শিরোনাম

  • ‘গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় আর্থিক চাপে সরকার’

    ‘গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় আর্থিক চাপে সরকার’

    বিগত সরকার প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করায় বর্তমান সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্কে এ কথা বলেন তিনি। ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ এ বিতর্কের আয়োজন করে।

    বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৯৬ সালের পর নতুন করে কার্যকর জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং আমদানিনির্ভরতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।’

    জালাল আহমেদ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করায় বাড়তি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারকে বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে। ভুল নীতি ও অনিয়মের কারণেও দীর্ঘদিনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।’

    তবে সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও সৌরবিদ্যুতে বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান। বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও দেশে এর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, সুষম জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে অতীতের ভুল, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। এতে শিল্পকারখানা সচল করার পাশাপাশি রপ্তানি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

    অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল ও বেনাপোল চেকপোস্ট (আইসিপি) টহলদল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।

    অভিযানে ভারতীয় ১৩৮টি শাড়ি, ৮২ গজ জিন্সের থান কাপড়, ৬৯ প্যাকেট ফুসকা, ৪ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ১৬৫টি চকলেট এবং ৪২৭টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।

    ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।

    আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই “সবার আগে বাংলাদেশি”। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’

    অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’; এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন। আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।’

    সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।’

    তিনি বলেন, ‘সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

    ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সচরাচর “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি “সাম্প্রদায়িক” শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’

    মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ‘হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    উল্লেখ্য, জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

  • ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ নাম তো এমনি এমনি বসেনি পাকিস্তানের নামের সঙ্গে। মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও (পিসিবি)। কোচ আসেন, কোচ যান। শুধু তাই নয়, অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি তোপ দাগলেন পিসিবির নির্বাচকের ওপর।

    প্রায় দুই বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হলেও গিলেস্পি যেন তা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কারণ, পিসিবির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকলেও আট মাসেই শেষ হয়ে যায় সম্পর্ক। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লাল বলের কোচ হয়ে ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন। একই সময়ে (২০২৪ সালের এপ্রিলে) গ্যারি কারস্টেন পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তখন মাত্র ছয় মাস দায়িত্বে থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন।

    হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর পাকিস্তান দলে চলছে টালমাটাল অবস্থা। নির্বাচকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিসবাহ উল হক। আকিব এরপর নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্র ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’-কে আজ গিলেস্পি বলেন, ‘আকিব জাভেদ সম্প্রতি এসে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক সাদা বলের কোচ গ্যারি কারস্টেন এবং আমাকে দায়ী করেছেন। আকিব গত দুই বছর ধরে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন। অথচ আমরা সেখানে ছিলামই না।’

    পাকিস্তান দলের বাজে অবস্থায় কারস্টেন-গিলেস্পির ওপর দায় চাপানোর কোনো মানেই বের করতে পারলেন না গিলেস্পি। আকিবকে দায়ী করে গিলেস্পি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তারপরও কোনোভাবে তিনি (আকিব) বলছেন, সবকিছুর জন্য আমরা (গিলেস্পি-কারস্টেন) দায়ী। এর কোনো মানে হয়? আমার মনে হয়, আকিব জাভেদের নিজের দিকে আয়নায় তাকানো উচিত।’

    হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টে তারা হেরেছে ১৯৪ রানে। টানা দুই ম্যাচে ভরাডুবির পর টেস্টের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ড সফররত দলের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই সাত ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানও। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের দলে যুক্ত করা হয় পাঁচ ক্রিকেটারকে।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জন্য খারাপ লাগছে গিলেস্পির। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আমার খারাপ লাগছে। এটা তাদের জীবিকা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে। এটা স্পষ্ট যে তাদের কোনো নির্বাচনী কৌশলই নেই। বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে।’

    বাবর প্রথম টেস্টে খেলতে না পারায় সালমানকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টে বাবর অধিনায়ক হয়ে ফেরায় সালমান একাদশ থেকেই বাদ পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তো তাঁকে ফেরত পাঠানো হলো দেশে। গিলেস্পি বলেন, ‘সালমান আলী আগা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকেই বাদ পড়ল। তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এটা কীভাবে সম্ভব? প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের সঙ্গে আসলে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এটা স্পষ্ট।’

    হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ। এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্বে থাকছেন মাইক হেসন। অ্যাশলে নফকে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন। এজবাস্টনে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।

  • বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    এবার সিনেমায় নাম লেখাতে চলেছেন বলিউড অভিনেতা আরবাজ খান ও অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা দম্পতির ছেলে আরহান খান। একটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে সাবেক এ তারকা দম্পতির সন্তানকে। আরহান সম্পর্কে বলিউড ভাইজান সালমান খানের ভাতিজা হন।

    আরহান খানকে হরহামেশাই বিভিন্ন বলিউড পার্টিতে দেখা যায়। এবার জানা গেছে, তিনি অভিনয়ের জগতে পা রাখতে চলেছেন। প্রথম সিনেমায় আরহান একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি পরিচালনা করবেন নির্মাতা অনিরুদ্ধ আইয়ার, যিনি এর আগে ‘অ্যান অ্যাকশন হিরো’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন। এদিকে, আসন্ন এ সিনেমাটির চিত্রনাট্য বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছেলেকে বলিউডে লঞ্চ করা প্রসঙ্গে আরবাজ খান বলেছিলেন, ‘চিত্রনাট্য আমার বা অন্য কারো হতে পারে। এ মুহূর্তে সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।’

    তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা আছেন এবং সবাই নতুন প্রতিভা ও মুখের সন্ধানে আছেন। তার আগে যদি আরহানের জন্য কারো কাছে কোনো প্রস্তাব থাকে, তবে সে তা বিবেচনা করতে পারে।

    তিনি বলেন, এমন নয় যে, আমি আরহানকে কিছুই দেব না। আমার কাছে কিছু থাকলে, আজ হোক কিংবা কাল হোক— আমি অবশ্যই তাকে প্রস্তাব দেব এবং সে কী করতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দেব।

    উল্লেখ্য, আরহান খান কিছু দিন আগে ‘দম বিরিয়ানি’ নামে একটি পডকাস্ট শুরু করেছেন। তিনি তার বন্ধু দেব এবং আরুশের সঙ্গে সেই পডকাস্টটি সঞ্চালনা করতেন। যাতে তাদের পরিবারও অংশ নিত।

    ১৯৯৬ সালে আরহানের বাবা ও সালমান খানের ভাই অভিনেতা আরবাজ খান ‘দারার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ‘ফির প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‘মা তুঝে সালাম’, ‘ইয়ে মোহাব্বত হ্যায়’, ‘সোচ’ এবং ‘কুছ না কহো’ সিনেমার মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। এমনকি নির্মাতা হিসেবে তিনি সালমান খানের ‘দাবাং ২’ সিনেমাটি পরিচালনাও করেছেন।

  • কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জেলের বন্দীদের জামিনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো: আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো: সুরুজ (২৬)।

    গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

    গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের প্রতারণার কৌশলটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অভিনব। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। এরপর কৌশলে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করত।

    আসামিদের তথ্য পাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের কারারক্ষী ‘সাইফুল’ পরিচয় দিত। তারা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস করাত যে, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার এক আইনজীবী ‘সিরাজের’ মাধ্যমে হয়েছে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা আইনজীবী পরিচয়ধারী অপর সদস্যের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে, সে অত্যন্ত নরম স্বরে কথা বলে জামিন নিশ্চিত হওয়ার ভুয়া খবর দিত এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় কম দাবি করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলত। ভুক্তভোগীরা সরল বিশ্বাসে কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে, প্রতারকরা মুহূর্তের মধ্যে টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা থেকে চম্পট দিত।

    ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় রুজু হওয়া একটি বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কারো সম্পর্কে নিশ্চিত না জেনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে বা ফোনে কারো পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তা নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রতারিত হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে।’

  • মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি শহীদ হন।

    মীর কাসেম আলী ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তা, দানবীর ও ইসলামপন্থী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রদূত। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবুও ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কাশিমপুর কারাগারে রায় কার্যকর করা হয়।

    তাঁর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সমর্থকগোষ্ঠী দোয়া মাহফিল, কুরআন খতম ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

    এ,আর

  • রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সমস্যা সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন- ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা অল্টারনেটিভ বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।”

    তিনি বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একটা পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। বরং কীভাবে এই সংকট নিবারণ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা দিতে হবে। অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে।’

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়নি।

    জুলাই আন্দোলনে গান ও নৃত্যের ভূমিকা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস তৈরি করেছিল।

    বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, নায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন প্রমুখ। পরে সংস্থাটির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

  • নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট অ্যাকাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফকে বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল।

    গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোনো বিষধর সাপ মোন্নাফকে দংশন করে। একা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    মোন্নাফের স্কুলের শিক্ষক সুমন রায় বলেন, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল সে। কিন্তু এভাবে তার‌ মৃত্যু হবে এটা ভাবিনি। তার অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধুরাও শোকাহত হয়ে পড়েছে।

    পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

  • লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ বিরোধী দলের লংমার্চে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার জনআস্থা আরও হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।

    তবে সরকারি দল সে পথে হাঁটবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।

    আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন বিরোধী দল করছে না।

    সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা বজায় রাখা উচিত।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

    যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর কথা। তবে এ ধরনের কর্মসূচির সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তাই সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পথে মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পথসভার আয়োজন করবে স্থানীয় শাখাগুলো এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না। শুধু যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার কথা, তাঁরাই নামবেন।

    পথে পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও আইটি বিভাগ এবং মেডিক্যাল টিমের গাড়ি কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানে ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমার যে ‘ট্রেন’, সেটি স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সরকার তা সংসদেই বলুক।

    দেশে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তবে নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ আগের সরকারের তুলনায় কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা’ এখন যে আস্ফালন করছে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে, তা ছয় মাসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল না।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা তাঁরা করছেন না। ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে।

    তবে ন্যূনতম কোনো বিশৃঙ্খলা বা হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমন ঘটনার ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ শুরু করেছেন। এই ব্যবসা আগে গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ডসংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং সেখানে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত রিফাত আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধানের গোলা, গোয়ালঘর ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তায় ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

    উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সারের সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া এবং রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ির মাচা ও ধানের গোলা তল্লাশি করে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।

    অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে অবৈধ সার মজুতের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলেই নগদ আদায় করা হয়েছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কেউ যাতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখছে।

    এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সহজে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পর বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির পরিকল্পনা। তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে এশিয়া সফরের যে পরিকল্পনা করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), সেটি এখন বাতিল হওয়ার পথে।

    এশিয়া সফর বাতিল করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

    ইএসপিএন আর্জেন্টিনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিন ম্যাচের একটি ঘরোয়া সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এএফএ। প্রথম ম্যাচটি বুয়েনস এইরেসের এল মনুমেন্টালে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল অথবা কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি দুটি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে আছে কর্দোবা ও রোজারিও।

    এর আগে এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে এশিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনার। চীনের বিপক্ষে একটি ম্যাচও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

    ইএসপিএনের সাংবাদিক দিয়েগো মনরোইগ জানিয়েছেন, পুরো আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার দেশের মাটিতে খেলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। স্পোর্টসসেন্টারের সকালের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘দলটির ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে পুরো সময়টা ঘরের মাঠে কাটানোর।’

    মেসিকে ছাড়া নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানোর ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের এই তিন ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য। জুলাইয়ে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখন এই কোচের সামনে।

    এর পর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আরেকটি ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ব্যস্ত সূচি শুরুর আগে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দলকে প্রস্তুত করার জন্য আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো স্কালোনির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।

  • ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও সেবাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কেয়াবাগান এলাকায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে কুষ্টিয়া থেকে গড়াই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কেয়াবাগান এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়।

    এ সময় বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্থানীয় সেবাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হোসেন বাসসকে বলেন, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে। আহত যাত্রীদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • পিরিয়ডের সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হয় কেন? জেনে নিন এর কারণ

    পিরিয়ডের সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে হয় কেন? জেনে নিন এর কারণ

    এমনটা প্রায় অনেকের হয়; পিরিয়ডের সময় বা তার কয়েক দিন আগে থেকে মিষ্টি, চকলেট বা আইসক্রিম খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। যতবারই নিজেকে ভোলাতে চান, ঠিক ততবারই মনে হয় একটু মিষ্টিজাতীয় খাবার চেখে দেখলে মন্দ হতো না! প্রায় সব নারীই প্রতি মাসে বা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। এটি নিছক মিষ্টিপ্রীতির ফল নয়, এর বৈজ্ঞানিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। পিরিয়ডের দিনগুলোতে কেন মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে, তার কয়েকটি কারণ সম্পর্কে জেনে নিন ঝটপট।

    হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও সেরোটোনিনের ঘাটতি

    পিরিয়ড শুরু হওয়ার ঠিক আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক রাসায়নিকের উৎপাদন কমে যায়। সেরোটোনিন হলো আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী বা ফিল গুড হরমোন। যখন শরীরে সেরোটোনিন কমে যায়, তখন মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করার উপায় খোঁজে। মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দ্রুত সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, তাই শরীরে তখন মিষ্টিজাতীয় খাবারের চাহিদা বাড়ে।

    শক্তির ঘাটতি ও অতিরিক্ত ক্লান্তি

    পিরিয়ড চলাকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শক্তির অভাব দেখা দেয়। চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে থাকে উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে প্রবেশ করেই দ্রুত শক্তি জোগায়। শরীর যখন ক্লান্ত থাকে, তখন সে সহজে ও দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য মিষ্টি খাবারের সংকেত পাঠায়।

    রক্তে শর্করার তারতম্য

    পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে হরমোনের কারণে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার ওঠানামা করে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শরীর তা দ্রুত পূরণ করার জন্য মিষ্টি বা ক্যালরি-বহুল খাবারের তীব্র চাহিদা তৈরি করে।

    মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বৃদ্ধি

    পিরিয়ড চলাকালে শারীরিক অস্বস্তি এবং মুড সুইংয়ের কারণে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বাড়ে। স্ট্রেসের সময় শরীর থেকে অতিমাত্রায় কর্টিসল নামের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই কর্টিসল হরমোন আমাদের চর্বিযুক্ত এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, যা সাময়িকভাবে মন শান্ত করে বা আরাম দেয়।

    স্বাস্থ্যকর উপায়ে ক্রেভিং দূর করবে যেভাবে

    অতিরিক্ত মিষ্টি বা রিফাইন্ড সুগার খেলে পিরিয়ডের ক্র্যাম্প বা পেটে ব্যথা ও ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে বেছে নিতে হবে এর স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো।

    ডার্ক চকলেট

    সাধারণ মিল্ক চকলেটের বদলে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট খান। এটি ম্যাগনেশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা মেজাজ ভালো করে এবং পেশির টান কমায়।

    মিষ্টি ফল

    মিষ্টির তীব্র ইচ্ছা কমাতে খেজুর, কিশমিশ, পাকা কলা, আপেল বা আঙুর খেতে পারেন। চাইলে নারকেল ও নারকেলের পানিও পান করতে পারেন। এগুলো মিষ্টির চাহিদা মেটাবে আবার শরীরে পুষ্টিও জোগাবে।

    বাদাম ও নানা ধরনের বীজ

    কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হুটহাট মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমে।

    জটিল শর্করাজাতীয় খাবার

    কিছু শর্করাজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। সেগুলো খেলেও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমে। ওটস, লাল চালের ভাত ইত্যাদি পিরিয়ডের কয়েক দিন খেয়ে দেখতে পারেন। এগুলো শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

    সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেয়া হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরো বলেন, মুন্নির মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক আব্দুল গনি। সমাজসেবক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নুরুল ওয়াহিদ, রাজনীতিবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমদ রিয়াজ, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম, বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সুরমান আহমদ ও শিপার আহমদ, সাংবাদিক হাসান শামীম ও ফয়ছল আহমদ সাগর, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।

    মুন্নির পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও ভাই মাছুম আহমদ।

    পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে এক মুরব্বি ফোন করে তাকে জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

    পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বিমের সাথে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, মুন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় একটি পরিবার যেমন স্বজন হারিয়েছে, তেমনি মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের নিরসনে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তারা। একইসাথে মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

  • আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাজস্ব আয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা

    আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাজস্ব আয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা

    করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া বার্সেলোনা এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি রাজস্ব আয় করেছে কাতালান ক্লাবটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

    বার্সেলোনার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাবটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরোতে। আগের মৌসুমে এই অঙ্ক ছিল ৯৯৪ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রেকর্ড আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু। সংস্কারকাজ চলার কারণে মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। মৌসুমের শুরুতে কিছু ম্যাচ এস্তাদি জোহান ক্রুইফ ও অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার পরও দর্শক ধারণক্ষমতা সীমিত ছিল ৪২ হাজারে।

    এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের প্রায় পুরোটা রাজস্ব আদায় করতে পারাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ক্লাবটি। বার্সেলোনার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মৌসুম, যেখানে প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ইউরোর সীমা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।

    ক্লাবের মতে, স্টেডিয়াম পরিচালনা ও ম্যাচডে আয়ের বৃদ্ধি এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। ক্যাম্প ন্যু পুরোপুরি চালু হলে ভবিষ্যতে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে আশাবাদী বার্সা কর্তৃপক্ষ।

