শিরোনাম

  • নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো: সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান।

    তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তার বিরুদ্ধে থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ইদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নূর নবী চৌধুরীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেফতারের জন্য ইদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে নিহত হন।

  • চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

    চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক


    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কনক কুমার (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন পুলিশ ।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় কনক কুমারকে আটক করা হয়। পরে তার দখল থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক কনক কুমার বর্ণি গ্রামের (হিন্দুপাড়া) শ্যামল কুমারের ছেলে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে চৌগাছা থানা ওসি মামুনুর রশিদ জানান, মাদকবিরোধীসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২৫১ গুমের ঘটনার তদন্ত শেষে চলতি বছরেই বিচার শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    রোববার ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২৫১ জন যারা গুমের শিকার তাদের প্রত্যেককেই একই পদ্ধতিতে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যেক ঘটনা প্রায় একই রকম। এই কারণে আমরা এ ঘটনাটাকে ওয়াইডস্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অপরাধ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে আমরা মনে করি। আজকে ৫৫ গুম পরিবারের সদস্যরা এখানে এসেছেন, তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন আমাদের তদন্ত সংস্থার ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা। এভাবেই ক্রমান্বয়ে সব পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। তাদের কাছে থাকা যাবতীয় নথিপত্র জব্দ করা হবে।

    আমিনুল বলেন, আমরা অপরাধীদেরকে অনেকাংশে চিহ্নিত করতে পেরেছি। কারা কীভাবে তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছিল এবং সেই জায়গাগুলো অলমোস্ট আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থেই পুরোটাই ডিসক্লোজ করতে চাই না। অন্য মামলায় গ্রেপ্তার যারা আছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। কর্মরত আছেন এমন কেউ কেউ থাকতে পারে। অলরেডি রিটায়ারমেন্টে গেছেন এরকম কেউ কেউ থাকতে পারে। আমরা এই পর্যায়ে ইনভেস্টিগেশনটা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে চলতি বছরের মধ্যে বিচার শুরু লক্ষ্যে নিয়েই কাজ করছি।

    তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সিকিউরিটি বৃদ্ধির জন্য, এমনকি যে সব আসামিদের আমরা চিহ্নিত করছি, তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখছি। আমাদের ট্রাইবুনালের ভিতরে-বাইরে আসামিদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুম পরিবারের কোন সদস্য যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন বা দিবেন তাদের যাতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সেই কারণে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

    তিনি আরো বলেন, গুম পরিবারের সদস্যরা কোনো টার্গেটের শিকার হতে পারেন এরকম শঙ্কাও রয়েছে। আমরা মনে করি অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নাই, তারা তাদের মত করে কিন্তু যেকোনো সময় আমাদেরকে ছোবল মারতে পারে। একইভাবে আমাদের ভিকটিম পরিবার যারা আছে তাদেরকেও আমরা নিজেদেরকে সতর্ক থাকতে বলছি, বিশেষ করে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনটা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, কোনোভাবে যাতে কোনো সেবোটাইজ করে যাতে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

    গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাকের’

    পক্ষ থেকে ২৫১ জন গুমের অভিযোগ দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। সংগঠনের তুলির নেতৃত্ব আজ গুম পরিবারের ৫৫ জন ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা।

  • ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, ভোট হবে ধাপে ধাপে

    ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, ভোট হবে ধাপে ধাপে

    চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে ব্যয় সংকোচন নীতি বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে এই নির্বাচন একসঙ্গে না হয়ে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

    রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব তথ্য জানান।

    তিনি জানান, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আবহ তৈরি হয়েছে, তার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সব ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

    আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে হয় তার আগে, না হয় পরে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, রাজনীতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কমিশন থেকে সরাসরি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

  • জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে ইসির ‘না’

    জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে ইসির ‘না’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশের জন্য বড় অন্তরায়—এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই শিক্ষকদের সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কমিশন এ বিষয়ে সরাসরি নেতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

    রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ অবস্থানের কথা জানান।

    নির্বাচন কমিশনার জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষার সার্বিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয় উল্লেখ করে ইসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে ইসির ওপর সরকারি চাপের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপে আছে—এমন ভিত্তিহীন দাবি তোলা মূলত কমিশনকে উল্টো চাপে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল।

    সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আসন্ন নির্বাচনগুলোর প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে জানান, উপ-নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের প্রক্রিয়া সহজ করতে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপি রোধে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন এবং ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।

  • স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ খাবার, অথচ সেই খাবারই হয়ে উঠেছে নীরব ঘাতক। দেশের স্ট্রিট ফুড কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের মান নিয়ে সাধারণত আলোচনা হয় না। তবে যখনই ভোক্তা অধিকারের অভিযানে কোনো রেস্তোরাঁর খাবারে সমস্যা ধরা পড়ে; তখনই হৈচৈ শুরু হয়। কিন্তু কয়েক দিন পরই তা আর থাকে না; ফলে আবারও সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলতে থাকে। এসব কারণে খাবারের মান উন্নতি হচ্ছে না; যা হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে।

    সম্প্রতি স্ট্রিট ফুড বা রেডি টু মিল নিয়ে এক গবেষণায় বাইরের বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ‘স্ট্রিটফুড এবং রেস্তোরাঁর ‘রেডি-টু-ইট’ সালাদে অণুজীবজনিত ঝুঁকির উপস্থিতি ও তার সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ’ শিরোনামে গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গবেষক ড. মো. লতিফুল বারী।

    গবেষণায় স্ট্রিট ফুড, রেস্তোরাঁর সালাদ, জুস ও শরবতে ই-কোলাই, স্যালমোনেলা ও ভিবরিওর মতো রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নিরাপদ মাত্রার বেশি উপস্থিতি পেয়েছেন তিনি। চানাচুর মাখা বা ছোলা-মুড়ি থেকে ই-কোলাই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ৪৫.৫ শতাংশ, অ্যালোভেরা শরবতে স্যালমোনেলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ ১০.৫ শতাংশ, আর চটপটিতে ভিবরিও সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ২২ শতাংশ।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০১৮ সালের জরিপে ১০০টি হোটেলের মধ্যে মাত্র চারটি সবুজ, ৪৫টি হলুদ ও ৫১টি লাল স্টিকার পেয়েছিল। আট বছর পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি মাত্র ১২৬৫ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি গ্রেডিং করে ৫৫৭টির তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যেখানে খাদ্য কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন মোল্লার ভাষ্যে অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের মান ভালো অবস্থানে আছে, আর সি ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশে সরকারি হিসাবেই হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থার সচিব শ্রাবস্তী রায় জানান, মাত্র ৩৭১ জন জনবল দিয়ে এই বিশাল খাতে নজরদারি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য জনবল বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ৯০ শতাংশ রাস্তার খাবারই অনিরাপদ। আইসিডিডিআরবির ২০১৫ সালের গবেষণায় ৫৫ শতাংশ রাস্তার খাবারে জীবাণু ও ৮৮ শতাংশ বিক্রেতার হাতে অস্বাস্থ্যকর জীবাণু পাওয়া যায়। বিএআরসির ২০১৯ সালের গবেষণা আরো উদ্বেগজনক; ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, নুডলসসহ বিভিন্ন নমুনার প্রতি গ্রামে এক হাজার ১০০-এর বেশি টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাই পাওয়া গেছে, যেখানে নিরাপদ সীমা মাত্র ৩০। বিএআরসির সাবেক পরিচালক মনিরুল ইসলামের মতে, রাস্তার খাবারে ব্যবহৃত পানিই সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা, অথচ এটি নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথা নেই।

    অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    বিএআরসির গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালে ঢাকার রাস্তায় প্রায় ১৪০ ধরনের খাবার বিক্রি হতো, এসব থাবার প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ খেয়ে থাকেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একই তথ্য জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা এসব খাবারের বড় ক্রেতা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুরি খেতে খেতে শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম বলেন, ধুলাবালি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগের কথা তিনি শোনেননি।

    জানা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাস্তার খাবার দোকানের নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই, বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট কোনো তালিকাও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। দক্ষিণ সিটির খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান আনসারী আমার দেশকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এক সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না করায় পরে তা থেমে যায়। বর্তমানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া বেশ কঠিন।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, রাস্তার খাবারের মান নিয়ে এখনো তেমন কোনো কাজ হয়নি, কার্যক্রম পরিদর্শন-পরিবীক্ষণেই সীমাবদ্ধ। এফএও ও আইসিডিডিআরবির যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে ঢাকা-খুলনা-বরিশালে বিতরণ করা ৪০০টি কাচ-ঘেরা ‘স্ট্রিট ফুড ভ্যান’ও প্রকল্প শেষে অকার্যকর হয়ে পড়েছে, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্যই নেই।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে রাখা, অভিজাত হোটেলে দীর্ঘ সময় ফ্রিজিং করা খাবারে রঙ মেশানোর মতো ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, এক প্লেট ফুসকাতে সাত কোটিরও বেশি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মলমূত্রের যে জীবাণু, সেগুলোও এসব খাবারে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পাঁচতারা হোটেলগুলোর ওপরও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং থমকে আছে আহ্বানেই; এ কাজের জন্য আছেন মাত্র চারজন ম্যাজিস্ট্রেট।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়ার মতে, অনেক দেশেই রাস্তার খাবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা, জীবাণুমুক্ত পানি ও নিয়মিত তদারকি আছে বাংলাদেশেও তা সম্ভব, প্রয়োজন শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিকতা। বিক্রেতাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দিলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

    ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, জনবল সীমাবদ্ধতায় অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও ধীরে ধীরে আবার পুরোনো চিত্রে ফিরে যায় সবকিছু। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমস্যা সমাধানে শুধু প্রশাসন নয়, ব্যবসায়ী সমাজ, গণমাধ্যম ও সচেতন ভোক্তা সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনবল বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং এবং উৎপাদন থেকে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ধারাবাহিক তদারকি নিশ্চিত না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের খাবারের এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করছেন তারা।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়। শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে একটি র‍্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নী।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা চঞ্চল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবি, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক, ইতালি লিবর্ন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আফিল উদ্দিন দফাদার, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, পাশাপোল ইউনিয়ন যুবনেতা জসিম উদ্দীন সরকার, পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবনেতা সুমন রেজা, পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হাকিম রেজা প্রমুখ ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে এক আনন্দ র‍্যালি বের হয়।

  • সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে যাওয়া ছেলে মাহিন ইসলামকে (১০) বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবা ময়নুল হকের (৩৬) মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) ইব্রাহিম আলী।

