুখপাত্র বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন দিতে হবে।

    আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংসের ঘটনায় করা এই মামলাটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো একসময় উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের নিয়োগ করত এমন কায়েসং শিল্পাঞ্চলের পরিত্যক্ত এলাকায় ওই কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যেই কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

    তবে ২০২০ সালের জুনে কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর উত্তর কোরিয়া কার্যালয়টি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু অধিকারকর্মী সীমান্তের ওপারে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারপত্র বহনকারী বেলুন পাঠানোর পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ সময় পিয়ংইয়ং কার্যালয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

    দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়ের পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘটনায় পিয়ংইয়ং বাস্তবে কখনো ক্ষতিপূরণ দেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    ২০২৩ সালে তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সরকারের আমলে মামলাটি করা হয়। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া ইউন পরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগের পর ক্ষমতাচ্যুত হন।

    ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয়টি চালু করা হয়। এর কয়েক দিন পর তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তৃতীয় দফা শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে পিয়ংইয়ং সফর করেন।

    পরবর্তী কয়েক মাসে দুই দেশের প্রায় ২০ জন করে কর্মকর্তা ওই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তবে করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কার্যালয়টির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

    ২০১৮ সালে মুন জায়ে-ইন ও কিম জং উনের মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তাল বীজ রোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবসংলগ্ন সড়কের পাশে ৩০০টি তাল বীজ রোপণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো: সোলায়মান হোসেন, প্রশিক্ষক ছত্র কুমার বিশ্বাস, প্রশিক্ষক কাজী তাহেরা খাতুন, ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়ন দলনেতা হুমায়ুন কবির, দলনেত্রী সানজিদা আক্তার এবং পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবের সদস্যরা।

    এ সময় উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সোলায়মান বলেন, ‘সম্মানিত দিনাজপুরের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মহোদয়ের নির্দেশনায় পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাব সংলগ্ন সড়কের পাশে তালবীজ রোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দিন দিন তালগাছ বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।‘

  • ধসে পড়বে গাজার দুই হাজার বহুভবন

    ধসে পড়বে গাজার দুই হাজার বহুভবন

    গাজায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণের পর একটি ছয়তলা ভবন ধসে পড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের ওপর।

    এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্বজনদের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজের তালিকা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ জনই শিশু।

    আল-বুরশ আরও জানান, পুরো গাজা জুড়ে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অপর্যাপ্ত ও সীমিত সম্পদ নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কংক্রিটের ভারী স্ল্যাবগুলো সরিয়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার মতো প্রয়োজনীয় কোনো ভারী

    তিনি আরও বলেন, আমরা সময়ের বিরুদ্ধে এক নির্মম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিটি মুহূর্ত মানেই আরেকটি অমূল্য জীবনের অবসান। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মানুষের বাঁচার আকুতি ও আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • কঠোর নিয়মের মুখে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশী শিক্ষার্থীরা

    কঠোর নিয়মের মুখে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশী শিক্ষার্থীরা

    অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্যদের দেশটিতে নিয়ে আসার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে দেশটির লেবার সরকার। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

    ক্রমবর্ধমান অভিবাসন চাপ সামাল দিতে এবং নেট অভিবাসন হার কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই নতুন নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

    মূলত চাহিদার ওপর নির্ভর করে চলা অভিবাসন নীতি থেকে সরে এসে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে কোটা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে দেশে আগমন ও প্রস্থানের সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    সরকারের লক্ষ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যে নেট অভিবাসন বর্তমানের প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার থেকে কমিয়ে দুই লাখ পঁচিশ হাজারে নামিয়ে আনা। গত বছর দেশটিতে প্রায় তিন লাখ ৩৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা পেলেও এর বড় একটা অংশ ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য। নতুন নিয়মে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে একা অস্ট্রেলিয়ায় আসার শর্ত পূরণ করতে হবে।

    এর পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করা এবং অবৈধ বা দীর্ঘমেয়াদি আপিল প্রক্রিয়া সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই কড়াকড়ির ফলে অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো।

  • কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরে কাউখালীতে গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী মহাসড়কের উপজেলার কচুয়াকাটি বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে সড়কের উপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে থাকা টিনশেড ভবনসহ পাঁচটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস ও পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আল আমিনের উপস্থিতিতে সড়ক বিভাগ বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

    ওই স্থানে একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হলেও সওজের জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সওজের পক্ষ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে অপসারণ না করায় আদালতের নির্দেশনায় এবং জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, জনস্বার্থে ও আদালতের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরকারি জায়গায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই স্থাপনাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এর ফলে সেতু নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক বৃদ্ধের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাসুদ করিম এ রায় দেন।

    সাজাপ্রাপ্ত মোখছেদ আলী প্রামাণিক জেলার সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মরহুম বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সাথে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    পরে ঘটনাটি ভুক্তভোগী শিশু পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে আদালত এ রায় দেন।

    মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সাথে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র এক বছরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগীর বাবা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

  • ঘণ্টায় ৪১৫টি প্লেন !

    ঘণ্টায় ৪১৫টি প্লেন !

    শৈশবে কম-বেশি অনেকেই কাগজের প্লেন/উড়োজাহাজ বানিয়ে খেলেছেন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সেই মজার খেলার কথা কয়জনই-বা মনে রাখেন! সাফল্য ও স্বীকৃতির পেছনে ছুটতে ছুটতে একসময় মলিন হয়ে আসে শৈশবের সেই স্মৃতি। তবে নিছক এ খেলাই ডেভিড রাশকে বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের বোইজিতে এক ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়েছেন ডেভিড রাশ। এর মধ্য দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খাতায় আরও একবার তাঁর নাম উঠেছে। প্রতিটি উড়োজাহাজ বানাতে ডেভিসের সময় লেগেছে গড়ে ৮ দশমিক ৬৭ সেকেন্ড।

    এর আগে ২০০টির বেশি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ডেভিড রাশ। ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি গিনেস রেকর্ড গড়ার মালিকও তিনি।

    নতুন রেকর্ড গড়তে ডেভিড রাশ বোইজির ওয়াইএমসিএর র‍্যাকেটবল কোর্টে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। লক্ষ্য ছিল ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি কাগজের উড়োজাহাজ বানানোর রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া। তবে কাজটি সহজ ছিল না।

    ডেভিড রাশ বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কাগজের উড়োজাহাজ তৈরিতে সাত ধাপের নির্দিষ্ট ভাঁজ অনুসরণ করতে হয়েছে। শুধু উড়োজাহাজ বানালেই হবে না, সেগুলো নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় গতি, নির্ভুলতা ও সমন্বয়—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

    অনলাইনে দেওয়া এক পোস্টে ডেভিড রাশ লেখেন, ‘আমার সহকারীদের একটি দল কাগজ সরবরাহ, তৈরি করা উড়োজাহাজ নির্ধারিত বিচারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেগুলো ছুড়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করেছে কি না, তা নিশ্চিত করার কাজ করেছে।’

    গত ৩০ মে এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক উড়োজাহাজ তৈরির রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেন ডেভিড রাশ। ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়ে সফলও হন। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও দ্রুত কাগজের উড়োজাহাজ বানানো ও ছোড়ার রেকর্ড ভাঙা। বর্তমানে এ রেকর্ড ৪ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডের।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সাপের দংশনে শফি মন্ডল (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শফি মন্ডল উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের নূর বাক্স মন্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বাড়ির পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন শফি মন্ডল। এ সময় সাপ তাকে দংশন করে। বাড়িতে পৌঁছানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

  • বিদেশি শ্রমেই নির্ভরশীল মালয়েশিয়া

    বিদেশি শ্রমেই নির্ভরশীল মালয়েশিয়া

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে এমন একটি অংশ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে মূল অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থাকলেও এখন আর উপেক্ষা করার মতো ছোট নয়। ১৬ সেপ্টেম্বর নিউ স্ট্রেইটস টাইমসে প্রকাশিত ‘দ্য শ্যাডো ইকোনমি: মালয়েশিয়া ক্যান নো লঙ্গার ইগনোর’-এ মালয়েশিয়ার অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক বা ‘ছায়া অর্থনীতি’ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

    এর একটি কারণ হিসেবে এমন কিছু কাজের প্রতি স্থানীয় কর্মীদের অনাগ্রহের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোকে সাধারণত ‘ডার্টি, ডেঞ্জারাস অ্যান্ড ডিগ্রেডিং’—অর্থাৎ নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও মর্যাদাহীন কাজ—হিসেবে দেখা হয়। ফলে এসব খাতে শ্রমের চাহিদা পূরণে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

    এ ধরনের ছায়া অর্থনীতির বিস্তারের ফলে শ্রমিক সুরক্ষা, কর আদায়, কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকতা এবং অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। কারণ অর্থনীতির একটি অংশ যদি যথাযথভাবে নিবন্ধিত, নিয়ন্ত্রিত ও করব্যবস্থার আওতায় না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

    ছায়া অর্থনীতিকে শুধু শ্রমবাজারের একটি পার্শ্ববর্তী সমস্যা হিসেবে না দেখে, এর পেছনের কাঠামোগত কারণগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় কর্মীদের জন্য কাজের পরিবেশ, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত

    যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত

    রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির জেরে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।

    বিলটি আইনে পরিণত হলে তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারত ও অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ক্ষমতা প্রদান করবে।

    এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। এতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ—যার মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে—তাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে।

    ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, বিলটি প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে।

    প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। রাশিয়ার তেল বাণিজ্য ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • ভারত ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ

    ভারত ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।

    ভারতের পররাষ্ট্র টহলে থাকা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি দ্রুতগতিতে ও অনিরাপদভাবে পাকিস্তানি জাহাজটি চলাচল করছিল। একপর্যায়ে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে ওমান উপকূলের দিকে দুই জাহাজের সংঘর্ষ হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

    ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানি নৌযানের আচরণ ছিল ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ এবং ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে পাকিস্তানি কূটনীতিককে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর বাবর ও ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস গোদাবরি একই ধরনের ঘটনায় জড়িয়েছিল।

  • ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ

    ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ

    ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখার মেয়াদ ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি নোটিস জারি করেছে।

    নোটিস অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাটি ভারতের নিবন্ধিত সব বিমান এবং ভারতীয় এয়ারলাইনস বা অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত বা ইজারা নেওয়া বিমানের (সামরিক ফ্লাইটসহ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

    প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল এই আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সবশেষ এটি ছিল এই বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে জারি করা ১৭তম নোটিস।

    ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলেগামে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ‍বৃদ্ধি পায়। ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে। ভারত ওই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। তবে ইসলামাবাদ অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এবং ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়।

    পাকিস্তান ভারতীয় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে হামলা চালালে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। এর জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা অভিযান চালায়।

    প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের পর, ১০ মে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

  • ইউরোপে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে মুসলিমদের

    ইউরোপে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে মুসলিমদের

    ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখন প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, ইসলাম পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে পপুলিস্ট ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। দলটি ‘ইসলামায়ন’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক করে এবং ব্যাপক হারে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সময়ে ব্রিটেনের ডোভারে শত শত মুখোশধারী ব্যক্তি ‘বোট বন্ধ করো’ এবং ‘খ্রিস্ট রাজা’ স্লোগান দেয়। ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের প্রকাশ্য স্থানে ইসলামি হিজাব নিষিদ্ধ করার আহ্বানও উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে।