    স্টেডিয়াম আয় ছাড়াও পৃষ্ঠপোষকতা খাত এবং ক্লাবের মার্চেন্ডাইজিং প্রতিষ্ঠান বার্সা লাইসেন্সিং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং (বিএলএম) থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এসেছে। গত মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার সমান।

    এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য বার্সেলোনা প্রথম নির্ধারণ করেছিল ২০১৮ সালে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব সেই পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দেয়। আট বছর পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে ক্লাবটি।

    অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ছিল বার্সেলোনা। জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্প্যানিশ লা লিগা শিরোপা জিতেছে দলটি।

    তবে রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এখনো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের পেছনে রয়েছে বার্সা। গত মৌসুমে রিয়ালের আয় ছিল প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যদিও দুই ক্লাবের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমছে। দল শক্তিশালী করতে গত গ্রীষ্মে খেলোয়াড় কেনার পেছনে বার্সেলোনা ব্যয় করেছে প্রায় ২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা।

    উল্লেখ্য, ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের কীর্তি গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সেই মাইলফলক স্পর্শ করা ক্লাবটির পর এবার একই কাতারে নাম লেখাল বার্সেলোনা।

  • নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।

    এ সময় নোয়াখালীকে দ্রুত পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

    আন্দোলনকারীরা বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

    উল্লেখ্য, এ আন্দোলনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদকে দেখা গেছে।

    এদিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    পুলিশের সঙ্গে কথা হলে সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।

  • হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে হঠাৎ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরানের স্বপ্ন।

    বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই মনোহারি দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা-পয়সা ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাড সংলগ্ন একটি মনোহারি দোকানে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপের ব্যবসা শুরু করেন ইমরান মিয়া। ওই দোকান থেকে হোসেনপুর ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসব পণ্য সরবরাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দোকানটি তালাবদ্ধ করে তিনি নিজের বাড়িতে চলে যান। পরে গভীর রাতে এক রিকশাচালক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পেয়ে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান।

    দোকান মালিক মোবাইলে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, ‘দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আমার ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো: শামসুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজের খাবার খেয়ে গত চারদিনে শিশুসহ অন্তত ২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্রেতারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। একই দোকানের খাবার খেয়ে একাধিক পরিবারের সকল সদস্য একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গার ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান ক্রেতারা। তা খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অসুস্থদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তার দুই ছেলে তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন (২১)। চিলাভালকী গ্রামের সোনিয়া খাতুন (২২), সাবিনা খাতুন (৩২), জনি (১১) ও রনি (১৫)।

    এছাড়া হাপানিয়া, গৌরীহ্রদ ও খাসকররা গ্রামের শিরিনা খাতুন (৪০), নুসরাত জাহান (১৬), পারুলা বেগম (৪২), পরিছন নেছা (৪৫), আইভি খাতুন (২৩), জিসান (৫) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশু জায়ান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো অন্তত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ও তাদের চিকিৎসা চলছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রহস্যজনকভাবে খাবার রান্না করা হতো, যেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা খাদ্য নিরাপত্তার কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান।

    ঘটনার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে দোকানটিতে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত সব প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল সতর্কতায় সন্তুষ্ট নন; অনতিবিলম্বে লাইসেন্সহীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও খাবারের মান পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    হুলিয়ান আলভারেজের জন্য যে এখনো আকুল হয়ে আছে বার্সেলোনা সেটা সবারই জানা। তবে আর্জেন্টাইন এই তারকা ফরোয়ার্ডকে শেষ পর্যন্ত না পেলে বিকল্প একাধিক পরিকল্পনাও নাকি ছিল কাতালান ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আলভারেজের জাতীয় দলের সতীর্থ লাউতারো মার্তিনেজকেও বিবেচনায় রেখেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

    ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন লাউতারো মার্টিনেজ। ‘গ্রান গালা দেল ক্যালসিও’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ইন্টার মিলানের এই অধিনায়ক কথা বলেন ‘স্কাই ইতালি’র সামনে। বার্সেলোনায় হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর মার্তিনেজকে জড়িয়ে যেসব দলবদলের গুঞ্জন চাউর হয়েছিল, সে বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে একদমই পিছপা হননি তিনি।

    দলবদলের এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরিই মার্তিনেজ বলেন, ‘এই ধরনের কোনো প্রস্তাব আসলে সত্যি বলতে বেশ ভালো লাগে, কারণ নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার জন্যই তো আমরা দিনরাত কষ্ট করি। গুঞ্জনগুলো কিন্তু মিথ্যে ছিল না, তবে আমার চিন্তাভাবনা শুরু থেকেই একদম পরিষ্কার ছিল—আমি ইন্টারের সতীর্থ আর আমাদের এই অসাধারণ সমর্থকদের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাকে যত দিন চাইবে, আমি এখানেই থাকব; এমনকি সারা জীবন থেকে যেতে বললেও আমার আপত্তি নেই।’

    অবশ্য পেশাদার ফুটবলে যে ভিন্ন বাস্তবতাও আছে সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মার্তিনেজ, ‘তবে এই পেশার নির্মম বাস্তবতা তো আমাদের সবারই জানা—যখন তুমি আর কারো কাজে আসবে না, তখন তোমাকে ছুড়ে ফেলা হবে। ইন্টার আমার কাছে সবকিছু—আমার গর্ব, আমার আনন্দ আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা। তাই আবারও এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইন্টারের হয়ে দারুণ কিছু করে দেখাতে চাই।’

    ২৯ বছর বয়সি মার্তিনেজ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ রানার্সআপ হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন। আবার অধিনায়ক হিসেবে ইন্টারের ঝুলিতে তুলে দিয়েছেন আরও একটি ‘স্কুদেত্তো’। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার পা থেকে এসেছে ২২টি গোল।

    ক্লাবে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ইন্টারের তারকা ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমি এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এখানে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি এবং ইন্টারের হয়ে দারুণ সব সাফল্য পেতে চাই।’

    ২০১৮ সালে ইন্টার মিলানে নাম লিখিয়ে ক্লাবটির হয়ে অনেক সাফল্যই পেয়েছেন মার্তিনেজ। ৩৭৮ ম্যাচে ইতালি জায়ান্ট ক্লাবটির জার্সিতে করেছেন ১৭৫ গোল। তিনটি লিগ শিরোপা সহ জিতেছেন মোট নয়টি ট্রফি।

    ইন্টার মিলানের হয়ে এতটা সাফল্য পাওয়ার কথা কখনো কল্পনাতেও নাকি ছিল না মার্তিনেজের। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘ইন্টারে নিজের ক্যারিয়ার এই পর্যায়ে পৌঁছাবে কিংবা সব স্বপ্ন পূরণ হবে—এমনটা আগে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তবে এই সাফল্যই আমাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে; শুরু থেকেই আমার মানসিকতা এমন। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনেই আমি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করি। ফুটবলে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব, তবে বর্তমান চুক্তিতে আমি অত্যন্ত সুখী। এখানে আমি বেশ ভালো আছি এবং ইন্টারের হয়ে আরও বড় বড় অর্জন ছুঁতে চাই বলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    ইন্টার মিলানের সঙ্গে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মার্তিনেজের। অন্যদিকে ইন্টার কর্তৃপক্ষও ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মূল্যেই হোক নিজেদের অধিনায়ককে হাতছাড়া করতে রাজি নয় তারা।

  • চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ
    জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় চৌগাছা
    পৌরসভার হালদারপাড়ার রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ
    পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উপলক্ষে আলোচনা
    সভা করা হয়।
    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ
    সদস্য ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
    সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এটাই
    দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পার¯পরিক সম্প্রীতি,
    সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চৌগাছা উপজেলা শাখার
    আহ্বায়ক শ্রী গোবিন্দ কুমার রাহা। উপজেলা পূজা মন্ডপ কমিটির সাধারণ
    সম্পাদক শ্রী অভিজিৎ কুমার রায়ের পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন পূজা
    উদযাপন পরিষদ চৌগাছা উপজেলার সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল।বিশেষ অতিথির
    বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, সহকারী কমিশনার
    (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ওসি
    মামুনুর রশিদ পিপিএম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ,
    সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ ও সাংবাদিক এম এ রহিম, শুভ জন্মাষ্টমী
    উদযাপন উপকমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ দে, সদস্য সচিব শ্রী
    নির্মল কুমার কুন্ডু, শ্রী রণজিত কুমার বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
    ঐক্যপরিষদ, চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী অনন্ত সরকার, বাংলাদেশ পূজা
    উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্রী নিমাই কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের
    নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি র‌্যালী পৌর শহর
    প্রদক্ষিণ করে।
    জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্যসনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের
    কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই এ দিনটি
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

    অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ
    প্রার্থনা করা হয়।

  • চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ হলরুমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তোমাদের মেধা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও সততা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। শুধু মেধা দিয়ে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সাথে নৈতিকতা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্জিত মেধা ও জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন শিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।

    সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    এ বছর উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদরাসা থেকে পাঁচজন ও কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২০ জন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক এখন স্মৃতি মান্ধানা

    সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক এখন স্মৃতি মান্ধানা

    স্মৃতি মান্ধানার ব্যাট যেন এক অন্য ইতিহাস লিখলো। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন ভারতের এই মারকুটে ওপেনার। স্মৃতি পেছনে ফেলে দিলেন কিংবদন্তি মিতালী রাজকে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মেগ লানিংকে টপকে নারী ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির মুকুটও নিজের মাথায় পরে নিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

    এশিয়া কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মান্ধানা। মাত্র ৬৪ বলে চোখ জুড়ানো ১২৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন তিনি। ১৪টি চার এবং ৭টি ছক্কায় সাজানো এই ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে হংকং গুটিয়ে যায় মাত্র ৫৬ রানে, আর ভারত পায় ১৩৭ রানের বিশাল এক জয়।

    এই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির সুবাদেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মান্ধানার মোট রান দাঁড়ালো ১০,৮৮০তে। এর আগে ১০,৮৬৮ রান নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন ভারতেরই আরেক গ্রেট মিতালী রাজ। এছাড়া এটি ছিল মান্ধানার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৮তম শতক, যা তাকে ছাড়িয়ে গেছে মেগ লানিংয়ের রেকর্ডকে।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে মান্ধানা বলেন, ‘যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলাম, ঠিক কত রান করেছি বা কোন রেকর্ড ভাঙছি-সেটি আমার জানা ছিল না। তবে পেছনের দিকে তাকালে বলব, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য দারুণ একটি দিন। মিতালী সব সময়ই একজন কিংবদন্তি এবং রোল মডেল। আমরা সবাই তাকে দেখেই বড় হয়েছি। তাই রানসংগ্রাহকের তালিকায় তাকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা এমন কিছু, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি।’

    ভারতের এই তারকা ব্যাটার আরও বলেন, ‘মেগ লানিং এবং মিতালী রাজ-খেলার এই দুই গ্রেটকে দেখেই আমরা বড় হয়েছি। ব্যাটার হিসেবে তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। আজ তাদের ছাড়িয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত।’

    স্মৃতির এই সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শুভেচ্ছা জানান খোদ মিতালী। তিনি লেখেন, ‘যথেষ্ট প্রাপ্য ছিল, স্মৃতি। একজন তরুণ খেলোয়াড় থেকে তোমাকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়ে উঠতে দেখেছি। আমার রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তোমার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হওয়াটা এমন এক মুহূর্ত, যা আমাকে সত্যিই গর্বিত করেছে। তোমার ব্যাট থেকে আরও রান ও মাইলফলক আসুক। এভাবেই এগিয়ে যাও!’

    ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মান্ধানার। চলতি এশিয়া কাপে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ৩০ বছর বয়সী এই ওপেনারের সামনে এবার ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ভারত।

  • জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শাহবান আহমদ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তানিশা নামে আরো এক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু শাহবান আহমদ ওই গ্রামের কাশেম আলী মাস্টারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু শাহবান ও তানিশা পরিবারের সবার অজান্তে ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ফারুক আহমদের বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক নারী তানিশাকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেন। তবে সেই সময় শাহবানকে দেখতে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানির নিচ থেকে শাহবানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    অন্যদিকে আহত তানিশাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজবাড়ীর কালুখালীতে পাটবোঝাই ভ্যানের সাথে ধাক্কায় মো: সিরাজুল শেখ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে (৩ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সিরাজুল শেখ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহমীরপুর গ্রামের শুকুর আলী শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শাহমীরপুর গ্রাম থেকে সাত-আটজন ব্যক্তি একটি ভ্যানে করে কালুখালী বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। কালুখালী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে তাদের সেখান থেকে বাসযোগে ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া দরবারে ওরস শরীফে যাওয়ার কথা ছিল।

    পথে বেলা ১১টার দিকে কালুখালীর হরিনবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী ভ্যানটির সাথে অপর একটি পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কা লাগে। এতে ভ্যানে থাকা সিরাজুল ছিটকে পড়ে যান। এ সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে ফরিদপুরেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজুলের মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) গোলাম মোস্তফা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির বাড়ি পাংশা থানায়, তাই মামলা পাংশা থানায় হবে।

  • ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর দাগনভূঞায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো: জাহিদ হোসাইনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত হোসাইন মিনার জানান, জামশেদুর রহমান ফটিকের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তিনি ওই মামলার একমাত্র আসামি।

    তিনি জানান, জামিনে গিয়ে ফটিক অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে।

  • ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    প্রয়াত বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও ‘মহানায়ক’ বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্মদিন উপলক্ষে এসব পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে হস্তান্তর করেছে তার পরিবার।

    আজ বুধবার বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা তার শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন। আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বুলবুল আহমেদের জন্মদিন।

    দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে বুলবুল আহমেদের অসামান্য অবদানের স্মারক হিসেবে তার অর্জিত এসব পুরস্কার ও সম্মাননা জাতীয় সম্পদ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতেই পরিবারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা

    প্রতি বছর ৪ সেপ্টেম্বর বুলবুল আহমেদের জন্মদিন ঘিরে পরিবার ও তার অনুরাগীদের নানা আয়োজন থাকে। তবে এ বছর বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব না হলেও তার দীর্ঘ শিল্পীজীবনের অর্জন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে ভবিষ্যৎ সংরক্ষণের জন্য দান করেছে পরিবার। চলচ্চিত্র অনুরাগী দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং তার স্মৃতি ধরে রাখার মধ্য দিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।

    বুলবুল আহমেদ শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে তার অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে তার কর্ম ও কীর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বেঁচে থাকবে।

  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ

  • পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে মারামারি মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের পিকআপ উল্টে আব্দুস সালাম (৫১) নামে এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও চার পথচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুস সালাম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকরমশি গ্রামের আব্দুল বারেক ভূইয়ার ছেলে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে মাদারীপুর পৌর শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে মারামারি মামলার চার আসামি রজ্জব, জহিরুল ইসলাম, মিজান ও আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে শিবচর থানায় নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। পথে পিকআপটি মঠেরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ইমা আক্তার নামে এক শিশু হঠাৎ রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যায়।

    শিশুটিকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক পিকআপটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    এতে পিকআপে থাকা কনস্টেবল আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক (৪৫), কনস্টেবল সোহেল মাতুব্বর (৩৫), কনস্টেবল শামীম মিয়া (৩৪), কনস্টেবল হাসান হোসেন (২৫) ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম (৩২)।

    আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর আড়াই শ’ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

    মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, আসামি নিয়ে ফেরার পথে একটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি উল্টে যায়। এতে পুলিশের এক সদস্য নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ–নদীর দখল–দূষণ রোধ করে নদীর স্বাভাবিক নাব্য রক্ষা ও দখল হয়ে যাওয়া নদ–নদী পুনরুদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় সেল গঠন করেছে সরকার।

    গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সেল গঠনের কথা জানানো হয়।

    ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় এ সেলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। এ সেলের অধীনে থাকবে তিনটি সাব–কমিটি। প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় সেল ও এসব সাব–কমিটির কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, ধলেশ্বরীসহ খাল, নালার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদ-নদী পুনরুদ্ধারে এ সেল কাজ করবে।

    কেন্দ্রীয় এ সেলের উপদেষ্টা করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এ সেলের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে নৌবাহিনী।

    ৩৭ সদস্যের এ সেলের সদস্য করা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সচিব, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি (রিয়ার এডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তা), পুলিশের মহাপরিদর্শক, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান, ঢাকার বিভাগী কমিশনার, নৌপুলিশের এআইজি, ঢাকা ওয়াসার এমডি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধি, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্যানারি মালিক সমিতি ও ডক ইয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, এনজিও (পরিবেশ অধিদপ্তর মনোনীত)

    দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা অপসারণ, নদ-নদী পুনরুদ্ধার ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতে তিনটি সাব কমিটি গঠন করে তাদের কাজ পরিধি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব–কমিটি ১ শিল্পবর্জ্যসহ সকল বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ, সাব–কমিটি ২ খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার ও পানির প্রবাহ সচল রাখা এবং সাব–কমিটি ৩ নদীর তলদেশে জমে থাকা স্থায়ী বর্জ্য অপসারণসহ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ করবে।

    প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সেল তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত চলমান প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে কেন্দ্রীয় সেল।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ২০২৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এক ম্যাচের সেই সিরিজটি হবে লর্ডসে। ম্যাচ শুরুর ৮ মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে এই টেস্টের টিকিট বিক্রি!

