ঢাকা বিভাগ

  • ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর আবার ফুটপাতে বসলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাজস্ব আদায় ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বেশির ভাগ লোককে আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে যাব, তাদের সময় দিয়ে যাব। এই সময়ের মধ্যে যদি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে এবং আইন অনুযায়ী যেভাবে থাকা দরকার সেভাবে না থাকে, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

    তিনি বলেন, বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন, তাদের ফুটপাত থেকে সরে যেতে বলা হবে। পাশাপাশি যাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স নেওয়া এবং যাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, তাদের নবায়নের জন্য অনুরোধ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। আপনারা নিজে থেকে আইন মেনে সবকিছু করলে আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। অভিযানে সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা কাজ করবেন জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক বরখাস্ত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক বরখাস্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগ এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চার শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া এক শিক্ষাকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।ড. জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। তার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।

  • দরপতনে ধুঁকছে শেয়ারবাজার

    দরপতনে ধুঁকছে শেয়ারবাজার

    দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার বড় পতন হয়েছে। লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমেছে।

    বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে দেশের শিল্প খাত এক মাসের বেশি সময় ধরে ধুঁকছে। তাতে শিল্প খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প খাতের উৎপাদন ও ব্যবসায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার আশু কোনো সমাধান নেই। ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্ভূত এ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো জানান, চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে ভুগছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানিও। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। তাতে গতকাল ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    বাজার বিশ্লেষকরা জানান, দেশে বর্তমানে গ্যাস-বিদ্যুতের যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে সমস্যা তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ সমস্যার আশু সমাধানের কোনো আশার কথাও বলা হচ্ছে না। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, রাতারাতি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য কয়েক বছর সময় লাগবে। এ অবস্থায় শিল্পমালিকদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। যার তাৎক্ষণিক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গতকাল লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমতে থাকে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের। দিন শেষে সূচকের বড় ধরনের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২,১২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১,১২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৪৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩০৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা।

    এই লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম কটন।

    এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।

    অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১২টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

    ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, বাজারে নানা ধরনের নেতিবাচক কথার প্রভাব পড়েছে। চলমান গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট সহসাই কাটছে না। এর প্রভাব উৎপাদনে পড়বে। তবে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষায় পরামর্শ দেন তিনি।

    ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আমার দেশকে বলেন, বাজারে উত্থান-পতন থাকবে। এটা স্বাভাবিক। তবে জ্বালানি সংকটে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

  • পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ট্রানজিশন পিয়ার বা সংযোগস্থলের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির একটি বাস উল্টে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে সেতুর সংযোগস্থলের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিটের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে যে, লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটি বাস উল্টে গেছে। ঢাকামুখী নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেস নামে বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।

    তিনি আরো জানান, সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দু’টি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

    আহতরা হলেন— মাগুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০), মো: লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদা উপজেলার নূর ইসলাম (৪৬), রশিদা (৪০), মাগুরা মোহাম্মদপুরের ফাতেমা (৭), মাগুরা শ্রীপুরের সাইফ (২৩) ও ফরিদপুরের মধুখালি এলাকার মো: আরাফাত (১৩)।

    পদ্মা সেতুর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আক্তার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গ্রিন এক্সপ্রেস বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুতে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা আট-নয়জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

  • শফিক রেহমান ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক

    শফিক রেহমান ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক

    ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) প্রথম সাধারণ সভা সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়া ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন। সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের উপস্থাপিত গঠনতন্ত্র কিছু সংশোধনীসহ অনুমোদন করেন।

    শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় সম্পাদকরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আমরা আরো বিস্তৃত করতে চাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সম্পাদকরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি প্রথম সভাতেই গণতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেছে।’

    মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে শত শত শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। এখন আমাদের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে—কীভাবে সম্পাদকদের একটি অংশ চাটুকারিতার মাধ্যমে সরকারকে ফ্যাসিস্ট হতে সহায়তা করেছিল। যারা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল, তাদের আবার সাংবাদিকতার বাতিঘর বানানো হয়েছিল। এখন আমাদের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হবে।’

    যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যা হয়েছে, তা ছিল ঘৃণার অযোগ্য। সংবাদমাধ্যম পচে-গলে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন সেখান থেকে আমাদের উত্তরণের চেষ্টা করতে হচ্ছে। ‘প্রশ্ন নয়, প্রশংসা’র বদলে সত্যিকার অর্থে আমাদের এখন প্রশ্ন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই উপমহাদেশে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ধূমকেতুর মাধ্যমে তিনি প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন সফল সম্পাদক।’ তিনি এডিটরস কাউন্সিলকে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম পদক প্রদানের আহ্বান জানান। পরে সভায় সে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এডিটরস কাউন্সিল প্রতিবছর সাংবাদিকতায় নজরুল পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে গত ১৭ বছর যা হয়েছে, তা কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। সাংবাদিকতাকে দলবাজিতে পরিণত করা হয়েছিল। নানা ধরনের সুবিধা ও প্রলোভন দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এনইসিকে কাজ করতে হবে।’

    ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম জরুরি ছিল। এনইসি যাতে সারা বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য কাজ করে যেতে হবে। এর মধ্য দিয়ে সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, ‘দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ সারা দেশের সম্পাদকদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

    সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে আরো মতামত দেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, খবর সংযোগ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাক সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, দ্য বাংলাদেশ পোস্ট সম্পাদক সদরুল হাসান, বাণিজ্য প্রতিদিন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, খোলা কাগজ সম্পাদক মনির হোসেন, রূপালী বাংলাদেশের সায়েম ফারুকী, ভোরের বাংলা সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ আরিফ, দি গ্লোবাল পোস্টের ড. মাহবুবুর রহমান, নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানি, কর্ণফুলী সম্পাদক (চট্টগ্রাম) আফসার উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক লোকসমাজ (যশোর) সম্পাদক শান্তুনু ইসলাম, নতুন প্রভাতের (রাজশাহী) সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক নিউটাইমসের সম্পাদক (ময়মনসিংহ) সাইফুল ইসলাম, দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক (সিলেট) মুকতাবিস উন নুর, যুগের চিন্তার (নারায়ণগঞ্জ) সম্পাদক মোরছালীন বাবলা, দৈনিক প্রবাহ (খুলনা) সম্পাদক মো. আশরাফ এবং বাংলাদেশ বাণীর (বরিশাল) সম্পাদক আযাদ আলাউদ্দীন।

  • ডেঙ্গুতে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু আগস্টেই ৪৩

    ডেঙ্গুতে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু আগস্টেই ৪৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ১৬৩ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চলতি আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জন মারা গেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৮২, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১২৩ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ১৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৩২, চট্টগ্রামে ১২০, খুলনায় ২৪৩, ময়মনসিংহে ৬৯, রাজশাহীতে ৮৭, রংপুরে সাত ও সিলেটে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৩ হাজার ২০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৭ জন।

  • বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অর্থ দেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, বিগত আমলে নির্বাচনের সময় থানার পরিধি অনুযায়ী ইউএনওকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, ওসিকে ১ কোটি টাকা এবং ডিসিকেও বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হতো। তবে এবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ১০ টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের সেই ‘ঘুস-দুর্নীতির মহারণ্য’ থেকে দেশ বেরিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিগত আমলে ইলেকশন হয়েছে। আমি ফ্র্যাংকলি একটা কথা বলি- নির্বাচন এলে ইউএনও সাহেব পেতেন ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, থানার পরিধি ভেদে। ওসি সাহেব পেতেন ১ কোটি, ডিসি সাহেবও পেতেন। সব ছিল ঘুসের দুর্নীতির মহারণ্য। এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি দেই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।

    মন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় এবার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশি কাজ করেছেন। কোনো আর্থিক সুবিধা ছাড়াই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রেখেছেন। অতীতে কর্মকর্তাদের একদিকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে খুশি রাখতে অনৈতিক সুবিধা নিতে বাধ্য করা হতো।

