আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • গুগল ম্যাপে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র

    গুগল ম্যাপে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র

    গুগল ম্যাপে নতুন করে হালনাগাদ করা স্যাটেলাইট ছবিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইসরাইলি যুদ্ধের কারণে উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, একের পর এক আবাসিক এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোথাও শুধু প্রধান সড়কগুলোর ক্ষীণ রেখা দেখা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের কারণে গাজার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকাকে আলাদা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    যেসব এলাকায় আগে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ছিল, সেসব জায়গার বড় অংশ এখন ধূসর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও আগুন ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া গাজার শতাব্দীপ্রাচীন বিভিন্ন উপাসনালয়েরও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্যাটেলাইট ছবিতে ফুটে উঠেছে। কিছু ধর্মীয় স্থাপনা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

    নতুন এসব ছবি গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির একটি দৃশ্যমান চিত্র তুলে ধরছে।

  • আকাশসীমায় পাকিস্তানের ‘না’, আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম

    আকাশসীমায় পাকিস্তানের ‘না’, আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম

    পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ বিলম্বিত হয়েছে। রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো বিমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।

    এনিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম টেলিফোনে এএনআইকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।’
    পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলেও জানান তিনি।

    মাহবুব আনাম আরও বলেছেন, ইউরেনিয়াম আনার জন্য নতুন তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

    এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জানান, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে।

    তবে কোন দেশ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। বিষয়টি জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধিকে ই-মেইল করেছিল এএনআই। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর নির্মিত হচ্ছে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে।
    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
    প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে।

    ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছায়। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে রাশিয়ার একটি ভারী কার্গো বিমান সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় আনা ওই ইউরেনিয়াম পরে বিশেষ বিকিরণ-সুরক্ষিত কনটেইনারে করে রাজধানী থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা হয়।

  • বন্যা ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

    বন্যা ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

    ভারত ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশে মারা গেছেন ৫৬ জন আর নেপালে প্রাণ গেছে ১৪ জনের। দেশটিতে আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আবারও আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) দেখা দিতে পারে।

    ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অথচ এ সময়ে সাধারণত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ থাকে মাত্র ৭.৬ মিলিমিটার।

    রাজ্যটির ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজারের বেশি বাড়ি। নেপালের ৪৯ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টি জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জেলা বড় ধরনের বন্যা বা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি ক্রমেই বাড়ছে।

    ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ওই বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ।

    তবে বর্তমানে ওই দুই এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

    বন্যার কারণে নেপালের মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের কয়েকটি এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা।

    অন্যদিকে, নেপালে পৃথক এক ঘটনায় তুষারধসে ১০ স্থানীয় কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্প তুষারধসে চাপা পড়ে। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন ওই কর্মীরা।

    তবে তুষারধসের সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

    ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন হয়ত মনে করছে, এখনই তেহরানের শর্ত মেনে নেওয়ার চেয়ে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে ইরানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ চুক্তিতে আরও সুবিধাজনক শর্ত আদায় করা যাবে।

    শনিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তার দাবি, তেহরান বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকায় চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনিও একটি চুক্তি চান, যদিও ইরানের দেওয়া বর্তমান শর্ত তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

    পরদিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া তেহরানের নজরে এসেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

    ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত যুদ্ধবিরতির কথাও বলা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব শর্ত বাস্তবায়ন হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে তেহরান। ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের সঙ্গে গত জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের বেশ কিছু মিল রয়েছে। তবে শর্ত নিয়ে মতবিরোধের জেরে সেই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

    কেন সময় নিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র?

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়ালে তেহরান ভবিষ্যতে বেশি ছাড় দিতে পারে। এরই মধ্যে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জোরদার, তেল আয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা অন্য দেশগুলোর ওপরও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি ইরানের বিমান চলাচলের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের বৈশ্বিক আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন।

    ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক সহযোগী ফেলো রিচার্ড ওয়েইটজের মতে, ওয়াশিংটন হয়ত মনে করছে, আরও কিছু সময় গেলে অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে চুক্তির ক্ষেত্রে বাড়তি ছাড় দিতে বাধ্য করবে।

    তবে সময়ক্ষেপণের বিপরীত দিকও রয়েছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঝুঁকি দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

    নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক ঝুঁকি

    ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে দেরি করা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন, বিপরীতে সমর্থন জানিয়েছিলেন ৩১ শতাংশ।

    এর সঙ্গে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে পারে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি মনে করেন, ইরানের প্রস্তাবকে ট্রাম্পের সামনে একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তার মতে, চুক্তি হলে নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর পথ তৈরি হতে পারে।

    চাপ বাড়ালে উলটো ফলের আশঙ্কা

    বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে—এটি সত্য। কিন্তু চাপের কারণে তেহরান অবশ্যই আরও বেশি ছাড় দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার আশঙ্কা, ট্রাম্প হয়ত ইরানের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপকে দেশটির আত্মসমর্পণের ইচ্ছা হিসেবে দেখছেন।

    সংঘাত দীর্ঘ হলে ইরান হরমুজ প্রণালি ছাড়াও আঞ্চলিক অবকাঠামো এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের তৎপরতার কারণে লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ নিয়েও এরই মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

    ক্রিগের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও বড় হয়ে উঠতে পারে।

    তেহরানের হিসাবও সময়কে ঘিরে

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক হ্যারিসনের মতে, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেহরান সম্ভবত বিস্মিত হয়নি। তার মতে, প্রস্তাব দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরান এখনো আলোচনায় আগ্রহী—এমন বার্তা নিজেদের জনগণ এবং মার্কিন জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানও বুঝতে পারছে যে ট্রাম্প এমন একটি চুক্তির পথ খুঁজছেন, যেটিকে তিনি রাজনৈতিকভাবে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। ফলে তেহরানও সময়কে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছে।

    ক্রিগের ভাষায়, ইরানের কৌশল হলো চাপ অব্যাহত রেখে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে হয়। একই সঙ্গে সময় যত গড়াবে, সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ও বাড়তে পারে।

    সব মিলিয়ে দুই পক্ষই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেও এখন পর্যন্ত কেউই মনে করছে না যে দ্রুত সমঝোতায় যাওয়া তাদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। বরং উভয় পক্ষের হিসাবই যেন—আরও কিছুটা অপেক্ষা করলে ভবিষ্যতের চুক্তিতে নিজেদের জন্য ভালো শর্ত আদায় করা সম্ভব হতে পারে।

  • আবার আন্দোলন ককরোচদের

    আবার আন্দোলন ককরোচদের

    মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে এবার ‘জেল ভরো আন্দোলন’ বা গণ-গ্রেফতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে এই আন্দোলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

    মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, শিবাজী পার্ক শুধু খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত এবং সেখানে সমাবেশ করলে শব্দদূষণ হতে পারে ও আশপাশের বড় হাসপাতালের রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। তাই সেখানে রাজনৈতিক জমায়েতের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

    পুলিশের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করার এমন কৌশল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।

    সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি। তারই ধারাবাহিকতায় এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে দলটি।

  • বোমা হামলা থেকে বেঁচে ফিরেন মোজতবা

    বোমা হামলা থেকে বেঁচে ফিরেন মোজতবা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের সময় দুবার বিমান হামলার মুখে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন ইরানের বিশেষজ্ঞ সভার সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি আলে কাসির।

    গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ওই হামলায় তার বাবা নিহত হন এবং মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পরবর্তীতে মার্কিন বাহিনী ওই চিকিৎসাকেন্দ্রটিতেও বোমা হামলা চালালে তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কোনোমতে বেঁচে ফেরেন। হামলার পরপরই তাকে এক অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এরপর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি।

    এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার আগে মোজতবা নিজেও এ বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন ওই ধর্মীয় বক্তা। ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি ভোট পেয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন বলে ধারণা করা হলেও, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

  • মক্কা চুক্তি ইরান বা ইসরাইলের বিরোধী নয়: এরদোয়ান

    মক্কা চুক্তি ইরান বা ইসরাইলের বিরোধী নয়: এরদোয়ান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলেছেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কোনো নির্দিষ্ট দেশ—ইরান, ইসরাইল কিংবা অন্য কারও বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরোধ সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    এরদোয়ান বলেন, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে করা হয়েছে। চুক্তির মূল বিধান অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে আক্রান্ত দেশের প্রয়োজন ও অনুরোধের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়ার ধরন নির্ধারণ করা হবে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা কিংবা গোলাবারুদ সরবরাহ থাকতে পারে। হুমকির মাত্রা অনুযায়ী আরো ব্যাপক সামরিক সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। তবে কোনো হামলা ঘটলেই তুরস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে—এমন কোনো পূর্বনির্ধারিত ব্যবস্থা চুক্তিতে নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

    এরদোয়ান আরো বলেন, ইরাক, ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো স্থানে সম্ভাব্য প্রতিটি ঘটনার জন্য আগেই স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার ছক তৈরি করা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ইসরাইল–তুরস্ক সম্পর্ক

    সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তার অভিযোগ, ইসরাইলে সম্প্রতি তুরস্ককে একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রচারণা তৈরি হয়েছে। তিনি এর সঙ্গে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    একই সঙ্গে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পর্যন্ত বিভিন্ন সংকটে শান্তির উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতা তুরস্কের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সিরিয়া ও ইরান প্রসঙ্গ

    সিরিয়ার স্থিতিশীলতাকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এরদোয়ান। তার মতে, সিরিয়ার সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একটি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে আনা দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সামাজিক ঐক্য শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন। কুর্দিরাও যেন সমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারেন, তুরস্ক এমন একটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে বলে তিনি জানান।

    ইরানের পরিস্থিতি নিয়েও তুরস্ক সতর্কভাবে নজর রাখছে বলে জানান এরদোয়ান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ইরানের জনগণের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত এবং কোনো ধরনের বাইরের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি ইরানে পিকেকে/পিজেএকে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন।

    সব মিলিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কোনো নতুন ইরান বা ইসরাইলবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে উপস্থাপন না করে তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক আঞ্চলিক সংঘাতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নীতি বজায় রাখবে—এমন বার্তাও তিনি দিয়েছেন।

  • গাজার মতো পশ্চিম তীরেও করা উচিত

    গাজার মতো পশ্চিম তীরেও করা উচিত

    গাজায় ইসরাইল যা করেছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও একই কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ।

    তিনি পশ্চিম তীরে যুদ্ধ শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    গতকাল রোববার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়।

    সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীরকে ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন স্মোতরিচ। তিনি বলেন, জুদিয়া ও সামারিয়ায় ইসরাইলি সেনাদের যুদ্ধ করতে হবে। গাজায় যা করা হয়েছে, সেখানেও তা-ই করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তার ভাষ্য, পিএ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

    পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সাক্ষাৎকারে স্মোতরিচের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, জুদিয়া ও সামারিয়ায় কোনো ‘সন্ত্রাসী’ অবকাঠামো রাখা যাবে না। সেখানে ‘কোনো সন্ত্রাসী থাকবে না, কোনো অস্ত্র থাকবে না, কোনো সুড়ঙ্গ থাকবে না’।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। চলতি বছরে এই সহিংসতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ দিক পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলা হয়েছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষা পাওয়া এসব অবৈধ বসতি স্থাপনকারী বিভিন্নভাবে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে গুলি চালানো, বাড়িঘর অবরোধসহ বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা রয়েছে।

    ‘এটা ইসরাইলের নীতি’

    স্মোতরিচের বক্তব্যের পর গতকাল ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলি মন্ত্রীর এই মন্তব্য দেশটির সরকারি নীতিরই অংশ। এই নীতির মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা, তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা, জমি দখল করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করা। এসবের মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়।

    ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকলে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরো উৎসাহিত হবে ইসরাইলি সরকার। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা আরো বাড়তে পারে।

    এদিকে স্মোতরিচের এমন বক্তব্যের সময়ই ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কত’ উপলক্ষে পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল সরকার। এর ফলে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর বাড়তি বিধিনিষেধ থাকবে।

  • ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় আনোয়ার

    ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় আনোয়ার

    ইসরাইলকে আর ‘সভ্য রাষ্ট্রসমাজের’ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়েও একই অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা বন্ধ, ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকানো, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী।

    ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব ও ইসলামি দেশগুলোর বিশেষ সম্মেলনে আনোয়ার বলেছিলেন, ইসরাইল ‘সভ্য রাষ্ট্রসমাজের’ অংশ হিসেবে থাকার সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং জাতিসংঘে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত বা প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা বিবেচনার আহ্বান জানান। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বক্তব্যেও এসব কথা রয়েছে।

    তবে ওই বক্তব্যের দুই বছর পরও ফিলিস্তিন ইস্যুতে আনোয়ারের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপকে আরো কার্যকর ও বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দিয়েছেন।

    গত ২১ আগস্ট পশ্চিম তীরের ই১ এলাকায় ইসরাইলের নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করেন আনোয়ার। তিনি বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের কাছের এই এলাকায় বসতি নির্মাণ হলে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত বিভক্ত হয়ে যাবে এবং একটি সংলগ্ন ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    আনোয়ার বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ হলেও ইসরাইল তা অব্যাহত রেখেছে। গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মধ্যেই নতুন বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ই১ প্রকল্পে কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি অংশ নিলে মালয়েশিয়া বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    এরপর ১১ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি বসতির বিরুদ্ধে ১২টি পশ্চিমা দেশের ঘোষণাকে স্বাগত জানান মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বিবৃতি দিলেই হবে না; এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

    ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ বা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় আনোয়ার তা স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি তাদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তার মতে, বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের জন্য জবাবদিহি এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

    আনোয়ার একই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু নিন্দা ও বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ‘বাস্তব ও বাধ্যতামূলক’ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখন কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপ সফরের সময়ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা জানান আনোয়ার। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজায় নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ পরিত্যাগ ঘটেছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলা দেশগুলো গাজায় প্রতিদিনের হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ সহ্য করছে। মালয়েশিয়া ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

    একই দিন ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে এমন কোনো পণ্য পরিবহনের জন্য মালয়েশিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করেন আনোয়ার। তিনি বলেন, ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে বা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে—এমন কোনো চালানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে মালয়েশিয়াকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    সন্দেহজনক কোনো চালান পাওয়া গেলে তা পরীক্ষা ও তদন্ত করা হবে এবং মালয়েশিয়ার আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    ফিলিস্তিন ইস্যুতে আনোয়ারের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে দেখা যায়, তার নীতিতে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইসরাইলি বসতির পণ্য বর্জন, বসতি নির্মাণে আন্তর্জাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতায় সহায়তা করতে পারে এমন চালান ঠেকানোর কথা তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন।

    ২০২৪ সালের রিয়াদ সম্মেলনে আনোয়ার যে আরও কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিলেন, তার মধ্যে ছিল ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের বিষয় বিবেচনা করা। সেই বক্তব্যের সঙ্গে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো মিলিয়ে দেখলে তার অবস্থানের মূল বিষয়গুলোতে ধারাবাহিকতা স্পষ্ট।

    অর্থাৎ, আনোয়ারের বর্তমান বার্তা হলো—ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শুধু নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়; ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং গাজায় মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতায় সহায়তা করতে পারে এমন সরবরাহ ও পরিবহন বন্ধ করতেও দেশগুলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে ভিত্তি করে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

    ফলে ২০২৪ সালে ইসরাইলকে ‘সভ্য রাষ্ট্রসমাজের’ অংশ না বলার যে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম, ২০২৬ সালের বক্তব্যগুলোতে তারই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে—তবে এবার তিনি কথার পাশাপাশি বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা, বসতি নির্মাণে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ইসরাইলমুখী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন বন্ধের মতো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন।

  • আবার মন্ত্রী হলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবো-গভির

    আবার মন্ত্রী হলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবো-গভির

    ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে এমন বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলেছেন তিনি।

    সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি হাসান সালামেহর সঙ্গে কথা বলছেন বেন-গভির। একপর্যায়ে সালামেহকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাই।’

    ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে দেওয়া বিবৃতিতে বেন-গভির তার অবস্থান আরো স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে সালামেহর মতো বন্দিদের ‘মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করবেন’।

    শুধু বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের কথাই নয়, একই বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার নীতি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন বেন-গভির।

    হাসান সালামেহ ১৯৯৬ সাল থেকে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি। ১৯৯০-এর দশকে প্রাণঘাতী কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব মামলায় তাকে একাধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বেন-গভিরের প্রকাশ করা ভিডিওটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তারা বলেছে, ভিডিওটি সালামেহর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মৃত্যুর হুমকি’। এ ঘটনার নিন্দাও জানিয়েছে তারা।

    নির্বাচনের আগে বেন-গভিরের এই বক্তব্য ইসরাইলের বন্দিনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে।

  • কোন পথে ইমরানের মুক্তি?

    কোন পথে ইমরানের মুক্তি?

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কারাগারে থাকা ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। এর আগে ইমরানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। একই সময়ে ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সড়ক অবরোধ এবং পিটিআই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।

    ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন। তার দল ও পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দাবি করে আসছে। সরকার অবশ্য ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, একাকী বন্দিত্ব বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আগস্টে জানিয়েছিল, ইমরান একজন দণ্ডিত বন্দি হিসেবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে।

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিরোধের সর্বশেষ বড় ঘটনা ঘটে আগস্টে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ জানানো হলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ১৮ আগস্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া, ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসায় যুক্ত করা, নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত একটি বহুবিষয়ক চিকিৎসক বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করার কথাও বলে।

    তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। পাকিস্তান সরকার ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে ইসলামাবাদের সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) রাতে চিকিৎসা পরীক্ষা করিয়ে পরদিন ভোরে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠায়। সরকারের বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসকেরা তাকে পরীক্ষা করে কারাগারে ফেরত পাঠানোর উপযোগী বলে মত দিয়েছেন।

    এরই মধ্যে ইমরানের পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে আসছিল, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দেয়। আদালত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইমরানের ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করতে বলে।

    আগস্টে অবশ্য দীর্ঘ বিরতির পর ইমরান তার বোন নোরিন এবং স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার তার বোনদের সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া হয় বলে পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইমরানের বোনেরা আবারও তাকে দেখতে পারেননি।

    ইমরানকে ঘিরে সর্বশেষ বড় উত্তেজনা তৈরি হয় পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে। দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। মূল দাবি ছিল ইমরান খানের মুক্তি। এর আগে সরকার রাজধানীর প্রবেশপথে কনটেইনার বসানো, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। ইসলামাবাদে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শত শত পিটিআই কর্মীকে আটক করা হয়।

    ইসলামাবাদ হাইকোর্টও পিটিআইয়ের প্রস্তাবিত দীর্ঘমার্চ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দল, নেতা বা প্রাদেশিক সরকার এমনভাবে রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক বা প্রবেশপথ দখল করতে পারে না, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল, চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই ইমরানের তিন বোনকে আটক করা হয়। প্রথমে আলিমা খানকে লাহোরে আটক করা হয়। এরপর উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও আটক করে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার’ আইনের অধীনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়। পিটিআই ও তাদের আইনজীবীরা আটককে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেন। লাহোর হাইকোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে আটকাদেশ স্থগিত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।

    ইমরানের বোনদের গ্রেপ্তারকে পিটিআই তাদের নেতার ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

    ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। পিটিআই ২৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে, ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহাইল আফ্রিদি জানান, নতুন নির্ধারিত তারিখে পেশোয়ার থেকে দীর্ঘমার্চ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীমুখী দীর্ঘমার্চের বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে।

    মার্চ পিছিয়ে দেওয়ার আগে পিটিআই ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে একাধিক যোগাযোগের খবরও এসেছে। গত চার-পাঁচ সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি ব্যাকচ্যানেল বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয় হিসেবে পিটিআইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এসব তথ্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।

    এর আগে আলোচনায় ইমরানের চিকিৎসা ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির অবস্থান নিয়েও সম্ভাব্য ছাড়ের কথা উঠেছিল। তবে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে।

    ইমরানের ছেলে কাসিম খানও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে তিনি সমর্থকদের আদিয়ালা কারাগারের কাছে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা ছিল, কারাগারের কাছে বড় জমায়েত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং তার বাবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খান নিজে কারাগারে থাকলেও তাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত থামেনি। বরং তার স্বাস্থ্য, কারাগারে সুযোগ-সুবিধা, পরিবারের সাক্ষাৎ, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি—সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে।

    এখন পিটিআইয়ের সামনে নতুন তারিখ ৪ অক্টোবর। ওই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকার রাজধানীতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে এবং ইমরানের পরিবার ও দলের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি হয় কি না—এসবই আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই আছেন এবং তার মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।

  • পুরোদমে চলছে ইরানের বিমানবন্দর

    পুরোদমে চলছে ইরানের বিমানবন্দর

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোপুরি সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রামিন কাশেফ-আজার।

    ইরানি সংবাদমাধ্যমকে কাশেফ-আজার বলেন, বিমানবন্দরটি এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দিন ২৩ সেপ্টেম্বরও বিমানবন্দরটি থেকে ৬০টি ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।

    ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর গত ৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ওই দিন ইরানের আরো ২৭টি বিমান সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। এর মাধ্যমে আগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় না থাকা ইরানের বাকি বিমান সংস্থাগুলোও এর আওতায় আসে।

    মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তখন সতর্ক করে বলেন, ইরানি বিমান সংস্থার পরিচালিত উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির মতো কাজে যুক্ত বিমানবন্দর ও কোম্পানিগুলোও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

    এরপর ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। ইরাকের চারটি বিমানবন্দরও ইরানি ফ্লাইট বন্ধ করেছে।

    তবে ইরানের বিমান সংস্থাগুলো এখনো চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

  • ইসলামের নামে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো যাবে না: আনোয়ার ইব্রাহিম

    ইসলামের নামে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো যাবে না: আনোয়ার ইব্রাহিম

    ইসলামের নাম ব্যবহার করে ঘৃণা, অপবাদ ও গালাগালিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো যাবে না। কোনো ইসলামি দল বা আন্দোলনের পরিচয় শুধু স্লোগান কিংবা আবেগে নয়, বরং তাদের আচরণ, নৈতিকতা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হতে হবে। রোববার এক ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইসলামি দল বা আন্দোলন যদি নৈতিকতার নীতি বাদ দিয়ে ঘৃণায় পূর্ণ হয় এবং অপবাদ ও গালাগালিকে প্রতিদিনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে সেই আন্দোলনের অর্থ কী? ইসলামি চেতনার নামে পরিচালিত কোনো আন্দোলন রাগ, আবেগ ও উসকানির ওপর নির্ভর করলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এর আগে শনিবার রাতে মালয়েশিয়ার বানগিতে ‘থ্রি জেনারেশনস অ্যাপ্রিসিয়েশন ডিনার’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আনোয়ার। ওয়াদাহ পেমবেরদাসান উমাত মালয়েশিয়া, অ্যাংকাতান বেলিয়া ইসলাম মালয়েশিয়া ও মালয়েশিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইসলামিক স্টুডেন্টস যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সেখানে তিনি ইসলামি আন্দোলনের শক্তির ভিত্তি হিসেবে জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের ওপর গুরুত্ব দেন।

    আনোয়ার বলেন, কোনো দেশের সংগ্রাম শুধু আবেগ ও উত্তেজনার ওপর নির্ভর করতে পারে না। জ্ঞান মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে। তার ভাষায়, ‘মাদানি’ রাষ্ট্র গড়তেও জ্ঞানকে ভিত্তি হিসেবে শক্তিশালী করতে হবে।

    ইসলামি আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি ‘উসরা’ এবং ইসলামী ‘তুরাথ’ বা ঐতিহ্যগত জ্ঞানভাণ্ডারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, আধুনিক সময়ে ইসলামের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়লেও ইসলামি দল ও সংগঠনগুলোর একটি বড় দুর্বলতা হলো তারা অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী জ্ঞান-ঐতিহ্যের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে যুক্ত নয়।

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় তুরাথ আলেম সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যেও আনোয়ার একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামি সচেতনতা ও জ্ঞানচর্চা বাড়লেও অনেক ইসলামি আন্দোলন ও দলের সঙ্গে ঐতিহ্যগত ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে মতের সংঘাত অনেক সময় কঠোর ও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে এবং সেখানে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও গবেষণার ঘাটতি দেখা যায়।

    তিনি বলেন, ইসলামী ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ আলেমদের জ্ঞানকে শুধু নিজেদের বক্তব্যের সমর্থন হিসেবে ব্যবহার করলে হবে না; সেই জ্ঞানকে যুক্তি ও চিন্তার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তার মতে, ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্বকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।

    আনোয়ার একই সঙ্গে ইসলামি আন্দোলনের কয়েকটি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, ‘তাকফিরি’ চিন্তার বিরোধিতা, চরম দারিদ্র্য দূর করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখা।

    তার বক্তব্যে ‘তাকফিরি’ চিন্তার বিরোধিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি রাজনীতি বা আন্দোলনের নামে ভিন্নমতাবলম্বীদের সহজে ধর্মের বাইরে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগের বিপরীতে আনোয়ার জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আনোয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গও এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের তুরাথ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসলামি দাওয়াহ ও জ্ঞানচর্চায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। তবে নৈতিকতা ও আদর্শের কাঠামো ছাড়া এ প্রযুক্তি ক্ষতির কারণও হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    সব মিলিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসলামি আন্দোলন সম্পর্কে তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল সংগ্রাম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামের নামে পরিচালিত কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন শুধু আবেগ, স্লোগান কিংবা ক্ষোভের ওপর দাঁড়ালে তা টেকসই হতে পারে না। ইসলামী জ্ঞান-ঐতিহ্য, যুক্তিবোধ, শিষ্টাচার ও মানুষের কল্যাণকে আন্দোলনের ভিত্তিতে রাখতে হবে।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন দেশটির রাজনীতিতে ইসলাম ও মালয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের মূল বিষয় কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন বা বিরোধিতা নয়; বরং ইসলামি পরিচয় ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণে নৈতিকতা, জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান।

    তার বক্তব্যের সারকথা হলো—ইসলামের নামে ঘৃণা, অপবাদ ও গালাগালি কোনো আদর্শিক সংগ্রামের বিকল্প হতে পারে না। ইসলামী আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে তার জ্ঞানচর্চা, নৈতিক আচরণ এবং সমাজের জন্য বাস্তব অবদানের ওপর।

  • সমুদ্রপথ বন্ধ, স্থলবাণিজ্যে ঝুঁকছে ইরান

    সমুদ্রপথ বন্ধ, স্থলবাণিজ্যে ঝুঁকছে ইরান

    ইরান সমুদ্রপথের পরিবর্তে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোতে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানি কার্যক্রমে এই পরিবর্তন এসেছে।

    স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সীমান্তপথে চাপও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে তুরস্কের সঙ্গে প্রধান সীমান্তপথে। সেখানে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।

    সীমান্তে আটকে থাকা ট্রাকগুলোকে পণ্য পরিবহনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রবন্দরগুলোতে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধের কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বাণিজ্য সচল রাখতে ইরান স্থলসীমান্তের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে।

  • ভারতে মসজিদ ভাঙা ঠেকাতে রাতেও পাহারা দিচ্ছেন মুসল্লিরা

    ভারতে মসজিদ ভাঙা ঠেকাতে রাতেও পাহারা দিচ্ছেন মুসল্লিরা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ ঠেকাতে রাতেও মসজিদ ঘিরে অবস্থান নিচ্ছেন শত শত মুসলিম। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদের একাংশ ভাঙার জন্য প্রশাসনের বুলডোজার বাইরে অবস্থান করলেও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি বলে স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মাকতুব।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতেও মসজিদ প্রাঙ্গণে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকার মুসলিমরা সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও আংশিক ভাঙার আশঙ্কায় মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদ রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা ছাড়া আপাতত তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

    ইন্দোরের বিশিষ্ট ইসলামি আলেম মুফতি জুনাইদ মাকতুবকে বলেন, প্রশাসন বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে মুসলিমরা সেখানে জড়ো হন। তার দাবি, একটি মসজিদ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরও বহু পুরোনো মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    তিনি বলেন, ‘এই মসজিদ ভেঙে ফেলা হলে আরো ২৮টি মসজিদ একই তালিকায় চলে আসবে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। কোনো স্থাপনা কোনো প্রকল্পের পথে পড়েছে—শুধু এ কারণে একের পর এক মসজিদ ভেঙে ফেলা যায় না।’

    মুফতি জুনাইদ আরো অভিযোগ করেন, একটি ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন বা সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের অস্তিত্ব মুছে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, উজ্জয়নে বড় হিন্দু তীর্থযাত্রা আয়োজনকে সামনে রেখে শহরের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি পুরোনো মসজিদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

    উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলা সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় খাজর ওয়ালি মসজিদ থেকে গণেশ চৌক পর্যন্ত প্রায় ৭৩০ মিটার সড়ক সম্প্রসারণ করে ১৫ মিটার প্রশস্ত পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাকতুবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    শাহী মসজিদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ভাঙার মধ্যে রয়েছে নামাজের হল বা জামাতখানার একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মুসলিম পক্ষের দাবি, এসব স্থাপনা মসজিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কাঠামোর অংশ এবং এগুলোর আংশিক অপসারণও মসজিদের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।

    তবে বিষয়টি এখন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি উজ্জয়েন পৌর করপোরেশনের জারি করা ভাঙার নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি আবেদন খারিজ করেছে। বিচারপতি সন্দীপ এন ভাট বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুসারেই নেওয়া হয়েছে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।

    অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়ে প্রশাসনের প্রস্তাবিত পদক্ষেপকে আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে মুসলিম পক্ষ এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

    অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের আইনজীবী জায়েদ পাঠান বলেন, নুমাইন্দা কমিটি তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, আপাতত মুসলিমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো প্রস্তাবিত ভাঙার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং মসজিদটি রক্ষা করা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিমরা মনে করছেন, মসজিদের সামনে অবস্থান করাই বর্তমানে সেটিকে ভাঙার উদ্যোগ ঠেকানোর একটি উপায়।

    উজ্জয়নের এই ঘটনাকে ঘিরে মূল বিরোধটি তৈরি হয়েছে নগর উন্নয়ন ও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার প্রশ্নে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে মহাকালেশ্বর মন্দিরের আশপাশে তীর্থযাত্রীদের চলাচল সহজ করতে সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে মুসলিমদের বক্তব্য, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতি এড়ানোর বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।

    বর্তমানে মসজিদের বাইরে বুলডোজার অবস্থান এবং ভেতরে মুসল্লিদের অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টে মুসলিম পক্ষের আইনি চ্যালেঞ্জের ওপর। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের বিতর্কিত অংশ শেষ পর্যন্ত অপসারণ করা হবে কি না।

  • ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের সাড়ে ছয়শ বছরের শাহী মসজিদ

    ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের সাড়ে ছয়শ বছরের শাহী মসজিদ

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ছয় শতাধিক বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটিয়েছেন শত শত মুসলিম। মসজিদ রক্ষার দাবিতে অবস্থানকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন।

    ইন্দোরের আলেম মুফতি জুনাইদ অবশ্য বিষয়টিকে আরো বিস্তৃত আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরো ২৮টি মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে শহরের পুনর্বিন্যাসের নামে পুরোনো মসজিদগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, শাহী মসজিদটি ১৩৯০ সালের স্থাপনা এবং এর বয়স প্রায় ৬৩৬ বছর। মসজিদ পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর ঐতিহাসিক অস্তিত্বের পক্ষে পুরোনো সরকারি নথিও রয়েছে।

    অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই আন্দোলনকে ‘গান্ধীবাদী’ বা অহিংস প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় স্থাপনা এভাবে ভেঙে ফেলা উচিত নয়।

    রোববার রাতেও মসজিদের বাইরে বুলডোজার অবস্থান করছিল। সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও ভাঙার কার্যক্রম ঠেকাতে স্থানীয় মুসলিমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন। রোববার রাতে মসজিদ এলাকায় মানুষের উপস্থিতি আরো বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়। তবে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান নেওয়ায় ওই রাতে মসজিদের অংশবিশেষ ভাঙার কার্যক্রম এগোয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

    মসজিদে অবস্থানকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিবাদ নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা পালাক্রমে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি রক্ষার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে।

    মসজিদটি উজ্জয়নের মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রায় বিপরীতে এবং ক্ষিপ্রা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে ওই এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়েন পৌর করপোরেশন। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করা হবে। এই প্রকল্পের নির্ধারিত অংশে শাহী মসজিদের কিছু স্থাপনা পড়েছে।

    প্রস্তাবিত অপসারণের মধ্যে রয়েছে মসজিদের নামাজের হলের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজহার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মসজিদ পরিচালনাকারীরা এর বৈধতা নিয়ে আদালতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব এবং ধর্মীয় স্থাপনা বাদ দিয়েও রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে।

    অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান হলো, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর আগমনকে সামনে রেখে যান চলাচল ও জনসুবিধার জন্য সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও মামলার রায়ে সড়ক সম্প্রসারণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

    মসজিদ ভাঙার বিষয়ে এর আগে করা দুটি আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি সন্দীপ এন ভাটের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, পৌর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুসরণ করে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েই পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালত সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ৩০০এ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগও গ্রহণ করেনি।

    তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ নতুন করে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করেছে। ওই আবেদনের শুনানি সোমবার হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মসজিদ ভাঙার কার্যক্রমের পরবর্তী গতি আদালতের নতুন শুনানির ওপরও নির্ভর করছে।

    মুসলিম পক্ষের আরো দাবি, এর আগে উজ্জয়নের তাখিয়া মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই শাহী মসজিদের ক্ষেত্রে তারা এবার সরাসরি মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৬০০-এর বেশি পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও বিশেষ বাহিনীর সদস্য এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।

    সর্বশেষ পরিস্থিতিতে শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত আছে এবং একই সঙ্গে আইনি লড়াইও চলছে। ফলে উজ্জয়নের এই বিরোধ এখন শুধু একটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একটি পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহাসিক মর্যাদা, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন।

    সোমবারের আদালতের শুনানি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন নির্ধারণ করবে শাহী মসজিদের বিতর্কিত অংশ শেষ পর্যন্ত অপসারণ করা হবে কি না। এর মধ্যে মসজিদের ভেতরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত থাকায় উজ্জয়নে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

  • ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা

    ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা

    ইসরাইলের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ড এর ফুটবলাররা ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি। রোববার রাতে হাঙ্গেরির দেব্রেসেনের প্রায় দর্শকশূন্য নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে ইসরাইলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো ইসরাইলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দন না করার এই ঘটনা ঘটান আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। ম্যাচে তারা ৩-০ গোলে জয় পায়।

    ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরেন। ইসরাইলের জাতীয় সংগীত চলার সময় তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। অধিনায়ক দারা ও’শিয়াও টসের সময় রেফারি ও সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলালেও ইসরাইলের অধিনায়ক মানোর সলোমনের সঙ্গে করমর্দন করেননি। দুই দলের মধ্যে প্রচলিত পেন্যান্ট বিনিময়ও হয়নি।

    আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) আগেই উয়েফাকে জানিয়েছিল যে তাদের খেলোয়াড়রা ইসরাইলি দলের সঙ্গে করমর্দন করবেন না। উয়েফা এ ব্যবস্থায় সম্মতি দেয়। এফএআই জানিয়েছিল, সংঘাতে নিহত সব মানুষের স্মরণে খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন এবং ম্যাচ থেকে পাওয়া অর্থ দাতব্য কাজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মাঠের বাইরে অবশ্য ম্যাচটি নিয়ে আরো বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচটি বয়কট করা হবে কি না, তা নিয়ে শনিবার আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোট হয়। এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল জানান, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে কতজন পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।

    এর আগে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বাসের কারণে ইসরাইলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সঠিক হবে না। তিনি দুই ম্যাচের জন্যই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    বাজুনুর সিদ্ধান্তের পর দলের অন্য খেলোয়াড়রাও ম্যাচ খেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। এ কারণে দলের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর অবশ্য আয়ারল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধেই ট্রয় প্যারট, অ্যাডাম আইডাহ ও জ্যাক ময়লানের গোলে তারা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ইসরাইল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক কাওইমহিন কেলেহার তা প্রতিহত করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলেই জয় পায় আয়ারল্যান্ড।

    ম্যাচটি হয়েছে প্রায় দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ইসরাইলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সীমিতসংখ্যক টিকিট দেওয়া হয়েছিল। মাঠে অল্পসংখ্যক ইসরাইলি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের সমর্থকদের জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ করা হয়নি।

    ইসরাইলের বিপক্ষে খেলাকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ চলছে। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য উয়েফার কাছে আবেদন করেছিল। তবে উয়েফা সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।

    আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও ম্যাচটি নিয়ে অস্বস্তির কথা প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ফলে জাতীয় দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দেশটির বৃহত্তর জনপরিসরেও তা ছড়িয়ে পরেছে।

    দুই দলের আরেকটি ম্যাচ আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচ হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে ওই ম্যাচকে ঘিরেও প্রতিবাদ ও বয়কটের দাবি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড একদিকে মাঠে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, অন্যদিকে ম্যাচের আগে হাত না মেলানো, কালো আর্মব্যান্ড পরা এবং ইসরাইলের জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে এফএআই আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতে নিহত সব মানুষের প্রতি সম্মান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

  • চীন কি আমেরিকার অস্ত্র কিনবে?

    চীন কি আমেরিকার অস্ত্র কিনবে?

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন দাবি করেছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনের আপত্তির জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্প এক পর্যায়ে শিকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না।

    রোববার ফক্স নিউজের ‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে পারডিউ এ কথা বলেন। তবে ট্রাম্প ঠিক কখন শিকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময় উল্লেখ করেননি। তার বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাইওয়ানকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের পুরোনো বিরোধ আবার আলোচনায় এসেছে।

    তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি চীনের জন্য দীর্ঘদিনের আপত্তির বিষয়। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ও অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। মার্কিন আইনের অধীনেও তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপকরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    পারডিউ বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনের আপত্তির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুক্তি ছিল—যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছেই অস্ত্র বিক্রি করে। এ প্রসঙ্গেই তিনি শিকে অস্ত্র কেনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বলে রাষ্ট্রদূত জানান। তবে চীন ওই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, সে বিষয়ে পারডিউ কোনো তথ্য দেননি।

    ট্রাম্প-শি বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন পর এমন বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে শির রাষ্ট্রীয় সফরের সময় দুই নেতা বাণিজ্য, সামরিক যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে বৈঠকের পর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক বিবৃতিতে তাইওয়ানসহ কয়েকটি মৌলিক বিরোধের কোনো বড় সমাধানের কথা উঠে আসেনি।

    তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থানও বৈঠকের সময় স্পষ্ট ছিল। ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত আলোচনায় শি ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের জন্য তাইওয়ান শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়; দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।

    অন্যদিকে, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনেও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের জন্য অস্ত্রের অর্ডার ও সহায়তা বিলম্বিত হওয়া নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পারডিউ এসব উদ্বেগ নাকচ করে বলেন, ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রতি যথেষ্ট দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    এর আগে মে মাসে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজের বিক্রি স্থগিত করেছিল বলে এপি জানিয়েছে। ট্রাম্প তখন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘আলোচনার হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে তাইওয়ানের অস্ত্র সরবরাহ শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয় নয়, যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনৈতিক দরকষাকষিরও অংশ হয়ে উঠেছে।

    এদিকে ট্রাম্প-শি বৈঠকে সামরিক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংকট মোকাবিলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    তবে অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মৌলিক অবস্থান এখনো আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। চীন চায় ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুক এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করুক। ফলে ট্রাম্প শিকে মার্কিন অস্ত্র কেনার কথা বলে থাকলে সেটি বাস্তবে কোনো অস্ত্র বিক্রির চুক্তিতে রূপ নিয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

    মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরে স্পষ্ট করেছেন, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ফলে পারডিউর মন্তব্যকে বর্তমানে একটি আলোচনার বক্তব্য হিসেবেই দেখা যাচ্ছে; চীনকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির আনুষ্ঠানিক নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা হিসেবে নয়।

    ট্রাম্পের মন্তব্যের তাৎপর্য মূলত তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জটিলতা এবং অস্ত্র বাণিজ্যকে কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনা। একই সময়ে দুই দেশ বাণিজ্য ও সামরিক যোগাযোগে সহযোগিতার পথ খুঁজলেও তাইওয়ানসহ নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রশ্নগুলোতে তাদের মতপার্থক্য বহাল রয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের আ/ন্দো/ল/নের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

    শিক্ষার্থীদের আ/ন্দো/ল/নের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

    সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ আর ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।

    রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মি. ভুচিচ বলেছেন, তার নয় বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন।

    গত জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এখন আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মি. ভুচিচ।

    কারণ সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

    ক্ষমতায় থাকাকালে রুশপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছিল, যা ঘিরে সার্বিয়ার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

    ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে নোভী সাদ রেল স্টেশনের ছাদ ধ্বসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা তার প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে জন্ম নেওয়া ওই ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছিল।

    এরপর ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কৃষক পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে শুরু হয় বিক্ষোভ।

    সংস্কারের পর নোভী সাদ রেল স্টেশন সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল।

    কিন্তু সেখানে ছাদ ধ্বসে হতাহতের যে ঘটনাটি ঘটে, সেটিকেই মি. ভুচিচের রাজনৈতিক দল প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলের প্রকৃতচিত্র বলে মনে করেন বিরোধীরা।

    দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর জনরোষ কমিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে মি. ভুচিচ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একের পর এক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।

    কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো গ্রীষ্মকালজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

    আন্দোলন দমনে একপর্যায়ে সরকার পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে।

    ওই সময় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা-নির্যাতনসহ নিপীড়নের নানান অভিযোগ উঠতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। সেইসঙ্গে, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট আয়োজনেরও আহ্বান জানান।

    প্রেসিডেন্ট পদে মি. ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই তিনি পদত্যাগ করায় সার্বিয়ায় এখন নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।

    দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার তিন মাসের মধ্যেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

    এদিকে, আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সার্বিয়ার জনগণ চলতি বছরে দু’বার ভোট দিতে যাবেন।

