সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • বিশ্বজয়ী হাফেজদের উপহার দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্বজয়ী হাফেজদের উপহার দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার নিজ দপ্তরে বিশ্বজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিজয়ী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেন। ওই অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের বিভিন্ন উপহারের সঙ্গে ‘নেক্সাস’ বইও দেওয়া হয়েছিল।

    বই ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিজয়ী হাফেজদের দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও সহায়তাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পুনর্ব্যক্ত করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। আন্তর্জাতিক এসব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এ সময় বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া, হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী, হাফেজা রাবিতা বিনতে রমাদান ও হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদসহ তাদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

    মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    সভায় সরকারের নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে। সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।’

    রোববার সংসদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের বাইরেও ইশতেহারে কিছু বিষয় ছিল, সেগুলোও ধারণ করা হবে। একপাক্ষিকভাবে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। আজকের আলোচনায় ১৭টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে।’

    বাজেট বরাদ্দের সময় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক বছরের সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত আর্থিক বছর করার প্রস্তাব দেয়া হবে।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। অর্থাৎ সংবিধানে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করা হবে।’

    কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সংখ্যাধিক্যের কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। যারা এখনো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি, তারাও আলোচনায় থাকতে চাইলে অংশ নিতে পারবে। ডিসেম্বরর মধ্যে আলোচনাসমূহ শেষ করা পরিকল্পনা আছে। এরপরই রিপোর্ট তৈরি করা হবে।’

  • কর্ণফুলী নদীতে পড়ে চবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

    কর্ণফুলী নদীতে পড়ে চবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর সীতার ঘাটের পাথর ঘাট অংশের নদীতে নেমে তলিয়ে যায় সাজিদ শাহারিয়ার সানম (২৪) নামের এক পর্যটক। আজ রোববার দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজ সানম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আসা ৯ জনের একটি পর্যটক দল আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে কাপ্তাইয়ে পৌঁছায়। স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিয়ে তারা কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে যায়। পাহাড় থেকে নেমে দুপুর দেড়টার দিকে সীতার ঘাটের পাথরঘাট অংশের কর্ণফুলী নদীতে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য নামে। এসময় হঠাৎ সানম পা পিছলে পড়ে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায় সে।

    নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা ঢাকা থেকে ৯ জন এসে সকালে সীতার পাহাড়ে উঠি। পাহাড় ভ্রমণ শেষ করে নেমে নদী থেকে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে নেমেছিলাম। ঠিক তখনই পা পিছলে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে আমাদের বন্ধু সানম পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা নিজেরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারিনি।

    ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাপ্তাই থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বর্তমানে নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. সরোয়ার হোসেন জানান, খবরটি পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল সানমকে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ,আর

  • জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    জাফলংয়ে পরিত্যক্ত মর্টার শেল ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি মর্টার শেল উদ্ধার করে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নের নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় সিলেট সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় নয়াগাঙ্গের পাড় এলাকায় শিশুরা খেলতে গিয়ে মর্টার শেলটি দেখতে পায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক মর্টার শেলটি আছড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তারা গোয়াইনঘাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর্টার শেল থেকে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

    এরপর মর্টার শেলটি পাহারায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি তা উদ্ধার এবং নিষ্ক্রিয়করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের এটিও ক্যাপ্টেন মনিরার নেতৃত্বে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।

    এ সময় গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর ফয়েজসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো: ওমর ফারুক মোড়ল জানান, মর্টার শেলটি উদ্ধারের পর থানা পুলিশের সংরক্ষণে রাখা হয়। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী সিলেটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।’ এ,আর

  • ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

    আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    তিনি জানান, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।’

    অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।

    নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

  • চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অটোরিকশার যাত্রী-চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশ এলাকায় কক্সবাজারমুখী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কালিয়াইশ পূর্বকাঠগড় রেলগেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— অটোরিকশাচালক ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর মুহুরীপাড়ার মরহুম সাহেব মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুল সক্কুর (৩৫) ও যাত্রী কালিয়াইশ ইউনিয়নের মাইঙ্গাপাড়া গ্রামের মরহুম হাজী আহমদ হোসেনের ছেলে আবু তাহের (৫৫)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু তাহের তার ছোট ছেলেসহ চন্দনাইশ-দোহাজারী সদরে বাজার করেন। পরে বিওসির মোড়ে তার ছেলেকে চুল কাটার জন্য নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশাযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে রেলগেইট পার হওয়ার সময় ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলেই আবু তাহের ও দোহাজারী হাসপাতলে নেয়ার পথে সুক্কুর মারা যান।

    নিহত আবু তাহেরের প্রতিবেশী আবুল বশর জানান, ওই রেলগেইটের পাশে জঙ্গল থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় ভাল করে দেখা যায় না।

    যোগাযোগ করা হলে জিআরপি থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন কান্তি দে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ,আর

  • এআই নিয়ে চীন কেন এত চিন্তিত?

    এআই নিয়ে চীন কেন এত চিন্তিত?

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নতুন কিছু সক্ষমতা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং।

    যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক গবেষক।

    চীন এত দিন এআইয়ের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ঝুঁকি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল। এর মধ্যে ছিল ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা।

    তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা চীনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলো সাইবার হামলা চালাতে পারে—এমন প্রমাণ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একদল প্রোগ্রামার এআই ব্যবহার করে একটি সাইবার হামলার ‘ওয়ার্ম’ তৈরি করার কথা জানায়। এটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের লাখ লাখ অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে বলে তারা দাবি করে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন শু বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি।

    তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। চীনে সাধারণত এমন আলোচনা জনসমক্ষে ততটা দেখা যায় না।

    এআই দিয়ে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করা সাইবার হামলাকারী এজেন্ট তৈরি হলে সেটি চীনা সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশলবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক সুন চেংহাও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখন এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা তৈরি করছে। এতে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

    তবে এআই নিয়ে দুই দেশের তীব্র প্রতিযোগিতা সহযোগিতার পথে বাধা হতে পারে। বিশেষ করে এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থায় দুই দেশের সমন্বয় কঠিন হতে পারে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে এবং তিনি এই অবস্থান ধরে রাখতে চান।

    চীনের বিশেষজ্ঞ সুন চেংহাও বলেন, চীন আশঙ্কা করছে ‘নিরাপত্তা’র কথা বলে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সীমিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।

    চীন ইতিমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর কিছু নিয়ম করেছে। যেমন, কারও অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    বেইজিংভিত্তিক এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনকর্ডিয়া এআইয়ের প্রধান ব্রায়ান সে বলেন, চীনের এআই নীতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বর্তমান ক্ষতির বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়।

    তার মতে, চীন এআইকে এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখে, যা বিদ্যুৎ বা গাড়ির মতো সমাজ ও শিল্পের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করে বেইজিং।

    সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু ঘটনা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে এনেছে। এ কারণে চীনের নীতিনির্ধারকদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পাশাপাশি সাংহাইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ ও বাস্তববাদী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকবেই। তবে সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করা গেলে প্রযুক্তির নিরাপত্তা আরও বাড়বে।

    সাংহাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, উইচ্যাটে এআই দিয়ে সাইবার হামলার সম্ভাবনা সামনে আসা খারাপ বিষয় নয়। বরং এতে দুর্বলতা শনাক্ত করে তা ঠিক করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এআইয়ের ওপর কঠোর নিয়মের পক্ষেও অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তারা নিজেরাই যথেষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ নাও করতে পারে।

    সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্পায়ার্ড এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া জিজিয়ান বলেন, তার বড় উদ্বেগ হলো শক্তিশালী এআই মডেল দিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কোড ভেঙে ফেলা।

    তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একটি দেশের এআই সক্ষমতা খুব শক্তিশালী হলে অন্য দেশ নিজেকে নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল মনে করতে পারে।

  • ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    ধুনটে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার ধুনটে থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে জয় নামের এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করে নেয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    ইজিবাইক চালক জয় উপজেলার বাঁশহাটা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।

    জহুরুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত তিন যুবক যাত্রী সেজে ধুনট বাজার থেকে জয়ের ইজিবাইক ভাড়া নেয়। রাত ৮টার দিকে ধুনট থানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে পাকা রাস্তার উপর যাত্রীবেশী ওই তিন যুবক ইজিবাইক থামিয়ে জয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ধারালো ছোরা দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয় জনগণ জয়কে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

    এ ঘটনায় তিনি ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এদিকে থানার পাশে চালককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

    এ বিষয়ে ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ এ,আর

  • ইসরায়েলের কাছে ৪০ হাজার বোমা বিক্রি আটকে দিলেন সিনেট

    ইসরায়েলের কাছে ৪০ হাজার বোমা বিক্রি আটকে দিলেন সিনেট

    ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এতে বাধা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল। একই অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের তাঁর সমপদস্থ সদস্যও। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল সরকারের প্রতি গভীর অনাস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় বেসামরিক মানুষের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    প্রস্তাবিত অস্ত্রের চালানের মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার এক টন ওজনের বোমা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় এসব বোমা ইসরায়েলকে দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল। গাজা উপত্যকায় বিপুল প্রাণহানির পেছনে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে আনুমানিক ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এই হিসাবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।

    সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট হিসেবে শ্যাহিনের নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অর্থমূল্যের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত এটি একটি অনানুষ্ঠানিক পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র দপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতার উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করে এবং অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগে তার সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করে।

    সেমাফোর প্রথম জানায়, শ্যাহিন এই অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন এবং তিনি গত জুলাইয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শ্যাহিনের সমপদস্থ সদস্য প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস গত বুধবার বিরল এক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে জানান, তিনিও এই সামরিক অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন। মিকস বলেন, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মার্কিন আইন অনুযায়ী ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শ্যাহিনের কাছে মিকসের এই পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। জবাবে শ্যাহিন বলেন, ‘ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘গাজায় তারা যা করছে, সিরিয়ার মতো জায়গায় তারা যে বোমাবর্ষণ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর অর্থ কী দাঁড়ায়, বিশেষ করে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনার জন্য এর অর্থ কী, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

