শিরোনাম

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। পেন্টাগন গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা রয়েছে, এমন দুটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানায়।

    সূত্র দুটি জানায়, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এ ছাড়া অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

    তবে এ হিসাব চলমান ইরান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ খরচের খতিয়ান নয়। কেননা, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও ভবন মেরামতের খরচ এতে ধরা হয়নি। গত জুলাইয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইরান যুদ্ধে তখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

    একটি সূত্র জানায়, ইরানে টানা সামরিক অভিযানের পরোক্ষ খরচের বিস্তারিত হিসাব কংগ্রেসকে জানায়নি পেন্টাগন। অথচ মার্কিন আইনপ্রণেতারা পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়েছিলেন।

    পেন্টাগনের দেওয়া ইরান যুদ্ধে এ ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচের হিসাব মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি। সিবিও বলেছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।

    সিবিওর হিসাবেও যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা মেরামতের খরচ ধরা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, মোট খরচের বড় অংশ গেছে যুদ্ধাস্ত্র কেনা ও সেসব ব্যবহারের পেছনে। সিবিও আরও জানিয়েছে, ১ আগস্টের পর ইরান যুদ্ধ চলমান থাকলে প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। লড়াই জোরালো হলে এ খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আইনপ্রণেতাদের সিবিও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এমন এক সময় এ বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ অর্থনীতি নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তাদের প্রথম দিনের হামলাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন নেতা, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

    ইরানও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে। যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধ এখন ছড়িয়ে পড়েছে কার্যত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে।

    যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বেড়ে গেছে জ্বালানির দাম। যুদ্ধ থামাতে ওমান, কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এখনো সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

  • মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাবি শিক্ষক এ কে এম জামাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা তানবীর হাসান সৈকতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি) রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।

    অন্য অভিযুক্তরা হলেন- ঢাবি অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সৈকত।

    অভিযুক্তদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানবীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে আছেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

  • জানাজা শেষে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন

    জানাজা শেষে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে এবং নিহত স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

    আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সোয়া ১১টায় গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুই জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। এ,আর

  • প্রথমবার যে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

    প্রথমবার যে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

    রাজধানীর মিরপুরে বাড়ি দখল, ভাঙচুর, মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রথমবারের মতো পেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে এসআরবিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাদী মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টিকে।

    আদালতের আদেশে বলা হয়েছে- এসআরবি আইনের ১০(গ) ধারায় মাদক, সাইবার অপরাধ, ভূমি ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ভূমিসংক্রান্ত হওয়ায় এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী আদালত মহাপরিচালককে যেকোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। এ কারণে বাদীর নালিশি দরখাস্তটি এসআরবি দিয়ে তদন্ত করা যুক্তিযুক্ত।

    আদেশে আরও বলা হয়, এসআরবি আইনের ১৫(২) ধারা অনুযায়ী মহাপরিচালক ইউনিটে কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয়- এমন কোনো সদস্য দিয়ে মামলাটি তদন্ত করিয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত জমিতে নির্মিত বহুতল ভবনটির মালিক মো. ইউনুস আলী ও রুমা আক্তার সপরিবারে কানাডায় অবস্থান করছেন। তাদের আপন চাচা বাদী মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা তাদের স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    বাদীর অভিযোগ, মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই হেমায়েত উদ্দিন সুমনের নেতৃত্বে আসামিরা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন।

    এ সময় বাধা দিলে আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে হেমায়েত উদ্দিন সুমন বাদীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেন এবং সেখান থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    মামলাটির তদন্তের মাধ্যমে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে এসআরবিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

  • কঠিন হয়ে উঠছে ভারতের দিন

    কঠিন হয়ে উঠছে ভারতের দিন

    রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের চেয়ে বেশি তেল কেনে চীন। নতুন আইনটি চীনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভারতের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর যে চাপ দিচ্ছে, চীনের ওপরও কি একই চাপ দেবে।

    প্রশ্নটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারত বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে। চীনের শক্তি মোকাবিলার কৌশল হিসেবেই ভারত এটি করেছে।

    গত সপ্তাহের শেষ দিকে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যোগ দেন চীনের নেতা সি চিন পিং আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিন নেতা একসঙ্গে ছবি তোলেন। এটি ছিল পশ্চিমাদের বাইরের দেশগুলোর সহযোগিতার স্পষ্ট প্রদর্শন।

    আশঙ্কা ও চুক্তি

    ব্রিকসের বড় দেশগুলোর মধ্যে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার শক্তিশালী কৌশলগত কারণ রয়েছে।

    জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সি রাজা মোহন বলেন, ভারতকে দুটি অস্বস্তিকর বিকল্পের একটি বেছে নিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি কি যুক্তরাষ্ট্রের কড়াই থেকে লাফ দিয়ে চীনের আগুনে পড়তে চান?’

    চীনের শক্তি বাড়ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বড় কারণ রয়েছে ভারতের।

    কিন্তু জ্বালানি ও বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি বদলাচ্ছে। এতে নয়াদিল্লিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা হলেও সেটি কত দিন টিকবে?

    এ বিষয়ে অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্থির না হওয়া পর্যন্ত ভারতের কোনো চুক্তি করা উচিত হবে না।

  • ফেনী কলেজে ছাত্রশিবিরের সিরাত অলিম্পিয়াড, পুরস্কার বিতরণ

    ফেনী কলেজে ছাত্রশিবিরের সিরাত অলিম্পিয়াড, পুরস্কার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ফেনী সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে সিরাত অলিম্পিয়াড ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    রোববার সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমীর মুফতি আবদুল হান্নান।

    ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম।

    ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম মামুন অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী শহর শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের শহর মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম পলাশ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি আবদুল হান্নান বলেন ‘রাসূল সা. জীবনী নিয়ে চর্চা হওয়া প্রয়োজন। রাসূল সা.-এর জীবনী নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। রাসূল সা. যে আদর্শ রেখে গেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত। রাসূল সা. এসেছেন দ্বীন কায়েমের জন্য। তিনি দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করেছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল সা.-এর জীবন অনুযায়ী নিজেদের গড়বো। আমাদের নিজেদের আল্লাহর কোরআন অনুযায়ী গড়তে হবে। আজকের তরুণ প্রজন্ম আগামীর নেতৃত্ব দিবে। এখানে তোমরা যারা আছো তোমরাই আগামীর ভবিষ্যত। তোমরা রাসূল সা.-এর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের গড়বে।’

    প্রধান আলোচক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সা. আমাদের যেভাবে পথ দেখিয়েছেন আমরা আমাদের জীবনকে সেভাবে সাজাবো। আর সেভাবে সাজাতে হলে আল্লাহর পাঠানো কোরআন আমাদের তেলোয়াত করবো। আমরা রাসূল সা. যতগুলো বই আছে, লেখা আছে সব আমাদের পড়তে হবে। আমাদের বেশি বেশি অধ্যয়ন করতে হবে। আমাদের চালচলনে রাসূল সা.-এর আদর্শ থাকা উচিত।’

    অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম পাঁচজনকে নগদ অর্থসহ পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া ৫০ জনকে ক্রেস্ট ও গিফট ব্যাগ দেয়া হয়েছে। এ,আর

  • শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

    শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকবে বলে জানান গালিবাফ।

    তিনি বলেন, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের বার্তা ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ। যতক্ষণ না এই শর্তগুলো পূরণ করা হচ্ছে, ইরানি জাতির বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া কিংবা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক কিছু শর্ত পাঠায় ইরান।

    শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, ‘আমাদের শর্ত হলোÑসব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।’

  • ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ঔপনিবেশিক দেশগুলোর

    ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ঔপনিবেশিক দেশগুলোর

    দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচারের দাবি জোরদার করছে ক্যারিবীয় দেশগুলো। দাবি আদায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আইনি পথেও এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশগুলো। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতেও যাওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

    বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত তিন দিনের এক আঞ্চলিক সম্মেলনে ক্যারিবীয় নেতারা এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি আয়োজন করে ক্যারিকম রিপারেশনস কমিশন, বার্বাডোস সরকার ও ক্যারিকম সচিবালয়।

    ক্যারিবীয় নেতাদের দাবি, আটলান্টিক দাস বাণিজ্য ও দাসপ্রথার ফলে তাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে, তার স্বীকৃতি ও প্রতিকার প্রয়োজন। বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ঐতিহাসিক দায় স্বীকার, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, সাংস্কৃতিক সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং দাসপ্রথার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ও যুক্ত।

    বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোটলি বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্রিটেনকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করা নয়; বরং ঐতিহাসিক অন্যায়ের স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় ক্যারিবীয় অঞ্চলে আফ্রিকানদের শ্রম ও জীবনের ব্যাপক শোষণের কথা তুলে ধরেন।

    ক্যারিকমের সংশোধিত ১০ দফা পরিকল্পনায় ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেরত দেওয়া, দাসপ্রথার কারণে সৃষ্ট বৈষম্য মোকাবিলা এবং নারী ও শিশুদের ওপর দাসপ্রথার বিশেষ প্রভাবের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পনাটিকে ‘রিপারেটরি জাস্টিস’ বা ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের একটি কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

    আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও এবার গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্যারিবীয় নেতাদের আলোচনায় যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইনি উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে জ্যামাইকা ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে একটি আবেদন করেছে। ওই আবেদনে ব্রিটিশ শাসনামলে আফ্রিকানদের জোরপূর্বক জ্যামাইকায় নিয়ে যাওয়া বৈধ ছিল কি না এবং ব্রিটেনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো আইনগত দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আইনি মতামত চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হলো, যুক্তরাজ্য দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেবে না। ফলে ক্যারিবীয় দেশগুলোর নতুন উদ্যোগের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

    দাসপ্রথা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আফ্রিকানদের দাস বাণিজ্য ও বর্ণভিত্তিক দাসপ্রথাকে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। ক্যারিবীয় নেতারা এই সিদ্ধান্তকে তাদের ক্ষতিপূরণ দাবির আইনি ও নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

    এর আগে জুন মাসে ঘানার রাজধানী আক্রায় আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোর নেতারা দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিকতার ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি বৈশ্বিক কাঠামো গ্রহণ করেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিপূরণ, সাংস্কৃতিক সম্পদ ফেরত এবং ঋণের বোঝা কমানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    ক্যারিবীয় নেতাদের এই উদ্যোগের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকে রাজা তৃতীয় চার্লসের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ক্যারিবীয় দেশগুলো সেখানে দাসপ্রথা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচনায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ক্যারিবীয় দেশগুলোর বর্তমান উদ্যোগ তাই শুধু অতীতের দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ দাবি নয়; বরং দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের স্বীকৃতি, বৈষম্য কমানো এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান অবস্থানের কারণে এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে।

  • সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় বিস্ফোরক মামলায় হেমায়েত হোসেন (৫৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হেমায়েত মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাতাগ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল কাগদী বাজারে অভিযান চালিয়ে হেমায়েতকে গ্রেফতার করে। তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সালথা থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

    সালথা থানার ওসি মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় হেমায়েতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নাশকতাসহ থানায় আরো একাধিক মামলা বিচারাধীন। গ্রেফতারকে বিকেলে ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

  • গ্রিনল্যান্ডে সেনা ঘাঁটি স্থাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র

    গ্রিনল্যান্ডে সেনা ঘাঁটি স্থাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে না বলে জানিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকার করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার চুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বহাল থাকবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, চুক্তিটি ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনও বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখা সম্মান করা হবে।

    চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সেখানে নিজস্ব সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঠিক কতটা বাড়বে, কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে কিংবা নতুন কোনো সামরিক স্থাপনা কোথায় তৈরি হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    চুক্তিটির আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও স্পষ্টতা নেই। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের পর এর প্রকৃত পরিধি আরও পরিষ্কার হবে।

    গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলের অত্যন্ত কৌশলগত একটি ভূখণ্ড। এর ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। বরফ গলার কারণে আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথের সম্ভাবনাও বাড়ছে। এসব কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহ বেড়েছে।

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ছিল। বর্তমানে দেশটি গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে পিটুফিক স্পেস বেসে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এই ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্প এর আগে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হয়। পরে ডেনমার্কসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য পাঠায়।

    নতুন চুক্তিটি সেই দীর্ঘ উত্তেজনা কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। জোটটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটি কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংসদীয় অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

    ফলে আপাতত গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনেই থাকছে এবং এর জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও বহাল থাকছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পথ তৈরি হয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ভূমিকা বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে।

  • নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের এক দিন পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে মো: শাকিল (১৪) নামে এক কিশোরের লাশ পাওয়া গেছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের লংকামোড়া এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে লাশটি পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।

    নিহত শাকিল আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মালু মিয়ার ছেলে।

    পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ ও বিজিবি জানায়, শাকিল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে সে নিখোঁজ ছিল। শনিবার রাতে লংকামোড়া এলাকায় লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

    বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, লাশটি সীমান্তের ভারতীয় অংশে থাকায় বিজিবি, বিএসএফ ও দুই দেশের পুলিশের মধ্যে আলোচনার পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভারতে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    তিনি জানান, শাকিল কিভাবে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে পৌঁছাল এবং তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    নিখোঁজ কিশোরের লাশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে উদ্ধারের ঘটনায় আব্দুল্লাহপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে শোক নেমে এসেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।

  • গাজায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে তাবুতে

    গাজায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে তাবুতে

    তিন বছর বন্ধ থাকার পর গাজা উপত্যকায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। তবে যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে স্বাভাবিক শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। স্কুল ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে তাঁবুভিত্তিক অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ। শনিবার গাজা সিটিতে এসব তাঁবুতে শিক্ষার্থীদের পাঠ নিতে দেখা গেছে।

    ফিলিস্তিনের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকাজুড়ে প্রায় ৭০০টি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। এসব অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে এমন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের নিয়মিত স্কুল যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস অথবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে গাজায় প্রায় ৫ লাখ ৪১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং অনলাইন—দুই পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গাজার ভেতরে যারা সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না এবং উপত্যকার বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী গাজার ভেতর থেকে এবং ২০ হাজার শিক্ষার্থী গাজার বাইরে থেকে অনলাইন শিক্ষায় যুক্ত হবে।

    তবে সরাসরি শিক্ষাদানই প্রধান পদ্ধতি হিসেবে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আরো ২৫টি অস্থায়ী স্কুল শিগগির চালু করার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় শিক্ষাদানের কারণে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ও পিছিয়েছে।

    যুদ্ধের আগে গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৯২ শতাংশ স্কুল ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ৫৮ হাজার শিশু যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    যুদ্ধের কারণে শুধু স্কুল ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, শিক্ষা কার্যক্রমের সময়ও ব্যাপকভাবে কমেছে। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৩–২০২৬ সময়ে বছরে স্বাভাবিক ২০০ শিক্ষাদিবস থেকে তা কমে প্রায় ৬০ দিনে নেমে এসেছে। সাপ্তাহিক ক্লাসের সময়ও ৩০ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টায় কমেছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লক্ষ্য শুধু স্কুল পুনর্নির্মাণ নয়; বরং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যা যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া শেখার ঘাটতিও পূরণ করতে পারে। এ জন্য অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, তাঁবু, আংশিকভাবে ব্যবহারযোগ্য স্কুল এবং অনলাইন শিক্ষাকে মিলিয়ে একটি ‘নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ। গাজার আল-আকসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওমর দাহলান মনে করেন, দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল শিক্ষার পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুদের মৌলিক শেখার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, শুধু দ্রুতগতিতে পুরোনো পাঠ শেষ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কোন কোন মৌলিক দক্ষতা হারিয়েছে, তা নির্ণয় করে পৃথকভাবে তা পূরণের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষগুলোতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। গাজার আল-হাদারা স্কুলে শিক্ষার্থীরা ছোট তাঁবুতে দুই শিফটে ক্লাস করে এবং অনেক শিক্ষার্থী মেঝেতে বসে লেখাপড়া করে। পর্যাপ্ত বেঞ্চ-চেয়ার, বই, খাতা, কলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণেরও ঘাটতি রয়েছে।

    তবু দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গাজার নতুন শিক্ষাবর্ষ তাই শুধু পাঠদান পুনরায় শুরুর ঘটনা নয়; যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়া একটি শিক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে সীমিত সম্পদে আবার সচল হওয়ার চেষ্টা করছে, তারও একটি চিত্র হয়ে উঠেছে।

  • পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ চাজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজী মোড় এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের অটোরিকশাচালক কাইউম প্যাদা (৫০), একই ইউনিয়নের বউবাজার এলাকার শিল্পি রাণী (৪০), তার মেয়ে বিথি রাণী (২২) ও গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৌবাজার এলাকার চায়ের দোকানী শিল্পি রাণী তার সন্তানসম্ভবা মেয়ে বিথি রাণীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শনিবার বিকেলে বৌবাজার থেকে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করে পটুয়াখালী যান।

    রাতে ডাক্তার দেখানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার এলাকায় পৌঁছালে বরগুনার তালতলী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলস-এর একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে উভয় গাড়ি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    পরে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা তিনজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঘটনার পর ইমরান ট্রাভেলসের গাড়িটি পটুয়াখালী থানা পুলিশ আটক করেছে।

    গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার স্থান পটুয়াখালী সদর থানায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা পটুয়াখালী থানা নেবে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এক মাসের মধ্যেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—সৌদি ভূখণ্ডে হামলা হলে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান কি সৌদিকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে, নাকি ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাবে?

    ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য শুরু থেকেই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো।

    এর মধ্যেই ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলে অগ্রসর হয়ে গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখল করেছে এবং মোকা এলাকার দিকে এগিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইয়েমেনে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

    সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ৯ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে।

    তবে বক্তব্যের পরও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, মক্কা চুক্তি তখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে যায়নি এবং ইয়েমেনের ভেতরে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসলামাবাদ একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন এবং ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

    পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে জটিল। সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও তাকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। ফলে ইয়েমেনে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক অভিযান শুরু হলে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হলেও ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    এ কারণে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতা এবং ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি হামলা—এই দুই ধরনের পদক্ষেপকে আলাদা করে দেখছে ইসলামাবাদ। সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইয়েমেনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া একই ধরনের সিদ্ধান্ত নয়।

    পাকিস্তানের জন্য ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে পাকিস্তান সরাসরি অংশ নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইসলামাবাদ সৌদি নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ—দুটিকে পৃথক রাখার চেষ্টা করছে।

    এরই মধ্যে সৌদি আরবের দিকে হুথি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। হুথিদের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই এখন এর সামরিক প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ। সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে পাকিস্তান কী ধরনের সহায়তা দেবে—সেটি কি শুধু প্রতিরক্ষা, নাকি প্রয়োজনে ইয়েমেনের ভেতরে হুথি অবস্থানে হামলাও এর অংশ হবে—চুক্তির প্রকাশ্য তথ্য থেকে এখনো তার পূর্ণ উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

    তবে পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান এখন পর্যন্ত স্পষ্ট: মক্কা চুক্তি প্রতিরক্ষামূলক, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের অঙ্গীকার রয়েছে, কিন্তু ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে চুক্তিটির প্রথম পরীক্ষা শুধু সামরিক নয়; সৌদি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে পাকিস্তান কীভাবে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি চাইছে ইসরাইল

    যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি চাইছে ইসরাইল

    সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত উন্নত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার প্রতিবেদনে ইসরাইলের একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দেয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সুবিধা রয়েছে। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য বিক্রির অনুমোদন; চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রক্রিয়া রয়েছে।

    এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। সৌদি আরব চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পারলে দেশটি হবে প্রথম আরব রাষ্ট্র, যারা এ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এফ-৩৫ পরিচালনাকারী একমাত্র দেশ ইসরাইল। ফলে সৌদি আরবকে এ বিমান দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসরাইলের দীর্ঘদিনের সামরিক প্রযুক্তিগত সুবিধা বা ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ইসরাইল এমন কিছু অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র আগে তাদের দিতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশগ্রহণের বিষয় রয়েছে।

    এ ছাড়া গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ‘বাঙ্কার-ব্রেকিং’ অস্ত্র, পাথুরে পাহাড়ের গভীরে পরিচালনাযোগ্য ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় হামলা ব্যবস্থা এবং ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারের মতো সামরিক সক্ষমতাও ইসরাইল চাইতে পারে। তবে ঠিক কোন কোন অস্ত্রের জন্য ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

    ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এফ-৩৫ সৌদি আরবের হাতে গেলেও ইসরাইল তার সামরিক সুবিধা ধরে রাখতে পারবে বলে তারা মনে করেন। এর পেছনে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা এবং দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রযুক্তি এফ-৩৫-এর সঙ্গে যুক্ত করার সক্ষমতাকে কারণ। ইসরাইলি এফ-৩৫ সংস্করণটি ‘আদির’ নামে পরিচিত।

    প্রস্তাবিত সৌদি চুক্তি চূড়ান্ত হলেও দেশটি দ্রুত এফ-৩৫ হাতে পাবে না। চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হলেও প্রথম বিমান সরবরাহ পেতে সৌদি আরবের প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কংগ্রেসে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিক্রির লক্ষ্য সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা। একই নোটিশে মার্কিন সরকার বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন করবে না।

    সৌদি আরবের এফ-৩৫ পাওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সামরিক প্রতিযোগিতা ও যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি নিরাপত্তা সম্পর্কও জড়িত। সৌদি আরব ২০২৫ সালের শুরু থেকেই এফ-৩৫ কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী।

    ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন অস্ত্র চাওয়ার বিষয়টি তাই শুধু একটি অস্ত্রচুক্তির প্রতিক্রিয়া নয়; এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রযুক্তির ভারসাম্য, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রনীতি এবং ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার নীতিও সামনে এসেছে। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো অস্ত্রতালিকা বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।

  • গাংনীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

    গাংনীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ মো: সাকিব আল হাসান (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে গাংনী থানার তেরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার সাকিব গাংনী থানার ওলিনগর গ্রামের মো: সাইফুল ইসলামের ছেলে।

    এসআরবি-১২ মেহেরপুরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিনায়কের নির্দেশনায় সিপিসি-৩-এর একটি আভিযানিক দল তেরাইল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সাকিবকে ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব দীর্ঘদিন মাদককারবারের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

    রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১২, সিপিসি-৩, মেহেরপুরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার।

  • ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৭৩৯১০

    ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৭৩৯১০

    ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ দৈনিক তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্যানুযায়ী গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩,৯১০-এ দাঁড়িয়েছে।

    রোববার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত তিনজনের লাশ গাজার হাসপাতালগুলোতে আনা হয়েছে। এ সময় আরো ২১ জন আহত হয়েছেন।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১,৩৯৩ জনে এবং আহত হয়েছেন ৪,৮২২ জন।

    এতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩,৯১০-এ পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৪,৯৩৫ জন। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি চাপা পড়ে আছেন।

  • সিলেটে ‘অপহৃত’ দুই কিশোর উদ্ধার: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়তেই গা-ঢাকা

    সিলেটে ‘অপহৃত’ দুই কিশোর উদ্ধার: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়তেই গা-ঢাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদরাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি দুই কিশোর। এরপর তাদের অপহরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে থানায় জিডি করেন অভিভাবকেরা।

    এরই মধ্যে একজনের বাবার ইমোতে আসে হাত-পা বাঁধা এক কিশোরকে মারধরের ভিডিও, সাথে মুক্তিপণের দাবি। শেষ পর্যন্ত সেই ‘অপহৃত’ দুই কিশোরের সন্ধান মিলল জৈন্তাপুরের একটি রেস্টুরেন্টে।

    র‍্যাব বলছে, অপহরণ নয়, মাদরাসায় পড়তে অনাগ্রহ থেকেই নিজেরাই গা-ঢাকা দিয়েছিল তারা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড় ৩টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে র‍্যাব-৯-এর একটি দল।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

    উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে মো: সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাইম (১৫) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়বন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো: তামিম আহমদ (১৫)। তারা সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

    র‍্যাব-৯ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় দুই কিশোর একসাথে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তারা আর মাদরাসায় ফেরেনি।

    বিষয়টি অভিভাবকদের জানান মাদরাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে অভিভাবকেরা শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে নাইমের বাবার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে নম্বরবিহীন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল আসে। সেখানে নাইমের মতো দেখতে এক কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়। পরে আরো একটি ভিডিও পাঠানো হয়। এতে দুই কিশোরকে অপহরণের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পর র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারের ওই রেস্টুরেন্টে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকেই উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর জানায়, মাদরাসায় পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল না। তাদের মধ্যে একজন এর আগেও দুইবার মাদরাসা থেকে পালিয়েছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা নিজেরাই জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে চলে যায়। সেখানে ওই রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করে তারা।

    তবে মুক্তিপণের ভিডিও পাঠানোর বিষয়টি এখনো রহস্যের মধ্যে রয়েছে।

    এএসপি কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘ওই দুই কিশোরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের নয় এবং তারাও এমন কোনো ভিডিও পাঠায়নি।’

    তিনি বলেন, ‘শিশু নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অন্য কোনো শিশুর ভিডিও ব্যবহার করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

  • চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম গ্রেফতার

    চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় নুর ইসলাম (৬৭) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার খড়িঞ্চা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    আটক নুর ইসলাম উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা গ্রামের মরহুম নাসির উদ্দীন ভাগা মন্ডলের ছেলে। তিনি স্বরুপদাহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিকে সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

  • চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় বাড়ির নির্মাণকাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তহিদুল ইসলাম (২৪) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত তহিদুল পাশাপোল গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তহিদুল উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে একটি বাড়ির নির্মাণকাজ করছিলেন। কাজের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রুহুল আমিন বলেন, ‘আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান।’

  • বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, নিহত ১

    বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মালেক বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।

    বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বাসটি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে গড়িয়ারপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মালেক মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ওসি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বাস থেকে ইয়াবাসহ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গায় বাস থেকে ইয়াবাসহ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় বাসে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনালে এ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দেলোয়ার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যান্ডবি পাড়ার মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি আলমডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাস টার্মিনালে অবস্থানরত পূর্বাশা পরিবহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় দেলোয়ারকে দুই হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। এসব মাদক পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।

  • মিরসরাইয়ে বিধবা প্রনতি রাণীর বসতঘরে আগুন, শেষ আশ্রয়ও পুড়ে ছাই

    মিরসরাইয়ে বিধবা প্রনতি রাণীর বসতঘরে আগুন, শেষ আশ্রয়ও পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বিধবার বসতঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাছড়া এলাকার মহাজন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    আগুনে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে স্বামীর ভিটায় থাকা ৬৮ বছর বয়সী প্রনতি রাণী দাশের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে গেছে।

    প্রনতি রাণী দাশের অভিযোগ, সম্পত্তি বিরোধের জেরে এর আগে তার লাগানো গাছপালা কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিরসরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযোগ দেয়ার আট দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়নি। এর মধ্যেই তার বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রনতি রাণী জানান, তার স্বামী অমরেন্দ্রে দাশ রায় ওরফে দুলাল ২০১৫ সালে মারা যান। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছেন তিনি। স্বামীর নামে থাকা তফসিলভুক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে তাদের বিরোধ চলছে।

    গাছ কাটার ঘটনায় থানায় দেয়া অভিযোগে চোটন কর্মকার (৩৭), মো: সোহেল, আজিম উদ্দিন ও আজাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করেন প্রনতি রাণী। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে গাছপালা কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

    প্রনতি রাণী বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বারবার মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে। আদালতও রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা তা মানছে না। গাছ কাটার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন রাতের আঁধারে আমার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে উচ্ছেদ করে জমি দখল করতেই এসব করা হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ঘটনার সাথে আগের গাছ কাটার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

    এদিকে বিরোধ মীমাংসায় ১৯ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে জানান মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দীন।

    তিনি বলেন, দুই পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি এবং তার পক্ষের একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা ছিল। তবে প্রনতি রাণী বৈঠকে উপস্থিত হলেও অপর পক্ষ উপস্থিত হয়নি।

    গাজী নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘প্রনতি রাণীর ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমি তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

    অভিযোগের বিষয়ে চোটন কর্মকার বলেন, ‘আজকের বৈঠকের বিষয়ে আমি জানতাম না। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ প্রনতি রাণী দাশ ও সুমনের মধ্যে। সুমনের সাথে আমার সম্পর্কের কারণে বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি সম্পৃক্ত হয়েছি। এখন আমাকে বিবাদী করে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

    মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘরে আগুন দেয়ার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। ১৪ সেপ্টেম্বর গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বলতে পারেননি তিনি। তবে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর বিষয়টি জানানো হবে।’

  • সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ শনিবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘এনএসডি-এর গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।’

    তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়

    তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।’

    সভায় এনএসডি-এর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

    সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • একের পর এক ৯ নারীর লাশ, একই কায়দায় হত্যা

    একের পর এক ৯ নারীর লাশ, একই কায়দায় হত্যা

    দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় শহর এখুরুলেনিতে একের পর এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে নয়জন নারীর লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    সর্বশেষ নিহতদের একজন ৩৮ বছর বয়সী দিনেও মোটাপানে। দুই সন্তানের এই মাকে গত রোববার দেখা গিয়েছিল। পরে এখুরুলেনির একটি আবাসিক এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং লাশটির কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছিল।

    দিনেওর লাশ শনাক্ত করার তার ভাগনি নকওয়ান্ডা মাতশিকিজা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কী করতে যাচ্ছি, আমার কোনো ধারণা নেই। কিন্তু কিছু একটা পরিবর্তন হতেই হবে।’

    তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের জন্য, অন্য সব নারীর জন্যও—আর কতগুলো লাশ পাওয়া গেলে কিছু একটা করা হবে?’

    দিনেওর মেয়েকে একসময় তার মায়ের মৃত্যুর নির্মম ঘটনা জানাতে হবে—এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নকওয়ান্ডা। তিনি বলেন, ‘আপনি কীভাবে বোঝাবেন যে তার অভিভাবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, একটি মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে এবং আবর্জনার মতো ফেলে দেওয়া হয়েছে?’