    আগামী বছরের ২৮ মে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্ট। এই ম্যাচের এখনো বাকি প্রায় ৮ মাস। তবে এরই মধ্যে টেস্টের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

    লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই টিকিট বিক্রির খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘লর্ডসে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য সাধারণ দর্শক ব্যালট এখন উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে সমর্থকরা ‘হোম অব ক্রিকেটে’ হতে যাওয়া গ্রীষ্মকালীন ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

    লর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর সাধারণ দর্শকের জন্য বরাদ্দ ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই বছরের নভেম্বরের শুরুতে সফল আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের তালিকাভুক্তদের ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। প্রথম ধাপের সফল আবেদনকারীদের জন্য টিকিট কেনার নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। ১০ ডিসেম্বর সাধারণ টিকিট বিক্রি শুরু করবে লর্ডস।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৬ সালে মিরপুরে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২০১০ সালে। ওই সফরেও লর্ডসে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ঐতিহাসিক এক সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

  • এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন পর্যালোচনায় ৮ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

    ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির অপর সদস্যদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    > অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্যসচিব

    > ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সদস্য

  • আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    একটা সময় আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গল্পটা ছিল শুধুই আক্ষেপের। বারবার ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া, আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিতে না পারার আক্ষেপই ছিল বেশি। সেই মেসিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ পূরণ করেছেন নিজের এবং আর্জেন্টাইনদের সব স্বপ্ন।

    সব ট্রফি জেতা মেসি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলেছেন। এখন মেসিকে তাঁর মতো করে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়ার পক্ষে আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার হোয়ান রোমান রিকেলমে। সে কারণে মেসির এই সাবেক জাতীয় দল সতীর্থ চান, মেসি আর্জেন্টিনায় না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকুক।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির প্রশংসা করে রিকেলমে বলেছেন, আর্জেন্টাইনদের উচিত এখন তাকে আরও বেশি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানো।

    রিকেলমের ভাষায়, ‘আমাদের উচিত মেসিকে আরও বেশি ধন্যবাদ জানানো। ও যা করেছে, এরপর আমরা মেসির কাছে আর কী চাইতে পারি? মেসি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে, আমাদের স্বপ্নও পূরণ করেছে। মেসি সর্বকালের সেরা কি না জানি না, তবে সেরাদের একজন। কোনো ফুটবলার এত বছর ধরে সেরা পর্যায়ে থাকতে পারেনি। এটা অবিশ্বাস্য।’

    মেসির দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রিকেলমে। শুরুতে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য না পেলেও মেসি কীভাবে লড়াই করে গেছেন, সেটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টাইনরা মেসিকে যে ভালোবাসা দিচ্ছে, সবটুকুই ওর প্রাপ্য। কারণ, মেসি নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছে। অনেক কষ্ট করেছে। শুরুতে জিততে পারেনি, অনেক সংগ্রাম করেছে। শেষ পর্যন্ত মেসি সবকিছু অর্জন করেছেন। ঈশ্বর মেসির প্রতি ন্যায়বিচার করেছে, এটা সত্যিই দারুণ। এখন আমাদের উচিত মেসিকে ভালোবাসা। আর্জেন্টিনার ফুটবল ও পুরো ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছে, তার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। পুরো বিশ্ব মেসিকে ভালোবাসে আর ও সেই ভালোবাসার যোগ্য।’

    মেসির সঙ্গে রিকেলমের সম্পর্কও বেশ পুরোনো। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন সোনার পদক। সেই সম্পর্ক এখনো অটুট। ২০২৩ সালে রিকেলমের বিদায়ী ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি মেসির আগে পরেছেন রিকেলমে। এখন বোকা জুনিয়র্সে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এ মিডফিল্ডার।

    লিওনেল মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমে ইনস্টাগ্রাম

    মেসির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিকেলমে বলেন, ‘আমি সব সময় মেসির সঙ্গে কথা বলি। আমাদের সম্পর্কটা দারুণ। মেসি আমাকে খুব ভালোবাসে, আমিও ওকে খুব ভালোবাসি। আমি ওর সঙ্গে আরও অনেক বেশি খেলতে চেয়েছিলাম। তবে যতটুকু খেলতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের মধ্যে যে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান আছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’

    মেসির মতো খেলোয়াড় আবার আসবেন কি না, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিকেলমে। তবে আর্জেন্টাইনরা তাঁর মতো কাউকে পেয়েছিল বলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন রিকেলমে।

    শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমরা আর কখনো মেসির মতো খেলোয়াড় পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করব কি না, জানি না। ম্যারাডোনা মারা যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম, এমন কেউ আর আসবে না। এরপর এমন একজন এল, যিনি তাঁর মতোই ভালো, কিংবা আরও ভালো। আমরা আর্জেন্টাইনরা খুবই ভাগ্যবান।’

    মেসিকে এখন নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে দিতে চান রিকেলমে। আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি।

    এর আগে জানা গিয়েছিল, ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে আর্জেন্টিনায় নিজের শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির ফেরার ইচ্ছা আছে।

    লিওনেল মেসি এখন ইন্টার মায়ামির হয়ে এএফপি

    কিন্তু রিকেলমে মনে করেন, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ফেরার চেয়ে মেসি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো, ‘এখন মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে যত দিন ইচ্ছা ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়া উচিত। আমরা আর্জেন্টাইনরা মেসিকে সব সময় অনেক ভালোবাসা ও স্নেহ দেব। আমাদের উচিত মেসিকে একা ছেড়ে দেওয়া। যত দিন মেসি খেলতে চায়, তাকে খেলতে দেওয়া উচিত। ওর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো। আর আমরা আর্জেন্টিনার সব ফুটবলপ্রেমী মেসিকে সমর্থন করে যাব।’

  • হয়রানি-মিথ্যা মামলা বন্ধে পুলিশ বাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

    হয়রানি-মিথ্যা মামলা বন্ধে পুলিশ বাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকির সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

    এ সময় বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দেন।

    সাক্ষাৎকালে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    রাষ্ট্রপতির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর ও শিষ্টের পালনে ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

    তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া অপ তথ্য, মিথ্যা তথ্য, গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশপ্রধানকে নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। এ ব্যাপারে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখতে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

  • ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা

    ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা

    সরকারি হস্তক্ষেপের বিরূপ প্রভাব পড়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) ওপর। নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজকস্বত্ব হারিয়েছে লঙ্কানরা। ভেন্যু বদলে আগামী বছরের শুরুতে এই টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে ভারতে। আয়োজকস্বত্ব হারানোয় শ্রীলঙ্কার প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

    বর্তমানে এসএলসি একটি সরকার-নিযুক্ত রূপান্তরকরণ কমিটির মাধ্যমে চলছে। শ্রীলঙ্কার ডেইলি মিরর সূত্রের মাধ্যমে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসএলসি কমপক্ষে ২ কোটি ডলার রাজস্ব হারাতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ২৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি সমাধান এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বোর্ড নির্বাচন আয়োজন না করা হলে শ্রীলঙ্কার আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অধিকার হুমকির মুখে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা কয়েক মাস আগেই আইসিসি এসএলসিকে দিয়েছিল বলে লঙ্কান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

    তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাল। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।

    আগামী বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম মৌসুম। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্নের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ভাদোদারা—এই দুই ভেন্যুতে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। শ্রীলঙ্কা আয়োজকস্বত্ব হারালেও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে থাকছে শ্রীলঙ্কা।

    ৬ জুলাই কাট অফ ডেটে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে ছিল বলেই লঙ্কানরা থাকছে এই টুর্নামেন্টে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ করা অন্য পাঁচ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় দুই মাস আগের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল আট ও দশ নম্বরে।

  • বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান

    বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান

    খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। এইতো ২৯ জুন ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল জাপান। চার মাস পর সেই প্রতিশোধের সুযোগ পাচ্ছে জাপান।

    সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, জাপান, প্যারাগুয়ে—এই চার দল নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে নভেম্বরে।‘মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ’ নামে এই টুর্নামেন্টের আয়োজক সিঙ্গাপুর। ১৪ নভেম্বর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-জাপান। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ব্রাজিল মাঝে দুই দিন বিরতি পারবে। ১৭ নভেম্বর স্বাগতিক সিঙ্গাপুর খেলবে ব্রাজিলের বিপক্ষে।

    ১৭ নভেম্বর মূলত শেষ হবে ‘মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ’ চার জাতির টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্ট অবশ্য শুরু হচ্ছে ১৩ নভেম্বর সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে। ২০২৭ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে জাপান। আগামী বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ।

    সূচি ঘোষণার পর জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, ‘শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, সেখান থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাই। আগামী বছরের এশিয়ান কাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে এই সুযোগকে আমরা অর্থবহভাবে কাজে লাগাব।’

