খুলনা বিভাগ

  • শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

    গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষণের দায়ে একটি ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার হিজলগাড়ী ও ডিঙেদহ এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হিজলগাড়ী বাজারের মেসার্স সুমি ফার্মেসির ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষিত ছিল। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আশরাফুল আলমকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানহীন পণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানটি পরিচালনা করেন। এ সময় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামে পানিতে ডুবে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আরিশা খাতুন তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী মাঠপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত আরিশা শফিকুল ইসলামের পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

  • মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    মোবাইল দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে পুকুরের পানিতে পড়ে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিশা খাতুন ওই গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আরিশা বাড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল।

    খাওয়া শেষে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতেই বাড়ির পাশে খেলতে যায় সে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

    পরে দ্রুত তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শিশুর ফুফু চুমকি খাতুন বলেন, আরিশা মোবাইল দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষ হলে মোবাইল নিয়েই খেলতে যায়। পরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

  • খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৯০ হাজার ৮৫৪ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ের সমীক্ষা চালিয়ে যোগ্য কৃষক বাছাই করা হয়েছে। তিন ধাপের সমীক্ষার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপের সমীক্ষা চলছে। সেই হিসেবে প্রথম দফায় কৃষকের সংখ্যা এক লাখ চাড়িয়ে যাবে।

    খুলনা কৃষি অঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে গঠিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে কৃষক কার্ডের জন্য যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলায় ২৮ হাজার ৪০৩, সাতক্ষীরায় ২৯ হাজার ৬৮৫, বাগেরহাটে ২৬ হাজার ৩৩৮ এবং নড়াইলে ৬ হাজার ৪২৮ কৃষককে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলার অবশিষ্ট যোগ্য কৃষকদের নামও পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হবে।

    কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী কৃষকরা জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাঁচ বছরে খুলনা কৃষি অঞ্চলের মোট ১১ লাখ ৯১ হাজার ১০৪ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সেচসেবা, প্রশিক্ষণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা, বালাই দমনসংক্রান্ত পরামর্শ, কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি বীমা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ঋণ এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    খুলনা অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড পাবেন। কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।’

  • পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    যশোরের শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। সবুজ মাঠ জুড়ে কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ, আবার কোথাও কৃষকেরা ব্যস্ত জাগ দেওয়ার প্রস্তুতিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি প্রণোদনায় চলতি মৌসুমে শার্শায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষকের ঘরে সোনালি আঁশ উঠলেও মুখে হাসি নেই; বাড়ন্ত উৎপাদন খরচের কারণে বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০৩ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে ভালো ফলনের আনন্দের চেয়ে কৃষকদের বেশি ভাবাচ্ছ শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি, জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ।

    বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম ও রফিকুল ইসলাম জানান, বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট ধোয়া পর্যন্ত প্রতি ধাপে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। দাম না পেলে চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।
    স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন, যার সুযোগ নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। তবে কিছু কৃষক পাটখড়ি বিক্রি করে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, প্রণোদনা ও পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে সহায় দেওয়া হচ্ছে। আঁশের গুণগত মান ভালো থাকলে বাজারে সঠিক মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • দখল ও অব্যবস্থাপনায় চৌগাছা চাবাজারে ক্রেতাদের ক্ষোভ

    দখল ও অব্যবস্থাপনায় চৌগাছা চাবাজারে ক্রেতাদের ক্ষোভ

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে দখল, খুচরা দোকান বসতে দেওয়া ও অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে ব্যবসার জায়গা। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বেচাকেনায়। সোমবার বাজারে কাঁচামাল না কিনেই ফিরে গেছেন পাইকারি ক্রেতারা। বাজারের পরিবেশ ও জায়গার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হলে তারা বাজারে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বাজারসংলগ্ন কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও মূল বাজারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট চটের দোকান, মাছের দোকান, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে বাজারের চলাচলের জায়গা কমে গেছে।

    তারা আরো জানান, স্কুলের যে জায়গায় মডেল মসজিদ স্থাপন করার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে মাত্র ১৭ টি দোকান ছিল। এই দোকানগুলোর জন্য বাজেরর নির্মাণাধীণ বিল্ডিংয়ের টিনশেডে জায়গা দেওয়া হয়েছে। যা বাজারে জণ্য নূন্যতম প্রভাব পড়ার কথা না। অথচ সরকার বিরোধী একটি কুচক্রিমহল বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার ককরার চেষ্ঠা করছে।

    বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজার মালিক আতিকুর রহমান লেন্টু কাঁচাবাজারের জন্য ১’শ ৫৭ শতক জায়গা ইজারা নিয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাজারের পরিসর ও আশপাশের জায়গা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ শতক জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে মাত্র ৪৭ শতাংশ জায়গায় মসজিদ নির্মান করা হচ্ছে। কিন্তু বাজারে অব্যবস্থাপনার কারণে বাজারের মূল অংশে অব্যবস্থাপনার জন্য জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে।

    পাইকারি ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে খুচরা বিক্রেতারা চট বসিয়ে জায়গা দখল নিয়েছে। যে কারনে বাজার সংকুচিত হয়েছে। বার বার বলা সত্বেও হাট ইজাদার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

    হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টুর দাবি, তাঁর ইজারা নেওয়া বাজারের জায়গাও বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। ফলে বাজারে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে পাইকারি ক্রেতারা মাল না কিনে চলে গেছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের জায়গা নামমাত্র টাকায় ভাড়া নিয়ে কাঁচাবাজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে একটি মহল। অথচ বাজারের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

    পাইকারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে; বাজারের মাঝখান থেকে মাছের দোকান সরানো, খুচরা কাঁচাবাজার অন্যত্র নেওয়া, অপরিকল্পিত ও অবৈধ ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ, বাজারের মাঝখানের আড়তগুলো নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা ।

    ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকি করা গেলে চৌগাছা কাঁচাবাজারের পুরোনো পরিবেশ ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

  • জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সিজারিয়ান অপারেশনের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সরকারি লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয়া হয়। একই সাথে আদায় করা হয় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা।

    অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, অনুমোদনহীন ও অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জীবননগর উপজেলায় গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন,সভাপতি শফিকুল-সম্পাদক মহাসিন

    চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন,সভাপতি শফিকুল-সম্পাদক মহাসিন



    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন বছরের জন্য শফিকুল ইসলামকে সভাপতি ও মহসিন আলীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের চৌগাছা অফিসে এ কমিটি গঠন করা হয়।

    এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার কামাল আহমেদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার ছিলেন প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর ও এ্যাড. হায়দার আলী।
    কমিটির অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবু তাহের এবং ওজ্জেত আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম সালাম, দপ্তর সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, প্রচার সম্পাদক শান্ত ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ, কার্য নির্বাহী সদস্য শরিফুল ইসলাম ও শাকিল।
    প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাস্টার কামাল আহমেদ জানান, এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২৪ আগস্ট ২০২৬, মনোনয়ন পত্র বিক্রি ২৬ আগস্ট, যাচাই ২৯ আগস্ট, প্রত্যাহার ৩ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৩ টি পদে কোন প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী না থাকায় তাদেরকে বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
    নির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, প্রধান নির্বাচন কমিশনার চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, এ্যাড. হায়দার আলী, চৌগাছা মোটরযান শ্রমিক সংস্থার সভাপতি আনিছুর রহমান, প্রেসক্লাব চৌগাছার যুগ্ম-সম্পাদক এম এ রহিম, সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াকুল আলী ও চৌগাছায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন প্রমুখ ।

  • খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার দৌলতপুরে জলিল মুন্সি নামে এক যুবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে থানার কুলিবাগান বটতলার অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

    পাট শ্রমিক জলিল ওই এলাকার সাধু বাগানের দিলু মুন্সির ছেলে।

    পুলিশ জানায়, কুলিবাগান এলাকায় জলিলের বাবার একটি পানের দোকান আছে। সেখানে যাওয়ার জন্য এক যুবককে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে পৌনে ৮টার দিকে বের হন তিনি। কিছুক্ষণ পর তার মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। ফোনে তর্কতর্কি হয়।

    এরপর বটতলা থেকে দুই গজ দূরে যাওয়া মাত্র একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তির সাথে তার কথা হয়। এক পর্যায়ে আগতদের একজন তাকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি গুলি করে। গুলি তার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।

    স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

    কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কি কারণে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা জানার চেষ্টা করছি।’

  • কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নিখোঁজ ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকা দুর্ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। তীব্র স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয় নৌকাটি। পরে স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। এ সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিং ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজরা হলেন শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রকি, একই উপজেলার কবিরপুরের লিটন এবং আব্দুল ওহাব।

    ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকাটি কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন। ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে নৌকাটি ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়।

    এতে নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে যান। এরপর নৌকাটি স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণে এনে তীরে নেয়া সম্ভব হয়। স্থানীয়রা নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যান।

    দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। প্রথমে চারজন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা গেলেও পরে ওহাব নামে একজনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত। তিনি বলেন, ‘এটি শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা ছিল। তারা ভেড়ামারা সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিল। তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে আছি।’

