ঢাকা বিভাগ

  • নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে ‘আক্রমণ করতে পারেন’, এমন আশঙ্কাও শিক্ষক প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের নেয়া মাস্টার্সের ক্লাস পরিবর্তন করার আশ্বাস দিয়েছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এ কারণে তাকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয়, এমন যুক্তি দেন তিনি। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়। সুমি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন- নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

    ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।

    তিনি আরও বলেন, “ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাদের ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। ” ফলে একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

    সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তার মন্তব্যে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন।

    ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মৌখিকভাবে বসেছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। আমরা তাদের থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিক্ষার্থী তাদের কনসার্ন এবং ক্লাসে ঘটেছিল তা জানিয়েছে। আমরা আগামীকাল মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিসিয়াল ডিসিশনে আসবো। ”

    মাস্টার্সের ক্লাস নেয়া থেকে তাকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তারা ইন্টারেক্ট করতে চাচ্ছে না। আমরা তাদের (শিক্ষার্থীদের) আশ্বস্ত করেছি, ওদেরকে তার (অভিযুক্ত শিক্ষক) মুখাপেক্ষী হতে হবে না। ”

    এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্প ২০২৬’। নগর উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার উদ্যোগে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদপ্রার্থী ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের জন্য এখন এক বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই, এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে তদারকি করা হোক।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। আমরা চাই, বাস্তবে এসব উদ্যোগের সক্ষমতা কতটুকু বেড়েছে, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হোক। মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

    সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের আশপাশেই রয়েছে। সুতরাং শুধু সরকার একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে। এই কাজ শুরু করতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই।’

    বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত। তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও ভবিষ্যতে এমন উন্নত ও জনবান্ধব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্ব এমনভাবে ঠিক করতে হবে, যারা আগামী দিনে আমাদের জন্য সুন্দর একটি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

    থানা আমির আবু সাঈদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি তারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এদিকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    সিরাজদিখানে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে অজ্ঞাত গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

    বুধবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী নিমতলা আন্ডারপাসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্ভিস লেনে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

    ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ,আর

  • বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    ফসলি জমি

    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী বাজারের মাছঘাটের পূর্ব পাশে সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে মো. রাজিব শেখের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধেশ্বরী বাজারের সরকারি খাল থেকে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাউৎভোগ ও গনাইসার এলাকার দুই ফসলি জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রাস্তার ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নিয়ে গিয়ে এসব জমি ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে রাউৎভোগ ও গনাইসার সড়কের পাশে সাইজদ্দিন শেখের প্রায় ৬৯ শতাংশ ফসলি জমিসহ একাধিক জমি ভরাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া রাউৎভোগ গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় আমির আলী মিস্ত্রীর ফসলি জমিতেও একইভাবে বালু ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি বাল্কহেডে করে বালু এনে এসব জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনাকারী রাজিব শেখ বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফসলি জমি ভরাটের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে রাজিব শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    ফরিদপুরের হাট-বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কুমড়ো ফুল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ফুল তুলে নিয়ে আসছেন বাজারে। প্রতি পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাশাপাশি কুমড়োও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায়। ফলে একই গাছ থেকে সবজি ও ফুল—দুইভাবেই আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষক পরিবারের জন্য।

    কুমড়ো ফুল সাধারণত উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো হয়। বাংলাদেশে শীতের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুর দিক পর্যন্ত কুমড়োর ফুলের উৎপাদন ভালো দেখা যায়।

    কুমড়ো ফুলের স্থায়িত্ব কম হলেও এর চাহিদা বেশি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে, আর এই সময়েই বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। শুধু আয়ের উৎস নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ এই ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ। গ্রামীণ রান্নায় ভাজি, বড়া কিংবা চচ্চড়ি—সবখানেই কুমড়ো ফুলের ব্যবহার জনপ্রিয়।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার গ্রামগুলোতে দেখা গেছে—বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ হচ্ছে। কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, আবার কেউ ফুল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুলছেন।

    স্থানীয় কৃষক হালিম মোল্লা বলেন, “সকালে ফুল তুলে বাজারে নিয়ে আসি। এখন প্রতি ফুল ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের শ্রমে কিছু বাড়তি টাকা পাওয়া যায়, যা সংসারের কাজে বেশ উপকার করে।” আরেক বিক্রেতা বিল্লাহ সেক জানান, “একই গাছ থেকে কুমড়ো বিক্রি হয়, আবার ফুলও বিক্রি করা যায়। তাই একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে।”

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, আগে কুমড়ো শুধু সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হলেও এখন ফুল বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। তার মতে, এটি ছোট হলেও কার্যকর একটি আয়ের উৎস, যা দিন দিন গ্রামীণ পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

    কুমড়ো ফুলের বাজারজাতকরণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কম খরচে চাষ, দ্রুত বিক্রি এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে কুমড়ো ফুল এখন কৃষকের কাছে শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

  • টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফ (২৩) ও একই গ্রামের আয়নালের ছেলে রুবেল (২৩)।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার মো: রোকুনুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলার বাদি পরিবারের অমতে তার প্রেমিককে বিয়ে করেন। তিনি বিগত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তার স্বামীর সাথে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। আসামিরা তখন তার স্বামীকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

    এ ঘটনার ছয় দিন পর ভিকটিম নিজেই বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। একই বছর ১৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

    বিচার শেষে আজ আসামিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হারাধন চন্দ্র সিংহ। এ,আর

  • পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    একসময় যে পাট ছিল বাংলার অর্থনীতির অন্যতম প্রাণ। সেই ‘সোনালি আঁশ’ এবার যেন নতুন করে হাসি ফুটিয়েছে ফরিদপুরের কৃষকের মুখে। সবুজ মাঠ পেরিয়ে পাট এখন উঠেছে হাটে। পচানো, ধোয়া ও শুকানোর পর পরিপক্ব আঁশের গন্ধে মুখর জেলার হাট-বাজার। আর ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে চড়া দাম—দুইয়ের সমন্বয়ে এ বছর পাটচাষিদের ঘরে ফিরছে স্বস্তি।

    চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে ফরিদপুরে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানি এবং কৃষকদের যথাযথ পরিচর্যায় শুধু ফলনই নয়, পাটের আঁশের রং ও গুণগত মানও হয়েছে বেশ ভালো।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর থেকেই কৃষকদের পাট বিক্রির সম্ভাব্য আয় ২২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে প্রায় ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের পরিচর্যায় বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার সময় খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় আঁশের মানও হয়েছে চমৎকার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কানাইপুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন প্রধান পাটের হাট ঘুরে দেখা যায়, নতুন পাটের বেচাকেনায় বেশ প্রাণচাঞ্চল্য। হাটে কৃষকের ভিড়, পাটের স্তূপ আর দরদামে ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ।

    গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পাটের দরও বেড়েছে। কানাইপুর, তালমা, কাদিরদী, সাতৈর ও বড়গাসহ জেলার বিভিন্ন হাটে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট প্রায় ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর মাটি, পানি, রোদ আর শ্রমের সঙ্গে লড়াই করে যে ফসল ঘরে তুলেছেন, এবার তার ন্যায্য মূল্য মিলছে—এটাই যেন তাদের মুখের হাসির সবচেয়ে বড় কারণ।ফরিদপুর সদর উপজেলার পাটচাষি লাভলু মিয়া বলেন, ‘এবার পাট ও আঁশ দুটোই চমৎকার হয়েছে। সার, কীটনাশক আর সেচ খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও এবার ভালো লাভ থাকছে।’

    আরেক কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পাওয়ায় সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং আগের দেনা মেটানো সহজ হয়ে গেছে। এমন দাম পুরো মৌসুমজুড়ে থাকলে আমাদের মতো পাটচাষিদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’

    তবে বাজারে পাটের চড়া দাম স্বস্তি যেমন এনেছে কৃষকের জীবনে, তেমনি কিছুটা চাপ তৈরি করেছে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের ওপর। হাটে নতুন পাটের আমদানি কিছুটা কমে যাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পেলেও মিল বা ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করার পর আগের মতো মুনাফা থাকছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    কানাইপুর হাটের ব্যবসায়ী লিয়াকত মুন্সি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেও আমরা ৪০০০-৪২০০ টাকা মণ দরে পাট কিনেছি। এখন হাটে পাটের সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি ও মিলে বিক্রি করে তেমন লাভ থাকছে না।’

    ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার জেলাজুড়ে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি আঁশের গুণগত মানও ভালো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো গুণগত মান অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাজারে বর্তমান চড়া দাম বজায় থাকলে ফরিদপুর থেকে ২২০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।’

    কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা মনে করেন, পাট বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ কৃষকের হাতে গেলে তা শুধু কৃষকের পরিবারেই স্বস্তি আনবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কৃষকের আয় বাড়লে বাড়বে ক্রয়ক্ষমতা, সচল হবে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।

    ফরিদপুরের মাঠে তাই এখন শুধু পাটের আঁশ নয়, কৃষকের স্বপ্নও শুকাচ্ছে রোদে। হাটে হাটে সোনালি আঁশের স্তূপ যেন বলে দিচ্ছে—মাটির সঙ্গে যে মানুষের বন্ধন, তার গল্প কখনো পুরোনো হয় না। ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম মিললে সেই মাটিই কৃষকের ঘরে এনে দিতে পারে স্বচ্ছলতার আলো।

    এবার ফরিদপুরের পাটের মাঠে সেই আলোরই যেন দেখা মিলছে। সোনালি আঁশের রঙে রাঙা হচ্ছে কৃষকের মুখ, আর তার সঙ্গে আশার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

  • সিরাজদিখান  নদীতে নেমে নিখোঁজ নারী,  উদ্ধার অভিযান চলছে

    সিরাজদিখান নদীতে নেমে নিখোঁজ নারী, উদ্ধার অভিযান চলছে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ইছামতী নদীতে গোসল করতে নেমে হাবিবার রহমান বাবলী (৪৮) নামে এক নারী নিখোঁজ হয়েছেন।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের ফেগুনাসার গ্রামে ইছামতী নদীর গুদারা ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে নদীতে ডুবুরি অভিযান শুরু করে।

    জানা যায়, নিখোঁজ নারীসহ তিন বান্ধবী ঢাকার বাসিন্দা। তারা সিরাজদিখান উপজেলার ভুঁইয়াবাড়িতে বান্ধবী চামেলির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। রোববার দুপুরে ইছামতী নদীতে গোসল করতে নামেন তারা। গোসলের একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের মধ্যে দুই বান্ধবী সাঁতরে নদী থেকে উঠে আসতে সক্ষম হলেও অপর বান্ধবী হাবিবার রহমান বাবলী নিখোঁজ হন।

    মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারপরও নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান

    চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কৃষক রমজান আলী। উন্নত জাতের বীজ, মালচিং পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাছের ঘেরের চারপাশে মাচা তৈরি করে চাষ করছেন অমৌসুমি তরমুজ।

    উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবদী গ্রামের কৃষক ইউনুস আলীর ছেলে রমজান আলী। বিএসএস পাস করেও চাকরির পেছনে সময় না দিয়ে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে কৃষিতে হাতেখড়ি তার। এরপর ধীরে ধীরে গতানুগতিক চাষাবাদ বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন।

    ২০১৪ সালে ঢাকা বিভাগের প্রথম দিকের চাষিদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন রমজান আলী। টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফলে যুক্ত হন তিনি। বর্তমান আবহাওয়া ও বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

    রমজান আলী প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির চারপাশে মাচা তৈরি করে ‘কালাচান’ ও ‘তৃপ্তি’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মাচার নিচে রয়েছে মাছের ঘের। মাচা থেকে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের ছোট-বড় তরমুজ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারে আসার কথা রয়েছে।

    তরমুজের পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে করলা, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিও চাষ করছেন তিনি। তার আধুনিক চাষাবাদ ও পরামর্শ নিতে স্থানীয় কৃষকরাও তার জমিতে আসছেন।

    রমজান আলী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার আগ থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। গতানুগতিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছি। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়েছি। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর চেষ্টা করি। আমার উৎপাদিত ফসল যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া কাঁচাবাজার এবং ফলের আড়তে বিক্রি হয়। কৃষিকাজ স্বাধীন পেশা। বর্তমানে আধুনিক কৃষি থেকে মাসে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করি।’

    মালচিং পদ্ধতি সম্পর্কে রমজান আলী বলেন, ‘অল্প বিনিয়োগে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কম সময়ে কৃষক লাভবান হতে পারেন। আমি চাই, এলাকার অন্য কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হোন।’গৌরবদী গ্রামের কৃষক জহির আলম বলেন, ‘রমজান আলী এ এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর পরামর্শে অনেকেই চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করে লাভবান হয়েছেন। তিনি পোকামাকড় দমনে জৈব পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তাঁর চাষাবাদ দেখে অন্য কৃষকরাও আধুনিক কৃষির দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হলেও একসময় চাষাবাদ করে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পেতেন না। রমজান আলী আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি সবজি ও ফল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। তাঁকে দেখে এবং তাঁর পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেক কৃষক লাভজনক কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনুকূল পরিবেশ ও বাজারদর থাকলে লাখ টাকার বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে। রমজান আলীর তরমুজ চাষ এই এলাকার কৃষকদের জন্য একটি ভালো উদাহরণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাচায় তরমুজ চাষ একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এতে জলাবদ্ধতা বা অনাবাদি জমিও কাজে লাগানো সম্ভব। মাচায় চাষ করায় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে এবং ফল মাটির সংস্পর্শে না থাকায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কম থাকে।’

    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তরমুজ সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন বর্ষাকালেও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এ সময় বাজারে তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় কৃষক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। রমজান আলীর মতো কৃষকেরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যদেরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

  • কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকা জোগাতে ৫ শিশুকে বিক্রি

    কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকা জোগাতে ৫ শিশুকে বিক্রি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাগুলো উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিস্তারের কারণে গ্রামের বেশ কিছু পরিবারের নারী-পুরুষ নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজেদের সন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছেন। সন্তান দেয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে তারা মাদক কিনে সেবন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে পৃথক সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দুলাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী ফারজানার নবজাতক ছেলেসন্তানকে গত ২ সেপ্টেম্বর ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ ছাড়া জজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া দুটি শিশুকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন তার সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকা এবং মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়া তার সন্তানকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

    এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, শিশুদের প্রথমে যাদের কাছে দেয়া হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরে বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র দিয়ে দিয়েছেন। ফলে এসব শিশুর বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    চরপুক্ষিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে মাদকাসক্ত স্বামী-স্ত্রী নিজেদের সন্তানদের টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিয়ে সেই অর্থ মাদক সেবনে ব্যয় করছেন বলে অভিযোগ তাদের।

    তারা আরও বলেন, মাদকের কারণে গ্রামের সামাজিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এ এলাকার ছেলে-মেয়েদের অন্যত্র বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মাদকাসক্ত। এ কারণে তারা নিজেরাও অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

    স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদেরও ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। প্রতিবাদ করলে আমাদের সন্তানদেরও অন্যত্র বিক্রি করে দিতে পারে—এমন আতঙ্কে আমরা ভুগছি। ’

    এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মাদকসেবীরা নিজেদের শিশুদেরও মাদকের সংস্পর্শে নিয়ে আসছেন। পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে মাদক সেবন করানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া অনেক বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বসে মাদক সেবন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি এখন আমার গ্রামের পরিচয় দিতে পারি না। উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কথা বললেই অনেকে বলে, তোমরা সবাই মাদকাসক্ত। তোমাদের গ্রামের লোকজন মাদকের টাকার জন্য সন্তান বিক্রি করে দেয়। ’

    জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি শিশু সন্তান বিক্রি করে দেয়ার কথা শুনতে পেরেছি।

    এ সময় পরিষদের সব সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।

    কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামটি খুবই দরিদ্র। সেখানে মাদকসেবীর সংখ্যাও বেশি। মাদকের টাকা জোগাড় করতে সন্তানদের অন্যের কাছে তুলে দেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। এ,আর

  • সকালে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু, ছয় ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

    সকালে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু, ছয় ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শরীয়তপুরের ডামুড্যায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন (৪) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার পশ্চিম আদাশন এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল শিকদার (২২) এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহত সোয়াইফ হোসেন পশ্চিম আদাশন গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় সোয়াইফ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে একই এলাকার আবু আলম শিকদারের বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় সোয়াইফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডামুড্যা থানা পুলিশ জানায়, শিশুটির গলা কাটা ছিল।

    নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের সঙ্গে সেলিম সরদারের পরিবারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

    শিশুটির বাবা সেলিম সরদার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় আমার মায়ের সঙ্গে আবু আলমের ঝগড়া হয়। আমার মা রাতে আমাকে বিষয়টি জানায়। শনিবার সকালে আমি বাজার থেকে এসে দেখি আমার সন্তান নেই। আমি থানায় গিয়ে জিডি করলে, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে আলী আকবরের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। আমার ছেলেকে ওরা হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

    মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আবু আলমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় আবু আলম শিকদারের ছেলে রাসেল শিকদারকে আটক করেছে পুলিশ।

    তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু আলমের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন গ্রাম থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ,আর

  • টঙ্গীতে ১০ ককটেলসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার উদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

    টঙ্গীতে ১০ ককটেলসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার উদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০টি ককটেল ও দুটি ব্যানার উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করতে বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় একটি বাড়ির সামনে সকালে ককটেলগুলো পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। রাত প্রায় ২টা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার আওতায় রেখেছে বলে জানা গেছে।

    টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ১০টি ককটেল ও দুটি ব্যানার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোম ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। টিমটি ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করবে।

    এদিকে উদ্ধার হওয়া দুটি ব্যানারে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের রায় বাতিল এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা রয়েছে। ব্যানার দুটিতে টঙ্গী পশ্চিম থানা ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    একটি ব্যানারে ৫২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বিভিন্ন পদপ্রত্যাশী হিসেবে মো. ফরিদ, মো. হাবিবুর রহমান, মো. বাবুল ও আলী আকবরের নাম রয়েছে। অপর ব্যানারে টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরনবী, সাজিদ হোসেন দিপু, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের হাসান নাহিদ ও সজিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    ককটেল ও ব্যানারগুলো একই এলাকায় পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ককটেলগুলো সেখানে কারা রেখেছে এবং ব্যানারগুলোর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ জানিয়েছে, বোম ডিসপোজাল টিমের কার্যক্রম শেষে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ,আর

  • টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন দোতলা ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান মিয়া (২০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বাসাইল পৌরসভার প্রশিকা এলাকায় প্রবাসী আনিসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত রায়হান দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে আনিসের নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

    জানা গেছে, সকালে রায়হান ভবনের রডের কাজ করছিলেন। এ সময় রডটি ওপরের দিকে উঠালে পল্লীবিদ্যুতের তারের সাথে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’ এ,আর

  • রূপগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জন আটক

    রূপগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার তারাবো পৌরসভার মৈকুলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হচ্ছেন রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর এলাকার রেদোয়ানের ছেলে নাদিম হোসেন (২২), শুক্কুর আলীর ছেলে সিহাব হাসান (২১) ও জহিরুল ইসলামের ছেলে ইমন মিয়া (১৯)।

    পুলিশ জানায়, মৈকুলী গ্রামের কিশোরী তার বন্ধু আকাশ আহম্মেদের সাথে শুক্রবার বিকেলে পূর্বাচল উপশহরে মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে যায়। পরে পূর্বাচল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত ১১টার দিকে তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় পৌঁছলে কিশোরীর পূর্ব পরিচিত নাদিম হোসেন, সিহাব হাসান ও ইমন মিয়া তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়। এ সময় কিশোরীর বন্ধু আকাশ আহম্মেদকে ভবনের একটি কক্ষে আটকে রেখে ওই যুবকরা কিশোরীকে জোরপূর্বক পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।

    একপর্যায়ে ধর্ষকরা কিশোরীর বন্ধু আকাশ আহম্মেদের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সেই টাকা এনে দেয়ার জন্য কৌশলে সেখান থেকে আকাশ আহম্মেদ বের হয়ে সরকারি পরিষেবা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ ওই যুবকদের গ্রেফতার করে।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ এ,আর

  • সিরাজদিখানে রেললাইনের পাশ থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    সিরাজদিখানে রেললাইনের পাশ থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নিমতলা এলাকা থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, সকালে খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী ইউনিট রেললাইনের পাশে এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে।

    তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অসাবধানতাবশত রেললাইন পারাপারের সময় ওই নারী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তার আনুমানিক বয়স ৭৫ বছর।

    পরে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য লাশটি জিআরপি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা জানান। এ,আর

  • গাজীপুরে গাড়ির চাপায় বৃদ্ধা নিহত

    গাজীপুরে গাড়ির চাপায় বৃদ্ধা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে গাড়ি চাপায় গৌরী রানী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর রাজবাড়ি রোডের রেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত বৃদ্ধা ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার নারায়ণ চন্দ্র দাসের স্ত্রী। তিনি সন্তানদের সাথে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গৌরী রানী ওষুধ কেনার জন্য বোর্ডবাজার থেকে গাজীপুর শহরে আসেন। এক পর্যায়ে রাজবাড়ি রোডের রেল ক্রসিং এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় তিনি গুরুতর আহত হন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িটি শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • সোনারগাঁওয়ে যুবকের লাশ উদ্ধার, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    সোনারগাঁওয়ে যুবকের লাশ উদ্ধার, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তার বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এশিয়ান হাইওয়ের (ঢাকা বাইপাস) কাঁচপুরের
    চেঙ্গাইন এলাকায় অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত যুবকের নাম হাবিবুল্লাহ শেখ নাসিম (২৩)। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দেওভোগ এলাকার মোশারফ হোসেন ও নাজমা বেগমের ছেলে।

    নিহতের পরিবার জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে হাবিবুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন।

    সোনারগাঁ থানার তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম জসিম উদ্দিন বলেন, এশিয়ান হাইওয়ের চেঙ্গাইন এলাকায় অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে।

    তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ওই যুবকের বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

    পুলিশ আরো জানায়, লাশের পকেট থেকে পাওয়া পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে নিহতের ছোট বোন মিলি আক্তার লাশটি শনাক্ত করেন।

    নিহতের ভাগিনা সিফাত বলেন, হাবিবুল্লাহ দেওভোগ এলাকার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। প্রায় দেড় বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার সাথে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে বাসার কাউকে কিছু না বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

    সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • গোপালগঞ্জে পরিত্যক্ত মিলে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে পরিত্যক্ত মিলে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ধানকল থেকে ইমাম রেজা (১৮) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত তরুণের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইমাম রেজা বরিশাল জেলার জহিরুল মৃধার ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সাথে মামাবাড়িতে থাকতেন। গোপালগঞ্জ শহরের একটি শাড়ির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন ইমাম।

    বুধবার সকালে উলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ধানকলের ঘরের জানালার সাথে বেল্ট দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় ইমামের লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের সময় ইমামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ দেখা যায়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    এদিকে, ইমাম রেজাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার মা আফি বেগম। তিনি বলেন, তার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর সাথে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ,আর

  • ডিবি-র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, চক্রের সাথে যুক্ত চাকরিচ্যুত পুলিশ-সেনা সদস্য

    ডিবি-র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, চক্রের সাথে যুক্ত চাকরিচ্যুত পুলিশ-সেনা সদস্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও এর আশপাশের সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ছিনতাই, অপহরণ করে অর্থ আদায়, লুটের মতো বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

    এসব ঘটনায় কয়েকটি চক্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের চাকরিচ্যুত কিংবা বরখাস্তকৃত কতিপয় সদস্য রয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আশফাক রাসেল নয়া দিগন্তকে জানান, কখনো ডিবি, আবার কখনো র‌্যাব পরিচয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সাধারণ মানুষের সাথে এসব প্রতারণা করা হয়। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগেভাগেই বেশকিছু প্রতারক চক্রকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একইসাথে প্রতারকদের এসব অপরাধ যেন কোনোভাবেই সঙ্ঘটিত হতে না পারে, সে লক্ষ্যে ডিবির টিম সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছদ্মবেশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সিলভার রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস, একটি লাল রঙের হিরো এক্সব্লেড মোটরসাইকেল, তিনটি র‍্যাবের কটি, দু’টি ওয়াকিটকি, একটি প্লাস্টিক ও একটি মেটালের খেলনা পিস্তল, দুই জোড়া হ্যান্ডকাফ, র‍্যাবের লোগোযুক্ত তিনটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি ইলেকট্রিক শক মেশিনসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন— শরীয়তপুরের সখিপুর এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪০), চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য নওগাঁর বদলগাছি এলাকার নাদিম মাহমুদ শান্ত ওরফে রায়হান হোসেন (৩০), চাকরিচ্যুত সেনা সার্জেন্ট রাজবাড়ীর পাংশা এলাকার মিজানুর রহমান (৪১), বরগুনা সদরের আব্দুল আলীম (৩২), মাগুরা সদরের সাকিবুর জামান মেহেদী (২৬), ভোলার চরফ্যাশনের মেহেদী হাসান সুজন (৩৫) ও বরগুনা সদরের গাড়িচালক আবু হানিফ (৩২)।

