আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া

    সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া

    আগামী বছর থেকে রাশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপকভাবে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো এবং কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাশিয়ার খসড়া বাজেটের নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। মস্কো প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভে বিমান হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনুমোদনের জন্য খসড়া বাজেটটি জমা দেওয়া হয়েছে।

    খসড়া বাজেট অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়া রেকর্ড ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ২০৪ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।

    ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিরক্ষা ব্যয় কমার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পূর্বাভাস একাধিকবার ছাড়িয়ে গেছে।

    ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র বলেন, প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়তে পারে, কারণ এ খাতের প্রকৃত ব্যয়ের বড় অংশ গোপন রাখা হয়।

    তার মতে, প্রকাশিত অঙ্কগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে বাজেট নিয়ে আলোচনার কেবল প্রাথমিক প্রস্তাব।

    গত সপ্তাহে খসড়া বাজেট প্রকাশের সময় রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সামাজিক কল্যাণ ও প্রতিরক্ষা দুই খাতকেই ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তবে বাজেটের নথিতে সামরিক খাতের বাইরে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ২০২৭ সালের জন্য মূল পরিকল্পনার তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি করে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সামাজিক কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমতে পারে ৬ শতাংশের বেশি।

    বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে সরকার কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক আমানত ও সম্পত্তি বিক্রির ওপর করের হার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বাড়ছে ঋণ

    ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বাজেটে প্রতি বছরই ঘাটতি হয়েছে। ২০২৭ সালে বাজেট ঘাটতি প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুবল বা ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুবল ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, নতুন হিসাব তার তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি।

  • লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রভাব বেশি

    লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রভাব বেশি

    লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত ১৭টি লাতিন আমেরিকান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    চলতি ২০২৬ সালের লাতিনোব্যারোমেট্রো জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।

    জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৫৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন। ২০২০ সালে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক বলে মনে করেছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ।

    লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে শুধু কোস্টারিকা ও ডমিনিকান রিপাবলিকে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরের দুই দশকে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ‘প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি’ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

    লাতিনোব্যারোমেট্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস এএফপিকে বলেন, ওই সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

    তার মতে, কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিয়ে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে।

    লাগোস বলেন, চীন যে শূন্যস্থান পূরণ করেছে, সেটি মূলত মানুষের পকেটের শূন্যস্থান—অর্থাৎ কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ।

    তবে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের তুলনায় বেশি জনপ্রিয়। জরিপে ৬৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।

    তবে ২০২৪ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সে বছর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে থাকাকালে ৭৩ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছিলেন।

    প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নামটি ট্রাম্পের প্রথম নাম ‘ডোনাল্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নাম মিলিয়ে তৈরি। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটন যে অঞ্চলকে ‘আমাদের গোলার্ধ’ বলে উল্লেখ করে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর এই প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

    জরিপে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ছাড়া লাতিন আমেরিকার সব দেশেই বেশিরভাগ মানুষ মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করেছেন।

    তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা ভেনেজুয়েলার জন্য উপকারী হয়েছে। বিপরীতে ২৮ শতাংশ বলেছেন, এতে দেশটির ক্ষতি হয়েছে।

    তবে ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছেন।

    চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোব্যারোমেট্রো গণতন্ত্র, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মতামত নিয়ে জরিপ করে।

    চলতি ২০২৬ সালের এই জরিপে ১৭টি দেশে ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ২০০ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। জরিপটির ভুলের সম্ভাব্য সীমা ১ শতাংশ।

  • বিএসএফের হত্যা ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

    বিএসএফের হত্যা ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)–এর গুলিতে দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার বেদিয়ান সেক্টরে সীমান্তের কাছে গুলিতে আজমত রাসুল শাহ ও মোহসিন জাট্ট নিহত এবং আরও একজন আহত হন। পাকিস্তানের দাবি, নিহত ও আহতরা নিরস্ত্র ছিলেন এবং সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করলেও তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

    ঘটনাটিকে ‘উস্কানিবিহীন প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান এর স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্তসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

    পাকিস্তান আরও জানিয়েছে, নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করছে।

  • গোল্ডেন ভিসায় কেন কঠোর হচ্ছে দেশগুলো?

    গোল্ডেন ভিসায় কেন কঠোর হচ্ছে দেশগুলো?

    অন্য দেশে গিয়ে বসবাসের সুযোগ পেতে অনেক সময় চাকরি বা পড়াশোনার প্রয়োজন হয়। তবে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেও কোনো কোনো দেশে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থাই ‘গোল্ডেন ভিসা’ নামে পরিচিত। আবার কিছু দেশে বিনিয়োগের বিনিময়ে সরাসরি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

    ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ কোনো না কোনোভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি বা নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে। ধনী ও সচ্ছল মানুষের বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ থেকেই মূলত এই বিনিয়োগ-ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার বিস্তার ঘটেছে।

    কেন মানুষ গোল্ডেন ভিসা নেয়

    বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকা, সন্তানদের ভালো শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, ব্যবসার সুযোগ কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে দূরে থাকার জন্য অনেকে এসব কর্মসূচির দিকে ঝোঁকেন। কেউ কেউ করব্যবস্থা বা জীবনযাত্রার সুবিধার কারণেও অন্য দেশে বসবাসের সুযোগ খোঁজেন।

    বিশেষ করে চীনের ধনী নাগরিকদের মধ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ্রহ বেশি। তবে শুধু চীন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাই এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বিতর্ক কেন

    গোল্ডেন ভিসা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, শুধু অর্থের বিনিময়ে একজন বিদেশিকে কোনো দেশে বসবাসের সুযোগ দেওয়া কতটা নিরাপদ ও ন্যায্য? ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছে, এসব কর্মসূচি অর্থ পাচার, কর ফাঁকি বা অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    ২০১৮ সালে গ্রিসে চীনা বিনিয়োগকারীদের ঘিরে একটি প্রতারণার ঘটনা আলোচনায় আসে। অভিযোগ ছিল, দেশটির কিছু আবাসন ব্যবসায়ী বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    ইউরোপে কঠোর হচ্ছে নিয়ম

    এসব উদ্বেগের কারণে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য দেশগুলোর গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি বন্ধ করা এবং গোল্ডেন ভিসায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দিকে এগোয়। এর ফলে ইউরোপে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে।

    গ্রিস অবশ্য গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি চালু রেখেছে। ২০২৩ সালে দেশটির জনপ্রিয় কিছু এলাকায় সম্পত্তিতে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ইউরো করা হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

    স্পেনসহ কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্ত

    স্পেনও গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হতো। এসব কর্মসূচিতে রাশিয়া ও চীনের ধনীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

    বিনিয়োগের বড় অংশ আবাসন খাতে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে বাড়ির দাম ও ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও এ ধরনের কর্মসূচি বাতিল করেছে।

    সব মিলিয়ে বিনিয়োগের বিনিময়ে অভিবাসনের সুযোগ ধীরে ধীরে কমছে। অর্থনৈতিকভাবে এসব কর্মসূচি সরকারের জন্য লাভজনক হলেও অর্থ পাচার, আবাসন সংকট ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অনেক দেশ এখন সুবিধা-অসুবিধা নতুন করে বিবেচনা করছে।

  • চীন পানির নিচে চালাল একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন!

    চীন পানির নিচে চালাল একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন!

    পানির নিচে একসঙ্গে ছুটল ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন—আর তাতেই বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন। সুইমিং পুলে চালানো এক পরীক্ষায় কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শতাধিক ড্রোনকে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। প্রযুক্তিটির এই সাফল্য পানির নিচে বৃহৎ পরিসরে মানবহীন যান পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।

    উত্তর-পশ্চিম পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ উদ্যোগে এ পরীক্ষা চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি সেপ্টেম্বরের শেষে এক বিবৃতিতে জানায়, পরীক্ষায় ‘টিএইচ-৬১৮’ নামের ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান বা ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

    গত ২৯ আগস্ট ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রশস্ত একটি সুইমিং পুলে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পরীক্ষাটি পরে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে রেকর্ড হিসেবে অনুমোদিত ও প্রকাশ করা হয়।

    পরীক্ষায় ড্রোনগুলো ধারাবাহিকভাবে পানিতে নামানো হয়। কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তারা ৩৪ মিনিট ধরে ৫০০ মিটার পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে। এ সময় ড্রোনগুলো বাস্তব সময়ের তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের গতিপথ ঠিক রাখে।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, একই পরিবেশে কয়েক ডজন, এমনকি শত শত পানির নিচের যানকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও স্থিতিশীলভাবে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা পানির নিচের বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

    চীন স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে স্বয়ংক্রিয় যান এবং ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তিতে চালক বা মানবনির্ভর প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে মানবহীন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় এসব প্রযুক্তির গুরুত্বও বাড়ছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত টিএইচ-৬১৮ ড্রোনগুলোর দৈর্ঘ্য ৬১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার। প্রতিটির ওজন ৫ দশমিক ১৪ কেজি। এগুলোর সর্বোচ্চ পাল্লা ৩০ কিলোমিটার এবং একটানা আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।

    ড্রোনগুলো চলাচলের জন্য মোবাইল ফোনভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। নির্ধারিত পথে কোনো বাধা বা পরিবর্তন দেখা দিলে সেগুলো নিজে থেকেই গতিপথ সংশোধন করতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, পানির নিচে চলাচলে বাস্তব সময়ে যোগাযোগের জটিলতা ও পরিবেশগত নানা বাধা রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে পানির নিচে লক্ষ্য শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ, শব্দতরঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ ও দৃশ্যগত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার ফলে এ রেকর্ড অর্জন সম্ভব হয়েছে।

    ড্রোন সরবরাহকারী শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিস জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান এখন সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি ও তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনসহ গবেষণা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

  • ‘এটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে’

    ‘এটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে’

    গাজায় একটি ভবন দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের প্রশ্ন, তীব্র সমালোচনা ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হারমান সিং কাপুর সম্প্রতি গাজার ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উপহাস করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। যেখানে কাপুর একটি ফোন উঁচিয়ে ধরে আছেন যাতে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত একটি কাঠামোর আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এখন আমি বিবি (নেতানিয়াহু) এবং ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সকে জিজ্ঞেস করছি… গাজায় এই ভবনটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে?” ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি যখন জানতে চান তিনি কোন ভবনটির কথা বলছেন, তখন কাপুর সেটির দিকে আঙুল দেখিয়ে উত্তর দেন, এই ভবনটি। ধারণকারী মন্তব্য করেন যে মনে হচ্ছে ওটাই একমাত্র টিকে থাকা ভবন; জবাবে কাপুর বলেন, “হ্যাঁ, কেন?

    ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে কাপুরের এমন মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন । ব্যবহারকারীরা এও উল্লেখ করেন যে, তার এই মন্তব্য বৃহত্তর শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।

    এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর আরেকটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই পোস্টে কাপুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আরেকটি আকাশ-চিত্র শেয়ার করেন, যেখানে একটি অংশ লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত ছিল। তিনি লেখেন: “কুলাঙ্গার ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের মতে, ভবন ধ্বংস করাকেই নাকি গণহত্যা বলা হয়।”

    পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত ভাষা ও উপস্থাপনার বিপরীতে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে।

    এরই মধ্যে, গুগল ম্যাপসের হালনাগাদ স্যাটেলাইট চিত্রে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাফাহ, খান ইউনিস এবং গাজা সিটি—সব জায়গাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান; একসময়ের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছে এবং অনেক ভবনই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাফাহর তাল আল-সুলতানের ‘সৌদি নেইবারহুড’ এলাকায় শত শত ইউনিটের একটি আবাসন প্রকল্প প্রায় পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে বলে মনে হচ্ছে, আর ‘সুইডিশ ভিলেজ’ এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

  • নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিচ্ছেন না ট্রাম্প

    নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিচ্ছেন না ট্রাম্প

    আসন্ন নির্বাচনের আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পরবর্তী মেয়াদের জন্য সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘদিনের এই মিত্রকে সরাসরি সমর্থন করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে কি আরেকটি মেয়াদ দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে আমি এখন আর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই, তবে আমরা সেখানে বেশ জনপ্রিয়—।

    এ বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আমার মূল লক্ষ্য হলো—আমি ইসরাইলের সুরক্ষায় তাদের সহায়তা করতে চাই। সোমবার নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি সমর্থন জানানোর বিষয়টি এড়িয়ে যান।

    এর পরিবর্তে ট্রাম্প ইসরাইলি জনগণের কাছে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন এবং দাবি করেন যে, অতীতের বিভিন্ন নীতির কারণে সেখানে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ-এর মতো।

    বিরোধী প্রার্থী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাডি আইজেনকোটের সঙ্গে ওয়াশিংটন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি আইজেনকোট সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনেননি, তবে নেতানিয়াহুকে পুরোপুরি বাতিল বা গুরুত্বহীন মনে না করার বিষয়ে সতর্ক করেন।

    ট্রাম্প বলেন, মানুষ বহুবার বিবিকে (নেতানিয়াহু) হিসাবের বাইরে ফেলে দিয়েছে, ঠিক যেমন আমাকেও বহুবার হিসাবের বাইরে ফেলে দিয়েছিল। আমি বিবিকে খাটো করে দেখব না।

    ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং লেবানন ও গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপড়েন বেড়েছে বলে ধারণা করা হয়।

  • নোবেল প্রাইজ: ট্রাম্প-কাণ্ডে সতর্ক বিচারকরা, শান্তিতে যারা আলোচনায়

    নোবেল প্রাইজ: ট্রাম্প-কাণ্ডে সতর্ক বিচারকরা, শান্তিতে যারা আলোচনায়

    নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গত বছর জোর প্রচার চালিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জেরে চলতি বছর বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নোবেল কমিটি। আগামী সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করার কথা।

    গত বছর ট্রাম্প না পেলেও তাঁকে পুরস্কারের মেডেলটি উপহার দেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের প্রকাশ্য দাবির মুখে চাপে পড়েছিল পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি। এ বছরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জুরি বোর্ডের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছেন।

    নোবেল কমিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এখানে সবসময়ই প্রচুর তদবির বা লবিং থাকে। এমনকি শেষ পর্যন্ত হয়তো কমিটির ওপর চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করা হয়। তাই একদিক থেকে আমরা এসব বিষয়ে বেশ অভ্যস্ত।’

    শান্তিতে যারা আলোচনায়
    শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী ৯ অক্টোবর। মনোনীতদের তালিকা ও জুরি বোর্ডের আলোচনার বিষয়বস্তু নোবেল কর্তৃপক্ষ ৫০ বছর ধরে গোপন রাখে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্প-কাণ্ডের পর নোবেল কমিটি এবার হয়তো এমন কাউকে বেছে নেবে, যার ব্যাপারে সবার সম্মতি আছে।

    অসলো পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো এএফপিকে বলেন, গত বছরের ঘটনার জেরে এবার তারা পরিস্থিতিকে কম বিতর্কিত রাখার উপায় খুঁজছেন।

    জেরলোর পছন্দের তালিকায় আছেন সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউক্রেনের শিশু অধিকার কর্মী মাইকোলা কুলেবা। অধিকৃত অঞ্চল থেকে বেআইনিভাবে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন কুলেবা। জেরলোর ধারণা, এই সংস্থা ও কুলেবাকে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।

