সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • কিমের গোপন ছেলের সন্ধানে কোরিয়া

    কিমের গোপন ছেলের সন্ধানে কোরিয়া

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা।

    গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম। এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, তার পর দেশটির নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তার মেয়ে কিম জু এ–এর। ধারণা করা হয়, তার বয়স এখন প্রায় ১৩ বছর।

    তবে কিম জুর কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এনআইএস বলেছে, বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করছে তারা। কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও সে হয়তো তার উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই। এ ছাড়া কিমের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে সে ছেলে না মেয়ে, তা নিশ্চিত নয়।

    এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস বলেছিল, কিম জু এ–এর একজন বড় ভাই রয়েছে। তবে পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতার ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা তখনো যাচাই করে দেখছে।

    কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব রয়েছে। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন কিম পরিবারের তিনজন পুরুষ সদস্য।

    এ কারণে কিমের উত্তরসূরি তার মেয়ে হতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশের সন্দেহ রয়েছে। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব সহজে মেনে নাও নিতে পারেন।

    কিম জু এ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় গেলেও কিম পরিবারের হাতে ক্ষমতা থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জু এ বিয়ে করলে এবং তার সন্তান পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হলে একপর্যায়ে দেশটির ক্ষমতা কিম পরিবারের বাইরে চলে যেতে পারে।

  • প্রশ্নের মুখে মোদির ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারনা

    প্রশ্নের মুখে মোদির ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারনা

    ‘সমগ্র বিশ্ব একটি পরিবার’—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সম্মেলনে সংস্কৃত প্রবাদ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর মাধ্যমে যে ধারণা তুলে ধরেছেন, সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতায় কতটা কার্যকর—এই প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বকে যদি সত্যিই একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিরোধ মেটানোর সবচেয়ে পরিণত পথ হলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সমঝোতা।

    দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ ধারণাটি সামনে এনেছেন। এর অর্থ—‘বিশ্ব একটি পরিবার’। তবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাচীন কোনো বাণী উদ্ধৃত করা সহজ হলেও সেই দর্শনকে বাস্তব রাষ্ট্রীয় আচরণে প্রয়োগ করা অনেক বেশি কঠিন।

    ব্রিকস সম্মেলন বিশ্বকে একটি পরিবারের মতো পরিচালনার কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ, সংঘাত ও অবিশ্বাসের কারণে এই ধারণা বাস্তবায়ন এখনো অনেক দূরের বিষয়। একই সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির কিছু অবস্থানের সঙ্গে ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণার সামঞ্জস্য নেই।

    ব্রিকস সম্মেলনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ভারত যদি বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখে, তাহলে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ মেটাতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসাই পরিণত রাষ্ট্রীয় আচরণ। দুই দেশের সমস্যা দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিলে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সেটিকে স্বাগত জানাবে।

    ব্রিকসের আগের সম্মেলনের সঙ্গে দিল্লি সম্মেলনের তুলনা করা যায়। ২০১৭ সালে চীনের শিয়ামেন সম্মেলনে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে সেই ধরনের সরাসরি অবস্থানের পরিবর্তে ঐকমত্য ধরে রাখার চেষ্টা বেশি দেখা গেছে। এটিকে ব্রিকসের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখেছেন।

    ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণাটি তখনই অর্থবহ হয়, যখন কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের আগ্রাসন বা দমননীতির সঙ্গে অবস্থান না নিয়ে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও গণপিটুনির মতো ঘটনাও বন্ধ করা হয়। মানবিক মর্যাদা ও সমতার বিষয়টি ‘বিশ্ব পরিবার’ ধারণার অপরিহার্য অংশ।

    ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের উচিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের শুধু উপসর্গ নয়, মূল কারণ মোকাবিলা করা। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

    পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দিকে এগোনোর প্রয়োজনীয়তার কথাও শি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ধরনের অবস্থান ব্রিকসকে শুধু অর্থনৈতিক জোট হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

    ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘উবুন্টু’ দর্শনেরও তুলনা করেছেন লেখক। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্তির সময় নেলসন ম্যান্ডেলা ও ডেসমন্ড টুটু ‘উবুন্টু’—‘আমি আছি, কারণ আমরা আছি’—এই দর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এর মধ্যেও মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতা, সমতা ও সম্মানের একই ধারণা রয়েছে।

    বাইবেল ও ভারতীয় উপনিষদের মানবিক ঐক্যের ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ঐতিহ্যে মানবজাতিকে বৃহত্তর একতার অংশ হিসেবে দেখার ধারণা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে জাতি, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সেই আদর্শকে বারবার দুর্বল করে।

    বিশ্বকে সত্যিকার অর্থে একটি পরিবারে পরিণত করতে হলে শুধু সম্মেলনের মঞ্চে ঐক্যের কথা বললেই হবে না; রাষ্ট্রগুলোর আচরণেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ থাকলে শক্তি প্রদর্শনের বদলে আলোচনা, সংঘাতের বদলে সমঝোতা এবং আধিপত্যের বদলে সমতার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

    বিশ্ব যদি সত্যিই একটি পরিবার হয়, তাহলে পরিবারে বিভক্তি দূর করার প্রথম শর্ত হলো একে অপরের সঙ্গে কথা বলা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বিরোধ দ্বিপক্ষীয় সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করাই পরিণত ও দায়িত্বশীল পথ। একই সঙ্গে ব্রিকসের মতো জোটগুলোকে বৈশ্বিক সংঘাতের মূল কারণ মোকাবিলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরো সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

  • সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, লাশও পাচ্ছে না প্রবাসীর পরিবার

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, লাশও পাচ্ছে না প্রবাসীর পরিবার

    সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও স্বজনদের কাছে লাশ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও পরিবার জানতে পারছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য স্বজনদের কাছ থেকে। লাশ না পাওয়ায় ধর্মীয় রীতিতে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানও করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

    ইথিওপিয়ার ২৫ বছর বয়সি কিব্রম কিনফে আরেগাউই এর একটি উদাহরণ। চলতি বছরের ২৩ জুন দক্ষিণ সৌদি আরবের আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত কারাগারে গাঁজা পাচারের দায়ে আরো চার ইথিওপিয়ানের সঙ্গে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু তার লাশ দেশে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়নি।

    কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই ছেলের জন্য শোক পালন করছেন। তবে ছেলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী করতে না পারায় তার কষ্ট আরো বেড়েছে।

    কিনফে বলেন, ‘পরিবার হিসেবে সান্ত্বনা পেতে আমরা এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা করেছি। কিন্তু আমি আমার সান্ত্বনা পাব না।’

    তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য সারাজীবনের দুঃখ হয়ে থাকবে।’

    ইথিওপিয়ার অনেক অর্থোডক্স খ্রিষ্টানের কাছে ধর্মীয় নিয়ম মেনে মৃত ব্যক্তিকে সমাহিত করা বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ। কিব্রমের ক্ষেত্রেও তা সম্ভব হয়নি। তার পরিবার লাশ তো পায়ইনি, এমনকি মৃত্যুর সনদপত্র বা তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও দেওয়া হয়নি।

    মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুলাই পর্যন্ত আগের এক বছরে সৌদি আরব ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। চীন ও ইরানের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনি বলেন, লাশ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়। এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারকেও শাস্তি দেওয়া হয়।

    ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক নাজিলা ঘানেয়া সৌদি আরবে লাশ আটকে রাখার অভিযোগকে ‘নির্যাতন ও নিপীড়ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    মৃত্যুর খবরও পরিবার জানতে পারেনি

    কিব্রম ২০২০ সালে প্রথমবার বৈধ ভিসা ছাড়াই তার বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ মাস কারাগারে থাকার পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

    এরপর ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে কিব্রম আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লোহিত সাগর পাড়ি দিতে তিনি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকায় ওঠেন। পরে পায়ে হেঁটে ইয়েমেন পাড়ি দেন।

    ২০২৩ সালে সীমান্ত পার হওয়ার সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে আবার গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। বাবা কিনফের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন মাস কারাগারে থাকার পর কিব্রমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন বছর কারাগারে থাকার পর জুনে হঠাৎ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    কিনফে বলেন, ‘সে আমাদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ পায়নি।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন বলেও জানান তিনি।

    কিনফের বিশ্বাস, তার ছেলে নির্দোষ ছিলেন এবং সৌদি আরবে তাকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে হাশিশ (মাদক) পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন কোনো প্রমাণ নেই।’

    কিনফে আরো বলেন, ‘কেউ আমাকে তার মৃত্যুর সনদপত্র, তার কোনো জিনিসপত্র বা লাশ দেয়নি। আমি শুধু নীরবে কাঁদি। আমি আর কীই বা করতে পারি?’

    ছেলের বিয়ের আয়োজনের বদলে শেষ বিদায় অনুষ্ঠান

    একই দিনে একই কারাগারে ২৬ বছর বয়সি সিগাবু গেব্রেমারিয়ামেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

    ইথিওপিয়ার সেন্ট্রাল তিগ্রায় অঞ্চলের একটি গ্রামীণ জেলার আট ভাইবোনের মধ্যে সিগাবু ছিলেন সবার বড়। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর দারিদ্র্য ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন।

    তার বাবা হাগোস গেব্রেমেস্কেল বলেন, ‘আমাদের এলাকায় তরুণদের জন্য তেমন কোনো কাজ নেই। আমাকে সাহায্য করার জন্যই সে সৌদি আরবে গিয়েছিল।’

    মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সিগাবু সাড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে শেষবার পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়।

    হাগোস বলেন, ‘সে বলেছিল, সে শিগগিরই [দেশে] ফিরে এসে বিয়ে করবে।’

    সিগাবুর মা লেতেখ্রিস্টোস তখন ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকেই ছেলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হয়েছে।

    লেতেখ্রিস্টোস বলেন, ‘আমার সব সন্তান মেয়ে, সে-ই ছিল একমাত্র ছেলে। বোনদের অনেক আশা ছিল যে তাদের ভাই শিগগিরই বাড়ি ফিরে আসবে। তারা তার জন্য বিয়ের গান বানাচ্ছিল। এখন, তাদের কষ্ট আমার চেয়েও বেশি।’

    সৌদি আরবে থাকা আত্মীয়দের কাছ থেকে সিগাবুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পায় তার পরিবার। এরপর অর্থোডক্স খ্রিস্টান পরিবারটি স্থানীয় গির্জায় প্রতীকী শেষকৃত্য ও প্রার্থনার আয়োজন করে।

    প্রথাগত ৪০ দিনের শোক পালন করছেন লেতেখ্রিস্টোস। তিনি বলেন, ‘আমি জানতে চাই কেন তার লাশ দেশে আসেনি। এটি আমাদের শোককে আরো ভারী করে তুলেছে, আমাদের হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে।’

    সিগাবুর বাবা-মা এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ছেলের অপরাধের প্রমাণ চান। অন্য কেউ তার সরলতার সুযোগ নিয়েছিল কি না, সেটিও তারা জানতে চান।

    মাদক মামলায় বিদেশিরাই বেশি

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের ৭৫ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

    দুয়া ধাইনি বলেন, অপরাধী চক্রগুলো দুর্বল অবস্থায় থাকা মানুষদের ব্যবহার করে থাকে।

    তার ভাষ্য, ইথিওপিয়ার কিছু মামলায় আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সীমান্ত পার হতে সহায়তার বিনিময়ে তাদের বিভিন্ন জিনিস বহন করতে প্ররোচিত করা হয়েছিল।

    পাকিস্তানের কিছু নাগরিককে নিষিদ্ধ পদার্থ গিলতে বাধ্য করার ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছে তার সংস্থা। কখনো জোর করে, আবার কখনো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের এ কাজে বাধ্য করা হয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে সৌদি আরবে ২ হাজারের বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

    সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটিতে এক বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।

    সৌদি আইনে দূতাবাসের খরচে লাশ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। তবে ধাইনি বলেন, বাস্তবে তা কখনোই ঘটে না।

    তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অভিবাসী নাগরিকের লাশ তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। সৌদি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আমাদের নথিবদ্ধ করা ঘটনাগুলোতে একই বিষয় দেখা গেছে।’

    অতীতে তুরস্ক ও জর্ডানের নাগরিকসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে পরিবারগুলো প্রচারণা চালিয়েছে। তবে কোনো সাফল্য আসেনি বলে জানান ধাইনি।

    তিনি বলেন, জর্ডানের একটি পরিবারকে দেওয়া মৃত্যুর সনদপত্র ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। সেখানে লাশ কোথায় সমাহিত করা হয়েছে বা কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না।

    সৌদি সরকারের কোনো জবাব নেই

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে থাকা সৌদি দূতাবাসের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল বিবিসি। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের ইথিওপিয়ান দূতাবাসের কাছেও মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

    মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে। জুনে গাঁজা-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এক সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার সময় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করা হয়। সেখানে ‘পৃথিবীতে বিপর্যয়’ সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিক ও বাসিন্দাদের মাদকের ‘অভিশাপ’ থেকে রক্ষা করতে সরকার মাদক পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনে নির্ধারিত কঠোরতম শাস্তি কার্যকরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদকের কারণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    সৌদি আরবে বর্তমানে কতজন বন্দি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন, তা দেশটির সরকার প্রকাশ করে না। তবে মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, এই সংখ্যা শত শত হতে পারে।

    এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের গবেষক জোয়ি শিয়া বলেন, সৌদি আরবে গোপনে বা কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। এতে বন্দি ও তার পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

    ‘পরের পালা কার?’