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নিখোঁজ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নৌকাটিতে প্রায় ১১০ জন ছিলেন। রাতে উদ্ধার সম্ভব না হলে খুলনা থেকে ডুবুরি পৌঁছলে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’

    নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেও অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।

  • শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’

    স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

    দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

  • নড়াইলের কালিয়ায় মাদকসেবনের দায়ে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

    নড়াইলের কালিয়ায় মাদকসেবনের দায়ে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের কালিয়া শ্মশানঘাট এলাকায় গাঁজা সেবনের দায়ে চার যুবককে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের প্রত্যেককে তিন মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম এ কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার হাড়িডাঙা গ্রামের মান্নান লস্করের ছেলে শিহাব লস্কর (৩৮), বিলবাউস গ্রামের লিকু সরদারের ছেলে ওলি সরদার (২৩), বাকা গ্রামের আফতাব উদ্দিন শিকদারের ছেলে বাহাউদ্দিন তিতাস শিকদার (৩৫) এবং কালিয়া পৌরসভার বড়কালিয়ার বাচ্চু গাজীর ছেলে মাহাবুর গাজী (৩০)।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়া থানা পুলিশের একটি দল শ্মশানঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় গাঁজা সেবনের অভিযোগে ওই চার যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাতুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালত তাদেরকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

  • চৌগাছায় ২৫০ শিক্ষার্থীর  ফলজ ও বনজ গাছের চারা  উপহার

    চৌগাছায় ২৫০ শিক্ষার্থীর  ফলজ ও বনজ গাছের চারা  উপহার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    “বই মানুষের মনকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করে, আর গাছ জীবন বাঁচিয়ে রাখতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে”— এ বার্তা নিয়ে যশোরের চৌগাছায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। ‘বই ও গাছই পরম বন্ধু’ শ্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের উদ্যোগে স্থানীয় দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে এ গাছের চারা উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগার মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে পাঠাগার চত্বরে এ চারা বিতরণ হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সভাপতি রওশন আলী। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফারজানা ইসলাম বলেন, “গ্রামের এমন নিভৃত পল্লীতে অত্যন্ত সুন্দর ও সুসংগঠিত একটি পাঠাগার দেখে আমি বিমোহিত। সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা থেকে বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ নিজ চারাগাছ যত্ন সহকারে লালন-পালন করার আহ্বান জানান।

    বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের পরিচালনায়

    বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন নাহার।

    কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন শিক্ষার্থীদের চারা রোপণের সঠিক পদ্ধতি এবং পরিবেশবান্ধব ও ফলদ গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে পরামর্শ দেন।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের সাহিত্য সম্পাদক জুবায়ের হোসেন, সদস্য উবাঈদ সামি, সদস্য নূরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সাহাজুর রহমান প্রমুখ।

    আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ বাড়ীয়ালী-হাউলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাড়ীয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে পরিবেশবান্ধব নানা প্রজাতির ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। পাঠাগার কর্তৃপক্ষের এই ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক পদক্ষেপে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

  • লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

    লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ইসলাম শেখ (৫০) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত ইসলাম শেখ উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মরহুম বজলু শেখের ছেলে। তিনি পেশায় অটোভ্যানচালক ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিপু সুলতান সমর্থিত লোকজনের সাথে একই গ্রামের মফিজার শেখ সমর্থিত লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

    এর জেরে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর বিকেল ৩টার দিকে ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রঘুনাথপুর কবরস্থান এলাকায় পৌঁছালে টিপু সুলতান পক্ষীয় লোকজন ইসলাম শেখকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।

    স্থানীয়রা ইসলাম শেখকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

  • ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    ইবি সাদ্দাম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসউদ আল মাহদী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদীকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী বলেন, ‘আমি মনে করি, হল শিক্ষার্থীদের স্থান। হলের প্রতিটি বিষয়ে পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যয়—সবকিছুই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হওয়া উচিত। তাদের উন্নয়ন এবং একুশ শতকের যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য হল থেকে যেকোনো ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হলের আমানতদারিতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্বস্ততা রক্ষা এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হল একটি পরিবারের মতো। এখানে মত ও চিন্তার ভিন্নতা থাকলেও কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।’

    উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

  • কোটচাঁদপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    কোটচাঁদপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসরা এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসাতুস সুফফাহর প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পৌর এলাকার দুধসরা বাসস্ট্যান্ডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তারা মনে করেন। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় না করার আহ্বান জানান তারা।

    মানববন্ধনে মাওলানা আমানুল্লাহ, মাওলানা ইব্রাহিম, মুফতি জসিম উদ্দিন, হাফেজ আলী আজম, মাওলানা নুরুল কবির, মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল ও মাওলানা আব্দুল কাদের বক্তব্য দেন।

    বক্তারা প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের মুক্তির দাবি জানিয়ে বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • কোটচাঁদপুরে ভুয়া উপ-পরিদর্শক আটক

    কোটচাঁদপুরে ভুয়া উপ-পরিদর্শক আটক

    খালেদুর, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগে রাকিবুল হাসান (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের তালসার বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
    আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার শালকোপা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. মহসিন আলীর ছেলে।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান এর আগেও তালসার বাজারে গিয়ে নিজেকে এনএসআইয়ের উপ-পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে রূঢ় আচরণ করতেন এবং সুযোগ বুঝে অনৈতিক সুবিধা নিতেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
    মঙ্গলবারও একইভাবে নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি তালসার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে জানান।
    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া গেলে পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
    স্থানীয়রা জানান, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত কিংবা হয়রানি করা হলে তা উদ্বেগের বিষয়। আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়, তিনি কী উদ্দেশ্যে এনএসআইয়ের পরিচয় ব্যবহার করতেন এবং কারও কাছ থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
    তবে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
    পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নড়াইলে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা

    নড়াইলে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা

    সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং এর নানাবিধ আর্থিক সুরক্ষাসংক্রান্ত সুবিধাসমূহ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নড়াইলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘সর্বজনীন পেনশন মেলা ও তথ্য প্রদর্শনী’।

    জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং নড়াইল জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উপলক্ষে দুপুরে এক মনোজ্ঞ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নড়াইল-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বৃদ্ধ বয়সে যেন কাউকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়, সে জন্য যুবক ও কর্মক্ষম বয়সেই এই স্কিমে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

    অনুষ্ঠানের সভাপতি নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নড়াইল জেলার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বেসরকারি চাকরিজীবী এবং প্রবাসীদের পেনশন সুবিধার আওতায় আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই স্কিমের বার্তা ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: সুরাতুজ্জামান বলেন, “সর্বজনীন পেনশন কোনো সাময়িক সঞ্চয় নয়, এটি শতভাগ সরকারি জামানতযুক্ত দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অত্যন্ত স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে গ্রাহকরা ঘরে বসেই তাঁদের হিসাব পরিচালনা করতে পারেন।”

    আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা মেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও ব্যাংকের স্থাপন করা ২৩টি স্টল ঘুরে দেখেন।

    মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতাধীন ৪টি প্রধান ক্যাটাগরি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ‘প্রবাস’, বেসরকারি কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্ম ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের জন্য ‘সুরক্ষা’ এবং স্বল্প আয়ের ব্যক্তিদের জন্য ‘সমতা’ স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান ও তাৎক্ষণিক নিবন্ধন সেবা দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই মেলায় স্থানীয় বিপুলসংখ্যক সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (তহবিল ব্যবস্থাপনা) সদস্য মুন্সী আবদুল আহাদ, অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব আ ফ ম ফজলে রাব্বী, জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরই আলম সিদ্দিকী এবং নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক মো: মোস্তাফিজুর রহমান আলেক,অতিুরক্ত জেলা প্রশাসক আহসান মাহমুদ রাসেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পানি নিষ্কাশনের জন্য খোঁড়া ১০ ফুট গভীর ড্রেনটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নিলো মরণফাঁদে। ওপরের মাটির বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে ভেতরে কাজ করা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন।

    দীর্ঘ ৪০ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি ২০ বছর বয়সী তরুণ শ্রমিক রাব্বি হোসেনকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপর দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদেমপুর ইউনিয়নের রংপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাব্বি হোসেন (২০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। আহত অন্য দুই শ্রমিক একই গ্রামের রাজন (১৯) ও তানজিল (১৭)। বর্তমানে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বসতবাড়িতে সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনের ড্রেন খননের কাজ করছিলেন তিন শ্রমিক। প্রায় ১০ ফুট গভীরে নেমে কাজ করার সময় বিকেলে হঠাৎ পাশের উঁচুকৃত মাটির টিলা বা দেয়াল ধসে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী আমেনা বেগম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো মাটির স্তূপ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ওপর এসে পড়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আজিমুল্লাহ বলেন, বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে তারা দুই শ্রমিকের মাথা কোনোমতে মাটির ওপরে ভেসে থাকতে দেখেন। দ্রুত গ্রামের মানুষজন এক হয়ে মাটি সরিয়ে রাজন ও তানজিলকে জীবিত উদ্ধার করলেও রাব্বি পুরোপুরি মাটির নিচে হারিয়ে যান।

    প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়রা মাটি কেটে রাব্বিকে নিথর অবস্থায় বের করে আনেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

  • উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    উপকূলে ছত্রাক প্রভাবে বিপন্ন নারকেল

    একসময় উপকূলীয় জনপদের বাড়ির উঠান, বাগান, সড়কের পাশ ও মাছের ঘেরের পাড়জুড়ে ছিল সারি সারি নারকেলগাছ। বাগেরহাটের ফকিরহাট ছিল নারকেল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা। কিন্তু রোগ-পোকা, ছত্রাক, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের অভিঘাতে কমছে গাছের ফলন। একই সঙ্গে কাঁচা ডাব হিসেবে অধিকাংশ নারকেল বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পরিপক্ব নারকেলের সংকটও তীব্র হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ফকিরহাটে নারকেল উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে ৪ হাজার ৫০ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার টনে নেমেছে। এক দশকে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই দশকে অনেক গাছে ফলন কমেছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
    সম্প্রতি ফকিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির বাগান, মাছের ঘের ও সড়কের পাশে এখনও অসংখ্য নারকেলগাছ রয়েছে। তবে অনেক গাছেই পাতায় কালো দাগ ও সাদা আবরণ দেখা যাচ্ছে। কমে গেছে পাতার সংখ্যাও। ফলে গাছ থাকলেও আগের মতো ফলন হচ্ছে না।

    কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বাগেরহাটে রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইটফ্লাইয়ের ব্যাপক সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১-২২ সালের এক গবেষণায় জেলার প্রায় ৯৭ শতাংশ নারকেলগাছ এ পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। পোকাটি পাতায় সাদা আবরণ তৈরি করে এবং পরে কালো ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হতে সহায়তা করে। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
    ফকিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল হোসেন বলেন, একটি সুস্থ নারকেলগাছে সাধারণত প্রায় ৩৬টি পাতা থাকে। অথচ অনেক গাছে এখন মাত্র ১৫-২০টি পাতা রয়েছে।
    কৃষক জিন্নাত শেখ বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকেই নারকেলের উৎপাদন কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আইলা, আম্পান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং রোগ-পোকার আক্রমণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    প্রায় ২০০টি নারকেলগাছ রয়েছে জিন্নাত শেখের। তাঁর ভাষ্য, সাত-আট বছর আগে এসব গাছ থেকে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হতো। এখন আয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকায়।
    ফলন কমার প্রভাব পড়েছে ফকিরহাটের ঐতিহ্যবাহী নারকেল বাজারে। স্থানীয় পাইকারদের মতে, একসময় প্রতি রবি ও বুধবার বাজারে লাখ লাখ নারকেল কেনাবেচা হতো। এখন বেচাকেনা সীমিত হয়ে এসেছে মাত্র দুই গলিতে।
    পাইকার নিত্যানন্দ দাস, আলী শেখ ও শেখ হাফিজুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগেও একজন ব্যবসায়ী দিনে ৮-১০ হাজার নারকেল কিনতেন। এখন তাঁরা কিনছেন মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার।
    দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। পাঁচ-ছয় বছর আগে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি নারকেলের দাম এখন আকারভেদে ১৩০-১৬০ টাকা।

    নারকেলের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্পেও। গ্র্যান্ড অটো নারকেল তেল মিলের মালিক স্বপন কুমার বসু বলেন, ২০০৩ সালের দিকে বাগেরহাটে প্রায় ১০৯টি নারকেল তেল মিল ছিল। কাঁচামালের সংকটে এর মধ্যে শতাধিক বন্ধ হয়ে গেছে।

    তাঁর দাবি, উৎপাদিত নারকেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন কাঁচা ডাব হিসেবে বিক্রি হয়। কোভিড-১৯ মহামারি ও ডেঙ্গুর সময় ডাবের চাহিদা বাড়ায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই নারকেল বিক্রির প্রবণতা আরও বেড়েছে।
    নারকেলের সংকট শুধু কৃষি ও বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতেও।
    গৃহিণী বিশাখা দাস বলেন, আগে নারকেলের দুধ দিয়ে ডিমের কোরমা ও মাছ রান্না করা হতো। কোরানো নারকেল দিয়ে তৈরি হতো চিংড়ির বড়া, পাটুরি, নাড়ু, পুলি ও ভাপা পিঠা। এখন নারকেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎসব ছাড়া এসব খাবার তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারকেলগাছে রোগ-পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তবে কৃষি অফিসের লজিস্টিক সহায়তা সীমিত। গত বছর ৩০ জন গাছি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ বছর ৮০০ কৃষককে নারকেলের চারা দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতাহার হোসেন বলেন, গাছের বয়স, সুষম সার ব্যবহারের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাদামাছির আক্রমণ নারকেল উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ।
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাইনুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগ নারকেল উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

  • চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ভ্যানিলা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছর পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর ১৮ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামে সমন্বিত কৃষি খামার। ফল চাষ ও পশুপালনের পাশাপাশি খামারের বিশেষ আকর্ষণ ১০ কাঠা জমিতে তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হুমায়ুন ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউসে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে বেড়ে উঠেছে ভ্যানিলার লতা। সেখানে ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটির মতো ফল ধরেছে।

    হুমায়ুন কবীর বলেন, এ পর্যন্ত ভ্যানিলা বাগানে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম ৩০-৪০ হাজার টাকা। প্রক্রিয়াজাতের পর এ বছর ৭-৮ লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।

    তাঁর দাবি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খোলা জমিতে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও গ্রিন হাউসে তাপমাত্রা ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেখে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এ ফসল উৎপাদন সম্ভব।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, হুমায়ুন কবীরের সাফল্য প্রমাণ করে, উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্ভব। এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    লবণাক্ত জমিতে সবুজের সজীবতা

    উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খুঁটিকাটা গ্রাম। একসময় যেখানে লবণাক্ততার প্রভাবে শীত বা গ্রীষ্মে সবজি চাষ করা ছিল এক দুর্ভেদ্য চ্যালেঞ্জ, সেই গ্রামেই এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ আর কৃষকদের ব্যস্ততা নিয়ে খুঁটিকাটা এখন হয়ে উঠেছে এক স্বাবলম্বী জনপদ।

    উপকূলীয় এই এলাকার প্রায় ৪০০ কৃষক এখন নিয়মিত বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক নীলকান্ত ও সুব্রত জানান, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে প্রতিনিয়ত ক্ষতি হওয়ায় অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বসেছিলেন। তবে সিনজেনটা কোম্পানির ‘গো-গ্রো’ প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও উন্নত মানের উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহারে নতুন আশার আলো দেখতে পান তারা।
    সবজি চাষে সেচের প্রধান বাধা মিষ্টি পানির সংকট মেটাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। বর্ষার পানি ধরে রেখে সে কাজে লাগানোর ফলে বছরজুড়েই এখন বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। কেবল কৃষি উন্নয়নই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে রোপণ করা হয়েছে লবণসহিষ্ণু কয়েক শ গাছের চারা।

    তবে কৃষকদের নতুন অর্জনের পথে একমাত্র অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগের দুর্বল অবকাঠামো।
    চাষিরা জানান, গ্রামে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

    এতে উৎপাদিত ফসল সময়মতো মূল বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না এবং পচনশীল সবজি নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।
    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে খুঁটিকাটা গ্রামের কৃষকদের এই ঘুরে দাঁড়ানো উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিসম্ভাবনার এক ইতিবাচক মডেল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠোপোষকতা পেলে এই গ্রাম সারা দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় মসজিদ কুষ্টিয়ার শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি দর্শনে প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে জেলার অজপাড়া গাঁ নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়ায়। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

    শত শত দর্শক আর ভ্রমন পিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে এ স্থানটি। কিন্তু দর্শকদের জন্য তেমন সুযোগ সুবিধা নেই এখানে। নেই তেমন বিশ্রামের জায়গা। নেই থাকা ও খাওয়ার সুবিধা। ফলে এ স্থানটি দর্শনীয় হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের জন্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় এ স্থানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মসজিদটির দীর্ঘদিন উন্নয়ন না থাকায় জৌলুসও নষ্ট হতে বসেছে। মসজিদের মূল কাঠামোতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। চার কোণে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনারসদৃশ উঁচু কাঠামো। দেয়াল, খিলান ও গম্বুজের নকশায় ফুটে উঠেছে প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য। ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী এবং নান্দনিক কারুকাজ মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    জানা যায়, এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য অনেক ওলি আউলিয়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তারা নিজেদের জানমাল সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ধর্ম প্রচারসহ সকল দ্বীনি কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছিলেন মসজিদকে। সেই হিসাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছিলেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

    কুষ্টিয়া ইবি থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ঝাউদিয়া গ্রাম। এই গ্রামে সম্রাট শাজাহানের আমলে ঐতিহ্যবাহি শাহী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ থেকে তিনশত বছর পূর্বে সম্রাট শাহজাহান এই মসজিদ নির্মান ব্যয় বহন করেন। সে সময় মসজিদটির নির্মান কাজ পরিচালনা করেন শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী। উপ-মহাদেশ থেকে আসা ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী ৮৫ বছরে বয়সে এখানে মৃত্যু বরণ করেন। ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তিনি কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়।