    তার ভাষায়, এমন ঘটনা মেনে নেওয়া বা তা থেকে কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব নয়।

    দিনেওর মৃত্যুর আগে একই এলাকায় আরও কয়েকজন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। জুলাই থেকে পাওয়া নয়টি লাশের মধ্যে পাঁচটিই এখুরুলেনির কেম্পটন পার্ক এলাকায় পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী দোকানকর্মী ইতুমেলেং। তাকে সর্বশেষ জীবিত দেখার ১৭ দিন পর জুলাইয়ে একটি সেতুর ওপর তার লাশ পাওয়া যায়। গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকা ওই নারীর শরীরে তখন আংশিক পোশাক ছিল।

    ইতুমেলেংয়ের ভাই থেম্বা কেকানাও বলেন, ‘আমরা শোকে ভেঙে পড়েছি। আমার বোনের ছোট মেয়ের দিকে তাকালে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি জানি, তার এই কষ্ট আমি কখনোই দূর করতে পারব না।’

    তিনি বলেন, কোনো পরিবারেরই তাদের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।

    এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর তাকে আটক করা হয়। তবে ইতুমেলেং, দিনেওসহ এখুরুলেনিতে নিহত অন্য নারীদের ঘটনায় আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    নিহতদের বেশিরভাগই ২০ ও ৩০-এর কোঠার তরুণী। তাদের অনেকের শরীরেই মৃত্যুর আগে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

    তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সিরিয়াল কিলার রয়েছে কি না। তদন্তকারীদের ভাষ্য, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র নাও থাকতে পারে।

    তারপরও ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দীর্ঘদিনের সংকট নতুন করে সামনে এসেছে। দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার হার বিশ্বের অন্যতম বেশি।

    দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ প্রতি তিন মাসে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৫ হাজার ৪২৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। সরকারি পরিসংখ্যানে ভুক্তভোগীদের লিঙ্গভিত্তিক আলাদা হিসাব দেওয়া হয় না। তবে দেশটির মানবাধিকার কমিশনের হিসাবে, ওই তিন মাসে ৫৬৯ জন নারী নিহত হয়েছেন—গড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয়জন। একই সময়ে ১ হাজার ৫২ জন নারী হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন।

    সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় আগে থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা অনেক নারী আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে।

    গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে সময় সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী নকুজোলা সিসি তোলাশে বলেছিলেন, জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা বাড়বে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ হয়, যার মধ্যে ‘উইমেন্স শাট ডাউন’ কর্মসূচিও ছিল।

    এবার আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে নারীকে লিঙ্গের কারণে হত্যার ঘটনাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে আইনে স্বীকৃতি দেওয়া। সংগঠনটির দেশীয় পরিচালক শেনিলা মোহাম্মদের মতে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে ‘নারী-হত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সমস্যাটির প্রকৃত ব্যাপকতা পরিমাপ ও মোকাবিলায় আরও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

    অ্যামনেস্টির দাবি, আফ্রিকার গ্যাবন ও মরক্কোসহ ৩৩টি দেশে নারী-হত্যা নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।

    এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এখুরুলেনির হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে কোনো দিক অযত্নে রাখা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি জাতি হিসেবে নারী ও মেয়েদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

    লিঙ্গ ও সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক কর্মী লেবোগাং রামোফোকো মনে করেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রা আরও গভীর একটি সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের প্রতি সহিংসতার পেছনে উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্যের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারও রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এর অর্থ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষরা স্বভাবগতভাবে সহিংস—এমন দাবি করা নয়; বরং দীর্ঘদিনের সহিংস সামাজিক ব্যবস্থার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

    কেম্পটন পার্ক এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা লুমকা মাকহুবেলা গার্ল২উম্যান ফাউন্ডেশনের সদস্যরা এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।

    সংগঠনটির সদস্যদের একজন বলেন, ‘আমরা শোকাহত, আমরা ভীত। পুলিশ যদি আর আমাদের সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে সরকারের এগিয়ে এসে কিছু করা উচিত।’

    তার কথায়, শুধু আরও সতর্ক থাকতে বললে হবে না; মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোকে নিরাপদ করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    এলাকার নারীদের মধ্যেও আতঙ্ক স্পষ্ট। ৩২ বছর বয়সী থুলিসিলে সিবান্দে বলেন, দোকানে যাওয়ার সময়ও তাকে চারপাশে তাকাতে হয়। তার ভাষায়, ভয় এতটাই বেড়েছে যে সেটি একধরনের মানসিক আঘাতে পরিণত হয়েছে।

    ৬০ বছর বয়সী থেম্বি মাবেনা নিহত দিনেও মোটাপানের একই এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি বলেন, দিনেও প্রতিদিন সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। এখন তিনি উদ্বিগ্ন। তার পরিচিত অনেক শিশু ও তরুণী একা দোকানে যেতেও ভয় পায়।

    ২০ বছর বয়সী লেরাতো মজিজির কথায়, পরিস্থিতির ভয়াবহতা যেন এক বাক্যেই ধরা পড়ে—‘দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীরা আর নিরাপদ নন।’

  • আবারো বিদ্যুৎহীন কিউবা, অন্ধকারে মানুষ

    আবারো বিদ্যুৎহীন কিউবা, অন্ধকারে মানুষ

    কিউবায় আবারো বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার দেশটির পুরো বিদ্যুৎ গ্রিডে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা’ দেখা দিলে লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    কিউবার গ্রিড অপারেটর ইউনিওন ইলেকট্রিকা (ইউএনই) জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টার কিছু আগে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। মধ্য কিউবার খারাপ আবহাওয়ার পাশাপাশি একটি ট্রান্সমিশন ত্রুটিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিপর্যয়ের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে রাজধানী হাভানার হাসপাতাল ও পানি সরবরাহের পাম্পিং স্টেশনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। তবে শনিবারও দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনের কাজ চলছিল।

    ইউএনইর জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ বিভাগের পরিচালক ফেলিক্স এসত্রাদা বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ‘ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের’ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

    চলতি বছরেই অন্তত ষষ্ঠ বড় বিপর্যয়

    এটি চলতি বছরে কিউবায় আঘাত হানা অন্তত ষষ্ঠ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ বিপর্যয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো, জ্বালানি সংকট এবং জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দেশটির বিদ্যুৎব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে।

    কিউবা জ্বালানির বড় একটি অংশ আমদানি করে। দেশটির জ্বালানি সংকট আরো তীব্র হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও তেল সরবরাহে বাধার বিষয়টি উল্লেখ করেছে হাভানা। একই সময়ে খাদ্য ও ওষুধের সংকটও বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি কার্যালয়ের কার্যক্রমেও।

    হাভানার বাসিন্দা ফ্র্যাঙ্ক লরেঞ্জো রয়টার্সকে বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়াটা এখন অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, এর আগে এমন ঘটনা মাসে একবারের মতো ঘটলেও সম্প্রতি পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

    ৩৬ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষিকা লিডিয়া ফার্নান্দেজ এএফপিকে বলেন, বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি ও রান্নার গ্যাসের সংকটও তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ৭৮ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তার বাড়ি টানা ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

    বিদ্যুৎ সংকটে বিক্ষোভ

    বারবার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে কিউবায় বিরল কিছু বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। দেশটিতে অনুমোদনহীন বিক্ষোভ বেআইনি এবং এ ধরনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। কিউবার সরকার দেশটির জ্বালানি সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছে। ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তেল সরবরাহে বাধাকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে হাভানা।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। ওয়াশিংটন কিউবার সরকারকে ঘিরে আরও ব্যাপক চাপ প্রয়োগের নীতিও অনুসরণ করছে।

    ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাড়তি চাপ

    কিউবার জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলার। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা কিউবাকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ করত, যা দেশটির মোট প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক। তবে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পর কিউবায় সেই সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাভানায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া কিউবার উদ্দেশে যাওয়া কয়েকটি তেলবাহী চালান যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করেছে। ফলে পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো, জ্বালানি ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ—সব মিলিয়ে কিউবার বিদ্যুৎব্যবস্থা এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। শুক্রবারের সর্বশেষ বিপর্যয় সেই সংকটকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • ৩০ হলেই টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা: পেন্টাগন

    ৩০ হলেই টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা: পেন্টাগন

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি সদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নীতি আবারও চালু করা হয়েছে। আগে এ নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ নীতির নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উদ্যোগে নীতিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    গত জুলাইয়ে হেগসেথ প্রথম এ নীতি ঘোষণা করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য ‘টেস্টোস্টেরন ঘাটতি’ শনাক্ত করা এবং সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই পরীক্ষা প্রয়োজন।

    অনলাইনে বিভিন্ন পডকাস্ট ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রভাবশালীদের মধ্যেও টেস্টোস্টেরন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তাদের কেউ কেউ স্বাস্থ্য ও পেশি বৃদ্ধির জন্য টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন ব্যবহারের প্রচার করছেন। পেন্টাগনের নতুন উদ্যোগও এ ধরনের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে হেগসেথ বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সেনাসদস্যদের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ভিত্তি নিশ্চিত করা।

    তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা এ কর্মসূচিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাদের আশঙ্কা, ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে টেস্টোস্টেরনভিত্তিক চিকিৎসার কারণে সেনাসদস্যদের বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে পেন্টাগন গত সেপ্টেম্বরে নীতিটির আগের সংস্করণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তখন বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় কিছু হালনাগাদ করার জন্য এটি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা শুধু পুরুষ সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্ত করতে অভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বার্ষিক মূল্যায়নের সময় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করা হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সি সেনাসদস্যরাও চাইলে এই পরীক্ষা করার অনুরোধ জানাতে পারবেন।

    সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে হেগসেথ বিভিন্ন নীতিতে জোর দিচ্ছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ডানপন্থী সাংস্কৃতিক বিতর্কের বিষয়গুলো সামরিক বাহিনীতে নিয়ে আসা হচ্ছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে এমন কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

    হেগসেথ বলেন, আমরা অস্ত্র ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যুদ্ধপ্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছি। তবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা সবসময়ই থাকবেন একজন একজন করে যুদ্ধরত সেনাসদস্য।

  • নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া

    নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া

    রাশিয়ায় নেসলে ও ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অশাঁনের সম্পদ জব্দ করেছে ক্রেমলিন। দেশটিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, অশাঁন ও নেসলে ‘বন্ধুত্বহীন দেশের ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান’। তাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর এক দিন আগে প্রেসিডেন্টের জারি করা এক ডিক্রিতে প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ডিক্রি অনুযায়ী, নেসলে ও অশাঁনের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ দেশটির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টের সাময়িক নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে।

    কিটক্যাট চকলেট ও নেসক্যাফে কফির উৎপাদক নেসলে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করছে। বিশ্বের অন্যতম বড় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটির রাশিয়ায় এখনো ছয়টি স্থাপনা রয়েছে। সেখানে ৭ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন।

    ২০২১ সালে রাশিয়ার বাজার থেকে নেসলের মোট বিক্রির প্রায় ২ শতাংশ এসেছিল। ওই বছর দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা প্রায় ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।

    এক বিবৃতিতে নেসলে বলেছে, নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসার কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রাশিয়ায় সম্পদ জব্দের খবর প্রকাশের পর জুরিখের শেয়ারবাজারে নেসলের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমেছে।

    অশাঁন রাশিয়ায় খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য ও ইলেকট্রনিকস বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় অশাঁনের ২৩০টি দোকান রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যবসা পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশটিতে তাদের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী রয়েছেন।

  • মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১

    মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার সংবাদ আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

    তিনি জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরো তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, নিউ বলেশ্বর নামের বাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে প্রাইভেটকারটি মায়ামি রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।

  • ১০ জনে ৩ জন শতায়ু : উদ্বেগে জাপান

    ১০ জনে ৩ জন শতায়ু : উদ্বেগে জাপান

    জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শতায়ু মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৭ হাজার ৯১৪ জন বেশি। টানা ৫৬ বছর ধরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শতায়ুদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। খবর আলজাজিরার।

    জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উএনো বলেছেন, ‘অনেক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবন যাপন করছেন, এতে আমি খুবই আনন্দিত।’ তিনি চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তবে এ অর্জনের আড়ালে রয়েছে একটি বড় জনমিতিক সংকট। জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও জন্মহার কমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ফলে দেশটিকে ক্রমশ ছোট হয়ে আসা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করে পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

    দ্রুত বার্ধক্যের দিকে জাপান

    বর্তমানে জাপানের প্রায় প্রতি ১০ জন বাসিন্দার মধ্যে তিনজনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জাপানে ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ লাখের বেশি, অথচ জন্ম নিয়েছে মাত্র ৭ লাখ শিশু।

    এদিকে দেশটির জনসংখ্যাও দ্রুত কমছে। প্রাথমিক আদমশুমারির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৪৫টিতেই জনসংখ্যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় কমেছে। কেবল টোকিও ও ওকিনাওয়ায় জনসংখ্যা বেড়েছে।

    জাপানের জনসংখ্যা ২০০৮ সালে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালে তা কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে আসবে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস।

    কেন বেশি দিন বাঁচছেন জাপানিরা?

    গবেষকদের মতে, জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বিত প্রভাব এতে ভূমিকা রাখছে।

    প্রচলিত জাপানি খাদ্যতালিকায় মাছ, শাকসবজি ও ভাতের পরিমাণ বেশি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট তুলনামূলক কম। ফলে স্থূলতার হারও পশ্চিমা অনেক দেশের তুলনায় অনেক কম।

    এ ছাড়া হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারের অভ্যাস জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বয়স্করাও নিয়মিত এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। দলগত ব্যায়াম চর্চাও সেখানে জনপ্রিয়।

    জাপানের সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা ও ওষুধের সুযোগ নিশ্চিত করেছে, যা মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    দীর্ঘায়ু কেন নতুন চ্যালেঞ্জ?

    বিশ্বের অন্যতম নিম্ন জন্মহারের দেশ জাপান। ২০২৫ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার নেমে এসেছে রেকর্ড ১ দশমিক ১৪-এ। অথচ স্থিতিশীল জনসংখ্যা ধরে রাখতে সাধারণত এ হার ২ দশমিক ১ হওয়া প্রয়োজন। এর ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, কিন্তু পেনশন, চিকিৎসা ও বয়স্কদের সেবার প্রয়োজন বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

    জন্মহার বাড়াতে সরকার শিশুভাতা, ভর্তুকিযুক্ত শিশুসেবা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা চালু করেছে। তবে এখনো এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারা বদলাতে পারেনি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে কম বয়সিদের মধ্যে বিয়ে কমে যাওয়া, দেরিতে বিয়ে করা, অনিশ্চিত চাকরি, স্থবির মজুরি এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে পরিবার গঠন কঠিন হয়ে উঠছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও গৃহস্থালি ও সন্তান লালনের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ না হওয়ায় অনেক নারীর জন্য কর্মজীবন ও মাতৃত্ব একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    অর্থনীতিতে প্রভাব

    কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ায় আয়কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অবদান রাখা মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয় বাড়ছে। এ কারণে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে এবং তরুণ কর্মীদের ওপর করের বোঝাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    শ্রমিক সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তরুণরা শহরমুখী হওয়ায় অনেক অঞ্চলে জনশূন্যতা ও সেবার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

    শুধু জাপান নয়, বাড়ছে বৈশ্বিক বার্ধক্য

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, মানুষের আয়ু বৃদ্ধি মানবজাতির অন্যতম বড় অর্জন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির কারণে মৃত্যুহার কমেছে এবং অধিকাংশ মানুষ এখন ৬০ বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন।

    ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর, যা ১৯৯৫ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ বছর বেশি। ২০২৩ সালের ১১০ কোটি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৪০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

    তবে বার্ধক্যের প্রবণতা সব দেশে সমান নয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাপানের মধ্যম বয়স ছিল ৪৯ বছর, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইতালিতে এ হার ৪৭ দশমিক ৫ বছর, পর্তুগালে ৪৬ দশমিক ২, গ্রিসে ৪৫ দশমিক ৭ এবং জার্মানিতে ৪৫ দশমিক ১ বছর।

  • গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় সৈকত হোসাইন (২৩) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপভ্যানের এক সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার সকালে কড্ডা এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে দ্রুতগামী পিকআপভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সৈকত হোসাইন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া মোল্লাবাড়ী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে টাঙ্গাইল অভিমুখে গমনকারী একটি পিকআপভ্যান কড্ডা এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক সৈকতের মৃত্যু হয়।

    এদিকে পিকআপভ্যানের আহত সহকারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক ও পিকআপভ্যান দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    কোনাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্বাস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিজিবি’র

    মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিজিবি’র

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কালাকুমা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার কালাকুমা নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ টাকা।

    মাদক নির্মূলে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বলে বিজিবি জানায়।

    সীমান্তে মাদক, চোরাচালানি মালামাল ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র!

    গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র!

    গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণ নিয়ে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক দ্বীপটির নিরাপত্তা বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

    ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ‘স্থায়ী’ সক্ষমতা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তার দাবি, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে না এবং সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও মার্কিন অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

    ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। তবে কার্যকর হওয়ার আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফ্রেডেরিকসেনের ভাষ্য, এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেনও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির স্বার্থ ও অবস্থানকে স্বীকৃতি দেবে।

    কী আছে চুক্তিতে?

    চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত নথি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ঘাঁটি, প্রবেশাধিকার ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার আরও স্থায়ী ভিত্তিতে নিশ্চিত করার বিষয়টি চুক্তির কাঠামোর অংশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলেও কার্যকর থাকবে—এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ দ্বীপটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে পরিবর্তন এলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক-সংক্রান্ত অধিকার অব্যাহত রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

    এ ছাড়া ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিনিয়োগ সীমিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশকে কেন্দ্র করে এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিধি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বক্তব্যে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সতর্ক ভাষায় এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করছে না এবং দ্বীপটির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের কাছেই থাকছে।

    কেন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এত আগ্রহ ট্রাম্পের?

    গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলে এর ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত গুরুত্ব এবং বিপুল খনিজসম্পদ—সব মিলিয়ে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে।

    বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজের মজুত রয়েছে, যার অনেকগুলো এখনো বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা হয়নি। মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ।

    এই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলে আসছেন। এমনকি দ্বীপটি দখলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। এসব মন্তব্য ডেনমার্ক ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

    ১৯৫১ সালের চুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক

    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫১ সালে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পিটুফিক স্পেস বেসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

    নতুন চুক্তি ওই পুরোনো কাঠামোর ওপর কতটা পরিবর্তন আনছে, তা পুরো নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, এটি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের স্থায়ী সমাধান করেছে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তির আওতায় তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বহাল থাকবে।

    চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় সংসদীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই কার্যকর হবে। ফলে এর সুনির্দিষ্ট শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রকৃত পরিধি পুরোপুরি বোঝার জন্য চূড়ান্ত নথি প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তার ননদ চামেলী আক্তারকে (২৫) ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারের পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চামেলী আক্তার বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের মরহুম ইয়াছিন আলীর মেয়ে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মা রেনু বেগম বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে মুন্নি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জা-সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরো পাঁচজনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়।

    মামলা দায়েরের পর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বড়লেখা থানার এসআই শেখ কামরুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আবদুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

    পুলিশ জানায়, প্রায় ৪৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা থেকে চামেলী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

    বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান চামেলী আক্তারের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর শনিবার সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের কেউ ঠিক করতে পারে না

    মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের কেউ ঠিক করতে পারে না

    মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা কোনো বাইরের দেশের চাওয়া বা নির্দেশে তৈরি হতে পারে না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল টাউন হল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বরাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আফসোস করে বলেন, বড় বড় শক্তিশালী দেশগুলো যখন নিজেদের স্বার্থের জন্য আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে ফেলে, তখন আর নিয়ম-কানুনের কোনো দাম থাকে না। জাতিসংঘসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যদি এসব অন্যায় আর আক্রমণের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে না দাঁড়ায়, তবে মানুষ তাদের ওপর থেকে একেবারেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।

    পৃথিবীকে সুন্দরভাবে চালাতে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে পারস্পরিক আলোচনার গুরুত্ব বেশি বলে মনে করেন আরাগচি। যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই থেমে থাকে না, তা বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের খরচ চালাতে সাধারণ মানুষকে ট্যাক্স দিতে হয়, কিন্তু সবচেয়ে বড় মাশুল দিতে হয় সাধারণ জীবন দিয়ে। মানুষ নিজের জীবন, রক্ত, ঘরবাড়ি ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।

    নিরাপত্তার আসল সমাধান কোথায় তা ব্যাখ্যা করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি কিংবা তাদের গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে কখনোই শান্তি আসতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস বাড়াতে হবে, একে অপরকে সম্মান জানাতে হবে এবং একসঙ্গে বসে কথা বলতে হবে।

  • চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    চৌগাছায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় আবুল কাশেম (৬৫) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আড়ারদহ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার কাশেম উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের আড়ারদহ গ্রামের মরহুম আমিনুল্লাহর ছেলে। তিনি ফুলসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন।

    পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিকে শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

  • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ২০৩১পর্যন্ত

    ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ২০৩১পর্যন্ত

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই আইনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও অন্যান্য বিধিনিষেধ বৃদ্ধি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের ‘এইচআর ৫৩৩৪’ বিলে সই করেন। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সময়সীমা বৃদ্ধি করার সুযোগের পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন আইনে ১৯৯৬ সালের ‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’ আরও পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এর ফলে ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ আইনে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ধরনের মধ্যে রয়েছে—দেশটির পেট্রোলিয়াম কেনা, পরিবহন, অর্থায়ন, বিমার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা ও পেট্রোলিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ।

    এদিকে নতুন ও আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে তেহরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ চীনে যায়। ইরানের তেল বিক্রি ও পরিবহনে ভূমিকার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও ভারতের তেল ব্যবসায়ী, জাহাজ কোম্পানি ও ট্যাংকার পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সুযোগ ও ডলারে লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

    এ সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে থাকা বিদেশি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও আগামী পাঁচ বছরের (২০৩১ সাল) জন্য বহাল থাকবে।

    আইনটির নামকরণ করা হয়েছে গত জুলাইয়ে মারা যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জোরালো সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন। এ আইন পাসের জন্যও কাজ করেন তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    চুয়াডাঙ্গায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের চেম্বার অব কমার্স ভবন প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাগর আহমেদের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনাস ইবনে মনির।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আনোয়ারুল হক মালিক ও শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ জামিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও এটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, সৎ চরিত্র ও মানবিক গুণাবলিতে বলীয়ান হতে হবে। শিক্ষার সাথে আদর্শিক চরিত্রের সমন্বয় ঘটলেই অর্জিত মেধা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

    বক্তারা শিক্ষার্থীদের আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে নিজেদের সৎ, দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় ফেরার চেষ্টা চলছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় ফেরার চেষ্টা চলছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি জেইনিভান্দ। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে জেইনিভান্দ বলেন, ইরান চাইছে এই সমঝোতার আওতায় অপর পক্ষ যেন তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলে।

    ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি এমন একটি সমঝোতা, যা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা নিশ্চিত করেছেন। একে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।’

    তিনি আরো বলেন, ভারত ও কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই ও ব্রিকস সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং নিবিড় আলোচনার মধ্য দিয়ে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    কয়েক দশকের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওই মুখপাত্র বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে এবং সব কর্মকর্তা এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • যেভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয়

    যেভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয়

    ব্যালন ডি’অরের লড়াই যতই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি প্রশ্ন—বিশ্বসেরা ফুটবলার নির্বাচনে আসলে কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়? গোল, অ্যাসিস্ট ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই কি শেষ কথা, নাকি দলের হয়ে জেতা ট্রফিরও বড় ভূমিকা রয়েছে?

