খুলনা বিভাগ

  • চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উক্তো গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সজীব (১৮) নামে এক যুবকের কীটনাশক পানে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সজীব সদর উপজেলার উক্তো গ্রামের হাবলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সজীব দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন।

    এরই মধ্যে বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তিনি কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পাখিভ্যানে করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।

    স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জেরেই সজীব কীটনাশক পান করে থাকতে পারেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সজীব নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

  • দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা সুলতান আহমেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মুক্তারপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদ মুক্তারপুর গ্রামের মৃত দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি দল মুক্তারপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় নিজ এলাকা থেকে সুলতান আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    আরও পড়ুন:হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোরআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে দলিল লেখক, নকল নবিশ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সদর দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বাহাউদ্দীন বলেন, তন্ময় কুমার মণ্ডল প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে লাঞ্চে যান। আজও একই সময়ে লাঞ্চে যাওয়ার পর রেজিস্ট্রি অফিসের গেটের সামনে থেকে কে বা কারা তাকে রিকশায় করে তুলে নিয়ে গেছে বলে তারা শুনতে পান। পরপরই দলিল লেখক ও নকল নবিশরা পেছনে ছুটে যান। পরে জানতে পারেন রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্বপাশের রাস্তা দিয়ে তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নদীর ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

    বাহাউদ্দীন জানান, পথে এক নারী তাদের বলেন, দুইটি রিকশায় করে তন্ময়কে নিয়ে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে উঠানো হয়েছে। তাকে ছাড়াতে গেলে ওই নারীকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও তিনি জানান। তবে কে বা কারা তাকে নিয়ে গেছে এবং পরে কিভাবে তিনি ফিরে এসেছেন, তা তারা জানেন না।

    সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। লাঞ্চের জন্য বাসায় যাওয়ার আগে ওয়াশরুমে গেলে বাইরে চেঁচামেচি শুনতে পান ‘স্যারকে নিয়ে গেছে, স্যার চলে গেছে।’ পরে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে পাওয়া যাচ্ছে না।

    খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: লোকমান হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হয়, সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর কে বা কারা নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলা এবং তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ফিরে আসেন। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি ডকুমেন্ট দেখার জন্য তাকে আশপাশের একটি জায়গায় যেতে হয়েছিল। তিনি লাঞ্চের জন্য রিকশায় করে বের হওয়ার পর কয়েকজন তাকে সাথে করে নিয়ে যায়। পরে কোনো আঘাত না করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।

    ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, তিনি কোনো অস্ত্র দেখেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে কোনো অস্ত্র দেখতে পায়নি। তিনি বলেন, ঘটনাটি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, কিংবা আসলে কী ঘটেছে, তদন্তের পর তা বের করা হবে।

    সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সুস্থ শরীরে আপনাদের সামনে ফিরে এসেছি। কোনো রিকমেন্ডেশন বা নির্দিষ্ট কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। আমাকে বলা হয়েছিল, একটি ডকুমেন্ট দেখে দিতে, কেন বিষয়টি হচ্ছে না। ডকুমেন্টটি অন্য কোনো অফিসেরও হতে পারে। প্রথমে বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তাকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

    মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রিয়ন (২২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নাফিজ (১৮) আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাকিলাদাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিয়ন মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম মন্টু মেম্বারের ছেলে। তিনি যশোর এম এম কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করতেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রিয়ন ও নাফিজ মোটরসাইকেলযোগে কোটচাঁদপুর থেকে বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। তারা মহেশপুর উপজেলার কাকিলাদাড়ী এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রিয়ন ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর আরোহী নাফিজ আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত রিয়নের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের মাতম। এ,আর

  • মহেশপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

    মহেশপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড়, স্বরুপপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় (৬ অক্টোবর) গতরাতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ফসল যেন মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

    ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের শিমের মাচা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে, লাউয়ের মাচা উপড়ে ও ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও পুরো সবজি ক্ষেতই নষ্ট হয়ে গেছে। শিম, বরবটি, লাউসহ মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অনেক কৃষক জমিতে বাঁশ, জাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে যত্ন করে মাচা তৈরি করেছিলেন। সেই মাচায় সবজি ধরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই মাচাগুলো ভেঙে পড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন অসংখ্য কৃষক।

    শুধু সবজি নয়, ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পায়নি ধানের ক্ষেতও। অনেক এলাকার পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ ঝড়ের আঘাতে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পুরো ধানক্ষেতই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ধান চাষিরাও বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

    এছাড়া কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক কলাগাছ ভেঙে গেছে ও উপড়ে পড়েছে। শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের পাতা, ফুল ও ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা জমিতে বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছিলেন। কেউ কেউ ধার-দেনা করে বীজ, সার, কীটনাশক, বাঁশ, জাল ও মাচা তৈরির উপকরণ কিনেছেন। ফসল বিক্রি করে সেই বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

    স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানিয়েছেন ঘুর্নিঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার শ্যামকুড় ও স্বরুপপুর ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    প্রকৃতির ওপর কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিজের ঘাম, শ্রম ও অর্থ দিয়ে ফসল ফলিয়ে কৃষক যখন ঘরে সোনালি ফসল তোলার অপেক্ষায় থাকেন, তখন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। এ,আর

  • কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৮)। প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করে এরই মধ্যে ১ হাজার ৯৪ কেজি ফলন তুলেছেন তিনি। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভের আশাও করছেন এই কৃষক।

    উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্থানপাড়া এলাকায় চলতি মৌসুমে করলার আবাদ করেছেন ইমরান। তিনি মো. সফর উদ্দিনের ছেলে।

    ইমরান জানান, “এক বিঘা জমিতে এগ্রো ওয়ান লিডার জাতের করলার চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। মালচিংয়ের জন্য জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মাটির আর্দ্রতাও দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “এক বিঘা জমিতে তার প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।”

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই এবং বাড়তি শ্রমিক খরচ কৃষকদের জন্য প্রতিবছরই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় মালচিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানি সাশ্রয় এবং শ্রমিক খরচ কমানো সম্ভব হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন।”

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “ফেরোমন ফাঁদ ও মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার প্রতি বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। মাহমুদ আল-ইমরানের এক বিঘা জমির করলা আবাদ ইতোমধ্যে লাভজনক ফলন দিয়েছে।”

  • শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, চালকের সহকারী নিহত

    শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, চালকের সহকারী নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কায় আরিফ হোসেন (৩০) নামে এক চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আরিফের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাভারন হাইওয়ে থানার এসআই আনিছুর রহমান।

    স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা থেকে মুরগির বাচ্চা নিয়ে যশোরের দিকে যাওয়ার সময় নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা মসজিদের সামনে পৌঁছালে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে কাভার্ডভ্যানটি রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে চালকের সহকারী আরিফ মারাত্মকভাবে আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা: সুখেন্দু কুমার মজুমদার বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত আরিফের হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

    এসআই আনিছুর বলেন, ‘গাড়ির চালক ঘটনার পরই পালিয়ে যান। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। কাভার্ডভ্যানটি হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’ এ,আর

  • চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় মামলা, আটক ১

    চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় মামলা, আটক ১

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সরোয়ার হুসাইন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম (২২) একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন চৌগাছা থানা পুলিশ। শফিকুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলার বাঘারদাঁড়ি গ্রামের ইদ্রীস আলীর ছেলে।

    থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামে গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই সরোয়ার হুসাইন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    জানা যায়, ঘটনার দিন গভীর রাতে তিন চোর উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়াল ঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল। টের পেয়ে ইদ্রিস আলী ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম চিৎকার করলে গ্রামবাসি চোরেদের ধাওয়া করে। জনগণের ধাওয়া খেয়ে দুই জন পালাতে সক্ষম হলেও একজনকে ধরে ফেলে গ্রামবাসি। এ সময় গ্রামবাসির এলোপাতাড়ি মারপিটে গুরুতর আহত হয় মিজানুর রহমান । এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আহত মিজানুরকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির বড় ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ,আর

  • মহেশপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন

    মহেশপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন এ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

    ” ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতন হোন,নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন। “এই আহ্বান কে সামনে রেখে

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় মহেশপুর কলেজ স্ট্যান্ড থেকে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মহেশপুর উপজেলা জামায়াত লিফলেট বিতরণ করেছে।

    উক্ত জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের মাননীয় এমপি মোঃ মতিয়ার রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইসমাইল হোসেন পলাশ।

    ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে এবং ৪-১০ অক্টোবর ২০২৬ দেশব্যাপী জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন করছে। এই কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে মহেশপুরে কলেজ স্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেছে। এমপি মতিয়ার রহমান মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ, পৌর শাখার আমির নওফেল হোসেন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ও থানা জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, থানা কর্মপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই মহৎ কাজে অংশ গ্রহণ করেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দায়িত্বশীল বৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এ সময় সাধারণ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর সচেতনতা মূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছেন। এ,আর

  • চৌগাছায় ছেলে হত্যা মামলার আসামি বাবার আত্মহত্যা

    চৌগাছায় ছেলে হত্যা মামলার আসামি বাবার আত্মহত্যা

    যশোরের চৌগাছায় রবিউল ইসলাম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত হানেফ আলী মন্ডলের ছেলে।

    সোমবার ভোরবেলা তার প্রতিবেশি বাদল মন্ডলের বাড়ির পাশে আম গাছের ডালে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেন। সকালে প্রতিবেশিরা তার লাশ ঝুলতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা লাশ নামান।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে রবিউল ইসলাম তার একমাত্র ছেলে তরিকুল ইসলামকে (২৫) বাড়িতে কাজ না করার কারণে কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তরিকুলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় রবিউল ইসলামের ভাই আশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মামলা করেন। পরে ওই মামলায় রবিউল ইসলাম কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান।

    পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, ছেলে হত্যার ঘটনা এবং মামলা নিয়ে রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অশান্তিতে ছিলেন। এর জেরেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিউল ইসলামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর আড়াইশো শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী

    চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাস্টার কামাল আহমেদ।

    প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাসরীন সুলতানা।

    চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি মাস্টার তবিবর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আইনাল হক, ফজলুর রহমান আসাদ, মো: আয়ুব হোসেন, আব্দুল আলীম,মো: কামরুজ্জামান, গোলাম রব্বানী,মো: রবিউল ইসলাম, আজম আশরাফুল ও মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাও আশরাফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী বৃন্দ, সাংবাদিকগণ ও সুধী মন্ডলী।

  • চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

    চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে চৌগাছা উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষকরা উপজেলা সদরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করেন।

    র‍্যালিতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিও জানান।

    র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চৌগাছা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা গোলাম মোরশেদ,উপস্থিত ছিলেন মাওলানা গিয়াস উদ্দিন সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ। এ,আর

  • কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    কয়রায় সবজির ক্ষেতে গাঁজা চাষ, ৪টি গাছসহ ১জন আটক

    খুলনার কয়রায় মাছের ঘেরের পাড়ে শাক-সবজির আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালি (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ঘেরের পাড়ে রোপণ করা চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি মাছের ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি পাড়ে শাক-সবজির মধ্যে গাঁজার গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়রা থানা-পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার দুপুর একটার দিকে ওই ঘেরে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে ঘেরের পাড়ে কৌশলে রোপণ করা চারটি বড় গাঁজা গাছের সন্ধান মেলে। পরে পুলিশ গাছগুলো উপড়ে জব্দ করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মালিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চৌগাছায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ

    চৌগাছায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ

    মাচায় মাচায় লতিয়ে উঠেছে সিমগাছ। কোথাও ফুল, কোথাও ঝুলছে কচি সিম। ভোরের আলো ফুটতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন কৃষক। কেউ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা পাকা সিম তুলে বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগাম ফলন ও ভালো দামের প্রত্যাশায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদার মাঠে এবার সিম চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    চুটারহুদার একই মাঠে সিম চাষ করেছেন রফিকুল ইসলাম, মুসা মণ্ডল, নজু, সাজেদুল, শুকুর আলীসহ কয়েকজন কৃষক। একজনের সফলতা দেখে পাশের জমির কৃষকরাও আগাম সিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
    চুটারহুদার মাঠে ১০ কাঠা জমিতে সিম চাষ করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। এরই মধ্যে তাঁর ক্ষেতের সিম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামে সিম বিক্রি করতে পেরে স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।
    রফিকুল ইসলাম জানান, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগাম ফলন হওয়ায় ইতোমধ্যে সিম বিক্রি শুরু করেছেন এবং ভালো দামও পেয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘এবার গাছ খুব ভালো হয়েছে। সিমও আগে ধরেছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছি এবং ভালো দাম পেয়েছি। আগাম সিম হওয়ায় সামনে আরও ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে।’

    রফিকুল ইসলামের পাশের জমিতে সিম চাষ করেছেন মুসা মণ্ডল। একই মাঠের অন্য জমিতে আবাদ করেছেন নজু ও সাজেদুল। শুকুর আলীসহ আরও কয়েকজন কৃষকও সিম চাষ করেছেন।
    কৃষকদের আবাদে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয়েছে সবুজের আবহ। মাচায় ঝুলে থাকা সিম দেখে বোঝা যায়, মৌসুমের শুরুতেই বাজার ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
    স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সিমের বাজারে চাহিদা থাকায় আগাম ফলন তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে আবহাওয়া, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা তাঁদের জন্য বড় ঝুঁকি। ফলে আগাম ফলনের পাশাপাশি বাজারদরের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে।

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সিম চাষের আলাদা কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে ১১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।
    ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে ফুলসারা ইউনিয়নে ২৩ হেক্টর, সিংহঝুলি ইউনিয়নে ১৫, পাতিবিলা ইউনিয়নে ১৭, নারায়ণপুরে ৪২ এবং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১৪ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এ ছাড়া স্বরূপদাহ ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে।

    কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চৌগাছায় সবজি চাষ অনেক কৃষকের জন্য বাজারমুখী উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
    সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম সবজি চাষ করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন চৌগাছার কৃষকরা।
    কৃষকদের ধারণা, অন্যান্য এলাকায় সবজির সরবরাহ কম থাকলে আগাম উৎপাদিত সিমসহ বিভিন্ন সবজি তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
    তবে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা কৃষকের হিসাব বদলে দিতে পারে। এ কারণে সময়মতো কৃষি পরামর্শ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকদের মতে, আগাম সবজি চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি ও শ্রমিকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। অনেক কৃষকের পক্ষে একসঙ্গে এসব ব্যয় বহন করা কঠিন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বা উপকরণ সহায়তা পাওয়া গেলে আরও কৃষক আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।

  • জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি সার ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে খুচরা সার বিক্রেতাদের মাধ্যমে সরকারি সার বিতরণ এবং এ ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।

    স্থানীয় সূত্রের দাবি, কেডিকে ইউনিয়নের প্রায় ২০টি খুচরা সার দোকানের নামে-বেনামে ভুয়া সার কার্ড তৈরি করে এসব কার্ড ও কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা বিশেষ স্লিপের মাধ্যমে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সার বিতরণের সময় প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি কৃষি প্রণোদনা বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার ও কৃষি পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন।

    কেডিকে ইউনিয়নের কৃষক ইনামুল, ইসরাইল, ইব্রাহিম ও খলিলসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমরা মাঠের সার ও পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁকে প্রায়ই পাওয়া যায় না। অথচ তিনি আমাদের সরাসরি সার না দিয়ে দোকানদারদের ভুয়া কার্ড ও স্লিপের মাধ্যমে একবারে ৫ থেকে ১০ বস্তা করে সার দিয়ে দেন। বিনিময়ে দোকানদারদের কাছ থেকে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা।’

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান। তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে সত্য নয় বলে দাবি করেন।
    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ট্রাক্টরের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: শাহজাহান আলী (৪০) নামে এক কলেজ প্রভাষক নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার হাটকালুগঞ্জ মেইন রোডসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহজাহান আলী দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় হোগলডাঙ্গা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শাহজাহান আলী মোটরসাইকেলযোগে নিজ কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন। পথে হাটকালুগঞ্জ মেইন রোড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাটিবোঝাই ট্রাক্টরের সাথে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা শাহজাহান আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাক্টরটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, নিহত মোটরসাইকেল আরোহী শাহজাহান আলী একাই পড়ে গেছেন না ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে নিশ্চিত না। তবে তার আত্মীয়-স্বজন এলে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগন ফল ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। দেশে এর চাষ ও বাজারচাহিদা বাড়ছে। ছাদ কৃষি থেকে মাঠপর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষের সুযোগও রয়েছে। সঠিক জাত নির্বাচন, চারা তৈরি, রোপণ, খুঁটি স্থাপন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ-পোকা দমন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে এ চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘রানার কৃষি’তে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    ড্রাগন ফল এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ। পুষ্টিগুণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে ফলটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    উপযুক্ত জলবায়ু ও মাটি
    ড্রাগন ফল উষ্ণ জলবায়ুর ফসল। সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তুষারপাত গাছের জন্য ক্ষতিকর। বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন ফল ভালো জন্মে। মাটির পিএইচ ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ হলে তা চাষের জন্য উপযোগী।
    আমাদের দেশে বর্তমানে বাউ ড্রাগন ফল-১ ও বাউ ড্রাগন ফল-২ জাত চাষ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক বাগান স্থাপনের ক্ষেত্রে এলাকার আবহাওয়া, মাটির ধরন ও বাজারচাহিদা বিবেচনা করে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।

    চারা তৈরি ও রোপণ
    সাধারণত কাণ্ডের ডাল বা কাটিংয়ের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চারা তৈরি করা হয়। সুস্থ ও রোগমুক্ত গাছ থেকে ৮–১০ ইঞ্চি লম্বা কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। কাটিং সংগ্রহের পর প্রায় সাতদিন ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে কাটিংয়ের কাটা অংশ শুকিয়ে যায় এবং রোপণের পর পচনের ঝুঁকি কমে।
    মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা যায়। জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর প্রায় ২ ফুট চওড়া ও ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে।
    চারা রোপণের আগে প্রতিটি গর্তে ১০–১৫ কেজি গোবর সার, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করা যেতে পারে। জমিতে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকলে গর্তের নিচে বালু ব্যবহার করা যেতে পারে।

    খুঁটি স্থাপন ও চারা লাগানো
    ড্রাগন ফল গাছ লতানো প্রকৃতির হওয়ায় গাছকে ভর দেওয়ার জন্য শক্ত খুঁটি প্রয়োজন। এজন্য ৪ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি বেড়ের ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা আরসিসি খুঁটি ব্যবহার করা যায়। খুঁটির প্রায় দেড় ফুট মাটির নিচে রেখে ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।
    খুঁটির মাথায় টায়ার অথবা ১ থেকে ১ দশমিক ৫ ফুট ব্যাসের বৃত্তাকার রডের কাঠামো তৈরি করতে হয়। প্রতিটি খুঁটির চারপাশে চারটি করে কাটিং রোপণ করা যায়। তবে কাটিংয়ের গোড়া ৩ থেকে ৪ ইঞ্চির বেশি মাটির নিচে দেওয়া যাবে না। রোপণের পর চারাগুলোকে আলতোভাবে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে।
    সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে রোপণের প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে পারে। তবে ফলন ও উৎপাদনকাল জাত, পরিবেশ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে।

    রোগবালাই ও পোকামাকড়
    ড্রাগন ফলের বাগানে অ্যানথ্রাকনোজ, গোড়াপচা, কাণ্ডপচা ও কাণ্ডের ক্যানকার জাতীয় রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে প্রয়োগ করতে হবে।
    বাগানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে গোড়া ও কাণ্ড পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং গাছের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ড্রাগন ফলে থ্রিপস, মিলিবাগ ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত গাছ ও ফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে নিমতেল ব্যবহার করা যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

