সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পীকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে তার সফরের কথা উল্লেখ করে সেখানে পাওয়া উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিদ্যমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

    ডেপুটি স্পীকার বলেন, বাংলাদেশ এবং চীন উভয় দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ, দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের চীন সফরের সময়েই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি লাভ করে। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ-চীনের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরো প্রসারিত করবে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    উভয়পক্ষ সংসদীয় পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় বৃদ্ধিসহ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এছাড়াও বৈঠকে মংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ডেপুটি স্পীকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পীকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • মামদানির হুমকি:সফরসূচি কাটছাঁট নেতানিয়াহুর

    মামদানির হুমকি:সফরসূচি কাটছাঁট নেতানিয়াহুর

    যুক্তরাষ্ট্র সফরের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং সেদিনই ইসরাইলে ফিরে যাবেন। নিউইয়র্কে সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কাও নেতানিয়াহুর সফর সংক্ষিপ্ত করার অন্যতম কারণ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    নেতানিয়াহু বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টায়, অর্থাৎ ইসরাইল সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরান প্রসঙ্গ প্রধান গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এবার তিনি নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না। ভাষণ শেষ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ই ইসরাইলের উদ্দেশে রওনা হবেন। তার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকও সফর করবেন না।

    নেতানিয়াহুর বিমান ‘উইং অব জিওন’ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির একটি সামরিক বিমানঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জটিলতা এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে তার সফরসূচিতে টেক্সাসে থামার এবং ইলন মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল। সেটিও বাতিল করা হয়েছে। একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজন এবং শেষ মুহূর্তের আয়োজন নিয়ে মার্কিন পক্ষের অনাগ্রহ—দুই কারণে ওই বৈঠক বাতিল হয়েছে।

    নেতানিয়াহুর এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের চেষ্টা চলছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে এসব বৈঠক আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নিউইয়র্কের মেয়র মঙ্গলবার সি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ফিরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কর্মসূচি রয়েছে।

    নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানের হুমকি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাতিসংঘে ইসরাইলি প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য প্রতিবাদের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে ভাষণের সময় হট্টগোল বা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। গত বছরও এ ধরনের প্রতিবাদ হয়েছিল।

    এর আগে জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি সংক্ষিপ্ত সফর করবেন।

    নেতানিয়াহুর সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির একটি প্রতিনিধিদলকেও সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা:উত্তাল ভারত

    শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা:উত্তাল ভারত

    আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের বিশ্বমঞ্চে ভারত নিজেদের যত বড় পরাশক্তি হিসেবেই দাবি করুক না কেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা এখনও প্রাচীন বর্ণপ্রথা ও সামাজিক বৈষম্যের খাঁচায় বন্দি। জাতপাত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ যেন দেশটিকে ক্রমশ প্রাচীন ও অন্ধকার যুগের দিকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (আইআইটি) বম্বের দলিত শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির ছাত্রসমাজ।

    মেধার সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও প্রান্তিক শ্রেণির এই মেধাবী তরুণকে শেষ পর্যন্ত জাতপাত এবং প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাহিলের পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় নকল করার মিথ্যে অজুহাত তুলে এক অধ্যাপক তার প্রতি জাতপাতভিত্তিক চরম অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে পদ্ধতিগত মানসিক নিপীড়নের মুখে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সাধারণ নিয়মভঙ্গ ও পড়াশোনার চাপের আড়ালে ঢাকার চেষ্টা করলেও এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

    এই ট্র্যাজেডি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভারতের অভিজাত ক্যাম্পাসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। এর আগে ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলার তথাকথিত ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা’ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সে সময় প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বাধীন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিক কাগুজে কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

    শিক্ষার্থী মহলের অভিযোগ, আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলিত, আদিবাসী এবং ওবিসি শিক্ষার্থীদের কথা শোনার বা তাদের অভিযোগ সমাধানের কার্যকর ও সংবেদনশীল কোনো মঞ্চ নেই। উল্টো প্রশাসনের তৈরি করা তদন্ত কমিটিগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ধামাচাপা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার পক্ষেই সাফাই গায়। যেকোনো প্রতিবাদ দমন করতে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারি ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করে রাখা হচ্ছে।

    মৃত্যুর পরিসংখ্যান ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার এক শিউরে ওঠা অন্ধকার চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গত দুই দশকে ভারতের বিভিন্ন আইআইটি ক্যাম্পাসে মানসিক ও সামাজিক চাপে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭১ জন শিক্ষার্থী। উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রথম দশকে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৫১, যা পরবর্তী দশকে এক লাফে ১২০-এ গিয়ে পৌঁছেছে।

    পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে সাম্প্রতিক তথ্যে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কেবল গত ৫ বছরেই আইআইটিগুলোতে ৬৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান হার অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসগুলোর বাণিজ্যিকীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সংকোচনের সাথে সাথে দলিত, আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা আগের চেয়ে বহুগুণ কঠিন ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। শিক্ষাঙ্গনে ‘মেধা’র ধারণাকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ব্রাহ্মণ্যবাদী সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস টিকিয়ে রাখা হচ্ছে, যার ফলে প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে আসা প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শহরের বড় বড় শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে চূড়ান্ত মানসিক একাকীত্ব ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।

    ক্যাম্পাসগুলোতে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রভাব কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে, তার নজির মিলছে সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপে। কয়েক বছর আগেই আইআইটি বম্বের হোস্টেল ডাইনিংয়ে নিরামিষ ও আমিষভোজীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা নির্দিষ্ট করে কার্যত খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি আইআইটি মান্ডির ক্যাম্পাসে এমন পোস্টারও প্রকাশ্যে আসে যেখানে চার বর্ণের কাঠামো তুলে ধরে শূদ্রদের কাজ অন্য তিন বর্ণের সেবা করা বলে উল্লেখ করা হয়।

    তীব্র প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও ওই ক্যাম্পাসের শীর্ষ প্রশাসনের সাথে ধর্মীয় গোষ্ঠীর (ইসকন) সংশ্লিষ্টতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তিন ক্রেডিটের ‘গীতা কোর্স’ বাধ্যতামূলক করার মতো বিষয়গুলো এই বৈষম্যমূলক মানসিকতারই প্রমাণ দেয়। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার চেয়ে গোমূত্র, আয়ুর্বেদ বা প্রাচীন বেদান্ত শাস্ত্রকে ‘বিজ্ঞান’ প্রমাণ করার একমুখী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রবণতা বিজ্ঞান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উদ্দেশ্যকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের করপোরেট ও অভিজাত কাঠামো সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পরিবর্তে নির্দিষ্ট উচ্চবর্ণীয় আধিপত্য ধরে রাখতে মেধার বুলি আওড়াচ্ছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি নিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে সুবিধাভোগী শ্রেণি উন্নত বিশ্বের করপোরেট দুনিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে, অন্যদিকে সংবিধানের মূল কারিগর বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতাদর্শ প্রচার বা প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা ক্যাম্পাসগুলোতে কার্যত অপরাধে পরিণত হয়েছে।

    আধুনিকতা ও ডিজিটাল ভারতের স্লোগান দেওয়া হলেও, গভীরে প্রোথিত জাতপাতের শিকল ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্ব ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোকে ক্রমশ শ্বাসরুদ্ধকর বধ্যভূমিতে পরিণত করছে। সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর পর সুবিচারের দাবিতে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ এবং জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের বাস্তব পদক্ষেপ ছাড়া ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার এই পতন ঠেকানো অসম্ভব।

  • জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ চাই ভারত

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ চাই ভারত

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টা আরো জোরদার করেছে ভারত। এবার দেশটির দাবির প্রতি সম্মিলিত সমর্থন জানিয়েছে মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায় ভারতের পক্ষে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন যুক্ত হলো।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো ভিসেগ্রাদ গ্রুপ বা ভি৪-এর সঙ্গে ভারতের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানায় জোটটির চার সদস্য রাষ্ট্র।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার বলেন, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে ভি৪-এর দেশগুলো একমত।

    ভারতের যুক্তি, ১৯৪৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার সময়কার বিশ্বের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। সে সময় এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। বর্তমানে জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশ তখন স্বাধীন রাষ্ট্রও ছিল না। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকে বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।

    ভারত এখন পর্যন্ত আটবার নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশটি পরিষদের সদস্য ছিল। দেশটির স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিভিন্ন ইস্যুতেও ভারত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদকে সামনে রেখে প্রকাশিত অগ্রাধিকারসংক্রান্ত নথিতে ভারত বলেছে, বিভিন্ন সংঘাতে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে জাতিসংঘের ব্যর্থতা সংস্থাটির কার্যকারিতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই নয়াদিল্লির কাছে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়টি শুধু ভারতকে স্থায়ী সদস্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে পুরো কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত।

    ভারতের দাবির প্রতি ইতোমধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চীন এখনো ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। বেইজিং বলে আসছে, তারা ভারতের আকাঙ্ক্ষাকে বোঝে ও সম্মান করে; একই সঙ্গে এ বিষয়ে আরো ব্যাপক ঐকমত্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে।

    ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি৪ জোটের সদস্য। জোটের চার দেশ পরস্পরের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করে এবং নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায় নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে। জি৪-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান ১৫ সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫ বা ২৬ করা যেতে পারে।

    এই প্রস্তাবে ছয়টি নতুন স্থায়ী আসন তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আফ্রিকা, দুটি এশিয়া-প্যাসিফিক, একটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং একটি পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের জন্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি চার বা পাঁচটি অতিরিক্ত অস্থায়ী সদস্যের আসন যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

    তবে নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণের বিষয়ে বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য—এখনো কোনো অভিন্ন কাঠামোয় একমত হতে পারেনি। নতুন সদস্যের সংখ্যা, কোন অঞ্চল কতটি আসন পাবে, নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না এবং সংস্কারের পর পরিষদ কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়েই মতপার্থক্য রয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কগুলোর একটি ভেটো ক্ষমতা নিয়ে। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু নির্বাচিত সদস্যদের এমন ক্ষমতা নেই। আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে ভেটো ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে। তবে ভেটো ব্যবস্থা বহাল থাকলে নতুন স্থায়ী সদস্যদেরও বর্তমান পাঁচ সদস্যের সমান অধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

    ভারতের অবস্থানও প্রায় একই। ২০২৬ সালের এপ্রিলের এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি বলেছিল, এমন কোনো পৃথক শ্রেণির স্থায়ী সদস্য থাকা উচিত নয়, যেখানে কিছু দেশের ভেটো ক্ষমতা থাকবে অথচ অন্য স্থায়ী সদস্যরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। ভারত ‘সবাই অথবা কেউই নয়’ নীতির কথা বলেছে। অর্থাৎ বর্তমান ও নতুন সব স্থায়ী সদস্যের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব থাকা উচিত বলে নয়াদিল্লির অবস্থান।

    এদিকে ভি৪-এর সঙ্গে বৈঠককে ভারত ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকটি আয়োজনের জন্য স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লানারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এটিকে ‘নতুন ঐতিহাসিক উপলক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন।

    তবে বৈঠকের আলোচনায় শুধু নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ই ছিল না। ভারত ও ভি৪ দেশগুলো দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি বার্ষিক ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজন এবং দুই পক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভি৪-এর সঙ্গে কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে বার্ষিক ব্যবসায়িক ফোরাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক থাকবে।

    ভি৪-এর সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ নিশ্চিত করার মতো নয়। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়টি এখনো বহু দেশের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে। তবে মধ্য ইউরোপের চার দেশের এই সম্মিলিত সমর্থন ভারতের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনের পরিধি আরো বাড়াল।

    জয়শঙ্করের ভাষায়, ভি৪-এর দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো এবং শিল্প, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। ভি৪ ভবিষ্যতে কীভাবে এগোবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলেও ভারত তাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগকে স্বাগত জানাচ্ছে।

  • জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

    জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

    পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুপার ট্রেন’ মার্চ মুলতানে পৌঁছানোর পর দলটির আমির হাফেজ নাঈম উর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার জামায়াতের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

    করাচিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ অভিমুখী চলমান ট্রেন মার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য জামায়াতের আমিরকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানে ফিরে না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পরই প্রধানমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। দলটির মুখপাত্র বলেন, শাহবাজ শরিফ দেশে ফেরার পর পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার আগ্রহও জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে হাফেজ নাঈম উর রহমান বলেন, জামায়াত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে কিংবা সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও দাবিগুলো তুলে ধরতেই দলটি রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। তাই সরকারের উচিত তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করা।

    প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ পাওয়ার পর বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ ‘শূরার’ সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান জামায়াত আমির। শূরার পরামর্শের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তবে সরকারের অনুরোধে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদের অধিকার থেকে জামায়াত সরে আসবে না বলে স্পষ্ট করেছেন হাফেজ নাঈম উর রহমান।

  • বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহনমালিকদের

    বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহনমালিকদের

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মালিকপক্ষ। তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাব আমলে নিয়ে বিআরটিএ বাসভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগও নিয়েছে।

    নতুন প্রস্তাবে সিটি সার্ভিসের বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা ও দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    আজ সোমবার বিকেলে বিআরটিএর বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় বিকেল ৫টার দিকে।

    বৈঠকে থাকা কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, সিটি সার্ভিসে কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা ও দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতোই রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিবহনমালিকেরা ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৪০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর দাবি ছিল তাঁদের। তবে কমিটির আলোচনায় এরচেয়ে কম হারে ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এখন বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    এর আগে গতকাল রোববার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা ও পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। নতুন দর গতকাল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।

    এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। ২৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসে দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে দুই টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসে দুই টাকা ৩২ পয়সা থেকে দুই টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

    এরও আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা ও মহানগরের বাসে ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়। পরে ডিজেলের দাম পাঁচ টাকা কমানো হলে ওই বছরের ৩১ আগস্ট দূরপাল্লার বাসের ভাড়া দুই টাকা ২০ পয়সা থেকে কমিয়ে দুই টাকা ১৫ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া দুই টাকা ৫০ পয়সা থেকে দুই টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল।

    ২০২৪ সালের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন টাকা কমার পরও ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন দূরপাল্লা ও মহানগরের ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি তিন পয়সা কমানোর সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ।

  • ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ছয়টা ম্যাচ, সাতটা শট, সাতটা গোল!
    একজন নাম্বার নাইনের কাছে দল আর কী চাইতে পারে। তার ওপর সেই নাম্বার নাইন যদি দলের মূল স্ট্রাইকার না হন, যদি তিনি খেলেন স্রেফ বদলি নেমে, তাহলে এই পরিসংখ্যানটা কীভাবে দেখবেন? দুর্দান্ত নয় কি? পিএসজির সেই নাম্বার নাইনের নাম ফেরান তোরেস।

    বিশ্ব ফুটবলে ঠিক ওই অর্থে তিনি বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। অথচ স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া গোলটা তাঁর। দুই মাস আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের একমাত্র গোল তাঁকে এনে দিয়েছিল ম্যাচসেরার পুরস্কারও। কী কাকতাল, ওই ম্যাচেও তিনি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। বদলি নেমেছিলেন ৬২ মিনিটে।

    প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ইনস্টাগ্রাম

    বিশ্বকাপে ওই রকম একটা কীর্তির পরও কিন্তু স্পেন দলে রদ্রি বা ইয়ামালদের যে তারকাখ্যাতি, ফেরান তোরেস তার ধারেকাছে যেতে পারেননি। কিছুটা অলক্ষ্যেই তাই নতুন মৌসুমে দলবদল করে বার্সেলোনা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্যারিসে। পিএসজিও তাঁকে নিয়ে কোনো ঢাকঢোল পেটায়নি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। আসলে লুইস এনরিকে তাঁকে নিজের দলে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে নেননি, নিয়েছিলেন বিকল্প হিসেবে। কিন্তু তোরেস শুধু বিকল্প হয়ে থাকতে চাননি যে!