    এই বিকল্পটি বেছে নিলে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প খুশি হতে পারেন। কারণ, ইউক্রেনীয় শিশুদের মুক্তির আবেদন জানিয়ে গত বছর তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

    জেরলোর সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকায় আরও আছে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস (ইআরআর)। এটি মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। যুদ্ধ ও ক্ষুধার হুমকির মুখে পড়া মানুষদের সাহায্য করতে তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।

    এছাড়া, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসও (সিপিজে) আলোচনায় আছে। সাংবাদিকদের জন্য গত বছরের সময়গুলো বেশ খারাপ ছিল। জেরলোর পছন্দের তালিকায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনও (আইএসএস) আছে।

    তবে নোবেল কমিটি যদি ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়াতে চায়, তাহলে অন্য কাউকেও বেছে নিতে পারে। যেমন- ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চল বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত (র‌্যাপোর্টিয়ার) ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অথবা পোপ চতুর্দশ লিও।

    সাহিত্যে নোবেল কি আর্জেন্টিনার ঝুলিতে?
    পুরস্কার ঘোষণার সময় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সাহিত্য বিভাগ। যেটির বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ৮ অক্টোবর। এ বিভাগের বিজয়ী নির্বাচন করে সুইডিশ একাডেমি। গত বছর হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাস্নাহোরকাইকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।

    বার্তা সংস্থা এএফপি কয়েকজন সাহিত্য সমালোচকের মতামত নিয়েছে। তাদের ধারণা, একাডেমি এবার হয়তো কোনো নারী লেখককে বেছে নিতে পারে। তিনি হতে পারেন লাতিন আমেরিকার কেউ।

    সুইডিশ পাবলিক রেডিও ‘এসআর’-এর সাহিত্য সমালোচক লিনা কালমটেগ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাতিন আমেরিকার সাহিত্য নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের মতো পুরুষ লেখকদের পর নতুন এই জোয়ারে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে।

    লিনা আরও বলেন, এই লেখকদের লেখায় প্রায়ই নারীবাদের ছোঁয়া থাকে। একইসঙ্গে সহিংসতা, ডার্ক ও পরাবাস্তবতার মিশ্রণ দেখা যায়। এ বছর বিভাগটিতে ৪৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন লেখক সামান্তা শোয়েবলিন চমকপ্রদ নাম হতে পারেন।

    সাধারণত কোনো একক গ্রন্থের জন্য সাহিত্যের নোবেল দেওয়া হয় না। বরং একজন লেখকের সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের জন্য সম্মাননা জানানো হয়। সে হিসেবে সমালোচকদের তালিকায় আরও আছেন, অ্যান্টিগুয়ান-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনকেড, চীনা লেখক ক্যান সুয়ের। তাদের লেখায় নির্বাসন, আত্মপরিচয় এবং ঔপনিবেশিকতা থেকে পাওয়া মানসিক আঘাতের বিষয়গুলো ফুটে ওঠে।

    নিয়মিত আলোচনায় থাকা কিছু নামও আছে। যেমন- অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ড মুরনেন, অ্যালেক্সিস রাইট, মার্কিন লেখক থমাস পিনচন ও মেক্সিকোর ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা।

    কবে কোন বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা?
    আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) চিকিৎসাশাস্ত্রের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নোবেল মৌসুম শুরু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ‘জিএলপি-১’ হরমোন নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কারটি দেওয়া হতে পারে। এই হরমোন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজেম্পিকের মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরিতে কাজ করে।

    পরদিন ৬ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞান, ৭ অক্টোবর রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর। পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

  • ইরানের পরমাণু নিয়ে ন্যাটোর কোনো ধারণাই নেই : রাশিয়া

    ইরানের পরমাণু নিয়ে ন্যাটোর কোনো ধারণাই নেই : রাশিয়া

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। তিনি বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে ন্যাটো মহাসচিবের কোনো ধারণাই নেই।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উলিয়ানভ বলেন, এই ব্যক্তি নিজেকে ন্যাটোর সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা বলে দাবি করেন। অথচ তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

    তিনি আরো বলেন, পশ্চিমাদের পেশাদারিত্বের অভাব কিংবা এর নিম্নমান একটি প্রকৃত বিপর্যয়।

    এর আগে বুধবার ‘এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে মার্ক রুটে দাবি করেন, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বিমান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য উড্ডয়ন করেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে ইউরোপের সামরিক অবকাঠামোর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শন ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপকে ব্যবহার করা না হলে এই অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত।

    রুটে আরো দাবি করেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে।

    তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সম্ভাব্য ও আসন্ন হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি শুধু ইসরাইল ও পশ্চিম এশিয়ার জন্যই নয়, ইউরোপের জন্যও বিপজ্জনক।

    তবে ন্যাটো মহাসচিবের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসেও বিভিন্ন বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইউরোপের সহযোগিতার বিষয়টি স্বীকার করেন। এমনকি ইতালির মতো দেশগুলো কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

  • ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ

    ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ

    সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাদের মিশন শেষ করেছে। দেশটির নেতারা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২০১৪ সালে তথাকথিত উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার অজুহাতে ইরাক ও সিরিয়ায় জোটের সেনা মোতায়েন করা হয়।

    ২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়। তবে গোষ্ঠীটির অবশিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে জোটের সেনারা সেখানে থেকে যান।

    ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক মিশনটি ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। একপর্যায়ে তাদের উপস্থিতি স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত হয়ে পড়ে।

    ইসলামিক স্টেটকে বোঝাতে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ‘এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়, ইরাকের বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট বিজয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমার সামনে সেখানে থেকে যাওয়া অথবা সেখান থেকে চলে যাওয়ার মধ্যে একটি বেছে নেয়ার সুযোগ ছিল। আর কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আমার মনে হয়েছে, আমেরিকার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে।’

    ‘সার্বভৌমত্ব’
    মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট একাই আইএসকে পরাজিত করেনি। কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোসহ ইরাকের শক্তিশালী কয়েকটি গোষ্ঠীও এতে ভূমিকা রাখে। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি।

    ইরাক সরকার মনে করে, জোটের সেনা প্রত্যাহার হলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখার যে অজুহাত ব্যবহার করে আসছে, তা আর থাকবে না।

    তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হতে পারে এবং দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এসব গোষ্ঠীর সমর্থকেরা পতাকায় সাজানো একটি জনসমাগমস্থলে জড়ো হয়ে উদযাপন করেন। সেখানে মডেল ড্রোন দিয়ে সাজানো মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে কাতায়েব হিজবুল্লাহর সামরিক মুখপাত্র জাফর আল-হুসেইনি বলেন, গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র ‘নিয়ন্ত্রণে আনার’ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে ‘ইরাক সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি’।

    তিনি আরো বলেন, এ কারণে অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে তারা ‘কোনো সময়সীমা বা চুক্তির আওতাভুক্ত নয়’। ইরাকের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী যেকোনো মার্কিন বা ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের সরাসরি জবাব দেয়ার অধিকার’ তাদের রয়েছে।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, ‘নতুন একটি পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায় ইরাকের সার্বভৌমত্ব, প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি এবং দেশের বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি দ্বারা নির্ধারিত হবে।’

    হামলা বেড়েছে
    যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলতি বছর ক্ষমতায় আসা জাইদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র হস্তান্তরে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    তার সরকার গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা চলতে থাকায় পরে সেই সময়সীমা প্রত্যাহার করা হয়।

    কুর্দি সামরিক কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুর্দিস্তানের আকাশ সুরক্ষার জন্য আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই।’

    তবে তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, পেশমার্গা বাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।

    জোটের দেয়া প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও অস্ত্রের কারণে তাদের সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’ বলেও তিনি জানান।

    কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানিও বুধবার বলেন, ‘যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে অত্যন্ত ভালো সমন্বয় রয়েছে।’

    ইরান-সমর্থিত কয়েকটি গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোয় জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকেরা এখন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

    গোষ্ঠীগুলো যেসব শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে শুধু বিদেশী সেনা প্রত্যাহার নয়, মার্কিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিও রয়েছে।

    কাতায়েব হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘দখলদার বাহিনীর’ প্রত্যাহার ‘পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে একটি সূচনা’। তবে গোষ্ঠীটি জাইদি সরকারকেও হুমকি দিয়েছে।

    তারা বলেছে, ‘যে সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করবে না, তাকে সম্ভাব্য সব উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।’

    ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েক বছর ধরে গোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় তেহরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে হামলা আরো জোরদার করে। তারা কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

  • অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদি

    অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদি

    যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশন দেয়ার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন ক্রিস্টা গেল পাইক (৫০) নামের এক নারী কয়েদি। বুধবার রাতে এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার পর তাকে অচেতন অবস্থায় কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবীরা।

    দীর্ঘ দুই শতাধিক বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এভাবে ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি।


    ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ক্রিস্টাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকালে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আপিল আদালতের স্থগিতাদেশ এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের তা খারিজ করে দেয়ার দীর্ঘ নাটকীয়তার পর রাত ৭টা ২৭ মিনিটে তাকে এক্সিকিউশন চেম্বারে নেয়া হয়।

    রাত ৮টা ২৬ মিনিটের মধ্যে ক্রিস্টাকে তীব্র প্রাণঘাতী বিষাক্ত ওষুধের দুটি পূর্ণ ডোজ প্রয়োগ করা হয়। তবে ওষুধ প্রয়োগের দীর্ঘক্ষণ পরও তিনি মারা যাননি, বরং তাকে জীবিত থাকতে এবং জোরে নাক ডাকতে শোনা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে মাইক বন্ধ করে পর্যবেক্ষকদের বাইরে বের করে দেয়া হয়।


    ঘটনার পরপরই ক্রিস্টার আইনজীবীরা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টসহ সংশ্লিষ্ট আদালতে জরুরি আবেদন দাখিল করে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের এবং তাকে জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ব্যর্থ এই প্রক্রিয়ার কারণে তাদের মক্কেল অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন, যা মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন।

    ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন এম মাহের জানান, রগ খুঁজে না পেয়ে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের নজির অতীতে থাকলেও প্রাণঘাতী ড্রাগ শরীরে প্রবেশের পরও কোনো কয়েদির বেঁচে থাকার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। এ বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থ হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

  • পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

    পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

    তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৬ সালে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোতে বরফ গলছে তীব্র গতিতে। হিমবাহ গলার এই গতি সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১২ মাসেই দেশটির মোট হিমবাহের সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি বরফ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

    বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলার এই গতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। ফলে আগামী দশকগুলোতে ইউরোপের কৃষি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নৌপরিবহনে ব্যবহারের উপযোগী সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্কের নতুন তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে কম তুষারপাতের পর মে ও জুন মাসের আগাম তাপদাহের কবলে পড়ে হিমবাহগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ে। টাটকা তুষারের তুলনায় খালি বরফ সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করায় পরবর্তী সময়ে বরফ গলার গতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মাত্র কয়েক বছর আগেও আল্পস অঞ্চলে বছরে ২ শতাংশ বরফ ক্ষয়কে ‘চরম’ মাত্রার গণ্য করা হতো। কিন্তু এবার তা ৫.৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিংয়ের পরিচালক ড. ম্যাথিয়াস হাস একে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিজ্ঞানীরা জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুইস হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি লিটার বরফগলা পানি নিঃসরিত হয়েছে। এই গলিত পানি চলতি মৌসুমে পানির সংকট সাময়িক মেটাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইউরোপের পানির মজুতকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। হাস সতর্ক করে বলেন, তাপপ্রবাহে যে পানি গলে যাচ্ছে, তা মূলত শত শত বছর ধরে সঞ্চিত থাকা প্রাচীন পানির ভাণ্ডার। হিমবাহ সংকুচিত হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে খরা দেখা দিলে এই পানির সরবরাহ আর অবশিষ্ট থাকবে না।

    ইতিমধ্যেই পানিস্তর রেকর্ড নিচে নেমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে তিন হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতেও গ্রীষ্মের শেষে কোনো তাজা তুষার টিকে থাকেনি। সাধারণত এই উচ্চতায় কয়েক মিটার পুরু শীতকালীন তুষার থাকার কথা। যা পরে জমাট বেঁধে নতুন বরফে পরিণত হতো। কিন্তু সেখানে চার মিটার পর্যন্ত বরফ হারিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফ্রিজ থেকে বের করে রাখা বরফের খণ্ডের মতো মানুষের চোখের সামনেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে আল্পসের চিরচেনা হিমবাহগুলো। এই সংকট ইউরোপ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রূপ ধারণ করার আগেই জীবাশ্ম জ্বালানি দূষণ কমিয়ে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

  • কারও দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই আমাদের: পুতিন

    কারও দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই আমাদের: পুতিন

    রাশিয়ার নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্ট দুমা’য় প্রথম ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, সামাজিক ব্যয়, প্রতিরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন তিনি।

    বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নবম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় পুতিন আইনপ্রণেতাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপ এবং ‘ধ্বংসাত্মক জনতুষ্টি’ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাশিয়ার প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি। পুতিন বলেন, রাশিয়া সারা বিশ্বে ‘হাত পেতে দান-খয়রাতের জন্য ভিক্ষা করবে না’।

    দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন ফেডারেল বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথমত, এটি অপমানজনক। দ্বিতীয়ত, কেউ আমাদের কিছু দেবে না। এটা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। আর তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের এর প্রয়োজন নেই। পুতিন রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে আত্মবিশ্বাসী ও স্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করেন।

    তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের ভুল একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় প্রকল্প ও ফেডারেল কর্মসূচিগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ পুরোপুরি বরাদ্দ এবং সরকারের সব সামাজিক অঙ্গীকার পূরণের ওপর জোর দেন। বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিক বাধা কমানোর আহ্বান জানান আইনপ্রণেতাদের প্রতি।


    প্রতিরক্ষা এবং রুশ সেনাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্য সহায়তা পার্লামেন্টের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন পুতিন। তার মতে, আইনপ্রণেতাদের ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হবে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে এবং ‘আমাদের বিজয়ের জন্য সবকিছু করতে হবে’। ইউক্রেন সংঘাতে অংশ নেয়া এবং পরে নতুন পার্লামেন্টে নির্বাচিত রুশ সেনা ও সাবেক যোদ্ধাদেরও স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, তারা ইতিমধ্যেই ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ দেশের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছেন।

  • সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

    সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারেলানে আল নূর ইসলামিক কবরস্থানে একাধিক কবরের হেডস্টোন ও স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
    পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার উদ্দেশ্য বা এটি ইসলামবিদ্বেষী হামলা কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।

    ইতোমধ্যে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ)। সংগঠনটির সেক্রেটারি গামেল খেইর বলেন, কবরের ওপর হামলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবিত মানুষের পাশাপাশি মৃতদের মর্যাদাও রক্ষা করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
    এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলোর মধ্যে মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও সন্তানদের কবর রয়েছে। তারা সবাই মুসলিম অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ছিলেন। মৃত্যুর পরও তাঁদের কবর অন্য যেকোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মতোই মর্যাদা ও সম্মানের দাবিদার।

