সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে…

    খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে…

    পায়ের তলা ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। কাঁটা ও কাচের টুকরাও বিঁধেছে। এমনকি কাঁটাঝোপের আঘাতে সংক্রমণ হয়ে এক সপ্তাহ হাঁটাও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু থামেননি। আয়ারল্যান্ডের ইমন কেভেনি এমন কষ্ট সয়েই খালি পায়ে ৩৬৯ দিনে পাড়ি দিয়েছেন ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ।

    এভাবে সবচেয়ে বেশি পথ হাঁটার নিজের আগে রেকর্ডটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কেভেনি।

    নিজের রেকর্ড পুনরুদ্ধারে কেভেনি এবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। ৩৬৯ দিন পর গত ৭ মার্চ আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির নিজ শহর ক্ল্যারিমরিসে পৌঁছান তিনি।

    দীর্ঘ এ পথে কেভেনিকে নানা চড়াই-উতরাই ভূখণ্ড পাড়ি দিতে হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে।

    ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডজুড়ে ২ হাজার ৮০ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে প্রথমবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন কেভেনি। ২০২৪ সালে তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙেন পোল্যান্ডের পাওয়েল দুরাকিয়েভিচ। তিনি ৩ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটেছিলেন।

    কেভেনি এবার দুরাকিয়েভিচের রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ পথ হেঁটেছেন। অবশ্য এটাই কেভেনির একমাত্র দুঃসাহসিক যাত্রার রেকর্ড নয়। ২০২৩ সালে মাত্র ৫ দিন ৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে ইউনিসাইকেলে (এক চাকার সাইকেল) আয়ারল্যান্ড পাড়ি দিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়েন তিনি।

    ৩৪ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা ইমন কেভেনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে বলেন, ‘খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হাঁটার রেকর্ডটি প্রথমবার গড়ার পর থেকেই আমি আবার বড় কোনো যাত্রায় বের হওয়ার কথা ভাবছিলাম। একটি দেশ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার পর একটি মহাদেশ অতিক্রম করাই পরবর্তী পদক্ষেপ বলে আমার মনে হয়েছিল। তাই ইস্তাম্বুল থেকে হেঁটে নিজ দেশ আয়ারল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

  • দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

    দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের তিন নেতা। তাঁরা হলেন হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে।

    বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁরা সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

    মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তিনি অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।

    বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। আর সেই কারণেই আমাদের দেখা উচিত কে সঠিক পথে আছে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

    ইরানি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা

    মীরওয়াইজ উমর ফারুক ও ইমরান রেজা আনসারি দিল্লিতে ইরান দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।

    মীরওয়াইজ উমর ফারুকের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে কাশ্মীরের নেতারা প্রদর্শনীতে যোগ দেন।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারত-ইরানের সংবেদনশীলতা

    ২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বড় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দেয়।

    ভারত বরাবরই বলে আসছে, পুরো কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান-সংক্রান্ত কাশ্মীরের বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধানযোগ্য বলে দিল্লির অবস্থান।

    অন্যদিকে, ২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত তখন এর প্রতিবাদ জানায়।

    খামেনি ২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালে গাজার পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মুসলিম বলতে পারি না যদি আমরা মিয়ানমার, গাজা, ভারত বা অন্য যেকোনো স্থানে একজন মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন থাকি।’

    তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

    চলতি বছরের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর কাশ্মীর ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নিয়ে ভারতে প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের দূতাবাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট মুছে ফেলতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীরি নেতাদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

    ভারত ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে জাহাজডুবি: একজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০

    ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে জাহাজডুবি: একজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০

    ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে একটি যাত্রীবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আজ রোববার উদ্ধারকারীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ ভোরের দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে জাহাজটি প্রথমে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার সময় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল।

    সংস্থাটি জানায়, জাহাজটি গতকাল শনিবার পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া শহর থেকে সাউথ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে এটি ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করলেও দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

    উদ্ধারকারী সংস্থার বানজারমাসিন কার্যালয়ের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা এক ভিডিও বার্তায় জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন জাহাজের সাহায্যে এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই যাত্রীদের কয়েকজনকে পূর্ব জাভার একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। আই পুতু সুদায়ানা বলেন, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানের দিকে একটি বিশেষ দল, বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।

    ভৌগোলিক কারণে প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি ও জাহাজ। বিমানভাড়ার চেয়ে নৌপথ অনেক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর ওপরই বেশি নির্ভর করে।

    তবে ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রায়ই নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা হয় না। ফলে সেখানে নৌ দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক অনেক বেশি।

  • নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আল-আকসায় আড়াই শ ইসরাইলির প্রার্থনা

    নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আল-আকসায় আড়াই শ ইসরাইলির প্রার্থনা

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে হানা দিয়েছেন প্রায় আড়াই শ ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী।

    ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, ইসরাইলি সেনাসদস্যদের কঠোর সুরক্ষায় এই সেটেলাররা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা সম্পন্ন করেন।

    ১৯৬৭ সালের একটি ঐতিহাসিক স্ট্যাটাস কো বা স্থিতাবস্থা চুক্তি অনুযায়ী, অমুসলিমদের আল-আকসা চত্বরে দর্শনার্থী হিসেবে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের প্রার্থনা বা ধর্মীয় আচার পালনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    ইসলাম ধর্মের তৃতীয় সর্বাধিক পবিত্র এই স্থানটিতে এর আগেও বহুবার এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিকবার নিজেই অনুসারীদের নিয়ে এই চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছেন।

  • সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    নতুন ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ওয়েব ফিল্মের নাম ‘সেপারেশন’। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর শুটিং।

    এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে।রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বর্তমানে ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে।

    রোববার নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানান পরীমণি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।

    গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এবার এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন তিনি।

    তবে ‘সেপারেশন’-এ পরীমণির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও মুখ খোলেননি নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা।

    জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে। পরীমণি, ইমতিয়াজ বর্ষণ ও নিরবের পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করছেন শার্লিন ফারজানা।

    ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। তবে কবে নাগাদ ‘সেপারেশন’ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

  • মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

    মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

    ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে তল্লাশি শেষে আটক করা হয়েছে ৪৭২ জনকে। আর তাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় মেগা অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এই চিত্র। অভিযানে আটক বিদেশিদের প্রায় ৭৭ শতাংশই বাংলাদেশি।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সি ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী।

    আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশিদের আধিক্য স্পষ্ট। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।

    অভিবাসন বিভাগের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক পরিচালক দাতুক হামশা ইঞ্জাউ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযান ঘিরে লেবুহ পুডুতে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। আইন প্রয়োগকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলোর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়।

    তল্লাশিতে ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো পতিতাবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। বিদেশিদের কাছে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করা হয় এমন একটি দোকানও শনাক্ত করা হয়েছে।

    অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লেবুহ পুডু ও কোতারায়ার কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আড়াল করতে মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহক সেজে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।

  • আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না- হাইকোর্টের রায়

    আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না- হাইকোর্টের রায়

    আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট কর্মসূচি ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আগের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জৈষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসদ। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. রাফিউল ইসলাম।

    ২০১১ সালের আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির আরোহী তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ড্রাইভারকে সাজা দেন।

    ওই সাজার প্রেক্ষিতে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকলে এবং তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে। ওই রিট শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ রুল জারি করে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান।

    আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে শুনানি শেষে আজ রুল মঞ্জুর করে রায় দেন। আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসিকে।

    আদালত রায়ে বলেছেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসায় তালা, আরো ১০০ কে শোকজ

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসায় তালা, আরো ১০০ কে শোকজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ের যাচাই শেষে রাজ্যের ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পাশাপাশি আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ২২ জুলাই রাজ্যের সব জেলায় মাদ্রাসাগুলো নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি অনুমোদন, পরিকাঠামো, পাঠদানের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়।

    সমীক্ষার পর দপ্তরের হাতে আসা তথ্যে দেখা গেছে, রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কিছু মাদ্রাসা খারিজি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান চলছে এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।Advertisement

    অন্যদিকে ১০০টি মাদ্রাসার পরিকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি এবং অনুমোদনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে কতগুলো অনুমোদিত এবং কতগুলো অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়েছে।

    সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের ২২টি জেলা থেকে মাদ্রাসাগুলোর প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন রয়েছে এবং নিয়ম মেনে চলছে, সেগুলো চালু থাকবে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তবে সরকারের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, পরিকাঠামো এবং নিয়ম মেনে পরিচালনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সমীক্ষার পরবর্তী পর্যায়ে আরও কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • দল থেকে বাদ পড়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি সালমান আগার

    দল থেকে বাদ পড়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি সালমান আগার

    জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ক্ষোভ আর হতাশাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সালমান আলী আগা। টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন সালমান।

    সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের সঙ্গেই ছিলেন সালমান আলী আগা। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েন সালমান।

    প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানের উদ্বোধনী রাউন্ডে মার্কোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে কিংসমেন একাডেমির হয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন তিনি। দলের বিপর্যয়ের মুখে (৭২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর) উইকেটে নেমে প্রথম দিনে সেঞ্চুরি তুলে নেন সালমান।

    তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শতকটিকে ডাবল সেঞ্চুরি পরবর্তীতে দুর্দান্ত এক ট্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই ব্যাটার। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ১৬৯ রান। ফলে এই একটিমাত্র ইনিংসেই ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি—উভয় মাইলফলক একসঙ্গে স্পর্শ করলেন তিনি।

    জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর সালমানের এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পর তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অর্থবহ বার্তায় লিখেছেন, ‘বেসিক বা মৌলিক জায়গায় ফিরে যাওয়ার মধ্যে কোনো ভুল নেই। মাঝে মাঝে এটি জরুরি; কখনো অহংকার করতে নেই। শুরুটা বিনয়ী ছিল, শেষটাও সেভাবেই হবে।’

    সালমান আগা পাকিস্তানের ২৩তম ব্যাটসম্যান যিনি ফার্স্ট ক্লাসে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন।

  • গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে- রাষ্ট্রপতি

    গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে- রাষ্ট্রপতি

    গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে এ কথা বলেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।

    এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়াও জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকসেবা নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।

  • বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র

    ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য পৌঁছেছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে। যেখানে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধানে ভারতকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ঠিক দুই নম্বরে অবস্থান করছে, আর বরাবরের মতো তালিকার শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে চীন।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন শুল্ক নীতির চাপ সামলাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির কৌশল নেয়। ফলে দেশটিতে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি হু হু করে বেড়ে যায়। এছাড়া মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তও এই বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গত বছর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলা নানা নিয়মকানুন ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং এর বিপরীতে ভারতও কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর বিশেষ সুবিধা তুলে নেয়।

    সব মিলিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • পুতুলের ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্যতা ছিল না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    পুতুলের ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্যতা ছিল না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পুতুলের ছিল না। নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং সেখান থেকে দুর্নীতির দুর্গন্ধ বের হয়ে এসেছে।

    একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর পরবর্তী নিয়োগে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    এই সফরের বিভিন্ন তথ্য ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

    ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে চায় ঢাকা। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতার সুরাহা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বড় গুরুত্ব পাবে।

    এ ছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা টাকা ফেরত আনতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি !

    সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি !

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ভিত্তি তৈরিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে সমঝোতা হলেও এখনই এই কৌশলগত সমুদ্রপথ খুলে দেওয়া হবে না।

    ইরানের আলোচনাকারী দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রটি বলেছে, এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। তবে প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্তগুলো মেনে নেয় কি না, তার ওপর।

    সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হবে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্র যে দক্ষিণের পথটি খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছিল, সেটি বন্ধ থাকবে। এই পথ খোলা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতবিরোধ ছিল।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সোমবার ওমানে ইরাক ও উপসাগরীয় উপকূলের দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। তবে ওই সূত্র বলেছে, ইরান ও ওমানের সমঝোতাটি দ্বিপক্ষীয়। অন্য দেশগুলোকে মূলত জাহাজ চলাচলের নিয়ম ও সমঝোতার বিস্তারিত জানানো হবে।

  • যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ক্যাথরিন কনলি

    যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ক্যাথরিন কনলি

    কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী গণহত্যাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতার ভয়াবহতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এসব অপরাধকে বৈধতা দেওয়া যায় না।’

    রাজধানী ডাবলিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই কড়া বার্তা তুলে ধরেন আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলি সাফ।

    বৈঠক শেষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে আইরিশ প্রেসিডেন্ট জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, জাতিসংঘের মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ১৯৫৮ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের গৌরবময় অবদানের কথা তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেছেন।

    আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্বজুড়ে যেকোনো সংঘাত নিরসনে আইরিশ জনগণ এক অনন্য ও কার্যকর দৃষ্টিকোণ তুলে ধরতে সক্ষম। বর্তমানে যেখানেই অমানবিক সংঘাত চলছে, সেখানে একটি অংশীদারত্বমূলক টেকসই শান্তি গড়ে তোলার জন্য যারা সাহসের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, আয়ারল্যান্ড সর্বদা তাদের পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সমর্থন জানিয়ে যাবে।

  • হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান

    হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান

    হরমুজ প্রণালির ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এলে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলে যে দাবি করেছেন, ইরানের এই বক্তব্যে তা সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপকমান্ডার বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে এগিয়ে আসুন—আপনাদের একটি যুদ্ধজাহাজ ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসুন।’

    তিনি বলেন, ওই এলাকায় মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে এলে ইরানি বাহিনী কী জবাব দেবে, তা মার্কিন বাহিনী জানে। গত কয়েক দিনেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

  • পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইরান

    পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইরান

    পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং দেশের পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনা করার পথ ইরানের জন্য ‘পুরোপুরি সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়ামের মুখপাত্র আব্বাস গৌদারজি।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের পরমাণুনীতি পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব।

    তার ভাষায়, এমন পদক্ষেপ নিলে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুসারীদের তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হবে’।

    ইরানের পার্লামেন্টের নেতৃত্বের মুখপাত্রের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। এনপিটি থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তার মন্তব্যে সেই উত্তেজনা আরো বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ইসরাইলি কোম্পানির তৎপরতা বৃদ্ধি

    ইন্দোনেশিয়ায় ইসরাইলি কোম্পানির তৎপরতা বৃদ্ধি

    ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে ইন্দোনেশিয়ায়। এসব কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও প্রচারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থান, স্থানীয় সৃজনশীল প্রতিভা এবং বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। অথচ দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে।

    ইসরাইলি চশমা কোম্পানি সুইফট অপটিকস ইন্দোনেশিয়ায় প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করেছে। অথচ ইন্দোনেশিয়া ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। তবে দেশটিতে ইসরাইলি কোম্পানির বাণিজ্যিক উপস্থিতি সেই অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

    ইসরাইলি কোম্পানির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করছে। ইসরাইলি কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করে, স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করে, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাদের পণ্য ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত দেখা যেতে থাকে। এভাবে সময়ের সঙ্গে ইসরাইলি ব্যবসা ইন্দোনেশিয়ার মানুষের কাছে পরিচিত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।

    নিয়াস, বালি বা লম্বকের মতো ইন্দোনেশিয়ার স্থানগুলো কোনো ইসরাইলি কোম্পানি বাণিজ্যিক প্রচারে ব্যবহার করলে কোম্পানিটি শুধু ইন্দোনেশিয়ার বাজারে অংশ নিচ্ছে না, দেশটির প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করছে। ইসরাইলি কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি, বিদ্যমান বিধিনিষেধ এবং ফিলিস্তিন বিষয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

  • হুথিদের চাপ, সৌদির সামনে যুদ্ধের ফাঁদ

    হুথিদের চাপ, সৌদির সামনে যুদ্ধের ফাঁদ

    ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে সৌদি আরব। বিষয়টি এখন আর শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত যেন সীমান্ত পেরিয়ে আরো ছড়িয়ে না পড়ে—এখন এ সবই রিয়াদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সাম্প্রতিক হুথি হামলাগুলোতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে আগুনও লেগেছে। জ্বালানি স্থাপনায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। ইয়েমেনের লড়াই এবং পশ্চিম উপকূলে সংঘাত তীব্র হওয়ার সময় এসব হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবে জাহাজ চলাচল নিয়েও হুথিরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

    ফলে সৌদি আরব এখন দুটি পরস্পর-সম্পর্কিত হুমকির মুখে। একদিকে তার ভূখণ্ডে হামলা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাধা তৈরির চেষ্টা।

    এ পরিস্থিতি রিয়াদের জন্য কঠিন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করেছে। গত কয়েক বছর সৌদি আরব ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক ভূমিকা কমিয়ে কূটনীতি, উত্তেজনা প্রশমন এবং রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়েছে। আবার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ফিরে গেলে সেই কৌশল ভেস্তে যাবে। বাড়বে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচও।

    তবে সংযমের অর্থ বারবার সৌদি ভূখণ্ডে হামলা মেনে নেওয়া নয়।

    বদলে গেছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি

    ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ভিন্ন। দেশটি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে। ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায়ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে এক দশক আগের তুলনায় নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সৌদি আরব এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।

    তবে হুথিদের হুমকিও বদলেছে। গোষ্ঠীটির হাতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ক্রমেই উন্নত ড্রোন রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও তুলনামূলক কম খরচের এসব অস্ত্র সৌদি আরবকে অনেক বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর, শিল্পকারখানা, সীমান্ত এলাকার জনবসতি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

    তাই শুধু আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দীর্ঘদিন শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

    এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের কৌশলগত লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা। অর্থাৎ হুথিদের বোঝানো যে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালালে তারা যে রাজনৈতিক বা সামরিক সুবিধা পাওয়ার আশা করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।

    এর জন্য আগের মতো বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করার প্রয়োজন নেই। রিয়াদের হাতে এখন আরো অনেক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে আছে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে শক্তিশালী করা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের নেটওয়ার্ক ব্যাহত করা এবং প্রয়োজন হলে সৌদি আরবে হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত স্থাপনায় সীমিত অভিযান চালানো।

    অর্থাৎ সৌদি আরবকে নিষ্ক্রিয় থাকা কিংবা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে যাওয়া—এই দুটি পথের একটিকে বেছে নিতে হবে না।

    অর্থনীতিতেও চাপ

    হুথিদের হামলার অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। তাই দেশটির তেল অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব শারীরিক ক্ষতির চেয়েও বড় হতে পারে। সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগে থেকেই অস্থির বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    এখানে একটি আপাত বৈপরীত্য রয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিরতায় তেলের দাম বাড়লে সাময়িকভাবে সৌদি আরবের তেল আয়ে সুবিধা হতে পারে। তবে যুদ্ধের কারণে দাম বাড়াকে অর্থনৈতিক লাভ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

    সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ক্রমেই স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি এবং তেলের বাইরের বড় প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে বিমা ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ধারণাও বদলে যেতে পারে।

    এর চেয়েও বড় কৌশলগত উদ্বেগ সামুদ্রিক নিরাপত্তা।

    সৌদি আরব বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরের মাঝখানে অবস্থিত। পূর্বে হরমুজ প্রণালি, পশ্চিমে বাব আল-মানদাব। দুটি পথের যেকোনোটিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৌদি আরবের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

    এ কারণে ইয়েমেন সংঘাতে লোহিত সাগরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাব আল-মানদাব ভারত মহাসাগরের সঙ্গে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সংযোগ তৈরি করেছে। সেখানে হুথিদের জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী হুমকি তৈরি হলে পণ্য পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে। জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে যেতে হলে পরিবহন সময় ও খরচ আরো বাড়তে পারে।

    তবে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি উপসাগরনির্ভর নয়। পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল লোহিত সাগরের টার্মিনালে পাঠাতে পারে। এতে হরমুজের বিকল্প পথ হিসেবে রিয়াদের কিছুটা কৌশলগত সুবিধা তৈরি হয়।

    তবে এতে লোহিত সাগরের অন্যত্র, বিশেষ করে বাব আল-মানদাব এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে সৌদি আরব পুরোপুরি মুক্ত হয় না। তাই বাব আল-মানদাব সুরক্ষাকে শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    হুথিদের ফাঁদ এড়াতে হবে

    রিয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকও। সৌদি আরবকে আবার বড় আকারের যুদ্ধে টেনে নিতে পারলে হুথিরা সুবিধা পাবে। এতে তারা সংঘাতটিকে ইয়েমেনিদের নিজেদের মধ্যে লড়াই হিসেবে না দেখিয়ে ইয়েমেন ও একটি বাইরের শক্তির সংঘাত হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।

    সৌদি আরবের এই ফাঁদ এড়ানো উচিত।

    হুথিদের মোকাবিলার মূল দায়িত্ব ইয়েমেনিদেরই থাকা উচিত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার ও তাদের বাহিনীকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। সৌদি আরব তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারে।

    পশ্চিম উপকূলে বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবের কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুথিরা তাদের অবস্থান শক্ত করতে পারলে এর প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।

    লক্ষ্য হওয়া উচিত আরেকটি বড় আকারের বিমান অভিযান চালিয়ে সানা পুনর্দখল করা নয়। অনির্দিষ্টকাল ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধও নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত হুথিদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আঞ্চলিক ভারসাম্য বদলানো, প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দেওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে ঝুঁকি তৈরির সুযোগ না দেওয়া।

    কূটনীতির পাশাপাশি প্রতিরোধ

    এ পরিস্থিতিতে সৌদি নীতি একাধিক পথে এগোতে পারে। প্রথমত, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরো শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, সরাসরি স্থলযুদ্ধে না জড়িয়ে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে আরো সহায়তা দেওয়া। তৃতীয়ত, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবের নিরাপত্তায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

    একই সঙ্গে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে হবে।

    ইয়েমেনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে সৌদি আরবের অবস্থান বহুবার স্পষ্ট হয়েছে। তবে দুই পক্ষই যদি মনে করে উত্তেজনা বাড়ানোর মূল্য তাদের জন্য অসহনীয়, তাহলেই কূটনীতি কার্যকর হবে।