    প্যারিসে পা রাখার পর তাই তিনি খুব বেশি সময় নিলেন না। লিগ আঁ-তে রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বদলি নেমে জোড়া গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির জার্সিতে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক, কী অবিশ্বাস্য শুরু! বার্সেলোনায় তিনি যে তোরেস ছিলেন, প্যারিসে গিয়ে যেন হয়ে উঠেছেন সেটারই এক আপগ্রেড ভার্সন। আরও ধারালো, আরও নির্দয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লুইস এনরিকের দলে তাই তিনি হয়ে উঠেছেন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তোরেস।ইনস্টাগ্রাম

    গত রাতে মার্শেইয়ের বিপক্ষে ক্লাসিকো ম্যাচটাই দেখুন না। গোল পাচ্ছিল না পিএসজি। কোচ এনরিকের তখন এমন কাউকে দরকার, যে গোল করতে পারবে, ম্যাচ বদলে দিতে পারবে। ৫৯ মিনিটে বদলি নামানো হলো তোরেসকে। ৬৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দিলেন পিএসজিকে। ছয় মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে মার্শেই, গোল করেন অ্যাঞ্জেল গোমেস। কিন্তু সেই সমতা টিকল মাত্র তিন মিনিট। ৭৫ মিনিটে মার্কিনিওস গোল করে আবার এগিয়ে দেন পিএসজিকে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানেই জয়।

    জয়টা শুধু পিএসজিকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, দিয়েছে মৌসুমের শুরুর দিকের জড়তা কাটিয়ে জেগে ওঠার আত্মবিশ্বাসও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন জয় বলছে, পিএসজি আবার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। আর সেই ছন্দের কেন্দ্রে তোরেস।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তিনটায় শুরুর একাদশে, কোনোটিতেই পুরো সময় খেলেননি। বাকি তিনটায় বদলি হিসেবে। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, গোলমুখে সাতটা শট নিয়েছেন, সাতটাই গোল! প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’ জানাচ্ছে, পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। পিএসজিতে প্রথম ছয় ম্যাচে তাঁর গোল ছিল আটটি। তোরেস কি আরও একজন ইব্রা হতে যাচ্ছেন?

    পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ইনস্টাগ্রাম

    তুলনাটা এখন আর শুধু কথার কথা নয়, সংখ্যাই বলছে। তবে তোরেস নিজে সংখ্যার মোহে ভাসতে চান না। তাঁর সহজ-সরল কথা, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হয়। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বারবার।’

    কিন্তু এই পরিসংখ্যান শুধু ভাগ্যের ছোঁয়া পাওয়ার গল্প নয়। বক্সে অবস্থান নেওয়া, সতীর্থদের মুভমেন্ট পড়া, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া আর শেষ ছোঁয়ার যথার্থতা—সব মিলিয়ে নিখুঁত এক স্ট্রাইকার, যেমনটা একজন কোচ চান।

    তোরেসের এমন পারফরম্যান্স তাই দোটানায় ফেলে দিয়েছে এনরিকেকেও। আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, খিচা কাভারাস্কেইয়া, দেজিরে দুয়ের মতো তারকার ছড়াছড়ি পিএসজিতে। সেখানে বেঞ্চের বিকল্প হিসেবে প্যারিসে পা রাখা তোরেস এখন শুরুর একাদশের জন্য তীব্র দর-কষাকষি শুরু করেছেন। ৪ গোল নিয়ে এখন তিনি লিগ আঁ-তে দলটির শীর্ষ গোলদাতাও। তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে।

    ৪ গোল নিয়ে এখন তোরেস লিগ আঁ-তে পিএসজির শীর্ষ গোলদাতা। ইনস্টাগ্রাম

    লুইস এনরিকেও তা বুঝছেন। নতুন এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সন্তুষ্টির কথা লুকাননি তিনি। বলেছেন, ‘নতুন যারা এসেছে, সবাই দলকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ফেরান অসাধারণ খেলছে। ডিফেন্সের পেছনে ফাঁকা জায়গা বের করা এবং তা কাজে লাগানোর চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তার। মাঝমাঠে যখন ওর মতো খেলোয়াড় থাকে, খেলা সহজ হয়ে যায়। ও এখন নিজের সেরা ছন্দে আছে।’

    আর তোরেস? শুরুর একাদশে নিয়মিত না থাকা নিয়ে কথা বলতে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন। বলার দরকারও নেই অবশ্য। সংখ্যাই তো তাঁর হয়ে কথা বলছে, এনরিকেকে চাপ দিচ্ছে। সেই চাপ খুব বেশি দিন উপেক্ষা করা মনে হয় সম্ভব হবে না পিএসজি কোচের জন্য।

  • ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    দীর্ঘ বিরতির পর মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে থাকছেন না সুমাইয়া শিমু। তার পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার।

    ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র। তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তার।

    তিনি জানান, চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারটি টের পান। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরদিন শুটিং করি। সেদিন তার চোখ ফুলে যায় ও ব্যথা বাড়ে। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে শুটিং থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে।

    আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা খন্দকার। তার অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী।

    ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে।

    সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ।

    আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।

  • পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশের পদক দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে চার ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব নাসরীন সুলতানা এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, সেবা ও প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজনকে মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশটি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুসারে বিপিএম পদকের জন্য ১২ জন, বিপিএম-সেবার জন্য ১৮, পিপিএমের জন্য ১৮, পিপিএম-সেবার জন্য ৪৪ জনসহ মোট ৯২ জনকে পুলিশ পদকের জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর), পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ১২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম); পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিমসহ ১৮ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা); সিলেটের র‍্যাব-৯-এর মেজর আসিফ আল-রাজেক, মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ ১৮ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদসহ ৪৪ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) পদক দেওয়ার জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    বিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম পাওয়া ১২ জন হলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর); পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম; ডিএমপির ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মাহমুদ আলম; মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল কালাম আজাদ; কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অর্ণব বড়ুয়া; ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) কৃষ্ণ কুমার দাস; ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, টেকনাফের এসআই (নিরস্ত্র) আজিজুল হাকিম; ডিএমপির গুলশান মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. সুমন ইসলাম; ডিএমপির ট্রান্সপোর্ট বিভাগের কনস্টেবল/১৭৫৩১ মো. শাহ আলম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল/১৪২৮ দিলোয়ার মিঞা।

    বিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম-সেবা পাওয়া ১৮ জন হলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল; নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিম; রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ; ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন; পুলিশ অধিদপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান; র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের লে. কর্নেল মোহা. জয়নুল আবেদীন; টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার; নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক; গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ্; ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ; দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন; ডিএমপির গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মেজবাহ উদ্দিন; ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) গোলাম ফারুক; পিবিআইয়ের ফরেনসিক, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন শাখার সার্জেন্ট মো. নাভিদ ইমতিয়াজ; পিবিআই যশোর জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রতন মিয়া এবং পিবিআই খুলনা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রেজোয়ান।

    পিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম পাওয়া ১৮ জন হলেন র‍্যাব-৯, সিলেটের মেজর আসিফ আল-রাজেক; মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার; চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ; চাঁদপুরের মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসাইন সানীব; হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মদ চৌধুরী; কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া; চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রোবেল আফ্রাদ; রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মফিজুল ইসলাম; খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচরা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল আলম; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহাঙ্গীর আলম; চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসের এসআই (নিরস্ত্র) নূপন নাথ; র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইব্রাহিম মিয়া; চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অসিত কুমার বসাক; ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. তোয়াজ্জুল ইসলাম খান; রাজশাহীর বাঘা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহা. সিফাত রেজা; ডিএমপির গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ তানভীর তুষার; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের কনস্টেবল/৩৪১৯ আরিফুল আহাম্মদ এবং একই ইউনিটের কনস্টেবল/৮৭ মো. মেরাজুল ইসলাম।

    পিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম-সেবা পাওয়া ৪৪ জন হলেন স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী; রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদ; রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির; রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. খালিদুল হক হাওলাদার; মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ; হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন; পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার; শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান; পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শটীন চাকমা; কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান; বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার; ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ; পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিআইও) আবদুল করিম; চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম; কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার; ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (উত্তর-বিভাগ) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী; ডিএমপির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জিসানুল হক; ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উত্তরা, ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার চৌধুরী মো. তানভীর; ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদ্দাম হোসেন; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজার রহমান; ডিএমপির ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসলাম সাগর; সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব; পুলিশ অধিদপ্তরের পিআইও শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম; ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার; পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সাইদুল ইসলাম; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির; ডিএমপির মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাবুল আজাদ; সিআইডি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নাছির উদ্দিন রাসেল; পিবিআই ঢাকা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান; পুলিশ টেলিকম সংস্থা, রাজারবাগ, ঢাকার টেলিকম টেকনিশিয়ান (এসআই) মো. মাজহারুল হক; লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মাজহারুল হক; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম মেহেদী হাসান; পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. রিয়াজ উদ্দিন রনি; ডিএমপির ট্রাফিক-গুলশান বিভাগের ট্রাফিক-গুলশান জোনের সার্জেন্ট মো. কামাল উদ্দিন; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) সুদীপ চন্দ্র বিশ্বাস; স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের সিটিএসবি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) তুহিনা নাসরিন; ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইখলাছুর রহমান; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার কনস্টেবল/৫৩৬৪ বাদশা ফাহাদ এবং ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ বিভাগ) কনস্টেবল/১১৯৮২ মো. শিহাব উদ্দিন।

  • মরিনহোকে সতর্ক করলেন সিমিওনে

    মরিনহোকে সতর্ক করলেন সিমিওনে

    মাদ্রিদ ডার্বির উত্তাপ ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও কমেনি। আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলের হারের পর রেফারিং নিয়ে হোসে মরিনহোর সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দিয়েগো সিমিওনে।

    ম্যাচে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মরিনহো। প্রথমার্ধে আতলেতিকোর কয়েকজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেন রিয়াল কোচ। পরে রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন লাল কার্ড দেখলে রিয়ালের ডাগআউটে হতাশা আরও বাড়ে।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু ছবি নিয়েও হাজির হন মরিনহো। সেসব ছবি দেখিয়ে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ভুল বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে ম্যাচ শেষে কোচদের রেফারি ও একে অপরের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সিমিওনে। এরপর শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করা কোচদের নিজেদের বক্তব্যের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকার কথাও বলেন আর্জেন্টাইন কোচ, ‘আমরা সবাই এমন একটি জায়গায় আছি যেখানে আমাদের বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তাই আমরা কী বলছি সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদের, রেফারিদের এবং আমাদের সহকর্মীদের সম্মান করতে হবে।’

    ডার্বিতে আতলেতিকো কিছু সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়েছে বলেও স্বীকার করেন সিমিওনে। তবে তার মতে এতে রেফারিদের প্রতি সম্মান কমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই, ‘আমাদের অবস্থান থেকে আমি যেটা বুঝি তা হলো—আজ আমরা কিছু সিদ্ধান্তের সুবিধা পেলেও রেফারিদের প্রতি সম্মান অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।’

    এরপর মরিনহোকে উদ্দেশ করে আরও কড়া মন্তব্য করেন সিমিওনে, ‘সবকিছু বলা যায় না, আপনার নাম মরিনহো হলেও নয়।’

    ম্যাচের রেফারিং নিয়েই বেশি আলোচনা করেন মরিনহো। বিশেষ করে আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুড বেলিংহামের সংঘর্ষের ঘটনায় লাল কার্ড না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরে হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাটিরও সমালোচনা করেন রিয়াল কোচ।

    শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আতলেতিকো। আর মাঠের উত্তাপের সঙ্গে মরিনহো-সিমিওনের কথার লড়াই মাদ্রিদ ডার্বির উত্তেজনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

  • কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার সামাদ প্লাজার সামাদ আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলায় এসি বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৫) ও হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সাব্বির (৩০)।

    জেলা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ ও সদর মডেল থানার এসআই দুলাল জানান, দুই রাজমিস্ত্রি সামাদ আবাসিক হোটেলে এসি বসানোর কাজ করছিলেন। আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি লোহার রড বিদ্যুতের খোলা তারের সংস্পর্শে এলে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    আফাজুলের ফুপু জাহেরা খাতুন বলেন, আফাজুলের স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তিনি সংসার চালাতেন।

    অন্যদিকে সাব্বিরের চাচাশ্বশুর জাকির হোসেন জানান, সাব্বিরের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তার সংসার চলত।

    জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করার সময় প্রায়ই ভবনের মালিকরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। ফলে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সর্বত্র নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাদের সন্তানদের দায়িত্ব মালিকপক্ষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    ভবনের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, রিপন মিয়াসহ সামাদ আবাসিক হোটেলের চারজন মালিক রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

    সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখর রঞ্জন পাল জানান, এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষের কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ,আর

  • সারে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা কমিশন চান ডিলাররা, নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিতের দাবি বিএফএর

    সারে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা কমিশন চান ডিলাররা, নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিতের দাবি বিএফএর

    বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা এবং নতুন সার ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।

    আজ সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৮ বছর ধরে বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। এ সময়ে জ্বালানি তেলের দামসহ পরিবহন ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্য কয়েক দফা বেড়েছে। ফলে সার ডিলারদের ব্যবসায়িক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিএফএর চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালে বস্তাপ্রতি পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন মিলিয়ে ১০০ টাকা থাকায় পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ডিলাররা বস্তাপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমিশন পেতেন। বর্তমানে একই ব্যবস্থায় বস্তাপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, সরকার বস্তাপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ডিলারদের কমিশন ‘না লাভ, না ক্ষতি’ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাই ডিলারদের টিকে থাকার স্বার্থে বস্তাপ্রতি কমিশন আরও ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

    মোশারফ হোসেন বলেন, কমিশন না বাড়ালে ডিলাররা ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিনের ডিলারদের ব্যবসায় টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। বিএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়, নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় অসংলগ্নতা, অসাংবিধানিকতা ও স্ববিরোধিতা রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

    বিএফএর দাবি, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আইনগতভাবে নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের রুল জারি করেছেন। তবে আদালতের রুল জারির পরও দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলমান বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নীতিমালার বিতর্কিত ধারাগুলো স্পষ্ট করার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো বিএফএর সঙ্গে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ অবস্থায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলেও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করা হয়।

  • আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ

    আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পায়ের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ছয় মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার ভাবিও গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম (৬২) এবং ইমনের ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত। আহত ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইমন প্রায় দুই বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান। এতে তার পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরও পায়ের ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় ইমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রোববার রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মোছা. ফিরোজা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।

    পুলিশ জানায়, এর জেরে সোমবার সকালে ইমন তার মা ও ভাবির সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে মোছা. ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মায়ের কাছে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে তুলে নিয়ে আছাড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে ভাবি রাবেয়া বেগমকেও মারধর করা হয়।

    চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, পায়ের যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার মানসিক অবস্থার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ওসি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ,আর

  • মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    একসঙ্গে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন অনেক শিরোপা। মাঠে লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা যেন ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। সেই মেসির বিদায়ী ম্যাচে কি তিনি না এসে পারেন? দি মারিয়া জানিয়েছেন, মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবরের বিদায়ী ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকবেন তিনিও।

    রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে জয়ের পর মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে নিজের এই পরিকল্পনার কথা জানান দি মারিয়া।

    ৫ অক্টোবর বানফিল্ডের বিপক্ষে রেসিং ক্লাবের ম্যাচ রয়েছে। এরপর আর বুয়েন্স আয়ার্স ছাড়ছেন না দি মারিয়া। পরদিন সরাসরি চলে যাবেন মনুমেন্টালে।

    দি মারিয়া বলছেন, ‘আমাকে তো স্টেডিয়ামে যেতে হবে, তাই না? আমাকে যেতে হবে, মেসির শেষ ম্যাচটা দেখতে হবে। আমরা ৫ তারিখে বানফিল্ডের বিপক্ষে খেলবো। মনুমেন্টাল আমার পথেই পড়বে, আমি সেখানে থাকবো।’

    মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন দি মারিয়া, ‘ব্যাপারটা খুব কঠিন হবে। এত বছর পর লিওকে ছাড়া একটি দল, কল্পনাই করা যায় না। আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টাইনদের এবং পুরো বিশ্বের জন্য সে যা করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমরা শেষ দিনটা উপভোগ করবো।’

  • ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকের প্রস্তুতি মানেই প্রতিপক্ষের শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি হওয়া। দূরত্ব যতই হোক না কেন, ফ্রি-কিক থেকে জাদুকরি গোল উপহার দেওয়া যেন তার বাঁ পায়ের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে সান ডিয়েগোর বিপক্ষে রবিবারের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ক্যারিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

    এমএলএসের রোমাঞ্চকর সেই ২-২ ড্রয়ের ম্যাচের ২৪ মিনিটে ইন্টার মায়ামি পিছিয়ে ছিল। সেই মুহূর্তে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের এক চোখ ধাঁধানো শট নেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বলটি দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এই গোলের সুবাদেই তিনি ক্যারিয়ারের ৯৩০তম গোলটি পূর্ণ করেন। এর মধ্যে শুধু ফ্রি-কিক থেকেই এসেছে তার ৭৫টি গোল।

    এই গোলের মাধ্যমে ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ব্রাজিলিয়ান তারকা জাইর রোসা পিন্টোকে টপকে এককভাবে সর্বকালের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন মেসি। সর্বকালের সেরা ফ্রি-কিক গোলের মালিক হতে তার সামনে এখন কেবল আরেক ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড মার্সেলিনিয়ো কারিওকা, যিনি ৭৮টি ফ্রি-কিক গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ রেকর্ডটি নিজের করে নিতে মার্সেলিনিয়ো থেকে মাত্র চার গোল দূরে রয়েছেন তিনি।

    ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোল:

    ক্রমিকখেলোয়াড়ের নামগোলসংখ্যাদেশ
    ১মার্সেলিনিয়ো কারিওকা৭৮ব্রাজিল
    ২লিওনেল মেসি৭৫আর্জেন্টিনা
    ৩জাইর রোসা পিন্টো৭৪ব্রাজিল
    ৪রবার্তো দিনামিতে৭৩ব্রাজিল
    ৫জুনিনহো পের্নাম্বুকানো৭২ব্রাজিল
    ৬মার্কোস আসুন্সাও৬৮ব্রাজিল
    ৭সিনিসা মিহাইলোভিচ৬৭সার্বিয়া
    ৮হোর্হে আরাভেনা৬৫চিলি
    ৯ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো৬৪পর্তুগাল
    ১০জিকো৬২ব্রাজিল
    ১১দিয়েগো মারাদোনা৬১আর্জেন্টিনা
  • সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নাটক বন্ধের দাবিতে কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে, বেলা ১১টার পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। এ সময় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

    সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা কামনা করলেও প্রথমে তাতে সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ সময় পুলিশের সাথে বাগ্বিতণ্ডার পর কোর্ট ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে আদালতের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান।

    পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তবে তিনিও ফটক খুলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মধ্যেই আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

    সমাবেশে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর, সাবেক সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, সময়ের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিপু খন্দকার, সাংবাদিক হাসান আলী, কে এম আর শাহিনসহ অন্যরা।

    বক্তারা বলেন, কুমারখালীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। অন্যদিকে, হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার পর জামিনে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাকে তারা ‘পাতানো নাটক’ বলে অভিহিত করেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

    সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় জেলার সাংবাদিক সমাজ শুধু প্রতিবাদ নয়; এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    সমাবেশ থেকে সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং গ্রেফতার-জামিনের নামে চলা কথিত নাটক বন্ধের দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমারখালী পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক উল্লাস। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ,আর

  • লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    একটা সময় লা লিগায় নিয়মিতই দেখা যেত অবিশ্বাস্য সব গোল আর রেকর্ডের পর রেকর্ড। লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগে এক মৌসুমে ৪৮ বা ৫০ গোল করা ছিল যেন জলভাত। সময়ের পরিক্রমায় অনেকেই ধরে নিয়েছিল, ওই রূপকথার দিনগুলোর বুঝি চিরতরে অবসান ঘটেছে। তবে সব হিসাব পাল্টে দিয়ে সেই অসম্ভব রেকর্ডের দরজায় কড়া নাড়ছেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।

    চলতি লা লিগা মৌসুমে নিজের প্রথম ৭ ম্যাচেই অভাবনীয় ১২টি গোল করে ফেলেছেন এই সেলেসাও তারকা। এই পরিসংখ্যান তাকে সরাসরি বসিয়ে দিয়েছে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই মেসি-রোনালদোর স্বর্ণালী শুরুর দিনগুলোকে। কিন্তু রাফিনিয়ার পায়ে চলতি মৌসুমের এই অবিশ্বাস্য গোল উৎসবের পেছনে রয়েছে এক অন্য গল্প।

    এবারের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে কোনো কথার লড়াইয়ে না জড়িয়ে তিনি মাঠেই এর সবচেয়ে কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছেন গোলের পর গোল করে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে নতুন ট্যাকটিক্যাল পজিশনে খেলে রাফিনিয়া এখন লা লিগায় যে কোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ত্রাস হয়ে উঠেছেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম সাত ম্যাচের গোলের হিসেবে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন রাফিনিয়া। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে প্রথম ৭ ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে মেসি করেছিলেন প্রথম ৭ ম্যাচে ১১ গোল। আর চলতি মৌসুমে ১২ গোল করে মেসিকেও ছাড়িয়ে গেছেন রাফিনিয়া।

    এছাড়া লা লিগার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড ৫০ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। পরের স্থানটিই রোনালদোর। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তিনি ৪৮ গোল করেন। দুই মহাতারকা লা লিগা ছাড়ার পর থেকে ৪০ বা ৫০ গোলের ঘটনা হারিয়ে গিয়েছিল। লুইস সুয়ারেস (৪০ গোল) কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পে বা রবার্ট লেভানদোভস্কিরা চেষ্টা করলেও সেই যুগের পাগলাটে পরিসংখ্যান ছুঁতে পারেননি।

    কিন্তু রাফিনিয়ার বর্তমান ফর্ম নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রতি ম্যাচে ১.৭১ গড়ে গোল করে চলা এই ব্রাজিলিয়ান যদি এই ধারা অব্যাহত রাখেন, তবে গাণিতিক হিসাবে মৌসুম শেষে তার গোলের সংখ্যা গিয়ে ঠেকতে পারে ৬৫টিতে! যদিও পুরো মৌসুমে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন, তবুও তার বর্তমান ফর্ম ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরোনো সেই সোনালী দিনগুলোর কথা।

    -গোল ডটকম অবলম্বনে

  • টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডিত আসামি হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মরহুম হাজী আজমত আলীর ছেলে মুস্তাক। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে জানান, আসামি মুস্তাক দুই শিশুছেলে ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে নিয়ে ভূঞাপুরের ঘাটান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি বিগত ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার পর যেকোনো সময় মুনিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

    অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে নিজ ঘরের বক্সখাটের নিচ থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার ভাই আমিনুল ইসলাম খান ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন।

    বিচার শেষে আদালত আসামি মুস্তাককে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে স্ত্রীর লাশ গুম করার চেষ্টার দায়ে তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    নিহত মুনিয়া গোপালপুরের নলিন বাজার গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে।

    মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: রফিকুল ইসলাম রফিক। এ,আর

  • মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করা হবে। একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।

    এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

    এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।

    তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাসস’কে বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

  • ফের আলোচনা চায় যুক্তরাষ্ট্র : কাতার

    ফের আলোচনা চায় যুক্তরাষ্ট্র : কাতার

    ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে জানিয়েছে কাতার। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দোহা।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি নিউইয়র্কে কাতার অর্থনৈতিক ফোরমের এক অনুষ্ঠানের ফাকে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের মধ্যস্থতাকারী দল আলোচনা পুনরায় শুরুর উপায় খুঁজছে। গত কয়েক সপ্তাহে দুই পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    আল-আনসারি বলেন, ‘আমরা তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের মধ্যস্থতাকারী দলের মাধ্যমে আবার আলোচনা শুরু করা যায় কি না, সে বিষয়ে কাজ করছি। অনেক প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।’

    তিনি বলেন, কাতারের লক্ষ্য হলো দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আলোচনায় ফেরার উপযুক্ত সময় ও পথ খুঁজে বের করা।

    কাতারের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, এমন বার্তা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে একটি সমাধান খুঁজে বের করতেও ওয়াশিংটন আগ্রহী বলে জানান তিনি।

  • নিউইয়র্কে আরাঘচি !

    নিউইয়র্কে আরাঘচি !

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বিকেলে তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

    নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে তিনি কাতারের রাজধানী দোহায় যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে তিনি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করেন। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবেলা : সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ প্রতিপাদ্য নিয়ে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

    এবারের অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও রয়েছে।

  • ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার কথা উঠলে যে কয়েকটি মুখ দর্শকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাদের মধ্যে অন্যতম মিঠু মুখোপাধ্যায়। সৌন্দর্য, নাচ, অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু।

    দীর্ঘদিন ছিলেন প্রচারের আড়ালে। রোববার তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই অভিনেত্রীর বর্ণিল অধ্যায়।

    বাংলা সিনেমা যখন সাদা-কালো থেকে রঙিন যুগে প্রবেশ করছে, ঠিক সেই সময়েই মিঠুর আবির্ভাব। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। তবে প্রথম সিনেমা তাকে তারকা করে তুলতে পারেনি। দর্শকের কাছে বড় পরিচিতি আসে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ দিয়ে।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’য় মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন মিঠু। সিনেমাটির গান ও নাচেও তার উপস্থিতি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এরপর থেকেই বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন তিনি।

    ১৯৭৩ সালে ‘নিশিকন্যা’ এবং পরের বছর অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। ‘মৌচাক’-এ রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি মিঠুর উপস্থিতিও সিনেমাটিতে আলাদা করে নজর কাড়ে।

    পরে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন মিঠু। ‘কবি’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গেও কাজের সুযোগ হয় তার। ‘হোটেল স্নো ফক্স’ ও ‘চাঁদের কাছাকাছি’ সিনেমায় উত্তমকুমারের সঙ্গে তার অভিনয় সে সময় দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল।

    বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখান মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সিনেমাজগৎ তাকে দীর্ঘদিন টানেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে আসেন মিঠু। এদিকে বাংলা সিনেমায় তখন নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের উত্থান শুরু হয়েছে। মহুয়া রায়চৌধুরী ও দেবশ্রী রায়ের মতো অভিনেত্রীরা দর্শকের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন। ফলে মিঠুর আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ততা আর দেখা যায়নি।

    দীর্ঘ বিরতির পর চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরেন মিঠু। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন কনওয়ালজিৎ সিং। সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও এরপর আর নিয়মিত অভিনয়ে ফেরেননি তিনি। কার্যত সেখানেই ইতি ঘটে তার অভিনয়জীবনের।

