সারাদেশ

  • চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু-যুবাদের অন্তর্ভুক্তি দেখতে লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দল

    চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু-যুবাদের অন্তর্ভুক্তি দেখতে লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দল


    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
    যশোরের চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা লিলিয়ান ফন্ডসের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী তারা চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অংশীজন, প্রতিবন্ধী যুবা ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সেবা নিশ্চিতকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    মতবিনিময় শেষে লিলিয়ান ফন্ডসের প্রতিনিধি আলোদিয়া ক্যাটরিনা সান্তোস ও অ্যাঞ্জেলা ফ্রিংস, আশরাফ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত একটি কক্ষের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের জন্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    এরপর বিকেল ৩টায় প্রতিনিধি দলটি সিএমআইটি কলেজে প্রতিবন্ধী যুবাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে প্রতিবন্ধী যুবাদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা, কর্মসংস্থান এবং সমাজে অর্থবহ অংশগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যুবারা তাদের অভিজ্ঞতা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন।

    বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিনিধি দলটি খড়িঞ্চা গ্রামের কেয়ারগিভার রিসোর্স সেন্টার (সিআরসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের মায়েদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা পরিবারের অভিজ্ঞতা, সন্তানদের যত্ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে কথা বলেন।

    বিকেল ৪টায় প্রতিনিধি দলটি আশরাফ ফাউন্ডেশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চলমান উদ্যোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিডিডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস এম আলী হাসনাইন ফাতিম ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অফিসার বৈশাখী পশারী দ্রুতি, আশরাফ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম. রাসেল আশরাফ, স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কদর, সিএমআইটি কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন মনির, আশরাফ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর ও সিবিআর কর্মসূচির আশিষ চ্যাটার্জি, ফিল্ড ট্রেনার নজরুল ইসলাম,সিবিআর অফিসার মামুনুর রশিদ বকুল, সিবিআর ফ্যাসিলিটেটর সাইদুল ইসলাম, কমিউনিটি সিবিআর কর্মী পিংকি খাতুন, আশরাফ ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি অফিসার রকিবুল ইসলাম রিফাত এবং ইয়ুথ ক্লাবের সদস্য আরজিনা খাতুন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রতিবন্ধী যুবা, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দলের এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের জন্য চলমান কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

  • কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ১

    কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ মো: হাসান মিয়া (৩০) নামে এক ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর এলাকার জয়পাশা গ্রাম থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় তাকে আটক করা হয়।

    হাসান বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে মৌলভীবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে ডাকাতদলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে চলে যান।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ধৃত ডাকাতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ,আর

  • গলাচিপায় ১৩৫ লিটার চোলাই মদসহ বাবা-ছেলে আটক

    গলাচিপায় ১৩৫ লিটার চোলাই মদসহ বাবা-ছেলে আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় পুকুর পাড়ে লুকিয়ে রাখা ড্রাম ভর্তি ১৩৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ বাবা-ছেলেকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামর্দ্দন এলাকা থেকে এই মদ উদ্ধার করা হয়।

    আটকরা হলেন মো: আল আমিন মীর (৫০) ও তার ছেলে মো: রাব্বি মীর (৩০)। এ সময় রাব্বি মীরের কাছ থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলে গোপনে দেশীয় মদ তৈরি ও বিক্রি করে আসছিলেন। সোমবার স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের বাড়িতে মাদক থাকার সন্দেহে তল্লাশি করলে একপর্যায়ে বাড়ি সংলগ্ন পুকুরপাড়ের দক্ষিণ পাশে মাটির নিচে ড্রাম দেখতে পান। পরে ড্রামের ভেতর বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গলাচিপা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাবা-ছেলে নিজেরাই কাঁচামাল সংগ্রহ করে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় চোলাই মদ তৈরি করে আসার কথা স্বীকার করেছেন।

    এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, চোলাই মদসহ আটক করা বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। এরকম মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • সিলেট সীমান্তে বিজিবির ৭১ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে বিজিবির ৭১ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৮ বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন বাংলাবাজার, লাফার্জ, বিছনাকান্দি, শ্রীপুর, প্রতাপপুর ও তামাবিল বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারতীয় গরু, মদ, শাড়ি, জিরা, চকলেট ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা।

    চোরাইপণ্য জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • সোনারগাঁওয়ে ২ ভুয়া এসআরবি সদস্য আটক

    সোনারগাঁওয়ে ২ ভুয়া এসআরবি সদস্য আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দুজন ভুয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

    গত সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা অভিমুখী সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট থেকে তাদের আটক করা হয়।

    ধারণা করা হচ্ছে, তারা এসআরবি সদস্য পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে থাকেন।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন- ঝালকাঠির নলছিটি এলাকার মো: সোহেল (৩৫) ও গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার মো: সাজ্জাদ হোসেন সোহাগ (৩০)।

    পুলিশ জানায়, সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চন্দন দের নেতৃত্বে সোমবার রাতে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি করা হয়। এ সময় দুই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি কালো রঙের এসআরবির কটি, দুটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, পিস্তলের একটি কভার ও এসআরবির একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।
    পরিচয়পত্রটিতে ‘এমডি সুমন হোসাইন’ নামের এক কনস্টেবলের তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এ ছাড়া দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, ৯০টি প্লাস্টিকের টাই ও এফজেড-১ মডেলের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, জব্দ করা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিরা এসআরবি সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে তারা কেউ এসআরবি সদস্য না। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদ (২৫) ধলাগাছ সর্দারপাড়া এলাকার মরহুম জহুরুল ইসলামের ছেলে। আর সাব্বির হোসেন (২৮) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেল চোর চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত। আর ফরহাদ চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় করে নিজের হেফাজতে রাখতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর শহরের পার্বতীপুর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মতির মোড় এলাকায় শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করার পাশাপাশি ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘গ্রেফতার দুইজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘সৈয়দপুরে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আটকদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মো. রওশন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে, আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এ রায় দেন।
    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রওশন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর এলাকার বাসিন্দা।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কিশোরীটি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তাকে ডেকে রওশন শেখ তার চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে খাবার দেয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি মুরগির খামারের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে ২৩ মে পাটকেলঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামি রওশন শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
    বিচারক মামলার বাদী, চিকিৎসকসহ মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি রওশন শেখকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ আলমগীর আশরাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ,আর

  • নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার এবং তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযানগুলো চালানো হয়।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ মডেল থানা, সেনবাগ, চাটখিল ও চরজব্বর থানায় আটক কিশোরদের মধ্যে যথাক্রমে ৭, ৭, ১৩, ১১, ১১ ও ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ১৫১ ধারায় এবং একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কবিরহাট থানায় তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এ,আর

  • মহেশপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

    মহেশপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

    মহেশপুর ( ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির সহযোগী-অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের মহেশপুরে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মহেশপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ বাসস্ট্যান্ডে এসে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

    বিক্ষোভ মিছিল থেকে নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কথিত নৈরাজ্য ও সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    মিছিলটিতে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী ফয়সাল, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান রতন, সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ এরশাদ আলী, সদস্য সচিব সুরুজ্জামান সুরুজ, উপজেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব বাবুল আক্তার বাবুল এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ,আর

  • লালমনিরহাটে ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা, নিহত বেড়ে ৪

    লালমনিরহাটে ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা, নিহত বেড়ে ৪

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় একটি ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা দেওয়ার ঘটনায় আরও একজন মারা গেছে; এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন।

    সোমবার সকাল ৮টার দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কে উপজেলার ঘুন্টিবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।

    নিহতরা হলেন- উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের গুড়িয়াটারী এলাকার ফাতুল ইসলাম (৩৫) ও মোস্তাকিম হোসেন (১৮) এবং ইসলামপুর এলাকার নুর আমীন (৩০)।

    এ ছাড়া আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে আনোয়ার হোসেন (১৬)। সে বুড়িমারী আমানতুল্লাহ প্রধান উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    আহতরা হলেন- ঘুন্টিবাজারের জফর উদ্দিন (৬০) ও বাদশা মিয়া (৫৫), উফারমারা এলাকার দোকানদার মিশন ইসলাম (২০) ও সাইফুল ইসলাম (৩২), ইসলামপুরের আইনুল হক (৬৫) এবং বুড়িমারীর দিপু ইসলাম (৩০)।

    তাদের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

  • দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে বড় হয়েছেন আবুসালে মোহাম্মদ নাসিম। দাদা মজিবর রহমানের অনুপ্রেরণা, বাবা-মায়ের ত্যাগ এবং নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমে সেই নাসিম এখন বিচারক হওয়ার পথে। অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের নূরপাড়া গ্রামজুড়ে বইছে আনন্দের হাওয়া।

    আবুসালে মোহাম্মদ নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু পেশায় কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে নাসিম সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার খবর দাদা মজিবর রহমানকে জানালে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। তখন নাসিমকে ভবিষ্যতে জজ হওয়ার জন্য উৎসাহ দেন তিনি। দাদার সেই অনুপ্রেরণাই নাসিমের মনে বিচারক হওয়ার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে।

    পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহের কমতি ছিল না। তাদের ত্যাগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি নাসিমের নিজের অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।

    নাসিম ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৬ অর্জন করেন। এরপর খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    দীর্ঘ পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর নাসিম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের অষ্টাদশ পরীক্ষায় অংশ নেন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।

    নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু বলেন, ছেলেকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। সংসারে অভাব থাকলেও ওর পড়াশোনায় কোনো বাধা দিতে চাইনি। আজ ও জজ হওয়ার জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে, এটা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় আনন্দের বিষয়। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন, নাসিম আমাদের গ্রামের ছেলে। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, এতে আমরা গর্বিত। তার এই সাফল্য এলাকার অন্য ছেলেমেয়েদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।