    নিহত ময়নুল হক বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাটকালপানি গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

    ইউপি সদস্য ইব্রাহিম আলী জানান, প্রতিদিনের মতো ময়নুল ও তার ছেলে মাহিন তেলিয়ান বিলে পেলি জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার পর গোসলের একপর্যায়ে ময়নুলের ছেলে মাহিন ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে বাবা ময়নুল চেষ্টা করলে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

    খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ মিনিট চেষ্টার পরে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করি।

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    বিডি গ্লোবালা ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি। এ সময় দু’জনকে আটক করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার, লাফার্জ, সোনালীচেলা, বিছনাকান্দি, তামাবিল, লবিয়া, কালাইরাগ, সোনারহাট ও সংগ্রাম বিওপি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু-ছাগল, জিরা, প্রসাধনী সামগ্রী, সানগ্লাস, চকলেট, আতশবাজি, ফুচকা, বিভিন্ন ফল, বিড়ি, চিপস, কিসমিস, জুস, মোবাইলফোন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় রসুন ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বারকী নৌকাও জব্দ করা হয়। একইসাথে এ সময় দু’জন আসামিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬০ টাকা।

    শনিবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য ও দুই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। আটক আসামি ও পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

  • ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল, ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি

    ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল, ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি

    ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬ জন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলিপূর্বক পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ সংক্রান্ত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, তৌহিদ রেজাকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. মাসুদ রানাকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এছাড়া মো. আশরাফুল ইসলামকে বরগুনার আমতলী থেকে ঢাকা বিভাগে, সোহাগ মিলুকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে খুলনা বিভাগে, মো. সাইফুল ইসলামকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং প্রত্যয় হাশেমকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    মহেশ্বর মন্ডলকে বরিশালের উজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে, রওশান কবিরকে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাজশাহী বিভাগে, রাফিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. শাহরুখ আলম শান্তুতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় দফায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—মাহামুদ হুসাইন রাজু। তাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নুসরাত জাহান অনন্যাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং এস এম আকাশকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এস এম নাজমুস সালেহীনকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে রংপুর বিভাগে, আব্দুল আহাদকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে এবং তানভীর আহম্মেদকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এছাড়া ওমর শরীফ খানকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে খুলনা বিভাগে, আসিফ রায়হানকে পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকা বিভাগে, চৌধুরী আল মামুনকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং সামিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    মীর আল মনসুর শোয়াইবকে লালমনিরহাট সদর থেকে রাজশাহী বিভাগে, মো. শামীম রেজা সজীবকে ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, মজিবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং জাকারিয়া হোসেনকে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    সৈকত মন্ডলকে বরগুনার তালতলী থেকে খুলনা বিভাগে এবং রিজভী আহমেদ সবুজকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনের আরেক অংশে আরও ৯ জন সহকারী কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ইফতেখার আহমেদকে নীলফামারীর জলঢাকা থেকে খুলনা বিভাগে, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মাহমুদুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    পলাশ উদ্দিনকে নওগাঁর বদলগাছী থেকে ঢাকা বিভাগে, শপথ বৈরাগীকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে এবং মো. বদরুজ্জামান রিশাদকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া আসমাউল হুসনা পিংকিকে মাগুরার শ্রীপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, আমিনুল হক তারেককে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    মাঠ প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দায়িত্ব মাঠপর্যায়ে পালন করেন এসব কর্মকর্তা।

    ফলে একসঙ্গে ৩৬ জন সহকারী কমিশনারের বদলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস হলো।

    সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হবে।

  • একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে: শিশির মনির

    একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে: শিশির মনির

    একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণভোটসংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’-এ এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

    শিশির মনির বলেন, ‘৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী অস্বস্তিতে ভোগে। কারণ, গণঅভ্যুত্থানের ওই সময়ে আন্দোলনের যে বার্তা বা বক্তব্য তৈরি হয়েছিল, তা তাদের পক্ষ থেকে দেয়া ছিল না। অথচ যারা ওই বার্তা দিয়েছে, তাদের কোনো ক্রেডিট বা কৃতিত্ব দিতেও দলটি নারাজ।’

    ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘কোনো দল বা ব্যক্তির ইগো ও অহংকারের কাছে একটি জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়।’

    বিএনপিকে একটি ‘জনগণের দল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিএনপির উচিত জনগণের পছন্দ ও চাওয়া-পাওয়াকে সানন্দে মেনে নেয়া। তারা আন্দোলনের স্লোগানকেও নিজেদের পছন্দমতো নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু দুই-একজনের অহংবোধের কারণে দেশের জাতীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়া কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে শিশির মনির বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রধানের সামনে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য সুযোগ এসেছে। তিনি প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হবেন নাকি সাধারণ রাজনীতিকের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকবেন-সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

  • ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা

    ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা

    কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের কাছাকাছি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিতে চালু করা হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সেবা চালু হয়েছে। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারে এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

    নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ থাকবে।

    কারা অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বলেন, শিগগিরই সারা দেশের কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ সময় নির্ধারিত নিয়ম মেনে যোগাযোগের পাশাপাশি গোপনীয়তাও নিশ্চিত করা হবে।

    এদিকে কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

    মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারে বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

    কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চীন থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।

    তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

    কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।

    কারাগারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।

  • এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    গোলের একের পর এক সুযোগ নষ্ট, তিনবার পোস্টে আঘাত আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস; সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটল রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।

    সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচটি ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তবে এরপর ট্রয় প্যারোটের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বেটিস। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মাদ্রিদের দল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি।

    বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। পরে ডিন হুইজসেনের হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।

    দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফিরতি বলে গোল করেন বেটিসের ট্রয় প্যারোট। এরপর রিয়াল একটি গোল করলেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। দায়িত্ব নেন এমবাপ্পে। তবে তার স্পট কিকের দিক আগে থেকেই বুঝে ফেলেন গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

    এর আগে লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বেটিসের বিপক্ষে তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন ফরাসি তারকা।

    চার ম্যাচ শেষে প্রথম হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেটিস, আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

  • বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

    বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

    বিচারের স্বার্থে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত বলে মনে করেন নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। গত বৃহস্পতিবার ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে ‘মুখোমুখি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর’ শিরোনামে এক টকশোতে এ কথা বলেন তিনি।

    সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার কথা বলেছেন—সে প্রসঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, ‘আমরা চাই আসুক। কারণ তাদের অপরাধের বিচার হচ্ছে, সেই বিচার এখন তারা দেশে না থাকার কারণে একতরফা হচ্ছে। সুষ্ঠু বিচারের জন্য, তাদেরকে ডিফেন্ড করার জন্য, তারা আসুক। আসা দরকার। আসা উচিত বিচারের স্বার্থে। তাদের নিজেদের স্বচ্ছতা যদি কিছু থাকে, অন্যায় যদি না করে থাকেন—সেগুলো পরিষ্কার করার স্বার্থে আসতে হবে।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন সপ্তাহে ১ হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে— অনুশোচনা এখনো পর্যন্ত কোনো পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীর চোখে-মুখে বাক্যে উচ্চারিত হয়নি। উনারা গালি দিতে পারবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা তারা অনুধাবন করবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এটা বুঝতে পারবেন যে, মানুষ তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তাদেরই ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না।’

    নিউ এজ সম্পাদক আরও বলেন, আমার খুব দুঃখ লাগে আওয়ামী লীগ নেতাদের যে একটা বিরাট অংশ, এখান থেকে অনেক বৃত্ত এবং বৈভবের মালিক হয়ে অনেকের সহযোগিতায় দেশ পাড়ি দিয়ে তারা যে বিভিন্ন দেশে পলাতক আছেন । তাদের কেউ কেউ এই বক্তৃতা দেয়া শুরু করেছেন, তারা আসছেন, তারা আসবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আওয়ামী লীগ নেতাদের এটা হচ্ছে সর্বশেষ পাপ এই মিথ্যাচার—তারা আসবেন না। এই যে এইটা কেন পাপ?’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে নূরুল কবীর বলেন, ‘ওনার (প্রধানমন্ত্রী) আলাপ, আচরণ ও উচ্চারণ বেশ নম্র। মানুষ সেটা পছন্দ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই তার অনেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, হচ্ছে। বাংলাদেশের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে—রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান, সেটা আওয়ামী লীগ যেভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছে, যেভাবে বিরোধী দলের মত দমন করেছে, সেই পদ্ধতিতে যদি তার মন্ত্রীরা এগোন, আর যদি একই ধরনের দুর্নীতির রাস্তায় তারা হাঁটেন, তাহলে সামান্য ইতিহাসবোধ যেটুকু আমার আছে সেই অনুসারে বলতে পারি—আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ১৫ বছর লেগেছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান মানুষের ভেতর যে শক্তির জন্ম দিয়েছে, তাতে যে ক্ষমতায়ন হয়েছে নিজের, সেই ক্ষমতায়নের জোরে এই সরকারকে কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হতে বেশি সময় লাগবে না। রাস্তায় কিন্তু মানুষ নামবে।’

    তিনি বলেন, ‘কিছু মন্ত্রীর যে প্রবণতা ইতিমধ্যে সমাজ দেখতে পাচ্ছে-তারা যাতে গণঅভ্যুত্থানকে বোঝার চেষ্টা করেন। না বুঝতে পারলে এই মন্ত্রীরা তো ডুববেন, প্রধানমন্ত্রী ডুববেন এবং বাংলাদেশকে আবার একটা কঠিন অবস্থার মধ্যে ফেলে দেবেন। আমি আশা করব যে, তিনি(প্রধানমন্ত্রী) সমালোচনা সহ্য করার তৌফিক অর্জন করবেন।’

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, ‘পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে আমরা একটা। আমরা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে প্রথমে ১৩ টা, পরে আরও ১৪ টা, না ১৯টা বোয়িং কিনতে গেলাম—আমি মনে করি বাংলাদেশের যে ফ্লিটে আরও এয়ারক্রাফট বাড়ানো দরকার, কিন্তু সেটা কি আমার প্রয়োজনে আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে এসেস করবো। প্রায়োরিটি কোনটা—এই যে ১৪ আর ১৩ এইটার লিজ নেয়া ও কেনার এবং সেই ক্ষেত্রে কোন রুটে চলবে তার টিকিটিংয়ে অবস্থা কী হবে? আমি কিন্তু মনে করি দরকার। কতগুলো দরকার আমি জানি না।’

    ‘ধরুন আমরা হজের সময় দেখি—যত পরিমাণ হজ ফ্লাইট যায় এবং আমরা বাইরে থেকে ভাড়া করে আনি। অন্যগুলো সৌদিসহ অন্যান্য মিডল ইস্টের কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ লাভ করে, এই এয়ারক্রাফটগুলো যদি বাংলাদেশে থাকতো, তাহলে এই পয়সাটা বাংলাদেশ পেতো। এখন আমরা কি সেই এসেস করতে দেখেছি। মানুষকে কি সরকার বলেছে যে, এই কারণে এই এইভাবে এত টাকা দিয়ে আমরা এতটা কিনছি এই রুটে চালাবো।’—উল্লেখ করেন এই সম্পাদক।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুট খুলে কিন্তু লিস্ট নিতে হয়। অনেক আইন কানুন আছে। আপনি চাইলেই এক দেশে থেকে আরেক দেশে এক এয়ারপোর্ট থেকে আরেক দেশের এয়ারপোর্টে যেতে পারবেন না। অনেক শর্ত ও চুক্তি করতে হয় এয়ারপোর্টগুলোর সঙ্গে। এগুলো না করেই যখন কেনা হচ্ছে এবং স্বয়ং মন্ত্রী যখন বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এগুলো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটার মধ্য দিয়ে দুটো জিনিস হয়—অর্থ একটা হল হাস্যকর প্রথমটা, দ্বিতীয়টা সাবসারভিয়েন্স (আনুগত্য প্রকাশ করা)। হাস্যকর হল এইখানে যে, ট্রাম্পের অর্থনীতি বিপদে পড়ে গেছে সেইটা রক্ষা করর জন্য তাকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ এমন এক বিত্তবান রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যে তাকে আমরা এখন সাহায্য করতে পারি। এটা তো কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা হাস্যকার দ্বিতীয় হচ্ছে যে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থে তার পণ্য কিনে আমরা তাকে তার অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই।’

    তথ্যমন্ত্রী বদলের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বদলের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পাদক পরিষদের কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য একটু উদ্বিগ্ন। এই কারণেই উদ্বিগ্ন প্রাক্তন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বহু বছর ধরে সাংবাদিকদের যে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হচ্ছিলো। সরকারের সঙ্গে আমাদের কিছু পেন্ডিং ইস্যুজ আছে, যেটা সম্পাদক পরিষদ হিসেবে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা আলাপ করেছি। আমাদের কতগুলো সমঝোতা হয়েছে। সেটা হলো—আইন-কানুন ও মিডিয়া কমিশন সম্পর্কিত।’

    নূরুল কবীর বলেন, ‘জহিরউদ্দিন স্বপনের সঙ্গে আমাদের একটা পুরনো সম্পর্কের কারণে অনেকেরই তার সঙ্গে কিন্তু ঝগড়াঝাটি করার সম্পর্ক ছিল। নতুন যিনি আমরা ঠিক জানি না, ওনার সঙ্গে আমার ভালো পরিচয় নেই বা অন্য অনেকের সঙ্গে। আমরাও কিন্তু উদ্বিগ্ন।’

  • ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে বার্সেলোনা। শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে ছিলেন না লামিন ইয়ামাল। ফলে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

    ২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে হানসি ফ্লিকের দল। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তে ইয়ামালের অনুপস্থিতি সেই প্রস্তুতিতে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেস্তায়ায় কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে অপ্রত্যাশিতভাবেই ছিলেন না ইয়ামাল।

    রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই তার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার দল ম্যাচের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন ক্লাবের চিকিৎসকেরা। এরপর ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন কোচ ফ্লিক।

    ইয়ামালের চোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বার্সেলোনা। তবে অনুশীলনে তার অনুপস্থিতির সময়টা তরুণ এই তারকার জন্য হতাশাজনকই। কারণ সতীর্থদের ভোটে নতুন সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার সুখবর পাওয়ার দিনই অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকতে হলো তাকে। মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের ভোটে ইয়ামালকে বার্সেলোনার নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

    ইয়ামালকে না পেলে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ফ্লিককে। বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জার্মান কোচ হাই-প্রেসিং ফুটবল অনুসরণ করছেন। এই কৌশলে ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আক্রমণে তার কার্যকারিতার পাশাপাশি বল দখলের জন্য তার নিরলস পরিশ্রমও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন সালমান আগা, ইমাম–উল–হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁদের কেউ ভালো ফর্মে নেই। রিজওয়ান সিরিজের চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৬১ রান। লর্ডস টেস্টে তাঁর শট নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা হয়।

    ইমাম তো চোটের কারণে লর্ডস টেস্টে ব্যাটিংয়ে নামেননি। সেই চোট নিয়েও পিসিবির সন্দেহ আছে। সালমান টেস্টে সর্বশেষ ৫ ইনিংসেই হয়েছেন ব্যর্থ। অথচ এই সালামানই হেডিংলি টেস্টে বাবর আজমের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। লর্ডসে ছিলেন না একাদশে। এরপর তো স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন।

    পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমামের ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়নি। ড্রেসিংরুমে তাঁদের আচরণও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

    এমনকি এ দুই ক্রিকেটারকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়া লাগতে পারে। পিটিআই জানিয়েছে, রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সালমানকেও কমিটির সামনে দাঁড়াতে হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরেই নাকি তাঁদের আচরণজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

    ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত যাওয়া অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে। আগে সাদা বলের দলে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছেন।

    বোর্ডের একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছেন, ‘বাকি যেসব খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশেই পাঠানো হয়েছে। তিনি সাদা বলের ক্যাম্পে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চেয়েছেন।’ তৃতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তান দলে এসেছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া, রাজউল্লাহ, সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল।

    নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে এএফপি

    এদিকে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতেও। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    এরই মধ্যে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তবে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    মিসবাহর পদত্যাগের আগে নির্বাচক কমিটিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বোর্ড।

    শুধু নির্বাচক কমিটিই নয়, নির্বাচন ও পরামর্শক কমিটির সদস্যদেরও নোটিশ দিয়েছে পিসিবি। ইংল্যান্ড সফরের দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে কেন নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দল নির্বাচনের নীতিতে কী ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও জানতে চেয়েছে বোর্ড।

    পাকিস্তান ওপেনার ইমাম-উল-হক চোটের ইস্যুতে চাপে আছেন এএফপি

    ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচক কমিটি গঠন হতে পারে। একটি সূত্রের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড সফরের পর নতুন নির্বাচক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।’

    এদিকে ইংল্যান্ড সিরিজের পরও দায়িত্বে থাকতে পারেন হেসন। তাঁকে স্থায়ী প্রধান কোচ করার বিষয়ে আগ্রহী পিসিবি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ডের এই কোচ দায়িত্ব নিতে রাজি হন কি না, তার ওপর।

  • জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    আজ শনিবার রাজধানীতে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি উৎস নিয়ে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।’

    প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ খাতে চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।’

    তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

    বাংলাদেশকে শুধু বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় না সরকার। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায়’, যোগ করেন শামা ওবায়েদ।

    আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।’

    অনুষ্ঠানটি সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, ব্র‍্যাক ব্যাংকের সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

  • একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    গানের টানে তরুণ বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন নগরবাউল জেমস। কালের পরিক্রমায় সেই তরুণটিই হয়ে ওঠেন দেশের রক আইকন, ভক্তদের প্রিয় ‘গুরু’। আজ এত বছর পরও সমানতালে মঞ্চ মাতিয়ে যাচ্ছেন জেমস। প্রায় দুই মাস ধরে ইউরোপে সংগীত সফরে রয়েছেন তিনি। পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস ও ইতালি ঘুরে জেমস এখন অবস্থান করছেন সুইডেনে।

    ৬ সেপ্টেম্বর সুইডেনের প্রবাসীদের গান শোনাবেন জেমস। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গানটাই গেয়ে যেতে চান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা।

    আশির দশকের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে ফিলিংস ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে সংগীতে পথচলা শুরু জেমসের। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। সেই থেকে সুরের জাদুতে মাত করে রেখেছেন কয়েকটি প্রজন্মকে। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ উঠতেই জেমসের স্বভাবসুলভ উত্তর, ‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা। এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, জেনারেশন চেঞ্জ হচ্ছে—এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয় অনেকগুলো জেনারেশনকে হয়তো গান শোনাতে পারছি।’

    জেমস জানান, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তিনি গান করেননি। গেয়েছেন কেবল ভালোবেসে, নিজের আবেগ ও প্যাশন থেকে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিও তাঁর একই পরামর্শ—কোনো কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে সংগীতে না আসার।

    জেমস বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সংগীত করার কোনো মানে হয় না। গান করতে হবে একদম প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। কোনো প্রাপ্তির আশায় যদি কেউ মিউজিক করে, তবে আমি বলব—এখনই বন্ধ করে দাও। আমি মনে করি, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মিউজিক করা ঠিক না। মিউজিক করতে হবে নিজের প্রশান্তির জন্য। এর মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন হয়, সেটা ভিন্ন কথা। আজ যদি আমি কোনো কিছু নাও পেতাম, তাহলেও গানই করে যেতাম।’

    শেষ পর্যন্ত গানকেই সঙ্গী করে বেঁচে থাকতে চান এই রক তারকা। জেমস বলেন, ‘সংগীত নিয়ে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। গান গেয়ে যাব, শেষ পর্যন্ত গাইতেই চাই। এমনকি শেষে গিয়ে যদি দেখি মাত্র একজন দর্শকও আছে, আমি তাঁর জন্যও গান গেয়ে যাব।’

    সুইডেনের কনসার্ট দিয়েই শেষ হবে জেমসের দীর্ঘ ইউরোপ সফর। এরপর তিনি উড়াল দেবেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর নিউ সাউথ ওয়েলসে আয়োজিত একটি বিশেষ কনসার্টে জেমসের পাশাপাশি এক মঞ্চে গাইবেন পশ্চিমবঙ্গের ফসিলস ব্যান্ডের রূপম ইসলাম।

  • বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল চলছে। একের পর এক ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার সেই তালিকায় অধিনায়ক বাবর আজমের নামও উঠছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রশিদ লতিফ।

    টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর সাত ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে ছাঁটাই করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও দায়িত্ব হারিয়েছেন। একই সময়ে নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মিসবাহ উল হক। প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদও পিসিবির পরবর্তী নজরে থাকতে পারেন বলে খবর এসেছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বাবরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিসিবির দল পরিচালনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, বাবরই কি হতে যাচ্ছেন পরবর্তী টার্গেট।

    রশিদ লিখেছেন, ‘যদি দলকে রিমোট কন্ট্রোলে চালাতেই হয়, তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন পাঠানো হলো? গ্যারি কারস্টেন ও জেসন গিলেস্পির কাছ থেকে নির্বাচনের ক্ষমতা কেন কেড়ে নেওয়া হলো? আর অধিনায়ক বাবর আজম যদি কথা না শুনে থাকে, তাহলে অধিনায়ককেই তো বরখাস্ত করা উচিত ছিল—তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো? বাবর আজম কি পরের টার্গেট?’