    তার মৃত্যুর পর ১৯৬৯ সালে সুনামধন্য ব্যক্তি হাসান চৌধুরী তৎকালীন সরকারের সাথে একটি রেজিঃ চুক্তিনামা অনুযায়ী মসজিদটি প্রত্মত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তিনামা অনুযায়ী এই মসজিদের মতওয়ালী (তত্বাবধায়ক) হিসেবে থাকবে হাসান আলী চৌধুরী অথবা তারই বংশধর। বর্তমানে মসজিদ কমিটিতে তারই বংশধর মসজিদটি পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রাচীন স্থাপত্য, পরিবেশ ও ইতিহাস দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ শুধু একটি পুরোনো মসজিদ নয়; এটি তাঁদের এলাকার গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

    অনেকের ধারণা মসজিদটি গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছে। এ জন্য সুদর্শন মসজিদটি পরিদর্শনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষের ভীড় করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে এখানে লোক ধারণের জায়গা থাকেনা। অনেকেই মান্নত গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী নিয়ে এখানে উপস্থিত হন। মসজিদটিকে ঘিরে কিছু কুটির শিল্পের লোকজনও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ তাই কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি একটি মূল্যবান প্রত্মত্ত্ব ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যসৌন্দর্য সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

  • নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নড়াইলে শিশু বলাৎকারের অপরাধে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলে মাদরাসা ছাত্র বলাৎকারের অপরাধে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক মেরাজ আলী মিরাজকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মিরাজ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়া বকরী রুদ্রপুর গ্রামের আমানুল্লাহ হকের ছেলে।

    নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিবুর রহমান আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিরাজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাকে বিমর্ষ দেখা যায়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই ভোররাতে নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর-বাদামতলা জামিয়া রহমানিয়া তাইসিরুল উলুম মাদরাসার ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ওই মাদরাসার শিক্ষক মিরাজ পায়ুপথে ধর্ষণ (বলাৎকার) করে।

    এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই মিরাজকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মিরাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।

  • কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেলা ‘ফল ২০২৬’ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভর্তি মেলা চলবে।

    এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    মানবিক ও সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: নওয়াব আলী।

    বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, সাইকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল ইকবাল খান প্রমুখ। পরে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী এই শিক্ষা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    ভর্তি মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

    আয়োজকেরা জানান, এই মেলায় ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী, আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা ছাড়, ১ম সেমিস্টারের টিউশন ফি’র ওপর ২৫% ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০ জুনের হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

    সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব জানতে চান।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক—অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

    ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক পিএলসিতে ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংক পিএলসিতেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত, ২০২৬ সালে কত ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?’

    জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

    সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ হাজার টাকা।

    এ বিষয়ে গত ৩০ জুনের হিসাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিএর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ হাজার কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ হাজার টাকা।

  • কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখ কৃষক: অর্থমন্ত্রী

    কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখ কৃষক: অর্থমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণকারী ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী এসব কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করে তাদের কাছে ব্যাংকের প্রাপ্য এক হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে।’অর্থমন্ত্রী জানান, এ ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব উপজেলার কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন।

    এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় করদাতার সংখ্যা সম্পর্কিত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলাটিতে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন।

  • কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    সবজি চাষে খ্যাত যশোরে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি কচুর লতির আবাদও ছড়িয়ে পড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে কম খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় এ ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

    উৎপাদিত লতি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাইকারদের মাধ্যমে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় তুলনামূলক ভালো দাম ও দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেক কৃষক লতি চাষকে লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

    চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা, পাশাপোল ও সিংহঝুলি; বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা, জহুরপুর ও রায়পুর; শার্শার ডিহি, কায়বা ও নাভারণ; ঝিকরগাছার বাঁকড়া ও মাগুরা; মনিরামপুরের নেহালপুর, হরিহরনগর ও মনোহরপুর; কেশবপুরের পাঁজিয়া ও সুফলাকাঁটি; যশোর সদরের চুরামনকাটি, কাশিপুর, ইচালি, দেয়াড়া, লেবুতলা ও সাতমাইল এবং অভয়নগরের সিদ্দিরপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে এখন কচুর লতির আবাদ দেখা যাচ্ছে।
    একসময় এসব জমির বড় অংশে ধান চাষ হলেও এখন কিছু জমিতে জায়গা করে নিয়েছে কচুর লতি। কৃষকদের মতে, নিয়মিত পরিচর্যা করলে দীর্ঘ সময় ধরে এ ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়।

    যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরে সবজি চাষ বরাবরই সমৃদ্ধ। চলতি মৌসুমে আগাম সবজি খরিপ-২-এর আওতায় জেলায় মোট ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ হয়েছে। মাটি উর্বর হওয়া এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে লতির ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

    যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুলের হাট বাজারে প্রতিদিন কচুর লতির বেচাকেনা হয়। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটের নির্ধারিত দিন হলেও অন্যান্য দিনও সেখানে লতির কেনাবেচা চলে।
    বাঘারপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকরা ভোরে ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে লতি নিয়ে আসেন। পুলের হাটের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন বাজারেও চলে এর বেচাকেনা।

    পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন পুলের হাট থেকে কয়েক হাজার মণ কচুর লতি বেচাকেনা হয়। ভোর থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচায় শ্রমিকরা লতি বস্তাবন্দী করে ট্রাকে তোলেন। চুরামনকাটি, সাতমাইল, আব্দুলপুর, চৌগাছা কাঁচাবাজার ও বাঁকড়ার হাট থেকেও দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা লতি সংগ্রহ করেন। পরে এসব লতি পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় পাইকারি বাজারে।
    লতি চাষে কৃষকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ লাভজনকতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কৃষক বিকল্প ফসল হিসেবে লতি চাষ বেছে নিচ্ছেন।
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে জমিতে নিয়মিত ধান চাষ করতাম। কিন্তু একবার টানা বর্ষায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। এরপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে কচুর লতি চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো লাভ পাই। এরপর থেকে ধান ছেড়ে পুরোদমে লতি চাষেই মন দিয়েছি। বাজারে অন্য যেকোনো সবজির চেয়ে লতির দাম বেশি ও স্থিতিশীল থাকে, তাই ঝুঁকি অনেক কম।’


    একই এলাকার কৃষক প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ধান চাষের তুলনায় লতি চাষে শারীরিক পরিশ্রম কিছুটা বেশি হলেও আর্থিকভাবে এটি লাভজনক।
    তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমিতে কচুর লতি চাষে সার, চারা ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার লতি বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও নিট লাভ থাকছে ৬০ হাজার টাকা। কম সময়ে এত অল্প খরচে অন্য কোনো ফসল থেকে এত টাকা আয় করা সম্ভব নয়।’

    কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, যশোরের মাটি ও আবহাওয়ায় উৎপাদিত কচুর লতির মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।
    পুলের হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা যশোরের লতির জন্য মুখিয়ে থাকেন। এখানকার লতি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ফলে ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলের বাজারে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি বিক্রি হয়ে যায়। পণ্যের চাহিদা ও গুণগত মান ভালো বলেই আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারি।’

    বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইয়েদা নাসরিন জাহান বলেন, ‘আগে এই অঞ্চলের বন্দবিলায় হাতেগোনা চার-পাঁচজন কৃষক লতি কচু চাষ করতেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা প্রমাণ হওয়ার পর এখন প্রায় শতভাগ উপযুক্ত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লতি কচুর চারা যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো ওষুধ প্রয়োগ এবং আধুনিক পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, যশোরে কচুর লতি চাষ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম ধরে রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ আবাদ আরও বাড়তে পারে।

  • যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রাম। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে গাছে ধরে আছে আপেল কিংবা পাকা গাব। তবে কাছে গেলেই ধারণা বদলে গেলো।
    দেখতে আপেলের মতো, রঙে কমলার আভা। খেতে মিষ্টি, পুষ্টিগুণে ভরপুর। এ যেন একসাথে আপেল-গাব আর খেজুরের স্বাদ। জাপানের এই জাতীয় ফল পার্সিমনের চাষ হচ্ছে উপজেলার হিজলী গ্রামে। আর এর নেপথ্যের কারিগর হিজলী গ্রামের কৃষক জুলফিকার সিদ্দীক। যিনি ইতিমধ্যে লাভবানও হয়েছেন ।

    আলাপচারিতায় জুলফিকার সিদ্দীক জানালেন, ২০২১ সালে নাটোর থেকে পার্সিমনের চারা কিনে ৫ কাঠা জমিতে লাগান ৩০টি গাছ। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। চলতি মৌসুমে এসব গাছে প্রচুর পার্সিমন ধরেছে । গাছের ডালে ডালে ঝুলছে ফল, দেখেই বোঝা যায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

    তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ‘এমন একদিন আসবে, যখন পার্সিমন কাঁচাতেই মিষ্টি পাবেন। এগুলো ফল দু-একটা করে ধরতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করে আমাদের দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।’

    জুলফিকার সিদ্দীক নিজেও চারা উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার মাধ্যমে আরও ১০০ জন কৃষক এই চাষে আসুক। সরকার যদি প্রশিক্ষণ ও চারা সহায়তা দেয়, তাহলে ৩ বছরের মধ্যে যশোরে পার্সিমনের বড় বাগান হবে।’