    একইদিন সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মেনহাজুল আলম।

    তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, র‍্যাব পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর স্বর্ণ ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে একদল ডাকাত সিংপাড়ার দিকে যাচ্ছে। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ী-ইছাপুরা সড়কের হরিবাড়ী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসায়।

    একপর্যায়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে সন্দেহভাজন গাড়ি দু’টিকে থামার সঙ্কেত দেয়া হয়। এ সময় মাইক্রোবাসের চালকের পাশের আসনে থাকা এক ব্যক্তি র‍্যাবের কটি পরা অবস্থায় নিজেকে র‍্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দেন এবং ওয়াকিটকি দেখান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা ধাওয়া করে সাতজনকেই আটক করেন।

    পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, শ্রীনগর বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাকে র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট করাই তাদের পরিকল্পনা ছিল।

    জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম আরো বলেন, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    এদিকে গত ২৪ জানুয়ারি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতুর উত্তর থানা এলাকা সংলগ্ন সড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

    একইদিন এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা সংলগ্ন ৪ নম্বর লেনে দ্রুতগতির সন্দেহজনক একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে ভেতরে থাকা ছদ্মবেশী ডাকাত সদস্যদের আটক করা হয়। এ সময় ডাকাতদলের সদস্যদের তল্লাশি চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস, একটি খেলনা পিস্তল, এক জোড়া হ্যান্ডকাপ, চারটি ডিবির কোটি, একটি ওয়ারলেস সেট ও চায়না লেজার লাইটসহ ডাকাতিকালে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

    ডিবি পুলিশের ওই অভিযানে আটক ছয়জনের মধ্যে চাকরিচ্যুত ও সাময়িক বরখাস্তকৃত দু’জন পুলিশ সদস্য ও চাকরিচ্যুত একজন সেনা সদস্য ছিলেন।

    এদিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হাঁসাড়া-ফেরিঘাট সার্ভিস লেনের পাশে বেজগাঁও এলাকায় ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।

    ওই দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীনগর থানার এএসআই ইয়ার মাহমুদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ডিউটিকালে জানতে পারেন, শ্রীনগর থানাধীন বেজগাঁও সাকিনস্থ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ঝোপের আড়ালে কতিপয় ব্যক্তি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতি করার সরঞ্জামাদিসহ অবস্থান করে শলাপরামর্শ করছে। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই স্থান থেকে আট-নয়জন পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।

    এ সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, গাড়িযোগে ঢাকা থেকে মাওয়ায় ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে তারা সার্ভিস লেনের পাশে ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে থেকে ছিনতাই অথবা গাছ ফেলে ডাকাতি করে থাকে। এ অভিযানে অপরাধীদের হেফাজত থেকে চাপাতি, ধারালো ছুরি, টর্চ লাইট, পাটের রশি, কচস্টেপ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

    তবে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বিশৃঙ্খলা ও মাদকের বিস্তার রোধে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটে গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট ও টহল চলমান রয়েছে। এ,আর

  • ঘাটাইলে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ

    ঘাটাইলে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্ত্রী তামান্না ইসলাম তন্নিকে (২০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো: রোমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে তাৎক্ষণিক আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত তন্নি দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন উত্তর খিলগাতি গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী রোমান মিয়া মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের শিবরামবাড়ি গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রোমান মিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর সাথে এক রাত্রিযাপন করেন। রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি এবং মারামারি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী রোমান শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সবাইকে ডেকে জানান তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    পরে বুধবার ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় তন্নিকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবারের দাবি, তন্নির গলায় এবং সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা রাতেই স্বামীর দেয়া কোনো আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

    তন্নির বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই রাতেই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে এসেছি।’

    এলাকাবাসী জানায়, এক বছর আগে রোমানের সাথে বিয়ে হয় তন্নির। রাতে রোমান তন্নির ঘরে ছিলেন এবং তাদের ঝগড়া হয়।

    এ ব্যাপারে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, ‘মেয়েটিকে অত্যাচার করে তার স্বামী মেরে ফেলেছে। মেয়েটির পরিবার একটি সুখী পরিবার। মাত্র এক বছর আগে অত্যন্ত ঘটা করে মেয়েটির বিয়ে হয়। এমন ঘটনা আগে কখনো আমাদের এলাকায় ঘটেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সঠিক বিচার দাবি করছি।’

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত রোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’ এ,আর

  • নাগরপুরে চোরের ছুরিকাঘাতে হতাহত ৩

    নাগরপুরে চোরের ছুরিকাঘাতে হতাহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চোর ধরতে গিয়ে চোরের ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়া (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় চোরকে বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন আলতাফ ও নাজমুল নামে আরো দুইজন।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মজনু মিয়া ওই গ্রামের মরহুম বেল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ঢালাই মিস্ত্রীর সহকারী ও তিন সন্তানের জনক ছিলেন। পরে জনতা চোর ছামিনুর মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে ছামিনুর মিয়া বারাপুষা মজনু মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে যায়। এসময় গৃহকর্তার ছোট মেয়ে জুলেখা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর হতে বের হয়ে চোরকে দেখতে পায়। পরে চোর চোর বলে ডাক চিৎকার করলে চোর ছামিনুর খড়ের গাদার পিছনে লুকায়।

    এসময় গৃহস্থ মজনু মিয়া তাকে ঝাপটে ধরলে চোরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তার ঘাড়ে ও গলায় আঘাত করে। প্রতিবেশী আলতাফ ও নাজমুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছামিনুর তাদেরকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ভার:) ডাক্তার মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ছুরির আঘাতে মজনু মিয়ার ক্যারোটিড আর্ট্যরি কেটে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। অপর আহত দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতর লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জড়িত ছামিনুরকে গ্রেফতার করে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা চলছে।’

    আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান। এ,আর

  • সোনারগাঁওয়ে ২ ভুয়া এসআরবি সদস্য আটক

    সোনারগাঁওয়ে ২ ভুয়া এসআরবি সদস্য আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দুজন ভুয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

    গত সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা অভিমুখী সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট থেকে তাদের আটক করা হয়।

    ধারণা করা হচ্ছে, তারা এসআরবি সদস্য পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে থাকেন।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন- ঝালকাঠির নলছিটি এলাকার মো: সোহেল (৩৫) ও গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার মো: সাজ্জাদ হোসেন সোহাগ (৩০)।

    পুলিশ জানায়, সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চন্দন দের নেতৃত্বে সোমবার রাতে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি করা হয়। এ সময় দুই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি কালো রঙের এসআরবির কটি, দুটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, পিস্তলের একটি কভার ও এসআরবির একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।
    পরিচয়পত্রটিতে ‘এমডি সুমন হোসাইন’ নামের এক কনস্টেবলের তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এ ছাড়া দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, ৯০টি প্লাস্টিকের টাই ও এফজেড-১ মডেলের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, জব্দ করা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিরা এসআরবি সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে তারা কেউ এসআরবি সদস্য না। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু

    পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় রুজুকা বেগম (৩০) ও তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ইয়ামনি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে রুজুকা বেগম এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শিশুকন্যার মৃত্যু হয়।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি এলাকার কালি ফ্যাক্টরির সামনে গাজীপুর-গাউছিয়া বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রুজুকা বেগম শেরপুরের শ্রীবরদী থানার বাগহাতা গ্রামের সেকান্দার আলীর মেয়ে এবং মনির হোসেনের স্ত্রী। তার মেয়ে ইয়ামনি। তারা গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন সালনা বাজার এলাকায় মোস্তফার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে সড়কের ওপর পড়ে ছিলেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পূবাইল থানার এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রুজুকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শিশু ইয়ামনিকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালালেও রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর অজ্ঞাত গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে ঘাতক গাড়ি ও চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    পূবাইল থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মা-মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তাদের লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি শনাক্তসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    মা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া গাড়ি শনাক্ত করে চালককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এ,আর

  • মিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

    মিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

    রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকারের পাঠানো এক বার্তায় এসব জানানো হয়।

    ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়।’ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাহলে আমরা করব ইনশাআল্লাহ।’

    স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারী দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের কোথাও কোনো অসামাজিক, অপকর্ম করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস চলছে।’

    পাশাপাশি রাড্ডার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, শাহ আলম তুহিন, ডা. মঈনুদ্দিন, জি এম হাফিজুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম মৃধাসহ অনেকে।