    ইসলাম নিয়ে এই আতঙ্ক শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই; যুক্তরাষ্ট্রেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর যে ধরনের সন্ত্রাসবাদভিত্তিক ভয় প্রধান ছিল, এখন তার জায়গায় একটি নতুন ধারণা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—ইসলাম নাকি ইউরোপের ভেতর থেকেই ইউরোপকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন সদস্যও ‘সভ্যতার বিলুপ্তি’ বা ‘সিভিলাইজেশনাল ইরেজার’-এর মতো ভাষা ব্যবহার করেছেন। এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বাস্তবে ইউরোপে ইসলামের কোনো ‘দখল’ বা মুসলমানদের ব্যাপক উগ্রপন্থায় পরিণত হওয়ার ঘটনা ঘটছে না। ইউরোপীয় সংস্কৃতিও মুছে যাচ্ছে না। ইউরোপে ‘নো-গো জোন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শরিয়াহ জাতীয় আইনে ঢুকে পড়ছে কিংবা কোনো পরিকল্পিত ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা বৃহৎ জনসংখ্যাগত প্রতিস্থাপন চলছে—এমন দাবিরও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসলামপন্থিদের কোনো ভুল-ত্রুটি নেই। ইউরোপের প্রকৃত ঝুঁকি দুটি ধরন থেকে আসছে—একদিকে রাষ্ট্রকে ইসলামি নীতির অধীন করার রাজনৈতিক মতাদর্শ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর উগ্র ডানপন্থি ইসলামভীতি।ইউরোপের বামপন্থিরা ইসলামিজমের বাস্তব কিন্তু সীমিত হুমকিকে অস্বীকার করে সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। একইভাবে মধ্যপন্থি রাজনীতিকরা বর্ণবাদের অভিযোগের আশঙ্কায় অনেক সময় নীরব থাকেন।

    ইউরোপের জনসংখ্যার হিসাব দিয়ে ‘ইসলামি দখল’-এর ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ । সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলো থেকে অভিবাসন বেড়ে গেলেও ইউরোপের ৫০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ। নতুন অভিবাসীদের সন্তানসংখ্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি হলেও প্রজন্মের সঙ্গে তাদের জন্মহার সাধারণত স্থানীয়দের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে ইউরোপের সভ্যতা বা সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়।

    অন্যদিকে অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী তাদের নতুন দেশে নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠা করতে চান, সেই দেশকে তারা পূর্বের সমাজব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চান—এমন ধারণারও সমর্থন নেই। তাদের সন্তানরা অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের চেয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো করছে। উদাহরণ হিসেবে ব্রিটেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে ব্রিটেনে মানসম্মত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল; শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৩৮ শতাংশ। ব্রিটিশ রাজনীতিতেও মুসলিমদের অংশগ্রহণ বেড়েছে—দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিমরা রয়েছেন।

    মুসলিমদের অনেক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। ব্রিটিশ মুসলমানদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের বিষয়ে বড় ধরনের বিরোধিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলিম পরিচয় থাকা মানেই ইউরোপীয় সমাজের মূলধারার মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাত—এমন সরলীকরণ যথার্থ নয়।

    তাহলে কেন ইউরোপের এত মানুষ ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে— এই প্রশ্নও ওঠেছে। এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকার কথা এসেছে। বিশেষ করে ইলন মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করেছেন এবং ইউরোপের ইসলামবিরোধী ডানপন্থী শক্তিগুলোকে উত্সাহিত করেছেন। ব্রিটিশ ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের প্রসঙ্গও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

    পপুলিস্ট ডানপন্থীদের প্রস্তাবিত সমাধানগুলো নিজেরাই সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পোশাক নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ মুসলমানদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে পারে, তাদের সমাজের মূলধারা থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং উগ্রপন্থীদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অর্থাৎ ইসলামিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত একই ধরনের বিভাজনকে আরো গভীর করে।

    এ কারণে ইউরোপের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য পরামর্শ হলো—সহিংসতা ও সহিংসতার হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে, কিন্তু সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার নামে কোনো বিষয়কে আলোচনার বাইরে রাখা যাবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সহনশীলতার শত্রু নয়; বরং সেটিই সহনশীলতার পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীর গোপন অনুপ্রবেশ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকলে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে, আবার একইভাবে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষকেও মোকাবিলা করতে হবে।

    তথ্যের গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছে। সরকারের কাছে অভিবাসন, জনসংখ্যা ও সামাজিক পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা এবং তা প্রকাশ করা জরুরি। কারণ সরকার তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশে অনীহা দেখালে সেই শূন্যস্থান দখল করে নেয় অনুমান, অতিরঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের নানা তত্ত্ব।

    ইউরোপের মুসলমানরা ধীরে ধীরে সমাজের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে। অতীতে ইউরোপে ক্যাথলিক, ইহুদি ও ক্যারিবীয় অভিবাসীদের নিয়েও একই ধরনের সামাজিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল—তারা আদৌ নতুন সমাজে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সময়ের সঙ্গে এসব জনগোষ্ঠী ইউরোপীয় সমাজের অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলমানদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া ঘটতে পারে—যদি বিভাজন, চরমপন্থা ও অযৌক্তিক আতঙ্ক সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে।

    ইসলাম নিজে ইউরোপের জন্য কোনো অস্তিত্বগত হুমকি নয়; কিন্তু ইসলামিজমের উগ্র রাজনৈতিক রূপ এবং ইসলামভিত্তিক অযৌক্তিক ভয়—দুটিই ইউরোপের উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামকে ঘিরে অতিরঞ্জিত ‘ইউরোপ দখল’, ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা ‘শরিয়াহর মাধ্যমে ইউরোপের পতন’-এর মতো ধারণাগুলোকেও তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করা প্রয়োজন।

  • এহসান মাহমুদকে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক নিয়োগ

    এহসান মাহমুদকে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক নিয়োগ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী এক বছর তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

    বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। এই নিয়োগের অন্যতম শর্ত হিসেবে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    নতুন দায়িত্ব পেয়ে এহসান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

    গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে মানুষের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে বলেন মনে করেন তিনি। গণতন্ত্র, সম-অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা জুলাই থেকে পাওয়া গেছে, তা সামনে রেখে কাজ করতে চান জুলাই জাদুঘরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক।

    সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি জাদুঘরটিকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে রূপ দেয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া এহসান মাহমুদের পৈতৃক নিবাস বরিশালের মুলাদীতে। স্নাতক ডিগ্রিধারী এই সাংবাদিক কর্মজীবনে দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন ও নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

    সাংবাদিকতার পাশাপাশি কথাসাহিত্য ও কবিতাতেও তার কাজ রয়েছে। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উপন্যাস ‘একাত্তরের লালমিয়া’ ও ‘কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল’ এবং কবিতার বই ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রবন্ধ ও রাজনীতি বিষয়েও তার প্রকাশনা রয়েছে।

  • গাজায় ভবন ধসে নিহত বেড়ে ২০, ধ্বংসস্তূপে শতাধিক নিখোঁজ

    গাজায় ভবন ধসে নিহত বেড়ে ২০, ধ্বংসস্তূপে শতাধিক নিখোঁজ

    গাজা সিটির একটি ছয়তলা ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা অবস্থান করছিলেন। পাশের তাঁবুতেও বেশ কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    গাজার সিভিল ডিফেন্স (বেসামরিক প্রতিরক্ষা) সংস্থা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ভবনটি এর আগে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে আশপাশে গোলাবর্ষণের পর ভবনটি ধসে পড়ে। এতে ভবনের ভেতরে থাকা মানুষদের পাশাপাশি পাশের তাবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতরাও চাপা পড়েন।

    আল-বুরশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন শিশু রয়েছে।

  • গভীর রাতে মুসলিমদের ধরপাকড় করছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ

    গভীর রাতে মুসলিমদের ধরপাকড় করছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ

    বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গত জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিযানে অন্তত ৯ মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করে ডিটেনশন বা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে । এসব আটকের অধিকাংশই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা।

    আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি অভিযান গভীর রাতে পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রিমান্ড আদেশ কিংবা এফআইআরের কপি দেখায়নি বলেও তারা দাবি করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আরো অভিযোগ, আটক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ উপস্থাপনের কার্যকর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

    মুর্শিদাবাদের ৬১ বছর বয়সি ইব্রাহিম শেখকে ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তার পরিবারের দাবি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইব্রাহিম তার আধার ও ভোটার পরিচয়পত্র দেখালেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

    উত্তর দিনাজপুর জেলার আরেক বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সি জলিল আখতারকেও বাড়ির বাইরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, জলিল ভারতীয় নাগরিক এবং তার নাম একাধিক নির্বাচনি ভোটার তালিকায় রয়েছে, এমনকি ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। তবে পুলিশের অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

    অভিযোগ রয়েছে, আবদুল জব্বারকে তার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেসহ নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, আবদুল জব্বারের ভারতীয় পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি রয়েছে। তার স্ত্রী পরে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

    আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়ার যাচাইও সম্পন্ন করেছিলেন।

    আটকের পদ্ধতি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুর্শিদাবাদভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটসের কর্মী জাকির হোসেনের অভিযোগ, কিছু মানুষকে আদালতে হাজির না করেই আটক রাখা হচ্ছে।

    অন্তত একটি ঘটনায় পুলিশ আটক এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। ওই ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর অধীনে মামলা করে।

    পরিবারগুলোর প্রশ্ন, ভোটার পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জমির নথি এবং অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে কেন তাদের কার্যকর আইনি সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা নিষ্পত্তি করা উচিত।

    পশ্চিমবঙ্গে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও আটক নিয়ে নজরদারি বাড়ার মধ্যে এসব ঘটনা বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অধিকারকর্মীরা ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে কতজনকে রাখা হয়েছে, তাদের কী আইনি অবস্থান এবং নাগরিকত্ব নির্ধারণে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

    তবে এসব অভিযোগ ও ঘটনাবলি স্ক্রলের অনুসন্ধানে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটকের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বক্তব্য প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে জানা এবং তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

  • বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

    দীর্ঘ শিক্ষকতা, শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

    অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত থেকে মাওলানা নূরুল হুদা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিস ও কামিল অর্জনকারী তিনি ছিলেন বিরল প্রতিভার অধিকারী। কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও আরবি সাহিত্যে তাঁর ছিল গভীর পাণ্ডিত্য।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি বহু আলেমে দ্বীন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মৃত্যুর সময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী। গাজীপুরের টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেছেন। আমৃত্যু তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

    শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ওয়ায়েজ, একাধিক মসজিদের খতিব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাওলানা নূরুল হুদা।

    লেখালেখির সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জ্ঞানচর্চা, শিক্ষকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবাকে সমন্বিত করে তিনি একটি দীর্ঘ ও কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন।

    পারিবারিক জীবনে প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদা ছিলেন চার পুত্র ও সাত কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক। মেঝো পুত্র এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেজো পুত্র মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের (জেইউজি) সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল। কনিষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী।

    মরহুমের সহধর্মিণীও ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।

    মৃত্যুর ১৩ বছর পরও শিক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্ম ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেঁচে থাকার জন্য গাছের কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষার্থে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছের গুরত্ব ও চাহিদার কারলেই বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৩ শতাধিক সরকারী বেসরকারী নার্সারী। সফলতা এসেছে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার নার্সারী ব্যবসায় । বৃক্ষরোপন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলার নার্সারী মালিকরা তৎপর হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারীর ব্যবসা। সরকারী নার্সারীর পাশাপাশি বেকার যুবকরাও নার্সারী গড়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৃক্ষরোপনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছে।

    ফুলফলসহ নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার নার্সারীগুলো। নার্সারীর চারিদিকে তাকালেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহরতলীসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক সরকারী-বেসরকারী নার্সারী।

    বিভাগীয় বন অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ কুষ্টিয়ায় ১৩টি উপজেলায় ৩ শতাধক নার্সারী গড়ে উঠেছে। এসব নার্সারীতে ফল-ফুল ও ঔষধী গাছের চারার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এমন গাছের চারাও উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার নার্সারীগুলোতে এ ব্যবসায় এসেছে সফলতা।

    বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ নার্সারী ব্যবসা। বৃক্ষের আর্থিক মূল্য অনুধাবন করেই গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষরোপন প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃক্ষ রোপন মৌসুমকে সামনে রেখে নার্সারীগুলো চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৎপর হয়ে কাজ করছে। নার্সারীর শ্রমিকরা একদিকে যেমন গাছ পরিচর্যা ও গাছ তুলে বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত। তেমনি মালিকরাও নিজেদের নার্সারীর সুনাম বয়ে আনতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সমাহার ঘটিয়ে নার্সারীকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারেও বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিক্রি করা হচ্ছে।

    বৃক্ষরোপনের উদ্যোগকে বেগবান করতে জেলার গড়ে ওঠা নার্সারীগুলো ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ মৌসুমে গাছের চারার চাহিদা থাকায় দিনদিন নার্সারী ব্যবসার প্রসার ঘটছে। জেলার অনেকেই নার্সারী গড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনেক বেকার যুবক নার্সারী করে স্বাবলম্বী হলেও সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এ ব্যবসায় আগের মতো আর লাভ নেই বলে নার্সারী মালিকরা জানালেন।

    নার্সারী মালিকরা অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সরকারীভাবে চারা ক্রয় করা হয় না। চারা ক্রয়ে সরকারী কর্মকর্তারাও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন না। নার্সারী মালিকদের নিকট থেকে যদি চারা ক্রয় করা হয় তাহলে নার্সারী মালিকরা আরো উপকৃত হবে। এদিকে সবুজ বনায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বন বিভাগ কার্যক্রম চালালেও এ বছর তাদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। প্রতি বছর জেলার স্কুল কলেজে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হলেও এ বছর কোন বরাদ্দ না আসায় বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কুষ্টিয়া জেলার ৬৬ ইউনিয়নসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় নার্সারী ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বৃক্ষরোপন আন্দোলন জনসাধারণের মাঝে সাড়া পেয়েছে। বন বিভাগের সহযোগিতা পেলে কুষ্টিয়া জেলায় আরো নার্সারী ব্যবসা বাড়তে পারে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার উৎপাদিত চারা জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠানো যাবে বলে নার্সারী মালিকরা অভিমত প্রকাশ করেন। নার্সারী সবুজ বনায়নে যেমন রাখতে পারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তেমনি জেলার বেকার সমস্যার সমাধানেও যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে পারে।

  • কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কথিত সমাবেশ ও মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পৃথক মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাপাসিয়া থানা পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কাপাসিয়া থানার বারিষাব ইউনিয়নের পূর্ব লোহাদী এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান ও অপপ্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে সমবেত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর কাপাসিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮/৯(১)/৯(২)/৯(৩)/১০/১১/১২ ধারায় মামলা করা হয়।

    মামলার পর ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাপাসিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা (৪৫), তরগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আঃ হান্নান (৫১), মো. জহিরুল ইসলাম (২৯), মোস্তাকিম (৩৭), সুমন (২৬), শ্রাবন (১৯), যোবায়ের (১৯), হৃদয় খান (২০), মুন্না হোসেন (১৯), সানী (২২), নিয়ান খান অমি (১৭) ও সুমন (১৬)।

    গ্রেপ্তার জুয়েল রানা কাপাসিয়া উপজেলার তরুন এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং মো. আঃ হান্নান মৈশন এলাকার মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। অন্যদের বাড়ি কাপাসিয়া উপজেলার খিলগাঁও, ভিটিপাড়া, বেগুনহাটি ও আশপাশের এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের এ মালেক কনভেনশন হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক মোহাইমেন।

    ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সজিব মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, জেলা জামায়াতের আইসিটি সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক রাজিফুল হাসান বাপ্পী, প্রচার সম্পাদক মো: রুকন উদ্দিন ও জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়া ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবনের এ অর্জন ভবিষ্যতের পথচলায় কাজে লাগাতে হবে। শুধু অ্যাকাডেমিক সাফল্য নয়; মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর জন্য তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

  • কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো: ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রায়েরবাজারের ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বসিলা ব্রিজ-সংলগ্ন আরশিনগর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে তিনি চুল কাটানোর জন্য আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিক তার ওপর হামলা চালায়। তারা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। চার বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীর হাতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়াটিয়ার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মরহুম সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় আইনজীবীর সহকারি (মুহুরি) ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে নুরুজ্জামানের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে স্ত্রী নাসিমা তার স্বামী নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

    বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাখাওয়াত হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ওই বাসা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিহতের পলাতক স্ত্রীকে আটক ও পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

  • কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড়ের ঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের বয়স ও পরিচয় শনাক্তে সিআইডির একটি দলকে খবর দেয়া হয়েছে।

    পুলিশের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। লাশ উদ্ধারের সময় তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে খবর পেয়ে কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মো: এরশাদ (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীর তীরে তার লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন লাশটি উদ্ধার করেন।

    নিহত এরশাদ উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং চার সন্তানের জনক।

    নিহতের ভগ্নিপতি (বোনের স্বামী) মো: নুর উদ্দিন বলেন, এরশাদ কৃষি কাজ করত। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে জাল দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ধরত। মঙ্গলবার এরশাদ মাছ ধরার জন্য জাল নিয়ে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীতে যায়। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল না। স্থানীয় লোকজন নদীর তীরে জালসহ তার লাশ ভাসতে দেখেন।

    নুর উদ্দিনের ভাষ্য, এরশাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। মাছ ধরার সময় জোয়ারের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, নিহতের স্বজনদের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তারা লাশ নিয়ে ঘাটে আসছে। সেখানে লাশ দেখে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়া হবে।

  • লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রান্তিক চাষীদের ২ দিনব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ

    লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রান্তিক চাষীদের ২ দিনব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিকাজে আরো দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় দুই সপ্তাহব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দুল্যাতলী ইউনিয়ন ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ২০ প্রান্তিক কৃষকের অংশগ্রহণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ।

    এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন এবং দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

    দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণে পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি, ফসল উৎপাদন এবং কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেয়া হবে।

    প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে তাদের মাঝে সনদপত্র, সার, বীজ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। দুর্গম পাহাড়ে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে এ উদ্যোগ তাদের কৃষি উৎপাদন ও স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ফুরিয়ে আসছে সৌদির তেল !

    ফুরিয়ে আসছে সৌদির তেল !

    সৌদি আরবের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির ভয়ংকর চিত্র উপগ্রহ চিত্রে ফুটে উঠেছে। সৌদি আরব যদি দ্রুত এই পাইপলাইনটি আবার চালু করতে না পারে, তবে কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের তেল রপ্তানি করার মতো কোনো মজুত আর থাকবে না।

    এর ফলে বিশ্ববাজারে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় চার শতাংশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    গত রোববার রাতের প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশন আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ঘাটতি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

    এমনিতেই জ্বালানির চড়া দামের কারণে বিশ্বব্যাপী জিনিসপত্রের দাম বা মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে নতুন করে হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল করে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এই অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা তেলের দাম সাড়ে তিন শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে হামলার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনটি ঠিক হতে ঠিক কতদিন লাগবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য জানায়নি।

    রয়টার্স ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি ঠিক করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

    গত ছয় মাস ধরে পারস্য উপসাগরের মূল জলপথ বন্ধ থাকলেও সৌদি আরব এই মরুভূমি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বা বিশ্বের মোট চাহিদার চার শতাংশ লোহিত সাগরের বন্দরে সরিয়ে নিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সেই বন্দরগুলোতে যে তেল জমে আছে, তা দিয়ে বড় জোর পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এরপর আর কোনো উপায় থাকবে না।

    তেলের এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও হু হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড ভেঙে প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং এর ফলে সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে এক বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

  • সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ নভেম্বর। সেদিন রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপের সব ম্যাচই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

    ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে ৮ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। ১১ নভেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

    গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে ৮টায়। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর রাত ৮টায়।

    তবে প্রকাশিত সূচিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নেপালকে বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে এবং খেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে।

    ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

  • হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিমান হামলা

    হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিমান হামলা

    ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের বেশ কিছু অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মারিবের আল-জুবাহ জেলায় এই হামলাগুলো চালানো হলেও এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি মারিবের হারিব জেলায় হুথিদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টাও নস্যাৎ করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী।

    অন্য একটি ঘটনায় তাইজ বিমানবন্দরের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্যাড লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া তাইজের পূর্বে স্থানীয় পরিষদ ভবনে হুথি নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এসব হামলা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাইজ ও মারিব প্রদেশে হুথিদের অবস্থান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে সরকারি জোট।

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে এই দীর্ঘ সংঘাতের শুরু হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, সার ও খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় সার বিক্রয়ে অনিয়ম, ভুয়া চিকিৎসা ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার গোকুলখালী এবং ভালাইপুর বাজারে এ তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

    অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তদারকি চলাকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় অবৈধভাবে সার বিক্রয় করার অপরাধে গোকুলখালীর মেসার্স হামিদুল ট্রেডার্সের মালিক মো: হামিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণামূলক চিকিৎসা প্রদানের দায়ে মেসার্স জিকু মেডিক্যাল হলের মালিক মো: সাইফুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের অপরাধে ভালাইপুরের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: কালাম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ ঝুলিয়ে রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন বা নিষিদ্ধ কোনো ওষুধ, সার, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেমের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি টিম। জনস্বার্থে ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    এ,আর

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।

  • ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    পাকিস্তানে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন দেশটির সাত সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ।

    তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, সাবেক অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খানের বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

    চিঠিতে তারা আরও জানিয়েছেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তারা কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না। সেটি পাকিস্তানের নিজস্ব বিষয় বলেই মনে করেন তারা। তবে কারও আটক অবস্থায় তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, ‘রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, আটক থাকা যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয়।’

    ইমরান খানের পক্ষে বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক তারকাদের এটাই সর্বশেষ উদ্যোগ। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, বর্তমানে ইমরানের চিকিৎসা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মান পূরণ করছে না।

    ওই চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত চিকিৎসক বোর্ডকে ইমরানের নিজস্ব চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর এসেছে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল করা সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ যেন কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই চালু রাখা হয়। তৃতীয়ত, চিকিৎসা পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

    এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরানের পক্ষে প্রথম চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খানও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

    সর্বশেষ চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়করা উল্লেখ করেছেন, ইমরানের ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে তার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ কম থাকা।

    ইমরানের বিষয়টি নিয়ে গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতেরও অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।

  • আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমনটি ফুটে উঠেছে।

    গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় আজ মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. একে এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক, জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার জন্য যে মানুষটি দায়ী তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।

    তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।

    ২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

    সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন- বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।

    যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেদুয়ানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।

    তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।

    উল্লেখ্য, আইপিএলে রেকর্ড মূ্ল্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুযোগ পাওয়ার পরও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    ঠিক একই কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে যায়নি। চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু আইসিসি এতে রাজি হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেয় আইসিসি।

  • মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো: ফয়সাল (২৬) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড় মহেশখালীর পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে চোর সন্দেহে আটক করে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালেও কয়েক দফা পেটানোর পর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চুরির অভিযোগে একদল কিশোর ফয়সালকে ইট দিয়ে পেটাচ্ছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

    বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে শুনেছি।

    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান জানান, এভাবে কাউকে পিটিয়ে মারা অন্যায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • চৌগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    চৌগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ১০ দিন ব্যাপী প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ হল রুমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন । উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেজবাহ উদ্দিনের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ চঞ্চল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রমুখ। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন প্রশিক্ষক আসাদুজ্জামান। কার্যক্রমে উপজেলার প্রান্তিক পেশাজীবীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন পেশার ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ মুনিব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান হবি, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মমিনুর রহমান, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল কদর, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহসভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, হিন্দু ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি গোবিন্দ কুমার রাহা প্রমুখ।