    ব্রাজিলের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে জাপান অনেক পিছিয়ে। এখন পর্যন্ত দুই দল ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। জাপান জিতেছে এক ম্যাচ। একমাত্র জয় এসেছে গত বছরের অক্টোবরে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেছিল জাপান। অপর ১২ ম্যাচে জিতেছে ব্রাজিল। দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র।

    ব্রাজিল পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতলেও অবস্থা ভালো নয়। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। সবশেষ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিল বাদ পড়েছে শেষ ষোলো থেকেই।

  • কর মওকুফ চায় প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক কোম্পানি

    কর মওকুফ চায় প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক কোম্পানি

    পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল, আটা ও বিস্কুট উৎপাদনে ব্যবহৃত ভিটামিন ও মিনারেল আমদানিতে কর, ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্ক মওকুফ চেয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। তিনি মীর শাহে আলমের ছেলে।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ভিজিটিং কার্ড সংযুক্ত করে রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসের কর মওকুফ বা বিশেষ রেয়াতের একটি আবেদন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এনবিআর।

    রূপসী রাইস মিলের চিঠিতে বলা হয়, বগুড়ার শিবগঞ্জের বেতগাড়ী মীরবাড়ীতে অবস্থিত রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি ফোর্টিফাইড রাইস কার্নেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য অধিদপ্তরকে রাইস কার্নেল সরবরাহ করছে। এ পর্যন্ত সরকারি খাদ্যবান্ধব ও ভিজিডি কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার ১৯৮ টন কার্নেল সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে প্রায় ২০ টন কার্নেল ও দুই হাজার টন পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহ করেছে।

    জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য সরকারি পরিচয় ব্যবহার করা স্পষ্ট নৈতিক স্খলন এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থি কাজ। এই আচরণ শুধু পদের অবমাননা নয়; বরং এটি স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে ক্ষমতার এমন চর্চা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এনবিআরের মতো প্রতিষ্ঠানের উচিত এ ধরনের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা।

    সাধারণ চালের সঙ্গে একশ অনুপাত এক (১০০: ১) এই হারে কার্নেল মিশ্রণ করে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল উৎপাদন করা হয়। কার্নেল উৎপাদন করতে মূল উপাদান হিসেবে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি১, ভিটামিন-বি১২, ফলিক এসিড, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম কার্বোনেট প্রয়োজন হয়। ফোর্টিফাইড আটা ও ফোর্টিফাইড বিস্কুট উৎপাদনেও এসব ভিটামিন ও মিনারেল ব্যবহার হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব কাঁচামাল বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। ফলে দেশের বর্তমানে ১৪টি কার্নেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভিটামিন, মিনারেলগুলো প্রিমিক্স বা মিশ্রণ হিসেবে একটি এইচএস কোডে বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এসব ভিটামিন ও মিনারেলগুলোর আলাদা দামের চেয়ে প্রিমিক্সের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আমদানি বাবদ বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়বে।

    চিঠিতে রূপসী রাইস মিলস জানিয়েছে, সম্প্রতি তারা দেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রিমিক্স উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে। সেখানে তারা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলগুলো কাঁচামাল হিসেবে আলাদাভাবে আমদানি করে প্রিমিক্স তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি খরচ কমে যাবে এবং অন্যান্য কার্নেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কম মূল্যে তাদের থেকে প্রিমিক্স কিনতে পারবে। ফলে কার্নেল উৎপাদন খরচও কমে যাবে; বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

    রূপসী রাইস মিলস দাবি করেছে, কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য শুল্ক মওকুফ অথবা বিশেষ রেয়াত সুবিধা পেলে দেশে নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি প্রিমিক্সের দাম কমলে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল, ফোর্টিফাইড আটা ও ফোর্টিফাইড বিস্কুটের দাম কমবে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের কাছে এসব পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সহজলভ্য হবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্তকে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরে সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি আর ধরেননি। পরে সমকালের পরিচয় দিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। ছাড় দিলে তা সবার জন্যই দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট ছাড় শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে দেশে যদি কোনো বিশেষ পণ্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠানই তৈরি করে, তবে তাদের ক্ষেত্রে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

    তবে এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৯ অনুযায়ী একক প্রতিষ্ঠানকে এ জাতীয় সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। করছাড় দিলে যদি নির্দিষ্ট কোনো খাতের সব কোম্পানি উপকৃত হয়, তাহলে দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, এনবিআর একক প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের ছাড় দেওয়ার জন্য মতামত পাঠালে আইন অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয় বা আইন মন্ত্রণালয়ও তা দিতে পারবে না।

  • মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি না রোনালদো? এ নিয়ে তর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়। নিজে অবশ্য কখনোই নিজেকে সর্বকালের সেরা বলেননি মেসি। তবে অবসরের ঠিক পরপরই নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মেসিকেই বলা হয়েছে ‘সর্বকালের সেরা’।

    গত ৩১ আগস্ট আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছেন মেসি। মেসির ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে গতকাল। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘২০ বছরের বেশি সময়। ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপ ও অগণিত স্মৃতি। আমার পথচলার প্রতিটি ধাপে পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

    ইনস্টাগ্রামের এই ভিডিও পোস্টে অবশ্য ট্যাগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিয়ার কোম্পানি মাইকেলব আল্ট্রাকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির সব অর্জন দেখানো হয়েছে এক রেস্তোরাঁর রসিদে। সেই রসিদের শেষ লাইনে সর্বকালের সেরা নিয়ে বিতর্কের অবসানও টানা হয়েছে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, রসিদে একের পর এক লাইনে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সব অর্জন। তবে এটি কিন্তু একটি নতুন ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনের অংশ।

    রসিদে উঠে এসেছে মেসির প্রভাবের কথাও। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলে তিনি যে কোটি কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করেছেন, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কতটা যন্ত্রণা দিয়েছেন, সেটাও বাদ যায়নি। আর সবশেষে লেখা হয়েছে—‘গোট ডিবেট সেটেলড।’

  • সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠে: প্রধানমন্ত্রী

    সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজবিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মত এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দলমত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারো গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন,আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।’

    একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যা লঘু’ । সুতরাং, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশী ভাবি। রাষ্ট্র এবং সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। তিনি বলেন, আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।

    বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অপরদিকে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সকল নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে।’

    তিনি বলেন, ‘এভাবেই রাষ্ট্র ও সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব ও আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সকলের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড,সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।’

    সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর ও দুষ্টপ্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী ‘কংস’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর ‘কংসে’র পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।

    হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার আমার আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার আমার আমাদের সকলের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।

    ‘ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সকল উৎসব-আয়োজন শান্তিতে ও স্বস্তিতে এবং নিরাপদে পালন করুন। আমি আবারো জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুস্পস্তবক উপহার দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে তা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য সূবর্ণা শিকদার ঠাকুর।

    অনুষ্ঠানে মন্দিরের নয় জন পুরোহিত ও সেবাইতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারাদেশে পুরোহিত ও সেবাইতগণের ব্যাংক একাউন্টে এফটিএ’র মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন শুক্রবার। দিবসটির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।

    হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলা পত্রিকার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বক্তব্য রাখেন।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, সহ-সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। তামিল পরিবারে জন্ম হলেও মালয়ালম সিনেমাতেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। অভিনয়জীবনে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দুটি বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী চার্মিলার কথা।

    সম্প্রতি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালে শিবাজি গণেশন অভিনীত ‘নাল্লাথোরু কুদুম্বম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন চার্মিলা। ১৯৯১ সালে ‘ওয়ইলাট্টাম’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই বছর মালয়ালম সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। সিবি মালয়িলের ‘ধানম’ ও ভদ্রনের ‘আঙ্কেল বান’-এ মোহনলালের বিপরীতে অভিনয় ও ভরতনের ‘কেলি’ সিনেমায় জয়রামের বিপরীতেও দেখা যায় তাকে।

    সিনেমার সাফল্য তাকে মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—তিন ভাষার সিনেমাতেই কাজ করেছেন চার্মিলা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, তার জীবনে প্রেমের প্রভাব ভালো ছিল না।

    প্রথম প্রেম ও ব্যর্থতা
    ১৯৯৪ সালে ‘কাদাল’ সিনেমায় কাজ করার সময় অভিনেতা বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে চার্মিলার পরিচয় হয়। পরে ‘রাজাধানি’ ও ‘কম্বলম’সহ মোট ছয়টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন তারা। চার্মিলার দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়।

    এক সাক্ষাৎকারে চার্মিলা বলেন, বাবু অ্যান্টনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তার দাবি, বাবুর ভাইয়ের ভূমিকা এতে ছিল। তবে বাবুকে খারাপ মানুষ মনে করেন না বলেও জানান তিনি।

