আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • বই পড়লেই টাকা!

    বই পড়লেই টাকা!

    মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। সরকারি একটি ওয়েবসাইটে বই পড়ার সময় নথিভুক্ত করলে অংশগ্রহণকারীদের অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো কমতে থাকা বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা এবং মানুষকে মোবাইল ফোনে অকারণে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার বদলে বই পড়ায় উৎসাহিত করা।

    চলতি মাসে চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে একজন অংশগ্রহণকারীকে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ একটি পড়ার সেশন নথিভুক্ত করা যাবে। এভাবে ৫০টি সেশন সম্পন্ন করলে পাওয়া যাবে ১ সিঙ্গাপুর ডলার। অর্থাৎ টাকার পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে আচরণবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থের পরিমাণ কম হলেও এটি মানুষের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    মনোবিজ্ঞানী ও ‘দ্য অ্যাংজাস জেনারেশন’ বইয়ের লেখক জনাথন হেইডট মনে করেন, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে পুরস্কার একটি আচরণ শুরু করার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। তবে বই পড়ার আনন্দ যদি নিজের মধ্যেই তৈরি হয়, তাহলে অর্থ না থাকলেও সেই অভ্যাস টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে শুধু অর্থের জন্য কেউ বই পড়লে পুরস্কার বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অভ্যাসও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

    ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লরি বারিলও মনে করেন, নিয়মিত কোনো আচরণ পুনরাবৃত্তি করলে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। তার মতে, সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো মানুষ পুরস্কার পাওয়ার সময় বেশি পড়ছে কি না, তা নয়; বরং পুরস্কার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তারা বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে পারছে কি না।

    সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আচরণগত মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আইভো ভ্লায়েভ বলেন, মানুষের আচরণে প্রণোদনার কার্যকারিতা সবসময় অর্থের পরিমাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তার মতে, সিঙ্গাপুরের কর্মসূচির অর্থকে প্রচলিত অর্থে বই পড়ার মজুরি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি মানুষকে কাজটি শুরু করার জন্য একটি ছোট ‘ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। পড়ার সময় নথিভুক্ত করা, অগ্রগতি দেখা এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বিষয়গুলো মানুষকে লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।

    এই কর্মসূচির ‘গ্যামিফিকেশন’ বা খেলাধুলার মতো পুরস্কারভিত্তিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিদিন ১৫ মিনিটের একটি সহজ লক্ষ্য, পড়ার ধারাবাহিকতা দেখা এবং নিজের অগ্রগতি অনুসরণ করার সুযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তাৎক্ষণিক আকর্ষণের একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    বিশেষ করে যারা আগে বই পড়তেন কিন্তু এখন পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আবার যারা বই পড়তে চান কিন্তু শুরু করতে পারছেন না, তাদেরও ছোট একটি তাৎক্ষণিক পুরস্কার সেই ইচ্ছাকে কাজে পরিণত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ব্রিটেনে বই পড়ায় উৎসাহ দিতে অর্থের পরিবর্তে অন্য ধরনের পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফিকেট এবং ‘রিডিং এজেন্সি’র সামার রিডিং চ্যালেঞ্জে ব্যাজ ও সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব উদ্যোগে মূল পুরস্কার হলো স্বীকৃতি ও অর্জনের অনুভূতি।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিঙ্গাপুরের উদ্যোগটি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। কোথাও অর্থ, কোথাও বই, কোথাও সার্টিফিকেট বা ব্যাজ এবং কোথাও শুধু পয়েন্ট ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রেখে তুলনা করা যেতে পারে। এতে কোন ধরনের প্রণোদনা মানুষের দীর্ঘস্থায়ী পড়ার অভ্যাস তৈরিতে বেশি কার্যকর, তা বোঝা সম্ভব হতে পারে।

    তবে সরকারের পক্ষ থেকে বই পড়ার জন্য অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্নও উঠছে—আনন্দ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য যে কাজ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে করে, সেটির জন্য কি সরকারকে আর্থিক পুরস্কার দিতে হবে? অধ্যাপক ক্যাটি মিলকম্যানের বলেছেন, সরকার যেহেতু শিক্ষার অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই ভর্তুকি দেয় এবং অর্থ ব্যয় করে, তাই বই পড়াকে উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়াকেও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে।

  • অমুসলিমদের ভয় কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদ উন্মুক্ত

    অমুসলিমদের ভয় কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদ উন্মুক্ত

    ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও মসজিদে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় মানুষকে ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দিতে একশর বেশি মসজিদ সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচির আওতায় লন্ডন, বার্মিংহাম, শেফিল্ড, ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, সাউথেন্ড ও কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে এই আয়োজন করা হয়।

    মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন আয়োজিত ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিটি এবার ১১ বছরে পড়েছে। মসজিদগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য চা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, আলোচনা, আন্তধর্মীয় কার্যক্রম, শিল্প প্রদর্শনী এবং মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবার এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

    উত্তর লন্ডনের লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গত তিন বছরে মসজিদটি একাধিক হামলা ও হয়রানির মুখে পড়েছে। এক ঘটনায় এক নারী মুসল্লিদের উদ্দেশে তাদের সন্তানদের হত্যার কথা বলেন। অন্য একটি ঘটনায় ভবনের গ্যাসের পাইপ খুলে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে গ্যাস জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব ঘটনার পরও মসজিদটি নিজেদের আরো বেশি মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ মুসলিম ও তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্কে অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন। এতে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম বলেন, বন্ধুত্ব ও সংহতি যে ঘৃণার চেয়ে শক্তিশালী—এটি দেখাতেই তাদের মসজিদ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তার মতে, মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, তখন অনেক প্রচলিত ধারণা ও ভয় দূর হতে শুরু করে।

    মসজিদের নিরাপত্তা নিয়েও মুসলিমদের উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ হামলার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভয় দেখানো, সহিংসতা, সম্পত্তির ক্ষতি, হয়রানি, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য, অনলাইনে নির্যাতন ও ভাঙচুর রয়েছে।

    গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চেডল মসজিদের ফারুক রফিক ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিকে এমন একটি জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মানুষ ভুল বোঝাবুঝির শিকার একটি ধর্ম ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান। ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবারও মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় উন্মুক্ততা, সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির মসজিদটি পরিচালনা করেন বিবি খান। তিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের সভাপতি হওয়া প্রথম নারী। তার মতে, গণমাধ্যমে অনেক সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তব চিত্র উঠে আসে না। তাই নিজেদের বিশ্বাস, কাজ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ওই মসজিদের আয়োজনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ নেন। সেখানে প্রায় দুই ডজন মানুষ গোলটেবিল আলোচনায় বসেন। যারা ইসলাম পালন করেন না, তাদের কেউ কেউ মসজিদ ও ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ থেকে সেখানে উপস্থিত হন। আয়োজনের সময় মসজিদে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল।

    অনুষ্ঠানে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। হ্যারিঙ্গে মুসলিম ও ইহুদি—দুই সম্প্রদায়ের বড় উপস্থিতি রয়েছে। বিবি খান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একসঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইহুদি প্রতিনিধি জুডিথ প্রিন্সলিও তার উপাসনালয়ের কাছে ইহুদিবিদ্বেষী গ্রাফিতি এবং উপাসকদের ভয় পাওয়ার কথা জানান।

    বিবি খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এ ধরনের গুজব ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মানুষের মধ্যে আরো ভয় ও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। এ কারণে মুসলিম ও অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

  • ভারতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতবর্ষী কবরস্থান

    ভারতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতবর্ষী কবরস্থান

    ভারতের কানপুরে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি কবরস্থান উচ্ছেদবিরোধী অভিযানের নামে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেছে কানপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেডিএ)। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কবরস্থান কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    কবরস্থান কমিটির দাবি, প্রায় এক শতাব্দী ধরে ওই স্থানে কবরস্থানটি রয়েছে। এর অস্তিত্ব ও মর্যাদার পক্ষে কয়েক দশক পুরোনো ঐতিহাসিক নথিও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। কমিটির পক্ষ থেকে কবরস্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি কেডিএর কাছে জমা দেওয়া হলেও সেগুলো উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। এতে কবরস্থানের বড় একটি অংশ ও সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    তবে কেডিএ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল এবং দখল উচ্ছেদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।

    কেডিএর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কবরস্থান কমিটি। তাদের বক্তব্য, কবরস্থানের মালিকানা ও অবস্থানসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি তাদের কাছে রয়েছে। এসব নথি ও আপত্তি জানানোর পরও কেন কবরস্থান ভেঙে ফেলা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।

    ঘটনাটি ঘিরে পুরোনো কবরস্থান ও ধর্মীয়-সামাজিক সম্পত্তি সুরক্ষা এবং কোনো স্থাপনা ভাঙার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কবরস্থান কমিটি জানিয়েছে, অবশিষ্ট জমি রক্ষায় তারা সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কবরস্থানটির সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে।

  • এআই নিয়ে চীন কেন এত চিন্তিত?

    এআই নিয়ে চীন কেন এত চিন্তিত?

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নতুন কিছু সক্ষমতা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং।

    যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক গবেষক।

    চীন এত দিন এআইয়ের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ঝুঁকি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল। এর মধ্যে ছিল ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা।

    তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা চীনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলো সাইবার হামলা চালাতে পারে—এমন প্রমাণ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একদল প্রোগ্রামার এআই ব্যবহার করে একটি সাইবার হামলার ‘ওয়ার্ম’ তৈরি করার কথা জানায়। এটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের লাখ লাখ অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে বলে তারা দাবি করে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন শু বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি।

    তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। চীনে সাধারণত এমন আলোচনা জনসমক্ষে ততটা দেখা যায় না।

    এআই দিয়ে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করা সাইবার হামলাকারী এজেন্ট তৈরি হলে সেটি চীনা সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশলবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক সুন চেংহাও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখন এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা তৈরি করছে। এতে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

    তবে এআই নিয়ে দুই দেশের তীব্র প্রতিযোগিতা সহযোগিতার পথে বাধা হতে পারে। বিশেষ করে এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থায় দুই দেশের সমন্বয় কঠিন হতে পারে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে এবং তিনি এই অবস্থান ধরে রাখতে চান।

    চীনের বিশেষজ্ঞ সুন চেংহাও বলেন, চীন আশঙ্কা করছে ‘নিরাপত্তা’র কথা বলে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সীমিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।

    চীন ইতিমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর কিছু নিয়ম করেছে। যেমন, কারও অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    বেইজিংভিত্তিক এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনকর্ডিয়া এআইয়ের প্রধান ব্রায়ান সে বলেন, চীনের এআই নীতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বর্তমান ক্ষতির বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়।

    তার মতে, চীন এআইকে এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখে, যা বিদ্যুৎ বা গাড়ির মতো সমাজ ও শিল্পের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করে বেইজিং।

    সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু ঘটনা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে এনেছে। এ কারণে চীনের নীতিনির্ধারকদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পাশাপাশি সাংহাইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ ও বাস্তববাদী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকবেই। তবে সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করা গেলে প্রযুক্তির নিরাপত্তা আরও বাড়বে।

    সাংহাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, উইচ্যাটে এআই দিয়ে সাইবার হামলার সম্ভাবনা সামনে আসা খারাপ বিষয় নয়। বরং এতে দুর্বলতা শনাক্ত করে তা ঠিক করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এআইয়ের ওপর কঠোর নিয়মের পক্ষেও অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তারা নিজেরাই যথেষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ নাও করতে পারে।

    সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্পায়ার্ড এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া জিজিয়ান বলেন, তার বড় উদ্বেগ হলো শক্তিশালী এআই মডেল দিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কোড ভেঙে ফেলা।

    তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একটি দেশের এআই সক্ষমতা খুব শক্তিশালী হলে অন্য দেশ নিজেকে নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল মনে করতে পারে।

  • ইসরায়েলের কাছে ৪০ হাজার বোমা বিক্রি আটকে দিলেন সিনেট

    ইসরায়েলের কাছে ৪০ হাজার বোমা বিক্রি আটকে দিলেন সিনেট

    ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এতে বাধা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল। একই অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের তাঁর সমপদস্থ সদস্যও। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল সরকারের প্রতি গভীর অনাস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় বেসামরিক মানুষের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    প্রস্তাবিত অস্ত্রের চালানের মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার এক টন ওজনের বোমা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় এসব বোমা ইসরায়েলকে দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল। গাজা উপত্যকায় বিপুল প্রাণহানির পেছনে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে আনুমানিক ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এই হিসাবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।

    সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট হিসেবে শ্যাহিনের নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অর্থমূল্যের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত এটি একটি অনানুষ্ঠানিক পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র দপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতার উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করে এবং অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগে তার সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করে।

    সেমাফোর প্রথম জানায়, শ্যাহিন এই অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন এবং তিনি গত জুলাইয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শ্যাহিনের সমপদস্থ সদস্য প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস গত বুধবার বিরল এক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে জানান, তিনিও এই সামরিক অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন। মিকস বলেন, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মার্কিন আইন অনুযায়ী ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শ্যাহিনের কাছে মিকসের এই পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। জবাবে শ্যাহিন বলেন, ‘ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘গাজায় তারা যা করছে, সিরিয়ার মতো জায়গায় তারা যে বোমাবর্ষণ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর অর্থ কী দাঁড়ায়, বিশেষ করে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনার জন্য এর অর্থ কী, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

    শ্যাহিন আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন আমরা তা পছন্দ করি না। পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, সেটিও আমরা পছন্দ করি না। সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং মৌলিক অবকাঠামো ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। আর নেতানিয়াহু প্রশাসন এসব সমস্যা সমাধানে মূলত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।’

  • দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নিরঙ্কশ জয়

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নিরঙ্কশ জয়

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডিইউসিইউ) নির্বাচনে চারটি প্যানেল পদের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। তবে সহসভাপতি পদে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া-এনএসইউআইয়ের টিকিট না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী দীপাংশু শোকিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। ফলে চারটি পদের একটিতেও জয় পায়নি এনএসইউআই।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়েছে, সহসভাপতি পদে দীপাংশু শোকিন ৩০ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এবিভিপির ইশু মৌরিয়া পান ১৬ হাজার ৯১০ ভোট। শোকিনের পরিবর্তে এনএসইউআইয়ের টিকিট পাওয়া বীর চত্রথ ৪ হাজার ৩১৩ ভোট নিয়ে তৃতীয় হন।

    যুগ্ম সম্পাদক পদেও এনএসইউআইয়ের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সংগঠনটির প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিশেষ যাদব ১৫ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এনএসইউআইয়ের গোপাল চৌধুরী পান ১৫ হাজার ২০৬ ভোট। ১৬ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে পদটি জয় করেন এবিভিপির লক্ষ্য রাজ সিং।

    এর আগে প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া নিয়ে এনএসইউআইয়ের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের ফলাফলে সেই বিতর্ক আরও সামনে আসে। বিশেষ করে সহসভাপতি পদে এনএসইউআইয়ের মনোনীত প্রার্থী বির চত্রথের তুলনায় দলীয় টিকিট না পাওয়া শোকিনের বিপুল ভোটের ব্যবধান সংগঠনটির প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    ডিইউসিইউ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নেতৃত্বাধীন জেন-জি আন্দোলনের কয়েক সপ্তাহ পর। এ কারণে অনেকের কাছে নির্বাচনটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে এবিভিপির জয়ের পর বিজেপির শীর্ষ নেতারা ফলাফলকে ‘নেশন ফার্স্ট’ আদর্শের প্রতি তরুণদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শিক্ষার্থীরা ‘মিথ্যার গুঞ্জন’ ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ডিইউসিইউ নির্বাচন একটি ‘গণভোট’ এবং এতে তরুণদের কণ্ঠস্বর প্রকাশ পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। তাই এই নির্বাচনের রায় গোটা ভারতের তরুণদের মনোভাবের প্রতিফলন।

    তাঁর ভাষ্য, এবিভিপির জয় এমন শক্তিগুলোর প্রতি বার্তা, যারা তরুণদের শক্তিকে ‘দেশবিরোধী এজেন্ডা’র জন্য ব্যবহার করতে চায়। শাহ আরও বলেন, এবিভিপির কর্মীরা এই জয় থেকে নতুন শক্তি নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দেশ গঠনের কাজ এগিয়ে নেবেন।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও এবিভিপির জয়কে ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতির প্রতি তরুণদের অটুট আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, এই ফল ‘নেশন ফার্স্ট’-এর চেতনায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির প্রতি তরুণদের অব্যাহত আস্থা এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অবদান রাখার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।

  • আল-আকসায় নেতানিয়াহু হামাসের নিন্দা

    আল-আকসায় নেতানিয়াহু হামাসের নিন্দা

    রোববার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, কয়েকজন মন্ত্রী এবং হাজার হাজার ইসরাইলি পশ্চিম দেয়াল চত্বরে প্রবেশ করেন। ফিলিস্তিনের জেরুজালেম গভর্নরেট এ তথ্য জানিয়েছে।


    আল জাজিরা (২০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, হামাস তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, নেতানিয়াহু ‘পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও আল-বুরাক দেয়ালের নিচে থাকা সুড়ঙ্গ এবং খননস্থলে প্রবেশ করেছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এটি পবিত্র স্থানটির পরিচয় ও মর্যাদার ওপর স্পষ্ট ও নির্লজ্জ হামলা।’

    হামাস বলেছে, ‘আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ, নামাজের স্থান, দেয়াল ও ফটকসহ পুরো মসজিদ, একান্তভাবে ইসলামী মসজিদ হিসেবেই থাকবে।’

    সংগঠনটি আরো বলেছে, ‘এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। দখলদারদের খননকাজ, অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় আচার এবং বাইবেলভিত্তিক বয়ান চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা কখনোই এই স্থানের পরিচয় পরিবর্তন করতে পারবে না। একইসাথে এর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো মুছে ফেলতেও সফল হবে না।’

  • হঠাৎ ছুটি বাতিল, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

    হঠাৎ ছুটি বাতিল, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

    ক্যাম্প ডেভিডে অবকাশ যাপন করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হঠাৎ তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে অপ্রত্যাশিতভাবে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী রোববার তার ওয়াশিংটনে ফেরার কথা থাকলেও হঠাৎ শনিবারই ফিরে আসার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি।

    মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় তিনি তার সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

    মেরিল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্টের সংরক্ষিত অবকাশ কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিড। শনিবার ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর নিশ্চিত করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

    একই সময়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এর পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। উত্তপ্ত এই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মাঝেই নিজের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে তড়িঘড়ি ওয়াশিংটনে ফিরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ শর্ত

