ঢাকা বিভাগ

  • রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের তেজগাঁও থানায় নেয়া হয়েছে । সেখানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, তেজগাঁও মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনক জঙ্গি হিসেবে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়।

  • মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন হৃদয় মিয়া (২৫) নামে এক মুদি দোকান ব্যবসায়ী।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাদেক খান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল নিয়ে কৃষি মার্কেটে মালামাল আনতে যাওয়ার পথে ৪-৫ জনের একটি দল তার পথরোধ করে। এ সময় চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কুপিয়ে তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেল ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

    আহত হৃদয়ের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লব জানান, সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে কৃষি মার্কেটে যাচ্ছিলেন হৃদয়। পথে সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তাকে চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কোপানো হয়। হামলার পর তার মোটরসাইকেল ও সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

    পরে খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

    ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আহত হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সবুজ মিয়া। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

  • অভিযোগ তদন্তে ঘুস দাবি এসআইয়ের, দিলেন বিকাশ নম্বর

    অভিযোগ তদন্তে ঘুস দাবি এসআইয়ের, দিলেন বিকাশ নম্বর

    শরীয়তপুরের জাজিরায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্য নিজের বিকাশ নম্বরটিও উল্লেখ করে টাকা পাঠাতে বলেন। এ ঘটনায় দোষীর বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার পরিবার। জাজিরা থানার এসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

    ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নুর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবিতে ইতিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও সমাধান হয়নি। সর্বশেষ ১৭ আগস্ট রাতে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

    এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর ইতি আক্তার তার স্বামী সাত্তার শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি থানায় গ্রহণের পর ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জাজিরা থানার এসআই রফিকুল ইসলামকে। অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসআই রফিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ওই নারীর এক নিকটাত্মীয় সৌদি প্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের ফোনে কথা হয়।

    সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে টাকা পাঠানোর জন্য পুলিশ সদস্য রফিকুল ইসলাম তার বিকাশ নম্বরটি দেন। কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভুক্তভোগী ওই নারীর দাবি, পুলিশ সদস্যকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করছেন না।

    ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের কথোপকথনটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    দুলাল মোড়ল: রফিকুল ভাই?

    এসআই রফিকুল ইসলাম: জ্বি।

    দুলাল মোড়ল: আপনে জাজিরা থানায় আছেন? ওই ব্যাপারটার তদন্তে কে যাবেন, আপনি?

    এসআই রফিকুল ইসলাম: হ্যাঁ

    দুলাল মোড়ল: আপনি যে খরচের কথা বলছিলেন, কত দিমু? কত দেওয়া লাগব? অর (ইতি) কাছে তো টাকা নাই। টাকা হেনতে (এখান থেকে) দেওয়া লাগব আমার। কত দেওয়া লাগব?

    এস আই রফিকুল ইসলাম: ১০-এর মতো দিয়া দেন।

    দুলাল মোড়ল: ১০ হাজার?

    এসআই রফিকুল ইসলাম: হু।

    দুলাল মোড়ল: আপনার বিকাশ নম্বর কোনডা? নম্বরটা একটু দেন।

    এসআই রফিকুল ইসলাম: (ফোন নম্বর দেন)

    দুলাল মোড়ল: একটু কম দেই? ১০ হাজার টাকা বেশি হইয়া যায় না?

    এসআই রফিকুল ইসলাম: ধইরা আনতে, মিটমাট করতে আমাগো খরচ আছে না?

    দুলাল মোড়ল: ধইরা আনার দায়িত্ব তো আপনাগোই। আপনি কি সেকেন্ড অফিসার নাকি এসআই?

    এসআই রফিকুল ইসলাম: এসআই, উপপরিদর্শক।

    এরপর টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কল কেটে দেন দুলাল মোড়ল।

    ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন চালাত। কয়েক দিন আগে তারা আমাকে মারধর করলে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। আমার অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল স্যারকে। তিনি আমার কাছে টাকা চাইলে আমি তাকে বলি, আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন, তিনি টাকা দেবেন। পরে তার সঙ্গে কথা বলে বিকাশ নম্বর দেন। আমার ভাই তাকে টাকা না দেওয়ায় আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। ঘটনার তদন্তও ঠিকভাবে করছে না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    ভুক্তভোগীর মা খাদিজা বেগম বলেন, আমাদের কাছে টাকা চাইলে পুলিশকে বলি, আমাদের কাছে টাকা নাই। আমার ভাতিজা দুলাল বিদেশ থাকে, সে টাকা দেবে। পরে দুলাল ওই পুলিশকে টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়ের ঘটনার কোনো সমাধান করে দেয় নাই। আমরা থানায় গেলেও তারা আমাদের গুরুত্ব দেয় না।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই রফিকুল ইসলামের মুখোমুখি হলে তিনি টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ওসি জানেন বলে বক্তব্য না দিয়ে নিজ কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।

    বিষয়টি নিয়ে জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

    তবে তদন্তসাপেক্ষে এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এটি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রতিটি ইউনিয়নে স্থায়ী খেলার মাঠ হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    প্রতিটি ইউনিয়নে স্থায়ী খেলার মাঠ হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    খেলাধুলাকে দেশের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্থায়ী খেলার মাঠ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে চলমান মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে শরীয়তপুরের সখিপুরের হাবিবউল্লা কলেজ মাঠে শরীয়তউল্লাহ হাবিব স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘হাবিবউল্লা চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে স্থায়ী খেলার মাঠ তৈরির পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

    অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুর রহমান কিরণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু, পুলিশ সুপার রওনক জাহান ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক।

    ফাইনাল খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক দর্শক মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলাটি উপভোগ করেন।

  • রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তা লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

    রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তা লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

    রাজবাড়ীতে বাজারে প্রকাশ্যে নারীর ওপর অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ এবং শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে।

    বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে ওই কর্মসূচি পালিত হয়।

    জেলা সহ-সভাপতি শাহিনা সুলতানার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন, সংঠনটির সদস্য ও সাবেক মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, মহিলা পরিষদের সদস্য আইনজীবী নাজমা খাতুন, সদস্য কৃষ্ণা চক্রবর্তী।

    এ সময় বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে এভাবে নারীকে নির্যাতন মানে একজন মায়ের চরম অপমান। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না।

    বক্তারা নারীর ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।

  • ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দুই-এক মাসে দূর করা সম্ভব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দুই-এক মাসে দূর করা সম্ভব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দীর্ঘ ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তা দুই-এক মাসের মধ্যে দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে মৃত কনিকা মণ্ডলের স্বামী অশান্ত মণ্ডলের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর একজন প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর তার মৃত্যু হয়। এমন ঘটনায় সরকার ব্যথিত। বিষয়টি জানার পর আমি ঢাকা থেকে রাজবাড়ীতে ছুটে এসেছি। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. সামসুল হক, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

  • আ.লীগ মেগা প্রজেক্ট করে মেগা দুর্নীতি করেছে: শিবির সভাপতি

    আ.লীগ মেগা প্রজেক্ট করে মেগা দুর্নীতি করেছে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। তিনি বলেন, বড় প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি করার সুযোগ তৈরি হয়।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবির।

    নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, মেগা প্রজেক্ট করে মেগা দুর্নীতি করেছে। মেগা টাকা লুটপাট করেছে। কারণ মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি করা যায়।

    তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। তার দাবি, এই অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো ১০ থেকে ১২টি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। ২০২৪ সালের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্রে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ অর্থপ্রবাহের হিসাব তুলে ধরা হয়েছিল।

    শিবির সভাপতি আরও বলেন, দেশের এমপি-মন্ত্রীদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করেন না এবং তারা নিজেরাও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। দেশের এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার দিনকে তিনি দেশের উন্নতির সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

    মেধার সংকট নয়, দেশে সততা ও দেশপ্রেমের সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে মেধার কোনো সমস্যা নেই, সংকটও নেই। সংকট হচ্ছে সততা ও দেশপ্রেমের।

    অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ও মহানগর সেক্রেটারি আমজাদ হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

    আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

    আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।

    গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে বিদ্যালয় ভবনের ভেতর থেকে তাদের আটক করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন কর্মরত আয়ার দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। সকালে প্রধান শিক্ষক ও ওই আয়া একসঙ্গে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনের সন্দেহ হলে তারা তাদের অনুসরণ করেন। পরে বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে দুজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেলেন। এরপর তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা বজলু বলেন, প্রধান শিক্ষক ও ওই আয়ার চালচলন দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। সকালে তাদের একসঙ্গে স্কুলে ঢুকতে দেখে আমরা কয়েকজন পিছু নিই। পরে ভবনের ভেতরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশে খবর দিই।

    আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের মতো দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি যদি এমন নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় দেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কী শিখবে? আমরা এই শিক্ষকের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

    দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির মাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।

    আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তার লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, সে নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

    স্থানীয় কয়েকজন ধারণা করছেন, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমার মধ্যে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকলিমা ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

    শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তান পেয়েছিলেন। সেই সন্তানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছেন। শুধু তার সন্তান নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

    ঘটনার পর আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটির মাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • টঙ্গীতে ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সভাপতি গ্রেফতার

    টঙ্গীতে ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সভাপতি গ্রেফতার

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করা গাজীপুরের টঙ্গীর ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি রাতুল সিকদার অমিকে (২২) চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।

    গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকা থেকে তাকে তার এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত রাতুল সিকদার অমি টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ এলাকার রেজা সিকদারের ছেলে। তিনি নগরীর ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তার সহযোগী রাজু শেখ (২৫) একই এলাকার খরতৈল গ্রামের মৃত শহিদ শেখের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, কয়েকমাস আগে সড়কের কাজকে কেন্দ্র করে এক ঠিকাদারের কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও কটূক্তি করেন এই ছাত্রদল নেতা। চাঁদা দাবির ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলায় তাকে সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

    জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি ও চাঁদা দাবির ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাতুল সিকদার অমিকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল।

    এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলায় তাকে তার সহযোগীসহ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।

  • বিলে মাছ ধরছিলেন যুবক, বজ্রপাতে মৃত্যু

    বিলে মাছ ধরছিলেন যুবক, বজ্রপাতে মৃত্যু

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বজ্রপাতে শামসুল হক (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অপর একজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেদীয়াশুলাই গ্রামের আলুয়ার বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত শামসুল হক গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শৈলাট মেডিকেল মোড় এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। একই এলাকার জলিল নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে উপজেলার আলুয়ার বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে আসেন শামসুল হক ও তার সহপাঠীরা। ১১টার দিকে হঠাৎ করে বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় জলিল আহত হয়েছেন।

    কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি আমি অবগত নই।

  • নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

    নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

    নদীর নাব্য হারিয়ে এ অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। আবহমান গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীর দিঘীরপাড় পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হলো নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার বিকালে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নদীতীরবর্তী পুরো এলাকা নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ‘হেইয়োরে, হেইয়োরে’ ডাকে মুখর ছিল। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-নির্বিশেষে কয়েক হাজার মানুষ এ বাইচ উপভোগ করতে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে উপচেপড়া দর্শক। ইঞ্জিনচালিত ও পানসি নৌকা নিয়ে নদীতেও মানুষের উপস্থিতি। কোনো কোনো নৌকায় উচ্চৈঃস্বরে বাজছিল গান। দর্শকের টান টান উত্তেজনার মধ্যেই বাইচের নৌকার মাঝিরা হাঁক দিলেন, ‘হেইয়ো রে হেইয়ো’। দর্শকদের হর্ষধ্বনি আর হাততালি বাড়তি উৎসাহ জোগায় নৌকাগুলোকে। নদীর পাড়ে বিভিন্ন খাবারের পসরা নিয়ে বসে গ্রাম্যমেলা। দিঘীরপাড় নওমোজাহিদ ক্লাব আয়োজিত বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি, নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বাইচে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ-মানিকগঞ্জ জেলা থেকে ছোট-বড় ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। বাইচ বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়। পরে ক্লাবের সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ঢাকা-১ আসনের সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর আমরা নৌকাবাইচের আয়োজন করে থাকি।

    সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য নৌকাবাইচ। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবারই বাইচ আয়োজনের চেষ্টা করি। আমরা চাই, মানুষ যেন শিকড় ভুলে না যায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌকাবাইচ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ আল-মামুন, সদস্য সচিব মোহসীন হাসান লিটু, বিএনপি নেতা মো. আমজাদ হোসেন, আবুল কালাম খন্দকার, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

  • পড়াশোনা করে দেশের সম্পদ হতে হবে: ঢাকার ডিসি

    পড়াশোনা করে দেশের সম্পদ হতে হবে: ঢাকার ডিসি

    ‘আমার বাবা আমাকে ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা মেনে নেইনি। লেখাপড়া শেষ করে আজ আমি নিজের যোগ্যতায় দেশের সম্পদ হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তাই তোমাদের (শিক্ষার্থীদের) প্রতি আমার আহ্বান তোমরা মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।’

    গত ২ আগস্ট বিকাল ৫টায় ঢাকার দোহার উপজেলায় ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম এসব কথা বলেন।

    একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন ডিসি।

    দোহার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে দোহার উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল, বিজ্ঞান শিক্ষাকে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি এবং ‘হ্যালো ডিসি অ্যাপ’- এর মাধ্যমে সহায়তার আবেদনকারী ১৪ জন অসচ্ছল ও দুস্থ মহিলার মাঝে সেলাইমেশিন বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উদ্যমী হবে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত।

    অনুষ্ঠানে দোহারের ইউএনও মো. মাঈদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঢাকার ৪শ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসে মিজ ফরিদা খানমই হলেন ১ম নারী জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে ‘ক্লিন স্কুল গ্রিন স্কুল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুই শতাধিক ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারে উপজেলার ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৯টি ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।

    এছাড়াও ‘গ্রিন দোহার’ কার্যক্রমের আওতায় বিলাশপুর ইউনিয়নের কুলছড়িতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করে ‘কৃষ্ণ কানন’-এর শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

    সফর শেষে তিনি দোহারের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মৈনটঘাট পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামীম হোসেন, ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক, ঢাকা জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবুল হাশেম বেপারী, দোহার উপজেলা বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, পৌরসভা বিএনপি সভাপতি এসএম কুদ্দুসসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

  • ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ভূঞাপুর যুবদলের দুই নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের বৃষ্টি হোটেলের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)। পুলিশ প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

    জানা গেছে, জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তারা দুজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারি করে আসছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে চাপে রাখতেন জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে।

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুজন জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা ট্যাবলেট গাবসারা থেকে নিয়ে এসে এলেঙ্গাতে বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।’

  • চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    চাকরি পৌরসভায়, কাজ করেন প্রশাসকের বাসায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন রিতা রানী ও নাসিমা বেগম। পৌরসভার দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করাই তাদের দায়িত্ব। তবে অভিযোগ উঠেছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তাদের দিয়ে নিয়মিত পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসকের বাসায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে দুই নারী কর্মচারীকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। এ অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। তবে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

    অভিযোগ অনুসন্ধান

    অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহায়ক রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে এসে হাজিরা দেওয়ার পর চলে যান পৌর প্রশাসকের বাসায়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে দুপুর ১টার দিকে আবার পৌরসভায় ফেরেন তিনি।

    বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে রিতা রানীকে পাওয়া যায়নি। পরে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দেন। এরপর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে কাজ শেষে দুপুর ১টার দিকে আবার কার্যালয়ে ফেরেন।

    স্বীকারোক্তি

    পরে দুপুর ১টার দিকে রিতা রানীকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় কথা হলে তিনি প্রশাসকের বাসা থেকে কাজ করে ফেরার কথা জানান।

    সপ্তাহে কতদিন প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়—জানতে চাইলে রিতা রানী বলেন, ‘প্রতিদিনই যেতে হয়।’

    পৌরসভার একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, রিতা রানীর পাশাপাশি আরেক অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝে মধ্যে প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়। অর্থাৎ, তাদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজেও পাঠানো হচ্ছে।

    অন্য কর্মচারীদের অভিযোগ

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন রিতা রানীকে প্রশাসকের বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। তিনি যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। মাঝে মধ্যে রিতা রানী ও নাসিমা বেগম দুজনকেই একসঙ্গে বাসায় কাজ করতে যেতে হয়।

    ওই কর্মচারীর দাবি, একজন অফিস সহায়ক দিনের বড় একটি সময় পৌরসভা কার্যালয়ের বাইরে থাকায় দাপ্তরিক কাজে অন্য কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    ‘স্যারের অনুরোধে পাঠাই’

    দুই নারী কর্মচারীকে প্রশাসকের বাসায় পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে তিনি বলেন, প্রশাসকের বাসায় স্থায়ীভাবে কাজের লোক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্যারের এখানে কেউ থাকেন না। ছোট একটা মেয়ে নিয়ে থাকেন। তার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের মানুষ আছে। তবুও মাঝে মধ্যে রিতা তার মেয়েকে একটু রাখতে যায়। স্যারের অনুরোধে আমি পাঠাই।’

    তবে দুই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

    একপর্যায়ে প্রকৌশলী বলেন, ‘স্যারের জন্য কিছু করলেও তিনি কখনো খুশি হন না। তিনি সবসময় আরও চাইতেই থাকেন।’

    প্রশাসকের সহজ স্বীকারোক্তি

    অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনিও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    তবে পৌরসভার কর্মচারীকে নিজের বাসায় পাঠানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।

    লাকি দাস বলেন, ‘আমি ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে একা থাকি। আমার বাসায় পার্মানেন্ট কাজের লোক রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে রিতাকে আমার মেয়েকে একটু রাখার জন্য বাসায় পাঠাই।’

    অফিসের কর্মচারী দিয়ে ব্যক্তিগত বাসার কাজ করানো যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি পারি না। তবে মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে নিতে হয়।’

    পরে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ছোট বিষয়। যেহেতু আপনারা বলেছেন, তাকে আর বাসায় নেব না।’

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস।

    বিষয়টাকে মানবিক বললেন: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

    এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘বিষয়টা একটু মানবিক। তিনি এখানে একা থাকেন। বাসায় তার ছোট মেয়ে থাকে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘পৌরসভা আমার অধীনস্থ না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। যদিও এসিল্যান্ড হিসেবে তিনি আমার সহকর্মী। সেই ক্ষেত্রে আমি তাকে বলতে পারি, যেন এ ধরনের কাজ সে আর না করে।’