    এর আগে পিসিবির ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বাবরের অধিনায়কত্ব ছাড়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন রশিদ। তাঁর মতে, দলের একাধিক ক্রিকেটার ও কোচকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাবরের উচিত ছিল তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।

    এই প্রসঙ্গে রশিদ বলেন, ‘বাবরের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। দলের অর্ধেক ক্রিকেটারকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, তাহলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতাম। তুমি একজন পুতুল অধিনায়ক হয়ে গেছ। নেতা আর অধিনায়কের মধ্যে পার্থক্য আছে।’

    বাবরের কড়া সমালোচনা করে রশিদ আরও বলেন, ‘তোমরা সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠিয়েছ। ইমামের বিষয়টি আমি বুঝতে পারি, সে চোট পেয়েছিল। কিন্তু তারপরও ছয়জন ক্রিকেটারকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তোমরা তোমাদের কোচ, তোমাদের মেন্টরকে ফিরিয়ে দিয়েছ। যে কোচ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়েছিল, তাকেও সরিয়ে দিয়েছ। উমর গুলকেও ফিরিয়ে দিয়েছ। তুমি তোমার দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছ না। তোমার কোচকে এক পাশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তুমি নীরবে বসে আছ। এতে বোঝা যায়, পিসিবির সবসময় একজন পুতুল অধিনায়কই প্রয়োজন।’

  • মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ইএসপিএনের সাংবাদিক এস্তেবান এদুলের বরাতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর নেতৃত্বের জন্য রোমেরোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।

    মেসি নিয়মিত অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন রোমেরো। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তির কারণে সেদিন মেসি বেঞ্চে ছিলেন। রোমেরোর নেতৃত্বে ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

    পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন এই ডিফেন্ডার। ফলে মেসি-পরবর্তী সময়ে তাকেই নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।

    ২৮ বছর বয়সী রোমেরোর জাতীয় দলে অভিষেক ২০২১ কোপা আমেরিকার আগে চিলির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর লিওনেল স্কালোনির দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ, গোল করেছেন চারটি।

    রোমেরোর জাতীয় দল অধ্যায়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা। মেসি, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দিদের প্রজন্মের পর এবার নতুন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন রোমেরো।

    ২৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পেলে সামনে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে তার। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে এই টটেনহাম ডিফেন্ডারের সামনে। তবে আপাতত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এএফএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। একাধিক প্রতিবেদনে অবশ্য মেসির পর স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

  • ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা পুলিশ বাহিনী নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন কোনো বড় ধরনের অন্যায়-অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি তখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার কারণে… আমি বলছি যারা ভালো সাংবাদিক, ৯৯ শতাংশ তাদের বলব আপনারা রুখে দাঁড়ান। আমাদের পুলিশেও আছে খারাপ লোক। আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। না, আমি বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়েছি আমাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এক পার্সেন্টও হয় না। ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে বলব আমি যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা সেটাই লেখেন। কিন্তু অপবাদ দিয়ে একজনের মনোবল নষ্ট করা…এটার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র আছে। আপনারা জানেন, বিগত ১৭ বছর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। আপনার জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। সুতরাং কোনো ষড়যন্ত্র নয়। আসুন ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা চিহ্নিত করি। আপনাদের ভেতরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী আছে। আমার (পুলিশ বাহিনী) ভেতরেও আছে। সারা বাংলাদেশেই আছে। আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

    আইজিপি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে এ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবকগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে আমাদের নতুন প্রজন্ম ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হয়। উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। আইনশৃংখলা যদি ঠিক না থাকে। আপনার আমার নিরাপত্তা যদি ঠিক না থাকে। আপনার সম্পদ-বাড়ি-গাড়ি আছে কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তবে দেশটা অকার্যকর হয়ে যাবে।

    এই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীদের বেশি দিন কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

    মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

    মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

    মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।

    পুলিশ প্রধান শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর।

    তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলবে ও অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।

  • কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড আখ চাষি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া সুগার মিলটি পুনরায় চালু করার দাবিতে মিলের প্রধান ফটকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম হোসেন মালিথার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া সুগার মিল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এই অঞ্চলের হাজার হাজার আখ চাষি, শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে এই মিলটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের বেকারত্ব ও আখ চাষিদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালুকরণ এখন সময়ের দাবি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সকল বন্ধ মিল কলকারখানা পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। পুনরায় মিলটি চালু করে নির্ধারিত মূল্যে সঠিক উপায়ে চিনিসহ চিনিকেন্দ্রিক অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বর্তমান সরকার সৃষ্টি করতে পারলে কুষ্টিয়া সুগার মিল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আমি এই সুগার মিল পুনরায় চালুকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উল হাসান অপু, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাজাহান আলী, পোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আখ চাষি আব্দুল কুদ্দুস ও কামরুজ্জামান মিথুন।

  • মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভাগ্নিজামাই লুৎফরের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর রবিউল ইসলাম (৫২) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মরহুম আমিন উদ্দিন মৃধার ছেলে।

    পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রবিউলের ছেলে ও তার আত্মীয় লুৎফরের ছেলের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জের ধরে লুৎফর ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউলের ছেলেকে মারধর করার জন্য হাতে লাঠি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।

    একপর্যায়ে রবিউল ইসলাম সামনে এসে বাধা দিলে লুৎফর তাকে লক্ষ্য করে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আঘাত করার পরপরই অভিযুক্ত লুৎফর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লুৎফর পলাতক রয়েছেন।

    মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আজাদ রহমান জানান, শিশুদের খেলাধুলার সামান্য বিবাদ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত লুৎফর আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বরে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে নির্বাচন উৎসব। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের বাকি চার প্রতিষ্ঠান পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।

    ইসি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছে ইসি। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর নভেম্বরের শেষভাগে প্রথম ধাপের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। সব ধাপের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে।
    এর আগে গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তরফে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের এমন নির্দেশনা পেয়ে

    নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে ইসি।

    দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ সংখ্যা চার হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ বা নির্বাচন উপযোগী হবে। যেগুলোর নির্বাচন ২০২১ ও ২০২২ সালে হয়েছিল। আর বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। ধাপে ধাপে নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আইনে আছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাত ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনুরূপ পরিকল্পনা করছে ইসি। ২০২১ সালের ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর দুই ভাগে বিভক্ত প্রথম ধাপের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের চারটি জেলা ছাড়াও রংপুর, বগুড়া, খুলনা ও বাগেরহাটের মোট ৩৬৭টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এবারও প্রথম ধাপে এসব ইউনিয়ন দিয়েই ভোটের তপশিল সাজানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে ইসির।

    এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইসির সব প্রস্তুতি আছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ও নভেম্বরে ভোট শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা এগোচ্ছি। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।

    ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কয় ধাপে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে যত ধাপে হয়েছে মোটামুটি সেভাবেই হবে। কোনো ইউনিয়ন পরিষদে মামলা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকলে সেগুলোতে নির্বাচন হবে না।

    ১৫ সেপ্টেম্বরে তপশিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    ইসির যত প্রস্তুতি
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতির শেষ ধাপে আইন-বিধি এবং আচরণ বিধিমালা সংস্কারের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল ইসি। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। দেশে মোট ভোটার আছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দেওয়ার শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর ও নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর বেঁধে দিয়েছে ইসি। এর পরই ভোটার তালিকা মুদ্রণে যাবে।

    সারাদেশে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও আগেই তৈরি করে রেখেছে ইসি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার বেশি হতে পারে। মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নেওয়া হয়। তবে এবার একসঙ্গে দুটি ভোটের জটিলতা না থাকায় গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্য পরীক্ষা নভেম্বরের আগেই অথবা দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসি। স্কুল ভবনগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার জন্যই এমন নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাহিনী পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে ইসি। পুলিশপ্রধানের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠককালে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির।

    সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ভোট গ্রহণ সামগ্রী আগেই মজুত রাখা হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনে সেগুলোর ব্যবহার হবে। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মালাপত্রও কিনে রেখেছে ইসি। সংসদের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা যায়, সে জন্যই এসব মালাপত্র আগেই কেনা হয়েছিল। কেননা নির্বাচনী মালাপত্র কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস লাগে।

    ইসি সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের আগে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানি ব্যাগ প্রতিটি এক লাখ ১৫ হাজার পিস, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস এবং অফিসিয়াল সিল আট লাখ ৪০ হাজার পিসসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী কেনা হয়। ওইসব সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ইসির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় তপশিল ঘোষণা হবে।

  • নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাট এলাকায় এই আদেশ জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

    উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সমঝোতা হলে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৭-৯ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

    জামায়াত আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, কালীগঞ্জ নৌকা ঘাটে আমরা ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অসুস্থতার জন্য মন্ত্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছ। পাল্টা পাল্টি অভিযোগের কারণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

  • দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, `আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে? এসব সমস্যার সমাধান চান বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

    আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ দেশের সব বিভাগীয় শহরে যাবে। ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে সরকার পতনের আন্দোলন সফল করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।

    কুমিল্লাবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা কুমিল্লা বিভাগ চান। ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একই সময়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবিও উঠেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ হয়নি, সিলেট বিভাগ হয়েছে। তাহলে কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ করুন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন। পাশের জেলা নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ দাবি করছেন, তাঁরাও দাবিদার। তাঁদেরও বিভাগ দিন। তবে কুমিল্লা যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে বিভাগ দাবি করে আসছে, তাই কুমিল্লা বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করুন।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লায়—এ কারণে কি আপা কুমিল্লার প্রতি বিরাগ দেখিয়েছিলেন? কুমিল্লার নাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। কোনো জেলার নামকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি করা হলে তা ওই জেলা ও বিভাগের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করার শামিল। বর্তমান সরকার বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছে। তাহলে দিচ্ছে না কেন? কুমিল্লা বিভাগ দিন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বিমানবন্দর করার বিষয়টি সামনে এসেছে। কুমিল্লায় একটি ইপিজেডও রয়েছে। বিমানবন্দরটি যাচাই-বাছাই করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন। মানুষকে প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রামে যেতে অনেক দূর যেতে হয়। বিভাগ হলে কুমিল্লার মানুষ এখানেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবে।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি চান? সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কি রক্ষা করছে? করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক না রেখে এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে একসঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকতে চান, তাহলে অন্য সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আগে নিজের মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি ঠিক করুন। আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করুন, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।’

    কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পাটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মন্ঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।

  • শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে দোকানপাটসহ ৬টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। শনিবার সকালে বগুড়া ইউনিয়নের দলিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রাকিবুল ইসলাম খান দিপু এবং বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দলিলপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের লাখাইয়ে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে তল্লাশি চালিয়ে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ৪৫০ গ্রাম গাঁজাসহ সালেহা বেগম ওরফে আবুনী (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার সালেহা বেগম উপজেলার তেঘরিয়া উত্তর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক সাহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সালেহা বেগমের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহজনক মনে হলে ঘরের ভেতর মুরগির খোঁয়াড়ের মাটি খুঁড়ে একটি ডিব্বা উদ্ধার করা হয়। পরে ডিব্বাটি খুলে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ৪৫০ গ্রাম।

    ঘটনার বিষয়ে এসআই মানিক সাহা জানান, প্রত্যক্ষভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সালেহা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

    এদিকে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে কৌশলে মাদক লুকিয়ে রাখার এই অভিনব ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি খুঁড়ে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে।

    লাখাই থানার ওসি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মাদক সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

  • তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    একজনেরই তিন জন্মদিন!

    বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে কাগজে-কলমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবের জন্মসাল তিনটি—২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০। মাসখানেক আগেও শ্রীলঙ্কা সফর করে আসা এই ক্রিকেটারকে বয়সের তথ্য জালিয়াতির দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

    ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাদের খেলোয়াড়দের জন্য প্রাক্‌–মৌসুম নথিপত্র যাচাই কর্মসূচি পরিচালনা করার সময় রোহিতের বিষয়ে গরমিল পায়। পিটিআই জানিয়েছে, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০—এই তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া গেছে তাঁর নামে।

    ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোহিতের আধার কার্ডের তথ্যেও ছিল গরমিল। সিএবির নিবন্ধনে তাঁর জন্মসাল ২০০৭। অন্যদিকে ২০১৭ ও ২০২০ সালে হালনাগাদ করা আধার রেকর্ডে জন্মসাল ছিল ২০০৬। পরে ২০২১ সালে সেটি পরিবর্তন করে করা হয় ২০০৯।

    বয়স নিয়ে এত রকম তথ্য পাওয়ার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে রোহিতকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের গরমিলের কারণে আরও ৬৪ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের পেসার রবি কুমারও। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর সব রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের গরমিল ছিল ৪০ মাসের বেশি।

    বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমার একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটি। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়েরা স্বেচ্ছায় বয়সের গরমিল স্বীকার করে সঠিক জন্মতারিখ জমা দিলে সাময়িক বরখাস্ত এড়াতে পারতেন। তবে পরে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাঁদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতো।

  • জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্তীর ভারত সফর ও সম্পর্ক নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের সাথে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বুঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সঙ্কট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

    মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে ‘

    আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’

  • তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার সংযোগ রক্ষায় বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

    সম্প্রতি তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়ইতলীসহ আশেপাশের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন ও শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, আমেনা আক্তার বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরিভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

  • বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস, বীরত্ব ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সাহস ও দেশের জন্য আত্মনিবেদনের অনুপ্রেরণা জোগায়।

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। এ উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির কাছে অবস্থিত তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতে বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ যে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা এবং শত্রুর মোকাবিলায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

    প্রতি বছর তাঁর শাহাদতবার্ষিকীতে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করা হয়।

  • জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে ভারত সফর নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে ভারত সফর নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেছেন, ‘ভারত সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।’

    আজ শনিবার সকালে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেছেন।

    প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দুই দেশের মধ্যে নানা সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা উচিত।

    জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন জানিয়েছেন, অতীতে জ্বালানি খাতে কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা এ খাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

    মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশ একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানেই যাবে।’

    ‘বাংলাদেশকে বোয়িং বিমান কিনতে কেউ চাপ দিচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বিমান কেনা হবে,’ যোগ করলেন প্রতিমন্ত্রী।

    মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সিন্ডিকেটের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হবে।

    কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার সুযোগ না পাওয়া এবং রাস্তায় রাত কাটানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জোর দেন, নির্দিষ্ট ঘটনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গতকাল শুক্রবার প্রতিমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে ইমজার নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন তিনি।

    এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরীসহ ইমজার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

  • সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডস্কে,

    ঝিনাইদহের শৈলকূপায় রাসায়নিক সারের দাবিতে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা সার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার ‘মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ’-এ যান।

    এ সময় ডিলারের লোকজন সার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়াগঞ্জ-শৈলকূপা সংযোগ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধ করেন।

    প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গন্তব্যমুখী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সার সরবরাহের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সার নিয়ে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পরে কৃষকরা সার পেয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

  • একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি এবার একই দলের হয়ে মাঠে নামবেন? বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএনটি স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পরিকল্পনা চলছে।

    আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে ‘অ্যাপাচি’ খ্যাত তেভেজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ সংবর্ধনা ম্যাচটি। বোকা জুনিয়র্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তেভেজ। তার ইচ্ছা, এই বিশেষ আয়োজনে দুই ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি ও রোনালদোকে একসঙ্গে একই একাদশে খেলাবেন।

    ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্ব ফুটবলের বহু নামী ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই ঐতিহাসিক বিদায়ী ম্যাচে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক সতীর্থ অংশ নেবেন।

    ২০২২ সালের জুনে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই ফরোয়ার্ড কোচিং পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। রোসারিও সেন্ট্রাল ও ইন্দেপেন্দিয়েন্তের পর বর্তমানে তায়েরেস কোর্দোবার ডাগআউট সামলাচ্ছেন তিনি। তবে কোচিংয়ের ব্যস্ততা ছাপিয়ে এখন তার সব মনোযোগ ঐতিহাসিক এই বিদায়ী আয়োজন নিয়ে।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বোকা জুনিয়র্সের বিখ্যাত হোমগ্রাউন্ড লা বমবুনেরা স্টেডিয়ামে আগামী ডিসেম্বরের ১২-১৩ কিংবা ১৮-১৯ তারিখে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আর্জেন্টাইন লীগের সূচির সঙ্গে যাতে ম্যাচটির তারিখের সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

  • কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

    শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

    লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

    উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

  • রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    শৈশব-কৈশোর কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলে। নিজ বাড়ির পাশেই শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় মাঠ। শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া, রাস্তাঘাটও তার দীর্ঘদিনের পরিচিত। সেই নিজ শহরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।

    রাষ্ট্রপতির সফর সামনে রেখে কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন পৌরসভার কর্মীরা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ শহরে প্রিয় সন্তানকে প্রথমবার বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওবাসী। পথে পথে চলছে তার আগমনের অপেক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ।

    ঠাকুরগাঁওয়ের কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কারও কাছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার অনেকের কাছে তিনি এখনো পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’—নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে তার ফিরে আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে তাই শুধু রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা ও আবেগেরও মুহূর্ত।

    রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। পরে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

    এরপর শহরের সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি।

    কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

    সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানেই তার রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

    সফরের দ্বিতীয় দিন ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন। এরপর সার্কিট হাউসে গিয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সম্ভাব্য সফরস্থল, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

    রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাক।’

    জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  • কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত দরবার প্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার নিজস্ব দরবার শরিফে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

    নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় তার ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নতুন করে কবর তৈরি করে তা দাফন করা হয়।

    নিহত দরবার প্রধানের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    খবর পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কবর স্থানান্তরের আলামত মিলেছে। দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ অবশেষ দেখা গেছে। তবে সেটি শামীমেরই মরদেহ কি না, তা আইনগত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রাপ্ত নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, দরবার চত্বরে একটি কবর খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল দাফন করা হয়েছে। কঙ্কালটি শামীমের কি না, তা আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ঘটনাটি সত্য হলে মরদেহ আগের কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

  • বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাখির কিচিরমিচির কলতানে এক সময় গ্রাম বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙতো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই গ্রামের বাগানগুলোতে পাখির কলতানে মুখরিত হতো। দেশের গ্রাম বাংলায় শ্যামল প্রকৃতিতে হরেক রকম পাখির উপস্থিতি আরো মনোরম করে তুলতো বৃহত্তর কুষ্টিয়ার গ্রাম বাংলাকে। স্থায়ী বসবাসকারী পাখি আর মৌসুমী অতিথি ২২১ প্রজাতির পাখি যোগ হয় পাখিদের কাঁতারে। এদের মধ্যে যেসব পাখির নাম আমরা সর্বাধিক শুনেছি এবং দেখেছি গ্রাম বাংলায় অবাধ বিচরণ করতে।

    তাদের মধ্যে দোয়েল, শ্যামা, ময়না, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেঁচা, চড়ুই, মাছরাঙা, ঘুঘু, পাপিয়া, ময়ুর, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌড়ি, কাঠঠোকরা, বুলবুলি, চাতক, বাবুই, বক, বউ কথা কও, হলুদিয়া, কানা কুকো, টুনটুনি, ফিঙে, পায়রাসহ নানা প্রজাতির পাখি।

    বর্তমানে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে যাচ্ছে নানাবিধ কারণে। এর মধ্যে মানুষের সৃষ্ট কারণসমূহই প্রধান। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বনাঞ্চল। পাখিরা হারাচ্ছে তাদের আবাসস্থল। নদী পৃষ্ঠের লবণাক্ততা ও কীটনাশকের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় পাখির খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নদী অঞ্চলে লবণাক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

    অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, অপরদিকে বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। মানিকজোর, সবুজ ঘুঘু, হারগিলা, শঙ্খচিল, ভুবনচিল, মদনটাক, ময়ূর, ঈগল, শকুন, বক,বাদুর বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

    এ দেশে শকুনের যেকটি প্রজাতি আছে, তার মধ্যে বাংলা শকুন ছাড়া বাকি সব জাতের শকুন হারিয়ে গেছে। শকুনের খাবার ও আবাসস্থল নেই। যার ফলে বাংলা শুকুন হারিয়ে যাচ্ছে। শকুনরা সাধারণত পুরোনো বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। পুরোনো বড় বড় গাছ নিধন করে ফেলায় পরিবেশের বন্ধু শকুন হারিয়ে গেছে।

    দেশে ৪৩ প্রজাতির চিল, বাজ, ঈগল ও শকুন পাখি দেখা যেতো। এরা খাবার হিসাবে ইঁদুর, মাছ, ব্যাঙ, ছোট সাপ, পোকামাকড় পছন্দ করে। নদী-নালা ও জলাশয়ের পাশের বড় গাছে বসবাস করত এরা। নদী-নালা ও জলাশয়ের দূষণের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের শঙ্খচিল।

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় যত ধরনের ঘুঘু দেখা যায়, তার মধ্যে সবুজ ঘুঘু সবচেয়ে সুন্দর। ছায়াঘেরা বনের নির্জনে খুব সকালে ও শেষ বিকেলে এরা খাবার খুঁজে বেড়াতো যা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বাকি সময় বৃক্ষের ডালে বসে সময় কাটাতো। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে এখন ঘুঘুর বিচরণ চোখে পড়ে না । গ্রামীণ জনপদে ঘুঘু দেখা গেলেও সবুজ ঘুঘুর দেখা মেলে না। যাও দেখা যায় শিকারীদের কারণে তা মারা পড়ছে প্রতিদিনই।

    বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনে বাংলাদেশে পাখি শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকার করেও পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

    পাখি শিকারী আইন থাকলেও এর নেই কোন প্রয়োগ ফলে পাখি শিকারীরা নির্বিঘ্নে পাখি শিকার করে চলেছে। সংশি¬ষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় পাখি শিকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিকারীরা ইয়ারগান দিয়ে জেলার হাওড় বাওড় খাল বিলে অবস্থানরত অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন পাখি নির্বিঘ্নে মেরে ফেলছে। জেলার নদ-নদী ও বন জঙ্গলে অতিথি পাখির যখন আগমন হতে শুরু করে ঠিক সেই সময়ই পাখি শিকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে পাখি ধরে জেলার বাবর আলী গেটসহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি। পাখি শিকারী বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কুষ্টিয়ার পাখিপ্রেমীসহ জেলার সুশীল সমাজ।

  • কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া শরীয়াতুল্লাহ এতিমখানায় মরহুম আব্দুল ওয়াহিদ অডিটোরিয়ামে এ শিক্ষা শিবির শুরু হয়।

    দুদিন ব্যাপী শিক্ষা শিবির উদ্বোধন করেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে এম আলী মুহসীন।

    অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এর প্রফেসর ড. আকতার হোসাইন।

    জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আত্মগঠন ও মান উন্নয়নের উপর বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা তারবিয়াতি সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে সহীহ তালিমুল কোরআন ক্লাস গ্রহণ করেন তালিমুল কোরআন বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেল ওস্তাদ ড. শহিদুল ইসলাম বারী, সকল জামায়াত কর্মীই আদর্শ সমাজ কর্মী বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, দারসুল হাদিস পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ও ভাষা সাহিত্যে বিভাগের প্রফেসর ড. একে এম মফিজুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে অতিথি রয়েছেন ঢাকা বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব পিএইচডি গবেষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষা শিবিরে প্রায় ২শত কর্মী অংশ গ্রহণ করেন।

  • বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একটি মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ১ নম্বর পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভোরে মসজিদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মাসিদুল দাঁত ব্রাশ করতে বের হয়ে এবং একই সময়ে এক নারী দানবাক্সে ১০০ টাকা দিতে এসে তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিনকে জানান।

    খবর পেয়ে কমিটির ক্যাশিয়ার ঘটনাস্থলে এসে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দানবাক্সের কাছে আসে। মাত্র ৭ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে তারা দানবাক্সের তালা ভেঙে ব্যাগে টাকা ভরে নিয়ে চলে যায়। তবে মুখে কাপড় থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিন বলেন, “আমি পাশের মাদ্রাসায় শ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছিলাম। ফোন পেয়ে এসে দেখি দানবাক্সের তালা ভাঙা এবং ভেতরের সব টাকা নিয়ে গেছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর তিন মাস ধরে দানবাক্সটি খোলা হয়নি। এর আগে তিন মাস পর একবার দানবাক্স খুলে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। চোরদের শনাক্ত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, কেউ তথ্য দিয়ে চোর শনাক্তে সহায়তা করলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে।

    মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান দুলাল বলেন, মসজিদে বিভিন্ন দান-অনুদান আসে। প্রতি শুক্রবারও মুসল্লিরা দান করেন। এসব অর্থ দানবাক্সে জমা রাখা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে দুই ব্যক্তি দানবাক্সের কাছে এসে তালা ভাঙে এবং ভোর ৪টা ৫ মিনিটে বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে চলে যায়। মুখে কাপড় থাকায় তাদের চেহারা শনাক্ত করা যায়নি।

    বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

  • সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে প্রতারক চক্র। অজ্ঞান অবস্থায় চালককে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী টাওয়ারের সামনে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার শিকার চালকের নাম শহীদুল ইসলাম (৫০)। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার মরহুম তসির উদ্দিনের ছেলে।

    শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার স্বামী আর বাড়ি ফেরেন নাই। শনিবার সকালে জানতে পারি, সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর অটোরিকশা অজ্ঞান পার্টি নিয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ দিনে সৈয়দপুর শহরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পাঁচজন ব্যক্তি তাদের আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশা হারিয়েছেন। এমনকি প্রকাশ্যে দিনের বেলায়ও ভ্যান, মোবাইল ও ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দু’জন যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

    লাগাতার এ ধরনের অপরাধ সঙ্ঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন মহলের মন্তব্য সৈয়দপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন একেবারে নির্বিকার এবং তাদের অবহেলার কারণেই দিন দিন পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয়তো সার্বিক অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

  • তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে নজরুল ইসলাম মনজু (৫৩) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনার বুকে জেগে উঠা বাসন চরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম বদিউজ্জামানের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কৃষক মনজু নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

    পরে পার্শ্ববর্তী কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, বজ্রপাতে কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু নিহত হওয়ার ঘটনায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

    স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে তজুমদ্দিনের বিস্তীর্ণ চর ও কৃষিজমিতে কৃষকদের মাঠে কাজ করতে হয়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করায় কৃষকরা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা বজ্রপাতের সময় কৃষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এবং বজ্রপাত সহনশীল তাল গাছে লাগানোর দাবি জানান।

  • আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বটতলী নতুন গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আকতার কবির (৩৬) ও হান্নান (২২)।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে আকতার ও হান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড ও ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মো: খালিদ হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গোবরা গ্রামের মো: তৈয়ব আলীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে ওই বাড়ির মেয়ে সানজিদা খাতুনের সাথে খালিদের বিয়ে হয়েছিল।

    নিহত খালিদ হাসান কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর কয়রা গ্রামের মো: আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খালিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালিদের স্ত্রী টয়লেট থেকে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জানালা দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তিনি স্বামী খালিদকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে কয়রা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রাশেদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

  • সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটির দুই পাশে সাময়িক সংস্কারকাজ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুব বিভাগের সদস্যরা।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা এ সংস্কারকাজে অংশ নেন। তাঁরা ব্রিজের দুই পাশে জমে থাকা কাদা সরিয়ে ইট বিছিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যায়। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পথচারীদেরও হেঁটে চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তাঁরা।

    রইচপুর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রইচপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি কৃষি ও মৎস্য চাষনির্ভর হওয়ায় কৃষিপণ্য ও মাছসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হাসানুজ্জামান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুব বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    এলাকাবাসী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়ক দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    এক ম্যাচে তিন চোট। এর মধ্যে একজন নেইমার। চোটের জন্য মাঠ ছাড়ার পরই সান্তোসের মাঠ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে তাঁর এসব কথাকে অজুহাত হিসেবেই দেখছে প্রতিপক্ষ পালমেইরাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তারা খোঁচাই দিয়েছে নেইমারকে।

    বুধবার ব্রাজিলিয়ান কাপে পালমেইরাসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র করে সান্তোস। প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় নেইমারের দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোর বেহাল দশা এবং চোটের মিছিল।

    প্রথমার্ধেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। তাঁর সঙ্গে চোটে পড়েন সান্তোসের উইঙ্গার আলভারো বারেয়াল ও ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে কাঁদতেও দেখা যায়।

    এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের অবস্থা নিয়ে খোঁচা দিয়ে নেইমার লেখেন, ‘ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের মাঠের দায়িত্বে যিনি আছেন, তাঁকে অভিনন্দিত করতে চাই।’

    এরপরই তাঁর সেই খোঁচা পরিণত হলো তীব্র আগুনে, ‘গতকাল যা দেখলাম, তা ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে মাঠ। ম্যাচের ঠিক আগের দিন কাজ করার কারণে পুরো মাঠ গর্তে ভরা ছিল। অবিশ্বাস্য! প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আমাদের মাঠের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে।’

    ব্রাজিলিয়ান কাপ থেকে সান্তোসের ছিটকে যাওয়ার দিনে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার ইনস্টাগ্রাম/নেইমার

    ক্ষোভের রেশ টেনে এখানেই থামেননি নেইমার। মাঠের বেহাল দশা কীভাবে তাঁদের টেনে নামাল, সেই হিসাব কষে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, মাঠের এই জঘন্য অবস্থার কারণে আমাদের বাড়তি শারীরিক শক্তি খরচ করতে হয়েছে। প্রথমার্ধেই যে তিনজন খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দারুণ কাজ করেছেন সত্যিই…খুবই নিম্নমানের কাজ!’

    নেইমারের এই বিলাপের আগুনে পালমেইরাস বাণ মারতে ছাড়েনি। চরম নাটকীয়তায় সুযোগ বুঝে নিজেদের মাঠের প্রশংসা করে এক খোঁচাপূর্ণ বিবৃতি ছাড়ে ক্লাবটি।

    নিজেদের মাঠের নিয়মিত পরিচর্যা ও গুণগত মান নিয়ে খোঁচা দিয়ে পালমেইরাস লেখে, ‘নুবাঙ্ক পারকের মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্তদের আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই…দিন যা-ই হোক না কেন, এখানকার ঘাস সব সময় নিখুঁত আর গর্তমুক্ত থাকে। কারণ, প্রতিদিন এর যত্ন নেওয়া হয়। বিশ্বাস করুন আর না–ই করুন, প্রতিপক্ষকে ভালো মাঠ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের খেলোয়াড়েরাও এখানে দৌড়ানোর সময় নিরাপদ বোধ করে। কারণ, পুরো উপরিভাগ সব সময় সমান থাকে। অমনি তো আর গত পাঁচ বছরে সিরি আ-তে পালমেইরাসের খেলোয়াড়েরা সবচেয়ে কম চোটে পড়েনি…সত্যিই অভিনন্দন। দুর্দান্ত কাজ!’

    এখানেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। যেন সমস্যার সহজ সমাধান শেখাতে গিয়ে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল, ‘বাজে মাঠের একমাত্র সমাধান হলো একটি ভালো মাঠ তৈরি করা, সহজ বিষয়।’

    লিগ টেবিলে সান্তোস এখন ১৪ নম্বরে, অবনমন অঞ্চল থেকে মোটে চার পয়েন্ট দূরে।

  • এবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ঘোষণা

    এবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ঘোষণা

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মন্ত্রীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

    সাক্ষাৎকালে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উপর মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশে বড় দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও তুলে ধরেন তারা।

    জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

    পরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে পেশ করেন। এতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।

  • সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    বাংলা গানের ইতিহাসে কিছু কণ্ঠ শুধু গান গায় না, হয়ে ওঠে এক ইতিহাস। সেই কণ্ঠগুলোর অন্যতম সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগীতজীবনে অসংখ্য গান দিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন মানুষের হৃদয়। দেশাত্মবোধক গান, চলচ্চিত্রের গান, আধুনিক কিংবা লোকগান–গানের নানা ধারায় তাঁর স্বতন্ত্র উপস্থিতি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।

    আজ এই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন সংগীতপ্রেমীরা।

    শৈশব থেকে গানের সঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিনের সখ্য। সংগীতনির্ভর পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকে তিনি পেয়েছেন গানের পরিবেশ। অল্প বয়সে তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য নজর কাড়ে। এরপর ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতজগতে শুরু হয় তাঁর পথচলা। সময়ের সঙ্গে সে কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মানুষের অতিপরিচিত ও প্রিয় এক কণ্ঠ।

    চলচ্চিত্রের গানে সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ষাটের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রোমান্টিক গান থেকে বিরহ, জীবনবোধ থেকে দেশপ্রেম–প্রতিটি আবেগকে তিনি নিজের কণ্ঠে এমনভাবে ধারণ করেছেন, যা শ্রোতার মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। তাঁর গাওয়া দেশাত্মবোধক গানগুলোও বাংলা গানের ভান্ডারের অমূল্য সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা কিংবা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা–এসব অনুভূতি তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে গভীর আবেগ ও শক্তি। ফলে তাঁর গান শুধু বিনোদনের বিষয় হয়ে থাকেনি; বরং অনেক গান হয়ে উঠেছে বাঙালির আবেগ ও ইতিহাসের অংশ।

    সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর আবেগ ও স্বচ্ছতা। উচ্চকিত না হয়েও কীভাবে একটি গানকে গভীরভাবে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাঁর গায়কিতে তার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। শব্দের সঠিক উচ্চারণ, সুরের প্রতি বিশ্বস্ততা এবং গানের ভাবকে ধারণ করার ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

    সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন একাধিকবার। তবে পুরস্কার-সম্মাননার সংখ্যার চেয়েও বড় তাঁর অর্জন-প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার ভালোবাসা। সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া বহু গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান আবেদন তৈরি করে। সময় বদলেছে, সংগীতের ধরন বদলেছে, শ্রোতার রুচিতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। তাঁর গান হারিয়ে যায়নি; বরং নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে বারবার। পুরোনো দিনের শ্রোতার স্মৃতিতে যেমন তাঁর গান অমলিন, তেমনি তরুণ প্রজন্মও তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো এখানে–সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টি মানুষের মনে বেঁচে থাকে।

    সাবিনা ইয়াসমিন সেই বিরল শিল্পীদের একজন। তাঁর কণ্ঠে যে গান একসময় রেডিও, টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রের পর্দা পেরিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছিল, সেই গান আজও শোনা হয় একই মুগ্ধতায়। জন্মদিনে তাই সাবিনা ইয়াসমিনকে শুধু একজন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, বাংলা গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে স্মরণ করা যায়। তাঁর গান প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা, দেশ ও মানুষের গল্প বলে। সেই গল্পের আবেদন সময়ের সঙ্গে ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। সুরের ভুবনে তাঁর পথচলা দীর্ঘ হোক। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিক বাংলা গানের সৌন্দর্য।

    জন্মদিনে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি রইল গভীর ভালোবাসা।

  • কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কান্ট্রি সংগীতের বিশ্বখ্যাত তারকা ডলি পার্টন আর নেই। গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী এই কিংবদন্তি।

    জীবনের শেষ সময়ে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন ডলি। তবে নিজের অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। তার ভাগনি জাডা স্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবার ও কাছের মানুষদের অযথা উদ্বিগ্ন করতে চাননি বলেই শেষ পর্যন্ত রোগের কথা গোপন রেখেছিলেন এই শিল্পী।

    সম্প্রতি ‘এক্সট্রা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডলিকে নিয়ে কথা বলেন জাডা। সেখানে তিনি প্রয়াত তারকার সঙ্গে কাটানো সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। জাডার কথায়, ডলি নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়ে কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন।

    জাডা বলেন, ডলি কখনোই চাইতেন না তার অসুস্থতার কারণে পরিবারের সদস্য কিংবা পরিচিতরা দুশ্চিন্তায় থাকুন। ফলে তার মৃত্যুর খবর স্বজনদের জন্য ছিল বড় ধরনের ধাক্কা। এমনকি কঠিন সময়েও ডলি তাদের কান্নায় ভেঙে না পড়ে নিজেদের কাজে ফিরে যেতে এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখার কথা বলতেন।

    জাডার ভাষায়, ডলি ছিলেন সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা আড়ালে রেখেও অন্যদের ভালো থাকার কথা ভাবতেন তিনি।

    ডলি পার্টনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন সংগীত ও বিনোদন জগতের বহু তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেলর সুইফট, ডলির ধর্মকন্যা মাইলি সাইরাস ও তার বাবা বিলি রে সাইরাস, অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন, গায়িকা বিয়ন্সে, র‍্যাপার এমিনেম এবং কেলি ক্লার্কসনসহ আরও অনেকে।

    ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি টান

    ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি পার্টন। তার মা লোকগান গাইতেন। শৈশবেই মায়ের কাছ থেকে সংগীতের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তার। মাত্র ছয় বছর বয়সেই গান লেখার হাতেখড়ি হয় ডলির। নিজের প্রিয় পুতুলকে কেন্দ্র করে প্রথম গান লেখেন তিনি। আট বছর বয়সে হাতে তুলে নেন গিটার। এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে সংগীতচর্চা শুরু করেন।

    মাত্র ১১ বছর বয়সেই স্থানীয় বেতারে গান পরিবেশনের সুযোগ পান ডলি। আর ১৩ বছর বয়সে পৌঁছে যান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্মানজনক কান্ট্রি সংগীতের মঞ্চে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতযাত্রা।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান, অভিনয়, ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে তাই শুধু কান্ট্রি সংগীত নয়, পুরো বিনোদনজগতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

  • মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    বল নিয়ে কাড়াকাড়ি তাঁরা করেননি। একজন ছিলেন মাঠে, অন্যজন ডাগআউটে। তবু একসময় এল ক্লাসিকোতে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ফুটবল–বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি। একজনের পায়ের নৈপুণ্য আর অন্যজনের মাথার ট্যাকটিকসের লড়াই অনেকের কাছেই ছিল উপভোগ্য।

    এরপর অবশ্য এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনিও বলেছেন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে তিনি সব সময়ই মিস করবেন।

    আগামীকাল লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিনিও বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে কথা বলা কঠিন। তার খেলোয়াড়ি মান নিয়ে বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এমনকি এই যে বিশ্বকাপ, সেখানে ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সেও সে আমাদের দেখিয়েছে, সে কী করতে পারে।’

    ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি এবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপরই ঘোষণা দেন—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা শেষ। মেসির বিদায় যে ফুটবলের একটি যুগেরও অবসান, মরিনিওর কথায় সেটিই ফুটে উঠেছে, ‘কখনো কখনো এমন খেলোয়াড় থাকে, যাদের আপনি মিস করবেন। তার শেষ কয়েক বছর বা মৌসুমগুলোকে উপভোগ করতে আমাদের হয়তো কিছু এমএলএস ম্যাচ দেখতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা এমএলএস দেখতে পছন্দ করি না, কিন্তু তাকে দেখতে হলে দেখতে হবে। কারণ, সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আপনি সব সময়ই মিস করবেন।’

    যখন মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়, মরিনিও রিয়ালেছবি: এক্স

    মরিনিও ও মেসি কখনো সরাসরি একই দলের হয়ে কাজ করেননি বা খেলেননি। মেসি বার্সেলোনায় থাকার সময় ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিও। সেই সময়ের এল ক্লাসিকো উত্তাপ ও বিতর্ক মিলিয়ে উত্তেজনাময় ছিল। কোচ হিসেবে মরিনিওকে বারবারই মোকাবিলা করতে হয়েছে মেসির বার্সেলোনাকে।

    তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেসির প্রতি মরিনিওর শ্রদ্ধা কমাতে পারেনি। পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘গত দুই দশকে আমাদের প্রজন্মের জন্য সে কী প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা আমরা সবাই জানি।’

  • মাদক মামলার বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

    মাদক মামলার বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

    মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে গতি আনতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং মহানগরে ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার।

    আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সেগুলোর জন্য পৃথক স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল ও অধিক্ষেত্র: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এলাকার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের আওতাধীন থানাগুলোর জন্য চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে-ঢাকা মহানগর-১ এর অধীন পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরে বাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।

    ঢাকা মহানগর-২ এর অধীন কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালী, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা।

    ঢাকা মহানগর-৩ এর আওতাধীন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।

    ঢাকা মহানগর-৪ আওতাধীন উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।

    নারায়ণগঞ্জের জন্য ২টি (নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২), চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি (চট্টগ্রাম মহানগর-১, ২ ও ৩) ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার-১ এর অধীন টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২ এর আওতাধীন উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও থানা। কক্সবাজার-৩ এর অধীন রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা।

    এছাড়া কুমিল্লার জন্য দু’টি (কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলার জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন আরও বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীন ন্যূনতম ৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাসমূহ বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালসমূহে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানান্তরিত হবে। কোনো মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, ঠিক সে পর্যায় থেকেই বিচারকার্য পরিচালিত হবে। অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

  • না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের ভেতর দুবার ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ালেন তামিম ইকবাল। প্রথম দফায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তামিম। এরপর গতকাল আরও এক দফা তাদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছেন বিসিবি সভাপতি। কারণ হিসেবে যদিও বলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর কথা, তবে চলমান ঘটনাপ্রবাহে এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে না পারার ক্ষতি পোষাতেই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত।

    বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল না হওয়া এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অবনমন না থাকা ও সুপার লিগ না থাকায় দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সেই ক্ষতি খানিকটা পূরণ করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি। প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তামিম অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর আগেই এসেছে আরেক দফা বৃদ্ধির ঘোষণা— এবার ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ গত মৌসুমের চেয়ে শতভাগের চেয়ে বেশি ম্যাচ ফি বাড়ল ক্রিকেটারদের, সেটিও কোনো ম্যাচ না খেলেই!