    এরপর জীবনের বাকি সময়টা অনেকটা আড়ালে কাটিয়েছেন মিঠু। মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও সংবাদমাধ্যম কিংবা প্রকাশ্য উপস্থিতি থেকে দূরে থাকতেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। তবে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যাননি মিঠু মুখোপাধ্যায়।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা, ‘মৌচাক’-এর প্রাণবন্ত চরিত্র কিংবা রঞ্জিত মল্লিক ও উত্তমকুমারের সঙ্গে তার পর্দার মুহূর্ত—সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মিঠুর জন্য তৈরি করেছে আলাদা একটি অধ্যায়। সূত্র: দ্য ওয়াল

  • ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মামলা

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মামলা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে দেশটির তিন বড় সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউ।

    ট্রাম্পের তৈরি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে তারা যৌথভাবে মামলা করার কথা জানিয়েছে।

    এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করেন। তার দাবি ছিল, এই মাধ্যমগুলো নাকি সরকারের বিরুদ্ধে বানানো গল্প আর মিথ্যা খবর প্রচার করছে। ট্রাম্পের ওই নির্দেশের পর দিনই সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের প্রবেশপত্র কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

    এই ঘটনার পর একটি যৌথ বার্তায় সংবাদমাধ্যম তিনটি জানিয়েছে, কোনো নিয়মকানুন না মেনে কেবল নিজেদের অপছন্দের খবর ছাপানোর কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সাংবাদিকদের কার্ড বাতিল করেছে। এটি আমেরিকার সংবিধানের দেওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। কারণ, সরকার কখনোই ঠিক করে দিতে পারে না সাংবাদিকরা কী খবর ছাপাবে আর কোনটা ছাপাবে না।

    অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সংবাদমাধ্যমের এমন বিরোধ নতুন নয়। এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো বিখ্যাত পত্রিকাগুলোকেও ‘ভুয়া খবরের মাধ্যম’ বলে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। এমনকি কয়েক মাস আগে ‘মেক্সিকো উপসাগর’ নাম ব্যবহারের কারণে বার্তা সংস্থা এপির সাংবাদিকদের ওপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে মামলা এখনো চলছে। তবে এবার সরকারের এই বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আইনি লড়াইয়ে নামছে এই তিন সংবাদমাধ্যম।

  • পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

    আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন–সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, তদন্ত এবং দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।

  • ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের শোচনীয় ৩-০ টেস্ট হার এবং দল নিয়ে নাটকীয় সিদ্ধান্তের পর দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ও সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। ম্যানচেস্টারে এক দাতব্য অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজমের নেতৃত্ব এবং তার ‘অজ্ঞতা’ নিয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?

    বাবার আজমের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরেই মূলত আকরামের এই ক্ষোভের সূত্রপাত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের টসের সময় বাবরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, দল থেকে হঠাৎ সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে দেয়া এবং কোচ বরখাস্তের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে তার কি মতামত। উত্তরে বাবর জানান, এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না এবং বিষয়টি তার কাছেও সম্পূর্ণ নতুন।

    আর এই কথাটিকেই একহাত নিয়েছেন আকরাম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “টসের সময় বাবরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনার সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোচ ও বোলিং কোচকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আপনি কি মনে করেন?’ সে তখন বলেছে, ‘আমার কোনো ধারণা নেই।’ তাহলে তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?”

    আকরাম আরও বলেন, দলের নেতা যদি নিজের জায়গা থেকে শক্ত না থাকেন এবং বোর্ডের এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তে কোণঠাসা হয়ে পড়েন, তবে পুরো দলের পারফরম্যান্সের ওপর তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তার মতে, পরিস্থিতি যখন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছিল, তখন দ্বিতীয় টেস্টের পরেই বাবরের উচিত ছিল টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাওয়া।

    ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করায় সাবেক ক্রিকেটাররা সাধারণত বোর্ডের চেয়ে অধিনায়কের ওপরই দায় বেশি চাপাচ্ছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ডের সঙ্গে অধিনায়কের এই চরম যোগাযোগহীনতা পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাবে?

  • প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনের কারণ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার ভাষ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন মূল্য সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্তটি অজনপ্রিয় হলেও সরকারকে তা নিতে হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম ছিল। এর ফলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, যা আমাদের রিজার্ভের প্রধানতম খাত—সেই মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছিলাম আমরা। এমতাবস্থায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এবং পাচার বন্ধে সরকারকে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’

    জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হতে পারত বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার মতে, এতে বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো কর্মসূচিগুলো মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

    বিপিসির লোকসানের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির গড়ে প্রতি মাসে লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।’

    তিনি জানান, বাংলাদেশকে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। মূল্য সমন্বয়ের আগে ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বিপিসিকে।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা না হলে শুধু ডিজেলের ক্ষেত্রেই বছরে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে বার্ষিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাত।’

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বিমা প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় না করে সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ডিজেলের তৎকালীন বাজারদরের তথ্যও তুলে ধরেন।

    এদিকে, নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি।’

  • ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী। তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।

    সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিড ডে মিলে দেওয়া দুধ খাওয়ার পর তাদের পেটব্যথা শুরু হয়। একে একে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সোমবার মিড ডে মিলে দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা শুরু হয়।

    জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের সাত উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহের পাঁচ দিন বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

    রোববার দেওয়া হয় ডিম ও পাউরুটি, সোমবার দুধ ও পাউরুটি, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার ডিম ও পাউরুটি দেওয়া হয়। ডিম, পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করে স্থানীয় সংস্থা ইএসডিও। দুধ সরবরাহ করে আরডি নামে একটি সংস্থা এবং বিস্কিট সরবরাহ করে প্রাণ কোম্পানি। এ,আর

  • মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০১তম গোল করলেও সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে জয় দেখা পায়নি দলটি। রোববার রাতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

    এই নিয়ে এমএলএসে টানা চতুর্থ ম্যাচে ড্র করল মায়ামি। ক্লাবটির নতুন কোচ কিলি গঞ্জালেসের অধীনে এটি ছিল লিগে প্রথম ম্যাচ। শেষদিকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ১২ মিনিটে জেপ্পে টভার্সকভের পাস থেকে গোল করে সান দিয়েগোকে এগিয়ে দেন আন্দের্স ড্রায়ার। গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট-ক্লেয়ারকে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি।

    ২৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। ডান দিক থেকে তার নেওয়া ফ্রি-কিক বক্সের ভেতর কাউকে স্পর্শ না করে সরাসরি দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এটি চলতি মৌসুমে এমএলএসে মেসির ২০তম গোল।

    চার দিন আগেই মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মায়ামির হয়ে নিজের শততম গোল করেছিলেন মেসি। এমএলএসে ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর ফ্রি-কিক থেকে এটি তার অষ্টম গোল যা কি না এই সময়ে লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

    দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামি আক্রমণে গতি বাড়ায়। ৭৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিউ ইংল্যান্ডকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মায়ামির।

    তবে আট মিনিট পরই আবার সমতায় ফেরে সান দিয়েগো। হেরন্সদের রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে আসা বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ড্রায়ার।

    ম্যাচ শেষে গঞ্জালেস মায়ামির রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের রক্ষণে আরও শক্ত হতে হবে এবং এ ধরনের ভুলের জন্য বড় মূল্য দিতে হয়। মাত্র চার দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ায় দলকে ঠিকমতো অনুশীলন করানোর সুযোগ পাননি বলেও জানান তিনি।

    এই ড্রয়ে ১২ জয়, ৪ হার ও ১০ ড্রয়ে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

    আগামী রোববার এমএলএসে কলম্বাস ক্রুর মাঠে খেলবে মায়ামি। আর শনিবার অস্টিন এফসির বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলবে সান দিয়েগো।

  • জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে বরাদ্দ ১১৯ কোটি টাকা

    জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে বরাদ্দ ১১৯ কোটি টাকা

    জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে এককালীন ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের বিশেষ বরাদ্দ উপখাত থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হয়।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেন।

    আদেশে বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবমুক্তির সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ট্রেজারি রুলস (টিআর) ফরম-৩২ অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করতে হবে। ওই বিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

    বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিলের বিপরীতে অ্যাকাউন্ট পে চেক বা অ্যাডভাইস ইস্যু করা হবে।

    আদেশে বলা হয়েছে, জেলা কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে। আর উপজেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো অ্যাডভাইসের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করবে। এই ব্যয় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের নির্ধারিত মঞ্জুরি ও সংশ্লিষ্ট হিসাব খাতের বরাদ্দ থেকে মেটানো হবে।

    অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০২১ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

    সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন। একই সঙ্গে বরাদ্দ থেকে অব্যয়িত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এ অর্থ অবমুক্তির বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতিও রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে সম্মতি দেয়।

  • দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সার বিক্রেতা ও ট্রাকচালককে জরিমানা করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মুশিদহাট ইউনিয়নের পড়িয়ালপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

    ধানের খড়ের ভেতর লুকিয়ে ট্রাকযোগে সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভনকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    অভিযানে, অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: এমরানকে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং সার পাচারের অপরাধে ট্রাকচালক আব্দুল জলিলকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে মোট ১৩ বস্তা ২৬ কেজি সার জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভন বলেন, জব্দ করা সার সোমবার সকালে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ,আর

  • লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ল প্যাকেটজাত তরল দুধ

    লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ল প্যাকেটজাত তরল দুধ

    দেশের বাজারে প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ানোর কারণ দেখিয়ে দাম সমন্বয় করেছেন দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে মিল্কভিটার এক লিটার প্যাকেটজাত দুধ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। গত মাসে পণ্যটির দাম ১০ টাকা বাড়ানো হয়। একই সময়ে আধা লিটার প্যাকেটের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    এদিকে ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং ও প্রাণ ডেইরির আধা লিটার প্যাকেটজাত তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এসব ব্র্যান্ডের এক লিটারের প্যাকেটের দাম ১১০ থেকে ১১৫ টাকা।

    এদিকে দুধের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, দৈনন্দিন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিক দাম বাড়ানোর কারণে অনেক পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, দাম বাড়ার পর তরল দুধের বিক্রি কমেছে। তাদের অভিযোগ, একসঙ্গে প্রায় সব ব্র্যান্ডের দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। প্যাকেজিং উপকরণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদক উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী পৃথক দু’টি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার প্রাগপুর বাজারসংলগ্ন পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬০০ পিস স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধার করা ডিসপ্লের মধ্যে রয়েছে ২০০ পিস ‘ক্রাউন আলট্রা এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’ ও ৪০০ পিস ‘ক্রাউন স্মার্ট এলসিডি ডিসপ্লে ৫০০+’। এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৪ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রিফুজি পাড়া মাঠে অভিযান চালায় বিজিবির আরেকটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও তিন হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য নয় লাখ আট হাজার টাকা। তবে এসব মালামালের সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

    ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামেই এক শ্রেণির কথিত ও হাতুড়ে পশু চিকিৎসকের দাপট বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও কাঁধে বড় ব্যাগ ও মোটরসাইকনে ‘চিকিৎসক’ লিখে নিজেদের পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন তারা।

    অভিযোগ রয়েছে, এসব কথিত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে গবাদিপশু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য খামারিদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সকাল-বিকেল এসব কথিত পশু চিকিৎসকের আনাগোনা দেখা যায়। তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ সুযোগে কেউ কেউ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    উপজেলার চান্দলা করিম এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘আগে গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসে যেতে হতো। এখন সকাল-বিকেল বাড়িতে বাড়িতে ভুয়া চিকিৎসকের আগমন ঘটে। তারা ভুলভাল চিকিৎসা দিয়ে খামারিদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ভেটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতা বলেন, এসব কথিত চিকিৎসকের অনেকেরই গবাদিপশুর রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান নেই। বড় বড় ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানো এসব ব্যক্তির কেউ কেউ নিজেদের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছেন। এতে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    অভিযোগের বিষয়ে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কথিত পশু চিকিৎসক বলেন, ‘বেকার বসে থাকার চেয়ে কিছু করে খাওয়া ভালো। কয়েক মাসের একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি। আমাদের সাধ্যের বাইরে কোনো রোগ হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে রেফার করি।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আতিকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলায় ভুয়া ও হাতুড়ে পশু চিকিৎসকের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। তারা ভুল চিকিৎসা দিলে গবাদিপশুর ক্ষতি হতে পারে। এতে অনেক গরু ও বাছুর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘গবাদিপশুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও সঠিক ওষুধ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন।’

    স্থানীয় খামারিরা জানায়, গবাদিপশু তাদের অনেকের প্রধান আয়ের উৎস। তাই ভুল চিকিৎসায় কোনো পশু মারা গেলে বা স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের অভিযোগ, গ্রামে গ্রামে ঘুরে চিকিৎসা দেয়া এসব ব্যক্তির পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা হয় না।

    এ অবস্থায় কথিত ও অনিবন্ধিত পশু চিকিৎসকদের কার্যক্রম যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি খামারিদের সচেতনতা বাড়াতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এ,আর

  • ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ

    ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ

    স্কুলে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ইতালি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে, তার সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

    দেশটির কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এই ঘোষণা দিয়েছেন।

    ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের কাছে ইতালি অন্যতম প্রধান ট্রানজিট দেশ। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের আগে অভিবাসীদের মূলধারার সমাজের সঙ্গে ‘মানিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) যুব শাখার এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে, তা আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে।

    মেলোনি আরও বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে, তাদের মা-বাবাকেও ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে। এর পাশাপাশি স্কুলে বোরকা ও নেকাব পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও এই প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।

    এর আগে গত জুলাই মাসে স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দাবি তুলেছিল ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) পার্টি।

    এফএন দলটি ক্ষমতাসীন জোটে নেই। তবে রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে তারা মেলোনির দলের চেয়েও বেশি কট্টর ডানপন্থী। গত ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই জনমত জরিপে তাদের অবস্থান দ্রুত জোরালো হচ্ছে। ফলে দলটি এখন মেলোনির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

    ইতালির কোনো স্কুলে বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি বোরকা নিষিদ্ধ করে এমন সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে বলা আছে, সংগত কারণ ছাড়া মুখ বা পরিচয় ঢেকে রাখে এমন পোশাক বা হেলমেট পরা যাবে না।

    পরে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত একটি ব্যাখ্যা দেন। আদালত জানান, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরা যাবে। তবে পরিচয় শনাক্তের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করতে হবে।

    মেলোনির জোটসঙ্গী অভিবাসনবিরোধী লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুর দিকে সিনেটে একটি বিল তোলে। বিলটিতে ক্রীড়া অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মুখ ঢেকে রাখার পোশাক ও হেলমেট পুরোপুরি নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়।

    ইতালির আইনে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। তবে এই নিয়মে ঠিক কী পরিবর্তন আনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি মেলোনি।

    দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (আইএসটিএটি) তথ্য অনুযায়ী, ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি। ২০১০ সাল থেকেই প্রতিটি ক্লাসে ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে রাখার নিয়ম চালু আছে।

    তবে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কোটার হার বাড়ানো যায়। যেমন ইতালিতে জন্ম নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পায়। অন্যদিকে ভাষায় দক্ষতা দুর্বল হলে এই সীমা আরও কমানো হতে পারে।

  • নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে মিম (৭) নামে মাদরাসাপড়ুয়া এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রাম থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শিশু মিম বিদ্যাকুট গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্রী মিম শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সোমবার বিকেলে বিদ্যাকুট বড় বাড়ির পুকুরপাড়ের ঝোপে শিশু মিমের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠায়।

    নিহত শিশুর বাবা মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার শিশু মেয়েটা এভাবে চলে যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারছি না।

    নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ‘ভূমিকম্পের মতো’

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ‘ভূমিকম্পের মতো’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’ প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।

    একই সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ‘উত্তেজনা বাড়ানোর চক্র’ থেকে দূরে থাকার বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ। সেখানে গতকাল রোববার কাতার ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে এমন একটি ‘কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং কোনো রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না’।

    শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি, কাতারের প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন শেখ মোহাম্মদ। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতকে ‘ভূমিকম্পের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে

    কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংকটের সময় প্রায় প্রতিটি আলোচনা শুরু হয়েছে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে। এরপর আলোচনা গড়িয়েছে জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং আমাদের বিনিয়োগের দিকে। আমাদের পরিকল্পনাগুলোও এগিয়ে চলবে। আসলে এগুলো একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। যখন এত কিছুই ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়গুলোর ওপর এখনো নির্ভর করা যায়?’

    সংকটময় এ সময়ে কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত’ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, দেশটি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি এ–ও স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।

    শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্রকে যদি চিরস্থায়ীভাবে অনিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়, তাহলে কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমেই সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আমাদের উত্তেজনার উৎসগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর সমাধান করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।’

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

    এদিকে গতকাল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় ইরানে বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা আবার শুরুর লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

  • ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে আতলেতিকো। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে এটি রিয়ালের দ্বিতীয় হার।

    রোববারের ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শুরু থেকেই আক্রমণভাগে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম। তবে প্রথমার্ধে তারকাখচিত দুই দলের লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।

    প্রথমার্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বেলিংহাম ও আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মধ্যকার সংঘর্ষ। বেলিংহামকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে রোমেরোকে কার্ড দেখানো হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। গোলমুখে এগিয়ে যাওয়া জুলিয়ানো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং আতলেতিকো পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

    গোল হজমের পর দ্রুত দুটি পরিবর্তন করেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। ভিনিসিয়ুস ও আরদা গুলেরকে তুলে ইয়ান দিয়োমান্দে ও আন্তোনিও রুডিগারকে মাঠে নামান তিনি। তবে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আতলেতিকো।

    ৫৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। এটি ছিল আতলেতিকোর হয়ে টানা তিন ম্যাচে তার তৃতীয় গোল।

    এরপর আতলেতিকো তৃতীয় গোলের কাছাকাছি গেলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জুলিয়ান আলভারেজের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গ্রিমালদোর শটও গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ইব্রাহিমা কোনাতে।

    শেষদিকে রিয়াল একটি গোল শোধ করে। বের্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন রুডিগার। তবে শেষ মুহূর্তের সেই গোল দলকে সমতায় ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    জয়ে আতলেতিকো উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাদের পয়েন্ট বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ কম এবং রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক বেশি। রিয়াল এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।

  • ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    ২ হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দুরন্ত শৈশবে শিশুরা যখন মাঠে ঘাঠে ছুটে বেড়ায়, তখন আশরাফ দূর থেকে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলে। দু’টি হাত নেই, তাই বন্ধুদের খেলায় শরিক হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মনের গহিনে জমে উঠে তীব্র এক শূন্যতা। নিয়তির এই বঞ্চনা তার জীবনের গল্পটাকে সেখানে থামিয়ে দেয়নি। হতাশার অন্ধকার পেরিয়ে দুই পা-ই হয়ে উঠেছে তার বেঁচে থাকার, স্বপ্ন দেখার এবং তা বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার। দুই পায়ের আঙুলে সে বুঝতে শিখেছে জীবনকে।

    ইচ্ছেশক্তির জোর থাকলে কোনো কিছুই জীবন যুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তা দেখিয়ে দিলেন আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন। জন্মের পর সবকিছু ঠিক থাকলেও ছয় বছর বয়সে জীবনটা বদলে যায়। কাঁধের দু’পাশ থেকে দুটো হাত নেই। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হার মানেয়নি আশরাফ। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে কাটা হাতে পা দিয়ে লিখে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আশরাফ চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এবার পা দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কারো গলগ্রহ হয়ে নয়, আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বাঁচতে-সমাজকে আলোকিত করতে চান তিনি।

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পানিছড়া গ্রামে আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেনের জন্ম। বাবা খলিল আহমদ ও মা মোছাম্মৎ আমিনা বেগম দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে বড় সে। মা আমিনা বেগম ছেলেকে সমাজের বোঝা না বানাতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

    মায়ের প্রচেষ্টা, বিশ্বাস আর অনুপ্রেরণায় মোহাম্মদ আলী হোসেন তার পা দু’টিকে হাতের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রাম শুরু করেন। শুরুর দিকে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হতো, তবু হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ তিন বছরের নিরলস চেষ্টায় তিনি আয়ত্ত করেন পায়ে লেখার কৌশল। প্রতিদিনের ক্লাস থেকে শুরু করে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা সবই তিনি করতে শুরু করেন দুই পায়ের নিপুণ দক্ষতায়।

    পড়াশোনার প্রতি মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছিল খুবই চেষ্টা, তাই তিনি ভর্তিহন চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায়। তার লেখা পড়া দেখে মুগ্ধ হন সবাই।

    ২০১৪ সালে দাদির সাথে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ খালেরপাড় এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান আশরাফ। সেখানে দুইতলা ভবনের ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যাওয়ার সময় বাঁচার জন্য তিনি ১১হাজার কেভির বৈদ্যুতিক লাইনে হাত লেগে ঝলসে যায়। দুই হাত কেটে তাকে বাঁচিয়ে রাখেন চিকিৎসকরা। দু’হাত হারিয়েও তার পড়ালেখা থেমে থাকেনি।

    ২০২৬ সালে চান্দু শাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এখন হযরত শাহজালাল (র:) ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। সে সব সময় হাসিখুশি থাকে।

    আশরাফের মা আমিনা বেগম জানান, দুই ছেলে মধ্যে আশরাফ সবার বড়। ছোট থেকে কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের। দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর বসে বসে কত কেঁদেছি রাতের পর রাত। আশরাফের হাত না থাকায় কোনো কোনো প্রতিবেশী তাকে পছন্দ করত না। সমবয়সীরা তার সাথে খেলত না। একপর্যায়ে আশরাফের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বাড়িতে পায়ের আঙ্গুলে কলম চেপে ধরে খাতায় লেখার চেষ্টা করে সে। আস্তে আস্তে লিখতে শেখে সে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তি দেখে তাকে আমরা মাদরাসায় ভর্তি করি। এখন নিজের ইচ্ছা ও যোগ্যতায় সে এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়। তবে সে এখনো তার নিজের কাজ নিজে করতে পারে না। জামা-প্যান্ট নিজেই পরতে পারে না। খাবার মাখতে পারে না। খাবার মেখে দিয়ে মুখে খাইয়ে দিতে হয়। তার বাবার অল্প আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আশরাফ লেখাপড়া করে একটি চাকরি পেলে সমাজের আর দশটা প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েও তাকে অনুসরণ করতে পারবে।

    আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গর্ভধারিণী মা-ই এখন প্রধান ভরসা। তিনি হাঁটাচলা করতে পারলেও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। লেখাপড়ার জন্য মাদরাসায় যাতায়াতের সময়ও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

    আক্ষেপ করে আশরাফ বলেন, ‘আমি হাঁটাহাঁটি ও চলাফেরা করতে পারি। কিন্তু লেখাপড়া করতে মাদরাসায় যাওয়ার সময় অনেকেই আমাকে অবহেলা করে গাড়িতে তুলতেন না। সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে আমি জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি চাই অন্য সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে।’

    নিজের পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কথা তুলে ধরে আশরাফ আরো বলেন, ‘আমার বাবা একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। আমার চিকিৎসার পেছনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। কিছুদিন আগে আমার বড় ভাইও রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দুই ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাবা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন আমি পরিবারের হাল ধরতে চাই।’

    তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার যদি তাকে একটি চাকরি দেয়, তাহলে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

    প্রতিবেশী মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরও আশরাফ থেমে থাকেনি। জীবনযুদ্ধে লড়াই করে সে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সে একজন মেধাবী ও ভালো ছাত্র।’

    তিনি বলেন, ‘আশরাফ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে আরো এগিয়ে যেতে পারবে। তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্টে দিনযাপন করছেন। বাবা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। পরিবারের আহার, চিকিৎসা ও লেখাপড়ার ব্যয় বহন করে ঋণ পরিশোধ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। আশরাফের বাড়ির কাছেই সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। সেখানে তাঁ জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে বাড়ির কাছ থেকে যাতায়াত করে কাজ করা সম্ভব হবে।’

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

    চিকনাগুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পরিবারটি আজ অসহায় জীবনযাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও সবাইকে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আশরাফের প্রত্যাশা—সহানুভূতি নয়, সুযোগ। একটি কর্মসংস্থানই হতে পারে তার নতুন জীবনের পথচলার শক্তি।

    শৈশবে যে আলী মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের খেলতে দেখতেন, আজ তিনি জীবনের বৃহত্তর এক ময়দানে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। দুই হাত না থাকার সীমাবদ্ধতাকে তিনি তার আত্মপরিচয় হতে দেননি। এখন তার প্রয়োজন কেবল একটি সুযোগের। একটি চাকরি শুধু তার জীবিকা নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজকে এ বার্তা দেবে যে–ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে কোনো বাধা মানুষকে আটকে রাখতে পারে না। এ,আর

  • মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় জরিমানা

    মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় জরিমানা

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে প্রদীপ জ্বালানোর নির্দেশ ছিল। সরকারি পর্যায়ে তো বটেই, বেসরকারিভাবেও এই নির্দেশ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল দেশের সর্বত্র। সেই অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর, সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭৬তম জন্মদিনটি পালিত হয় প্রজ্বলিত প্রদীপের দীপ্তিতে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিতর্কের চরিত্রও বহুমুখী।

    বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে জম্মুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) কর্তৃপক্ষকে নিয়ে। তাদের হুকুম ছিল, সব পড়ুয়াকে প্রদীপ জ্বালানোর সময় হাজির থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গল কামনায় প্রদীপ জ্বালাতে হবে। নইলে ৫০০ রুপি জরিমানা।

    এ বিষয়ে আইআইএম স্টুডেন্টস কাউন্সিলের তরফে একটি নির্দেশনামা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর সবাইকে প্রদীপ জ্বালানো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। যদি কেউ অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে কারণ দেখাতে হবে। নির্দেশ অনুযায়ী, একমাত্র অসুস্থতার কারণে কেউ হাজির না থাকতে পারে। তবে সে জন্য আইআইএম কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত উপযুক্ত ডাক্তারের (সঞ্জীবনী) সার্টিফিকেট থাকা দরকার। তাতে ডাক্তারকে জানাতে হবে, সংশ্লিষ্ট ছাত্র এতটাই অসুস্থ যে তার বিছানা ছাড়ার উপায় নেই। এ ছাড়া অন্য কোনো ওজর আপত্তি গ্রাহ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার ৫০০ রুপি জরিমানা হবে।

    নির্দিষ্ট দিনে আইআইএম জম্মুর প্রশাসনিক ভবনের সামনে সেই অনুষ্ঠান হয়। তাতে অংশ নেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক যুধবীর শেঠি ও আইআইএম জম্মুর পরিচালক অধ্যাপক বি এস সহায়।

    জরিমানার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ওই অনুষ্ঠানে হাজির হননি বেশ কিছু পড়ুয়া। তাঁদের শৃঙ্খলাভঙ্গের নোটিস পাঠানো হয়েছে। বলা হয়, নোটিস প্রাপ্তির এক দিনের মধ্যেই জবাব দিতে হবে। জবাব যুক্তিযুক্ত মনে না হলে ৫০০ রুপি জরিমানা। জম্মু–কাশ্মীর কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত নেতা সৈয়দ নাসির হুসেন প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে? কেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রচারের দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো হবে? এটা তো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ হতে পারে না?

    বিহারের আরজিডে নেতা ও সাংসদ সুহাকর সিংও এই ঘটনার নিন্দা করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে বলেছেন, কেন জরিমানা? কেন জন্মদিনের প্রদীপ জ্বালানো বাধ্যতামূলক করা? এর চেয়ে ভালো হবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটা ঘোষণা জারি করুক, যারা ‘মোদি মোদি’ করবে না, মোদি বন্দনায় অংশ নেবে না, তাদের আইআইএম বা আইআইটিতে ভর্তিই করানো হবে না।

    জম্মু আইআইএম কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, কোনো ছাত্রের কাছ থেকে জরিমানার টাকা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    গত শনিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরের দিন ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন। তির্যক ভঙ্গিতে রাহুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সরকার কোটি কোটি রুপি খরচ করে রাজ্যে রাজ্যে প্রদীপ জ্বালাচ্ছে। অথচ ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য হোস্টেল তৈরি করতে পারে না। সে জন্য টাকা বরাদ্দ হয় না। সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বহু ছাত্রী থাকার অসুবিধার জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে ওই ‘এক্স’ বার্তায় ছাত্রীদের অসুবিধার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘এই বাচ্চা মেয়েটির প্রশ্নের উত্তর কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে?’