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি আরবের এই গোপনীয়তা কারাগারে থাকা বন্দি জীবনও অনিশ্চয়তায় ভরিয়ে তুলেছে।

    নিরাপত্তার কারণে যার পরিচয় ও অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি, এমন একজন বন্দি তার কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা বিবিসিকে জানিয়েছেন। ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদক পাচারের অভিযোগ তিনি স্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা পাওয়ার পরও তিনি ক্ষমার আশা করছেন।

    এই বছর তিনি তার ১৫ জন সহবন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন। এখন সারাক্ষণ নিজের মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর।

    ওই বন্দি বলেন, ‘প্রতিবার যখন রক্ষীরা দরজা খোলে, আমরা ভাবতে থাকি এরপর কার পালা আসবে।’

    তিনি একটি অলৌকিক ঘটনার—মুক্তির—জন্য প্রার্থনা করছেন। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিণতি যদি হয়, তাহলেও তার একটি চাওয়া আছে। তিনি চান, তার লাশ যেন দেশে পাঠানো হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তায় থাকি যে আমার বাবা-মা হয়তো আমার লাশটাও দেখতে পারবেন না।’

  • বাব আল-মান্দাব নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

    বাব আল-মান্দাব নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

    বাব আল-মান্দাব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে হুথিদের দ্রুত অগ্রগতিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে জাতিসংঘ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ।

    ফ্রান্সের আহ্বানে নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার বিকেলে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

    ফরাসি দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বাব আল-মান্দাবের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

    ইয়েমেন ও জিবুতির মধ্যে অবস্থিত প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ।

    চলতি মাসে আবার লড়াই শুরুর আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ দখলে নিয়েছে হুথিরা। তাদের দখলে গেছে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে অবস্থিত মায়ুন (পেরিম) দ্বীপও।

  • ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় নিস্ক্রিয় রাজনীতিবিদরা

    ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় নিস্ক্রিয় রাজনীতিবিদরা

    ব্রিটেনে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ বাড়ছে এবং দেশটির মূলধারার রাজনীতিকেরা তা মোকাবিলায় বিপজ্জনকভাবে উদাসীন। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বৈষম্য শুধু ব্যক্তিগত পক্ষপাতের বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

    ব্রিটিশ সমাজে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি বৈষম্য ও সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটির গভীরতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে উগ্র ডানপন্থী দলগুলো মুসলিমবিদ্বেষকে নিজেদের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে।

    সমসাময়িক ইসলামোফোবিয়ার শিকড় সাম্প্রতিক কয়েক বছরের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা নব্য রক্ষণশীল রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর সময় গৃহীত বিভিন্ন নীতির মধ্য দিয়ে মুসলিমদের প্রতি সন্দেহকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের ‘প্রিভেন্ট’ নীতিও এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সন্দেহের উদাহরণ।

    রাজনৈতিকসংবাদ

    সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ নিয়েও একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। মুসলিমদের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে কখনো কখনো উগ্রবাদ বা নিরাপত্তাঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। এর ফলে মুসলিম নাগরিকদের বৈধ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়াও সমালোচিত হয়েছে। মুসলিম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা সমস্যার সমাধান না করে বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সমাজের কাঠামোগত বৈষম্য ও রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর দূরে থাকা ইসলামোফোবিয়ার বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

    বর্ণবাদকে শুধু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। বর্ণবাদ বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের একটি হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারে। আজ মুসলিমদের যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে একই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।

    আফগান ও ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের প্রতি ব্রিটেনের আচরণের পার্থক্যও প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতের উদাহরণ। বিভিন্ন শরণার্থী জনগোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রীয় নীতিতে বৈষম্য থাকলে তা সমাজে বৃহত্তর অসমতার ধারণাকে আরো শক্তিশালী করে।

    ইসলামোফোবিয়াকে কেবল ব্যক্তিগত ঘৃণা বা বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার রাজনৈতিক মাত্রা আড়ালে থেকে যাবে। ব্রিটিশ রাজনীতিকদের এখন মুসলিমবিদ্বেষকে স্পষ্টভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তা না হলে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।

  • মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    সৌদি আরবের মদিনার জাবাল সাইয়িদ এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান মিলেছে। এসব আকরিকে রয়েছে বিরল খনিজ। বিশেষ করে ভারী বিরল খনিজের ঘনত্ব বেশি। একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়ামেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

    সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমানের বরাত দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

    ইন্ডিয়া টুডে জানায়, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার সময় এসব আকরিকের সন্ধান পাওয়া যায়।

    আরব নিউজও বিন সালমানের বরাত দিয়ে একই তথ্য জানিয়েছে।

    ইউরেনিয়ামের এই সন্ধান সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের নতুন ক্ষেত্র গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করছে। এর অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে এবং সৌদি আরবও সেই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইয়েমেনে আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠা হুথি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী সমুদ্রপথ আরো সংকুচিত করে দিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দাবি, ইরানের কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।

    আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বহুমুখীকরণে বিনিয়োগ করছে। ইউরেনিয়ামের নতুন এই সন্ধান সেই উদ্যোগকে আরো গুরুত্ব দিচ্ছে।

    এর আগে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে চুক্তি করেছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি এ চুক্তিতে সই করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ‘কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের’ ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি উন্নয়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের তদারকি ছাড়াই নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    মদিনায় এখন বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ায় সৌদির সেই পারমাণবিক পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হিসাব পাল্টে যাচ্ছে

    মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হিসাব পাল্টে যাচ্ছে

    মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গাজা সংকটে আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর কর্মকাণ্ড সেই প্রশ্নকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। গাজায় দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়ের সময় বিপুল অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতার অধিকারী অনেক আরব রাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিপরীতে আনসারুল্লাহ গাজার সঙ্গে নিজেদের সামরিক অবস্থানকে সরাসরি যুক্ত করে লোহিত সাগরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে আঞ্চলিক শক্তির হিসাব নতুনভাবে সামনে এসেছে।

    আরব বিশ্বে বিপুল সংখ্যক সেনা, আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, বিদেশি সামরিক ঘাঁটি এবং বড় প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে। কিন্তু গাজায় ব্যাপক ধ্বংস ও মানবিক সংকটের সময় এসব সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে।

    এই পরিস্থিতির বিপরীতে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বছরের পর বছর যুদ্ধ, অবরোধ ও সামরিক চাপের মুখেও গাজার সঙ্গে তাদের অবস্থানকে যুক্ত করেছে এবং লোহিত সাগরে কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর মূল্য আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে তাদের অগ্রগতি এবং বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়া শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতার ধারণাকেও বদলে দিয়েছে।

    সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রের সংখ্যা বা আধুনিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না। কোনো বাহিনীর সদস্যরা কেন লড়ছেন, কী উদ্দেশ্যে লড়ছেন এবং আত্মত্যাগকে তারা কীভাবে দেখছেন—এসব বিষয়ও সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা আর কার্যকর রাজনৈতিক বা সামরিক শক্তি অর্জন এক বিষয় নয়।

    ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে এবং পশ্চিমা সামরিক সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সৌদি আরব। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও হামলার পর বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগর উপকূলে আনসারুল্লাহর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় উপসাগরীয় অস্থিতিশীলতা থেকে সৌদি তেল রপ্তানিকে দূরে রাখার বিকল্প ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

    ইরান এই দুর্বলতাকে কৌশলগত সুবিধায় পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কয়েক মাসের যুদ্ধও ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এবং ইয়েমেনে আনসারুল্লাহর অবস্থান সৌদি আরবকে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরের চাপের মুখে ফেলেছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি হরমুজের বিকল্প হিসেবে তৈরি হলেও সেটিও এখন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠিন হয়েছে।

    উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সামরিক ব্যয় নিয়েও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এসব রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ভিন্নমত দমন ও রাজতান্ত্রিক শাসন রক্ষায় শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের কৌশলগত ভূমিকা অনেক বেশি সীমিত। ফিলিস্তিন ইস্যু আরব রাজনৈতিক চেতনায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে অনেক রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া বিবৃতি, সম্মেলন ও কূটনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতিও একই ধরনের সংকটের অংশ। মার্কিন কৌশল দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, জোট এবং চাপ প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব চাপ অনেক ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার, সৌদি অবকাঠামোয় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা তারই উদাহরণ।

    ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বৈধতার সংকট তৈরি করেনি; বরং আগে থেকেই থাকা সেই সংকটকে দৃশ্যমান করেছে। ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যেখানে ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী ছিল, সেখানে আনসারুল্লাহ তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত হয়েছে—এমন একটি তুলনা তৈরি হয়েছে।

    এর সবচেয়ে বড় প্রভাব তাৎক্ষণিক কোনো বিপ্লব নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বৈধতার সংকট। যখন রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যবধান বাড়ে এবং জনগণ প্রশ্ন করতে শুরু করে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষমতা আসলে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন সংকটটি আর শুধু সামরিক থাকে না—তা রাষ্ট্রের বৈধতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

    শাসকগোষ্ঠী বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান, নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক পরামর্শক ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু জনগণের আস্থা বা বিশ্বাস অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। ক্ষমতার উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্রের জনগণ ও নিরাপত্তা কাঠামোর সদস্যদের মধ্যে একই প্রশ্ন তৈরি হলে সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক সংকেত।

  • মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    দেশটির বিমানবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।

    মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

    মেইঙ্ক বলেন, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সব সময় প্রস্তুত থাকে। এ কারণে স্পেস ফোর্সের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি মেইঙ্ক। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।

    ট্রয় মেইঙ্কের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মেইঙ্ক আরো বলেন, শুধু আকাশে নয়, মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কোনো স্যাটেলাইট ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব।

    মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এসব অস্ত্র গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য এই পরিকল্পনার আওতায় বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের চালু করা স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রকল্পটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।

    রিগ্যানের এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা পরিত্যক্ত হয়। কর্মসূচির অধীনে প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।

    গত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনার নিন্দা করেন। তিনি এটিকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। লাভরভ বলেন, ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।

    ২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া—এই চার দেশ স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

    ২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সফলভাবে ধ্বংস করে। ওই সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করেছিল মন্ত্রণালয়।

  • চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    প্রতি বছর বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকেযশোরের চৌগাছা উপজেলারহাজরাখানা গ্রামে শুরু হয়ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা। এ বছর মেলা চলবে ১৫ দিন।মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমিতি মিলেছে ১৫ দিনের বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় এ মেলার উদ্বোধন করবেন মহিলা সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জায়গা পছন্দ করে দোকান বসিয়েছেন। শিশুদের হরেক রকমের খেলার সামগ্রীতে ভরে উঠেছে মেলার মাঠ । প্রতিবছর প্রশাসনিকভাবে ৫/৭ দিন মেলার অনুমতি থাকে। এ বছর প্রশাসনিক ভাবে ১৫ দিনের অনুমোতি দেওয়া হয়েছে।

    শত বছরের বেশি সময় ধরে চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ মেলা প্রতি ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার শুরু হয়। মেলার সঠিক বয়স আজ অবধি কেউ সঠিক বলতে পারেনি। এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিরা জানান, তাদের দাদার আমল থেকে এই মেলার গল্প শুনছেন।

    মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের মেলার কপোতাক্ষ নদে স্পিড বোড চলবে মাশিলা খাট থেকে । কাঠের তৈরি হরেক রকমের আসবাবপত্র দোকান বসেছে। মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, ‘নৌকা-দোলা’, নাগরদোলা, জাম্পিং, স্লিপিংসহ বিভিন্ন রাইডিং বসানো হয়েছে।

    মেলায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে এসেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলাম, সালামত হোসেন ও আরব আলী। তারা বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে এই মেলায় আসেন। ভালো বেচাবিক্রি করে ব্যাপক লাভনিয়ে বাড়িতে ফিরে যান।

    যশোরের বাঘারপাড়ার বসুন্দিয়ার নামকরা খোকন ভাইয়ের চটপটি এসেছে মেলায়। ইতোমধ্যে কম বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক খোকন। প্রসাধনী পণ্য নিয়ে এসেছেন মাদারীপুরের উসমান মোল্লা। তিনি বলেন, বলুহর মেলা বলে কথা; প্রতি বছরই আসি। এবারও এসেছি; আশা করছি ব্যবসায় মন্দ হবে না।

    শিশুদের হরেক রকমের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বগুড়ার ব্যবসায়ী লিটন হোসেন। তিনি বলেন, এবার ভাল ব্যবসায়ী হবে প্রত্যাশা করছি। ঢাকার গুলিস্থান থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি কম্বল নিয়ে এসেছেন।

    বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান ও কমিটির সাধারণ বিএম বাবুল আক্তার জানান, বলুহ মেলা হচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। যা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। গ্রামবাসীসহ এ অঞ্চলের সকলের সহযোগিতা নিয়ে মেলা চালানো হবে। ইতোমধ্যে সেই ব্যপারে আলোচনাও করা হয়েছে।

    তবে এলাকাবাসী দাবী মেলার নামে অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপ যেন না হয়।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, শর্তসাপেক্ষে ১৫ দিনের জন্য বলু মেলার অনুমতি দিয়েছেন যশোর পুলিশ সুপার মহোদয়। মেলায় আইনশৃঙ্খা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে। অশ্লীলনৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অসামাজিক কার্যকালাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইরানে অবরুদ্ধ ৫০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন কর্নেল

    ইরানে অবরুদ্ধ ৫০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন কর্নেল

    মার্কিন বিমানবাহিনীর এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার কর্নেল ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ ইরানের মাটিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রায় ৫০ ঘণ্টা গুরুতর আহত অবস্থায় একা আত্মগোপনে ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

    তিনি জানান, প্যারাশুট ঠিকমতো না খোলায় প্রচণ্ড গতিতে মাটিতে আছড়ে পড়েন তিনি। এতে তার মেরুদণ্ড ও হাত ভেঙে যায়। কাঁধেও গুরুতর আঘাত লাগে। মাথা ও মুখ কেটে গিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। এত গুরুতর আহত হওয়ার পরও মানসিক শক্তি ধরে রেখে পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন তিনি।

