আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ

    ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলেছে ঢাকা।

    বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকের পর একই দিন নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী ও পেশাজীবীর নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক ও পেশাজীবী রয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়তে পারে।

    হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে আটকে থাকা বাংলাদেশি কনটেইনার ও জাহাজের বিষয়টিও বৈঠকে তোলা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব জাহাজ ও কনটেইনার যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিকভাবে দ্রুত এই সংঘাতের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।’

    ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো নোট করেছেন বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশ সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘সফট-মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা সম্পন্ন দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অংশীদারের কেউ কেউ সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগানোর উৎসাহ দিয়েছে।

    তবে বাংলাদেশ সরাসরি দৃশ্যমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে, এমনটি অপরিহার্য নয় বলে জানান তিনি। তার মতে, এ অঞ্চলের বন্ধু হিসেবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারে বাংলাদেশ।

    জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে বাংলাদেশের জন্য একটি নিরপেক্ষ কূটনৈতিক পরিসর হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘দ্য ইউএন ইজ আ নিউট্রাল ভেন্যু’—জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ স্থান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও ছিল।

    হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • নিউ জার্সি ইসরাইলকে দিন, ট্রাম্পকে শারা

    নিউ জার্সি ইসরাইলকে দিন, ট্রাম্পকে শারা

    সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরাইলকে যদি জমি দিতেই চান, তাহলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। কারণ নিউ জার্সির মালিক তিনি, কিন্তু গোলান মালভূমির মালিক সিরিয়ার জনগণ।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে এক আলোচনায় আল-শারা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন, দেশটিকে সমর্থন করেছেন এবং সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং তার সঙ্গে আমার বিশেষ একটি সম্পর্ক রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসে এক সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার ওই রসিকতার কথা উল্লেখ করে আল-শারা বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি ইসরাইলকে কিছু জমি দিতে এতটাই আগ্রহী হন, তাহলে নিউ জার্সি কেন দিয়ে দিচ্ছেন না কেন?’

    তিনি আরো বলেন, নিউ জার্সি ডেমোক্র্যাটদের, কারণ তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেয় না। তাই ইসরাইলকে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া ভালো হবে।

    আল-শারা বলেন, ট্রাম্প নিউ জার্সির মালিক, কিন্তু তিনি গোলান মালভূমির মালিক নন। এই রসিকতা বাদ দিলেও বিষয়টি হলো, গোলান মালভূমি সেখানকার জনগণের। কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই তা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই।

    ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ এলাকা ইসরাইলের দখলে রয়েছে। ১৯৮১ সালে ইসরাইল ওই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে এ পদক্ষেপকে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ ঘোষণা করা হয়।

    বেশির ভাগ দেশ গোলান মালভূমিকে ইসরাইলি সামরিক দখলাধীন সিরীয় ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়

    পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিল করবে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। মিছিলকে সামনে রেখে দেশটির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মহাসড়কসহ খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এসব সড়ক। রাজধানীতে দুই হাজারের বেশি কনটেইনার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সড়ক অবরোধ । পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, মিছিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। এরই মধ্যে ইমরান খানের তিন বোনসহ পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতা-কর্মী ও আইনপ্রণেতাকে আটক করা হয়েছে। সরকার বলছে, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে এসব পদক্ষেপ । পিটিআইয়ের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাদের দমন করতেই ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।

    সরকারের আশঙ্কার পেছনে পিটিআইয়ের অতীত আন্দোলনের ঘটনাও রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও ইসলামাবাদমুখী পিটিআইয়ের আন্দোলন নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়; হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকার ও পিটিআইয়ের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

    ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৩টি আসন পেলেও সরকার গঠন করতে পারেনি। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষ প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন ।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং এখনো পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা। পিটিআইয়ের জনপ্রিয়তা, ইমরানের কারাবন্দিত্ব এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

    এদিকে পাকিস্তানে জ্বালানির দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোলের দাম সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রতি লিটারে প্রায় ৫১ রুপি বেড়ে ৩৯৩ দশমিক ৭৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীও ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি দিয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

    পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের কঠোর অবস্থান তাই শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ মোকাবিলার প্রস্তুতি নয়; রাজনৈতিক বিরোধ, ইমরান খানের কারাবাস, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে পাকিস্তানে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • সবাই মারা গেলেও বাস থামবে না!

    সবাই মারা গেলেও বাস থামবে না!

    ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। দোতলা পর্যটকবাহী বাসের যাত্রীরা আগুন লাগার কয়েক মিনিট আগেই বাসে পোড়া গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাসটির চালক ও কন্ডাক্টর তখনো সিগারেট খাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় এ কথা উল্লেখ করা হয়।

    এফআইআর অনুযায়ী, বাসের ভেতরে চালক ও কন্ডাক্টরের ধূমপান নিয়ে এর আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন যাত্রীরা। এ নিয়ে দুজন হাসাহাসি করে যাত্রীদের চুপ থাকতে বলেন এবং হুমকিও দেন।

    এর কিছুক্ষণ পর বাসের ভেতরে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা বিষয়টি চালককে জানালেও তিনি ও কন্ডাক্টর তা আমলে নেননি। তাদের দাবি ছিল, বাসের ভেতরে প্রায়ই এ ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। যাত্রীরা বারবার অনুরোধ করলেও চালক কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দ্রুতগতিতে বাস চালিয়ে যান এবং সিগারেট খেতে থাকেন।

    কয়েক মিনিট পর বাসের সামনের অংশ থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়।

    যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করলে চালক তাদের বলেন, ‘আপনারা মারা গেলেও আমার কিছু যায় আসে না, আমি বাস থামাব না।’

    বিহারের নিবন্ধিত বাসটি দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। বাসটিতে ৩৫ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন ধোঁয়ার কারণে যাত্রীদের বের হয়ে আসতেও ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।

    নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। জেওয়ারের কাছে দয়ানটপুর গ্রামের কাছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে বাসটিতে আগুন লাগে। সে সময় বেশির ভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। কাচের জানালা ভেঙে অনেক যাত্রী বাইরে ঝাঁপ দেন। এক যাত্রী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ঘুমোচ্ছিলাম। একজন বললেন, বাসে আগুন লেগেছে। আমরা ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করি। বাস থেকে বেরোনোর কাজটা সহজ ছিল না। কারণ চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। কোনো রকমে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি।’

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থায় বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং অয়েলে আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।

    আগুন থেকে চালক ও কন্ডাক্টর দুজনই প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশ তাদের আটক করে।

  • হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম

    হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের মধ্যে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার সময়সীমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই ইরান এ অবস্থান জানিয়েছে।

    ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাতিসংঘের বৈঠকের সময় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত।

    এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করারও আহ্বান জানানো হয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য ইরান যে শর্তগুলো তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরান যেসব ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করে, সেসব এলাকায় যুদ্ধের অবসান।

    ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হয়। এতে জ্যারেড কুশনারও যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে নতুন কোনো শর্ত উপস্থাপনের পরিবর্তে তেহরানের বিদ্যমান শর্তগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ। ফলে এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধাবস্থা বা সীমিত চলাচল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথের বাণিজ্য এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের চলাচল এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলে ইরানের সহযোগিতাও চেয়েছে।

    বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রশ্নটি এখন শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থও সরাসরি যুক্ত।

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

    হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করা তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

    বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া এক আদেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে আদালত। একই সঙ্গে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এটি ট্রাম্প ও তার পছন্দ নয় এমন সংবাদ প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধের সর্বশেষ ঘটনা। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন। তিনি তাদের সংবাদকে ‘ভুয়া খবর’ বলে সমালোচনা করেন। পরে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ দেশের জন্য বিপজ্জনক।

    নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো। সংবাদমাধ্যম তিনটি বলেছে, তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর কারণে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    তাদের ভাষ্য, এটি দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বৈষম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর প্রকাশিত আদেশে মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি বলেন, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করতে পেরেছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে মামলার মূল বিষয়ে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এবং আদালতের আদেশ না পেলে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি রয়েছে।

    কেলি লিখেছেন, ‘এটি কঠিন একটি আইনি মানদণ্ড। তবে বাদীরা তা পূরণ করেছে।’

    বুধবার মামলাটির শুনানি করেন বিচারক কেলি। শুনানি শেষে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বৃহস্পতিবার তিনি ১৪ দিনের জন্য সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। এ ধরনের আদেশ সাধারণত মামলার বিষয়ে আদালতের বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে দেওয়া হয়।

    শুনানির সময় কেলি প্রশ্ন তোলেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দিয়েছিল কি না।

    এর আগে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে দুটি মামলায় আদালতের দেওয়া রায় রয়েছে। এর একটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এসব রায়ে বলা হয়েছিল, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করার আগে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে।

    তবে বিচার বিভাগের আইনজীবী মাইকেল ভেলচিক যুক্তি দেন, আগের মামলাগুলোতে দেওয়া রায় সঠিক ছিল না।

    বিচারক কেলি বলেন, এ ধরনের প্রথম সংশোধনীসংক্রান্ত মামলায় আগের আদালতের রায় রয়েছে। সরকার সেসব রায়ের সঙ্গে একমত না হলেও তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনীয় মামলার আগের রায়গুলো বিবেচনায় থাকবে।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের রোডম্যাপ

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের রোডম্যাপ

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি রোডম্যাপ দিয়েছে ইরান। কর্মপরিকল্পনাটিতে পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাত অবসানে বড় পরিসরে আলোচনার সময়সূচির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ইরানের প্রস্তাবে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।

    নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে যেকোনো চুক্তিতে ইরানের দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এর আগেও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথের জন্য এখনো উন্মুক্ত। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তারা ধরে রেখেছে।

    দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বেশ কঠোর। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ কতটা তৈরি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

  • সুপার এল নিনোর প্রভাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

    সুপার এল নিনোর প্রভাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

    আগামী ছয় মাসে সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

    ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমায় আনুমানিক চার লাখ ৫১ হাজার মানুষ অতিরিক্ত তাপজনিত কারণে প্রাণ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর উচ্চহার ২০২৭ সালের জুন বা জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। আবহাওয়াবিদদের কেউ কেউ একে চিহ্নিত করেছেন ‘গডজিলা এফেক্ট’ নামে।

    সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হতে পারে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায়। সেখানে সুপার এল নিনোর আঘাতে ৩১ হাজার ৩২০ জন মারা যেতে পারেন। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ২৫১ এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার সুদানে ১৭ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে ১৫ হাজার ৬৭০, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে ১৩ হাজার ২৭১, পশ্চিম আফ্রিকার নাইজারে ৯ হাজার ৯০০ এবং মধ্য আফ্রিকার চাদে ৭ হাজার ৯৫৩ জন সুপার এল নিনোর কারণে মারা যেতে পারেন।

    যদিও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের আবহাওয়াবিষয়ক বিজ্ঞানী ফ্রিডরিক অটো এবং তার সহগবেষকদের মতে, এটি কোনো নিশ্চিত পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি আগাম সতর্কবার্তা। বিশ্বজুড়ে সুপার এল নিনোর মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি সচেতনতা বৃদ্ধি, শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) স্থাপন, শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা গেলে এই সাড়ে ৪ লাখ ‘সংকটাপন্ন’ মানুষের একটি বড় অংশকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর গবেষক দলের অন্যতম নেতা, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন জানিয়েছেন, সুপার এল নিনোর আঘাতে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। তার মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রাকৃতিক ঘটনা এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে চলেছে।

  • পরমাণু বোমা ইসরাইলে আর পরিদর্শক ইরানে,পেজেশকিয়ান

    পরমাণু বোমা ইসরাইলে আর পরিদর্শক ইরানে,পেজেশকিয়ান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বাইরে রয়েছে দেশটি । বিপরীতে ইরানকে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, কেবল কথার মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা সম্ভব নয়; এজন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘দ্বৈত নীতি’ পরিত্যাগ করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, এই অঞ্চলে পারমাণবিক বোমা ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে ইসরাইলের হাতে; অথচ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের দাবি জানানো হচ্ছে।

    পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইসরাইল গাজায় ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। আর আলোচনার টেবিলে থাকা অবস্থাতেই ইরানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি এবং ইতিহাসে কখনোই আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

    তিনি বলেন, তার পরও ইসরাইলকে বিনা মূল্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো রাজধানীতে বোমা হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছে।

    বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক বৈপরীত্য’ হিসেবে তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি আবারো বলছি—পরমাণু বোমা ইসরাইলে, কিন্তু পরিদর্শকরা ইরানে। ইসরাইল হত্যা করে, আর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’

  • জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিথ্যা বললেন ট্রাম্প

    জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিথ্যা বললেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তর। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বসেছে। প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৭ মিনিটের ভাষণে ইরান যুদ্ধ, গ্রিনল্যান্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, ওয়াশিংটনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেন।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণটি গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম বিস্ফোরক ছিল। তবে এবারও তিনি নানা বিষয়ে ‘মিথ্যা’ বলেছেন। আসুন, সেসব বিষয়ে জেনে নিই—

    যুদ্ধ বন্ধের দাবি

    ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করে আসছেন। দাবিটি পুনর্ব্যক্ত করে ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য বড় সম্মানের।’

    এ আটটি যুদ্ধ ও সংঘাত হলো কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, ফিলিস্তিনের গাজা, ইসরায়েল ও ইরান এবং মিসর ও ইথিওপিয়া।

    তবে ট্রাম্পের বলা এ ‘আটটি যুদ্ধের’ সংখ্যা স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত। কেননা, ট্রাম্পের তালিকায় এমন দুটি ঘটনা আছে, যেগুলো তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সময় আদৌ ‘যুদ্ধ’ ছিল না। মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে বিরোধটি ছিল একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ।

    সার্বিয়া ও কসোভোর পরিস্থিতিও যুদ্ধ ছিল না। সেখানে কী ধরনের যুদ্ধ ট্রাম্প বন্ধ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সেখানে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে। সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

    গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রশ্ন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেখানে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েল এখনো উপত্যকাটিতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।

    গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের সঙ্গে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়েছে।

    বৈশ্বিক উষ্ণায়ন

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এক সময় মানুষকে আক্রমণ করতে পারে বা হত্যা করতে পারে—এ সতর্কবার্তা নিয়ে ভাষণে ঠাট্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, এসব সতর্কতা দিচ্ছেন ‘সেই একই লোকেরা’, যাঁরা বলেছিলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে সবাই মারা যাবে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, পরে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন শব্দটি বদলে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বা জলবায়ু পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ, পৃথিবী নাকি উষ্ণ হওয়ার বদলে ঠান্ডা হচ্ছিল। আর এ কারণে কেউ মারাও যায়নি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে অন্তত চারটি ‘ভুল’ আছে। প্রথমত, ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ শব্দটি এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটিও প্রচলিত। দুটি শব্দের অর্থ এক নয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা দুটি শব্দই ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বোঝাতে তাঁরা ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বলেন। আর এর ফলে পৃথিবীতে যে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো বোঝাতে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

    দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প কোন সময়ের কথা বলেছেন, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে পৃথিবী ঠান্ডা হচ্ছে, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই; বরং পৃথিবী আরও উষ্ণ হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত জানুয়ারিতে জানায়, রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর হলো সর্বশেষ ১১ বছর। এর মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ ছিল সবচেয়ে উষ্ণ তিনটি বছর।

    তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘কেউ মারা যায়নি’—এমন দাবির সঙ্গেও বিশেষজ্ঞরা একমত নন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঠিক কত মানুষ মারা গেছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন হিসাবে এ সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

    চতুর্থত, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে আমরা সবাই মারা যাব’-জলবায়ু বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়নি। ২০১৮ সালে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পৃথিবীর উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে হলে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে। এ সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন।

    বিনিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি

    ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ‘পুরো বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আমরা নিশ্চিত করেছি।’ এ দাবির স্পষ্ট কোনো ভিত্তি নেই। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব দিতে পারেনি হোয়াইট হাউস।

    ট্রাম্পের ভাষণের সময় হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে ১১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। ট্রাম্পের বলা ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির তুলনায় এ অঙ্ক বেশ কম।

    ২০২৫ সালে সিএনএনের এক বিশদ পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউসের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকায় কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের অস্পষ্ট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ধরা হয়েছে।

    মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি

    ইরানের সঙ্গে টানা যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে টান পড়েছে, এমন দাবির কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতকেরা বলতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে গেছে, তা সত্য নয়। আমাদের কাছে এত বেশি অস্ত্র আছে, তা কখনো ব্যবহার করার কথাও ভাবতে পারি না। আমরা এমন মাত্রায় অস্ত্র তৈরি করছি, যা আগে কখনো করিনি।’

    মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঠিক কত অস্ত্র আছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, হয়ও না। তাই ট্রাম্পের দাবি পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব নয়। ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতক’ বলতে ট্রাম্প কাদের বোঝাচ্ছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    তবে শুধু সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) ওপর নজরদারি করা সরকারি পরিদর্শক সংস্থা এবং নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অস্ত্রের মজুত কমে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তবে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের ‘উল্লেখযোগ্য সময়’ লাগবে।

    পেন্টাগন বরাবর বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই। গত সপ্তাহেও একই দাবি করা হয়েছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধ কমার হার নিয়েও বাড়িয়ে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, গত বছরের ২০ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাজধানী ওয়াশিংটন অপরাধে জর্জরিত ছিল। এখন সেখানে অপরাধ ৮৭ শতাংশ কমেছে। তাঁরা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

  • হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের বিপদ!

    হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের বিপদ!

    কমিউনিস্ট নয়, হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের জন্য বড় বিপদ। জওহরলাল নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ হামিদ আনসারি।

    তার বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি পালটা আনসারির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।

    সম্প্রতি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে প্রয়াত আইনজ্ঞ এজি নুরানির স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আনসারি। সেখানে এজি নুরানির লেখা আরএসএস নিয়ে একটি বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। সেই সূত্রেই নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্যের উল্লেখ করেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি।

    আনসারি জানান, তৎকালীন বিদেশ সচিব জগৎ সিং গুন্দেভিয়ার নথিতে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেহরু বলেছিলেন, ভারতের জন্য বিপদ কমিউনিজম নয়, হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা।

    নেহরুর ওই বক্তব্য উদ্ধৃত করেই আনসারি বলেন, দেশের জন্য সাম্প্রদায়িকতার প্রবণতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন আনসারি।

    তার দাবি, নাগরিক জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে নির্বাচনি সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আনসারি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও আইনি স্তরে এই ধরনের প্রবণতার মোকাবিলা করা প্রয়োজন। নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আনসারির বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে পালটা আক্রমণ করা হয়।Advertisement

    বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর নির্দেশেই আনসারি এ ধরনের মন্তব্য করছেন। তার দাবি, ২০০৯ সালে রাহুল গান্ধী হিন্দু সংগঠনগুলোকে লস্কর-ই-তৈবার থেকেও বড় বিপদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হিন্দুবিরোধী রাজনীতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    তবে আনসারির বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নেহরুর পুরনো মন্তব্য এবং বর্তমান সময়ে নাগরিক ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ নিয়ে তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

    এর আগেও ইতিহাস নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আনসারি। কয়েক মাস আগে মহম্মদ গজনিকে ভারতীয় লুটেরা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছিল বিজেপি।

    মুহাম্মদ হামিদ আনসারি ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন।

  • ঢাকার সাথে বরফ গলাতে চায় দিল্লি

    ঢাকার সাথে বরফ গলাতে চায় দিল্লি

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। দুদেশের মধ্যে চালু থাকা কাঠামোগত ব্যবস্থার মধ্যেই থেকে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় দিল্লি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অবস্থান জানান।

    রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আগেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারত সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে কাঠামোগত ব্যবস্থা রয়েছে, তার মধ্য থেকেই সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত।

    তিনি বলেন, এটাই ভারতের মনোভাব। দুদেশের সম্পর্কের অভিমুখ ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী হোক, সেটাই ভারত চায়।

    দিল্লির এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুদেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে।

    ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে আসাদ আলম সিয়ামের সম্ভাব্য নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না, জানতে চাওয়া হয়।

    জবাবে জয়সোয়াল সরাসরি কোনো উত্তর না করে ভারতের সামগ্রিক অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর ভারতের আয়োজিত বহুপক্ষীয় যুদ্ধবিমান মহড়া তরঙ্গ শক্তিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। বাংলাদেশের বিমানবাহিনী একটি সি ১৩০ জে পরিবহণ বিমান নিয়ে মহড়ায় অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে। এটিও দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল আবারও সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী করার ভারতের অভিপ্রায়ের কথা জানান।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ সফর নিয়ে বাংলাদেশ আগে যে কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছিল, নতুন আলোচনায় সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে বলার মতো কিছু থাকলে পরে জানানো হবে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। অধিবেশনের ফাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।

    তবে দিল্লির সাম্প্রতিক বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। আগস্টেও জয়সোয়াল বলেছিলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা, প্রত্যর্পণ এবং মানুষের যাতায়াতসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে। ফলে দিল্লির নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতির বার্তা বাস্তবে কতটা অগ্রগতি তৈরি করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

  • রমজান কাদিরভের রাজনৈতিক উত্থান

    রমজান কাদিরভের রাজনৈতিক উত্থান

    রুশ প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ার দীর্ঘমেয়াদী শাসক রমজান কাদিরভ বর্তমানে কেবল ককেশাস অঞ্চলেই নয়, বরং পুরো রুশ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক আলোচিত নাম। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বিশেষ বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করেই মূলত দাঁড়িয়ে আছে এই লৌহমানবের পুরো রাজনৈতিক কাঠামো।

    ক্রেমলিনের প্রধান শর্তই ছিল—চেচনিয়ায় কোনো বড় বিদ্রোহ বা স্বাধীনতা আন্দোলন থাকা যাবে না এবং মস্কোর প্রতি থাকতে হবে শতভাগ আনুগত্য। এর বিনিময়ে পুতিন কাদিরভকে চেচনিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে একচ্ছত্র ও স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনার অবাধ সুযোগ দিয়েছেন।

    পাশাপাশি, তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার সুসজ্জিত ও অনুগত যোদ্ধা এবং তার বাবা আখমাদ কাদিরভের হাত ধরে তৈরি হওয়া ইসলামিক ও পারিবারিক প্রভাব কাদিরভের রাজনৈতিক ভিত্তি ও ক্ষমতার ইমারতকে শতভাগ সুরক্ষিত করেছে।

    যদিও এই ক্ষমতার উত্থানের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও নাটকীয় ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন।

    নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তরুণ বয়সে রমজান ও তার বাবা চেচেন স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ পালটে তারা ক্রেমলিনের সঙ্গে সমঝোতা করে রাশিয়ার পক্ষে যোগ দেন।

    এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে তার বাবা আখমাদ কাদিরভ চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হন এবং রমজান হন প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এক বোমা হামলায় বাবা আখমাদ নিহত হওয়ার পর পুতিনের বিশেষ আশীর্বাদে রমজান দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এবং সাংবিধানিক বয়সসীমা (৩০ বছর) পূর্ণ হওয়ামাত্র ২০০৭ সালে পুতিনের মনোনয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। তখন থেকেই তিনি লৌহমানবিক কায়দায় অঞ্চলটি শাসন করে আসছেন।

    এই ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং তা বজায় রাখাই কাদিরভ ও তার প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত রমজান চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা দায়িত্বে রয়েছেন।

    পুতিনের বিশ্বস্ত ‘পদাতিক সেনা’ হিসেবে চেচনিয়ায় নিজের পরিবার ও অনুগত নিরাপত্তা চক্রের একচ্ছত্র আধিপত্য চিরস্থায়ী করার পাশাপাশি নিজের সন্তানদের ক্ষমতার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার হয়ে বিশেষ কূটনৈতিক ও সামরিক ‘সেবা’ দিয়ে ক্রেমলিনের কাছ থেকে রাজনৈতিক অনাক্রম্যতা ও বিপুল আর্থিক সহযোগিতা আদায় করাও তার অন্যতম বড় কৌশল।

    চেচনিয়ায় যেকোনো ধরনের স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর, ভিন্নমত বা বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তা চিরতরে মুছে ফেলে একটি পুরোপুরি অনুগত সমাজব্যবস্থা বজায় রাখাই এই চেচেন শাসকের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য।

  • আজ দিন ও রাত সমান

    আজ দিন ও রাত সমান

    আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে শরৎকালীন বিষুব-এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শরৎকাল।

    রয়্যাল মিউজিয়াম গ্রিনউইচের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১টা ৬ মিনিটে এই বিষুব সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি সকাল ৬টা ৬ মিনিট।

    বিষুব হলো এমন এক ক্ষণ, যখন সূর্য ঠিক পৃথিবীর মাঝবরাবর বা বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। এই সময়ে পৃথিবীর কোনো অংশই সূর্যের দিকে বা বিপরীতে ঝুঁকে থাকে না, যার ফলে বিশ্বজুড়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে যায়। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘শরৎ বিষুব’।

    বিশেষ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জের মতো ঐতিহাসিক স্থানে মানুষ জড়ো হয়ে সূর্যোদয় উপভোগ করেন।

    তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বিষয়টি একটু আলাদা। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নতুন করে শরৎকাল শুরু হচ্ছে না। বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী বাংলাদেশে শরৎকাল এরই মধ্যে চলছে।

    ‘শরৎ বিষুব’ নামটি মূলত উত্তর গোলার্ধের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে এই দিনকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে শরতের শুরু ধরা হয়।

    উল্লেখ্য, লাতিন শব্দ ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব-এর অর্থ সমান রাত। নিয়ম অনুযায়ী এই দিনে দিন ও রাত উভয়ই ১২ ঘণ্টা করে হওয়ার কথা। তবে বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণের কারণে সূর্য ডোবার পরও কিছুক্ষণ আলো থেকে যায়। এর ফলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পুরোপুরি সমান হওয়ার ঘটনাটি বিষুবের ঠিক কিছুদিন পরে ঘটে, যাকে বলা হয় ‘ইক্যুল্যাক্স’ বা ‘সমান আলো’।

  • ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে অপরাধ হবেনা:সুপ্রিম কোর্টের

    ‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে অপরাধ হবেনা:সুপ্রিম কোর্টের

    ধর্মীয় বিশ্বাস বা বিবেকের কারণে কেউ যদি ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাইতে অস্বীকার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না বলে জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে ভারতের কেন্দ্র সরকারের কাছে এ বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বন্দে মাতরম নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে মৌখিকভাবে দেওয়া পর্যবেক্ষণে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এই বার্তা দেয়।

    বিচারপতিরা মৌখিকভাবে বলেন, জাতীয় গানের সংজ্ঞা নিরূপণ করা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। তবে কোনো নাগরিক যদি বিবেকজনিত কারণে গানটি গাইতে না চান, তাকে যাতে বাধ্য করা না হয়, সেটা আদালত খতিয়ে দেখতে পারে।

    কর্ণাটকের সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণার রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। ২০২৬ সালের ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী আইন’-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

    এই সংশোধিত আইনে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর মতোই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এটি গাওয়ায় বাধা দিলে বা ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে সরকারি ও আনুষ্ঠানিক মঞ্চে বন্দে মাতরমের আগের দুটি স্তবকের পরিবর্তে পুরো ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

    আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এস মুরলীধর আদালতে যুক্তি দেন, বন্দে মাতরমের শেষের চারটি স্তবকে হিন্দু দেবদেবীদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ফলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব স্তবক গাইতে বাধ্য করা এবং তা না গাইলে শাস্তির ভয় দেখানো নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি।

    শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘বিজয়ে ইমানুয়েল’ মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করেন। সেই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ যদি জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ না মিলিয়ে কেবল শান্ত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

    শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেয় যে দেশের সেই প্রতিষ্ঠিত আইনি নজির এখনো অটুট এবং বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

  • হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা

    হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, চিঠিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টার’ জন্য আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের উদ্দেশে লেখা খামেনির হাতে লেখা বার্তায় বলা হয়, ‘আপনার নিজের এবং আপনার প্রচারবিমুখ ও বিনয়ী সহকর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সম্পর্কে আপনারা খুব সামান্যই উল্লেখ করেছেন। এটা নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক মানুষেরাই করে থাকেন।’

    এতে আরো বলা হয়, ‘তবুও, ঐশ্বরিক প্রজ্ঞায় এই গুণের ফলাফল হলো সেই ভালোবাসা ও সম্মান, যা সর্বশক্তিমান (তার মহিমা অসীম) নিষ্ঠাবানদের দান করেন। সেই সঙ্গে তিনি তাদের অশেষ দোয়া ও বিজয়ও প্রদান করেন।’

  • নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে ইসরাইল, আল-শারা

    নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে ইসরাইল, আল-শারা

    ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তাকাঠামো নিয়ে আলোচনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে পরে ইসরাইল আলোচনা থেকে সরে যায় অথবা নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু ‘বিভিন্ন কারণে’ ইসরাইল সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়।

    আল-শারা বলেন, সাবেক সিরীয় সরকারের পতনের পর থেকেই ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তার দাবি, ইসরাইল নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে এবং দেশটির ভেতরে অভিযান, গ্রেপ্তার ও বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে।

    তবে এসবের মধ্যেও সিরিয়া কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, সিরিয়া এখনো আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোতে চায়। তবে সিরীয়দের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়।

    আল-শারা জানান, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয় প্রায় এক বছর আগে। শুরুতেই দামেস্ক দাবি করেছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা শুরুর আগে ইসরাইলকে ১৯৭৪ সালের চুক্তির পর নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সফল হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

    গোলান মালভূমি নিয়েও সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেন আল-শারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড। তাই এ ভূখণ্ড কার—এ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

    ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ যাচাই করতে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার মতে, ওই কমিটি ইসরাইলের উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর কোনটি কেবল ধারণা এবং কোনটি প্রকৃত নিরাপত্তা-উদ্বেগ, তা যাচাই করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি রসিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময় তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—‘নিউ জার্সি ইসরাইলিদের দিয়ে দেন না কেন? গোলান মালভূমির মালিক আপনি নন যে সেটি তাদের দেবেন, কিন্তু নিউ জার্সি আপনার।’

    গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন আল-শারা। ১৯৪৬ সালে সিরিয়া স্বাধীন হওয়ার পর কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই ছিল প্রথম হোয়াইট হাউস সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল।

    সিরিয়ায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আল-শারা। তিনি বলেন, দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা প্রায় ১৭০ থেকে কমে বর্তমানে দুটিতে নেমে এসেছে। তার দাবি, এসব ঘাঁটি এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থানও ‘আইনি কাঠামোর’ দিকে এগোচ্ছে।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্কের প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

    তিনি ৯/১১ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন মার্কিন নীতির কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কথাও উল্লেখ করেন। আল-শারা বলেন, ওই সময়ের ঘটনাবলির সঙ্গে তার সম্পূর্ণ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১১

    দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১১

    দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের এক বাড়িতে গভীর রাতে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে ১১ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডারবানের দক্ষিণে কোয়ামাখুথা টাউনশিপে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার আগে টাউনশিপের একটি আবাসিক বাড়িতে লোকজন সমবেত হয়েছিল। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

    ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে হামলাকারীরা বাড়ির মালিকের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    এই প্রাণঘাতী হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। এছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজনদের শনাক্তও করা হয়নি।

  • জাতিসংঘের সংস্কার চাইলো এরদোয়ান

    জাতিসংঘের সংস্কার চাইলো এরদোয়ান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন,

    বিশ্বশান্তি রক্ষার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ অক্ষম হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান । সেইসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    দীর্ঘদিন ধরেই এরদোয়ান নিরাপত্তা পরিষদকে আরো প্রতিনিধিত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    তিনি বলেন, ‘আসুন স্বীকার করে নেই যে, এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ১৯০টিরও বেশি দেশের মতামত পাঁচটি দেশের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, তা ন্যায্য নয় এবং এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আস্থা প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়।’

    এরদোয়ান আরো বলেন, ‘৮১ বছর আগে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ এখন সেই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে—অথবা বলা যায়, তাকে অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে।’

    গাজা পরিস্থিতিরও তীব্র নিন্দা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘যে মানুষের হৃদয়ে মানবতা, সহমর্মিতা ও দয়া রয়েছে এবং যার মধ্যে ন্যায়বোধ ও বিবেক কাজ করে, তিনি সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারেন না।’

    এরদোয়ান বলেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর এই অধিবেশনকক্ষে নিজের আসনে বসতে পারেননি। আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের প্রতি এই অবিচার বিবেককে আহত করে।’

    যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

    গাজার পরিস্থিতিকে তিনি ‘বর্তমান সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও সবচেয়ে লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ বলে অভিহিত করেন।

  • যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

    যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

    রাশিয়া রাজি হলে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে ইউক্রেনও জ্বালানি-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা বন্ধের যেকোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এ ধরনের ‘এনার্জি সিজফায়ার’ বা জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত রয়েছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন জেলেনস্কি। যুদ্ধ চার বছর ধরে চললেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হামলা বন্ধের একটি পৃথক সমঝোতা যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

    এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পাশাপাশি রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুদ্ধের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়মিত হামলা চালানোর অভিযোগের মুখে রয়েছে। ফলে শীত মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, জ্বালানি ইস্যু এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর আগে ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপেও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের বিষয়ে চাপ দিয়েছিলেন। জেলেনস্কির অবস্থান ছিল, রাশিয়াও একইভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি খাত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে এ ধরনের সমঝোতায় ইউক্রেন সম্মত হতে পারে।

    এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ন্যাটোর মধ্যেও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রমেই বেশি ‘বেপরোয়া’ আচরণ করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সম্মতির কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

  • ইরানকে নিশ্চিহ্নের হুমকি ট্রাম্পের হতাশার বহিঃপ্রকাশ’

    ইরানকে নিশ্চিহ্নের হুমকি ট্রাম্পের হতাশার বহিঃপ্রকাশ’

    ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘কৌশলগত হতাশার’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেইসঙ্গে তেহরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো বিধ্বংসী ও তীব্র পাল্টা হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত বলে বলে জানায় তারা।

    এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মঞ্চ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার’ অভিযোগ করেছেন ইরানের জেনারেল স্টাফ ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অচলাবস্থারই প্রমাণ এসব বক্তব্য। ট্রাম্পের বারবার হুমকি শক্তির প্রকাশ নয়, বরং তাদের কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ।’

    বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে এমন সব আঘাত হানতে প্রস্তুত, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ‘বিধ্বংসী ও অপ্রত্যাশিত’ হবে।

  • বিকশিত হচ্ছে মালয়েশিয়া: আনোয়ার

    বিকশিত হচ্ছে মালয়েশিয়া: আনোয়ার

    পরিপক্ব শিল্পভিত্তি, দক্ষ জনশক্তি, কৌশলগত অবস্থান ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থার কারণে মালয়েশিয়া উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ ও উৎপাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। সরকার এমন মানসম্পন্ন বিনিয়োগকে সহযোগিতা করবে, যা প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির উন্নয়ন, মালয়েশীয় কোম্পানির অংশগ্রহণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির খাতে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে আয়োজিত বৈঠকে আলোচনায় এসব কথা বলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    সাংহাইয়ে ২১টি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এআই-রোবটিকস, বৈদ্যুতিক যান (ইভি), ব্যাটারি উপকরণ, উন্নত অপটিকস, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষায়িত রাসায়নিক এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পেও সম্ভাব্য বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনা ও আগ্রহ সম্পর্কে সরাসরি জানতে পেরেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহরি আবদুল গনি এবং পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক সিউ ফুকও অংশ নেন। আনোয়ার বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন। সফরে সাংহাই ও হাংচৌ যাওয়ার কথা রয়েছে।

    চীন টানা ১৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১১৩ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

  • শাহবাজের অনুরোধ রাখলো জামায়াত

    শাহবাজের অনুরোধ রাখলো জামায়াত

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের অনুরোধে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী (জিআই)। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে বৈঠকের আগ পর্যন্ত দলের নেতাকর্মী ও বহর মুলতানেই অবস্থান করবে বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দলটির আমির হাফেজ নাঈমুর রহমান।

    মঙ্গলবার মুলতানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়ে হাফেজ নাঈম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ টেলিফোনে তাকে লংমার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি জামায়াত নেতৃত্বকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। তবে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ফিরে আসার পরই কেবল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে মুলতানে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে এবং দল তাদের প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে পিছু হটবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নেওয়া ত্রাণ ও ভর্তুকি পদক্ষেপগুলোকে ‘অপ্রতুল’ উল্লেখ করে জ্বালানি তেলের দাম কমানো এবং পেট্রোলিয়াম লেভি বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, পেট্রলের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের কাছে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির শর্ত ও চাপের কারণে লেভি কমানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণের আগে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ৫১০টি স্থানে বিক্ষোভ এবং শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।

  • আরো শক্তিশালী হচ্ছে ইরান

    আরো শক্তিশালী হচ্ছে ইরান

    রাশিয়া ইরানকে উন্নত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে । নিজ দেশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান দেওয়া অস্ত্র সরবরাহের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সি ৪৩০ এল নামে পরিচিত এই গোপন কর্মসূচি ২০২৩ সালে শুরু হয় এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ও তা অব্যাহত রয়েছে।

    এই কর্মসূচির আওতায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়ার জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা সরাসরি ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের কাজের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন বা র‍্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে উড়ে সুপারসনিক গতি বজায় রাখতে পারে। ইরান এরই মধ্যে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে।

    রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের এই র‍্যামজেটের উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, এয়ার ইনটেক বা বায়ুপ্রবেশপথ এবং ইঞ্জিনের নজেলসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের ইরানি সমকক্ষদের পরামর্শ দিয়েছেন।

    এই সহায়তা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ইরানকে উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন পরিবার নিজস্বভাবে উৎপাদন ও আরো উন্নত করার সক্ষমতা দিতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ২০ বছরের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

  • তারেক-এরদোগান বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

    তারেক-এরদোগান বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

    বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

    এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন তিনি।

    এরই অংশ হিসেবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

    এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের বৈঠকেও বাংলাদেশ ও হাইতির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

  • রেডিও শুনে শুনেই হাফেজা সত্তরোর্ধ ২ নারী

    রেডিও শুনে শুনেই হাফেজা সত্তরোর্ধ ২ নারী

    অক্ষরজ্ঞান নেই, পড়তে বা লিখতেও পারেন না। তবে কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে রেডিওতে তেলাওয়াত শুনে শুনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন মিসরের সত্তরোর্ধ নারী সুকরা।

    একই বয়সে প্রায় এক দশকের সাধনা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পুরো কোরআন হিফজ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সানা। কোরআন হিফজের তাদের এ ব্যতিক্রমী ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    আরবি সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ মিসর জানায়, মিসরের মেনুফিয়া প্রদেশের বাসিন্দা সুকরা ৫০ বছর বয়সে কোরআন হিফজ শুরু করেন। গ্রামের এক নারী তাকে কোরআন মুখস্থ করতে উৎসাহিত করেন। শুরুতে তিনি প্রতিদিন মাত্র দুই আয়াত মুখস্থ করতেন এবং সারা দিন সেগুলো বারবার পড়তেন। পড়তে ও লিখতে না পারায় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শোনা এবং হিফজের আসরে অংশ নেয়াই ছিল তার প্রধান অবলম্বন।

    তার মরহুম স্বামীও তাকে নিয়মিত উৎসাহ দিতেন এবং তার অর্জন নিয়ে গর্ব করতেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় সুকরার ১৬ পারা মুখস্থ ছিল। এরপরও একপর্যায়ে হিফজ অব্যাহত রেখে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন।

    অন্যদিকে, সানা ছোটবেলা থেকেই কোরআন হিফজের স্বপ্ন দেখতেন। পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের বড় করার পর তিনি এতে আরো বেশি মনোযোগী হন। প্রায় ১০ বছর ধরে নিয়মিত প্রচেষ্টায় অবশেষে তিনি পুরো কোরআন হিফজ করতে সক্ষম হন।

    হিফজের সময় সানার স্বামীও তাকে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি স্বামীর কাছে মুখস্থ অংশটুকু শোনাতেন। এভাবে প্রায় এক দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তার কোরআন হিফজ সম্পন্ন হয়।

    সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে পুরো কোরআন তেলাওয়াত করেছেন সানা। একইসাথে সুকরা ও সানা বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ পারা করে পরস্পর কোরআন দাওর (পুনরাবৃত্তি) করেন। কোরআনের প্রতি তাদের এই গভীর ভালোবাসা সকলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

  • জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : রুবিও

    জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : রুবিও

    জাতিসঙ্ঘে ইরানের সাথে বৈঠকে বসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এ ধরনের কোনো বৈঠকের সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।

    আল জাজিরা মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জানায়, এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    ‘আমরা এ বিষয়ে উন্মুক্ত। এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে আমরা অবশ্যই এ ধরনের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত,’ টুডে শোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যদি এর মাধ্যমে ইতিবাচক কিছু অর্জনের সম্ভাবনা থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, তা অর্জন করা যায়।’

    রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

    ‘আর সেটাই এই পুরো বিষয়টির মূল কথা। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না। তারা কোনোভাবেই তা করতে পারে না,’ বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ায়

    বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ায়

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের চূড়ান্ত নথি থেকে নিজের নাম কাটার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল ও ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম।

    অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

    ঘটনার সূত্রপাত

    ঘটনাটির শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে জানায়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।

    রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় খোঁজ শুরু হয়। তবে ঠিক তার পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’।

    অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে অবস্থানকালে হত্যা, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর বিচারে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটির নিজস্ব আলাদা একটি তদন্তকাজ শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

    এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার মূল তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া।

    তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়।

    দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল।

    অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

    এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনে বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার দায়ে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে।

    এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে।

    ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’

    কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি।

  • নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে

    নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে

    নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে যত মানুষ মারা গিয়েছিল, এবারের বন্যাতেও মৃতের সংখ্যা সেই পর্যায়ে যেতে পারে।

    ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ওয়াগলে বলেন, বন্যার প্রভাব ভৌগোলিকভাবে সীমিত এলাকায় হলেও এতে প্রাণহানির মাত্রা ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের মতোই ভয়াবহ হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এই তথ্য জানিয়েছে।

    ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নেপাল, চীন, ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ২১ হাজার আহত হয়েছিলেন।

    নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বন্যায় ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ।

    নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২০৬টি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের ১ হাজার ৮৮৯ স্বজনের কাছ থেকেও নমুনা নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০৫টি মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।

    নিখোঁজদের উদ্ধারে থার্মাল ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞদেরও নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি সুড়ঙ্গ থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, সীমিত আকাশসীমা এবং বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ।

    এদিকে বিদেশি নাগরিকদের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধার অভিযান নিয়ে নিয়মিত দেওয়া তথ্য-হালনাগাদ সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে।

  • কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব!

    কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব!