    প্রদীপ জ্বালানো নিয়ে নানা মহলে নানা রকম কথাও হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, ভাঙাচোরা আসবাবহীন দরজা–জানালাহীন জরাজীর্ণ এক আদিবাসী স্কুল–বাড়িতে একটি জ্বলন্ত প্রদীপ রেখে তিনি বলছেন, প্রিয় মোদিজি, আপনি প্রদীপ জ্বালাতে বলেছেন। এই প্রদীপ আপনার জন্য। এই ভাঙাচোরা স্কুল–বাড়ি আপনার অবদান। আপনার বারো বছরের শাসনের নিদর্শন।

    দিল্লি, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটসহ বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মোদির জন্মদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে পালিত হয়। সে জন্য সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়। স্কুল, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ জন্য নির্দেশ জারি করা হয়। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’। সবাই নির্দেশ পালন করছে কি না, তা জানতে প্রত্যেককে ভিডিও করে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠাতে বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এক মাসের এক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ওই অভিযান চলবে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সরকারি প্রচেষ্টার কড়া সমালোচনা করেছে। পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (পিইউসিএল) এই ‘স্তাবকতার’ সমালোচনা করে বলেছে, এভাবেই স্বাধীন চিন্তা ও ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতার গলা টিপে ধরা হচ্ছে। জন্ম দেওয়া হচ্ছে স্তাবক শ্রেণির।

  • রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারকে জামায়াতের সহায়তা প্রদান

    রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারকে জামায়াতের সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা। পুনর্বাসনে প্রতিটি পরিবারকে এক বান করে ঢেউটিন ও নগদ দুই হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন আশহক ব্যাপারি বাড়িতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাছেল, সহকারী সেক্রেটারি ও ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাসেম, সোনাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার ইদ্রিস মিয়া, ঢাকাস্থ রায়পুর ফোরামের সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস মাদানীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    সহায়তা দেয়ার সময় জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে যায়। এতে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এ,আর

  • বার্সার সাতে সাত

    বার্সার সাতে সাত

    লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একুশ শতকে লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে গোল করার দিক থেকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

    সেভিয়ার মাঠে গত শনিবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চার মিনিট পরই রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তারকা ফুটবলার। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।

    এই জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ও তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বেটিসের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। তবে বার্সা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।

    ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যায় সেভিয়াই। ১৯ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে জাল খুঁজে নেন ইউসুফ ফোফানা। হেড থেকে গোল করেন তিনি।

    তবে মিনিট তিনেকের মধ্যেই বার্সাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা। ভেতরের দিকে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে সেভিয়ার গোলরক্ষক ওদিসেয়াস ভ্লাখোদিমোসকে পরাস্ত করেন তিনি।

    পরের দুই গোলেই রাফিনহাকে সহায়তা করেন লামিনে ইয়ামাল। ৫২ মিনিটে গোলমুখ থেকে দূরে সরে গিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইয়ামাল ক্রস বাড়ান রাফিনিয়ার উদ্দেশে। সাবেক লিডস ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান।

    এরপর ৬৯ মিনিটে আবারও রাফিনিয়ার গোলের কারিগর ইয়ামাল। অসাধারণ এক পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এরপর চমৎকার কৌশলে বলটি ভ্লাখোদিমোসের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান। লামিনে ইয়ামালের সহায়তায় দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা।

    রাফিনিয়ার এই হ্যাটট্রিকেই নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার টানা সপ্তম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। এই হারের পরও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পঞ্চম স্থানে রয়েছে সেভিয়া।

  • চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা নকশিকাঁথার জামালপুরে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও লেক পরিবেষ্টিত লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে। ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো জামালপুর জেলাতেই ছিল উৎসবের আবহ।

    এবারের পর্বে থাকছে দুটি ভিন্ন ধরনের গান। এর একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতৃপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম- টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

    বরাবরের মতো এবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা, যাদের বাড়িও এই জামালপুরে। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা।

    ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন দর্শক পর্বের প্রথা অনুযায়ী, ধারণস্থান জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজন দর্শককে। ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পর্বগুলোর মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল প্রতিবেদন। জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’ বা ‘পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জামালপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জামালপুরের ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’-এর ওপর রয়েছে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। জামালপুরে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অভাবের তাড়নায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার- এসব নিয়ে রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়া জামালপুরে জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। ‘ইত্যাদি’র এই পর্ব ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

  • আমেরিকানদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

    আমেরিকানদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

    ইরানকে ঘিরে ফের উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা ও পালটা হামলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইরানে ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস। একই সঙ্গে কোনো কারণেই ইরান ভ্রমণ না করার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা ও সংঘাতে জড়িয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দরও নিশানা করা হয়েছে। চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এমন সতর্কবার্তা এসেছে। এর আগে ইরানকে ‘পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন তিনি।

    এছাড়া, গত শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিড থেকে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন ট্রাম্প। পরে, তিনি বলেন, ইরান নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। এসময় সামনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যেই সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ড বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তারা গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে।

    হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, স্বার্থ ও মিত্রদের নিশানা করে পালটা হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছে ইরান।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ইরান।

  • তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    তাহিরপুরে দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, আসামিরা অধরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

    অপহরণের শিকার ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার্থী।

    তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ (৩৬) মেয়েকে উদ্ধারে এবং শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ২ আগস্ট (রোববার)। যার মামলা নম্বর -১/২৬। এর পূর্বে গত ২৬ জুলাই নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেখ মহসীন এলিন পাশা স্কুলপড়ুয়া তাবাসসুম ইয়াছমিন সিম্মিকে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে কুপ্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। এই বিষয়টি তাবাসসুম তার পরিবারকে জানায়। পরে তার বাবা বিষয়টি মহসীন এলিন পাশার পরিবারকে জানালে উল্টো ছেলের পক্ষ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অশালীন আচরণ করে।

    এরপরই গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে চিকসা গ্রামের বাসিন্দা শেখ কবির আহমেদ পাশার ছেলে শেখ মহসীন এলিন পাশা (২৬), মরহুম আব্দুল আজিজের ছেলে শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২) তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ ঘটনায় শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা দায়ের করেন।

    ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ জানান, ‘ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। এ ছাড়া মামলার আসামিদের আটকও করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।’

    তিনি তার মেয়েকে উদ্ধারে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণসহ র‍্যাব ও ডিবি’র সহযোগিতা কামনা করছেন।

    তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জুবায়ের জানান, ‘আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী অপহরণ হয়েছে—এই বিষয়ে আমাকে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই জানায়নি, আপনার মুখেই প্রথম শুনলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানালে আমি আমার প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ সবার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

    এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমাদের পক্ষ থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ এ,আর

  • রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরে পরিমাপে কারচুপি করায় মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা এবং পণ্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মামা-ভাগ্নে আরতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চারতলা মোড় এলাকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশন ও সিটি বাজারের মামা-ভাগ্নে আরতকে এই জরিমানা করা হয়।

    এর আগে, দুই জায়গাতেই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই-এর পরিদর্শক ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান (এসআরবি-১৩) টিম অভিযানে সহায়তা করে।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিমাপে কারচুপি করায় স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং ক্রেতাকে ভাউচার না দেয়ায় সিটি বাজার এলাকার মামা-ভাগ্নে আড়তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ,আর

  • একসাথে কাজ করবেন ট্রাম্প-মামদানি

    একসাথে কাজ করবেন ট্রাম্প-মামদানি

    রাজনীতিতে মতের অমিল থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু শহরের মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে সেই দূরত্ব কাটিয়ে এক টেবিলে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ‘গ্র্যাসি ম্যানশন’ নামে পরিচিত মেয়রের সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    হোয়াইট হাউস এবং নিউ ইয়র্ক মেয়র কার্যালয়—উভয় পক্ষ থেকেই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মেয়র কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্ক শহর এবং শহরের বাসিন্দাদের নানা সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    রাজনৈতিক আদর্শের দিকে তাকালে ট্রাম্প ও মামদানি পুরোপুরি দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতা, অন্যদিকে মামদানি ডেমোক্রেটিক দলের এক পরিচিত মুখ ও স্পষ্টভাষী সমাজতন্ত্রী। তবে রাজনীতি আলাদা হলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কটা বেশ অমায়িক ও আন্তরিক।

    এর আগেও তাদের মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে দুই নেতা মুখোমুখি বসেছিলেন। বৈঠক শেষে মামদানি জানিয়েছিলেন, তাদের দুজনেরই জন্মস্থান এই নিউ ইয়র্ক সিটি, আর তাই এখানে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আবাসন গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সাথে তার খুব ইতিবাচক কথা হয়েছে।

    অথচ একসময় পরিস্থিতি এমন ছিল না। নির্বাচনের আগে মামদানিকে ‘কম্যুনিস্ট’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু নির্বাচনে চমক দেখিয়ে মামদানি জয়ী হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসে মামদানিকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প মন খুলে তার প্রশংসা করেন।

    সেদিন ট্রাম্প বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের কোনো ভেদাভেদ এখানে থাকবে না। মামদানি ভালো কাজ করলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন এবং একটি নিরাপদ নিউ ইয়র্ক গড়ার স্বপ্নপূরণে তিনি মেয়রকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন

    মামদানির এই রাজনৈতিক উত্থান পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেই এক নতুন হাওয়ায় রূপ নিয়েছে। তিনি দ্রুতই দেশের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক বিরোধীদের চোখ রাঙানি থাকলেও, নিউ ইয়র্কের মানুষের ভালোর জন্য সব মতপার্থক্য ভুলে ট্রাম্প ও মামদানির এই এক টেবিলে বসা মার্কিন রাজনীতিতে এক দারুণ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

  • ইমরানের তিন বোনই আটক!

    ইমরানের তিন বোনই আটক!

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের আরও দুই বোন উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে।আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআইয়ের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার কর্মসূচির আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদের আটক করা হয়।

    এর এক দিন আগে ইমরানের আরেক বোন আলিমা খানকেও ৩০ দিনের জন্য আটক বা গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন লাহোরের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)।

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশ-১৯৬০-এর আওতায় উজমা ও নোরিনকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, তারা ‘জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর’।

    আদেশ অনুযায়ী, তাদের লাহোরের কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারের অধীনে রাখা হবে।

    লাহোরের ডিসি কার্যালয়ের আদেশে অভিযোগ করা হয়েছে, উজমা ও নোরিন ২০২৩ সালের ৯ মে’র বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন এবং কর্মীদের সরকারি ও জনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় আবারও কর্মীদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

    এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রেসকোর্স থানার ৯৬/২৩ নম্বর মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রোববার লাহোর ডিসি মুহাম্মদ আলী ইজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উজমা ও নোরিনকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে পুলিশ উপস্থাপিত প্রমাণ সদস্যরা অনুমোদন করেন বলে আদেশে বলা হয়েছে।

    এদিকে পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আক্রম সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, ইমরানের দুই বোনকে তাদের সন্তান এবং আলিমা খানের ছেলেদের সঙ্গে আটক করে একটি সাঁজোয়া গাড়িতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

  • মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল

    মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল

    মক্কার মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেন তিনি। সোমবার ফজরের আজানটিই ছিল মসজিদুল হারামে তার দেওয়া সবশেষ আজান।

    মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার ভোররাতে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির আজান দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ প্রকাশ করেছে।

    সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

    ১৯৭৬ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণকারী শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। শেখ ইব্রাহিমের ওপর তার দাদার প্রভাব খুব গভীর। তার দাদা ছিলেন একজন হাফেজ। পরবর্তীতে তিনি কুরআ বিষয়ক অধ্যয়নে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জন করেন।

    মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুয়াজ্জিন হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়।

    কলেজজীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি স্থানীয় আরো তিনজন প্রতিবেশীর সঙ্গে পালাক্রমে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মদিনার বাইরে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি কিছু সময়ের জন্য এ কাজ থেকে বিরত ছিলেন।

    ১৪২৮ হিজরি সালে তাকে ‘মসজিদ আল-মাদদাহ’তে পুনরায় আজান দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তিনি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আজান দিয়েছেন। ১৪৩৯ হিজরি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে শেখ ইব্রাহিম আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মদিনার ঐতিহ্য ও শৈলী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

    পাশাপাশি বাবার সঙ্গে মক্কা সফরের সময় তিনি মক্কার স্বতন্ত্র আজানশৈলীর সঙ্গেও পরিচিত হন।

  • আবার আক্রান্ত হলে ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবো: আইআরজিসি

    আবার আক্রান্ত হলে ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবো: আইআরজিসি

    যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর ফের হামলা চালায়, তাহলে তেহরান নতুন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আক্রমণ চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবিাব বলেন, নতুন করে হামলা চালালে তেহরান তাদের সমরাস্ত্র এবং ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে ফেলবে।

    মোহিবি বলেন, যদি নতুন কোনো হামলা হয়, তাহলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে। অস্ত্র ও যুদ্ধের ভূগোল বদলে ফেলা হবে এবং নতুন সক্ষমতা ও সামর্থ্য নিয়ে ময়দানে নামবে। বিশ্ববাসী এতে অবাক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যবস্তুগুলো আর আগের মতো নেই। আমরা নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেছি, যেগুলোতে আগে কখনো হামলা চালানো হয়নি।’

    মোহিবি আরো বলেন, ‘ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমাদের দৃষ্টিতে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় থাকে; যুদ্ধ কেবল শেষই হয় না, বরং চলতেই থাকে। আইআরজিসি যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং এখন তারা আরো বেশি প্রস্তুত।’

    তিনি বলেন, আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনো কূটনৈতিক তৎপরতায়ও জড়ায়নি। দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাই সামরিক বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    তার দাবি, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসান ঘটেছে এবং ওয়াশিংটনের পরিবর্তে ইরানই এখন এই অঞ্চলের নতুন বিন্যাস বা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় ৮ লক্ষাধিক মৌমাছি চুরি!

    অস্ট্রেলিয়ায় ৮ লক্ষাধিক মৌমাছি চুরি!

    অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন খামার থেকে ৮ লাখের বেশি মৌমাছি চুরি হয়েছে। এসব মৌমাছির মূল্য কয়েক হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত চুরি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অ্যাথারটন টেবিলল্যান্ডস এলাকার মৌচাষি টম বিডনার জানান, তিনজন মৌচাষির কাছ থেকে মোট ৪৪টি মৌমাছির কলোনি চুরি হয়েছে। প্রতিটি মৌচাকে অন্তত ২০ হাজার মৌমাছি থাকায় মোট চুরি হওয়া মৌমাছির সংখ্যা ৮ লাখের বেশি বলে তিনি হিসাব করেছেন।

    চোরেরা পুরো মৌচাক নিয়ে যায়নি। তারা মৌচাকের ‘ব্রুড বক্স’ বা যে অংশে মৌমাছির বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় লার্ভা ও ডিম থাকে, সেটি খুলে নিয়ে গেছে। এরপর নিজেদের বাক্সে মৌমাছিগুলো স্থানান্তর করে আবার আগের মতো মৌচাক সাজিয়ে রেখে গেছে। ফলে দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে চুরি হয়েছে।

    বিডনারের মতে, এ ধরনের কাজ করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও মৌচাষ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান প্রয়োজন। চোরেরা মধুও নেয়নি। ফলে মৌচাক বাইরে থেকে প্রায় অক্ষতই দেখা গেছে। তার সন্দেহ, চুরির সঙ্গে মৌচাষ শিল্পের পরিচিত ব্যক্তিরাই জড়িত থাকতে পারেন।

    মারিবা গ্রামীণ ও স্টক ক্রাইম স্কোয়াডের গোয়েন্দা সার্জেন্ট বেন ক্রসও মনে করেন, চুরির সঙ্গে কোনো শখের মৌচাষি নয়, বরং বাণিজ্যিকভাবে কাজ করা কেউ জড়িত থাকতে পারে।

    এই চুরির কারণে মৌচাষিরা শুধু মৌমাছিই হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন পরাগায়ন চুক্তি থেকে পাওয়া আয়ও। বর্তমানে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে অ্যাভোকাডোর মৌসুম চলছে। এ সময় ফলনের জন্য বিভিন্ন খামারে মৌমাছির বাক্স রাখা হয়। এসব বাক্সের মাধ্যমে মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সহায়তা করে। ফলে মৌমাছি চুরি হলে মৌচাষির পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

    বিডনার জানান, মৌমাছির বাক্সগুলো বিভিন্ন খামারে চুক্তির ভিত্তিতে রাখা হয়। কিছু বাক্স আবার মহাসড়কের পাশেও রাখা থাকে। অতীতে মৌচাক নিয়ে নড়াচড়ার ঘটনা ঘটলেও এত বড় চুরি তিনি মনে করতে পারছেন না।

    এদিকে উত্তর কুইন্সল্যান্ডের মৌচাষ শিল্প আরো একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি কেয়ার্নসের দক্ষিণে প্রথমবারের মতো ‘ভারোয়া মাইট’ পরজীবী শনাক্ত হয়েছে। এই পরজীবী মৌমাছির কলোনির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।

    কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেগান ও’মারা জানান, ২০২২ সালে নিউক্যাসলে পরজীবীটি শনাক্ত হওয়ার পর এর বিস্তার ঠেকাতে ১০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসাগুলোর কার্যকারিতা সীমিত। পরজীবীটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে আগামী ৩০ বছরে শিল্পটির ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    পরজীবীটির বিরুদ্ধে আরো কার্যকর চিকিৎসা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা চলছে। সম্ভাব্য চিকিৎসাগুলোর একটি এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তবে সেটি ব্যবহার উপযোগী হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে অধ্যাপক ও’মারা জানিয়েছেন।

    মৌচাষি টম বিডনারের ভাষায়, মৌমাছি চুরি এবং ভারোয়া মাইট—দুটিই তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। উত্তর কুইন্সল্যান্ডের উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সেখানে মৌমাছির প্রজনন সারা বছর চলতে পারে। ফলে পরজীবীটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে মৌমাছির নিরাপত্তা নিয়ে আরো সতর্ক থাকতে হচ্ছে মৌচাষিদের।

    চুরি যাওয়া মৌমাছির সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এত বড় সংখ্যক মৌমাছি পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • মিশেলের জাতিসংঘ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

    মিশেলের জাতিসংঘ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়ার পর তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তার সরে দাঁড়ানোর ফলে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার প্রতিযোগিতায় এখন সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।

    ৭৪ বছর বয়সি বাশেলে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি আগের মতোই দৃঢ়তার সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক কাজ চালিয়ে যাবেন।

    চিলির দুবারের প্রেসিডেন্ট বাশেলে এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব পদে তার প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করা। তিনি বলেছিলেন, উভয় ব্যবস্থাই বর্তমানে চাপে রয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সমর্থন না পাওয়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত বাশেলেকে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক ‘স্ট্র পোল’ বা মতামত যাচাইয়ে তার প্রতি সমর্থন প্রায় পুরোপুরি কমে যায়। একই ভোটে কোস্টারিকার কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে ছিলেন।

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেবেন। তবে প্রতিযোগিতায় থাকা প্রার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করবে। এরপর জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। নিরাপত্তা পরিষদে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাধারণত আনুষ্ঠানিকতার পর্যায়েই থাকে।

    বাশেলে চিলির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতা আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার পক্ষে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে না পারায় তিনি প্রতিযোগিতা থেকে সরে গেলেন।

    এখন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বাকি প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিষদ একজন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করার পর সাধারণ পরিষদে তার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

    পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, সামনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে।

    রোববার ফক্স নিউজের সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্টের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘সীমার মধ্যে’ থাকতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।

    ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশটিকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া’, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দেওয়া অথবা একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘সম্ভবত এতে আগ্রহী’।

  • সবুজ হয়ে উঠছে রেলস্টেশন!

    সবুজ হয়ে উঠছে রেলস্টেশন!

    ব্রিটেনের বিভিন্ন রেলস্টেশন এখন স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ফুল, গাছ ও সবুজ বাগানে নতুন রূপ পেয়েছে। পরিত্যক্ত ও অবহেলিত জায়গাকে বাগানে পরিণত করে শুধু স্টেশনের সৌন্দর্যই বাড়ানো হয়নি, একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন পরিবেশ। এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে প্রথমবারের মতো ‘রেলওয়ে স্টেশনস ইন ব্লুম’ পুরস্কার চালু করেছে রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি (আরএইচএস)।

    ১৯৬৪ সাল থেকে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ফুলের ঝুড়ি ও নানা রঙের ফুলের বাগান তৈরি হয়ে আসছে। প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি কমিউনিটি আরএইচএসের ‘ব্রিটেন ইন ব্লুম’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবার রেলস্টেশনের বাগান পরিচর্যায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মান জানাতে আলাদা পুরস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এবার পাঁচটি রেলস্টেশনের বাগান চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের বিজয়ী হয়েছে স্কটল্যান্ডের কার্ডরস কমিউনিটি অর্গানিক গার্ডেন। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষকে স্টেশনের কার্যক্রমে যুক্ত করার কারণে বিচারকেরা বিশেষভাবে দলটির প্রশংসা করেছেন। স্কুলশিশু, ব্রাউনি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী এবং বাগান পরিচর্যা দলের সদস্যরা সেখানে যুক্ত রয়েছেন।

    ইংল্যান্ডের এসেক্সের আলরেসফোর্ড স্টেশনও তালিকায় রয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে সেখানে তৈরি করা হয়েছে ‘ড্রাই গার্ডেন’। বাগান তৈরির জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা অ্যাসফল্ট কেটে ফুলের বেড তৈরি করেছেন এবং খরা সহনশীল গাছ লাগিয়েছেন। বাগানটির নেতৃত্ব দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী ফ্রাঙ্ক বেলগ্রেভ বলেন, উদ্যোগটি গ্রামের কেন্দ্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। একসময় স্থানীয় সংবাদপত্রে স্টেশনটিকে অবহেলিত হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এখন সেখানকার বাগান চেলসি ফ্লাওয়ার শোর বাগানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বেলগ্রেভ জানান, আগে বাগানের গাছে পানি দিতে স্বেচ্ছাসেবীদের অনেক সময় ব্যয় হতো। পরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তারা খরা সহনশীল গাছ দিয়ে বাগান তৈরি করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এতে সহযোগিতা করছেন। কেউ কেউ গাছ ও কম্পোস্ট নিয়ে এসে বাগানে দিয়ে যান।

    স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের কার্ডরস স্টেশনেও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সালের মার্চ থেকে স্টেশনের পরিবর্তনযোগ্য প্রায় প্রতিটি জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে। কঠিন শীতের কারণে সেখানে মৌসুমি ফুলের বদলে শক্ত ধরনের ঝোপজাতীয় গাছ বেছে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের বাড়ির বাগান থেকেও গাছ এনে স্টেশনে লাগিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

    চূড়ান্ত তালিকায় থাকা অন্য স্টেশনগুলোর মধ্যে মার্সিসাইডের ম্যাগহাল স্টেশনে টিকিট অফিসের জানালার বাক্সগুলো ফুলে সাজানো হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একটি ছোট বনও তৈরি করেছেন। বার্মিংহামের ওয়াইল্ড গ্রিন স্টেশনে অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা পরিষ্কার করে পরাগায়নকারী পতঙ্গবান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে একটি ‘বি করিডর’ তৈরি হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবছর প্রজাপতি গণনাও করেন এবং তাদের হিসাবে প্রজাপতির সংখ্যা বেড়েছে।

    সামারসেটের কেইনশ্যাম স্টেশনে গরম সহ্য করতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের সাকুলেন্ট গাছ লাগানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, এই বাগান পরিচর্যার কাজ তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগও বাড়িয়েছে। অনেকেই এ কাজ করতে গিয়ে নতুন বন্ধু পেয়েছেন। যাত্রীরাও বাগান দেখতে এসে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    আলরেসফোর্ডের বেলগ্রেভ জানান, স্টেশনের বাগানের কারণে সেখানে মৌমাছি, প্রজাপতি, হেজহগ ও স্লোওয়ার্মসহ বিভিন্ন প্রাণীর উপস্থিতি বেড়েছে। তার মতে, এখনো অনেক স্টেশন এই উদ্যোগের বাইরে রয়েছে। আরও মানুষ এগিয়ে এলে সেসব স্টেশনও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।

  • আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

    আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

    এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে খরা, অতিরিক্ত তাপ, দাবানল, টাইফুন, বন্যা ও খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে এবারের এল নিনো খুব শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয় নয়, কেবল একটি সামুদ্রিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে কৃষি, পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, বন্যা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে তৈরি হতে পারে। এটি বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, অত্যন্ত তীব্র এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি মাসে বলেছেন, এল নিনো যেন মানুষের চোখের সামনেই আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

    চীনে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় ১০০ দিনের একটি অভিযান শুরু হয়েছে। খরা ও অতিবৃষ্টির মতো বিপরীত পরিস্থিতিতে ফসল রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেইজিং আগাম সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। জুলাইয়ে চীনের সরকার শহরগুলোকে বন্যা ও অতিরিক্ত তাপের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ‘ক্লাইমেট রিস্ক ম্যাপ’ তৈরির জাতীয় পরিকল্পনা নেয়।

    হংকংয়েও চরম তাপ মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্রের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে ৯ আগস্ট রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা দেখা যায়। অতিরিক্ত গরমের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজের সময় পরিবর্তন, শীতলীকরণ সরঞ্জাম ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব সহায়তা না দিলে নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

    তাইওয়ান সম্ভাব্য চরম আবহাওয়াকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেখানে টানা তিন দিন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পরিস্থিতি ধরে একটি মহড়া হয়। এতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেল যোগাযোগে সমস্যা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হওয়া এবং ব্যাপক হিটস্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি অনুশীলন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শীতল স্থানে পৌঁছে দিতে ‘কুল ম্যাপ’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মও পরীক্ষা করছে সরকার।

    দক্ষিণ এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ভারতের কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে ধান, ডাল, তুলা ও ভুট্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ঘাটতির কারণে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ভারত সরকার ৩৫০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় পানি সংরক্ষণ ও পানি সংগ্রহের অবকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকদের কম পানি প্রয়োজন এমন স্বল্পমেয়াদি ফসল, যেমন ডাল ও মিলেট চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরো কঠিন। দেশটি এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন। ইয়ালা জাতীয় উদ্যানের পর্যটন এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চিতাবাঘ, হাতি, কুমির ও হরিণসহ বন্যপ্রাণীর জন্য পানির ব্যবস্থা করতে ট্যাংকারে পানি নেওয়া হচ্ছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুল্লাইথিভু লেগুনেও মিঠা পানির অভাবে হাজার হাজার মাছ মারা গেছে।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও খাদ্য উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মৌসুমি দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ বাড়ছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ধান উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশগুলোতে কৃষকদের পানি ব্যবস্থাপনা, ফসলের সময়সূচি পরিবর্তন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ কোরিয়াতেও আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে জুলাই ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে শুষ্ক। পরে সেখানে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কৃষকদের আলু মাটির নিচে ‘সেদ্ধ’ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহের সতর্কতা ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছে। অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে জরুরি নয় এমন বাইরের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার জন্য নতুন সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর যুক্ত করা হয়েছে।

    জাপানও সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এল নিনো ও মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মিলিত প্রভাবে দেশটিতে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা বাড়ছে। জুলাইয়ে জাপান প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার জন্য ‘কোকুশোবি’ বা ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ শব্দটি সরকারি পর্যায়ে ব্যবহার করেছে। এখন গ্রীষ্মের তাপ কমার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

    জাপানের কর্তৃপক্ষ মানুষকে ঘূর্ণিঝড়ের সময় সরিয়ে নেওয়ার সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং আগে থেকেই খাবার ও পানি মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি আন্ডারপাস আগাম বন্ধ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

  • আসামে ১৪০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ

    আসামে ১৪০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ

    প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতির এক করুণ চিত্র ফের উন্মোচিত হলো আসামের ধুবড়ি জেলায়। সম্প্রতি সেখানে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের একটি ৩২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অথচ এই তথাকথিত উন্নয়নের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের কান্না।