    সভায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করনে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীনিয়ে ট্রাম্পের নীতি স্থগিত

    যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীনিয়ে ট্রাম্পের নীতি স্থগিত

    নিজেদের কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ভিসা নীতি স্থগিত করে দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে।

    বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে একটি ভিসা নীতি গ্রহণ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার এ নীতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই গতকাল সোমবার একজন ফেডারেল বিচারক এটি স্থগিত করে দেন।

    ২০২৫ সালের আগস্টে প্রস্তাবিত ওই ভিসা নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসায় বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। আর বিদেশি সাংবাদিকেরা ভিসা নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন মাত্র ২৪০ দিন, যদিও তাঁরা বাড়তি ২৪০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আবেদন করতে পারবেন।

    মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা–বিষয়ক সংগঠনগুলোর জোটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেলর (চতুর্থ) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এ নীতি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে তা স্থগিত করার আদেশ দিলেন।

    সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগ দেওয়া বিচারক সেলর বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি শিক্ষাবিদ যুগান্তকারী গবেষণা ও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। প্রস্তাবিত ভিসা নীতির কারণে উচ্চশিক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হবে, তা বিপর্যয়কর হতে পারে।

    এফ ভিসাধারী প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির (এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা) আওতায় প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী ট্রাম্প প্রশাসনের এ ভিসা নীতির আওতায় পড়তেন।

    বিচারক সেলর বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ও ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে যুক্তি দিয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল।

    ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা

    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে মামলা হয়েছে। গতকাল ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতেও দুটি মামলা হয়েছে। নীতিটি আগামী শুক্রবার কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    আইনি ভাষায় ‘পাবলিক চার্জ’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রধানত সরকারি ভাতা ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী অবস্থানের আবেদনকারীরা যদি ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হন, তবে মার্কিন প্রশাসন চাইলে তাঁদের সেই আবেদন সরাসরি বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

    বিদ্যমান নীতিতে একজন ব্যক্তিকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতিমালায় এ নির্দেশনা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত কোনো অভিবাসীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা আছে। এতে করে নগদ অর্থ নয়—এমন সরকারি সহায়তা পাওয়াকেও ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন কর্মকর্তারা।

    তা ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতিমালায় অভিবাসী পরিবারগুলো জানতেও পারবে না, কোন সেবা নিলে তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। ফলে মেডিকেডের মতো বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার কার্ডসহ অন্যান্য সেবা নিলে তাদের বিপদে পড়তে হতে পারে।

    নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়সহ ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত ওই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা এক মামলায় নীতিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, এ নীতির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো বহু দশক ধরে মানুষকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

    মামলাগুলোতে বলা হয়েছে, স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) যোগ্যতা ঠিক করার একক ক্ষমতা একমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নিজেরাই নতুন নীতি কার্যকর করতে চাইছে। তারা তাদের আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।

    বাদীদের যুক্তি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণের কারণে কারও স্থায়ী বসবাসের আবেদন বাতিল বা অধিকার কেড়ে নেওয়া বেআইনি। ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতি দেশটির আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

  • কিমের গোপন ছেলের সন্ধানে কোরিয়া

    কিমের গোপন ছেলের সন্ধানে কোরিয়া

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা।

    গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম। এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, তার পর দেশটির নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তার মেয়ে কিম জু এ–এর। ধারণা করা হয়, তার বয়স এখন প্রায় ১৩ বছর।

    তবে কিম জুর কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এনআইএস বলেছে, বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করছে তারা। কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও সে হয়তো তার উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই। এ ছাড়া কিমের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে সে ছেলে না মেয়ে, তা নিশ্চিত নয়।

    এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস বলেছিল, কিম জু এ–এর একজন বড় ভাই রয়েছে। তবে পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতার ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা তখনো যাচাই করে দেখছে।

    কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব রয়েছে। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন কিম পরিবারের তিনজন পুরুষ সদস্য।

    এ কারণে কিমের উত্তরসূরি তার মেয়ে হতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশের সন্দেহ রয়েছে। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব সহজে মেনে নাও নিতে পারেন।

    কিম জু এ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় গেলেও কিম পরিবারের হাতে ক্ষমতা থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জু এ বিয়ে করলে এবং তার সন্তান পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হলে একপর্যায়ে দেশটির ক্ষমতা কিম পরিবারের বাইরে চলে যেতে পারে।

  • প্রশ্নের মুখে মোদির ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারনা

    প্রশ্নের মুখে মোদির ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারনা

    ‘সমগ্র বিশ্ব একটি পরিবার’—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সম্মেলনে সংস্কৃত প্রবাদ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর মাধ্যমে যে ধারণা তুলে ধরেছেন, সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতায় কতটা কার্যকর—এই প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বকে যদি সত্যিই একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিরোধ মেটানোর সবচেয়ে পরিণত পথ হলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সমঝোতা।

    দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ ধারণাটি সামনে এনেছেন। এর অর্থ—‘বিশ্ব একটি পরিবার’। তবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাচীন কোনো বাণী উদ্ধৃত করা সহজ হলেও সেই দর্শনকে বাস্তব রাষ্ট্রীয় আচরণে প্রয়োগ করা অনেক বেশি কঠিন।

    ব্রিকস সম্মেলন বিশ্বকে একটি পরিবারের মতো পরিচালনার কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ, সংঘাত ও অবিশ্বাসের কারণে এই ধারণা বাস্তবায়ন এখনো অনেক দূরের বিষয়। একই সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির কিছু অবস্থানের সঙ্গে ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণার সামঞ্জস্য নেই।

    ব্রিকস সম্মেলনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ভারত যদি বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখে, তাহলে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ মেটাতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসাই পরিণত রাষ্ট্রীয় আচরণ। দুই দেশের সমস্যা দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিলে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সেটিকে স্বাগত জানাবে।

    ব্রিকসের আগের সম্মেলনের সঙ্গে দিল্লি সম্মেলনের তুলনা করা যায়। ২০১৭ সালে চীনের শিয়ামেন সম্মেলনে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে সেই ধরনের সরাসরি অবস্থানের পরিবর্তে ঐকমত্য ধরে রাখার চেষ্টা বেশি দেখা গেছে। এটিকে ব্রিকসের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখেছেন।

    ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণাটি তখনই অর্থবহ হয়, যখন কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের আগ্রাসন বা দমননীতির সঙ্গে অবস্থান না নিয়ে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও গণপিটুনির মতো ঘটনাও বন্ধ করা হয়। মানবিক মর্যাদা ও সমতার বিষয়টি ‘বিশ্ব পরিবার’ ধারণার অপরিহার্য অংশ।

    ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের উচিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের শুধু উপসর্গ নয়, মূল কারণ মোকাবিলা করা। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

    পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দিকে এগোনোর প্রয়োজনীয়তার কথাও শি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ধরনের অবস্থান ব্রিকসকে শুধু অর্থনৈতিক জোট হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

    ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘উবুন্টু’ দর্শনেরও তুলনা করেছেন লেখক। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্তির সময় নেলসন ম্যান্ডেলা ও ডেসমন্ড টুটু ‘উবুন্টু’—‘আমি আছি, কারণ আমরা আছি’—এই দর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এর মধ্যেও মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতা, সমতা ও সম্মানের একই ধারণা রয়েছে।

    বাইবেল ও ভারতীয় উপনিষদের মানবিক ঐক্যের ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ঐতিহ্যে মানবজাতিকে বৃহত্তর একতার অংশ হিসেবে দেখার ধারণা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে জাতি, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সেই আদর্শকে বারবার দুর্বল করে।

    বিশ্বকে সত্যিকার অর্থে একটি পরিবারে পরিণত করতে হলে শুধু সম্মেলনের মঞ্চে ঐক্যের কথা বললেই হবে না; রাষ্ট্রগুলোর আচরণেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ থাকলে শক্তি প্রদর্শনের বদলে আলোচনা, সংঘাতের বদলে সমঝোতা এবং আধিপত্যের বদলে সমতার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

    বিশ্ব যদি সত্যিই একটি পরিবার হয়, তাহলে পরিবারে বিভক্তি দূর করার প্রথম শর্ত হলো একে অপরের সঙ্গে কথা বলা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বিরোধ দ্বিপক্ষীয় সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করাই পরিণত ও দায়িত্বশীল পথ। একই সঙ্গে ব্রিকসের মতো জোটগুলোকে বৈশ্বিক সংঘাতের মূল কারণ মোকাবিলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরো সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

  • সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, লাশও পাচ্ছে না প্রবাসীর পরিবার

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, লাশও পাচ্ছে না প্রবাসীর পরিবার

    সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও স্বজনদের কাছে লাশ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও পরিবার জানতে পারছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য স্বজনদের কাছ থেকে। লাশ না পাওয়ায় ধর্মীয় রীতিতে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানও করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

    ইথিওপিয়ার ২৫ বছর বয়সি কিব্রম কিনফে আরেগাউই এর একটি উদাহরণ। চলতি বছরের ২৩ জুন দক্ষিণ সৌদি আরবের আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত কারাগারে গাঁজা পাচারের দায়ে আরো চার ইথিওপিয়ানের সঙ্গে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু তার লাশ দেশে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়নি।

    কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই ছেলের জন্য শোক পালন করছেন। তবে ছেলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী করতে না পারায় তার কষ্ট আরো বেড়েছে।

    কিনফে বলেন, ‘পরিবার হিসেবে সান্ত্বনা পেতে আমরা এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা করেছি। কিন্তু আমি আমার সান্ত্বনা পাব না।’

    তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য সারাজীবনের দুঃখ হয়ে থাকবে।’

    ইথিওপিয়ার অনেক অর্থোডক্স খ্রিষ্টানের কাছে ধর্মীয় নিয়ম মেনে মৃত ব্যক্তিকে সমাহিত করা বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ। কিব্রমের ক্ষেত্রেও তা সম্ভব হয়নি। তার পরিবার লাশ তো পায়ইনি, এমনকি মৃত্যুর সনদপত্র বা তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও দেওয়া হয়নি।

    মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুলাই পর্যন্ত আগের এক বছরে সৌদি আরব ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। চীন ও ইরানের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনি বলেন, লাশ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়। এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারকেও শাস্তি দেওয়া হয়।

    ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক নাজিলা ঘানেয়া সৌদি আরবে লাশ আটকে রাখার অভিযোগকে ‘নির্যাতন ও নিপীড়ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    মৃত্যুর খবরও পরিবার জানতে পারেনি

    কিব্রম ২০২০ সালে প্রথমবার বৈধ ভিসা ছাড়াই তার বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ মাস কারাগারে থাকার পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

    এরপর ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে কিব্রম আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লোহিত সাগর পাড়ি দিতে তিনি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকায় ওঠেন। পরে পায়ে হেঁটে ইয়েমেন পাড়ি দেন।

    ২০২৩ সালে সীমান্ত পার হওয়ার সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে আবার গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। বাবা কিনফের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন মাস কারাগারে থাকার পর কিব্রমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন বছর কারাগারে থাকার পর জুনে হঠাৎ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    কিনফে বলেন, ‘সে আমাদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ পায়নি।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন বলেও জানান তিনি।

    কিনফের বিশ্বাস, তার ছেলে নির্দোষ ছিলেন এবং সৌদি আরবে তাকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে হাশিশ (মাদক) পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন কোনো প্রমাণ নেই।’

    কিনফে আরো বলেন, ‘কেউ আমাকে তার মৃত্যুর সনদপত্র, তার কোনো জিনিসপত্র বা লাশ দেয়নি। আমি শুধু নীরবে কাঁদি। আমি আর কীই বা করতে পারি?’

    ছেলের বিয়ের আয়োজনের বদলে শেষ বিদায় অনুষ্ঠান

    একই দিনে একই কারাগারে ২৬ বছর বয়সি সিগাবু গেব্রেমারিয়ামেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

    ইথিওপিয়ার সেন্ট্রাল তিগ্রায় অঞ্চলের একটি গ্রামীণ জেলার আট ভাইবোনের মধ্যে সিগাবু ছিলেন সবার বড়। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর দারিদ্র্য ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন।

    তার বাবা হাগোস গেব্রেমেস্কেল বলেন, ‘আমাদের এলাকায় তরুণদের জন্য তেমন কোনো কাজ নেই। আমাকে সাহায্য করার জন্যই সে সৌদি আরবে গিয়েছিল।’

    মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সিগাবু সাড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে শেষবার পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়।

    হাগোস বলেন, ‘সে বলেছিল, সে শিগগিরই [দেশে] ফিরে এসে বিয়ে করবে।’

    সিগাবুর মা লেতেখ্রিস্টোস তখন ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকেই ছেলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হয়েছে।

    লেতেখ্রিস্টোস বলেন, ‘আমার সব সন্তান মেয়ে, সে-ই ছিল একমাত্র ছেলে। বোনদের অনেক আশা ছিল যে তাদের ভাই শিগগিরই বাড়ি ফিরে আসবে। তারা তার জন্য বিয়ের গান বানাচ্ছিল। এখন, তাদের কষ্ট আমার চেয়েও বেশি।’

    সৌদি আরবে থাকা আত্মীয়দের কাছ থেকে সিগাবুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পায় তার পরিবার। এরপর অর্থোডক্স খ্রিস্টান পরিবারটি স্থানীয় গির্জায় প্রতীকী শেষকৃত্য ও প্রার্থনার আয়োজন করে।

    প্রথাগত ৪০ দিনের শোক পালন করছেন লেতেখ্রিস্টোস। তিনি বলেন, ‘আমি জানতে চাই কেন তার লাশ দেশে আসেনি। এটি আমাদের শোককে আরো ভারী করে তুলেছে, আমাদের হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে।’

    সিগাবুর বাবা-মা এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ছেলের অপরাধের প্রমাণ চান। অন্য কেউ তার সরলতার সুযোগ নিয়েছিল কি না, সেটিও তারা জানতে চান।

    মাদক মামলায় বিদেশিরাই বেশি

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের ৭৫ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

    দুয়া ধাইনি বলেন, অপরাধী চক্রগুলো দুর্বল অবস্থায় থাকা মানুষদের ব্যবহার করে থাকে।

    তার ভাষ্য, ইথিওপিয়ার কিছু মামলায় আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সীমান্ত পার হতে সহায়তার বিনিময়ে তাদের বিভিন্ন জিনিস বহন করতে প্ররোচিত করা হয়েছিল।

    পাকিস্তানের কিছু নাগরিককে নিষিদ্ধ পদার্থ গিলতে বাধ্য করার ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছে তার সংস্থা। কখনো জোর করে, আবার কখনো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের এ কাজে বাধ্য করা হয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে সৌদি আরবে ২ হাজারের বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

    সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটিতে এক বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।

    সৌদি আইনে দূতাবাসের খরচে লাশ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। তবে ধাইনি বলেন, বাস্তবে তা কখনোই ঘটে না।

    তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অভিবাসী নাগরিকের লাশ তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। সৌদি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আমাদের নথিবদ্ধ করা ঘটনাগুলোতে একই বিষয় দেখা গেছে।’

    অতীতে তুরস্ক ও জর্ডানের নাগরিকসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে পরিবারগুলো প্রচারণা চালিয়েছে। তবে কোনো সাফল্য আসেনি বলে জানান ধাইনি।

    তিনি বলেন, জর্ডানের একটি পরিবারকে দেওয়া মৃত্যুর সনদপত্র ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। সেখানে লাশ কোথায় সমাহিত করা হয়েছে বা কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না।

    সৌদি সরকারের কোনো জবাব নেই

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে থাকা সৌদি দূতাবাসের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল বিবিসি। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের ইথিওপিয়ান দূতাবাসের কাছেও মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

    মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে। জুনে গাঁজা-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এক সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার সময় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করা হয়। সেখানে ‘পৃথিবীতে বিপর্যয়’ সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিক ও বাসিন্দাদের মাদকের ‘অভিশাপ’ থেকে রক্ষা করতে সরকার মাদক পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনে নির্ধারিত কঠোরতম শাস্তি কার্যকরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদকের কারণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    সৌদি আরবে বর্তমানে কতজন বন্দি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন, তা দেশটির সরকার প্রকাশ করে না। তবে মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, এই সংখ্যা শত শত হতে পারে।

    এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের গবেষক জোয়ি শিয়া বলেন, সৌদি আরবে গোপনে বা কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। এতে বন্দি ও তার পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

    ‘পরের পালা কার?’

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি আরবের এই গোপনীয়তা কারাগারে থাকা বন্দি জীবনও অনিশ্চয়তায় ভরিয়ে তুলেছে।

    নিরাপত্তার কারণে যার পরিচয় ও অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি, এমন একজন বন্দি তার কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা বিবিসিকে জানিয়েছেন। ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদক পাচারের অভিযোগ তিনি স্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা পাওয়ার পরও তিনি ক্ষমার আশা করছেন।

    এই বছর তিনি তার ১৫ জন সহবন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন। এখন সারাক্ষণ নিজের মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর।

    ওই বন্দি বলেন, ‘প্রতিবার যখন রক্ষীরা দরজা খোলে, আমরা ভাবতে থাকি এরপর কার পালা আসবে।’

    তিনি একটি অলৌকিক ঘটনার—মুক্তির—জন্য প্রার্থনা করছেন। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিণতি যদি হয়, তাহলেও তার একটি চাওয়া আছে। তিনি চান, তার লাশ যেন দেশে পাঠানো হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তায় থাকি যে আমার বাবা-মা হয়তো আমার লাশটাও দেখতে পারবেন না।’

  • বাব আল-মান্দাব নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

    বাব আল-মান্দাব নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

    বাব আল-মান্দাব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে হুথিদের দ্রুত অগ্রগতিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে জাতিসংঘ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ।

    ফ্রান্সের আহ্বানে নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার বিকেলে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

    ফরাসি দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বাব আল-মান্দাবের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

    ইয়েমেন ও জিবুতির মধ্যে অবস্থিত প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ।

    চলতি মাসে আবার লড়াই শুরুর আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ দখলে নিয়েছে হুথিরা। তাদের দখলে গেছে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে অবস্থিত মায়ুন (পেরিম) দ্বীপও।

  • ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় নিস্ক্রিয় রাজনীতিবিদরা

    ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় নিস্ক্রিয় রাজনীতিবিদরা

    ব্রিটেনে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ বাড়ছে এবং দেশটির মূলধারার রাজনীতিকেরা তা মোকাবিলায় বিপজ্জনকভাবে উদাসীন। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বৈষম্য শুধু ব্যক্তিগত পক্ষপাতের বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

    ব্রিটিশ সমাজে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি বৈষম্য ও সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটির গভীরতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে উগ্র ডানপন্থী দলগুলো মুসলিমবিদ্বেষকে নিজেদের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে।

    সমসাময়িক ইসলামোফোবিয়ার শিকড় সাম্প্রতিক কয়েক বছরের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা নব্য রক্ষণশীল রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর সময় গৃহীত বিভিন্ন নীতির মধ্য দিয়ে মুসলিমদের প্রতি সন্দেহকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের ‘প্রিভেন্ট’ নীতিও এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সন্দেহের উদাহরণ।

    রাজনৈতিকসংবাদ

    সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ নিয়েও একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। মুসলিমদের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে কখনো কখনো উগ্রবাদ বা নিরাপত্তাঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। এর ফলে মুসলিম নাগরিকদের বৈধ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়াও সমালোচিত হয়েছে। মুসলিম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা সমস্যার সমাধান না করে বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সমাজের কাঠামোগত বৈষম্য ও রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর দূরে থাকা ইসলামোফোবিয়ার বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

    বর্ণবাদকে শুধু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। বর্ণবাদ বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের একটি হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারে। আজ মুসলিমদের যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে একই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।

    আফগান ও ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের প্রতি ব্রিটেনের আচরণের পার্থক্যও প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতের উদাহরণ। বিভিন্ন শরণার্থী জনগোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রীয় নীতিতে বৈষম্য থাকলে তা সমাজে বৃহত্তর অসমতার ধারণাকে আরো শক্তিশালী করে।

    ইসলামোফোবিয়াকে কেবল ব্যক্তিগত ঘৃণা বা বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার রাজনৈতিক মাত্রা আড়ালে থেকে যাবে। ব্রিটিশ রাজনীতিকদের এখন মুসলিমবিদ্বেষকে স্পষ্টভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তা না হলে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।

  • মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    সৌদি আরবের মদিনার জাবাল সাইয়িদ এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান মিলেছে। এসব আকরিকে রয়েছে বিরল খনিজ। বিশেষ করে ভারী বিরল খনিজের ঘনত্ব বেশি। একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়ামেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

    সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমানের বরাত দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

    ইন্ডিয়া টুডে জানায়, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার সময় এসব আকরিকের সন্ধান পাওয়া যায়।

    আরব নিউজও বিন সালমানের বরাত দিয়ে একই তথ্য জানিয়েছে।

    ইউরেনিয়ামের এই সন্ধান সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের নতুন ক্ষেত্র গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করছে। এর অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে এবং সৌদি আরবও সেই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইয়েমেনে আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠা হুথি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী সমুদ্রপথ আরো সংকুচিত করে দিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দাবি, ইরানের কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।

    আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বহুমুখীকরণে বিনিয়োগ করছে। ইউরেনিয়ামের নতুন এই সন্ধান সেই উদ্যোগকে আরো গুরুত্ব দিচ্ছে।

    এর আগে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে চুক্তি করেছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি এ চুক্তিতে সই করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ‘কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের’ ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি উন্নয়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের তদারকি ছাড়াই নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    মদিনায় এখন বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ায় সৌদির সেই পারমাণবিক পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হিসাব পাল্টে যাচ্ছে

    মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হিসাব পাল্টে যাচ্ছে

    মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গাজা সংকটে আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর কর্মকাণ্ড সেই প্রশ্নকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। গাজায় দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়ের সময় বিপুল অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতার অধিকারী অনেক আরব রাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিপরীতে আনসারুল্লাহ গাজার সঙ্গে নিজেদের সামরিক অবস্থানকে সরাসরি যুক্ত করে লোহিত সাগরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে আঞ্চলিক শক্তির হিসাব নতুনভাবে সামনে এসেছে।

    আরব বিশ্বে বিপুল সংখ্যক সেনা, আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, বিদেশি সামরিক ঘাঁটি এবং বড় প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে। কিন্তু গাজায় ব্যাপক ধ্বংস ও মানবিক সংকটের সময় এসব সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে।

    এই পরিস্থিতির বিপরীতে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বছরের পর বছর যুদ্ধ, অবরোধ ও সামরিক চাপের মুখেও গাজার সঙ্গে তাদের অবস্থানকে যুক্ত করেছে এবং লোহিত সাগরে কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর মূল্য আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে তাদের অগ্রগতি এবং বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়া শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতার ধারণাকেও বদলে দিয়েছে।

    সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রের সংখ্যা বা আধুনিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না। কোনো বাহিনীর সদস্যরা কেন লড়ছেন, কী উদ্দেশ্যে লড়ছেন এবং আত্মত্যাগকে তারা কীভাবে দেখছেন—এসব বিষয়ও সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা আর কার্যকর রাজনৈতিক বা সামরিক শক্তি অর্জন এক বিষয় নয়।

    ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে এবং পশ্চিমা সামরিক সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সৌদি আরব। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও হামলার পর বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগর উপকূলে আনসারুল্লাহর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় উপসাগরীয় অস্থিতিশীলতা থেকে সৌদি তেল রপ্তানিকে দূরে রাখার বিকল্প ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

    ইরান এই দুর্বলতাকে কৌশলগত সুবিধায় পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কয়েক মাসের যুদ্ধও ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এবং ইয়েমেনে আনসারুল্লাহর অবস্থান সৌদি আরবকে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরের চাপের মুখে ফেলেছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি হরমুজের বিকল্প হিসেবে তৈরি হলেও সেটিও এখন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠিন হয়েছে।

    উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সামরিক ব্যয় নিয়েও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এসব রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ভিন্নমত দমন ও রাজতান্ত্রিক শাসন রক্ষায় শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের কৌশলগত ভূমিকা অনেক বেশি সীমিত। ফিলিস্তিন ইস্যু আরব রাজনৈতিক চেতনায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে অনেক রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া বিবৃতি, সম্মেলন ও কূটনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতিও একই ধরনের সংকটের অংশ। মার্কিন কৌশল দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, জোট এবং চাপ প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব চাপ অনেক ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার, সৌদি অবকাঠামোয় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা তারই উদাহরণ।

    ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বৈধতার সংকট তৈরি করেনি; বরং আগে থেকেই থাকা সেই সংকটকে দৃশ্যমান করেছে। ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যেখানে ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী ছিল, সেখানে আনসারুল্লাহ তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত হয়েছে—এমন একটি তুলনা তৈরি হয়েছে।

    এর সবচেয়ে বড় প্রভাব তাৎক্ষণিক কোনো বিপ্লব নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বৈধতার সংকট। যখন রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যবধান বাড়ে এবং জনগণ প্রশ্ন করতে শুরু করে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষমতা আসলে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন সংকটটি আর শুধু সামরিক থাকে না—তা রাষ্ট্রের বৈধতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

    শাসকগোষ্ঠী বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান, নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক পরামর্শক ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু জনগণের আস্থা বা বিশ্বাস অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। ক্ষমতার উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্রের জনগণ ও নিরাপত্তা কাঠামোর সদস্যদের মধ্যে একই প্রশ্ন তৈরি হলে সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক সংকেত।

  • মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    দেশটির বিমানবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।

    মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

    মেইঙ্ক বলেন, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সব সময় প্রস্তুত থাকে। এ কারণে স্পেস ফোর্সের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি মেইঙ্ক। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।

    ট্রয় মেইঙ্কের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মেইঙ্ক আরো বলেন, শুধু আকাশে নয়, মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কোনো স্যাটেলাইট ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব।

    মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এসব অস্ত্র গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য এই পরিকল্পনার আওতায় বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের চালু করা স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রকল্পটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।

    রিগ্যানের এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা পরিত্যক্ত হয়। কর্মসূচির অধীনে প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।

    গত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনার নিন্দা করেন। তিনি এটিকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। লাভরভ বলেন, ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।

    ২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া—এই চার দেশ স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

    ২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সফলভাবে ধ্বংস করে। ওই সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করেছিল মন্ত্রণালয়।

  • চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    প্রতি বছর বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকেযশোরের চৌগাছা উপজেলারহাজরাখানা গ্রামে শুরু হয়ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা। এ বছর মেলা চলবে ১৫ দিন।মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমিতি মিলেছে ১৫ দিনের বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় এ মেলার উদ্বোধন করবেন মহিলা সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জায়গা পছন্দ করে দোকান বসিয়েছেন। শিশুদের হরেক রকমের খেলার সামগ্রীতে ভরে উঠেছে মেলার মাঠ । প্রতিবছর প্রশাসনিকভাবে ৫/৭ দিন মেলার অনুমতি থাকে। এ বছর প্রশাসনিক ভাবে ১৫ দিনের অনুমোতি দেওয়া হয়েছে।

    শত বছরের বেশি সময় ধরে চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ মেলা প্রতি ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার শুরু হয়। মেলার সঠিক বয়স আজ অবধি কেউ সঠিক বলতে পারেনি। এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিরা জানান, তাদের দাদার আমল থেকে এই মেলার গল্প শুনছেন।

    মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের মেলার কপোতাক্ষ নদে স্পিড বোড চলবে মাশিলা খাট থেকে । কাঠের তৈরি হরেক রকমের আসবাবপত্র দোকান বসেছে। মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, ‘নৌকা-দোলা’, নাগরদোলা, জাম্পিং, স্লিপিংসহ বিভিন্ন রাইডিং বসানো হয়েছে।

    মেলায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে এসেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলাম, সালামত হোসেন ও আরব আলী। তারা বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে এই মেলায় আসেন। ভালো বেচাবিক্রি করে ব্যাপক লাভনিয়ে বাড়িতে ফিরে যান।

    যশোরের বাঘারপাড়ার বসুন্দিয়ার নামকরা খোকন ভাইয়ের চটপটি এসেছে মেলায়। ইতোমধ্যে কম বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক খোকন। প্রসাধনী পণ্য নিয়ে এসেছেন মাদারীপুরের উসমান মোল্লা। তিনি বলেন, বলুহর মেলা বলে কথা; প্রতি বছরই আসি। এবারও এসেছি; আশা করছি ব্যবসায় মন্দ হবে না।

    শিশুদের হরেক রকমের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বগুড়ার ব্যবসায়ী লিটন হোসেন। তিনি বলেন, এবার ভাল ব্যবসায়ী হবে প্রত্যাশা করছি। ঢাকার গুলিস্থান থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি কম্বল নিয়ে এসেছেন।

    বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান ও কমিটির সাধারণ বিএম বাবুল আক্তার জানান, বলুহ মেলা হচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। যা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। গ্রামবাসীসহ এ অঞ্চলের সকলের সহযোগিতা নিয়ে মেলা চালানো হবে। ইতোমধ্যে সেই ব্যপারে আলোচনাও করা হয়েছে।

    তবে এলাকাবাসী দাবী মেলার নামে অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপ যেন না হয়।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, শর্তসাপেক্ষে ১৫ দিনের জন্য বলু মেলার অনুমতি দিয়েছেন যশোর পুলিশ সুপার মহোদয়। মেলায় আইনশৃঙ্খা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে। অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইরানে অবরুদ্ধ ৫০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন কর্নেল

    ইরানে অবরুদ্ধ ৫০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন কর্নেল

    মার্কিন বিমানবাহিনীর এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার কর্নেল ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ ইরানের মাটিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রায় ৫০ ঘণ্টা গুরুতর আহত অবস্থায় একা আত্মগোপনে ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

    তিনি জানান, প্যারাশুট ঠিকমতো না খোলায় প্রচণ্ড গতিতে মাটিতে আছড়ে পড়েন তিনি। এতে তার মেরুদণ্ড ও হাত ভেঙে যায়। কাঁধেও গুরুতর আঘাত লাগে। মাথা ও মুখ কেটে গিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। এত গুরুতর আহত হওয়ার পরও মানসিক শক্তি ধরে রেখে পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন তিনি।

    পরে বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে ইরান থেকে ফিরে আসেন এই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ এপ্রিল ইরানের একটি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। প্রায় ৩ কোটি ডলার মূল্যের দুই আসনের ওই যুদ্ধবিমানে ছিলেন পাইলট ‘আলফা’ এবং ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার ‘ব্রাভো’, যিনি মার্কিন বাহিনীর একজন কর্নেল।

    বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই কর্মকর্তাকেই প্যারাশুট নিয়ে ইরানের ভূখণ্ডে নামতে হয়।

    মাঝআকাশে খুলছিল না প্যারাশুট

    বিমানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্রাভো বলেন, তার মনে হয়েছিল যেন একটি প্রচণ্ড গতির মালবাহী ট্রেন এসে বিমানে ধাক্কা দিয়েছে।

    খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যায়, বিমানটিকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। ফলে দুজনকেই বিমান থেকে ইজেক্ট করতে হয়।পাইলট ‘আলফা’ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হন। কিন্তু ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার ‘ব্রাভো’ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পড়ে গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    প্যারাশুট নিয়ে নিচে নামার সময় তিনি দেখতে পান, সেটি ঠিকমতো খুলছে না। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ব্রাভো বলেন, আমি উপরে তাকিয়ে দেখলাম প্যারাশুট খুলছে না। সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্ত।

    তার ধারণা, প্যারাশুট ছাড়া ঘণ্টায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল গতিতে প্রায় ৫ মাইল দূরে গিয়ে তিনি মাটিতে পড়েন।

    পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ায় তার শিরদাঁড়া ও একটি হাত ভেঙে যায়। কাঁধেও গুরুতর চোট লাগে। মাথা ও মুখ কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

    আহত অবস্থায় পাহাড়ে আত্মগোপন

    এত গুরুতর আহত হওয়ার পরও ব্রাভো থেমে থাকেননি। তিনি বুঝতে পারেন, শত্রুপক্ষের এলাকায় একই জায়গায় অবস্থান করলে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সে সময় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইরানি সেনা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য তার সন্ধানে ওই ১০ মাইল এলাকার মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। এমনকি ইরানি টেলিভিশনে তার মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল।ব্রাভো বলেন, ইরানি টেলিভিশনে বন্দি হিসেবে নিজের মুখ দেখানোর ভয়েই আমি থামিনি।

    সামনে ছিল পাহাড়ঘেরা একটি উপত্যকা। ভাঙা পিঠ ও হাত নিয়েই তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি এলাকায় উঠে যান। পরে পাহাড়ের একটি খাঁজে আশ্রয় নেন।

    তার কাছে খাবার বা পানি প্রায় কিছুই ছিল না। এর সঙ্গে ঠান্ডার কারণে শারীরিক যন্ত্রণাও আরও বেড়ে যায়।

    অল্প অল্প করে বিশ্রাম নিয়ে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতেন, যাতে ইরানি বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। একই সঙ্গে তিনি সংকেত পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ২৪ ঘণ্টা মার্কিন বাহিনী তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেনি।

    শুরু হয় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তখন তাকে উদ্ধারের জন্য বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়।গত ৪৬ বছরে এই প্রথম ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে কোনো মার্কিন সেনাকে উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে মাঝরাতে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দুই সেনাকেই খুঁজে বের করে উদ্ধার করতে হবে।

    অভিযানে শতাধিক সেনা, বিপুলসংখ্যক বিমান ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মাটিতে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সেনা উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। আকাশে ছিল শতাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন।

    উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সিআইএর

    ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তার গতিবিধি শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

    একই সময়ে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে চালানো হয় ডিসেপশন ক্যাম্পেন। ব্রাভো যে এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন, তার কাছাকাছি ইরানের আইআরজিসি বাহিনীর ওপর মার্কিন বিমানবাহিনী হামলাও চালায়।

    এর পরই শুরু হয় চূড়ান্ত উদ্ধার অভিযান। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর শেষ পর্যন্ত মার্কিন উদ্ধারকারী দল ব্রাভোর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

    উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছানোর সেই মুহূর্তকে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন ব্রাভো। বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীকে ফোন করে নিজের বেঁচে থাকার খবর জানান তিনি।

    ব্রাভোর মতে, ঘটনাটি শুধু তার ব্যক্তিগতভাবে বেঁচে ফেরার গল্প নয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, সহযোদ্ধাদের ওপর আস্থা, নেতৃত্ব এবং ‘কাউকে পিছনে না ফেলে আসার’ মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতির উদাহরণ।

    এত চোট ও তীব্র যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি মানসিক শক্তি হারাননি। উদ্ধারকারী দল যখন তার কাছে পৌঁছায়, তখন ব্রাভো মুখ ফুটে শুধু একটি কথাই বলেছিলেন, চলো যাওয়া যাক।

    মার্কিন সেনাবাহিনীর এই উদ্ধার অভিযান এবং ব্রাভোর বেঁচে ফেরাকে বিশেষজ্ঞরা একটি শব্দেই ব্যাখ্যা করছেন, ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা।

  • হুথি প্রশ্নে পাকিস্তানের সুর বদল

    হুথি প্রশ্নে পাকিস্তানের সুর বদল

    ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অবস্থান থেকে সরে আসার পর সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। হুথিদের হুমকি নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান বদলে যাওয়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    চলতি বছরের বেশিরভাগ সময় পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালের আলোচনায় সহযোগিতা করেছে, অন্যদিকে ইরানের উপসাগরীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই পক্ষের সঙ্গে এই ভারসাম্য ধরে রাখা ইসলামাবাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

    সৌদিকে আশ্বস্ত করতে পাকিস্তানের তৎপরতা

    সপ্তাহান্তে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠে পাকিস্তান। হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার পর সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি পাকিস্তান বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে, যেখানে সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তানকে সহায়তায় এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনি হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    ‘মক্কা চুক্তি’র পরীক্ষা

    শেহবাজ শরিফের সৌদি যুবরাজকে ফোন করার এক দিন আগে ইরাক থেকে চালানো একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে তার ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়।

    সৌদি তেল রপ্তানির জন্য এই পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুইজন আহত এবং একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সৌদি শহর ও জ্বালানি স্থাপনাও রয়েছে।

    গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের জন্য এই সংঘাত প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে আগে থেকেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা।

    তবে গত সপ্তাহে পাকিস্তান বলেছিল, মক্কা চুক্তির অর্থ এই নয় যে হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এতে চুক্তির অন্য অংশীদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’

    সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় শেহবাজ শরিফ সৌদির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা করেছেন।

    তিনি বলেন, এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ও দেশটির জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শেহবাজ শরিফ বলেছেন, হুথিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

    শেহবাজ শরিফ আরও জানান, তিনি, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো ও শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

    পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ

    পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হুথিদের হুমকি দেশটিকে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বছরের শুরুতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনায় হুথিদের বর্তমান তৎপরতা পাকিস্তানের জন্য বেশি সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তারা মনে করছেন।

    রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে সংঘাতের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তানের পরিকল্পনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব চুক্তির পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকে।

    তবে পাকিস্তান একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ইরান ও হুথিরা যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে, তা ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।

    ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ইরানকেও অতিরিক্ত ক্ষুব্ধ না করার কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে।

  • ইসরাইল ঘেসার অভিযোগে ২৪০ নাগরিকের সম্পত্তি জব্দ করল

    ইসরাইল ঘেসার অভিযোগে ২৪০ নাগরিকের সম্পত্তি জব্দ করল

    ইসরাইল ও অন্যান্য ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশের’ সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২৪০ জনের সম্পত্তি জব্দ করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশের বিরুদ্ধে ‘প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড’ কিংবা অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, যার ফলে দেশের অবকাঠামোর ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।

    ইরানের বিচার মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আইআরআইবিকে বলেন, “এই সম্পত্তিগুলো ইরানি জনগণের। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে এসব সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ”

    গত বছর ইরান গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করে। ওই আইনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল কিংবা অন্য কোনো ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং অভিযুক্তদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, ইসরাইলকে ‘বৈধতা দেওয়া’ থেকে শুরু করে বিদেশি নেটওয়ার্কের কাছে ছবি বা তথ্য সরবরাহের মতো কর্মকাণ্ডও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • বড় পরিবর্তন আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে

    বড় পরিবর্তন আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে

    যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে।

    এতদিন শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার পুরো সময়টা জুড়ে বৈধভাবে থাকার সুবিধা পেতেন। তবে এখন থেকে সেই প্রচলিত নিয়মটি তুলে দেওয়া হচ্ছে।

    এর বদলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। ফর্ম আই-টোয়েন্টি বা ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর ননইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ফর্মে পড়াশোনার যে সময়সীমা উল্লেখ থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই মেয়াদ নির্ধারিত হবে। তবে কোনোভাবেই এই মেয়াদ চার বছরের বেশি হতে পারবে না।

    এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার নিয়মেও বড় প্রভাব পড়ছে। এতদিন পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত। নতুন নিয়মে সেই সময় কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে।

    এই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীকে হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, নতুবা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে নিতে হবে। তবে আগের মতো এবারও ক্লাস শুরুর অন্তত ৩০ দিন আগে দেশটিতে প্রবেশ করার সুযোগ বহাল রয়েছে।

    কিছু শিক্ষার্থীর জন্য এই সময়সীমায় বিশেষ কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। যেমন ইংরেজি ভাষা শিখতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ২৪ মাস এবং পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটিসহ সব মিলিয়ে কেবল ১২ মাস সময় পাবেন।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কারও পড়াশোনা শেষ না হয়, তবে তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে হবে। এর জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ, ফি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ আছে, তারা চাইলে দেশ ঘুরে আসার মাধ্যমে নতুন করে মেয়াদের অনুমতি নিতে পারেন।

    সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে পড়াশোনার সময়সীমা এবং কাগজপত্রের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

  • দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    কোনো তারকা খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা বোঝার অন্যতম বড় সূচক তার জার্সি বিক্রির পরিমাণ। বাংলাদেশেও জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, হামজা চৌধুরীকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

    ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামার পর দেশের ফুটবল নিয়ে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতেও। বর্তমানে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হামজার নাম-নম্বর সংবলিত জার্সি।

    গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজা চৌধুরীর জার্সি বিক্রি হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কিট স্পন্সর হিসেবে দৌড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে খুব একটা সাড়া পাওয়া না গেলেও হামজা বাংলাদেশ দলে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

    দৌড়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি জার্সিতে ছিল নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর। সেই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে হামজা। ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সিতে হামজার নাম ও নম্বর যুক্ত করে নিয়েছেন প্রায় ৫ হাজার সমর্থক।

    বিক্রির দিক থেকে হামজার পরেই রয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম।

    দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, হামজা বাংলাদেশে আসার পর জাতীয় দলের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ভাষায়, গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজার জার্সি বিক্রি হয়েছে এবং তার আগমনে দেশের ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

    এদিকে হামজার জার্সির ব্যাপক চাহিদার মধ্যেই নতুন ডিজাইনের জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সি নিয়েও সমর্থকদের আগ্রহ বেশ ইতিবাচক। ইতোমধ্যে এর জন্য এক হাজারের বেশি অর্ডার পাওয়া গেছে।

    ফলে হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধু তার ব্যক্তিগত জার্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; জাতীয় দলের জার্সির প্রতিও সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ছে।

    আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জার্সির চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছে দৌড়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এক বছরে এক লাখ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করা।

    নতুন জার্সির নকশা তৈরিতেও ছিল সমর্থকদের অংশগ্রহণ। আবিদ আলমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বেছে নিয়ে চূড়ান্ত জার্সির নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    হোম জার্সির মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে মাতৃভাষা বাংলা। বিশেষ প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঘাম মাত্র আট মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।

    খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের সংস্করণের মূল্য রাখা হয়েছে ৭০০ টাকা।

  • বাস্তুচ্যুত ৭৭ হাজারের বেশি

    বাস্তুচ্যুত ৭৭ হাজারের বেশি

    ইয়েমেনে এক সপ্তাহে হতাহত প্রায় ৩ হাজার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    ইয়েমেনে বিভিন্ন ফ্রন্টে তীব্র লড়াইয়ে মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ৫০৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৩৭৯ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ইয়েমেনের বিভিন্ন গভর্নরেট বা প্রদেশেই ৪৬৯ জন নিহত বা আহত হন। পরদিন আরো ১৭৭ জন এবং গত শুক্রবার অন্তত ৭৭ হাজার ৭৮৯ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুতি ও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে তাইজ, মারিব, আল-জাওফ, লাহিজ, হোদেইদাহ, আবিয়ান ও শাবওয়া এলাকায়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতের দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল মারিব গভর্নরেটে। সেখানে ৯ সেপ্টেম্বর এক দিনেই ৪৬৯ জন নিহত বা আহত হন। পরদিন আরো ১৭৭ জন এবং গত শুক্রবার ২১৯ জন হতাহত হন।

    সপ্তাহজুড়ে মোট হতাহতের প্রায় ৪৯ শতাংশই মারিবে ঘটেছে। অন্যদিকে তাইজ ও ইয়েমেনের পশ্চিম উপ মানবিক পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়েরকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘটেছে মোট হতাহতের প্রায় ৪৩ শতাংশ।

    সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম ইয়েমেন থেকে ব্যাপক মানুষের পালিয়ে যাওয়ার খবরও এসেছে।

    জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে, নতুন করে যুদ্ধের পরিধি বাড়লে ইয়েমেনে খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট আরো গভীর হতে পারে।

  • হরমুজ অবরোধ:গভীর সংকটে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি

    হরমুজ অবরোধ:গভীর সংকটে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। যুদ্ধের আগে যে পরিস্থিতিতে নির্বিঘ্নে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হতো, তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে আরব দেশগুলোকে।

    কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আলজাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো অবাধে পণ্য পরিবহন চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সামরিক জাহাজগুলোকে ভবিষ্যতে এই জলপথ দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে ইরান রাজি হবে না বলে মনে করেন তিনি।

    বারাকাতের মতে, হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজার ইতোমধ্যে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জন্য ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে নতুন কোনো ব্যবস্থায় সম্মত হতে হবে। কারণ হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত তাদেরই দিতে হচ্ছে।

    বিশ্লেষক জানান, এসব দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি কার্যত আটকে আছে। আন্তর্জাতিক বাজার তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে না। বরং সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই বিকল্প পথ খুঁজে নিচ্ছেন।

    বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি বলে উল্লেখ করেন বারাকাত। তার মতে, বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন পক্ষ বিকল্প উৎস ও পরিবহনপথ ব্যবহার করছে।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা উপসাগরীয় অর্থনীতির ওপর আরো বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নিজেদের রপ্তানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতে আরব দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতার পথে যেতে হতে পারে।

  • কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গরুর গাড়ি এবং তা তৈরির অন্যতম উপাদান চাকা নিয়ে জনপ্রিয় গান, নাটক ইত্যাদি রচিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এক সময় ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল চাকা দিয়ে তৈরি গরুর বা ঘোড়ার গাড়ি। সময়ের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে সেসব এখন আর চোখে পড়ে না তেমন একটা। তবুও সেই গাড়ি তৈরির অন্যতম উপাদান চাকার কারিগর, মিস্ত্রি বা এ কুটির শিল্পের মানুষেরা ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো চাকার ওপরই নির্ভরশীল। চাকা ঘুরলে ঘোরে তাদের ভাগ্যের চাকাও।

    কুষ্টিয়া ৬ উপজেলায় রয়েছে চাকা তৈরির শত শত মিস্ত্রি। চাকা তৈরি ও বিক্রির জন্য সারা বাংলাদেশের মধ্যে এ এলাকাটি বিখ্যাত বলে জানান কর্মরত মিস্ত্রিরা। ব্রিটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এ পেশাটিকেই আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তারা। বাজারের চাকা তৈরির মহাজন ও মিস্ত্রিরা জানান, এখানে অনেক পরিবার গরুর গাড়ির চাকা তৈরিতে অত্যান্ত পারদর্শী।

    তারা বলেন, তার বাপ-দাদার পেশা ছিল চাকা তৈরি। তিনিও এ পেশা ছাড়তে পারেননি। একদিনে একটা অর্থাৎ মাসে ২৫ জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। এক জোড়া চাকা তৈরি করতে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকার মত। বাবলা গাছের কাঠই এ চাকা তৈরির একমাত্র উপাদান। কোনো যান্ত্রিক মেশিনে নয়, হাতুড়-বাটাল করাত দিয়ে হাতের কাজের মাধ্যমেই তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন এই চাকা।

    বাবলা গাছ ছোট অবস্থাতেই মজবুত ও সারিযুক্ত হয়। দুই আড়াই হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটা গাছ থেকে এক জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। তবে পাঁচ বা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার একটি বড় বাবলা গাছ থেকে দুই জোড়া চাকা তৈরি করা যায়।

    পোড়াদহের চাকা তৈরির মিস্ত্রি ইনতাজ আলী জানান, স মিল থেকে বাবলা গাছের কাঠ চেরাই করে একমাস রোদে শুকাতে হয়। এরপর নিজেদের তৈরি ফর্মা বা মেশিনে করাত দিয়ে চিরে কাজ শুরু করা হয়। চাকার মাঝের গোল অংশ (বেলন), ভেতরের লম্বা লাঠি (পাকে) ও মূল কাঠের বৃত্ত (কৈঠা) লাগিয়ে একদিনের মধ্যেই চাকা সেট হয়ে যায়। এর পর ফিনিশিং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। একজন মিস্ত্রিকে দিনে ৭০০ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এক জোড়া চাকা ৭ থেকে ১০ বছর গাড়িতে চলার জন্য উপযুক্ত থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিরপুরে এসে চাকা নিয়ে যান। বিভিন্ন জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষকরা চাকার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    মিস্ত্রি ও মহাজনরা জানান, চাকা তৈরির বাবলা গাছ এক সময় ছিল সহজলভ্য। কিন্তু এখন আর সারিবদ্ধভাবে মেঠো রাস্তা, ক্যানেলের ধারে বা আশপাশে তা আর দেখতে পাওয়া যায় না। চাকা তৈরির কাজ বারো মাস ধরেই চলে। গরু, মহিষ বা ঘোড়ার গাড়ির জন্য এ চাকা ব্যবহৃত হলেও ঘোড়ার গাড়ি প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামাঞ্চলে কাদাযুক্ত মেঠো রাস্তা ও মাঠ থেকে ফসল আনা নেয়ার জন্য এখনো গরু ও মহিষের গাড়ি ব্যবহৃত হয়।

    চাকা তৈরিতে ব্যস্ত কুটির শিল্পের কারিগররাও জানান, অনেক সময় পুঁজির অভাবে বেশি মূল্যে বাকিতে গাছ কিনতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, ব্যাংকঋণ ইত্যাদির সুবিধা পেলে চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ চাকা শিল্প তথা গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে থাকবে, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে এ শিল্পের শত শত কারিগর বা পেশার সঙ্গে জড়িতদের এমনটি জানান সংশি¬ষ্টরা।

  • ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান, ব্রিক্‌সের নিরামিষ ভোজ নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ

    ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান, ব্রিক্‌সের নিরামিষ ভোজ নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ

    ব্রিক্‌স সম্মেলনে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজের নিরামিষ মেন্যু নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    এই বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    রাহুল দাবি করেছেন, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ খাবার খান।রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর ভারতের জনপ্রিয় নিরামিষ খাবার ছোলে ভাটুরের ছবি পোস্ট করেন রাহুল।

    ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, উল্লেখ্য যে ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী। ভারতের আমিষ খাবার সুস্বাদু। যেমন আমার বোনের ছোলে ভাটুরে।রাহুলের এই পোস্টে সরাসরি ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজে কোনো আমিষ খাবার না থাকায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই রাহুলের এই বক্তব্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজের মেন্যুতে পনির, বিভিন্ন ধরনের মিলেটের খাবার এবং জিলাপির মতো ভারতীয় পদ রাখা হয়েছিল। তবে মাছ, মাংস বা অন্য কোনো আমিষ পদ রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছে।

    কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ভারতীয়রা কী খাবেন বা কী খাবেন না, তা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভ্যাস বিজেপির রয়েছে। এবার সেই পছন্দ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশিষ্ট অতিথিদের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, খাবারের মেন্যু নিয়েও রাজনীতি করছে কংগ্রেস। তিনি বলেন, ভারতে আসা রাষ্ট্রপ্রধানেরা নিরামিষ খাবার খেয়েছেন। এই মেন্যুর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে খাবারগুলো স্বাদ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকেও উৎকৃষ্ট ছিল।

    তবে রাহুলের ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান দাবিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেশের আমিষভোজী ও নিরামিষভোজীর সামগ্রিক অনুপাতের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। এর আগের সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় মাছ বা মাংস খেয়েছেন।ফলে রাহুলের পোস্ট শুধু খাবারের পছন্দ নিয়ে মন্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে না।

    ভারতের খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাজনৈতিকভাবে খাবারের ব্যবহার নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিক্‌সের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের নৈশভোজের মেনু এখন সেই রাজনৈতিক বিতর্কেরই অংশ হয়ে উঠেছে।

  • ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    বলিউডে রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের পুরনো প্রেমের গল্প নিয়ে চর্চা এখনো যেন থামার নয়। ‘আজব প্রেম কী গজব কাহানি’র শুটিং সেট থেকে শুরু হওয়া সেই চর্চিত প্রেম একসময় ছিল বি-টাউনের সবচেয়ে বড় ‘ওপেন সিক্রেট’। তবে সম্পর্কের শুরুর দিকে নিজেদের প্রেমকে মিডিয়ার চোখ থেকে বাঁচাতে সব ধরণের চেষ্টাই করেছিলেন এ তারকা জুটি।

    সেই সময় ক্যাটরিনার সঙ্গে কাটানো গোপনীয় মুহূর্তের ভিডিও করায় এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মাইক কেড়ে নিয়েছিলেন রণবীর। অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তৎকালীন সাংবাদিক নিকিতা দলভি।

    বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিকিতা জানিয়েছেন, সেই সময়ে রণবীর-ক্যাটরিনার প্রেমের খবর তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি। এক গভীর রাতে খবর আসে যে ক্যাটরিনার বাড়িতে গেছেন রণবীর এবং রাত দেড়টার দিকে বের হবেন।

    খবর পেয়েই রাত একটার মধ্যে ক্যাটরিনার বাড়ির নিচে লুকিয়ে পড়ে পাপারাজ্জির দল। রণবীর গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের টের পেয়ে টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত কেটে পড়েন। আর এভাবেই প্রথমবারের মতো ফাঁস হয় তাদের গোপন প্রেমের খবর।

    তবে আসল নাটক ঘটেছিল অন্য একদিন। নিকিতা স্মরণ করেন, এক পরিচিতের শেষকৃত্যানুষ্ঠান শেষে বান্দ্রায় ক্যাটরিনার ম্যানেজারের এক ফাঁকা ফ্ল্যাটে গোপনে দেখা করতে গিয়েছিলেন এই জুটি। খবর পেয়ে আগেই সেখানে হাজির ছিল মিডিয়া টিম। ক্যাটরিনা গাড়ি থেকে নামতেই ক্যামেরা অন করা হয়। রণবীর গাড়ির কাচ নামিয়ে সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি শুধু ক্যাটরিনাকে ড্রপ করতে এসেছেন।

    কিন্তু আসল ঘটনা ঘটেছিল ১০ মিনিট পর। রণবীর চলে যাওয়ার ভান করে একটু দূরে গিয়ে আবার হঠাৎ ফিরে আসেন এবং সাংবাদিকদের তাড়া করেন। শুধু তা-ই নয়, রেগে গিয়ে তিনি প্রেসের গাড়ির দরজা খুলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ব্যাগ এবং বুম মাইক্রোফোন নিজের কাছে নিয়ে নেন।

    নিকিতা জানান, রণবীর শর্ত দিয়েছিলেন যে তাদের আর পিছু নেওয়া যাবে না—তবেই জিনিসপত্র ফেরত দেবেন। কিন্তু সাংবাদিক নিকিতাও দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারকাদের পিছু নেওয়া তাদের পেশার অংশ, তাই কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। শেষমেশ সাংবাদিকের একগুঁয়েমি দেখে এবং কৌশল খাটবে না বুঝে নিজের রাগ সামলে জিনিসপত্র ফেরত দিতে বাধ্য হন রণবীর।

    উল্লেখ্য, বহু বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ভেঙে যায় রণবীর-ক্যাটরিনার সেই বহুল চর্চিত সম্পর্ক। পরবর্তীতে দুজনেই যার যার জীবনে এগিয়ে গেছেন। ২০২২ সালে আলিয়া ভাটকে বিয়ে করে সংসারী হন রণবীর, তাদের ঘরে আসে কন্যা সন্তান রাহা।

    অন্যদিকে ২০২১ সালে ভিকি কৌশলকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ক্যাটরিনা কাইফ এবং ২০২৫ সালের শেষভাগে পুত্র সন্তান বিহানের মা হন তিনি।

  • শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

    গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা

    বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এ খবর জানিয়েছে।


    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ৬২ বছর বয়সী আইরিশ-অস্ট্রেলীয় অর্থব্যবসায়ী ক্যামেরন ও’রেইলির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেমিমা। গত মে মাসে মেইল অন সানডে জানায়, প্রায় এক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর এই জুটি বাগদান সম্পন্ন করেছেন। জেমিমার ভাই বেন গোল্ডস্মিথ বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    বেন গোল্ডস্মিতের স্ত্রী জেমিমা জোন্স ইনস্টাগ্রামে বিয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ে উদ্যাপন করছি, আমার প্রিয় মানুষটির সঙ্গে। কী আনন্দের দিন!

    ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ক্যামেরন ও’রেইলি কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করার সময় জেমিমার সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেমিমা নিজেও কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন।
    এর মধ্যে রয়েছে ‘হোয়াটস লাভ গট টু ডু উইথ ইট’। চলচ্চিত্রটিকে তিনি পাকিস্তানের প্রতি তার “ভালোবাসার চিঠি” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    ও’রেইলির আগের সম্পর্কগুলো থেকে চার সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, ইমরান খানের সঙ্গে জেমিমার দুই ছেলে- কাসিম ও সুলায়মান। ১৯৯৫ সালে ইমরান খান ও জেমিমা বিয়ে করেছিলেন এবং প্রায় এক দশক তারা দাম্পত্য জীবন কাটান।
    ইমরান খান বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তবে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
    অন্যদিকে সাবেক স্বামীর মুক্তির দাবিতে জেমিমা ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালিয়ে আসছেন।

  • জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

    এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    এর আগে গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

    প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

  • পাওয়া গেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহীর নিখোঁজ ফেরির

    পাওয়া গেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহীর নিখোঁজ ফেরির

    ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহীসহ যাত্রীবাহী নিখোঁজ ফেরির হদিস মিলেছে। ফেরিটি থেকে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে সাগরে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ফেরিটি নিখোঁজ হয়।

    এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ওই ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাভা সাগরে অবস্থানকালে ফেরিটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জাহাজটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই সম্ভাব্য শেষ অবস্থান চিহ্নিত করে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।

    নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে একাধিক উদ্ধারকারী নৌযান ও হেলিকপ্টার সাগরে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য ফেরি ও যাত্রীবাহী নৌযান অন্যতম প্রধান মাধ্যম। উড়োজাহাজের তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়ায় দূরদূরান্তের দ্বীপে যাতায়াতে সাধারণ মানুষ নৌপথের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে দেশটিতে দুর্বল নৌ-নিরাপত্তা মান ও প্রায়শই মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রায়ই মারাত্মক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।