    পরে বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে ইরান থেকে ফিরে আসেন এই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ এপ্রিল ইরানের একটি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। প্রায় ৩ কোটি ডলার মূল্যের দুই আসনের ওই যুদ্ধবিমানে ছিলেন পাইলট ‘আলফা’ এবং ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার ‘ব্রাভো’, যিনি মার্কিন বাহিনীর একজন কর্নেল।

    বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই কর্মকর্তাকেই প্যারাশুট নিয়ে ইরানের ভূখণ্ডে নামতে হয়।

    মাঝআকাশে খুলছিল না প্যারাশুট

    বিমানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্রাভো বলেন, তার মনে হয়েছিল যেন একটি প্রচণ্ড গতির মালবাহী ট্রেন এসে বিমানে ধাক্কা দিয়েছে।

    খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যায়, বিমানটিকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। ফলে দুজনকেই বিমান থেকে ইজেক্ট করতে হয়।পাইলট ‘আলফা’ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হন। কিন্তু ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার ‘ব্রাভো’ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পড়ে গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    প্যারাশুট নিয়ে নিচে নামার সময় তিনি দেখতে পান, সেটি ঠিকমতো খুলছে না। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ব্রাভো বলেন, আমি উপরে তাকিয়ে দেখলাম প্যারাশুট খুলছে না। সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্ত।

    তার ধারণা, প্যারাশুট ছাড়া ঘণ্টায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল গতিতে প্রায় ৫ মাইল দূরে গিয়ে তিনি মাটিতে পড়েন।

    পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ায় তার শিরদাঁড়া ও একটি হাত ভেঙে যায়। কাঁধেও গুরুতর চোট লাগে। মাথা ও মুখ কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

    আহত অবস্থায় পাহাড়ে আত্মগোপন

    এত গুরুতর আহত হওয়ার পরও ব্রাভো থেমে থাকেননি। তিনি বুঝতে পারেন, শত্রুপক্ষের এলাকায় একই জায়গায় অবস্থান করলে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সে সময় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইরানি সেনা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য তার সন্ধানে ওই ১০ মাইল এলাকার মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। এমনকি ইরানি টেলিভিশনে তার মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল।ব্রাভো বলেন, ইরানি টেলিভিশনে বন্দি হিসেবে নিজের মুখ দেখানোর ভয়েই আমি থামিনি।

    সামনে ছিল পাহাড়ঘেরা একটি উপত্যকা। ভাঙা পিঠ ও হাত নিয়েই তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি এলাকায় উঠে যান। পরে পাহাড়ের একটি খাঁজে আশ্রয় নেন।

    তার কাছে খাবার বা পানি প্রায় কিছুই ছিল না। এর সঙ্গে ঠান্ডার কারণে শারীরিক যন্ত্রণাও আরও বেড়ে যায়।

    অল্প অল্প করে বিশ্রাম নিয়ে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতেন, যাতে ইরানি বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। একই সঙ্গে তিনি সংকেত পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ২৪ ঘণ্টা মার্কিন বাহিনী তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেনি।

    শুরু হয় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তখন তাকে উদ্ধারের জন্য বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়।গত ৪৬ বছরে এই প্রথম ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে কোনো মার্কিন সেনাকে উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে মাঝরাতে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দুই সেনাকেই খুঁজে বের করে উদ্ধার করতে হবে।

    অভিযানে শতাধিক সেনা, বিপুলসংখ্যক বিমান ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মাটিতে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সেনা উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। আকাশে ছিল শতাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন।

    উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সিআইএর

    ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তার গতিবিধি শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

    একই সময়ে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে চালানো হয় ডিসেপশন ক্যাম্পেন। ব্রাভো যে এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন, তার কাছাকাছি ইরানের আইআরজিসি বাহিনীর ওপর মার্কিন বিমানবাহিনী হামলাও চালায়।

    এর পরই শুরু হয় চূড়ান্ত উদ্ধার অভিযান। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর শেষ পর্যন্ত মার্কিন উদ্ধারকারী দল ব্রাভোর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

    উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছানোর সেই মুহূর্তকে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন ব্রাভো। বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীকে ফোন করে নিজের বেঁচে থাকার খবর জানান তিনি।

    ব্রাভোর মতে, ঘটনাটি শুধু তার ব্যক্তিগতভাবে বেঁচে ফেরার গল্প নয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, সহযোদ্ধাদের ওপর আস্থা, নেতৃত্ব এবং ‘কাউকে পিছনে না ফেলে আসার’ মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতির উদাহরণ।

    এত চোট ও তীব্র যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি মানসিক শক্তি হারাননি। উদ্ধারকারী দল যখন তার কাছে পৌঁছায়, তখন ব্রাভো মুখ ফুটে শুধু একটি কথাই বলেছিলেন, চলো যাওয়া যাক।

    মার্কিন সেনাবাহিনীর এই উদ্ধার অভিযান এবং ব্রাভোর বেঁচে ফেরাকে বিশেষজ্ঞরা একটি শব্দেই ব্যাখ্যা করছেন, ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা।

  • হুথি প্রশ্নে পাকিস্তানের সুর বদল

    হুথি প্রশ্নে পাকিস্তানের সুর বদল

    ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অবস্থান থেকে সরে আসার পর সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। হুথিদের হুমকি নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান বদলে যাওয়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    চলতি বছরের বেশিরভাগ সময় পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালের আলোচনায় সহযোগিতা করেছে, অন্যদিকে ইরানের উপসাগরীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই পক্ষের সঙ্গে এই ভারসাম্য ধরে রাখা ইসলামাবাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

    সৌদিকে আশ্বস্ত করতে পাকিস্তানের তৎপরতা

    সপ্তাহান্তে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠে পাকিস্তান। হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার পর সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি পাকিস্তান বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে, যেখানে সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তানকে সহায়তায় এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনি হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    ‘মক্কা চুক্তি’র পরীক্ষা

    শেহবাজ শরিফের সৌদি যুবরাজকে ফোন করার এক দিন আগে ইরাক থেকে চালানো একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে তার ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়।

    সৌদি তেল রপ্তানির জন্য এই পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুইজন আহত এবং একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সৌদি শহর ও জ্বালানি স্থাপনাও রয়েছে।

    গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের জন্য এই সংঘাত প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে আগে থেকেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা।

    তবে গত সপ্তাহে পাকিস্তান বলেছিল, মক্কা চুক্তির অর্থ এই নয় যে হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এতে চুক্তির অন্য অংশীদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’

    সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় শেহবাজ শরিফ সৌদির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা করেছেন।

    তিনি বলেন, এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ও দেশটির জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শেহবাজ শরিফ বলেছেন, হুথিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

    শেহবাজ শরিফ আরও জানান, তিনি, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো ও শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

    পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ

    পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হুথিদের হুমকি দেশটিকে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বছরের শুরুতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনায় হুথিদের বর্তমান তৎপরতা পাকিস্তানের জন্য বেশি সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তারা মনে করছেন।

    রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে সংঘাতের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তানের পরিকল্পনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব চুক্তির পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকে।

    তবে পাকিস্তান একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ইরান ও হুথিরা যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে, তা ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।

    ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ইরানকেও অতিরিক্ত ক্ষুব্ধ না করার কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে।

  • ইসরাইল ঘেসার অভিযোগে ২৪০ নাগরিকের সম্পত্তি জব্দ করল

    ইসরাইল ঘেসার অভিযোগে ২৪০ নাগরিকের সম্পত্তি জব্দ করল

    ইসরাইল ও অন্যান্য ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশের’ সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২৪০ জনের সম্পত্তি জব্দ করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশের বিরুদ্ধে ‘প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড’ কিংবা অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, যার ফলে দেশের অবকাঠামোর ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।

    ইরানের বিচার মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আইআরআইবিকে বলেন, “এই সম্পত্তিগুলো ইরানি জনগণের। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে এসব সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ”

    গত বছর ইরান গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করে। ওই আইনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল কিংবা অন্য কোনো ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং অভিযুক্তদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, ইসরাইলকে ‘বৈধতা দেওয়া’ থেকে শুরু করে বিদেশি নেটওয়ার্কের কাছে ছবি বা তথ্য সরবরাহের মতো কর্মকাণ্ডও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • বড় পরিবর্তন আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে

    বড় পরিবর্তন আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে

    যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে।

    এতদিন শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার পুরো সময়টা জুড়ে বৈধভাবে থাকার সুবিধা পেতেন। তবে এখন থেকে সেই প্রচলিত নিয়মটি তুলে দেওয়া হচ্ছে।

    এর বদলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। ফর্ম আই-টোয়েন্টি বা ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর ননইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ফর্মে পড়াশোনার যে সময়সীমা উল্লেখ থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই মেয়াদ নির্ধারিত হবে। তবে কোনোভাবেই এই মেয়াদ চার বছরের বেশি হতে পারবে না।

    এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার নিয়মেও বড় প্রভাব পড়ছে। এতদিন পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত। নতুন নিয়মে সেই সময় কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে।

    এই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীকে হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, নতুবা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে নিতে হবে। তবে আগের মতো এবারও ক্লাস শুরুর অন্তত ৩০ দিন আগে দেশটিতে প্রবেশ করার সুযোগ বহাল রয়েছে।

    কিছু শিক্ষার্থীর জন্য এই সময়সীমায় বিশেষ কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। যেমন ইংরেজি ভাষা শিখতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ২৪ মাস এবং পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটিসহ সব মিলিয়ে কেবল ১২ মাস সময় পাবেন।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কারও পড়াশোনা শেষ না হয়, তবে তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে হবে। এর জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ, ফি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ আছে, তারা চাইলে দেশ ঘুরে আসার মাধ্যমে নতুন করে মেয়াদের অনুমতি নিতে পারেন।

    সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে পড়াশোনার সময়সীমা এবং কাগজপত্রের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

  • দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    কোনো তারকা খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা বোঝার অন্যতম বড় সূচক তার জার্সি বিক্রির পরিমাণ। বাংলাদেশেও জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, হামজা চৌধুরীকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

    ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামার পর দেশের ফুটবল নিয়ে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতেও। বর্তমানে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হামজার নাম-নম্বর সংবলিত জার্সি।

    গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজা চৌধুরীর জার্সি বিক্রি হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কিট স্পন্সর হিসেবে দৌড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে খুব একটা সাড়া পাওয়া না গেলেও হামজা বাংলাদেশ দলে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

    দৌড়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি জার্সিতে ছিল নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর। সেই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে হামজা। ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সিতে হামজার নাম ও নম্বর যুক্ত করে নিয়েছেন প্রায় ৫ হাজার সমর্থক।

    বিক্রির দিক থেকে হামজার পরেই রয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম।

    দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, হামজা বাংলাদেশে আসার পর জাতীয় দলের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ভাষায়, গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজার জার্সি বিক্রি হয়েছে এবং তার আগমনে দেশের ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

    এদিকে হামজার জার্সির ব্যাপক চাহিদার মধ্যেই নতুন ডিজাইনের জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সি নিয়েও সমর্থকদের আগ্রহ বেশ ইতিবাচক। ইতোমধ্যে এর জন্য এক হাজারের বেশি অর্ডার পাওয়া গেছে।

    ফলে হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধু তার ব্যক্তিগত জার্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; জাতীয় দলের জার্সির প্রতিও সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ছে।

    আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জার্সির চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছে দৌড়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এক বছরে এক লাখ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করা।

    নতুন জার্সির নকশা তৈরিতেও ছিল সমর্থকদের অংশগ্রহণ। আবিদ আলমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বেছে নিয়ে চূড়ান্ত জার্সির নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    হোম জার্সির মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে মাতৃভাষা বাংলা। বিশেষ প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঘাম মাত্র আট মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।

    খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের সংস্করণের মূল্য রাখা হয়েছে ৭০০ টাকা।

  • বাস্তুচ্যুত ৭৭ হাজারের বেশি

    বাস্তুচ্যুত ৭৭ হাজারের বেশি

    ইয়েমেনে এক সপ্তাহে হতাহত প্রায় ৩ হাজার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    ইয়েমেনে বিভিন্ন ফ্রন্টে তীব্র লড়াইয়ে মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ৫০৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৩৭৯ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ইয়েমেনের বিভিন্ন গভর্নরেট বা প্রদেশেই ৪৬৯ জন নিহত বা আহত হন। পরদিন আরো ১৭৭ জন এবং গত শুক্রবার অন্তত ৭৭ হাজার ৭৮৯ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুতি ও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে তাইজ, মারিব, আল-জাওফ, লাহিজ, হোদেইদাহ, আবিয়ান ও শাবওয়া এলাকায়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতের দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল মারিব গভর্নরেটে। সেখানে ৯ সেপ্টেম্বর এক দিনেই ৪৬৯ জন নিহত বা আহত হন। পরদিন আরো ১৭৭ জন এবং গত শুক্রবার ২১৯ জন হতাহত হন।

    সপ্তাহজুড়ে মোট হতাহতের প্রায় ৪৯ শতাংশই মারিবে ঘটেছে। অন্যদিকে তাইজ ও ইয়েমেনের পশ্চিম উপ মানবিক পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়েরকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘটেছে মোট হতাহতের প্রায় ৪৩ শতাংশ।

    সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম ইয়েমেন থেকে ব্যাপক মানুষের পালিয়ে যাওয়ার খবরও এসেছে।

    জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে, নতুন করে যুদ্ধের পরিধি বাড়লে ইয়েমেনে খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট আরো গভীর হতে পারে।