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ শর্ত

    যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিয়েছে ইরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য তেহরান তাদের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। এখন তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। ওদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    মোহসেন রেজাই রোববার ভোরে এক্সে দেয়া এক পোস্টে তাদের শর্তের বিষয়ে জানান। তিনি লিখেছেন, তেহরানের বার্তা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। ওয়াশিংটন যদি নিজের তৈরি করা জটিলতা থেকে বের হতে চায় এবং এতে আরও জড়িয়ে পড়তে না চায়, তাহলে ইরানের অধিকার ও শর্ত মেনে নেয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। রেজাই আরও বলেছেন, ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে জড়িয়ে চলা সংঘাতও বন্ধ করতে হবে। শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রেজাই বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কাছে আমাদের শর্ত পৌঁছে দিতে মধ্যস্থতাকারী কাতারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি।

    তিনি আরও বলেন, এই শর্তগুলো মেনে নিতে হবে ওয়াশিংটনের স্বার্থেই। ট্রাম্পের হুমকি কোনো ফল বয়ে আনবে না। আমরা চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। রেজাই আরও বলেছেন, ইরানের সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার সম্ভাবনা ‘খুবই প্রবল’। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান নতুন একটি কৌশল নিয়ে কাজ করছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮শে ফেব্রুয়ারি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনী যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন। এর জবাবে ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা ও সম্পদে হামলা চালায়।

    যুদ্ধ বন্ধে ১৭ই জুন ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফা একটি চুক্তিতে সই করেন। ওই চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে ৮ই জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওই চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।

    ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চুক্তির অধীনে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার যে প্রতিশ্রুতি তেহরান দিয়েছিল, ইরান তা পালন করেনি। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে না দেয়া।

  • আলিমা খান আটক

    আলিমা খান আটক

    পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার, ১৯৬০ (এমপিও)-এর ৩ নম্বর ধারায় আটক করেছে পুলিশ। দলের সূত্র রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, লাহোরের আপার মলে নিজ বাসা থেকে জিমে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার পর আলিমাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কোট লাখপত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা জানায়, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার বোনকে লিটন রোড থানা পুলিশ আটক করে।

    পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার আরেক বোন নূরিন নিয়াজি জিও নিউজকে বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আলিমাকে আটক করা হয়। পরে তিনি খবর পান, তাকে কোট লাখপত কারাগারে নেয়া হয়েছে। সরকারের উদ্দেশে নূরিন বলেন, তারা কেন এত উদ্বিগ্ন যে নারীদেরও গ্রেপ্তার করছে, তা আমি জানি না।

    তিনি জানান, পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলি খান তাকে ফোন করে আলিমার গ্রেপ্তারকে ঘিরে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। নূরিন বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপে আমরা ভয় পাই না। আমরা সবসময় আমাদের ভাইয়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

    এদিকে পিটিআই প্রধান বলেন, আলিমাকে গ্রেপ্তার বা আটকে রাখা সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়ানোর শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলিমা খানের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর দিকে এটি প্রথম পদক্ষেপ বলেও জানানো হয়।

    এর আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে মত দেন ব্যারিস্টার গওহর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ ‘শীতল’ থাকায় আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। পেশোয়ারে জিও নিউজকে পিটিআই প্রধান বলেন, আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ শীতল। কোনো সমাধান বের করা সম্ভব হয়নি।

    ব্যারিস্টার গওহর বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকেই কিছুটা করে ছাড় দিতে হবে। ওদিকে তার সাবেক ক্ষমতাসীন দল দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৭শে সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে পদযাত্রার কর্মসূচি দিয়েছে। দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। পেন্টাগন গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা রয়েছে, এমন দুটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানায়।

    সূত্র দুটি জানায়, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এ ছাড়া অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

    তবে এ হিসাব চলমান ইরান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ খরচের খতিয়ান নয়। কেননা, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও ভবন মেরামতের খরচ এতে ধরা হয়নি। গত জুলাইয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইরান যুদ্ধে তখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

    একটি সূত্র জানায়, ইরানে টানা সামরিক অভিযানের পরোক্ষ খরচের বিস্তারিত হিসাব কংগ্রেসকে জানায়নি পেন্টাগন। অথচ মার্কিন আইনপ্রণেতারা পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়েছিলেন।

    পেন্টাগনের দেওয়া ইরান যুদ্ধে এ ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচের হিসাব মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি। সিবিও বলেছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।

    সিবিওর হিসাবেও যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা মেরামতের খরচ ধরা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, মোট খরচের বড় অংশ গেছে যুদ্ধাস্ত্র কেনা ও সেসব ব্যবহারের পেছনে। সিবিও আরও জানিয়েছে, ১ আগস্টের পর ইরান যুদ্ধ চলমান থাকলে প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। লড়াই জোরালো হলে এ খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আইনপ্রণেতাদের সিবিও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এমন এক সময় এ বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ অর্থনীতি নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তাদের প্রথম দিনের হামলাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন নেতা, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

    ইরানও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে। যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধ এখন ছড়িয়ে পড়েছে কার্যত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে।

    যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বেড়ে গেছে জ্বালানির দাম। যুদ্ধ থামাতে ওমান, কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এখনো সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

  • কঠিন হয়ে উঠছে ভারতের দিন

    কঠিন হয়ে উঠছে ভারতের দিন

    রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের চেয়ে বেশি তেল কেনে চীন। নতুন আইনটি চীনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভারতের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর যে চাপ দিচ্ছে, চীনের ওপরও কি একই চাপ দেবে।

    প্রশ্নটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারত বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে। চীনের শক্তি মোকাবিলার কৌশল হিসেবেই ভারত এটি করেছে।

    গত সপ্তাহের শেষ দিকে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যোগ দেন চীনের নেতা সি চিন পিং আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিন নেতা একসঙ্গে ছবি তোলেন। এটি ছিল পশ্চিমাদের বাইরের দেশগুলোর সহযোগিতার স্পষ্ট প্রদর্শন।

    আশঙ্কা ও চুক্তি

    ব্রিকসের বড় দেশগুলোর মধ্যে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার শক্তিশালী কৌশলগত কারণ রয়েছে।

    জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সি রাজা মোহন বলেন, ভারতকে দুটি অস্বস্তিকর বিকল্পের একটি বেছে নিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি কি যুক্তরাষ্ট্রের কড়াই থেকে লাফ দিয়ে চীনের আগুনে পড়তে চান?’

    চীনের শক্তি বাড়ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বড় কারণ রয়েছে ভারতের।

    কিন্তু জ্বালানি ও বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি বদলাচ্ছে। এতে নয়াদিল্লিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা হলেও সেটি কত দিন টিকবে?

    এ বিষয়ে অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্থির না হওয়া পর্যন্ত ভারতের কোনো চুক্তি করা উচিত হবে না।

  • শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

    শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকবে বলে জানান গালিবাফ।

    তিনি বলেন, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের বার্তা ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ। যতক্ষণ না এই শর্তগুলো পূরণ করা হচ্ছে, ইরানি জাতির বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া কিংবা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক কিছু শর্ত পাঠায় ইরান।

    শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, ‘আমাদের শর্ত হলোÑসব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।’

  • ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ঔপনিবেশিক দেশগুলোর

    ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ঔপনিবেশিক দেশগুলোর

    দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচারের দাবি জোরদার করছে ক্যারিবীয় দেশগুলো। দাবি আদায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আইনি পথেও এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশগুলো। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতেও যাওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

    বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত তিন দিনের এক আঞ্চলিক সম্মেলনে ক্যারিবীয় নেতারা এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি আয়োজন করে ক্যারিকম রিপারেশনস কমিশন, বার্বাডোস সরকার ও ক্যারিকম সচিবালয়।

    ক্যারিবীয় নেতাদের দাবি, আটলান্টিক দাস বাণিজ্য ও দাসপ্রথার ফলে তাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে, তার স্বীকৃতি ও প্রতিকার প্রয়োজন। বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ঐতিহাসিক দায় স্বীকার, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, সাংস্কৃতিক সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং দাসপ্রথার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ও যুক্ত।

    বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোটলি বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্রিটেনকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করা নয়; বরং ঐতিহাসিক অন্যায়ের স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় ক্যারিবীয় অঞ্চলে আফ্রিকানদের শ্রম ও জীবনের ব্যাপক শোষণের কথা তুলে ধরেন।

    ক্যারিকমের সংশোধিত ১০ দফা পরিকল্পনায় ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেরত দেওয়া, দাসপ্রথার কারণে সৃষ্ট বৈষম্য মোকাবিলা এবং নারী ও শিশুদের ওপর দাসপ্রথার বিশেষ প্রভাবের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পনাটিকে ‘রিপারেটরি জাস্টিস’ বা ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের একটি কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

    আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও এবার গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্যারিবীয় নেতাদের আলোচনায় যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইনি উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে জ্যামাইকা ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে একটি আবেদন করেছে। ওই আবেদনে ব্রিটিশ শাসনামলে আফ্রিকানদের জোরপূর্বক জ্যামাইকায় নিয়ে যাওয়া বৈধ ছিল কি না এবং ব্রিটেনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো আইনগত দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আইনি মতামত চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হলো, যুক্তরাজ্য দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেবে না। ফলে ক্যারিবীয় দেশগুলোর নতুন উদ্যোগের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

    দাসপ্রথা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আফ্রিকানদের দাস বাণিজ্য ও বর্ণভিত্তিক দাসপ্রথাকে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। ক্যারিবীয় নেতারা এই সিদ্ধান্তকে তাদের ক্ষতিপূরণ দাবির আইনি ও নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

    এর আগে জুন মাসে ঘানার রাজধানী আক্রায় আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোর নেতারা দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিকতার ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি বৈশ্বিক কাঠামো গ্রহণ করেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিপূরণ, সাংস্কৃতিক সম্পদ ফেরত এবং ঋণের বোঝা কমানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    ক্যারিবীয় নেতাদের এই উদ্যোগের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকে রাজা তৃতীয় চার্লসের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ক্যারিবীয় দেশগুলো সেখানে দাসপ্রথা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচনায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ক্যারিবীয় দেশগুলোর বর্তমান উদ্যোগ তাই শুধু অতীতের দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ দাবি নয়; বরং দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের স্বীকৃতি, বৈষম্য কমানো এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান অবস্থানের কারণে এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে।

  • গ্রিনল্যান্ডে সেনা ঘাঁটি স্থাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র

    গ্রিনল্যান্ডে সেনা ঘাঁটি স্থাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে না বলে জানিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকার করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার চুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বহাল থাকবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, চুক্তিটি ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনও বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখা সম্মান করা হবে।

    চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সেখানে নিজস্ব সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঠিক কতটা বাড়বে, কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে কিংবা নতুন কোনো সামরিক স্থাপনা কোথায় তৈরি হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    চুক্তিটির আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও স্পষ্টতা নেই। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের পর এর প্রকৃত পরিধি আরও পরিষ্কার হবে।

    গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলের অত্যন্ত কৌশলগত একটি ভূখণ্ড। এর ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। বরফ গলার কারণে আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথের সম্ভাবনাও বাড়ছে। এসব কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহ বেড়েছে।

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ছিল। বর্তমানে দেশটি গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে পিটুফিক স্পেস বেসে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এই ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্প এর আগে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হয়। পরে ডেনমার্কসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য পাঠায়।

    নতুন চুক্তিটি সেই দীর্ঘ উত্তেজনা কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। জোটটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটি কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংসদীয় অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

    ফলে আপাতত গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনেই থাকছে এবং এর জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও বহাল থাকছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পথ তৈরি হয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ভূমিকা বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে।

  • গাজায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে তাবুতে

    গাজায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে তাবুতে

    তিন বছর বন্ধ থাকার পর গাজা উপত্যকায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। তবে যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে স্বাভাবিক শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। স্কুল ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে তাঁবুভিত্তিক অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ। শনিবার গাজা সিটিতে এসব তাঁবুতে শিক্ষার্থীদের পাঠ নিতে দেখা গেছে।

    ফিলিস্তিনের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকাজুড়ে প্রায় ৭০০টি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। এসব অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে এমন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের নিয়মিত স্কুল যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস অথবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে গাজায় প্রায় ৫ লাখ ৪১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং অনলাইন—দুই পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গাজার ভেতরে যারা সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না এবং উপত্যকার বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী গাজার ভেতর থেকে এবং ২০ হাজার শিক্ষার্থী গাজার বাইরে থেকে অনলাইন শিক্ষায় যুক্ত হবে।

    তবে সরাসরি শিক্ষাদানই প্রধান পদ্ধতি হিসেবে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আরো ২৫টি অস্থায়ী স্কুল শিগগির চালু করার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় শিক্ষাদানের কারণে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ও পিছিয়েছে।

    যুদ্ধের আগে গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৯২ শতাংশ স্কুল ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ৫৮ হাজার শিশু যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    যুদ্ধের কারণে শুধু স্কুল ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, শিক্ষা কার্যক্রমের সময়ও ব্যাপকভাবে কমেছে। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৩–২০২৬ সময়ে বছরে স্বাভাবিক ২০০ শিক্ষাদিবস থেকে তা কমে প্রায় ৬০ দিনে নেমে এসেছে। সাপ্তাহিক ক্লাসের সময়ও ৩০ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টায় কমেছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লক্ষ্য শুধু স্কুল পুনর্নির্মাণ নয়; বরং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যা যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া শেখার ঘাটতিও পূরণ করতে পারে। এ জন্য অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, তাঁবু, আংশিকভাবে ব্যবহারযোগ্য স্কুল এবং অনলাইন শিক্ষাকে মিলিয়ে একটি ‘নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ। গাজার আল-আকসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওমর দাহলান মনে করেন, দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল শিক্ষার পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুদের মৌলিক শেখার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, শুধু দ্রুতগতিতে পুরোনো পাঠ শেষ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কোন কোন মৌলিক দক্ষতা হারিয়েছে, তা নির্ণয় করে পৃথকভাবে তা পূরণের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষগুলোতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। গাজার আল-হাদারা স্কুলে শিক্ষার্থীরা ছোট তাঁবুতে দুই শিফটে ক্লাস করে এবং অনেক শিক্ষার্থী মেঝেতে বসে লেখাপড়া করে। পর্যাপ্ত বেঞ্চ-চেয়ার, বই, খাতা, কলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণেরও ঘাটতি রয়েছে।

    তবু দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গাজার নতুন শিক্ষাবর্ষ তাই শুধু পাঠদান পুনরায় শুরুর ঘটনা নয়; যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়া একটি শিক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে সীমিত সম্পদে আবার সচল হওয়ার চেষ্টা করছে, তারও একটি চিত্র হয়ে উঠেছে।

  • নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এক মাসের মধ্যেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—সৌদি ভূখণ্ডে হামলা হলে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান কি সৌদিকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে, নাকি ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাবে?

    ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য শুরু থেকেই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো।

    এর মধ্যেই ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলে অগ্রসর হয়ে গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখল করেছে এবং মোকা এলাকার দিকে এগিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইয়েমেনে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

    সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ৯ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে।

    তবে বক্তব্যের পরও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, মক্কা চুক্তি তখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে যায়নি এবং ইয়েমেনের ভেতরে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসলামাবাদ একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন এবং ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

    পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে জটিল। সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও তাকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। ফলে ইয়েমেনে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক অভিযান শুরু হলে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হলেও ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    এ কারণে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতা এবং ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি হামলা—এই দুই ধরনের পদক্ষেপকে আলাদা করে দেখছে ইসলামাবাদ। সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইয়েমেনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া একই ধরনের সিদ্ধান্ত নয়।

    পাকিস্তানের জন্য ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে পাকিস্তান সরাসরি অংশ নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইসলামাবাদ সৌদি নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ—দুটিকে পৃথক রাখার চেষ্টা করছে।

    এরই মধ্যে সৌদি আরবের দিকে হুথি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। হুথিদের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই এখন এর সামরিক প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ। সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে পাকিস্তান কী ধরনের সহায়তা দেবে—সেটি কি শুধু প্রতিরক্ষা, নাকি প্রয়োজনে ইয়েমেনের ভেতরে হুথি অবস্থানে হামলাও এর অংশ হবে—চুক্তির প্রকাশ্য তথ্য থেকে এখনো তার পূর্ণ উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

    তবে পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান এখন পর্যন্ত স্পষ্ট: মক্কা চুক্তি প্রতিরক্ষামূলক, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের অঙ্গীকার রয়েছে, কিন্তু ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে চুক্তিটির প্রথম পরীক্ষা শুধু সামরিক নয়; সৌদি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে পাকিস্তান কীভাবে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি চাইছে ইসরাইল

    যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি চাইছে ইসরাইল

    সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত উন্নত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার প্রতিবেদনে ইসরাইলের একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দেয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সুবিধা রয়েছে। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য বিক্রির অনুমোদন; চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রক্রিয়া রয়েছে।

    এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। সৌদি আরব চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পারলে দেশটি হবে প্রথম আরব রাষ্ট্র, যারা এ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এফ-৩৫ পরিচালনাকারী একমাত্র দেশ ইসরাইল। ফলে সৌদি আরবকে এ বিমান দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসরাইলের দীর্ঘদিনের সামরিক প্রযুক্তিগত সুবিধা বা ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ইসরাইল এমন কিছু অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র আগে তাদের দিতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশগ্রহণের বিষয় রয়েছে।

    এ ছাড়া গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ‘বাঙ্কার-ব্রেকিং’ অস্ত্র, পাথুরে পাহাড়ের গভীরে পরিচালনাযোগ্য ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় হামলা ব্যবস্থা এবং ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারের মতো সামরিক সক্ষমতাও ইসরাইল চাইতে পারে। তবে ঠিক কোন কোন অস্ত্রের জন্য ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

    ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এফ-৩৫ সৌদি আরবের হাতে গেলেও ইসরাইল তার সামরিক সুবিধা ধরে রাখতে পারবে বলে তারা মনে করেন। এর পেছনে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা এবং দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রযুক্তি এফ-৩৫-এর সঙ্গে যুক্ত করার সক্ষমতাকে কারণ। ইসরাইলি এফ-৩৫ সংস্করণটি ‘আদির’ নামে পরিচিত।

    প্রস্তাবিত সৌদি চুক্তি চূড়ান্ত হলেও দেশটি দ্রুত এফ-৩৫ হাতে পাবে না। চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হলেও প্রথম বিমান সরবরাহ পেতে সৌদি আরবের প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কংগ্রেসে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিক্রির লক্ষ্য সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা। একই নোটিশে মার্কিন সরকার বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন করবে না।

    সৌদি আরবের এফ-৩৫ পাওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সামরিক প্রতিযোগিতা ও যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি নিরাপত্তা সম্পর্কও জড়িত। সৌদি আরব ২০২৫ সালের শুরু থেকেই এফ-৩৫ কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী।

    ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন অস্ত্র চাওয়ার বিষয়টি তাই শুধু একটি অস্ত্রচুক্তির প্রতিক্রিয়া নয়; এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রযুক্তির ভারসাম্য, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রনীতি এবং ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার নীতিও সামনে এসেছে। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো অস্ত্রতালিকা বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।

  • ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৭৩৯১০

    ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৭৩৯১০

    ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ দৈনিক তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্যানুযায়ী গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩,৯১০-এ দাঁড়িয়েছে।

    রোববার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত তিনজনের লাশ গাজার হাসপাতালগুলোতে আনা হয়েছে। এ সময় আরো ২১ জন আহত হয়েছেন।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১,৩৯৩ জনে এবং আহত হয়েছেন ৪,৮২২ জন।

    এতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩,৯১০-এ পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৪,৯৩৫ জন। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি চাপা পড়ে আছেন।

  • একের পর এক ৯ নারীর লাশ, একই কায়দায় হত্যা

    একের পর এক ৯ নারীর লাশ, একই কায়দায় হত্যা

    দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় শহর এখুরুলেনিতে একের পর এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে নয়জন নারীর লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    সর্বশেষ নিহতদের একজন ৩৮ বছর বয়সী দিনেও মোটাপানে। দুই সন্তানের এই মাকে গত রোববার দেখা গিয়েছিল। পরে এখুরুলেনির একটি আবাসিক এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং লাশটির কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছিল।

    দিনেওর লাশ শনাক্ত করার তার ভাগনি নকওয়ান্ডা মাতশিকিজা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কী করতে যাচ্ছি, আমার কোনো ধারণা নেই। কিন্তু কিছু একটা পরিবর্তন হতেই হবে।’

    তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের জন্য, অন্য সব নারীর জন্যও—আর কতগুলো লাশ পাওয়া গেলে কিছু একটা করা হবে?’