    নাসিমের কলেজের শিক্ষক লেনিন বলেন, নাসিম ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। ভালো করার প্রবল আগ্রহ ছিল তার মধ্যে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই আনন্দের। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করবে।

    নাসিমের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূরপাড়া গ্রামসহ পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, নাসিমের এ সাফল্যে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তিনি যেন সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।

  • যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির অন্যতম প্রধান উৎপাদন এলাকা যশোরে এবার আগাম মেটে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বাজারে আসা এ কন্দজাতীয় ফসলের দামও রয়েছে চড়া। কম খরচ ও তুলনামূলক কম পরিচর্যায় ভালো লাভ হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মেটে আলুর চাষ বেড়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ খরিফ-২ মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮০ হেক্টর জমিতে মেটে আলুর চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২০ হেক্টর। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সদর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে এ আলুর চাষ বেশি হচ্ছে।
    যশোর বড় বাজার, চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও শার্শার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আগাম মেটে আলু ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। বড় আকারের আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত।

    যশোর বড় বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, ‘আগাম মেটে আলু বাজারে এলেই মানুষ কিনছে। চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে মেটে আলুর তরকারি এ অঞ্চলের মানুষের খুব পছন্দ। এখন প্রতিদিন ১ থেকে ২ মণ মেটে আলু বিক্রি করছি। সামনে শীত বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।’

    কম খরচে বেশি লাভ
    যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ তিন বছর ধরে মেটে আলু চাষ করছেন। এবার তিনি ৪০ শতক জমিতে এ আলু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে মেটে আলু চাষ করতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বীজ, বাঁশের মাচা আর জৈব সার দিলেই হয়। কোনো কীটনাশক লাগে না। এক বিঘা জমি থেকে ৪০ থেকে ৫০ মণ আলু পাওয়া যায়। আগাম বাজারে বিক্রি করলে ১ লাখ টাকার বেশি থাকে।’
    তিনি আরও বলেন, ‘মেটে আলুর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি গরু-ছাগলে খায় না। মাচায় ঝুলে থাকে বলে পচে যাওয়ার ভয় কম। মাটির নিচেও ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের আলু হয়। উপরে একটা, নিচে আরেকটা—ডাবল লাভ।’
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের নারী কৃষক আমির হোসেন বাড়ির আঙিনার পতিত জমিতে মেটে আলু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির পাশে ১০ শতক জমিতে ২০টি মেটে আলুর গাছ লাগিয়েছি। তেমন সার-পানি দিতে হয় না। বর্ষার সময় লাগালে এমনিতেই হয়ে যায়। গত বছর ১৫ হাজার টাকার আলু বিক্রি করেছি। এবার আরও বেশি হবে আশা করছি।’

    পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘মেটে আলুতে শর্করা, ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরে শক্তি যোগাতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।’
    তবে মেটে আলুর পুষ্টিগুণ ও রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা নিয়ে যে নির্দিষ্ট দাবিগুলো করা হচ্ছে, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিকতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    চাষ বাড়াতে উদ্যোগ
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরের মাটি মেটে আলু চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে উঁচু ও বেলে দোআঁশ মাটিতে ফলন ভালো হয়। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করছি এবং মাচা পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত করছি।’
    তিনি বলেন, ‘মেটে আলু লাভজনক ফসল। একবার বীজ লাগালে পরবর্তী বছরগুলোতেও তা দিয়ে চাষ করা যায়। আমরা চাই, প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় অন্তত দুই-তিনটি মেটে আলুর গাছ থাকুক। এতে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় দুটোই বাড়বে।’

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে মেটে আলুর বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বাজারে যশোরের মেটে আলুর চাহিদা তৈরি হয়েছে।

  • পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু

    পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় রুজুকা বেগম (৩০) ও তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ইয়ামনি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে রুজুকা বেগম এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শিশুকন্যার মৃত্যু হয়।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি এলাকার কালি ফ্যাক্টরির সামনে গাজীপুর-গাউছিয়া বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রুজুকা বেগম শেরপুরের শ্রীবরদী থানার বাগহাতা গ্রামের সেকান্দার আলীর মেয়ে এবং মনির হোসেনের স্ত্রী। তার মেয়ে ইয়ামনি। তারা গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন সালনা বাজার এলাকায় মোস্তফার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে সড়কের ওপর পড়ে ছিলেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পূবাইল থানার এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রুজুকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শিশু ইয়ামনিকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালালেও রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর অজ্ঞাত গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে ঘাতক গাড়ি ও চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    পূবাইল থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মা-মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তাদের লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি শনাক্তসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    মা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া গাড়ি শনাক্ত করে চালককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এ,আর

  • সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচে সেচ ব্যয় যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় আশা দেখছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের ফলে কৃষকের সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজেদের জমির চাহিদা মেটানোর পর অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় এসব পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কমছে সেচ ব্যয়
    সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে সেচ ব্যয় কম। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের মধ্যে সৌরশক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে।
    আরআরএফের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগে সেচ দিতে যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, এখন সোলার পাম্প ব্যবহারে একই পরিমাণ জমিতে সেচ ব্যয় কমে প্রায় ২০০ টাকায় নেমে এসেছে।
    কৃষকদের ভাষ্য, সোলার পাম্পে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কৃষকের বিনিয়োগে প্রকল্পের সহায়তা

    ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর সোলার পাম্প স্থাপনে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে তিনি ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
    তিনি বলেন, ‘সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারের ফলে সেচের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুতের ওপর আগের মতো নির্ভর করতে হচ্ছে না। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করতে পারছি। এতে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে।’

    ফুলচাষেও বাড়ছে ব্যবহার
    মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ফুলচাষীদের জন্যও সৌরচালিত সেচ পাম্প নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফুলচাষে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হওয়ায় সেচ ব্যয় কমলে উৎপাদন খরচও কমে।
    মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষীদের নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের সহায়তায় সোলার পাম্প স্থাপন করেছি। এখন নিজের জমির পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছি।’
    তিনি বলেন, ‘নিজের জমির সেচের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে পানি দিয়ে বাড়তি আয় করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতাও কমেছে।’
    মহেশপুরের ফুলচাষী গফুর মিয়া বলেন, ‘সোলার পাম্প স্থাপনের পর সেচের জন্য তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্যদের জমিতেও সেচ দিয়ে বাড়তি আয় করতে পারছি।’

    বাড়ছে পরিবেশবান্ধব সেচের সম্ভাবনা
    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারে কৃষকের আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমানো সম্ভব। ডিজেলচালিত পাম্পের ব্যবহার কমলে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি ধোঁয়া ও কার্বন নিঃসরণও কমবে। ফলে কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে সোলার পাম্প ভূমিকা রাখতে পারে।
    আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, ‘পিকেএসএফের সহায়তায় স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে।’

    তিনি জানান, সামনে আরও ১০০টির বেশি সোলার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
    তিনি আরও বলেন, ‘আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, সেখানে সোলার পাম্পের মাধ্যমে খরচ প্রায় ২০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষিতে লাভের সুযোগ বাড়বে।’

    কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদানের সুযোগ বাড়ানো হলে জেলার আরও বেশি কৃষক সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।

  • মিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

    মিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

    রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকারের পাঠানো এক বার্তায় এসব জানানো হয়।

    ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়।’ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাহলে আমরা করব ইনশাআল্লাহ।’

    স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারী দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের কোথাও কোনো অসামাজিক, অপকর্ম করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস চলছে।’

    পাশাপাশি রাড্ডার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, শাহ আলম তুহিন, ডা. মঈনুদ্দিন, জি এম হাফিজুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম মৃধাসহ অনেকে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ১২ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় ১২ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল, পারদ ও মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বিজিবি।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা বিজিবির অধীনস্থ দর্শনা, মুন্সিপুর, ফুলবাড়ী বিওপি ও আইসিপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা, ২০০ পিস ক্রিম, তিন বক্স চিকিৎসাসামগ্রী, দুটি ভারতীয় শাড়ি, ৩৪৮ পিস বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স ও ৯ দশমিক ৯ কেজি পারদ জব্দ করে। একই সাথে চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। জব্দ মালামালের মূল্য ১২ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা বলে জানা গেছে।

    অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিজিবি সীমান্ত এলাকাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির এ কঠোর অবস্থান ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    প্রচলিত ধান-পাট-গম চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে বিকল্প ফসলের সন্ধানে নেমেছিলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারোমাসি সজনে চাষের সম্ভাবনা দেখে এক বিঘা জমিতে ওডিসি-৩ জাতের ৩০০টি চারা রোপণ করেন তিনি। মাত্র ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগে শুরু করা সেই উদ্যোগে কয়েক মাসের মধ্যেই ফলন ও বিক্রি শুরু হয়। এখন বছরে একাধিকবার ফলন পাওয়া এই সজনে থেকেই ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন আক্তার। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই নতুন ফসলে।

    সরেজমিনে তার ক্ষেতে দেখা যায়, গাছজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লম্বা, সবুজ ও সতেজ সজনে। আক্তারের দাবি, দেশি সজনে সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে ফল দিলেও বারোমাসি ওডিসি-৩ জাতের গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল আসে। রোপণের ৫ থেকে ৭ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয় এবং একটি গাছ থেকে ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে তার প্রতিটি সুস্থ গাছে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সজনে ধরছে বলে জানান তিনি।
    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যশোর জেলা হর্টিকালচার সেন্টারে যোগাযোগ করে ভারতের তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ওডিসি-৩ জাতের চারা সংগ্রহ করেন আক্তার। প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ করে এক বিঘা জমিতে ৩০০টি চারা রোপণ করেন। সেই ছোট উদ্যোগ এখন তার কাছে সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
    কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, ‘চারা কেনা, জমি তৈরি আর জন-লেবার খরচ-টরছ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার খরচ ইতোমধ্যে উঠে গেছে। সামনে আশা করি লাভের মুখ দেখা যাবে।’