    পরিচর্যায় গুরুত্ব
    ড্রাগন ফলের ভালো ফলনের জন্য শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না; নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও পানি নিষ্কাশন, রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণ এবং গাছের বাড়তি শাখা-প্রশাখা ব্যবস্থাপনা করতে হবে। গাছ যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাড়ির ছাদ, বসতভিটা কিংবা উপযুক্ত কৃষিজমিতে পরিকল্পিতভাবে ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষকের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

    চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে মিজানুর রহমান (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার লালন শাহ মাজার এলাকার বাটিকামারি গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাতে উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল তিনজন চোর। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইদ্রিস আলী ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম ডাক-চিৎকার করলে গ্রামবাসী চোরদের ধাওয়া করে। জনগণের ধাওয়া খেয়ে দু’জন পালাতে সক্ষম হলেও মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলে গ্রামবাসী।

    এ সময় গ্রামবাসীর এলোপাতাড়ি মারপিটে গুরুতর আহত হন মিজানুর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মিজানুর রহমানকে হেফাজতে নেয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে চৌগাছা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এ,আর

  • মহেশপুর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের  মূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র সার সংকটের প্রতিবাদে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ

    মহেশপুর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও তীব্র সার সংকটের প্রতিবাদে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ)

    তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, তীব্র সারসংকট, সারের ডিলার ও ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগ এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের প্রতিবাদে ঝিনাইদহের মহেশপুরে জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় মহেশপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল হাই।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার আমির ফারুক আহম্মদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা আব্দুল হাই সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, সারসংকট এবং বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    নেপালি সাগর কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তা

    স্বল্প খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দিন দিন বাড়ছে কলার আবাদ। উৎপাদিত নেপালি সাগর জাতের কলার চাহিদা ও খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচ্ছলতা ফিরেছে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের কাজীহাটা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. আসিফ আওয়াল উৎসের।

    গত বছর প্রথমবার চাষ করেই ভালো ফলন পান তিনি। বড় আকারের কাঁদি ও আকর্ষণীয় গড়নের কলা ব্যাপারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে উৎসাহিত হয়ে এবার কলাবাগানের পরিধি আরও বাড়িয়েছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তার অধিকাংশ কলাগাছে ফল ধরেছে। বাগানজুড়ে কলার কাঁদি ঝুলছে। এ সাফল্যে আসিফ আওয়াল উৎসের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিনিয়ত আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ তার কলাবাগান দেখতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে কলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও নিচ্ছেন। নিয়মিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করে আসছেন তিনি।

    তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও নেপালি সাগর জাতের কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় একবার চারা রোপণ করে বছরে তিনবার কলা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। নেপালি সাগর ছাড়াও তিনি সবরি, চাঁপা, চিনি চাম্পা ও জি নাইনসহ বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ করে থাকেন।

    আসিফ আওয়াল উৎস জানান, একবার চারা রোপণ করে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম অথচ লাভ বেশি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করেছি। এ জাতের কলা বড়, সুস্বাদু ও রং সুন্দর হওয়ায় দেশের সব জেলাতেই এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রথমবারেই খরচের টাকা বাদ দিয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। ওই জমি থেকে এখনো দুইবার কলা পাওয়া যাবে।’

    স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান চাষে লাভ খুব কম। কিন্তু কলা চাষে খরচের প্রায় দ্বিগুণ আয় হয়। তাই এখন অনেকেই এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি কলাবাগানে অনেকের জীবিকার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    কলাবাগান পরিচর্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি আসিফ ভাইয়ের কলাবাগান নিয়মিত পরিচর্যা করি। কলার কাঁদি বা থোড় যখন বড় হতে শুরু করে, তখন বাতাসের কারণে কিংবা ওজনের চাপে গাছ যেন হেলে বা ভেঙে না পড়ে, সেজন্য বাঁশ বা লাঠি দিয়ে শক্ত খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়ার কাজের দিকে আমাকে বেশি নজর রাখতে হয়।’

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা স্বজল ইসলাম জানান, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো কলার আবাদ করেননি। তাই আসিফ আওয়াল উৎসের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এবং তাঁর ২৫ বিঘা জমির নেপালি সাগর জাতের কলাবাগান দেখতে এসেছেন।

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সদরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় কলার চাষ বেড়েছে। কলা চাষে লাভ হওয়ায় চাষিরা এ ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কাজীহাটা ব্লকে আসিফ আওয়াল উৎস ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কলা সরবরাহ করে থাকেন।

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, কলাচাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। আসিফ আওয়াল উৎস এবার ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কলায় কার্বাইড ও বিষাক্ত স্প্রে ব্যবহার না করার জন্যও চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • শখের মোটরসাইকেলেই শেষ হলো জুবায়েরের জীবন

    শখের মোটরসাইকেলেই শেষ হলো জুবায়েরের জীবন

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ‘মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার পর থেকেই ভয় হতো। বাইরে থাকলে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলেই বুক কেঁপে উঠত ,এই বুঝি কোনো দুঃসংবাদ এলো।’ ছেলের মরদেহের পাশে বসে কথাগুলো বলছিলেন জুবায়ের হোসেনের বাবা আলীম দফাদার। কিছুক্ষণ পরপর কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।

    রোববার সকালে যশোরের চৌগাছায় পিকআপের ধাক্কায় নিহত হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন (১৫)। তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই সহপাঠী আহত হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ফাসতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জুবায়ের উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আলীম দফাদারের ছেলে। আহত দুই শিক্ষার্থী হলো একই গ্রামের লিখন (১৫) ও ফাহিম (১৫)। তারা তিনজনই চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্বজনেরা জানান, সকালে জুবায়েরের পালসার মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। ফাসতলা এলাকায় পৌঁছালে মহেশপুরের দিক থেকে আসা একটি পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে পিকআপটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জুবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লিখন ও ফাহিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তারা আশঙ্কামুক্ত।

    হাসপাতালে ছেলের মরদেহের পাশে বসে আলীম দফাদার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে। জুবায়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত। অনেক দিন ধরেই মোটরসাইকেলের জন্য বায়না করছিল। আমি কিনে দিতে চাইনি। পরে ওর ভাইও বলল, যেহেতু বায়না করছে, কিনে দিতে। সাত-আট মাস আগে পালসার মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলাম।’

    তিনি বলেন, ‘যেদিন মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছি, সেদিন থেকেই ও বাইরে থাকলে ভয় হতো। অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই মনে হতো, এই বুঝি কোনো দুঃসংবাদ এলো। আজ সেই ভয়টাই সত্যি হলো।’

    এ কথা বলতে বলতে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি।

    ছেলের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন জুবায়েরের মা। আহাজারি করে তিনি বলছিলেন, ‘ও বাবা, তুই কেন কথা শুনলি না? মোটরসাইকেল নিতে তোকে নিষেধ করেছিলাম। তোর বাবাও নিষেধ করেছিল। তুই কেন শুনলি না?’

    জুবায়েরের কয়েকজন বন্ধু জানান, মোটরসাইকেল চালানোর প্রতি তার বেশ আগ্রহ ছিল। তাদের দাবি, জুবায়ের প্রায়ই ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে মোটরসাইকেল চালাত। তবে রোববারের দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটির গতি কত ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জুবায়েরের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • মহেশপুর ড্রাগন ক্ষেতে বিদ্যুৎ ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    মহেশপুর ড্রাগন ক্ষেতে বিদ্যুৎ ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে ড্রাগন ফলের বাগানে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদ হোসেন (১৩) নামে এক কিশোর কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভৈরবা গ্রামের মাঠে একটি ড্রাগন বাগানের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত জিহাদ হোসেন চুন্নিরাইট গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর জিহাদ আর বাড়িতে ফেরেনি।

    পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ভৈরবা গ্রামের একটি ড্রাগন বাগানের পাশে জিহাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন।

    নিহতের স্বজনদের দাবি, ড্রাগন বাগানে যাওয়ার সময় সেখানে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় । বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনরায় সক্রিয় করার অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়া সদর থানা পুলিশ।

    কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় শুক্রবার রাতে এ অভিযান চালানো হয়। কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি জাকির হোসেন তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আওয়ামিলীগ নেতা শেখ আব্দুর রহমান (৬০) এবং তাঁর ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ শেখ (৩৮)। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই দুইজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা ছাড়াও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শরিফ শেখ কুষ্টিয়ার প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব ও প্রভাব বিস্তার করতেন। সিঙ্গাপুর ও আমেরিকায় অবস্থানরত প্রবাসীদের অর্থ সংগ্রহ ও তা স্থানান্তরের একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও আমেরিকা থেকে প্রবাসীদের ডলার সংগ্রহ করতেন শরিফ শেখ। এই বৈদেশিক অর্থ সরাসরি হানিফের সংশ্লিষ্ট বিদেশি হিসাবে জমা হতো এবং এর বিনিময়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে সমপরিমাণ দেশীয় মুদ্রা পৌঁছে দেওয়া হতো।

    সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পর শরিফ শেখ ও তাঁর বাবা শেখ আব্দুর রহমান গোপন বৈঠকে মিলিত হন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষিপ্ত নেতাকর্মীদের পুনরায় সংগঠিত ও সক্রিয় করার চক্রান্ত শুরু করেন। এই গোপন তৎপরতার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করে এবং অবশেষে শুক্রবার রাতে পুলিশি অভিযানে তাঁরা গ্রেপ্তার হন।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অভিযোগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সদর উপজেলার পৌর কলেজ রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে পৌর কলেজ রোড এলাকার এলপিজি গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সামগ্রীর বাজারে তদারকি করা হয়। এ সময় ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে মেসার্স মল্লিক গ্যাস ঘরের স্বত্বাধিকারী মো: মুক্তাজুর রহমান মল্লিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ করে ব্যবসা পরিচালনা করা ও কোনো ধরনের অবৈধ মজুদ না করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া অভিযানে এলাকার অন্য ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্যসামগ্রী কেনা-বেচা করা, মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্য, ওষুধ বা শিশু খাদ্য বিক্রি না করার জন্য সতর্ক ও সচেতন করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল।

    সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • মেহেরপুরে জামায়াতের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    মেহেরপুরে জামায়াতের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক দায়িত্বশীলদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেহেরপুর জেলা ডিআইটি মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর অঞ্চল টিম সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা আমির অধ্যাপক খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য মো: আব্দুল মতিন ও মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো: নাজমুল হুদা।

    শিক্ষাশিবিরে সাবেক ছাত্র দায়িত্বশীলদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, নৈতিক চরিত্র গঠন ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। বক্তারা ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সততা, জবাবদিহিতা ও সমাজ সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা তারবিয়াতী সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, মেহেরপুর জেলা নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুব উল আলম, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সাবেক মেহেরপুর জেলা শিবির সভাপতি অধ্যক্ষ আল আমিন ইসলাম বকুল, ইকবাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সোহেল রানা ডলার প্রমুখ।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে জামায়াতে ইসলামী ও সাবেক ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • চৌগাছায় শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । শনিবার দুপুরে চৌগাছা থানা কম্পাউন্ডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের চৌগাছা উপজেলার আহবায়ক গোবিন্দ কুমার রাহা,চৌগাছা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল,উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারী সেক্রেটারী মাষ্টার কামাল আহমেদ, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহসভাপতি সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান,পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, বিএনপি নেতা ইউনুচ আলী দফাদার, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম, চৌগাছা থানার অফিসার (তদন্ত) নুরুল আমিন শিকদার প্রমুখ।

    সভায় দুর্গা উৎসবকে যাতে নির্বিঘ্নভাবে উদযাপন করা যায় সে ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  • চৌগাছায় সোনালী অতীত ক্লাবের উদ্বোধন

    চৌগাছায় সোনালী অতীত ক্লাবের উদ্বোধন

    এম এ রহিম চৌগাছা

    যশোরের চৌগাছায় সোনালী অতীত ক্লাবের কেক কেটে উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে এ ক্লাবের উদ্বোধন করা হয়। ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে, চৌগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘সোনালী অতীত ক্লাব’। পৌর শহরের সরকারি শাহাদৎপাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ক্লাবটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম।

    সোনালী অতীত ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নানের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, যশোর জেলার সাবেক ফুটবলার সহেল আল মামুন নিশাদ, ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, আব্দার রশিদ ও আইনাল হক প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে চৌগাছার সাবেক কৃতি ফুটবলার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়ানুরাগীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর সোনালী অতীতের খেলোয়াড়দের এক মঞ্চে দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসব আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

    একটি আনন্দ র‍্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান এবং বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মুখরিত করে তোলেন।

    র‍্যালি শেষে আয়োজিত সভায় বক্তারা চৌগাছার হারানো ফুটবল ঐতিহ্য ফিরিয়ে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করার আহবান জানানো হয়। সোনালী অতীত ক্লাব ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এই ক্লাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সান্নিধ্যে এসে নিজেদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে পারবে।

    আগামীতে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ক্লাবের উদ্বোধন ঘোষণা করে কেক কাটেন।

    চৌগাছার ক্রীড়াঙ্গনে এই নতুন অধ্যায়ের শুরু তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা বলে সকলে আশা ব্যক্ত করেছেন। এ,আর

  • দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

    দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে আহত করা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ও ১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া ৯টি বাঁশের লাঠি ও ২টি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আবু সিদ্দীক (৭০), লক্ষণ (৩৮), ফিরোজ হোসেন (১৯), ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কণা রাণী (২৫), নাছিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) এবং ফুলন হালদার (৩২)। গ্রেপ্তারকৃত সবাই দর্শনা থানার চন্ডিপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে দর্শনা থানার এসআই মোল্ল্যা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে অভিযান চালায়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আবু সিদ্দীক (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে।

    আটক আবু সিদ্দীককে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় একদল উশৃঙ্খল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে আসামি আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    ঘটনার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও দর্শনা থানা পুলিশ চন্ডিপুর গ্রামে যৌথ চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীকালে অভিযান অব্যাহত রেখে ১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    দর্শনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইনিপ্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যান চালকসহ মর্মান্তিকভাবে নিহত ২

    কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যান চালকসহ মর্মান্তিকভাবে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্যামলী পরিবহনের বাসের চাপায় পাখিভ্যানের চালক ও এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের আমতলা মাদরাসার সামনে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নিহতরা হলেন—মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার স্বস্তিপুর গ্রামের হাসেম আলীর স্ত্রী ভানুমতি (৫৫)। আহত নারী ভানুমতির মেয়ে হাসিনা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি পাখিভ্যান কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। পথে ভ্যানটির এক্সেল ভেঙে সেটি সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে মেহেরপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পাখিভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ভানুমতি নিহত হন।

    দুর্ঘটনায় ভ্যানচালক কামরুল ইসলাম ও ভানুমতির মেয়ে হাসিনা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে আমলা পুলিশ ক্যাম্প ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভানুমতির লাশ উদ্ধার করেন এবং আহতদের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কামরুল ইসলাম ও হাসিনাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলাম মারা যান বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন।

    স্থানীয়রা জানান, নিহত ভানুমতি তার জামাইয়ের বাড়ি নওদা আজমপুরে বেড়াতে এসেছিলেন।

    মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • শৈলকূপায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

    শৈলকূপায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্বামী মো: মিরাজ বিশ্বাসকে (৪০) হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী মোছাম্মৎ সুমাইয়া খাতুনের (২৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত মিরাজ শৈলকূপা উপজেলার ১৩ নম্বর উমেদপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের আবু বকর বিশ্বাসের ছেলে। অভিযুক্ত সুমাইয়া যশোরের দলনগর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মিরাজের প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে সুমাইয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো। মিরাজের প্রথম পক্ষের সন্তানদের সাথে সুমাইয়া বিরূপ আচরণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আহত মিরাজ জানান, তিনি গত তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। বুধবার সামান্য বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে চড় মারেন।

    এর জেরে রাত ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় সুমাইয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। তার চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে শৈলকূপা থানার এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত সুমাইয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেন।

    শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • মহেশপুরে হত-দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গরু বিতরণ

    মহেশপুরে হত-দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গরু বিতরণ

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে ফতেপুর গাজীরণনেছা বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিএনএফের আর্থিক সহায়তায় হত-দরিদ্র ও অসহায় পরিবার গুলোকে স্বাবলম্বীকরণ ও জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে আরডিসি সংস্থার উদ্দ্যোগে বিনামূল্যে গরু বিতরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে মানবাধিকার সংগঠন আরডিসির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে গরু বিতরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মহেশপুর থানার ওসি তদন্ত এনায়েদ হোসেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের প্রতিনিধি ডাক্তার রেজাউল ইসলাম,ফতেপুর ইউপি সদস্য আসাদ,সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা মতিউর রহমান,সাবেক ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান,গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। সঞ্চলনা করেন সহকারী শিক্ষক ওলিউল্লাহ। র্সাবিক সহযোগিতা করেন,আরডিসি‘র প্রোগ্রাম সুপার ভাইজার মোঃ ওসমান গণি। উল্লেখ্য,বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও আরডিসি সংস্থার বাস্তবায়নে মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ও নাটিমা ইউনিয়নে ৬টি পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে এই গরু বিতরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ,আর

  • কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কলারোয়া উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ১০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

    এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মাহফুজুর রহমান।

    কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান চান্দু, শিক্ষক মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক তামিম আজাদ মেরিন। অনুষ্ঠানে ছেলেদের লাল ও মেয়েদের মাঝে গোলাপী রঙের সাইকেল বিতরণ করা হয়। এ,আর

  • চৌগাছায় জিসিবি আদর্শ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জিসিবি আদর্শ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জিসিবি আদর্শ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে । বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় কলেজ হলরুমে এ অনুষ্ঠান করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবু শরীফ বকুল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথি এবং নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় । প্রভাষক শহীদ আলম ও সাজেদা খাতুনের যৌথ পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলা প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, রসায়ন প্রভাষক আইনুল হক, ইসলাম শিক্ষা প্রভাষক মেহেদী ইসলাম। ছাত্রীদের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রথম বর্ষের ছাত্র সিয়াম হোসন, নায়িম হোসেন, সুরাইয়া , বৃষ্টি খাতুন ও শশি । বক্তৃতা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ,আর

  • কুষ্টিয়ার চামড়াপট্টি স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও ফাইল বন্দি

    কুষ্টিয়ার চামড়াপট্টি স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও ফাইল বন্দি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশ রক্ষায় যখন সরকারের নতুন নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ঠিক তখন কুষ্টিয়া শহরের একেবারে মধ্যবর্তিস্থানে কাঁচা চামড়ার কারখানায় দিনভর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ আর গুদামজাত করায় এক দুর্গন্ধে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। শহরের এ চামড়াপট্রিটি আবাসিক এলাকা থেকে স্থানান্তর করার জন্য ইতিপুর্বে বহুবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কোন এক অজ্ঞাত কারণে ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    সরজমিনে শহরের ওই চামড়া পট্রিটি ঘুরে এমন দৃশই পরিলক্ষিত হয়েছে। চামড়ার দূর্গন্ধযুক্ত পচা বর্জে সেখানকার এলাকাবাসীর জীবন বিষিয়ে তুললেও চামড়াপট্টি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন স্বপ্নই রয়ে গেল। পচা বর্জের দূর্গন্ধে শহরের এই অভিজাত এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে নাকে রুমাল থাকলেও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বরত পরিবেশবিদদের গন্ধ লাগেনা তেমন একটা। দিনের পর দিন নয়, সেই দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই একসময়ের শহরের এক কর্ণারে ফাঁকা জায়গায় গড়ে ওঠে কাঁচা চামড়া শিল্পের চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ার এই চামড়াপট্টি। শুরু থেকে কাঁচা চামড়া শিল্পের জন্য কোন সমস্যা না হলেও বর্তমানে এই কালের আবর্তে গড়ে ওঠা অভিজাত আবাসিক এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে প্রতি নিয়ত। এখানকার পরিবেশ এতটায় দূষিত যে, এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ি ও ব্যাংক গ্রাহকদের ওই এলাকায় ঢুকতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে। শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এই চামড়াপট্টি স্থানান্তরিত করার উদ্দ্যোগ নেই কারো।

    চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশ, ব্যাংক, অবাধে যাতায়াতের ভাল সুব্যবস্থা পেলে তারা চামড়াপট্টি স্থানান্তরের পক্ষে সব সময়, কিন্তু তাদের এই দায়িত্ব নেবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান। চারটি চামড়া বোঝায় ভ্যান এসে দাঁড়ালো চামড়াপট্টির একটি আড়তের সামনে। একপিচ চামড়া নামানোর সাথে সাথে পচাঁ চিমটি দূর্গন্ধ পুরো এলাকার পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে দোকানগুলোতে আগত ক্রেতা, বিশেষ প্রয়োজনে শহরের আসা সাধারণ মানুষ, কুষ্টিয়া অঞ্চলিক আয়কর অফিসে কর দিতে আসা করদাতা, সোনালী ব্যাংকে আসা গ্রাহক সবাই এক মুহুর্তেই নাকে মুখে রুমাল চেপে ধরলো। থেমে গেলো অনেকটাই তাদের চলার গতি। কোন রকমে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে দ্রুত সরে গেলেন অনেকেই।

    চামড়া নামানো শেষে ব্যবসায়ীরা প্রতি দিনই উৎছিষ্ট পচাবর্জ পানি দিয়ে ধুয়ে নামিয়ে দিচ্ছে পৌরসভার আবদ্ধ ড্রেনে। সুর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে আবদ্ধ ড্রেনের রক্ত মেশানো ও চামড়ার পচা বর্জ আরো পচে গলে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বেশি। এখানে জন্ম নিচ্ছে কোটি কোটি মশা। এই মশকবাহিনী অতিষ্ট ও বিষিয়ে তুলছে শহরবাসীকে এমন কথাই জানালেন ব্যাংক গ্রাহকরা।

    পোড়াদহ থেকে আয়কর দিতে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, চামড়ার পচাবর্জের চিমটি গন্ধে এই অফিসেই আসা দায়। রিক্সা কিংবা হেটে আসার সময় দূর্গন্ধে বোমি উঠে আসে। সামলানো মুশকিল। সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাব আড়–য়া পাড়ার জনৈক ব্যক্তি জানালেন আরো ভিন্ন কথা, চামড়া পচার গন্ধ্যে ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ পথচারীরা নিত্য মুখোমুখি হওয়ার কারনে শ্বাসকষ্ট সহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পক্ষান্তরে পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিতরা কোন ব্যবস্থা নেয়া কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমূলক এই খাতটিকে বাচিয়ে রাখতে চামড়াপট্টিটি স্থানান্তরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাতে কোন উদ্দ্যেগতো নেয়নি আজো। সব কিছু দেখেও তারা না দেখার ভান করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান।

    কুষ্টিয়া চামড়াপাট্টির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলররা জানান, পরিবেশ দূষমনমুক্ত রাখতে চামড়া ব্যবসায়ীরাও বদ্ধপরিকর। দেশ স্বাধীনের অনেক আগে থেকেই একসময়ের শহরের এক কর্ণারে ফাঁকা জায়গায় হাতে গনা কয়েকটি আড়ৎ নিয়ে গড়ে ওঠে চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ার কাঁচা চামড়া শিল্পের এই চামড়াপট্টি। বর্তমানে এ পট্টিতে ছোট বড় দিয়ে প্রায় ৫০টি চামড়ার আড়ৎ রয়েছে।

    এসব আড়তে প্রতি বছর ২লাখ ৮০ হাজার থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত গরু ও মহিষের চামড়া এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ পিচ পর্যন্ত ছাগল ও ভেড়ার চামড়া লবনজাত প্রক্রিয়া করণ করে ঢাকা হাজারীবাগ ও যশোরের নয়াপাড়ার টেনারীতে আমদানী করা হয়।

    এতে প্রতি বছরের কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ও চলমান অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করতে প্রায় ৮০/৯০ কোটি টাকা যোগ হয়।

    তিনি বলেন কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল এই খাতটিকে বাচিয়ে রাখা সবার দায়িত্ব। চামড়া ব্যবসায়ীরাও পরিবেশ রক্ষার পরে লোক। চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নিরাপত্তা, উপযুক্ত জায়গা ও পরিবেশ, ব্যাংক, সুবিধা, অবাধে যাতায়াতের ভাল সুব্যবস্থা পেলে চামড়াপট্টি স্থানান্তরের পক্ষে সব সময়। কিন্তু তাদের এই দায়িত্ব নেবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান।

    সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয় যদি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে চামড়াপট্টি স্থানান্তর করে কুষ্টিয়া শহরের পরিবেশ রক্ষা করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে চামড়া ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানাবেন।

    তিনি আরো জানান, এক সময় ব্যবসায়ীরা চামড়ার বর্জ যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিতো। এতে পরিবশে মারাত্বক দূষিত হত। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ময়লা আবর্জনার সাথে চামড়ার উৎছিষ্ট বর্জ নিজ নিজ আড়তের গুছিয়ে রাখা হয় এবং পৌরসভার ময়লা নেয়া গাড়ী এলে গুছিয়ে তুলে দেয়া হচ্ছে। শুরু থেকে চামড়ায় লবনজাত প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা না হলেও বর্তমানে কালের আবর্তে গড়ে ওঠা অভিজাত আবাসিক এলাকার জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বইকি। আর এতে শহরের বাবর আলী গেট থেকে চামড়া পট্রিটি স্থানান্তর করা এখন এ এলাকার মানুষের এক মাত্র দাবী। এ,আর

  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠ থেকে বস্তাবন্দী যুবকের লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠ থেকে বস্তাবন্দী যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠের সড়কের পাশ থেকে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা অজ্ঞাত এক যুবকের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, লাশটি দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠের একটি ইট বিছানো (হেরিংবোন) সড়কের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। নির্জন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, কয়েকটি শিয়াল একটি বস্তু ঘিরে টানাটানি করছে। কাছে এগিয়ে গেলে শিয়ালগুলো পালিয়ে যায়। পরে তিনি দেখতে পান, ঘাস ও খড় দিয়ে এক ব্যক্তির লাশ ঢেকে রাখা হয়েছে। লাশটির শরীরের একাংশ শিয়ালে খুবলে খেয়েছে।

    বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মাঠে থাকা অন্য কৃষকেরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ জানতে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিমকে ঘটনাস্থলে তলব করা হয়েছে।

    পুলিশ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘লাশটি আনুমানিক দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো। লাশের মুখমণ্ডলসহ শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ চলছে। এ জন্য ঝিনাইদহ থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম আসছে।’

    এ বিষয়ে ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিয়ালের টানাটানিতে লাশটি খড়ের বাইরে বেরিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সে সংবাদ পেয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ এ,আর

  • গাংনীতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

    গাংনীতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক আরেক অভিযানে ৮ গ্রাম গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এসব তথ্য জানান।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শেওড়াতলা পুকুরপাড়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কাজিপুর বিওপির একটি বিজিবি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৯৫ বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৮ হাজার টাকা।

    একইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ উপজেলার রংমহল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রংমহলে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় দুই হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট ও ৫৯ প্যাকেট পাতার বিড়ি জব্দ করা হয়। এসব মাদক ও চোরাচালান পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য আট লাখ ৪৩ হাজার ২৪৫ টাকা।

    এরপর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ডাক্তার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ গ্রাম গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেলসহ দৌলতপুর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. সনি (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে বিজিবি। আটক সনিকে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালসহ দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

    বিজিবি জানায়, পৃথক এসব অভিযানে সর্বমোট নয় লাখ ৫১ হাজার ২৭১ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

    চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় মিলন হোসেন (৪৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাঠি গ্রামে নিজ বাড়ির বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে।

    মিলন হোসেন (৪৫) ওই গ্রামের সামছুল আলমের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে বাথরুম থেকে তার গোঙানির শব্দ শুনতে পান তারা।

    পরে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

    পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, মিলন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তারা।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ,আর

  • চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু-যুবাদের অন্তর্ভুক্তি দেখতে লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দল

    চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু-যুবাদের অন্তর্ভুক্তি দেখতে লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দল


    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
    যশোরের চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা লিলিয়ান ফন্ডসের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী তারা চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অংশীজন, প্রতিবন্ধী যুবা ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সেবা নিশ্চিতকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    মতবিনিময় শেষে লিলিয়ান ফন্ডসের প্রতিনিধি আলোদিয়া ক্যাটরিনা সান্তোস ও অ্যাঞ্জেলা ফ্রিংস, আশরাফ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত একটি কক্ষের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের জন্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    এরপর বিকেল ৩টায় প্রতিনিধি দলটি সিএমআইটি কলেজে প্রতিবন্ধী যুবাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে প্রতিবন্ধী যুবাদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা, কর্মসংস্থান এবং সমাজে অর্থবহ অংশগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যুবারা তাদের অভিজ্ঞতা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন।

    বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিনিধি দলটি খড়িঞ্চা গ্রামের কেয়ারগিভার রিসোর্স সেন্টার (সিআরসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের মায়েদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা পরিবারের অভিজ্ঞতা, সন্তানদের যত্ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে কথা বলেন।

