সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জের খরচ কম হওয়ায় তাঁদের এই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ফেরত পাবেন।

    আজ রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এই অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। অন্য হাজিদের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কমে ভাড়া নেওয়া এবং সার্ভিস চার্জ কমানোয় এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমের ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাবেন। ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তাঁরা এই অর্থ ফেরত পাবেন না।

    ২০২৭ সালে হজের বিমানভাড়া আরও কমছে

    ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমানভাড়া আগের বছরের থেকে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রিফান্ড পাঠাতে হাজিদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন ও ওটিপির প্রয়োজন নেই। এসব চেয়ে কেউ ফোন করলে কেউ যাতে প্রতারিত না হন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়কের নাম সালমান শাহ। অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি দিয়ে মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন মানুষের মন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর একে একে উপহার দিয়েছেন ২৭টি চলচ্চিত্র। মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সালমান শাহ যেন আরও বেশি করে আলোচনার বিষয় হয়েছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন এই নায়ক। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। কিন্তু প্রিয় সহশিল্পী ও জনপ্রিয় জুটি শাবনূরের কাছে এখনো যেন বিশ্বাস হয় না সালমান নেই। সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন শাবনূর।

    শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’ সালমানের কথা মনে করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘এত বছর পেরিয়ে গেলেও তোমার স্মৃতি আজও হৃদয়ে অমলিন। পর্দার সেই প্রিয় রাজপুত্র, মানুষের ভালোবাসার সেই স্বপ্নের নায়ক তুমি আজও বেঁচে আছো আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের ভালোবাসায়। তোমার অকালপ্রয়াণে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।’
    শাবনূরের মতে, সময় চলে গেছে, প্রজন্ম বদলেছে; কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের মায়া এখনো মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জীবন্ত। প্রিয় সহশিল্পীর উদ্দেশে তাঁর শেষ কথা, ‘যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ।’

    একটি সিনেমার দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ছবি: সংগৃহীত

    সালমান-শাবনূর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। পর্দায় তাঁরা এতটাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন যে একসময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাবনূর বরাবরই সেই গুঞ্জন নাকচ করে এসেছেন। তাঁর দাবি, সালমানকে তিনি সব সময় ভাইয়ের মতোই দেখেছেন। সম্প্রতি সালমানের মা নীলা চৌধুরীও বলেছেন, শাবনূরকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান শাহ।
    সালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিও এখনো মনে আছে শাবনূরের। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তা বলেছেনও। শাবনূরের মতে, ‘সালমানকে প্রথম যেদিন দেখি, সেদিন মৌসুমী আপুর সঙ্গে শুটিং করছিল। আসা-যাওয়ার মধ্যেও দেখা হতো। তবে খুব একটা কথা হতো না। তখন শুনেছি, ফিল্মে সালমান শাহ নামে নতুন একজন হিরো এসেছে। আনুষ্ঠানিক পরিচয় “তুমি আমার” ছবিতে অভিনয় করার সময়। তখন কাজের কারণে বন্ধুত্ব হয়। আমাদের প্রথম ছবি “তুমি আমার” মুক্তি পাওয়ার পর সুপারহিট হয়।’
    সালমানের মৃত্যুর পরও শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গল্প ডালপালা মেলে। এ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে শাবনূরের।

    তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’

    একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ভিডিও থেকে

    সালমানের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার মুহূর্তটিও আজও ভুলতে পারেননি শাবনূর। সেদিন তিনি ছিলেন বাসায়। হঠাৎ একজন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছেন। প্রথমে কথাটি বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। শাবনূর বলেন, ‘হঠাৎ করে কে যেন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছে। আমি উল্টো ধমক দিয়ে বলি, কী বলে এসব! আমার ছোট বোন বাইরে গিয়ে সালমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়ে আসে। আমি তখন পুরোপুরি হতবাক হয়ে যাই। এরপর এফডিসিতে সালমানকে দেখতে যাই।’

  • বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব: শামা ওবায়েদ

    বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব: শামা ওবায়েদ

    মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জাতিসংঘের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা, আসিয়ানসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং রাখাইনে আন্তর্জাতিক মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    তিনি বললেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাখাইনে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। লক্ষ্য একটাই—রোহিঙ্গারা যেন নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেন।

    আজ রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ বজায় রাখা, মানবিক সহায়তা জোরদার করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।’

    মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বললেন, প্রত্যাবাসনের দিকে এগোতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এটি দ্রুত শেষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    মানবিক সহায়তার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য, বাংলাদেশ তার মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাবে। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় এই সহায়তা অব্যাহত রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে দাতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে শিবিরে সহায়তার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বললেন, মানবিক সহায়তা এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রবণতা তৈরি না হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসন জটিল না হয়ে পড়ে।

    তিনি দাবি করেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের চাবিকাঠি রয়েছে রাখাইন রাজ্যে। সেখানে নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকারের প্রতি সম্মান এবং রোহিঙ্গাদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকার সুযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। প্রত্যাবাসনের পর যেন রোহিঙ্গাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হতে না হয়, সেই আস্থাও তৈরি করতে হবে।

    রাখাইনে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মত দেন, জাতিসংঘ, আসিয়ান, উন্নয়ন অংশীদার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সেখানে বাস্তবভিত্তিক আস্থা তৈরির উদ্যোগ এবং মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এতে প্রত্যাবাসনের পথ সহজ হওয়ার পাশাপাশি ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী—উভয়ই উপকৃত হবে।

    রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিচার ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলাসহ আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ন্যায়বিচার ও প্রত্যাবাসনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। জবাবদিহিতা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন একে অপরকে শক্তিশালী করে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা মানবিকতার সঙ্গে সংকট মোকাবিলা করতে পারে। বাংলাদেশ ধৈর্য দেখিয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে। ইতিহাসও প্রমাণ করে, প্রত্যাবাসন সম্ভব।

    এখন দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা, অন্তর্বর্তী মানবিক সহায়তা এবং প্রত্যাবাসনের বাস্তব পদক্ষেপগুলোকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানালেন, আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন।

    শামা ওবায়েদ বললেন, দৃঢ় কূটনীতি, শক্তিশালী জাতীয় সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে টেকসই সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘায়িত বাস্তুচ্যুতির পরিবর্তে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং সংকট ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে সংকট সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

  • ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    এবারের মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের প্রতিযোগী জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ১১১টি দেশের মধ্যে সেরা হিসেবে মুকুট জিতলেন তিনি। বিশ্বসুসন্দরীর খেতাব জেতা জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডমিনিকার রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েই এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।

    জোহাইরি মোলা একাধারে শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও মডেল। ‘ভয়েস অব টুমোরো’ নামে তার একটি উদ্যোগ আছে, যার মূল লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শেখানো এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করা। প্রথম রানার আপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।সেরা ৬ প্রতিযোগীকে নিয়ে চলে একাধিক পর্ব।

    শেষে বিচারকেরা তাদের নানা রকম প্রশ্ন করেন। আর এরপর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এর প্রতিষ্ঠা করেন এরিক মর্লে।

    প্রতিযোগিতায় কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে থাকে প্রাথমিক পর্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার এবং মঞ্চে সরাসরি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্ব। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিয়েতনামে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। অন্য দিকে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।

    এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়—আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া। বাংলাদেশের প্রতিযোগী সামানজার সাঈদ বিউটি উইথ আ পারপাসে প্রাথমিকভাবে নিজ মহাদেশে সেরা ৬–এ থাকলেও ফাইনালে সেরা চল্লিশে জায়গা করে নিতে পারেননি।

  • সংসদে পাঠানো হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬

    সংসদে পাঠানো হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬

    ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর সহকারী পরিচালক তানজীনা তানীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের মূল্যবান মতামত প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতার জন্য সভাপতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেইসাথে বিলের কাজে সম্পৃক্ত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম, ও মো. আব্দুল বাতেন।

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

    শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

    বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

    এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পিএসসির অন্যান্য সদস্য, কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে পিএসসির সভাপতি পদে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন।

    এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর অথবা তার ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া–এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত এ পদে বহাল থাকবেন।

  • আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    আদমদীঘিতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সান্তাহার রেলওয়ে ইয়ার্ড কলোনি এলাকায় ছাতিম গাছের ডাল থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছে লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত এমডি বাঁধন (২৩) সান্তাহার পৌর শহরের ইয়ার্ড কলোনি মহল্লার মাসুদ রানার ছেলে।

    স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি কেবল আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

    এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিঞা জানান, লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন।

    রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান। দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।

    এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।

    এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।

    এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

  • পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া ১০ বছরের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ময়নুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাবার মৃত্যু হয়েছে। সন্তানকে রক্ষা করতে পারলেও নিজে আর বিলের পানি থেকে উঠে আসতে পারেননি তিনি।

    শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত ময়নুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া তার ১০ বছর বয়সী ছেলের নাম মাহিদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ময়নুল ইসলাম ও তার ছেলে মাহিদ একসঙ্গে জাল নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে দুজনেই বিলের গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এমন মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান মাইনুল। একপর্যায়ে ছেলেকে বিপদমুক্ত করে পাড়ে ঠেলে দিতে সক্ষম হলেও নিজে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

    ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে বোনারপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে ময়নুল ইসলামের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, নিজের জীবন দিয়ে ছেলেকে বাঁচানো অভিভাবকের অতুলনীয় এক আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

  • সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের গৌরনদীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া দুটি সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক গৌরনদী পৌরসভার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অভিনব প্রতিবাদ করা হয়।

    সড়কের গর্ত ও কাদায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গৌরনদী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সোয়া কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাদামাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।

    এতে সড়ক দুটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও সড়ক দুটি সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই রোববার সকালে কাদাপানি ও খানাখন্দে ভরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান তারা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার বা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে থাকায় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগানোর মতো অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করেছেন।

    স্থানীয় পথচারী মো. সামসুল হক বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে পৌরসভার এ সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, সড়কের সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে।’

    শৌলকর সড়কের সংস্কারের বিষয়ে বাটাজোর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা গৌরনদী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, ‘সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে শিগগিরই সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

    অন্যদিকে, পৌরসভার হ্যালিপ্যাড সড়কের বিষয়ে গৌরনদী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, ‘জনগুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

  • সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক বাজেট বরাদ্দ, বিচারক নিয়োগ এবং দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী।

    জনস্বার্থে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ নাগরিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।

    নোটিশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।

    নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে প্রায় ৩১ হাজার ১২০টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন ছিল।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে ৬ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০৩ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    এতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬ হাজার করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আপিল বিভাগে ন্যূনতম ৭ জন বিচারপতি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৪ জন মানুষের বিপরীতে একজন বিচারক রয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ অনুপাতও কম বলে দাবি করা হয়েছে।

    হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বেঞ্চ বাড়ানোর দাবি

    হাইকোর্ট বিভাগে বাণিজ্যিক মামলা নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে মাত্র দুটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

    অন্যদিকে, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে একাধিক বেঞ্চ পরিচালনা ও বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের হওয়া মামলার মাত্র ৩৫ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে ১৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

    নোটিশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার জায়গা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল সুবিধার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় আদালতের করিডোরে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে এজলাস সংকট ও ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে বিচার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

    নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে বিচারিক কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    বাকি দাবিগুলো হচ্ছে

    – আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা;

    – প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যৌক্তিক বাজেট কাঠামো প্রণয়ন;

    – আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ গঠন;

    – মামলার সংখ্যা, নিষ্পত্তির হার ও নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বিচারক ও বেঞ্চের সংখ্যা নির্ধারণ;

    – এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ;

    – বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ বার্ষিক হিসাব প্রকাশ।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে আইনজীবীদের সংবিধান লঙ্ঘন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। দেশের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দ অত্যন্ত কম বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    নোটিশে বিচার বিভাগের সামগ্রিক বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে।

    আইনজীবীদের মতে, বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বিচার বিভাগের জন্য এ ধরনের বরাদ্দ রাষ্ট্রের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রতি অপ্রতুল বরাদ্দের বিষয়টি নতুন নয়। গত দুই দশকে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো কোনো বছর সুপ্রিম কোর্টের উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দ ছিল না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ও অবকাঠামো বাড়ানো হয়নি। এর ফলে বিচারক ও মামলার সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক মামলা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের জন্য শুধু ব্যয়ের খাত নয়। কোর্ট ফি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প শুল্ক, প্রসেস ফি ও জরিমানার মাধ্যমে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য রাজস্বও যোগ করে। তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, এটি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    অন্যথায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শারমিন আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বকর সিদ্দিক নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের মো: আবু হানিফের ছেলে।

    মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। পথে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক তাকে রাস্তা থেকে ডেকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    পরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এরপর স্বজনরা তাকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠায়।

    দীর্ঘদিন ধরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপন শেষে রোববার বিকেলে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। কিন্তু আসামী জামিনে মুক্ত রয়েছে।

    নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, দীর্ঘদিন সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। জরিমানার টাকা নিহতের পরিবারকে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

  • সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    আলোচিত র‍্যাপার বাদশাহর সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনে এবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তাঁর নিজের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে।

    ইশার এই বক্তব্য এসেছে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রচার ঝলক প্রকাশের পর। সেখানে পরিচয় গোপন রাখা এক নারীকে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ওঠে, ওই নারী হয়তো ইশা রিখি।

    গতকাল শনিবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইশা লেখেন, তাঁর বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খবর ছড়াচ্ছে, যা দেখে তিনি ‘অবাক’। তিনি সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করা তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এসব খবর বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

    বাদশাহ ও ইশা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ইশার বক্তব্যের সারকথা, তাঁর বিয়ে বা বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো তথ্য সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়, যদি না সেটি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে বা তাঁর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আসে।

    ‘বিগ বস ২০’–এর প্রচারণায় রহস্য
    ইশার বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রোমো প্রকাশিত হয়। সেখানে এক নারীকে মুখ ঝাপসা করে দেখানো হয়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস ভেঙে যায়।
    এই বক্তব্যের পরই দর্শকদের একাংশ ধারণা করেন, রহস্যময় ওই নারী ইশা রিখি। কারণ, সম্প্রতি ইশা ও বাদশাহর সম্পর্কের সমাপ্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইশা কিংবা ‘বিগ বস ২০’–এর নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি যে প্রোমোর ওই নারী ইশাই কি না।

    ইশা রিখি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মাত্র কয়েক মাসের দাম্পত্য
    বাদশাহ ও ইশা রিখির সম্পর্কের খবর অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ আয়োজনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে ইশার মা বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
    তবে বিয়ের মাত্র কয়েক মাস পরই বাদশাহ ও ইশার আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুজনই নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিচ্ছেদের কথা জানান।
    বাদশাহ তাঁর বিবৃতিতে জানান, তিনি ও ইশা পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার অনুরোধ করেন তিনি। তাঁদের পক্ষ থেকে সেটিই এ বিষয়ে একমাত্র বক্তব্য হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

    এরপরই ‘বিগ বস ২০’–এর রহস্যময় নারীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইশার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সেই জল্পনাই আরও তীব্র হয়েছে।

    এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল বাদশাহর
    ইশা রিখির সঙ্গে সম্পর্কের আগে বাদশাহ বিয়ে করেছিলেন জেসমিন মাসিহকে। ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, নাম জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং।
    ২০২০ সালে বাদশাহ ও জেসমিন আলাদা হয়ে যান। এরপর মেয়েকে নিয়ে জেসমিন লন্ডনে চলে যান।

    এদিকে ‘বিগ বস ২০’–এর নতুন মৌসুম ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। সালমান খান উপস্থাপিত এই রিয়েলিটি শোতে ইশা রিখির নাম নিয়েও এরই মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। ক্বাজি তৌকির, গুল্লু, র‍্যাপার ইয়ুং ডিএসএ, মাহি ভিজ, খুশি দুবে, আমান গান্ধীসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রতিযোগী হিসেবে সামনে এসেছে।

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন তিনি।

    বাবা-মায়ের কবরের পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। কবর জিয়ারতের সময় পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সেনুয়া কবরস্থান এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও অন্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    এর আগে দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন তিনি।

  • সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জেলার সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা পৃথকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

    এর মধ্যে কালীগঞ্জের কাকিনায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ১০ বস্তা সারসহ একটি ভ্যান আটক করেন স্থানীয়রা। পরে এক ডিলারকে আটক করে তার গোডাউন সিলগালা করে প্রশাসন।

    সদর উপজেলার বাফা গুদামের সামনে সকালে সার নিতে আসা কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

    কৃষকরা অভিযোগ করেন, ডিলারদের কারসাজির কারণে বাজারে সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আমন ধানের জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

    অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কৃষকরা কৃষি বিভাগের কয়েকজন মাঠকর্মী ও এক ডিলারকে ধাওয়া করেন। পরে তারা একটি পেট্রোল পাম্পে আশ্রয় নিলে কৃষকরা সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সাথে আলোচনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় একটি ভ্যানগাড়িতে করে ১০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা সেটি আটক করেন। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে তারা ভ্যানটি আটকে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন মিয়াকে আটক করা হয়। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটির সার রাখার গোডাউন সিলগালা করা হয়।

    ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে। অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে রহমান ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক বলেন, লালমনিরহাটে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সার বিতরণে অনিয়ম, কালোবাজারি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দুই উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে চাহিদা মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ।

  • বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় ৩ বছরের শিশু ফারিয়া নিহত

    বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় ৩ বছরের শিশু ফারিয়া নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বেপরোয়া গতির ট্রলির ধাক্কায় ফারিয়া নামে তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওভারটেকিং করতে গিয়ে বেপরোয়া গতিতে ট্রলি চালিয়ে রাস্তার পাশে থাকা শিশুটির ওপর তুলে দেন চালক। দুর্ঘটনার পর ট্রলিটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ছেংগারচর বাজারের সুরুজ প্লাজার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী কাউসারের মেয়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে মায়ের সঙ্গে বাজারে যাওয়ার সময় ফারিয়া রাস্তার একেবারে পাশে দিয়ে হাঁটছিল। সে সময় শিশুটি মূল সড়ক থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল। এর মধ্যে একটি ট্রলি বেপরোয়া গতিতে এসে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেকিং করার চেষ্টা করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলিটি রাস্তার পাশে উঠে গিয়ে শিশু ফারিয়াকে চাপা দেয়।

    গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র তিন বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে বেপরোয়া গতিতে ট্রলি চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা এ ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রলিটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। চালককে শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    রোববার সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

    এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘিরে নাশকতা বা স্যাবোটাজের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছু কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। আমাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে, তারা যেকোনো ধরনের স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

    এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি কর্মকাণ্ড নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করেন, সেটি তাঁদের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারও মনে এ ধরনের দুষ্টুচিন্তা থাকলে কিংবা কোনো অপরাধী অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তা করলে, সেটিও তাঁদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে, বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

    গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। রোববার গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্য ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন। তাদের জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তির তৎপরতা বেড়েছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি গুমের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তাঁদের বিষয়ে প্রশাসনের নজর রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রসিকিউশন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এক বছর আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে আন্দোলনে নামার পর শাস্তিপ্রাপ্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বোর্ডের ২০ কর্মকর্তা এবার রেহাই পেয়েছেন।

    প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে লঘুদণ্ড পাওয়া এই কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করে আজ রবিবার প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব।

    যাদের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে, তারা হলেন উপ-কমিশনার শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

    এনবিআর কর্মকর্তারা গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে তাদের শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন তারেক রহমান। এখন সেটি বাস্তবায়িত হলো।

    আন্দোলন ও শাস্তি

    কর প্রশাসন সংস্কারে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালে তার অধ্যাদেশ জারি হলে তার বিরোধিতায় কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে। আর সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই চলবে এনবিআরের সব কাজ।

    কিন্তু এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

    এরপর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের কাউকে কাউকে বদলি করা হলে ২৪ জুন এক কর্মসূচি থেকে তারা বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান।

    দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন কর্মসূচি তুলে নেয়।

    এরপর একের পর এক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

    শাস্তি মওকুফের প্রজ্ঞাপনে যা রয়েছে

    প্রজ্ঞাপনে শাস্তি মওকুফ করলেও এই কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণগুলো তুলে ধরা হয়।

    এতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশ পথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং এর মাধ্যমে বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন।

    এ ধরনের আচরণ চাকরি শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল হওয়ায় কারও বেতন কয়েক ধাপ অবনমিত করা, কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

    এখন তাদের আবেদনের ভিত্তিতে শাস্তি মওকুফের কথা জানিয়ে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

  • লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দাদা ও নাতি-নাতনির মৃত্যু

    লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দাদা ও নাতি-নাতনির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিবাগ এলাকার ইব্রাহিম পাটওয়ারী বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন- ওই বাড়ির আবু সিদ্দিক (৭০) এবং তার ছেলে আব্দুল আজিজের শিশুপুত্র পিয়াস (৭) ও মেয়ে সুমি আক্তারের শিশুকন্যা পপি আক্তার (৮)।

    স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধ আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান। তিনি পানিতে নেমে ডুব দিলেও পানির নিচ থেকে আর উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তাকে পানির নিচে খুঁজতে গিয়ে পিয়াস ও পপিও ডুবে মারা যায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুকুরের পানিতে তাদের ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

    স্বজনদের ধারণা, আবু সিদ্দিক পানিতে ডুব দিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তাকে খুঁজতে গিয়ে নাতি-নাতনিও পানিতে ডুবে মারা গেছে।

    লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ভালুকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমিয়ে ছিল আয়েশা আক্তার নামে চার বছরের এক শিশু। এ সময় বজ্রপাতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তার মৃত্যু হয়েছে। এতে তার বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধীতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিরুনীয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ও ফারজানা আক্তার দম্পতি তাদের মেয়ে আয়েশা আক্তারকে নিয়ে ধীতপুর এলাকায় তার নানা মন্তাজের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার সকালে বাড়িতে একটি মাটির ঘরে বাবা সিদ্দিক তার শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটির দেয়াল ধসে বাবা ও শিশুর ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় এবং বাবা সিদ্দিক গুরুতর আহত হন। আহত সিদ্দিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হালিম উদ্দিন সরকার রিপন। তিনি বলেন, নিহত শিশুর বাবা সিদ্দিক নিজেও অসুস্থ, তাই স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

  • মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর প্রথমবারের মতো ইন্টার মায়ামির জার্সিতে নামলেন লিওনেল মেসি। নেমেই গড়লেন ইতিহাস। মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ঘরের মাঠে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও গ্যালারির উত্তাপ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচটি রূপ নেয় এক ভিন্ন চিত্রে।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালের এই ম্যাচে বল মাঠে গড়ানোর আগে শুরু হয় তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত। ফলে ৯০ মিনিটের এক বাধ্যতামূলক আবহাওয়া বিলম্ব ঘটে। তবে খেলা শুরু হতেই নিজের চিরচেনা ছন্দে জ্বলে ওঠেন মেসি। ৩২ মিনিটে তার নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক প্রিমিয়ার লীগ তারকা মিগুয়েল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান। তবে প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে লুইস সুয়ারেজের চমৎকার ফিনিশিংয়ে আবারও লিড পায় মায়ামি।

    এই জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি মৌসুমে মেসির মোট গোল অবদান ১৮ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পৌঁছে গেল ঠিক ৩০টিতে। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন তিন মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়েন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দেনিস বোয়াঙ্গা কিংবা সিনসিনাটির এভান্ডারের মতো হেভিওয়েট তারকাদের পেছনে ফেলে এই কীর্তি গড়লেন এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। চলতি বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ভুলে যাওয়ার মতো এক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি। তবে ক্লাব ফুটবলে তার জাদুকরি ফর্ম এতটুকুও ম্লান হয়নি।

    মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচটি আলোচনায় ছিল গ্যালারির উত্তেজনার কারনেও। কাসেমিরোর গোলের পর আটলান্টা ইউনাইটেডের সমর্থকরা মাঠে মেসির বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘পেসি’ ব্যানার উন্মোচন করেন, যা পুরো স্টেডিয়ামের আবহকে আরও উসকে দেয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন মায়ামি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আটলান্টার নতুন খেলোয়াড় ও সুইস স্ট্রাইকার ব্রেয়েল এমবোলো পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান।

    ইনজুরি টাইমে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। আটলান্টার ম্যাথিউ এডওয়ার্ডস অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মায়ামিকে। ফলে এমএলএসের শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়লো ফ্লোরিডার ক্লাবটির জন্য। ২৩ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে মেসিরা। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ায় ন্যাশভিল।

  • সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট ও কালাইরাগ বিওপি কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু, শাড়ী, জিরা, কসমেটিক্স, বিড়ি, চকলেট, কম্বল, চা-পাতা, ফুচকা, চিনি, সবজি ও বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে টি-শার্ট, সোয়েটার, জিন্স প্যান্ট জব্দ করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    জব্দ চোরাইপণ্যের বাজারমূল্য এক কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দ পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা শুভ দাসের (২৪) লাশ।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামে শুভ দাসের লাশ এসে পৌঁছায়।

    লাশবাহী গাড়িটি গ্রামে প্রবেশ করতেই স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপার্জনক্ষম তরুণকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। এ সময় তাকে শেষ নজর দেখতে হাজারো শোকাহত মানুষ শুভদের বাড়িতে ভিড় জমান। পরে দুপুরে পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি সম্পন্ন হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন শুভ। পরিবারের অভাব মেটাতে বসতভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো এক ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন শুভ। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সরকারি তৎপরতা শেষে মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর আজ তার লাশ দেশে ফিরল।

  • নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো: সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান।

    তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তার বিরুদ্ধে থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ইদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নূর নবী চৌধুরীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেফতারের জন্য ইদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে নিহত হন।

  • চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

    চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক


    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কনক কুমার (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন পুলিশ ।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় কনক কুমারকে আটক করা হয়। পরে তার দখল থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক কনক কুমার বর্ণি গ্রামের (হিন্দুপাড়া) শ্যামল কুমারের ছেলে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে চৌগাছা থানা ওসি মামুনুর রশিদ জানান, মাদকবিরোধীসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২৫১ গুমের ঘটনার তদন্ত শেষে চলতি বছরেই বিচার শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    রোববার ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২৫১ জন যারা গুমের শিকার তাদের প্রত্যেককেই একই পদ্ধতিতে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যেক ঘটনা প্রায় একই রকম। এই কারণে আমরা এ ঘটনাটাকে ওয়াইডস্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অপরাধ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে আমরা মনে করি। আজকে ৫৫ গুম পরিবারের সদস্যরা এখানে এসেছেন, তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন আমাদের তদন্ত সংস্থার ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা। এভাবেই ক্রমান্বয়ে সব পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। তাদের কাছে থাকা যাবতীয় নথিপত্র জব্দ করা হবে।

    আমিনুল বলেন, আমরা অপরাধীদেরকে অনেকাংশে চিহ্নিত করতে পেরেছি। কারা কীভাবে তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছিল এবং সেই জায়গাগুলো অলমোস্ট আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থেই পুরোটাই ডিসক্লোজ করতে চাই না। অন্য মামলায় গ্রেপ্তার যারা আছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। কর্মরত আছেন এমন কেউ কেউ থাকতে পারে। অলরেডি রিটায়ারমেন্টে গেছেন এরকম কেউ কেউ থাকতে পারে। আমরা এই পর্যায়ে ইনভেস্টিগেশনটা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে চলতি বছরের মধ্যে বিচার শুরু লক্ষ্যে নিয়েই কাজ করছি।

    তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সিকিউরিটি বৃদ্ধির জন্য, এমনকি যে সব আসামিদের আমরা চিহ্নিত করছি, তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখছি। আমাদের ট্রাইবুনালের ভিতরে-বাইরে আসামিদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুম পরিবারের কোন সদস্য যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন বা দিবেন তাদের যাতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সেই কারণে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

    তিনি আরো বলেন, গুম পরিবারের সদস্যরা কোনো টার্গেটের শিকার হতে পারেন এরকম শঙ্কাও রয়েছে। আমরা মনে করি অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নাই, তারা তাদের মত করে কিন্তু যেকোনো সময় আমাদেরকে ছোবল মারতে পারে। একইভাবে আমাদের ভিকটিম পরিবার যারা আছে তাদেরকেও আমরা নিজেদেরকে সতর্ক থাকতে বলছি, বিশেষ করে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনটা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, কোনোভাবে যাতে কোনো সেবোটাইজ করে যাতে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

    গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাকের’

    পক্ষ থেকে ২৫১ জন গুমের অভিযোগ দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। সংগঠনের তুলির নেতৃত্ব আজ গুম পরিবারের ৫৫ জন ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা।

  • ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, ভোট হবে ধাপে ধাপে

    ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, ভোট হবে ধাপে ধাপে

    চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে ব্যয় সংকোচন নীতি বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে এই নির্বাচন একসঙ্গে না হয়ে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

    রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব তথ্য জানান।

    তিনি জানান, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আবহ তৈরি হয়েছে, তার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সব ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

    আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে হয় তার আগে, না হয় পরে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, রাজনীতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কমিশন থেকে সরাসরি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

  • জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে ইসির ‘না’

    জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে ইসির ‘না’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশের জন্য বড় অন্তরায়—এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই শিক্ষকদের সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কমিশন এ বিষয়ে সরাসরি নেতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

    রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ অবস্থানের কথা জানান।

    নির্বাচন কমিশনার জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষার সার্বিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয় উল্লেখ করে ইসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে ইসির ওপর সরকারি চাপের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপে আছে—এমন ভিত্তিহীন দাবি তোলা মূলত কমিশনকে উল্টো চাপে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল।

    সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আসন্ন নির্বাচনগুলোর প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে জানান, উপ-নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের প্রক্রিয়া সহজ করতে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপি রোধে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন এবং ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।

  • স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ খাবার, অথচ সেই খাবারই হয়ে উঠেছে নীরব ঘাতক। দেশের স্ট্রিট ফুড কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের মান নিয়ে সাধারণত আলোচনা হয় না। তবে যখনই ভোক্তা অধিকারের অভিযানে কোনো রেস্তোরাঁর খাবারে সমস্যা ধরা পড়ে; তখনই হৈচৈ শুরু হয়। কিন্তু কয়েক দিন পরই তা আর থাকে না; ফলে আবারও সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলতে থাকে। এসব কারণে খাবারের মান উন্নতি হচ্ছে না; যা হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে।

    সম্প্রতি স্ট্রিট ফুড বা রেডি টু মিল নিয়ে এক গবেষণায় বাইরের বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ‘স্ট্রিটফুড এবং রেস্তোরাঁর ‘রেডি-টু-ইট’ সালাদে অণুজীবজনিত ঝুঁকির উপস্থিতি ও তার সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ’ শিরোনামে গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গবেষক ড. মো. লতিফুল বারী।

    গবেষণায় স্ট্রিট ফুড, রেস্তোরাঁর সালাদ, জুস ও শরবতে ই-কোলাই, স্যালমোনেলা ও ভিবরিওর মতো রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নিরাপদ মাত্রার বেশি উপস্থিতি পেয়েছেন তিনি। চানাচুর মাখা বা ছোলা-মুড়ি থেকে ই-কোলাই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ৪৫.৫ শতাংশ, অ্যালোভেরা শরবতে স্যালমোনেলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ ১০.৫ শতাংশ, আর চটপটিতে ভিবরিও সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ২২ শতাংশ।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০১৮ সালের জরিপে ১০০টি হোটেলের মধ্যে মাত্র চারটি সবুজ, ৪৫টি হলুদ ও ৫১টি লাল স্টিকার পেয়েছিল। আট বছর পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি মাত্র ১২৬৫ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি গ্রেডিং করে ৫৫৭টির তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যেখানে খাদ্য কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন মোল্লার ভাষ্যে অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের মান ভালো অবস্থানে আছে, আর সি ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশে সরকারি হিসাবেই হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থার সচিব শ্রাবস্তী রায় জানান, মাত্র ৩৭১ জন জনবল দিয়ে এই বিশাল খাতে নজরদারি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য জনবল বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ৯০ শতাংশ রাস্তার খাবারই অনিরাপদ। আইসিডিডিআরবির ২০১৫ সালের গবেষণায় ৫৫ শতাংশ রাস্তার খাবারে জীবাণু ও ৮৮ শতাংশ বিক্রেতার হাতে অস্বাস্থ্যকর জীবাণু পাওয়া যায়। বিএআরসির ২০১৯ সালের গবেষণা আরো উদ্বেগজনক; ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, নুডলসসহ বিভিন্ন নমুনার প্রতি গ্রামে এক হাজার ১০০-এর বেশি টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাই পাওয়া গেছে, যেখানে নিরাপদ সীমা মাত্র ৩০। বিএআরসির সাবেক পরিচালক মনিরুল ইসলামের মতে, রাস্তার খাবারে ব্যবহৃত পানিই সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা, অথচ এটি নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথা নেই।

    অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    বিএআরসির গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালে ঢাকার রাস্তায় প্রায় ১৪০ ধরনের খাবার বিক্রি হতো, এসব থাবার প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ খেয়ে থাকেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একই তথ্য জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা এসব খাবারের বড় ক্রেতা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুরি খেতে খেতে শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম বলেন, ধুলাবালি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগের কথা তিনি শোনেননি।

    জানা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাস্তার খাবার দোকানের নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই, বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট কোনো তালিকাও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। দক্ষিণ সিটির খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান আনসারী আমার দেশকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এক সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না করায় পরে তা থেমে যায়। বর্তমানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া বেশ কঠিন।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, রাস্তার খাবারের মান নিয়ে এখনো তেমন কোনো কাজ হয়নি, কার্যক্রম পরিদর্শন-পরিবীক্ষণেই সীমাবদ্ধ। এফএও ও আইসিডিডিআরবির যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে ঢাকা-খুলনা-বরিশালে বিতরণ করা ৪০০টি কাচ-ঘেরা ‘স্ট্রিট ফুড ভ্যান’ও প্রকল্প শেষে অকার্যকর হয়ে পড়েছে, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্যই নেই।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে রাখা, অভিজাত হোটেলে দীর্ঘ সময় ফ্রিজিং করা খাবারে রঙ মেশানোর মতো ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, এক প্লেট ফুসকাতে সাত কোটিরও বেশি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মলমূত্রের যে জীবাণু, সেগুলোও এসব খাবারে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পাঁচতারা হোটেলগুলোর ওপরও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং থমকে আছে আহ্বানেই; এ কাজের জন্য আছেন মাত্র চারজন ম্যাজিস্ট্রেট।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়ার মতে, অনেক দেশেই রাস্তার খাবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা, জীবাণুমুক্ত পানি ও নিয়মিত তদারকি আছে বাংলাদেশেও তা সম্ভব, প্রয়োজন শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিকতা। বিক্রেতাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দিলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

    ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, জনবল সীমাবদ্ধতায় অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও ধীরে ধীরে আবার পুরোনো চিত্রে ফিরে যায় সবকিছু। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমস্যা সমাধানে শুধু প্রশাসন নয়, ব্যবসায়ী সমাজ, গণমাধ্যম ও সচেতন ভোক্তা সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনবল বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং এবং উৎপাদন থেকে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ধারাবাহিক তদারকি নিশ্চিত না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের খাবারের এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করছেন তারা।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়। শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে একটি র‍্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নী।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা চঞ্চল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবি, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক, ইতালি লিবর্ন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আফিল উদ্দিন দফাদার, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, পাশাপোল ইউনিয়ন যুবনেতা জসিম উদ্দীন সরকার, পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবনেতা সুমন রেজা, পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হাকিম রেজা প্রমুখ ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে এক আনন্দ র‍্যালি বের হয়।

  • সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে যাওয়া ছেলে মাহিন ইসলামকে (১০) বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবা ময়নুল হকের (৩৬) মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) ইব্রাহিম আলী।

    নিহত ময়নুল হক বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাটকালপানি গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

    ইউপি সদস্য ইব্রাহিম আলী জানান, প্রতিদিনের মতো ময়নুল ও তার ছেলে মাহিন তেলিয়ান বিলে পেলি জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার পর গোসলের একপর্যায়ে ময়নুলের ছেলে মাহিন ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে বাবা ময়নুল চেষ্টা করলে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

    খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ মিনিট চেষ্টার পরে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করি।

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    বিডি গ্লোবালা ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি। এ সময় দু’জনকে আটক করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার, লাফার্জ, সোনালীচেলা, বিছনাকান্দি, তামাবিল, লবিয়া, কালাইরাগ, সোনারহাট ও সংগ্রাম বিওপি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু-ছাগল, জিরা, প্রসাধনী সামগ্রী, সানগ্লাস, চকলেট, আতশবাজি, ফুচকা, বিভিন্ন ফল, বিড়ি, চিপস, কিসমিস, জুস, মোবাইলফোন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় রসুন ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বারকী নৌকাও জব্দ করা হয়। একইসাথে এ সময় দু’জন আসামিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬০ টাকা।

    শনিবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য ও দুই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। আটক আসামি ও পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

  • ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল, ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি

    ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল, ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি

    ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬ জন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলিপূর্বক পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ সংক্রান্ত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, তৌহিদ রেজাকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. মাসুদ রানাকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এছাড়া মো. আশরাফুল ইসলামকে বরগুনার আমতলী থেকে ঢাকা বিভাগে, সোহাগ মিলুকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে খুলনা বিভাগে, মো. সাইফুল ইসলামকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং প্রত্যয় হাশেমকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    মহেশ্বর মন্ডলকে বরিশালের উজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে, রওশান কবিরকে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাজশাহী বিভাগে, রাফিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. শাহরুখ আলম শান্তুতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় দফায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—মাহামুদ হুসাইন রাজু। তাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নুসরাত জাহান অনন্যাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং এস এম আকাশকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এস এম নাজমুস সালেহীনকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে রংপুর বিভাগে, আব্দুল আহাদকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে এবং তানভীর আহম্মেদকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এছাড়া ওমর শরীফ খানকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে খুলনা বিভাগে, আসিফ রায়হানকে পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকা বিভাগে, চৌধুরী আল মামুনকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং সামিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    মীর আল মনসুর শোয়াইবকে লালমনিরহাট সদর থেকে রাজশাহী বিভাগে, মো. শামীম রেজা সজীবকে ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, মজিবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং জাকারিয়া হোসেনকে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    সৈকত মন্ডলকে বরগুনার তালতলী থেকে খুলনা বিভাগে এবং রিজভী আহমেদ সবুজকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনের আরেক অংশে আরও ৯ জন সহকারী কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ইফতেখার আহমেদকে নীলফামারীর জলঢাকা থেকে খুলনা বিভাগে, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মাহমুদুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    পলাশ উদ্দিনকে নওগাঁর বদলগাছী থেকে ঢাকা বিভাগে, শপথ বৈরাগীকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে এবং মো. বদরুজ্জামান রিশাদকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া আসমাউল হুসনা পিংকিকে মাগুরার শ্রীপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, আমিনুল হক তারেককে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    মাঠ প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দায়িত্ব মাঠপর্যায়ে পালন করেন এসব কর্মকর্তা।

    ফলে একসঙ্গে ৩৬ জন সহকারী কমিশনারের বদলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস হলো।

    সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হবে।

  • একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে: শিশির মনির

    একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে: শিশির মনির

    একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণভোটসংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’-এ এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

    শিশির মনির বলেন, ‘৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী অস্বস্তিতে ভোগে। কারণ, গণঅভ্যুত্থানের ওই সময়ে আন্দোলনের যে বার্তা বা বক্তব্য তৈরি হয়েছিল, তা তাদের পক্ষ থেকে দেয়া ছিল না। অথচ যারা ওই বার্তা দিয়েছে, তাদের কোনো ক্রেডিট বা কৃতিত্ব দিতেও দলটি নারাজ।’

    ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘কোনো দল বা ব্যক্তির ইগো ও অহংকারের কাছে একটি জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়।’

    বিএনপিকে একটি ‘জনগণের দল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিএনপির উচিত জনগণের পছন্দ ও চাওয়া-পাওয়াকে সানন্দে মেনে নেয়া। তারা আন্দোলনের স্লোগানকেও নিজেদের পছন্দমতো নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু দুই-একজনের অহংবোধের কারণে দেশের জাতীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়া কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে শিশির মনির বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রধানের সামনে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য সুযোগ এসেছে। তিনি প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হবেন নাকি সাধারণ রাজনীতিকের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকবেন-সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

  • ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা

    ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা

    কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের কাছাকাছি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিতে চালু করা হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সেবা চালু হয়েছে। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারে এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

    নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ থাকবে।

    কারা অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বলেন, শিগগিরই সারা দেশের কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ সময় নির্ধারিত নিয়ম মেনে যোগাযোগের পাশাপাশি গোপনীয়তাও নিশ্চিত করা হবে।

    এদিকে কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

    মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারে বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

    কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চীন থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।

    তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

    কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।

    কারাগারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।

  • এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    গোলের একের পর এক সুযোগ নষ্ট, তিনবার পোস্টে আঘাত আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস; সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটল রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।

    সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচটি ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তবে এরপর ট্রয় প্যারোটের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বেটিস। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মাদ্রিদের দল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি।

    বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। পরে ডিন হুইজসেনের হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।

    দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফিরতি বলে গোল করেন বেটিসের ট্রয় প্যারোট। এরপর রিয়াল একটি গোল করলেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। দায়িত্ব নেন এমবাপ্পে। তবে তার স্পট কিকের দিক আগে থেকেই বুঝে ফেলেন গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

    এর আগে লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বেটিসের বিপক্ষে তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন ফরাসি তারকা।

    চার ম্যাচ শেষে প্রথম হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেটিস, আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

  • বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

    বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

    বিচারের স্বার্থে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত বলে মনে করেন নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। গত বৃহস্পতিবার ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে ‘মুখোমুখি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর’ শিরোনামে এক টকশোতে এ কথা বলেন তিনি।

    সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার কথা বলেছেন—সে প্রসঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, ‘আমরা চাই আসুক। কারণ তাদের অপরাধের বিচার হচ্ছে, সেই বিচার এখন তারা দেশে না থাকার কারণে একতরফা হচ্ছে। সুষ্ঠু বিচারের জন্য, তাদেরকে ডিফেন্ড করার জন্য, তারা আসুক। আসা দরকার। আসা উচিত বিচারের স্বার্থে। তাদের নিজেদের স্বচ্ছতা যদি কিছু থাকে, অন্যায় যদি না করে থাকেন—সেগুলো পরিষ্কার করার স্বার্থে আসতে হবে।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন সপ্তাহে ১ হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে— অনুশোচনা এখনো পর্যন্ত কোনো পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীর চোখে-মুখে বাক্যে উচ্চারিত হয়নি। উনারা গালি দিতে পারবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা তারা অনুধাবন করবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এটা বুঝতে পারবেন যে, মানুষ তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তাদেরই ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না।’

    নিউ এজ সম্পাদক আরও বলেন, আমার খুব দুঃখ লাগে আওয়ামী লীগ নেতাদের যে একটা বিরাট অংশ, এখান থেকে অনেক বৃত্ত এবং বৈভবের মালিক হয়ে অনেকের সহযোগিতায় দেশ পাড়ি দিয়ে তারা যে বিভিন্ন দেশে পলাতক আছেন । তাদের কেউ কেউ এই বক্তৃতা দেয়া শুরু করেছেন, তারা আসছেন, তারা আসবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আওয়ামী লীগ নেতাদের এটা হচ্ছে সর্বশেষ পাপ এই মিথ্যাচার—তারা আসবেন না। এই যে এইটা কেন পাপ?’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে নূরুল কবীর বলেন, ‘ওনার (প্রধানমন্ত্রী) আলাপ, আচরণ ও উচ্চারণ বেশ নম্র। মানুষ সেটা পছন্দ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই তার অনেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, হচ্ছে। বাংলাদেশের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে—রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান, সেটা আওয়ামী লীগ যেভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছে, যেভাবে বিরোধী দলের মত দমন করেছে, সেই পদ্ধতিতে যদি তার মন্ত্রীরা এগোন, আর যদি একই ধরনের দুর্নীতির রাস্তায় তারা হাঁটেন, তাহলে সামান্য ইতিহাসবোধ যেটুকু আমার আছে সেই অনুসারে বলতে পারি—আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ১৫ বছর লেগেছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান মানুষের ভেতর যে শক্তির জন্ম দিয়েছে, তাতে যে ক্ষমতায়ন হয়েছে নিজের, সেই ক্ষমতায়নের জোরে এই সরকারকে কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হতে বেশি সময় লাগবে না। রাস্তায় কিন্তু মানুষ নামবে।’

    তিনি বলেন, ‘কিছু মন্ত্রীর যে প্রবণতা ইতিমধ্যে সমাজ দেখতে পাচ্ছে-তারা যাতে গণঅভ্যুত্থানকে বোঝার চেষ্টা করেন। না বুঝতে পারলে এই মন্ত্রীরা তো ডুববেন, প্রধানমন্ত্রী ডুববেন এবং বাংলাদেশকে আবার একটা কঠিন অবস্থার মধ্যে ফেলে দেবেন। আমি আশা করব যে, তিনি(প্রধানমন্ত্রী) সমালোচনা সহ্য করার তৌফিক অর্জন করবেন।’

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, ‘পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে আমরা একটা। আমরা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে প্রথমে ১৩ টা, পরে আরও ১৪ টা, না ১৯টা বোয়িং কিনতে গেলাম—আমি মনে করি বাংলাদেশের যে ফ্লিটে আরও এয়ারক্রাফট বাড়ানো দরকার, কিন্তু সেটা কি আমার প্রয়োজনে আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে এসেস করবো। প্রায়োরিটি কোনটা—এই যে ১৪ আর ১৩ এইটার লিজ নেয়া ও কেনার এবং সেই ক্ষেত্রে কোন রুটে চলবে তার টিকিটিংয়ে অবস্থা কী হবে? আমি কিন্তু মনে করি দরকার। কতগুলো দরকার আমি জানি না।’

    ‘ধরুন আমরা হজের সময় দেখি—যত পরিমাণ হজ ফ্লাইট যায় এবং আমরা বাইরে থেকে ভাড়া করে আনি। অন্যগুলো সৌদিসহ অন্যান্য মিডল ইস্টের কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ লাভ করে, এই এয়ারক্রাফটগুলো যদি বাংলাদেশে থাকতো, তাহলে এই পয়সাটা বাংলাদেশ পেতো। এখন আমরা কি সেই এসেস করতে দেখেছি। মানুষকে কি সরকার বলেছে যে, এই কারণে এই এইভাবে এত টাকা দিয়ে আমরা এতটা কিনছি এই রুটে চালাবো।’—উল্লেখ করেন এই সম্পাদক।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুট খুলে কিন্তু লিস্ট নিতে হয়। অনেক আইন কানুন আছে। আপনি চাইলেই এক দেশে থেকে আরেক দেশে এক এয়ারপোর্ট থেকে আরেক দেশের এয়ারপোর্টে যেতে পারবেন না। অনেক শর্ত ও চুক্তি করতে হয় এয়ারপোর্টগুলোর সঙ্গে। এগুলো না করেই যখন কেনা হচ্ছে এবং স্বয়ং মন্ত্রী যখন বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এগুলো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটার মধ্য দিয়ে দুটো জিনিস হয়—অর্থ একটা হল হাস্যকর প্রথমটা, দ্বিতীয়টা সাবসারভিয়েন্স (আনুগত্য প্রকাশ করা)। হাস্যকর হল এইখানে যে, ট্রাম্পের অর্থনীতি বিপদে পড়ে গেছে সেইটা রক্ষা করর জন্য তাকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ এমন এক বিত্তবান রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যে তাকে আমরা এখন সাহায্য করতে পারি। এটা তো কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা হাস্যকার দ্বিতীয় হচ্ছে যে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থে তার পণ্য কিনে আমরা তাকে তার অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই।’

    তথ্যমন্ত্রী বদলের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বদলের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পাদক পরিষদের কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য একটু উদ্বিগ্ন। এই কারণেই উদ্বিগ্ন প্রাক্তন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বহু বছর ধরে সাংবাদিকদের যে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হচ্ছিলো। সরকারের সঙ্গে আমাদের কিছু পেন্ডিং ইস্যুজ আছে, যেটা সম্পাদক পরিষদ হিসেবে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা আলাপ করেছি। আমাদের কতগুলো সমঝোতা হয়েছে। সেটা হলো—আইন-কানুন ও মিডিয়া কমিশন সম্পর্কিত।’

    নূরুল কবীর বলেন, ‘জহিরউদ্দিন স্বপনের সঙ্গে আমাদের একটা পুরনো সম্পর্কের কারণে অনেকেরই তার সঙ্গে কিন্তু ঝগড়াঝাটি করার সম্পর্ক ছিল। নতুন যিনি আমরা ঠিক জানি না, ওনার সঙ্গে আমার ভালো পরিচয় নেই বা অন্য অনেকের সঙ্গে। আমরাও কিন্তু উদ্বিগ্ন।’

  • ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে বার্সেলোনা। শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে ছিলেন না লামিন ইয়ামাল। ফলে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

    ২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে হানসি ফ্লিকের দল। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তে ইয়ামালের অনুপস্থিতি সেই প্রস্তুতিতে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেস্তায়ায় কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে অপ্রত্যাশিতভাবেই ছিলেন না ইয়ামাল।

    রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই তার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার দল ম্যাচের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন ক্লাবের চিকিৎসকেরা। এরপর ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন কোচ ফ্লিক।

    ইয়ামালের চোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বার্সেলোনা। তবে অনুশীলনে তার অনুপস্থিতির সময়টা তরুণ এই তারকার জন্য হতাশাজনকই। কারণ সতীর্থদের ভোটে নতুন সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার সুখবর পাওয়ার দিনই অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকতে হলো তাকে। মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের ভোটে ইয়ামালকে বার্সেলোনার নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

    ইয়ামালকে না পেলে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ফ্লিককে। বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জার্মান কোচ হাই-প্রেসিং ফুটবল অনুসরণ করছেন। এই কৌশলে ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আক্রমণে তার কার্যকারিতার পাশাপাশি বল দখলের জন্য তার নিরলস পরিশ্রমও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন সালমান আগা, ইমাম–উল–হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁদের কেউ ভালো ফর্মে নেই। রিজওয়ান সিরিজের চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৬১ রান। লর্ডস টেস্টে তাঁর শট নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা হয়।

    ইমাম তো চোটের কারণে লর্ডস টেস্টে ব্যাটিংয়ে নামেননি। সেই চোট নিয়েও পিসিবির সন্দেহ আছে। সালমান টেস্টে সর্বশেষ ৫ ইনিংসেই হয়েছেন ব্যর্থ। অথচ এই সালামানই হেডিংলি টেস্টে বাবর আজমের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। লর্ডসে ছিলেন না একাদশে। এরপর তো স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন।

    পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমামের ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়নি। ড্রেসিংরুমে তাঁদের আচরণও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

    এমনকি এ দুই ক্রিকেটারকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়া লাগতে পারে। পিটিআই জানিয়েছে, রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সালমানকেও কমিটির সামনে দাঁড়াতে হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরেই নাকি তাঁদের আচরণজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

    ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত যাওয়া অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে। আগে সাদা বলের দলে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছেন।

    বোর্ডের একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছেন, ‘বাকি যেসব খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশেই পাঠানো হয়েছে। তিনি সাদা বলের ক্যাম্পে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চেয়েছেন।’ তৃতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তান দলে এসেছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া, রাজউল্লাহ, সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল।

    নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে এএফপি

    এদিকে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতেও। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    এরই মধ্যে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তবে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    মিসবাহর পদত্যাগের আগে নির্বাচক কমিটিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বোর্ড।

    শুধু নির্বাচক কমিটিই নয়, নির্বাচন ও পরামর্শক কমিটির সদস্যদেরও নোটিশ দিয়েছে পিসিবি। ইংল্যান্ড সফরের দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে কেন নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দল নির্বাচনের নীতিতে কী ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও জানতে চেয়েছে বোর্ড।

    পাকিস্তান ওপেনার ইমাম-উল-হক চোটের ইস্যুতে চাপে আছেন এএফপি

    ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচক কমিটি গঠন হতে পারে। একটি সূত্রের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড সফরের পর নতুন নির্বাচক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।’

    এদিকে ইংল্যান্ড সিরিজের পরও দায়িত্বে থাকতে পারেন হেসন। তাঁকে স্থায়ী প্রধান কোচ করার বিষয়ে আগ্রহী পিসিবি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ডের এই কোচ দায়িত্ব নিতে রাজি হন কি না, তার ওপর।

  • জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    আজ শনিবার রাজধানীতে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি উৎস নিয়ে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।’

    প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ খাতে চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।’

    তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

    বাংলাদেশকে শুধু বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় না সরকার। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায়’, যোগ করেন শামা ওবায়েদ।

    আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।’

    অনুষ্ঠানটি সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, ব্র‍্যাক ব্যাংকের সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

  • একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    গানের টানে তরুণ বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন নগরবাউল জেমস। কালের পরিক্রমায় সেই তরুণটিই হয়ে ওঠেন দেশের রক আইকন, ভক্তদের প্রিয় ‘গুরু’। আজ এত বছর পরও সমানতালে মঞ্চ মাতিয়ে যাচ্ছেন জেমস। প্রায় দুই মাস ধরে ইউরোপে সংগীত সফরে রয়েছেন তিনি। পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস ও ইতালি ঘুরে জেমস এখন অবস্থান করছেন সুইডেনে।

    ৬ সেপ্টেম্বর সুইডেনের প্রবাসীদের গান শোনাবেন জেমস। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গানটাই গেয়ে যেতে চান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা।

    আশির দশকের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে ফিলিংস ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে সংগীতে পথচলা শুরু জেমসের। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। সেই থেকে সুরের জাদুতে মাত করে রেখেছেন কয়েকটি প্রজন্মকে। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ উঠতেই জেমসের স্বভাবসুলভ উত্তর, ‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা। এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, জেনারেশন চেঞ্জ হচ্ছে—এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয় অনেকগুলো জেনারেশনকে হয়তো গান শোনাতে পারছি।’

    জেমস জানান, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তিনি গান করেননি। গেয়েছেন কেবল ভালোবেসে, নিজের আবেগ ও প্যাশন থেকে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিও তাঁর একই পরামর্শ—কোনো কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে সংগীতে না আসার।

    জেমস বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সংগীত করার কোনো মানে হয় না। গান করতে হবে একদম প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। কোনো প্রাপ্তির আশায় যদি কেউ মিউজিক করে, তবে আমি বলব—এখনই বন্ধ করে দাও। আমি মনে করি, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মিউজিক করা ঠিক না। মিউজিক করতে হবে নিজের প্রশান্তির জন্য। এর মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন হয়, সেটা ভিন্ন কথা। আজ যদি আমি কোনো কিছু নাও পেতাম, তাহলেও গানই করে যেতাম।’

    শেষ পর্যন্ত গানকেই সঙ্গী করে বেঁচে থাকতে চান এই রক তারকা। জেমস বলেন, ‘সংগীত নিয়ে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। গান গেয়ে যাব, শেষ পর্যন্ত গাইতেই চাই। এমনকি শেষে গিয়ে যদি দেখি মাত্র একজন দর্শকও আছে, আমি তাঁর জন্যও গান গেয়ে যাব।’

    সুইডেনের কনসার্ট দিয়েই শেষ হবে জেমসের দীর্ঘ ইউরোপ সফর। এরপর তিনি উড়াল দেবেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর নিউ সাউথ ওয়েলসে আয়োজিত একটি বিশেষ কনসার্টে জেমসের পাশাপাশি এক মঞ্চে গাইবেন পশ্চিমবঙ্গের ফসিলস ব্যান্ডের রূপম ইসলাম।

  • বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল চলছে। একের পর এক ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার সেই তালিকায় অধিনায়ক বাবর আজমের নামও উঠছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রশিদ লতিফ।

    টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর সাত ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে ছাঁটাই করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও দায়িত্ব হারিয়েছেন। একই সময়ে নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মিসবাহ উল হক। প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদও পিসিবির পরবর্তী নজরে থাকতে পারেন বলে খবর এসেছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বাবরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিসিবির দল পরিচালনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, বাবরই কি হতে যাচ্ছেন পরবর্তী টার্গেট।

    রশিদ লিখেছেন, ‘যদি দলকে রিমোট কন্ট্রোলে চালাতেই হয়, তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন পাঠানো হলো? গ্যারি কারস্টেন ও জেসন গিলেস্পির কাছ থেকে নির্বাচনের ক্ষমতা কেন কেড়ে নেওয়া হলো? আর অধিনায়ক বাবর আজম যদি কথা না শুনে থাকে, তাহলে অধিনায়ককেই তো বরখাস্ত করা উচিত ছিল—তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো? বাবর আজম কি পরের টার্গেট?’

    এর আগে পিসিবির ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বাবরের অধিনায়কত্ব ছাড়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন রশিদ। তাঁর মতে, দলের একাধিক ক্রিকেটার ও কোচকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাবরের উচিত ছিল তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।

    এই প্রসঙ্গে রশিদ বলেন, ‘বাবরের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। দলের অর্ধেক ক্রিকেটারকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, তাহলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতাম। তুমি একজন পুতুল অধিনায়ক হয়ে গেছ। নেতা আর অধিনায়কের মধ্যে পার্থক্য আছে।’

    বাবরের কড়া সমালোচনা করে রশিদ আরও বলেন, ‘তোমরা সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠিয়েছ। ইমামের বিষয়টি আমি বুঝতে পারি, সে চোট পেয়েছিল। কিন্তু তারপরও ছয়জন ক্রিকেটারকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তোমরা তোমাদের কোচ, তোমাদের মেন্টরকে ফিরিয়ে দিয়েছ। যে কোচ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়েছিল, তাকেও সরিয়ে দিয়েছ। উমর গুলকেও ফিরিয়ে দিয়েছ। তুমি তোমার দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছ না। তোমার কোচকে এক পাশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তুমি নীরবে বসে আছ। এতে বোঝা যায়, পিসিবির সবসময় একজন পুতুল অধিনায়কই প্রয়োজন।’

  • মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ইএসপিএনের সাংবাদিক এস্তেবান এদুলের বরাতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর নেতৃত্বের জন্য রোমেরোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।

    মেসি নিয়মিত অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন রোমেরো। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তির কারণে সেদিন মেসি বেঞ্চে ছিলেন। রোমেরোর নেতৃত্বে ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

    পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন এই ডিফেন্ডার। ফলে মেসি-পরবর্তী সময়ে তাকেই নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।

    ২৮ বছর বয়সী রোমেরোর জাতীয় দলে অভিষেক ২০২১ কোপা আমেরিকার আগে চিলির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর লিওনেল স্কালোনির দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ, গোল করেছেন চারটি।

    রোমেরোর জাতীয় দল অধ্যায়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা। মেসি, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দিদের প্রজন্মের পর এবার নতুন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন রোমেরো।

    ২৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পেলে সামনে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে তার। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে এই টটেনহাম ডিফেন্ডারের সামনে। তবে আপাতত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এএফএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। একাধিক প্রতিবেদনে অবশ্য মেসির পর স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

  • ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা পুলিশ বাহিনী নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন কোনো বড় ধরনের অন্যায়-অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি তখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার কারণে… আমি বলছি যারা ভালো সাংবাদিক, ৯৯ শতাংশ তাদের বলব আপনারা রুখে দাঁড়ান। আমাদের পুলিশেও আছে খারাপ লোক। আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। না, আমি বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়েছি আমাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এক পার্সেন্টও হয় না। ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে বলব আমি যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা সেটাই লেখেন। কিন্তু অপবাদ দিয়ে একজনের মনোবল নষ্ট করা…এটার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র আছে। আপনারা জানেন, বিগত ১৭ বছর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। আপনার জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। সুতরাং কোনো ষড়যন্ত্র নয়। আসুন ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা চিহ্নিত করি। আপনাদের ভেতরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী আছে। আমার (পুলিশ বাহিনী) ভেতরেও আছে। সারা বাংলাদেশেই আছে। আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

    আইজিপি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে এ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবকগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে আমাদের নতুন প্রজন্ম ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হয়। উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। আইনশৃংখলা যদি ঠিক না থাকে। আপনার আমার নিরাপত্তা যদি ঠিক না থাকে। আপনার সম্পদ-বাড়ি-গাড়ি আছে কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তবে দেশটা অকার্যকর হয়ে যাবে।

    এই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীদের বেশি দিন কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

    মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

    মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

    মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।

    পুলিশ প্রধান শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর।

    তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলবে ও অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।

  • কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড আখ চাষি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া সুগার মিলটি পুনরায় চালু করার দাবিতে মিলের প্রধান ফটকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম হোসেন মালিথার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া সুগার মিল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এই অঞ্চলের হাজার হাজার আখ চাষি, শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে এই মিলটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের বেকারত্ব ও আখ চাষিদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালুকরণ এখন সময়ের দাবি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সকল বন্ধ মিল কলকারখানা পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। পুনরায় মিলটি চালু করে নির্ধারিত মূল্যে সঠিক উপায়ে চিনিসহ চিনিকেন্দ্রিক অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বর্তমান সরকার সৃষ্টি করতে পারলে কুষ্টিয়া সুগার মিল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আমি এই সুগার মিল পুনরায় চালুকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উল হাসান অপু, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাজাহান আলী, পোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আখ চাষি আব্দুল কুদ্দুস ও কামরুজ্জামান মিথুন।

  • মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভাগ্নিজামাই লুৎফরের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর রবিউল ইসলাম (৫২) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মরহুম আমিন উদ্দিন মৃধার ছেলে।

    পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রবিউলের ছেলে ও তার আত্মীয় লুৎফরের ছেলের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জের ধরে লুৎফর ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউলের ছেলেকে মারধর করার জন্য হাতে লাঠি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।

    একপর্যায়ে রবিউল ইসলাম সামনে এসে বাধা দিলে লুৎফর তাকে লক্ষ্য করে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আঘাত করার পরপরই অভিযুক্ত লুৎফর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লুৎফর পলাতক রয়েছেন।

    মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আজাদ রহমান জানান, শিশুদের খেলাধুলার সামান্য বিবাদ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত লুৎফর আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বরে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে নির্বাচন উৎসব। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের বাকি চার প্রতিষ্ঠান পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।

    ইসি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছে ইসি। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর নভেম্বরের শেষভাগে প্রথম ধাপের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। সব ধাপের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে।
    এর আগে গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তরফে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের এমন নির্দেশনা পেয়ে

    নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে ইসি।

    দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ সংখ্যা চার হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ বা নির্বাচন উপযোগী হবে। যেগুলোর নির্বাচন ২০২১ ও ২০২২ সালে হয়েছিল। আর বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। ধাপে ধাপে নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আইনে আছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাত ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনুরূপ পরিকল্পনা করছে ইসি। ২০২১ সালের ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর দুই ভাগে বিভক্ত প্রথম ধাপের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের চারটি জেলা ছাড়াও রংপুর, বগুড়া, খুলনা ও বাগেরহাটের মোট ৩৬৭টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এবারও প্রথম ধাপে এসব ইউনিয়ন দিয়েই ভোটের তপশিল সাজানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে ইসির।

    এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইসির সব প্রস্তুতি আছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ও নভেম্বরে ভোট শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা এগোচ্ছি। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।

    ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কয় ধাপে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে যত ধাপে হয়েছে মোটামুটি সেভাবেই হবে। কোনো ইউনিয়ন পরিষদে মামলা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকলে সেগুলোতে নির্বাচন হবে না।

    ১৫ সেপ্টেম্বরে তপশিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    ইসির যত প্রস্তুতি
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতির শেষ ধাপে আইন-বিধি এবং আচরণ বিধিমালা সংস্কারের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল ইসি। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। দেশে মোট ভোটার আছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দেওয়ার শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর ও নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর বেঁধে দিয়েছে ইসি। এর পরই ভোটার তালিকা মুদ্রণে যাবে।

    সারাদেশে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও আগেই তৈরি করে রেখেছে ইসি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার বেশি হতে পারে। মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নেওয়া হয়। তবে এবার একসঙ্গে দুটি ভোটের জটিলতা না থাকায় গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্য পরীক্ষা নভেম্বরের আগেই অথবা দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসি। স্কুল ভবনগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার জন্যই এমন নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাহিনী পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে ইসি। পুলিশপ্রধানের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠককালে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির।

    সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ভোট গ্রহণ সামগ্রী আগেই মজুত রাখা হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনে সেগুলোর ব্যবহার হবে। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মালাপত্রও কিনে রেখেছে ইসি। সংসদের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা যায়, সে জন্যই এসব মালাপত্র আগেই কেনা হয়েছিল। কেননা নির্বাচনী মালাপত্র কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস লাগে।

    ইসি সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের আগে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানি ব্যাগ প্রতিটি এক লাখ ১৫ হাজার পিস, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস এবং অফিসিয়াল সিল আট লাখ ৪০ হাজার পিসসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী কেনা হয়। ওইসব সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ইসির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় তপশিল ঘোষণা হবে।

  • নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাট এলাকায় এই আদেশ জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

    উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সমঝোতা হলে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৭-৯ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

    জামায়াত আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, কালীগঞ্জ নৌকা ঘাটে আমরা ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অসুস্থতার জন্য মন্ত্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছ। পাল্টা পাল্টি অভিযোগের কারণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

  • দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, `আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে? এসব সমস্যার সমাধান চান বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

    আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ দেশের সব বিভাগীয় শহরে যাবে। ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে সরকার পতনের আন্দোলন সফল করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।

    কুমিল্লাবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা কুমিল্লা বিভাগ চান। ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একই সময়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবিও উঠেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ হয়নি, সিলেট বিভাগ হয়েছে। তাহলে কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ করুন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন। পাশের জেলা নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ দাবি করছেন, তাঁরাও দাবিদার। তাঁদেরও বিভাগ দিন। তবে কুমিল্লা যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে বিভাগ দাবি করে আসছে, তাই কুমিল্লা বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করুন।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লায়—এ কারণে কি আপা কুমিল্লার প্রতি বিরাগ দেখিয়েছিলেন? কুমিল্লার নাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। কোনো জেলার নামকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি করা হলে তা ওই জেলা ও বিভাগের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করার শামিল। বর্তমান সরকার বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছে। তাহলে দিচ্ছে না কেন? কুমিল্লা বিভাগ দিন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বিমানবন্দর করার বিষয়টি সামনে এসেছে। কুমিল্লায় একটি ইপিজেডও রয়েছে। বিমানবন্দরটি যাচাই-বাছাই করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন। মানুষকে প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রামে যেতে অনেক দূর যেতে হয়। বিভাগ হলে কুমিল্লার মানুষ এখানেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবে।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি চান? সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কি রক্ষা করছে? করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক না রেখে এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে একসঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকতে চান, তাহলে অন্য সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আগে নিজের মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি ঠিক করুন। আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করুন, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।’

    কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পাটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মন্ঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।

  • শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে দোকানপাটসহ ৬টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। শনিবার সকালে বগুড়া ইউনিয়নের দলিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রাকিবুল ইসলাম খান দিপু এবং বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দলিলপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের লাখাইয়ে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে তল্লাশি চালিয়ে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ৪৫০ গ্রাম গাঁজাসহ সালেহা বেগম ওরফে আবুনী (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার সালেহা বেগম উপজেলার তেঘরিয়া উত্তর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক সাহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সালেহা বেগমের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহজনক মনে হলে ঘরের ভেতর মুরগির খোঁয়াড়ের মাটি খুঁড়ে একটি ডিব্বা উদ্ধার করা হয়। পরে ডিব্বাটি খুলে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ৪৫০ গ্রাম।

    ঘটনার বিষয়ে এসআই মানিক সাহা জানান, প্রত্যক্ষভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সালেহা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

    এদিকে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে কৌশলে মাদক লুকিয়ে রাখার এই অভিনব ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি খুঁড়ে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে।

    লাখাই থানার ওসি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মাদক সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

  • তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    একজনেরই তিন জন্মদিন!

    বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে কাগজে-কলমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবের জন্মসাল তিনটি—২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০। মাসখানেক আগেও শ্রীলঙ্কা সফর করে আসা এই ক্রিকেটারকে বয়সের তথ্য জালিয়াতির দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

    ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাদের খেলোয়াড়দের জন্য প্রাক্‌–মৌসুম নথিপত্র যাচাই কর্মসূচি পরিচালনা করার সময় রোহিতের বিষয়ে গরমিল পায়। পিটিআই জানিয়েছে, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০—এই তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া গেছে তাঁর নামে।

    ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোহিতের আধার কার্ডের তথ্যেও ছিল গরমিল। সিএবির নিবন্ধনে তাঁর জন্মসাল ২০০৭। অন্যদিকে ২০১৭ ও ২০২০ সালে হালনাগাদ করা আধার রেকর্ডে জন্মসাল ছিল ২০০৬। পরে ২০২১ সালে সেটি পরিবর্তন করে করা হয় ২০০৯।

    বয়স নিয়ে এত রকম তথ্য পাওয়ার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে রোহিতকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের গরমিলের কারণে আরও ৬৪ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের পেসার রবি কুমারও। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর সব রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের গরমিল ছিল ৪০ মাসের বেশি।

    বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমার একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটি। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়েরা স্বেচ্ছায় বয়সের গরমিল স্বীকার করে সঠিক জন্মতারিখ জমা দিলে সাময়িক বরখাস্ত এড়াতে পারতেন। তবে পরে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাঁদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতো।

  • জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্তীর ভারত সফর ও সম্পর্ক নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের সাথে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বুঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সঙ্কট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

    মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে ‘

    আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’

  • তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার সংযোগ রক্ষায় বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

    সম্প্রতি তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়ইতলীসহ আশেপাশের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন ও শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, আমেনা আক্তার বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরিভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

  • বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস, বীরত্ব ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সাহস ও দেশের জন্য আত্মনিবেদনের অনুপ্রেরণা জোগায়।

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। এ উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির কাছে অবস্থিত তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতে বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ যে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা এবং শত্রুর মোকাবিলায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

    প্রতি বছর তাঁর শাহাদতবার্ষিকীতে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করা হয়।

  • জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে ভারত সফর নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে ভারত সফর নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেছেন, ‘ভারত সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।’

    আজ শনিবার সকালে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেছেন।

    প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দুই দেশের মধ্যে নানা সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা উচিত।

    জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন জানিয়েছেন, অতীতে জ্বালানি খাতে কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা এ খাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

    মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশ একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানেই যাবে।’

    ‘বাংলাদেশকে বোয়িং বিমান কিনতে কেউ চাপ দিচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বিমান কেনা হবে,’ যোগ করলেন প্রতিমন্ত্রী।

    মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সিন্ডিকেটের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হবে।

    কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার সুযোগ না পাওয়া এবং রাস্তায় রাত কাটানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জোর দেন, নির্দিষ্ট ঘটনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গতকাল শুক্রবার প্রতিমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে ইমজার নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন তিনি।

    এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরীসহ ইমজার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

  • সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডস্কে,

    ঝিনাইদহের শৈলকূপায় রাসায়নিক সারের দাবিতে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা সার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার ‘মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ’-এ যান।

    এ সময় ডিলারের লোকজন সার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়াগঞ্জ-শৈলকূপা সংযোগ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধ করেন।

    প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গন্তব্যমুখী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সার সরবরাহের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সার নিয়ে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পরে কৃষকরা সার পেয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

  • একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি এবার একই দলের হয়ে মাঠে নামবেন? বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএনটি স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পরিকল্পনা চলছে।

    আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে ‘অ্যাপাচি’ খ্যাত তেভেজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ সংবর্ধনা ম্যাচটি। বোকা জুনিয়র্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তেভেজ। তার ইচ্ছা, এই বিশেষ আয়োজনে দুই ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি ও রোনালদোকে একসঙ্গে একই একাদশে খেলাবেন।

    ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্ব ফুটবলের বহু নামী ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই ঐতিহাসিক বিদায়ী ম্যাচে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক সতীর্থ অংশ নেবেন।

    ২০২২ সালের জুনে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই ফরোয়ার্ড কোচিং পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। রোসারিও সেন্ট্রাল ও ইন্দেপেন্দিয়েন্তের পর বর্তমানে তায়েরেস কোর্দোবার ডাগআউট সামলাচ্ছেন তিনি। তবে কোচিংয়ের ব্যস্ততা ছাপিয়ে এখন তার সব মনোযোগ ঐতিহাসিক এই বিদায়ী আয়োজন নিয়ে।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বোকা জুনিয়র্সের বিখ্যাত হোমগ্রাউন্ড লা বমবুনেরা স্টেডিয়ামে আগামী ডিসেম্বরের ১২-১৩ কিংবা ১৮-১৯ তারিখে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আর্জেন্টাইন লীগের সূচির সঙ্গে যাতে ম্যাচটির তারিখের সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

  • কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

    শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

    লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

    উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।