    চার্মিলার ভাষায়, বাবুই ছিলেন তার প্রথম প্রেম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের কবজি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। তবে তার মা তাকে বাঁচান। বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সময়কার কয়েকটি ঘটনাও স্মরণ করেছেন চার্মিলা।
    একবার শুটিংয়ের সময় তার কক্ষের গিজার নষ্ট হয়ে গেলে বাবু নিজের ঘর থেকে গরম পানি এনে দেন। বিষয়টি দেখে চার্মিলার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আরেকবার বৃষ্টির আশঙ্কায় বাবু তাঁকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁর বাবা তা মেনে নেননি।

    চার বছরের মাথায় ভেঙে যায় প্রথম বিয়ে
    বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কিশোর সত্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন চার্মিলা। তখন তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে তাদের বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর কিশোর তাকে সিনেমায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন চার্মিলা। স্বামীর আপত্তি হবে ভেবে বিক্রমের বিপরীতে ‘সেতু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    কিশোর পরে শারজায় চলে যান। চার বছর তারা আলাদা থাকার পর দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। চার্মিলার দাবি, কিশোর মূলত তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ে করেছিলেন।

    এরপর বোনের বন্ধু রাজেশ নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন চার্মিলা। রাজেশ তাঁর চেয়ে আট বছরের ছোট ছিলেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের কারণে রাজেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

    নিজের অতীতের দিকে ফিরে চার্মিলা স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং আগের অভিজ্ঞতা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারেননি।

    মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
    ২০২৪ সালে বিচারপতি হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চার্মিলা। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে ২৮ জনের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে তাকে ও তার বন্ধুদের সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।

    পরিচালক হরিহরণের বিরুদ্ধেও ‘সহযোগিতা’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের মতো বর্তমানে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না চার্মিলাকে। তবে মাঝেমধ্যে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। সূত্র: এনডিটিভি

  • আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালে নিয়োগ-বদলির নথি চেয়েছে দুদক

    আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালে নিয়োগ-বদলির নথি চেয়েছে দুদক

    সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির যাবতীয় তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।

    দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মো. জাহিদ কালামের সই করা এ-সংক্রান্ত আজ বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    দুদকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

    চিঠিতে বলা হয়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

    অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঁচ ধরনের তথ্য ও নথি চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে রয়েছে আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র।

    এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের স্মারকের ভিত্তিতে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।

    দুদকের চিঠিতে তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে অনুসন্ধান দল।

    দুদকের চাওয়া নথির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও সহায়ক রেকর্ডপত্রও পাঠাতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।

    এর আগে, গতকাল বুধবার আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর কথা জানায় দুদক। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি-বদলির ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপত্র ও কেনাকাটায় অনিয়ম।

    দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দমতো পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

  • মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মাঠ থেকে নয়, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দুই দশকের বর্ণিল পথচলাকে মাঠেই বিশেষভাবে সম্মান জানাতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    চলতি সপ্তাহান্তে আর্জেন্টিনার সব ঘরোয়া ম্যাচের দশম মিনিটে খেলা থামবে। দেওয়া হবে এক মিনিটের করতালি। মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার পর তাঁকে সম্মান জানাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা দলে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন মেসি। সে জন্যই খেলা থামানো হবে দশম মিনিটে। পুরুষ ও নারীদের সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হবে। গত বুধবার এএফএ এক বিবৃতিতে খবরটি জানায়।

    শুধু করতালিতেই শেষ হচ্ছে না মেসির জন্য আয়োজন। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেসব মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে মেসিকে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন করা হবে। মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এএফএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    গত সোমবার ইনস্টাগ্রামে স্প্যানিশ ভাষায় হাতে লেখা তিনটি কাগজের ছবি পোস্ট করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। সেখানে তিনি নিশ্চিত করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দল অধ্যায়ের ইতি টানলেন কিংবদন্তি।

    মেসি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই বাকি নেই।’ সিদ্ধান্তটি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনো ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সময়টা এসে গেছে—এমন উপলব্ধি থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি।

    ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার মূল দলে অভিষেক মেসির। এরপর জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫ গোল, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ। খেলেছেন রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন মেসি। সেটি ছিল ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ এবং দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়।

    বিশ্বকাপেও একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর। সবচেয়ে বেশি ২৩টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও তাঁর দখলে।

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ অধ্যায় তাই শুধু একটি অবসরের গল্প নয়। দুই দশকের বেশি সময়ের এক বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। আর সেই ক্যারিয়ারকেই এবার দেশের প্রতিটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার মাঠে এক মিনিটের করতালিতে সম্মান জানাবে এএফএ।

  • ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হতে আরও সময় লাগবে, তবে বর্তমান চিত্র অনুযায়ী আমরা সন্তুষ্ট।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো, এটা হচ্ছে আমাদের সরকারি সূত্র। আপনারা চাইলে যাচাই করতে পারেন। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব তথ্যের সঙ্গে আগের বছরের পরিসংখ্যান তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

    অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের বিরোধ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কারও কাছে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশকে দিতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি জেলা থেকে মাসিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংকলন করে সারাদেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

    সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

    ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের প্রবণতা এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে।’

    বাহিনীর ভেতরে থাকা কিছু পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেখান থেকেও বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়। আপনার কাছে তথ্য থাকলে দেন, আমরা যাচাই করবো।’

  • শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    আলোচিত শাড়িকাণ্ডে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নারাজি দিয়েছেন বাদীপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন।

    আইনজীবী জানান, বাদী ও তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। মামলার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

    শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সানায়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে মামলা করা ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

    পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে বলা হয়, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মেসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই বলেছে, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।

    ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।

    পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া ও সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

    তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।

    শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করলেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার, জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করলেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার, জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তারা। এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফায়েয বিন মোহাম্মদ মোখতার এবং হাজওয়ান বিন হাসনল উপস্থিত ছিলেন।

    দলীয় সূত্র জানায়, সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক ও খোলামেলা মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে হাইকমিশনার জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    মতবিনিময়কালে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার এবং সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: সুমন শেখ (৪৪) ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মো: হিরু হাজরা (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দু’জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম।

    নিহত সুমন শেখ উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের মহর আলী শেখের ছেলে এবং মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আর হিরু হাজরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের তৈয়ব আলী হাজরার ছেলে এবং ডাব-নারিকেলের ব্যবসায়ী।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম শামিম হাসান জানান, নিহত সুমন শেখ মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

    নিহত সুমনের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, তিনি (সুমন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে থাকা গরুর খামারের বৈদ্যুতিক পানির পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রাসেল শিকদার বলেন, হিরু হাজরা পেশায় একজন ডাব-নারিকেল ব্যবসায়ী। সকালে তিনি উপজেলার ছোট বুইচাকাঠী গ্রামে তার বাড়ির কাছের একটি বাড়িতে ডাব ও নারিকেল পাড়তে যান। গাছে ওঠার পর সেই গাছ থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মো: সাকিল খান বলেন, নিহত সুমন শেখ ও হিরু হাজরাকে তাদের স্বজনরা মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

  • রুফটপ সোলার নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    রুফটপ সোলার নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনিরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাড়িওয়ালাদের সুখবর শুনিয়ে তিনি বলেন, বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ সরকার প্রণোদনা হিসেবে দেবে। এতে গড়ে প্রতি ইউনিট ৬-৭ টাকা উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সুবিধা পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ৮ জুন সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যসমূহ যেমন— সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর হতে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    রুফটপ সোলার স্থাপনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাগুলোকে ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।’

    সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, ওই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।’

  • পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চিংড়ী ঘেরের উত্তোলনকৃত লোনা পানির তোড়ে খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। এতে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    উপজেলার শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার ভায়া তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওই অংশ দিয়ে লোনা পানি অভ্যন্তরের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত চার দিন ধরে সেখানকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নদী ও চিংড়ী ঘের অধ্যুষিত জনপদের দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সড়কটি দুই কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমফান প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।

    ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর কার্যক্রম শুরু করে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।

    কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প এলাকা অত্যন্ত দুর্গম ও প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় রাস্তার অন্যতম প্রধান উপকরণ বালুর যোগান মেটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপ ফিটিংয়ের মাধ্যমে বালু আনতে হয়। মাঝপথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটিজনিত কারণে বালুভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তার শেষ অংশের প্রায় দুই-তিন শ’ ফুট এলাকার বালুভরাট বাকি রয়েছে। এছাড়া শুরুর অংশের অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় সাববেইজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তারা জানান, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কের এ অংশ সহজেই আক্রান্ত হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ রীতিমতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে জনপদের কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সড়কের ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা।