    যে জমিতে এই প্রকল্পের সূচনা হলো, ঠিক সেখান থেকেই গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ১ হাজার ৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ করে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল আসাম সরকার। চাঁপার রেভিনিউ সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত চারুয়াবখরা, চিরাকুটা ১ ও ২ এবং সন্তোষপুর গ্রামে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ১১৫৭ একর সরকারি জমি থেকে মুসলমানদের উৎখাত করে প্রথমে তা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ‘আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’কে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তা তুলে দেওয়া হয় আদানি পাওয়ার লিমিটেডের হাতে।

    এই নিষ্ঠুর উচ্ছেদ অভিযানের ফলে অন্তত তিন থেকে চার দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১০ হাজার বাঙালি মুসলিম মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের অনেকেই আগে থেকেই ছিলেন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের শিকার, যারা নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁচার তাগিদে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে এটি আসামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা রাজ্যের সম্পূর্ণ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য সম্মেলনে আদানি গ্রুপ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তারই বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে তিনি জানান। আদানি গ্রুপের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজে প্রায় ২০ হাজার এবং চালু হলে আরো প্রায় ৫ হাজার জনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

    সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এই উচ্ছেদের আইনি বৈধতা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া। গত ১৪ জুলাই কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের একটি বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ণ কমিটি (ইএসি) প্রস্তাবিত এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে আদানিদের তরফে মন্ত্রককে জানানো হয়েছিল যে, প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থানটিতে কোনো লোকালয় বা জনবসতি নেই এবং সেই কারণে পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোনো দাবি বা দায়বদ্ধতাও নেই। বাস্তুচ্যুত স্থানীয় বাসিন্দারা আদানিদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেলা স্তরের এক ভূমি উপদেষ্টা বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসন গবাদি পশুর চারণভূমির জন্য সংরক্ষিত একটি সরকারি জমিকে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করার প্রস্তাব জমা দেয়, যার পরেই উচ্ছেদের নোটিস জারি করে বসতবাড়িগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আব্দুর রশিদ শেখ জানিয়েছেন যে, আসাম সরকার বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি খালি করার ফলে ১৪০০টি পরিবার কোনো রকম পুনর্বাসন ছাড়াই চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। তিনি জানান, যে ৩৫০০ বিঘা খাসজমি বলপূর্বক দখল করা হয়েছে, তা ছাড়াও প্রায় ১৭০০ বিঘা এমন জমিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে যার বৈধ মালিকানা নথি বা পট্টা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল। সমস্ত কাগজপত্র জমা নেওয়া সত্ত্বেও পট্টাধারী জমির মালিকদের অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। দুর্গতদের পুনর্বাসনের নামে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাইজার আলগা গ্রামে মাত্র ৩০০ বিঘা জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং জিনিসপত্র স্থানান্তরের জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা সেখানে যেতে রাজি হননি, কারণ ওই জমিটি ব্রহ্মপুত্র নদীর বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক নিচু ও মারাত্মক প্লাবনপ্রবণ এলাকা।

    আসামে মুসলমানদের ওপর এই ধরনের রাষ্ট্রীয় বঞ্চনা ও আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০১৬ সালে আসামে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, তার সিংহভাগই ঘটেছে বাংলাভাষী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সব ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন পুলিশের গুলিতে অন্তত আটজন মুসলিম অধিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। একদিকে করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, আর অন্যদিকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কয়েক হাজার বাঙালি মুসলিমকে অমানবিকভাবে নিজ দেশেই উদ্বাস্তু করে দেওয়া—এই চিত্রই ভারতে বর্তমান সময়ে মুসলমানদের প্রকৃত হাল ও নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

  • বই পড়লেই টাকা!

    বই পড়লেই টাকা!

    মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। সরকারি একটি ওয়েবসাইটে বই পড়ার সময় নথিভুক্ত করলে অংশগ্রহণকারীদের অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো কমতে থাকা বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা এবং মানুষকে মোবাইল ফোনে অকারণে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার বদলে বই পড়ায় উৎসাহিত করা।

    চলতি মাসে চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে একজন অংশগ্রহণকারীকে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ একটি পড়ার সেশন নথিভুক্ত করা যাবে। এভাবে ৫০টি সেশন সম্পন্ন করলে পাওয়া যাবে ১ সিঙ্গাপুর ডলার। অর্থাৎ টাকার পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে আচরণবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থের পরিমাণ কম হলেও এটি মানুষের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    মনোবিজ্ঞানী ও ‘দ্য অ্যাংজাস জেনারেশন’ বইয়ের লেখক জনাথন হেইডট মনে করেন, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে পুরস্কার একটি আচরণ শুরু করার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। তবে বই পড়ার আনন্দ যদি নিজের মধ্যেই তৈরি হয়, তাহলে অর্থ না থাকলেও সেই অভ্যাস টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে শুধু অর্থের জন্য কেউ বই পড়লে পুরস্কার বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অভ্যাসও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

    ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লরি বারিলও মনে করেন, নিয়মিত কোনো আচরণ পুনরাবৃত্তি করলে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। তার মতে, সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো মানুষ পুরস্কার পাওয়ার সময় বেশি পড়ছে কি না, তা নয়; বরং পুরস্কার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তারা বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে পারছে কি না।

    সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আচরণগত মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আইভো ভ্লায়েভ বলেন, মানুষের আচরণে প্রণোদনার কার্যকারিতা সবসময় অর্থের পরিমাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তার মতে, সিঙ্গাপুরের কর্মসূচির অর্থকে প্রচলিত অর্থে বই পড়ার মজুরি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি মানুষকে কাজটি শুরু করার জন্য একটি ছোট ‘ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। পড়ার সময় নথিভুক্ত করা, অগ্রগতি দেখা এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বিষয়গুলো মানুষকে লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।

    এই কর্মসূচির ‘গ্যামিফিকেশন’ বা খেলাধুলার মতো পুরস্কারভিত্তিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিদিন ১৫ মিনিটের একটি সহজ লক্ষ্য, পড়ার ধারাবাহিকতা দেখা এবং নিজের অগ্রগতি অনুসরণ করার সুযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তাৎক্ষণিক আকর্ষণের একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    বিশেষ করে যারা আগে বই পড়তেন কিন্তু এখন পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আবার যারা বই পড়তে চান কিন্তু শুরু করতে পারছেন না, তাদেরও ছোট একটি তাৎক্ষণিক পুরস্কার সেই ইচ্ছাকে কাজে পরিণত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ব্রিটেনে বই পড়ায় উৎসাহ দিতে অর্থের পরিবর্তে অন্য ধরনের পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফিকেট এবং ‘রিডিং এজেন্সি’র সামার রিডিং চ্যালেঞ্জে ব্যাজ ও সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব উদ্যোগে মূল পুরস্কার হলো স্বীকৃতি ও অর্জনের অনুভূতি।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিঙ্গাপুরের উদ্যোগটি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। কোথাও অর্থ, কোথাও বই, কোথাও সার্টিফিকেট বা ব্যাজ এবং কোথাও শুধু পয়েন্ট ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রেখে তুলনা করা যেতে পারে। এতে কোন ধরনের প্রণোদনা মানুষের দীর্ঘস্থায়ী পড়ার অভ্যাস তৈরিতে বেশি কার্যকর, তা বোঝা সম্ভব হতে পারে।

    তবে সরকারের পক্ষ থেকে বই পড়ার জন্য অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্নও উঠছে—আনন্দ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য যে কাজ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে করে, সেটির জন্য কি সরকারকে আর্থিক পুরস্কার দিতে হবে? অধ্যাপক ক্যাটি মিলকম্যানের বলেছেন, সরকার যেহেতু শিক্ষার অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই ভর্তুকি দেয় এবং অর্থ ব্যয় করে, তাই বই পড়াকে উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়াকেও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে।

  • অমুসলিমদের ভয় কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদ উন্মুক্ত

    অমুসলিমদের ভয় কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদ উন্মুক্ত

    ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও মসজিদে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় মানুষকে ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দিতে একশর বেশি মসজিদ সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচির আওতায় লন্ডন, বার্মিংহাম, শেফিল্ড, ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, সাউথেন্ড ও কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে এই আয়োজন করা হয়।

    মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন আয়োজিত ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিটি এবার ১১ বছরে পড়েছে। মসজিদগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য চা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, আলোচনা, আন্তধর্মীয় কার্যক্রম, শিল্প প্রদর্শনী এবং মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবার এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

    উত্তর লন্ডনের লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গত তিন বছরে মসজিদটি একাধিক হামলা ও হয়রানির মুখে পড়েছে। এক ঘটনায় এক নারী মুসল্লিদের উদ্দেশে তাদের সন্তানদের হত্যার কথা বলেন। অন্য একটি ঘটনায় ভবনের গ্যাসের পাইপ খুলে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে গ্যাস জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব ঘটনার পরও মসজিদটি নিজেদের আরো বেশি মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ মুসলিম ও তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্কে অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন। এতে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম বলেন, বন্ধুত্ব ও সংহতি যে ঘৃণার চেয়ে শক্তিশালী—এটি দেখাতেই তাদের মসজিদ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তার মতে, মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, তখন অনেক প্রচলিত ধারণা ও ভয় দূর হতে শুরু করে।

    মসজিদের নিরাপত্তা নিয়েও মুসলিমদের উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ হামলার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভয় দেখানো, সহিংসতা, সম্পত্তির ক্ষতি, হয়রানি, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য, অনলাইনে নির্যাতন ও ভাঙচুর রয়েছে।

    গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চেডল মসজিদের ফারুক রফিক ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিকে এমন একটি জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মানুষ ভুল বোঝাবুঝির শিকার একটি ধর্ম ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান। ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবারও মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় উন্মুক্ততা, সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির মসজিদটি পরিচালনা করেন বিবি খান। তিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের সভাপতি হওয়া প্রথম নারী। তার মতে, গণমাধ্যমে অনেক সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তব চিত্র উঠে আসে না। তাই নিজেদের বিশ্বাস, কাজ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ওই মসজিদের আয়োজনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ নেন। সেখানে প্রায় দুই ডজন মানুষ গোলটেবিল আলোচনায় বসেন। যারা ইসলাম পালন করেন না, তাদের কেউ কেউ মসজিদ ও ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ থেকে সেখানে উপস্থিত হন। আয়োজনের সময় মসজিদে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল।

    অনুষ্ঠানে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। হ্যারিঙ্গে মুসলিম ও ইহুদি—দুই সম্প্রদায়ের বড় উপস্থিতি রয়েছে। বিবি খান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একসঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইহুদি প্রতিনিধি জুডিথ প্রিন্সলিও তার উপাসনালয়ের কাছে ইহুদিবিদ্বেষী গ্রাফিতি এবং উপাসকদের ভয় পাওয়ার কথা জানান।

    বিবি খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এ ধরনের গুজব ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মানুষের মধ্যে আরো ভয় ও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। এ কারণে মুসলিম ও অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

  • এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

    এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে আলোচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ন্যাম ভবনের একটি কক্ষে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের লাশ পাওয়া যায়।

    ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছি। ভবনের একটি রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। এরপর থানা পুলিশ রুমে প্রবেশ করবে।’

    গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

  • ভারতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতবর্ষী কবরস্থান

    ভারতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতবর্ষী কবরস্থান

    ভারতের কানপুরে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি কবরস্থান উচ্ছেদবিরোধী অভিযানের নামে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেছে কানপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেডিএ)। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কবরস্থান কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    কবরস্থান কমিটির দাবি, প্রায় এক শতাব্দী ধরে ওই স্থানে কবরস্থানটি রয়েছে। এর অস্তিত্ব ও মর্যাদার পক্ষে কয়েক দশক পুরোনো ঐতিহাসিক নথিও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। কমিটির পক্ষ থেকে কবরস্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি কেডিএর কাছে জমা দেওয়া হলেও সেগুলো উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। এতে কবরস্থানের বড় একটি অংশ ও সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    তবে কেডিএ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল এবং দখল উচ্ছেদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।

    কেডিএর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কবরস্থান কমিটি। তাদের বক্তব্য, কবরস্থানের মালিকানা ও অবস্থানসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি তাদের কাছে রয়েছে। এসব নথি ও আপত্তি জানানোর পরও কেন কবরস্থান ভেঙে ফেলা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।

    ঘটনাটি ঘিরে পুরোনো কবরস্থান ও ধর্মীয়-সামাজিক সম্পত্তি সুরক্ষা এবং কোনো স্থাপনা ভাঙার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কবরস্থান কমিটি জানিয়েছে, অবশিষ্ট জমি রক্ষায় তারা সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কবরস্থানটির সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে।

  • মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ক্লাবের প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সভায় কথা বলার সময় মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি আয়োজনের ইচ্ছার কথা এরই মধ্যে তাকে জানিয়েছে বার্সেলোনা। নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই সেই সংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কাতালান ক্লাবটি।

    লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা মেসিকে জানিয়েছি এ বিষয়ে। স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে তার জন্য একটি সংবর্ধনা আয়োজন করতে চাই।’

    তবে সংবর্ধনার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মেসির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বার্সা সভাপতি, ‘স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা তার জন্য এই সংবর্ধনা আয়োজন করব, যদি তিনি সেটি চান।’

    মেসির আবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন লাপোর্তা। তার দাবি এক মৌসুমের জন্য হলেও মেসিকে আবার দলে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ‘আমাদের সঙ্গে আরও একটি মৌসুম খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি কারণ সে অন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ তবে কোন সময়ের কথা তিনি বলছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বার্সা সভাপতি।

    লাপোর্তার এই মন্তব্যে ফের সামনে এসেছে বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে পুরোনো সেই আক্ষেপ। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়েন মেসি। তবে ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ গৌরবময় অধ্যায়ের পরও মাঠে তাকে যথাযথ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা।

    তবে সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্লাবের ইতিবাচক মনোভাবের কথাই তুলে ধরেছেন লাপোর্তা, ‘তাকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা খুবই খুশি হব। আশা করি খুব শিগগিরই তাকে দেখতে পাব।’

    এদিকে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসির মৃত্যুতেও শোক জানিয়েছেন লাপোর্তা। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাপোর্তা বলেন, ‘তার বাবার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ।’