    সংগঠনটি আরও বলেছে, কবর ভাঙচুরের কারণে স্বজনরা প্রিয়জনের সমাধিতে গিয়ে গভীর মানসিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, একই কবরস্থানে এর আগেও মুসলিম কবরের ওপর শূকরের মাথা ও অবশিষ্টাংশ নিক্ষেপের পৃথক ঘটনা ঘটেছিল। তবে আগের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    অ্যাসোসিয়েশন ঘটনাটিকে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ধর্মীয় বিদ্বেষকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সংগঠনটি দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে এনএসডব্লিউ পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

    এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়াতে কবরস্থানে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কাজও এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য মাল্টিকালচারালিজম বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ক্যাম্পার ও মাল্টিকালচারাল এনএসডব্লিউ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন।
    অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (এএফআইসি)ও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি ধর্মীয় বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কোরিয়া: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কোরিয়া: ট্রাম্প

    দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সিউল বলছে, আলাস্কায় তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্পের জন্য ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয় ওভাল অফিস থেকে এ বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।

    গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়। সেই বৃহত্তর কৌশলগত বিনিয়োগ প্যাকেজের আওতায় জাহাজ নির্মাণ খাতে ১৫০ বিলিয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সিউল।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যে চুক্তিগুলো করেছে, তার আওতায় তারা ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।’

    তিনি জানান, এই বিনিয়োগের আওতায় আটটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, একটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন এবং টেক্সাসে ৬-গিগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

    নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের করা অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ এটি। মূলত ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মাঝে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

    তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ও আইনি শর্ত পূরণ হলেই কেবল পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হবে। সিউল ট্রাম্পের ঘোষণার অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এআই ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টেক্সাসের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং আটটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলাস্কা এলএনজি প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যকারিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি যাচাই করতে তারা পর্যালোচনা শুরু করবে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিনিয়োগ করা হবে কি না কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে—এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক্স বার্তায় লিখেছেন, এলএনজি প্রকল্প এবং পারমাণবিক চুল্লি—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ শুরুর আগে সেগুলোর বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    সিউলের বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে।

    আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এর আওতায় একটি ৮০৭ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। পাইপলাইনটি ‘নর্থ স্লোপ’ থেকে আলাস্কার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি তরলীকরণ কেন্দ্রে প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করবে। এতে এশিয়ার বাজারে এই জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হবে।

    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৯০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন এবং বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টন এলএনজি উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    ট্রাম্প বারবার এই প্রকল্পটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ব্যয়, অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

  • স্ত্রীর কবর জিয়ারতে মাহাথির, ফুল ছিটিয়ে করলেন দোয়া

    স্ত্রীর কবর জিয়ারতে মাহাথির, ফুল ছিটিয়ে করলেন দোয়া

    ৭০ বছরের জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর তিন দিন পর তার কবর জিয়ারত করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন) থেকে সরাসরি পুত্রজয়ার প্রিসিঙ্কট কবরস্থানে যান মাহাথির। সেখানে স্ত্রীর কবরে ফুল ছড়িয়ে দেন তিনি। এরপর দুই হাত তুলে দোয়া করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে কবরের পাশে অবস্থান করেন। ফুল দেওয়ার পর দোয়া করে সেখান থেকে চলে যান দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কবরস্থানে মাহাথিরকে বেশ শান্ত ও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল।

    গত ২৮ সেপ্টেম্বর ১০০ বছর বয়সে মারা যান সিতি হাসমাহ। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর পর এককভাবে এবারই প্রথম তার কবরে গিয়ে দোয়া করলেন মাহাথির।

    সিতি হাসমাহ ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মালয়েশিয়ার জাতীয় জীবনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৬ সালে মাহাথিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর প্রায় সাত দশক তারা একসঙ্গে ছিলেন। মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতেও সিতি হাসমাহ ছিলেন তার পাশে।

    মাহাথির প্রথমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত। পরে ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় সিতি হাসমাহ সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

    সিতি হাসমাহর মৃত্যুর পর ২৮ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের ইস্তানা নেগারা থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়। রাজপরিবার, প্রধানমন্ত্রী, সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

  • উড়োজাহাজের ঘটনা নিয়ে ইসরাইল সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে

    উড়োজাহাজের ঘটনা নিয়ে ইসরাইল সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে

    উড়োজাহাজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি এ অভিযোগ করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে পাওয়া নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজের ঘটনাটিকে যুক্ত করার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন লাপিদ। তার দাবি, ওই ব্রিফিংয়ে উড়োজাহাজের ঘটনা নিয়ে সামান্যতম কোনো আলোচনা হয়নি।

    মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, ‘বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ে উড়োজাহাজের ঘটনার ন্যূনতম আভাসও ছিল না। এ ধরনের কিছু, এমনকি এর কাছাকাছি কোনো বিষয়ও সেখানে বলা হয়নি।’

    সরকারঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    লাপিদ বলেন, ‘মুখপাত্ররা এখন যে সমস্ত ব্যাখ্যা ও প্রচারণা চালাচ্ছে, তা শুধু গতকাল যা পরিষ্কার ছিল সেটিই প্রমাণ করে—তারা আবারও ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়কে ব্যবহার করে সস্তা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন গোষ্ঠী।’

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরাইলে সম্ভাব্য একটি অনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সতর্ক করার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার লাপিদকে নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিং দেওয়া হয়। এর একদিন পরই এসব মন্তব্য করলেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।

    বৈঠকের পর লাপিদ বলেছিলেন, জনসাধারণকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। একই সঙ্গে নিরাপত্তা হুমকিগুলো পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর মধ্যেই বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটকে ঘিরে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। একপর্যায়ে এটি জরুরি অবস্থা ও বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত পাঠালে উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পরে এটি সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে। এ সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজ ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে উড়োজাহাজটির ককপিটে একটি বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে।

    তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার দুজনই আহত হয়েছেন। পরে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সাবমেরিন ড্রোন আটক

    যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সাবমেরিন ড্রোন আটক

    যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিজস্ব সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

    বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এক সমন্বিত ও জটিল অভিযানের মাধ্যমে এই স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানটি আটক করা হয়।

    নৌবাহিনী ডুবোযানটিকে ‘রেমাস ৬০০’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনটির তথ্য বা ডেটা উদ্ধারের জন্য যানটি বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এর আগে সেপ্টেম্বরে হরমুজ প্রণালিতে অত্যাধুনিক আরেকটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)।

    হরমুজের প্রবেশমুখে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক, মানুষবিহীন ও স্মার্ট একটি সাবমেরিন আটক করে ইরানের নৌবাহিনী।

  • নামাজই ইরানের শক্তির উৎস: সর্বোচ্চ নেতা

    নামাজই ইরানের শক্তির উৎস: সর্বোচ্চ নেতা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি নামাজকে ইরানের শক্তি, আশা ও শান্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার ধর্মীয় ইবাদতবিষয়ক এক সম্মেলনে পাঠানো বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নামাজ ইসলামি সমাজের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব এবং আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের প্রধান মাধ্যম। এটি আত্মসংযম ও ‘শয়তানের’ বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষের জন্য অবিচল শক্তি ও সহায়তা জোগায়।

    মুজতবা খামেনি বলেন, নামাজ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; সৎ ও আদর্শ ইসলামি শাসনব্যবস্থারও অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমান সময়ে ইরানি জাতির সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় নামাজ আল্লাহর স্মরণ, আশা ও তার ওপর আস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    খামেনি বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো’—বারবার উচ্চারিত আল্লাহর এই নির্দেশ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ইরানি জনগণের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ।

    নামাজকে সমাজে আরো বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক করার আহ্বান জানিয়ে তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নামাজের চর্চা প্রসারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

  • নির্বাচনের আগে বিভক্ত ইসরাইলিরা

    নির্বাচনের আগে বিভক্ত ইসরাইলিরা

    ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর প্রায় তিন বছর ধরে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর দেশটির রাজনীতিতে গভীর পরিবর্তন এসেছে। আসন্ন নির্বাচন সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির—দুই পক্ষই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সীমা থেকে দূরে রয়েছে। ফলে নির্বাচন শেষে আবারও বিভক্ত পার্লামেন্ট বা নেসেট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক চ্যানেল ১৩-এর জরিপে নেতানিয়াহু বিরোধী ইহুদি দলগুলো ৫২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি আসন পেতে পারে বলে দেখানো হয়েছে। আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ ১৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ওই জরিপে। তবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

    আইজেনকট ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব স্টাফ। গাজায় যুদ্ধের সময় তার ছেলে ও দুই ভাতিজা নিহত হন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহু যে ঐক্য সরকার গঠন করেছিলেন, আইজেনকটও প্রায় আট মাস সেই সরকারের অংশ ছিলেন।

    অন্যদিকে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে নিজের নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের একজন এবং লিকুদের নেতৃত্বে বহুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

    তবে আইজেনকটের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি ইসরাইলি আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে জরিপে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি গেলেও সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে রয়েছে।

    নির্বাচনকে ঘিরে ইসরাইলি সমাজেও বিভাজন স্পষ্ট। নেতানিয়াহুর সমর্থকদের পাশাপাশি তার সরকারের যুদ্ধনীতি, সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি ইহুদিদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

    ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালে হারেদি পুরুষদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি অব্যাহত রাখার আইনি ভিত্তি নেই বলে রায় দেওয়ার পর বিষয়টি আরো উত্তপ্ত হয়। নেতানিয়াহুর জোটের গুরুত্বপূর্ণ হারেদি দলগুলো তার সরকারের ওপর এ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করছে।

    নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনীতি। আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্নের মধ্যে ইসরাইলে খাদ্যের দাম গত দুই বছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।

    ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তবে বর্তমান জরিপগুলো কোনো পক্ষের সরকার গঠনের নিশ্চিত চিত্র দিচ্ছে না। বরং প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি নয় এবং জোট গঠনের সমীকরণই নির্বাচনের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সৌদি

    হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সৌদি

    সৌদি আরবের নিরাপত্তার ওপর যেকোনো হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। খবর আরব নিউজের।

    মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস না করে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানে কাজ করছে সৌদি আরব। তবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না রিয়াদ।

    তিনি জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ। তিনি বলেন, উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে সৌদি আরব। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিও সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    ইয়েমেনে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা এবং বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।

    অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৬ সালের তুলনায় সৌদির তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালকে ‘এআইয়ের বছর’ উল্লেখ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশ্ব নেতৃত্ব অর্জনের লক্ষ্যও জানান তিনি।

  • ভারতে নিজ বাহিনীর সদস্যের গুলিতে কমান্ডারসহ নিহত ৪

    ভারতে নিজ বাহিনীর সদস্যের গুলিতে কমান্ডারসহ নিহত ৪

    ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় তর্কের জেরে সহকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছেন কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) এক সদস্য।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসোহলির মাশকা গ্রামে সেবা পাওয়ার প্রকল্পে মোতায়েন সিআইএসএফ ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিং তার ইস্যু করা একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে গুলি চালান বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল রফিক আহমেদ ও কনস্টেবল সন্দীপ কুমার। আহত অবস্থায় তাদের হিমাচল প্রদেশের এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।

    ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং অবদেশ কুমার সিংকে আটক করে। তার কাছ থেকে সার্ভিস রাইফেল ও ১৫০ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইএসএফ।

    হামলার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

  • দুই দশক পর সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

    দুই দশক পর সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

    দুই দশক অবস্থানের পর ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ বুধবার। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আল–জাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটলো দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আগ্রাসনের ২৩ বছর পর। ২০০৩ সালে ওই বাহিনী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে। কয়েক বছর ধরে বিদ্রোহ দমন অভিযান চালায় তারা। প্রথমে সাদ্দাম-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এবং পরে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াই করে মার্কিন বাহিনী। এরপর দেশটিতে ব্যাপক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ধারাবাহিকতায় ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে।

    ২০১১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। তবে এর তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে ফিরে আসে তারা। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে মার্কিন সেনারা।‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এ আফগানিস্তানে একই সময়ে চলা যুদ্ধের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল।

    ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।

  • জেন-জির বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

    জেন-জির বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

    ফ্রান্সে জেন-জির বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে দেশজুড়ে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

    প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও।

    ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং বাসস্টপেরও ক্ষতি করেছেন।

    বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সি এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি যে, শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।’

    ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে।’ তবে, সহিংসতার খবরকে তিনি ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে নিন্দা জানান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এক গণমাধ্যমে বলেন, ‘৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে আমাকে বলা হয়েছে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

    শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে বলেন, “ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে।” পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে নুনেজ বলেন, “পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত সংযত ও আনুপাতিকভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।”

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে, কোনোভাবেই এটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া কিংবা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’

    যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে বলে সতর্ক করেন। এর আগে, ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    এদিকে, মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

    নুনেজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা কোনো বড় ধরনের ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

  • দ্বিগুণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ফি

    দ্বিগুণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ফি

    যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে এখন থেকে তাদের গুনতে হবে আরও বেশি অর্থ। এবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেশটির ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী কর্মসূচির আবেদন ফি দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হবে।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস) যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ ভিসার আবেদন ফি দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর একটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে।

    ইবি-৫ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান। এ জন্য তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যবসায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি, ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়।

    এককভাবে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৫২৬-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার (৪ লাখ ৫২ হাজার ২৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার (৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭ টাকা) হবে।

    আর অনুমোদিত আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৫২৬ই-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার (৪ লাখ ৫২ হাজার ২৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার (৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮১ টাকা) হবে। এর সঙ্গে প্রতিটি আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ৭৫ ডলার (৯ হাজার ২৩১ টাকা) প্রযুক্তি ফি দিতে হবে।

    শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন তুলে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৮২৯-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ৭৫০ ডলার (৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৩৫ টাকা) থেকে বেড়ে ৫ হাজার ডলার (৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৮০ টাকা) হবে।

    আর আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৯৫৬-এর আবেদন ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার (২১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার ১১৫ ডলার (৫৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৩২ টাকা) হবে।

    এছাড়া, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-৯৫৬এফ-এর আবেদন ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার (২১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৩ টাকা) থেকে বেড়ে ৪২ হাজার ৬৭৫ ডলার (৫২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬৫ টাকা) হবে।

    তবে, ফর্ম আই-৯৫৬জি-এর বার্ষিক ফি ৩ হাজার ৩৫ ডলার (৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩১ টাকা) থেকে কমে ২ হাজার ১৬৫ ডলার (২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা) হবে।

    এদিকে, পুরোনো আই-৫২৬ আবেদনে সংশোধনের জন্য নতুন আই-৫২৭ ফর্ম চালু করা হয়েছে। এ ফর্মের আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৩০ ডলার (১২ লাখ ৭১ হাজার ৮৪৬ টাকা)।

    নতুন ফি ঘোষণা করে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সংস্থাটির বেশির ভাগ অর্থ আবেদনকারীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি থেকে আসে, করের অর্থ থেকে নয়। আবেদন যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই, জালিয়াতি শনাক্ত করা এবং কর্মসূচি পরিচালনার খরচ এসব ফি থেকেই মেটানো হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ১৯৯০ সালে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইবি-৫ কর্মসূচি চালু করে। এ কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীদের যোগ্য কোনো ব্যবসায় ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার (১২ কোটি ৯২ লাখ ২৯ হাজার ৭০০ টাকা) বিনিয়োগ করতে হয়।

    তবে, নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান এলাকা বা অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে ৮ লাখ ডলার (৯ কোটি ৮৪ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা) বিনিয়োগ করলেই হয়। পাশাপাশি, ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়।

    এসব শর্ত পূরণ করতে পারলে বিনিয়োগকারী, তার স্বামী বা স্ত্রী এবং যোগ্য সন্তানরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান।

  • ভারতে মুসলিমদের নিশানা করে তথ্য চাওয়া হচ্ছে: ওয়াইসি

    ভারতে মুসলিমদের নিশানা করে তথ্য চাওয়া হচ্ছে: ওয়াইসি

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত ডেমোগ্রাফি কমিশন থেকে গাড়ি নিবন্ধন ও সম্পত্তি কেনাবেচা সংক্রান্ত ধর্ম-ভিত্তিক তথ্য চেয়ে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

    মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    ওয়াইসি বলেন, আমরা যখন মোদী সরকারের কাছে মুসলিমদের শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছিলাম, তখন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ অমিত শাহের ‘ডেমোগ্রাফি কমিশন’ এখন রাজ্যগুলোর কাছে জানতে চাইছে কোন ধর্মের মানুষ কতগুলো গাড়ি কিনেছে, কার কত জমি আছে—ইত্যাদি।

    তার দাবি, তথ্যের ভিত্তিতে উন্নত নীতি প্রণয়ন করা এই কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। বরং তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন ও বিকৃত করা হতে পারে, যাতে মুসলিমদের টার্গেট করা যায় এবং তাদের অবশিষ্ট অধিকারও কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি (এইচএলসিডিসি) গত ১৫ বছরের ধর্মভিত্তিক জন্মনিবন্ধন, গাড়ি নিবন্ধন, স্কুলে ভর্তি ও সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি জেলা অনুযায়ী ধর্মীয় স্থাপনার সংখ্যা এবং আধার, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ড নিবন্ধনে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া তফসিলি উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মান্তর নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন কমিশনের প্রতিবেদন এবং কার্যকর আটককেন্দ্রগুলোর তথ্যও কমিটি চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ২৬ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসনসহ অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে সৃষ্ট জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় সুপারিশের জন্য এইচএলসিডিসি গঠন করে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

    এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটেছে এমন এলাকায় এই কমিটি যাবে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) শেষ হওয়া এলাকাগুলোতে গিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

    ওয়াইসি আরো বলেন, অমিত শাহ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তার আশঙ্কা, এসআইআরের মাধ্যমে প্রস্তুত করা ভোটার তালিকার ভিত্তিতেও এনআরসি করা হতে পারে।

  • গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বললেন ট্রাম্প

    গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বললেন ট্রাম্প

    হোয়াইট হাউসে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রধানদের নিয়ে এক চমৎকার দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খাবার শেষে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার সময় গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইকে নিয়ে হুট করে এক মজার মন্তব্য করেন তিনি।

    ট্রাম্প হঠাৎ সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বলে ডাকেন, তবে সাথে সাথেই তার সফল ও ঝামেলাহীন জীবনের প্রশংসাও করেন। ট্রাম্পের মুখে এমন অদ্ভুত কথা শুনে সবাই বেশ অবাক হন, আর ভিডিওতে দেখা যায় সুন্দর পিচাইও বেশ হাসিমুখে এর দারুণ এক উত্তর দিয়েছেন।

    ঘটনাটি তখন ঘটে যখন ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে কিছু বলার জন্য ডাকেন। ট্রাম্প তাকে বলতে বলতেই নিজেই থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠেন, এই লোকটা একটা দানব, আর কেউ তাকে সেভাবে চেনেই না। কী দারুণ একটা জীবন! দানব হয়েও তাকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। আপনার শুধু এটুকুই জানা দরকার—সুন্দর! সুন্দর হলো তার নাম…।

    ট্রাম্পের এমন মজার রসিকতার জবাবে সুন্দর পিচাই মুচকি হেসে বুদ্ধিমত্তার সাথে পাল্টা বলেন, আশা করি এটি আমার সম্পর্কে বলা অন্য যেকোনো কথার চেয়ে বেশ ভালো একটা ট্যাগলাইন হবে…।

    এদিকে এই হাসাহাসির বাইরেও অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি দুনিয়ার বড় বড় কর্তারা একত্রিত হয়েছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের সাথে গুগলের সুন্দর পিচাই, মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার প্রধানরা একটি বড় চুক্তিতে সই করেছেন।

    ‘দ্য হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামের এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো, উন্নত প্রযুক্তি যেন নিরাপদে মানুষের উপকারে আসে এবং কোনো ঝুঁকি তৈরি না করে।

    অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই জানান, গুগল গত দুই বছরে তাদের এআই প্রযুক্তির পেছনে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সামনেও এই ধারা বজায় রাখবে। মানুষের জীবন সহজ করা এবং প্রযুক্তির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কড়া নিয়ম মেনে ও যাচাই-বাছাই করে এআই মডেলগুলো তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।

  • ‘বছরের পর বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারবে ইরান’

    ‘বছরের পর বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারবে ইরান’

    শত্রুর সঙ্গে লড়াই যদি বছরের পর বছরও গড়ায়, তবুও আগের মতো একই গতি ও তীব্রতায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা ইরানের হাতে রয়েছে। ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডারের এক উপদেষ্টা এমনটাই জানিয়েছেন।

    ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি বেলালি বলেছেন, বর্তমানে দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো অপারেশন অত্যন্ত শক্তিশালী ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুকে এমন শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা বুঝতে পারে যে বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার দিন এবার চিরতরে ফুরিয়ে এসেছে।

    অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে তিনি জানান, একসময়ের ইরান-ইরাক যুদ্ধের দিনে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ছিল অত্যন্ত সীমিত। সে সময় অস্ত্রগুলো এত বেশি দামি ছিল যে পুরো খরচ বহন করা অসম্ভব ছিল, যার কারণে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে গুনে গুনে একটি একটি করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সীমাবদ্ধতা আজ আর নেই। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা ও নানা অবরোধের বেড়াজাল পেরিয়ে ইরান সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে।

    বেলালি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে শত্রু পক্ষ সামান্য কিছু হামলা চালালেও তার বিপরীতে ইরান অনেক বেশি শক্ত ও জোরালো জবাব দিয়েছে। দেশের সামরিক শক্তি এখন এতটাই মজবুত যে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার দিন শেষ এবং যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতেও ইরান সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

  • আবার ইইউতে ফিরছে ব্রিটেন?

    আবার ইইউতে ফিরছে ব্রিটেন?

    যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করার মতো একটি বিকল্প হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

    বিবিসি ব্রেকফাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ব্রেক্সিট চুক্তি কল্যাণের চেয়ে বেশি ক্ষতি ডেকে এনেছে। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের জন্য কোন কাজটি করা সম্ভব, তা তিনি খতিয়ে দেখতে চান।

    এর আগে, মঙ্গলবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে চলতি বছরের শেষের দিকে একটি শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরালো করার উপায় খোঁজার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

    তার এই পদক্ষেপে আগামী সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টি এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে ‘ব্রেক্সিট আমলের পুরনো লড়াই আবার উসকে দিয়ে পুরনো ক্ষত নতুন করে খোলার’ চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহাম আরো বেশ কিছু নীতিমালার কথা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ২০৩০ সাল থেকে পেনশন ট্রিপল লকের নিয়মে পরিবর্তন এনে একটি জাতীয় পরিচর্যা বা কেয়ার সার্ভিস চালু করা এবং আগামী লেবার ইশতেহারে নির্বাচনি সংস্কারের পরিকল্পনা যুক্ত করা।

    এছাড়া বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ প্রোগ্রামকে বার্নহাম জানিয়েছেন, আসছে শীতে যুক্তরাজ্য আরেকটি জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে, এমন কথা বলা মোটেও অতিরঞ্জিত হবে না। সাধারণ মানুষের বিলের বোঝা কমাতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন বলেও জানান।

  • মধ্যপ্রাচ্যকে সতর্ক করল ইরান!

    মধ্যপ্রাচ্যকে সতর্ক করল ইরান!

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এই অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলের ইরানে সামরিক আগ্রাসন এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও লেবাননে দখলদারত্ব ও সংঘাত আরো বাড়ার কারণে পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর সময়গুলোর একটি পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘শত শত হাজার নিরপরাধ মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি’ একজন ব্যক্তির এই অঞ্চলে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক।

    ইরান বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে ইরান ও অঞ্চলটির অন্যান্য দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বারবার দেওয়া হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সফরের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অঞ্চলটির সব দেশের সচেতন থাকা উচিত। এ ধরনের উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়। এমন কোনো পদক্ষেপ, যা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তিকে অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, শেষ পর্যন্ত সব আঞ্চলিক দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বিভাজন, অনিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

    এ কারণে অঞ্চলটির সরকারগুলোর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ‘ইসরাইলি সরকারের ধ্বংসাত্মক উপস্থিতির’ জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার এবং কোনো আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

  • ভক্সওয়াগন কারখানায় ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনের বিরোধিতা জার্মান লেফট পার্টির

    ভক্সওয়াগন কারখানায় ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনের বিরোধিতা জার্মান লেফট পার্টির

    জার্মানির বিরোধী দল দ্য লেফট পার্টি জানিয়েছে, ভক্সওয়াগনের একটি গাড়ি তৈরির কারখানাকে ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদনের কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও জনসমক্ষে লড়াই করবে। খবর আনাদোলুর।

    লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের লেফট পার্টির সহসভাপতি থরবেন পিটার্স আনাদোলুকে বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ও জনপর্যায়ে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেব।”

    তিনি বলেন, “চুক্তিগুলো সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা চাই। বেসামরিক শিল্প থেকে অস্ত্র উৎপাদনে রূপান্তরের বিরোধিতা করছি। একই সঙ্গে কর্মী ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করে বেসামরিক শিল্পনীতিকে এগিয়ে নিতে চাই।”

    সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভক্সওয়াগন জানায়, তারা জার্মানির ওসনাব্রুক কারখানাটি লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য এবং তেল আবিবভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অরেলিয়াস ক্যাপিটালের কাছে বিক্রি করছে।

    ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের সঙ্গে একটি প্রাথমিক প্রকল্পকে কারখানাটির প্রথম শিল্পভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    তবে কারখানাটি বিক্রি করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে রূপান্তর করাই কর্মসংস্থান রক্ষার একমাত্র পথ—ভক্সওয়াগনের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে লেফট পার্টি।

    পিটার্স বলেন, “কর্মীদের বলা হচ্ছে, তাদের বেকারত্ব ও অস্ত্র উৎপাদনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। আমরা এই মিথ্যা বিকল্প মেনে নেব না।”

    তিনি আরও বলেন, “ভালো শিল্পনীতি বেসামরিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পরবর্তী অস্ত্রের অর্ডারের ওপর শান্তিকে নির্ভরশীল করে না।”

  • আস্থা সংকটে ভারতের নির্বাচন কমিশন

    আস্থা সংকটে ভারতের নির্বাচন কমিশন

    ভারতের আমলাতন্ত্রে ৩৬ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় জুড়ে জ্ঞানেশ কুমার কঠিন কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য সুনাম অর্জন করেছিলেন। তবে বর্তমানে ৬২ বছর বয়সী কুমার নিজের প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে এক ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন।

    ভারতের সরকারের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কিছু দায়িত্ব সামলানোর পরও দীর্ঘদিন জনসমক্ষের বাইরে কাটানো একজন আমলার জন্য এটি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। প্রায় এক বছর ধরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে কুমার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ নামে দেশের ভোটার তালিকা সংশোধনের এক ব্যাপক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন।

    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার। ছবি: সংগৃহীত।
    ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার।

    গত বছর বিহার থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধনের এমন চর্চা বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ স্থানে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের মোট ভোটারের প্রায় ১৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, নকল এবং অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বৈধ ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তবে বিরোধী দলগুলো ও অধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, এর ফলে বৈধ ভোটাররা ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। তবে কুমার এবং কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়াটি বিকৃত করার সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    চলতি সপ্তাহে বিতর্কটি কুমারের নিজের প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই রূপ নেয়। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি তদন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে, তার দুই সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী তাদের অজান্তে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, এই মতবিরোধগুলো এসআইআর-এর মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ছিল— যার মধ্যে রয়েছে কীভাবে ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়া হচ্ছে, ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়ার পরিবর্তন এবং কোটি কোটি ভোটারের তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ।

    তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে এই ধরনের অভিযোগগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এখানে সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। কুমার ব্যক্তিগতভাবে এই তদন্তের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তদন্তের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমিশন প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতবিরোধ অস্বীকার করেনি, তবে কোনো অভ্যন্তরীণ ফাটলের কথা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে যে মতের পার্থক্য স্বাভাবিক আলোচনার অংশ এবং গত এক বছরের সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।

    পরবর্তীতে কুমার, সান্ধু এবং জোশী বৈঠক করেন এবং একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। কমিশন তিন কমিশনারের একসাথে একটি ছবিও প্রকাশ করে। তবে এই প্রতিক্রিয়া বিতর্কটির অবসান ঘটাতে পারেনি। গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলো সংসদে কুমারের অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দেশব্যাপী আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু নির্বাচন কমিশনের স্পষ্টীকরণকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের সততার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।

    কুমারের অতীত কর্মজীবন সম্পর্কে জানা যায়, তিনি উত্তরপ্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং আইআইটি কানপুরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার পর ১৯৮৮ সালে আইএএস-এ যোগ দেন। কেরালা ক্যাডারে তাঁর প্রাথমিক কর্মজীবনে এর্নাকুলামের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর হিসেবে কোচির ওয়াটারফ্রন্ট পুনর্বিকাশ অন্যতম একটি সফল প্রকল্প ছিল।

    পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জম্মু ও কাশ্মীর বিভাগে যোগ দেন এবং ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের খসড়া তৈরিতে জড়িত ছিলেন।

    এছাড়া ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের তদারকি ট্রাস্ট গঠনে তিনি নেতৃত্ব দেন। প্রাক্তন সহকর্মীরা তাকে অত্যন্ত পরিশ্রমী, বিস্তারিত বিষয়ে গভীর মনোযোগী এবং চাপের মুখে শান্ত থাকার ক্ষমতার জন্য প্রশংসা করেছেন।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসর নেওয়ার পর মার্চ মাসে তাকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন। ২০২৩ সালের নতুন আইনের অধীনে তিনি নিযুক্ত প্রথম সিইসি, যে আইন নিয়ে বিরোধী দলগুলো আপত্তি তুলেছিল এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিবেচনাধীন রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক সংস্কার এবং ‘ইসি ২.০’ উদ্যোগের সূচনা করলেও এসআইআর সংক্রান্ত বিতর্কটিই তার মেয়াদকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে।

    কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধ এবং এসআইআর সংশোধনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কমিশন দাবি করেছে যে সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে এবং আগামীতে সভার এজেন্ডা ও কার্যবিবরণী পূর্বেই প্রকাশের নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এই বিতর্ক কুমারের ভূমিকা ও ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

  • আরো এক উগ্র প্রজন্মের উত্থান ঘটছে ইসরাইলে

    আরো এক উগ্র প্রজন্মের উত্থান ঘটছে ইসরাইলে

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলে আদর্শগতভাবে উগ্র একটি নতুন প্রজন্মের উত্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

    কঠোরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি শিথিলভাবে সংগঠিত আন্দোলন ফিলিস্তিনিদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে। ‘হিলটপ ইয়ুথ’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্যই তরুণ। তাদের মধ্যে পশ্চিম তীরের বাইরের এলাকার কিছু স্কুলছুট তরুণও রয়েছে।

    ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত এই আন্দোলনের লক্ষ্য ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করা। এ জন্য তারা প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলি বসতিগুলোর বাইরে পাহাড়ের চূড়ায় অনুমোদনহীন নতুন বসতি বা ‘আউটপোস্ট’ গড়ে তোলে। এসব স্থাপনা সাধারণত অস্থায়ী তাঁবু দিয়ে তৈরি করা হয়।

    ১৯৯০-এর দশক থেকেই পশ্চিম তীরে মূলধারার বাইরে বসবাসকারী ইসরাইলিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী রয়েছে। তবে নতুন প্রজন্মের এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের সমর্থনকারী ইহুদি কর্মীদের সংগঠন ‘চিলড্রেন অব আব্রাহাম’-এর ডভির ওয়ারশাভস্কি।

    মঙ্গলবার ভোরে ১০০-এর বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি গ্রাম জালুদে হামলা চালায়। এতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন।

    ঘটনার সময় ইসরাইলি সেনারা একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সহায়তা করছিল। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পরিবারটি আগে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

    ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মসজিদ ও গির্জায় হামলার ঘটনাও বেড়েছে। এর জেরে ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে।

    সম্প্রতি ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, গত ১২ মাসে এই গোষ্ঠী ১৫৮টি ফিলিস্তিনি গ্রামে ৬৩৫টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৪০৯ জন ফিলিস্তিনি আহত এবং ৪৩৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। তবে এএফপি এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের খুব কম ক্ষেত্রেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ‘প্রায় ১৫০ জন কিশোর অপরাধীর’ কাজ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ফিলিস্তিনিদের সহিংসতা উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন।

    ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

    ইসরাইলি সরকার প্রায় ১৪০টি বসতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব বসতি অবৈধ। ইসরাইলি পর্যবেক্ষক সংগঠন পিস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি আইনেও অবৈধ এমন খামার ও ছোট বসতির সংখ্যা এখন প্রায় ৪০০।

    বহু বছর ধরে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা ইসরাইলি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৫ সালে ইসরাইল গাজা উপত্যকার ২১টি এবং পশ্চিম তীরের চারটি বসতি ভেঙে দেওয়ার পর এই আন্দোলন নতুন গতি পায়।

    একতরফাভাবে ওই বসতিগুলো থেকে ইসরাইলিদের সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে বসতি আন্দোলনের পুরোনো নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। হাজার হাজার ইসরাইলিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ আন্দোলনে নতুন একটি পর্যায়ের সূচনা করে।

    এরপর আরো বেশি আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারী সামনে আসে। তারা বসতি আন্দোলনের পুরোনো কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে। পুরোনো কৌশলের মূলনীতি ছিল—আরও বেশি মানুষ নিয়ে আরও বেশি বসতি গড়ে তোলা।

    এর বিপরীতে নতুন প্রজন্ম ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছোট ছোট অবৈধ বসতি ও কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়। এই কৌশলকে বলা হয় ‘সর্বোচ্চ জমিতে সর্বনিম্ন মানুষ’।

    ভেড়া ও ছাগলের পাল চরানোর মাধ্যমে ‘হিলটপ ইয়ুথ’ ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের মতো আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এসব সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব অর্থের কিছু অংশ অবৈধ খামার ও বসতিতে ব্যয় করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

    ‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, অবৈধ হওয়ার কারণে সরকার সরাসরি এসব স্থাপনায় অর্থ দিতে পারে না। তবে ‘বাকি সবকিছুর জন্য তারা অর্থ দেয়’—অর্থাৎ সড়ক, টহল গাড়ি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, সৌর প্যানেল ও ড্রোনের মতো অবকাঠামোতে অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব বসতিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

    তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত অনুদান ও অনলাইন গণ-অর্থসংগ্রহের মাধ্যমেও কিছু অর্থ আসে।

    সেনাবাহিনীর সুরক্ষার অভিযোগ

    ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের কয়েকজন নেতা ‘হিলটপ ইয়ুথ’ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে পশ্চিম তীরের তিনটি ইসরাইলি স্থানীয় পরিষদের প্রধান যৌথ বিবৃতি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, এই গোষ্ঠী বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে না।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলা এবং এরপর গাজা ও অন্যান্য ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি নিয়মিত সেনাদের একটি অংশ পশ্চিম তীর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এর ফলে বর্তমানে ইসরাইলি বসতিগুলোর আশপাশে টহল দেওয়া সেনাদের মধ্যে অনেকেই রিজার্ভ সেনা, যারা নিজেরাও বসতি স্থাপনকারী।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সেনাদের তুলনায় এসব রিজার্ভ সেনা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ বা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কম আগ্রহী।

    ‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আসলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না। তারা তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে চায় না।’

  • পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে

    পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের পদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে প্রত্যাশিত ছাঁটাইয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে বলে মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন পোস্ট, ফক্স নিউজ ও এবিসি নিউজকে জানান, বুধবার ভার্জিনিয়ার মেরিন কোর বেস কোয়ান্টিকোতে ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের পদ কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন হেগসেথ।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক ফক্স নিউজ ব্যক্তিত্ব হেগসেথ কঠোরভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বরখাস্ত ও পদাবনতি দিয়ে তিনি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। এসব পদক্ষেপে নারী ও বর্ণগত সংখ্যালঘু কর্মকর্তারা প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পরও হেগসেথ এপ্রিলে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন।

    যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের দুই সদস্য—চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস ব্রাউন জুনিয়র এবং নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তি—দুজনকেই বরখাস্ত করা হয়।

    এ ছাড়া অবসর ও পদত্যাগের মাধ্যমে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও দায়িত্ব ছাড়ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হেগসেথের সঙ্গে বারবার বিরোধের পর চলতি মাসের শুরুতে তিনি পদত্যাগ করেন।

    হেগসেথের এই ঘোষণার সম্ভাব্য সময় এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করছে। সম্প্রতি পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আগের ঘোষণার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগের স্বীকারোক্তির তুলনায় বেশি অস্ত্র হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নতুন করে কীভাবে এই ছাঁটাই করা হবে, তা এখনো ‘স্পষ্ট নয়’। যুদ্ধ চলাকালে সামরিক নেতৃত্বে এত বড় ধরনের কাটছাঁট দৈনন্দিন সামরিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাবে কি না, তাও অনিশ্চিত। এ বিষয়ে এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।

  • মার্কিন ভোটারদের চিঠি দিল ইরান

    মার্কিন ভোটারদের চিঠি দিল ইরান

    আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হটিয়ে দিতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ আহ্বান জানিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে খোলাচিঠি লিখেছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)।

    ইরানের প্রতিবেশী দেশ ইরাকের ঘাঁটিগুলো থেকে আজ বুধবারের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করার কথা। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর সরে এল যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এভাবে সরে আসাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের রাশ টানতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে বলে তিনি আশা করছেন।

    এর মধ্যে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে এ চিঠি লিখেছে আইআরজিসি। গতকাল মঙ্গলবার ২৬ পাতার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করুন ও বর্তমান নেতাদের দপ্তর থেকে হটান। সেই সঙ্গে ইসরায়েলকে সমর্থন ও বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আইআরজিসির এ চিঠি মার্কিন ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটা স্পষ্ট নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভোটার হয়তো ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিটি দেখবেন না। তবে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চিঠিতে এমন কিছু বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, যা আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি—উভয়ের জন্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। এমনটা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

    চিঠিতে আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী দুষ্ট, প্রতারক আর সহিংস রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। আপনার রাজনীতিবিদেরা যেন বুঝতে পারেন, পৃথিবী বদলে গেছে—এটা নিশ্চিত করুন।’

    ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না তিনি। সেই সঙ্গে চলমান সংঘাতের রাশ টানা ও মূল্যস্ফীতি কমানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। কথা রাখেননি ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

    ট্রাম্পের শুরু করা ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। যুদ্ধের রেশ ইরান ছাড়িয়ে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও পৌঁছে গেছে।

    ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এ জরিপে আরও দেখা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করছেন ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।

    ২০১৬ সালে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রচলিত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ইরাকে মার্কিন অভিযানকে ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরও আজ বুধবার ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় নেওয়া হয়েছিল।

    এর মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক আগ্রাসনের ২৩ বছর পর দেশটি থেকে পুরোপুরি সরে এল যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে ইরাকের দীর্ঘদিনের শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতন হয়। ইরাকজুড়ে দেখা দেয় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা। একপর্যায়ে দেশটিতে উত্থান ঘটে ইসলামিক স্টেটের (আইএস)।

  • আইফেল টাওয়ারের প্রধান পদত্যাগ করছেন, কারণ কী

    আইফেল টাওয়ারের প্রধান পদত্যাগ করছেন, কারণ কী

    নারী কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পদ ছাড়ছেন আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটির প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ব্রঁকো রুইভো। চলতি বছরের শেষেই তিনি পদ ছাড়বেন।

    প্যারিসের বিখ্যাত এই স্থাপনা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা রুইভো বছরের শেষে সরে দাঁড়াবেন।

    একটি হিন্দুধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদলের আইফেল টাওয়ার সফরকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। চলতি মাসের শুরুতে বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (বিএপিএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। ওই সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    পরে এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে এসইটিই। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তদন্তে সফরটি আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘কার্যক্রম পরিচালনায় ত্রুটি ও ঘাটতি’ পাওয়া গেছে। এ কারণে নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার মতো ‘অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

    বিএপিএস পুরুষ ও নারীদের কঠোরভাবে আলাদা রাখার নীতি অনুসরণ করে। তাদের মন্দিরের কার্যক্রম ও ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের পৃথক ব্যবস্থা আছে।

    এসইটিই তখন জানিয়েছিল, সফরটি এমনভাবে আয়োজনের অনুরোধ করেছিল প্রতিনিধিদলটি, যাতে ‘নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ’ সীমিত রাখা যায়। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছিল, ‘এ ধরনের শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি।’

    আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের একটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নারীদের তাঁদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল।’ এতে তাঁরা ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।

    কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি আইফেল টাওয়ারে অবস্থানকালে নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যেতে বা সেসব এলাকা দিয়ে চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে কর্মীরা ধর্মঘটে গেলে দর্শনার্থীদের জন্য আইফেল টাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রান্সের রাজনীতিকেরাও এ ঘটনার সমালোচনা করেন।

    কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত কারণে আইফেল টাওয়ার খুলতে দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। ফ্রান্সের প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, ৭ সেপ্টেম্বর

    কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত কারণে আইফেল টাওয়ার খুলতে দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

    ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে বলেন, ‘বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবির সঙ্গে তাল মেলাতে নারীদের এক পাশে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হবে, আমি তা মেনে নিতে পারি না।’

    প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার ঘটনাটিকে ‘অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এ বিষয়ে দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন।

    এসইটিইর চেয়ারম্যান অ্যারিয়েল ওয়েইল গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অ্যারিয়েল ওয়েইল বলেন, ‘নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন সবচেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য আগামী কয়েক মাসে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারব।’

  • মরক্কোয় প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা আল মানসুরি

    মরক্কোয় প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা আল মানসুরি

    মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মারাকেশের মেয়র ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরিকে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল জয়ী হওয়ার পর রাজকীয় মন্ত্রিসভা এ ঘোষণা দেয়।

    আল মানসুরির মধ্য-ডানপন্থী অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) নির্বাচনে ৩৯৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে তারা ৩১টি আসন বেশি পেয়েছে। তবে এ নির্বাচন গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রাজকীয় মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী আল মানসুরিকে ‘নতুন সরকার গঠনের’ দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি এর আগে আবাসনমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

    নিয়োগের পরপরই টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে আল মানসুরি বলেন, তার নিয়োগ ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।’

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পিএএমকে অন্যান্য দলের সাথে জোট সরকার গঠন করতে হবে। তবে বড় ধরনের নীতিগত বিষয়ে দেশটির রাজা এখনো ব্যাপক ক্ষমতা রাখেন।

    নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজ আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। আমরা প্রথমে আমাদের দলের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু করব। এরপর সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করব।’

    ২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠার বছরই আল মানসুরি দলটিতে যোগ দেন। দেশটির ইসলামপন্থী আন্দোলনের মোকাবেলায় ভারসাম্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বর্তমান রাজকীয় উপদেষ্টা ফুয়াদ আলি আল হিম্মা দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    আল মানসুরি ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন। ছয় বছর পর তিনি ওই পদ হারান এবং ২০২১ সালে আবারো মেয়র নির্বাচিত হন।

    আল মানসুরির সরকারকে বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পাশাপাশি বিশেষ করে তরুণদের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলা দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বৈষম্যসহ বেশ কয়েকটি জরুরি সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

    সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় কয়েক সপ্তাহ আগে হাজার হাজার প্রধানত তরুণ মরক্কোর অভিবাসী হঠাৎ প্রবেশের ঘটনার পর। ওই সঙ্কট দেশটির তরুণদের আর্থসামাজিক হতাশার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

    এর এক বছর আগে জেন-জি প্রজন্মের একটি প্রতিবাদ আন্দোলন রাস্তায় নেমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার দাবি জানিয়েছিল।

    আল মানসুরি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি সচেতন যে এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং মরক্কোর জনগণ, বিশেষ করে তরুণদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এ কারণেই আমরা এমন একটি কর্মসূচি গ্রহণ করব, যা নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান দেবে।’

    পিএএম পাঁচ বছরের মেয়াদে গড়ে বার্ষিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এবং কমপক্ষে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    নির্বাচনে পিএএমের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল র‌্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই)। দলটি বিদায়ী জোট সরকারের নেতৃত্বে ছিল এবং ৬৬টি আসন পেয়েছে।

    ডানপন্থী ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন নিয়ে তৃতীয় হয়েছে। আর ইসলামপন্থী বিরোধী দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) পেয়েছে ৫৪টি আসন।

    ২০২১ সালের নির্বাচনে মাত্র ১৩টি আসন পাওয়ার পর এবার পিজেডি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে দলটি তাদের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় করেছিল।

    দলটির প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানে এই ফলকে ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি পিএএমের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। পিএএম ‘জালিয়াতিতে কলঙ্কিত’ বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

  • নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

    নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

    যেকোনো সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের হুমকি মোকাবেলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং আরেকটি সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে নতুন সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি।

    একই সময়ে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের নিন্দা জানিয়েছে এবং এ সফরের পরিণাম সম্পর্কে আঞ্চলিক দেশগুলোকে ‘সতর্ক’ করেছে।