    দিনেওর মেয়েকে একসময় তার মায়ের মৃত্যুর নির্মম ঘটনা জানাতে হবে—এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নকওয়ান্ডা। তিনি বলেন, ‘আপনি কীভাবে বোঝাবেন যে তার অভিভাবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, একটি মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে এবং আবর্জনার মতো ফেলে দেওয়া হয়েছে?’

    তার ভাষায়, এমন ঘটনা মেনে নেওয়া বা তা থেকে কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব নয়।

    দিনেওর মৃত্যুর আগে একই এলাকায় আরও কয়েকজন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। জুলাই থেকে পাওয়া নয়টি লাশের মধ্যে পাঁচটিই এখুরুলেনির কেম্পটন পার্ক এলাকায় পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী দোকানকর্মী ইতুমেলেং। তাকে সর্বশেষ জীবিত দেখার ১৭ দিন পর জুলাইয়ে একটি সেতুর ওপর তার লাশ পাওয়া যায়। গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকা ওই নারীর শরীরে তখন আংশিক পোশাক ছিল।

    ইতুমেলেংয়ের ভাই থেম্বা কেকানাও বলেন, ‘আমরা শোকে ভেঙে পড়েছি। আমার বোনের ছোট মেয়ের দিকে তাকালে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি জানি, তার এই কষ্ট আমি কখনোই দূর করতে পারব না।’

    তিনি বলেন, কোনো পরিবারেরই তাদের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।

    এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর তাকে আটক করা হয়। তবে ইতুমেলেং, দিনেওসহ এখুরুলেনিতে নিহত অন্য নারীদের ঘটনায় আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    নিহতদের বেশিরভাগই ২০ ও ৩০-এর কোঠার তরুণী। তাদের অনেকের শরীরেই মৃত্যুর আগে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

    তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সিরিয়াল কিলার রয়েছে কি না। তদন্তকারীদের ভাষ্য, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র নাও থাকতে পারে।

    তারপরও ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দীর্ঘদিনের সংকট নতুন করে সামনে এসেছে। দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার হার বিশ্বের অন্যতম বেশি।

    দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ প্রতি তিন মাসে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৫ হাজার ৪২৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। সরকারি পরিসংখ্যানে ভুক্তভোগীদের লিঙ্গভিত্তিক আলাদা হিসাব দেওয়া হয় না। তবে দেশটির মানবাধিকার কমিশনের হিসাবে, ওই তিন মাসে ৫৬৯ জন নারী নিহত হয়েছেন—গড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয়জন। একই সময়ে ১ হাজার ৫২ জন নারী হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন।

    সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় আগে থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা অনেক নারী আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে।

    গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে সময় সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী নকুজোলা সিসি তোলাশে বলেছিলেন, জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা বাড়বে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ হয়, যার মধ্যে ‘উইমেন্স শাট ডাউন’ কর্মসূচিও ছিল।

    এবার আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে নারীকে লিঙ্গের কারণে হত্যার ঘটনাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে আইনে স্বীকৃতি দেওয়া। সংগঠনটির দেশীয় পরিচালক শেনিলা মোহাম্মদের মতে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে ‘নারী-হত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সমস্যাটির প্রকৃত ব্যাপকতা পরিমাপ ও মোকাবিলায় আরও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

    অ্যামনেস্টির দাবি, আফ্রিকার গ্যাবন ও মরক্কোসহ ৩৩টি দেশে নারী-হত্যা নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।

    এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এখুরুলেনির হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে কোনো দিক অযত্নে রাখা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি জাতি হিসেবে নারী ও মেয়েদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

    লিঙ্গ ও সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক কর্মী লেবোগাং রামোফোকো মনে করেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রা আরও গভীর একটি সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের প্রতি সহিংসতার পেছনে উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্যের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারও রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এর অর্থ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষরা স্বভাবগতভাবে সহিংস—এমন দাবি করা নয়; বরং দীর্ঘদিনের সহিংস সামাজিক ব্যবস্থার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

    কেম্পটন পার্ক এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা লুমকা মাকহুবেলা গার্ল২উম্যান ফাউন্ডেশনের সদস্যরা এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।

    সংগঠনটির সদস্যদের একজন বলেন, ‘আমরা শোকাহত, আমরা ভীত। পুলিশ যদি আর আমাদের সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে সরকারের এগিয়ে এসে কিছু করা উচিত।’

    তার কথায়, শুধু আরও সতর্ক থাকতে বললে হবে না; মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোকে নিরাপদ করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    এলাকার নারীদের মধ্যেও আতঙ্ক স্পষ্ট। ৩২ বছর বয়সী থুলিসিলে সিবান্দে বলেন, দোকানে যাওয়ার সময়ও তাকে চারপাশে তাকাতে হয়। তার ভাষায়, ভয় এতটাই বেড়েছে যে সেটি একধরনের মানসিক আঘাতে পরিণত হয়েছে।

    ৬০ বছর বয়সী থেম্বি মাবেনা নিহত দিনেও মোটাপানের একই এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি বলেন, দিনেও প্রতিদিন সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। এখন তিনি উদ্বিগ্ন। তার পরিচিত অনেক শিশু ও তরুণী একা দোকানে যেতেও ভয় পায়।

    ২০ বছর বয়সী লেরাতো মজিজির কথায়, পরিস্থিতির ভয়াবহতা যেন এক বাক্যেই ধরা পড়ে—‘দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীরা আর নিরাপদ নন।’

  • আবারো বিদ্যুৎহীন কিউবা, অন্ধকারে মানুষ

    আবারো বিদ্যুৎহীন কিউবা, অন্ধকারে মানুষ

    কিউবায় আবারো বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার দেশটির পুরো বিদ্যুৎ গ্রিডে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা’ দেখা দিলে লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    কিউবার গ্রিড অপারেটর ইউনিওন ইলেকট্রিকা (ইউএনই) জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টার কিছু আগে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। মধ্য কিউবার খারাপ আবহাওয়ার পাশাপাশি একটি ট্রান্সমিশন ত্রুটিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিপর্যয়ের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে রাজধানী হাভানার হাসপাতাল ও পানি সরবরাহের পাম্পিং স্টেশনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। তবে শনিবারও দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনের কাজ চলছিল।

    ইউএনইর জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ বিভাগের পরিচালক ফেলিক্স এসত্রাদা বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ‘ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের’ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

    চলতি বছরেই অন্তত ষষ্ঠ বড় বিপর্যয়

    এটি চলতি বছরে কিউবায় আঘাত হানা অন্তত ষষ্ঠ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ বিপর্যয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো, জ্বালানি সংকট এবং জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দেশটির বিদ্যুৎব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে।

    কিউবা জ্বালানির বড় একটি অংশ আমদানি করে। দেশটির জ্বালানি সংকট আরো তীব্র হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও তেল সরবরাহে বাধার বিষয়টি উল্লেখ করেছে হাভানা। একই সময়ে খাদ্য ও ওষুধের সংকটও বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি কার্যালয়ের কার্যক্রমেও।

    হাভানার বাসিন্দা ফ্র্যাঙ্ক লরেঞ্জো রয়টার্সকে বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়াটা এখন অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, এর আগে এমন ঘটনা মাসে একবারের মতো ঘটলেও সম্প্রতি পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

    ৩৬ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষিকা লিডিয়া ফার্নান্দেজ এএফপিকে বলেন, বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি ও রান্নার গ্যাসের সংকটও তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ৭৮ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তার বাড়ি টানা ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

    বিদ্যুৎ সংকটে বিক্ষোভ

    বারবার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে কিউবায় বিরল কিছু বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। দেশটিতে অনুমোদনহীন বিক্ষোভ বেআইনি এবং এ ধরনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। কিউবার সরকার দেশটির জ্বালানি সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছে। ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তেল সরবরাহে বাধাকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে হাভানা।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। ওয়াশিংটন কিউবার সরকারকে ঘিরে আরও ব্যাপক চাপ প্রয়োগের নীতিও অনুসরণ করছে।

    ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাড়তি চাপ

    কিউবার জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলার। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা কিউবাকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ করত, যা দেশটির মোট প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক। তবে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পর কিউবায় সেই সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাভানায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া কিউবার উদ্দেশে যাওয়া কয়েকটি তেলবাহী চালান যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করেছে। ফলে পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো, জ্বালানি ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ—সব মিলিয়ে কিউবার বিদ্যুৎব্যবস্থা এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। শুক্রবারের সর্বশেষ বিপর্যয় সেই সংকটকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • ৩০ হলেই টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা: পেন্টাগন

    ৩০ হলেই টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা: পেন্টাগন

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি সদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নীতি আবারও চালু করা হয়েছে। আগে এ নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ নীতির নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উদ্যোগে নীতিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    গত জুলাইয়ে হেগসেথ প্রথম এ নীতি ঘোষণা করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য ‘টেস্টোস্টেরন ঘাটতি’ শনাক্ত করা এবং সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই পরীক্ষা প্রয়োজন।

    অনলাইনে বিভিন্ন পডকাস্ট ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রভাবশালীদের মধ্যেও টেস্টোস্টেরন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তাদের কেউ কেউ স্বাস্থ্য ও পেশি বৃদ্ধির জন্য টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন ব্যবহারের প্রচার করছেন। পেন্টাগনের নতুন উদ্যোগও এ ধরনের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে হেগসেথ বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সেনাসদস্যদের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ভিত্তি নিশ্চিত করা।

    তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা এ কর্মসূচিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাদের আশঙ্কা, ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে টেস্টোস্টেরনভিত্তিক চিকিৎসার কারণে সেনাসদস্যদের বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে পেন্টাগন গত সেপ্টেম্বরে নীতিটির আগের সংস্করণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তখন বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় কিছু হালনাগাদ করার জন্য এটি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা শুধু পুরুষ সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্ত করতে অভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বার্ষিক মূল্যায়নের সময় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করা হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সি সেনাসদস্যরাও চাইলে এই পরীক্ষা করার অনুরোধ জানাতে পারবেন।

    সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে হেগসেথ বিভিন্ন নীতিতে জোর দিচ্ছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ডানপন্থী সাংস্কৃতিক বিতর্কের বিষয়গুলো সামরিক বাহিনীতে নিয়ে আসা হচ্ছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে এমন কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

    হেগসেথ বলেন, আমরা অস্ত্র ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যুদ্ধপ্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছি। তবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা সবসময়ই থাকবেন একজন একজন করে যুদ্ধরত সেনাসদস্য।

  • নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া

    নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া

    রাশিয়ায় নেসলে ও ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অশাঁনের সম্পদ জব্দ করেছে ক্রেমলিন। দেশটিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, অশাঁন ও নেসলে ‘বন্ধুত্বহীন দেশের ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান’। তাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর এক দিন আগে প্রেসিডেন্টের জারি করা এক ডিক্রিতে প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ডিক্রি অনুযায়ী, নেসলে ও অশাঁনের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ দেশটির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টের সাময়িক নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে।

    কিটক্যাট চকলেট ও নেসক্যাফে কফির উৎপাদক নেসলে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করছে। বিশ্বের অন্যতম বড় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটির রাশিয়ায় এখনো ছয়টি স্থাপনা রয়েছে। সেখানে ৭ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন।

    ২০২১ সালে রাশিয়ার বাজার থেকে নেসলের মোট বিক্রির প্রায় ২ শতাংশ এসেছিল। ওই বছর দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা প্রায় ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।

    এক বিবৃতিতে নেসলে বলেছে, নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসার কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রাশিয়ায় সম্পদ জব্দের খবর প্রকাশের পর জুরিখের শেয়ারবাজারে নেসলের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমেছে।

    অশাঁন রাশিয়ায় খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য ও ইলেকট্রনিকস বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় অশাঁনের ২৩০টি দোকান রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যবসা পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশটিতে তাদের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী রয়েছেন।

  • ১০ জনে ৩ জন শতায়ু : উদ্বেগে জাপান

    ১০ জনে ৩ জন শতায়ু : উদ্বেগে জাপান

    জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শতায়ু মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৭ হাজার ৯১৪ জন বেশি। টানা ৫৬ বছর ধরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শতায়ুদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। খবর আলজাজিরার।

    জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উএনো বলেছেন, ‘অনেক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবন যাপন করছেন, এতে আমি খুবই আনন্দিত।’ তিনি চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তবে এ অর্জনের আড়ালে রয়েছে একটি বড় জনমিতিক সংকট। জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও জন্মহার কমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ফলে দেশটিকে ক্রমশ ছোট হয়ে আসা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করে পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

    দ্রুত বার্ধক্যের দিকে জাপান

    বর্তমানে জাপানের প্রায় প্রতি ১০ জন বাসিন্দার মধ্যে তিনজনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জাপানে ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ লাখের বেশি, অথচ জন্ম নিয়েছে মাত্র ৭ লাখ শিশু।

    এদিকে দেশটির জনসংখ্যাও দ্রুত কমছে। প্রাথমিক আদমশুমারির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৪৫টিতেই জনসংখ্যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় কমেছে। কেবল টোকিও ও ওকিনাওয়ায় জনসংখ্যা বেড়েছে।

    জাপানের জনসংখ্যা ২০০৮ সালে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালে তা কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে আসবে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস।

    কেন বেশি দিন বাঁচছেন জাপানিরা?

    গবেষকদের মতে, জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বিত প্রভাব এতে ভূমিকা রাখছে।

    প্রচলিত জাপানি খাদ্যতালিকায় মাছ, শাকসবজি ও ভাতের পরিমাণ বেশি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট তুলনামূলক কম। ফলে স্থূলতার হারও পশ্চিমা অনেক দেশের তুলনায় অনেক কম।

    এ ছাড়া হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারের অভ্যাস জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বয়স্করাও নিয়মিত এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। দলগত ব্যায়াম চর্চাও সেখানে জনপ্রিয়।

    জাপানের সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা ও ওষুধের সুযোগ নিশ্চিত করেছে, যা মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    দীর্ঘায়ু কেন নতুন চ্যালেঞ্জ?

    বিশ্বের অন্যতম নিম্ন জন্মহারের দেশ জাপান। ২০২৫ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার নেমে এসেছে রেকর্ড ১ দশমিক ১৪-এ। অথচ স্থিতিশীল জনসংখ্যা ধরে রাখতে সাধারণত এ হার ২ দশমিক ১ হওয়া প্রয়োজন। এর ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, কিন্তু পেনশন, চিকিৎসা ও বয়স্কদের সেবার প্রয়োজন বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

    জন্মহার বাড়াতে সরকার শিশুভাতা, ভর্তুকিযুক্ত শিশুসেবা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা চালু করেছে। তবে এখনো এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারা বদলাতে পারেনি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে কম বয়সিদের মধ্যে বিয়ে কমে যাওয়া, দেরিতে বিয়ে করা, অনিশ্চিত চাকরি, স্থবির মজুরি এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে পরিবার গঠন কঠিন হয়ে উঠছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও গৃহস্থালি ও সন্তান লালনের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ না হওয়ায় অনেক নারীর জন্য কর্মজীবন ও মাতৃত্ব একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    অর্থনীতিতে প্রভাব

    কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ায় আয়কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অবদান রাখা মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয় বাড়ছে। এ কারণে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে এবং তরুণ কর্মীদের ওপর করের বোঝাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    শ্রমিক সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তরুণরা শহরমুখী হওয়ায় অনেক অঞ্চলে জনশূন্যতা ও সেবার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

    শুধু জাপান নয়, বাড়ছে বৈশ্বিক বার্ধক্য

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, মানুষের আয়ু বৃদ্ধি মানবজাতির অন্যতম বড় অর্জন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির কারণে মৃত্যুহার কমেছে এবং অধিকাংশ মানুষ এখন ৬০ বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন।

    ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর, যা ১৯৯৫ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ বছর বেশি। ২০২৩ সালের ১১০ কোটি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৪০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

    তবে বার্ধক্যের প্রবণতা সব দেশে সমান নয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাপানের মধ্যম বয়স ছিল ৪৯ বছর, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইতালিতে এ হার ৪৭ দশমিক ৫ বছর, পর্তুগালে ৪৬ দশমিক ২, গ্রিসে ৪৫ দশমিক ৭ এবং জার্মানিতে ৪৫ দশমিক ১ বছর।

  • গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র!

    গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র!

    গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণ নিয়ে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক দ্বীপটির নিরাপত্তা বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

    ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ‘স্থায়ী’ সক্ষমতা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তার দাবি, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে না এবং সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও মার্কিন অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

    ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। তবে কার্যকর হওয়ার আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফ্রেডেরিকসেনের ভাষ্য, এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেনও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির স্বার্থ ও অবস্থানকে স্বীকৃতি দেবে।

    কী আছে চুক্তিতে?

    চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত নথি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ঘাঁটি, প্রবেশাধিকার ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার আরও স্থায়ী ভিত্তিতে নিশ্চিত করার বিষয়টি চুক্তির কাঠামোর অংশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলেও কার্যকর থাকবে—এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ দ্বীপটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে পরিবর্তন এলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক-সংক্রান্ত অধিকার অব্যাহত রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

    এ ছাড়া ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিনিয়োগ সীমিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশকে কেন্দ্র করে এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিধি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বক্তব্যে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সতর্ক ভাষায় এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করছে না এবং দ্বীপটির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের কাছেই থাকছে।

    কেন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এত আগ্রহ ট্রাম্পের?

    গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলে এর ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত গুরুত্ব এবং বিপুল খনিজসম্পদ—সব মিলিয়ে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে।

    বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজের মজুত রয়েছে, যার অনেকগুলো এখনো বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা হয়নি। মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ।

    এই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলে আসছেন। এমনকি দ্বীপটি দখলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। এসব মন্তব্য ডেনমার্ক ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

    ১৯৫১ সালের চুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫১ সালে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পিটুফিক স্পেস বেসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

    নতুন চুক্তি ওই পুরোনো কাঠামোর ওপর কতটা পরিবর্তন আনছে, তা পুরো নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, এটি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের স্থায়ী সমাধান করেছে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তির আওতায় তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বহাল থাকবে।

    চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় সংসদীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই কার্যকর হবে। ফলে এর সুনির্দিষ্ট শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রকৃত পরিধি পুরোপুরি বোঝার জন্য চূড়ান্ত নথি প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের কেউ ঠিক করতে পারে না

    মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের কেউ ঠিক করতে পারে না

    মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা কোনো বাইরের দেশের চাওয়া বা নির্দেশে তৈরি হতে পারে না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল টাউন হল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বরাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আফসোস করে বলেন, বড় বড় শক্তিশালী দেশগুলো যখন নিজেদের স্বার্থের জন্য আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে ফেলে, তখন আর নিয়ম-কানুনের কোনো দাম থাকে না। জাতিসংঘসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যদি এসব অন্যায় আর আক্রমণের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে না দাঁড়ায়, তবে মানুষ তাদের ওপর থেকে একেবারেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।

    পৃথিবীকে সুন্দরভাবে চালাতে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে পারস্পরিক আলোচনার গুরুত্ব বেশি বলে মনে করেন আরাগচি। যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই থেমে থাকে না, তা বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের খরচ চালাতে সাধারণ মানুষকে ট্যাক্স দিতে হয়, কিন্তু সবচেয়ে বড় মাশুল দিতে হয় সাধারণ জীবন দিয়ে। মানুষ নিজের জীবন, রক্ত, ঘরবাড়ি ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।

    নিরাপত্তার আসল সমাধান কোথায় তা ব্যাখ্যা করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি কিংবা তাদের গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে কখনোই শান্তি আসতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস বাড়াতে হবে, একে অপরকে সম্মান জানাতে হবে এবং একসঙ্গে বসে কথা বলতে হবে।

  • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ২০৩১পর্যন্ত

    ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ২০৩১পর্যন্ত

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই আইনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও অন্যান্য বিধিনিষেধ বৃদ্ধি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের ‘এইচআর ৫৩৩৪’ বিলে সই করেন। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সময়সীমা বৃদ্ধি করার সুযোগের পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন আইনে ১৯৯৬ সালের ‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’ আরও পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এর ফলে ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ আইনে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ধরনের মধ্যে রয়েছে—দেশটির পেট্রোলিয়াম কেনা, পরিবহন, অর্থায়ন, বিমার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা ও পেট্রোলিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ।

    এদিকে নতুন ও আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে তেহরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ চীনে যায়। ইরানের তেল বিক্রি ও পরিবহনে ভূমিকার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও ভারতের তেল ব্যবসায়ী, জাহাজ কোম্পানি ও ট্যাংকার পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সুযোগ ও ডলারে লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

    এ সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে থাকা বিদেশি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও আগামী পাঁচ বছরের (২০৩১ সাল) জন্য বহাল থাকবে।

    আইনটির নামকরণ করা হয়েছে গত জুলাইয়ে মারা যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জোরালো সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন। এ আইন পাসের জন্যও কাজ করেন তিনি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় ফেরার চেষ্টা চলছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় ফেরার চেষ্টা চলছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি জেইনিভান্দ। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে জেইনিভান্দ বলেন, ইরান চাইছে এই সমঝোতার আওতায় অপর পক্ষ যেন তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলে।

    ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি এমন একটি সমঝোতা, যা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা নিশ্চিত করেছেন। একে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।’

    তিনি আরো বলেন, ভারত ও কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই ও ব্রিকস সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং নিবিড় আলোচনার মধ্য দিয়ে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    কয়েক দশকের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওই মুখপাত্র বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে এবং সব কর্মকর্তা এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • ইরানি ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল করল তুরস্ক

    ইরানি ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল করল তুরস্ক

    ইস্তাম্বুলে ইরানের অন্যতম বড় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স বাতিল করেছে তুরস্ক। শনিবার ভোরে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ‘ব্যাংক মেল্লাতের’ লাইসেন্স বাতিলের তথ্য জানানো হয়।

    তুরস্কের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানভিত্তিক ব্যাংক মেল্লাত দেশটির সরকারকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভিত্তিক উন্মুক্ত ডেটাবেস ওপেনস্যাংশনস জানিয়েছে, ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

    ডেটাবেসটির তথ্য অনুযায়ী, ইরান সরকারই ব্যাংক মেল্লাতের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার।

    ব্যাংকটির লাইসেন্স বাতিলের সময় তুরস্কের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশটির ব্যাংকিং আইনের ৭১ (বি) ধারা উল্লেখ করেছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা ‘আমানতকারী ও অংশগ্রহণ তহবিলের মালিকদের অধিকার এবং আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ তৈরি করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে তুরস্কের একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দুই সপ্তাহ পর ব্যাংক মেল্লাতের বিরুদ্ধে তুরস্কের এই পদক্ষেপ এলো।

    তবে তুরস্কের ব্যাংকটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক মেল্লাতের লাইসেন্স বাতিলের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

  • মক্কায় হামলা মহাপাপ :হারামাইন ইমাম

    মক্কায় হামলা মহাপাপ :হারামাইন ইমাম

    মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মক্কার মসজিদ আল-হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর দুই ইমাম। এ হামলাকে মহাপাপ এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন তারা।

    মসজিদ আল-হারামের ইমাম শেখ বান্দার বালিলাহ বলেন, পবিত্র স্থান ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা ‘রেড লাইন’, এটা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। । তিনি বলেন, পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হামলা ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

    তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাদের পবিত্রতম স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলার মতো কর্মকাণ্ড পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং নিরপরাধ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।

    বালিলাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং তার নবীর মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করার দুঃসাহস দেখায়, তাদের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।’

    অন্যদিকে মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মুহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা-মদিনাকে হুমকির মুখে ফেলা এই হামলা এমন এক ধরনের সন্ত্রাসবাদের বহিঃপ্রকাশ, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং মুসলমানদের রক্ত ঝরানোকে বৈধতা দেয়।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভূপাতিত করে। জোটের দাবি, এটি মক্কা লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা; এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

  • ইউরোপে তেল কমাচ্ছে সৌদি?

    ইউরোপে তেল কমাচ্ছে সৌদি?

    সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের তেল সরবরাহ নতুন করে চাপে পড়েছে। দীর্ঘ সময় পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে ইউরোপের শোধনাগারগুলোকে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে হবে। এতে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। বাড়তে পারে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দামও।

    সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ১০ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়। হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথি ও ইরাকের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।

    প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন ১৯৮১ সালে চালু হয়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছাতে এটি ব্যবহার করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল সরবরাহের সুযোগ থাকে।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সৌদি পাইপলাইনটি ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। বন্ধ হওয়ার আগে পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছিল, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

    পাইপলাইন বন্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে ইউরোপে পড়তে শুরু করেছে। সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপে পাঠানোর কয়েকটি তেলের চালান বাতিল বা পিছিয়ে দিয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আর্গাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের অন্তত তিনটি শোধনাগারের সেপ্টেম্বরের শেষের চালান বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কিছু নভেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    বিকল্প জোগাড়ে নেমেছে ইউরোপের শোধনাগারগুলো। পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অরলেন অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান ও আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত ১৬টি তেলের চালান কিনেছে।

    ১৬ সেপ্টেম্বর অরলেন জানায়, এসব সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং চাহিদা মেটাতে তা যথেষ্ট।

    তবে সৌদি তেলের বিকল্প জোগাড় করলেই সমস্যা মিটবে না। বিভিন্ন শোধনাগার নির্দিষ্ট মানের অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য তৈরি। ইউরোপের অনেক শোধনাগার সৌদি আরবের মাঝারি ও তুলনামূলক ভারী, সালফারযুক্ত তেলের ওপর নির্ভরশীল। অন্য ধরনের তেল ব্যবহার করতে হলে একাধিক উৎসের তেল মিশিয়ে নিতে হতে পারে। এতে খরচ বাড়বে এবং কিছু শোধনাগারে কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

    স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, লোহিত সাগর দিয়ে আরবের তেল নেওয়া ইউরোপীয় শোধনাগারগুলোর বিকল্প প্রয়োজন। কারণ সব ধরনের অপরিশোধিত তেল একে অপরের সরাসরি বিকল্প নয়।

    সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাই তেলের দাম বাড়াতে পারে। পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিশ্লেষকেরা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলছেন। ব্রেন্টের দাম সম্প্রতি ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের ওপরে উঠেছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে ডিজেলের বাড়তি দামের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

    সংকট কতটা দীর্ঘ হবে, তা নির্ভর করছে সৌদি আরব কত দ্রুত পাইপলাইন মেরামত করতে পারে এবং নতুন করে হামলা হয় কি না, তার ওপর। কেপলারের প্রধান তেল বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহী বলেন, পাইপলাইনের ছোটখাটো ক্ষতি মেরামত করা হলেও পাম্পিং স্টেশনসহ পুরো ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

    কেপলারের ১৪ সেপ্টেম্বরের হিসাবে, ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং স্টেশন এড়িয়ে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে এবং মজুতের ওপর নির্ভর করছে। ইয়ানবু বন্দর থেকেও তেল রপ্তানি আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবু টার্মিনালে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৯ হাজার ব্যারেল। পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলোতে মজুত প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ ব্যারেল। নতুন করে পাইপলাইনে তেল না এলে বর্তমান হারে এসব মজুত দিয়ে ইয়ানবু বন্দরের চালান প্রায় তিন দিন এবং শোধনাগারগুলো প্রায় নয় দিন চালানো সম্ভব।

    তবে ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনের অর্ধেক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামোয় নতুন হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

    পাইপলাইন দ্রুত পুরোপুরি সচল না হলে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে। তখন সৌদি আরবের একটি আঞ্চলিক সরবরাহ সংকট ইউরোপের শোধনাগার, শিল্প ও ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির চাপ হয়ে উঠতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইসরাইলের!

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইসরাইলের!

    সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন করে বাড়তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা সরঞ্জাম পাওয়ার জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা।

    শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়ালা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে যেসব অস্ত্রব্যবস্থা অনুমোদন করেনি, তেল আবিব এবার সেই সব অস্ত্র কেনার চেষ্টা করবে।

    ইসরায়েলের সামরিক মনোযোগ কেবল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা পরবর্তী প্রজন্মের ‘স্টেল্থ’ (রাডারে ধরা পড়ে না এমন) বিমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা মহাকাশ-ভিত্তিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতাও চাইছে দেশটি।

    এ ছাড়া ইসরাইলি কর্মকর্তারা বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমা এবং পাথুরে পাহাড়ের গভীরে কাজ করতে সক্ষম ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল্লা।

    সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নিজেদের জন্য এই অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতাকে ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে আদায় করতে চায় তেল আবিব—প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির ৪৯টি এফ১৩৫-পিডব্লিউ-১০০ ইঞ্জিন, ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও রসদ সহায়তা রয়েছে।

    চুক্তিটি সম্পন্ন হলে সৌদি আরব হবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহকারী প্রথম আরব দেশ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধবিমানের একমাত্র ব্যবহারকারী ইসরাইল।

    এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি নিয়েও ইসরাইলের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি নয় রিয়াদ। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ সমর্থন করলেও ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

  • ১৮ জনকে মালদাদিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা

    ১৮ জনকে মালদাদিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা

    বিএসএফের কাজই যেন এখন কোনো আইন-কানুন বা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ‘পুশ-ইন’ করা। ভারতের এই বেআইনি ও একতরফা পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার।

    এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জাতিবিদ্বেষের রাজনীতি। তাদের অলিখিত নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলায় কথা বললেই, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে দেওয়া। আর এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে রাতের অন্ধকারে খোদ ভারতীয় নাগরিকদেরই অনেক সময় বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি এমনই এক অমানবিক ও সন্দেহজনক ঘটনার সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা।

    ভারতের মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, ভারতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মতো জায়গাগুলোতে ‘সার’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) বা বিশেষ তল্লাশি চালিয়েও শত শত রোহিঙ্গা বা লাখ লাখ বাংলাদেশির কোনো হদিস তারা পায়নি। উল্টো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর স্পষ্ট অভিযোগ, রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশির নাম করে ভারতীয়দেরই ধরে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রমাণও অতীতে মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনকয়েক আগে ভারতের চারটি ভিন্ন রাজ্য থেকে ১৮ জনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করে মালদায় নিয়ে আসা হয়েছে।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনই নারী ও কিশোরী, আর বাকি চারজন পুরুষ। এদের মধ্যে রাজস্থান থেকে ১০ জন, কেরালা থেকে তিনজন, তেলেঙ্গানা থেকে দুজন এবং মহারাষ্ট্র থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেসব রাজ্যের পুলিশ।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রাজ্যগুলোর কোনোটির সঙ্গেই বাংলাদেশের সরাসরি কোনো সীমান্ত নেই। জানা গেছে, প্রথমে এই ১৮ জনকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে এনে রাজস্থানে জড়ো করা হয়। এরপর তাদের ট্রেনে করে হাওড়ায় আনা হয়। কলকাতা হয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় তাদের নিয়ে আসা হয় মালদা স্টেশনে। বর্তমানে তাদের রাখা হয়েছে মালদার ইংরেজবাজারের কাছে একটি হোল্ডিং সেন্টারে। সেখান থেকেই তাদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।

    মালদায় আনা এই ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রিমা (৩৪), শিউলা আক্তার (২৩), সোনিয়া আক্তার (২৮), মোসাম্মাৎ রাজিয়া বেগম (৩৪), তসমিয়া ইসলাম ফারিয়া (২২), মোসাম্মাৎ মাফুজা (২৪), আলফনিনা আক্তার (১৯), রোশনে আক্তার মিম (২৩), সোনিয়া খাতুন (২৪), রুমা আক্তার (৩৬), মিস স্মৃতি আক্তার (২৩), কুলসুম আক্তার (২৫), রুবিনা (২৫), আতিয়ার রহমান (২৩), মিস নাসিমা আক্তার (৩৬) এবং তানিয়া সাদিক শেখ (২৮)। মালদা দিয়ে এভাবে মানুষ ফেরত পাঠানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসের ১ তারিখেই বেঙ্গালুরু থেকে একইভাবে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে মালদায় এনে পুশব্যাকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    ওই ১৮ জনকে নিয়ে ট্রেনটি যখন মালদায় পৌঁছায়, তখন খবর পেয়ে স্টেশনে হাজির ছিলেন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকরা। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কিশোরীও ছিল এবং অনেককেই দেখে মধ্যবিত্ত পরিবারের বলে মনে হচ্ছিল। সাংবাদিকরা তাদের কাছে জানতে চান, তাদের বাড়ি কোথায়? কিন্তু তারা সাংবাদিকদের দিকে তাকালেও কেউই কোনো উত্তর দেয়নি। হয়তো আগে থেকেই তাদের কথা বলতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারা শান্তভাবে পুলিশের গাড়িতে উঠে যায়।

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই কেউ যদি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে বসবাস করতে চায়, তবে তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো ভারত সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু মূল প্রশ্ন হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। যদি এরা সত্যিই বাংলাদেশি হন, তবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু প্রশাসন এখনও জানায়নি, ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের পাঠানো হবে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, আগের মতো এবারও রাতের অন্ধকারে জঙ্গল বা ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে তাদের বেআইনিভাবে পুশব্যাক করা হবে।

    অতীতে এমন জোরপূর্বক পুশব্যাকের সময় অনেকেই কান্নাকাটি করে বলেছেন যে তারা ভারতীয় এবং বাংলাদেশে তাদের কেউ নেই। পরে খোদ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এমন কয়েকজনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত।

    মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, যেহেতু আটককৃতদের বেশিরভাগই নারী, তাই মহিলা কমিশনের সদস্যদের দিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করানো উচিত ছিল। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে, স্রেফ রাজনীতির স্বার্থে তাদের রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যে আয়োজন চলছে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১.২৫ সুদ হার জাপানে

    ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১.২৫ সুদ হার জাপানে

    সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতেই জাপানের মূল সুদের হারের এই বৃদ্ধি। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।গত জুনের পর সুদের হারে এটিই প্রথম কোনো বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বজায় রাখা অতি-নিম্ন সুদের নীতি থেকে পুরোপুরি সরে আসার ইঙ্গিত দিল জাপান। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটি এখন বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে দেশটিতে শ্রমিক সংকট প্রকট হওয়ায় মজুরি বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে কাঠামোগত স্থায়ী চাপ তৈরি করেছে।

    এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির পদক্ষেপও জাপানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুদের হারের ব্যবধান বেড়ে গেলে জাপানি মুদ্রা ইয়েন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার আড়াই শতাংশে উন্নীত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা ভবিষ্যতে সুদের হার আরও কতটা বাড়াতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

  • ঢাকা-নয়াদিল্লি ১০১টি চুক্তি: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত

    ঢাকা-নয়াদিল্লি ১০১টি চুক্তি: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত

    ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ- এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে তারা।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
    তিনি বলেন, আমরাও এ বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। অবশ্যই, ভারত নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

    গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, এসব চুক্তির পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানা যাবে।

    এদিকে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন রণধীর জয়সওয়াল। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়েছিল। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।

    চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, পানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। পানি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।

  • সিরিয়ার  সাবেক কারা প্রধানকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

    সিরিয়ার সাবেক কারা প্রধানকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

    সিরিয়ার একটি কুখ্যাত কারাগারের সাবেক প্রধানকে নির্যাতন ও অভিবাসন জালিয়াতির মামলায় ৬০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সামির উসমান আলশেখের বয়স ৭৪ বছর। তিনি ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি দামেস্ক সেন্ট্রাল প্রিজনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়ভাবে কারাগারটি ‘আদরা কারাগার’ নামে পরিচিত। সেখানে ‘শাস্তি শাখায়’ বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

    মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি আলশেখকে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ, ভিসা জালিয়াতির একটি অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির চেষ্টার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

    বিচার চলাকালে সাবেক তিন বন্দি আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা আলশেখের হাতে নিজেদের ওপর চালানো নির্যাতনের পাশাপাশি কারাগারে অন্য বন্দিদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরেন।

    মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, এই মামলায় দেওয়া শাস্তি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সাহসের প্রতিফলন।

    নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগেও আলশেখকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তিনি নিজের অতীত ইতিহাস গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    ডুভা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবে না—এই মামলার মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, ইসলামপন্থী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও তাদের মিত্রদের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বহু সিরীয় নাগরিক দেশটির বিভিন্ন কারাগারে ছুটে যান।