    বাস্তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো একটি পরিসংখ্যানই চূড়ান্ত নির্ধারক নয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্য, সেই সাফল্যে খেলোয়াড়ের অবদান, মাঠের আচরণ ও ফেয়ার প্লের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর সামনে রেখে তাই লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি ও রদ্রির মতো তারকাদের নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত কে পুরস্কারটি জিতবেন, তা নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট ভোটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

    যেভাবে বেছে নেওয়া হয় বিজয়ী

    ব্যালন ডি’অরের আয়োজন করে ফ্রান্স ফুটবল। ২০২৪ সাল থেকে উয়েফাও এই আয়োজনের সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। প্রথমে ৩০ জন ফুটবলারের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রত্যেকটি থেকে একজন করে বিশেষায়িত সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

    প্রতিটি ভোটার ৩০ জনের তালিকা থেকে নিজের পছন্দের সেরা ১০ খেলোয়াড়কে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। এরপর অবস্থান অনুযায়ী এই ক্রমানুসারে দেওয়া হয় পয়েন্ট-

    • প্রথম পছন্দ: ১৫ পয়েন্ট
    • দ্বিতীয়: ১২ পয়েন্ট
    • তৃতীয়: ১০ পয়েন্ট
    • চতুর্থ: ৮ পয়েন্ট
    • পঞ্চম: ৭ পয়েন্ট
    • ষষ্ঠ: ৫ পয়েন্ট
    • সপ্তম: ৪ পয়েন্ট
    • অষ্টম: ৩ পয়েন্ট
    • নবম: ২ পয়েন্ট
    • দশম: ১ পয়েন্ট

    সব ভোটারের দেওয়া পয়েন্ট যোগ করার পর যার স্কোর সবচেয়ে বেশি হয়, তিনিই হন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী।

    দুই বা তার বেশি খেলোয়াড়ের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হয়, কার পক্ষে সবচেয়ে বেশি প্রথম পছন্দের ভোট রয়েছে। সেখানেও সমতা থাকলে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট, এরপর তৃতীয় পছন্দসহ ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী অবস্থানের ভোট বিবেচনা করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

    কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

    ব্যালন ডি’অরের মূল্যায়নে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স:
    মাঠে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব কতটা ছিল, তার পারফরম্যান্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী—এটি মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। গোল, অ্যাসিস্টসহ সামগ্রিক নৈপুণ্য এখানে বিবেচনায় আসে।

    দলীয় সাফল্য:
    ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়ের অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ট্রফি জেতাই যথেষ্ট নয়; সেই সাফল্যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অবদান কতটা ছিল, সেটিও বিবেচনা করা হয়।

    আভিজাত্য ও ফেয়ার প্লে:
    মাঠে খেলোয়াড়ের আচরণ, খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা এবং ফেয়ার প্লে-ও মূল্যায়নের অংশ। অর্থাৎ একজন ফুটবলারের সামগ্রিক আচরণও ব্যালন ডি’অরের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাই ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে শুধু গোলসংখ্যা কিংবা ট্রফির হিসাব দিয়ে সবকিছু নির্ধারণ হয় না। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলের সাফল্যে অবদান এবং মাঠের আচরণ—সবকিছুর সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভোটাররা তাদের পছন্দের খেলোয়াড়কে বেছে নেন।

  • ইরানি ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল করল তুরস্ক

    ইরানি ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল করল তুরস্ক

    ইস্তাম্বুলে ইরানের অন্যতম বড় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স বাতিল করেছে তুরস্ক। শনিবার ভোরে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ‘ব্যাংক মেল্লাতের’ লাইসেন্স বাতিলের তথ্য জানানো হয়।

    তুরস্কের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানভিত্তিক ব্যাংক মেল্লাত দেশটির সরকারকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভিত্তিক উন্মুক্ত ডেটাবেস ওপেনস্যাংশনস জানিয়েছে, ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

    ডেটাবেসটির তথ্য অনুযায়ী, ইরান সরকারই ব্যাংক মেল্লাতের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার।

    ব্যাংকটির লাইসেন্স বাতিলের সময় তুরস্কের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশটির ব্যাংকিং আইনের ৭১ (বি) ধারা উল্লেখ করেছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা ‘আমানতকারী ও অংশগ্রহণ তহবিলের মালিকদের অধিকার এবং আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ তৈরি করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে তুরস্কের একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দুই সপ্তাহ পর ব্যাংক মেল্লাতের বিরুদ্ধে তুরস্কের এই পদক্ষেপ এলো।

    তবে তুরস্কের ব্যাংকটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক মেল্লাতের লাইসেন্স বাতিলের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

  • মক্কায় হামলা মহাপাপ :হারামাইন ইমাম

    মক্কায় হামলা মহাপাপ :হারামাইন ইমাম

    মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মক্কার মসজিদ আল-হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর দুই ইমাম। এ হামলাকে মহাপাপ এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন তারা।

    মসজিদ আল-হারামের ইমাম শেখ বান্দার বালিলাহ বলেন, পবিত্র স্থান ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা ‘রেড লাইন’, এটা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। । তিনি বলেন, পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হামলা ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

    তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাদের পবিত্রতম স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলার মতো কর্মকাণ্ড পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং নিরপরাধ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।

    বালিলাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং তার নবীর মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করার দুঃসাহস দেখায়, তাদের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।’

    অন্যদিকে মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মুহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা-মদিনাকে হুমকির মুখে ফেলা এই হামলা এমন এক ধরনের সন্ত্রাসবাদের বহিঃপ্রকাশ, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং মুসলমানদের রক্ত ঝরানোকে বৈধতা দেয়।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভূপাতিত করে। জোটের দাবি, এটি মক্কা লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা; এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

  • ইউরোপে তেল কমাচ্ছে সৌদি?

    ইউরোপে তেল কমাচ্ছে সৌদি?

    সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের তেল সরবরাহ নতুন করে চাপে পড়েছে। দীর্ঘ সময় পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে ইউরোপের শোধনাগারগুলোকে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে হবে। এতে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। বাড়তে পারে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দামও।

    সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ১০ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়। হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথি ও ইরাকের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।

    প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন ১৯৮১ সালে চালু হয়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছাতে এটি ব্যবহার করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল সরবরাহের সুযোগ থাকে।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সৌদি পাইপলাইনটি ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। বন্ধ হওয়ার আগে পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছিল, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

    পাইপলাইন বন্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে ইউরোপে পড়তে শুরু করেছে। সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপে পাঠানোর কয়েকটি তেলের চালান বাতিল বা পিছিয়ে দিয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আর্গাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের অন্তত তিনটি শোধনাগারের সেপ্টেম্বরের শেষের চালান বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কিছু নভেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    বিকল্প জোগাড়ে নেমেছে ইউরোপের শোধনাগারগুলো। পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অরলেন অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান ও আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত ১৬টি তেলের চালান কিনেছে।

    ১৬ সেপ্টেম্বর অরলেন জানায়, এসব সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং চাহিদা মেটাতে তা যথেষ্ট।

    তবে সৌদি তেলের বিকল্প জোগাড় করলেই সমস্যা মিটবে না। বিভিন্ন শোধনাগার নির্দিষ্ট মানের অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য তৈরি। ইউরোপের অনেক শোধনাগার সৌদি আরবের মাঝারি ও তুলনামূলক ভারী, সালফারযুক্ত তেলের ওপর নির্ভরশীল। অন্য ধরনের তেল ব্যবহার করতে হলে একাধিক উৎসের তেল মিশিয়ে নিতে হতে পারে। এতে খরচ বাড়বে এবং কিছু শোধনাগারে কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

    স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, লোহিত সাগর দিয়ে আরবের তেল নেওয়া ইউরোপীয় শোধনাগারগুলোর বিকল্প প্রয়োজন। কারণ সব ধরনের অপরিশোধিত তেল একে অপরের সরাসরি বিকল্প নয়।

    সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাই তেলের দাম বাড়াতে পারে। পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিশ্লেষকেরা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলছেন। ব্রেন্টের দাম সম্প্রতি ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের ওপরে উঠেছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে ডিজেলের বাড়তি দামের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

    সংকট কতটা দীর্ঘ হবে, তা নির্ভর করছে সৌদি আরব কত দ্রুত পাইপলাইন মেরামত করতে পারে এবং নতুন করে হামলা হয় কি না, তার ওপর। কেপলারের প্রধান তেল বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহী বলেন, পাইপলাইনের ছোটখাটো ক্ষতি মেরামত করা হলেও পাম্পিং স্টেশনসহ পুরো ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

    কেপলারের ১৪ সেপ্টেম্বরের হিসাবে, ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং স্টেশন এড়িয়ে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে এবং মজুতের ওপর নির্ভর করছে। ইয়ানবু বন্দর থেকেও তেল রপ্তানি আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবু টার্মিনালে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৯ হাজার ব্যারেল। পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলোতে মজুত প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ ব্যারেল। নতুন করে পাইপলাইনে তেল না এলে বর্তমান হারে এসব মজুত দিয়ে ইয়ানবু বন্দরের চালান প্রায় তিন দিন এবং শোধনাগারগুলো প্রায় নয় দিন চালানো সম্ভব।