    স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘের মালিকদের পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও জোয়ারে অতিরিক্ত পানির চাপ নির্মাণাধীন সড়ক ভাঙনের কারণ হলেও এর জন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের দীর্ঘসূত্রতা।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বালু সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এই সঙ্কট। তবে, অতিদ্রুত দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু হবে।

    উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

  • চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্থিক প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এ বিতরণ অনুষ্ঠান করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফারজানা ইসলাম।

    সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুবিধাভোগীদের ১১ জনকে ৩ হাজার করে, ৬ জনকে ৫ হাজার করে ও ৫ জনকে ৭ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলামমোর্শেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, উপজেলা জামাতেরনায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ।

    এ সময় সভাপতি বলেন , সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থেবাইসাইকেল এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান তাদের স্বাবলম্বী হওয়ারপথকে আরও সহজ করবে। পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলোরঅর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

  • জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরো উন্নতি হবে।বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ।

    সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য একটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই টার্মিনালের মাধ্যমে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটবে বলে জানান তিনি।

    এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে এই টার্মিনালগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি গ্যাসের সংকটও অনেকটাই কমে আসবে।

  • ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    বুধবার সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চাই না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে।’

    বর্তমান সংকটকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।

    গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

    ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

    এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

    তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির ফলে আগামী গ্রীষ্মে চলতি সময়ের মতো বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।

  • গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতার সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

    পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জনসমস্যা তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা জামায়াতের আমির বৈঠকে তুলে ধরেন। পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের আন্তরিক ভূমিকার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জুলাই চার্টার অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকারি ও বিরোধীদলের মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ভিন্নমত ছাড়াই এই রায় মেনে নেওয়ার জন্য দলগুলোকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার তাগিদ দেন তারা।

    বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস এবং দলীয়করণের নানা চিত্র তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    জামায়াত আমির বৈঠকে বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও খোলামেলাভাবে তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

  • প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারকা চিহ্নিত সবকটি প্রশ্নই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছে, সেখানে আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আগে আপনি (স্পিকার) আমাদের চারটি সুযোগ দিলেও আজকে আটটির সবগুলোই ছিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের।’

    সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করবেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তত বেশি শক্ত হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

    নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগের জবাবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবসময়ই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় এবং সরকার জবাবদিহিমূলক। তবে প্রশ্ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নিয়ম ও অগ্রগণ্যতার বিষয়টি প্রাধান্য পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কথা নয়। নিয়ম অনুযায়ী যিনি প্রশ্ন আগে জমা দেবেন, তিনি আগে সুযোগ পাবেন—এটাই হলো পদ্ধতি এবং এটি সিলেক্ট করেন মাননীয় স্পিকার।’

    বিরোধী দলের সদস্যরা পিছিয়ে পড়লে তা তাদের নিজস্ব অসুবিধা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে সবাই সময়মতো প্রশ্ন জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

    উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্ন জমার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সিরিয়ালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

    পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে স্পিকার বলেন, ‘আমার পরিষ্কার মনে আছে, অতীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিছানাপত্র নিয়ে আগের রাতেই প্রশ্ন জমা দেওয়ার অফিসের সামনে পজিশন নিতেন। আরও দুই-একজন সদস্য আছেন, যারা আগের রাত সেখানে শুয়ে থাকতেন। এ ছাড়া অনেক সদস্য তাদের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে সেখানে পাঠাতেন।’

    সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই এসে নিজেদের প্রায়োরিটি নিশ্চিত করেন জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তাই বিরোধী দলের সদস্যদেরও এই ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুসরণ করে আগে প্রশ্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন স্পিকার।

  • বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নতুন ধরনের আইনি ও বিচারিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআই ব্যবহার করে ভুয়া জবানবন্দি ও প্রমাণ তৈরি, বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং রায় নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি কিংবা ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো রায় কারও পছন্দ না হলে এআই ব্যবহার করে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারকদেরই সর্বপ্রথম এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    আইনগত সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অতীতেও আইনের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় আরোপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর নজিরও তিনি তুলে ধরেন।
    এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একইভাবে প্রজ্ঞা, সতর্কতা ও অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খসড়া বিল সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন।

    পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর যৌথ আয়োজন করে সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড (এলইবিএল)। অংশীদার হিসেবে এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজনে সহায়তা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। সমাপনী সেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআই গভর্নেন্স সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

  • সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে জাতীয় সংসদ ভবন: প্রধানমন্ত্রী

    সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে জাতীয় সংসদ ভবন: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কয়েকমাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবন সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিলোফার চৌধুরি মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকমাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনও সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্যে আয়কর পরিহার করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন তাদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সাড়ে ১০ টাকায় কিনবে সরকার। এটা আগামী তিন বছর চলবে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারির স্ট্যান্ডার্ড ফিক্স করে দিবে সরকার। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য লোনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। যারা ইন্ডাস্ট্রিয়ালভাবে সোলার প্যানেল স্থাপন করবে, তাদের কাঁচামালের ওপর ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাতে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কিছুদিনের মধ্যেই তা সংসদে উপস্থাপন করবেন।

  • পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে অভিনয়জীবন নিয়ে তার একটি পুরনো মন্তব্য নতুন করে চর্চায় এসেছে। এই বিতর্কের মাঝে চলচ্চিত্রের সম্মান ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা ওমর সানী।

    ওমর সানী তার পোস্টে ধর্ম ও কর্মকে আলাদা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘পপির কথাটা যেভাবে আসছে এভাবে ঠিক না যদি ও এভাবে বলে থাকে। আসলে ধর্ম কর্ম দুইটা আলাদা জিনিস কর্মটা হালাল ধর্ম তো কোন কথাই নেই।’

    ওমর সানী তার বক্তব্যে পপির বক্তব্য বা মনোভাবের সমালোচনা করলেও চলচ্চিত্রের সম্মান রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চলচ্চিত্র মাধ্যমে কাজ করে সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কিছু নয়। সমাজের অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চেয়ে বিনোদন জগতের মানুষের সততা ও হালাল পরিশ্রম অনেক বেশি সম্মানের।

    পপির ও তার নিজের মক্কা-মদিনা সফরের প্রসঙ্গও আসে ওমর সানীর বক্তব্যে। তিনি লেখেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মক্কা এবং মদিনাতে যেতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ আমাদের ডেকেছেন।বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা।’

    পপিকে উদ্দেশ করে পোস্টের শেষাংশে ওমর সানী আরও লেখেন, ‘ও এখনও আমার কাছে ছোট মানুষ, ভালো থাকিস পপি।’

    পূর্বে এক ভিডিও বার্তায় অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে অঝোর কান্নায় পপি বলেছিলেন, তিনি সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে বাঁচতে চান, ভালো থাকতে চান এবং সৃষ্টিকর্তার নাম জপেই সময় কাটাতে চান।

    সম্প্রতি অভিনয়জীবন ও অতীত পথচলা নিয়ে পপির এই মন্তব্য নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। আর সেই বক্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

    ১৯৯৭ সালে পপির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কুলি’-তেই তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছিলেন ওমর সানী। পরবর্তীতে তারা দুজনে মিলে ‘জগত সংসার’সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।

  • মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেছেন, ‘তাই বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি মনে করি না।’

    আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। তিনি এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মক্কা চুক্তি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কথা বললে, তারা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের খুব ভালো বন্ধু। আর সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই মক্কা চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান কোনো আরব দেশের ভূখণ্ডকে নিশানা করেনি বলে জানান রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, ‘ আপনারা জানেন, ইরান এবং আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল এই সব আরব দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। আমরা কখনো কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড বা মাটিতে আক্রমণ করিনি।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?

    জালিল রাহিমি, ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত

    এ প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অতীতের বছরগুলোতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সব সময় স্পষ্ট ছিল। তারা বলত, ‘আমাদের সামরিক ঘাঁটি করার জন্য জমি দাও এবং আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেন, তাহলে আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেব।’ যুক্তরাষ্ট্র এই একই অজুহাত দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল—যেন তারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে পারে এবং বিশ্বে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে।

    জালিল রাহিমি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো আমাদের হাতেই আছে। আর গত রাতেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি বা সমুদ্রপথ খোলার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, এই মক্কা চুক্তি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি সম্পূরক অংশমাত্র। এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না এবং এটি নিয়ে আমরা একেবারেই চিন্তিত নই।’

    ইরান কি এই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বা দেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘আমরা যোগ দেওয়ার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।’

    আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কি সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল? না, করেনি। আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু তখন আরব দেশগুলো এই প্রস্তাব সমর্থন করেনি, কারণ, তারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।’

    ‘এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আপনাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আমাদের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের দিকে গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি সেগুলো থামাতে পেরেছে?,’ বলেন তিনি।