    বিকেল ৪টায় প্রতিনিধি দলটি আশরাফ ফাউন্ডেশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চলমান উদ্যোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিডিডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস এম আলী হাসনাইন ফাতিম ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অফিসার বৈশাখী পশারী দ্রুতি, আশরাফ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম. রাসেল আশরাফ, স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কদর, সিএমআইটি কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন মনির, আশরাফ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর ও সিবিআর কর্মসূচির আশিষ চ্যাটার্জি, ফিল্ড ট্রেনার নজরুল ইসলাম,সিবিআর অফিসার মামুনুর রশিদ বকুল, সিবিআর ফ্যাসিলিটেটর সাইদুল ইসলাম, কমিউনিটি সিবিআর কর্মী পিংকি খাতুন, আশরাফ ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি অফিসার রকিবুল ইসলাম রিফাত এবং ইয়ুথ ক্লাবের সদস্য আরজিনা খাতুন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রতিবন্ধী যুবা, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    লিলিয়ান ফন্ডস প্রতিনিধি দলের এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে চৌগাছায় প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবাদের জন্য চলমান কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

  • সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    সাতক্ষীরায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মো. রওশন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে, আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এ রায় দেন।
    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রওশন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর এলাকার বাসিন্দা।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কিশোরীটি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তাকে ডেকে রওশন শেখ তার চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে খাবার দেয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি মুরগির খামারের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে ২৩ মে পাটকেলঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামি রওশন শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
    বিচারক মামলার বাদী, চিকিৎসকসহ মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি রওশন শেখকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ আলমগীর আশরাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ,আর

  • মহেশপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

    মহেশপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

    মহেশপুর ( ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির সহযোগী-অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের মহেশপুরে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মহেশপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ বাসস্ট্যান্ডে এসে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

    বিক্ষোভ মিছিল থেকে নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কথিত নৈরাজ্য ও সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    মিছিলটিতে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী ফয়সাল, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান রতন, সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ এরশাদ আলী, সদস্য সচিব সুরুজ্জামান সুরুজ, উপজেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব বাবুল আক্তার বাবুল এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ,আর

  • যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির অন্যতম প্রধান উৎপাদন এলাকা যশোরে এবার আগাম মেটে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বাজারে আসা এ কন্দজাতীয় ফসলের দামও রয়েছে চড়া। কম খরচ ও তুলনামূলক কম পরিচর্যায় ভালো লাভ হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মেটে আলুর চাষ বেড়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ খরিফ-২ মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮০ হেক্টর জমিতে মেটে আলুর চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২০ হেক্টর। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সদর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে এ আলুর চাষ বেশি হচ্ছে।
    যশোর বড় বাজার, চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও শার্শার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আগাম মেটে আলু ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। বড় আকারের আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত।

    যশোর বড় বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, ‘আগাম মেটে আলু বাজারে এলেই মানুষ কিনছে। চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে মেটে আলুর তরকারি এ অঞ্চলের মানুষের খুব পছন্দ। এখন প্রতিদিন ১ থেকে ২ মণ মেটে আলু বিক্রি করছি। সামনে শীত বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।’

    কম খরচে বেশি লাভ
    যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ তিন বছর ধরে মেটে আলু চাষ করছেন। এবার তিনি ৪০ শতক জমিতে এ আলু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে মেটে আলু চাষ করতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বীজ, বাঁশের মাচা আর জৈব সার দিলেই হয়। কোনো কীটনাশক লাগে না। এক বিঘা জমি থেকে ৪০ থেকে ৫০ মণ আলু পাওয়া যায়। আগাম বাজারে বিক্রি করলে ১ লাখ টাকার বেশি থাকে।’
    তিনি আরও বলেন, ‘মেটে আলুর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি গরু-ছাগলে খায় না। মাচায় ঝুলে থাকে বলে পচে যাওয়ার ভয় কম। মাটির নিচেও ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের আলু হয়। উপরে একটা, নিচে আরেকটা—ডাবল লাভ।’
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের নারী কৃষক আমির হোসেন বাড়ির আঙিনার পতিত জমিতে মেটে আলু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির পাশে ১০ শতক জমিতে ২০টি মেটে আলুর গাছ লাগিয়েছি। তেমন সার-পানি দিতে হয় না। বর্ষার সময় লাগালে এমনিতেই হয়ে যায়। গত বছর ১৫ হাজার টাকার আলু বিক্রি করেছি। এবার আরও বেশি হবে আশা করছি।’

    পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘মেটে আলুতে শর্করা, ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরে শক্তি যোগাতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।’
    তবে মেটে আলুর পুষ্টিগুণ ও রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা নিয়ে যে নির্দিষ্ট দাবিগুলো করা হচ্ছে, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিকতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    চাষ বাড়াতে উদ্যোগ
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরের মাটি মেটে আলু চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে উঁচু ও বেলে দোআঁশ মাটিতে ফলন ভালো হয়। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করছি এবং মাচা পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত করছি।’
    তিনি বলেন, ‘মেটে আলু লাভজনক ফসল। একবার বীজ লাগালে পরবর্তী বছরগুলোতেও তা দিয়ে চাষ করা যায়। আমরা চাই, প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় অন্তত দুই-তিনটি মেটে আলুর গাছ থাকুক। এতে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় দুটোই বাড়বে।’

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে মেটে আলুর বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বাজারে যশোরের মেটে আলুর চাহিদা তৈরি হয়েছে।

  • সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচে সেচ ব্যয় যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় আশা দেখছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের ফলে কৃষকের সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজেদের জমির চাহিদা মেটানোর পর অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় এসব পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কমছে সেচ ব্যয়
    সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে সেচ ব্যয় কম। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের মধ্যে সৌরশক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে।
    আরআরএফের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগে সেচ দিতে যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, এখন সোলার পাম্প ব্যবহারে একই পরিমাণ জমিতে সেচ ব্যয় কমে প্রায় ২০০ টাকায় নেমে এসেছে।
    কৃষকদের ভাষ্য, সোলার পাম্পে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কৃষকের বিনিয়োগে প্রকল্পের সহায়তা

    ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর সোলার পাম্প স্থাপনে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে তিনি ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
    তিনি বলেন, ‘সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারের ফলে সেচের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুতের ওপর আগের মতো নির্ভর করতে হচ্ছে না। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করতে পারছি। এতে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে।’

    ফুলচাষেও বাড়ছে ব্যবহার
    মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ফুলচাষীদের জন্যও সৌরচালিত সেচ পাম্প নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফুলচাষে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হওয়ায় সেচ ব্যয় কমলে উৎপাদন খরচও কমে।
    মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষীদের নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের সহায়তায় সোলার পাম্প স্থাপন করেছি। এখন নিজের জমির পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছি।’
    তিনি বলেন, ‘নিজের জমির সেচের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে পানি দিয়ে বাড়তি আয় করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতাও কমেছে।’
    মহেশপুরের ফুলচাষী গফুর মিয়া বলেন, ‘সোলার পাম্প স্থাপনের পর সেচের জন্য তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্যদের জমিতেও সেচ দিয়ে বাড়তি আয় করতে পারছি।’

    বাড়ছে পরিবেশবান্ধব সেচের সম্ভাবনা
    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারে কৃষকের আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমানো সম্ভব। ডিজেলচালিত পাম্পের ব্যবহার কমলে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি ধোঁয়া ও কার্বন নিঃসরণও কমবে। ফলে কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে সোলার পাম্প ভূমিকা রাখতে পারে।
    আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, ‘পিকেএসএফের সহায়তায় স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে।’

    তিনি জানান, সামনে আরও ১০০টির বেশি সোলার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
    তিনি আরও বলেন, ‘আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, সেখানে সোলার পাম্পের মাধ্যমে খরচ প্রায় ২০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষিতে লাভের সুযোগ বাড়বে।’

    কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদানের সুযোগ বাড়ানো হলে জেলার আরও বেশি কৃষক সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ১২ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় ১২ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল, পারদ ও মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বিজিবি।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা বিজিবির অধীনস্থ দর্শনা, মুন্সিপুর, ফুলবাড়ী বিওপি ও আইসিপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা, ২০০ পিস ক্রিম, তিন বক্স চিকিৎসাসামগ্রী, দুটি ভারতীয় শাড়ি, ৩৪৮ পিস বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স ও ৯ দশমিক ৯ কেজি পারদ জব্দ করে। একই সাথে চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। জব্দ মালামালের মূল্য ১২ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা বলে জানা গেছে।

    অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিজিবি সীমান্ত এলাকাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির এ কঠোর অবস্থান ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    প্রচলিত ধান-পাট-গম চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে বিকল্প ফসলের সন্ধানে নেমেছিলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারোমাসি সজনে চাষের সম্ভাবনা দেখে এক বিঘা জমিতে ওডিসি-৩ জাতের ৩০০টি চারা রোপণ করেন তিনি। মাত্র ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগে শুরু করা সেই উদ্যোগে কয়েক মাসের মধ্যেই ফলন ও বিক্রি শুরু হয়। এখন বছরে একাধিকবার ফলন পাওয়া এই সজনে থেকেই ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন আক্তার। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই নতুন ফসলে।

    সরেজমিনে তার ক্ষেতে দেখা যায়, গাছজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লম্বা, সবুজ ও সতেজ সজনে। আক্তারের দাবি, দেশি সজনে সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে ফল দিলেও বারোমাসি ওডিসি-৩ জাতের গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল আসে। রোপণের ৫ থেকে ৭ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয় এবং একটি গাছ থেকে ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে তার প্রতিটি সুস্থ গাছে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সজনে ধরছে বলে জানান তিনি।
    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যশোর জেলা হর্টিকালচার সেন্টারে যোগাযোগ করে ভারতের তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ওডিসি-৩ জাতের চারা সংগ্রহ করেন আক্তার। প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ করে এক বিঘা জমিতে ৩০০টি চারা রোপণ করেন। সেই ছোট উদ্যোগ এখন তার কাছে সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
    কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, ‘চারা কেনা, জমি তৈরি আর জন-লেবার খরচ-টরছ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার খরচ ইতোমধ্যে উঠে গেছে। সামনে আশা করি লাভের মুখ দেখা যাবে।’