  • ৪ দিন পর নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধার

    ৪ দিন পর নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের চারদিন পর হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রিজ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ- ফাঁড়ি পুলিশ যৌথভাবে এ লাশ উদ্ধার করে।

    হেলাল উদ্দিনের লাশ পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের বোন জামাই মোক্তার হোসেন সনাক্ত করেন। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এর আগে গত শনিবার সকালে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার আল মোস্তফা ফ্যাক্টুরির সামনে থেকে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মো: শাহ কামাল।

    গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজারের সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবে একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হন। ঘটনার সময় রায়েশা বেগম নামের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের ১৩ জন আত্মীয় স্বজন বিয়ের বাজার, দু’টি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ থাকেন।

    বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ও শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে শুক্রবার বিকেলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ট্রলারে দু’টি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করে। পরে দু’দিন পর গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীতে ভাসমান অবস্থায় সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তিন ভাই-বোনের লাশ উদ্ধারের পর ওইদিন পরিবারের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল। মৃতদের মামা হায়াত মিয়ার কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়। সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মৃত রায়েশা বেগমের (৫৫) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে ওই নারীর লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ।

    মৃত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। এ নিয়ে পাঁচজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    মৃত হেলালউদ্দিনের বোন জামাই মোক্তার হোসেন জানান, পুলিশের কাছ থেকে তার স্ত্রীর বড় ভাই হেলালউদ্দিনের লাশ গ্রহণ করা হয়েছে। দাফনের জন্য লাশ গ্রামের বাড়ি হোমনার শ্রীমুদ্দি নেয়া জন্য রওনা হয়েছেন। এর আগে শনিবার তার দুই ভাতিজা ও ভাতিজির লাশ নিয়ে দাফন করেছেন।

    বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এ,আর

  • লৌহজংয়ে এসআরবির অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪

    লৌহজংয়ে এসআরবির অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) -১০ এর সদস্যরা। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

    আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কনকসার বাজার ব্রিজ এলাকার সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১০। আজ সোমবার দুপুরে এসআরবি-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গ্রেফতাররা হলেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার মহজমপুর গ্রামের শংকর রাজবংসী (৪০), অন্তিপ চন্দ্র দাস (২০) ও দিপ্ত দাস (১৯) এবং বাজুরবাগ গ্রামের মো: গোলাম হোসেন (৩৮)।

    উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১০, সিপিসি-২, শ্রীনগর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লৌহজং থানাধীন কনকসার বাজার ব্রিজ এলাকায় রাস্তার ওপর একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ তল্লাশিকালে ওই পিকআপের ভেতর থেকে ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    একপর্যায়ে মাদক বহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য সাত লাখ বিশ হাজার টাকা বলে জানা যায়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এসআরবি-১০ মাদক নির্মূল অভিযানে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এসআরবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • শ্রীপুরে নারী পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

    শ্রীপুরে নারী পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে শামীমা আক্তার (২৬) নামে এক পোশাকশ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সুমন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার বেপারী বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    জানা যায়, নিহত শামীমা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তর পঞ্চনন্দপুর গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় দুই বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সুমন মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।

    নিহতের বাবা কাজল মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। তবে সম্প্রতি সুমন মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

    তিনি আরো বলেন, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সুমন তার মেয়েকে মারধর করেন। এতে শামীমার নাকের হাড় ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

    কাজল মিয়ার ভাষ্য, রাত ১টার দিকে সুমন তার ছেলে মোজাম্মেলকে ফোন করে জানায়, শামীমা ঘরের দরজা খুলছে না। মোজাম্মেল পাশের মুন্সিবাড়িতে ভাড়া থাকত। সে এসে ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় বিষয়টি পরিবারের অন্যদের জানায়। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে আবার দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে শামীমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

    শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ,আর

  • নগরকান্দায় তিন দশকেও সংস্কার হয়নি কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে ১০০ পরিবার

    নগরকান্দায় তিন দশকেও সংস্কার হয়নি কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে ১০০ পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দা দীর্ঘ তিন দশকেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি প্রায় তিন শত ফুট দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তায়। উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের এ সড়কটি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ১০০ পরিবারের বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কোদালিয়া বোর্ড অফিসের পাকা সড়ক থেকে শুরু হয়ে ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩০০ ফুটের রাস্তাটি এখনো কাঁচা রাস্তা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটিতে কাদা তৈরি হয়। ফলে পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কাদায় পিছলে পড়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও পরে আর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

    স্থানীয় সমাজসেবক সাইফুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন।

    ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানায়, রাস্তাটি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্যই নয়, ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদে যাতায়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসানে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ,আর

  • আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    টাঙ্গাইলে ৪০ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবায় আওয়ামীপন্থি ডাক্তারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালগুলোতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপের) হাতে বন্দি রয়েছে রোগীরা। সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান থাকায় ড্যাব সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

    অপরদিকে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ সময় দৌড়ের ওপর থাকা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ড্যাব) মেধাবী চিকিৎসকরা এখনো কোণঠাসা। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের আশায় দিন কাটছে তাদের। এছাড়া স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। স্বাচিপের আদিপত্য রোধ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের পদায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যই ছিল যোগ্যতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু গত বছরের ৯ মার্চ যোগদান করেন। স্বাচিপের অপর দুই সদস্য ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং মেডিকেল অফিসার আবু জাফর যোগদান করেন আওয়ামী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। এর আগে ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক পদে যোগদান করেন স্বাচিপের আজীবন সদস্য নুরুল আলম মিঞা। এ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা, গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয়। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ৯ জন নিয়োগ পান আওয়ামী সরকারের আমলে। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

    ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন আমার দেশকে জানান, জেলার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।

    এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। এছাড়া ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন কর হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন আর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়া জেলায় ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

    জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু আমার দেশকে জানান, ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

  • ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    শীতের আমেজ পুরোপুরি শুরু না হলেও মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাঠজুড়ে শুরু হয়ে গেছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের তুমুল ব্যস্ততা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবজি তুলে চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    উপজেলার বড়টিয়া, পয়লা, সিংজুরী, বানিয়াজুরী ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কৃষি মাঠগুলো ঘুরে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে উঠেছে জমি প্রস্তুতকরণ, চারা রোপণ ও নিবিড় পরিচর্যার কাজ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, উচ্ছে, করলা ও শিমের মতো চড়া চাহিদার সবজিতে ভরে উঠছে একের পর এক ক্ষেত। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেতেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এসব আগাম সবজি স্থানীয় ও রাজধানীর বাজারে সরবরাহ শুরু হবে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলায় ৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উপজেলার বৈলট গ্রামের কৃষক করিম বলেন, “এ বছর জমিতে বন্যার পানি না ওঠায় নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই বেগুনের আবাদ করতে পেরেছি। সঠিক সময়ে ফসল বাজারে তুলতে পারলে ভালো লাভের মুখ দেখতে পাবো।”

    তবে আশার পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না চাষিদের। বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক বারেক, ময়নাল ও মজনু জানান, আগাম সবজি চাষে লাভের বড় সুযোগ থাকলেও ঝুঁকি অনেক বেশি। আকস্মিক অতিবৃষ্টি কিংবা রোগবালাইয়ের হানা নিমেষেই স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। তা ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। আবার একই সময়ে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে গেলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে সঠিক সময়ে কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

    ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন বলেন, “পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চাষিদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”

  • গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১

    গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জে কলেজছাত্র জোবায়ের ভুইয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা আসামি স্বপন মোল্যাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পুলিশ ও এসআরবি যৌথ অভিযান চালিয়ে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ডিক্রিরচর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই নয়ন সাহা।

    তিনি আরো জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

    এর আগে, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার ঘোড়াদাই গ্রামের জুবায়ের ও তার বাবাকে বেধড়ক মারপিট ও কুপিয়ে আহত করে পার্শ্ববর্তী পুকুরিয়া গ্রামের ১০-১২ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একইদিন দুপুরে জুবায়েরের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় জুবায়েরের বাবা রমজান ভুইয়া সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিনজনকে আসামি করে শুক্রবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    নিহত জুবায়ের গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ,আর

  • নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

    নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে চান মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত চান মিয়া উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের শ্রীবড়টিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে চান মিয়া তার নিজ বাড়ির তালগাছে ওঠেন গাছ পরিষ্কার করতে থাকেন। এমন সময় গাছে থাকা ভীমরুলের চাক থেকে বেশ কিছু ভীমরুল তাকে আক্রমণ করে এবং শরীরের একাধিক স্থানে হুল ফোটালে তিনি দ্রুত গাছ থেকে নেমে আসেন। পরে তার অবস্থা গুরুতর দেখে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর চান মিয়া সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়নি। সঠিক চিকিৎসা না দেয়ার কারণে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তারা চিকিৎসা দিতে পারবে না একথা বললে আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যেতাম। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: রিফাত মাহবুব বলেন, চান মিয়া বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই শকে চলে যান। বহু চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ,আর

  • মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    দারুসসালাম জোনের ওসি এমদাদুল হক বিপুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে। এরপর দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেয়া হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।স্থানীয় বিএনপির দু’টি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়।

  • মেঘনায় ট্রলারডুবি : কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

    মেঘনায় ট্রলারডুবি : কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশ তিনটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।

    নিহতরা হলো— সামিনা (১৭), সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে। লাশ নিহতদের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

    এর আগে দুর্ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরো এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে, এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামে আরো একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

    শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নিহত তিনজনের লাশ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামে নেয়া হয়। পরে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান।

    খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় রায়েশা বেগম নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিখোঁজ হন একই পরিবারের চারজন (হেলাল উদ্দিন, তার মেয়ে সামিনা ও দুই ছেলে সজিব ও সামিন)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি। এ সময় ট্রলারে বেঁধে রাখা দু’টি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ,আর

  • ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে চলছে শিশুদের টিকাদান। সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে অস্থায়ীভাবে টেবিল-চেয়ার পেতে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চালু রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সেন্টারের সামনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া শুরু হয়।

    আজ দুপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সামনে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চলতে দেখা যায়। সেন্টারের গেটে ব্যানার টানিয়ে টিকাদানের সামগ্রী নিয়ে বসেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেখানে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নিয়ে মায়েরা আসছেন এবং টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও।
    দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে নিয়ে আসা এক মা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার কাছে হওয়ায় আগেও এখান থেকে টিকা দিয়েছি। ’

    ইসরাত নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমার মেয়ের আগামী মাসে টিকা দেওয়ার তারিখ আছে। আগের টিকাটিও রাড্ডা থেকে দিয়েছি। তাই জানতে এসেছিলাম, আগামী মাসে এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে কি না। তাঁরা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়া হবে। ’

    তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে আসা আরেক মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায় বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে। গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে। ’

    রাড্ডা সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজ সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বেলা সাড়ে ১টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি। সেন্টারের আশপাশের শিশুদের টিকা নিতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। ’

    নাসরিন আখতার আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ’

  • মাধবদীতে অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

    মাধবদীতে অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদীর মাধবদীর পাঁচদোনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পাঁচদোনা-টঙ্গী সড়কের ভাটপাড়া বাজারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের অন্তরামপুর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২) ও আশুলিয়ার মাতাইল দক্ষিণ পাড়ার হারিস মোল্লার ছেলে নুর উদ্দিন।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে গাজীপুর থেকে যাত্রীবাহি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। পাঁচদোনার ভাটপাড়া সড়কে পৌঁছার পর ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের পিছনে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী নুর উদ্দিন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাইদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ নুর উদ্দিনের লাশ উদ্ধার ও অটোরিকশার চালককে হেফাজতে নেয়।

    থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: জসিম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • লৌহজংয়ে লুণ্ঠিত ৯৫টি অটোরিকশার ব্যাটারি উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    লৌহজংয়ে লুণ্ঠিত ৯৫টি অটোরিকশার ব্যাটারি উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি অটো গ্যারেজ থেকে লুট হওয়া ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আনিছুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারি উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন পটুয়াখালীর বাউফলের ওলিপুরা গ্রামের মো: মাসুদ (৩৩), মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের দিপুপুরা গ্রামের আছলাম শেখ (৩৮) ও টঙ্গিবাড়ীর পূর্ব আউটশাহী গ্রামের সজিব ফকির (২৯)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, গত শনিবার রাতে উপজেলার মেদিনীমণ্ডলের মাওয়া পুরাতন ঘাট এলাকায় সুরেশ্বর ফারুক নামে একটি অটো গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজন ডাকাতদল গ্যারেজের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে পাহারাদার মাসুমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর গ্যারেজে থাকা ২২টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ৯৫টি পুরাতন ব্যাটারি ও ২২টি চার্জার নিয়ে একটি পিকআপভ্যানে লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

    লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় মামলা করা হয়।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেয়া তথ্যমতে লুট হওয়া ৯৫টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানান তিনি সিরাজদিখানের মালখানগর চৌরাস্তার আছলাম সাইকেল স্টোরের মালিক আছলাম শেখের কাছ থেকে ছয় লাখ ৭৪ হাজার টাকায় ব্যাটারিগুলো কিনেছেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে আছলামকে গ্রেফতার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছলাম পুলিশকে জানান, টঙ্গিবাড়ীর সজিব ফকির ও তার এক বন্ধু ব্যাটারিগুলো বিক্রির জন্য তার কাছে নিয়ে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে আছলাম সাইকেল স্টোরের ক্যাশ মেমো ব্যবহার করে ব্যাটারিগুলো মাসুদের কাছে বিক্রি করা হয়।

    এরপর রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে টঙ্গিবাড়ীর দক্ষিণ বেতকা নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজিবকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজিব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

    ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি সৈয়দ মো: আক্তার হোসেন। এ,আর

  • ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অপর বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

    ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অপর বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অপর বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে পালকী পরিবহনের একটি বাস। মাঝপথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় এলে বাসটির চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে এক্সপ্রেসওয়েতে পার্কিং করে রাখা হয় বাসটি। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের আরেকটি বাস পালকী পরিবহনের ওই বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৫ জন।

    খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর সরদার জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। পালকী পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে পার্কিং করে রাখে। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলেই ঘটে এ দুর্ঘটনা। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার কাজের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এ,আর

  • চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা সিদ্ধ ডিমে অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী ডিম খাওয়ার পর বমি করেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়।

    ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিম মুখে দেয়ার পর তীব্র তিতা স্বাদের কথা জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই শিক্ষার্থী বমি করে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করেন। তাদেরও অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ মনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর ডিম বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসাথে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী বমি করার পর আমরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তীব্র তিতা পাই। তাই শিক্ষার্থীদের ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাফুজা জানায়, ‘দুইজন সহপাঠী ডিম খাওয়ার পর বমি করে। এরপর শিক্ষকরা আমাদের ডিম খেতে নিষেধ করেন।’

    পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুপারভাইজার বশির উদ্দিন। তিনি ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তিতা পেয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, সরবরাহকারীদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুরগিকে কৃমিনাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর সাথে কিছু ডিমের স্বাদের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ডিমে তিতা স্বাদের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

    চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আজিজুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পাঁচটি বিদ্যালয়ে ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো—ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরশালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ মো: আলী বেপারীর ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    তিনি জানান, পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৬৩৯টি সাদা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই ডিম সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডিমগুলো কেন তিতা ছিল, তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের দায় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    শিশুদের জন্য পরিচালিত পুষ্টিকর খাদ্য কর্মসূচির ডিম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিমের নমুনা পরীক্ষা এবং সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি উঠেছে। এ,আর

  • তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্ত্রী নিলুফা আক্তার মিলুর (৪০) তালাকের নোটিশ পেয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন স্বামী হযরত আলী। এ সময় নিলুফার মা এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত হযরত উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিলুফা পার্শ্ববর্তী কাকনা গ্রামের ছইনুদ্দিনের মেয়ে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে হযরতের সাথে নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। এরই জেরে নিলুফা এক সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেয়। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রাত ৮টার দিকে ধারালো ছুরি নিয়ে নিলুফার বাড়িতে যান। সেখানে নিলুফাকে দেখামাত্রই ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    এ সময় নিলুফার মা চেনবানু এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হযরত তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    নিহত নিলুফার বাবা ছইনুদ্দিন বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও হযরত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মৌসুমী ভৌমিক বলেন, ‘গুরুতর জখম অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে নিয়ে আসা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রাতেই মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হযরতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও আহত চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।’

    নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হত্যা মামলা করেছেন। ঘাতক স্বামী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’ এ,আর

  • সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সদরপুরে বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের দিকে, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন। এখনো তীব্র স্রোতে নদীর তীর ভেঙে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে, রাত কাটছে নির্ঘুম। কখন যে স্রোতের টানে নিজের ঘরবাড়িটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে পদ্মা পাড়ের জনগণ।