    তবে ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনের অর্ধেক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামোয় নতুন হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

    পাইপলাইন দ্রুত পুরোপুরি সচল না হলে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে। তখন সৌদি আরবের একটি আঞ্চলিক সরবরাহ সংকট ইউরোপের শোধনাগার, শিল্প ও ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির চাপ হয়ে উঠতে পারে।

  • সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করে ৫৬ বছরে পা দিতেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নায়ক। হয়তো জন্মদিন ঘিরে থাকত বর্ণাঢ্য আয়োজন। তবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান তিনি।

    সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা জন্মদিন এলেই শুধু তাকে নিয়ে আলোচনা হয়, এমন নয়। মৃত্যুর তিন দশক পরও বিভিন্ন সময় নানা কারণে দর্শক ও ভক্তদের আলোচনায় থাকেন নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

    সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘সালমান শাহ ফ্যান ক্লাব’-এর সদস্যরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। সিলেট শহরের শেখঘাটে ছিল সালমানের দাদার বাড়ি। আর নানার বাড়ি ছিল দারিয়াপাড়ায়, যে বাড়িটি বর্তমানে ‘সালমান শাহ হাউজ’ নামে পরিচিত।


    সালমান শাহর নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। নানার অনুপ্রেরণাতেই অভিনয়ে আসেন সালমান। স্কুলজীবন থেকেই বন্ধুমহলে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে কোর্স সম্পন্ন করেন সালমান শাহ।

    চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে এর আগেই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবন শুরু হয়। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন সালমান। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমানের চরিত্রটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি।

    তবে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর রাতারাতি দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন সালমান শাহ। মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে মৌসুমীর সঙ্গে আরও দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর জুটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এই জুটিকে এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবনূরের পাশাপাশি শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চির সঙ্গেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ।

    জীবদ্দশায় নিজের অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার সাফল্য দেখে যেতে পেরেছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।

    সালমান শাহ জীবদ্দশায় সর্বশেষ ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ সিনেমার সাফল্য উপভোগ করে যেতে পেরেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই। তার মৃত্যুর দিনই রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘আখেরী মোকাবেলা’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইসরাইলের!

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইসরাইলের!

    সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন করে বাড়তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা সরঞ্জাম পাওয়ার জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা।

    শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়ালা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে যেসব অস্ত্রব্যবস্থা অনুমোদন করেনি, তেল আবিব এবার সেই সব অস্ত্র কেনার চেষ্টা করবে।

    ইসরায়েলের সামরিক মনোযোগ কেবল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা পরবর্তী প্রজন্মের ‘স্টেল্থ’ (রাডারে ধরা পড়ে না এমন) বিমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা মহাকাশ-ভিত্তিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতাও চাইছে দেশটি।

    এ ছাড়া ইসরাইলি কর্মকর্তারা বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমা এবং পাথুরে পাহাড়ের গভীরে কাজ করতে সক্ষম ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল্লা।

    সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নিজেদের জন্য এই অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতাকে ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে আদায় করতে চায় তেল আবিব—প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির ৪৯টি এফ১৩৫-পিডব্লিউ-১০০ ইঞ্জিন, ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও রসদ সহায়তা রয়েছে।

    চুক্তিটি সম্পন্ন হলে সৌদি আরব হবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহকারী প্রথম আরব দেশ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধবিমানের একমাত্র ব্যবহারকারী ইসরাইল।

    এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি নিয়েও ইসরাইলের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি নয় রিয়াদ। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ সমর্থন করলেও ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

  • পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করতেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই নায়ক। বিশেষ এই দিনে তাকে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার অন্যতম জনপ্রিয় সহশিল্পী চিত্রনায়িকা শাবনূর।

    ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ওই পোস্টে সালমান শাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ!’

    সালমান শাহর সঙ্গে কাটানো নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, ‘কত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ ৯০-এর দশকের সেই সোনালি দিনগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে। শুটিং সেটে তুমি শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলে না, ছিলে একজন অসাধারণ হৃদয়ের মানুষ।’

    সালমানের মানবিক গুণের কথা উল্লেখ করে শাবনূর বলেছেন, ‘তোমার আশপাশের প্রতিটি মানুষকে তুমি সম্মান করতে। শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে। তোমার এই সুন্দর মন আর মানবিকতাই তোমাকে মানুষের হৃদয়ে এতটা আপন করে রেখেছে।’

    সালমান শাহর স্মৃতিচারণ করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালি দিনগুলোয়।’

    সপ্রয়াত এ অভিনেতার জন্য দোয়া করে শাবনূর লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।’

    একই পোস্টে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্য না করার অনুরোধও জানিয়েছেন শাবনূর। তিনি লিখেছেন, ‘সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ, প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সবসময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সালমান-শাবনূর জুটির উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’।

  • ১৮ জনকে মালদাদিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা

    ১৮ জনকে মালদাদিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা

    বিএসএফের কাজই যেন এখন কোনো আইন-কানুন বা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ‘পুশ-ইন’ করা। ভারতের এই বেআইনি ও একতরফা পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার।

    এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জাতিবিদ্বেষের রাজনীতি। তাদের অলিখিত নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলায় কথা বললেই, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে দেওয়া। আর এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে রাতের অন্ধকারে খোদ ভারতীয় নাগরিকদেরই অনেক সময় বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি এমনই এক অমানবিক ও সন্দেহজনক ঘটনার সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা।

    ভারতের মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, ভারতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মতো জায়গাগুলোতে ‘সার’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) বা বিশেষ তল্লাশি চালিয়েও শত শত রোহিঙ্গা বা লাখ লাখ বাংলাদেশির কোনো হদিস তারা পায়নি। উল্টো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর স্পষ্ট অভিযোগ, রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশির নাম করে ভারতীয়দেরই ধরে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রমাণও অতীতে মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনকয়েক আগে ভারতের চারটি ভিন্ন রাজ্য থেকে ১৮ জনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করে মালদায় নিয়ে আসা হয়েছে।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনই নারী ও কিশোরী, আর বাকি চারজন পুরুষ। এদের মধ্যে রাজস্থান থেকে ১০ জন, কেরালা থেকে তিনজন, তেলেঙ্গানা থেকে দুজন এবং মহারাষ্ট্র থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেসব রাজ্যের পুলিশ।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রাজ্যগুলোর কোনোটির সঙ্গেই বাংলাদেশের সরাসরি কোনো সীমান্ত নেই। জানা গেছে, প্রথমে এই ১৮ জনকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে এনে রাজস্থানে জড়ো করা হয়। এরপর তাদের ট্রেনে করে হাওড়ায় আনা হয়। কলকাতা হয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় তাদের নিয়ে আসা হয় মালদা স্টেশনে। বর্তমানে তাদের রাখা হয়েছে মালদার ইংরেজবাজারের কাছে একটি হোল্ডিং সেন্টারে। সেখান থেকেই তাদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।

    মালদায় আনা এই ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রিমা (৩৪), শিউলা আক্তার (২৩), সোনিয়া আক্তার (২৮), মোসাম্মাৎ রাজিয়া বেগম (৩৪), তসমিয়া ইসলাম ফারিয়া (২২), মোসাম্মাৎ মাফুজা (২৪), আলফনিনা আক্তার (১৯), রোশনে আক্তার মিম (২৩), সোনিয়া খাতুন (২৪), রুমা আক্তার (৩৬), মিস স্মৃতি আক্তার (২৩), কুলসুম আক্তার (২৫), রুবিনা (২৫), আতিয়ার রহমান (২৩), মিস নাসিমা আক্তার (৩৬) এবং তানিয়া সাদিক শেখ (২৮)। মালদা দিয়ে এভাবে মানুষ ফেরত পাঠানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসের ১ তারিখেই বেঙ্গালুরু থেকে একইভাবে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে মালদায় এনে পুশব্যাকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    ওই ১৮ জনকে নিয়ে ট্রেনটি যখন মালদায় পৌঁছায়, তখন খবর পেয়ে স্টেশনে হাজির ছিলেন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকরা। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কিশোরীও ছিল এবং অনেককেই দেখে মধ্যবিত্ত পরিবারের বলে মনে হচ্ছিল। সাংবাদিকরা তাদের কাছে জানতে চান, তাদের বাড়ি কোথায়? কিন্তু তারা সাংবাদিকদের দিকে তাকালেও কেউই কোনো উত্তর দেয়নি। হয়তো আগে থেকেই তাদের কথা বলতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারা শান্তভাবে পুলিশের গাড়িতে উঠে যায়।

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই কেউ যদি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে বসবাস করতে চায়, তবে তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো ভারত সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু মূল প্রশ্ন হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। যদি এরা সত্যিই বাংলাদেশি হন, তবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু প্রশাসন এখনও জানায়নি, ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের পাঠানো হবে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, আগের মতো এবারও রাতের অন্ধকারে জঙ্গল বা ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে তাদের বেআইনিভাবে পুশব্যাক করা হবে।

    অতীতে এমন জোরপূর্বক পুশব্যাকের সময় অনেকেই কান্নাকাটি করে বলেছেন যে তারা ভারতীয় এবং বাংলাদেশে তাদের কেউ নেই। পরে খোদ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এমন কয়েকজনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত।

    মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, যেহেতু আটককৃতদের বেশিরভাগই নারী, তাই মহিলা কমিশনের সদস্যদের দিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করানো উচিত ছিল। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে, স্রেফ রাজনীতির স্বার্থে তাদের রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যে আয়োজন চলছে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি।

    আফগানিস্তান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয় বলে এই ম্যাচও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও মূল দল নিয়েই আফগানদের বিরুদ্ধে লড়বে টাইগাররা।

    আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট, যা আফগানদের হোম টেস্ট।

    নাহিদ রানা এই ম্যাচে খেলবেন না, তিনি মাঠে ফিরবেন ১০ অক্টোবর। সে হিসেবে এই টেস্ট খেলা হচ্ছে না। মূলত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে তাকে ফিট পেতেই কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার কথা রয়েছে নাহিদের।

    বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকেও। অমিত হাসান এই সিরিজের দলে নেই। তবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে জাকের আলী অনিককে।

    এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে থাকা ৬ ক্রিকেটার রয়েছেন টেস্ট দলে। সে কথা ভেবে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে আরব আমিরাতে টেস্ট দলের সাথে যাবেন নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।