    জুলফিকারের বাগানে ফল ধরার খবর ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামে। প্রতিদিনই পার্সিমন দেখতে আসছেন অনেকে। আপেলের মতো দেখতে আকর্ষণীয় এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
    দর্শনার্থী মনিরুজ্জামান উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক ফল দেখেছি কিন্তু এই ফল অনেক মজা ও সুস্বাদু। গাছে কুলের মতো ফল ধরে যেটা দেখে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। জাপানের জাতীয় ফল এ দেশে খেতে পেরে আমরা গর্বিত।’

    অনেকেই বাগান থেকে ঘুরে গিয়ে চারা সংগ্রহের কথা ভাবছেন। কৃষকদের মধ্যে নতুন এই ফল নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।
    শুধু হিজলী নয়, যশোরের বিভিন্ন এলাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে পার্সিমনের চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। মানভেদে প্রতি কেজি পার্সিমন বিক্রি হচ্ছে আটশ থেকে ১ হাজার টাকায়।
    দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি এখনো দুর্লভ ফল। চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ কম। তাছাড়া ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ শহরের ক্রেতাদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘একজনই চাষ করেছেন। তিনি মোটামুটি সফল। আমাদের যে গবেষণা এবং লিংকেজ ওয়ার্কশপ, সেখানে আমরা এটা উপস্থাপন করেছি। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি আমাদের অ্যাপ্রুভ করা হয়, তাহলে আমরা এটি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হবো।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এটার নতুন করে বাজার সৃষ্টি করতে পারলে, কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারলে স্ট্রবেরি বা ড্রাগনের মতো বিপ্লব ঘটবে। যশোরের মাটি সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানে ফল চাষেও ভালো সম্ভাবনা আছে।’

    কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পার্সিমন চাষের জন্য আলাদা কোনো কঠিন প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। সাধারণ ফল বাগানের মতোই পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে জাত নির্বাচন ও সঠিক সময়ে ছাঁটাই খুব জরুরি।

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘পার্সিমন জাপানের জাতীয় ফল। এটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, আয়রণ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। নিয়মিত পার্সিমন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। চোখ ও ত্বকের জন্য ভালো। ফাইবার বেশি থাকায় হজমেও সাহায্য করে। জাপান, কোরিয়া ও চীনে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। আমাদের দেশের মানুষও ধীরে ধীরে এটি গ্রহণ করবে।’

    ড. তানভীর আরও জানান, পার্সিমনের দুই ধরনের জাত আছে। একটি পাকলে নরম হয়ে যায়, আরেকটি কচকচে অবস্থায়ও খাওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন যে জাতটি চাষ হচ্ছে সেটি পাকলে নরম ও রসালো হয়।’
    কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্সিমন গাছ খরা সহনশীল। বেশি পানি জমে থাকা পছন্দ করে না। যশোরের উঁচু ও পানি নিষ্কাশন ভালো এমন জমিতে এটি ভালো হবে। তাছাড়া গাছে রোগ-বালাই কম। কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম লাগে।

    কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফ্রুট, অ্যাভোকাডোর মতো পার্সিমনও হতে পারে যশোরের নতুন অর্থকরী ফসল। একবার গাছ লাগালে ২০-২৫ বছর ফল দেয়। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম।

  • ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইসরাইলি হামলায় নিহত শুভর লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা শুভ দাসের (২৪) লাশ।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামে শুভ দাসের লাশ এসে পৌঁছায়।

    লাশবাহী গাড়িটি গ্রামে প্রবেশ করতেই স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপার্জনক্ষম তরুণকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। এ সময় তাকে শেষ নজর দেখতে হাজারো শোকাহত মানুষ শুভদের বাড়িতে ভিড় জমান। পরে দুপুরে পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি সম্পন্ন হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন শুভ। পরিবারের অভাব মেটাতে বসতভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো এক ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন শুভ। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সরকারি তৎপরতা শেষে মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর আজ তার লাশ দেশে ফিরল।

  • চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

    চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক


    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কনক কুমার (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন পুলিশ ।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় কনক কুমারকে আটক করা হয়। পরে তার দখল থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক কনক কুমার বর্ণি গ্রামের (হিন্দুপাড়া) শ্যামল কুমারের ছেলে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে চৌগাছা থানা ওসি মামুনুর রশিদ জানান, মাদকবিরোধীসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। সারা বছরই এর চাহিদা থাকায় কৃষকের কাছে মরিচ একটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে হলে শুরুতেই ভালো চারা তৈরি করা জরুরি। রবি মৌসুমের মরিচ চাষের জন্য এখন থেকেই বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হবে। মানসম্মত বীজ, সঠিক বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনায় যত্নবান হলে সুস্থ ও সবল চারা তৈরি করা সম্ভব। এনিয়ে রানার কৃষির নিয়মিত আয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    চারা তৈরির প্রথম ধাপ হলো মানসম্মত বীজ নির্বাচন। কৃষককে ভালো জাতের বিশুদ্ধ, পরিপক্ব ও রোগমুক্ত বীজ সংগ্রহ করতে হবে। সম্ভব হলে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্বস্ত বীজ বিক্রেতার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা উচিত। পুরোনো, ভেজা বা বিবর্ণ বীজ ব্যবহার না করাই ভালো।
    নিজের উৎপাদিত বীজ ব্যবহার করলে আগের মৌসুমের সুস্থ ও সবল গাছ থেকে পাকা মরিচ সংগ্রহ করে বীজ তৈরি করতে হবে। বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ভালো কি না, সেটিও পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার।

    বীজ শোধন করুন
    বীজবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে বপনের আগে বীজ শোধন করা প্রয়োজন। মরিচের বীজ শোধনের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। ওষুধ ব্যবহারের আগে প্যাকেটের লেবেলে দেওয়া ফসল, রোগ এবং মাত্রা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।
    বালাইনাশকের মাত্রা নিজের মতো করে বাড়ানো যাবে না। প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। বীজ শোধনের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বীজ শুকিয়ে নিয়ে বীজতলায় বপন করতে হবে।

    উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা
    মরিচের চারা তৈরির জন্য এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না। বর্ষার পানি বা সেচের পানি জমে থাকলে কচি চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উঁচু ও সুনিষ্কাশিত জায়গায় বীজতলা তৈরি করা ভালো।
    বীজতলার মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পচা জৈবসার বা কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আগের ফসলের রোগাক্রান্ত গাছের অংশ বা আগাছা বীজতলায় রাখা যাবে না।
    বীজ খুব ঘন করে বপন করা উচিত নয়। সারিতে অল্প দূরত্ব রেখে বীজ বপন করলে চারা পরিচর্যা সহজ হয় এবং আলো-বাতাস ভালোভাবে চলাচল করতে পারে।

    সেচে সতর্কতা
    বীজ গজানোর সময় মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। বীজতলায় পানি জমে গেলে বীজ পচে যেতে পারে এবং চারার গোড়া পচা রোগ দেখা দিতে পারে।
    সেচের সময় প্রবলভাবে পানি না দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে। বৃষ্টির সময় বীজতলায় পানি জমছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে। পানি জমলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    প্রয়োজনে অতিবৃষ্টি থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া যেতে পারে। তবে চারা গজানোর পর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ
    মরিচের কচি চারায় গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত চারা প্রথমে দুর্বল হয়ে যায়। পরে মাটির কাছের অংশ পচে গিয়ে চারা ঢলে পড়ে এবং মারা যেতে পারে।
    বীজতলায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পানি জমে থাকা, ঘন করে বীজ বপন এবং অপরিষ্কার বীজতলা এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আক্রান্ত চারা দ্রুত তুলে বীজতলা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে।
    রোগের লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে রোগ শনাক্ত করা উচিত। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

    চারায় পোকামাকড়ের আক্রমণ
    মরিচের কচি চারায় জাবপোকা, থ্রিপসসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হতে পারে। এসব পোকা কচি পাতা ও গাছের রস শোষণ করে চারাকে দুর্বল করে দেয়। আক্রান্ত পাতায় কুঁকড়ে যাওয়া বা বিকৃতির লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
    তাই বীজতলা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা দরকার। আক্রান্ত পাতা বা চারা আলাদা করে নষ্ট করতে হবে। পোকার উপস্থিতি দেখলেই কীটনাশক প্রয়োগ করা ঠিক নয়। প্রথমে পোকার ধরন ও আক্রমণের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
    আক্রমণ বেশি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পোকার জন্য অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। একই ওষুধ বারবার ব্যবহার না করে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

