খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর আনছারাবাদ সড়কের আব্দুল গফ্ফার সানার চায়ের দোকানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত যুবকের নাম তরিকুল ইসলাম (৩৭)। তিনি রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আব্দুস সালামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তরিকুলের সাথে দোকানে ছিলেন তার সহযোগী সাদিক রহমান (২০), মোমিন গাইন (২৬) ও শাওন (২২)। এ সময় মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরে পালসার মোটরসাইকেলে করে আসে দুই যুবক। তারা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তরিকুলের সাথে কথা বলেন।
ওই দুই যুবক সিগারেট খেতে চাইলে শাওনকে পাশের দোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠানো হয়। এই সুযোগে দুই হামলাকারীর একজন দোকানের ভেতরে ঢুকে তরিকুলকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তরিকুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রকাশ্য দিবালোকে চায়ের দোকানে ঢুকে এমন হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক কারবারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে তরিকুলের বিরোধ চলছিল। এছাড়া আমভিটা এলাকার সরকারি বড় খাল দখল ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন পক্ষের সাথে তার দ্বন্দ্ব ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের আলোচনায় মাদককারবারিদের সাথে বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তবে কারা, কী কারণে এবং কী পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