    মন্ত্রী বলেন, নিতে হবে, নেন; চুরি করতে হবে, নেন- এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সেই দিনগুলো এখন চলে গেছে। সবাইকে বুঝতে হবে, ইমান ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী অতীতের প্রশাসনিক দুর্নীতির আরেকটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগে ঠিকাদাররা মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশের জন্য পিয়নদেরও টাকা দিতেন। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও ঘুসের নির্দিষ্ট অঙ্ক ছিল। নার্সের ট্রান্সফার ও ডাক্তারের ট্রান্সফার ৩ লাখ, ৫ লাখ। ডাইরেক্টর হলে ২ কোটি। এরকম ঘুস খেয়েছে।

    তিনি বলেন, টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অব করাপশন। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা বেরিয়ে আসছি, ইনশাআল্লাহ। কাজেই এই কাজটা কিন্তু একার না, সমন্বিত।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার কারণে সমাজে অপরাধ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হবে। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ না থাকলে আমাদের কারও অস্তিত্ব থাকবে না। অনেক রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ২৪ এর গণতন্ত্র রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

    স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। বেসিক সরকার সরঞ্জাম এর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।

    তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। রোগীদের খাবারের মান উন্নয়ন করা হবে। ডায়ালাইসিস রোগী ও শিশুদের জন্য পৃথক বেডসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জ জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম প্রমুখ।

    এছাড়া জেলার সব সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড

    এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, জেপিগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

  • আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ থেকে তাদের ‘মাইনাস’ বা দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা আইপিইউ প্রতিনিধি দল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে এ তথ্য সামনে আসে।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন যৌথ ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত দলটি আইপিইউ’কে নির্বাচন থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন ও বিরোধী দলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার সার্বিক চিত্র আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    আইপিইউয়ের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কূটনীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

    সফরকালে আইপিইউ প্রতিনিধি দল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

    বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বৈঠকে আইপিইউ প্রতিনিধিরা এর প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিরোধী দলের নানা সমস্যার সুরাহা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, দেশের চলমান সংবিধান সংশোধন, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি না থাকা এবং আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের নতুন প্রস্তাবনাসমূহ আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

    এদিকে, সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন ব্রিফিংয়ে আইপিইউ প্রতিনিধি দলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আইপিইউর কাছে সবসময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহাল থাকার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করত। কিন্তু বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা উল্টো অভিযোগ করে বলছে যে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বা ‘মাইনাস’ করেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠন করা হয়েছে।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সংসদীয় কূটনীতির কৌশলগত দিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

  • ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৩১৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন

    ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৩১৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন

    ব্যাটারি উৎপাদনকারী জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামে এক কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করেছে ঢাকা বিভাগের মূল্য সংযোজন করের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ব্যাটরি উৎপাদন ও বিক্রয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ভ্যাট ফাঁকির এ ঘটনা উদঘাটন করা হয়।

    রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    এতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ আগস্ট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি নিবারক দল জিউঝু ইন্ডাস্ট্রিতে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, নথিপত্র ও হিসাব-সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

    পরবর্তীতে জব্দ করা নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশ করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

    সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় এবং ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের কারখানা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি এবং ব্যাটারি-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও বিপণনের সাথে যুক্ত। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষমতার আইপিএস, ইউপিএস, সোলার সিস্টেম এবং ভেইকেল বা মোটরচালিত যানের ব্যাটারি প্রধান। এই ধরনের ব্যাটারি কারখানায় সাধারণত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি, ভিআরএলএ ব্যাটারি কিংবা আধুনিক এনার্জি স্টোরেজ ব্যাটারি তৈরির জন্য লিড প্লেট, ইলেক্ট্রোলাইট, কেমিক্যাল এবং প্লাস্টিক কেইসিং বা কেস ব্যবহার করে অ্যাসেম্বলিং ও প্রসেসিং করা হয়। মূলত চীন থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি (যেমন—ব্যাটারি তৈরির উপাদান বা ওভেনের যন্ত্রাংশ) আমদানি করে বাংলাদেশে কারখানা পরিচালনা করছে।

  • সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    সারাহ কুক বলেন, বৃটেন ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের শক্তি ও ব্যপ্তি প্রতিনিয়ত আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসনবিষয়ক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসহ নানা যৌথ অগ্রাধিকারের বিষয় উঠে এসেছে।

    বৃটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক, প্রাণবন্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিবিড় সহযোগিতার ওপর এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সারাহ কুক বলেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্যই দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল বয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশা করছেন।

  • গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে।

    আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

    ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)।

    ‘গুম প্রতিরোধ’ দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে আজ সামনে এসেছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাটি। অনেকেরই জানার আগ্রহ-ঠিক কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কোন জায়গা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল?

    ঢাকার উত্তরায় যার ফ্ল্যাট থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম হয়েছিলেন তিনি বাসসকে সেই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।

    তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখে কড়া নজরদারিতে। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাকে এক এক করে গ্রেপ্তার করে চলেছে সরকার।

    এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    সেই দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং গুম করে রাখে। ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তার সন্ধান মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

    গুম হওয়ার আগে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন-সেই নির্মম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী সালাহউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়ার মিয়াবাড়ির কৃতী সন্তান সৈয়দ হাবিব হাসনাত সে সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সৈয়দ হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে এবং সন্দেহজনক সব জায়গায় হন্যে হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানে নানা কায়দায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে এবং স্থান বদল করে দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তার গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে যায়; যদিও তিনি ঠিক কোন বাড়ি বা কোন ফ্ল্যাটে আছেন, তা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাকে ধরে ফেলবে-এমনটাই ছিল পরিস্থিতি।’

    তিনি বলেন, ‘গুলশানকেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিন ভাই দলের পরামর্শে দ্রুত এলাকা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, গুলশানে তিনি যেখানে থাকেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাকে স্থান বদলের জন্য বিকল্প কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে, তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটেই যাওয়ার মনস্থির করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন, দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব-এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পরই আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’

    ‘কথামতো বিকেল ৫টার দিকে আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। গুলশানে তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, তা আমরা খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানত না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা শুধু বিষয়টি জানতেন। আমি ওই বাড়ির কিছুটা অদূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বাড়িটির নিচে গেলাম এবং সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন, তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। তাদের দুজনকে পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। উত্তরা যাওয়ার পথে এমন সব রুট বেছে নিলাম, যেদিকে কোনো পুলিশের চেকপোস্ট ছিল না। তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যার কিছু পর উত্তরার বাড়িতে পৌঁছলাম। সেখানে তো দারোয়ানদের জানতে দেওয়া যাবে না। তাই সেখানে দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি তো ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’

    ‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম-সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ নেমে গেলেন। বললাম, দ্রুত অমুক তলার অত নম্বর ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তাদের বলে দিলাম-‘মেহমান এখানে থাকবেন, সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরা করবে।’ এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠলাম। তারপর সেই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন ভাই দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকলেন। আন্দোলন চলছিল, সরকারও তাকে খুঁজছিল-এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।’

    হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট কেমন, তা আমার ভালোভাবেই পরিচিত। সেদিন উত্তরা এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম; কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও কোথাও এক গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা মিলছে না। আবাসিকের দোকানপাটগুলোও বন্ধ। এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণরা খেলাধুলা করে, কিন্তু আজ দেখলাম সেখানেও কেউ নেই! আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির অদূরে যেতেই দেখা গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান। আমি সাহস সঞ্চয় করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানটাকে খুব মনমরা দেখলাম, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েই চমকে উঠলাম-দরজা ভাঙা! আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কেঁদে সামনে এল বাবুর্চি আর সহকারী। তারা দুজন কাঁদতে কাঁদতে বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে!’

    ‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, আমাকেও গুম করা হবে-সেটা বুঝতে বাকি রইল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না। এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। আমার ভিসা করা ছিল; ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার স্ত্রী থাকত, তাকে সে অবস্থাতেই সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে এয়ারপোর্টে চলে গেলাম, আমার সহযোগীরা দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করল। বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম-তিনি আমাকে খুঁজছেন!’

    হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘আমেরিকায় বাঙালি কম থাকে-এমন একটি এলাকায় গিয়ে উঠলাম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। এরই মধ্যে সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলো। ভাবী হাসিনা আহমদ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি, বরং তিনি ‘আত্মগোপনে গেছেন’-এমন অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সংবাদ সম্মেলন করে বলি যে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো-“চুপ! একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না।’ এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো! এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে কেটেছে আমার অনেক দিন।’

    তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নিজেও সে সময়ে জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে, তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব-কথাটি আমাদের সব সময়ই মনে রাখতে হবে।’

    ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা

    সালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তাঁর দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় র‌্যাব (উল্লেখ্য, সেই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দ হাবিব হাসনাত)। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর মাঝে একাধিকবার তাঁর গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বাসার গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানো হয়েছিল।

    ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো ও নিউ এজ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সালাহউদ্দিনকে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়ে গেছে, এ বিষয়ে ওই এলাকায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা দুটির কাছে এর বর্ণনা দিয়েছেন।’

    উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যম সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। ওই পিকআপে আসা সদস্যরা সেখানে কর্তব্যরত ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কটির অবস্থান জানতেও চেয়েছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।

    তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে একধরনের উপহাস করে আসছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। সে বছর ১৪ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাকে (সালাহউদ্দিনকে) অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে। সালাহউদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাঁকেও কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে।’

    এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন-এমন ইঙ্গিত করে বা সরাসরি উল্লেখ করে ঢালাও বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের খোঁজ মেলার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি।

    ওইদিনই (১৩ মে) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়-এটি আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস নয়। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে-এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে।’

  • ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বেপরোয়া গতির অজ্ঞাতপরিচয় বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (29 আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া এলাকায় ভাঙ্গা-ফরিদপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার হাসনহাটি গ্রামের চয়ন (২৩), নয়ন (২০) ও সিয়াম ওরফে সজীব (২২)। তারা তিনজনই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় তিন বন্ধু একই মোটরসাইকেলে চড়ে নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে নওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া বাস তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চয়নের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন ও সিয়ামকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তাদের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মির্জা বলেন, ‘বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে পুলিশি টহল ও তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।’

    পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি টিভিএস অ্যাপাচি ফোরভি মডেলের ও সেটির রেজিস্ট্রেশন ছিল না।

    ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তিন বন্ধুকে চাপা দেয়া অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।

    উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে ভাঙ্গা উপজেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

  • কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।

    রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে।

    নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫০), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৩০) ও মিলন মিয়ার মেয়ে জারা মনি (৫)।

    গুরুতর আহতরা হলেন বন্যা আক্তার (২৫), সিএনজি চালক কাজল মিয়া (৩০), বদিউল আলম (৫৫), প্রিয়া আক্তার (২০) ও সাকিবুল হাসান (৮)।

    আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলম জানান, আমার মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মজিদ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তাকে দেখার জন্য আমার পরিবারের লোকজন নিয়ে শুক্রবার কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামে আসি। রোববার দুপুরে তাড়াইল থেকে আমরা সিএনজিতে চড়ে আমাদের ব্যবসায়িক কর্মস্থল নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে যাওয়ার পথে দ্রুত গতিতে আসা একটি কাভার্ডভ্যান আমাদের সিএনজিকে চাপা দেয়। ফলে ঘটনাস্থলেই আমার মেয়ের জামাই মিলন মিয়া মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আমার স্ত্রী রাবেয়া ও নাতনি জারা মনিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আমি, আমার মেয়ে বন্যা, সিএনজিচালক কাজল মিয়া, আমার বাড়ির প্রিয়া আক্তার ও সাকিবুল গুরুতর আহত হয়েছি।

    কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মোহাম্মদ আনিছুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মিলন মিয়া নামে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। রাবেয়া ও জারা মনি নামে অপর দুইজনকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত আরো পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।

    কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, তিনিসহ হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।

    সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। আর রাজশাহী, জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৮ জানুয়ারি। প্রথম দিন ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রাথমিক আবেদন চলবে ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

    এরপর ৮ জানুয়ারি ‘ই’ ইউনিট, ১৫ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ২২ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ২৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তির আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টায়। আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিট, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বি১’ ইউনিট, ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বি২’ ইউনিট, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ‘বি১’, ‘বি২’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। চবিতে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    তবে এসব সময়সূচির মধ্যে যেসব পরীক্ষা এখনো চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি, সেগুলো পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভর্তিচ্ছুদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি। এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী- এ তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৮ ডিসেম্বর

    ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিট এবং ১৯ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    এবার পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো—ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ।

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১ এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আহত শিক্ষার্থী তাফসির চহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ঘটনার পর ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়। একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে ৭ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে ৪ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশীষ চন্দ্র চন্দকে ২ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে আরও বলা হয়, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে শাস্তি হ্রাস, বৃদ্ধি কিংবা পরিবর্তন হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী কালবেলাকে বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট মারামারিতে আমার এক ছাত্রের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবে। তবে মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা দেবে। ’

    তিনি জানান, ২৯ আগস্ট থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

  • দেশ কোনো একক দলের নয়, দেশ সবার: সেলিম উদ্দিন

    দেশ কোনো একক দলের নয়, দেশ সবার: সেলিম উদ্দিন

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির এবং নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন বলেছেন, “দেশ কোনো একক দলের নয়, দেশ সবার। ”

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের রূপায়ণ সিটির পাশে খিদির খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধনলে তিনি এ কথা বলেন।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা মহানগরীর ৫৪টি ওয়ার্ডে দায়িত্বশীলদের নেতৃত্বে শত শত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। ”

    তিনি বলেন, “আমরা জানি না, সিটি করপোরেশনের সবকিছু থাকার পরও কেন ময়লাগুলো সরানো যায় না।

    আমরা চাই, এই সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকায় জনগণ নির্মল বাতাস পাক। আমরা কাউকে দেখানোর জন্য এসব কাজ করছি না; জনগণের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এ কাজ করছি। ”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরা খালপাড়ে খাল পরিষ্কারের কাজে ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা আমাকে বলেছেন, এটা আমরা পরিষ্কার করব, আপনারা কেন করতে আসছেন? আমি তাকে বলেছি, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে এসেছি। কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, “দেশ কোনো একক দলের নয়, দেশ সবার। ভালো কাজ করতে বাধা কেন থাকবে? আমরা তাকে বলেছি, দলাদলি করবেন না। প্রধানমন্ত্রীও বলেননি যে বাংলাদেশ আমাদের একার; তিনি বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। এটি আমাদের সবার দেশ।

    তিনি সিটি করপোরেশন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এক সপ্তাহে আমরা ঢাকা শহরকে যে ক্লিন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছি, তা যেন আর নিচে না নামে। আমাদের যদি আবারও ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামতে হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব অবহেলার কড়ায়-গণ্ডায় জবাব দিতে হবে। ”

    নগর প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু নগর প্রশাসন নির্বাচিত নয়, সেহেতু জনগণের সমস্যা ও দুর্ভোগ তারা সেভাবে বুঝতে পারবে—এমনটা আশা করা কঠিন। ”

    তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “গ্রামে আগে নির্বাচন না দিয়ে সিটিতে নির্বাচন দিন। নিজেদের লোক বসিয়ে লুটপাটের চেষ্টা করা হলে আমরা তা মেনে নেব না। আমরা অনতিবিলম্বে সিটি নির্বাচন চাই। ”

    একই সঙ্গে তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে মিলে জনগণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। ”

    তিনি জনগণের গণরায় ও গণভোট দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।

    কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি ‘স্মার্ট বিন’ স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “এই স্মার্ট বিনে তিন ধরনের ময়লা আলাদাভাবে ফেলা যাবে। সংগৃহীত ময়লা পুনর্ব্যবহার করে আমরা কলম তৈরি করব এবং আগামী স্বাক্ষরতা দিবসে সেগুলো স্কুলে স্কুলে বিতরণ করব। ”

    তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা বহু নেতৃত্ব দেখেছি। এবার যারা জনগণের সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন এবং জনগণকে সহযোগিতা করবেন, তাদের নতুন নেতৃত্ব হিসেবে সামনে নিয়ে আসুন। ”

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, উত্তরা পশ্চিম সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাহবুবুর রহমান, উত্তরা মডেল থানার আমির অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, তুরাগ দক্ষিণ আমির ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, তুরাগ মধ্য আমির গাজী মনির হোসাইন, নায়েবে আমির কামরুল হাসান, ফিরোজ আলম, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা মাহফুজুর রহমান, ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন এবং ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সুরুজ্জামান।

  • কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে সিরাত কনফারেন্স আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কিশোরগঞ্জ শহর জামায়াতের উদ্যোগে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক মো: রমজান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরতনগর এ ইউ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: নাজমুল ইসলাম।

    আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাওলানা ড. ফয়জুল হক, মুফতি আহমদ শরীফ বিন আসাদ ও করিমগঞ্জ সোবহানিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী রিয়াদী।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ শহর শাখার আমির মাওলানা আ ম ম আব্দুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি আবু নাছের মো: নয়িম।দ

    অনুষ্ঠানে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, মহানবীর আদর্শ আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে অনুসরণের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

    কনফারেন্সে জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • রূপালী ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রূপালী ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের আওতাধীন শাখাগুলোর জুলাই-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর দিলকুশাস্থ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর জুলাই-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো: ওয়াহিদুল ইসলাম। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার আহ্বান জানান।

    এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার।

    অনুষ্ঠানে প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো: মইন উদ্দিন মাসুদ, বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা দক্ষিণের মহাব্যবস্থাপক তানভীর হাসনাইন মইন, ঢাকা উত্তরের মহাব্যবস্থাপক শেখ মুনজুর করিম ও আদায় বিভাগ-২ এর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: মাহমুদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় জুলাই-২০২৬ ভিত্তিক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একইসাথে চলতি বছরের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

  • কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, কিছু দুষ্কৃতকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এরকম সারের কৃত্রিম সংকট যারা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার হলরুমে ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া ফরিদপুর অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় এখানে চাষাবাদে তুলনামূলক কম পরিমাণে সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর এসব কারণে এ অঞ্চলে পেঁয়াজ ও পাট চাষাবাদ খুব ভালো হয়। আগামী দিনে পেঁয়াজ এবং পাট বীজ উৎপাদন করে দেশকে স্বাবলম্বী করার সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম।

    মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

  • বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইব্রাহিম শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ইব্রাহিম উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বেলজানী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার শেখের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়ারী গ্রামের মাঠের মধ্যে থাকা একটি সেচপাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সেচপাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘সকালে ভাতিজি তাল কুড়াতে গিয়ে মাঠের ধানখেতের মধ্যে একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন।’

    তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিমের হাতে বিদ্যুতের তার পেঁচানো ছিল এবং কোমরে একটি কাটিং প্লাস গোঁজা ছিল।’

    তার দাবি, সেচপাম্পের মোটর ও বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়।

    বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

    মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের তার কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কালীগঞ্জে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার এক দিন পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন নিহতের মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

    মোজাম্মেল উপজেলার জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মরহুম নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মজিদের মেয়ে শাহানারার সাথে ১৭ বছর আগে বিয়ে হয় মোজাম্মেলের। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন ও শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতেন।

    যৌতুকের টাকা না পেয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে শ্বশুর মজিদের মাথায় আঘাত করে মোজাম্মেল। এতে মজিদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো: লিটন মোড়ল মোজাম্মেলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। শনিবার সকালে মোজাম্মেল থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাকির হোসেন মোজাম্মেলের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাতেই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    উল্লেখ, শুক্রবার কলা নিয়ে উপজেলার জামালপুর বাসাইর বাজারে যাওয়ার সময় ভাঙারিপট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে শ্বশুর মজিদকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল। নিহত মজিদ জামালপুর এলাকার মধ্যপাড়ার মরহুম আলকু মোড়লের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কলা ব্যবসায়ী ছিলেন।

  • হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৪, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনের। একই সময়ে ৫৭ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের।

  • ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯৯৬ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৬ জন, রংপুর বিভাগে ২১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৪ এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন।চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৮৬ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৩১ হাজার ৩৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ১০১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • মানিকগঞ্জে বাসমোটরসাইকেলর সংঘর্ষে নিহত ১

    মানিকগঞ্জে বাসমোটরসাইকেলর সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো: জুবায়ের (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী মো: ইসরাফিল (১৭) আহত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ঘিওর উপজেলার পুখরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুবায়ের মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা গ্রামের বাসিন্দা। আহত ইসরাফিল টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ষাটরাগান্দী গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের ও ইসরাফিল মোটরসাইকেল করে শিবালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুরে পুখরিয়া এলাকায় পৌঁছালে পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহনের একটি বাসের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুই আরোহী সড়কে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক জুবায়েরের মৃত্যু হয়। ইসরাফিল আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা আহত ইসরাফিলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জে পাঠান।

    বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার

    ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।

    ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’

    জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

  • রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫টি পাইপগান ও ৪৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

    রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫টি পাইপগান ও ৪৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে পাঁচটি পাইপগানসহ চার কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল উপজেলার তারাবো পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে।

    র‌্যাব-১১ জানায়, অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ওই পরিত্যক্ত ভবনে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি পাইপগান, তিন রাউন্ড গুলির খোসা ও চার কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব আরো জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলির খোসা ও গাঁজা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নিরাপদে আছেন অপু

    নিরাপদে আছেন অপু

    নেপালে আকস্মিক ভূমিধস

    নতুন সিনেমার শুটিং করতে নেপাল গিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বুধবার নেপালে আকস্মিক বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দেড় শতাধিকে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। নেপালে আটকা পড়েছেন অপু বিশ্বাস। তবে তিনি নিরাপদে আছেন।

    সবকিছু ঠিক থাকলে আজ দেশে ফিরবেন।

    অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পোখারাতে আছি, যেখানে আছি নিরাপদে। তবে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার হাইওয়ে রাস্তায় ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানতে পেরেছি, এই রাস্তা ঠিক হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) কাঠমান্ডু যাব। ফ্লাইটে অনেক চাপ চলছে। কাঠমান্ডু থেকে আগামীকাল (আজ) ফ্লাইটে ঢাকা ফিরব।’ নেপালে নিজের পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জন্য চিন্তা করবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারি।’

    এর আগে নেপালে শুটিংয়ের সময় নিজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের নজর কেড়েছিলেন অপু। তার পোস্ট করা ছবিতে নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনেত্রীর শুটিংয়ের নানা মুহূর্তও উঠে এসেছে। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ। এতে আরও অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।

  • ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫৫ শিশু। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৫৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এ সময়ে মোট ১৮ হাজার ৭২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন। এ সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৮ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ২৮০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন এবং রংপুরে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী।

  • কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

    কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামে ধান কেনার কথা থাকলেও গুদামে ধান ঢোকাতে টনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষকের ধান ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

    চলতি মৌসুমে নিকলী খাদ্যগুদামে এক হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ধান ও দুই হাজার এক মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, দালাল চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি বস্তা ব্যবহার করে আগে ধান সংগ্রহ করছেন।

    দামপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ৩০৭ মণ ধান ওজন করে গুদামে নেয়া হলেও টনপ্রতি দুই হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় গুদামের কর্মকর্তা ধান ফেরত নেয়ার চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক আল আমিন জানান, অগ্রিম টাকা দেয়ার শর্ত দেয়ায় তার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এলএসডির ওসি হিমেল। তিনি বলেন, গুদামে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং তার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    অন্য দিকে নিকলী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফুর নাহার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের কথা বললেও, প্রভাবশালীদের সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায় নাম ঢোকানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তার দাবি, জাতীয় পরিচয় সংগ্রহ করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ আসেনি। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন এলাকা থেকে চাঁদাবাজির সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৯), মঞ্জুরুল হক মঞ্জু (৫২), এফ রহমান রুপক (৪৮)। এসময় মো: পিন্টু (৪৮) নামের অপর একজন পালিয়ে যান।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতাররা সাভারের চাঁপাইন এলাকায় কখনো নিজেদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার আবারো তারা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে এলাকাবাসীরা তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।

    সাভার মডেল থানার (এসআই) মো: আব্বাস উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • ইখতেয়ারের খামারে তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার

    ইখতেয়ারের খামারে তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার

    বিসিএস ক্যাডারে চাকরির সুযোগ, সরকারি কলেজে শিক্ষকতার সম্ভাবনা, একাধিক ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—সবই ছিল ইখতেয়ার উদ্দিন আহমেদ মুন্নার সামনে। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার পথও খোলা ছিল। কিন্তু এসবের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত তাকে আটকে রাখতে পারেনি। নিজের এলাকার কৃষি ও মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদে নিরাপদ চাকরি ছেড়ে তিনি নেমেছেন কৃষির মাঠে।

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকী গ্রামে প্রায় দুই বছর আগে গড়ে তোলেন ‘এমএম এগ্রো’ নামে সমন্বিত কৃষি খামার। এখানে একই সঙ্গে চলছে মাছ চাষ, মুরগি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, নেপিয়ার ঘাস ও সবজি চাষ এবং ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। খামারের একটি প্রকল্পের বর্জ্যই আবার অন্য প্রকল্পের সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কমছে উৎপাদন খরচ, তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান; পাশাপাশি জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষারও চেষ্টা চলছে।

    চাকরি থেকে কৃষির মাঠে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে ২২তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুযোগ পান ইখতেয়ার। তার পোস্টিং হয়েছিল কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে। তবে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ না দিয়ে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন তিনি।

    ইউসিবিএল, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কাজ করেছেন। ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় যুক্ত হন। ঠিকাদারি, কনস্ট্রাকশন ও গার্মেন্টস ব্যবসাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে কৃষির সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই ভাবনা থেকেই চরটেকীতে শুরু করেন এমএম এগ্রো।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘আমি মূলত কমার্শিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ। কৃষিতে আগে থেকে খুব বেশি অভিজ্ঞতা ছিল না। এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। কোনো কিছু করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে শিখেছি। এই শেখাটাকেই আমি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ মনে করি।’

    এক খামারে অনেক প্রকল্প

    প্রায় ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে চলছে এমএম এগ্রোর কার্যক্রম। রয়েছে চারটি ফিশারি। এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। আছে প্রায় দুই হাজার ফাওমি মুরগি। চলছে ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণ। গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য চাষ করা হচ্ছে নেপিয়ার ঘাস। পাশাপাশি গবাদিপশুর বর্জ্য ও জৈব উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার।

    তবে ইখতেয়ারের উদ্যোগের বিশেষত্ব শুধু একসঙ্গে এতগুলো প্রকল্প চালানো নয়। তার পরিকল্পনা হলো, একটি প্রকল্পের উৎপাদিত উপকরণ যেন অন্য প্রকল্পে কাজে লাগে।

    নেপিয়ার ঘাস গরু-ছাগল ও গ্রাস কার্পের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। গবাদিপশুর বর্জ্য ও অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে। অর্থাৎ খামারে বর্জ্যও হয়ে উঠছে সম্পদ।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘১০ টাকায় কিনে ৯ টাকায় বিক্রি করলে যত ব্যবসাই করেন, কোনো লাভ নেই। তাই কীভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায়, সেটাই বড় বিষয়।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তাই কৃষিনির্ভরতা আরও বাড়ানো এবং কৃষিকে আরও উন্নত করা দরকার। আমি মনে করি, এটিই প্রকৃত উন্নয়ন—কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন।’

    মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় কেঁচো সার

    এমএম এগ্রোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ভার্মি কম্পোস্ট। গবাদিপশুর বর্জ্য ও বিভিন্ন জৈব উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এই সার। উদ্যোক্তার কাছে এটি শুধু ব্যবসার একটি খাত নয়; কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘আমাদের মাটিতে জৈব উপাদান কমে যাচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য ঠিক না রেখে কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি চাই, ভার্মি কম্পোস্ট শুধু আমার খামারে নয়, ঘরে ঘরে তৈরি হোক।’বর্তমানে এ প্রকল্পের উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে কেঁচো সার বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

    খামার ঘিরে কর্মসংস্থান

    এমএম এগ্রো এখন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও জায়গা। খামারের বিভিন্ন প্রকল্পে স্থায়ী ও স্থানীয় মিলিয়ে প্রায় আটজন কাজ করছেন। এর বাইরে ভার্মি কম্পোস্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন কাজে আরও স্থানীয় যুবকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    খামার পরিচর্যা কর্মী রবি বলেন, ‘এখানে গরু, মাছ, ভার্মি কম্পোস্ট ও মুরগির প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজে প্রায় আটজন যুক্ত আছি। এর মধ্যে ছয়জন স্থায়ীভাবে কাজ করেন, আর স্থানীয় আরও দুজন রয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বেতন পাই। প্রয়োজন হলে মাস শেষ হওয়ার আগেও বেতন থেকে অগ্রিম নিতে পারি। ঘাস কাটা, গোবর সংগ্রহ, জৈব সার তৈরির উপকরণ সংগ্রহ, মুরগিকে খাবার ও পানি দেওয়া—এসব কাজ করতে হয়।’

    কর্মী রিপন বলেন, ‘আমি এখানে প্রায় এক বছর ধরে কাজ করছি। এই কাজ করে আমার চার সদস্যের পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি। খামারটি যত বড় হবে, তত বেশি মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

    পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাজ

    খামারে শুধু পূর্ণকালীন কর্মীরাই নন, পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও কাজ করছেন। পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নিলয় তাঁদের একজন।

    নিলয় বলেন, ‘আমার দাদা এখানে কাজ করেন। তাঁর সঙ্গে আমিও কলেজের সময়ের ফাঁকে ফাঁকে এখানে কাজ করি। এখানে আমার মতো আরও চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী আছে, তারাও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে।’তিনি বলেন, ‘এই কাজ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে আমরা নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারি। নিজেরা কিছুটা আয় করে পড়াশোনার খরচ দিতে পারছি—এতে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’

    ব্যবস্থাপনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য

    খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বদিউল আলম। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হন।

    বদিউল আলম বলেন, ‘কে কী কাজ করছে, কোন জায়গায় কী করতে হবে—সবকিছুর দেখাশোনার দায়িত্ব আমার। এক কথায়, পুরো খামার পরিচালনার দায়িত্ব আমি পালন করছি।’

    কেঁচো সার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা যে সার উৎপাদন করছি, কৃষকরা সেটা ব্যবহার করলে ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।’

    ইখতেয়ারের বড় ভাই ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নুর চোখে, চাকরির নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে কৃষিতে আসার পেছনে তার ভাইয়ের ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই সবচেয়ে বড় বিষয়।

    তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই বিসিএস ক্যাডার ও ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা ছিল। সেই নিরাপদ জায়গাগুলো ছেড়ে নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই কৃষিতে এসেছে।’তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখেননি তারা। ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নু বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা লাভের মুখ দেখছি না। কিন্তু সে বলে, পিছু হটব না। একবার না পারলে শতবার চেষ্টা করব। দেখতে দেখতে একসময় সফলতা আসবে।’