    পৌরসভার কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে প্রশাসকের বাসায় কর্মচারী পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করা হলেও, চাকরিচ্যুতির হুমকির অভিযোগ নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তাল বীজ রোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবসংলগ্ন সড়কের পাশে ৩০০টি তাল বীজ রোপণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো: সোলায়মান হোসেন, প্রশিক্ষক ছত্র কুমার বিশ্বাস, প্রশিক্ষক কাজী তাহেরা খাতুন, ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়ন দলনেতা হুমায়ুন কবির, দলনেত্রী সানজিদা আক্তার এবং পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবের সদস্যরা।

    এ সময় উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সোলায়মান বলেন, ‘সম্মানিত দিনাজপুরের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মহোদয়ের নির্দেশনায় পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাব সংলগ্ন সড়কের পাশে তালবীজ রোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দিন দিন তালগাছ বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।‘

  • বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

    দীর্ঘ শিক্ষকতা, শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

    অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত থেকে মাওলানা নূরুল হুদা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিস ও কামিল অর্জনকারী তিনি ছিলেন বিরল প্রতিভার অধিকারী। কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও আরবি সাহিত্যে তাঁর ছিল গভীর পাণ্ডিত্য।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি বহু আলেমে দ্বীন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মৃত্যুর সময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী। গাজীপুরের টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেছেন। আমৃত্যু তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

    শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ওয়ায়েজ, একাধিক মসজিদের খতিব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাওলানা নূরুল হুদা।

    লেখালেখির সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জ্ঞানচর্চা, শিক্ষকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবাকে সমন্বিত করে তিনি একটি দীর্ঘ ও কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন।

    পারিবারিক জীবনে প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদা ছিলেন চার পুত্র ও সাত কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক। মেঝো পুত্র এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেজো পুত্র মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের (জেইউজি) সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল। কনিষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী।

    মরহুমের সহধর্মিণীও ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।

    মৃত্যুর ১৩ বছর পরও শিক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্ম ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    কাপাসিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ২০ জন গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কথিত সমাবেশ ও মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পৃথক মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাপাসিয়া থানা পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কাপাসিয়া থানার বারিষাব ইউনিয়নের পূর্ব লোহাদী এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান ও অপপ্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে সমবেত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর কাপাসিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮/৯(১)/৯(২)/৯(৩)/১০/১১/১২ ধারায় মামলা করা হয়।

    মামলার পর ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাপাসিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা (৪৫), তরগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আঃ হান্নান (৫১), মো. জহিরুল ইসলাম (২৯), মোস্তাকিম (৩৭), সুমন (২৬), শ্রাবন (১৯), যোবায়ের (১৯), হৃদয় খান (২০), মুন্না হোসেন (১৯), সানী (২২), নিয়ান খান অমি (১৭) ও সুমন (১৬)।

    গ্রেপ্তার জুয়েল রানা কাপাসিয়া উপজেলার তরুন এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং মো. আঃ হান্নান মৈশন এলাকার মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। অন্যদের বাড়ি কাপাসিয়া উপজেলার খিলগাঁও, ভিটিপাড়া, বেগুনহাটি ও আশপাশের এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টমূলে ছয়জন এবং নিয়মিত মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো: ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রায়েরবাজারের ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বসিলা ব্রিজ-সংলগ্ন আরশিনগর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে তিনি চুল কাটানোর জন্য আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিক তার ওপর হামলা চালায়। তারা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। চার বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    আড়াইহাজারে ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯ দোকানিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৮৯টি দোকানকে মোট ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার পৌরসভার সদরের বিভিন্ন মার্কেটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

    পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মিত্রপ্লাজায় ২৬টি, আবদুল কাদির সুপার মার্কেটে ২৩টি এবং হাবিব সুপার মার্কেটে ৪০টি দোকানে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এসব দোকানের প্রতিটিকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুর রহমান।

    এ সময় আড়াইহাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, লাইসেন্স পরিদর্শক মো: সুমন মিয়া, কর আদায়কারী মো: হানিফ শিকদার, সহকারী কর নির্ধারক মো: ওমর ফারুকসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোবাইল কোর্ট চলাকালে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য দুই দিনের সময় দেয়া হয়।

  • গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় বেদভিটা গ্রামে নিখোঁজের তিনদিন পর পরি রানী হাজরা নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার সকালে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে পাটখেত থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, পরি রানী হাজরা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে সুমি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    সুমি ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে।

    মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, আড়াই বছর আগে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটির ইরান হাওলাদারের ছেলে আকবর হাওলাদারের সাথে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কলহ শুরু হয়। সম্প্রতি দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সুমিকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমিকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। এরই সূত্র ধরে রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

    পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত স্বামী আকবর হাওলাদারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মৃতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে নেয়া হবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা।

  • ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামীর হাতেই খুন হয়েছেন মিম আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূ। স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্বামী তরিক সিকদার।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাবড়াশুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় শাকপাইলদিয়া গ্রামের হিন্দুধর্মীয় সিদাম মাঝির মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ভাবড়াশুর গ্রামের ছরোয়ার সিকদারের ছেলে তরিক সিকদার। পরে তাকে ধর্মান্তরিত মুসলিম করে মিম আক্তার নাম দিয়ে বিয়ে করেন।

    কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

    রোববার সকালে দাম্পত্য কলহে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তরিক সিকদার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে করে হত্যা করে।

    মুকসুদপুর সার্কেল এসপি নাফিজুর ইসলাম বলেন, ‘মিম আক্তার নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

  • শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকরা হলেন- কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয় শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁরা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৮৪ বোতল স্কাফ সিরাপসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার প্রাকপুর এলাকার মরহুম কুতব উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫৫) ও চাঁদপুর জেলার মতলব থানার কলাকান্দা এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে রাসেল (৩৫)। তারা রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

    জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় ও রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এএসআই (নিরস্ত্র) হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অভিযানিক দল রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১৮৪ বোতল স্কাফসহ বিল্লাল ও রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়।

    ওসি সালাউদ্দিন জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।

    মাদকদ্রব্যসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে রূপগঞ্জ থানা পুলিশসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

  • ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে আনসার সদস্যরা। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব। ’

    বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মোঃ সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।

  • শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন শাখা।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের সদর পূর্ব থানা শাখার সভাপতি ফজলুল করিম শাহাদাত। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এরফানুল হক সাকিব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরফানুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির কর্ণধার। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার বিশাল দ্বার উন্মুক্ত। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, সততা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার পাশাপাশি দেশকেও এগিয়ে নিতে পারে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্মই একটি জাতির মূল শক্তি। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান খান, ছাত্রশিবির গাজীপুর জেলা সেক্রেটারি বায়জিদ মাহমুদ, শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক মো: আবুল কালাম আজাদ ও প্রহলাদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মো: আলী হোসাইন পালোয়ান।

    অনুষ্ঠান শেষে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৮০ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেয়া হয়।

  • করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন চংনোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৩৮) ও নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৪)। তারা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সকাল ৭টার দিকে শাহ আলম ও মোকাররম জাল নিয়ে গ্রামের সামনের হাওরে মাছ ধরতে যান। এ সময় হালকা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    সকাল ১০টা পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা হাওরে খোঁজ করতে যান। পরে হাওরের হাঁটুপানিতে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

    স্থানীয়রা জানায়, মোকাররম হোসেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। শাহ আলম ধানবাহী নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

  • খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খাল-বিল, ডোবা আর জলাশয়ে একসময় কচুরিপানা ছিল কৃষকের কাছে নিছক আগাছা। জলাশয় পরিষ্কার করতে গিয়ে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। সেই কচুরিপানাই এখন কিশোরগঞ্জের অনেক কৃষক ও খামারির কাছে হয়ে উঠেছে গবাদিপশুর খাবারের অন্যতম ভরসা। সকাল হলেই হাতে দা নিয়ে জলাশয়ে নেমে পড়ছেন তারা। কেউ ভ্যানে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কচুরিপানা।

    এর পেছনে রয়েছে চলতি বছরের ফসলহানি। টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল। ফলে কমেছে খড়ের জোগান। অন্যদিকে বেড়েছে ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম। এতে গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। তাই বিনা খরচে বা কম খরচে পাওয়া কচুরিপানাকেই বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে।

    বিশেষ করে গাভি ও গরুর খাবারের জোগান ঠিক রাখতে বাড়ির আশপাশের কলাগাছ কেটে ছোট ছোট টুকরো করেও খাওয়াচ্ছেন কৃষকেরা। কচুরিপানা ও কলাগাছের সঙ্গে খড়, ঘাস, ভুসি কিংবা অন্যান্য খাবার মিশিয়ে গবাদিপশুকে দেওয়া হচ্ছে।

    কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান, কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করেন। আবার অনেকের কাছে গবাদিপশু সঞ্চয়ের বিকল্প। প্রয়োজনের সময় গরু বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বিয়ে কিংবা অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটান তারা। ফলে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট শুধু খামারেই নয়, এর প্রভাব পড়ে কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতিতেও।জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খড় প্রতি কেজি প্রায় ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি মণ খড়ের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। ৩৭ কেজির এক বস্তা গমের ভুসি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৩০ টাকা এবং ৪০ কেজির এক বস্তা ভুট্টার গুঁড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে।

    এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ। অন্যদিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাসও মিলছে না। অল্প কিছু উঁচু জমি, রাস্তার পাশ কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে ঘাস পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট খামারিরা।