    কে হবেন জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব! এ নিয়ে কৌতুহল সারাবিশ্বে। তবে এর মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ পদে প্রার্থীর সংখ্যা সাত। এর মধ্য থেকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি বেছে নিতে বিশ্বশক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ পর্যন্ত তিন দফা গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। সম্ভবত মাত্র তিনজন প্রার্থী এখনো প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

    আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন মহাসচিব এমন একটি সংস্থার দায়িত্ব নেবেন, যেখানে ব্যয় কমানোর বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে এবং বিশ্বের বড় বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে এখন অনেকটাই প্রান্তিক অবস্থানে দেখা হচ্ছে। তবে জরিপগুলোতে এখনো জাতিসংঘের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী জনসমর্থনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য মানুষ শুধু জাতিসংঘকে নয়, বিশ্বের নেতাদেরও সমানভাবে দায়ী করছে।

    গত সপ্তাহে জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের জন্য জিওপোলের করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে ৮৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না অথবা খুব সামান্য জানেন।

    সফল প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয়জন বর্তমান সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স, বৃটেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি দেশও যেন ভেটো না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজনের ব্যাপকতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ৩১শে ডিসেম্বর।

    শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যেসব নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের মধ্যে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী ও জাতিসংঘে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত লানা নুসেইবেহ এবং জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যপন্থী রাজনীতিক সিগরিড কাগ। গাজায় জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি অল্প সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর উপদেষ্টা কমিটিতে যোগ দেন।

    আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন কাজাখস্তানের বহুভাষী প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেখানোর ক্ষেত্রে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ট্রাম্প এখনো অরবানকে যথেষ্ট পছন্দ করেন। তবে ইউরোপের অনেক নেতা তাকে বিভেদ সৃষ্টিকারী জনতুষ্টিবাদী হিসেবে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ভুক জেরেমিচের নামও আলোচনায় এসেছে। ২০১৬ সালের মহাসচিব নির্বাচনে তিনি গুতেরেসের পর দ্বিতীয় হয়েছিলেন। তবে আলোচনায় আসা এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর কেউই প্রকাশ্যে জানাননি যে তারা প্রার্থী হতে চান।

    এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ২১টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টি পূর্ণ সদস্য। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করছি, এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মাত্র একজন এবং আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে মাত্র দু’জন করে নাগরিক এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দেরিতে কোনো প্রার্থীকে প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হলে তার দেশ বা অঞ্চল যা-ই হোক, অনেকে এতে অসন্তুষ্ট হতে পারেন।

    কারণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক করার জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক এই নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্যের কাউকেই অসন্তুষ্ট না করার প্রয়োজনীয়তা প্রার্থীদের এমন কিছু বক্তব্য দিতে বাধ্য করছে, যা কিছুটা নিরস এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। অথচ জাতিসংঘের এই মুহূর্তে প্রয়োজন দৃঢ় নেতৃত্বের। সব প্রার্থীই বলেছেন, তারা জাতিসংঘকে আবার শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকায় ফিরিয়ে আনতে চান।

    ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু অনভিজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিকও প্রায়ই জাতিসংঘের কাছে এই ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে থাকেন। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের তৃতীয় ও শেষ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে আবারও এগিয়ে গেছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের নয় সদস্য তাকে ‘উৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন। পাঁচজন তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন এবং একজন কোনো মতামত দেননি। গ্রিনস্প্যানের আশঙ্কা, ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও চীন থাকতে পারে। এই বিরোধিতা তাকে অতিক্রম করতে হবে।

    ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি গায়ানার রাজনীতিক ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটের পেছনে পড়ে যান। ওই ভোটে রড্রিগেজ-বিরকেট প্রথম হন। তিনি আটটি ‘উৎসাহিত’ ভোট, তিনটি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট এবং চারটি ‘কোনো মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। গত শুক্রবার রড্রিগেজ-বিরকেটের ‘উৎসাহিত’ ভোটের সংখ্যা আটটিই ছিল।

    তবে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোট তিনটি থেকে বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় প্রার্থী ইকুয়েডরের সাবেক অর্থমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসাও এখনো কোনোভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন। তবে গত সপ্তাহে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোটের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল তিনটি।

    এসপিনোসা জাতিসংঘের ভেতরে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন মহাসচিব চান, যিনি মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে আরও বেশি প্রস্তুত থাকবেন।

    প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না কোনো প্রার্থী অতিক্রম করা অসম্ভব কোনো বাধার মুখে পড়েছেন কি না। কারণ তখন রঙভিত্তিক ব্যালটের মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো ভোট নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে এসেছে কি না। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দরকষাকষির ওপর।

    চীন জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়- এ বিষয়টি মেনে নেন কি না তিনি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হতে পারে, চীন যে প্রার্থীকে চায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন একজন প্রার্থীকে মেনে নেবে যাকে তারা অন্তত সহ্য করতে পারে।

    জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিয়ে তাদের আগের সংশয় কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র শুধু অতিরিক্ত ১৮০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দেয়নি, সম্প্রতি জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদা বাবদ আরও ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারও দিয়েছে।

    তবে এই অর্থও আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বকেয়া অর্থের এক-চতুর্থাংশেরও কম। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মানবাধিকারকর্মী মিশেল বাচেলেট সপ্তাহান্তে এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানো প্রথম প্রার্থী হন। গত সপ্তাহের ভোটে তিনি মাত্র একটি ‘উৎসাহিত’ ভোট পাওয়ার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

  • চারভাগ হচ্ছে উত্তর প্রদেশ

    চারভাগ হচ্ছে উত্তর প্রদেশ

    খুব শিগগিরই ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যকে ভেঙে চারটি নতুন রাজ্য তৈরি করা হবে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং সোহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর।

    তার দাবি, নতুন ‘পূর্বাঞ্চল’ রাজ্য গঠিত হলে সেখানকার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হবেন রাজভর সম্প্রদায়েরই কেউ।

    আম্বেদকরনগরে এক জনসভায় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার এই বিষয়ে কথা হয়েছে। জাতি শুমারি শেষ হওয়ার পরেই রাজ্য ভাগের এই কাজ শুরু হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

    প্রস্তাবিত চারটি নতুন রাজ্য হলো—পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড এবং হারীত প্রদেশ। রাজভরের মতে, পূর্বাঞ্চলে রাজভর জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তাই সেখানকার ক্ষমতার শীর্ষে এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিই থাকবেন।

    ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজভরের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতির পুরোনো রাজ্য ভাগের আলোচনাকে আবার গরম করে তুলেছে। বিশাল এই রাজ্যটিকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ভাগ করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০১১ সালেও মায়াবতীর সরকার বিধানসভায় চার ভাগে ভাগের প্রস্তাব পাস করলেও কেন্দ্র সরকার তখন অনুমোদন দেয়নি।

    সমাবেশে অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) ২৭ শতাংশ কোটার সুবিধা সবাই যেন সমানভাবে পায়, সে বিষয়েও জোর দেন রাজভর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতি শুমারির পর অনগ্রসর শ্রেণীর সবার জন্য ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট

    নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী তেহরান ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক দরবারে ইরান নিজের অধিকার ও অবস্থান বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে শক্তভাবে তুলে ধরবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক কঠিন বার্তা দেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, চাপ সৃষ্টি বা গায়ের জোর খাঁটিয়ে কোনো স্বাধীন জাতিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।

    এই সফরের সার্বিক বিষয় তদারকি করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যেই নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি সোমবার সেখানে পৌঁছান এবং জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে মূল প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

  • ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ১১

    ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ১১

    তুরস্কের মানিসা প্রদেশের একটি কারিগরি স্কুলের সামনে হঠাৎ এক কিশোরের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লাস শুরুর মুখে ‘ইন্সি উজমেজ’ হাই স্কুলের বাইরে এই ভীতিজনক ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    হামলা চালিয়েই চম্পট দেয় অভিযুক্ত কিশোর। পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিদ্যালয়টিরই ১৫ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে আটক করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি বড় শটগান হাতে নিয়ে বেশ খোশমেজাজেই সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার এক পর্যায়ে গুলি চালিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল।

    দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছেলেটির দাদার। তাই ঘটনার মূল রহস্য বের করতে ছেলেটির পাশাপাশি তার বাবা, মা ও দাদাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নিয়ম মেনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হবে। তবে ঠিক কী কারণে সে এই কাণ্ড ঘটাল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত দল পাঠিয়েছে।

    চলতি বছরে এ নিয়ে তুরস্কে তিনবার স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটল। এর আগে গত এপ্রিলে কাহরামানমারাস শহরের এক স্কুলে ১৪ বছরের এক কিশোরের গুলিতে ৯ শিশু শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক মারা যান। একের পর এক এমন সহিংস ঘটনায় গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও স্কুলে নিরাপত্তা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিলেও এই ধরনের রক্তপাত থামানো যাচ্ছে না।

  • নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরছে শুভেন্দু

    নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরছে শুভেন্দু

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ফিরে যাচ্ছে পূর্বতন মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চলে আসছিল এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। এটি মহাকরণ নামেও পরিচিত।

    ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ২০১৩ সালে তিনি রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরিয়ে নিয়ে যান হাওড়ায় কলকাতার হুগলি নদীর অন্য পাড়ে। সেখানেই তিনি রাজ্য সচিবালয় গড়েছিলেন নবান্ন নাম দিয়ে।

    ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে পরাস্ত হন মমতা। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরকারে এসে ঘোষণা দেন, রাজ্য সচিবালয় ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী এই বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়। শুভেন্দু ক্ষমতা গ্রহণের পর অস্থায়ীভাবে তাঁর দপ্তরের কাজ নবান্নেই সম্পন্ন করছিলেন।

    রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার এবার পূজার আগেই নবান্ন থেকে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। জানা গেছে, পূজার আগে আগামী ১০ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীসহ আরও ৫ মন্ত্রীর দপ্তর শুরু হবে এই মহাকরণে। এসব দপ্তরের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখান থেকে দুর্গাপূজার আগেই মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ের কাজ শুরু করবেন। যদিও পূজা শুরু হবে ১৫ অক্টোবর থেকে। ওই দিন দুর্গাপঞ্চমী।

    আরও জানা গেছে, আগে এই মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর ছিল দোতলায়, এবার তা হচ্ছে তিনতলায়। সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরও প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের দপ্তর সংস্কার করে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজির দপ্তরও তৈরি করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দপ্তরের কাজ এখনো অনেকটা বাকি।

    ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল কলকাতার ঐতিহাসিক ডালহৌসি বা বিবাদী বাগের লালদিঘীর উত্তরপাড়ে। সেই ১৭৮০ সালে। এই ভবনের নকশা তৈরি করেছিলেন টমাস লায়ন। মূলত ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের কেরানিদের বসবাসের জন্য এখানে তৈরি করেছিলেন ১৯টি পৃথক ঘর। আগে এই স্থানে ছিল কলকাতার প্রথম চার্চ ‘সেন্ট অ্যান চার্চ।’ ষোড়শ শতকে নির্মিত হয়েছিল এই চার্চ।

    এটিই ছিল ব্রিটিশদের তৈরি প্রথম চার্চ। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ভেঙে গেলে সেখানে তৈরি হয় করণিক বা কেরানিদের থাকার আবাসস্থল। করণিকদের জন্য গড়া এসব আবাসস্থল পরবর্তী সময়ে হয়ে যায় মহাকরণ। আর সেদিন করণিকদের বলা হতো রাইটার্স। সেই হিসেবে এসব ভবনের পরবর্তী সময়ে নাম হয়ে যায় রাইটার্স বিল্ডিং।

  • অনুমতি ছাড়া পাহাড়ে :গুনতে হচ্ছে জরিমানা

    অনুমতি ছাড়া পাহাড়ে :গুনতে হচ্ছে জরিমানা

    মালয়েশিয়ার মাউন্ট কিনাবালুতে অনুমতি ছাড়া ওঠার পর দুর্ঘটনায় পড়ে কয়েক দিন আটকে থাকা এক ক্রোয়েশীয় পর্বতারোহীকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ৪৬ বছর বয়সি ওই পর্বতারোহীর নাম মাউরো পারসিক। তিনি লন্ডনে বসবাস করেন।

    পারসিক ৬ সেপ্টেম্বর মাউন্ট কিনাবালুতে ওঠার সময় একটি অননুমোদিত পথ ব্যবহার করেন। এ সময় তিনি প্রায় ১০ মিটার নিচে পড়ে যান। পরে দুর্বল মোবাইল ফোনের সংকেতের মধ্যেই জরুরি সহায়তার জন্য এসওএস পাঠান। দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও পাঁজরে আঘাত লাগে। পরে প্রায় পাঁচ দিন ধরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারীরা তাকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনেন।

    উদ্ধার অভিযানটি সহজ ছিল না। পারসিক যে পথে পাহাড়ে উঠেছিলেন, সেটি নির্ধারিত বা চিহ্নিত পথ ছিল না। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বৃষ্টিপাত ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকারীদের বড় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। দড়ি ও মই ব্যবহার করে তাকে স্ট্রেচারে করে নিচে নামানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন সংস্থার অন্তত ৪৩ জন সদস্য অংশ নেন।

    পাহাড়ে আটকে থাকার সময় পারসিককে কয়েক দিন খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। কাছের একটি ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করে তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে ভারি বৃষ্টির কারণে সেখানে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। একপর্যায়ে ঘুমের ব্যাগ পানির স্রোতে ভেসে যায় এবং তিনি একটি পাথরের সঙ্গে যুক্ত দড়ি ধরে নিজেকে নিরাপদ রাখেন।

    মাউন্ট কিনাবালু মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত। এর উচ্চতা ৪ হাজার ৯৫ মিটার। এটি বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে অবস্থিত এবং কিনাবালু পার্কের অংশ। পাহাড়টি স্থানীয় কাদাজানদুসুন জনগোষ্ঠীর কাছে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাহাড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    উদ্ধারের পর পারসিককে কিনাবালু পার্কে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। সাবাহ পার্কস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জরিমানার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং তিনি অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর তাঁকে পাহাড়ে ওঠার নিয়ম, নিরাপত্তাবিধি ও অনুমোদিত পথ ব্যবহারের বিষয়ে জানানো হয়।

    পারসিক পরে সাবাহর স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ, সংস্কৃতি বা পাহাড়কে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তার দাবি, প্রবেশ ফি এড়ানো বা ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভাঙা তার উদ্দেশ্য ছিল না। পাহাড়টির সৌন্দর্য দেখে আকস্মিকভাবে সেখানে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের পরিবেশের ক্ষতি না করার চেষ্টা করেছিলেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পাহাড়টির পবিত্রতার বিষয়টিও সম্মান করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, পাহাড়ে ওঠার আগে নিজের সিদ্ধান্তের ঝুঁকি ও পরিণতি যথেষ্ট বিবেচনা করেননি।

    ঘটনাটি শুধু একজন পর্যটকের দুর্ঘটনার বিষয় নয়। অনুমোদিত পথের বাইরে পাহাড়ে ওঠা পর্যটকের নিজের জীবন যেমন ঝুঁকিতে ফেলে, তেমনি তাকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। মাউন্ট কিনাবালুর মতো দুর্গম ও আবহাওয়াপ্রবণ এলাকায় তাই অনুমতি, প্রশিক্ষিত গাইড এবং নির্ধারিত পথ অনুসরণ করার বিষয়টি পর্যটন নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও ঘটনার পর পর্যটকদের অনুমোদিত পথ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। পারসিকের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত প্রাণহানিতে পরিণত না হলেও তার উদ্ধারে বহু মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালাতে হয়েছে। জরিমানা ও পরবর্তী সতর্কতা তাই পাহাড়ি পর্যটনে ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও নিরাপত্তাবিধি মানার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।

  • ফিজিতে ৬০ জনে একজন এইচআইভি আক্রান্ত

    ফিজিতে ৬০ জনে একজন এইচআইভি আক্রান্ত

    এইচআইভি সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। দেশটিতে গত কয়েক বছরে নতুন সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের হিসাবে, ২০২৫ সালে ফিজিতে প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের কথা জানতেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

    ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর দেশে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৩। অর্থাৎ এক বছরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশজুড়ে পরীক্ষার সুযোগ বাড়ায় আগে শনাক্ত না হওয়া অনেক রোগীও চিহ্নিত হয়েছেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে আনুমানিক একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন বলে ইউএনএইডসের হিসাব। পাঁচ বছর আগে এই অনুপাত ছিল প্রায় প্রতি ১৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্কে একজন। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে বলেও জানিয়েছে ইউএনএইডস।

    ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংক্রমণের প্রকৃতি বোঝার জন্য পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে শুধু সংক্রমণ বৃদ্ধি নয়, উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৬ জনে পৌঁছানোকে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ইউএনএইডস জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাধ্যম শনাক্ত করা গেছে, সেখানে অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার ঝুঁকি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

    তবে সংক্রমণ শুধু মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিজির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ। ২০২৫ সালে ৫৯টি শিশু এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেয় এবং তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রথম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বেড়েছে।

    ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু বলেছেন, পরিস্থিতিকে আর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকার এখন বিনা মূল্যে স্বেচ্ছামূলক ও গোপনীয় এইচআইভি পরীক্ষা সম্প্রসারণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি জোরদার করছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস বা প্রিইপি (সংক্রমণের আগে প্রতিরোধমূলক ওষুধ) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের জন্য সুচ ও সিরিঞ্জ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও করেছে সরকার। এর মাধ্যমে ব্যবহৃত সুচ ভাগাভাগির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ওষুধের ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিজি সরকার পাঁচজন মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি মন্ত্রিসভা উপকমিটি গঠন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য বিভাগকে যুক্ত করে নীতি ও বাস্তবায়নের বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএইডস ফিজির এই উদ্যোগে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের কাছে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয় করা বা বৈষম্যের শিকার হওয়া। ইউএনএইডস ও ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এইচআইভি দৈনন্দিন সাধারণ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না। কার্যকর চিকিৎসা গ্রহণ করে ভাইরাসের মাত্রা অনির্ণেয় পর্যায়ে রাখা গেলে যৌন সংক্রমণও প্রতিরোধ করা যায়। তাই ভয় বা ভুল তথ্যের পরিবর্তে পরীক্ষা, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

    ফিজির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম। এমন একটি ছোট জনসংখ্যার দেশে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। ইউএনএইডসের মতে, ফিজির বর্তমান পরিস্থিতি শুধু দেশটির জন্য নয়, পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্যও সতর্কবার্তা। ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হওয়ায় নতুন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    ফিজির সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও পরিস্থিতিকে আতঙ্কের বিষয় হিসেবে না দেখে দ্রুত সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো, মাদক ব্যবহারজনিত সংক্রমণ কমানো, মা ও শিশুর সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ফিজির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার—সবগুলো ব্যবস্থাই একসঙ্গে প্রয়োজন।

  • ট্রাম্প টিভি চালু ট্রাম্পের

    ট্রাম্প টিভি চালু ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’-এ ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, অনুষ্ঠান, ভিডিও ও বিভিন্ন কার্যক্রমের ফুটেজ সরাসরি এবং ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হবে।

    সোমবার চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের ‘বড় মুহূর্ত’, গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও নির্বাচিত ভিডিও ২৪ ঘণ্টা এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ থাকবে। প্ল্যাটফর্মটি বাস্তব সময়ে হালনাগাদ করার কথাও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এবং কয়েকটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। গত সপ্তাহে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই তিন সংবাদমাধ্যম সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। তারা অভিযোগ করেছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে।

    ট্রাম্প অবশ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান সমর্থন করেছেন। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি সুবিধা, অধিকার নয়।

    এরই মধ্যে মার্কিন টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচলিত প্রেস পুলেও সংকট তৈরি হয়েছে। সিএনএন, এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ ও এনবিসি সাধারণত প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করে এবং পরস্পরের মধ্যে সেই ফুটেজ ভাগ করে নেয়। সিএনএনকে প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের কর্মসূচির পুল কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    ফলে সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও প্রচলিত টেলিভিশন প্রেস পুলের সরাসরি ভিডিও কভারেজ ছিল না। অনুষ্ঠানটি হোয়াইট হাউসের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে সম্প্রচার করা হয়।

    ‘ট্রাম্প টিভি’র প্রথম সম্প্রচারে ট্রাম্পের পুরোনো বক্তব্য ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ফুটেজ দেখানো হয়। সম্প্রচারের শুরুতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়সংক্রান্ত একটি ট্রেলার এবং পরে মাউন্ট রাশমোরে ৩ জুলাইয়ের বক্তব্য প্রচার করা হয়।

    হোয়াইট হাউসের নিজস্ব সম্প্রচারব্যবস্থা চালুর ফলে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও সরকারি কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের সরাসরি একটি মাধ্যম তৈরি হলো। একই সঙ্গে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি যোগাযোগ, প্রেসিডেন্টের সংবাদমাধ্যম-সম্পর্ক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরো সামনে এনেছে। এ বিষয়ে আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

  • সংকটে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

    সংকটে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

    সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাইকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চের শেষ পর্যন্ত সরকারি অফিসে কর্মীদের সরাসরি উপস্থিতির সময় হবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা। বাকি নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করে পূরণ করবেন।

    সরকারি সংস্থাগুলোকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণপরিবহন ব্যবহার করে অফিসে যাতায়াত করেন। এরই মধ্যে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে মেট্রোতে করে অফিসে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রচারণার অংশ হিসেবেই এসব ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

    গাড়ির ব্যবহার কমাতে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেট্রো ও বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো ও জরাজীর্ণ সরকারি গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক, গ্যাসচালিত বা হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ধাপে ধাপে ও আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিছু ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে কর্তৃপক্ষ। সরকারসংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে কর্মঘণ্টা শেষে হিটিং ব্যবস্থা বন্ধ এবং বাতি নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে পরে আলাদা ব্যবস্থা ঘোষণা করা হবে।

    এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি নির্দেশনায় সরকারি সংস্থাগুলোকে উপযুক্ত কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ দিতে বলেন। এতে সরকারের পেট্রল, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়।

    চলতি মাসের শুরুতে পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ‘সরকারের মাধ্যমেই আমরা জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার কমানোর কাজ শুরু করেছি।’ সরকারের কর্মীদের জন্য নেওয়া এসব ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাওয়া জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিত: ক্ষুব্ধ ভারত

    পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিত: ক্ষুব্ধ ভারত

    হিমালয়ের বিতর্কিত একটি অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীন নিজেদের সীমান্ত নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশ পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।

    বহু দশক ধরে ভারত ওই অঞ্চলে পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দিল্লির দাবি, এই ভূখণ্ড ভারতের অংশ। তাই পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্তকেই ভারত স্বীকৃতি দেয় না।

    পাকিস্তান চুক্তিটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও চীনের সহযোগিতা আরো গভীর হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

    বিশেষ সংবেদনশীল এক সময়ে এই ঘোষণা এসেছে। হিমালয় সীমান্তের বড় অংশজুড়ে ভারত ও চীনের সেনাদের পৃথক করা বিতর্কিত রেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে কয়েক বছর ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই বেইজিং ও ইসলামাবাদ এমন একটি সীমান্ত এলাকায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যার ওপর ভারতেরও দাবি রয়েছে।

    এই যৌথ কমিশনের আওতায় রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত এটিকে লাদাখে অবস্থিত নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

    দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। পাকিস্তান ওই অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত সরকার ১৯৬৩ সালের ওই চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির মতে, চুক্তিটি অবৈধ ও অকার্যকর।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভারতের ভূখণ্ড, যা অবৈধ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দখলে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার পাকিস্তানের নেই।’

    পাকিস্তানের অবস্থান ভিন্ন। দেশটি বলে, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-সংক্রান্ত সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবস্থানে ভারত নেই। পাকিস্তান ওই চুক্তিকে বৈধ বলে মনে করে।

    দিল্লির শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জেকব বলেন, সর্বশেষ ঘটনাটি দুই পক্ষের বহু পুরোনো বৈরিতার আরেকটি প্রকাশ। একেবারে নতুন কিছু নয়।

    তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই ব্যবস্থা এই সময়ে কার্যকর করা হলো।

    জেকবের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বৃহত্তর সীমান্ত নির্ধারণের প্রচেষ্টা। পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেও এই সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগ্রহ থাকতে পারে।

    জেকব বলেন, এই উন্নয়নে ভারতের ‘উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত।

    তার মতে, আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পদক্ষেপটি ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারাকে উপেক্ষা করছে বলে মনে হয়।

    চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তির পর যে দেশ শেষ পর্যন্ত ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার কথা ছিল বলে জানান তিনি।

    জেকবের মতে, ভারতের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক তথ্য পরিবেশনের দিক থেকেও জটিল।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তথ্য পরিবেশনে চীনের তুলনামূলক প্রাধান্য রয়েছে। সিজিটিএন, সিআরআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের উপস্থিতি তাদের বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের বয়ান ও মানচিত্র তুলে ধরার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারত প্রায়ই এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা বিশ্বের অন্যান্য রাজধানী উপেক্ষা করতে পারে।

    তবে সীমান্তে বাস্তবে যে কার্যক্রম চলছে, তার তুলনায় এই উদ্বেগের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) ও কারাকোরাম মহাসড়ক।

    যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমি ও হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক।

    হাক্কানি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা সহযোগিতা জোরদার করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষার জন্য এটি একটি প্রক্রিয়া।

    তার মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতি একটি বার্তাও দেয়। তা হলো, বেইজিং এখনো কাশ্মীর প্রশ্নকে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেখে।

    হাক্কানি বলেন, চীন কখনো কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের অবস্থান মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও তারা পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, ভারতের নয়। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের এই অঞ্চলটি চীনের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে। ভারত এটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

    হাক্কানির মতে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের অবস্থানও বদলেছে।

    তিনি বলেন, পাকিস্তান এখনো মনে করে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ বাকি। কিন্তু ভারত যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করেছে, তখন ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে যে বিষয়টি অঘোষিত অবস্থায় রয়েছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তান কোনো সমস্যা দেখছে না।

    বেইজিংয়ের জন্যও এই ব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি।

    তার মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূকৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একই সঙ্গে ভারতকে চীন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী হুমকির ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ।

    হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত তাদের সিদ্ধান্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। তাই যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও অনেক আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    তার মতে, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলন সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে মনে করিয়ে দেওয়া যে বহুপক্ষীয় সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

    তবে জাবিন টি জেকব সতর্ক করে বলেন, এই বিষয়টির প্রতিটি দিককে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, এই মুহূর্তে এলএসি-তে এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

    এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার গুরুত্ব হয়তো বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের মধ্যে নয়। বরং ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই এর গুরুত্ব থাকতে পারে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের অবস্থান ‘স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক’।

    দিল্লির মতে, পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। এতে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

    হাক্কানি মনে করেন, বিরোধটি শুধু সীমান্তের আইনি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়।

    তার মতে, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতভেদ ভূকৌশলগত, শুধু মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী অর্জন করা সম্ভব, তারও কিছু সীমা রয়েছে।

    হাক্কানি আরো বলেন, পাকিস্তান এখনো ভারতের বিরুদ্ধে চীনের ‘দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধক’। ইসলামাবাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততা দিল্লির প্রতি সেই বার্তাই প্রকাশ করতে থাকবে।

  • মামদানির হুমকি:সফরসূচি কাটছাঁট নেতানিয়াহুর

    মামদানির হুমকি:সফরসূচি কাটছাঁট নেতানিয়াহুর

    যুক্তরাষ্ট্র সফরের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং সেদিনই ইসরাইলে ফিরে যাবেন। নিউইয়র্কে সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কাও নেতানিয়াহুর সফর সংক্ষিপ্ত করার অন্যতম কারণ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    নেতানিয়াহু বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টায়, অর্থাৎ ইসরাইল সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরান প্রসঙ্গ প্রধান গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এবার তিনি নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না। ভাষণ শেষ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ই ইসরাইলের উদ্দেশে রওনা হবেন। তার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকও সফর করবেন না।

    নেতানিয়াহুর বিমান ‘উইং অব জিওন’ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির একটি সামরিক বিমানঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জটিলতা এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে তার সফরসূচিতে টেক্সাসে থামার এবং ইলন মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল। সেটিও বাতিল করা হয়েছে। একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজন এবং শেষ মুহূর্তের আয়োজন নিয়ে মার্কিন পক্ষের অনাগ্রহ—দুই কারণে ওই বৈঠক বাতিল হয়েছে।

    নেতানিয়াহুর এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের চেষ্টা চলছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে এসব বৈঠক আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নিউইয়র্কের মেয়র মঙ্গলবার সি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ফিরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কর্মসূচি রয়েছে।

    নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানের হুমকি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাতিসংঘে ইসরাইলি প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য প্রতিবাদের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে ভাষণের সময় হট্টগোল বা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। গত বছরও এ ধরনের প্রতিবাদ হয়েছিল।

    এর আগে জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি সংক্ষিপ্ত সফর করবেন।

    নেতানিয়াহুর সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির একটি প্রতিনিধিদলকেও সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা:উত্তাল ভারত

    শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা:উত্তাল ভারত

    আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের বিশ্বমঞ্চে ভারত নিজেদের যত বড় পরাশক্তি হিসেবেই দাবি করুক না কেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা এখনও প্রাচীন বর্ণপ্রথা ও সামাজিক বৈষম্যের খাঁচায় বন্দি। জাতপাত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ যেন দেশটিকে ক্রমশ প্রাচীন ও অন্ধকার যুগের দিকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (আইআইটি) বম্বের দলিত শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির ছাত্রসমাজ।

    মেধার সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও প্রান্তিক শ্রেণির এই মেধাবী তরুণকে শেষ পর্যন্ত জাতপাত এবং প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাহিলের পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় নকল করার মিথ্যে অজুহাত তুলে এক অধ্যাপক তার প্রতি জাতপাতভিত্তিক চরম অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে পদ্ধতিগত মানসিক নিপীড়নের মুখে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সাধারণ নিয়মভঙ্গ ও পড়াশোনার চাপের আড়ালে ঢাকার চেষ্টা করলেও এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

    এই ট্র্যাজেডি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভারতের অভিজাত ক্যাম্পাসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। এর আগে ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলার তথাকথিত ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা’ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সে সময় প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বাধীন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিক কাগুজে কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

    শিক্ষার্থী মহলের অভিযোগ, আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলিত, আদিবাসী এবং ওবিসি শিক্ষার্থীদের কথা শোনার বা তাদের অভিযোগ সমাধানের কার্যকর ও সংবেদনশীল কোনো মঞ্চ নেই। উল্টো প্রশাসনের তৈরি করা তদন্ত কমিটিগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ধামাচাপা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার পক্ষেই সাফাই গায়। যেকোনো প্রতিবাদ দমন করতে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারি ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করে রাখা হচ্ছে।

    মৃত্যুর পরিসংখ্যান ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার এক শিউরে ওঠা অন্ধকার চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গত দুই দশকে ভারতের বিভিন্ন আইআইটি ক্যাম্পাসে মানসিক ও সামাজিক চাপে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭১ জন শিক্ষার্থী। উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রথম দশকে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৫১, যা পরবর্তী দশকে এক লাফে ১২০-এ গিয়ে পৌঁছেছে।

    পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে সাম্প্রতিক তথ্যে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কেবল গত ৫ বছরেই আইআইটিগুলোতে ৬৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান হার অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসগুলোর বাণিজ্যিকীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সংকোচনের সাথে সাথে দলিত, আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা আগের চেয়ে বহুগুণ কঠিন ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। শিক্ষাঙ্গনে ‘মেধা’র ধারণাকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ব্রাহ্মণ্যবাদী সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস টিকিয়ে রাখা হচ্ছে, যার ফলে প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে আসা প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শহরের বড় বড় শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে চূড়ান্ত মানসিক একাকীত্ব ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।

    ক্যাম্পাসগুলোতে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রভাব কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে, তার নজির মিলছে সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপে। কয়েক বছর আগেই আইআইটি বম্বের হোস্টেল ডাইনিংয়ে নিরামিষ ও আমিষভোজীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা নির্দিষ্ট করে কার্যত খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি আইআইটি মান্ডির ক্যাম্পাসে এমন পোস্টারও প্রকাশ্যে আসে যেখানে চার বর্ণের কাঠামো তুলে ধরে শূদ্রদের কাজ অন্য তিন বর্ণের সেবা করা বলে উল্লেখ করা হয়।

    তীব্র প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও ওই ক্যাম্পাসের শীর্ষ প্রশাসনের সাথে ধর্মীয় গোষ্ঠীর (ইসকন) সংশ্লিষ্টতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তিন ক্রেডিটের ‘গীতা কোর্স’ বাধ্যতামূলক করার মতো বিষয়গুলো এই বৈষম্যমূলক মানসিকতারই প্রমাণ দেয়। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার চেয়ে গোমূত্র, আয়ুর্বেদ বা প্রাচীন বেদান্ত শাস্ত্রকে ‘বিজ্ঞান’ প্রমাণ করার একমুখী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রবণতা বিজ্ঞান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উদ্দেশ্যকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের করপোরেট ও অভিজাত কাঠামো সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পরিবর্তে নির্দিষ্ট উচ্চবর্ণীয় আধিপত্য ধরে রাখতে মেধার বুলি আওড়াচ্ছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি নিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে সুবিধাভোগী শ্রেণি উন্নত বিশ্বের করপোরেট দুনিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে, অন্যদিকে সংবিধানের মূল কারিগর বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতাদর্শ প্রচার বা প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা ক্যাম্পাসগুলোতে কার্যত অপরাধে পরিণত হয়েছে।

    আধুনিকতা ও ডিজিটাল ভারতের স্লোগান দেওয়া হলেও, গভীরে প্রোথিত জাতপাতের শিকল ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্ব ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোকে ক্রমশ শ্বাসরুদ্ধকর বধ্যভূমিতে পরিণত করছে। সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর পর সুবিচারের দাবিতে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ এবং জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের বাস্তব পদক্ষেপ ছাড়া ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার এই পতন ঠেকানো অসম্ভব।

  • জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ চাই ভারত

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ চাই ভারত

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টা আরো জোরদার করেছে ভারত। এবার দেশটির দাবির প্রতি সম্মিলিত সমর্থন জানিয়েছে মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায় ভারতের পক্ষে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন যুক্ত হলো।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো ভিসেগ্রাদ গ্রুপ বা ভি৪-এর সঙ্গে ভারতের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানায় জোটটির চার সদস্য রাষ্ট্র।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার বলেন, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে ভি৪-এর দেশগুলো একমত।

    ভারতের যুক্তি, ১৯৪৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার সময়কার বিশ্বের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। সে সময় এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। বর্তমানে জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশ তখন স্বাধীন রাষ্ট্রও ছিল না। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকে বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।

    ভারত এখন পর্যন্ত আটবার নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশটি পরিষদের সদস্য ছিল। দেশটির স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিভিন্ন ইস্যুতেও ভারত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদকে সামনে রেখে প্রকাশিত অগ্রাধিকারসংক্রান্ত নথিতে ভারত বলেছে, বিভিন্ন সংঘাতে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে জাতিসংঘের ব্যর্থতা সংস্থাটির কার্যকারিতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই নয়াদিল্লির কাছে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়টি শুধু ভারতকে স্থায়ী সদস্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে পুরো কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত।

    ভারতের দাবির প্রতি ইতোমধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চীন এখনো ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। বেইজিং বলে আসছে, তারা ভারতের আকাঙ্ক্ষাকে বোঝে ও সম্মান করে; একই সঙ্গে এ বিষয়ে আরো ব্যাপক ঐকমত্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে।

    ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি৪ জোটের সদস্য। জোটের চার দেশ পরস্পরের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করে এবং নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায় নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে। জি৪-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান ১৫ সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫ বা ২৬ করা যেতে পারে।

    এই প্রস্তাবে ছয়টি নতুন স্থায়ী আসন তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আফ্রিকা, দুটি এশিয়া-প্যাসিফিক, একটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং একটি পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের জন্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি চার বা পাঁচটি অতিরিক্ত অস্থায়ী সদস্যের আসন যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

    তবে নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণের বিষয়ে বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য—এখনো কোনো অভিন্ন কাঠামোয় একমত হতে পারেনি। নতুন সদস্যের সংখ্যা, কোন অঞ্চল কতটি আসন পাবে, নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না এবং সংস্কারের পর পরিষদ কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়েই মতপার্থক্য রয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কগুলোর একটি ভেটো ক্ষমতা নিয়ে। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু নির্বাচিত সদস্যদের এমন ক্ষমতা নেই। আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে ভেটো ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে। তবে ভেটো ব্যবস্থা বহাল থাকলে নতুন স্থায়ী সদস্যদেরও বর্তমান পাঁচ সদস্যের সমান অধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

    ভারতের অবস্থানও প্রায় একই। ২০২৬ সালের এপ্রিলের এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি বলেছিল, এমন কোনো পৃথক শ্রেণির স্থায়ী সদস্য থাকা উচিত নয়, যেখানে কিছু দেশের ভেটো ক্ষমতা থাকবে অথচ অন্য স্থায়ী সদস্যরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। ভারত ‘সবাই অথবা কেউই নয়’ নীতির কথা বলেছে। অর্থাৎ বর্তমান ও নতুন সব স্থায়ী সদস্যের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব থাকা উচিত বলে নয়াদিল্লির অবস্থান।

    এদিকে ভি৪-এর সঙ্গে বৈঠককে ভারত ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকটি আয়োজনের জন্য স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লানারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এটিকে ‘নতুন ঐতিহাসিক উপলক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন।

    তবে বৈঠকের আলোচনায় শুধু নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ই ছিল না। ভারত ও ভি৪ দেশগুলো দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি বার্ষিক ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজন এবং দুই পক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভি৪-এর সঙ্গে কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে বার্ষিক ব্যবসায়িক ফোরাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক থাকবে।

    ভি৪-এর সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ নিশ্চিত করার মতো নয়। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়টি এখনো বহু দেশের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে। তবে মধ্য ইউরোপের চার দেশের এই সম্মিলিত সমর্থন ভারতের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনের পরিধি আরো বাড়াল।

    জয়শঙ্করের ভাষায়, ভি৪-এর দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো এবং শিল্প, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। ভি৪ ভবিষ্যতে কীভাবে এগোবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলেও ভারত তাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগকে স্বাগত জানাচ্ছে।

  • জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

    জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

    পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুপার ট্রেন’ মার্চ মুলতানে পৌঁছানোর পর দলটির আমির হাফেজ নাঈম উর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার জামায়াতের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

    করাচিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ অভিমুখী চলমান ট্রেন মার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য জামায়াতের আমিরকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানে ফিরে না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পরই প্রধানমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। দলটির মুখপাত্র বলেন, শাহবাজ শরিফ দেশে ফেরার পর পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার আগ্রহও জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে হাফেজ নাঈম উর রহমান বলেন, জামায়াত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে কিংবা সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও দাবিগুলো তুলে ধরতেই দলটি রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। তাই সরকারের উচিত তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করা।

    প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ পাওয়ার পর বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ ‘শূরার’ সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান জামায়াত আমির। শূরার পরামর্শের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তবে সরকারের অনুরোধে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদের অধিকার থেকে জামায়াত সরে আসবে না বলে স্পষ্ট করেছেন হাফেজ নাঈম উর রহমান।

  • ফের আলোচনা চায় যুক্তরাষ্ট্র : কাতার

    ফের আলোচনা চায় যুক্তরাষ্ট্র : কাতার

    ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে জানিয়েছে কাতার। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দোহা।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি নিউইয়র্কে কাতার অর্থনৈতিক ফোরমের এক অনুষ্ঠানের ফাকে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের মধ্যস্থতাকারী দল আলোচনা পুনরায় শুরুর উপায় খুঁজছে। গত কয়েক সপ্তাহে দুই পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    আল-আনসারি বলেন, ‘আমরা তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের মধ্যস্থতাকারী দলের মাধ্যমে আবার আলোচনা শুরু করা যায় কি না, সে বিষয়ে কাজ করছি। অনেক প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।’

    তিনি বলেন, কাতারের লক্ষ্য হলো দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আলোচনায় ফেরার উপযুক্ত সময় ও পথ খুঁজে বের করা।

    কাতারের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, এমন বার্তা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে একটি সমাধান খুঁজে বের করতেও ওয়াশিংটন আগ্রহী বলে জানান তিনি।

  • নিউইয়র্কে আরাঘচি !

    নিউইয়র্কে আরাঘচি !

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বিকেলে তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

    নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে তিনি কাতারের রাজধানী দোহায় যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে তিনি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করেন। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবেলা : সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ প্রতিপাদ্য নিয়ে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

    এবারের অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও রয়েছে।

  • ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মামলা

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মামলা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে দেশটির তিন বড় সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউ।

    ট্রাম্পের তৈরি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে তারা যৌথভাবে মামলা করার কথা জানিয়েছে।

    এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করেন। তার দাবি ছিল, এই মাধ্যমগুলো নাকি সরকারের বিরুদ্ধে বানানো গল্প আর মিথ্যা খবর প্রচার করছে। ট্রাম্পের ওই নির্দেশের পর দিনই সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের প্রবেশপত্র কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

    এই ঘটনার পর একটি যৌথ বার্তায় সংবাদমাধ্যম তিনটি জানিয়েছে, কোনো নিয়মকানুন না মেনে কেবল নিজেদের অপছন্দের খবর ছাপানোর কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সাংবাদিকদের কার্ড বাতিল করেছে। এটি আমেরিকার সংবিধানের দেওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। কারণ, সরকার কখনোই ঠিক করে দিতে পারে না সাংবাদিকরা কী খবর ছাপাবে আর কোনটা ছাপাবে না।

    অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সংবাদমাধ্যমের এমন বিরোধ নতুন নয়। এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো বিখ্যাত পত্রিকাগুলোকেও ‘ভুয়া খবরের মাধ্যম’ বলে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। এমনকি কয়েক মাস আগে ‘মেক্সিকো উপসাগর’ নাম ব্যবহারের কারণে বার্তা সংস্থা এপির সাংবাদিকদের ওপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে মামলা এখনো চলছে। তবে এবার সরকারের এই বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আইনি লড়াইয়ে নামছে এই তিন সংবাদমাধ্যম।

  • ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ

    ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ

    স্কুলে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ইতালি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে, তার সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

    দেশটির কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এই ঘোষণা দিয়েছেন।

    ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের কাছে ইতালি অন্যতম প্রধান ট্রানজিট দেশ। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের আগে অভিবাসীদের মূলধারার সমাজের সঙ্গে ‘মানিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) যুব শাখার এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে, তা আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে।

    মেলোনি আরও বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে, তাদের মা-বাবাকেও ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে। এর পাশাপাশি স্কুলে বোরকা ও নেকাব পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও এই প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।

    এর আগে গত জুলাই মাসে স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দাবি তুলেছিল ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) পার্টি।

    এফএন দলটি ক্ষমতাসীন জোটে নেই। তবে রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে তারা মেলোনির দলের চেয়েও বেশি কট্টর ডানপন্থী। গত ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই জনমত জরিপে তাদের অবস্থান দ্রুত জোরালো হচ্ছে। ফলে দলটি এখন মেলোনির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

    ইতালির কোনো স্কুলে বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি বোরকা নিষিদ্ধ করে এমন সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে বলা আছে, সংগত কারণ ছাড়া মুখ বা পরিচয় ঢেকে রাখে এমন পোশাক বা হেলমেট পরা যাবে না।

    পরে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত একটি ব্যাখ্যা দেন। আদালত জানান, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরা যাবে। তবে পরিচয় শনাক্তের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করতে হবে।

    মেলোনির জোটসঙ্গী অভিবাসনবিরোধী লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুর দিকে সিনেটে একটি বিল তোলে। বিলটিতে ক্রীড়া অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মুখ ঢেকে রাখার পোশাক ও হেলমেট পুরোপুরি নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়।

    ইতালির আইনে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। তবে এই নিয়মে ঠিক কী পরিবর্তন আনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি মেলোনি।

    দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (আইএসটিএটি) তথ্য অনুযায়ী, ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি। ২০১০ সাল থেকেই প্রতিটি ক্লাসে ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে রাখার নিয়ম চালু আছে।

    তবে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কোটার হার বাড়ানো যায়। যেমন ইতালিতে জন্ম নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পায়। অন্যদিকে ভাষায় দক্ষতা দুর্বল হলে এই সীমা আরও কমানো হতে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ‘ভূমিকম্পের মতো’

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ‘ভূমিকম্পের মতো’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’ প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।

    একই সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ‘উত্তেজনা বাড়ানোর চক্র’ থেকে দূরে থাকার বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ। সেখানে গতকাল রোববার কাতার ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে এমন একটি ‘কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং কোনো রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না’।

    শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি, কাতারের প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন শেখ মোহাম্মদ। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতকে ‘ভূমিকম্পের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে

    কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংকটের সময় প্রায় প্রতিটি আলোচনা শুরু হয়েছে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে। এরপর আলোচনা গড়িয়েছে জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং আমাদের বিনিয়োগের দিকে। আমাদের পরিকল্পনাগুলোও এগিয়ে চলবে। আসলে এগুলো একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। যখন এত কিছুই ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়গুলোর ওপর এখনো নির্ভর করা যায়?’