    এদিকে, আইআরজিসির তিনজন মহাকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির একজন মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রসম্ভার সমৃদ্ধ করা অব্যাহত রাখবে এবং ‘যেকোনো সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে নতুন অস্ত্র ব্যবহারের সূচনা করবে।’

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ‘ইরনা’ এই সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘ইরান তার প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ও গতিবিধি সম্পর্কে অজ্ঞ নয়, তারাও পর্যবেক্ষণ করছে।’

    গত কয়েক দিনে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তারা সঙ্ঘাতের সীমানা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

    তারা আরো দাবি করেছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে সঙ্ঘাতের সময় তারা প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।

    এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চলমান থাকায় এখনো কার্যত অচল হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে জ্বালানি আমদানির বিকল্প রুট হিসেবে সিরিয়ার একটি বন্দর থেকে ইরাক জ্বালানি স্থানান্তর শুরু করেছে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শক্তি ও জ্বালানির তীব্র চাহিদা মেটাতে ইরাকি জ্বালানি ট্যাংকারগুলো সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে পেট্রোল লোড করেছে।

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে, যার ফলে দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজে বের করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে এবং জ্বালানির দামও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

    যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুতকারী অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারার অধীনস্থ সিরিয়া এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছে।

    সেই সাথে অন্যান্য দেশের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে বানিয়াস বন্দর উন্মুক্ত করে দিয়েছে দেশটি। এখন আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারগুলোও এ বন্দর ব্যবহার করেছে।

    ইরাক গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলার জন্য বানিয়াস রুট ব্যবহার করে সড়কপথে ফুয়েল ট্রাকের মাধ্যমে বিদেশী বাজারে তেল রফতানি করেছে।

    এখন ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে তিন মাসের একটি চুক্তির ভিত্তিতে বাগদাদ সিরিয়ার মাধ্যমে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে। এ রুটে ইরাকের আমদানিকৃত পেট্রোলের প্রথম চালান বৃহস্পতিবার ইরাকে পৌঁছেছে।

    এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিনজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির মঙ্গলবারের এ ঘোষণায় উল্লেখ করা নামের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ মেহরাবির নাম, যিনি আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের জিহাদ গবেষণা সংস্থার প্রধান।

    দ্বিতীয় নাম আহমেদ জাফরাবাদি, যাকে আইআরজিসির এরোস্পেস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এটি আইআরজিসির এরোস্পেস ফোর্সের স্পেস কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি জাফরাবাদিকে নির্দেশ করছে নাকি ঘোষণায় উল্লিখিত অন্য কোনো ব্যক্তিকে, তা স্পষ্ট নয়।

    আলি আসগর নওরোজি, যিনি রেভোলিউশনারি গার্ডসের প্রস্তুতি ও সহায়তার ডেপুটি ডিরেক্টর, তিনি এ ঘোষণার তৃতীয় ব্যক্তি যার পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার মতো তথ্যের জন্য পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে ‘যুক্ত’ ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

    এ সনদের তালিকা মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল ঘোষণা করেছে এবং এর মধ্যে ইরান, মেক্সিকো, চীন ও পাকিস্তানের নাগরিকদের নাম রয়েছে।

    ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর, যা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে যাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে, যার মধ্যে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও রয়েছে।

  • আর্জেন্টিনায় বিদেশীদের জমি কেনার বিধিনিষেধ তুলে দিলো সুপ্রিম কোর্ট

    আর্জেন্টিনায় বিদেশীদের জমি কেনার বিধিনিষেধ তুলে দিলো সুপ্রিম কোর্ট

    আর্জেন্টিনার সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বিদেশীদের জমি কেনার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে নেয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন ও পরিবেশবাদীরা এর বিরোধিতা করছে।

    ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই মিলেই বিদেশীদের জমি মালিকানার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে দেন। এর আগে দেশের মোট জমির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশীদের মালিকানার অনুমতি ছিল।

    বিরোধী রাজনৈতিক দল ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। গ্রীষ্মকালজুড়ে তারা বিক্ষোভও করেছে। এসব বিক্ষোভে ‘দেশ বিক্রির জন্য নয়’ লেখা ব্যানার বহন করা হয়।

    সাংবিধানিক আইনজীবী আন্দ্রেস গিল দোমিঙ্গেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মঙ্গলবারের আদালতের সিদ্ধান্তের অর্থ হলো— যেকোনো বিদেশী ব্যক্তি, বিদেশী কোম্পানি বা বিদেশী রাষ্ট্র নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো গ্রামীণ জমি কিনতে পারবে। এমনকি সীমান্তবর্তী এলাকাতেও জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো সীমা থাকবে না।

    ২০২৫ সালে বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য গবেষকদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫ শতাংশ বর্তমানে বিদেশীদের মালিকানাধীন। আয়তনের দিক থেকে এই পরিমাণ জমি প্রায় ইংল্যান্ডের সমান।

    তবে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, দেশের কিছু অঞ্চলে বিদেশী মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ইতোমধ্যে ১৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানি ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য অথবা বন্দরসহ কৌশলগত পরিবহন সুবিধা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে বিদেশী মালিকানার হার বেশি।

  • হাসপাতালে ভর্তি মাহাথির

    হাসপাতালে ভর্তি মাহাথির

    মালয়েশিয়ার ১০১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ সাত দশকের জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর একদিন পরই বুধবার এ তথ্য জানান তার এক সহযোগী।

    দু’দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাহাথিরকে মঙ্গলবার রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয় বলে জানান তার সহযোগী সুফি ইউসফ। তবে আনুষ্ঠানিক রোগ নির্ণয় না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে ভর্তির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    সুফি বলেন, সোমবার স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলির মৃত্যুর পর মাহাথির পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেননি। এতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সুফি বলেন, ‘তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘মানসিকভাবে ওঠানামা, গরম আবহাওয়া এবং বিশ্রামের অভাবে তিনি খুবই ক্লান্ত। ১০১ বছর বয়সী একজন মানুষের জন্য এসবের সমন্বয় মোটেও ভালো নয়।’

    মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ ছিলেন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে সোচ্চার একজন ব্যক্তি। ১০০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। এই দম্পতির সাত সন্তান রয়েছে।

    স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত মাহাথিরকে কাঁদতে কাঁদতে দেশটির সাবেক রাজার কাছে বলতে দেখা যায়, ‘আমি আশা করিনি তিনি আজ মারা যাবেন।’ তার জানাজার সময় ধারণ করা ওই ভিডিও মাহাথিরের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাহাথির বেশ কয়েকবার হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগেছেন। তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। ১০১ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে পড়ে গিয়ে নিতম্বে চোট পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মাহাথির বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সে দায়িত্ব পালনকারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৯২ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

  • এল নিনোর ঝুঁকিতে লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ শিশু

    এল নিনোর ঝুঁকিতে লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ শিশু

    ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট তীব্র খরা ও বন্যায় লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

    এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত পরিবর্তন। এ সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে।

    এ বছর এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইউনিসেফ জানিয়েছে, লাতিন আমেরিকার প্রায় দুই কোটি ৫৮ লাখ শিশু, অর্থাৎ প্রতি সাত শিশুর একজন খরা ও বন্যার কারণে ‘ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির’ মুখে রয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে।

    ইউনিসেফের লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক রবার্তো বেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, এসব পরিস্থিতি আরো বেশি শিশুকে গভীর সঙ্কটের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে এবং বিদ্যমান বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

    অঞ্চলভেদে এর প্রভাব ভিন্ন
    এল নিনোর প্রভাব লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে পড়ছে। মধ্য আমেরিকার গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় খরার কারণে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দেশের অনেক শিশুই এরই মধ্যে পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ পানির সঙ্কটে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

    বলিভিয়া, কলম্বিয়া, চিলি ও ভেনিজুয়েলার কিছু এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। অন্যদিকে, অ্যামাজন অববাহিকায় নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী অনেক জনপদ বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

    আরো দক্ষিণে, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এতে স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইউনিসেফ জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে কিউবা ও হাইতিতেও মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে। এ বছরের অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুমেও এল নিনোর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    ইউনিসেফের কর্মকর্তা বেনেস সতর্ক করে বলেন, একটি বড় ঘূর্ণিঝড়ই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে এবং লাখ লাখ শিশুর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করতে পারে।

    লাতিন আমেরিকায় এল নিনো-সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাঁচ কোটি ৩৮ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। তবে ৩০ জুন পর্যন্ত সংস্থাটি এর মাত্র অর্ধেক অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর আবারো ক্ষমতায় ফেরার পর জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থার মতো ইউনিসেফও বড় ধরনের অর্থসঙ্কটের মুখে পড়েছে।

  • ইরানে সরকারবিরোধী ২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    ইরানে সরকারবিরোধী ২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    জানুয়ারিতে উত্তাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়।

    অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এক মাস আগে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

    বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানায়, আলী হেম্মাতি ও মাজিদ নিক-আন্দিশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ‘জানুয়ারির দাঙ্গায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় চার নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

    ওয়েবসাইটটি আরো জানায়, তারা দোকান, ব্যাংক, বাস ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এমনকি গাছেও আগুন ধরিয়ে দেন।

    সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা বহাল করার পর বুধবার ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তারা এ সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছে।

    তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

    তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা শুরু করে ইরানে । এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

    এরপর থেকে দেশটিতে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে। এসবের সাথে যুদ্ধ এবং বছরের শুরুর দিকের বিক্ষোভ—উভয়েরই যোগসূত্র রয়েছে।

    ইরান হিউম্যান রাইটস ও টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি নামের দু’টি বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে কমপক্ষে এক হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর কোনো এক বছরে এটিই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ ইরান।

  • পাইলটদের মধ্যে মারামারি সৌদিতে নামলো ইসরাইলী বিমান

    পাইলটদের মধ্যে মারামারি সৌদিতে নামলো ইসরাইলী বিমান

    দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটির দুই পাইলটের মধ্যে ‘সংঘর্ষ’ বা ‘হাতাহাতি’ হয়েছিল।

    ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি বুধবার ভোরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ফ্লাইট-পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি একটি জরুরি সংকেত পাঠায়।

    কয়েক মিনিট পর সেটি ছিনতাইয়ের ঘটনা জানানোর জন্য ব্যবহৃত একটি সংকেতে পরিবর্তিত হয়। পরে আবার সাধারণ জরুরি সংকেতে ফিরে যায়।

    ইসরাইলের স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাইলট ও সহ-পাইলটের মধ্যে একটি ‘বাগ্‌বিতণ্ডা’ বা ‘সংঘর্ষের’ জেরেই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রায় ১৫০ জন আরোহী নিয়ে ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। তবে সেটি সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের বেশিরভাগই ইসরাইলি।

    বিমানে থাকা একজন ইসরাইলি যাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের কাছে সহায়তা চান। পরে কয়েকজন যাত্রী একজন পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তাকে বেঁধে রাখতে সহায়তা করেন।

    এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সৌদি আরব থেকে ইসরাইলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।

    দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরো তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী জেরুসালেম পোস্টকে বলেন, একজন পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। তবে ককপিটের কাছাকাছি থাকা কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

    ওই প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বিমানের পেছনের দিকে আরো দু’জন পাইলট অবস্থান করছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘আমি তাদের দিকে চিৎকার করে বলেছিলাম যেন তারা দ্রুত গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

    একই যাত্রী আরো জানান, আহত পাইলটকে বিমানে থাকা একজন দন্তচিকিৎসক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়তা দেন।

  • থাইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ২৩ জনের মৃত্যু

    থাইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ২৩ জনের মৃত্যু

    থাইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো দেশটির রাজধানী ব্যাংকক। সেখান থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে ব্যাংককের প্রধান বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    দেশটির সরকার কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে। গত সপ্তাহে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ব্যাংককে প্রায় ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

    শহরের গভর্নর চাডচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন যে আগামী দুই দিনের মধ্যে ব্যাংককের প্রধান সড়কগুলো থেকে বন্যার পানি নেমে যাবে। তবে প্লাবিত অন্যান্য এলাকা থেকে পানি সরতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকায় পানি নেমে গেছে, সেখানে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে।’

    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যাংককেই মারা গেছেন চারজন।

  • উগান্ডায় রাজা হচ্ছেন সাংবাদিক

    উগান্ডায় রাজা হচ্ছেন সাংবাদিক

    দীর্ঘ পারিবারিক বিরোধ ও নাটকীয়তার অবসান ঘটছে উগান্ডায়। দেশটির ঐতিহাসিক তোরো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী প্রবীণ সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানাঙ্গোমা ন্যাবঙ্গো প্রথম। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ও সংবাদ পাঠক হিসেবে সুপরিচিত এই সাংবাদিকের সিংহাসনে আরোহণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    তোরো রাজ্যের যুবরাজ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও উগান্ডাবাসীর কাছে কিজানাঙ্গোমা দীর্ঘদিন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবেই জনপ্রিয় ছিলেন। মেকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগে ডিগ্রি নেওয়া এই সাংবাদিক দুই দশকেরও বেশি সময় টেলিভিশন উপস্থাপক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    গত মাসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা যান তোরোর দীর্ঘদিনের শাসক রাজা ওয়ো নিয়িম্বা। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

    রাজা ওয়োর মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে রাজপরিবারে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। প্রয়াত রাজার মা রানি বেস্ট কেমিগিসা দাবি করেন, টেক্সাসে অবস্থানরত রাজা ওয়োর নাবালক ছেলেকেই সিংহাসন দেওয়ার অসিয়ত করে গেছেন প্রয়াত রাজা।

    তবে বংশের ২১ সদস্যের ঐতিহ্যবাহী নির্বাচন কমিটি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তারা জানায়, কথিত সেই সন্তানের কোনো আইনগত বা আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে রীতি অনুযায়ী প্রয়াত রাজার চাচাতো ভাই কিজানাঙ্গোমাকে নতুন রাজা হিসেবে মনোনীত করা হয়।

    উগান্ডায় ঐতিহ্যবাহী রাজাদের কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও সমাজে তাদের ব্যাপক সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি এবং সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা প্রকাশ্যে নতুন রাজাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

    কিজানাঙ্গোমা জানান, সাংবাদিকতার দীর্ঘ ২২ বছরের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগকে তিনি এখন সাধারণ জনগণের উন্নয়ন ও রাজ্যের ঐক্যের কাজে ব্যবহার করতে চান। ঐতিহ্যবাহী প্রথা ও মহড়ার মাধ্যমে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক কারুজিকা রাজপ্রাসাদে সম্পন্ন হচ্ছে তার আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেক।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ৩০ দেশে ইরানের ফ্লাইট

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ৩০ দেশে ইরানের ফ্লাইট

    ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশটির বিমান চলাচলের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই কার্যকর হলেও দেশটির আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। খবর আরব নিউজের

    মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই তেহরান বিমানবন্দর থেকে এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ফ্লাইট সংখ্যা কমে গেলেও চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ এখনো চালু রয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ইরান কার্যত ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ’ হয়ে পড়বে। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় ওয়াশিংটন।

    এরপর বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় ইরানের সব বিমান সংস্থার কার্যক্রম ‘বন্ধ করে দেয়া হবে’। তিনি বলেন, ‘ইরানের বিমান যদি অবতরণ করে, তাহলে তাদের জ্বালানি দেওয়া যাবে না, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া যাবে না, তাদের কাছে টিকিট বিক্রিও করা যাবে না। অন্যথায় আপনাকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তেহরান সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ করার কথা জানিয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও শুধু তেহরান থেকেই প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে বলে তেহরানের দাবি করেছে।

    ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন করেছে বা সেখানে অবতরণ করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করেছিল। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার পর তেহরানের ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞায় ইরানের দুটি প্রধান বিমান সংস্থা—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরান এয়ার এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রোববার তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র পাঁচটি পরিচালনা করেছে মাহান এয়ার এবং দুটি ইরান এয়ার। নিষেধাজ্ঞার আগে দুই বিমান সংস্থাই প্রতিদিন প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত।

    অবশ্য এই সংখ্যা বেসেন্টের দেওয়া হিসাবের চেয়ে বেশি। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া বক্তব্যে তেহরান বিমানবন্দরের পরিচালক বলেন, ‘৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে এখনো ফ্লাইট চলাচল করছে।’

    এদিকে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ বলে আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। চীনা বিমানবন্দরগুলোতে মাহান এয়ারের ফ্লাইট চলাচলও অব্যাহত রয়েছে।

    রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গেও ইরানের ফ্লাইট চলাচল করছে। তবে এই দুই দেশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অবশ্য তুরস্কের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করেছে মাহান এয়ার। বিমান সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে। যদিও ইরান এয়ার এখনো প্রতিদিন ইস্তাম্বুলে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

    ইরানের আরও কয়েকটি ছোট বিমান সংস্থাও তুরস্কের অন্যান্য শহরে ফ্লাইট চালাচ্ছে। আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মালয়েশিয়ায় এখনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়নি। এসব দেশে মূলত ইরানের ছোট বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করে।

    এদিকে নিষেধাজ্ঞা না মানা দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পালটা কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। তবে ইরানি যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের সব ফ্লাইট ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্থগিত করেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে জমছে ইরাকের তেলের টাকা!