    একনজরে বাংলাদেশের স্কোয়াড

    নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।

  • মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের বেতন বেড়ে কত হলো

    মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের বেতন বেড়ে কত হলো

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ বিভাগ আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের মূল বেতন কত হবে, সেটিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেড ভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রেড-১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা (নির্ধারিত মানে মূল বেতন এটিই থাকবে)। এত দিন তাঁদের মূল বেতন ছিল ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এত দিন পেতেন ৮২ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে গ্রেড-১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এভাবে ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। এর মধ্যে গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা; গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    গ্রেড-১১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা; গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা; গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা; গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা; গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

  • কোন গ্রেডে বেতন বেড়ে কত হলো

    কোন গ্রেডে বেতন বেড়ে কত হলো

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ বিভাগ আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের মূল বেতন কত হবে, সেটিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেড ভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রেড-১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা (নির্ধারিত মানে মূল বেতন এটিই থাকবে)। এত দিন তাঁদের মূল বেতন ছিল ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এত দিন পেতেন ৮২ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে গ্রেড-১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এভাবে ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। এর মধ্যে গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা; গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    গ্রেড-১১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা; গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা; গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা; গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা; গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

  • এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    এক দফায় যেতে ১১ দলকে বাধ্য করা হচ্ছে; সরকারকে-মামুনুল হক

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চের যাত্রাপথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে আয়োজিত পথসভায় আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    সরকারকে সতর্ক করে আমিরে মজলিস বলেন, জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ১১ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে এক দফার দিকে ধাবিত হবে। অতীতে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে কোনো শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি; ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।

    তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কারচুপি গ্রহণযোগ্য নয়।ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক জারি হওয়া পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে দেখতে চায় না জনগণ।

  • ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    ৮ দফা না মানলে ১ দফার আন্দোলন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। এই আন্দোলন দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। সরকার যদি আমাদের ঘোষিত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সরকার যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে এই ৮ দফার আন্দোলন অনতিবিলম্বে ১ দফার আন্দোলনে রূপ নেবে।

    শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে লংমার্চ উপলক্ষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন গাড়িতে করে আসছিলাম, তখন রাজপথে জনগণের মধ্যে বিপ্লবের গর্জন শুনতে পেয়েছি। সাধারণ মানুষ হাতের এক আঙুল তুলে ‘এক দফা এক দফা’ স্লোগান দিচ্ছে। আপনারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, ইনশাআল্লাহ্ আন্দোলন সফল করেই আমরা ঘরে ফিরব। আমরা এখন ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাচ্ছি; কিন্তু প্রয়োজনে আপনাদের সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় লংমার্চ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

    জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরো বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রমুখ।

  • নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, বাস্তবায়ন তিন ধাপে

    নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, বাস্তবায়ন তিন ধাপে

    এর আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আমার দেশকে বলেছেন, নতুন বেতন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন করে আমরা গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজি প্রেসে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে প্রকাশ করা হলে এটা গেজেট আকারে জারি করা হয়।

    আজকেই গেজেট জারি হবে কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাজ হয়ে গেছে, এটা এখন সম্পূর্ণ বিজি প্রেসের এখতিয়ার।’

    গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট নতুন কাঠামোর খসড়ার আংশিক অংশ অর্থ বিভাগ থেকে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

    নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে ১ জুলাই, ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও একইভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

    প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এজন্য অর্থবছরের বাজেটে আলাদা অর্থ সংস্থান রাখা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেছেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে।

    এর আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আমার দেশকে বলেছেন, নতুন বেতন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন করে আমরা গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজি প্রেসে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে প্রকাশ করা হলে এটা গেজেট আকারে জারি করা হয়।

    আজকেই গেজেট জারি হবে কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাজ হয়ে গেছে, এটা এখন সম্পূর্ণ বিজি প্রেসের এখতিয়ার।’

    গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট নতুন কাঠামোর খসড়ার আংশিক অংশ অর্থ বিভাগ থেকে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

    নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে ১ জুলাই, ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও একইভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

    প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এজন্য অর্থবছরের বাজেটে আলাদা অর্থ সংস্থান রাখা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

  • কোটচাঁদপুরে ইয়াবাসহ হোটেলকর্মী ও নারী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

    কোটচাঁদপুরে ইয়াবাসহ হোটেলকর্মী ও নারী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

    কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ মমতা হোটেলের এক কর্মচারী ও এক নারী ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর পৌর এলাকার মেইন বাজারে অবস্থিত মমতা হোটেলকে ঘিরে মাদক সংক্রান্ত তথ্য পায় পুলিশ। পরে সেখানে অভিযান চালানো হলে হোটেলের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অভিযানের সময় মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক নারী ব্যবসায়ীও আটক হন। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত শুনানি শেষে অপরাধের ধরন বিবেচনায় তাদের কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

    কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১.২৫ সুদ হার জাপানে

    ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১.২৫ সুদ হার জাপানে

    সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতেই জাপানের মূল সুদের হারের এই বৃদ্ধি। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।গত জুনের পর সুদের হারে এটিই প্রথম কোনো বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বজায় রাখা অতি-নিম্ন সুদের নীতি থেকে পুরোপুরি সরে আসার ইঙ্গিত দিল জাপান। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটি এখন বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে দেশটিতে শ্রমিক সংকট প্রকট হওয়ায় মজুরি বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে কাঠামোগত স্থায়ী চাপ তৈরি করেছে।

    এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির পদক্ষেপও জাপানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুদের হারের ব্যবধান বেড়ে গেলে জাপানি মুদ্রা ইয়েন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার আড়াই শতাংশে উন্নীত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা ভবিষ্যতে সুদের হার আরও কতটা বাড়াতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

  • ঢাকা-নয়াদিল্লি ১০১টি চুক্তি: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত

    ঢাকা-নয়াদিল্লি ১০১টি চুক্তি: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত

    ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ- এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে তারা।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
    তিনি বলেন, আমরাও এ বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। অবশ্যই, ভারত নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

    গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, এসব চুক্তির পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানা যাবে।

    এদিকে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন রণধীর জয়সওয়াল। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়েছিল। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।

    চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, পানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। পানি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।

  • সিরিয়ার  সাবেক কারা প্রধানকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

    সিরিয়ার সাবেক কারা প্রধানকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

    সিরিয়ার একটি কুখ্যাত কারাগারের সাবেক প্রধানকে নির্যাতন ও অভিবাসন জালিয়াতির মামলায় ৬০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সামির উসমান আলশেখের বয়স ৭৪ বছর। তিনি ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি দামেস্ক সেন্ট্রাল প্রিজনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়ভাবে কারাগারটি ‘আদরা কারাগার’ নামে পরিচিত। সেখানে ‘শাস্তি শাখায়’ বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

    মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি আলশেখকে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ, ভিসা জালিয়াতির একটি অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির চেষ্টার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

    বিচার চলাকালে সাবেক তিন বন্দি আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা আলশেখের হাতে নিজেদের ওপর চালানো নির্যাতনের পাশাপাশি কারাগারে অন্য বন্দিদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরেন।

    মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, এই মামলায় দেওয়া শাস্তি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সাহসের প্রতিফলন।

    নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগেও আলশেখকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তিনি নিজের অতীত ইতিহাস গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    ডুভা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবে না—এই মামলার মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, ইসলামপন্থী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও তাদের মিত্রদের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বহু সিরীয় নাগরিক দেশটির বিভিন্ন কারাগারে ছুটে যান।

  • ইউরোপে নিশানায় মুসলিমরা

    ইউরোপে নিশানায় মুসলিমরা

    ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক জোট ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) মুসলিমদের নাগরিক কর্মকাণ্ড ও সম্মিলিত ধর্মীয় চর্চাকে সন্দেহের চোখে দেখার পথ তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত দলটির রাজনৈতিক সমাবেশে ‘ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পলিটিক্যাল ইসলামের হস্তক্ষেপ’ শিরোনামে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

    প্রস্তাবে ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ ও ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে মুসলিম সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে বিদেশি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণ এবং কথিত ‘উগ্রপন্থী আন্দোলনে’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

    সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবটি জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটদের ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ মোকাবিলার নীতির প্রতিফলন। সেখানে কোনো সহিংস কর্মকাণ্ড না ঘটালেও কথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
    নাগরিক সমাজে সক্রিয় এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার মুসলিমদেরও সন্দেহের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইপিপি অবশ্য প্রস্তাবটিকে গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।

    দলটির প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’-কে প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে ধীরে ধীরে ঢুকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিয়েনায় সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ইসলাম ম্যাপ’ প্রকল্পে অস্ট্রিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলোর তথ্য ডিজিটাল মানচিত্রে প্রকাশের নজিরও রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ‘অপারেশন লুক্সর’ অভিযান নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

    সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন প্রস্তাবের ফলে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও কার্যক্রমও চাপে পড়তে পারে।

  • খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৭

    খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের ২৮ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মো: শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার কুর্মিটোলা সিটি কেয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান বলে তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন ও স্বজনেরা জানান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আবারো দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    গুরুতর আহত চারজনের মধ্যে রাণীচাপুর গ্রামের মো: নূরুল হকের ছেলে মো: শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কুর্মিটোলা সিটি কেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হলে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন ও স্বজনেরা জানিয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের এক গ্রুপের চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান এবং অপর পক্ষের সাথে শ্রমিক দলের চাকুয়া ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়ার অনুসারীরা রয়েছেন। লিগেল মিয়ার বাবা জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য বলেও জানা গেছে।

    খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লিগেল মিয়া চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার জানা মতে, লিগেল মিয়ার বাবা মো: জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য।

    ঘটনার খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ দিয়েছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।

    শাহ আলমগীরের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক বিষয়টি এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।’

    দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়ার পর রাতেই দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কুষ্টিয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    কুষ্টিয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও সম্মান জানাতে কুষ্টিয়ায় ৫৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখা। জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাস, জুলাই যোদ্ধা হাফেজ সেলিম রেজা ও শহর শাখার সেক্রেটারি পারভেজ মোশাররফ। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ, নীতি-নৈতিকতা ও জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। অহংকার ও জুলুমের পরিণতি ধ্বংস—এ কথা মনে রেখে মানবিক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না; জ্ঞানের গভীরে যেতে হবে এবং জ্ঞান অন্বেষণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে হবে। ছাত্রশিবির একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা, উৎসাহিত করা এবং নৈতিক ও আদর্শিক বিকাশে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে।’

    অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রশিবির সম্পর্কে আগে তাঁদের যে ধারণা ছিল, অনুষ্ঠানে এসে তা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে সম্মাননা স্মারক ও উপহারের পাশাপাশি পবিত্র কোরআন উপহার পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। ভবিষ্যৎ জীবনে আদর্শিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।