  • ইউরোপে নিশানায় মুসলিমরা

    ইউরোপে নিশানায় মুসলিমরা

    ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক জোট ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) মুসলিমদের নাগরিক কর্মকাণ্ড ও সম্মিলিত ধর্মীয় চর্চাকে সন্দেহের চোখে দেখার পথ তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত দলটির রাজনৈতিক সমাবেশে ‘ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পলিটিক্যাল ইসলামের হস্তক্ষেপ’ শিরোনামে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

    প্রস্তাবে ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ ও ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে মুসলিম সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে বিদেশি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণ এবং কথিত ‘উগ্রপন্থী আন্দোলনে’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

    সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবটি জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটদের ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ মোকাবিলার নীতির প্রতিফলন। সেখানে কোনো সহিংস কর্মকাণ্ড না ঘটালেও কথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
    নাগরিক সমাজে সক্রিয় এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার মুসলিমদেরও সন্দেহের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইপিপি অবশ্য প্রস্তাবটিকে গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।

    দলটির প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’-কে প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে ধীরে ধীরে ঢুকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিয়েনায় সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ইসলাম ম্যাপ’ প্রকল্পে অস্ট্রিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলোর তথ্য ডিজিটাল মানচিত্রে প্রকাশের নজিরও রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ‘অপারেশন লুক্সর’ অভিযান নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

    সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন প্রস্তাবের ফলে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও কার্যক্রমও চাপে পড়তে পারে।

  • সৌদি রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান

    সৌদি রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান

    সৌদি আরবে হামলা কার হলে দেশটির প্রতিরক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান। সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং পবিত্র দুই মসজিদের সুরক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (১৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ‘নিঃশর্ত’ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে । আহমেদ শরীফ জানান যে, পাকিস্তান সব দিক থেকেই সৌদি আরবের প্রতি তার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক সমর্থন থেকে শুরু করে প্রয়োজনে সরাসরি পাশে দাঁড়াবে বলে জানান আইএসপিআর মহাপরিচালক।

    আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য আমরা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমাদের সৌদি ভাইয়েরা যতটুকু চাইবেন এবং প্রয়োজন হবে, আমরা ততটুকুই করব।’

    সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণ সৌদি ভাই-বোনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে পাকিস্তান পাশে থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা সেখানে আছি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে আমরা সেখানে থাকব।’

    পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইএসপিআর মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ ও অংশীদারদের সহায়তায় জটিল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সৌদি আরবের নেতৃত্বের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ইসলামাবাদ শুধু প্রতিশ্রুতিবদ্ধই নয়, পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে সেখানে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সুরক্ষায় সেখানে আছি। সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’

    সৌদি নিরাপত্তায় পাকিস্তানের অঙ্গীকারকে ‘নিঃশর্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ঐতিহাসিক, গভীর ও আবেগপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক অটুট এবং তা থেকেই সৌদি নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের থামানোর মতো কিছু নেই, কোনো বাধা নেই। আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো দ্বিধা নেই। যা প্রয়োজন হবে, যা চাওয়া হবে, আমরা তার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হব না।’

    পাকিস্তান বর্তমানে সৌদি আরবে সরাসরি উপস্থিত রয়েছে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সেখানে আছি—এ কথা বলার পর শব্দগুলো নিজেরাই সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়।’

    পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য

    সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।

    সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, উভয় চুক্তি বাস্তবায়নে পাকিস্তান ‘উদ্দেশ্য ও চেতনার দিক থেকে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তবে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি সামরিক কার্যক্রমসংক্রান্ত বিষয় বলে জানান তিনি। সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র বলেন, কখন, কীভাবে, কোথায় এবং কোন শক্তি দিয়ে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে সামরিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই পর্যায়ে কিছুটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।

    সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং নতুন কোনো জোটও তৈরি করছে না। বরং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও গবেষণার মতো বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

    এদিকে উপসাগরীয় সংকট যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বুধবার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। সৌদি আরবের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে হাউছিদের ওপর প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ইসলামাবাদ বারবার সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে কথা বলার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সৌদি আরবের প্রতি সংহতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • সেনা পাঠিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়াবে না দক্ষিণ কোরিয়া

    সেনা পাঠিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়াবে না দক্ষিণ কোরিয়া

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে তাঁর দেশ এ যুদ্ধে জড়াবে না।

    আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘এমন কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না, যার মাধ্যমে আমরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব। এ বিষয় আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি। এ উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জামও আমরা মোতায়েন করব না।’

    তবে লি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় ভূমিকা রাখবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জলদস্যু দমন অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি ইউনিট সোমালিয়ার উপকূলের কাছে মোতায়েন রয়েছে।

    লি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ ও অপরিশোধিত তেল পরিবহন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় অন্য দেশগুলো যেভাবে ন্যূনতম ভূমিকা রাখছে, আমাদেরও তেমন কিছু করা প্রয়োজন—এটি পরিষ্কার।’

    ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া চলতি গ্রীষ্মে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর বড় যৌথ মহড়াও কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। তবে এ জন্য অনেক বিষয়ের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।

    লি বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনা করতে চান এবং আমিও চাই, তিনি তা করুন। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে আমরা সমন্বয় করে যাচ্ছি।’

    ট্রাম্পের বারবার বৈঠকের আহ্বান নিয়ে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের ওপর চাপ দিচ্ছেন।

  • ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

    ফিলিপাইনে স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলায় নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ৮

    দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও প্রদেশের বাঙ্গা শহরের একটি হাইস্কুলে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত আরও আটজন।

    বাঙ্গার মেয়র আলবার্ট প্যালেনসিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুজনই ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারী নিজেও নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শুক্রবার দুপুরের পর বাঙ্গা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।চলতি বছরের জুনের পর ফিলিপাইনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।’ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    তদন্ত চলার সময় সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়াতে নিষেধ করেছে তারা।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মেয়র প্যালেনসিয়া জানান, দুপুরের খাবারের সময় বন্ধুদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল হামলাকারী কিশোর। সে বলেছিল, ‘দুপুরের খাবারের পরই আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’

    মেয়র বলেন, ‘বন্ধুরা ওই কিশোরের কথা শুনে হেসেছিল। কারণ, সে সব সময়ই সবার সঙ্গে মজা করত।’ ‘খাবার শেষ করেই সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করার পর সে আত্মহত্যা করে।’

    ঘটনার পর পুরো বাঙ্গা পৌর এলাকায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    ফিলিপাইন রেডক্রস জানায়, স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় তারা খবর পায়। এরপরই জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য চারজন প্যারামেডিকসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

    ফিলিপাইনে বন্দুকসংক্রান্ত অপরাধ বেশ নিয়মিত ঘটনা। এ অঞ্চলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার দিক থেকে ফিলিপাইন শীর্ষ দেশগুলোর একটি। তবে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বন্দুক হামলা খুব বেশি দেখা যায় না। তা সত্ত্বেও গত চার মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলা ঘটল।

    এর আগে গত জুনে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে সহপাঠীদের গুলিতে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় কয়েকজন। বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার ক্ষোভ থেকে সেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

    এরপর আগস্টে দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি ক্যাথলিক জুনিয়র হাইস্কুলে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে তার সহপাঠী। পরে সে নিজেও আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় হামলাকারী প্রথমে এক শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

  • জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন -মাহমুদ আব্বাস

    জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন -মাহমুদ আব্বাস

    যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাই ভিসা না থাকায় ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেওয়ার অনুমতির বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন মাহমুদ আব্বাস।

    বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটির পক্ষে ১৫২টি এবং বিপক্ষে তিনটি ভোট পড়ে; এছাড়া চারটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এই প্রস্তাবের ফলে আব্বাস এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ না পান, তবে আগামী এক বছর ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠক বা সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নিতে পারবেন।

    গত বছর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া ও আগের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ওই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রভাবিত হন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়েছে।

    ভোটের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘পিএ যদি অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে চায়, তাহলে তাদের সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং গুরুতর শাসনব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে কূটনৈতিক নাটক বন্ধ করতে হবে।’

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানিয়েছে, কিছু ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা মাহমুদ আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার সাধারণত নিশ্চিত করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে কোনো ব্যক্তিকে ভিসা না দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

  • দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত ইরানিরা

    দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত ইরানিরা

    ইরানের রাজধানী তেহরানের বিখ্যাত ইনকিলাব স্কয়ারে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সংহতি জানাতে লাখো মানুষ জড়ো হয়েছেন। দেশটির বর্তমান ব্যবস্থা ও আয়াতুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানাতে তারা এই সমাবেশে অংশ নেন।

    আলজাজিরার প্রতিবেদক সিনেম কোসেওগলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জানফাদা-ই-ইরান’ নামে একটি কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে শত শত হাজার মানুষ নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। ফারসি শব্দবন্ধটির মোটামুটি অর্থ ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’।

    কর্মসূচিটি মূলত ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত—এমন বার্তা তুলে ধরার একটি প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ‘জানফাদা-ই-ইরান’-এর মূল ভাবনা হলো—‘আমার জীবন আমার দেশের জন্য উপহার’। কর্মসূচিতে নারী ও কিশোর-কিশোরীরাও নিজেদের নাম নিবন্ধন করছেন। কোনো সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের সংগঠিত করা হতে পারে। তাদের ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাসিজ বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ এটি অনেকটা রিজার্ভ বাহিনীর মতো কাজ করবে।

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বক্তব্যে তিনি এটিকে জনগণের সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    পেজেশকিয়ানের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ইরানের ওপর হামলা চালানো দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকেও একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—যেকোনো সংকট মোকাবিলায় ইরানের জনগণ প্রস্তুত।

  • পাকিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ১৫, আহত ৫0

    পাকিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ১৫, আহত ৫0

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।

    ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্স (ডিএইচকিউ) হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে ১৫ জনের লাশ এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে।

    পুলিশের তথ্যমতে, জুমার নামাজের সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরে গর্ত হয়ে যায়।

    বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইনস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি দেয়ালও ধসে পড়েছে।

    এদিকে, ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কোহাট-হাঙ্গু সড়কটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।

  • সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিতে হামলায় ইতালির বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিতে হামলায় ইতালির বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

    সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় ইতালির একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো।

    শুক্রবার ইতালির বার্তা সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের তাইফ বিমানঘাঁটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ক্রোসেত্তো। ওই ঘাঁটিতে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এর অংশ হিসেবে ইতালির সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছেন। ঘাঁটিটি সম্প্রতি একাধিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

    তবে হামলায় কোনো ইতালীয় সেনা জড়িত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন ক্রোসেত্তো।

    তিনি বলেন, হামলার সময় ঘাঁটির একটি দূরবর্তী এলাকায় থাকা ইতালির একটি এফ-২০০০ যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে ইতালীয় সামরিক সদস্যদের ব্যবহৃত অন্য কোনো যানবাহন বা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    ক্রোসেত্তো জানান, পরিস্থিতির মূল্যায়নের পর সেখানে থাকা ইতালীয় সামরিক সদস্যদের অবস্থা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা বেশ কিছুদিন আগেই নেওয়া হয়েছিল বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

    ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামরিক সদস্যদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

    আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। এসব হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করা হয়েছে।

    এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে জুলাইয়ের শুরু থেকে লড়াইও তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় ছিল, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় তারও অবসান ঘটেছে।

  • গাজা গনহত্যা: ২০২৭ ইউরোভিশন বর্জন করবে আয়ারল্যান্ড

    গাজা গনহত্যা: ২০২৭ ইউরোভিশন বর্জন করবে আয়ারল্যান্ড

    গাজায় ‘অব্যাহত প্রাণহানির’ প্রতিবাদে ২০২৭ সালের ইউরোভিশন সঙ কনটেস্টে অংশ নেবে না আয়ারল্যান্ড। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে, আগামী বছরের এই সংগীত প্রতিযোগিতা আয়ারল্যান্ড সম্প্রচারও করবে না।

    আল জাজিরা ১৭ আগস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে চলতি বছরের প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেয়নি আয়ারল্যান্ড। এবার ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটি নেদারল্যান্ডসের সাথে একই অবস্থানে গেল। নেদারল্যান্ডসও আগামী বছরের ইউরোভিশনে অংশ নেবে না।

    আরটিই জানিয়েছে, গাজায় ‘অব্যাহত প্রাণহানির’ কারণে আয়ারল্যান্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই কারণে প্রতিযোগিতাটি সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

    ইউরোভিশন সঙ কনটেস্ট ইউরোপের অন্যতম বড় সংগীত প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা এতে নিজ নিজ দেশের হয়ে অংশ নেন। ইসরাইলের অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিযোগিতাটি রাজনৈতিক বিতর্কের মুখেও পড়েছে।

    চলতি বছর ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। আগামী বছরও একই অবস্থান বজায় রেখে প্রতিযোগিতায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

  • হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে দ্বারে সৌদি

    হুতিদের ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে দ্বারে সৌদি

    ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব মোকাবিলায় টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে রিয়াদ। এর মধ্যেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে তাদের।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব সরকার। তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত—এমন দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এ কথা জানান।

    এই কর্মকর্তারা বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইরান–সমর্থিত হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।

    সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা টানা যুদ্ধের জেরে দেশটিতে এসব অস্ত্রের মজুত কমতির দিকে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে, বলেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

    ওই দুই কর্মকর্তা নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করার অনুমতি দেননি। বলেছেন, এ বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি তাঁদের নেই। তাই তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

    সৌদির অভিযোগ, হুতিদের নাকচ

    চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও হুতিরা। এটা এখন ইরান যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট। গতকাল সৌদি আরব অভিযোগ করে, পবিত্র নগরী মক্কার দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ এ পর্যন্ত দেখা যায়নি।

    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মস্থান মক্কা। পবিত্র কাবা এ নগরে অবস্থিত। মুসলিমদের কাছে পবিত্র নগরী হিসেবে স্বীকৃত মক্কা। প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের সময় বিশ্বের লাখো মুসল্লি এখানে জড়ো হন। এ পবিত্র নগরীর দিকেই হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পবিত্র নগরীতে হুতিদের এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করা হবে না।

    তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের পবিত্র নগরীটিতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

    এর মধ্যেই গতকাল ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি যোদ্ধারা। ইয়েমেনের মারিব প্রদেশ

    মিত্রদের পাশে পেতে মরিয়া

    জ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ধনী দেশটি এখন হুতিদের সবচেয়ে বড় নিশানা। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের পেছনে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে ন

    অতিসম্প্রতি সৌদি আরবে এক হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি তেলের পাইপলাইন (ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন) বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কথা বলা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাইপলাইনটি টানা কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। এ ছাড়া হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজে হামলা করছে।

    এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবের সামনে হরমুজের বিকল্প ছিল বাব আল–মানদেব। কিন্তু সেখানেও হুতিদের নিয়ন্ত্রণ নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।

    হরমুজের পর বাব আল–মানদেব দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া করেছে। ইতিমধ্যে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ।

    আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব এখন ‘খুব কঠিন অবস্থায়’ পড়েছে। কারণ, দেশটিকে শুধু সামরিক ঘাঁটি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষা করলেই হচ্ছে না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।

    অন্য আরেক কর্মকর্তা বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক মিত্রদের পাশে টানার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ইয়েমেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওমান ও মিসর নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছে।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারন বলেন, এটা শুধু হুতি বনাম সৌদি আরবের ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বৃহত্তর পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন মুখ্য বিষয়।

    বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে—এমন দুই কর্মকর্তা বলেন, ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকে একজন হুতি কর্মকর্তা নিজেও উপস্থিত ছিলেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল নিয়ে দুপক্ষ কথা বলেছে।

    এর বাইরে বৈঠকটি সম্পর্কে আর বিস্তারিত জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রও নাম–পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছে।

    কূটনৈতিক সহায়তায় আগ্রহ

    আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে মরিয়া হয়ে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব। জানা গেছে, মিত্রদেশগুলো সামরিক সহায়তা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়; বরং তারা কূটনৈতিক সহায়তা দিতে আগ্রহী।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস গত মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের খুবই ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ রয়েছে। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ব্রিটিশ সেনারা আছেন কি না, সেটি জানাতেও অস্বীকৃতি জানান ওয়েলস।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী ব্যবস্থার তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সহায়তা করার মতো সক্ষমতা ইউরোপের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    এদিকে তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটি ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনিও নাম–পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

    তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে হুতিরা। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা এপিকে বলেন, হুতিকে প্রতিহত করতে তাদের কাছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অনুরোধ আসেনি।

    মক্কায় হামলাচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিন্দা জানাতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘অটলভাবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ একসঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, এ ঘটনায় কোনো দেশই ‘নির্লিপ্ত থাকতে পারে না’।

    অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা

    সৌদি–হুতি বিবাদ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্র

    সৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে অন্য ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও বেশ আগে থেকেই পেয়ে আসছে সৌদি সরকার। তবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এখন সৌদি–হুতি সংঘাতে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নন।

    গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ‘নিয়মিত যোগাযোগ’ রয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র ‘সরাসরি আলোচনা’ করেছে।

    সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, গত সপ্তাহে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জার্মানিতে ওই বৈঠক হয়। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সুযোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। তবে ওই বৈঠকে কোন কোন দেশ অংশ নেয়, তা জানাননি ওই মার্কিন কর্মকর্তা।

    চীন সফরে আব্বাস আরাগচি

    যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কেনে চীন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরে গেছেন।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াং ই।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়।

  • ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

    ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

    রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।

    ৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।

    বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।

    এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

    নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’

    যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’।

    রাশিয়ার একটি তেলের পাইপলাইন

    এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।

    ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

    প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’

    ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’

  • নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট

    নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট

    জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে সম্ভবত হিমবাহটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটি ধসে গত মাসে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। এ দুর্যোগ নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

    গবেষকেরা হিমবাহধসের আগে ওই অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া শনাক্ত করেছেন। হিমবাহটি ধসে পড়ার পর প্রায় ১১ কোটি ঘনমিটার তুষার ও বরফ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। এতে প্রায় নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ভাটির জনপদগুলোয় আঘাত হানে সেই বন্যা।

    লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে হওয়া নিঃসরণ যে সংকট তৈরি করেছে, নেপালের মানুষ জীবন দিয়ে তার মূল্য দিচ্ছেন।’ ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এ গবেষণা করেছে।

    অটো বলেন, ‘উষ্ণায়ন যখন পৃথিবীর ছাদকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে যত অভিযোজনই করা হোক, ভাটির ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব নয়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নিঃসরণ শূন্যে নামাতে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোয় এমন আরও দুর্যোগ অনিবার্যভাবে দেখতে হবে।’

    গত ২৬ আগস্ট লাংটাং লিরুং পর্বত থেকে ঝুলন্ত হিমবাহ ও শিলার একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এর আয়তন ছিল প্রায় দুই লাখ বর্গমিটার। এ দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ।