    কৃষি বিভাগের আশাবাদ

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে-ই-আলম বলেন, ‘ইখতেয়ার উদ্দিনের এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তার উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্টে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন যুবক কাজ করছেন।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষির গুণগত পরিবর্তন ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় জৈব উপকরণও এখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও স্থানীয় যুবকেরা যুক্ত হয়েছেন। ফলে একদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে এটি একটি উৎপাদনশীল কৃষি খামার হিসেবেও গড়ে উঠছে।’

    সামনে আরও বড় স্বপ্ন

    এখনো নিজের উদ্যোগকে সফল বলে মনে করছেন না ইখতেয়ার। বরং ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত কৃষি মডেল গড়ে তুলতে চান তিনি। ভবিষ্যতে ডেইরি ও আরও কিছু কৃষিভিত্তিক প্রকল্প যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    ইখতেয়ার বলেন, ‘অন্যান্য ব্যবসা থাকার পরও কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ বেশি। আমি চাই, এটাকে আরও বড় করা যায়। একদিনে কিছু হয়নি। আস্তে আস্তে একটার পর একটা প্রকল্প যুক্ত করেছি। সামনে আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।’

    চাকরির নিরাপদ পথ ছেড়ে কৃষিতে আসা ইখতেয়ারের এমএম এগ্রো এখনো সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায়নি। তবে মাছ, গরু, মুরগি, ঘাস ও কেঁচো সারকে একই উৎপাদনচক্রে যুক্ত করে তিনি যে পথ তৈরি করছেন, তাতে একদিকে কৃষির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ। তাঁর স্বপ্ন—এই ছোট উদ্যোগ একদিন বড় হবে, আর সেই সঙ্গে বড় হবে মাটি ও মানুষের জন্য কিছু করার পরিসর।

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপ দেখা গেছে। জনবহুল অফিসে সাপের উপস্থিতির মতো এমন বিরল ঘটনায় কর্মকর্তার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯ তলার করিডোরে সাপগুলো দেখা যায়।

    এত উঁচু ভবনের ১৯ তলায় সাপ উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ধারণা, ভবনের কোনো স্টোরেজে আরো সাপ থাকতে পারে।রাজধানী ঢাকায় বসবাস উপযোগী নয় বলে সাপের উপস্থিতি দেখা যায় না সচারাচার। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির তা নিশ্চিত জানা যায়নি।

    গত বছরের নভেম্বরে রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় সবচেয়ে সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। সে সময় সব থেকে বেশি সংখ্যক সাপ দেখা যায় রাজধানীতে। গত বছরে চার মাসে ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে তিনশো’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

    এর আগেও ঢাকায় কিছুসংখ্যক বিষধর সাপ পাওয়া গেলেও সেবারই প্রথম এতো বেশিসংখ্যক সাপের খবর পাওয়া গেছে।

    কিন্তু ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরণের বিষধর সাপ পাওয়ায় গবেষকদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, আবার কোনো কোনো গবেষক বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

    ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর-২, নিকেতন, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখান থেকে এখন পর্যন্ত বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায়।

  • ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়ার ভিসা সেন্টার

    ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়ার ভিসা সেন্টার

    বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকায় আলাদা ভিসা সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। আগামী ২ সেপ্টেম্বর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রটি চালু হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

    দূতাবাস জানায়, ভিসা আবেদন কেন্দ্র খোলার পর সাধারণ ভিসা ও পাসপোর্ট সংগ্রহের আবেদনগুলো এককভাবে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।

    দূতাবাস কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল ভিসা সম্পর্কিত পাসপোর্টের জন্য আবেদন গ্রহণ এবং ইস্যু করা অব্যাহত রাখবে।

    কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর ঠিকানা হচ্ছে- ২ এফ বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ার, প্লট ৮০, ব্লক বি কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, ঢাকা ১২১৩।

    দূতাবাস জানায়, ভিসা আবেদন কেন্দ্রে একটি অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা করবে। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার তারিখ সম্পর্কিত বিশদ আগামীকাল ২৭ আগস্ট আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে।

    এছাড়া নোটারাইজেশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সম্পর্কিত পরিষেবাগুলি আগের মতোই দূতাবাস দ্বারা পরিচালিত হবে।

    ভিসা সেন্টার চালুর তারিখ, অপারেটিং সময়, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি, ভিসা আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় নথি, ফি এবং ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিচালনা সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

    ভিসার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুকদের নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রসংক্রান্ত ঘোষণাগুলো সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে আবেদনকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও কার্যকর ভিসাসেবা নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

  • শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ধলাদিয়া কলেজ মাঠে ‘পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধন রোধে’ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবউল্লাহ, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. মুমিনুর রহমান তুর্কি, জামায়াত নেতা উসমান শেখ, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওয়াকিল হোসেন, ছাত্রশিবির গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো. সফর আলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী।

    উদ্বোধন শেষে ধলাদিয়া কলেজ মাঠ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

  • ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৫৫০ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৪৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০২ জন, খুলনা বিভাগে ৩৮ জন, রংপুর বিভাগে আট জন, বরিশাল বিভাগে ছয় জন এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোটডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৩৮০ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ যাবত মোট ২৯ হাজার ৬৫২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ৮০ জন চিকিৎসাধীন আছেন।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো— বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা উভয়ই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার জানান, বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)-এর অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন বন্ধুর সাথে বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। এ সময় একজন সাঁতারে অনভিজ্ঞ হওয়ায় অপরজনকে ঝাপটিয়ে ধরলে একপর্যায়ে তারা দু’জনই পানিতে তলিয়ে যায়।

    এ সময় তাদের সাথে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করলে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

  • বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আসামি বিদিশার পক্ষে আতিকুর রহমান জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। মামলার বিচার শেষে বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের সাজা হয়। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

    ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা। এরশাদের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।

  • শরিয়াহবিরোধী আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না

    শরিয়াহবিরোধী আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না

    কোরআন ও হাদিসবিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা এমনিতেই বাতিল। শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না—এমন মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক।

    বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনী, আদর্শ ও ইসলামি শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা করা হয়।মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু দেশীয় ব্যবস্থাপনা আইনকে ইসলামি শরিয়াহর সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত এমন কোনো আইন প্রণয়ন ও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকলে, যা কোরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থি, তা সংশোধন বা বাতিল করতে হবে।

    তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শরিয়াহবিরোধী আইনের শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    কাদিয়ানিদের প্রসঙ্গে মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করে নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামি নানা নিদর্শন দেখা যায়। কিন্তু তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামি আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

    তিনি বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন। তারা নিজেদের নিজ নিজ ধর্মের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু কাদিয়ানিদের নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে আকিদাগত বিতর্ক রয়েছে। তারা প্রতারক বেইমান দাজ্জাল।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ, ইসলামি মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং ধর্মীয় বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলন ঘিরে সকাল থেকেই কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের মতো সিন্ডিকেট ও অনিয়মের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

    ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী নিয়োগ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই এমওইউ কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে বলে ঢাকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

    জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত অনেক এজেন্সিকে তারা নিজেরাও চেনেন না।তার অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন এবং এতে বড় ধরনের দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিন্ডিকেট বা এ ধরনের তৎপরতার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

    এদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় রোববার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এটিকে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় কাজে যোগ দেওয়া পর্যন্ত মোট আটটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে নিয়োগকর্তাকে কর্মীর চাহিদার জন্য অনুমোদন নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শূন্য পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এরপর মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

    কাগজপত্র যাচাই ও সাক্ষাৎকারের পর কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর নিয়োগকর্তাকে লেভি বা সরকারি ফি পরিশোধ করে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে কর্মীর নিজ দেশে মালয়েশিয়ার দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

    এরপর অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সবশেষে ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহের পর কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন।

    নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য এবং অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির তালিকা জানতে মালয়েশিয়া সরকারের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

  • মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মানিকগঞ্জে ২০০৯ সালের আলোচিত আব্দুল মজিদ হিরন হত্যা মামলায় আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাছিম বিল্যাহ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি বুলবুল আহমেদ গোলাপ।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মর্জিনা, ফালানী, মিজান খান, রুস্তম খান, সবুজ আহমেদ, সেলিম মিয়া, আনিস ও রফিক।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সাটুরিয়ার রাইল্যা গ্রামের আব্দুল মজিদ হিরন নামাজ ও খাওয়া শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ের একটি মেহগনি বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এজাহারে হিরনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

    দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। একই মামলায় আরও সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলা চলাকালে দুই আসামির মৃত্যু হয়।

  • রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও ৭৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মুড়াপাড়া, চনপাড়া ও ছোটবানিয়াদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদি এলাকার মনির হোসেন ওরফে ডিব্বা মনিরের স্ত্রী রিকু আক্তার (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার মরহুম মেহের আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৯) ও একই এলাকার মরহুম রহম আকন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ফকির আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • নারায়ণগঞ্জে সুতার মিল থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

    নারায়ণগঞ্জে সুতার মিল থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি সুতার মিল থেকে এস এম তানিম (৩০) নামে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্বাস চেয়ারম্যানের একটি সুতার মিল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তানিম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের খন্দকারবাড়ি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিলের ভেতরে একটি আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে তানিমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা।

    পরে তাঁরা বিষয়টি আড়াইহাজার থানা-পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, তানিমের মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    বন্ধ অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচলময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বাসরোধে হত্যা পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মো: শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়

    নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

    গ্রেফতার অনিক উপজেলার ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে অনিক ফোন করে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভ্যাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।

    শামিমের কল লিস্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির পাশে চাপা দেয়া কথা স্বীকার করেন। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে ও মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশটি উদ্বার করে।

    নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, ‘ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।’ তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

    তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সামগ্রিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়ে থাকতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রেখেছেন।

  • ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধা, উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়।তালিকা প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রদল-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

    মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শাহিন আলম জানান, তিনি সিটের জন্য ভাইভায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ভাইভায় অংশ না নেওয়া একজনকে সিট দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিট বরাদ্দ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রশাসনের সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার অভিযোগ, প্রশাসন উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনার কথা বললেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে সুপারিশ করা শিক্ষার্থীদের নাম পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এর বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করায় সিট বরাদ্দ দিতে সমস্যা হয়েছে। কোনো ভুল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিটের বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হবে। এদিকে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

  • জাল সনদ থেকে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স

    জাল সনদ থেকে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে জাল সনদ ও সুপারিশপত্র ব্যবহার, প্যাটার্নবহির্ভূত নিয়োগ, মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ইনডেক্স কর্তন, বেতন-ভাতা স্থগিত এবং অবৈধভাবে উত্তোলন করা অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ফরিদপুরের ভাঙ্গার ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ফাজিল ও কামিল স্তরে প্যাটার্নবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    একই মাদ্রাসার ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ফাজিল ও কামিল স্তরে প্যাটার্নবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের ৩ আগস্টের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ১৬ জুনের এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সিদ্ধান্তের পর ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশ্লিষ্টদের এক মাসের মধ্যে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ট্রেজারি চালানের কপি অধিদফতরে দাখিল করতে বলা হয়েছে। ব্যর্থ হলে ১৯১৩ সালের পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি আইন বা পিডিআর আইনে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।

    ১৯ জনের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মো. ফারুক হোসেনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মো. কুদরাত-ই রহমান ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফজলুল ইসলামের কাছে ১৮ লাখ ১ হাজার ১৩২ টাকা করে এবং আরবি প্রভাষক মো. রাশেদুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৩৩২ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    আরবি প্রভাষক মো. আল আমিন ও প্রভাষক (গ্রন্থাগারিক) মো. সরোয়ার হোসেনের কাছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ২৪২ টাকা করে; প্রভাষক (ফকিহ) মো. আজিজুল হক, জাহিদ হোসেন ও প্রভাষক মো. মহিবুর রহমানের কাছে ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭০ টাকা করে এবং সহকারী মৌলভী মো. নুরনবীর কাছে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৭০২ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    অন্যদের মধ্যে সহকারী গ্রন্থাগারিক মহিউদ্দিনের কাছে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৫ টাকা, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর কাজী আল মাসুদের কাছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৩ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. মাসুম বিল্লাহ ও হাবীব গাজীর কাছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. নাজমুল ইসলামের কাছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৭ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. সাইফুল ইসলামের কাছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২১৫ টাকা, ল্যাব সহকারী মো. রেজাউল মিয়া ও সাম্মি আক্তারের কাছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯১১ টাকা করে এবং জুনিয়র শিক্ষক নাজরিনের কাছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৩ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    জাল সনদে এমপিও, ৯ শিক্ষকের ইনডেক্স কর্তন

    জাল ও ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ এবং সুপারিশপত্র ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ৯ শিক্ষকের ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে তাদের সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী তাদের মে ২০২৬ মাসের এমপিওশিট থেকে ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    তালিকায় রয়েছেন সিরাজগঞ্জের গোলকপুর সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার মো. নুরুজ্জামান, রংপুরের তারাগঞ্জ ওয়াক্ফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসার মো. মাহবুব রশিদ, পিরোজপুরের বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার মো. আব্দুর রহমান, কুড়িগ্রামের নেওয়াশী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার মো. মাসুম বিল্লাহ ও মো. হারুনুর রশিদ।

    এ ছাড়া বাগেরহাটের মল্লিকেরবেড় ফাজিল মাদ্রাসার করিমা খাতুন, সাতক্ষীরার পাতাখালি ফাজিল মাদ্রাসার বিশ্বজিৎ সমদ্দার, কুমিল্লার পাঁচুখুরী আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শহীদুল হক এবং গাজীপুরের বেলাশী মদিনাতুল উলুম বালিকা আলিম মাদ্রাসার মো. রোকনুজ্জামানের ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্সে বেতন উত্তোলন

    ভোলার তজুমদ্দিনের মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত এক শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর গত ২ আগস্ট তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তার ইনডেক্স নম্বর বি-৬০২৭৮২। নোটিশে নিয়োগ-সংক্রান্ত সব মূল কাগজপত্র ও প্রমাণাদিসহ তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা না দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি

    ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে একজনকে নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির সুপার মো. আমির হোসেনের বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তার এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    অধিদফতরের নোটিশ অনুযায়ী, ল্যাব সহকারী পদে মো. আব্দুর রাজ্জাকের এমপিও আবেদনের সঙ্গে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি, জাল ফলাফল বিবরণী ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি এসব শনাক্ত করে আবেদনটি বাতিলের সুপারিশ করে।

    সুপার মো. আমির হোসেনকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বা নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে অধিদফতর।

    গাইবান্ধায় জাল চিঠি-স্বাক্ষরে এমপিও আবেদন, সুপারকে শোকজ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা সরকারপাড়া আল-হিকমাহ মসজিদ একাডেমি দাখিল মাদ্রাসায় মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে একজনকে এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার আবুশাহাদাত মো. জাহাঙ্গীর আলমের এমপিও সাময়িক স্থগিতসহ কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    অধিদফতরের নোটিশে বলা হয়, ল্যাব সহকারী পদে মো. সুমন মিয়ার নতুন এমপিও আবেদনে জাল চিঠি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি এসব শনাক্ত করে সুমনের আবেদন বাতিলের সুপারিশ করে। সুপারকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    জাল এনটিআরসিএ সনদ, কিশোরগঞ্জের শিক্ষকের ইনডেক্স বাতিল

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মিরদী ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) আমিরুন্নেসার এনটিআরসিএ সনদ জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও ইনডেক্স কর্তন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