    চারার পরিচর্যা
    চারা গজানোর পর বীজতলায় নিয়মিত নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ঘন চারা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পাতলা করে দিতে হবে। এতে প্রতিটি চারা পর্যাপ্ত আলো, বাতাস, পানি ও পুষ্টি পাবে।
    আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আগাছা চারার সঙ্গে পানি ও পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে। একই সঙ্গে আগাছায় বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা আশ্রয় নিতে পারে।
    অতিরিক্ত সার প্রয়োগও করা যাবে না। চারার প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিতে হবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া প্রয়োগে চারা নরম ও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং রোগ-পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    মূল জমিতে চারা রোপণ
    চারা পর্যাপ্ত সবল হলে মূল জমিতে রোপণের প্রস্তুতি নিতে হবে। চারা তোলার আগে হালকা সেচ দিলে মাটি নরম হয় এবং শিকড়ের ক্ষতি কম হয়। রোগাক্রান্ত, দুর্বল বা অতিরিক্ত ছোট চারা বাদ দিতে হবে।
    মূল জমি অবশ্যই সুনিষ্কাশিত হতে হবে। জমিতে পানি জমে থাকলে মরিচের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় জৈবসার ও অন্যান্য সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
    চারা রোপণের সময় জাতভেদে উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। চারা খুব গভীরে রোপণ করা যাবে না। রোপণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা সেচ দিতে হবে।

    কৃষকের প্রতি পরামর্শ
    মরিচের ফলন ভালো করার প্রস্তুতি শুরু হয় চারা তৈরির সময় থেকেই। তাই মানসম্মত বীজ নির্বাচন, বীজ শোধন, উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং নিয়মিত রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
    রোগ বা পোকা দেখা দেওয়ার পর অজ্ঞতাবশত ওষুধ প্রয়োগ না করে প্রথমে সমস্যাটি শনাক্ত করা জরুরি। কারণ একই লক্ষণ বিভিন্ন রোগ বা পোকার কারণে হতে পারে। ভুল বালাইনাশক ব্যবহার করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসল, মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

    সুস্থ চারা মানেই ভালো ফসলের প্রথম ধাপ। তাই চারা তৈরির শুরু থেকে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ শনাক্ত করতে সমস্যা হলে আক্রান্ত গাছ বা পাতার নমুনা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে নিরাপদ, মানসম্মত ও লাভজনক মরিচ উৎপাদনের পথ সহজ হবে।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়। শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে একটি র‍্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নী।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা চঞ্চল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবি, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক, ইতালি লিবর্ন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আফিল উদ্দিন দফাদার, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, পাশাপোল ইউনিয়ন যুবনেতা জসিম উদ্দীন সরকার, পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবনেতা সুমন রেজা, পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হাকিম রেজা প্রমুখ ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে এক আনন্দ র‍্যালি বের হয়।

  • কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড আখ চাষি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া সুগার মিলটি পুনরায় চালু করার দাবিতে মিলের প্রধান ফটকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম হোসেন মালিথার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া সুগার মিল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এই অঞ্চলের হাজার হাজার আখ চাষি, শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে এই মিলটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের বেকারত্ব ও আখ চাষিদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালুকরণ এখন সময়ের দাবি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সকল বন্ধ মিল কলকারখানা পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। পুনরায় মিলটি চালু করে নির্ধারিত মূল্যে সঠিক উপায়ে চিনিসহ চিনিকেন্দ্রিক অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বর্তমান সরকার সৃষ্টি করতে পারলে কুষ্টিয়া সুগার মিল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আমি এই সুগার মিল পুনরায় চালুকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উল হাসান অপু, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাজাহান আলী, পোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আখ চাষি আব্দুল কুদ্দুস ও কামরুজ্জামান মিথুন।

  • মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভাগ্নিজামাই লুৎফরের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর রবিউল ইসলাম (৫২) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মরহুম আমিন উদ্দিন মৃধার ছেলে।

    পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রবিউলের ছেলে ও তার আত্মীয় লুৎফরের ছেলের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জের ধরে লুৎফর ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউলের ছেলেকে মারধর করার জন্য হাতে লাঠি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।

    একপর্যায়ে রবিউল ইসলাম সামনে এসে বাধা দিলে লুৎফর তাকে লক্ষ্য করে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আঘাত করার পরপরই অভিযুক্ত লুৎফর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লুৎফর পলাতক রয়েছেন।

    মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আজাদ রহমান জানান, শিশুদের খেলাধুলার সামান্য বিবাদ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত লুৎফর আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে দোকানপাটসহ ৬টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। শনিবার সকালে বগুড়া ইউনিয়নের দলিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রাকিবুল ইসলাম খান দিপু এবং বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দলিলপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস, বীরত্ব ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সাহস ও দেশের জন্য আত্মনিবেদনের অনুপ্রেরণা জোগায়।

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। এ উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির কাছে অবস্থিত তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতে বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ যে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা এবং শত্রুর মোকাবিলায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

    প্রতি বছর তাঁর শাহাদতবার্ষিকীতে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করা হয়।

  • ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    কৃষকদের মধ্যে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যশোরে সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। সিনজেনটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ক্রিস আর্জেন্ট, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা, ব্রুনো আনানিয়াস, হেড অব সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড রেসপনসিবল বিজনেস, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে ১০ জন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ৪০ জন কৃষক, ১০ জন চ্যানেল পার্টনার ও সিনজেনটা বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
    সিনজেনটা বাংলাদেশের ‘প্রজেক্ট শিল্ড’ কৃষি স্টুয়ার্ডশিপ জোরদার, ফসল সুরক্ষা পণ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ। সেশনটিতে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার, আসল পণ্য শনাক্তকরণ এবং নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এ সময় কৃষকদের কাছে মানসম্মত ও আসল কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া এবং এসব পণ্যের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
    বক্তারা বলেন, নকল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ শুধু কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এর নেতিবাচক প্রভাব ফসলের উৎপাদন, পরিবেশ এবং পুরো কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষক, সরকারি সংস্থা, চ্যানেল পার্টনার ও কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    তারা বলেন, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলভাবে কৃষি উপকরণ ব্যবহার, কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে পারলে কৃষকের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতকেও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
    সেশনে অংশ নেওয়া কৃষক, ডিএই কর্মকর্তারা ও চ্যানেল পার্টনাররা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আলোচনায় নকল পণ্য প্রতিরোধ এবং নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

    সিনজেনটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকারি সংস্থা, কৃষক, চ্যানেল পার্টনার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশে আরও নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

  • সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডস্কে,

    ঝিনাইদহের শৈলকূপায় রাসায়নিক সারের দাবিতে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা সার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার ‘মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ’-এ যান।

    এ সময় ডিলারের লোকজন সার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়াগঞ্জ-শৈলকূপা সংযোগ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধ করেন।

    প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গন্তব্যমুখী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সার সরবরাহের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সার নিয়ে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পরে কৃষকরা সার পেয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

  • কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত দরবার প্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার নিজস্ব দরবার শরিফে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

    নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় তার ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নতুন করে কবর তৈরি করে তা দাফন করা হয়।

    নিহত দরবার প্রধানের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    খবর পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কবর স্থানান্তরের আলামত মিলেছে। দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ অবশেষ দেখা গেছে। তবে সেটি শামীমেরই মরদেহ কি না, তা আইনগত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রাপ্ত নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, দরবার চত্বরে একটি কবর খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল দাফন করা হয়েছে। কঙ্কালটি শামীমের কি না, তা আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ঘটনাটি সত্য হলে মরদেহ আগের কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

  • বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাখির কিচিরমিচির কলতানে এক সময় গ্রাম বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙতো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই গ্রামের বাগানগুলোতে পাখির কলতানে মুখরিত হতো। দেশের গ্রাম বাংলায় শ্যামল প্রকৃতিতে হরেক রকম পাখির উপস্থিতি আরো মনোরম করে তুলতো বৃহত্তর কুষ্টিয়ার গ্রাম বাংলাকে। স্থায়ী বসবাসকারী পাখি আর মৌসুমী অতিথি ২২১ প্রজাতির পাখি যোগ হয় পাখিদের কাঁতারে। এদের মধ্যে যেসব পাখির নাম আমরা সর্বাধিক শুনেছি এবং দেখেছি গ্রাম বাংলায় অবাধ বিচরণ করতে।

    তাদের মধ্যে দোয়েল, শ্যামা, ময়না, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেঁচা, চড়ুই, মাছরাঙা, ঘুঘু, পাপিয়া, ময়ুর, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌড়ি, কাঠঠোকরা, বুলবুলি, চাতক, বাবুই, বক, বউ কথা কও, হলুদিয়া, কানা কুকো, টুনটুনি, ফিঙে, পায়রাসহ নানা প্রজাতির পাখি।

    বর্তমানে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে যাচ্ছে নানাবিধ কারণে। এর মধ্যে মানুষের সৃষ্ট কারণসমূহই প্রধান। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বনাঞ্চল। পাখিরা হারাচ্ছে তাদের আবাসস্থল। নদী পৃষ্ঠের লবণাক্ততা ও কীটনাশকের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় পাখির খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নদী অঞ্চলে লবণাক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

    অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, অপরদিকে বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। মানিকজোর, সবুজ ঘুঘু, হারগিলা, শঙ্খচিল, ভুবনচিল, মদনটাক, ময়ূর, ঈগল, শকুন, বক,বাদুর বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

    এ দেশে শকুনের যেকটি প্রজাতি আছে, তার মধ্যে বাংলা শকুন ছাড়া বাকি সব জাতের শকুন হারিয়ে গেছে। শকুনের খাবার ও আবাসস্থল নেই। যার ফলে বাংলা শুকুন হারিয়ে যাচ্ছে। শকুনরা সাধারণত পুরোনো বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। পুরোনো বড় বড় গাছ নিধন করে ফেলায় পরিবেশের বন্ধু শকুন হারিয়ে গেছে।