    বিক্রির হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৯-১০ মাসে ৪০ হাজারের মতো বেচাকেনা হয়ে গেছে। নতুন করে আবার ধরা শুরু করেছে। এই মৌসুমে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পাব বলে আশাবাদী। সজনের দামও ভালো। বর্তমান বাজারে ১০০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একবার লাগালে বছরে ৩-৪ বার সজনে তোলা যায়। ফলন আরও বাড়লে, গাছ-গাছালি প্রাকৃতিক দুর্যোগে না ভাঙলে ৩-৪ লাখ, ৫ লাখ টাকাও হতে পারে।’
    আক্তারের সাফল্য দেখে স্থানীয় বেকার যুবক ও প্রান্তিক কৃষকদের অনেকে সজনে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার দাবি, অসময়ে বাজারে পাওয়া যায় এবং আকারে লম্বা ও দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ওডিসি-৩ সজনের চাহিদা বেশি।
    তিনি বলেন, ‘বাজারে নিয়ে গেলেই মানে দাঁড়ানোর টাইম দেয় না। এগুলো খাতি খুব ভালো। বিক্রি হয়ে যায় সাথে সাথে। খেতে খুবই সুস্বাদু। এর শাক, ডাটা সবই খাওয়া যাবে। এমনকি পাতাও বিক্রি করা যাবে আশা করা যায়।’
    চৌগাছা বাজারের সবজি বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান বাজারদরে পাইকারিতে প্রতি কেজি সজনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এই সজনে বেশি পছন্দ করছেন, কারণ এটি লম্বা ও তরতাজা।’

    সজনে চাষে আগ্রহী কৃষক হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘আক্তার ভাইয়ের ক্ষেত দেখে আমি সত্যিই অবাক ও অনুপ্রাণিত। এক বিঘা জমিতে এত আয়, আগে কখনো ভাবিনি। ধানে যেখানে খরচই ওঠে না, সেখানে সজনে চাষে লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। আমিও আগামী মৌসুমে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা নিয়ে চাষ শুরু করব।’

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘ওডিসি-৩ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও উচ্চ ফলনশীল জাত। এটি রোগ প্রতিরোধী ও খরা সহনশীল হওয়ায় যশোরের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। আমরা উপজেলার কৃষকদের এই জাত চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আক্তার হোসেন আমাদের সফলতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা তাকে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজির চাষ আগামীতে আরও বাড়াতে হবে। দেশে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।’
    যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ দীপংকর দাশ বলেন, ‘টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত বারোমাসি সজনে ওডিসি-৩ জাতের মানসম্মত চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে। রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয়ে সারা বছর ধারাবাহিক উৎপাদন বজায় থাকে। বাণিজ্যিকভাবে কিংবা বসতবাড়িতে চাষ করে কৃষকরা কম খরচে লাভবান হতে পারেন।’

    তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৭ হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার চারা কৃষকরা নিয়েছেন। এবার ১০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘সজনে ও সজনে পাতা একটি সুপারফুড হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।’

    সজনে পাতাকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সজনের পাতাও এখন বিশ্ববাজারে মূল্যবান। পাতাগুলো শুকিয়ে গ্রাইন্ডিং করে পাউডার করা হলে অনলাইন বা বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। বাজারে সজনের পাতা অন্যান্য শাকের মতো আঁটি করে সরবরাহ করলেও ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে কৃষকরা ফলের পাশাপাশি পাতা বিক্রি করেও বাড়তি আয় করতে পারবেন।’
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক প্রতাপ মন্ডল বলেন, ‘ওডিসি-৩ জাতটি সারা বছর ফুল ও ফল দেয় বলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে যশোরের এই বারোমাসি সজনে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও বাজার তৈরি করতে পারে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

    চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা।

    ধর্মঘটের কারণে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর -হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা- ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা- কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা- হাটবোয়ালিয়া রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দামুড়হুদার ফকিরপাড়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানচালকদের সাথে বাসশ্রমিকদের বিরোধ হয়। পরে রিকশাচালকেরা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়কে বাস আটকে রাখেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ও মিনিবাস ধর্মঘটের ডাক দেন পরিবহন মালিক- শ্রমিকরা। সকাল থেকে জেলার পাঁচ রুটে বাস না চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি বেশি।

    বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। শিপন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

    দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মহাসড়কে গাড়ি আটকে রাখার প্রতিবাদে শ্রমিকরা এ ধর্মঘট ডেকেছেন।’ এ,আর

  • ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির  মুখে কৃষক

    ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির মুখে কৃষক

    যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুর মাঠে আগাম জাতের বাঁধাকপিতে ভাইরাসের আক্রমণ ও সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের কথা জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সার-কীটনাশকের বাড়তি দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং মাটি পরীক্ষা ও রোগবালাই শনাক্তকরণে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

    নোঙরপুর এলাকার কৃষক সায়েদ আলী চার বিঘা জমিতে ‘প্রফিট প্লাস’ জাতের আগাম বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। শুধু বীজ কিনতেই তার খরচ হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। কিন্তু ভাইরাসের আক্রমণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তার পুরো ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সায়েদ আলী বলেন, ‘ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ করার মতো অর্থও হাতে নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সরকারি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আবার চাষে ফিরতে পারব।’
    কৃষক রঞ্জন আহমেদ বলেন, ‘বাঁধাকপির গাছ কুঁকড়ে যাচ্ছে, বড় হচ্ছে না। শিকড়ও ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে না। ভাইরাস ও মাটির সমস্যার কারণে কী করণীয়, তা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় আছি।’

    একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ গোলাপ নবী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়েছে। সার, মাটি পরীক্ষা ও অন্যান্য উপকরণে ব্যয় করার পরও ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
    কৃষক মজাহার বিশ্বাস, কামরুজ্জামান ও মোহাম্মদ জামির সরদারও আবহাওয়া, ভাইরাসের আক্রমণ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের খরচ বাড়লেও সবজির ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক জহুরুল জানান, তার তিন বিঘা জমির বাঁধাকপিও ভাইরাসের আক্রমণে নষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য, বাজারে সবজির দাম কম থাকায় এবং সার-কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। মাটি পরীক্ষায় সমস্যার কথা জানা গেলেও তা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শ প্রয়োজন।
    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার নির্ধারিত দামে পাওয়া গেলেও বাকিতে কিনতে গেলে অনেক সময় বেশি দাম দিতে হয়। পাশাপাশি মাটি পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিকারের বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

    কৃষি বিভাগের বক্তব্য
    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো ফসল চাষের আগে মাটি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে নোঙরপুর মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে করোলা চাষের সময়ও মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। বর্তমানে বাঁধাকপি চাষিদের জমি থেকেও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, যশোর সদরের ইছালী, চূড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নে বাঁধাকপির চাষ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইছালী ইউনিয়নেই ইতোমধ্যে ১৪ হেক্টর জমিতে আবাদ শুরু হয়েছে।
    তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে ইছালী ইউনিয়নের নোঙরপুর মাঠে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে প্রায় চার বিঘা জমির বাঁধাকপির চারা নষ্ট হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে আবার চারা রোপণ করলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

    রাজিয়া সুলতানা আরও বলেন, নোঙরপুরের মাঠ বাঁধাকপি চাষের জন্য উপযোগী। গত বছরও ওই মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছিল। কৃষকরা এক মৌসুমে টানা তিনবার পর্যন্ত বাঁধাকপি তুলে থাকেন। বাজারে চাহিদা থাকায় জমি থেকেই পাইকারি দরে ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হন।’

    ফসলের ফলন বাড়ানো ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

  • নড়াইলে কৃষক হত্যায় অভিযুক্ত যুবকের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ

    নড়াইলে কৃষক হত্যায় অভিযুক্ত যুবকের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদক সেবনে বাধা দেয়ার অভিযোগে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে কৃষক মানসুর মোল্যাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক হাসিব মোল্যা (২০) থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়া থানায় গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত হাসিব কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে।

    ওসি জানান, হাসিব থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়নি। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় গত শুক্রবার নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার সাথে তার বংশীয় হাসিবের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিব ইউপি সদস্য কাসেদকে কিল-ঘুষি মারেন।

    এরপর শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদততলা ত্রি-মোহনার মোড়ের দোকানে যান। এ সময় ভুক্তভোগী কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম অভিযুক্ত হাসিবের কাছে কাসেদের গায়ে হাতর তোলার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় হাসিব হঠাৎ করেই ধারালো অস্ত্র বের করে মানসুর ও নূরকে কোপাতে শুরু করেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেয়ার পথে জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে গেলে তার মৃত্যু হয়। আহত নূরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য কাসেদ বলেন, ‘হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদক সেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত হাসিবের সাথে আমাদের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না।’ এ,আর

  • জীবননগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    জীবননগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পৃথক পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা পর্যন্ত এই পৃথক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

    গ্রেফতার আটজন হলেন— উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মরহুম ইসমাইল মন্ডলের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল ইসলাম (৫৪), বালিহুদা গ্রামের ওহাব আলীর ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ বিশ্বাস (৫৬), জীবননগর শহরের মহানগর উত্তরপাড়া এলাকার আসাদুজ্জামানের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুজ্জামান দীপ (২৪), মনোহরপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), করচাডাঙ্গা গ্রামের হামিদ ব্যাপারীর ছেলে নূর হোসেন (৪২), তার সহোদর আমিন হোসেন (৫৫), রোকন মিয়া (৪৫) ও মজিবার (৪২)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক পৃথক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার ওমেদুল ইসলাম, সাজ্জাদ বিশ্বাস আওয়ামী লীগ নেতা ও সাজেদুজ্জামান দ্বীপ ছাত্রলীগ নেতা। তাদের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির, জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন- উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।

    মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়।

    পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হলে রাত ২টার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় আসেন। তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন ও পুলিশকে চাপ দিতে থাকেন।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। এ,আর

  • ট্রেনের ধাক্কায় দুই ইজিবাইক যাত্রীর মৃত্যু

    ট্রেনের ধাক্কায় দুই ইজিবাইক যাত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের কৃষ্ণবাটি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রূপসী বাংলা ট্রেনের ধাক্কায় ইজিবাইক দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা গেছেন।

    নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার তফসীডাঙ্গা গ্রামের আজিজুর রহমান (৪০) ও এরশাদ আলী (৪৫)। তারা দুইজনই ইজিবাইকে ছিলেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণবাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে যশোরের দিকে আসছিল রূপসী বাংলা ট্রেন। এ সময় কৃষ্ণবাটি এলাকায় ট্রেনের সাথে একটি ইজিবাইকের ধাক্কা লাগে। এতে ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এতে থাকা আজিজুর রহমান ও এরশাদ আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    যশোর রেলস্টেশনের জিআরপি পুলিশের এসআই মামুন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি চত্বরে চিত্রাঙ্কন ও সন্ধ্যায় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের চতুর্থ দিনে এসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    শিশু-কিশোররা তাদের রঙ-তুলিতে বাংলাদেশের পতাকা, গ্রামীণ দৃশ্যপট, নদ-নদী, প্রাণ-প্রকৃতি, শরৎকাল ও নড়াইল জেলার ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চিত্রশিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নড়াইল সরকারি উচচ বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিত্রশিল্পী সমীর বৈরাগী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির নড়াইল ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সরকার, ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইনচার্জ এনাম হোসেন মোড়ল, সংগঠক সোহেল সরকারসহ অনেকে।

    এদিকে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি চত্বরে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম।

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির নড়াইল ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সরকার জানান, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় ২৫০ শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। শিশু থেকে উন্মুক্ত পর্যায়ে চারটি গ্রুপে চিত্রাঙ্কন ও তিনটি গ্রুপে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, মেলায় সাহিত্য, জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যাচ্ছে। এখানে বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রায় ১৫ হাজার বই স্থান পেয়েছে। ২৫-৩০ শতাংশ ছাড়ে বিভিন্ন প্রকাশনীর বই বিক্রি হচ্ছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বইমেলা শেষ হবে। এ,আর

  • নড়াইলে পুকুরপাড় থেকে লাশ উদ্ধার, গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর ধারণা

    নড়াইলে পুকুরপাড় থেকে লাশ উদ্ধার, গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর ধারণা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের দলজিৎপুর গ্রামের একটি পুকুরপাড় থেকে উসমান গনির (৪৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নারকেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উসমানের লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয় গ্রামবাসী।

    উসমান গনি ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে দলজিৎপুর গ্রামের মামুনের বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে একটি নারকেল গাছের নিচে উসমানের লাশটি দেখতে পায় তারা। লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন তিনি। লাশের পাশে একটি ব্যাগে সাতটি নারকেলও ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, নারকেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

    উসমানের বোন আছিয়া জানান, ওসমান ঘরে একা থাকতেন। তার স্ত্রী সৌদি আরব এবং দুই সন্তান নানা বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উসমানকে ঘরে রান্না করতে দেখেছেন তিনি।

    এদিকে, স্থানীয় গারুচিরা বাজারে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উসমানকে চা পান করতেও দেখেছেন স্থানীয়রা।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে উসমানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ,আর

  • কুষ্টিয়া মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, আটক ৩

    কুষ্টিয়া মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের দাবি। এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সাউতা গ্রামের বাসিন্দা হৃদরোগী আতিয়ার শেখ (৬৫) কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

    স্বজনদের দাবি, কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের পরামর্শে আতিয়ার শেখকে ইসিজি করার জন্য বলা হয়। এর মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    মৃত রোগীর ছেলে রিপন শেখ জানান, তারা চিকিৎসক বা নার্সদের সাথে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করেননি।

    বরং হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা একতরফাভাবে তাদের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

    ঘটনার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলে ওবায়দুর ইসলাম এবং তার দুই স্বজন রুহুল আমিন ও হযরত আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

    আটক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। আমাদেরকে বেদম পিটিয়েছে চিকিৎসকেরা।’

    হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: আকুল উদ্দিন বলেন, ‘রোগীর স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।’

    এদিকে, ঘটনার বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা জানিয়েছেন, শনিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

    দিবাগত রাত ৩টার দিকে মডেল থানা পুলিশ আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। আতিয়ার শেখের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

    কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে হালিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর একজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা: মো: ইকবাল হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। একই ঘটনায় হালিম নামে অপর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’ এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে ৭২৩ বস্তা সার জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে ৭২৩ বস্তা সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭২৩ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর শহরের দত্তনগর সড়কে অবস্থিত শান্তনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ লাইসেন্স ছাড়াই দোকানে বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশে সরকারি রাসায়নিক সার মজুদ করেন। খবর পেয়ে জীবননগরের ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের মালিক আজাদ পালিয়ে যান। পরে দোকান থেকে ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।

    অন্যদিকে, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসাদাহ বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায়। দোকান মালিক আব্দুল খালেকের উপস্থিতিতে ৩২০ বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়। পরে তার তিনটি দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়।

    জীবননগর থানার ওসি জানান, সার ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জীবননগর থানায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি রোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কেউ অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সঙ্কট বা অবৈধ মজুদের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘যশোরের নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে রাসায়নিক সার এনে মজুদ করছিল, যাতে ভুট্টা মৌসুমে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে কৃষি মৌসুম চলায় সারের চাহিদা অনেক বেশি। এ সময় অবৈধ মজুদ সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে প্রকৃত কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ এ,আর

  • যশোরে নিয়োগপত্র না পেয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি

    যশোরে নিয়োগপত্র না পেয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ১০৬ প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রার্থীরা অংশ নেন।

    তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হলেও ১০৬ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি।

    প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন কারণে নিয়োগপত্র আটকে দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণে তারা বাদ পড়েছেন। বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে জানানো হলে তিনি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে জানান।

    নিয়োগের বিষয়টি সমাধান না হলে রোববার বাদ পড়া প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সমবেত হয়ে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। এ,আর

  • খুলনায় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী রিফাত গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী রিফাত গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনায় সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত চিংড়ি পলাশের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ তার স্ত্রী টিকলি মাক্কি রানীকে (৩০) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে রিফাত তালুকদার (২২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বলেন, গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, কারাগারে বন্দি নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী চিংড়ি পলাশের গোবরচাকার বাড়িতে যশোর থেকে আসা ২০-২২ বছর বয়সী কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং বাড়ি থেকে রিফাত তালুকদার নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই বাড়ির একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বিদেশী পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও ৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার রিফাত তালুকদার যশোর শহরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মো: ইদ্রিস তালুকদার ও নাসিমা বেগমের ছেলে। রিফাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।

    এর আগে দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চিংড়ি পলাশের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ তার স্ত্রী টিকলি মাক্কি রানীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্বামী পলাশ গ্রেফতার হওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান। এরপর সেখানে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। স্বামীর সংসারে আর তিনি ফিরতে চাননি। পরে তার ভাশুর স্বামীর জামিনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে খুলনায় নিয়ে আসেন। এর সাথে সে জড়িত নয়। পলাশের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোর থেকে চিংড়ি পলাশকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এখন সে কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোনাডাঙ্গা থানায় আটটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। এ,আর

  • নড়াইলে নাশকতার মামলায় হবখালী ইউপি মেম্বার লিটু গ্রেফতার

    নড়াইলে নাশকতার মামলায় হবখালী ইউপি মেম্বার লিটু গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাশকতার মামলায় নড়াইল সদরের হবখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) ইব্রাহিম হোসেন লিটুকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে কাগজীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, হবখালী ইউপি মেম্বার ইব্রাহিম হোসেন লিটুকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ,আর

  • সাতক্ষীরায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    সাতক্ষীরায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ – এ স্লোগান ধারণ করে সাতক্ষীরায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায় আল আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ। প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম এবং সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সততা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

    প্রধান আলোচক সাইদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক ফলাফলে সফল হলেই চলবে না, তাদের একজন আদর্শ ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা ও নৈতিকতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সেরা হওয়ার পাশাপাশি আদর্শিক চেতনায় বলীয়ান হতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট, ফুল, বই, কলম ও প্যাডসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি ‘পরামর্শ বোর্ড’ও রাখা হয়। অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য ফটোফ্রেমের ব্যবস্থা করা হয়।

    শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও একজন বক্তব্য দেন।

    আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে ‘কপোতাক্ষ শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরার শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, মিডিয়া ও তথ্য সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সাহিত্য সম্পাদক ইমরান হোসেন আফজাল, সমাজসেবা সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান, এইচআরডি সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, আইন সম্পাদক মো. আকবর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানুল বান্না, সহকারী সমাজসেবা সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, সহকারী এইচআরডি সম্পাদক রাসেল হুসাইন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সভাপতি জিয়াউর রহমান ফাহিম, সিটি কলেজ সভাপতি মোল্ল্যা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ ও আগরদাঁড়ী মাদরাসা থানা সভাপতি মো. মুহিব্বুল্লাহ। এ,আর

  • নড়াইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নড়াইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির নড়াইল জেলা শাখা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের মাল্টিপারপাস হলরুমে ৪০৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তাজ মোহাম্মদের সভাপতিত্বে ও জেলা শাখার সেক্রেটারি রোমান শেখের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক ডা: জায়েদ আহমাদ।

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক তানভীর সিকদার, প্রকাশনা সম্পাদক নুরুজ্জামান, এইচআরডি সম্পাদক নাইমুল ইসলাম, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি ওয়াকিবুজ্জামান অভিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ,আর