  • হরমুজ অবরোধ:গভীর সংকটে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি

    হরমুজ অবরোধ:গভীর সংকটে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। যুদ্ধের আগে যে পরিস্থিতিতে নির্বিঘ্নে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হতো, তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে আরব দেশগুলোকে।

    কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আলজাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো অবাধে পণ্য পরিবহন চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সামরিক জাহাজগুলোকে ভবিষ্যতে এই জলপথ দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে ইরান রাজি হবে না বলে মনে করেন তিনি।

    বারাকাতের মতে, হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজার ইতোমধ্যে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জন্য ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে নতুন কোনো ব্যবস্থায় সম্মত হতে হবে। কারণ হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত তাদেরই দিতে হচ্ছে।

    বিশ্লেষক জানান, এসব দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি কার্যত আটকে আছে। আন্তর্জাতিক বাজার তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে না। বরং সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই বিকল্প পথ খুঁজে নিচ্ছেন।

    বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি বলে উল্লেখ করেন বারাকাত। তার মতে, বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন পক্ষ বিকল্প উৎস ও পরিবহনপথ ব্যবহার করছে।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা উপসাগরীয় অর্থনীতির ওপর আরো বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নিজেদের রপ্তানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতে আরব দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতার পথে যেতে হতে পারে।

  • কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    কুষ্টিয়ায় চাকা শিল্পের কারিগররা পেশা ছাড়ছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গরুর গাড়ি এবং তা তৈরির অন্যতম উপাদান চাকা নিয়ে জনপ্রিয় গান, নাটক ইত্যাদি রচিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এক সময় ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল চাকা দিয়ে তৈরি গরুর বা ঘোড়ার গাড়ি। সময়ের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে সেসব এখন আর চোখে পড়ে না তেমন একটা। তবুও সেই গাড়ি তৈরির অন্যতম উপাদান চাকার কারিগর, মিস্ত্রি বা এ কুটির শিল্পের মানুষেরা ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো চাকার ওপরই নির্ভরশীল। চাকা ঘুরলে ঘোরে তাদের ভাগ্যের চাকাও।

    কুষ্টিয়া ৬ উপজেলায় রয়েছে চাকা তৈরির শত শত মিস্ত্রি। চাকা তৈরি ও বিক্রির জন্য সারা বাংলাদেশের মধ্যে এ এলাকাটি বিখ্যাত বলে জানান কর্মরত মিস্ত্রিরা। ব্রিটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এ পেশাটিকেই আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তারা। বাজারের চাকা তৈরির মহাজন ও মিস্ত্রিরা জানান, এখানে অনেক পরিবার গরুর গাড়ির চাকা তৈরিতে অত্যান্ত পারদর্শী।

    তারা বলেন, তার বাপ-দাদার পেশা ছিল চাকা তৈরি। তিনিও এ পেশা ছাড়তে পারেননি। একদিনে একটা অর্থাৎ মাসে ২৫ জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। এক জোড়া চাকা তৈরি করতে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকার মত। বাবলা গাছের কাঠই এ চাকা তৈরির একমাত্র উপাদান। কোনো যান্ত্রিক মেশিনে নয়, হাতুড়-বাটাল করাত দিয়ে হাতের কাজের মাধ্যমেই তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন এই চাকা।

    বাবলা গাছ ছোট অবস্থাতেই মজবুত ও সারিযুক্ত হয়। দুই আড়াই হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটা গাছ থেকে এক জোড়া চাকা তৈরি করা যায়। তবে পাঁচ বা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার একটি বড় বাবলা গাছ থেকে দুই জোড়া চাকা তৈরি করা যায়।

    পোড়াদহের চাকা তৈরির মিস্ত্রি ইনতাজ আলী জানান, স মিল থেকে বাবলা গাছের কাঠ চেরাই করে একমাস রোদে শুকাতে হয়। এরপর নিজেদের তৈরি ফর্মা বা মেশিনে করাত দিয়ে চিরে কাজ শুরু করা হয়। চাকার মাঝের গোল অংশ (বেলন), ভেতরের লম্বা লাঠি (পাকে) ও মূল কাঠের বৃত্ত (কৈঠা) লাগিয়ে একদিনের মধ্যেই চাকা সেট হয়ে যায়। এর পর ফিনিশিং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। একজন মিস্ত্রিকে দিনে ৭০০ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এক জোড়া চাকা ৭ থেকে ১০ বছর গাড়িতে চলার জন্য উপযুক্ত থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিরপুরে এসে চাকা নিয়ে যান। বিভিন্ন জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষকরা চাকার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    মিস্ত্রি ও মহাজনরা জানান, চাকা তৈরির বাবলা গাছ এক সময় ছিল সহজলভ্য। কিন্তু এখন আর সারিবদ্ধভাবে মেঠো রাস্তা, ক্যানেলের ধারে বা আশপাশে তা আর দেখতে পাওয়া যায় না। চাকা তৈরির কাজ বারো মাস ধরেই চলে। গরু, মহিষ বা ঘোড়ার গাড়ির জন্য এ চাকা ব্যবহৃত হলেও ঘোড়ার গাড়ি প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামাঞ্চলে কাদাযুক্ত মেঠো রাস্তা ও মাঠ থেকে ফসল আনা নেয়ার জন্য এখনো গরু ও মহিষের গাড়ি ব্যবহৃত হয়।

    চাকা তৈরিতে ব্যস্ত কুটির শিল্পের কারিগররাও জানান, অনেক সময় পুঁজির অভাবে বেশি মূল্যে বাকিতে গাছ কিনতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, ব্যাংকঋণ ইত্যাদির সুবিধা পেলে চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ চাকা শিল্প তথা গরু ও মহিষের গাড়ি টিকে থাকবে, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে এ শিল্পের শত শত কারিগর বা পেশার সঙ্গে জড়িতদের এমনটি জানান সংশি¬ষ্টরা।

  • ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান, ব্রিক্‌সের নিরামিষ ভোজ নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ

    ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান, ব্রিক্‌সের নিরামিষ ভোজ নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ

    ব্রিক্‌স সম্মেলনে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজের নিরামিষ মেন্যু নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    এই বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    রাহুল দাবি করেছেন, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ খাবার খান।রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর ভারতের জনপ্রিয় নিরামিষ খাবার ছোলে ভাটুরের ছবি পোস্ট করেন রাহুল।

    ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, উল্লেখ্য যে ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী। ভারতের আমিষ খাবার সুস্বাদু। যেমন আমার বোনের ছোলে ভাটুরে।রাহুলের এই পোস্টে সরাসরি ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজে কোনো আমিষ খাবার না থাকায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই রাহুলের এই বক্তব্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজের মেন্যুতে পনির, বিভিন্ন ধরনের মিলেটের খাবার এবং জিলাপির মতো ভারতীয় পদ রাখা হয়েছিল। তবে মাছ, মাংস বা অন্য কোনো আমিষ পদ রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছে।

    কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ভারতীয়রা কী খাবেন বা কী খাবেন না, তা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভ্যাস বিজেপির রয়েছে। এবার সেই পছন্দ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশিষ্ট অতিথিদের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, খাবারের মেন্যু নিয়েও রাজনীতি করছে কংগ্রেস। তিনি বলেন, ভারতে আসা রাষ্ট্রপ্রধানেরা নিরামিষ খাবার খেয়েছেন। এই মেন্যুর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে খাবারগুলো স্বাদ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকেও উৎকৃষ্ট ছিল।

    তবে রাহুলের ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান দাবিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেশের আমিষভোজী ও নিরামিষভোজীর সামগ্রিক অনুপাতের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। এর আগের সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় মাছ বা মাংস খেয়েছেন।ফলে রাহুলের পোস্ট শুধু খাবারের পছন্দ নিয়ে মন্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে না।

    ভারতের খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাজনৈতিকভাবে খাবারের ব্যবহার নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিক্‌সের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের নৈশভোজের মেনু এখন সেই রাজনৈতিক বিতর্কেরই অংশ হয়ে উঠেছে।

  • ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    বলিউডে রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের পুরনো প্রেমের গল্প নিয়ে চর্চা এখনো যেন থামার নয়। ‘আজব প্রেম কী গজব কাহানি’র শুটিং সেট থেকে শুরু হওয়া সেই চর্চিত প্রেম একসময় ছিল বি-টাউনের সবচেয়ে বড় ‘ওপেন সিক্রেট’। তবে সম্পর্কের শুরুর দিকে নিজেদের প্রেমকে মিডিয়ার চোখ থেকে বাঁচাতে সব ধরণের চেষ্টাই করেছিলেন এ তারকা জুটি।

    সেই সময় ক্যাটরিনার সঙ্গে কাটানো গোপনীয় মুহূর্তের ভিডিও করায় এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মাইক কেড়ে নিয়েছিলেন রণবীর। অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তৎকালীন সাংবাদিক নিকিতা দলভি।

    বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিকিতা জানিয়েছেন, সেই সময়ে রণবীর-ক্যাটরিনার প্রেমের খবর তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি। এক গভীর রাতে খবর আসে যে ক্যাটরিনার বাড়িতে গেছেন রণবীর এবং রাত দেড়টার দিকে বের হবেন।

    খবর পেয়েই রাত একটার মধ্যে ক্যাটরিনার বাড়ির নিচে লুকিয়ে পড়ে পাপারাজ্জির দল। রণবীর গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের টের পেয়ে টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত কেটে পড়েন। আর এভাবেই প্রথমবারের মতো ফাঁস হয় তাদের গোপন প্রেমের খবর।

    তবে আসল নাটক ঘটেছিল অন্য একদিন। নিকিতা স্মরণ করেন, এক পরিচিতের শেষকৃত্যানুষ্ঠান শেষে বান্দ্রায় ক্যাটরিনার ম্যানেজারের এক ফাঁকা ফ্ল্যাটে গোপনে দেখা করতে গিয়েছিলেন এই জুটি। খবর পেয়ে আগেই সেখানে হাজির ছিল মিডিয়া টিম। ক্যাটরিনা গাড়ি থেকে নামতেই ক্যামেরা অন করা হয়। রণবীর গাড়ির কাচ নামিয়ে সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি শুধু ক্যাটরিনাকে ড্রপ করতে এসেছেন।

    কিন্তু আসল ঘটনা ঘটেছিল ১০ মিনিট পর। রণবীর চলে যাওয়ার ভান করে একটু দূরে গিয়ে আবার হঠাৎ ফিরে আসেন এবং সাংবাদিকদের তাড়া করেন। শুধু তা-ই নয়, রেগে গিয়ে তিনি প্রেসের গাড়ির দরজা খুলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ব্যাগ এবং বুম মাইক্রোফোন নিজের কাছে নিয়ে নেন।

    নিকিতা জানান, রণবীর শর্ত দিয়েছিলেন যে তাদের আর পিছু নেওয়া যাবে না—তবেই জিনিসপত্র ফেরত দেবেন। কিন্তু সাংবাদিক নিকিতাও দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারকাদের পিছু নেওয়া তাদের পেশার অংশ, তাই কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। শেষমেশ সাংবাদিকের একগুঁয়েমি দেখে এবং কৌশল খাটবে না বুঝে নিজের রাগ সামলে জিনিসপত্র ফেরত দিতে বাধ্য হন রণবীর।

    উল্লেখ্য, বহু বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ভেঙে যায় রণবীর-ক্যাটরিনার সেই বহুল চর্চিত সম্পর্ক। পরবর্তীতে দুজনেই যার যার জীবনে এগিয়ে গেছেন। ২০২২ সালে আলিয়া ভাটকে বিয়ে করে সংসারী হন রণবীর, তাদের ঘরে আসে কন্যা সন্তান রাহা।

    অন্যদিকে ২০২১ সালে ভিকি কৌশলকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ক্যাটরিনা কাইফ এবং ২০২৫ সালের শেষভাগে পুত্র সন্তান বিহানের মা হন তিনি।

  • শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

    গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা

    বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এ খবর জানিয়েছে।


    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ৬২ বছর বয়সী আইরিশ-অস্ট্রেলীয় অর্থব্যবসায়ী ক্যামেরন ও’রেইলির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেমিমা। গত মে মাসে মেইল অন সানডে জানায়, প্রায় এক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর এই জুটি বাগদান সম্পন্ন করেছেন। জেমিমার ভাই বেন গোল্ডস্মিথ বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    বেন গোল্ডস্মিতের স্ত্রী জেমিমা জোন্স ইনস্টাগ্রামে বিয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ে উদ্যাপন করছি, আমার প্রিয় মানুষটির সঙ্গে। কী আনন্দের দিন!

    ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ক্যামেরন ও’রেইলি কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করার সময় জেমিমার সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেমিমা নিজেও কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন।
    এর মধ্যে রয়েছে ‘হোয়াটস লাভ গট টু ডু উইথ ইট’। চলচ্চিত্রটিকে তিনি পাকিস্তানের প্রতি তার “ভালোবাসার চিঠি” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    ও’রেইলির আগের সম্পর্কগুলো থেকে চার সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, ইমরান খানের সঙ্গে জেমিমার দুই ছেলে- কাসিম ও সুলায়মান। ১৯৯৫ সালে ইমরান খান ও জেমিমা বিয়ে করেছিলেন এবং প্রায় এক দশক তারা দাম্পত্য জীবন কাটান।
    ইমরান খান বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তবে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
    অন্যদিকে সাবেক স্বামীর মুক্তির দাবিতে জেমিমা ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালিয়ে আসছেন।

  • জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

    এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    এর আগে গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

    প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

  • পাওয়া গেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহীর নিখোঁজ ফেরির

    পাওয়া গেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহীর নিখোঁজ ফেরির

    ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহীসহ যাত্রীবাহী নিখোঁজ ফেরির হদিস মিলেছে। ফেরিটি থেকে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে সাগরে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ফেরিটি নিখোঁজ হয়।

    এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ওই ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাভা সাগরে অবস্থানকালে ফেরিটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জাহাজটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই সম্ভাব্য শেষ অবস্থান চিহ্নিত করে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।

    নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে একাধিক উদ্ধারকারী নৌযান ও হেলিকপ্টার সাগরে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য ফেরি ও যাত্রীবাহী নৌযান অন্যতম প্রধান মাধ্যম। উড়োজাহাজের তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়ায় দূরদূরান্তের দ্বীপে যাতায়াতে সাধারণ মানুষ নৌপথের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে দেশটিতে দুর্বল নৌ-নিরাপত্তা মান ও প্রায়শই মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রায়ই মারাত্মক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

  • ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    ময়মনসিংহে ড্রাম ট্রাকচাপায় দুইজন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও সড়কে উপজেলার কানিহারী তিরখী কালিরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জসিম (৩৮) সদর উপজেলার ২৩নং ওয়ার্ডের সুতিয়াখালী এলাকার মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

    এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অজ্ঞাত এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে গফরগাঁওগামী যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তিরখী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

    বর্তমান গ্যাস-সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

    সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।

    সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

    ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

    হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

    দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

    এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • কেন ২ বিমান নিয়ে সফর করেন পুতিন

    কেন ২ বিমান নিয়ে সফর করেন পুতিন

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার সকালে দিল্লির আকাশে যখন তার বহর প্রবেশ করে, তখন রানওয়েতে অবতরণ করে দেখতে হুবহু একই রকম দুটি বিশেষ বিমান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এক রাষ্ট্রপ্রধানের সফরের জন্য কেন একই সঙ্গে দুটি বিশালাকার বিমান ওড়ানো হয়? আন্তর্জাতিক সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ হলো পুতিনের অতি-উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চিরাচরিত ‘ডিকয়’ পলিসি।

    পুতিন দেশে কিংবা বিদেশে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সফরে গেলে একই নকশার দুটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান প্রায় একই সময়ে আকাশে ওড়ে এবং পাশাপাশি যাত্রা করে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে রুশ প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন বিমানে অবস্থান করছেন। এর একটি বিমানে প্রেসিডেন্ট নিজে থাকেন, আর অন্যটি ওড়ে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিকল্প হিসেবে।

    যদি আকাশে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা বড় অন্তর্ঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে হামলাকারীরা যাতে নির্দিষ্ট টার্গেট শনাক্ত করতে না পারে, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এমন ছদ্মবেশ বজায় রাখা হয়। এছাড়া কোনো একটি বিমানে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে বিকল্প বিমানে কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টিও এর অন্যতম কারণ।

    রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিমান দুটি শুধু সাধারণ বাহন নয়। এগুলোকে বলা হয় ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’। জরুরি যুদ্ধাবস্থায় বিমান দুটিকে সরাসরি ভ্রাম্যমাণ সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আকাশ থেকেই সুরক্ষিত স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে রুশ সামরিক বাহিনী, পরমাণু কমান্ড এবং সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এতে।

    শত্রুপক্ষের রাডারকে বোকা বানাতে এই বিমানে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি ও অ্যান্টি-মিসাইল শিল্ড। চারটি শক্তিশালী অ্যাভিয়াডভিগাটেল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনযুক্ত এই বিমান দুটি মাঝআকাশে তেল না ভরেই একটানা ১১ হাজার কিলোমিটার উড়তে পারে, যার ফলে দীর্ঘ ভ্রমণে কোনো তৃতীয় দেশে অবতরণের ঝুঁকি নিতে হয় না। এই চরম সামরিক সুরক্ষার ভেতরে প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে বিশেষ স্যুইট, আধুনিক শৌচাগার, রান্নাঘর, ডাইনিং এরিয়া এবং কনফারেন্স রুম। দিল্লি সফরে পুতিনের জোড়া বিমানের আগমন আরও একবার বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিল রুশ প্রেসিডেন্টের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ও কৌশলগত সতর্কতার বিষয়টি।
    সূত্র: রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ব্রিকস সম্মেলন: একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা

    ব্রিকস সম্মেলন: একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা

    বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর কয়েকজন এই সপ্তাহান্তে দিল্লিতে একটি বিশাল গোলাকার টেবিল ঘিরে একত্র হয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে ঘোষণা করেন, তাঁর পাশে বসা নেতাদের একজোট হয়ে ভবিষ্যতে ‘নিয়মের অনুসারী’ নয়, বরং ‘নিয়ম নির্ধারণকারী’ হয়ে উঠতে হবে।

    মোদির পাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

    দেশগুলো যে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা কিন্তু নয়; বরং তাদের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—এমনকি একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতেও জড়িয়েছে।

    ২০২০ সালে ভারত ও চীন তাদের বিতর্কিত সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। আর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন ব্যাপক আলোড়ন উঠেছিল, সে সময়ে তেহরান ব্রিকসের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

    এমন সময়ে ভারত যে এই নেতাদের এক জায়গায় সশরীর উপস্থিত করতে পেরেছে, সেটিই কম বড় অর্জন নয়। এটি ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ দিচ্ছে। ইরানের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্মেলন বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগও করে দিয়েছে।

    গত শনি ও রোববার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো সদস্যদের কাছে ব্রিকস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।

    যদিও ব্রিকসকে পশ্চিমাবিরোধী জোট হিসেবে তুলে ধরতে ভারত অনিচ্ছুক। সম্মেলনে মোদি নিজেই বলেছেন, এই জোট ‘কারও বিরুদ্ধে নয়’।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দিল্লির জন্য এই পার্থক্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরস্পরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত।

    এদিকে সদস্যদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকার পরও এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতে দুবার ব্রিকসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবার সম্মেলনের প্রথম দিনই ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে। যদিও যেসব বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো পাশ কাটিয়ে এই ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে—এমনকি ঐকমত্যে সমস্যাগুলোর সমাধান বিষয়েও তেমন কোনো উল্লেখ নেই।

    যৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার’ নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে এসবের জন্য কাউকেই দায়ী করা হয়নি।

    এ ছাড়া এতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করার বিরোধিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন কোনো পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করা হয়েছে, যা ‘দখলদারত্বকে বৈধতা দিতে বা দীর্ঘায়িত করতে পারে’। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে একেবারেই কোনো উল্লেখ নেই। ব্রিকসের আগের ঘোষণাগুলোর তুলনায় এবারেরটিতে এটি একটি ব্যতিক্রম।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। ঘোষণায় ‘বাছবিচারহীনভাবে বাড়তে থাকা শুল্ক’ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং (বাঁয়ে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করমর্দন করছেন।

    ট্রাম্পের বাণিজ্যিক হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় পাল্টে যেতে শুরু করা বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এখন অনেক সদস্যদেশের অর্থনীতির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে এ সম্মেলনে অন্যতম দিক হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মুখোমুখি বৈঠক। মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন বৈঠক কল্পনা করা কঠিন ছিল। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া এই সম্মেলনে তেহরানের বিশ্বের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখেও ইরান যে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি, এই সম্মেলনে তা প্রমাণ হয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইরানের নৌবন্দর অবরোধ করে রেখেছে, তা সত্ত্বেও ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান মালয়েশিয়া, ভারত, ইথিওপিয়াসহ ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

    চীনের ক্ষেত্রে সাত বছর পর দিল্লিতে এটি ছিল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রথম সফর। ২০২০ সালের সীমান্ত বিরোধের পর থেকে চীন ও ভারতের মধ্যে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। যদিও সেই উত্তেজনা এখন কিছুটা কমেছে। দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য–ঘাটতিও রয়েছে, যেখানে ঘাটতির পাল্লা চীনের দিকেই ব্যাপকভাবে ঝুঁকে আছে।

    এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থা কেমন, তা সি চিন পিং ও মোদির মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই নেতার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ করমর্দন হয়েছে, তবে মোদির বহুল পরিচিত আলিঙ্গন দেখা যায়নি। এ ছাড়া সি চিন পিং ২৪ ঘণ্টার কম সময় দিল্লিতে ছিলেন এবং শনিবার রাতে মোদির দেওয়া নৈশভোজেও তিনি যোগ দেননি।

    তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা এই দুই দেশের জন্যও সপ্তাহান্তের এই আয়োজন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্যের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

    সর্বোপরি সম্মেলনটি দেখিয়েছে, পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে থেকেও ব্রিকস প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা ও নিজেদের অবস্থান নিয়ে কৌশল ঠিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

  • দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা ১ হাজার ৩৯১ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ ঘটনায় চার সার ব্যবসায়ীকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি সার গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

    সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানায়, গত দুই দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল ইসলাম।

    এ সময় মেসার্স শাহির ট্রেডার্সের গুদাম থেকে ৭৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৪৪৬ বস্তা টিএসপি, ২৭৬ বস্তা ডিএপি, ৪৬ বস্তা এমওপি ও ১৪ বস্তা ইউরিয়া রয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: নাসিম ইকবাল খোকনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরে একই এলাকায় অনুমোদনহীন খুচরা বিক্রেতা মো: আলিমের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে সাত বস্তা টিএসপি, সাত বস্তা এমওপি ও তিন বস্তা ডিএপি রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ৪ নম্বর শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনোয়ার হোসেন। সেখানে মেসার্স নবাব ট্রেডার্সের মালিক মশিউর রহমানের নিবন্ধনবিহীন দুইটি ঘর থেকে ৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া একই দিন চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে বিসিআইসি ডিলার মেসার্স হাসেম ট্রেডার্সের মালিক মো: হাসেমের ভাই মো: জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ৫১০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উদ্ধার করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে উন্মুক্তভাবে বিক্রির নির্দেশ দেন।

    অভিযান চলাকালে বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আল এমরান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের কৃত্রিম সঙ্কট প্রতিরোধে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ২৫ অভিবাসী  নিয়ে গ্রিসে নৌকাডুবি

    ২৫ অভিবাসী নিয়ে গ্রিসে নৌকাডুবি

    গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ড।

    সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা দুটি নৌকা থেকে ৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে মোট ৭৭ জন আরোহী ছিলেন।

  • মতলবে ২৫ মামলার আসামি সুমন গ্রেফতার

    মতলবে ২৫ মামলার আসামি সুমন গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুরের মতলবে অভিযান চালিয়ে ২৫ মামলার আসামি মাদককারবারি সুমন প্রধানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাপাতিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে তিনটি জিআর সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করা হয়।

    সুমন ওই গ্রামের মো: এবাদুল্যাহ প্রধানিয়ার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, সুমন প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় পাঁচ বছর চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছর তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদালতের আদেশ রয়েছে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্য ২৫টি মামলা রয়েছে। আমাদের বিশেষ অভিযানে তাকে তার বসতবাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফরাসি ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাবে ইয়ামাল বলেছেন, গত মৌসুমের সাফল্য বিবেচনায় এই পুরস্কার তারই প্রাপ্য।

    মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে আর আমিই এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আমরা দুজনই আছি। তবে এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, সেই বিচারে ব্যালন ডি’অরটা আমারই প্রাপ্য।’

    গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে কাতালান ক্লাবটি। স্পেনের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।

    তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন।

    এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলেতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল অনুষ্ঠানটি।

  • নারীই কি আসছেন জাতিসংঘে ?

    নারীই কি আসছেন জাতিসংঘে ?

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে এবার আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনা ও চাপের মধ্যে জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের পদকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক দায়িত্বগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়। মহাসচিবের হাতে সরাসরি কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা সামরিক শক্তি নেই। তবু বিশ্বের সংঘাত, যুদ্ধ, মানবিক সংকট, শান্তিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এবারের নির্বাচনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ- বার্কেট প্রতিযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। এছাড়া আরো নারী প্রার্থীগণ হলেন: কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, চিলির মিশেল ব্যাশেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, ইকুয়েডরের ইভোন বাকী। পুরুষ প্রার্থী তিনজন হচ্ছেনÑআর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের মাকি সাল এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।

    তবে এই নির্বাচন সরাসরি ভোটে হয় না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর সাধারণ পরিষদ মহাসচিবকে নিয়োগ দেয়। ফলে প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের রাজনৈতিক সমর্থনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা পরিষদের এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশের বিরোধিতা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে প্রার্থীদের জন্য কূটনৈতিক সমঝোতা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিও এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা ও ফিলিস্তিন সংকট, ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে নতুন মহাসচিবকে অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক পরিবেশ মোকাবিলা করতে হবে।

    বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিবকে একদিকে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে, অন্যদিকে জাতিসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে হবে।

    প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যের বিষয়টি বিবেচনা করে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তাই প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি তিনি কোন অঞ্চল থেকে এসেছেন এবং বিভিন্ন শক্তির কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা—সেটিও নির্বাচনি হিসাবের অংশ।

    পরবর্তী মহাসচিব শুধু জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধান হবেন না; তাকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে হবে, যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গভীর বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত কমানো, পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপের পথ খোলা রাখা এবং জাতিসংঘের প্রতি বিশ্বের আস্থা পুনর্গঠন হবে নতুন মহাসচিবের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামার (উপশাখা) নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সুরমা ইউনিয়নর শিমুলতলা গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থান। ফলে আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিমুলতলা পঞ্চায়েতী কবরস্থানের কিছু অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাশিয়ামারা নদীতে মিশে গেছে। বেশ কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কবরের হাড়গোড় তুলে নিয়ে অন্যত্র কবর দিয়েছেন স্বজনরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শত বছরে এই কবরস্থানে কয়েকটি প্রজন্মের স্বজনরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এই এলাকার মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে কবরস্থানকে ঘিরে। সুযোগ পেলেই গ্রামের মানুষ কবরস্থানে গিয়ে তাদের বাপ-দাদাসহ স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দোয়া করেন। কিন্তু নদী ভাঙনের এই কবল থেকে মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের শেষ স্মৃতি রক্ষায় আতষ্কে পড়েছে স্থানীয়রা।

    এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কবরস্থান নয় পুরো গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

    শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন জানান, বহুবছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই গোরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদী ভাঙনের তীব্রতা দিনদিন বাড়ায় গ্ৰামের অনেক পরিবার তার স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে, হাড়গোড় ও কঙ্কাল খুঁড়ে নিয়ে অন্যত্র কবরস্থ করছেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি কবর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরিভাবে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা না হলে, আমাদের পূর্ব-পুরুষের স্মৃতি সম্বলিত কবরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    শিমুলতলা গ্রামের মইনূল হক বলেন, ‘চোখের সামনে শতশত কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’

    সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন আর-রশীদ বলেন, ‘কবরস্থান হলো মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা এবং অনন্তকালের যাত্রার প্রথম ধাপ। এ কবরস্থান নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শুনে অনেক ব্যতিত হয়েছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই। একবার পরিদর্শন করে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতান জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রিকেটার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’

    আরেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি নিজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’

    অভিযোগ রয়েছে, জ্যোতির কঠোর আচরণে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা স্রষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মোনাজাত করে অভিশাপও চেয়েছেন।

    জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দায়িত্ব পাওয়ার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নিজের প্রভাববলয় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে একের পর এক নতুন মুখকে দলে আনা এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

    এরপর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমন দাবি করেছেন দলসংশ্লিষ্টরা। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিচার-সালিশ পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।

    গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। দল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র তখন দাবি করেছিলেন, অফ-স্পিনার সুমনাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল।

    পারফরম্যান্স ও স্মার্টনেস দিয়ে সুমনা দীর্ঘদিন ধরেই নজর কাড়ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, তাকে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি মনে করেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক সময়েও দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে অধিনায়কের সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

    এর আগে জ্যোতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও মানসিক চাপের মুখে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় পেসার জাহানারা আলম একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। এমন দাবিও রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেছেন, ‘মাঠের অধিনায়কত্ব আর বাইরের অধিনায়কত্ব আবার ভিন্ন। এখানে ওর কিছু জিনিস আছে, যেগুলো না করলেও পারতো। সেই জিনিসটা হচ্ছে, অধিনায়ক হয়েই তখনকার নির্বাচক কাম ম্যানেজার মঞ্জু (বর্তমানে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করা। এই জিনিসটা আসলে আমার মতে ও ঠিক করেনি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একটানা সিনিয়রদের সবাইকে বসিয়ে দিয়ে জুনিয়র যারা ওর কথা শুনছে বা ওর কথা মান্য করছে, সেই ধরনের জুনিয়রদের নিয়েছে। এমনও আছে, যারা অভিষেক পর্যন্ত করেনি, সেই নতুনদেরও ওর কথা অনুযায়ী দলে ঢুকিয়েছে। দল তো এভাবে করে কোনোদিন ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। একটা সময় এর প্রতিফলন ঘটবেই। এখন যেটা ঘটছে, সেটাই তার প্রতিফলন। সে যেভাবে চেয়েছিল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে; কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের ক্রিকেটটা আর নেই।’

  • গাজা গণহত্যা নিয়ে চলচ্চিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরাইলের

    গাজা গণহত্যা নিয়ে চলচ্চিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরাইলের

    গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যা’ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর এর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোহার তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির পুরস্কার জয়কে তিনি ‘ভয়াবহ’ ও ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, নির্মাতারা ‘বিশ্বের ইহুদিবিদ্বেষীদের কাছ থেকে হাততালি পাওয়ার জন্য’ নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন।

    জোহার বলেন, আব্রাহাম ও সোরের কর্মকাণ্ড ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার’ শামিল।

    পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে আমি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে এসব নিন্দনীয় নির্মাতার ইসরাইলি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেব।’

    ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ চালাতে ইসরাইলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    ভেনিসে ছবিটির প্রিমিয়ারে দর্শকেরা ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।

    তথ্যচিত্রটিতে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের সাক্ষাৎকার রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সাক্ষাৎকারদাতারা ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি এআই-চালিত ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় ফিলিস্তিনিদের টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং হত্যার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

    নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বলেন, তার আশা, এই তথ্যচিত্র পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

  • এআই না জানলে পিছিয়ে পড়বে মুসলিমরা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    এআই না জানলে পিছিয়ে পড়বে মুসলিমরা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মুসলিম সমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে মুসলিমরা বাইরের প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    রোববার ভারতের কেরালার কোঝিকোড়ে এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আনোয়ার বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।

    আনোয়ার বলেন, ধর্মীয় আলেমদের বর্তমান সময়ের ‘নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ বুঝতে হবে। এর মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন বিজ্ঞান, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও রয়েছে।

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রোববার কেরালা সফরে যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট সুন্নি আলেম কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন।

  • নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।

    আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।

    তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’

    তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।

    তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।

  • উত্তর কোরিয়ায় সমন্বিত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

    উত্তর কোরিয়ায় সমন্বিত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

    উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনের সমন্বয়ে একটি যৌথ গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে। দেশটির দাবি, এই মহড়ায় তাদের অস্ত্রব্যবস্থার ‘বিপুল ধ্বংসাত্মক শক্তি’ প্রদর্শিত হয়েছে। সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।

    এই মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র একই সময়ে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক ও কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের রকেট লঞ্চার, কামান এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন। উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট এতে অংশ নেয়।

    উত্তর কোরিয়ার দাবি, মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল সমন্বিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা এবং একসঙ্গে ব্যাপক গোলাবর্ষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর করার সক্ষমতা বাড়ানো। একই সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়টিও মহড়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানিয়েছে, মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমুদ্রের দিকে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর হিসাবে, এ বছর এটি উত্তর কোরিয়ার ১৩তম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

    উত্তর কোরিয়ার এই মহড়া এমন সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া শেষ করেছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে আসছে।

    অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশটি ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণ করেছে এবং সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনকে একটি সমন্বিত আক্রমণব্যবস্থার অধীনে পরিচালনার অনুশীলন উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেও করা হয়ে থাকতে পারে।

  • ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক চাই। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলেছিলেন। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না।’

    সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ব্রিকসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত এখন পর্যন্ত খোলাখুলিভাবে কোনো নীতি জানায়নি। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। এটিকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ মনে করে না বাংলাদেশ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আশা করব ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক চাই।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে।

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।’

    স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে এবং জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।

    এ সময় জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, গুম-খুন-হত্যা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

    পরে ‘আমরা ভোলাবাসী’র নেতৃবৃন্দ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন মহাসড়কেরও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে যেটি ভালো হবে, সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

    সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

    সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি হচ্ছে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড।

    ব্যাংকক উপসাগরে যৌথভাবে সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে করা একটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর জাতিসংঘ সমর্থিত সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করতে স্থায়ী সালিশি আদালতের (পিসিএ) দ্বারস্থ হয় নমপেন ।

    ২০০১ সালের সমঝোতা স্মারকে প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিশাল একটি এলাকার কথা বলা হয়েছে। ওই এলাকার ওপর আধিপত্য কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয়েই দাবি করে আসছে।

    ‘এমওইউ ৪৪’ নামে পরিচিত কাঠামোগত চুক্তিটি বাস্তবায়নে ‘কোনো অগ্রগতি হয়নি’ উল্লেখ করে ব্যাংকক গত মে মাসে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে যায়।

    প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশটির চলমান সীমান্ত সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই। গত বছর দুই দফা সংঘর্ষে অনেক মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

    কম্বোডিয়া গত সপ্তাহে বলেছে, ‘থাইল্যান্ড একতরফাভাবে সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বাতিল করার পর’ তারা সমঝোতা প্রক্রিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

    কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জুনে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার অধিকার রক্ষার’ জন্যও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    দুই দেশের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে বিশ্বের প্রাচীনতম সালিশি আদালতের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইনের পাঁচ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত সমঝোতা প্যানেলের সামনে বক্তব্য দেবেন।

    কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন প্রথম বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর বক্তব্য দেবেন তার থাই প্রতিপক্ষ সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও।

    ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পিসিএ বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তঃসরকারি বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা। চুক্তি, বিশেষ সমঝোতা এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের (ইউএনক্লস) মতো বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে এটি দেশ ও বেসরকারি পক্ষের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

    কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।

  • পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে: আইনমন্ত্রী

    পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে: আইনমন্ত্রী

    পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ডারের ওপারে বসে ইয়াবা চোরাকারবারিরা পরিকল্পনা করছে। ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাদক এখন আর শুধু খুলনার সমস্যা নয়। সে কারণে সারা দেশে ডোপ টেস্টের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সন্ত্রাস দমন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারে যাবে না সরকার। মানবাধিকার রক্ষা করে প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করে সন্ত্রাস দমন করা হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের বয়স ছয় মাস। এ সরকারকে আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য সময় দিতে হবে। তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে পচন ধরেছে, সে পচনকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছয় মাসে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯টি দোকানকে মোট ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার পৌরসভার সদরের বিভিন্ন মার্কেটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

    পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মিত্রপ্লাজায় ২৬টি, আবদুল কাদির সুপার মার্কেটে ২৩টি এবং হাবিব সুপার মার্কেটে ৪০টি দোকানে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এসব দোকানের প্রতিটিকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুর রহমান।

    এ সময় আড়াইহাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, লাইসেন্স পরিদর্শক মো: সুমন মিয়া, কর আদায়কারী মো: হানিফ শিকদার, সহকারী কর নির্ধারক মো: ওমর ফারুকসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোবাইল কোর্ট চলাকালে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য দুই দিনের সময় দেয়া হয়।

  • ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ

    ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ

    অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে— হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়।

    ড. ইউনূসের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। চেম্বার আদালতে সোমবারই এর শুনানি হতে পারে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। ওইদিন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়।

    পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭— এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে ড. ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পৃথক দু’টি রিট করে। এরপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেন। তবে গত বৃহস্পতিবার রুল খারিজ করেন হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ। পাশাপাশি রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর।

  • যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ফিলিস্তিনি পুরুষদের

    যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ফিলিস্তিনি পুরুষদের

    গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ ফিলিস্তিনি পুরুষদের শুধু ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতার মধ্যেই আটকে রাখেনি; তাদের আত্মপরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মানসিক অবস্থাকেও গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। চার ফিলিস্তিনি পুরুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যুদ্ধের এই কম আলোচিত প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

    ৩৯ বছর বয়সী আহমেদ যুদ্ধের আগে পিএইচডি করছিলেন এবং একই সঙ্গে রেডিও উপস্থাপক, স্থানীয় ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইটের সম্পাদক ও গবেষক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ তার জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দিয়েছে। আগে যেখানে গবেষণা ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, এখন তাকে পানি সংগ্রহ বা শৌচাগার ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। নিজের কাজ ও অর্জনের মধ্য দিয়ে যে আত্মমর্যাদা তিনি অনুভব করতেন, যুদ্ধের পর তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

    ২০২৪ সালের মে মাসে আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর থেকে তারা তাঁবুতে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা শুনতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী নিজেদের আবেগ ও সমস্যাগুলো নিয়ে আগের মতো কথা বলতে পারেন না। সন্তানদের সামনে সব ঠিক আছে এমন আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করলেও নিজের ভেতরের উদ্বেগ তিনি প্রকাশ করতে পারেন না।

    ৪০ বছর বয়সী নিদাল যুদ্ধের আগে গাজা সিটিতে মোবাইল ফোন ও গৃহস্থালি সামগ্রীর ছোট ব্যবসা করতেন। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা বাস্তুচ্যুত হন এবং তার এক আত্মীয় নিহত হন। পরে তারা যে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানে বিমান হামলায় তার মেয়ে মালেক নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত নিদাল ধ্বংসস্তূপের পাশে তাঁবু গড়ে বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ তার সন্তান, বাড়ি ও অর্থ—সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।

    নিদাল এখন নিজেকে বেকার বলতেও চান না। তার ভাষায়, তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম নন, কিন্তু পরিবারের জন্য আগের মতো উপার্জন করতে না পারায় নিজেকে অসহায় মনে করেন। অধিকাংশ সময় তিনি তাঁবুর পাশে একা থাকেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও কমে গেছে।

    ২৪ বছর বয়সী হুসেইন যুদ্ধের আগে প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করতেন। যুদ্ধের শুরুতে তার বাড়িতে বোমা হামলা হয়। পরিবারের বাড়ি হারানোর পর তাকে শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হয়েছে। প্রথমে মোবাইল চার্জ ও মেরামতের কাজ, পরে ফোন কেনাবেচা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে জীবিকা চালানোর চেষ্টা করেন তিনি। যুদ্ধ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বদলে দিয়েছে।

    হুসেইন বলেন, তাঁবুতে বসবাসের বর্তমান অবস্থায় ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। তবু তিনি বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আশা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তরুণ প্রজন্মই একদিন গাজাকে পুনর্গঠন করবে।

    ২২ বছর বয়সী হামজা যুদ্ধ শুরুর সময় মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তর গাজায় জরুরি চিকিৎসাসেবায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সীমিত চিকিৎসক ও বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে যুদ্ধ তার কাছে পরিবার ও সম্পর্কের গুরুত্ব নতুনভাবে তুলে ধরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই জায়গায় ঘুমানো, ক্ষুধা ও মৃত্যুর আশঙ্কা একসঙ্গে মোকাবিলা করা তাদের পারিবারিক বন্ধন আরও শক্ত করেছে বলে তিনি জানান।