    দেশে ৪৩ প্রজাতির চিল, বাজ, ঈগল ও শকুন পাখি দেখা যেতো। এরা খাবার হিসাবে ইঁদুর, মাছ, ব্যাঙ, ছোট সাপ, পোকামাকড় পছন্দ করে। নদী-নালা ও জলাশয়ের পাশের বড় গাছে বসবাস করত এরা। নদী-নালা ও জলাশয়ের দূষণের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের শঙ্খচিল।

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় যত ধরনের ঘুঘু দেখা যায়, তার মধ্যে সবুজ ঘুঘু সবচেয়ে সুন্দর। ছায়াঘেরা বনের নির্জনে খুব সকালে ও শেষ বিকেলে এরা খাবার খুঁজে বেড়াতো যা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বাকি সময় বৃক্ষের ডালে বসে সময় কাটাতো। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে এখন ঘুঘুর বিচরণ চোখে পড়ে না । গ্রামীণ জনপদে ঘুঘু দেখা গেলেও সবুজ ঘুঘুর দেখা মেলে না। যাও দেখা যায় শিকারীদের কারণে তা মারা পড়ছে প্রতিদিনই।

    বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনে বাংলাদেশে পাখি শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকার করেও পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

    পাখি শিকারী আইন থাকলেও এর নেই কোন প্রয়োগ ফলে পাখি শিকারীরা নির্বিঘ্নে পাখি শিকার করে চলেছে। সংশি¬ষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় পাখি শিকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিকারীরা ইয়ারগান দিয়ে জেলার হাওড় বাওড় খাল বিলে অবস্থানরত অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন পাখি নির্বিঘ্নে মেরে ফেলছে। জেলার নদ-নদী ও বন জঙ্গলে অতিথি পাখির যখন আগমন হতে শুরু করে ঠিক সেই সময়ই পাখি শিকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে পাখি ধরে জেলার বাবর আলী গেটসহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি। পাখি শিকারী বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কুষ্টিয়ার পাখিপ্রেমীসহ জেলার সুশীল সমাজ।

  • কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া শরীয়াতুল্লাহ এতিমখানায় মরহুম আব্দুল ওয়াহিদ অডিটোরিয়ামে এ শিক্ষা শিবির শুরু হয়।

    দুদিন ব্যাপী শিক্ষা শিবির উদ্বোধন করেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে এম আলী মুহসীন।

    অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এর প্রফেসর ড. আকতার হোসাইন।

    জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আত্মগঠন ও মান উন্নয়নের উপর বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা তারবিয়াতি সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে সহীহ তালিমুল কোরআন ক্লাস গ্রহণ করেন তালিমুল কোরআন বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেল ওস্তাদ ড. শহিদুল ইসলাম বারী, সকল জামায়াত কর্মীই আদর্শ সমাজ কর্মী বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, দারসুল হাদিস পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ও ভাষা সাহিত্যে বিভাগের প্রফেসর ড. একে এম মফিজুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে অতিথি রয়েছেন ঢাকা বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব পিএইচডি গবেষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষা শিবিরে প্রায় ২শত কর্মী অংশ গ্রহণ করেন।

  • কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মো: খালিদ হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গোবরা গ্রামের মো: তৈয়ব আলীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে ওই বাড়ির মেয়ে সানজিদা খাতুনের সাথে খালিদের বিয়ে হয়েছিল।

    নিহত খালিদ হাসান কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর কয়রা গ্রামের মো: আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খালিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালিদের স্ত্রী টয়লেট থেকে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জানালা দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তিনি স্বামী খালিদকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে কয়রা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রাশেদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

  • সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটির দুই পাশে সাময়িক সংস্কারকাজ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুব বিভাগের সদস্যরা।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা এ সংস্কারকাজে অংশ নেন। তাঁরা ব্রিজের দুই পাশে জমে থাকা কাদা সরিয়ে ইট বিছিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যায়। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পথচারীদেরও হেঁটে চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তাঁরা।

    রইচপুর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রইচপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি কৃষি ও মৎস্য চাষনির্ভর হওয়ায় কৃষিপণ্য ও মাছসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হাসানুজ্জামান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুব বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    এলাকাবাসী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়ক দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে দেশ গড়তে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে দেশ গড়তে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    মেধা, সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীর ফরিদ।

    তিনি বলেন, শুধু মেধা দিয়ে জীবনে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সঙ্গে নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। অর্জিত জ্ঞান ও মেধাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

    শুক্রবার সকালে যশোরের চৌগাছা পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের হলরুমে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চৌগাছা উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    ডা. ফরিদ বলেন, ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    আয়োজকরা জানান, চলতি বছর চৌগাছা উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদ্রাসা থেকে পাঁচজন এবং কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ প্রাপ্ত ১২০ জন শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

  • যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তির পাঁয়তারা করতে চায় তাদেরকে বয়কট করবো বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘কেউ কেউ ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাই। ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তির রেখা, রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ধর্ম রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসে অনৈতিক সুবিধা লাভের মাধ্যম হতে পারে না। ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তি করতে চাইবে, অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে, তিনি যে রাজনৈতিক দলের নেতা হোক না কেন, বা যে ধর্মের বিশ্বাসী হোক না কেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ করবো। এ ক্ষেত্রে সরকার রাষ্ট্র তো থাকবেই; সামাজিকভাবেও বয়কট করবো।’

    ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজে কেউ বঞ্চিত হবে না এটি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিছক একটি বিশ্বাস, একটি চেতনা। এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চিত করছে- কোনো ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজের কোনো মানুষ পিছিয়ে পড়বে না, ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধা নিতে না পারে; কেউ যেন বঞ্চিত না হতে পারে সেটিও নিশ্চিত করছে বর্তমান সরকার। এই বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে বা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারলে- যেই আশায় আমরা বুঁক বেধেছি ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর সেই আশা নিশ্চয়ই দুরাশায় পরিণত হবে না।’

    জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপাঙ্কর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম, মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ প্রমুখ।

    বক্তব্য শেষে অতিথিরা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। পরে টাউন হল ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের দড়াটানা, গাড়িখানা হয়ে টাউন হল ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

    এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে দিনভর উৎসবমুখর বিরাজ করছে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ভিতর। বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপে চলছে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও আলোচনা সভা।

    এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এ উৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করবে।

  • অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আমজাদ গাজী (৬৫) ও একই গ্রামের মালেক সরদারের স্ত্রী আসিরন বিবি (৬৫)। সম্পর্কে তারা ফুফু-ভাতিজা।

    হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আমজাদ গাজী তার ফুফু আসিরন বিবিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সকাল সোয়া ১১টার দিকে তারা চেঙ্গুটিয়া এলাকায় মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে পৌঁছান। সেখানে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকটি ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল।

    মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সারির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন আমজাদ গাজী ও আসিরন বিবি।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ফেরদৌস শান্ত বলেন, দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। কিছুক্ষণ পর অন্যজনও মারা যান।

    নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, দ্রুতগতির গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • শ্রদ্ধা-সম্প্রীতিতে গড়ে উঠুক বাংলাদেশ; ডা. ফরিদ এমপি

    শ্রদ্ধা-সম্প্রীতিতে গড়ে উঠুক বাংলাদেশ; ডা. ফরিদ এমপি

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    ‘সাম্প্রদায়িক নয়, সম্প্রীতির চৌগাছা গড়তে চাই’ বলেছেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলে উদ্দীন ফরিদ। তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়িক নয় গড়ে উঠুক সম্প্রতির বাংলাদেশ।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) যশোরের চৌগাছায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    চৌগাছা পৌরসভার হালদারপাড়ার রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বেলা ১২টায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ডা. মোসলে উদ্দীন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এটাই দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।

    বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী গোবিন্দ কুমার রাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চৌগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল। উপজেলা পূজা মণ্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী অভিজিৎ কুমার রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ ও সাংবাদিক এম এ রহিম প্রমুখ।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন উপকমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ দে, সদস্য সচিব শ্রী নির্মল কুমার কুন্ডু, শ্রী রণজিত কুমার বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী অনন্ত সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্রী নিমাই কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    আলোচনা সভা শেষে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে ফিরে আসে।

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। এ কারণে দিনটি শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়

  • চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় হাসনা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া এলাকার জিকে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসনা খাতুন মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ী ইউনিয়নের খাড়ারা গ্রামের করিম আলীর স্ত্রী।

    পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে হাসনা খাতুনের শেষ কথা হয়। এরপর তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ঘরে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

    আরও পড়ুন: নাইজারে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ সেনাসহ নিহত ২২

    শুক্রবার সকালে গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় জিকে খালে ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে স্বজনরা সেটি হাসনা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন।

    স্বজনদের অভিযোগ, হাসনা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    চার দিন নিখোঁজ থাকার পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, নিহতের ছেলে থানায় জিডি করার পরদিন আজ খালের পানি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল ও বেনাপোল চেকপোস্ট (আইসিপি) টহলদল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।