    বিক্রির হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৯-১০ মাসে ৪০ হাজারের মতো বেচাকেনা হয়ে গেছে। নতুন করে আবার ধরা শুরু করেছে। এই মৌসুমে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পাব বলে আশাবাদী। সজনের দামও ভালো। বর্তমান বাজারে ১০০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একবার লাগালে বছরে ৩-৪ বার সজনে তোলা যায়। ফলন আরও বাড়লে, গাছ-গাছালি প্রাকৃতিক দুর্যোগে না ভাঙলে ৩-৪ লাখ, ৫ লাখ টাকাও হতে পারে।’
    আক্তারের সাফল্য দেখে স্থানীয় বেকার যুবক ও প্রান্তিক কৃষকদের অনেকে সজনে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার দাবি, অসময়ে বাজারে পাওয়া যায় এবং আকারে লম্বা ও দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ওডিসি-৩ সজনের চাহিদা বেশি।
    তিনি বলেন, ‘বাজারে নিয়ে গেলেই মানে দাঁড়ানোর টাইম দেয় না। এগুলো খাতি খুব ভালো। বিক্রি হয়ে যায় সাথে সাথে। খেতে খুবই সুস্বাদু। এর শাক, ডাটা সবই খাওয়া যাবে। এমনকি পাতাও বিক্রি করা যাবে আশা করা যায়।’
    চৌগাছা বাজারের সবজি বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান বাজারদরে পাইকারিতে প্রতি কেজি সজনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এই সজনে বেশি পছন্দ করছেন, কারণ এটি লম্বা ও তরতাজা।’

    সজনে চাষে আগ্রহী কৃষক হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘আক্তার ভাইয়ের ক্ষেত দেখে আমি সত্যিই অবাক ও অনুপ্রাণিত। এক বিঘা জমিতে এত আয়, আগে কখনো ভাবিনি। ধানে যেখানে খরচই ওঠে না, সেখানে সজনে চাষে লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। আমিও আগামী মৌসুমে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা নিয়ে চাষ শুরু করব।’

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘ওডিসি-৩ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও উচ্চ ফলনশীল জাত। এটি রোগ প্রতিরোধী ও খরা সহনশীল হওয়ায় যশোরের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। আমরা উপজেলার কৃষকদের এই জাত চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আক্তার হোসেন আমাদের সফলতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা তাকে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজির চাষ আগামীতে আরও বাড়াতে হবে। দেশে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।’
    যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ দীপংকর দাশ বলেন, ‘টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত বারোমাসি সজনে ওডিসি-৩ জাতের মানসম্মত চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে। রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয়ে সারা বছর ধারাবাহিক উৎপাদন বজায় থাকে। বাণিজ্যিকভাবে কিংবা বসতবাড়িতে চাষ করে কৃষকরা কম খরচে লাভবান হতে পারেন।’

    তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৭ হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার চারা কৃষকরা নিয়েছেন। এবার ১০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘সজনে ও সজনে পাতা একটি সুপারফুড হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।’

    সজনে পাতাকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সজনের পাতাও এখন বিশ্ববাজারে মূল্যবান। পাতাগুলো শুকিয়ে গ্রাইন্ডিং করে পাউডার করা হলে অনলাইন বা বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। বাজারে সজনের পাতা অন্যান্য শাকের মতো আঁটি করে সরবরাহ করলেও ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে কৃষকরা ফলের পাশাপাশি পাতা বিক্রি করেও বাড়তি আয় করতে পারবেন।’
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক প্রতাপ মন্ডল বলেন, ‘ওডিসি-৩ জাতটি সারা বছর ফুল ও ফল দেয় বলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে যশোরের এই বারোমাসি সজনে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও বাজার তৈরি করতে পারে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

    চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা।

    ধর্মঘটের কারণে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর -হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা- ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা- কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা- হাটবোয়ালিয়া রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দামুড়হুদার ফকিরপাড়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানচালকদের সাথে বাসশ্রমিকদের বিরোধ হয়। পরে রিকশাচালকেরা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়কে বাস আটকে রাখেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ও মিনিবাস ধর্মঘটের ডাক দেন পরিবহন মালিক- শ্রমিকরা। সকাল থেকে জেলার পাঁচ রুটে বাস না চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি বেশি।

    বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। শিপন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

    দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মহাসড়কে গাড়ি আটকে রাখার প্রতিবাদে শ্রমিকরা এ ধর্মঘট ডেকেছেন।’ এ,আর

  • ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির  মুখে কৃষক

    ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির মুখে কৃষক

    যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুর মাঠে আগাম জাতের বাঁধাকপিতে ভাইরাসের আক্রমণ ও সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের কথা জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সার-কীটনাশকের বাড়তি দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং মাটি পরীক্ষা ও রোগবালাই শনাক্তকরণে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

    নোঙরপুর এলাকার কৃষক সায়েদ আলী চার বিঘা জমিতে ‘প্রফিট প্লাস’ জাতের আগাম বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। শুধু বীজ কিনতেই তার খরচ হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। কিন্তু ভাইরাসের আক্রমণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তার পুরো ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সায়েদ আলী বলেন, ‘ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ করার মতো অর্থও হাতে নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সরকারি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আবার চাষে ফিরতে পারব।’
    কৃষক রঞ্জন আহমেদ বলেন, ‘বাঁধাকপির গাছ কুঁকড়ে যাচ্ছে, বড় হচ্ছে না। শিকড়ও ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে না। ভাইরাস ও মাটির সমস্যার কারণে কী করণীয়, তা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় আছি।’

    একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ গোলাপ নবী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়েছে। সার, মাটি পরীক্ষা ও অন্যান্য উপকরণে ব্যয় করার পরও ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
    কৃষক মজাহার বিশ্বাস, কামরুজ্জামান ও মোহাম্মদ জামির সরদারও আবহাওয়া, ভাইরাসের আক্রমণ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের খরচ বাড়লেও সবজির ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক জহুরুল জানান, তার তিন বিঘা জমির বাঁধাকপিও ভাইরাসের আক্রমণে নষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য, বাজারে সবজির দাম কম থাকায় এবং সার-কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। মাটি পরীক্ষায় সমস্যার কথা জানা গেলেও তা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শ প্রয়োজন।
    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার নির্ধারিত দামে পাওয়া গেলেও বাকিতে কিনতে গেলে অনেক সময় বেশি দাম দিতে হয়। পাশাপাশি মাটি পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিকারের বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

    কৃষি বিভাগের বক্তব্য
    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো ফসল চাষের আগে মাটি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে নোঙরপুর মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে করোলা চাষের সময়ও মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। বর্তমানে বাঁধাকপি চাষিদের জমি থেকেও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, যশোর সদরের ইছালী, চূড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নে বাঁধাকপির চাষ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইছালী ইউনিয়নেই ইতোমধ্যে ১৪ হেক্টর জমিতে আবাদ শুরু হয়েছে।
    তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে ইছালী ইউনিয়নের নোঙরপুর মাঠে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে প্রায় চার বিঘা জমির বাঁধাকপির চারা নষ্ট হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে আবার চারা রোপণ করলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

    রাজিয়া সুলতানা আরও বলেন, নোঙরপুরের মাঠ বাঁধাকপি চাষের জন্য উপযোগী। গত বছরও ওই মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছিল। কৃষকরা এক মৌসুমে টানা তিনবার পর্যন্ত বাঁধাকপি তুলে থাকেন। বাজারে চাহিদা থাকায় জমি থেকেই পাইকারি দরে ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হন।’

    ফসলের ফলন বাড়ানো ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

  • ১৭টি কারখানার মধ্যে ৭টি চালু, ঝালকাঠির লবণ শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

    ১৭টি কারখানার মধ্যে ৭টি চালু, ঝালকাঠির লবণ শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাণিজ্যিক নদীবন্দর হিসেবে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাতি অর্জন করেছিল প্রাচীনতম শতবর্ষী শহর ঝালকাঠি। যার মূল কারণ ছিল লবণ শিল্প। কিন্তু একের পর এক লবণ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই শিল্পটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

    লবণ শিল্পের প্রসারের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির পরিচিতি ছিল দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। আধুনিক প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদনকারী অন্য কোম্পানিগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে না পারায় সেই পরিচিতিতে ভাটা পড়েছে। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এখনো ঝালকাঠির লবণের মিলগুলো থেকে উৎপাদন হয় বছরে ২০০ কোটি টাকার লবণ।

    নদীপথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্রিটিশ আমল থেকে বাসন্ডা নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠে একেক করে ১৭টি লবণ কারখানা। সেই সময় থেকে এই বাসন্ডা নদীর তীরে দেখা যেতো বড় বড় সাম্পান নৌকা আর ট্রলার। যা এখন আর চোখে পড়ে না। একটা সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় কেন্দ্র হওয়ায় এই জেলাকে বলা হতো দ্বিতীয় কলকাতা। আবার লবণ শিল্পের প্রসার ও ঐতিহ্যের কারণেই খ্যাতি অর্জন করেছিল ঝালকাঠি বন্দরের মর্যাদা।