    যুদ্ধের আগে হামজা বিদেশে গিয়ে নিউরোসার্জারি পড়ার এবং ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে ভালো জীবন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে দ্রুত পরিবার গঠনের দিকে ভাবতে বাধ্য করেছে। তার মতে, যখন মানুষ নিজের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা অনুভব করে, তখন পরিবার ও সন্তান ধারণের আকাঙ্ক্ষা আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

    এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, গাজার যুদ্ধের প্রভাব কেবল নিহত, আহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝা যায় না। যুদ্ধ পুরুষদের উপার্জনকারী ও পরিবারের আশ্রয়দাতা হিসেবে প্রচলিত ভূমিকা দুর্বল করেছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও দাম্পত্য সম্পর্ক সংকুচিত করেছে এবং বহু মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও পরিবার, পারস্পরিক নির্ভরতা ও পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • গাজায় মার্কিন মদত বন্ধ করতে হবে-রাশিদা তালিব

    গাজায় মার্কিন মদত বন্ধ করতে হবে-রাশিদা তালিব

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য রাশিদা তালিব। গাজার একটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার খবর প্রকাশের পর তিনি এই আহ্বান জানান।

    মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাশিদা তালিব রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘গাজায় গণহত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কোনো যুদ্ধবিরতিই কখনো কার্যকর হয়নি।’

    ইসরাইলি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শিশুরা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বোমায় নিহত হচ্ছে। আর যারা বেঁচে যাচ্ছে, তাদের অনেককেই আজীবন মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে।’

    মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তালিব বলেন, এই ভয়ংকর জাতিগত নিধনমূলক কর্মকাণ্ডে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তার এই বার্তার সঙ্গে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে গাজার একটি কিন্ডারগার্টেনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই হামলার সময় তীব্র গুলিবিনিময়ের মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু ভবনটির ভেতরে আটকা পড়েছিল।

  • চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী এলাকার দুর্গম এলাকায় চকরিয়া থানার পুলিশের অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে। এ সময় দুই নারীসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৪ আগস্ট) চকরিয়া থানার পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিং-এ তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রাজিব উরপে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দীন( ৪০), জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসু ডাকাত (২৬), সাগার রানা ওরফে শুটার সাগার (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর রানু (৫৫)।

    থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, রোববার গভীর রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়াডের দুর্গম পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকার এক বসত বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এসময়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালাতে গেলে পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে। তাদের শিকার উক্তি মোতাবেক পুকুর জলাশয় ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।

    গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল, একটি দেশীয় শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ এবং ২য় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ডসহ সর্বমোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

  • সৌদিতে ক্যামেল ফেস্টিভাল

    সৌদিতে ক্যামেল ফেস্টিভাল

    সৌদি আরবের তায়েফে অনুষ্ঠিত ক্রাউন প্রিন্স ক্যামেল ফেস্টিভালের চূড়ান্ত পর্বে আনুমানিক ২৭ কোটি থেকে ৪৯ কোটি ২০ লাখ সৌদি রিয়াল বা ৭২ মিলিয়ন থেকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১১৪টি উট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

    উৎসবের চূড়ান্ত পর্বে চারটি চ্যাম্পিয়নশিপ রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম রাউন্ডে ৩৫টি, দ্বিতীয় রাউন্ডে ১৩টি, তৃতীয় রাউন্ডে ৪৬টি এবং চতুর্থ রাউন্ডে ২০টি উট অংশ নেয়। সৌদি ক্যামেল ফেডারেশনের আয়োজনে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এবারের উৎসবে পুরস্কার হিসেবে মোট ৫ কোটি সৌদি রিয়াল বা প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে।

    উৎসবের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল-সাইফ’ বা তলোয়ার এবং ‘আল-বুনদুক’ বা রাইফেল। এগুলো নারী উটের হিয়িল এবং পুরুষ উটের জুমুল বিভাগের চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হয়। এসব শিরোপা অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট উটের মর্যাদা, প্রজননমূল্য এবং বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    উটের মালিক ও রেসিং বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শরিফের মতে, হিয়িল বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একটি উটের সাধারণ বাজারমূল্য ৩০ লাখ থেকে ৬০ লাখ সৌদি রিয়ালের মধ্যে। জুমুল বিভাগের উটের মূল্য সাধারণত ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ রিয়াল। তবে সেরা বংশধারা ও প্রতিযোগিতার রেকর্ড থাকা কিছু উটের দাম ৭০ লাখ থেকে ৮০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত উঠতে পারে।

    তিনি বলেন, চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা করে নেওয়াই একটি উটের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। উটের আগের সাফল্য, বংশধারা, প্রজনন সম্ভাবনা, অর্জিত পুরস্কার এবং প্রতিযোগিতার মান—সবকিছুই এর বাজারমূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

    সৌদি ক্যামেল স্পোর্টসের মুখপাত্র মুরধি আল-খামাইলি বলেন, এই উৎসব সৌদি আরব, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর আরব বিশ্বের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, এটি এখন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তায়েফের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনেও উৎসবটি ভূমিকা রাখছে।

    ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ক্রাউন প্রিন্স ক্যামেল ফেস্টিভালে এক লাখের বেশি উট অংশ নিয়েছে। এ আয়োজন ইতোমধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একাধিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উটের দৌড় আয়োজনের রেকর্ড গড়ে উৎসবটি, যেখানে ২১ হাজার ৬৩৭টি উট অংশ নেয়।

    এবারের অষ্টম আসরের বিভিন্ন পর্বে সৌদি মালিকানাধীন উটগুলো সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে। তাদের উটগুলো মোট ১৩১টি হিটে জয় পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন উট ৩৫টি এবং কাতারের উট ২৭টি জয় পেয়েছে। কুয়েত ও ওমান তিনটি করে এবং বাহরাইনের উট একটি জয় পেয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় বেদভিটা গ্রামে নিখোঁজের তিনদিন পর পরি রানী হাজরা নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার সকালে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে পাটখেত থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, পরি রানী হাজরা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ইউনেস্কোয় দিতে চাইনা: জাতিসংঘ

    গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ইউনেস্কোয় দিতে চাইনা: জাতিসংঘ

    গাজা উপত্যকার শিক্ষাব্যবস্থা জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) থেকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ বিষয়ে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    সাবেক ইউএনআরডব্লিউএর কর্মকর্তা খলিল আল-হালাবি গাজায় সংস্থাটির শিক্ষা কার্যক্রম ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের খবর নিয়ে গুতেরেসের কাছে জানতে চাইলে জাতিসংঘ মহাসচিব সংক্ষিপ্তভাবে বিষয়টি নাকচ করে দেন। গুতেরেসের জবাব ছিল, ‘অবশ্যই নয়।’

    ৭২ বছর বয়সি আল-হালাবি ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কর্মসূচির উপপ্রধান, স্কুল শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং উত্তর গাজার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পরও তিনি গাজার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।

    আল-হালাবির মতে, গাজার শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউএনআরডব্লিউএর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থাটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার কারণে ইউএনআরডব্লিউএর বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া সহজ হবে না।

    গাজার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ইউনেস্কোর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যেই জাতিসংঘের এই অবস্থান সামনে এলো। মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কার্যক্রম ইউনেস্কোর কাছে সরিয়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

  • মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে সুমি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    সুমি ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে।

    মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, আড়াই বছর আগে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটির ইরান হাওলাদারের ছেলে আকবর হাওলাদারের সাথে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কলহ শুরু হয়। সম্প্রতি দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সুমিকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমিকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। এরই সূত্র ধরে রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

    পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত স্বামী আকবর হাওলাদারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মৃতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে নেয়া হবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা।

  • দুই কারণে ভ্যাপসা গরম

    দুই কারণে ভ্যাপসা গরম

    দিনের শুরুতেই ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ দেশবাসী। সকাল থেকেই রোদের তেজও অনেক বেশি থাকে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, রাজধানীর আকাশের প্রায় ৭০ শতাংশ মেঘে ঢাকা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি নেই।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ।

    আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, বর্ষা প্রায় শেষের দিকে। ফলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে এসেছে।

    আবহাওয়া অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টি হলেও দক্ষিণাঞ্চল একেবারেই নেই।

    আজ সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৪৮ মিলিমিটার। এছাড়া, রংপুরে ৪৩ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ১৮, ঢাকায় ১৪, বাঘাবাড়ীতে ১৩ ও শ্রীমঙ্গলে ১২ শতাংশ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই সময়ে কেবল মোংলায় ২ ও যশোরে ১ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে।

    গতকাল সন্ধ্যায় ফেনী ও রামগতিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি।

    অধিদপ্তর আজ সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি।

  • আরো কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিলেন হুথি বিদ্রোহীরা

    আরো কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিলেন হুথি বিদ্রোহীরা

    লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে আরো কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা । এর ফলে বাব আল-মান্দেব নৌ-চলাচল রুটের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরো সুদৃঢ় হলো।

    ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে যখন পুনরায় সংগঠিত হয়ে যখন পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনা ঘটল।

    সংঘাতের এই তীব্রতা—বিশেষ করে লোহিত সাগরে সৌদি তেলের অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের হামলা বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে ইরানকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন সরকারি কর্মকর্তা ও একজন হুথি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, সরকারি জোটের শত শত সেনা ওই দ্বীপপুঞ্জ থেকে সরে গেছেন। এরপরই বাব আল-মান্দেব থেকে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) উত্তরে অবস্থিত হানিশ দ্বীপগুলোতে নিজেদের যোদ্ধাদের মোতায়েন করেছে হুথি বিদ্রোহীরা ।

  • ৮০ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের ভোট ১২ নভেম্বর

    ৮০ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের ভোট ১২ নভেম্বর

    ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৭ ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ নভেম্বর করার জন্য প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার কমিশন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এগুলোতে ৭ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। চতুর্থ ধাপের ভোট আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হতে পারে। তবে এগুলো এখনও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেশের সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৭২ আটক

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৭২ আটক

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিদেশিকে যাচাই করা হয়। তারা বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, চীন, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের নাগরিক।

    আটকদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। অভিযানে একটি সন্দেহভাজন পতিতালয় ও ভুয়া চিকিৎসকের আস্তানারও সন্ধান পাওয়া যায়।

    অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। আটক সবাইকে বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।

  • কলকাতায় মুসলিম পুলিশের দাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

    কলকাতায় মুসলিম পুলিশের দাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

    পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। আজানের সময় মাইক বন্ধ, রেড রোডে ঈদের নামাজ বন্ধ এবং গরু কোরবানি বন্ধের পর এবার দাড়ি রাখাতেও বিধিনিষেধ জারি করল বিজেপি সরকার। শিখরা দাড়ি রেখে পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে কাজ করতে পারলেও মুসলমানদের ওপর কড়া ফরমান এলো শুভেন্দু অধিকারীর সরকার থেকে।

    কলকাতা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন মুসলিম কর্মী এবং হোমগার্ড। লালবাজারের পক্ষ থেকে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দপ্তর থেকে জারি করা একটি মেমোতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ প্রত্যেক পুলিশকর্মীকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

    কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স)-এর স্বাক্ষরিত ওই মেমোতে বলা হয়েছে, মোট ৪৭ জন পুলিশকর্মী ও হোমগার্ডের আবেদন জমা পড়েছিল। কলকাতা পুলিশের নানা ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং ট্রাফিক পুলিশসহ একাধিক ইউনিটে কর্মরত পুলিশকর্মীরা এই আবেদন করেছিলেন। মেমোর সাথে তাদের নাম, পদমর্যাদা এবং বর্তমান পোস্টিংয়ের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে, যার প্রথম পর্যায়ে ৩০ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৭ জনের নাম রয়েছে।

    আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই দাড়ি রাখার কারণ হিসেবে ধর্মীয় অনুশাসনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে লালবাজারের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত পছন্দ বা কারণ যাই হোক না কেন, বিভাগীয় শৃঙ্খলার নীতিতে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আবেদনকারীদের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এবং লালবাজারের এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করেন। যদিও বিজেপি আসার আগে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূলের জমানায় দাড়ি নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি।

    এই প্রসঙ্গে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি ঘটনার কথাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি রাখার অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। তিনি ১৯৯৬ সালে হজ করার পর থেকে ইসলামিক নিয়ম মেনে দাড়ি রেখে আসছিলেন।

    তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর সিং তাকে দাড়ি কাটতে বা ছেঁটে ফেলতে বললে তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন এবং জানান যে এটি তার ধর্মীয় অধিকার ও বাধ্যবাধকতা। এরপর তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরে সাসপেন্ড করা হয়। এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ১৯৪৩ সালের ‘পুলিশ রেগুলেশন অফ বেঙ্গল’-এর নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মাইনরিটি কমিশনের চেয়ারম্যান কে. এম. ইউসুফ সেই সময় এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপে সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

  • গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামে পানিতে ডুবে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আরিশা খাতুন তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী মাঠপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত আরিশা শফিকুল ইসলামের পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

  • মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের মুলাদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে মুলাদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার সিনেমা হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের সুলতান খানের ছেলে মো. আমিনুল খান (৩৫), একই এলাকার মৃত ইসমাইল খানের ছেলে আব্দুস সালাম খান (৪৮) এবং মুলাদী পৌরসভার পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের দেলোয়ার দর্জির ছেলে সজল দর্জিকে (২৮) আটক করা হয়।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের তিনজনের কাছ থেকে মোট ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    অপরদিকে পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফ পাঠানকে (২০) আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সালাম পাঠানের ছেলে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, ইয়াবাসহ আটক চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    মাদকসেবী ও কারবারিদের নির্মূল করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    যুবলীগ নেতার গোডাউন থেকে ৩৫৫ কেজি সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যুবলীগ নেতার গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ শত ৫৫ কেজি সার জব্দ করেছে পুলিশ।