    খামারিরা বলছেন, গরুর খাবারের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় গরু বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে খাবারের খরচ, অন্যদিকে কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসানের আশঙ্কা থাকছে। তাই গরু বিক্রি না করে কোনোভাবে লালন-পালন চালিয়ে যেতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিকল্প খাবারের ওপর নির্ভর করছেন তারা।

    জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক ও খামারিরা। কেউ বাড়ির পাশের জলাশয় থেকেই কচুরিপানা তুলে আনছেন। আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে করে তা সংগ্রহ করছেন। কোনো কোনো খামারি শ্রমিক নিয়োগ করেও কচুরিপানা সংগ্রহ করছেন।

    সকালে জলাশয়ের পানিতে নেমে কচুরিপানা তুলে স্তূপ করছেন কৃষকেরা। পরে ভ্যান, রিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে করে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে। সেখানে পরিষ্কার করে কেটে খড়, ঘাস বা অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হচ্ছে।

    করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামের জেসি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক হোসেন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, “গরুর জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার দরকার, তা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে জমি থেকে খড় ও ঘাস পাওয়া যেত, এখন সেগুলোর সংকট। তাই বাধ্য হয়ে কলাগাছ কেটে গাভিকে খাওয়াচ্ছি। এর সঙ্গে ভুসি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম কমানো বা সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে কৃষকদের জন্য অনেক উপকার হতো।”

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, “এবার অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলও ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারিনি। এতে মানুষের খাবারের পাশাপাশি গরুর খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। খাল-বিলে কচুরিপানা না থাকলে গরুগুলো বাঁচিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যেত।”তিনি বলেন, “আগে কচুরিপানাকে কেউ তেমন গুরুত্ব দিত না। জলাশয়ে বেশি হলে আগাছা মনে করে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। এখন গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এটিই অনেকটা ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু কচুরিপানা দিয়ে গরুর খাবারের চাহিদা পূরণ করা যায় না। এর সঙ্গে অন্য খাবারও দিতে হয়।”

    সদর উপজেলার বটকিলা গ্রামের বাচু মিয়াকে রৌহা বিল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এসব কিনে গরুকে ঠিকমতো খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে এসেছি।”

    নিজের গরুর কথা বলতে গিয়ে বাচু মিয়া বলেন, “একটি ছোট বাছুর ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে প্রায় চার বছর ধরে লালন-পালন করছি। গরুটি এখন দুধ দেয়। প্রতিদিন প্রায় ছয় লিটার দুধ পাওয়া যায়। এই গরুটি আমাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সংকট হলেও কোনোভাবে লালন-পালন করে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “গরুর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। সব খাবার বাজার থেকে কিনে দিলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। তাই কচুরিপানা, খড় ও অন্যান্য স্থানীয় খাবার সংগ্রহ করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছি।”

    সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের সল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রাকিব মিয়া বলেন, “আগে বাড়িতে উৎপাদিত ধানের খড় দিয়েই কয়েক মাস গরু পালন করা যেত। এবার ফসলের ক্ষতির কারণে খড় কম হয়েছে। বাইরে থেকে খড় কিনতে হচ্ছে। তার ওপর ভুসি ও অন্যান্য খাবারের দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরু পালন এখন আগের চেয়ে অনেক ব্যয়বহুল।”তিনি বলেন, “কচুরিপানা বিনা খরচে পাওয়া যায়। তাই জলাশয় থেকে তুলে এনে অন্য খাবারের সঙ্গে গরুকে দিচ্ছি। এতে কিছুটা হলেও খরচ কমানো যাচ্ছে। এখন গরু পালন করতে হলে শুধু বাজারের খাবারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন।”

    কৃষক রাকিব বলেন, “বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। কিন্তু গরু বিক্রি করতে নিয়ে গেলে অনেক সময় সেই হিসাবে দাম পাওয়া যায় না। খাদ্যের দামও বেশি। ফলে খামারিরা দুই দিক থেকেই চাপে আছেন।”

    তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের কাজলা (বগারবাইদ) গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে কয়েকটি গরু পালন করি। প্রতিদিন অনেক খাবারের প্রয়োজন হয়। বাজার থেকে সব খাবার কিনে দিলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ধরে রাখা কঠিন।

    প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, খাদ্যের দাম বাড়লেও গরু বিক্রি করে দেওয়া তাদের জন্য সহজ কোনো সমাধান নয়। কারণ এসব গবাদিপশুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সঞ্চয়, ঋণ, শ্রম ও ভবিষ্যতের আশা। অনেকেই বছরের পর বছর গরু পালন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তাই সাময়িক খাদ্যসংকটের কারণে গরু বিক্রি করে দিলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে বর্তমানে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৯ লাখ ২২ হাজার ৪৪৯টি এবং মহিষ ৭ হাজার ৭৪৫টি। এছাড়া জেলায় বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ৭৫ দশমিক ০৩ লাখ মেট্রিক টন। এত বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর খাদ্যের বড় একটি অংশ স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ফসলের উৎপাদন কমে গেলে একই সঙ্গে কমে যায় খড় ও অন্যান্য কৃষিজাত উপজাতের জোগান। এতে গবাদিপশুর খাদ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং বাড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ।

    কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “কচুরিপানায় পুষ্টিমান বা খাদ্যগুণ খুব বেশি নয়। তবে এটি সবুজ ঘাসের মতো এক ধরনের বাল্ক ফিড হিসেবে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। খাদ্যের সংকটের সময় অনেক খামারি কচুরিপানা ব্যবহার করছেন।”

    তিনি বলেন, “পরিমিত পরিমাণে কচুরিপানা খাওয়ালে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কোনো খাদ্যই গবাদিপশুর জন্য ভালো নয়। তাই কচুরিপানার পাশাপাশি খড়, ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যও গবাদিপশুর খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “চলতি বছরের এপ্রিল মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জে ১১ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫২ হাজার ৯৮০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসল উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবে এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।”

    তিনি বলেন, “ফসলের পাশাপাশি খড়ও নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে গো-খাদ্যের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সংকটও ধীরে ধীরে কেটে যাবে।”

  • ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। নতুন চারায় সয়লাব হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার। এ মৌসুমে ২০-২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

    চার জেলার চাষি-উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও বারোমাসি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ও আনন্দে আছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিচর ইউনিয়নের দুর্গম পদ্মাচরের চাষি-কৃষক ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, চরের আটটি পয়েন্টে এবার বাম্পার সবজি ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগে ও পরে কমপক্ষে ১৭-১৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি কৃষক ও সবজি চাষিরা আশা করছেন, উন্নত জাতের বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন তাদের ভাগ্য বদলাবে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের চার জেলার ২০টি উপজেলার ২০-২৫টি চরে আগাম নতুন শীতকালীন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, আনাচি কপি, শিমের চারা, লাউগাছ ও পুঁইশাকের চারাসহ কমপক্ষে ১০-১২ জাতের শীতকালীন চারার। বিক্রিতেও ধুম পড়ে গেছে।

    প্রতি বছরই শীত আসার আগে পূজার মধ্যে বাজারে উঠে যায় শীতকালীন আগাম শাকসবজি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

    বিশেষ করে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল, শরীয়তপুরের চরাঞ্চল, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিশাল বিশাল চরের মধ্যে মাথা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছে বহু জাতের শীতকালীন সবজির চারা ও গাছ।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, কাঁঠালবাড়ী ঘাট, ডাইয়ারচর, সন্যাসীরচর, মুন্সীরচর ও গাবতলা বাজার চর এলাকায় শীতকালীন নতুন চারার বিক্রিতে বড় বড় হাট বসছে। বিক্রিও হচ্ছে জমজমাটভাবে।শীত আসার আগেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় উল্লেখিত বীজতলাগুলোতে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর, চরমাদবদিয়া, মাইজামিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গীসহ দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চারার কেনাবেচা।

    এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চার-পাঁচটি চর ও পদ্মাপাড়েও বসছে সবজি ও সবজির চারা বিক্রির হাট।

    ওই ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে। কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

    ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জেলার উপজেলাগুলোর ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।

    উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়। এর মধ্যে চরের বিশেষ সুবিধা হলো, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চর থেকেই সুলভমূল্যে চারা কেনা যায়। এ কারণে ক্রেতারা শহরের বাজারের চেয়ে চরের বীজতলা থেকেই বেশি চারা কিনে নেন।বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চারার। এসব এলাকার চারা পাশের জেলার সবজি চাষিরা কিনে নেন।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাবনা, দাশুড়িয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন।

    চারা ব্যবসায়ী আরমান, কাইয়ুম, সোবাহান, মনো ও সুজিতের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ভাল চারা পাওয়া যায় এবং মানে ভাল এমন চারা নিতে দূর হলেও আমাদের কষ্ট হয় না। চারা কিনে যদি ভাল ফলন না পাওয়া যায়, তখন অনেক কষ্ট লাগে।’

    ফরিদপুরের সবজির রাজধানী কানাইপুর, চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সদরপুরের কৃষ্ণপুর, গজারিয়া, যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রাম, সদর উপজেলার ডিক্রিচর ও নর্থচ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই চাটাইয়ের নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরির কাজে।

    কানাইপুর এলাকার চাষি হাসান ১০০টি মাচা করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে দুই-তিন দফায় চারা করেন। সব মিলিয়ে তাদের বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।চরভদ্রাসন এমপিডাঙ্গীর নওশের বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’

    চারার ব্যবসায় বেড়ে ওঠে যেভাবে :

    চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২৫ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটে। কৃষকেরা খৈল, জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুর অঞ্চলের চারার সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলার বাইরে আরও ১২-১৩ জেলায় এসব চারার চাহিদা তৈরি হয়।

    কৃষকদের দাবি, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

    ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল এলাকার চারা ব্যবসায়ী আ. হক বলেন, ‘চরের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।’

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবা কারাগারে। মা তিন অবুঝ সন্তান রেখে চলে গেছেন—এমন অবস্থায় ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় তিন শিশুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। ওই শিশুদের রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামপুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুদের উদ্ধার করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন শিশুর মধ্যে বড়টির নাম আলিবা (৮ বছর), দ্বিতীয়টির নাম ইভা (৫ বছর) এবং সবচেয়ে ছোটটির নাম মুনিয়া (৩ মাস)। শিশুদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে তারা জানায়।

    এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে শিশুদের মা নতুন করে মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। বাড়ির মালিকের নাম তোরাব আলী। তবে তিন দিন আগে মা শিশুদের রেখে চলে যাওয়ার পর তারা একা হয়ে পড়ে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তিনি মুক্তিরবাগ এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তায় একটি শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিন শিশুকে নিরাপদে নিয়ে যান এবং কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।

    শিশুদের উদ্ধারের পর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। তিন মাসের শিশুটিকে নিয়ে অনেকেই সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাকে নিজেদের কাছে রাখার আগ্রহ দেখান।

    শিশু তিনটি কয়েক দিন ধরে ক্ষুধার্ত ছিল। ছোট শিশুটির বয়স মাত্র তিন মাস হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা, খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের অনুপস্থিতি এবং বাবার কারাগারে থাকার কারণে শিশুদের তাৎক্ষণিক অভিভাবকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, বড় দুই শিশুকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর তিন মাস বয়সি শিশুটির জন্যও সাময়িক নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

  • সোনালী ব্যাংকের সেই শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

    সোনালী ব্যাংকের সেই শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এজিএম কামাল পাশাকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন-পিও আতিকুল ইসলাম।

    এর আগে পীরগাছা সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, দুর্ব্যবহার, অনিয়ম ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ তুলে ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

    প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি সোনালী ব্যাংকের এজিএম ম্যানেজার, আমি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। এই উপজেলার ইউএনও আমার দুই গ্রেড নিচে ষষ্ঠ গ্রেডে চাকরি করেন। আমি এই উপজেলার বড় কর্মকর্তা। আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে।’ এ বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভিযোগগুলো তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।

    রোববার তদন্ত কমিটির সদস্যরা দিনব্যাপী সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তারা সেবা নিতে আসা অসংখ্য গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কেও গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।

    ‘আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে’

    তদন্তের সময় গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবার মান, শাখা ব্যবস্থাপকের আচরণ, হয়রানি, চেকবই প্রদান, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ঋণ-সংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় একাধিক গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের দুর্ব্যবহার, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন।

    এ সময় ব্যবস্থাপকের কক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার নিয়েও অভিযোগ ওঠে। একাধিক গ্রাহক তদন্ত কমিটিকে জানান, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা বা সমস্যা নিয়ে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও সাধারণ গ্রাহকদের সহজে তার কক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না। তবে ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়মিত ওই কক্ষে যাতায়াত ও অবস্থানের অভিযোগও করেন তারা।

    তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ মহল তৈরি, তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা এবং সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন।

    ঋণ বিতরণ ও চেকবই প্রদানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা তদন্ত কমিটির কাছে জানান কয়েকজন গ্রাহক। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

    তদন্ত কমিটির প্রধান এজিএম কামাল পাশা বলেন, জিএম স্যারের নির্দেশে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দাখিল করব।

    দিনব্যাপী তদন্ত শেষে কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও অভিযোগ সংগ্রহ করেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়।

  • মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ গোপদিঘী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো দক্ষিণ গোপদিঘী গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে হাফিজা আক্তার (৫) ও একই এলাকার জুয়েল মন্ডলের ছেলে জয়ন্ত মন্ডল (৬)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পেছনে খেলতে যায় দুই শিশু। একপর্যায়ে তারা পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাদের পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মিঠামইন থানার এসআই শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    নিউজ:

    বাবা কারাগারে, মা-ও নেই। তিন অবুঝ শিশুকে রেখে চলে গেছেন মা। এরপর থেকে একাই দিন কাটছিল তাদের। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ।

    ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায়। শিশু তিনটির বয়স ৮ বছর, ৫ বছর ও মাত্র ৩ মাস।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে শিশুদের মা তোরাব আলীর বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। তিন দিন আগে তিনি সন্তানদের রেখে চলে যান। তাদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি রাস্তায় এক শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কাঁদতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

    স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে শিশুরা ঠিকমতো খাবারও পায়নি। বিশেষ করে মাত্র তিন মাস বয়সী শিশুটিকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, বড় দুই শিশুর জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন মাস বয়সী শিশুটির জন্যও সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের চলাচল সহজ করতে গাজীপুরে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জামায়াত-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের উদ্যোগে তুরস্কভিত্তিক একটি সংস্থার সহযোগিতায় এসব হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

    হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুরকে তারা এমন একটি বাসযোগ্য ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেকে অবহেলিত মনে করবেন না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং নানা কারণে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য নগরীতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘গাজীপুরকে আমরা সবার জন্য বাসযোগ্য একটি নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা নানাভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য আলাদা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’

    ড. হাফিজুর রহমান বলেন, নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সুযোগ পেলে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।’

    আয়োজকরা জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে হুইলচেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় এই সহায়তা পেলে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে আরও সক্রিয় হতে পারেন। সেই বিবেচনায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে হুইলচেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সদর মেট্রো থানার আমির ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট সাদিকুজ্জামান খান, বাসন থানার আমির ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আকরামুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    চারদিকে যতদূর চোখ যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য টক বরই। বাগানের ভেতর ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন। এরপর এসব বরই চলে যাচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।

    টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি-ঘাটাইল সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এমনই বরইয়ের বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মোসলেম উদ্দিন।

    প্রায় এক যুগ ধরে দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ করছেন তিনি। তার বাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে।

    কৃষিকাজের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের সম্পর্ক প্রায় ৩০ বছরের। লেবু, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে আগাম টক বরই চাষে এসে তিনি পেয়েছেন আলাদা সাফল্য। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে গড়ে তুলেছেন এই বাগান।

    আগস্টের শুরু থেকেই তার বাগানের আগাম টক বরই বাজারজাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বাগানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ভরা মৌসুমে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ জনে। এতে বাগানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা বরই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় থাকে প্রায় ৬০ কেজি বড়ই। বর্তমানে আগাম টক বরই প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।

    মৌসুমের ভরা সময়ে বড়ইয়ের দাম কিছুটা কমে গেলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হয় বলে জানান মোসলেম উদ্দিন।

    তার বাগানের টক বরইয়ের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও। বিশেষ করে প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ টক বরই কিনে থাকে। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও এ ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে।

    নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি মোসলেম উদ্দিন এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম। তার বরইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে উপজেলার অনেক কৃষক বড়ই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নতুন করে বাগানও গড়ে তুলেছেন।

    মোসলেম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অবশ্যই এই পেশায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব।”

    ৩০ বছরের কৃষিজীবনে নানা ফসল চাষ করলেও আগাম টক বড়ই মোসলেম উদ্দিনকে এনে দিয়েছে নতুন পরিচিতি ও সাফল্য। তার প্রায় ৫০ একরের বাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের জায়গা নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, “দেশি জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা সবসময়ই চলমান রয়েছে।”

  • ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

    ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

    নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে হিজাবসহ মুসলিম ধর্মীয় মাথা ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ করে নতুন আইন কার্যকর করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের স্কুলেই এ আইন প্রযোজ্য।

    সরকারের দাবি, মেয়েদের অধিকার ও লিঙ্গসমতা রক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, আইনটি মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দেশে ইসলামবিদ্বেষ বাড়াতে পারে এবং এটি সাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    অস্ট্রিয়ার ইসলামিক কমিউনিটি আইনটির তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চাইলে সাংবিধানিক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জে তারা সহায়তা করবে।

    এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন বাতিল করেছিল। আদালতের মতে, ওই নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

    নতুন আইনে কোনো শিক্ষার্থী হিজাব পরলে শিক্ষকরা প্রথমে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বারবার আইন ভঙ্গ হলে শিশু সেবা বিভাগকে জানানো হবে এবং সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবককে সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো জরিমানা করা হতে পারে।

    এদিকে শিক্ষক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর একাংশ আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গ্রিন পার্টির সিগি মাউরার অভিযোগ, সরকারের সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নতুন সংঘাত তৈরি করবে।

    অন্যদিকে উগ্র ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি আরো কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাব ও মুখঢাকা পোশাক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

    অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকারও সম্প্রতি ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক বা নেকাব নিষিদ্ধ থাকলেও, অস্ট্রিয়ার নতুন আইনটি বিশেষভাবে মুসলিম মেয়েদের হিজাবকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

  • শেয়ারবাজারে সূচকের পতন, লেনদেন ৫৪৫ কোটি টাকা

    শেয়ারবাজারে সূচকের পতন, লেনদেন ৫৪৫ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। একই সাথে লেনদেনের পরিমাণ কমে ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    আজ রোববার ডিএসইতে ১ লাখ ৭৮ হাজার ১০৩টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৮৯টি কোম্পানির মোট ২০ কোটি ৪৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৬৯টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৪৮টির কমেছে এবং ২১টি কোম্পানির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ২০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২২ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডোমেক স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, টেক্সম্যাকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডরিন পাওয়ার, এভয় টেক্সটাইলস, তৌফিকা ফুডস এবং জেনেক্স ইন্স্যুরেন্স।

    শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো এনএলআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, এক্সেল ইন্স্যুরেন্স, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং এভয় টেক্সটাইলস।

    অন্যদিকে, শেয়ারদর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ডরিন পাওয়ার, সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিকদার পলিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ টেকনোলজিস, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক।

  • গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ২০ জন যাত্রী।

    রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস বেলা ১১টার দিকে গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ বাসযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    আহত উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসার জন্য মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে বাসটি সরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

  • ফুল নয়, বাজারে এখন শাপলা সবজি

    ফুল নয়, বাজারে এখন শাপলা সবজি

    বর্ষা এলেই খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানিতে ফুটে ওঠে শাপলা। বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির চিরচেনা এই ফুল এখন শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি সবজি হিসেবেও। বাজারে আঁটি বাঁধা তাজা শাপলা কিনছেন ক্রেতারা। প্রতি আঁটি শাপলা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, সালথা, মধুখালীসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে ভোর থেকেই অন্যান্য সবজির পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে শাপলার পসরা। জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসছেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার বিক্রেতারা।

    বিক্রেতাদের জন্য বর্ষাকালের এই শাপলা বাড়তি আয়ের একটি সহজ মাধ্যম। অন্যদিকে স্থানীয়দের অনেকের কাছে এটি মৌসুমি ও পরিচিত খাবার। শাপলা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তরকারি রান্নার পাশাপাশি মাছের সঙ্গেও রান্না করা হয়।

    গোপালগঞ্জ থেকে শাপলা নিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন নুরুল আলম। তিনি বলেন, “বর্ষার সময় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন জলাশয়, বিল ও ঝিল থেকে শাপলা তুলে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসি। প্রতি আঁটি ১০ টাকা করে বিক্রি করি। মানুষ শাপলা কিনে রান্না করে খায়। বিক্রি করে আমাদেরও কিছু আয় হয়।”

    শাপলার ক্রেতা সন্দীপন চক্রবর্ত্তী বলেন, “শাপলা আমাদের গ্রামবাংলার পরিচিত খাবার। শাপলা দিয়ে তরকারি রান্না করা যায়, মাছের সঙ্গেও রান্না করা যায়। বাজারে তাজা শাপলা দেখলে কিনতে ইচ্ছে করে। দামও তুলনামূলক কম।”

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্তী বলেন, “শাপলা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা একটি ফুল। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বর্ষাকালে খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে ভরে গেলে সেখানে প্রচুর শাপলা ফুটত। তখন শাপলা শুধু ফুল হিসেবে নয়, সবজি হিসেবেও মানুষের খাবারের অংশ ছিল। এখন বাজারে শাপলা বিক্রি হতে দেখে পুরোনো সেই গ্রামীণ সংস্কৃতির কথা মনে পড়ে।”

    তিনি আরও বলেন, “বর্ষাকালে জলাশয়ে জন্ম নেওয়া শাপলা সহজেই সংগ্রহ করা যায়। ফলে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ বাড়তি খরচ ছাড়াই শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এতে একদিকে ক্রেতারা স্বল্পমূল্যে মৌসুমি সবজি পান, অন্যদিকে বিক্রেতাদেরও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।”

  • শাহজালালে সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার জব্দ

    শাহজালালে সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার জব্দ

    রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের সিটের নিচ থেকে ৮০টি সোনার বার জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। জব্দ করা সোনার মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ৯ দশমিক ৩৩ কেজি। এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে মালিকহীন অবস্থায় এসব সোনা জব্দ করা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ৯টার দিকে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটে সোনা চোরাচালান হচ্ছে।

    খবর পাওয়ার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালাতে যান। তখন সেটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়ে ১৯-এ নম্বর সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট পাওয়া যায়।

    পরে প্যাকেটগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে খোলা হয়। সেখানে ৮০টি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে সোনার ওজন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম।

    কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সোনার বারগুলো অত্যন্ত কৌশলে সিটের নিচে লুকানো অবস্থায় ছিল। উদ্ধার করা সোনার চালানটি মালিকবিহীন হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জব্দ করা সোনার বারগুলো বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা রাখা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় সন্দেহজনক কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জেলের বন্দীদের জামিনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো: আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো: সুরুজ (২৬)।

    গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

    গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের প্রতারণার কৌশলটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অভিনব। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। এরপর কৌশলে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করত।

    আসামিদের তথ্য পাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের কারারক্ষী ‘সাইফুল’ পরিচয় দিত। তারা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস করাত যে, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার এক আইনজীবী ‘সিরাজের’ মাধ্যমে হয়েছে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা আইনজীবী পরিচয়ধারী অপর সদস্যের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে, সে অত্যন্ত নরম স্বরে কথা বলে জামিন নিশ্চিত হওয়ার ভুয়া খবর দিত এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় কম দাবি করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলত। ভুক্তভোগীরা সরল বিশ্বাসে কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে, প্রতারকরা মুহূর্তের মধ্যে টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা থেকে চম্পট দিত।

    ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় রুজু হওয়া একটি বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কারো সম্পর্কে নিশ্চিত না জেনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে বা ফোনে কারো পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তা নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রতারিত হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে।’

  • মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি শহীদ হন।

    মীর কাসেম আলী ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তা, দানবীর ও ইসলামপন্থী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রদূত। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবুও ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কাশিমপুর কারাগারে রায় কার্যকর করা হয়।

    তাঁর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সমর্থকগোষ্ঠী দোয়া মাহফিল, কুরআন খতম ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

    এ,আর

  • হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে হঠাৎ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরানের স্বপ্ন।

    বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই মনোহারি দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা-পয়সা ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাড সংলগ্ন একটি মনোহারি দোকানে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপের ব্যবসা শুরু করেন ইমরান মিয়া। ওই দোকান থেকে হোসেনপুর ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসব পণ্য সরবরাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দোকানটি তালাবদ্ধ করে তিনি নিজের বাড়িতে চলে যান। পরে গভীর রাতে এক রিকশাচালক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পেয়ে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান।

    দোকান মালিক মোবাইলে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, ‘দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আমার ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো: শামসুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজবাড়ীর কালুখালীতে পাটবোঝাই ভ্যানের সাথে ধাক্কায় মো: সিরাজুল শেখ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে (৩ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সিরাজুল শেখ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহমীরপুর গ্রামের শুকুর আলী শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শাহমীরপুর গ্রাম থেকে সাত-আটজন ব্যক্তি একটি ভ্যানে করে কালুখালী বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। কালুখালী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে তাদের সেখান থেকে বাসযোগে ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া দরবারে ওরস শরীফে যাওয়ার কথা ছিল।

    পথে বেলা ১১টার দিকে কালুখালীর হরিনবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী ভ্যানটির সাথে অপর একটি পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কা লাগে। এতে ভ্যানে থাকা সিরাজুল ছিটকে পড়ে যান। এ সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে ফরিদপুরেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজুলের মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) গোলাম মোস্তফা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির বাড়ি পাংশা থানায়, তাই মামলা পাংশা থানায় হবে।

  • পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে মারামারি মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের পিকআপ উল্টে আব্দুস সালাম (৫১) নামে এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও চার পথচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুস সালাম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকরমশি গ্রামের আব্দুল বারেক ভূইয়ার ছেলে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে মাদারীপুর পৌর শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে মারামারি মামলার চার আসামি রজ্জব, জহিরুল ইসলাম, মিজান ও আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে শিবচর থানায় নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। পথে পিকআপটি মঠেরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ইমা আক্তার নামে এক শিশু হঠাৎ রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যায়।

    শিশুটিকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক পিকআপটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    এতে পিকআপে থাকা কনস্টেবল আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক (৪৫), কনস্টেবল সোহেল মাতুব্বর (৩৫), কনস্টেবল শামীম মিয়া (৩৪), কনস্টেবল হাসান হোসেন (২৫) ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম (৩২)।

    আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর আড়াই শ’ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

    মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, আসামি নিয়ে ফেরার পথে একটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি উল্টে যায়। এতে পুলিশের এক সদস্য নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ–নদীর দখল–দূষণ রোধ করে নদীর স্বাভাবিক নাব্য রক্ষা ও দখল হয়ে যাওয়া নদ–নদী পুনরুদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় সেল গঠন করেছে সরকার।

    গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সেল গঠনের কথা জানানো হয়।

    ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় এ সেলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। এ সেলের অধীনে থাকবে তিনটি সাব–কমিটি। প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় সেল ও এসব সাব–কমিটির কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, ধলেশ্বরীসহ খাল, নালার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদ-নদী পুনরুদ্ধারে এ সেল কাজ করবে।

    কেন্দ্রীয় এ সেলের উপদেষ্টা করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এ সেলের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে নৌবাহিনী।

    ৩৭ সদস্যের এ সেলের সদস্য করা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সচিব, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি (রিয়ার এডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তা), পুলিশের মহাপরিদর্শক, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান, ঢাকার বিভাগী কমিশনার, নৌপুলিশের এআইজি, ঢাকা ওয়াসার এমডি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধি, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্যানারি মালিক সমিতি ও ডক ইয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, এনজিও (পরিবেশ অধিদপ্তর মনোনীত)

    দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা অপসারণ, নদ-নদী পুনরুদ্ধার ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতে তিনটি সাব কমিটি গঠন করে তাদের কাজ পরিধি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব–কমিটি ১ শিল্পবর্জ্যসহ সকল বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ, সাব–কমিটি ২ খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার ও পানির প্রবাহ সচল রাখা এবং সাব–কমিটি ৩ নদীর তলদেশে জমে থাকা স্থায়ী বর্জ্য অপসারণসহ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ করবে।

    প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সেল তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত চলমান প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে কেন্দ্রীয় সেল।

  • জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলছে পাটকাঠির কেনাবেচা। মাঠ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মোকাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পানের বরজ, ঘরের বেড়া, কৃষিকাজে মাচা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাটকাঠি। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটকাঠি থেকে চারকোল ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারণে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কৃষকের বাড়ি কিংবা নির্দিষ্ট বাজার থেকে এসব পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও কৃষকের হাতে আসছে বাড়তি টাকা।

    বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় পাটচাষি আলিম বলেন, ‘আগে পাটকাঠি তেমন একটা দাম পেতাম না। অনেক সময় জমিতেই পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাটের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এতে কৃষকের উপকার হচ্ছে।’

    একই ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আবু সেখ বলেন, ‘পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। পাটের দাম প্রত্যাশা মতো না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই এখন আমরা পাটকাঠি ফেলে না রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করি।’

    শুধু কৃষকই নন, পাটকাঠির বাণিজ্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি সংগ্রহ করে তা পাইকারি ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন।

    ঝিনাইদহ থেকে আগত পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. হাচান মোল্লা বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। চাহিদা থাকায় এ ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন।’আরেক ব্যবসায়ী রমজান বিশ্বাস বলেন, ‘পাটকাঠির ক্রেতা এখন শুধু স্থানীয় মানুষ নন। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীরাও পাটকাঠি কিনছেন। তাই মৌসুমে আমরা কৃষকদের একশত পাটের আটি ৩০০-৪০০ দরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাটকাঠি সংগ্রহের চেষ্টা করি।’

    স্থানীয় ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘পাটকাঠি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন এর নানা ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন , ‘পাটকাঠির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি এর উপজাত থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, ‘পাটকাঠিকে আর বর্জ্য বা ফেলনা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফরিদপুরে ইতোমধ্যে পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির সেই সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।’

  • শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    আলোচিত শাড়িকাণ্ডে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নারাজি দিয়েছেন বাদীপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন।

    আইনজীবী জানান, বাদী ও তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। মামলার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

    শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সানায়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে মামলা করা ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

    পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে বলা হয়, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মেসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই বলেছে, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।

    ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।

    পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া ও সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

    তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।

    শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।

  • মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে, দুই মামলা, ছয় হাজার টাকা জরিমানা

    মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে, দুই মামলা, ছয় হাজার টাকা জরিমানা

    উল্টোপথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সার্কিট হাউজ রোডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    তিনি বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর গাড়ি সকাল ৯টা ৮ মিনিটে সার্কিট হাউজ সড়কের উল্টো পথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাফিক পুলিশ পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়।’

    ‘চালককে বলা হয়, এভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। দুটি মামলা হয়েছে এবং তিন হাজার, তিন হাজার করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

    ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এই ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, মন্ত্রীর গাড়ি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাচ্ছিল। ঘটনার সময় গাড়িতে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত ছিলেন।

    এক ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এটা নজিরবিহীন।’

    ‘অতীতেও মন্ত্রীর গাড়ি গন্তব্যে দ্রুত যাওয়ার জন্য অথবা যানজট এড়াতে উল্টো পথে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে এলেও মামলার ঘটনা এটিই প্রথম।’

  • শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ২৩.১১ পয়েন্ট

    শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ২৩.১১ পয়েন্ট

    দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একইসাথে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

    ডিএসইতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ৩৮৮টি কোম্পানির ২৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ২৬৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩১ কোটি সাত লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৩৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৯২টির কমেছে এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৩ দশমিক ১১ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৬০ দশমিক ৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক তিন দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৫ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক চার দশমিক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৩৫ দশমিক ১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সায়হাম কটন, এআইএনএনআইএনসি, সায়হাম নিটিং, শাইনপুকুর সিরামিকস, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, একমি ল্যাবরেটরিজ, আরএকে সিরামিকস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রাইম ব্যাংক।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০-এ ছিল এআইএনএফ ফার্স্ট ইকোনমিক মিউচুয়াল ফান্ড, সায়হাম কটন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম নিটিং, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ব্যাংক, ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড, এনএফএস এবং প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল ফাস্ট ফাইন্যান্স, এপেক্স স্পিনিং, বৌফিকা ফুডস, ডেল্টা লাইফ, শরিয়াহ লাইফ, ফার্স্ট বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, আরামিট সিমেন্ট, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং।

  • ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের কথা। এর বাইরেও পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর একটি পথ আছে, যা দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়েও বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সেই পথটি হলো একটি বিদেশি ভাষা শেখা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জার্মান, ফরাসি, চীনা, কোরিয়ান বা রুশ ভাষা শিখে সরাসরি সেই দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।

    গ্যোটে ইনস্টিটিউট
    ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ১৯৬১ সাল থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডির ১০ নম্বর বাড়িতে নতুন করে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন জার্মান ভাষার কোর্স, পরীক্ষা এবং একটি ডাড বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস এবং তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। অর্থাৎ এখান থেকে জার্মান ভাষা শিখে সরাসরি ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, যা জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত অর্থায়ন করে। বিস্তারিত জানতে https://www.goethe.de/en/index.html
    –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে। বর্তমানে ধানমন্ডির মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি গুলশান ও উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির আরও দুটি শাখা রয়েছে। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্র থেকে কোর্স পরিচালনা করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে ফরাসি ভাষা শেখে। ডিইএলএফ ও ডিএএলএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারে। afdhaka.org –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এইচএসকে বা চীনা ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে এইচএসকে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করানো হয়। এইচএসকেতে ভালো স্কোর করলে তা চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ বা সিএসসি-র জন্য আবেদনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে। বেশিরভাগ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আবেদনের সময়সীমা থাকে, যদিও নির্দিষ্ট বৃত্তি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১২০০-র বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে কোনো না কোনো সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি নিয়ে অধ্যয়নে যায়। চীনে অবস্থানরত মোট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি বলে আমাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে কিংবা বিস্তারিত জানতে ci.cn/en –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    কিং সেজং ইনস্টিটিউট
    ঢাকায় বর্তমানে দুটি কিং সেজং ইনস্টিটিউট সক্রিয়। এর একটি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবিতে এবং অন্যটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে বা এআইইউবিতে। যেখানে কোরিয়ান সরকারের অধীনে কোরিয়ান ভাষা

    শেখানো হয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবেই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, আর ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। /www.iksi.or.kr/
    lms/main/main.do –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
    রুশ সরকারের বৃত্তির কোটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
    ঢাকার রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রাশিয়ান হাউস হলো রাশিয়ার সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে রুশ ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের কাজ করে। ঢাকার রুশ হা্উসের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই কোটা ছিল মাত্র ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আর রুশ ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে রুশ হাউসের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৪২, ভাষাসৈনিক এম এ মতিন সড়ক, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
    দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সেটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষায় কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত এই ইনস্টিটিউটে আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, কোরিয়ান, ফার্সি, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দিসহ মোট চৌদ্দটির বেশি ভাষায় কোর্স করানো হয়। বছরজুড়ে এখানে কোর্স পরিচালিত হয়। যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভর্তি হওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার বিস্তারিত জানতে www.iml-du.ac.bd –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।অন্যান্য ভাষা
    এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই দেশের ভাষা শিখে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের ভাষা। জাপানের এন-ফোর বা এন-ফাইভ পরীক্ষা দিয়েও ভালো বৃত্তি পেতে পারেন জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সৌদি আরব, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কদর বেড়েছে। আগ্রহ থাকলে আরবি ভাষা শিখেও এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পেতে নতুন একটি ভাষাও বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো
    দেশগুলোর ক্ষেত্রে; যেখানে বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ঢাকায় বসে তুলনামূলক কম খরচে ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির সুযোগ আপনিও নিতে পারেন!