    এখানকার লবণ শিল্প সনাতনী পদ্ধতিতে প্রস্তুত করার মাধ্যমে উৎপাদন হয়। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম থেকে লবণের কাঁচামাল এনে শোধন করে সনাতনী পদ্ধতিতে বেশ কয়েক ধাপে পানি মিশ্রিত লবণের দানাগুলো রাসিন মেশিনে শুকিয়ে ঝরঝরা করা হয়। তৈরি হয় বিভিন্ন শিল্পের ব্যবহার উপযোগী লবণ। পরে পরিমাণমত আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়। আশির দশকে লবণ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হলে পিছিয়ে পড়ে ঝালকাঠির লবণ শিল্প।

    জানা গেছে, ঝালকাঠিতে ১৭টি লবণ মিলের মধ্যে মিতালী সল্ট, নুর সল্ট, সুরভি সল্টসহ ১০টি লবণ মিল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শরীফ সল্ট, নিউ ঝালকাঠি সল্টসহ টিকে আছে সাতটি লবণ মিল।

    আধুনিক কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতা কঠিন হলেও এখানকার লবণ উৎপাদন আগের চেয়েও দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাজারের বড় বড় কোম্পানির লবণ যেখানে খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩৫-৪০ টাকায়, সেখানে ঝালকাঠির লবণ বিক্রি হয় ২০-২২ টাকায়। দাম কম হওয়ায় এখানকার লবণ পার্শ্ববর্তী রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া থেকে পাইকাররা এসে নিয়ে যায়।

    ঝালকাঠি জেলার বিসিকের উপব্যবস্থাপক আল আমিন জানান, আমরা সার্বক্ষণিক লবণ শিল্পের মান ধরে রাখতে সব ধরনের সহায়তা করে আসছি। এই শিল্পকে টিকে রাখা এবং আধুনিকায়ন করার জন্য বিসিক সব সময়ই পাশে আছে এবং বিসিক সেটা করে থাকে।

    ঝালকাঠি জেলা লবণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: জামাল শরীফ জানান, আধুনিক কোম্পানিগুলোর (অটোমিল) সাথে পাল্লা দিয়ে লবণ উৎপাদনে টিকে থাকতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় লবণ শিল্পের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো করার চিন্তা করছে মালিক সমিতি। মূলধন ও সরকারি সার্বিক সহযোগিতা পেলে, বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পেলে আবারো দেশীয় লবণ শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ,আর

  • আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে আমন ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। ধানের জমির মাঝে মাঝে গিয়ে ধান কেটে সাবাড় করছে, বিষ টোব, আগুনের কুন্ড , ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বেঁধে, কলার গাছ, জমিতে পুতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করতে পারছেনা।

    রামেশরপুর গ্রামের কৃষক মেহেদুল বলেন ইঁদুরের হাত থেকে আর বুঝি শেষ রক্ষা হল না।

    উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে মাঠের জমিতে ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে গেছে। কৃষক তাদের ধান ক্ষেতের আলোক ফাঁদ বসিয়েছে। কখন যে ধানের গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে তা বুঝতে পারছেনা কৃষকরা। মাঠ থেকে বাড়ি আসলে ফিড়ে যাওয়ার পর ধানের জমিতে পাওয়া যাচ্ছে বোঝায় বোঝায় কাটা ধান গাছ।

    কৃষকরা জানান, পোকার বা অন্য কোন রোগ বালাইয়ের আক্রমন হলে ওষুধ দিয়ে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্ত ইঁদুরের আক্রমনে রক্ষা পাওয়া যায় না।

    ভাতছালা গ্রামের আব্দুস সালাম ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাজারের ঔষধের দোকানের পরামশে ঔষধ ব্যবহার করেছেন।

    উপজেলা রামপুরা গ্রামের কৃষক সৈয়কত জানান, আগের দিনে ইদুর ধরতো তার ব্যাপকতা এত বেশি ছিলনা। দিনের বেলা গর্থে বা বোন জঙ্গেলে থাকে রাতের বেলা ধানের জমিতে ধান গাছ কেটে সাবার করছে।

    কৃষকেরা বলছেন, চলিত আমন আবাদে এক দিকে খরা, অন্য দিকে পোকার আক্রমন আবার ইঁদুরের আক্রমনে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পরেছে।

    জমির ফসল রক্ষায় কৃষকরা বিষ টোব, আগুনের কুন্ড জালিয়ে, ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বাধিয়ে কলার গাছ, জমিতে পুতিয়ে দিয়েও কৃষকেরা তাদের ফসল ইদুর হাত থেকে রক্ষা করতে কৃষকরা অপ্রন চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট, উপজেলা কৃষি অফিসার, মোঃ রফিকুজ্জামান বলেন, কৃষক‌দের গরম পা‌নি , বিষ টোব, ফটক‌া ফুটিয়ে সম্ম‌লিত ভা‌বে কাজ কর‌লে ইঁদুর তাড়া‌নো সম্ভব।

  • নড়াইলে কৃষক হত্যায় অভিযুক্ত যুবকের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ

    নড়াইলে কৃষক হত্যায় অভিযুক্ত যুবকের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদক সেবনে বাধা দেয়ার অভিযোগে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে কৃষক মানসুর মোল্যাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক হাসিব মোল্যা (২০) থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়া থানায় গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত হাসিব কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে।

    ওসি জানান, হাসিব থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়নি। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় গত শুক্রবার নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার সাথে তার বংশীয় হাসিবের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিব ইউপি সদস্য কাসেদকে কিল-ঘুষি মারেন।

    এরপর শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদততলা ত্রি-মোহনার মোড়ের দোকানে যান। এ সময় ভুক্তভোগী কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম অভিযুক্ত হাসিবের কাছে কাসেদের গায়ে হাতর তোলার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় হাসিব হঠাৎ করেই ধারালো অস্ত্র বের করে মানসুর ও নূরকে কোপাতে শুরু করেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেয়ার পথে জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে গেলে তার মৃত্যু হয়। আহত নূরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য কাসেদ বলেন, ‘হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদক সেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত হাসিবের সাথে আমাদের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না।’ এ,আর

  • ৪ দিন পর নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধার

    ৪ দিন পর নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের চারদিন পর হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রিজ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ- ফাঁড়ি পুলিশ যৌথভাবে এ লাশ উদ্ধার করে।

    হেলাল উদ্দিনের লাশ পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের বোন জামাই মোক্তার হোসেন সনাক্ত করেন। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এর আগে গত শনিবার সকালে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার আল মোস্তফা ফ্যাক্টুরির সামনে থেকে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মো: শাহ কামাল।

    গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজারের সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবে একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হন। ঘটনার সময় রায়েশা বেগম নামের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের ১৩ জন আত্মীয় স্বজন বিয়ের বাজার, দু’টি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ থাকেন।

    বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ও শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে শুক্রবার বিকেলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ট্রলারে দু’টি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করে। পরে দু’দিন পর গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীতে ভাসমান অবস্থায় সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তিন ভাই-বোনের লাশ উদ্ধারের পর ওইদিন পরিবারের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল। মৃতদের মামা হায়াত মিয়ার কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়। সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মৃত রায়েশা বেগমের (৫৫) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে ওই নারীর লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ।

    মৃত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। এ নিয়ে পাঁচজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    মৃত হেলালউদ্দিনের বোন জামাই মোক্তার হোসেন জানান, পুলিশের কাছ থেকে তার স্ত্রীর বড় ভাই হেলালউদ্দিনের লাশ গ্রহণ করা হয়েছে। দাফনের জন্য লাশ গ্রামের বাড়ি হোমনার শ্রীমুদ্দি নেয়া জন্য রওনা হয়েছেন। এর আগে শনিবার তার দুই ভাতিজা ও ভাতিজির লাশ নিয়ে দাফন করেছেন।

    বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এ,আর

  • লৌহজংয়ে এসআরবির অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪

    লৌহজংয়ে এসআরবির অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) -১০ এর সদস্যরা। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

    আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কনকসার বাজার ব্রিজ এলাকার সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১০। আজ সোমবার দুপুরে এসআরবি-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গ্রেফতাররা হলেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার মহজমপুর গ্রামের শংকর রাজবংসী (৪০), অন্তিপ চন্দ্র দাস (২০) ও দিপ্ত দাস (১৯) এবং বাজুরবাগ গ্রামের মো: গোলাম হোসেন (৩৮)।

    উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১০, সিপিসি-২, শ্রীনগর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লৌহজং থানাধীন কনকসার বাজার ব্রিজ এলাকায় রাস্তার ওপর একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ তল্লাশিকালে ওই পিকআপের ভেতর থেকে ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    একপর্যায়ে মাদক বহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য সাত লাখ বিশ হাজার টাকা বলে জানা যায়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এসআরবি-১০ মাদক নির্মূল অভিযানে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এসআরবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • বেঁধে রাখা বাবাকে শিশু মেয়ের খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

    বেঁধে রাখা বাবাকে শিশু মেয়ের খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবার দুই হাত-পা বাঁধা। চারপাশে মানুষের ভিড়। কেউ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে আছেন, কেউ মোবাইলফোনে ভিডিও করছেন। এর মধ্যেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে এগিয়ে যায় নয় বছরের তুবা আক্তার তারিন। হাতে রুটি ও চা। বাবার সামনে বসে চায়ে রুটি ভিজিয়ে এক লোকমা করে তার মুখে তুলে দেয়। কখনো খাবারে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে, কখনোবা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। চারপাশে যতো মানুষই থাকুক, সেই মুহূর্তে তুবার কাছে মানুষটি শুধু বাবা।