    তাই কূটনীতির পেছনে বিশ্বাসযোগ্য সামরিক সক্ষমতাও থাকতে হবে।

    ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতের আরেকটি স্থায়ী রণক্ষেত্রে পরিণত না করার ব্যাপারে সৌদি আরবের বড় স্বার্থ রয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য স্থিতিশীলতা দরকার। একই সঙ্গে নিরাপদ সীমান্ত, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি রপ্তানি এবং নির্বিঘ্ন নৌ চলাচলও রিয়াদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অংশ।

    কিন্তু সংযমেরও সীমা আছে। সৌদি শহর, বেসামরিক মানুষ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদ বিষয়টিকে আর শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখবে না। তখন এটিকে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বাড়বে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সৌদি আরবের আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। ইয়েমেনেরও নেই। তবে তা এড়াতে হলে একদিকে প্রতিরোধক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগও ধরে রাখতে হবে।

    তাই রিয়াদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে সীমিত ও হিসাবি চাপ। নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করা, বৈধ ইয়েমেনি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কূটনীতির পথ খোলা রাখা এবং স্পষ্ট করে দেওয়া—সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পরিণতি হবে।

  • সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের

    সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মধ্যে গতকাল শনিবারের বৈঠকের পর ভারত ও চীন যে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সম্পর্ক কীভাবে দেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

    চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশকে একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধানের দিকে এগোতে হবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই দুই ক্ষেত্রে ‘সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতি’ অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

    চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিরক্তির কারণগুলো দূর করতে হবে। দুই পক্ষের উচিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখা, দুই ক্ষেত্রে সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতির চেষ্টা করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’

    তবে ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তি।’ তিনি সীমান্ত-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দুই দেশেরই মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন।

    ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসংগত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুই দেশের বক্তব্যের পার্থক্য মূলত অগ্রগতির ক্রম নিয়ে।

    চীনের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সীমান্ত সমস্যা একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সীমান্ত সমস্যা এখনো অমীমাংসিত থাকলেও দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

  • ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামীর হাতেই খুন হয়েছেন মিম আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূ। স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্বামী তরিক সিকদার।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাবড়াশুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় শাকপাইলদিয়া গ্রামের হিন্দুধর্মীয় সিদাম মাঝির মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ভাবড়াশুর গ্রামের ছরোয়ার সিকদারের ছেলে তরিক সিকদার। পরে তাকে ধর্মান্তরিত মুসলিম করে মিম আক্তার নাম দিয়ে বিয়ে করেন।

    কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

    রোববার সকালে দাম্পত্য কলহে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তরিক সিকদার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে করে হত্যা করে।

    মুকসুদপুর সার্কেল এসপি নাফিজুর ইসলাম বলেন, ‘মিম আক্তার নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

  • নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি

    নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়িটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৩ কোটি ৮২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ট্রাম্প চার বছর বয়স পর্যন্ত কুইন্সের টিউডর-শৈলীর এই বাড়িতে বসবাস করেছিলেন। ১৯৪০ সালে ‘জ্যামাইকা এস্টেটস’-এ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন তার বাবা আবাসন নির্মাতা ফ্রেড ট্রাম্প।

    দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িটি আর ট্রাম্প পরিবারের মালিকানায় ছিল না, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। বাড়িটির বিক্রেতা টমি লিন গত বছর ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকায় এটি কিনেছিলেন। বাড়িটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নে আট মাস ধরে আরও ৫ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করেন।

    বাড়িটির মালিকানা বেশ কয়েকবার বদল হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক মাস পরেই এটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ২০১৯ সালে বাড়িটি আবার ২৯ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।

  • সৌদি আরবে ১২ হাজার প্রবাসী বহিষ্কার

    সৌদি আরবে ১২ হাজার প্রবাসী বহিষ্কার

    আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৭৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ১২ হাজার ৫৭ জন প্রবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চালানো যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এসব অভিযানে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭ হাজার ৫০৪ জনকে আটক করা হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয় ৩ হাজার ৭৮৩ জনকে। আর শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০৯ জনকে।

    এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ২৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আরো ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানের ওই এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫৭ জনকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ হাজার ৬৭৭ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরো ৩ হাজার ৪৮৭ জনকে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া বা তাদের নিয়োগের অভিযোগে আরো ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে ৩০ হাজার ২৫৭ জন প্রবাসী অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫২৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৭২৮ জন নারী।

    সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।

    আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশের অন্যান্য এলাকায় ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • আল্লাহর ইচ্ছায় সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে: গালিবাফ

    আল্লাহর ইচ্ছায় সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে: গালিবাফ

    সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়েমেনের সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুথিদের জয় নিয়ে এসব কথা বলেন।

    তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২০২৪ সালের একটি পুরোনো বক্তব্য আবারও সামনে এনেছেন। যেখানে খামেনি বলেছিলেন, হুথিদের প্রতিরোধ তাদের বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে।

    অপরদিকে দেশটির ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ রেজা আরেফ বলেছেন, হুথিদের এ জয়ে ইরান সরকার খুশি। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরতা থেকে স্বাধীন হয়ে ইসলামের পতাকাতলে একতাবদ্ধ হওয়া উচিত।

  • হুথিদের বিজয় নিয়ে ইরানে উচ্ছ্বাস

    হুথিদের বিজয় নিয়ে ইরানে উচ্ছ্বাস

    ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের এ জয় নিয়ে ইরানের রাজনৈতিক এবং সংবাদমাধ্যমে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকে হুথিদের এ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের জয় হিসেবে দেখছেন।

    হুথি বিদ্রোহীদের বেশিরভাগই জাইদি শিয়া মুসলিম। ২০১৪ সালে পশ্চিমা ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী সানা দখলের পর থেকেই লড়াই করে যাচ্ছে তারা।

    ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে যাওয়ার ঘটনাকে ‘ঐশী বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে উদযাপন করেছে ইরান। হুথিদের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের বিস্তৃত লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুথিদের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে বলেছেন, ইয়েমেন আঞ্চলিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি ইয়েমেনের এই অবস্থানকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও হুথিদের ‘প্রচণ্ড বিজয়’-এর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তি এবং প্রতিরোধশক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কৌশলগত ও সামরিক অচলাবস্থায় পড়েছে।

    হুথিদের এই অগ্রযাত্রার ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে। বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত।

  • ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িত প্রধান পক্ষগুলো কারা, কার হাতে কতটা নিয়ন্ত্রণ

    ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িত প্রধান পক্ষগুলো কারা, কার হাতে কতটা নিয়ন্ত্রণ

    ইয়েমেনের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ আবারো উত্তেজনার নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষিণ সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ইয়েমেনের ভেতরের রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থও।

    যুদ্ধ ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকারের প্রধান পক্ষগুলো ও তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হলো—

    হুথি বিদ্রোহীরা

    ইরান-সমর্থিত হুথিরা আনসার আল্লাহ বা ‘আল্লাহর সমর্থক’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক দশকের বেশি সময়ের বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলা সত্ত্বেও হুথিরা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে ও ইসরাইলে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

    সৌদি আরব

    ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহাল করা।

    তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও কম সংঘাতমুখী সম্পর্ক তৈরি হয়, যা ইয়েমেন পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলেছে।

    প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)

    ২০২২ সালে সৌদি সমর্থনে গঠিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনা এগিয়ে নেও ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুথিবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যেয়াই কাউন্সিলটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

    পিএলসিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুথিবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    ইয়েমেনি কংগ্রিগেশন ফর রিফর্ম, সংক্ষেপে ইসলাহ, একটি সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন। ঐতিহাসিকভাবে সংগঠনটির সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পিএলসি-নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি অংশ হলেও দলটি নিজস্ব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় বজায় রেখেছে। ফলে হুথিবিরোধী শিবিরের ভেতরেও তাদের আলাদা প্রভাব রয়েছে।

    ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

    ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি সামরিক গোষ্ঠী। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা। হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বাহিনী সরকারপন্থী সামরিক শক্তিগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    যুদ্ধের জটিল সমীকরণ

    ইয়েমেনের যুদ্ধকে শুধু হুথি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। একদিকে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা, অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক নিয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও ইসরায়েলকে ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা এই স্থানীয় সংঘাতকে আরও বিস ও সামরিক গোষ্ঠী।

    ফলে ইয়েমেনের সংঘাত একই সঙ্গে গৃহযুদ্ধ, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংকটের রূপ নিয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও ইসরায়েলকে ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা এই স্থানীয় সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত করেছে।

  • শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    বগুড়ায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত ও শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান । পরে তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

    শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে বগুড়ায় অবস্থান করছেন শফিকুর রহমান।

    শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সফরকালে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

    ছাত্রনেতা শহীদ আব্দুল মালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পাকিস্তানে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে দুই দলের মধ্যে চলা সংঘর্ষে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ও ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার হত্যাকাণ্ডের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছরের ১৫ আগস্টকে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।

  • হামজার সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি বার্সেলোনার

    হামজার সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি বার্সেলোনার

    মিশরীয় ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিমের সঙ্গে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা।

    আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় (সিইএসটি) বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করবেন আবদেলকারিম। এরপর ক্লাবের কমার্শিয়াল অফিসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন তিনি।

    ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ধারে বার্সেলোনায় যোগ দেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ধারে খেলার কথা থাকলেও খুব দ্রুতই নজর কাড়েন তিনি। ৮ মার্চ উস্কার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন আবদেলকারিম।

    মাত্র ছয়টি লিগ ম্যাচে নয় গোল করেন তিনি। এর মধ্যে মন্টেকার্লোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৯-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিকও করেন। ওই ম্যাচেই বার্সেলোনা División d’Honor শিরোপা নিশ্চিত করে।

    ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আবদেলকারিমকে স্থায়ীভাবে দলে নেয় বার্সেলোনা। এরপর হান্সি ফ্লিকের অধীনে প্রথম দলের সঙ্গে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে অংশ নেন তিনি। প্রাক-মৌসুমে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন এই ফরোয়ার্ড।

    গত ৩১ আগস্ট স্প্যানিশ লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে অভিষেক হয় আবদেলকারিমের।

  • ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হেনস্তা ও হামলার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি এখনো ভেনিসে অবস্থান করছেন।

    সেখান থেকে সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন- জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে। অভিনেত্রী বলেন, কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা; যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত, ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি, কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।

    কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, যখন বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী।

    পাশাপাশি যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন- তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। প্রসঙ্গত, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।

  • ১৪৯ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড গড়লেন পাকিস্তানের ‘রাজা’

    ১৪৯ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড গড়লেন পাকিস্তানের ‘রাজা’

    নামই তার ‘রাজা’। ইংলিশ ব্যাটারদের সামনে অভিষেকেই মোহাম্মদ রাজাউল্লাহ রীতিমতো রাজত্ব করেছিলেন। ব্যাট হাতে যেন সেটাকেও ছাড়িয়ে গেলেন। এমনই সব কীর্তি গড়েছেন, যা টেস্টের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে আর নেই একটিও।

    প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে একে একে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। গতির ঝড়ের সঙ্গে এমন উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলোচনায় এনেছিল। কে জানত, তিনি আরও বড় বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছিলেন তার ব্যাটের আড়ালে?

    তিনি যখন ব্যাট হাতে নামছেন দলের দ্বিতীয় ইনিংসে, তখনও পাকিস্তানের ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে চাই ২ রান। এ অবশ্য খুব বড় বিষয় নয়, তবে তখন টেল এন্ডারদের ২টি উইকেট বাকি আর; এ বিষয়টাকে যখন মাথায় রাখবেন তখনই মনে হবে, এ তো স্রেফ দুটো ইয়র্কারের ব্যাপার!

    পাক ইনিংসের যবনিকাকে স্রেফ ২টি ইয়র্কারের ব্যাপার বনে যেতে দেননি রাজাউল্লাহ। জশ টাংকে ছক্কা মেরে ইনিংস শুরু করেছিলেন। সে ছক্কাতেই পাকিস্তান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ায়।

    এরপর শুরু হয় তার ‘শো’। সব মিলিয়ে ৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। ৪৩ বলে ফিফটি করেছেন। অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে এর চেয়ে দ্রুততম ফিফটি নেই আর একটিও। শেষমেশ তিনি থামেন ৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে। এই ইনিংস পাকিস্তানকে স্রেফ ইনিংস হারের লজ্জা থেকেই বাঁচায়নি, ১২৯ রানের লিড এনে দিয়ে জয়ের ক্ষীণতর একটা আশাও এনে দিয়েছে বৈকি!

    পাকিস্তান শেষমেশ কী করবে, সেটা পরে দেখা যাবে। তৃতীয় দিনে যা করেছেন রাজা, তাই তাকে তুলে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। অভিষেকে ৯ ছক্কা, এমন কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাস দেখেছে আর একবার মোটে। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি হাঁকিয়েছিলেন সমান সংখ্যক ছক্কা, তবে সেটা ছিল নেপিয়ারে, নিজেদের ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষের মাঠে অভিষেকে এমন কীর্তি ক্রিকেটের ১৪৯ বছরেই আর কখনো দেখা যায়নি।

    মজার বিষয় হলো, রাজাউল্লাহর এই কীর্তির সাক্ষী ছিলেন খোদ সাউদি নিজেই। অবসরপ্রাপ্ত এই কিউই পেসার এখন ইংল্যান্ড দলের পরামর্শক হিসেবে এজবাস্টনে আছেন।

    ছক্কার রেকর্ড হয়েছে জুটিতেও। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে তার এই জুটিতে এসেছে ১০টি ছক্কা। ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনো শেষ তিন ব্যাটার মিলে এই সংখ্যক ছক্কা হাঁকাতে পারেননি। Advertisement

    https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&us_privacy=1—&gpp_sid=-1&client=ca-pub-9589667218503970&output=html&h=280&slotname=3643708405&adk=3439397580&adf=4180579246&pi=t.ma~as.3643708405&abgtt=6&w=713&fwrn=4&fwrnh=100&lmt=1789214037&rafmt=1&format=713×280&url=https%3A%2F%2Fwww.jugantor.com%2Fsports%2F1153427&fwr=0&fwrattr=true&rpe=1&resp_fmts=3&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&uach=WyJXaW5kb3dzIiwiMTkuMC4wIiwieDg2IiwiIiwiMTUyLjAuNzk3Ny44MyIsbnVsbCwwLG51bGwsIjY0IixbWyJDaHJvbWl1bSIsIjE1Mi4wLjc5NzcuODMiXSxbIk5vdD9BX0JyYW5kIiwiMjQuMC4wLjAiXSxbIkdvb2dsZSBDaHJvbWUiLCIxNTIuMC43OTc3LjgzIl1dLDBd&dt=1789214033260&bpp=1&bdt=187&idt=0&shv=r20260909&mjsv=m202609040101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D1a7f6e138809f0f5%3AT%3D1779707906%3ART%3D1789213986%3AS%3DALNI_Mbdnfm9CTohjCA6cnSNejdWnmiIhg&gpic=UID%3D0000142f5f330211%3AT%3D1779707906%3ART%3D1789213986%3AS%3DALNI_MZGlbJTVJyn4lV3l90SxwMXTEhcmg&eo_id_str=ID%3D22ac888cdf6df72a%3AT%3D1779707906%3ART%3D1789213986%3AS%3DAA-AfjYnqjpzr37wZfWlR8Ewh7O-&prev_fmts=0x0%2C160x600%2C713x280%2C300x600%2C320x100&nras=1&correlator=6864940804687&frm=20&pv=1&u_tz=360&u_his=6&u_h=1080&u_w=1920&u_ah=1032&u_aw=1920&u_cd=24&u_sd=1&dmc=16&adx=532&ady=2964&biw=1858&bih=869&scr_x=0&scr_y=0&eid=95399630%2C95400774%2C95373848&oid=2&pvsid=6792218395388050&tmod=42049829&uas=1&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fwww.jugantor.com%2Fsports&fc=1920&brdim=20%2C68%2C20%2C68%2C1920%2C0%2C1889%2C964%2C1873%2C869&vis=1&rsz=%7C%7CoEebr%7C&abl=CS&pfx=0&fu=128&bc=31&plas=245x588_l%7C273x588_r&bz=1.01&ifi=6&uci=a!6&btvi=4&fsb=1&dtd=245

    ৯টি ছক্কায় ইংল্যান্ডের মাটিতে এক টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০২৩ অ্যাশেজে লর্ডসে ১৫৫ রানের ইনিংস খেলতে গিয়ে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই রেকর্ডেও গতকাল ভাগ বসিয়েছেন রাজা।

  • রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৮৪ বোতল স্কাফ সিরাপসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার প্রাকপুর এলাকার মরহুম কুতব উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫৫) ও চাঁদপুর জেলার মতলব থানার কলাকান্দা এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে রাসেল (৩৫)। তারা রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

    জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় ও রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এএসআই (নিরস্ত্র) হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অভিযানিক দল রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১৮৪ বোতল স্কাফসহ বিল্লাল ও রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়।

    ওসি সালাউদ্দিন জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।

    মাদকদ্রব্যসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে রূপগঞ্জ থানা পুলিশসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

  • বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র কে?

    বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র কে?

    এতদিন বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর উত্তর ছিল, ‘কী জন্য করব?’ কখনো আবার বলেছেন, কাজ, বই আর পোষ্যদের নিয়েই ব্যস্ত আছেন। ব্যক্তিজীবনকে বরাবরই আড়াল রেখেছেন নায়িকা। সেই মিমি কি এ বার সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন? টলিপাড়ায় অন্তত তেমনই গুঞ্জন।

    শোনা যাচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরেই চারহাত এক হবে। বিয়ের আসর বসতে পারে পাহাড়ের শহর কালিম্পঙে। ঘনিষ্ঠ মহলে ইতিমধ্যেই নিমন্ত্রণের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও খবর। যদিও মিমির তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তবে গুঞ্জনের কেন্দ্রে শুধু বিয়ের দিনক্ষণ নয়, পাত্রও। টলিপাড়ার সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই বলেই খবর। শোনা যাচ্ছে, নায়িকার হবু স্বামী পেশায় নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা।

    মিমির প্রেমজীবন নিয়ে অবশ্য এর আগে কম আলোচনা হয়নি। সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও মিমি নিজে সেগুলিকে কখনো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বরং বারবার জানিয়েছেন, কাজের বাইরে তার সময় কাটে পরিবার, বই এবং পোষ্যদের সঙ্গে।

    কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মিমি জানিয়েছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে তো পাত্র খুঁজতে হবে, তার জন্য দেখা-সাক্ষাৎও করতে হবে— সেটুকু করার সময়ও নাকি তার নেই। সেই ‘ব্যস্ত’ মিমির জীবনেই তবে এ বার চুপিসারে এসেছেন কেউ!

  • শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

    শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্পিকার বলেন, শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন। পক্ষান্তরে তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকতো গুমে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার। কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন আসলে গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন। জনগণ তখন বুঝতে পারেনি। এখন জনগণের কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও নিজেই ছিলেন গুমের নির্দেশ দাতা। একজন ব্যারিষ্টারকে আট বছর হাত করা লাগিয়ে আয়না ঘরে বন্দি করে রেখেছেন। কতবড় মির্মম ও জঘন্যতম কাজ করা হয়েছে তার সাথে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি মুক্ত হয়ে এখন সংসদ সদস্য হয়েছেন।

    বিগত সরকারের লুটপাট প্রসঙ্গে ভোলা-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। একটি পর্দার দাম ধরেছে ৪২ হাজার টাকা। তখনকার এক ভূমি প্রতিমন্ত্রী যার লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রকল্পগুলো কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

    লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপ-নির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনে দুপুরে আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন।

  • মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে জরিমানা

    মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    জামালপুরের মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগে এক সার ডিলারকে আট হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার বাজিতেরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার মেসার্স এস এন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনতাজুর আলীকে অতিরিক্ত দামে টিএসপি সার বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জের ইউএনও ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় কৃষক আনিস বলেন, ‘সার কেনার জন্য কয়েকবার দোকানে গিয়ে সার পাইনি। পরে শুনতে পাই এখানে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে সার কিনতে এখানে আসি।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যেন নির্ধারিত দামে ও সহজে পাওয়া যায়, প্রশাসনের কাছে আমরা এটাই চাই।’

    ইউএনও সুমন বলেন, ‘কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বা কৃষকদের হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন শাখা।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের সদর পূর্ব থানা শাখার সভাপতি ফজলুল করিম শাহাদাত। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এরফানুল হক সাকিব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরফানুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির কর্ণধার। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার বিশাল দ্বার উন্মুক্ত। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, সততা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার পাশাপাশি দেশকেও এগিয়ে নিতে পারে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্মই একটি জাতির মূল শক্তি। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান খান, ছাত্রশিবির গাজীপুর জেলা সেক্রেটারি বায়জিদ মাহমুদ, শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক মো: আবুল কালাম আজাদ ও প্রহলাদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মো: আলী হোসাইন পালোয়ান।

    অনুষ্ঠান শেষে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৮০ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

  • জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সিজারিয়ান অপারেশনের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সরকারি লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয়া হয়। একই সাথে আদায় করা হয় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা।

    অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, অনুমোদনহীন ও অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জীবননগর উপজেলায় গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    খালিয়াজুড়ীতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ডোবার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডোবায় পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

    মৃতরা হলো জাহেরপুর গ্রামের মো: সেলিম মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৫) ও একই গ্রামের মো: সেকুল মিয়ার ছেলে শাহাদত (৪)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওবায়দুল্লাহ ও শাহাদত উপজেলার জাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যায়। খবর পেয়ে এসআই মন্জুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    খালিয়াজুড়ী থানার ওসি নাসিরউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি কার্যক্রম শেষে দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • তরুণেরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারে:প্রধানমন্ত্রী

    তরুণেরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারে:প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা পরিবর্তন এনেছিল। তেমনি এবার পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তেও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

    শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ না পারলেও ৮০ শতাংশ ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার।

    তারেক রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা নিজের আশপাশ পরিষ্কার করি। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। দেশটা সবাই মিলে গড়তে হবে। এ সময় নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

  • চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন,সভাপতি শফিকুল-সম্পাদক মহাসিন

    চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন,সভাপতি শফিকুল-সম্পাদক মহাসিন



    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন বছরের জন্য শফিকুল ইসলামকে সভাপতি ও মহসিন আলীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের চৌগাছা অফিসে এ কমিটি গঠন করা হয়।

    এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার কামাল আহমেদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার ছিলেন প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর ও এ্যাড. হায়দার আলী।
    কমিটির অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবু তাহের এবং ওজ্জেত আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম সালাম, দপ্তর সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, প্রচার সম্পাদক শান্ত ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ, কার্য নির্বাহী সদস্য শরিফুল ইসলাম ও শাকিল।
    প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাস্টার কামাল আহমেদ জানান, এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২৪ আগস্ট ২০২৬, মনোনয়ন পত্র বিক্রি ২৬ আগস্ট, যাচাই ২৯ আগস্ট, প্রত্যাহার ৩ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৩ টি পদে কোন প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী না থাকায় তাদেরকে বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
    নির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, প্রধান নির্বাচন কমিশনার চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, এ্যাড. হায়দার আলী, চৌগাছা মোটরযান শ্রমিক সংস্থার সভাপতি আনিছুর রহমান, প্রেসক্লাব চৌগাছার যুগ্ম-সম্পাদক এম এ রহিম, সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াকুল আলী ও চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন প্রমুখ ।

  • করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন চংনোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৩৮) ও নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৪)। তারা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সকাল ৭টার দিকে শাহ আলম ও মোকাররম জাল নিয়ে গ্রামের সামনের হাওরে মাছ ধরতে যান। এ সময় হালকা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    সকাল ১০টা পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা হাওরে খোঁজ করতে যান। পরে হাওরের হাঁটুপানিতে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

    স্থানীয়রা জানায়, মোকাররম হোসেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। শাহ আলম ধানবাহী নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

  • খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার দৌলতপুরে জলিল মুন্সি নামে এক যুবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে থানার কুলিবাগান বটতলার অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

    পাট শ্রমিক জলিল ওই এলাকার সাধু বাগানের দিলু মুন্সির ছেলে।

    পুলিশ জানায়, কুলিবাগান এলাকায় জলিলের বাবার একটি পানের দোকান আছে। সেখানে যাওয়ার জন্য এক যুবককে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে পৌনে ৮টার দিকে বের হন তিনি। কিছুক্ষণ পর তার মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। ফোনে তর্কতর্কি হয়।

    এরপর বটতলা থেকে দুই গজ দূরে যাওয়া মাত্র একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তির সাথে তার কথা হয়। এক পর্যায়ে আগতদের একজন তাকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি গুলি করে। গুলি তার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।

    স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

    কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কি কারণে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা জানার চেষ্টা করছি।’

  • কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা দুর্ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। তীব্র স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয় নৌকাটি। পরে স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। এ সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিং ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজরা হলেন শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রকি, একই উপজেলার কবিরপুরের লিটন এবং আব্দুল ওহাব।

    ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকাটি কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন। ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে নৌকাটি ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়।

    এতে নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে যান। এরপর নৌকাটি স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণে এনে তীরে নেয়া সম্ভব হয়। স্থানীয়রা নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যান।

    দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। প্রথমে চারজন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা গেলেও পরে ওহাব নামে একজনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত। তিনি বলেন, ‘এটি শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা ছিল। তারা ভেড়ামারা সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিল। তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে আছি।’

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নিখোঁজ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নৌকাটিতে প্রায় ১১০ জন ছিলেন। রাতে উদ্ধার সম্ভব না হলে খুলনা থেকে ডুবুরি পৌঁছলে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’

    নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেও অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।

  • আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।

    এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

    এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

  • হুথি দমনে মার্কিন হামলার আহ্বান:ট্রাম্পের না

    হুথি দমনে মার্কিন হামলার আহ্বান:ট্রাম্পের না

    ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে দমন করতে তাদের লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই ফোনালাপ হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে নিশ্চিত করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

    সৌদি ‍যুবরাজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের কারণ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন এই সময়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই।

    এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটনের সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    তবে এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হতে না চাইলেও এ ইস্যুতে সৌদি আরবের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইস্যুতে জরুরি বৈঠকও করেছেন।

    বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মুহূর্তে ইরান এবং হরমুজ প্রণালিকে ইরানের কব্জামুক্ত করতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার পক্ষপাতি। এ কারণে অন্য কোথাও সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে চান তিনি।

    উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।

    বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

    ২০২২ সালে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মাধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল; কিন্তু গত জুলাই মাসে সানার বিমানবন্দরে হামলার পর থেকে ফের তিক্ত হয়ে ওঠে সৌদি-হুথি সম্পর্ক।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস জেল

    যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস জেল

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবার নামে সরকারি তহবিল লুটের এক চতুর জালিয়াতির তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য তৈরি মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের অপরাধে জাকিয়া খান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে ৭৬ মাসের বা সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে বিচারক নাতাশা সি মার্ল এই রায় দেন।Advertisement

    আদালতের তথ্য থেকে জানা যায় লোভ ও প্রতারণার এক অবিশ্বাস্য গল্প। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র চালাতেন জাকিয়া। এর পাশাপাশি বাসায় গিয়ে সেবা দেওয়ার আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং বেআইনি টাকা লুকিয়ে ফেলার জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামের আরও দুটি সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি।

    ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর ধরে চলে এই কারচুপি। নিয়ম অনুযায়ী প্রবীণ নাগরিকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাকিয়া ও তার চক্রের দালালরা তাদের নগদ টাকার লোভ দেখাতেন। কোনো সেবা না পেয়েও প্রবীণরা শুধু ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করে দিতেন, আর তার বদলে হাতে হাতে পেয়ে যেতেন নগদ ঘুষের টাকা। অন্যদিকে জাকিয়া খান সরকার বা মেডিকেয়ারের কাছে সেবা দেওয়ার ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে তুলে নিতেন কোটি কোটি ডলার।

    গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খান নিজের অফিসে বসেই কীভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। জানা গেছে, এই কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠান দুটি প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে সরকার তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েও ফেলে। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ দিয়ে জাকিয়া গড়ে তোলেন বিলাসবহুল বাড়ি, জমিয়েছিলেন প্রচুর নগদ টাকা ও খাঁটি সোনার গয়না।

    তদন্তে সব ধরা পড়ার পর গত বছর জাকিয়া নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। বিচারে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ওই ৫৬ মিলিয়ন ডলার সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুটি বাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ।

    মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নাম ভাঙিয়ে যারা সরকারের টাকা মারবে, তাদের সবাইকে এভাবেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

  • মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প, যার সুবিধা পাবে দেশের ২৪টি জেলার অন্তত ৭ কোটি মানুষ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে একটি নির্ধারিত তারিখে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ, নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবন, নাব্যতা রক্ষা, মানবসম্পদ ও দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের পানির নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

    শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘এ ব্যারেজটির স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকে। বাংলাদেশের ২৪টি জেলার ৭ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা এ স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছি। এ এলাকার মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা মেঘা প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিপ্লবের জন্য ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এটা আধুনিক প্রকল্প। ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খলেজা জিয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা করেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে একটি স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি, বিদুৎ, মৎস্য, কৃষি উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থে পানির চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন। একই কায়দায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় পানি ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্ত আনতে সচেষ্ট তিনি ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে সারাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে খাল খনন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মা নদীর উদ্বৃত্ত পানি সংরক্ষণ করা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা।

    পরে হাবাসপুর কেরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন অতিথিরা। পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিতি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাবু, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমটির সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ২টি ফিশপাস এবং নেভিগেশন লক সমৃদ্ধ এই ব্যারেজটিতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যার সম্পন্ন অর্থায়ন করবে সরকার।

  • ইসরাইলকে ভালোবাসি, নেতানিয়াহুকে নয়: হিলারি

    ইসরাইলকে ভালোবাসি, নেতানিয়াহুকে নয়: হিলারি

    ইসরাইলের আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতি ও সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নেতানিয়াহু যদি নতুন নির্বাচনে জিতে আবার ক্ষমতায় ফেরেন, তবে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্ত ভূমিকা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি ‘এমএস নাউ’-এর ‘মর্নিং জো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হিলারি। তিনি বলেন, আমি বারবার বলেছি—আমি ইসরাইলকে ভালোবাসি, তবে নেতানিয়াহুর সরকার ও তার নীতিকে মন থেকে অপছন্দ করি। ঠিক একইভাবে আমি নিজের দেশ আমেরিকাকে ভালোবাসি, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ও তার কাজকর্মকে একদম মানতে পারি না। ইসরাইলে যা হচ্ছে তা তাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বেশ উদ্বেগের।

    সাক্ষাৎকারে হিলারি আরও উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতায় এলে ওয়াশিংটনের নীতি আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তবে ইসরাইলে নতুন কোনো নেতৃত্ব এলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাথে অনেক সহজ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

    ইসরাইলি রাজনীতিতে তীব্র প্রতিযোগিতা চলাকালীন হিলারির এমন বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে বিরোধী দলগুলো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গড়ার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না।

    ইতোমধ্যে সাতবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তবে একের পর এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে তার বর্তমান জোট বেশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। নিজের আসন ধরে রাখতে তিনি এখন তার মিত্রদের সমর্থনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছেন।

  • ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এসসিবিএ) মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, হু ইজ হি হেয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা জানেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আমিই তো আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলব। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এখানে? তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন!

    তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টে এখনো অনেক বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। প্রধান বিচারপতিকে সেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। এক মাসের মধ্যে দাবি না মানলে আইনজীবীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সবারই একটা উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে দাবিÑআপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশের প্রত্যেকটি কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং তা আগামী এক মাসের মধ্যেই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আপাতত টেম্পরারি পর্যায়ের শেড হলেও করে দিতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে, এই বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চেম্বার করতে হবে, হলরুম করতে হবে।

    গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাদানুবাদে তার আপিল বিভাগের এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা মামলার প্রসিডিংয়ে হয়নি।

  • সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের করের টাকা কোনোভাবেই যেন অপচয় না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন। এ ছাড়া সরকারি গাড়ি, খাবার খরচ ও লোকবহরের ব্যবহারেও ব্যয় কমাচ্ছেন তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা, উনার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) ১৫০ টাকা বিল। যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা এবং তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’

    তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, এক্সচেকারের (রাজকোষ) টাকা, আপনাদের টাকা সে (শেখ হাসিনা) নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে। যে কারণে সরকার বলেছে, এমপি-মন্ত্রী যদি কোনো জায়গায় বাইরে যান এবং এসে বলেন যে আমার এত টাকা বিল হয়েছে, তা হবে না। কাগজ দিতে হবে, যাতে এক টাকাও নষ্ট না হয়। এটি হলেন তারেক রহমান।’

    নুরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন—রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে কোনো অবস্থাতেই একটি টাকাও অপচয় করা যাবে না। এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

    তিনি বলেন, ‘সরকারের এক্সচেকার থেকে ১০ টাকা—তারেক রহমান সাহেব মনে করেন, কোনো অবস্থাতেই একটা টাকা নষ্ট হতে পারবে না। তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন।’

