শিরোনাম

  • ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    দল জিতেছে ৫-০ গোলে। মৌসুমের শুরুটা হয়েছে চার ম্যাচে চার জয়ে। পয়েন্ট টেবিলেও অবস্থান শীর্ষে। কিন্তু এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তাঁর চোখে, এই বার্সেলোনার আরও ভালো করার জায়গা আছে।

    রোববার রাতে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামাল করেছেন জোড়া গোল, গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া, ফেরমিন লোপেজ আর পেদ্রিও। এই জয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে বার্সার মৌসুমটাই শুরু হলো শিরোপার বড় দাবিদার হিসেবে। আগের দিন রিয়াল বেতিসের কাছে হেরে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ আছে পয়েন্ট তালিকার তিনে, মাঝে দুইয়ে আলাভেস।

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফ্লিকের মুখে শুধু প্রশংসাই ছিল না; বরং ৫-০ গোলের জয়ের পরও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিখুঁত বলে কিছু নেই, ‘আজ আমরা দারুণ খেলেছি, প্রায় নিখুঁতই বলা যায়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল, আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি। আমি এটাই চাই। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জায়গা খুঁজে নেওয়া। আমরা সেটা করতে পেরেছি।’

    এরপরই সতর্ক করেছেন, ‘কিন্তু কিছুই নিখুঁত নয়। সব সময়ই উন্নতির জায়গা থাকে। আমরা আরও ভালো করতে পারি।’

    ভ্যালেন্সিয়ার জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছে বার্সেলোনা এএফপি

    শুধু জয় নয়, বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারও চোখে পড়ছে শুরু থেকেই। চার ম্যাচের তিনটিতেই ৫ গোল করেছে বার্সা। সব মিলিয়ে ১৭ গোল হয়ে গেছে এরই মধ্যে। রাফিনিয়া স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলে করেছেন ৬ গোল। ফেরমিন ও ইয়ামালের গোল ৪টি করে।

    এমন গোল-উৎসবের মধ্যেই অবশ্য বার্সেলোনার একজন প্রকৃত ‘নাম্বার নাইন’ দরকার কি না, সে আলোচনাও চলছে। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে ছিল বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজকে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে এনেছে তারা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেই বদলি হিসেবে অভিষেক হয়েছে তাঁর।

    তবে জেসুসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বার্সেলোনা এভাবে গোল করতে থাকলে। ফ্লিক অবশ্য একজন স্ট্রাইকার এখনো দরকার মনে করছেন, ‘আমাদের একজন প্রকৃত নাম্বার নাইন দরকার, এটা পরিষ্কার। তবে আক্রমণভাগে আমাদের অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। মাঝমাঠেও আছে, যারা গোল করতে পারে।’

    বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক এএফপি

    ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচ দিয়ে বার্সার প্রথম একাদশে অভিষেক হয়েছে রদ্রির। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা এই মিডফিল্ডার এক ঘণ্টা মাঠে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮১টি সফল পাস ছিল তাঁর। রদ্রির প্রশংসায় ফ্লিক বলেছেন, ‘রদ্রি আমাদের দলে আছে, এটা নিয়ে আমরা খুবই খুশি। বল পায়ে সে যা করে, মাঠে যেভাবে খেলে, সবকিছুতেই যুক্তি আছে। বল আমাদের দখলে থাকলে সে দলের কাঠামো ঠিক রাখে, আবার বল ছাড়া সময়েও সাহায্য করে।’

    লা লিগায় বার্সেলোনার পরের ম্যাচ ১৩ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্লিকের দল খেলবে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে।

  • ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে দুপক্ষ একমত পোষণ করেন। তবে আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণে পরবর্তী সভা ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সমস্যা, কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

    পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    মন্ত্রী বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সফল অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথভাবে কাজ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনারও বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনসহ বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, সুন্দরবন দুই দেশের একটি অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ম্যানগ্রোভ বন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।

    বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ ও নদীদূষণ নিয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষ এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমও উপস্থিত ছিলেন।

  • বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে। অবৈধ অস্ত্র নিজ হেফাজতে রাখার দায়ে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার।

    এর আগে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেন ওই গ্রামের মো. সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনবাগ থানা-পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাবেদের বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। সঠিক সময়ে সব আয়োজন হবে।’

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভারত সরকারের সবসময়ের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি জানেন। দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার কাজ থেমে থাকার কোনো কারণ নেই। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আজ না হলেও কাল বা পরশু হতে পারে। তবে দুই দেশের উদ্দেশ্য ও কাজের জায়গা একই থাকায় শুধু বৈঠকের অপেক্ষায় না থেকে বাস্তব কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার করা জরুরি।’

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাতাস, নদী, জলবায়ু কিংবা বন্যপ্রাণীর কোনো সীমান্ত নেই। এসব সীমান্তহীন সংকট যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।’

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পরিষ্কার বায়ু ও নীল আকাশের মতো সুবিধা নিশ্চিত করার পথ এক দিনে তৈরি হয় না। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং হাতি চলাচলের করিডোর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হওয়া প্রয়োজন।’

    এর আগে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ, জলবায়ু, প্রাণীসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন ভারতের হাইকমিশনার।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমীকরণের চেয়ে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত নির্ভরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো পক্ষ থেকেই সহযোগিতার পথ থেমে থাকবে না। কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা ও যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

  • মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৬২ মিনিট খেলেছেন। ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

    জার্মান কোচের মতে, বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতেও তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক।

    ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে রদ্রির প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘সে আমাদের দলে আছে বলে আমরা খুশি। মাঠে বল পায়ে সে যা কিছু করে, সবকিছুর মধ্যেই যুক্তি আছে। আক্রমণে বল পায়ে দলকে কাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি বল ছাড়া অবস্থায়ও সে গুরুত্বপূর্ণ।’

    তরুণ মিডফিল্ডারদের জন্য রদ্রির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘বার্নালও দারুণ কাজ করছে। তার জন্য এটি একটি ভালো পরিস্থিতি। সে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে উন্নতি করবে এবং ক্রমেই আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। এই দলবদলের মাধ্যমে আমরাও সেটিই চেয়েছিলাম। রদ্রি অসাধারণ। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে একজন অসাধারণ নেতা। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’

    এদিকে স্পেন জাতীয় দলেও রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দুজন একসঙ্গে খেললে কার্যকর হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

    তবে রদ্রির সঙ্গে খেলা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পেদ্রি। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে যে আমরা একসঙ্গে ভালো কাজ করি না। কিন্তু রদ্রির সঙ্গে খেলা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের।’

    স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘সে প্রায় কখনোই বল হারায় না, আর সেটা রক্ষণে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব এবং যত বেশি ম্যাচ খেলব, আমাদের বোঝাপড়াও তত উন্নত হবে।’

  • নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড়ে জামায়াতের উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী।

    সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন মুফতি আলী হাসান ওসামা এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি লায়েক আহমদ। মাহফিলের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা এমদাদুল হক।

    নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি এহসানুল হাদী রুম্মান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল হক সাদিকের পরিচালনায় মাহফিলে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    একই দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আরও তিন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বেলা ৩টার দিকে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    এর আগে সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞাকে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকের সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

  • বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    শুরু এবং শেষ—দুই দৃশ্যেই একজন: লামিনে ইয়ামাল। গোল করেছেন দুটি, শানিয়েছেন একের পর এক আক্রমণ। তাতেই লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের মাঠ এস্তাদিও মেস্তায়ায় ৫–০ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনার কাছে।

    এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আরও একধাপ শক্ত অবস্থান নিল বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে এখনো কোনো জয় না পাওয়া ভ্যালেন্সিয়া আছে ২০ নম্বরে।

    প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতেই ইয়ামাল-ঝড়; ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বার্সাকে এগিয়ে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ফেরমিন লোপেসের দারুণ পাস থেকে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান ইয়ামাল। এর দুই মিনিট পর আবারও লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এবারও বলের যোগানদাতা লোপেস, দারুণ শটে মুহূর্তেই জাল কাঁপান ইয়ামাল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

    গোল করেছেন, আবার গোল বানিয়েও দিয়েছেন লোপেস। এমন উচ্ছ্বাস তাকেই তো মানায় এএফপি

    তবু দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সাকে। ২২ মিনিটে প্রথম গোলের জোগানদাতা লোপেস নিজেই স্কোরবোর্ডে নাম লেখান। ভ্যালেন্সিয়ার এলোমেলো রক্ষণের সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান এই তরুণ মিডফিল্ডার। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। চলতি লা লিগায় এটি লোপেসের চতুর্থ গোল। ২০১১-১২ মৌসুমে সেস্ক ফাব্রেগাসের পর লোপেসই প্রথম কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড়, যিনি লিগে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে অন্তত চারটি গোল করলেন।