    অভিযানে ভারতীয় ১৩৮টি শাড়ি, ৮২ গজ জিন্সের থান কাপড়, ৬৯ প্যাকেট ফুসকা, ৪ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ১৬৫টি চকলেট এবং ৪২৭টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।

    ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • বিদেশি ফল চাষে জীবননগরের তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্য

    বিদেশি ফল চাষে জীবননগরের তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্য

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে পাল্টে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। এক সময় শুধু ইরি-বোরো ও আমন চাষের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু শাক-সবজি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষিকাজ। কিন্তু এখনআধুনিক পদ্ধতিতে নানা জাতের বিদেশি ফলের আবাদ করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।

    ধানের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এখানকার কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। কৃষকদের কাছে বিদেশি ফল উৎপাদন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

    উপজেলার কৃষকরা এখন চাষ করছেন অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান, মাল্টা, ড্রাগন, আনারকলি ও আঙুরের মতো ভিনদেশি ফল। ১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই আবাদ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ প্রায় অসম্ভব। কারণ আঙুর মানেই ছিল বিদেশি ফল, যা আমাদের দেশে শুধু আমদানি করেই পাওয়া যায়। কিন্তু সময় বদলেছে। উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে এখন জীবননগর উপজেলায় সফলভাবে আঙুরসহ বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে।স্থানীয় কৃষকদের মতে, উর্বর পলিমাটিতে এই ফলগুলোর চাষে খরচ কম, আবার ফলনও ভালো। ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারেও মিলছে ভালো দাম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের ফলের দোকানগুলোতে সরবরাহ হচ্ছে জীবননগরের উৎপাদিত ফল।

    জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনন্তপুর গ্রামের আকশেদ আলী। গাছে গাছে ঝুলছে ফুল আর কাঁচা-পাকা সবুজ ফল। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকরা।

    আকশেদ আলী জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ড্রাগন ও মাল্টার চাষ করেছেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউবে ভিডিও দেখে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের আদি ফল আনারকলির চারা সিরাজগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করেন। জমি প্রস্তুত করে চারাগুলো রোপণ করেন। এরপর জমিতে সেচ, সার, কীটনাশকসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় থোকায় থোকায় ফুল আসতে শুরু করে। ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে এবং পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়।

    বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাঁকা আনারকলি ফল। আগস্টের শুরু থেকে পাঁকা ফল তোলা শুরু হয়েছে। এসব ফল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।

    জীবননগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে মাত্র ৯ বিঘা পেয়ারা বাগান থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে বর্তমানে মরোক্কো, পাকিস্তান, আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম জাতের মাল্টা ৪০ বিঘা, বিভিন্ন প্রজাতির আম ৩৫ বিঘা, এছাড়া ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ ২০০ রকমের দেশি-বিদেশি ফল রয়েছে।

    সজল আহমেদ বলেন, পেয়ারা চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে মাল্টা চাষে মনোনিবেশ করেন। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে তার বাগানের পরিধি ও ফলন বাড়তে থাকে।

    বর্তমানে সাধারণ সবুজ মাল্টার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘ইয়েলো কিংসহ (হলুদ জাতের মাল্টা) প্রায় ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাল্টা চাষ করে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ‘বিসমিল্লাহ নার্সারি ও ফলের বাগান’ নামের একটি কৃষি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সজলের এই বাগান দেখতে এবং চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা ভিড় করেন।

    উপজেলার উথলী গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিলু ২০১০ সাল থেকে ড্রাগন ও মাল্টা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ও ৬ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রাকৃতিকভাবে ফল চাষ করছি। এসব বাগানে ফল বড় করতে কোনো মেসিডিন ব্যবহার করি না। এতে ফলের আকার ছোট হচ্ছে, দামও কম পাচ্ছি।

    একই গ্রামের রাজু আহমেদ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফল চাষ করছেন। ২০১০ সালে আপেল কুল চাষের মাধ্যমে তার ফল চাষে হাতেখড়ি। তারপর তিনি থাই পেয়ারা চাষ করেন। এরপর মাল্টা ও ড্রাগন চাষ শুরু করেন।

    তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    উপজেলার হাসাদাহ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা দুই ভাই আশরাফুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম। তারা সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫০টি পার্পেল ও বাইকুনুর জাতের আঙুর গাছ লাগিয়েছেন। বাগান থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভের মুখ দেখছেন তারা।

    জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জীবননগরে ড্রাগন ৬৮৮ হেক্টর, মাল্টা ৩১২ হেক্টর, কমলা ১২০ হেক্টর, শরিফা ১ হেক্টর, আঙুর ৯ হেক্টর, রকমেলন ৬ হেক্টর, আনারকলী ২ হেক্টর, অ্যাভোকাডো ৪ হেক্টর, রাম্বুটান শূন্য দশমিক ১৩ হেক্টর, পেয়ারা ৭৪৮ হেক্টর, আনার শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর ও বারোমাসি কাঁঠাল শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর চাষ হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জীবননগরের এসব ফল বাগানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে শুরু করে যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর এমনকি ঢাকা থেকেও মানুষ ভিড় করছেন বাগান দেখতে।

    বাগানে ঘুরতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থী হাসান নিলয় বলেন, এমন ফল আগে শুধু টিভি আর ইউটিউবে দেখেছি। এখন গ্রামে কাছ থেকে দেখতে পারছি।

    আরেক দর্শনার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, এসব বিদেশি ফল খেতেও সুস্বাদু আর দেখতে সুন্দর। আমরাও এমন বাগান করার কথা ভাবছি।

    জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদেশি এই ফলের চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছি। এতে কৃষকদের নতুন আয়ের পথ খুলবে। জীবননগর উপজেলায় ধান, পাট আর ভুট্টা চাষের পাশাপাশি বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। এতে বাড়বে লাভ আর বদলাবে গ্রামীণ অর্থনীতি।

    তিনি বলেন, জীবননগরের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিদেশি ফলের চাষ সফল হচ্ছে। কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এই চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এর ফলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, কৃষি হবে টেকসই।

  • দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ডসংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং সেখানে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত রিফাত আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও সেবাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কেয়াবাগান এলাকায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে কুষ্টিয়া থেকে গড়াই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কেয়াবাগান এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়।

    এ সময় বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্থানীয় সেবাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হোসেন বাসসকে বলেন, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে। আহত যাত্রীদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজের খাবার খেয়ে গত চারদিনে শিশুসহ অন্তত ২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্রেতারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। একই দোকানের খাবার খেয়ে একাধিক পরিবারের সকল সদস্য একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গার ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান ক্রেতারা। তা খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অসুস্থদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তার দুই ছেলে তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন (২১)। চিলাভালকী গ্রামের সোনিয়া খাতুন (২২), সাবিনা খাতুন (৩২), জনি (১১) ও রনি (১৫)।

    এছাড়া হাপানিয়া, গৌরীহ্রদ ও খাসকররা গ্রামের শিরিনা খাতুন (৪০), নুসরাত জাহান (১৬), পারুলা বেগম (৪২), পরিছন নেছা (৪৫), আইভি খাতুন (২৩), জিসান (৫) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশু জায়ান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো অন্তত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ও তাদের চিকিৎসা চলছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রহস্যজনকভাবে খাবার রান্না করা হতো, যেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা খাদ্য নিরাপত্তার কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান।

    ঘটনার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে দোকানটিতে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত সব প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল সতর্কতায় সন্তুষ্ট নন; অনতিবিলম্বে লাইসেন্সহীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও খাবারের মান পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ
    জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় চৌগাছা
    পৌরসভার হালদারপাড়ার রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ
    পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উপলক্ষে আলোচনা
    সভা করা হয়।
    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ
    সদস্য ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
    সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এটাই
    দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পার¯পরিক সম্প্রীতি,
    সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চৌগাছা উপজেলা শাখার
    আহ্বায়ক শ্রী গোবিন্দ কুমার রাহা। উপজেলা পূজা মন্ডপ কমিটির সাধারণ
    সম্পাদক শ্রী অভিজিৎ কুমার রায়ের পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন পূজা
    উদযাপন পরিষদ চৌগাছা উপজেলার সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল।বিশেষ অতিথির
    বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, সহকারী কমিশনার
    (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ওসি
    মামুনুর রশিদ পিপিএম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ,
    সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ ও সাংবাদিক এম এ রহিম, শুভ জন্মাষ্টমী
    উদযাপন উপকমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ দে, সদস্য সচিব শ্রী
    নির্মল কুমার কুন্ডু, শ্রী রণজিত কুমার বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
    ঐক্যপরিষদ, চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী অনন্ত সরকার, বাংলাদেশ পূজা
    উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্রী নিমাই কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের
    নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি র‌্যালী পৌর শহর
    প্রদক্ষিণ করে।
    জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্যসনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের
    কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই এ দিনটি
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

    অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ
    প্রার্থনা করা হয়।

  • চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ হলরুমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তোমাদের মেধা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও সততা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। শুধু মেধা দিয়ে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সাথে নৈতিকতা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্জিত মেধা ও জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন শিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।

    সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    এ বছর উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদরাসা থেকে পাঁচজন ও কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২০ জন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।