    মি. ভুচিচ তার ভাষণে বলেন, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে প্রগ্রেসিভ পার্টির শীর্ষপদে তার অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    দেশটির সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ, যিনিও প্রগ্রেসিভ পার্টির একজন নেতা, তিনি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সার্বিয়ার সরকারি গণমাধ্যম আরটিএসের তথ্যমতে, পদত্যাগের আগে মি. ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তার দলের অনুগত নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

    ক্ষমা পাওয়া এসব ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।

    আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির সঙ্গে যেসব দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘স্টুডেন্টস উইন’।

    এটি সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত দল।

    এছাড়া ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ নামে পরিচিত আরেকটি জোট রয়েছে, যারা মূলত পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর একটি মোর্চা।

    গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মি. ভুচিচ সার্বিয়ার রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

    মি. ভুচিচ প্রকাশ্যেই বলে থাকেন যে, তিনি সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে (ইইউ) যুক্ত করতে চান।

    একই সাথে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও সার্বিয়াকে উন্মুক্ত রাখতে চান তিনি।

  • লেবাননে ইসরাইল ফসফরাস গোলা ফেলছে

    লেবাননে ইসরাইল ফসফরাস গোলা ফেলছে

    দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহরে শুক্রবার গোলাবর্ষণের সময় ইসরাইলি বাহিনী ফসফরাস গোলা ব্যবহার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

    পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানায়, নাবাতিয়েহ জেলায় জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

    নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় ফসফরাস গোলা ব্যবহার করা হয়। পরে একই ধরনের গোলা দিয়ে জাওতার আল-শারকিয়াহতে আবারো হামলা চালায় ইসরাইল।

    টাইর জেলায়ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদাথার উপকণ্ঠ।

    এদিকে মারজায়ুন ও বিনত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম ও আল-গান্দুরিয়াহতে ইসরাইলি বাহিনীর ফেলা দুটি বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে লেবাননের সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা। পরে বোমা দুটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

    জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তির পরও হামলা চলছে। ওই চুক্তিতে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।

    দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো ‘দুর্লভ’

    জাতিসঙ্ঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিল সম্প্রতি বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো ‘দুর্লভ’। সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে তারা।

    ২১ সেপ্টেম্বর পালিত আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে এ কথা বলা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননের নাকুরায় ইউনিফিলের সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিফিল বলেছে, ‘আজ দক্ষিণ লেবাননে শান্তি এখনো দুর্লভ। তবে শান্তির আশা টিকে আছে।’

  • মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক

    সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকে সৌদিকে রক্ষায় এ অঙ্গীকার করেন তারা। খবর আল আরাবিয়ার।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ওপর বারবার হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে এই তিন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    সামরিক কর্মকর্তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে কীভাবে অবিলম্বে কার্যকর সামরিক সহযোগিতায় রূপ দেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। এই জোটের শর্তানুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা মানেই হলো জোটভুক্ত সব পক্ষের ওপর হামলা।

    পাশাপাশি, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌদির সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা।

  • হরমুজ খুললেও পারমাণবিকে ছাড় নয়

    হরমুজ খুললেও পারমাণবিকে ছাড় নয়

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ কথা জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করতে এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসানে হরমুজ প্রণালি এখন গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান চাইছে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হোক।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে তেহরান।

    পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়

    ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো মেনে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইরানের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারসহ নিজেদের পারমাণবিক অধিকার থেকে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান।

    ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মার্কিন দাবিও তারা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

    ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। এর অন্যতম কারণ, ইরান ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

  • ভারতজুড়ে ককরোচদের কর্মসূচি ঘোষণা

    ভারতজুড়ে ককরোচদের কর্মসূচি ঘোষণা

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আজ শনিবারের (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হবে— এমনটাই ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় কথিত পরিবর্তন নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো।

    সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে বিক্ষোভ শুরু হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    এর আগে শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

    কেন ২ অক্টোবর?

    গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। দলটির দাবি, ওই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে।

    দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    সিজেপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকায় করা পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)–কে সুবিধা দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশন আরও বলেছে, তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো আইনসম্মত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

    কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দল—উভয়েই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

  • পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বললেন এস জয়শঙ্কর

    পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বললেন এস জয়শঙ্কর

    পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার ঠিক কবে নাগাদ পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন দেওয়া বন্ধ করবে?

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এনডিটিভি।

    এদিকে, প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পালটা প্রশ্ন করেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ কি আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’ এরপর তিনি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিয়ে নিজ নিজ আসন ছেড়ে কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে তারা বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও ওই সাংবাদিক তার বক্তব্য ও মন্তব্য অব্যাহত রাখেন।

    এর মধ্যে বাহাওয়ালপুরকে দীর্ঘদিন ধরে জৈশ-ই-মোহাম্মদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে আসছে ভারত। পাশাপাশি মুজাফফরাবাদ ও ভিম্বারকে জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

    অন্যদিকে, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেন ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী।

    তিনি বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা কিংবা সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দেওয়া।

    ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, ‘অন্যের ভূখণ্ড দখল বা সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি না করে নিজেদের দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দিলেই পাকিস্তানের জনগণের বেশি উপকার হবে। কারণ এসব কর্মকাণ্ড কিংবা এই পরিষদে কোনো নাটকিয়তা চালিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ঋণ পরিশোধ করা যাবে না, যার ওপর ভিত্তি করে তাদের অর্থনীতি টিকে আছে।’

    তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ ও সুনির্দিষ্ট বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। উক্ত বিক্ষোভের সময় সেখানে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন যে ইসলামাবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে জরুরি ত্রাণ সরবরাহ আটকে রেখেছে।’

    ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘এই পরিষদকে জানানো হয়েছিল যে পাকিস্তান-দখলকৃত ভূখণ্ডে জুনের পর থেকে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখা হয়েছে। যখন এসব তথ্য সামনে আনা হয়, তখন পাকিস্তানের একমাত্র উত্তর ছিল একটি ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলা। এই কক্ষে যদি এমন কোনো প্রতিনিধিদল থাকে যা কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট পর্যালোচনার সব মানদণ্ড পূরণ করে, তবে সেটি হলো পাকিস্তান।’

  • মোদি থেকে পুতিন

    মোদি থেকে পুতিন

    জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেননি যেসব বিশ্বনেতা

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) মতো বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ এড়িয়ে যাওয়ার কথা সচরাচর কোনো বিশ্বনেতা ভাবতেই পারেন না।

    নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতো শীর্ষ নেতারা যোগ দিলেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানের অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন বিশ্বনেতা এই মহাসমাবেশ থেকে দূরে থেকেছেন এবং কী তার কারণ।

    জার্মানি: ফ্রিডরিখ মার্ৎস

    জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দ্বিতীয় বছর দায়িত্ব পালন করা ফ্রিডরিখ মার্ৎস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি বাড়াতে চাইলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তাকে ব্যস্ত রেখেছে।

    সেপ্টেম্বরে জার্মানির তিনটি রাজ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস-এর নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে মার্ৎস বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। বিরোধীদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ ঠেকানোর জন্য তিনি নিজেই দেশে অবস্থান করছেন। তার বদলে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এই অধিবেশনে অংশ নেন।

    ইতালি: জর্জিয়া মেলোনি

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে থাকলেও তিনিও অভ্যন্তরীণ জরুরি কাজ সামলাতে নিউইয়র্কে যাননি। জুলাইয়ের শুরুর দিকে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটেশন অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলন শেষে তিনি দেশে ফেরেন এবং জানান যে ইতালির কিছু পেন্ডিং কাজ ও অভ্যন্তরীণ বিষয় তাকে সামলাতে হবে। তার পরিবর্তে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন এবং ভাষণও দিয়েছেন। Advertisement

    দক্ষিণ আফ্রিকা: সিরিল রামাফোসা

    ভারতের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শে পুরোপুরি বিশ্রামে রয়েছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নেননি। তার পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা যোগদান করেন।

    মিশর: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি

    আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর অন্যতম মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এবার নিউইয়র্কে যাননি। তার পরিবর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি মিশরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

    অবশ্য আল-সিসির কার্যালয় থেকে তার অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ২০২০ সালের পর থেকে তিনি সশরীরে জাতিসংঘের এই অধিবেশনে কখনো যোগ দেননি।

    নাইজেরিয়া: বোলা টিনুভু

    আফ্রিকার আরেক প্রভাবশালী দেশ নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুভুর অনুপস্থিতির কারণ হলো তার অবকাশ যাপন। আগস্টের শেষ দিক থেকে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ছুটি কাটাচ্ছেন। তার দেশ থেকে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেটিমা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

    ভারত: নরেন্দ্র মোদি

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে খুব একটা নিয়মিত নন। এর আগে তিনি শেষবার ২০২১ সালে এই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলেন। এরপর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকে পাঠাচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারও মোদির নাম বক্তার তালিকায় থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা বদলানো হয়।

    চীন: শি জিনপিং

    চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকলেও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না। এর পরিবর্তে তিনি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওয়াশিংটনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন, যেখানে হোয়াইট হাউসের গালা ডিনার ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন তিনি।

    এর মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতির চেয়ে পরাশক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিন

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরই জাতিসংঘের এই আইকনিক মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থাকা এড়িয়ে চলেন। তাই এবারও তার পরিবর্তে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পুতিন নিজেই ডিক্রি জারি করে তাকে পাঠিয়েছেন এবং নিজের অনুপস্থিতির কোনো কারণ জানাননি।

    ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড: মাহমুদ আব্বাস

    ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের অধিবেশনে নিয়মিত মুখ ছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত বছরের মতো এবারও তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি।

    ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ সহজ করার কথা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্যদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।

    বাধ্য হয়ে মাহমুদ আব্বাস গতবারের মতো এবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন।

  • দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ পাঠাবে না বাংলাদেশ

    দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ পাঠাবে না বাংলাদেশ

    আসন্ন দুর্গাপূজায় ভারতে আর ইলিশ পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ। উল্টো চিত্র হিসেবে, এ বছর বাংলাদেশ নিজেই ভারত থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি করেছে।

    সাধারণত প্রতি বছর পূজার ঠিক আগে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেয়। তবে এবার নির্দিষ্ট সেই সময় পার হয়ে যাওয়ায় এবং সব অনুমতি বাতিল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের হাতে আর কোনো সময় নেই। এছাড়া বাংলাদেশের জেলেদের ইলিশ ধরা বন্ধের সময় চলে আসায় এবার ভারতে ইলিশ আসার সেই সুযোগটুকুও আর থাকছে না।

    বাণিজ্যের এই অদ্ভুত উল্টো গতির কারণ হলো, এবার বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। দেশের ভেতরের চাহিদা মেটাতে উল্টো ভারত থেকে মাছ কেনা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের গুজরাট থেকে এই মাছগুলো আনা হয়েছিল, যেগুলোতে প্রচুর ডিম থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেটের ক্রেতাদের কাছে এর দারুণ চাহিদা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকেই বাংলাদেশ সাধারণত ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর পূজার সময় কিছুদিন এই নিয়ম শিথিল করা হতো। এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সেই ধারা বজায় ছিল। কিন্তু এবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর দুর্গাপূজায় ভারতীয়দের পাতে সুস্বাদু পদ্মার ইলিশ পাওয়ার আশা নিরাশায় রূপ নিয়েছে।

  • ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

    ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন।

    দ্য ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বেনামি মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ট্রাম্প এই প্রস্তাবটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার নতুন এই রোডম্যাপটি পেশ করেছিল।

    ইরানের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক সামুদ্রিক চলাচলের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১২ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ শেষ করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল।

    শর্তগুলো পূরণ হলে সপ্তম দিন থেকে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না এবং তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যদিও কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখনো চলছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির মোড় এবার নতুন কোনো সংঘাতের দিকেও গড়াতে পারে। ওয়াল স্ট্রিটের জানায়, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে তিনি আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বোমা হামলা বা সামরিক অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছেন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প অনুকূল নয় এমন শর্তে এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না এবং নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল ও মার্কিন কংগ্রেসের সমীকরণের ওপরই এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

  • ইমরানকে ঘিরে পাকিস্তানে নিরাপত্তা জোরদার

    ইমরানকে ঘিরে পাকিস্তানে নিরাপত্তা জোরদার

    ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের আগামীকালের লংমার্চ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর।

    এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘ইসলামাবাদ অভিমুখে আমাদের লংমার্চ ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে যাত্রা শুরু করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই সংগ্রাম শুধু সংবিধানের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব বা প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ইমরান খান যে “হাকিকি আজাদি”র (প্রাপ্য স্বাধীনতা) কথা বলেছেন, তা অর্জনের জন্য।’

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান

    দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন পিটিআই নেতা-কর্মীরা। এর অংশ হিসেবে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বর এটি হওয়ার কথা ছিল। ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।

    এদিকে পিটিআইয়ের লংমার্চ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে, মহাসড়কগুলোয় ব্যারিকেড দিয়েছে ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটিআইয়ের লংমার্চ সামনে রেখে ইসলামাবাদ অভিমুখী প্রধান মহাসড়ক ও মোটরওয়েগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা চলাচল সীমিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ইসলামাবাদসহ পাঞ্জাবের একাধিক জেলায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি।

    লংমার্চ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে খাইবার পাখতুনখওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, ‘পিটিআইয়ের লোকজন এখন নিজেরাই গ্রেপ্তার হতে চাইছেন।’ তাঁর দাবি, দলের সদস্যরা এখন ‘(দল থেকে) বের হওয়ার পথ খুঁজছেন’।

  • ভারতের ইসি, সরকার ও বিরোধী পক্ষ জল মাপছে

    ভারতের ইসি, সরকার ও বিরোধী পক্ষ জল মাপছে

    বিজেপিবিরোধীরা বুঝতে পারছেন, নির্বাচন কমিশনে কলহ ও জ্ঞানেশ কুমারের ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ তাঁদের হাতে এক মোক্ষম অস্ত্র তুলে দিয়েছে। কিন্তু কীভাবে তা ব্যবহার করা উচিত হবে, সে বিষয়ে সবাই একমত নন। এ পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সবাই। তাঁরা মনে করছেন, সবাই মিলে আলোচনায় বসলে মোকাবিলার পন্থা বেরিয়ে আসবে। আগামী সপ্তাহে, খুব সম্ভবত বুধবারে সেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা।

    বৈঠকের জন্য সবাই তাকিয়ে আছেন কংগ্রেস নেতৃত্বের দিকে। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক দ্রুত ডাকার দাবি জানিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সিপিএম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সব বিরোধী নেতাকে চিঠি লিখেছিলেন। আশ্চর্য কাণ্ড, পত্রপাঠ প্রত্যুত্তর দেওয়া ছাড়াও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীত ভুলে ফোন করেন কেরলমের সিপিএম নেতাকে।

    যে দলের সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তালাপ এতকাল বন্ধ ছিল, বিজেপিকে ঠেকাতে এই সেদিন পর্যন্তও যাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার প্রয়োজন বোধ করেননি, পশ্চিমবঙ্গে চিরকাল যাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, সেই দলকেই তৃণমূল নেত্রী এখন কাছে টানতে ব্যগ্র। মমতা কথা বলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও। প্রধানত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকার জন্য। বেবিকে সে কথা চিঠিতে জানাতেও তিনি ভোলেননি।

    তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমসহ পুরো বামপন্থী জোট—দুই পক্ষই আজ পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলম হাতছাড়া করে সর্বহারা। সর্বগ্রাসী বিজেপির আগ্রাসন রুখতে তাদের কাছাকাছি আসা যতটা সময়ের দাবি, তার চেয়ে বেশি তাদের পারস্পরিক তাগিদ। সংকটকালে হাত ধরাধরি করেই বাঁচতে হয়।

    এ পরিস্থিতিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বিরোধীদের কাছে নতুন এক প্রস্তাব রেখেছে। জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তীব্র বিরোধিতা করা, তাদের ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়েও তাদেরই তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। কেননা, এর মধ্য দিয়ে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের তদারকিতে হওয়া নির্বাচনকেই বৈধতা দিচ্ছে।

    সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে তাই প্রস্তাব করেছেন, এসআইআর, ভোট চুরি, গণতন্ত্র হত্যা ও বিজেপি–ইসির যুগলবন্দীর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে হলে বিরোধীদের ভোট বয়কট করা দরকার। দিপকে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে। দিনদুপুরে ডাকাতি করার মতো নির্লজ্জভাবে বিরোধী দল ও ভোটারদের সঙ্গে তারা প্রতারণা করছে। এ সত্ত্বেও বিরোধীরা যদি সেই ভোটে অংশ নেয়, তা হলে প্রতারণামূলক নির্বাচন একধরনের বৈধতা পেয়ে যায়। ক্রিকেটের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জেনেশুনেও ফিক্সড ম্যাচে অংশগ্রহণের অর্থ তাকে মান্যতা দেওয়া। এ দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া দরকার।

    ককরোচ জনতা পার্টির এ প্রস্তাবকে যুক্তিযুক্ত মনে করলেও বিরোধীদের অনেকেই তা মেনে নিতে পারছে না। ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে এ বিষয়ে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলো মনে করছে, এখনই এ সিদ্ধান্ত নিলে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিজেপি ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে তাদের ইচ্ছা ও আদর্শমতো সংবিধান সংশোধন করে ফেলবে। বিরোধীরাও সংসদকে হাতিয়ার করে লড়ার অধিকার হারাবে। তা ছাড়া মাঠপর্যায়ে যেসব কর্মী বিজেপির মোকাবিলা করে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করে চলেছেন, তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

    তামিলনাড়ুর ডিএমকে কিছুকাল আগেও ইন্ডিয়া জোটের সদস্য ছিল। গত বিধানসভা ভোটের পর কংগ্রেস ও বামপন্থীরা তাদের ছেড়ে টিভিকে–কে সরকার গড়তে সমর্থন দেওয়ায় ডিএমকে ইন্ডিয়া জোট থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। যদিও এখনো তারা বিজেপিবিরোধিতার লাইন ছাড়েনি। এ দলের নেতারা মনে করছেন, সিজেপির নিদান মেনে ভোট বয়কট করলে জনগণের কাছে এমন বার্তা যেতে পারে যে বিরোধীরা বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে। তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে চাইছে না। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে।

    জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে তেলাপোকারা অনড়। সিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই তাঁদের আন্দোলন কর্মসূচি জানিয়ে দিয়েছেন। জ্ঞানেশ ইস্তফা না দিলে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন থেকে তাঁরা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ শুরু করবেন জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস দুই দলই চাইছে বিজেপিবিরোধিতা তীব্র করতে সিজেপি, টিভিকে, আম আদমি পার্টি ও ডিএমকের মতো দলকে কাছে টানতে। মমতা ও এম এ বেবি চাইছেন, সবাই মিলে জোটবদ্ধ হয়ে এই ইস্যুতে বিজেপিবিরোধী আন্দোলন জোরদার করে তুলুক। আগামী সপ্তাহে ইন্ডিয়া জোটের সম্ভাব্য বৈঠকে প্রসঙ্গটি অবশ্যই আলোচিত হবে।

    ইন্ডিয়া শরিকেরা, বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থীরা বিজেপির শরিকদের মনোভাব বোঝারও চেষ্টা করছে। বিজেপির শরিকদের কেউ এখনো প্রবলভাবে জ্ঞানেশ কুমার বা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধাচরণ করেনি। চার শরিক, বিহারের লোকজনশক্তি পার্টি (এলজেপি), অন্ধ্র প্রদেশের টিডিপি, উত্তর প্রদেশের রাষ্ট্রীয় লোক মঞ্চ ও মহারাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া মনে করে, মানুষের মনে যখন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় দেখা দিয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তখন নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রকাশ্যে এসে সব প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেওয়া। সব সংশয় দূর করা।

    এলজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান, সরকারের সবচেয়ে বড় শরিক টিডিপির লোকসভার দলনেতা শ্রীকৃষ্ণ দেভারায়ালু, রাষ্ট্রীয় লোকমঞ্চের উপেন্দ্র কুশাওয়া ও আরপিআইয়ের রামদাস আটওয়ালের এ ধরনের মন্তব্য বিজেপিকে কিঞ্চিৎ চিন্তিত রেখেছে। কমিশনবিরোধী প্রচার এনডিএ শরিকদের কতটা প্রভাবিত করছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত তা বোঝার চেষ্টা করছে। বিজেপি এ–ও দেখছে, শরিক নয় অথচ নানাভাবে সরকারকে সাহায্য করে আসা ওয়াইএসআর কংগ্রেস নেতা জগনমোহন রেড্ডির কণ্ঠেও ভিন্নসুর। জগনমোহন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকার পাশাপাশি এমন বিশ্বাসও জনমানসে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি যে স্বচ্ছতা বজায় রয়েছে। বিজেপিকে তিনি মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিযুক্তির জন্য যে আইন পাস করতে তাঁরা সাহায্য করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন। সেই আইনেই ইসি সদস্যদের মনোনয়নের দায়িত্ব থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় প্রধানমন্ত্রী মনোনীত আরও এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাখার কথা বলা হয়েছিল। কমিটির তৃতীয় সদস্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এ আইনের ফলে সরকারপক্ষ যাঁকে ঠিক করবে, তিনিই সিইসি ও ইসি সদস্য হিসেবে মনোনীত হবেন। বিরোধী নেতা কিছুই করতে পারবেন না।

    জ্ঞানেশ প্রশ্নে শরিক ও সমমনা দলগুলোর মনোভাব শেষ পর্যন্ত কেমন হয়, বিজেপি এখন তা বোঝার চেষ্টা করছে। জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সরকার রাজি নয়। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, জল কতদূর গড়ায়, তা না দেখে কোনো ব্যবস্থা নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, নরেন্দ্র মোদি কখনো হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর সিদ্ধান্তও অনেক ভাবনাচিন্তার পর নেওয়া। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নটি সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানকে নিয়ে। বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা ও জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখেই সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।

  • ইরানি ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান বাগদাদের

    ইরানি ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান বাগদাদের

    ইরানি ফ্লাইটের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকার সুযোগ চাইছে ইরাক। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির কার্যালয় জানিয়েছে, বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি নীতির বিষয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে।

    মার্কিন অর্থ বিভাগের ওই নীতিতে বলা হয়েছে, যেসব বিমানবন্দর ইরানি ফ্লাইট পরিচালনা বা সেগুলোকে সহায়তা করবে, সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ইরাক তার কয়েকটি বিমানবন্দরকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার চেষ্টা করছে।

    শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় উল্লেখ করেছে যে, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো এমনভাবে ছাড় বা অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে চিকিৎসা, পড়াশোনা, ধর্মীয় ভ্রমণ এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মানবিক কারণে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার সুযোগ পাওয়া যায়।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইরাক সরকার যখন এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে, তখন সংকটের ধারাবাহিকতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। তাই তারা সব পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এমন সমাধান খোঁজার আহ্বান জানাচ্ছে, যা বর্তমান সংকট ও সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং এই অঞ্চলের দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

  • ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনড় ইরান

    ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনড় ইরান

    ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসবে না ইরান।দেশটির পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও কাউন্সিলবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালেহ জোকার এ কথা বলেছেন।আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    জোকার বলেন, বিভিন্ন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা ইরানের জনগণের বৈধ ও মৌলিক অধিকার।

    তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে শিল্প, চিকিৎসা, কৃষি ও জ্বালানি উৎপাদনে পারমাণবিক বিজ্ঞানের ব্যবহার অব্যাহত রাখতে চায় দেশটি।

    জোকার বলেন, ‘আমাদের ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন নেই—এমন দাবি ঠিক শত্রুরা যা চায়, সেটিই।’

    ইরানের জনগণের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • মুসলমানদের উস্কে দিচ্ছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র: পেজেশকিয়ান

    মুসলমানদের উস্কে দিচ্ছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র: পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়াচ্ছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানে হামলা চালাতে মুসলিম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করা হয়েছে।

    ইয়েমেন প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং দুই পক্ষের সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে ইরান এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে বলেও জানান তিনি।

    মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এবং নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। তাঁর দাবি, আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়ে ইরানের সরকার দ্রুত পতন ঘটবে—এমন ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বাইরের কোনো ‘পুলিশম্যান’ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।

  • ‘শক্তি নয়, কূটনীতিই হরমুজের সমাধান’

    ‘শক্তি নয়, কূটনীতিই হরমুজের সমাধান’

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয় বরং কূটনৈতিকভাবেই কেবল হরমুজ সংকটের সমাধান সম্ভব। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনই আমাদের পথ রুদ্ধ করেছিল।’

    তিনি আরো বলেন, ইরানের জন্য চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াটা এক ধরনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

    তার মতে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয় বরং আলোচনার মাধ্যমেই হরমুজ প্রণালি সংকটের সমাধান করা সম্ভব।

    ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যদি বিরোধের নিষ্পত্তি হয়, তাহলে বাণিজ্য চলাচলের জন্য এই জলপথটি উন্মুক্ত থাকবে।

  • থাইল্যান্ডে বন্যায় ৫০ জেলা প্লাবিত

    থাইল্যান্ডে বন্যায় ৫০ জেলা প্লাবিত

    টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলায় দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে নগরীতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

    অবিরাম বৃষ্টিতে নগরীর সড়ক ও খালগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। খাল ও সড়কের পাশের বহু বাড়িঘর ও দোকানেও পানি ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ব্যাংককের প্রধান সড়কগুলো পানিতে ডুবে থাকতে এবং পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চলাচল করতে না পেরে রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

    চাদচার্ট বলেন, নগরীর পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার আরো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে পানি দ্রুত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন গভর্নর। নগর কর্তৃপক্ষ দ্রুত বন্যার পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাদচার্ট বলেন, ‘বৃষ্টি থামছে না এবং আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পানি পাম্প করে বের করার চেষ্টা করছি, কিন্তু খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। যারা খালের আশপাশে বসবাস করেন, তারাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। এখন প্রতিটি খালই পানিতে পূর্ণ।’

    নতুন করে বৃষ্টি না হলে পানি পুরোপুরি নেমে যেতে আরো দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    চাদচার্ট বাসিন্দাদের গাড়ি নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    এদিকে দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য থাইল্যান্ডে নিম্নচাপের প্রভাব থাকতে পারে। এর ফলে আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস এবং নদীর পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

  • সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িত ইরান: আইআরজিসি

    সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িত ইরান: আইআরজিসি

    ইরান সর্বাত্মক ও বহুমাত্রিক যুদ্ধে জড়িত বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি বলেন, দেশটি বর্তমানে এমন এক সর্বাত্মক ও সমন্বিত যুদ্ধে জড়িত, যার অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মাত্রা রয়েছে।

    তিনি বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষ জনমত প্রভাবিত করতে এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে গণমাধ্যম ও সাইবার জগতকে ব্যবহার করে থাকে।

    কারামি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তেহরান নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

  • ভারতের বিষাক্ত মদ্যপানে ১৯ জনের মৃত্যু

    ভারতের বিষাক্ত মদ্যপানে ১৯ জনের মৃত্যু

    ভারতের নাগাল্যান্ডে বিষাক্ত মদ্যপানে দুদিনে দুই জেলায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ বেশ কয়েক জন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মোকোকচুং জেলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে, ১১ জনের মারা গেছে তুয়েনসাং জেলায়। এই ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ১৯৮৯ সালে রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ করার আইন আনা হলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় ১৯৯০ সালের এপ্রিল থেকে। তার পরেও কী ভাবে রাজ্যে মদের চোরাচালান হচ্ছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার অনলাইন জানিয়েছে, অভিযান চালিয়ে প্রায় তিনি হাজার মদের বোতল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • আসামে আতঙ্কে মুসলিমরা

    আসামে আতঙ্কে মুসলিমরা

    আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কঠোর সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট প্রধান বদরুদ্দিন আজমল। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর লাগাতার বিভেদমূলক বক্তব্য এবং নীতিগুলোর কারণে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি চরম ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’ ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে বিন্নাকান্দি বিধানসভা আসনে জয়লাভের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজমল এ অভিযোগ করেন।

    এ সময় তিনি আরো বলেন, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার ক্ষেত্রে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক নম্বরে রয়েছেন। তার রাজনীতি এবং একের পর এক বিতর্কিত বিবৃতির কারণে আসামের মুসলিমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