    শ্যাহিন আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন আমরা তা পছন্দ করি না। পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, সেটিও আমরা পছন্দ করি না। সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং মৌলিক অবকাঠামো ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। আর নেতানিয়াহু প্রশাসন এসব সমস্যা সমাধানে মূলত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।’

  • সাবেক সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    সাবেক সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    গাজীপুর মহানগরের ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল হোসেন আল আমিনকে গুম ও হত্যার ঘটনায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান আসাদুজ্জামানসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ২২ অক্টোবর হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়।

    অপর আসামিরা হলেনÑসিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদ, সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ও এসআই তৌহিদুল ইসলাম সুমন।

    এর মধ্যে এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আব্দুল্লাহ।

    শুনানিতে তিনি বলেন, আসামিরা ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে গাজীপুরের ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার থেকে অধ্যক্ষ আবুল হোসেন আল আমিনকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

    আটকের পর তাকে টানা নির্যাতন করা হলে একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ঘটনা গোপন করতে কেরাণীগঞ্জের তুলসীখালী সেতু থেকে তার লাশ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, একইভাবে ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ৬ জনকে সিসিটিসিতে গুম করে দীর্ঘদিন নির্যাতন করার পর আদালতে হাজির করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

    এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন জানান তারেক আব্দুল্লাহ। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামি ইশতিয়াককে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

  • সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে সম্মান জানিয়ে সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসন করাই গণতান্ত্রিক পথ।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দলের এমপিরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার দাবি, এখানেই বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের প্রধান বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান হলেও সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাই চূড়ান্ত। গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে বিষয়টি সাধারণ সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নেওয়া জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ সংসদকে সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও তা সীমাহীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সাধারণ সংশোধনী দিয়ে পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের নজিরও তুলে ধরেন তিনি।

    ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো—গণভোটের রায় যথাযথভাবে কার্যকর করা, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য করে পরিষদ কার্যকর করা।

    এ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের কোনো একতরফা উদ্যোগ থেকে বিরত থেকে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, বিশেষ সংসদীয় কমিটি গত শুক্রবার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আজ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদকদের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    গত ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় সরকার। জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সদস্যদের নাম না দেওয়ায় পরে ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

  • বিরোধীদের বয়কটের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির মতবিনিময় শুরু

    বিরোধীদের বয়কটের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির মতবিনিময় শুরু

    সংসদে বিরোধী দলের বয়কটের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আজ রোববার জাতীয় সংসদে বেলা আড়াইটা থেকে এ সভা শুরু হয়েছে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, এনডিএম, আমজনতার দল, ইসলামী ঐক্যজোট, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, গণফোরাম ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

    মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে ওয়াকআউট করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।

    সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরু করেছে।

    তবে বিরোধী ১১ দলীয় জোট বলছে, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরুর পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের সরাসরি দেওয়া সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে পাশ কাটানো হচ্ছে।

    জোটটির মতে, জনগণের ম্যান্ডেটের বিকল্প কোনো সংসদীয় বিশেষ কমিটি হতে পারে না।

  • নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিতে এসে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১১

    নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিতে এসে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে মামলার হাজিরা দিতে এসে আদালত চত্বরে আইনজীবীর চেম্বার থেকে ১১ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতাররা হলেন কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের এস্কেন্দার শেখ (৪৫), আমিনুর শিকদার (৫৬), হাফেজ শেখ (২৫), তৈয়েবুর রহমান (৫৫), সেকেন্দার আলী (৫৮), হাসানুর রহমান (৫৫), রিয়াজুল শিকদার (২৭), আরিফুল শেখ (২২), তারেক শেখ (৩২), জুলফিকার রহমান (৪০) ও শরিফুল মোল্যা (৪০)।

    জানা গেছে, গ্রেফতাররা দুপুরে একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে নড়াইল আদালতে আসেন। এ সময় আদালত চত্বরের একজন আইনজীবীর চেম্বারে অবস্থান করছিলেন তারা। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। কী উদ্দেশে তারা এসব ধারালো অস্ত্র নিয়ে আদালত চত্বরে এসেছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

    পুলিশের ধারণা, প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালাতে দেশীয় অস্ত্রগুলো কাছে রেখেছিলেন তারা। তাদের কাছ থেকে ধারালো রামদা, দা, চাপাতিসহ ১২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, ১১ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ,আর

  • নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই বিদায় জানানো হবে লিওনেল মেসিকে। এই সফরে দেশে আসার আগে এশিয়ার গণমাধ্যম মিগুকে সাক্ষাৎকার দেন স্কালোনি।

    বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি যে তিনি থাকবেন কিনা। বরং এই সিদ্ধান্তকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেই মনে করেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি’।

    ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকছেন স্কালোনি, এটা নিশ্চিত। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে চাইছে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দলটির কোচ হিসেবে তাকে না দেখা যেতে পারে তখনই, যখন তিনি নিজে এএফএকে না বলবেন। সেই তিনিই যখন বলছেন অনিশ্চয়তার কথা, তখন তা নিশ্চিতভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি করে। আর তাতেই শুরু হয়ে গেছে নতুন গুঞ্জন।

    সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি নতুন অনেক মুখকে ডেকেছেন ক্যাম্পে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য। আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ, সুন্দর অধ্যায় শুরু হচ্ছে। দরজায় কড়া নাড়া এই ছেলেদের ওপর আস্থা রাখার সময় এখন। আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কিনা তার ওপর। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো, যারা আমাদের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে, তাদের সবাইকে সুযোগ দেওয়া।’

    নতুন প্রজন্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জেতা কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরের সময়ের সঙ্গেও তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরও আমার মনে হয়েছিল সামনের সময়টা কঠিন হবে। কারণ সব শিরোপা জেতার পর, বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে, প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা তা অনুভব করে দেখেছি সত্যিই সেটা সম্ভব ছিল।’

    বিশ্বকাপ পরবর্তী সময় নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল শেষ হওয়ার পর, জিতি বা হারি সেটা বিষয় নয়। এখন থেকে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করবো। শিরোপা পুনরাবৃত্তি করার কথা বলছি না। দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখাই কঠিন কাজ। এমনটা আবার করা সহজ হবে না। মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে। আমার মনে হয় এটা আবার চেষ্টা করা কঠিন হবে। সহজ হবে বলছি না। একজন কোচ হিসেবে, দলের প্রধান হিসেবে জানতেই হবে যে এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’

    স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে দলের অবস্থা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক ছিল। এবার আমরা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমার ভিন্ন একটা দিকে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমাদের খেলোয়াড়েরা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের চেয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাদের।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। এই আট বছরে যারা সবকিছু দিয়েছে তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি ছিল। একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তথ্যসূত্র : গোল.কম

  • দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নিরঙ্কশ জয়

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নিরঙ্কশ জয়

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডিইউসিইউ) নির্বাচনে চারটি প্যানেল পদের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। তবে সহসভাপতি পদে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া-এনএসইউআইয়ের টিকিট না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী দীপাংশু শোকিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। ফলে চারটি পদের একটিতেও জয় পায়নি এনএসইউআই।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়েছে, সহসভাপতি পদে দীপাংশু শোকিন ৩০ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এবিভিপির ইশু মৌরিয়া পান ১৬ হাজার ৯১০ ভোট। শোকিনের পরিবর্তে এনএসইউআইয়ের টিকিট পাওয়া বীর চত্রথ ৪ হাজার ৩১৩ ভোট নিয়ে তৃতীয় হন।

    যুগ্ম সম্পাদক পদেও এনএসইউআইয়ের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সংগঠনটির প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিশেষ যাদব ১৫ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এনএসইউআইয়ের গোপাল চৌধুরী পান ১৫ হাজার ২০৬ ভোট। ১৬ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে পদটি জয় করেন এবিভিপির লক্ষ্য রাজ সিং।

    এর আগে প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া নিয়ে এনএসইউআইয়ের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের ফলাফলে সেই বিতর্ক আরও সামনে আসে। বিশেষ করে সহসভাপতি পদে এনএসইউআইয়ের মনোনীত প্রার্থী বির চত্রথের তুলনায় দলীয় টিকিট না পাওয়া শোকিনের বিপুল ভোটের ব্যবধান সংগঠনটির প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    ডিইউসিইউ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নেতৃত্বাধীন জেন-জি আন্দোলনের কয়েক সপ্তাহ পর। এ কারণে অনেকের কাছে নির্বাচনটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে এবিভিপির জয়ের পর বিজেপির শীর্ষ নেতারা ফলাফলকে ‘নেশন ফার্স্ট’ আদর্শের প্রতি তরুণদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শিক্ষার্থীরা ‘মিথ্যার গুঞ্জন’ ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ডিইউসিইউ নির্বাচন একটি ‘গণভোট’ এবং এতে তরুণদের কণ্ঠস্বর প্রকাশ পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। তাই এই নির্বাচনের রায় গোটা ভারতের তরুণদের মনোভাবের প্রতিফলন।

    তাঁর ভাষ্য, এবিভিপির জয় এমন শক্তিগুলোর প্রতি বার্তা, যারা তরুণদের শক্তিকে ‘দেশবিরোধী এজেন্ডা’র জন্য ব্যবহার করতে চায়। শাহ আরও বলেন, এবিভিপির কর্মীরা এই জয় থেকে নতুন শক্তি নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দেশ গঠনের কাজ এগিয়ে নেবেন।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও এবিভিপির জয়কে ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতির প্রতি তরুণদের অটুট আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, এই ফল ‘নেশন ফার্স্ট’-এর চেতনায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির প্রতি তরুণদের অব্যাহত আস্থা এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অবদান রাখার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।

  • কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকের ওপর হামলা,  গ্রেপ্তার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও কথিত পিএস মারুফ হোসেন (৩৫)। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও কথিত পিএস মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা চেষ্টা আইনে মামলা করেন সাংবাদিক উল্লাস। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিবরামপুরের শরিফুলের ছেলে রুহুল আমিন (২২), দুর্গাপুরের আলতাফের ছেলে লিটন হোসেন (৪৫), পাথরবাড়িয়ার মো. কাফির ছেলে মো. আল আমিন (২৭), এলংগী এলাকার শফিকুলের ছেলে সোহান (২৬), জিয়ারতের ছেলে আল আমিন (২৬), বাদশার ছেলে সাব্বির (২৮) ও ওবাইদুলের ছেলে সাদিক (২৬)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বলেন, নানা অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যের ছেলে, ভাই ও স্বজনরা জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এসবের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে এমপির স্বজনরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও আহত করেন। সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

    সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ,আর

  • কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে ডুবে সাজিদ শাহারিয়ার সানাম (২৪) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার সীতার পাহাড় এলাকায় নদীতে নেমে নিখোঁজ হন। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহত সাজিদ শাহারিয়ার সানাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

    সানামের বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, তারা ঢাকা থেকে নয়জন মিলে সকালে সীতার পাহাড়ে ঘুরতে যান। পাহাড় ভ্রমণ শেষে নদীর ঘাটে হাত-মুখ ধোয়ার সময় সানাম পানিতে নামেন। একপর্যায়ে মুহূর্তের মধ্যে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। তারা নিজেরা উদ্ধারের চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি।

    কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, নয়জনের দলটি সেখানে ঘুরতে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে সানামই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাকিরা তার স্কুলজীবন ও এলাকার বন্ধু। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে সানাম নদীতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ কাপ্তাই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।এ,আর

  • আল-আকসায় নেতানিয়াহু হামাসের নিন্দা

    আল-আকসায় নেতানিয়াহু হামাসের নিন্দা

    রোববার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, কয়েকজন মন্ত্রী এবং হাজার হাজার ইসরাইলি পশ্চিম দেয়াল চত্বরে প্রবেশ করেন। ফিলিস্তিনের জেরুজালেম গভর্নরেট এ তথ্য জানিয়েছে।


    আল জাজিরা (২০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, হামাস তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, নেতানিয়াহু ‘পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও আল-বুরাক দেয়ালের নিচে থাকা সুড়ঙ্গ এবং খননস্থলে প্রবেশ করেছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এটি পবিত্র স্থানটির পরিচয় ও মর্যাদার ওপর স্পষ্ট ও নির্লজ্জ হামলা।’

    হামাস বলেছে, ‘আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ, নামাজের স্থান, দেয়াল ও ফটকসহ পুরো মসজিদ, একান্তভাবে ইসলামী মসজিদ হিসেবেই থাকবে।’

    সংগঠনটি আরো বলেছে, ‘এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। দখলদারদের খননকাজ, অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় আচার এবং বাইবেলভিত্তিক বয়ান চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা কখনোই এই স্থানের পরিচয় পরিবর্তন করতে পারবে না। একইসাথে এর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো মুছে ফেলতেও সফল হবে না।’

  • আগামীকাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী ৩৫

    আগামীকাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী ৩৫

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এবারের সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জন। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। এছাড়া চারজন মন্ত্রী ও দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার দায়িত্বের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরও রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে, যাতে সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, কার্যকর সফরের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী ততটুকুই অবস্থান করবেন সেখানে। সফরের সময়ের দৈর্ঘ্যের চেয়ে সময়ের যথাযথ ব্যবহারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এছাড়া সফরে থাকছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

  • হঠাৎ ছুটি বাতিল, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

    হঠাৎ ছুটি বাতিল, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

    ক্যাম্প ডেভিডে অবকাশ যাপন করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হঠাৎ তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে অপ্রত্যাশিতভাবে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী রোববার তার ওয়াশিংটনে ফেরার কথা থাকলেও হঠাৎ শনিবারই ফিরে আসার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি।

    মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় তিনি তার সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

    মেরিল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্টের সংরক্ষিত অবকাশ কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিড। শনিবার ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর নিশ্চিত করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

    একই সময়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এর পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। উত্তপ্ত এই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মাঝেই নিজের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে তড়িঘড়ি ওয়াশিংটনে ফিরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ শর্ত

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ শর্ত

    যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিয়েছে ইরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য তেহরান তাদের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। এখন তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। ওদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    মোহসেন রেজাই রোববার ভোরে এক্সে দেয়া এক পোস্টে তাদের শর্তের বিষয়ে জানান। তিনি লিখেছেন, তেহরানের বার্তা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। ওয়াশিংটন যদি নিজের তৈরি করা জটিলতা থেকে বের হতে চায় এবং এতে আরও জড়িয়ে পড়তে না চায়, তাহলে ইরানের অধিকার ও শর্ত মেনে নেয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। রেজাই আরও বলেছেন, ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে জড়িয়ে চলা সংঘাতও বন্ধ করতে হবে। শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রেজাই বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কাছে আমাদের শর্ত পৌঁছে দিতে মধ্যস্থতাকারী কাতারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি।

    তিনি আরও বলেন, এই শর্তগুলো মেনে নিতে হবে ওয়াশিংটনের স্বার্থেই। ট্রাম্পের হুমকি কোনো ফল বয়ে আনবে না। আমরা চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। রেজাই আরও বলেছেন, ইরানের সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার সম্ভাবনা ‘খুবই প্রবল’। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান নতুন একটি কৌশল নিয়ে কাজ করছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮শে ফেব্রুয়ারি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনী যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন। এর জবাবে ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা ও সম্পদে হামলা চালায়।

    যুদ্ধ বন্ধে ১৭ই জুন ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফা একটি চুক্তিতে সই করেন। ওই চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে ৮ই জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওই চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।

    ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চুক্তির অধীনে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার যে প্রতিশ্রুতি তেহরান দিয়েছিল, ইরান তা পালন করেনি। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে না দেয়া।

  • কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    কুষ্টিয়ায় রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য : হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খেয়ে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে নির্ধারিত সময়ে পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা নৈশভোজ করেন। পাটিকাবাড়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে ক্যাম্পে রান্না করা মুরগির মাংস ও আলু দিয়ে ভাত খান তারা। রাত ১০টার দিকে খাওয়ার পরপরই রিঅ্যাকশন শুরু হয়।

    খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে কয়েকজনের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঝিমুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

    অসুস্থরা হলেন এসআই কফিল, এসআই আমিনুর, এসআই মুক্তার, এসআই শরিফুল, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই কামরুজ্জামান, রেজাউল, মনিরুল, আমিনুল ও নজরুল।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশের লোকজন ও ক্যাম্পে থাকা অন্য সদস্যরা দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) হতে পারে। তবে খাবারে বিষাক্ত বা চেতনানাশক কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এদিকে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। খাবারে কোনো বিষাক্ত বা চেতনানাশক পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ক্যাম্পের রান্নাঘর থেকে থালা-বাসন ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ,আর

  • আলিমা খান আটক

    আলিমা খান আটক

    পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার, ১৯৬০ (এমপিও)-এর ৩ নম্বর ধারায় আটক করেছে পুলিশ। দলের সূত্র রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, লাহোরের আপার মলে নিজ বাসা থেকে জিমে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার পর আলিমাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কোট লাখপত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা জানায়, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার বোনকে লিটন রোড থানা পুলিশ আটক করে।

    পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার আরেক বোন নূরিন নিয়াজি জিও নিউজকে বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আলিমাকে আটক করা হয়। পরে তিনি খবর পান, তাকে কোট লাখপত কারাগারে নেয়া হয়েছে। সরকারের উদ্দেশে নূরিন বলেন, তারা কেন এত উদ্বিগ্ন যে নারীদেরও গ্রেপ্তার করছে, তা আমি জানি না।

    তিনি জানান, পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলি খান তাকে ফোন করে আলিমার গ্রেপ্তারকে ঘিরে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। নূরিন বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপে আমরা ভয় পাই না। আমরা সবসময় আমাদের ভাইয়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

    এদিকে পিটিআই প্রধান বলেন, আলিমাকে গ্রেপ্তার বা আটকে রাখা সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়ানোর শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলিমা খানের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর দিকে এটি প্রথম পদক্ষেপ বলেও জানানো হয়।

    এর আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে মত দেন ব্যারিস্টার গওহর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ ‘শীতল’ থাকায় আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। পেশোয়ারে জিও নিউজকে পিটিআই প্রধান বলেন, আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ শীতল। কোনো সমাধান বের করা সম্ভব হয়নি।

    ব্যারিস্টার গওহর বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকেই কিছুটা করে ছাড় দিতে হবে। ওদিকে তার সাবেক ক্ষমতাসীন দল দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৭শে সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে পদযাত্রার কর্মসূচি দিয়েছে। দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

  • আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই পূবাইল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক এবং পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের একটি বিশেষ দল। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে তিনি পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন।

    ডিবি সূত্র জানায়, একটি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়। আটকের পর তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ সময় গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন ফোন করে অমূল্য চন্দ্র দাস বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ নির্বাচনে তার পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন বলে জানান। এমপি মিলন তাকে নিজের লোক হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে অমূল্য চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী মূল বিবেচনায় ছিল তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই।

    এদিকে গাজীপুর মহানগর ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাহেব আলী পাঠান বলেন, অমূল্য চন্দ্র দাসকে ডিবি আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নামে ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতাকে আটকের পর দ্রুত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে পুলিশ বলছে, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। অমূল্য চন্দ্র দাসের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক যাচাইয়ে নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। পেন্টাগন গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা রয়েছে, এমন দুটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানায়।

    সূত্র দুটি জানায়, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এ ছাড়া অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

    তবে এ হিসাব চলমান ইরান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ খরচের খতিয়ান নয়। কেননা, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও ভবন মেরামতের খরচ এতে ধরা হয়নি। গত জুলাইয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইরান যুদ্ধে তখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

    একটি সূত্র জানায়, ইরানে টানা সামরিক অভিযানের পরোক্ষ খরচের বিস্তারিত হিসাব কংগ্রেসকে জানায়নি পেন্টাগন। অথচ মার্কিন আইনপ্রণেতারা পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়েছিলেন।