    রোববার দুপুড়ে উপজেলার পালুহাটি বাজারের ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন (৪৫) এর গোডাউন থেকে এসব সার জব্দ করা হয়। সুজন অচিন্তপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক। তিনি পালুহাটি গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

    জানা যায়, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিস আফিয়া আমীন পাপ্পার নেতৃত্বে পালুহাটি বাজারে অভিযান চালায় গৌরীপুর থানা পুলিশ।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান- অবৈধ সার মজুদের খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদসহ গৌরীপুর থানা পুলিশ নিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

    জানা যায়, অভিযানের পূর্বেই খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা সুজন গোডাউনে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

    উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) কাওসার আহমেদ জানান- সুজন একজন খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ী, কিন্তৃ তিনি খোলা বাজারে সার বিক্রয় বা মজুত করার বৈধতা রাখেন না।

  • নিরাপত্তা পরিষদ অচল, তবে জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

    নিরাপত্তা পরিষদ অচল, তবে জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে পারেনি। বৈশ্বিক নেতৃত্বে বিরাজমান ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ ও বিভাজন নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার সবচেয়ে কড়া মন্তব্যে এ কথা বলেছেন। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দ্য হিন্দু’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

    প্রশ্ন: গত বছর এক বক্তৃতায় আপনি বলেছেন, গণহত্যার ক্ষেত্রে ‘আর কখনো নয়’- এই অঙ্গীকার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পর আপনার কি মনে হয়, যে ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা পালনে সংস্থাটি আর সক্ষম নয়?
    উত্তর
    : প্রথমেই বিষয়টি খুব পরিষ্কার করা যাক। জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে যে আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হইনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের অনেক সংঘাত রয়েছে। কিন্তু দুই পরাশক্তি সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়নি। আর গত ১৮ বছরে জাতিসংঘের কাজের কারণেই মূলত এটি সম্ভব হয়েছে। সমস্যা হলো, এখন আমরা একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছি। একদিকে এমন কিছু পরাশক্তি রয়েছে, যারা এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেনি এবং এমন সব অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে, যার ভয়াবহ পরিণতি হচ্ছে। এই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজনের ফলে মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্য যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন: এখন ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী বাব আল-মান্দাব প্রণালি দখল করেছে- এমন খবর এসেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ কি কোনো সহায়তা করতে পারে?
    উত্তর
    : নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো একটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আমরা যতটা সম্ভব সহায়তা করার চেষ্টা করছি। কৃষ্ণসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব সব জায়গাতেই নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো টোল নেয়া যাবে না, কাউকে অনুমতি দিয়ে অন্য কাউকে সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। নৌ চলাচলের স্বাধীনতা একটি মৌলিক নীতি, যা আমরা রক্ষা করছি। এর পাশাপাশি, খাদ্য ও সার পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্তত কিছু ব্যতিক্রম রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরিতে যুক্ত হয়েছে এবং এ ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছে।

    প্রশ্ন: ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরির জন্য এই সুযোগটি কি আপনি কাজে লাগাবেন?
    উত্তর:
    আমি তাদের সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, পরাশক্তিগুলো যখন বিভক্ত থাকে, তখন কোনো কিছুরই প্রতি সম্মান থাকে না। সবাই মনে করে, তারা যা খুশি করতে পারে। আর আমরা দেখছি, মাঝারি শক্তির দেশগুলোও বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। সুদানের দিকে তাকান। সুদানের সংঘাতে কতগুলো দেশ জড়িত? সংঘাতটি শুধু সুদানের জনগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এরপর আরও অনেক দেশ এতে জড়িয়ে পড়েছে, কারণ সেখানে এক ধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন: ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখন কি একটি সংস্কার করা জাতিসংঘের সময় এসেছে, নাকি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে?
    উত্তর:
    আমরা মৌলিক সংস্কারের জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছি। আর এখানে মূল বিষয়টি হলো ক্ষমতার প্রশ্ন। আমাদের এখনো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো ১৯৪৫ সালের বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটা স্পষ্ট যে জাতিসংঘে গভীর সংস্কার প্রয়োজন, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে। জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা অনেক সংস্কার করছি। কিন্তু মূল প্রশ্নটি হচ্ছে ক্ষমতার প্রশ্ন।

    প্রশ্ন: প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘ যদি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে সেটিকে কি সংস্কার করা প্রয়োজন, নাকি এর পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত?
    উত্তর
    : কিন্তু জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিসংঘ যে বিপুল মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, সেদিকে তাকান। সম্পদ কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের কাটছাঁটের পরও জাতিসংঘের কোনো প্রতিষ্ঠানই ভেঙে পড়েনি। তারা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে এবং সেখানকার মানুষকে সহায়তা করছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের দিকে তাকান। বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে এখনো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা সক্রিয় রয়েছে।

    প্রশ্ন: বিশ্বের বিভিন্ন ভূখণ্ডের প্রকৃত আকারের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে মানচিত্রটি সংস্কারের জন্য জাতিসংঘ সম্প্রতি একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে থাকা সেই মানচিত্র নিয়ে ভারত কি উদ্বেগ জানিয়েছে? সেখানে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ভারতের ভূখণ্ডের কিছু অংশ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
    উত্তর
    : ‘সীমান্তসহ জাতিসংঘের মানচিত্র’ বলে আসলে কোনো বিষয় নেই। সাধারণ পরিষদে যে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে, সেটি কোনো মানচিত্র নয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভূখণ্ডগুলোর প্রকৃত আকার এবং অতীতের ক্ষমতার সম্পর্কের ভিত্তিতে যে ধরনের বিকৃতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো রয়েছে। আমার মনে হয়, সেগুলো সংশোধন করা যথার্থই হবে। তবে জাতিসংঘ সীমান্ত নির্ধারণ করে কোনো মানচিত্র প্রকাশ করেনি। আর কোনো দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করাও জাতিসংঘের কাজ নয়। সুতরাং, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বা বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

    প্রশ্ন: জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে একটি মানচিত্র রয়েছে, যেটিকে নতুন মানচিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
    উত্তর:
    সেটি জাতিসংঘের কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয়। এটি একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দেয়া অবদান। মানচিত্রটি কেবল একটি নির্দেশক হিসেবে রয়েছে। তবে কোন দেশের সীমান্ত কোথায় হবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো সংজ্ঞা বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

    প্রশ্ন: অবশ্যই এটি জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আপনার মোকাবিলা করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ- ভারত ও পাকিস্তান সংঘাতের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। ২০১৮ সালে ভারতে আপনার প্রথম সফরের সময় আপনি ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতিতে সহায়তার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন এবং প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতায় আপনার ‘শুভ উদ্যোগ’ ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এমন কোনো সময় কি এসেছিল, যখন আপনি সত্যিই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছিলেন? যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা তা করেছে।
    উত্তর
    : যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করেছে কি না, তা আমি জানি না। আমি মধ্যস্থতাকারী নই, এটি পরিষ্কার করে বলা যাক। আমি দুই দেশকেই সম্মান করি। দেশ দুটির নেতাদের সঙ্গে আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। আমি আশা করি, একদিন দুই দেশ একসঙ্গে বসতে পারবে। তবে জাতিসংঘ সরাসরি কোনো মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। যেকোনো মধ্যস্থতার জন্য উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। এখানে সেটি নেই।

    প্রশ্ন: শুধু পরাশক্তিগুলো যুদ্ধ করছে- বিষয়টি এখন আর এমন নয়। পরাশক্তিগুলো এখন জাতিসংঘের বিকল্পও সামনে আনছে- যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অব পিস’ এবং চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’।
    উত্তর
    : আপনি কি মনে করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ একটি বিকল্প ব্যবস্থা?

    প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র এটিকেই সেভাবে উপস্থাপন করছে।
    উত্তর:
    যুক্তরাষ্ট্রও সব সময় বলেছে, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের জন্য নয়। আর চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে জাতিসংঘকেই থাকতে হবে।

    প্রশ্ন: কিন্তু এগুলো তো একতরফা উদ্যোগ, যা জাতিসংঘের ব্যবস্থাই যে কাজ করছে, তার জায়গা নিচ্ছে।
    উত্তর:
    এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডের কোনো ত্রুটি সংশোধন করছে না। আর ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক- এটি মূলত গাজা পরিস্থিতির সমাধানের একটি প্রস্তাব। স্পষ্ট করে বলি, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নয়। জাতিসংঘ সারা বিশ্বে কাজ করছে।

    প্রশ্ন: জাতিসংঘের জন্য আরেকটি হুমকি আসছে ইসরাইলের কাছ থেকে। দেশটি শুধু জাতিসংঘের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যায়নি, আপনাকেও ব্যক্তিগতভাবে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করেছে এবং ভিসা দেয়নি। এ ছাড়া জাতিসংঘের বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
    উত্তর
    : আমি কোনো ভিসা চাইনি। একটি বিষয় যদি স্পষ্ট হয়ে থাকে, তা হলো- জাতিসংঘ এবং এর জন্য মূলত আমিই দায়ী, সব সময় অত্যন্ত সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়ার সংঘাত হোক কিংবা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত জাতিসংঘ সব সময় সনদের পক্ষে, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বা মানদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, কখনো কখনো সবচেয়ে দায়িত্বশীল দেশগুলোর কয়েকটিও, যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক আইনকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে না এবং আইনের শক্তির পরিবর্তে শক্তির আইনই প্রাধান্য পাবে- এর জন্য আমরা দায়ী নই।

    প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ আপনার সেই বক্তব্যে উল্লেখ করা ‘আর কখনো নয়’- অর্থাৎ যে গণহত্যার কথা আপনি বলেছিলেন- তার পর্যায়ে পড়ে?
    উত্তর
    : ‘গণহত্যা’ একটি আইনি সংজ্ঞা, যার সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার আদালতের এবং নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের। আমরা যা বলছি, তা হলো- গাজায় যা ঘটছে, তা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতিরই এটি ভয়াবহ লঙ্ঘন। তবে আমরা এর কোনো আইনি সংজ্ঞা দিচ্ছি না। এটি এতটাই ভয়াবহ যে, একে ওই নামে অভিহিত করারও প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্ন: আপনি কি চান, এটিকে (গণহত্যা) হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হোক?
    উত্তর
    : এটি আমাদের বিষয় নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যা ঘটে, তার আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা আমাদের কাজ নয়।

    প্রশ্ন: তাহলে পরবর্তী কোনো দেশ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারাও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের নিজেদের দেশে ঢুকতে দেবে না, মহাসচিবকেও প্রবেশ করতে দেবে না এবং এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাবে, তখন কী হবে?
    উত্তর:
    জাতিসংঘের তা থামানোর ক্ষমতা নেই। আর এটাই সেই সমস্যা, যার কথা আমি শুরুতেই বলেছি।

    প্রশ্ন: এ বছর জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই কি আপনার আরও একটি মেয়াদ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
    উত্তর
    : না, আমার একেবারেই আরেকটি মেয়াদ প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্ন: আপনার পদে প্রার্থী হওয়া অনেকেই নারী। আপনি কি আশা করেন, আপনার উত্তরসূরি হিসেবে জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব নির্বাচিত হবেন?
    উত্তর:
    আমি এই নির্বাচনী প্রচারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তবে আমি মনে করি, জাতিসংঘে, অন্য যেকোনো দেশের মতোই, নারীদের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ থাকা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এটি লিঙ্গসমতা ও লিঙ্গসমতার ভারসাম্যের বিষয়। গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের ১৭০টি নেতৃত্বস্থানীয় পদে নারী ও পুরুষের পূর্ণ সমতা অর্জন করেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটরদের ৫৫ শতাংশই এখন নারী।

    প্রশ্ন: ‘গ্লাস সিলিং’-এর প্রকৃত অর্থই হলো- নারীরা প্রতিষ্ঠানের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন, কিন্তু সর্বোচ্চ পদে থাকবেন না। আপনি কি একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান?
    উত্তর
    : আমি তাতে খুবই আনন্দিত হব।

    প্রশ্ন: আপনার মতে, আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী এবং সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কী?
    উত্তর:
    আমার অর্জন বা ব্যর্থতা কী, তা অন্যদেরই বিচার করতে হবে। আমি যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট, তা হলো- গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের মূলনীতিগুলোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে নানা সংকট মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমরা কখনো দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করিনি। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো- বিশেষ করে যেসব দেশের হাতে ক্ষমতার প্রধান উপকরণ রয়েছে, তাদের বোঝাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি যে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোকে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদকে, আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে সংস্কার করতে হবে।

    প্রশ্ন: আমি ভেবেছিলাম আপনি বলবেন- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের জন্য দেশগুলোর পর্যাপ্ত অঙ্গীকার না করা…
    উত্তর
    : এটি জাতিসংঘের ব্যর্থতা নয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লড়াইয়ে জাতিসংঘ সামনের সারিতে রয়েছে। এটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতা, যারা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে নিজেদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থকে বারবার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    প্রশ্ন: এরপর কী করবেন, তা কি ভেবেছেন? জাতিসংঘের মহাসচিবের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কী করবেন?
    উত্তর
    : আমার একেবারেই কোনো ধারণা নেই। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার যে দায়িত্ব, তা যেন ঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। এরপর কী হবে, তখন দেখা যাবে।

  • মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে পুকুরের পানিতে পড়ে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিশা খাতুন ওই গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আরিশা বাড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল।

    খাওয়া শেষে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতেই বাড়ির পাশে খেলতে যায় সে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

    পরে দ্রুত তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শিশুর ফুফু চুমকি খাতুন বলেন, আরিশা মোবাইল দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষ হলে মোবাইল নিয়েই খেলতে যায়। পরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।