শিরোনাম

  • সৌদি রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান

    সৌদি রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান

    সৌদি আরবে হামলা কার হলে দেশটির প্রতিরক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান। সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং পবিত্র দুই মসজিদের সুরক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (১৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ‘নিঃশর্ত’ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে । আহমেদ শরীফ জানান যে, পাকিস্তান সব দিক থেকেই সৌদি আরবের প্রতি তার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক সমর্থন থেকে শুরু করে প্রয়োজনে সরাসরি পাশে দাঁড়াবে বলে জানান আইএসপিআর মহাপরিচালক।

    আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য আমরা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমাদের সৌদি ভাইয়েরা যতটুকু চাইবেন এবং প্রয়োজন হবে, আমরা ততটুকুই করব।’

    সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণ সৌদি ভাই-বোনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে পাকিস্তান পাশে থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা সেখানে আছি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে আমরা সেখানে থাকব।’

    পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইএসপিআর মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ ও অংশীদারদের সহায়তায় জটিল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সৌদি আরবের নেতৃত্বের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ইসলামাবাদ শুধু প্রতিশ্রুতিবদ্ধই নয়, পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে সেখানে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সুরক্ষায় সেখানে আছি। সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’

    সৌদি নিরাপত্তায় পাকিস্তানের অঙ্গীকারকে ‘নিঃশর্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ঐতিহাসিক, গভীর ও আবেগপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক অটুট এবং তা থেকেই সৌদি নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের থামানোর মতো কিছু নেই, কোনো বাধা নেই। আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো দ্বিধা নেই। যা প্রয়োজন হবে, যা চাওয়া হবে, আমরা তার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হব না।’

    পাকিস্তান বর্তমানে সৌদি আরবে সরাসরি উপস্থিত রয়েছে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সেখানে আছি—এ কথা বলার পর শব্দগুলো নিজেরাই সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়।’

    পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য

    সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।

    সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, উভয় চুক্তি বাস্তবায়নে পাকিস্তান ‘উদ্দেশ্য ও চেতনার দিক থেকে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তবে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি সামরিক কার্যক্রমসংক্রান্ত বিষয় বলে জানান তিনি। সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র বলেন, কখন, কীভাবে, কোথায় এবং কোন শক্তি দিয়ে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে সামরিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই পর্যায়ে কিছুটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।

    সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং নতুন কোনো জোটও তৈরি করছে না। বরং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও গবেষণার মতো বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

    এদিকে উপসাগরীয় সংকট যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বুধবার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। সৌদি আরবের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে হাউছিদের ওপর প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ইসলামাবাদ বারবার সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে কথা বলার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সৌদি আরবের প্রতি সংহতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

    কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে রাফি (৩) পানিতে ডুবে গেলে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর ঘোষণা শুনতেই রোগীর স্বজন ও স্থানীয় কিছু লোক চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ শুরু করেন ও একপর্যায়ে ১১ নম্বরের মেডিক্যাল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আব্দুস সামাদ জরুরি বিভাগের সহায়তাকারী বিজয় কুমার ও আনসার সদস্য জসিম সরকার আহত হন।

    মিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতার নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই আছি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: জান্নাতুল রিয়া জানান, স্বজনদের হারিয়ে যাওয়ার বেদনা সহানুভূতির সাথে দেখা হলেও হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

  • সেনা পাঠিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়াবে না দক্ষিণ কোরিয়া

    সেনা পাঠিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়াবে না দক্ষিণ কোরিয়া

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে তাঁর দেশ এ যুদ্ধে জড়াবে না।

    আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘এমন কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না, যার মাধ্যমে আমরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব। এ বিষয় আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি। এ উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জামও আমরা মোতায়েন করব না।’

    তবে লি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় ভূমিকা রাখবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জলদস্যু দমন অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি ইউনিট সোমালিয়ার উপকূলের কাছে মোতায়েন রয়েছে।

    লি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ ও অপরিশোধিত তেল পরিবহন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় অন্য দেশগুলো যেভাবে ন্যূনতম ভূমিকা রাখছে, আমাদেরও তেমন কিছু করা প্রয়োজন—এটি পরিষ্কার।’

    ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া চলতি গ্রীষ্মে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর বড় যৌথ মহড়াও কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। তবে এ জন্য অনেক বিষয়ের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।

    লি বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনা করতে চান এবং আমিও চাই, তিনি তা করুন। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে আমরা সমন্বয় করে যাচ্ছি।’

    ট্রাম্পের বারবার বৈঠকের আহ্বান নিয়ে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের ওপর চাপ দিচ্ছেন।

  • ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটি ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন এক নারী। ভেতরে তার স্বামী রয়েছেন— এমন দাবি করে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মিলছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক ওসি) ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে দু’জনকেই নেয়া হয় থানায়।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    থানায় নেয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনার পর মাহবুব আলম দাবি করেন, ভেতরে থাকা সানজিদা মৌ তার স্ত্রী। তবে তাদের বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি ডিভোর্স দিয়েছেন।

    ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। নওগাঁ থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ওই ফ্ল্যাটে আসেন আন্নি আক্তার। তার দাবি, আগের রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে এসেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌ নামে এক নারী রয়েছেন। এরপর তিনি এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন আন্নি আক্তার।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন আন্নি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    পরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। সে সময় সানজিদা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে, মাহবুব আলম বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে সানজিদার সাথে তার বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।

    পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

    আন্নি আক্তার নওগাঁর বাসিন্দা। তিনি নিজেকে নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। পরে মাহবুবের একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক এবং বিভিন্ন এলাকায় বিয়ের বিষয়ে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

    আন্নির আরো দাবি, রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সাথে পেয়েছিলেন তিনি। তখন বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান আন্নি।

    নাদের হাজির মোড়ের যে ফ্ল্যাটে শুক্রবারের ঘটনা ঘটেছে, সেটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেয়া। সেখানে তার পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফ্ল্যাটটিতে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

    মাহবুব আলমের চাকরির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাহার হন। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকার সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রাখা হয়।

    সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ।

    তিনি বলেন, মাহবুব আলম ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

    এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দু’টি কক্ষে রাখা হয়।

    চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

  • ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

    ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

    দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও প্রদেশের বাঙ্গা শহরের একটি হাইস্কুলে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত আরও আটজন।

    বাঙ্গার মেয়র আলবার্ট প্যালেনসিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুজনই ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারী নিজেও নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শুক্রবার দুপুরের পর বাঙ্গা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।চলতি বছরের জুনের পর ফিলিপাইনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।’ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    তদন্ত চলার সময় সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়াতে নিষেধ করেছে তারা।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মেয়র প্যালেনসিয়া জানান, দুপুরের খাবারের সময় বন্ধুদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল হামলাকারী কিশোর। সে বলেছিল, ‘দুপুরের খাবারের পরই আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’

    মেয়র বলেন, ‘বন্ধুরা ওই কিশোরের কথা শুনে হেসেছিল। কারণ, সে সব সময়ই সবার সঙ্গে মজা করত।’ ‘খাবার শেষ করেই সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করার পর সে আত্মহত্যা করে।’

    ঘটনার পর পুরো বাঙ্গা পৌর এলাকায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    ফিলিপাইন রেডক্রস জানায়, স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় তারা খবর পায়। এরপরই জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য চারজন প্যারামেডিকসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

    ফিলিপাইনে বন্দুকসংক্রান্ত অপরাধ বেশ নিয়মিত ঘটনা। এ অঞ্চলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার দিক থেকে ফিলিপাইন শীর্ষ দেশগুলোর একটি। তবে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বন্দুক হামলা খুব বেশি দেখা যায় না। তা সত্ত্বেও গত চার মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলা ঘটল।

    এর আগে গত জুনে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে সহপাঠীদের গুলিতে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় কয়েকজন। বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার ক্ষোভ থেকে সেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

    এরপর আগস্টে দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি ক্যাথলিক জুনিয়র হাইস্কুলে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে তার সহপাঠী। পরে সে নিজেও আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় হামলাকারী প্রথমে এক শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ছকিনা খাতুন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কের উপজেলার হাতিকাটা গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক মাইক্রোবাসটি ফেলে পালিয়ে যান।

    নিহত ছকিনা খাতুন জেলার জীবননগর উপজেলার নিধীকুন্ড গ্রামের মরহুম ছলিম উদ্দিনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত চার-পাঁচ দিন আগে সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো: মানিকের স্ত্রী ও নিজ মেয়ে ফেরদৌসী খাতুনের (২৫) বাড়িতে বেড়াতে আসেন ছকিনা খাতুন। শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা মেহেরপুরগামী একটি মাইক্রোবাস তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ঘাতক মাইক্রোবাসটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, রাস্তা পারাপারের সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন -মাহমুদ আব্বাস

    জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন -মাহমুদ আব্বাস

    যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাই ভিসা না থাকায় ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেওয়ার অনুমতির বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন মাহমুদ আব্বাস।

    বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটির পক্ষে ১৫২টি এবং বিপক্ষে তিনটি ভোট পড়ে; এছাড়া চারটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এই প্রস্তাবের ফলে আব্বাস এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ না পান, তবে আগামী এক বছর ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠক বা সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নিতে পারবেন।

    গত বছর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া ও আগের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ওই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রভাবিত হন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়েছে।

    ভোটের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘পিএ যদি অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে চায়, তাহলে তাদের সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং গুরুতর শাসনব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে কূটনৈতিক নাটক বন্ধ করতে হবে।’

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানিয়েছে, কিছু ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা মাহমুদ আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার সাধারণত নিশ্চিত করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে কোনো ব্যক্তিকে ভিসা না দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

  • নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার

    নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে তাসরিফুল ইসলাম তিতুমীর (১৩) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কাচঁদহ এলাকায় করতোয়া নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    তাসরিফুল উপজেলার কাচঁদহ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তাসরিফুল নিখোঁজ হয়। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শুক্রবার বিকেলে করতোয়া নদীতে লাশ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি তাসরিফুলের বলে শনাক্ত করেন।

    নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত ইরানিরা

    দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত ইরানিরা

    ইরানের রাজধানী তেহরানের বিখ্যাত ইনকিলাব স্কয়ারে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সংহতি জানাতে লাখো মানুষ জড়ো হয়েছেন। দেশটির বর্তমান ব্যবস্থা ও আয়াতুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানাতে তারা এই সমাবেশে অংশ নেন।

    আলজাজিরার প্রতিবেদক সিনেম কোসেওগলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জানফাদা-ই-ইরান’ নামে একটি কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে শত শত হাজার মানুষ নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। ফারসি শব্দবন্ধটির মোটামুটি অর্থ ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’।

    কর্মসূচিটি মূলত ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত—এমন বার্তা তুলে ধরার একটি প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ‘জানফাদা-ই-ইরান’-এর মূল ভাবনা হলো—‘আমার জীবন আমার দেশের জন্য উপহার’। কর্মসূচিতে নারী ও কিশোর-কিশোরীরাও নিজেদের নাম নিবন্ধন করছেন। কোনো সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের সংগঠিত করা হতে পারে। তাদের ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাসিজ বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ এটি অনেকটা রিজার্ভ বাহিনীর মতো কাজ করবে।

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বক্তব্যে তিনি এটিকে জনগণের সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    পেজেশকিয়ানের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ইরানের ওপর হামলা চালানো দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকেও একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—যেকোনো সংকট মোকাবিলায় ইরানের জনগণ প্রস্তুত।

  • পাকিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ১৫, আহত ৫0

    পাকিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ১৫, আহত ৫0

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।

    ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্স (ডিএইচকিউ) হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে ১৫ জনের লাশ এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে।

    পুলিশের তথ্যমতে, জুমার নামাজের সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরে গর্ত হয়ে যায়।

    বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইনস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি দেয়ালও ধসে পড়েছে।

    এদিকে, ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কোহাট-হাঙ্গু সড়কটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।

  • লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ক্যাম্প

    লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ক্যাম্প

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম ইন্দ্রসিংপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক মেডিক্যাল সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেড় শতাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছে।

    এমন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষজন উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। অনেকেই অনেক শারীরিক সমস্যা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে এলাকাবাসী উচ্ছ্বসিত।

    এ বিষয়ে ইন্দ্রসিংপাড়া আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ওয়াসির বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য এই দুর্গম এলাকার মানুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন জনহিতকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

  • সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিতে হামলায় ইতালির বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিতে হামলায় ইতালির বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় ইতালির একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো।

    শুক্রবার ইতালির বার্তা সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের তাইফ বিমানঘাঁটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ক্রোসেত্তো। ওই ঘাঁটিতে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এর অংশ হিসেবে ইতালির সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছেন। ঘাঁটিটি সম্প্রতি একাধিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

    তবে হামলায় কোনো ইতালীয় সেনা জড়িত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন ক্রোসেত্তো।

    তিনি বলেন, হামলার সময় ঘাঁটির একটি দূরবর্তী এলাকায় থাকা ইতালির একটি এফ-২০০০ যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে ইতালীয় সামরিক সদস্যদের ব্যবহৃত অন্য কোনো যানবাহন বা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    ক্রোসেত্তো জানান, পরিস্থিতির মূল্যায়নের পর সেখানে থাকা ইতালীয় সামরিক সদস্যদের অবস্থা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা বেশ কিছুদিন আগেই নেওয়া হয়েছিল বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

    ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামরিক সদস্যদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

    আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। এসব হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করা হয়েছে।

    এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে জুলাইয়ের শুরু থেকে লড়াইও তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় ছিল, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় তারও অবসান ঘটেছে।

  • লক্ষ্মীপুরে বাসি খাবার বিক্রি, ৩ হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    লক্ষ্মীপুরে বাসি খাবার বিক্রি, ৩ হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরে হোটেলে বাসি খাবার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয় বলে জানান জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী।

    অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নূরজাহান হোটেলের মালিক সাইফুল আলমকে পাঁচ লাখ, রাজমহল হোটেলের বিষ্ণু বণিককে চার লাখ ও মোহাম্মদীয়া হোটেলের মালিক নাজমা বেগমকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের এ অর্থদণ্ড দেন লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো: ওমর ফারুক।

    অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল্লাহ হিল হাকিম।

    জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু বলেন, ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানেই রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পঁচা ও বাসি খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া নুরজাহান হোটেলে খাবার তৈরিতে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

    নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

  • চৌগাছায় গরুর ফার্ম থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    চৌগাছায় গরুর ফার্ম থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় তানজিলা এগ্রো নামের একটি গরুর ফার্ম থেকে গোলাম রসুল (৬০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া এলাকায় তানজিলা অটোভাটার একটি প্রতিষ্ঠান শিমুল হোসেনের তানজিলা এগ্রো গরুর ফার্ম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত গোলাম রসুল ওই ফার্মে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং রাতে ফার্মেই থাকতেন। তিনি উপজেলার ফুলসারা গ্রামের মরহুম তজিবর মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম রসুল প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গরুর ফার্মে কাজে আসেন। পরে কাজ শেষে তিনি আর বাড়িতে ফিরে যাননি। শুক্রবার সকালে তার ছেলে আল আমিন হোসেন বাবার খোঁজ নিতে ফার্মে যান। তিনি গিয়ে ফার্মের মেঝেতে তার বাবাকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার ডাকচিৎকারে অন্যরা ছুটে আসেন।

    ছেলে আল আমিন হোসেন বলেন, শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই বাবা বৃহস্পতিবার ফার্মে আসেন। শুক্রবার সকালে তিনি বাড়িতে ফেরেননি। তাই বাবাকে খুঁজতে আজ সকালে ফার্মে আসি। তারপর দেখি বাবার নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। এ সময় আমি ডাকচিৎকার দিলে অন্যরা ছুটে আসেন। পরে ফার্মের মালিক শিমুল হোসেন ও চৌগাছা থানা পুলিশকে জানানো হয়।

    চৌগাছা থানার এসআই বেলাল হোসেন লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। তিনি জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত করার পরেই জানা যাবে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, লাশ উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রির্পোট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • গাজা গনহত্যা: ২০২৭ ইউরোভিশন বর্জন করবে আয়ারল্যান্ড

    গাজা গনহত্যা: ২০২৭ ইউরোভিশন বর্জন করবে আয়ারল্যান্ড

    গাজায় ‘অব্যাহত প্রাণহানির’ প্রতিবাদে ২০২৭ সালের ইউরোভিশন সঙ কনটেস্টে অংশ নেবে না আয়ারল্যান্ড। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে, আগামী বছরের এই সংগীত প্রতিযোগিতা আয়ারল্যান্ড সম্প্রচারও করবে না।

    আল জাজিরা ১৭ আগস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে চলতি বছরের প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেয়নি আয়ারল্যান্ড। এবার ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটি নেদারল্যান্ডসের সাথে একই অবস্থানে গেল। নেদারল্যান্ডসও আগামী বছরের ইউরোভিশনে অংশ নেবে না।

    আরটিই জানিয়েছে, গাজায় ‘অব্যাহত প্রাণহানির’ কারণে আয়ারল্যান্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই কারণে প্রতিযোগিতাটি সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

    ইউরোভিশন সঙ কনটেস্ট ইউরোপের অন্যতম বড় সংগীত প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা এতে নিজ নিজ দেশের হয়ে অংশ নেন। ইসরাইলের অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিযোগিতাটি রাজনৈতিক বিতর্কের মুখেও পড়েছে।

    চলতি বছর ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। আগামী বছরও একই অবস্থান বজায় রেখে প্রতিযোগিতায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

  • হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে দ্বারে সৌদি

    হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে দ্বারে সৌদি

    ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব মোকাবিলায় টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে রিয়াদ। এর মধ্যেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে তাদের।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব সরকার। তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত—এমন দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এ কথা জানান।

    এই কর্মকর্তারা বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইরান–সমর্থিত হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।

    সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা টানা যুদ্ধের জেরে দেশটিতে এসব অস্ত্রের মজুত কমতির দিকে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে, বলেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

    ওই দুই কর্মকর্তা নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করার অনুমতি দেননি। বলেছেন, এ বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি তাঁদের নেই। তাই তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

    সৌদির অভিযোগ, হুতিদের নাকচ

    চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও হুতিরা। এটা এখন ইরান যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট। গতকাল সৌদি আরব অভিযোগ করে, পবিত্র নগরী মক্কার দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ এ পর্যন্ত দেখা যায়নি।

    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মস্থান মক্কা। পবিত্র কাবা এ নগরে অবস্থিত। মুসলিমদের কাছে পবিত্র নগরী হিসেবে স্বীকৃত মক্কা। প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের সময় বিশ্বের লাখো মুসল্লি এখানে জড়ো হন। এ পবিত্র নগরীর দিকেই হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পবিত্র নগরীতে হুতিদের এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করা হবে না।

    তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের পবিত্র নগরীটিতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

    এর মধ্যেই গতকাল ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি যোদ্ধারা। ইয়েমেনের মারিব প্রদেশ

    মিত্রদের পাশে পেতে মরিয়া

    জ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ধনী দেশটি এখন হুতিদের সবচেয়ে বড় নিশানা। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের পেছনে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে ন

    অতিসম্প্রতি সৌদি আরবে এক হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি তেলের পাইপলাইন (ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন) বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কথা বলা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাইপলাইনটি টানা কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। এ ছাড়া হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজে হামলা করছে।

    এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবের সামনে হরমুজের বিকল্প ছিল বাব আল–মানদেব। কিন্তু সেখানেও হুতিদের নিয়ন্ত্রণ নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।

    হরমুজের পর বাব আল–মানদেব দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া করেছে। ইতিমধ্যে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ।

    আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব এখন ‘খুব কঠিন অবস্থায়’ পড়েছে। কারণ, দেশটিকে শুধু সামরিক ঘাঁটি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষা করলেই হচ্ছে না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।

    অন্য আরেক কর্মকর্তা বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক মিত্রদের পাশে টানার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ইয়েমেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওমান ও মিসর নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছে।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারন বলেন, এটা শুধু হুতি বনাম সৌদি আরবের ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বৃহত্তর পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন মুখ্য বিষয়।

    বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে—এমন দুই কর্মকর্তা বলেন, ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকে একজন হুতি কর্মকর্তা নিজেও উপস্থিত ছিলেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল নিয়ে দুপক্ষ কথা বলেছে।

    এর বাইরে বৈঠকটি সম্পর্কে আর বিস্তারিত জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রও নাম–পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছে।

    কূটনৈতিক সহায়তায় আগ্রহ

    আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে মরিয়া হয়ে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব। জানা গেছে, মিত্রদেশগুলো সামরিক সহায়তা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়; বরং তারা কূটনৈতিক সহায়তা দিতে আগ্রহী।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস গত মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের খুবই ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ রয়েছে। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ব্রিটিশ সেনারা আছেন কি না, সেটি জানাতেও অস্বীকৃতি জানান ওয়েলস।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী ব্যবস্থার তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সহায়তা করার মতো সক্ষমতা ইউরোপের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    এদিকে তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটি ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনিও নাম–পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

    তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে হুতিরা। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা এপিকে বলেন, হুতিকে প্রতিহত করতে তাদের কাছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অনুরোধ আসেনি।

    মক্কায় হামলাচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিন্দা জানাতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘অটলভাবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ একসঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, এ ঘটনায় কোনো দেশই ‘নির্লিপ্ত থাকতে পারে না’।

    অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা

    সৌদি–হুতি বিবাদ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্র

    সৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে অন্য ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও বেশ আগে থেকেই পেয়ে আসছে সৌদি সরকার। তবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এখন সৌদি–হুতি সংঘাতে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নন।

    গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ‘নিয়মিত যোগাযোগ’ রয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র ‘সরাসরি আলোচনা’ করেছে।

    সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, গত সপ্তাহে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জার্মানিতে ওই বৈঠক হয়। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সুযোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। তবে ওই বৈঠকে কোন কোন দেশ অংশ নেয়, তা জানাননি ওই মার্কিন কর্মকর্তা।

    চীন সফরে আব্বাস আরাগচি

    যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কেনে চীন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরে গেছেন।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াং ই।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়।

  • মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন হৃদয় মিয়া (২৫) নামে এক মুদি দোকান ব্যবসায়ী।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাদেক খান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল নিয়ে কৃষি মার্কেটে মালামাল আনতে যাওয়ার পথে ৪-৫ জনের একটি দল তার পথরোধ করে। এ সময় চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কুপিয়ে তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেল ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

    আহত হৃদয়ের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লব জানান, সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে কৃষি মার্কেটে যাচ্ছিলেন হৃদয়। পথে সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তাকে চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কোপানো হয়। হামলার পর তার মোটরসাইকেল ও সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

    পরে খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

    ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আহত হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সবুজ মিয়া। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

  • ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

    ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

    রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।

    ৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।

    বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।

    এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

    নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’

    যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’।

    রাশিয়ার একটি তেলের পাইপলাইন

    এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।

    ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

    প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’

    ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’

  • নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট

    নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট

    জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে সম্ভবত হিমবাহটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটি ধসে গত মাসে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। এ দুর্যোগ নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

    গবেষকেরা হিমবাহধসের আগে ওই অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া শনাক্ত করেছেন। হিমবাহটি ধসে পড়ার পর প্রায় ১১ কোটি ঘনমিটার তুষার ও বরফ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। এতে প্রায় নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ভাটির জনপদগুলোয় আঘাত হানে সেই বন্যা।

    লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে হওয়া নিঃসরণ যে সংকট তৈরি করেছে, নেপালের মানুষ জীবন দিয়ে তার মূল্য দিচ্ছেন।’ ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এ গবেষণা করেছে।

    অটো বলেন, ‘উষ্ণায়ন যখন পৃথিবীর ছাদকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে যত অভিযোজনই করা হোক, ভাটির ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব নয়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নিঃসরণ শূন্যে নামাতে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোয় এমন আরও দুর্যোগ অনিবার্যভাবে দেখতে হবে।’

    গত ২৬ আগস্ট লাংটাং লিরুং পর্বত থেকে ঝুলন্ত হিমবাহ ও শিলার একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এর আয়তন ছিল প্রায় দুই লাখ বর্গমিটার। এ দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ।

    হিমবাহ ও শিলার ওই অংশ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার নিচে পড়ে। এত তীব্র শক্তিতে সেটি উপত্যকার মাটিতে আঘাত করে যে কম্পনটি ভূমিকম্প হিসেবেও ধরা পড়ে। এতে বরফ গলে যায় এবং হিমশীতল বন্যার সৃষ্টি হয়। সেই বন্যা ঘণ্টায় ১৭৭ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নদীপথে নেমে আসে।

    ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। তিব্বতের গিরং অঞ্চলে

    পানি, বরফ, শিলা ও পলির ভয়াবহ স্রোত পরিবার, ঘরবাড়ি, জনপদ, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বেঁচে যাওয়া অনেক মানুষ আটকা পড়েন এবং অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এত বড় শিলাধসের ঘটনা বিরল। আনুমানিক হিসাবে এক হাজার থেকে দশ হাজার বছরে এ আকারের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, অভিযোজনের সীমাও ইতিমধ্যে স্পর্শ করা হচ্ছে।’

    অটো ও তাঁর দল এর আগে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন বা ডব্লিউডব্লিউএর অধীন যেসব গবেষণা করেছেন, এটি সেগুলোর চেয়ে আলাদা। ডব্লিউডব্লিউএ হলো ইম্পেরিয়াল কলেজ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ুবিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ উদ্যোগ।

    আগের গবেষণাগুলোয় সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট আবহাওয়াজনিত ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমনটি করা যায়নি। গবেষকেরা দেখেছেন, কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে এই দুর্যোগ ঘটিয়েছে। কয়েক দশক ধরে গ্রিনহাউস গ্যাসদূষণের কারণে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হওয়ায় এসব কারণের প্রভাব আরও বেড়েছে।

    ইম্পেরিয়াল কলেজে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন বেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, ভয়াবহ ধসের আগে হিমবাহটির আশপাশে দীর্ঘ মেয়াদে যেসব পরিবর্তন ঘটেছিল, সেখানে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ’ স্পষ্ট।

    গবেষণার প্রধান তথ্য

    গবেষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

    যে অঞ্চলে ধসটি ঘটেছে, সেখানে শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শুধু জুলাই ও আগস্টে তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    স্থানীয়ভাবে ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ দুই মাস। হিমবাহধসের আগের দিনগুলোয় তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

    ১৯৮০-এর দশক থেকে হিমালয়ে হিমাঙ্কের উচ্চতা প্রতি দশকে প্রায় ১০০ মিটার করে ওপরে উঠেছে। অর্থাৎ বরফ গলার মতো তাপমাত্রা এখন আরও উঁচু এলাকায় এবং বেশি সময় ধরে থাকছে। এতে স্থায়ীভাবে জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্টে গঠিত পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে হিমবাহটি উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে গেছে। ধসের স্থানটির চারপাশে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা বরফ সরে গেছে। পাশাপাশি বরফগলা পানিও জমেছে।

    আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর হেলিকপ্টার থেকে দেখা যাচ্ছে কাদায় ঢেকে যাওয়া জনপদ। রসুয়া, নেপাল

    ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। তবে আগস্টের দুর্যোগে ওই ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নিশ্চিত করা যায়নি।

    অটো, ক্লার্ক ও ডব্লিউডব্লিউএর গবেষক দল সরাসরি বলেনি যে জলবায়ু বিপর্যয়ই এ দুর্যোগের মূল কারণ। তাঁদের মতে, বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করে তোলার একটি কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দেখাই বেশি যুক্তিসংগত।

    ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তন উঁচু পাহাড়ি পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। এই ধসের সম্ভাব্য অনেক কারণের ওপরই এর প্রভাব পড়ছে।’

    বন্যায় হওয়া ধ্বংস মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘের ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে নেপাল। এই তহবিল থেকে সহায়তা পেতে দুর্যোগটির সঙ্গে জলবায়ু সংকটের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়।

    নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল চীন ও ভারতের মতো বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে ‘জেগে ওঠার’ এবং এই দুর্যোগের যৌথ দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ডব্লিউডব্লিউএর অংশ রেডক্রস রেড ক্রিসেন্ট ক্লাইমেট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ কারিগরি উপদেষ্টা মাধব উপ্রেতি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পথ তৈরি হতে পারে শুধু বিশ্বজুড়ে নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমানোর মাধ্যমে।

    মাধব উপ্রেতি আরও বলেন, ‘কল্পনাতীত মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। যে দেশটি এ সমস্যা তৈরিতে কার্যত কোনো ভূমিকা রাখেনি, তার এ পরিস্থিতি একটি বিষয় আরও স্পষ্ট করে, জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে তাদের সৃষ্টি না করা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

  • জিন্নাহর সমাধিসৌধে বাংলায় খোদাই করা জন্ম ও মৃত্যুতারিখ

    জিন্নাহর সমাধিসৌধে বাংলায় খোদাই করা জন্ম ও মৃত্যুতারিখ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে জিন্নাহর ঐতিহাসিক অবস্থান ফুটিয়ে তুলতে ছবিটি রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডাকসু কর্তৃপক্ষ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাওয়া সেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সমাধিসৌধে খোদাই করা রয়েছে বাংলায় লেখা জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ।

    করাচিতে অবস্থিত পাকিস্তানের জনক ও তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধিস্থল বা মাজার-ই-কায়েদ দেশটির অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। ইতালিয়ান শ্বেত মার্বেলে তৈরি এই সমাধিসৌধে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা হরফেও তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ খোদাই করা রয়েছে, যা ইতিহাস সচেতন যেকোনো বাংলা ভাষাভাষীকে বিস্মিত ও গর্বিত করে।

    জানা যায়, শুধু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ নন, আরও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি নেতার কবরেও বাংলা বর্ণমালার ব্যবহার রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন এবং দেশটির সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সরদার আবদুর রব নিশতার। এদের প্রত্যেকের কবরে নাম, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখগুলো বাংলা বর্ণমালায় খোদাই করে লেখা রয়েছে।

    করাচি শহরের মধ্যস্থলে প্রায় ৬১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাজার কমপ্লেক্সটি দেশটির অন্যতম প্রধান জাতীয় প্রতীক। সবার জন্য উন্মুক্ত এই সমাধিস্থলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। নিয়ম অনুযায়ী, এখানে ২৪ ঘণ্টাই গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং প্রতি চার মাস পর পর দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পালাক্রমে এ দায়িত্ব পালন করে।

  • ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

    গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় চালানো দুটি সামরিক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জোড়ালো প্রমাণ ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন। এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলেও জানিয়েছে মিশনটি।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে।

    ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের দমনপীড়ন এই দুই বিষয়ই তদন্ত করেছে মিশনটি।

    জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছেন যে মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী। ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।

    মিশনের সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি কোনো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণও তারা পাননি।

    লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো হামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

    অন্যদিকে, দেশব্যাপি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী মিশন।

  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়ায় ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    কানাডার নেতা মার্ক কার্নি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার এক দিন আগে ইইউর প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন এই প্রস্তাব দেন।

    ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে দূরে সরে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

    প্রস্তাবটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটি হাস্যকর।’

    তিনি বলেন, ‘তারা যদি এটি করে এবং আমি যদি মনে করি এটি কোনোভাবে বৈরী পদক্ষেপ, তাহলে ইউরোপের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপ করব। অথবা অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘উদ্দেশ্য ভালো হলে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ হলে ইউরোপের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপ করব। এটি একটি সম্ভাবনা।’

    ফন ডার লিয়েন কার্নির কাছে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। কার্নি প্রথম ইউরোপের বাইরের কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে অংশ নেন।

  • কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-গঙ্গামতি এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে আবারও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেট এলাকায় বন বিভাগের সৃজিত গাছপালা কেটে স্থাপনা নির্মাণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকা হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্তও নতুন করে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুই পাশে এখনও স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।

    অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে ওই স্থানেই দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার স্বার্থে পাউবোর ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে গড়ে ওঠা ৬৭৩টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা।

    পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সাগরের ভাঙন ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন এবং বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়।

  • ফিজিতে এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    ফিজিতে এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    ফিজিতে দ্রুত বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন করে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৬ জনের, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৬ গুণ বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আতোনিও লালাবালাভু বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ‘সমন্বিত ও সর্বাত্মক’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিনা মূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক গ্রহণকারীদের জন্য ক্ষতি কমানোর কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।

    জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে ঘটেছে। ২০২৫ সালে এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেওয়া ৫৯ শিশুর মধ্যে ১৮ জন এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেছে।

    ফিজির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। দেশটিতে সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর জন্য আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, গ্লোবাল ফান্ড ও জাতিসংঘ ফিজিকে সহায়তা করছে।

    ইউএনএইডসের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ফিজি ও অন্যান্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে মাদকের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ পরিস্থিতিও আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

  • কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দিলেন বেওয়ারিশ কুকুর

    কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দিলেন বেওয়ারিশ কুকুর

    ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরাজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর বেওয়ারিশ কুকুর ছেড়ে দেন তারা। এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগে এ প্রতিবাদ করা হয়।

    ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, যুবসেনার নেতা কর্মীরা একটি বস্তার মুখ খুলে প্রধান কর্মকর্তা টেবিলের ওপর একটি ছোট কুকুর ছেড়ে দিচ্ছেন। আকস্মিক ঘটনায় চেয়ারে বসা ধীরাজ ভামরে টেবিল থেকে সরে যান। পরে আবার চেয়ারে ফিরে আসেন। বস্তার ভেতর আটকে থাকার কারণে আতঙ্কিত কুকুরটি দৌড়ে অফিসের এক কোণে চলে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করে দেওয়া হয়। সেটি কর্মকর্তার টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক কোণে বসে পড়ে।

    প্রতিবাদের সময় গত ছয় মাসে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা নিয়ে প্রধান কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন যুবসেনার নেতা রনধাভে।

    এনডিটিভিকে তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রাম, রাস্তা ও অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। তার দাবি, গত ছয় মাস ধরে নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য জানিয়ে আসছেন তিনি। এরই মধ্যে একটি ছোট শিশু কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে এবং অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    রনধাভে বলেন, এলাকার পরিস্থিতির ছবি তুলে এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে একাধিকবার কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মনে হওয়ায় প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি চারটি কুকুর নিয়ে গিয়ে কর্মকর্তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।

    যুবসেনার এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রধান কর্মকর্তা বিভিন্ন টেন্ডারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ কারণেই নেতাকর্মীরা নোটের মালা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলো কর্মকর্তার টেবিলেও রাখা হয় বলে জানান তিনি। এটিকে শেষ সতর্কবার্তা উল্লেখ করে রনধাভে বলেন, আগামী আট দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আবারও কর্মকর্তার কার্যালয়ে কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।

  • চট্টগ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে দুইজনকে পুলিশে দিল জনতা

    চট্টগ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে দুইজনকে পুলিশে দিল জনতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পৌরসভার কাগজীপাড়া এলাকায় এক শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন- কচুয়াই ইউনিয়নের আবুল ফয়েজের ছেলে মো. ফারুক (৪২) এবং কুতুপালং এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে শাহাজাহান বেগম (৪০)। অভিযুক্ত শাহজাহান বেগম উপজেলার বাদামতল এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়া সদরের কাগজীপাড়া এলাকার আশরাফ আলী একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে সালমা ইকরা (৯) ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় এক রিকশাচালক ও এক নারী তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে রিকশায় তুলে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরে তাকে বাড়ির সামনে না নামিয়ে রিকশাটি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে রিকশাসহ ওই দুইজনকে আটক করেন।

    শিশুটির বাবা প্রবাসী শাহনেওয়াজ মামুন বলেন, আমার মেয়েকে বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন বের হয়ে আসেন। পরে সবার সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পটিয়া পৌরসভা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ছেলেধরার ঘটনায় আমরা অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছি।

    পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ছেলেধরা অভিযোগে দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বসছে সোলার প্যানেল

    প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বসছে সোলার প্যানেল

    দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রসারে সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের নিজ বাসভবনে সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এই প্যানেল বসানোর কাজ শুরু হয়। জানা গেছে, সরকারিভাবে নয়, নিজ উদ্যোগে এই সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পর্যায়ক্রমে সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন, বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক মওকুফ ও ছাড়, লোডশেডিংয়ের সমস্যা এড়াতে এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • কুরআন শিক্ষায় আলোকিত হচ্ছে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলের ৩৮ শিক্ষার্থী

    কুরআন শিক্ষায় আলোকিত হচ্ছে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলের ৩৮ শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুরআন সবক প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’। অনুষ্ঠানে ৩৮ শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর আমিনিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোরের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা প্রকৌশলী খন্দকার রাশেদুজ্জামান রতন ও ড. মাহবুবুর রহমান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, পরিচালক মোস্তফা কামাল, আজিজুর রহমান মশিউর, রেজওয়ান আহমেদ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর প্রকৃত শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানী, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

    বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি শিশু যেন পদ্ম বা গোলাপের মতো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সৌন্দর্য ও কল্যাণ ছড়িয়ে দিতে পারে, এটাই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা। কুরআন শুধু পড়তে শেখানো নয়, এর শিক্ষা ও আদর্শকে বুঝে জীবনে প্রতিফলিত করার মানসিকতা তৈরি করাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    অভিভাবকদের সন্তুষ্টি

    অনুষ্ঠানে অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সন্তানদের একই সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা ও কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।

    অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি কুরআনের শিক্ষায়ও আলোকিত হোক। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুলে পড়াশোনার সঙ্গে কুরআন শিক্ষার যে সমন্বয় করা হয়েছে, তা আমাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

    অভিভাবিকা মোছা. নাজমা আক্তার বলেন, ‘অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে বাসায় সন্তানকে নিয়মিত কুরআন শেখানোর সুযোগ হয়ে ওঠে না। স্কুলে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তানদের মধ্যে কুরআন পড়ার আগ্রহ ও ভালো অভ্যাস তৈরি হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য আনন্দের।’

    অভিভাবক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এখানে শুধু ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয় না; তাদের চরিত্র, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্তানদের নামাজ ও ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখে আমরা আশ্বস্ত।’

    প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন করে গড়ে তোলাই ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর আদর্শ ও আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    অনুষ্ঠান শেষে ৩৮ শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দ্বীনি জীবনে সফলতা এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • নোয়াখালীতে এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

    নোয়াখালীতে এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহে তিন দফায় ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন।

    সিভিল সার্জন বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসী রানি সরকারকে প্রধান করা করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও হাতিয়া থানার ওসি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

    জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার পেছনে ম্যাস হিস্টিরিয়া কাজ করতে পারে। তবে এটিই চূড়ান্ত কারণ নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।

    এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আরো ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ বুধবার ১৩ জন অসুস্থ হলে অসুস্থের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ জনে।

  • ভারত যাওয়ার চেষ্টায় মেহেরপুর আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

    ভারত যাওয়ার চেষ্টায় মেহেরপুর আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভ্রমণসংক্রান্ত আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এম এ খালেক মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় বিষয়টি কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে এম এ খালেককে দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    দর্শনা চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ এসআই তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেফতার

    দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পুলিশের অভিযানে ৬৩০ পিস ইয়াবাসহ হোসনা আরা (২৬) নামে এক নারী মাদককারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হোসনা ইউনিয়নের কিরনপাড়া গ্রামের আয়াজ আলীর স্ত্রী।

    জানা গেছে, দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদারের দিকনির্দেশনায় এসআই সঞ্জয় দত্ত সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাংলাবাজার ইউনিয়নের কুশিউড়া এলাকায় হোসনার রুমে অভিযান চালায়। এ সময় ইয়াবার চালানসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

    দোয়ারাবাজার থানার ওসি জানান, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

  • চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের রুটি পুকুরে

    চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের রুটি পুকুরে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব পৌর শহরের কচি-কাঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত মিড-ডে মিলের বনরুটি পুকুরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের আয়া লিপি দাসকে রুটিগুলো পুকুরে ফেলে দিতে দেখেন স্থানীয়রা। এতে এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ক্ষুব্ধ একাধিক অভিভাবক জানান, শিশুদের পুষ্টির জন্য সরকার যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের না দিয়ে এভাবে পুকুরে ফেলে দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা এ ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

    এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: কামরুল ইসলাম বলেন, ‘রুটি বিতরণের দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় কিছু বনরুটি রয়ে গিয়েছিল। সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছে।’

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর বিদ্যালয়ে এসে বনরুটিগুলো পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    লালপুরে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-নাটোর সড়কে শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের মরহুম শহীদুল ইসলাম লাকীর ছেলে।

    আহতরা হলেন একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ইমরান (২০) ও বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের নাজির হোসেনের ছেলে মনি (২০)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল্লাহ, ইমরান ও মনি একটি মোটরসাইকেলযোগে গোপালপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। এঘটনায় দু‘জন গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় লালপুর ফায়ার সার্ভিস আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: রুমাইয়া হক রাকা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। আহত ইমরান ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

  • রায়পুরে সাফল্যের স্বীকৃতি পেল জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

    রায়পুরে সাফল্যের স্বীকৃতি পেল জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: আবুল খায়ের ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতার দোকান থেকে ৩ টন সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শ্রমিক লীগ নেতা মো: জাকির হোসেনের দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ তিন টন সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জাকির ওই এলাকার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।

    জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্রের নেতৃত্বে অভিযানে জাকিরের দোকান মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি, ৪১ বস্তা ইউরিয়া ও সাত বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। এ সময় দোকানের মালিক জাকিরকে না পাওয়ায় তাকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ইউএনও বলেন, ‘এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ইছাখালি বাজারে অভিযান পরিচালনা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • বকশীগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

    বকশীগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে সবুজ (১৭) নামে এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে পৌরসভার চরকাউড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে থাকে সবুজ। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের দাবি, সবুজ দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

    বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রাশিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুই যাত্রী।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ভোড়ামারার ১২ মাইল গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাশিদুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা নতুন আমদহ গ্রামের ছোয়াদ আলী মন্ডলের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ট্রাকটি লালনশাহ ব্রিজের দিক থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বিপরীত দিক ভেড়ামারা থেকে কুষ্টিয়ার রাস্তায় উঠছিল। আর দ্রতগতির একটি মোটরসাইকেল কুষ্টিয়া থেকে ১২ মাইল মোড়ের দিকে আসছিল।

    প্রথমে সিএনজি আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পতিত হয়। মোটরসাইকেলের আঘাতে সিএনজির ভেতরের সিটে বসে থাকা যাত্রী রাশিদুল ইসলাম সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এছাড়া সিএনজির দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা: মিজানুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসাপাতালে আনা হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রাশিদুল ইসলামকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়দুর রহমান জানান, ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক (এম.এ)। তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত থেকে এই শিক্ষককে সসম্মানে বিদায় জানান। অবসর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাসহ তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবদান স্মরণ করে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। শেষে অশ্রু সজল নয়নে ঘোড়ার গাড়িতে করে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তোজাম্মেল হক ২৯ জুন ১৯৯৫ সালে বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছিলেন। তার কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন বিদায় সংবর্ধনা তোজাম্মেল হকের কর্মজীবনের সোনালী স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

  • দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে আরজ আলী (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আরোজ আলী রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকেই দৌলতপুরের আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে মুষলধারে বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড মেঘের গর্জন শুরু হয়। এ সময় আরোজ আলী বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে ছিলেন। আকস্মিক বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    বজ্রপাতের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আরোজ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তিনি বজ্রপাতেই মারা গেছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে আবদুল সামাদ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শিমুলতাড়ই এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবদুল সামাদ মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবুদখালী গ্রামের মরহুম আবদুল সালাম মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গাইবান্ধা রেলওয়ে ফাঁড়ি থানার আইসি সাহেব গণি বলেন, সকালে রেললাইনের পাশে ওই যুবকের লাশ দেখে গাইবান্ধা রেলস্টশন মাস্টারকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ সময় লাশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বায়োমেট্রিক করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই লাশের ছবি পোস্ট করেন স্থানীয়রা। পরে নিহত যুবকের চাচাতো ভাই সাজু মিয়া থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন থেকে আবদুল সামাদ মিয়া মানসিক রোগে ভুগছিলেন।

    আইসি সাহেব গণি আরো বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের স্ত্রী ময়না বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

  • কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত, আহত ৩

    কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত, আহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রফিকুল ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড়সংলগ্ন গোপিরায়ের বেড় এলাকার মরহুম জামিল উদ্দিন সানার ছেলে। আহতরা হলেন পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে মো: রায়হান গাজী, কাঠিপাড়া (বাঁকা) গ্রামের সন্দীপ মণ্ডলের ছেলে অন্তর মণ্ডল ও একই এলাকার আজিজ সরদারের ছেলে মো: হৃদয় হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার বাঁকা বাজার এলাকা থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাছারীবাড়িতে অনুষ্ঠিত বৃক্ষ মেলা দেখতে যাচ্ছিলেন। তারা ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রফিকুলকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই রফিকুলের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত তিনজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

    কয়রা থানার ওসি মো: রাশেদুল আলম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৪ জনের পেট কেটে বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলেন জিয়াউল

    বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৪ জনের পেট কেটে বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলেন জিয়াউল

    বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে বলেশ্বর নদে নিয়ে চোখ বেঁধে, গুলি করে, পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলা দেওয়া হয় বলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর সাব্বির।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় এ সাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী মেজর সাব্বির।

    মেজর সাব্বির ট্রাইব্যুনালে জানান, ২০১০ সালের মে মাসে র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় র‍্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা। পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদে ফ্রিশিং ট্রলারে মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে চারজনকে নিয়ে যায়। এরপর তাদের নৃশংসভাবে মেরে ফেলে।

    এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর র‍্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা লোকদের গুলি করতেন জিয়াউল আহসান। কোনো বন্দিকে একবার, কাউকে দুবার গুলি করা হতো। এরপর তার গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

    আব্বাস মল্লিক জানান, বন্দিদের পেট কেটে দেওয়া ও মাথায় গুলি করার কারণে নাড়িভুঁড়ি ও মস্তিষ্ক বেরিয়ে আসত এবং শরীর থেকে রক্ত পড়ত। এ কারণেই বোট ধোয়ার প্রয়োজন হতো। এরপর বোট ধুয়ে তারা চর দুয়ানীর বরফ মিলে ফিরে আসতেন।

  • ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার খেতাবের জন্য সেরা কয়েকটি ছবি

    ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার খেতাবের জন্য সেরা কয়েকটি ছবি

    রওয়ের আলোকচিত্রী অডান রিকার্ডসেন, যিনি মুলত বন্যপ্রাণীদের ছবি তোলেন, তার তোলা এই ছবিটি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আয়োজিত এ বছরের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় ‘হাইলি কমেন্ডেড’ বা অত্যন্ত প্রশংসিত ছবির তালিকায় স্থান পেয়েছে।

    আর্কটিক ওয়াইল্ডলাইফ ট্যুরস- এর গাইড হিসেবে কাজ করার সময় রিকার্ডসেন একটি সিলের শ্বাস নেওয়ার গর্তের নিচে মোশন সেন্সরযুক্ত একটি ক্যামেরা স্থাপন করেন যেটি পানির নিচেও কাজ করে। এরপর তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন।

    ভোর ৪টায় একটি স্ত্রী মেরু ভল্লুক সেখানে এসে নিচের দিকে তাকায়।

    এরপর রিকার্ডসেন ভল্লুকটি সরে যাওয়ার জন্য আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, তারপর ক্যামেরাটি উদ্ধার করে ছবিগুলো পর্যালোচনা করেন।

    তিনি যখন দেখলেন কী ধারণ করতে পেরেছেন, তখন বলেছিলেন, “আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। আমি চিৎকার করছিলাম, তাই সম্ভবত মাইলের পর মাইল দূরের সব মেরু ভল্লুককেও জাগিয়ে তুলেছিলাম।”

    রিকার্ডসেন এর আগে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন– ২০১৯ সালে ‘বার্ডস’ এবং ২০২৫ সালে ‘ওশান্স: দ্য বিগার পিকচার’ ক্যাটাগরির ছবির জন্য।

    এই বছরের সব বিজয়ীদের নাম ১৩ই অক্টোবর ঘোষণা করা হবে। এরপর লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম-এ একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত প্রশংসা পাওয়া আরো কিছু ছবি দেখতে ও পেছনের গল্প জানতে এই প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।

    শিরোনাম: দ্য আর্ট অফ ফ্লায়িং

    আফ্রিকা থেকে বার্ষিক অভিবাসন শেষে সুইফট পাখিদের লন্ডনে ফিরে আসা দেখছিলেন ক্রকফোর্ড। পাখিদের তীক্ষ্ণ ডাক আকাশ ভরিয়ে তুলছিল। বেশিরভাগ পাখিই এত উঁচুতে উড়ছিল যে ছবি তোলা সম্ভব ছিল না। তবে নিচু দিয়ে উড়া কয়েকটি পাখি তাকে কাঙ্ক্ষিত ছবিটি ধারণের সুযোগ করে দেয়।

    সুইফট পাখিরা জীবনের প্রায় পুরো সময় আকাশেই কাটায় এবং সাধারণত শুধু নিজের বাসা পর্যন্ত নামে।

    শিরোনাম: আরবান ওয়ান্ডারার বা শহুরে পরিব্রাজক

    বৃষ্টির পর একটি ব্যাঙ-কে শহরের রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে দেখেন আলোকচিত্রী মিয়াজাওয়া। তিনি ধীর শাটার গতিতে সেটির ছবি তোলেন, তারপর ব্যাঙটি আবার ঝোপে লাফিয়ে চলে যায়।

    এই ইস্টার্ন জাপানিজ টোড প্রজাতির ব্যাঙ সাধারণত পূর্ব জাপানের বন, তৃণভূমি ও অন্যান্য স্থলভাগের আবাসস্থলে পাওয়া যায়। তবে নগর পরিবেশের সঙ্গেও এরা আশ্চর্যজনকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

    শিরোনাম: লিফটেড টু দ্য সারফেইস

    নরওয়েজিয়ান ওরকা সার্ভে, অর্থাৎ যেসব ওরকা বা খুনে তিমি নরওয়ের উপকূলে দেখা যায় সেগুলোর ওপর একটি জরিপের জন্য ড্রোন ওড়ানোর সময় একটি পূর্ণবয়স্ক ওরকাকে একটি মৃত শাবকের দেহ বহন করতে দেখেন ফটোগ্রাফার আসেন।

    নরওয়ের একটি ফিয়র্ডে (সমুদ্রের খাঁড়ি) বারবার শাবকটিকে ডুবতে দিচ্ছিল ওরকাটি, তারপর আবার পানির ওপর নিয়ে আসছিল। দৃশ্যটি দেখা কঠিন ছিল, কিন্তু আসেন মনে করেছিলেন এটি নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

    এই আচরণ শাবকটিকে পুনরুজ্জীবিত করা অথবা সুরক্ষার চেষ্টা হতে পারে। এর আগে কিলার হোয়েলদের মৃত শাবক বহন করতে দেখা গেছে। এক ঘটনায় একটি স্ত্রী তিমি অন্তত ১৭ দিন ধরে তার মৃত শাবককে বহন করেছিল।

    ২০২৬ সালের একটি গবেষণা ইঙ্গিত দিয়েছে, এই ধরনের আচরণ প্রজাতিটির মধ্যে আগে ধারণার তুলনায় আরও বিস্তৃত হতে পারে।

    শিরোনাম: বাইটিং ব্যাক

    ছবিগুলো পর্যালোচনা করার সময়ই গ্রামাটিকো যমজরা বুঝতে পারেন যে তারা ফের-দে-লেন্স ভাইপারের মাথায় বসে থাকা একটি মশাকেও ধারণ করেছেন।

    তারা এটিকে তাদের “তৈরি সবচেয়ে কঠিন ফোকাস-স্ট্যাকগুলোর একটি” বলে বর্ণনা করেছেন।

    অত্যন্ত বিষধর এই সাপটি মধ্য আমেরিকায় অন্য যেকোনো প্রজাতির তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী সাপের কামড়ের জন্য দায়ী। এটি খুব ভালোভাবে ছদ্মবেশ নিতে পারে এবং চাষাবাদের এলাকাতেও মিশে থাকতে পারে, ফলে কখনও কখনও শ্রমিকদের চোখ এড়িয়ে যায়।

    শিরোনাম: উইংস অফ ডার্কনেস

    ব্রাজিলের পানটানাল জলাভূমিতে একটি মৃত কুমিরের ওপর বসে থাকা কালো শকুনের ছবি তোলেন পার্কিনসন। তিনি নৌকাকে দূরে রেখে দীর্ঘ টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করে ছবিটি ধারণ করেন।

    শকুনটি উড়ে যাওয়ার পর ফ্রেমের বাইরে অপেক্ষমাণ একটি চিতা বাঘ এসে মৃতদেহটির দখল নেয়। এরপরই পার্কিনসন ইয়াকারে কাইম্যান প্রজাতির কুমিরটির মাথার পেছনে অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার ও সোজা একটি ক্ষতচিহ্ন লক্ষ্য করেন, যা সম্ভবত দ্রুতগতির কোনো নৌকার আঘাতে তৈরি হয়েছিল বলে তিনি সন্দেহ করেন।

    শিরোনাম: আই অফ দ্য স্টর্ম

    নামিব মরুভূমিতে নামাকোয়া ক্যামেলেয়ন প্রজাতির একটি গিরগিটির ছবি তোলার সময় হঠাৎ বাতাস জোরালো হয়ে বালুঝড় শুরু হয়। দৃষ্টিসীমা দ্রুত কমে যায় এবং শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

    এই ক্যামেলিয়নগুলো মরুভূমির বিশেষজ্ঞ। তারা সরাসরি বাতাস থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহ করতে পারে। তাদের ত্বকে জমা শিশির অণুবীক্ষণিক খাঁজ বেয়ে মুখের দিকে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তাদের জিহ্বা গাছপালা, বালু ও পাথরে ঘনীভূত কুয়াশার পানিও সংগ্রহ করতে পারে।

    শিরোনাম: ফ্লক অফ গোল্ড

    একটি ছোট জলাশয়ের কাছে পাখিদের জড়ো হতে দেখছিলেন মাতে। ঠিক তখনই হাজার হাজার রেড-বিল্ড কেলিয়া পাখির দল সোনালি বিকেলের আলোয় পানি পান করতে নেমে আসে।

    এত বিপুল সংখ্যক ডানার নড়াচড়ায় এমন বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল, যা ৩০ মিটার দূর থেকেও অনুভব করা যাচ্ছিল– বলেন ফটোগ্রাফার। এই পাখিগুলো দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ পর্যন্ত সদস্যের ঝাঁক গঠন করতে পারে। বাচ্চা ফুটাতে পারে- এই প্রজাতিতে এমন পাখির সংখ্যা দেড়শ কোটি পর্যন্ত হবে বলে ধারণা করা হয়। পৃথিবীতে এই পাখিই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলেও মনে করা হয়।

    শিরোনাম: মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস

    সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণীর খোঁজ করতে গিয়ে পোর্টার একটি রেড-বিল্ড অক্সপিকার পাখিকে সাদা গণ্ডারের গায়ে ঠোঁট ঘষতে দেখেন।

    এই পাখিরা গণ্ডারের শরীরে থাকা পোকামাকড় খায় এবং প্রহরীর ভূমিকাও পালন করতে পারে। বিপদ এগিয়ে এলে তারা ডাক দিয়ে গণ্ডারকে সতর্ক করে। সোয়াহিলি ভাষায় এই পাখিকে বলায় হয় ‘আসকারি ওয়া কিফারু’, যার অর্থ ‘গণ্ডারের রক্ষী’।

    শিরোনাম: আপ অ্যা ট্রি ইউদাউট অ্যা স্কুইরেল

    হাটন দেখেছিলেন একটি তরুণ চিতাবাঘ একটি কাঠবেড়ালিকে গাছে তাড়া করে তুলেছে। এর আগে তিনি চিতাবাঘটিকে একটি খরগোশ শিকার করতে ব্যর্থ হতেও দেখেছিলেন।কাঠবেড়ালিটি আরও ওপরে উঠে পালিয়ে যায়, আর চিতাবাঘটি কিছুক্ষণ কাণ্ড আঁকড়ে থাকার পর অস্বস্তিকরভাবে নিচে নেমে আসে।

    তরুণ চিতাবাঘদের জন্য টিকে থাকার বিষয়টি মোটেও নিশ্চিত নয়, কারণ অর্ধেকেরও কম চিতা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার বয়স পর্যন্ত পৌঁছায়। পুরুষ চিতাবাঘ, সিংহ এবং অন্যান্য শিকারি তাদের জন্য হুমকি।

    শিরোনাম: স্প্লিট-সেকেন্ড এসকেইপ

    একটি আফ্রিকান বুলফ্রগ একটি প্রজাপতি ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কিন্তু ব্যর্থ হয়।

    ভারী বৃষ্টির পর আগের সফরে ব্যাঙাচি দেখেছিলেন কুলমান। পরের মাসে ফিরে এসে তিনি জলাশয় ও গর্তগুলোতে তরুণ বুলফ্রগ-এ ভরা দৃশ্য দেখতে পান। তিনি দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তরুণ ব্যাঙগুলোকে ‘নড়াচড়া করে এমন সবকিছু খেতে’ দেখেছেন।

    পূর্ণবয়স্ক আফ্রিকান বুলফ্রগ -এর দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং বছরে প্রায় ১০ মাস তারা মাটির নিচে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। বৃষ্টির পর তারা প্রজনন ও খাদ্যগ্রহণের জন্য বেরিয়ে আসে।

    শিরোনাম: হিডেন ড্রাগন

    অবস্থান: ইকুয়েডরের নাপো প্রদেশের ওয়াইল্ডসুমাকো বায়োলজিক্যাল স্টেশান মাত্র ১৫ মিলিমিটার দীর্ঘ একটি লাইকেন ড্রাগন ক্যাটিডিড-এর ছবি তুলছিলেন ইউজেন। এটি চারপাশের শ্যাওলার সঙ্গে এতটাই মিশে ছিল যে আলাদা করা কঠিন ছিল।

    পোকাটি নড়াচড়া করার সময় তিনি সেটিকে দেখতে পান, কিন্তু তারপরও ভিউফাইন্ডারের মধ্যে পটভূমি থেকে আলাদা করা কঠিন ছিল। শুধু ইকুয়েডরের আন্দিজ পর্বতমালায় পাওয়া যায় এই প্রজাতি। এর কাঁটাযুক্ত বর্ম ছদ্মবেশ ভেদ করতে সক্ষম শিকারিদের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

    শিরোনাম: কাম অ্যামিড দ্য স্টর্ম

    সূর্যোদয়ের সময় তীরের কাছে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছের একটি ঝাঁকের ছবি তুলছিলেন গ্রস, যখন একটি ঝড় এগিয়ে আসছিল। পানির ওপর ও নিচের অংশ একসঙ্গে ধারণ করা একটি বিভাজিত-স্তরের ছবি তৈরির জন্য তিনি ভাসমান অবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখতে ক্যামেরাটি উল্টো করে ধরেন এবং কৌতূহলী মাছগুলোর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান।

    বিশ্বের বহু অঞ্চলে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছ ধরা হয়, তবে এখানে তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। ২০২৩ সালে ডি’অ্যারোস দ্বীপের চারপাশের জলসীমাকে একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া) ঘোষণা করা হয় এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

    এটি ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর স্থলভাগ ও মহাসাগরের ৩০ শতাংশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী যে উদ্যোগে বিভিন্ন সরকার অংশ নিয়েছে, তারই অংশ।

    শিরোনাম: পুলটাইম পাসটাইম

    এলিয়ট একজন স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ির রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতেন, এই আশায় যে বাগানের মধ্যে দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করা কালো ভাল্লুকগুলোর ছবি তুলতে পারবেন।

    তিনি একটি ভাল্লুককে বাগানের পুকুরে ডুব দিতে দেখেন, যা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে বন্যপ্রাণী ও আবাসিক জীবনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সাধারণ সংমিশ্রণকে তুলে ধরে, যেখানে আবাসন প্রকল্পগুলো ভাল্লুকের আবাসস্থলে ঢুকে পড়েছে।

    শিরোনাম: ওশান প্রোটেকটর

    মন্টেরে উপসাগরের অগভীর পানিতে একটি ইলগ্রাসের তৃণভূমির মধ্য দিয়ে ধীরে ভেসে যাচ্ছে একটি সি হেয়ার বা সামুদ্রিক শামুক। সন্ধ্যার আলোয় সেখানে ছবি তুলছিলেন পেস।

    তিনি এই দৃশ্যটিকে দেখেছেন একটি আশাব্যঞ্জক প্রতিচ্ছবি হিসেবে, যেখানে “এক কোমল দৈত্য সমুদ্রের শেষ সবুজ তৃণভূমিগুলোকে রক্ষা করছে”। লাল শৈবাল খেয়ে সি হেয়ারগুলো ইলগ্রাস পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে। এই শৈবাল কখনও কখনও সূর্যের আলো তৃণভূমিতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য ইলগ্রাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কার্বন শোষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার।

    শিরোনাম: দ্য শো গৌজ অন

    প্রাণী দিয়ে প্রদর্শনী করা একটি সার্কাস শহরে এসেছে জানতে পেরে রোহাস সেটি নথিবদ্ধ করতে যান। সেখানে তিনি দেখেন, একটি বাদামি ভালুক ছোট একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আছে। ভালুকটির মুখে মুখবন্ধনী পরানো ছিল এবং সেটিকে মোটরসাইকেলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তার কাছে এই দৃশ্যটি প্রাণীটির বন্য স্বভাব এবং তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া মানবসৃষ্ট পরিবেশের মধ্যকার বৈপরীত্যকে তুলে ধরেছে।

  • পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?

    পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?

    কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি বনের ভেতর দিয়ে নীরবে হেঁটে চলে কালো-সাদা এক প্রাণী। চারপাশে শুধু বাঁশের মৃদু শব্দ। কোথাও মানুষের কোলাহল নেই, নেই আধুনিক সভ্যতার চিহ্ন। এই শান্ত পরিবেশেই জন্ম নেয় পৃথিবীর অন্যতম বিরল স্তন্যপায়ী পান্ডা। আর এই পান্ডার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে চীনের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও আবেগ।

    চীনে পান্ডা শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি সৌভাগ্য, শান্তি ও প্রকৃতির ভারসাম্যের প্রতীক। দেশটিতে শিশুরা বড় হয় পান্ডার ছবি দেখে, সংরক্ষণকর্মীরা জীবন উৎসর্গ করেন তাদের রক্ষায়, আর রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও পান্ডাকে দেখা হয় জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে।

    একসময় যে প্রাণীটি ছিল বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে, আজ তাকে ফিরিয়ে আনার পেছনে শুধু বিজ্ঞান নয়; মানুষের ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও দীর্ঘ সংগ্রামও কাজ করেছে। তবু বিস্ময় থেকেই যায়, এই বিশাল পৃথিবীর দেশে দেশে এত বন, পাহাড় আর সংরক্ষিত এলাকা থাকা সত্ত্বেও কেন পান্ডার স্বাভাবিক জন্ম ও বসবাস শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ?

    জায়ান্ট পান্ডা: সংখ্যা, গড়ন, বাসস্থান আর খাদ্যাভ্যাস

    ভালুক পরিবারের সদস্য জায়ান্ট পান্ডা কালো-সাদা রঙের, আকারেও বড়। এদের প্রাপ্তিস্থান শুধু চীন। জায়ান্ট পান্ডা শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে চীনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছে। জায়ান্ট পান্ডার চোখের চারপাশে, কান, নাকের অংশ, পা ও কাঁধে কালো লোম থাকে। আর সারা শরীরের ঘন ও উলের মতো লোম তাদেরকে ঠান্ডা পাহাড়ি পরিবেশে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করে।

    একটি পূর্ণবয়স্ক পান্ডার দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় মিটার এবং কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার। ওজন হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি। তবে পুরুষ পান্ডা স্ত্রী পান্ডার তুলনায় একটু বড় ও ভারী। আর নবজাতক পান্ডা শাবক আকারে প্রায় একটি ভুট্টার মোচার মতো। মায়ের আকারের তুলনায় জন্মের সময় এত ছোট শাবক আর কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীরই হয় না।

    এদের পরিপাকতন্ত্র মাংসাশীর মতো হলেও বিবর্তনের ফলে তারা প্রায় পুরোপুরি তৃণভোজী, বিশেষত বাঁশনির্ভর হয়ে পড়েছে। একটি জায়ান্ট পান্ডাকে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ৩৮ কেজি পর্যন্ত বাঁশ খেতে হয়। বাঁশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কারণ তাদের আবাসস্থল, বাঁশবন ধ্বংস হলেই পান্ডার অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে পড়ে যায়।

    তবে তারা যে শুধু বাঁশই খায়, তা না। তাদের খাদ্যের প্রায় এক শতাংশে অন্য উদ্ভিদ এবং মাঝে মাঝে ছোট প্রাণীও থাকে। তাদের একটি চওড়া শক্ত দাঁত এবং কবজির বিশেষ একটি হাড় আছে, যা আঙুলের মতো কাজ করে। এই কারণেই তারা খুব দক্ষভাবে বাঁশ আঁকড়ে ধরে খেতে পারে।

    বনে ঠিক কতগুলো পান্ডা আছে, তা নির্ধারণ করা মোটেও কোনো সহজ কাজ নয়।

    আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (ডব্লিউ ডব্লিউ এফ) দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে জায়ান্ট পান্ডা সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি বলছে, পান্ডার উপস্থিতির চিহ্ন খুঁজে পাওয়াটা এক পরিশ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। অনেক সময় একেকটি গবেষক দলকে টানা কয়েক দিন ধরে বনভূমির প্রতিটি মিটার এলাকা খুঁটিয়ে দেখতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি বাঁশবনে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটে শুধু পান্ডার মল পাওয়ার আশায়।

    কোথাও যখন পান্ডার মল পাওয়া যায়, তখন তা ছেঁকে ‘হজম না হওয়া’ বাঁশের অংশ আলাদা করা হয় এবং এরপর দাঁতের কামড়ের দাগ বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় কোনটি কোন পান্ডার। কারণ প্রতিটি পান্ডার কামড়ের ছাপ আলাদা, ঠিক মানুষের আঙুলের ছাপের মতো।

    আর একটি পান্ডা দিনে প্রায় ৫০ বার মলত্যাগ করতে হয়। কারণ বাঁশে পুষ্টিগুণ খুব কম এবং এর অধিকাংশই হজম হয় না। তাই তারা যেমন প্রচুর বাঁশ খায়, তেমনি সেই বাঁশ মলত্যাগের মাধ্যমে দ্রুত বেরও হয়ে যায়। দেখা গেছে, একটি পান্ডা দিনের ১২ ঘণ্টাই শুধু খায়।

    পান্ডা রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বনে বসবাসকারী জায়ান্ট পান্ডার সংখ্যা এক হাজার ৮৬৪টি। যদিও এই সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবে এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ সত্তরের দশকের শেষ দিকে পান্ডার সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজারেরও কম।

    উল্লেখ্য, বনের বাইরে চিড়িয়াখানা ও প্রজনন কেন্দ্রে ছয়শোর মতো পান্ডা আছে। তবে এই বন্দি জায়ান্ট পান্ডাগুলোর সিংহভাগই চীনে। আর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে হাতে গোণা কিছু সংখ্যক পান্ডা আছে। কিন্তু সেগুলোর সবই চীনা সরকারের ধার দেওয়া।

    ডব্লিউ ডব্লিউ এফ বলছে, বনে জায়ান্ট পান্ডা গড়ে ১৪ থেকে ২০ বছর বাঁচলেও চিড়িয়াখানা বা সংরক্ষণ কেন্দ্রে ভালো যত্নের কারণে তারা ৩০ বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারে।

    কেন শুধু চীনেই প্রাকৃতিকভাবে জায়ান্ট পান্ডা জন্মায়?

    জায়ান্ট পান্ডা আজ প্রাকৃতিকভাবে শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং হাজার বছরের পরিবেশগত ইতিহাসের ফল। একসময় এই এদের বিচরণ ছিল দক্ষিণ ও পূর্ব চীন ছাড়িয়ে মিয়ানমার ও উত্তর ভিয়েতনাম পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিকাজ-বসতির চাপে একসময় বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা জায়ান্ট পান্ডার আবাসস্থল ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তারা টিকে থাকে শুধু চীনের দুর্গম পাহাড়ি বনেই, যেখানে প্রকৃতি এখনো তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও আশ্রয় জোগাতে পারে।

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র প্রায় ২০টি বিচ্ছিন্ন বাঁশবনে জায়ান্ট পান্ড রয়েছে। যেগুলো চীনের সিচুয়ান, শানশি ও গানসু প্রদেশে ছয়টি পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। অধিকাংশ বন্য পান্ডাই এখন মিনশান ও চিনলিং পর্বতমালায় বাস করে।

    আবাসস্থল ধ্বংসই যেহেতু পান্ডার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাই, চীনের সরকার ৬৭টি পান্ডা সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তুলেছে, যেখানে বন্য পান্ডাদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নিরাপদে বাস করছে এবং সংরক্ষিত করা হয়েছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রাকৃতিক আবাস। এছাড়া, বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলগুলোকে যুক্ত করতে বিশেষ বাঁশ করিডোর তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে তা দিয়ে পান্ডারা নতুন এলাকায় যেতে পারে, বেশি খাবার পায় এবং সঙ্গী খুঁজে নিয়ে প্রজনন বাড়ায়।

    আর, ইতোমধ্যেই বলেছি যে পান্ডার প্রধান খাবার বাঁশ, যা সবচেয়ে ঘন ও বৈচিত্র্যময়ভাবে বেড়ে ওঠে চীনের ওই পাহাড়ি বনাঞ্চলগুলোতেই। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাঁশের প্রজাতি ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম স্থানে আছে চীন।

    পাশাপাশি, পান্ডা গরম সহ্য করতে পারে না। তাই, চীনের ওই উঁচু পাহাড়, কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকা আর স্থায়ী শীতল আবহাওয়া পান্ডার শরীর ও জীবনযাপনের জন্য আদর্শ।

    যেভাবে বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এলো পান্ডা

    জায়ান্ট পান্ডার অস্তিত্ব প্রথমবার পশ্চিমা বিশ্বের নজরে আসে ১৮৬৯ সালের মার্চে, যখন এক শিকারি একটি পান্ডার চামড়া পৌঁছে দেন ফরাসি ধর্মযাজক ও প্রকৃতিবিদ আর্মান্ড ডেভিডের হাতে। এই ঘটনাই ইউরোপে পান্ডাকে পরিচিত করে তোলে বৈজ্ঞানিক জগতে।

    এরপর বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমা শিকারি ও সংগ্রাহকদের মাধ্যমে পান্ডা ধীরে ধীরে বিশ্বের নজরে আসে। ১৯২৯ সালে রুজভেল্ট পরিবারের দুই ভাই প্রথম বিদেশি হিসেবে একটি পান্ডা শিকার করেন, যা সে সময় পশ্চিমা বিশ্বে পান্ডাকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

    তবে পান্ডাকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও জনপ্রিয়তার বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৩৬ সালে। সে বছর আমেরিকান নারী অভিযাত্রী রুথ হারকেস একটি জীবিত শিশু পান্ডাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলে প্রাণীটি মুহূর্তেই গণমাধ্যমের নজর কাড়ে। তখন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে পান্ডার ছবি নিয়মিত ছাপা হতে থাকে। আদুরে চেহারা, বড় চোখ, গোল মুখ, নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের কারণে পান্ডা মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয়। সেখান থেকেই শুরু ‘পান্ডা কাল্ট’-এর।

    পরের দশ বছরে বিদেশিরা চীন থেকে অন্তত ১৪টি জায়ান্ট পান্ডা নিয়ে যায়। কখনো প্রদর্শনের জন্য, কখনো ব্যক্তিগত সংগ্রহে। তখন পান্ডা ছিল এক ধরনের দুর্লভ আকর্ষণ। কিন্তু ১৯৪৬ সালে চীন সরকার এই পান্ডা নেওয়ার দরজা বন্ধ করে দেয়। বিদেশিদের হাতে পান্ডা নেওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। এটি ছিল পান্ডা রক্ষার জন্য প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।

    এদিকে, জনপ্রিয়তার আড়ালে দ্রুত ধ্বংস হচ্ছিলো পান্ডার বনভূমি। তাই, ষাটের দশকের শুরুতে চীন প্রথমবারের মতো পান্ডা সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে এবং শিকার নিষিদ্ধ করে।

    সত্তরের দশকে জরিপে ধরা পড়ে, বনে থাকা পান্ডার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে, সিচুয়ান প্রদেশে পান্ডার উপযুক্ত বনাঞ্চলের অর্ধেকের বেশি ততদিনে হারিয়ে গেছে। এই বাস্তবতা বিশ্বজুড়ে আরও কঠোর পান্ডা সংরক্ষণ নীতির জন্ম দেয়। নব্বইয়ের দশকে পান্ডার আবাসস্থলের বড় অংশ সংরক্ষিত অঞ্চলের আওতায় আনা হয়।

    ফলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে পান্ডা। একের পর এক জাতীয় জরিপে দেখা যায়, বিলুপ্তির কিনারা থেকে ফিরে বাড়ছে তাদের সংখ্যা। ২০০৪ সালে যেখানে বনে পান্ডা ছিল প্রায় এক হাজার ৬০০টি, সেখানে ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৮৬৪টিতে।

    ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ – পান্ডা যখন কূটনীতির ভাষ

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চীন কূটনৈতিক সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ২৪টি পান্ডা বিভিন্ন দেশে উপহার দেয়। পান্ডা উপহার দেওয়ার এই ধারণাটি ১৯৬০ সালে ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ নামে পরিচিত হয়।

    বিশেষ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন চীনের নেতা মাও জেদং ষাটের দশকে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রকে এবং সত্তরের দশকে যুক্তরাজ্যকে পান্ডা উপহার দেন।

    কিন্তু আশির দশকে চীন জায়ান্ট পান্ডাকে তাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে পান্ডা উপহার দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে ধার দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। সেই থেকে বিশ্বের যেখানেই যত জীবিত পান্ডা আছে, আইনত তার মালিক কেবল চীন। আর কোন দেশ পান্ডা পাবে, তা পুরোপুরি চীনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

    চীন কেবল তাদেরকেই পান্ডা ধার দেয়, যাদের সঙ্গে তারা ভালো বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে চায় । অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ পল জেপসন, যিনি ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে গবেষণাও করেছেন।

    চীন যখন অন্য কোনো দেশে পান্ডা ধার দেয়, তখনও সেই পান্ডাগুলোর মালিকানা চীনের হাতেই থাকে। এমনকি বিদেশে জন্ম নেওয়া শাবকও আইনগতভাবে চীনের সম্পত্তি হিসেবে ধরা হয়। তবে পান্ডা রাখার জন্য ওইসব দেশের চিড়িয়াখানাগুলোকে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়, আর এর খাবার জোগানো ও যত্ন নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

    যেমন, চীনের ধার দেওয়া পান্ডাগুলো যেসব দেশ রাখে, তাদেরকে প্রতি জোড়া পান্ডার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড) দিতে হয় চীনকে।

    সাধারণত একটি পান্ডা ধার দেওয়ার চুক্তির মেয়াদ থাকে ১০ বছর। তবে প্রয়োজন হলে এবং দুই পক্ষ সম্মত হলে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোও হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পান্ডা ধার দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে বড় বাণিজ্য চুক্তি ছিল।

    যেমন, ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার চিড়িয়াখানায় দু’টো জায়ান্ট পান্ডা পাঠানোর পেছনে ছিল চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি। যার আওতায় স্কটল্যান্ড চীনে স্যামন মাছ, ল্যান্ড রোভার গাড়ি ও সমুদ্রের তেল উত্তোলন প্রযুক্তি বিক্রি করে। ২০১৪ সালে বেলজিয়ামে পাঠানো পান্ডাগুলোর পেছনেও ছিল উন্নত দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য চুক্তি।

    গত কয়েক বছরে অনেক পান্ডাকেই আবার চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো জাপান। পান্ডা ডিপ্লোম্যাসির অংশ হিসেবেই জাপানকে ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো পান্ডা উপহার দেয় চীন। শাও শাও এবং লেই লেই ২০২১ সালে জাপানের উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়। তাদের মা শিন শিন এবং বাবা রি রিকে প্রজনন গবেষণার অংশ হিসেবে জাপানকে ধার দেওয়া হয়েছিল।

    এখানে উল্লেখ্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের অনেক দেশই বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে অন্য দেশকে বিরল বন্যপ্রাণী উপহার দিয়ে আসছে। তবে বর্তমানে এটি আর খুব বেশি হয় না, কারণ এখন বেশিরভাগ বিরল প্রাণী চিড়িয়াখানাতেই প্রজননের মাধ্যমে জন্মায় এবং চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যেই আদান–প্রদান হয়।

    কিন্তু পান্ডার ক্ষেত্রে বিষয়টি একদমই আলাদা। কারণ তাদের ওই আশির দশকের ঘোষণার কারণে চীন সরকার ছাড়া আর কেউ কোনো জায়ান্ট পান্ডার মালিক হতে পারে না।

  • কুমিল্লায় জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

    কুমিল্লায় জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার মুরাদনগরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

    গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন— মামলার প্রধান আসামি মো: মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) ও মেয়ে ইতি (১৮)।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার ধরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলম তিতু (৩৫) ও খালেদা আক্তার বেবি (৭০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

    মামলার পর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি হনুফা বেগম ও ৩ নম্বর আসামি ইতিকে গ্রেফতার করা হয়।

    পরে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু ট্রেনযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশ আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মঞ্জুরুল আলম তিতু ও খালেদা আক্তার বেবি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান বলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

  • ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ভূঞাপুর যুবদলের দুই নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের বৃষ্টি হোটেলের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)। পুলিশ প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

    জানা গেছে, জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তারা দুজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারি করে আসছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে চাপে রাখতেন জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে।

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুজন জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা ট্যাবলেট গাবসারা থেকে নিয়ে এসে এলেঙ্গাতে বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।’

  • ইরান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে বসতে চাই যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে বসতে চাই যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানকে ঘিরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

    মঙ্গলবার হাউস ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বেসেন্ট জানান, ইরান যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে চীনের সঙ্গে এরই মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। হি লিফেংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে সেই আলোচনাকে আরো এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বেসেন্ট বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আগেই বেসেন্ট ও হি লিফেংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও কথা হতে পারে। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বেসেন্ট।

    এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বা নির্ণায়ক অর্থনৈতিক আঘাত হানার কথা বলেছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

    চীন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। ইরানের উৎপাদিত তেলের বড় একটি অংশ চীন কিনে থাকে। পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে বেইজিংয়ের ভূমিকা রয়েছে।

  • আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ–বানিয়াচং সড়কে বাসের ধাক্কায় শ্রাবণ সরকার (১৫) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    বুধবার আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসার পথে স্থানীয় পিঠাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রাবণ সরকারসহ তিন কিশোর একটি মোটরসাইকেলে করে আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসছিল। তারা পিঠাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

    বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা শ্রাবণ ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

    পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    নিহত শ্রাবণ সরকার (১৫) বানিয়াচং উপজেলা সদরের ২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের বাবুর বাজার সংলগ্ন বিদ্যাভূষণ পাড়ার বাসিন্দা। সে সুন্দর সরকারের ছোট ছেলে। শ্রাবণ বানিয়াচং নতুনবাজারের একটি সেলুনে কাজ করতেন।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বাসটির পরিচয় জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

  • মক্কার নিরাপত্তায় সৌদির পাশে মালয়েশিয়া

    মক্কার নিরাপত্তায় সৌদির পাশে মালয়েশিয়া

    মক্কার কাছে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের ওপর নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, ইসলামের পবিত্রতম শহরের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘কোনোভাবেই’ মেনে নেওয়া যায় না।

    মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আনোয়ার বলেন, মালয়েশিয়া সৌদি আরব সরকারের পাশে রয়েছে এবং মক্কার বাসিন্দা ও হজপালনকারী যাত্রীদের সুরক্ষায় দেশটির নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের আবারো মনে করিয়ে দেয় যে, এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

    আনোয়ার জনবহুল এলাকায়—বিশেষ করে পবিত্র স্থানগুলোর জন্য হুমকি হতে পারে এমন—সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, উত্তেজনা প্রশমনে বিলম্ব না করে সব পক্ষকে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।

    তবে হুথিরা পবিত্র স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এই অভিযোগকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছে।

  • আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    বিশ্বকাপের পর প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাঝে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সবাই ভেবেছিলেন প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াড হবে পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার।

    অবশ্যই। তবে ২২ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এখনো এমন কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি, যাঁর ওপর আলাদা করে চোখ রাখতে হয়। আসলে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলে সবারই চোখ থাকে নতুন কারও ওপর। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার তো এ বিষয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি। কারণ মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই স্কোয়াডেও মেসি থাকায় রোমান ভেগা যে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সেটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে।


    তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কোয়াডে রোমানই সবচেয়ে বড় চমক। টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা রোমান আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনে সমস্যার সমাধান হতে পারেন, যেখানে খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।

    ভেগার পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও।ভেগার ইনস্টাগ্রাম

    ভেগার খেলার ধরন কেমন

    তাঁর পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ওদিকে আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছেন। এখনই তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আগামী বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাই কাউকে তৈরি করতে হবে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই ভেগাকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    ভেগা বাঁ পায়ের ফুটবলার। বিরামহীনভাবে উইং ধরে ওঠা-নামা করতে পারেন। আক্রমণে ওঠার পথে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে পেছনে ফেলতে পারেন হরহামেশাই। গতি, ম্যাচ রিড করার ক্ষমতা, পায়ের কাজ, খেলা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী শট নেওয়ায় এরই মধ্যে বেশ নজর কাড়ছেন ভেগা।

    উঠে আসার পথটা যেমন ছিল

    ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স। এই কারণে ক্লাবটিকে কেউ কেউ ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ও বলেন। ভেগা উঠে এসেছেন এই ক্লাব থেকেই। বয়সভিত্তিক দল থেকে ২০২১ সালে এই ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে তাঁর অভিষেক।


    বুয়েনস এইরেসে ২০০৪ সালে জন্মানো ভেগার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁকে ৫০ হাজার ইউরোয় এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠায় জুনিয়র্স। ৪৫ লাখ ইউরোয় পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও বার্সা সে পথে হাঁটেনি। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবারও আর্জেন্টিনার ক্লাবটিতে ফেরেন ভেগা। জুনিয়র্সের একাদশে ধীরে ধীরে নিয়মিত হন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ১ গোলের সঙ্গে ৩টি গোল করিয়েছেন।

    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ।ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগা ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলেও। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলার পথে তাঁকে দেখা গেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।


    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। চুক্তি হয় পাঁচ বছরের। শুরুতে ক্লাবটির মূল দলে নিয়মিত তাঁকে দেখা না গেলেও এখন নিয়মিতই খেলছেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগ জয়ের পথে খেলেন ১৪ ম্যাচ, সব মিলিয়ে মৌসুমে ২৩ ম্যাচ। এ বছর জিতেছেন রাশিয়ান সুপার কাপও। সব মিলিয়ে রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা।

    মজার ব্যাপার, ভেগা জেনিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পরই তাঁকে কিনতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। কিন্তু সেই দর–কষাকষি আর আলোর মুখ দেখেনি।


    ক্লাব ফুটবলে ভালো খেলাটা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে ভেগাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে ধারণা দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর। সন্দেহ নেই ভেগা সেই চেষ্টাই করবেন। অন্তত জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখে সেটাই মনে হয়, ‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

    ভেগা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও। ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগার স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এখন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নপূরণের পালা। পারবেন তো? এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর শেষ প্রীতি ম্যাচ। স্কালোনির নজর কাড়তে ভেগাকে যা করার এসব ম্যাচেই করতে হবে।

  • মেলান্দহে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

    মেলান্দহে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মেলান্দহে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত শেখ ব্রিকসের ফিক্সড চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে মেলান্দহ পৌরসভার ফুলছেন্না এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে চিমনিটি উচ্ছেদ করা হয়।

    অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইমন হোসেনের নেতৃত্বে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম ছামিউল আলম কুরসি উপস্থিত ছিলেন। মেলান্দহ থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শেখ ব্রিকসটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। অভিযানের সময় ইটভাটাটির কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া যায়। ভাটার মালিকও ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে এ সময় কোনো জরিমানা করা হয়নি।

    তবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভাটাটির ফিক্সড চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়।

    জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম ছামিউল আলম কুরসি বলেন, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ইটভাটা। এখানে থাকা ফিক্সড চিমনি ২০১০ সাল থেকেই নিষিদ্ধ।’

    তিনি বলেন, সারাদেশে ফিক্সড চিমনি ও ড্রাম চিমনি উচ্ছেদের যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও আইনবহির্ভূত ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন রিতা রানী ও নাসিমা বেগম। পৌরসভার দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করাই তাদের দায়িত্ব। তবে অভিযোগ উঠেছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তাদের দিয়ে নিয়মিত পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসকের বাসায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে দুই নারী কর্মচারীকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। এ অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। তবে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

    অভিযোগ অনুসন্ধান

    অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহায়ক রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে এসে হাজিরা দেওয়ার পর চলে যান পৌর প্রশাসকের বাসায়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে দুপুর ১টার দিকে আবার পৌরসভায় ফেরেন তিনি।

    বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে রিতা রানীকে পাওয়া যায়নি। পরে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দেন। এরপর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে কাজ শেষে দুপুর ১টার দিকে আবার কার্যালয়ে ফেরেন।

    স্বীকারোক্তি

    পরে দুপুর ১টার দিকে রিতা রানীকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় কথা হলে তিনি প্রশাসকের বাসা থেকে কাজ করে ফেরার কথা জানান।

    সপ্তাহে কতদিন প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়—জানতে চাইলে রিতা রানী বলেন, ‘প্রতিদিনই যেতে হয়।’

    পৌরসভার একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, রিতা রানীর পাশাপাশি আরেক অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝে মধ্যে প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়। অর্থাৎ, তাদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজেও পাঠানো হচ্ছে।

    অন্য কর্মচারীদের অভিযোগ

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন রিতা রানীকে প্রশাসকের বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। তিনি যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। মাঝে মধ্যে রিতা রানী ও নাসিমা বেগম দুজনকেই একসঙ্গে বাসায় কাজ করতে যেতে হয়।

    ওই কর্মচারীর দাবি, একজন অফিস সহায়ক দিনের বড় একটি সময় পৌরসভা কার্যালয়ের বাইরে থাকায় দাপ্তরিক কাজে অন্য কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    ‘স্যারের অনুরোধে পাঠাই’

    দুই নারী কর্মচারীকে প্রশাসকের বাসায় পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে তিনি বলেন, প্রশাসকের বাসায় স্থায়ীভাবে কাজের লোক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্যারের এখানে কেউ থাকেন না। ছোট একটা মেয়ে নিয়ে থাকেন। তার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের মানুষ আছে। তবুও মাঝে মধ্যে রিতা তার মেয়েকে একটু রাখতে যায়। স্যারের অনুরোধে আমি পাঠাই।’

    তবে দুই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

    একপর্যায়ে প্রকৌশলী বলেন, ‘স্যারের জন্য কিছু করলেও তিনি কখনো খুশি হন না। তিনি সবসময় আরও চাইতেই থাকেন।’

    প্রশাসকের সহজ স্বীকারোক্তি

    অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনিও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে পৌরসভার কর্মচারীকে নিজের বাসায় পাঠানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।

    লাকি দাস বলেন, ‘আমি ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে একা থাকি। আমার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের লোক রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে রিতাকে আমার মেয়েকে একটু রাখার জন্য বাসায় পাঠাই।’

    অফিসের কর্মচারী দিয়ে ব্যক্তিগত বাসার কাজ করানো যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি পারি না। তবে মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে নিতে হয়।’

    পরে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ছোট বিষয়। যেহেতু আপনারা বলেছেন, তাকে আর বাসায় নেব না।’

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস।

    বিষয়টাকে মানবিক বললেন: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

    এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘বিষয়টা একটু মানবিক। তিনি এখানে একা থাকেন। বাসায় তার ছোট মেয়ে থাকে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘পৌরসভা আমার অধীনস্থ না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। যদিও এসিল্যান্ড হিসেবে তিনি আমার সহকর্মী। সেই ক্ষেত্রে আমি তাকে বলতে পারি, যেন এ ধরনের কাজ সে আর না করে।’

    পৌরসভার কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে প্রশাসকের বাসায় কর্মচারী পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করা হলেও, চাকরিচ্যুতির হুমকির অভিযোগ নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

  • হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও একসঙ্গে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।

    বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।

    এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ওই ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

    হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।

  • ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত লাখের বেশি

    ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত লাখের বেশি

    ইয়েমেনে সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী। অন্যদিকে বিদ্রোহী হুতি। হুতিদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকায় তাদের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না সরকারি বাহিনী। ফলে একের পর এক কৌশলগত এলাকা দখল করে নিচ্ছে তারা। পাশাপাশি সৌদি আরবেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। ইরান সমর্থিত হুতিরা এতদিন মুসলিমদের কিছু অংশের সমর্থন পেলেও এখন তা ম্লান হয়ে যেতে পারে।

    কারণ, তাদের ড্রোন পবিত্র মক্কা নগরীর কাছাকাছি চলে গিয়েছে। তার আগেই সৌদি বাহিনী তা ধ্বংস করেছে। ইসলামের পবিত্র স্থাপনা পবিত্র কাবা ও মদিনায় মসজিদে নববী। এগুলোর সম্মান, মর্যাদা মুসলিমদের কাছে সর্বোচ্চ। ফলে যদি পবিত্র মক্কা নগরীতে হুতিদের কোনো ড্রোন আঘাত হানে, তাহলে মুসলিম সেন্টিমেন্ট ঘুরে যেতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ইয়েমেনের এই সহিংসতায় দেশটির ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজার হাজার মানুষ বাব-আল মান্দেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছে। এমন তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সহিংসতার কারণে আরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় সীমিত সম্পদের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাপ বাড়ছে। এর ফলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তা দরকার।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনেক পরিবার খুব অল্প সময়ের নোটিশে সামান্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়েছে। আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা সবই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। কারণ আশ্রয় দেয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ইয়েমেনে নিবন্ধিত ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও এই লড়াইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা। ইরানের মিত্র হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। বাব আল-মানদেবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতেই তারা এমন পদক্ষেপ নেয়।
    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাব-আল মান্দেব এখন বিকল্প নৌপথ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাস্তুচ্যুত নারী আয়েশা মুহাম্মদকে গত সপ্তাহে হুতিরা বন্দরনগরী মোচার কাছে তার গ্রাম দখল করে নেয়ার পর নিজের পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখে পালাতে হয়েছে। মুহাম্মদ বলেন, তাদের আটকে রাখা হয়েছে এবং গুলি করা হচ্ছে। তাই তারা নিজেদের বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়ে আছে। তারা শুধু ভাত রান্না করছে, রুটি নেই, অন্য কিছুই নেই। আমার মেয়েরা আমাকে ফোন করে বলেছে, তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়। কিন্তু পরিস্থিতি এত কঠিন হয়ে গেছে যে তা সম্ভব হচ্ছে না।

    হোদেইদা থেকে বাস্তুচ্যুত হুসেইন হায়দারা জানান, পরিবার নিয়ে তাকে হঠাৎ করে পালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, আপনি খুব কষ্টে আপনার সন্তানদের এবং একেবারে প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিস সঙ্গে নিতে পারবেন। গোলাবর্ষণ ও স্নাইপারদের গুলিতে আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তার ভয়ে যত দ্রুত সম্ভব পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

    ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত চার দিনে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ বাব আল-মানদেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

  • শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষক আছেন তিনজন। খাতায় শিক্ষার্থীর নামও আছে ১১ জনের। তবে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসে না একজন শিক্ষার্থীও। নেই শ্রেণিপাঠ, পরীক্ষা বা কোলাহল। নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষকরা। ওঠে জাতীয় পতাকা, তবে বাজে না ঘণ্টা। এমনই অবস্থা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

    ১৯৮১ সালে বওলাতলা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হয়। ২০১৪ সালে দেশের অন্যান্য রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে এটিও সরকারি করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। একপর্যায়ে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষা বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকার অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন।

    গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ তিন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে উপস্থিত। অপর দুই শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে জন্মেছে আগাছা। বড় বড় ঘাসে ঢেকে গেছে মাঠ। দীর্ঘদিন যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের দেয়ালে ময়লা জমেছে, বারান্দার গ্রিলে ধরেছে জং। মলিন হয়ে পড়েছে বিদ্যালয় ভবনটিও।

    প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, বিদ্যালয়ের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে তাদের কেউ বিদ্যালয়ে আসে না। ফলে শ্রেণিপাঠদান কিংবা কোনো পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় না।

    তিনি জানান, তার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রামে। শিক্ষার্থী না থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। বিদ্যালয়টির আশপাশের এলাকায় মানুষের বসবাসও তুলনামূলক কম। সেখানে প্রায় ৭৫টি পরিবার রয়েছে।

    সুশীল কুমার বলেন, ২০২৪ সালের জুনে তারা নতুন নিয়োগ পেয়ে এই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। যোগদানের পর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কোনো অভিভাবকই তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাননি। এলাকার শিশুরা সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুল, সলঙ্গা বেসরকারি আদর্শ স্কুল ও স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আনতে পারিনি। শ্রেণিপাঠদান না হলেও আমরা বিদ্যালয়ে এসে অফিসের কাজ করি এবং নিয়মিত বেতন পাই।’

    শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

    উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৭৮টি। এসব বিদ্যালয় তদারকির জন্য ১১টি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে মাত্র একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে এতগুলো বিদ্যালয় একজন কর্মকর্তার পক্ষে যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব ছিল না।

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থার বিষয়টি দেখতে পান। সেদিন বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আনার চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয় অভিভাবক মনিরা ও আনোয়ারা খাতুন বলেন, একসময় বিদ্যালয়টিতে কিছু শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ভালো পড়াশোনা না হওয়ায় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কমে যায়। পরে তারা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। শিক্ষকদেরও আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি এলাকার মানুষও শিক্ষার বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন। বিদ্যালয়টি রক্ষায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের এখানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

  • সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

    সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

    কারো কাছে ইয়েমভার সাঁতারের হ্রদটি একটি ‘চমৎকার জায়গা’, রাজহাঁসে ভরা এক মনোরম জলাধার, গরমের দিনে ঠান্ডা পানিতে ডুব দেয়ার জন্য আদর্শ। আবার অন্যরা একে বলে কবরস্থান।

    রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত এই কৃত্রিম সৈকতের একটি ছবির নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, ‘পুরো শহর জানে, সেখানে শুধু হাড়ের ওপর হাড় রয়েছে।’

    দশকের পর দশক ধরে স্থানীয়রা এই হ্রদে সাঁতার কাটছেন। কিন্তু এটি তৈরি করা হয়েছিল এমন একটি স্থান খনন করে, যা একসময় সোভিয়েত গুলাগ ব্যবস্থার যারা শিকার হয়েছেন, তাদের গণকবর ছিল। গুলাগ ছিল জোরপূর্বক শ্রমশিবিরের একটি কুখ্যাত নেটওয়ার্ক।

    স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত তীরে মানবদেহের হাড় খুঁজে পান। মৃতদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা ফলক নেই, যা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারত। কর্তৃপক্ষ কখনোই স্থানটিকে চিহ্নিত করেনি।

    এমনকি সম্প্রতি ওই দেহাবশেষ নিয়ে কী করা উচিত তা নিয়ে বিতর্কের সময়ও তারা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যে হাড়গুলো গুলাগ বন্দিদের। খননের সময় একটি এক্সকাভেটর শুধু মাটিই নয়, মানুষের দেহাবশেষ এবং কফিনের কাঠের টুকরাও তুলে আনে।

    তবু মস্কো থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ওই স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। ভূগর্ভস্থ ঝরনার পানি গর্তে প্রবাহিত করা হয় এবং প্রায় ১৫ হাজার জনসংখ্যার ইয়েমভার বাসিন্দারা তখন থেকেই সেখানে সাঁতার কাটছেন।

    তবে পাঁচ বছর আগে ওই এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ড এবং একদল গবেষকের আগমন হাড়গুলো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুরো এলাকা আবার খুঁড়ে সব দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করা উচিত। অন্যরা সেখানে একটি ক্রুশ স্থাপনের আহ্বান জানান।

    আবার কেউ কেউ বলেন, এত হইচইয়ের প্রয়োজন নেই। গুলাগগুলো এতটা ভয়াবহ ছিল না এবং সেখানে ছিল শুধু অপরাধীরা। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছুই করেনি।

    এই নিষ্ক্রিয়তা রাশিয়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ওই সময়কার গণকবরগুলো সচরাচর চিহ্নিত করা হয় না।

    যারা ভুক্তভোগীদের নিয়ে গবেষণা বা তাদের স্মরণ করার চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর গুলাগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ক্রমশ নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    মস্কোর গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের হিসাব অনুযায়ী, (যা কর্তৃপক্ষ এ বছর বন্ধ করে দেয়), ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ সোভিয়েত শ্রমশিবির, দণ্ড উপনিবেশ ও কারাগারের মধ্য দিয়ে গেছে।

    তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখকে রাজনৈতিক কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। স্টালিনের আমলে এবং তার পরপরই পরিচালিত এই দমন-পীড়নের সময়ে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    আরো ৬০ লাখ মানুষকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জোরপূর্বক পুনর্বাসনের শিকার হতে হয়। কোমি ভাষায় ‘বিশুদ্ধ পানি’ অর্থে ব্যবহৃত ইয়েমভা শহরের উৎপত্তি ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি শ্রমশিবির থেকে।

    এলাকাটির বেশিভাগ বাসিন্দাই গুলাগ বন্দি অথবা প্রহরীদের বংশধর। পুরো কোমি অঞ্চলেই চিত্রটি প্রায় একই। এখনো ইয়েমভায় একটি সাজাপ্রাপ্ত পুরুষদের কলোনি চালু রয়েছে।

    উত্তরের উপ-আর্কটিক চিরসবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা শিবিরগুলোর জীবন ছিল নিষ্ঠুর। বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ছিল না। এমনকি শীতকালে তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেত, তখনও অনেককে মাটির গর্ত বা তাঁবুতে থাকতে হতো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা বন কেটে রেলপথ নির্মাণ করত।

    তাদের দৈনিক খাদ্য ছিল ৪০০ গ্রাম রুটি এবং এক বাটি স্যুপ। ইতিহাসবিদদের ধারণা অনুযায়ী, কোমির শিবিরগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক উভয় ধরনের মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি বন্দি গেছে। তবে সেখানে কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই।

    ২০২১ সালে নিকটবর্তী একটি ঘাসের আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা অন্তত তিনজন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পান। তখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

    তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে দেহাবশেষগুলোর বয়স অন্তত ১৫ বছর এবং সেখানে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অনুপস্থিতির কারণে’ তারা কোনো মামলা শুরু করেনি।

    তদন্তকারীদের সিদ্ধান্তে বলা হয়, যেখানে হাড় পাওয়া গেছে, সেটি ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে গুলাগ বন্দিদের একটি ‘অনানুষ্ঠানিক গণকবরস্থল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

    বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত, যদি না ছয় মাস পরে গুলাগ ইতিহাস নিয়ে কাজ করা একদল গবেষক আঞ্চলিক রাজধানী সিক্তিভকার থেকে সেখানে যেতেন।

    লেখক ও স্থানীয় ইতিহাসবিদ গ্রিগরি স্পিচাক বলেন, ‘আমরা খনির জায়গাটিতে গিয়েছিলাম এবং কিছু খুঁজতেও হয়নি, হাড় আমাদের সামনে প্রায় সাথে সাথেই দেখা দেয়।’

    তখন গবেষক দলের আরেক সদস্য ইগর সাজিন বলেন, “আমরা পাঁজরের হাড় এবং শ্রোণিচক্রের হাড় পেয়েছি। এগুলোকে পশুর দেহাবশেষ বলে ভুল করার উপায় নেই। ‘এভাবে ফেলে রাখা নিছক অমানবিক। অতীতের এই ভয়াবহ স্মৃতিচিহ্নকে স্বীকার না করেই ইয়েমভা তার জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছে।’

    রুশ আইনে নবআবিষ্কৃত সমাধিস্থল, যার মধ্যে ‘গণদমন-পীড়নের শিকারদের কবর’ও রয়েছে, কর্তৃপক্ষকে নিবন্ধন ও চিহ্নিত করতে হয় এবং প্রয়োজন হলে দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করতে হয়।

    সাজিন সরকারি কৌঁসুলির সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।প্রায় এক বছর পরে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও গির্জার কাছে অন্তত হ্রদের পাশে একটি ক্রুশ স্থাপনের অনুরোধ জানান।

    কিন্তু প্রশাসন কৌঁসুলির দফতরকে জানায়, আঞ্চলিক কারা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একটি স্থানীয় ইতিহাস জাদুঘরের সাথে যোগাযোগ করার পরও তারা এটিকে গুলাগের কবরস্থান হিসেবে প্রমাণ পায়নি।

    তবে অন্যরা এ বিষয়ে অনেক বেশি নিশ্চিত। গবেষক ওরেস্ট রোমাঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এগুলো অবশ্যই গুলাগের ভুক্তভোগীদের দেহাবশেষ, কারণ তাদের পোশাক ও জুতা ছাড়া, কোদালের ফলার সমান গভীরতায় সমাহিত করা হয়েছিল।’

    রাশিয়ায় গণদমন-পীড়নের ইতিহাস একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় এবং গণকবর শনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    পশ্চিম রাশিয়ার একটি গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের পরিচালক নিকোলাই আরাকচিয়েভকে অনুমতি ছাড়া একটি খুলি উত্তোলনের দায়ে জরিমানা করা হয়।

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, প্রতি মাসে বাড়ছে ৩০০ কোটি

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, প্রতি মাসে বাড়ছে ৩০০ কোটি

    ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এই ব্যয় প্রতি মাসে আরো ৩০০ কোটি ডলার করে বাড়তে পারে। মার্কিন কংগ্রেশনের নির্দলীয় বাজেট বিশ্লেষণ সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার উপায় খুঁজছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি করেছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্য সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সাথে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    ২১ জুলাই সিনেটের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের ব্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন। এই নতুন হিসাব তার কাছাকাছি।

    সিবিও জানিয়েছে, ব্যয়ের বড় অংশ এসেছে দ্রুত গতিতে গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। রয়টার্স আগস্টে জানিয়েছিল, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার দূরপাল্লার নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ব্যবহার করেছে।

    তবে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সাথে সহযোগিতা করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, জানিয়েছে সিবিও।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ইরানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলাকে ‘তেহরান যাতে মার্কিন সেনা বা স্বার্থের ক্ষতি করতে না পারে, তা ঠেকাতে নেয়া সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের সব কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ এবং তারও বেশি কিছু করার জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ, অস্ত্র ও মজুদ রয়েছে।’

    পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল গোলাবারুদের ঘাটতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে সময় ও স্থানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেবেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আমাদের কাছে রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই ব্যয় পর্যালোচনা করা হয়।

    এক বিবৃতিতে বয়েল বলেন, ‘ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপর্যয়কর যুদ্ধে ইতোমধ্যে সাহসী মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাণ গেছে এবং অন্যরা আহত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এই মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নির্দলীয় সিবিওর প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করেছে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে এবং সেই ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে।’

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

    তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় চালানো আক্রমণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধের অর্থায়নে ঋণ নেয়ার সুদ বা অন্যান্য ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। এসব ব্যয় মোট খরচের সাথে আরো কয়েক হাজার কোটি ডলার যোগ করতে পারে।

    মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব

    সিবিওর হিসাব বলছে, যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দেয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে পেন্টাগনের সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে সিবিও।

    জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুদ পুনরায় পূরণ করতে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার নয়, বরং প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলার জরুরি তহবিল চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই অর্থ না পেলে আমরা গুরুতর ঘাটতির মুখে পড়ব।’

    পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মহাপরিদর্শকের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতিও রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীতে হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণের কারণে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেই হরমুজ প্রণালীর সংকট ভোক্তা ও বৈশ্বিক উৎপাদকদের জন্য জ্বালানির দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

    যুদ্ধের বাড়তি ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল হয়ে পড়া আর্থিক পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি করছে। আগস্টে দেশটির মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    ট্রাম্প প্রায়ই ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের তুলনা করেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাথে।

    রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে আট বছর ধরে চলা যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে এক লাখের বেশি স্থলসেনা মোতায়েন ছিল এবং ব্যয় হয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল এবং ব্যয় হয়েছে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

  • সুদানে খনি ধসে ৬০ জনের প্রাণহানি

    সুদানে খনি ধসে ৬০ জনের প্রাণহানি

    সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি খনি ধসে অন্তত ৬০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান।

    ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম কর্ডোফানের এল-নাহুদ শহরের কাছে মঙ্গলবার আল-জারা স্বর্ণ খনির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে।

    পরদিন সকালে সেখান থেকে ৬০টি লাশ উদ্ধার করা হয়। খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া খায়ের আল-সাইয়েদ জানান, জাবারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা জানা যায়নি । খনি শ্রমিক সহকর্মীদের সাথে তিনি সারারাত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

  • চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে দুই যুবক গ্রেপ্তার

    চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে দুই যুবক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই যুবক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ।

    গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে কালীগঞ্জের দিঘারপাড়া গ্রামের প্রবাসী পারভেজ কামালের বাড়ির জানালা ভেঙে চোরেরা প্রায় সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণের গহনাসহ নগদ পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায়। পরদিন এ ঘটনায় কামালের স্ত্রী সীমা খাতুন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় এজাহার দেন।

    সীমা খাতুনের ভাষ্য, সেদিন গভীর রাতে চোরেরা তাঁর ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে। এতে বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে চোরেরা জানালার রড কেটে ঘরে ঢুকে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে ভোরের দিকে তাঁর মা ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখেন, জানালা ও আলমারি ভাঙা। এ সময় তারা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।

    পুলিশ জানায়, প্রবাসীর স্ত্রীর এজাহার পেয়ে তারা চুরির রহস্য ও মালপত্র উদ্ধারে মাঠে নামেন। তারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন, চোরেরা বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারে স্বর্ণ বিক্রি করতে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানার এসআই রানা প্রতাপের নেতৃত্বে পুলিশ ওই বাজারে অভিযান চালিয়ে কালীগঞ্জের দিঘারপাড়া গ্রামের রাহুল হোসেন (৩০) ও মেহেদী হাসানকে (২৫) আটক করেন। এ সময় তাদের শরীরে তল্লাশি করে স্বর্ণের চেন, কানের দুলসহ আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত দুই চোরকে আটক ও কিছু স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।

  • হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারহাট বাজারের পশ্চিম পাশে সোমপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবার হলো—মিলন দে, তপু দে, প্রভা রানী নাথ, তপন নাথ ও খোকন নাথের পরিবার।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে একটি বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ সময় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে তাদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মন্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিটারের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।