    পেন্টাগনের দেওয়া ইরান যুদ্ধে এ ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচের হিসাব মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি। সিবিও বলেছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।

    সিবিওর হিসাবেও যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা মেরামতের খরচ ধরা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, মোট খরচের বড় অংশ গেছে যুদ্ধাস্ত্র কেনা ও সেসব ব্যবহারের পেছনে। সিবিও আরও জানিয়েছে, ১ আগস্টের পর ইরান যুদ্ধ চলমান থাকলে প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। লড়াই জোরালো হলে এ খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আইনপ্রণেতাদের সিবিও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এমন এক সময় এ বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ অর্থনীতি নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তাদের প্রথম দিনের হামলাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন নেতা, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

    ইরানও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে। যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধ এখন ছড়িয়ে পড়েছে কার্যত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে।

    যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বেড়ে গেছে জ্বালানির দাম। যুদ্ধ থামাতে ওমান, কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এখনো সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

  • মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাবি শিক্ষক এ কে এম জামাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা তানবীর হাসান সৈকতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি) রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।

    অন্য অভিযুক্তরা হলেন- ঢাবি অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সৈকত।

    অভিযুক্তদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানবীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে আছেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

  • জানাজা শেষে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন

    জানাজা শেষে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে এবং নিহত স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

    আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সোয়া ১১টায় গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুই জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। এ,আর

  • প্রথমবার যে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

    প্রথমবার যে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

    রাজধানীর মিরপুরে বাড়ি দখল, ভাঙচুর, মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রথমবারের মতো পেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে এসআরবিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাদী মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টিকে।

    আদালতের আদেশে বলা হয়েছে- এসআরবি আইনের ১০(গ) ধারায় মাদক, সাইবার অপরাধ, ভূমি ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ভূমিসংক্রান্ত হওয়ায় এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী আদালত মহাপরিচালককে যেকোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। এ কারণে বাদীর নালিশি দরখাস্তটি এসআরবি দিয়ে তদন্ত করা যুক্তিযুক্ত।

    আদেশে আরও বলা হয়, এসআরবি আইনের ১৫(২) ধারা অনুযায়ী মহাপরিচালক ইউনিটে কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয়- এমন কোনো সদস্য দিয়ে মামলাটি তদন্ত করিয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত জমিতে নির্মিত বহুতল ভবনটির মালিক মো. ইউনুস আলী ও রুমা আক্তার সপরিবারে কানাডায় অবস্থান করছেন। তাদের আপন চাচা বাদী মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা তাদের স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    বাদীর অভিযোগ, মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই হেমায়েত উদ্দিন সুমনের নেতৃত্বে আসামিরা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন।

    এ সময় বাধা দিলে আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে হেমায়েত উদ্দিন সুমন বাদীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেন এবং সেখান থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    মামলাটির তদন্তের মাধ্যমে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে এসআরবিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

  • কঠিন হয়ে উঠছে ভারতের দিন

    কঠিন হয়ে উঠছে ভারতের দিন

    রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের চেয়ে বেশি তেল কেনে চীন। নতুন আইনটি চীনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভারতের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর যে চাপ দিচ্ছে, চীনের ওপরও কি একই চাপ দেবে।

    প্রশ্নটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারত বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে। চীনের শক্তি মোকাবিলার কৌশল হিসেবেই ভারত এটি করেছে।

    গত সপ্তাহের শেষ দিকে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যোগ দেন চীনের নেতা সি চিন পিং আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিন নেতা একসঙ্গে ছবি তোলেন। এটি ছিল পশ্চিমাদের বাইরের দেশগুলোর সহযোগিতার স্পষ্ট প্রদর্শন।

    আশঙ্কা ও চুক্তি

    ব্রিকসের বড় দেশগুলোর মধ্যে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার শক্তিশালী কৌশলগত কারণ রয়েছে।

    জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সি রাজা মোহন বলেন, ভারতকে দুটি অস্বস্তিকর বিকল্পের একটি বেছে নিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি কি যুক্তরাষ্ট্রের কড়াই থেকে লাফ দিয়ে চীনের আগুনে পড়তে চান?’

    চীনের শক্তি বাড়ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বড় কারণ রয়েছে ভারতের।

    কিন্তু জ্বালানি ও বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি বদলাচ্ছে। এতে নয়াদিল্লিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা হলেও সেটি কত দিন টিকবে?

    এ বিষয়ে অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্থির না হওয়া পর্যন্ত ভারতের কোনো চুক্তি করা উচিত হবে না।

  • ফেনী কলেজে ছাত্রশিবিরের সিরাত অলিম্পিয়াড, পুরস্কার বিতরণ

    ফেনী কলেজে ছাত্রশিবিরের সিরাত অলিম্পিয়াড, পুরস্কার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ফেনী সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে সিরাত অলিম্পিয়াড ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    রোববার সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমীর মুফতি আবদুল হান্নান।

    ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম।

    ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম মামুন অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী শহর শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের শহর মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম পলাশ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি আবদুল হান্নান বলেন ‘রাসূল সা. জীবনী নিয়ে চর্চা হওয়া প্রয়োজন। রাসূল সা.-এর জীবনী নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। রাসূল সা. যে আদর্শ রেখে গেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত। রাসূল সা. এসেছেন দ্বীন কায়েমের জন্য। তিনি দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করেছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল সা.-এর জীবন অনুযায়ী নিজেদের গড়বো। আমাদের নিজেদের আল্লাহর কোরআন অনুযায়ী গড়তে হবে। আজকের তরুণ প্রজন্ম আগামীর নেতৃত্ব দিবে। এখানে তোমরা যারা আছো তোমরাই আগামীর ভবিষ্যত। তোমরা রাসূল সা.-এর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের গড়বে।’

    প্রধান আলোচক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সা. আমাদের যেভাবে পথ দেখিয়েছেন আমরা আমাদের জীবনকে সেভাবে সাজাবো। আর সেভাবে সাজাতে হলে আল্লাহর পাঠানো কোরআন আমাদের তেলোয়াত করবো। আমরা রাসূল সা. যতগুলো বই আছে, লেখা আছে সব আমাদের পড়তে হবে। আমাদের বেশি বেশি অধ্যয়ন করতে হবে। আমাদের চালচলনে রাসূল সা.-এর আদর্শ থাকা উচিত।’

    অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম পাঁচজনকে নগদ অর্থসহ পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া ৫০ জনকে ক্রেস্ট ও গিফট ব্যাগ দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

    শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকবে বলে জানান গালিবাফ।

    তিনি বলেন, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের বার্তা ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ। যতক্ষণ না এই শর্তগুলো পূরণ করা হচ্ছে, ইরানি জাতির বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া কিংবা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক কিছু শর্ত পাঠায় ইরান।

    শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, ‘আমাদের শর্ত হলোÑসব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।’

  • ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ঔপনিবেশিক দেশগুলোর

    ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ঔপনিবেশিক দেশগুলোর

    দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচারের দাবি জোরদার করছে ক্যারিবীয় দেশগুলো। দাবি আদায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আইনি পথেও এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশগুলো। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতেও যাওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

    বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত তিন দিনের এক আঞ্চলিক সম্মেলনে ক্যারিবীয় নেতারা এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি আয়োজন করে ক্যারিকম রিপারেশনস কমিশন, বার্বাডোস সরকার ও ক্যারিকম সচিবালয়।

    ক্যারিবীয় নেতাদের দাবি, আটলান্টিক দাস বাণিজ্য ও দাসপ্রথার ফলে তাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে, তার স্বীকৃতি ও প্রতিকার প্রয়োজন। বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ঐতিহাসিক দায় স্বীকার, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, সাংস্কৃতিক সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং দাসপ্রথার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ও যুক্ত।

    বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোটলি বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্রিটেনকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করা নয়; বরং ঐতিহাসিক অন্যায়ের স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় ক্যারিবীয় অঞ্চলে আফ্রিকানদের শ্রম ও জীবনের ব্যাপক শোষণের কথা তুলে ধরেন।

    ক্যারিকমের সংশোধিত ১০ দফা পরিকল্পনায় ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেরত দেওয়া, দাসপ্রথার কারণে সৃষ্ট বৈষম্য মোকাবিলা এবং নারী ও শিশুদের ওপর দাসপ্রথার বিশেষ প্রভাবের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পনাটিকে ‘রিপারেটরি জাস্টিস’ বা ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের একটি কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

    আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও এবার গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্যারিবীয় নেতাদের আলোচনায় যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইনি উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে জ্যামাইকা ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে একটি আবেদন করেছে। ওই আবেদনে ব্রিটিশ শাসনামলে আফ্রিকানদের জোরপূর্বক জ্যামাইকায় নিয়ে যাওয়া বৈধ ছিল কি না এবং ব্রিটেনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো আইনগত দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আইনি মতামত চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হলো, যুক্তরাজ্য দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেবে না। ফলে ক্যারিবীয় দেশগুলোর নতুন উদ্যোগের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

    দাসপ্রথা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আফ্রিকানদের দাস বাণিজ্য ও বর্ণভিত্তিক দাসপ্রথাকে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। ক্যারিবীয় নেতারা এই সিদ্ধান্তকে তাদের ক্ষতিপূরণ দাবির আইনি ও নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

    এর আগে জুন মাসে ঘানার রাজধানী আক্রায় আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোর নেতারা দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিকতার ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি বৈশ্বিক কাঠামো গ্রহণ করেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিপূরণ, সাংস্কৃতিক সম্পদ ফেরত এবং ঋণের বোঝা কমানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    ক্যারিবীয় নেতাদের এই উদ্যোগের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকে রাজা তৃতীয় চার্লসের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ক্যারিবীয় দেশগুলো সেখানে দাসপ্রথা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচনায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ক্যারিবীয় দেশগুলোর বর্তমান উদ্যোগ তাই শুধু অতীতের দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ দাবি নয়; বরং দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের স্বীকৃতি, বৈষম্য কমানো এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান অবস্থানের কারণে এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে।

  • সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় বিস্ফোরক মামলায় হেমায়েত হোসেন (৫৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হেমায়েত মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাতাগ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল কাগদী বাজারে অভিযান চালিয়ে হেমায়েতকে গ্রেফতার করে। তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সালথা থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

    সালথা থানার ওসি মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় হেমায়েতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নাশকতাসহ থানায় আরো একাধিক মামলা বিচারাধীন। গ্রেফতারকে বিকেলে ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

  • গ্রিনল্যান্ডে সেনা ঘাঁটি স্থাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র

    গ্রিনল্যান্ডে সেনা ঘাঁটি স্থাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে না বলে জানিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকার করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার চুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বহাল থাকবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, চুক্তিটি ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনও বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখা সম্মান করা হবে।

    চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সেখানে নিজস্ব সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঠিক কতটা বাড়বে, কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে কিংবা নতুন কোনো সামরিক স্থাপনা কোথায় তৈরি হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    চুক্তিটির আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও স্পষ্টতা নেই। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের পর এর প্রকৃত পরিধি আরও পরিষ্কার হবে।

    গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলের অত্যন্ত কৌশলগত একটি ভূখণ্ড। এর ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। বরফ গলার কারণে আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথের সম্ভাবনাও বাড়ছে। এসব কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহ বেড়েছে।

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ছিল। বর্তমানে দেশটি গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে পিটুফিক স্পেস বেসে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এই ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্প এর আগে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হয়। পরে ডেনমার্কসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য পাঠায়।

    নতুন চুক্তিটি সেই দীর্ঘ উত্তেজনা কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। জোটটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটি কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংসদীয় অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

    ফলে আপাতত গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনেই থাকছে এবং এর জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও বহাল থাকছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পথ তৈরি হয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ভূমিকা বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে।

  • নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের এক দিন পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে মো: শাকিল (১৪) নামে এক কিশোরের লাশ পাওয়া গেছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের লংকামোড়া এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে লাশটি পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।

    নিহত শাকিল আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মালু মিয়ার ছেলে।

    পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ ও বিজিবি জানায়, শাকিল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে সে নিখোঁজ ছিল। শনিবার রাতে লংকামোড়া এলাকায় লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

    বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, লাশটি সীমান্তের ভারতীয় অংশে থাকায় বিজিবি, বিএসএফ ও দুই দেশের পুলিশের মধ্যে আলোচনার পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভারতে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    তিনি জানান, শাকিল কিভাবে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে পৌঁছাল এবং তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    নিখোঁজ কিশোরের লাশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে উদ্ধারের ঘটনায় আব্দুল্লাহপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে শোক নেমে এসেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।

  • গাজায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে তাবুতে

    গাজায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে তাবুতে

    তিন বছর বন্ধ থাকার পর গাজা উপত্যকায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। তবে যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে স্বাভাবিক শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। স্কুল ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে তাঁবুভিত্তিক অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ। শনিবার গাজা সিটিতে এসব তাঁবুতে শিক্ষার্থীদের পাঠ নিতে দেখা গেছে।

    ফিলিস্তিনের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকাজুড়ে প্রায় ৭০০টি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। এসব অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে এমন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের নিয়মিত স্কুল যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস অথবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে গাজায় প্রায় ৫ লাখ ৪১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং অনলাইন—দুই পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গাজার ভেতরে যারা সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না এবং উপত্যকার বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী গাজার ভেতর থেকে এবং ২০ হাজার শিক্ষার্থী গাজার বাইরে থেকে অনলাইন শিক্ষায় যুক্ত হবে।

    তবে সরাসরি শিক্ষাদানই প্রধান পদ্ধতি হিসেবে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আরো ২৫টি অস্থায়ী স্কুল শিগগির চালু করার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় শিক্ষাদানের কারণে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ও পিছিয়েছে।

    যুদ্ধের আগে গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৯২ শতাংশ স্কুল ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ৫৮ হাজার শিশু যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    যুদ্ধের কারণে শুধু স্কুল ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, শিক্ষা কার্যক্রমের সময়ও ব্যাপকভাবে কমেছে। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৩–২০২৬ সময়ে বছরে স্বাভাবিক ২০০ শিক্ষাদিবস থেকে তা কমে প্রায় ৬০ দিনে নেমে এসেছে। সাপ্তাহিক ক্লাসের সময়ও ৩০ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টায় কমেছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লক্ষ্য শুধু স্কুল পুনর্নির্মাণ নয়; বরং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যা যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া শেখার ঘাটতিও পূরণ করতে পারে। এ জন্য অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, তাঁবু, আংশিকভাবে ব্যবহারযোগ্য স্কুল এবং অনলাইন শিক্ষাকে মিলিয়ে একটি ‘নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ। গাজার আল-আকসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওমর দাহলান মনে করেন, দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল শিক্ষার পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুদের মৌলিক শেখার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, শুধু দ্রুতগতিতে পুরোনো পাঠ শেষ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কোন কোন মৌলিক দক্ষতা হারিয়েছে, তা নির্ণয় করে পৃথকভাবে তা পূরণের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষগুলোতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। গাজার আল-হাদারা স্কুলে শিক্ষার্থীরা ছোট তাঁবুতে দুই শিফটে ক্লাস করে এবং অনেক শিক্ষার্থী মেঝেতে বসে লেখাপড়া করে। পর্যাপ্ত বেঞ্চ-চেয়ার, বই, খাতা, কলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণেরও ঘাটতি রয়েছে।

    তবু দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গাজার নতুন শিক্ষাবর্ষ তাই শুধু পাঠদান পুনরায় শুরুর ঘটনা নয়; যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়া একটি শিক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে সীমিত সম্পদে আবার সচল হওয়ার চেষ্টা করছে, তারও একটি চিত্র হয়ে উঠেছে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহীদ মুগ্ধর পরিবারের সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহীদ মুগ্ধর পরিবারের সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র পরিবারের সদস্যগণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

    বঙ্গভবনে সাক্ষাৎকালে শহিদ মুগ্ধ’র পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় রাষ্ট্রপতি মুগ্ধ’র পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    সাক্ষাৎকালে পরিবারের সদস্যগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তাঁরা শহিদ ও আহতদের পরিবারের কল্যাণে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।

    এ সময় সদস্যগণ গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহিদের নাম খচিত জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেন।

    রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। রাষ্ট্রপতি শহিদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    রাষ্ট্রপতি এ সময় জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও চিরশান্তি কামনা করেন।

    সাক্ষাৎকালে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ চাজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজী মোড় এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের অটোরিকশাচালক কাইউম প্যাদা (৫০), একই ইউনিয়নের বউবাজার এলাকার শিল্পি রাণী (৪০), তার মেয়ে বিথি রাণী (২২) ও গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৌবাজার এলাকার চায়ের দোকানী শিল্পি রাণী তার সন্তানসম্ভবা মেয়ে বিথি রাণীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শনিবার বিকেলে বৌবাজার থেকে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করে পটুয়াখালী যান।

    রাতে ডাক্তার দেখানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার এলাকায় পৌঁছালে বরগুনার তালতলী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলস-এর একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে উভয় গাড়ি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    পরে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা তিনজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঘটনার পর ইমরান ট্রাভেলসের গাড়িটি পটুয়াখালী থানা পুলিশ আটক করেছে।

    গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার স্থান পটুয়াখালী সদর থানায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা পটুয়াখালী থানা নেবে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এক মাসের মধ্যেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—সৌদি ভূখণ্ডে হামলা হলে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান কি সৌদিকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে, নাকি ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাবে?

    ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য শুরু থেকেই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো।

    এর মধ্যেই ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলে অগ্রসর হয়ে গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখল করেছে এবং মোকা এলাকার দিকে এগিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইয়েমেনে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

    সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ৯ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে।

    তবে বক্তব্যের পরও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, মক্কা চুক্তি তখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে যায়নি এবং ইয়েমেনের ভেতরে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসলামাবাদ একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন এবং ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

    পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে জটিল। সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও তাকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। ফলে ইয়েমেনে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক অভিযান শুরু হলে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হলেও ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    এ কারণে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতা এবং ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি হামলা—এই দুই ধরনের পদক্ষেপকে আলাদা করে দেখছে ইসলামাবাদ। সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইয়েমেনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া একই ধরনের সিদ্ধান্ত নয়।

    পাকিস্তানের জন্য ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে পাকিস্তান সরাসরি অংশ নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইসলামাবাদ সৌদি নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ—দুটিকে পৃথক রাখার চেষ্টা করছে।

    এরই মধ্যে সৌদি আরবের দিকে হুথি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। হুথিদের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই এখন এর সামরিক প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ। সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে পাকিস্তান কী ধরনের সহায়তা দেবে—সেটি কি শুধু প্রতিরক্ষা, নাকি প্রয়োজনে ইয়েমেনের ভেতরে হুথি অবস্থানে হামলাও এর অংশ হবে—চুক্তির প্রকাশ্য তথ্য থেকে এখনো তার পূর্ণ উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

    তবে পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান এখন পর্যন্ত স্পষ্ট: মক্কা চুক্তি প্রতিরক্ষামূলক, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের অঙ্গীকার রয়েছে, কিন্তু ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে চুক্তিটির প্রথম পরীক্ষা শুধু সামরিক নয়; সৌদি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে পাকিস্তান কীভাবে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি চাইছে ইসরাইল

    যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি চাইছে ইসরাইল

    সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত উন্নত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার প্রতিবেদনে ইসরাইলের একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দেয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সুবিধা রয়েছে। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য বিক্রির অনুমোদন; চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রক্রিয়া রয়েছে।

    এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। সৌদি আরব চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পারলে দেশটি হবে প্রথম আরব রাষ্ট্র, যারা এ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এফ-৩৫ পরিচালনাকারী একমাত্র দেশ ইসরাইল। ফলে সৌদি আরবকে এ বিমান দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসরাইলের দীর্ঘদিনের সামরিক প্রযুক্তিগত সুবিধা বা ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ইসরাইল এমন কিছু অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র আগে তাদের দিতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশগ্রহণের বিষয় রয়েছে।