    হিমবাহ ও শিলার ওই অংশ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার নিচে পড়ে। এত তীব্র শক্তিতে সেটি উপত্যকার মাটিতে আঘাত করে যে কম্পনটি ভূমিকম্প হিসেবেও ধরা পড়ে। এতে বরফ গলে যায় এবং হিমশীতল বন্যার সৃষ্টি হয়। সেই বন্যা ঘণ্টায় ১৭৭ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নদীপথে নেমে আসে।

    ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। তিব্বতের গিরং অঞ্চলে

    পানি, বরফ, শিলা ও পলির ভয়াবহ স্রোত পরিবার, ঘরবাড়ি, জনপদ, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বেঁচে যাওয়া অনেক মানুষ আটকা পড়েন এবং অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এত বড় শিলাধসের ঘটনা বিরল। আনুমানিক হিসাবে এক হাজার থেকে দশ হাজার বছরে এ আকারের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, অভিযোজনের সীমাও ইতিমধ্যে স্পর্শ করা হচ্ছে।’

    অটো ও তাঁর দল এর আগে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন বা ডব্লিউডব্লিউএর অধীন যেসব গবেষণা করেছেন, এটি সেগুলোর চেয়ে আলাদা। ডব্লিউডব্লিউএ হলো ইম্পেরিয়াল কলেজ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ুবিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ উদ্যোগ।

    আগের গবেষণাগুলোয় সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট আবহাওয়াজনিত ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমনটি করা যায়নি। গবেষকেরা দেখেছেন, কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে এই দুর্যোগ ঘটিয়েছে। কয়েক দশক ধরে গ্রিনহাউস গ্যাসদূষণের কারণে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হওয়ায় এসব কারণের প্রভাব আরও বেড়েছে।

    ইম্পেরিয়াল কলেজে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন বেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, ভয়াবহ ধসের আগে হিমবাহটির আশপাশে দীর্ঘ মেয়াদে যেসব পরিবর্তন ঘটেছিল, সেখানে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ’ স্পষ্ট।

    গবেষণার প্রধান তথ্য

    গবেষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

    যে অঞ্চলে ধসটি ঘটেছে, সেখানে শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শুধু জুলাই ও আগস্টে তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    স্থানীয়ভাবে ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ দুই মাস। হিমবাহধসের আগের দিনগুলোয় তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

    ১৯৮০-এর দশক থেকে হিমালয়ে হিমাঙ্কের উচ্চতা প্রতি দশকে প্রায় ১০০ মিটার করে ওপরে উঠেছে। অর্থাৎ বরফ গলার মতো তাপমাত্রা এখন আরও উঁচু এলাকায় এবং বেশি সময় ধরে থাকছে। এতে স্থায়ীভাবে জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্টে গঠিত পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে হিমবাহটি উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে গেছে। ধসের স্থানটির চারপাশে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা বরফ সরে গেছে। পাশাপাশি বরফগলা পানিও জমেছে।

    আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর হেলিকপ্টার থেকে দেখা যাচ্ছে কাদায় ঢেকে যাওয়া জনপদ। রসুয়া, নেপাল

    ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। তবে আগস্টের দুর্যোগে ওই ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নিশ্চিত করা যায়নি।

    অটো, ক্লার্ক ও ডব্লিউডব্লিউএর গবেষক দল সরাসরি বলেনি যে জলবায়ু বিপর্যয়ই এ দুর্যোগের মূল কারণ। তাঁদের মতে, বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করে তোলার একটি কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দেখাই বেশি যুক্তিসংগত।

    ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তন উঁচু পাহাড়ি পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। এই ধসের সম্ভাব্য অনেক কারণের ওপরই এর প্রভাব পড়ছে।’

    বন্যায় হওয়া ধ্বংস মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘের ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে নেপাল। এই তহবিল থেকে সহায়তা পেতে দুর্যোগটির সঙ্গে জলবায়ু সংকটের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়।

    নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল চীন ও ভারতের মতো বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে ‘জেগে ওঠার’ এবং এই দুর্যোগের যৌথ দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ডব্লিউডব্লিউএর অংশ রেডক্রস রেড ক্রিসেন্ট ক্লাইমেট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ কারিগরি উপদেষ্টা মাধব উপ্রেতি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পথ তৈরি হতে পারে শুধু বিশ্বজুড়ে নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমানোর মাধ্যমে।

    মাধব উপ্রেতি আরও বলেন, ‘কল্পনাতীত মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। যে দেশটি এ সমস্যা তৈরিতে কার্যত কোনো ভূমিকা রাখেনি, তার এ পরিস্থিতি একটি বিষয় আরও স্পষ্ট করে, জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে তাদের সৃষ্টি না করা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

  • জিন্নাহর সমাধিসৌধে বাংলায় খোদাই করা জন্ম ও মৃত্যুতারিখ

    জিন্নাহর সমাধিসৌধে বাংলায় খোদাই করা জন্ম ও মৃত্যুতারিখ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে জিন্নাহর ঐতিহাসিক অবস্থান ফুটিয়ে তুলতে ছবিটি রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডাকসু কর্তৃপক্ষ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাওয়া সেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সমাধিসৌধে খোদাই করা রয়েছে বাংলায় লেখা জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ।

    করাচিতে অবস্থিত পাকিস্তানের জনক ও তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধিস্থল বা মাজার-ই-কায়েদ দেশটির অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। ইতালিয়ান শ্বেত মার্বেলে তৈরি এই সমাধিসৌধে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা হরফেও তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ খোদাই করা রয়েছে, যা ইতিহাস সচেতন যেকোনো বাংলা ভাষাভাষীকে বিস্মিত ও গর্বিত করে।

    জানা যায়, শুধু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ নন, আরও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি নেতার কবরেও বাংলা বর্ণমালার ব্যবহার রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন এবং দেশটির সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সরদার আবদুর রব নিশতার। এদের প্রত্যেকের কবরে নাম, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখগুলো বাংলা বর্ণমালায় খোদাই করে লেখা রয়েছে।

    করাচি শহরের মধ্যস্থলে প্রায় ৬১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাজার কমপ্লেক্সটি দেশটির অন্যতম প্রধান জাতীয় প্রতীক। সবার জন্য উন্মুক্ত এই সমাধিস্থলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। নিয়ম অনুযায়ী, এখানে ২৪ ঘণ্টাই গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং প্রতি চার মাস পর পর দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পালাক্রমে এ দায়িত্ব পালন করে।

  • ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

    গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় চালানো দুটি সামরিক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জোড়ালো প্রমাণ ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন। এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলেও জানিয়েছে মিশনটি।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে।

    ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের দমনপীড়ন এই দুই বিষয়ই তদন্ত করেছে মিশনটি।

    জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছেন যে মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী। ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।

    মিশনের সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি কোনো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণও তারা পাননি।

    লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো হামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

    অন্যদিকে, দেশব্যাপি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী মিশন।

  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়ায় ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    কানাডার নেতা মার্ক কার্নি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার এক দিন আগে ইইউর প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন এই প্রস্তাব দেন।

    ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে দূরে সরে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

    প্রস্তাবটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটি হাস্যকর।’

    তিনি বলেন, ‘তারা যদি এটি করে এবং আমি যদি মনে করি এটি কোনোভাবে বৈরী পদক্ষেপ, তাহলে ইউরোপের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপ করব। অথবা অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘উদ্দেশ্য ভালো হলে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ হলে ইউরোপের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপ করব। এটি একটি সম্ভাবনা।’

    ফন ডার লিয়েন কার্নির কাছে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। কার্নি প্রথম ইউরোপের বাইরের কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে অংশ নেন।

  • ফিজিতে এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    ফিজিতে এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    ফিজিতে দ্রুত বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন করে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৬ জনের, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৬ গুণ বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আতোনিও লালাবালাভু বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ‘সমন্বিত ও সর্বাত্মক’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিনা মূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক গ্রহণকারীদের জন্য ক্ষতি কমানোর কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।

    জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে ঘটেছে। ২০২৫ সালে এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেওয়া ৫৯ শিশুর মধ্যে ১৮ জন এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেছে।

    ফিজির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। দেশটিতে সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর জন্য আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, গ্লোবাল ফান্ড ও জাতিসংঘ ফিজিকে সহায়তা করছে।

    ইউএনএইডসের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ফিজি ও অন্যান্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে মাদকের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ পরিস্থিতিও আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

  • কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দিলেন বেওয়ারিশ কুকুর

    কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দিলেন বেওয়ারিশ কুকুর

    ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরাজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর বেওয়ারিশ কুকুর ছেড়ে দেন তারা। এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগে এ প্রতিবাদ করা হয়।

    ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, যুবসেনার নেতা কর্মীরা একটি বস্তার মুখ খুলে প্রধান কর্মকর্তা টেবিলের ওপর একটি ছোট কুকুর ছেড়ে দিচ্ছেন। আকস্মিক ঘটনায় চেয়ারে বসা ধীরাজ ভামরে টেবিল থেকে সরে যান। পরে আবার চেয়ারে ফিরে আসেন। বস্তার ভেতর আটকে থাকার কারণে আতঙ্কিত কুকুরটি দৌড়ে অফিসের এক কোণে চলে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করে দেওয়া হয়। সেটি কর্মকর্তার টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক কোণে বসে পড়ে।

    প্রতিবাদের সময় গত ছয় মাসে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা নিয়ে প্রধান কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন যুবসেনার নেতা রনধাভে।

    এনডিটিভিকে তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রাম, রাস্তা ও অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। তার দাবি, গত ছয় মাস ধরে নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য জানিয়ে আসছেন তিনি। এরই মধ্যে একটি ছোট শিশু কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে এবং অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    রনধাভে বলেন, এলাকার পরিস্থিতির ছবি তুলে এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে একাধিকবার কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মনে হওয়ায় প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি চারটি কুকুর নিয়ে গিয়ে কর্মকর্তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।

    যুবসেনার এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রধান কর্মকর্তা বিভিন্ন টেন্ডারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ কারণেই নেতাকর্মীরা নোটের মালা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলো কর্মকর্তার টেবিলেও রাখা হয় বলে জানান তিনি। এটিকে শেষ সতর্কবার্তা উল্লেখ করে রনধাভে বলেন, আগামী আট দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আবারও কর্মকর্তার কার্যালয়ে কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।

  • ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার খেতাবের জন্য সেরা কয়েকটি ছবি

    ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার খেতাবের জন্য সেরা কয়েকটি ছবি

    রওয়ের আলোকচিত্রী অডান রিকার্ডসেন, যিনি মুলত বন্যপ্রাণীদের ছবি তোলেন, তার তোলা এই ছবিটি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আয়োজিত এ বছরের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় ‘হাইলি কমেন্ডেড’ বা অত্যন্ত প্রশংসিত ছবির তালিকায় স্থান পেয়েছে।

    আর্কটিক ওয়াইল্ডলাইফ ট্যুরস- এর গাইড হিসেবে কাজ করার সময় রিকার্ডসেন একটি সিলের শ্বাস নেওয়ার গর্তের নিচে মোশন সেন্সরযুক্ত একটি ক্যামেরা স্থাপন করেন যেটি পানির নিচেও কাজ করে। এরপর তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন।

    ভোর ৪টায় একটি স্ত্রী মেরু ভল্লুক সেখানে এসে নিচের দিকে তাকায়।

    এরপর রিকার্ডসেন ভল্লুকটি সরে যাওয়ার জন্য আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, তারপর ক্যামেরাটি উদ্ধার করে ছবিগুলো পর্যালোচনা করেন।

    তিনি যখন দেখলেন কী ধারণ করতে পেরেছেন, তখন বলেছিলেন, “আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। আমি চিৎকার করছিলাম, তাই সম্ভবত মাইলের পর মাইল দূরের সব মেরু ভল্লুককেও জাগিয়ে তুলেছিলাম।”

    রিকার্ডসেন এর আগে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন– ২০১৯ সালে ‘বার্ডস’ এবং ২০২৫ সালে ‘ওশান্স: দ্য বিগার পিকচার’ ক্যাটাগরির ছবির জন্য।

    এই বছরের সব বিজয়ীদের নাম ১৩ই অক্টোবর ঘোষণা করা হবে। এরপর লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম-এ একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত প্রশংসা পাওয়া আরো কিছু ছবি দেখতে ও পেছনের গল্প জানতে এই প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।

    শিরোনাম: দ্য আর্ট অফ ফ্লায়িং

    আফ্রিকা থেকে বার্ষিক অভিবাসন শেষে সুইফট পাখিদের লন্ডনে ফিরে আসা দেখছিলেন ক্রকফোর্ড। পাখিদের তীক্ষ্ণ ডাক আকাশ ভরিয়ে তুলছিল। বেশিরভাগ পাখিই এত উঁচুতে উড়ছিল যে ছবি তোলা সম্ভব ছিল না। তবে নিচু দিয়ে উড়া কয়েকটি পাখি তাকে কাঙ্ক্ষিত ছবিটি ধারণের সুযোগ করে দেয়।

    সুইফট পাখিরা জীবনের প্রায় পুরো সময় আকাশেই কাটায় এবং সাধারণত শুধু নিজের বাসা পর্যন্ত নামে।

    শিরোনাম: আরবান ওয়ান্ডারার বা শহুরে পরিব্রাজক

    বৃষ্টির পর একটি ব্যাঙ-কে শহরের রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে দেখেন আলোকচিত্রী মিয়াজাওয়া। তিনি ধীর শাটার গতিতে সেটির ছবি তোলেন, তারপর ব্যাঙটি আবার ঝোপে লাফিয়ে চলে যায়।

    এই ইস্টার্ন জাপানিজ টোড প্রজাতির ব্যাঙ সাধারণত পূর্ব জাপানের বন, তৃণভূমি ও অন্যান্য স্থলভাগের আবাসস্থলে পাওয়া যায়। তবে নগর পরিবেশের সঙ্গেও এরা আশ্চর্যজনকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

    শিরোনাম: লিফটেড টু দ্য সারফেইস

    নরওয়েজিয়ান ওরকা সার্ভে, অর্থাৎ যেসব ওরকা বা খুনে তিমি নরওয়ের উপকূলে দেখা যায় সেগুলোর ওপর একটি জরিপের জন্য ড্রোন ওড়ানোর সময় একটি পূর্ণবয়স্ক ওরকাকে একটি মৃত শাবকের দেহ বহন করতে দেখেন ফটোগ্রাফার আসেন।

    নরওয়ের একটি ফিয়র্ডে (সমুদ্রের খাঁড়ি) বারবার শাবকটিকে ডুবতে দিচ্ছিল ওরকাটি, তারপর আবার পানির ওপর নিয়ে আসছিল। দৃশ্যটি দেখা কঠিন ছিল, কিন্তু আসেন মনে করেছিলেন এটি নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

    এই আচরণ শাবকটিকে পুনরুজ্জীবিত করা অথবা সুরক্ষার চেষ্টা হতে পারে। এর আগে কিলার হোয়েলদের মৃত শাবক বহন করতে দেখা গেছে। এক ঘটনায় একটি স্ত্রী তিমি অন্তত ১৭ দিন ধরে তার মৃত শাবককে বহন করেছিল।

    ২০২৬ সালের একটি গবেষণা ইঙ্গিত দিয়েছে, এই ধরনের আচরণ প্রজাতিটির মধ্যে আগে ধারণার তুলনায় আরও বিস্তৃত হতে পারে।

    শিরোনাম: বাইটিং ব্যাক

    ছবিগুলো পর্যালোচনা করার সময়ই গ্রামাটিকো যমজরা বুঝতে পারেন যে তারা ফের-দে-লেন্স ভাইপারের মাথায় বসে থাকা একটি মশাকেও ধারণ করেছেন।

    তারা এটিকে তাদের “তৈরি সবচেয়ে কঠিন ফোকাস-স্ট্যাকগুলোর একটি” বলে বর্ণনা করেছেন।

    অত্যন্ত বিষধর এই সাপটি মধ্য আমেরিকায় অন্য যেকোনো প্রজাতির তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী সাপের কামড়ের জন্য দায়ী। এটি খুব ভালোভাবে ছদ্মবেশ নিতে পারে এবং চাষাবাদের এলাকাতেও মিশে থাকতে পারে, ফলে কখনও কখনও শ্রমিকদের চোখ এড়িয়ে যায়।

    শিরোনাম: উইংস অফ ডার্কনেস

    ব্রাজিলের পানটানাল জলাভূমিতে একটি মৃত কুমিরের ওপর বসে থাকা কালো শকুনের ছবি তোলেন পার্কিনসন। তিনি নৌকাকে দূরে রেখে দীর্ঘ টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করে ছবিটি ধারণ করেন।

    শকুনটি উড়ে যাওয়ার পর ফ্রেমের বাইরে অপেক্ষমাণ একটি চিতা বাঘ এসে মৃতদেহটির দখল নেয়। এরপরই পার্কিনসন ইয়াকারে কাইম্যান প্রজাতির কুমিরটির মাথার পেছনে অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার ও সোজা একটি ক্ষতচিহ্ন লক্ষ্য করেন, যা সম্ভবত দ্রুতগতির কোনো নৌকার আঘাতে তৈরি হয়েছিল বলে তিনি সন্দেহ করেন।

    শিরোনাম: আই অফ দ্য স্টর্ম

    নামিব মরুভূমিতে নামাকোয়া ক্যামেলেয়ন প্রজাতির একটি গিরগিটির ছবি তোলার সময় হঠাৎ বাতাস জোরালো হয়ে বালুঝড় শুরু হয়। দৃষ্টিসীমা দ্রুত কমে যায় এবং শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

    এই ক্যামেলিয়নগুলো মরুভূমির বিশেষজ্ঞ। তারা সরাসরি বাতাস থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহ করতে পারে। তাদের ত্বকে জমা শিশির অণুবীক্ষণিক খাঁজ বেয়ে মুখের দিকে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তাদের জিহ্বা গাছপালা, বালু ও পাথরে ঘনীভূত কুয়াশার পানিও সংগ্রহ করতে পারে।

    শিরোনাম: ফ্লক অফ গোল্ড

    একটি ছোট জলাশয়ের কাছে পাখিদের জড়ো হতে দেখছিলেন মাতে। ঠিক তখনই হাজার হাজার রেড-বিল্ড কেলিয়া পাখির দল সোনালি বিকেলের আলোয় পানি পান করতে নেমে আসে।

    এত বিপুল সংখ্যক ডানার নড়াচড়ায় এমন বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল, যা ৩০ মিটার দূর থেকেও অনুভব করা যাচ্ছিল– বলেন ফটোগ্রাফার। এই পাখিগুলো দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ পর্যন্ত সদস্যের ঝাঁক গঠন করতে পারে। বাচ্চা ফুটাতে পারে- এই প্রজাতিতে এমন পাখির সংখ্যা দেড়শ কোটি পর্যন্ত হবে বলে ধারণা করা হয়। পৃথিবীতে এই পাখিই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলেও মনে করা হয়।