    অধিদফতরের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও এনটিআরসিএর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় তার পঞ্চম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০০৯-এর প্রত্যয়নপত্রটি সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হয়। এ কারণে তার ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে উত্তোলন করা বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    থামছে না কেন

    সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, মাদ্রাসায় এমপিও ব্যবস্থাপনায় এখনও দুর্বলতা রয়েছে। নিয়োগের সময় যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি, জাল কাগজপত্র শনাক্তে ব্যর্থতা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অনিয়মের সুযোগ থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    এমপিও বাতিল ও অর্থ ফেরতের নির্দেশের পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, সেসব ঘটনায় কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

    শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে নিয়োগ হয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়। এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় না। যারা সুবিধাভোগী, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের পর যেনতেনভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমপিওভুক্ত করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান অনুমোদন এবং এমপিওভুক্তিতে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এভাবে নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। সবচেয়ে দুঃখ লাগে, ধর্মীয় ছাতার নিচের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এসব কর্মকাণ্ড হয়।”

    ‘অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শামিউল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লোকবল কম থাকায় দেশের সব মাদ্রাসা রাতারাতি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বা সংশয় থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

    আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের যা এখতিয়ার, সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

  • সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাক আটকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন। গ্রেফতার ভুয়া পুলিশের নাম হিরা শেখ (৪০)।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাঁচপুর চাঁদমহল সিনেমার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাক কটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

    জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে এএসআই সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভুয়া পুলিশ হিরা শেখকে গ্রেফতার করেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

    গ্রেফতার হিরা শেখ বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পটিখালী এলাকার মরহুম আলী আকবর শেখের ছেলে।

    সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, ডাকাতির একটি তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি করার সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এ,আর

  • ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে অপহৃত বিদেশফেরত যুবক আকাশ সরদারের (২১) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি ড্রেন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার রহমত বেপারীপাড়া চাঁদপুর এলাকার করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বেকার থাকায় তিনি চাকরির সন্ধান করছিলেন।

    জানা যায়, মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদারের ধারাবাহিক তদন্তে আকাশের অবস্থান ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে আসে। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩০) আকাশকে তার বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে ফোন করে আকাশকে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। এরপর আকাশের মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করে।

    ২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেন। এতে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু, অপু মিয়া (২৫) ও সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে আকাশকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।

    মামলা হওয়ার পর থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদার মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সূত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

    পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় মিঠুকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকারীরা যাচাই করে। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তবে আকাশকে অপহরণের পর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, হত্যার সাথে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ কী— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে এসব বিষয় উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।

    তিনি জানান, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আকাশের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যও বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৯৪ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২৬, খুলনা বিভাগে ২১৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭১, রাজশাহী বিভাগে ৭৬, রংপুর বিভাগে ২৩ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩১ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তামাক কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশনসহ প্রচারণা বন্ধ এবং পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) ঢাবি সদস্যরা।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বাটার দুই ঢাবি প্রতিনিধি তারানা জাহিদ সন্ধি ও ফাইয়াজ আনাম স্বনন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিঠি দুটি হস্তান্তর করেন।

    চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা, ব্র্যান্ড প্রমোশন, চাকরি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কার্যক্রম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ক্যাম্পাসে পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে পৃথক ধূমপান এলাকা স্থাপনের পরিবর্তে পুরো ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করতেই হবে।’

  • কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।

    দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’

    অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

  • ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারির পরিবর্ততে ১৪ মার্চ শুরু হবে। চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজই পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।

    এর আগে ৭ জানুয়ারি এই পরীক্ষা শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষার প্রাথমিক সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তবে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি সহ নানা দিক বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। দুই মাস পরে ১৪ মার্চ এই পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৯ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪১ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৪৯, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৪৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জনের। একই সময়ে ৮৩ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৮৭ জনের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

  • সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনের এই মতবিনিময় শুরু হয়।এতে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এন ই সি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ওয়াদার শফিকুল আলম,খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডেইলি ইভিনিং নিউজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, দৈনিক এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নিয়েছেন।এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের চার দিন পর জুলেখা (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শিরিরচালা মধ্যপাড়ার একটি জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত জুলেখা ওই গ্রামের মোজাফফর আলীর স্ত্রী।

    নিহতের ছেলে জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আমার মা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার নিখোঁজ হয়েছিলেন।’

    স্থানীয়রা জানান, রোববার ওই জঙ্গলে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো বিষয়, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৯ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৩ দিনে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬১৯ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১৭ জন, চট্টগ্রামে ১০০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯১ জন, খুলনায় ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহী ৭১ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেটে ৩ ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৯৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী ।

  • আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার ও কয়লাতেও জোর দিচ্ছি।’

    রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে গতকাল এক সেমিনারে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজক ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

    সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে মজুদকৃত কয়লা উৎপাদনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই সেদিকে যেতে হবে। সেখানেও ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

    স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক না কেন, সেগুলো নিরসন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, সরবরাহ চেইন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য বজায় থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে নিম্নমুখী ঋণপ্রবাহ অর্থনীতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এ পরিপ্রেক্ষিতে রফতানিতে লিডটাইম কমাতে শিল্পাঞ্চলগুলোর সব ধরনের সেবার নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছি। এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি পরিলক্ষিত হবে না।’

    অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রে মূল্যস্ফীতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় নেমে আসেনি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতার পাশাপাশি শিল্প খাতও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।’

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘আমাদের নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বেশ ফারাক রয়েছে। ফলে যেকোনো সিদ্ধান্তের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাই না আমরা। রফতানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে ততটাই কঠিন নীতিমালা। এর ফলে আমদানিতে উচ্চ শুল্কহার বজায় থাকছে এবং স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্যও বাড়ছে।’

    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিপ্লব ঘটাতে হবে বলে মনে করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেটে ভালো কিছু উদ্যোগ রয়েছে, কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেটির প্রতিফলন নেই। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি।’

    নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করা বেশ কঠিন। তাই ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই।’

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। এজন্য নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি লজিস্টিকস খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।’

    ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সীমিন রহমান বলেন, ‘বাজেটে ব্যবসাসহায়ক নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। এজন্য উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের অধিক হারে ঋণ গ্রহণই প্রধানত দায়ী।’

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, আবুল কাসেম খান, বেনজীর আহমেদ, রিজওয়ান রাহমান প্রমুখ।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    একাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় কলেজের শহিদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

    সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, গত কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে ডিসিইউ প্রশাসন রানিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করে। এই গণভোটের বিষয়ে প্রায় ১৭ হাজারের উপরে শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’-কে জয়ী করেছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন হতে চায় এই বিষয়ে তারা একমত প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার গণভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা শেষ করে একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতিদ্রুত সকল সেশন বিশেষ করে ২০২১-২২ সেশন এবং প্রথম বর্ষ ২০২৪-২৫ সেশনের পরীক্ষা যাতে অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং তাদেরকে এই একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একাডেমিক রোডম্যাপ এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন যাতে আজকের মধ্যেই জারি করা হয় সে দাবি জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি একাডেমিক মাইগ্রেশন ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করেছে সেসব শিক্ষার্থীরা যদি ঢাকা শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে তাহলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছি না। আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি গণতান্ত্রিক উপায়ে জানিয়ে দিয়েছি যে আমরা সবাই সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে একমত। এমনকি উপাচার্য এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ১৩টি দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- ১। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা ২। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গণস্বাক্ষরের ফলাফল প্রজ্ঞাপন আকারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ৩। ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার জন্য সমান অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা ৪। বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনে বাংলা ও ইংরেজি-উভয় ভাষায় পাঠদান ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা ৫। আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা ৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা এবং প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য দুটি করে বাস বরাদ্দ দেওয়া ৭। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে ৮। গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়ানো ৯। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করা ১০। বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা ১১। ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ও পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করা ১২। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করা ১৩। উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং টিএসসি কেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কাজ, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবাসহ নানা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা।