সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি এখনো রয়ে গেছে: হিলারি ক্লিনটন

    যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি এখনো রয়ে গেছে: হিলারি ক্লিনটন

    ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি রয়ে গেছে এবং দেশটি সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনীয় সতর্কতা হারাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তার অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সন্ত্রাসী হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক আন্দ্রেয়া মিচেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন বলেন, সন্ত্রাস দমনে আমরা আমাদের সতর্কতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি। কাউকে ভয় দেখানো বা পরিস্থিতি বাড়িয়ে দেখানোর জন্য নয়, বরং পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা সন্ত্রাসী তৎপরতার দিকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না।

    ৯/১১ হামলার সময় নিউইয়র্কের সিনেটর ছিলেন হিলারি। গত ২৫ বছরে সন্ত্রাসী হামলার অনেক পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়েছে এবং কিছু পরিকল্পনা সফলও হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সন্ত্রাসের হুমকি শেষ হয়ে যায়নি; বরং কিছুটা পিছিয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এখনো হাজার হাজার উগ্রপন্থী রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতি করতে চায়।

    হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন কাটিয়ে উঠতে হবে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয়—দুই ধরনের হুমকির মোকাবিলা করতে হবে। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মতো অরাষ্ট্রীয় শক্তিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে ।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করতে গিয়ে হিলারি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনায় যতটা মনোযোগ দিচ্ছেন, আফগানিস্তান থেকে আসা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে ততটা মনোযোগী নন। এ ধরনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    হিলারির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অংশের সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরের এমন কিছু ব্যবস্থাও রয়েছে, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসী হুমকি মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর ফলে পশ্চিম আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চোখ ও কান’ আগের মতো নেই।

    গত বছর ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে হাজার হাজার পদ কমানো হয়েছিল। এর মধ্যে সিআইএ ও পররাষ্ট্র দপ্তরও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবস্থায় এখনো এফবিআই ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে অনেক নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা কাজ করছেন। তবে তাদের প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং সঠিক দায়িত্বকেন্দ্রিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। ফলে তারা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা হারাচ্ছেন।

    হিলারির বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস এনবিসি নিউজকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র পাল্টা দাবি করেন, বিভাগটি পরিবর্তনশীল সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম এবং নিয়োগ, সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ রেকর্ড গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

    সাক্ষাৎকারে ৯/১১ হামলার পর নিউইয়র্কের বায়ুদূষণ নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন হিলারি। গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে তিনি কালো পর্দার মতো ধোঁয়া, বাতাসে ভাসমান কণিকা ও তীব্র গন্ধ দেখেছিলেন বলে জানান। তাঁর নিজের গলাতেও ব্যথা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ৯/১১-এর পর ম্যানহাটনের বাতাসের মান নিয়ে তৎকালীন বুশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিভ্রান্তিকর ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হিলারি বলেন, এর পেছনে ভুল বিজ্ঞান, জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা এবং সত্যের মুখোমুখি হতে অনীহা—তিনটিই কাজ করেছিল।

    তিনি বলেন, কিছু নেতা হয়তো সত্যকে স্বীকার করতে চাননি, কারণ তারা অর্থনীতি সচল রাখতে, ওয়াল স্ট্রিট খুলে দিতে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। ফলে তারা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু বিষয় উপেক্ষা করেছিলেন, অথবা প্রয়োজনীয় প্রশ্নই করেননি বলে মন্তব্য করেন হিলারি।

    ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা গেছেন—কমেডিয়ান ও ৯/১১ স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী জন স্টুয়ার্টের এমন বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন হিলারি। তিনি বলেন, হামলার কারণে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত হলেও যারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য নির্ধারিত কর্মসূচিতে নিবন্ধিত নন, তাঁদের কাছে পৌঁছানো, পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য শহর, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একসঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

  • সিরিয়ায় আসাদ আমলের ৯ পাইলট গ্রেপ্তার

    সিরিয়ায় আসাদ আমলের ৯ পাইলট গ্রেপ্তার

    আন্তর্জঅতিক ডেস্ক:

    সিরিয়ায় আসাদ আমলে প্রাণঘাতী বিমান হামলা, সাবেক ৯ পাইলট গ্রেপ্তারসিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বেসামরিক মানুষের ওপর প্রাণঘাতী বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে নয়জন সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন জেনারেল রয়েছেন।

    সিরিয়ায় ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার অনুগত সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও জনবসতিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালায়। পরে দেশটিতে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।

    নতুন কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়া এলাকায় কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ওই নয় সাবেক সামরিক পাইলটকে আটক করে।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    আটক তিন জেনারেল হলেন—মেনহেল আনোয়ার সালেহ, সামি ইব্রাহিম মাহমুদ ও গিয়াথ আলি রেহিয়ে।

    কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের পরিচালিত বিমান হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এসব হামলায় শহর ও গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। ধ্বংস হয় অসংখ্য বসতবাড়ি ও বেসামরিক স্থাপনা।

    আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ সাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য ও কর্মকর্তাকে আটক করেছে। এসব ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম গত এপ্রিল থেকে শুরু হয়।

    এর আগে সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এক সাবেক জেনারেলকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালনা এবং ১৯৮২ সালের হামা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ওই আন্দোলন পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

    এদিকে, গত আগস্টে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরও পাঁচ সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। নতুন সরকারের আমলে এটি ছিল এ ধরনের প্রথম রায়।

    ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান বাশার আল-আসাদ। বর্তমানে তিনি দেশটিতেই অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়।

  • মিয়ানমারের বিমানবন্দরে এফপিভির ড্রোন হামলা

    মিয়ানমারের বিমানবন্দরে এফপিভির ড্রোন হামলা

    মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবারও বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    দেশটির সরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা মিয়ানমার এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল তাদের ফেসবুক পেজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির ব্যাংকক দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তাড়া-উ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ১১ ও ১২ ডিসেম্বরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে গণতন্ত্রপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক দল পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) ৬টি ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) সুইসাইড ড্রোন নিক্ষেপ করে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কারণে কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি কোনো যানবাহন বা বিমানবন্দরের রানওয়েরও ক্ষতি হয়নি।

    মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, তাড়া-উ বিমানবন্দরে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল। সেটিকে লক্ষ্য করেই ড্রোনগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

    ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এর পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রেসিডেন্ট হন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। তবে এরপরও দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরেনি।

  • সুইজারল্যান্ডে ডাচ পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডে ডাচ পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ডাচ পর্যটকবাহী একটি বাস দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানি ও আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রাউবুন্ডেন ক্যান্টনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার সুইস গণমাধ্যমকে জানান, বাসটি একটি নিরাপত্তা ব্যারিয়ারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। পরে সেটি সড়কের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।

    ডাচ ট্রাভেল এজেন্সি ফেডারেশন (এএনভিআর) এএফপিকে জানায়, বাসটির মালিক পর্যটন সংস্থা ওড। এতে ৪৮ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নেদারল্যান্ডসের নাগরিক।

    এএনভিআর জানায়, বাসটি সোমবার নেদারল্যান্ডস থেকে যাত্রা শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় এটি অস্ট্রিয়া থেকে সুইজারল্যান্ডে এক দিনের সফরে যাচ্ছিল।

  • ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে সরকার

    ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে সরকার

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির কোনোটি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে তা কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে দেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা চলছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আর্থিক দিকও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের উদাহরণ দিয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একই সময়ে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অনেক চুক্তি থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

    এ সময় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। এছাড়া স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষের কথা জানান তিনি।

  • সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে গত এক সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

    উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার মৌজার ভোরের পাখি, সিঙ্গীজানী ও লালচামার পাড়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আকস্মিক তিস্তা নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অনেক পরিবার এক বস্ত্রে প্রাণে বাঁচলেও আসবাবপত্র, পরনের কাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারেনি।

    নতুন করে আরো ৮৩টি পরিবারের ভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো দুই শতাধিক পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীর পাড় পাঁচ থেকে দশ ফুট খাড়াভাবে ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি এবং দুই হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তা বিলীন হয়েছে। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের মানুষ নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে আছে। রাতে ঘুমাতে পারছে না, কখন বাড়ি নদীতে চলে যায়।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’

  • ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকার বাসিন্দা ময়নাল হক (৬৫), মাসুম হোসেন (৪৪) ও নজরুল ইসলাম (৪১) এবং একই ইউনিয়নের খামার পত্রনবীশ এলাকার বাসিন্দা গাজীউর রহমান (৪৭)।

    পুলিশ জানায়, বাগভান্ডার বাজারের পেছনের একটি সুপারি বাগানে দীর্ঘদিন যাবত জুয়ার আসর চলছিল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা সেখানে জুয়া খেলতে আসতো। জুয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন চলত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জুয়া খেলার স্থানটি ঘিরে ফেলে। এ সময় চারজনকে জুয়া খেলার সরঞ্জামাসহ গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন জুয়াড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘গ্রেফতার ও পালিয়ে যাওয়া জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জুয়ার আসরগুলোতে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন একসাথে চলতে থাকে। মাদক, চোরাকারবার ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • নড়াইলের কালিয়ায় মাদকসেবনের দায়ে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

    নড়াইলের কালিয়ায় মাদকসেবনের দায়ে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের কালিয়া শ্মশানঘাট এলাকায় গাঁজা সেবনের দায়ে চার যুবককে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের প্রত্যেককে তিন মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম এ কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার হাড়িডাঙা গ্রামের মান্নান লস্করের ছেলে শিহাব লস্কর (৩৮), বিলবাউস গ্রামের লিকু সরদারের ছেলে ওলি সরদার (২৩), বাকা গ্রামের আফতাব উদ্দিন শিকদারের ছেলে বাহাউদ্দিন তিতাস শিকদার (৩৫) এবং কালিয়া পৌরসভার বড়কালিয়ার বাচ্চু গাজীর ছেলে মাহাবুর গাজী (৩০)।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়া থানা পুলিশের একটি দল শ্মশানঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় গাঁজা সেবনের অভিযোগে ওই চার যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাতুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালত তাদেরকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সারের বস্তা বিক্রি করায় দুই সার বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    জানা গেছে, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে ইউরিয়া সারের বস্তা বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুচরা সার বিক্রেতা আসাদুল আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    আসাদুল আলমের দাবি, না বুঝে দুজন ক্রেতার নিকট থেকে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন। দাম বেশি নেয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর ওই দুই ক্রেতাকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

    অপরদিকে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারের স্বত্বাধিকারী নিতাই চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার পরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অপরাধ না করেও জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগে একজন খুচরা বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা ডিলারের নিকট থেকে সার নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, ডিলার তা মনিটরিং না করায় ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একটি চক্র সরকার ও উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে সার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পায়তারা করছে। সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • চৌগাছায় ২৫০ শিক্ষার্থীর  ফলজ ও বনজ গাছের চারা  উপহার

    চৌগাছায় ২৫০ শিক্ষার্থীর  ফলজ ও বনজ গাছের চারা  উপহার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    “বই মানুষের মনকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করে, আর গাছ জীবন বাঁচিয়ে রাখতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে”— এ বার্তা নিয়ে যশোরের চৌগাছায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। ‘বই ও গাছই পরম বন্ধু’ শ্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের উদ্যোগে স্থানীয় দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে এ গাছের চারা উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগার মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে পাঠাগার চত্বরে এ চারা বিতরণ হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সভাপতি রওশন আলী। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফারজানা ইসলাম বলেন, “গ্রামের এমন নিভৃত পল্লীতে অত্যন্ত সুন্দর ও সুসংগঠিত একটি পাঠাগার দেখে আমি বিমোহিত। সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা থেকে বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ নিজ চারাগাছ যত্ন সহকারে লালন-পালন করার আহ্বান জানান।

    বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের পরিচালনায়

    বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন নাহার।

    কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন শিক্ষার্থীদের চারা রোপণের সঠিক পদ্ধতি এবং পরিবেশবান্ধব ও ফলদ গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে পরামর্শ দেন।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সাহিত্য সম্পাদক জুবায়ের হোসেন, সদস্য উবাঈদ সামি, সদস্য নূরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সাহাজুর রহমান প্রমুখ।

    আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ বাড়ীয়ালী-হাউলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাড়ীয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে পরিবেশবান্ধব নানা প্রজাতির ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। পাঠাগার কর্তৃপক্ষের এই ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক পদক্ষেপে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

  • লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

    লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ইসলাম শেখ (৫০) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত ইসলাম শেখ উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মরহুম বজলু শেখের ছেলে। তিনি পেশায় অটোভ্যানচালক ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিপু সুলতান সমর্থিত লোকজনের সাথে একই গ্রামের মফিজার শেখ সমর্থিত লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

    এর জেরে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর বিকেল ৩টার দিকে ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রঘুনাথপুর কবরস্থান এলাকায় পৌঁছালে টিপু সুলতান পক্ষীয় লোকজন ইসলাম শেখকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।

    স্থানীয়রা ইসলাম শেখকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবা কারাগারে। মা তিন অবুঝ সন্তান রেখে চলে গেছেন—এমন অবস্থায় ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় তিন শিশুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। ওই শিশুদের রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামপুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুদের উদ্ধার করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন শিশুর মধ্যে বড়টির নাম আলিবা (৮ বছর), দ্বিতীয়টির নাম ইভা (৫ বছর) এবং সবচেয়ে ছোটটির নাম মুনিয়া (৩ মাস)। শিশুদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে তারা জানায়।

    এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে শিশুদের মা নতুন করে মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। বাড়ির মালিকের নাম তোরাব আলী। তবে তিন দিন আগে মা শিশুদের রেখে চলে যাওয়ার পর তারা একা হয়ে পড়ে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তিনি মুক্তিরবাগ এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তায় একটি শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিন শিশুকে নিরাপদে নিয়ে যান এবং কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।

    শিশুদের উদ্ধারের পর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। তিন মাসের শিশুটিকে নিয়ে অনেকেই সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাকে নিজেদের কাছে রাখার আগ্রহ দেখান।

    শিশু তিনটি কয়েক দিন ধরে ক্ষুধার্ত ছিল। ছোট শিশুটির বয়স মাত্র তিন মাস হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা, খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের অনুপস্থিতি এবং বাবার কারাগারে থাকার কারণে শিশুদের তাৎক্ষণিক অভিভাবকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, বড় দুই শিশুকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর তিন মাস বয়সি শিশুটির জন্যও সাময়িক নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

  • ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদীকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী বলেন, ‘আমি মনে করি, হল শিক্ষার্থীদের স্থান। হলের প্রতিটি বিষয়ে পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যয়—সবকিছুই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হওয়া উচিত। তাদের উন্নয়ন এবং একুশ শতকের যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য হল থেকে যেকোনো ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হলের আমানতদারিতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্বস্ততা রক্ষা এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হল একটি পরিবারের মতো। এখানে মত ও চিন্তার ভিন্নতা থাকলেও কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।’

    উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

  • কোটচাঁদপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    কোটচাঁদপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসরা এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসাতুস সুফফাহর প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পৌর এলাকার দুধসরা বাসস্ট্যান্ডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তারা মনে করেন। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় না করার আহ্বান জানান তারা।

    মানববন্ধনে মাওলানা আমানুল্লাহ, মাওলানা ইব্রাহিম, মুফতি জসিম উদ্দিন, হাফেজ আলী আজম, মাওলানা নুরুল কবির, মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল ও মাওলানা আব্দুল কাদের বক্তব্য দেন।

    বক্তারা প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের মুক্তির দাবি জানিয়ে বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • মুরাদনগরে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

    মুরাদনগরে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার পূর্ব ধইর পশ্চিম ও দারোরা ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন।

    এ সময় বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিউল আলম এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মালিপাড়া এবং নবীয়াবাদ এলাকায় সংঘবদ্ধ ড্রেজার সিন্ডিকেট কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ৩টি ড্রেজার ও প্রায় ২০০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। অপরদিকে মুরাদনগর থানা এলাকার দারোরা ইউনিয়নের বরই বাগান এলাকা থেকে ১টি ড্রেজার এবং প্রায় ৮০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বলেন, কৃষি জমির উর্বরতা ও টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি) রক্ষায় প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। অবৈধভাবে ড্রেজার চালিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানান এবং কৃষি জমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

  • মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ গোপদিঘী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো দক্ষিণ গোপদিঘী গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে হাফিজা আক্তার (৫) ও একই এলাকার জুয়েল মন্ডলের ছেলে জয়ন্ত মন্ডল (৬)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পেছনে খেলতে যায় দুই শিশু। একপর্যায়ে তারা পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাদের পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মিঠামইন থানার এসআই শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • নালিতাবাড়ী ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

    নালিতাবাড়ী ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গরবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাটাবাড়ীনামক স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি জানায়, মঙ্গরবার ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ীনামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি।

    আটককৃত ভারতীয় মদের আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

    ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি দিনরাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

    সীমান্তে মাদক, চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • বগুড়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বগুড়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি শাহরিয়ার হাসান বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খন্দকার।

    বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার সেক্রেটারি তৌফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, বগুড়া জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী ডা. মাসুদা করিম, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া মহানগর সভাপতি শফিকুল ইসলাম, শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম, বগুড়া মহানগর মজলিসুল মোফাসসিরিনের সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম যুক্তিবাদী এবং সাজাপুর ফুলতলা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনের পথচলায় জ্ঞান, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি চরিত্র গঠন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি।

    আয়োজকরা জানান, বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার আওতাধীন এলাকার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নাটোরে ২৬১ বস্তা অবৈধ সার মজুত, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা-কারাদণ্ড

    নাটোরে ২৬১ বস্তা অবৈধ সার মজুত, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা-কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে চার ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের দোকান থেকে ২৬১ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গ্রাম বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত পরিচালনা ও দণ্ডাদেশ দেন সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম।

    অভিযানে ব্যবসায়ী সোহেল হোসেনের দোকান থেকে আট বস্তা সার জব্দ করে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের কাছ থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

    অন্যদিকে ব্যবসায়ী আবুল হাসেমের কাছ থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর ব্যবসায়ী মোবারকের কাছ থেকে ১৪৭ বস্তা সার জব্দ করে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    অভিযানে মোট ২৬১ বস্তা সার জব্দ এবং চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

    অভিযানে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

    সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম বলেন, ‘অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি কিংবা বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • নড়াইলে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা

    নড়াইলে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা

    সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং এর নানাবিধ আর্থিক সুরক্ষাসংক্রান্ত সুবিধাসমূহ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নড়াইলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘সর্বজনীন পেনশন মেলা ও তথ্য প্রদর্শনী’।

    জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং নড়াইল জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উপলক্ষে দুপুরে এক মনোজ্ঞ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নড়াইল-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বৃদ্ধ বয়সে যেন কাউকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়, সে জন্য যুবক ও কর্মক্ষম বয়সেই এই স্কিমে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

    অনুষ্ঠানের সভাপতি নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নড়াইল জেলার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বেসরকারি চাকরিজীবী এবং প্রবাসীদের পেনশন সুবিধার আওতায় আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই স্কিমের বার্তা ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: সুরাতুজ্জামান বলেন, “সর্বজনীন পেনশন কোনো সাময়িক সঞ্চয় নয়, এটি শতভাগ সরকারি জামানতযুক্ত দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অত্যন্ত স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে গ্রাহকরা ঘরে বসেই তাঁদের হিসাব পরিচালনা করতে পারেন।”

    আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা মেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও ব্যাংকের স্থাপন করা ২৩টি স্টল ঘুরে দেখেন।

    মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতাধীন ৪টি প্রধান ক্যাটাগরি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ‘প্রবাস’, বেসরকারি কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্ম ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের জন্য ‘সুরক্ষা’ এবং স্বল্প আয়ের ব্যক্তিদের জন্য ‘সমতা’ স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান ও তাৎক্ষণিক নিবন্ধন সেবা দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই মেলায় স্থানীয় বিপুলসংখ্যক সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (তহবিল ব্যবস্থাপনা) সদস্য মুন্সী আবদুল আহাদ, অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব আ ফ ম ফজলে রাব্বী, জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরই আলম সিদ্দিকী এবং নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক মো: মোস্তাফিজুর রহমান আলেক,অতিুরক্ত জেলা প্রশাসক আহসান মাহমুদ রাসেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের চলাচল সহজ করতে গাজীপুরে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জামায়াত-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে তুরস্কভিত্তিক একটি সংস্থার সহযোগিতায় এসব হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

    হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুরকে তারা এমন একটি বাসযোগ্য ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেকে অবহেলিত মনে করবেন না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং নানা কারণে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য নগরীতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘গাজীপুরকে আমরা সবার জন্য বাসযোগ্য একটি নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা নানাভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য আলাদা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’

    ড. হাফিজুর রহমান বলেন, নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সুযোগ পেলে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।’

    আয়োজকরা জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে হুইলচেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় এই সহায়তা পেলে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে আরও সক্রিয় হতে পারেন। সেই বিবেচনায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে হুইলচেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সদর মেট্রো থানার আমির ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট সাদিকুজ্জামান খান, বাসন থানার আমির ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আকরামুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পানি নিষ্কাশনের জন্য খোঁড়া ১০ ফুট গভীর ড্রেনটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নিলো মরণফাঁদে। ওপরের মাটির বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে ভেতরে কাজ করা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন।

    দীর্ঘ ৪০ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি ২০ বছর বয়সী তরুণ শ্রমিক রাব্বি হোসেনকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপর দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদেমপুর ইউনিয়নের রংপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাব্বি হোসেন (২০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। আহত অন্য দুই শ্রমিক একই গ্রামের রাজন (১৯) ও তানজিল (১৭)। বর্তমানে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বসতবাড়িতে সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনের ড্রেন খননের কাজ করছিলেন তিন শ্রমিক। প্রায় ১০ ফুট গভীরে নেমে কাজ করার সময় বিকেলে হঠাৎ পাশের উঁচুকৃত মাটির টিলা বা দেয়াল ধসে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী আমেনা বেগম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো মাটির স্তূপ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ওপর এসে পড়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আজিমুল্লাহ বলেন, বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে তারা দুই শ্রমিকের মাথা কোনোমতে মাটির ওপরে ভেসে থাকতে দেখেন। দ্রুত গ্রামের মানুষজন এক হয়ে মাটি সরিয়ে রাজন ও তানজিলকে জীবিত উদ্ধার করলেও রাব্বি পুরোপুরি মাটির নিচে হারিয়ে যান।

    প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়রা মাটি কেটে রাব্বিকে নিথর অবস্থায় বের করে আনেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

  • ১৪ ভুয়া প্রকল্পে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    ১৪ ভুয়া প্রকল্পে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কাগজে-কলমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪টি কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমিজ উদ্দিন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দারোরা ইউনিয়নে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিনের দাবি, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগেরই বাস্তবে কোনো কাজই করা হয়নি। অথচ কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া পৃথক অভিযোগে ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আরও দুটি ভুয়া প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    রমিজ উদ্দিন আরো জানান, টি-আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোতেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং একই স্থানে বারবার প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কাজিয়াতল এলাকায় মবিনের বাড়ি থেকে অজিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশে পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাকে জানানো হয় প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, প্রকল্প বাতিল দেখালেও বরাদ্দকৃত পুরো টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

    লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। গত ১৫ জুলাই অভিযোগ জমা পড়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    তবে আত্মসাৎ ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর কাজ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরেই সম্পন্ন হয়েছে, যা মূলত ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বরাদ্দের আওতাভুক্ত ছিল। ফলে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    মুরাদনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাছান খান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এবং তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রকল্পের ফাইল, বরাদ্দ, বিল-ভাউচার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কার্যক্রম এবং সরেজমিন বাস্তবতা যাচাই করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • সাইফুর রহমানের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত: রিজভী

    সাইফুর রহমানের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত: রিজভী

    অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
    সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
    রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটা বিষয় আমার মনের মধ্যে সবসময় উঁকি দেয়, সাইফুর রহমান সাহেব দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে মারা গেলেন। এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা ছিল, না কোনো জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল? এটাও আমাদের আজকে খুঁজে বের করা দরকার। কারণ তার (সাইফুর রহমান) মতো একটা মানুষ, যিনি এরকম একটি ছোট দারিদ্র পীড়িত দেশকে অর্থনীতির ভিত্তির উপরে যিনি দাঁড় করিয়েছেন, একটা ফাউন্ডেশন দিয়েছেন। এটি অনেক দেশ পছন্দ করেনি।

    তিনি বলেন, অনেক দেশ বা ভেতরের অনেক শক্তি যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পছন্দ করে না। বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিতে গড়ে উঠবে, নিজের কৃষি অর্থনীতির উপরে ভিত্তি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হবে। এটা আমার মনে হয় কেউ কেউ পছন্দ করেনি। তাই একটা সন্দেহ কিন্তু আছে তার মৃত্যুর দুর্ঘটনা নিয়ে? আমরা তখন থেকে শুনেছি যে, সাইফুর রহমান সাহেবের এই দুর্ঘটনা- এটা কি নিছক দুর্ঘটনা? এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, এটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে টানা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী সাইফুর রহমানের কর্মজীবন তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মরহুম সাইফুর রহমান এই জাতির সম্পদ, বিএনপির গৌরব। তার নানা অবদানের কারণে তিনি জাতির সম্পদ। এত বিস্তৃত তার অর্জন, এই অর্জন আজকে দেশে-বিদেশে স্বীকৃত। উনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করতেন এই কারণে আমরা গর্ববোধ করি।
    তিনি আরও বলেন, আজকের অনুষ্ঠান পরিচালক একটি গল্পের কথা বলেছেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার স্বামীকে সাইফুর রহমান সাহেবকে দেখিয়ে বলেছেন যে, একজন সাকসেসফুল অর্থমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন তা নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, তিনি নিজেও অর্থনীতিবিদ। তিনি সাইফুর রহমানের পলিসি, সাইফুর রহমানের প্রণীত নীতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে উদারীকরণ, যে লিবারলাইজেশন- সেটিকে তিনি অনুসরণ করেছেন এবং ভারতে চালু করেছেন। আমরা সেই সাইফুর রহমানকে অনেক সময় ভুলে যাই। আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না, আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে।
    রিজভী বলেন, এম সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনীতির ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার বন্ধ করেছিলেন, ব্যাংক লুট করে টাকা নিয়ে যাওয়ার যে সিন্ডিকেশন, যে লুটপাট তন্ত্র বিগত ১৭ বছরে দেখেছিলাম৷ সাইফুর রহমান যখন এদেশের অর্থমন্ত্রী, উনি যখন এই জাতির অর্থনীতির ব্যবস্থাপক তখন এই লুটপাটের কথা শুনেনি, টাকা পাচারের কথা শুনেনি, ব্যাংক লোপাট হয়ে যাওয়ার কথা শুনেনি এবং ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকার তার যে ঘাটতি বাজেট, সেটা পূরণ করার কথা শুনেনি।
    এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কারণ বাজেট তার নিজস্ব অর্থনীতিতেই, তার নিজস্ব ট্যাক্স কালেকশনের মধ্যে দিয়েই সেই বাজেট রচিত করতেন। ব্যাংকের টাকা ব্যাংক থাকতো। ব্যাংক ছিল তার সময় ভায়াবল। গত ১৭ বছর ছিলো তো লুটপাটের অর্থনীতি, ফোকলা করে দেয়ার অর্থনীতি। লুটপাট এবং টাকা পাচার যেন আমাদের অর্থনীতির একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিলো।
    এম সাইফুর রহমানের জাতীয় অর্থনীতি ভিত্তি তৈরি করতে গিয়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাও তুলে ধরেন রিজভী।
    সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এম সাইফুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তির তৈরির কারিগর। মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে কিভাবে দেশকে সামনের দিকে, অগ্রসর পথে নিয়ে যাওয়া যায় তার মহাকর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। এজন্য তিনি অর্থনীতি খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সফলভাবে। সাইফুর রহমান স্যারের সেই অর্থনীতির গতিপথে আজকে বাংলাদেশ এই জায়গা এসেছে।
    এম সাইফুর রহমানের ছেলে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি হেলাল খানসহ সিলেট ও মৌলীভীবাজারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    দল জিতেছে ৫-০ গোলে। মৌসুমের শুরুটা হয়েছে চার ম্যাচে চার জয়ে। পয়েন্ট টেবিলেও অবস্থান শীর্ষে। কিন্তু এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তাঁর চোখে, এই বার্সেলোনার আরও ভালো করার জায়গা আছে।

    রোববার রাতে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামাল করেছেন জোড়া গোল, গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া, ফেরমিন লোপেজ আর পেদ্রিও। এই জয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে বার্সার মৌসুমটাই শুরু হলো শিরোপার বড় দাবিদার হিসেবে। আগের দিন রিয়াল বেতিসের কাছে হেরে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ আছে পয়েন্ট তালিকার তিনে, মাঝে দুইয়ে আলাভেস।

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফ্লিকের মুখে শুধু প্রশংসাই ছিল না; বরং ৫-০ গোলের জয়ের পরও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিখুঁত বলে কিছু নেই, ‘আজ আমরা দারুণ খেলেছি, প্রায় নিখুঁতই বলা যায়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল, আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি। আমি এটাই চাই। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জায়গা খুঁজে নেওয়া। আমরা সেটা করতে পেরেছি।’

    এরপরই সতর্ক করেছেন, ‘কিন্তু কিছুই নিখুঁত নয়। সব সময়ই উন্নতির জায়গা থাকে। আমরা আরও ভালো করতে পারি।’

    ভ্যালেন্সিয়ার জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছে বার্সেলোনা এএফপি

    শুধু জয় নয়, বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারও চোখে পড়ছে শুরু থেকেই। চার ম্যাচের তিনটিতেই ৫ গোল করেছে বার্সা। সব মিলিয়ে ১৭ গোল হয়ে গেছে এরই মধ্যে। রাফিনিয়া স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলে করেছেন ৬ গোল। ফেরমিন ও ইয়ামালের গোল ৪টি করে।

    এমন গোল-উৎসবের মধ্যেই অবশ্য বার্সেলোনার একজন প্রকৃত ‘নাম্বার নাইন’ দরকার কি না, সে আলোচনাও চলছে। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে ছিল বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজকে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে এনেছে তারা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেই বদলি হিসেবে অভিষেক হয়েছে তাঁর।

    তবে জেসুসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বার্সেলোনা এভাবে গোল করতে থাকলে। ফ্লিক অবশ্য একজন স্ট্রাইকার এখনো দরকার মনে করছেন, ‘আমাদের একজন প্রকৃত নাম্বার নাইন দরকার, এটা পরিষ্কার। তবে আক্রমণভাগে আমাদের অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। মাঝমাঠেও আছে, যারা গোল করতে পারে।’

    বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক এএফপি

    ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচ দিয়ে বার্সার প্রথম একাদশে অভিষেক হয়েছে রদ্রির। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা এই মিডফিল্ডার এক ঘণ্টা মাঠে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮১টি সফল পাস ছিল তাঁর। রদ্রির প্রশংসায় ফ্লিক বলেছেন, ‘রদ্রি আমাদের দলে আছে, এটা নিয়ে আমরা খুবই খুশি। বল পায়ে সে যা করে, মাঠে যেভাবে খেলে, সবকিছুতেই যুক্তি আছে। বল আমাদের দখলে থাকলে সে দলের কাঠামো ঠিক রাখে, আবার বল ছাড়া সময়েও সাহায্য করে।’

    লা লিগায় বার্সেলোনার পরের ম্যাচ ১৩ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্লিকের দল খেলবে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে।

  • ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে দুপক্ষ একমত পোষণ করেন। তবে আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণে পরবর্তী সভা ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সমস্যা, কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

    পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    মন্ত্রী বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সফল অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথভাবে কাজ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনারও বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনসহ বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, সুন্দরবন দুই দেশের একটি অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ম্যানগ্রোভ বন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।

    বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ ও নদীদূষণ নিয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষ এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমও উপস্থিত ছিলেন।

  • বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে। অবৈধ অস্ত্র নিজ হেফাজতে রাখার দায়ে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার।

    এর আগে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেন ওই গ্রামের মো. সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনবাগ থানা-পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাবেদের বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। সঠিক সময়ে সব আয়োজন হবে।’

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভারত সরকারের সবসময়ের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি জানেন। দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার কাজ থেমে থাকার কোনো কারণ নেই। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আজ না হলেও কাল বা পরশু হতে পারে। তবে দুই দেশের উদ্দেশ্য ও কাজের জায়গা একই থাকায় শুধু বৈঠকের অপেক্ষায় না থেকে বাস্তব কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার করা জরুরি।’

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাতাস, নদী, জলবায়ু কিংবা বন্যপ্রাণীর কোনো সীমান্ত নেই। এসব সীমান্তহীন সংকট যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।’

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পরিষ্কার বায়ু ও নীল আকাশের মতো সুবিধা নিশ্চিত করার পথ এক দিনে তৈরি হয় না। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং হাতি চলাচলের করিডোর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হওয়া প্রয়োজন।’

    এর আগে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ, জলবায়ু, প্রাণীসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন ভারতের হাইকমিশনার।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমীকরণের চেয়ে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত নির্ভরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো পক্ষ থেকেই সহযোগিতার পথ থেমে থাকবে না। কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা ও যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

  • মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৬২ মিনিট খেলেছেন। ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

    জার্মান কোচের মতে, বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতেও তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক।

    ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে রদ্রির প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘সে আমাদের দলে আছে বলে আমরা খুশি। মাঠে বল পায়ে সে যা কিছু করে, সবকিছুর মধ্যেই যুক্তি আছে। আক্রমণে বল পায়ে দলকে কাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি বল ছাড়া অবস্থায়ও সে গুরুত্বপূর্ণ।’

    তরুণ মিডফিল্ডারদের জন্য রদ্রির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘বার্নালও দারুণ কাজ করছে। তার জন্য এটি একটি ভালো পরিস্থিতি। সে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে উন্নতি করবে এবং ক্রমেই আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। এই দলবদলের মাধ্যমে আমরাও সেটিই চেয়েছিলাম। রদ্রি অসাধারণ। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে একজন অসাধারণ নেতা। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’

    এদিকে স্পেন জাতীয় দলেও রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দুজন একসঙ্গে খেললে কার্যকর হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

    তবে রদ্রির সঙ্গে খেলা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পেদ্রি। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে যে আমরা একসঙ্গে ভালো কাজ করি না। কিন্তু রদ্রির সঙ্গে খেলা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের।’

    স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘সে প্রায় কখনোই বল হারায় না, আর সেটা রক্ষণে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব এবং যত বেশি ম্যাচ খেলব, আমাদের বোঝাপড়াও তত উন্নত হবে।’

  • নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    নবীগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড়ে জামায়াতের উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী।

    সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন মুফতি আলী হাসান ওসামা এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি লায়েক আহমদ। মাহফিলের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা এমদাদুল হক।

    নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি এহসানুল হাদী রুম্মান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল হক সাদিকের পরিচালনায় মাহফিলে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    একই দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আরও তিন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বেলা ৩টার দিকে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    এর আগে সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞাকে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকের সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

  • বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    শুরু এবং শেষ—দুই দৃশ্যেই একজন: লামিনে ইয়ামাল। গোল করেছেন দুটি, শানিয়েছেন একের পর এক আক্রমণ। তাতেই লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের মাঠ এস্তাদিও মেস্তায়ায় ৫–০ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনার কাছে।

    এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আরও একধাপ শক্ত অবস্থান নিল বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে এখনো কোনো জয় না পাওয়া ভ্যালেন্সিয়া আছে ২০ নম্বরে।

    প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতেই ইয়ামাল-ঝড়; ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বার্সাকে এগিয়ে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ফেরমিন লোপেসের দারুণ পাস থেকে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান ইয়ামাল। এর দুই মিনিট পর আবারও লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এবারও বলের যোগানদাতা লোপেস, দারুণ শটে মুহূর্তেই জাল কাঁপান ইয়ামাল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

    গোল করেছেন, আবার গোল বানিয়েও দিয়েছেন লোপেস। এমন উচ্ছ্বাস তাকেই তো মানায় এএফপি

    তবু দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সাকে। ২২ মিনিটে প্রথম গোলের জোগানদাতা লোপেস নিজেই স্কোরবোর্ডে নাম লেখান। ভ্যালেন্সিয়ার এলোমেলো রক্ষণের সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান এই তরুণ মিডফিল্ডার। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। চলতি লা লিগায় এটি লোপেসের চতুর্থ গোল। ২০১১-১২ মৌসুমে সেস্ক ফাব্রেগাসের পর লোপেসই প্রথম কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড়, যিনি লিগে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে অন্তত চারটি গোল করলেন।

    ২৪ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়াকে তৃতীয় গোল খাওয়া থেকে বাঁচান স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি। ইয়ামালের বাঁকানো শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন ভ্যালেন্সিয়ার এই গোলরক্ষক।

    ৩৯ মিনিটে আরেকটা বড় সুযোগ পায় বার্সা। আবারও লোপেসের সঙ্গে ইয়ামালের চমৎকার বোঝাপড়া। ইয়ামালের দৌড়ের পথেই বক্সের ভেতর পাস বাড়িয়ে দেন লোপেস। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে নিচু শট নেন ইয়ামাল, কিন্তু বলটি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

    ২–০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সা। দ্বিতীয় পর্বেও আক্রমণের একই রূপ। তৃতীয় গোলটাও তারা পেয়ে যায় দ্রুত। লোপেসের বাড়ানো বল আলতো টোকায় জালে জড়ান রাফিনিয়া।

    এই গোলে বার্সেলোনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি তথ্য মনে করিয়ে দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০১২–১৩ ও ২০১৩–১৪ মৌসুমে লিগে বার্সার প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। একুশ শতকে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় নিজ দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) সরাসরি অবদান রাখলেন রাফিনিয়া।

    তিন গোল করেও আক্রমণের ধার কমেনি বার্সার। ৭৯ মিনিটে চার নম্বর গোলটি পায় কাতালানরা। দানি ওলমোর বাড়ানো বল চমৎকার শটে নিশানাভেদ করেন পেদ্রি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইয়ামাল (৫–০)।

  • ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

    বিডি গ্লাবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর ধসে চার ফুট নিচে পড়ে শিক্ষক রুমা আক্তারসহ পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনার পর পরই বিদ্যালয় ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি—শুধুমাত্র এই শ্রেণিকক্ষই নয়, ভবনের প্রায় সবকটি কক্ষের ফ্লোরই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেঝের নিচে পর্যাপ্ত মাটি না দিয়ে ফাঁকা রেখে নির্মাণকাজ করায় এ ধরণের বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা।

    শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষার্থী মেঝের টাইলসে হঠাৎ ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষককে জানায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ফ্লোরের একটি অংশ প্রায় চার ফুট নিচে ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েক শিশু শিক্ষার্থী সরাসরি ধসে যাওয়া গর্তে পড়ে আহত হয়। শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষক রুমা আক্তারও নিচে পড়ে গিয়ে আঘাত পান।

    পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—রাহিম বাদশা, আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুতর নেসা বলেন, চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ফ্লোরটি চার ফুট নিচে ধসে যায়। ফ্লোরের নিচে প্রয়োজনীয় মাটি না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমার বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি কক্ষের একই অবস্থা, পুরো ভবনটিই এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়ার পর অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে গেছেন। আগামীকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আদৌ বিদ্যালয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।

    আহত শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, এক শিক্ষার্থী মেঝের ফাটল দেখা যাওয়ার কথা বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফ্লোর ধসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে আঘাত পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই আতঙ্কজনক ছিল।

    মেঝে ধসে পড়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। বহু অভিভাবক দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে নিজ সন্তানদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যান। ভবনটির স্থাপত্য নিরাপত্তা পুরোপুরি যাচাই না করে পুনরায় পাঠদান শুরু করা হলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা।

    আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলজিইডির একজন প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    গত ৩৫ বছরে দেশে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জনের প্রাণ গেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮০৭ জন। একই সময়ে নৌযানের বিরুদ্ধে ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান।

    মন্ত্রী জানান, গত ৩৫ বছরে নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলার মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    তালিকাভুক্ত ২ লাখ ৫২ হাজার নৌযান

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি কার্যক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে। নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ভিত্তিতে নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে।

    জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠন

    ধর্মীয় বিভ্রান্তি নিরসন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধে বিভিন্ন মত ও পথের আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।

    ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং ধর্মের অপব্যবহার রোধে সরকার প্রয়োজনীয় আইনগত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জুমার খুতবা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শান্তি, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

    ৭ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহ

    কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে সংগৃহীত যাকাতের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকারি যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে। বাকি টাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে।

  • ফেনীতে ক্রাসিং মেশিনে লুঙ্গি পেঁচিয়ে মালিকের মৃত্যু

    ফেনীতে ক্রাসিং মেশিনে লুঙ্গি পেঁচিয়ে মালিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীতে হলুদ-মরিচ ও চাল গুঁড়ো করার ক্রাসিংমিলের মেশিনের সঙ্গে পরনের লুঙ্গি পেঁচিয়ে আটকা পড়ে নুরুল ইসলাম ছুট্টু (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী ও মিল মালিকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ফেনী শহরের মুক্ত বাজার এলাকার ‘খান সুপার মার্কেটে’ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নুরুল ইসলাম ছুট্টু ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খান সুপার মার্কেটের ‘হজরত শাহজালাল ক্রাসিংমিল’র প্রোপ্রাইটর ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে মিলের ভেতরে মেশিন চালু থাকা অবস্থায় কাজ করছিলেন নুরুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত তার পরনের লুঙ্গিটি চলন্ত মেশিনের ঘূর্ণায়মান অংশের সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মেশিনের সঙ্গে আটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

    পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

    বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

    আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।

    পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।

    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’

    বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।

    শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

    ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’

    কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’

    মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’

    ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।

    একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’

  • রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির পাশে স্থান করে নিলেন ব্রাজিলের তারকা রাফিনিয়া।

    শনিবার লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফার্মিন লোপেজের ক্রস থেকে জালে বল জড়ান বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলের সুবাদে চলতি মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচেই রাফিনিয়ার গোল হলো ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে রাফিনিয়া পেছনে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে প্রথম চার ম্যাচ শেষে পাঁচটি করে গোল করেছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন রাফিনিয়া।

    ব্রাজিলিয়ান তারকা নাম লিখিয়েছেন বার্সেলোনারই সাবেক তারকা লিওনেল মেসির পাশে। ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি গোলের কীর্তি আছে মেসির। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি করে গোল করেছিলেন মেসি।

    রাফিনিয়ার সামনে সুযোগ রয়েছে আরও রেকর্ডে নাম লেখানোর। বার্সার হয়ে টানা ৫ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড আছে দুইজন ফুটবলারের। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সিজার রদ্রিগেজ (৮ গোল) আর ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন।

  • স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করা যাবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড। প্রচারের সময় মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।

    নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এগুলোর আকার ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

    সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

    জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    প্রচারের সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে।

    প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণীও ব্যবহার করা যাবে না।

    নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

    একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

    আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

    তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

    নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    ইউপি আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল রাখা রয়েছে।

    পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধি

    ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে দেখাতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আগে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল না; এবার তা সীমিত পরিসরে যুক্ত হয়েছে।

    উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না।

    পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে।

    জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন।

  • একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ৩ আইন কর্মকর্তা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

    পদত্যাগ করা ওই ৩ আইন কর্মকর্তা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    এর আগে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

    তারও আগে গত জুন মাসে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই সময় পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা যৌথভাবে পদত্যাগ করেছেন।

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় মসজিদ কুষ্টিয়ার শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি দর্শনে প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে জেলার অজপাড়া গাঁ নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়ায়। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

    শত শত দর্শক আর ভ্রমন পিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে এ স্থানটি। কিন্তু দর্শকদের জন্য তেমন সুযোগ সুবিধা নেই এখানে। নেই তেমন বিশ্রামের জায়গা। নেই থাকা ও খাওয়ার সুবিধা। ফলে এ স্থানটি দর্শনীয় হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের জন্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় এ স্থানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মসজিদটির দীর্ঘদিন উন্নয়ন না থাকায় জৌলুসও নষ্ট হতে বসেছে। মসজিদের মূল কাঠামোতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। চার কোণে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনারসদৃশ উঁচু কাঠামো। দেয়াল, খিলান ও গম্বুজের নকশায় ফুটে উঠেছে প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য। ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী এবং নান্দনিক কারুকাজ মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    জানা যায়, এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য অনেক ওলি আউলিয়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তারা নিজেদের জানমাল সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ধর্ম প্রচারসহ সকল দ্বীনি কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছিলেন মসজিদকে। সেই হিসাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছিলেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