    প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তীব্র হলেও এবার বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে, নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষের দাবি, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসন।

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী ঢেউখালী, আকোটেরচর ও দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, চরমানাইর এবং চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবারো নদীভাঙন হয়েছে এবং ভাঙন অব্যহত রয়েছে। ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী ও মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, কালিখোলা, মোল্যাকান্দি ও খালাসীকান্দি এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভাঙছে। একই সাথে দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দির বাসিন্দারাও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, পদ্মার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের অংশ। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি তাদের। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

    পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের মধ্যে বেপারীডাঙ্গী গ্রামের ১০০ বছর বয়সি হাসমত বেপারীর গল্পটি যেন নদীভাঙনের নির্মমতার প্রতিচ্ছবি। নিজের ভিটেমাটিতে জীবনের শেষ সময়টা কাটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু কয়েক দশকে একের পর এক নদীভাঙনে বারবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। জীবনে আটবার ঘর তুলেও কোনোবারই স্থায়ী হতে পারেননি। সর্বশেষ ভাঙনে আবারো স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠতে হয়েছে তাকে। তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ শিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘জীবনে সাতবার ঘর তুলেছি। সবই গিলে খেয়েছে পদ্মা। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না, শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারব কি না।’

    পদ্মাপাড়ের অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছে। কারো ঘর গেছে, কারো ফসলি জমি, আবার কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বর্ষা শেষ হওয়ার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব পরিবারের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে চরম উদ্বেগ। সরকারি উদ্যোগে পাওয়া ঘরই তাদের শেষ আশ্রয়। সেই ঘরও নদীগর্ভে চলে গেলে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এছাড়া চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হয়। বর্ষা চলে গেলেও ভাঙন এখনো থামেনি। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।’

    দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আ: আজিজ চোকদার বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। আমরা চরের মানুষ এমন বিপদে আর কতবার পড়ব?

    ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে এবং নতুন করে মানুষ ভিটেমাটি হারায়। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

    আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, ‘নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

    সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, ‘পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব হোসেন বলেন, ‘ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

    এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, ‘নদীর সাথে আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। পাশের চরভদ্রাসনে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সদরপুরেও আমরা স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবো। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় শিগগিরই স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

    পদ্মার ভাঙনে বছরের পর বছর ধরে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার অবলম্বন হারানো মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। তাদের ভাষ্য, ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিরাপদ বসতি ও জমি রক্ষায় কার্যকর নদীশাসন। তাই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের একটাই প্রত্যাশা-আর কখনো যেন চোখের সামনে নিজের ভিটেমাটি পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে যেতে দেখতে না হয়। এ,আর

  • গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    বুধবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরগামী একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন। গুরুতর আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাকটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় সংগ্রহের কাজ চলছে। নিহত তিনজনই পুরুষ। তারা অটোরিকশার যাত্রী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজারের গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকার আব্দুস সাত্তারের পুকুরে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে। পরে বুধবার সকালে পুকুরে থাকা পুঁটি, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়।

    পুকুরের মালিক আব্দুস সাত্তার জানান, পুকুরে থাকা মাছের আনুমানিক মূল্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। রাতে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সবজেল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়ের পর দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায় সাত ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরকান্দা উপজেলার প্রধান বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান।

    অভিযানকালে উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী সোহেল রানা চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী শরিফুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর শপিংমল, মার্কেট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরকান্দা বাজারে তদারকি অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সাথে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।’

    তিনি আরো জানান, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে নগরকান্দা উপজেলায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলমের গর্ভধারিণী মা সাহারা বেগম (৬৫)। এক সময় মাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি ও তার পরিবার। অবশেষে অবসান হলো সেই দীর্ঘ অপেক্ষার। এতো বছর পর মাকে ফিরে পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা সন্তানসহ পরিবারের সবাই।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালার নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, ২০০৯ সালের শুরুতে বাড়ি থেকে হারিয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন সাহেরা। পরিবারের লোকজন আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তু থেমে যাননি ছেলে শাহ আলম। প্রিয় মাকে খুঁজে বের করতে ধারদেনা করে কেনেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সংসার চালানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি মাকে খোঁজে বেড়িয়েছেন। মায়ের মায়াবী মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রায় কেটে যায় ১৮ বছর।

    শুক্রবার সাহেরা এসে উপস্থিত হন বাড়ির পাশের একটি বাজারে। মা ফিরে আসার সংবাদ পেয়ে শাহ আলম ছুটে যান মায়ের কাছে। মাকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি। মা-ছেলের আকস্মিক এই আবেগঘন সাক্ষাতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    শাহ আলম বলেন, ‘১৮ বছর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মাকে পাইনি। মাকে ফিরে পাব, এমন আশাও ছিল না। মাকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। পাগল হলেও তিনি আমার মা। এতো বছর পর মায়ের সেবা করতে পারছি এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের।’

    স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছোট থাকতে সাহারা বেগম বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। দীর্ঘদিন পর তাকে খুঁজে পেয়ে পরিবারের সবাই অনেক খুশি।’

    মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক লোকজন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। সাহারা বেগম ফিরে আসার ঘটনায় আমরা সবাই আনন্দিত। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এতোদিন তিনি কোথায় ছিলেন ও কেমন ছিলেন তা জানা যায়নি।’ এ,আর

  • শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    শ্রীনগরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার হাসাড়া-সিংপাড়া কেসি সড়ক-সংলগ্ন একটি আবাদি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, কেসি সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় তারা ওই এলাকা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পায়। পরে আশপাশে খোঁজ নিয়ে জমির মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ওই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, গত তিন-চার দিন আগে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এই পুরুষের লাশটি ফেলে রাখা হয়। পিবিআই টিমকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা এল লাশের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

  • বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের আওতায় বিনা মূল্যে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আরো চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

    উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, গড়ে প্রতি মাসে দুটি করে অর্থাৎ বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা। ২০২৭ সাল পর্যন্ত হয়তো আমরা সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    বিএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে সব রোগীরই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।

    উপাচার্য জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরো দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।

    লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবেশী দেশে একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ১৪ দিনের হাসপাতাল প্যাকেজের খরচ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এর বাইরে ডোনার ও রোগীর ভ্রমণ, দীর্ঘদিন হোটেলে থাকা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতা দেখা দিলে অতিরিক্ত আইসিইউ ব্যয়সহ মোট খরচ প্রায় ১ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, নিয়মিতভাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যেই একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এটি একটি প্রাথমিক বা রাফ এস্টিমেট।’

    উপাচার্য বলেন, ‘একটা সময় আসবে, যখন আমাদের বিনা মূল্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাটা সম্ভব হবে না। আমরা হয়তো ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    ডোনার নির্বাচন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানান, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব টিমও ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।’

    মাসে দুটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্টের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, একজন ডোনার ও একজন রিসিপিয়েন্টকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং ব্যাপক লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব নয়।

    তিনি জানান, ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা ও অবকাঠামো বাড়লে ট্রান্সপ্ল্যান্টের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

    বিএমইউ জানিয়েছে, ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নেয়। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয়।

    উপাচার্য বলেন, ‘এটি কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়; সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম—সবাই মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।’

  • ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর পকেটে থাকা এনআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জাবেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খানকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

    পুলিশ জানায়, জাবেদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মৃত্যু, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

    এসআই এস এম আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাবেদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

    জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।

  • কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার সামাদ প্লাজার সামাদ আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলায় এসি বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৫) ও হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সাব্বির (৩০)।

    জেলা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ ও সদর মডেল থানার এসআই দুলাল জানান, দুই রাজমিস্ত্রি সামাদ আবাসিক হোটেলে এসি বসানোর কাজ করছিলেন। আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি লোহার রড বিদ্যুতের খোলা তারের সংস্পর্শে এলে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    আফাজুলের ফুপু জাহেরা খাতুন বলেন, আফাজুলের স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তিনি সংসার চালাতেন।

    অন্যদিকে সাব্বিরের চাচাশ্বশুর জাকির হোসেন জানান, সাব্বিরের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তার সংসার চলত।

    জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করার সময় প্রায়ই ভবনের মালিকরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। ফলে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সর্বত্র নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাদের সন্তানদের দায়িত্ব মালিকপক্ষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    ভবনের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, রিপন মিয়াসহ সামাদ আবাসিক হোটেলের চারজন মালিক রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

    সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখর রঞ্জন পাল জানান, এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষের কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ,আর

  • ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ‘সোনালি আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবছরই চাষ হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের পাট। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও এখন বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা।