    ২৪ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়াকে তৃতীয় গোল খাওয়া থেকে বাঁচান স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি। ইয়ামালের বাঁকানো শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন ভ্যালেন্সিয়ার এই গোলরক্ষক।

    ৩৯ মিনিটে আরেকটা বড় সুযোগ পায় বার্সা। আবারও লোপেসের সঙ্গে ইয়ামালের চমৎকার বোঝাপড়া। ইয়ামালের দৌড়ের পথেই বক্সের ভেতর পাস বাড়িয়ে দেন লোপেস। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে নিচু শট নেন ইয়ামাল, কিন্তু বলটি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

    ২–০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সা। দ্বিতীয় পর্বেও আক্রমণের একই রূপ। তৃতীয় গোলটাও তারা পেয়ে যায় দ্রুত। লোপেসের বাড়ানো বল আলতো টোকায় জালে জড়ান রাফিনিয়া।

    এই গোলে বার্সেলোনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি তথ্য মনে করিয়ে দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০১২–১৩ ও ২০১৩–১৪ মৌসুমে লিগে বার্সার প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। একুশ শতকে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় নিজ দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) সরাসরি অবদান রাখলেন রাফিনিয়া।

    তিন গোল করেও আক্রমণের ধার কমেনি বার্সার। ৭৯ মিনিটে চার নম্বর গোলটি পায় কাতালানরা। দানি ওলমোর বাড়ানো বল চমৎকার শটে নিশানাভেদ করেন পেদ্রি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইয়ামাল (৫–০)।

  • ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লাবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর ধসে চার ফুট নিচে পড়ে শিক্ষক রুমা আক্তারসহ পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনার পর পরই বিদ্যালয় ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি—শুধুমাত্র এই শ্রেণিকক্ষই নয়, ভবনের প্রায় সবকটি কক্ষের ফ্লোরই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেঝের নিচে পর্যাপ্ত মাটি না দিয়ে ফাঁকা রেখে নির্মাণকাজ করায় এ ধরণের বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা।

    শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষার্থী মেঝের টাইলসে হঠাৎ ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষককে জানায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ফ্লোরের একটি অংশ প্রায় চার ফুট নিচে ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েক শিশু শিক্ষার্থী সরাসরি ধসে যাওয়া গর্তে পড়ে আহত হয়। শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষক রুমা আক্তারও নিচে পড়ে গিয়ে আঘাত পান।

    পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—রাহিম বাদশা, আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুতর নেসা বলেন, চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ফ্লোরটি চার ফুট নিচে ধসে যায়। ফ্লোরের নিচে প্রয়োজনীয় মাটি না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমার বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি কক্ষের একই অবস্থা, পুরো ভবনটিই এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়ার পর অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে গেছেন। আগামীকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আদৌ বিদ্যালয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।

    আহত শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, এক শিক্ষার্থী মেঝের ফাটল দেখা যাওয়ার কথা বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফ্লোর ধসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে আঘাত পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই আতঙ্কজনক ছিল।

    মেঝে ধসে পড়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। বহু অভিভাবক দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে নিজ সন্তানদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যান। ভবনটির স্থাপত্য নিরাপত্তা পুরোপুরি যাচাই না করে পুনরায় পাঠদান শুরু করা হলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা।

    আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলজিইডির একজন প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    গত ৩৫ বছরে দেশে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জনের প্রাণ গেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮০৭ জন। একই সময়ে নৌযানের বিরুদ্ধে ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান।

    মন্ত্রী জানান, গত ৩৫ বছরে নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলার মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    তালিকাভুক্ত ২ লাখ ৫২ হাজার নৌযান

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি কার্যক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে। নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ভিত্তিতে নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে।

    জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠন

    ধর্মীয় বিভ্রান্তি নিরসন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধে বিভিন্ন মত ও পথের আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।

    ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং ধর্মের অপব্যবহার রোধে সরকার প্রয়োজনীয় আইনগত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জুমার খুতবা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শান্তি, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

    ৭ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহ

    কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে সংগৃহীত যাকাতের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকারি যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে। বাকি টাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে।

  • ফেনীতে ক্রাসিং মেশিনে লুঙ্গি পেঁচিয়ে মালিকের মৃত্যু

    ফেনীতে ক্রাসিং মেশিনে লুঙ্গি পেঁচিয়ে মালিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে হলুদ-মরিচ ও চাল গুঁড়ো করার ক্রাসিংমিলের মেশিনের সঙ্গে পরনের লুঙ্গি পেঁচিয়ে আটকা পড়ে নুরুল ইসলাম ছুট্টু (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী ও মিল মালিকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ফেনী শহরের মুক্ত বাজার এলাকার ‘খান সুপার মার্কেটে’ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নুরুল ইসলাম ছুট্টু ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খান সুপার মার্কেটের ‘হজরত শাহজালাল ক্রাসিংমিল’র প্রোপ্রাইটর ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে মিলের ভেতরে মেশিন চালু থাকা অবস্থায় কাজ করছিলেন নুরুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত তার পরনের লুঙ্গিটি চলন্ত মেশিনের ঘূর্ণায়মান অংশের সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মেশিনের সঙ্গে আটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

    পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

    বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

    আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।

    পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।

    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’

    বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।

    শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

    ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’

    কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’

    মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’

    ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।

    একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’

  • রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির পাশে স্থান করে নিলেন ব্রাজিলের তারকা রাফিনিয়া।

    শনিবার লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফার্মিন লোপেজের ক্রস থেকে জালে বল জড়ান বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলের সুবাদে চলতি মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচেই রাফিনিয়ার গোল হলো ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে রাফিনিয়া পেছনে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে প্রথম চার ম্যাচ শেষে পাঁচটি করে গোল করেছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন রাফিনিয়া।

    ব্রাজিলিয়ান তারকা নাম লিখিয়েছেন বার্সেলোনারই সাবেক তারকা লিওনেল মেসির পাশে। ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি গোলের কীর্তি আছে মেসির। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি করে গোল করেছিলেন মেসি।

    রাফিনিয়ার সামনে সুযোগ রয়েছে আরও রেকর্ডে নাম লেখানোর। বার্সার হয়ে টানা ৫ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড আছে দুইজন ফুটবলারের। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সিজার রদ্রিগেজ (৮ গোল) আর ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন।

  • স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করা যাবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড। প্রচারের সময় মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।

    নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এগুলোর আকার ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

    সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

    জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    প্রচারের সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে।

    প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণীও ব্যবহার করা যাবে না।

    নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

    একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

    আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

    তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

    নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    ইউপি আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল রাখা রয়েছে।

    পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধি

    ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে দেখাতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আগে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল না; এবার তা সীমিত পরিসরে যুক্ত হয়েছে।

    উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না।

    পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে।

    জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন।

  • একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ৩ আইন কর্মকর্তা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

    পদত্যাগ করা ওই ৩ আইন কর্মকর্তা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    এর আগে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

    তারও আগে গত জুন মাসে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই সময় পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা যৌথভাবে পদত্যাগ করেছেন।

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় মসজিদ কুষ্টিয়ার শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি দর্শনে প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে জেলার অজপাড়া গাঁ নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়ায়। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

    শত শত দর্শক আর ভ্রমন পিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে এ স্থানটি। কিন্তু দর্শকদের জন্য তেমন সুযোগ সুবিধা নেই এখানে। নেই তেমন বিশ্রামের জায়গা। নেই থাকা ও খাওয়ার সুবিধা। ফলে এ স্থানটি দর্শনীয় হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের জন্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় এ স্থানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মসজিদটির দীর্ঘদিন উন্নয়ন না থাকায় জৌলুসও নষ্ট হতে বসেছে। মসজিদের মূল কাঠামোতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। চার কোণে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনারসদৃশ উঁচু কাঠামো। দেয়াল, খিলান ও গম্বুজের নকশায় ফুটে উঠেছে প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য। ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী এবং নান্দনিক কারুকাজ মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    জানা যায়, এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য অনেক ওলি আউলিয়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তারা নিজেদের জানমাল সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ধর্ম প্রচারসহ সকল দ্বীনি কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছিলেন মসজিদকে। সেই হিসাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছিলেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

    কুষ্টিয়া ইবি থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়া গ্রাম। এই গ্রামে সম্রাট শাজাহানের আমলে ঐতিহ্যবাহি শাহী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ থেকে তিনশত বছর পূর্বে সম্রাট শাহজাহান এই মসজিদ নির্মান ব্যয় বহন করেন। সে সময় মসজিদটির নির্মান কাজ পরিচালনা করেন শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী। উপ-মহাদেশ থেকে আসা ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী ৮৫ বছরে বয়সে এখানে মৃত্যু বরণ করেন। ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তিনি কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়।

    তার মৃত্যুর পর ১৯৬৯ সালে সুনামধন্য ব্যক্তি হাসান চৌধুরী তৎকালীন সরকারের সাথে একটি রেজিঃ চুক্তিনামা অনুযায়ী মসজিদটি প্রত্মত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তিনামা অনুযায়ী এই মসজিদের মতওয়ালী (তত্বাবধায়ক) হিসেবে থাকবে হাসান আলী চৌধুরী অথবা তারই বংশধর। বর্তমানে মসজিদ কমিটিতে তারই বংশধর মসজিদটি পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রাচীন স্থাপত্য, পরিবেশ ও ইতিহাস দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ শুধু একটি পুরোনো মসজিদ নয়; এটি তাঁদের এলাকার গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

    অনেকের ধারণা মসজিদটি গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছে। এ জন্য সুদর্শন মসজিদটি পরিদর্শনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষের ভীড় করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে এখানে লোক ধারণের জায়গা থাকেনা। অনেকেই মান্নত গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী নিয়ে এখানে উপস্থিত হন। মসজিদটিকে ঘিরে কিছু কুটির শিল্পের লোকজনও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ তাই কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি একটি মূল্যবান প্রত্মত্ত্ব ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যসৌন্দর্য সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

  • হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হানাহানি ও সংঘর্ষ পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও অনেকটাই অবহেলিত। এ জেলার মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নিকটস্থ ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার। এঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক ও একই পরিবারের মোট তিনজনকে আটক করেছে সংস্থাটি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শুরু করে প্রায় তিনঘন্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা যায়।

    আটকরা হলেন- আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), সাদিয়া ফারহানা (২৩) ও সায়মন সরোয়ার (১৬)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের এসআই শহীদের শ্যালক। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শামসুল আলমের পুত্র। প্রায় ৭/৮ বছর আগে ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। এই বাড়িতেই পরিবার সহ বসবাস করতেন আজকের অভিযানে ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আমির আলী জানান- পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের যোগসাজসে তার শ্যালক মোমেন মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছে। কিছুদিন আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদের খবর পেলে স্থানীয় কিছু যুবক প্রতিবাদ জানায়। এর জের ধরে উল্টো ওই যুবকদের বিরুদ্ধেই ছিনতাই মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ। বিষয়টি থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ মাদক মজুদের ঘটনাটি আমলে না নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমলে নেন।

    আমির আলী আরও জানান- পরে তথ্যদাতা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক মজুদের ঘটনাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারে জানালে সংস্থাটি আজ ভোর সকালে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক সোমেন মন্ডল জানান- অভিযানে প্রাথমিক ভাবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে যদি ওই বাড়ির মালিক তথা পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাকেও আসামী করা হবে।

  • শুধু সংযোগ নয়, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী কানেকটিভিটিই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

    শুধু সংযোগ নয়, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী কানেকটিভিটিই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেকটিভিটিই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ৫ জিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    আজ সোমবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭ তম সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে এবং ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ৪জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ৪জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেকটিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

    এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) এডব্লিউজি-৩৭ সভা আয়োজন করেছে। এপিটির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সভা চলবে ৭-১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সভায় এপিটি সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশের মোট ৩৯৫ জন (সরাসরি ১৬৮ জন এবং ভার্চুয়ালি ২২৭ জন) প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। পাঁচ দিনে দুইটি প্লানারি সভাসহ মোট ৫২টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সেশনগুলোতে ৫জি সম্প্রসারণ,৬জি ব্যবস্থা, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, স্পেকট্রাম শেয়ারিং, স্যাটেলাইট ও নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ, রেলওয়ে বেতার যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, এই সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেও আমরা আগ্রহী।

    এপিটির ওয়্যারলেস গ্রুপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ সংক্রান্ত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কারিগরি সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এটি সদস্য দেশগুলোর শিল্প খাত, একাডেমিয়া, বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ে কাজ করে। এ প্ল্যাটফর্মে রয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। দেশগুলো বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্পেকট্রামের দক্ষ ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করে।

    অনুষ্ঠানে এপিটি মহাসচিব মাসানোরি কোন্দো বলেন, এডব্লিউজি-৩৭ সভা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তিগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান এবং আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নসংক্রান্ত কাজেও এডব্লিউজি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অবদান রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি দায়েজুং কিম বলেন, বেতার যোগাযোগ একটি গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠান একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এডব্লিউজির মাধ্যমে আমরা আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে একত্র, পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী এবং বিশ্বব্যাপী ও আঞ্চলিকভাবে প্রাসঙ্গিক সমাধান উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।

  • তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

    তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

    ক্রিকেটে কিছু সংখ্যা শুধু সংখ্যা নয়। তিন নম্বর যেমন।

    ওপেনারদের পরেই নামতে হয় বলে নতুন বলের পরীক্ষা থাকে, আবার প্রথম উইকেট পড়লেই দলের ইনিংসের ভার এসে পড়ে কাঁধে। এই জায়গায় তাই ব্যাটসম্যানকে কখনো ধৈর্য ধরে ধাক্কা সামাল দিতে হয়, কখনো আবার দ্রুত রান তুলে ব্যাটিংয়ের সুরটা বেঁধে দিতে হয়। ডন ব্র্যাডম্যান, ভিভ রিচার্ডস, রিকি পন্টিং, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা—এমন কিংবদন্তি সব ব্যাটসম্যান ওয়ান ডাউন বা তিন নম্বর পজিশনের গুরুত্বটা আরও ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    সেই গুরুত্ব এখনো আছে। টেস্ট ক্রিকেটে গত তিন বছরে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার চোখে পড়বে। বাংলাদেশের মুমিনুল হক যেন ‘৩’ সংখ্যাটা নিজের সমার্থক করে নিয়েছেন। গত তিন বছরে তিন নম্বরে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যানদের রানের হিসেবে তিনি আছেন ঠিক তিন নম্বরেই। তাঁর ওপরে আছেন শুধু ইংল্যান্ডের ওলি পোপ ও নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ টেস্টে ২৬ ইনিংসে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মুমিনুল। ৪০.৭৯ গড়ে করেছেন ৯৭৯ রান। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে আটটি ফিফটি। অর্থাৎ ২৬ ইনিংসে নয়বার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। মুমিনুলের চেয়ে যাঁরা ভালো করেছেন, সেই দুজনের মধ্যে পোপের রান ৩৮ ইনিংসে ১৩৬৯, পাঁচ সেঞ্চুরি তিন ফিফটি আর উইলিয়ামসনের ৩০ ইনিংসে ১৩৬০ রান, পাঁচ সেঞ্চুরি দুই ফিফটি। অর্থাৎ পঞ্চাশ ছোঁয়ার দিক থেকে এ দুজনের চেয়েও এগিয়ে মুমিনুল। তবে পিছিয়ে পড়েছেন বেশির ভাগ ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে না পারায়।

    তিন নম্বরের এই হালচাল বিশ্লেষণের কারণ মারনাস লাবুশেন। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর পজিশন সামলানো এই ব্যাটসম্যান বেশ কিছু দিন ধরে ধুঁকছেন। গত তিন বছরে ৪৩ ইনিংসে তাঁর গড় মাত্র ২৪.৬৯। অন্তত ২০ ইনিংস খেলেছেন, এমন ৫৬ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে খারাপ গড় মাত্র তিনজনের। দুজন আবার অবসরেও চলে গেছেন।

    এই তিন বছরে তিন নম্বরে যাঁরা ব্যাট করেছেন (শীর্ষ ১০), তাঁদের মধ্যে একমাত্র লাবুশেনেরই কোনো সেঞ্চুরি নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেই যেমন তিন ইনিংসে আউট হয়েছেন যথাক্রমে ১, ৩১ ও ৪ রানে। লাবুশেনের এমন হাঁসফাঁস দেখে রিকি পন্টিং তো বলেই দিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার এখন তিন নম্বরের জন্য অন্য কাউকে খোঁজা উচিত।

    তবে নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেননি। তিন টেস্টের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরের দলে রাখা হয়েছে লাবুশেনকে। ২০১৮ সালের কুখ্যাত ‘শিরীষ কাগজ’ কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তিন নম্বরে খেলতে যে ধার লাগে, যে ভার সইতে হয়, তা নতুন কারও কাঁধে তুলে দেওয়ার ঝুঁকি নেননি নির্বাচকেরা। তিন নম্বর পজিশন বলে কথা!

  • এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে হবে

    এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে হবে

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ ক্ষেত্রে একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

    আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

    আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কত ধাপে নির্বাচন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাঁচ বা ছয় ধাপসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

    ইসি সচিব বলেন, ‘একটি উপজেলায় যতগুলো ইউনিয়ন রয়েছে, সেগুলো একই ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, একই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এক ধাপে এবং বাকি ইউনিয়নে অন্য ধাপে ভোট হলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতেই উপজেলাভিত্তিকভাবে সব ইউনিয়নে একই সময়ে ভোট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

    তবে এটি এখনো নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান ইসি সচিব।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ উইংয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফাইল ফেরত এসেছে। এখন কোনো পর্যবেক্ষণ বা পরিবর্তন এসেছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টারের ব্যবহার না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব বিষয় কার্যকর বা ভালো ফল দিয়েছে, সেগুলোর কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

    এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তবে তিনি এটিকে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আশা রাখি, আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা শিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    গত ২২ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করায় সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই দিন থেকেই তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়।

    সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে সাধারণভাবে শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

    সে অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটের দিনক্ষণ ও পূর্ণাঙ্গ তফসিল নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।

  • সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক হাজার ২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় কুটিনা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনী গ্রামে কুটিনা বেগমের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক জব্দ করা হয়।

    আটক কুটিনা ওই গ্রামের তেরা মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একটি দল কুটিনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার ২০৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক কুটিনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আর সুযোগ নেই ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজ সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের আইনের সেকশন ২১ এর ৩ এ পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। যদি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে পরবর্তীতে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারো আপিলই হোক। সেটা হোক শেখ হাসিনার, সেটা হোক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের।’

    তিনি বলেন, ‘যেকোনো পলাতক আসামি অথবা যারা জেলে আছে, তাকে অবশ্যই আপিল ফাইল করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। কেউ যদি কেউ পলাতক কিংবা অন্য যেকোনো কারণে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল ফাইল না করেন, তাহলে ওই আসামির পক্ষে আর আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে না।’

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আপিল দায়ের করেছেন। তার দায়ের করা আপিল আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শুরু হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে তার রায় স্থগিত ঘোষণা করেছে। রায় স্থগিত থাকা অবস্থায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কি না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার এত বছর পর আপিল করা যাবে কি না, এসব পয়েন্টে আমরা শুনানি করব।’

    তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মূল আপিলের ওপর এখনো শুনানি শুরু হয়নি। বরং আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য কি না তার ওপর শুনানি চলছে।

    ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।

    বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এর আগে রাষ্ট্রপতি তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তার সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।

    আবুল কালাম আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম জানান, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

    গত ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেন এবং আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

    আবুল কালাম আজাদ জামায়াতে ইসলামীর রোকন বা সদস্য ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্যও ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার জামায়াতের সব সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আপিল বিভাগে যখন মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মামলাটি শুনানি হয়, আমি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার আইনগুলো দেখিয়েছি। ইতোমধ্যে আব্দুল কাদের মোল্লার কেসে আপিল বিভাগ বিষয়টি সেটেল করে দিয়েছেন। আপিলের ব্যাপারে যেখানে স্ট্যাটিউটরি প্রোভিশন আছে, ক্লিয়ার প্রোভিশন আছে, সেই ক্লিয়ার প্রোভিশন থাকলে সেখানে আর্টিকেল ১০৪ এর কোনো অ্যাপ্লিকেশন থাকে না।’

  • আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোটবোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’

    ভারতকেও খেসারত দিতে হবে

    তার অভিযোগ, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, প্রতিবেশী বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, (প্রধানমন্ত্রী) তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি এও বুঝিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। তার কথায়, কোনও সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন। বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। (আমি তো) বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কতটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

    দেশটা আমার

    সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয়, তাহলে আপনার কিভাবে দেশে ফেরা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। বিএনপি গভর্নমেন্ট কি বলছে? তারা ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেয়ার জন্য। যখন ফেরত দেয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব। সেজন্যই বলেছি, আমি চলে যাব। এখন আবার বাধা দেবে কেন আর পারমিশনই বা লাগবে কেন? দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে কী করবেন, অন্যকোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে অনুকূল অবস্থা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, এটা ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন। তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলেন।

    আমি দেশের মানুষের কাছে যাব

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

    ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে

    ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে এসেছি দেশ ছেড়ে, আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে কখনো চাইনি। আমি জানতামও না। একটা পরিস্থিতিতে আমি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও আমি জেনেছি অনেক পরে। যখন হেলিকপ্টারে বর্ডার ক্রস করি তখন আমাকে বলা হলো যে আমরা এখানে (ভারত) আসছি। তার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম, আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব। আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।

    তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেয়া হয়েছে। যত জঙ্গী, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে। আমার সময় তো একটামাত্র (সন্ত্রাসী) ঘটনা ঘটেছিল। ৪৬০টি থানা লুট হলো। পোড়ালো। পা বেঁধে বেঁধে ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের সঙ্গে বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

    তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছি

    ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশে ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস। তাছাড়া এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলি চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে। আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় শত শত কৃষক এই অবরোধে অংশগ্রহণ করেন। এতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

    গত দু’মাস ধরে পুঠিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধান চাষের ভরা মৌসুমে ন্যায্য মূল্য দিয়েও সার পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা। সরকারি দামে সার কেনা কৃষকের কাছে এখন যেন সোনার হরিণ। টিএসপি আর ডিএপি সারের তো দেখাই মিলছে না ডিলারদের কাছে। এগুলো ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। বেশি দাম দিলে খুচরা ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে।

    কৃষকরা সরকারি বাজারমূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। সরকার নির্ধারণ করে দেয়া সারের বাজারমূল্য প্রতি কেজি পটাশ ২০ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা। অথচ অজানা কারণে ডিলার-সাব ডিলারের হাত ঘুরে বালাইনাশক বিক্রেতাদের দোকানে টিএসপি ৬০ টাকা, ডিএপি ৫০ টাকা আর এমওপি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের কাছেও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের শর্ত হচ্ছে সারের সাথে বালাইনাশকের ওষুধগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে।

    অবরোধে অংশ নেয়া কৃষক আব্দুস সালাম জানান, চার বিঘা রোপা আমন ধান রোপণ করেছি কিন্তু সারের অভাবে ধান চাষ করতে পারছি না ঠিকমতো। ডিলারদের কাছে গেলে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সারের অভাবে ধান চাষে লাভবান হতে পারবে না কৃষকরা। সার কিনতে গেলে ডিলারদের কাছে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্বিগুণ দাম দিলে বালাইনাশকদের কাছে সার মিলছে।’

    এদিকে বানেশ্বরে কৃষকদের অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ আসছে। তবে ধান চাষের মৌসুমে চাষের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।’

    ডিলারদের কাছে সার নেই, সব সার বালাইনাশক বিক্রেতাদের কাছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকেন তিনি।

  • সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএআর) মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে সাবেক মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে কমিশন।

    দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল অথরিটির অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (ওআইএ) কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ইতোমধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড দুদকে পাঠিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাবেক মুখ্য সচিব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি বর্তমানে চলমান ‘আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

    পাশাপাশি, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্য এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এই অভিযোগটি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়াকিটকি ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগের বিষয়ে নতুন করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এই তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ওয়াকিটকি ক্রয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তারা একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে। অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ওয়াকিটকি কিনে সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

    অর্থ পাচার রোধে দুদকের আরেকটি বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলাম এবং ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইল অব ম্যানে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদনটির সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ দুদকের পাঠানো আবেদনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব সম্পত্তি সেখানে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে কমিশনকে নিশ্চিত করেছে।

  • লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার লালমোহনে নিখোঁজের পর খাল থেকে মো: ফরহাদ (১৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্ব পাশের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ফরহাদ পাশের চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (ভূঁয়ার হাট এলাকা) মো: বশির উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লালমোহন থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান অবস্থায় কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান সরকারের মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইয়োহেই সাসাকাওয়ার কাছে এ কথা বলেন।

    বৈঠকে সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্বের কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

    রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তিনি এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

    সাসাকাওয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

    তার ধারণা, মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে।

    জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে মাদরাসা ছাত্র বলাৎকারের অপরাধে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক মেরাজ আলী মিরাজকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মিরাজ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়া বকরী রুদ্রপুর গ্রামের আমানুল্লাহ হকের ছেলে।

    নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিবুর রহমান আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিরাজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাকে বিমর্ষ দেখা যায়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই ভোররাতে নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর-বাদামতলা জামিয়া রহমানিয়া তাইসিরুল উলুম মাদরাসার ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ওই মাদরাসার শিক্ষক মিরাজ পায়ুপথে ধর্ষণ (বলাৎকার) করে।

    এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই মিরাজকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মিরাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।

  • কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা ‘ফল ২০২৬’ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভর্তি মেলা চলবে।

    এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    মানবিক ও সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: নওয়াব আলী।

    বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, সাইকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল ইকবাল খান প্রমুখ। পরে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী এই শিক্ষা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    ভর্তি মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

    আয়োজকেরা জানান, এই মেলায় ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী, আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা ছাড়, ১ম সেমিস্টারের টিউশন ফি’র ওপর ২৫% ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

  • ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার সদর উপজেলার পৃথক দুই ইউনিয়নে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাপ্তা ও আলীনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশু হলো বাপ্তা ইউনিয়নের ভোটের ঘর এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ ও আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (১)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দুই শিশুই নিজ নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাদের দেখতে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর ও ডোবায় খোঁজ করলে পানিতে শিশু দু’টির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পুকুর ও ডোবার পানিতে শিশু দু’টির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জীবিত মাকে সরকারি কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান সনদের ভিত্তিতে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

    ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল প্রায় সাত মাস আগে তার জীবিত মা রহিমাকে কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন।

    সম্প্রতি মজিবুর রহমান লোকজন নিয়ে ওই জমি ও বাড়ির আশপাশের পানের বরজ ও পুকুর দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।

    পরে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল সংগ্রহ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—জীবিত রহিমাকেই কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে তার সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে।

    দলিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বরসহ তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ২১ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমির ক্রেতা পূর্ব রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম আমির হোসেনের ছেলে মজিবুর রহমান।

    দলিলের সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: হোসেন মিয়া। দলিলটি সম্পাদন করেন দলিল লেখক ঝন্টু সরকার।

    জীবিত নারীকে ‘মৃত’ বানানোর প্রমাণ মিলল সরেজমিনে

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজাবাড়িয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলিলে যাকে মৃত দেখানো হয়েছে সেই বৃদ্ধা রহিমা জীবিত। নিজের বাড়ির সামনে বসে থাকা ওই বৃদ্ধা ক্ষোভ ও অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘আমি তো মরছি না। তা অইলে কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’

    এ সময় তার পাশে ছিলেন আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম, ছোট ছেলে অলি মিয়া, ছোট ছেলের স্ত্রী হাফছা বেগম ও একমাত্র মেয়ে রোকিয়া বেগম।

    আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিজের মাকে জীবিত রেখেও মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করেছেন। তার দাবি, আব্দুল জলিল জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে এর আগেও পরিবারের আরো জমি বিক্রি করেছেন তিনি।

    ছোট ছেলে অলি মিয়া বলেন, ‘তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত এবং ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।’ জুয়ার দেনা পরিশোধ করতেই মাকে মৃত দেখিয়ে গোপনে জমি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    অলি মিয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘মা যদি মারা না গিয়ে থাকেন, তাহলে তার ভুয়া মৃত্যু সনদ কে দিলো? সেই কাগজের ভিত্তিতে ওয়ারিশান সনদই বা কীভাবে হলো? আর এসব কাগজ দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কীভাবে জমির দলিল রেজিস্ট্রি হলো?’

    দলিল লেখক বলছেন, ‘দায়িত্ব আমার নয়’

    অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার বলেন, ‘আমাকে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়া হয়েছে। সেগুলো দেখেই দলিল সম্পন্ন করেছি। যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়।’

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: হামিদুলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি দেখছি।’

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

  • মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ

    মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ

    মুয়াজ্জিনদের আজান ও ইকামাতের বিশুদ্ধ উচ্চারণ, সুর ও কণ্ঠের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, দ্বীনি জ্ঞান এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে দ্বিতীয় দফায় ১০ দিনব্যাপী ‘মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম’ আয়োজন করতে যাচ্ছে আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এতে মুয়াজ্জিনদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আদর্শ মুয়াজ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণে আজান ও ইকামাতের প্রতিটি শব্দের নির্ভুল ও বিশুদ্ধ উচ্চারণ, সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল এবং পবিত্র মদিনা ও মিসরীয় ঐতিহ্যবাহী সুরের অনুশীলন করানো হবে।

    এ ছাড়া কণ্ঠের যত্ন, দীর্ঘ শ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও স্কেল ঠিক রাখার বিশেষ ব্যায়াম, তারবিয়াহ, ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আদর্শ মুয়াযযিনের গুণাবলি, যোগাযোগ ও সমঝোতা দক্ষতা এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনার কারিগরি বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রুকইয়াহ সেশন ও প্যারেন্টিং বিষয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে।

    প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি যাতায়াত খরচ প্রদান, প্রশিক্ষণ শেষে সনদ এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও পরিচর্যার সুযোগ থাকছে।

    আগ্রহীদের আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেওয়ার জন্য ডাকা হবে।

    প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের সুবিধা থাকলেও আসন সংখ্যা সীমিত বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

    বর্তমানে মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা এ প্রশিক্ষণে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

    এ ছাড়া আবেদনকারীকে কুরআনের হাফেজ অথবা নাহবেমীর কিংবা আলিয়া থেকে দাখিল পাস হতে হবে। কণ্ঠে সুর এবং তা আয়ত্ত করার সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

    আগ্রহীরা নির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সাতারকুল, কাজীবাড়ি ক্যাম্পাস (কবরস্থানের পাশে), উত্তর বাড্ডা, ঢাকায় যোগাযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে ০১৮০৫৪৩৭৯১০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

  • শমিতের জোড়া অ্যাসিস্টে পেলের ক্লাবের বড় জয়

    শমিতের জোড়া অ্যাসিস্টে পেলের ক্লাবের বড় জয়

    ২৯তম জন্মদিনের পরদিনই নিউইয়র্ক কসমসের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখালেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার শমিত সোম। ইউএসএল লিগ ওয়ানের ম্যাচে ফোর্ট ওয়েন এফসির বিপক্ষে কসমসের ৪-২ গোলের জয়ে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।

    শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কসমসের হাতে। মাঝমাঠে শমিতের পাসিং ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা দলকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে তার নিখুঁত থ্রু পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন জাওনেহ লামিন। এতে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কসমস।

    বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে নিউইয়র্কের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার শমিতের পাস থেকে গোল করেন লামিন। রক্ষণভেদ করে দেওয়া তার দারুণ থ্রু বলটি কাজে লাগিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। পরে লামিন হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ফোর্ট ওয়েন দুটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কসমস।

    গোল করাতে অবদান রাখার পাশাপাশি পুরো ম্যাচেই কার্যকর ছিলেন শমিত। ৪৫ বার বল স্পর্শ করা এই মিডফিল্ডার ৩৬টি পাসের মধ্যে ৩০টি সফল করেন। তার পাসিং সাফল্যের হার ছিল ৮৩ শতাংশ। পাঁচটি লং বলের চারটিও ছিল সফল। জোড়া অ্যাসিস্টের পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য একটি বড় গোলের সুযোগও তৈরি করেন তিনি।

    রক্ষণেও দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন শমিত। ম্যাচে তিনটি ট্যাকল, দুটি ক্লিয়ারেন্স ও দুটি বল রিকভারি করেন তিনি। একটি শটও ব্লক করেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।

    ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের সাবেক ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলেছেন শমিত। তিনটিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। নিজের তৃতীয় ম্যাচেই জোড়া অ্যাসিস্টে দলকে জয় এনে দিয়ে নতুন ক্লাবে নিজের আগমনের জানান দিলেন ২৯ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি।

  • ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এ চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ও বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে বাসসকে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে যে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সভায় মূলত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এ চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল— এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।

    কায়রোর একটি আদালতে হওয়া এই মামলায় ৩৯ বছর বয়সী সারা খলিফার পাশাপাশি আরও ১১ আসামির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    মামলার তদন্ত অনুযায়ী, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করা, সেগুলো দিয়ে কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরে পাচারের জন্য মজুত রাখা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চক্রটির সদস্যদের কাছে অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ ৭৫০ কেজিরও বেশি।

    তদন্তে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, এসব জায়গাকে মাদক তৈরির গোপন স্থাপনা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    সেখান থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আনা উপকরণগুলো ব্যবহার করে সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরবর্তী সময়ে তা পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হতো।

    মিসরের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ সারা খলিফা। দেশটির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা, অপরাধ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হতো।

    টেলিভিশন ক্যারিয়ারের বাইরেও ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন সারা। তার মালিকানায় একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। পাশাপাশি পার্টি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করেন তিনি।

    মাদক মামলার বাইরে সারা খলিফার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছিল। এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় তার সঙ্গে কয়েকজন আসামিকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    ওই মামলায় সারা খলিফাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক মামলাতেও কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন এই টেলিভিশন উপস্থাপিকা। তবে কায়রোর আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। মিসরের আইন অনুযায়ী, আসামিদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

  • ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জের খরচ কম হওয়ায় তাঁদের এই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ফেরত পাবেন।

    আজ রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এই অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। অন্য হাজিদের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কমে ভাড়া নেওয়া এবং সার্ভিস চার্জ কমানোয় এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমের ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাবেন। ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তাঁরা এই অর্থ ফেরত পাবেন না।

    ২০২৭ সালে হজের বিমানভাড়া আরও কমছে

    ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমানভাড়া আগের বছরের থেকে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রিফান্ড পাঠাতে হাজিদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন ও ওটিপির প্রয়োজন নেই। এসব চেয়ে কেউ ফোন করলে কেউ যাতে প্রতারিত না হন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়কের নাম সালমান শাহ। অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি দিয়ে মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন মানুষের মন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর একে একে উপহার দিয়েছেন ২৭টি চলচ্চিত্র। মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সালমান শাহ যেন আরও বেশি করে আলোচনার বিষয় হয়েছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন এই নায়ক। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। কিন্তু প্রিয় সহশিল্পী ও জনপ্রিয় জুটি শাবনূরের কাছে এখনো যেন বিশ্বাস হয় না সালমান নেই। সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন শাবনূর।

    শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’ সালমানের কথা মনে করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘এত বছর পেরিয়ে গেলেও তোমার স্মৃতি আজও হৃদয়ে অমলিন। পর্দার সেই প্রিয় রাজপুত্র, মানুষের ভালোবাসার সেই স্বপ্নের নায়ক তুমি আজও বেঁচে আছো আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের ভালোবাসায়। তোমার অকালপ্রয়াণে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।’
    শাবনূরের মতে, সময় চলে গেছে, প্রজন্ম বদলেছে; কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের মায়া এখনো মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জীবন্ত। প্রিয় সহশিল্পীর উদ্দেশে তাঁর শেষ কথা, ‘যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ।’

    একটি সিনেমার দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ছবি: সংগৃহীত

    সালমান-শাবনূর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। পর্দায় তাঁরা এতটাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন যে একসময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাবনূর বরাবরই সেই গুঞ্জন নাকচ করে এসেছেন। তাঁর দাবি, সালমানকে তিনি সব সময় ভাইয়ের মতোই দেখেছেন। সম্প্রতি সালমানের মা নীলা চৌধুরীও বলেছেন, শাবনূরকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান শাহ।
    সালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিও এখনো মনে আছে শাবনূরের। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তা বলেছেনও। শাবনূরের মতে, ‘সালমানকে প্রথম যেদিন দেখি, সেদিন মৌসুমী আপুর সঙ্গে শুটিং করছিল। আসা-যাওয়ার মধ্যেও দেখা হতো। তবে খুব একটা কথা হতো না। তখন শুনেছি, ফিল্মে সালমান শাহ নামে নতুন একজন হিরো এসেছে। আনুষ্ঠানিক পরিচয় “তুমি আমার” ছবিতে অভিনয় করার সময়। তখন কাজের কারণে বন্ধুত্ব হয়। আমাদের প্রথম ছবি “তুমি আমার” মুক্তি পাওয়ার পর সুপারহিট হয়।’
    সালমানের মৃত্যুর পরও শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গল্প ডালপালা মেলে। এ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে শাবনূরের।

    তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’

    একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ভিডিও থেকে

    সালমানের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার মুহূর্তটিও আজও ভুলতে পারেননি শাবনূর। সেদিন তিনি ছিলেন বাসায়। হঠাৎ একজন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছেন। প্রথমে কথাটি বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। শাবনূর বলেন, ‘হঠাৎ করে কে যেন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছে। আমি উল্টো ধমক দিয়ে বলি, কী বলে এসব! আমার ছোট বোন বাইরে গিয়ে সালমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়ে আসে। আমি তখন পুরোপুরি হতবাক হয়ে যাই। এরপর এফডিসিতে সালমানকে দেখতে যাই।’

  • বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব: শামা ওবায়েদ

    বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব: শামা ওবায়েদ

    মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জাতিসংঘের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা, আসিয়ানসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং রাখাইনে আন্তর্জাতিক মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    তিনি বললেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাখাইনে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। লক্ষ্য একটাই—রোহিঙ্গারা যেন নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেন।

    আজ রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ বজায় রাখা, মানবিক সহায়তা জোরদার করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।’

    মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বললেন, প্রত্যাবাসনের দিকে এগোতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এটি দ্রুত শেষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    মানবিক সহায়তার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য, বাংলাদেশ তার মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাবে। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় এই সহায়তা অব্যাহত রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে দাতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে শিবিরে সহায়তার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বললেন, মানবিক সহায়তা এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রবণতা তৈরি না হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসন জটিল না হয়ে পড়ে।

    তিনি দাবি করেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের চাবিকাঠি রয়েছে রাখাইন রাজ্যে। সেখানে নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকারের প্রতি সম্মান এবং রোহিঙ্গাদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকার সুযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। প্রত্যাবাসনের পর যেন রোহিঙ্গাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হতে না হয়, সেই আস্থাও তৈরি করতে হবে।

    রাখাইনে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মত দেন, জাতিসংঘ, আসিয়ান, উন্নয়ন অংশীদার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সেখানে বাস্তবভিত্তিক আস্থা তৈরির উদ্যোগ এবং মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এতে প্রত্যাবাসনের পথ সহজ হওয়ার পাশাপাশি ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী—উভয়ই উপকৃত হবে।

    রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিচার ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলাসহ আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ন্যায়বিচার ও প্রত্যাবাসনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। জবাবদিহিতা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন একে অপরকে শক্তিশালী করে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা মানবিকতার সঙ্গে সংকট মোকাবিলা করতে পারে। বাংলাদেশ ধৈর্য দেখিয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে। ইতিহাসও প্রমাণ করে, প্রত্যাবাসন সম্ভব।

    এখন দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা, অন্তর্বর্তী মানবিক সহায়তা এবং প্রত্যাবাসনের বাস্তব পদক্ষেপগুলোকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানালেন, আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন।

    শামা ওবায়েদ বললেন, দৃঢ় কূটনীতি, শক্তিশালী জাতীয় সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে টেকসই সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘায়িত বাস্তুচ্যুতির পরিবর্তে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং সংকট ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে সংকট সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

  • ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    এবারের মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের প্রতিযোগী জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ১১১টি দেশের মধ্যে সেরা হিসেবে মুকুট জিতলেন তিনি। বিশ্বসুসন্দরীর খেতাব জেতা জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডমিনিকার রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েই এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।

    জোহাইরি মোলা একাধারে শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও মডেল। ‘ভয়েস অব টুমোরো’ নামে তার একটি উদ্যোগ আছে, যার মূল লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শেখানো এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করা। প্রথম রানার আপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।সেরা ৬ প্রতিযোগীকে নিয়ে চলে একাধিক পর্ব।

    শেষে বিচারকেরা তাদের নানা রকম প্রশ্ন করেন। আর এরপর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এর প্রতিষ্ঠা করেন এরিক মর্লে।

    প্রতিযোগিতায় কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে থাকে প্রাথমিক পর্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার এবং মঞ্চে সরাসরি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্ব। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিয়েতনামে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। অন্য দিকে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।

    এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়—আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া। বাংলাদেশের প্রতিযোগী সামানজার সাঈদ বিউটি উইথ আ পারপাসে প্রাথমিকভাবে নিজ মহাদেশে সেরা ৬–এ থাকলেও ফাইনালে সেরা চল্লিশে জায়গা করে নিতে পারেননি।

  • সংসদে পাঠানো হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬

    সংসদে পাঠানো হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬

    ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর সহকারী পরিচালক তানজীনা তানীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের মূল্যবান মতামত প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতার জন্য সভাপতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেইসাথে বিলের কাজে সম্পৃক্ত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম, ও মো. আব্দুল বাতেন।

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

    শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

    বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

    এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পিএসসির অন্যান্য সদস্য, কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে পিএসসির সভাপতি পদে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন।

    এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর অথবা তার ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া–এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত এ পদে বহাল থাকবেন।

  • আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সান্তাহার রেলওয়ে ইয়ার্ড কলোনি এলাকায় ছাতিম গাছের ডাল থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছে লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত এমডি বাঁধন (২৩) সান্তাহার পৌর শহরের ইয়ার্ড কলোনি মহল্লার মাসুদ রানার ছেলে।

    স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি কেবল আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

    এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিঞা জানান, লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন।

    রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান। দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।

    এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।

    এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।

    এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

  • পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া ১০ বছরের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ময়নুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাবার মৃত্যু হয়েছে। সন্তানকে রক্ষা করতে পারলেও নিজে আর বিলের পানি থেকে উঠে আসতে পারেননি তিনি।

    শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত ময়নুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া তার ১০ বছর বয়সী ছেলের নাম মাহিদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ময়নুল ইসলাম ও তার ছেলে মাহিদ একসঙ্গে জাল নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে দুজনেই বিলের গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এমন মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান মাইনুল। একপর্যায়ে ছেলেকে বিপদমুক্ত করে পাড়ে ঠেলে দিতে সক্ষম হলেও নিজে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

    ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে বোনারপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে ময়নুল ইসলামের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, নিজের জীবন দিয়ে ছেলেকে বাঁচানো অভিভাবকের অতুলনীয় এক আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

  • সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের গৌরনদীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া দুটি সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক গৌরনদী পৌরসভার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অভিনব প্রতিবাদ করা হয়।

    সড়কের গর্ত ও কাদায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গৌরনদী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সোয়া কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাদামাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।

    এতে সড়ক দুটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও সড়ক দুটি সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই রোববার সকালে কাদাপানি ও খানাখন্দে ভরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান তারা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার বা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে থাকায় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগানোর মতো অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করেছেন।

    স্থানীয় পথচারী মো. সামসুল হক বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে পৌরসভার এ সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, সড়কের সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে।’

    শৌলকর সড়কের সংস্কারের বিষয়ে বাটাজোর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা গৌরনদী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, ‘সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে শিগগিরই সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

    অন্যদিকে, পৌরসভার হ্যালিপ্যাড সড়কের বিষয়ে গৌরনদী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, ‘জনগুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

  • সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক বাজেট বরাদ্দ, বিচারক নিয়োগ এবং দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী।

    জনস্বার্থে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ নাগরিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।

    নোটিশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।

    নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে প্রায় ৩১ হাজার ১২০টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন ছিল।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে ৬ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০৩ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    এতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬ হাজার করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আপিল বিভাগে ন্যূনতম ৭ জন বিচারপতি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৪ জন মানুষের বিপরীতে একজন বিচারক রয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ অনুপাতও কম বলে দাবি করা হয়েছে।

    হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বেঞ্চ বাড়ানোর দাবি

    হাইকোর্ট বিভাগে বাণিজ্যিক মামলা নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে মাত্র দুটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

    অন্যদিকে, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে একাধিক বেঞ্চ পরিচালনা ও বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের হওয়া মামলার মাত্র ৩৫ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে ১৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

    নোটিশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার জায়গা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল সুবিধার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় আদালতের করিডোরে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে এজলাস সংকট ও ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে বিচার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

    নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে বিচারিক কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    বাকি দাবিগুলো হচ্ছে

    – আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা;

    – প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যৌক্তিক বাজেট কাঠামো প্রণয়ন;

    – আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ গঠন;

    – মামলার সংখ্যা, নিষ্পত্তির হার ও নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বিচারক ও বেঞ্চের সংখ্যা নির্ধারণ;

    – এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ;

    – বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ বার্ষিক হিসাব প্রকাশ।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে আইনজীবীদের সংবিধান লঙ্ঘন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। দেশের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দ অত্যন্ত কম বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    নোটিশে বিচার বিভাগের সামগ্রিক বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে।

    আইনজীবীদের মতে, বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বিচার বিভাগের জন্য এ ধরনের বরাদ্দ রাষ্ট্রের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রতি অপ্রতুল বরাদ্দের বিষয়টি নতুন নয়। গত দুই দশকে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো কোনো বছর সুপ্রিম কোর্টের উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দ ছিল না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ও অবকাঠামো বাড়ানো হয়নি। এর ফলে বিচারক ও মামলার সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক মামলা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের জন্য শুধু ব্যয়ের খাত নয়। কোর্ট ফি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প শুল্ক, প্রসেস ফি ও জরিমানার মাধ্যমে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য রাজস্বও যোগ করে। তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, এটি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    অন্যথায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শারমিন আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বকর সিদ্দিক নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের মো: আবু হানিফের ছেলে।

    মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। পথে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক তাকে রাস্তা থেকে ডেকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    পরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এরপর স্বজনরা তাকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠায়।

    দীর্ঘদিন ধরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপন শেষে রোববার বিকেলে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। কিন্তু আসামী জামিনে মুক্ত রয়েছে।

    নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, দীর্ঘদিন সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। জরিমানার টাকা নিহতের পরিবারকে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

  • সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    আলোচিত র‍্যাপার বাদশাহর সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনে এবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তাঁর নিজের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে।

    ইশার এই বক্তব্য এসেছে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রচার ঝলক প্রকাশের পর। সেখানে পরিচয় গোপন রাখা এক নারীকে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ওঠে, ওই নারী হয়তো ইশা রিখি।

    গতকাল শনিবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইশা লেখেন, তাঁর বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খবর ছড়াচ্ছে, যা দেখে তিনি ‘অবাক’। তিনি সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করা তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এসব খবর বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

    বাদশাহ ও ইশা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ইশার বক্তব্যের সারকথা, তাঁর বিয়ে বা বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো তথ্য সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়, যদি না সেটি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে বা তাঁর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আসে।

    ‘বিগ বস ২০’–এর প্রচারণায় রহস্য
    ইশার বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রোমো প্রকাশিত হয়। সেখানে এক নারীকে মুখ ঝাপসা করে দেখানো হয়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস ভেঙে যায়।
    এই বক্তব্যের পরই দর্শকদের একাংশ ধারণা করেন, রহস্যময় ওই নারী ইশা রিখি। কারণ, সম্প্রতি ইশা ও বাদশাহর সম্পর্কের সমাপ্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইশা কিংবা ‘বিগ বস ২০’–এর নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি যে প্রোমোর ওই নারী ইশাই কি না।

    ইশা রিখি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মাত্র কয়েক মাসের দাম্পত্য
    বাদশাহ ও ইশা রিখির সম্পর্কের খবর অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ আয়োজনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে ইশার মা বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
    তবে বিয়ের মাত্র কয়েক মাস পরই বাদশাহ ও ইশার আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুজনই নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিচ্ছেদের কথা জানান।
    বাদশাহ তাঁর বিবৃতিতে জানান, তিনি ও ইশা পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার অনুরোধ করেন তিনি। তাঁদের পক্ষ থেকে সেটিই এ বিষয়ে একমাত্র বক্তব্য হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

    এরপরই ‘বিগ বস ২০’–এর রহস্যময় নারীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইশার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সেই জল্পনাই আরও তীব্র হয়েছে।

    এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল বাদশাহর
    ইশা রিখির সঙ্গে সম্পর্কের আগে বাদশাহ বিয়ে করেছিলেন জেসমিন মাসিহকে। ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, নাম জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং।
    ২০২০ সালে বাদশাহ ও জেসমিন আলাদা হয়ে যান। এরপর মেয়েকে নিয়ে জেসমিন লন্ডনে চলে যান।

    এদিকে ‘বিগ বস ২০’–এর নতুন মৌসুম ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। সালমান খান উপস্থাপিত এই রিয়েলিটি শোতে ইশা রিখির নাম নিয়েও এরই মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। ক্বাজি তৌকির, গুল্লু, র‍্যাপার ইয়ুং ডিএসএ, মাহি ভিজ, খুশি দুবে, আমান গান্ধীসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রতিযোগী হিসেবে সামনে এসেছে।

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন তিনি।

    বাবা-মায়ের কবরের পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। কবর জিয়ারতের সময় পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সেনুয়া কবরস্থান এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও অন্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    এর আগে দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন তিনি।

  • সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জেলার সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা পৃথকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

    এর মধ্যে কালীগঞ্জের কাকিনায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ১০ বস্তা সারসহ একটি ভ্যান আটক করেন স্থানীয়রা। পরে এক ডিলারকে আটক করে তার গোডাউন সিলগালা করে প্রশাসন।

    সদর উপজেলার বাফা গুদামের সামনে সকালে সার নিতে আসা কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

    কৃষকরা অভিযোগ করেন, ডিলারদের কারসাজির কারণে বাজারে সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আমন ধানের জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

    অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কৃষকরা কৃষি বিভাগের কয়েকজন মাঠকর্মী ও এক ডিলারকে ধাওয়া করেন। পরে তারা একটি পেট্রোল পাম্পে আশ্রয় নিলে কৃষকরা সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সাথে আলোচনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় একটি ভ্যানগাড়িতে করে ১০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা সেটি আটক করেন। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে তারা ভ্যানটি আটকে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন মিয়াকে আটক করা হয়। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটির সার রাখার গোডাউন সিলগালা করা হয়।

    ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে। অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে রহমান ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক বলেন, লালমনিরহাটে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সার বিতরণে অনিয়ম, কালোবাজারি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দুই উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে চাহিদা মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ।

  • বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় ৩ বছরের শিশু ফারিয়া নিহত

    বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় ৩ বছরের শিশু ফারিয়া নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বেপরোয়া গতির ট্রলির ধাক্কায় ফারিয়া নামে তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওভারটেকিং করতে গিয়ে বেপরোয়া গতিতে ট্রলি চালিয়ে রাস্তার পাশে থাকা শিশুটির ওপর তুলে দেন চালক। দুর্ঘটনার পর ট্রলিটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ছেংগারচর বাজারের সুরুজ প্লাজার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী কাউসারের মেয়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে মায়ের সঙ্গে বাজারে যাওয়ার সময় ফারিয়া রাস্তার একেবারে পাশে দিয়ে হাঁটছিল। সে সময় শিশুটি মূল সড়ক থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল। এর মধ্যে একটি ট্রলি বেপরোয়া গতিতে এসে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেকিং করার চেষ্টা করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলিটি রাস্তার পাশে উঠে গিয়ে শিশু ফারিয়াকে চাপা দেয়।

    গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র তিন বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে বেপরোয়া গতিতে ট্রলি চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা এ ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রলিটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। চালককে শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    রোববার সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

    এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘিরে নাশকতা বা স্যাবোটাজের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছু কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। আমাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে, তারা যেকোনো ধরনের স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

    এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি কর্মকাণ্ড নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করেন, সেটি তাঁদের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারও মনে এ ধরনের দুষ্টুচিন্তা থাকলে কিংবা কোনো অপরাধী অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তা করলে, সেটিও তাঁদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে, বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

    গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। রোববার গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্য ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন। তাদের জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তির তৎপরতা বেড়েছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি গুমের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তাঁদের বিষয়ে প্রশাসনের নজর রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রসিকিউশন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এক বছর আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে আন্দোলনে নামার পর শাস্তিপ্রাপ্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বোর্ডের ২০ কর্মকর্তা এবার রেহাই পেয়েছেন।

    প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে লঘুদণ্ড পাওয়া এই কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করে আজ রবিবার প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব।

    যাদের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে, তারা হলেন উপ-কমিশনার শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

    এনবিআর কর্মকর্তারা গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে তাদের শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন তারেক রহমান। এখন সেটি বাস্তবায়িত হলো।

    আন্দোলন ও শাস্তি

    কর প্রশাসন সংস্কারে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালে তার অধ্যাদেশ জারি হলে তার বিরোধিতায় কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে। আর সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই চলবে এনবিআরের সব কাজ।

    কিন্তু এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

    এরপর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের কাউকে কাউকে বদলি করা হলে ২৪ জুন এক কর্মসূচি থেকে তারা বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান।

    দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন কর্মসূচি তুলে নেয়।

    এরপর একের পর এক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

    শাস্তি মওকুফের প্রজ্ঞাপনে যা রয়েছে

    প্রজ্ঞাপনে শাস্তি মওকুফ করলেও এই কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণগুলো তুলে ধরা হয়।

    এতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশ পথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং এর মাধ্যমে বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন।

    এ ধরনের আচরণ চাকরি শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল হওয়ায় কারও বেতন কয়েক ধাপ অবনমিত করা, কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

    এখন তাদের আবেদনের ভিত্তিতে শাস্তি মওকুফের কথা জানিয়ে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

  • লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দাদা ও নাতি-নাতনির মৃত্যু

    লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দাদা ও নাতি-নাতনির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিবাগ এলাকার ইব্রাহিম পাটওয়ারী বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন- ওই বাড়ির আবু সিদ্দিক (৭০) এবং তার ছেলে আব্দুল আজিজের শিশুপুত্র পিয়াস (৭) ও মেয়ে সুমি আক্তারের শিশুকন্যা পপি আক্তার (৮)।

    স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধ আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান। তিনি পানিতে নেমে ডুব দিলেও পানির নিচ থেকে আর উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তাকে পানির নিচে খুঁজতে গিয়ে পিয়াস ও পপিও ডুবে মারা যায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুকুরের পানিতে তাদের ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

    স্বজনদের ধারণা, আবু সিদ্দিক পানিতে ডুব দিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তাকে খুঁজতে গিয়ে নাতি-নাতনিও পানিতে ডুবে মারা গেছে।

    লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমিয়ে ছিল আয়েশা আক্তার নামে চার বছরের এক শিশু। এ সময় বজ্রপাতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তার মৃত্যু হয়েছে। এতে তার বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধীতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিরুনীয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ও ফারজানা আক্তার দম্পতি তাদের মেয়ে আয়েশা আক্তারকে নিয়ে ধীতপুর এলাকায় তার নানা মন্তাজের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার সকালে বাড়িতে একটি মাটির ঘরে বাবা সিদ্দিক তার শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটির দেয়াল ধসে বাবা ও শিশুর ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় এবং বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হন। আহত সিদ্দিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হালিম উদ্দিন সরকার রিপন। তিনি বলেন, নিহত শিশুর বাবা সিদ্দিক নিজেও অসুস্থ, তাই স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

  • মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর প্রথমবারের মতো ইন্টার মায়ামির জার্সিতে নামলেন লিওনেল মেসি। নেমেই গড়লেন ইতিহাস। মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ঘরের মাঠে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও গ্যালারির উত্তাপ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচটি রূপ নেয় এক ভিন্ন চিত্রে।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালের এই ম্যাচে বল মাঠে গড়ানোর আগে শুরু হয় তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত। ফলে ৯০ মিনিটের এক বাধ্যতামূলক আবহাওয়া বিলম্ব ঘটে। তবে খেলা শুরু হতেই নিজের চিরচেনা ছন্দে জ্বলে ওঠেন মেসি। ৩২ মিনিটে তার নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক প্রিমিয়ার লীগ তারকা মিগুয়েল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান। তবে প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে লুইস সুয়ারেজের চমৎকার ফিনিশিংয়ে আবারও লিড পায় মায়ামি।

    এই জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি মৌসুমে মেসির মোট গোল অবদান ১৮ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পৌঁছে গেল ঠিক ৩০টিতে। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন তিন মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়েন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দেনিস বোয়াঙ্গা কিংবা সিনসিনাটির এভান্ডারের মতো হেভিওয়েট তারকাদের পেছনে ফেলে এই কীর্তি গড়লেন এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। চলতি বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ভুলে যাওয়ার মতো এক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি। তবে ক্লাব ফুটবলে তার জাদুকরি ফর্ম এতটুকুও ম্লান হয়নি।

    মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচটি আলোচনায় ছিল গ্যালারির উত্তেজনার কারনেও। কাসেমিরোর গোলের পর আটলান্টা ইউনাইটেডের সমর্থকরা মাঠে মেসির বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘পেসি’ ব্যানার উন্মোচন করেন, যা পুরো স্টেডিয়ামের আবহকে আরও উসকে দেয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন মায়ামি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আটলান্টার নতুন খেলোয়াড় ও সুইস স্ট্রাইকার ব্রেয়েল এমবোলো পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান।

    ইনজুরি টাইমে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। আটলান্টার ম্যাথিউ এডওয়ার্ডস অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মায়ামিকে। ফলে এমএলএসের শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়লো ফ্লোরিডার ক্লাবটির জন্য। ২৩ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে মেসিরা। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ায় ন্যাশভিল।

  • সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট ও কালাইরাগ বিওপি কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু, শাড়ী, জিরা, কসমেটিক্স, বিড়ি, চকলেট, কম্বল, চা-পাতা, ফুচকা, চিনি, সবজি ও বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে টি-শার্ট, সোয়েটার, জিন্স প্যান্ট জব্দ করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    জব্দ চোরাইপণ্যের বাজারমূল্য এক কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দ পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা শুভ দাসের (২৪) লাশ।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামে শুভ দাসের লাশ এসে পৌঁছায়।

    লাশবাহী গাড়িটি গ্রামে প্রবেশ করতেই স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপার্জনক্ষম তরুণকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। এ সময় তাকে শেষ নজর দেখতে হাজারো শোকাহত মানুষ শুভদের বাড়িতে ভিড় জমান। পরে দুপুরে পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি সম্পন্ন হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন শুভ। পরিবারের অভাব মেটাতে বসতভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো এক ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন শুভ। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সরকারি তৎপরতা শেষে মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর আজ তার লাশ দেশে ফিরল।