    কুষ্টিয়া ইবি থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়া গ্রাম। এই গ্রামে সম্রাট শাজাহানের আমলে ঐতিহ্যবাহি শাহী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ থেকে তিনশত বছর পূর্বে সম্রাট শাহজাহান এই মসজিদ নির্মান ব্যয় বহন করেন। সে সময় মসজিদটির নির্মান কাজ পরিচালনা করেন শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী। উপ-মহাদেশ থেকে আসা ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী ৮৫ বছরে বয়সে এখানে মৃত্যু বরণ করেন। ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তিনি কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়।

    তার মৃত্যুর পর ১৯৬৯ সালে সুনামধন্য ব্যক্তি হাসান চৌধুরী তৎকালীন সরকারের সাথে একটি রেজিঃ চুক্তিনামা অনুযায়ী মসজিদটি প্রত্মত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তিনামা অনুযায়ী এই মসজিদের মতওয়ালী (তত্বাবধায়ক) হিসেবে থাকবে হাসান আলী চৌধুরী অথবা তারই বংশধর। বর্তমানে মসজিদ কমিটিতে তারই বংশধর মসজিদটি পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রাচীন স্থাপত্য, পরিবেশ ও ইতিহাস দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ শুধু একটি পুরোনো মসজিদ নয়; এটি তাঁদের এলাকার গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

    অনেকের ধারণা মসজিদটি গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছে। এ জন্য সুদর্শন মসজিদটি পরিদর্শনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষের ভীড় করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে এখানে লোক ধারণের জায়গা থাকেনা। অনেকেই মান্নত গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী নিয়ে এখানে উপস্থিত হন। মসজিদটিকে ঘিরে কিছু কুটির শিল্পের লোকজনও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ তাই কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি একটি মূল্যবান প্রত্মত্ত্ব ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যসৌন্দর্য সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

  • হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হানাহানি ও সংঘর্ষ পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও অনেকটাই অবহেলিত। এ জেলার মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নিকটস্থ ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার। এঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক ও একই পরিবারের মোট তিনজনকে আটক করেছে সংস্থাটি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শুরু করে প্রায় তিনঘন্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা যায়।

    আটকরা হলেন- আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), সাদিয়া ফারহানা (২৩) ও সায়মন সরোয়ার (১৬)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের এসআই শহীদের শ্যালক। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শামসুল আলমের পুত্র। প্রায় ৭/৮ বছর আগে ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। এই বাড়িতেই পরিবার সহ বসবাস করতেন আজকের অভিযানে ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আমির আলী জানান- পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের যোগসাজসে তার শ্যালক মোমেন মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছে। কিছুদিন আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদের খবর পেলে স্থানীয় কিছু যুবক প্রতিবাদ জানায়। এর জের ধরে উল্টো ওই যুবকদের বিরুদ্ধেই ছিনতাই মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ। বিষয়টি থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ মাদক মজুদের ঘটনাটি আমলে না নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমলে নেন।

    আমির আলী আরও জানান- পরে তথ্যদাতা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক মজুদের ঘটনাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারে জানালে সংস্থাটি আজ ভোর সকালে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক সোমেন মন্ডল জানান- অভিযানে প্রাথমিক ভাবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে যদি ওই বাড়ির মালিক তথা পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাকেও আসামী করা হবে।

  • শুধু সংযোগ নয়, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী কানেকটিভিটিই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

    শুধু সংযোগ নয়, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী কানেকটিভিটিই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেকটিভিটিই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ৫ জিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    আজ সোমবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭ তম সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে এবং ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ৪জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ৪জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেকটিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

    এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) এডব্লিউজি-৩৭ সভা আয়োজন করেছে। এপিটির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সভা চলবে ৭-১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সভায় এপিটি সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশের মোট ৩৯৫ জন (সরাসরি ১৬৮ জন এবং ভার্চুয়ালি ২২৭ জন) প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। পাঁচ দিনে দুইটি প্লানারি সভাসহ মোট ৫২টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সেশনগুলোতে ৫জি সম্প্রসারণ,৬জি ব্যবস্থা, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, স্পেকট্রাম শেয়ারিং, স্যাটেলাইট ও নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ, রেলওয়ে বেতার যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, এই সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেও আমরা আগ্রহী।

    এপিটির ওয়্যারলেস গ্রুপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ সংক্রান্ত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কারিগরি সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এটি সদস্য দেশগুলোর শিল্প খাত, একাডেমিয়া, বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ে কাজ করে। এ প্ল্যাটফর্মে রয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। দেশগুলো বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্পেকট্রামের দক্ষ ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করে।

    অনুষ্ঠানে এপিটি মহাসচিব মাসানোরি কোন্দো বলেন, এডব্লিউজি-৩৭ সভা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তিগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান এবং আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নসংক্রান্ত কাজেও এডব্লিউজি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অবদান রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি দায়েজুং কিম বলেন, বেতার যোগাযোগ একটি গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠান একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এডব্লিউজির মাধ্যমে আমরা আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে একত্র, পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী এবং বিশ্বব্যাপী ও আঞ্চলিকভাবে প্রাসঙ্গিক সমাধান উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।

  • তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

    তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

    ক্রিকেটে কিছু সংখ্যা শুধু সংখ্যা নয়। তিন নম্বর যেমন।

    ওপেনারদের পরেই নামতে হয় বলে নতুন বলের পরীক্ষা থাকে, আবার প্রথম উইকেট পড়লেই দলের ইনিংসের ভার এসে পড়ে কাঁধে। এই জায়গায় তাই ব্যাটসম্যানকে কখনো ধৈর্য ধরে ধাক্কা সামাল দিতে হয়, কখনো আবার দ্রুত রান তুলে ব্যাটিংয়ের সুরটা বেঁধে দিতে হয়। ডন ব্র্যাডম্যান, ভিভ রিচার্ডস, রিকি পন্টিং, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা—এমন কিংবদন্তি সব ব্যাটসম্যান ওয়ান ডাউন বা তিন নম্বর পজিশনের গুরুত্বটা আরও ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    সেই গুরুত্ব এখনো আছে। টেস্ট ক্রিকেটে গত তিন বছরে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার চোখে পড়বে। বাংলাদেশের মুমিনুল হক যেন ‘৩’ সংখ্যাটা নিজের সমার্থক করে নিয়েছেন। গত তিন বছরে তিন নম্বরে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যানদের রানের হিসেবে তিনি আছেন ঠিক তিন নম্বরেই। তাঁর ওপরে আছেন শুধু ইংল্যান্ডের ওলি পোপ ও নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ টেস্টে ২৬ ইনিংসে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মুমিনুল। ৪০.৭৯ গড়ে করেছেন ৯৭৯ রান। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে আটটি ফিফটি। অর্থাৎ ২৬ ইনিংসে নয়বার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। মুমিনুলের চেয়ে যাঁরা ভালো করেছেন, সেই দুজনের মধ্যে পোপের রান ৩৮ ইনিংসে ১৩৬৯, পাঁচ সেঞ্চুরি তিন ফিফটি আর উইলিয়ামসনের ৩০ ইনিংসে ১৩৬০ রান, পাঁচ সেঞ্চুরি দুই ফিফটি। অর্থাৎ পঞ্চাশ ছোঁয়ার দিক থেকে এ দুজনের চেয়েও এগিয়ে মুমিনুল। তবে পিছিয়ে পড়েছেন বেশির ভাগ ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে না পারায়।

    তিন নম্বরের এই হালচাল বিশ্লেষণের কারণ মারনাস লাবুশেন। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর পজিশন সামলানো এই ব্যাটসম্যান বেশ কিছু দিন ধরে ধুঁকছেন। গত তিন বছরে ৪৩ ইনিংসে তাঁর গড় মাত্র ২৪.৬৯। অন্তত ২০ ইনিংস খেলেছেন, এমন ৫৬ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে খারাপ গড় মাত্র তিনজনের। দুজন আবার অবসরেও চলে গেছেন।

    এই তিন বছরে তিন নম্বরে যাঁরা ব্যাট করেছেন (শীর্ষ ১০), তাঁদের মধ্যে একমাত্র লাবুশেনেরই কোনো সেঞ্চুরি নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেই যেমন তিন ইনিংসে আউট হয়েছেন যথাক্রমে ১, ৩১ ও ৪ রানে। লাবুশেনের এমন হাঁসফাঁস দেখে রিকি পন্টিং তো বলেই দিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার এখন তিন নম্বরের জন্য অন্য কাউকে খোঁজা উচিত।

    তবে নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেননি। তিন টেস্টের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরের দলে রাখা হয়েছে লাবুশেনকে। ২০১৮ সালের কুখ্যাত ‘শিরীষ কাগজ’ কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তিন নম্বরে খেলতে যে ধার লাগে, যে ভার সইতে হয়, তা নতুন কারও কাঁধে তুলে দেওয়ার ঝুঁকি নেননি নির্বাচকেরা। তিন নম্বর পজিশন বলে কথা!

  • এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে হবে

    এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে হবে

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ ক্ষেত্রে একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

    আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

    আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কত ধাপে নির্বাচন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাঁচ বা ছয় ধাপসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

    ইসি সচিব বলেন, ‘একটি উপজেলায় যতগুলো ইউনিয়ন রয়েছে, সেগুলো একই ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, একই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এক ধাপে এবং বাকি ইউনিয়নে অন্য ধাপে ভোট হলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতেই উপজেলাভিত্তিকভাবে সব ইউনিয়নে একই সময়ে ভোট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

    তবে এটি এখনো নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান ইসি সচিব।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ উইংয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফাইল ফেরত এসেছে। এখন কোনো পর্যবেক্ষণ বা পরিবর্তন এসেছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টারের ব্যবহার না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব বিষয় কার্যকর বা ভালো ফল দিয়েছে, সেগুলোর কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

    এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তবে তিনি এটিকে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আশা রাখি, আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা শিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    গত ২২ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করায় সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই দিন থেকেই তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়।

    সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে সাধারণভাবে শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

    সে অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটের দিনক্ষণ ও পূর্ণাঙ্গ তফসিল নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।

  • সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    সিলেটে ১২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ নারী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক হাজার ২০৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় কুটিনা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনী গ্রামে কুটিনা বেগমের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক জব্দ করা হয়।

    আটক কুটিনা ওই গ্রামের তেরা মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একটি দল কুটিনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার ২০৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক কুটিনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আর সুযোগ নেই ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজ সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের আইনের সেকশন ২১ এর ৩ এ পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। যদি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে পরবর্তীতে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারো আপিলই হোক। সেটা হোক শেখ হাসিনার, সেটা হোক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের।’

    তিনি বলেন, ‘যেকোনো পলাতক আসামি অথবা যারা জেলে আছে, তাকে অবশ্যই আপিল ফাইল করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। কেউ যদি কেউ পলাতক কিংবা অন্য যেকোনো কারণে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল ফাইল না করেন, তাহলে ওই আসামির পক্ষে আর আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে না।’

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আপিল দায়ের করেছেন। তার দায়ের করা আপিল আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শুরু হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে তার রায় স্থগিত ঘোষণা করেছে। রায় স্থগিত থাকা অবস্থায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কি না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার এত বছর পর আপিল করা যাবে কি না, এসব পয়েন্টে আমরা শুনানি করব।’

    তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মূল আপিলের ওপর এখনো শুনানি শুরু হয়নি। বরং আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য কি না তার ওপর শুনানি চলছে।

    ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।

    বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এর আগে রাষ্ট্রপতি তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তার সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।

    আবুল কালাম আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম জানান, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

    গত ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেন এবং আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

    আবুল কালাম আজাদ জামায়াতে ইসলামীর রোকন বা সদস্য ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্যও ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার জামায়াতের সব সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আপিল বিভাগে যখন মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মামলাটি শুনানি হয়, আমি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার আইনগুলো দেখিয়েছি। ইতোমধ্যে আব্দুল কাদের মোল্লার কেসে আপিল বিভাগ বিষয়টি সেটেল করে দিয়েছেন। আপিলের ব্যাপারে যেখানে স্ট্যাটিউটরি প্রোভিশন আছে, ক্লিয়ার প্রোভিশন আছে, সেই ক্লিয়ার প্রোভিশন থাকলে সেখানে আর্টিকেল ১০৪ এর কোনো অ্যাপ্লিকেশন থাকে না।’

  • আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোটবোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’

    ভারতকেও খেসারত দিতে হবে

    তার অভিযোগ, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, প্রতিবেশী বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, (প্রধানমন্ত্রী) তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি এও বুঝিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। তার কথায়, কোনও সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন। বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। (আমি তো) বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কতটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

    দেশটা আমার

    সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয়, তাহলে আপনার কিভাবে দেশে ফেরা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। বিএনপি গভর্নমেন্ট কি বলছে? তারা ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেয়ার জন্য। যখন ফেরত দেয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব। সেজন্যই বলেছি, আমি চলে যাব। এখন আবার বাধা দেবে কেন আর পারমিশনই বা লাগবে কেন? দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে কী করবেন, অন্যকোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে অনুকূল অবস্থা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, এটা ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন। তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলেন।

    আমি দেশের মানুষের কাছে যাব

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

    ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে

    ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে এসেছি দেশ ছেড়ে, আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে কখনো চাইনি। আমি জানতামও না। একটা পরিস্থিতিতে আমি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও আমি জেনেছি অনেক পরে। যখন হেলিকপ্টারে বর্ডার ক্রস করি তখন আমাকে বলা হলো যে আমরা এখানে (ভারত) আসছি। তার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম, আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব। আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।

    তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেয়া হয়েছে। যত জঙ্গী, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে। আমার সময় তো একটামাত্র (সন্ত্রাসী) ঘটনা ঘটেছিল। ৪৬০টি থানা লুট হলো। পোড়ালো। পা বেঁধে বেঁধে ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের সঙ্গে বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

    তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছি

    ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশে ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস। তাছাড়া এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলি চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে। আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় শত শত কৃষক এই অবরোধে অংশগ্রহণ করেন। এতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

    গত দু’মাস ধরে পুঠিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধান চাষের ভরা মৌসুমে ন্যায্য মূল্য দিয়েও সার পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা। সরকারি দামে সার কেনা কৃষকের কাছে এখন যেন সোনার হরিণ। টিএসপি আর ডিএপি সারের তো দেখাই মিলছে না ডিলারদের কাছে। এগুলো ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। বেশি দাম দিলে খুচরা ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে।

    কৃষকরা সরকারি বাজারমূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। সরকার নির্ধারণ করে দেয়া সারের বাজারমূল্য প্রতি কেজি পটাশ ২০ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা। অথচ অজানা কারণে ডিলার-সাব ডিলারের হাত ঘুরে বালাইনাশক বিক্রেতাদের দোকানে টিএসপি ৬০ টাকা, ডিএপি ৫০ টাকা আর এমওপি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের কাছেও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের শর্ত হচ্ছে সারের সাথে বালাইনাশকের ওষুধগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে।

    অবরোধে অংশ নেয়া কৃষক আব্দুস সালাম জানান, চার বিঘা রোপা আমন ধান রোপণ করেছি কিন্তু সারের অভাবে ধান চাষ করতে পারছি না ঠিকমতো। ডিলারদের কাছে গেলে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সারের অভাবে ধান চাষে লাভবান হতে পারবে না কৃষকরা। সার কিনতে গেলে ডিলারদের কাছে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্বিগুণ দাম দিলে বালাইনাশকদের কাছে সার মিলছে।’

    এদিকে বানেশ্বরে কৃষকদের অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ আসছে। তবে ধান চাষের মৌসুমে চাষের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।’

    ডিলারদের কাছে সার নেই, সব সার বালাইনাশক বিক্রেতাদের কাছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকেন তিনি।

  • সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএআর) মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে সাবেক মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে কমিশন।

    দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল অথরিটির অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (ওআইএ) কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ইতোমধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড দুদকে পাঠিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাবেক মুখ্য সচিব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি বর্তমানে চলমান ‘আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

    পাশাপাশি, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্য এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এই অভিযোগটি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়াকিটকি ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগের বিষয়ে নতুন করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এই তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ওয়াকিটকি ক্রয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তারা একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে। অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ওয়াকিটকি কিনে সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

    অর্থ পাচার রোধে দুদকের আরেকটি বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলাম এবং ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইল অব ম্যানে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদনটির সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ দুদকের পাঠানো আবেদনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব সম্পত্তি সেখানে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে কমিশনকে নিশ্চিত করেছে।

  • লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার লালমোহনে নিখোঁজের পর খাল থেকে মো: ফরহাদ (১৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্ব পাশের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ফরহাদ পাশের চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (ভূঁয়ার হাট এলাকা) মো: বশির উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লালমোহন থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান অবস্থায় কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান সরকারের মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইয়োহেই সাসাকাওয়ার কাছে এ কথা বলেন।

    বৈঠকে সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্বের কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

    রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তিনি এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

    সাসাকাওয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

    তার ধারণা, মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে।

    জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে মাদরাসা ছাত্র বলাৎকারের অপরাধে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক মেরাজ আলী মিরাজকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মিরাজ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়া বকরী রুদ্রপুর গ্রামের আমানুল্লাহ হকের ছেলে।

    নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিবুর রহমান আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিরাজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাকে বিমর্ষ দেখা যায়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই ভোররাতে নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর-বাদামতলা জামিয়া রহমানিয়া তাইসিরুল উলুম মাদরাসার ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ওই মাদরাসার শিক্ষক মিরাজ পায়ুপথে ধর্ষণ (বলাৎকার) করে।

    এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই মিরাজকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মিরাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।

  • কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা ‘ফল ২০২৬’ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভর্তি মেলা চলবে।

    এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    মানবিক ও সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: নওয়াব আলী।

    বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, সাইকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল ইকবাল খান প্রমুখ। পরে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী এই শিক্ষা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    ভর্তি মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

    আয়োজকেরা জানান, এই মেলায় ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী, আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা ছাড়, ১ম সেমিস্টারের টিউশন ফি’র ওপর ২৫% ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

  • ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার সদর উপজেলার পৃথক দুই ইউনিয়নে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাপ্তা ও আলীনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশু হলো বাপ্তা ইউনিয়নের ভোটের ঘর এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ ও আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (১)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দুই শিশুই নিজ নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাদের দেখতে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর ও ডোবায় খোঁজ করলে পানিতে শিশু দু’টির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পুকুর ও ডোবার পানিতে শিশু দু’টির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি!