    সংকটময় এ সময়ে কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত’ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, দেশটি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি এ–ও স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।

    শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্রকে যদি চিরস্থায়ীভাবে অনিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়, তাহলে কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমেই সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আমাদের উত্তেজনার উৎসগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর সমাধান করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।’

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

    এদিকে গতকাল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় ইরানে বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা আবার শুরুর লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

  • মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় জরিমানা

    মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় জরিমানা

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে প্রদীপ জ্বালানোর নির্দেশ ছিল। সরকারি পর্যায়ে তো বটেই, বেসরকারিভাবেও এই নির্দেশ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল দেশের সর্বত্র। সেই অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর, সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭৬তম জন্মদিনটি পালিত হয় প্রজ্বলিত প্রদীপের দীপ্তিতে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিতর্কের চরিত্রও বহুমুখী।

    বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে জম্মুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) কর্তৃপক্ষকে নিয়ে। তাদের হুকুম ছিল, সব পড়ুয়াকে প্রদীপ জ্বালানোর সময় হাজির থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গল কামনায় প্রদীপ জ্বালাতে হবে। নইলে ৫০০ রুপি জরিমানা।

    এ বিষয়ে আইআইএম স্টুডেন্টস কাউন্সিলের তরফে একটি নির্দেশনামা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর সবাইকে প্রদীপ জ্বালানো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। যদি কেউ অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে কারণ দেখাতে হবে। নির্দেশ অনুযায়ী, একমাত্র অসুস্থতার কারণে কেউ হাজির না থাকতে পারে। তবে সে জন্য আইআইএম কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত উপযুক্ত ডাক্তারের (সঞ্জীবনী) সার্টিফিকেট থাকা দরকার। তাতে ডাক্তারকে জানাতে হবে, সংশ্লিষ্ট ছাত্র এতটাই অসুস্থ যে তার বিছানা ছাড়ার উপায় নেই। এ ছাড়া অন্য কোনো ওজর আপত্তি গ্রাহ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার ৫০০ রুপি জরিমানা হবে।

    নির্দিষ্ট দিনে আইআইএম জম্মুর প্রশাসনিক ভবনের সামনে সেই অনুষ্ঠান হয়। তাতে অংশ নেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক যুধবীর শেঠি ও আইআইএম জম্মুর পরিচালক অধ্যাপক বি এস সহায়।

    জরিমানার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ওই অনুষ্ঠানে হাজির হননি বেশ কিছু পড়ুয়া। তাঁদের শৃঙ্খলাভঙ্গের নোটিস পাঠানো হয়েছে। বলা হয়, নোটিস প্রাপ্তির এক দিনের মধ্যেই জবাব দিতে হবে। জবাব যুক্তিযুক্ত মনে না হলে ৫০০ রুপি জরিমানা। জম্মু–কাশ্মীর কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত নেতা সৈয়দ নাসির হুসেন প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে? কেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রচারের দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো হবে? এটা তো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ হতে পারে না?

    বিহারের আরজিডে নেতা ও সাংসদ সুহাকর সিংও এই ঘটনার নিন্দা করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে বলেছেন, কেন জরিমানা? কেন জন্মদিনের প্রদীপ জ্বালানো বাধ্যতামূলক করা? এর চেয়ে ভালো হবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটা ঘোষণা জারি করুক, যারা ‘মোদি মোদি’ করবে না, মোদি বন্দনায় অংশ নেবে না, তাদের আইআইএম বা আইআইটিতে ভর্তিই করানো হবে না।

    জম্মু আইআইএম কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, কোনো ছাত্রের কাছ থেকে জরিমানার টাকা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    গত শনিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরের দিন ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন। তির্যক ভঙ্গিতে রাহুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সরকার কোটি কোটি রুপি খরচ করে রাজ্যে রাজ্যে প্রদীপ জ্বালাচ্ছে। অথচ ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য হোস্টেল তৈরি করতে পারে না। সে জন্য টাকা বরাদ্দ হয় না। সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বহু ছাত্রী থাকার অসুবিধার জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে ওই ‘এক্স’ বার্তায় ছাত্রীদের অসুবিধার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘এই বাচ্চা মেয়েটির প্রশ্নের উত্তর কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে?’

    প্রদীপ জ্বালানো নিয়ে নানা মহলে নানা রকম কথাও হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, ভাঙাচোরা আসবাবহীন দরজা–জানালাহীন জরাজীর্ণ এক আদিবাসী স্কুল–বাড়িতে একটি জ্বলন্ত প্রদীপ রেখে তিনি বলছেন, প্রিয় মোদিজি, আপনি প্রদীপ জ্বালাতে বলেছেন। এই প্রদীপ আপনার জন্য। এই ভাঙাচোরা স্কুল–বাড়ি আপনার অবদান। আপনার বারো বছরের শাসনের নিদর্শন।

    দিল্লি, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটসহ বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মোদির জন্মদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে পালিত হয়। সে জন্য সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়। স্কুল, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ জন্য নির্দেশ জারি করা হয়। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’। সবাই নির্দেশ পালন করছে কি না, তা জানতে প্রত্যেককে ভিডিও করে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠাতে বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এক মাসের এক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ওই অভিযান চলবে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সরকারি প্রচেষ্টার কড়া সমালোচনা করেছে। পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (পিইউসিএল) এই ‘স্তাবকতার’ সমালোচনা করে বলেছে, এভাবেই স্বাধীন চিন্তা ও ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতার গলা টিপে ধরা হচ্ছে। জন্ম দেওয়া হচ্ছে স্তাবক শ্রেণির।

  • আমেরিকানদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

    আমেরিকানদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

    ইরানকে ঘিরে ফের উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা ও পালটা হামলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইরানে ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস। একই সঙ্গে কোনো কারণেই ইরান ভ্রমণ না করার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা ও সংঘাতে জড়িয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দরও নিশানা করা হয়েছে। চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এমন সতর্কবার্তা এসেছে। এর আগে ইরানকে ‘পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন তিনি।

    এছাড়া, গত শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিড থেকে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন ট্রাম্প। পরে, তিনি বলেন, ইরান নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। এসময় সামনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যেই সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ড বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তারা গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে।

    হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, স্বার্থ ও মিত্রদের নিশানা করে পালটা হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছে ইরান।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ইরান।

  • একসাথে কাজ করবেন ট্রাম্প-মামদানি

    একসাথে কাজ করবেন ট্রাম্প-মামদানি

    রাজনীতিতে মতের অমিল থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু শহরের মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে সেই দূরত্ব কাটিয়ে এক টেবিলে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ‘গ্র্যাসি ম্যানশন’ নামে পরিচিত মেয়রের সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    হোয়াইট হাউস এবং নিউ ইয়র্ক মেয়র কার্যালয়—উভয় পক্ষ থেকেই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মেয়র কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্ক শহর এবং শহরের বাসিন্দাদের নানা সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    রাজনৈতিক আদর্শের দিকে তাকালে ট্রাম্প ও মামদানি পুরোপুরি দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতা, অন্যদিকে মামদানি ডেমোক্রেটিক দলের এক পরিচিত মুখ ও স্পষ্টভাষী সমাজতন্ত্রী। তবে রাজনীতি আলাদা হলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কটা বেশ অমায়িক ও আন্তরিক।

    এর আগেও তাদের মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে দুই নেতা মুখোমুখি বসেছিলেন। বৈঠক শেষে মামদানি জানিয়েছিলেন, তাদের দুজনেরই জন্মস্থান এই নিউ ইয়র্ক সিটি, আর তাই এখানে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আবাসন গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সাথে তার খুব ইতিবাচক কথা হয়েছে।

    অথচ একসময় পরিস্থিতি এমন ছিল না। নির্বাচনের আগে মামদানিকে ‘কম্যুনিস্ট’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু নির্বাচনে চমক দেখিয়ে মামদানি জয়ী হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসে মামদানিকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প মন খুলে তার প্রশংসা করেন।

    সেদিন ট্রাম্প বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের কোনো ভেদাভেদ এখানে থাকবে না। মামদানি ভালো কাজ করলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন এবং একটি নিরাপদ নিউ ইয়র্ক গড়ার স্বপ্নপূরণে তিনি মেয়রকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন

    মামদানির এই রাজনৈতিক উত্থান পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেই এক নতুন হাওয়ায় রূপ নিয়েছে। তিনি দ্রুতই দেশের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক বিরোধীদের চোখ রাঙানি থাকলেও, নিউ ইয়র্কের মানুষের ভালোর জন্য সব মতপার্থক্য ভুলে ট্রাম্প ও মামদানির এই এক টেবিলে বসা মার্কিন রাজনীতিতে এক দারুণ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

  • ইমরানের তিন বোনই আটক!

    ইমরানের তিন বোনই আটক!

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের আরও দুই বোন উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে।আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআইয়ের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার কর্মসূচির আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদের আটক করা হয়।

    এর এক দিন আগে ইমরানের আরেক বোন আলিমা খানকেও ৩০ দিনের জন্য আটক বা গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন লাহোরের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)।

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশ-১৯৬০-এর আওতায় উজমা ও নোরিনকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, তারা ‘জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর’।

    আদেশ অনুযায়ী, তাদের লাহোরের কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারের অধীনে রাখা হবে।

    লাহোরের ডিসি কার্যালয়ের আদেশে অভিযোগ করা হয়েছে, উজমা ও নোরিন ২০২৩ সালের ৯ মে’র বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন এবং কর্মীদের সরকারি ও জনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় আবারও কর্মীদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

    এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রেসকোর্স থানার ৯৬/২৩ নম্বর মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রোববার লাহোর ডিসি মুহাম্মদ আলী ইজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উজমা ও নোরিনকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে পুলিশ উপস্থাপিত প্রমাণ সদস্যরা অনুমোদন করেন বলে আদেশে বলা হয়েছে।

    এদিকে পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আক্রম সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, ইমরানের দুই বোনকে তাদের সন্তান এবং আলিমা খানের ছেলেদের সঙ্গে আটক করে একটি সাঁজোয়া গাড়িতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

  • মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল

    মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল

    মক্কার মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেন তিনি। সোমবার ফজরের আজানটিই ছিল মসজিদুল হারামে তার দেওয়া সবশেষ আজান।

    মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার ভোররাতে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির আজান দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ প্রকাশ করেছে।

    সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

    ১৯৭৬ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণকারী শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। শেখ ইব্রাহিমের ওপর তার দাদার প্রভাব খুব গভীর। তার দাদা ছিলেন একজন হাফেজ। পরবর্তীতে তিনি কুরআ বিষয়ক অধ্যয়নে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জন করেন।

    মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুয়াজ্জিন হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়।

    কলেজজীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি স্থানীয় আরো তিনজন প্রতিবেশীর সঙ্গে পালাক্রমে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মদিনার বাইরে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি কিছু সময়ের জন্য এ কাজ থেকে বিরত ছিলেন।

    ১৪২৮ হিজরি সালে তাকে ‘মসজিদ আল-মাদদাহ’তে পুনরায় আজান দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তিনি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আজান দিয়েছেন। ১৪৩৯ হিজরি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে শেখ ইব্রাহিম আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মদিনার ঐতিহ্য ও শৈলী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

    পাশাপাশি বাবার সঙ্গে মক্কা সফরের সময় তিনি মক্কার স্বতন্ত্র আজানশৈলীর সঙ্গেও পরিচিত হন।

  • আবার আক্রান্ত হলে ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবো: আইআরজিসি

    আবার আক্রান্ত হলে ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবো: আইআরজিসি

    যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর ফের হামলা চালায়, তাহলে তেহরান নতুন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আক্রমণ চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবিাব বলেন, নতুন করে হামলা চালালে তেহরান তাদের সমরাস্ত্র এবং ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে ফেলবে।

    মোহিবি বলেন, যদি নতুন কোনো হামলা হয়, তাহলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে। অস্ত্র ও যুদ্ধের ভূগোল বদলে ফেলা হবে এবং নতুন সক্ষমতা ও সামর্থ্য নিয়ে ময়দানে নামবে। বিশ্ববাসী এতে অবাক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যবস্তুগুলো আর আগের মতো নেই। আমরা নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেছি, যেগুলোতে আগে কখনো হামলা চালানো হয়নি।’

    মোহিবি আরো বলেন, ‘ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমাদের দৃষ্টিতে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় থাকে; যুদ্ধ কেবল শেষই হয় না, বরং চলতেই থাকে। আইআরজিসি যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং এখন তারা আরো বেশি প্রস্তুত।’

    তিনি বলেন, আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনো কূটনৈতিক তৎপরতায়ও জড়ায়নি। দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাই সামরিক বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    তার দাবি, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসান ঘটেছে এবং ওয়াশিংটনের পরিবর্তে ইরানই এখন এই অঞ্চলের নতুন বিন্যাস বা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় ৮ লক্ষাধিক মৌমাছি চুরি!

    অস্ট্রেলিয়ায় ৮ লক্ষাধিক মৌমাছি চুরি!

    অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন খামার থেকে ৮ লাখের বেশি মৌমাছি চুরি হয়েছে। এসব মৌমাছির মূল্য কয়েক হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত চুরি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অ্যাথারটন টেবিলল্যান্ডস এলাকার মৌচাষি টম বিডনার জানান, তিনজন মৌচাষির কাছ থেকে মোট ৪৪টি মৌমাছির কলোনি চুরি হয়েছে। প্রতিটি মৌচাকে অন্তত ২০ হাজার মৌমাছি থাকায় মোট চুরি হওয়া মৌমাছির সংখ্যা ৮ লাখের বেশি বলে তিনি হিসাব করেছেন।

    চোরেরা পুরো মৌচাক নিয়ে যায়নি। তারা মৌচাকের ‘ব্রুড বক্স’ বা যে অংশে মৌমাছির বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় লার্ভা ও ডিম থাকে, সেটি খুলে নিয়ে গেছে। এরপর নিজেদের বাক্সে মৌমাছিগুলো স্থানান্তর করে আবার আগের মতো মৌচাক সাজিয়ে রেখে গেছে। ফলে দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে চুরি হয়েছে।

    বিডনারের মতে, এ ধরনের কাজ করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও মৌচাষ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান প্রয়োজন। চোরেরা মধুও নেয়নি। ফলে মৌচাক বাইরে থেকে প্রায় অক্ষতই দেখা গেছে। তার সন্দেহ, চুরির সঙ্গে মৌচাষ শিল্পের পরিচিত ব্যক্তিরাই জড়িত থাকতে পারেন।

    মারিবা গ্রামীণ ও স্টক ক্রাইম স্কোয়াডের গোয়েন্দা সার্জেন্ট বেন ক্রসও মনে করেন, চুরির সঙ্গে কোনো শখের মৌচাষি নয়, বরং বাণিজ্যিকভাবে কাজ করা কেউ জড়িত থাকতে পারে।

    এই চুরির কারণে মৌচাষিরা শুধু মৌমাছিই হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন পরাগায়ন চুক্তি থেকে পাওয়া আয়ও। বর্তমানে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে অ্যাভোকাডোর মৌসুম চলছে। এ সময় ফলনের জন্য বিভিন্ন খামারে মৌমাছির বাক্স রাখা হয়। এসব বাক্সের মাধ্যমে মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সহায়তা করে। ফলে মৌমাছি চুরি হলে মৌচাষির পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

    বিডনার জানান, মৌমাছির বাক্সগুলো বিভিন্ন খামারে চুক্তির ভিত্তিতে রাখা হয়। কিছু বাক্স আবার মহাসড়কের পাশেও রাখা থাকে। অতীতে মৌচাক নিয়ে নড়াচড়ার ঘটনা ঘটলেও এত বড় চুরি তিনি মনে করতে পারছেন না।

    এদিকে উত্তর কুইন্সল্যান্ডের মৌচাষ শিল্প আরো একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি কেয়ার্নসের দক্ষিণে প্রথমবারের মতো ‘ভারোয়া মাইট’ পরজীবী শনাক্ত হয়েছে। এই পরজীবী মৌমাছির কলোনির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।

    কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেগান ও’মারা জানান, ২০২২ সালে নিউক্যাসলে পরজীবীটি শনাক্ত হওয়ার পর এর বিস্তার ঠেকাতে ১০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসাগুলোর কার্যকারিতা সীমিত। পরজীবীটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে আগামী ৩০ বছরে শিল্পটির ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    পরজীবীটির বিরুদ্ধে আরো কার্যকর চিকিৎসা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা চলছে। সম্ভাব্য চিকিৎসাগুলোর একটি এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তবে সেটি ব্যবহার উপযোগী হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে অধ্যাপক ও’মারা জানিয়েছেন।

    মৌচাষি টম বিডনারের ভাষায়, মৌমাছি চুরি এবং ভারোয়া মাইট—দুটিই তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। উত্তর কুইন্সল্যান্ডের উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সেখানে মৌমাছির প্রজনন সারা বছর চলতে পারে। ফলে পরজীবীটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে মৌমাছির নিরাপত্তা নিয়ে আরো সতর্ক থাকতে হচ্ছে মৌচাষিদের।

    চুরি যাওয়া মৌমাছির সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এত বড় সংখ্যক মৌমাছি পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • মিশেলের জাতিসংঘ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

    মিশেলের জাতিসংঘ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়ার পর তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তার সরে দাঁড়ানোর ফলে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার প্রতিযোগিতায় এখন সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।

    ৭৪ বছর বয়সি বাশেলে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি আগের মতোই দৃঢ়তার সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক কাজ চালিয়ে যাবেন।

    চিলির দুবারের প্রেসিডেন্ট বাশেলে এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব পদে তার প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করা। তিনি বলেছিলেন, উভয় ব্যবস্থাই বর্তমানে চাপে রয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সমর্থন না পাওয়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত বাশেলেকে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক ‘স্ট্র পোল’ বা মতামত যাচাইয়ে তার প্রতি সমর্থন প্রায় পুরোপুরি কমে যায়। একই ভোটে কোস্টারিকার কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে ছিলেন।

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেবেন। তবে প্রতিযোগিতায় থাকা প্রার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করবে। এরপর জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। নিরাপত্তা পরিষদে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাধারণত আনুষ্ঠানিকতার পর্যায়েই থাকে।

    বাশেলে চিলির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতা আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার পক্ষে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে না পারায় তিনি প্রতিযোগিতা থেকে সরে গেলেন।

    এখন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বাকি প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিষদ একজন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করার পর সাধারণ পরিষদে তার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

    পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, সামনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে।

    রোববার ফক্স নিউজের সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্টের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘সীমার মধ্যে’ থাকতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।

    ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশটিকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া’, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দেওয়া অথবা একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘সম্ভবত এতে আগ্রহী’।

  • সবুজ হয়ে উঠছে রেলস্টেশন!

    সবুজ হয়ে উঠছে রেলস্টেশন!

    ব্রিটেনের বিভিন্ন রেলস্টেশন এখন স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ফুল, গাছ ও সবুজ বাগানে নতুন রূপ পেয়েছে। পরিত্যক্ত ও অবহেলিত জায়গাকে বাগানে পরিণত করে শুধু স্টেশনের সৌন্দর্যই বাড়ানো হয়নি, একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন পরিবেশ। এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে প্রথমবারের মতো ‘রেলওয়ে স্টেশনস ইন ব্লুম’ পুরস্কার চালু করেছে রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি (আরএইচএস)।

    ১৯৬৪ সাল থেকে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ফুলের ঝুড়ি ও নানা রঙের ফুলের বাগান তৈরি হয়ে আসছে। প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি কমিউনিটি আরএইচএসের ‘ব্রিটেন ইন ব্লুম’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবার রেলস্টেশনের বাগান পরিচর্যায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মান জানাতে আলাদা পুরস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এবার পাঁচটি রেলস্টেশনের বাগান চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের বিজয়ী হয়েছে স্কটল্যান্ডের কার্ডরস কমিউনিটি অর্গানিক গার্ডেন। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষকে স্টেশনের কার্যক্রমে যুক্ত করার কারণে বিচারকেরা বিশেষভাবে দলটির প্রশংসা করেছেন। স্কুলশিশু, ব্রাউনি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী এবং বাগান পরিচর্যা দলের সদস্যরা সেখানে যুক্ত রয়েছেন।

    ইংল্যান্ডের এসেক্সের আলরেসফোর্ড স্টেশনও তালিকায় রয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে সেখানে তৈরি করা হয়েছে ‘ড্রাই গার্ডেন’। বাগান তৈরির জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা অ্যাসফল্ট কেটে ফুলের বেড তৈরি করেছেন এবং খরা সহনশীল গাছ লাগিয়েছেন। বাগানটির নেতৃত্ব দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী ফ্রাঙ্ক বেলগ্রেভ বলেন, উদ্যোগটি গ্রামের কেন্দ্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। একসময় স্থানীয় সংবাদপত্রে স্টেশনটিকে অবহেলিত হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এখন সেখানকার বাগান চেলসি ফ্লাওয়ার শোর বাগানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বেলগ্রেভ জানান, আগে বাগানের গাছে পানি দিতে স্বেচ্ছাসেবীদের অনেক সময় ব্যয় হতো। পরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তারা খরা সহনশীল গাছ দিয়ে বাগান তৈরি করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এতে সহযোগিতা করছেন। কেউ কেউ গাছ ও কম্পোস্ট নিয়ে এসে বাগানে দিয়ে যান।

    স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের কার্ডরস স্টেশনেও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সালের মার্চ থেকে স্টেশনের পরিবর্তনযোগ্য প্রায় প্রতিটি জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে। কঠিন শীতের কারণে সেখানে মৌসুমি ফুলের বদলে শক্ত ধরনের ঝোপজাতীয় গাছ বেছে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের বাড়ির বাগান থেকেও গাছ এনে স্টেশনে লাগিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

    চূড়ান্ত তালিকায় থাকা অন্য স্টেশনগুলোর মধ্যে মার্সিসাইডের ম্যাগহাল স্টেশনে টিকিট অফিসের জানালার বাক্সগুলো ফুলে সাজানো হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একটি ছোট বনও তৈরি করেছেন। বার্মিংহামের ওয়াইল্ড গ্রিন স্টেশনে অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা পরিষ্কার করে পরাগায়নকারী পতঙ্গবান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে একটি ‘বি করিডর’ তৈরি হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবছর প্রজাপতি গণনাও করেন এবং তাদের হিসাবে প্রজাপতির সংখ্যা বেড়েছে।

    সামারসেটের কেইনশ্যাম স্টেশনে গরম সহ্য করতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের সাকুলেন্ট গাছ লাগানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, এই বাগান পরিচর্যার কাজ তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগও বাড়িয়েছে। অনেকেই এ কাজ করতে গিয়ে নতুন বন্ধু পেয়েছেন। যাত্রীরাও বাগান দেখতে এসে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    আলরেসফোর্ডের বেলগ্রেভ জানান, স্টেশনের বাগানের কারণে সেখানে মৌমাছি, প্রজাপতি, হেজহগ ও স্লোওয়ার্মসহ বিভিন্ন প্রাণীর উপস্থিতি বেড়েছে। তার মতে, এখনো অনেক স্টেশন এই উদ্যোগের বাইরে রয়েছে। আরও মানুষ এগিয়ে এলে সেসব স্টেশনও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।

  • আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

    আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

    এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে খরা, অতিরিক্ত তাপ, দাবানল, টাইফুন, বন্যা ও খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে এবারের এল নিনো খুব শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয় নয়, কেবল একটি সামুদ্রিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে কৃষি, পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, বন্যা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে তৈরি হতে পারে। এটি বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, অত্যন্ত তীব্র এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি মাসে বলেছেন, এল নিনো যেন মানুষের চোখের সামনেই আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

    চীনে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় ১০০ দিনের একটি অভিযান শুরু হয়েছে। খরা ও অতিবৃষ্টির মতো বিপরীত পরিস্থিতিতে ফসল রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেইজিং আগাম সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। জুলাইয়ে চীনের সরকার শহরগুলোকে বন্যা ও অতিরিক্ত তাপের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ‘ক্লাইমেট রিস্ক ম্যাপ’ তৈরির জাতীয় পরিকল্পনা নেয়।

    হংকংয়েও চরম তাপ মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্রের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে ৯ আগস্ট রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা দেখা যায়। অতিরিক্ত গরমের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজের সময় পরিবর্তন, শীতলীকরণ সরঞ্জাম ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব সহায়তা না দিলে নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

    তাইওয়ান সম্ভাব্য চরম আবহাওয়াকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেখানে টানা তিন দিন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পরিস্থিতি ধরে একটি মহড়া হয়। এতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেল যোগাযোগে সমস্যা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হওয়া এবং ব্যাপক হিটস্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি অনুশীলন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শীতল স্থানে পৌঁছে দিতে ‘কুল ম্যাপ’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মও পরীক্ষা করছে সরকার।

    দক্ষিণ এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ভারতের কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে ধান, ডাল, তুলা ও ভুট্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ঘাটতির কারণে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ভারত সরকার ৩৫০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় পানি সংরক্ষণ ও পানি সংগ্রহের অবকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকদের কম পানি প্রয়োজন এমন স্বল্পমেয়াদি ফসল, যেমন ডাল ও মিলেট চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরো কঠিন। দেশটি এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন। ইয়ালা জাতীয় উদ্যানের পর্যটন এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চিতাবাঘ, হাতি, কুমির ও হরিণসহ বন্যপ্রাণীর জন্য পানির ব্যবস্থা করতে ট্যাংকারে পানি নেওয়া হচ্ছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুল্লাইথিভু লেগুনেও মিঠা পানির অভাবে হাজার হাজার মাছ মারা গেছে।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও খাদ্য উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মৌসুমি দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ বাড়ছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ধান উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশগুলোতে কৃষকদের পানি ব্যবস্থাপনা, ফসলের সময়সূচি পরিবর্তন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ কোরিয়াতেও আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে জুলাই ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে শুষ্ক। পরে সেখানে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কৃষকদের আলু মাটির নিচে ‘সেদ্ধ’ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহের সতর্কতা ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছে। অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে জরুরি নয় এমন বাইরের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার জন্য নতুন সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর যুক্ত করা হয়েছে।

    জাপানও সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এল নিনো ও মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মিলিত প্রভাবে দেশটিতে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা বাড়ছে। জুলাইয়ে জাপান প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার জন্য ‘কোকুশোবি’ বা ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ শব্দটি সরকারি পর্যায়ে ব্যবহার করেছে। এখন গ্রীষ্মের তাপ কমার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

    জাপানের কর্তৃপক্ষ মানুষকে ঘূর্ণিঝড়ের সময় সরিয়ে নেওয়ার সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং আগে থেকেই খাবার ও পানি মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি আন্ডারপাস আগাম বন্ধ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

  • আসামে ১৪০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ

    আসামে ১৪০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ

    প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতির এক করুণ চিত্র ফের উন্মোচিত হলো আসামের ধুবড়ি জেলায়। সম্প্রতি সেখানে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের একটি ৩২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অথচ এই তথাকথিত উন্নয়নের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের কান্না।

    যে জমিতে এই প্রকল্পের সূচনা হলো, ঠিক সেখান থেকেই গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ১ হাজার ৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ করে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল আসাম সরকার। চাঁপার রেভিনিউ সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত চারুয়াবখরা, চিরাকুটা ১ ও ২ এবং সন্তোষপুর গ্রামে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ১১৫৭ একর সরকারি জমি থেকে মুসলমানদের উৎখাত করে প্রথমে তা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ‘আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’কে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তা তুলে দেওয়া হয় আদানি পাওয়ার লিমিটেডের হাতে।

    এই নিষ্ঠুর উচ্ছেদ অভিযানের ফলে অন্তত তিন থেকে চার দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১০ হাজার বাঙালি মুসলিম মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের অনেকেই আগে থেকেই ছিলেন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের শিকার, যারা নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁচার তাগিদে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে এটি আসামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা রাজ্যের সম্পূর্ণ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য সম্মেলনে আদানি গ্রুপ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তারই বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে তিনি জানান। আদানি গ্রুপের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজে প্রায় ২০ হাজার এবং চালু হলে আরো প্রায় ৫ হাজার জনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

    সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এই উচ্ছেদের আইনি বৈধতা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া। গত ১৪ জুলাই কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের একটি বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ণ কমিটি (ইএসি) প্রস্তাবিত এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে আদানিদের তরফে মন্ত্রককে জানানো হয়েছিল যে, প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থানটিতে কোনো লোকালয় বা জনবসতি নেই এবং সেই কারণে পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোনো দাবি বা দায়বদ্ধতাও নেই। বাস্তুচ্যুত স্থানীয় বাসিন্দারা আদানিদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেলা স্তরের এক ভূমি উপদেষ্টা বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসন গবাদি পশুর চারণভূমির জন্য সংরক্ষিত একটি সরকারি জমিকে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করার প্রস্তাব জমা দেয়, যার পরেই উচ্ছেদের নোটিস জারি করে বসতবাড়িগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আব্দুর রশিদ শেখ জানিয়েছেন যে, আসাম সরকার বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি খালি করার ফলে ১৪০০টি পরিবার কোনো রকম পুনর্বাসন ছাড়াই চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। তিনি জানান, যে ৩৫০০ বিঘা খাসজমি বলপূর্বক দখল করা হয়েছে, তা ছাড়াও প্রায় ১৭০০ বিঘা এমন জমিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে যার বৈধ মালিকানা নথি বা পট্টা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল। সমস্ত কাগজপত্র জমা নেওয়া সত্ত্বেও পট্টাধারী জমির মালিকদের অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। দুর্গতদের পুনর্বাসনের নামে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাইজার আলগা গ্রামে মাত্র ৩০০ বিঘা জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং জিনিসপত্র স্থানান্তরের জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা সেখানে যেতে রাজি হননি, কারণ ওই জমিটি ব্রহ্মপুত্র নদীর বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক নিচু ও মারাত্মক প্লাবনপ্রবণ এলাকা।

    আসামে মুসলমানদের ওপর এই ধরনের রাষ্ট্রীয় বঞ্চনা ও আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০১৬ সালে আসামে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, তার সিংহভাগই ঘটেছে বাংলাভাষী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সব ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন পুলিশের গুলিতে অন্তত আটজন মুসলিম অধিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। একদিকে করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, আর অন্যদিকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কয়েক হাজার বাঙালি মুসলিমকে অমানবিকভাবে নিজ দেশেই উদ্বাস্তু করে দেওয়া—এই চিত্রই ভারতে বর্তমান সময়ে মুসলমানদের প্রকৃত হাল ও নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।