    আজমল দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলেও, তারা রাজ্যের শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষেই রয়েছেন। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও মুসলিম সমাজ সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    এআইইউডিএফ প্রধান তার সংস্থার সামাজিক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, তাদের চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কোনো ধর্মীয় বৈষম্য না করে সবার শিক্ষার জন্য কাজ করে।

    তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আজমল ফাউন্ডেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীরাই নয়, হিন্দু ছেলেমেয়েরাও সমানভাবে পড়াশোনা করে। আমরা সবসময় বৈষম্যহীনভাবে শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে এসেছি।

  • গভীর রাতে দিল্লির মদিনা মসজিদে বুলডোজার

    গভীর রাতে দিল্লির মদিনা মসজিদে বুলডোজার

    গভীর রাতে ভারতের দিল্লির শালিমারবাগ মদিনা মসজিদে বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পৌরসভা।

    ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে এই অভিযান চালানো হয়।

    ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের দিকে যাওয়ার রাস্তার কাছে ভারী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মসজিদের উপরের অংশ এবং সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িতে ভাঙার কাজ চালানো হয়। রাস্তা চওড়া করার প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘দখল’ সরাতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

    তবে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই রাতের আঁধারে ধর্মীয় স্থাপনায় বুলডোজার চালানো হয়েছে।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি মোবিন খান জানান, পৌরসভার নোটিশ পাওয়ার পর আইনজীবীর পরামর্শে প্রয়োজনীয় নথির স্পষ্ট কপি চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নোটিশ দেয়া হয়। শেষ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা ভেঙে ফেলার কথা জানানো হয়। পরে কমিটি আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়।

    মোবিনের দাবি, শুনানিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যুতের মিটার থাকা মসজিদের একটি তলা স্বীকৃত। বাকি অংশকে নতুন নির্মাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ২০০১ সালে তিন তলা নির্মাণের নকশা জমা দেয়। পাশাপাশি দেয়ালের প্লাস্টারের বয়স পরীক্ষারও আবেদন করা হয়। তবে এসব নথি ও বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মসজিদের ইমাম জারিফুর রহমান প্রশ্ন করেন, শালিমারবাগের বহু বাড়ি যদি সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে একই ব্যবস্থায় থাকা বাড়িগুলোর মধ্যে শুধু মসজিদকেই কেন বেআইনি নির্মাণ বলা হচ্ছে?

    অভিযানের খবর পেয়ে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এআইএমআইএমের দিল্লি সভাপতি শোয়েব জামাই। তার দাবি, পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল। মসজিদের ভেতরে কোরআনসহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকায় তিনি দলবল নিয়ে সেগুলো সরিয়ে আনেন।

    শোয়েব জামাই অভিযোগ করেন, মধ্যরাতের এ অভিযান সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিনি ঘটনাটিকে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার ঘটনার সাথে তুলনা করে দিল্লিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না করার আহ্বান জানান।

  • নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে দুই মুসলিম দেশ

    নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে দুই মুসলিম দেশ

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন গণবর্জন ও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ মুসলিম ও আরব রাষ্ট্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করলেও নিজ আসনে বসে তার বক্তব্য শুনেছে দুই মুসলিম দেশ বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

    ইসরাইলের নিজস্ব পর্যালোচনার বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর ৪১ মিনিটের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশসহ অন্তত ৭৭টি দেশের আসন পুরোপুরি ফাঁকা ছিল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী পোডিয়ামে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ওয়াকআউট করে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এছাড়া অনেক দেশের প্রতিনিধিরা পূর্বনির্ধারিতভাবেই ওই অধিবেশনে অংশ না নিয়ে শুরু থেকেই অনুপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিবাদকারী দেশগুলোর তালিকায় ইসরাইলের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিসর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইরানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলো ছিল। তবে গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক আগ্রাসন নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন-মধ্যস্থ আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দল নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে নিজেদের আসন ত্যাগ করেনি; তারা সভাকক্ষে বসেই পুরো বক্তব্য শুনেছে।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে বাইরে লবিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করে। মিসর ও জর্ডান সরাসরি পরিকল্পিত ওয়াকআউট না করলেও তাদের আসনগুলো খালি ছিল। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, সকালের অধিবেশন হওয়ায় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি।

  • সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

    সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

    সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফের চাদর ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট এ সংকট নিচু দ্বীপদেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬ মিলিমিটার বেড়েছে। এক বছরে এটাই এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। বড় ধরনের পদক্ষেপ না নিলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বা তারও বেশি বাড়তে পারে।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মিলিমিটারে মাপা হয়। কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি মাপা হয় লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়া, জনপদ উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যৎ হারানোর মধ্য দিয়ে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা দেশ ও সংস্কৃতিগুলোকে ঢেউয়ের নিচে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। কোটি কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকেও আমরা পানিতে ডুবে যেতে দিতে পারি না।’

    সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলায় নতুন গতি সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে তাদের সহনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জোরদারে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি, সমুদ্রের ঢেউয়ের নিচে কোনো দেশ ধীরে ধীরে বিলীন হতে শুরু করলে কী হবে, সে-সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলোরও সমাধান করা হয়েছে।

    ঘোষণায় বলা হয়েছে, উপকূলরেখা পিছিয়ে গেলেও সামুদ্রিক সীমানা বহাল থাকবে। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর কোনো একটি মৌলিক উপাদান বিলীন হয়ে গেলেই যে রাষ্ট্রের মর্যাদা হারাতে হবে, তা নয়।

    ছোট দ্বীপদেশগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটসের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র বলেন, ‘আমাদের চারপাশের সমুদ্রই যেসব রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে, তাদের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জীবন বদলে দেওয়ার মতো প্রভাব ফেলবে।’

    তিনি বলেন, ছোট দ্বীপদেশগুলো ১৯৮৯ সালের ‘মালে ঘোষণার’ পর থেকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নেও ভূমিকা রেখেছে। তিনি এই ঘোষণাকে ‘একটি সত্যিকারের অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানান।

  • নিউইয়র্কে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে হেনস্তা

    নিউইয়র্কে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে হেনস্তা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে ঘিরে একদল প্রবাসী বাংলাদেশির কটূক্তি ও রাজনৈতিক স্লোগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি সড়কে হেঁটে যাচ্ছেন ববি হাজ্জাজ। এ সময় কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী তাঁর পেছনে হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের কয়েকজনকে প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ‘বাংলাদেশি টেরোরিস্ট’ ও ‘বাটপার’সহ বিভিন্ন কটূক্তিমূলক শব্দ ব্যবহার করতে শোনা যায়।

    একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা ববি হাজ্জাজের পিছু নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রতিমন্ত্রীকে কোনো বাদানুবাদে জড়াতে দেখা যায়নি। তিনি শান্তভাবে সেখান থেকে চলে যান।

    তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির স্থান ও সময় এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে তাঁদের কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

    জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ববি হাজ্জাজ। অধিবেশনের কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন আয়োজিত ‘মাল্টিপ্লাই পসিবিলিটি: এ নিউ এরা ফর এডুকেশন ফাইনান্সিং’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাড়তি অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

    এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ববি হাজ্জাজ।

    সভায় তিনি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেন। শিক্ষাকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

    নিউইয়র্ক সফরে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিষয়েও কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।

    এদিকে, ববি হাজ্জাজকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন সরকারি প্রতিনিধিকে অনুসরণ ও কটূক্তি করার ঘটনাকে অনেকে সমালোচনা করছেন। পাশাপাশি ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

    তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার

    নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী, রাজনীতিকসহ প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। তাঁর নিউইয়র্ক সফর ও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ ঘিরে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যার জন্য তাঁকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দেয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসপ্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে।

    পুলিশের তথ্যের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান (৫০) বলেন, ‘গাজায় যা করা হচ্ছে, তাতে একটি পুরো সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের নামে এবং আমাদের করের অর্থে করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। এসব নৃশংসতার সাফাই গাওয়ার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।’

    সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। নেতানিয়াহুর সামনে এমন একটি নির্বাচন রয়েছে, যেখানে তিনি হেরে যেতে পারেন।

    নেতানিয়াহু সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা ‘ওয়াকআউট’ করেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, নেতানিয়াহু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একাংশ তাঁর উদ্দেশে দুয়ো দিতে শুরু করেন। তবে এ সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রতিনিধিদল দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ নামের একটি ইহুদি অধিকারগোষ্ঠী। তারা ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করে।

    প্রায় ২০০ মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হন। তাঁদের পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। এসব টি-শার্টে লেখা ছিল, ‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দাও’, ‘যুদ্ধ নয়’ ও ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’।

    বিক্ষোভকারীরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পুলিশ লাউডস্পিকারে বিক্ষোভকারীদের চলে যেতে বলে। তখন কয়েকজন ফুটপাতে সরে যান। তবে বিক্ষোভকারীদের একটি দল রাস্তায় বসে থাকে। তারা নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। সাইকেলে করে আসা পুলিশের সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলেন।

    পুলিশের সদস্যরা একে একে বিক্ষোভকারীদের দল থেকে টেনে বের করেন। তাঁদের হাত পেছনে নিয়ে ‘জিপ টাই’ (প্লাস্টিকের বন্ধনী) দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের পুলিশের বাসে তোলা হয়। বাসের বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীরা ‘নেতানিয়াহু জাহান্নামে যাও’ স্লোগান দিতে থাকেন।

  • সিও কি তা-ই মনে করেন?

    সিও কি তা-ই মনে করেন?

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নতুন হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে পূর্বসূরিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্রতিকৃতিসহ নানা কিছু চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে দেখিয়েছেন। এতে স্পষ্ট যে তিনি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্ক দেখাতে চাইছেন।

    প্রশ্ন হলো, চীনের প্রেসিডেন্টও কি একইভাবে ভাবছেন?

    যুক্তরাষ্ট্রে সির রাষ্ট্রীয় সফরকালে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ব্যাপক চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বারবার চীনের প্রেসিডেন্টের বাহুতে হাত রেখেছেন। তিনি সির সঙ্গে তাঁর ‘সত্যিই দারুণ বন্ধুত্বের’ কথাও বলেছেন।

    ট্রাম্পের এসব আচরণে কখনো কখনো সিকেও সাড়া দিতে দেখা যায়।

    হোয়াইট হাউসের কলোনেডে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রতিকৃতি দেখানোর সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ট্রাম্প, তারপর ট্রাম্প—আর এটি অটোমেটিক সিগনিং ডিভাইস।’

    ট্রাম্প এ কথা বলার সময় সিকে দেখান, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছবির জায়গায় স্বয়ংক্রিয় স্বাক্ষরযন্ত্রের একটি ছবি বসানো হয়েছে।

    ট্রাম্পের এক সহযোগীর পোস্ট করা ভিডিও অনুযায়ী, সি হাসলে বিষয়টি জোর দিয়ে বোঝাতে তাঁর বাহুতে হাত রাখেন ট্রাম্প।

    আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ের দেয়ালে সির সঙ্গে আগের একটি বৈঠকের ছবি দেখাচ্ছেন ট্রাম্প।

    ‘উনি কে? আমি তাঁকে চিনতে পারছি না!’—মজা করে বলেন ট্রাম্প। এরপর তিনি আবার সির বাহুতে হাত রাখেন। পরে বলেন, ‘আপনার প্রতি আমাদের অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে।’

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্র, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্র, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

    ‘তিনি গ্রানাইট পছন্দ করেন’

    এর এক দিন আগেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে নিজে সিকে স্বাগত জানান।

    কোনো চীনা নেতাকে স্বাগত জানাতে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিমানবন্দরে গেলেন। তবে গত মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় তাঁকে একই ধরনের সৌজন্য দেখাননি সি।

    সির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা দেখানোর প্রচেষ্টা গতকাল বৃহস্পতিবার আরও এক ধাপ এগোয়। হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে তৈরি বিশাল হেলিকপ্টার অবতরণস্থল দেখাতে সিকে নিয়ে যান ট্রাম্প।

    সবশেষে সিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এর ভেতরেও নিয়ে যান ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল আকাশযানগুলোর একটি এটি।

    এরপর ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান দুজন। ট্রাম্প বরং পাথর নিয়ে কথা বলেন।

    সির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি গ্রানাইট পছন্দ করেন।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি পাথর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। আরও অনেক কিছুর মতো ভালো গ্রানাইটও তিনি পছন্দ করেন।’

  • জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপাল

    জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপাল

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে সহায়তার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলাকালে দেওয়া ভাষণে শাহ বলেন, উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ু ‘ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে’। এর ফলে পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলছে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

    গত মাসের শেষ দিকে নেপাল তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহসংক্রান্ত একটি ধসের ফলে সৃষ্ট সুনামির মতো প্রবল ঢল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

    এ ঘটনায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বিপর্যয়ে নেপালের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে একটি ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ন একত্রিত হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলার মতো প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।

    বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’

    জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে যে বিপুল ব্যয় করতে হবে, তার একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহন করার আহ্বান জানান তিনি।

    বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে আরো তীব্র হয়ে ওঠা একটি সংকটের বিরুদ্ধে নেপাল একা নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে পারবে না।’

    তিনি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। এতে নেপালের পাশাপাশি ভারত ও চীনকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। উদ্যোগটির আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদগুলোর ওপর নজরদারি এবং যৌথভাবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    ৩৬ বছর বয়সি সাবেক র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসেন। দুর্নীতিবিরোধী তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেন।

    তবে সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়ের পর শাহের সরকারের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে জলবায়ু কূটনীতি। ফলে তার সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচির তুলনায় বিষয়টি এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। এই তহবিল থেকে একটি দেশের জন্য সর্বোচ্চ যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া যায়, এটিই তার সীমা। তবে নেপালের প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত সামান্য। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের দুর্যোগে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার।

    ২০২২ সালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর এই তহবিল গঠন করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তহবিলটি প্রথমবারের মতো অর্থ ছাড়ও করতে পারেনি। ফলে নেপালের ক্ষেত্রে তহবিলটি বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরো ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

    নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারের এক বৈঠকে জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