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যক্রমেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘তার জন্য এয়ারপোর্টে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য নিজের গাড়ি-লোকবহর নেই। তার জন্য উনি উনার অফিসে খান।’

    আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অফিসের খাবারের ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। উনার ১৫০ টাকা বিল, একজনের। উনার অফিসে ১৫০ টাকা দিয়ে আমি টাকা খেতে পারি না—সত্যি কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবার বিলের বিষয়টি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিরোধী নেতা বলেছেন, যেটা সম্ভব। কিন্তু তারপর খাইতে পারি না।’ ‘এই কাজটা ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে,’ যোগ করেন তিনি।

  • আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ব্যয় ১১১৪২ কোটি, ফলাফল শুন্য

    আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ব্যয় ১১১৪২ কোটি, ফলাফল শুন্য

    সারা দেশের প্রায় ৫ লাখ ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ নামের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। ‘মুজিব শতবর্ষ’ উপলক্ষে ২০২১ সালে শুরু হওয়া ওই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হয়েছে আড়াই লাখের বেশি আধাপাকা ঘর। দুই শতক জমিসহ সেসব ঘর পেয়েছিল সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। বিভিন্ন এলাকায় রঙিন টিনের সারি সারি ঘরগুলো দেখলেই মনে হতো একেকটি নতুন জনপদ। কিন্তু পাঁচ বছর না যেতেই বহু প্রকল্প এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বরাদ্দ পাওয়ার পরও এসব ঘরে থাকছেন না অনেকে। কোথাও ঘরে তালা। কোথাও আবার খসে পড়েছে দেয়ালের পলেস্তারা, ভেঙে পড়েছে দরজা-জানালা। কোথাও আবার আগাছা আগ্রাসনে ঘরগুলো কার্যত পরিত্যক্ত। বড় আশার প্রকল্পটি যেন এক আক্ষেপের নাম।১১১৪২ কোটি টাকার এত বড় প্রকল্প কার্যত এখন বিগ জিরো।

    মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি দেশের বড় গৃহায়ন কর্মসূচি। কিন্তু চার ধাপের প্রকল্পটির শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে নির্মাণ মান, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও ব্যয় নিয়ে। ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৬৯ হাজার ৯০৪ পরিবারকে ঘর হস্তান্তরের পর কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ঘর ভেঙে পড়া এবং ফাটল দেখা দেওয়ার চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসে। সে সময় সরকারি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রতিটি ঘর নির্মাণে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার, তৃতীয় ধাপে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ এবং চতুর্থ ধাপে তা বেড়ে হয় ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার বেশি। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি চতুর্থবার সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ১১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বাড়ে ৬ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত কিন্তু ওই সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকল্পটিতে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে। পরে প্রকল্পটি বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।

    জনশূন্যআশ্রয়ণ: আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল অসহায় পরিবারগুলোকে একটি স্থায়ী জীবনের ঠিকানা দেওয়া। উদ্বোধনের সময় অনেক পরিবারই আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে নতুন ঘরে উঠেছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সেই আনন্দ ম্লান হয়েছে। গত ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর দেশের ১৮ জেলার ৪০ উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেছে আগামীর সময়। এসব এলাকার ১ হাজার ৪১৪টি ঘরের সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করে ৭৭৫টি ঘর ফাঁকা, তালাবদ্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নমুনাভিত্তিক এ হিসাবে ঘর ফাঁকা থাকার হার ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

    সরেজমিনে সবচেয়ে শূন্য পাওয়া গেছে শেরপুরের ভোগাইপাড়ায়। এখানকার ৩০টি ঘরের প্রতিটিতেই তালা দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বললেন, কাজের সন্ধানে বাসিন্দারা ঘর তালাবদ্ধ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন।

    পটুয়াখালীর বাউফলের ছত্রকান্দার ২২টি ঘরের মধ্যে ২১টি পরিত্যক্ত। স্থানীয়রা এসব ঘর গোয়ালঘর ও খড় রাখার কাজে ব্যবহার করছেন। শরীয়তপুরের নড়িয়ার পদ্মার চরের চরআত্রা খাসবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০০টি ঘরের ৯০টিই শূন্য। মৌলিক সুবিধা ও চরম যোগাযোগ সংকটের কারণে মাত্র তিনটি পরিবার এখানে বাস করছে। চরআত্রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সামছুদ্দিন ব্যাপারী আগামীর সময়কে বলছিলেন, দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকায় প্রকল্প জুড়ে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। চুরি হয়ে গেছে অধিকাংশ ঘরের চালের টিন, দরজা, জানালা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। রক্ষণাবেক্ষণ করার মতো কেউ নেই।

    অবশ্য এসব নৈরাজ্যের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম রাঙামাটির কাপ্তাই। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ১১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরের সবকটিতেই বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবারগুলো বসবাস করছে। তবে তারা ভুগছেন নিরাপদ পানি, রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যায়।

    ত্রুটিপূর্ণনির্মাণ: সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আশ্রয়ণের ঘরগুলো হস্তান্তরের কিছুদিনের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানকড়া ইউনিয়নে নির্মিত ঘরগুলোতে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে, যার কারণে বেঁকে গিয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের জোটাল মাঠাই গ্রামের দিলীপ চন্দ্রের ঘরটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশে। ২০২৫ সালে বটগাছ ভেঙে পড়ে ঘরটি পুরোপুরি তছনছ হয়ে যায়। দিলীপ চন্দ্র পরিবার নিয়ে পাশে টিনের ছাপরায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে শুধু আশ্বাস দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ খন্দকার বললেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অফিস পুড়ে যাওয়ায় সব নথিপত্র নষ্ট হয়েছে। সে কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঠিক পরিসংখ্যান জানা নেই। এটি ছিল বিগত সরকারের আমলের প্রকল্প। বর্তমানে এখানে সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই।’

    অনিয়মওসচ্ছলদেরগ্রাস: আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করার প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, তখনকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাবে সচ্ছল ও পাকা বাড়ির মালিকদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের নিয়ে গড়া সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম বললেন, ‘পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও লুৎফর মিয়া নামে এক ব্যক্তি ঘর পেয়েছেন।’

    খুলনার পাইকগাছায় পুটিমারী প্রকল্পের ৯০টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৩০টি ঘর ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বললেন, ‘সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। তদন্তে প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    অপরাধেরঅভয়ারণ্য: জনশূন্য বা অধিকাংশ ফাঁকা পড়ে থাকা এসব আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন মাদক কারবারি, জুয়াড়ি ও বখাটেদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনীর গোপালনগর ও ভাটপাড়া এলাকায় জনবসতিহীন স্থানে নির্মিত ঘরগুলো এখন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের আড্ডাস্থল। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বললেন, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খালি ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের চর সৈয়দপুর এলাকার তিনটি আশ্রয়ণে ১৫৬টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়। কিন্তু মাদকসেবী ও চোরের উপদ্রব বাড়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা। অবশ্য সরেজমিনে পরিদর্শন করে ওই এলাকায় কী কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে একটি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানালেন ইউএনও এস এম ফয়েজউদ্দিন।

    আবশ্যিকসুবিধারঅভাব: খুলনার কয়রা উপজেলার লালুয়া বাগালি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নদীর চরে নির্মিত। এই প্রকল্পে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত চারটি নলকূপের সবকটিই অকেজো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো নির্মাণের আগে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সম্ভাব্যতা যাচাই বা সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। অনেক প্রকল্প এলাকা মূল ভূখণ্ড বা বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরে বা নিচু এলাকায় করা হয়েছে। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মান্দারগাঁও ও নোয়াগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো নিচু এবং প্লাবনপ্রবণ জায়গায় করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন নোংরা পানি জমে থাকছে। বগুড়ার শাজাহানপুরের চাঁদবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামে ১৫টি ঘরের মধ্যে ১১টি পরিবার বসবাস করলেও পানির তীব্র সংকট রয়েছে। তিনটি টিউবওয়েলের একটি নষ্ট এবং একটিতে আয়রন বেশি ওঠায় ১১টি পরিবারের সম্বল মাত্র একটি নলকূপ।

    আশ্বাসেইশেষনাকিসমাধান: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাওয়ার যোগ্য। বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘর বা জমি বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। এমন প্রমাণ মিললে বরাদ্দ বাতিলের বিধান রয়েছে। চাঁদপুর, গাজীপুর, জামালপুর, মেহেরপুর, পাবনা ও নীলফামারীর মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ফাঁকা ও বেহাত ঘরের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নীতিমালা ভঙ্গ করে ঘর বিক্রি বা দখলে রাখার প্রমাণ মিললে বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা আগামীর সময়কে বললেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যর্থতার প্রধান কারণ সুবিধাভোগী ও এলাকা নির্বাচনে ভুল। তিনি বললেন, ‘এটি শুরু থেকেই অনেকটা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ছিল। কর্মকর্তারা কাজের মানের চেয়ে ঘরের সুন্দর করে ছবি তুলে দেখানোতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। নির্মাণের আগে কোথায় মানুষের জীবিকা আছে, যোগাযোগ কেমন, পানি ও বিদ্যুতের সুযোগ আছে কি না—এসব বিবেচনা জরুরি ছিল। কিন্তু নেওয়া হয়নি। যেখানে জীবিকার সুযোগ নেই, শুধু খাস বা পরিত্যক্ত জমি পেয়ে সেখানে ঘর করলে মানুষ থাকবে না।’

    গওহার নঈম ওয়ারার মতে, ভাঙা ঘর পুনর্নির্মাণ, মেরামতযোগ্য ঘর সংস্কার, ফাঁকা ঘর পুনর্বণ্টন এবং সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই করতে হবে নতুন করে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ, যোগাযোগ এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত ও তদারকিতে যুক্ত করতে হবে।

  • গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    রাজধানীর গুলশানে শুক্রবার দুপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল বের করেছেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।
    গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান- ১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের করার চেষ্টা হয়। তখন পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ছুড়তেও দেখা গেছে।
    ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

  • এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু

    এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু

    রবি ঠাকুরের কবিতার লাইনগুলো নিশ্চয়ই জানা? ‘বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে/ বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে/ দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা/ দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু…।’

    পরের লাইনগুলোয় একটু পরে আসা যাবে। আগে এই লাইনগুলোর তরজমা হোক। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেস চলে যাওয়ার পর হন্যে হয়ে স্ট্রাইকার খুঁজেছে বার্সেলোনা। পছন্দ ছিল একটাই—আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজ। সে জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চেষ্টা করেছে বার্সা। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার যত ইচ্ছাই থাকুক, আতলেতিকো তাঁকে ছাড়বে কেন! একে তো অমন একটা স্ট্রাইকারকে ছাড়লে তাদের লোকসান, তার ওপর লিগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে আলভারেজকে তুলে দেওয়ার অর্থ হলো নিজেদের পায়েই কুড়াল মারা।

    অতএব আলভারেজ মিশনে বহুদিন ধরে বহুভাবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে বার্সা। মৌসুম শুরুর আগে তাই প্রশ্ন উঠেছিল কাতালান ক্লাবটির সেন্টার ফরোয়ার্ড হবেন কে? স্বয়ং বার্সার এক বোর্ড সদস্যই প্রাক্‌–মৌসুমে সেন্ট জর্জেস পার্কে বার্সার অনুশীলনে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফুটিয়ে বলেছিলেন, ‘(দলে) কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড নেই।’