    একসময় অবহেলিত ও মূলত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটকাঠি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পাট চাষ হয়। পাট কাটার পর আঁশ সংগ্রহের পাশাপাশি পাটকাঠিও সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের বাড়ি ও মাঠ থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মান ও শুকনো অবস্থাভেদে বর্তমানে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকরা জানান, আগে পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। জমির পাশে, পুকুরপাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা হতো। অনেকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া ঘরের মাচা, সবজির মাচা ও বেড়াসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন তারা।

    পার্শ্ববর্তী জেলাতেও যাচ্ছে পাটকাঠি

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পাটকাঠি শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যবসায়ীরা এগুলো মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাটকাঠি সংগ্রহের পর শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগের তুলনায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও তা সংরক্ষণে আগ্রহী হচ্ছেন।

    এক পাটকাঠি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে পাটকাঠি অনেকটা অবহেলিত ছিল। এখন এর চাহিদা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে পাটকাঠি কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় কৃষকরাও এটি বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।’

    কৃষকের মুখে বাড়তি আয়ের কথা

    পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটের আঁশ বিক্রির পর পাটকাঠি থেকেও আয় হওয়ায় উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসছে। এতে পাটচাষে তাদের আগ্রহও বাড়ছে।

    বোয়ালমারী উপজেলার ফেলান নগর গ্রামের কৃষক হালিম বলেন, ‘পাট থেকে আঁশ বিক্রি করার পর পাটকাঠিগুলো আগে তেমন দাম পেতাম না। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাওয়ায় পাটকাঠি থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে।’আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষক হাবিব মোল্লা বলেন, ‘আগে পাটকাঠি দিয়ে রান্নার জ্বালানি, ঘরের মাচা কিংবা বেড়ার কাজে ব্যবহার করতাম। এখন বিক্রি করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাই পাট কাটার পর পাটকাঠি যত্ন করে শুকিয়ে রাখি।’

    বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাটকাঠি বর্তমানে শুধু জ্বালানি বা ঘরোয়া কাজে সীমাবদ্ধ নেই। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাটকাঠি থেকে তৈরি কার্বনজাত উপাদান বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কালি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া পানবরজ, সবজির মাচা, ঘরের বেড়া ও বিভিন্ন কৃষিকাজেও পাটকাঠি ব্যবহার করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য একটি মূল্যবান উপজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে।’

    বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, পাটকাঠির বাড়তি ব্যবহার ও বাজার তৈরি হওয়া কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। তবে পাটকাঠি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।

    তিনি আরও বলেন, ‘পাট আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে। কৃষকরা পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছেন। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পাটচাষিদের আয় আরও বাড়তে পারে।’

    এতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

  • টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডিত আসামি হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মরহুম হাজী আজমত আলীর ছেলে মুস্তাক। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে জানান, আসামি মুস্তাক দুই শিশুছেলে ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে নিয়ে ভূঞাপুরের ঘাটান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি বিগত ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার পর যেকোনো সময় মুনিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

    অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে নিজ ঘরের বক্সখাটের নিচ থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার ভাই আমিনুল ইসলাম খান ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন।

    বিচার শেষে আদালত আসামি মুস্তাককে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে স্ত্রীর লাশ গুম করার চেষ্টার দায়ে তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    নিহত মুনিয়া গোপালপুরের নলিন বাজার গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে।

    মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: রফিকুল ইসলাম রফিক। এ,আর

  • দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে কাশফুলের দোলা। আর কদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতির সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারে বেড়েছে ঝুনা নারকেলের চাহিদা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর দামও।

    পূজার বিভিন্ন উপকরণ থেকে শুরু করে প্রসাদ তৈরিতে নারকেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ সময় ঝুনা নারকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

    ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় নারকেলগাছের সংখ্যা কমেছে। অনেকেই গাছ থেকে কাঁচা ডাব পেড়ে খাওয়ার পর সঠিকভাবে পরিচর্যা করেন না। নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর প্রবণতাও কমেছে। পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছে ফলন হচ্ছে না। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে নারকেলগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরবরাহেও টান পড়েছে।

    অন্যদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ঝুনা নারকেল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারকেল কিনতে আসা দীপ্ত সাহা ও অরুণ মণ্ডল বলেন, “পূজার সময় নারকেল না হলে চলে না। কিন্তু এবার দাম আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।”

    ঝুনা নারকেলের বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, “চাহিদার তুলনায় নারকেলের সরবরাহ কম। এছাড়া গাছ থেকে নারকেল পেড়ে এনে বিক্রি করতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিন ১০-১২টি গাছে উঠে গৃহস্থদের নারকেল পেড়ে দিতে হয়। সেখান থেকে ১০-১২টি নারকেল এনে বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এ কারণে নারকেল বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

    তেল কোম্পানিগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল কিনে নেওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

    ফরিদপুরের ময়না গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালীপদ চক্রবর্তী বলেন, “দুর্গাপূজায় আমাদের ঝুনা নারকেল লাগে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পূজার প্রসাদ হিসেবে নারকেলের নাড়ু দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর নাড়ু, পিঠা ও বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও নারকেল লাগে। তাই এর চাহিদা সব সময়ই আছে।”

    নারকেলগাছের সংখ্যা কমার সঙ্গে কমছে ফলনও। অথচ পূজার থালা থেকে শুরু করে বাঙালির ঘরের পিঠা-পায়েস—সবখানেই নারকেলের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। তাই উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    আটকের পর আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্যকে ছাড়লো পুলিশ, বিএনপির এমপি বললেন ‘আমার লোক’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই পূবাইল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক এবং পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের একটি বিশেষ দল। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে তিনি পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন।

    ডিবি সূত্র জানায়, একটি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়। আটকের পর তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ সময় গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন ফোন করে অমূল্য চন্দ্র দাস বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ নির্বাচনে তার পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন বলে জানান। এমপি মিলন তাকে নিজের লোক হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে অমূল্য চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী মূল বিবেচনায় ছিল তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই।

    এদিকে গাজীপুর মহানগর ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাহেব আলী পাঠান বলেন, অমূল্য চন্দ্র দাসকে ডিবি আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নামে ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতাকে আটকের পর দ্রুত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে পুলিশ বলছে, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। অমূল্য চন্দ্র দাসের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক যাচাইয়ে নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় বিস্ফোরক মামলায় হেমায়েত হোসেন (৫৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হেমায়েত মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাতাগ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল কাগদী বাজারে অভিযান চালিয়ে হেমায়েতকে গ্রেফতার করে। তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সালথা থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

    সালথা থানার ওসি মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় হেমায়েতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নাশকতাসহ থানায় আরো একাধিক মামলা বিচারাধীন। গ্রেফতারকে বিকেলে ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

  • মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১

    মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার সংবাদ আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

    তিনি জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরো তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, নিউ বলেশ্বর নামের বাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে প্রাইভেটকারটি মায়ামি রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।

  • গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় সৈকত হোসাইন (২৩) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপভ্যানের এক সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার সকালে কড্ডা এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে দ্রুতগামী পিকআপভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সৈকত হোসাইন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া মোল্লাবাড়ী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে টাঙ্গাইল অভিমুখে গমনকারী একটি পিকআপভ্যান কড্ডা এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক সৈকতের মৃত্যু হয়।

    এদিকে পিকআপভ্যানের আহত সহকারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক ও পিকআপভ্যান দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    কোনাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্বাস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল পায়।

    নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি পরিবারকে যেমন এগিয়ে নেওয়া যায়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    তিনি বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

    আরও পড়ুন: এক গুদামে আগুন লেগে পুড়ল আরও ১২ গোডাউন

    শিক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে কোনো জাতিই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।

    রিজভী বলেন, একটা সময় শিক্ষার গুরুত্বকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুন: পাংশায় দেয়াল ধসে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

    এর প্রভাব পড়েছে পুরো জাতির ওপরও।

    রিজভী অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কোনো জাতি শিক্ষার যথাযথ সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য বিনিয়োগ ও প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

    অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার

    মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতরা হলেন সৌদি আরব প্রবাসী একরাম খালাসী (৪০), তার স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে।

    একরাম খালাসীকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সড়কে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের পর এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতর খবর পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে দুইটা ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় দোকানপাট বন্ধ ও রাস্তায় কেউ না থাকায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ।

    এ বিষয়ে শাহজানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায় নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।