  • নেতানিয়াহুকে বয়কট ৭৭ দেশের

    নেতানিয়াহুকে বয়কট ৭৭ দেশের

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নজিরবিহীন গণবর্জন ও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। তার ৪১ মিনিটের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের আসন ফাঁকা ছিল বলে নিজস্ব পর্যালোচনায় তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইল।

    ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহু পোডিয়ামে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। আবার অনেক দেশের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সেই অধিবেশন বর্জন করে নিজ আসনে অনুপস্থিত ছিলেন।

    এই তালিকায় ইসরাইলের প্রতিবেশী চার দেশ মিসর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইরানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো রয়েছে। ইসরাইলের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, সব অনুপস্থিতি সরাসরি ওয়াকআউট ছিল না; সকালের অধিবেশন হওয়ায় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা যথাসময়ে উপস্থিত হননি। যেমন—মিসর ও জর্ডান পূর্বপরিকল্পিত ওয়াকআউটে সরাসরি অংশ না নিলেও তাদের আসন ফাঁকা ছিল। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে লবিতে দাঁড়িয়ে ভাষণ শুনেছে।

    তবে আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা গাজা যুদ্ধের তীব্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও নিজ আসনে বসেই বক্তব্য শুনেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের চেয়ে খালি হওয়া অধিবেশন কক্ষের দৃশ্যই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেল আবিবের গভীর কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

    নেতানিয়াহুর ভাষণে অনুপস্থিত বা ওয়াকআউট করা ৭৭টি দেশ:

    ১. সুরিনাম

    ২. টুভালু

    ৩. তুর্কমেনিস্তান

    ৪. ইয়েমেন

    ৫. মিসর

    ৬. পানামা

    ৭. সেনেগাল

    ৮. ফিলিস্তিন

    ৯. সুদান

    ১০. তিউনিসিয়া

    ১১. তুরস্ক

    ১২. ভেনেজুয়েলা

    ১৩. অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা

    ১৪. বেলিজ

    ১৫. কঙ্গো

    ১৬. ওমান

    ১৭. কাতার

    ১৮. সৌদি আরব

    ১৯. টোঙ্গা

    ২০. উজবেকিস্তান

    ২১. অ্যাঙ্গোলা

    ২২. বার্বাডোস

    ২৩. কলম্বিয়া

    ২৪. কোমোরোস

    ২৫. ডোমিনিকা

    ২৬. জিবুতি

    ২৭. উত্তর মেসিডোনিয়া

    ২৮. সান মারিনো

    ২৯. দক্ষিণ আফ্রিকা

    ৩০. সোমালিয়া

    ৩১. আলজেরিয়া

    ৩২. বাংলাদেশ

    ৩৩. ব্রুনাই দারুসসালাম

    ৩৪. ব্রাজিল

    ৩৫. চিলি

    ৩৬. গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি)

    ৩৭. লেবানন

    ৩৮. লাইবেরিয়া

    ৩৯. ইরিত্রিয়া

    ৪০. চাদ

    ৪১. মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র

    ৪২. লিবিয়া

    ৪৩. মৌরিতানিয়া

    ৪৪. জর্ডান

    ৪৫. নিকারাগুয়া

    ৪৬. মাদাগাস্কার

    ৪৭. নাইজার

    ৪৮. পেরু

    ৪৯. সেন্ট লুসিয়া

    ৫০. স্লোভেনিয়া

    ৫১. আফগানিস্তান

    ৫২. বাহামা

    ৫৩. বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

    ৫৪. বতসোয়ানা

    ৫৫. উত্তর কোরিয়া

    ৫৬. এসওয়াতিনি

    ৫৭. সিরিয়া

    ৫৮. উগান্ডা

    ৫৯. পাকিস্তান

    ৬০. লেসোথো

    ৬১. বলিভিয়া

    ৬২. স্পেন

    ৬৩. কিউবা

    ৬৪. নিরক্ষীয় গিনি

    ৬৫. ইরান

    ৬৬. কিরগিজস্তান

    ৬৭. ইরাক

    ৬৮. মোজাম্বিক

    ৬৯. মিয়ানমার

    ৭০. আয়ারল্যান্ড

    ৭১. মালদ্বীপ

    ৭২. ইন্দোনেশিয়া

    ৭৩. কুয়েত

    ৭৪. নামিবিয়া

    ৭৫. মালয়েশিয়া

    ৭৬. গায়ানা

    ৭৭. কেনিয়া

  • নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে ২ ইসরাইলি সেনা নিহত

    নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে ২ ইসরাইলি সেনা নিহত

    গাজা উপত্যকায় অভিযান পরিচালনার সময় বিস্ফোরকবাহী একটি ছোট ড্রোন বিধ্বস্ত ও বিস্ফোরিত হয়ে ইসরাইলের দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হয়েছেন।

    নিহত সেনারা হলেন—হার হালুতজ এলাকার বাসিন্দা মাস্টার সার্জেন্ট নাদাভ কালি (২৪) এবং জেরুজালেমের বাসিন্দা মাস্টার সার্জেন্ট ওফেক মোয়ালেম (২৩)।

    তারা উভয়েই জেরুজালেম ব্রিগেডের ৭০০৭ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।

    সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই দুই সেনা গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বাফার জোনের একটি সেনাঘাঁটি থেকে পরিচালনা করছিলেন।

    প্রথম ড্রোনটি তার নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করলেও, দ্বিতীয় ড্রোনটি উড্ডয়নের সময় অজানা কোনো কারণে সেনাঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক মিনিট পর সেনারা ড্রোনটির কাছে গিয়ে সেটি তুলে নেন; ঠিক তখনই সেটি বিস্ফোরিত হয় এবং তারা মারাত্মকভাবে আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

  • অক্টোবরে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা ককরোচ পার্টির

    অক্টোবরে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা ককরোচ পার্টির

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার ককরোচ পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে এ ঘোষণা দেন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি।

    সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘কালকের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সিজেপি আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করবে। তারপর দেশের প্রতিটি শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই গান্ধীজয়ন্তীতে গণতন্ত্র রক্ষা করার শপথ নিন।’

    বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা কারচুপি ও ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    এছাড়া, ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। তিনি দাবি করেন, লোকসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচন—সব ক্ষেত্রেই ভোটচুরি হয়েছে।

  • ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল কলম্বিয়া

    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল কলম্বিয়া

    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে কলম্বিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল।

    কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার পর দেশটির বৈদেশিক জোট ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছেন। গত ৭ আগস্ট বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর কাছ থেকে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন পেয়েছেন।

    ক্ষমতা গ্রহণের আগেই দে লা এসপ্রিয়েলা কিউবা ও নিকারাগুয়ার মতো বামপন্থী কর্তৃত্ববাদী সরকারের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখনো তিনি ওই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি।

    কলম্বিয়ার সরকার বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তটি ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এই অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা’ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কলম্বিয়ার সরকার ইরান সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে তেহরানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে বোগোতা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে কলম্বিয়ার সরকার।

    তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও ইরানের সঙ্গে কনস্যুলার বা নাগরিকসেবা-সংক্রান্ত যোগাযোগ বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়া।

  • সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করছে ভারত

    সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করছে ভারত

    ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আটক করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার কারণে বন্দি ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এসব বন্দির মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ওমর খালিদ ও শারজিল ইমাম।

    ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্র মামলায় খালিদ ও ইমাম প্রায় ছয় বছর ধরে বন্দি রয়েছেন; এখনো তাদের বিচার শুরু হয়নি।

    সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট ব্রিটিশ নাগরিক জগতার সিং জোহালকে ইউএপিএ-সংক্রান্ত মামলায় জামিন দেওয়ার পর কমিশন এ আহ্বান জানায়। জোহালকে ২০১৭ সালে পাঞ্জাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৬-১৭ সালের কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    সংস্থাটির দাবি, জোহালের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তার মামলা ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দমন-পীড়নের বৃহত্তর প্রবণতার উদাহরণ। কমিশন ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশও করেছে।

    তবে ভারত অতীতে ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমান বক্তব্যের বিষয়ে নয়াদিল্লির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

  • ফিলিস্তিনে গণহত্যা লুকাচ্ছেন নেতানিয়াহু: মামদানি

    ফিলিস্তিনে গণহত্যা লুকাচ্ছেন নেতানিয়াহু: মামদানি

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ পুনরাবৃত্তি করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘গণহত্যাকে আড়াল করার’ চেষ্টা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

    বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে মামদানি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এর আগেও বারবার একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

    মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু জাতিসংঘের ভাষণে এমন কিছু ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ পুনরাবৃত্তি করেছেন, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করা। তার দাবি, কোনো বক্তব্যই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি পরিবর্তন করতে পারে না।

    জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু মামদানিরও সমালোচনা করেন। তিনি নিউইয়র্কের মেয়রকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

    নেতানিয়াহু গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, ইসরাইল গণহত্যা করেনি; বরং গণহত্যা ঠেকিয়েছে। তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ইসরাইল সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ ছড়ানোরও অভিযোগ করেন।

    এর পরই মামদানি নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো অভিযোগ বা বাস্তবতা বদলে দেওয়া সম্ভব নয় এবং নেতানিয়াহু এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।

    এদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের শুরুতেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হল থেকে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়। একই সময়ে জাতিসংঘের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও সাবেক ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগে গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা বলা হয়। ইসরাইল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

  • স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অঞ্চলটিতে স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)।

    সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি। তিনি বলেন, সংগঠনের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

    ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। একসময় অঞ্চলটি পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন সিয়াম রাজ্যের সঙ্গে এর রাজনৈতিক সংযুক্তি ঘটে।

    স্থানীয় মালয় মুসলিমদের একটি অংশ ১৯৬০-এর দশক থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০০৪ সালে সেখানে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাই সরকার ও বিআরএনের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে বিভিন্ন সময়ে এ আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত জুলাইয়ে একটি হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর ব্যাংকক শান্তি আলোচনা স্থগিত করে।

    সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিআরএনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি নিকমাতুল্লাহ। তবে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠাই সংগঠনটির লক্ষ্য। এ জন্য ব্যাংককের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি কাঠামোর প্রস্তাবও দিয়েছে বিআরএন।

    সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঁচ থেকে ১০ বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময়ে দক্ষিণাঞ্চল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায় তারা। ওই সময়ে মুসলিমদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক পুলিশ ও আদালত ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এরপর জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণ করবে বলে জানান নিকমাতুল্লাহ।

    থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের সংঘাতে মালয়েশিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় থাইল্যান্ডের এ অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলেও পড়ে। তবে থাই সরকারের অবস্থান হলো, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান সম্ভব। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে কোনো সমাধান গ্রহণযোগ্য নয়।

  • ইসলাম গ্রহণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

    ইসলাম গ্রহণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ১৩টি দেশে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নতুন অনুসারীর অনুপাত যুক্তরাষ্ট্রে।

    গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যারা মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন, তাদের প্রতি পাঁচজনের একজন শৈশবে মুসলিম ছিলেন না। অর্থাৎ দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের ২০ শতাংশ এমন মানুষ, যারা বড় হওয়ার সময় ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী ছিলেন অথবা কোনো ধর্মীয় পরিচয়ে বেড়ে ওঠেননি।এ দিক থেকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১৩টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার ওপরে।
    পিউ রিসার্চ সেন্টারের ‘Around the World, Many People Are Leaving Their Childhood Religions’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণায় ধর্ম পরিবর্তন বলতে একজন ব্যক্তি শৈশবে যে ধর্মীয় পরিচয়ে বড় হয়েছেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যে ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করছেন—এই দুইয়ের পার্থক্যকে বোঝানো হয়েছে। এর অর্থ, ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি গবেষণার মূল মাপকাঠি ছিল না।
    প্রতি পাঁচজনের একজন শৈশবে মুসলিম ছিলেন না
    পিউর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম প্রাপ্তবয়স্কদের ৮০ শতাংশ শৈশব থেকেই মুসলিম হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ শৈশবে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং ৩ শতাংশ কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বড় হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২০ শতাংশ মুসলিম আমেরিকান এমন পরিবার বা পরিবেশ থেকে এসেছেন, যেখানে ইসলাম তাদের শৈশবের ধর্ম ছিল না।

    অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ খ্রিস্টান পটভূমির।পিউর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ১৩ শতাংশ শৈশবে খ্রিস্টান হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। বাকি ৪ শতাংশের মধ্যে অন্য ধর্মীয় পটভূমির মানুষ এবং ৩ শতাংশ এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যারা কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বেড়ে উঠেছিলেন।

    এ পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও পরিচয় পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। দেশটিতে ইসলাম এখনো মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশের ধর্মীয় পরিচয়। ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মান্তরিতদের অনুপাত তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য হলেও, এর অর্থ এই নয় যে দেশটির মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে।

    ১৩ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের হার সর্বোচ্চ
    পিউ রিসার্চ সেন্টার বিশ্বের ৩৬টি দেশে ধর্মীয় পরিবর্তন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেও মুসলিমদের ধর্মীয় পরিবর্তন বিশ্লেষণের জন্য পর্যাপ্ত নমুনা পাওয়া গেছে ১৩টি দেশে। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই ইসলাম ধর্মে প্রবেশের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

    গবেষণায় ‘অ্যাকসেশন’ বা প্রবেশের হার বলতে বর্তমানে কোনো ধর্মের অনুসারী ব্যক্তিদের মধ্যে কত শতাংশ শৈশবে সেই ধর্মের অনুসারী ছিলেন না, তা বোঝানো হয়েছে। এই মাপকাঠিতে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের অ্যাকসেশন হার ২০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কেনিয়ায় এই হার ১১ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে শৈশবে ইসলাম পালন না করা মানুষের অনুপাত কেনিয়ার তুলনায়ও প্রায় দ্বিগুণ।

    তবে এই তুলনাকে দেশের মোট জনসংখ্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। উদাহরণ হিসেবে, কেনিয়ায় মোট প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১১ শতাংশ মুসলিম হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এই হার প্রায় ১ শতাংশ। তাই যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের অনুপাত বেশি হলেও দেশটির মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমদের অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট।