    শিরোনাম: মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস

    সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণীর খোঁজ করতে গিয়ে পোর্টার একটি রেড-বিল্ড অক্সপিকার পাখিকে সাদা গণ্ডারের গায়ে ঠোঁট ঘষতে দেখেন।

    এই পাখিরা গণ্ডারের শরীরে থাকা পোকামাকড় খায় এবং প্রহরীর ভূমিকাও পালন করতে পারে। বিপদ এগিয়ে এলে তারা ডাক দিয়ে গণ্ডারকে সতর্ক করে। সোয়াহিলি ভাষায় এই পাখিকে বলায় হয় ‘আসকারি ওয়া কিফারু’, যার অর্থ ‘গণ্ডারের রক্ষী’।

    শিরোনাম: আপ অ্যা ট্রি ইউদাউট অ্যা স্কুইরেল

    হাটন দেখেছিলেন একটি তরুণ চিতাবাঘ একটি কাঠবেড়ালিকে গাছে তাড়া করে তুলেছে। এর আগে তিনি চিতাবাঘটিকে একটি খরগোশ শিকার করতে ব্যর্থ হতেও দেখেছিলেন।কাঠবেড়ালিটি আরও ওপরে উঠে পালিয়ে যায়, আর চিতাবাঘটি কিছুক্ষণ কাণ্ড আঁকড়ে থাকার পর অস্বস্তিকরভাবে নিচে নেমে আসে।

    তরুণ চিতাবাঘদের জন্য টিকে থাকার বিষয়টি মোটেও নিশ্চিত নয়, কারণ অর্ধেকেরও কম চিতা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার বয়স পর্যন্ত পৌঁছায়। পুরুষ চিতাবাঘ, সিংহ এবং অন্যান্য শিকারি তাদের জন্য হুমকি।

    শিরোনাম: স্প্লিট-সেকেন্ড এসকেইপ

    একটি আফ্রিকান বুলফ্রগ একটি প্রজাপতি ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কিন্তু ব্যর্থ হয়।

    ভারী বৃষ্টির পর আগের সফরে ব্যাঙাচি দেখেছিলেন কুলমান। পরের মাসে ফিরে এসে তিনি জলাশয় ও গর্তগুলোতে তরুণ বুলফ্রগ-এ ভরা দৃশ্য দেখতে পান। তিনি দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তরুণ ব্যাঙগুলোকে ‘নড়াচড়া করে এমন সবকিছু খেতে’ দেখেছেন।

    পূর্ণবয়স্ক আফ্রিকান বুলফ্রগ -এর দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং বছরে প্রায় ১০ মাস তারা মাটির নিচে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। বৃষ্টির পর তারা প্রজনন ও খাদ্যগ্রহণের জন্য বেরিয়ে আসে।

    শিরোনাম: হিডেন ড্রাগন

    অবস্থান: ইকুয়েডরের নাপো প্রদেশের ওয়াইল্ডসুমাকো বায়োলজিক্যাল স্টেশান মাত্র ১৫ মিলিমিটার দীর্ঘ একটি লাইকেন ড্রাগন ক্যাটিডিড-এর ছবি তুলছিলেন ইউজেন। এটি চারপাশের শ্যাওলার সঙ্গে এতটাই মিশে ছিল যে আলাদা করা কঠিন ছিল।

    পোকাটি নড়াচড়া করার সময় তিনি সেটিকে দেখতে পান, কিন্তু তারপরও ভিউফাইন্ডারের মধ্যে পটভূমি থেকে আলাদা করা কঠিন ছিল। শুধু ইকুয়েডরের আন্দিজ পর্বতমালায় পাওয়া যায় এই প্রজাতি। এর কাঁটাযুক্ত বর্ম ছদ্মবেশ ভেদ করতে সক্ষম শিকারিদের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

    শিরোনাম: কাম অ্যামিড দ্য স্টর্ম

    সূর্যোদয়ের সময় তীরের কাছে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছের একটি ঝাঁকের ছবি তুলছিলেন গ্রস, যখন একটি ঝড় এগিয়ে আসছিল। পানির ওপর ও নিচের অংশ একসঙ্গে ধারণ করা একটি বিভাজিত-স্তরের ছবি তৈরির জন্য তিনি ভাসমান অবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখতে ক্যামেরাটি উল্টো করে ধরেন এবং কৌতূহলী মাছগুলোর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান।

    বিশ্বের বহু অঞ্চলে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছ ধরা হয়, তবে এখানে তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। ২০২৩ সালে ডি’অ্যারোস দ্বীপের চারপাশের জলসীমাকে একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া) ঘোষণা করা হয় এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

    এটি ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর স্থলভাগ ও মহাসাগরের ৩০ শতাংশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী যে উদ্যোগে বিভিন্ন সরকার অংশ নিয়েছে, তারই অংশ।

    শিরোনাম: পুলটাইম পাসটাইম

    এলিয়ট একজন স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ির রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতেন, এই আশায় যে বাগানের মধ্যে দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করা কালো ভাল্লুকগুলোর ছবি তুলতে পারবেন।

    তিনি একটি ভাল্লুককে বাগানের পুকুরে ডুব দিতে দেখেন, যা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে বন্যপ্রাণী ও আবাসিক জীবনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সাধারণ সংমিশ্রণকে তুলে ধরে, যেখানে আবাসন প্রকল্পগুলো ভাল্লুকের আবাসস্থলে ঢুকে পড়েছে।

    শিরোনাম: ওশান প্রোটেকটর

    মন্টেরে উপসাগরের অগভীর পানিতে একটি ইলগ্রাসের তৃণভূমির মধ্য দিয়ে ধীরে ভেসে যাচ্ছে একটি সি হেয়ার বা সামুদ্রিক শামুক। সন্ধ্যার আলোয় সেখানে ছবি তুলছিলেন পেস।

    তিনি এই দৃশ্যটিকে দেখেছেন একটি আশাব্যঞ্জক প্রতিচ্ছবি হিসেবে, যেখানে “এক কোমল দৈত্য সমুদ্রের শেষ সবুজ তৃণভূমিগুলোকে রক্ষা করছে”। লাল শৈবাল খেয়ে সি হেয়ারগুলো ইলগ্রাস পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে। এই শৈবাল কখনও কখনও সূর্যের আলো তৃণভূমিতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য ইলগ্রাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কার্বন শোষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার।

    শিরোনাম: দ্য শো গৌজ অন

    প্রাণী দিয়ে প্রদর্শনী করা একটি সার্কাস শহরে এসেছে জানতে পেরে রোহাস সেটি নথিবদ্ধ করতে যান। সেখানে তিনি দেখেন, একটি বাদামি ভালুক ছোট একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আছে। ভালুকটির মুখে মুখবন্ধনী পরানো ছিল এবং সেটিকে মোটরসাইকেলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তার কাছে এই দৃশ্যটি প্রাণীটির বন্য স্বভাব এবং তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া মানবসৃষ্ট পরিবেশের মধ্যকার বৈপরীত্যকে তুলে ধরেছে।

  • পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?

    পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?

    কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি বনের ভেতর দিয়ে নীরবে হেঁটে চলে কালো-সাদা এক প্রাণী। চারপাশে শুধু বাঁশের মৃদু শব্দ। কোথাও মানুষের কোলাহল নেই, নেই আধুনিক সভ্যতার চিহ্ন। এই শান্ত পরিবেশেই জন্ম নেয় পৃথিবীর অন্যতম বিরল স্তন্যপায়ী পান্ডা। আর এই পান্ডার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে চীনের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও আবেগ।

    চীনে পান্ডা শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি সৌভাগ্য, শান্তি ও প্রকৃতির ভারসাম্যের প্রতীক। দেশটিতে শিশুরা বড় হয় পান্ডার ছবি দেখে, সংরক্ষণকর্মীরা জীবন উৎসর্গ করেন তাদের রক্ষায়, আর রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও পান্ডাকে দেখা হয় জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে।

    একসময় যে প্রাণীটি ছিল বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে, আজ তাকে ফিরিয়ে আনার পেছনে শুধু বিজ্ঞান নয়; মানুষের ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও দীর্ঘ সংগ্রামও কাজ করেছে। তবু বিস্ময় থেকেই যায়, এই বিশাল পৃথিবীর দেশে দেশে এত বন, পাহাড় আর সংরক্ষিত এলাকা থাকা সত্ত্বেও কেন পান্ডার স্বাভাবিক জন্ম ও বসবাস শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ?

    জায়ান্ট পান্ডা: সংখ্যা, গড়ন, বাসস্থান আর খাদ্যাভ্যাস

    ভালুক পরিবারের সদস্য জায়ান্ট পান্ডা কালো-সাদা রঙের, আকারেও বড়। এদের প্রাপ্তিস্থান শুধু চীন। জায়ান্ট পান্ডা শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে চীনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছে। জায়ান্ট পান্ডার চোখের চারপাশে, কান, নাকের অংশ, পা ও কাঁধে কালো লোম থাকে। আর সারা শরীরের ঘন ও উলের মতো লোম তাদেরকে ঠান্ডা পাহাড়ি পরিবেশে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করে।

    একটি পূর্ণবয়স্ক পান্ডার দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় মিটার এবং কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার। ওজন হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি। তবে পুরুষ পান্ডা স্ত্রী পান্ডার তুলনায় একটু বড় ও ভারী। আর নবজাতক পান্ডা শাবক আকারে প্রায় একটি ভুট্টার মোচার মতো। মায়ের আকারের তুলনায় জন্মের সময় এত ছোট শাবক আর কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীরই হয় না।

    এদের পরিপাকতন্ত্র মাংসাশীর মতো হলেও বিবর্তনের ফলে তারা প্রায় পুরোপুরি তৃণভোজী, বিশেষত বাঁশনির্ভর হয়ে পড়েছে। একটি জায়ান্ট পান্ডাকে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ৩৮ কেজি পর্যন্ত বাঁশ খেতে হয়। বাঁশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কারণ তাদের আবাসস্থল, বাঁশবন ধ্বংস হলেই পান্ডার অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে পড়ে যায়।

    তবে তারা যে শুধু বাঁশই খায়, তা না। তাদের খাদ্যের প্রায় এক শতাংশে অন্য উদ্ভিদ এবং মাঝে মাঝে ছোট প্রাণীও থাকে। তাদের একটি চওড়া শক্ত দাঁত এবং কবজির বিশেষ একটি হাড় আছে, যা আঙুলের মতো কাজ করে। এই কারণেই তারা খুব দক্ষভাবে বাঁশ আঁকড়ে ধরে খেতে পারে।

    বনে ঠিক কতগুলো পান্ডা আছে, তা নির্ধারণ করা মোটেও কোনো সহজ কাজ নয়।

    আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (ডব্লিউ ডব্লিউ এফ) দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে জায়ান্ট পান্ডা সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি বলছে, পান্ডার উপস্থিতির চিহ্ন খুঁজে পাওয়াটা এক পরিশ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। অনেক সময় একেকটি গবেষক দলকে টানা কয়েক দিন ধরে বনভূমির প্রতিটি মিটার এলাকা খুঁটিয়ে দেখতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি বাঁশবনে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটে শুধু পান্ডার মল পাওয়ার আশায়।

    কোথাও যখন পান্ডার মল পাওয়া যায়, তখন তা ছেঁকে ‘হজম না হওয়া’ বাঁশের অংশ আলাদা করা হয় এবং এরপর দাঁতের কামড়ের দাগ বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় কোনটি কোন পান্ডার। কারণ প্রতিটি পান্ডার কামড়ের ছাপ আলাদা, ঠিক মানুষের আঙুলের ছাপের মতো।

    আর একটি পান্ডা দিনে প্রায় ৫০ বার মলত্যাগ করতে হয়। কারণ বাঁশে পুষ্টিগুণ খুব কম এবং এর অধিকাংশই হজম হয় না। তাই তারা যেমন প্রচুর বাঁশ খায়, তেমনি সেই বাঁশ মলত্যাগের মাধ্যমে দ্রুত বেরও হয়ে যায়। দেখা গেছে, একটি পান্ডা দিনের ১২ ঘণ্টাই শুধু খায়।

    পান্ডা রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বনে বসবাসকারী জায়ান্ট পান্ডার সংখ্যা এক হাজার ৮৬৪টি। যদিও এই সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবে এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ সত্তরের দশকের শেষ দিকে পান্ডার সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজারেরও কম।

    উল্লেখ্য, বনের বাইরে চিড়িয়াখানা ও প্রজনন কেন্দ্রে ছয়শোর মতো পান্ডা আছে। তবে এই বন্দি জায়ান্ট পান্ডাগুলোর সিংহভাগই চীনে। আর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে হাতে গোণা কিছু সংখ্যক পান্ডা আছে। কিন্তু সেগুলোর সবই চীনা সরকারের ধার দেওয়া।

    ডব্লিউ ডব্লিউ এফ বলছে, বনে জায়ান্ট পান্ডা গড়ে ১৪ থেকে ২০ বছর বাঁচলেও চিড়িয়াখানা বা সংরক্ষণ কেন্দ্রে ভালো যত্নের কারণে তারা ৩০ বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারে।

    কেন শুধু চীনেই প্রাকৃতিকভাবে জায়ান্ট পান্ডা জন্মায়?

    জায়ান্ট পান্ডা আজ প্রাকৃতিকভাবে শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং হাজার বছরের পরিবেশগত ইতিহাসের ফল। একসময় এই এদের বিচরণ ছিল দক্ষিণ ও পূর্ব চীন ছাড়িয়ে মিয়ানমার ও উত্তর ভিয়েতনাম পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিকাজ-বসতির চাপে একসময় বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা জায়ান্ট পান্ডার আবাসস্থল ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তারা টিকে থাকে শুধু চীনের দুর্গম পাহাড়ি বনেই, যেখানে প্রকৃতি এখনো তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও আশ্রয় জোগাতে পারে।

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র প্রায় ২০টি বিচ্ছিন্ন বাঁশবনে জায়ান্ট পান্ড রয়েছে। যেগুলো চীনের সিচুয়ান, শানশি ও গানসু প্রদেশে ছয়টি পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। অধিকাংশ বন্য পান্ডাই এখন মিনশান ও চিনলিং পর্বতমালায় বাস করে।

    আবাসস্থল ধ্বংসই যেহেতু পান্ডার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাই, চীনের সরকার ৬৭টি পান্ডা সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তুলেছে, যেখানে বন্য পান্ডাদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নিরাপদে বাস করছে এবং সংরক্ষিত করা হয়েছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রাকৃতিক আবাস। এছাড়া, বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলগুলোকে যুক্ত করতে বিশেষ বাঁশ করিডোর তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে তা দিয়ে পান্ডারা নতুন এলাকায় যেতে পারে, বেশি খাবার পায় এবং সঙ্গী খুঁজে নিয়ে প্রজনন বাড়ায়।

    আর, ইতোমধ্যেই বলেছি যে পান্ডার প্রধান খাবার বাঁশ, যা সবচেয়ে ঘন ও বৈচিত্র্যময়ভাবে বেড়ে ওঠে চীনের ওই পাহাড়ি বনাঞ্চলগুলোতেই। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাঁশের প্রজাতি ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম স্থানে আছে চীন।

    পাশাপাশি, পান্ডা গরম সহ্য করতে পারে না। তাই, চীনের ওই উঁচু পাহাড়, কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকা আর স্থায়ী শীতল আবহাওয়া পান্ডার শরীর ও জীবনযাপনের জন্য আদর্শ।

    যেভাবে বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এলো পান্ডা

    জায়ান্ট পান্ডার অস্তিত্ব প্রথমবার পশ্চিমা বিশ্বের নজরে আসে ১৮৬৯ সালের মার্চে, যখন এক শিকারি একটি পান্ডার চামড়া পৌঁছে দেন ফরাসি ধর্মযাজক ও প্রকৃতিবিদ আর্মান্ড ডেভিডের হাতে। এই ঘটনাই ইউরোপে পান্ডাকে পরিচিত করে তোলে বৈজ্ঞানিক জগতে।

    এরপর বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমা শিকারি ও সংগ্রাহকদের মাধ্যমে পান্ডা ধীরে ধীরে বিশ্বের নজরে আসে। ১৯২৯ সালে রুজভেল্ট পরিবারের দুই ভাই প্রথম বিদেশি হিসেবে একটি পান্ডা শিকার করেন, যা সে সময় পশ্চিমা বিশ্বে পান্ডাকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

    তবে পান্ডাকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও জনপ্রিয়তার বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৩৬ সালে। সে বছর আমেরিকান নারী অভিযাত্রী রুথ হারকেস একটি জীবিত শিশু পান্ডাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলে প্রাণীটি মুহূর্তেই গণমাধ্যমের নজর কাড়ে। তখন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে পান্ডার ছবি নিয়মিত ছাপা হতে থাকে। আদুরে চেহারা, বড় চোখ, গোল মুখ, নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের কারণে পান্ডা মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয়। সেখান থেকেই শুরু ‘পান্ডা কাল্ট’-এর।

    পরের দশ বছরে বিদেশিরা চীন থেকে অন্তত ১৪টি জায়ান্ট পান্ডা নিয়ে যায়। কখনো প্রদর্শনের জন্য, কখনো ব্যক্তিগত সংগ্রহে। তখন পান্ডা ছিল এক ধরনের দুর্লভ আকর্ষণ। কিন্তু ১৯৪৬ সালে চীন সরকার এই পান্ডা নেওয়ার দরজা বন্ধ করে দেয়। বিদেশিদের হাতে পান্ডা নেওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। এটি ছিল পান্ডা রক্ষার জন্য প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।

    এদিকে, জনপ্রিয়তার আড়ালে দ্রুত ধ্বংস হচ্ছিলো পান্ডার বনভূমি। তাই, ষাটের দশকের শুরুতে চীন প্রথমবারের মতো পান্ডা সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে এবং শিকার নিষিদ্ধ করে।

    সত্তরের দশকে জরিপে ধরা পড়ে, বনে থাকা পান্ডার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে, সিচুয়ান প্রদেশে পান্ডার উপযুক্ত বনাঞ্চলের অর্ধেকের বেশি ততদিনে হারিয়ে গেছে। এই বাস্তবতা বিশ্বজুড়ে আরও কঠোর পান্ডা সংরক্ষণ নীতির জন্ম দেয়। নব্বইয়ের দশকে পান্ডার আবাসস্থলের বড় অংশ সংরক্ষিত অঞ্চলের আওতায় আনা হয়।

    ফলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে পান্ডা। একের পর এক জাতীয় জরিপে দেখা যায়, বিলুপ্তির কিনারা থেকে ফিরে বাড়ছে তাদের সংখ্যা। ২০০৪ সালে যেখানে বনে পান্ডা ছিল প্রায় এক হাজার ৬০০টি, সেখানে ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৮৬৪টিতে।

    ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ – পান্ডা যখন কূটনীতির ভাষ

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চীন কূটনৈতিক সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ২৪টি পান্ডা বিভিন্ন দেশে উপহার দেয়। পান্ডা উপহার দেওয়ার এই ধারণাটি ১৯৬০ সালে ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ নামে পরিচিত হয়।

    বিশেষ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন চীনের নেতা মাও জেদং ষাটের দশকে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রকে এবং সত্তরের দশকে যুক্তরাজ্যকে পান্ডা উপহার দেন।

    কিন্তু আশির দশকে চীন জায়ান্ট পান্ডাকে তাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে পান্ডা উপহার দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে ধার দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। সেই থেকে বিশ্বের যেখানেই যত জীবিত পান্ডা আছে, আইনত তার মালিক কেবল চীন। আর কোন দেশ পান্ডা পাবে, তা পুরোপুরি চীনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

    চীন কেবল তাদেরকেই পান্ডা ধার দেয়, যাদের সঙ্গে তারা ভালো বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে চায় । অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ পল জেপসন, যিনি ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে গবেষণাও করেছেন।

    চীন যখন অন্য কোনো দেশে পান্ডা ধার দেয়, তখনও সেই পান্ডাগুলোর মালিকানা চীনের হাতেই থাকে। এমনকি বিদেশে জন্ম নেওয়া শাবকও আইনগতভাবে চীনের সম্পত্তি হিসেবে ধরা হয়। তবে পান্ডা রাখার জন্য ওইসব দেশের চিড়িয়াখানাগুলোকে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়, আর এর খাবার জোগানো ও যত্ন নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

    যেমন, চীনের ধার দেওয়া পান্ডাগুলো যেসব দেশ রাখে, তাদেরকে প্রতি জোড়া পান্ডার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড) দিতে হয় চীনকে।

    সাধারণত একটি পান্ডা ধার দেওয়ার চুক্তির মেয়াদ থাকে ১০ বছর। তবে প্রয়োজন হলে এবং দুই পক্ষ সম্মত হলে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোও হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পান্ডা ধার দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে বড় বাণিজ্য চুক্তি ছিল।

    যেমন, ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার চিড়িয়াখানায় দু’টো জায়ান্ট পান্ডা পাঠানোর পেছনে ছিল চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি। যার আওতায় স্কটল্যান্ড চীনে স্যামন মাছ, ল্যান্ড রোভার গাড়ি ও সমুদ্রের তেল উত্তোলন প্রযুক্তি বিক্রি করে। ২০১৪ সালে বেলজিয়ামে পাঠানো পান্ডাগুলোর পেছনেও ছিল উন্নত দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য চুক্তি।

    গত কয়েক বছরে অনেক পান্ডাকেই আবার চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো জাপান। পান্ডা ডিপ্লোম্যাসির অংশ হিসেবেই জাপানকে ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো পান্ডা উপহার দেয় চীন। শাও শাও এবং লেই লেই ২০২১ সালে জাপানের উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়। তাদের মা শিন শিন এবং বাবা রি রিকে প্রজনন গবেষণার অংশ হিসেবে জাপানকে ধার দেওয়া হয়েছিল।

    এখানে উল্লেখ্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের অনেক দেশই বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে অন্য দেশকে বিরল বন্যপ্রাণী উপহার দিয়ে আসছে। তবে বর্তমানে এটি আর খুব বেশি হয় না, কারণ এখন বেশিরভাগ বিরল প্রাণী চিড়িয়াখানাতেই প্রজননের মাধ্যমে জন্মায় এবং চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যেই আদান–প্রদান হয়।

    কিন্তু পান্ডার ক্ষেত্রে বিষয়টি একদমই আলাদা। কারণ তাদের ওই আশির দশকের ঘোষণার কারণে চীন সরকার ছাড়া আর কেউ কোনো জায়ান্ট পান্ডার মালিক হতে পারে না।

  • ইরান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে বসতে চাই যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে বসতে চাই যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানকে ঘিরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

    মঙ্গলবার হাউস ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বেসেন্ট জানান, ইরান যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে চীনের সঙ্গে এরই মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। হি লিফেংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে সেই আলোচনাকে আরো এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বেসেন্ট বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আগেই বেসেন্ট ও হি লিফেংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও কথা হতে পারে। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বেসেন্ট।

    এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বা নির্ণায়ক অর্থনৈতিক আঘাত হানার কথা বলেছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

    চীন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। ইরানের উৎপাদিত তেলের বড় একটি অংশ চীন কিনে থাকে। পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে বেইজিংয়ের ভূমিকা রয়েছে।

  • মক্কার নিরাপত্তায় সৌদির পাশে মালয়েশিয়া

    মক্কার নিরাপত্তায় সৌদির পাশে মালয়েশিয়া

    মক্কার কাছে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের ওপর নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, ইসলামের পবিত্রতম শহরের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘কোনোভাবেই’ মেনে নেওয়া যায় না।

    মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আনোয়ার বলেন, মালয়েশিয়া সৌদি আরব সরকারের পাশে রয়েছে এবং মক্কার বাসিন্দা ও হজপালনকারী যাত্রীদের সুরক্ষায় দেশটির নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের আবারো মনে করিয়ে দেয় যে, এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

    আনোয়ার জনবহুল এলাকায়—বিশেষ করে পবিত্র স্থানগুলোর জন্য হুমকি হতে পারে এমন—সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, উত্তেজনা প্রশমনে বিলম্ব না করে সব পক্ষকে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।

    তবে হুথিরা পবিত্র স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এই অভিযোগকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছে।

  • ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত লাখের বেশি

    ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত লাখের বেশি

    ইয়েমেনে সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী। অন্যদিকে বিদ্রোহী হুতি। হুতিদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকায় তাদের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না সরকারি বাহিনী। ফলে একের পর এক কৌশলগত এলাকা দখল করে নিচ্ছে তারা। পাশাপাশি সৌদি আরবেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। ইরান সমর্থিত হুতিরা এতদিন মুসলিমদের কিছু অংশের সমর্থন পেলেও এখন তা ম্লান হয়ে যেতে পারে।

    কারণ, তাদের ড্রোন পবিত্র মক্কা নগরীর কাছাকাছি চলে গিয়েছে। তার আগেই সৌদি বাহিনী তা ধ্বংস করেছে। ইসলামের পবিত্র স্থাপনা পবিত্র কাবা ও মদিনায় মসজিদে নববী। এগুলোর সম্মান, মর্যাদা মুসলিমদের কাছে সর্বোচ্চ। ফলে যদি পবিত্র মক্কা নগরীতে হুতিদের কোনো ড্রোন আঘাত হানে, তাহলে মুসলিম সেন্টিমেন্ট ঘুরে যেতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ইয়েমেনের এই সহিংসতায় দেশটির ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজার হাজার মানুষ বাব-আল মান্দেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছে। এমন তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সহিংসতার কারণে আরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় সীমিত সম্পদের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাপ বাড়ছে। এর ফলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তা দরকার।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনেক পরিবার খুব অল্প সময়ের নোটিশে সামান্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়েছে। আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা সবই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। কারণ আশ্রয় দেয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ইয়েমেনে নিবন্ধিত ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও এই লড়াইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা। ইরানের মিত্র হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। বাব আল-মানদেবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতেই তারা এমন পদক্ষেপ নেয়।
    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাব-আল মান্দেব এখন বিকল্প নৌপথ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাস্তুচ্যুত নারী আয়েশা মুহাম্মদকে গত সপ্তাহে হুতিরা বন্দরনগরী মোচার কাছে তার গ্রাম দখল করে নেয়ার পর নিজের পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখে পালাতে হয়েছে। মুহাম্মদ বলেন, তাদের আটকে রাখা হয়েছে এবং গুলি করা হচ্ছে। তাই তারা নিজেদের বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়ে আছে। তারা শুধু ভাত রান্না করছে, রুটি নেই, অন্য কিছুই নেই। আমার মেয়েরা আমাকে ফোন করে বলেছে, তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়। কিন্তু পরিস্থিতি এত কঠিন হয়ে গেছে যে তা সম্ভব হচ্ছে না।

    হোদেইদা থেকে বাস্তুচ্যুত হুসেইন হায়দারা জানান, পরিবার নিয়ে তাকে হঠাৎ করে পালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, আপনি খুব কষ্টে আপনার সন্তানদের এবং একেবারে প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিস সঙ্গে নিতে পারবেন। গোলাবর্ষণ ও স্নাইপারদের গুলিতে আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তার ভয়ে যত দ্রুত সম্ভব পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

    ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত চার দিনে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ বাব আল-মানদেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

  • সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

    সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

    কারো কাছে ইয়েমভার সাঁতারের হ্রদটি একটি ‘চমৎকার জায়গা’, রাজহাঁসে ভরা এক মনোরম জলাধার, গরমের দিনে ঠান্ডা পানিতে ডুব দেয়ার জন্য আদর্শ। আবার অন্যরা একে বলে কবরস্থান।

    রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত এই কৃত্রিম সৈকতের একটি ছবির নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, ‘পুরো শহর জানে, সেখানে শুধু হাড়ের ওপর হাড় রয়েছে।’

    দশকের পর দশক ধরে স্থানীয়রা এই হ্রদে সাঁতার কাটছেন। কিন্তু এটি তৈরি করা হয়েছিল এমন একটি স্থান খনন করে, যা একসময় সোভিয়েত গুলাগ ব্যবস্থার যারা শিকার হয়েছেন, তাদের গণকবর ছিল। গুলাগ ছিল জোরপূর্বক শ্রমশিবিরের একটি কুখ্যাত নেটওয়ার্ক।

    স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত তীরে মানবদেহের হাড় খুঁজে পান। মৃতদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা ফলক নেই, যা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারত। কর্তৃপক্ষ কখনোই স্থানটিকে চিহ্নিত করেনি।

    এমনকি সম্প্রতি ওই দেহাবশেষ নিয়ে কী করা উচিত তা নিয়ে বিতর্কের সময়ও তারা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যে হাড়গুলো গুলাগ বন্দিদের। খননের সময় একটি এক্সকাভেটর শুধু মাটিই নয়, মানুষের দেহাবশেষ এবং কফিনের কাঠের টুকরাও তুলে আনে।

    তবু মস্কো থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ওই স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। ভূগর্ভস্থ ঝরনার পানি গর্তে প্রবাহিত করা হয় এবং প্রায় ১৫ হাজার জনসংখ্যার ইয়েমভার বাসিন্দারা তখন থেকেই সেখানে সাঁতার কাটছেন।

    তবে পাঁচ বছর আগে ওই এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ড এবং একদল গবেষকের আগমন হাড়গুলো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুরো এলাকা আবার খুঁড়ে সব দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করা উচিত। অন্যরা সেখানে একটি ক্রুশ স্থাপনের আহ্বান জানান।

    আবার কেউ কেউ বলেন, এত হইচইয়ের প্রয়োজন নেই। গুলাগগুলো এতটা ভয়াবহ ছিল না এবং সেখানে ছিল শুধু অপরাধীরা। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছুই করেনি।

    এই নিষ্ক্রিয়তা রাশিয়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ওই সময়কার গণকবরগুলো সচরাচর চিহ্নিত করা হয় না।

    যারা ভুক্তভোগীদের নিয়ে গবেষণা বা তাদের স্মরণ করার চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর গুলাগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ক্রমশ নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    মস্কোর গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের হিসাব অনুযায়ী, (যা কর্তৃপক্ষ এ বছর বন্ধ করে দেয়), ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ সোভিয়েত শ্রমশিবির, দণ্ড উপনিবেশ ও কারাগারের মধ্য দিয়ে গেছে।

    তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখকে রাজনৈতিক কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। স্টালিনের আমলে এবং তার পরপরই পরিচালিত এই দমন-পীড়নের সময়ে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    আরো ৬০ লাখ মানুষকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জোরপূর্বক পুনর্বাসনের শিকার হতে হয়। কোমি ভাষায় ‘বিশুদ্ধ পানি’ অর্থে ব্যবহৃত ইয়েমভা শহরের উৎপত্তি ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি শ্রমশিবির থেকে।

    এলাকাটির বেশিভাগ বাসিন্দাই গুলাগ বন্দি অথবা প্রহরীদের বংশধর। পুরো কোমি অঞ্চলেই চিত্রটি প্রায় একই। এখনো ইয়েমভায় একটি সাজাপ্রাপ্ত পুরুষদের কলোনি চালু রয়েছে।

    উত্তরের উপ-আর্কটিক চিরসবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা শিবিরগুলোর জীবন ছিল নিষ্ঠুর। বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ছিল না। এমনকি শীতকালে তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেত, তখনও অনেককে মাটির গর্ত বা তাঁবুতে থাকতে হতো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা বন কেটে রেলপথ নির্মাণ করত।

    তাদের দৈনিক খাদ্য ছিল ৪০০ গ্রাম রুটি এবং এক বাটি স্যুপ। ইতিহাসবিদদের ধারণা অনুযায়ী, কোমির শিবিরগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক উভয় ধরনের মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি বন্দি গেছে। তবে সেখানে কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই।

    ২০২১ সালে নিকটবর্তী একটি ঘাসের আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা অন্তত তিনজন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পান। তখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

    তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে দেহাবশেষগুলোর বয়স অন্তত ১৫ বছর এবং সেখানে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অনুপস্থিতির কারণে’ তারা কোনো মামলা শুরু করেনি।

    তদন্তকারীদের সিদ্ধান্তে বলা হয়, যেখানে হাড় পাওয়া গেছে, সেটি ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে গুলাগ বন্দিদের একটি ‘অনানুষ্ঠানিক গণকবরস্থল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

    বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত, যদি না ছয় মাস পরে গুলাগ ইতিহাস নিয়ে কাজ করা একদল গবেষক আঞ্চলিক রাজধানী সিক্তিভকার থেকে সেখানে যেতেন।

    লেখক ও স্থানীয় ইতিহাসবিদ গ্রিগরি স্পিচাক বলেন, ‘আমরা খনির জায়গাটিতে গিয়েছিলাম এবং কিছু খুঁজতেও হয়নি, হাড় আমাদের সামনে প্রায় সাথে সাথেই দেখা দেয়।’

    তখন গবেষক দলের আরেক সদস্য ইগর সাজিন বলেন, “আমরা পাঁজরের হাড় এবং শ্রোণিচক্রের হাড় পেয়েছি। এগুলোকে পশুর দেহাবশেষ বলে ভুল করার উপায় নেই। ‘এভাবে ফেলে রাখা নিছক অমানবিক। অতীতের এই ভয়াবহ স্মৃতিচিহ্নকে স্বীকার না করেই ইয়েমভা তার জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছে।’

    রুশ আইনে নবআবিষ্কৃত সমাধিস্থল, যার মধ্যে ‘গণদমন-পীড়নের শিকারদের কবর’ও রয়েছে, কর্তৃপক্ষকে নিবন্ধন ও চিহ্নিত করতে হয় এবং প্রয়োজন হলে দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করতে হয়।

    সাজিন সরকারি কৌঁসুলির সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।প্রায় এক বছর পরে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও গির্জার কাছে অন্তত হ্রদের পাশে একটি ক্রুশ স্থাপনের অনুরোধ জানান।

    কিন্তু প্রশাসন কৌঁসুলির দফতরকে জানায়, আঞ্চলিক কারা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একটি স্থানীয় ইতিহাস জাদুঘরের সাথে যোগাযোগ করার পরও তারা এটিকে গুলাগের কবরস্থান হিসেবে প্রমাণ পায়নি।

    তবে অন্যরা এ বিষয়ে অনেক বেশি নিশ্চিত। গবেষক ওরেস্ট রোমাঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এগুলো অবশ্যই গুলাগের ভুক্তভোগীদের দেহাবশেষ, কারণ তাদের পোশাক ও জুতা ছাড়া, কোদালের ফলার সমান গভীরতায় সমাহিত করা হয়েছিল।’

    রাশিয়ায় গণদমন-পীড়নের ইতিহাস একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় এবং গণকবর শনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    পশ্চিম রাশিয়ার একটি গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের পরিচালক নিকোলাই আরাকচিয়েভকে অনুমতি ছাড়া একটি খুলি উত্তোলনের দায়ে জরিমানা করা হয়।

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, প্রতি মাসে বাড়ছে ৩০০ কোটি

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, প্রতি মাসে বাড়ছে ৩০০ কোটি

    ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এই ব্যয় প্রতি মাসে আরো ৩০০ কোটি ডলার করে বাড়তে পারে। মার্কিন কংগ্রেশনের নির্দলীয় বাজেট বিশ্লেষণ সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার উপায় খুঁজছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি করেছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্য সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সাথে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    ২১ জুলাই সিনেটের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের ব্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন। এই নতুন হিসাব তার কাছাকাছি।

    সিবিও জানিয়েছে, ব্যয়ের বড় অংশ এসেছে দ্রুত গতিতে গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। রয়টার্স আগস্টে জানিয়েছিল, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার দূরপাল্লার নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ব্যবহার করেছে।

    তবে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সাথে সহযোগিতা করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, জানিয়েছে সিবিও।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ইরানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলাকে ‘তেহরান যাতে মার্কিন সেনা বা স্বার্থের ক্ষতি করতে না পারে, তা ঠেকাতে নেয়া সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের সব কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ এবং তারও বেশি কিছু করার জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ, অস্ত্র ও মজুদ রয়েছে।’

    পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল গোলাবারুদের ঘাটতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে সময় ও স্থানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেবেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আমাদের কাছে রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই ব্যয় পর্যালোচনা করা হয়।

    এক বিবৃতিতে বয়েল বলেন, ‘ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপর্যয়কর যুদ্ধে ইতোমধ্যে সাহসী মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাণ গেছে এবং অন্যরা আহত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এই মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নির্দলীয় সিবিওর প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করেছে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে এবং সেই ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে।’

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

    তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় চালানো আক্রমণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধের অর্থায়নে ঋণ নেয়ার সুদ বা অন্যান্য ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। এসব ব্যয় মোট খরচের সাথে আরো কয়েক হাজার কোটি ডলার যোগ করতে পারে।

    মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব

    সিবিওর হিসাব বলছে, যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দেয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে পেন্টাগনের সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে সিবিও।

    জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুদ পুনরায় পূরণ করতে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার নয়, বরং প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলার জরুরি তহবিল চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই অর্থ না পেলে আমরা গুরুতর ঘাটতির মুখে পড়ব।’

    পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মহাপরিদর্শকের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতিও রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীতে হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণের কারণে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেই হরমুজ প্রণালীর সংকট ভোক্তা ও বৈশ্বিক উৎপাদকদের জন্য জ্বালানির দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

    যুদ্ধের বাড়তি ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল হয়ে পড়া আর্থিক পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি করছে। আগস্টে দেশটির মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    ট্রাম্প প্রায়ই ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের তুলনা করেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাথে।

    রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে আট বছর ধরে চলা যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে এক লাখের বেশি স্থলসেনা মোতায়েন ছিল এবং ব্যয় হয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল এবং ব্যয় হয়েছে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।