    আনুপাতিকভাবে বেড়েছে বিসিবি আয়োজিত ৫০ ও ২০ ওভারের ম্যাচের ম্যাচ ফিও। তামিম বলেছেন, ‘এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।’

    সীমিত ওভারের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা হিসেবে বিসিবি এনসিএল টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডে আয়োজন করে থাকে, তবে তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিসিএলের প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট এবং এনসিএল টি- টোয়েন্টিকে এক ছাতার নিচে এনে নতুন একটি টুর্নামেন্ট চালু করার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

    বিপিএল না হওয়ার ঘোষণার পর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) দেনদরবার করেছে বিসিবির সঙ্গে। বছর দুই আগে তামিম নিজেও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হয়ে সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক কমিয়েও বিপিএলটা আয়োজন করার, অথচ এ বছর কেন এত আগেই হাল ছেড়ে দেওয়া। তামিম বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিই হয়নি আগের বিপিএলে, তাদের কোনো ব্যাংক গ্যারান্টি বা চেক কিছুই জমা নেই বিসিবির কাছে। আমি ফারুক ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম বিপিএল করার জন্য অনুরোধ করতে, এটা যেমন সত্যি; তেমনি সত্যি হচ্ছে কয়েকদিন পর আমি আবার গিয়ে বলেছি দুটি দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি না দিতে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে রাজশাহী। এরপর আপনারাই দেখেছেন কী অবস্থা হয়েছে।’ শুধু আর্থিক লোকসান এড়াতেই যে বিসিবি এ বছর বিপিএল আয়োজন করা থেকে বিরত আছে, ব্যাপারটা তা নয়, ‘আমরা শুধু যে আর্থিক ক্ষতির কারণে বিপিএল করছি না, তা নয়। যদি মাঠে খেলাটা ভালো হতো, খেলোয়াড়রা ঠিকঠাক টাকা পেত, হোটেলগুলো তাদের টাকা পেত, যারা যানবাহন সরবরাহ করেছে তারা টাকা পেত, তাহলে ক্ষতিটা মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু কিছুই যেখানে ঠিক নেই, সেখানে কেন এই টুর্নামেন্ট আমাদের তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামাতে হবে?’

    তামিমের যুক্তির সঙ্গে ক্রিকেটাররাও একমত হয়েছেন, কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বুধবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার যেন উপকৃত হয়, সেটা বেছে নিয়েছি।’

    বিপিএল স্থগিত রাখা নিয়ে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং তামিমের ঘোষণা— এ দুইয়ের ভেতর কোনো যোগসূত্র আছে নাকি ব্যাপারটা নিতান্তই কাকতালীয়, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারী কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ৯৬ ঘণ্টার ভেতর ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বেড়ে গেল।

  • পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    চট্টগ্রামের দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করেছে।

    আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে মিছিল নিয়ে চলে যায় ছাত্রলীগ।

    মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।’ মিছিলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ ও যুবক অংশ নেন।

    পুলিশ লাইনে নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কার্যালয় রয়েছে। পুলিশ কমিশনার লালদিঘির পাড়স্থ নবনির্মিত ভবনের পাশাপাশি দামপাড়া পুলিশ লাইনের অফিসেও মাঝে মধ্যে বসেন।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর হোসেন মামুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘৫ সেকেন্ডের জন্য তারা মিছিল করেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে কাজ চলছে।’

  • যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তির পাঁয়তারা করতে চায় তাদেরকে বয়কট করবো বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘কেউ কেউ ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাই। ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তির রেখা, রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ধর্ম রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসে অনৈতিক সুবিধা লাভের মাধ্যম হতে পারে না। ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তি করতে চাইবে, অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে, তিনি যে রাজনৈতিক দলের নেতা হোক না কেন, বা যে ধর্মের বিশ্বাসী হোক না কেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ করবো। এ ক্ষেত্রে সরকার রাষ্ট্র তো থাকবেই; সামাজিকভাবেও বয়কট করবো।’

    ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজে কেউ বঞ্চিত হবে না এটি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিছক একটি বিশ্বাস, একটি চেতনা। এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চিত করছে- কোনো ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজের কোনো মানুষ পিছিয়ে পড়বে না, ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধা নিতে না পারে; কেউ যেন বঞ্চিত না হতে পারে সেটিও নিশ্চিত করছে বর্তমান সরকার। এই বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে বা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারলে- যেই আশায় আমরা বুঁক বেধেছি ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর সেই আশা নিশ্চয়ই দুরাশায় পরিণত হবে না।’

    জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপাঙ্কর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম, মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ প্রমুখ।

    বক্তব্য শেষে অতিথিরা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। পরে টাউন হল ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের দড়াটানা, গাড়িখানা হয়ে টাউন হল ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

    এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে দিনভর উৎসবমুখর বিরাজ করছে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ভিতর। বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপে চলছে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও আলোচনা সভা।

    এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এ উৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করবে।

  • বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।’

    এ সময় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় বিষয়। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার সুবিধার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নৈতিকতার চর্চা করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।’

    তিনি জানান, তৃণমূলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইনে ও টিভিতে চাইনিজ ও অ্যারাবিক ভাষা শিক্ষার বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

    নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

    সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আমজাদ গাজী (৬৫) ও একই গ্রামের মালেক সরদারের স্ত্রী আসিরন বিবি (৬৫)। সম্পর্কে তারা ফুফু-ভাতিজা।

    হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আমজাদ গাজী তার ফুফু আসিরন বিবিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সকাল সোয়া ১১টার দিকে তারা চেঙ্গুটিয়া এলাকায় মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে পৌঁছান। সেখানে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকটি ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল।

    মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সারির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন আমজাদ গাজী ও আসিরন বিবি।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ফেরদৌস শান্ত বলেন, দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। কিছুক্ষণ পর অন্যজনও মারা যান।

    নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, দ্রুতগতির গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • নিখোঁজ ২ হাজার শিশু ফেরেনি এখনো

    নিখোঁজ ২ হাজার শিশু ফেরেনি এখনো

    দেশের থানাগুলোয় ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এই হিসাব সাত মাসের, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। কিন্তু এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ শিশুর। অর্থাৎ নিখোঁজ হওয়া শিশুদের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো ফেরেনি পরিবারের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয় এসব তথ্য।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জন উদ্ধার হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার হয়েছে, এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৯৭০ জন। নিখোঁজের কারণ হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ছোট শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে, ঠিকানা বলতে না পারায় কিংবা একা বাড়ি ফেরার পথে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। কিশোর -কিশোরীদের ক্ষেত্রে কারণ কিছুটা ভিন্ন। অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক কলহ, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা তাদের বাড়ি ছাড়ার বড় কারণ।

    পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। তবে ২০২৫ সালে আবার বেড়ে হয় ২২ হাজার ৫৫০টি।

  • চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় হাসনা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া এলাকার জিকে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসনা খাতুন মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ী ইউনিয়নের খাড়ারা গ্রামের করিম আলীর স্ত্রী।

    পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে হাসনা খাতুনের শেষ কথা হয়। এরপর তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ঘরে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

    আরও পড়ুন: নাইজারে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ সেনাসহ নিহত ২২

    শুক্রবার সকালে গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় জিকে খালে ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে স্বজনরা সেটি হাসনা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন।

    স্বজনদের অভিযোগ, হাসনা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    চার দিন নিখোঁজ থাকার পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, নিহতের ছেলে থানায় জিডি করার পরদিন আজ খালের পানি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়েছিল পাহাড়ি সৌন্দর্যের রানী বান্দরবানে। আজ রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে সেই বিশেষ পর্বটির কিছু অংশসহ ইত্যাদি’র কয়েকটি পর্ব থেকে নেয়া চমৎকার সব দৃশ্য দিয়ে সাজানো একটি সংকলিত পর্ব। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ইত্যাদি’র বান্দরবান পর্বের একটি নাট্যাংশের মাধ্যমে প্রথম টিভি ক্যামেরার সামনে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খান।

    এই নাট্যাংশটিই ছিল তাদের জীবনের শেষ অভিনয়। এই পর্বে রয়েছে— বান্দরবানের ইতিহাস, ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত, দর্শনীয় ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ওপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। রয়েছে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চঞ্চল কান্তি চাকমার ব্যক্তি উদ্যোগে বয়স্ক ভাতা চালুর ওপর প্রতিবেদন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষক পরিবারের ওপর শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসৈকতের পরিবেশের ওপর রয়েছে সচেতনতামূলক প্রতিবেদন। বাংলা ও মারমা গানের দু’জন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী আঁখি আলমগীর এবং মান মান সিংয়ের কণ্ঠে রয়েছে অনুরাগের গান।

    এ ছাড়াও বান্দরবানের সবুজ-শ্যামল রূপ বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বান্দরবানের ১১টি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি শিল্পীদের সমন্বয়ে শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নানা সামাজিক অসঙ্গতি ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে ইত্যাদি’র বিভিন্ন পর্ব থেকে সংকলন করা বেশ কিছু বিদ্রƒপাত্মক নাট্যাংশসহ এবারো যথারীতি রয়েছে— নানি-নাতি, মামা-ভাগ্নে, দর্শকপর্ব ও চিঠিপত্র বিভাগ। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। পর্বটি প্রচারিত হবে কেয়া কসমেটিকসের সৌজন্যে।