    যুক্তরাষ্ট্রে জমছে ইরাকের তেলের টাকা!

    দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরাকের তেল বিক্রির হাজার হাজার কোটি টাকা জমা হচ্ছে মার্কিন মুল্লুকের এক ব্যাংকে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া এই অদ্ভুত ব্যবস্থার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ওয়াশিংটনের হাতে। চাইলেও ইরাক রাতারাতি এই চক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না।

    কেন এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল

    ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকের তেল সম্পদ যাতে আন্তর্জাতিক পাওনাদার বা অন্য কারও কবজায় চলে না যায়, সেজন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছিল। জাতিসংঘের নিয়মে ইরাকের তেল বিক্রির সব টাকা চলে যায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন এবং পুরোনো দেনার হাত থেকে সম্পদ রক্ষা করা। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, এই ব্যবস্থাটিই এখন ইরাকের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

    টাকা সহজে সরাতে পারছে না কেন ইরাক

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেহেতু ডলারে পরিশোধ করা হয় এবং ইরাককেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ডলারের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাই তারা চাইলেই অন্য কোথাও টাকা সরাতে পারে না। তাছাড়া, সাদ্দাম আমলের কয়েক বিলিয়ন ডলারের পুরোনো ঋণ এখনো শোধ হয়নি। টাকা অন্য দেশে সরালেই তা বিদেশি পাওনাদারদের মামলার মুখে পড়তে পারে।

    চলতি বছরের এপ্রিলেও ওয়াশিংটন হঠাৎ করেই ইরাকের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালান আটকে দিয়েছিল। তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশল নেয়।

    সমাধান কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    বসরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ আহমেদ সাদ্দামের মতে, হুট করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ এতে পুরোনো ঋণদাতারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। তবে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, পুরোপুরি নির্ভরতা না কমিয়ে ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন কিছুটা ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে।

    সাধারণ মানুষের ভাবনা

    যুক্তরাষ্ট্রের এই খবরদারিতে ইরাকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলেও সাধারণ মানুষের ভাবনা আবার অন্যরকম। বাগদাদ কিংবা বসরার সাধারণ নাগরিকদের আশঙ্কা, মার্কিন ব্যাংকগুলোর কড়া নজরদারি উঠে গেলে এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেশের দুর্নীতিবাজ নেতাদের পকেটে চলে যাবে। তাই নিজেদের দেশের ব্যাংকগুলোর চেয়ে মার্কিন ব্যাংকেই টাকা নিরাপদে থাকুক এমনটাই চান অনেকে। দিনশেষে, এই গোলকধাঁধা শুধু ডলারের হিসাব নয়, এটি হয়ে উঠেছে ইরাকের সার্বিক সার্বভৌমত্বের এক বড় পরীক্ষা।

  • ইতিহাস গড়ল মাস্কের ‘স্টারশিপ’

    ইতিহাস গড়ল মাস্কের ‘স্টারশিপ’

    স্পেসএক্সের বিশাল স্টারশিপ রকেট এর ১৪তম টেস্ট ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছে নতুন স্টারলিংক স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করেছে।

    মহাকাশযানটির নিচের ধাপের সুপার হেভি বুস্টার রকেট থেকে আলাদা হওয়ার পর প্রধান তিনটি ইঞ্জিনের একটি অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১০ ঘণ্টার এই মানববিহীন মিশনটি কমিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেক্সিকো উপসাগরের স্টারবেজ কমপ্লেক্স থেকে ৪০ তলা সমান উঁচু এই রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

    মহাকাশে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের মূল ইঞ্জিনগুলোর একটি বন্ধ হয়ে গেলেও প্রকৌশলীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে অন্য ইঞ্জিনগুলো চালু করে যানটিকে সফলভাবে কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব হয়।

    কক্ষপথে পৌঁছে স্টারশিপ সফলভাবে ২৬টি পরবর্তী প্রজন্মের স্টারলিংক ভিথ্রি স্যাটেলাইট স্থাপন করে, যা এই রকেটের প্রথম কক্ষপথভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। স্টারশিপের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে ইলন মাস্ক ও স্পেসএক্সকে বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

    প্রশান্ত মহাসাগরে স্টারশিপের নিয়ন্ত্রিত অবতরণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক টেস্ট মিশনের সমাপ্তি ঘটে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে নভোচারী পাঠানো এবং স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট কার্যক্রমকে আরও দ্রুততর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা

    নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জোনাথন ম্যাককিনসি নামে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই ব্যক্তির শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাককিনসি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রকৌশল শাখার পরিচালক ছিলেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলে সান ফ্রান্সিসকো থেকে ৫৬ কিলোমিটার পূর্বে ডাবলিনের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জোনাথনের মরদেহ পাওয়া যায়।

    এ ঘটনায় জোনাথনের শ্বশুর-শাশুড়ি শৌইয়ং ঝাং ও শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দুজনেরই বয়স ৭৭ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চরম অবহেলার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া এবং শিশুকে বিপদের মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দম্পতির কোনো আইনজীবী আছেন কি না, তা জানা যায়নি। আগামীকাল বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে।

    জোনাথনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিও-টিভিকে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁরা পরপর বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। এরপর জোনাথনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।

    আসাদ রাজাওয়ি নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কেজিও-টিভিকে বলেন, ‘আমি দেখলাম, লোকটি মাটিতে পড়ে গেল। তার মাথা ও বুক রক্তাক্ত ছিল।’

    আসাদের মেয়ে বলেন, তাঁর বাবা ওই দম্পতিকে ‘একসঙ্গে হাঁটতে এবং গুলি চালানোর পর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে যেতে’ দেখেছেন।

    ঘটনার কয়েক মিনিট পর ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলার পরও তাঁরা ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই জোনাথনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁকে হত্যার কারণ বা সম্ভাব্য কোনো উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি পুলিশ।

    গ্রেপ্তার ওই দম্পতিকে সান্তা রিটা কারাগারে রাখা হয়েছে।

    সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স্ক ওই দম্পতির মেয়ে ক্যান্ডিস ঝাংয়ের সঙ্গে জোনাথনের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। এক সপ্তাহ পর ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল।

    আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা ২০১২ সাল থেকে বিবাহিত এবং তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।

    জোনাথন হত্যাকাণ্ডের পর ক্যান্ডিসের নামে থাকা ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।

  • ভারতে সিইসি ও মোদির পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

    ভারতে সিইসি ও মোদির পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

    ভোট চুরির অপরাধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস। আজ মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি বলেন, কমিশনকে চাপ দেওয়ার নৈতিক দায় মেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও পদত্যাগ করা উচিত।

    বৈঠকের পর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য কে সি বেনুগোপাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নামে যা চলেছে, তা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। এটা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেননি। তাই তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত।

    নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট কারচুপি’ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সবার আগে সরব হয়েছিলেন। কীভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শাসক দল বিজেপির সুবিধা করিয়ে দিচ্ছেন, রাহুল সেসব তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন। বৈঠকে সদস্যরা বলেন, সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সেই সব অভিযোগই সত্য প্রতিপন্ন করেছে।

    স্পষ্ট করেছে, ১০ মাস ধরে কমিশনে সব সিদ্ধান্ত কার্যত একজনই গ্রহণ করছিলেন। খাড়গে বৈঠকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার কার্যত শাসক দলের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। এই নির্বাচন ব্যবস্থায় ভারতীয় গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়েছে। কংগ্রেস এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়ার্কিং কমিটি যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তাতে বলা হয়েছে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে চলমান এসআইআর ব্যবস্থাও অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। প্রস্তাবে বলা হয়, শুধু এসআইআর বাতিলই নয়, যে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম এখনই তালিকায় তুলতে হবে।

    ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হয়ে এই নির্লজ্জ ভোট চুরির আয়োজন করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে দেশের সংবিধান ও কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে বাঁচানো যাবে না। ভোটাধিকার ফেরত পাওয়া স্বাধীনতাসংগ্রামের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই অধিকার রক্ষায় কংগ্রেস রাস্তায় নেমে যেমন আন্দোলন করবে, তেমনই লড়াই করবে আদালতের আঙিনায় ও সংসদে। দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই লড়াই থামবে না।

    কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের এক দিন পরই বুধবার বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক। যদিও সেই বৈঠকে আম আদমি পার্টি (আপ) ও তামিলনাড়ুর ডিএমকে যোগ দিচ্ছে না। আপ পাঞ্জাবে সরকারে রয়েছে। আগামী বছর সেখানে নির্বাচন। কংগ্রেস তাদের প্রতিপক্ষ। ডিএমকের হাত ছেড়ে কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে সরকার গড়তে টিভিকে–কে সমর্থন দেওয়ায় এম কে স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ। ইন্ডিয়া জোটের শরিক ডিএমকে আর থাকবে কি না, এখনো সেই সিদ্ধান্ত স্ট্যালিন নিয়ে উঠতে পারেননি।

    সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও বুধবারের বৈঠকে থাকবেন না। ওই দিন রাজ্যসভার ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণে দলীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁকে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন। তবে দলের অন্য কোনো নেতা ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির গৃহীত প্রস্তাবের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা সহমত হন কি না।

    মঙ্গলবার অন্য দুটি বিষয় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের চাপ এবং বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম ও জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে যে মামলা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চ তা দ্রুত শুনতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ওই মামলার শুনানি হবে।

    মামলার আবেদনে বলা হয়, কমিশনের সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়, না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের নিজের বিবৃতিই দেখাচ্ছে, ১০ মাস ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনেক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ফলে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    দ্বিতীয় চাপ ও বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছেন বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) এস চোকালিঙ্গম। মঙ্গলবার জানাজানি হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর চোকালিঙ্গম নির্বাচন কমিশনে এক চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ইআরও–দের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হোক। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এই খবর দিয়ে জানিয়েছে, ইআরওদের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চোকালিঙ্গম ‘ইসিআইনেট’ সফটওয়্যারে চারটি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি অন্য আধিকারিকের পাশাপাশি এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন আইটি ডিজি সীমা খান্নাকেও। এই সীমার বিরুদ্ধেই ‘ইসিআইনেট’ মারফত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ইতিমধ্যেই গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ইন্ডিয়া জোটও কমিশনবিরোধী আন্দোলন শুরুর জন্য ওই দিনটিকেই বেছে নেবে।

  • ড. সিতি মালয়েশিয়ার ইতিহাস : আনোয়ার ইব্রাহিম

    ড. সিতি মালয়েশিয়ার ইতিহাস : আনোয়ার ইব্রাহিম

    মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, সিতি হাসমাহর মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব, অকৃত্রিম ব্যক্তিত্ব ও জাতির প্রতি সেবা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সিতি হাসমাহ ছিলেন এক পথপ্রদর্শক রূপকার। মাহাথির মোহাম্মদের সাত দশকের দীর্ঘ দাম্পত্য ও রাজনৈতিক জীবনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে তিনি মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে গেছেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় তাদের পরিচয় এবং দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্যে তারা সাত সন্তানের জনক-জননী হন।

    সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে পুত্রাজায়ার পুসারা নেগারা বা জাতীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন সিতি হাসমাহ।

  • ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ককটেল নিক্ষেপ

    ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ককটেল নিক্ষেপ

    ফিলিস্তিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুগাইর গ্রামে রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলের দখলদারেরা। গতকাল সোমবার রাতে সেটেলার সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের একটি ঘরে মোলোটভ ককটেলে আগুন ধরিয়ে ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে নিক্ষেপ করে। এ সময় ওই ঘরে থাকা ফিলিস্তিনিরা ঘুমিয়ে ছিল।

    মোলোটভ ককটেলটি নিক্ষেপ করার পর তাদের ঘরের ভেতর আগুন ধরে যায়। এরপর ঘরে থাকা ফিলিস্তিনিরা তাদের জীবন বাঁচাতে ওই আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে থাকে। একই সময়ে বাড়ির বাইরে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন দেয় ইসরাইলি সন্ত্রাসীরা।

    ইহাব হাসান এক্স অ্যাকাউন্টে হামলার ব্যাপারে লিখেছেন, ফিলিস্তিনি একটি পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করতে সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতরে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করেছে।

  • রাখাইনে মিয়ানমার বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে নিহত ৪৯

    রাখাইনে মিয়ানমার বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে নিহত ৪৯

    মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কিয়াউকতাওর একটি মার্কেটে বোমাবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৪৯ জন এবং আহত হয়েছে ৫৮ জন।

    সোমবার এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি জানিয়েছে, সোমবার বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান কিয়াউকতাওর সেই মার্কেটের ওপর দুটি বোমা ফেলে, এতে মোট নিহত হয় ৪৯ জন এবং আহত হয় ৫৮ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহতদের মধ্যে সবাই বেসামরিক। তাদের কেউ সেই মার্কেটের অস্থায়ী দোকান ব্যবসায়ী, কেউ স্থায়ী ব্যবসায়ী এবং কেউ সাধারণ পথচারী।

  • যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে আর্জেন্টিনা

    যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে আর্জেন্টিনা

    ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি তেল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির হুমকি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রশাসনের অধীনে থাকলেও এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে বুয়েনস আইরেস।

    ১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ১০ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন নিহত হন।