    অধিকাংশ ধর্মান্তরিতের খ্রিস্টান পটভূমি
    যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণকারীদের বড় অংশ খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে উঠেছেন- এ তথ্য নতুন নয়। পিউর আগের গবেষণাগুলোতেও মার্কিন মুসলিমদের ধর্মীয় পটভূমিতে বৈচিত্র্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, ইসলাম গ্রহণকারী মার্কিন মুসলিমদের বড় অংশ শৈশবে খ্রিস্টান ছিলেন। বিশেষ করে প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক পটভূমি থেকে আসা মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে ইসলাম গ্রহণের ঘটনাও সম্পর্কিত।
    পিউর ২০২৫ সালের বৃহত্তর ধর্মীয় পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে শৈশবের ধর্মীয় পরিচয় থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে পরিবর্তন একটি ব্যাপক সামাজিক প্রবণতা। দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের ২০.২ শতাংশ শৈশবে কোনো ধর্মের অনুসারী থাকলেও বর্তমানে নিজেদের ধর্মীয়ভাবে অননুষঙ্গী হিসেবে পরিচয় দেন। বিপরীতে শৈশবে কোনো ধর্মীয় পরিচয় না থাকা মানুষের মধ্যে ৩.৫ শতাংশ বর্তমানে কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন শুধু ইসলাম গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ধর্ম থেকে বেরিয়ে যাওয়া, নতুন ধর্ম গ্রহণ এবং কোনো ধর্মীয় পরিচয় না নেওয়া- সব মিলিয়ে দেশটির ধর্মীয় মানচিত্রে পরিবর্তন ঘটছে।

    ইসলাম ছাড়ার প্রবণতাও আছে
    পিউর গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের পাশাপাশি ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। দেশটিতে শৈশবে মুসলিম হিসেবে বেড়ে ওঠা মানুষের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও মুসলিম পরিচয় ধরে রেখেছেন। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১৩টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখার হার সবচেয়ে কম।

    শৈশবে মুসলিম হিসেবে বেড়ে ওঠা মার্কিনদের একটি অংশ পরবর্তীতে কোনো ধর্মীয় পরিচয় না নেওয়ার দিকে গেছেন। আবার একটি ছোট অংশ খ্রিস্টান পরিচয় গ্রহণ করেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিবর্তন দুই দিকেই ঘটছে।

    গবেষকরা ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনকে মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন। তাই শুধু কোনো একটি কারণকে ইসলাম গ্রহণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি পিউ রিসার্চ সেন্টার।

    প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রবাহের প্রসঙ্গ
    ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সহজলভ্য তথ্য মানুষের ধর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ অনেক বাড়িয়েছে- এটি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পিউর এই গবেষণা সরাসরি প্রযুক্তি বা তথ্যপ্রবাহকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের কারণ হিসেবে প্রমাণ করেনি।
    গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষ শৈশবে কোন ধর্মীয় পরিচয়ে বেড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে কোন পরিচয় ধারণ করছে- তার তুলনা করা। ফলে ইসলাম গ্রহণের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো বিষয়কে গবেষণার সরাসরি ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।
    যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় মানচিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
    পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয় স্থির কোনো বিষয় নয়। দেশটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ জীবনের কোনো পর্যায়ে শৈশবের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করছেন। এর মধ্যে কেউ ধর্মীয় পরিচয় ছেড়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ নতুন ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
    ইসলামের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের ১৩টি দেশে পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে শৈশবে ইসলাম পালন না করা মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ অন্য ধর্ম বা কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়া বেড়ে উঠে পরে মুসলিম হয়েছেন।

    তবে এই তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন- এমন হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা জীবনকালের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে; এটি কোনো নির্দিষ্ট বছরে কতজন আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তার হিসাব দেয় না।
    সব মিলিয়ে গবেষণার ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জন্মসূত্রে মুসলিম নন। শৈশবে অন্য ধর্ম বা কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়া বেড়ে ওঠা মানুষের একটি অংশ পরবর্তী জীবনে মুসলিম পরিচয় গ্রহণ করেছেন। এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত পরিবর্তনশীল ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

  • মক্কায় সতর্কতা জারি সৌদির

    মক্কায় সতর্কতা জারি সৌদির

    সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স অর্গানাইজেশন মক্কা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক, জেদ্দা, ইয়ানবুসহ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় তায়েফ অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

    তবে এর কিছুক্ষণ পরেই সংস্থাটি ঘোষণা করে, ওই এলাকার বিপদ কেটে গেছে এবং সতর্কতা বাতিল করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থিত বাহিনীগুলোর সাথে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

    একইসাথে সৌদি আরবের বিভিন্ন অংশ হাউছিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

  • শি’র জন্য লালগালিচা পরিষ্কারে মার্কিন সেনারা

    শি’র জন্য লালগালিচা পরিষ্কারে মার্কিন সেনারা

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতেই মার্কিন সামরিক সদস্যদের লালগালিচা ঠিক করার একটি ১২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টম্বর) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান শি।

    তার সঙ্গে ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান হং লেইসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই সফরের মূল লক্ষ্য।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি’র বিমান যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণের পরের দৃশ্য ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মার্কিন সামরিক সদস্য হাত ও হাঁটুর ওপর ভর করে প্রায় ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) দীর্ঘ লালগালিচা দ্রুত ঠিক করছেন। শি বিমান থেকে নামার আগে তারা কার্পেটের ভাঁজ সমান ও ময়লা পরিষ্কার করছিলেন।

    সে সময় বিমানের দরজায় দাঁড়িয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও প্রটোকল প্রধান হং লেইসহ কয়েকজন চীনা কর্মকর্তাকে পুরো দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।

    ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মার্কিন সামরিক সদস্যদের এ কাজে ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে ‘ভীষণ লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিল ম্যাডেন নামে এক ব্যক্তি লিখেন, ‘ট্রাম্প যে আমেরিকা ও নিজেকে আরও অপমান করতে পারবেন না- এমনটা ভাবার পরই তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হাত-পায়ে ভর দিয়ে লালগালিচা পরিষ্কার করতে পাঠালেন, যাতে শির জুতায় ধুলা না লাগে।’

    এ ছাড়া কেন্টাকির সাবেক মেরিন ফাইটার পাইলট ও ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিক অ্যামি ম্যাকগ্রাথ বলেন, মার্কিন সেনারা ‘কোনো কর্তৃত্ববাদী নেতার অহং তুষ্টির প্রদর্শনীর সাজসরঞ্জাম’ হওয়ার জন্য শপথ নেননি।

  • আফগানিস্তানের ১০যায়গায় বিমান হামলা

    আফগানিস্তানের ১০যায়গায় বিমান হামলা

    পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান হামলায় চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আজ বৃহস্পতিবার এ খবর জানান। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    ইসলামাবাদের দাবি, এসব জায়গা ড্রোন উড্ডয়ন ও সংরক্ষণে ব্যবহার করা হতো। এ বিষয়ে তারার বলেন, এসব ড্রোনের কয়েকটি আগের দিন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল।

    প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই হামলার খবর জানা গেল। সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে জড়ায় ইসলামাবাদ ও কাবুল।

    ইসলামাবাদের অভিযোগ, সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশটির তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

    তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিরোধিতা করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তারা আশ্রয় দেয় না। সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারার বলেন, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার আফগানিস্তান থেকে উড়ে আসা ড্রোন শনাক্ত করে। এসব ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়।

    এরপর পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ১০টি জায়গায় ‘নির্ভুল’ বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা চালানো হয়েছে ড্রোন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও চিহ্নিত সামরিক স্থাপনায়। তবে কেউ হতাহত হননি বলে জানান তারার।

    পাকিস্তানের মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তালেবান সরকার ভবিষ্যতে এমন কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালে পাকিস্তান দৃঢ় ও কঠোর জবাব দেবে।’

  • যুদ্ধের চাপে মার্কিন নৌ-সেনাদের আত্মহত্যার চেষ্টা

    যুদ্ধের চাপে মার্কিন নৌ-সেনাদের আত্মহত্যার চেষ্টা

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আট সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাওয়ের একটি চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    স্থানীয় সময় বুধবার প্রকাশিত ওই চিঠিটি পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। চিঠিতে সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের প্রশ্নের জবাবে কাও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।

    চিঠিতে কাও লিখেছেন, লিংকনের সামরিক অভিযানের শুরু থেকে পুরো স্ট্রাইক গ্রুপে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। তবে এই সময়ে কোনো নৌসদস্য আত্মহত্যা করেননি।

    তিনি জানান, এই সংখ্যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পাশাপাশি ক্যারিয়ার এয়ার উইং, স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের সদস্য, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং সব বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরা রয়েছেন।

    লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের অধীনে প্রায় ছয়টি জাহাজে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার মার্কিন নৌসদস্য মোতায়েন ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বিমানবাহী রণতরীটি ছয় মাসেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে অবস্থান করে।

    এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা অত্যন্ত বেশি।’

    তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য মোতায়েনে বছরে সাধারণত এক বা দুটি এমন ঘটনা ঘটেছে।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্বাভাবিক সামরিক অভিযানের তুলনায় যুদ্ধকালীন কার্যক্রমের চাপ অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থামা, সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকা এবং টানা সামরিক অভিযান চালানোর কারণে নৌসদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করার পর গত ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে ভেড়ে।

  • পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    প্রায় আট মাস ধরে খালি থাকা সাংবিধানিক পদ পূরণের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    মুজাফফরাবাদে বিধানসভার সচিবালয়ে স্থানীয় সময় সকাল থেকে এই ভোটগ্রহণ চলছে। আঞ্চলিক নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার ২৭টি ভোট পেয়ে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

    ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সমর্থিত প্রার্থী নজীব নাকি খান এই নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে জোরালোভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সুধানোতি জেলার একজন সাবেক মন্ত্রী ও একাধিকবার বিজয়ী আইনপ্রণেতা।

    অন্যদিকে, বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিধানসভার সাবেক স্পিকার চৌধুরী লতিফ আকবর।

    আইন অনুযায়ী বিধানসভার কোনো সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে না পারলেও, ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই বিধানসভায় পিএমএল-এন এবং তাদের মিত্রদের হাতে পর্যাপ্ত আসন থাকায় তাদের প্রার্থীর জয় একরকম নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই পদটি ফাঁকা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ ও সরকারের সময়ক্ষেপণের কারণে তা এতদিন করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের অনুকূলে পরিস্থিতি নেওয়ার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্বাচনে এত দীর্ঘ বিলম্ব করেছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে পুনচ ও সুধানোতি জেলার সাতটি আসনে এখনো ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ওই আসনগুলোতে এখনো ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি।

    সমালোচকদের মতে, ওই এলাকার মানুষদের ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা একধরনের অন্যায় হলেও, আইনি জটিলতা না থাকায় এই আংশিক বিধানসভা নিয়েই আজকের নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে।

  • ফিলিস্তিনিদের আরও ১৩ মিলিয়ন ডলার দেবে নরওয়ে

    ফিলিস্তিনিদের আরও ১৩ মিলিয়ন ডলার দেবে নরওয়ে

    ফিলিস্তিনিদের জন্য অতিরিক্ত ১৩ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই অর্থ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি সরকারি খাতের বাজেট সহায়তাও রয়েছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্ত এইডে এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

    তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনেরও সমালোচনা করেন। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এসব বসতি অবৈধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ২০২৪ সালে নরওয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। দেশটি বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলোর সমন্বয়কারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছে।

  • নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, সব প্রধান সড়ক বন্ধ

    নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, সব প্রধান সড়ক বন্ধ

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত পদযাত্রা সামনে রেখে রাজধানী ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং বিভিন্ন স্থানে কনটেইনার বসানো হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সাধারণ মানুষকে ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব সড়ক কত দিন বন্ধ থাকবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মার্চের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির দাবি, কারাগারে থাকা ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে। ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দল তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক সাজা পরবর্তী সময়ে স্থগিত বা আপিলে বাতিল হয়েছে; একটি সাজা এখনো বহাল রয়েছে।

    পদযাত্রা ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে প্রায় ২ হাজার শিপিং কনটেইনার রাখা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেতুতেও কনটেইনার ও বালুর বস্তা রাখা হয়েছে। শুধু অ্যাটক জেলাতেই প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকার পিটিআইকে কর্মসূচি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি পিটিআইকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন কর্মসূচির মাধ্যমে কোনো ফল পাওয়া যাবে না এবং দলটির এখনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সময় আছে। অন্যদিকে পিটিআই বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

    পদযাত্রার আগে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করেছে। আল জাজিরার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে আটক করার পর তার আরও দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকেও আটক করা হয়। তাদের আটকাদেশে জননিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের সমস্যার কথা উল্লেখ করে পিটিআই তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। তবে পরে তাকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সরকার বলেছে, চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করেছিলেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতাল পরিবর্তন করা হয়েছিল। পিটিআই এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে শুধু সড়ক ও নিরাপত্তাব্যবস্থাই নয়, ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকেও সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। অতিরিক্ত বেড, রক্ত ও জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানি ঘটবে—এমন নিশ্চয়তা দেয় না।

    ইসলামাবাদে প্রবেশের প্রধান সড়ক বন্ধ, হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কনটেইনার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ আটকে দেওয়া এবং পিটিআইয়ের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা—সব মিলিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরের মার্চকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কর্মসূচির দিন সরকার ও পিটিআই উভয় পক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলেছে ঢাকা।

    বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকের পর একই দিন নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী ও পেশাজীবীর নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক ও পেশাজীবী রয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়তে পারে।

    হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে আটকে থাকা বাংলাদেশি কনটেইনার ও জাহাজের বিষয়টিও বৈঠকে তোলা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব জাহাজ ও কনটেইনার যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিকভাবে দ্রুত এই সংঘাতের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।’

    ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো নোট করেছেন বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশ সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘সফট-মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা সম্পন্ন দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অংশীদারের কেউ কেউ সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগানোর উৎসাহ দিয়েছে।

    তবে বাংলাদেশ সরাসরি দৃশ্যমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে, এমনটি অপরিহার্য নয় বলে জানান তিনি। তার মতে, এ অঞ্চলের বন্ধু হিসেবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারে বাংলাদেশ।

    জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে বাংলাদেশের জন্য একটি নিরপেক্ষ কূটনৈতিক পরিসর হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘দ্য ইউএন ইজ আ নিউট্রাল ভেন্যু’—জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ স্থান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও ছিল।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।