    কিন্তু এখন আর সেই প্রশ্নের অস্তিত্ব নেই। রসিকতা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, বার্সার নীতিনির্ধারকদের হয়তো বিশ্বকবির ওই কবিতার পরের লাইনগুলো জানা ছিল! সে যাহোক, পরের লাইনগুলোয় ফিরে দেখা যাক—‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।’

    রাফিনিয়া এখন বার্সার সেই ‘শিশিরবিন্দু’।

    ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে আগে রবি ঠাকুরের লাইনগুলোর সারমর্ম একটু বুঝিয়ে বলতে হয়। কবি বলছেন, প্রচুর অর্থ ও সময় খরচ করে মানুষ দূর-দূরান্তে সৌন্দর্য দেখতে ছুটে যায়, কিন্তু ঘরে কিংবা ঘরের কাছে থাকা সুন্দর রূপটি অনেক সময় অদেখাই থেকে যায়।

    এই রাফিনিয়াকে আগে দেখা যায়নি রয়টার্স

    বার্সার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরকার সেই ‘সৌন্দর্য’ অদেখা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চোখ ও মস্তিস্কের রাডারে ব্যাপারটা ধরা পড়েছে। তার আগে অবশ্য ক্যাম্প ন্যুর চৌকাঠের ওপাশে দু–পা ফেলে মাদ্রিদে গিয়ে আলভারেজ নামে আর্জেন্টাইন সৌন্দর্যের সন্ধান করেছেন বার্সার নীতিনির্ধারকেরা। সেখান থেকে ব্যর্থ মনোরথে ঘরে ফিরে বার্সার টিম ম্যানেজমেন্ট যেন হঠাৎ করেই ব্রাজিলিয়ান সেই ‘শিশিরবিন্দু’ আবিষ্কার করে ফেললেন! দরকার ছিল শুধু সেই ‘শিশিরবিন্দু’র অবস্থানটা একটু পাল্টানো। কোচ হান্সি ফ্লিক সেটা করার পর ফলটা মিলছে হাতেনাতে।

    চলতি মৌসুমে ৫ ম্যাচ খেলেছে বার্সা। সবগুলো ম্যাচেই শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামেন রাফিনিয়া। তবে একটু অন্য ভূমিকায়। উইঙ্গার হিসেবে এত দিন খেললেও চলতি মৌসুমে রাফিনিয়াকে দেখা যাচ্ছে মুক্ত ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়। তাতে ৫ ম্যাচে পেয়েছেন ৮ গোল, অ্যাসিস্ট ১টি। কিন্তু এটা তো মাঠের ফল। বার্সার নীতিনির্ধারকদের মনেও একটা প্রভাব পড়ার কথা। আলভারেজকে তাঁরা নিশ্চয়ই ভুলে গেছেন! কিংবা এভাবেও বলা যায়, উইঙ্গার থেকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে রাফিনিয়া বার্সার আলভারেজ–বিরহ ভুলিয়ে ছেড়েছেন।

    বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।

    বার্সার সমর্থকেরা সে জন্য তাঁদের ক্লাবকে একটা ধন্যবাদও জানাতে পারেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপ থেকে বার্সা আলভারেজের পেছনে ছুটতে শুরু করেছিল বলেই তো এই মৌসুমে রাফিনিয়ার ভেতরকার ফরোয়ার্ড–সত্তাটা জেগে উঠল! আর সেই সত্তায় শুধু গোল এবং অ্যাসিস্ট নয়, ফুটছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই ছন্দময় গতি, ড্রিবলিং, স্ট্যামিনা ও ফিনিশিং দক্ষতা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম গোলকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন।

    বক্সে দৌড়ের ওপর রাফিনিয়ার পায়ে বল। তাঁকে ঠেকাতে ডাচ ক্লাবটির দুজন ডিফেন্ডার একসঙ্গে স্লাইডিং ডাইভে সামনে চলে এলেন। তখন রাফিনিয়ার বাঁ পায়ে যেন ফুটবল কবিতার ছন্দ! আলতো স্পর্শে বলটা বাঁ দিকে যখন সরালেন, দুই ডিফেন্ডার তখন তাঁর সামনে দিয়ে স্লাইড করে যেন নেদারল্যান্ডসে চলে গেলেন! তারপর বাঁ পায়ের শটে গোল। জার্সি নম্বর ১১ হলেও কে বলবে এই রাফিনিয়া ৯ নম্বর নয়!

    রাফিনিয়াকে আটকাতে যাওয়া দুই ফেইনুর্ড ডিফেন্ডার স্লাইডে দূরে সরে শুধু গোল হতে দেখলেন রয়টার্স

    বার্সার গোলের সমস্যা সমাধানে রাফিনিয়ার এগিয়ে আসা নতুন কিছু না। ২০২৪-২৫ মৌসুমে করেছিলেন ৩৪টি গোল ও ২৬টি অ্যাসিস্ট; যার মধ্যে লিগে অবদান ছিল ৩০ গোলে (১৮টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। বার্সাও জিতেছিল লা লিগা শিরোপা। আর রাফিনিয়াও উইঙ্গার পজিশন থেকে প্রথাগত ফরোয়ার্ডদের মতো বক্সে ঢুকে কিংবা তার আশপাশ থেকে গোলগুলো করেন এবং করান। সরাসরি সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে তখনো খেলা শুরু করেননি।

    পরের মৌসুমে চোটের কারণে মাসের পর মাস মাঠের বাইরে থাকতে হলেও তাঁর কার্যকারিতা ছিল দেখার মতো। সেবারও ২১ গোল করার পাশাপাশি ৮ অ্যাসিস্ট করে বার্সার লিগ শিরোপা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু বিশ্বকাপেও চোটে পড়ায় হলুদ জার্সিতে সেই রাফিনিয়াকে দেখা যায়নি।

    মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে খেলেছেন। গোল পাননি। চোটে পড়েন হাইতি ম্যাচে। সুস্থ হয়ে শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও গোল পাননি। ব্রাজিলও হেরে বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকে। এই বিশ্বকাপ চলার মাঝেই বার্সার আলভারেজের পিছু ছোটার খবর বেশি করে চাউর হয় সংবাদমাধ্যমে। রাফিনিয়ার কি তখন আঁতে ঘা লেগেছিল? কে জানে!

    বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি রাফিনিয়া।

    বার্সার জার্মান কোচ ফ্লিক কৌশলে দূরদর্শী মানুষ। বিশ্বকাপ শেষে এবারের মৌসুম শুরুর আগে রাফিনিয়ার পজিশন নিয়ে বার্সার অনুশীলনে বেশ কাজ করেন ফ্লিক। উইঙ্গার পজিশন থেকে তাঁকে সরিয়ে এনে মাঠের ভেতরে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। মুক্ত ফরোয়ার্ড হয়ে আক্রমণভাগ চষে বেড়ানোর ভার দেন রাফিনিয়ার কাঁধে। এতে শুধু বার্সার খেলার কৌশল বদলায়নি, আক্রমণভাগ নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসানও হয়েছে।

    তবে সন্দেহও ছিল। উইং পজিশনটা সাধারণত বল নিয়ে লম্বা দৌড়ের। সামনে প্রতিপক্ষ পেলে হয় পাস দিয়ে বল ছাড়তে হয় কিংবা ড্রিবলিং করে বেরিয়ে যেতে হয়। রাফিনিয়া এত দিন সেভাবেই অভ্যস্ত ছিলেন। সেখান থেকে একদম বক্সে কিংবা তার আশপাশে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলার কিছু ঝামেলা ছিল।

    জায়গাটা সংকীর্ণ, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জটলায় খেলার জায়গাও খুব কম মেলে। বার্সার খেলার ধাঁচের সঙ্গে মিলিয়ে ওই পজিশনে সফল হতে হলে পায়ের কারুকাজ থাকা বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে ফিনিশ করার সহজাত ক্ষমতাও লাগে। প্রশ্ন ছিল, রাফিনিয়া কি ওই পজিশনে মানিয়ে নিতে পারবেন?

    ২০২৬–২৭ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল করে রাফিনিয়া এখন উড়ছেন রয়টার্স

    উত্তর মিলছে মাঠেই। কতটা মানিয়ে নিয়েছেন এ মৌসুমে গোল–পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। আর গোল করার বাইরে সতীর্থদের নিয়ে যেভাবে খেলে যাচ্ছেন, তা হয়তো আরও বড় প্রমাণ। বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।

    সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার, রাফিনিয়ার খেলা দেখে মনে হচ্ছে এটাই তাঁর চিরাচরিত পজিশন। বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি।

    আরও মজার বিষয়, ২০২২ সালে বার্সায় যোগ দেওয়ার সময় রাফিনিয়া কিন্তু বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার ছিলেন না। ডান প্রান্তের উইঙ্গার হয়ে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে দেম্বেলে ও তারপর ইয়ামালের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সরে যান বাঁয়ে। ক্লাবের প্রয়োজনেই সেই রাফিনিয়া এখন ফরোয়ার্ড—ফোঁটা ফোঁটা শিশিরবিন্দুর মতো তাঁর একেকটি গোলে ব্রাজিলিয়ানের সবচেয়ে সুন্দর রূপটি কি দেখছে বার্সা?

    উত্তর আপনার কাছে।

  • ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।

    চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    এ সময় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

    বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।

  • আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং।

    কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।

    ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।

    গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।

    সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলো সবই বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংবিধান সংশোধন করেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।

    তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাশ হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।

    চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাশ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন অন্যতম। এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    চিফ হুইপ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসব আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় প্রয়োজন। এ কারণে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সরকারকে সময় দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকার এসব বিষয় পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আগের সরকারের সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এসব বিষয়ে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    কৃষি ও সার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের বিষয়টি রয়েছে। বিপুলসংখ্যক কৃষক পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।

    দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, এখন আমাদের কাছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার অতিরিক্ত আছে। সার ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সরকার কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিদেশি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে সরকার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আর্থিক দিকও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো দেশকে শত্রু হিসেবে না দেখে সবাইকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে।

    চিফ হুইপ বলেন, অতীতে বিরোধী দলের সদস্যকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুবই সীমিত। তবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে।

    সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি, বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, লংমার্চ করে যদি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চ করত।

    চিফ হুইপ সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের ভুল হলে সেটিও লিখতে হবে এবং সরকার সঠিক কাজ করলে সেটিও তুলে ধরতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি থাকলে সাংবাদিকরা তা তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইচ্ছা করলে আইন পাস করতে পারে। তবে সরকার তা না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

    দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চায় উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

    তিনি বলেন, আমরা সরকার এবং বিরোধীদল সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তা করবো।

  • নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা

    নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা

    নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপস্থিতি এবং শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির উপস্থিতি ঘিরে ডানপন্থীদের ক্ষোভ আলোচনায় এসেছে।

    ট্রাম্প নিউইয়র্কে না গিয়ে হামলার আরেকটি লক্ষ্যস্থল পেন্টাগনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ২০০১ সালের ওই হামলায় ছিনতাই করা বিমান দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস করা হয় এবং মোট দুই হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন।

