নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার ডিলারের দোকানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়া এবং বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কৃষকদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নলডাঙ্গা পৌরসভার মেসার্স শ্যামসুন্দর আগারওয়ালার দোকানে সার বিতরণের সময় এই অপ্রতিকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমান বোরো ও রবি মৌসুমে জমিতে সারের চাহিদা তুঙ্গে। অথচ ডিলারের দোকানে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এবং অনিয়মের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাননি, ফলে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ।
কৃষকরা আরো অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে পেছনের পথ দিয়ে বা টোকেনের মাধ্যমে লাইনের আগে গিয়ে সার নিয়ে চলে যাচ্ছেন। টোকেন থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত কৃষকরা সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, অথচ অনেকে চাষাবাদ না করেও ভ্যান ভরে সার নিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রকৃত কৃষকরা যেন সঠিক তদারকির মাধ্যমে তাদের চাহিদামতো সার পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে উপজেলা কৃষি অফিস ও নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ক্ষুব্ধ কৃষকদের শান্ত করে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ আলী বলেন, এলাকায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। সারের কোনো কৃত্রিম সঙ্কট যেন তৈরি না হয় এবং ডিলাররা যাতে সঠিকভাবে ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেন, সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