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার এ দৃশ্যের ভিডিও গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামনে আসে অনিক সরদারের পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কট, তার নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত, চুরির অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা। কয়েক দিন আগেও যাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ছিল, এখন তার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা। কেউ খাবার নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, আবার কেউ কাজের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    গত শনিবার রাতে বামরাইল এলাকার একটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে অনিককে স্থানীয় লোকজন আটক করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। সে সময়ের ভিডিওতেই তুবাকে বাবার মুখে খাবার তুলে দিতে দেখা যায়।

    তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। অনিকের পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগের সাথে তাদের পুরোনো জমি বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সে বিরোধের জেরেই অনিককে আটক ও মারধর করা হয়েছে।

    অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, আয়াত খন্দকার, খাইরুল ইসলাম, আরিফ, হানিফ, সাকিব ও সাহিদসহ কয়েকজনের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, ওই বিরোধের কারণেই চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    তবে আয়াত খন্দকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, অনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ উঠেছিল ও এবার তাকে ধরে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, মেয়ের সামনে অনিককে মারধর করা হয়নি।

    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অনিকের বিরুদ্ধে আগে চুরির অভিযোগ ওঠার কথা বলেছেন। কেউ কেউ তাকে নেশাগ্রস্ত বলেও দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনিকের পরিবারও তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    অনিকের স্ত্রী জানান, তাদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে নিয়মিত কোনো আয় নেই। অভাবের মধ্যেই সন্তানদের বড় করছেন তারা। এইচএসসি পাস করা জান্নাতুল ফিরদাউস প্রয়োজনে নিজেও কাজ করতে চান।

    পরিবারের ভাষ্য, অনিকের বাবা একসময় সচ্ছল ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের অনেক সম্পদ চলে যায়। একপর্যায়ে অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, তার এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে স্থানীয় একটি মাদকচক্র। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান অনিক। তিনি বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আয়-রোজগারের একটা পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।’

    দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও কাজ করে বাঁচতে চান তিনি। সন্তানদের মানুষ করতে চান।

    ভাইরাল ভিডিওটি শুধু মানুষের আবেগ নাড়া দেয়নি, পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তৈরি করেছে। ভিডিওটি দেখে বিষয়টি যাচাই করতে ওয়েব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরিশাল টিমকে জানানো হয়। পরে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা তুবার সাথে দেখা করেন।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুবা বাবার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করেছে। গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় অনিক একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চেয়েছেন। তাকে একটি অটোভ্যান কিনে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তুবার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।

    এ বিষয়ে উজিরপুর থানার সাথেও কথা বলা হয়েছে। এসআই (তদন্ত) ফারুক বিষয়টি দেখার ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

    উজিরপুর থানার ওসি মো: রাকিবুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অনিকের স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    রোববার সকালে অনিকের পরিবারের খোঁজ নিতে বাড়িতে যান উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা। তিনি বলেন, ‘বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে প্রশাসন।’

    পরে ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তুবার পরিবারের সাথে দেখা করেন বরিশাল জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এসআই মো: জসীম উদ্দীন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।

    সংশ্লিষ্টরা জানায়, অনিকের নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত ও পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

    তুবার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অনিক যদি নেশা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে নিয়মিত কাজের সাথে যুক্ত হতে পারেন, তাহলে সন্তানদের নিয়ে তাদের সংসারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এ,আর

  • শ্রীপুরে নারী পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

    শ্রীপুরে নারী পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে শামীমা আক্তার (২৬) নামে এক পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সুমন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার বেপারী বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    জানা যায়, নিহত শামীমা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তর পঞ্চনন্দপুর গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় দুই বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সুমন মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।

    নিহতের বাবা কাজল মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। তবে সম্প্রতি সুমন মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

    তিনি আরো বলেন, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সুমন তার মেয়েকে মারধর করেন। এতে শামীমার নাকের হাড় ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

    কাজল মিয়ার ভাষ্য, রাত ১টার দিকে সুমন তার ছেলে মোজাম্মেলকে ফোন করে জানায়, শামীমা ঘরের দরজা খুলছে না। মোজাম্মেল পাশের মুন্সিবাড়িতে ভাড়া থাকত। সে এসে ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় বিষয়টি পরিবারের অন্যদের জানায়। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে আবার দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে শামীমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

    শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ,আর

  • গলাচিপায় চুরি করা ৫ মহিষসহ গ্রেফতার ৫

    গলাচিপায় চুরি করা ৫ মহিষসহ গ্রেফতার ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় চোর সন্দেহে পাঁচটি মহিষসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঝাটিবুনিয়া বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাহমুদুর রহমান, গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খায়রুল ইসলাম সাগর, মো: শাহজাদা শিকদার, শাহীন সিকদার ও জাকির।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত স্থান থেকে চুরি করা পাঁচটি মহিষ নিয়ে ঝাটিবুনিয়া বাজারের সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রেফতাররা। বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদের পথরোধ করে মহিষের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। এ সময় তারা কোনো কোনো সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে না পারায় তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করেন। উদ্ধার করা পাঁচটি মহিষ বর্তমানে স্থানীয় শাকিল চৌকিদার ওরফে মিন্টু মিয়ার কাছে জিম্মায় রাখা হয়েছে।

    কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিষ স্থানীয় চৌকিদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

    গলাচিপা থানা ওসি মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ,আর

  • উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

    শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলনে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারাও। এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিও যোগাদানের বিষয়ে অটল। এরইমধ্যে অনলাইনে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। এতে বিষয়টি সুরাহা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    সপ্তম দিনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে চুয়েট গেটে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সাদা কাপড়ে গণসাক্ষ্য কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবেন আন্দোলনরতরা। ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের দরজাও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। টানা আন্দোলনে সেশনজটের শঙ্কা বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এমতাবস্থায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নিয়ে সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

    মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর আগের ভিসি আবু সাদাত মো সায়েমকে বদলি করে ড শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। আগের ভিসিকে দক্ষ ও চুয়েট বান্ধব দাবি করে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

  • নগরকান্দায় তিন দশকেও সংস্কার হয়নি কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে ১০০ পরিবার

    নগরকান্দায় তিন দশকেও সংস্কার হয়নি কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে ১০০ পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দা দীর্ঘ তিন দশকেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি প্রায় তিন শত ফুট দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তায়। উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের এ সড়কটি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ১০০ পরিবারের বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কোদালিয়া বোর্ড অফিসের পাকা সড়ক থেকে শুরু হয়ে ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩০০ ফুটের রাস্তাটি এখনো কাঁচা রাস্তা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটিতে কাদা তৈরি হয়। ফলে পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কাদায় পিছলে পড়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও পরে আর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

    স্থানীয় সমাজসেবক সাইফুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন।

    ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানায়, রাস্তাটি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্যই নয়, ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদে যাতায়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসানে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ,আর

  • জীবননগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    জীবননগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পৃথক পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা পর্যন্ত এই পৃথক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

    গ্রেফতার আটজন হলেন— উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মরহুম ইসমাইল মন্ডলের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল ইসলাম (৫৪), বালিহুদা গ্রামের ওহাব আলীর ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ বিশ্বাস (৫৬), জীবননগর শহরের মহানগর উত্তরপাড়া এলাকার আসাদুজ্জামানের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুজ্জামান দীপ (২৪), মনোহরপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), করচাডাঙ্গা গ্রামের হামিদ ব্যাপারীর ছেলে নূর হোসেন (৪২), তার সহোদর আমিন হোসেন (৫৫), রোকন মিয়া (৪৫) ও মজিবার (৪২)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক পৃথক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার ওমেদুল ইসলাম, সাজ্জাদ বিশ্বাস আওয়ামী লীগ নেতা ও সাজেদুজ্জামান দ্বীপ ছাত্রলীগ নেতা। তাদের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • বরিশাল বোর্ডের ৮ কলেজের একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

    বরিশাল বোর্ডের ৮ কলেজের একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশের অন্তত ১০টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী মেলেনি। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের।

    শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কলেজগুলোর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় এগুলো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। এমপিওর আশায় বিনা বেতনে যোগ দেওয়া শিক্ষকরাও একপর্যায়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। ফলে চরম শিক্ষকসংকটে থমকে যায় শিক্ষা কার্যক্রম। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ওই আটটি কলেজের পরিণতিও শেষ পর্যন্ত একই দাঁড়িয়েছে।বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীতে বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ইজিএস শিক্ষা নিকেতন। এর মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, বাকি তিনটি কলেজ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা হয়।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা কয়েক বছর চালু থাকার পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের দাবি—শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং স্থানীয় দলীয় কোন্দলের কারণেই মূলত কলেজগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাঠদানের অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদনও করা হয়। তবে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তালিকায় হালনাগাদ তথ্য না থাকায়, এ বছরও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘শিক্ষার্থীশূন্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এমনই একটি প্রতিষ্ঠান বেতাগীর চান্দুখালী বাজারের বরিশাল-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন ‘কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। তবে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে এসে একাদশে ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিন জানান, প্রতিবছর বিদ্যালয়টি থেকে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করায় তাদের ওপর ভরসা করেই কলেজ শাখা চালু করা হয়েছিল। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত কলেজ শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।তবে স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ নামে ডিগ্রি কলেজ

    স্থাপন করেছেন। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোয় বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে। বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় সর্বশেষ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

    কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। আশপাশের কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক পদে বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কলেজ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু করেছিলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীরাই বলতে শুরু করেন, স্কুলের শিক্ষকরা কেন কলেজে পড়াবেন। এ কারণে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই এলাকার সন্তান ঢাকার ব্যবসায়ী একেএম শামসুদোহা ফারুক ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্দেশে দাতা সেজে বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা শুরু করেন। তবে শিক্ষা বোর্ড থেকে কেবল পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি মিললেও অন্য কোনো স্বীকৃতি বা সহায়তা পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পরিচালনা ব্যয় বহন করতে না পেরে দাতা কেটে পড়লে চার বছর আগে এর কলেজ শাখা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেখান থেকে মাত্র দুইজন অংশ নিয়ে একজন উত্তীর্ণ হন।একই উপজেলায় ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কবে কলেজে উন্নীত হয়েছে, কেন বন্ধ হলো- এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও মাঝে কয়েকবার বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জনের মধ্যে ১৫৫ জন পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ছয়জন পরীক্ষা দেন।স্বরূপকাঠির পাশে কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ তার কলেজ শাখা বন্ধের জন্য গ্রামের স্থানীয় দলাদলিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, একপক্ষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বলে। পাঠদান অনুমতি বাতিলে তারাই বোর্ডে আবেদন করে। এসব কারণে তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না।

    পটুয়াখালী পাজাখালী কলেজটির অচলাবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, তিনি কয়েকবার তাবলিগ জামাতে গেলে কৌশলে শিক্ষকরা কলেজটিকে শিক্ষার্থীশূন্য করেন। ফলে তিন বছর ধরে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। স্থানীয় এমপির সুপারিশ নিয়ে আবারও কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি তিন মাস আগে যোগদান করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীশূন্য উচ্চ মাধ্যমিক কলেজগুলোর বিষয়ে সব তথ্য এখনও তার জানা নেই। সবেমাত্র ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।

  • আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    টাঙ্গাইলে ৪০ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবায় আওয়ামীপন্থি ডাক্তারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালগুলোতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপের) হাতে বন্দি রয়েছে রোগীরা। সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান থাকায় ড্যাব সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

    অপরদিকে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ সময় দৌড়ের ওপর থাকা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ড্যাব) মেধাবী চিকিৎসকরা এখনো কোণঠাসা। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের আশায় দিন কাটছে তাদের। এছাড়া স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। স্বাচিপের আদিপত্য রোধ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের পদায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যই ছিল যোগ্যতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু গত বছরের ৯ মার্চ যোগদান করেন। স্বাচিপের অপর দুই সদস্য ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং মেডিকেল অফিসার আবু জাফর যোগদান করেন আওয়ামী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। এর আগে ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক পদে যোগদান করেন স্বাচিপের আজীবন সদস্য নুরুল আলম মিঞা। এ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা, গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয়। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ৯ জন নিয়োগ পান আওয়ামী সরকারের আমলে। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

    ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন আমার দেশকে জানান, জেলার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।

    এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। এছাড়া ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন কর হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন আর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়া জেলায় ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

    জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু আমার দেশকে জানান, ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

  • কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন- উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।

    মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়।

    পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হলে রাত ২টার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় আসেন। তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন ও পুলিশকে চাপ দিতে থাকেন।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। এ,আর

  • কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জুয়া খেলার সময় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় উপজেলার ঝগড়ারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রৌমারী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার ৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    তারা হলেন,মোঃ ওহেদুজ্জামান ওরফে অমেল মিয়া (৩০), মোঃ এরশাদুল (২৮), মোঃ পাঞ্জু মিয়া (৩৫), মোঃ মজিয়ার আলী (৩৩), মোঃ মহিউদ্দিন (৫০), মোঃ আনিছুর রহমান (২৭), মোঃ মানিক মিয়া (৪৩), মোঃ মানিক মিয়া ওরফে ফকির (২৮), মোঃ ফরহাদ হোসেন (৪০), খোঃ মঞ্জু মিয়া (৩২), মোঃ হাসেম মিয়া (৫০) ও মোঃ বাবুল মিয়া (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ঝগড়ারচর ও ঝগড়ারচর মাঝিপাড়া এলাকায়।

    এ বিষয়ে রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাসেল কবির বলেন, জুয়া একটি সামাজিক ব্যধি। দীর্ঘদিন ধরে রৌমারী থানা এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনার বিষয়ে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। চলতি মাসে জুয়া খেলার সময় এ নিয়ে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদেরকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

  • ট্রেনের ধাক্কায় দুই ইজিবাইক যাত্রীর মৃত্যু

    ট্রেনের ধাক্কায় দুই ইজিবাইক যাত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের কৃষ্ণবাটি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রূপসী বাংলা ট্রেনের ধাক্কায় ইজিবাইক দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা গেছেন।

    নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার তফসীডাঙ্গা গ্রামের আজিজুর রহমান (৪০) ও এরশাদ আলী (৪৫)। তারা দুইজনই ইজিবাইকে ছিলেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণবাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে যশোরের দিকে আসছিল রূপসী বাংলা ট্রেন। এ সময় কৃষ্ণবাটি এলাকায় ট্রেনের সাথে একটি ইজিবাইকের ধাক্কা লাগে। এতে ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এতে থাকা আজিজুর রহমান ও এরশাদ আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    যশোর রেলস্টেশনের জিআরপি পুলিশের এসআই মামুন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    চরের বালু মাটিতে সবুজের সমারোহ দিচ্ছে সম্ভাবনার হাতছানি। ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই অভিনব চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষিবিভাগ।

    স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। ২০২৫ সালে ভাঙা অংশ মেরামতসহ বাঁধটি সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকে বাঁধের ঢালে লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢালের কোথাও লাউ, কোথাও বাঁশ; কোথাও কলাগাছ কিংবা অন্যান্য সবজি। এতে বৃষ্টিতে ভাঙনের হাত থেকে বাঁধের ঢাল রক্ষা পাচ্ছে, আবার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও সবজি চাষ করছেন।

    আলতাফ হোসেন জিয়াউল হক জিয়া ও আব্দুল হাকিম রয়েছেন তাদের মধ্যে। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে মাচায় লাউ চাষ করেছেন যৌথভাবে।

    কৃষক আলতাফ হোসেন(৫৫) বলেন, গতবছরই ছোট পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউ চাষ করি। সেই লাউ বাজারে বিক্রি করে লাভ ভালো হয়েছে। এ বছর বড় পরিসরে চাষ করেছি। এক মাস আগে গর্তে গোবর দিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেছি। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে দীর্ঘ মাচা করি। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করছি। মোট খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৩১ হাজার টাকার লাউ বাজারে বিক্রি করেছি। ফলন ভালো হলে দুই লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব।

    কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, চরে এমনিতে তাপপ্রবাহ বেশি। তার ওপর এবার অনাবৃষ্টির দাপট। খরার কারণে সেচ দিতে হচ্ছে বেশি। পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ দেওয়ায় অনাবৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি চারার। গর্তে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। চলছে পরিচর্যা।

    খোঁচা বাড়ি এলাকার কৃষক ফুয়াদ হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়ি থেকে পাইকাররা পিকআপ করে লাউ নিয়ে যায়। প্রায় হাজার খানেক লাউ বিক্রি করেছি। প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।

    হলোখানা গ্রামের আকবর আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের পাশাপাশি কলা, বাঁশ ও করলাসহ নানা সবজি চাষ করেছি। আবাদ ভালো হলে সংসার ভালো চলবে।

    স্থানীয় আব্দুল মালেক হাবিবুর রহমান জয়নাল আবেদিনসহ অনেকেই বলেন, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ আশা জাগিয়েছে চরের কৃষকদের। এর মধ্য দিয়ে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য পেয়েছেন জমির ঠিকানা। বাজারে সবজির দাম বেশি। এখান থেকে কম দামে মানুষ কিনতে পাচ্ছে।

    সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চাষবাস বেশ উপকারী। তাই আমরা চাষে বাধা দেইনি। এর মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

    এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানীং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে।

  • সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের দীঘি বাজারে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি শৌচাগার ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাজারে আগত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীঘি বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এলজিএসপি প্রকল্পের আনুমানিক ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেটি ভেঙে দুটি কক্ষ তৈরি করে নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবি সংবলিত বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। বর্তমানে ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    এ ঘটনার জন্য স্থানীয়রা ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. কামাল ও বিএনপি নেতা মো. রাজিবকে অভিযুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শৌচাগারটি কামাল ভেঙেছে, পরে আমি সেখানে ঘর তৈরি করি। তবে সাইনবোর্ড কে টাঙিয়েছে তা আমার জানা নেই এবং সেখানে এখনো দলীয় কোনো কার্যক্রম চালানো হয়নি।”

    সরকারি খাস জায়গা ও জনগণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় বানানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীরা। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিষয়টিকে দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

  • কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    শুক্রবার দুপুরে বাঁধ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পাউবো রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী। এ সময় তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামত কাজ শুরুর উদ্যোগের আশ্বাস দেন।

    এদিকে গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে এসব ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, এর আগে এক সপ্তাহ আগে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন এলাকায় বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। সেগুলো মেরামতের কাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আগের দুই স্থানের মধ্যবর্তী আরও ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়।

    এতে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু না করলে তীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    এর আগে চলতি বছরের ১, ১৬ ও ২০ জুলাই ৩ দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয়। দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধে ফের বড় অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে।

    রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার আসাদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না করলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে ৪টি স্থানের কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি চত্বরে চিত্রাঙ্কন ও সন্ধ্যায় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের চতুর্থ দিনে এসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    শিশু-কিশোররা তাদের রঙ-তুলিতে বাংলাদেশের পতাকা, গ্রামীণ দৃশ্যপট, নদ-নদী, প্রাণ-প্রকৃতি, শরৎকাল ও নড়াইল জেলার ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চিত্রশিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নড়াইল সরকারি উচচ বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিত্রশিল্পী সমীর বৈরাগী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির নড়াইল ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সরকার, ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইনচার্জ এনাম হোসেন মোড়ল, সংগঠক সোহেল সরকারসহ অনেকে।