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৩ জনে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) মারা যাওয়া ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা বিভাগের, বাকি ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের। ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৪ জনের মৃত্যু হলো। আর হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৯ জন।

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং ৬৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৭। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৭ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১১০ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮০ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৪ জন, খুলনায় ১৯০ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রাজশাহী ৯১ জন, রংপুরে ৩২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

  • সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সম্মানজনক ফিলিপস পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন।

    কাজিম রেজার বড় ভাই ও নয়া দিগন্তের সিনিয়র সাব এডিটর সৈয়দ মুসা রেজা জানিয়েছেন, আজ মাগরিবের নামাজের পর প্রেস ক্লাবে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাতে রাজধানীর বাসাবোর কদমতলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই স্ত্রীর পাশে তাকে দাফন করা হবে।

    সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা কাজিম নুরী ও চাঁদপুরের প্রথম নারী শিক্ষিকা সৈয়দা সাইয়েদা বানু দম্পতির সন্তান। তার দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) কর্মরত ছিলেন।

  • মৃত্যুর মুখে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে নেপালি ক্যাপ্টেন প্রিয়া

    মৃত্যুর মুখে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে নেপালি ক্যাপ্টেন প্রিয়া

    নেপালের দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত মানুষদের উদ্ধারে শতাধিক মিশনে অংশ নিয়েছেন। টানা অভিযান চালায়ে নিখোঁজদের খোঁজ এবং জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

    এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়া জানান, দুর্গত উপত্যকায় একসঙ্গে বহু হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ চলাচল করায় আকাশপথ ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও কাদায় ঢাকা অনিরাপদ এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করা ছিল বড় ধরনের কারিগরি চ্যালেঞ্জ।

    তিনি জানান, উদ্ধার করা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার মানসিকভাবে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলমান। উদ্ধার অভিযানে ২ শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলায় আরো জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। লাশ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় বডি ব্যাগসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণ করা দরকার।

  • মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    ঢাকাই সিনেমার সফল চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। নব্বইয়ের দশকের শেষে সিনেমায় আসেন। শূন্য দশকে পার করেছেন তুমুল ব্যস্ত সময়। দীর্ঘদিন অভিনয়ে নেই। আর অভিনয় করবেন না বলেও জানিয়েছেন। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু তার একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। ‘যতটুকু পাপ কামিয়েছি সব ধুয়ে-মুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’

    পপির এই মন্তব্যে কারও বুঝতে বাকি নেই, সিনেমায় অভিনয়কে ‘পাপ’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। আর প্রসঙ্গটি নিয়ে পপিকে খোঁচা দিয়েছেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। গতকাল ফেসবুক পোস্টে জয় লেখেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, নায়িকা পপিও তা বললেন। এখন শাবনূর এবং পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো। অভিনয় যে একটা গুনাহর কাজ, এটা তারা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন- আপনারা তো ষোলো আনা বুঝে নিয়ে তারপর ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আমরা যে কিছু না বুঝেই আপনাদের ভক্ত হয়ে ভুল করেছি এবং গুনাহ করেছি, আমাদের কী হবে তাহলে?’

    এদিকে পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেতা বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, ‘যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয় আগে পাপ করেছি। ইবাদত সব সময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য নয়।’

  • এআই ক্যামেরা; নিরাপদ সড়কের নতুন যাত্রা

    এআই ক্যামেরা; নিরাপদ সড়কের নতুন যাত্রা

    রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট কমাতে দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তা কার্যকর শুরুও হয়েছে।

    আগে ঢাকার সড়কের লাল বাতি আর সবুজ বাতি জ্বলার তেমন গুরুত্ব বা তফাৎ ছিল না। এখন ক্যামেরার নজরদারির কারণে অনেক চালক থামছেন নির্ধারিত স্থানে। এআই ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও আগের তুলনায় বেশি নিয়ম মানার অভ্যস্তত লক্ষনীয়। প্রতিটি মোড়ে সারাক্ষণ ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থেকে চালককে থামিয়ে আইন মানাতে হচ্ছে না।

    এখন মূলত ক্যামেরা, সফটওয়্যার ও কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ে আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিগন্যালগুলোকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের সিগনাল মানার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ। চালকরা সিগন্যাল না মানলে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই কার্যকর হবে না। সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন ভায়োলেশন, বিপরীত দিক থেকে গাড়ি চালানোর অপরাধে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে সমস্যা দেখা হয়। এতে সড়কে যানজট হয়, একটি গাড়ি থামালে পেছনের গাড়িগুলোও আটকে পড়ে।

    যানজট কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরা ব্যবহারে সুফল মিলতে থাকায় ড্রোনে নজরদারির চিন্তাটিও গতিময়তা পাচ্ছে। ড্রোনের সঙ্গে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন-এএনপিআর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। প্রযুক্তিটি চালু হলে সহজ হবে ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে মামলা বা পদক্ষেপ নেওয়া।

    রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হঠাৎ যানজট দেখা দিলে অনেক সময় এর কারণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ড্রোন ব্যবহার করা গেলে ঘটনাস্থলের রিয়েল টাইম তথ্য মিলবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

    ড্রোনে শব্দ বা ভয়েস বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে। কোনো যানবাহন রাস্তা আটকে যানজট সৃষ্টি করলে আকাশ থেকে চালককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত মামলা বাড়ানো নয়, চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করাই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য।

    এরইমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ডিএমপিকে একটি ড্রোন দিয়েছে। সেটি নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ড্রোন পরিচালনার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এরইমধ্যে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপি। শাহবাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে চালকদের সিগন্যাল মেনে চলার একটি চর্চা বা অভ্যস্ততা লক্ষনীয়।

    এআই ক্যামেরা চালুর পর সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে ট্রাফিক সিগন্যালে। ব্যাপক না হলেও বেশ পালটে গেছে রাজধানী ঢাকার চিরচেনা সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার চিত্র। যানবাহনের সিগন্যাল অমান্য করার যে চিরচেনা দৃশ্য দেখা যেত বিভিন্ন স্পটে এআই ক্যামেরা বসানোয় সিগন্যাল অমান্য করার সেই প্রবণতা কমে গেছে। চালকরা মামলার ভয়ে সিগন্যাল মানতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিএমপি জানিয়েছে, ড্রোন ব্যবস্থাটিও পরীক্ষার পর এর কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য সমস্যাগুলো মূল্যায়ন করা হবে। প্রযুক্তিটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমে আসবে বলে আশাবাদী অনেকে।

    মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটা মালিকপক্ষ থেকে হোক, শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে হোক অথবা পুলিশের পক্ষ থেকে হোক—সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ডেড থাকবে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের কণ্ঠেও শোনা গেছে এ আশাবাদ। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ এ পদক্ষেপকে যুগান্তকারী বলেছেন তিনি।

    জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, উলটো পথে চলাচল, ওভারটেকিং ও সাইন-সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধ ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করে সেই তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হবে। গাড়ির মালিকের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য জানানো হবে। নির্ধারিত মুঠোফোন আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

    তিনবার জরিমানা হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিল হবে কি না, তা বিআরটিএর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। আর বর্তমানের হালখাতায় দেখা যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ১৮ আগস্ট হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থা চালুর প্রথম দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা হয় ৪৪৬টি। পরদিনই নেমে আসে ৪২-এ। দশম দিনে মামলা হয়েছে মাত্র ৩৪টি। সেই হিসাবে ১০ দিনের ব্যবধানে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ মামলা কমেছে।

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে চালকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের আওতায়। ঢাকার সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জের অংশ গাজীপুর অঞ্চল এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়ক কুমিল্লা অঞ্চল। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য হচ্ছে, ১৮ আগস্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা সংখ্যা ৬৯৫টি। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৬৫৮টি এবং ৩৭টি উলটোপথে চালানোর কারণে।

    প্রথম দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় ৪৪৬টি মামলার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৪১৭টি এবং উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২৯টি মামলা হয়েছে। পরদিন ৪৪৬ থেকে মামলার সংখ্যা ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমার দিনে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা হয়েছে ৪২টি। ২০ আগস্ট অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২০টি মামলা হয় এবং উলটোপথের ঘটনা একটি। এর পরদিন অতিরিক্ত গাড়ি চালানোর অভিযোগে ১৯ এবং উলটোপথে যাওয়ার কারণে দুটি। ২২ আগস্ট ৪২টি এবং এর পরদিন মামলা সংখ্যা ৩৫। ২৪ আগস্ট উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে একটি এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে ২০টি মামলা হয়। ২৫ আগস্ট মামলার সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ১৪টি। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার উলটোপথে গাড়ি চলাচলের মামলা শূন্যে নেমে আসে। বুধবার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা ১৯টি এবং বৃহস্পতিবার ৩৪টি।

    তথ্যগুলো ভাবনার বেশ খোরাক দিয়েছে। মহাসড়কের প্রতি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হয় না। কোনো কোনো জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখলে চালক আইন মেনে চলার চেষ্টা করতেন। আবার পুলিশ না থাকলে আইন ভাঙতেন। এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে সড়কে চালকের মধ্যে আইন মানার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যে কারণে মামলা কমে আসছে।

    অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিতে গেলে গাড়ির প্রভাবশালী মালিকরা নানাভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতেন। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্তের পর মামলা হওয়ায় মানুষের সেই সুযোগ থাকছে না। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালালে মামলা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট এআই ক্যামেরা উদ্বোধনের আগে পরীক্ষামূলক চালানো হয়েছে। তখন মামলা সংখ্যা প্রতিদিন চার শতাধিক ছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও ৪শর বেশি মামলা হতো। বলা বাহুল্য ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প। এআই ক্যামেরা চালু হওয়ার পর তাদের পরিবহনের সব চালককে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালাতে হবে। নইলে ভিডিও মামলা হলে জরিমানা চালককেই বহন করতে হবে। ভিডিও মামলা চালুর পর রাস্তায় আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছে চালকরা। এ সতর্কতা ভয়ের বদলে নৈতিকতা অংশ হয়ে উঠলে মুখে মুখে উচ্চারিত ‘নিরাপদ সড়ক’ কার্যকরভাবে বাস্তব হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারন ভয়ে বা আরোপে প্রকৃত অভ্যস্ততা আসে না কখনো।

  • ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গেট রাত ১১টায় বন্ধ হবে। এত দিন গেট বন্ধের সময়সীমা ছিল রাত ১০টা।

    গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে তিনজন এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ তথ্য জানিয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন, অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল।