সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    ভেড়ামারায় ট্রাক-সিএনজি-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রাশিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুই যাত্রী।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ভোড়ামারার ১২ মাইল গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাশিদুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা নতুন আমদহ গ্রামের ছোয়াদ আলী মন্ডলের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ট্রাকটি লালনশাহ ব্রিজের দিক থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বিপরীত দিক ভেড়ামারা থেকে কুষ্টিয়ার রাস্তায় উঠছিল। আর দ্রতগতির একটি মোটরসাইকেল কুষ্টিয়া থেকে ১২ মাইল মোড়ের দিকে আসছিল।

    প্রথমে সিএনজি আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পতিত হয়। মোটরসাইকেলের আঘাতে সিএনজির ভেতরের সিটে বসে থাকা যাত্রী রাশিদুল ইসলাম সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এছাড়া সিএনজির দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা: মিজানুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসাপাতালে আনা হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রাশিদুল ইসলামকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়দুর রহমান জানান, ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক (এম.এ)। তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত থেকে এই শিক্ষককে সসম্মানে বিদায় জানান। অবসর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাসহ তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবদান স্মরণ করে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। শেষে অশ্রু সজল নয়নে ঘোড়ার গাড়িতে করে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তোজাম্মেল হক ২৯ জুন ১৯৯৫ সালে বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছিলেন। তার কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন বিদায় সংবর্ধনা তোজাম্মেল হকের কর্মজীবনের সোনালী স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

  • দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    দৌলতপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে আরজ আলী (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আরোজ আলী রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকেই দৌলতপুরের আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে মুষলধারে বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড মেঘের গর্জন শুরু হয়। এ সময় আরোজ আলী বাড়ির পাশের বিলের ধারে বসে ছিলেন। আকস্মিক বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    বজ্রপাতের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আরোজ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তিনি বজ্রপাতেই মারা গেছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে আবদুল সামাদ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শিমুলতাড়ই এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবদুল সামাদ মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবুদখালী গ্রামের মরহুম আবদুল সালাম মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গাইবান্ধা রেলওয়ে ফাঁড়ি থানার আইসি সাহেব গণি বলেন, সকালে রেললাইনের পাশে ওই যুবকের লাশ দেখে গাইবান্ধা রেলস্টশন মাস্টারকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ সময় লাশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বায়োমেট্রিক করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই লাশের ছবি পোস্ট করেন স্থানীয়রা। পরে নিহত যুবকের চাচাতো ভাই সাজু মিয়া থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন থেকে আবদুল সামাদ মিয়া মানসিক রোগে ভুগছিলেন।

    আইসি সাহেব গণি আরো বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের স্ত্রী ময়না বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

  • কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত, আহত ৩

    কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত, আহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রফিকুল ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড়সংলগ্ন গোপিরায়ের বেড় এলাকার মরহুম জামিল উদ্দিন সানার ছেলে। আহতরা হলেন পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে মো: রায়হান গাজী, কাঠিপাড়া (বাঁকা) গ্রামের সন্দীপ মণ্ডলের ছেলে অন্তর মণ্ডল ও একই এলাকার আজিজ সরদারের ছেলে মো: হৃদয় হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার বাঁকা বাজার এলাকা থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাছারীবাড়িতে অনুষ্ঠিত বৃক্ষ মেলা দেখতে যাচ্ছিলেন। তারা ইসলামপুর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রফিকুলকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই রফিকুলের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত তিনজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

    কয়রা থানার ওসি মো: রাশেদুল আলম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার খেতাবের জন্য সেরা কয়েকটি ছবি

    ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার খেতাবের জন্য সেরা কয়েকটি ছবি

    রওয়ের আলোকচিত্রী অডান রিকার্ডসেন, যিনি মুলত বন্যপ্রাণীদের ছবি তোলেন, তার তোলা এই ছবিটি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আয়োজিত এ বছরের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় ‘হাইলি কমেন্ডেড’ বা অত্যন্ত প্রশংসিত ছবির তালিকায় স্থান পেয়েছে।

    আর্কটিক ওয়াইল্ডলাইফ ট্যুরস- এর গাইড হিসেবে কাজ করার সময় রিকার্ডসেন একটি সিলের শ্বাস নেওয়ার গর্তের নিচে মোশন সেন্সরযুক্ত একটি ক্যামেরা স্থাপন করেন যেটি পানির নিচেও কাজ করে। এরপর তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন।

    ভোর ৪টায় একটি স্ত্রী মেরু ভল্লুক সেখানে এসে নিচের দিকে তাকায়।

    এরপর রিকার্ডসেন ভল্লুকটি সরে যাওয়ার জন্য আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, তারপর ক্যামেরাটি উদ্ধার করে ছবিগুলো পর্যালোচনা করেন।

    তিনি যখন দেখলেন কী ধারণ করতে পেরেছেন, তখন বলেছিলেন, “আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। আমি চিৎকার করছিলাম, তাই সম্ভবত মাইলের পর মাইল দূরের সব মেরু ভল্লুককেও জাগিয়ে তুলেছিলাম।”

    রিকার্ডসেন এর আগে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন– ২০১৯ সালে ‘বার্ডস’ এবং ২০২৫ সালে ‘ওশান্স: দ্য বিগার পিকচার’ ক্যাটাগরির ছবির জন্য।

    এই বছরের সব বিজয়ীদের নাম ১৩ই অক্টোবর ঘোষণা করা হবে। এরপর লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম-এ একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত প্রশংসা পাওয়া আরো কিছু ছবি দেখতে ও পেছনের গল্প জানতে এই প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।

    শিরোনাম: দ্য আর্ট অফ ফ্লায়িং

    আফ্রিকা থেকে বার্ষিক অভিবাসন শেষে সুইফট পাখিদের লন্ডনে ফিরে আসা দেখছিলেন ক্রকফোর্ড। পাখিদের তীক্ষ্ণ ডাক আকাশ ভরিয়ে তুলছিল। বেশিরভাগ পাখিই এত উঁচুতে উড়ছিল যে ছবি তোলা সম্ভব ছিল না। তবে নিচু দিয়ে উড়া কয়েকটি পাখি তাকে কাঙ্ক্ষিত ছবিটি ধারণের সুযোগ করে দেয়।

    সুইফট পাখিরা জীবনের প্রায় পুরো সময় আকাশেই কাটায় এবং সাধারণত শুধু নিজের বাসা পর্যন্ত নামে।

    শিরোনাম: আরবান ওয়ান্ডারার বা শহুরে পরিব্রাজক

    বৃষ্টির পর একটি ব্যাঙ-কে শহরের রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে দেখেন আলোকচিত্রী মিয়াজাওয়া। তিনি ধীর শাটার গতিতে সেটির ছবি তোলেন, তারপর ব্যাঙটি আবার ঝোপে লাফিয়ে চলে যায়।

    এই ইস্টার্ন জাপানিজ টোড প্রজাতির ব্যাঙ সাধারণত পূর্ব জাপানের বন, তৃণভূমি ও অন্যান্য স্থলভাগের আবাসস্থলে পাওয়া যায়। তবে নগর পরিবেশের সঙ্গেও এরা আশ্চর্যজনকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

    শিরোনাম: লিফটেড টু দ্য সারফেইস

    নরওয়েজিয়ান ওরকা সার্ভে, অর্থাৎ যেসব ওরকা বা খুনে তিমি নরওয়ের উপকূলে দেখা যায় সেগুলোর ওপর একটি জরিপের জন্য ড্রোন ওড়ানোর সময় একটি পূর্ণবয়স্ক ওরকাকে একটি মৃত শাবকের দেহ বহন করতে দেখেন ফটোগ্রাফার আসেন।

    নরওয়ের একটি ফিয়র্ডে (সমুদ্রের খাঁড়ি) বারবার শাবকটিকে ডুবতে দিচ্ছিল ওরকাটি, তারপর আবার পানির ওপর নিয়ে আসছিল। দৃশ্যটি দেখা কঠিন ছিল, কিন্তু আসেন মনে করেছিলেন এটি নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

    এই আচরণ শাবকটিকে পুনরুজ্জীবিত করা অথবা সুরক্ষার চেষ্টা হতে পারে। এর আগে কিলার হোয়েলদের মৃত শাবক বহন করতে দেখা গেছে। এক ঘটনায় একটি স্ত্রী তিমি অন্তত ১৭ দিন ধরে তার মৃত শাবককে বহন করেছিল।

    ২০২৬ সালের একটি গবেষণা ইঙ্গিত দিয়েছে, এই ধরনের আচরণ প্রজাতিটির মধ্যে আগে ধারণার তুলনায় আরও বিস্তৃত হতে পারে।

    শিরোনাম: বাইটিং ব্যাক

    ছবিগুলো পর্যালোচনা করার সময়ই গ্রামাটিকো যমজরা বুঝতে পারেন যে তারা ফের-দে-লেন্স ভাইপারের মাথায় বসে থাকা একটি মশাকেও ধারণ করেছেন।

    তারা এটিকে তাদের “তৈরি সবচেয়ে কঠিন ফোকাস-স্ট্যাকগুলোর একটি” বলে বর্ণনা করেছেন।

    অত্যন্ত বিষধর এই সাপটি মধ্য আমেরিকায় অন্য যেকোনো প্রজাতির তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী সাপের কামড়ের জন্য দায়ী। এটি খুব ভালোভাবে ছদ্মবেশ নিতে পারে এবং চাষাবাদের এলাকাতেও মিশে থাকতে পারে, ফলে কখনও কখনও শ্রমিকদের চোখ এড়িয়ে যায়।

    শিরোনাম: উইংস অফ ডার্কনেস

    ব্রাজিলের পানটানাল জলাভূমিতে একটি মৃত কুমিরের ওপর বসে থাকা কালো শকুনের ছবি তোলেন পার্কিনসন। তিনি নৌকাকে দূরে রেখে দীর্ঘ টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করে ছবিটি ধারণ করেন।

    শকুনটি উড়ে যাওয়ার পর ফ্রেমের বাইরে অপেক্ষমাণ একটি চিতা বাঘ এসে মৃতদেহটির দখল নেয়। এরপরই পার্কিনসন ইয়াকারে কাইম্যান প্রজাতির কুমিরটির মাথার পেছনে অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার ও সোজা একটি ক্ষতচিহ্ন লক্ষ্য করেন, যা সম্ভবত দ্রুতগতির কোনো নৌকার আঘাতে তৈরি হয়েছিল বলে তিনি সন্দেহ করেন।

    শিরোনাম: আই অফ দ্য স্টর্ম

    নামিব মরুভূমিতে নামাকোয়া ক্যামেলেয়ন প্রজাতির একটি গিরগিটির ছবি তোলার সময় হঠাৎ বাতাস জোরালো হয়ে বালুঝড় শুরু হয়। দৃষ্টিসীমা দ্রুত কমে যায় এবং শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

    এই ক্যামেলিয়নগুলো মরুভূমির বিশেষজ্ঞ। তারা সরাসরি বাতাস থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহ করতে পারে। তাদের ত্বকে জমা শিশির অণুবীক্ষণিক খাঁজ বেয়ে মুখের দিকে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তাদের জিহ্বা গাছপালা, বালু ও পাথরে ঘনীভূত কুয়াশার পানিও সংগ্রহ করতে পারে।

    শিরোনাম: ফ্লক অফ গোল্ড

    একটি ছোট জলাশয়ের কাছে পাখিদের জড়ো হতে দেখছিলেন মাতে। ঠিক তখনই হাজার হাজার রেড-বিল্ড কেলিয়া পাখির দল সোনালি বিকেলের আলোয় পানি পান করতে নেমে আসে।

    এত বিপুল সংখ্যক ডানার নড়াচড়ায় এমন বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল, যা ৩০ মিটার দূর থেকেও অনুভব করা যাচ্ছিল– বলেন ফটোগ্রাফার। এই পাখিগুলো দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ পর্যন্ত সদস্যের ঝাঁক গঠন করতে পারে। বাচ্চা ফুটাতে পারে- এই প্রজাতিতে এমন পাখির সংখ্যা দেড়শ কোটি পর্যন্ত হবে বলে ধারণা করা হয়। পৃথিবীতে এই পাখিই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলেও মনে করা হয়।

    শিরোনাম: মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস

    সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণীর খোঁজ করতে গিয়ে পোর্টার একটি রেড-বিল্ড অক্সপিকার পাখিকে সাদা গণ্ডারের গায়ে ঠোঁট ঘষতে দেখেন।

    এই পাখিরা গণ্ডারের শরীরে থাকা পোকামাকড় খায় এবং প্রহরীর ভূমিকাও পালন করতে পারে। বিপদ এগিয়ে এলে তারা ডাক দিয়ে গণ্ডারকে সতর্ক করে। সোয়াহিলি ভাষায় এই পাখিকে বলায় হয় ‘আসকারি ওয়া কিফারু’, যার অর্থ ‘গণ্ডারের রক্ষী’।

    শিরোনাম: আপ অ্যা ট্রি ইউদাউট অ্যা স্কুইরেল

    হাটন দেখেছিলেন একটি তরুণ চিতাবাঘ একটি কাঠবেড়ালিকে গাছে তাড়া করে তুলেছে। এর আগে তিনি চিতাবাঘটিকে একটি খরগোশ শিকার করতে ব্যর্থ হতেও দেখেছিলেন।কাঠবেড়ালিটি আরও ওপরে উঠে পালিয়ে যায়, আর চিতাবাঘটি কিছুক্ষণ কাণ্ড আঁকড়ে থাকার পর অস্বস্তিকরভাবে নিচে নেমে আসে।

    তরুণ চিতাবাঘদের জন্য টিকে থাকার বিষয়টি মোটেও নিশ্চিত নয়, কারণ অর্ধেকেরও কম চিতা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার বয়স পর্যন্ত পৌঁছায়। পুরুষ চিতাবাঘ, সিংহ এবং অন্যান্য শিকারি তাদের জন্য হুমকি।

    শিরোনাম: স্প্লিট-সেকেন্ড এসকেইপ

    একটি আফ্রিকান বুলফ্রগ একটি প্রজাপতি ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কিন্তু ব্যর্থ হয়।

    ভারী বৃষ্টির পর আগের সফরে ব্যাঙাচি দেখেছিলেন কুলমান। পরের মাসে ফিরে এসে তিনি জলাশয় ও গর্তগুলোতে তরুণ বুলফ্রগ-এ ভরা দৃশ্য দেখতে পান। তিনি দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তরুণ ব্যাঙগুলোকে ‘নড়াচড়া করে এমন সবকিছু খেতে’ দেখেছেন।

    পূর্ণবয়স্ক আফ্রিকান বুলফ্রগ -এর দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং বছরে প্রায় ১০ মাস তারা মাটির নিচে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। বৃষ্টির পর তারা প্রজনন ও খাদ্যগ্রহণের জন্য বেরিয়ে আসে।

    শিরোনাম: হিডেন ড্রাগন

    অবস্থান: ইকুয়েডরের নাপো প্রদেশের ওয়াইল্ডসুমাকো বায়োলজিক্যাল স্টেশান মাত্র ১৫ মিলিমিটার দীর্ঘ একটি লাইকেন ড্রাগন ক্যাটিডিড-এর ছবি তুলছিলেন ইউজেন। এটি চারপাশের শ্যাওলার সঙ্গে এতটাই মিশে ছিল যে আলাদা করা কঠিন ছিল।

    পোকাটি নড়াচড়া করার সময় তিনি সেটিকে দেখতে পান, কিন্তু তারপরও ভিউফাইন্ডারের মধ্যে পটভূমি থেকে আলাদা করা কঠিন ছিল। শুধু ইকুয়েডরের আন্দিজ পর্বতমালায় পাওয়া যায় এই প্রজাতি। এর কাঁটাযুক্ত বর্ম ছদ্মবেশ ভেদ করতে সক্ষম শিকারিদের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

    শিরোনাম: কাম অ্যামিড দ্য স্টর্ম

    সূর্যোদয়ের সময় তীরের কাছে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছের একটি ঝাঁকের ছবি তুলছিলেন গ্রস, যখন একটি ঝড় এগিয়ে আসছিল। পানির ওপর ও নিচের অংশ একসঙ্গে ধারণ করা একটি বিভাজিত-স্তরের ছবি তৈরির জন্য তিনি ভাসমান অবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখতে ক্যামেরাটি উল্টো করে ধরেন এবং কৌতূহলী মাছগুলোর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান।

    বিশ্বের বহু অঞ্চলে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছ ধরা হয়, তবে এখানে তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। ২০২৩ সালে ডি’অ্যারোস দ্বীপের চারপাশের জলসীমাকে একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া) ঘোষণা করা হয় এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

    এটি ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর স্থলভাগ ও মহাসাগরের ৩০ শতাংশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী যে উদ্যোগে বিভিন্ন সরকার অংশ নিয়েছে, তারই অংশ।

    শিরোনাম: পুলটাইম পাসটাইম

    এলিয়ট একজন স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ির রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতেন, এই আশায় যে বাগানের মধ্যে দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করা কালো ভাল্লুকগুলোর ছবি তুলতে পারবেন।

    তিনি একটি ভাল্লুককে বাগানের পুকুরে ডুব দিতে দেখেন, যা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে বন্যপ্রাণী ও আবাসিক জীবনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সাধারণ সংমিশ্রণকে তুলে ধরে, যেখানে আবাসন প্রকল্পগুলো ভাল্লুকের আবাসস্থলে ঢুকে পড়েছে।

    শিরোনাম: ওশান প্রোটেকটর

    মন্টেরে উপসাগরের অগভীর পানিতে একটি ইলগ্রাসের তৃণভূমির মধ্য দিয়ে ধীরে ভেসে যাচ্ছে একটি সি হেয়ার বা সামুদ্রিক শামুক। সন্ধ্যার আলোয় সেখানে ছবি তুলছিলেন পেস।

    তিনি এই দৃশ্যটিকে দেখেছেন একটি আশাব্যঞ্জক প্রতিচ্ছবি হিসেবে, যেখানে “এক কোমল দৈত্য সমুদ্রের শেষ সবুজ তৃণভূমিগুলোকে রক্ষা করছে”। লাল শৈবাল খেয়ে সি হেয়ারগুলো ইলগ্রাস পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে। এই শৈবাল কখনও কখনও সূর্যের আলো তৃণভূমিতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য ইলগ্রাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কার্বন শোষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার।

    শিরোনাম: দ্য শো গৌজ অন

    প্রাণী দিয়ে প্রদর্শনী করা একটি সার্কাস শহরে এসেছে জানতে পেরে রোহাস সেটি নথিবদ্ধ করতে যান। সেখানে তিনি দেখেন, একটি বাদামি ভালুক ছোট একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আছে। ভালুকটির মুখে মুখবন্ধনী পরানো ছিল এবং সেটিকে মোটরসাইকেলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তার কাছে এই দৃশ্যটি প্রাণীটির বন্য স্বভাব এবং তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া মানবসৃষ্ট পরিবেশের মধ্যকার বৈপরীত্যকে তুলে ধরেছে।

  • পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?

    পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?

    কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি বনের ভেতর দিয়ে নীরবে হেঁটে চলে কালো-সাদা এক প্রাণী। চারপাশে শুধু বাঁশের মৃদু শব্দ। কোথাও মানুষের কোলাহল নেই, নেই আধুনিক সভ্যতার চিহ্ন। এই শান্ত পরিবেশেই জন্ম নেয় পৃথিবীর অন্যতম বিরল স্তন্যপায়ী পান্ডা। আর এই পান্ডার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে চীনের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও আবেগ।

    চীনে পান্ডা শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি সৌভাগ্য, শান্তি ও প্রকৃতির ভারসাম্যের প্রতীক। দেশটিতে শিশুরা বড় হয় পান্ডার ছবি দেখে, সংরক্ষণকর্মীরা জীবন উৎসর্গ করেন তাদের রক্ষায়, আর রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও পান্ডাকে দেখা হয় জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে।

    একসময় যে প্রাণীটি ছিল বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে, আজ তাকে ফিরিয়ে আনার পেছনে শুধু বিজ্ঞান নয়; মানুষের ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও দীর্ঘ সংগ্রামও কাজ করেছে। তবু বিস্ময় থেকেই যায়, এই বিশাল পৃথিবীর দেশে দেশে এত বন, পাহাড় আর সংরক্ষিত এলাকা থাকা সত্ত্বেও কেন পান্ডার স্বাভাবিক জন্ম ও বসবাস শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ?

    জায়ান্ট পান্ডা: সংখ্যা, গড়ন, বাসস্থান আর খাদ্যাভ্যাস

    ভালুক পরিবারের সদস্য জায়ান্ট পান্ডা কালো-সাদা রঙের, আকারেও বড়। এদের প্রাপ্তিস্থান শুধু চীন। জায়ান্ট পান্ডা শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে চীনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছে। জায়ান্ট পান্ডার চোখের চারপাশে, কান, নাকের অংশ, পা ও কাঁধে কালো লোম থাকে। আর সারা শরীরের ঘন ও উলের মতো লোম তাদেরকে ঠান্ডা পাহাড়ি পরিবেশে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করে।

    একটি পূর্ণবয়স্ক পান্ডার দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় মিটার এবং কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার। ওজন হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি। তবে পুরুষ পান্ডা স্ত্রী পান্ডার তুলনায় একটু বড় ও ভারী। আর নবজাতক পান্ডা শাবক আকারে প্রায় একটি ভুট্টার মোচার মতো। মায়ের আকারের তুলনায় জন্মের সময় এত ছোট শাবক আর কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীরই হয় না।

    এদের পরিপাকতন্ত্র মাংসাশীর মতো হলেও বিবর্তনের ফলে তারা প্রায় পুরোপুরি তৃণভোজী, বিশেষত বাঁশনির্ভর হয়ে পড়েছে। একটি জায়ান্ট পান্ডাকে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ৩৮ কেজি পর্যন্ত বাঁশ খেতে হয়। বাঁশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কারণ তাদের আবাসস্থল, বাঁশবন ধ্বংস হলেই পান্ডার অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে পড়ে যায়।

    তবে তারা যে শুধু বাঁশই খায়, তা না। তাদের খাদ্যের প্রায় এক শতাংশে অন্য উদ্ভিদ এবং মাঝে মাঝে ছোট প্রাণীও থাকে। তাদের একটি চওড়া শক্ত দাঁত এবং কবজির বিশেষ একটি হাড় আছে, যা আঙুলের মতো কাজ করে। এই কারণেই তারা খুব দক্ষভাবে বাঁশ আঁকড়ে ধরে খেতে পারে।

    বনে ঠিক কতগুলো পান্ডা আছে, তা নির্ধারণ করা মোটেও কোনো সহজ কাজ নয়।

    আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (ডব্লিউ ডব্লিউ এফ) দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে জায়ান্ট পান্ডা সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি বলছে, পান্ডার উপস্থিতির চিহ্ন খুঁজে পাওয়াটা এক পরিশ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। অনেক সময় একেকটি গবেষক দলকে টানা কয়েক দিন ধরে বনভূমির প্রতিটি মিটার এলাকা খুঁটিয়ে দেখতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি বাঁশবনে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটে শুধু পান্ডার মল পাওয়ার আশায়।

    কোথাও যখন পান্ডার মল পাওয়া যায়, তখন তা ছেঁকে ‘হজম না হওয়া’ বাঁশের অংশ আলাদা করা হয় এবং এরপর দাঁতের কামড়ের দাগ বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় কোনটি কোন পান্ডার। কারণ প্রতিটি পান্ডার কামড়ের ছাপ আলাদা, ঠিক মানুষের আঙুলের ছাপের মতো।

    আর একটি পান্ডা দিনে প্রায় ৫০ বার মলত্যাগ করতে হয়। কারণ বাঁশে পুষ্টিগুণ খুব কম এবং এর অধিকাংশই হজম হয় না। তাই তারা যেমন প্রচুর বাঁশ খায়, তেমনি সেই বাঁশ মলত্যাগের মাধ্যমে দ্রুত বেরও হয়ে যায়। দেখা গেছে, একটি পান্ডা দিনের ১২ ঘণ্টাই শুধু খায়।

    পান্ডা রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বনে বসবাসকারী জায়ান্ট পান্ডার সংখ্যা এক হাজার ৮৬৪টি। যদিও এই সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবে এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ সত্তরের দশকের শেষ দিকে পান্ডার সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজারেরও কম।

    উল্লেখ্য, বনের বাইরে চিড়িয়াখানা ও প্রজনন কেন্দ্রে ছয়শোর মতো পান্ডা আছে। তবে এই বন্দি জায়ান্ট পান্ডাগুলোর সিংহভাগই চীনে। আর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে হাতে গোণা কিছু সংখ্যক পান্ডা আছে। কিন্তু সেগুলোর সবই চীনা সরকারের ধার দেওয়া।

    ডব্লিউ ডব্লিউ এফ বলছে, বনে জায়ান্ট পান্ডা গড়ে ১৪ থেকে ২০ বছর বাঁচলেও চিড়িয়াখানা বা সংরক্ষণ কেন্দ্রে ভালো যত্নের কারণে তারা ৩০ বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারে।

    কেন শুধু চীনেই প্রাকৃতিকভাবে জায়ান্ট পান্ডা জন্মায়?

    জায়ান্ট পান্ডা আজ প্রাকৃতিকভাবে শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং হাজার বছরের পরিবেশগত ইতিহাসের ফল। একসময় এই এদের বিচরণ ছিল দক্ষিণ ও পূর্ব চীন ছাড়িয়ে মিয়ানমার ও উত্তর ভিয়েতনাম পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিকাজ-বসতির চাপে একসময় বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা জায়ান্ট পান্ডার আবাসস্থল ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তারা টিকে থাকে শুধু চীনের দুর্গম পাহাড়ি বনেই, যেখানে প্রকৃতি এখনো তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও আশ্রয় জোগাতে পারে।

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র প্রায় ২০টি বিচ্ছিন্ন বাঁশবনে জায়ান্ট পান্ড রয়েছে। যেগুলো চীনের সিচুয়ান, শানশি ও গানসু প্রদেশে ছয়টি পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। অধিকাংশ বন্য পান্ডাই এখন মিনশান ও চিনলিং পর্বতমালায় বাস করে।

    আবাসস্থল ধ্বংসই যেহেতু পান্ডার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাই, চীনের সরকার ৬৭টি পান্ডা সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তুলেছে, যেখানে বন্য পান্ডাদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নিরাপদে বাস করছে এবং সংরক্ষিত করা হয়েছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রাকৃতিক আবাস। এছাড়া, বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলগুলোকে যুক্ত করতে বিশেষ বাঁশ করিডোর তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে তা দিয়ে পান্ডারা নতুন এলাকায় যেতে পারে, বেশি খাবার পায় এবং সঙ্গী খুঁজে নিয়ে প্রজনন বাড়ায়।

    আর, ইতোমধ্যেই বলেছি যে পান্ডার প্রধান খাবার বাঁশ, যা সবচেয়ে ঘন ও বৈচিত্র্যময়ভাবে বেড়ে ওঠে চীনের ওই পাহাড়ি বনাঞ্চলগুলোতেই। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাঁশের প্রজাতি ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম স্থানে আছে চীন।

    পাশাপাশি, পান্ডা গরম সহ্য করতে পারে না। তাই, চীনের ওই উঁচু পাহাড়, কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকা আর স্থায়ী শীতল আবহাওয়া পান্ডার শরীর ও জীবনযাপনের জন্য আদর্শ।

    যেভাবে বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এলো পান্ডা

    জায়ান্ট পান্ডার অস্তিত্ব প্রথমবার পশ্চিমা বিশ্বের নজরে আসে ১৮৬৯ সালের মার্চে, যখন এক শিকারি একটি পান্ডার চামড়া পৌঁছে দেন ফরাসি ধর্মযাজক ও প্রকৃতিবিদ আর্মান্ড ডেভিডের হাতে। এই ঘটনাই ইউরোপে পান্ডাকে পরিচিত করে তোলে বৈজ্ঞানিক জগতে।

    এরপর বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমা শিকারি ও সংগ্রাহকদের মাধ্যমে পান্ডা ধীরে ধীরে বিশ্বের নজরে আসে। ১৯২৯ সালে রুজভেল্ট পরিবারের দুই ভাই প্রথম বিদেশি হিসেবে একটি পান্ডা শিকার করেন, যা সে সময় পশ্চিমা বিশ্বে পান্ডাকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

    তবে পান্ডাকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও জনপ্রিয়তার বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৩৬ সালে। সে বছর আমেরিকান নারী অভিযাত্রী রুথ হারকেস একটি জীবিত শিশু পান্ডাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলে প্রাণীটি মুহূর্তেই গণমাধ্যমের নজর কাড়ে। তখন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে পান্ডার ছবি নিয়মিত ছাপা হতে থাকে। আদুরে চেহারা, বড় চোখ, গোল মুখ, নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের কারণে পান্ডা মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয়। সেখান থেকেই শুরু ‘পান্ডা কাল্ট’-এর।

    পরের দশ বছরে বিদেশিরা চীন থেকে অন্তত ১৪টি জায়ান্ট পান্ডা নিয়ে যায়। কখনো প্রদর্শনের জন্য, কখনো ব্যক্তিগত সংগ্রহে। তখন পান্ডা ছিল এক ধরনের দুর্লভ আকর্ষণ। কিন্তু ১৯৪৬ সালে চীন সরকার এই পান্ডা নেওয়ার দরজা বন্ধ করে দেয়। বিদেশিদের হাতে পান্ডা নেওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। এটি ছিল পান্ডা রক্ষার জন্য প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।

    এদিকে, জনপ্রিয়তার আড়ালে দ্রুত ধ্বংস হচ্ছিলো পান্ডার বনভূমি। তাই, ষাটের দশকের শুরুতে চীন প্রথমবারের মতো পান্ডা সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে এবং শিকার নিষিদ্ধ করে।

    সত্তরের দশকে জরিপে ধরা পড়ে, বনে থাকা পান্ডার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে, সিচুয়ান প্রদেশে পান্ডার উপযুক্ত বনাঞ্চলের অর্ধেকের বেশি ততদিনে হারিয়ে গেছে। এই বাস্তবতা বিশ্বজুড়ে আরও কঠোর পান্ডা সংরক্ষণ নীতির জন্ম দেয়। নব্বইয়ের দশকে পান্ডার আবাসস্থলের বড় অংশ সংরক্ষিত অঞ্চলের আওতায় আনা হয়।

    ফলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে পান্ডা। একের পর এক জাতীয় জরিপে দেখা যায়, বিলুপ্তির কিনারা থেকে ফিরে বাড়ছে তাদের সংখ্যা। ২০০৪ সালে যেখানে বনে পান্ডা ছিল প্রায় এক হাজার ৬০০টি, সেখানে ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৮৬৪টিতে।

    ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ – পান্ডা যখন কূটনীতির ভাষ

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চীন কূটনৈতিক সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ২৪টি পান্ডা বিভিন্ন দেশে উপহার দেয়। পান্ডা উপহার দেওয়ার এই ধারণাটি ১৯৬০ সালে ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ নামে পরিচিত হয়।

    বিশেষ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন চীনের নেতা মাও জেদং ষাটের দশকে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রকে এবং সত্তরের দশকে যুক্তরাজ্যকে পান্ডা উপহার দেন।

    কিন্তু আশির দশকে চীন জায়ান্ট পান্ডাকে তাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে পান্ডা উপহার দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে ধার দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। সেই থেকে বিশ্বের যেখানেই যত জীবিত পান্ডা আছে, আইনত তার মালিক কেবল চীন। আর কোন দেশ পান্ডা পাবে, তা পুরোপুরি চীনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

    চীন কেবল তাদেরকেই পান্ডা ধার দেয়, যাদের সঙ্গে তারা ভালো বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে চায় । অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ পল জেপসন, যিনি ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে গবেষণাও করেছেন।

    চীন যখন অন্য কোনো দেশে পান্ডা ধার দেয়, তখনও সেই পান্ডাগুলোর মালিকানা চীনের হাতেই থাকে। এমনকি বিদেশে জন্ম নেওয়া শাবকও আইনগতভাবে চীনের সম্পত্তি হিসেবে ধরা হয়। তবে পান্ডা রাখার জন্য ওইসব দেশের চিড়িয়াখানাগুলোকে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়, আর এর খাবার জোগানো ও যত্ন নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

    যেমন, চীনের ধার দেওয়া পান্ডাগুলো যেসব দেশ রাখে, তাদেরকে প্রতি জোড়া পান্ডার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড) দিতে হয় চীনকে।

    সাধারণত একটি পান্ডা ধার দেওয়ার চুক্তির মেয়াদ থাকে ১০ বছর। তবে প্রয়োজন হলে এবং দুই পক্ষ সম্মত হলে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোও হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পান্ডা ধার দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে বড় বাণিজ্য চুক্তি ছিল।

    যেমন, ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার চিড়িয়াখানায় দু’টো জায়ান্ট পান্ডা পাঠানোর পেছনে ছিল চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি। যার আওতায় স্কটল্যান্ড চীনে স্যামন মাছ, ল্যান্ড রোভার গাড়ি ও সমুদ্রের তেল উত্তোলন প্রযুক্তি বিক্রি করে। ২০১৪ সালে বেলজিয়ামে পাঠানো পান্ডাগুলোর পেছনেও ছিল উন্নত দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য চুক্তি।

    গত কয়েক বছরে অনেক পান্ডাকেই আবার চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো জাপান। পান্ডা ডিপ্লোম্যাসির অংশ হিসেবেই জাপানকে ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো পান্ডা উপহার দেয় চীন। শাও শাও এবং লেই লেই ২০২১ সালে জাপানের উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়। তাদের মা শিন শিন এবং বাবা রি রিকে প্রজনন গবেষণার অংশ হিসেবে জাপানকে ধার দেওয়া হয়েছিল।

    এখানে উল্লেখ্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের অনেক দেশই বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে অন্য দেশকে বিরল বন্যপ্রাণী উপহার দিয়ে আসছে। তবে বর্তমানে এটি আর খুব বেশি হয় না, কারণ এখন বেশিরভাগ বিরল প্রাণী চিড়িয়াখানাতেই প্রজননের মাধ্যমে জন্মায় এবং চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যেই আদান–প্রদান হয়।

    কিন্তু পান্ডার ক্ষেত্রে বিষয়টি একদমই আলাদা। কারণ তাদের ওই আশির দশকের ঘোষণার কারণে চীন সরকার ছাড়া আর কেউ কোনো জায়ান্ট পান্ডার মালিক হতে পারে না।

  • কুমিল্লায় জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

    কুমিল্লায় জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার মুরাদনগরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

    গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন— মামলার প্রধান আসামি মো: মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) ও মেয়ে ইতি (১৮)।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার ধরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলম তিতু (৩৫) ও খালেদা আক্তার বেবি (৭০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

    মামলার পর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি হনুফা বেগম ও ৩ নম্বর আসামি ইতিকে গ্রেফতার করা হয়।

    পরে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু ট্রেনযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশ আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মঞ্জুরুল আলম তিতু ও খালেদা আক্তার বেবি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান বলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

  • ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ভূঞাপুর যুবদলের দুই নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের বৃষ্টি হোটেলের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)। পুলিশ প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

    জানা গেছে, জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তারা দুজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারি করে আসছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে চাপে রাখতেন জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে।

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুজন জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা ট্যাবলেট গাবসারা থেকে নিয়ে এসে এলেঙ্গাতে বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।’

  • ইরান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে বসতে চাই যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে বসতে চাই যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানকে ঘিরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

    মঙ্গলবার হাউস ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বেসেন্ট জানান, ইরান যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে চীনের সঙ্গে এরই মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। হি লিফেংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে সেই আলোচনাকে আরো এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বেসেন্ট বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আগেই বেসেন্ট ও হি লিফেংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও কথা হতে পারে। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বেসেন্ট।

    এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বা নির্ণায়ক অর্থনৈতিক আঘাত হানার কথা বলেছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

    চীন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। ইরানের উৎপাদিত তেলের বড় একটি অংশ চীন কিনে থাকে। পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে বেইজিংয়ের ভূমিকা রয়েছে।

  • আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    আজমিরীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ–বানিয়াচং সড়কে বাসের ধাক্কায় শ্রাবণ সরকার (১৫) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    বুধবার আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসার পথে স্থানীয় পিঠাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রাবণ সরকারসহ তিন কিশোর একটি মোটরসাইকেলে করে আজমিরীগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দিকে আসছিল। তারা পিঠাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

    বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা শ্রাবণ ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

    পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই কিশোর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়।

    নিহত শ্রাবণ সরকার (১৫) বানিয়াচং উপজেলা সদরের ২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের বাবুর বাজার সংলগ্ন বিদ্যাভূষণ পাড়ার বাসিন্দা। সে সুন্দর সরকারের ছোট ছেলে। শ্রাবণ বানিয়াচং নতুনবাজারের একটি সেলুনে কাজ করতেন।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বাসটির পরিচয় জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

  • মক্কার নিরাপত্তায় সৌদির পাশে মালয়েশিয়া

    মক্কার নিরাপত্তায় সৌদির পাশে মালয়েশিয়া

    মক্কার কাছে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের ওপর নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, ইসলামের পবিত্রতম শহরের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘কোনোভাবেই’ মেনে নেওয়া যায় না।

    মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আনোয়ার বলেন, মালয়েশিয়া সৌদি আরব সরকারের পাশে রয়েছে এবং মক্কার বাসিন্দা ও হজপালনকারী যাত্রীদের সুরক্ষায় দেশটির নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের আবারো মনে করিয়ে দেয় যে, এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

    আনোয়ার জনবহুল এলাকায়—বিশেষ করে পবিত্র স্থানগুলোর জন্য হুমকি হতে পারে এমন—সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, উত্তেজনা প্রশমনে বিলম্ব না করে সব পক্ষকে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।

    তবে হুথিরা পবিত্র স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এই অভিযোগকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছে।

  • আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    বিশ্বকাপের পর প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাঝে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সবাই ভেবেছিলেন প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াড হবে পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার।

    অবশ্যই। তবে ২২ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এখনো এমন কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি, যাঁর ওপর আলাদা করে চোখ রাখতে হয়। আসলে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলে সবারই চোখ থাকে নতুন কারও ওপর। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার তো এ বিষয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি। কারণ মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই স্কোয়াডেও মেসি থাকায় রোমান ভেগা যে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সেটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে।


    তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কোয়াডে রোমানই সবচেয়ে বড় চমক। টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা রোমান আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনে সমস্যার সমাধান হতে পারেন, যেখানে খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।

    ভেগার পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও।ভেগার ইনস্টাগ্রাম

    ভেগার খেলার ধরন কেমন

    তাঁর পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ওদিকে আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছেন। এখনই তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আগামী বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাই কাউকে তৈরি করতে হবে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই ভেগাকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    ভেগা বাঁ পায়ের ফুটবলার। বিরামহীনভাবে উইং ধরে ওঠা-নামা করতে পারেন। আক্রমণে ওঠার পথে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে পেছনে ফেলতে পারেন হরহামেশাই। গতি, ম্যাচ রিড করার ক্ষমতা, পায়ের কাজ, খেলা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী শট নেওয়ায় এরই মধ্যে বেশ নজর কাড়ছেন ভেগা।

    উঠে আসার পথটা যেমন ছিল

    ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স। এই কারণে ক্লাবটিকে কেউ কেউ ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ও বলেন। ভেগা উঠে এসেছেন এই ক্লাব থেকেই। বয়সভিত্তিক দল থেকে ২০২১ সালে এই ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে তাঁর অভিষেক।


    বুয়েনস এইরেসে ২০০৪ সালে জন্মানো ভেগার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁকে ৫০ হাজার ইউরোয় এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠায় জুনিয়র্স। ৪৫ লাখ ইউরোয় পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও বার্সা সে পথে হাঁটেনি। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবারও আর্জেন্টিনার ক্লাবটিতে ফেরেন ভেগা। জুনিয়র্সের একাদশে ধীরে ধীরে নিয়মিত হন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ১ গোলের সঙ্গে ৩টি গোল করিয়েছেন।

    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ।ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগা ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলেও। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলার পথে তাঁকে দেখা গেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।


    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। চুক্তি হয় পাঁচ বছরের। শুরুতে ক্লাবটির মূল দলে নিয়মিত তাঁকে দেখা না গেলেও এখন নিয়মিতই খেলছেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগ জয়ের পথে খেলেন ১৪ ম্যাচ, সব মিলিয়ে মৌসুমে ২৩ ম্যাচ। এ বছর জিতেছেন রাশিয়ান সুপার কাপও। সব মিলিয়ে রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা।

    মজার ব্যাপার, ভেগা জেনিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পরই তাঁকে কিনতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। কিন্তু সেই দর–কষাকষি আর আলোর মুখ দেখেনি।


    ক্লাব ফুটবলে ভালো খেলাটা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে ভেগাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে ধারণা দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর। সন্দেহ নেই ভেগা সেই চেষ্টাই করবেন। অন্তত জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখে সেটাই মনে হয়, ‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

    ভেগা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও। ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগার স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এখন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নপূরণের পালা। পারবেন তো? এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর শেষ প্রীতি ম্যাচ। স্কালোনির নজর কাড়তে ভেগাকে যা করার এসব ম্যাচেই করতে হবে।

  • মেলান্দহে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

    মেলান্দহে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের মেলান্দহে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত শেখ ব্রিকসের ফিক্সড চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে মেলান্দহ পৌরসভার ফুলছেন্না এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে চিমনিটি উচ্ছেদ করা হয়।

    অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইমন হোসেনের নেতৃত্বে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম ছামিউল আলম কুরসি উপস্থিত ছিলেন। মেলান্দহ থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শেখ ব্রিকসটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। অভিযানের সময় ইটভাটাটির কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া যায়। ভাটার মালিকও ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে এ সময় কোনো জরিমানা করা হয়নি।

    তবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভাটাটির ফিক্সড চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়।

    জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম ছামিউল আলম কুরসি বলেন, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ইটভাটা। এখানে থাকা ফিক্সড চিমনি ২০১০ সাল থেকেই নিষিদ্ধ।’

    তিনি বলেন, সারাদেশে ফিক্সড চিমনি ও ড্রাম চিমনি উচ্ছেদের যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও আইনবহির্ভূত ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন রিতা রানী ও নাসিমা বেগম। পৌরসভার দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করাই তাদের দায়িত্ব। তবে অভিযোগ উঠেছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তাদের দিয়ে নিয়মিত পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসকের বাসায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে দুই নারী কর্মচারীকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। এ অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। তবে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

    অভিযোগ অনুসন্ধান

    অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহায়ক রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে এসে হাজিরা দেওয়ার পর চলে যান পৌর প্রশাসকের বাসায়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে দুপুর ১টার দিকে আবার পৌরসভায় ফেরেন তিনি।

    বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে রিতা রানীকে পাওয়া যায়নি। পরে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দেন। এরপর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে কাজ শেষে দুপুর ১টার দিকে আবার কার্যালয়ে ফেরেন।

    স্বীকারোক্তি

    পরে দুপুর ১টার দিকে রিতা রানীকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় কথা হলে তিনি প্রশাসকের বাসা থেকে কাজ করে ফেরার কথা জানান।

    সপ্তাহে কতদিন প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়—জানতে চাইলে রিতা রানী বলেন, ‘প্রতিদিনই যেতে হয়।’

    পৌরসভার একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, রিতা রানীর পাশাপাশি আরেক অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝে মধ্যে প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়। অর্থাৎ, তাদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজেও পাঠানো হচ্ছে।

    অন্য কর্মচারীদের অভিযোগ

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন রিতা রানীকে প্রশাসকের বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। তিনি যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। মাঝে মধ্যে রিতা রানী ও নাসিমা বেগম দুজনকেই একসঙ্গে বাসায় কাজ করতে যেতে হয়।

    ওই কর্মচারীর দাবি, একজন অফিস সহায়ক দিনের বড় একটি সময় পৌরসভা কার্যালয়ের বাইরে থাকায় দাপ্তরিক কাজে অন্য কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    ‘স্যারের অনুরোধে পাঠাই’

    দুই নারী কর্মচারীকে প্রশাসকের বাসায় পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে তিনি বলেন, প্রশাসকের বাসায় স্থায়ীভাবে কাজের লোক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্যারের এখানে কেউ থাকেন না। ছোট একটা মেয়ে নিয়ে থাকেন। তার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের মানুষ আছে। তবুও মাঝে মধ্যে রিতা তার মেয়েকে একটু রাখতে যায়। স্যারের অনুরোধে আমি পাঠাই।’

    তবে দুই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

    একপর্যায়ে প্রকৌশলী বলেন, ‘স্যারের জন্য কিছু করলেও তিনি কখনো খুশি হন না। তিনি সবসময় আরও চাইতেই থাকেন।’

    প্রশাসকের সহজ স্বীকারোক্তি

    অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনিও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে পৌরসভার কর্মচারীকে নিজের বাসায় পাঠানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।

    লাকি দাস বলেন, ‘আমি ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে একা থাকি। আমার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের লোক রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে রিতাকে আমার মেয়েকে একটু রাখার জন্য বাসায় পাঠাই।’

    অফিসের কর্মচারী দিয়ে ব্যক্তিগত বাসার কাজ করানো যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি পারি না। তবে মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে নিতে হয়।’

    পরে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ছোট বিষয়। যেহেতু আপনারা বলেছেন, তাকে আর বাসায় নেব না।’

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস।

    বিষয়টাকে মানবিক বললেন: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

    এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘বিষয়টা একটু মানবিক। তিনি এখানে একা থাকেন। বাসায় তার ছোট মেয়ে থাকে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘পৌরসভা আমার অধীনস্থ না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। যদিও এসিল্যান্ড হিসেবে তিনি আমার সহকর্মী। সেই ক্ষেত্রে আমি তাকে বলতে পারি, যেন এ ধরনের কাজ সে আর না করে।’

    পৌরসভার কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে প্রশাসকের বাসায় কর্মচারী পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করা হলেও, চাকরিচ্যুতির হুমকির অভিযোগ নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

  • হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও একসঙ্গে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।

    বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।

    এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ওই ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

    হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।

  • ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত লাখের বেশি

    ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত লাখের বেশি

    ইয়েমেনে সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী। অন্যদিকে বিদ্রোহী হুতি। হুতিদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকায় তাদের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না সরকারি বাহিনী। ফলে একের পর এক কৌশলগত এলাকা দখল করে নিচ্ছে তারা। পাশাপাশি সৌদি আরবেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। ইরান সমর্থিত হুতিরা এতদিন মুসলিমদের কিছু অংশের সমর্থন পেলেও এখন তা ম্লান হয়ে যেতে পারে।

    কারণ, তাদের ড্রোন পবিত্র মক্কা নগরীর কাছাকাছি চলে গিয়েছে। তার আগেই সৌদি বাহিনী তা ধ্বংস করেছে। ইসলামের পবিত্র স্থাপনা পবিত্র কাবা ও মদিনায় মসজিদে নববী। এগুলোর সম্মান, মর্যাদা মুসলিমদের কাছে সর্বোচ্চ। ফলে যদি পবিত্র মক্কা নগরীতে হুতিদের কোনো ড্রোন আঘাত হানে, তাহলে মুসলিম সেন্টিমেন্ট ঘুরে যেতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ইয়েমেনের এই সহিংসতায় দেশটির ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজার হাজার মানুষ বাব-আল মান্দেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছে। এমন তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সহিংসতার কারণে আরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় সীমিত সম্পদের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাপ বাড়ছে। এর ফলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তা দরকার।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনেক পরিবার খুব অল্প সময়ের নোটিশে সামান্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়েছে। আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা সবই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। কারণ আশ্রয় দেয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ইয়েমেনে নিবন্ধিত ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও এই লড়াইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা। ইরানের মিত্র হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। বাব আল-মানদেবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতেই তারা এমন পদক্ষেপ নেয়।
    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাব-আল মান্দেব এখন বিকল্প নৌপথ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাস্তুচ্যুত নারী আয়েশা মুহাম্মদকে গত সপ্তাহে হুতিরা বন্দরনগরী মোচার কাছে তার গ্রাম দখল করে নেয়ার পর নিজের পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখে পালাতে হয়েছে। মুহাম্মদ বলেন, তাদের আটকে রাখা হয়েছে এবং গুলি করা হচ্ছে। তাই তারা নিজেদের বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়ে আছে। তারা শুধু ভাত রান্না করছে, রুটি নেই, অন্য কিছুই নেই। আমার মেয়েরা আমাকে ফোন করে বলেছে, তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়। কিন্তু পরিস্থিতি এত কঠিন হয়ে গেছে যে তা সম্ভব হচ্ছে না।

    হোদেইদা থেকে বাস্তুচ্যুত হুসেইন হায়দারা জানান, পরিবার নিয়ে তাকে হঠাৎ করে পালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, আপনি খুব কষ্টে আপনার সন্তানদের এবং একেবারে প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিস সঙ্গে নিতে পারবেন। গোলাবর্ষণ ও স্নাইপারদের গুলিতে আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তার ভয়ে যত দ্রুত সম্ভব পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

    ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত চার দিনে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ বাব আল-মানদেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

  • শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষক আছেন তিনজন। খাতায় শিক্ষার্থীর নামও আছে ১১ জনের। তবে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসে না একজন শিক্ষার্থীও। নেই শ্রেণিপাঠ, পরীক্ষা বা কোলাহল। নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষকরা। ওঠে জাতীয় পতাকা, তবে বাজে না ঘণ্টা। এমনই অবস্থা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

    ১৯৮১ সালে বওলাতলা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হয়। ২০১৪ সালে দেশের অন্যান্য রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে এটিও সরকারি করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। একপর্যায়ে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষা বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকার অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন।

    গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ তিন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে উপস্থিত। অপর দুই শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে জন্মেছে আগাছা। বড় বড় ঘাসে ঢেকে গেছে মাঠ। দীর্ঘদিন যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের দেয়ালে ময়লা জমেছে, বারান্দার গ্রিলে ধরেছে জং। মলিন হয়ে পড়েছে বিদ্যালয় ভবনটিও।

    প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, বিদ্যালয়ের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে তাদের কেউ বিদ্যালয়ে আসে না। ফলে শ্রেণিপাঠদান কিংবা কোনো পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় না।

    তিনি জানান, তার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রামে। শিক্ষার্থী না থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। বিদ্যালয়টির আশপাশের এলাকায় মানুষের বসবাসও তুলনামূলক কম। সেখানে প্রায় ৭৫টি পরিবার রয়েছে।

    সুশীল কুমার বলেন, ২০২৪ সালের জুনে তারা নতুন নিয়োগ পেয়ে এই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। যোগদানের পর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কোনো অভিভাবকই তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাননি। এলাকার শিশুরা সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুল, সলঙ্গা বেসরকারি আদর্শ স্কুল ও স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আনতে পারিনি। শ্রেণিপাঠদান না হলেও আমরা বিদ্যালয়ে এসে অফিসের কাজ করি এবং নিয়মিত বেতন পাই।’

    শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

    উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৭৮টি। এসব বিদ্যালয় তদারকির জন্য ১১টি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে মাত্র একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে এতগুলো বিদ্যালয় একজন কর্মকর্তার পক্ষে যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব ছিল না।

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থার বিষয়টি দেখতে পান। সেদিন বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আনার চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয় অভিভাবক মনিরা ও আনোয়ারা খাতুন বলেন, একসময় বিদ্যালয়টিতে কিছু শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ভালো পড়াশোনা না হওয়ায় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কমে যায়। পরে তারা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। শিক্ষকদেরও আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি এলাকার মানুষও শিক্ষার বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন। বিদ্যালয়টি রক্ষায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের এখানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

  • সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

    সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

    কারো কাছে ইয়েমভার সাঁতারের হ্রদটি একটি ‘চমৎকার জায়গা’, রাজহাঁসে ভরা এক মনোরম জলাধার, গরমের দিনে ঠান্ডা পানিতে ডুব দেয়ার জন্য আদর্শ। আবার অন্যরা একে বলে কবরস্থান।

    রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত এই কৃত্রিম সৈকতের একটি ছবির নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, ‘পুরো শহর জানে, সেখানে শুধু হাড়ের ওপর হাড় রয়েছে।’

    দশকের পর দশক ধরে স্থানীয়রা এই হ্রদে সাঁতার কাটছেন। কিন্তু এটি তৈরি করা হয়েছিল এমন একটি স্থান খনন করে, যা একসময় সোভিয়েত গুলাগ ব্যবস্থার যারা শিকার হয়েছেন, তাদের গণকবর ছিল। গুলাগ ছিল জোরপূর্বক শ্রমশিবিরের একটি কুখ্যাত নেটওয়ার্ক।

    স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত তীরে মানবদেহের হাড় খুঁজে পান। মৃতদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা ফলক নেই, যা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারত। কর্তৃপক্ষ কখনোই স্থানটিকে চিহ্নিত করেনি।

    এমনকি সম্প্রতি ওই দেহাবশেষ নিয়ে কী করা উচিত তা নিয়ে বিতর্কের সময়ও তারা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যে হাড়গুলো গুলাগ বন্দিদের। খননের সময় একটি এক্সকাভেটর শুধু মাটিই নয়, মানুষের দেহাবশেষ এবং কফিনের কাঠের টুকরাও তুলে আনে।

    তবু মস্কো থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ওই স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। ভূগর্ভস্থ ঝরনার পানি গর্তে প্রবাহিত করা হয় এবং প্রায় ১৫ হাজার জনসংখ্যার ইয়েমভার বাসিন্দারা তখন থেকেই সেখানে সাঁতার কাটছেন।

    তবে পাঁচ বছর আগে ওই এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ড এবং একদল গবেষকের আগমন হাড়গুলো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুরো এলাকা আবার খুঁড়ে সব দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করা উচিত। অন্যরা সেখানে একটি ক্রুশ স্থাপনের আহ্বান জানান।

    আবার কেউ কেউ বলেন, এত হইচইয়ের প্রয়োজন নেই। গুলাগগুলো এতটা ভয়াবহ ছিল না এবং সেখানে ছিল শুধু অপরাধীরা। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছুই করেনি।

    এই নিষ্ক্রিয়তা রাশিয়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ওই সময়কার গণকবরগুলো সচরাচর চিহ্নিত করা হয় না।

    যারা ভুক্তভোগীদের নিয়ে গবেষণা বা তাদের স্মরণ করার চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর গুলাগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ক্রমশ নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    মস্কোর গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের হিসাব অনুযায়ী, (যা কর্তৃপক্ষ এ বছর বন্ধ করে দেয়), ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ সোভিয়েত শ্রমশিবির, দণ্ড উপনিবেশ ও কারাগারের মধ্য দিয়ে গেছে।

    তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখকে রাজনৈতিক কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। স্টালিনের আমলে এবং তার পরপরই পরিচালিত এই দমন-পীড়নের সময়ে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    আরো ৬০ লাখ মানুষকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জোরপূর্বক পুনর্বাসনের শিকার হতে হয়। কোমি ভাষায় ‘বিশুদ্ধ পানি’ অর্থে ব্যবহৃত ইয়েমভা শহরের উৎপত্তি ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি শ্রমশিবির থেকে।

    এলাকাটির বেশিভাগ বাসিন্দাই গুলাগ বন্দি অথবা প্রহরীদের বংশধর। পুরো কোমি অঞ্চলেই চিত্রটি প্রায় একই। এখনো ইয়েমভায় একটি সাজাপ্রাপ্ত পুরুষদের কলোনি চালু রয়েছে।

    উত্তরের উপ-আর্কটিক চিরসবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা শিবিরগুলোর জীবন ছিল নিষ্ঠুর। বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ছিল না। এমনকি শীতকালে তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেত, তখনও অনেককে মাটির গর্ত বা তাঁবুতে থাকতে হতো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা বন কেটে রেলপথ নির্মাণ করত।

    তাদের দৈনিক খাদ্য ছিল ৪০০ গ্রাম রুটি এবং এক বাটি স্যুপ। ইতিহাসবিদদের ধারণা অনুযায়ী, কোমির শিবিরগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক উভয় ধরনের মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি বন্দি গেছে। তবে সেখানে কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই।

    ২০২১ সালে নিকটবর্তী একটি ঘাসের আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা অন্তত তিনজন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পান। তখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

    তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে দেহাবশেষগুলোর বয়স অন্তত ১৫ বছর এবং সেখানে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অনুপস্থিতির কারণে’ তারা কোনো মামলা শুরু করেনি।

    তদন্তকারীদের সিদ্ধান্তে বলা হয়, যেখানে হাড় পাওয়া গেছে, সেটি ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে গুলাগ বন্দিদের একটি ‘অনানুষ্ঠানিক গণকবরস্থল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

    বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত, যদি না ছয় মাস পরে গুলাগ ইতিহাস নিয়ে কাজ করা একদল গবেষক আঞ্চলিক রাজধানী সিক্তিভকার থেকে সেখানে যেতেন।

    লেখক ও স্থানীয় ইতিহাসবিদ গ্রিগরি স্পিচাক বলেন, ‘আমরা খনির জায়গাটিতে গিয়েছিলাম এবং কিছু খুঁজতেও হয়নি, হাড় আমাদের সামনে প্রায় সাথে সাথেই দেখা দেয়।’

    তখন গবেষক দলের আরেক সদস্য ইগর সাজিন বলেন, “আমরা পাঁজরের হাড় এবং শ্রোণিচক্রের হাড় পেয়েছি। এগুলোকে পশুর দেহাবশেষ বলে ভুল করার উপায় নেই। ‘এভাবে ফেলে রাখা নিছক অমানবিক। অতীতের এই ভয়াবহ স্মৃতিচিহ্নকে স্বীকার না করেই ইয়েমভা তার জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছে।’

    রুশ আইনে নবআবিষ্কৃত সমাধিস্থল, যার মধ্যে ‘গণদমন-পীড়নের শিকারদের কবর’ও রয়েছে, কর্তৃপক্ষকে নিবন্ধন ও চিহ্নিত করতে হয় এবং প্রয়োজন হলে দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করতে হয়।

    সাজিন সরকারি কৌঁসুলির সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।প্রায় এক বছর পরে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও গির্জার কাছে অন্তত হ্রদের পাশে একটি ক্রুশ স্থাপনের অনুরোধ জানান।

    কিন্তু প্রশাসন কৌঁসুলির দফতরকে জানায়, আঞ্চলিক কারা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একটি স্থানীয় ইতিহাস জাদুঘরের সাথে যোগাযোগ করার পরও তারা এটিকে গুলাগের কবরস্থান হিসেবে প্রমাণ পায়নি।

    তবে অন্যরা এ বিষয়ে অনেক বেশি নিশ্চিত। গবেষক ওরেস্ট রোমাঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এগুলো অবশ্যই গুলাগের ভুক্তভোগীদের দেহাবশেষ, কারণ তাদের পোশাক ও জুতা ছাড়া, কোদালের ফলার সমান গভীরতায় সমাহিত করা হয়েছিল।’

    রাশিয়ায় গণদমন-পীড়নের ইতিহাস একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় এবং গণকবর শনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    পশ্চিম রাশিয়ার একটি গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের পরিচালক নিকোলাই আরাকচিয়েভকে অনুমতি ছাড়া একটি খুলি উত্তোলনের দায়ে জরিমানা করা হয়।

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, প্রতি মাসে বাড়ছে ৩০০ কোটি

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, প্রতি মাসে বাড়ছে ৩০০ কোটি

    ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এই ব্যয় প্রতি মাসে আরো ৩০০ কোটি ডলার করে বাড়তে পারে। মার্কিন কংগ্রেশনের নির্দলীয় বাজেট বিশ্লেষণ সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার উপায় খুঁজছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি করেছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্য সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সাথে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    ২১ জুলাই সিনেটের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের ব্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন। এই নতুন হিসাব তার কাছাকাছি।

    সিবিও জানিয়েছে, ব্যয়ের বড় অংশ এসেছে দ্রুত গতিতে গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। রয়টার্স আগস্টে জানিয়েছিল, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার দূরপাল্লার নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ব্যবহার করেছে।

    তবে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সাথে সহযোগিতা করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, জানিয়েছে সিবিও।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ইরানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলাকে ‘তেহরান যাতে মার্কিন সেনা বা স্বার্থের ক্ষতি করতে না পারে, তা ঠেকাতে নেয়া সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের সব কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ এবং তারও বেশি কিছু করার জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ, অস্ত্র ও মজুদ রয়েছে।’

    পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল গোলাবারুদের ঘাটতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে সময় ও স্থানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেবেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আমাদের কাছে রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই ব্যয় পর্যালোচনা করা হয়।

    এক বিবৃতিতে বয়েল বলেন, ‘ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপর্যয়কর যুদ্ধে ইতোমধ্যে সাহসী মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাণ গেছে এবং অন্যরা আহত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এই মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নির্দলীয় সিবিওর প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করেছে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে এবং সেই ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে।’

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

    তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় চালানো আক্রমণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধের অর্থায়নে ঋণ নেয়ার সুদ বা অন্যান্য ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। এসব ব্যয় মোট খরচের সাথে আরো কয়েক হাজার কোটি ডলার যোগ করতে পারে।

    মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব

    সিবিওর হিসাব বলছে, যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দেয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে পেন্টাগনের সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে সিবিও।

    জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুদ পুনরায় পূরণ করতে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার নয়, বরং প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলার জরুরি তহবিল চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই অর্থ না পেলে আমরা গুরুতর ঘাটতির মুখে পড়ব।’

    পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মহাপরিদর্শকের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতিও রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীতে হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণের কারণে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেই হরমুজ প্রণালীর সংকট ভোক্তা ও বৈশ্বিক উৎপাদকদের জন্য জ্বালানির দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

    যুদ্ধের বাড়তি ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল হয়ে পড়া আর্থিক পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি করছে। আগস্টে দেশটির মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    ট্রাম্প প্রায়ই ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের তুলনা করেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাথে।

    রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে আট বছর ধরে চলা যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে এক লাখের বেশি স্থলসেনা মোতায়েন ছিল এবং ব্যয় হয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল এবং ব্যয় হয়েছে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

  • সুদানে খনি ধসে ৬০ জনের প্রাণহানি

    সুদানে খনি ধসে ৬০ জনের প্রাণহানি

    সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি খনি ধসে অন্তত ৬০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান।

    ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম কর্ডোফানের এল-নাহুদ শহরের কাছে মঙ্গলবার আল-জারা স্বর্ণ খনির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে।

    পরদিন সকালে সেখান থেকে ৬০টি লাশ উদ্ধার করা হয়। খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া খায়ের আল-সাইয়েদ জানান, জাবারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা জানা যায়নি । খনি শ্রমিক সহকর্মীদের সাথে তিনি সারারাত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

  • চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে দুই যুবক গ্রেপ্তার

    চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে দুই যুবক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই যুবক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ।

    গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে কালীগঞ্জের দিঘারপাড়া গ্রামের প্রবাসী পারভেজ কামালের বাড়ির জানালা ভেঙে চোরেরা প্রায় সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণের গহনাসহ নগদ পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায়। পরদিন এ ঘটনায় কামালের স্ত্রী সীমা খাতুন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় এজাহার দেন।

    সীমা খাতুনের ভাষ্য, সেদিন গভীর রাতে চোরেরা তাঁর ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে। এতে বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে চোরেরা জানালার রড কেটে ঘরে ঢুকে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে ভোরের দিকে তাঁর মা ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখেন, জানালা ও আলমারি ভাঙা। এ সময় তারা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।

    পুলিশ জানায়, প্রবাসীর স্ত্রীর এজাহার পেয়ে তারা চুরির রহস্য ও মালপত্র উদ্ধারে মাঠে নামেন। তারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন, চোরেরা বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারে স্বর্ণ বিক্রি করতে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানার এসআই রানা প্রতাপের নেতৃত্বে পুলিশ ওই বাজারে অভিযান চালিয়ে কালীগঞ্জের দিঘারপাড়া গ্রামের রাহুল হোসেন (৩০) ও মেহেদী হাসানকে (২৫) আটক করেন। এ সময় তাদের শরীরে তল্লাশি করে স্বর্ণের চেন, কানের দুলসহ আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত দুই চোরকে আটক ও কিছু স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।

  • হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    হাটহাজারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৫ পরিবারের স্বপ্নের ঘর; ক্ষয়ক্ষতি ৪-৫ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারহাট বাজারের পশ্চিম পাশে সোমপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবার হলো—মিলন দে, তপু দে, প্রভা রানী নাথ, তপন নাথ ও খোকন নাথের পরিবার।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে একটি বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় পাঁচ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ সময় আরও একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে তাদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মন্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিটারের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

    ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বারের মতো ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। প্রস্তাবের পক্ষে সব ভোটদানকারী ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্য ভোট দেন। এর মধ্যে তিনজন রিপাবলিকান প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২২০-২০৪ ভোটে একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেন, আলোচনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। আমি আরেকটি অনির্দিষ্ট যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

    তবে এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত এমন কোনো প্রস্তাবই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও প্রস্তাবটি ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি এতে ভেটো দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তোলেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চলটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান। ট্রাম্প ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

    আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে এটিই শেষ ভোট হতে পারে। নির্বাচনের প্রচারে বিদেশের এই যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। এ সময়ে পালটাপালটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে এবং এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন আইনপ্রণেতারা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণকারী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

    এদিকে নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং দেশটির অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতেও চাপ তৈরি করছে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরান যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেস এর আগেও কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ জুন ও জুলাইয়ে দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও দশম প্রচেষ্টায় একই ধরনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান পরিবর্তন করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্টও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনা প্রত্যাহারের জন্য আরও ৩০ দিনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

  • উত্তর কোরিয়াকে ৩২৫ কোটি ডলার দিন

    উত্তর কোরিয়াকে ৩২৫ কোটি ডলার দিন

    ২০২০ সালে উত্তর কোরিয়ায় একটি আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়। উত্তর কোরিয়াকে এ ঘটনায় প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালতের এক মুখপাত্র বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন দিতে হবে।

    আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংসের ঘটনায় করা এই মামলাটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো একসময় উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের নিয়োগ করত এমন কায়েসং শিল্পাঞ্চলের পরিত্যক্ত এলাকায় ওই কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যেই কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

    তবে ২০২০ সালের জুনে কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর উত্তর কোরিয়া কার্যালয়টি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু অধিকারকর্মী সীমান্তের ওপারে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারপত্র বহনকারী বেলুন পাঠানোর পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ সময় পিয়ংইয়ং কার্যালয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

    দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়ের পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘটনায় পিয়ংইয়ং বাস্তবে কখনো ক্ষতিপূরণ দেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    ২০২৩ সালে তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সরকারের আমলে মামলাটি করা হয়। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া ইউন পরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগের পর ক্ষমতাচ্যুত হন।

    ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয়টি চালু করা হয়। এর কয়েক দিন পর তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তৃতীয় দফা শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে পিয়ংইয়ং সফর করেন।

    পরবর্তী কয়েক মাসে দুই দেশের প্রায় ২০ জন করে কর্মকর্তা ওই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তবে করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কার্যালয়টির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

    ২০১৮ সালে মুন জায়ে-ইন ও কিম জং উনের মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তাল বীজ রোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবসংলগ্ন সড়কের পাশে ৩০০টি তাল বীজ রোপণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো: সোলায়মান হোসেন, প্রশিক্ষক ছত্র কুমার বিশ্বাস, প্রশিক্ষক কাজী তাহেরা খাতুন, ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়ন দলনেতা হুমায়ুন কবির, দলনেত্রী সানজিদা আক্তার এবং পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবের সদস্যরা।

    এ সময় উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সোলায়মান বলেন, ‘সম্মানিত দিনাজপুরের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মহোদয়ের নির্দেশনায় পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাব সংলগ্ন সড়কের পাশে তালবীজ রোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দিন দিন তালগাছ বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।‘

  • ধসে পড়বে গাজার দুই হাজার বহুভবন

    ধসে পড়বে গাজার দুই হাজার বহুভবন

    গাজায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণের পর একটি ছয়তলা ভবন ধসে পড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের ওপর।

    এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্বজনদের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজের তালিকা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ জনই শিশু।

    আল-বুরশ আরও জানান, পুরো গাজা জুড়ে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অপর্যাপ্ত ও সীমিত সম্পদ নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কংক্রিটের ভারী স্ল্যাবগুলো সরিয়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার মতো প্রয়োজনীয় কোনো ভারী

    তিনি আরও বলেন, আমরা সময়ের বিরুদ্ধে এক নির্মম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিটি মুহূর্ত মানেই আরেকটি অমূল্য জীবনের অবসান। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মানুষের বাঁচার আকুতি ও আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • কঠোর নিয়মের মুখে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশী শিক্ষার্থীরা

    কঠোর নিয়মের মুখে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশী শিক্ষার্থীরা

    অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্যদের দেশটিতে নিয়ে আসার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে দেশটির লেবার সরকার। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

    ক্রমবর্ধমান অভিবাসন চাপ সামাল দিতে এবং নেট অভিবাসন হার কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই নতুন নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

    মূলত চাহিদার ওপর নির্ভর করে চলা অভিবাসন নীতি থেকে সরে এসে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে কোটা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে দেশে আগমন ও প্রস্থানের সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    সরকারের লক্ষ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যে নেট অভিবাসন বর্তমানের প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার থেকে কমিয়ে দুই লাখ পঁচিশ হাজারে নামিয়ে আনা। গত বছর দেশটিতে প্রায় তিন লাখ ৩৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা পেলেও এর বড় একটা অংশ ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য। নতুন নিয়মে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে একা অস্ট্রেলিয়ায় আসার শর্ত পূরণ করতে হবে।

    এর পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করা এবং অবৈধ বা দীর্ঘমেয়াদি আপিল প্রক্রিয়া সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই কড়াকড়ির ফলে অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো।

  • কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরে কাউখালীতে গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী মহাসড়কের উপজেলার কচুয়াকাটি বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে সড়কের উপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে থাকা টিনশেড ভবনসহ পাঁচটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস ও পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আল আমিনের উপস্থিতিতে সড়ক বিভাগ বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

    ওই স্থানে একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হলেও সওজের জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সওজের পক্ষ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে অপসারণ না করায় আদালতের নির্দেশনায় এবং জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, জনস্বার্থে ও আদালতের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরকারি জায়গায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই স্থাপনাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এর ফলে সেতু নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক বৃদ্ধের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাসুদ করিম এ রায় দেন।

    সাজাপ্রাপ্ত মোখছেদ আলী প্রামাণিক জেলার সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মরহুম বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সাথে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    পরে ঘটনাটি ভুক্তভোগী শিশু পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে আদালত এ রায় দেন।

    মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সাথে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র এক বছরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগীর বাবা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

  • ঘণ্টায় ৪১৫টি প্লেন !

    ঘণ্টায় ৪১৫টি প্লেন !

    শৈশবে কম-বেশি অনেকেই কাগজের প্লেন/উড়োজাহাজ বানিয়ে খেলেছেন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সেই মজার খেলার কথা কয়জনই-বা মনে রাখেন! সাফল্য ও স্বীকৃতির পেছনে ছুটতে ছুটতে একসময় মলিন হয়ে আসে শৈশবের সেই স্মৃতি। তবে নিছক এ খেলাই ডেভিড রাশকে বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের বোইজিতে এক ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়েছেন ডেভিড রাশ। এর মধ্য দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খাতায় আরও একবার তাঁর নাম উঠেছে। প্রতিটি উড়োজাহাজ বানাতে ডেভিসের সময় লেগেছে গড়ে ৮ দশমিক ৬৭ সেকেন্ড।

    এর আগে ২০০টির বেশি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ডেভিড রাশ। ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি গিনেস রেকর্ড গড়ার মালিকও তিনি।

    নতুন রেকর্ড গড়তে ডেভিড রাশ বোইজির ওয়াইএমসিএর র‍্যাকেটবল কোর্টে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। লক্ষ্য ছিল ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি কাগজের উড়োজাহাজ বানানোর রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া। তবে কাজটি সহজ ছিল না।

    ডেভিড রাশ বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কাগজের উড়োজাহাজ তৈরিতে সাত ধাপের নির্দিষ্ট ভাঁজ অনুসরণ করতে হয়েছে। শুধু উড়োজাহাজ বানালেই হবে না, সেগুলো নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় গতি, নির্ভুলতা ও সমন্বয়—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

    অনলাইনে দেওয়া এক পোস্টে ডেভিড রাশ লেখেন, ‘আমার সহকারীদের একটি দল কাগজ সরবরাহ, তৈরি করা উড়োজাহাজ নির্ধারিত বিচারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেগুলো ছুড়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করেছে কি না, তা নিশ্চিত করার কাজ করেছে।’

    গত ৩০ মে এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক উড়োজাহাজ তৈরির রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেন ডেভিড রাশ। ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়ে সফলও হন। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও দ্রুত কাগজের উড়োজাহাজ বানানো ও ছোড়ার রেকর্ড ভাঙা। বর্তমানে এ রেকর্ড ৪ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডের।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সাপের দংশনে শফি মন্ডল (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শফি মন্ডল উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের নূর বাক্স মন্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বাড়ির পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন শফি মন্ডল। এ সময় সাপ তাকে দংশন করে। বাড়িতে পৌঁছানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

  • বিদেশি শ্রমেই নির্ভরশীল মালয়েশিয়া

    বিদেশি শ্রমেই নির্ভরশীল মালয়েশিয়া

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে এমন একটি অংশ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে মূল অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থাকলেও এখন আর উপেক্ষা করার মতো ছোট নয়। ১৬ সেপ্টেম্বর নিউ স্ট্রেইটস টাইমসে প্রকাশিত ‘দ্য শ্যাডো ইকোনমি: মালয়েশিয়া ক্যান নো লঙ্গার ইগনোর’-এ মালয়েশিয়ার অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক বা ‘ছায়া অর্থনীতি’ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

    এর একটি কারণ হিসেবে এমন কিছু কাজের প্রতি স্থানীয় কর্মীদের অনাগ্রহের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোকে সাধারণত ‘ডার্টি, ডেঞ্জারাস অ্যান্ড ডিগ্রেডিং’—অর্থাৎ নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও মর্যাদাহীন কাজ—হিসেবে দেখা হয়। ফলে এসব খাতে শ্রমের চাহিদা পূরণে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

    এ ধরনের ছায়া অর্থনীতির বিস্তারের ফলে শ্রমিক সুরক্ষা, কর আদায়, কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকতা এবং অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। কারণ অর্থনীতির একটি অংশ যদি যথাযথভাবে নিবন্ধিত, নিয়ন্ত্রিত ও করব্যবস্থার আওতায় না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

    ছায়া অর্থনীতিকে শুধু শ্রমবাজারের একটি পার্শ্ববর্তী সমস্যা হিসেবে না দেখে, এর পেছনের কাঠামোগত কারণগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় কর্মীদের জন্য কাজের পরিবেশ, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত

    যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত

    রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির জেরে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।

    বিলটি আইনে পরিণত হলে তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারত ও অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ক্ষমতা প্রদান করবে।

    এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। এতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ—যার মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে—তাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে।

    ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, বিলটি প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে।

    প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। রাশিয়ার তেল বাণিজ্য ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • ভারত ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ

    ভারত ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।

    ভারতের পররাষ্ট্র টহলে থাকা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি দ্রুতগতিতে ও অনিরাপদভাবে পাকিস্তানি জাহাজটি চলাচল করছিল। একপর্যায়ে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে ওমান উপকূলের দিকে দুই জাহাজের সংঘর্ষ হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

    ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানি নৌযানের আচরণ ছিল ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ এবং ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে পাকিস্তানি কূটনীতিককে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর বাবর ও ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস গোদাবরি একই ধরনের ঘটনায় জড়িয়েছিল।

  • ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ

    ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ

    ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখার মেয়াদ ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি নোটিস জারি করেছে।

    নোটিস অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাটি ভারতের নিবন্ধিত সব বিমান এবং ভারতীয় এয়ারলাইনস বা অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত বা ইজারা নেওয়া বিমানের (সামরিক ফ্লাইটসহ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

    প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল এই আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সবশেষ এটি ছিল এই বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে জারি করা ১৭তম নোটিস।

    ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলেগামে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ‍বৃদ্ধি পায়। ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে। ভারত ওই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। তবে ইসলামাবাদ অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এবং ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়।

    পাকিস্তান ভারতীয় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে হামলা চালালে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। এর জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা অভিযান চালায়।

    প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের পর, ১০ মে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

  • ইউরোপে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে মুসলিমদের

    ইউরোপে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে মুসলিমদের

    ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখন প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, ইসলাম পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে পপুলিস্ট ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। দলটি ‘ইসলামায়ন’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক করে এবং ব্যাপক হারে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সময়ে ব্রিটেনের ডোভারে শত শত মুখোশধারী ব্যক্তি ‘বোট বন্ধ করো’ এবং ‘খ্রিস্ট রাজা’ স্লোগান দেয়। ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের প্রকাশ্য স্থানে ইসলামি হিজাব নিষিদ্ধ করার আহ্বানও উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে।

    ইসলাম নিয়ে এই আতঙ্ক শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই; যুক্তরাষ্ট্রেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর যে ধরনের সন্ত্রাসবাদভিত্তিক ভয় প্রধান ছিল, এখন তার জায়গায় একটি নতুন ধারণা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—ইসলাম নাকি ইউরোপের ভেতর থেকেই ইউরোপকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন সদস্যও ‘সভ্যতার বিলুপ্তি’ বা ‘সিভিলাইজেশনাল ইরেজার’-এর মতো ভাষা ব্যবহার করেছেন। এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বাস্তবে ইউরোপে ইসলামের কোনো ‘দখল’ বা মুসলমানদের ব্যাপক উগ্রপন্থায় পরিণত হওয়ার ঘটনা ঘটছে না। ইউরোপীয় সংস্কৃতিও মুছে যাচ্ছে না। ইউরোপে ‘নো-গো জোন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শরিয়াহ জাতীয় আইনে ঢুকে পড়ছে কিংবা কোনো পরিকল্পিত ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা বৃহৎ জনসংখ্যাগত প্রতিস্থাপন চলছে—এমন দাবিরও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসলামপন্থিদের কোনো ভুল-ত্রুটি নেই। ইউরোপের প্রকৃত ঝুঁকি দুটি ধরন থেকে আসছে—একদিকে রাষ্ট্রকে ইসলামি নীতির অধীন করার রাজনৈতিক মতাদর্শ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর উগ্র ডানপন্থি ইসলামভীতি।ইউরোপের বামপন্থিরা ইসলামিজমের বাস্তব কিন্তু সীমিত হুমকিকে অস্বীকার করে সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। একইভাবে মধ্যপন্থি রাজনীতিকরা বর্ণবাদের অভিযোগের আশঙ্কায় অনেক সময় নীরব থাকেন।

    ইউরোপের জনসংখ্যার হিসাব দিয়ে ‘ইসলামি দখল’-এর ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ । সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলো থেকে অভিবাসন বেড়ে গেলেও ইউরোপের ৫০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ। নতুন অভিবাসীদের সন্তানসংখ্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি হলেও প্রজন্মের সঙ্গে তাদের জন্মহার সাধারণত স্থানীয়দের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে ইউরোপের সভ্যতা বা সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়।

    অন্যদিকে অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী তাদের নতুন দেশে নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠা করতে চান, সেই দেশকে তারা পূর্বের সমাজব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চান—এমন ধারণারও সমর্থন নেই। তাদের সন্তানরা অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের চেয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো করছে। উদাহরণ হিসেবে ব্রিটেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে ব্রিটেনে মানসম্মত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল; শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৩৮ শতাংশ। ব্রিটিশ রাজনীতিতেও মুসলিমদের অংশগ্রহণ বেড়েছে—দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিমরা রয়েছেন।

    মুসলিমদের অনেক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। ব্রিটিশ মুসলমানদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের বিষয়ে বড় ধরনের বিরোধিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলিম পরিচয় থাকা মানেই ইউরোপীয় সমাজের মূলধারার মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাত—এমন সরলীকরণ যথার্থ নয়।

    তাহলে কেন ইউরোপের এত মানুষ ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে— এই প্রশ্নও ওঠেছে। এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকার কথা এসেছে। বিশেষ করে ইলন মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করেছেন এবং ইউরোপের ইসলামবিরোধী ডানপন্থী শক্তিগুলোকে উত্সাহিত করেছেন। ব্রিটিশ ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের প্রসঙ্গও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

    পপুলিস্ট ডানপন্থীদের প্রস্তাবিত সমাধানগুলো নিজেরাই সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পোশাক নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ মুসলমানদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে পারে, তাদের সমাজের মূলধারা থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং উগ্রপন্থীদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অর্থাৎ ইসলামিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত একই ধরনের বিভাজনকে আরো গভীর করে।

    এ কারণে ইউরোপের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য পরামর্শ হলো—সহিংসতা ও সহিংসতার হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে, কিন্তু সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার নামে কোনো বিষয়কে আলোচনার বাইরে রাখা যাবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সহনশীলতার শত্রু নয়; বরং সেটিই সহনশীলতার পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীর গোপন অনুপ্রবেশ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকলে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে, আবার একইভাবে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষকেও মোকাবিলা করতে হবে।

    তথ্যের গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছে। সরকারের কাছে অভিবাসন, জনসংখ্যা ও সামাজিক পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা এবং তা প্রকাশ করা জরুরি। কারণ সরকার তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশে অনীহা দেখালে সেই শূন্যস্থান দখল করে নেয় অনুমান, অতিরঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের নানা তত্ত্ব।

    ইউরোপের মুসলমানরা ধীরে ধীরে সমাজের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে। অতীতে ইউরোপে ক্যাথলিক, ইহুদি ও ক্যারিবীয় অভিবাসীদের নিয়েও একই ধরনের সামাজিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল—তারা আদৌ নতুন সমাজে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সময়ের সঙ্গে এসব জনগোষ্ঠী ইউরোপীয় সমাজের অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলমানদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া ঘটতে পারে—যদি বিভাজন, চরমপন্থা ও অযৌক্তিক আতঙ্ক সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে।

    ইসলাম নিজে ইউরোপের জন্য কোনো অস্তিত্বগত হুমকি নয়; কিন্তু ইসলামিজমের উগ্র রাজনৈতিক রূপ এবং ইসলামভিত্তিক অযৌক্তিক ভয়—দুটিই ইউরোপের উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামকে ঘিরে অতিরঞ্জিত ‘ইউরোপ দখল’, ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা ‘শরিয়াহর মাধ্যমে ইউরোপের পতন’-এর মতো ধারণাগুলোকেও তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করা প্রয়োজন।

  • এহসান মাহমুদকে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক নিয়োগ

    এহসান মাহমুদকে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক নিয়োগ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী এক বছর তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

    বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। এই নিয়োগের অন্যতম শর্ত হিসেবে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    নতুন দায়িত্ব পেয়ে এহসান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

    গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে মানুষের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে বলেন মনে করেন তিনি। গণতন্ত্র, সম-অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা জুলাই থেকে পাওয়া গেছে, তা সামনে রেখে কাজ করতে চান জুলাই জাদুঘরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক।

    সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি জাদুঘরটিকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে রূপ দেয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া এহসান মাহমুদের পৈতৃক নিবাস বরিশালের মুলাদীতে। স্নাতক ডিগ্রিধারী এই সাংবাদিক কর্মজীবনে দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন ও নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

    সাংবাদিকতার পাশাপাশি কথাসাহিত্য ও কবিতাতেও তার কাজ রয়েছে। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উপন্যাস ‘একাত্তরের লালমিয়া’ ও ‘কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল’ এবং কবিতার বই ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রবন্ধ ও রাজনীতি বিষয়েও তার প্রকাশনা রয়েছে।

  • গাজায় ভবন ধসে নিহত বেড়ে ২০, ধ্বংসস্তূপে শতাধিক নিখোঁজ

    গাজায় ভবন ধসে নিহত বেড়ে ২০, ধ্বংসস্তূপে শতাধিক নিখোঁজ

    গাজা সিটির একটি ছয়তলা ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা অবস্থান করছিলেন। পাশের তাঁবুতেও বেশ কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    গাজার সিভিল ডিফেন্স (বেসামরিক প্রতিরক্ষা) সংস্থা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ভবনটি এর আগে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে আশপাশে গোলাবর্ষণের পর ভবনটি ধসে পড়ে। এতে ভবনের ভেতরে থাকা মানুষদের পাশাপাশি পাশের তাবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতরাও চাপা পড়েন।

    আল-বুরশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন শিশু রয়েছে।

  • গভীর রাতে মুসলিমদের ধরপাকড় করছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ

    গভীর রাতে মুসলিমদের ধরপাকড় করছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ

    বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গত জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিযানে অন্তত ৯ মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করে ডিটেনশন বা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে । এসব আটকের অধিকাংশই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা।

    আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি অভিযান গভীর রাতে পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রিমান্ড আদেশ কিংবা এফআইআরের কপি দেখায়নি বলেও তারা দাবি করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আরো অভিযোগ, আটক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ উপস্থাপনের কার্যকর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

    মুর্শিদাবাদের ৬১ বছর বয়সি ইব্রাহিম শেখকে ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তার পরিবারের দাবি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইব্রাহিম তার আধার ও ভোটার পরিচয়পত্র দেখালেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

    উত্তর দিনাজপুর জেলার আরেক বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সি জলিল আখতারকেও বাড়ির বাইরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, জলিল ভারতীয় নাগরিক এবং তার নাম একাধিক নির্বাচনি ভোটার তালিকায় রয়েছে, এমনকি ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। তবে পুলিশের অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

    অভিযোগ রয়েছে, আবদুল জব্বারকে তার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেসহ নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, আবদুল জব্বারের ভারতীয় পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি রয়েছে। তার স্ত্রী পরে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

    আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়ার যাচাইও সম্পন্ন করেছিলেন।

    আটকের পদ্ধতি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুর্শিদাবাদভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটসের কর্মী জাকির হোসেনের অভিযোগ, কিছু মানুষকে আদালতে হাজির না করেই আটক রাখা হচ্ছে।

    অন্তত একটি ঘটনায় পুলিশ আটক এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। ওই ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর অধীনে মামলা করে।

    পরিবারগুলোর প্রশ্ন, ভোটার পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জমির নথি এবং অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে কেন তাদের কার্যকর আইনি সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা নিষ্পত্তি করা উচিত।

    পশ্চিমবঙ্গে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও আটক নিয়ে নজরদারি বাড়ার মধ্যে এসব ঘটনা বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অধিকারকর্মীরা ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে কতজনকে রাখা হয়েছে, তাদের কী আইনি অবস্থান এবং নাগরিকত্ব নির্ধারণে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

    তবে এসব অভিযোগ ও ঘটনাবলি স্ক্রলের অনুসন্ধানে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটকের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বক্তব্য প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে জানা এবং তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

  • বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

    দীর্ঘ শিক্ষকতা, শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

    অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত থেকে মাওলানা নূরুল হুদা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিস ও কামিল অর্জনকারী তিনি ছিলেন বিরল প্রতিভার অধিকারী। কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও আরবি সাহিত্যে তাঁর ছিল গভীর পাণ্ডিত্য।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি বহু আলেমে দ্বীন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মৃত্যুর সময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী। গাজীপুরের টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেছেন। আমৃত্যু তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

    শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ওয়ায়েজ, একাধিক মসজিদের খতিব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাওলানা নূরুল হুদা।

    লেখালেখির সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জ্ঞানচর্চা, শিক্ষকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবাকে সমন্বিত করে তিনি একটি দীর্ঘ ও কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন।

    পারিবারিক জীবনে প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদা ছিলেন চার পুত্র ও সাত কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক। মেঝো পুত্র এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেজো পুত্র মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের (জেইউজি) সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল। কনিষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী।

    মরহুমের সহধর্মিণীও ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।

    মৃত্যুর ১৩ বছর পরও শিক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্ম ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারী ব্যবসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেঁচে থাকার জন্য গাছের কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষার্থে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছের গুরত্ব ও চাহিদার কারলেই বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৩ শতাধিক সরকারী বেসরকারী নার্সারী। সফলতা এসেছে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার নার্সারী ব্যবসায় । বৃক্ষরোপন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলার নার্সারী মালিকরা তৎপর হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নার্সারীর ব্যবসা। সরকারী নার্সারীর পাশাপাশি বেকার যুবকরাও নার্সারী গড়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৃক্ষরোপনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছে।

    ফুলফলসহ নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার নার্সারীগুলো। নার্সারীর চারিদিকে তাকালেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহরতলীসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক সরকারী-বেসরকারী নার্সারী।

    বিভাগীয় বন অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ কুষ্টিয়ায় ১৩টি উপজেলায় ৩ শতাধক নার্সারী গড়ে উঠেছে। এসব নার্সারীতে ফল-ফুল ও ঔষধী গাছের চারার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এমন গাছের চারাও উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার নার্সারীগুলোতে এ ব্যবসায় এসেছে সফলতা।

    বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ নার্সারী ব্যবসা। বৃক্ষের আর্থিক মূল্য অনুধাবন করেই গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষরোপন প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃক্ষ রোপন মৌসুমকে সামনে রেখে নার্সারীগুলো চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৎপর হয়ে কাজ করছে। নার্সারীর শ্রমিকরা একদিকে যেমন গাছ পরিচর্যা ও গাছ তুলে বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত। তেমনি মালিকরাও নিজেদের নার্সারীর সুনাম বয়ে আনতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সমাহার ঘটিয়ে নার্সারীকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারেও বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিক্রি করা হচ্ছে।

    বৃক্ষরোপনের উদ্যোগকে বেগবান করতে জেলার গড়ে ওঠা নার্সারীগুলো ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ মৌসুমে গাছের চারার চাহিদা থাকায় দিনদিন নার্সারী ব্যবসার প্রসার ঘটছে। জেলার অনেকেই নার্সারী গড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনেক বেকার যুবক নার্সারী করে স্বাবলম্বী হলেও সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এ ব্যবসায় আগের মতো আর লাভ নেই বলে নার্সারী মালিকরা জানালেন।

    নার্সারী মালিকরা অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সরকারীভাবে চারা ক্রয় করা হয় না। চারা ক্রয়ে সরকারী কর্মকর্তারাও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন না। নার্সারী মালিকদের নিকট থেকে যদি চারা ক্রয় করা হয় তাহলে নার্সারী মালিকরা আরো উপকৃত হবে। এদিকে সবুজ বনায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বন বিভাগ কার্যক্রম চালালেও এ বছর তাদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। প্রতি বছর জেলার স্কুল কলেজে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হলেও এ বছর কোন বরাদ্দ না আসায় বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কুষ্টিয়া জেলার ৬৬ ইউনিয়নসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় নার্সারী ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বৃক্ষরোপন আন্দোলন জনসাধারণের মাঝে সাড়া পেয়েছে। বন বিভাগের সহযোগিতা পেলে কুষ্টিয়া জেলায় আরো নার্সারী ব্যবসা বাড়তে পারে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার উৎপাদিত চারা জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠানো যাবে বলে নার্সারী মালিকরা অভিমত প্রকাশ করেন। নার্সারী সবুজ বনায়নে যেমন রাখতে পারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তেমনি জেলার বেকার সমস্যার সমাধানেও যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে পারে।

  • কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কথিত সমাবেশ ও মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পৃথক মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাপাসিয়া থানা পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কাপাসিয়া থানার বারিষাব ইউনিয়নের পূর্ব লোহাদী এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান ও অপপ্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে সমবেত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর কাপাসিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮/৯(১)/৯(২)/৯(৩)/১০/১১/১২ ধারায় মামলা করা হয়।

    মামলার পর ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাপাসিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা (৪৫), তরগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আঃ হান্নান (৫১), মো. জহিরুল ইসলাম (২৯), মোস্তাকিম (৩৭), সুমন (২৬), শ্রাবন (১৯), যোবায়ের (১৯), হৃদয় খান (২০), মুন্না হোসেন (১৯), সানী (২২), নিয়ান খান অমি (১৭) ও সুমন (১৬)।

    গ্রেপ্তার জুয়েল রানা কাপাসিয়া উপজেলার তরুন এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং মো. আঃ হান্নান মৈশন এলাকার মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। অন্যদের বাড়ি কাপাসিয়া উপজেলার খিলগাঁও, ভিটিপাড়া, বেগুনহাটি ও আশপাশের এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের এ মালেক কনভেনশন হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক মোহাইমেন।

    ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সজিব মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, জেলা জামায়াতের আইসিটি সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক রাজিফুল হাসান বাপ্পী, প্রচার সম্পাদক মো: রুকন উদ্দিন ও জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়া ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবনের এ অর্জন ভবিষ্যতের পথচলায় কাজে লাগাতে হবে। শুধু অ্যাকাডেমিক সাফল্য নয়; মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর জন্য তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

  • কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো: ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রায়েরবাজারের ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বসিলা ব্রিজ-সংলগ্ন আরশিনগর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে তিনি চুল কাটানোর জন্য আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিক তার ওপর হামলা চালায়। তারা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। চার বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীর হাতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়াটিয়ার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মরহুম সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় আইনজীবীর সহকারি (মুহুরি) ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে নুরুজ্জামানের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে স্ত্রী নাসিমা তার স্বামী নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

    বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাখাওয়াত হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ওই বাসা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিহতের পলাতক স্ত্রীকে আটক ও পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

  • কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড়ের ঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের বয়স ও পরিচয় শনাক্তে সিআইডির একটি দলকে খবর দেয়া হয়েছে।

    পুলিশের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। লাশ উদ্ধারের সময় তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে খবর পেয়ে কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মো: এরশাদ (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীর তীরে তার লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন লাশটি উদ্ধার করেন।

    নিহত এরশাদ উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং চার সন্তানের জনক।

    নিহতের ভগ্নিপতি (বোনের স্বামী) মো: নুর উদ্দিন বলেন, এরশাদ কৃষি কাজ করত। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে জাল দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ধরত। মঙ্গলবার এরশাদ মাছ ধরার জন্য জাল নিয়ে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীতে যায়। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল না। স্থানীয় লোকজন নদীর তীরে জালসহ তার লাশ ভাসতে দেখেন।

    নুর উদ্দিনের ভাষ্য, এরশাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। মাছ ধরার সময় জোয়ারের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, নিহতের স্বজনদের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তারা লাশ নিয়ে ঘাটে আসছে। সেখানে লাশ দেখে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়া হবে।

  • লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রান্তিক চাষীদের ২ দিনব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ

    লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রান্তিক চাষীদের ২ দিনব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিকাজে আরো দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় দুই সপ্তাহব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দুল্যাতলী ইউনিয়ন ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ২০ প্রান্তিক কৃষকের অংশগ্রহণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ।

    এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন এবং দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

    দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণে পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি, ফসল উৎপাদন এবং কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেয়া হবে।

    প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে তাদের মাঝে সনদপত্র, সার, বীজ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। দুর্গম পাহাড়ে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে এ উদ্যোগ তাদের কৃষি উৎপাদন ও স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ফুরিয়ে আসছে সৌদির তেল !

    ফুরিয়ে আসছে সৌদির তেল !

    সৌদি আরবের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির ভয়ংকর চিত্র উপগ্রহ চিত্রে ফুটে উঠেছে। সৌদি আরব যদি দ্রুত এই পাইপলাইনটি আবার চালু করতে না পারে, তবে কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের তেল রপ্তানি করার মতো কোনো মজুত আর থাকবে না।

    এর ফলে বিশ্ববাজারে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় চার শতাংশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    গত রোববার রাতের প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশন আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ঘাটতি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

    এমনিতেই জ্বালানির চড়া দামের কারণে বিশ্বব্যাপী জিনিসপত্রের দাম বা মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে নতুন করে হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল করে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এই অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা তেলের দাম সাড়ে তিন শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে হামলার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনটি ঠিক হতে ঠিক কতদিন লাগবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য জানায়নি।

    রয়টার্স ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি ঠিক করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

    গত ছয় মাস ধরে পারস্য উপসাগরের মূল জলপথ বন্ধ থাকলেও সৌদি আরব এই মরুভূমি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বা বিশ্বের মোট চাহিদার চার শতাংশ লোহিত সাগরের বন্দরে সরিয়ে নিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সেই বন্দরগুলোতে যে তেল জমে আছে, তা দিয়ে বড় জোর পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এরপর আর কোনো উপায় থাকবে না।

    তেলের এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও হু হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড ভেঙে প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং এর ফলে সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে এক বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

  • সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ নভেম্বর। সেদিন রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপের সব ম্যাচই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

    ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে ৮ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। ১১ নভেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

    গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে ৮টায়। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর রাত ৮টায়।

    তবে প্রকাশিত সূচিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নেপালকে বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে এবং খেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে।

    ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

  • হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিমান হামলা

    হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিমান হামলা

    ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের বেশ কিছু অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মারিবের আল-জুবাহ জেলায় এই হামলাগুলো চালানো হলেও এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি মারিবের হারিব জেলায় হুথিদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টাও নস্যাৎ করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী।

    অন্য একটি ঘটনায় তাইজ বিমানবন্দরের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্যাড লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া তাইজের পূর্বে স্থানীয় পরিষদ ভবনে হুথি নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এসব হামলা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাইজ ও মারিব প্রদেশে হুথিদের অবস্থান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে সরকারি জোট।

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে এই দীর্ঘ সংঘাতের শুরু হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, সার ও খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় সার বিক্রয়ে অনিয়ম, ভুয়া চিকিৎসা ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার গোকুলখালী এবং ভালাইপুর বাজারে এ তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

    অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তদারকি চলাকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় অবৈধভাবে সার বিক্রয় করার অপরাধে গোকুলখালীর মেসার্স হামিদুল ট্রেডার্সের মালিক মো: হামিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণামূলক চিকিৎসা প্রদানের দায়ে মেসার্স জিকু মেডিক্যাল হলের মালিক মো: সাইফুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের অপরাধে ভালাইপুরের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: কালাম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ ঝুলিয়ে রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন বা নিষিদ্ধ কোনো ওষুধ, সার, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেমের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি টিম। জনস্বার্থে ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    এ,আর

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।

  • ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    পাকিস্তানে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন দেশটির সাত সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ।

    তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, সাবেক অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খানের বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

    চিঠিতে তারা আরও জানিয়েছেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তারা কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না। সেটি পাকিস্তানের নিজস্ব বিষয় বলেই মনে করেন তারা। তবে কারও আটক অবস্থায় তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, ‘রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, আটক থাকা যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয়।’

    ইমরান খানের পক্ষে বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক তারকাদের এটাই সর্বশেষ উদ্যোগ। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, বর্তমানে ইমরানের চিকিৎসা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মান পূরণ করছে না।

    ওই চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত চিকিৎসক বোর্ডকে ইমরানের নিজস্ব চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর এসেছে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল করা সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ যেন কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই চালু রাখা হয়। তৃতীয়ত, চিকিৎসা পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

    এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরানের পক্ষে প্রথম চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খানও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

    সর্বশেষ চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়করা উল্লেখ করেছেন, ইমরানের ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে তার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ কম থাকা।

    ইমরানের বিষয়টি নিয়ে গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতেরও অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।

  • আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমনটি ফুটে উঠেছে।

    গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় আজ মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. একে এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক, জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার জন্য যে মানুষটি দায়ী তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।

    তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।

    ২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

    সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন- বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।

    যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেদুয়ানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।

    তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।

    উল্লেখ্য, আইপিএলে রেকর্ড মূ্ল্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুযোগ পাওয়ার পরও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    ঠিক একই কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে যায়নি। চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু আইসিসি এতে রাজি হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেয় আইসিসি।

  • মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো: ফয়সাল (২৬) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড় মহেশখালীর পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে চোর সন্দেহে আটক করে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালেও কয়েক দফা পেটানোর পর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চুরির অভিযোগে একদল কিশোর ফয়সালকে ইট দিয়ে পেটাচ্ছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

    বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে শুনেছি।

    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান জানান, এভাবে কাউকে পিটিয়ে মারা অন্যায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • চৌগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    চৌগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ১০ দিন ব্যাপী প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ হল রুমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন । উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেজবাহ উদ্দিনের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ চঞ্চল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রমুখ। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন প্রশিক্ষক আসাদুজ্জামান। কার্যক্রমে উপজেলার প্রান্তিক পেশাজীবীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন পেশার ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ মুনিব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান হবি, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মমিনুর রহমান, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল কদর, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহসভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, হিন্দু ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি গোবিন্দ কুমার রাহা প্রমুখ।

    সভায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করনে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীনিয়ে ট্রাম্পের নীতি স্থগিত

    যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীনিয়ে ট্রাম্পের নীতি স্থগিত

    নিজেদের কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ভিসা নীতি স্থগিত করে দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে।

    বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে একটি ভিসা নীতি গ্রহণ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার এ নীতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই গতকাল সোমবার একজন ফেডারেল বিচারক এটি স্থগিত করে দেন।

    ২০২৫ সালের আগস্টে প্রস্তাবিত ওই ভিসা নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসায় বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। আর বিদেশি সাংবাদিকেরা ভিসা নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন মাত্র ২৪০ দিন, যদিও তাঁরা বাড়তি ২৪০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আবেদন করতে পারবেন।

    মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা–বিষয়ক সংগঠনগুলোর জোটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেলর (চতুর্থ) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এ নীতি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে তা স্থগিত করার আদেশ দিলেন।

    সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগ দেওয়া বিচারক সেলর বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি শিক্ষাবিদ যুগান্তকারী গবেষণা ও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। প্রস্তাবিত ভিসা নীতির কারণে উচ্চশিক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হবে, তা বিপর্যয়কর হতে পারে।

    এফ ভিসাধারী প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির (এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা) আওতায় প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী ট্রাম্প প্রশাসনের এ ভিসা নীতির আওতায় পড়তেন।

    বিচারক সেলর বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ও ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে যুক্তি দিয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল।

    ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা

    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে মামলা হয়েছে। গতকাল ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতেও দুটি মামলা হয়েছে। নীতিটি আগামী শুক্রবার কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    আইনি ভাষায় ‘পাবলিক চার্জ’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রধানত সরকারি ভাতা ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী অবস্থানের আবেদনকারীরা যদি ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হন, তবে মার্কিন প্রশাসন চাইলে তাঁদের সেই আবেদন সরাসরি বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

    বিদ্যমান নীতিতে একজন ব্যক্তিকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতিমালায় এ নির্দেশনা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত কোনো অভিবাসীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা আছে। এতে করে নগদ অর্থ নয়—এমন সরকারি সহায়তা পাওয়াকেও ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন কর্মকর্তারা।

    তা ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতিমালায় অভিবাসী পরিবারগুলো জানতেও পারবে না, কোন সেবা নিলে তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। ফলে মেডিকেডের মতো বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার কার্ডসহ অন্যান্য সেবা নিলে তাদের বিপদে পড়তে হতে পারে।

    নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়সহ ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত ওই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা এক মামলায় নীতিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, এ নীতির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো বহু দশক ধরে মানুষকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

    মামলাগুলোতে বলা হয়েছে, স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) যোগ্যতা ঠিক করার একক ক্ষমতা একমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নিজেরাই নতুন নীতি কার্যকর করতে চাইছে। তারা তাদের আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।

    বাদীদের যুক্তি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণের কারণে কারও স্থায়ী বসবাসের আবেদন বাতিল বা অধিকার কেড়ে নেওয়া বেআইনি। ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতি দেশটির আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।