    এদিকে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি চত্বরে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম।

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির নড়াইল ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সরকার জানান, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় ২৫০ শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। শিশু থেকে উন্মুক্ত পর্যায়ে চারটি গ্রুপে চিত্রাঙ্কন ও তিনটি গ্রুপে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, মেলায় সাহিত্য, জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যাচ্ছে। এখানে বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রায় ১৫ হাজার বই স্থান পেয়েছে। ২৫-৩০ শতাংশ ছাড়ে বিভিন্ন প্রকাশনীর বই বিক্রি হচ্ছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বইমেলা শেষ হবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: গাঁজাসহ গ্রেফতার ১৬

    ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: গাঁজাসহ গ্রেফতার ১৬

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    একই অভিযানে বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আরো দুই আসামি এবং মাদক সেবনের অভিযোগে সামারি ট্রায়ালের জন্য আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক এসব অভিযানে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের শশীদল ও আশাবাড়ীর মধ্যবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়।

    এ সময় রেজাউল মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে একটি ব্রিজের ওপর থেকে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী এলাকার শফিউল আলম (২০), শশীদল পশ্চিমপাড়ার সালাউদ্দিন হোসেন সাগর (২২) এবং আনন্দপুরের উত্তর তেতাভূমি এলাকার আক্তার হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।

    এদিকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পৃথক অভিযানে সিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো: শহিদ সরকার এবং জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেফতার করে পুলিশ।

    এ ছাড়া একই দিনে পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের সামারি ট্রায়ালের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, পৃথক এসব অভিযানে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও অটোরিকশা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এ,আর

  • নড়াইলে পুকুরপাড় থেকে লাশ উদ্ধার, গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর ধারণা

    নড়াইলে পুকুরপাড় থেকে লাশ উদ্ধার, গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর ধারণা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের দলজিৎপুর গ্রামের একটি পুকুরপাড় থেকে উসমান গনির (৪৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নারকেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উসমানের লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয় গ্রামবাসী।

    উসমান গনি ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে দলজিৎপুর গ্রামের মামুনের বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে একটি নারকেল গাছের নিচে উসমানের লাশটি দেখতে পায় তারা। লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন তিনি। লাশের পাশে একটি ব্যাগে সাতটি নারকেলও ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, নারকেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

    উসমানের বোন আছিয়া জানান, ওসমান ঘরে একা থাকতেন। তার স্ত্রী সৌদি আরব এবং দুই সন্তান নানা বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উসমানকে ঘরে রান্না করতে দেখেছেন তিনি।

    এদিকে, স্থানীয় গারুচিরা বাজারে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উসমানকে চা পান করতেও দেখেছেন স্থানীয়রা।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে উসমানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ,আর

  • কুষ্টিয়া মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, আটক ৩

    কুষ্টিয়া মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের দাবি। এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সাউতা গ্রামের বাসিন্দা হৃদরোগী আতিয়ার শেখ (৬৫) কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

    স্বজনদের দাবি, কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের পরামর্শে আতিয়ার শেখকে ইসিজি করার জন্য বলা হয়। এর মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    মৃত রোগীর ছেলে রিপন শেখ জানান, তারা চিকিৎসক বা নার্সদের সাথে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করেননি।

    বরং হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা একতরফাভাবে তাদের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

    ঘটনার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলে ওবায়দুর ইসলাম এবং তার দুই স্বজন রুহুল আমিন ও হযরত আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

    আটক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। আমাদেরকে বেদম পিটিয়েছে চিকিৎসকেরা।’

    হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: আকুল উদ্দিন বলেন, ‘রোগীর স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।’

    এদিকে, ঘটনার বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা জানিয়েছেন, শনিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

    দিবাগত রাত ৩টার দিকে মডেল থানা পুলিশ আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। আতিয়ার শেখের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এ,আর

  • নেত্রকোনায় নিখোঁজের ১ সপ্তাহ পর মাটি খুঁড়ে নারীর লাশ উদ্ধার

    নেত্রকোনায় নিখোঁজের ১ সপ্তাহ পর মাটি খুঁড়ে নারীর লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনায় নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তার (৩৪) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের নদীর তীরের শ্মশান ঘাটের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নাজু আক্তার নেত্রকোনা পৌর এলাকার কাটলী গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তার সাবেক স্বামী নগুয়া গ্রামের নুরুল আমিনের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তিনি।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় বছরখানেক আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার দিন গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাবেক স্বামী নুরুল খোরপোশের টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাজুকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিনদিন পর ২২ সেপ্টেম্বর তার ভাই শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এরপর মডেল থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

    জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নুরুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তার সাবেক স্ত্রীকে টাকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে নগুয়া গ্রামের নদীর তীরে শ্মশান ঘাটের পাশে লাশ পুঁতে রাখেন তিনি।

    এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ নুরুলের উপস্থিতিতে তার দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তারের লাশ উদ্ধার করে।

    শনিবার নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কী কী কারণ থাকতে পারে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    শীতের আমেজ পুরোপুরি শুরু না হলেও মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাঠজুড়ে শুরু হয়ে গেছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের তুমুল ব্যস্ততা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবজি তুলে চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    উপজেলার বড়টিয়া, পয়লা, সিংজুরী, বানিয়াজুরী ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কৃষি মাঠগুলো ঘুরে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে উঠেছে জমি প্রস্তুতকরণ, চারা রোপণ ও নিবিড় পরিচর্যার কাজ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, উচ্ছে, করলা ও শিমের মতো চড়া চাহিদার সবজিতে ভরে উঠছে একের পর এক ক্ষেত। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেতেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এসব আগাম সবজি স্থানীয় ও রাজধানীর বাজারে সরবরাহ শুরু হবে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলায় ৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উপজেলার বৈলট গ্রামের কৃষক করিম বলেন, “এ বছর জমিতে বন্যার পানি না ওঠায় নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই বেগুনের আবাদ করতে পেরেছি। সঠিক সময়ে ফসল বাজারে তুলতে পারলে ভালো লাভের মুখ দেখতে পাবো।”

    তবে আশার পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না চাষিদের। বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক বারেক, ময়নাল ও মজনু জানান, আগাম সবজি চাষে লাভের বড় সুযোগ থাকলেও ঝুঁকি অনেক বেশি। আকস্মিক অতিবৃষ্টি কিংবা রোগবালাইয়ের হানা নিমেষেই স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। তা ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। আবার একই সময়ে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে গেলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে সঠিক সময়ে কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

    ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন বলেন, “পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চাষিদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”

  • চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এলো ছোট্ট মেয়ে

    চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এলো ছোট্ট মেয়ে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাজারের একটি খুঁটির সাথে বাঁধা বাবা। চারপাশে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে ছুটে গেল ছোট্ট মেয়ে। এরপর দোকান থেকে রুটি ও চা কিনে এনে নিজের হাতে বাবাকে খাইয়ে দিলো সে।

    বাবার প্রতি মেয়ের এই মমতার দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের নজর কাড়ে। পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে অনিক সরদার নামে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে বাজারের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাবাকে দেখতে বাজারে আসে তার ছোট্ট মেয়ে। বাবাকে খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে সে একটি দোকান থেকে রুটি ও চা কিনে আনে। এরপর বাবার মুখে নিজের হাতে খাবার তুলে দেয়।

    ঘটনাটি দেখে স্থানীয় এক যুবক মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
    ভিডিওতে দেখা যায়, খুঁটির সাথে বাঁধা বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়েটি তাকে রুটি ও চা খাওয়াচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চুরির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তবে বাবাকে খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে মেয়েটি যেভাবে ছুটে এসে খাবার এনে খাইয়েছে, দৃশ্যটি উপস্থিত অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টার দিকে অনিক সরদারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

    উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক বলেন, চুরির অভিযোগে একজনকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোবাইল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

    কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’ এ,আর

  • ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কারখানা শ্রমিক নিহত

    ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কারখানা শ্রমিক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার কাঠালী পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আনোয়ার হোসেন ফুলপুর উপজেলার কালনাজানি গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে।

    জানা গেছে, আনোয়ার ভালুকার একটি কারখানার সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শ্রমিক ছিলেন। সকালে নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে কারখানার উদ্দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ভালুকার দিকে আসছিলেন তিনি।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজির মধ্যে সংঘর্ষ হলে আনোয়ার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে সেখানে নেয়ার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর

  • ভালুকায় ডোবার পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    ভালুকায় ডোবার পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে পড়ে শিহাব উদ্দিন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ডাকাতিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শিহাব উদ্দিন দক্ষিণপাড়া এলাকার শরীফুল ইসলামের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরিবারের সবার অজান্তে শিহাব বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি পর পরিবারের লোকজন ওই ডোবা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পাশের সখিপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মাসুদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মো: নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটি সম্পর্কে তার নাতি হয়।

    ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এ,আর

  • গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১

    গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জে কলেজছাত্র জোবায়ের ভুইয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা আসামি স্বপন মোল্যাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পুলিশ ও এসআরবি যৌথ অভিযান চালিয়ে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ডিক্রিরচর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই নয়ন সাহা।

    তিনি আরো জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

    এর আগে, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার ঘোড়াদাই গ্রামের জুবায়ের ও তার বাবাকে বেধড়ক মারপিট ও কুপিয়ে আহত করে পার্শ্ববর্তী পুকুরিয়া গ্রামের ১০-১২ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একইদিন দুপুরে জুবায়েরের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় জুবায়েরের বাবা রমজান ভুইয়া সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিনজনকে আসামি করে শুক্রবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    নিহত জুবায়ের গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ,আর

  • নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

    নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে চান মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত চান মিয়া উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের শ্রীবড়টিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে চান মিয়া তার নিজ বাড়ির তালগাছে ওঠেন গাছ পরিষ্কার করতে থাকেন। এমন সময় গাছে থাকা ভীমরুলের চাক থেকে বেশ কিছু ভীমরুল তাকে আক্রমণ করে এবং শরীরের একাধিক স্থানে হুল ফোটালে তিনি দ্রুত গাছ থেকে নেমে আসেন। পরে তার অবস্থা গুরুতর দেখে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর চান মিয়া সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়নি। সঠিক চিকিৎসা না দেয়ার কারণে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তারা চিকিৎসা দিতে পারবে না একথা বললে আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যেতাম। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: রিফাত মাহবুব বলেন, চান মিয়া বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই শকে চলে যান। বহু চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ,আর

  • ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে নবীনবরণ প্রোগ্রাম

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে নবীনবরণ প্রোগ্রাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষ ও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ‘জ্ঞান, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও ইসলামী চেতনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তরুণদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থী, কলেজের শিক্ষক, সাবেক সভাপতিবৃন্দ ও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

    ক্যারিয়ারভিত্তিক আলোচনায় বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদক মো: সুমন সরকার ও সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে ৭২৩ বস্তা সার জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে ৭২৩ বস্তা সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭২৩ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর শহরের দত্তনগর সড়কে অবস্থিত শান্তনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ লাইসেন্স ছাড়াই দোকানে বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশে সরকারি রাসায়নিক সার মজুদ করেন। খবর পেয়ে জীবননগরের ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের মালিক আজাদ পালিয়ে যান। পরে দোকান থেকে ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।

    অন্যদিকে, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসাদাহ বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায়। দোকান মালিক আব্দুল খালেকের উপস্থিতিতে ৩২০ বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়। পরে তার তিনটি দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়।

    জীবননগর থানার ওসি জানান, সার ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জীবননগর থানায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি রোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কেউ অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সঙ্কট বা অবৈধ মজুদের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘যশোরের নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে রাসায়নিক সার এনে মজুদ করছিল, যাতে ভুট্টা মৌসুমে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে কৃষি মৌসুম চলায় সারের চাহিদা অনেক বেশি। এ সময় অবৈধ মজুদ সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে প্রকৃত কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ এ,আর

  • মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    দারুসসালাম জোনের ওসি এমদাদুল হক বিপুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে। এরপর দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেয়া হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।স্থানীয় বিএনপির দু’টি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়।

  • মেঘনায় ট্রলারডুবি : কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

    মেঘনায় ট্রলারডুবি : কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশ তিনটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।

    নিহতরা হলো— সামিনা (১৭), সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে। লাশ নিহতদের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

    এর আগে দুর্ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরো এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে, এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামে আরো একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

    শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নিহত তিনজনের লাশ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামে নেয়া হয়। পরে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান।

    খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় রায়েশা বেগম নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিখোঁজ হন একই পরিবারের চারজন (হেলাল উদ্দিন, তার মেয়ে সামিনা ও দুই ছেলে সজিব ও সামিন)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি। এ সময় ট্রলারে বেঁধে রাখা দু’টি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ,আর

  • দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলেফা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সোনাহার সাহাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আলেফা ওই গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েলের পাশে বৈদ্যুতিক মোটরের সুইচ দিয়ে পানি তুলতে যান আলেফা। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের লাইনে হাত লেগে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ‘সুরতহাল শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’এ,আর

  • মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমির তানোর ও মোহনপুরে ধান, আলু ও আমের পাশাপাশি মাচায় তরমুজ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। সেচ সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে গতানুগতিক ফসলের বাইরে নতুন এ চাষে ভালো ফলন ও বাজারদাম পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

    মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের কৃষক শাফিউল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।

    শাফিউল জানান, তরমুজ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি তরমুজে নেট বেঁধেছেন। প্রতিটির ওজন গড়ে দুই কেজি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

    অন্যদিকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের পাড়িশো গ্রামের কৃষক খাইরুল ও জাকির ২৫ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো মাচায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের বীজ বপন করেন তারা। বর্তমানে মাচায় ঝুলছে রঙ্গীলা, আম্বার সুইট, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা জাতের তরমুজ।

    কৃষক জাকির বলেন, ‘মৌসুমের বাইরে তরমুজের চাহিদা ভালো থাকায় বাজারেও দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তরমুজ কিনেছেন। ফলে পরীক্ষামূলক এ চাষে লাভবান হচ্ছি।’

    মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্রভূমিতে মাচায় তরমুজের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’

  • বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে চট্টগ্রাম নগরী। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর জন্য বেড খালি নেই। শত চেষ্টা করেও হাসপাতালের বারান্দা কিংবা ভেতরে বেড মিলছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অনেকে জ্বরের যন্ত্রণায় আইসিইউতে কাতরাচ্ছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধ শেষে জীবনের কাছে হার মানতে হচ্ছে জ্বরে আক্রান্তদের। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

    বর্তমানে আক্রান্তের দিক থেকে শহর এলাকা গ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের নামও। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিধনে চসিক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ওপর আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। চসিকের দেওয়া ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া উচিত। অথচ চসিক তা করছে না। সংস্থাটির ব্যবহৃত বিটিআই ওষুধ মশা নিধনে আদৌ কাজে আসছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় কোনো বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন করে রোগী ভর্তি করতে নারাজ সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

    চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ মেহেরাজ বলেন, বহু কষ্টে সন্তানের জন্য একটি বেড পেয়েছি। ২০ দিন ধরে আমার চার বছর বয়সি সন্তানের গায়ে জ্বর কমছেই না। অথচ কোনো ভাইরাসই ধরা পড়ছে না। উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর ডেঙ্গুর হটস্পট। অথচ সেখানে তেমন কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের কর্মীদের অবহেলা অথবা ওষুধ প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে মশা মরছে না বলে মনে করেন তিনি।

    আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কোনো বেড পেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। চসিকের কোনো লোকজনকে মশার ওষুধ দিতে দেখিনি। তিন মাস আগে একবার এলেও তাদের মতো করে ফগিং করে চলে যান। এতে মশার আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না।

    দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা রেজাউল রাজু বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ে। কাজ থেকে ফিরে মশা মারতে নানা আয়োজন করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। অথচ সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তার অভিযোগ, ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে লোকদেখানো প্রচার চলছে। ওষুধ কাজ করে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ।

    এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার নগরীর বেসরকারি সাজিনাস হাসপাতাল থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নেন মনি আক্তার নামে এক নারী। ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার আট বছর বয়সি ছেলে আবু জাহেদও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে।

    আবু জাহেদের বাবা আল আমিন জানান, স্ত্রী হারানোর আগেই ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হন। সাজিনাস হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসার বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা বকেয়া রেখে তিনি চলে যান। সেদিনই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোক এখনো কাটেনি। এখন ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) উদ্বেগে রয়েছেন।

    এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলার ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও নাজুক। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। ওই উপজেলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে সিরাজুল মুনিরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর কোরবান আলী রিফাত নামে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রব কমাতে সেই উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্য উপজেলায় আক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় কোনো কাউন্সিলর-মেম্বার ও মেয়র-চেয়ারম্যান নেই। সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ দেওয়ার স্থানও তারা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

    জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ২,৫১৫ জন। বিপরীতে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ১,৭১১ জন। আর চসিক এলাকায় ১,৭৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ১,৪০৭ জন।

    তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৯৩৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে আক্রান্ত ১,৭৮৬ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ৯১.০২ শতাংশ এবং মৃত্যু ২২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহী জানান, ১৫৮টি স্প্রে মেশিন ও ৮৬টি ফগার মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। ৬০ জনের একটি বিশেষায়িত টিমও মাঠে রয়েছে। স্প্রে ও ফগিংÑএই দুভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে। বিটিআই ওষুধটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সরাসরি মশার পাকস্থলীতে আক্রমণ করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হবে।

    এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। পাঁচটি হটস্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে কিছুটা গ্যাপ থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিটিআই আগের চেয়ে ভালো করছে বলেই আমরা এটি ব্যবহার করছি।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চসিকের সঙ্গে আমরা ওষুধ নিয়ে কথা বলব। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সিজন থাকবে। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যৌথভাবে কাজ করছি।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রধান অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, তিন কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, বিদ্যমান তাপমাত্রা ও বাতাসে ৮০ শতাংশের ওপরে আর্দ্রতা। এটি এডিস বৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক। এতে বৃষ্টির সংস্পর্শে এডিস মশার পেড়ে রাখা ডিম তিন দিনের মধ্যে অ্যাডাল্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আর থেমে থেমে বৃষ্টি কমে গেলে আরো আগে কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চার ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে চট্টগ্রামের ডেঙ্গুর ধরন জানতে নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

  • যশোরে নিয়োগপত্র না পেয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি

    যশোরে নিয়োগপত্র না পেয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ১০৬ প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রার্থীরা অংশ নেন।

    তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হলেও ১০৬ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি।

    প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন কারণে নিয়োগপত্র আটকে দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণে তারা বাদ পড়েছেন। বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে জানানো হলে তিনি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে জানান।

    নিয়োগের বিষয়টি সমাধান না হলে রোববার বাদ পড়া প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সমবেত হয়ে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। এ,আর

  • নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

    মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

    উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সামিনা (১৭), সজীব (২৪) ও সামিন (৫)। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই রায়েশা বেগমের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামের আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনজনের লাশ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে আনা হলে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়। দাফনকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখা হয়।

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।