    ফকল্যান্ডসের উপকূলের কাছে বড় একটি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের কাজ করছে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান নাভিটাস ও ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার। আর্জেন্টিনার হুমকি প্রত্যাখ্যান করে কোম্পানি দুটি বলেছে, যুক্তরাজ্য তাদের বৈধ অনুসন্ধান লাইসেন্স দিয়েছে।

    মিলেই সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘সি লায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর ফকল্যান্ডস অববাহিকায় আমাদের সম্পদ অবৈধভাবে লুট করার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম বা সালিশি পদক্ষেপ শুরু করতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আমাদের আইনজীবী দলকে নির্দেশ দিয়েছি।’

    সি লায়ন তেলক্ষেত্রটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার (১৩৭ মাইল) দূরে অবস্থিত। মিলেই আরো বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্য যদি এই অবৈধভাবে পরিচালিত সম্পদ আহরণ বন্ধ না করে, তাহলে আমরা সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যাব।’

    ব্রিটেন অনুমোদিত এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মিলেইর সরকার ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আর্জেন্টিনার যুক্তি, প্রকল্পটি জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে। ওই প্রস্তাবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপপুঞ্জে একতরফাভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফকল্যান্ডস ইস্যুতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনার কথা বলার পর ফকল্যান্ডসের ওপর নিজেদের দাবির বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বুয়েনস আইরেস।

    অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার ফকল্যান্ডসের কাছে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এসব প্রতিষ্ঠানের ‘নিজেদের ইচ্ছামতো প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ও উন্নয়নের অধিকার রয়েছে।’

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক

    দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক

    দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’। অনিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের ইস্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক নারী হত্যা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও অপরাধের প্রতিবাদে আগামী বুধবার ‘মেনস মার্চ’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

    এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরকে অনিবন্ধিত বিদেশিদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার ‘ডেডলাইন’ ঘোষণা করেছিল মার্চ অ্যান্ড মার্চ। তবে এই ডেডলাইনের কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার বা অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

    অন্যদিকে মার্চ অ্যান্ড মার্চ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে পুরুষদের বিশেষভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নারীদের হত্যা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুরুষদের নীরব না থেকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। গৌতেং ও কোয়াজুলু-নাটালসহ কয়েকটি এলাকায় মিছিলের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা।

  • আগামীকালের মধ্যে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার

    আগামীকালের মধ্যে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার

    ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এই প্রত্যাহারকে ইরান ও তার মিত্ররা বিজয় হিসেবে দেখছে।

    ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।

    ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকের কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি বলেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ‘ঐতিহাসিক বিজয়’। ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়ের’ সমাপ্তি উদযাপন করা হবে। বিদেশি সেনা দিয়ে ইরাকের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা যায় না; বরং প্রতিরোধ ও জনগণের ইচ্ছার মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

  • ইরান না পারলে কেউই পারবেনা-গালিবাফ

    ইরান না পারলে কেউই পারবেনা-গালিবাফ

    ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।

    গালিবাফ বলেন, ‘যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না।’

    ওয়াশিংটনের সাথে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান যখন তার তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তাটি এল।

    এর আগে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শূন্যে নেমে এসেছে।

    চলতি মাসের শুরুতেও গালিবাফ সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ও সম্পদ ইরানের পাল্টা জবাবের মুখে পড়তে পারে।

    এদিকে, ১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সামরিক সহায়তায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। অথচ ওয়াশিংটন যাকে তাদের ‘কঠোর অবরোধ’ বলে অভিহিত করে, তার আওতায় ইরান শূন্য ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন গালিবাফ। শনিবার ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরানের শর্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

    ইরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছে তেহরান।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসা নতুন কিছু ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরবেন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের শর্ত কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়েই এসব আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া মঙ্গলবার পাওয়ার আশা করছে তেহরান।

  • মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু

    মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু

    মিয়ানমারের প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীকে দেশটিতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। মিয়ানমারের সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে করা একটি চুক্তির আওতায় এই প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে।

    মিয়ানমারের নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ আজ মালয়েশিয়া ছাড়ার কথা রয়েছে। এসব জাহাজে প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত নেওয়া হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রত্যাবাসনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা সহিংসতা, নিপীড়ন এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগের ঝুঁকিতে পড়বেন।

    মালয়েশিয়া সরকার বলছে, প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছামূলক। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে এসব ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করা বা তাদের যাচাই-বাছাই করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গারা থাকবে। মিয়ানমারের এই নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক মানুষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

    আনোয়ারের জনপ্রিয়তা এ বছর ব্যাপকভাবে কমেছে। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা উপস্থিতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিরূপ মনোভাব বাড়ছে। তাই মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করা ছাড়া তার হাতে আর কোনো বিকল্প নেই।

    তবে এই পদক্ষেপ আনোয়ারের অবস্থানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাবেক রাজনৈতিক বন্দি আনোয়ার ইব্রাহিম অতীতে নিজেকে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার সরকারের আমলে মালয়েশিয়া মিন অং হ্লাইংয়ের শাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি। একই সঙ্গে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সোচ্চার দেশ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে মালয়েশিয়া।

    কী পরিবর্তন হয়েছে?

    এর পেছনে দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিম্নআয়ের মালয়েশীয়দের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের প্রতি অসন্তোষও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ সালের পর মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে অস্থিরতা বেড়েছে। ওই বছর ঐতিহাসিক এক নির্বাচনের মাধ্যমে ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)—ক্ষমতাচ্যুত হয়। দলটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এরপর দেশটিতে একের পর এক অস্থিতিশীল জোট সরকার গঠিত হয়েছে।

    জনমতের পরিবর্তন

    বহু বছর ধরে মিয়ানমারে নিপীড়িত মুসলিমদের প্রতি মালয়েশীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি ছিল। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একটি নৃশংস অভিযানে রাখাইন রাজ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

    পরবর্তী বছরগুলোতে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরগুলোর ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে যাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল, তাদের কেউ কেউ বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে আশ্রয় ও কাজের সন্ধান করেন।

    মালয়েশিয়ার নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌযান উপকূলে ভিড়তে বাধা দিয়ে আসছে। তারপরও অনেকে বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। দীর্ঘদিন তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছিল।

    বর্তমানে সেখানে ২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের অধিকাংশই দিনমজুরি বা অন্যান্য শারীরিক শ্রমের কাজ করে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে।

    তবে মহামারির সময় থেকেই মালয়েশীয়দের মনোভাব বদলাতে শুরু করে। মহামারি দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানে। নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে যখন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তীব্র ছিল, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বহিষ্কারের দাবিও ওঠে।

    এর প্রতিক্রিয়ায় তৎকালীন সরকারও কঠোর অবস্থান নেয়। তারা ঘোষণা করে, মালয়েশিয়া আর কোনো শরণার্থী গ্রহণ করতে পারবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে—এমন সন্দেহে বিভিন্ন রোহিঙ্গা বসতিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালেও অনেকটা একই ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে একটি অনলাইন অভিযোগে দাবি করা হয়, ঈদুল আজহার পর রোহিঙ্গারা পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে পরিষ্কার করেনি। এর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। সেখানে মিথ্যাভাবে দাবি করা হয়, রোহিঙ্গা নেতারা মালয়েশিয়ায় জমি ও নাগরিকত্ব দাবি করছেন।

    এর কিছুদিন পর Change.org-এ রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কারের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে ৪ লাখেরও বেশি স্বাক্ষর পড়ে। পরে পিটিশনটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

    চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার

    আনোয়ার ইব্রাহিম একসময় উদারনৈতিক মূল্যবোধের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে ধারণা করা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অপতথ্যের এই প্রবাহের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নেবেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সাথে মানবিকভাবে আচরণ করতে হবে।

    সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের গ্রেপ্তার করতে পারি, কিন্তু তাদের মারধর, ভয় দেখানো বা অপমান করা যাবে না।’তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতেই কর্মকর্তারা এমন আচরণ করছেন।

    তারপরও আনোয়ার জোর দিয়ে বলছেন, রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া থেকে বের করে দিতে হবে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা স্পষ্টভাবেই একটি বোঝা হয়ে উঠেছে—নিরাপত্তার বোঝা, অর্থনৈতিক বোঝা এবং জনগণের মধ্যে বৈরিতার একটি উৎস।’

    আনোয়ারের একসময়কার কিছু সমর্থক তার বিরুদ্ধে নিজের নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন। মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক প্রধান লতিফা কোয়া তার সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক, নীতিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

    তবে আনোয়ার বর্তমানে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। একসময় যাকে দীর্ঘদিনের ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো, তিনি শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন। তবে এর জন্য তাকে একসময়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইউএমএনওকে সঙ্গে নিয়ে একটি অস্বস্তিকর জোট গঠন করতে হয়।

    এরপর তার নিজের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তার দলও আসন হারিয়েছে। ২০২৮ সালের শুরুর দিকে তাকে অবশ্যই সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যান্ড এনগেজমেন্টের পরিচালক ত্রিশিয়া ইয়োহ বলেন, ‘তিনি এখন কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন এবং এটি তার সবচেয়ে দুর্বল সময়।’তার ভাষায়, ‘ইউএমএনওর অংশীদারদের কাছে তাকে ছাড় দিতে হয়েছে।… বেশ কয়েকটি দুর্নীতির কেলেঙ্কারি হয়েছে এবং তার নিজের দলও বিভক্ত। চার বছর ধরে তিনি ভোটারদের বলে আসছেন যে তার ভঙ্গুর জোট টিকিয়ে রাখতে এসব প্রয়োজন। এখন তারা আর সেই ব্যাখ্যা মেনে নিতে চাইছে না।’

    ইয়োহের মতে, মালয় জনগোষ্ঠী—যারা মোট ভোটারের অর্ধেকেরও বেশি—ইউএমএনওর দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক বয়ানের প্রতি সাড়া দিচ্ছে, যেখানে বলা হয়, তাদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের জাতিগত রাজনীতি বহিরাগতদের নিয়ে ভয় ও অসন্তোষ তৈরি করে।‘বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও আপনি একই ধরনের বক্তব্য শুনবেন—অভিবাসীরা আমাদের চাকরি নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়।’

    জোর করে ফেরত পাঠানো?

    তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের কীভাবে ফেরত পাঠানো হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবাধে চলাচলের অনুমতি নেই। তাদের কেবল বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়।

    কিন্তু বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরো অংশই আরাকান আর্মি নামের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। একই সঙ্গে সেখানে মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর অব্যাহত বোমাবর্ষণ চলছে। প্রত্যাবাসনের আগের দিন সোমবার আরাকান আর্মি জানিয়েছিল, কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজারে দুটি বোমা বিস্ফোরণে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন।

    রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে একমাত্র রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তের কথা ভাবা যেতে পারে। কিন্তু শহরটি অবরুদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সেখানেও রোহিঙ্গাদের অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত শিবিরে বসবাস করতে হয়, যেখানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরো আশঙ্কা করছে, প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে থাকা পুরুষদের মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ করে গৃহযুদ্ধে পাঠানো হতে পারে।

    মালয়েশিয়া বা মিয়ানমার—কোনো সরকারই ব্যাখ্যা করেনি, কীভাবে এই বিশাল প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে তাদের পরিকল্পিত প্রত্যাবাসন কীভাবে মানবিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

    রোহিঙ্গা শরণার্থী অধিকারকর্মী নুর সাদেক বলেন, ‘আমরা সবাই একদিন নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আমরা ফিরতে চাই নিরাপদ পরিবেশে এবং আমাদের নিজেদের পছন্দে—জোর করে নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ও অন্যান্য শরণার্থীদের কথা যেন শোনা হয় এবং তাদের মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা হয়।’

  • ‘গরু পশু নয়, আমাদের মা’

    ‘গরু পশু নয়, আমাদের মা’

    গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার দাবি প্রসঙ্গে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেছেন, কিছু মানুষ গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার কথা বলছেন; কিন্তু আমাদের কাছে গরু কোনো পশু নয়, বরং মা। আমাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক জন্ম-জন্মান্তরের।

    লক্ষ্ণৌতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) প্রাক্তন নেতা অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    যোগী আদিত্যনাথের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সনাতন ঐতিহ্যে গরু ইতিমধ্যেই মাতৃরূপে পূজিত। তাই এর জন্য কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই। ঠিক যেমন কোনো সন্তানকে তার মাকে চিনতে বা সম্মান করতে আলাদা করে বলতে হয় না, তেমনি গরুর মর্যাদাও স্বতঃসিদ্ধ।

    গঙ্গার সঙ্গে তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গঙ্গাকেও কেউ মা বলে চিনতে শেখায়নি। এগুলো আমাদের সভ্যতার মৌলিক মূল্যবোধ।’ যারা গরুকে শুধু পশু হিসেবে দেখেন, তাদের চিন্তাধারাই পশুসুলভ—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গোমাতা আমাদের জাতীয় মাতা। তার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দরকার নেই।’

    অনুষ্ঠানে গো-রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভক্তদের উচিত গো-সংরক্ষণ ও পালনে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশে গো-হত্যা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা এটিকে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে রাজনীতির মিশ্রণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, যোগী এর মাধ্যমে হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতি তার অটল অবস্থানই তুলে ধরেছেন।

    উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন মহল থেকে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি উঠেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রস্তাব তাদের বিবেচনায় নেই। বর্তমানে ভারতের জাতীয় পশু হিসেবে বাঘ স্বীকৃত।

  • ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির তালিকায় দুই ঈদ

    ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির তালিকায় দুই ঈদ

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম একটি আইনে স্বাক্ষর করার পর মুসলমানদের এই দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসব ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো।

    রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতর এবং ইসলামী বর্ষপঞ্জির শেষ মাস জিলহজে ঈদুল আজহা পালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই দুই উৎসব পালন করেন।

    নতুন আইনের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মীরা বিদ্যমান বেতনসহ ছুটির সুবিধা ব্যবহার করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো ঈদের দিন বন্ধ রাখা যাবে।

    তবে নতুন আইন অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার সব কর্মী অতিরিক্ত দুই দিন বেতনসহ ছুটি পাবেন—বিষয়টি এমন নয়। অঙ্গরাজ্য কর্মীরা আইনটির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার জন্য আট ঘণ্টা পর্যন্ত ছুটি নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভ্যাকেশন, বার্ষিক ছুটি, ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি কিংবা ব্যক্তিগত ছুটির ক্রেডিট ব্যবহার করা যাবে।

    এ ছাড়া ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ক্যালিফোর্নিয়ার বিচার বিভাগীয় ছুটির তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

    আইনটির প্রণেতা অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও উৎসবের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আইনটির সমর্থক আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের ক্যালিফোর্নিয়া শাখা (সিএআইআর-সিএ) সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এর ফলে মুসলিম শিক্ষার্থী ও কর্মীদের স্কুল ও কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঈদ উদযাপন করা সহজ হবে।

    সিএআইআর-সিএর দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১০ লাখের বেশি মুসলিম বাস করেন। সংগঠনটি নতুন আইনকে অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ক্যালিফোর্নিয়া লেজিসলেটিভ ইনফরমেশন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গভর্নর নিউসম গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবি ২০১৭ অনুমোদন করেন। একই দিন আইনটি অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেটের কাছে নথিভুক্ত করা হয়।