    এ ছাড়া গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ‘বাঙ্কার-ব্রেকিং’ অস্ত্র, পাথুরে পাহাড়ের গভীরে পরিচালনাযোগ্য ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় হামলা ব্যবস্থা এবং ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারের মতো সামরিক সক্ষমতাও ইসরাইল চাইতে পারে। তবে ঠিক কোন কোন অস্ত্রের জন্য ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

    ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এফ-৩৫ সৌদি আরবের হাতে গেলেও ইসরাইল তার সামরিক সুবিধা ধরে রাখতে পারবে বলে তারা মনে করেন। এর পেছনে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা এবং দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রযুক্তি এফ-৩৫-এর সঙ্গে যুক্ত করার সক্ষমতাকে কারণ। ইসরাইলি এফ-৩৫ সংস্করণটি ‘আদির’ নামে পরিচিত।

    প্রস্তাবিত সৌদি চুক্তি চূড়ান্ত হলেও দেশটি দ্রুত এফ-৩৫ হাতে পাবে না। চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হলেও প্রথম বিমান সরবরাহ পেতে সৌদি আরবের প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কংগ্রেসে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিক্রির লক্ষ্য সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা। একই নোটিশে মার্কিন সরকার বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন করবে না।

    সৌদি আরবের এফ-৩৫ পাওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সামরিক প্রতিযোগিতা ও যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি নিরাপত্তা সম্পর্কও জড়িত। সৌদি আরব ২০২৫ সালের শুরু থেকেই এফ-৩৫ কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী।

    ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন অস্ত্র চাওয়ার বিষয়টি তাই শুধু একটি অস্ত্রচুক্তির প্রতিক্রিয়া নয়; এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রযুক্তির ভারসাম্য, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রনীতি এবং ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার নীতিও সামনে এসেছে। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো অস্ত্রতালিকা বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।

  • গাংনীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

    গাংনীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ মো: সাকিব আল হাসান (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে গাংনী থানার তেরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার সাকিব গাংনী থানার ওলিনগর গ্রামের মো: সাইফুল ইসলামের ছেলে।

    এসআরবি-১২ মেহেরপুরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিনায়কের নির্দেশনায় সিপিসি-৩-এর একটি আভিযানিক দল তেরাইল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সাকিবকে ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব দীর্ঘদিন মাদককারবারের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

    রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১২, সিপিসি-৩, মেহেরপুরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার।

  • ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৭৩৯১০

    ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৭৩৯১০

    ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ দৈনিক তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্যানুযায়ী গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩,৯১০-এ দাঁড়িয়েছে।

    রোববার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত তিনজনের লাশ গাজার হাসপাতালগুলোতে আনা হয়েছে। এ সময় আরো ২১ জন আহত হয়েছেন।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১,৩৯৩ জনে এবং আহত হয়েছেন ৪,৮২২ জন।

    এতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩,৯১০-এ পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৪,৯৩৫ জন। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি চাপা পড়ে আছেন।

  • সিলেটে ‘অপহৃত’ দুই কিশোর উদ্ধার: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়তেই গা-ঢাকা

    সিলেটে ‘অপহৃত’ দুই কিশোর উদ্ধার: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়তেই গা-ঢাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদরাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি দুই কিশোর। এরপর তাদের অপহরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে থানায় জিডি করেন অভিভাবকেরা।

    এরই মধ্যে একজনের বাবার ইমোতে আসে হাত-পা বাঁধা এক কিশোরকে মারধরের ভিডিও, সাথে মুক্তিপণের দাবি। শেষ পর্যন্ত সেই ‘অপহৃত’ দুই কিশোরের সন্ধান মিলল জৈন্তাপুরের একটি রেস্টুরেন্টে।

    র‍্যাব বলছে, অপহরণ নয়, মাদরাসায় পড়তে অনাগ্রহ থেকেই নিজেরাই গা-ঢাকা দিয়েছিল তারা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড় ৩টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে র‍্যাব-৯-এর একটি দল।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

    উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে মো: সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাইম (১৫) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়বন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো: তামিম আহমদ (১৫)। তারা সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

    র‍্যাব-৯ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় দুই কিশোর একসাথে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তারা আর মাদরাসায় ফেরেনি।

    বিষয়টি অভিভাবকদের জানান মাদরাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে অভিভাবকেরা শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে নাইমের বাবার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে নম্বরবিহীন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল আসে। সেখানে নাইমের মতো দেখতে এক কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়। পরে আরো একটি ভিডিও পাঠানো হয়। এতে দুই কিশোরকে অপহরণের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পর র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারের ওই রেস্টুরেন্টে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকেই উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর জানায়, মাদরাসায় পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল না। তাদের মধ্যে একজন এর আগেও দুইবার মাদরাসা থেকে পালিয়েছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা নিজেরাই জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে চলে যায়। সেখানে ওই রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করে তারা।

    তবে মুক্তিপণের ভিডিও পাঠানোর বিষয়টি এখনো রহস্যের মধ্যে রয়েছে।

    এএসপি কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘ওই দুই কিশোরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের নয় এবং তারাও এমন কোনো ভিডিও পাঠায়নি।’

    তিনি বলেন, ‘শিশু নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অন্য কোনো শিশুর ভিডিও ব্যবহার করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

  • চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম গ্রেফতার

    চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় নুর ইসলাম (৬৭) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার খড়িঞ্চা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    আটক নুর ইসলাম উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা গ্রামের মরহুম নাসির উদ্দীন ভাগা মন্ডলের ছেলে। তিনি স্বরুপদাহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিকে সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

  • আগামী জানুয়ারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি মাছউদ

    আগামী জানুয়ারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি মাছউদ

    আগামী বছর জানুয়ারিতে হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

    রোববার নির্বাচন কমিশনের নিজ ভবনে তিনি এসব কথা জানান।

    তিনি বলেন, নভেম্বরের ১২ তারিখে প্রাথমিক নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে, সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে ভোট করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, তফসিল ঘোষণা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসি। এছাড়া, ২৩, ২৪, ২৫ সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দল সহ স্টেকহোল্ডারদের যে সংলাপ হওয়ার কথা ছিলো সেটিও বাতিল করেছে ইসি।

  • চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় বাড়ির নির্মাণকাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তহিদুল ইসলাম (২৪) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত তহিদুল পাশাপোল গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তহিদুল উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে একটি বাড়ির নির্মাণকাজ করছিলেন। কাজের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রুহুল আমিন বলেন, ‘আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান।’

  • বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, নিহত ১

    বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মালেক বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।

    বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বাসটি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে গড়িয়ারপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মালেক মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ওসি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বাস থেকে ইয়াবাসহ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গায় বাস থেকে ইয়াবাসহ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় বাসে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনালে এ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দেলোয়ার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যান্ডবি পাড়ার মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি আলমডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাস টার্মিনালে অবস্থানরত পূর্বাশা পরিবহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় দেলোয়ারকে দুই হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। এসব মাদক পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।

  • মিরসরাইয়ে বিধবা প্রনতি রাণীর বসতঘরে আগুন, শেষ আশ্রয়ও পুড়ে ছাই

    মিরসরাইয়ে বিধবা প্রনতি রাণীর বসতঘরে আগুন, শেষ আশ্রয়ও পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বিধবার বসতঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাছড়া এলাকার মহাজন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    আগুনে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে স্বামীর ভিটায় থাকা ৬৮ বছর বয়সী প্রনতি রাণী দাশের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে গেছে।

    প্রনতি রাণী দাশের অভিযোগ, সম্পত্তি বিরোধের জেরে এর আগে তার লাগানো গাছপালা কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিরসরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযোগ দেয়ার আট দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়নি। এর মধ্যেই তার বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রনতি রাণী জানান, তার স্বামী অমরেন্দ্রে দাশ রায় ওরফে দুলাল ২০১৫ সালে মারা যান। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছেন তিনি। স্বামীর নামে থাকা তফসিলভুক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে তাদের বিরোধ চলছে।

    গাছ কাটার ঘটনায় থানায় দেয়া অভিযোগে চোটন কর্মকার (৩৭), মো: সোহেল, আজিম উদ্দিন ও আজাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করেন প্রনতি রাণী। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে গাছপালা কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

    প্রনতি রাণী বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বারবার মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে। আদালতও রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা তা মানছে না। গাছ কাটার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন রাতের আঁধারে আমার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে উচ্ছেদ করে জমি দখল করতেই এসব করা হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ঘটনার সাথে আগের গাছ কাটার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

    এদিকে বিরোধ মীমাংসায় ১৯ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে জানান মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দীন।

    তিনি বলেন, দুই পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি এবং তার পক্ষের একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা ছিল। তবে প্রনতি রাণী বৈঠকে উপস্থিত হলেও অপর পক্ষ উপস্থিত হয়নি।

    গাজী নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘প্রনতি রাণীর ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমি তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

    অভিযোগের বিষয়ে চোটন কর্মকার বলেন, ‘আজকের বৈঠকের বিষয়ে আমি জানতাম না। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ প্রনতি রাণী দাশ ও সুমনের মধ্যে। সুমনের সাথে আমার সম্পর্কের কারণে বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি সম্পৃক্ত হয়েছি। এখন আমাকে বিবাদী করে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

    মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘরে আগুন দেয়ার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। ১৪ সেপ্টেম্বর গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বলতে পারেননি তিনি। তবে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর বিষয়টি জানানো হবে।’

  • সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ শনিবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘এনএসডি-এর গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।’

    তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়

    তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।’

    সভায় এনএসডি-এর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

    সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • একের পর এক ৯ নারীর লাশ, একই কায়দায় হত্যা

    একের পর এক ৯ নারীর লাশ, একই কায়দায় হত্যা

    দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় শহর এখুরুলেনিতে একের পর এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে নয়জন নারীর লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    সর্বশেষ নিহতদের একজন ৩৮ বছর বয়সী দিনেও মোটাপানে। দুই সন্তানের এই মাকে গত রোববার দেখা গিয়েছিল। পরে এখুরুলেনির একটি আবাসিক এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং লাশটির কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছিল।

    দিনেওর লাশ শনাক্ত করার তার ভাগনি নকওয়ান্ডা মাতশিকিজা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কী করতে যাচ্ছি, আমার কোনো ধারণা নেই। কিন্তু কিছু একটা পরিবর্তন হতেই হবে।’

    তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের জন্য, অন্য সব নারীর জন্যও—আর কতগুলো লাশ পাওয়া গেলে কিছু একটা করা হবে?’

    দিনেওর মেয়েকে একসময় তার মায়ের মৃত্যুর নির্মম ঘটনা জানাতে হবে—এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নকওয়ান্ডা। তিনি বলেন, ‘আপনি কীভাবে বোঝাবেন যে তার অভিভাবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, একটি মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে এবং আবর্জনার মতো ফেলে দেওয়া হয়েছে?’

    তার ভাষায়, এমন ঘটনা মেনে নেওয়া বা তা থেকে কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব নয়।

    দিনেওর মৃত্যুর আগে একই এলাকায় আরও কয়েকজন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। জুলাই থেকে পাওয়া নয়টি লাশের মধ্যে পাঁচটিই এখুরুলেনির কেম্পটন পার্ক এলাকায় পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী দোকানকর্মী ইতুমেলেং। তাকে সর্বশেষ জীবিত দেখার ১৭ দিন পর জুলাইয়ে একটি সেতুর ওপর তার লাশ পাওয়া যায়। গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকা ওই নারীর শরীরে তখন আংশিক পোশাক ছিল।

    ইতুমেলেংয়ের ভাই থেম্বা কেকানাও বলেন, ‘আমরা শোকে ভেঙে পড়েছি। আমার বোনের ছোট মেয়ের দিকে তাকালে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি জানি, তার এই কষ্ট আমি কখনোই দূর করতে পারব না।’

    তিনি বলেন, কোনো পরিবারেরই তাদের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।

    এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর তাকে আটক করা হয়। তবে ইতুমেলেং, দিনেওসহ এখুরুলেনিতে নিহত অন্য নারীদের ঘটনায় আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    নিহতদের বেশিরভাগই ২০ ও ৩০-এর কোঠার তরুণী। তাদের অনেকের শরীরেই মৃত্যুর আগে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

    তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সিরিয়াল কিলার রয়েছে কি না। তদন্তকারীদের ভাষ্য, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র নাও থাকতে পারে।

    তারপরও ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দীর্ঘদিনের সংকট নতুন করে সামনে এসেছে। দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার হার বিশ্বের অন্যতম বেশি।

    দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ প্রতি তিন মাসে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৫ হাজার ৪২৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। সরকারি পরিসংখ্যানে ভুক্তভোগীদের লিঙ্গভিত্তিক আলাদা হিসাব দেওয়া হয় না। তবে দেশটির মানবাধিকার কমিশনের হিসাবে, ওই তিন মাসে ৫৬৯ জন নারী নিহত হয়েছেন—গড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয়জন। একই সময়ে ১ হাজার ৫২ জন নারী হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন।

    সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় আগে থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা অনেক নারী আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে।

    গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে সময় সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী নকুজোলা সিসি তোলাশে বলেছিলেন, জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা বাড়বে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ হয়, যার মধ্যে ‘উইমেন্স শাট ডাউন’ কর্মসূচিও ছিল।

    এবার আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে নারীকে লিঙ্গের কারণে হত্যার ঘটনাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে আইনে স্বীকৃতি দেওয়া। সংগঠনটির দেশীয় পরিচালক শেনিলা মোহাম্মদের মতে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে ‘নারী-হত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সমস্যাটির প্রকৃত ব্যাপকতা পরিমাপ ও মোকাবিলায় আরও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

    অ্যামনেস্টির দাবি, আফ্রিকার গ্যাবন ও মরক্কোসহ ৩৩টি দেশে নারী-হত্যা নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।

    এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এখুরুলেনির হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে কোনো দিক অযত্নে রাখা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি জাতি হিসেবে নারী ও মেয়েদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

    লিঙ্গ ও সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক কর্মী লেবোগাং রামোফোকো মনে করেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রা আরও গভীর একটি সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের প্রতি সহিংসতার পেছনে উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্যের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারও রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এর অর্থ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষরা স্বভাবগতভাবে সহিংস—এমন দাবি করা নয়; বরং দীর্ঘদিনের সহিংস সামাজিক ব্যবস্থার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

    কেম্পটন পার্ক এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা লুমকা মাকহুবেলা গার্ল২উম্যান ফাউন্ডেশনের সদস্যরা এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।

    সংগঠনটির সদস্যদের একজন বলেন, ‘আমরা শোকাহত, আমরা ভীত। পুলিশ যদি আর আমাদের সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে সরকারের এগিয়ে এসে কিছু করা উচিত।’

    তার কথায়, শুধু আরও সতর্ক থাকতে বললে হবে না; মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোকে নিরাপদ করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    এলাকার নারীদের মধ্যেও আতঙ্ক স্পষ্ট। ৩২ বছর বয়সী থুলিসিলে সিবান্দে বলেন, দোকানে যাওয়ার সময়ও তাকে চারপাশে তাকাতে হয়। তার ভাষায়, ভয় এতটাই বেড়েছে যে সেটি একধরনের মানসিক আঘাতে পরিণত হয়েছে।

    ৬০ বছর বয়সী থেম্বি মাবেনা নিহত দিনেও মোটাপানের একই এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি বলেন, দিনেও প্রতিদিন সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। এখন তিনি উদ্বিগ্ন। তার পরিচিত অনেক শিশু ও তরুণী একা দোকানে যেতেও ভয় পায়।

    ২০ বছর বয়সী লেরাতো মজিজির কথায়, পরিস্থিতির ভয়াবহতা যেন এক বাক্যেই ধরা পড়ে—‘দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীরা আর নিরাপদ নন।’

  • আবারো বিদ্যুৎহীন কিউবা, অন্ধকারে মানুষ

    আবারো বিদ্যুৎহীন কিউবা, অন্ধকারে মানুষ

    কিউবায় আবারো বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার দেশটির পুরো বিদ্যুৎ গ্রিডে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা’ দেখা দিলে লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    কিউবার গ্রিড অপারেটর ইউনিওন ইলেকট্রিকা (ইউএনই) জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টার কিছু আগে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। মধ্য কিউবার খারাপ আবহাওয়ার পাশাপাশি একটি ট্রান্সমিশন ত্রুটিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিপর্যয়ের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে রাজধানী হাভানার হাসপাতাল ও পানি সরবরাহের পাম্পিং স্টেশনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। তবে শনিবারও দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনের কাজ চলছিল।

    ইউএনইর জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ বিভাগের পরিচালক ফেলিক্স এসত্রাদা বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ‘ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের’ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

    চলতি বছরেই অন্তত ষষ্ঠ বড় বিপর্যয়

    এটি চলতি বছরে কিউবায় আঘাত হানা অন্তত ষষ্ঠ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ বিপর্যয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো, জ্বালানি সংকট এবং জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দেশটির বিদ্যুৎব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে।

    কিউবা জ্বালানির বড় একটি অংশ আমদানি করে। দেশটির জ্বালানি সংকট আরো তীব্র হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও তেল সরবরাহে বাধার বিষয়টি উল্লেখ করেছে হাভানা। একই সময়ে খাদ্য ও ওষুধের সংকটও বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি কার্যালয়ের কার্যক্রমেও।

    হাভানার বাসিন্দা ফ্র্যাঙ্ক লরেঞ্জো রয়টার্সকে বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়াটা এখন অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, এর আগে এমন ঘটনা মাসে একবারের মতো ঘটলেও সম্প্রতি পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

    ৩৬ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষিকা লিডিয়া ফার্নান্দেজ এএফপিকে বলেন, বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি ও রান্নার গ্যাসের সংকটও তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ৭৮ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তার বাড়ি টানা ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

    বিদ্যুৎ সংকটে বিক্ষোভ

    বারবার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে কিউবায় বিরল কিছু বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। দেশটিতে অনুমোদনহীন বিক্ষোভ বেআইনি এবং এ ধরনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। কিউবার সরকার দেশটির জ্বালানি সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছে। ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তেল সরবরাহে বাধাকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে হাভানা।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। ওয়াশিংটন কিউবার সরকারকে ঘিরে আরও ব্যাপক চাপ প্রয়োগের নীতিও অনুসরণ করছে।

    ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাড়তি চাপ

    কিউবার জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলার। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা কিউবাকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ করত, যা দেশটির মোট প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক। তবে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পর কিউবায় সেই সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাভানায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া কিউবার উদ্দেশে যাওয়া কয়েকটি তেলবাহী চালান যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করেছে। ফলে পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো, জ্বালানি ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ—সব মিলিয়ে কিউবার বিদ্যুৎব্যবস্থা এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। শুক্রবারের সর্বশেষ বিপর্যয় সেই সংকটকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • ৩০ হলেই টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা: পেন্টাগন

    ৩০ হলেই টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা: পেন্টাগন

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি সদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নীতি আবারও চালু করা হয়েছে। আগে এ নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ নীতির নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উদ্যোগে নীতিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    গত জুলাইয়ে হেগসেথ প্রথম এ নীতি ঘোষণা করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য ‘টেস্টোস্টেরন ঘাটতি’ শনাক্ত করা এবং সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই পরীক্ষা প্রয়োজন।

    অনলাইনে বিভিন্ন পডকাস্ট ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রভাবশালীদের মধ্যেও টেস্টোস্টেরন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তাদের কেউ কেউ স্বাস্থ্য ও পেশি বৃদ্ধির জন্য টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন ব্যবহারের প্রচার করছেন। পেন্টাগনের নতুন উদ্যোগও এ ধরনের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে হেগসেথ বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সেনাসদস্যদের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ভিত্তি নিশ্চিত করা।

    তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা এ কর্মসূচিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাদের আশঙ্কা, ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে টেস্টোস্টেরনভিত্তিক চিকিৎসার কারণে সেনাসদস্যদের বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে পেন্টাগন গত সেপ্টেম্বরে নীতিটির আগের সংস্করণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তখন বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় কিছু হালনাগাদ করার জন্য এটি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা শুধু পুরুষ সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্ত করতে অভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বার্ষিক মূল্যায়নের সময় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করা হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সি সেনাসদস্যরাও চাইলে এই পরীক্ষা করার অনুরোধ জানাতে পারবেন।

    সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে হেগসেথ বিভিন্ন নীতিতে জোর দিচ্ছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ডানপন্থী সাংস্কৃতিক বিতর্কের বিষয়গুলো সামরিক বাহিনীতে নিয়ে আসা হচ্ছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে এমন কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

    হেগসেথ বলেন, আমরা অস্ত্র ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যুদ্ধপ্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছি। তবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা সবসময়ই থাকবেন একজন একজন করে যুদ্ধরত সেনাসদস্য।

  • নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া

    নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া

    রাশিয়ায় নেসলে ও ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অশাঁনের সম্পদ জব্দ করেছে ক্রেমলিন। দেশটিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, অশাঁন ও নেসলে ‘বন্ধুত্বহীন দেশের ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান’। তাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর এক দিন আগে প্রেসিডেন্টের জারি করা এক ডিক্রিতে প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ডিক্রি অনুযায়ী, নেসলে ও অশাঁনের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ দেশটির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টের সাময়িক নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে।

    কিটক্যাট চকলেট ও নেসক্যাফে কফির উৎপাদক নেসলে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করছে। বিশ্বের অন্যতম বড় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটির রাশিয়ায় এখনো ছয়টি স্থাপনা রয়েছে। সেখানে ৭ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন।

    ২০২১ সালে রাশিয়ার বাজার থেকে নেসলের মোট বিক্রির প্রায় ২ শতাংশ এসেছিল। ওই বছর দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা প্রায় ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।

    এক বিবৃতিতে নেসলে বলেছে, নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসার কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রাশিয়ায় সম্পদ জব্দের খবর প্রকাশের পর জুরিখের শেয়ারবাজারে নেসলের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমেছে।

    অশাঁন রাশিয়ায় খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য ও ইলেকট্রনিকস বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় অশাঁনের ২৩০টি দোকান রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যবসা পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশটিতে তাদের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী রয়েছেন।

  • মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১

    মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার সংবাদ আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

    তিনি জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরো তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, নিউ বলেশ্বর নামের বাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে প্রাইভেটকারটি মায়ামি রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।

  • ১০ জনে ৩ জন শতায়ু : উদ্বেগে জাপান

    ১০ জনে ৩ জন শতায়ু : উদ্বেগে জাপান

    জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শতায়ু মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৭ হাজার ৯১৪ জন বেশি। টানা ৫৬ বছর ধরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শতায়ুদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। খবর আলজাজিরার।

    জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উএনো বলেছেন, ‘অনেক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবন যাপন করছেন, এতে আমি খুবই আনন্দিত।’ তিনি চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তবে এ অর্জনের আড়ালে রয়েছে একটি বড় জনমিতিক সংকট। জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও জন্মহার কমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ফলে দেশটিকে ক্রমশ ছোট হয়ে আসা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করে পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

    দ্রুত বার্ধক্যের দিকে জাপান

    বর্তমানে জাপানের প্রায় প্রতি ১০ জন বাসিন্দার মধ্যে তিনজনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জাপানে ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ লাখের বেশি, অথচ জন্ম নিয়েছে মাত্র ৭ লাখ শিশু।

    এদিকে দেশটির জনসংখ্যাও দ্রুত কমছে। প্রাথমিক আদমশুমারির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৪৫টিতেই জনসংখ্যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় কমেছে। কেবল টোকিও ও ওকিনাওয়ায় জনসংখ্যা বেড়েছে।

    জাপানের জনসংখ্যা ২০০৮ সালে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালে তা কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে আসবে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস।

    কেন বেশি দিন বাঁচছেন জাপানিরা?

    গবেষকদের মতে, জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বিত প্রভাব এতে ভূমিকা রাখছে।

    প্রচলিত জাপানি খাদ্যতালিকায় মাছ, শাকসবজি ও ভাতের পরিমাণ বেশি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট তুলনামূলক কম। ফলে স্থূলতার হারও পশ্চিমা অনেক দেশের তুলনায় অনেক কম।

    এ ছাড়া হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারের অভ্যাস জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বয়স্করাও নিয়মিত এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। দলগত ব্যায়াম চর্চাও সেখানে জনপ্রিয়।

    জাপানের সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা ও ওষুধের সুযোগ নিশ্চিত করেছে, যা মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    দীর্ঘায়ু কেন নতুন চ্যালেঞ্জ?

    বিশ্বের অন্যতম নিম্ন জন্মহারের দেশ জাপান। ২০২৫ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার নেমে এসেছে রেকর্ড ১ দশমিক ১৪-এ। অথচ স্থিতিশীল জনসংখ্যা ধরে রাখতে সাধারণত এ হার ২ দশমিক ১ হওয়া প্রয়োজন। এর ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, কিন্তু পেনশন, চিকিৎসা ও বয়স্কদের সেবার প্রয়োজন বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

    জন্মহার বাড়াতে সরকার শিশুভাতা, ভর্তুকিযুক্ত শিশুসেবা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা চালু করেছে। তবে এখনো এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারা বদলাতে পারেনি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে কম বয়সিদের মধ্যে বিয়ে কমে যাওয়া, দেরিতে বিয়ে করা, অনিশ্চিত চাকরি, স্থবির মজুরি এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে পরিবার গঠন কঠিন হয়ে উঠছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও গৃহস্থালি ও সন্তান লালনের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ না হওয়ায় অনেক নারীর জন্য কর্মজীবন ও মাতৃত্ব একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    অর্থনীতিতে প্রভাব

    কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ায় আয়কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অবদান রাখা মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয় বাড়ছে। এ কারণে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে এবং তরুণ কর্মীদের ওপর করের বোঝাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    শ্রমিক সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তরুণরা শহরমুখী হওয়ায় অনেক অঞ্চলে জনশূন্যতা ও সেবার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

    শুধু জাপান নয়, বাড়ছে বৈশ্বিক বার্ধক্য

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, মানুষের আয়ু বৃদ্ধি মানবজাতির অন্যতম বড় অর্জন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির কারণে মৃত্যুহার কমেছে এবং অধিকাংশ মানুষ এখন ৬০ বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন।

    ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর, যা ১৯৯৫ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ বছর বেশি। ২০২৩ সালের ১১০ কোটি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৪০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

    তবে বার্ধক্যের প্রবণতা সব দেশে সমান নয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাপানের মধ্যম বয়স ছিল ৪৯ বছর, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইতালিতে এ হার ৪৭ দশমিক ৫ বছর, পর্তুগালে ৪৬ দশমিক ২, গ্রিসে ৪৫ দশমিক ৭ এবং জার্মানিতে ৪৫ দশমিক ১ বছর।

  • গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় সৈকত হোসাইন (২৩) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপভ্যানের এক সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার সকালে কড্ডা এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে দ্রুতগামী পিকআপভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সৈকত হোসাইন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া মোল্লাবাড়ী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে টাঙ্গাইল অভিমুখে গমনকারী একটি পিকআপভ্যান কড্ডা এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক সৈকতের মৃত্যু হয়।

    এদিকে পিকআপভ্যানের আহত সহকারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক ও পিকআপভ্যান দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    কোনাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্বাস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিজিবি’র

    মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিজিবি’র

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কালাকুমা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার কালাকুমা নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ টাকা।

    মাদক নির্মূলে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বলে বিজিবি জানায়।

    সীমান্তে মাদক, চোরাচালানি মালামাল ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র!

    গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র!

    গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণ নিয়ে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক দ্বীপটির নিরাপত্তা বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

    ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ‘স্থায়ী’ সক্ষমতা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তার দাবি, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে না এবং সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও মার্কিন অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

    ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। তবে কার্যকর হওয়ার আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফ্রেডেরিকসেনের ভাষ্য, এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেনও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির স্বার্থ ও অবস্থানকে স্বীকৃতি দেবে।

    কী আছে চুক্তিতে?

    চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত নথি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ঘাঁটি, প্রবেশাধিকার ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার আরও স্থায়ী ভিত্তিতে নিশ্চিত করার বিষয়টি চুক্তির কাঠামোর অংশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলেও কার্যকর থাকবে—এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ দ্বীপটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে পরিবর্তন এলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক-সংক্রান্ত অধিকার অব্যাহত রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

    এ ছাড়া ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিনিয়োগ সীমিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশকে কেন্দ্র করে এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিধি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বক্তব্যে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সতর্ক ভাষায় এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করছে না এবং দ্বীপটির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের কাছেই থাকছে।

    কেন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এত আগ্রহ ট্রাম্পের?

    গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলে এর ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত গুরুত্ব এবং বিপুল খনিজসম্পদ—সব মিলিয়ে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে।

    বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজের মজুত রয়েছে, যার অনেকগুলো এখনো বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা হয়নি। মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ।

    এই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলে আসছেন। এমনকি দ্বীপটি দখলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। এসব মন্তব্য ডেনমার্ক ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

    ১৯৫১ সালের চুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫১ সালে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পিটুফিক স্পেস বেসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

    নতুন চুক্তি ওই পুরোনো কাঠামোর ওপর কতটা পরিবর্তন আনছে, তা পুরো নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, এটি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের স্থায়ী সমাধান করেছে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তির আওতায় তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বহাল থাকবে।

    চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় সংসদীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই কার্যকর হবে। ফলে এর সুনির্দিষ্ট শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রকৃত পরিধি পুরোপুরি বোঝার জন্য চূড়ান্ত নথি প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।