    নিউইয়র্কের ‘গ্রাউন্ড জিরো’তে আয়োজিত স্মরণ সভায় ট্রাম্পের চার জীবিত পূর্বসূরি- হামলার সময়কালীন প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন, বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন- এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে কেউ বক্তৃতা দেবেন না। নিহতদের স্বজনেরা একে একে হামলায় নিহত সব ব্যক্তির নাম পাঠ করবেন। হামলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মরণ করতে ঘণ্টাও বাজানো হবে।

    ৯/১১ মেমোরিয়াল পরিদর্শনে আসা ষাটোর্ধ্ব শিকাগোর বাসিন্দা রবার্ট কাফকা বলেন, ‘এ ধরনের স্মৃতিসৌধ এবং এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে ঘটনাগুলোকে স্মরণে রাখা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, তা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বোঝাপড়া তৈরি হয়।’

    সাবেক প্রেসিডেন্টদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র।

    তবে ডানপন্থী নিউইয়র্ক পোস্ট ও সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানির নেতৃত্বে একটি প্রচারণায় মামদানিকে স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

    এক আবেদনে এক লাখের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, মামদানি এমন কিছু ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত, যারা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানকে অবজ্ঞা করে অথবা উগ্র মতাদর্শের যথেষ্ট সমালোচনা করে না।

    নগর পরিষদের সদস্য শাহানা হানিফ সিএনএনকে বলেন, ‘মেয়রকে শুধু তিনি মুসলিম হওয়ার কারণে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এটি আমার কাছে উদ্বেগজনক।’

    তবে সম্প্রতি মামদানি হামলার পর লোয়ার ম্যানহাটনের বায়ুর বিষাক্ততা সম্পর্কে নগর কর্তৃপক্ষ কী জানত, সে বিষয়ে হাজার হাজার নথি প্রকাশ করে প্রশংসা পেয়েছেন।

    ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধসে পড়ার পর প্রথমে তৈরি হওয়া ধুলোর বিশাল মেঘের পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় দূষণ ও ধুলাবালি ছিল। এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে এখনো হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী ভুগছেন।

    মামদানি মঙ্গলবার বলেন, ‘মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা যেসব নেতাকে বিশ্বাস করেছিল, তারা মিথ্যা বলে জানিয়েছিল যে ওই বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়া নিরাপদ।’

    ২০০১ সালের সেই প্রায় মেঘমুক্ত দিনে আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দু’টি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে, যার ফলে ওই ১১০ তলা বিশিষ্ট ভবন দু’টি ধসে পড়ে।

    তৃতীয় বিমানটি আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের পর পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

    ৯/১১ হামলার দিন নিহতদের বাইরে, হামলার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে আরো নয় হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে গঠিত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা জানা গেছে।

    বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন নাগরিক ওই ঘটনার সময় জন্মই নেননি অথবা এতটাই ছোট ছিলেন যে ঘটনাটি মনে রাখার বয়স তাদের ছিল না।

    ৩২ বছর বয়সী লোগান মিলার হামলায় তার চাচাকে হারিয়েছেন। পরবর্তীতে ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতায় তার দাদাও মারা যান।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের পক্ষে আসলে কী ঘটেছিল এবং এর প্রভাব একজন মানুষের জীবনে কতটা গভীর হতে পারে, তা কল্পনা করা কঠিন। তাই আমি বরং তাদের আরো বেশি প্রশ্ন করতে দেখি।’

    স্মরণ অনুষ্ঠানে লোয়ার ম্যানহাটনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সিক্রেট সার্ভিস।

    পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি অ্যান্টি-ড্রোন দল মোতায়েন করা হবে। তবে অনুষ্ঠানে হামলার নির্দিষ্ট কোনো হুমকির গোয়েন্দা তথ্য নেই বলেও তিনি জানান।

    এদিকে আল-কায়েদা ৯/১১-এর বার্ষিকী উপলক্ষে প্রয়াত নেতা ওসামা বিন লাদেন এবং তার ছেলে হামজার ছবি সম্বলিত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প ২০১৯ সালে দাবি করেছিলেন, হামজাও নিহত হয়েছেন।

    স্মরণ সভা শুরুর আগে নিউইয়র্ক হারবারের আকাশে দুই হাজার ৯৭৭টি আলোর ড্রোন নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। হামলায় নিহত প্রতিটি ব্যক্তির স্মরণে একটি করে আলো জ্বালানো হয়।

  • ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

    দুই নেতার বৈঠকে দুদেশের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়গুলোর মধ্যে ভারতের সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে।

    আজ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মোদি।

    গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ তুলে রুশ নেতার প্রতি এ সংঘাত অবসানের আহ্বান জানান মোদি। চার বছরের বেশি আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার মধ্য দিয়ে এ সংঘাত শুরু হয়।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ভারত ও রাশিয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করছে। রাশিয়া ভারতের জন্য এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।

    এ ছাড়া ভারতের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানান পেসকভ।

    নয়াদিল্লির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। তিনি বার্ষিক ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।

    সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    তবে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন সি চিন পিং।

    সি ও মোদি আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর সামগ্রিক পরিস্থিতিও তাঁরা পর্যালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমান চেয়ার হিসেবে ভারত এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে। আগামীকাল বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলন শুরু হবে।

    সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সিসি, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো (ইন্দোনেশিয়া), প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী অংশ নেবেন।

    এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ঝাও জিয়াই সম্মেলনে যোগ দেবেন।

    ব্রিকসের মূল সদস্য ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এ জোটে যুক্ত হয়। গত বছর ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়েছে।

    সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উচ্চ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও সরবরাহব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।

  • বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

    বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

    নৌপথে জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির যোদ্ধারা।

    ইয়েমেনের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ কথা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব নৌপথের ঠিক মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। এর মাধ্যমে পুরো প্রণালি এলাকাটিতে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌকাগুলো ওই দ্বীপে পৌঁছায়। বাব আল-মান্দেব এলাকা এবং প্রণালির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ময়উন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা।

    একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাব আল-মান্দেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছে এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    ইরান-সমর্থিত হুতিরা গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়ে শ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।

    ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল মান্দেব প্রণালি নৌচলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।

    হতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোখা বিমানবন্দরে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি পরিচালিত আল-মাসিরা টিভি। আজ শুক্রবার দুবার এই হামলা চালানো হয়েছে।

    ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে হুতি যোদ্ধারা। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোখা দখল করে নেয়।

  • পাকিস্তানে পড়তে বাধা নেই আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

    পাকিস্তানে পড়তে বাধা নেই আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে আফগান শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার না করার নির্দেশ দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি খালিদ ইসহাক ৩০ জনের বেশি আফগান শিক্ষার্থীর করা আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।

    শুনানিতে পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) দাবি করে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ভিসা নেই। তবে আদালত প্রশ্ন তোলেন, প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে তাদের চার বছর ধরে কীভাবে মেডিকেল শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের আগে তাদের বক্তব্য শোনারও প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।

    আদালত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার যুক্তিও নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কোনো বিষয় জড়িত নেই। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজগুলোকে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার বা তাদের পরীক্ষার খাতা বাতিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।

    এর আগে পিএমডিসি জানিয়েছিল, পাকিস্তানে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় জাতীয়তাভিত্তিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কাউন্সিলের যাচাইয়ে দেখা গেছে, পাকিস্তানে ২০০-এর বেশি আফগান শিক্ষার্থী চিকিৎসাশাস্ত্র পড়লেও বর্তমানে মাত্র ২২ জন পিএমডিসিতে নিবন্ধিত। তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং আটজন আগামী বছর স্নাতক হওয়ার কথা। পিএমডিসি জানায়, বাকি ১৭৬ শিক্ষার্থীর নথি যাচাই চলছে।

    এক বিবৃতিতে পিএমঅ্যান্ডডিসি জানায়, আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের চলমান পর্যালোচনাটি মূলত নিয়মকানুন ও নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়; কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নয়।

    কাউন্সিলের দাবি, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, কাগজপত্র ও অভিবাসন সংক্রান্ত অনুমতি না থাকলে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থীকে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসাশিক্ষা ব্যবস্থায় বৈধভাবে ভর্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

  • শত্রুর সামনে দুর্বল হবে না ইরান

    শত্রুর সামনে দুর্বল হবে না ইরান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশকে সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে—যাতে শত্রুর সাথে এমন কোনো অবস্থান থেকে আলোচনা করতে আমাদের বাধ্য হতে না হয় যা আমাদের জন্য অসম্মানজনক বা দুর্বল। খবর আলজাজিরার।

    ইরানি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় দেশের সহনশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে সরকারের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এগিয়ে আসা উচিত।

    পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন যে, সরকারের উচিত ‘জেনারেশন জেড’ বা তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া। তিনি বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন তারা কেবল প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমস্যা সমাধানে নিজেদের নিয়োজিত করে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে কারো সাথেই তার কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ বা পক্ষপাত নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যিনিই দেশের সমস্যা সমাধানে আমাদের সহায়তা করবেন—তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন—আমি তা সাদরে গ্রহণ করব।

    নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধ নেই এবং দেশের সমস্যা সমাধানে যে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সহযোগিতা তিনি গ্রহণ করবেন।

    পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি বাম বা ডান, ধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ—কোনো পক্ষের সঙ্গেই বিরোধে নেই। তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানের সাথে মানুষের বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই।

    ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে নেতিবাচক ফল ও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধই’ তাদের বিপর্যয় ডেকে এনেছে: জেরেমি

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধই’ তাদের বিপর্যয় ডেকে এনেছে: জেরেমি

    নাইন ইলেভেন হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে হামলার আমেরিকার পরিচালিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বিপর্যয়কর বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিক জেরেমি করবিন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে করবিন বলেন, ‘আজ ১১ই সেপ্টেম্বরের সেই হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো। আমরা সেই সব মানুষের কথা স্মরণ করছি সেদিন যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং যাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। একইসাথে আমরা শ্রদ্ধা জানাই জরুরি সেবাকর্মীদের সাহসিকতার প্রতি—যাদের অনেকেই আজও নানা অসুস্থতার সাথে লড়াই করছেন এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, এরপর শুরু হয়েছিল এক বিপর্যয়কর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’; এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। আরো বহু মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়েছিলেন, ইসলামভীতির জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল এবং সংঘাত, ঘৃণা ও চরম দুর্দশার এক অন্তহীন চক্রের সূচনা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রক্রিয়ায় ব্রিটেনও অন্ধভাবে তাদের অনুসরণ করেছিল। সেই বিপর্যয়কর সিদ্ধান্তের পরিণাম বিশ্ববাসীকে আজও ভোগ করতে হচ্ছে; অথচ এর ফলে সৃষ্ট মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য আজও কোনো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।

    করবিন বলেন, আজ আমাদের ইতিহাসের শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এর অর্থ হলো—এটা উপলব্ধি করা যে যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, দখলদারিত্বের ভয়াবহতার অবসান ঘটানো এবং সবার জন্য শান্তি ও সম্প্রীতিপূর্ণ একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা।