‘বিজেপি আর সাহস পাবে না’ রাহুল

প্রতিবেদন:

·

, ,

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।

এ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে দেশের সব ছাত্র সংগঠনকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

পুলিশের বাধা কিংবা লাঠিচার্জের ভয় উপেক্ষা করে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিজেপি আর এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাবে না।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বিরোধীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোববারের সমাবেশে ছাত্র ও তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে বিরোধী জোট।

এক ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, এ সমাবেশ গণতন্ত্র রক্ষা, ভোট চুরি বন্ধ এবং সংবিধান রক্ষার জন্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডে যারা অসন্তুষ্ট, তাদের সবাইকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাহুলের ভাষ্য, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি তার আহ্বান, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য পাশে রেখে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে শামিল হতে হবে।

পুলিশের বাধা কিংবা লাঠিচার্জের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি আর এসব করার সাহস পাবে না। সংবিধান রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান কংগ্রেস নেতা।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। বিক্ষোভকারীদের আটক করা এবং আন্দোলন দমনের অভিযোগ তুলেছে তারা।

এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিরোধী দলের একাধিক নেতা ও নেত্রী আটক হন। তাদের মধ্যে ছিলেন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

তবে ওই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী কিংবা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে দেখা যায়নি। একই দাবিতে আন্দোলন চললেও কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সেই দূরত্ব কমার ইঙ্গিত মিলেছে। দুই বিরোধী নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারের পর তাদের পাশে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।

এরপর বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র রোববারের সমাবেশেও সমর্থন জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলটি। এতে রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিতে দলটির নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

তবে সমাবেশে দলটির নেতারা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে দলটির নেতা অভিজিৎ দীপও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট বিরোধী দল পৃথকভাবে আন্দোলন চালিয়ে এলেও এবার তাদের কর্মসূচিতে সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাহুল গান্ধীর ছাত্র সংগঠনগুলোকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বানও বিরোধী শিবিরের তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এখন রোববারের সমাবেশে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ কতটা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