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জীবিত মাকে সরকারি কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।

    ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান সনদের ভিত্তিতে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

    ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল প্রায় সাত মাস আগে তার জীবিত মা রহিমাকে কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন।

    সম্প্রতি মজিবুর রহমান লোকজন নিয়ে ওই জমি ও বাড়ির আশপাশের পানের বরজ ও পুকুর দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।

    পরে নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল সংগ্রহ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—জীবিত রহিমাকেই কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে তার সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে।

    দলিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বরসহ তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ২১ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমির ক্রেতা পূর্ব রাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম আমির হোসেনের ছেলে মজিবুর রহমান।

    দলিলের সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: হোসেন মিয়া। দলিলটি সম্পাদন করেন দলিল লেখক ঝন্টু সরকার।

    জীবিত নারীকে ‘মৃত’ বানানোর প্রমাণ মিলল সরেজমিনে

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজাবাড়িয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলিলে যাকে মৃত দেখানো হয়েছে সেই বৃদ্ধা রহিমা জীবিত। নিজের বাড়ির সামনে বসে থাকা ওই বৃদ্ধা ক্ষোভ ও অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘আমি তো মরছি না। তা অইলে কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’

    এ সময় তার পাশে ছিলেন আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম, ছোট ছেলে অলি মিয়া, ছোট ছেলের স্ত্রী হাফছা বেগম ও একমাত্র মেয়ে রোকিয়া বেগম।

    আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিজের মাকে জীবিত রেখেও মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করেছেন। তার দাবি, আব্দুল জলিল জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে এর আগেও পরিবারের আরো জমি বিক্রি করেছেন তিনি।

    ছোট ছেলে অলি মিয়া বলেন, ‘তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত এবং ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।’ জুয়ার দেনা পরিশোধ করতেই মাকে মৃত দেখিয়ে গোপনে জমি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    অলি মিয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘মা যদি মারা না গিয়ে থাকেন, তাহলে তার ভুয়া মৃত্যু সনদ কে দিলো? সেই কাগজের ভিত্তিতে ওয়ারিশান সনদই বা কীভাবে হলো? আর এসব কাগজ দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কীভাবে জমির দলিল রেজিস্ট্রি হলো?’

    দলিল লেখক বলছেন, ‘দায়িত্ব আমার নয়’

    অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার বলেন, ‘আমাকে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়া হয়েছে। সেগুলো দেখেই দলিল সম্পন্ন করেছি। যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়।’

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: হামিদুলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি দেখছি।’

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

  • মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ

    মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ

    মুয়াজ্জিনদের আজান ও ইকামাতের বিশুদ্ধ উচ্চারণ, সুর ও কণ্ঠের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, দ্বীনি জ্ঞান এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে দ্বিতীয় দফায় ১০ দিনব্যাপী ‘মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম’ আয়োজন করতে যাচ্ছে আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এতে মুয়াজ্জিনদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আদর্শ মুয়াজ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণে আজান ও ইকামাতের প্রতিটি শব্দের নির্ভুল ও বিশুদ্ধ উচ্চারণ, সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল এবং পবিত্র মদিনা ও মিসরীয় ঐতিহ্যবাহী সুরের অনুশীলন করানো হবে।

    এ ছাড়া কণ্ঠের যত্ন, দীর্ঘ শ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও স্কেল ঠিক রাখার বিশেষ ব্যায়াম, তারবিয়াহ, ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আদর্শ মুয়াযযিনের গুণাবলি, যোগাযোগ ও সমঝোতা দক্ষতা এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনার কারিগরি বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রুকইয়াহ সেশন ও প্যারেন্টিং বিষয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে।

    প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি যাতায়াত খরচ প্রদান, প্রশিক্ষণ শেষে সনদ এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও পরিচর্যার সুযোগ থাকছে।

    আগ্রহীদের আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেওয়ার জন্য ডাকা হবে।

    প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের সুবিধা থাকলেও আসন সংখ্যা সীমিত বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

    বর্তমানে মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা এ প্রশিক্ষণে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

    এ ছাড়া আবেদনকারীকে কুরআনের হাফেজ অথবা নাহবেমীর কিংবা আলিয়া থেকে দাখিল পাস হতে হবে। কণ্ঠে সুর এবং তা আয়ত্ত করার সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

    আগ্রহীরা নির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সাতারকুল, কাজীবাড়ি ক্যাম্পাস (কবরস্থানের পাশে), উত্তর বাড্ডা, ঢাকায় যোগাযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে ০১৮০৫৪৩৭৯১০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

  • শমিতের জোড়া অ্যাসিস্টে পেলের ক্লাবের বড় জয়

    শমিতের জোড়া অ্যাসিস্টে পেলের ক্লাবের বড় জয়

    ২৯তম জন্মদিনের পরদিনই নিউইয়র্ক কসমসের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখালেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার শমিত সোম। ইউএসএল লিগ ওয়ানের ম্যাচে ফোর্ট ওয়েন এফসির বিপক্ষে কসমসের ৪-২ গোলের জয়ে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।

    শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কসমসের হাতে। মাঝমাঠে শমিতের পাসিং ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা দলকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে তার নিখুঁত থ্রু পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন জাওনেহ লামিন। এতে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কসমস।

    বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে নিউইয়র্কের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার শমিতের পাস থেকে গোল করেন লামিন। রক্ষণভেদ করে দেওয়া তার দারুণ থ্রু বলটি কাজে লাগিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। পরে লামিন হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ফোর্ট ওয়েন দুটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কসমস।

    গোল করাতে অবদান রাখার পাশাপাশি পুরো ম্যাচেই কার্যকর ছিলেন শমিত। ৪৫ বার বল স্পর্শ করা এই মিডফিল্ডার ৩৬টি পাসের মধ্যে ৩০টি সফল করেন। তার পাসিং সাফল্যের হার ছিল ৮৩ শতাংশ। পাঁচটি লং বলের চারটিও ছিল সফল। জোড়া অ্যাসিস্টের পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য একটি বড় গোলের সুযোগও তৈরি করেন তিনি।

    রক্ষণেও দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন শমিত। ম্যাচে তিনটি ট্যাকল, দুটি ক্লিয়ারেন্স ও দুটি বল রিকভারি করেন তিনি। একটি শটও ব্লক করেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।

    ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের সাবেক ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলেছেন শমিত। তিনটিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। নিজের তৃতীয় ম্যাচেই জোড়া অ্যাসিস্টে দলকে জয় এনে দিয়ে নতুন ক্লাবে নিজের আগমনের জানান দিলেন ২৯ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি।

  • ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এ চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ও বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে বাসসকে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে যে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সভায় মূলত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এ চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল— এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।

    কায়রোর একটি আদালতে হওয়া এই মামলায় ৩৯ বছর বয়সী সারা খলিফার পাশাপাশি আরও ১১ আসামির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    মামলার তদন্ত অনুযায়ী, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করা, সেগুলো দিয়ে কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরে পাচারের জন্য মজুত রাখা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চক্রটির সদস্যদের কাছে অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ ৭৫০ কেজিরও বেশি।

    তদন্তে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, এসব জায়গাকে মাদক তৈরির গোপন স্থাপনা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    সেখান থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আনা উপকরণগুলো ব্যবহার করে সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরবর্তী সময়ে তা পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হতো।

    মিসরের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ সারা খলিফা। দেশটির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা, অপরাধ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হতো।

    টেলিভিশন ক্যারিয়ারের বাইরেও ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন সারা। তার মালিকানায় একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। পাশাপাশি পার্টি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করেন তিনি।

    মাদক মামলার বাইরে সারা খলিফার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছিল। এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় তার সঙ্গে কয়েকজন আসামিকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    ওই মামলায় সারা খলিফাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক মামলাতেও কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন এই টেলিভিশন উপস্থাপিকা। তবে কায়রোর আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। মিসরের আইন অনুযায়ী, আসামিদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।