নবাবগঞ্জে মাচায় কেরালা সীম চাষ যুবক রাজুর

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আগাম জাতের কেরালা সীম চাষ করে সাফল্যের আশা দেখছেন কৃষক রাজু আহমেদ (৪০)। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে ১৩৩টি সীমগাছ রোপণ করে ইতোমধ্যে ফলন পেতে শুরু করেছেন তিনি। বর্তমানে তার গাছে থোকায় থোকায় সীম ধরেছে। বাজারে প্রতি কেজি সীম ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়ার আশা করছেন এ কৃষক। বাজারদর ভালো থাকলে এ চাষ থেকে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

উপজেলার ৭ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়নের পাঁচগাছি ব্লকের মালদহ গ্রামের কৃষক রাজু আহমেদ প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে ব্যতিক্রমী কৌশলে সীমগাছের মাচা তৈরি করেছেন। তার দাবি, এ মাচায় সহজে সীম সংগ্রহ করা যায় ও গাছের পরিচর্যাও সহজ হয়। সীমের মৌসুম শেষ হলে একই মাচায় লাউ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে একই অবকাঠামো ব্যবহার করে বাড়তি খরচ ছাড়াই পরবর্তী ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কৃষক রাজু আহমেদ জানান, ২০ শতাংশ জমিতে ১৩৩টি কেরালা সীমগাছ চাষ করতে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, পরিচর্যা ও অন্য খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। রোপণের ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এ চাষ শুরু করেন। ইতোমধ্যে একবার সীম সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে তার গাছে প্রচুর সীম ধরেছে। বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে সীম বিক্রি করছেন তিনি।

রাজু আহমেদ বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে একটু ব্যতিক্রমভাবে মাচা তৈরি করেছি। এতে সীম সংগ্রহ ও গাছের পরিচর্যা করা সহজ হচ্ছে। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ সীম চাষ করেছি। বর্তমানে গাছে থোকায় থোকায় সীম ধরেছে। ইতোমধ্যে একবার ফলন তুলেছি। আশা করছি, আগামী তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাব। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে এ চাষ থেকে লাভবান হতে পারব। সীমের মৌসুম শেষ হলে একই মাচায় লাউ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

স্থানীয় কৃষক সোহেল রানা বলেন, ‘অল্প জমিতে নতুন জাতের সবজি চাষ কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই মাচায় পরবর্তী ফসল উৎপাদন করা গেলে জমি ও উপকরণের ব্যবহারও বাড়বে। তবে ভালো ফলন ও লাভের জন্য সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি বাজারদরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগাম জাতের সবজি বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সীম অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবাবগঞ্জ উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন কেরালা, ইপসা ইত্যাদি জাতের সীম চাষ করা হচ্ছে। এ জাতের সীম আগাম আসায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম সবজি চাষের পাশাপাশি একই মাচায় পর্যায়ক্রমে ভিন্ন ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিক খুলে দিতে পারে। তবে এ চাষে রাজু আহমেদের প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে মোট উৎপাদন, উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ওপর। এ,আর