ইসরাইলি কারাগারে বসেই পুরো কোরআন হিফজ করলেন ফিলিস্তিনি তরুণী

প্রতিবেদন:

·

, ,

ইসরাইলি কারাগারের বন্দিদশা, প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা মুখস্থ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১৯ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণী জানা ইহসান আবু ওয়ারদা। শুধু কোরআন হিফজ করেই থেমে থাকেননি তিনি; নিজের বিচারিক শুনানিতে এক বৈঠকে পুরো কোরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিস্মিত করেছেন।

ফিলিস্তিনের বন্দিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস’ বা ‘মাকতাব আল-ইলাম আল-আসরা’ জানিয়েছে, জানা আবু ওয়ারদা ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি ইসরাইলের ড্যামন কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের আগে জানার পবিত্র কোরআনের প্রায় ২০ পারা মুখস্থ করা ছিল। কারাগারে বন্দি থাকার সময় বাকি অংশ মুখস্থ করে সম্পূর্ণ কোরআনের হাফেজ হন তিনি। সম্প্রতি আদালতে নিজের বিচারিক শুনানির সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের জানান, তিনি এক বৈঠকেই সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করেছেন।

জানা শুধু নিজের হিফজ সম্পন্ন করেই ক্ষান্ত হননি। কারাগারে অন্য নারী বন্দিদেরও কোরআন ও হাদিস শিক্ষা দিচ্ছেন তিনি। তার উদ্যোগে কারাগারের ভেতরেই গড়ে উঠেছে ধর্মীয় শিক্ষা ও অধ্যয়নের পরিবেশ। বন্দিত্বের মধ্যেও সহবন্দিদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষার আগ্রহ ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই তরুণী।

জানা আবু ওয়ারদা ফিলিস্তিনের হেবরন এলাকার বাসিন্দা। তিনি জাহিরিয়া কলেজে শরিয়াহ বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। লেখালেখি ও কবিতার প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে স্নাতক শেষ করে কোরআনের তাফসির, আরবি ব্যাকরণ ও হাদিস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান তিনি। তার স্বপ্ন, একদিন কোরআন ও হাদিসের শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

তবে কারাগারের জীবন তার জন্য মোটেও সহজ নয়। ড্যামন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারীরা খাবারের সংকট, কঠোর বন্দি-পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছেন। জানাও গ্রেপ্তার ও এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের সময় অপমানজনক তল্লাশির শিকার হয়েছেন বলে বন্দিবিষয়ক সংগঠনটি জানিয়েছে।

এমনকি বন্দিদশায় নিজের পরিবারের কাছের মানুষদের হারানোর খবরও তাকে দেরিতে জানতে হয়েছে। কারাগারে পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত থাকায় স্বজনদের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছিন্নতা আরও বেড়েছে।

বন্দিত্বের মধ্যেও জানার এই অর্জন ফিলিস্তিনি বন্দিদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআনচর্চার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং অন্য বন্দিদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে তিনি কারাগারের জীবনেও জ্ঞানচর্চার একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন।

বন্দিশালার দেয়াল তার স্বাধীনতা সীমিত করতে পারলেও জ্ঞান অর্জন ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ থামাতে পারেনি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